উত্তর
ব্যাখ্যা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- মন্ত্রীর পদ বা কাজ।
অন্যদিকে,
গন্যমান্য – গণ্যমান্য,
জ্যোতিস্ক – জ্যোতিষ্ক,
বয়োসন্ধি – বয়ঃসন্ধি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫৩ / ৬৯ · ৫,২০১–৫,৩০০ / ৬,৯৫৩
• 'শাওন মনোবিদ্যায় ভালো'- বাক্যে ‘মনোবিদ্যায়’ অধিকরণ কারক।
[বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মনোবিদ্যায়'। এখানে 'মনোবিদ্যায়' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
বৈষয়িক অধিকরণ কারক :
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন:
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।
• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: কীর্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।
শুদ্ধ বাক্য: কৃত্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।
অশুদ্ধ বাক্য: সুমাইয়া বুদ্ধিমান মেয়ে।
শুদ্ধ বাক্য: সুমাইয়া বুদ্ধিমতী মেয়ে।
অশুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান - 'বিভূতিভূষণ'।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: বিভূতি+ভূষণ।
এর অর্থ:
- ভস্ম যার অঙ্গের ভূষণ; শিব, ভস্মরূপ অলংকার।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ শব্দ: আকাঙ্খা।
- শুদ্ধ শব্দ: আকাঙ্ক্ষা।
- অশুদ্ধ শব্দ: অভিভুত।
- শুদ্ধ শব্দ: অভিভূত।
- অশুদ্ধ শব্দ: শশীভূষণ।
- শুদ্ধ শব্দ: শশিভূষণ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ- বাঁশি বাজে।
→ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা:
- কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা বলতে সেই ধরনের বাক্যকে বোঝায় যেখানে কাজটি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কে করছে তা বলা হয় না।
- এখানে ক্রিয়ার কাজের ওপর গুরুত্ব থাকে।
- বাক্যে আলাদা কোনো কর্তা থাকে না বা কর্তা অনুপস্থিত থাকে।
- কর্মটিই যেন কর্তা হিসেবে কাজ করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
• যেমন:
- "বাঁশি বাজে", বাক্যে 'বাঁশি' নিজেই হলো কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা।
- “বাঁশি বাজে” বাক্যে বাঁশিই নিজে বাজছে, কে বাজাচ্ছে বলা হয় না।
- এই বাক্যে আসল কর্তা উহ্য রয়েছে।
- বাক্যের কর্মপদটিই মুখ্য হয়ে কর্তার মতো আচরণ করছে।
→ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তার কিছু উদাহরণ:
- গাড়ি চলে বাক্যে গাড়িই নিজে চলছে।
- চোর ধরা পড়েছে (এখানে চোর নিজেই ধরা পড়েছে)।
- বই পড়া হচ্ছে (বই নিজেই পড়া হচ্ছে)।
- ঘটনাটি ঘটেছে (ঘটনাটি নিজেই ঘটেছে)।
- ঝড় আসছে (ঝড় নিজেই আসছে)।
- জল পড়ে (জল নিজেই পড়ে)।
- পাতা নড়ে (পাতা নিজেই নড়ে)।
- বাতাস বইছে (বাতাস নিজেই বইছে)।
উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
র - ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়।
যেমনঃ পরিষ্কার।
র - ধ্বনির পর অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমনঃ পুরস্কার।
আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশী ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমনঃ জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয় যুক্ত শব্দে 'ষ' হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
সঠিক বানানগুলো হলো:
- ক্ষীণজীবী
- ক্ষুৎপীড়িত
- ঊর্ধ্ব
- উচ্ছ্বাস
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পুঙ্খানুপুঙ্খ' - বানানটি শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - সায়ত্ত্বশাসন।
- শুদ্ধ বানান - স্বায়ত্তশাসন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।
অন্যদিকে,
- সর্বস্বান্ত,
- মুমূর্ষু,
- শুশ্রূষা।
শব্দগুলো বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কোনো শব্দের শেষে যদি ঈ-কার থাকে, সেই শব্দের সঙ্গে জগৎ, বাচক, বিদ্যা, সভা, ত্ব, তা, নী, ণী, পরিষদ, তত্ত্ব ইত্যাদি যুক্ত হয়ে যদি নতুন শব্দ গঠন করে, তবে পূর্ববর্তী শব্দের ঈ-কার নবগঠিত শব্দে সাধারণত ই-কারে পরিণত হয়। যেমন-
- প্রাণী + বিদ্যা = প্রাণিবিদ্যা,
- প্রাণী + বাচক = প্রাণিবাচক,
- মন্ত্রী + পরিষদ = মন্ত্রিপরিষদ,
- মন্ত্রী + সভা = মন্ত্রিসভা,
- কৃতী + ত্ব = কৃতিত্ব,
- প্রতিদ্বন্দ্বী + তা = প্রতিদ্বন্দ্বিতা,
- অধিকারী + ণী = অধিকারিণী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন –
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
যেমন:
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
(কোথা থেকে পাই? উত্তর পাওয়া যায় ‘গাছ’ থেকে। সুতরাং ‘গাছ থেকে’ অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।)
আরো কিছু উদাহরণ-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
• সঠিক বানান - প্রতীতি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- উপলব্ধি; জ্ঞান।
- বিশ্বাস, প্রত্যয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- সঠিক বানানটি হলো ছান্দসিক।
- ছান্দসিক মানে হলো ছন্দজ্ঞানী, ছন্দ সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
কর্তৃবাচ্যে অবশ্যই কর্তা থাকবে, তবে কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকতে পারে এবং কর্তৃবাচ্যের কর্মে দ্বিতীয়, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
তাকে খেতে বলেছি। (কর্তা ‘আমি’ উহ্য আছে)
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
রোগী পথ্য সেবন করে।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - ভবিষ্যদ্বাণী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে বিষয় উক্তি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন-
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)
• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি :
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)
(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়। :
- দিয়া বিভক্তি : মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বানানের নিয়ম অনুসারে 'মালীনী' শব্দটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান: মালিনী।
-----------------
• নিয়ম:
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ত, ‘ত্ব’, নী ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী - কৃতিত্ব,
যোগী - যোগিনী,
মালী - মালিনী,
একাকী- একাকিনী,
দায়ী - দায়িত্ব,
প্রতিযোগী - প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী - মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী - সহযোগিতা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কমা বা পাদচ্ছেদ ( , ) ব্যবহার করা হয়: তালিকা বা সমতুল্য পদ আলাদা করতে।
----------------------
• কমা (পাদচ্ছেদ):
- কমা হলো বাক্যে স্বল্প বিরতি বা বিচ্ছেদ দেখানোর চিহ্ন।
- কমা বাক্যের বিভিন্ন অংশকে আলাদা করে অর্থ স্পষ্ট রাখতে সাহায্য করে।
- এটিকে অর্ধচ্ছেদও বলা হয়।
- কমার বিরতি হলো ছোট—দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদের চেয়ে অনেক কম—যা কথার স্বাভাবিক গতির উপর নির্ভর করে এবং পাঠককে সামান্য থামার সুযোগ দেয়।
- ১ বলতে যে সময় লাগে তাই কমা'র বিরতিকাল।
- উদাহরণ: “আমি বাজারে গেলাম, কিন্তু কিছু কিনতে পারিনি।” এখানে ‘গেলাম’-এর পরে ছোট বিরতি বোঝানো হয়েছে।
- কমার প্রধান ব্যবহার:
• তালিকা বা সিরিজ:
- একাধিক পদ বা শব্দের মধ্যে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: আমি বই, খাতা, কলম নিয়ে স্কুলে গেলাম।
• প্রধান ও অপ্রধান বাক্যাংশ আলাদা করা:
- মূল বাক্য থেকে অতিরিক্ত বা অপ্রাসঙ্গিক অংশ আলাদা করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: সে, যে গতকাল এসেছিল, আজ আবার গেল।
• সম্বোধন:
- কাউকে সম্বোধনের পর কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: রহিম, এদিকে এসো।
• সংযোজক অব্যয় (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা):
- দুটি স্বাধীন বাক্য সংযুক্ত করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: সে পড়ছিল, কিন্তু আমি খেলছিলাম।
• বাক্যের সুস্পষ্টতা:
- অর্থ বিভ্রান্তি এড়াতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: “খাও, মা” বনাম “খাওমা”—দুটি ভিন্ন অর্থ।
• তারিখ ও ঠিকানা:
- উদাহরণ: ৫, মে, ২০১৯; কলকাতা, ভারত।
• বড় সংখ্যা:
- হাজার, লক্ষ, কোটির স্থান নির্দেশ করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: ১৫,৩২,২১,৬৩৮
- নিয়ম: কমার আগে স্পেস থাকে না, কিন্তু পরে একটি স্পেস দিতে হয়।
----------------------------
অন্যদিকে,
• কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ (:) - দৃষ্টান্ত বা ব্যাখ্যা শুরুতে ব্যবহৃত হয়।
• সেমিকোলন (;) মূলত দুটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত স্বতন্ত্র বাক্যকে যুক্ত করতে বা কমা যুক্ত জটিল তালিকা পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি কমার চেয়ে দীর্ঘ কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে সংক্ষিপ্ত বিরতি নির্দেশ করে।
- উদাহরণ: “তিনি অনেক চেষ্টা করলেন; কিন্তু কাজটি শেষ করতে পারলেন না।”
• ড্যাশ (—) বাক্যে দীর্ঘ বিরতি, জোর দেওয়া, ব্যাখ্যা বা পরিসর দেখাতে ব্যবহার হয়।
- এটি হাইফেন (-) থেকে দীর্ঘ।
- উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক।
- এটি তালিকা, ডায়ালগ বা বাক্যের অংশ আলাদা করতে সাহায্য করে।
- হাইফেন মূলত দুটি শব্দকে যুক্ত করে, ড্যাশ বাক্যের অংশ আলাদা করে।
- প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে ভুজ।
-পীপিলীকা শব্দের শুদ্ধ বানান পিপীলিকা।
- অভিজাত্য শব্দের শুদ্ধ বানান আভিজাত্য।
- বানিজ্য শব্দের শুদ্ধ বানান বাণিজ্য।
উৎসঃ;ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
• শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।
তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।
অশুদ্ধ বাক্য: সূর্য উদয় হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সূর্য উদিত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অন্তঃসত্ত্বা' — শুদ্ধ বানান।
অন্যদিকে,
• 'বিভিষীকা' এর সঠিক বানান - 'বিভীষিকা'।
• 'প্রোজ্বলিত' এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
• 'অন্যপুর্বা' এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।
উৎস: বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।
ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- কোথায় থাকা হয়?
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে- 'বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে।'- এই বাক্যে।
- শুদ্ধ রূপ- 'বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।'
-----------------------------
• প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগজনিত- শুদ্ধ–অশুদ্ধ রূপ:
অশুদ্ধ: রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
শুদ্ধ: রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
অশুদ্ধ: সৌজন্যতার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
শুদ্ধ: সৌজন্যের / সৌজন্যবোধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
অশুদ্ধ: দুর্বলতবশত সে আসতে পারেনি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।
অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নেই।
অশুদ্ধ: তাহার সৌন্দর্যতাবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
শুদ্ধ: তার সৌন্দর্যবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
অশুদ্ধ: ছেলেটি অহর্নিশি তার মাকে জ্বালাতন করে।
শুদ্ধ: ছেলেটি অহর্নিশ তার মাকে জ্বালাতন করে।
অশুদ্ধ: তার সাংঘাতিক আনন্দ হলো।
শুদ্ধ: তার অপরিসীম আনন্দ হলো।
অশুদ্ধ: মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে সুস্বাগত জানানো হল।
শুদ্ধ: মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানানো হল।
অশুদ্ধ: মিছিল করার জন্য সবাই একত্রিত হলো।
শুদ্ধ: মিছিল করার জন্য সবাই একত্র হলো।
অশুদ্ধ: সৌজন্যতা বজায় রাখা উচিত।
শুদ্ধ: সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।
অশুদ্ধ: ঘটনাটি প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে।
অশুদ্ধ: বাহুল্যতা পরিহার করা উচিত।
শুদ্ধ: বাহুল্য পরিহার করা উচিত।
অশুদ্ধ: মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠতর সন্তান।
শুদ্ধ: মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।
অশুদ্ধ: ঐক্যতার ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
শুদ্ধ: ঐক্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
অশুদ্ধ: সে সমৃদ্ধশালী পরিবারের সন্তান।
শুদ্ধ: সে সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তান।
অশুদ্ধ: লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যতার ছাপ স্পষ্ট।
শুদ্ধ: লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।
⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।
অন্যদিকে,
বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।
প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অপপ্রয়োগজনিত শব্দের শুদ্ধরূপ হলো-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
নির্দোষী ----- নির্দোষ
পিতাহারা ------ পিতৃহারা
অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
নিরভিমানী ---- নিরভিমান
দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বাক্য- ধীরতা একটি ভালো গুণ।
অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যে- কার্পণ্যতা, দারিদ্র্যতা ও সারল্যতা শব্দের ব্যবহার অশুদ্ধ।
---------------------
• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয় প্রয়োগের নিয়ম:
- ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ বা ‘ত্ব’ যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
- এখানে দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।
কয়েকটি অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
ধৈর্যতা - ধীরতা।
চাপল্যতা - চপলতা।
দারিদ্র্যতা - দরিদ্রতা।
কার্পণ্যতা - কৃপণতা।
সারল্যতা - সরলতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।