বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

মোট প্রশ্ন৮০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৮০৫

১০১.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. শুধুমাত্র
  2. এইমাত্র
  3. কিছুমাত্র
  4. বলামাত্র
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 

----------------------
• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার: 
মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র, ইত্যাদি।

লক্ষণীয়,  মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০২.
'উৎকর্ষতা' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সমাসজনিত
  2. সন্ধিজনিত
  3. বিভক্তিজনিত
  4. প্রত্যয়জনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• উৎকর্ষ এটি বিশেষ্য পদ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ। অর্থাৎ ‘উৎকর্ষতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৩.
কোন শব্দে সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. নীরোগ
  3. পিতৃহারা
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

• 'সুবুদ্ধিমান' - শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এটি সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি।

অন্যদিকে,
- নীরোগ,
- পিতৃহারা,
- নির্দোষ।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৪.
বহুবচনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।
  2. সকল বালিকা প্রভাতফেরিতে গেছে।
  3. সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
  4. সভায় অনেক ছাত্র এসেছে।
সঠিক উত্তর:
সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
• শুদ্ধ বাক্য: সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।

⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৫.
"অদ্যবধি" - শব্দটি কোন কারণে অপপ্রয়োগ?
  1. সন্ধিঘটিত
  2. সমাস-ঘটিত 
  3. শব্দের বাহুল্যজনিত
  4. বচনজনিত
সঠিক উত্তর:
সন্ধিঘটিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধিঘটিত
ব্যাখ্যা

• 'অদ্যবধি' শব্দটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ এর উদাহরণ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি।
- এবং এর সন্ধিবিচ্ছেদ - অদ্য + অবধি।

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০৬.
বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আমি অপমান হয়েছি।
  2. অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
  4. খুব দুঃখ পেলাম। 
সঠিক উত্তর:
আমি অপমান হয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি অপমান হয়েছি।
ব্যাখ্যা
• বাচ্যজনিত ভুল:
কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
যেমন:
অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো- 
- অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
- অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
- খুব দুঃখ পেলাম। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৭.
নিচের কোনটি সঠিক প্রয়োগ?
  1. ক) সুজনতা
  2. খ) ঘূর্ণীয়মান
  3. গ) প্রসারতা
  4. ঘ) কেবলমাত্র
সঠিক উত্তর:
ক) সুজনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুজনতা
ব্যাখ্যা
- শব্দের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে 'সুজনতা' শব্দে। 

অন্যান্য শব্দের সঠিক প্রয়োগ -
- কেবল/মাত্র
- প্রসার
- ঘূর্ণায়মান

সূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৮.
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে কী দোষ ঘটে?
  1. ক) দ্বিত্বজনিত দোষ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা

• প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।যেমনঃ
• দেশের সব আলেমগণ এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
- 'আলেমগণ' বহু বচন বাচক শব্দ। এর সাথে 'সব' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে।
- বাক্য টির শুদ্ধরূপ হবেঃ দেশের আলেমগণ এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
- অথবা দেশের সব আলেম এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৯.
নিচের কোনটিতে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. নিরভিমান
  2. অদ্যবধি
  3. অহর্নিশ
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
ব্যাখ্যা
• 'অদ্যবধি' - শব্দটিতে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ- অদ্যাবধি।

অন্যদিকে,
নিরভিমান; অহর্নিশ; নির্দোষ - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১০.
‘আইশা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছে।’ বাক্যে কী ধরণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. যোগ্যতা জনিত
  2. কারক জনিত
  3. পদক্রম জনিত
  4. বানান জনিত
সঠিক উত্তর:
বানান জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান জনিত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আইশা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছে।’ বাক্যটিতে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। 
• শুদ্ধ রূপ: আইশা শিরঃপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছে।

•  (মনঃকষ্ট) সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ। বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১১১.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অর্ধরাত্র
  2. পিতৃহারা
  3. নিরপরাধী
  4. নীরোগ
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নিরপরাধী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরপরাধ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১২.
তাড়িত ব্যঞ্জনধনির প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) পতাকার
  2. খ) রং
  3. গ) গাড়
  4. ঘ) লাল
সঠিক উত্তর:
গ) গাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গাড়
ব্যাখ্যা
'গাড়' শব্দের 'ড়' তাড়িত ব্যঞ্জনধনি।

• যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মুর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধনির উদাহরণ।

• যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূল্কে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- 'রং' শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'লাল' শব্দের 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১১৩.
কোন শব্দটিতে ‘ণ’ সংক্রান্ত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ঘৃণা
  2. খ) তৃণ
  3. গ) মসৃণ
  4. ঘ) ঝরণা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঝরণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঝরণা
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান হবে ঝরনা। তদ্ভব, দেশী ও বিদেশী শব্দে সাধারণত ‘ন’ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১১৪.
সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ কোনটি?
  1. সুস্বাগত
  2. শ্রেষ্ঠতম
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. আয়ত্তাধীন
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা
• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

অন্যদিকে,
• 'শ্রেষ্ঠতম' -তম প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। 

• 'সুস্বাগত', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: স্বাগত।
 
• 'আয়ত্তাধীন', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আয়ত্ত / অধীন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১১৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  2. নিরোগ লোক আসলে সুখী।
  3. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  4. আমি সাক্ষী দিব না।
সঠিক উত্তর:
ইহার আবশ্যকতা নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহার আবশ্যকতা নাই।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: নিরোগ লোক আসলে সুখী।
শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৬.
নিচের কোন শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) অহোরাত্রি
  2. খ) ইতিমধ্যে
  3. গ) কুসংস্কার
  4. ঘ) অর্ধাঙ্গিনী
সঠিক উত্তর:
গ) কুসংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
কুসংস্কার শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেনি।
অহোরাত্রি, ইতিমধ্যে ও অর্ধাঙ্গিনী শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ হবে যথাক্রমে অহোরাত্র, ইতোমধ্যে ও অর্ধাঙ্গী।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান নিয়ম রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।
১১৭.
'দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।' - বাক্যটি কেন তার যোগ্যতা হাড়িয়েছে?
  1. ক) দুর্বোধ্যতা
  2. খ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) বাহুল্য দোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
বাহুল্য দোষ: প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ ঘটে। এতে শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে। 
যেমন- 'দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।'
- বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। 
- বাক্যটি হবে 'দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন।' বা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৮.
'করে ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীনতা সালে অর্জন৷' - এই বাক্য–
  1. ক) আসত্তিহীন
  2. খ) যোগ্যতাহীন
  3. গ) আকাঙ্ক্ষাহীন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) আসত্তিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আসত্তিহীন
ব্যাখ্যা

বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি। এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।

- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।

যেমন: করে ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীনতা সালে অর্জন৷ এই বাক্য আসত্তিহীন

সঠিক বাক্য: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে৷

- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১১৯.
কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয়?
  1. শ্রেষ্ঠতম
  2. তরুছায়া
  3. মূলসহ
  4. আয়ত্তাধীন
সঠিক উত্তর:
মূলসহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূলসহ
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় - মূলসহ।

উল্লেখ্য, 
• 'সমূলসহ', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: মূলসহ। 
 ----------------- 
অন্যদিকে,
• 'শ্রেষ্ঠতম', উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ।

• 'তরুছায়া', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: তরুচ্ছায়া।

• 'আয়ত্তাধীন', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আয়ত্ত / অধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান

১২০.
'সুবুদ্ধিমান' শব্দটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. প্রত্যয় সাধিত 
  2. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত 
  3. সন্ধি সাধিত 
  4. সমাস সাধিত 
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত 
ব্যাখ্যা

• 'সুবুদ্ধিমান' শব্দটিতে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। 

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:

অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. চঞ্চলতা
  2. গম্ভীরতা
  3. স্বতঃপ্রণোদিত
  4. গাম্ভীর্যতা
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: চঞ্চলতা; গম্ভীরতা; স্বতঃপ্রণোদিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২২.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) ছেলেটি বংশের চোখে চুনকালি দিল
  2. খ) তিনি স্বত্রীক ঢাকায় থাকেন
  3. গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
  4. ঘ) নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত অসুখী
সঠিক উত্তর:
গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে শুদ্ধ বাক্য হচ্ছে - তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।
- বাকি অপশনগুলো অশুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

• অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ হচ্ছে - 
- ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
- নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত সুখী।
- তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১২৩.
তুমি কী খাবে? - এ বাক্যে কী কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
কী + ক্রিয়া = সর্বনাম। এখানে কী-এর উত্তর হয় ভাত/মাছ/বিরিয়ানি, অর্থাৎ কোনো খাবারের নাম, সুতরাং কী হলো সর্বনাম।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১২৪.
প্রয়োগের অর্থ বিবেচনায় নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) সুস্বাস্থ্য
  2. খ) সচিত্রিত
  3. গ) শ্রেষ্ঠতম
  4. ঘ) স্বাগত
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাগত
ব্যাখ্যা
প্রয়োগের অর্থ বিবেচনায় শুদ্ধ হলো স্বাগত। অপশনে প্রদত্ত বাকি শব্দগুলোর প্রায়োগিক শুদ্ধরূপ যথাক্রমে স্বাস্থ্য, সচিত্র/চিত্রিত ও শ্রেষ্ঠ।
১২৫.
‘ঘোড়াশকট’ শব্দটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. ক) বাহুল্য
  2. খ) গুরুচণ্ডালী
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুচণ্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গুরুচণ্ডালী
ব্যাখ্যা

‘ঘোড়াশকট’ শব্দটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট।
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
শব্দটির সঠিক প্রয়োগ হবে ঘোড়াগাড়ি অথবা অশ্বশকট।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. দরিদ্রতা
  2. অধীন
  3. অদ্যাবধি
  4. অহোরাত্রি
সঠিক উত্তর:
অহোরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহোরাত্রি
ব্যাখ্যা
• 'অহোরাত্রি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: অহোরাত্র। 

'অহোরাত্র' শব্দের অর্থ : 
- এক সূর্যোদয় থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত কালপর্ব।

অন্যদিকে, 
অপশনের অন্য শব্দগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২৭.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. চোখে সরষেফুল দেখছি।
  2. দশের লাঠি, একের বোঝা।
  3. পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হর্ণ বাজানো নিষেধ।
  4. সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।
সঠিক উত্তর:
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হর্ণ বাজানো নিষেধ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হর্ণ বাজানো নিষেধ।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: কলেজ / পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হর্ণ বাজানো নিষেধ।
শুদ্ধ: কলেজ / পরীক্ষা চলাকালে হর্ন বাজানো নিষেধ।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: চোখে সরষেফুল দেখছি।
শুদ্ধ: দশের লাঠি, একের বোঝা।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড হায়াৎ মামুদ।
১২৮.
নিচের কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ইদানীং অনেক ছেলেই রাজনীতিতে আসছে।
  2. রচনার উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
  3. এই দায়িত্ব আমাকে দিয়ো না।
  4. তিনি এই ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী।
সঠিক উত্তর:
তিনি এই ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি এই ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী।
ব্যাখ্যা
• তিনি এই ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী।- বাক্যটি  অশুদ্ধ।

• শুদ্ধ বাক্য: তিনি এই ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী।
• সুত্র:
- অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (ভ্ + অ +ব + ই+) এখানে 'ব'-এর পরে 'ই'-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২৯.
নিচের কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়নি?
  1. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।
  2. ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
  3. তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই। 
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
সঠিক উত্তর:
তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা

• উদ্দেশ/উদ্দেশ্য: 
উদ্দেশ শব্দে বোঝায় হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য।
যেমন:
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা, হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. 'নদী ধায় সাগর উদ্দেশে'।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
শুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।

অশুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয়।
শুদ্ধ: ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।

অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১৩০.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  2. অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন।
  4. কে এই ভাগ্যবান মহিলা? তাকে ডেকে আন।
সঠিক উত্তর:
কে এই ভাগ্যবান মহিলা? তাকে ডেকে আন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কে এই ভাগ্যবান মহিলা? তাকে ডেকে আন।
ব্যাখ্যা
বাক্যে লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল-
• অশুদ্ধ: কে এই ভাগ্যবান মহিলা? তাকে ডেকে আন।
• শুদ্ধ: কে এই ভাগ্যবতী মহিলা? তাকে ডেকে আন।

• অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন বুদ্ধিমান বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।
• শুদ্ধ: তোমার মতো এমন বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি।

অন্যদিকে, অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩১.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সময়কাল
  2. নিরপরাধী
  3. দুরাবস্থা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• 'দুরাবস্থা'
- শব্দটির সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: দুরবস্থা।

• 'নিরপরাধী'
- শব্দটির সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে। 
- এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ। 

• 'সময়কাল'
- শব্দটির সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ন্যয্য
  2. নিক্বণ
  3. নৃসংশ
  4. নূন্যতম
সঠিক উত্তর:
নিক্বণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিক্বণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: নিক্বণ। 
- বিশেষ্য পদ,
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 

অর্থ:
- নিনাদ;
- ঝঙ্কার;
- ধ্বনি;
- মিষ্টি আওয়াজ।

অন্যান্য অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: ন্যায্য। 
- বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- যুক্তিযুক্ত;
- ন্যায়সঙ্গত;
- উচিত।

• শুদ্ধ বানান: নৃশংস।
- বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- নির্দয়;
- ক্রূর;
- নিষ্ঠুর।

• শুদ্ধ বানান: ন্যূনতম। 
- বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- সর্বনিম্ন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩৩.
কোনটি সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ?
  1. সুবুদ্ধি
  2. রাজগণ
  3. মাতাজাতি
  4. নীরোগ
সঠিক উত্তর:
মাতাজাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতাজাতি
ব্যাখ্যা
• সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ - মাতাজাতি।
- শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ - মাতৃজাতি।

অন্যদিকে,
- নীরোগ,
- রাজগণ,
- সুবুদ্ধি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৪.
সন্ধি জনিত অপপ্রয়োগ-
  1. ক) যথেষ্ট
  2. খ) স্বেচ্ছা
  3. গ) সদেব
  4. ঘ) রমেশ
সঠিক উত্তর:
গ) সদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সদেব
ব্যাখ্যা
আ+এ = ঐ হয়, সুতরাং সদা+এব=সদৈব হবে সঠিক সন্ধির প্রয়োগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১৩৫.
বাগ্‌ধারার বিকৃতিজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।
  2. কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।
  3. লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
  4. কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
সঠিক উত্তর:
লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
• শুদ্ধ: লোকটির যেন কৈ মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।

• বাগ্‌ধারার বিকৃতিজনিত অশুদ্ধি:

বাগ্‌ধারা ভাষার সৌন্দর্যবর্ধন, অর্থের স্পষ্টতা এবং ভাবের ব্যঞ্জনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ এ বাগ্‌ধারার অপপ্রয়োগ দেখ যায়, ফলে বাগ্‌ধারার সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি অশুদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হয়।

যেমন:
• অশুদ্ধ: উলুবনে সোনা ছড়িয়ে লাভ নেই।
• শুদ্ধ: উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।

• অশুদ্ধ: কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।
• শুদ্ধ: কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।

• অশুদ্ধ: কাঁচা টাকা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
• শুদ্ধ: কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৬.
“সমৃদ্ধ” বা “সম্পদশালী” - এর স্থলে “সমৃদ্ধশালী” ব্যবহার করা হলে কোন ধরনের ভুল সংগঠিত হয়?
  1. ক) প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি
  2. খ) বানানজনিত অশুদ্ধি
  3. গ) সন্ধিজনিত অশুদ্ধি
  4. ঘ) নির্দেশক জনিত অশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা
“সমৃদ্ধ” বা “সম্পদশালী” - এর স্থলে “সমৃদ্ধশালী” ব্যবহার করা হলে এক্ষেত্রে সাধারণ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ সংগঠিত হয়।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১৩৭.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশিষ্টতা
  2. কৃপণতা
  3. স্বাতন্ত্র‌্যতা
  4. চঞ্চলতা
সঠিক উত্তর:
স্বাতন্ত্র‌্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাতন্ত্র‌্যতা
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাতন্ত্র‌্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।

• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধরূপ - শুদ্ধরূপ:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• স্বাতন্ত্র‌্যতা - স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• বৈশিষ্ট্যতা -বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
• চাঞ্চল্যতা - চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৮.
নিম্নের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) এটা কাঁচা হাতের লেখা।
  2. খ) সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
  3. গ) বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
  4. ঘ) জ্যোৎস্না রাত বড়ই মধুর।
সঠিক উত্তর:
গ) বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপটি হচ্ছে-
- বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩৯.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. শ্রেষ্ঠতম
  2. রাজাগণ
  3. শুধুমাত্র
  4. অহোরাত্র
সঠিক উত্তর:
অহোরাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহোরাত্র
ব্যাখ্যা

- শ্রেষ্ঠতম এর শুদ্ধরূপ : শ্রেষ্ঠ/সর্বশ্রেষ্ঠ,
- রাজাগণ এর শুদ্ধরূপ : রাজগণ,
- শুধুমাত্র এর শুদ্ধরূপ : শুধু/মাত্র।
অন্যদিকে,
- 'অহোরাত্র' শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪০.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
  3. তার কথা প্রমাণ হলো।
  4. বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
তার কথা প্রমাণ হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার কথা প্রমাণ হলো।
ব্যাখ্যা
• বাক্যটিতে বিশেষ্যের বিশেষণ-রূপ সঠিক ভাবে ব্যবহার হয়নি।

• অশুদ্ধবাক্য : তার কথা প্রমাণ হলো।
• শুদ্ধবাক্য : তার কথা প্রমাণিত হলো।।

• অশুদ্ধবাক্য : অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
• শুদ্ধবাক্য : অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

অন্যদিকে,
- অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪১.
নিচের কোন শব্দটি অপপ্রয়োগ?
  1. সৌহার্দ
  2. চাঞ্চল্য
  3. গাম্ভীর্যতা
  4. স্বতঃপ্রণোদিত
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

অন্যদিকে, 
-সৌহার্দ; 
- চাঞ্চল্য; 
- স্বতঃপ্রণোদিত।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. স্বাতন্ত্র্যতা
  2. স্বাতন্ত্র্য
  3. স্বতন্ত্রতা
  4. খ এবং গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
"স্বাতন্ত্র্য" এবং "স্বতন্ত্রতা" — দুটি শব্দই বাংলা ভাষায় শুদ্ধ।

• "স্বাতন্ত্র্যতা" - শব্দটি অশুদ্ধ।

আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
- উপর্যুক্ত;
- প্রতিদ্বন্দ্বিতা;
- উচ্ছল;
- একান্নবর্তিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৩.
কোন শব্দটির প্রয়োগ যথার্থ?
  1. ক) বাহ্যিক
  2. খ) বৈচিত্রতা
  3. গ) দৈন্যতা
  4. ঘ) মনোকামনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনোকামনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মনোকামনা
ব্যাখ্যা
‘মনোকামনা’ শব্দটির প্রয়োগ যথার্থ।
অপশনের বাকি শব্দগুলোর সঠিক ব্যবহার হলোঃ
বাহ্যিক - বাহ্য
বৈচিত্রতা - বৈচিত্র, বিচিত্রতা
দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৪৪.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ?
  1. বিচিত্রতা
  2. উৎকর্ষ
  3. মিত্রতা
  4. সাদৃশ্যতা
সঠিক উত্তর:
সাদৃশ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাদৃশ্যতা
ব্যাখ্যা
• 'সাদৃশ্যতা' শব্দটি প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
এর সঠিক শব্দ: সাদৃশ্য, সদৃশ। 

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।  
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৪৫.
''পুরষ্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত 'অপরিস্কার''। - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে-
  1. ক) প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  2. খ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  3. গ) দুটোই অশুদ্ধ
  4. ঘ) দুটোই শুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) দুটোই অশুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুটোই অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা
র-ধ্বনির পরে যদি অ,আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়।কিন্তু অ,আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।সুতরাং পুরষ্কার এবং অপরিস্কার শব্দ দুটো অশুদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১৪৬.
ষ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. কষাকষি
  2. ষ্টেশন
  3. ষাণ্মাসিক
  4. বিষয়ী
সঠিক উত্তর:
ষ্টেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্টেশন
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান অনুসারে, বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।

⇒ তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে।
- সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও বিষয়ী শব্দগুলোতে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৭.
নিম্নের কোন বাক্যে ‘উগ্র’ অর্থে গরম শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
  2. খ) তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
  3. গ) দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
  4. ঘ) শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।
সঠিক উত্তর:
খ) তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া জাতীয় এই পদগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: গরম শব্দটি বাক্যে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রকাশ পেতে পারে।

উষ্ণ - এক কাপ খুব গরম চা দাও। 
গ্রীষ্ণ - বৈশাখ জৈষ্ঠ গরমকাল। 
চড়া - সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
উগ্র - তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
অহংকার - দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
শীত নিবারক - শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত অষ্টম শ্রেণি।

১৪৮.
শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ক) অনাথা
  2. খ) অনাথিনী
  3. গ) অনাথীনি
  4. ঘ) অনাথী
সঠিক উত্তর:
ক) অনাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনাথা
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ শব্দ = অনাথা 

অনাথ শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ = অনাথা 

অনাথ (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ন+নাথ 
অর্থ: পিতামাতাহীন, এতিম; অসহায় 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৪৯.
বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  2. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
  4. গাছটি মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
• শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ : দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ অন্যায়ের প্রতিফল দুনিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।

অশুদ্ধ : গাছটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
শুদ্ধ: গাছটি সমূল/মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫০.
নিচের যেটি বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত-
  1. ক) সবগুলো
  2. খ) একত্র
  3. গ) কর্তৃপক্ষ
  4. ঘ) অনুষ্ঠাতব্য
সঠিক উত্তর:
ক) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সবগুলো
ব্যাখ্যা
অপশন থেকে মনে হতে পারে অনুষ্ঠাতব্য অপপ্রয়োগ। কিন্তু অনুষ্ঠাতব্য শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ, এর অর্থ - আচরণীয়, করতে হবে এমন।
সব শব্দটি বহুবচন প্রকাশক, এর সাথে গুলোর ব্যবহার অশুদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
১৫১.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. সময়কাল
  2. মহিমময়
  3. বলিষ্ঠতর
  4. যুবরাজা
সঠিক উত্তর:
মহিমময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমময়
ব্যাখ্যা
মহিমময় - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'মহিমময়' শব্দের অর্থ - মহিমাপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• 'যুবরাজা', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: যুবরাজ।

• 'সময়কাল', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সময় / কাল।

• 'বলিষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বলিষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫২.
নিচের কোন বাক্যে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  2. তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
  3. ধীরতা একটি মহৎ গুণ।
  4. মেয়েটির সরলতায় আমি মুগ্ধ।
সঠিক উত্তর:
তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তার সৌন্দর্যতায় সকলে মুগ্ধ।
• শুদ্ধ বাক্য: তার সৌন্দর্যে সকলে মুগ্ধ।

⇒ ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫৩.
"মরুপ্রান্তরে নদীর কলকল ধ্বনি শোনা যায়।" - বাক্যটিতে কী ধরনের ভুল আছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা জনিত
  2. আসত্তি জনিত
  3. যোগ্যতা জনিত
  4. গুরুচণ্ডালী জনিত
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা জনিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) যোগ্যতা জনিত।
------------------
একটি সার্থক বা আদর্শ বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি গুণ থাকে।
যথা- 
১. আকাঙ্ক্ষা,
২. আসত্তি এবং
৩. যোগ্যতা।

• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ:
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ:
নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদগুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ:
বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।
-------------------
প্রশ্নে দেওয়া বাক্যটি হলো: “মরুপ্রান্তরে নদীর কলকল ধ্বনি শোনা যায়।”

উল্লেখ্য, মরুপ্রান্তরে সাধারণত নদী থাকে না, কারণ মরুভূমি শুষ্ক এলাকা এবং সেখানে পানির প্রবাহ বা নদী অত্যন্ত বিরল। তাই “মরুপ্রান্তরে নদীর কলকল ধ্বনি” শোনার কথা বাস্তবসম্মত নয়। এটি বাক্যের অর্থগত বা যুক্তিগত ত্রুটি নির্দেশ করে।
 
তাই, এটি যোগ্যতা জনিত ভুল।
------------------
অন্যদিকে,

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।

- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ।

• গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে- গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৪.
ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের কয়টি গুণ থাকা আবশ্যক?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা :

১. আকাঙ্খা :
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙ্খা বলে।

২. আসত্তি :
বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ  বিন্যাসই আসত্তি।

৩. যোগ্যতা :
বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৫.
নিচের যে গুচ্ছে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটেনি-
  1. ক) অধীন, অজ্ঞানতা
  2. খ) তনুদেহ, পান্তাভাত
  3. গ) সমসাময়িককালে, জন্ম বার্ষিক
  4. ঘ) ভাষী, সবান্ধব
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষী, সবান্ধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষী, সবান্ধব
ব্যাখ্যা
সমসাময়িককালে শব্দে 'কালে' ব্যবহার করা যাবে না।
তনু অর্থই দেহ এবং পান্তা দ্বারা পানিতে ভিজানো বাসি ভাত-কেই বুঝায়, তাই এর সাথে ভাত ব্যবহার করতে হবে না।
ভাষা ব্যবহারকারী অর্থে ভাষীর প্রয়োগ শুদ্ধ এবং বান্ধবদের সঙ্গে বুঝাতে সবান্ধব শুদ্ধ।
অর্থাৎ অপশন ঘ-তে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটে নি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৫৬.
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ভ্রাতৃবৃন্দ
  2. অহোরাত্র
  3. নির্দোষ
  4. মহিমামণ্ডিত
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
মহিমামণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমামণ্ডিত
ব্যাখ্যা

সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
নিরপরাধী - নিরপরাধ। 
নিরভিমানী - নিরভিমান। 
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র। 
মাতাজাতি - মাতৃজাতি। 
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত। 
ভ্রাতাবৃন্দ - ভ্রাতৃবৃন্দ। 
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার। 
অহোরাত্রি - অহোরাত্র। 
নির্দোষী - নির্দোষ। 
দিবারাত্রি - দিবারাত্র। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৫৭.
সন্ধির অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) অদ্যবধি
  2. খ) চলচ্ছক্তি
  3. গ) দুরদৃষ্ট
  4. ঘ) পশ্বধম
সঠিক উত্তর:
ক) অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অদ্যবধি
ব্যাখ্যা
অদ্যাবধি = অদ্য +অবধি, চলচ্ছক্তি = চলৎ+শক্তি, দুরদৃষ্ট = দুঃ+অদৃষ্ট, পশ্বধম = পশু+অধম৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১৫৮.
'সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত'- বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. দুর্বোধ্যতার দোষে
  2. বাহুল্য দোষে
  3. গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে। যার ফলে শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে থাকে।
সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত বাক্যটিতে 'আলেমগণ' বহুবচন বাচক শব্দ। এর সঙ্গে 'সকল' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- আলেমগণ আজ উপস্থিত অথবা সকল আলেম আজ উপস্থিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৯.
কোনটি সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ?
  1. পিতৃহারা
  2. নিরহঙ্কার
  3. অর্ধরাত্র
  4. নিরভিমানী
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
ব্যাখ্যা
• সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ - নিরভিমানী
- শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।

অন্যদিকে,
- অর্ধরাত্র,
- নিরহঙ্কার,
- পিতৃহারা।
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬০.
নিচের কোন বাক্যে বানানের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা করো।
  2. তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
  3. তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
  4. সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: তোমার তিরষ্কার বা পুরষ্কার কিছুই চাই না।
• শুদ্ধ বাক্য: তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।

• নিয়ম:
⇒ বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
⇒ তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি। অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬১.
ঈনী, নী প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) মায়াবিনী
  2. খ) কুহকিনী
  3. গ) যোগিনী
  4. ঘ) কুমারিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুমারিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুমারিনী
ব্যাখ্যা
নী প্রত্যয় যোগে সঠিক শব্দ হলো - কুমারনী, জেলেনী, ধোপানী। ঈনী, নী যোগে গঠিত শুদ্ধ শব্দ- মায়াবিনী, কুহকিনী, যোগিনী, মেধাবিনী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১৬২.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) দুরবিন
  2. খ) স্বাস্থ্য
  3. গ) প্রয়োজনীয়তা
  4. ঘ) দুরবস্থা
সঠিক উত্তর:
গ) প্রয়োজনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রয়োজনীয়তা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ হবে : প্রয়োজন
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৬৩.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. অদ্যবধি
  2. নিরপরাধী
  3. ব্যূহ
  4. শুধুমাত্র
সঠিক উত্তর:
ব্যূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যূহ
ব্যাখ্যা
• 'ব্যূহ' শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'ব্যূহ' শব্দের অর্থ - সেনাবিন্যাসের পৌরাণিক কৌশল। 

অন্যদিকে,
 • 'অদ্যবধি', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: অদ্যাবধি।

• 'নিরপরাধী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ। 

• 'শুধুমাত্র', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শুধু / মাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬৪.
‘শুধু শুধু বনে ক্রন্দন করে কাজ হবে না।’- বাক্যে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যােগ্যতা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যােগ্যতা
ব্যাখ্যা
• বাগধারা ভাষার সম্পদ। বিশেষ অর্থে এসব শব্দ ব্যবহৃত হয়। বাগধারার গঠনের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকে।
- এ গঠনের পরিবর্তন ঘটলে শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।

•‘বনে ক্রন্দন করে লাভ নেই।’ বাক্যে বাগ্‌ধারার অপপ্রযোগ ঘটেছে।
[অতএব, বাগ্‌ধারার ভুল প্রয়োগে বাক্যটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।]

• বাক্যটির শুদ্ধরূপ: শুধু শুধু অরণ্যে রোদন করে কাজ হবে না।
- ‘অরণ্যে রোদন’ বাগ্‌ধারার অর্থ: নিষ্ফল আবেদন।

------------------------
• একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকতে হয়৷ যথা- আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, ও যোগ্যতা।

• যােগ্যতা:
বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে। এটি একটি যােগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মিল রয়েছে।

[কিন্তু যদি বলা হয়- “বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে” তবে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যােগ্যতা হারাবে। কারণ নৌকা আকাশ পথে চলে না। সার্থক বাক্যের জন্য অর্থ সংগতি বা যােগ্যতা থাকতে হবে।]

শব্দের যোগ্যতার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত থাকতে পারে। তবে প্রধানত সাতটি বিষয় জড়িত থাকে। যেমন:
• রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা;
• বাহুল্য বর্জন;
• দুর্বোধ্যতা পরিহার;
• উপমা বা অলংকারের সঠিক প্রয়োগ বা ব্যবহার;
• বাগধারার সঠিক প্রয়োগ;
• গুরুচণ্ডলী দোষ পরিহার ও
• যথার্থ শব্দ প্রয়োগ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৫.
কোনটি সমাস-ঘটিত অশুদ্ধ?
  1. অনাটন
  2. বলিষ্ঠতর
  3. আরক্তিম
  4. অহর্নিশি
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশি
ব্যাখ্যা
• সমাস-ঘটিত অশুদ্ধ - অহর্নিশি
- এর শুদ্ধরূপ - অহর্নিশ।

অন্যদিকে,
- সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধ - আরক্তিম। এর শুদ্ধরূপ - আরক্ত/রক্তিম।
- উৎকর্ষবাচক-তর, -তম প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ - বলিষ্ঠতর। এর শুদ্ধরূপ - বলিষ্ঠ।
- সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধ - অনাটন। এর শুদ্ধরূপ - অনটন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৬.
'সৌন্দর্যতা' - কোন কারণে অপপ্রয়োগ?
  1. সন্ধিজনিত 
  2. বিভক্তিজনিত 
  3. প্রত্যয়জনিত 
  4. বাহুল্যজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত 
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি - সৌন্দর্যতা।
- শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - সৌন্দর্য।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয় - সুন্দর + য।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৬৭.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. গণ্যনীয়
  2. বিবাদমান
  3. ঐক্যমত
  4. ঐকতান
সঠিক উত্তর:
ঐকতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐকতান
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি. আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধবানান = ঐকতান।

অন্যদিকে,
• বাকি শব্দগুলো প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত অশুদ্ধ।

- ”গণ্যনীয়” শব্দের শুদ্ধরূপ = গণনীয়।
- ”বিবাদমান” শব্দের শুদ্ধরূপ = বিবদমান।
- ”ঐক্যমত” শব্দের শুদ্ধরূপ = ঐকমত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৮.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) ফেল কড়ি মাখ তেল
  2. খ) আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর
  3. গ) অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন
  4. ঘ) যেমন বুনো ওল তেমন বাঘা তেঁতুল
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন
ব্যাখ্যা
• 'অন্ধ ছেলের নাম পদ্মলোচন' বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
- এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে 'কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন'।
- প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তনকে অশুদ্ধ বলে গণ্য করা হয়।

- ফেল কড়ি মাখ তেল।
- আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর।
- যেমন বুনো ওল তেমন বাঘা তেঁতুল।
উল্লেখিত অপশনগুলো সঠিক বা শুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৬৯.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বুদ্ধিমান
  2. বিপন্মুক্তি
  3. প্রয়োজনীয়তা
  4. শুধু
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
ব্যাখ্যা
• 'প্রয়োজনীয়তা' সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- শুধু,
- বিপন্মুক্তি,
- বুদ্ধিমান।
শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৭০.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আবশ্যক
  2. পূজ্য
  3. বাহ্য
  4. একত্রিত
সঠিক উত্তর:
একত্রিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একত্রিত
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ ⇒ শুদ্ধ
- আবশ্যকীয় ⇒ আবশ্যক;
- একত্রিত ⇒ একত্র;
- পুজ্য ⇒ পূজ্য;
- বাহ্যিক ⇒ বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭১.
কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আয়ত্তধীন
  2. অদ্যাপি
  3. কেবল
  4. কদাপি
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়ত্তধীন
ব্যাখ্যা
• ’আয়ত্তধীন’ সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধ।
- ’আয়ত্তধীন’ এর শুদ্ধরূপ - ’আয়ত্ত’

অন্যদিকে,
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধ আরো কিছু শব্দ
• অশুদ্ধ  = শুদ্ধ।
- আরক্তিম = আরক্ত
- অদ্যাপিও = অদ্যাপি;
- কেবলমাত্র  = কেবল;
- বিবিধপ্রকার = বিবিধ;
- সমূলসহ = সমূল;
- সুস্বাগত = স্বাগত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭২.
'সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।' বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. গুরুচন্ডালী দোযে 
  2. দুর্বোধ্যতা দোষে
  3. উচ্চারণ দোষে 
  4.  বাহুল্য দোষে
সঠিক উত্তর:
 বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা

- "সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে।
শুদ্ধ বাক্যটি হবে: "সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত" অথবা "শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"।

বাহুল্য দোষ:
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন:
- সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।
- বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৩.
'সে কৌতুক করার কৌতূহল সংবরণ করতে পারল না।'- এই বাক্য কী কারণে ত্রুটিপূর্ণ?
  1. বানান ভুল আছে
  2. বাক্যের পদবিন্যাস যথাযথ নয়
  3. অর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি
  4. বিশেষ্য-বিশেষণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে
সঠিক উত্তর:
অর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: গ) অর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি।

ব্যাখ্যা:
• বাক্যটিতে ব্যবহৃত "কৌতূহল" শব্দটি অর্থের দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ।

• "কৌতূহল" শব্দের অর্থ হলো কোনো বিষয়ে জানার আগ্রহ, অনুসন্ধিৎসা বা কুরিয়োসিটি (Curiosity)। এটি সাধারণত কোনো তথ্য, ঘটনা বা রহস্য বোঝার ইচ্ছাকে নির্দেশ করে।
• কিন্তু বাক্যে "কৌতুক করার কৌতূহল" বলতে বোঝানো হয়েছে "রসিকতা করার আগ্রহ", যা "কৌতূহল" শব্দের প্রকৃত অর্থের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ, কোনো কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশের জন্য "আগ্রহ", "ইচ্ছা" বা "প্রবৃত্তি" শব্দের ব্যবহার যথার্থ।

• সঠিক শব্দপ্রয়োগে বাক্যটি হবে:
"সে কৌতুক করার আগ্রহ সংবরণ করতে পারল না।"
অথবা
"সে কৌতুক করার ইচ্ছা দমন করতে পারল না।"

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক) বানান ভুল আছে: "কৌতুক", "কৌতূহল", "সংবরণ" শব্দগুলির বানান সঠিক।

খ) বাক্যের পদবিন্যাস যথাযথ নয়: বাক্যের গঠন (কর্তা + ক্রিয়া) ও পদক্রমে কোনো ত্রুটি নেই। যেমন: "সে" (কর্তা), "কৌতুক করার কৌতূহল" (কর্ম), "সংবরণ করতে পারল না" (ক্রিয়া)।

ঘ) বিশেষ্য-বিশেষণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে: "কৌতুক করার" বিশেষণটি "কৌতূহল" বিশেষ্যকে বিশেষিত করছে, যা ব্যাকরণগতভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে মূল সমস্যা শব্দের অর্থগত অসঙ্গতিতে, বিশেষ্য-বিশেষণের অপপ্রয়োগে নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; মাধ্যমিক ব্যাকরণ- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৭৪.
কোন বাক্যে ‘কি/কী’ এর ব্যবহারের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়!
  2. খ) তোমার বাড়ির কাজ কি শেষ হয়েছে?
  3. গ) কি লিখেছ, আমাকে একটু পড়ে শুনাও না।
  4. ঘ) কী কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ল?
সঠিক উত্তর:
গ) কি লিখেছ, আমাকে একটু পড়ে শুনাও না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কি লিখেছ, আমাকে একটু পড়ে শুনাও না।
ব্যাখ্যা

পদ ভেদে কি/কী এর ব্যবহার নিম্নরূপ-
কি - প্রশ্নবোধক, সমতাবিধায়, সংশয়সূচক এবং বিস্ময়বোধক অব্যয়।
কী - প্রশ্নবোধক সর্বনাম এবং বিস্ময়বোধক অব্যয়।

উপরোক্ত বাক্যের সঠিক প্রয়োগ - কী লিখেছ, আমাকে একটু পড়ে শুনাও না।
উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ

১৭৫.
বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  2. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  3. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  4. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
সঠিক উত্তর:
সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
ব্যাখ্যা

• বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল ঘটেছে- সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে। 
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

-----------------------
• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।

প্রচলিত কিছু অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ হলো-

• অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. কৃষক
  2. কষাই 
  3. বর্ষণ
  4. সুষমা 
সঠিক উত্তর:
কষাই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কষাই 
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- কষাই।  
• শুদ্ধরূপ: 'কসাই' আরবি ভাষার শব্দ। সেকারণে 'কসাই' শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ। 

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে, ষ্টেশন, স্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৭৭.
‘ব্য’ এর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) ব্যপন
  2. খ) ব্যরাম
  3. গ) ব্যমো
  4. ঘ) ব্যভিচার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যভিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যভিচার
ব্যাখ্যা
কোনো শব্দের শুরুতে ‘ব্য’ থাকলে তাকে ভাঙতে হয় ‘বি+অ’ দিয়ে এবং শব্দের শুরুতে ‘ব্যা’ থাকলে একে ভাঙতে হবে ‘বি+আ’ দিয়ে।
সঠিক বানান গুলো হচ্ছে -ব্যভিচার, ব্যাপন, ব্যারাম, ব্যামো।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১৭৮.
লিঙ্গজনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. ক) অনাথা
  2. খ) বিদ্বানী
  3. গ) অর্ধাঙ্গিনী
  4. ঘ) সিংহী
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্বানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্বানী
ব্যাখ্যা

বিদুষী - বিদ্যাবতী রমণী; উচ্চশিক্ষিতা; পণ্ডিত মহিলা।
বিদ্বান - জ্ঞানী; বিদ্যাবান; পণ্ডিত; শিক্ষিত; সুশিক্ষিত।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

১৭৯.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অহোরাত্র
  2. সুকেশা
  3. সখ্য
  4. মৌনতা
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
ব্যাখ্যা
মৌনতা শব্দের শুদ্ধরূপ হবে ‘মৌন’

মৌন (বিশেষ্য): নীরবতা
শব্দটির সাথে আলাদাভাবে 'তা' যুক্ত করলে ভুল প্রয়োগ হবে।

- অহোরাত্র, সুকেশা ও সখ্য - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১৮০.
কোন বাক্যে শব্দের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কোকিল নীর বানাতে পারেনা।
  2. খ) বসন্তে পরভৃৎ ডাকে।
  3. গ) মড়াকে তাড়াতাড়ি সৎকার করাই ভালো।
  4. ঘ) বাণবাসী মানুষের পাশে দাঁড়াও। 
সঠিক উত্তর:
গ) মড়াকে তাড়াতাড়ি সৎকার করাই ভালো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মড়াকে তাড়াতাড়ি সৎকার করাই ভালো।
ব্যাখ্যা
নীর (পানি) 
নীড় (বাসা) 
সঠিক বাক্যটি হবে = কোকিল নীড় বানাতে পারেনা 

পরভৃৎ (কাক) 
পরভৃত (কোকিল) 
সঠিক বাক্যটি হবে = বসন্তে পরভৃত ডাকে  

বান(বন্যা) 
বাণ (শর) 
সঠিক বাক্যটি হবে = বানবাসী মানুষের পাশে দাঁড়াও।  

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
কোন শব্দে বানানজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. আশিষ
  2. বিবদমান
  3. অশরীরী
  4. মনঃকষ্ট
সঠিক উত্তর:
আশিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশিষ
ব্যাখ্যা
আশিষ - শব্দে বানানজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- এর শুধ বানান - আশিস
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- আশীর্বাদ, দোয়া;
- শুভেচ্ছা।

অন্যদিকে,
মনঃকষ্ট, 
অশরীরী, 
বিবদমান।
উপরিউক্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮২.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত-
  1. ক) সারল্য
  2. খ) সখ্যতা
  3. গ) সদৃশতা
  4. ঘ) সুজনতা
সঠিক উত্তর:
খ) সখ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সখ্যতা
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে 'সখ্যতা'।
- 'সখ্যতা' শব্দের শুদ্ধপ্রয়োগ হবে 'সখ্য'।
অপশনে থাকা বাকি শব্দগুলোর প্রতিটিই শুদ্ধপ্রয়োগে রয়েছে।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৩.
বাহুল্য দোষজনিত বাক্যের অপপ্রয়োগ পাওয়া যায় কোনটিতে?
  1. ক) সব পাখি উড়ে গেলো
  2. খ) সকল ছাত্র ক্লাসে মনযোগী নয়
  3. গ) সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত
  4. ঘ) মাছগুলোর দাম কত?
সঠিক উত্তর:
গ) সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত
ব্যাখ্যা
"সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত" অথবা "শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. নিরপরাধী
  2. আষাঢ়ন্ত
  3. সৌন্দর্যতা
  4. বিবদমান
সঠিক উত্তর:
বিবদমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবদমান
ব্যাখ্যা
• 'বিবদমান' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'বিবদমান' শব্দের অর্থ - কলহরত, বিরুদ্ধমত পোষণকারী।

অন্যদিকে,
• 'আষাঢ়ন্ত' সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আষাঢ়ান্ত।

• 'নিরপরাধী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ।

• 'সৌন্দর্যতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সৌন্দর্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮৫.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত নয়?
  1. উপর্যুপরি
  2. শ্রেষ্ঠতর
  3. আয়ত্তাধীন
  4. অহোরাত্রি
সঠিক উত্তর:
উপর্যুপরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপর্যুপরি
ব্যাখ্যা
উপর্যুপরি - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'উপর্যুপরি' শব্দের অর্থ - পরপর, ক্রমান্বয়ে, ক্রমাগত, অবিরাম।

অন্যদিকে,
• 'অহোরাত্রি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: অহোরাত্র।

• 'আয়ত্তাধীন', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আয়ত্ত / অধীন।

• 'শ্রেষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮৬.
নিচের কোন শব্দে সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সময়কাল
  2. দুরাবস্থা
  3. নিরপরাধী
  4. বিবদমান
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নিরপরাধী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরপরাধ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৭.
নিচের কোন শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) ঐক্যমত
  2. খ) বিশিষ্টতা
  3. গ) বাহুল্য
  4. ঘ) খ + গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ + গ
ব্যাখ্যা

ঐক্যমত শব্দটিতে অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ - ঐকমত্য।
অন্যদিকে,
- বৈশিষ্ট্য বা বিশিষ্টতা - দুটি শব্দই শুদ্ধ। তবে, বৈশিষ্ট্যতা অশুদ্ধ।
- বাহুল্য বা বহুলতা -দুটি শব্দই শুদ্ধ। তবে, বাহুল্যতা শব্দটি অশুদ্ধ।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮৮.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. চপলতা
  2. পৌরুষত্ব
  3. উৎকৃষ্টতা
  4. অধীরতা
সঠিক উত্তর:
পৌরুষত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌরুষত্ব
ব্যাখ্যা
• নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বায যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, অধীরতা। 
• অপকর্ষতা - অপকর্ষ, অপকৃষ্টতা। 
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা। 
• উৎকর্ষতা - উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা। 
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা। 
• কার্পণ্যতা - কার্পণ্য, কৃপণতা। 
• গাম্ভীর্যতা - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা। 
• চাঞ্চল্যতা - চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা। 
• চাতুর্যতা - চাতুর্য, চতুরতা। 
• চাপল্যতা - চাপল্য, চপলতা। 
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা। 
• পৌরুষত্ব - পৌরুষ, পুরুষত্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৯.
কোন শব্দে সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. পিতৃহারা
  2. নির্ধনী
  3. অহর্নিশ
  4. যুবরাজ
সঠিক উত্তর:
নির্ধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধনী
ব্যাখ্যা
• 'নির্ধনী' - শব্দে সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
'নির্ধন' শব্দের শুদ্ধরূপ - নির্ধন।

অন্যদিকে,
- যুবরাজ,
- অহর্নিশ, 
- পিতৃহারা।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯০.
কোন শব্দটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. গৌরবিত
  2. বিচিত্রতা
  3. অতলস্পর্শী
  4. উপর্যুপরি
সঠিক উত্তর:
অতলস্পর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতলস্পর্শী
ব্যাখ্যা
• "অতলস্পর্শ" শব্দটি বিশেষণ।
এর অর্থ হলো - "যার তল স্পর্শ করা যায় না।"
সুতরাং, এর সঙ্গে 'ঈ' প্রত্যয় যোগ করে আবার বিশেষণ করার দরকার নেই।
ফলে,
"অতলস্পর্শী" শব্দটি অর্থগত দিক থেকে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি একটি অপপ্রয়োগ।

অন্যদিকে,
গৌরবিত, বিচিত্রতা, এবং উপর্যুপরি — সবগুলোই শুদ্ধ শব্দ এবং যথাযথ প্রয়োগ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯১.
সমাস সাধিত শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নিরহঙ্কারী
  2. নিরভিমান
  3. নীরোগী
  4. পিতাহারা
সঠিক উত্তর:
নিরভিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমান
ব্যাখ্যা

• 'নিরভিমান' - শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯২.
সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ কোনটি?
  1. পৃথগন্ন
  2. দুরাদৃষ্ট
  3. তরুছায়া
  4. বিপদুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
দুরাদৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরাদৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - দুরাদৃষ্ট
- 'দুরাদৃষ্ট' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - দুরদৃষ্ট।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- তরুছায়া,
- বিপদুদ্ধার।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯৩.
নিচের যে বাক্যটিতে ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটেনি -
  1. মেয়েটি মারাত্মক মেধাবী।
  2. দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর।
  3. আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী।
  4. সে পান্তা খেয়ে মাঠে গেলো।
সঠিক উত্তর:
সে পান্তা খেয়ে মাঠে গেলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে পান্তা খেয়ে মাঠে গেলো।
ব্যাখ্যা
সে পান্তা খেয়ে মাঠে গেলো। - এই বাক্যটি শুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ:
ছেলেটি মারাত্মক মেধাবী। - ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর। - দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার আশংকা প্রচুর।
আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী। - আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিক।
১৯৪.
"আমার সন্তান যেন থাকে দুধ ভাত।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাহুল্যজনিত
  2. বিভক্তিজনিত
  3. প্রত্য্যজনিত
  4. সন্ধি বিষয়ক
সঠিক উত্তর:
বিভক্তিজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভক্তিজনিত
ব্যাখ্যা
• "আমার সন্তান যেন থাকে দুধ ভাত।" - বাক্যটিতে "বিভক্তিজনিত" অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• সঠিক বাক্যটি হলো - "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাত।"
কারণ, সাহিত্যের লাইনটি হুবুহু এভাবেই ছিলো। প্রদত্ত বাক্যটিতে শুধু 'দুধ ভাত' দেওয়া। কিন্তু এখানে একটি বিভক্তি যুক্ত হয়ে "দুধে ভাতে" হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৫.
ণ–এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) অলংকরণ
  2. খ) উচ্চারণ
  3. গ) উদাহরণ
  4. ঘ) অঘ্রাণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অঘ্রাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অঘ্রাণ
ব্যাখ্যা
খাটি বাংলা ও অতৎসম শব্দে সর্বদা দন্ত্য ন হবে৷ যেমন- অগ্রহায়ণ কিন্তু অঘ্রান৷
সাধারণভাবে তৎসম শব্দে ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহৃত হবে৷
যেমনঃ অরুণ, অলংকরণ, উদাহরণ, উচ্চারণ, জাগরণ ইত্যাদি৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৬.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আমৃত্যু পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব।
  2. তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দেবেন।
  3. সকল ছাত্র পাঠে মনোেযাগী নয়।
  4. দশচক্রে ভগবান ভূত।
সঠিক উত্তর:
আমৃত্যু পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমৃত্যু পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: আমৃত্যু পর্যন্ত দেশের সেবা করে যাব।
শুদ্ধরূপ: আমৃত্যু দেশের সেবা করে যাব।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দেবেন।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র পাঠে মনোেযাগী নয়।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৭.
নিচের কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অনাটন
  2. অদ্যাবধি
  3. উপর্যুপরি
  4. প্রাতরাশ
সঠিক উত্তর:
অনাটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাটন
ব্যাখ্যা
• "অনাটন" শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি অপপ্রয়োগ। এখানে সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর সঠিক শব্দ হলো "অনটন"।

অন্য শব্দগুলো:
• অদ্যাবধি → সঠিক, অর্থ: আজ পর্যন্ত।
• উপর্যুপরি → সঠিক, অর্থ: একটার পর একটা (বারবার)।
• প্রাতরাশ → সঠিক, অর্থ: সকালের নাশতা (সংস্কৃতমূলে গঠিত)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯৮.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ।
  2. একটা গোপনীয় কথা বলি।
  3. আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
  4. আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হলো।
সঠিক উত্তর:
আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হলো।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হলো।
শুদ্ধরূপ: আমার কথাই শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হলো।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: আজ আমার কনিষ্ঠা বোনের বাগদান অনুষ্ঠান।
শুদ্ধ: মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ।
শুদ্ধ: একটা গোপনীয় কথা বলি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৯.
কোনটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি?
  1. কদাপি
  2. প্রয়োজনীয়তা
  3. অধীন
  4. আয়ত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রয়োজনীয়তা
ব্যাখ্যা

• 'প্রয়োজনীয়তা' সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এই শব্দের শুদ্ধরূপ - প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- আয়ত্ত,
- অধীন,
- কদাপি।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২০০.
বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অহর্নিশ
  2. উৎকর্ষতা
  3. দিবারাত্র
  4. নির্দোষ
  5. নিরভিমান
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• উৎকর্ষ,
- শব্দটি বিশেষ্য। 
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ অর্থাৎ বাহুল্য দোষ। 
• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'। 

নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।