বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৫ / ৩১ · ১,৪০১১,৫০০ / ৩,০২৪

১,৪০১.
অনুকার অব্যয় কোনটি?
  1. ক) ছিঃ
  2. খ) নিশ্চয়ই
  3. গ) বটে
  4. ঘ) ঝম ঝম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঝম ঝম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঝম ঝম
ব্যাখ্যা

- যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয় সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যথা-
- বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়,
- বৃষ্টির তুমুল শব্দ - ঝম ঝম,
- শুষ্ক পাতার শব্দ - মর মর,
- বাতাসের গতি - শন শন,
- কোকিলের রব - কুহু কুহু ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪০২.
’সরে দাঁড়ানো’ কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. নামক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- মরে যাওয়া,
- কমে আসা,
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, উঠে
- পড়া, পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো,
- বেঁধে দেওয়া, বু
- ঝে নেওয়া,
- বলে ফেলা,
- করে তোলা,
- চেপে রাখা, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও
খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• প্রযোজক ক্রিয়া:

কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়;
- বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে -আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না;
- ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে -আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানেছটফটায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,৪০৩.
‘ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘নইলে’ শব্দটি কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. আবেগ
  3. ক্রিয়া
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের কিংবা বাক্যের অন্তর্গত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?

- যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, অতএব, যদি, যত-তত ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৪০৪.
'গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত' – এখানে ‘নিশীথে’ কোন পদ?
  1. নাম বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ভাব বিশেষণ 
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন:
বিশেষণ রূপে: নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে: ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।
বিশেষ্য রূপে: আপন ভালো সবাই চায়।

বিশেষণ রূপে: মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্য রূপে: এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে: তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।
বিশেষ্য রূপে: পুণ্যে মতি হোক।

বিশেষণ রূপে: শীতকালে কুয়াশা পড়ে। 
বিশেষ্য রূপে: শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

বিশেষণ রূপে: সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে: এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৪০৫.
কোন বাক্যে বিকল্প যোজক ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।
  2. জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি। 
  3. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  4. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
সঠিক উত্তর:
লাল বা নীল কলমটা আনো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল বা নীল কলমটা আনো।
ব্যাখ্যা

• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে, সেগুলোকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, অথবা, তবু, সুতরাং, কারণ, তবে ইত্যাদি।
- বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোজককে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

- সাধারণ যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন- রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক: 
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন,
- লাল বা নীল কলমটা আনো।

- বিরোধ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।

- কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।

- সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

১,৪০৬.
কোনটি বাংলা অব্যয় শব্দ?
  1. ক) আবার
  2. খ) যদি
  3. গ) খুব
  4. ঘ) খাসা
সঠিক উত্তর:
ক) আবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবার
ব্যাখ্যা
বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ, না ইত্যাদি। যদি তৎসম অব্যয় শব্দ ; খুব ও খাসা বিদেশি অব্যয় শব্দ। [সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী]
১,৪০৭.
সদুপায় শব্দটিতে কোন শর্ত অনুসরন করে?
  1. ক) ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড/দ/ব
  2. খ) ক/চ/ট/প/ত + স্বর = খ/ঝ/ঢ/দ/ব
  3. গ) ক/চ/ট/ত/প + ব্যঞ্জন = গ/জ/ড/দ/ব
  4. ঘ) ক/চ/ট/প/ত + স্বর = ঙ/ঞ/ন/ম/ণ
সঠিক উত্তর:
ক) ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড/দ/ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড/দ/ব
ব্যাখ্যা

সদুপায় শব্দটি ব্যাঞ্জনসন্ধির (ব্যঞ্জন + স্বর) উদাহরণ।
সদুপায় = সৎ + উপায়।
সুত্র: ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড/দ/ব 
অনুরূপভাবে দিগন্ত = দিক্‌ + অন্ত।
এখানে স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয়। এখানে ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষধ্বনি (ক/চ/ট/ত/প) পরবর্তী ঘোষধ্বনিতে (গ/জ/ড/দ/ব) পরিনত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১,৪০৮.
'সে গান করে আনন্দ পায়।'- নিম্নরেখ শব্দটি কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. ভাবী অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. সমাপিকা ক্রিয়া
  3. ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়া
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূত অসমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'সে গান করে আনন্দ পায়।'- নিম্নরেখ শব্দটি ভূত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ। 
-------------- 
ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:

⇒ সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে।

⇒ অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
- ভূত অসমাপিকা
- ভাবী অসমাপিকা
- শর্ত অসমাপিকা
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয় ৷

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪০৯.
কোনটি পদের নাম নয়?
  1. ক) যোজক
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) আবেগ
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

বাক্যে অন্তর্গত শব্দ বা পদকে ৮ টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যথা:
- বিশেষ্য
- বিশেষণ
- সর্বনাম
- ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়া
- যোজক
- অনুসর্গ
- আবেগ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

১,৪১০.
'তিনি বিশ্বাস অর্জন করেছেন।' এখানে 'অর্জন করা'কোন ধরনের ক্রিয়া?
  1. সরল ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. মিশ্র ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'তিনি বিশ্বাস অর্জন করেছেন।' এখানে 'অর্জন করা' এটি একটি মিশ্র ক্রিয়া।
- ক্রিয়াটি [কর্] ধাতুযোগে গঠিত।

মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।

যেমন:
দর্শন করা,
প্রীত হওয়া,
গান গাওয়া।
অনুরূপ - অর্জন করা

অন্যদিকে,
• যৌগিক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একটি অসমাপিকা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া মিলে গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।
প্রশ্নোক্ত বাক্যটিতে কোন অসমাপিকা না থাকায় যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবেনা।

• প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন : মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,৪১১.
পদ/পদ প্রকরণ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) বাক্যতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) রূপতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
প্রতিটি ভাষারই ৪টি মৌলিক অংশ থাকে-
১. ধ্বনি,
২.শব্দ,
৩. বাক্য ও
৪. অর্থ।

আর তাই সব ভাষার ব্যাকরণই প্রধানত এই ৪টি অংশ নিয়েই আলোচনা করে। অর্থাৎ, ব্যাকরণের বা বাংলা ব্যাকরণের মূল আলোচ্য বিষয়/ অংশ ৪টি-
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম:
- পদ প্রকরণ (শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে তখনই সেটাকে পদ বলে। তাই পদ বাক্যের ও পদ প্রকরণ বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- ক্রিয়াপদ
- কারক ও বিভক্তি (বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে। বাক্যের অন্তর্গত পদ নিয়ে কাজ করে বলে কারকও বাক্যতত্ত্বের অন্তর্গত।)
- কাল
- পুরুষ
- অনুসর্গ
- বাগধারা
- বাচ্য
- উক্তি
- যতি ও ছেদ চিহ্ন (বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করতে যতি বা ছেদ চিহ্ন ব্যবহার হয়। অর্থাৎ, এরা বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্যের প্রকারভেদ
- বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম বা পদক্রম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি।
১,৪১২.
পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমেনা সেখানে বেড়াতে গেল।
  2. সজল সপরিবারে বাড়িতে ফিরেছে।
  3. আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
  4. বাল্যকালে আমরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
সঠিক উত্তর:
সজল সপরিবারে বাড়িতে ফিরেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সজল সপরিবারে বাড়িতে ফিরেছে।
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন
• আমি সমস্যার সমাধান করেছি।
• সজল সপরিবারে বাড়িতে ফিরেছে।

• তারা বাড়িতে ফিরেছে।

অন্যদিকে,
- সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ= আমেনা সেখানে বেড়াতে গেল।
- পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ= আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- নিত্য অতীত কালের উদাহরণ= খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১,৪১৩.
নিচের কোন বাক্যে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?
  2. মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
  3. সব বস্তিতেই এখন টিউবওয়েল বসেছে।
  4. ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
সঠিক উত্তর:
ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।
ব্যাখ্যা
⇒ ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- ভোর না হতেই পাখির ডাক শোনা গেল।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- সব বস্তিতেই এখন টিউবওয়েল বসেছে।
- মেয়ে দুটি ছাদের ওপরে হাঁটছে।
- তুমি কবে লন্ডন যাচ্ছ?

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১,৪১৪.
কোন বাক্যটি ক্রিয়ার সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করছে?
  1. অন্যায় কাজ করো না।
  2. তারা বাড়ি যাবে।
  3. বৃষ্টি আসে আসুক।
  4. ভালো করে পড়লে সফল হবে।
সঠিক উত্তর:
ভালো করে পড়লে সফল হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো করে পড়লে সফল হবে।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) ভালো করে পড়লে সফল হবে।

সাপেক্ষ ভাব: একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-
ক. সম্ভাবনায়: তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংসা হবে। যদি সে পড়ত তবে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে: ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায়: আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

অন্যদিকে, 
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব: যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়। যেমন-সে যাক। যা হয় হোক। সে একটু হাসুক। বৃষ্টি আসে আসুক। তার মঙ্গল হোক।

অনুজ্ঞা ভাব: আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়। যেমন-
ক. আদেশাত্মক: চুপ কর, তুমি কাল যেও।
খ. নিষেধাত্মক: অন্যায় কাজ করো না।

নির্দেশক ভাব: সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়। যথা-
ক. সাধারণ নির্দেশক : আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় : আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,৪১৫.
কোনটি ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা?
  1. সত্য গোপন করো না।
  2. আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
  3. অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
  4. রোগ হলে ওষুধ খাবে।
সঠিক উত্তর:
রোগ হলে ওষুধ খাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোগ হলে ওষুধ খাবে।
ব্যাখ্যা

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

অন্যদিকে,
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
- উপদেশ: সত্য গোপন করো না।
- অনুরোধ: অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা: আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪১৬.
কোন বাক্যটিতে নাম-বিশেষণের বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্য একটু দুধ দাও।
  2. বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
  3. ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন-

নাম-বিশেষণের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪১৭.
"এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।" - এই বাক্যে 'অতিশয়' কোন পদ?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণীয় বিশেষণ
  3. সর্বনামের বিশেষণ
  4. অব্যয়ের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:
• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৪১৮.
‘করা’ কী ধরনের শব্দ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
ক্রিয়া থেকে যে বিশেষ্য পাওয়া যায় তাকে ক্রিয়া বিশেষ্য বলে।
অর্থাৎ ক্রিয়ার নামও এক ধরনের বিশেষ্য।
যেমন : পঠন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)
১,৪১৯.
নিচের কোনগুলো বিরোধমূলক যোজক?
  1. কিন্তু, তবু
  2. না-হয়, অথচ
  3. এবং, ও
  4. কারণ, যেহেতু
সঠিক উত্তর:
কিন্তু, তবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিন্তু, তবু
ব্যাখ্যা

• যোজক শব্দের কাজ একাধিক পদ, খণ্ডবাক্য কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। অর্থ ও সংযোজনের ধরন অনুযায়ী যোজক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে।
যেমন:

• সাধারণ যোজক: এ ধরনের শব্দশ্রেণি দুটি শব্দ কিংবা বাক্যকল্পকে জুড়ে দেয়। সাধারণ যোজক শব্দ হলো- এবং, ও, আর। যেমন : মিমিয়া আর আলিয়া দু বোন। সুখ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে না। স্কুলে যাও এবং পঠ মন দাও।

• বৈকল্পিক যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ। যেমন- সাদা বা কালো। তিনি হয় রিকশায় না হয় হেঁটে যাবেন। সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।

• বিরোধমূলক যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে। বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু। যেমন: তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। এই বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।

• কারণবাচক যোজক: এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। কারণবাচক যোজক হলো– কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব। যেমন: জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট। যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপুরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সাপেক্ষ যোজক হলে যথা... তথা, যত .... তত, যখন ... তখন, যেমন তেমন, যেরূপ সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৪২০.
নিচের কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ আছে?
  1. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  2. মাথার উপরে নিল আকাশ।
  3. তাঁর সাথে কথা বলো না।
  4. ভালো করে খেয়ে নাও।
সঠিক উত্তর:
ভালো করে খেয়ে নাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো করে খেয়ে নাও।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ দেয়, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে, তাকে অনুসর্গ বলে।
অনুসর্গ ২ প্রকার:
- সাধারণ অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ 

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
• করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
• ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
• দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
• বলে: তুমি আসবে বলে আমি দাঁড়িয়ে আছি।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
• উপরে: মাথার উপরে নিল আকাশ।
• কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
• দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
• সাথে: তাঁর সাথে কথা বলয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,৪২১.
সাধারণ অনুসর্গ নয় কোনটি?
  1. দ্বারা
  2. ধরে
  3.  জন্য
  4. কাছে
সঠিক উত্তর:
ধরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধরে
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪২২.
‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া’ - এ বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. মতো
  2. নিমিত্ত
  3. ন্যায় 
  4. মাঝারে
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
ব্যাখ্যা

• ‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া’ বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য,
নিমিত্ত শব্দের অর্থ- উপলক্ষ; উদ্দেশ্য; প্রয়োজন।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার: 
• 'বোকার মতো কাজ করো না।'- 'মতো' অনুসর্গটি 'ন্যায়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• আমার কাছে আর কে আসবে?- 'কাছে' অনুসর্গটি 'নিকট' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• নিমেষ মাঝেই সব শেষ।- 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
• ‘সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - 'মধ্যে' অর্থে অনুসর্গটি ব্যবহৃত হয়েছে। 
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৪২৩.
নিচের কোনটি বিস্ময় আবেগের ভাব প্রকাশ করে?
  1. আরে
  2. আহা
  3. উহ্‌
  4. বাহ্‌
সঠিক উত্তর:
আরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরে
ব্যাখ্যা
আবেগ:
- মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

বিস্ময় আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- আহ্‌, কী চমৎকার দৃশ্য!

অন্যদিকে,
• আহা - করুণা আবেগ।
• উহ্‌ - আতঙ্ক আবেগ।
• বাহ্‌ - প্রশংসা আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৪২৪.
'নিশ্চয়ই পারব।' - বাক্যে 'নিশ্চয়ই' কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

কয়েকটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১,৪২৫.
‘সকলে ঘটনাটা জেনেছে।’- বাক্য ব্যবহৃত ‘সকলে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. যোজক
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘সকলে ঘটনাটা জেনেছে।’- বাক্য ব্যবহৃত ‘সকলে’ সকলবাচক সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত

⇒ সর্বনাম:

 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪২৬.
আমি ঢাকায় চাকরি করি। কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক) নামবাচক বিশেষ্য
  2. খ) স্থানবাচক বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া বিশেষণ স্থান নির্দেশ করে তাকে স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যেমন :
চাকরি করি ক্রিয়াকে ঢাকা শব্দটি বিশেষিত করছে বলে ঢাকা ক্রিয়া বিশেষণ।
১,৪২৭.
'এখন শুয়ে পড়।'- এখানে 'শুয়ে পড়' কোন ধরনের ক্রিয়া? 
  1. মিশ্র ক্রিয়া
  2. প্রযোজক ক্রিয়া
  3. সমধাতুজ ক্রিয়া
  4. যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• যৌগিক ক্রিয়া:
যৌগিক ক্রিয়ার গঠন বিধি অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে যা, পড়, দেখ, লাগ্‌, ফেল্, আস্, উঠ, দে, লহ্, থাক্, প্রভৃতি ধাতু থেকে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়ে উভয়ে মিলিতভাবে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করে, এসব যৌগিক ক্রিয়া বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন-
 যা-ধাতু:
-  সমাপ্তি অর্থে: বৃষ্টি থেমে গেল।
-  অবিরাম অর্থে: গায়ক গেয়ে যাচ্ছেন।
- ক্রমশ অর্থে: চা জুড়িয়ে যাচ্ছে।
- সম্ভাবনা অর্থে: এখন যাওয়া যেতে পারে।

পড়্‌-ধাতু:
- সমাপ্তি অর্থে: এখন শুয়ে পড়।
- ব্যাপ্তি অর্থে: কথাটা ছড়িয়ে পড়েছে।
- আকস্মিকতা অর্থে: এখনই তুফান এসে পড়বে।
- ক্রমশ অর্থে: কেমন যেন মনমরা হয়ে পড়েছি।
যেমন:
- ঘটনাটা শুনে রাখ।
- তিনি বলতে লাগলেন।
- সাইরেন বেজে উঠল।

আস্-ধাতু: 
- সম্ভাবনা অর্থে: আজ বিকেলে বৃষ্টি আসতে পারে।
- অভ্যস্ততা অর্থে: আমরা এ কাজই করে আসছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৪২৮.
‘তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!’ – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- অনন্বয়ী অব্যয় হলো এমন একটি অব্যয়, যা বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে ব্যাকরণগতভাবে যুক্ত নয়। এই ধরনের অব্যয় মূলত মনের আবেগ, সম্বোধন বা বিস্ময় প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাক্যের অন্যান্য পদের সঙ্গে এরা কোনো সংযোগ স্থাপন করে না।

- 'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উদাহরণ:
• আবেগ বা বিস্ময় প্রকাশ:
- "বাঃ!" কী সুন্দর দৃশ্য!
- "আহা!" বেচারি খুব কষ্ট পেয়েছে।

• আফসোস প্রকাশ:
- "হায়," আমার কপালে কি এই ছিল?

• সম্বোধন প্রকাশ:
- "ওহে," এদিকে এসো।
- "মা," আমাকে আশীর্বাদ করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৪২৯.
সে বই পড়ছে। - বাক্যে 'পড়ছে' কোন ক্রিয়া?
  1. সকর্মক ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
সকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে ৷
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া।
- 'বই' হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

অন্যদিকে:
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে ।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৩০.
'উদাস' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) উদাসীন
  2. খ) ঔদার্য
  3. গ) ঔদাস্য
  4. ঘ) উদ্ধৃত
সঠিক উত্তর:
গ) ঔদাস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঔদাস্য
ব্যাখ্যা
'উদাস' এর বিশেষ্য রূপ 'ঔদাস্য'

• উদাস (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্‌+√আস্‌+অ
অর্থ: 
উদাসীন, আসক্তিহীন।
- অনুরাগশূণ্য, নির্লিপ্ত।
- বিষণ্ণ; উন্মনা।
- আকুল, ব্যাকুল। 
- উদ্দেশ্যহীন

• ঔদাস্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদাস+য
অর্থ: উদাসীনতা। 

• ঔদার্য (বিশেষ্য) 
অর্থ: উদারতা, মহানুভবতা, 

• উদ্ধৃত (বিশেষণ) 
অর্থ: কোনো রচনা বা উক্তি থেকে হুবহু গৃহীত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৪৩১.
নিচের কোন বাক্যে অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আমি বই পড়ছি।
  2. তারা বাড়ি যাচ্ছে।
  3. আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি।
  4. সে খেলা করছে।
সঠিক উত্তর:
আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি।
ব্যাখ্যা
• 'আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি।'- বাক্যে 'জন্য' একটি অনুসর্গ। 
----------------- 
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ। 

• কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১,৪৩২.
‘মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।’- বাক্যে ‘সামনে’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।


ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৩৩.
খুব যে বলেছিলে আসবেন! - এ বাক্যে ‘যে’ কোন ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) সময়বাচক
  2. খ) ধরনবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) পদাণু
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদাণু
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও  কি, যে, বা, না, তো প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন :
কি : আমি কি যাব?
যে : খুব যে বলেছিলে আসবেন!
বা : কখনও বা দেখা হবে।
না : একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
তো : মরি তো মরব।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা—শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১,৪৩৪.
কোনটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ?
  1. খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
  2. খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
  3. বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
  4. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
সঠিক উত্তর:
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
ব্যাখ্যা
• ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

-------------------
• সাধারণ অতীত:

অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন:
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

• নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।
১,৪৩৫.
"প্রচুর শ্রম এবং অভূতপূর্ব একাগ্রতা দিয়ে সে তার দীর্ঘ সময়ের কাজটি শেষ করেছে।" - বাক্যে কয়টি বিশেষণ শব্দ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি হচ্ছে: "প্রচুর শ্রম এবং অভূতপূর্ব একাগ্রতা দিয়ে সে তার দীর্ঘ সময়ের কাজটি শেষ করেছে।"

এই বাক্যে ৩টি বিশেষণ শব্দ রয়েছে:

• প্রচুর - (শ্রমের পরিমাণ বর্ণনা করছে);
• অভূতপূর্ব - (একাগ্রতার বিশেষতা বর্ণনা করছে);
• দীর্ঘ - (সময় বর্ণনা করছে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৪৩৬.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্য এর উদাহরণ?
  1. হাত 
  2. জবা
  3. সাইকেল
  4. রাগ
সঠিক উত্তর:
রাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাগ
ব্যাখ্যা

• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় : 
 
মূর্ত বিশেষ্য:
- এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায় । যেমন -  গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।

ভাব বিশেষ্য:
- নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়। যেমন -
আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।

এ শ্রেণীর বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।

১,৪৩৭.
'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়' - বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।  
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: 
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
---------------------
অন্যদিকে,
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

⇒ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৩৮.
কোনটি অব্যয়জাত বিশেষণের উদাহরণ? 
  1. হঠাৎ বড়লোক
  2. অনাগত দিন
  3. কাঁদকাঁদ চেহারা
  4. চৌচালা ঘর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ বড়লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ বড়লোক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) হঠাৎ বড়লোক

বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত - হারানো সম্পত্তি, খাবার পানি, অনাগত দিন
খ. অব্যয়জাত - আচ্ছা মানুষ, উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক
গ. সর্বনামজাত - কবেকার কথা, কোথাকার কে, স্বীয় সম্পত্তি।
ঘ. সমাসসিদ্ধ - বেকার, নিয়ম-বিরুদ্ধ, জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর
ঙ. বীপ্সামূলক - হাসিহাসি মুখ, কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত - কনকনে শীত, শনশনে হাওয়া, ধিকিধিকি আগুন, টসটসে ফল, তকতকে মেঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

১,৪৩৯.
কোন বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন
  2. মন্দ কথা বলতে নেই
  3. শীতকালে কুয়াশা পড়ে
  4. গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত
সঠিক উত্তর:
গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত
ব্যাখ্যা
• যে পদে সাধারণত কোনো ব্যক্তি, বস্তু, জাতি, সমষ্টি, বিষয়, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় বা কোনো কিছুর নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য পদ বলে। 
যেমন:
- বিশেষণ রূপে: নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
- বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

• বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন:
বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে।
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪৪০.
'হাসি দিয়ে ঘরটাকে ভরিয়ে রাখতো সে'। বাক্যটিতে 'দিয়ে' হলো-
  1. অব্যয়
  2. প্রত্যয়
  3. অনুসর্গ
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'হাসি দিয়ে ঘরটিকে ভরিয়ে রাখতো সে।' - বাক্যটিতে 'দিয়ে' একটি অনুসর্গ।  
----------- 
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে ।
- বাংলা কিছু অনুসর্গ আছে এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে, চেয়ে, অপেক্ষায়, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তি রুপে ব্যবহৃত হয় ।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসর্গের উদাহরণ:
হইতে, হতে, চেয়ে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪৪১.
‘তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে’ - বাক্যটি তে ‘পাঠানো’ কোন পদবাচক শব্দ?
  1. ক) বিশেষ্য বাচক
  2. খ) ক্রিয়া বাচক
  3. গ) অনুসর্গ বাচক
  4. ঘ) যোজক বাচক
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য বাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্য বাচক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য সাধারণত ৬ প্রকার।
যথা -
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যাক্তি, কাল, দেশ, স্থান, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নাম কে নাম-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী অপ্রাণীর সাধারণ নাম কে বোঝায়।
যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্যকে দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি কে বোঝায়।
যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা বা ধারনার নাম কে গুণ বিশেষ্য বলে।
যেমন- সরলতা, আনন্দ, দয়া, গুরুত্ব, দীনতা, ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায় তাকে ক্রিয়া বিশেষ্য বলে।
যেমন- পঠন, ভোজন, শয়ন, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি বই।
১,৪৪২.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. চাতুর্য
  2. নিপুণ
  3. প্রচুর
  4. প্রণীত
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুর্য
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - চাতুর্য
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটির বিশেষণ পদ - চতুর।

শব্দের অর্থ:
-  চতুরতা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - নিপুণ, প্রচুর, প্রণীত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৪৪৩.
“সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ” - এখানে কী বুঝাতে নিত্যবৃত্ত অতীত ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কামনা
  2. খ) ইচ্ছা
  3. গ) সম্ভাবনা
  4. ঘ) অসম্ভব কল্পনায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসম্ভব কল্পনায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসম্ভব কল্পনায়
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল : অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। যেমন : আমরা তখন রোজ সকালে নদীর তীরে ভ্রমণ করতাম।
নিত্যবৃত্ত অতীত কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ :
ক. কামনা প্রকাশে : আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
খ. অসম্ভব কল্পনায় : সাতাশ যদি হতো একশ সাতাশ।
গ. সম্ভবনা প্রকাশে : তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৪৪.
”তিনি রোজ সকালে হাটতে বের হতেন।” কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. নিত্য অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্য অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্য অতীত
ব্যাখ্যা

• নিত্য অতীত:
- অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন-
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তিনি রোজ সকালে হাটতে বের হতেন।

• সাধারণ অতীত:
- অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১,৪৪৫.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ক) শিল্পদ্যোক্তা
  2. খ) মূর্চ্ছনা
  3. গ) সংস্রব
  4. ঘ) মনকষ্ট
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্রব
ব্যাখ্যা

'সংস্রব' বানানটি শুদ্ধ।
অর্থঃ সম্পর্ক; সম্বন্ধ; ছোঁয়াচ (নেতাদের সংস্রব)।

প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
শিল্পোদ্যোক্তা
মূর্ছনা
মনঃকষ্ট

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৪৪৬.
নিচের কোনগুলো 'বলক' এর উদাহরণ?
  1. রা, এরা
  2. টি, টুকু
  3. গুলো, গোটা
  4. ই, ও
সঠিক উত্তর:
ই, ও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই, ও
ব্যাখ্যা
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন - 
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
রা, এরা  - বচন এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
টি, টুকু - পদাশ্রিত নির্দেশক এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
গুলো, গোটা - পদাশ্রিত নির্দেশক এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৪৭.
'আমি একটি লাল ফুল তুলেছি।'- বাক্যে 'লাল' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'লাল' হচ্ছে বিশেষণ পদ।

• আমি একটি লাল ফুল তুলেছি।
- এখানে ‘লাল’ বিশেষণ পদ।

আবার যখন বলা হয়-
• ‘লাল থেকে নীল ভালো।
- এখানে 'লাল' এটি বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১,৪৪৮.
নিচের কোন বাক্যটিতে কোনো অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়নি?
  1. কোন পর্যন্ত পড়েছ?
  2. রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
  3. এই উপহার তোমার জন্য।
  4. আমার যাওয়া হয়নি।
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হয়নি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হয়নি।
ব্যাখ্যা
• "আমার যাওয়া হয়নি।" - বাক্যে কোনো অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।
--------------- 
অনুসর্গ:

- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে '-কে', '-র' ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
- সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

• অনুসর্গ দুই প্রকার।
যথা:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৪৯.
পুরাঘটিত অতীত কাল নয় কোনটি?
  1. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  2. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  3. আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

অন্যদিকে,
নিত্যবৃত্ত অতীত - আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৫০.
কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. কলম
  2. ভোজন
  3. সমিতি
  4. তারুণ্য
সঠিক উত্তর:
সমিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমিতি
ব্যাখ্যা

- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল।
- যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, দেখা, শোনা।
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায় তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যেমন- মধুরতা, তারল্য, তিক্ততা, তারুণ্য, সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।
- যে পদে কোন উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যেমন- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৫১.
কোনটি উত্তম পুরুষের উদাহরণ?
  1. তুমি
  2. আমি
  3. সে
  4. তিনি 
সঠিক উত্তর:
আমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি
ব্যাখ্যা

• 'আমি'- উত্তম পুরুষের উদাহরণ। 

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।
যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৪৫২.
‘ধীরে ধীরে বায়ু বয়’ বাক্যটিতে কিসের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. বাক্যের বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা-
ক্রিয়া সংঘঠনের ভাব : ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল : পরে একবার এসো।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
১,৪৫৩.
নিচের কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. বিদ্যুৎ চমকায়
  2. গান করা
  3. মাঠে খেলছে
  4. কমে আসা
সঠিক উত্তর:
গান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গান করা
ব্যাখ্যা
সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।
 
সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।
 
নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৫৪.
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে কোন অতীত কাল বলে?
  1. সাধারণ
  2. নিত্য
  3. পুরাঘটিত
  4. ঘটমান
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
ব্যাখ্যা
• অতীত কাল:
- অতীতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হতো তাকে অতীত কাল বলে।
- অতীত কাল চার প্রকার: সাধারণ অতীত, ঘটমান অতীত, পুরাঘটিত অতীত এবং নিত্য অতীত।

• সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন -
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন -
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম। 
- তারা মাঠে খেলছিল।

• পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে। 

• নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন -
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৫৫.
"তিনি সৎ, তাই সকলে তাকে শ্রদ্ধা করে।" - এখানে 'তাই' শব্দটি কোন প্রকারের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সংযোজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোজক অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে' - এখানে 'তাই' সংযোজক অব্যয়। 

সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা:
সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক। 

সংযোজক অব্যয়:
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।

সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪৫৬.
‘আমার এ দরখাস্তটা পড়ুন’- বর্তমানের ‘এ’ অনুজ্ঞা দ্বারা কি বুঝায়?
  1. অনুরোধ
  2. প্রার্থনা
  3. বিধান
  4. আদেশ
সঠিক উত্তর:
প্রার্থনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রার্থনা
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ: কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
- উপদেশ: সত্য গোপন করো না।
- অনুরোধ: অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা: আমার দরখাস্তটা পড়ুন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৭.
“তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।” বাক্যে “অথচ” কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক অব্যয়
ব্যাখ্যা

“তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।” বাক্যে “অথচ” সংকোচক অব্যয়। 

সমুচ্চয়ী অব্যয়
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
ক. সংযোজক অব্যয়: আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।
খ. বিয়োজক অব্যয়: বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলোও বিয়োজক অব্যয়।
গ. সংকোচক অব্যয়: অথচ, কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৪৫৮.
‘এই পুকুরের পানি ঘােলা।’- বাক্যে ‘ঘোলা’ কোন বিশেষণ পদের উদাহরণ?
  1. বিধেয় বিশেষণ
  2. ভাববাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. বর্ণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিধেয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
⇒ বিধেয় বিশেষণ:
বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন:
- লােকটা পাগল। 
- এই পুকুরের পানি ঘােলা
[বাক্য দুটির ‘পাগল’ ও ‘ঘােলা’ বিধেয় বিশেষণ।]

------------------
⇒ বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,৪৫৯.
নিচের কোন বাক্যে পদাণু ক্রিয়াবিশেষণের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  4. কখনাে বা দেখা হবে।
সঠিক উত্তর:
কখনাে বা দেখা হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখনাে বা দেখা হবে।
ব্যাখ্যা
• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
- বা: কখনাে বা দেখা হবে।
- না: একটু ঘুরে আসুন না, ভালাে লাগবে।
- তাে: মরি তাে মরব।

অন্যদিকে,
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

⇒ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন: 
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: 
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 
- তাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৬০.
'যাহারা ভালো, তাহারা পুরস্কৃত হইবে' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' কী?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. যোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• 'যাহারা ভালো, তাহারা পুরস্কৃত হইবে' – এখানে 'যাহারা, তাহারা' - সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।

সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১,৪৬১.
কোনটিতে বস্তুবাচক বিশেষ্য রয়েছে?
  1. সুন্দর পাখি
  2. জনতার মিছিল
  3. বেলে মাটি
  4. তাজা মাছ
সঠিক উত্তর:
বেলে মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলে মাটি
ব্যাখ্যা
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
বেলে মাটি: এখানে "মাটি" একটি বস্তুবাচক বিশেষ্য, কারণ এটি একটি প্রাকৃতিক পদার্থ (মাটি) কে নির্দেশ করছে। "বেলে" হলো বিশেষণ, যা মাটির ধরন বর্ণনা করছে।
---------------
অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশন:
ক) সুন্দর পাখি → "পাখি" জাতিবাচক বিশেষ্য।
খ) জনতার মিছিল → "মিছিল" সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
ঘ) তাজা মাছ → "মাছ" জাতিবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪৬২.
বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে কী বলে?
  1. প্রাতিপাদিক
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. বচন
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতুকে- পদ বলে। 

• পদ:
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৪৬৩.
‘ধৈর্য একটি মহৎ গুণ।’- এখানে ‘ধৈর্য’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘ধৈর্য একটি মহৎ গুণ।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ধৈর্য’ শব্দটি বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

⇒ বিশেষ্য:

কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:

• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন: স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

• জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমম: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৬৪.
'মেটে কলসি' - এখানে 'মাটি' কোন প্রকার বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  2. উপাদানবাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. বর্ণবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপাদানবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'মেটে কলসি' - এখানে 'মাটি' উপাদানবাচক বিশেষণ

বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন - সুন্দর ফুল, বাজে কথা, পঞ্চাশ টাকা, হাজার সমস্যা, তাজা মাছ।

উপাদানবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন -
- বেলে মাটি।
- পাথুরে মূর্তি।
- মেটে কলসি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৬৫.
বাংলা ‘ধীর’ শব্দটির বিশেষ্য রূপ কি?
  1. ক) ধৈর্য
  2. খ) ধীরস্থির
  3. গ) ধীরস্থিরতা
  4. ঘ) ধীরতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধীরতা
ব্যাখ্যা

ধীর [ধির্‌](বিশেষণ) {(তৎসম বা সংস্কৃত) ধী+√রা+অ(ক)}
১ ধৈর্যশীল; সহিষ্ণু; শোক ও ক্লেমাদিতে অভিভূত (ধীরচিত্ত)।
২ মন্থর; মৃদু; মৃদুমন্দ; অল্প; সামান্য (ধীরগতি, ধীরচলন)।
৩ স্থির; চঞ্চলতাশূন্য (ধীরভাব)।
৪ শান্ত; নম্র; বিনীত (ধীরস্বভাব)।
৫ স্থিরবুদ্ধি (ধীর ব্যক্তি)।
৬ পণ্ডিত; জ্ঞানী; বিজ্ঞ (পরস্পর শাস্ত্রকথা কহে ধীরগণ-ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর)।

অধীর বিপরীতার্থক শব্দ।
ধীরতা, ধীরত্ব (বিশেষ্য)
১ ধৈর্য; ধৃতি (সকল ধীরতা শিক্ষা রসেতে পণ্ডিত-দৌকা)।
২ স্থিরচিত্ততা।
৩ গাম্ভীর্য।
৪ পাণ্ডিত্য।
৫ বুদ্ধিমত্তা।
ধীরপ্রশান্ত (বিশেষ্য) ১ ধীর ও শান্ত।
২ নায়কবিশেষ, যার অনেক গুণ আছে।
ধীরললিত (বিশেষ্য) মৃদু প্রকৃতির নায়কবিশেষ; যে নায়ক নম্র প্রফুল্ল ও নৃত্যগীতাদি প্রিয়।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) ধী+√রা+অ(ক)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান

১,৪৬৬.
সমাজ, ঝাঁক, জনতা ইত্যাদি কি বাচক বিশেষ্য পদ?
  1. ক) ব্যক্তিবাচক
  2. খ) জাতিবাচক
  3. গ) সমষ্টিবাচক
  4. ঘ) ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
গ) সমষ্টিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- সভা, সমাবেশ, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, ঝাঁক, মিছিল, বহর, দল, বাহিনী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৬৭.
প্রযোজক ক্রিয়াকে সংস্কৃত ব্যাকরণে কী বলে?
  1. ক) সমধাতুজ ক্রিয়া
  2. খ) ণিজন্ত ক্রিয়া
  3. গ) নামধাতুজ ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ণিজন্ত ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ণিজন্ত ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অনুষ্ঠিত হয় তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। প্রযোজক ক্রিয়াকে সংস্কৃত ব্যাকরণে ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,৪৬৮.
কোনটি সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ?
  1. ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  2. আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
  3. এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  4. আমরা রংপুরে যাব।
সঠিক উত্তর:
আমরা রংপুরে যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা রংপুরে যাব।
ব্যাখ্যা

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

অন্যদিকে, 
ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন –
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৪৬৯.
'হাসেম কিংবা কাশেম এর জন্য দায়ী।'- বাক্যে 'কিংবা' কোন শ্রেণির অব্যয়?
  1. অনন্বয়ী
  2. সমুচ্চয়ী
  3. অনুকার
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুচ্চয়ী
ব্যাখ্যা
• 'হাসেম কিংবা কাসেম এই কাজের জন্য দায়ী।' বাক্যে 'কিংবা' সমুচ্চায়ী অব্যয়

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যেমন- 
• সংযোজক অব্যয়:
- উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে 'ও' সংযোজক অব্যয়।
- তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে 'তাই' সংযোজক অব্যয়। তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।
- আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। 'কিন্তু' অব্যয়টি দুটি বাক্যের বিয়োজক। তাছাড়া বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, বিয়োজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়:
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে 'অথচ' সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অন্যদিকে,
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।

• অনুসর্গ অব্যয়:
যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।

• অনুকার অব্যয়:
যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে।
যথা- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়; মেঘের গর্জন গুড় গুড়; বৃষ্টির তুমুল শব্দ ঝম ঝম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৭০.
"সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।" — এখানে 'অথচ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক
  2. বিয়োজক
  3. সংকোচক
  4. অনুগামী
সঠিক উত্তর:
সংকোচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচক
ব্যাখ্যা
"সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।" — এখানে 'অথচ'সংকোচক অব্যয়।

-----------------
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।
- সে এসেছে অথচ আমন্ত্রণ পায়নি।
এখানে, 'অথচ' শব্দটি দুটি বিপরীত বা পরস্পর বিরোধী বক্তব্যকে যুক্ত করে। যেমন: "সে এসেছে" — এটি একটি তথ্য, কিন্তু পরের অংশ "অথচ আমন্ত্রণ পায়নি" — এতে এক ধরনের বৈপরীত্য প্রকাশ পায়। এজন্য 'অথচ' এখানে সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪৭১.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সুস্বাগত
  2. সমূল
  3. সময়
  4. প্রয়োজন
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
ব্যাখ্যা
সুস্বাগত - শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- 'সুস্বাগত' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - স্বাগত।

অন্যদিকে,
প্রয়োজন,
সময়,
সমূল।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৪৭২.
নিচের কোন বাক্যে বিধেয় বিশেষণ ভুলভাবে ব্যবহার হয়েছে? 
  1. মেয়েটি সুন্দরী 
  2. বালিকাটি অস্থির
  3. মেয়েটি দুষ্টু 
  4. সুন্দর মেয়ে  
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি সুন্দরী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেয়েটি সুন্দরী 
ব্যাখ্যা

- মেয়েটি সুন্দরী-বাক্যে বিধেয় বিশেষণ ভুলভাবে ব্যবহার হয়েছে। 

বিধেয় বিশেষণ:
- বিশেষণ হলো সেই পদ যা বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে।
- বাক্যে বিশেষণের অবস্থান অনুযায়ী বিশেষণ দুই প্রকার-
১. সাক্ষাৎ বিশেষণ:
- যে বিশেষণ বিশেষিত শব্দের আগে বসে, তাকে সাক্ষাৎ বিশেষণ বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ: লাল ফুল, বিশাল পাহাড়, গভীর নদী, সবুজ চারা।

২. বিধেয় বিশেষণ:
- যে বিশেষণ বাক্যে শেষ অংশে (বিধেয় অংশে) বসে, তাকে বিধেয় বিশেষণ বলা হয়।
- বিধেয় বিশেষণ বিশেষ্যের পরে বসে এবং এর পর আর কোনো বিশেষ্য থাকে না।
- উদাহরণস্বরূপ: ছেলেটি সাহসী, বালিকাটি ধৈর্যশীল, পুকুরের পানি স্বচ্ছ।
- বিধেয় বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না, পুরুষবাচক হয়।
- যেমন:
- মেয়েটি সুন্দর;
- নারীটি কৃতজ্ঞ;
- মেয়েটি বিদ্বান;
- বালিকাটি অস্থির।

- বিধেয় বিশেষণে মেয়েটি সুন্দরী বলা যাবেনা।
- বলতে হবে- মেয়েটি সুন্দর। 
- কারণ, বিধেয় বিশেষণ স্ত্রীবাচক হয় না, পুরুষবাচক হয়।

- বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দের বিশেষণও সাধারণত পুরুষবাচক রূপে থাকে।
- যেমন:
- সুন্দর বলদ;
- সুন্দর গাই;
- সুন্দর ছেলে;
- সুন্দর মেয়ে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

১,৪৭৩.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. চিরদুঃখ
  2. চিরজীবী
  3. চিরদৈন্য
  4. চিরনিদ্রা
সঠিক উত্তর:
চিরজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিরজীবী
ব্যাখ্যা

• 'চিরজীবী' বিশেষণ পদ। 

 • বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- চিরন্তন, চিরজীবী, চিরতরুণ, চিরদীন, চিরবাঞ্চিত, চিরপূজ্য।

-------------------
• বিশেষ্য পদ:
কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন- চিরনিদ্রা, চিরদৈন্য, চিরতুষার, চিরদারিদ্র্য, চিরদুঃখ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৪৭৪.
কোনটি অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়?
  1. অথচ
  2. অধিকন্তু
  3. যদিও
  4. নয়তো
সঠিক উত্তর:
যদিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদিও
ব্যাখ্যা

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংকোচক অব্যয়:
- যে অব্যয় দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করে, তাকে সংকোচক অব্যয় বলে।
- ‘অথচ’ কিন্তু, বরং শব্দগুলো সংকোচক অব্যয়।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,৪৭৫.
সংযোজক অব্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) বরং
  2. খ) অধিকন্তু
  3. গ) অথবা
  4. ঘ) নতুবা
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধিকন্তু
ব্যাখ্যা
সংকোচক অব্যয় - কিন্তু, বরং, অথচ।
সংযোজক অব্যয় - আর, অধিকন্তু, সুতরাং।
বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,৪৭৬.
'ছাতাটা দিন তো ভাই।' - বাক্যটিতে ক্রিয়ার কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. আকাঙক্ষা ভাব
  2. সাপেক্ষ ভাব
  3. অনুজ্ঞা ভাব
  4. নির্দেশক ভাব
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভাব
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়া পদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যথা:
- চুপ করো।
- ছাতাটা দিন তো ভাই।
- আপনারা আসবেন।
- মন দিয়ে পড়।
- অন্যায় কাজ করো না।
- মিথ্যা বলবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪৭৭.
সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. ঝাঁক
  2. পর্বত
  3. মানুষ
  4. মাটি
সঠিক উত্তর:
ঝাঁক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাঁক
ব্যাখ্যা

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
বস্তুবাচক বিশেষ্য: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৪৭৮.
কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না'- বাক্যে 'কী আপদ' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. ক) সমুচ্চয়ী
  2. খ) অনুকার
  3. গ) অনন্বয়ী
  4. ঘ) পদান্বয়ী
সঠিক উত্তর:
গ) অনন্বয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনন্বয়ী
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না' - বিরক্তি প্রকাশে।
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
হ্যাঁ, আমি যাব না। না, আমি যাব না।- স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব - সম্মতি প্রকাশে।
উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে।
'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে - সম্বোধনে।
ছি ছি, তুমি এত নীচ! - ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
১,৪৭৯.
”ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।”-বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  4. সাধারণ বর্তমান
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
• তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
• ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

১,৪৮০.
'কাল দেখা করো' বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. উপদেশ
  2. অনুমতি
  3. অনুরোধ
  4. সম্ভাবনা
সঠিক উত্তর:
অনুরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরোধ
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বোঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
-এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।

যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮১.
ব্যতিহারিক সর্বনাম কোনটি?
  1. ইহারা
  2. যিনি
  3. নিজে নিজে
  4. কেহ
সঠিক উত্তর:
নিজে নিজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজে নিজে
ব্যাখ্যা

• নিজে নিজে - ব্যতিহারিক সর্বনাম এর উদাহরণ।

--------------
সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৪৮২.
নিম্নের কোন অনুসর্গ বিভক্তি রূপেও ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) দ্বারা, দিয়া
  2. খ) বিনা, বিহনে
  3. গ) হতে, পাছে
  4. ঘ) বই, ব্যতীত
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বারা, দিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বারা, দিয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
যেমন-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মততা, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।।

• এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক, হইতে (হতে), চেয়ে, অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।
কারক প্রকরণে এদের উদাহরণ সন্নিবিষ্ট হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪৮৩.
কোনটি উপসর্গ এবং অনুসর্গ উভয়ই?
  1. ক) পরা
  2. খ) প্রতি
  3. গ) অতি
  4. ঘ) পাছে
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রতি
ব্যাখ্যা
পরা, প্রতি, অতি সংস্কৃত উপসর্গ।
প্রতি, বিনা, সহ, পাছে, মধ্যে, মাঝে, পরে - এগুলো অনুসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
১,৪৮৪.
"আমরা তখন পার্কে হাটছিলাম"- বাক্যটি কোন কালের?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. সাধারণ অতীত
  4. ঘটমান অতীত
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
• "আমরা তখন পার্কে হাটছিলাম"- বাক্যটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ।

• ঘটমান অতীত কাল:

- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৪৮৫.
নিচের কোন বাক্যে স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ রয়েছে?
  1. আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
  2. খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!
  3. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  4. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সঠিক উত্তর:
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যাখ্যা
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে,
------------
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তো প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৮৬.
সকর্মক ক্রিয়া দ্বারা গঠিত বাক্য কোনটি?
  1. ক) আমি রাতে খাব না।
  2. খ) আমি রাতে ভাত খাব না।
  3. গ) ছেলেটা কানে শোনে না।
  4. ঘ) আমি চোখে দেখি না।
সঠিক উত্তর:
খ) আমি রাতে ভাত খাব না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমি রাতে ভাত খাব না।
ব্যাখ্যা

- যে ক্রিয়ার কর্ম পদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া। ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। যেমনঃ ছেলেটি হাসে। কী ‘হাসে’ বা ‘কাকে হাসে’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘হাসে’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।
- প্রয়োগ বৈশিষ্ট্যে সকর্মক ক্রিয়াও অকর্মক হতে পারে।
যেমনঃ
অকর্মক: আমি রাতে খাব না। সকর্মক: আমি রাতে ভাত খাব না।
অকর্মক: আমি চোখে দেখি না। সকর্মক: আকাশে চাঁদ দেখি না।
অকর্মক: ছেলেটা কানে শোনে না। সকর্মক: ছেলেটা কথা শোনে।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৪৮৭.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) হিমালয়
  2. খ) ইট
  3. গ) আনন্দ
  4. ঘ) ফুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফুল
ব্যাখ্যা
'ফুল'- জাতিবাচক বিশেষ্য। 

জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি। 

তাছাড়া,
হিমালয়- নাম-বিশেষ্যের উদাহরণ।
ইট- বস্তুবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
আনন্দ- গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৮৮.
কোনটি আত্মবাচক সর্বনাম?
  1. আপনি
  2. একজন
  3. পরস্পর
  4. সমুদয়
সঠিক উত্তর:
আপনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপনি
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম :
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

- সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: 
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম:
নিকট নির্দেশক - এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক - ও, ওই, ওরা, উনি।
৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।
৭. পারস্পারিক সর্বনাম: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকল/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো - ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী) (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,৪৮৯.
'সবুজ পাতায় ঢাকা গাছ' — এই বাক্যাংশে 'সবুজ পাতায় ঢাকা' কোন বর্গ?
  1. বিশেষ্যবর্গ
  2. বিশেষণবর্গ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ
  4. ক্রিয়াবর্গ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণবর্গ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বর্গ:
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
- বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
- যেমন- মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।
- এই বাক্যে 'মালা ও মায়া', 'খুব সকালে', 'বাড়ির সামনে থাকা', 'স্কুল-বাসে', 'উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।

• বিভিন্ন ধরনের বর্গ:
- বিশেষ্যবর্গ
- বিশেষণবর্গ
- ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ
- ক্রিয়াবর্গ।

• 'সবুজ পাতায় ঢাকা গাছ' — এই বাক্যাংশে 'সবুজ পাতায় ঢাকা' বিশেষণবর্গ।
এটি 'গাছ' (বিশেষ্য)-কে বর্ণনা করছে। তাই এটি একটি বিশেষণবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৪ সংস্করণ)।
১,৪৯০.
'কাল বিকালে বৃষ্টি পড়ছিল' - বাক্যটিতে কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ঘটমান অতীত
  2. খ) সাধারণ অতীত
  3. গ) নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. ঘ) পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
ক) ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
ঘটমান অতীত কাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল। এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার
ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল বিকালে বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

সাধারণ অতীত কাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯১.
'আমি ভাত খেয়ে স্কুলে যাব' এখানে 'যাব' কোন ক্রিয়া?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) সমাপিকা ক্রিয়া
  3. গ) অসমাপিকা ক্রিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) সমাপিকা ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের পরিসমাপ্তি ঘটে না, বক্তার কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন- আমি ভাত খেয়ে---। এখানে ‘খেয়ে’ ক্রিয়াপদ দ্বারা কথা শেষ হয়নি; কথা সম্পূর্ণ করতে আরো শব্দের প্রয়োজন।
- বাক্য দুটি সম্পূর্ণ করলে দাঁড়াবে- আমি ভাত খেয়ে স্কুলে যাব। এখানে ‘খেয়ে' অসমাপিকা ক্রিয়া এবং 'যাব' সমাপিকা ক্রিয়া

 উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৯২.
"আমি গান গেয়ে থাকব।" - ক্রিয়ার কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
  4. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল: 
ভবিষ্যৎ কালে কোনো ক্রিয়া সংঘটিত হবে এবং শেষ হয়ে থাকবে, এরূপ বোঝালে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল = এ-কারযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়া + থাকব/থাকবে/থাকবেন।
যেমন:
- আমার কথা হয়তো মনে পড়ে থাকবে।
- আমি গান গেয়ে থাকব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৪৯৩.
অসমাপিকা ক্রিয়া কোনটি?
  1. ভালো করে পড়াশোনা করবে
  2. এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে
  3. প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়।
  4. আমরা বিকেলে খেলতে যাই।
সঠিক উত্তর:
আমরা বিকেলে খেলতে যাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা বিকেলে খেলতে যাই।
ব্যাখ্যা

• ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার।
যথা:
সমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করবে
- এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
- প্রভাতে সূর্য উঠলে অন্ধকার দূর হয়

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন -
- ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
- আমরা বিকেলে খেলতে যাই।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের। যথা:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
- ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
- ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
- শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

১,৪৯৪.
'গান করলে তার মন ভালো হয়' কোন ধরনের অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) ভূত অসমাপিকা
  2. খ) শর্ত অসমাপিকা
  3. গ) ভাবী অসমাপিকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) শর্ত অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শর্ত অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
- 'গান করলে তার মন ভালো হয়' শর্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ।

• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।

• অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯৫.
প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন- বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:
১. সাধারণ অতীত কাল: যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন: 
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল: অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪.নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৪৯৬.
‘পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে?’- বাক্যে ‘পরস্পর’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘পরস্পর না মিলতে পারলে বন্ধুত্ব গড়বে কী করে?’- বাক্যে ‘পরস্পর’ পারস্পারিক সর্বনাম পদ

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪৯৭.
'আজ যদি রাসেল আসতাে, কেমন মজা হতাে।' - কোন কালের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  3. গ) সাধারণ অতীত কাল
  4. ঘ) ঘটমান অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
অতীত কাল:
যে সমস্ত সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা পূর্বে শেষ হয়েছে এমন কোনাে কাজকে বােঝায়, তাকে অতীত কাল বলে।
- যেমন- রহমান কাল এসেছিলেন। অতীত কাল ৪ প্রকার।
যথা-
সাধারণ অতীত কাল: বর্তমান কালের আগে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালকেই বলে সাধারণ অতীত কাল। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে লাম, ল, লে, লেন ইত্যাদি যুক্ত হয়।
যেমন- আমি ছবিটি দেখলাম।

ঘটমান অতীত কাল: যে কাজ অতীতে চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, সে সময়ও কাজটি শেষ হয়নি। ক্রিয়া সম্পাদিত হবার এরূপ ভাব বােঝালে তার কালকে ঘটমান অতীত কাল বলে। এক্ষেত্রে ল, লে, লাম, লেন যুক্ত হয়।
যেমন- সেদিন বিরামহীন বৃষ্টি হচ্ছিল।

পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়ার কাজ অতীতে বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং যার পরে আরাে কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে ইয়াছিলাম, ইয়াছিলেন, ইয়াছিল ইত্যাদি যুক্ত হয়.
যেমন- গত বছর আমি কলকাতা গিয়েছিলাম।

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল: অতীতে প্রায়ই ঘটতাে এরূপ অর্থে ক্রিয়ার যে, কাল হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে ইতাম, ইত, ইতেন, ইতে যুক্ত হয়।
যেমন- প্রতিদিন সকালে সে গান গাইত।
নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
• কামনা প্রকাশে: আজ যদি রাসেল আসতাে, কেমন মজা হতাে।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি আসতে, তবে ভালােই হতাে।
• অসম্ভব কল্পনায়: এই বাড়ি হতাে যদি রাজার বাড়ি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৮.
কোনটি বিশেষণ পদ নয়?
  1. গণন
  2. ক্ষমার্হ
  3. কৈশিক
  4. খোদিত
সঠিক উত্তর:
গণন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণন
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ নয় - গণন
- এটি বিশেষ্য পদ। 
শব্দের অর্থ: - গণনা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - ক্ষমার্হ, কৈশিক এবং খোদিত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১,৪৯৯.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ এর উদাহরণ?
  1. আপনি কথাটা বলুন।  
  2. তুমি আগামী মাসে খুলনায় এসো।  
  3. আমাদের একটা গান শোনাও। 
  4. তুমি ভেতরে যাও। 
সঠিক উত্তর:
তুমি আগামী মাসে খুলনায় এসো।  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি আগামী মাসে খুলনায় এসো।  
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
- তুমি আগামী মাসে খুলনায় এসো।
 
অন্যদিকে, 
- আপনি কথাটা বলুন।  
- আমাদের একটা গান শোনাও। 
- তুমি ভেতরে যাও। 
[বাক্যগুলো বর্তমান অনুজ্ঞার উদাহরণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

১,৫০০.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  2. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  3. তিনি বেড়াতে যাননি
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।

যেমন
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

অন্যদিকে,
নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তিনি বেড়াতে যাননি
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।, মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।