উত্তর
ব্যাখ্যা
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = পিপীলক + আ।
অর্থ:
- পিঁপড়া,
- পিঁপড়ে।
অন্যদিকে:
- সমীচীন,
- তিতিক্ষা,
- মুমূর্ষু।
শব্দ গুলোর বানান সঠিক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬৮ / ৬৯ · ৬,৭০১–৬,৮০০ / ৬,৯৫৩
অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ -
- বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
- এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
- জীবনে সার্থকতা লাভ করতে হলে পাঠে মনযোগী হতে হয়।
- দীনতা ভাল নয়।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ
• 'যে ভালো কাজ করে, সে সম্মান পায়।' - জটিল বাক্য।
• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রচলিত অশুদ্ধ বানান- ইতিমধ্যে।
সঠিক উত্তর- ঘ) ইতিমধ্যে-
➝ এটি একটি অশুদ্ধ শব্দ যা প্রচলিত ভাবে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, "ইতিমধ্যে" শব্দটির শুদ্ধ রূপ হলো "ইতোমধ্যে"।
'ইতোমধ্যে' অর্থ:
- ইত্যবসরে, এর মধ্যে।
অন্যদিকে,
'আস্পর্ধা'; 'আহতি', 'ইতিহাসকার' শব্দটি শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন,
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যাবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
অন্যদিকে,
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।
ড্যাশ:
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাস ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে - বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
শুদ্ধ বাক্যঃ
মাতৃহীন শিশুর কি দুঃখ!
আমি সন্তুষ্ট হইলাম।
দীনতা সবসময় ভালো নয়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
শুদ্ধ বাক্যঃ
- বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল৷
- উপর্যুক্ত বাক্যটি সঠিক নয়৷
- সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে গেলাম।
- বাল্য হতেই তিনি কাব্যপ্রিয়৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে। একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন:
- মহারাজের জয় হোক।
- আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।
অন্যদিকে,
--------------------
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।
• বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
- বাংলা ব্যাকরণে উক্তি পরিবর্তন বাক্যতত্ত্ব এর আলোচ্য বিষয়।
• উক্তি ও বাক্যতত্ত্ব:
-বাংলা ব্যাকরণে উক্তি হলো বাক্য প্রকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; যা বাক্যতত্ত্ব এর আলোচ্য বিষয়।
- বাক্য প্রকরণে মূলত প্রত্যক্ষ উক্তি এবং পরোক্ষ উক্তি –এর নিয়ম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
-উক্তি এবং বাচ্য পরিবর্তন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- বাক্য প্রকরণ বাক্যের গঠন, পদবিন্যাস, এবং বাক্য পরিবর্তনের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করে, যার মধ্যে উক্তি একটি প্রধান অংশ।
- উক্তি মূলত বাচ্যের ধারণা থেকেই আসে;
- কারণ বাচ্য নির্ধারণ করে বাক্যে কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়ার প্রাধান্য কীভাবে প্রকাশ পাচ্ছে, যা উক্তি পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।
উল্লেখ্য,
• উক্তি হলো বক্তার কথা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রকাশ করার প্রক্রিয়া।
• অন্যদিকে, বাচ্য হলো বাক্যের এমন রূপ যা কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়ার প্রাধান্য অনুসারে বাক্যের কাঠামো পরিবর্তন করে।
- সহজভাবে বলতে গেলে, উক্তি বাক্যের বিষয়বস্তু প্রকাশ করে, আর বাচ্য বাক্যের প্রকাশভঙ্গি বা গঠন (কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য) নির্ধারণ করে।
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমনঃ
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্বণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
বাঙলা অক্ষরে মুদ্রিত বাঙালির লেখা যে বইটি প্রথম ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে বের হয়, সেটির নাম প্রতাপাদিত্যচরিত্র। ১৮০১ সালে প্রকাশিত হওয়া বইটি লিখেছিলেন রামরাম বসু।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ
• বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করো। - বাক্যটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধবাক্য: মেয়েটি স্বয়ম্বর।
- শুদ্ধবাক্য: মেয়েটি স্বয়ম্বরা।
- অশুদ্ধ বাক্য:আকণ্ঠ পর্যন্ত আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
- শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
- অশুদ্ধ বাক্য: একটি গোপন কথা বলি।
- শুদ্ধ বাক্য: একটি গোপনীয় কথা বলি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• 'শুধুমাত্র' - শব্দটি অপপ্রয়োগ। এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এখানে শুধু ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- তাই এখানে একই সাথে 'শুধুমাত্র' শব্দটি অশুদ্ধ।
অন্যদিকে,
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।
• 'অর্ধরাত্রি' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র।
• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান 'কনীনিকা'।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- চোখের তারা,
- কড়ে আঙুল,
- ছোটো বোন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান – কীর্তন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- গুণবর্ণনা, যশ বা মহিমা প্রচার, রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক সংগীত।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ,
- সমীচীন,
- মুমূর্ষু,
- কৃষিজীবী।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'সুবুদ্ধিমান' - শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এটি সমাস সাধিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি।
অন্যদিকে,
- নীরোগ,
- পিতৃহারা,
- নির্দোষ।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য- দুর্জনকে দূরে রেখো।
• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।
অন্যদিকে,
• আর তো পথ নেই।
• এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
• মরতে তো একদিন হবেই।
প্রদত্ত বাক্যগুলো নির্দেশাত্মক বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
প্রদত্ত বাক্যগুলোর মধ্যে খ) তে কোন ভুল নেই।
অন্যান্য অপশনগুলোতে ভুল থাকা বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপঃ
- রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
- জ্যোৎস্না রাত বড়ই মধুর।
- সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করিবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• ণ-ত্ব বিধান বানান অনুসারে, 'অর্পন' শব্দটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান- অর্পণ।
• ণ-ত্ব বিধান:
• ট–বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সবসময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়।
যেমন,
- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, কণ্টক, পাণ্ডব, কণ্ঠ।
• ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ং এবং 'ক' বর্গীয় ও 'প' বর্গীয় থাকলে তার পরবর্তীতে ‘ন’ তখন ‘ণ’ হয়ে যায়।
যেমন,
- কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• মূর্ধন্য-ষ এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- ধূলিষাৎ শব্দে।
- শুদ্ধ বানান- ধূলিসাৎ।
--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।
যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
'একত্রিত' শব্দটি প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপের প্রয়োগ হবে - একত্র।
এরূপ আরও কয়েকটি অপপ্রয়োগের শুদ্ধরূপ-
অধীনস্থ (হবে না) – অধীন (হবে),
আবশ্যকীয় - আবশ্যক
উৎকর্ষতা - উৎকৃষ্টতা/উৎকর্ষ
গ্রাহ্যনীয় - গ্রাহ্য,
সৃজন - সৃষ্টি,
পৈত্রিক - পৈতৃক ইত্যাদি।
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
- ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে।
- গাছ হতে ফলটি পড়ল।
- 'আমি কি ডরাই সখি ভিখারি রাঘবে?' অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।
যেহেতু প্রশ্নোক্ত বাক্যে রাঘবকে দেখে ভীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই তা অপাদান কারক।
- আর 'রাঘবে' শব্দের সাথে 'এ' বিভক্তি যুক্ত আছে, তাই এটি অপাদানে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
অশুদ্ধ বাক্য: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান - অভিভূত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃতভাষার শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।
অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান - 'হীনম্মন্যতা'
• শুদ্ধ বানান 'ভদ্রোচিত'
• শুদ্ধ বানান - 'ভ্রাতুষ্পুত্র'
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - ন্যূনাধিক।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- কমবেশি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
গুরুচণ্ডালী দোষজনিত অপপ্রয়োগ হলো - মড়াদাহ৷
এর শুদ্ধরূপ: মড়াপোড়া৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে। যার ফলে শব্দ তার যোগ্যতা হারিয়ে থাকে। যেমন- 'সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত।'
- এখানে 'আলেমগণ' বহু বচনবাচক শব্দ।
- এর সাথে সকল শব্দটি অতিরিক্ত ব্যবহারে বাহুল্য দোষ সৃষ্টি করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
দুর্বোধ্যতা:
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়।
যেমন -- তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো।
এখানে, প্রপঞ্চ শব্দটি 'মায়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু শব্দটি প্রচলিত নয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
‘চেষ্টায় সব হয়।’- বাক্যে ‘চেষ্টায়’ করণ কারক।
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
- চেষ্টায় সব হয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত 'ম' স্থানে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
- অহম্ + কার = অহংকার
এভাবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।
• সন্ধিবদ্ধ না হলে 'ঙ' স্থানে ং হবে না।
যেমন:
অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, কঙ্কাল, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।
- ঝরণা ছবি আঁকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
অন্যদিকে,
জটিল বাক্য - যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
উল্লেখ্য,
- বিপদ আসলে তখন দুঃখও আসে। - এটি ভুল বাক্য।
- এর সঠিক যৌগিকরূপ = বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।