বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৬৭ / ৬৯ · ৬,৬০১৬,৭০০ / ৬,৯৫৩

৬,৬০১.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. চৌধুরি
  2. আকাশচুম্বী
  3. আকর্ষণীয়
  4. আকাঙ্ক্ষি
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাঙ্ক্ষি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - আকাঙ্ক্ষি,
শুদ্ধ - আকাঙ্ক্ষী।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় - [আ+√কাঙ্ক্ষ্+ইন্]
অর্থ: আকাঙ্ক্ষা করে এমন, অভিলাষী।

অন্যদিকে
চৌধুরি, আকাশচুম্বী ও আকর্ষণীয় শব্দ গুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬০২.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. অনস্বীকার্য
  2. বৈচিত্র
  3. অবিশ্রুতি
  4. পরিমান 
সঠিক উত্তর:
অনস্বীকার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনস্বীকার্য
ব্যাখ্যা

•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = অনস্বীকার্য।
অর্থ: 
-অস্বীকার করা যায় না এমন, অবশ্যস্বীকার্য।।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = পরিমান;
• শুদ্ধ = পরিমাণ;

• অশুদ্ধ = অবিশ্রুতি;
• শুদ্ধ = অভিশ্রুতি;

• অশুদ্ধ = বৈচিত্র;
• শুদ্ধ = বৈচিত্র্য;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬০৩.
নিচের কোন শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. কোষ
  2. খষড়া
  3. কাষ্ঠ
  4. অনুষঙ্গ
সঠিক উত্তর:
খষড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খষড়া
ব্যাখ্যা
• ‘খষড়া’ শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।

• শুদ্ধ বানান: খসড়া,
- এটি আরবি শব্দ।
অর্থ: রচনা বা শিল্পকর্মের প্রাথমিক ছক, নকশা।

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

-----------------------
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬০৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিশীথীনি
  2. অনুরূপ
  3. বিভীষীকা
  4. নিরীবিলি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অনুরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরূপ
ব্যাখ্যা
• 'অনুরূপ'- শুদ্ধ বানান। 

অশুদ্ধ বানান- শুদ্ধ বানান:
নিশীথীনি- নিশীথিনী, 
বিভীষীকা- বিভীষিকা,
নিরীবিলি- নিরিবিলি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬০৫.
বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম কত সালে প্রণয়ন করে?
  1. ১৯৯২ সালে 
  2. ১৯৯৪ সালে 
  3. ১৯৯৬সালে  
  4. ১৯৯৩ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে 
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম চালু করেন- বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালে।

বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম:
বাংলা একাডেমি ড. আনিসুজ্জামানকেই সভাপতি করে বানানের নিয়মগুলো সূত্রবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করে। এ কমিটি বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রবর্তিত পাঠ্য বইয়ের বানানরীতিকে সমন্বিত করে একটি অভিন্ন বানানের নিয়ম নির্ধারণ করেন, যা বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' বলে পরিচিত। যার প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর এবং পরিমার্জিত সংস্করণ ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি।

উক্ত নিয়ম অনুসরণ করে একই কমিটির অন্যতম সদস্য জামিল চৌধুরী প্রণয়ন করেন 'বাংলা বানান-অভিধান'। ১৯৯৪ সালের জুনে বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্য এবং পত্র-পত্রিকায় ওই বানানকে 'প্রমিত' হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৬,৬০৬.
ছন্দ কত প্রকার?
  1. চার প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. তিন প্রকার
  4. এক প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
• বাংলা ছন্দ তিন রকমের।
যথা:
- অক্ষরবৃত্ত,
- মাত্রাবৃত্ত এবং
- স্বরবৃত্ত।

• অক্ষরবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণীবিভাগ।

-------------------
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
- উৎপত্তির বিচারে এ ছন্দ 'তৎসম' বা 'অর্ধতৎসম ছন্দ'।
- যে ছন্দে প্রাচীন সংস্কৃত ও প্রাকৃত ছন্দের অনেক লক্ষণ অথবা অন্তত কিছুটা লক্ষণও বর্তমান আছে তাকেই বলা হয় 'মাত্রাবৃত্ত ছন্দ'।
- বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।

---------------------
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
বাংলা ভাষা ও বাঙালির ধ্বনি উচ্চারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছন্দ হচ্ছে স্বরবৃত্ত ছন্দ। এর কারণ, বাংলা শব্দ স্বভাবগতভাবেই হলন্ত বা ব্যঞ্জনান্ত উচ্চারণ প্রক্রিয়াবিশিষ্ট, যাকে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘হসন্তের ছাঁচ’। এ বৈশিষ্ট্য স্বরবৃত্ত ছন্দে রক্ষিত হয়েছে। চলিত বা প্রাকৃত বাংলার স্বভাব রক্ষা করে এ ছন্দের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে। ফলে এ ছন্দকে সাধু বাংলার বাইরে বাউল গানে, লোককথায় ও ছড়ায় খুঁজে পাওয়া যায়।

উচ্চারণে দ্রুততা ও সবলতা স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতি পর্বের প্রথমে প্রবল শ্বাসাঘাত যেমন এ ছন্দের দ্রুততার প্রধান কারণ, তেমনি শ্বাসাঘাতের শক্তিই একে করে তুলেছে সবল ও প্রাণবান। আবার স্বরবৃত্ত ছন্দের প্রধান পর্ব যেহেতু চার মাত্রার এবং তার পরেই থাকে একটি ক্ষুদ্র পর্ব, সেজন্যও এ ছন্দ দ্রুত উচ্চারিত হয়।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়গুলো স্বরবৃত্তে রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন। এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
- মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট,পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬০৭.
'ওখানে' কালসূচক শব্দের পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. এখানে
  2. সেখানে
  3. ঐখানে
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ঐখানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐখানে
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।
যথা:
প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ:
• এই - সেই,
• ইহা - তাহা,
• এ - সে,
• আগামীকাল -  পরদিন,
• গতকাল - আগেরদিন,
• গতকল্য - পূর্বদিন,
• আজ - সেদিন,
• ওখানে - ঐখানে,
• এখানে - সেখানে,
• এখন - তখন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৬০৮.
কোনটি 'To break a butterfly on a wheel' বাক্যটির অনুবাদ?
  1. ঝোপ বুঝে কোপ মার।
  2. বিপর্যয় অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ।
  3. মশা মারতে কামান দাগা।
  4. মাথা নেই, আবার মাথা ব্যথা।
সঠিক উত্তর:
মশা মারতে কামান দাগা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মশা মারতে কামান দাগা।
ব্যাখ্যা
• 'To break a butterfly on a wheel' বাক্যটির অনুবাদ - মশা মারতে কামান দাগা।

অন্যদিকে,
• 'Make hay while the sun shines' বাক্যটির অনুবাদ - ঝোপ বুঝে কোপ মার।
• 'Sweet are the uses of adversity' বাক্যটির অনুবাদ - বিপর্যয় অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ।
• 'A beggar can never be bankrupt' বাক্যটির অনুবাদ - মাথা নেই, আবার মাথা ব্যথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬০৯.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. বন্দরে কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে।
  2. মাতাহীন শিশুর কী দুঃখ।
  3. সময় বড় সংক্ষেপ।
  4. সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
সঠিক উত্তর:
বন্দরে কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দরে কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: বন্দরে কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে

অন্যান্য অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- মাতৃহীন শিশুর কী দুঃখ।
- সময় বড় সংক্ষিপ্ত ।
- সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬১০.
'দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।'- কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. আবেগবাচক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।
• তার মঙ্গল হােক।
• সৎপথে তার মতি হোক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

• বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

• আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৬১১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. হীনম্মণ্যতা  
  2. হীনবুদ্ধি
  3. হীনস্বাস্হ্য 
  4. হীনমতী 
সঠিক উত্তর:
হীনবুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীনবুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- হীনবুদ্ধি। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- মন্দমতি। 
- তীক্ষ্ণধী নয় এমন।

অন্যদিকে, অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- 
• 'হীনমতি' বিশেষণ পদ।
অর্থ: দুর্বুদ্ধি; নীচমতি; মূঢ়মতি।

• 'হীনম্মন্যতা' বিশেষ্য পদ। 
অর্থ: নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।

• 'হীনস্বাস্থ্য' বিশেষণ পদ।
 অর্থ: ভগ্নস্বাস্থ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬১২.
‘তিনি চোখে দেখেন না’ -এখানে 'চোখে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: 
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

যেমন,
- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে। সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' – কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

আবার,
‘তিনি চোখে দেখেন না’- বাক্যটিকে কার দ্বারা বা কীসের সাহায্যে দেখেন জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চোখে’। এবং 'চোখে' শব্দটিতে '৭মী' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। 
তাই,
‘চোখে’ করণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 

- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার -
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি – রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি – গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি – টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি – তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬১৩.
শুদ্ধ বানান -
  1. তত্ত্ববধান
  2. ধূলিসাৎ
  3. কিংবদন্তী
  4. অত্যান্ত
সঠিক উত্তর:
ধূলিসাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূলিসাৎ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান – ধূলিসাৎ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
-  ১) মাটিতে পরিণত, ধুলায় পর্যবসিত। ২)সম্পূর্ণ বিনষ্ট।

অন্যদিকে,
- অত্যান্ত – অত্যন্ত,
- কিম্বদন্তী – কিংবদন্তি, 
- তত্ত্ববধান– তত্ত্বাবধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬১৪.
‘রিকসা' কোন দেশি শব্দ?
  1. ক) জাপানি
  2. খ) চীনা
  3. গ) জার্মানি
  4. ঘ) ইংরেজি
সঠিক উত্তর:
ক) জাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জাপানি
ব্যাখ্যা
• রিকশা
- জাপানি শব্দ
- অর্থ: মনুষ্যবাহিত দুই বা তিন চাকার সড়কযান।

[ প্রশ্নে প্রদত্ত ‘রিকসা’ বানানটি ভুল।]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬১৫.
সকল নির্বাচককে সমষ্টিগতভাবে কী বলা হয়?
  1. নির্বাচকমন্ডলী
  2. নির্বাচকমণ্ডলি
  3. নির্বাচকমণ্ডলী
  4. নির্বাচকমন্ডলি
সঠিক উত্তর:
নির্বাচকমণ্ডলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচকমণ্ডলী
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো - গ) নির্বাচকমণ্ডলী।

অর্থ্যাৎ,
সকল নির্বাচককে একত্রে "নির্বাচকমণ্ডলী" বলা হয়।



অপশনের অন্যান্য বানানগুলো ভুল রয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬১৬.
অন্ত্যযতি নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি 
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:
অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (1),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।

৬,৬১৭.
নিম্নের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) তরুণি
  2. খ) শ্রীমতী
  3. গ) আরবী
  4. ঘ) মিতালী
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীমতী
ব্যাখ্যা

বানানের কিছু নিয়ম নিম্নরূপ:
- কিছু স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে ঈ-কার হবে।
যেমন: তরুনী, কল্যানী, কিশীরী, মাতামহী, বুদ্ধিমতী, যুবতী, লক্ষ্মী, শ্রীমতী, সতী ইত্যাদি।

- ভাষা ও জাতির নামের শেষে ই-কার হবে।
যেমন: আফগানি, আরবি, ইংরেজি, ইহুদি, কাশ্মিরি, জাপানি, তুর্কি ইত্যাদি।

- বিশেষণবাচক 'আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দের শেষে ই-কার হয়।
যেমন: চৈতালি, পূবালি, মিতালি, সোনালি, বর্ণালি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৬১৮.
নিচের কোনটি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন?
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. দাঁড়ি
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরামচিহ্নকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা - 
-  প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়। 
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৬১৯.
বিহগে ললিত গীত শিখায়েছ ভালোবেসে। এখানে 'বিহগে' কোন কারক?
  1. কর্তায় সপ্তমী
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. অপাদানে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
কর্মে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
ক্রিয়াকে কি/কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই কর্ম কারক।
যেমন: বিহগে ললিত গীত শিখায়েছ ভালোবেসে।
এখানে শেখানো বিহগকে অবলম্বন করে সম্পাদিত হয়েছে। 
তাই বিহগে এখানে কর্মে সপ্তমী। 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৬,৬২০.
জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তা
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে।
- ঘোড়াকে চাবুক মার।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি:
- লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

সপ্তমী বা এ বিভক্তি:
- ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়। ('কী উপায়ে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া  - জ্ঞানে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৬,৬২১.
"আমি বাংলা বিভাগের ছাত্র।" - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. আমি যে বাংলা বিভাগের ছাত্র, তা সবাই জানে।
  2. আমার বিভাগের নাম বাংলা।
  3. আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।
  4. আমি একটি বিভাগের ছাত্র এবং তার নাম বাংলা।
সঠিক উত্তর:
আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।
-----------
ব্যাখ্যা:
মূল বাক্য: "আমি বাংলা বিভাগের ছাত্র।" - এটি একটি সরল বাক্য (একটি উদ্দেশ্য + একটি বিধেয়)।

জটিল বাক্যের বৈশিষ্ট্য:
- একটি প্রধান খণ্ডবাক্য + এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
- সংযোজক শব্দ (যে, যা, যার, যেখানে ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত থাকে।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

সুতরাং সঠিক উত্তর: গ) আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬২২.
কোন বাক্যে বাহুল্য দোষ প্রত্যক্ষ করা যায়?
  1. ক) পরিবারের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
  2. খ) শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।
  3. গ) দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
  4. ঘ) দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ।
সঠিক উত্তর:
গ) দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
ব্যাখ্যা
• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬২৩.
‘বৃক্ষটি স্বমূলে উৎপাটিত হইয়াছে।’ বাক্যটি অশুদ্ধ হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) অর্থগত ভুল
  3. গ) পদক্রম জনিত
  4. ঘ) কারক জনিত
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থগত ভুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অর্থগত ভুল
ব্যাখ্যা
‘বৃক্ষটি স্বমূলে উৎপাটিত হইয়াছে।’ বাক্যটি অশুদ্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে অর্থগত। কারণ স্ব মানে নিজে, স মানে সহ। এখানে ‘বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হইয়াছে’ লিখলে সঠিক হতো।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৬২৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন।
  2. স্কুল চলাকালীন সময়ে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ।
  3. সূর্য পূর্বদিকে উদয় হয়।
  4. জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
ব্যাখ্যা
• "জ্ঞানী মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।" বাক্যটি শুদ্ধ।
- তৎসম শব্দের অতিশায়নে দুয়ের মধ্যে তুলনায় 'ঈয়স্' প্রত্যয় এবং বহুর মধ্যে তুলনায় 'ইষ্ঠ' প্রত্যয় যুক্ত হয়।
- বাংলায় সাধারণত 'ঈয়স্' প্রত্যয়ান্ত শব্দগুলো ব্যবহৃত হয় না। 


অন্যদিকে,
-  অশুদ্ধ বাক্য: তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিলেন।
- শুদ্ধ বাক্য: তিনি তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন।

- অশুদ্ধ বাক্য: স্কুল চলাকালীন সময়ে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ।
- শুদ্ধ বাক্য: স্কুল চলাকালে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ।

- অশুদ্ধ বাক্য: সূর্য পূর্বদিকে উদয় হয়। 
- শুদ্ধ বাক্য: সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৬২৫.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।'
উপরের বাক্যটিকে জটিল বাক্যে পরিণত করলে হবে –
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য।
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। যেমন:

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
 
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
 
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৬,৬২৬.
লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।” - বাক্যটির পরোক্ষ উক্তি কী হবে?
  1. লোকটি বললো, সে পরদিন সেখানে আবার যাবে।
  2. লোকটি বললেন যে, তিনি পরশুদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. লোকটি বললেন যে, তিনি আগামীকালের পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  4. লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।”
পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

আবার,
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

যেমন:
প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৬,৬২৭.
চাকরির জন্য যে পত্র লিখতে হয় তার নাম কি?
  1. ক) ব্যক্তিগতপত্র
  2. খ) আবেদনপত্র
  3. গ) নিমন্ত্রণপত্ৰ
  4. ঘ) অভিযোগ সংক্রান্ত পত্ৰ
সঠিক উত্তর:
খ) আবেদনপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবেদনপত্র
ব্যাখ্যা
• আবেদনপত্র:
- স্কুল-কলেজে কিংবা বিভিন্ন অফিসে বা সংস্থায় প্রতিষ্ঠান প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অনুরোধ জানিয়ে পত্র লেখার প্রয়োজন হয়।
- এ ধরনের পত্রকে দরখাস্ত বা আবেদনপত্র বলে। আবেদনপত্রের আকার সাধারণত সংক্ষিপ্ত হয়। সেখানে মূল প্রসঙ্গটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করাটাই লক্ষ্য।
- এ ধরনের পত্রে অনেক সময়ে প্ৰমাণ স্বরূপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)।
৬,৬২৮.
"গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়েছে।" - নিম্নরেখ অংশটুকু কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অধিকরণ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্প্রদান কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
"গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়েছে।" - অপাদান কারকের উদাহরণ।

---------------------
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
→ বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
→ গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
------------------------ 
• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না। 
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
→ লোকমুখে শুনেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬২৯.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. ক) ক্ষীণজীবী
  2. খ) প্রণয়িনী
  3. গ) অমাবস্যা
  4. ঘ) সারথী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারথী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সারথী
ব্যাখ্যা
ভুল বানানটি হলো সারথী। সঠিক বানান সারথি যার অর্থ রথের চালক বা নেতা। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬,৬৩০.
মেঘে বৃষ্টি হয়’ -কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'সাদা মেঘে বৃষ্টি হয় না' - বাক্যে 'মেঘে' অপাদানে ৭মী।

অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন -
- বিচ্যুত: সাদা মেঘে (মেঘ থেকে) বৃষ্টি হয় না - অপাদানে ৭মী।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৩১.
'মহিমামণ্ডিত' শব্দে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রত্যয় সাধিত অশুদ্ধি
  2. সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি 
  3. সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি
  4. সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা

সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ
নিরভিমানী - নিরভিমান। 
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র। 
মাতাজাতি - মাতৃজাতি। 
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত। 
ভ্রাতাবৃন্দ - ভ্রাতৃবৃন্দ। 
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার। 
অহোরাত্রি - অহোরাত্র। 
নির্দোষী - নির্দোষ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬,৬৩২.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. অর্ধরাত্রি
  2. নিরভিমান
  3. নির্দোষী
  4. পিতাহারা
সঠিক উত্তর:
নিরভিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরভিমান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ- নিরভিমান। 

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:

সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন:
- নেই ধন যার = নির্ধন,
- নেই গুণ যার = নির্গুণ,
- নেই পাপ যার = নিষ্পাপ।
[নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।]

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৩৩.
প্রমিত বানান নিয়ম অনুযায়ী নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ন
  2. অপরাহ্নো
  3. অপরাহ্ণ
  4. অপরাণ্হ
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন- অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, পূর্বাহ্ন শুদ্ধ নয়, এর শুদ্ধ বানান- 'পূর্বাহ্ণ'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৬,৬৩৪.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে
  1. ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল
  2. খ) গ্রীষ্মের তাপদাহে জীবন অতিষ্ঠ
  3. গ) ইহার আবশ্যক নাই
  4. ঘ) ঘটনা বর্ণনা হয়েছে
সঠিক উত্তর:
ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল
ব্যাখ্যা

বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে - ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
সঠিক রূপঃ ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

গ্রীষ্মের তাপদাহে জীবন অতিষ্ঠ -গুরুচণ্ডালী বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ।
সঠিক রূপঃ গ্রীষ্মের দাবদাহে জীবন অতিষ্ঠ।
সঠিক রূপঃ ইহার আবশ্যকতা নাই (বিশেষ্য - বিশেষন জনিত ভুল)
সঠিক রূপঃ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে (বাচ্যজনিত)।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৩৫.
কোন বানানগুচ্ছ শুদ্ধ?
  1. বিকিরন, অতিথি, তিতিক্ষা
  2. শুশ্রুষা, নিশীথ, মুহূর্ত
  3. সমীচীন, মহীয়সী, মনীষি
  4. অপিনিহিতি, মুহুর্মূহু, নিশীথিনী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রথম গুচ্ছের অশুদ্ধ বিকিরন শব্দের শুদ্ধরূপ বিকিরণ। 
দ্বিতীয় গুচ্ছের অশুদ্ধ শুশ্রুষা শব্দের শুদ্ধরূপ শুশ্রূষা। 
তৃতীয় গুচ্ছের অশুদ্ধ মনীষি শব্দের শুদ্ধরূপ মনীষী। 
চতুর্থ গুচ্ছের অশুদ্ধ মুহর্মুহু শব্দের শুদ্ধরূপ মুহুর্মুহু। 

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান
৬,৬৩৬.
নেতিবাচক: “শহিদের মৃত্যু নেই” বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. শহিদদের মৃত্যু নেই।
  2. শহিদেরা অমর।
  3. শহিদেরা বেঁচে আছে।
  4. শহিদের কি মৃত্যু হয়?
সঠিক উত্তর:
শহিদেরা অমর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহিদেরা অমর।
ব্যাখ্যা
• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২ 
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৩৭.
বাক্যে পরিসমাপ্তি বোঝাতে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- দাঁড়ি কে আবার পুর্ণচ্ছেদ বলা হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

অব্যদিকে,
কোলন:
• বাক্য অসম্পূর্ণ রেখে প্রাসঙ্গিক অন্য তথ্য জ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কোলন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কমিটিতে সিদ্ধান্ত হলো: আগামী মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

• একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন: সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬৩৮.
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন: "পরিশ্রম করলে ফল পাবে"
  1. ফল পাবার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।
  2. পরিশ্রম না করলে ফল পাবে না।
  3. ফল পাবে কিন্তু তার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।
  4. পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৩৯.
কোনটি কর্তাবাচ্য নয়?
  1. ক) ঝরণা ছবি আঁকে।
  2. খ) শরতে শিউলি ফোটে।
  3. গ) তুমি কখন এলে।
  4. ঘ) একটু বাহিরে বেড়িয়ে আসা যাক।
সঠিক উত্তর:
ঘ) একটু বাহিরে বেড়িয়ে আসা যাক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) একটু বাহিরে বেড়িয়ে আসা যাক।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন,
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।

কর্তাবাচ্য- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।
- শরতে শিউলি ফোটে।

ভাববাচ্য- যে বাক্যের ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- কোথা থেকে আসা হলো।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসা যাক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৬৪০.
প্রশ্ন নং ১ - ৬: শব্দের সঠিক বানান নির্ণয় করুনঃ
  1. পীড়াপিড়ি
  2. পিড়াপিড়ি
  3. পীড়াপীড়ি
  4. পীড়াপিড়ী
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পীড়াপীড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পীড়াপীড়ি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: পীড়াপীড়ি।
- বিশেষ্য পদ,
- এটি বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- বারবার অনুরোধ-উপরোধ বা চাপসৃষ্টি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৪১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. হুন্ডি
  2. মালিনী
  3. গুনী
  4. অনুগামিনী
সঠিক উত্তর:
গুনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুনী
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'গুনী' - অশুদ্ধ বানান।

• 'গুনী' এর শুদ্ধ বানান: গুণী।

• 'গুণী' শব্দের অর্থ:
- গুণ আছে এমন, কলাবিদ।

অন্য অপশনের,
হুন্ডি, মালিনী, অনুগামিনী - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৪২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. বাকস্বাধিনতা
  2. বাক্‌স্বাধীনতা
  3. বাক্‌স্বাধিনতা
  4. বাকস্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
বাক্‌স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্‌স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা



শুদ্ধ বানান- বাক্‌স্বাধীনতা।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কথা বলা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৬,৬৪৩.
তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল। নিম্নরেখ শব্দ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', -এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬,৬৪৪.
সরল বাক্য নয় কোনটি?
  1. অনেকের নিবাস থাকলেও আমার নিবাস নাই।
  2. তিনি ধনী কিন্তু দাতা নন।
  3. ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
  4. অনেকেরই জীবনে দুঃখের পর সুখ আসে।
সঠিক উত্তর:
তিনি ধনী কিন্তু দাতা নন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি ধনী কিন্তু দাতা নন।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য নয়- তিনি ধনী কিন্তু দাতা নন। 

[প্রদত্ত বাক্যে 'তিনি ধনী' একটি স্বাধীন বাক্য এবং 'দাতা নন' আরেকটি স্বাধীন বাক্য। দুটি নিরপেক্ষ বাক্য 'কিন্তু' অব্যয় যোগে সংযুক্ত হয়েছে। সুতরাং এটি একটি যৌগিক বাক্য।]

--------------
• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

উল্লেখ্য,
যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, কিন্তু, ও, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে।

অন্যদিকে,
--------------- 
• সরল বাক্য:
কে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা-
- অনেকের নিবাস থাকলেও আমার নিবাস নাই।
- ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
- অনেকেরই জীবনে দুঃখের পর সুখ আসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।
৬,৬৪৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) দেশে বিভিন্ন পরিবারগুলো।
  2. খ) কতিপয় কর্মচারীদের দুর্নীতি। 
  3. গ) অনেক লোকেরা জমা হয়েছিল। 
  4. ঘ) ঘরে ঘরে ভাত নেই।
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘরে ঘরে ভাত নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঘরে ঘরে ভাত নেই।
ব্যাখ্যা
বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো :
দেশে বিভিন্ন পরিবার।
কতিপয় কর্মচারীর দুর্নীতি। 
অনেক লোক/লোকেরা জমা হয়েছিল। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৬,৬৪৬.
'বাক্যের বর্গ' আসলে-
  1. বাক্যের বিন্যাস
  2. ধ্বনিগুচ্ছ
  3. বর্ণের সমষ্টি
  4. শব্দের গুচ্ছ
সঠিক উত্তর:
শব্দের গুচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের গুচ্ছ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বর্গ:
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
- বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
- যেমন- মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।
- এই বাক্যে 'মালা ও মায়া', 'খুব সকালে', 'বাড়ির সামনে থাকা', 'স্কুল-বাসে', 'উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।

• বিভিন্ন ধরনের বর্গ:
- বিশেষ্যবর্গ
- বিশেষণবর্গ
- ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ
- ক্রিয়াবর্গ।

• মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।
- উপরের উদাহরণে 'মালা ও মায়া' ও 'স্কুল-বাসে' হলো বিশেষ্যবর্গ;
- 'বাড়ির সামনে থাকা' হলো বিশেষণবর্গ; 
- 'খুব সকালে' ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ এবং
- 'উঠে পড়লো' হলো ক্রিয়াবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৪ সংস্করণ)।
৬,৬৪৭.
'ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অধিকরণ
  3. করণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ঘরেতে ভ্রমর এলো গুনগুনিয়ে। (অধিকরণে সপ্তমী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৬,৬৪৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভৌগলিক
  2. ভৌগোলীক
  3. ভৌগলীক
  4. ভৌগোলিক
সঠিক উত্তর:
ভৌগোলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌগোলিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'ভৌগোলিক'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: ভূগোল + ইক।
এর অর্থ:
- ভূগোল সম্পর্কিত।
- ভৌগোলিক সীমা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৪৯.
প্রত্যক্ষ উক্তির 'এই' পরোক্ষ উক্তিতে কী হবে?
  1. ক) উহা
  2. খ) ওটা
  3. গ) সেটা
  4. ঘ) সেই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেই
ব্যাখ্যা
• প্রত্যক্ষ উক্তির 'এই' পরোক্ষ উক্তিতে হবে - সেই।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু উক্তি পরিবর্তন:

প্রত্যক্ষ  -  পরোক্ষ
এই  -  সেই।
ইহা  -  তাহা/উহা।
এখানে  -  ওইখানে।
আগামীকাল  -  পরদিন।
গতকল্য  -  পূর্বদিন।
এটা  - ওটা/সেটা।
এ  -  সে।
আজ  - সেদিন।
গতকাল  -  আগেরদিন।
এখন  -  তখন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৬৫০.
'যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম'- এ বাক্যের 'সেই আমরা প্রস্থান করলাম' কোন ধরনের বাক্য?
  1. আশ্রিত বাক্য
  2. মিশ্র বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. প্রধান খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
প্রধান খণ্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রধান খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা

• যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
• যেমন- যেই তার দর্শন পেলাম (আশ্রিত বাক্য), সেই আমরা প্রস্থান করলাম (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৫১.
'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা!' - এ গানে কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
  1. আনন্দ
  2. নিরুৎসাহ
  3. মুক্তি
  4. রসবোধ
সঠিক উত্তর:
আনন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনন্দ
ব্যাখ্যা
• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - এ গানে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।

• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা!' - এটি অতুলপ্রসাদ সেন রচিত জনপ্রিয় দেশাত্ববোধক গান।
- তাঁর এই গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- অনেক আন্দোলন, ত্যাগ, তিতিক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত আমাদের মাতৃভাষা 'বাংলা', যার মাধ্যমে আমরা আবেগ, ভালোবাসা ইত্যাদি প্রকাশ করে আনন্দ পাই, এই ভাবই এই গানে প্রকাশ পেয়েছে।

বাংলা ভাষা,
---- অতুলপ্রসাদ সেন
মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে,
তোমার বোলে,
কতই শান্তি ভালোবাসা!

কি যাদু বাংলা গানে!
গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে,
গেয়ে গান নাচে বাউল,
গান গেয়ে ধান কাটে চাষা!

বিদ্যাপতি, চণ্ডী, গোবিন্‌,
হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন-
ঐ ফুলেরই মধুর রসে,
বাঁধলো সুখে মধুর বাসা!

বাজিয়ে রবি তোমার বীণে,
আনলো মালা জগৎ জিনে!
তোমার চরণ-তীর্থে আজি,
জগৎ করে যাওয়া-আসা!

ঐ ভাষাতেই নিতাই গোরা,
আনল দেশে ভক্তি-ধারা,
আছে কৈ এমন ভাষা,
এমন দুঃখ-শ্রান্তি-নাশা?

ঐ ভাষাতেই প্রথম বোলে,
ডাকনু মায়ে ‘মা, মা’ বলে;
ঐ ভাষাতেই বলবো হরি,
সাঙ্গ হলে কাঁদা হাসা!

মোদের গরব, মোদের আশা,
আ-মরি বাংলা ভাষা!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৫২.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
  2. নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
  3. তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।
  4. জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।
সঠিক উত্তর:
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।
ব্যাখ্যা
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

অন্যদিকে,
কমা(,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৬,৬৫৩.
কোন প্রতিষ্ঠান প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম চালু করে?
  1. এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. বাংলাপিডিয়া
  3. বাংলা একাডেমি
  4. বাংলাদেশ সরকার
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
•  প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম চালু করে - বাংলা একাডেমি
- বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালে। 

বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম: 
- বাংলা একাডেমি ড. আনিসুজ্জামানকে সভাপতি করে বানানের নিয়মগুলো সূত্রবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করে।
- এ কমিটি বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রবর্তিত পাঠ্য বইয়ের বানানরীতিকে সমন্বিত করে
- একটি অভিন্ন বানানের নিয়ম নির্ধারণ করেন, যা বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' বলে পরিচিত।
- যার প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর এবং পরিমার্জিত সংস্করণ ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি।
- উক্ত নিয়ম অনুসরণ করে একই কমিটির অন্যতম সদস্য জামিল চৌধুরী প্রণয়ন করেন 'বাংলা বানান-অভিধান'। 
- ১৯৯৪ সালের জুনে বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্য এবং পত্র-পত্রিকায় ওই বানানকে 'প্রমিত' হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৬৫৪.
'দৃষ্টান্তচ্ছেদ' কোন যতিচিহ্নের অপর নাম?
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. দাড়ি
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• 'কোলন' বিরামচিহ্নের অপর নাম - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।

অন্যদিকে, 
• 'কমা' এর বাংলা অর্থ - পাদচ্ছেদ।
• 'দাড়ি' এর অপর নাম - পূর্ণচ্ছেদ।
• 'সেমিকোলন' এর অপর নাম - অর্ধচ্ছেদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৫৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. অভিভুত
  2. উত্তরন
  3. বিভীষিকা 
  4. ভ্রাতুস্পুত্র
সঠিক উত্তর:
বিভীষিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভীষিকা 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'বিভীষিকা' শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: অভিভুত
শুদ্ধ: অভিভূত

অশুদ্ধ: উত্তরন
শুদ্ধ: উত্তরণ

অশুদ্ধ: ভ্রাতুস্পুত্র
শুদ্ধ: ভ্রাতুষ্পুত্র

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৫৬.
নিচের কোনটিতে শূন্য বিভক্তি ব্যবহৃত হয়নি?
  1. ক) এ ‘কলমে’ ভালো লেখা হয়
  2. খ) গাড়ি ‘স্টেশন’ ছাড়ে
  3. গ) ‘ডাক্তার’ ডাক
  4. ঘ) ‘সারারাত’ বৃষ্টি হয়েছে
সঠিক উত্তর:
ক) এ ‘কলমে’ ভালো লেখা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এ ‘কলমে’ ভালো লেখা হয়
ব্যাখ্যা
এ ‘কলমে’ ভালো লেখা হয় বাক্যে ‘কলমে’ শব্দটিতে করণ কারকে ৭মী বা এ বিভক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়ি ‘স্টেশন’ ছেড়েছে, ‘ডাক্তার’ ডাক এবং ‘সারারাত’ ‍বৃষ্টি হয়েছে বাক্যে স্টেশন, ডাক্তার, এবং সরারাত শব্দগুলো যথাক্রমে অপাদান, কর্ম এবং অধিকরণ কারকে শূণ্য বিভক্তি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৬৫৭.
'চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।' - বাক্যে 'চোরে' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. করণ
  3. কর্তা
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৫৮.
অশুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) জাত্যভিমান
  2. খ) অদ্যবধি
  3. গ) তিরস্কার
  4. ঘ) দারুণ
সঠিক উত্তর:
খ) অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অদ্যবধি
ব্যাখ্যা

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বানানঃ
- অদ্যাবধি,
- তিরস্কার,
- দারুণ,
- দৈন্য,
- দীনতা,
- জাত্যভিমান

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৬,৬৫৯.
কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ?
  1. রোগী পথ্য সেবন করে।
  2. আমাকে এখন যেতে হবে।
  3. আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে এখন যেতে হবে।
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

অন্যদিকে,
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
 যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
 যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৬৬০.
নিচের কোনটি পরোক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ইহা
  2. সেই
  3. আজ
  4. গতকল্য
সঠিক উত্তর:
সেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেই
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরোক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

যেমন:
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ
→ এই-সেই, 
ইহা-তাহা, 
→ এ-সে, 
আজ-সেদিন,
→ আগামীকাল-পরদিন, 
→ গতকাল-আগেরদিন, 
গতকল্য-পূর্বদিন, 
→ ওখানে-ঐখানে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৬৬১.
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগে বাক্য কোন দোষে দুষ্ট হয়?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে
  2. দুর্বোধ্যতা-দোষে
  3. উপমার ভুল প্রয়োগ-দোষে
  4. বাহুল্য-দোষে
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুচণ্ডালী দোষে
ব্যাখ্যা

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- 
'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপোড়া' প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে 'গরুর শকট', 'শবপোড়া', 'মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।

------------------
• দুর্বোধ্যতা:
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়। যেমন- তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছো। (চাতুরী বা মায়া অর্থে, কিন্তু বাংলা 'প্রপঞ্চ' শব্দটি অপ্রচলিত)।

• উপমার ভুল প্রয়োগ:
ঠিকভাবে উপমা অলংকার ব্যবহার না করলে যোগ্যতার হানি ঘটে।
যেমন:
- আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।
[বীজ ক্ষেতে বপন করা হয়, মন্দিরে নয়। কাজেই বাক্যটি হওয়া উচিত: আমার হৃদয়-ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।]

• বাহুল্য-দোষ:
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারিয়ে থাকে।
যেমন:
- দেশের সব আলেমগণই এ ব্যাপারে আমাদের সমর্থন দান করেন।
['আলেমগণ' বহু বচনবাচক শব্দ। এর সঙ্গে 'সব' শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার বাহুল্য-দোষ সৃষ্টি করেছে।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৬২.
নিচের কোন বাক্যে বহুবচনজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সকল বালিকা প্রভাতফেরিতে গেছে।
  2. যাবতীয় প্রাণী এই গ্রহের বাসিন্দা।
  3. সভায় অনেক গুণী ব্যক্তিগুলো এসেছে।
  4. সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।
সঠিক উত্তর:
সভায় অনেক গুণী ব্যক্তিগুলো এসেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সভায় অনেক গুণী ব্যক্তিগুলো এসেছে।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: সভায় অনেক গুণী ব্যক্তিগুলো এসেছে।
• শুদ্ধ বাক্য: সভায় অনেক গুণী ব্যক্তি এসেছে।

• নিয়ম:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৬৬৩.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. হুররে, আমরা জিতেছি!
  2. ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।
  3. এখান থেকে বিদায় হও।
  4. তিনি এবার গ্রামে যাবেন না। 
সঠিক উত্তর:
এখান থেকে বিদায় হও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এখান থেকে বিদায় হও।
ব্যাখ্যা

অর্থানুসারে বাক্যকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. বর্ণনা বা বিবরণমূলক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনামূলক বাক্য।
যেমন-
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। 
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে। 
- সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।

এ বাক্যকে আবার অস্তিবাচক বা হ্যাঁসূচক বাক্য ও নেতিবাচক বা না-সূচক বাক্য- এ দুভাগে ভাগ করা
হয়েছে।

ক. অস্তিবাচক বাক্য:
যে বাক্য দ্বারা কোনো কিছুর বর্ণনায় ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় অস্তিবাচক বাক্য।
যেমন-
- আমি প্রত্যদিন সকালে হাটি।
- ছাত্ররা নিয়মিত লেখাপড়া করে।
- ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।

খ. নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমন-
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি।
- তিনি এবার গ্রামে যাবেন না ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবোধক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবোধক বাক্য।
যেমন:
- তুমি কি লোকটিকে চিন?
- সে কি আজ বাড়ি যাবে?
- তুমি কি প্রতিদিন স্কুলে যাও ইত্যাদি।

৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় অনুজ্ঞাসূচক বাক্য। যেমন-
আদেশ : এখান থেকে বিদায় হও।
অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করো না।
নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করো না।
প্রস্তাব : চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি।

৪. ইচ্ছাসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যথা-
- তোমার মঙ্গল হোক।
- পরীক্ষায় সফল হও।

৫. বিস্ময়সূচক বাক্য: যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বুঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যথা-
- হুররে, আমরা জিতেছি!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৬৬৪.
"সারাংশ লিখন” শিক্ষার উদ্দেশ্য কী?
  1. ক) বক্তব্য বিশ্লেষণ
  2. খ) বক্তব্য সংযোজন
  3. গ) বক্তব্য সংক্ষেপণ
  4. ঘ) বক্তব্য সংমিশ্রণ
সঠিক উত্তর:
গ) বক্তব্য সংক্ষেপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বক্তব্য সংক্ষেপণ
ব্যাখ্যা
• সারাংশ বা সারমর্ম:
- কোনো গদ্য বা পদ্য রচনার অন্তর্নিহিত মূল ভাবকে সহজ- সরল ভাষায় সংক্ষেপে প্রকাশ করতে সারাংশ বা সারমর্ম বলে। 
- কোনো কবিতা পদ্য রচনার মূল ভাব বা বক্তব্যকে অল্প কথায় প্রকাশ করার নাম সারমর্ম বা সারাংশ।
- সারমর্ম এবং সারাংশ যথাসম্ভব সহজ ভাষায় এবং সরল বাক্যে লিখতে হবে। 
- বক্তব্যের বর্ণনায় মূল কথার বাইরে কোনো কথা লিখা যাবে না, বক্তব্যে কোনো প্রকার ছন্দ, অলঙ্কার, উপমা, রূপক, উদ্ধৃতির ব্যবহার করা যাবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৬৫.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ-
  1. সত্ত্বর, চোষ্য, মুমূর্ষু
  2. শীর্ণ, সাক্ষর, সত্তা
  3. উজ্জল, দ্বন্দ্ব, শ্বশুর
  4. নীড়, বিচ্যুত, বাণি
সঠিক উত্তর:
শীর্ণ, সাক্ষর, সত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীর্ণ, সাক্ষর, সত্তা
ব্যাখ্যা

খ) শীর্ণ, সাক্ষর, সত্তা:
শীর্ণ: এটি শুদ্ধ। 
সাক্ষর: এটি শুদ্ধ।
সত্তা: এটি শুদ্ধ। 

ফলাফল: এই গুচ্ছ শুদ্ধ।

----------------
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

ক) সত্ত্বর, চোষ্য, মুমূর্ষু:
সত্ত্বর: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো সত্বর।
চোষ্য: এটি অশুদ্ধ। সঠিক বানান হলো চোষ্য বা চূষ্য।
মুমূর্ষু: এটি শুদ্ধ। 

ফলাফল: এই গুচ্ছ অশুদ্ধ, কারণ ‘সত্ত্বর’ ও ‘চোষ্য’ শব্দ দুটি বানানগতভাবে ভুল।

গ) উজ্জল, দ্বন্দ্ব, শ্বশুর:
উজ্জল: এটি অশুদ্ধ। তৎসম শব্দ ‘উজ্জ্বল’ হবে।
দ্বন্দ্ব: এটি শুদ্ধ। 
শ্বশুর: এটি শুদ্ধ। 
ফলাফল: এই গুচ্ছ অশুদ্ধ।

ঘ) নীড়, বিচ্যুত, বাণী:
নীড়: এটি শুদ্ধ।
বিচ্যুত: এটি শুদ্ধ।
বাণি: এটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ - বাণী।
ফলাফল: এই গুচ্ছটি অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৬৬.
‘ঘটনাটি শুনে রাখ’- বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) প্রযোজক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সাইরেন বেজে উঠল।
- ঘটনাটি শুনে রাখ।

মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
- আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
- ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৬৭.
"আজকাল বানানের ব্যাপারে সকল ছাত্ররা অমনযোগী" বাক্যটি অশুদ্ধ হবার কারণ কী?
  1. ক) দুর্বোধ্যতা
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) গুরুচণ্ডালী দোষ
  4. ঘ) উপমার ভুল প্রয়ােগ
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- আজকাল বানানের ব্যাপারে সকল ছাত্ররা অমনযোগী
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "আজকাল বানানের ব্যাপারে ছাত্ররা অমনযোগী" অথবা "আজকাল বানানের ব্যাপারে সকল ছাত্র অমনযোগী"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৬৮.
কর্তৃবাচ্যকে ভাববাচ্য রূপান্তরের সময় বাক্যের ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. নাম পুরুষ
  3. মধ্যম পুরুষ
  4. শূন্য পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
(১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং (২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।
যেমন-
কর্তৃবাচ্য - ভাববাচ্য:
(ক) আমি যাব না। - আমার যাওয়া হবে না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে। -  তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
(গ) তোমরা কখন এলে - তোমাদের কখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৬৬৯.
‘কারক’ (কৃ+ণক) শব্দটির অর্থ?
  1. ক) যা পদকে সম্পাদন করে
  2. খ) যা পদ ও সমাসকে সম্পাদন করে
  3. গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
  4. ঘ) যা সমাস সম্পাদন করে
সঠিক উত্তর:
গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যা ক্রিয়া সম্পাদন করে
ব্যাখ্যা
কারক (কৃ+ণক) শব্দটির অর্থ যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
যেমন-জলে কুমির থাকে = অধিকরণ কারক।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৬৭০.
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধানায়।' - এখানে 'সাধনায়' কোন কারক?
  1. ক) কর্ম কারক
  2. খ) করণ কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
খ) করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) করণ কারক
ব্যাখ্যা
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। 
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন,
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৬৭১.
"সে তরবারিতে যুদ্ধ করল।" - এখানে 'তরবারিতে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

যেমন:
- ফলে বৃক্ষের পরিচয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা/ কী উপায়ে পরিচয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ফলে। সুতরাং ‘ফলে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

- ভাসছে যেন আলগা স্রোতে।
[বাক্যটিকে কী উপায়ে ভাসছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় স্রোতে। সুতরাং ‘স্রোতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

তেমনিভাবে,
• বাক্যটি - সে তরবারিতে যুদ্ধ করল।
- [বাক্যটিকে কী উপায়ে যুদ্ধ করল? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় তরবারিতে। এটি যুদ্ধ করার মাধ্যম বা উপকরণ (তরবারি) নির্দেশ করছে। এবং এর সাথে 'এ' বা 'সপ্তমী' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। সুতরাং ‘তরবারিতে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]
--------------------
• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৭২.
"গোরু মাংস খায়।" - বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. আকাঙ্ক্ষার অভাব
  2. আসত্তির অভাব
  3. যোগ্যতার অভাব
  4. আসক্তির অভাব
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতার অভাব
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি - "গোরু মাংস খায়।"
- এখানে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
- "ছা্গল মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ - গোরু সাধারণত মাংস খায় না ।
• শুদ্ধ বাক্য: গোরু ঘাস খায়।

• বাক্যের যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- যেমন- 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়'।
- এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।
- কিন্তু 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।' বললে বাক্যটি ভাবপ্রকাশের যোগ্যতা হারাবে।
- কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৭৩.
গুণহীনে ত্যাগ কর। - বাক্যে ''গুণহীনে'' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্মে ৭মী
  2. খ) অধিকরণে ৭মী
  3. গ) সম্প্রদানে ৭মী
  4. ঘ) অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
উল্লেখিত বাক্যটিতে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে পাওয়া যায় 'গুণহীনে'৷ অর্থাৎ বাক্যে 'গুণহীনে' একটি কর্মকারক।
আর শব্দের শেষে ''এ, (য়), য়, তে, এতে'' থাকলে তা সপ্তমী বিভক্তি হয়। অতএব, বাক্যটিতে ''গুণহীনে'' কর্মকারকে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৬,৬৭৪.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অলসতা
  2. কৃপণতা
  3. ঐক্যতা
  4. ধীরতা
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐক্যতা
ব্যাখ্যা
• ‘ঐক্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: ঐক্য, একতা।

----------------
• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ মব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৭৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) আধ্যাত্ম
  2. খ) অধ্যাত্ম
  3. গ) অধ্যাত্ত্ব
  4. ঘ) অধ্যাত্য
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাত্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাত্ম
ব্যাখ্যা
অধ্যাত্ম (বিশেষণ) - পরমাত্মবিষয়ক; আল্লাহ সন্বন্ধীয়; ঈশ্বরবিষয়ক।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৬,৬৭৬.
"সে কি যাবে" এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) আদেশসূচক
  2. খ) বিষ্ময়সূচক
  3. গ) প্রশ্নসূচক
  4. ঘ) বিবৃতিসূচক
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশ্নসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশ্নসূচক
ব্যাখ্যা

প্রশ্নসূচক- এ ধরনের বাক্যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়।
যথাঃ যাবে নাকি? কেন এসেছ? 'সে কি যাবে?' - এ বাক্যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।

বিষ্ময়সূচক- এ ধরনের বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায়।
যেমনঃ তাজ্জব ব্যপার!

আদেশসূচক- 
এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যেমনঃ চুপটি করে বস।

বিবৃতিসূচক-
সাধারণভাবে হ্যাঁ বা না বোধক বাক্য।
যেমনঃ সে ঢাকা যাবে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৬,৬৭৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ভূম্যধীকারী
  2. ভূমধীকারী
  3. ভুম্যধিকারি
  4. ভূম্যধিকারী
সঠিক উত্তর:
ভূম্যধিকারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূম্যধিকারী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'ভূম্যধিকারী'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: ভূমি + অধিকার + ইন্‌।
অর্থ:
- ভূস্বামী,
- জমিদার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬,৬৭৮.
ভাব-সম্প্রসারণের কোন অংশে মূল ভাবের অর্থ ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. প্রথম অংশ
  2. দ্বিতীয় অংশ
  3. তৃতীয় অংশ
  4. শেষ অংশ 
সঠিক উত্তর:
প্রথম অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম অংশ
ব্যাখ্যা

• প্রথম অংশে ভাবের অর্থ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
--------------------
• ভাব-সম্প্রসারণ:
- ভাব-সম্প্রসারণ হল ভাবকে সুসংগত ও অর্থবহভাবে বিস্তার করা।
- এটি সাধারণত কবিতা, গল্প বা গদ্যের কোনো অংশের মূল ভাবকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়া।
- ভাব সম্প্রসারণে মূল ভাবের সার্থকতা, যুক্তি ও উদাহরণ তুলে ধরা হয়।

- ভাব-সম্প্রসারণকে তিনটি অংশে ভাগ করা যায়:
- প্রথম অংশ: ভাবের অর্থ স্পষ্ট করা।
- দ্বিতীয় অংশ: ভাবের ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
- তৃতীয় অংশ: ভাবের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা।
------------------------------ 
উল্লেখ্য,

• ভাব-সম্প্রসারণের সময় অনুসরণীয় বিষয়সমূহ:
- প্রতিটি অংশ আলাদা অনুচ্ছেদে লেখা যেতে পারে।
- ব্যাখ্যা করার সময় যুক্তি, উদাহরণ বা তুলনার মাধ্যমে ভাবকে শক্তিশালী করা উচিত।
- বাক্যগুলো পরস্পরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ও সম্পর্কযুক্ত হওয়া উচিত।
- প্রয়োজনে মূল লেখার সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
- আলাদা শিরোনাম প্রয়োজন হয় না।
- যদি মূল ভাব রূপক বা প্রতীকের আড়ালে থাকে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
- অংশের রচয়িতার নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন নেই।
- সাধারণত ভাব-সম্প্রসারণ প্রায় ২০০ শব্দ বা সর্বাধিক ২০টি বাক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়ৎ মামুদ; 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৬৭৯.
'সকল মানুষেরাই মরণশীল।' এই বাক্যে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) লিঙ্গ জনিত
  2. খ) অনুসর্গ জনিত
  3. গ) বচন জনিত
  4. ঘ) কারক জনিত
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বচন জনিত
ব্যাখ্যা
একই সঙ্গে দুইবার বহুবচনবাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয় না৷ সুতরাং এখানে হবে সকল মানুষই / মানুষ / মানুষেরা মরণশীল।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৬,৬৮০.
'কাকলি বললো যে শম্পাই কাজটি করেছে' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারনভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
এখানে, 'কাকলি বললো যে' প্রধান বাক্য আর 'শম্পাই কাজটি করেছে' হলো- অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য।                                               
উৎস-  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৮১.
‘জলে বাষ্প হয়।’- বাক্যে ‘জলে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
[অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৮২.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. জ্ঞানবান
  2. অধীন
  3. ঘূর্ণীয়মান
  4. করিতকর্মা
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণীয়মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণীয়মান
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ: ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘূর্ণায়মান।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- দোষণীয় - দূষণীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- পুজ্যনীয় - পূজনীয়;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৮৩.
'দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না' - বাক্যটির জটিল রূপ কী হবে?
  1. তুমি দোষ স্বীকার করলে তোমার আর কোনো শাস্তি হবে না।
  2. যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার কো্নো শাস্তি হবে না।
  3. যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার শাস্তি হবে না।
  4. যদি দোষ স্বীকার কর তোমার শাস্তি হবে না।
সঠিক উত্তর:
যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার কো্নো শাস্তি হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার কো্নো শাস্তি হবে না।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
জটিল বাক্য: যদি দোষ স্বীকার কর তবে তোমার কো্নো শাস্তি হবে না।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৮৪.
'রফিক তাস খেলে।' বাক্যে 'তাস' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক 
  2. অপাদান কারক 
  3. করণ কারক 
  4. সম্বন্ধ কারক 
সঠিক উত্তর:
করণ কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। 'করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়। তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে 'দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ): তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে 'দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ): তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি: রফিক তাস খেলে। 
- করণ কারকে এ-বিভক্তি: গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি: তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৬৮৫.
”তাঁর মঙ্গল হোক।” কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ বা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে যে বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- আমাকে একটি কলম দাও। (আদেশ/অনুরোধ)।
- তাঁর মঙ্গল হোক। (প্রার্থনা)।

• বাক্যের অন্য প্রকারগুলো হলো:

• বিবৃতিবাচক বাক্য :
যেসব বাক্যে কোনো তথ্য বা ঘটনা সাধারণভাবে বলা হয়, সেগুলো বিবৃতিবাচক বাক্য।
এগুলো দুই রকমের হতে পারে:

• ইতিবাচক: যেমন —
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
নেতিবাচক: যেমন —
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা যখন কারও কাছ থেকে কোনো তথ্য জানতে চায়, তখন প্রশ্নবাচক বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনো আবেগ (আনন্দ, বিস্ময়, দুঃখ, ভয় ইত্যাদি) প্রকাশ করতে যে বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৬,৬৮৬.
মাসের তারিখ লেখার সময় কোনটির পর 'কমা' ব্যবহার করতে হয়?
  1. শুধু বারের পর
  2. শুধু তারিখের পর
  3. বার ও মাসের পর
  4. শুধু সালের পর
সঠিক উত্তর:
বার ও মাসের পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার ও মাসের পর
ব্যাখ্যা

কমা (,) :
• বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

• পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

• সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
• জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
• কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'
• মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।

উৎস: উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

৬,৬৮৭.
কোন যতিচিহ্নকে ‘পাদচ্ছেদ’ বলা হয়?
  1. কোলন
  2. দাঁড়ি
  3. সেমিকোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা

কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ , বর্গ ও অধীনে বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- কমাকে ‘পাদচ্ছেদ’ বলা হয়।
- যেমন:
• গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
• সুজন, দেখ তোকে আসছে।

দাঁড়ি:
- দাঁড়ি অর্থ  পূর্ণচ্ছেদ।
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
যেমন:
• প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
• যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

সেমিকোলন:
- সেমিকোলন অর্থ হচ্ছে ‘অর্ধচ্ছেদ’।
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন: 
• সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছব্দ করি।
• কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ না।

কোলন:
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থানের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
• ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
• সভার সিন্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাদাঁ দিতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৬৮৮.
“ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।” — এই বাক্যে ‘ঝিনুক থেকে’ অংশটি অপাদান কারকে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎপন্ন
  2. পতিত
  3. গৃহীত
  4. বিচ্যুত
সঠিক উত্তর:
গৃহীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহীত
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬,৬৮৯.
"মনের কষ্ট মনে চেপে রেখো না"- বাক্যে চেপে রাখা কোন প্রকার ক্রিয়ার উদাহরণ? 
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) জটিল ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"মনের কষ্ট মনে চেপে রেখো না"- বাক্যে 'চেপে রাখা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬৯০.
নিচের কোন শব্দটিতে বানানজনিত অপ-প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রাণিবিদ্যা
  2. দুরবস্থা
  3. সহযোগীতা
  4. দারিদ্র্য
সঠিক উত্তর:
সহযোগীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহযোগীতা
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে সহযোগীতা শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে।
- এর সঠিক প্রয়োগ হবে সহযোগী + তা = সহযোগিতা।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৬,৬৯১.
নিচের কোনটি মিশ্রবাক্য?
  1. ক) যদিও লোকটি ধনী তথাপি সে কৃপণ
  2. খ) সে কাল আসবে তারপর আমি যাবো
  3. গ) এখনই যাও নচেৎ তার দেখা পাবে না
  4. ঘ) সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ
সঠিক উত্তর:
ক) যদিও লোকটি ধনী তথাপি সে কৃপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যদিও লোকটি ধনী তথাপি সে কৃপণ
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত বাক্য সমূহের মধ্যে মিশ্র বা জটিল বাক্য হলো ‘যদিও লোকটি ধনী তথাপি সে কৃপণ’।
অন্যদিকে ‘সে কাল আসবে তারপর আমি যাবো’ এবং ‘এখনই যাও নচেৎ তার দেখা পাবে না’ বাক্যদুটি যৌগিক বাক্য। সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ- সরল বাক্য।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ)
৬,৬৯২.
নিচের কোনটিতে বিরামচিহ্নের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) ৯, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  2. খ) ৯, ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  3. গ) ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  4. ঘ) ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

• কমা:
- তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। 
- কমা যার বাংলা অর্থ ‘পাদচ্ছেদ’।
- এর বিরামের সময় ১ বলার যে সময় প্রয়োজন হয়।

• ‘কমা’ এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার:
- সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে। 
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খন্ডবাক্যের শেষে) কমে বসে।
- তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
- বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খন্ডবাক্যের পরে কমা বসে।
- একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদের সবগুলোর পরে কমা বসে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৬৯৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অন্তরিক্ষ
  2. দূরবীণ
  3. প্রবহন
  4. কৌতূক
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অন্তরিক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তরিক্ষ
ব্যাখ্যা
• অন্তরিক্ষ - শুদ্ধ বানান।

অপশনের অন্য বানান গুলো অশুদ্ধ।
এদের শুদ্ধরূপ- 
অশুদ্ধ বানান- শুদ্ধ বানান:
দূরবীণ- দুরবিন, 
প্রবহন- প্রবহণ,
কৌতূক- কৌতুক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬,৬৯৪.
উক্তি পরিবর্তন করুন: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
  1. ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
  2. ছেলেটি বলেছিল যে, গতদিন সে অনেক পড়েছে।
  3. ছেলেটি বলেছিল যে, এইদিন সে অনেক পড়েছে।
  4. ছেলেটি বলেছিল যে, আরেক দিন সে অনেক পড়েছে।
সঠিক উত্তর:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
- পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
- কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
- পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬৯৫.
কোন বানানটি ভুল?
  1. ক) শ্রদ্ধাঞ্জলি
  2. খ) উপন্যাসিক
  3. গ) শিরশ্ছেদ
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপন্যাসিক
ব্যাখ্যা

বানান নির্দেশিকা:
শ্রদ্ধা + অঞ্জলি = শ্রদ্ধাঞ্জলি
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ
উপন্যাস + ইক = ঔপন্যাসিক
কোন শব্দের প্রথমে উ/ঊ/ও কিংবা উ/ঊ/ঔ কার থাকলে ইক প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর তা ঔ কার হয়ে যায়।
আ + কাঙ্ক্ষ্ + অ + আ = আকাঙ্ক্ষা
সুতরাং অপশন খ তে বানানের ভুল থাকায় এটি সঠিক উত্তর।

তথ্যসূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৯৬.
কোন বানানটি সঠিক?
  1. ধাধা
  2. ধাধাঁ
  3. ধাঁধা
  4. ধাঁধাঁ
সঠিক উত্তর:
ধাঁধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাঁধা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ধাঁধা বানানটি সঠিক।
ধাঁধা[স. দ্বন্দ্ব >]
অর্থ:
১. কৌতূহলোদ্দীপক জটিল প্রশ্ন।
২. দিশেহারা ভাব; সংশয়; দৃষ্টিবিভ্রম।
৩. জটিল সমস্যা।



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান

৬,৬৯৭.
যৌগিক বাক্য নয় কোনটি?
  1. তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
  2. এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
  3. যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
  4. দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
সঠিক উত্তর:
যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য নয়- যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
- এটি একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
[প্রদত্তে বাক্যে ‘যদি তুমি সাবধান না হও’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য‌ আর ‘বিপদে পড়বে’ অংশটি প্রধান খণ্ডবাক্য। যা ‘তাহলে’ যোজকের মাধ্যমে দুটি বাক্যকে যুক্ত করেছে।]

--------------------
• যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন যোজক যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।+
৬,৬৯৮.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
  2. সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
  3. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
  4. মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
সঠিক উত্তর:
মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্য: মহারাজা সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: মহারাজ সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন।

অন্যদিকে: 
শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
শুদ্ধ বাক্য: সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৯৯.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যারা সৎ তারা সুখী।
  2. সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
  3. দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।
  4. আমার যে গেঞ্জিটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।
সঠিক উত্তর:
সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
ব্যাখ্যা
• সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি। একটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ন

অন্যদিকে,
- যারা সৎ তারা সুখী।- এটি একটি সরল বাক্য।
- সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।- এটি একটি সরল বাক্য।
- আমার যে গেঞ্জিটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৭০০.
নিচের কোন শব্দটি ভুল?
  1. ক) স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) শ্রদ্ধাঞ্জলি
  3. গ) অভ্যন্তরীণ
  4. ঘ) মুহর্মুহূ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহর্মুহূ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহর্মুহূ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসন, শ্রদ্ধাঞ্জলি, অভ্যন্তরীণ বানানগুলো সঠিক৷
তবে ‘মুহর্মুহূ’ এর সঠিক বানান - মুহুর্মুহু।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান