উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,১০৩.
'সে এখানে এসে সব কথা খুলে বললো' কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
ক
সরল বাক্য
খ
জটিল বাক্য
গ
যৌগিক বাক্য
ঘ
মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর: ক
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
সরল বাক্য
ক
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: সরল বাক্য যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন- পাখিগুল নীল আকাশে উড়ছে। সে এখানে এসে সব কথা খুলে বললো।
• জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা, প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকো-সেটুকো, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন - যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
• যৌগিক বাক্য: যৌগিক বাক্য দুই বা ততোধীক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে, ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ডেশ (-) প্রভৃতিও যোজকের কাজ করে। যেমন - হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১০৪.
’সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি’- বাক্যটি কোন ধরনের?
ক
সরল বাক্য
খ
জটিল বাক্য
গ
যৌগিক বাক্য
ঘ
মৌলিক বাক্য
সঠিক উত্তর: ক
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
সরল বাক্য
ক
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: - যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। - তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। - সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
উল্লেখ্য, - সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। যেমন - আমরা তিন ভাইবোন। - বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন - তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
৫,১০৫.
'মানুষ ভাবে এক হয় আরেক।'- এখানে 'মানুষ' কোন কারক?
ক
করণ কারক
খ
কর্মকারক
গ
কর্তাকারক
ঘ
অপাদান কারক
ঙ
কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ
কর্তাকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
কর্তাকারক
গ
ব্যাখ্যা
• কর্তাকারক: বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে। ক্রিয়াকে 'কে/ কারা' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
এরূপ- - 'মানুষ ভাবে এক হয় আরেক।'- এই বাক্যে 'মানুষ' কর্তাকারক। [ বাক্যেটিকে (কে ভাবে?) প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মানুষ'। সুতরাং এখানে 'মানুষ' কর্তাকারকে শূন্য বিভক্তি।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১-সংস্করণ)।
"পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন।" - বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
ক
কর্তাবাচ্য
খ
কর্মবাচ্য
গ
ভাববাচ্য
ঘ
কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর: ক
কর্তাবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
কর্তাবাচ্য
ক
ব্যাখ্যা
বাচ্য: - বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। - প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: ১. কৰ্তাবাচ্য, ২. কর্মবাচ্য ও ৩. ভাববাচ্য।
কর্তাবাচ্য: - যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়। - যেমন: • তারা বাড়িটি তৈরি করেছে। • পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন। • প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। • আমরা কঠোর পরিশ্রম করি। • একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
- অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে। যেমন – • ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে। • শরতে শিউলি ফোটে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১০৮.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক
দূরদর্শি
খ
পূর্বাহ্ণিক
গ
দুরাকাঙ্খী
ঘ
তিরষ্কার
সঠিক উত্তর: খ
পূর্বাহ্ণিক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পূর্বাহ্ণিক
খ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: পূর্বাহ্ণিক (বিশেষণ পদ), - এটি সংস্কৃত শব্দ। অর্থ: দিনের প্রথমভাগে করণীয়, পূর্বাহ্ণে করা উচিত এমন।
অন্যদিকে, • শুদ্ধ বানান: দূরদর্শী (বিশেষণ পদ), - এটি সংস্কৃত শব্দ। অর্থ: - বিচক্ষণ, - ভবিষ্যতের ফলাফল অনুধাবন করতে পারে এমন।
• শুদ্ধ বানান: দুরাকাঙ্ক্ষী, - এটি সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃত প্রত্যয় = [দুঃ+আ+√কাঙ্ক্ষ্+ইন্] অর্থ: অনুচিত উচ্চ আকাঙ্ক্ষাবিশিষ্ট।
• শুদ্ধ বানান: তিরস্কার ( বিশেষ্য পদ), - এটি সংস্কৃত শব্দ। অর্থ: - ভর্ৎসনা, - অবজ্ঞা, - অনাদর।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১০৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত অমিত্রাক্ষর ছন্দ বাংলা কোন ছন্দের নব-রূপ?
ক
স্বরবৃত্ত
খ
মাত্রাবৃত্ত
গ
অক্ষরবৃত্ত
ঘ
ত্রিপদী
সঠিক উত্তর: গ
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অক্ষরবৃত্ত
গ
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ: - উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। - 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই। - অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ। - মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।
• 'অক্ষরবৃত্ত' ছন্দ: - উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ। - অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ। - অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে। - পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,১১০.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
ক
বৈরী
খ
পরজীবী
গ
দূরদর্শী
ঘ
ফৌজদারী
ঙ
কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ
ফৌজদারী
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ফৌজদারী
ঘ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'ফৌজদারী'
• শুদ্ধ বানান - 'ফৌজদারি' - এটি একটি বিশেষ্য পদ। এর অর্থ: - খুন জখম মারপিট প্রভৃতি অপরাধসংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা।
অন্যদিকে, - পরজীবী, দূরদর্শী এবং বৈরী - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১১১.
‘রাজ মাঠে খেলতে যায়।’—এ বাক্যের উদ্দেশ্য কোনটি?
ক
রাজ
খ
মাঠে
গ
খেলতে
ঘ
যায়
সঠিক উত্তর: ক
রাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
রাজ
ক
ব্যাখ্যা
• উদ্দেশ্য ও বিধেয়: - বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। যেমন: - সজল স্কুলে যায়। এখানে, উদ্দেশ্য হচ্ছে 'সজল' এবং বিধেয় হচ্ছে 'স্কুলে যায়'।
তেমনিভাবে, "রাজ মাঠে খেলতে যায়।" - এখানে উদ্দেশ্য হলো - রাজ। এবং বিধেয় হলো - মাঠে খেলতে যায়।
- বিশেষ্য বা বিশেষ্যস্থানীয় অন্যান্য পদ বা পদসমষ্টিযোগে গঠিত বাক্যাংশও বাক্যের উদ্দেশ্য হতে পারে। যেমন: - সৎ লোকেরাই প্রকৃত সুখী। (বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত বিশেষণ)। - মিথ্যা কথা বলা খুবই অন্যায়। (ক্রিয়াজাত বাক্যাংশ)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১১২.
'ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।' - বাক্যে 'লাঠি' কোন কারক?
ক
কর্তৃকারক
খ
কর্মকারক
গ
করণ কারক
ঘ
অপাদান কারক
সঠিক উত্তর: গ
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
করণ কারক
গ
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: - 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। - ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। যেমন - → নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম) → 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)
• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার: (ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি: - ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) - ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)
(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়। - দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।
(গ) সপ্তমী বিভক্তি বা 'এ' বিভক্তি: → ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। → শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। - তে বিভক্তি: → 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল। → লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব। - য় বিভক্তি: → চেষ্টায় সব হয়। → এ সুতায় কাপড় হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১১৩.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
ক
জুগুপ্সা
খ
জুগুপ্সু
গ
জিহীর্ষু
ঘ
জুগুপ্সীত
সঠিক উত্তর: ঘ
জুগুপ্সীত
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
জুগুপ্সীত
ঘ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: জুগুপ্সীত। শুদ্ধরূপ: জুগুপ্সিত। - শব্দটি বিশেষণ পদ। অর্থ: - নিন্দা করা হয়েছে এমন। - ঘৃণিত।
অন্যদিকে, জুগুপ্সা, জুগুপ্সু ও জিহীর্ষু শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১১৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
ক
ক) দরিদ্রতা
খ
খ) উর্দ্ধ
গ
গ) উপযোগিতা
ঘ
ঘ) শ্রদ্ধাঞ্জলি
সঠিক উত্তর: খ
খ) উর্দ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) উর্দ্ধ
খ
ব্যাখ্যা
উর্দ্ধ এর সঠিক বানান - ঊর্ধ্ব ঊর্ধ্ব এর অর্থ - ওপরের দিক, উপরিভাগ
[উৎস: আধুনিক বাংলা একাডেমি]
৫,১১৫.
'আশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিনু হায়'- এই বাক্যে 'ছলনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
অধিকরণে ৭মী
খ
করণে ৭মী
গ
কর্মে ৭মী
ঘ
অপাদানে ৭মী
ঙ
কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
করণে ৭মী
খ
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: - 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। - ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়। - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক। যেমন - - নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)। - 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)।
• 'আশার ছলনে ভুলি কি ফল লভিনু হায়' – 'ছলনে' শব্দের কারক ও বিভক্তি: বাক্যটির অর্থ: "আশার ছলনে ভুলে আমি কী ফল পেলাম!" 'ছলনে' শব্দটি "আশা"র দ্বারা যে ছলনা করা হয়েছে, সেই মাধ্যম বা প্রেক্ষাপট নির্দেশ করছে। এখানে 'ছলনে' শব্দটি ভোলার উপায় বা মাধ্যম নির্দেশ করছে "কিসের দ্বারা বা কোন উপায়ে ভুলি?" - আশার ছলনার দ্বারা। অর্থ্যাৎ, এখানে 'ছলনে' করণ কারক নির্দেশ করছে। আবার, ‘ছলনে’ শব্দের সাথে সপ্তমী বিভক্তি (এ) যুক্ত হয়ে গঠিত।
সুতরাং, 'ছলনে' = করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
ব্যাখ্যা: ‘ঐক্যমত’ শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি সমাসসাধিত শব্দ, যা ‘মতের ঐক্য’ থেকে গঠিত। এটি একটি তৎপুরুষ সমাস, যেখানে ‘মত’ (বিশেষ্য) এবং ‘ঐক্য’ (বিশেষ্য) মিলে ‘মতের ঐক্য’ বোঝায়, অর্থাৎ ‘একই মতামত’ বা ‘মতৈক্য’। বাংলা ব্যাকরণে সমাসের মাধ্যমে এ ধরনের শব্দ গঠন সঠিক এবং প্রচলিত। তাই, ‘ঐক্যমত’ শব্দটি সমাসসাধিত হিসেবে বিবেচিত হলে অশুদ্ধ নয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১১৮.
‘আয়ু যেন পদ্মপাতায় নীর’ বাক্যে ‘পদ্মপাতায়’ কোন কারক?
ক
কর্মকারক
খ
করণ কারক
গ
অপাদান কারক
ঘ
অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর: ঘ
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
অধিকরণ কারক
ঘ
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক: - যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। - এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন: - বাবা বাড়িতে আছেন। - বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে। - আয়ু যেন পদ্মপাতায় নীর।
অন্যদিকে, কর্মকারক: - কর্তা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে। - ক্রিয়াকে ‘কি বা ‘কাকে' জিজ্ঞেস করে যে উত্তর পাওয়া যায় তা কর্ম এবং ক্রিয়া পদের সঙ্গে কর্মের সম্বন্ধই কর্মকারক।
করণ কারক: - 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। - ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক। যেমন: - নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)। - 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)। - 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান) করণে ৭মী।
অপাদান কারক: - যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয় , তাকে অপাদান কারক বলে । - এই কারকে সাধারনত ‘হতে’, ‘থেকে’,ইত্যাদি অনুসর্গের পরে বসে ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৫,১১৯.
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে মিলে যে বাক্য হয় তাকে কী বাক্য বলে?
ক
ক) যৌগিক বাক্য
খ
খ) অক্রিয় বাক্য
গ
গ) সরল বাক্য
ঘ
ঘ) জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর: ক
ক) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) যৌগিক বাক্য
ক
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হচ্ছে যৌগিক বাক্য।
• যৌগিক বাক্য: - এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে। যেমন- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১২০.
"মিথ্যাবাদীকে কেউ ভালবাসে না” কোন ধরণের বাক্য?
ক
ক) যৌগিক
খ
খ) সরল
গ
গ) জটিল
ঘ
ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর: খ
খ) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) সরল
খ
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
উল্লেখিত বাক্য- "মিথ্যাবাদীকে কেউ ভালবাসে না” তাই একটিঁ সরল বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১২১.
'আমি এসেছি, কারণ তোমাকে নিয়ে যাবো' - এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
ক
ক) মিশ্র বাক্য
খ
খ) যৌগিক বাক্য
গ
গ) জটিল বাক্য
ঘ
ঘ) উপরের ক ও গ
সঠিক উত্তর: খ
খ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) যৌগিক বাক্য
খ
ব্যাখ্যা
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা তথোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। - নিরপেক্ষ বাক্যগুলো 'এবং', 'ও', 'কিন্তু', 'অথবা', 'অথচ', 'কিংবা', 'কারণ' প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে। যেমন - - নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু কোন পথ দেখালেন না।
তেমনিভাবে প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য। "আমি এসেছি" ও "তোমাকে নিয়ে যাবো" - দুইটি স্বাধীন বাক্য। "কারণ" অব্যয় দিয়ে এই দুটি বাক্যকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৫,১২২.
দেশ সংক্রান্ত কোন বানান জোড় শুদ্ধ?
ক
ক) চীন, চৈনিক
খ
খ) ইংরেজী, ইংলিশ
গ
গ) মালদ্বিপ, মালে
ঘ
ঘ) আরবী, আরব্য
সঠিক উত্তর: ক
ক) চীন, চৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) চীন, চৈনিক
ক
ব্যাখ্যা
• দেশ জাতি ও ভাষার নামের ক্ষেত্রে -ই কার হবে। ব্যাতিক্রম: চীন, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা।
তাই, চীন, চৈনিক শুদ্ধ বানান।
অন্যান্য অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ- • ইংরেজি (বিশেষ্য) অর্থ: ইংরেজদের ভাষা
• মালদ্বীপ (বিশেষ্য)
• আরবি (বিশেষ্য) অর্থ: আরবদেশের ভাষা
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,১২৩.
'গরুর শকট' শব্দটির কি দোষ দেখা যায়?
ক
ক) উপমার ভুল প্রয়ােগ
খ
খ) গুরুচণ্ডালী
গ
গ) দুর্বোধ্যতা
ঘ
ঘ) আকাঙ্খার ভুল প্রয়ােগ
সঠিক উত্তর: খ
খ) গুরুচণ্ডালী
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) গুরুচণ্ডালী
খ
ব্যাখ্যা
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়। - ‘গরুর গাড়ি’, ‘শবদাহ’, ‘মড়াপােড়া’ প্রভৃতি স্থলে যথাক্রমে ‘গরুর শকট’, ‘শবপােড়া’, ‘মড়াদাহ' প্রভৃতির ব্যবহার গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৫,১২৪.
'মনে পড়ে সেই ছোটোবেলায় স্কুল পলায়ন' - বাক্যে 'স্কুল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
ক) অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি
খ
খ) করণ কারকে শূণ্য বিভক্তি
গ
গ) অপাদান কারকে শূণ্য বিভক্তি
ঘ
ঘ) অধিকরন কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
সঠিক উত্তর: গ
গ) অপাদান কারকে শূণ্য বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) অপাদান কারকে শূণ্য বিভক্তি
গ
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক : যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক বলে।
• অপাদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ: - গাছ থেকে পাতা পড়ে । (কোথা থেকে পড়ে? গাছ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি। - নদী থেকে জল পাই। (কোথা থেকে পাই? নদী থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি। - বিপদ থেকে বাঁচাও। (কী থেকে বাঁচাও? বিপদ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি। - বাঘকে ভয় পায় না কে? (কী হতে ভয় বের হলো? বাঘ হতে) : অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি। - মনে পড়ে সেই ছোটোবেলায় স্কুল পলায়ন। (কোথা থেকে পলায়ন? স্কুল থেকে) : অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি। - তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। (কোথা থেকে এসেছেন? চট্টগ্রাম থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি - বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছিল। (কীসে থেকে ফেলা হয়েছিল? বিমান থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,১২৫.
'দ্বারা', 'দিয়া', 'কর্তৃক' কোন বিভক্তি?
ক
প্রথমা বিভক্তি
খ
দ্বিতীয়া বিভক্তি
গ
তৃতীয়া বিভক্তি
ঘ
পঞ্চমী বিভক্তি
সঠিক উত্তর: গ
তৃতীয়া বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
তৃতীয়া বিভক্তি
গ
ব্যাখ্যা
• বিভক্তি: - যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি। বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার। - প্রথমা বিভক্তি: শূণ্য। - দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে, রে। - তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক। - চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে। - পঞ্চমী বিভক্তি: হতে, হইতে, থেকে, চেয়ে। - ষষ্ঠী বিভক্তি: র, এর। - সপ্তমী বিভক্তি: এ (য়), তে, এতে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।
৫,১২৬.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ ণত্ব ও ষত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
ক
ক) ঘণ্টা, দ্বেশ, ক্রন্দণ
খ
খ) বর্ননা, সুষমা, লবণ
গ
গ) ব্রাহ্মণ, কষ্ট, পোষাক
ঘ
ঘ) ভাষণ, গ্রন্থ, জিনিস
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) ভাষণ, গ্রন্থ, জিনিস
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) ভাষণ, গ্রন্থ, জিনিস
ঘ
ব্যাখ্যা
শব্দগুচ্ছ ণত্ব ও ষত্ব বিধান অনুসারে সঠিক শব্দগুচ্ছ: ভাষণ, গ্রন্থ, জিনিস
শুদ্ধ বানান: বর্ণনা, পোশাক, দ্বেষ, ক্রন্দন ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,১২৭.
'আমরা কানে শুনি।'- বাক্যে 'কানে' কোন কারক?
ক
কর্তৃ কারক
খ
অপাদান কারক
গ
করণ কারক
ঘ
অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর: গ
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
করণ কারক
গ
ব্যাখ্যা
• করণ কারক: ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। যেমন- - আমরা কানে শুনি। [কি দিয়ে শুনি? কান দিয়ে। 'কান' করণ কারক।]
ক্রিয়া সম্পাদনের উপায় হিসেবে যা ব্যবহৃত হয় তা-ই করণ কারক। কলমে লিখি। চোখে দেখি। এসব ক্ষেত্রে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী দিয়ে'-এ প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক। যেমন: - মন দিয়ে বিদ্যা অর্জন কর।
করণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ • প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : - ছেলেরা ফুটবল খেলে। - সে তাস খেলে ইত্যাদি।
"আমারই সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।" - নিম্নরেখ অংশটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
কর্তৃকারকে সপ্তমী
খ
করণকারকে সপ্তমী
গ
অপাদান কারকে সপ্তমী
ঘ
অধিকরণ কারকে সপ্তমী
সঠিক উত্তর: খ
করণকারকে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
করণকারকে সপ্তমী
খ
ব্যাখ্যা
করণ কারক: - 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক। বাক্যটি - "আমারই সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।" - এই বাক্যে কিসের দ্বারা বা কী উপায়ে গিয়েছে ভরি? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সোনার ধানে’। এবং এর সাথে সপ্তমী বিভক্তি ‘এ’ যুক্ত হয়েছে।
'তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।' উপরের বাক্যটিতে কি ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
ক
ক) প্রবাদ-প্রবচন জনিত ভুল
খ
খ) বাহুল্য জনিত
গ
গ) সন্ধি জনিত
ঘ
ঘ) বাচ্যজনিত
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বাচ্যজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বাচ্যজনিত
ঘ
ব্যাখ্যা
- কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে। - যেমন- উপরে উল্লিখিত বাক্যটির সঠিক রূপ হবে 'তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে'। - অর্থাৎ, বাক্যটিতে বাচ্যজনিত ভুল হয়েছে।
সূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৩১.
নিচের শুদ্ধ বাক্যটি হলো-
ক
ক) ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়
খ
খ) জনস্থানে ধূম্রপান নিষেধ
গ
গ) পরিবারের সকলে আজ একত্রিত
ঘ
ঘ) গতকাল তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিক উদযাপিত হলো
সঠিক উত্তর: ক
ক) ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়
ক
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যঃ ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।
অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপঃ - জনস্থানে ধূমপান নিষেধ। - পরিবারের সকলে আজ একত্র। - গতকাল তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী উদযাপিত হলো।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান ও 'বই পড়া' প্রবন্ধ।
৫,১৩২.
পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে ভাব অনুযায়ী ক্রিয়ার পরিবর্তন করতে হয় কোন প্রকার বাক্যে?
ক
ক) প্রশ্নসূচক
খ
খ) অনুজ্ঞাসূচক
গ
গ) আবেগসূচক
ঘ
ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) সবগুলো
ঘ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন, অনুজ্ঞা ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে ভাব অনুযায়ী ক্রিয়ার পরিবর্তন করতে হয়। যেমন - প্রত্যক্ষ উক্তি: মা আমাকে বললেন, “তােমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে কবে?” পরােক্ষ উক্তি: মা আমার কাছে জানতে চাইলেন কবে আমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে। প্রত্যক্ষ উক্তি: লােকটি আমাকে বললেন, 'অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।' পরােক্ষ উক্তি: লােকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরােধ করলেন। প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলে উঠলাে, 'বাহ! কী সুন্দর বাড়ি।' পরােক্ষ উক্তি: ছেলেটি আনন্দের সঙ্গে বললাে যে, বাড়িটি খুব সুন্দর।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,১৩৩.
শুদ্ধ বাক্য নিম্নের কোনটি?
ক
কৃত্তিবাস বাংলা রামায়ণ লিখেছেন।
খ
আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নেই
গ
অতিলোভে তাতী নষ্ট
ঘ
অতিশয় দুঃখিত হলাম
সঠিক উত্তর: ক
কৃত্তিবাস বাংলা রামায়ণ লিখেছেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
কৃত্তিবাস বাংলা রামায়ণ লিখেছেন।
ক
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ- - খুব দুঃখ পেলাম। - আমার আর বাঁচার সাধ নেই। - অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৩৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
ক
নির্মুল
খ
কিরীটিনী
গ
সংকীর্ন
ঘ
নুতন
সঠিক উত্তর: খ
কিরীটিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
কিরীটিনী
খ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'কিরীটিনী' - শুদ্ধ বানান।
শব্দের অর্থ: - মুকুটধারিণী। - যার ঊর্ধ্বদেশ শোভিত বা মণ্ডিত এমন।
• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য: যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়। যেমন: - আদেশ: কাছে এসো। - উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে। - অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন। - নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।। - প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।
এরূপ- 'বল বীর বল উন্নত মম শির'- আদেশসূচক একটি বাক্য।
[জ্ঞাতব্য: বাংলায় বর্তমান অনুজ্ঞার সঙ্গে নিষেধার্থক 'না' হয় না, হয় ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার সঙ্গে।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৩৬.
বিজন ভট্টাচার্যের নাটক 'নবান্ন' — ১৯৪৩ সালের _________ কে কেন্দ্র করে রচিত।
ক
মণ্বন্তর
খ
মম্বন্তর
গ
মন্বন্তর
ঘ
মনন্তর
সঠিক উত্তর: গ
মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
মন্বন্তর
গ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - "মন্বন্তর"।
সুতরাং, বিজন ভট্টাচার্যের নাটক 'নবান্ন' — ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরকে কেন্দ্র করে রচিত।
অপশন ক) - এর স্বচ্ছল বানানটি অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - সচ্ছল। অপশন খ) - এর নির্ণিমেষ বানানটি অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - নির্নিমেষ। অপশন গ) - এর দরুণ বানান অশুদ্ধ। শুদ্ধরূপ - দরুন।
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১৩৮.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
ক
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
খ
তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
গ
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
ঘ
বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
সঠিক উত্তর: ক
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
ক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
অন্যদিকে, - অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন। - শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
- অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে। - শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
- অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। - শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৩৯.
ভাববাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
ক
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
খ
কোথা থেকে আসা হলো।
গ
তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
ঘ
এবার বাঁশিটি বাজাও।
সঠিক উত্তর: খ
কোথা থেকে আসা হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
কোথা থেকে আসা হলো।
খ
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য: - যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। - যেমন: • আমার যাওয়া হল না। • কোথা থেকে আসা হলো। • এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
কর্মবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে। - যেমন: - পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে। - তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে। - আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। - আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
কর্তাবাচ্য: - যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়। - যেমন: - তারা বাড়িটি তৈরি করেছে। - এবার বাঁশিটি বাজাও।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৪০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
ক
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
খ
অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
গ
আমি সন্তোষ হলাম।
ঘ
কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঘ
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
কোনটিই নয়
ঘ
ব্যাখ্যা
• অপশনে প্রদত্ত সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম। শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।
অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে। শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
• সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ। যথা, - কর্তা, - কর্ম ও - ক্রিয়া।
- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা। - যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম। - আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
অশুদ্ধ বাক্য: কথাটি সঠিক নয়। শুদ্ধ বাক্য: কথাটি ঠিক নয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৪৩.
"আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হইল" বাক্যটিতে কোন ধরনের দোষ আছে?
ক
বাহুল্য দোষ
খ
উপমার ভুল প্রয়োগ
গ
বাগধারার দোষ
ঘ
গুরুচণ্ডালী দোষ
ঙ
কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ
উপমার ভুল প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
উপমার ভুল প্রয়োগ
খ
ব্যাখ্যা
উপমার ভুল প্রয়ােগ: - উপমা ভাষাবিশেষের সম্পদ। বিশেষ অর্থে প্রসঙ্গ অনুযায়ী এসব উপমা প্রয়ােগ করা হয়ে থাকে। - সঠিকভাবে এসব উপমা ব্যবহার না করলে বাক্য তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন: - আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল। - এখানে উপমার ভুল প্রয়ােগ ঘটেছে, কারণ বীজ মন্দিরে বপন করা হয় না, বপন করা হয় ক্ষেতে। - বাক্যটি হবে 'আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হল।'
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৪৪.
নিচের কোন বাক্যে গুরুচণ্ডালী দোষ পরিলক্ষিত?
ক
তিনি বাড়ি হইতে বাহির হইয়াছেন।
খ
তাঁর সাথে আমার দেখা হয়নি কতকাল!
গ
এ কাজে তাহার হাত পাকা।
ঘ
এ কাজটি করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
সঠিক উত্তর: গ
এ কাজে তাহার হাত পাকা।
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
এ কাজে তাহার হাত পাকা।
গ
ব্যাখ্যা
⇒ তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এদোষে দুষ্টু শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। যেমন: - গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ। কিন্তু যদি বলা হয়- গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।
• 'এ কাজে তাহার হাত পাকা।'- বাক্যটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ রয়েছে। • বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- 'এই কার্যে তাহার হস্ত পাকা' বা 'এ কাজে তার হাত পাকা'।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৪৫.
নিচের বিকল্পগুলো থেকে শুদ্ধ বানান বাছাই করুন-
ক
অন্যমনষ্ক
খ
সমিচীন
গ
মনীষী
ঘ
অপকর্শ
সঠিক উত্তর: গ
মনীষী
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
মনীষী
গ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান হলো- মনীষী।
• মনীষী (বিশেষণ পদ), - এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃতি প্রত্যয়: মনীষা + ইন্। • এর অর্থ: - তীক্ষ্ণধী, - বিদ্বান, - প্রতিভাসম্পন্ন।
• সমীচীন (বিশেষণ পদ) - এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। - এর অর্থ হচ্ছে: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।
আরো কিছু শুদ্ধ বানান: • অপকর্শ এর শুদ্ধ বানান - অপকর্ষ। • অন্যমনষ্ক এর শুদ্ধ বানান - অন্যমনস্ক। • অন্যপুর্বা এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা। • জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান - জাজ্বল্যমান। • প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত। • শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান - শাশ্বত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১৪৬.
কোন বাক্য অশুদ্ধ?
ক
ক) আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
খ
খ) গতকালের সভায় সকল শিক্ষক ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
গ
গ) লোকটি নিরপরাধী।
ঘ
ঘ) অন্ধজনে দেহ আলো।
সঠিক উত্তর: গ
গ) লোকটি নিরপরাধী।
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) লোকটি নিরপরাধী।
গ
ব্যাখ্যা
'লোকটি নিরপরাধী' বাক্যটি অশুদ্ধ। শুদ্ধ বাক্য হবে = লোকটি নিরপরাধ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫,১৪৭.
নিচের কোন শব্দে সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
ক
অনটন
খ
অদ্যাবধি
গ
বাগেশ্বরী
ঘ
মুখচ্ছবি
সঠিক উত্তর: গ
বাগেশ্বরী
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বাগেশ্বরী
গ
ব্যাখ্যা
• সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে - 'বাগেশ্বরী' শব্দে। - এই শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - বাগীশ্বরী। - 'বাগীশ্বরী' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - বাক্ + ঈশ্বরী।
অন্যদিকে, - মুখচ্ছবি, অদ্যাবধি এবং অনটন - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৪৮.
"তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।" - বাক্যটি যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন -
ক
পাঁচ টাকা দিয়ে তিনি বললেন, তুমি বাড়ি যাও।
খ
তিনি আমাকে বললেন বাড়ি যেতে, সঙ্গে পাঁচ টাকা দিলেন।
গ
তিনি পাঁচ টাকা দিয়ে বললেন যে বাড়ি যাও।
ঘ
তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
সঠিক উত্তর: ঘ
তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
ঘ
ব্যাখ্যা
সরল থেকে যৌগিক বাক্য রূপান্তর: - যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন: সরল বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন। যৌগিক বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৪৯.
কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
ক
এক সেকেন্ড
খ
থামার প্রয়োজন নেই
গ
এক বলতে যে সময় লাগে
ঘ
এক বলার দ্বিগুণ সময়
সঠিক উত্তর: গ
এক বলতে যে সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
এক বলতে যে সময় লাগে
গ
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ: • কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে - - 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,১৫০.
“ঈশান বল দিয়ে ফুটবল খেলে।” — বাক্যটিতে ‘বল দিয়ে’ কোন কারক নির্দেশ করে?
ক
কর্তৃকারক
খ
কর্মকারক
গ
করণ কারক
ঘ
অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর: গ
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
করণ কারক
গ
ব্যাখ্যা
- “ঈশান বল দিয়ে ফুটবল খেলে।” - বাক্যটিতে ‘বল দিয়ে’ করণ কারক নির্দেশ করে। ------------------------- • করণ কারক: - বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে যে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) সম্পর্ক থাকে, তাকে কারক বলে। - কারক দেখায় যে, কে কাজটি করছে, ক্রিয়াটি কার ওপরে ঘটছে, কোথায় বা কীভাবে ঘটছে ইত্যাদি। - যেই পদ দিয়ে বোঝায় যে কাজটি কোন যন্ত্র, উপকরণ বা উপায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে সেই পদই হলো করণ কারক। - বাক্যে ক্রিয়াপদকে যদি ‘কী দিয়ে’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করা হয়, তবে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই করণ কারক। - যেমন: • সেলিনা চাবি দিয়ে তালা খুলল (কী দিয়ে খুলল? → চাবি দিয়ে)। • মমিন লাঠির দ্বারা দরজাটি ভাঙল (কী দ্বারা ভাঙল? → লাঠির দ্বারা)। ------------------------------------- • বাক্য: ঈশান বল দিয়ে ফুটবল খেলে। - ঈশান → কর্তৃকারক (ক্রিয়ার সম্পাদক/যে কাজটি করে); - বল দিয়ে → করণ কারক (কী দিয়ে কাজটি সম্পাদিত হচ্ছে); - ফুটবল → কর্মকারক (ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু)। আবার, - “কী দিয়ে খেলে?” → বল দিয়ে ⇒ করণ কারক। - এখানে খেলার কাজটি বল দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, তাই এটি করণ কারক। ---------------------------------- অন্যদিকে, - কর্তৃকারক – কাজটি যে করে তাকে বোঝায় (এখানে ঈশান)। - কর্মকারক – কাজটি যার উপর হয় তাকে বোঝায় (এখানে ফুটবল )। - অধিকরণ কারক – কাজটি কোথায় বা কখন হয় তা বোঝায়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।
৫,১৫১.
‘জমি থেকে ফসল পাই।' এখানে 'জমি থেকে' কোন কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ?
ক
করণ কারক
খ
অধিকরণ কারক
গ
অপাদান কারক
ঘ
কর্তা কারক
সঠিক উত্তর: গ
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অপাদান কারক
গ
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক: - যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। যেমন - - জমি থেকে ফসল পাই। - সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
অন্যদিকে, অধিকরণ কারক: - ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। যেমন: - বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷ - তিলে তৈল আছে।
করণ কারক: - যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। - এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। যেমন, - ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
কর্তা কারক: - ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। - বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। যেমন - - আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম। - অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৫২.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
ক
রূপনগর উচ্চবালিকা বিদ্যালয়
খ
রূপনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়
গ
রূপনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
ঘ
রূপনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
সঠিক উত্তর: ঘ
রূপনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
রূপনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
ঘ
ব্যাখ্যা
• "রূপনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।" - বাক্যটি শুদ্ধ।
অপশন বিশ্লেষণ: ক) রূপনগর উচ্চবালিকা বিদ্যালয়: এখানে "উচ্চবালিকা" একটি ভুল গঠন, কারণ "উচ্চ" এবং "বালিকা" আলাদা শব্দ এবং এভাবে যুক্ত করা প্রচলিত নয়। সঠিক হবে "বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়"।
খ) রূপনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়: এখানে "বিদ্যলয়" বানানটি ভুল। বাংলায় সঠিক বানান হলো "বিদ্যালয়"। তাই এটি শুদ্ধ নয়।
গ) রূপনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়: এখানে "উচ্চবিদ্যালয়" এক শব্দে লেখা হয়েছে, প্রমিত বাংলায় "উচ্চ বিদ্যালয়" গ্রহণযোগ্য।
ঘ) রূপনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়: এটি সঠিক এবং প্রমিত। "বালিকা" সঠিকভাবে ব্যবহৃত, "উচ্চ বিদ্যালয়" দুটি শব্দ হিসেবে লেখা হয়েছে, এবং "বিদ্যালয়" বানানটি শুদ্ধ।
সঠিক উত্তর: ঘ) রূপনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম; বাংলা বানান প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ - ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,১৫৩.
‘আষাঢ়ে বৃষ্টি নামে’ -ব্যক্যে আষাঢ় শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
কর্তায় ৭মী
খ
কর্মে ৭মী
গ
অপাদানে ৭মী
ঘ
অধিকরণে ৭মী
সঠিক উত্তর: ঘ
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
অধিকরণে ৭মী
ঘ
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক: - যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। - এই কারকে সাধারণত ‘এ’, ‘য়’, ‘সে’, ‘-তে’ ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন – - বাবা বাড়িতে আছেন। - বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে। - রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালাে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৫৪.
‘ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।’ বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
ক
ছেলেটির বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
খ
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
গ
যদিও ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
ঘ
ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
সঠিক উত্তর: গ
যদিও ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
যদিও ছেলেটির বয়স অল্প তবু বেশ বুদ্ধিমান।
গ
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য: - যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেমন-তেমন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন: • যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। • যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। • যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য: যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্য়ে রূপান্তর করার সময় যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিয়ে, এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।
• যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান। • জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।
অন্যদিকে, • সরলরূপ: ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৫৫.
অন্যথাসূচক শব্দ যদি বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাহলে ওই শব্দের পূর্ববর্তী শব্দের শেষে কোন যতিচিহ্ন বসে?
ক
কোলন
খ
কমা
গ
ড্যাস
ঘ
সেমিকোলন
সঠিক উত্তর: খ
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
কমা
খ
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন: মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
• ‘কমা’ যতিচিহ্ন: - কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ। - শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে। যেমন: - স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন? - রব, এদিকে এসো।
• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়। যেমন: - জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী। - মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।
• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে। যেমন: - ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।
• নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে। যেমন: - ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, এমএ. পিএইচডি।
• অন্যথাসূচক শব্দ যদি বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাহলে ওই শব্দের পূর্ববর্তী শব্দের শেষে কমা বসবে। যেমন: - কাল অফিসে যেও, নইলে তোমার চাকরি থাকবে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,১৫৬.
“১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে বাঙালি জাতির অহংকার রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।” - এই বাক্যে বিধেয়ের পূরক কোনটি?
ক
ক) উৎসর্গ করেছিলেন
খ
খ) জীবন
গ
গ) মাতৃভাষার জন্য
ঘ
ঘ) বাঙালি জাতির অহংকার
সঠিক উত্তর: খ
খ) জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) জীবন
খ
ব্যাখ্যা
''১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে বাঙালি জাতির অহংকার রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।''
এই বাক্যে উদ্দেশ্য হলাে 'রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার', উদ্দেশ্যের প্রসারক হলাে 'বাঙালি জাতির অহংকার’ ।
বিধেয় ক্রিয়া হলাে 'উৎসর্গ করেছিলেন', বিধেয়ের পূরক হলাে 'জীবন'। অন্যদিকে '১৯৫২ সালে', 'ঢাকার রাজপথে', এবং 'মাতৃভাষার জন্য' - এই তিনটি অংশ হলাে বিধেয়ের প্রসারক।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৫,১৫৭.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
ক
গীতাঞ্জলি
খ
কর্মকান্ড
গ
জীবিকা
ঘ
চতুষ্কোণ
সঠিক উত্তর: খ
কর্মকান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
কর্মকান্ড
খ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'কর্মকান্ড' - এর শুদ্ধ বানান - 'কর্মকাণ্ড' - এটি একটি বিশেষ্য পদ। এর অর্থ: - যাবতীয় কাজ।
অন্যদিকে, - চতুষ্কোণ, জীবিকা এবং গীতাঞ্জলি শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১৫৮.
'তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না।' - কোন ধরনের বাক্য?
ক
বিস্ময়সূচক বাক্য
খ
সরল বাক্য
গ
যৌগিক বাক্য
ঘ
জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর: ঘ
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
জটিল বাক্য
ঘ
ব্যাখ্যা
• 'তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না।' - জটিল বাক্য।
• মিশ্র বা জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যথা - আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য ১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে। ২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।
• বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যথা - - আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত) - তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)
তদ্রুপ - ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৫৯.
'মামুন বল খেলে।' বাক্যে বিধেয় অংশ কোনটি?
ক
ক) মামুন
খ
খ) বল
গ
গ) খেলে
ঘ
ঘ) বল খেলে
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বল খেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) বল খেলে
ঘ
ব্যাখ্যা
বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় -এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।
উদ্দেশ্য: বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে। যেমন- 'মামুন বল খেলে।' এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে। অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।
বিধেয়: বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে। যেমন - 'মামুন বল খেলে।' এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৬০.
'এই বনে বাঘের ভয় নেই।' এখানে 'বাঘের' কোন কারক?
ক
করণ কারক
খ
অপাদান কারক
গ
কর্ম কারক
ঘ
সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর: খ
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
অপাদান কারক
খ
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক: যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন: - ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে। [বাক্যে 'স্টেশন' থেকে রেলগাড়িটি বিচ্যুত হয়েছে। এবং এতে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি। তাই 'স্টেশন' শব্দটি অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।]
- এই বনে বাঘের ভয় নেই। [বাক্যে বাঘের ভয়ে ভীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং 'বাঘের' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি।]
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
তৎকালীন সময়ের রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ। - এই বাক্যে কী ধরনের অশুদ্ধি আছে?
ক
ক) বাচ্যজনিত
খ
খ) বাহুল্যজনিত
গ
গ) বানান ভুল জনিত
ঘ
ঘ) যথার্থশব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল
সঠিক উত্তর: খ
খ) বাহুল্যজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) বাহুল্যজনিত
খ
ব্যাখ্যা
- তৎকালীন সময়ের রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ। - এই বাক্যে বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি আছে। - এই বাক্যের শুদ্ধ রূপ হবে - তৎকালের রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ/তৎকালীন রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫,১৬৩.
'অর্থ অনর্থ ঘটায়।' বাক্যে 'অর্থ' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
করণে ৭মী
খ
কর্মে শূন্য
গ
কর্তায় শূন্য
ঘ
অপাদানে শূন্য
সঠিক উত্তর: গ
কর্তায় শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
কর্তায় শূন্য
গ
ব্যাখ্যা
• কর্তা কারক: ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা করকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। যেমন: - আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম। - অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।
কর্তা কারকে কখনো কখনো-এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: - পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।
এরূপ- • অর্থ অনর্থ ঘটায়।
[বাক্যে ‘অর্থ’ হলো কর্তৃকারক, কারণ এটি ‘ঘটায়’ ক্রিয়াটির কাজ করছে। ‘অনর্থ’ হলো কর্মকারক, কারণ এটি ক্রিয়াটির ফল বা লক্ষ্য। এভাবে, বাক্যটি বোঝাচ্ছে যে ‘অর্থ’ (কর্তৃকারক) কাজ করে ‘অনর্থ’ (কর্মকারক) ঘটাচ্ছে। সুতরাং 'অর্থ' কর্তা কারকে শূন্য বিভক্তি।]
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৬৪.
‘উচ্ছৃঙ্খল’ শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
ক
ক) উছছ্রিঙ্খল্
খ
খ) উচ্ছ্রিঙ্খল্
গ
গ) উচ্ছ্রিংখল্
ঘ
ঘ) উচ্ছ্রিঙ্খোল্
সঠিক উত্তর: খ
খ) উচ্ছ্রিঙ্খল্
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) উচ্ছ্রিঙ্খল্
খ
ব্যাখ্যা
উচ্ছৃঙ্খল [উচ্ছ্রিঙ্খল্] (বিশেষণ) {(তৎসম বা সংস্কৃত) উৎ+শৃঙ্খল} ১ বিশৃঙ্খল; অনিয়ন্ত্রিত। ২ স্বেচ্ছাচারী; যথেচ্ছাচারী্ ৩ অমিতাচারী; সমাজের অননুমোদিত রীতিতে চলে এমন। ৪ শৃঙ্খলহীন; বন্ধনমুক্ত। উচ্ছৃঙ্খলতা (বিশেষ্য) ১ যথেচ্ছাচার। ২ নিয়মবিরোধিতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫,১৬৫.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি শুদ্ধ?
ক
রুপালি
খ
আসামী
গ
পূজো
ঘ
বোমাবাজী
সঠিক উত্তর: ক
রুপালি
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
রুপালি
ক
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান: রুপালি।
• (ই, উ) ব্যবহারের নিয়ম: সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন হিসেবে 'বি-কার' ও 'ও-কার' ব্যবহৃত হবে।
• 'আয়ত্তাধীন' - শব্দটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত। - 'আয়ত্তাধীন' শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ নয় কিন্তু 'আয়ত্ত' শব্দটি শুদ্ধ।
• "আয়ত্ত" শব্দের অর্থ হল "নিজের ক্ষমতা বা নিয়ন্ত্রণের অধীন" - অর্থাৎ এখানেই "অধীন" অর্থ নিহিত আছে। তাই "আয়ত্তাধীন" বলার মাধ্যমে "অধীন"-এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যা অনাবশ্যক এবং অপপ্রয়োগ।
- অপশনের অন্যান্য শব্দ সপরিবার, মিথস্ক্রিয়া, সম্মাননীয় শুদ্ধ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,১৬৭.
'মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'মঙ্গলবার থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
ক
কর্তৃকারকে ৫মী বিভক্তি
খ
কর্ম কারকে ৫মী বিভক্তি
গ
করণ কারকে ৫মী বিভক্তি
ঘ
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
সঠিক উত্তর: ঘ
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
ঘ
ব্যাখ্যা
• 'মঙ্গলবার থেকে পরীক্ষা শুরু।' এখানে 'মঙ্গলবার থেকে' অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
• অপাদান কারক: - যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন- - বিচ্যুত:গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে। - গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়। - জাত : জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়। - বিরত : পাপে বিরত হও। - দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে। - রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও। - আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু। - ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?
• ৫মী বিভক্তি: হতে, থেকে, চেয়ে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,১৬৮.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
ক
ক) বিনয়পূর্বক
খ
খ) উৎকৃষ্ট
গ
গ) অপকর্ষতা
ঘ
ঘ) দরিদ্রতা
সঠিক উত্তর: গ
গ) অপকর্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) অপকর্ষতা
গ
ব্যাখ্যা
'অপকর্ষতা'- শব্দটি অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধরূপ: অপকর্ষ।
• এখানে, - অপকর্ষ শব্দটি বিশেষ্য। কোন বিশেষ্য পদের সাথে আবার তা অথবা ত্ব প্রত্যয় যুক্ত করা হলে, যে শব্দটি হয় তা ভুল। তা, ত্ব প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্র্যোগ অশুদ্ধ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,১৬৯.
‘কমা’ এর বিরতিকাল কত সময়?
ক
ক) ১ সেকেন্ড
খ
খ) ১ বলতে যে সময়
গ
গ) ১ বলার দ্বিগুণ সময়
ঘ
ঘ) থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর: খ
খ) ১ বলতে যে সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) ১ বলতে যে সময়
খ
ব্যাখ্যা
‘কমা’ এর বিরতিকাল - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন। ‘কমা’ এর বাংলা অর্থ - 'পাদচ্ছেদ'।
বাংলায় কোন কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করে থাকি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কমা ( , )। বাক্যের ভিতর বিরাম চিহ্ন হলো কমা।
বিভিন্ন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের সময় কাল ভিন্ন। যেমন: - বিস্ময়চিহ্ন (!) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড। - কমা (,) বিরামের সময় - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন। - সেমিকোলন (;) বিরামের সময় - ১ বলার দ্বিগুণ সময়। - দাঁড়ি (।) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড। - কোলন (:) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড। - হাইফেন (-) বিরামের সময় - থামার প্রয়োজন নেই। - কোলন ড্যাশ (:-) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৭০.
"দুধ থেকে দই হয়।" - এখানে "দুধ থেকে" কোন কারক?
ক
সম্বন্ধ কারক
খ
কর্ম কারক
গ
অপাদান কারক
ঘ
করণ কারক
সঠিক উত্তর: গ
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
অপাদান কারক
গ
ব্যাখ্যা
• "দুধ থেকে দই হয়।" - এখানে "দুধ থেকে" - অপাদান কারকের উদাহরণ। ------------------ • অপাদান কারক: - যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন - → বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে। → গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়। → জাত: খেজুর রসে গুড় হয়। → বিরত: পাপে বিরত হও।
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৭১.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
ক
শ্বাশত
খ
মরুদ্যান
গ
ইন্দ্রিয়
ঘ
উপন্যাসীক
সঠিক উত্তর: গ
ইন্দ্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ইন্দ্রিয়
গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'ইন্দ্রিয়' - শব্দটি শুদ্ধ। • 'ইন্দ্রিয়' বলতে বোঝায় - - দেহের ১৪টি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও শক্তি যা দিয়ে বাহ্য বিষয়ের জ্ঞান ও অনুভূতি উপলব্দ হয়।
অন্য অপশনে, মরুদ্যান: সঠিক বানান হলো "মরূদ্যান"; যা মরুভূমিতে অবস্থিত জল ও বৃক্ষাদিপূর্ণ স্থান অর্থে ব্যবহৃত হয়। শ্বাশত: সঠিক বানান হলো শাশ্বত, যা চিরন্তন বা অনন্ত অর্থে ব্যবহৃত হয়। উপন্যাসীক: সঠিক বানান হলো ঔপন্যাসিক, যা উপন্যাস লেখককে নির্দেশ করে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১৭২.
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।’ বাক্যটিতে কী ধরনের ভুল আছে?
ক
ক) আকাঙ্ক্ষা জনিত
খ
খ) আসত্তি জনিত
গ
গ) যোগ্যতা জনিত
ঘ
ঘ) গুরুচন্ডালী জনিত
সঠিক উত্তর: গ
গ) যোগ্যতা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) যোগ্যতা জনিত
গ
ব্যাখ্যা
বর্ষার রৌদ্র কখনো প্লাবনের সৃষ্টি করে না। প্লাবনের সৃষ্টি করে বর্ষার বৃষ্টি। তাই ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।’ বাক্যটিতে যোগ্যতা জনিত ভুল হয়েছে। সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৫,১৭৩.
কোন শব্দটির বানান শুদ্ধ?
ক
ক) আযান
খ
খ) নাভী
গ
গ) পরিস্কার
ঘ
ঘ) পরিষ্করণ
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) পরিষ্করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) পরিষ্করণ
ঘ
ব্যাখ্যা
• ‘পরিষ্করণ’ শব্দটির বানান শুদ্ধ। - এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। - এর প্রকৃতি- প্রত্যয় = পরি + √কৃ+অন - এর অর্থ - পরিশোধন।
• নাভী শব্দের সঠিক বানান - নাভি। • আযান শব্দের সঠিক বানান - আজান। • পরিস্কার শব্দের সঠিক বানান - পরিষ্কার।
উৎস : বাংলা বানান অভিধান- বাংলা একাডেমি।
৫,১৭৪.
নিচের কোনটি কর্মকারকের উদাহরণ?
ক
চাঁদ বুঝি তা জানে।
খ
সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।
গ
সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
ঘ
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
সঠিক উত্তর: খ
সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।
খ
ব্যাখ্যা
কর্মকারক: - যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- "সে সম্পত্তি নষ্ট করছে।" উল্লেখিত বাক্যটিতে ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সম্পত্তি'। - অর্থাৎ বাক্যে 'সম্পত্তি' একটি কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।
অন্যদিকে, কর্তা কারক: - ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। - কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫,১৭৫.
"জয় একদিন করবো আমরা" বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়?
ক
ক) আকাঙ্খা
খ
খ) যোগ্যতা
গ
গ) আসত্তি
ঘ
ঘ) আগ্রহ
সঠিক উত্তর: গ
গ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) আসত্তি
গ
ব্যাখ্যা
যেকোন সার্থক বাক্যের গুণ তিনটি। আকাঙ্খা আসত্তি যোগ্যতা
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একপদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ জাগে তাকে আকাঙ্খা বলে। - বাক্যের ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থ সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য সুশৃঙ্খল্ভাবে পদবিন্যাসকেই বলা হয় আসত্তি। - বাক্যস্থিত পদ গুলোর মাঝে অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন এর নামই যোগ্যতা।
"জয় একদিন করবো আমরা" বাক্যটিতে 'আসত্তি' গুণের অভাব রয়েছে। বাক্যটির সঠিক রূপ - 'আমরা করবো জয় একদিন'
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৭৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
ক
নিরহ
খ
নীরিহ
গ
নীরীহ
ঘ
নিরীহ
সঠিক উত্তর: ঘ
নিরীহ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
নিরীহ
ঘ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান -'নিরীহ' - এটি একটি বিশেষণ পদ। - এটি সংস্কৃত শব্দ। এর অর্থ: - শান্ত, - নিরূপদ্রব, - নির্বিরোধ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,১৭৭.
বাচ্য বলতে বোঝায় বাক্যের -
ক
প্রয়োগ
খ
বাক্যের অর্থ
গ
প্রকাশভঙ্গি
ঘ
বাক্যের রূপান্তর
সঠিক উত্তর: গ
প্রকাশভঙ্গি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
প্রকাশভঙ্গি
গ
ব্যাখ্যা
• বাচ্য: - বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। - বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। - ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে।
যেমন - - সে বাজারে যায়। - সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। - কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
- উপরের প্রথম বাক্যে ‘যায়' ক্রিয়াটি ‘সে' কর্তার অনুসারী। - দ্বিতীয় বাক্যে ‘করা হয়েছে' ক্রিয়াটি ‘সাহসী ছেলেটিকে' কর্মের অনুসারী। - তৃতীয় বাক্যে ‘যাওয়া হচ্ছে' ক্রিয়াই মুখ্য। - প্রকাশভঙ্গির এই ভিন্নতা অনুযায়ী বাচ্য তিন প্রকার: কর্তাবাচ্য, কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৭৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
ক
ধুমকেতু
খ
পচ্ছন্দ
গ
হৃৎপিণ্ড
ঘ
শৌখীন
সঠিক উত্তর: গ
হৃৎপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
হৃৎপিণ্ড
গ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- হৃৎপিণ্ড।
• হৃৎপিণ্ড ((বিশেষ্য পদ), - শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত। অর্থ: - দেহস্থ ফাঁপা অঙ্গবিশেষ যার নিয়মিত সংকোচন ও প্রসারণের ফলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত প্রবাহিত হয়।
অন্যদিকে. • পছন্দ (বিশেষণ পদ), - শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত। অর্থ: - মনের মতো, মনঃপূত, ইচ্ছানুযায়ী মনোনীত, - নির্বাচিত।
পছন্দ (বিশেষ্য): অর্থ: - নির্বাচন, - মনোনয়ন, - রুচি। -------------- • ধূমকেতু (বিশেষ্য পদ), - শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
-------------- • শৌখিন (বিশেষণ পদ), - শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত। অর্থ: - বিলাসী, - শখ মেটায় এমন।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।s
৫,১৭৯.
নিচের কোনটি অপাদান সম্বন্ধ কারক?
ক
ক) দেশের লােক
খ
খ) বাঘের ভয়
গ
গ) দুঃখের দহন
ঘ
ঘ) রােগের কষ্ট
সঠিক উত্তর: খ
খ) বাঘের ভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
খ) বাঘের ভয়
খ
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ: ক্রিয়ার সাথে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত ন্য পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হয় তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৮০.
শব্দ বা পদের মধ্যে কোন অক্ষর লোপ পেলে ব্যবহৃত হয় -
ক
ক) ’ - চিহ্ন
খ
খ) () - চিহ্ন
গ
গ) ... - চিহ্ন
ঘ
ঘ) “ ” - চিহ্ন
সঠিক উত্তর: ক
ক) ’ - চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
ক) ’ - চিহ্ন
ক
ব্যাখ্যা
’ - লোপ চিহ্ন ব্যবহার করতে হয় শব্দ বা পদের মধ্যে কোন অক্ষর লোপ পেলে। যেমনঃ দু’বেলা ভাতই জোটে না।
() - বন্ধনি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় কোনো কিছু ব্যাখ্যা করে বুঝাতে। যেমনঃ বৃত্তি পরীক্ষা (জুনিয়র) আগামী মাসে।
... - বর্জন চিহ্ন ব্যবহার করা হয় কোনো রচনার অংশবিশেষ বর্জন করা হলে সূচনাতে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন- …তব ঘৃণা তারে যেন/ তৃণসম দহে।
“ ”- উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় বক্তার বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। যেমনঃ ভাগিনা বলিল, “মহারাজ পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে”
৫,১৮১.
জটিল বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যোজক নয় কোনটি?
ক
বরং - তবু
খ
যেমন - তেমন
গ
যেইনা - অমনি
ঘ
এবং - কিন্তু
সঠিক উত্তর: ঘ
এবং - কিন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
এবং - কিন্তু
ঘ
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যোজক নয় 'এবং - কিন্তু'। 'এবং ও কিন্তু' যোজক যৌগিক বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় ।
----------------- • জটিল বাক্য: যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
• উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় যোগে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করা হয়।
সাপেক্ষ সর্বনামগুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি। নত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন-তখন; যেমন-তেমন, বরং- তবু, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।
যেমন: - তার কাছে যে যা চাইত, সে তাই পেত। - তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য। - যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র পূজিত হন। - যে সত্য কথা বলে তাকে সকলেই ভালোবাসে। - যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে। - যদি দোষ স্বীকার কর, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না। - যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৮২.
'এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।' - বাক্যে ‘বিষাদে’ কোন কারক?
ক
অপাদান
খ
কর্তা
গ
অধিকরণ
ঘ
করণ
সঠিক উত্তর: ঘ
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
করণ
ঘ
ব্যাখ্যা
করণ কারক: - 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। - ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক। যেমন: - নীরা কলম দিয়ে লেখে। - জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়। - এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না। - এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৮৩.
'ঘোড়াকে চাবুক মার।' বাক্যে চাবুক কোন কারক?
ক
কর্ম কারক
খ
করণ কারক
গ
অপাদান কারক
ঘ
অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর: খ
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
করণ কারক
খ
ব্যাখ্যা
করণ কারক: - যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়। - বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার: • প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: - ছাত্ররা বল খেলে। - ঘোড়াকে 'চাবুক' মার।
• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: - লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়। - দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।
• সপ্তমী বা এ বিভক্তি: - ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। - জ্ঞানে বিমল আনন্দ হয়।
• তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
• য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৫,১৮৪.
শুদ্ধ বানানগুচ্ছ কোনটি?
ক
ক) সমিচিন, বাল্মিকি
খ
খ) সমিচীন, বাল্মিকী
গ
গ) সমীচীন, বাল্মীকি
ঘ
ঘ) সমীচীন, বাল্মিকী
সঠিক উত্তর: গ
গ) সমীচীন, বাল্মীকি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
গ) সমীচীন, বাল্মীকি
গ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানানগুচ্ছ: সমীচীন, বাল্মীকি।
• বাল্মীকি (বিশেষ্য) সংস্কৃত রামায়ণ রচয়িতা কবি ও মুনি; আদিকরি। • সমীচীন (বিশেষণ) - তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃত প্রত্যয় = সম্যচ্+ঈন(খ) - অর্থ = ১.সঙ্গত। ২. যোগ্য; উপযুক্ত। ৩. উত্তম। ৪. যথার্থ; সত্য। ৫. উচিত।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,১৮৫.
'গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।' এখানে 'গাঁয়ে' কোন কারক?
ক
করণ কারক
খ
কর্মকারক
গ
কর্তৃকারক
ঘ
অপাদান কারক
সঠিক উত্তর: গ
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
কর্তৃকারক
গ
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক: - বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। - ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক। যেমন খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা কর্তৃকারক)। মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা – কর্তৃকারক)।
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার: ক) প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে। খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে। গ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে। ঘ) ষষ্ঠী বার বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
(ঙ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি: - গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল। [ বাক্যে কে মানে না প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'গাঁয়ে'। সুতরাং 'গাঁয়ে' কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।]
- বাপে না জিজ্ঞাসে, মায়ে না সম্ভাষে। - পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়। - বাঘে-মহিষে খানা একঘাটে খাবে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৮৬.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
ক
কার্পণ্যতা
খ
উৎকর্ষতা
গ
সাদৃশ্যতা
ঘ
গম্ভীরতা
সঠিক উত্তর: ঘ
গম্ভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
গম্ভীরতা
ঘ
ব্যাখ্যা
• 'গম্ভীরতা'- শব্দটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ নয়।
তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: - তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। - এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে - তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ। - বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ: সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫,১৮৭.
বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন হয় সেখানে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
ক
সেমিকোলন
খ
পাদচ্ছেদ
গ
হাইফেন
ঘ
অর্ধচ্ছেদ
সঠিক উত্তর: খ
পাদচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
পাদচ্ছেদ
খ
ব্যাখ্যা
কমা বা পাদচ্ছেদ চিহ্ন(,): - অল্পক্ষণ বিরামের জন্যে কমার ব্যবহার হয়। এখানে 'এক' উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়। অল্প বিরাম বোঝাতে নিম্নলিখিত স্থানে কমা ব্যবহৃত হতে পারে:
- বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে। - পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প। - সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
খেয়াল করে দেখুন, 'স্ত' যুক্ত শব্দে 'স্ত' বাদ দিলে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না। কিন্তু 'স্থ' যুক্ত শব্দে 'স্থ' বাদ দিলে অন্য অর্থ প্রকাশ করে।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,১৯০.
'বিপদ থেকে বাঁচাও।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
ক
কর্মকারক
খ
অপাদান কারক
গ
অধিকরণ কারক
ঘ
করণ কারক
সঠিক উত্তর: খ
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
অপাদান কারক
খ
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক: - যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। - বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
সে অনুসারে, 'বিপদ থেকে বাঁচাও' - বাক্যে 'বিপদ' অপাদান কারকের উদাহরণ।
• আরো কিছু অপাদান কারকের উদাহরণ: - বিচ্যুত: সাদা মেঘে (মেঘ থেকে) বৃষ্টি হয় না - অপাদানে ৭মী। - গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। - জাত: খেজুর রসে গুড় হয়। - বিরত: পাপে বিরত হও। - দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে। - রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও। - আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু। - ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৯১.
উক্তি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত কোন পদের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়?
ক
বিশেষ্য পদের
খ
বিশেষণ পদের
গ
সর্বনাম পদের
ঘ
অব্যয় পদের
সঠিক উত্তর: গ
সর্বনাম পদের
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
সর্বনাম পদের
গ
ব্যাখ্যা
• উক্তি: বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
উক্তি পরিবর্তনের কিছু নিয়মসমূহ: ১. প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়। যেমন- প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।" পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।
২. অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। যেমন- প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।" পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে। পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
৩. পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়। যেমন- প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।" পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে।
৪. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়। যেমন: প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।" পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫,১৯২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক
প্রতিচী
খ
আকাঙ্খা
গ
চিহ্নিত
ঘ
উৎকর্ষতা
সঠিক উত্তর: গ
চিহ্নিত
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
চিহ্নিত
গ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - চিহ্নিত। - এটি সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃত-প্রত্যয় = [√চিহ্ন্+ত] অর্থ: চিহ্ন দেওয়া হয়েছে এমন।
শুদ্ধ বানান - আকাঙ্ক্ষা। - এটি সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃত-প্রত্যয় = [আ+√কাঙ্ক্ষ্+অ+আ] অর্থ: ইচ্ছা, বাসনা, অভিলাষ।
• বানানের শুদ্ধরূপ - প্রতীচী (বিশেষ্য), - এটি সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃতি-প্রত্যয় = [প্রত্যচ্+ঈ], অর্থ: পশ্চিম দিক, পশ্চিম দিকে অবস্থিত দেশসমূহ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১৯৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
ক
ক) শিরচ্ছেদ
খ
খ) বাল্মিকী
গ
গ) মূহুর্ত
ঘ
ঘ) অগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ঘ) অগ্নিবীণা
ঘ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - অগ্নিবীণা (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = অগ্নি+√বী+ন+আ(টাপ) অর্থ: - রুদ্রবীণা - কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থবিশেষ।
অন্যান্য শব্দের শুদ্ধরূপ হলো: • মুহূর্ত (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ। - প্রকৃতি প্রত্যয় = √হুর্চ্ছ্+ত অর্থ: - দিবানিশির ৩০ ভাগের ১ ভাগ, আটচল্লিশ মিনিট। - অতি অল্প সময়।
• বাল্মীকি (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = বাল্মীক+ই অর্থ: রামায়ণের প্রণেতা কবি ও মুনি, আদিকবি।
• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য): - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = শিরস্+ছেদ অর্থ: মাথা কেটে ছিন্নকরণ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,১৯৪.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
ক
বিশেষণ
খ
দুর্ণীতি
গ
ত্রিনয়ন
ঘ
স্বতঃস্ফূর্ত
সঠিক উত্তর: খ
দুর্ণীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
দুর্ণীতি
খ
ব্যাখ্যা
বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'দুর্ণীতি ' বানানটি অশুদ্ধ। - এর শুদ্ধ রূপ: দুর্নীতি (বিশেষ্য)। - সংস্কৃত শব্দ। প্রকৃতি- প্রত্যয়: দুঃ+√ নী+তি। অর্থ: - কুরীতি, - আর্থিক অনিয়ম ও অসাধুতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১৯৫.
বিভক্তিহীন নাম-শব্দকে কী বলে?
ক
প্রাতিপাদিক
খ
নাম-পদ
গ
মৌলিক শব্দ
ঘ
কৃদন্ত শব্দ
সঠিক উত্তর: ক
প্রাতিপাদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
প্রাতিপাদিক
ক
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক: বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলে প্রাতিপদিক। যেমন: - লাজ, বড়, ঘর এ শব্দগুলোর সঙ্গে কোনো বিভক্তি যুক্ত হয়নি সুতরাং এগুলো প্রাতিপদিক।
- প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম-প্রকৃতিও বলা হয়। ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি। প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম-প্রকৃতি।
অশুদ্ধ: ‘অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।’ - বাক্যে যথার্থ শব্দের প্রয়োগ না করার ভুল। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।
উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৯৭.
"বিদ্যান ব্যক্তিরা বলে, আমাদের ছেলেরা অধ্যায়ন কম করে বলেই আকাঙ্খা বানান ভুল করে।" - এ বাক্যে কয়টি বানানে ভুল আছে?
ক
২টি
খ
৩টি
গ
৪টি
ঘ
৫টি
সঠিক উত্তর: খ
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
৩টি
খ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ৩টি।
বাক্যের বানান বিশ্লেষণ: "বিদ্যান ব্যক্তিরা বলে, আমাদের ছেলেরা অধ্যায়ন কম করে বলেই আকাঙ্খা বানান ভুল করে।"
ভুল বানানগুলো: ১. বিদ্যান- শুদ্ধ: বিদ্বান।
২. অধ্যায়ন- শুদ্ধ: অধ্যয়ন।
৩. আকাঙ্খা- শুদ্ধ: আকাঙ্ক্ষা।
শুদ্ধ বাক্য: "বিদ্বান ব্যক্তিরা বলে, আমাদের ছেলেরা অধ্যয়ন কম করে বলেই আকাঙ্ক্ষা বানান ভুল করে।"
উৎস: বাংলা একাডেম আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,১৯৮.
প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
ক
ড্যাশ
খ
কোলন
গ
সেমিকোলন
ঘ
উদ্ধারচিহ্ন
সঠিক উত্তর: ঘ
উদ্ধারচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
উদ্ধারচিহ্ন
ঘ
ব্যাখ্যা
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন - রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।" -------------------------- • উক্তি: - বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। • উক্তি দুই প্রকার:
• প্রত্যক্ষ উক্তি; যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
• পরোক্ষ উক্তি। যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
যেমন • ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। • ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৫,১৯৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক
অন্যূন
খ
পিপিলীকা
গ
বিভিষীকা
ঘ
অনুরনন
সঠিক উত্তর: ক
অন্যূন
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
অন্যূন
ক
ব্যাখ্যা
• ‘অন্যূন’ — শুদ্ধ বানান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘অন্যূন’ অর্থ- অন্তত; কমপক্ষে।
অন্যদিকে, অপশনের বাকি বানান গুলো অশুদ্ধ।
এগুলোর শুদ্ধ বানান - • 'পিপিলীকা' এর সঠিক বানান 'পিপীলিকা'। • 'বিভিষীকা' এর সঠিক বানান 'বিভীষিকা'। • 'অনুরনন' এর শুদ্ধ বানান - 'অনুরণন'।
উৎস : বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,২০০.
"দশ মিনিট পর ট্রেন এলো।" যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন -
ক
ট্রেন এলো এবং দশ মিনিট পার হলো।
খ
দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর ট্রেন এলো।
গ
ট্রেন এলো কারণ দশ মিনিট পার হলো।
ঘ
দশ মিনিট পার হয়ে ট্রেন এলো।
সঠিক উত্তর: খ
দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর ট্রেন এলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর ট্রেন এলো।
খ
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত: - যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন: সরল বাক্য: দশ মিনিট পর ট্রেন এলো। যৌগিক বাক্য: দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর ট্রেন এলো।