বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন২,৪০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক পদার্থ ও ভূগোল সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা ২২ / ২৪ · ২,১০১২,২০০ / ২,৪০৪

২,১০১.
ভূমিকম্পের কারণ কী?
  1. ক) পাত সঞ্চালন
  2. খ) বৃষ্টির পানি
  3. গ) সমুদ্রের স্রোত
  4. ঘ) কল-কারখানার বর্জ্য
সঠিক উত্তর:
ক) পাত সঞ্চালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাত সঞ্চালন
ব্যাখ্যা
• ভূমিকম্পের কারণ পাত সঞ্চালন
- ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, সেগুলো নিম্মস্থ ভ্রাম্যমাণ উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের উপর ভাসছে। এগুলোকে বলা হয় পাত সঞ্চালন বা প্লেট টেকোনিক।
- পৃথিবীর ভূ-ত্বক, প্রধান ৭টি পাত, ৯টি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র পাত এবং ১৯টি অতি ক্ষুদ্র পাতের সমন্বয়ে গঠি।
- বিভিন্ন আকৃতির পাতের মধ্যে ৭টি বৃহৎ আকৃতির পাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যথা:
১. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত
২. ইউরেশিয়ান পাত
৩. উত্তর আমেরিকান পাত
৪. দক্ষিণ আমেরিকান পাত
৫. আফ্রিকান পাত
৬. অস্ট্রেলীয় পাত এবং
৭. অ্যান্টার্কটিকা পাত।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১০২.
উপগ্রহের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কোন গ্রহের?
  1. শনির
  2. বুধের
  3. নেপচুনের
  4. বৃহস্পতির
সঠিক উত্তর:
শনির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনির
ব্যাখ্যা
গ্রহ: 
- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- মঙ্গলের উপগ্রহ দুইটি (ফোবস ও ডিমোস)।
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ শনির।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপগ্রহ বৃহস্পতির।
- ইউরেনাসকে সবুজগ্রহ বলা হয়। 
- বুধকে ক্ষুদ্রগ্রহ বলা হয়। 
- মঙ্গলকে লালগ্রহ বলা হয়। 
- বৃহস্পতিকে গ্রহরাজ বলা হয়। 
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)। 
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের। 
- শনি গ্রহের উপগ্রহের্ সংখ্যা  ৮৩টি। 
- বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,১০৩.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটি হেটারোস্ফিয়ার নামে পরিচিত?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
থার্মোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

- বায়ুমণ্ডলের যে অংশে গ্যাসীয় সংযুক্তি সমসত্ত্বীয়ভাবে মোটামুটি স্থির থাকে, তাকে বলা হয় হোমোস্ফিয়ার।
- ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র‍্যাটোস্ফিয়ার ও মেসোস্ফিয়ার- এ তিনটি হোমোস্ফিয়ারের অন্তর্ভুক্ত।

- হোমোস্ফিয়ারের ওপরে অর্থাৎ ৮৫ কি.মি. এর ওপরে বায়ুমণ্ডলের উপাদান গ্যাস-অণু ও আয়নের অসমসত্ত্ব মিশ্রণ দ্বারা হেটারোস্ফিয়ার গঠিত।
- হেটারোস্ফিয়ারে রয়েছে থার্মোস্ফিয়ার এবং এক্সোস্ফিয়ার।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,১০৪.
কৃষ্ণগহব্বর সম্পর্কে নিম্নের কোনটি সত্য?
  1. ক) কৃষ্ণগহবর থেকে সকল আলোর উদ্গীরণ ঘটে।
  2. খ) কৃষ্ণগহবর থেকে কোন আলোই উদ্গীরিত হয় না।
  3. গ) কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কার করেন স্টিফেন হকিং।
  4. ঘ) কৃষ্ণগহবরের মধ্যে কোন মহাকর্ষীয় শক্তির অস্তিত্ব নেই।
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্ণগহবর থেকে কোন আলোই উদ্গীরিত হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্ণগহবর থেকে কোন আলোই উদ্গীরিত হয় না।
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণগহব্বর থেকে আলো উদ্গীরণ হয় না। 

কৃষ্ণগহব্বর বা ব্ল্যাক হোল হল মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে মধ্যাকর্ষণ বল এতটাই শক্তিশালী যে সেখান থেকে কোন কিছুই বের হতে পারে না। এমনকি আলোর মত তড়িৎ-চৌম্বকীয় বিকিরণও এই প্রচন্ড আকর্ষণ বল ভেদ করে বের হয়ে আসতে পারে না। ব্ল্যাক হোলে পদার্থের অত্যাধিক ঘনত্বের কারণে এটি এর চার দিকে এই অস্বাভাবিক মধ্যাকর্ষণ বল তৈরি করতে পারে। যেহেতু এখান থেকে কোন আলো বেরোতে পারে না, আমরা খালি চোখে এদের দেখতে পাই না। তারা সম্পূর্ন অদৃশ্য হয়। তবে বিশেষ সরঞ্জাম সহ স্পেস টেলিস্কোপগুলি ব্ল্যাক হোলের সন্ধান করতে সহায়তা করে।

- মহাকাশে কৃষ্ণগহব্বর থাকার কথা প্রথম ধারণা করেন - আলবার্ট আইনস্টাইন। ১৯১৬ সালে তিনি তাঁর general theory of relativity তে এই ধারণা তুলে ধরেন।
- আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী জন হুইলার সর্বপ্রথম ১৯৬৭ সালে "black hole" শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনিই মূলত কৃষ্ণগহবরের আবিষ্কারক।
- ২০১৯ সালে প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয়  Event Horizon Telescope (EHT).

সূত্র- ব্রিটানিকা ও Nasa Website [লিঙ্ক]

২,১০৫.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র কোনটি?
  1. ওডোমিটার
  2. ক্রনোমিটার
  3. ম্যানোমিটার
  4. অডিওমিটার
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিওমিটার
ব্যাখ্যা

- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র- অডিওমিটার। 

অন্যদিকে, 
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 
- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র - ম্যানোমিটার। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 

আরোও কিছু গূরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক যন্ত্র: 
- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ট্যাকোমিটার। 
- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র- অ্যালটিমিটার। 
- তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব নির্ণায়ক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার। 
- পানির তলায় তেলের সঞ্চায়ক যন্ত্র - গ্রাডিমিটার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

২,১০৬.
‘মিল্কী ওয়ে’ একটি __________।
  1. ক) নক্ষত্র
  2. খ) নীহারিকা মণ্ডল
  3. গ) সৌরজগৎ
  4. ঘ) সুপারনোভা
সঠিক উত্তর:
খ) নীহারিকা মণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীহারিকা মণ্ডল
ব্যাখ্যা
• মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি: 
- গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ ছায়াপথ নামে পরিচিত।
- সুদূর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বপ্নালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয়।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর- দক্ষিণে বিস্তৃত। একে নীহারিকা মণ্ডল বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১০৭.
নিচের কোন পদার্থটি সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে না এসে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়?
  1. কার্বন মনোক্সাইড
  2. অ্যামোনিয়া
  3. অ্যামোনিয়াম
  4. নাইট্রোজেন অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়াম
ব্যাখ্যা

- অ্যামোনিয়াম (NH4+) পদার্থটি সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে না এসে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 

দূষক (Pollutant): 

- কোনো পদার্থ পরিবেশে তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রাচুর্য অপেক্ষা অধিক পরিমাণে উপস্থিত থেকে মনুষ্যজাতি অথবা অন্যান্য জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে ঐ পদার্থটিকে দূষক বলা হয়। 
- বায়ুতে সল্পমাত্রায় (0.1 ppm) কার্বন মনোক্সাইড (CO) থাকে, কিন্তু এর পরিমাণ বেড়ে 40 ppm বা তার বেশি হলে এটি দূষক হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- দূষক প্রধানত দুই প্রকার। 
১। প্রাইমারি দূষক: 
- যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে।
যেমন- 
• নাইট্রিক অক্সাইড (NO), 
• নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), 
• কার্বন মনোক্সাইড (CO), 
• কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), 
• সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), 
• অ্যামোনিয়া (NH3) ইত্যাদি। 

২। সেকেন্ডারি দূষক: 
- যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে। 
যেমন- 
• সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3), 
• নাইট্রিক এসিড (HNO3), 
• নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), 
• সালফিউরিক এসিড (H2SO4), 
• হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2), 
• অ্যামোনিয়াম (NH4+), 
• ওজোন (O3) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং University of California এবং Energy Education.

২,১০৮.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজন গ্যাস রয়েছে?
  1. ক) ট্রপোমন্ডল
  2. খ) স্ট্রাটোমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
সঠিক উত্তর:
খ) স্ট্রাটোমন্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোমন্ডল স্তরে ওজন নামক গ্যাস রয়েছে। 

ট্রপোমন্ডলের উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমন্ডল নামে পরিচিত। স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রা স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোপজ বলে। 

স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১। এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে অবস্থান করে। ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। 
২। এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাস্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুস্ক। ঝড়, বৃষ্টি থাকে না বলে এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
৩। প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

সূত্র: সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
২,১০৯.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি? 
  1. বোসন কণা
  2. কৃষ্ণবিবর
  3. কোয়াসার
  4. নিউট্রন স্টার
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়াসার
ব্যাখ্যা

কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১০.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের জনক কে? 
  1. জর্জ লেমাইটার 
  2. জর্জ গ্যামো 
  3. এডউইন হাবল 
  4. স্টিফেন হকিং 
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ লেমাইটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব (Big Bang Theory): 
- ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিদ জর্জ লেমাইটার (George Lemaitre) প্রসারণশীল বিশ্ব সংক্রান্ত তত্ত্ব প্রদান করেন যা হাবলের সূত্রের সাথে মিলে যায়। 
- ১৯৩১ সালে তিনি আরো প্রস্তাব করেন যে, প্রসারণশীল বিশ্বকে যদি সময়ের সাথে পিছিয়ে নেয়া হয়, তাহলে একটা বিন্দুতে উপনীত হওয়া যাবে, যেখানে মহাবিশ্বের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত ছিল, যাকে আদিম পরমাণু বলা যেতে পারে এবং এখান থেকেই স্থান-কালের উদ্ভব। 
- তাই জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে। 
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, যেহেতু গ্যালাক্সিসমূহ পরষ্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরষ্পরের খুব কাছাকাছি ছিল। 
অর্থাৎ, কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব বা বিগ ব্যাংগ তত্ত্ব। 

- বিগ ব্যাংগ বা মহাবিস্ফোরণ আমাদের পরিচিতি বিস্ফোরণ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি ঘটনা। সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল। 
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়, অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 
- মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল একটি অপরিমেয় ক্ষুদ্র, অসীম তাপ ও অসীম ঘনত্ববিশিষ্ট শক্তির উৎস থেকে, একে বলা হয় অনন্যতা বা অদ্বৈত বিন্দু (Singularity)। 
- বিগ ব্যাংগ এর ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে মহাকর্ষের প্রভাবে হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের পরমাণু সমূহ মহাবিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আলাদাভাবে একত্রিত হতে শুর করে এবং নিজস্ব মহাকর্ষের প্রভাবে জমাট বাঁধতে থাকে এবং সংকোচিত হয়। 
- ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে নিউক্লিয় বিক্রিয়া শুর হয় এবং কালক্রমে নক্ষত্র ও গ্যালাক্সিগুলোর সৃষ্টি হয়। 
- স্টিফেন হকিং তত্ত্বটির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১১.
পৃথিবীর গভীরতম মহাসাগর কোনটি?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগর
  2. খ) প্রশান্ত মহাসাগর
  3. গ) ভারত মহাসাগর
  4. ঘ) উত্তর মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর গভীরতম ও বৃহত্তম মহাসাগর হলো প্রশান্ত মহাসাগর বা প্যাসিফিক ওশান। প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা ৪,২৭০ মিটার এবং আয়তন ১৬.৬ কোটি বর্গকিলোমিটার।

প্রশান্ত মহাসাগরে পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ অবস্থিত। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চ্যালেঞ্জার ডিপ হলো পৃথিবীর গভীরতম স্থান যার গভীরতা প্রায় ৩৬,১৯৭ ফুট।

আয়তনে ও গভীরতায় পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর হলো দক্ষিণ মহাসাগর। এটির আয়তন ১.৪৭ কোটি বর্গকিলোমিটার এবং গড় গভীরতা ১৪৯ মিটার।

(তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
২,১১২.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের স্বীকৃতি স্বরূপ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন-
  1. ক) জন বারডিন
  2. খ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  3. গ) উইলিয়াম শকলি
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে বেল লাইব্রেরীতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয় এবং এই আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১৩.
মঙ্গল গ্রহের কয়টি উপগ্রহ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৬২টি
  4. ৮৮টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars): 
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,১১৪.
পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) স্তরীভূত
  2. খ) সুদৃঢ়
  3. গ) জীবাশ্মহীন
  4. ঘ) ভারী
সঠিক উত্তর:
ক) স্তরীভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্তরীভূত
ব্যাখ্যা
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাই পাললিক শিলা। 
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে।
-  এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। 
- তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত। 
- স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- পাললিক শিলা তিন প্রকার । 
- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাললিক শিলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম;  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৫.
গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে কিসে পরিণত হয়?
  1. মার্বেল
  2. গ্রাফাইট
  3. কোয়ার্টজাইট
  4. নিস
সঠিক উত্তর:
নিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিস
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
যেমন- নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
(১) আগ্নেয় শিলা, 
(২) পাললিক শিলা ও 
(৩) রূপান্তরিত শিলা। 

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। 
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে। 
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়। 
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১১৬.
প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখা অশ্মমন্ডল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) জলবায়ুবিদ্যা
  2. খ) ভূমিরূপবিদ্যা
  3. গ) সমুদ্রবিদ্যায়
  4. ঘ) জীব ভূগোলে
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমিরূপবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভূমিরূপবিদ্যা
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল
- ভূগোল বিষয়ের যে অংশ পাঠ করলে পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বারিমন্ডল, বায়ুমন্ডল প্রভৃতি বিষয় ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা যায় তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।
- প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রধান প্রকৃতি হলো- প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়কে প্রাকৃতিক ভূগোল এককভাবে প্রকাশ করে।
- তাই প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধিও ব্যাপক এবং ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক ভূগোলের পরিধি আরো অধিক বিস্তৃত হবে।

১. ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology): প্রাকৃতিক ভূগোলের এই শাখায় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন বা ভূ-আন্দোলন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, ভূ-তাত্ত্বিক সময় মাপনি, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদ, খনিজ, শিলা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।
- মূলত অশ্মমন্ডল বা ভূ-ত্বকের সকল বিষয় ভূমিরূপবিদ্যার অন্তর্গত
২. জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): এই শাখা বায়ু, বায়ুস্তর, বায়ুর গঠন, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও তাপমাত্ৰা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, ঘূর্ণিবাত, প্রতীপ ঘূর্ণিবাত, বায়ুমন্ডলের জলীয়বাষ্প, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে। সংক্ষেপে বায়ুমন্ডল ও বায়ুমন্ডলের সাথে সম্পর্কিত সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করে ।
৩. সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography): বারিমন্ডলের প্রধান উপাদান সাগর, মহাসাগরসমূহের উৎপত্তি, বিন্যাস, বিস্তরণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ, জোয়ার-ভাঁটা, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব ও বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
8. মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography): মৃত্তিকা ভূগোল ভূ-ত্বকের বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের অংশ অর্থাৎ মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে ।
৫. জীব ভূগোল (Biogeography): উদ্ভিদ বাস্তব্যবিদ্যা, উদ্ভিদের ক্রমবিকাশ, পরিবেশের উপর উদ্ভিদের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ।
৬. প্রাণি ভূগোল (Zoogeography): এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও প্রাণিজগতের বণ্টন নিয়ে আলোচনা করে।
৭. গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography): গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৭.
সেলসিয়াস স্কেলের মৌলিক ব্যবধান কত?
  1. ক) ০°
  2. খ) ৫০°
  3. গ) ১০০°
  4. ঘ) ১৮০°
সঠিক উত্তর:
গ) ১০০°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০০°
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস স্কেলে নিম্ন স্থিরাঙ্ককে ০ ডিগ্রি (০°) এবং উর্ধ্ব স্থিরাঙ্ককে ১০০ ডিগ্রি (১০০°) ধরা হয়। মৌলিক ব্যবধান (১০০-০)° = ১০০°। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
২,১১৮.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ওজন
  2. সময়
  3. দূরত্ব
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূরত্ব
ব্যাখ্যা
আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদুর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

তথ্যসূত্র - NASA ওয়েবসাইট।
২,১১৯.
আলো কী ধরণের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে?
  1. ক) তরঙ্গ
  2. খ) কণা
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনোটাই না
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়ই
ব্যাখ্যা
তরঙ্গতত্ত্ব অনুসারে আলো তরঙ্গ এবং কণাতত্ত্ব অনুসারে আলো কণা দিয়ে গঠিত৷ আসলে আলো তরঙ্গ এবং কণা দুই ধরণের বৈশিষ্ট্যই প্রদর্শন করে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১২০.
নিম্ন উচ্চতার মেঘ-
  1. কিউম্যুলোনিম্বাস
  2. সিরাস
  3. অল্টোস্ট্রেটাস
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কিউম্যুলোনিম্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউম্যুলোনিম্বাস
ব্যাখ্যা
মেঘ (CLOUD):

• সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. উঁচু উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ। উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস,
- সিরোকিউম্যুলাস, 
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।
২. মাঝারি উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস,
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস, 
- নিম্বোস্ট্রেটাস। 
৩. নিম্ন উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস,
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলোনিম্বাস

উৎস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 
২,১২১.
মহাজাগতিক দূরত্ব গণনায় সাধারণত কোন একক ব্যবহার করা হয়?
  1. year
  2. pc (parsec)
  3. km
  4. um
সঠিক উত্তর:
pc (parsec)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
pc (parsec)
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক দূরত্ব:

- pc বা পারসেক (parsec) হচ্ছে মহাবৈশ্বিক দূরত্ব পরিমাপের একক।
- সূর্য বা পৃথিবীর মধ্যকার গড় দূরত্বকে এক অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ইউনিট (AU) বলে।
- 1 AU = 1.495x108 km.
- 1 AU দৈর্ঘ্যের কোনো চাপ (are) যে দূরত্বে ঠিক এক সেকেন্ডে কোণ উৎপন্ন করে সেই দূরত্বকে 1 pc বা এক পারসেক বলে।
- 1 pc = 3.261 y = 3.0857×1013 km বা Mpc (mega parsec) = 106pc = 3.0857x1019 km. 

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২২.
যদি বাতাসের চাপ বেড়ে যায় তাহলে ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা কীভাবে পরিবর্তিত হয়? 
  1. 76 cm থেকে কমে যায় 
  2. 76 cm থেকে বেশি হয়
  3. সর্বদা 76 cm থাকে
  4. প্রথমে 76 cm থেকে কম হয়, পরে বাড়ে 
সঠিক উত্তর:
76 cm থেকে বেশি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
76 cm থেকে বেশি হয়
ব্যাখ্যা

টরিসেলির পরীক্ষা: 
- বিজ্ঞানী টরিসেলি ১৬৪৩ সালে পারদ ব্যবহার করে বাতাসের চাপের পরীক্ষাটি করেছিলেন। 
- তিনি অবশ্য মুখ দিয়ে পারদকে একটি নল বেয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেননি, তিনি এক মুখ বন্ধ একটা নলের ভেতর পারদ ভরে, নলটি পারদ ভরা একটা পাত্রে উল্টো করে রেখেছিলেন।

- পারদের উচ্চতা নামতে নামতে ঠিক 76 cm এসে থেমে গেল। 
- চুমুক দিয়ে খাওয়ার সময় মুখের ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, কাচের নলের উপরে ঠিক সেই শূন্যতা তৈরি হয়। 
- বাতাস পারদের উপরে চাপ দেয় এবং সেই চাপ তরলের সব জায়গায় সঞ্চালিত হয়ে নলের নিচেও আসে। নলের উপরে কোনো ফুটো নেই, তাই সেদিক দিয়ে বাতাস চাপ দিতে পারছে না। কাজেই সমতা আনার জন্য নলের নিচে এক মাত্র চাপ হচ্ছে 76 cm উচু পারদ স্তম্ভের ওজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ। 
- বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার এবং টরিসেলির এই পদ্ধতি দিয়ে তৈরি ব্যারোমিটারে এখনো বাতাসের চাপ মাপা হয়। 
- বাতাসের চাপ বাড়লে পারদের উচ্চতা 76 cm থেকে বেশি হয়, চাপ কমলে উচ্চতা 76 cm থেকে কমে যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১২৩.
লাইট কোয়ান্টাম নামে কোনটি পরিচিত?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) ফার্মিওন
  3. গ) লেপটন
  4. ঘ) ফোটন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফোটন
ব্যাখ্যা
ফোটন কণাকে লাইট কোয়ান্টাম নামেও অভিহিত করা হয়। 

- ফোটন কণা কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়, প্রতিটি আলাদা আলাদা বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে ফোটন বলে।
- ফোটন হচ্ছে বিকিরণের ক্ষুদ্রতম অংশ। 
- প্রতিটি ফোটন কণা আলোর বেগে চলে। 

সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।  
২,১২৪.
মহাদেশীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা কত কিলোমিটার?
  1. ক) ০৫ কি.মি.
  2. খ) ১০ কি.মি.
  3. গ) ২০ কি.মি.
  4. ঘ) ৩৫ কি.মি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৫ কি.মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৫ কি.মি
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ‘ভূত্বক’ নামে পরিচিত।
- ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।

- মহাসাগরীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা ০৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি
- মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা ‘সিয়াল’ (SiAl) স্তর নামে পরিচিত।
- মহাসাগরীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা ‘সিমা’ (SiMg) স্তর নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,১২৫.
নিচের কোনটি আগ্নেয় শিলা নয়?
  1. ক) গ্রানাইট
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) ডলোরাইট
  4. ঘ) ল্যাকোলিথ
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রাফাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রাফাইট
ব্যাখ্যা
পৃথিবী সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ের উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থা হতে ক্রমান্বয়ে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তা আগ্নেয় শিলা নামে পরিচিত। পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে বিধায় আগ্নেয় শিলাকে প্রাথমিক শিলাও বলা হয়।

আগ্নেয় শিলা দুপ্রকার।
যথা:
- অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা এবং
- বহিঃজ আগ্নেয় শিলা।

অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা:

- গ্রানাইট
- গ্যাব্রো
- ডলোরাইট
- ল্যাকোলিথ
- ব্যাথোলিথ
- ডাইক
- সিল প্রভৃতি।

বহিঃজ আগ্নেয় শিলা:

- ব্যাসল্ট
- রায়োলাইট
- অ্যান্ডিসাইট।

অন্যদিকে,

- চুনাপাথর ও কেওলিন : পাললিক শিলা
- গ্রাফাইট : রূপান্তরিত শিলা।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,১২৬.
নিচের কোন গ্যাসটির পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে কম?
  1. ওজোন
  2. জলীয় বাষ্প
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. আর্গন
সঠিক উত্তর:
ওজোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওজোন
ব্যাখ্যা

- ওজোন গ্যাসের পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে কম (খুব সামান্য পরিমাণে থাকে) এবং এর পরিমাণ প্রায় ০.০০০১% । 

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। 
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমণ্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানের নাম ও শতকরা পরিমাণ নিম্নে দেওয়া হলো- 
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন ⇒ o.৮০, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩, 
• ওজোন ⇒ ০.০০০১, 
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২৭.
কোন শাখায় জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা করা হয়?
  1. Ecology
  2. Entomology
  3. Genetics
  4. Evolution
সঠিক উত্তর:
Evolution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution
ব্যাখ্যা
১। হিস্টোলজি (Histology): 
- জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

২।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): 
- জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৩। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): 
- পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৪। ভূণবিদ্যা (Embryology): 
- জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৫। কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৬। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

৭। কীটতত্ত্ব (Entomology): 
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১২৮.
কোন কাল্পনিক রেখা থেকে অক্ষাংশ গণনা করা হয়?
  1. ক) কর্কটক্রান্তি
  2. খ) মকরক্রান্তি
  3. গ) বিষুবরেখা
  4. ঘ) মূল মধ্যরেখা
সঠিক উত্তর:
গ) বিষুবরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিষুবরেখা
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ ও অক্ষরেখা:
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে এবং যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে একে প্রকাশ করা হয়, তাকে অক্ষরেখা বলে। 
নিরক্ষরেখা (Equator):
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুইটি গোলার্ধে বিভক্তকারী কাল্পনিক অক্ষরেখাটি নিরক্ষরেখা নামে অভিহিত।
-  ভূ-গোলাককে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অক্ষরেখা নিরক্ষরেখা।
- এই অক্ষরেখার অপর নাম সমূহ হলো- বিষুবরেখা (Equator) ও মহাবৃত্ত (Great Circle)। 
- বিষুবরেখা রেখা থেকে অক্ষাংশ গণনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৯.
চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম কী?
  1. গ্যানিমেড
  2. ফোবোস
  3. ক্লেভিউস
  4. ডিমোস
সঠিক উত্তর:
ক্লেভিউস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লেভিউস
ব্যাখ্যা
চাঁদ:
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আবর্তন করে।
- এর ব্যাস ৩.৪৭৫ কিলোমিটার।
- ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়।
- চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম ক্লেভিউস।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো।
- চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলোতে চাদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০" সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০ সেলসিয়াসের নীচে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩০.
জাপান ও ভিয়েতনামে কোন বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত ঘটে? 
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. অয়ন বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
সাময়িক বায়ু: 
- কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু। 
- সাময়িক বায়ু দুই ধরনের। যথা- মৌসুমি বায়ু এবং স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু। 

মৌসুমি বায়ু: 
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু। 
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় “মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু। 
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়। 
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়। এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত। 
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়। 
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে। 
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু। 
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে। 
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়। অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়। 
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়। 
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে। 
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩১.
পেনিসিলিন এন্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) Penicillium sp
  2. খ) Bacillus polymyxa
  3. গ) Streptomyces griseus
  4. ঘ) Streptomyces rimosus
সঠিক উত্তর:
ক) Penicillium sp
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Penicillium sp
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অণুজীবদ্বারা উৎপন্ন এন্টিবায়োটিক -

Penicillium sp - পেনিসিলিন
Bacillus polymyxa - পলিমিক্সন। 
Streptomyces griseus - স্ট্রেপটোমাইসিন। 
Streptomyces rimosus - টেট্রাসাইক্লিন।
২,১৩২.
What is the name of the device used to measure the strength or wave of an earthquake?
  1. Lactometer
  2. Seismograph
  3. Barometer
  4. Odometer
সঠিক উত্তর:
Seismograph
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Seismograph
ব্যাখ্যা
⇒ ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।

অপশন আলোচনা:
ক) Lactometer – দুধে জল মেশানো হয়েছে কি না তা পরিমাপের যন্ত্র।
গ) Barometer – বায়ুচাপ পরিমাপের যন্ত্র।
ঘ) Odometer – গাড়ি কত দূরত্ব অতিক্রম করেছে তা পরিমাপের যন্ত্র।

• বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ও তার ব্যবহার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ক যন্ত্র -ফ্যাদোমিটার
- তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র- থার্মোমিটার।
- গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র- ম্যানোমিটার।
- আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র - হাইড্রোমিটার।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম- সিসমোগ্রাফ।
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র - ফ্যাদোমিটার।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- রিখটার স্কেল।
- সূক্ষ্ম সময় ও সমুদ্রের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় যন্ত্র- ক্রনোমিটার।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,১৩৩.
সব গতিই-
  1. ক) দ্রুত
  2. খ) গতিশীল
  3. গ) স্থির
  4. ঘ) আপেক্ষিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) আপেক্ষিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আপেক্ষিক
ব্যাখ্যা
সকল ধরনের গতি এবং স্থিতি আপেক্ষিক। প্রসঙ্গ বস্তুর সাপেক্ষে তারা গতিশীল নাকি স্থিতিশীল সেটা নির্ধারণ করা হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১৩৪.
থিওরি অব রিলেটিভিটি দেন কে?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) ম্যাক্সওয়েল
  4. ঘ) স্টিফেন হকিং
সঠিক উত্তর:
খ) আইনস্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
আইনস্টাইন থিওরি অব রিলেটিভিটির প্রবক্তা৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১৩৫.
বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় জলীয়বাষ্প কোথায় মিশে যায়?
  1. ক) সমুদ্রে
  2. খ) শিশির কণায়
  3. গ) বায়ুমন্ডলে
  4. ঘ) নভোমন্ডলে
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ুমন্ডলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ুমন্ডলে
ব্যাখ্যা
• বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় জলীয়বাষ্প বায়ুমন্ডলে মিশে যায়।
- বাষ্পীভবন এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা নদী, হ্রদ, জলাশয় বা সমুদ্রের পানি সূর্যের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং তা বায়ুমন্ডলে মিশে যায়।
- এই জলীয়বাষ্প হালকা বলে তা উপরে উঠে বায়ুমন্ডলে অদৃশ্য হয় যেতে সক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে বায়ুর উষ্ণতার পরিমাণের উপর নির্ভর করে যে কতটুকু জলীয়বাষ্প ধারণ করা সম্ভব হবে।
- জলীয়বাষ্প প্রধানত সমুদ্র থেকে বাষ্পীভূত হলেও নদ-নদী ও উদ্ভিদ জগতও জলীয়বাষ্পের অন্যতম উৎস।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৬.
বেতার তরঙ্গ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর থেকে প্রতিফলিত হয়ে দূর-দূরান্তে পৌঁছায়?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার
সঠিক উত্তর:
আয়নোস্ফিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

◉ থার্মোস্ফিয়ারের একটি বিশেষ অংশ হলো আয়নমণ্ডল (Ionosphere), যেখানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাবে বাতাসের গ্যাসগুলো আয়নিত হয়। এই আয়নিত স্তর বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত করে, ফলে বেতার যোগাযোগ (যেমন AM রেডিও, শর্টওয়েভ যোগাযোগ) সম্ভব হয়।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে সাধারণত কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়: ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্রাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার এবং এক্সোস্ফিয়ার।

তাপমণ্ডল (Thermosphere): 
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমণ্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে।
- তাপমন্ডলের বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হলো- 
ক) তাপ বায়ুমণ্ডলের খুব হালকা এবং এখানে তাপের পরিবহনও নগণ্য। 
খ) তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়। এই জন্য একে আয়নমণ্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়। 
গ) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। 
ঘ) এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০০ সেলসিয়াসে এসে পোঁছায়। 

অন্যান্য অপশনসমূহ,
ট্রপোস্ফিয়ার: আবহাওয়া ও জলবায়ুর ঘটনাবলী ঘটে।
স্ট্রাটোস্ফিয়ার: এখানে ওজোন স্তর থাকে, যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে।
মেসোস্ফিয়ার: উল্কাপিণ্ড পুড়ে যায় এই স্তরে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৩৭.
কৃষ্ণবিবর শব্দটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) জর্জ ল্যামেটার
  3. গ) জন হুইলার
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
গ) জন হুইলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জন হুইলার
ব্যাখ্যা
যদিও কৃষ্ণবিবর ধারণাটি দু'শ বছরের পুরনো কিন্তু এই শব্দটি ১৯৬৯ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী জন হুইলার সৃষ্টি করেন৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১৩৮.
সুনামির প্রধান কারণ নয় কী?
  1. সমুদ্রতলের ভূমিকম্প
  2. অধিক বৃষ্টিপাত
  3. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যূৎপাত
  4. পানিতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ
সঠিক উত্তর:
অধিক বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিক বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
• অধিক বৃষ্টিপাত সুনামির কারণ নয়, বরং এটি বন্যার কারণ হতে পারে। 

 • সুনামি:

- ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে সৃষ্ট বিশাল সামুদ্রিক ঢেউকে সুনামি বলে।

• সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ। জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়। এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির। এটি অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে।

• সুনামির কারণ:
- ভূমিকম্প: সমুদ্রের তলে ভূমিকম্প হলে, জলের স্থানচ্যুতি ঘটে এবং সুনামি তৈরি হয়। 
- ভূমিধস: সমুদ্রের তলে বা উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিধস হলে, তা বিশাল ঢেউ তৈরি করতে পারে। 
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: সমুদ্রের তলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হলে, তা জলকে স্থানচ্যুত করে এবং সুনামি তৈরি করতে পারে। 
- পারমাণবিক বা অন্য কোন বিস্ফোরণ। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,১৩৯.
'গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)' অঞ্চলটি কোন অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত?
  1. ৪৫° থেকে ৫৭° উত্তর
  2. ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
  3. ৩০° থেকে ৩৫° দক্ষিণ
  4. ৫০° থেকে ৬০° উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণ গোলার্ধে ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বায়ু কোনো বাধা ছাড়াই উন্মুক্ত সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুর তীব্র আওয়াজের কারণেই একে 'গর্জনশীল চল্লিশ' বলা হয়।

• পশ্চিমা বায়ু: 
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। 
- এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল। 
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু। 
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)। 

- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়। 
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে। 
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে আনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না। 
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত। 
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো। এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪০.
হিগস বোসনের স্পিন কত?
  1. ০ 
  2. ১/২ 
  3. ২ 
  4. ১ 
সঠিক উত্তর:
০ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০ 
ব্যাখ্যা

হিগস বোসন (Higgs Boson): 
- হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে।
- এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
- এই হিগস বোসন কণাকে ঈশ্বর কণা (God's Particle) বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪১.
সূর্যপৃষ্ঠের উত্তাপ কত ডিগ্রি সেলসিয়াস?
  1. ৫৬০০° সেলসিয়াস
  2. ৬০০০° সেলসিয়াস
  3. ৬৬০০° সেলসিয়াস
  4. ৭৪০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এর পৃষ্ঠের উত্তাপ প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস।
- এটি হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড।
- হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টোরাই।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৪২.
অয়ন বায়ু কোথায় প্রবাহিত হয়?
  1. উত্তর থেকে দক্ষিণ 
  2. দক্ষিণ থেকে উত্তর
  3. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  4. পূর্ব থেকে পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
পূর্ব থেকে পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব থেকে পশ্চিম
ব্যাখ্যা

- অয়ন বায়ু (বাণিজ্য বায়ু নামেও পরিচিত) পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধে এটি উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়, তবে মূল গতিপথ পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী। 

বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের অন্যতম প্রভাব। 
- প্রধান বায়ুপ্রবাহের গতি অনুসরণ করে সমুদ্রের প্রধান শ্রোতগুলো প্রবাহিত হয়। 
- অয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে সমুদ্রস্রোত পূর্ব হতে পশ্চিম দিকে এবং প্রত্যয়ন বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলে পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ুর চলাচল নিয়ত পরিবর্তনশীল। 
- বায়ু সবসময়ই একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- ভূ-পৃষ্ঠের সমান্তরাল অর্থাৎ আনুভূমিকভাবে বায়ুর এ সঞ্চালনকে বলা হয় বায়ুপ্রবাহ। 
- বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ। 
- বায়ু সাধারণত কয়েকটি বিশেষ নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়- 
• নিম্নচাপমন্ডলের উত্তপ্ত ও হালকা বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন বায়ুমন্ডলে চাপের অসমতা সৃষ্টি হয়। ফলে উচ্চ তাপমন্ডল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু সবর্দা নিম্নচাপমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। 
• পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তনশীল এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ফেরেলের সূত্রানুযায়ী, বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪৩.
আদর্শ মাটিতে কত ভাগ জৈব পদার্থ থাকে?
  1. ক) ৩%
  2. খ) ৪%
  3. গ) ৫%
  4. ঘ) ৫.৫%
সঠিক উত্তর:
গ) ৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫%
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর বিশাল প্রাকৃতিক শোধনাগার হচ্ছে মাটি। সাধারণত আদর্শ মাটিতে ৫% জৈব পদার্থ থাকে।
মাটির গঠন, বর্ণ, পানি ধারণক্ষমতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে মাটিকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়;
যথা-
(ক) বালু মাটি,
(খ) পলি মাটি,
(গ) কাদামাটি এবং
(ঘ) দো-আঁশ মাটি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,১৪৪.
শনির উপগ্রহ কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ১৪
  3. গ) ৭৯
  4. ঘ) ৮২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮২
ব্যাখ্যা

Saturn has 82 moons.
Fifty-three moons are confirmed and named and another 29 moons are awaiting confirmation of discovery and official naming.
Saturn's moonsrange in size from larger than the planet Mercury — the giant moon Titan — to as small as a sports arena.


Source: Nasa
২,১৪৫.
বুধকে প্রথম ছবি পাঠানোর মহাশূন্যযান কোনটি?
  1. মেরিনার-১০
  2. ভয়েজার-১
  3. মেরিনার-১
  4. ভয়েজার-২
সঠিক উত্তর:
মেরিনার-১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরিনার-১০
ব্যাখ্যা

- নাসার (NASA) পাঠানো মেরিনার-১০ (Mariner-10) মহাকাশযানটিই প্রথম বুধ গ্রহের কাছ থেকে ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল। ১৯৭৪ সালের ২৯শে মার্চ এটি বুধের প্রথম ঘনিষ্ঠ ছবি তোলে। 

বুধ (Mercury): 

- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ। 
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার এবং এর ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যের খুব কাছাকাছি থাকায় সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে সবসময় একে দেখা যায় না।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
সুতরাং, বুধ গ্রহে ৮৮ দিনে এক বছর হয়।
- বুধের মাধ্যাকর্ষণ বল এত কম যে এটি কোনো বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না।
- এখানে নেই মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস ও পানি, সুতরাং প্রাণির অস্তিত্ব নেই।
- ১৯৭৪ সালে মার্কিন মহাশূন্যযান মেরিনার-১০ বুধের যে ছবি পাঠায় তা থেকে দেখা যায় যে, বুধের উপরিতল একদম চাঁদের মতো।
- ভূত্বক অসংখ্য গর্তে ভরা এবং এবড়ো-থেবড়ো। এখানে অসংখ্য পাহাড় ও সমতলভূমি আছে।
- বুধের কোনো উপগ্রহ নেই। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি এবং নাসা ওয়েবসাইট।

২,১৪৬.
সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের কত দিন সময় লাগে?
  1. ক) ১৮০ দিন
  2. খ) ২০০ দিন
  3. গ) ২২০ দিন
  4. ঘ) ২২৫ দিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২২৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২২৫ দিন
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):

- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র। 
- পৃথিবী থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ৪.৩ কোটি কিলোমিটার। 
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৭.
ব্ল্যাক হোলের অভ্যন্তরীণ ভৌত অবস্থা কেমন?
  1. আয়তন ও ঘনত্ব উভয়ই অসীম
  2. আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
  3. আয়তন প্রায় অসীমের কাছাকাছি, ঘনত্ব প্রায় শূন্য
  4. আয়তন অনেক বড়, ঘনত্ব খুবই কম
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
ব্যাখ্যা

• ব্ল্যাক হোলের অভ্যন্তরকে সিঙ্গুলারিটি বলা হয়, যেখানে পদার্থ একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র আয়তনে সংকুচিত হয়ে যায় এবং ঘনত্ব অসীমের দিকে ধাবিত হয়। এখানে প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কাজ করা বন্ধ করে দেয়, কারণ মহাকর্ষ এতই শক্তিশালী যে আলোও পালাতে পারে না।
- তাই বৈজ্ঞানিকভাবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর হলো- খ) আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম।

কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। এই সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪৮.
ঘূর্ণিঝড় আইলা কত সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে?
  1. ২০০৭ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১৫ সালে
  4. ২০১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ঘূর্ণিঝড় আইলা:
- ২০০৯ সালের ২৫শে মে পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানা প্রবল ঘূর্ণিঝড় আইলা।
- যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- আইলা হলো ২০০৯ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরে জন্ম নেওয়া একটি ঘূর্ণিঝড়।
- ২১ মে ভারতের কলকাতা থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর উৎপত্তি।
- তবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ এবং ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আইলা আঘাত হানে ২৫ মে।
- মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা এর নাম আইলা দেন।
- ‘আইলা’ শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী।
- নামটি এই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারণ করেন জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা ‘ইউএন এস্কেপ’-এর (UN Escape) বিজ্ঞানীরা। 
- ঘূর্ণিঝড় আইলার ব্যাস ছিল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, যা ঘূর্ণিঝড় সিডর থেকে ৫০ কিলোমিটার বেশি।
- এটি ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করে।
-  বাংলাদেশে আইলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
- আইলার প্রভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৭১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুই অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছে মোট ১৯৩ জন।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৯.
আধানের অস্তিত্ব নির্ণয়ের যন্ত্রের নাম কি?
  1. ক) অ্যামিটার
  2. খ) ভোল্টামিটার
  3. গ) দূরবীক্ষণ যন্ত্র
  4. ঘ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা

যে যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তু তড়িৎগ্রস্থ কিনা তা যাচাই করা যায় এবং তড়িৎগ্রস্থ বস্তুর চার্জের প্রকৃতি নির্ণয় করা যায় তাকে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
অ্যামিটার হলো একটি যন্ত্র যার সহায়তায় বিদ্যুতের প্রবাহ সরাসরি বৈদ্যুতিক একক অ্যাম্পিয়ারে পরিমাপ করা যায়।

যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যে কোন দুই বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা যায় তাকে ভোল্টমিটার বলে।

দূরবীক্ষণ যন্ত্র তথা দূরবীন (টেলিস্কোপ) এমন একটি যন্ত্র যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু দর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি দূরবর্তী বস্তু থেকে নির্গত বিকিরণ সংগ্রহ, পরিমাপ এবং বিশ্লেষণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান। 

২,১৫০.
বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে কোনটি ঘটে? 
  1. পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপ কমে যায় 
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বন্ধ হয় 
  3. সৌরশক্তি বৃদ্ধি পায় 
  4. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায় 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায় 
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর এবং পরিবেশের উপর তার প্রভাব: 
- শক্তির রূপান্তরে পরিবেশের উপর প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি বা তেল, গ্যাস এবং কয়লা। 
- এই তিনটিতেই কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি এবং এগুলো পুড়িয়ে যখন তাপশক্তি তৈরি হয়, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস তৈরি হয় যেটি একটি গ্রিন হাউস গ্যাস। 
অর্থাৎ, এই গ্রিন হাউস গ্যাস পৃথিবীতে তাপকে ধরে রাখতে পারে এবং এ কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে, যেটি বৈশ্বিক উষ্ণতা নামে পরিচিত। 
- বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে, সে কারণে পৃথিবীর যেসব দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে এবং কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে, তার মাঝে বাংলাদেশ একটি। 
- এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব দেশ মিলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছে। 

- নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ হয় না, কিন্তু নিউক্লিয়ার বর্জ্য অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এদের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিরাপদ মাত্রায় পৌঁছানোর জন্য লক্ষ লক্ষ বছর সংরক্ষণ করতে হয় যেটি পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 
- আধুনিক প্রযুক্তির কারণে নিউক্লিয়ার শক্তিকেন্দ্র অনেক নিরাপদ হলেও মাঝে মাঝে মানুষের ভুল কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানে বড় দুর্ঘটনা ঘটে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। 
যেমন- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল এবং জাপানের ফুকুশিমার দুর্ঘটনা। 
- তুলনামূলকভাবে পরিবেশের উপর নবায়নযোগ্য শক্তির ক্ষতিকর প্রভাব কম, তবে জলবিদ্যুতের জন্য যখন নদীতে বাঁধ দেওয়া হয় তখন একদিকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বাঁধের পরবর্তী এলাকায় তীব্র খরার সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৫১.
মহাবিষ্ফোরণ তত্ত্বের প্রবর্তক কে?
  1. আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. জর্জ ল্যামেটার
  3. স্টিফেন হকিং
  4. এডুইন হাবল
সঠিক উত্তর:
জর্জ ল্যামেটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ ল্যামেটার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
বিজ্ঞানের বিষয় হিসাবে বিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব এর জন্ম শুরু হয় ১৯১৬ সালে আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রণয়নের পর থেকে। ১৯২৯ সালে এডুইন হাবল এর মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আবিষ্কারের ফলে এর উৎপত্তি এর উৎপত্তি সম্পর্কীয় আলোচনা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়। আজ থেকে ১৫০০-২০০০ কোটি বছর আগে মহাবিশ্বের আকৃতি ছিলো ডিম্বাকার। অভ্যন্তরীণ বিপুল চাপ ও তাপের কারণে প্রচন্ড শব্দে ডিম্বাকার বস্তুর মহাবিষ্ফোরণ ঘটে। এই বিষ্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিলো আমাদের এই মহাবিশ্ব। এটাই বিগ ব্যাঙ তত্ত্ব বা মহাবিষ্ফোরণ তত্ত্ব। বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী জর্জ ল্যামেটার এই তত্ত্বের প্রবক্তা।
অনেকেরই ধারণা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা স্টিফেন হকিং। এটি ভুল ধারণা। বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বিজ্ঞানী জর্জ ল্যামেটার। স্টিফেন হকিং শুধুমাত্র বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,১৫২.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে? 
  1. গ্যালিলিও
  2. এডুইন হাবল 
  3. স্টিফেন হকিং
  4. জি. ল্যামেটার 
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জি. ল্যামেটার 
ব্যাখ্যা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: 
- মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি. ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)
- জি. ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই ‘A Brief History of Time’.

উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

২,১৫৩.
উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ ও প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়া পরিবেশে কীভাবে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করে?
  1. একে অপরের শক্তির চাহিদা পূরণ করে
  2. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখে
  3. শুধুমাত্র উদ্ভিদের খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করে
  4. কেবল প্রাণীর বেঁচে থাকা নিশ্চিত করে
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখে
ব্যাখ্যা

• সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়।

• পরিবেশের উপাদানের আন্তঃসম্পর্ক:
- পরিবেশে জীব উপাদান ও জড় উপাদান সবসময় পরস্পরের সাথে ক্রিয়া ও আদান-প্রদানে যুক্ত থাকে।
- জীব উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ ও প্রাণী অন্তর্ভুক্ত।
- জড় উপাদানের মধ্যে বায়ু, পানি, মাটি, আলো ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- জীব ও জড় উপাদানের এই পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ককে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বলা হয়।
 
• সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া:
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে খাদ্য তৈরি করে।
- এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে।
- সালোকসংশ্লেষণের ফলে গ্লুকোজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।
- উৎপন্ন গ্লুকোজ উদ্ভিদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- উৎপন্ন অক্সিজেন পরিবেশে মুক্ত হয়।
 
• শ্বসন প্রক্রিয়া:
- শ্বসন প্রক্রিয়া উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের মধ্যেই ঘটে।
- শ্বসনে অক্সিজেন ব্যবহার করে দেহে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
- এই কার্বন ডাই-অক্সাইড পুনরায় পরিবেশে ফিরে যায়।
 
• সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের পারস্পরিক সম্পর্ক:
- সালোকসংশ্লেষণে উৎপন্ন অক্সিজেন শ্বসনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
- এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখে।
- এই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমেই জীবমণ্ডলে শক্তি ও গ্যাসের প্রবাহ সচল থাকে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- একে অপরের শক্তির চাহিদা পূরণ করে → শক্তি উৎপাদন সরাসরি নয়, গ্যাসের আদান-প্রদান মূল বিষয়।

 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

২,১৫৪.
বায়ুর আর্দ্রতা রক্ষায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. বায়ুপ্রবাহ
  2. পানি
  3. সূর্যালোক
  4. বায়ুচাপ
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
- বায়ুর আর্দ্রতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হল পানি
- বায়ুমণ্ডলীয় জলবাষ্প বা পানি হিসেবেই বায়ুতে আর্দ্রতা বহন করা হয়।
- তাই বায়ু আর্দ্রতা পরিমাণ রক্ষার জন্য পানির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
- বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ, সূর্যালোক এসব পানির মাধ্যমে আর্দ্রতার ওপর প্রভাব ফেলে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু: 

- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে। 
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে। 
- কাজেই জলবায়ু কোন একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা। 
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ও বারিপাত ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
২,১৫৫.
নিম্নের কোনটি মিঠা পানির উৎস নয়? 
  1. ভূগর্ভস্থ পানি
  2. নদী
  3. হ্রদ
  4. মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাসাগর
ব্যাখ্যা

বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
• নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৫৬.
পেট্রোল ইঞ্জিন সফলতার সাথে কে চালু করেন? 
  1. কার্নো
  2. কেলভিন
  3. ড. অটো
  4. জেমস ওয়াট
সঠিক উত্তর:
ড. অটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. অটো
ব্যাখ্যা
- নিকোলাস অটো প্রথম পেট্রোল ইঞ্জিন তৈরি করেন। 

অন্যদিকে, 
- জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের আবিষ্কার করেন। 
- তাপ গতিবিদ্যার জনক লর্ড কেলভিন, তিনি ১৮৫০ সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন। 
- তাপশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য 'সাদী কার্নো' সকল দোষ-ত্রুটি মুক্ত যে আদর্শ যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন তাকে কার্নো ইঞ্জিন বলে। 
- কার্নো ইঞ্জিন একটি আদর্শ ইঞ্জিনের ধারণামাত্র, বাস্তবে এর রূপান্তর সম্ভব হয়নি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৫৭.
ক্যান্সারের চিকিৎসায় কোন মৌলের আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. Chlorine
  2. Carbon
  3. Cobalt
  4. Hydrogen
সঠিক উত্তর:
Cobalt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cobalt
ব্যাখ্যা

- ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো আইসোটোপ। 

- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভরসংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলা হয়। 

- ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাধারনত কোবাল্ট-৬০ (60Co) আইসোটোপটি ব্যবহৃত হয়।

- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়।

- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।

 উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই, নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান।

 

২,১৫৮.
সাইক্লোনের কেন্দ্রের চারদিকে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে ঘুরতে থাকে?
  1. ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
  2. ঘড়ির কাঁটার দিকে
  3. দ্রাঘিমারেখার সাথে সমান্তরালে
  4. নিরক্ষরেখা বরাবর
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে
ব্যাখ্যা

সাইক্লোন হলো উষ্ণ কেন্দ্রীয় লঘুচাপ, যার চারদিকে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রচণ্ডভাবে ঘুরতে থাকে
ঘূর্ণিঝড় এর ব্যাসার্ধ সাধারণত ৫০০-৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২,১৫৯.
১৮২০ সালে কে দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়? 
  1. ম্যাক্সওয়েল
  2. ফ্যারাডে
  3. অরস্টেড
  4. হেনরি
সঠিক উত্তর:
অরস্টেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরস্টেড
ব্যাখ্যা

বিজ্ঞানের অবদান ও আবিষ্কার: 
- বিদ্যুৎ ও চুম্বকের ওপরে এক সময় ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। 
- 1778 সালে কুলম্ব বৈদ্যুতিক চার্জের ভেতরকার বলের জন্য সূত্র আবিষ্কার করেন। 
- 1800 সালে ভোল্টা বৈদ্যুতিক ব্যাটারি আবিষ্কার করার পর বিদ্যুৎ নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা শুরু হয়। 
- 1820 সালে অরস্টেড দেখান বিদ্যুৎপ্রবাহ দিয়ে চুম্বক তৈরি করা যায়। 
- 1831 সালে ফ্যারাডে এবং হেনরি ঠিক তার বিপরীত প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন। তারা দেখান চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। 
- 1864 সালে ম্যাক্সওয়েল তার বিখ্যাত ম্যাক্সওয়েল সমীকরণ দিয়ে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে একই সূত্রের মাঝে নিয়ে এসে দেখান যে, আলো আসলে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। বিদ্যুৎ ও চুম্বক আলাদা কিছু নয়, আসলে এ দুটি একই শক্তির দুটি ভিন্ন রূপ। এটি সময়োপযোগী একটি আবিষ্কার ছিল কারণ, 1801 সালে ইয়ং পরীক্ষার মাধ্যমে আলোর তরঙ্গ ধর্মের প্রমাণ করে রেখেছিলেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৬০.
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ প্রায় কত? 
  1. ৬,০০০ কি.মি. 
  2. ৭,৯০০ কি.মি. 
  3. ৬,৪০০ কি.মি. 
  4. ১২,৭১৪ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
৬,৪০০ কি.মি. 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬,৪০০ কি.মি. 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর ব্যাস (Diameter) ও ব্যাসার্ধ (Radius): 
- পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুকে ছেদ করে একটি রেখা যদি পৃথিবীর যে কোনো দুইটি প্রান্তকে স্পর্শ করে, তবে ঐ রেখাকে পৃথিবীর ব্যাস বলা হয়। 
- ইরাটোসথেনিসের গণনা অনুযায়ী- মেরুদেশীয় এলাকায় পৃথিবীর ব্যাস ১২,৭১৪ কি.মি. বা ৭,৯০০ মাইল এবং নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস ১২,৭৫৭ কি.মি. বা ৭,৯২৭ মাইল। 
- অপরদিকে, ব্যাসার্ধ (Radius) হলো, এমন একটি রেখা বা লাইন যেটি পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দু থেকে যে কোনো একটি প্রান্ত স্পর্শ করে। 
- পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ হলো প্রায় ৬,৪০০ কি.মি.। 


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬১.
চুনাপাথর পরিবর্তন হয়ে কি হয়?
  1. নিস
  2. ফিলাইট
  3. মার্বেল
  4. ক্যালসাইট
সঠিক উত্তর:
মার্বেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্বেল
ব্যাখ্যা
শিলা: 
- ভূত্বক যেসব উপাদান দ্বারা গঠিত তাদের সাধারণ নাম শিলা। 
- ভূতত্ত্ববিদগণের মতে দুই বা ততোধিক খনিজ দ্রব্যের সংমিশ্রণে এসব শিলার সৃষ্টি হয়। 
- ভূত্বক গঠনকারী সকল কঠিন ও কোমল পদার্থই শিলা। 
উদাহরণস্বরূপ নুড়ি, কাঁকর, গ্রানাইট, কাদা, বালি প্রভৃতি। 
- গঠনপ্রণালি অনুসারে শিলাকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা। 

রূপান্তরিত শিলা: 
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচন্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে। 
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে। 
যেমন- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস এবং কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়। 
- রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই শিলা স্ফটিকযুক্ত, খুব কঠিন হয়; এতে জীবাশ্ম দেখা যায় না; কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৬২.
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি?
  1. প্রাকৃতিক পরিবেশ
  2. সামাজিক পরিবেশ
  3. বায়বীয় পরিবেশ
  4. সাংস্কৃতিক পরিবেশ
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক পরিবেশ
ব্যাখ্যা
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য বাসস্থান, রাস্তাঘাট,খাদ্যসহ সবকিছুই বেশি দরকার হয়। 
- এর ফলে গাছপালা ও বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। 
- অধিক মাত্রায় খাদ্যশস্য ও ফসল ফলানোর জন্য জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- প্রাকৃতিক (ভৌগোলিক) পরিবেশ প্রকৃতিগত অবস্থাই প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ যেমন- ভুমিবন্ধুরতা, উদ্ভিদ, প্রাণী, মৃত্তিকা, নদ-নদী ইত্যাদি। 
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ
২,১৬৩.
মৌলের প্রোটন বা ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের ‘পারমাণবিক সংখ্যা’ নামকরণ করেন -
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) হেনরি মোসলে
  3. গ) নীলস বোর
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
খ) হেনরি মোসলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেনরি মোসলে
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number)
১৮৯৫ সনে বিজ্ঞানী রন্টজেন একটি ধাতব মৌলকে ক্যাথোড রশ্মির লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করে অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে এক ধরনের বিকিরণ আবিষ্কার করেন। এই বিকিরণের যথার্থ পরিচয় না দিতে পারায় একে X-Ray (এক্সরে) নাম দেয়া হয়।
১৯১৪ সনে পদার্থ বিজ্ঞানী মোসলে দেখান যে, ক্যাথোড রশ্মির বিক্ষেপণে প্রতিটি মৌল থেকে একটি সুনির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে রশ্নি (X-Ray) নির্গত হয়। তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, X-Ray এর
কম্পন সংখ্যা মৌলের পরমাণুর ধনাত্মক চার্জ অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। তিনি মৌলের প্রোটন বা ইলেকট্রন সংখ্যাকে মৌলের ‘পারমাণবিক সংখ্যা’ নামকরন করেন এবং একে z দ্বারা চিহ্নিত করেন। একটি নিরপেক্ষ পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান।
সুত্রঃ রসায়ন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬৪.
একটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কমপক্ষে কত শতাংশ বনভূমি থাকা উচিত? 
  1. ১৫%
  2. ২৫%
  3. ২০%
  4. ৩০%
সঠিক উত্তর:
২৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫%
ব্যাখ্যা
বনের পরিবেশগত গুরুত্ব: 
- যে কোনো এলাকার আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট এলাকার বনাঞ্চলের দ্বারা দারুনভাবে প্রভাবিত হয়।
- সাধারণভাবে বলা হয় যে কোন অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য অন্ততঃ ২৫% বনভূমি থাকা অত্যাবশ্যক। 
- বনের বৃক্ষরাজি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন উৎপাদনের মাধমে পরিবেশ নির্মল রাখে এবং বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে গ্রীন হাউন গ্যাসের বিরূপ প্রতিক্রিয়া কমায়। 
- বনের গাছপালা বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের আধিক্য ঘটায় বলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ে। 
- যে সমস্ত এলাকায় গাছপালা কম সেখানে মরুকরণ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। 
- গাছপালা মাটিতে জৈব পদার্থের সংযোজন করে মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং প্রাণিজগতের খাদ্য শিকলের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৫.
পৃথিবীর বারিমন্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল হিমবাহ ধারণ করে?
  1. ক) ০.৬৮%
  2. খ) ২.০৫%
  3. গ) ০.০০১%
  4. ঘ) ০.০০০১%
সঠিক উত্তর:
খ) ২.০৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২.০৫%
ব্যাখ্যা


উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ
২,১৬৬.
কোন ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দেখা যায়?
  1. ক) কোহুটেক
  2. খ) লেক্সেল
  3. গ) হেইল-বপ
  4. ঘ) হ্যালির ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
ঘ) হ্যালির ধূমকেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হ্যালির ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দেখা যায়।

ধূমকেতু (Comet): ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক।
- ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। যেমন: মস্তক বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ।
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে।
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ।
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দেখা যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৭.
আমেরিকান বিজ্ঞানী এডউইন হাবলের নাম কোন তত্ত্বের সাথে জড়িয়ে আছে?
  1. Partial Coherence of Light Theory
  2. Lattice Gauge Theory
  3. Theory of Expansion of the universe
  4. Quantum Chromodynamics Theory
সঠিক উত্তর:
Theory of Expansion of the universe
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Theory of Expansion of the universe
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে-
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৮.
নিচের কোনগুলো জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. বায়ুর মৃদুভাবাপন্ন
  2. অক্ষাংশ, বায়ুপ্রবাহ
  3. বায়ুর ঘনত্ব
  4. আহ্নিক গতি, বার্ষিক গতি
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ, বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ, বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
- আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য।
- জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ৩০-৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, চাপ, বারিপাত, আর্দ্রতা এবং বায়ুপ্রবাহ।
- জলবায়ুর প্রধান নিয়ামকগুলো হলো- অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, বায়ুপ্রবাহ, বনভূমি, সমুদ্রস্রোত, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও মৃত্তিকা প্রভৃতি।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে।
- আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে।
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে যথা- বন্যা, ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৯.
ব্ল্যাক হোলে আলো কেন প্রবেশ বা বের হতে পারে না?
  1. অতি উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
  2. মহাকাশে আলো চলাচলের উপযুক্ত মাধ্যম না থাকার কারণে
  3. ভিতরের চাপ খুব কম হওয়ায় 
  4. তাপমাত্রা বেশি থাকায়
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে
ব্যাখ্যা
◉ ব্ল্যাক হোল হলো মহাকাশের এমন এক অঞ্চল যেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত বেশি যে আলো পর্যন্ত এর আকর্ষণ থেকে বের হতে পারে না।
- ব্ল্যাক হোলের চারপাশে একটি ইভেন্ট হরাইজন (Event Horizon) থাকে, যার ভেতর প্রবেশ করলে কিছুই আর বাইরে আসতে পারে না। মাধ্যমের অভাব, তাপমাত্রা বা চাপের পরিবর্তন এর মূল কারণ নয়—এখানে একমাত্র প্রধান কারণ অত্যধিক মাধ্যাকর্ষণ।

কৃষ্ণবিবর (Black Hole): 
- ব্ল্যাক হোল হলো মহাবিশ্বের এমন একটি মহাজাগতিক বস্তু যার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এত প্রবল যে সেখান থেকে কিছুই, এমনকি আলোও, পালাতে পারে না।
- একটি বিশাল ভরবিশিষ্ট নক্ষত্র জীবন শেষে কেন্দ্রের পারমাণবিক জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
- এর কেন্দ্র (core) মাধ্যাকর্ষণজনিত ধসে ভেতরের দিকে সংকুচিত হয়।
- বাইরের স্তরগুলো মহাকাশে ছিটকে যায় এবং কেন্দ্র সংকুচিত হয়ে শূন্য আয়তন ও অসীম ঘনত্বের বিন্দুতে (singularity) পরিণত হয়।
- ব্ল্যাক হোলের গঠন ও বৈশিষ্ট্য আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
২,১৭০.
গ্রিন হাউজের ফলে মূলত বৈশ্বিক কোন পরিবর্তনটি ঘটে?
  1. ক) মরুকরণ
  2. খ) পানির উচ্চতা বৃদ্ধি
  3. গ) উদ্ভিদকুলে নতুন প্রজাতির আবির্ভাব
  4. ঘ) তাপমাত্রা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাপমাত্রা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তাপমাত্রা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

- বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।
- এই ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডলের নিম্ন স্তরে কিছু গ্যাস গ্রিন হাউস বা কাচের ঘরের দেওয়াল বা ছাদের মতো কাজ করে।
- সূর্যের আলো পৃথিবীর তাপ ও শক্তির মূলউৎস। সূর্যরশ্মি (রশ্মি নিকটবর্তী, দৃশ্যমান, নিকটবর্তী অবলোহিত বর্ণালি ইত্যাদি ক্ষতিকর রশ্মি) বায়ুমন্ডলে এসব গ্যাসীয় স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে এসে পড়ে।
- পৃথিবীতে আসা সূর্যালোকের সবটুকু কাজে লাগে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সূর্যালোক ভূপৃষ্ঠে ছেড়ে দেয়।
- আবার ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরণ তাপের সবটুকু মহাশূন্যে চলে যায় না। এই বিকিরিত তাপের একাংশ প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইড জলীয় বাষ্প এবং অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাস দ্বারা শোষিত হয়ে আবহাওয়া মন্ডলে কতটুকু থেকে যায় তা নির্ভর করে গ্রিন হাউস গ্যাসের ওপর।
- এসব গ্রিন হাউস গ্যাস বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা প্রদান করে।
- সুতরাং গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বায়ুমন্ডলের তাপ ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ইহাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
- উষ্ণতার বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস প্রভাব বলে।

গ্রিন হাউজের বিরূপ প্রতিক্রিয়াসমূহ-
১. তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
২. তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিছু অঞ্চল নতুনভাবে জলমগ্ন হবে এবং কিছু অঞ্চল শুষ্ক হবে।
৩. বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বরং অসংখ্য উদ্ভিদ ও পানির অস্তিত্বও বিপন্ন হবে।
৪. সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সামুদ্রিক ঝড় জলোচ্ছ্বাস ও টাইফুনের হার বেড়ে যাবে।
৫. সমুদ্র পৃষ্ঠ স্ফীত হলে আবহাওয়ায় প্রকৃতি পরিবর্তিত হবে।

সূত্র: NASA Website [লিঙ্ক]
২,১৭১.
সাইক্লোন শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে এবং তার অর্থ কী?
  1. ল্যাটিন, 'Coil of Snakes'
  2. গ্রিক, 'Coil of Snakes'
  3. ইংরেজি, 'Whirlwind'
  4. ইংরেজি, 'Storm'
সঠিক উত্তর:
গ্রিক, 'Coil of Snakes'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক, 'Coil of Snakes'
ব্যাখ্যা
• সাইক্লোন:
- সাইক্লোন শব্দটি এসেছে গ্রিক 'Kyklos' থেকে, যার অর্থ হল Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী।
- নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচণ্ড গতিবেগে ঘুরতে থাকে, তখন সেটাকে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলে।
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
- সাইক্লোন তৈরির জন্য সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়।
- বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার চাইতে বেশি হলে সেটাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়।
- বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। তখন বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
২,১৭২.
কেন জেট বিমানগুলো সাধারণত স্ট্রাটোমন্ডল স্তর দিয়ে চলাচল করে?
  1. এই স্তরে বাতাসের চাপ অনেক বেশি থাকে
  2. এই স্তরে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে
  3. এই স্তরে প্রচুর মেঘ থাকে
  4. আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে এবং ঝড়-বৃষ্টি থাকে না
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে এবং ঝড়-বৃষ্টি থাকে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে এবং ঝড়-বৃষ্টি থাকে না
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ঘ) আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে এবং ঝড়-বৃষ্টি থাকে না

• স্ট্রাটোমন্ডল (Stratosphere):

- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।

• স্ট্রাটোমন্ডলের বৈশিষ্ট্য:
ক) স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
খ) এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনী রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
গ) এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
ঘ) পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
ঙ) স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
চ) এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না
ছ) প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৭৩.
গ্রীনিচ মান সময় থেকে বাংলাদেশ কত ঘন্টা এগিয়ে?
  1. ৬ ঘণ্টা
  2. ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
  3. ১০ ঘণ্টা
  4. ৮ ঘণ্টা
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা

• গ্রীনিচ মান সময়: 
- লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে অতিক্রান্ত ০° দ্রাঘিমারেখা (মূল মধ্যরেখা) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়কে গ্রীনিচ মান সময় (GMT) বলা হয়।
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রীনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রীনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ × ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা। 
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৭৪.
IPCC এর তথ্য অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত হতে পারে?
  1. ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস
  2. ১.৮-৬.৮° সেলসিয়াস
  3. ১.৫-৬.৯° সেলসিয়াস
  4. ২.১ -৭.৪° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
১.১-৬.৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.১-৬.৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
- জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ১৯৮৮ সালে গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- বিগত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭৪° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- অন্যদিকে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল বিলুপ্ত হবে। যা উদ্ভিদ ও প্রাণির বসবাসের অনুকূল পরিবেশে সরাসরি আঘাত হানার মধ্য দিয়ে ধ্বংস সাধন করবে।   

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৭৫.
প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয় কোনটি?
  1. বন্যা
  2. ভূমিকম্প
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. রাসায়নিক বিষক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক বিষক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক বিষক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিপর্যয়: 
- বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়। 
অর্থাৎ, যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকে বিপর্যয় বলে। 
- বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। 
যেমন: 
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়: যেমন- ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। 
২. মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়: যেমন- পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ,  , যুদ্ধ ইত্যাদি। 
- বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশংকা বা সম্ভাবনা মাত্র। 
- একটি এলাকায় সংঘটিত যে কোনো বিপর্যয় বা আপদ যখন উক্ত এলাকার অধিবাসীগণ তাদের নিজস্ব চেষ্টা ও সম্পদের সাহায্যে মোকাবিলা করতে সক্ষম না হয় কেবল তখনই সেই আপদটি দুর্যোগে পরিণত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৬.
বায়োমের সজীব উপাদান হলো-
  1. ইউরিয়া ও হিউমাস
  2. উৎপাদক ও খাদক
  3. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন গ্যাস
সঠিক উত্তর:
উৎপাদক ও খাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদক ও খাদক
ব্যাখ্যা
বায়োম: 
- ইকোসিস্টেম যখন বৃহৎ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে তখন তাকে বায়োম বলে। 
- নির্দিষ্ট পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাবে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠা জীবমণ্ডলের বৃহৎ ভৌগোলিক এককই বায়োম। 
- তাই বায়োম হচ্ছে জীবমণ্ডলের সর্ববৃহৎ একক। 

বাংলাদেশের বায়োম: 
- বাংলাদেশে পরিবেশের অজীব উপাদান (যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদি), মাটির জৈব উপাদান (যেমন- মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচে সৃষ্ট ইউরিয়া ও হিউমাস, ভূপ্রকৃতি ও মাটি ইত্যাদি) এবং সজীব উপাদানের (যেমিন- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক ইত্যাদি) প্রভাবে সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ভিত্তিতে যে বাস্তুতন্ত্রের একক গড়ে উঠে তাকেই বাংলাদেশী বায়োম বলা হয়। 
- এতে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে পুষ্টিচক্র সক্রিয় হয় অর্থাৎ শক্তির প্রবাহ অক্ষুণ্ণ থাকে। 
- বাংলাদেশের বায়োম দুই প্রকার। 
যথা- স্থলজ বায়োম ও জলজ বায়োম। 

(ক) বাংলাদেশের স্থলজ বায়োম হলো: 
১। শস্যক্ষেত্রের বায়োম (Biome of Crops): 
- বাংলাদেশের শস্যক্ষেত্রের প্রধান উদ্ভিদ হচ্ছে ধান, পাট, ঘাস, আগাছা ইত্যাদি। 
- এখানে ইকোসিস্টেমের উৎপাদক হচ্ছে ঐ সকল উদ্ভিদসমূহ। 
- কীট-পতঙ্গ প্রথম স্তরের খাদক। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদক ব্যাঙ, পাখি, গরু, ছাগল, ভেড়া, মানুষ ইত্যাদি। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হলো সাপ ও শিকারী পাখি। 
এখানে, মাটিতে বিয়োজক সৃষ্টি হয় ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং কাক, শিয়াল ও পাখির গলিত মৃতদেহের সমন্বয়ে। 

২। বনভূমির বায়োম (Biome of Forest): 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যেসব বনভূমি রয়েছে তাদের বায়োম প্রায় একই প্রকার। 
- তবে খাদ্য শৃঙ্খলে বিভিন্ন স্তরের উৎসগুলো এক প্রকার নয়। এখানে উৎপাদক হচ্ছে তৃণ, গুল্ম, ঘাস, গাছপালা ইত্যাদি। 
- আর প্রথম স্তরের খাদক বানর, হরিণ, বাদুড়, হাতি নানা ধরনে পোকামাকড় ইত্যাদি। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদ্য হচ্ছে- পাখি, ফড়িং, ব্যাঙ, বাঘ। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হচ্ছে- বেজি, সাপ, চিল প্রভৃতি। 
- বনভূমির গাছের পাতা, বিভিন্ন মৃত প্রাণীদের দেহ মাটিতে পঁচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের প্রভাবে বিয়োজক সৃষ্টি হয়, পরিশেষে পুষ্টিচক্র সক্রিয় থাকে। 
- বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বনভূমির বায়োমকে কতিপয় বায়োম -এ ভাগ করা যায়। 
যেমন- (১) সুন্দর বনের বায়োম, (২) মধুপুর অরণ্যের বায়োম (৩) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বায়োম এবং (৪) সিলেট অঞ্চলের বনভূমির বায়োম। 

(খ) বাংলাদেশের জলজ বায়োম (Aquatic Biome of Bangladesh): 
- বাংলাদেশের জলজ বায়োম আবার দুই প্রকার। 
যথা- স্বাদু পানির বায়োম এবং লবণাক্ত পানির বায়োম। 
- বাংলাদেশের হাওড়, বাঁওড়, বিল প্রভৃতি এলাকার বায়োমকে স্বাদু পানির বায়োম বলা হয়। 
যেমিন- নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জের হাওড়, দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলের বাঁওড়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের বিল প্রভৃতি বাংলাদেশের স্বাদু পানির বায়োমের উদাহরণ। 
- বাংলাদেশের উপকূলীয় সাগর ও মহাসাগরের লবণাক্ত পানির বায়োমকে লবণাক্ত পানির বায়োম বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
২,১৭৭.
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে-
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
  3. গ) পাঞ্চকার্ড
  4. ঘ) বায়ুশূন্য টিউব
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট
ব্যাখ্যা
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি)। এটি ১৯৫৮ সালে আবিষ্কার করেন জ্যাক কেলবি। আইসি হলো এক ধরনের মাইক্রো সার্কিট। ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহক চিপে সাধারণত থাকে- রোধক, ধারক, ডায়োড, ট্রানজিস্টর ইত্যাদি।
২,১৭৮.
‘অলটিমিটার’ যন্ত্রের সাহায্যে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) উচ্চতা
  2. খ) বিদ্যুৎ প্রবাহ
  3. গ) শব্দের তীব্রতা
  4. ঘ) গ্যাসের চাপ
সঠিক উত্তর:
ক) উচ্চতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উচ্চতা
ব্যাখ্যা

উচ্চতা নির্ণয়ের যন্ত্র - অলটিমিটার
শব্দের তীব্রতা নির্ণায়ক যন্ত্র - অডিওমিটার
বিদ্যুৎ প্রবাহ মাপক যন্ত্র - অ্যামিটার
গ্যাসের চাপ নির্ণয়ক যন্ত্র - ম্যানােমিটার।

২,১৭৯.
নিচের কোনটি দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. বোসন
  2. লেপ্টন
  3. প্রোটন
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা
ফার্মিওন (Fermion): 
- মহাবিশ্বের সকল পদার্থ এই কণিকা দ্বারা গঠিত। 
- এদের স্পিন 1/2 । 
- এরা পাউলির (Pauli) বর্জন নীতি মেনে চলে অর্থাৎ কখনই একটি পরমাণুতে দুটি ভিন্ন কণার সকল বৈশিষ্ট্য এক হতে পারে না। 
- অদ্ভুত পক্ষে স্পিনের দিক থেকে হলেও বিপরীত হবে। 
- এদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকণা আছে। 
- ফার্মিওন কণা আবার দু'রকমের (১) কোয়ার্ক ও (২) লেপ্টন। 

কোয়ার্ক (Quark): 
- কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। 
- সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত, আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হলো কোয়ার্ক দিয়ে। 
- দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত। 
- কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। 
যথা- আপ (u) ও ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)। 
- এদের প্রত্যেকের আবার তিনটি করে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ (Colour) রয়েছে। এই বর্ণ বাস্তবের রং নির্দেশ করে না বরং কণাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন কোয়ান্টাম অবস্থা নির্দেশ করে। 
- কোয়ার্কগুলোর চার্জের পরিমাণ ভগ্নাংশ; যেমন: 2/3, -1/3 । তবে তারা সব সময় এমনভাবে থাকে যেন নীট চার্জ পূর্ণসংখ্যা হয়। 
- কোয়ার্ক সব সময় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে। 
- কোয়ার্কের এক একটি দলকে বলে হ্যাড্রন (Hadron)। 
- তিনটি কোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন গঠিত হয় তাদেরকে বলা হয় বেরিয়ন (Baryon)। 
যেমন- প্রোটন, নিউট্রন বেরিয়ন কণা। 
- একটি কোয়ার্ক ও তার এন্টিকোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন হয় তাদের বলা হয় মেসন (Meson)। 
যেমন- π মেসন, k মেসন ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮০.
পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্গত তার নাম কী?
  1. ছায়াগঙ্গা
  2. ম্যাজিলানিক ক্লাউডস
  3. মিল্কিওয়ে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে
ব্যাখ্যা

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ও সৌরজগত:
- গ্যালাক্সির অংশ বিশেষ ছায়াপথ নামে পরিচিত।
- সুদুর আকাশে বায়বীয় পদার্থ ও গ্যাসপূর্ণ স্বপ্নালোকিত মেঘের মত আস্তরণকে গ্যালাক্সি বলা হয় ।
- আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে (Milkyway) গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশবিশেষ, যা বাংলায় ছায়াপথ নামে অভিহিত।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৮১.
কোন পদার্থ পরম শূন্য তাপমাত্রায় অন্তরকের ন্যায় কাজ করে?
  1. পরিবাহী পদার্থ
  2. অপরিবাহী পদার্থ
  3. অর্ধপরিবাহী পদার্থ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপরিবাহী পদার্থ
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী: 
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে। 
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ। 
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। 
- এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের। 
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়। 

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য: 
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে। 
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে। 
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। 
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম। 
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮২.
বাংলাদেশের কোন জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ।
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
- এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
২,১৮৩.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
  1. ৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড
  2. ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
  3. ৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ড
  4. ৮ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে, খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। 

- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৮৪.
সবুজ গ্রহ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ইউরেনাস
  2. বৃহস্পতি
  3. বুধ
  4. নেপচুন
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনাস
ব্যাখ্যা
• ইউরেনাস:
- ইউরেনাস একটি অত্যন্ত ঠান্ডা এবং শীতল গ্রহ।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।

- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ এবং এটির সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- নেপচুন হলো সৌরজগতের সবচেয়ে দূরতম গ্রহ।
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। একে গ্রহরাজ বলা হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২,১৮৫.
শুক্র গ্রহের গড় তাপমাত্রা -
  1. ১৬৭° সেলসিয়াস
  2. ৪৬৪° সেলসিয়াস
  3. ১৫° সেলসিয়াস
  4. -৬৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৪৬৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের তাপমাত্রা:
- প্রতিটি গ্রহের গড় তাপমাত্রা একটি গ্রহ সূর্য থেকে যত দূরে থাকে গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ততই শীতল হতে থাকে।
- শুক্র ব্যতিক্রম, কারণ সূর্যের সান্নিধ্য এবং এর ঘন বায়ুমণ্ডল এটিকে আমাদের সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ করে তোলে।
- আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির গড় তাপমাত্রা হল:
• বুধ: ১৬৭° সেলসিয়াস।
• শুক্র: ৪৬৪° সেলসিয়াস।
• পৃথিবী: ১৫° সেলসিয়াস।
• মঙ্গল: -৬৫° সেলসিয়াস।
• বৃহস্পতি: -১১০° সেলসিয়াস।
• শনি: -১৪০° সেলসিয়াস।
• ইউরেনাস: -১৯৫° সেলসিয়াস।
• নেপচুন: -২০০° সেলসিয়াস।
• বামন গ্রহ প্লুটো: -২২৫° সেলসিয়াস।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [link]
২,১৮৬.
আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম কী?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা
  2. মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
  3. আলফা সেন্টোরি
  4. সৌরজগৎ
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ
ব্যাখ্যা

• আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
সঠিক উত্তর: খ) মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথ।
 
মহাবিশ্ব (Universe): 
- এ সৃষ্টি জগতে যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
যেমন- ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। 
- মহাবিশ্ব যে কত বড় তা কেউ জানে না এবং কেউ জানে না মহাবিশ্বের আকার বা আকৃতি কেমন। 
- অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের শুরু ও শেষ নেই, তবে কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করেন মহাবিশ্বের আকার ও আকৃতি আছে। 
- বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। 
- যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে, তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। 
- গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। 
- বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে, এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। 
- গ্যালাক্সিগুলো মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়, গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোকে যত কাছাকাছি মনে হয়, আসলে তা নয়; এরা পরস্পর থেকে অনেক দূরে। 
- আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। 
- অন্যদিকে সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র আলফা সেন্টোরিতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলোর পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। এ থেকে বুঝায় যায়, নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত বেশি আর মহাবিশ্ব কত বিশাল। 

মহাবিশ্বের উৎপত্তি যেভাবে হয়েছে: 
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব', বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। 
- এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব একসময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের (Infinitely dense) অবস্থায় ছিলো। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়। 
- অতি সম্প্রতি জানা গেছে যে, বিগব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হয়েছিল প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর (১৩৭৫ কোটি বছর) পূর্বে এবং এটাই মহাবিশ্বের বয়স। 
- বিগব্যাং তত্ত্ব একটি বহু পরীক্ষিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব যা বেশিরভাগ বিজ্ঞানী গ্রহণ করেছেন, কারণ জ্যোতির্বিদদের পর্যবেক্ষিত প্রায় সকল ঘটনাই এই তত্ত্ব সঠিক ও ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। 
- বর্তমান কালের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংসহ সকল জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এই তত্ত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,১৮৭.
বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ কত?
  1. ০.০৩%
  2. ০.০১%
  3. ০.০০১%
  4. ০.০০০১%
সঠিক উত্তর:
০.০০০১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০০০১%
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ:
- নাইট্রোজেনের (N2) পরিমাণ ৭৮.০২%,
- অক্সিজেনের (O2) পরিমাণ ২০.৭১%,
- আর্গনের (Ar) এর পরিমাণ ০.৮০%,
- কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO2) পরিমাণ ০.০৩%,

- ওজোনের পরিমাণ (O3) ০.০০০১%,
- জলীয় বাষ্পের পরিমাণ (H2O) ০.৪১%,
- ধূলিকণা ও কনিক্সের পরিমাণ ০.০১%,
- অন্যান্য গ্যাসের পরিমাণ ০.০১৯৯%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম - দশম শ্রেণি।
২,১৮৮.
Seismograph কি?
  1. ক) পানির প্রবাহ মাপার যন্ত্র
  2. খ) বায়ু মাপার যন্ত্র
  3. গ) ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র
  4. ঘ) বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র
ব্যাখ্যা

Seismograph (noun) ভূমিকম্পের শক্তি, স্থায়িত্ব ও দূরত্ব মাপার যন্ত্রবিশেষ; ভূকম্পলিখ।
Seismology (noun) [uncountable noun] ভূকম্পবিদ্যা।
Seismologist (noun) ভূকম্পবিদ।

২,১৮৯.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত সংঘটিত হয় কবে?
  1. ২২ ডিসেম্বর
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ সেপ্টেম্বর
সঠিক উত্তর:
২১ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ জুন
ব্যাখ্যা
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
২,১৯০.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পদ্ধতি কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জে.সি. বসু
  2. মার্কনী
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. হেনরিখ হার্জ
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কনী
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯১.
পৃথিবী পৃষ্ঠের শতকরা কতভাগ জলরাশি দখল করে আছে?
  1. ৭৪ ভাগ
  2. ২৯ ভাগ
  3. ৩২ ভাগ
  4. ৭১ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৭১ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭১ ভাগ
ব্যাখ্যা
পানির উৎস ও বন্টন:

- পৃথিবী পৃষ্ঠের মোট আয়তন প্রায় ৫১০ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার বা ১৯৭ মিলিয়ন বর্গমাইল।
- এর মধ্যে ৩৬২.১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ ৭১% জলভাগ এবং ১৪৭.৯ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার অর্থাৎ ২৯% স্থলভাগ।
- আবার পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগই মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে। অবশিষ্ট ৩ ভাগ অন্যান্য জলাধার ধারণ করছে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পানি একই অবস্থায় না থেকে তিনটি বিশেষ অবস্থায় রয়েছে।
- পানির তিনটি অবস্থা হলো-
• কঠিন (বরফ)।
• গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প)।
• তরল।
- পানি বায়ুমন্ডলে রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে এবং ভূ-পৃষ্ঠে রয়েছে কঠিন ও তরল অবস্থায়। 

তথ্যসূত্র - ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯২.
সমুদ্র তলদেশের গভীরতা নির্ণয়ের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. টেলিস্কোপ 
  2. সিসমোমিটার
  3. ফ্যাদোমিটার 
  4. ব্যারোমিটার 
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদোমিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাদোমিটার 
ব্যাখ্যা

সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ: 
- সাগর, মহাসাগরের পানিরাশির উপরিভাগ সমতল দেখা গেলেও সমুদ্র তলদেশের ভূমিরূপ সমতল নয়। 
- স্থলভাগ যেমন বন্ধুর প্রকৃতির অর্থাৎ কোথাও সমভূমি, কোথাও মালভূমি, কোথাও সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, আবার কোথাও গভীর খাত, সমুদ্র তলদেশের ভূমির প্রকৃতিও তেমন বন্ধুর। বরং স্থলভাগের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমুদ্রের তলদেশ অধিক বন্ধুর প্রকৃতির। 
- সমুদ্র তলদেশে অসংখ্য পাহাড়, পর্বত, আগ্নেয়গিরি, মালভূমি, পর্বতচূড়া এবং সুগভীর খাত বর্তমান। 
- অতীতে জাহাজ হতে শিকল বা শক্ত তারের মাথায় ভারী জিনিস বেঁধে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করে সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হতো। 
- বর্তমানে অন্যান্য পদ্ধতিসহ শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে পানির মধ্য দিয়ে প্রায় ১,৪৭৫ মিটার গিয়ে আবার ফিরে আসে, আর এভাবেই সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা সাধারণত ফ্যাদমে (এক ফ্যাদম সমান ছয় ফুট) পরিমাপ করা হয়। 
- সমুদ্রের গভীরতা মাপক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার। 

অন্যদিকে, 
- টেলিস্কোপ (Telescope) মূলত দূরের বস্তু পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। 
- সিসমোমিটার (Seismometer) ভূমিকম্প বা কম্পনের মাত্রা পরিমাপ করার যন্ত্র। 
- ব্যারোমিটার (Barometer) বায়ুর চাপ পরিমাপের যন্ত্র। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

২,১৯৩.
কৃষ্ণবিবর সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. এখানে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ প্রবল
  2. আবিষ্কার করেন জন হুইলার
  3. এর ভর তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি
  4. এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
সঠিক উত্তর:
এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সম্পূর্ণ কার্বন দিয়ে তৈরি
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণবিবর (Black hole):
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে।
- নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)।
- কৃষ্ণবিবিরের ঘনত্ব থাকে অত্যন্ত বেশি।এবং পৃষ্ঠে g এর মান অত্যন্ত বেশি থাকে।
-  g-এর মান এত বেশি হয় যে, এমনটি ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না।
- ১৯৬৯ সালে  মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৯৪.
নিম্নের কোনটি শনি গ্রহের উপগ্রহ?
  1. টাইটান
  2. টাইটানিয়া
  3. মিরান্ডা
  4. ওবেরন
সঠিক উত্তর:
টাইটান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইটান
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ১৪৬টি।

উল্লেখ্য,
- টাইটান শনি গ্রহের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ।
- ১৬৫৫ সালে ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইগেনস এটি আবিস্কার করেন।
- টাইটান একমাত্র উপগ্রহ, যেটা অনেকটা পৃথিবীর মতো।
- টাইটানের বায়ুমণ্ডল অনেক ঘন। বায়ুমণ্ডলের ৯৭% হলো নাইট্রোজেন।
- অর্থাৎ পৃথিবীর পর টাইটানের বায়ুমণ্ডলই কেবল এত বেশি নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে,
⇒ ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের প্রধান পাঁচটি উপগ্রহ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) NASA ওয়েবসাইট।
২,১৯৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) কবে গঠন করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) ২০১২ সালে গঠন করা হয়।
- ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদনের পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর আগে ১৯৭৩ সালে গঠিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে সৃষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (ডিএমবি) একীভূত হয়ে ডিডিএম গঠিত হয়।
- এই অধিদপ্তর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, 
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজ করে।
- ডিডিএম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,১৯৬.
সুনামি সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. অতিবৃষ্টি 
  2. বজ্রপাত 
  3. সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প 
  4. ঘূর্ণিঝড় 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প 
ব্যাখ্যা

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ।  
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৯৭.
সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ -
  1. ক) নিয়ত বায়ু প্রবাহ
  2. খ) সমুদ্রের পানিতে তাপ পরিচালনা
  3. গ) সমুদ্রের পানিতে ঘনত্বের তারতম্য
  4. ঘ) সমুদ্রের ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ত বায়ু প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ত বায়ু প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সমুদ্র স্রোত:
সমুদ্র স্রোতের প্রধান কারন - বায়ু প্রবাহ।
বায়ু প্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন  (Gyre/spiral pattern) তৈরি করে। সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরন করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে।

সমুদ্রস্রোতকে উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে, দুইভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. উষ্ণ স্রোত:
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় জলরাশি হালকা হয় ও হালকা জলরাশি সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহরূপে শীতল মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়; এরূপ স্রোতকে উষ্ণ স্রোত বলে।
২. শীতল স্রোত:
- মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচে অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমন্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এরূপ স্রোতকে শীতল স্রোত বলে।

সমুদ্রস্রোতের কারণ:
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (প্রধান কারন)
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি।
- সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য
- সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য
- ভূখন্ডের অবস্থান
- অসম বাষ্পীভবন
- সমুদ্রের গভীরতা

উৎস: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই।
২,১৯৮.
সমুদ্রের পানির ফুলে ওঠাকে কী বলা হয়?
  1. ভাটা
  2. জোয়ার
  3. সাগরপ্রবাহ
  4. জলোচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
জোয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোয়ার
ব্যাখ্যা

- চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে এবং পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে ওঠে, এই ঘটনাকে জোয়ার (Tide/High tide) বলে। 

জোয়ার-ভাটা: 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্র পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে বলা হয় ভাটা। 
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দুই বার জোয়ার ও দুই বার ভাটা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথপম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯৯.
কোনটি রুপান্তরিত শিলার উদাহরণ নয়?
  1. গ্রাফাইট
  2. কয়লা
  3. মার্বেল
  4. নিস
সঠিক উত্তর:
কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা
ব্যাখ্যা

- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা।
- এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
- পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।

• পাললিক শিলার উদাহরণ:
- চুনাপাথর,
- কয়লা,
- নুড়িপাথর,
- বেলেপাথর,
- পলিপাথর,
- কর্দমপাথর,
- চক,
- কোকিনা,
- লবণ,
- জিপসাম,
- ডায়াটম,
- ডোলোমাইট ইত্যাদি।

• কিছু রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
- গ্রাফাইট (কয়লার রূপান্তরিত রূপ),
- মার্বেল (চুনাপাথরের রূপান্তরিত রূপ),
- নিস (গ্রানাইটের রূপান্তরিত রূপ) ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২০০.
পৃথিবীর কোন অক্ষাংশতে আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. ০° অক্ষাংশ
  2. ২৩.৫° অক্ষাংশ
  3. ৬৬.৫° অক্ষাংশ
  4. ৯০° অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
০° অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

উল্লেখ্য:

- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে- কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।