বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা৭৬প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬৯ / ৬৯ · ৬,৮০১৬,৮৭৬ / ৬,৯৫৩

৬,৮০১.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. কৌতূহল
  2. অবমর্ষন
  3. ধূলিসাৎ
  4. কৃতদাস
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অবমর্ষন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবমর্ষন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অবমর্ষন বানানটি ভুল।
• সঠিক বানান - অবমর্শন



অন্যদিকে,
কৌতূহল, ধূলিসাৎ, কৃতদাস বানানগুলো সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮০২.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. স্মরণিকা
  2. ঐক্যপত
  3. তোরণ
  4. স্নেহাস্পদ
সঠিক উত্তর:
ঐক্যপত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐক্যপত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'ঐক্যপত'
- এর শুদ্ধ বানান - 'ঐকপত্য'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- সার্বভৌমত্ব,
- একাধিকপত্য,
- একনায়কত্ব ইত্যাদি,

অন্যদিকে
- 'তোরণ, স্নেহাস্পদ, এবং স্মরণিকা' শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮০৩.
'দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি।' - বাক্যে 'তোমা' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. কর্তা
  3. অধিকরণ
  4. সম্প্রদান
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।
- দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮০৪.
‘আমাকে একটি কলম দাও।’ - কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
→ সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮০৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. আশীষ
  2. গগণ
  3. শষ্য
  4. নিমীলিত
সঠিক উত্তর:
নিমীলিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমীলিত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নিমীলিত' - শুদ্ধ বানান।

• 'নিমীলিত' শব্দের অর্থ- মুদিত।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• আশীষ - আশিস (আশীর্বাদ);
• গগণ - গগন (আকাশ);
• শষ্য - শস্য (ফসল)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮০৬.
পাঠের বর্জনকৃত অংশ নির্দেশ ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) - চিহ্ন
  2. খ) () - চিহ্ন
  3. গ) ... - চিহ্ন
  4. ঘ) “ ” - চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
গ) ... - চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ... - চিহ্ন
ব্যাখ্যা

- লোপ চিহ্ন ব্যবহার করতে হয় শব্দ বা পদের মধ্যে কোন অক্ষর লোপ পেলে। যেমনঃ দু’বেলা ভাতই জোটে না।

() - বন্ধনি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় কোনো কিছু ব্যাখ্যা করে বুঝাতে। যেমনঃ বৃত্তি পরীক্ষা (জুনিয়র) আগামী মাসে। 

... - বর্জন চিহ্ন ব্যবহার করা হয় কোনো রচনার অংশবিশেষ বর্জন করা হলে সূচনাতে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন- …তব ঘৃণা তারে যেন/ তৃণসম দহে।

 “ ”- উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় বক্তার বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। যেমনঃ ভাগিনা বলিল,  “মহারাজ পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে”

৬,৮০৭.
'Diligence is the mother of good luck' এর অনুবাদ কোনটি?
  1. জীবন থাকলেই আশ থাকবে।
  2. পরিচ্ছন্নতাই পবিত্রতা।
  3. পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি।
  4. প্রয়োজনই আবিষ্কারের প্রসূতি।
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি।
ব্যাখ্যা
• 'Diligence is the mother of good luck' এর অনুবাদ - পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি।

অন্যদিকে,
• 'Cleanliness is next to Godliness' এর অনুবাদ - পরিচ্ছন্নতাই পবিত্রতা।
• 'Necessity is the mother of invention' এর অনুবাদ - প্রয়োজনই আবিষ্কারের প্রসূতি।
• 'While there is life, there is hope' এর অনুবাদ - জীবন থাকলেই আশ থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮০৮.
"সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।" কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. প্রবাদ বাক্য
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

“সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।” — এই বাক্যটি যৌগিক বাক্য।
কারণ এখানে দুটি স্বাধীন উপবাক্য আছে—

"সকলের তরে সকলে আমরা"
"প্রত্যেকে মোরা পরের তরে"
যা কমা দিয়ে যুক্ত হয়েছে।

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন যোজক যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৮০৯.
বানানজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি।
  2. ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
  3. গাছে কাঠাল গোঁফে তেল।
  4. রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন। 
সঠিক উত্তর:
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
ব্যাখ্যা
ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।- প্রদত্ত বাক্যে 'লজ্জাস্কর' বানানটি অশুদ্ধ। 

• শুদ্ধবাক্য: ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।

অপশনের অন্যান্য শুদ্ধ বাক্যগুলো হলো- 
• আমি এই ঘটনা চাক্ষুষ দেখিয়াছি।
• গাছে কাঠাল গোঁফে তেল।
• রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত কবি ছিলেন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮১০.
"আমার কথা বিশ্বাস কর, তোমার মঙ্গল হবে।" - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. তুমি আমার মঙ্গল বিশ্বাস কর।
  2. আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
  3. তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে এবং মঙ্গল লাভ করবে।
  4. তুমি যদি আমার কথা বিশ্বাস কর, তবে তোমার মঙ্গল হবে
সঠিক উত্তর:
আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: আমার কথা বিশ্বাস কর, তোমার মঙ্গল হবে।
সরল বাক্য: আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮১১.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
  2. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  3. একের বোঝা, দশের লাঠি।
  4. সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।
সঠিক উত্তর:
একের বোঝা, দশের লাঠি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একের বোঝা, দশের লাঠি।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: একের বোঝা, দশের লাঠি।
[প্রদত্ত বাক্যে প্রবাদের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।]
 
শুদ্ধ: দশের লাঠি, একের বোঝা।

অন্যদিকে, 
---------------
• শুদ্ধ: আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
• শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
• শুদ্ধ: সকল ছাত্র উপস্থিত আছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।  

৬,৮১২.
নিচের কোন বানান টি শুদ্ধ?
  1. ক) অনাল্লাদ
  2. খ) অনিমন্ত্রীত
  3. গ) অনিষ্ঠাচরণ
  4. ঘ) অনুচিকীর্ষা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুচিকীর্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুচিকীর্ষা
ব্যাখ্যা
অনুচিকীর্ষা বানান টি শুদ্ধ।

অন্যান্য বানান গুলোর শুদ্ধরূপ দেয়া হলো:
• অশুদ্ধ - অনাল্লাদ
• শুদ্ধ - অনাহ্লাদ
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়: ন+আ+√হ্লাদ্+অ
অর্থ: আহ্লাদের অভাব, নিরানন্দ, অসন্তোষ।

• অশুদ্ধ - অনিমন্ত্রীত
• শুদ্ধ - অনিমন্ত্রিত
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়: ন+নি+√মন্ত্র্+ত
অর্থ: আহ্বান করা হয়নি এমন, অনাহূত।

• অশুদ্ধ - অনিষ্ঠাচরণ
• শুদ্ধ - অনিষ্টাচরণ
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: অনিষ্ট+আচরণ
অর্থ: ক্ষতিসাধন, অমঙ্গলসাধন।

উৎস: বাংলা একাডেমি , আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮১৩.
দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে, কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাস
  5. কোনটিই 
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৮১৪.
‘গরুতে গাড়ি টানে।’- ‘গরুতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃ কারক
  2. করণ কারক
  3. সম্বন্ধ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

এরূপ-
- গরুতে গাড়ি টানে।- এই বাক্যে ‘গরুতে’ কর্তৃকারক।
[কারণ গাড়ি টানার কাজ গরু নিজেই করছে। সুতরাং এখানে ‘গরুতে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮১৫.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আজকের সন্ধ্যা বড় মনোমুগ্ধকর। 
  2. আজকের সন্ধ্যা বড় মনঃমুগ্ধকর। 
  3. আজকের সন্ধ্যা মনমুগ্ধকর। 
  4. আজকের সন্ধ্যা বড় মনমুগ্ধকর।
সঠিক উত্তর:
আজকের সন্ধ্যা বড় মনোমুগ্ধকর। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজকের সন্ধ্যা বড় মনোমুগ্ধকর। 
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য - আজকের সন্ধ্যা বড় মনোমুগ্ধকর।

এখানে,
- অন্য বাক্যগুলো বানানজনিত অশুদ্ধ।
- 'মনোমুগ্ধকর' শব্দটির বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮১৬.
বাচ্যের প্রকারভেদ নয় কোনটি ?
  1. ক) কর্তাবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ঘ) ভাববাচ্য
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
প্রকাশভঙ্গির ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: 
- কর্তাবাচ্য, 
- কর্মবাচ্য ও 
- ভাববাচ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৮১৭.
'উৎকর্ষতা' কি কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. উপসর্গজনিত
  4. বিভক্তিজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• উৎকর্ষ এটি বিশেষ্য পদ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ। অর্থাৎ ‘উৎকর্ষতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮১৮.
‘বনে বাঘ আছে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অধিকরণে ৭মী
  2. খ) অপাদানে ৭মী
  3. গ) অধিকরণে ৫মী
  4. ঘ) কারকে দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• ‘বনে বাঘ আছে’- বাক্যটি কোন কারকে কোন বিভক্তি নির্ণয় করি:
- বাক্যটিকে কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি হবে।
- কী আছে? দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বাঘ আছে। অতএব বাঘ কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
-
আবার কে আছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বাঘ আছে। সেক্ষেত্রে বাঘ কর্তৃকারকও হয়। 

[প্রদত্ত অপশনে কর্মকারক বা কর্তৃকারক না থাকায় ‘বন’কে কারক নির্ণয়ক শব্দ হিসেবে সঠিক উত্তর অপশন (ক) গ্রহণ করা হলো।]

----------------------
• অধিকরণ কারক:

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কোথায়/ কখন/ কী বিষয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক।
যেমন: 
- ‘বনে বাঘ আছে।’-এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায় আছে?' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় বনে। তাই ‘বন’ শব্দটি এ বিভক্তিযোগে অধিকরণ কারকে সপ্তম বিভক্তি।
- 'এ দেহে প্রাণ নেই।'- এখানে ক্রিয়াকে ‘কোথায়' দিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় দেহে, তাই এটি অধিকরণ কারক। 
- ‘পুকুরে মাছ আছে।’-  (কোথায় আছে? পুকুরে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
- ‘ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।’- (কোথায় বাঁধা আছে? ঘাটে) : অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮১৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রনিপাত
  2. নির্মান
  3. কৃপান
  4. ক্ষীণজীবী
সঠিক উত্তর:
ক্ষীণজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষীণজীবী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- ক্ষীণজীবী। 

• ক্ষীণজীবী (বিশেষণ),  
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।   
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ক্ষীণ+√জীব্‌ + ইন্‌। 
অর্থ:
- দীর্ঘজীবী নয় এমন, অল্পজীবী। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ- প্রণিপাত, নির্মাণ, কৃপাণ। 

উৎস:  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮২০.
'ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।'- বাক্যে 'লাঠি' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে শূন্য 
  2. আপাদান কারকে শূন্য 
  3. সম্বন্ধ কারকে শূন্য 
  4. করণ কারকে শূন্য 
সঠিক উত্তর:
করণ কারকে শূন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারকে শূন্য 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
করণ শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়, উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান সহায়, তা-ই করণ কারক। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি-
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)
[ বাক্যেকে কীসের দ্বারা মেরেছে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'লাঠি দ্বারা'। সুতরাং 'লাঠি' করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।]

(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

(গ) সপ্তমী বিভক্তি বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

তে বিভক্তি: 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।'- নজরুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৮২১.
নিচের বিরামচিহ্নগুলোর মাঝে কোনটিকে পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. দাঁড়ি
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• 'দাঁড়ি'- পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়। 

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- দাঁড়ি কে আবার পুর্ণচ্ছেদ বলা হয়। 
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস:
১/ প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২/ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)। 
৬,৮২২.
‘তিনি না কি ঢাকায় যাবেন।’ - বাক্যে ‘না’ শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্ভাবনা
  2. খ) অনুমান
  3. গ) ব্যঙ্গ
  4. ঘ) বিষ্ময়
সঠিক উত্তর:
ক) সম্ভাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্ভাবনা
ব্যাখ্যা

একই অব্যয় শব্দের বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে।
এই বাক্যে ‘না’ শব্দটি সম্ভাবনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৬,৮২৩.
শুদ্ধ বানান - 
  1. পুঙ্খানুপঙ্খ
  2. পুঙ্খানপুঙ্খ
  3. পুঙ্খানুপুঙ্খ
  4. পুঙ্খানুপুক্ষ
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - পুঙ্খানুপুঙ্খ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

অর্থ:
- তন্নতন্ন, সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮২৪.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. রুপায়ণ
  2. নির্মান
  3. বিকেন্দ্রীকরণ
  4. সমিচীন
সঠিক উত্তর:
বিকেন্দ্রীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - 'বিকেন্দ্রীকরণ': 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- বিশেষ্য পদ।
- উচ্চারণ: বিকেন্‌দ্রিকরোন্‌।
অর্থ:
- কোনো বিষয়কে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণে আনয়ন।

• অন্যান্য অপশনের অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ বানান,
রুপায়ণ - রূপায়ণ,
নির্মান - নির্মাণ,
সমিচীন - সমীচীন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮২৫.
"বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।" - বাক্যে নিম্নরেখ অংশটি কোন কর্তা?
  1. প্রযোজ্য
  2. মুখ্য
  3. প্রযোজক
  4. ব্যতিহার
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যতিহার
ব্যাখ্যা

ব্যতিহার কর্তা:
- কোনো বাক্যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।
যেমন:
- রাজায়-রাজায় লড়াই।
- বাঘে-মহিষে একঘাটে জল খায়।

অন্যদিকে,
প্রযোজ্য কর্তা:
যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।
যেমন:
- মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।
বাক্যে 'মা' প্রযোজক কর্তা, 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা, 'চাঁদ দেখাচ্ছেন' প্রযোজক ক্রিয়া।

প্রযোজক কর্তা:
- মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
যেমন - শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।

মুখ্য কর্তা:
যে বা যারা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে বোঝায়।
যেমন:
- শৈলি রান্না করছে।
কৃষকেরা ফসল কাটছে।
এখানে 'শৈলি' ও 'কৃষকেরা' হচ্ছে মুখ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৮২৬.
আশালতা বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"-এর পরোক্ষ উক্তি কী?
  1. আশালতা বলল যে, সে বের হবে।
  2. আশালতা বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।
  3. আশালতা বলল যে, সে তখন বের হবে।
  4. আশালতা বলল যে, সে বের হচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
আশালতা বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশালতা বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।
ব্যাখ্যা

• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন
• প্রত্যক্ষ উক্তি: আশালতা বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: আশালতা বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
• বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার:
- প্রত্যক্ষ উক্তি ও
- পরোক্ষ উক্তি।
যেমন
- ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
- ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৬,৮২৭.
নিচের কোন বাক্যে বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি অপমানিত হয়েছি।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
  4. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
ব্যাখ্যা
- তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে। - বাক্যে বাচ্যজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে।
শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

বাচ্যজনিত ভুল:
- কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
যেমন:

অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮২৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. কিরীট
  2. দুরুহ
  3. ইপ্সিত
  4. ব্যাঞ্জন
সঠিক উত্তর:
কিরীট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিরীট
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'কিরীট' - শুদ্ধ বানান।

• 'কিরীট' শব্দের অর্থ:
- মুকুট, শিরোভূষণ।

অন্য অপশনে,

অশুদ্ধ  - - শুদ্ধ:
• দুরুহ - দুরূহ;
• ইপ্সিত - ঈপ্সিত;
• ব্যাঞ্জন - ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮২৯.
'এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।' - বাক্যে 'সন্তান হতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে সপ্তমী
  2. অধিকরণে পঞ্চমী
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. করণে পঞ্চমী
সঠিক উত্তর:
করণে পঞ্চমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায় বা উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান সহায়, তা-ই করণ। অর্থাৎ কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।

যেমন:
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ছেলেরা বল খেলে।
তৃতীয়া বিভক্তি: আমরা কান দ্বারা শুনি।
পঞ্চমী বিভক্তি: এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: তার মাথায় লাঠির আঘাত কোরো না।
সপ্তমী বিভক্তি: আকাশ মেঘে ঢাকা।

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬,৮৩০.
'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'। - বাক্যে 'আমারে' কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. কর্মকারক, তৃতীয়া বিভক্তি
  2. কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
  3. কর্তৃকারক, প্রথমা বিভক্তি
  4. কর্তৃকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) কর্মকারক, দ্বিতীয় বিভক্তি
- কারণ, বাক্যের ক্রিয়াকে 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে 'আমারে' উত্তর পাওয়া যায় এবং 'রে' বিভক্তিটি দ্বিতীয় বিভক্তি। 

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মের প্রকার:
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম।
- উদাহরণ: বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি:
- তাকে বল।

রে বিভক্তি:
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।

(গ) ষষ্ঠী বা এর বিভক্তি:
- তোমার দেখা পেলাম না।

(ঘ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৬,৮৩১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নির্বান
  2. পরিণাম
  3. নিদারুন
  4. ভৌগলিক
সঠিক উত্তর:
পরিণাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিণাম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পরিণাম' - শুদ্ধ বানান।

• 'পরিণাম' শব্দের অর্থ: 
 - চরম অবস্থা, পরণতি।

অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
নির্বান - নির্বাণ,
নিদারুন - নিদারুণ, 
ভৌগলিক - ভৌগোলিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৩২.
নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ ?
  1.  অন্তস্থল
  2.  অন্তঃস্থল
  3.  অন্তস্তল
  4.  অন্তঃস্তল
সঠিক উত্তর:
 অন্তস্তল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 অন্তস্তল
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

 অন্তস্তল বানান শুদ্ধ।
- অন্তস্তল( বিশেষ্য)
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- অন্তর + তল।
- অর্থ: মনো-মধ্য: মন হদয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮৩৩.
নিম্নের যুগল শব্দের কোনটি সঠিক?
  1. আষাঢ়, ভুষণ
  2. দুর্নীতি, মুমূর্ষু
  3. পুরষ্কার, আবিষ্কার
  4. লবন, ভীষন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি, মুমূর্ষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি, মুমূর্ষু
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - দুর্নীতি, মুমূর্ষু

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বানান - আষাঢ়, পুরষ্কার, আবিষ্কার।
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ - ভীষণ, লবণ, পুরস্কার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮৩৪.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. আমার বড় দুরাবস্থা।
  2. একটি গোপন কথা বলি।
  3. বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন।
  4. আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন।
ব্যাখ্যা
• বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্র্যের শিকার হন। বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: আমার বড় দুরাবস্থা। 
- শুদ্ধ:আমার বড় দুরবস্থা। 

- অশুদ্ধ: একটি গোপন কথা বলি।
- শুদ্ধ: একটি গোপনীয় কথা বলি।

- অশুদ্ধ: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
- শুদ্ধ: আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৩৫.
"বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যয় মরণোত্ত্বর 'রবীন্দ্র-পুরষ্কার' লাভ করেন।" বাক্যটিতে কয়টি ভুল বানান রয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
• "বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যয় মরণোত্ত্বর 'রবীন্দ্র-পুরষ্কার' লাভ করেন।"- এ বাক্যটিতে ৪টি বানানে ভুল আছে। এখানে, ভুলগুলো হলো- 

১. বিভূতিভূষন। 
শুদ্ধ বানান: বিভূতিভূষণ।

২. বন্দ্যোপাধ্যয়। 
শুদ্ধ বানান: বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩. মরণোত্ত্বর। 
শুদ্ধ বানান: মরণোত্তর।

৪. পুরষ্কার। 
শুদ্ধ বানান: পুরস্কার। 

সুতরাং, বাক্যটিতে মোট ৪টি বানানে ভুল রয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬,৮৩৬.
'কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।' বাক্যে 'শোক' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ম কারক
ব্যাখ্যা

 কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
উল্লেখ্য, 
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
এখানে ক্রিয়াকে কী দ্বারা প্রশ্ন করলে 'শোক' উত্তর পাওয়া যায় তাই 'শোক' কর্ম কারক।

যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৬,৮৩৭.
'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮৩৮.
ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ কর- 'Culture is constantly evolving.'
  1. সংস্কৃতি সর্বদা বিকৃত হচ্ছে।
  2. সংস্কৃতি সর্বদা চলমান।
  3. সংস্কৃতি সর্বদা বিবর্তিত হচ্ছে।
  4. সংস্কৃতি সর্বদা ঘূর্ণায়মান।
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি সর্বদা বিবর্তিত হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতি সর্বদা বিবর্তিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• 'Culture is constantly evolving.' এর সঠিক বাংলা অনুবাদ হবে- সংস্কৃতি সর্বদা বিবর্তিত হচ্ছে।  

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদ:
- Laughter is the best medicine – হাসি সর্বোত্তম ওষুধ।
- Money doesn’t grow on trees – টাকা গাছে ধরে না।
- No pain, no gain – কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলে না।
- Old habits die hard – পুরনো অভ্যাস সহজে যায় না।
- Strike while the iron is hot - সুযোগ থাকতেই কাজ করুন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৩৯.
"কামাল কর্তৃক উপন্যাসটি পঠিত হচ্ছে।" – এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তাবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।

যেমন:
→ আমাকে আবৃত্তি করতে হয়েছে।
→ কামাল কর্তৃক উপন্যাসটি পঠিত হচ্ছে।
→ আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
→ আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৪০.
প্রমিত বানান-
  1. উষশী 
  2. ভ্রান্তিবশতঃ
  3. মনযোগ
  4. জ্যোতিঃশাস্ত্র
সঠিক উত্তর:
জ্যোতিঃশাস্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যোতিঃশাস্ত্র
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়মাবলী অনুসারে:

ক) উষশী → ভুল। প্রমিত: উষসী।
গ) জ্যোতিঃশাস্ত্র → সঠিক।
খ) ভ্রান্তিবশতঃ → ভুল। প্রমিত: ভ্রান্তিবশত।
গ) মনযোগ → ভুল। প্রমিত: মনোযোগ।

তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮৪১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয়?
  1. কেবলমাত্র
  2. মহিমান্বিত
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. অতলস্পর্শী
সঠিক উত্তর:
মহিমান্বিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহিমান্বিত
ব্যাখ্যা
• 'মহিমান্বিত' - শব্দটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- 'কেবলমাত্র'- শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ। 
- এখানে কেবল ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- একই সাথে কেবলমাত্র তাই অশুদ্ধ। 

• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান।

• 'অতলস্পর্শী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
এর শুদ্ধরূপ: অতলস্পর্শ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান
৬,৮৪২.
কোন শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রাতরাশ
  2. মুখছবি
  3. উপর্যুক্ত
  4. মহিমমণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
মুখছবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখছবি
ব্যাখ্যা
• 'মুখছবি' শব্দটিতে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে 'মুখচ্ছবি'।
- শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ - মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।

অন্যদিকে,
- উপর্যুক্ত,
- মহিমমণ্ডিত ,
- প্রাতরাশ।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৪৩.
নিচের কোনটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. নির্দোষী
  2. দিবারাত্রি
  3. পিতাহারা
  4. অহর্নিশ
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশ
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশ' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।

অন্যদিকে: 
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ,
- নির্দোষী = নির্দোষ।
- দিবারাত্রি = দিবারাত্র।
- পিতাহারা = পিতৃহারা।

• সমাস-ঘটিত কিছু অশুদ্ধি শব্দের শুদ্ধরূপ:
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
- নিরপরাধী = নিরপরাধ।
- অহর্নিশি = অহর্নিশ
- নিরহঙ্কারী = নিরহঙ্কার।
- অর্ধরাত্রি = অর্ধরাত্র।
- নিরভিমানী = নিরভিমান।
- নীরোগী = নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৪৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. নিরস্থ
  2. অভ্যস্থ
  3. সমাধিস্থ
  4. বিধ্বস্থ
সঠিক উত্তর:
সমাধিস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাধিস্থ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- সমাধিস্থ। 

• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:

স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।

উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।

• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।

উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৮৪৫.
“শহিদের মৃত্যু নেই” - এর অস্তিবাচক রূপ -
  1. ক) শহিদেরা মরেনা
  2. খ) শহিদ এর মৃত্যু নাই
  3. গ) শহিদেরা অমর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) শহিদেরা অমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শহিদেরা অমর
ব্যাখ্যা
‘শহিদের মৃত্যু নেই’- এর অস্তিবাচক রূপ - “শহিদেরা অমর”

নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না। 
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না।
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্রঃ ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দ দ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৪৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. পরজীবী
  2. পরাজীবী
  3. পরজিবী
  4. পরাজীবি 
সঠিক উত্তর:
পরজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরজীবী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- পরজীবী। 
- শব্দটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- অন্যকে আশ্রয় করে বাঁচে এমন।

ইংরেজি অনুবাদ- parasite.

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬,৮৪৭.
কোন বাচ্যে রূপান্তরের সময়ে কর্তার সঙ্গে বিভিন্ন অনুসর্গ যোগ করতে হয়?
  1. কর্তাবাচ্যে
  2. কর্মবাচ্যে
  3. ভাববাচ্যে
  4. কর্মকর্তৃ বাচ্যে
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মবাচ্যে
ব্যাখ্যা
♠ কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তন:   
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়। 
- যেমন: 
• কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন। 
• কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে। 

• কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে। 
• কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।  

• কর্তাবাচ্য: প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। 
• কর্মবাচ্য: প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।   

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
৬,৮৪৮.
"অধৈর্যতা" শব্দে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সন্ধি বিষয়ক
  2. প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
  3. সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত
  4. সমাস-ঘটিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
• ‘অধৈর্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: অধৈর্য, ধীরতা। 

নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ মব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৪৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. জাজ্জ্বল্যমান
  2. বয়োজ্যেষ্ঠ
  3. প্রোজ্বলিত
  4. নিরূপম
সঠিক উত্তর:
বয়োজ্যেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বয়োজ্যেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'বয়োজ্যেষ্ঠ'।
- এটি বিশেষণ পদ।
এর অর্থ
- বয়সে বড়।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ বানানগুলো হলো:
- জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান।
- প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান- প্রজ্বলিত।
- 'নিরূপম' শব্দের শুদ্ধ বানান - নিরুপম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮৫০.
প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে উদ্ধারচিহ্নের পরিবর্তে কোন পদ বসে?
  1. সর্বনাম
  2. উপসর্গ
  3. অনুসর্গ
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।

উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
• পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন-
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।

৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
• পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৬,৮৫১.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) উপাদান
  2. খ) উপার্জন
  3. গ) উপচার্য
  4. ঘ) উপাধ্যক্ষ
সঠিক উত্তর:
গ) উপচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপচার্য
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী অভিধানে উপচার্য বলে কোন শব্দ নেই। উপাচার্য (বিশেষ্য) - আচার্যেরে সহকারী; বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রধান।
৬,৮৫২.
'পরিষদ দলে বলে তার শতগুণ।' - বাক্যে 'পরিষদ দলে' কোন কারক?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. করণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন -
- চাঁদ বুঝি তা জানে।
- তোমার দ্বারা একাজ হবে না সাধন।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
- পরিষদ দলে বলে তার শতগুণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৫৩.
শুদ্ধ বানান -
  1. কণিণিকা
  2. কণীনিকা
  3. কনীনিকা
  4. কনীণিকা
সঠিক উত্তর:
কনীনিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনীনিকা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - কনীনিকা
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- চোখের তারা,
- কড়ে আঙুল,
-ছোটো বোন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮৫৪.
'ছড়ার ছন্দ' নামে পরিচিত ছন্দ কোনটি?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
-  মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং  বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫৫.
‘সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।’ বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে
  2. বাহুল্য দোষে
  3. দুর্বোধ্যতা দোষে
  4. বিদেশী শব্দ দোষে
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা
• "সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 
- শুদ্ধ বাক্যটি হবে: "সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত" অথবা "শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"।

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন:
- সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৫৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ঘূর্ণায়মান
  2. ঘৃর্ণিত
  3. ঘূর্ণন
  4. ঘূর্ণমান
সঠিক উত্তর:
ঘৃর্ণিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘৃর্ণিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: ঘৃর্ণিত।

• শুদ্ধ বানান: ঘৃণিত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘৃণা করা হয়েছে এমন, অবজ্ঞাত, অবহেলিত।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণায়মান (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘুরছে এমন।

• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণন (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় = (√ঘূর্ণ্ + অন),
যার অর্থ: অনবরত আবর্তন, চক্রগতি।

• শুদ্ধ বানান: ঘূর্ণমান (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
যার অর্থ: ঘোরানো হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৫৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. আনুষঙ্গ
  2. আনুসঙ্গ্য
  3. আনুষঙ্গো 
  4. আনুষঙ্গ্য
সঠিক উত্তর:
আনুষঙ্গ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুষঙ্গ্য
ব্যাখ্যা

আনুষঙ্গ্য (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয়-[অনুষঙ্গ+য] 
অর্থ:
- সংশ্লিষ্ট বিষয় বা বস্তু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬,৮৫৮.
'মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।' কর্মবাচ্যে রূপান্তর করুন -
  1. পুস্তক পাঠ করা হচ্ছে মুবারক দ্বারা।
  2. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  3. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পাঠ হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে:
(১) কর্তায় তৃতীয়া (২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং (৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

কর্তৃবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
(গ) মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।

কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৮৫৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. গন্যমান্য
  2. ঘনিষ্ট
  3. টেকসই
  4. চাতুর্যতা
সঠিক উত্তর:
টেকসই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকসই
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: টেকসই। 
- বিশেষণ পদ,
- (টেক) বাংলা (সই) আরবি। 
অর্থ:
- মজবুত,
- দীর্ঘস্থায়ী। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
• গন্যমান্য - গণ্যমান্য। 
• ঘনিষ্ট - ঘনিষ্ঠ। 
• চাতুর্যতা - চাতুর্য। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং অভিগম্য অভিধান।
৬,৮৬০.
'ফুলে ফুলে সাজিয়েছে ঘর'- এখানে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে তৃতীয়া
  2. করণে সপ্তমী
  3. অধিকরণে সপ্তমী
  4. অধিকরণে তৃতীয়া
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

• 'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে' করণ কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

• 'ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে'- এ বাক্যে ক্রিয়াকে 'কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়- ফুলে ফুলে। তাই 'ফুলে ফুলে' করণ কারক।
এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি 'এ' যুক্ত হয়েছে।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
সপ্তমী বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৮৬১.
"দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল 
  3. যৌগিক 
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য (simple sentence):
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
- দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৮৬২.
"এ রাস্তা আমার চেনা নেই।" - এটি কোন বাচ্য?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

• ভাববাচ্য: 
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

• ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
তেমনিভাবে,
কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৮৬৩.
'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়সূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।’- অনুজ্ঞাবাচক বাক্য

বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৬,৮৬৪.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. নির্মূলিত
  2. দুর্দশাগ্রস্থ
  3. ঝঞ্ঝাট
  4. ঊর্মি
সঠিক উত্তর:
দুর্দশাগ্রস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্দশাগ্রস্থ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - দুর্দশাগ্রস্থ
- এর শুদ্ধরূপ - দুর্দশাগ্রস্ত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- দুরবস্থায় পতিত,
- বিপন্ন, দুর্গত, দরিদ্র।

অন্যদিকে,
ঊর্মি, ঝঞ্ঝাট, এবং নির্মূলিত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৬৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. সদ্যজাত
  2. সদেদআজাত
  3. সদ্যোজাত
  4. সদ্ব্যজাত
সঠিক উত্তর:
সদ্যোজাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদ্যোজাত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'সদ্যোজাত'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
 অর্থ:
- এইমাত্র জন্মলাভ করেছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৬৬.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1.  এ সৌন্দর্য ছেড়ে কোথাও নড়িতে ইচ্ছা হয় না।
  2. আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
  3. একটা গোপন কথা বলি।
  4.  নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল। 
সঠিক উত্তর:
 নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল। 
ব্যাখ্যা

• নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল।বাক্যটি শুদ্ধ।

- অশুদ্ধ বাক্য:  এ সৌন্দর্য ছেড়ে কোথাও নড়িতে ইচ্ছা হয় না।
- শুদ্ধ বাক্য:  এ সৌন্দর্য ছেড়ে কোথাও নড়তে ইচ্ছা হয় না।

- অশুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন করলাম।
- শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ ভোজন করলাম।

- অশুদ্ধ বাক্য: একটা গোপন কথা বলি।
- শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,৮৬৭.
সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অনটন
  2. অদ্যাবধি
  3. বিপদোদ্ধার
  4. বাগীশ্বরী
সঠিক উত্তর:
বিপদোদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদোদ্ধার
ব্যাখ্যা
সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধিগুলো হলো-
শুদ্ধ  - অশুদ্ধ:
• অনটন - অনাটন।
• অদ্যাবধি - অদ্যবধি। 
• পৃথগন্ন - পৃথকন্ন। 
• বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী।
• বিপদুদ্ধার - বিপদোদ্ধার।  
• বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৮৬৮.
বাক্যের ক্রিয়ার সাথে অন্যান্য শব্দের যে সম্পর্ক তাকে কী বলে?
  1. বিভক্তি
  2. প্রত্যয়
  3. উপসর্গ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কারক:
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার। 
যথা:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৮৬৯.
শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।” - বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
  2. শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রতিবার প্রদক্ষিণ করে।
  3. শিক্ষক বলল যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করিয়া চলে।
  4. শিক্ষক বলল যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করিয়া চলে না।
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব ।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৬,৮৭০.
'সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।' বাক্যে 'পড়ছে' কী?
  1. উদ্দেশ্য
  2. বিধেয়ের প্রসারক
  3. বিধেয়ের ক্রিয়া
  4. উদ্দেশ্যের প্রসারক
সঠিক উত্তর:
বিধেয়ের ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয়ের ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

• উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে সুমনকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হচ্ছে। অতএব 'সুমন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

• বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন- 'সুমন বল খেলে।' এই বাক্যে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক।
যেমন:
- সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে।

[এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬,৮৭১.
শুদ্ধ বানান -
  1. অনুকূল্য
  2. আনুকুল্য
  3. আনুকূল্য
  4. অনুকল্য
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আনুকূল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুকূল্য
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - আনুকূল্য
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- পোষকতা; সহায়তা, সাহায্য।
- দাক্ষিণ্য; অনুগ্রহ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৮৭২.
কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) ঐক্যতা
  2. খ) মহাত্ম
  3. গ) জন্মবার্ষিকী
  4. ঘ) অধীনস্থ
সঠিক উত্তর:
গ) জন্মবার্ষিকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জন্মবার্ষিকী
ব্যাখ্যা
- জন্মবার্ষিকী শব্দের অপপ্রয়ােগ হয়নি।
- 'ঐক্যতা' শব্দটিতে 'তা' প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ হয়েছে। শব্দটির সঠিক বানান হবে ঐক্য বা একতা।
- মহাত্ম' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ হবে মহত্ত্ব।
- অধীনস্থ শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অধীন।

উৎস- বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
৬,৮৭৩.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. সর্বশ্রেষ্ঠ
  2. বিপন্মুক্তি
  3. সুস্বাগত
  4. বুদ্ধিমান
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুস্বাগত
ব্যাখ্যা
- 'সুস্বাগত', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: স্বাগত

অন্যদিকে,
- সর্বশ্রেষ্ঠ,
- বিপন্মুক্তি,
- বুদ্ধিমান।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৮৭৪.
কোনটি বন্ধনীর সঠিক ব্যবহার নয়?
  1. অতিরিক্ত তথ্য দিতে 
  2. কালনির্দেশ দিতে 
  3. বাক্য শেষ করতে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাক্য শেষ করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য শেষ করতে
ব্যাখ্যা

বাক্য শেষ করতে বন্ধনীর ব্যবহার করা নয়। 

বন্ধনী (), {}, []
- অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন ও কালনির্দেশের ক্ষেত্রে বন্ধনীর ব্যবহার হয়।
- বন্ধনী তিন প্রকার: প্রথম বন্ধনী (), দ্বিতীয় বন্ধনী {} ও তৃতীয় বন্ধনী []।
- যেমন - তিনি বাংলা ভাষার বিবর্তন (চর্যাপদের সময় থেকে পরবর্তী) নিয়ে আলোচনা করবেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৬,৮৭৫.
কোনটি অধিকরণ কারক?
  1. বাবা বাড়িতে আছেন।
  2. জমি থেকে ফসল পাই।
  3. কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।
  4. ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
সঠিক উত্তর:
বাবা বাড়িতে আছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবা বাড়িতে আছেন।
ব্যাখ্যা

অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় দেখা হবে।

অন্যদিকে,
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'হতে', 'থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।

সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক সির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে শব্দের সাথে র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৮৭৬.
"সে কাজটি করেছে" - এর ভাববাচ্য রূপ কী হবে?
  1. তার দ্বারা কাজটি হয়েছে।
  2. কাজটি করা হয়েছে।
  3. কাজটি সে করেছে।
  4. তার কাজটি করা হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
কাজটি করা হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজটি করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• "সে কাজটি করেছে" — এর ভাববাচ্য রূপ - (খ) কাজটি করা হয়েছে।

মূল বাক্য: সে কাজটি করেছে। - এটি একটি কর্তাবাচ্য বাক্য।

কর্তাবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তর করার নিয়ম: 
• কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়াবিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আসতে হয়।
• কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
(১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং (২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।

তাই "সে কাজটি করেছে" এর ভাববাচ্য রূপ হচ্ছে — "কাজটি করা হয়েছে"।

অনুরূপভাবে:
কর্তাবাচ্য: তুমি কখন এলে?
ভাববাচ্য: কখন আসা হলো?

কর্তাবাচ্য: ওখানে কেন গেলে?
ভাববাচ্য: ওখানে কেন যাওয়া হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।