উত্তর
ব্যাখ্যা
১ ক্যালরি = ৪.২ জুল।
সুতরা, ২ ক্যালরি = ৮.৪ জুল।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২১ / ২৪ · ২,০০১–২,১০০ / ২,৪০৪
১ ক্যালরি = ৪.২ জুল।
সুতরা, ২ ক্যালরি = ৮.৪ জুল।
• সূর্য থেকে পৃথিবী:
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)।
- পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোক বর্ষ।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি।
বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়।
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার।
যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু।
নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বিটা রশ্মি বা বিটা কণা আসলে ইলেকট্রন। বিটার কণা যেহেতু ইলেকট্রন তাই তার চার্জ নেগেটিভ (ঋণাত্মক আধান) এবং সে কারণে সেটি ইলেকট্রিক এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায়। এটি যখন কোনাে পদার্থের ভেতর দিয়ে যায় তখন সেই পদার্থের অণু-পরমাণুর সাথে সংঘর্ষের কারণে সেগুলােকে আয়নিতকরতে পারে।আলফা কণার হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের তুলনায় ইলেকট্রন খুবই ক্ষুদ্র তাই ইলেকট্রনের ভেদনক্ষমতা অনেক বেশি এবং সেটি পদার্থের অনেক ভেতর ঢুকে যেতে পারে। কয়েক মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়ামের পাত দিয়ে একটি সাধারণ বিটা কণাকে থামানাে সম্ভব।
উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান
- পারমাণবিক চুল্লিতে ফিশন প্রক্রিয়ার সময় অত্যন্ত উচ্চ গতিসম্পন্ন বা উচ্চ শক্তির নিউট্রন উৎপন্ন হয়। কিন্তু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর নিউক্লিয়াসকে আঘাত করে নতুন ফিশন শুরু করার জন্য ধীরগতি সম্পন্ন বা তাপীয় নিউট্রন অনেক বেশি কার্যকর। মডারেটরের প্রধান কাজ হলো ইলাস্টিক কলিশন বা স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষের মাধ্যমে নিউট্রনের গতি কমিয়ে সেগুলোকে ফিশন উপযোগী করা, যাতে চেইন রিঅ্যাকশন বজায় থাকে।
নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর:
- শৃঙ্খল বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইউরেনিয়ামকে তাপীয় নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে এই ভারী নিউক্লিয়াসটি প্রায় সমান ভাবে দুটি নিউক্লিয়াসে ভেঙ্গে যায় এবং এর সাথে প্রচুর শক্তি নির্গত করে।
- নিউক্লিয় বিভাজন থেকে উৎপন্ন তাপশক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করার জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে অতি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়ে সমগ্র প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সমহারে শক্তির সরবরাহ পাওয়া যায়। একে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বা নিউক্লিয় রিঅ্যাকটর বলা হয়।
- পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরকে এই নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
- নিউক্লিয় রিঅ্যাকটরের মডারেটর (Moderator) সম্বন্ধে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-
মডারেটর (Moderator):
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181 MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন।
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়।
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর।
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হলো- ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং গ্রাফাইট। মডারেটর হিসেবে সাধারণত ভারী পানি ব্যবহার করা হয়।
- নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন উচ্চ গতিশক্তিসম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে মন্দীভূত করে মডারেটর এবং মন্দীভূত নিউট্রনগুলি আবার নিউক্লীয় বিক্রিয়া ঘটায়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ইউরিয়া মূল্যবান পদার্থ। কার্বন - ডাই - অক্সাইড ও অ্যামোনিয়া গ্যাসের মিশ্রণকে উচ্চচাপে ও ১৩০ ডিগ্রী - ১৫০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম কার্বনেট উৎপন্ন হয়।
- পরবর্তীতে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট ভেঙ্গে ইউরিয়া প্রস্তুত করা হয়। অ্যামোনিয়াম সায়ানাইড থেকেও ইউরিয়া পাওয়া যায়।
- শিল্পক্ষেত্রে ইউরিয়া থেকে মেলামাইন পলিমার পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৩০২।
ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ কি.মি. উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ও চাপ উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে। ট্রপোস্ফিয়ারে ঝড়, ঝঞ্ঝা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে থাকে।
প্রায় সব ধরনের বিমান এ অঞ্চলেই চলাচল করে।
তাই ট্রপোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্ধ মণ্ডলও বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
• ইতিহাসে প্রথমবার আলোর গতি নির্ধারণ করেছিলেন জ্যোতির্বিদ ওলে রোমার (Ole Rømer), ১৬৭৬ সালে।
- গতি হলো প্রকৃতির একটি মৌলিক ধ্রুবক, যা শূন্যস্থানে প্রায় 3 × 108 m/s।
• রোমারের পর্যবেক্ষণ:
- রোমার ড্যানিশ জ্যোতির্বিদ ছিলেন।
- তিনি বৃহস্পতি (Jupiter) ও তার উপগ্রহ আইও (Io)-এর কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন, আইও-র গ্রহন (eclipse) সময় সবসময় একই থাকে না।
- পৃথিবী যখন সূর্যের অপর পাশে থাকে, তখন গ্রহনের সময় কিছুটা দেরিতে দেখা যায়।
- তিনি এই সময়ের পার্থক্য থেকে অনুমান করেন যে, আলোর পৃথিবী পর্যন্ত আসতে সময় লাগে, অর্থাৎ আলোর গতি সীমিত।
• আলোর গতি নির্ণয়:
- রোমার অনুমান করেন, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে বিপরীত পাশে গেলে (প্রায় ৩০ কোটি কিমি দূরত্ব বাড়ে), আলোর পৌঁছাতে প্রায় ২২ মিনিট বেশি সময় লাগে।
- এই তথ্য থেকে তিনি আলোর গতি আনুমানিক নির্ণয় করেন 2.14 × 108 m/s, যা আধুনিক মানের কাছাকাছি।
• পরবর্তীতে:
- ফিজো (Fizeau, 1849) এবং মাইকেলসন (Michelson, 1879) পরীক্ষাগারে আলোর গতি আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন।
- আইনস্টাইন (Einstein) পরে আলোর ধ্রুব গতিকে ভিত্তি করে আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) তৈরি করেন, তবে তিনি প্রথম মাপেননি।
তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই।
- ব্রিটানিকা [লিংক]
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone):
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেযোগ্য।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড়ের 'চোখ'-এ নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। ফলে বাহিরের অংশ হতে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু প্রবল বেগে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তন করতে করতে ঝড়ের কেন্দ্রভাগে নিম্নচাপযুক্ত অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়।
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপকূলভাগ ফানেল আকৃতির হওয়ার কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের উপকূলে, বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত পদার্থবিদ ও গণিতজ্ঞ স্টিফেন হকিং।
- তিনি মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ:
- A brief history of time,
- The Universe in a Nutshell,
- The grand design
- অপরদিকে, মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি. লেমেটার।
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।
• ধূমকেতু (Comet):
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে।
- এদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে।
- এসব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে।
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক।
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে। সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায়।
- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এদের লেজ লম্বা হতে থাকে।
- অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে এরা অনেক বছর পর পর আবির্ভূত হয়।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়।
- হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
- আলোর কণা তত্ত্বের প্রবক্তা স্যার আইজ্যাক নিউটন।
- তরঙ্গ তত্ত্বের প্রবক্তা হাইগেন।
- তাড়িত চৌম্বক তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রবক্তা ম্যাক্সপ্লাঙ্ক।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
জোয়ার-ভাটা:
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার-ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. মুখ্য জোয়ার:
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরুপে সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে।
২. গৌণ জোয়ার:
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।
৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল:
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।
৪. মরা কটাল:
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সূর্য তাপ বিকিরণ করে, তাই একে আমরা বিকিরক বলতে পারি। পৃথিবী সূর্যের তাপ শোষণ করে উত্তপ্ত হয়।
পৃথিবীকে আমরা শোষক বলতে পারি। কিন্তু পৃথিবী একইসাথে বিকিরক। রাতের বেলায় উত্তপ্ত পৃথিবী তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়। বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, মিথেন- এসব গ্যাস বিকিরিত তাপের শোষক হিসাবে কাজ করে আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করছে৷
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণী
- সুনামি যখন গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলের কাছাকাছি অগভীর পানিতে প্রবেশ করে, তখন এর গতিবেগ কমে যায়, কিন্তু মোট শক্তি প্রায় স্থির থাকে। শক্তির এই রূপান্তরের কারণে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে যায় এবং তরঙ্গের উচ্চতা বহুগুণ বেড়ে যায়, যা উপকূলে বিধ্বংসী রূপ নেয়।
সুনামি:
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ।
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়।
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ।
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
রেল ইঞ্জিনের আবিষ্কারক- স্টিফেনসন।
বাষ্পচালিত ইঞ্জিনের আবিষ্কারক- জেমস ওয়াট।
ফনোগ্রাফ ও বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কারক- টমাস আলভা এডিসন।
টেলিগ্রাফের আবিষ্কারক- স্যামুয়েল মোর্স।
উৎসঃ ব্রিটানিকা এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা।
◉ মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic Rays) মূলত মহাকাশ থেকে আসা উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন কণার ধারা। এদের মধ্যে প্রায় ৮৯% প্রোটন থাকে।
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- মহাজাগতিক রশ্মি হচ্ছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
গ্রীনহাউজ গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায় যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলা হয়। গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, ঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• হিগস বোসন (Higgs Boson):
- হিগস বোসন কণা আবিষ্কৃত হয় ৪ জুলাই ২০১২ সালে।
কণাটি ২০১২ সালের ৪ জুলাই আবিষ্কৃত হয়।
- সুইজারল্যান্ডের ইউরোপীয় কণা পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগার CERN-এ অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কণা ত্বরক 'লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার' (LHC)-এর গবেষকদের দ্বারা।
- এই হিগস বোসনই ঈশ্বর কণা (God's Particle) নামে পরিচিত।
• হিগস বোসন কণার বৈশিষ্ট্য:
- হিগস বোসন এর স্পিন ০, তবে এর ভর আছে।
- হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে।
- হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা।
- যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়।
- হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্তরিত হয়।
- হিগস ক্ষেত্র ভর সৃষ্টি করে না, তা কেবল ভর স্থানান্তরিত করে হিগস বোসনের মাধ্যমে।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Space.com website.
নক্ষত্র বা তারা (Stars):
- যেসব জ্যোতিষ্ক জ্বালানির মাধ্যমে নিজস্ব আলো তৈরি করে এবং নিজস্ব উত্তাপ আছে তাদের নক্ষত্র বা তারা (Stars) বলে।
- মহাবিশ্বের সৃষ্টিলগ্নে কোনো নক্ষত্র ছিল না, ছিল বিশাল ধূলিকণা ও গ্যাসের পিন্ড।
- এর মধ্যে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম থেকে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ায় তাপ ও আলো নির্গতকারী নক্ষত্রের জন্ম হয়।
- আলোর তীব্রতা অনুসারে মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে তিন বর্ণে ভাগ করা হয়েছে- লাল (এরা বৃহৎ), হলুদ (মাঝারি) ও নীল (ছোট)।
- নক্ষত্রের দূরত্ব মাপার একক- আলোক বর্ষ এবং জ্যামিতিক ভিত্তিতে মহাবিশ্বের দূরত্ব মাপার একক- পারসেক।
- আলো ৩ লক্ষ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগে এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে আলোক বর্ষ (Light year) বলে। ১ পারসেক = ৩.২৬ আলোক বর্ষ।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র; অন্যদিকে সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা বা আলফা সেন্টোরাই।
- আলফা সেন্টোরাই পৃথিবীর দ্বিতীয় নিকটতম নক্ষত্র পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব ৪.২ আলোক বর্ষ।
- আকাশের উজ্জলতম নক্ষত্রের নাম লুব্ধক বা সিরিয়াস (Sirius) যা একটি যুগলতারা।
- মেঘমুক্ত রাতের আকাশে তাকালে কিছু নক্ষত্র একত্রে জোটবদ্ধ হয়ে আছে বলে মনে হয় যাদেরকে নক্ষত্র মণ্ডলী (Constellation) বলে।
উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA Science - Universe Glossary.
লুব্ধক:
- আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লুব্ধক ।
- লুব্ধক পৃথিবীর আকাশের উজ্জ্বলতম তারা।
- লুব্ধক এত উজ্জ্বল দুটি কারণে- এর স্বকীয় উজ্জ্বলতা এবং এর অবস্থান পৃথিবীর খুবই নিকটে।
- এটি একটি জোড়া বা যুগ্মতারা।
- লুব্ধক বলতে মূলত 'সিরিয়াস' (Sirius) তারাটিকে বোঝায়।
তথ্যসূত্র - Britannic.com
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০ কিলোমিটার।
১ নটিক্যাল মাইল =১.৮৫৩ কিলোমিটার ।
সেই হিসাবে অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা দৈর্ঘ্য ৩৭০.৪ কিলোমিটার ।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি
বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘােরে।
বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমী জোরালােভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে।
কোপারনিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন। তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। তার মডেলের মূল কথা ছিল পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘােরে।
পরবর্তীতে বিজ্ঞানী কেপলার ও গ্যলিলিও, কোপারনিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি
• সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম নক্ষত্র হলো Proxima Centauri (প্রক্সিমা সেন্টারাই)।
• প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে স্কটিশ জ্যোতির্বিদ ও দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ইউনিয়ন অবজারভেটরির পরিচালক রবার্ট আইনেস এই নক্ষত্রটি পর্যবেক্ষণ করেন।
- তিনি নক্ষত্রটি "প্রক্সিমা সেন্টারাই" নামকরণের প্রস্তাব দেন (মূলত প্রক্সিমা সেন্টারাস)।
- পৃথিবী থেকে এটির দূরত্ব প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ।
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো রয়েছে তাদের নক্ষত্র বলা হয়। সূর্য এরূপ একটি নক্ষত্র।
- অর্থাৎ সূর্য ব্যতীত পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই।
• নক্ষত্র:
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে।
- সূর্য এরূপ একটি নক্ষত্র।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড।
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে।
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না ।
- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে।
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
অন্যান্য অপশন:
- Vega বা অভিজিৎ নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।
- Sirius বা লুব্ধক আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হলেও এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে যা প্রক্সিমা সেন্টারাইয়ের দ্বিগুণ।
- Mars বা মঙ্গল কোনো নক্ষত্র নয় বরং এটি সৌরজগতের একটি গ্রহ।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
- এসিড বৃষ্টি বা অম্ল বৃষ্টি হলো একধরণের বৃষ্টিপাত যেক্ষেত্রে পানি অম্লীয় প্রকৃতির হয়। এক্ষেত্রে পানির pH 7 এর চেয়ে কম হয়ে থাকে। এটি এমন এক ধরনের বৃষ্টি যাতে এসিড উপস্থিত থাকে।
- এসিড বৃষ্টিতে সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে।
- অপরদিকে, হাইড্রোক্লোরিক এসিড অল্প পরিমাণে থাকে।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির বিজ্ঞান
সুপারনোভা:
- সুপারনোভা হলো শক্তিশালী ও আলোকিত নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ, যা সাধারণত বিশাল নক্ষত্রের জীবনের শেষে ঘটতে দেখা যায়। বিশাল এ বিস্ফোরণের মাধ্যমে মূলত নক্ষত্র ধ্বংস হওয়ার পর তারা বা কৃষ্ণবিবরে পরিণত হয়।
- মহাবিশ্বের শুরুর দিকে বিশাল এক নক্ষত্র বিস্ফোরিত হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণের আলো শত শত কোটি বছর মহাকাশে পাড়ি দিয়ে অবশেষে নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে সুপারনোভা জিআরপি ২৫০৩১৪এ।
- নাসার তথ্যমতে, এই সুপারনোভার সময় মহাবিশ্বের বয়স ছিল ৭৩০ মিলিয়ন বা ৭৩ কোটি বছর, জিআরপি ২৫০৩১৪এ এখন পর্যন্ত সরাসরি শনাক্ত করা সবচেয়ে পুরোনো সুপারনোভা।
- এর মাধ্যমে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ তার নিজের আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে ওয়েব টেলিস্কোপ ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ১৮০ কোটি বছর পুরোনো একটি সুপারনোভা শনাক্ত করেছিল।
- নেদারল্যান্ডসের র্যাডবাউড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু লেভান বলেন, ‘একমাত্র ওয়েব টেলিস্কোপের পক্ষেই এটি সরাসরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই আলো আসলে একটি সুপারনোভা বা বিশালাকার নক্ষত্রের মৃত্যু থেকে এসেছে। এই পর্যবেক্ষণ এটিও প্রমাণ করে, মহাবিশ্বের বয়স যখন বর্তমানের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ ছিল, সেই সময়েরও একক কোনো নক্ষত্রকে আমরা এখন খুঁজে পেতে পারি।’
- ২০২৪ সালে ফ্রান্স ও চীনের উৎক্ষেপণ করা এসভিওএম টেলিস্কোপ মহাকাশে একটি শক্তিশালী গামা–রে বার্স্ট বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঝলক দেখতে পায়। সাধারণত বিশালাকার নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় এমন দীর্ঘস্থায়ী ঝলক দেখা যায়।
- নাসার সুইফট অবজারভেটরি দ্রুত এর অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের নর্ডিক অপটিক্যাল টেলিস্কোপে শনাক্ত করা হয় ইনফ্রারেড আভা। পরে চিলিতে অবস্থিত ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ নিশ্চিত করে যে নক্ষত্র বিস্ফোরণের এ ঘটনা বিগ ব্যাংয়ের মাত্র ৭৩ কোটি বছর পর হয়েছে।
উৎস: আর্থ ডটকম এবং প্রথম আলো পত্রিকা (২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) [লিঙ্ক]।
সুনামি:
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ।
- যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ।
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ।
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়।
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে।
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প।
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে।
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
বার্ষিক গতির কারণে দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি হয়ে থাকে।
আহ্নিক গতি:
পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে, যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে সংঘটিত উদাহরণসমূহ:
- দিন-রাত্রি সংঘটন,
- জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টি,
- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
- তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
- জীবজগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি।
বার্ষিক গতি:
সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে সংঘটিত উদাহরণসমূহ:
- ঋতু পরিবর্তন,
- দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
উল্কা (Meteor):
- রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় মনে হয় যেন নক্ষত্র ছুটে যাচ্ছে বা কোনো নক্ষত্র যেন এই মাত্র খসে পড়ল। এই ঘটনাকে নক্ষত্রপতন বা তারা খসা বলে।
- এরা কিন্তু আসলে কোনো নক্ষত্র নয়, এদের নাম উল্কা ।
- মহাশূন্যে অজস্র জড়পিন্ড ভেসে বেড়ায়। এই জড়পিন্ডগুলো অভিকর্ষ বলের আকর্ষণে প্রচন্ড গতিতে (সেকেন্ডে প্রায় ৩ কিলোমিটার) পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে।
- বায়ুর সংস্পর্শে এসে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে এরা জ্বলে ওঠে। ফলে এদের ছুটন্ত তারা বলে মনে হয়।
- বেশিরভাগ উল্কাপিন্ডই আকারে বেশ ক্ষুদ্র।
উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
→ ৩০° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের প্রার্থক্য হবে, ৩০×৪ = ১২০ মিনিট বা ২ ঘণ্টা।
→ যেহেতু পূর্বে গেলে সময় বাড়ে সেহেতু ঢাকার সময় মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে বিকেল ২টা।
আন্তর্জাতিক টাইম জোন:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
- কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো তড়িৎ বলে।
- ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
- এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
• মঙ্গল (Mars):
- মঙ্গল গ্রহ সৌরজগতের সবচেয়ে অন্বেষণযোগ্য বস্তুগুলির মধ্যে একটি।
- প্রাচীন রোমানরা তাদের যুদ্ধের দেবতার নামানুসারে মঙ্গল গ্রহের নামকরণ করেছিল
- এটিকে প্রায়শই "লাল গ্রহ" বলা হয় কারণ মঙ্গল গ্রহের মাটিতে থাকা লোহার খনিজগুলি জারিত হয় বা মরিচা পড়ে, যার ফলে পৃষ্ঠটি লাল দেখায়।
- মঙ্গল গ্রহ সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করার সময়, প্রতি ২৪.৬ ঘন্টা অন্তর একটি আবর্তন সম্পন্ন করে
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং আকার পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
উৎস: NASA.
প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র
- প্রক্সিমা সেন্টারাই সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে আলফা সেন্টারাই সিস্টেমে অবস্থিত।
- এটি একটি লাল বামন, যা নক্ষত্রের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
- এটি সূর্যের চেয়ে সাত গুণ ছোট।
- এর তাপমাত্রা প্রায় ৩,১০০ কেলভিন, যা সূর্যের তাপমাত্রার অর্ধেকের একটু বেশি।
- আকারে এটি বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে মাত্র ৫০% বড়।
- লাল বামন নক্ষত্র তাদের হাইড্রোজেন জ্বালানি খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, ফলে এদের আয়ুষ্কাল অত্যন্ত দীর্ঘ।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রক্সিমা সেন্টারাই চার ট্রিলিয়নেরও বেশি বছর একই অবস্থায় থাকবে (তুলনামূলকভাবে, মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর)।
- আলফা সেন্টারাই সিস্টেমটি সেন্টরাস নক্ষত্রপুঞ্জে দেখা যায়।
- তবে প্রক্সিমা সেন্টারাই সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৯১৫ সালে এটি স্কটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ইনেস আবিষ্কার করেন।
তথ্যসূত্র - Britannica.com