বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

মোট প্রশ্ন৮০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৮০৫

৩০১.
নিচের কোন বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  2. তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
  3. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  4. আমি অপমান হয়েছি।
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে : তিনি সস্ত্রীক কলকাতা গিয়েছেন।
===============
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
------------------ 
অন্য অপশনে, 
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০২.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মাতৃজনিত
  2. মহিমমণ্ডিত
  3. জ্যোতিরিন্দ্র
  4. অদ্যবধি
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ - অদ্যবধি। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি

অন্যদিকে,
- জ্যোতিরিন্দ্র,
- মহিমমণ্ডিত ,
- মাতৃজনিত।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৩.
পুরাঘটিত অতীতের প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যটিতে?
  1. ক) তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
  2. খ) তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  3. গ) তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
  4. ঘ) খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীতের প্রয়োগ ঘটেছে - খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে - এই বাক্যটিতে। 

পুরাঘটিত অতীত অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে। 

বাকি অপশনগুলোর মধ্যে - 

তখন বাতিটা জ্বলে উঠল এবং তারা সেখানে বেড়াতে গেল। এই বাক্য দুইটি - সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।
সাধারণ অতীত: অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বােঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে। 

তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত - নিত্য অতীত।
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতাে এমন বােঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৪.
কোন শব্দে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বিপদুদ্ধার
  2. অদ্যবধি
  3. অনটন
  4. পৃথগন্ন
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
ব্যাখ্যা

• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি - অদ্যবধি
• এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি। এর সন্ধিবিচ্ছেদ - অদ্য + অবধি।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অনটন,
- বিপদুদ্ধার।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০৫.
'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যারগুলোর সমাধান সম্ভব'–বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বানান জনিত ভুল
  2. খ) পদক্রম জনিত অশুদ্ধি
  3. গ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
  4. ঘ) বাচ্যজনিত ভুল
সঠিক উত্তর:
গ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
কোন শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
তাই উল্লিখিত বাক্যে 'সমস্যাগুলোর' না হয়ে 'সমস্যা' হবে।
অর্থাৎ, সঠিক বাক্য- 'আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০৬.
প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি
  2. খ) অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট
  3. গ) অবলার মুখ ই বল
  4. ঘ) ঠাকুরঘরে কে? আমি কলা খাই নি
সঠিক উত্তর:
খ) অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট
ব্যাখ্যা

- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
- যেমনঃ 'অধিক সন্ন্যাসীতে ধ্যান নষ্ট' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট (অতিরিক্ত লোকের খবরদারিতে কাজ পণ্ড)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩০৭.
'রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য' বাক্যটির শুদ্ধরূপ কী হবে?
  1. রচনাটির উৎকর্য অনস্বীকার্য
  2. রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য
  3. রচনার উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য
  4. রচনাটির উৎকর্শ অনস্বীকার্য
সঠিক উত্তর:
রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য
ব্যাখ্যা
• 'রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।'- বাক্যটি সঠিক নয়।
বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল হয়েছে।

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘উৎকর্ষ’ (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ, এটি বিশেষ্য। 

আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ অর্থাৎ বাহুল্য দোষ। 
সুতরাং ’উৎকর্ষতা’ শব্দটি ভুল।

• তাই, বাক্যটি হবে- রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য। 

 • তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩০৮.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ কোনটি?
  1. আয়ত্ত
  2. প্রয়োজনীয়তা
  3. অধীন
  4. কদাপি
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
ব্যাখ্যা
• 'প্রয়োজনীয়তা' সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এই শব্দের শুদ্ধরূপ - প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- আয়ত্ত,
- অধীন,
- কদাপি।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩০৯.
সাপেক্ষ যােজক এর প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালাে করতে পারলাম না।
  2. খ) যদি বৃষ্টি থামে, তবে রওনা দেব।
  3. গ) জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
  4. ঘ) চা না-হয় কফি খান।
সঠিক উত্তর:
খ) যদি বৃষ্টি থামে, তবে রওনা দেব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যদি বৃষ্টি থামে, তবে রওনা দেব।
ব্যাখ্যা
পদ, বৰ্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলােকে যােজক বলে।
যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।
সাপেক্ষ যােজক: এ ধরনের যােজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যদি রােদ ওঠে, তবে রওনা দেব। (অনুরূপভাবে, যদি বৃষ্টি থামে, তবে রওনা দেব। )
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

চা না-হয় কফি খান। = বিকল্প যােজক।
জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। = কারণ যােজক।
এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালাে করতে পারলাম না। = বিরােধ যােজক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) সত্তা
  2. খ) সত্ত্ব
  3. গ) সত্ত্বা
  4. ঘ) স্বত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ হলো : স্বত্ব। 
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩১১.
শুদ্ধ বাক্য চিহ্নিত করুন-
  1. তাহার জীবন সংশয়াপূর্ণ।
  2. বিদ্বান ব্যক্তিগণ অনেক সময় অবহেলিত হন।
  3. দারিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা।
  4. বিরাট গরু ও ছাগলের হাট।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান ব্যক্তিগণ অনেক সময় অবহেলিত হন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান ব্যক্তিগণ অনেক সময় অবহেলিত হন।
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্বান ব্যক্তিগণ অনেক সময় অবহেলিত হন।' - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: তাহার জীবন সংশয়াপূর্ণ।
- শুদ্ধ বাক্য: তাহার জীবন সংশয়ভরা।

- অশুদ্ধ বাক্য:দারিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা।  
- শুদ্ধ বাক্য:দরিদ্রতা/দারিদ্র্য আমাদের প্রধান সমস্যা।  

- অশুদ্ধ বাক্য:বিরাট গরু ও ছাগলের হাট।  
- শুদ্ধ বাক্য: গরু ও ছাগলের বিরাট হাট।  

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১২.
কোনটি শব্দটি অপপ্রয়োগ জনিত ভুল নয়?
  1. ক) অশ্রুসজল
  2. খ) অধীনস্থ
  3. গ) একত্র
  4. ঘ) স্বস্ত্রীক
সঠিক উত্তর:
গ) একত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) একত্র
ব্যাখ্যা
- একত্রিত শব্দের সঠিক রূপ হবে একত্র।

অন্যদিকে,
- স্বস্ত্রীক সঠিক রূপ হবে সস্ত্রীক
- অশ্রুসজল শব্দের সঠিক রূপ হবে অশ্রু অথবা জল অথবা চোখের জল।
- অধীনস্থ শব্দের সঠিক রূপ হবে অধীন।

উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
৩১৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অদ্যবধি
  2. অত্যাধিক
  3. অতিথী
  4. অচিন্তনীয়
সঠিক উত্তর:
অচিন্তনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্তনীয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অচিন্তনীয়,
- বিশেষণ পদ,
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- অভাবনীয়,
- চিন্তার অতীত। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অতিথী – অতিথি। 
• অত্যাধিক – অত্যধিক। 
• অদ্যবধি – অদ্যাবধি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩১৪.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) নীরোগ
  3. গ) যুবরাজ
  4. ঘ) রাজাগণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজাগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজাগণ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ হলো : রাজগণ
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩১৫.
‘গ্রীষ্মের তাপদাহে জীবন অতিষ্ঠ।’ বাক্যটিতে কিসের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বচনজনিত
  2. খ) গুরুচন্ডালীজনিত
  3. গ) উপমাজনিত
  4. ঘ) সমাসজনিত
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুচন্ডালীজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুচন্ডালীজনিত
ব্যাখ্যা

গুরুচণ্ডালী বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ।
এমন হলে বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়েছে বলা যায়৷
এদের গুরুচণ্ডালী ভুল গুলো হচ্ছে - গরুর শকট, মড়া দাহ, শব পোড়া, তাপদাহ
গরুর গাড়ি, মরা পোড়া, শবদাহ, দাবদাহ - এরকম হলে গুরুচণ্ডালী দোষ হবে না।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৩১৬.
কোনটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ?
  1. কাল
  2. প্রয়োজন
  3. সময়
  4. সুস্বাগত
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
ব্যাখ্যা
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ - সুস্বাগত
- শুদ্ধ প্রয়োগ - স্বাগত।

অন্যদিকে,
- প্রয়োজন,
- সময়,
- কাল।
উপরিউক্ত শব্দগুলর শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৭.
‘শবপোড়া’ শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. দুর্বোধ্যতা
  2. উপমার প্রয়োগে ভুল
  3. আকঙ্খার প্রয়োগে ভুল
  4. গুরুচন্ডালী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুরুচন্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচন্ডালী
ব্যাখ্যা
• ‘শবপোড়া’ শব্দটি গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্টু। 
- সঠিক শব্দ হবে শবদাহ। 

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
‘ভারসাম্যতা' শব্দটি অশুদ্ধ কেন?
  1. ক) প্রত্যয় জনিত কারণে
  2. খ) উপসর্গ জনিত কারণে
  3. গ) সন্ধি জনিত কারণে
  4. ঘ) কারক জনিত কারণে
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যয় জনিত কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যয় জনিত কারণে
ব্যাখ্যা
'ভারসাম্য' একটি বিশেষ্য পদ।
- যার অর্থ - দুই দিকের ভাবের সমতামূলক সামঞ্জস্য বোঝায়।
সুতারাং, ভারসাম্যতা - এখানে প্রত্যয় জনিত অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ রূপ হবে - ভারসাম্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩১৯.
প্রত্যয় জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ঘূর্ণায়মান
  2. করিতকর্মা
  3. আবশ্যকীয়
  4. গণনীয়
সঠিক উত্তর:
আবশ্যকীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবশ্যকীয়
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২০.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. সৌন্দর্যতা
  2. সুবুদ্ধিমান
  3. অধীনস্ত
  4. উপলক্ষ্য
সঠিক উত্তর:
উপলক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপলক্ষ্য
ব্যাখ্যা
• 'উপলক্ষ্য' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - উদ্দেশ্য, প্রয়োজন।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
সুবুদ্ধিমান - বুদ্ধিমান,
অধীনস্ত - অধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  2. ইহার আবশ্যক নেই।
  3. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  4. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
- বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়।

যেমন:
অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
শুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নাই ৷

অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ: বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২২.
‘ব ফলার’ অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) স্বত্ব
  2. খ) স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) সাত্ত্বিক
  4. ঘ) স্বত্ত্বা
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বত্ত্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বত্ত্বা
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান গুলো হচ্ছে - স্বায়ত্তশাসন, স্বত্ব, সাত্ত্বিক, সত্তা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩২৩.
"তাহারা এইখানে এসেছিল। " - বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ হবে?
  1. বানানগত অশুদ্ধি
  2. শব্দের বাহুল্য প্রয়োগ
  3. পুরুষ-স্ত্রীবাচক শব্দজনিত ভুল
  4. সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল
সঠিক উত্তর:
সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল বা অশুদ্ধি:
একই বাক্যে একসাথে সাধু ও চলিত রীতির শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য অশুদ্ধ হয়ে থাকে।
যেমন,
অশুদ্ধ বাক্য: তাহারা এইখানে এসেছিল। 
শুদ্ধ বাক্য: তারা এখানে এসেছিল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩২৪.
'আবশ্যকীয়' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. বিভক্তি জনিত
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. উপসর্গ জনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

• 'আবশ্যকীয়' শব্দটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত কারণে অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - আবশ্যক।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ:
• একত্রিত - একত্র,
• পুজ্য - পূজ্য,
• বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২৫.
'উৎকর্ষতা' - শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সন্ধিজনিত
  4. ষত্ব বিধান অনুসারে ভুল
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• উৎকর্ষ এটি বিশেষ্য পদ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ। অর্থাৎ ‘উৎকর্ষতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২৬.
নিচের যে শব্দটিকে শাব্দিক অপপ্রয়ােগ বলে বিবেচনা করা যায়-
  1. ক) হােথায়
  2. খ) অশ্রুজল
  3. গ) অম্বরতল
  4. ঘ) অন্ধআবেগ
সঠিক উত্তর:
খ) অশ্রুজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অশ্রুজল
ব্যাখ্যা
অশ্রু - চোখের পানি; নয়ন জল
তাই ‘অশ্রুজল’ চোখের পানি অথবা কান্না অর্থে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ হবে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অশ্রু/চোখের জল।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩২৭.
নিচের কোন শব্দটি অপপ্রয়োগ?
  1. মহিমামণ্ডিত
  2. মাতৃজাতি
  3. যুবরাজ
  4. দিবারাত্র
সঠিক উত্তর:
মহিমামণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমামণ্ডিত
ব্যাখ্যা

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন:
নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
পিতাহারা - পিতৃহারা;
যুবরাজা - যুবরাজ;
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত;
রাজাগণ - রাজগণ;
মাতাজাতি - মাতৃজাতি;
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩২৮.
নিচের কোন শব্দে ‘বহুল’ এর প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. ব্যয়বহুল
  2. কর্মবহুল
  3. বহুলপ্রয়োগ
  4. বিলাসবহুল
সঠিক উত্তর:
বহুলপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুলপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• বহুল শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে - বহুলপ্রয়োগ শব্দে।
• শুদ্ধ প্রয়োগ - বহুল প্রয়োগ।

‘বহুল’ শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল প্রয়োগ,
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২৯.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. গরুগুলো মাঠে চরে বেড়াচ্ছে।
  2. প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।
  3. আমাদের কলেজের সব ছাত্রই আজ উপস্থিত।
  4. ভাইসব মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: প্রতিটি গ্রামে গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।
• শুদ্ধ বাক্য: প্রতিটি গ্রামে এ খবর দিয়ে দাও।

অপশনের অন্যান্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• আমাদের কলেজের সব ছাত্রই আজ উপস্থিত।
• গরুগুলো মাঠে চরে বেড়াচ্ছে।
• ভাইসব মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

-----------------------------
• বহুবচনের অপপ্রয়োজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩০.
'সুস্বাস্থ্য' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
  2. প্রত্যয়জনিত কারণে
  3. সমাস-ঘটিত কারণে
  4. সন্ধি বিষয়ক কারণে
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে
ব্যাখ্যা

• 'সুস্বাস্থ্য' শব্দটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ শব্দ: স্বাস্থ্য।

• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:

শুদ্ধ:অদ্যাপি/অদ্যও
অশুদ্ধ:অদ্যাপিও

শুদ্ধ:অশ্রু
অশুদ্ধ:অশ্রুজল

শুদ্ধ:আয়ত্ত/অধীন
অশুদ্ধ: আয়ত্তাধীন

শুদ্ধ: আরক্ত/রক্তিম
অশুদ্ধ:আরক্তিম

শুদ্ধ:কেবল/মাত্র
অশুদ্ধ:কেবলমাত্র

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩৩১.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  2. কাউকে তিরস্কার করবে না।
  3. পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
  4. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: পুরষ্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: পুরস্কার পেয়ে সে আনন্দিত হয়েছে।

• নিয়ম:
⇒ বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
⇒ তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩২.
'সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. উপমার অপপ্রয়োগ
  2. বানানের অপপ্রয়োগ
  3. বিশেষ্যের অপপ্রয়োগ
  4. বহুবচনের অপপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
বহুবচনের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহু বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে প্রশান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ। 

৩৩৩.
সমাস সাধিত শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. নিরহঙ্কারী
  2. অর্ধরাত্রি
  3. নীরোগী
  4. পিতৃহারা
সঠিক উত্তর:
পিতৃহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতৃহারা
ব্যাখ্যা
• 'পিতৃহারা' - শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. বিবিধপ্রকার
  2. যদ্যপি
  3. স্বাস্থ্য
  4. প্রয়োজন
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
ব্যাখ্যা
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - বিবিধপ্রকার
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - বিবিধ।

অন্যদিকে,
- প্রয়োজন,
- স্বাস্থ্য,
- যদ্যপি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩৫.
‘ণ’ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) লক্ষণ
  2. খ) ত্রিনয়ণ
  3. গ) নির্ণিমেষ
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক) লক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লক্ষণ
ব্যাখ্যা
‘ণ’ এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে লক্ষণ, রক্ষণ, প্রশিক্ষণ, আমন্ত্রণ ইত্যাদি শব্দে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩৩৬.
‘উল্লেখিত’ শব্দটিতে কী ধরণের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সমাসজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সন্ধিজনিত
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
সন্ধিজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা
• ‘উল্লেখিত’ শব্দটিতে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত।

⇒ নিয়ম:

 - ত্ ও দ্‌, এর পর ল্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ -এর স্থলে ল উচ্চারিত হয়।
- উল্লিখিত এর সন্ধি বিচ্ছেদ উৎ + লিখিত। তাই উল্লেখিত শব্দটি অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৭.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. পূর্ব দিকে সূর্য উদয় হয়।
  2. ইহার আবশ্যক নাই।
  3. গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।
  4. এটি একটি অনুবাদিত গ্রন্থ।
সঠিক উত্তর:
গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• "গাছটি সমূলে উৎপাটন হয়েছে।"- বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো:
• পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
• ইহার আবশ্যকতা নাই।
• এটি একটি অনূদিত গ্রন্থ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৮.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1.  বিন্যস্ত
  2. বিধ্বস্ত
  3. দ্বারস্ত
  4. অস্ত
সঠিক উত্তর:
দ্বারস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বারস্ত
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ- দ্বারস্ত। 
শুদ্ধরূপ- দ্বারস্থ। 

• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:

স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।

উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।

• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।

উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।

৩৩৯.
উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) এক পৌষে শীত যায় না
  2. খ) আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো
  3. গ) রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে ক্রন্দন একই কথা।
  4. ঘ) দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
সঠিক উত্তর:
খ) আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো
ব্যাখ্যা
প্রথম বাক্যটি 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

দ্বিতীয় বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
সঠিক বাক্যরূপটি হবে - আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।

 তৃতীয় বাক্যটিতে বাগধারার অপপ্রয়োগ হয়েছে।
বাক্যটির সঠিক রূপটি হবে - রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

চতুর্থ বাক্যে বাহুল্যদোষে দুষ্ট।
বাক্যটির সঠিক রূপ - দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষক তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।
বা, দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।
৩৪০.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি পেয়েছি, তাকে পেয়েছি, আমার বুকের রক্তে, চোখের অশ্রুজলে।
  2. আমি তার উদ্দেশ্যে আমার শান্ত স্নিগ্ধ অন্তরের পরিপূর্ণ চিত্তের একটি সশ্রদ্ধ নমস্কার রেখে গেলাম।
  3. আমি যেন শুনতে পাই, সে আমারে সর্বান্তকরণে ক্ষমা করেছে।
  4. ফুলের কাঁটা ভুলে গিয়ে তার উর্ধ্বে ফুলের কথাই যেন সে মনে রাখে।
সঠিক উত্তর:
আমি পেয়েছি, তাকে পেয়েছি, আমার বুকের রক্তে, চোখের অশ্রুজলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি পেয়েছি, তাকে পেয়েছি, আমার বুকের রক্তে, চোখের অশ্রুজলে।
ব্যাখ্যা
অশ্রু - চোখের পানি; নয়ন জল
তাই ‘অশ্রুজল’ চোখের পানি অথবা কান্না অর্থে ব্যবহার করলে অপপ্রয়োগ হবে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অশ্রু/চোখের জল।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
৩৪১.
প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হলো-
  1. ক) বিচিত্রতা
  2. খ) স্বাতন্ত্র‍্য
  3. গ) ঐক্যমত
  4. ঘ) বাহুল্য
সঠিক উত্তর:
গ) ঐক্যমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঐক্যমত
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হলো- ঐক্যমত।
এর সঠিক রূপ হলোঃ ঐকমত্য বা ঐক্যমত্য - (বিশেষ্য) একমত; মতের অভিন্নতা; মতের মিল বা ঐক্য।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৩৪২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) দারিদ্র্যতা
  2. খ) উৎকর্ষতা
  3. গ) সরলতা
  4. ঘ) মৌনতা
সঠিক উত্তর:
গ) সরলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সরলতা
ব্যাখ্যা
সরল + তা = সরলতা। সরল বিশেষণ, তার সঙ্গে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ্য হয়েছে। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩৪৩.
নিচের কোনটিতে শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) শুধুমাত্র
  2. খ) আয়ত্তাধীন
  3. গ) রক্তিম
  4. ঘ) কেবলমাত্র
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তিম
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো :
শুধু/মাত্র
আয়ত্ত/অধীন
কেবল/মাত্র
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩৪৪.
‘শবপোড়া’ শব্দটির কী দোষ দেখা যায়?
  1. ক) গুরুচন্ডালী
  2. খ) আকঙ্খার প্রয়োগে ভুল
  3. গ) উপমার প্রয়োগে ভুল
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুচন্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুচন্ডালী
ব্যাখ্যা
• ‘শবপোড়া’ শব্দটি গুরুচন্ডালী দোষে দুষ্টু। 
- সঠিক শব্দ হবে শবদাহ। 

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৫.
নিচের কোন বাক্যটিতে অপ্রয়োগ-এর দৃষ্টান্ত রয়েছে?
  1. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 
  3. বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
  4. ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
ব্যাখ্যা
•অশুদ্ধ: বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
- শুদ্ধ: বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে। 
 ----------------------
অন্যদিকে, 
• অপপ্রয়োগ: 'আমি এ ঘটনা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি।'
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো: 'আমি এ ঘটনা  প্রত্যক্ষ করেছি।' / 'আমি এ ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছি।' 

তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে। - বাক্যে বাচ্যজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে।
শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

অশুদ্ধ: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩৪৬.
নিচের কোন বাক্যটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
  2. খ) এক মাঘে শীত যায় না
  3. গ) গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল
  4. ঘ) উন বর্ষা দুনো শীত
সঠিক উত্তর:
ক) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত
ব্যাখ্যা
সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন- 'দশচক্রে ঈশ্বর ভূত' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে। শুদ্ধ বাক্যটি হলো- দশচক্রে ভগবান ভূত (দশ জনের চক্রান্তে অন্যায়কে ন্যায় করা)।
এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না);
গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল (গায়ে পড়ে কর্তৃত্ব জাহির করা);
উন বর্ষা দুনো শীত (অল্প কাজে অধিক লাভ)।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৭.
নিচের কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) আমার টাকার আবশ্যকতা নেই।
  2. খ) বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
  3. গ) ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিলো।
  4. ঘ) সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষী দিয়েছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষী দিয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষী দিয়েছে।
ব্যাখ্যা

বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে : সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৩৪৮.
‘ব্যা’ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) ব্যাঘ্র
  2. খ) ব্যাগ্র
  3. গ) ব্যাকরণ
  4. ঘ) ব্যাপার
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাগ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাগ্র
ব্যাখ্যা
কোনো শব্দের শুরুতে ‘ব্য’ থাকলে তাকে ভাঙতে হয় ‘বি+অ’ দিয়ে এবং শব্দের শুরুতে ‘ব্যা’ থাকলে একে ভাঙতে হবে ‘বি+আ’ দিয়ে। সঠিক বানান গুলো হচ্ছে - ব্যাঘ্র, ব্যগ্র, ব্যাকরণ, ব্যাপার।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩৪৯.
'দেশের সকল অর্থনীতিবদগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন৷' বাক্যটিতে কি ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) বাচ্যজনিত ভুল
  4. ঘ) যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করা
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে ফেলে৷
যেমন- উপরের বাক্যটিতে 'অর্থনীতিবদগণ' হলো বহুবচনবাচক শব্দ৷ এর সঙ্গে 'সকল' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে।
সঠিক বাক্য - 'দেশের সকল অর্থনীতিবদ এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন৷'
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫০.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. ঠিক
  2. প্রয়োজন
  3. স্বাস্থ্য
  4. সময়কাল
সঠিক উত্তর:
সময়কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সময়কাল
ব্যাখ্যা
• 'সময়কাল' সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ - সময় / কাল।

অন্যদিকে,
- স্বাস্থ্য,
- প্রয়োজন,
- ঠিক।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৫১.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. চাতুর্যতা
  2. দীনতা
  3. কৃপণতা
  4. অলসতা
সঠিক উত্তর:
চাতুর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্যতা
ব্যাখ্যা
• চাতুর্যতা শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: চাতুর্য বা চতুরতা।

⇒ ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ মব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫২.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. মহত্ব
  2. সত্তা
  3. স্বাতন্ত্র
  4. সাধ্যায়ও
সঠিক উত্তর:
সত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্তা
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

শুদ্ধ  - অশুদ্ধ:
• মহত্ত্ব - মহত্ব। 
• সত্তা - সত্বা। 
• সম্ভ্রান্তশালী - সম্ভ্রামশালী। 
• স্বাতন্ত্র্য- স্বাতন্ত্র। 
• সাধ্য - সাধ্যায়ও। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৩.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ তা নির্দেশ করুন?
  1. এতে গৗরব লোপ পেয়েছে।
  2. তার আবৃত্তিতে মাধুর্যতা আছে।
  3. সুশিক্ষার কোন বিকল্প নাই।
  4. সকল সদস্যগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
সঠিক উত্তর:
সুশিক্ষার কোন বিকল্প নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশিক্ষার কোন বিকল্প নাই।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য = সুশিক্ষার কোন বিকল্প নাই। 

উল্লেখ্য: অনেকের মতে "সুশিক্ষা" শব্দটি অপপ্রয়োগ। কিন্তু বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে "সুশিক্ষা" ও "কুশিক্ষা" দুটি শব্দই সঠিক ও প্রমিত। 




অন্যদিকে,
• এতে গৗরব লোপ পেয়েছে।
- এই বাক্যে গৌরব বানান ভুলভাবে দেওয়া আছে। 

• তার আবৃত্তিতে মাধুর্যতা আছে।
• শুদ্ধ বাক্য = তার আবৃত্তিতে মাধুর্য আছে।

• সকল সদস্যগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
• শুদ্ধ বাক্য = সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৩৫৪.
বাক্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে কোন দোষ ঘটে?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. বাচ্যজনিত ভুল
  4. প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
⇒ বাহুল্য দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারায়। 
যেমন
• অশুদ্ধ বাক্য: 'দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।'
• শুদ্ধ বাক্য হবে: 'দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন' অথবা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন'।

⇒ বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচনবাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
‘ৎ’ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) আত্মসাৎ
  2. খ) ইন্দ্রজিৎ
  3. গ) ক্বচিৎ
  4. ঘ) উচিৎ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচিৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচিৎ
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান গুলো হচ্ছে - আত্মসাৎ, ইন্দ্রজিৎ, ক্বচিৎ, উচিত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩৫৬.
‘সকল সদস্যগণ আজ উপস্থিত।’ বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে
  2. বাহুল্য দোষে
  3. দুর্বোধ্যতা দোষে
  4. উপমার ভুল প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন:
- সকল সদস্যগণ আজ উপস্থিত।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।

• "সকল সদস্যগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 
- শুদ্ধ বাক্যটি হবে: "সকল সদস্য আজ উপস্থিত" অথবা "সদস্যগণ আজ উপস্থিত"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৫৭.
প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ঢং
  2. রঙিন
  3. সং
  4. রঙ 
সঠিক উত্তর:
রঙ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ 
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম অনুসারে অশুদ্ধ শব্দ- রঙ। 
- শুদ্ধ বানান-  রং। 

----------------------
প্রমিত বানানের নিয়ম:
- শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং
- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন:
বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।

-ব্যতিক্রম: বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৫৮.
নিচের কোন শব্দটিতে কোনো ধরনের অপ-প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. একাকীত্ব
  2. স্বায়ত্ব
  3. সমূলসহ
  4. মুখস্থ
সঠিক উত্তর:
মুখস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখস্থ
ব্যাখ্যা

সঠিক প্রয়োগ গুলো হলোঃ
• একাকীত্ব = একাকী + ত্ব = একাকিত্ব।
• স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত।
• সমূলসহ নয় হবে মূলসহ বা সমূল।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রতিম বাংলা বানানের নিয়ম।

৩৫৯.
উ-কারের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নূর
  2. নূপুর
  3. নূরানি
  4. নূড়ি
সঠিক উত্তর:
নূপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূপুর
ব্যাখ্যা
⇒ নিয়ম:
• নূতন, নূপুর, ন্যূন এই তিনটি বানান ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ‘ন’ এর নিচে উ-কার হবে। 
যেমন- নুর, নুড়ি, নুরানি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৬০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. দুর্বলবশত অনাথিনী বসে পড়ল
  2. দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল
  3. দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
  4. দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল
সঠিক উত্তর:
দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
• 'অনাথা' শব্দটি 'অনাথ' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ।

অন্যদিকে,
• বর্তমান বাংলা ভাষা রীতি অনুসারে শব্দের শেষে 'ঃ' বসে না। সুতরাং দুর্বলতাবশতঃ বানানটি অশুদ্ধ।
• অন্যান্য বাক্যগুলোতে 'দুর্বলবশত' এবং 'অনাথিনী' শব্দের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৬১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. গম্ভীরতা
  2. গাম্ভীর্য
  3. গাম্ভীর্যতা
  4. চাপল্য
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

অন্যদিকে,
- 'চাপল্য' শব্দটি শুদ্ধ প্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬২.
কোন শব্দে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরপরাধী
  2. অহর্নিশি
  3. নির্দোষ
  4. দিবারাত্রি
সঠিক উত্তর:
নির্দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দোষ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ প্রয়োগ - নির্দোষ। 

সমাস-ঘটিত কিছু অশুদ্ধি শব্দের শুদ্ধরূপ:
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
- নিরপরাধী = নিরপরাধ।
- অহর্নিশি = অহর্নিশ।
- নিরহঙ্কারী = নিরহঙ্কার।
- নির্দোষী = নির্দোষ।
- পিতাহারা = পিতৃহারা।
- অর্ধরাত্রি = অর্ধরাত্র।
- নিরভিমানী = নিরভিমান।
- দিবারাত্রি = দিবারাত্র।
- নীরোগী = নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬৩.
অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. অধীন
  2. দরিদ্রতা
  3. দিবারাত্রি
  4. নিরপরাধ
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
ব্যাখ্যা
• 'দিবারাত্রি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: দিবারাত্র। 

অন্যদিকে,
বাকি শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৪.
'সাদৃশ্যতা' শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গজনিত
  2. বানানজনিত
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. অশুদ্ধ নয়
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'সাদৃশ্যতা'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'সাদৃশ্য'। 

 তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ: 
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৬৫.
‘ঠিক যেন তোর মতো, তোর নামে নাম।’ বাক্যটিতে কি ধরনের বিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষণের বিশেষণ
  2. খ) বিশেষ্যের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যথা-
ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
ঠিক যেন তোর মতো, তোর নামে নাম।
তুমি তো প্রায় পাগলের মতো দৌড়াচ্ছ।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৩৬৬.
সন্ধির অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) অন্বয়
  2. খ) মন্বন্তর
  3. গ) পশ্বাধম
  4. ঘ) স্বচ্ছ
সঠিক উত্তর:
গ) পশ্বাধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পশ্বাধম
ব্যাখ্যা
'উ' বা 'ঊ' ধ্বনির সঙ্গে অন্য স্বরধ্বনি মিললে উ বা ঊ–র জায়গায় ব–ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন বানানে আগের ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়৷
যেমন- উ + অ = ব্ + অ = ব:
অনু + অয় = অন্বয়
পশু + অধম = পশ্বধম
মনু + অন্তর = মন্বন্তর
সু + অচ্ছ = স্বচ্ছ
সু + অল্প = স্বল্প
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৭.
হাতে হাতে এ কাজের ফল পাবেন। এখানে ‘হাতে হাতে’ কী অর্থ বুঝায়?
  1. ক) অবিলম্বে
  2. খ) ভিক্ষা করা
  3. গ) হস্তান্তর
  4. ঘ) প্রভাব
সঠিক উত্তর:
ক) অবিলম্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অবিলম্বে
ব্যাখ্যা
হাতে হাতে এ কাজের ফল পাবেন। এখানে ‘হাতে হাতে’ দ্বারা অবিলম্বে বুঝানো হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৩৬৮.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
  3. সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

⇒ বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:

বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো- 

• অশুদ্ধ: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬৯.
'কামালের মত এমন বুদ্ধিমতী বালক কেউ কখনো দেখেনি।'
উপরের বাক্যটিতে কি ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
  1. ক) লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) বাচ্যজনিত
  4. ঘ) সন্ধিজনিত
সঠিক উত্তর:
ক) লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
ব্যাখ্যা
'কামালের মত এমন বুদ্ধিমতী বালক কেউ কখনো দেখেনি।' -বাক্যটিতে লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
কারণ বুদ্ধিমতী হলো স্ত্রীলিঙ্গ। এর পুংলিঙ্গ হলো বুদ্ধিমান।
সঠিক বাক্যটি হবে 'কামালের মত এমন বুদ্ধিমান বালক কেউ কখনো দেখেনি।'
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭০.
নিচের কোন শব্দে সন্ধি জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাগীশ্বরী
  2. উপরোক্ত
  3. অদ্যাবধি
  4. জ্যোতিরিন্দ্র
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
ব্যাখ্যা
- 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধরূপ - উপর্যুক্ত / উপরিউক্ত।
- এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

অন্যদিকে,
- অদ্যাবধি,
- উপর্যুক্ত,
- জ্যোতিরিন্দ্র। 
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭১.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কোন দোষে দুষ্ট হয়?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে
  2. দুর্বোধ্যতা-দোষে
  3. বাহুল্য-দোষে
  4. উপমার ভুল প্রয়োগ-দোষে
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে
ব্যাখ্যা
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। 
​এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপোড়া' প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে 'গরুর শকট', 'শবপোড়া', 'মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

------------------
• দুর্বোধ্যতা:

অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়। যেমন- তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছো। (চাতুরী বা মায়া অর্থে, কিন্তু বাংলা 'প্রপঞ্চ' শব্দটি অপ্রচলিত)।

• উপমার ভুল প্রয়োগ:
ঠিকভাবে উপমা অলংকার ব্যবহার না করলে যোগ্যতার হানি ঘটে।
যেমন:
- আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।
[বীজ ক্ষেতে বপন করা হয়, মন্দিরে নয়। কাজেই বাক্যটি হওয়া উচিত: আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।]

• বাহুল্য-দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।
যেমন:
- দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
['আলেমগণ' বহু বচনবাচক শব্দ। এর সঙ্গে 'সব' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য-দোষ সৃষ্টি করেছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৭২.
বাগধারায় শব্দের পরিবর্তনজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয়।
  2. কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।
  3. উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।
  4. লোকটার যেন কৈ মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
সঠিক উত্তর:
কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।
ব্যাখ্যা
⇒ বাগধারা ভাষার সৌন্দর্যবর্ধন, অর্থের স্পষ্টতা এবং ভাবের ব্যঞ্জনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ এ বান্ধারার অপপ্রয়োগ দেখ যায়; ফলে বাগ্ধারার সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি অশুদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হয়।
যেমন:
• অশুদ্ধ: উলুবনে সোনা ছড়িয়ে লাভ নেই।
• শুদ্ধ: উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।

• অশুদ্ধ: কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।
• শুদ্ধ: কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।

• অশুদ্ধ: লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
• শুদ্ধ: লোকটির যেন কৈ মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি। ।

• শুদ্ধ: কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
• অশুদ্ধ: কাঁচা টাকা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৭৩.
কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সরলতা
  2. লঘুত্ব
  3. ধৈর্যতা
  4. বহুলতা
সঠিক উত্তর:
ধৈর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধৈর্যতা
ব্যাখ্যা
• 'ধৈর্যতা' - শব্দটিতে প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।

• এখানে, 
- 'ধৈর্য' শব্দটি বিশেষ্য।

- কোন বিশেষ্য পদের সাথে আবার তা অথবা ত্ব প্রত্যয় যুক্ত করা হলে, যে শব্দটি হয় তা ভুল। 
- তা, ত্ব প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। 
তাই,
বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

অন্যদিকে,
সরলতা, লঘুত্ব, বহুলতা - শব্দগুলোতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
----------------------------- 
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- একত্রিত - একত্র;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭৪.
নিচের কোন বাক্যে তা-প্রত্যয়ের অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  2. মেয়েটির সরলতায় আমি মুগ্ধ।
  3. রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
  4. ধীরতা একটি মহৎ গুণ।
সঠিক উত্তর:
রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য। বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য। 

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• উৎকর্ষ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- এটি বিশেষ্য। 

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ অর্থাৎ বাহুল্য দোষ। 
• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'। 

⇒ নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭৫.
কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ঐক্যতা
  2. জন্মবার্ষিকী
  3. মহাত্ম
  4. অধীনস্থ
সঠিক উত্তর:
জন্মবার্ষিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্মবার্ষিকী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: জন্মবার্ষিকী (বিশেষ্য পদ)।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: জন্মদিবস উপলক্ষ্যে পালিত উৎসব।

অন্যদিকে,
- অধীনস্থ শব্দটি প্রচলিত অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে অধীন।
- মহাত্ম' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধরূপ মহত্ত্ব।
- 'ঐক্যতা' শব্দটিতে 'তা' প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ হয়েছে। শব্দটির সঠিক বানান হবে ঐক্য বা একতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
৩৭৬.
মালিকানা অর্থে কোন শব্দটির প্রয়োগ যথাযথ?
  1. ক) সত্ত্ব
  2. খ) স্বত্ব
  3. গ) স্বত্ত
  4. ঘ) স্বত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) স্বত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বত্ব
ব্যাখ্যা
স্বত্ব - (বিশেষ্য) ধনাদিতে অধিকার; মালিকানা
স্বত্বাধিকার (বিশেষ্য) - ভোগ দখল ও দান; বিক্রয়াদির অধিকার
স্বত্বাধিকারী (বিশেষণ) - মালিক; দখলকার
স্বত্বাধিকারিণী (স্ত্রীলিঙ্গ)।
সত্ত্ব (বিশেষ্য) - সত্তা; নিত্যতা; অস্তিত্ব।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩৭৭.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
  2. নিস্ফল পরিশ্রম করলে।
  3. তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
  4. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
সঠিক উত্তর:
নিস্ফল পরিশ্রম করলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিস্ফল পরিশ্রম করলে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: নিস্ফল পরিশ্রম করলে।
• শুদ্ধ বাক্য: নিষ্ফল পরিশ্রম করলে।

• নিয়ম:
⇒ বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

⇒ তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায়: অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

⇒ অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
⇒ (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭৮.
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য কোন দোষে দুষ্ট হয়?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে
  2. বাচ্যজনিত দোষে 
  3. উপমার ভুল প্রয়োগে 
  4. বাহুল্য দোষে 
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে 
ব্যাখ্যা

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন:
- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

• বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
- দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

অন্যদিকে,
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।

- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ।

• বাচ্যজনিত দোষ:
বাংলা ব্যাকরণে বাচ্যজনিত দোষ বলতে বাক্যে কর্মবাচ্য, কর্তৃবাচ্য বা ভাববাচ্যের ভুল প্রয়োগের ফলে বাক্যের অর্থের অস্পষ্টতা বা অশুদ্ধিকে বোঝায়। এটি সাধারণত বাক্যের গঠন ও শব্দের বাচ্য-সংক্রান্ত ত্রুটি, যার ফলে বাক্যটি শ্রুতিকটু বা ভাবপ্রকাশে অক্ষম হয়।

• উপমার ভুল প্রয়োগ:
- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
- যেমনঃ 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৭৯.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরপরাধী
  2. সময়কাল
  3. বিবদমান
  4. দুরাবস্থা
সঠিক উত্তর:
সময়কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সময়কাল
ব্যাখ্যা
• 'সময়কাল'
- শব্দটির সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে। এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল

অন্যদিকে,
• 'দুরাবস্থা' - শব্দটির সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ হয়েছে। এর শুদ্ধরূপ: দুরবস্থা।
• বিবদমান - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
• 'নিরপরাধী' - শব্দটির সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে। এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৮০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. প্রতিযোগী - প্রতিযোগীতা
  2. কৃতী - কৃতিত্ব
  3. দায়ী - দায়ীত্ব
  4. সহযোগী - সহযোগীতা
সঠিক উত্তর:
কৃতী - কৃতিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃতী - কৃতিত্ব
ব্যাখ্যা
• নিয়ম:
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী - কৃতিত্ব,
দায়ী - দায়িত্ব,
প্রতিযোগী - প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী - মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী - সহযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৮১.
'কার্পণ্যতা' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. বাহুল্যজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বানানজনিত
  4. সমাসসাধিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

• 'কার্পণ্যতা' শব্দটি-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'কার্পণ্য'। 
এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩৮২.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
  2. আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
  3. কালীদাস খ্যাতমান কবি।
  4. আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।
সঠিক উত্তর:
আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ: আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
শুদ্ধ: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।

অশুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
শুদ্ধ : আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই।

অশুদ্ধ কালীদাস খ্যাতমান কবি।
শুদ্ধ : কালিদাস খ্যাতিমান কবি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৩৮৩.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) উৎকর্ষ
  2. খ) ভারসাম্য
  3. গ) দারিদ্রতা
  4. ঘ) চাতুর্য
সঠিক উত্তর:
গ) দারিদ্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দারিদ্রতা
ব্যাখ্যা
'দারিদ্রতা' শব্দটি প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
এর সঠিক শব্দ: দারিদ্র্য, দরিদ্রতা। 

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।  
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৮৪.
"তাহার উদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. বাচ্যজনিত ভুল
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. শব্দের অপপ্রয়োগ
  4. ভুল নেই
সঠিক উত্তর:
শব্দের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা

প্রদত্ত বাক্যে ‘উদ্ধতপূর্ণ’ শব্দটির প্রয়োগ সঠিক নয়। বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - উদ্ধত/ঔদ্ধত্য (বিশেষ্য);
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: দৃঢ়তা, স্পর্ধা, অবিনয়, উগ্রতা, দর্প, গর্ব।
 
• "তাহার উদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।" - ভুল বাক্যটির সঠিক রূপ -
- তাহার উদ্ধত/ঔদ্ধত আচরণে ব্যথিত হইয়াছি।

সঠিক উত্তর: গ) শব্দের অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৮৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষই করে না। 
  2. নিজের ঘরসংসারের দিকে তার কোনো লক্ষ্য নেই। 
  3. আমার লক্ষ দেশের উন্নতি করা।
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আমার লক্ষ দেশের উন্নতি করা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার লক্ষ দেশের উন্নতি করা।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- আমার লক্ষ দেশের উন্নতি করা।
শুদ্ধ: আমার লক্ষ্য দেশের উন্নতি করা। 

লক্ষ/লক্ষ্য এর ব্যবহার: 

আমরা সকলেই জানি যে, 'লক্ষ' শব্দের অর্থ ১০০ হাজার এবং 'লক্ষ্য' মানে উদ্দেশ্য বা দেখা। আমরা যা জানি না তা হলো, উদ্দেশ্য বা দেখা অর্থে লক্ষ্য ও লক্ষ দুটো বানানই ঠিক, তবে বাক্যে এদের প্রয়োগ করার মধ্যে ভিন্নতা আছে।

যেমন:
(ক) আমার লক্ষ্য দেশের উন্নতি করা। (উদ্দেশ্য অর্থে)
(খ) নিজের ঘরসংসারের দিকে তার কোনো লক্ষ্য নেই। (দৃষ্টি, নজর অর্থে।
(গ) নিজের ঘরসংসারের দিকে সে কোনো লক্ষই করে না। (দৃষ্টি, নজর অর্থে।

অর্থাৎ, দৃষ্টিপাত করা, মনোযোগ দেওয়া অর্থে এই শব্দের বানান দু রকম হচ্ছে: বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহার করলে য-ফলা দিতে হবে (ক সংখ্যক এবং খ সংখ্যক উদাহরণ)। আর ক্রিয়াপদ হিসেবে ব্যবহার করলে য-ফলা লাগবে না (গ-সংখ্যক উদাহরণ)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ। 

৩৮৬.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কোন দোষ ঘটে?
  1. ক) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্য দোষ
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ - তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী সৃষ্টি হয়।  এ দোষে দুষ্টু শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন - গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোরা প্রভৃতির স্থলে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ এর ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮৭.
অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

অন্যদিকে,
⇒ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
⇒ তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
⇒ অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

বাক্যে শব্দের গঠন অনুসারে উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৮.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কৃপণতা
  2. বহুলতা
  3. স্বতন্ত্রতা
  4. বৈশিষ্ট্যতা
সঠিক উত্তর:
বৈশিষ্ট্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈশিষ্ট্যতা
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে -বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অধৈর্যতা-  অধৈর্য, ধীরতা। 
আলস্যতা-  আলস্য, অলসতা।
ঐক্যতা-  ঐক্য, একতা। 
দৈন্যতা-  দৈন্য, দীনতা। 
কার্পণ্যতা-  কার্পন্য, কৃপণতা।
বাহুল্যতা - বাহুল্য, বহুলতা। 
বৈচিত্র্যতা - বৈচিত্র্য, বিচিত্রতা। 
বৈশিষ্ট্যতা - বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা। 
বৈষম্যতা- বৈষম্য, বিষমতা। 
ভারসাম্যতা - ভারসাম্য, ভারসমতা। 
সারল্যতা - সারল্য, সরলতা। 
সৌজন্যতা - সৌজন্য, সুজনতা। 
স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্রতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮৯.
নিচের বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
'বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।'
  1. উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. বানান জনিত
  3. বাহুল্য দোষ
  4. বিভক্তি জনিত
সঠিক উত্তর:
বানান জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান জনিত
ব্যাখ্যা
উপরের বাক্যটিতে বানান জনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
বিদ্যান ও মুর্খ শব্দদ্বয়ের সঠিক রূপ হবে বিদ্বান ও মূর্খ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯০.
আধিক্য বুঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে কোথায়?
  1. ক) রাশি রাশি ধন
  2. খ) ধামা ধামা ধান
  3. গ) কে কে এলো
  4. ঘ) উপরের সবগুলোতেই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোতেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোতেই
ব্যাখ্যা
আধিক্য বুঝাতে - রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান, ভালো ভালো আম, ‘কে কে এলো?’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৩৯১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. মাদকাশক্তি ভাল নয়।
  2. তুমিই টাকাটি আত্মস্ম্যাৎ করেছ।
  3. সকল ছাত্রগণ ক্লাসে উপস্থিত ছিল।
  4. আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।
সঠিক উত্তর:
আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: "আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।"

অন্য অপশন,
• অশুদ্ধ: মাদকাশক্তি ভাল নয়।
শুদ্ধ: মাদকাসক্তি ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ ক্লাসে উপস্থিত ছিল।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র ক্লাসে উপস্থিত ছিল।

• অশুদ্ধ: তুমিই টাকাটি আত্মস্ম্যাৎ করেছ।
শুদ্ধ: তুমিই টাকাটি আত্মসাৎ করেছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯২.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
  2. নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
  3. সূর্য উদিত হয়েছে।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
সঠিক উত্তর:
নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
• শুদ্ধ : নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।

• বিশ্লেষণ: "নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।" — এখানে "নতুন নতুন" শব্দ দুটি একসঙ্গে বসে অতিরিক্ত পুনরুক্তি বা বহুলতার অপপ্রয়োগ তৈরি করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৯৩.
শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  2. তিনি স্বস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
ব্যাখ্যা
⇒ শুদ্ধ বাক্য: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
⇒ অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।
⇒ শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক রাজশাহী থাকেন।

⇒ অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
⇒ শুদ্ধ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

⇒ অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
⇒ শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৪.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. নিরপরাধী
  2. সৌন্দর্যতা
  3. নীরোগী
  4. অচিন্তনীয়
সঠিক উত্তর:
অচিন্তনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্তনীয়
ব্যাখ্যা

• 'অচিন্তনীয়' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। অনীয় প্রত্যয়যোগে অচিন্তনীয় শব্দটি গঠিত হয়েছে।
এর অর্থ - অবিশ্বাস্য; অসামান্য; অদ্ভুত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
- সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
- নিরপরাধী = নিরপরাধ।
- নীরোগী = নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৯৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. দুর্বিসহ বানানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভূল লেখে।
  2. গাছে কাঠাল গোঁফে তেল।
  3. রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
সঠিক উত্তর:
দুর্বিসহ বানানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভূল লেখে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বিসহ বানানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভূল লেখে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বিসহ বানানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভূল লেখে।
শুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লেখে। 

• এখানে বানান জনিত ভুল ছিল।
- দুর্বিসহ এর শুদ্ধ বানান- দুর্বিষহ,
- ব্যাক্তি এর শুদ্ধ বানান- ব্যক্তি,
- ভূল এর শুদ্ধ বানান- ভুল।

• বাকি অপশন গুলোতে বাক্যের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৬.
কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল নেই?
  1. স্বস্ত্রীক
  2. অশ্রুজল
  3. একত্র
  4. অধীনস্থ
সঠিক উত্তর:
একত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একত্র
ব্যাখ্যা

• স্বস্ত্রীক শব্দের সঠিক রূপ হবে সস্ত্রীক।
• অশ্রুজল শব্দের সঠিক রূপ হবে অশ্রু অথবা জল অথবা চোখের জল।
• আর অধীনস্থ শব্দের সঠিক রূপ হবে অধীন।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

৩৯৭.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. দৌরাত্ম্য
  2. গণ্যনীয়
  3. জ্ঞানবান
  4. ঘূর্ণায়মান
সঠিক উত্তর:
গণ্যনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণ্যনীয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে- গণ্যনীয় শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ- গণনীয়।

---------------------
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- ঐক্যতান - ঐকতান;
- দৌরাত্ম - দৌরাত্ম্য;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- স্বত্ত্ব - স্বত্ব;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৮.
নিচের কোন শব্দটির বানানে ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিপণি
  2. নিপুণ
  3. আপণ
  4. পিণ্ডারি
সঠিক উত্তর:
পিণ্ডারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিণ্ডারি
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

• বিপণি- 
→ শুদ্ধ বানান: বিপণি (অর্থ: দোকান)
→ ‘ণ’ ব্যবহারে ভুল নেই।

• নিপুণ- 
→ শুদ্ধ বানান: নিপুণ (অর্থ: দক্ষ/কুশলী)
→ সঠিক প্রয়োগ।

• আপণ- 
→ আপণ একটি পুরনো তদ্ভব শব্দ, যার অর্থ: নিজের মালিকানাধীন বা দোকান।
→ যদিও অনেকেই আপন ভাবেন, আসলে আপণ বানানটিও অভিধানসম্মতভাবে স্বীকৃত।
→ উদাহরণ: “আপণ প্রতিষ্ঠানে সে কর্মরত।”

অন্যদিকে,
• 'পিণ্ডারি'  শব্দটির সঠিক বানান - পিন্ডারি।
• 'পিন্ডারি' অর্থ- মহারাষ্ট্রীয় অশ্বারোহী দস্যদল, বর্গি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

৩৯৯.
'উৎকর্ষতা' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. উপসর্গজনিত
  4. বিভক্তিজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

• 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ। 

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• উৎকর্ষ এটি বিশেষ্য পদ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ। অর্থাৎ ‘উৎকর্ষতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪০০.
'অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না'। উপরের বাক্যটি ভুল হওয়ার কারণ কী?
  1. ক) বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণ
  2. খ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
  3. গ) বানান জনিত ভুল
  4. ঘ) পদক্রম জনিত অশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
খ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বহুবচনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
কোন শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
তাই উল্লিখিত বাক্যে 'ছাত্রছাত্রীরা' না হয়ে 'ছাত্রছাত্রী' হবে।
অর্থাৎ, সঠিক বাক্য- 'অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।