বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১২ / ৩১ · ১,১০১১,২০০ / ৩,০২৪

১,১০১.
কোন শব্দটি বিশেষণ পদ?
  1. ইতিহাস
  2. উৎকর্ষ
  3. দারিদ্র্য
  4. অভ্যস্ত
সঠিক উত্তর:
অভ্যস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্যস্ত
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - অভ্যস্ত
- 'অভ্যস্ত' শব্দের বিশেষ্য পদ - অভ্যাস।
-  শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অভ্যাসদ্বারা আয়ত্ত।
- নিত্য আচরণজাত, স্বভাবপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - ইতিহাস।
বিশেষণ পদ - ঐতিহাসিক।

বিশেষ্য পদ - উৎকর্ষ।
বিশেষণ পদ - উৎকৃষ্ট।

বিশেষ্য পদ - দারিদ্র্য।
বিশেষণ পদ - দরিদ্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১০২.
'লবণ' শব্দের বিশেষণ কোনটি?
  1. লবণ
  2. ললিত
  3. নুন
  4. লবণাক্ত
সঠিক উত্তর:
লবণাক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণাক্ত
ব্যাখ্যা

'লবণ' শব্দের বিশেষণ হলো লবণাক্ত।

• বিশেষণ:
- বিশেষণ হলো এমন একটি পদ, যা বাক্যে বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়ার গুণ, দোষ, সংখ্যা বা অবস্থা প্রকাশ করে তাদের অর্থকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। 
- যেমন: লাল রক্ত, ভালো ছেলে, আস্তে যাও।
- 'লবণ' একটি বিশেষ্য পদ এবং এর অর্থ ক্ষারযুক্ত দ্রব্য বা নুন।
- লবণ’ শব্দের বিশেষণ “লবণাক্ত” কারণ এটি কোনো বস্তুর মধ্যে লবণের গুণ বা স্বাদের উপস্থিতি প্রকাশ করে।
- যেমন:
• লবণ = বিশেষ্য (একটি বস্তু);
• লবণাক্ত = বিশেষণ (যে জিনিসে লবণের স্বাদ আছে)।
• লবণ পানি → বিশেষ্য + বিশেষ্য।
• লবণাক্ত পানি → বিশেষণ + বিশেষ্য (পানির স্বাদ বোঝাচ্ছে)।

অন্যদিকে,
• 'ললিত' এবং 'নোনতা' দুটিই বিশেষণ কারণ এরা বিশেষ্য পদের গুণ বা বৈশিষ্ট্যকে বর্ণনা করে।
• ললিত: এটি 'লাবণ্য' বা 'সৌন্দর্য' বিশেষ্য পদের বিশেষণ। 
- এটি কোনো কিছুর কমনীয়তা বা কমনীয়তার অভাবকে বোঝায়।
- যেমন: "ললিত সঙ্গীত" বা "ললিত কণ্ঠ"।

• 'নুন' বিশেষ্য পদ। 
- এটি কোনো কিছুর স্বাদ বা গন্ধকে বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১০৩.
‘দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।’ - বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

• সাধারণ অতীত কাল:
 যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

• ঘটমান অতীত কাল:
 অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল: 
যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: 
অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১০৪.
কোনটি বিশ্লেষণ (বিশেষণ) বাচক শব্দ?
  1. ক) জীবনী
  2. খ) জীবন
  3. গ) জীবিকা
  4. ঘ) জীবাণু
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জীবনী
ব্যাখ্যা
জীবন, জীবিকা ও জীবাণু বিশেষ্য বাচক শব্দ।
জীবনী বা আয়ু দান করে এমন অর্থে জীবনী বিশেষণ বাচক, কিন্তু জীবনবৃত্তান্ত বা জীবন কাহিনী অর্থে 'জীবনী' বিশেষ্য বাচক।

উৎস: বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১০৫.
‘বিনে স্বদেশী ভাষা, মিটে কি আশা’ -এখানে ‘বিনে’ কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ছাড়া
  2. সঙ্গে
  3. আবশ্যিকতা
  4. প্রয়োজন
সঠিক উত্তর:
ছাড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছাড়া
ব্যাখ্যা
• ‘বিনে স্বদেশী ভাষা, মিটে কি আশা’ -
এখানে
বাক্যে "বিনে স্বদেশী ভাষা" বলতে "স্বদেশী ভাষা ছাড়া" বোঝানো হয়েছে। এখানে "বিনে" অনুসর্গটি "ছাড়া" বা "ব্যতিরেকে" অর্থ প্রকাশ করছে।

সুতরাং, "বিনে" শব্দটি "ছাড়া" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১০৬.
'কিছু না খেলে আর পারছি না'- এখানে ‘কিছু’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• যে সর্বনাম দ্বারা অনির্দিষ্ট ও পরিচয়হীন কোন কিছুকে বুঝায় তাকে অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম বলে
এ ধরনের সর্বনাম হলো: কেউ, কেউ কেউ, কিছু
যেমন:
কোথাও কেউ নেই।
কেউ কেউ ঘটনাটা জানবেন।
কোন কিছু আমার জানা নেই।
কিছু না খেলে আর পারছি না
যে কেউ এর নিন্দা করেবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,১০৭.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে একটি ক্রিয়াপদ গঠিত হলে, তাকে বলে-
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. সমকর্মক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. সমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে ৷
যেমন – ভালো করে পড়াশোনা করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,১০৮.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. ওর
  2. পরস্পর
  3. নিজে
  4. স্বয়ং
সঠিক উত্তর:
ওর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওর
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের। যথা:
→ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
→ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
→ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে , স্বয়ং।
• পারস্পরিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১০৯.
"শোনা" কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার। যথা- 
১. সংজ্ঞা বা নামবাচক, 
২. জাতিবাচক, 
৩. দ্রব্যবাচক, 
৪. সমষ্টিবাচক,
৫. ভাববাচক,
৬. গুণবাচক। 

১. সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য: যে পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান বা সংজ্ঞা এবং গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য বলে। যথা-
(ক) ব্যক্তির নাম: নজরুল, ওমর, আনিস, মাইকেল। 
(খ) ভৌগোলিক স্থানের: ঢাকা, দিল্লি, লন্ডন, মক্কা। 
(গ) ভৌগোলিক সংজ্ঞা: (নদী, পর্বত, সমুদ্র ইত্যাদি) মেঘনা, হিমালয়, আরব সাগর। 
(ঘ) গ্রন্থের নাম: 'গীতাঞ্জলি', 'অগ্নিবীণা', 'দেশে বিদেশে', 'বিশ্বনবি'। 

২. জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

৩. কতুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যথা- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।

৫. ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), দেখা, শোনা।

৬. গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা-মধুর মিষ্টত্বের গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ-তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ- তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি। তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১,১১০.
বস্তু বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. বহর
  2. গমন
  3. বই
  4. সুখ
সঠিক উত্তর:
বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বই
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সমষ্টিবাচক বিশেষ্য - বহর।
- ভাববাচক বিশেষ্য - গমন।
- গুণবাচক বিশেষ্য - সুখ।

বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১১১.
'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ' কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটনার অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই  অতীত কাল। 
 
• সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
প্রদীপ নিভে গেল।
শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
কামনা প্রকাশে:
আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।

অসম্ভব কল্পনায়:
'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।

সম্ভাবনা প্রকাশে:
তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
১,১১২.
'হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।' এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা

• 'হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।' এখানে 'কিংবা' একটি বিয়োজক অব্যয়। 

--------------------
• সমুচ্চয়ী অব্যয়: 

যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

ক. সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

খ. বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
[এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।]

(ii) 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক।
[আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক।]

বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়।

গ. সংকোচক অব্যয়:
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১১৩.
'আনন্দ' কোন জাতীয় বিশেষ্য?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. নাম-বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণ-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন-
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১,১১৪.
'আমি যদি রাজা হতাম' কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. খ) নিত্যবৃত্ত অতীত
  3. গ) পুরাঘটিত অতীত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা
• নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন: আমরা তখন রোজ সকালে নদীর তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ :
ক. কামনা প্রকাশে : আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
খ. অসম্ভব কল্পনায় : সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ।
গ. সম্ভবনা প্রকাশে : তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

'আমি যদি রাজা হতাম' বাক্যটিতে অসম্ভব কল্পনা প্রকাশিত হয়েছে। তাই এটি একটি নিত্যবৃত্ত অতীত কাল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৫.
'যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।' এখানে 'যে-সে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. আত্মবাচক সর্বনাম
  2. পারস্পারিক সর্বনাম
  3. সাপেক্ষ সর্বনাম
  4. সাকুল্যবাচক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম:
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক-এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,১১৬.
'দ্বেষ' এর বিশেষণ রূপ কী?
  1. ক) দ্বিষ্ট
  2. খ) বিদ্বেষ
  3. গ) দিষ্ট
  4. ঘ) দ্বেষী
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিষ্ট
ব্যাখ্যা

দ্বেষ (বিশেষ্য) ঈর্ষা; হিংসা; পরশ্রীকাতরতা।
দ্বিষ্ট (বিশেষণ) শত্রুভাবাপন্ন; যার প্রতি দ্বেষ করা হয়েছে; হিংসিত।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

১,১১৭.
কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ?
  1. কালো মেঘ
  2. দক্ষ কারিগর
  3. রোগা ছেলে
  4. ছাব্বিশে মার্চ
সঠিক উত্তর:
রোগা ছেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোগা ছেলে
ব্যাখ্যা
• অবস্থাবাচক বিশেষণ - রোগা ছেলে। 

নাম বিশেষণ:

- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
রূপবাচক: নীল আকাশ, কালো মেঘ;
গুণবাচক: দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে
সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ টাকা।
ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা।
পরিমাণবাচক: পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ?, কেমন অবস্থা।
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১১৮.
নিচের কোন বাক্যটিতে সাধারণ অনুসর্গ এর ব্যবহার রয়েছে?
  1. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  2. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  3.  ভালো করে খেয়ে নাও।
  4. মন দিয়ে লেখাপড়া করো।
সঠিক উত্তর:
মাথার উপরে নীল আকাশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথার উপরে নীল আকাশ।
ব্যাখ্যা

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- সাধারণ অনুসর্গ ও
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১১৯.
'যার লাঠি, তার মাটি।' - কোন পদের উদাহরণ?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. যোজক
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• 'যার লাঠি, তার মাটি।' - সাপেক্ষ সর্বনাম পদের উদাহরণ।

সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন -
- যারা-তারা,
- যে-সে,
- যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল),
- যার-তার (যার লাঠি, তার মাটি) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১২০.
'এখন গোল্লায় যাও।' বাক্যেটিতে ক্রিয়াপদটি-
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. মিশ্র ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. নামধাতু
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে। যেমন-
• আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
• এখন গোল্লায় যাও।
• তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম।
• মাথা ঝিম্ ঝিম্ করছে।
• ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১২১.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষণ?
  1. জগৎ
  2. উন্নয়ন
  3. সৌন্দর্য
  4. জাগতিক
সঠিক উত্তর:
জাগতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাগতিক
ব্যাখ্যা
• জগৎ (বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী, সমাজ।
- জগৎ শব্দের বিশেষণ: জাগতিক।

• 'উন্নয়ন'- শব্দটি বিশেষ্য। 
- উন্নয়ন এর বিশেষণ পদ- উন্নীত।

• সৌন্দর্য (বিশেষ্য):
অর্থ -
১ রূপ; মনোহর রূপমাধুরী (দৈহিক সৌন্দর্য)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,১২২.
কোনটি অনুকার অব্যয়?
  1. ক) কড় কড়
  2. খ) মর মর
  3. গ) ঝম ঝম
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে। যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়, বৃষ্টির তুমুল শব্দ- ঝম ঝম, শুষ্ক পাতার শব্দ- মর মর, বাতাসের গতি-, শন শন, কোকিলের রব- কুহু কুহু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৩.
বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. পাঁচ
  2. চার
  3. তিন
  4. দুই
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া বলে।

বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার। 
যথা:
১. অকর্মক ক্রিয়া: বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনাে কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১২৪.
নিচের কোনটি ব্যতিহারিক সর্বনাম?
  1. ক) আপসে
  2. খ) স্বয়ং
  3. গ) ওরা
  4. ঘ) সকল
সঠিক উত্তর:
ক) আপসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আপসে
ব্যাখ্যা
ব্যাতিহারিক সর্বনাম - আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি। খোদ, স্বয়ং আত্মবাচক সর্বনাম। সব, সকল - সাকুল্যবাচক সর্বনাম। আমি, আমরা, তুমি, ওরা, তারা ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,১২৫.
কোনটি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. যথাসময়ে
  2. কোথাও
  3. যে
  4. সামনে
সঠিক উত্তর:
যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।

যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

অন্যদিকে,
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - কোথাও, সামনে।
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - যথাসময়ে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১২৬.
''সত্য বই মিথ্যা বলবো না''- বাক্যে ‘বই’ শব্দটি কী হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অনুসর্গ 
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা
• ''সত্য বই মিথ্যা বলবো না''- বাক্যে ‘বই’ শব্দটি 'অনুসর্গ' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
---------------- 
• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কীত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্য, পর্যন্ত ইত্যাদি।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য। - 'নিমিত্তে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে।
• এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে। - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• সীমার মাঝে অসীম তুমি। - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিমেষ মাঝেই সব শেষ। - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,১২৭.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষণ?
  1. দীনতা
  2. দয়া
  3. চালাক
  4. ধৈর্য
সঠিক উত্তর:
চালাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চালাক
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে।
- ঠান্ডা পানি।
[উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।]

অন্যদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,১২৮.
‘মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ!’ উক্ত বাক্যে ‘মরি মরি!’ কী প্রকাশ করছে?
  1. ক) স্বীকৃতি
  2. খ) উচ্ছ্বাস
  3. গ) যন্ত্রণা
  4. ঘ) বিরক্তি
সঠিক উত্তর:
খ) উচ্ছ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
যে সকল অব্যয় অন্য পদের সঙ্গে সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। ‘মরি মরি! কি সুন্দর প্রভাতের রূপ!’ বাক্যে ‘মরি মরি!’ অনন্বয়ী অব্যয়টি উচ্ছ্বাস প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,১২৯.
কোনটি অন্য পক্ষের সর্বনামের দৃষ্টান্ত?
  1. আমাদের
  2. ওদের
  3. তোমরা
  4. আপনাকে
সঠিক উত্তর:
ওদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওদের
ব্যাখ্যা
• অন্য পক্ষের সর্বনামের উদাহরণ হলো: ওদের।

• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
 
• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
 
শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।
 
----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
 
সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।
 
- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৩০.
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ আছে কোন বাক্যে?
  1. ভালো করে কাজ কর।
  2. তোমার কাছে এসেছি।
  3. আমার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
  4. সে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসেছে।
সঠিক উত্তর:
ভালো করে কাজ কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো করে কাজ কর।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উদাহরণ- ভালো করে কাজ কর।
- এই বাক্যে করে হলো ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। করে শব্দটি কর্‌ ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত।

অন্যদিকে,
খ) তোমার কাছে এসেছি।
"কাছে" = সাধারণ অনুসর্গ।

গ) আমার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।
- "পক্ষে" = সাধারণ নির্দেশক অনুসর্গ।

ঘ) সে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসেছে।
- "জন্য" = সাধারণ অনুসর্গ।

-অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 
-----------------
• সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি;
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
১,১৩১.
নিচের কোন বিশেষ-বিশেষণ জোড় শুদ্ধ নয়?
  1. জরা-জীর্ণ
  2. চুরি-চোরাই
  3. জগৎ-জাগতিক
  4. ঢাল-ঢিলে
সঠিক উত্তর:
ঢাল-ঢিলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাল-ঢিলে
ব্যাখ্যা

[প্রশ্নে বানান ভুল আছে। প্রশ্নটি হতো- নিচের কোন বিশেষ্য-বিশেষণ জোড় শুদ্ধ নয়?]

⇒ অশুদ্ধ বিশেষ্য-বিশেষণ জোড় - ঢাল-ঢিলে।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ঢাল (বিশেষ্য),
- এটি হিন্দি শব্দ।
- অর্থ: ঢালু জমি, অস্ত্রাঘাত থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহৃত চামড়া পুরু বর্ম।
- ঢাল এর বিশেষণ রূপ হচ্ছে ঢালু।

• ঢিলা শব্দটি বাক্যে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি বাংলা শব্দ।
অর্থ: শিথিলতা, অলস, শিথিল।
- ঢিলা শব্দের বিশেষণ রূপ হচ্ছে ঢিলে।

অন্যদিকে,
• জরা (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- জরা শব্দের অর্থ: বৃদ্ধ, স্থবিরতা, বার্ধক্য।
- জরা শব্দের বিশেষণ: জীর্ণ।

• জগৎ (বিশেষ্য,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- যার অর্থ: ভুবন, বিশ্ব, পৃথিবী, সমাজ।
- জগৎ শব্দের বিশেষণ: জাগতিক।

• চুরি (বিশেষ্য),
- এটি তদ্ভব শব্দ।
- যার অর্থ: না বলে পরদ্রব্য হরণ, চৌর্য, গোপনে আত্মসাৎকরণ।
- চুরি শব্দের বিশেষণ: চোরাই।

১,১৩২.
‘পদ্মা’ কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. বস্তু-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৩৩.
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের।
যথা:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।

• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।

• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৩৪.
‘স্বয়ং’ কোন ধরনের সর্বনাম পদের উদাহরণ?
  1. নির্দেশক সর্বনাম
  2. পারস্পারিক সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদ:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন- আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম:
 কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: 
অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়।
যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম:
পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: 
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: 
নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৩৫.
ভাব বিশেষণ কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা

ভাব বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে।
- ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার

যথা:
১. ক্রিয়া বিশেষণ,
২. বিশেষণের বিশেষণ,
৩. অব্যয়ের বিশেষণ ও
৪. বাক্যের বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা:
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
নাম-বিশেষনের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

অব্যয়ের বিশেষণ:
- যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যেমন -
- ধিক তারে শত ধিক নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে।
যেমন:
- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- বাস্তবিকই আজ আমাদের কঠিন পরিশ্রমের প্রয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৩৬.
‘আছো তুমি জগৎ মাঝারে’ । এখানে ‘মাঝারে’ শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. মধ্যে
  2. সঙ্গে
  3. ব্যাপ্তি
  4. বাইরে
সঠিক উত্তর:
ব্যাপ্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপ্তি
ব্যাখ্যা

• 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।'
- এখানে 'মাঝারে' শব্দটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৩৭.
'ঘুমন্ত শিশু' এখানে 'ঘুমন্ত' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. ভাববাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. নির্দিষ্টতাবাচক
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

 • 'ঘুমন্ত শিশু' এখানে 'ঘুমন্ত' অবস্থাবাচক  বিশেষণ।

অবস্থাবাচক বিশেষণ:

- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১,১৩৮.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. কয়েক
  2. অবধি
  3. আপন
  4. আস্তে
সঠিক উত্তর:
অবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবধি
ব্যাখ্যা

• অবধি - অনুসর্গের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'আপন' বিশেষ্য  ও বিশেষণ উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- 'কয়েক' বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- 'আস্তে'  ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,১৩৯.
মরি তো মরব। - এ বাক্যে ‘তো’ কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. পদাণু
  2. স্থানবাচক
  3. কালবাচক
  4. ধরনবাচক
সঠিক উত্তর:
পদাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাণু
ব্যাখ্যা
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৪০.
কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) সামি ঘুমায়।
  2. খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
  3. গ) রাতুল খেলে।
  4. ঘ) জাহিদ যাবে।
সঠিক উত্তর:
খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইকবাল ভাত খাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:

• সকর্মক ক্রিয়া:

- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন সে বই পড়ছে। ইকবাল ভাত খাচ্ছে। বাক্যগুলোতে ‘পড়ছে’ ও 'খাচ্ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' ও 'ভাত' ক্রিয়ার কর্ম।

• অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন – সামি ঘুমায়, রাতুল খেলে, জাহিদ যাবে। কারণ এই বাক্যগুলোতে কোনো কৰ্ম নেই ৷

এছাড়াও,
• দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন – শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
‘কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১,১৪১.
'সাইরেন বেজে উঠল।' - বাক্যটিতে কোন ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. নাম ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,১৪২.
বিশেষণ বর্গের উদাহরণ রয়েছে কোনটিতে?
  1. সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।
  2. অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
  3. আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
  4. সে লিখছে আর হাসছে। 
সঠিক উত্তর:
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ব্যাখ্যা

• বিশেষণবর্গ:
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।

যেমন:
- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
- ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
- পোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে আসবাব বানানো ঠিক নয়।

অন্যদিকে,
ক্রিয়াবর্গ:
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গতৈরি করে।
যেমন:
- সে লিখছে আর হাসছে।

বিশেষ্যবর্গ:
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন 
- আমার ভাই পড়তে বসেছে।
- অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।

ক্রিয়া বিশষেণ-বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন,
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,১৪৩.
নিচের কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. ভয়ে ভয়ে
  2. গুনগুনিয়ে
  3. যায় যায়
  4. চুপি চুপি
সঠিক উত্তর:
গুনগুনিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুনগুনিয়ে
ব্যাখ্যা

• গুনগুনিয়ে - একপদী ক্রিয়াবিশেষণ এর উদাহরণ। 

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৪৪.
যত গর্জে তত বর্ষে না। - এ বাক্যে কী ধরনের যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) বৈকল্পিক যোজক
  2. খ) বিরোধমূলক যোজক
  3. গ) কারণবাচক যোজক
  4. ঘ) সাপেক্ষ যোজক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা
যে যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাকে সাপেক্ষ যোজক বলে।
সাপেক্ষ যোজক হলো : যথা..তথা, যত...তত, যখন...তখন, যেমন... তেমন, যেরূপ...সেরূপ।
যেমন :
যদি যৌতুকের প্রশ্ন ওঠে তবে বিয়েতে রাজি হব না।
যদি তুমি আস তবে আমি যাব।
যদি তুমি আমাকে ভালোবাস তবে আমিও তোমাকে ভালোবাস।
যখন বৃষ্টি শুরু হবে তখন তুমি বারান্দায় এসো।
যেমন তোমার মেধা তেমন তোমার চেহারা।
যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
১,১৪৫.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্য এর উদাহরণ?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) বাক্স
  3. গ) ইচ্ছা
  4. ঘ) হাত
সঠিক উত্তর:
গ) ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় : 
 
মূর্ত বিশেষ্য: এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায় । যেমন-  গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য: নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়। যেমন-
আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।

এ শ্রেণীর বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড)।
১,১৪৬.
'সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়ার কাল:
ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে। ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার:
- বর্তমান কাল,
- অতীত কাল,
- ভবিষ্যৎ কাল।

• বর্তমান কাল: বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে।

• বর্তমান কাল চার প্রকার:
- সাধারণ বর্তমান,
- ঘটমান বর্তমান,
- পুরাঘটিত বর্তমান এবং
- অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান:
এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।

১,১৪৭.
'তবু' কোন ধরনের যোজকের উদাহরণ?
  1. বিরোধ যোজক
  2. বিকল্প যোজক
  3. কারণ যোজক
  4. সাপেক্ষ যোজক
সঠিক উত্তর:
বিরোধ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধ যোজক
ব্যাখ্যা
বিরোধ যোজক: 
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। 
যেমন-
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।

অন্যদিকে,
কারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন –
- রহিম করিম এই কাজটি করেছে।
- জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন -
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
১,১৪৮.
‘ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।’ বাক্যে ‘দ্রুত’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ: 
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৪৯.
“মানুষ চাইলেই সব কিছু পায় না, এটাই সত্য”। এই বাক্যে ’সত্য’ কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
- সত্য শব্দটি এই বাক্যের বিষয়, তাই এটি বিশেষ্য।
- কিন্তু যদি বলা হয় ‘সত্য পথে থেকে সত্য কথা বলবে’ তবে সত্য শব্দটা বিশেষণ হত।
- কারণ, সত্য শব্দটা পথ ও কথা শব্দকে বিশেষিত করেছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
১,১৫০.
'সাগর' - কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. গুণ-বিশেষ্য
  3. জাতি-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৫১.
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। এখানে 'টাপুর টুপুর' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের দ্বিরুক্তিঃ
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে : সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে : বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে : ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে : পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা : ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

১,১৫২.
কোন যোজক একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কারণ যোজক
  2. খ) বিকল্প যোজক
  3. গ) সাপেক্ষ যোজক
  4. ঘ) সাধারণ যোজক
সঠিক উত্তর:
গ) সাপেক্ষ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাপেক্ষ যোজক
ব্যাখ্যা

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন: চা না-হয় কফি খান।

• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। যেমন: তাকে আসতে বললাম, তবু এলো না ।

• কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

সাধারন যোজক:
এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে। যেমন: করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৫৩.
বিশেষণ পদ কোনটি?
  1. তারুণ্য
  2. দুঃখ
  3. চলন্ত
  4. তিক্ততা 
সঠিক উত্তর:
চলন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলন্ত
ব্যাখ্যা



• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন: চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ। এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

-------------------------
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

১,১৫৪.
“তোমরা নিজেরা নিজেরা সমস্যাটি মিটিয়ে ফেল।”- 
বাক্যটিতে  “নিজেরা নিজেরা” কোন ধরনের সর্বনাম পদ নির্দেশ করছে? 
  1. সকলবাচক সর্বনাম
  2. পারস্পারিক সর্বনাম
  3. ব্যতিহারিক সর্বনাম
  4. খ + গ 
সঠিক উত্তর:
খ + গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ + গ 
ব্যাখ্যা

• “তোমরা নিজেরা নিজেরা সমস্যাটি মিটিয়ে ফেল।”—
এখানে “নিজেরা নিজেরা” হলো ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম এর উদাহরণ। 
- ব্যতিহারিক সর্বনাম পারস্পরিকতা বা একাধিক পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
-------------------------------- 
ব্যতিহারিক বা পারস্পারিক সর্বনাম:
- ব্যতিহারিক সর্বনাম হলো সেইসব সর্বনাম, যা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা পারস্পরিক ক্রিয়া প্রকাশ করে। 
- অর্থাৎ, এই সর্বনামগুলো ব্যবহার করা হয় তখন, যখন একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু একে অপরের প্রতি কোনো কাজ করে বা পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
- এগুলো সাধারণত একই শব্দের পুনরাবৃত্তি বা সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- যেমন: আপনা-আপনি, নিজে-নিজে, আপসে, পরস্পর। 

- উদাহরণস্বরূপ,
- "পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে"? 
- “তারা আপনা-আপনিই সব কাজ করেছে”,
- “তারা পরস্পরকে সাহায্য করে”,
- “শিক্ষার্থীরা নিজে-নিজে খেলা করছে”- এই বাক্যগুলোতে দেখা যায়, কাজটি কেবল একমুখী নয়, বরং পক্ষগুলোর মধ্যে আবর্তিত হয়েছে।
------------------------ 
অন্যদিকে,
সকলবাচক সর্বনাম: 
- সকলবাচক সর্বনাম হচ্ছে বাক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি। 
- যেমন- 
- সবাই গেছে বনে। 
- সকলেই খাবার খেয়েছেন। 
- সকলেই ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন। 
- সবাই সমুদ্রে ঘুরতে যেতে চাচ্ছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

১,১৫৫.
নিচের কোনটি কালনাম শ্রেণির নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) আষাঢ়
  2. খ) হিমালয়
  3. গ) আকাশ
  4. ঘ) পবন
সঠিক উত্তর:
ক) আষাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আষাঢ়
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষ্যঃ ব্যক্তি, স্থান, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম বিশেষ্য বলে
যেমন-
ব্যক্তিনামঃ হাবিব, সজল, লতা, পাতা।
স্থাননামঃ ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনামঃ সোমবার, জানুয়ারি, বৈশাখ, রমজান।
সৃষ্টিনামঃ গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী) ২০২১ সালের এডিশন।
 
১,১৫৬.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. মন দেওয়া
  2. মরচে ধরা
  3. মরে যাওয়া
  4. মার খাওয়া
সঠিক উত্তর:
মরে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরে যাওয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, মরচে ধরা, মার খাওয়া = সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৫৭.
’সাইরেন বেজে উঠল’ - বাক্যের যৌগিক ক্রিয়াটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে ?
  1. ক) কার্যসমাপ্তি অর্থে
  2. খ) আকস্মিকতা অর্থে
  3. গ)  নিরন্তরতা অর্থে
  4. ঘ) অনুমোদন অর্থে
সঠিক উত্তর:
খ) আকস্মিকতা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকস্মিকতা অর্থে
ব্যাখ্যা
 • ’সাইরেন বেজে উঠল’ আকস্মিকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• তাছাড়া--
- নিরন্তরতা অর্থে : তিনি বলতে লাগলেন।
- কার্যসমাপ্তি অর্থে : ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
- অভ্যস্ততা অর্থে : শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
- অনুমোদন অর্থে : এখন যেতে পার।
• এগুলো সব হলো যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।

 উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১,১৫৮.
নিচের কোনটি ব্যক্তিবাচক সর্বনাম?
  1. আমি
  2. স্বয়ং
  3. উনি
  4. একজন
সঠিক উত্তর:
আমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে।
- এই সর্বনাম তিন ধরনের।
যথা:
→ বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
→ শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
→ অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
- নির্দেশক সর্বনাম - উনি।
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম - একজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১,১৫৯.
নিম্নের কোনটি ফারসি অনুসর্গের উদাহারণ?
  1. ক) পাশে, বই
  2. খ) বনাম,বাদে
  3. গ) কর্তৃক, বদলে
  4. ঘ) অপেক্ষা, অভিমুখ
সঠিক উত্তর:
খ) বনাম,বাদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বনাম,বাদে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ
- ক্রিয়া অনুসর্গ

নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম,বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১,১৬০.
নিম্নের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. বুদ্ধিমান
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. এবং
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা
• 'বুদ্ধিমান'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

• 'ঢাকা'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• 'রাজশাহী'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• 'এবং'
- এটি একটি অব্যয় পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,১৬১.
নিচের কোনটি সর্বনামের প্রকারভেদ নয়?
  1. সংযোগজ্ঞাপক
  2. ব্যতিহারিক
  3. সামীপ্যবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

এখানে,
পূরণবাচক - নামে কোন সর্বনাম পদ নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৬২.
"খাসমহল" শব্দের মধ্যে 'খাস' এবং 'মহল' যথাক্রমে- 
  1. বিশেষ্য; বিশেষণ
  2. বিশেষণ; বিশেষণ
  3. বিশেষণ; বিশেষ্য
  4. বিশেষ্য; বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ; বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ; বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বিশেষণ; বিশেষ্য।

--------------
ব্যাখ্যা:
"খাসমহল" = খাস + মহল।

বিশ্লেষণ:
১. খাস = বিশেষণ পদ।

অর্থ: বিশেষ, নিজস্ব, রাজকীয়।
এটি 'মহল' শব্দটিকে বিশেষিত করছে।

কোন ধরনের মহল? → খাস মহল (বিশেষ মহল)।

২. মহল = বিশেষ্য।

অর্থ: প্রাসাদ, অট্টালিকা, বাসগৃহ।
এটি একটি স্থান/বস্তুর নাম।

এমন আরো কিছু শব্দ:
লালবাগ = লাল (বিশেষণ) + বাগ (বিশেষ্য)
নীলনকশা = নীল (বিশেষণ) + নকশা (বিশেষ্য)
খাসকামরা = খাস (বিশেষণ) + কামরা (বিশেষ্য)

​উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৬৩.
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা কোনটি?
  1. আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
  2. তোমরা এখন যাও।
  3. সত্য গোপন করো না।
  4. রোগ হলে ওষুধ খাবে।
সঠিক উত্তর:
রোগ হলে ওষুধ খাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোগ হলে ওষুধ খাবে।
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)। 

অন্যদিকে, 
----------------
• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
- উপদেশ: সত্য গোপন করো না।
- অনুরোধ: অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা: আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৪.
“এই পুকুরের পানি ঘোলা” বাক্যে ‘ঘোলা’ শব্দটি কোন প্রকারের বিশেষণ?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষণ
  2. খ) অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. গ) নির্দিষ্টবাচক বিশেষণ
  4. ঘ) বিধেয় বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিধেয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণ এর শ্রেণিবিভাগ:
বর্ণবাচক বিশেষণ - নীল আকাশ, সবুজ ঘাস, লাল ফিতা।
গুণবাচক বিশেষণ - চালাক ছেলে, ঠাণ্ডা পানি।
অবস্থাবাচক বিশেষণ - চলন্ত ট্রেন, তরল পানি।
ক্রমবাচক বিশেষণ - এক টাকা, আট দিন।
পূরণবাচক বিশেষণ - তৃতীয় প্রজন্ম, দ্বাদশ অধিবেশন।
পরিমানবাচক বিশেষণ - আধা কেজি চাল, অনেক লোক।
উপাদানবাচক বিশেষণ - বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি।
প্রশ্নবাচক বিশেষণ - কেমন গান? কতক্ষণ সময়?
নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ - এই দিনে, সেই সময়।
ভাববাচক বিশেষণ - খুব ভালো খবর। ঘোড়াটি বেশ জরে ছুটছে।
বিধেয় বিশেষণ - লোকটা পাগল। এই পুকুরের পানি ঘোলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১,১৬৫.
পদ কত প্রকার?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৫
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে পদ বলে।
- বাক্যে অন্তর্গত পদ কে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. বিশেষ্য
২. বিশেষণ
৩. সর্বনাম ও
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়াবিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক ও
৮. আবেগ

উঃস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)
১,১৬৬.
অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ পায় কোন ধরনের আবেগ - এর মাধ্যমে?
  1. ক) আতঙ্ক আবেগ
  2. খ) অলংকার আবেগ
  3. গ) সিদ্ধান্ত আবেগ
  4. ঘ) প্রশংসা আবেগ
সঠিক উত্তর:
গ) সিদ্ধান্ত আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিদ্ধান্ত আবেগ
ব্যাখ্যা

মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
১. সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

২. প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ।

৩. বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

৪. আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

৫. বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

৬. করূণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আহা! বেচারার কত কষ্ট।

৭. সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।

৮. অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৬৭.
বাংলা ব্যাকরণে পদ রয়েছে _____ প্রকার।
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় পদ প্রধানত ২ প্রকার। যথা নাম ও ক্রিয়া পদ। এর মধ্যে নামপদ ৪ প্রকার। যার কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষায় পদ ৫ প্রকার। এগুলো হলোঃ বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,১৬৮.
নিচের কোনটিতে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  2. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  3. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
  4. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
সঠিক উত্তর:
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন-
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: তুমি সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছি।

• সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন-
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৬৯.
লগ্নক কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
লগ্নক:
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধরনের।

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু’ পদের ‘টি’ বা ‘টুকু’ হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- ‘ছেলেরা’ বা ‘বইগুলো’ পদের ‘রা’ বা ‘গুলো’ হলো বচনের উদাহরণ।

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সাথে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- ‘তখনই’ বা ‘এখনও’ পদের ‘ই’ বা ‘ও’ হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৭০.
কোনটি বিরোধ যোজক?
  1. বা 
  2. না-হয়
  3. তবুও
  4. তাই
সঠিক উত্তর:
তবুও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তবুও
ব্যাখ্যা

বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।

যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

অন্যদিকে,
সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।

যেমন:
- করিম রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান। লাল বা নীল কলমটা আনো।

সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন: বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৭১.
নিচের কোনটি অব্যয়ের ধরন নয়?
  1. ক) সমুচ্চয়ী
  2. খ) অনন্বয়ী
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) অনুকার
সঠিক উত্তর:
গ) উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা
অব্যয় প্রধানত চার প্রকার। যথা - সমুচ্চয়ী, অনন্বয়ী, অনুসর্গ, অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,১৭২.
নিচের কোন বাক্যে বিশেষণ এর বিশেষণ রয়েছে?
  1. এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত
  2. ধীরে চল
  3. একটু দুধ খাও
  4. পরে একবার এসো
সঠিক উত্তর:
এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত
ব্যাখ্যা
- যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-
- সামান্য একটু দুধ দাও (সামান্য)।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত (অতিশয়)।
- রকেট অতি দ্রুত চলে (অতি) ইত্যাদি শব্দগুলো বিশেষণীয় বিশেষণ।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৩.
গুণবাচক বিশেষ্য কোনটি?
  1. জনতা
  2. সৌরভ
  3. ফরাসি
  4. মাটি
সঠিক উত্তর:
সৌরভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরভ
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য: 
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।

গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ:
- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘জনতা’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- ‘ফরাসি’ জাতিবাচক বিশেষ্য।
- ‘মাটি’ - বস্তুবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৪.
নিচের কোন বাক্যটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ?
  1. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
  2. আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
  3. বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
  4. তারা সেখানে হাটতে গেল।
সঠিক উত্তর:
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
ব্যাখ্যা

• সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তারা সেখানে হাটতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন-
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরেঝিনুক কুড়াত।
- তিনি রোজ সকালে বাগানে পানি দিতেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১,১৭৫.
"শন শন" - কোন প্রকার অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অনুকার অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনুকার অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।

যথা:
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
স্রোতের ধ্বনি – কল কল। 
বাতাসের গতি – শন শন
শুষ্ক পাতার শব্দ – মর মর। 
নূপুরের আওয়াজ – রুম ঝুম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,১৭৬.
'উৎকর্ষ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• 'উৎকর্ষ' শব্দটি 'বিশেষ্য' পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ: 
- উৎকৃষ্টতা, শ্রেষ্ঠত্ব,
- উন্নতি, বৃদ্ধি; আধিক্য।

উল্লেখ্য,
উৎকর্ণ - বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৭৭.
'হাসেম কিংবা কাসেম এই কাজের জন্য দায়ী।' বাক্যে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চায়ী
  2. অনন্বয়ী
  3. পদান্বয়ী
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চায়ী
ব্যাখ্যা
• 'হাসেম কিংবা কাসেম এই কাজের জন্য দায়ী।' বাক্যে 'কিংবা' সমুচ্চায়ী অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
- সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।

• সংযোজক অব্যয়:
- উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে 'ও' সংযোজক অব্যয়।
- তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে 'তাই' সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।
- আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। 'কিন্তু' অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়:
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে 'অথচ' সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৮.
"যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না।" বাক্যে 'যেহেতু............তাই' দ্বারা কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক) ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) যোজক
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) আবেগ
সঠিক উত্তর:
খ) যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোজক
ব্যাখ্যা

যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন, বিয়োজন অথবা সংকচ ঘটায়। যেমন: এতগুলো বই আর এতগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?

যোজক ৫ প্রকার ।
সাধারন যোজক - নীপা আর দীপা দুই বোন।
বৈকল্পিক যোজক - তিনি হয় ট্রেনে আসবেন না হয় বাসে আসবেন।
বিরোধমূলক যোজক - এত বৃষ্টি হল, তবুও গরম গেল না
কারণবাচক যোজক - যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। 
সাপেক্ষ যোজক - যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বাংলা একাডেমি।

১,১৭৯.
"সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ।" - এ বাক্যে ক্রিয়ার কাল কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ইচ্ছা প্রকাশে
  2. কল্পনায়
  3. সম্ভাবনা প্রকাশে
  4. অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
কল্পনায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্পনায়
ব্যাখ্যা

• নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে। যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
• ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
• কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
• ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না।
• অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
• নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১,১৮০.
সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
  2. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
  4. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

•  ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)
১,১৮১.
সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. তারা মাঠে খেলছিল।
  2. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  3. খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
  4. তিনি রোজ সকালে বাগানে পানি দিতেন।
সঠিক উত্তর:
তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন-
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরেঝিনুক কুড়াত।
- তিনি রোজ সকালে বাগানে পানি দিতেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,১৮২.
অনুসর্গ সাধারণত কোথায় বসে?
  1. বাক্যের শেষে
  2. শব্দের পরে
  3. শব্দের মধ্যে
  4. শব্দের পূর্বে
সঠিক উত্তর:
শব্দের পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের পরে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১) সাধারণ অনুসর্গ ও
২) ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৮৩.
কোন শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না?
  1. বিশেষণ 
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ: 
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।

- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৮৪.
মিশ্র ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) বিশেষ্যের সাথে বসে
  2. খ) বিশেষণের সাথে বসে
  3. গ) ধ্বন্যাত্নক অব্যয়ের সাথে বসে
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্নক অব্যয়ের ফলে কর, হ, দে, পট, খা, গা, ছাড়, ধর, মার প্রভৃতি ধাতু যোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ যে অর্থ প্রকাশ করে তাকে মিশ্রক্রিয়া বলে।
সুতরাং মিশ্র ক্রিয়ার ক্ষেত্রে  বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্নক অব্যয় সবগুলো সঠিক।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
১,১৮৫.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার দৃষ্টান্ত?
  1. দোষ দেওয়া
  2. মন দেওয়া
  3. এগিয়ে চলা
  4. মার খাওয়া
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মন দেওয়া, দোষ দেওয়া, মার খাওয়া - সংযোগ ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,১৮৬.
'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি।' - বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• 'নিশীত রাতে বাজছে বাঁশি' বাক্যে 'নিশীত' শব্দটি 'বিশেষণ' পদ।

বিশেষণ:
- যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।

যেমন
- সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

তেমনি,
- নিশীত রাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

১,১৮৭.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. কম
  2. সহ
  3. বাজে
  4. সাব
সঠিক উত্তর:
সহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গের প্রয়োগ-
• বিনা/বিনে: কর্তৃ কারকের সঙ্গে - তুমি বিনা (বিনে) আমার কে আছে?
• বিনি: করণ কারকের সঙ্গে - বিনি সুতায় গাঁথা মালা।
• বিহনে: উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?

সহ: সহগামিতা অর্থে - তিনি পুত্রসহ উপস্থিত হলেন।
• সহিত: সমসূত্রে অর্থে - শত্রুর সহিত সন্ধি চাই না।
• সনে: বিরুদ্ধগামিতা অর্থে - 'দংশনক্ষত শ্যেন বিহঙ্গ যুঝে ভুজঙ্গ সনে।'
• সঙ্গে: তুলনায় - মায়ের সঙ্গে এ মেয়ের তুলনা হয় না।

• অবধি : পর্যন্ত অর্থে - সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করব।

• পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
• পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে- শরতের পরে আসে বসন্ত।

অন্যদিকে, 
- আরবি উপসর্গ:আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- ইংরেজি উপসর্গ:হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,১৮৮.
'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে"- বাক্যে 'বিনা' কোন পদ?
  1. যোজক 
  2. উপসর্গ 
  3. অনুসর্গ 
  4. আবেগ 
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

'দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে"- বাক্যে 'বিনা' অনুসর্গ পদের উদাহরণ। 

-------------------
• অনুসর্গ:

বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে, যেমন:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়ে, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৮৯.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বক্তব্য জোরালো করে তাকে কী বলে?
  1. প্রত্যয় 
  2. বলক 
  3. নির্দেশক 
  4. বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
বলক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক 
ব্যাখ্যা

বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনই' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ

প্রত্যয়:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
​- 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

বিভক্তি:
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যে সব শব্দাংশ যুক্ত থাকতে সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম' ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের' পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
​- 
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
​- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

​​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

১,১৯০.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. জানুয়ারি
  2. সাগর
  3. ইত্তেফাক
  4. হিমালয়
সঠিক উত্তর:
সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাগর
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

১,১৯১.
'স্বাস্থ্য' কোন প্রকার বিশেষ্য?
  1. গুণবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. ভাববাচক
  4. বস্তুবাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৯২.
কোন বাক্যটির ক্রিয়া সকর্মক?
  1. মাখন রায় গানে মজেছে।
  2. মা ভাত রান্না করছেন।
  3. আমি টিফিনে খেয়েছি।
  4. সৌরভ পড়ে।
সঠিক উত্তর:
মা ভাত রান্না করছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মা ভাত রান্না করছেন।
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া পদের কর্ম থাকে তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। বাক্যের ক্রিয়াকে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মপদ। কর্মযুক্ত ক্রিয়াই সকর্মক ক্রিয়া।
যেমন:
মা ভাত রান্না করছেন।
- এ বাক্যে ক্রিয়াপদ হচ্ছে 'রান্না করছেন'। প্রশ্ন: কী রান্না করছেন? উত্তর: ভাত।
- অতএব 'রান্না করছেন' ক্রিয়া পদটির কর্ম হচ্ছে 'ভাত'। 'রান্না করছেন' সকর্মক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
সৌরভ পড়ে।
- সৌরভ কী পড়ে? – এ প্রশ্নের উত্তর নেই। অর্থাৎ এ বাক্যে 'পড়ে' ক্রিয়াপদের কোনো কর্ম নেই। তাই 'পড়ে' অকর্মক ক্রিয়া।
অনুরূপ,
মাখন রায় গানে মজেছে।
আমি টিফিনে খেয়েছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,১৯৩.
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে কোন পদের সম্পর্ককে কারক বলে?
  1. ক) বিশেষণ পদের
  2. খ) অব্যয় পদের
  3. গ) নাম পদের
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ পদের
সঠিক উত্তর:
গ) নাম পদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাম পদের
ব্যাখ্যা
কারক শব্দটির অর্থ - যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১,১৯৪.
"বীণার ঝঙ্কারসম যে প্রীতি ধ্বনিত হয় নিতি।" - এখানে 'প্রীতি' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয় 
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• "বীণার ঝঙ্কারসম যে প্রীতি ধ্বনিত হয় নিতি" - এই বাক্যে 'প্রীতি' একটি বিশেষ্য পদ।

তবে, 
"প্রীতিময় মুখ" - এখানে 'প্রীতিময়' বিশেষণ।
------------
এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ:
- গাম্ভীর্য হলো বিশেষ্য পদ। 
- গাম্ভীর্য শব্দের বিশেষণ রূপ - গম্ভীর।
- 'ইচ্ছা' শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- জাত ও উদ্ধত - বিশেষণ পদ। 
- গৈরিক - বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,১৯৫.
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে বলে-
  1. সাধারণ অতীত
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. নিত্য অতীত
  4. ঘটমান অতীত
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা

• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

অন্যদিকে,
------------------
• সাধারণ অতীত: বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
 যেমন:
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

• নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
 যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়। 
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,১৯৬.
কেবলমাত্র ____ ও _____ পদের বচনভেদ হয়। শুণ্যস্থান গুলোতে কী কী বসবে?
  1. ক) বিশেষ্য, বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ, সর্বনাম
  3. গ) বিশেষ্য, সর্বনাম
  4. ঘ) সর্বনাম, ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য, সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য, সর্বনাম
ব্যাখ্যা

'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ।
এর অর্থ সংখ্যার ধারনা।
ব্যাকরনের বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারনা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে।

কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। কোন কোন সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে করে বিশেষ্যের একবচক নির্দেশ করা হয়।
যেমনঃ গরুটা, বাছুরটা, কলমটা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৯৭.
"থালা, বাটি, মাটি" - কোন প্রকারের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টিবাচক 
  2. বস্তুবাচক
  3. গুণবাচক 
  4. জাতিবাচক 
সঠিক উত্তর:
বস্তুবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুবাচক
ব্যাখ্যা

• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
বেলে মাটি: এখানে "মাটি" একটি বস্তুবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক পদার্থ (মাটি) কে নির্দেশ করছে। "বেলে" হলো বিশেষণ, যা মাটির ধরন বর্ণনা করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,১৯৮.
'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে।
যেমন:
- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,১৯৯.
‘বিঘাটেক জমি’ - এখানে 'বিঘাটেক' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. অংশবাচক
  4. উপাদানবাচক
সঠিক উত্তর:
পরিমাণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিমাণবাচক
ব্যাখ্যা

‘বিঘাটেক জমি’ পরিমাণবাচক নাম বিশেষণ। 

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। 

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,২০০.
যেসব অব্যয় শব্দ কখনও স্বাধীন পদরূপে আবার কখনও শব্দ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয় তাদেরকে-
  1. ক) প্রত্যয় বলে
  2. খ) উপসর্গ বলে
  3. গ) প্রকৃতি বলে
  4. ঘ) অনুসর্গ বলে
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুসর্গ বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুসর্গ বলে
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় যেসব অব্যয় শব্দ কখনও স্বাধীন পদরূপে আবার কখনও শব্দ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয় তাদেরকে অনুসর্গ বলে।
• অনুসর্গ বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে।
• অনুসর্গের অপর নাম কর্মপ্রবচনীয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।