বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

মোট প্রশ্ন৮০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৮০৫

২০১.
বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
  2. শুধু এই কটা দিলে?
  3. ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
  4. বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
• শুদ্ধ বাক্য: তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।

শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো:
- বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
- শুধু এই কটা দিলে?
- বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০২.
"আলস্যতা তাকে পড়াশোনায় পিছিয়ে দিয়েছে।" - বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপমাজনিত 
  2. বাহুল্যজনিত
  3. প্রত্যয়জনিত 
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত 
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: আলস্যতা তাকে পড়াশোনায় পিছিয়ে দিয়েছে।
- বাক্যটিতে ‘তা’ প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: আলস্য তাকে পড়াশোনায় পিছিয়ে দিয়েছে।

----------------------------
• ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় ব্যবহারের নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০৩.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত নয়?
  1. বিনষ্টি
  2. শ্রেষ্ঠতম
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. সুস্বাস্থ্য
সঠিক উত্তর:
বিনষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনষ্টি
ব্যাখ্যা
বিনষ্টি - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'বিনষ্টি' শব্দের অর্থ - বিনাশ, ধ্বংস। 
 
অন্যদিকে,
• 'শ্রেষ্ঠতম', উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। 

• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

• 'সুস্বাস্থ্য', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: স্বাস্থ্য। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০৪.
কোন শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অহোরাত্র
  2. ইতিমধ্যে
  3. কুসংস্কার
  4. অর্ধাঙ্গি
সঠিক উত্তর:
ইতিমধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিমধ্যে
ব্যাখ্যা

- অহোরাত্র, কুসংস্কার ও অর্ধাঙ্গি শব্দগুলোতে অপ-প্রয়োগ ঘটেনি।
- ইতিমধ্যে শব্দটির সঠিক প্রয়োগ হবে ইতোমধ্যে।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা ও নির্মিতি, হায়াৎ মামুদ।

২০৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার। 
  2. তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যাম্বিত হলাম।
  3. অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
  4. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: খুব দুঃখ পেলাম/ অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
-------------- 
অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার। 
শুদ্ধ: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার। 

অশুদ্ধ: উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
শুদ্ধ: উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

• অশুদ্ধ: তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যাম্বিত হলাম।
• শুদ্ধ বাক্য: তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. প্রসার
  2. দৌর্বল্য
  3. সারল্য
  4. সখ্যতা
সঠিক উত্তর:
সখ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সখ্যতা
ব্যাখ্যা
• 'সখ্যতা'- 'অপপ্রয়োগ'।
- এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: সখ্য।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দ্যতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- সারল্য, দৌর্বল্য ও প্রসার শব্দ গুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৭.
নিম্নের কোন বাক্যে আসত্তি লোপ পেয়েছে?
  1. ক) প্রিয় বাল্য হতেই কাব্য তিনি।
  2. খ) এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।
  3. গ) তপ্ত ভাতে নুন জুটে না ঠাণ্ডা ভাতে ঘি।
  4. ঘ) বুনো ওল, বাঘা তেতুল।
সঠিক উত্তর:
ক) প্রিয় বাল্য হতেই কাব্য তিনি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রিয় বাল্য হতেই কাব্য তিনি।
ব্যাখ্যা

যেকোন সার্থক বাক্যের গুণ তিনটি।
আকাঙ্খা
আসত্তি
যোগ্যতা

- বাক্যের অর্থ প[অরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ জাগে তাকে আকাঙ্খা বলে।
- বাক্যের ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থ সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খল্ভাবে পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি
- বাক্যস্থিত পদ গুলোর মাঝে অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন এর নামই যোগ্যতা

- 'প্রিয় বাল্য হতেই কাব্য তিনি' বাক্যটিতে আসত্তি লোপ পেয়েছে। যদি বাক্যটি 'বাল্য হতেই তিনি কাব্য প্রিয়' হলে বাক্যটি সার্থক হয়।
- 'এখানে খাঁটি গরুর দুধ পাওয়া যায়।' বাক্যের শুদ্ধ রূপ 'এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।'
- 'তপ্ত ভাতে নুন জুটে না ঠাণ্ডা ভাতে ঘি।' বক্যের শুদ্ধ রূপ 'তপ্ত ভাতে নুন জুটে না পান্তা ভাতে ঘি।'
- 'বুনো ওল, বাঘা তেতুল।' বাক্যটি শুদ্ধ।

উৎস:এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৮.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশ
  2. খ) সকল বন্যার্তদের
  3. গ) সকল প্রকাশ মাধ্যম
  4. ঘ) কতিপয় সিদ্ধান্ত
সঠিক উত্তর:
খ) সকল বন্যার্তদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সকল বন্যার্তদের
ব্যাখ্যা
সকল বন্যার্তদের বাক্যটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধরূপ হবে সকল বন্যার্তকে।
২০৯.
অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার৷ বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) দ্বিরুক্তি জনিত
  2. খ) সমাস জনিত
  3. গ) অর্থ জনিত
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী জনিত
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিরুক্তি জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিরুক্তি জনিত
ব্যাখ্যা
বাক্যটিতে ''ঘরে'' শব্দের দিরুক্তি আছে।
সঠিক বাক্যটি হবে - অন্নাভাবে প্রতি ঘরে হাহাকার৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২১০.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ? 
  1. বহুলপরিমাণ
  2. ব্যয়বহুল
  3. বিলাসবহুল
  4. কর্মবহুল
সঠিক উত্তর:
বহুলপরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুলপরিমাণ
ব্যাখ্যা

• বহুল শব্দের অপপ্রোয়গ ঘটেছে 'বহুলপরিমাণ' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ-  বহুল পরিমাণ।

'বহুল' শব্দ ব্যবহৃত কিছু শব্দ হলো:
- বহুল প্রয়োগ,
- বহুল পরিমাণ,
- ব্যয়বহুল,
- বিলাসবহুল,
- কর্মবহুল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১১.
নিচের কোন শব্দে সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. ক) নিরভিমান
  2. খ) সুকেশিনী
  3. গ) অহর্নিশ
  4. ঘ) দিবারাত্র
সঠিক উত্তর:
খ) সুকেশিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুকেশিনী
ব্যাখ্যা
সুকেশিনী এর শুদ্ধ প্রয়োগ- সুকেশী/সুকেশা। 

অন্য অপশনে, 
নিরভিমানী এর শুদ্ধ প্রয়োগ- 'নিরভিমান'। 
'দিবারাত্রি' এর শুদ্ধ প্রয়োগ- 'দিবারাত্র'।  
'অহর্নিশি' এর শুদ্ধ প্রয়োগ- 'অহর্নিশ'।  

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
নির্দোষী ------ নির্দোষ
পিতাহারা ------ পিতৃহারা
অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
নিরভিমানী ---- নিরভিমান
দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১২.
কোন শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. প্রাতরাশ
  2. চক্ষুঃরাগ
  3. চূষ্য
  4. বিশিষ্টতা
সঠিক উত্তর:
চক্ষুঃরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চক্ষুঃরাগ
ব্যাখ্যা
• প্রাতরাশ, চূষ্য, বিশিষ্টতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
চক্ষুঃরাগ - সন্ধিঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - 'চক্ষুরাগ'।

• 'চক্ষুরাগ' অর্থ - চোখের রক্তিম আভা।

উল্লেখ্য,
বিশিষ্ট (বিশেষণ) এর বিশেষ্য শব্দ বিশিষ্টতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) হাতে ব্যথা পেয়েছি
  2. খ) বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর
  3. গ) রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য
  4. ঘ) তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল
সঠিক উত্তর:
খ) বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্যটির শুদ্ধরূপঃ বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
২১৪.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. করিতকর্মী
  2. মৌনতা
  3. সখ্যতা
  4. স্বত্ব
সঠিক উত্তর:
স্বত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বত্ব
ব্যাখ্যা
স্বত্ব - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'স্বত্ব' শব্দের অর্থ - বিষয়সম্পত্তি, ব্যবসায় প্রভৃতিতে অধিকার বা মালিকানা।

অন্যদিকে,
• 'মৌনতা', '-তা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: মৌন।

• 'সখ্যতা', '-তা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সখ্য।

• 'করিতকর্মী' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: করিতকর্মা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১৫.
বিশেষণ পদের কোন রীতিসিদ্ধ প্রয়োগটি অশুদ্ধ?
  1. ক) কাঁচা খাতা - খসড়া
  2. খ) কাঁচা ঘুম - অল্পক্ষণের ঘুম
  3. গ) কাঁচা বয়স - পরিণত বয়স
  4. ঘ) কাঁচা সোনা - নিখাদ স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁচা বয়স - পরিণত বয়স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁচা বয়স - পরিণত বয়স
ব্যাখ্যা
কাঁচা খাতা - খসড়া
কাঁচা ঘুম - অল্পক্ষণের ঘুম
কাঁচা বয়স - অপরিণত বয়স
কাঁচা সোনা - নিখাদ স্বর্ণ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
২১৬.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. আরক্ত
  2. সুস্বাগত
  3. যদ্যপি
  4. বিবিধ
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
ব্যাখ্যা

• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ - সুস্বাগত
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - স্বাগত।

অন্যদিকে,
- বিবিধ,
- যদ্যপি,
- আরক্ত।
উপরের শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১৭.
নিচের কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ নেই?
  1. তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
  2. নদী ধায় সাগর উদ্দেশে।
  3. ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
সঠিক উত্তর:
নদী ধায় সাগর উদ্দেশে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ধায় সাগর উদ্দেশে।
ব্যাখ্যা

• নদী ধায় সাগর উদ্দেশে। বাক্যটি সঠিক।

• উদ্দেশ/উদ্দেশ্য: 
উদ্দেশ শব্দে বোঝায় হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য।
যেমন:
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা, হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. 'নদী ধায় সাগর উদ্দেশে'।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
শুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।

অশুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
শুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১৮.
কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাগীশ্বরী
  2. বিপদোদ্ধার
  3. অনটন
  4. পৃথগন্ন
সঠিক উত্তর:
বিপদোদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদোদ্ধার
ব্যাখ্যা
• 'বিপদোদ্ধার' শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - বিপদুদ্ধার।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অনটন,
- বাগীশ্বরী।
শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৯.
'অরণ্যে রোদন' না বলে 'বনে ক্রন্দন' বললে বাক্যটি কি হারাবে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসক্তি
  3. যোগ্যতা
  4. উদ্দেশ্য
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• বাগধারার শব্দ পরিবর্তন:
- বাগধারা ভাষাবিশেষের ঐতিহ্য।
- এর যথেচ্ছ পরিবর্তন করলে শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- যেমন- ‘অরণ্যে রোদন' (অর্থ : নিষ্ফল আবেদন)-এর পরিবর্তে যদি বলা হয়।
- ‘বনে ক্রন্দন’ তবে বাগধারাটি তার যোগ্যতা হারাবে।
------------------- 
•‘বনে ক্রন্দন করে লাভ নেই।’ বাক্যে বাগ্‌ধারার অপপ্রযোগ ঘটেছে।
[অতএব, বাগ্‌ধারার ভুল প্রয়োগে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।]

• বাক্যটির শুদ্ধরূপ: শুধু শুধু অরণ্যে রোদন করে কাজ হবে না।
- ‘অরণ্যে রোদন’ বাগ্‌ধারার অর্থ: নিষ্ফল আবেদন।
------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷
যথা-
আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)। 
২২০.
কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) সহমর্মীতা
  2. খ) পরিণামদর্শীতা
  3. গ) সত্যবাদীতা
  4. ঘ) দেশদ্রোহিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশদ্রোহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দেশদ্রোহিতা
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত-ইন্ প্রত্যয়ান্ত শব্দের (সহযোগিন্, প্রতিযোগিন্ ইত্যাদি) বাংলা পুরুষবাচক রূপ ঈ-কারন্ত হয়। যেমন: সহযোগী, প্রতিযোগী।
কিন্তু ‘ইন’ প্রত্য়য়ান্ত এসব শব্দে বিশেষ্যবাচক তা কিংবা, ত্ব প্রত্যয় যুক্ত হলে- ইন, এর ন্ লোপ পায় এবং মূলের ই-কার বজায় থাকে। ফলে শব্দের মধ্যাংশে ‘ই’-কার আসে।
যেমন-
তা প্রত্যয়যুক্ত শব্দের মধ্যাংশে ই-কার যুক্ত করে গঠিত শব্দ হলো:
দেশদ্রোহী - দেশদ্রোহিতা 

অন্যান্য গুলোর শুদ্ধরূপ:
সহমর্মীতা - সহমর্মিতা
পরিণামদর্শীতা - পরিণামদর্শিতা
সত্যবাদীতা - সত্যবাদিতা

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
কোনটি 'অজ' উপসর্গের যথাযথা প্রয়োগ?
  1. ক) অজান্তে
  2. খ) অজপাড়াগাঁ
  3. গ) অজড়
  4. ঘ) অজাচিত
সঠিক উত্তর:
খ) অজপাড়াগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অজপাড়াগাঁ
ব্যাখ্যা
উপসর্গ           অর্থদ্যোতকতা            উদাহরণ
অঘা              বোকাঅর্থে               অঘারাম, অঘাচণ্ডী
অজ              নিতান্ত (মন্দ)            অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯- সংস্করণ]
২২২.
কোন শব্দটি সমাসজনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. ক) অদ্যাপি
  2. খ) অতলস্পর্শী
  3. গ) কালিদাস
  4. ঘ) সম্ভবপর
সঠিক উত্তর:
খ) অতলস্পর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অতলস্পর্শী
ব্যাখ্যা

অতলস্পর্শী শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ = অতলস্পর্শ।
- অতলস্পর্শ (বিশেষণ) - তলদেশ স্পর্শ করা যায় না এমন; অতি গভীর।
- এটি একটি বহুব্রীহি সমাস।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

২২৩.
নিচের কোন শব্দটিতে প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগ রয়েছে?
  1. মাহাত্ম্য
  2. দরিদ্রতা
  3. প্রবলতা
  4. আধিক্যতা
সঠিক উত্তর:
আধিক্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্যতা
ব্যাখ্যা
• 'আধিক্যতা'- 'অপপ্রয়োগ'।
- এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: আধিক্য।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দ্যতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মাহাত্ম্য; দরিদ্রতা; প্রবলতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২৪.
‘মড়াদাহ’ শব্দটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট কারণ—
  1. এখানে দেশি ও বিদেশি শব্দ মিশেছে
  2. এখানে অর্ধতৎসম শব্দ মিশেছে
  3. এখানে দেশি ও তৎসম শব্দ মিশেছে
  4. দুটি তদ্ভব শব্দের মিশ্রণ ঘটেছে
সঠিক উত্তর:
এখানে দেশি ও তৎসম শব্দ মিশেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এখানে দেশি ও তৎসম শব্দ মিশেছে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) এখানে দেশি ও তৎসম শব্দ মিশেছে।

• গুরুচণ্ডালী দোষ:

- গুরুচণ্ডালী দোষ তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।
- এদোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ।

কিন্তু যদি বলা হয় গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

ব্যাখ্যা:
‘মড়াদাহ’ শব্দে —

- 'মড়া' হলো দেশি শব্দ,
- 'দাহ' হলো তৎসম শব্দ।

তাই “মড়াদাহ” গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
‘অপোগণ্ড’ শব্দের কোন প্রয়োগটি শুদ্ধ?
  1. ক) অপদার্থ
  2. খ) অলস
  3. গ) অকর্মণ্য
  4. ঘ) নাবালক
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাবালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাবালক
ব্যাখ্যা
অপোগণ্ড শব্দটির নাবালক বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক অর্থে প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
২২৬.
কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সরলতা
  2. লঘুত্ব
  3. অধীনস্থ
  4. বহুলতা
সঠিক উত্তর:
অধীনস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধীনস্থ
ব্যাখ্যা

• 'অধীনস্থ' - শব্দটিতে প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।

- শুদ্ধ শব্দ: অধীন।

অন্যদিকে,
সরলতা, লঘুত্ব, বহুলতা - শব্দগুলোতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- একত্রিত - একত্র;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২৭.
সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পিতৃহারা
  2. দিবারাত্রি
  3. যুবরাজ
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
ব্যাখ্যা
• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
পিতাহারা - পিতৃহারা;
যুবরাজা - যুবরাজ;
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত;
রাজাগণ - রাজগণ;
মাতাজাতি - মাতৃজাতি; 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৮.
'ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।'- বাক্যে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাচ্যজনিত ভুল
  2. বানানের অশুদ্ধি 
  3. পদক্রম জনিত অশুদ্ধি 
  4. বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে শেষরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল। 

অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ: অশুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
শুদ্ধ: আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ।

২২৯.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. বুদ্ধিমান
  2. বিপন্মুক্তি
  3. আরক্তিম
  4. সর্বশ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
আরক্তিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরক্তিম
ব্যাখ্যা
• 'আরক্তিম' সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ -আরক্ত/রক্তিম।

অন্যদিকে,
- সর্বশ্রেষ্ঠ,
- বিপন্মুক্তি,
- বুদ্ধিমান।
শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩০.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশিষ্টতা
  2. ভারসমতা
  3. মাধুর্যতা
  4. বহুলতা
সঠিক উত্তর:
মাধুর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধুর্যতা
ব্যাখ্যা
• 'তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন- 'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে 'তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ 'ধীরতা' হয়। কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
এরকম-
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
বাহুল্যতা- বাহুল্য, বহুলতা। 
বৈচিত্র্যতা- বৈচিত্র্য, বিচিত্রতা। 
বৈশিষ্ট্যতা- বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা। 
বৈষম্যতা- বৈষম্য, বিষমতা। 
ভারসাম্যতা- ভারসাম্য, ভারসমতা। 
মাধুর্যতা- মাধুর্য, মধুরতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩১.
'সকল প্রার্থীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন' বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা

'সকল প্রার্থীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন' বাক্যটি 'বাহুল্য দোষে' দুষ্ট।

বাহুল্য দোষ:
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
- বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
- দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
- তাই অগণিত, অনেক, যাবতীয়, সব ইত্যাদি শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে বুহুবচন হবেনা।
- বাক্যটি হবে- প্রার্থীগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩২.
'সত্যকে শিকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায় না।'- এখানে ভুল ঘটেছে-
  1. বানান ও প্রত্যয়ের
  2. অর্থ ও বচনের
  3. অর্থ ও প্রত্যয়ের
  4. বানান ও বচনের
সঠিক উত্তর:
বানান ও বচনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান ও বচনের
ব্যাখ্যা

• “সত্যকে শিকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বচন (number) সংক্রান্ত।

বানানের ভুল:
বাক্যে “শিকার” লেখা হয়েছে, যা ভুল।এখানের বাক্যের ভাব ও অর্থ অনুসারে, বাংলা বানানের প্রমিত রূপে সঠিক শব্দটি হলো “স্বীকার”।

বচনের ভুল:

বাক্যে “অনেক ব্যক্তিরাই” ব্যবহৃত হয়েছে, যা বচনের দিক থেকে ভুল।
"অনেক" শব্দটি ইতিমধ্যে বহুবচন বোঝায়। তাই আবার "রা" (বহুবচন চিহ্ন) যোগ করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে "ই" (বলক) যোগ করলে হবে: অনেক ব্যক্তিই। অথবা "অনেক" ছাড়া হবে: ব্যক্তিরাই।

বাক্যটির সঠিক রূপ হবে: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিই চায় না।”
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২৩৩.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পরিত্যজ্য
  2. দুরবস্থা
  3. নির্দোষিতা
  4. পূজনীয়
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
পরিত্যজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিত্যজ্য
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রভায়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান। 
চোষ্য - চূষ্য। 
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান। 
দুরাবস্থা - দুরবস্থা।
দোষণীয় - দূষণীয়। 
নির্গুণিতা - নির্গুণতা। 
নির্দোষতা - নির্দোষিতা। 
পরিত্যজ্য - পরিত্যাজ্য। 
পুজ্যনীয় - পূজনীয়। 
পুজ্য - পূজ্য। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৩৪.
‘বুড়ির প্রতি যমেরও রুচি, নাইলে এভাবে কেউ বাঁচে?’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) সমাস জনিত
  2. খ) প্রত্যয় জনিত
  3. গ) বাগধারা জনিত
  4. ঘ) বানান জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) বাগধারা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাগধারা জনিত
ব্যাখ্যা
যমের অরুচি একটি বাগধারা যার অর্থ - যে সহজে মরে না।
সুতরাং সঠিক বাক্যটি হবে - ‘বুড়ির প্রতি যমেরও অরুচি, নাইলে এভাবে কেউ বাঁচে?’
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৩৫.
'বিবাদমান' শব্দে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সমাস জনিত অপপ্রয়োগ
  2. সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ
  3. প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ
  4. বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

শুদ্ধ  - অশুদ্ধ:
বিবদমান - বিবাদমান। 
• বাহ্য - বাহ্যিক। 
• বৈচিত্র্য - বৈচিত্র। 
• ব্যাকুল - ব্যাকুলিত। 
• মাহাত্ম্য - মহাত্ম। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩৬.
'তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছ' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
  2. খ) যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করা
  3. গ) প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল
  4. ঘ) অপ্রচলিত শব্দ প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপ্রচলিত শব্দ প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপ্রচলিত শব্দ প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়৷
যেমন- 'তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছ' (চাতুরী বা মায়া অর্থে কিন্তু বাংলা 'প্রপঞ্চ' শব্দটি অপ্রচলিত)।
অর্থাৎ, বাক্যটিতে অপ্রচলিত শব্দ প্রয়োগ জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৭.
ষ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. অভিষেক
  2. সুষুপ্ত
  3. ষ্ট্রিট
  4. অনুষঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ষ্ট্রিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্ট্রিট
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান অনুসারে, বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।

⇒ তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে।
- সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

-----------------------
⇒ ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন: অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন: অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩৮.
স্থ-এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সভাস্থ
  2. দ্বারস্থ
  3. বিধ্বস্থ
  4. সমাধিস্থ
  5. উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
বিধ্বস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধ্বস্থ
ব্যাখ্যা

• স্থ-এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- বিধ্বস্থ শব্দে। 
- শুদ্ধ বানান- বিধ্বস্ত। 

• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:

স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।

উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।

• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।

উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৩৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ।
  2. খ) আপনার সঙ্গে গোপন পরামর্শ আছে।
  3. গ) সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।
  4. ঘ) জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর।
সঠিক উত্তর:
ক) আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো : 
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।
আপনার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে। 
জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
২৪০.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।
  2. শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না।
  3. আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
  4. দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
সঠিক উত্তর:
দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
• শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি।

শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো-
• আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
• শুধু টাকার জোরে সব কিছু হয় না।
• এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দেব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪১.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. এটা লজ্জাকর ব্যাপার।
  2. নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
  3. সূর্য উদিত হয়েছে।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
সঠিক উত্তর:
নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
• শুদ্ধ : নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।

• বিশ্লেষণ: "নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।" — এখানে "নতুন নতুন" শব্দ দুটি একসঙ্গে বসে অতিরিক্ত পুনরুক্তি বা বহুলতার অপপ্রয়োগ তৈরি করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪২.
নিচের কোন শব্দটির অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অর্ধরাত্রী
  2. অহর্নিশ
  3. নীরোগ
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
অর্ধরাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধরাত্রী
ব্যাখ্যা
- 'অর্ধরাত্রী' - শব্দটি অপপ্রয়োগ। 
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র। 

অন্যদিকে, 
- নীরোগ, অহর্নিশ ও নির্দোষ শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৩.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  2. খ) হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।
  3. গ) আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
  4. ঘ) বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
খ) হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।
ব্যাখ্যা
'হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছে।'- বাক্যটি প্রবাদ- প্রবচনের বিকৃতিজনিত কারণে অশুদ্ধ। 
বাক্যটির শুদ্ধরূপ: 'হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছে।' 

• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা যাবে না।
পরিবর্তন করলে তা ভুল হবে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড.  হায়াৎ মামুদ।
২৪৪.
'কার্পণ্যতা' বানানটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বাহুল্যজনিত
  4. বিভক্তিজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'সৌহার্দতা'-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'সৌহার্দ'। 
এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৪৫.
‘অর্ঘ্য’ কে ‘অর্ঘ’ লেখা হলে কোন ধরনের ভুল হবে?
  1. অর্থগত বিভ্রান্তি
  2. বাহুল্য দোষ
  3. বানান জনিত
  4. প্রত্যয়জনিত
সঠিক উত্তর:
অর্থগত বিভ্রান্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থগত বিভ্রান্তি
ব্যাখ্যা
• ‘অর্ঘ্য’ এবং ‘অর্ঘ’ — এ দুটি শব্দ দেখতে কাছাকাছি হলেও এদের অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এখানে, 
• 'অর্ঘ্য' শব্দের অর্থ হচ্ছে পূজার উপকরণ।
অন্যদিকে, অর্ঘ অর্থ - মূল্য।

• যখন কেউ ‘অর্ঘ্য’ শব্দকে ভুল করে ‘অর্ঘ’ লিখে, তখন শুধু বানান নয়, শব্দের প্রকৃত অর্থ ও প্রয়োগই পাল্টে যায়। ফলে পাঠকের মনে অর্থগত বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

অর্থ্যাৎ, এখানে অর্থগত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. কন্যার বাপ সবুর করতে পারতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না।
  2. কাজী সাহেব স্বপরিবার বেড়াতে গেলেন।
  3. এ বিষয়ে অজ্ঞানতাই তার পতনের কারণ।
  4. সে তাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
সে তাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে তাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: "সে তাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছে।"

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: কন্যার বাপ সবুর করতে পারতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না।
শুদ্ধ: কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না।

অশুদ্ধ: কাজী সাহেব স্বপরিবার বেড়াতে গেলেন।
শুদ্ধ : কাজী সাহেব সপরিবার বেড়াতে গেলেন।

অশুদ্ধ: এ বিষয়ে অজ্ঞানতাই তার পতনের কারণ।
শুদ্ধ: এ বিষয়ে অজ্ঞতাই তার পতনের কারণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৭.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সমূল
  2. পৌরুষ
  3. দ্বৈততা
  4. স্বাগত
সঠিক উত্তর:
দ্বৈততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈততা
ব্যাখ্যা
• 'দ্বৈততা' - 'অপপ্রয়োগ'।
এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: দ্বৈত।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- স্বাগত,
- পৌরুষ,
→ উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৮.
বাহুল্যদোষে কোন বাক্যটি অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সকল মাছগুলোর দাম কত?
  2. খ) তিথিরা এসে পরেছেন।
  3. গ) সকল আলেম আজ উপস্থিত।
  4. ঘ) শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।
সঠিক উত্তর:
ক) সকল মাছগুলোর দাম কত?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সকল মাছগুলোর দাম কত?
ব্যাখ্যা
"সকল মাছগুলোর দাম কত? "- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- সকল মাছগুলোর দাম কত?।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "সকল মাছের দাম কত? " অথবা "মাছগুলোর দাম কত?"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৯.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
  2. আকণ্ঠ পর্যন্ত আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
  3. একটি গোপন কথা বলি।
  4. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
সঠিক উত্তর:
পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
ব্যাখ্যা
• 'পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।' - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
- শুদ্ধ বাক্য: আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।

- অশুদ্ধ বাক্য:আকণ্ঠ পর্যন্ত আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
- শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

- অশুদ্ধ বাক্য: একটি গোপন কথা বলি।
- শুদ্ধ বাক্য: একটি গোপনীয় কথা বলি।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) অযাথাথ্য
  2. খ) ঐষ্টীক
  3. গ) কলকোল্ললিনী
  4. ঘ) গিরিকন্দর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিকন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিকন্দর
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ প্রয়োগ - গিরিকন্দর

অনান্য গুলোর শুদ্ধরূপ:
অশুদ্ধ- অযাথাথ্য
শুদ্ধ - অযাথার্থ্য
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - ন+যথার্থ+য
অর্থ: অন্যায্যতা, অযথার্থতা, সততার অভাব।

অশুদ্ধ - ঐষ্টীক
শুদ্ধ- ঐষ্টিক
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - ইষ্টি+ইক
অর্থ: ইষ্ট-সম্বন্ধীয়, যজ্ঞসম্বন্ধীয়, যজ্ঞীয়।

অশুদ্ধ - কলকোল্ললিনী
শুদ্ধ - কলকল্লোলিনী
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - কল+কল্লোল+ইন্+ঈ
অর্থ: মধুর ধ্বনিযুক্ত(তরঙ্গ)।

উৎস :- আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি
২৫১.
মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কণিকা
  2. বাণিজ্য
  3. দুর্ণিবার 
  4. রুক্মিণী
সঠিক উত্তর:
দুর্ণিবার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্ণিবার 
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- দুর্ণিবার শব্দে।  
শুদ্ধরূপ- দুর্নিবার। 

-----------------
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং  এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫২.
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে কোন কারবর্ণটি ব্যবহৃত হয়?
  1. উ-কার
  2. এ-কার
  3. ঊ-কার
  4. ই-কার
সঠিক উত্তর:
ই-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-কার
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ‘ত্ব’ ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী → কৃতিত্ব,
দায়ী → দায়িত্ব,
প্রতিযোগী → প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী → মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী → সহযোগিতা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৩.
কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. এই দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে।
  2. বর্ষাকালে পানির প্রাচুর্য থাকে।
  3. তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই।
  4. বইটিতে তথ্যের প্রাচুর্য রয়েছে।
সঠিক উত্তর:
তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই।
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই। 
-------------------
ব্যাখ্যা:
• 'প্রাচুর্যতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - প্রাচুর্য, প্রচুর।

 'প্রাচুর্য' মানে আধিক্য বা প্রাবল্য। "দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই"।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫৪.
কোন শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মাতৃজনিত
  2. তরুছায়া
  3. মহিমমণ্ডিত
  4. রাজগণ
সঠিক উত্তর:
তরুছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুছায়া
ব্যাখ্যা
তরুছায়া - শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধপ্রয়োগ - তরুচ্ছায়া।

অন্যদিকে,
- রাজগণ,
- মহিমমণ্ডিত ,
- মাতৃজনিত।
শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৫.
কোনটি ভুল বাক্য নয়?
  1. অধিক সন্যাসীতে গযন নষ্ট।
  2. দীনতা সবসময় ভালো নয়।
  3. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
  4. রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দীনতা সবসময় ভালো নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনতা সবসময় ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• 'দৈন্য/দীনতা সবসময় ভালো নয়।'-  এটি একটি শুদ্ধ বাক্য।

অন্যান্য অপশন,

অশুদ্ধ বাক্য-- শুদ্ধ বাক্য:
অধিক সন্যাসীতে গযন নষ্ট- অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট। 
উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়- উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য- রচনাটির উৎকর্ষ/উৎকৃষ্টতা অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৫৬.
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?
  1. শবমড়া
  2. শবদাহ
  3. শবপোড়া
  4. মড়াদাহ
সঠিক উত্তর:
শবদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবদাহ
ব্যাখ্যা
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

- 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপােড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়ােগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

- সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ শবদাহ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৭.
‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে কী ধরনের অশুদ্ধি আছে?
  1. ক) কাল জনিত
  2. খ) সমাস জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) বাগধারা জনিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাগধারা জনিত
ব্যাখ্যা
‘নয় দুয়ারে দুয়ারে না ঘুরে এবার সংসারী হও’ বাক্যটিতে বাগধারা জনিত অশুদ্ধি আছে।
শুদ্ধ বাক্য হবে - নয়-দুয়ারি হয়ে না ঘুরে এবার সংসারী হও।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৫৮.
‘তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো’-বাক্যটিতে রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতার ক্ষেত্রে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ক) উপমার ভুল
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্য
  4. ঘ) গুরুচণ্ডালী দোষ
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্বোধ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্বোধ্যতা
ব্যাখ্যা
বাক্যে ব্যবহৃত ‘প্রপঞ্চ’ শব্দটি প্রচলিত বাংলা শব্দ নয়। এজন্য এ শব্দটি বাক্যে ব্যবহার করার কারনে বাক্যের অর্থে দুর্বোধ্যতা তৈরি হয়েছে। যা বাক্যের যোগ্যতার অভাবের পর্যায়ভূক্ত।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৯.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মূলসহ
  2. আয়ত্তাধীন
  3. অদ্যাপি
  4. বুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তাধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তাধীন
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬০.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিষমতা
  2. মিত্রতা
  3. লঘুতা
  4. বহুলতা
  5. মৌনতা
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
ব্যাখ্যা
• ‘মৌনতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: মৌন। 
------------- 
• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• মৈত্রতা- মৈত্র/মিত্রতা।
• বৈশিষ্টতা- বৈশিষ্ট্য/বিশিষ্টিতা। 
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬১.
কোনটি সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ?
  1. তরুছায়া
  2. উপরোক্ত
  3. দুরবস্থা
  4. দুরদৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
ব্যাখ্যা

 • সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - উপরোক্ত।
- 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - উপর্যুক্ত।

অন্যদিকে,
- তরুছায়া,
- দুরবস্থা,
- দুরদৃষ্ট।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬২.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মূলসহ
  2. বিবিধপ্রকার
  3. বুদ্ধিমান
  4. অদ্যাপি
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬৩.
নিচের কোন শব্দটিতে প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. দরিদ্রতা
  2. দুর্বলতা
  3. চাপল্যতা
  4. সুজনতা
সঠিক উত্তর:
চাপল্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপল্যতা
ব্যাখ্যা
• 'চাপল্যতা' শব্দটিতে - প্রত্যয়জনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: চাপল্য/চপলতা।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দ্যতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দরিদ্রতা; দুর্বলতা, সুজনতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৬৪.
অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. তরুছায়া
  2. মূলসহ
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. শ্রেষ্ঠতম
সঠিক উত্তর:
মূলসহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলসহ
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় - মূলসহ।

উল্লেখ্য, 
• 'সমূলসহ', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: মূলসহ। 
 ----------------- 
অন্যদিকে,
• 'তরুছায়া', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: তরুচ্ছায়া।

• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান।

• 'শ্রেষ্ঠতম', উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
২৬৫.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. সরলতা
  2. সরল
  3. সারল্যতা
  4. সারল্য
সঠিক উত্তর:
সারল্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারল্যতা
ব্যাখ্যা
• তা প্রত্যয়ের প্রয়োগের নিয়ম অনুসারে, অশুদ্ধ প্রয়োগ- সারল্যতা। 

অন্যদিকে, 
সরলতা, সরল  ও সারল্য শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

-----------------
• 'তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে। 

• সারল্যতা - সারল্য, সরলতা।
• সাদৃশ্যতা - সাদৃশ্য, সদৃশতা।
• সামর্থ্যতা - সামর্থ্য, সমর্থতা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৬৬.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আবশ্যক
  2. একত্র
  3. করিতকর্মী
  4. ঘূর্ণায়মান
সঠিক উত্তর:
করিতকর্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করিতকর্মী
ব্যাখ্যা

'করিতকর্মী' শব্দে প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: করিতকর্মা।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- একত্রিত - একত্র;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬৭.
'শুধুমাত্র' শব্দে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি
  2. সমাস ঘটিত অশুদ্ধি
  3. সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি
  4. প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ।
সুস্বাগত - স্বাগত। 
প্রয়োজনীয়তা - প্রয়োজন। 
সঠিক - ঠিক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬৮.
মূর্ধন্য-ণ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক্ষুণ্ন
  2. অঘ্রাণ
  3. ঘর্ষণ
  4. কারণ
সঠিক উত্তর:
অঘ্রাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঘ্রাণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: অঘ্রাণ।
• শুদ্ধ: অঘ্রান।
[অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।]

--------------------
• নিয়ম:
বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
• এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
• ষ: ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
• ক্ষ: ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষৌণি ইত্যাদি।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, পরান, রানি, সোনা।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৬৯.
শব্দের সঠিক প্রয়োগ কোনটি?
  1. ক) বক্তব্য রাখা
  2. খ) ঘোষনা দেয়া
  3. গ) ফোন দেয়া
  4. ঘ) বক্তব্য পেশ করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বক্তব্য পেশ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বক্তব্য পেশ করা
ব্যাখ্যা

বাক্যে শব্দের সঠিক প্রয়োগ গুলো নিম্নরূপ-
বক্তব্য পেশ করা
ঘোষনা করা
ফোন করা

উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ

২৭০.
ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়। - এই বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বাহুল্যজনিত
  2. খ) সঠিক শব্দ প্রয়োগ জনিত
  3. গ) বাচ্যজনিত
  4. ঘ) বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত
সঠিক উত্তর:
ক) বাহুল্যজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাহুল্যজনিত
ব্যাখ্যা

- ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়। - এই বাক্যে বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি আছে।
এই বাক্যের শুদ্ধ রূপ হবে - ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২৭১.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. কতৃত্ব
  2. উদ্দান
  3. কতৃপক্ষ
  4. উত্থান
সঠিক উত্তর:
উত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্থান
ব্যাখ্যা
• উত্থান (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- ওটা; খাড়া হওয়া।
-  উন্নতি; অভ্যুদয়।
-  গাত্রোত্থান।
- বিদ্রোহ।
-  আবির্ভাব।

অপশনের অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• উদ্দান – উদ্যান।  
• কতৃপক্ষ – কর্তৃপক্ষ। 
• কতৃত্ব – কর্তৃত্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৭২.
একটি পরিপূর্ণ বাক্যে কোন বিষয়টি থাকলে তা যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত হবে না?
  1. ক) বাগধারার রদবদল
  2. খ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. গ) উপমার সঠিক প্রয়োগ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) উপমার সঠিক প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপমার সঠিক প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা, দুর্বোধ্যতা, উপমার ভুল প্রয়োগ, বাহুল্যদোষ, বাগধারার রদবদল, ‍গুরুচন্ডালী দোষ ইত্যাদি থাকলে বাক্য যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত হয়।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৩.
কোন শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিপদোদ্ধার
  2. অদ্যাবধি
  3. উপর্যুক্ত
  4. পৃথগন্ন
সঠিক উত্তর:
বিপদোদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদোদ্ধার
ব্যাখ্যা
• 'বিপদোদ্ধার' এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- শব্দের শুদ্ধরূপ - বিপদুদ্ধার।

অন্যদিকে,
- অদ্যাবধি,
- উপর্যুক্ত এবং
- পৃথগন্ন।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭৪.
নিচের কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল রয়েছে?
  1. ক) একত্র
  2. খ) আয়ত্তাধীন
  3. গ) সস্ত্রীক
  4. ঘ) সকল বন্যার্তকে
সঠিক উত্তর:
খ) আয়ত্তাধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আয়ত্তাধীন
ব্যাখ্যা
- আয়ত্তাধীন শব্দে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল রয়েছে।
- আয়ত্ত শব্দের অর্থই অধীন।
- তাই আয়ত্তের পর অধীন ব্যবহার বাহুল্য‌।

অন্যদিকে,
- সস্ত্রীক, একত্র, সকল বন্যার্তকে - এগুলো সঠিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭৫.
'গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না'। - বাক্যটিতে কি ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
  1. প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল
  2. বাহুল্যজনিত ভুল
  3. বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল
  4. দুর্বোধ্য শব্দ প্রয়োগজনিত ভুল
সঠিক উত্তর:
প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল
ব্যাখ্যা

সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন- 'গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না' -বাক্যটিতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
সঠিক বাক্যটি হবে - 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

২৭৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. অর্ধরাত্রি
  2. নির্দোষ
  3. অহর্নিশ
  4. নীরোগ
সঠিক উত্তর:
অর্ধরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধরাত্রি
ব্যাখ্যা
• 'অর্ধরাত্রি' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র

অন্যদিকে,
- নীরোগ,
- অহর্নিশ,
- নীরোগ।
→ উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭৭.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. তাহাকে দেখে অপরিসীম আনন্দ হইল।
  2. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  3. তাহাকে পুরষ্কৃত করা হইল।
  4. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
সঠিক উত্তর:
তাহাকে পুরষ্কৃত করা হইল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহাকে পুরষ্কৃত করা হইল।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তাহাকে পুরষ্কৃত করা হইল।
• শুদ্ধ বাক্য: তাহাকে পুরস্কৃত করা হইল।

• বানানের নিয়ম:
বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৮.
নিচের কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কত চালে কত ধান।
  2. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম।
  3. শকুনের দোয়ায় হাতি মরে না।
  4. কাকের মাংস কাকে খায় না।
সঠিক উত্তর:
কাকের মাংস কাকে খায় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাকের মাংস কাকে খায় না।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: কাকের মাংস কাকে খায় না।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: স্বজন বা সগোত্রের প্রতি অনুরাগ।

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• কত ধানে কত চাল।
• সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম।
• শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) শিহরণ
  2. খ) বিদেহী
  3. গ) ভর্তিচ্ছু
  4. ঘ) দিগ্-দর্শন
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিগ্-দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিগ্-দর্শন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান:
- শিহরন
- বিদেহ
- ভর্তীচ্ছু

উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান।
২৮০.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. দিবারাত্র
  2. নীরোগী
  3. পিতৃহারা
  4. নিরভিমান
সঠিক উত্তর:
নীরোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরোগী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নীরোগী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নীরোগ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮১.
সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. যুবরাজ
  2. মাতাজাতি
  3. সুবুদ্ধি
  4. নিরভিমান
  5. খ ও ঘ
সঠিক উত্তর:
মাতাজাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতাজাতি
ব্যাখ্যা

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
পিতাহারা - পিতৃহারা;
যুবরাজা - যুবরাজ;
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত;
রাজাগণ - রাজগণ;
মাতাজাতি - মাতৃজাতি; 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮২.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আখের চারা রোপণ করা হলো।
  2. হাতিটি অপরিসীম স্থুলকায়।
  3. সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
  4. অন্যান্য বিষয়সমূহের আলোচনা হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
আখের চারা রোপণ করা হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখের চারা রোপণ করা হলো।
ব্যাখ্যা
⇒ শুদ্ধ বাক্য হলো: আখের চারা রোপণ করা হলো।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
• অশুদ্ধ: হাতিটি অপরিসীম স্থুলকায়। - বাক্যে অর্থের সামঞ্জস্য হীনতা ও বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
•  শুদ্ধ: হাতিটি অত্যন্ত স্থূলকায়।

• অশুদ্ধ: সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে। - বাক্যে বহুবচনের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে। 
• শুদ্ধ: সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।

• অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়সমূহের আলোচনা হয়েছে। - বাক্যে বহুবচনের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে। 
• শুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৩.
সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. নিষ্পাপ
  2. নির্ধন
  3. পিতাহারা
  4. অহর্নিশ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পিতাহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতাহারা
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে ‘পিতাহারা’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: পিতৃহারা।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৪.
গুরুচণ্ডালী দোষ বলতে বোঝায়- ও -ভাষার মিশ্রণ?
  1. সাধু ও চলিত
  2. সাধু ও দেশী
  3. দেশী ও বিদেশী
  4. বাঙলা ও ইংরেজি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাধু ও চলিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ও চলিত
ব্যাখ্যা
• বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
---------------------- 
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
- বাংলা গদ্যে বা রচনায় এবং চলিত কথাবার্তায় এ দু রীতির মিশ্রণ পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ এবং দূষনীয় ও বর্জনীয়।
যেমন-
''ধরণীর মধ্যে সবচেয়ে বড়ো জিনিস জানিবার ও বুঝিবার প্রবৃত্তি মানুষের মন থেকে যেদিন চলিয়া যাবে সেদিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করবে।'' - বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা ও শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ। 
২৮৫.
'জ্যোতীন্দ্র' - শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. সমাস ঘটিত
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. বাহুল্যজনিত
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সন্ধিজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা

• 'জ্যোতীন্দ্র' শব্দটি 'সন্ধিজনিত' কারণে অশুদ্ধ।
- 'জ্যোতীন্দ্র' শব্দের শুদ্ধরূপ 'জ্যোতিরিন্দ্র'।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।
- এর সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে - জ্যোতিঃ + ইন্দ্র = জ্যোতিরিন্দ্র।

উৎস: 
১) ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৬.
অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গেছেন।
  2. আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলো।
  3. আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
  4. আসছে ২ এপ্রিল, ২০১৯ আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।
সঠিক উত্তর:
আসছে ২ এপ্রিল, ২০১৯ আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসছে ২ এপ্রিল, ২০১৯ আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: আসছে ২ এপ্রিল, ২০১৯ আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।

• "আসছে" শব্দটি সাধারণত ভবিষ্যৎ সময় নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। 
যেমন: আসছে শুক্রবার; আসছে জানুয়ারি; আসছে বছর। 

• কিন্তু "আসছে" শব্দের সঙ্গে পূর্ণ তারিখ ও সাল (২ এপ্রিল ২০১৯) ব্যবহার করলে ভাষাগত অসঙ্গতি হয়। কারণ সাল উল্লেখ থাকায় সময়টি সুস্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট, সেখানে "আসছে" শব্দটি অতিরিক্ত ও বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়ে।

• শুদ্ধরূপ:
- “আগামী ২ এপ্রিল, ২০১৯ আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।”
বা,
- যদি বছর উল্লেখ না করা হয়: “আসছে ২ এপ্রিল আমাদের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে।”

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৮৭.
দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভুল করে৷ বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) প্রত্যয় জনিত
  2. খ) সমাস জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) বানান জনিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বানান জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বানান জনিত
ব্যাখ্যা
উপরিউক্ত বাক্যটিতে ‘ব্যক্তি’ বানান ভুল রয়েছে৷
সঠিক বাক্যটি হবে - দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল করে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৮৮.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. উষ্ণ
  2. রুক্মিণী
  3. ভাষণ
  4. ক্রন্দণ
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দণ
ব্যাখ্যা
⇒ ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন:পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘ন’ কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৯.
সর্বনামের অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে এবং তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।
  2. খ) তিনি চান, তারা তাদের পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।
  3. গ) অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
  4. ঘ) সবকটি।
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ব্যাখ্যা
‘অধ্যক্ষকে টেলিফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি’- বাক্যটিতে সর্বনামের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
 বাক্যটির শুদ্ধ প্রয়োগ: টেলিফোনে যোগাযোগ করেও অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি।

অন্য বাক্যগুলি শুদ্ধ প্রয়োগ। এদের অশুদ্ধ রূপ: 

অশুদ্ধ: দুষ্কৃতকারীরা তিনি ও তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।
শুদ্ধ: দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে এবং তাঁকে দেখতে আসা ডাক্তারকে শাসিয়েছে।

অশুদ্ধ: তিনি চান, তারা তার পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।
শুদ্ধ: তিনি চান, তারা তাদের পছন্দমতো পেশা বেছে নিক।

উৎস : উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯০.
একই বাক্য রচনায় তৎসম ও দেশি ভাষারীতির মিশ্রণকে বলে-
  1. গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. দ্বিত্বজনিত দোষ
  3. বাচ্যজনিত দোষ
  4. বাহুল্যতার দোষ
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- অশুদ্ধঃ গরুর শকট (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধঃ গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি)
অশুদ্ধঃ মড়াদাহ (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধঃ শবদাহ (তৎসম + তৎসম)
শুদ্ধঃ মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯১.
নিচের কোন বাক্যে অলংকার আবেগের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন।
  2. খ) আহা! বেচারার এত কষ্ট!
  3. গ) উহ্‌, কী বিপদে পড়া গেল।
  4. ঘ) দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
সঠিক উত্তর:
ঘ) দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?
ব্যাখ্যা
• "দূর পাগল! এ কথা কি বলতে আছে?" বাক্যটিতে 'দূর' অলংকার আবেগে'র প্রয়োগ ঘটেছে।

• মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যে সব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
- অলংকার আবেগে এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্যতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।
- এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি  ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্য অলংকার আবেগ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন: যাকগে, ওসব কথা থাক।
অন্যদিকে, 
হে বন্ধু, তোমাকে অভিনন্দন = সম্বোধন আবেগ। 
আহা! বেচারার এত কষ্ট = করূণা আবেগ।
উহ্‌, কী বিপদে পড়া গেল = আতঙ্ক আবেগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯২.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরভিমান
  2. অহর্নিশ
  3. উপরোক্ত
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত
ব্যাখ্যা
• 'উপরোক্ত' শব্দের শুদ্ধরূপ - উপর্যুক্ত / উপরিউক্ত।
- এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

অন্যদিকে,
নিরভিমান; অহর্নিশ; নির্দোষ - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯৩.
নিচের কোন বাক্যটি প্রয়ােগগত দিক থেকে শুদ্ধ?
  1. আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
  2. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
  3. তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
  4. সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম ।
সঠিক উত্তর:
তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: তার দু'চোখ অশ্রুতে ভেসে গেল।

অন্যান্য বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ -
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি কারও সাতেও নেই, সতেরােতেও নেই।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি কারও সাতেও নেই, পাঁচেও নেই।

• অশুদ্ধ বাক্য: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত। 
• শুদ্ধ বাক্য: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত। 

• অশুদ্ধ বাক্য: সারা জীবন ভূতের মজুরি খেটে মরলাম । 
• শুদ্ধ বাক্য: সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯৪.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. স্বাগত
  2. অদ্যাপিও
  3. বিবিধপ্রকার
  4. অশ্রূধারা
সঠিক উত্তর:
স্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাগত
ব্যাখ্যা
স্বাগত - শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেনি।

অন্যদিকে,
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - অদ্যাপিও, বিবিধপ্রকার, অশ্রূধারা।
এদের শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাপি/অদ্যও, বিবিধ, অশ্রুধারা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৫.
কোন শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অধীনস্ত
  2. সৌন্দর্যতা
  3. বিলাসবহুল
  4. প্রসারতা
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
ব্যাখ্যা

• 'বিলাসবহুল' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - আমোদ-প্রমোদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাযুক্ত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
প্রসারতা - প্রসার,
অধীনস্ত - অধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

২৯৬.
‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা জনিত
  2. খ) আসত্তি জনিত
  3. গ) বাহুল্য জনিত
  4. ঘ) যোগ্যতা জনিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগ্যতা জনিত
ব্যাখ্যা
‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে’ বাক্যটি কবিতায় মানা হলেও গদ্যে যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
২৯৭.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
  2. তার কপালে ভাত নাই।
  3. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
  4. এমন ভুল আমি করিনা।
সঠিক উত্তর:
এমন ভুল আমি করিনা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন ভুল আমি করিনা।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: এমন ভুল আমি করিনা।
শুদ্ধ বাক্য: এমন ভুল আমি করি না।

⇒ না, নেই, নয়:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

কিছু উদাহরণ হলো:
- তার কপালে ভাত নাই।
- আমাকে একা রেখে যেও না।

অন্যদিকে,
⇒ টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।

কিছু উদাহরণ হলো:
- বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
- অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৮.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ দোষে দুষ্ট নয়?
  1. গ্রাহ্য
  2. পরিত্যজ্য
  3. সাধ্যায়ত্ত
  4. স্বাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ্রাহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাহ্য
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ-দোষে দুষ্ট নয় হচ্ছে - গ্রাহ্য।

অন্যদিকে:
- 'পরিত্যজ্য' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - পরিত্যাজ্য।
- 'সাধ্যায়ত্ত' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - সাধ্য।
- 'স্বাতন্ত্র' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - স্বাতন্ত্র্য। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) সভায় অনেক ছাত্রবৃন্দ এসেছে
  2. খ) অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে
  3. গ) সকল দর্শকমণ্ডলীকে স্বাগত জানাই
  4. ঘ) সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে
সঠিক উত্তর:
খ) অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নানুসারে 'অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা হয়েছে' বাক্যটি শুদ্ধ।
- অপশনের অন্যান্য বাক্যগুলো বহুবচনঘটিত অশুদ্ধ।

• অন্যান্য অপশনের শুদ্ধরূপ:
- সভায় অনেক ছাত্র এসেছে।
- দর্শকমণ্ডলীকে স্বাগত জানাই।
- সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩০০.
কোন শব্দে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. কিংবদন্তি
  2. মনকষ্ট
  3. আভ্যন্তর
  4. ব্যতীত
সঠিক উত্তর:
মনকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনকষ্ট
ব্যাখ্যা
মনকষ্ট - শব্দে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- 'মনকষ্ট' শুদ্ধ বানান - মনঃকষ্ট। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মনের দুঃখ, মনোবেদনা।

অন্যদিকে,
- ব্যতীত, 
- আভ্যন্তর, 
- কিংবদন্তি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।