• বর্তমান কাল: যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানের কোনো কাজ করা, অভ্যাস বা চিরসত্য বোঝায় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কালের চারটি রূপ। যথা: ১. সাধারণ বর্তমান, ২. ঘটমান বর্তমান, ৩. পুরাঘটিত বর্তমান, ৪. বর্তমান অনুজ্ঞা।
• সাধারণ বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে। যেমন: - তৃণা স্কুলে যায়। - বর্ণ বই পড়ে।
• ঘটমান বর্তমান: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়। যেমন: - ছন্দা গান গাইছে। - রাফিন ও রিজন বল খেলছে। - বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে।
• পুরাঘটিত বর্তমান: যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়। যেমন: - বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে। - ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।
• বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়। যেমন: - সদা সত্য বলো। - আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন। - সকলের মঙ্গল হোক।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২০২.
'জনতা' - শব্দটি কোন পদ?
ক
বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
অব্যয়
ঘ
ক্রিয়া-বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য
ক
ব্যাখ্যা
• 'জনতা' (বিশেষ্য পদ): - এটি সংস্কৃত শব্দ। অর্থ: - সাধারণ মানুষ, - জনসাধারণ। - অনেক লোকের একত্রসমাবেশ।
-------------------- • বিশেষ্য পদ: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: ১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য: যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন: সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২০৩.
'আকাশ' শব্দটি কোন ধরণের বিশেষ্য?
ক
নাম-বিশেষ্য
খ
জাতি-বিশেষ্য
গ
বস্তু-বিশেষ্য
ঘ
গুণ-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর: গ
বস্তু-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বস্তু-বিশেষ্য
গ
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য: - যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। - যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
♣ বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: ১. নাম-বিশেষ্য: - ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। - যেমন: হাবিব, সজল, বাংলাদেশ, পদ্মা, বৈশাখ ইত্যাদি।
২. জাতি-বিশেষ্য: - জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। - এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। - যেমন: মানুষ, গরু, ফুল, নদী ইত্যাদি। ৩. বস্তু-বিশেষ্য: - কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। - যেমন: ইট, লবণ, আকাশ ইত্যাদি।
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: - এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। - যেমন: জনতা, পরিবার, বাহিনী ইত্যাদি।
৫. গুণ-বিশেষ্য: - গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। - যেমন: সরলতা, দয়া, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: - যেমন: ক্রিয়া বা কাজের নাম বুঝায়। পঠন, ভোজন,শয়ন, করা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,২০৪.
'পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।' ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
ক
ঐতিহািসক বর্তমান কাল
খ
পুরাঘটিত অতীত কাল
গ
ঘটমান অতীত কাল
ঘ
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল
সঠিক উত্তর: খ
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পুরাঘটিত অতীত কাল
খ
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীতকাল: যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। যেমন: - সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ: • অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল। • অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।
অন্যদিকে, ------------------ • সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল: সাধারণভাবে এবং সচরাচর যখন কোনো ক্রিয়ার ব্যাপার ঘটে, তার কালকে সাধারণত নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে। যেমন: - সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায় (স্বাভাবিকতা)। - আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই (অভ্যস্ততা)।
• ঐতিহাসিক বর্তমানকাল:অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্য বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে। যেমন: - বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন। [করেন ক্রয়ার বর্তমান কাল নির্দেশ করছে।]
• ঘটমান অতীতকাল: অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন: - মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন। - কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল। - মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২০৫.
'হঠাৎ' কোন পদ?
ক
বিশেষ্য
খ
ক্রিয়া
গ
অব্যয়
ঘ
সর্বনাম
সঠিক উত্তর: গ
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অব্যয়
গ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, • হঠাৎ, - হিন্দি ভাষার শব্দ। - অর্থ অনুসারে অব্যয় ও ক্রিয়াবিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অর্থ: - সহসা, - অকস্মাৎ।
• অব্যয় পদ: ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যেমন: হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২০৬.
গঠন অনুসারে অনুসর্গ কত প্রকার?
ক
২ প্রকার
খ
৩ প্রকার
গ
৪ প্রকার
ঘ
৫ প্রকার
সঠিক উত্তর: ক
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
২ প্রকার
ক
ব্যাখ্যা
গঠন অনুসারে অনুসর্গের শ্রেণিবিভাগ: গঠনের দিক থেকে অনুসর্গ দু প্রকার: ক. বিভক্তিহীন অনুসর্গ ও খ. বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ।
বিভক্তিহীন অনুসর্গ: - কিছু অনুসর্গ গঠনের দিক থেকে বিভক্তিহীন। যেমন: অপেক্ষা, অবধি, কর্তৃক, ছাড়া, দ্বারা, নাগাদ, পর্যন্ত, প্রতি, বিনা, ব্যতীত, মতো। ফারসি অনুসর্গ বিভক্তিহীন দরুন, বনাম, বরাবর, বাবদ।
বিভক্তিযুক্ত অনুসর্গ: - এ জাতীয় অনুসর্গের অধিকাংশই নাম অনুসর্গ'-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন: আগে, পরে, কাছে, কারণে, জন্য, দিকে, নিচে, পাশে, পেছনে, বাইরে, ভেতরে, মধ্যে, মাঝে, সঙ্গে, সাথে, সামনে, সম্মুখে। - ক্রিয়া অনুসর্গগুলো '-ইয়া জাত-এ' বিভক্তিযুক্ত। যেমন-করে, চেয়ে, থেকে, দিয়ে, লেগে, হতে। কোনো কোনো ফারসি অনুসর্গ'-এ' বিভক্তি যোগে গঠিত। যেমন-বদলে, বাদে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২০৭.
"ঝড় শুরু হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।"- কোন কালের উদাহরণ?
ক
পুরাঘটিত বর্তমান
খ
পুরাঘটিত অতীত
গ
সাধারণ বর্তমান
ঘ
সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর: খ
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পুরাঘটিত অতীত
খ
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত: - অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। যেমন - - বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম। - কাজটি কি তুমি করেছিলে?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২০৮.
'রুম ঝুম' কোন ধরনের অব্যয়?
ক
সম্মুচ্চয়ী
খ
অনুকার
গ
অনন্বয়ী
ঘ
অনুসর্গ
সঠিক উত্তর: খ
অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
অনুকার
খ
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়: যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যথা: বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়। বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম। স্রোতের ধ্বনি- কল কল। বাতাসের গতি- শন শন। শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর। নূপুরের আওয়াজ- রুম ঝুম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২০৯.
''এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি'' - বাক্যের ক্রিয়াটি কোন কালের?
ক
ক) সাধারণ বর্তমান
খ
খ) সাধারণ অতীত
গ
গ) পুরাঘটিত অতীত
ঘ
ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
ঘ
ব্যাখ্যা
পূর্বেই শেষ হয়ে যাওয়া কোনো ক্রিয়ার ফল যদি এখনো বর্তমান থাকে তবে তাকে পুরাঘটিত বর্তমান বলে। যেমন, বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম। এ বার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি। সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,২১০.
"সাতাশ হত যদি একশ সাতাশ" বাক্যটি কোন ধরনের অতীত কাল নির্দেশ করে?
ক
সাধারণ অতীত
খ
ঘটমান অতীত
গ
পুরাঘটিত অতীত
ঘ
নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর: ঘ
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
নিত্যবৃত্ত অতীত
ঘ
ব্যাখ্যা
• "সাতাশ হত যদি একশ সাতাশ" বাক্যটি নিত্যবৃত্ত অতীত কাল নির্দেশ করছে।
• নিত্যবৃত্ত অতীত: - অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।
অন্যদিকে, • সাধারণ অতীত কাল: - বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল। যেমন: আগুন নিভে গেল।
• ঘটমান অতীত কাল: - অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন: আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
• পুরাঘটিত অতীত কাল: - যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়। যেমন: সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২১১.
কোনটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ?
ক
চলন্ত ট্রেনে উঠা বারণ।
খ
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
গ
সবুজ মাঠে বাচ্চারা খেলছে।
ঘ
নীল আকাশের নিচে বসে আছি।
সঠিক উত্তর: খ
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
খ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ: - যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ: - ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়। - লোকটি ধীরে হাঁটে। - যথাসময়ে সে হাজির হয়। এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২১২.
পুরাঘটিত বর্তমানকালের বিশেষ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
ক
দুই আর দুয়ে চার হয়।
খ
কাল হরতাল হয় কিনা দেখা যাক।
গ
দেখ কী করতে পারি।
ঘ
সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
সঠিক উত্তর: ঘ
সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে।
ঘ
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমানের বিশেষ প্রয়োগ: • অতীত সময় বোঝাতে: - দশ বছর হলো তার বাবা মারা গেছেন। - গত মাসে তাকে ঢাকায় দেখেছি।
• ভবিষ্যৎ সময় বোঝাতে: - সেও এসেছে আর তোমারও যাওয়া হয়েছে। - সে আগামীকাল কানাডা যাচ্ছে, আর ফিরছে না।
• অনুমতি গ্রহণ: যাচ্ছি তাহলে।
অন্যদিকে, ---------------- সাধারণ বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ: • চিরন্তন সত্য প্রকাশে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল হয়। যেমন- দুই আর দুয়ে চার হয়। • বক্তাপক্ষ অনুজ্ঞায়: দেখ কী করতে পারি। • অনুমতি প্রার্থনায়: এবার তবে আসি। • অব্যবহিত ভবিষ্যৎ বোঝাতে: কাল হরতাল হয় কিনা দেখা যাক। ওষুধটা কোথায় পাওয়া যায় তা ভালো করে জেনে আসবি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২১৩.
কারণ যোজকের উদাহরণ কোনটি?
ক
ক) চা না-হয় কফি খান।
খ
খ) বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
গ
গ) যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
ঘ
ঘ) যদি রোদ উঠে, তবে রওনা দিব।
সঠিক উত্তর: খ
খ) বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
খ
ব্যাখ্যা
যোজক: - পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে। - যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।
যোজকের প্রকারভেদ: বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- সাধারন যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে। - বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান। - বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না । - কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে। - সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২১৪.
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ কোনটি?
ক
কোথাও
খ
যথাসময়ে
গ
সামনে
ঘ
কি
সঠিক উত্তর: খ
যথাসময়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
যথাসময়ে
খ
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: - এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। যেমন: - যথাসময়েসে হাজির হয়। - আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
অন্যদিকে, স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: - ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। যেমন: - মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: - বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন: - কি: আমি কি যাব? - যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২১৫.
কোন কোন পদের পুরুষ আছে?
ক
ক) বিশেষ্য, সর্বনাম ও অব্যয়
খ
খ) বিশেষ্য, বিশেষণ ও অব্যয়
গ
গ) বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া
ঘ
ঘ) বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়া
ঘ
ব্যাখ্যা
'পুরুষ' একটী পারিভাষিক শব্দ। - বাংলা ব্যাকরণে কেবলমাত্র বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদেরই পুরুষ আছে। - বিশেষণ ও অব্যয়ের কোন পুরুষ নাই।
পুরুষ তিন প্রকার।যথা- উত্তম পুরুষ - আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি মধ্যম পুরুষ - তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনি, আপনারা ইত্যাদি মধ্যম পুরুষ। নাম পুরুষ - সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁরা ইত্যাদি নাম পুরুষ। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
১,২১৬.
‘আপনা আপনি’ কোন শ্রেণির সর্বনাম?
ক
সংযোগজ্ঞাপক
খ
অন্যাদিবাচক
গ
ব্যতিহারিক
ঘ
আত্মবাচক
সঠিক উত্তর: গ
ব্যতিহারিক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ব্যতিহারিক
গ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর - গ) ব্যতিহারিক সর্বনাম।
সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়: - ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক - আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি। - আত্মবাচক - স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি। - সামীপ্যবাচক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি। - দূরত্ববাচক - ঐ, ঐসব। - সাকুল্যবাচক - সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ। - প্রশ্নবাচক - কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে? - অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক - কোন, কেহ, কেউ, কিছু। - ব্যতিহারিক - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর, ইত্যাদি। - সংযোগজ্ঞাপক - যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা, ইত্যাদি। - অন্যাদিবাচক - অন্য, অপর, পর, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২১৭.
দুইয়ের মধ্যে অতিশায়ন বুঝাতে কোন শব্দটি ব্যবহার করতে হয়?
ক
ক) কোনটিই নয়
খ
খ) অপেক্ষা
গ
গ) সবচেয়ে
ঘ
ঘ) সর্বাপেক্ষা
সঠিক উত্তর: খ
খ) অপেক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) অপেক্ষা
খ
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে তুলনা বুঝাতে চাইতে, চেয়ে, থেকে, হইতে, হতে, অপেক্ষা ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। অনেকের মধ্যে উপকর্ষ বা অপকর্ষ বুঝাতে মুল বিশেষণের কোন পরিবর্তন হয় না। মূল বিশেষণের পূর্বে সবচাইতে, সবচেয়ে, সব থেকে, সর্বাপেক্ষা প্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,২১৮.
’এ ব্যক্তিটি আমার চেনা লোক’- বাক্যে ’চেনা’ কোন পদ?
ক
বিশেষ্য
খ
অব্যয়
গ
বিশেষণ
ঘ
সর্বনাম
সঠিক উত্তর: গ
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বিশেষণ
গ
ব্যাখ্যা
’এ ব্যক্তিটি আমার চেনা লোক’- বাক্যে ’চেনা’ বিশেষণ পদ।
• বিশেষণ: ⇒ যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। যেমন : সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।
⇒ বিশেষণ এর বিভিন্ন প্রকার: ১. বর্ণবাচক: - যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ। - ২. গুণবাচক: - যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ। - ৩. অবস্থাবাচক: - যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ। ৪. ক্রমবাচক: - যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে। যেমন এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ। ৫. পূরণবাচক: - যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ। ৬. পরিমাণবাচক: - যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন - আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ। ৭. উপাদানবাচক: - যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন-বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
১,২১৯.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে কোন ক্রিয়াপদ গঠিত হয়?
ক
প্রযোজক ক্রিয়া
খ
সরল ক্রিয়া
গ
সংযোগ ক্রিয়া
ঘ
যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: ঘ
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
যৌগিক ক্রিয়া
ঘ
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া: একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়,তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন: - তামিম সময়মতো স্টেশনে পৌঁছে গেল। - সাইরেন বেজে উঠল। - সে আমার কথা শুনে হেসে উঠল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২২০.
ক্রিয়ার কোন কালের কোনো অনুজ্ঞা হয় না?
ক
বর্তমান কালে
খ
ভবিষ্যৎ কালে
গ
অতীত কালে
ঘ
কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ
অতীত কালে
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অতীত কালে
গ
ব্যাখ্যা
• অতীত কালে অনুজ্ঞা হয় না। ------------ অনুজ্ঞা: আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে।
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা: যেমন: - তোমরা কাজ করো। - রোহান লিখুক। - মিথ্যা কথা বলো না। - অঙ্কটা বুঝিয়ে দেবেন? - আমাকে তুমি রক্ষা করো, প্রভু। - আদেশ করুন জাহাপনা।
অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা: যেমন: - সব সময় সত্যি বলবে। - বড় হও, বুঝতে পারবে। - অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২২১.
"সুন্দর মানুষকে নিজের দিকে টানে” বাক্যটিতে 'সুন্দর' শব্দটি কোন পদ?
ক
বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
সর্বনাম
ঘ
অব্যয়
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য
ক
ব্যাখ্যা
যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে। যেমন- - সুন্দর (বিশেষ্য) মানুষকে নিজের দিকে টানে। - সুন্দর (বিশেষ্য) মাত্রেরই একটা আকর্ষণ শক্তি আছে। - সুন্দরের (বিশেষ্য) একটি নিজস্ব আকর্ষণ শক্তি আছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২২২.
জাতিবাচক বিশেষ্য কোনটি?
ক
পর্বত
খ
মাটি
গ
পানি
ঘ
খাতা
সঠিক উত্তর: ক
পর্বত
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
পর্বত
ক
ব্যাখ্যা
• জাতিবাচক বিশেষ্য: যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
অন্যদিকে, ------------------ • বস্তুবাচক বিশেষ্য: যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১,২২৩.
‘ধীরে ধীরে বায়ু বয়’ বাক্যটিতে কিসের প্রয়োগ ঘটেছে?
ক
ক) ক্রিয়া বিশেষণ
খ
খ) বিশেষণের বিশেষণ
গ
গ) অব্যয়ের বিশেষণ
ঘ
ঘ) বাক্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ক
ক) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) ক্রিয়া বিশেষণ
ক
ব্যাখ্যা
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যথা- ক্রিয়া সংঘঠনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়। ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
১,২২৪.
"শরতের পর আসে বসন্ত।" - এখানে 'পর' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
ক
স্বল্প বিরতি অর্থে
খ
দীর্ঘ বিরতি অর্থে
গ
পর্যন্ত অর্থে
ঘ
বিরুদ্ধগামিতা অর্থে
সঠিক উত্তর: খ
দীর্ঘ বিরতি অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
দীর্ঘ বিরতি অর্থে
খ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গের প্রয়োগ:
যেমন: অবধি: পর্যন্ত অর্থে – সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করব। পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে – এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না। পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে - শরতের পরে আসে বসন্ত। মতে: ন্যায় অর্থে – বেকুবের মতো কাজ করো না। তরে: মত অর্থে – এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম। পক্ষে: সক্ষমতা অর্থে – রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২২৫.
'দুবলারচর বঙ্গোপসাগরের একটি চর।' - বাক্যে 'বঙ্গোপসাগর' কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
ক
গুণ-বিশেষ্য
খ
বস্তু-বিশেষ্য
গ
জাতি-বিশেষ্য
ঘ
নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর: ঘ
নাম-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
নাম-বিশেষ্য
ঘ
ব্যাখ্যা
• 'দুবলারচর বঙ্গোপসাগরের একটি চর।' - বাক্যে 'বঙ্গোপসাগর' নাম-বিশেষ্যের উদাহরণ।
অন্যদিকে: বস্তু-বিশেষ্য: - কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: - ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
জাতি-বিশেষ্য: - জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। - এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: - মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।
গুণ-বিশেষ্য: - গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: - সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
উৎস: ১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। ২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২২৬.
নিচের কোনটি উভয়লিঙ্গ শব্দ?
ক
ক) চেয়ার
খ
খ) পিতা
গ
গ) সন্তান
ঘ
ঘ) রানি
সঠিক উত্তর: গ
গ) সন্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) সন্তান
গ
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গ চার প্রকার। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে ক) পুংলিঙ্গ খ) স্ত্রীলিঙ্গ গ) ক্লীবলিঙ্গ ও ঘ) উভয়লিঙ্গ
উভয়লিঙ্গ: যেসব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ উভয়ই বোঝায় তাদেরকে উভয়লিঙ্গ বলে, উভয়লিঙ্গের উদাহরণ- সন্তান, শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, কবি ইত্যাদি।
'সন্তান' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়। তাই 'সন্তান' শব্দটি উভয় লিঙ্গ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২২৭.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
ক
বুনো
খ
লাজ
গ
লজ্জাকর
ঘ
লাজুক
সঠিক উত্তর: খ
লাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
লাজ
খ
ব্যাখ্যা
• 'লাজ' শব্দটি বিশেষ্য পদ। শব্দের অর্থ: - লজ্জা সরম।
সকর্মক ক্রিয়া: - যে ক্রিয়া পদের কর্ম থাকে তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। বাক্যের ক্রিয়াকে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মপদ। কর্মযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন: - মা ভাত রান্না করছেন। - এ বাক্যে ক্রিয়াপদ হচ্ছে 'রান্না করছেন'। প্রশ্ন: কী রান্না করছেন? উত্তর: ভাত। - অতএব 'রান্না করছেন' ক্রিয়া পদটির কর্ম হচ্ছে 'ভাত'। 'রান্না করছেন' সকর্মক ক্রিয়া।
এরূপ: - আমি টিফিন খেয়েছি। - মাখন রায় গান গাচ্ছে।
অন্যদিকে, অকর্মক ক্রিয়া: - যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: সৌরভ পড়ে। - সৌরভ কী পড়ে? – এ প্রশ্নের উত্তর নেই। অর্থাৎ এ বাক্যে 'পড়ে' ক্রিয়াপদের কোনো কর্ম নেই। তাই 'পড়ে' অকর্মক ক্রিয়া।
অনুরূপ, মাখন রায় গানে মজেছে। আমি টিফিনে খেয়েছি।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২২৯.
‘তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।’- এখানে ‘অতএব’ কোন পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
অনুসর্গ
খ
সর্বনাম
গ
যোজক
ঘ
আবেগ
সঠিক উত্তর: গ
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
যোজক
গ
ব্যাখ্যা
• যোজক: যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়। যেমন: - এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে? - ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে। - যত গর্জে তত বর্ষে না। - যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব। - তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন। - তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।
• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৩০.
আমরা আগামী মাসে ভারত যাচ্ছি। - বাক্যটিতে কোন কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে?
ক
ক) সাধারণ ভবিষ্যত
খ
খ) ঘটমান বর্তমান
গ
গ) অনুজ্ঞা ভবিষ্যত
ঘ
ঘ) সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর: খ
খ) ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) ঘটমান বর্তমান
খ
ব্যাখ্যা
• আমরা আগামী মাসে ভারত যাচ্ছি। - বাক্যটিতে ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটেছে।
ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ।
• ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ-ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ঘটমান বর্তমান। - আগামী মাসে আমরা ভারত যাচ্ছি।
• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ- ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ। - তােমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়ােগ - ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত। - শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৩১.
“সেতার” এর সে কোন অর্থ দ্যোতনা করে?
ক
ক) তার
খ
খ) অনেক
গ
গ) প্রত্যেক
ঘ
ঘ) সকল
ঙ
ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ
খ) অনেক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) অনেক
খ
ব্যাখ্যা
- সেতার উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে ব্যবহূত বাদ্যযন্ত্রগুলির মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। আমির খসরু এর উদ্ভাবক। - সেতার ত্রিতন্ত্রী বীণার উন্নত সংস্করণ। পারস্য ভাষায় ‘সে’ মানে ‘তিন’; তিনটি তারের সমন্বয়ে তৈরি বলে আমির খসরু এর নামকরণ করেন সেতার। প্রাচীনকালে সেতার তিনটি তার সহযোগে বাজানো হতো, কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর রূপ পাল্টাতে থাকে। - বর্তমান সেতারে তিনটির পরিবর্তে আঠারোটি পর্যন্ত তার ব্যবহার করা হয়। তাই এটি 'অনেক' অর্থের দ্যাতনা করছে।
• “আছ তুমি প্রভু জগৎ মাঝারে” বাক্যে ‘মাঝারে’ শব্দটি ব্যাপ্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'মাঝারে' অনুসর্গটির অর্থবোধকতা: - এই বাক্যে ‘মাঝারে’ অনুসর্গটি শুধু স্থান নির্দেশ করছে না, বরং বিস্তৃতভাবে জগৎ জুড়ে ব্যাপ্তি বোঝাচ্ছে। - এটি কেবল ‘জগৎ’ শব্দের মধ্যে বা ভিতরে থাকার অর্থ বোঝায় না, বরং প্রভুর উপস্থিতি এবং ক্ষমতা দ্বারা জগৎকে সর্বত্র পরিবেষ্টিত বা আবৃত করা বোঝায়। - অর্থাৎ, প্রভু জগৎ জুড়ে বিরাজমান আছেন। - সাধারণ অর্থে ‘মাঝারে’ মানে ‘মধ্যে’ বা ‘ভিতরে’ বুঝায়। - যেমন – ‘ঘরে মাঝারে’ মানে ‘ঘরের ভিতরে’। - কিন্তু এখানে ‘জগৎ মাঝারে’ বলতে বোঝায় জগৎ নামক বিশাল পরিসরের সর্বত্র, অর্থাৎ বিস্তৃত বা ব্যাপক অবস্থান।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১,২৩৩.
অনুসর্গের অপর নাম-
ক
ধাতু
খ
বিশেষ্য
গ
ক্রিয়া
ঘ
কর্মপ্রবচনীয় শব্দ
সঠিক উত্তর: ঘ
কর্মপ্রবচনীয় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
কর্মপ্রবচনীয় শব্দ
ঘ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গের অপর নাম কর্মপ্রবচনীয় শব্দ।
• অনুসর্গ ও কর্মপ্রবচনীয়: - অনুসর্গ হলো একটি অব্যয়। - এটি বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে বাক্যে সম্পর্ক এবং অর্থ স্পষ্ট করতে সাহায্য করে। - এটি নিজস্ব অর্থ পরিবর্তন করে না এবং বাক্যে স্বাধীনভাবে ব্যবহার হয় না। - অনুসর্গ বিভক্তির মতো কাজ করে। - এটি পদের কারক সম্পর্ক নির্ধারণে সাহায্য করে। - তবে বিভক্তির মতো শব্দের শেষে যুক্ত না হয়ে, অনুসর্গ পদের পরে আলাদাভাবে বসে সেই সম্পর্ক তৈরি করে। - এই কারণে অনুসর্গকে কর্মপ্রবচনীয় শব্দ বলা হয়। - কারণ এটি কাজ সম্পাদন করে (কর্ম) এবং বাক্যে পদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। • উদাহরণ: - “তিনি বইয়ের দ্বারা পড়ছেন” → ‘দ্বারা’ শব্দটি বইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে করণ কারক বোঝাচ্ছে। - “আমি বাড়ি থেকে এলাম” → ‘থেকে’ শব্দটি বাড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপাদান কারক বোঝাচ্ছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১,২৩৪.
'এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করেছে?
ক
সাধারণ বর্তমান
খ
নিত্যবৃত্ত অতীত
গ
ঘটমান ভবিষ্যৎ
ঘ
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
সঠিক উত্তর: খ
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
নিত্যবৃত্ত অতীত
খ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীতকাল: বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল। যেমন: - তিনি রাড়ি গেলেন, রাফি এসেছিল ইত্যাদি।
• নিত্যবৃত্ত অতীতকাল: অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে। যেমন: - আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।
নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ: • ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো। • কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'। • সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো। • ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না। • অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম। • নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।
• ঘটমান অতীতকাল: অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন: - মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন। - কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল। - মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
• পুরাঘটিত অতীতকাল: যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। যেমন: - সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ: • অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল। • অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,২৩৫.
'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি।' - বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি কোন পদ?
ক
বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
অব্যয়
ঘ
ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: খ
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
বিশেষণ
খ
ব্যাখ্যা
'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি 'বিশেষণ' পদ।
বিশেষণ: - যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।
তেমনি, - নিশীত রাত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
১,২৩৬.
‘যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে তারাই তো সত্যিকারের বীরপুরুষ’। এখানে ‘তারাই’ কোন পদ?
ক
ক) বিশেষ্য
খ
খ) সর্বনাম
গ
গ) বিশেষণ
ঘ
ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর: খ
খ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) সর্বনাম
খ
ব্যাখ্যা
- বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে। - সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ। - যেমন: হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রাণী। তার শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তুপ।(এখানে তার হচ্ছে সর্বনাম পদ)। - বিশেষ্য পদ অনুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হতে পারে। - যেমন: যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে, তারা তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। (এখানে তারা হচ্ছে সর্বনাম পদ)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩৭.
'চৌকস লোক' বাক্যে 'চৌকস' শব্দটি কোন ধরনের বিশেষণ?
ক
গুণবাচক
খ
অবস্থাবাচক
গ
রূপবাচক
ঘ
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
সঠিক উত্তর: ক
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
গুণবাচক
ক
ব্যাখ্যা
• নাম বিশেষণ: - যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২৩৮.
নিচের কোনগুলি সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
ক
ক) আকাশ, বই
খ
খ) নদী, ছাগল
গ
গ) আনন্দ, দীনতা
ঘ
ঘ) মিছিল, পরিবার
সঠিক উত্তর: খ
খ) নদী, ছাগল
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) নদী, ছাগল
খ
ব্যাখ্যা
‘নদী, ছাগল’ সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ । সাধারণ-বিশেষ্য: জাতি বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
- আকাশ, বই বস্তু-বিশেষ্য এর উদাহরণ । - আনন্দ, দীনতা গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ । - মিছিল, পরিবার সমষ্টি - বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নমব-দশম শ্রেণি)
১,২৩৯.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
ক
কথা দেওয়া
খ
দোষ দেওয়া
গ
সরে দাঁড়ানো
ঘ
মন দেওয়া
সঠিক উত্তর: গ
সরে দাঁড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
সরে দাঁড়ানো
গ
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া: - অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন - - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৪০.
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা বলতে বোঝায়, ভবিষ্যৎ কালের -
ক
প্রার্থনা
খ
আমন্ত্রণ
গ
আশীর্বাদ
ঘ
উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর: ঘ
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
উপরের সবগুলোই
ঘ
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ: যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে। যেমন - - বড় হও, বুঝতে পারবে। - সব সময় সত্যি বলবে। - খোকা সময়মতো খেয়ো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৪১.
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে কী বলে?
ক
ভাববাচক বিশেষ্য
খ
বস্তুবাচক বিশেষ্য
গ
জাতিবাচক বিশেষ্য
ঘ
সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর: গ
জাতিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
জাতিবাচক বিশেষ্য
গ
ব্যাখ্যা
পদ: - বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দই অপর কোনো বর্ণ বা বর্ণসমষ্টির সাথে যুক্ত হয়ে রূপান্তর লাভ করে পদে। - শব্দের সাথে এরূপ বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যোগ হলে এগুলোকে বলা হয় বিভক্তি। - বিভক্তিযুক্ত শব্দই পদ। - বাক্যে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি শব্দই এক একটি পদ (Parts of speech)। - সহজভাবে বলা যায়, বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে।
পদের প্রকারভেদ: - পদ প্রধানত দুই প্রকার: অব্যয় ও সব্যয়। - সব্যয় পদ চার প্রকার : ১. বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া। - সুতরাং পদ মোট পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়।
বিশেষ্য পদ: - কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। - বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে। - বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা-
১. সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য (Proper Noun): যে পদ দ্বারা ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নাম বাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- • ব্যক্তির নাম: সারা, কনিকা, শিলা, মাসুদ, দেলোয়ার প্রভৃতি। • ভৌগোলিক অস্থানের নাম: কিশোরগঞ্জ, পটুয়াখালী, ঢাকা, আমেরিকা, লন্ডন প্ৰভৃতি। • ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি): করতোয়া, মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর প্রভৃতি। • গ্রন্থের নাম: কৃষ্ণকুমারী, অগ্নি-বীণা, গীতাঞ্জলি, পথের দাবী, সঞ্চিতা, সঞ্চয়িতা, বিশ্বনবী প্রভৃতি।
২. জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun): - যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, পর্বত, নদী, ইংরেজ প্রভৃতি।
৩. বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য (Material Noun): - যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা— বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, পানি, লবণ প্রভৃতি।
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun): - যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা–ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা— সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
৫. ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun): - যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ = গমন। তদ্রুপ : ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি। আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর ‘আই’ প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। √ চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।
৬. গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun): - যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। তদ্রুপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪২.
'এখন যেতে পার।' এখানে 'যেতে পার' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
ক
মিশ্র ক্রিয়া
খ
প্রযোজক ক্রিয়া
গ
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
ঘ
যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: ঘ
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
যৌগিক ক্রিয়া
ঘ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া: একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন : - ঘটনাটা শুনে রাখ। - তিনি বলতে লাগলেন। - সাইরেন বেজে উঠল।
আরো কিছু যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ: - নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন। - কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। - অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে। - অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার। - এগুলো সব হলো যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২৪৩.
"আজ বাজারে গিয়ে তাজা সবজি কিনলাম।" এখানে তাজা কোন ধরনের বিশেষণ?
অকর্মক ক্রিয়া: - যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: স্বপন লিখছে। কাঞ্চন পড়ছে। আ মি টিফিনে খেয়েছি।
অন্যদিকে, সকর্মক ক্রিয়া: - যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: স্বপন চিঠি লিখছে। কাঞ্চন বই পড়ছে। রহিম বই পড়ে। ছেলেটি কথা শোনে। মেয়েটি গান গাচ্ছে।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২৪৬.
অসমাপিকা ক্রিয়া কয় ধরনের?
ক
ক) দুই
খ
খ) তিন
গ
গ) চার
ঘ
ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর: খ
খ) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) তিন
খ
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে। এখানে 'ভালাে করে পড়াশােনা করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়া।
একইভাবে, 'যত্ন করলে রত্ম মিলে'- এখানে 'করলে' অসমাপিকা ক্রিয়া।
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: ১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা। যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়। ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়। শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)
১,২৪৭.
দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে - ‘দুর্ভাগ্যক্রমে’ কোন প্রকারের বিশেষণ?
ক
ক) ক্রিয়া বিশেষণ
খ
খ) অব্যয়ের বিশেষণ
গ
গ) বিশেষণীয় বিশেষণ
ঘ
ঘ) বাক্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বাক্যের বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বাক্যের বিশেষণ
ঘ
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিশেষণ : কখনো কখনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে। যেমন : দুভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অব্যয়ের বিশেষণ : যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন: ধিক্ তারে,শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৮.
শরীফ বললেন, "চারদিকে আগুন জ্বলছে।" বাক্যটি কোন কাল নির্দেশ করছে?
ক
পুরাঘটিত বর্তমান
খ
সাধারণ বর্তমান
গ
ঘটমান বর্তমান
ঘ
কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ঘটমান বর্তমান
গ
ব্যাখ্যা
• শরীফ বললেন, "চারদিকে আগুন জ্বলছে।"বাক্যটি ঘটমান বর্তমান নির্দেশ করছে।
• ঘটমান বর্তমান কাল: - যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়। যথা- হাসান বই পড়ছে। নীরা গান গাইছে।
• ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ: • বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়। যথা-বক্তা বললেন, "শত্রুর অত্যাচারে দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।" • ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে: চিন্তা করো না, কালই আসছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২৪৯.
অতীত কালে প্রায় ঘটতো এমন বুঝালে, তাকে বলা হয়-
ক
ক) সাধারণ অতীত
খ
খ) ঘটমান অতীত
গ
গ) পুরাঘটিত অতীত
ঘ
ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ঘ
ব্যাখ্যা
• নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে প্রায় ঘটতো এমন বুঝালে, তাকে বলে, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন: - আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমন করতাম। - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম। - তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
অতীত কাল চার প্রকার যথা: • সাধারণ অতীত: বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটনই সাধারণ অতীত কাল। যেমন: প্রদীপ নিভে গেল। শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
• নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন: আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমন করতাম।
• ঘটমান অতীত: অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন: কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল। আমরা তখন বই পড়ছিলাম। বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
• পুরাঘটিত অতীত: যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়। যেমন : সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম। কাজটি কি তুমি করেছিলে?
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্বনিদ্যালয়।
উল্লেখ্য - নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বোর্ড বই (২০২১-২২ সংস্করণ) থেকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান বাদ দেয়া হয়েছে।
১,২৫০.
নিচের কোন বাক্যে ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
যথা: ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়। সে গল্প শুনে মজা পায়। ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়। শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫১.
’তারা মাঠে খেলছিল।’-বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
ক
সাধারণ অতীত
খ
ঘটমান অতীত
গ
পুরাঘটিত অতীত
ঘ
নিত্য অতীত
সঠিক উত্তর: খ
ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ঘটমান অতীত
খ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীত: - অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে। যেমন- - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
• ঘটমান অতীত: - যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে। যেমন- - তারা মাঠে খেলছিল।
• পুরাঘটিত অতীত: - অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। যেমন- - খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
• নিত্য অতীত: - অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়। যেমন- - খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম। - তিনি রোজ সকালে বাগানে পানি দিতেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,২৫২.
"মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এ বাক্যে কী ধরনের অব্যয় রয়েছে?
ক
অনুকার
খ
সমুচ্চয়ী
গ
অনুসর্গ
ঘ
অনন্বয়ী
সঠিক উত্তর: ঘ
অনন্বয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
অনন্বয়ী
ঘ
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়: - যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। - অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে। যেমন: - মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।
অন্যদিকে, অনুকার অব্যয়: - যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
• সমুচ্চয়ী অব্যয়: - যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। - সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার। যেমন: - 'লেখাপড়া কর নতুবা ফেল করবে' বাক্যের ‘নতুবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।
• অনুসর্গ/ পদান্বয়ী অব্যয়: - যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে। - যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫৩.
সমুচ্চয়ী অব্যয় কত প্রকার?
ক
ক) তিন
খ
খ) পাঁচ
গ
গ) দুই
ঘ
ঘ) ছয়
সঠিক উত্তর: ক
ক) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) তিন
ক
ব্যাখ্যা
সমুচ্চয়ী অব্যয় : যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার। যথাঃ সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক।
সংযোজক অব্যয় : ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়। খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়। বিয়োজক অব্যয় : ক. হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়। খ. আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। ‘কিন্তু’ অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়। সংকোচক অব্যয় : তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৫৪.
কোনটি অনুসর্গ পদের দৃষ্টান্ত?
ক
যত-তত
খ
স্বয়ং-খোদ
গ
অপেক্ষা-পর্যন্ত
ঘ
তবু-তাই
সঠিক উত্তর: গ
অপেক্ষা-পর্যন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অপেক্ষা-পর্যন্ত
গ
ব্যাখ্যা
• অপেক্ষা-পর্যন্ত শব্দ দুটি অনুসর্গ পদের উদাহরণ।
• অনুসর্গ: যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে। যেমন: - রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে। - কোন পর্যন্ত পড়েছ? [উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,২৫৫.
”বেলে মাটি”-বাক্যটিতে 'বেলে' কোন জাতীয় বিশেষণ?
ক
বর্ণবাচক
খ
উপাদানবাচক
গ
গুণবাচক
ঘ
অবস্থাবাচক
সঠিক উত্তর: খ
উপাদানবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
উপাদানবাচক
খ
ব্যাখ্যা
• উপাদানবাচক বিশেষণ: - যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে। যেমন - বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি - এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।
অন্যদিকে, • বর্ণবাচক বিশেষণ: - যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন - নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা এখানে 'নীল', 'সবুজ' বা 'লাল' হলো বর্ণবাচক বিশেষণ।
• গুণবাচক বিশেষণ: - যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন - চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।
• অবস্থাবাচক বিশেষণ: - যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন: - চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
১,২৫৬.
কোন পদ সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়?
ক
অব্যয় পদ
খ
সর্বনাম পদ
গ
ক্রিয়াপদ
ঘ
কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক
অব্যয় পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
অব্যয় পদ
ক
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ: অব্যয় শব্দের অর্থ “ন ব্যয়,” অর্থাৎ যার কোনো ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না। অব্যয় পদ হচ্ছে সেই শব্দসমূহ, যেগুলো বাক্যে অপরিবর্তনীয় থেকে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
অব্যয়ের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: • অব্যয় পদগুলো অপরিবর্তনীয়, অর্থাৎ এই শব্দগুলোর কোনো রূপান্তর ঘটে না। • এসব শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না এবং এর একবচন বা বহুবচন নেই। • অব্যয় পদে কোনো পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক পার্থক্য থাকে না। • অব্যয় শব্দ সাধু ও চলিত উভয় রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয়। • অব্যয় পদ বাক্যে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে। কখনো বাক্যের শোভা বৃদ্ধি করে, আবার কখনো বাক্যের বিভিন্ন অংশের সংযোগ বা বিয়োগ ঘটায়।
উদাহরণ: - “তবু,” “যদি,” “অবশ্য,” “কিন্তু,” “যেমন,” ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫৭.
'এ, এই, এরা' - কোন ধরনের সর্বনাম?
ক
অনির্দিষ্ট
খ
আত্মবাচক
গ
নির্দেশক
ঘ
সাপেক্ষ
সঠিক উত্তর: গ
নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
নির্দেশক
গ
ব্যাখ্যা
নির্দেশক সর্বনাম: - যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
অন্যদিকে, সাপেক্ষ সর্বনাম: - পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন: - যারা-তারা, যে-সে। যেমন: - তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম: - অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন: - কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।
আত্মবাচক সর্বনাম: - কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন: - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৫৮.
সব্যয় পদ কয় প্রকার?
ক
২ প্রকার
খ
৩ প্রকার
গ
৪ প্রকার
ঘ
৫ প্রকার
সঠিক উত্তর: গ
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
৪ প্রকার
গ
ব্যাখ্যা
সব্যয় পদ চার প্রকার। যথা- ১. বিশেষ্য ২. বিশেষণ ৩. সর্বনাম ৪. ক্রিয়া সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১,২৫৯.
রাম রায় এত বিদ্বান অথচ এতটুকু অহংকার নেই। রেখা চিহ্নিত শব্দটি কোন ধরনের অব্যয় নির্ণয় করুন?
ক
সমুচ্চয়ী
খ
অনন্বয়ী
গ
সমুচ্চয়ী বিয়োজক
ঘ
সমুচ্চয়ী সংকোচক
সঠিক উত্তর: ঘ
সমুচ্চয়ী সংকোচক
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
সমুচ্চয়ী সংকোচক
ঘ
ব্যাখ্যা
• রাম রায় এত বিদ্বান অথচ এতটুকু অহংকার নেই। রেখা চিহ্নিত শব্দটি - সমুচ্চয়ী সংকোচক অব্যয়।
সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে। যেমন: - 'লেখাপড়া কর নতুবা ফেল করবে' বাক্যের ‘নতুবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।
সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার। যথা: • বিয়োজক অব্যয়: মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন। এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।
• সংযোজক অব্যয়: ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়। খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।
• সংকোচক অব্যয়: - তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং - শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬০.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদের উদাহরণ?
ক
বিশ্বস্ত
খ
বিশ্বাসী
গ
বিশ্বাস
ঘ
বিশ্বাস্য
সঠিক উত্তর: গ
বিশ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বিশ্বাস
গ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদের উদাহরণ - বিশ্বাস। - এটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
• বিশেষ্য পদ: কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
• ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun): যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন। তদ্রুপ: ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।
- আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর 'আই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।
• গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun): যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা। তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬২.
‘চার আর তিনে সাত হয়’ - বাক্যে কোন কালের ক্রিয়া আছে?
ক
পুরাঘটিত বর্তমান
খ
সাধারণ অতীত
গ
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ঘ
নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর: গ
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
গ
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল: - বস্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে। যথা - - সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)। - আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)।
নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ: (১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে:চার আর তিনে সাত হয়।
(২) ঐতিহাসিক বর্তমান: - অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে। যেমন - - বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।
(৫) 'যদি', 'যখন', 'যেন' প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়। যেমন - - বৃষ্টি যদি আসে, আমি বাড়ি চলে যাব। - সকলেই যেন সভায় হাজির থাকে। - বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬৩.
নিম্নলিখিত কোন বাক্যে ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ রয়েছে?
ক
আশেপাশের পরিবেশটা সুন্দর।
খ
ইশরাক ভালো মানুষ।
গ
জায়গাটা সংকীর্ণ।
ঘ
জেট বিমান খুব দ্রুত চলে।
সঠিক উত্তর: ঘ
জেট বিমান খুব দ্রুত চলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
জেট বিমান খুব দ্রুত চলে।
ঘ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণীয় বিশেষণ: - যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। যেমন:
• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো: - সামান্য একটু দুধ দাও। - এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: - রকেট অতি দ্রুত চলে।
------------- • প্রশ্নের বাক্যটি - জেট বিমান খুব দ্রুত চলে। এখানে "খুব" হলো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ, কারণ এটি "দ্রুত" ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করছে।
অন্যদিকে, ক) "আশেপাশের পরিবেশটা সুন্দর।" এখানে "সুন্দর" একটি বিশেষণ (adjective) যা পরিবেশ শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি কোনো ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এটি সরাসরি একটি বিশেষণ।
গ) "ইশরাক ভালো মানুষ।" এখানে "ভালো" একটি বিশেষণ। এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ বা ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নেই।
ঘ) "জায়গাটা সংকীর্ণ।" এখানে "সংকীর্ণ" একটি বিশেষণ (adjective) যা জায়গা শব্দটিকে বর্ণনা করছে। এটি ক্রিয়া বিশেষণের বিশেষণ নয়, কারণ এখানে কোনো ক্রিয়া বিশেষণ নেই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬৪.
'মানুষ হও' কাব্যটিতে রয়েছে
ক
অনুনয়
খ
আদেশ
গ
অনুরোধ
ঘ
উপদেশ
সঠিক উত্তর: ঘ
উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
উপদেশ
ঘ
ব্যাখ্যা
• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও।
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা। - আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে। - এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।
যেমন: - সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে। - উপদেশ - মানুষ হও। - প্রার্থনায় - সুখী হও। - অনুরোধে - কাল দেখা করো।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৫.
কোন পদের আগে 'অজস্র' বসালে বহুবচন হয়?
ক
ক) সর্বনাম
খ
খ) বিশেষণ
গ
গ) বিশেষ্য
ঘ
ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: গ
গ) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) বিশেষ্য
গ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কেবল সর্বনাম ও বিশেষ্য পদের বচনভেদ রয়েছে। 'অজস্র' শব্দটি বিশেষণ যার অর্থ অসংখ্য। 'অজস্র' শব্দটি 'বিশেষ্য' পদের পূর্বে বসে। যেমন: অজস্র পাখি উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,২৬৬.
নিচের কোনটি পরিমাণবাচক বিশেষণ নির্দেশ করে?
ক
আধা
খ
তরল
গ
কঠিন
ঘ
ঘোলা
সঠিক উত্তর: ক
আধা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
আধা
ক
ব্যাখ্যা
বিশেষণ: - যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে। - যেমন: সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা।
♣ বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ: ১. বর্ণবাচক: - রং নির্দেশ করা হয়। যেমন: কালো, নীল, সবুজ, লাল। ২. গুণবাচক: - গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়। যেমন: চালাক, ঠান্ডা। ৩. অবস্থাবাচক: - অবস্থা বোঝায়। যেমন: তাজা, রোগা, চলন্ত, তরল, কঠিন। ৪. ক্রমবাচক: - ক্রমসংখ্যা বোঝায়। যেমন: এক, আট। ৫. পূরণবাচক: - পূরণসংখ্যা বোঝায়। যেমন: তৃতীয়, ৩৪তম। ৬. পরিমাণবাচক: - পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়। যেমন: আধা, অনেক। ৭. উপাদানবাচক: - উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে, পাথুরে। ৮. প্রশ্নবাচক: -প্রশ্নঝচকতা নির্দেশিত হয়। যেমন: কেমন, কতক্ষণ। ৯. নির্দিষ্টবাচক: - বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন: এই, সেই। ১০. ভাববাচক: -বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে। যেমন: খুব, বেশ। ১১. বিধেয় বিশেষণ: - বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে। যেমন: যেমন: পাগল, ঘোলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬৭.
'রোগ হলে ওষুধ খাবে' এই বাক্যে অনুজ্ঞা কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
আদেশে
খ
বিধান
গ
অনুরোধে
ঘ
সম্ভাবনা
সঠিক উত্তর: খ
বিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
বিধান
খ
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা পদ: - আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে। ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা: (১) আদেশে: সদা সত্য বলবে। (২) সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে। (৩) বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে। (৪) অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬৮.
'সভা সমাপ্ত হলো।'-এখানে 'সভা' কোন পদ?
ক
বিশেষণ
খ
বিশেষ্য
গ
সর্বনাম
ঘ
ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর: খ
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
বিশেষ্য
খ
ব্যাখ্যা
• 'সভা সমাপ্ত হলো।'-এখানে 'সভা' বিশেষ্য পদ।
• সভা (বিশেষ্য পদ) - সংস্কৃত ভাষার শব্দ। অর্থ: - আলোচনার উদ্দেশ্যে বৈঠক। - সম্মেলন, - সংঘ, - পরিষদ (আইনসভা)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৬৯.
'আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার কষ্ট হতো না'- বাক্যটি কোন ভাবের ক্রিয়া?
ক
ক) অনুজ্ঞা ভাব
খ
খ) নির্দেশক ভাব
গ
গ) আকাঙ্খা প্রকাশক ভাব
ঘ
ঘ) সাপেক্ষ ভাব
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) সাপেক্ষ ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) সাপেক্ষ ভাব
ঘ
ব্যাখ্যা
• 'আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার কষ্ট হতো না'- বাক্যটি ক্রিয়ার সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করেছে।
ক্রিয়ার ভাব ৪ ধরনের। যথা - ১. নির্দেশক ভাব ২. অনুজ্ঞা ভাব ৩. সাপেক্ষ ভাব ও ৪. আকাঙ্খা প্রকাশক ভাব
সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন: - তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি ইচ্ছা বা কামনা প্রকাশের মাধ্যমে সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করছে।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৭০.
"এবার মা খেতে ডেকেছেন।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
ক
সাধারণ অতীত
খ
পুরাঘটিত বর্তমান
গ
সাধারণ বর্তমান
ঘ
নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর: খ
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পুরাঘটিত বর্তমান
খ
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান: - যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। যেমন: - এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন। - এবার মা খেতে ডেকেছেন। - অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
অন্যদিকে, নিত্যবৃত্ত অতীত: - অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন: - আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম। - আমি রোজ স্কুলে যেতাম।
সাধারণ বর্তমান: - যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন: - তানিমা ভাত খায়।
সাধারণ অতীত: - বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল। যেমন: - শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২৭১.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
ক
মন দেওয়া
খ
বৃদ্ধি পাওয়া
গ
এগিয়ে চলা
ঘ
গান করা
সঠিক উত্তর: গ
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
এগিয়ে চলা
গ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ = এগিয়ে চলা। ------------------------------- • যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন - মরে যাওয়া, - কমে আসা, - এগিয়ে চলা, - হেসে ওঠা, - উঠে পড়া, - পেয়ে বসা, ইত্যাদি।
অন্যদিকে, - মন দেওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া, গান করা, সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ।
উল্লেখ্য, - বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীন ভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন- উচ্ছ্বাস প্রকাশে : মরি মরি! কী রূপমাধুরী! স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে :হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না। সূত্র- এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র(উন্মুক্ত)।
১,২৭৩.
'পরে একবার এসো।' - এখানে 'পরে' কোন প্রকার বিশেষণের উদাহরণ?
ক
বাক্যের বিশেষণ
খ
অব্যয়ের বিশেষণ
গ
বিশেষণের বিশেষণ
ঘ
ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ঘ
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ক্রিয়া বিশেষণ
ঘ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ: - যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যথা: ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়। ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।
অন্যদিকে, বিশেষণের বিশেষণ: - যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। যেমন- নাম-বিশেষনের বিশেষণ: - সামান্য একটু দুধ দাও। - এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
অব্যয়ের বিশেষণ: - যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। যেমন - - ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।
বাক্যের বিশেষণ: - যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে। যেমন- - দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। - বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)
১,২৭৫.
‘পৃথিবী’ শব্দের বিশেষণ রূপ কি?
ক
ক) পৃথ্বী
খ
খ) পার্থিব
গ
গ) পৃথিবীয়
ঘ
ঘ) পৃথিবীক
সঠিক উত্তর: খ
খ) পার্থিব
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) পার্থিব
খ
ব্যাখ্যা
‘পৃথিবী’ বিশেষ্য পদ, এর বিশেষণ রূপ হচ্ছে ‘পার্থিব’। সূত্রঃ বাংলা একাডেমী ডিকশনারি
১,২৭৬.
'প্রকর্ষ' শব্দটি -
ক
বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
ক্রিয়া বিশেষণ
ঘ
অব্যয়
ঙ
কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য
ক
ব্যাখ্যা
• প্রকর্ষ (বিশেষ্য পদ): - এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। অর্থ: - শ্রেষ্ঠত্ব; - উৎকর্ষ; - উন্নতি; - শ্রীবৃদ্ধি; - সমৃদ্ধি।
• 'প্রকর্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ “উৎকর্ষ”।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৭৭.
“রকেট অতি দ্রুত চলে” বাক্যে “অতি” কোন ধরনের বিশেষণ?
ক
ক্রিয়া বিশেষণ
খ
অব্যয়ের বিশেষণ
গ
বাক্যের বিশেষণ
ঘ
বিশেষণীয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ঘ
বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
বিশেষণীয় বিশেষণ
ঘ
ব্যাখ্যা
“রকেট অতি দ্রুত চলে” বাক্যে “অতি” হচ্ছে বিশেষণীয় বিশেষণ।
বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে। যথা: - ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ: সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত। - খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।
------------------ ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। যথা: - ক. ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়। - খ. ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।
অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে। - যথা: ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।
বাক্যের বিশেষণ: কখনো কখনো কোনো বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করতে পারে, তখন তাকে বাক্যের বিশেষণ বলা হয়। যেমন: - দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। - বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৭৮.
'করুণাময় তুমি।' - এখানে 'করুণাময়' কোন পদ?
ক
বিশেষ্য
খ
সর্বনাম
গ
বিশেষণ
ঘ
ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর: গ
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বিশেষণ
গ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ: - যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৭৯.
জাতিবাচক বিশেষ্য নিচের কোনটি?
ক
ক) সমিতি
খ
খ) সভা
গ
গ) গাছ
ঘ
ঘ) মাহফিল
সঠিক উত্তর: গ
গ) গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) গাছ
গ
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্যঃ যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
অপরদিকে, সমষ্টিবাচক বিশেষ্যঃ যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮০.
নিচের কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না।
ক
ক) উপসর্গ
খ
খ) প্রত্যয়
গ
গ) বিভক্তি
ঘ
ঘ) বলক
সঠিক উত্তর: ক
ক) উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) উপসর্গ
ক
ব্যাখ্যা
যেসকল অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে উপসর্গ বলে। - অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ) প্রভৃতি শব্দে 'অ' 'অভি' হলো উপসর্গ।
যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। - 'সাংবাদিক' শব্দে 'ইক' একটি প্রত্যয়।
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে। - 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো বিভক্তির উদাহরণ।
যেসব শব্দাংশ পদের শেষে যুক্ত হয়ে বক্তব্যকে জোড়ালো করে তাকে বলক বলে। - 'সে এখনই যাবে' বাক্যে এখনি শব্দের 'ই' দ্বারা শব্দটি জোড়ালো হচ্ছে। তাই এটি বলকের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)
১,২৮১.
কোন যোজক কার্যকারণ দেখাতে দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায়?
ক
সাপেক্ষ যোজক
খ
সাধারণ যোজক
গ
বিকল্প যোজক
ঘ
কারণ যোজক
সঠিক উত্তর: ঘ
কারণ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
কারণ যোজক
ঘ
ব্যাখ্যা
• যোজক: - পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে। যেমন - এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।
• কারণ যোজক: - এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন - - জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। - বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে। ----------------- যোজকের প্রকারভেদ: বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজক কে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।
- বিকল্প যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা না-হয় কফি খান।
- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।
- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৮২.
শাবাশ! দারুণ খেলেছে ছেলেরা। - কী ধরনের আবেগ প্রকাশ করছে?
ক
ক) বিস্ময়সূচক আবেগ
খ
খ) প্রশংসাসূচক আবেগ
গ
গ) বিরক্তিসূচক আবেগ
ঘ
ঘ) ভয় ও যন্ত্রণাবাচক আবেগ
সঠিক উত্তর: খ
খ) প্রশংসাসূচক আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) প্রশংসাসূচক আবেগ
খ
ব্যাখ্যা
যে আবেগ—শব্দ দ্বারা প্রশংসা মনোভাব প্রকাশ পায় তাকে প্রশংসাসূচক আবেগ বলে। যেমন : শাবাশ! দারুণ খেলেছে ছেলের। বাঃ! চমৎকার গান গেয়েছ তো।
উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ বই।
১,২৮৩.
বিশেষ্য পদ কোনটি?
ক
পটুত্ব
খ
চৌকশ
গ
পাথুরে
ঘ
খোঁড়া
সঠিক উত্তর: ক
পটুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
পটুত্ব
ক
ব্যাখ্যা
• বিশেষণজাত (গুণবাচক) বিশেষ্য: বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্যকারী অন্ত্যপ্রত্যয় যোগ করে এ ধরনের বিশেষ্য গঠিত হয়। যেমন: ধীর+তা = ধীরতা; এরকম- দ্রুততা, চালাকি, পটুত্ব, শৌখিনতা, নষ্টামি ইত্যাদি।
অন্যদিকে, • গুণবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন: চৌকশ লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া। • অবস্থাবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা। • উপাদানবাচক বিশেষণ: বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৮৪.
'ষোল আনা দখল'-এ 'ষোল আনা' কোন ধরনের বিশেষণ?
ক
ক) রূপবাচক বিশেষণ
খ
খ) অংশবাচক বিশেষণ
গ
গ) উপাদানবাচক বিশেষণ
ঘ
ঘ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর: খ
খ) অংশবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) অংশবাচক বিশেষণ
খ
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণ : যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮৫.
নিচের কোনটিতে সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
ক
ভালো করে খেয়ে নাও।
খ
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
গ
আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
ঘ
সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
সঠিক উত্তর: গ
আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
গ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। যেমন - উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ। - কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে? - জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি। - দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না। - বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: - যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকেতৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। যেমন - করে: ভালো করে খেয়ে নাও। - থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়। - দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার। - ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। - বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,২৮৬.
নির্দেশক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
ক
ক) ওরা খেলায় অংশ নেয় নি।
খ
খ) সে নিজে অঙ্কটিা করছে।
গ
গ) কজন এসে খবরটা দেয়।
ঘ
ঘ) নিজেরা নিজেরা কাজটি সম্পন্ন করেছে।
সঠিক উত্তর: ক
ক) ওরা খেলায় অংশ নেয় নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) ওরা খেলায় অংশ নেয় নি।
ক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম বলে।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিচু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয, তাকেঅনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি দ্বারা অনির্দিষ্টতা নির্দেশ করা হয়্। যেমন: একজন এসে খবরটা দেয়।
নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন: - নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; - দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
অত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। আত্মবাচক নির্দেশক: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি। যেমন: সে নিজে অঙ্কটিা করছে।
পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮৭.
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয়-
ক
অনুকার অব্যয়
খ
অনুসর্গ অব্যয়
গ
সমুচ্চয়ী অব্যয়
ঘ
অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর: ঘ
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
অনন্বয়ী অব্যয়
ঘ
ব্যাখ্যা
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশের ব্যবহৃত হয় তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমনঃ • 'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।' - বাক্যটি 'তো' এর সাথে অন্য কোনো পদের মিল নেই। • এটি ছাড়াও বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে। • তাই 'তো' এখানে অনন্বয়ী অব্যয়। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮৮.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
ক
হিমালয়
খ
ফুল
গ
লবণ
ঘ
ইট
সঠিক উত্তর: খ
ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ফুল
খ
ব্যাখ্যা
জাতি-বিশেষ্য: - জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৮৯.
কোন বাক্যে ঘটনা অতীতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান?
ক
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি।
খ
আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
গ
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
ঘ
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
সঠিক উত্তর: গ
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
গ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার কাল: - ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে। - ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।
• ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।
• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ: - কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান) - সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
অন্যদিকে, - আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান) - আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত) - তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ)
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৯০.
"মন্দকে মন্দ বলতে হবে" বাক্যে দুইটি "মন্দ" শব্দ যথাক্রমে -
ক
বিশেষণ, বিশেষ্য
খ
বিশেষ্য, বিশেষণ
গ
বিশেষণ, বিশেষণ
ঘ
উভয়ই বিশেষ্য
ঙ
কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ
বিশেষ্য, বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
বিশেষ্য, বিশেষণ
খ
ব্যাখ্যা
• "মন্দকে মন্দ বলতে হবে" বাক্যে দুইটি "মন্দ" শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, এবং তাদের পদভিত্তিক বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
• প্রথম "মন্দ" শব্দটি বিশেষ্য, যা দ্বারা কোনও নিন্দনীয় বা খারাপ ব্যক্তি বা বস্তু বোঝানো হয়েছে। • দ্বিতীয় "মন্দ" শব্দটি বিশেষণ, যা প্রথম "মন্দ" বা খারাপ জিনিসের গুণ বা অবস্থা নির্দেশ করছে।
তাই বলা যায়- প্রথম "মন্দ" বিশেষ্য এবং দ্বিতীয় "মন্দ" বিশেষণ।
উৎস: - বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯১.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
ক
পঞ্চায়েত
খ
মানুষ
গ
কলম
ঘ
পর্বত
সঠিক উত্তর: ক
পঞ্চায়েত
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
পঞ্চায়েত
ক
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য: - যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: - সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯২.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
ক
অবজ্ঞেয়
খ
অবজ্ঞা
গ
অবজ্ঞাত
ঘ
অজ্ঞাত
সঠিক উত্তর: খ
অবজ্ঞা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
অবজ্ঞা
খ
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ - অবজ্ঞা। - এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ: - উপেক্ষা, তাচ্ছিল্য, ঘৃণা, অপমান।
অন্যদিকে, • বিশেষণ পদ - অজ্ঞাত, অবজ্ঞাত, অবজ্ঞেয়।
বিশেষ্য পদ: - কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৯৩.
সে নিজে নিজে অঙ্কটি করেছে। এই বাক্যটিতে 'নিজে' কোন ধরণের সর্বনাম?
ক
ক) ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
খ
খ) আত্মবাচক সর্বনাম
গ
গ) নির্দেশক সর্বনাম
ঘ
ঘ) ব্যতিহার সর্বনাম
সঠিক উত্তর: খ
খ) আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) আত্মবাচক সর্বনাম
খ
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কাজটি করেছে এমন ভাব প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয় আত্মবাচক সর্বনাম। - এখানে নিজে নিজে হলো আত্ন বাচক সর্বনাম - নিচে কয়েকটি আত্ন বাচক সর্বনামের উদাহরণ দেয়া হলো - নিজে, - নিজেই - স্বয়ং - স্ব স্ব - নিজ
[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
১,২৯৪.
‘শয়ন’ কোন পদের উদাহরণ?
ক
ক্রিয়া বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
ক্রিয়া
ঘ
অব্যয় পদ
ঙ
ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর: ক
ক্রিয়া বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক্রিয়া বিশেষ্য
ক
ব্যাখ্যা
• ‘শয়ন’ ক্রিয়া-বিশেষ্য পদের উদাহরণ।
--------------------- • বিশেষ্য পদ: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার: ১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,২৯৫.
‘ভোজন’ শব্দটি কোন প্রকারের বিশেষ্য?
ক
বস্তুবাচক
খ
সমষ্টিবাচক
গ
গুণবাচক
ঘ
ভাববাচক
সঠিক উত্তর: ঘ
ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ভাববাচক
ঘ
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য: - যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা: - গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯৬.
কোন বাক্যটি প্রযোজক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত?
ক
ক) মাথা ঝিম ঝিম করছে।
খ
খ) আকাশে চাঁদ উঠেছে।
গ
গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
ঘ
ঘ) এ নদীতে প্রচুর মাছ আছে।
সঠিক উত্তর: গ
গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন।
গ
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে। যেমন: - 'মা শিশুকে গোসল করাচ্ছেন'- বাক্যটিতে 'করাচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি
১,২৯৭.
"গমন, দর্শন" - কোন ধরনের বিশেষ্য?
ক
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
খ
ভাববাচক বিশেষ্য
গ
জাতিবাচক বিশেষ্য
ঘ
সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর: খ
ভাববাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ভাববাচক বিশেষ্য
খ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদের কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ) দেখা, শোনা ইত্যাদি ভাববাচক বিশেষ্য।
উল্লেখ্য, ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
অন্যদিকে, তৎসম অব্যয় শব্দ: - যদি, যথা, সদা, সহসা, হঠাৎ, অর্থাৎ, দৈবাৎ, বরং, পুনশ্চ, আপাতত, বস্তুত ইত্যাদি। 'এবং' ও 'সুতরাং' তৎসম শব্দ হলেও বাংলায় এগুলোর অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। সংস্কৃতে 'এবং' শব্দের অর্থ এমন, আর 'সুতরাং' অর্থ অত্যন্ত, অবশ্য। কিন্তু এবং ও (বাংলা), সুতরাং = অতএব (বাংলা)।
বাংলা অব্যয় শব্দ: - আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯৯.
নিচের কোনটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
ক
কার কাছে গেলে জানা যাবে?
খ
আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
গ
হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
ঘ
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
সঠিক উত্তর: ঘ
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ঘ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অনুসর্গ: - যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। যেমন: - উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ। - কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে? - জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি। - দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না। - বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: - যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। যেমন- - করে: ভালো করে খেয়ে নাও। - থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়। - দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার। - ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। - বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
• যোজক: যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়। যেমন: - সারাদিন খুঁজলাম অথচ বইটা পেলাম না। - এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে? - ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, অথচ, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত, তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।