বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৪ / ৩১ · ১,৩০১১,৪০০ / ৩,০২৪

১,৩০১.
‘ইচ্ছা’ বিশেষ্যের বিশেষণ কোনটি নির্দেশ করে?
  1. ঐচ্ছিক
  2. ইচ্ছুক
  3. ইচ্ছাময়
  4. সদিচ্ছা
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা
• ইচ্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- অভিলাষ; স্পৃহা; বাসনা।
- রুচি; প্রবৃত্তি (খাওয়ার ইচ্ছা নাই)।
- অভিপ্রায় (খোদার ইচ্ছায় সব হয়)।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছুক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- অভিলাষী;
- বাসনাযুক্ত
- রাজি;
- সম্মত।

• ঐচ্ছিক ( বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

- ঐচ্ছিক এবং ইচ্ছুক দুটিই বিশেষণ পদ।
- কিন্তু এখানে ইচ্ছা- কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে না, বরং একটি বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করছে। তাই এর বিশেষণ হিসেবেও এমন শব্দ চয়ন করা উচিত যেটা কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ না করে একটি বিমূর্ত ধারণাকে প্রকাশ করবে।

• ইচ্ছুক - সাধারণত ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে।
• ঐচ্ছিক - বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করে।

সুতরাং, ‘ইচ্ছা’ শব্দের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিশেষণর পদ হচ্ছে- ঐচ্ছিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩০২.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে কী বলা হয়?
  1. কারক 
  2. পদ
  3. অক্ষর 
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা

পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার।
 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম - syllable.অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,৩০৩.
'ধীরে ধীরে বায়ু বয়' - বাক্যটিতে কোন বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

অন্যদিকে,
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন-
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩০৪.
‘দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্যে চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন।’ এই বাক্যের বিশেষ্য পদটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) দুঃসাহসী
  2. খ) চিরন্তন
  3. গ) প্রস্তুত
  4. ঘ) অভিযাত্রী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিযাত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিযাত্রী
ব্যাখ্যা
‘দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা মানুষের চিরন্তন কল্পনার রাজ্যে চাঁদের দেশে পৌঁছেছেন এবং মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত হচ্ছেন।’ এই বাক্যে বিশেষ্য পদ - অভিযাত্রী, মানুষ, রাজ্য, দেশ, মঙ্গলগ্রহ। বিশেষণ পদ - দুঃসাহসী, চিরন্তন, প্রস্তুত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,৩০৫.
ক্রিয়ার কাল কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার।
যথা, 
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল:
- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।
- বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বৰ্তমান৷

• অতীত কাল:
- অতীতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হত তাকে অতীত কাল বলে।
- অতীত কাল চার প্রকার: সাধারণ অতীত, ঘটমান অতীত, পুরাঘটিত অতীত এবং নিত্য বৰ্তমান ৷

• ভবিষ্যৎ কাল: 
- ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে।
- ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১,৩০৬.
"আমি ছবিটি দেখেছিলাম।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

- যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- আমি তাকে সভায় উপস্থিত দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
 - আমি ছবিটি দেখেছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩০৭.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. ধৈর্য
  2. উদারতা 
  3. সরলতা
  4. আলসে
সঠিক উত্তর:
আলসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলসে
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
বাংলা ব্যাকরণে বিশেষণ হলো এমন শব্দ যা বিশেষ্য বা সর্বনামের গুণ, পরিমাণ, পরিমাপ, অবস্থা, বা পরিচয় বোঝায় এবং তাকে বিশেষিত করে। বিশেষণ সাধারণত বিশেষ্যের পূর্বে বা পরে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:

আলসে (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- অলস, কুঁড়ে। 
বাক্য: আলসে নয় সে, ওঠে রোজ সকালে।(কবি নজরুল)

অন্যদিকে, 
-----------------
• গুণবাচক-বিশেষ্য: 
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, উদারতা, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৩০৮.
‘চলন্ত ট্রেন’- বাক্যে ‘চলন্ত’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ‘চলন্ত ট্রেন’- বাক্যে ‘চলন্ত’ বিশেষণ পদের উদাহরণ।

------------------------
• বিশেষণ পদ:

যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যথা:

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

• প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন: ‘লোকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘোলা’- বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘোলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
১,৩০৯.
নিচের কোন বাক্যে সংকোচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী
  2. খ) তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন
  3. গ) এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার
  4. ঘ) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে
সঠিক উত্তর:
খ) তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন
ব্যাখ্যা
- 'তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন' বাক্যটিতে সংকোচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়েছে।

সংযোজক অব্যয়
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী

সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ।
সুতরাং, 'তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যাক্তি নন ' এ বাক্যে ‘অথচ’ হলো সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
১,৩১০.
কোনটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।
  2. আমাদের কাজের পরিকল্পনা চলছে।
  3. এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।
  4. তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
সঠিক উত্তর:
এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ হচ্ছে 'এতক্ষণ আমি বই পড়েছি।'

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।

অন্যদিকে, 
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে =সাধারণ বর্তমান।
- আমাদের কাজের পরিকল্পনা চলছে। = ঘটমান বর্তমান।
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো = অনুজ্ঞা বর্তমান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৩১১.
‘জীবন’ শব্দের বিশেষণ রূপ কি?
  1. ক) জীবনী
  2. খ) জীবাণু
  3. গ) জীবিকা
  4. ঘ) যৌবন
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনী
ব্যাখ্যা
জীবন বিশেষ্যের বিশেষণ ‘জীবনী’ । জীবাণু, জীবিকা- বিশেষ্য। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৩১২.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ বিদেশী অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. বহুত, খুব, মারহাবা
  2. খুব, বরং, খাসা
  3. দৈবাৎ, বরং, আবার
  4. পুনশ্চ, মারহাবা, খুব
সঠিক উত্তর:
বহুত, খুব, মারহাবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুত, খুব, মারহাবা
ব্যাখ্যা
বিদেশি অব্যয় শব্দ:

যেমন:
- আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি, মারহাবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎসম অব্যয় শব্দ:

যেমন:
- যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য।

বাংলা অব্যয় শব্দ:
- আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১৩.
নিচের কোনটিতে "সমসূত্রে অর্থে" অনুসর্গের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন।
  2. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা।
  3. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না।
  4. দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।
সঠিক উত্তর:
শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা।
ব্যাখ্যা

এখানে 'সহ" 'সহিত' 'সঙ্গে' 'সনে' -এগুলা একেক বাক্যে একেক অর্থ প্রকাশ করেছে।
যেমনঃ
 ১. তিনি পুত্র সহ উপস্থিত হলেন। ( সহগামীতা অর্থে )
 ২. শত্রুর সহিত সন্ধি চাইনা। ( সমসূত্রে অর্থে )
 ৩. মায়ের সঙ্গে এই মেয়ের তুলনা হয়না।
 ৪.  দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে। ( বিরুদ্ধগামীতা অর্থে )

 উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

১,৩১৪.
'জানুয়ারি' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ব্যক্তিনাম
  2. স্থাননাম
  3. কালনাম
  4. সৃষ্টিনাম
সঠিক উত্তর:
কালনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩১৫.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ? 
  1. গুরুত্ব
  2. ভোজন
  3. পঠন
  4. শয়ন
সঠিক উত্তর:
গুরুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুত্ব
ব্যাখ্যা

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,৩১৬.
"স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।" - কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞা:
আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে। যেমন:

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
• তোমরা কাজ করো।
• রোহান লিখুক।
• মিথ্যা কথা বলো না।
• অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন?
• আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু।
• আদেশ করুন জাহাপনা।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
• সব সময় সত্যি বলবে।
• বড় হও, বুঝতে পারবে।
• অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
• স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩১৭.
'যৌবন' কোন পদের উদাহরণ?
  1. গুণবাচক বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. গুণবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- গরম পানি।
- চৌকস লোক।
[ এখানে 'চালাক', 'গরম' ও চৌকস হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১৮.
'সুন্দর ফুল'- এখানে 'সুন্দর' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুন, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। 
যেমন:
- সুন্দর ফুল। 
- সাদা বাড়ি।
- সুন্দর বাগান।
- চটপটে ছেলে।

[এখানে সাদা, সুন্দর ও চটপটে বিশেষণ পদ।]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
১,৩১৯.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
  2. খ) কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. গ) এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  4. ঘ) মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
সঠিক উত্তর:
ঘ) মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।
-অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

• সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি;
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
১,৩২০.
কোনটি পুরাঘটিত বর্তমান কাল?
  1. ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
  2. ছন্দা গান গাইছে।
  3. রাফিন ও রিজন বল খেলছে।
  4. তৃণা স্কুলে যায়।
সঠিক উত্তর:
ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।

যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে

অন্যদিকে,
সাধারণ বর্তমান কাল - তৃণা স্কুলে যায়।
ঘটমান বর্তমান কাল - ছন্দা গান গাইছে। রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩২১.
পদক্রম অনুসারে সমন্ধ পদ বাক্যে কোথায় বসে?
  1. বিশেষণের পূর্বে
  2. অব্যয়ের পরে
  3. বিশেষ্যের পূর্বে
  4. ক্রিয়ার পরে
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের পূর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের পূর্বে
ব্যাখ্যা

- বাক্যে পদ সংস্থাপনার ক্রম অনুসারে, সম্বন্ধ পদ বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
যেমন - ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছে।
- তবে কবিতায় ইত্যাদিতে ছন্দের প্রয়োজনে পরেও বসতে পারে।
যেমন - হে আদি জননী সিন্ধু, বসুন্ধরা সন্তান তোমার।

- বিধেয় বিশেষণ সর্বদাই বাক্যের বিশেষ্যের পরে বসে।
যেমন - লোকটি যে জ্ঞানী তাতে সন্দেহ নেই। 

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।

১,৩২২.
কী ভেদে বাংলায় ক্রিয়ার রূপের কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. ক) বচনভেদে
  2. খ) পুরুষভেদে
  3. গ) অর্থভেদে
  4. ঘ) প্রয়োগভেদে
সঠিক উত্তর:
ক) বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বচনভেদে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদ: ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।
ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়। যেমন: আমি যাই। তুমি যাও। আপনি যান। সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)
খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না। যেমন: আমি (বা আমরা) যাই। তুমি (বা তোমরা) যাও। সে (বা তারা) যায়।
গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২৩.
কোনটি বিমূর্ত বিশেষ্য?
  1. নদী
  2. বই
  3. সৌন্দর্য
  4. কাঁঠাল
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ, নদী, বই, কাঁঠাল ইত্যাদি।

২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩২৪.
'গুরুত্ব' কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. জাতি
  2. বস্তু
  3. সমষ্টি
  4. গুণ
সঠিক উত্তর:
গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণ
ব্যাখ্যা
• 'গুরুত্ব' - গুণ-বিশেষ্য।
-------------------- 
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য ।
---------------------- 
১. নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন –
ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন –
জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি। 

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১,৩২৫.
'আছো তুমি জগৎ মাঝারে।'- এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. মধ্যে
  2. একদেশিক
  3. ক্ষণকাল
  4. ব্যাপ্তি
সঠিক উত্তর:
ব্যাপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপ্তি
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের প্রয়োগ:
• 'মধ্যে' অর্থে- 'সীমার মাঝে অসীম তুমি'।
• 'একদেশিক' অর্থে- এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।
• 'ক্ষণকাল' অর্থে- নিমেষ মাঝেই সব শেষ।
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- আছো তুমি জগৎ মাঝারে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩২৬.
'ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।' বাক্যে 'ভালো' কোন পদ?
  1. সর্বনাম
  2. অব্যয়
  3. বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
• প্রদত্ত বাক্যটিতে বাড়ি বিশেষ্য পদ।
• 'ভালো' বাড়িটির গুণ প্রকাশ করেছে।
• তাই বাক্যে ভালো বিশেষণ পদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২৭.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
  1. ক) মাথা ঝিমঝিম করছে
  2. খ) তোমার পরিশ্রমের ফল এসেছে
  3. গ) মা শিশুটিকে হাসান
  4. ঘ) শিশুটি কাঁদে
সঠিক উত্তর:
গ) মা শিশুটিকে হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মা শিশুটিকে হাসান
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত বাক্যগুলোর মধ্যে 'মা শিশুটিকে হাসান' হলো প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত শব্দ।

প্রযোজক ক্রিয়া:

যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)। যেমনঃ তিনি ছেলেকে পড়াচ্ছেন।

প্রযোজক কর্তা : যে ক্রিয়া প্রযোজন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
প্রযোজ্য কর্তা : যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। বাক্যে ‘মা’ প্রযোজক কর্তা, ‘শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, ‘চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি 
১,৩২৮.
"সে খেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে”- কিসের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য বর্গ
  2. বিশেষণ বর্গ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ক্রিয়া বর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা

• "সে খেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে।” - বাক্যটিতে 'খেয়ে আর ঘুমিয়ে' ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ। 
--------------------- 

বাক্যের বর্গ: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে। বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।

বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন,
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
আমার ভাই পড়তে বসেছে।

বিশেষণবর্গ: বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন-
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।

ক্রিয়াবিশষেণ-বর্গ:
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম।

• প্রশ্নের বাক্যটি- 
"সে খেয়ে আর ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে।” - এখানে, কর্তা কীভাবে কাজ করছে টা নির্দেশ করছে।

ক্রিয়াবর্গ:
বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন,
সে লিখছে আর  হাসছে।
সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৩২৯.
কোন বাক্যে প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. মণি চিঠি লিখছে।
  2. সে পাস করে গেল।
  3. সাইরেন বেজে উঠল।
  4. সাপুড়ে সাপ খেলায়।
সঠিক উত্তর:
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপুড়ে সাপ খেলায়।
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মণি চিঠি লিখছে।
- কাঞ্চন বই পড়ছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩৩০.
কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ ?
  1. থেকে
  2. কাছে
  3. দ্বারা
  4. জন্যে
সঠিক উত্তর:
থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থেকে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন,
উপরে- মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে- হারানো ঘড়িটার জন্যে অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ- অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে-মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ধরে- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
থেকে- ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মানদী পার হতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি।
১,৩৩১.
নিচের কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ? 
  1. ঠান্ডা 
  2. তরল
  3. বেশ
  4. খুব 
সঠিক উত্তর:
তরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
• যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
• যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা। 

♣ বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ: 
১. বর্ণবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা।
২. গুণবাচক: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি। 
৩. অবস্থাবাচক: চলন্ত গাড়ি, তরল পদার্থ।  
৪. ক্রমবাচক: এক টাকা, আট দিন।
৫. পূরণবাচক: তৃতীয়, ৩৪তম।
৬. পরিমাণবাচক: আধা কেজি, অনেক।
৭. উপাদানবাচক: বেলে, পাথুরে।
৮. প্রশ্নবাচক: কেমন, কতক্ষণ।
৯. নির্দিষ্টবাচক: এই, সেই।
১০. ভাববাচক: খুব, বেশ।
১১. বিধেয় বিশেষণ: লোকটা পাগল, পানি ঘোলা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১,৩৩২.
‘ভোজন’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. অব্যয়
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন- নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ: যে শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন:
- সুন্দর ফুল।
- পঞ্চাশ টাকা।
- হাজার সমস্যা

• সর্বনাম: বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। 
যেমন:
- সে নিজে অঙ্ক টা করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৩.
'তুমি কি তখন খাচ্ছিলে?'- বাক্যটিতে কোন কালের ক্রিয়া আছে?
  1. ক) ঘটমান বর্তমান কাল
  2. খ) সাধারন বর্তমান কাল
  3. গ) সাধারণ অতীত কাল
  4. ঘ) ঘটমান অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘটমান অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘটমান অতীত কাল
ব্যাখ্যা
- 'তুমি কি তখন খাচ্ছিলে?'- বাক্যটিতে ঘটমান অতীত কালের ক্রিয়া আছে।

• ঘটমান অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতে কিছু সময় ধরে চলছিল- এমন বোঝাতে ঘটমান অতীত হয়।
- ঘটমান প্রকারের অতীত কাল ক্রিয়ার সমাপ্তি নির্দেশ করে না।
- বরং যে সময়ের কথা বলা তখনও কাজটি শেষ হয়নি এমনই বোঝায়।
যেমন:
- তুমি কি তখন খাচ্ছিলে?
- সেদিন সকালে আমি বইটা পড়ছিলাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১,৩৩৪.
'নিদারুণ তিনি অতি অতি, নাহি দয়া তব প্রতি।' - এখানে 'প্রতি' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. দিকে বা ওপর
  2. নিমিত্ত
  3. নেই
  4. প্রত্যেক
সঠিক উত্তর:
দিকে বা ওপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিকে বা ওপর
ব্যাখ্যা
• 'নিদারুণ তিনি অতি অতি, নাহি দয়া তব প্রতি।' - এখানে 'প্রতি' অনুসর্গটি দিকে বা ওপর অর্থ প্রকাশ করছে।

অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
- অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।
যেমন -
→ বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)
→ সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
→ দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়। 

অনুসর্গের প্রয়োগ:
প্রতি:
- প্রত্যেক অর্থে - মণপ্রতি পাঁচ টাকা লাভ দেব। 
- দিকে বা ওপর অর্থে - 'নিদারুণ তিনি অতি অতি, নাহি দয়া তব প্রতি।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৩৫.
বাংলায় কোন পদের পুরুষ হয় না?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
- বাংলায় অব্যয় পদের পুরুষ হয় না।  

সর্বনামের পুরুষ:
- 'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ। 
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়ার পুরুষ আছে। 
- বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই। 
- ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যথা- 
১। উত্তম পুরুষ- আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যাদি। 
২। মধ্যম পুরুষ- তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনার, আপনাদের ইত্যাদি। 
৩। নাম পুরুষ- সে, তারা, তাহারা, তাদের, তিনি, তাঁকে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৬.
'তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারন বর্তমান
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা বর্তমান
ব্যাখ্যা
'তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়' - বাক্যটি অনুজ্ঞা বর্তমান কালের উদাহরণ।

অনুজ্ঞা বর্তমান:
যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে। যেমন –
- তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়।
- সকলের মঙ্গল হোক। 

অন্যদিকে,
• সাধারন বর্তমান - আমি স্কুলে যাই।
• ঘটমান বর্তমান  - আমি স্কুলে যাচ্ছি।
• পুরাঘটিত বর্তমান - আমি অংকটি করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
১,৩৩৭.
গুণ- বিশেষ্য কোনটি?
  1. বৈশাখ
  2. ধৈর্য
  3. সাগর
  4. জনতা
সঠিক উত্তর:
ধৈর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধৈর্য
ব্যাখ্যা

• 'ধৈর্য'- গুণ- বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৩৩৮.
আসামির পক্ষে উকিল কে? এখানে ‘পক্ষে' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) প্রশ্ন অর্থে
  2. খ) আদেশ অর্থে
  3. গ) সহায় অর্থে
  4. ঘ) প্রার্থনা অর্থে
সঠিক উত্তর:
গ) সহায় অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সহায় অর্থে
ব্যাখ্যা

পক্ষঃ
- সহায়; অবলম্বন।
- সহায়কবর্গ; সাহায্যকারী; সেনাদল; রাজশক্তি।
আসামির পক্ষে উকিল কে? -এখানে ‘পক্ষে' সহায় অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

১,৩৩৯.
কোন শব্দটি বিশেষ্য বিশেষণ উভয়রূপে ব্যবহৃত হতে পারে?
  1. ক) দেশ
  2. খ) সুন্দর
  3. গ) ব্যথা
  4. ঘ) বন্দর
সঠিক উত্তর:
খ) সুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুন্দর
ব্যাখ্যা
- 'সুন্দর’ শব্দটি বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয়রূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বিশেষণরূপে: বেশ সুন্দর কথা বলেছ।
- বিশেষ্যরূপে: সে সুন্দর কী তা জানে না।
- আরাে কিছু শব্দ রয়েছে যা বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ভালাে, মন্দ, পুণ্য, নিশীথ, শীত, সত্য ইত্যাদি৷

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪০.
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।'- এখানে 'মাঝে' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. ব্যাপ্তি
  2. প্রশস্ততা
  3. একদেশিক
  4. মধ্যে
সঠিক উত্তর:
মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গের ব্যবহার:
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,৩৪১.
'বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।' - বাক্যটি কোন অতীত কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. ঘটমান অতীত
  4. সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
• 'বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।' - বাক্যটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ।

ঘটমান অতীত কাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন -
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন

ঘটমান অতীত কালের বিশেষ ব্যবহার:
- ঘটমান অতীত কখনো কখনো বর্তমান সময় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়: তুমি এসে গেছ! এতক্ষণ তোমার কথাই ভাবছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৪২.
নিচের কোনটি সাধারণ অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  2. খ) হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
  3. গ) ভালাে করে খেয়ে নাও।
  4. ঘ) সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
সঠিক উত্তর:
খ) হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৪৩.
ক্রিয়াপদ -
  1. ক) সবসময়ে বাক্যে থাকবে
  2. খ) কখনো কখনো বাক্যে উহ্য থাকতে পারে
  3. গ) শুধু অতীতকাল বোঝাতে বাক্যে ব্যবহৃত হয়
  4. ঘ) আসলে বিশেষণ থেকে অভিন্ন
সঠিক উত্তর:
খ) কখনো কখনো বাক্যে উহ্য থাকতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কখনো কখনো বাক্যে উহ্য থাকতে পারে
ব্যাখ্যা
যে পদের দ্বারা কোন কার্য সম্পাদন করা বোঝায় তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
ক্রিয়াপদ বাক্য গঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪৪.
‘তরল’ শব্দের বিশেষ্য কী?
  1. তারল্যতা
  2. তরল্য
  3. তারল্য
  4. তরল্য
সঠিক উত্তর:
তারল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারল্য
ব্যাখ্যা
তরল বিশেষণ শব্দকে দুইভাবে বিশেষ্যে রূপান্তর করা যায়।
তরল + তা = তরলতা।
আবার তরল + য = তারল্য
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
১,৩৪৫.
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি; এখানে 'অসুস্থ ছেলেটি' কোন ধরণের বর্গের অন্তর্গত?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্যবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্যবর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। 
নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- 

বিশেষ্যবর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। 
যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। 

বিশেষণবর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ।
যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। 

ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ:
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। 
যেমন - তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে  গিয়ে দাড়ালাম। 

ক্রিয়া বর্গ:
বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে।
যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। 
            সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৪৬.
"শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।" - এখানে 'হয়ে থাকে' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মিশ্র ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

​• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন :
- ঘটনাটা শুনে রাখ। (এখানে, 'শুনে রাখ' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।)

• শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
এখানে, বাক্যে —
"হয়ে থাকে" একসাথে সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করেছে

আরো কিছু যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ:
- নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
- অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
- অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
- এগুলো সব হলো যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩৪৭.
নিচের কোনটি অনুসর্গ ?
  1. ক) পরি
  2. খ) অতি
  3. গ) আম
  4. ঘ) মধ্যে
সঠিক উত্তর:
ঘ) মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মধ্যে
ব্যাখ্যা

পরি, অতি - সংস্কৃত এবং আম আরবি উপসর্গ।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলো -
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪৮.
‘সমাজ’ কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) নামবাচক বিশেষ্য
  3. গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) জাতিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
‘সমাজ’ - সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

• গণনযোগ্যতা বিচারে সাধারণ বিশেষ্যকে তিনটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায়:
- গণন বিশেষ্য
- পরিমাপ বিশেষ্য
- সমষ্টি বিশেষ্য

গণন বিশেষ্য: সংখ্যা দিয়ে গণনা করা যায় এবং এগুলোর বহুবচন হয়। যেমন— দিন (পাঁচ দিন, দিনগুলো), শিক্ষক (শিক্ষকবৃন্দ), গ্রন্থ (গ্রন্থাবলি), বিড়াল, জাহাজ ইত্যাদি।

পরিমাপ বিশেষ্য: সংখ্যার সাহায্যে গণনা করা যায় না এবং ধারণার দিক থেকেও না; কিন্তু পরিমাপ করা সম্ভব। যেমন- চাল, ডাল, চিনি, তেল, নুন, পানি মাটি ইত্যাদি। সাধারণভাবে এ বিশেষ্যের বহুবচন হয় না।

সমষ্টি বিশেষ্য: কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক বা সমষ্টি বোঝায়। যেমন- গুচ্ছ, ঝাঁক, দল, জনতা, পরিবার, বাহিনী, মিছিল, শ্রেণি, সংসদ, সভা, সমাজ, সমিতি ইত্যাদি সাধারণ প্রয়োগে এ জাতীয় বিশেষ্যেরও বহুবচন হয় না, বিশেষ প্রয়োগে হতে পারে। সেখানে এদের 'একক' হিসেবে গণ্য করা হয় (শ্রেণিগুলো, সমিতিগুলো)।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৩৪৯.
নিচের কোনটি পারস্পরিক সর্বনাম ?
  1. কিছু
  2. নিজেরা নিজেরা
  3. নিজে
  4. উনি
সঠিক উত্তর:
নিজেরা নিজেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজেরা নিজেরা
ব্যাখ্যা
• 'নিজেরা নিজেরা'-  পারস্পরিক সর্বনাম। 

পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে । 
যেমন – কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন – নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন – নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১,৩৫০.
'আমি আজ আলবত যাব।' - এ বাক্যে 'আলবত' কোন ধরনের অব্যয় পদ?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনুকার অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
• উচ্ছ্বাস প্রকাশে:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!

• স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে:
- হ্যাঁ, আমি যাব।
- না, আমি যাব না।

• সম্মতি প্রকাশে:
- আমি আজ আলবত যাব।
- নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩৫১.
কোনটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. গরু
  3. বীরত্ব
  4. সমিতি
সঠিক উত্তর:
গীতাঞ্জলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতাঞ্জলি
ব্যাখ্যা
নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন-
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনো গুণ, অবস্থা ও ভাবের নাম বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: সুখ, দুঃখ, দয়া, বীরত্ব ইত্যাদি।

জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
১,৩৫২.
কোনটি বিশেষণ বাচক শব্দ?
  1. ক) জীবনী
  2. খ) জীবিকা
  3. গ) জীবাণু
  4. ঘ) জীবন
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনী
ব্যাখ্যা

জীবনী বা আয়ু দান করে এমন অর্থে জীবনী বিশেষণ বাচক।
জীবন, জীবিকা ও জীবাণু বিশেষ্য বাচক শব্দ।
কিন্তু জীবনবৃত্তান্ত বা জীবন কাহিনী অর্থে 'জীবনী' বিশেষ্য বাচক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ।
১,৩৫৩.
বাক্যের মধ্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
যেমন -
"শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৫৪.
নিচের কোনটি নামপদ নয়?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
পদ প্রধানত দুই প্রকার। যথাঃ ক্রিয়াপদ ও নামপদ। বাক্যে ক্রিয়া পদ ব্যতীত বাকি সব পদই নাম পদ (যেমনঃ বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,৩৫৫.
‘ও, তবু, কারণ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. অনুসর্গ
  2. আবেগ
  3. যোজক
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৩৫৬.
কোন সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. নির্দেশক সর্বনাম
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. আত্মবাচক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতীয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

• সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অর্নিদিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

• নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৫৭.
‘মানুষের ভেতর স্বর্গ নরক।’- এখানে ‘ভেতর’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. অনুসর্গ
  2. সর্বনাম
  3. যোজক
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষের ভেতরে স্বর্গ নরক।’-এখানে ‘ভেতর’ নাম অনুসর্গ।
 
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে  শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
 
অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
- ক্রিয়া অনুসর্গ।
 
• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ:
ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে যেসব অনুসর্গ এসেছে সেগুলো নামজাত বা বিশেষ্য অনুসর্গ।
 
নাম অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১,৩৫৮.
ভাব প্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কি ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তালে ক্রিয়া পদ বলে।
- ভাব প্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া ২ প্রকার।

সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো কোরে পড়াশোনা করবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ায় দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয় না তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

১,৩৫৯.
'যত' ও 'তত' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প
  2. সাপেক্ষ
  3. বিরোধ
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৬০.
সামীপ্যবাচক সর্বনাম নিচের কোনটি?
  1. যিনি
  2. ইনি
  3. তিনি
  4. তারা
সঠিক উত্তর:
ইনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনি
ব্যাখ্যা

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক:কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি,যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৩৬১.
"আমার কথা শুনে সে যেন আকাশ থেকে পড়লো।" - বাক্যে 'থেকে' শব্দটি কোন প্রকারের অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিবর্তিত
  2. খ) ক্রিয়াজাত
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়াজাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়াজাত
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত  অনুসর্গ: 
যেসব  অনুসর্গ ক্রিয়া থেকে তৈরি সেগুলো ক্রিয়াজাত অনুসর্গ হিসাবে পরিচিত। 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে, ইত্যাদি। 

করে: কাপড়গুলো ভালো করে পরিষ্কার করো।
থেকে: আমার কথা শুনে সে যেন আকাশ থেকে পড়লো।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখা পড়ালেখা করা উচিত।
বলে: আপনি সাহায্য করেছেন বলেই কাজটা হলো। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১,৩৬২.
‘চালাক ছেলে’ এখানে ‘চালাক’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ
কোন কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে, সেই অনুযায়ী বিশেষণকে আলাদা করা যায়। বিশেষণ শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে, সেই বিবেচনায়ও বিশেষণকে ভাগ করা সম্ভব। এছাড়া বাক্যের মধ্যে বিশেষণটির অবস্থান কোথায় তা দিয়েও বিশেষণকে চিহ্নিত করা যায়। এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যথা:

• বর্ণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি- এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

• প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: কেমন গান? কতক্ষণ সময়? এখানে 'কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

• নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন: 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

• বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন: ‘লোকটা পাগল’ বা ‘এই পুকুরের পানি ঘোলা’- বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘোলা’ বিধেয় বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩-সংস্করণ)।
১,৩৬৩.
ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তিত হয়-
  1. পক্ষভেদে
  2. বচন ভেদে
  3. কালভেদে
  4. ক + গ
সঠিক উত্তর:
ক + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + গ
ব্যাখ্যা
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- রাজীব খেলছে।
- বৃষ্টি হতে পারে

• পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়। যেমন-
- পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,৩৬৪.
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে কী বলে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. অনুজ্ঞা বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
বর্তমান কাল:
- বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।
- বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন -
- আমি অঙ্কটি করেছি
- তারা বাড়িতে ফিরেছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৬৫.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
  1. এগিয়ে চলা
  2. বেঁধে দেওয়া
  3. করে তোলা
  4. মন দেওয়া
সঠিক উত্তর:
মন দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন দেওয়া
ব্যাখ্যা

• 'মন দেওয়া' সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ।

• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা,
- উঠে পড়া,
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা,
- করে তোলা,
- চেপে রাখা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১,৩৬৬.
পদের শ্রেণিবিভাগ নয় কোনটি?
  1. যোজক
  2. আবেগ
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• পদের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়- উপসর্গ। 

• পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
যথা:
১. বিশেষ্য, ২. সর্বনাম, ৩. বিশেষণ, ৪. ক্রিয়া, ৫. ক্রিয়াবিশেষণ, ৬. অনুসর্গ, ৭. যোজক ও ৮. আবেগ।

বাক্যে প্রয়োগের উপরে শব্দশ্রেণির এই আট রকম বিভাজন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। যেমন- যখন বলা হয়: 'লাল থেকে নীল ভালো, তখন 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ। কিন্তু যখন বলা হয়: আমি একটি লাল ফুল তুলেছি- তখন 'লাল' বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,৩৬৭.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  2. দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
  3. তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
  4. এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
সঠিক উত্তর:
দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
ব্যাখ্যা
সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

অন্যদিকে,
ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন –
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৬৮.
'আনন্দ' শব্দটি কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ভাব বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণ-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
বস্তু-বিশেষ্য - ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
ভাববাচক বিশেষ্য - ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৬৯.
'বোকার মতো কাজ করো না।'- 'মতো' অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ন্যায়
  2. খ) নিকট
  3. গ) নিমিত্ত
  4. ঘ) ক্ষণকাল
সঠিক উত্তর:
ক) ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ন্যায়
ব্যাখ্যা
'কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।' - 'হেতু' অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'বোকার মতো কাজ করো না।'- 'মতো' অনুসর্গটি 'ন্যায়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আমার কাছে আর কে আসবে?- 'কাছে' অনুসর্গটি 'নিকট' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
নিমেষ মাঝেই সব শেষ।- 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ,  নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৭০.
জন্ম শব্দের বিশেষণ?
  1. ক) জীবন
  2. খ) জাত
  3. গ) বংশ
  4. ঘ) জাতি
সঠিক উত্তর:
খ) জাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জাত
ব্যাখ্যা

জাত (বিশেষণ) - জন্মেছে এরূপ (নবজাত)।
- উৎপন্ন; সঞ্জাত; উদ্ভূত।

(বিশেষ্য) জন্ম


উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
১,৩৭১.
‘যদি’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. আবেগ
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• ‘যদি’ যোজক পদের উদাহরণ।

যোজক:

- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৩৭২.
কোনটি অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ-
  1. ক) আমি রাতে খাব না
  2. খ) আকাশে চাঁদ দেখি না
  3. গ) ছেলেটা কথা শোনে
  4. ঘ) আমি টিফিন খেয়েছি
সঠিক উত্তর:
ক) আমি রাতে খাব না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমি রাতে খাব না
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়ার কর্ম পদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া। যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া। প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে। যেমনঃ অকর্মক : আমি রাতে খাব না। সকর্মক : আমি রাতে ভাত খাব না। অকর্মক : আমি চোখে দেখি না। সকর্মক : আকাশে চাঁদ দেখি না। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৩৭৩.
"কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।" বাক্যে 'হেতু' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. ব্যাপার
  2. নিমিত্ত
  3. প্রার্থনা
  4. প্রসঙ্গ
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
ব্যাখ্যা
"কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।" বাক্যে 'হেতু' অনুসর্গটি নিমিত্ত অর্থ প্রকাশ করেছে।
- নিমিত্ত শব্দের অর্থ- উপলক্ষ্য; উদ্দেশ্য; প্রয়োজন।

এছাড়াও,
"এ ধন-সম্পদ তোমার জন্যে।" বাক্যে 'জন্যে' অনুসর্গটি নিমিত্ত অর্থ প্রকাশ করেছে।

• অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৩৭৪.
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে কোন পদ ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষণ পদ
  2. অব্যয় পদ
  3. সর্বনাম পদ
  4. সম্বোধন পদ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম পদ
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: 
কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি। 

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: 
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম:
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

অন্যদিকে,
• 'সম্বোধন’ পদ:
- 'সম্বোধন’ অর্থ আহবান। যাকে সম্বোধন বা আহবান করে কিছু বলা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। ওহে মাঝি, আমাকে পার করো।
- অনেক সম্বোধন পদের পূর্বে ওগো, ওরে, হে, অয়ি প্রভৃতি অব্যয়বাচক শব্দ বসে সম্বোধন সূচনা করে। যেমন: ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে, অয়ি নিরমল ঊষা, কে তোমাকে নিরমিল?

- সম্বোধন পদের পর অনেক বিস্ময়সূচক চিহ্ন দেওয়া হয়। এই ধরনের বিস্ময়সূচক চিহ্নকে সম্বোধন চিহ্ন বলা হয়ে থাকে।
আধুনিক নিয়মে সম্বোধন চিহ্ন স্থানে কমা (,) চিহ্নের প্রয়োগ বেশি। যেমন: ওরে খোকা, এখানে আয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৭৫.
'বৃষ্টি আসে আসুক' - বাক্যটি কোন ভাবের ক্রিয়া?
  1. অনুজ্ঞা ভাব
  2. নির্দেশক ভাব
  3. সাপেক্ষ ভাব
  4. আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব
ব্যাখ্যা
• 'বৃষ্টি আসে আসুক' - বাক্যটি 'আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব' প্রকাশ করে। 
------------------ 
• ক্রিয়ার ভাব:

- ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।
- ক্রিয়ার ভাব ৪ প্রকার।
যথা -

নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
যথা:
- তারা বাড়ি যাবে।

অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যথা:
- চুপ করো, মিথ্যা বলবে না, ডেকে দেয় পাষণ্ড!

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদের বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যথা:
- সে যাক, বৃষ্টি আসে আসুক, তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৭৬.
‘জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।’ বাক্যে ‘কারণ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. যোজক
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন- এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন:
- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

• বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৩৭৭.
যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে কোন কাল বলে?
  1. ঘটমান অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। 

যেমন:
- স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
- ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,৩৭৮.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কি
  2. সামনে
  3. টিপ টিপ
  4. যথাসময়ে
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে
ব্যাখ্যা

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 

যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি। 

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৩৭৯.
নিচের কোনটি অনুসর্গের দৃষ্টান্ত?
  1. টা
  2. গুলি
  3. জন্য
  4. গাছা
সঠিক উত্তর:
জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্য
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গের দৃষ্টান্ত - জন্য। 
------------- 
অন্যদিকে, 
টা, গুলি, গাছা - পদাশ্রিত নির্দেশকের দৃষ্টান্ত। 
---------------- 
• অনুসর্গ:  
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। - এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে‘, '-র’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
- সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯  সংস্করণ)।
১,৩৮০.
"পর্বত" কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. জাতি-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
 যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।


অন্যদিকে,
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
যেমন –
- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
 যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৩৮১.
মধ্যম পুরুষ-এ তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক সর্বনামের রূপ কোনটি?
  1. ক) ওরা
  2. খ) এরা
  3. গ) ইহারা
  4. ঘ) তোরা
সঠিক উত্তর:
ঘ) তোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তোরা
ব্যাখ্যা
মধ্যম পুরুষ-এ তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক সর্বনামের রূপঃ তুই, তোরা, তোর, তোদের, তোকে।
নাম পুরুষ-এ তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা-জ্ঞাপক সর্বনামের রূপঃ ইহা, ইহারা, এই, এ, এরা, উহা, উহারা, ও, ওরা, ওদের।
সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৩৮২.
নিচের কোনটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. পড়ছে
  2. হয়েছি
  3. করল
  4. করতাম
সঠিক উত্তর:
হয়েছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হয়েছি
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান কাল: 
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
----------------
অন্যদিকে, 
পড়ছে - ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার উদাহরণ। 
করল - সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার উদাহরণ।  
করতাম - নিত্যবৃত্ত অতীত কালের ক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৩৮৩.
'তোমার নাম কী?'-এখানে 'কী' কোন প্রকারের পদ?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
যেমন:
- সুন্দর ফুল। 
- বাজে কথা ইত্যাদি।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে? [প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৮৪.
পদ বিবেচনায় শব্দকে মোট কতভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ছয়
  2. সাত
  3. আট
  4. নয়
সঠিক উত্তর:
আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট
ব্যাখ্যা

শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণি ভাগ করে বর্ণনা করা যায়।
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
8. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়াবিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৮৫.
নিচের কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. অথবা
  2. সুতরাং
  3. বরাবর
  4. তবে
সঠিক উত্তর:
বরাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরাবর
ব্যাখ্যা
• ‘বরাবর’ অনুসর্গের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
অথবা, সুতরাং ও তবে যোজকের উদাহরণ।

-----------------
• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১,৩৮৬.
কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে-এখানে ভালোভাবে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
কাজটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে-এখানে ভালোভাবে ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন: কি: আমি কি যাব? 
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন !

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৮৭.
"ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।" - নিম্নরেখ অব্যয়টি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উচ্ছ্বাস
  2. সম্মতি
  3. সম্বোধন
  4. নিরাশা
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
- সম্মতি অর্থে: আজ আমি আলবত যাবো।
- সম্বোধন অর্থে: 'ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৮৮.
'সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।'- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমানকাল:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলেও তার ফল এখনো বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

• পুরাঘটিত বর্তমানের বিশেষ প্রয়োগ-

অতীত সময় বোঝাতে: 
- দশ বছর হলো তার বাবা মারা গেছেন।
- গত মাসে তাকে ঢাকায় দেখেছি।

ভবিষ্যৎ সময় বোঝাতে:
- সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
- সে আগামীকাল কানাডা যাচ্ছে, আর ফিরছে না।

অনুমতি গ্রহণ: যাচ্ছি তাহলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৮৯.
কোনটি বিস্ময় আবেগের ভাব প্রকাশ করে?
  1. বাহ্‌
  2. আরে!
  3. উহ্‌
  4. বেশ
সঠিক উত্তর:
আরে!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরে!
ব্যাখ্যা

আবেগ:
- মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

অন্যদিকে,
• বেশ - সিদ্ধান্ত আবেগ।
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৩৯০.
'১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।'-  বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত 
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান অতীত
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা

• বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ।
যথা:
১. সাধারণ বর্তমান কাল,
২. ঘটমান বর্তমান কাল,
৩. পুরাঘটিত বর্তমান কাল ও
৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।

• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে। যেমন: তৃণা স্কুলে যায়।
সাধারন বর্তমানে দুটি রূপ পাওয়া যায়। যথা:

১. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া সাধারণভাবে নিত্য বা সব সময় ঘটে অর্থাৎ ক্রিয়া সংঘটনের স্বাভাবিকতা বা অভ্রস্ততা বোঝালে সাধারন বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সকালে সূর্য উঠে।
- আমি প্রত্যহ সকালে চা খাই।

২. ঐতিহাসিক বর্তমান কাল:
ঐতিহাসিক বর্তমান কাল অতীত অর্থে বর্তমান। অতীত কালের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় অনেক ক্ষেত্রে নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
- ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপ শ্রীচৈতন্য দেবের জন্ম হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৯১.
'এখন যেয়ো না' এখানে 'না' শব্দটি কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'এখন যেয়ো না' এখানে 'না' শব্দটি 'অব্যয়' পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

না (অব্যয় পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রিয়ার অঘটন বা নিষেধ (এখন যেয়ো না)।
- অভাব (না আছে বিদ্যা না আছে বুদ্ধি)। 
- অনুরোধ বা অনুজ্ঞা (আমায় করতে দাও না)। আধিক্য (কত না ধন এ জগতে)।
- প্রশ্ন বা সন্দেহ (খাবে না?)।
- বিকল্প (কোনো না কোনো)।
- বিনা (না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে। রবীন্দ্র.)
 
অন্যদিকে,
• না অব্যয় পদ হিসেবে নঞর্থক বাংলা উপসর্গবিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
 
আবার, 
• না বিশেষ্য পদ হিসেবে অঞ্চলিক ভাষায় নৌকা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- না নিয়ে গেল বোয়াল-মাছে।
 
তবে ‘না’ শব্দের বহুল ব্যবহার হয় অব্যয় পদ হিসেবেই। তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘ঘ’ অব্যয় পদ গ্রহণ করা হয়েছে।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৩৯২.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. উদয় হওয়া
  2. সরে দাঁড়ানো
  3. ঠনঠন করা
  4. রাজি হওয়া
সঠিক উত্তর:
সরে দাঁড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
 • সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - 
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, ঠনঠন করা, রাজি হওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৯৩.
‘ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন’—এ বাক্যে ‘ধিক্‌, শত ধিক্’ কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ
  2. খ) বাক্যের বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়ের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়ের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

অব্যয়ের বিশেষণঃ
যে ভাব - বিশেষণ অব্যয় পদ বা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষায়িত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন, ধিক্‌ তারে, শত ধিক্‌ নির্লজ্জ যে জন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১,৩৯৪.
কোন বস্তুর সংখ্যা বা পরিমাণ বোঝাতে কোন পদ ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সংখ্যাবাচক বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া পদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১,৩৯৫.
'বেলে মাটি' - কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. বর্ণবাচক
  4. অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক
ব্যাখ্যা

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- বেলে মাটি
- পাথুরে মূর্তি।
- মেটে কলসি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১,৩৯৬.
পড়া শেষে খেলতে যাবো- এই বাক্যে কোন লক্ষণ প্রকাশিত?
  1. ক) স্পৃহা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) অভ্যাস
  4. ঘ) অভিপ্রায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিপ্রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অভিপ্রায়
ব্যাখ্যা

‘ইতে’> ‘তে’ বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহারে ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা বা অভিপ্রায় অর্থ প্রকাশ সূচক বাক্য হলো ''পড়া শেষে খেলতে যাবো'', “আমি এখন যেতে চাই” ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯৭.
'সিদ্ধান্ত আবেগ'- এর প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ক) আরে! তুমি আবার কখন এলে?
  2. খ) ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
  3. গ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
  4. ঘ) বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

⇒ করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৯৮.
ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে। বাক্যে 'বৃষ্টি পড়ছে' কোন ক্রিয়ার অন্তর্গত?
  1. ক) মিশ্র ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) নামধাতুর ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
মিশ্র ক্রিয়া
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।

যেমন–

বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও। 
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।  

এছাড়াও-

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:
নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন।
অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৯৯.
'এখন তবে আসি।' - বাক্যটি কোন বর্তমান কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান
  2. সাধারণ
  3. পুরাঘটিত
  4. অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
ব্যাখ্যা

সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
( ৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৪০০.
বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। বাক্যে 'ধরে' কোন পদ? 
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) যোজক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না। - এই বাক্যে ছাড়া একটি অনুসর্গ।
  
কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।
যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘র’, - ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে। 

'বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।' বাক্যে 'ধরে' একটি অনুসর্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।