বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

মোট প্রশ্ন৮০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৮০৫

৪০১.
‘চাঁদে বসে মা শিশুকে ছাদ দেখাচ্ছেন’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) পদক্রমবিন্যাস জনিত
  2. খ) আসত্তি জনিত
  3. গ) যোগ্যতা জনিত
  4. ঘ) বাহুল্য জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতা জনিত
ব্যাখ্যা
‘চাঁদে বসে মা শিশুকে ছাদ দেখাচ্ছেন’ এই বাক্য গদ্যে যোগ্যতাহীন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪০২.
'সে চোখে হলুদ ফুল দেখছে' বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. ক) বাচ্য প্রয়োগ
  2. খ) প্রবচনের প্রয়োগ
  3. গ) শব্দের অপপ্রয়োগ
  4. ঘ) বাহুল্য
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবচনের প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রবচনের প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

যেমন- ''সে চোখে হলুদ ফুল দেখছে' -বাক্যটিতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
সঠিক বাক্যটি হবে - 'সে চোখে সরষে ফুল দেখছে'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. বিদ্বানকে সকলে শ্রদ্ধা করে।
  2. মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।
  3. তিনি সন্তুষ্ট হইলেন।
  4. রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য
সঠিক উত্তর:
রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য
ব্যাখ্যা
• 'রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য'- বাক্যটি শুদ্ধ নয়।  
বাক্যটির শুদ্ধরূপ: 'রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য'। 

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
‘উৎকর্ষ’ (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ, এটি বিশেষ্য। 

আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ অর্থাৎ বাহুল্য দোষ। 
সুতরাং ’উৎকর্ষতা’ শব্দটি ভুল।

• তাই, বাক্যটি হবে- রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০৪.
'স্বত্ব' দ্বারা কী বোঝায়?
  1. বিদ্যমানতা
  2. ত্রিগুণের প্রথমটি
  3. প্রাণ
  4. মালিকানা
সঠিক উত্তর:
মালিকানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালিকানা
ব্যাখ্যা

স্বত্ব, সত্ত্ব, সত্তা:
স্বত্ব:  'স্ব' মানে নিজে। শব্দটি বিশেষণ, এর সঙ্গে ত্ব যোগ করে একে বিশেষ্য পদে রূপান্তরিত করা হয়েছেমানে দাঁড়াল নিজত্ব, অর্থাৎ নিজের অধিকার যেখানে আছে; এক কথায় এর অর্থ 'মালিকানা'। যেমন- মনুজান নিজের সমস্ত বিষয়সম্পত্তি স্বত্ব ত্যাগ করে তাঁর ভাই হাজি মুহম্মদ মহসীনকে দিয়ে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
সত্ত্ব: (< সৎ+ ত্ব)। ৎ আর ত সন্ধির ফলে ত্ত হয়েছে, সেইসঙ্গে ব-ফলা তার নিজের জায়গাতেই আছে।
এ কাজ করলে কেন।
ক. 'সৎ' শব্দের এক অর্থ হচ্ছে 'বিদ্যমান'। 'সত্ত্ব' শব্দের অর্থ এর ফলে- অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা। যে-মেয়ে মা হতে যাচ্ছে তাকে আমরা বলি, 'মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা', অর্থাৎ মেয়েটির 'অন্তঃ'তে (অভ্যন্তরে, ভেতরে) আরেকটি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। 'সত্ত্বেও' কথাটা এখান থেকেই এসেছে; যেমন- নিষেধ সত্ত্বেও (অর্থাৎ নিষেধ বিদ্যমান থাকতেও)
খ. 'সত্ত্ব' শব্দের দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের (সত্ত্ব রজঃ তমঃ) মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ। মানুষের মনের যে-সব শ্রেষ্ঠ অনুভূতি আছে, যেমন দয়া প্রেম ন্যায়নিষ্ঠা মনুষ্যত্ববোধ বিবেক ইত্যাদি সব সম্মিলিত করলে যা দাঁড়ায় তা-ই সত্ত্বগুণ। যাঁর এইগুণ আছে তাঁকে বলি 'সাত্ত্বিক' লোক। 'সাত্ত্বিক' বিশেষণ পদে তা যোগ করে (সাত্ত্বিক+তা=) 'সাত্ত্বিকতা' বিশেষ্য পদ তৈরি করা যায়।
গ. 'সত্ত্ব' শব্দের তৃতীয় অর্থ- রস, ফলের রস। 'আমসত্ত্ব' তো আসলেই আমের রস, তবে জ্বাল দিয়ে-দিয়ে ঘন করে তারপরে শুকিয়ে নেওয়া। ['সত্ত্ব' শব্দের মতো আরেকটি শব্দ তৈরি হয়েছে। তৎ+ ত্ব = তত্ত্ব। অর্থাৎ তার স্বরূপ বা প্রকৃতি। তত্ত্ব, তাত্ত্বিক, তত্ত্বীয়-এগুলো পরস্পরসম্পৃক্ত শব্দ।

সত্তা: (সৎ + তা)। 'সৎ' শব্দের এক অর্থ যে 'বিদ্যমান' তা আগেই বলেছি; 'তা' হলো বিশেষ্যে রূপান্তরিত হওয়ার চিহ্ন। মানে দাঁড়াল বিদ্যমানতা, অস্তিত্ব। যেমন- সত্তা হারিয়ে ফেলা। এই 'সত্তা' আর আগের ডালতা অর্থের দিক থেকে একই, তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তফাত আছে। এই সত্তা থেকেই সততা শব্দের উৎপত্তি। সততা ব্যাকরণসিদ্ধ শব্দ নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪০৫.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. বিপদোদ্ধার
  2. অদ্যাবধি
  3. দুরাবস্থা
  4. বাগেশ্বরী
সঠিক উত্তর:
অদ্যাবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যাবধি
ব্যাখ্যা

অদ্যাবধি - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
নিম্নরূপ শব্দগুলোতে সন্ধিজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে:
শুদ্ধ: বিপদুদ্ধার। 
অশুদ্ধ: বিপদোদ্ধার। 

শুদ্ধ: দুরবস্থা। 
অশুদ্ধ: দুরাবস্থা। 

শুদ্ধ: বাগীশ্বরী। 
অশুদ্ধ: বাগেশ্বরী। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪০৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. চাপল্য
  2. পুরুষত্ব
  3. মৈত্রতা
  4. সৌহার্দ্য
সঠিক উত্তর:
মৈত্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈত্রতা
ব্যাখ্যা
• 'মৈত্রতা'- 'অপপ্রয়োগ'। 
- এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: মৈত্র, মিত্রতা। 

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দ্যতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
- চাপল্য, পুরুষত্ব ও সৌহার্দ্য শব্দ গুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৭.
নিচের কোন শব্দে ‘ষ’ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) মাননীয়াষু
  2. খ) স্নেহাস্পদেষু
  3. গ) সুচরিতাষু
  4. ঘ) সুপ্রিয়াষু
সঠিক উত্তর:
খ) স্নেহাস্পদেষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্নেহাস্পদেষু
ব্যাখ্যা
সম্ভাষণসূচক শব্দে আ কারের পর স হয়। যেমনঃ কল্যাণীয়াসু, মাননীয়াসু, সুচরিতাসু, সুপ্রিয়াসু।
সম্ভাষণসূচক শব্দে এ-কারের পর মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমনঃ কল্যাণীয়েষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, স্নেহাস্পদেষু, বন্ধুবরেষু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪০৮.
'পুরুষত্ব' শব্দটি ব্যাকরণের কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. সন্ধিযোগে
  2. বচনের সাহায্যে
  3. প্রত্যয়যোগে
  4. উপসর্গযোগে
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
ব্যাখ্যা
• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।

এরকম -
অশুদ্ধ ⇒ শুদ্ধ:
- দারিদ্র্যতা ⇒ দারিদ্র্য, দরিদ্রতা, 
- মৈত্রতা ⇒ মৈত্র, মিত্রতা, 
- পৌরুষত্বব ⇒ পৌরুষ, পুরুষত্ব

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৯.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. বাহ্যিক
  2. আবশ্যক
  3. একত্রিত
  4. বৈচিত্র
সঠিক উত্তর:
আবশ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবশ্যক
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ
→ আবশ্যকীয় - আবশ্যক,
→ একত্রিত - একত্র,
→ বৈচিত্র - বৈচিত্র্য,
→ বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১০.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. অলসতা উন্নতির অন্তরায়।
  2. কার্পণ্যতা সবসময় ভালো নয়।
  3. দীনতা প্রশংসনীয় নয়।
  4. ধীরতা মহৎ গুণ।
সঠিক উত্তর:
কার্পণ্যতা সবসময় ভালো নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্পণ্যতা সবসময় ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
• ‘কার্পণ্যতা সবসময় ভালো নয়।’- প্রদত্ত বাক্যের ‘কার্পণ্যতা’ শব্দে তা প্রত্যয়ে অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: কৃপণতা।

---------------------------------
• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয় প্রয়োগের নিয়ম:
- ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ বা ‘ত্ব’ যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
- এখানে দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

কয়েকটি অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
ধৈর্যতা - ধীরতা।
চাপল্যতা - চপলতা।
দারিদ্র‌্যতা - দরিদ্রতা।
কার্পণ্যতা - কৃপণতা।
অলস্যতা - অলসতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪১১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  2. আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
  3. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
  4. মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
ব্যাখ্যা

যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল:

অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

অশুদ্ধ: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
শুদ্ধ: আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।

অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.  হায়াৎ মামুদ।

৪১২.
কোনটি বাহুল্য দোষে দুষ্ট?
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. অধীনস্থ
  3. প্রতিযোগিতা
  4. একত্র
সঠিক উত্তর:
অধীনস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধীনস্থ
ব্যাখ্যা
অধীনস্থ শব্দটির সঠিক প্রয়োগ- অধীন।
উৎসঃ‌ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪১৩.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অহর্নিশ
  2. নিষ্পাপী
  3. অর্ধরাত্র
  4. নিরহঙ্কার
সঠিক উত্তর:
নিষ্পাপী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষ্পাপী
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নিষ্পাপী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিষ্পাপ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৪.
বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে, বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট হয়?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে 
  2. বাহুল্য দোষে 
  3. বচনগত দোষে 
  4. বাচ্য-বিকৃতি দোষে 
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে 
ব্যাখ্যা

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।

যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৪১৫.
গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট নয় কোনটি?
  1. শবপোড়া
  2. অশ্বশকট
  3. মড়াদাহ
  4. গরুর শকট
সঠিক উত্তর:
অশ্বশকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশ্বশকট
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ বাক্যকে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট করে।
এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
গরুর গাড়ি, ঘোড়াগাড়ি বা অশ্বশকট, শবদাহ, মড়াপোড়া, প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, ঘোড়াশকট, শবপোড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]
৪১৬.
‘দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।’ - বাক্যটিতে কোন ধরনের অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. গুরুচণ্ডালী দোষ
  3. উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. দুর্বোধ্যতা
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
বাহুল্য দোষ:
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারায়।
যেমন:
• অশুদ্ধ বাক্য: দেশের সকল শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
• শুদ্ধ বাক্য হবে: ‘দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন' অথবা 'দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন'।

- বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচনবাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৭.
সন্ধি জনিত অশুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) অনূর্ধ্ব
  2. খ) লঘুর্মি
  3. গ) বধূৎসব
  4. ঘ) প্রত্যুত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লঘুর্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লঘুর্মি
ব্যাখ্যা
ই + উ = য্‌ + উ > অতি + উক্তি = অত্যুক্তি; প্রতি + উত্তর = প্রত্যুত্তর।
উ + উ = ঊ > কটু + উক্তি = কটূক্তি; মরু + উদ্যান = মরূদ্যান।
উ + ঊ = ঊ > লঘু + ঊর্মি = লঘূর্মি; অনু + ঊর্ধ্ব = অনূর্ধ্ব।
ঊ + উ = ঊ > বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৪১৮.
সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) উপর্যুক্ত
  2. খ) উপর্যপরি
  3. গ) অদ্যাবধি
  4. ঘ) মুখচ্ছবি
সঠিক উত্তর:
খ) উপর্যপরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপর্যপরি
ব্যাখ্যা
উপর্যপরি শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে উপর্যুপরি
- অপশনের বাকি শব্দগুলো শুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

• সন্ধিজাত কয়েকটি শুদ্ধ শব্দ:
- অধোগতি, অত্যধিক, অদ্যাবধি, উপর্যুক্ত, অনটন, দুরবস্থা, দূরদৃষ্টি, তরুচ্ছায়া, মুখচ্ছবি, যশ-ইচ্ছা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪১৯.
‘হৃদয়ের মাঝে মেঘ উদয় করি। নয়নের মাঝে ঝরিল বারি।’ এখানে কি ধরনের অলঙ্কার এর প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) অসঙ্গতি
  2. খ) বিভাবনা
  3. গ) বিরোধাভাস
  4. ঘ) বিষম
সঠিক উত্তর:
ক) অসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
কার্য এবং কারণের ঘটনাস্থান যদি ভিন্ন হয় অর্থাৎ একস্থানে কারণ ঘটেছেএবং অপর স্থানে তার ফল দেখা যাচ্ছে, তখন তাকে অসঙ্গতি অলঙ্কার বলে।
যেমনঃ হৃদয়ের মাঝে মেঘ উদয় করি। নয়নের মাঝে ঝরিল বারি।
‘শ্রাবণের কালো মেঘ ছাইল গগনে / আঁখি জল বরষিল রাধিকা নয়নে।’
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২০.
বিশেষণের অপপ্রোয়গ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. রাঙ্গামাটি পার্বত্য এলাকা।
  2. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  3. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  4. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
ব্যাখ্যা
- ’অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়’ বাক্যটিতে বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল।

• বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণকে বিশেষ্য ভেবে প্রয়োগ করায় এ ধরনের ভুল হয়।

• অশুদ্ধবাক্য : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধবাক্য : অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

এখানে,
- আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার হয়। এর পরিবর্তে ঈয়- প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়।

অন্যদিকে,
- অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২১.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অপকৃষ্টতা
  2. দুর্বলতা
  3. দ্বৈততা
  4. কৃপণতা
সঠিক উত্তর:
দ্বৈততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বৈততা
ব্যাখ্যা
• ‘দ্বৈততা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: দ্বৈত।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
• অপকর্ষতা - অপকর্ষ, অপকৃষ্টতা।
• চাপল্যতা - চাপল্য, চপলতা।
• দ্বৈততা - দ্বৈত।
• দৌর্বল্যতা - দৌর্বল্য, দুর্বলতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২২.
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ হয়নি কোন বাক্যে?
  1. ক) তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন
  2. খ) আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত
  3. গ) পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত
ব্যাখ্যা
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ হয়নি - ‘আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত’ বাক্যে।

“আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত” - বাক্যের যথার্থ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - “আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত”
 
অন্যদিকে, 
- “তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন” বাক্যটির অশুদ্ধ বাক্য ⇒ “তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন”।

- “পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান” বাক্যটির অশুদ্ধ বাক্য ⇒ “পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে  ঘূর্ণায়মান”।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।
  2. ষড়ঋতুর সমাহারের দেশ বাংলাদেশ।
  3. প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকবেই।
  4. আমি সাক্ষী দিব না।
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ: অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অশুদ্ধ: ষড়ঋতুর সমাহারের দেশ বাংলাদেশ।
• শুদ্ধ: ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।

• অশুদ্ধ: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকবেই।
• শুদ্ধ: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।

• অশুদ্ধ আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ: আমি সাক্ষ্য দিব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৪.
নিচের কোন শব্দে ‘ষ’ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) কল্যাণীয়াষু
  2. খ) সুচরিতাষু
  3. গ) কল্যাণীয়েষু
  4. ঘ) সুপ্রিয়াষু
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণীয়েষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণীয়েষু
ব্যাখ্যা
সম্ভাষণসূচক শব্দে এ-কারের পর মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমনঃ কল্যাণীয়েষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, স্নেহাস্পদেষু, বন্ধুবরেষু ইত্যাদি।
সম্ভাষণসূচক শব্দে আ কারের পর স হয়। যেমনঃ কল্যাণীয়াসু, মাননীয়াসু, সুচরিতাসু, সুপ্রিয়াসু।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪২৫.
বাহুল্যজনিত ভুল রয়ছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. কারো অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ অনুচিত।
  2. তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
  3. বঙ্কিমচন্দ্রের অসাধারণ প্রতিভা ছিল।
  4. সকল লোকই সেখানে উপস্থিত ছিল।
সঠিক উত্তর:
তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।
• শুদ্ধরূপ:তোমার মতো এমন হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।

• বাংলা বাক্যে বাহুল্যদোষ হয় তখনই, যখন বাক্যে অনর্থক, অপ্রয়োজনীয়, পুনরুক্ত বা অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার ফলে বাক্যটি ভারাক্রান্ত, অপরিষ্কার বা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ হয়ে পড়ে।

বাক্যটি:
• "তোমার মতো এমন হীন চরিত্রবান লোক আমার প্রয়োজন নেই।"
এখানে "হীন চরিত্রবান" শব্দযুগলটি বাহুল্যদোষযুক্ত, কারণ—
• "চরিত্রবান" মানেই সাধারণভাবে ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ যার চরিত্র ভালো।
কিন্তু এখানে "হীন চরিত্রবান" বলা হয়েছে—যা অর্থগতভাবে পরস্পরবিরোধী।
• "হীন" (অর্থাৎ নিচু, দুর্বল, নিকৃষ্ট) আর "চরিত্রবান" (অর্থাৎ সদাচারী, নৈতিকভাবে ভালো) — এই দুই শব্দ একসঙ্গে ব্যবহার করলে বিপরীতধর্মী শব্দের অযথা যোগ হয়।

শুদ্ধরূপ:
"তোমার মতো হীনচরিত্র লোক আমার প্রয়োজন নেই।"

অন্যদিকে, 
• শুদ্ধ: কারো অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ অনুচিত।
• শুদ্ধ: বঙ্কিমচন্দ্রের অসামান্য/অসাধারণ প্রতিভা ছিল।
• শুদ্ধ: সকল লোকই সেখানে উপস্থিত ছিল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) সর্বকনিষ্ঠ
  2. খ) গরিষ্ঠতর
  3. গ) গরিষ্ঠতম
  4. ঘ) লঘিষ্ঠতম
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বকনিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বকনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
শব্দগুলো শুদ্ধরূপ হলো :
গরিষ্ঠতর- গরিষ্ঠ
গরিষ্ঠতম- গরিষ্ঠ
লঘিষ্ঠতম- লঘিষ্ঠ

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৪২৭.
'মাত্র' এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একটিমাত্র
  2. কেবলমাত্র 
  3. প্রাণিমাত্র
  4. মনুষ্যমাত্র
সঠিক উত্তর:
কেবলমাত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেবলমাত্র 
ব্যাখ্যা

• 'মাত্র' এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে-  কেবলমাত্র শব্দে। 

• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার: 

মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র, ইত্যাদি।

লক্ষণীয়,  মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।

অন্যদিকে,
-------------- 
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।  
কদাপিও - কদাপি। 
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪২৮.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ-দোষে দুষ্ট নয়?
  1. আয়ত্তাধীন
  2. অশ্রুজল
  3. অধীনস্থ
  4. একত্র
সঠিক উত্তর:
একত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একত্র
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ-দোষে দুষ্ট নয় হচ্ছে - একত্র।

অন্যদিকে:
- 'আয়ত্তাধীন' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - আয়ত্ত/অধীন।
- 'অশ্রুজল' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - অশ্রু।
- 'অধীনস্থ' শুদ্ধ রূপ হচ্ছে - অধীন। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৯.
কোন শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিদুষী
  2. দুরাশা
  3. নির্ভর
  4. বিদ্যান
সঠিক উত্তর:
বিদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যান
ব্যাখ্যা
- বিদ্যান শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে।
- এর সঠিক প্রয়োগ হবে বিদ্বান‌।
৪৩০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
  2. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত
  3. তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম।
  4. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: তার কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
• অশুদ্ধ: 'আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।’
• শুদ্ধ বাক্য: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।

অশুদ্ধ বাক্য: আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
শুদ্ধ বাক্য: আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।

অশুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩১.
কোনটি অপপ্রয়োগ? 
  1. নিরভিমানী
  2. দৌর্বল্য
  3. অর্ধরাত্র
  4. সমূল
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমানী
ব্যাখ্যা

• সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ - নিরভিমানী
- শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।

অন্যদিকে,
- দৌর্বল্য,
- অর্ধরাত্র,
- সমূল,
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৩২.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. কদাপি
  2. সমূল
  3. রক্তিম
  4. বিবিধপ্রকার
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবিধপ্রকার
ব্যাখ্যা

• 'বিবিধপ্রকার', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ - বিবিধ।

অন্যদিকে,
- রক্তিম,
- সমূল,
- কদাপি।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৩৩.
প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. স্বত্ত্ব
  2. দরিদ্রতা
  3. একত্র
  4. দুর্বলতা
সঠিক উত্তর:
স্বত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'স্বত্ত্ব' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: স্বত্ব

অন্যদিকে,
- দরিদ্রতা; দুর্বলতা, একত্র - শব্দগুলোর প্রয়োগ শব্দ।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৩৪.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. বিবিধ
  2. কনিষ্ঠ
  3. পৌরুষত্ব
  4. নিরভিমান
সঠিক উত্তর:
পৌরুষত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌরুষত্ব
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ শব্দ- পৌরুষত্ব।
- 'পুরুষত্ব' শব্দটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
'কনিষ্ঠতর' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে কনিষ্ঠ।

'বিবিধপ্রকার' - সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে বিবিধ।

'নিরভিমানী'- সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে নিরভিমান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৩৫.
‘পরিমল মনকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।’ বাক্যটিতে কী ধরণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বানান জনিত
  2. খ) পদক্রম জনিত
  3. গ) কারক জনিত
  4. ঘ) যোগ্যতা জনিত
সঠিক উত্তর:
ক) বানান জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বানান জনিত
ব্যাখ্যা
‘পরিমল মনকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।’ বাক্যটি বানান জনিত অশুদ্ধ। 
শুদ্ধ রূপ: পরিমল মনঃকষ্টে কাল কাটাচ্ছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ পায় না। যেমন-
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৬.
শুদ্ধ বাক্য নয় কোনটি?
  1. বিদ্বান হলেও তার কোনাে অহংকার নেই।
  2. ইশ! যদি পাখির মত পাখা পেতাম।
  3. অকারণে ঋণ করিও না।
  4. হয়তাে সােহমা আসতে পারে।
সঠিক উত্তর:
অকারণে ঋণ করিও না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকারণে ঋণ করিও না।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: অকারণে ঋণ করিও না।- বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হওয়ায় যােগ্যতা হারিয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ হবে- অকারণে ঋণ করো না।

-----------------
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই।
- কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৭.
নিচের যে বাক্যটিতে ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটেনি-
  1. ক) ছেলেটি মারাত্মক মেধাবী।
  2. খ) দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর।
  3. গ) আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিক।
  4. ঘ) সে পান্তাভাত খেয়ে মাঠে গেল।
সঠিক উত্তর:
গ) আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিক।
ব্যাখ্যা
আজ তার পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিক - এই বাক্যটি শুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধরূপ-
ছেলেটি মারাত্মক মেধাবী। - ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রচুর। - দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার আশংকা প্রচুর।
সে পান্তাভাত খেয়ে মাঠে গেলো। - সে পান্তা/ভাত খেয়ে মাঠে গেল।
৪৩৮.
'দরিদ্রতা' শব্দটি ব্যাকরণের কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. বচনের সাহায্যে
  4. সন্ধিযোগে
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়যোগে
ব্যাখ্যা
'-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ ‘ধীরতা' হয়।
- কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়।
- ‘ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
এরকম -
অশুদ্ধ শুদ্ধ
ঐক্যতা ⇒ ঐক্য, একতা
দারিদ্র্যতা ⇒ দারিদ্র্য, দরিদ্রতা
মৈত্রতা ⇒ মৈত্র, মিত্রতা
পৌরুষত্বব⇒ পৌরুষ, পুরুষত্ব

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩৯.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. চঞ্চলতা
  2. গাম্ভীর্যতা
  3. কৃপণতা
  4. ধীরতা
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাম্ভীর্যতা
ব্যাখ্যা

• 'গাম্ভীর্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ হয়েছে।

অন্যদিকে,
চঞ্চলতা, কৃপণতা, ধীরতা শব্দগুলো শুদ্ধ।

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
 'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন 'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে 'তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ 'ধীরতা' হয়। কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে। এরকম-

শুদ্ধ: অপকর্ষ, অপকৃষ্টতা
অশুদ্ধ:অপকর্ষতা

শুদ্ধ: আলস্য, অলসতা
অশুদ্ধ: আলস্যতা

শুদ্ধ: উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা
অশুদ্ধ:উৎকর্ষতা

শুদ্ধ: কার্পণ্য, কৃপণতা
অশুদ্ধ: কার্পণ্যতা

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪৪০.
সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নির্ধনী
  2. তরুছায়া
  3. শ্রেষ্ঠতম
  4. সুবুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
তরুছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুছায়া
ব্যাখ্যা
• 'তরুছায়া' সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: তরুচ্ছায়া।

অন্যদিকে,
• 'নির্ধনী' সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োেগ।
এর শুদ্ধরূপ: নির্ধন।

• 'শ্রেষ্ঠতম' উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ।

• 'সুবুদ্ধিমান' সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪১.
'মাত্র' এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মনুষ্যমাত্র
  2. একমাত্র
  3. বলামাত্র
  4. কেবলমাত্র
সঠিক উত্তর:
কেবলমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেবলমাত্র
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 

----------------------
• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার: 
মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র ইত্যাদি।

লক্ষণীয়,  মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৪২.
নিচের কোটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. একতা
  2. চতুরতা
  3. মৈত্রতা
  4. কার্পণ্য
সঠিক উত্তর:
মৈত্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈত্রতা
ব্যাখ্যা
- একতা, চতুরতা, কার্পণ্য শুদ্ধ রূপ হলেও মৈত্রতা শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- মিত্র থেকে মিত্রতা/ মৈত্র। মৈত্র শব্দটি নিজেই বিশেষ্য, এর সঙ্গে নতুন করে তা যুক্ত করে বিশেষ্য করার প্রয়োজন নেই।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪৩.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. আরক্ত
  2. স্বাগত
  3. সুস্বাস্থ্য
  4. সমূল
সঠিক উত্তর:
সুস্বাস্থ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
• 'সুস্বাস্থ্য' - শব্দটি অপপ্রয়োগ। এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - স্বাস্থ্য।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- স্বাগত,
- আরক্ত।
→ উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪৪.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
  2. আকণ্ঠ ভোজন ভাল নয়।
  3. তোমার সঙ্গে আমার একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  4. তুমি নির্দোষ নও।
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
ব্যাখ্যা
• তোমার তিরষ্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না; বাক্যটি অশুদ্ধ। 
বাক্যটির শুদ্ধরূপ: তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না। 

• এই বাক্যে বানানজনিত ভুল ছিল। 
- এখানে তিরষ্কার বানানটি ভুল ছিল; এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে- তিরস্কার।

- বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'স' হবে।
যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি। 

তাছাড়া, অপশনের অন্য উত্তরগুলো সঠিক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৫.
কোন শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. ক) চোষ্য
  2. খ) বিশিষ্টতা
  3. গ) রাজগণ
  4. ঘ) প্রাতরাশ
সঠিক উত্তর:
ক) চোষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চোষ্য
ব্যাখ্যা
‘চোষ্য’ শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ। এর সঠিক প্রয়োগ - ‘চূষ্য’।
সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪৪৬.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. দরিদ্রতা
  2. একতা
  3. চতুরতা
  4. আতিশয্যতা
সঠিক উত্তর:
আতিশয্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতিশয্যতা
ব্যাখ্যা

• 'আতিশয্যতা' - শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - আতিশয্য।

অন্যদিকে,
- একতা, দরিদ্রতা এবং চতুরতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৪৭.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. আলস্য
  2. সখ্য
  3. মৈত্রতা
  4. লাঘব
সঠিক উত্তর:
মৈত্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈত্রতা
ব্যাখ্যা

• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা

অন্যদিকে,
- লাঘব,
- সখ্য,
- আলস্য।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৪৮.
"বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের উৎকর্ষতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. সন্ধিজনিত 
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বানানজনিত
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

• 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ: উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা।

তাই বলা চলে, "বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের উৎকর্ষতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।" - বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।

• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
 • 'উৎকর্ষ' শব্দটি বিশেষ্য।
- ‘উৎকর্ষ' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৪৯.
নিচের কোনটি বিশেষ্যের ভুল প্রয়োগ?
  1. দীনতা
  2. অলসতা
  3. ঐক্যতা
  4. দারিদ্র্য
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
ব্যাখ্যা

ঐক্যতা: এটি বিশেষ্য হিসেবে ভুল প্রয়োগ।

কারণ,
‘ঐক্য’ শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ্য (অর্থ: একতা বা মিলন)। বাংলায় ‘ঐক্য’ শব্দের সঙ্গে -তা প্রত্যয় যুক্ত করে ‘ঐক্যতা’ গঠন করা অপ্রচলিত এবং অপ্রয়োজনীয়, কারণ ‘ঐক্য’ নিজেই একটি সম্পূর্ণ বিশেষ্য। ‘ঐক্যতা’ শব্দটি বাংলা ভাষায় প্রমিত বা সাধারণ ব্যবহারে দেখা যায় না। সঠিক শব্দ হবে ‘ঐক্য’। তাই এটি বিশেষ্যের ভুল প্রয়োগ।

অন্য শব্দগুলো শুদ্ধ:
ক) দীনতা = দীন + তা = সঠিক।
খ) অলসতা = অলস + তা = সঠিক।
ঘ) দারিদ্র্য = দরিদ্র + য = সঠিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৫০.
গুরুচন্ডালী দোষে বাক্য কি হারায়?
  1. যোগ্যতা
  2. আসক্তি
  3. আকাঙ্খা
  4. প্রসাদগুন
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- গুরুচণ্ডালী দোষ তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।
- এদোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ।

কিন্তু যদি বলা হয় গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ? 
  1. সৌজন্যতা 
  2. রক্তিমতা 
  3. সৌজন্য  
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
সৌজন্য  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌজন্য  
ব্যাখ্যা

শুদ্ধরূপ- সৌজন্য। 

প্রয়োগ - অপপ্রয়োগ:
- বাংলা ভাষায় কিছু প্রত্যয় (যেমন: ই, তা, ত্ব) মূলত বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু যদি এগুলো ইতিমধ্যেই বিশেষ্য হিসেবে থাকা শব্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে তা অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ হয়।
- নিয়ম:
- বিশেষণ + 'তা' → সঠিক, যেমন: 'গভীর' + 'তা' → গভীরতা;
- এখানে গভীর বিশেষণকে তা প্রত্যয়যোগে বিশেষ্যে রুপান্তর করা হয়েছে। 
- বিশেষ্য + 'তা' → অশুদ্ধ, যেমন: 'রক্তিমতা'- এখানে 'তা' প্রত্যয়টি অতিরিক্ত।
- শুদ্ধ হবে 'রক্তিমা', কারণ 'রক্তিমা' নিজেই বিশেষ্য।

- “সৌজন্যতা” শব্দে ‘তা’ সংযোজন করা হয়েছে। 
- বাংলায় ‘তা’ বা ‘ই’ প্রত্যয় মূলত বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু "সৌজন্য" ইতিমধ্যেই বিশেষ্য। 
- তাই "সৌজন্যতা" শব্দটি ব্যাকরণগত ভুল।
-' সুজন’ থেকে ‘য’ প্রত্যয় যোগে গঠিত সৌজন্য শব্দের সাথে অতিরিক্ত ‘তা’ যোগ করা ব্যাকরণগতভাবে অপ্রয়োজনীয় এবং অশুদ্ধ।
- তাই সৌজন্যতার শুদ্ধরূপ হচ্ছে- সৌজন্য। 

অন্যদিকে, 
- "সৌজন্যপূর্ণ" শব্দটি বিশেষণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৪৫২.
নিম্নের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) এরকম অশ্মের মতো শব্দ করছো কেন?
  2. খ) সংসারে কাজের অন্ত্য নেই।
  3. গ) পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না
  4. ঘ) আমরা সন্ধ্যায় সমূদ্র কুলে গেলাম।
সঠিক উত্তর:
গ) পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না
ব্যাখ্যা

অশ্ব (ঘোড়া) কিন্তু অশ্ম (পাথর) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'এরকম অশ্বের মতো শব্দ করছো কেন?
অন্ত (শেষ) কিন্তু অন্ত্য ( যা অন্তে আছে) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'সংসারে কাজের অন্ত নেই।'
অবদান (সৎকর্ম) কিন্তু অবধান (মনযোগ) তাই বাক্যটি সঠিক - 'পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না।'
কূল (তট) কিন্তু কুল (বংশ) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'আমরা সন্ধ্যায় সমূদ্র কূলে গেলাম।'

উৎস:এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৩.
কোনটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রাতঃরাশ
  2. অধীনস্ত
  3. বিলাসবহুল
  4. সৌন্দর্যতা
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসবহুল
ব্যাখ্যা
• 'বিলাসবহুল' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - আমোদ-প্রমোদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাযুক্ত।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
• সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
• অধীনস্ত - অধীন,
• প্রাতঃরাশ - প্রাতরাশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগ?
  1. ক) সুস্বাগতম
  2. খ) স্বাগতম
  3. গ) সুস্বাগত
  4. ঘ) স্বাগত
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বাগত
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
শব্দটির শুদ্ধরূপ : স্বাগত 
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৪৫৫.
'আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান' - বাক্যটিতে কিসের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বিশেষনের বাহুল্য
  2. খ) বাচ্যজনিত
  3. গ) বহুবচনের
  4. ঘ) বাহুল্যজনিত
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষনের বাহুল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষনের বাহুল্য
ব্যাখ্যা
'আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান' - বাক্যটিতে বিশেষনের বাহুল্য জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
এর সঠিক প্রয়োগ হবে- 'আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ' 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫৬.
"অত্র অফিস আজ বন্ধ।"- এখানে 'অত্র অফিস' লিখলে ভুল হবে কেন?
  1. বাহুল্য হয়ে যায়
  2. অর্থসংগতি ঠিক থাকে না
  3. অত্র একটি অপ্রচলিত শব্দ
  4. গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট
সঠিক উত্তর:
অর্থসংগতি ঠিক থাকে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থসংগতি ঠিক থাকে না
ব্যাখ্যা

অত্র:
'অত্র' শব্দের অর্থ 'এখানে'।
- যত্র- যেখানে,
- তত্র- সেখানে,
- যত্রতত্র- যেখানে সেখানে।
তাই অত্র বললে' এই' বোঝাবার কারণ নেই।
যেমন: 'এই অফিস' অর্থে 'অত্র অফিস' লিখলে ভুল হবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪৫৭.
নিচের কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. করিতকর্মা
  2. গণনীয়
  3. একত্র
  4. শুধুমাত্র
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধুমাত্র
ব্যাখ্যা
• 'শুধুমাত্র' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এখানে শুধু ও মাত্র দুটি সমার্থক শব্দ।
- একই সাথে ‘শুধুমাত্র’ শব্দে সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- একত্রিত - একত্র;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য;
- বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৫৮.
‘অশ্বগাড়ি’ শব্দটিতে কী ধরনের ভুল হয়েছে?
  1. ক) দুর্বোধ্যতা
  2. খ) অপ্রচলিত শব্দের ব্যবহার
  3. গ) গুরুচণ্ডালী
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষার ভুল প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
গ) গুরুচণ্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গুরুচণ্ডালী
ব্যাখ্যা
‘অশ্বগাড়ি’ শব্দটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়েছে। অশ্বগাড়ি না হয়ে হবে ঘোড়াগাড়ি অথবা অশ্বশকট।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪৫৯.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. কনিষ্ঠতর
  2. বিবিধপ্রকার
  3. নিরভিমানী
  4. পুরুষত্ব
সঠিক উত্তর:
পুরুষত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরুষত্ব
ব্যাখ্যা
'পুরুষত্ব' শব্দটি শুদ্ধ।
তবে,
পৌরুষত্ব শব্দটি অশুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• 'কনিষ্ঠতর' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - কনিষ্ঠ।

• 'বিবিধপ্রকার' - সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - বিবিধ।

• 'নিরভিমানী' - সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - নিরভিমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৬০.
বাংলা বানানে কোন ক্ষেত্রে 'উ'-কার হয়না?
  1. বিদেশি শব্দের বানানে
  2. তদ্ভব শব্দের বানানে
  3. ক্রিয়ার রুপে অনুজ্ঞাসূচক ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অপশনের সবগুলো নিয়ম 'উ'-কার এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাই সঠিক উত্তর কোনোটিই নয়।

• উ-কারের নিয়ম:

• যেসব শব্দ তদ্ভব (অর্থাৎ সংস্কৃত থেকে এসেছে, তাদের উচ্চারণ যেমনই হোক, বানানে কিন্তু হ্রস্ব উ বা হ্রস্ব উ-কার দিতে হবে।
- দেশি শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। যেমন:উনিশ, কুয়ো, তুলো ইত্যাদি।

• বিদেশি ভাষা (যেমন: আরবি, ফার্সি, তুর্কি, ইংরেজি ইত্যাদি) থেকে যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় চালু হয়ে সেসব শব্দে সর্বদা হ্রস্ব উ-কার হয়। যেমন: কানুন, কার্তুজ, কুকার, কুপন, গুজরান।

• ক্রিয়ার রুপে অনুজ্ঞাসূচক ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে উ-ধ্বনি থাকলে সর্বদা উ-কার হবে।
যেমন-  আঁকুক, উঠুক, উঠুন, করুক, গলুক, ঘষুক ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪৬১.
প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগ কোনটি?
  1. সুস্বাস্থ্য
  2. প্রতিদ্বন্দ্বিতা
  3. প্রাতঃরাশ
  4. সখ্যতা
সঠিক উত্তর:
সখ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সখ্যতা
ব্যাখ্যা

• 'সখ্যতা' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- 'সখ্যতা' এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: সখ্য।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।

অন্যদিকে,
• 'সুস্বাস্থ্য' শব্দটিতে সমাসজনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- 'সুস্বাস্থ্য' এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: স্বাস্থ্য।

• 'প্রাতঃরাশ' শব্দটিতে সন্ধিজনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- 'প্রাতঃরাশ' এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: প্রাতরাশ।

• 'প্রাতঃরাশ' শব্দটিতে সন্ধিজনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- 'প্রাতঃরাশ' এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: প্রাতরাশ।

• 'প্রতিদ্বন্দ্বিতা' শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৬২.
'ঘোটকের গাড়ি' এটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. ক) গুরুচন্ডালী
  2. খ) বাহুল্য
  3. গ) দুর্বোধ্যতা
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুচন্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুরুচন্ডালী
ব্যাখ্যা
একই রচনায় সাধু ও চলিত ভাষার সংমিশ্রণ অসংগত ও অশুদ্ধ। ভাষারীতির এ অশিষ্ট প্রয়োগকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলা হয়। সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ হওয়ায় এখানে 'ঘোটকের গাড়ি' গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪৬৩.
নিচের কোন বাক্য অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পরবর্তীতে তার সাথে আমার আর সাক্ষাৎ হয়নি।
  2. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  3. লামিয়া মনকষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
লামিয়া মনকষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লামিয়া মনকষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
⇒ ‘লামিয়া মনকষ্টে দিন কাটাচ্ছে।’- বাক্যটি বানান জনিত অশুদ্ধ। 
শুদ্ধ রূপ: লামিয়া মনঃকষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

সন্ধির নিয়ম অনুসারে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ পায় না। যেমন-
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল;
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট;
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

অন্যদিকে,
- পরবর্তীতে তার সাথে আমার আর সাক্ষাৎ হয়নি।
- আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
- অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
[বাক্যগুলোকে পদের ও বানানের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৬৪.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. নির্দোষ
  2. অর্ধরাত্র
  3. অহর্নিশি
  4. পিতৃহারা
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশি
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘অহর্নিশি’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: অহর্নিশ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬৫.
ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটে মূলত কয়টি কারণে?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ টি
ব্যাখ্যা
ভাষার অপপ্রয়োগ ঘটে মূলত তিনটি কারণে। ১. উচ্চারণজনিত কারণে, ২. শব্দপ গঠনজনিত কারণে ও ৩. শব্দের অর্থগত বিভ্রান্তিতে।
৪৬৬.
“তাহার উদ্ধত আচরণে ব্যথিত হয়েছি।” বাক্যটিতে কী ধরনের ভুল আছে?
  1. ক) বানান জনিত
  2. খ) প্রত্যয় জনিত
  3. গ) গুরুচন্ডালী জনিত
  4. ঘ) আসত্তি জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) গুরুচন্ডালী জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গুরুচন্ডালী জনিত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হবে - তাহার উদ্ধত আচরণে ব্যথিত হইয়াছি৷ প্রশ্নোল্লিখিত বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ সাধু এবং চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটানোয় গুরুচন্ডালী দোষ ঘটেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪৬৭.
নিচের কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. গাম্ভীর্যতা
  2. আবশ্যকীয়
  3. সুস্বাগত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়। অপশনের সবগুলো শব্দই অশুদ্ধ।

• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

• 'আবশ্যকীয়' শব্দটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত কারণে অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - আবশ্যক।

• 'সুস্বাগত', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: স্বাগত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৬৮.
সন্ধি সংক্রান্ত অশুদ্ধি কোনটি?
  1. বাগেশ্বরী
  2. অনটন
  3. বিপদুদ্ধার
  4. পৃথগন্ন
সঠিক উত্তর:
বাগেশ্বরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগেশ্বরী
ব্যাখ্যা
• 'বাগেশ্বরী' সন্ধি সংক্রান্ত অশুদ্ধ শব্দ।
• শুদ্ধ শব্দ: বাগীশ্বরী

• সন্ধি সংক্রান্ত অশুদ্ধির কিছু উদাহরণ:

শুদ্ধ  -  অশুদ্ধ
- অনটন - অনাটন। 
- বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি। 
- পৃথগন্ন - পৃথকন্ন। 
- বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী। 
- বিপদুদ্ধার - বিপদোন্ধার। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬৯.
নিচের কোনটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. নিরহঙ্কারী
  2. নীরোগী
  3. নির্দোষ
  4. নিরভিমানী
সঠিক উত্তর:
নির্দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দোষ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ - নির্দোষ। 

সমাস-ঘটিত কিছু অশুদ্ধি শব্দের শুদ্ধরূপ:

অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
- নিরপরাধী = নিরপরাধ।
- অহর্নিশি = অহর্নিশ।
- নিরহঙ্কারী = নিরহঙ্কার।
- নির্দোষী = নির্দোষ।
- পিতাহারা = পিতৃহারা।
- অর্ধরাত্রি = অর্ধরাত্র।
- নিরভিমানী = নিরভিমান।
- দিবারাত্রি = দিবারাত্র।
- নীরোগী = নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭০.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ফুল গুলো আমাকে দাও।
  2. আমায় একা রেখে যেও না।
  3. সে অনেক দিন চিঠি লেখেনা।
  4. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থ সমূহ সরিয়ে রাখো।
সঠিক উত্তর:
আমায় একা রেখে যেও না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমায় একা রেখে যেও না।
ব্যাখ্যা
‘টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ’এর প্রয়োগ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।

•‘না, নেই, নয়’ এর প্রয়োগ:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• শুদ্ধ বাক্য: আমায় একা রেখে যেও না।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
- ফুলগুলো আমাকে দাও।
- অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
- সে অনেক দিন চিঠি লেখে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭১.
কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) সমূলসহ
  2. খ) অধীনস্থ
  3. গ) ছায়ামুর্তি
  4. ঘ) শ্বেতাঙ্গী
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্বেতাঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্বেতাঙ্গী
ব্যাখ্যা

- সমূলসহ শব্দের সঠিক প্রয়োগ মূলসহ/সমূল।
- অধীনস্থ শব্দের সঠিক প্রয়োগ অধীন।
- ছায়ামুর্তি শব্দের সঠিক প্রয়োগ ছায়ামূর্তি।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।

৪৭২.
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  2. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
  3. অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭৩.
নিচের কোন শব্দটি অপপ্রয়োগের দোষে দুষ্ট?
  1. দুরাশা
  2. অধীনস্থ
  3. সস্ত্রীক
  4. অলসতা
সঠিক উত্তর:
অধীনস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধীনস্থ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'অধীনস্থ' শব্দটি ভুল।
- সঠিক শব্দ - অধীন।
- 'অধীন' সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: আয়ত্ত, বশীভূত।অনুগত, অধস্তন।

অন্যদিকে,
- দুরাশা, সস্ত্রীক ,অলসতা শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৭৪.
অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. শ্রেষ্ঠতম
  3. তরুছায়া
  4. নির্ধন
সঠিক উত্তর:
নির্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধন
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় - নির্ধন।

উল্লেখ্য, 
• 'নির্ধনী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: নির্ধন। 
 ----------------- 
অন্যদিকে,
• 'তরুছায়া', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: তরুচ্ছায়া। 

• 'শ্রেষ্ঠতম', উৎকর্ষবাচক '-তম' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। 

• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
৪৭৫.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) পাঠ শালা
  2. খ) জন্মান্ধ
  3. গ) অর্থকরী
  4. ঘ) সর্বনাশা
সঠিক উত্তর:
ক) পাঠ শালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাঠ শালা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে সবগুলো শব্দ সমাসবদ্ধ। সমাসবদ্ধ শব্দ একত্রে লিখতে হয়। তাই এখানে ‘পাঠ শালা’ সমাসবদ্ধ শব্দের অপপ্রয়োগ হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪৭৬.
বিসর্গ জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) ইতঃপূর্বে
  2. খ) ইতঃমধ্যে
  3. গ) মনঃকষ্ট
  4. ঘ) উচ্চৈঃস্বরে
সঠিক উত্তর:
খ) ইতঃমধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইতঃমধ্যে
ব্যাখ্যা
বিসর্গ জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে ইতঃমধ্যে শব্দে, এর শুদ্ধ রূপ হবে ইতোমধ্যে। বাকি শব্দগুলোর প্রয়োগ ঠিক আছে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৪৭৭.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ।
  2. খ) আপনার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে। 
  3. গ) সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।
  4. ঘ) জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
সঠিক উত্তর:
গ) সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।
ব্যাখ্যা
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো : সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৪৭৮.
কোন্ বাক্যটি প্রয়োগগত দিক থেকে শুদ্ধ?
  1. মাছ আকাশে উড়ে।
  2. তাঁর খুব আনন্দ পেল। 
  3. আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।
  4. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী।
সঠিক উত্তর:
আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) মাছ আকাশে উড়ে। 
[প্রদত্ত বাক্যটিতে যোগ্যতা গুণের অভাব রয়েছে। বাক্যের অন্তর্গত পদ সমুহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নামই যোগ্যতা। এই বাক্যে কোন বিশ্বাস যোগ্যতা নেই কারণ মাছ কখনো আকাশে উড়ে না। এটি প্রয়োগগতভাবে অশুদ্ধ।]

খ) তাঁর খুব আনন্দ পেল।
["আনন্দ পাওয়া" এভাবে প্রয়োগ করা অপ্রচলিত ও অশুদ্ধ।]
শুদ্ধ রূপ: 'তাঁর খুব আনন্দ হলো' বা 'তিনি খুব আনন্দিত হলেন'।

ঘ) সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী।
[বাক্যটি বাহুল্যদোষ দুষ্ট। "সকল" শব্দটিই বহুবচন বোঝায়, তাই আবার "ছাত্রগণ" যোগ করা ভুল। শুদ্ধ রূপ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী / ছাত্ররা পাঠে মনোযোগী।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪৭৯.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ দোষে দুষ্ট নয়?
  1. ক) স্বস্ত্রীক
  2. খ) অশ্রুজল
  3. গ) অধীনস্থ
  4. ঘ) প্রতিযোগ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রতিযোগ
ব্যাখ্যা
স্বস্ত্রীক শব্দের সঠিক রূপ হবে সস্ত্রীক। অশ্রুজল শব্দের সঠিক রূপ হবে অশ্রু অথবা জল অথবা চোখের জল হবে। আর অধীনস্থ শব্দের সঠিক হবে অধীন।
৪৮০.
গুরুচণ্ডালী দোষ কখন ঘটে?
  1. ক) তৎসম শব্দের সঙ্গে বিদেশি শব্দের মিশ্রণ ঘটলে
  2. খ) তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে
  3. গ) তদ্ভব শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দের সঙ্গে বিদেশি শব্দের মিশ্রণ ঘটলে
সঠিক উত্তর:
খ) তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনাে সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।
  2. খ) আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
  3. গ) বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
  4. ঘ) তোমার তিরস্কার বা পুরস্কার কিছুই চাই না।
সঠিক উত্তর:
খ) আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।
ব্যাখ্যা
'আজকাল বিদ্বান মেয়ের অভাব নেই।'- বাক্যটি শুদ্ধ নয়। 
- এখানে, লিঙ্গজনিত কারণে বাক্যটি অশুদ্ধ।

• বিদ্বান শব্দটি  পুরুষ বাচক।
তাই, মেয়ের সাথে স্ত্রীবাচক শব্দ 'বিদুষী' ব্যবহার করতে হবে। 
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- 'আজকাল বিদুষী মেয়ের অভাব নেই।' 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮২.
'আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।' বাক্যটিতে কি ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) দুর্বোধ্য শব্দ
  4. ঘ) গুরুচন্ডালী দোষ
সঠিক উত্তর:
ক) উপমার ভুল প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপমার ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
ঠিকভাবে উপমা অলংকার ব্যবহার না করলে বাক্যে যোগ্যতার হানি ঘটে৷
বীজ ক্ষেতে বপন করা হয়, মন্দিরে নয়৷ কাজেই বাক্যটি হওয়া উচিত- 'আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো'।
অর্থাৎ, বাক্যটিতে উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৩.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. নিরহঙ্কার
  2. পিতৃহারা
  3. দিবারাত্রি 
  4. নিরভিমান
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি 
ব্যাখ্যা

সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'দিবারাত্রি' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ: দিবারাত্র।

কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ  - শুদ্ধ শব্দ:
নিরপরাধী - নিরপরাধ;
অহর্নিশি - অহর্নিশ;
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী- নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৮৪.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. কার্পণ্য
  2. সৌন্দর্যতা
  3. মৈত্র
  4. সুন্দরতা
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্যতা
ব্যাখ্যা
• 'সৌন্দর্যতা'-  'অপপ্রয়োগ'। 
- এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: সৌন্দর্য / সুন্দরতা। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে:
- মৈত্র ও কার্পণ্য শব্দ গুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮৫.
নিচের কোন শব্দটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ?
  1. একমাত্র
  2. সম্মুখবর্তী 
  3. কেবলমাত্র
  4. সমৃদ্ধশালী 
সঠিক উত্তর:
কেবলমাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেবলমাত্র
ব্যাখ্যা

• 'কেবলমাত্র' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ। 
- এখানে কেবল ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- একই সাথে কেবলমাত্র তাই অশুদ্ধ। 

অন্যদিকে,
অন্য অপশনের শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৮৬.
কোন শব্দটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল?
  1. ক) দিবারাত্র
  2. খ) নির্দোষ
  3. গ) অহর্নিশ
  4. ঘ) নীরোগী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীরোগী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নীরোগী
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অপপ্রয়োগজনিত শব্দের শুদ্ধরূপ হলো-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
নির্দোষী ----- নির্দোষ
পিতাহারা ------ পিতৃহারা
অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
নিরভিমানী ---- নিরভিমান
দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৮৭.
সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দিবারাত্র
  2. ভ্রাতাবৃন্দ
  3. নীরোগ
  4. নিরহঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতাবৃন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতাবৃন্দ
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে ‘ভ্রাতাবৃন্দ’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: ভ্রাতৃবৃন্দ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮৮.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
  2. আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
  3. চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
  4. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ: চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
শুদ্ধ: চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।

অন্যদিকে, 
শুদ্ধ: এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
শুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৮৯.
'সে নাকি আসবে না' - এ বাক্যে না অব্যয়ের প্রয়োগ কি অর্থে হয়েছে?
  1. ক) অনুমান অর্থে
  2. খ) বিস্ময় অর্থে
  3. গ) সম্ভাবনা অর্থে
  4. ঘ) বিরক্তি অর্থে
সঠিক উত্তর:
গ) সম্ভাবনা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্ভাবনা অর্থে
ব্যাখ্যা
'সে নাকি আসবে না'- এ বাক্যে না অব্যয়টি 'সম্ভাবনা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রশ্ন- তুমি খাবে না?, বিস্ময়- স্কুলে যাবে না!, অনুমান- সে কি রহিম না?
Source: LiveMCQ Archive
৪৯০.
কোন শব্দে সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. কৃপণতা
  2. সুবুদ্ধিমান
  3. স্বতন্ত্রতা
  4. অধৈর্যতা
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

• সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি।

অন্যদিকে,
- ‘তা’ প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে - 'অধৈর্যতা' শব্দে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অধৈর্য, ধীরতা।
- 'স্বতন্ত্রতা এবং কৃপণতা' শব্দে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯১.
কোন শব্দটিতে ‘ণ’ সংক্রান্ত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) গভর্ণর
  2. খ) চিক্কণ
  3. গ) ফণী
  4. ঘ) পরিণাম
সঠিক উত্তর:
ক) গভর্ণর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গভর্ণর
ব্যাখ্যা
বিদেশী শব্দে কখনো ‘ণ’ হয় না। এর সঠিক বানান হবে গভর্নর। তদ্ভব, দেশী ও বিদেশী শব্দে সাধারণত ‘ন’ হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪৯২.
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে কোনটিতে?
  1. ক) এটি লজ্জাস্কর ব্যাপার
  2. খ) সব মাছগুলোর দাম কত?
  3. গ) অন্যায়ের ফল দুর্নিবার্য
  4. ঘ) অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
খ) সব মাছগুলোর দাম কত?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সব মাছগুলোর দাম কত?
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে - সব মাছগুলোর দাম কত?
সঠিক রূপঃ সব মাছের দাম কত?

অন্যান্য অপশনের সঠিক রূপঃ
- এটি লজ্জাকর ব্যাপার (বানান জনিত)।
- অন্যায়ের ফল অনিবার্য (সঠিক শব্দ প্রয়োগ না করায়)।
- অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়। (বিশেষ্য-বিশেষণ এর বাহুল্য জনিত)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৪৯৩.
সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ কোনটি?
  1. দুরাদৃষ্ট
  2. তরুছায়া
  3. দুরবস্থা
  4. মুখচ্ছবি
সঠিক উত্তর:
দুরাদৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুরাদৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - দুরাদৃষ্ট
- 'দুরাদৃষ্ট' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - দুরদৃষ্ট।

অন্যদিকে,
- তরুছায়া,
- দুরবস্থা,
- মুখচ্ছবি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯৪.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. গ্রন্থ সমূহ আমাকে দাও।
  2. সুধি গণ সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছে।
  3. সে এখন চিঠি লেখে না।
  4. সদস্য বৃন্দরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন।
সঠিক উত্তর:
সে এখন চিঠি লেখে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে এখন চিঠি লেখে না।
ব্যাখ্যা
• টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।

• না, নেই, নয়:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• শুদ্ধ বাক্য: সে এখন চিঠি লেখে না।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
- গ্রন্থসমূহ আমাকে দাও।
- সুধিগণ সবাই এখানে উপস্থিত হয়েছে।
- সদস্যবৃন্দরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৯৫.
বাহুল্যজনিত অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
  3. সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
সঠিক উত্তর:
সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
ব্যাখ্যা
⇒ বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

• অশুদ্ধ: সে সম্ভ্রান্তশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৯৬.
‘তার সঙ্গে কাজ করে শান্তি নেই। চুন থেকে পান খসলেই বকুনি।’ বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) বানান জনিত
  2. খ) বচন জনিত
  3. গ) বাগধারা জনিত
  4. ঘ) সমাস জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) বাগধারা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাগধারা জনিত
ব্যাখ্যা
পান থেকে চুন খসা একটি বাগধারা যার অর্থ - সামান্য ত্রুটি হওয়া।
সুতরাং সঠিক বাক্যটি হবে - ‘তার সঙ্গে কাজ করে শান্তি নেই। পান থেকে চুন খসলেই বকুনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪৯৭.
'বাবা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।' - বাক্যটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বানান জনিত 
  2. বাহুল্য জনিত
  3. পদক্রম জনিত
  4. যোগ্যতা জনিত
সঠিক উত্তর:
বানান জনিত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান জনিত 
ব্যাখ্যা

• 'বাবা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।' বাক্যটিতে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
শুদ্ধ রূপ: বাবা শিরঃপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।

• বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৮.
নিচের কোন শব্দটিতে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ঐক্যতা
  2. খ) একতা
  3. গ) দৈন্যতা
  4. ঘ) প্রসারতা
সঠিক উত্তর:
খ) একতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একতা
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে 'একতা'।

• বাকি অপশনগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে-
» ঐক্যতা এর শুদ্ধরূপ হবে 'ঐক্য/একতা'।
»'দৈন্যতা' এর শুদ্ধরূপ হবে দৈন্য/দীনতা।
» 'প্রসারতা' এর শুদ্ধরূপ হবে 'প্রসার'।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৯৯.
নিচের কোনটিতে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. গাম্ভীর্যতা
  2. অর্ধরাত্রি
  3. সুস্বাস্থ্য
  4. মৈত্রতা
সঠিক উত্তর:
সুস্বাস্থ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা

• 'সুস্বাস্থ্য' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - স্বাস্থ্য।

অন্যদিকে,
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

• 'অর্ধরাত্রি' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র।

• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫০০.
'কাকের পাল এক বিরাট সভা করলো' এই বাক্যে কোন ধরনের ভুল হয়েছে?
  1. ক) পদ জনিত
  2. খ) সমাস জনিত
  3. গ) বচন জনিত
  4. ঘ) সন্ধি জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
ব্যাখ্যা
পাল এবং যূথ শুধু জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। তাই এখানে সঠিক বাক্যটি হবে 'কাকেরা এক বিরাট সভা করলো'৷
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী