বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৫৩ / ৬৯ · ৫,২০১৫,৩০০ / ৬,৯৫৩

৫,২০১.
শুদ্ধ বানান -
  1. বয়োসন্ধি
  2. মন্ত্রিত্ব
  3. জ্যোতিস্ক
  4. গন্যমান্য
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রিত্ব
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মন্ত্রিত্ব
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মন্ত্রীর পদ বা কাজ।

অন্যদিকে,
গন্যমান্য – গণ্যমান্য, 
জ্যোতিস্ক – জ্যোতিষ্ক, 
বয়োসন্ধি – বয়ঃসন্ধি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২০২.
“ইতিপূর্বে” এর শুদ্ধরূপ কোনটি?
  1. ক) ইতোপূর্বে
  2. খ) ইতঃপূর্বে
  3. গ) ইতোঃপূর্বে
  4. ঘ) ইতপূর্বে
সঠিক উত্তর:
খ) ইতঃপূর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইতঃপূর্বে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুযায়ী ইতঃপূর্বে (এর আগে) বানানটি সঠিক।
৫,২০৩.
শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়। - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. করণ 
  2. কর্তা
  3. কর্ম 
  4. অধিকরণ
সঠিক উত্তর:
করণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ 
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- শিকারী বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫,২০৪.
'শাওন মনোবিদ্যায় ভালো'- বাক্যে ‘মনোবিদ্যায়’ কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক 
  3. অপাদান কারক
  4.  সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
ব্যাখ্যা

• 'শাওন মনোবিদ্যায় ভালো'- বাক্যে ‘মনোবিদ্যায়’ অধিকরণ কারক।
[বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মনোবিদ্যায়'। এখানে 'মনোবিদ্যায়' অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি। 

বৈষয়িক অধিকরণ কারক :
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। যেমন:
রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।
আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

• অধিকরণ কারক:
যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার।
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২০৫.
'শেষ বয়সে নাতিটিই বুড়ির অন্ধের ষষ্ঠি হয়ে রইল।' বাক্যটিতে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সন্ধিজনিত
  2. খ) বাচ্যজনিত
  3. গ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন জনিত
  4. ঘ) উপমার ভুল প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
গ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাগধারার শব্দ পরিবর্তন জনিত
ব্যাখ্যা
বাগধারা ভাষাবিশেষের ঐতিহ্য৷ এর যথেচ্ছ পরিবর্তন করলে শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- উপরের বাক্যে 'অন্ধের যষ্টি' (অর্থ- অপরিহার্য অবলম্বন) এর পরিবর্তে 'অন্ধের ষষ্ঠি' ব্যবহার করাতে বাগধারাটি তার যোগ্যতা হারিয়েছে।
তাই বলা যায় বাক্যটিতে বাগধারার শব্দ পরিবর্তন জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,২০৬.
শুদ্ধ বাক্য - 
  1. কীর্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন। 
  2. সুমাইয়া বুদ্ধিমান মেয়ে। 
  3. নীরোগ লোক আসলে সুখী।
  4. সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
সঠিক উত্তর:
নীরোগ লোক আসলে সুখী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরোগ লোক আসলে সুখী।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ বাক্য: কীর্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন। 
শুদ্ধ বাক্য: কৃত্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।

অশুদ্ধ বাক্য: সুমাইয়া বুদ্ধিমান মেয়ে। 
শুদ্ধ বাক্য: সুমাইয়া বুদ্ধিমতী মেয়ে।

অশুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২০৭.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. আকাঙ্খা
  2. বিভূতিভূষণ
  3. অভিভুত
  4. শশীভূষণ
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'বিভূতিভূষণ'।
​- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: বিভূতি+ভূষণ।
এর অর্থ:
- ভস্ম যার অঙ্গের ভূষণ; শিব, ভস্মরূপ অলংকার।

​অন্যদিকে,
- ​অশুদ্ধ শব্দ: আকাঙ্খা।
- ​শুদ্ধ শব্দ: আকাঙ্ক্ষা।

​- ​অশুদ্ধ শব্দ: অভিভুত।
- ​শুদ্ধ শব্দ: অভিভূত।

​- ​অশুদ্ধ শব্দ: শশীভূষণ।
- ​শুদ্ধ শব্দ: শশিভূষণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২০৮.
কোন বাক্যটি কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ নির্দেশ করছে?
  1. ছেলে বই পড়ছে
  2. মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন
  3. বাঁশি বাজে
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়াচ্ছেন
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশি বাজে
ব্যাখ্যা

কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তার উদাহরণ- বাঁশি বাজে।

→ কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা:
- কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা বলতে সেই ধরনের বাক্যকে বোঝায় যেখানে কাজটি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কে করছে তা বলা হয় না।
- এখানে ক্রিয়ার কাজের ওপর গুরুত্ব থাকে।
- বাক্যে আলাদা কোনো কর্তা থাকে না বা কর্তা অনুপস্থিত থাকে।
- কর্মটিই যেন কর্তা হিসেবে কাজ করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে।

• যেমন:
- "বাঁশি বাজে", বাক্যে 'বাঁশি' নিজেই হলো কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা।
- “বাঁশি বাজে” বাক্যে বাঁশিই নিজে বাজছে, কে বাজাচ্ছে বলা হয় না।
- এই বাক্যে আসল কর্তা উহ্য রয়েছে।
- বাক্যের কর্মপদটিই মুখ্য হয়ে কর্তার মতো আচরণ করছে। 

কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তার কিছু উদাহরণ:
- গাড়ি চলে বাক্যে গাড়িই নিজে চলছে।
- চোর ধরা পড়েছে (এখানে চোর নিজেই ধরা পড়েছে)। 
- বই পড়া হচ্ছে (বই নিজেই পড়া হচ্ছে)।
- ঘটনাটি ঘটেছে (ঘটনাটি নিজেই ঘটেছে)। 
- ঝড় আসছে (ঝড় নিজেই আসছে)।
- জল পড়ে (জল নিজেই পড়ে)।
- পাতা নড়ে (পাতা নিজেই নড়ে)।
- বাতাস বইছে (বাতাস নিজেই বইছে)। 

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,২০৯.
কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) আমি অহর্নিশি সে কথাই ভেবেছি।
  2. খ) সৎ চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
  3. গ) বর্তমানে গোরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।
  4. ঘ) তাঁকে কলেজে যাইতে হবে।
সঠিক উত্তর:
গ) বর্তমানে গোরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বর্তমানে গোরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'বর্তমানে গোরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল' বাক্যটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি।
- অপশনের অন্যান্য বাক্যে অপপ্রয়োগ রয়েছে।

• অন্যান্য অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ:
- আমি অহর্নিশ সে কথাই ভেবেছি।
- চরিত্রবান লোক সকলের প্রিয়।
- তাঁকে কলেজে যেতে হবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,২১০.
নিচের কোন শব্দটির বানান সঠিক নয়?
  1. দ্বেষ
  2. পুরষ্কার
  3. পরিষ্কার
  4. ভূষণ
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরষ্কার
ব্যাখ্যা

র - ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়।
যেমনঃ পরিষ্কার।
র - ধ্বনির পর অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমনঃ পুরস্কার।
আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশী ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমনঃ জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয় যুক্ত শব্দে 'ষ' হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।

৫,২১১.
'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' - এখানে 'সাধনায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় প্রথমা
  2. কর্মে সপ্তমী
  3. করণে সপ্তমী
  4. করণে প্রথমা
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনায়)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ  = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২১২.
কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?
  1. শূণ্য
  2. ত্রিভুজ
  3. পূন্য
  4. ভূবন
সঠিক উত্তর:
ত্রিভুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিভুজ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'ত্রিভুজ'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
 অর্থ:
- তিনটি সরলরেখা-পরিবেষ্টিত ক্ষেত্র।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান 'শূন্য'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √শ্বন্‌ + য।
  অর্থ: 
- পরিমাণ বা আয়তনের অভাব।

• শুদ্ধ বানান 'পুণ্য'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পূ + উন্য।
 অর্থ:
- সৎকর্ম,
- সওয়াব।

• শুদ্ধ বানান 'ভুবন'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √ভূ + অন।
 অর্থ:
- পৃথিবী,
- জগৎ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২১৩.
‘দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।’- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. দোষ করেছ, তাই শাস্তি পাবে।
  2. যেহেতু দোষ করেছ শাস্তি পাবে।
  3. দোষ করাই, তুমি শাস্তি পাবে।
  4. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
সঠিক উত্তর:
যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
• বাক্যের জটিলরূপ: যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।

----------------------
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৫,২১৪.
নিচের কোনটি মৌলিক বাংলা শব্দ বিভক্তি নয়?
  1. ক) কে
  2. খ) রে
  3. গ) র
  4. ঘ) থেকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) থেকে
ব্যাখ্যা
‘- থেকে’ বাংলা মৌলিক  শব্দ বিভক্তি নয়।

বিভক্তি:
বাক্যের একটি শব্দের সঙ্গে আরেকটি সগব্দের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শব্দগুলোর সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত করতে হয় । এসব শব্দাংশকে বলা হয় বিভক্তি ।
যেমন -
পাখিটি গাছে বসে আছে। বাক্যটিতে গাছে ( গাছ + এ বিভক্তি )। 
 
• মৌলিক বাংলা শব্দ বিভক্তিগুলো হলো - ( ০ ), এ, তে, কে, রে, র (এর)।

তবে এছাড়াও কিছু কিছু অব্যয় শব্দ কারক সম্বন্ধ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এগুলো হলো - দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে ইত্যাদি ।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন
৫,২১৫.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই।
  2. তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
  3. বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
  4. মেয়েটি দারুণ সুবুদ্ধিমতী।
সঠিক উত্তর:
তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
ব্যাখ্যা
• 'তোমার সঙ্গে গোপনীয় পরামর্শ আছে।' - বাক্যটি শুদ্ধ। 

তাছাড়া,
- 'আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ: আজকাল বিদুষী মহিলার অভাব নেই।
- 'বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ: বৃক্ষটি সমূল বা মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
- 'মেয়েটি দারুণ সুবুদ্ধিমতী।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ: মেয়েটি দারুণ বুদ্ধিমতী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,২১৬.
মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে- এখানে বৃষ্টি শব্দটি কোন কর্তা?
  1. ব্যতিহার কর্তা
  2. মুখ্য কর্তা
  3. প্রযোজক কর্তা
  4. প্রযোজ্য কর্তা
সঠিক উত্তর:
মুখ্য কর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখ্য কর্তা
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক: 
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে। বাক্যে কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। যেমন-
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।- এই বাক্যে বৃষ্টি কর্তৃকারক। কারণ পড়ার কাজ বৃষ্টি নিজে করছে।
নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করছে। সুতরাং বৃষ্টি এখানে মুখ্য কর্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২১৭.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
  2. ধনের ধর্ম আছে কিন্তু তা অসাম্য।
  3. সে এখানে এলো এবং বসে পড়ল।
  4. তুমি যদি ভালো হও তবে সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
সঠিক উত্তর:
তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
- পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারিদ্র হলেও তিনি সুখী।

অন্যদিকে,
- ধনের ধর্ম আছে কিন্তু তা অসাম্য।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
- সে এখানে এলো এবং বসে পড়ল।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
- তুমি যদি ভালো হও তবে সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২১৮.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. ক) সমীচীন
  2. খ) উদীচী
  3. গ) শ্বাশুড়ি
  4. ঘ) প্রতীচী
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বাশুড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বাশুড়ি
ব্যাখ্যা
অপশন গুলোতে শ্বাশুড়ি বানানটি ভুল। এর সঠিক বানান টি হবে- শাশুড়ি। আর শ্বশুর বানানটিও সঠিক।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২১৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ক্ষীনজীবী
  2. খ) ক্ষুৎপীড়িত
  3. গ) ঊর্ধ্ব
  4. ঘ) উচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
ক) ক্ষীনজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্ষীনজীবী
ব্যাখ্যা

সঠিক বানানগুলো হলো:
- ক্ষীণজীবী
- ক্ষুৎপীড়িত
- ঊর্ধ্ব
- উচ্ছ্বাস

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৫,২২০.
কোনটি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন নয়?
  1. দাঁড়ি
  2. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  3. বিস্ময়বোধক
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে যতিচিহ্ন বোঝায়। যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্ন ২ প্রকার:
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
দাঁড়ি,
প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।

বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
কমা,
সেমিকোলন,
ড্যাস,
হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২২১.
'নিজের ভাগ্য নিজেই বদলাও' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) প্রশ্নবোধক
  2. খ) অনুজ্ঞাবাচক
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) নির্দেশাত্মক
সঠিক উত্তর:
খ) অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
'নিজের ভাগ্য নিজেই বদলাও' এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে আদেশ, উপদেশ, নিষেধ, অনুরোধ ইত্যাদি প্রকাশ পায়।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৫,২২২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) আকাংখা
  2. খ) কৃতিত্ব
  3. গ) কাৰ্য্য
  4. ঘ) অহঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) কৃতিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃতিত্ব
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - কৃতিত্ব (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = কৃতিন্+ত্ব
অর্থ: কার্যদক্ষতা, নিপুণতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২২৩.
কারক নির্ণয় করুন _____ লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।
  1. ক) কর্মকারক
  2. খ) সম্প্রদান কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
'লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।'-বাক্যে লোভ থেকে পাপ হচ্ছে বলে লোভ অপাদান কারক আর পাপ দ্বারা মৃত্যু হচ্ছে বলে পাপ করণ কারক।

• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

• অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ -

- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২২৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. পুঙ্খনাপুঙ্খ 
  2. পুঙ্কানুপুঙ্খ
  3. পুঙ্খানুপুঙ্খ 
  4. পুঙ্খানুপূঙ্খ 
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুঙ্খানুপুঙ্খ 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পুঙ্খানুপুঙ্খ' - বানানটি শুদ্ধ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২২৫.
বাংলা ব্যাকরণে বিরামচিহ্ন মোট কয়টি?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১৩
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৭
সঠিক উত্তর:
খ) ১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৩
ব্যাখ্যা
• মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয় ।

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো:
- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,২২৬.
অশুদ্ধ বানান -
  1. শুশ্রূষা
  2. মুমূর্ষু
  3. সর্বস্বান্ত
  4. সায়ত্ত্বশাসন
সঠিক উত্তর:
সায়ত্ত্বশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সায়ত্ত্বশাসন
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - সায়ত্ত্বশাসন
- শুদ্ধ বানান - স্বায়ত্তশাসন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।

অন্যদিকে,
- সর্বস্বান্ত, 
- মুমূর্ষু,
- শুশ্রূষা।
শব্দগুলো বানান শুদ্ধ।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২২৭.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. প্রতিদ্বন্দ্বিতা
  2. কৃতীত্ব
  3. মন্ত্রিপরিষদ
  4. অধিকারী
সঠিক উত্তর:
কৃতীত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃতীত্ব
ব্যাখ্যা

• কোনো শব্দের শেষে যদি ঈ-কার থাকে, সেই শব্দের সঙ্গে জগৎ, বাচক, বিদ্যা, সভা, ত্ব, তা, নী, ণী, পরিষদ, তত্ত্ব ইত্যাদি যুক্ত হয়ে যদি নতুন শব্দ গঠন করে, তবে পূর্ববর্তী শব্দের ঈ-কার নবগঠিত শব্দে সাধারণত ই-কারে পরিণত হয়। যেমন-
- প্রাণী + বিদ্যা = প্রাণিবিদ্যা,
- প্রাণী + বাচক = প্রাণিবাচক,
- মন্ত্রী + পরিষদ = মন্ত্রিপরিষদ,
- মন্ত্রী + সভা = মন্ত্রিসভা,
- কৃতী + ত্ব = কৃতিত্ব,
- প্রতিদ্বন্দ্বী + তা = প্রতিদ্বন্দ্বিতা,
- অধিকারী + ণী = অধিকারিণী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,২২৮.
'যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।'- বাক্যটি সরল বাক্যের রূপান্তর কী হবে?
  1. ছেলেটির বয়স অল্প; এবং বেশ বুদ্ধিমান। 
  2. ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান
  3. ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
  4. ছেলেটির বয়স অল্প, তথাপি বেশ বুদ্ধিমান। 
সঠিক উত্তর:
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
ব্যাখ্যা
⇒ 'যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।'
⇒ সরলরূপ: ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।

⇒ যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।

যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
৫,২২৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর।
  2. খ) কুপুরুষের মত কথা বল কেন?
  3. গ) শুধুমাত্র গায়ের জোড়ে কাজ হয় না।
  4. ঘ) তারকারাজি আকাশে মিটমিট করে জ্বলছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) তারকারাজি আকাশে মিটমিট করে জ্বলছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তারকারাজি আকাশে মিটমিট করে জ্বলছে।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হলো - তারকারাজি আকাশে মিটমিট করে জ্বলছে।
অন্যান্য বাক্যের শুদ্ধরূপ :
- বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।
- কাপুরুষের মতো কথা বল কেন?
- শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর
৫,২৩০.
"গাছ থেকে কাঠ পাই।" - এখানে "গাছ থেকে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
  2. অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
  3. করণ কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

যেমন –
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

যেমন:
- গাছ থেকে কাঠ পাই।
(কোথা থেকে পাই? উত্তর পাওয়া যায় ‘গাছ’ থেকে। সুতরাং ‘গাছ থেকে’ অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।) 

আরো কিছু উদাহরণ-
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,২৩১.
তৃতীয়া বিভক্তির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) হতে, থেকে, চেয়ে
  2. খ) দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
  3. গ) র, এর
  4. ঘ) কে, রে
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক
ব্যাখ্যা
বিভক্তি মোট ৭ (সাত) প্রকার।
যথা - প্রথমা (০, অ, এ, তে, য়),
দ্বিতীয়া (কে, রে),
তৃতীয়া (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক),
চতুর্থী (কে, রে),
পঞ্চমী (হতে, থেকে, চেয়ে),
ষষ্ঠী (র, এর), এবং
সপ্তমী (এ, য়, তে)।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৫,২৩২.
নিচের কোন বাক্যে তারিখ লেখার ক্ষেত্রে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) মার্চ, ১৮, ২০২৩
  2. খ) মার্চ ১৮, ২০২৩
  3. গ) ১৮, মার্চ, ২০২৩
  4. ঘ) কোনটিই না
সঠিক উত্তর:
খ) মার্চ ১৮, ২০২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মার্চ ১৮, ২০২৩
ব্যাখ্যা
মার্চ ১৮, ২০২৩- তারিখ লেখার ক্ষেত্রে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে। 

তারিখের পরেই সাল থাকলে, তারিখের পরে কমা বসাতেই হবে। 
যেমন:  মার্চ ১৮, ২০২৩ 

কমার ব্যবহার: 
অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
- নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে।
যেমন: ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এমএ. পিএইচডি।
- এক জাতীয় একাধিক বাক্য পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে তাদের আলাদা করতে।
- একই পদের বারবার ব্যবহারের মাঝে কমা বসে।
- সম্বোধনের পর কমা বসে।
- তারিখ লিখতে কমা বসে
- - খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে।ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা লেখার নিয়ম কানুন- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৫,২৩৩.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. তাহারা বাড়ি যাচ্ছে।
  2. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  3. তোমার তথ্য গ্রাহ্যযোগ্য নয়।
  4. কারো দৈন্যতা নিয়ে উপহাস কোরো না।
সঠিক উত্তর:
অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: কারো দৈন্যতা নিয়ে উপহাস কোরো না।
শুদ্ধ: কারো দৈন্য/দীনতা নিয়ে উপহাস কোরো না।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমার তথ্য গ্রাহ্যযোগ্য নয়।
শুদ্ধ বাক্য: তোমার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়।

অশুদ্ধ: তাহারা বাড়ি যাচ্ছে।
শুদ্ধ: তারা বাড়ি যাচ্ছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৩৪.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. কৌতূহল
  2. শিরশ্ছেদ
  3. অপরাহ্ন
  4. সরোবর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: অপরাহ্ন।
• শুদ্ধ বানান: অপরাহ্ণ (বিশেষ্য), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = অপর + অহ্ণ,
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কাল, বিকেল। 

অন্যদিকে,
• কৌতূহল (বিশেষ্য), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = কুতূহল+অ,
অর্থ: অজ্ঞাত বিষয়ে জানার আগ্রহ।

• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = শিরস্‌+ছেদ, 
অর্থ: মাথা কেটে ছিন্নকরণ। 

• সরোবর (বিশেষ্য), 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = সরস্‌+বর,
অর্থ:
- পদ্ম শাপলা প্রভৃতি ফুলে ভরা বড়ো জলাশয়।
- হ্রদ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,২৩৫.
শুদ্ধ বানান -
  1. অনন্যোপায়
  2. কার্য্যালয়
  3. ইত্যকার
  4. অধ্যায়ন
সঠিক উত্তর:
অনন্যোপায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্যোপায়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান – অনন্যোপায়
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- অন্য কোনো উপায় নেই এমন; নিরাশ্রয়; অনন্যোসহায়

অন্যদিকে,
অধ্যায়ন – অধ্যয়ন,
ইত্যকার – ইত্যাকার, 
কার্য্যালয় – কার্যালয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৩৬.
নিচের যে শব্দটিকে শাব্দিক অপপ্রয়ােগ বলে বিবেচনা করা যায়-
  1. ক) সূর্য
  2. খ) সামগ্র্য
  3. গ) ধার্য্য
  4. ঘ) সমর্থ
সঠিক উত্তর:
গ) ধার্য্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধার্য্য
ব্যাখ্যা
শাব্দিক অপপ্রয়ােগ ঘটেছে = 'ধার্য্য' শব্দে

শুদ্ধ রূপ 
ধার্য (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ধারি+য
অর্থ:
- ধারণযোগ্য
- গ্রাহ্য
- পালনীয়
- নিরূপিত 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,২৩৭.
নিচের কোন শব্দের বানান সঠিক?
  1. প্রতিতি
  2. প্রতীতি
  3. প্রতীতী
  4. প্রতিতী
সঠিক উত্তর:
প্রতীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতীতি
ব্যাখ্যা

• সঠিক বানান - প্রতীতি। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- উপলব্ধি; জ্ঞান।
- বিশ্বাস, প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২৩৮.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ছন্দসিক
  2. ছান্দসিক
  3. ছন্দসীক
  4. ছান্দসীক
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক
ব্যাখ্যা

- সঠিক বানানটি হলো ছান্দসিক।
- ছান্দসিক মানে হলো ছন্দজ্ঞানী, ছন্দ সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৫,২৩৯.
ভাবাধিকরণ কারকে সর্বদাই কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়?
  1. তৃতীয়া
  2. পঞ্চমী
  3. ষষ্ঠী
  4. সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২৪০.
"উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ"- এখানে ‘উদ্যম বিহনে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ১মা
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
'উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ'
বাক্যের অর্থ: অধ্যবসায় ছাড়া কার মনোবাসনা পূর্ণ হয়।

এ বাক্যের ক্রিয়া হলো পুরে অর্থাৎ পূর্ণ হওয়া। কর্তা হলো মনোবাসনা বা মনোরথ। এখন "মনোরথ কীসের দ্বারা পূর্ণ হয়" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় উদ্যম দ্বারা। তাই এটি করণ কারক হবে। এটি একটি উপায়াত্মক বা সহায়াত্মক করণ কারক।
কিন্তু অপশনে করণ কারক নেই।
-----------------
আবার, 
• যদি বলা হয় মনোবাসনা পূর্ণ হওয়ার উৎস কী? উত্তর হয় উদ্যম। তাই উদ্যম অপাদান কারকও হয়
• কোনো বিষয়ে পারদর্শিতা বোঝালে বা গুণ বোঝালে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। সেই সূত্র ধরে এটাকে অধিকরণ কারকও বলা যায়।
------------------

এবার বিভক্তির বিবেচনায় আসলে অপশনে "অপাদানে ১মা" রয়েছে যা সঠিক নয়। এখানে সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
সার্বিক বিবেচনায় প্রশ্নটির উত্তর হবে অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি।
৫,২৪১.
'বিকালে আমরা ঘুরতে যাব'- এখানে 'বিকালে' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।

• অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই। কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।

• ''বিকালে আমরা ঘুরতে যাব'' - বাক্যে অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার সময়কে বোঝাচ্ছে। 
এবং এতে এ বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
তাই বাক্যটি = অধিকরণে ৭মী প্রকাশ করেছে।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ২০২২ সংস্করণ।
৫,২৪২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. নুপুর
  2. ত্বরিত
  3. কিনাঙ্ক
  4. অনুসঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ত্বরিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরিত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'ত্বরিত'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- ক্রমশ গতি বাড়ানোর হয়েছে এমন।

অন্যদিকে,
অনুসঙ্গ – অনুষঙ্গ, 
কিনাঙ্ক – কিণাঙ্ক, 
নুপুর – নূপুর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৪৩.
‘ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা’ বাক্যে 'অঙ্কে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তা কারকে ৭মী
  2. কর্ম কারকে ৭মী
  3. করণ কারকে ৭মী
  4. অধিকরণ কারকে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে ৭মী
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

• অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', ‘-য়ে’, '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
বাবা বাড়িতে আছেন।
বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
ছেলেটি অঙ্কে কাঁচা - অধিকরণ কারকে ৭মী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৪৪.
কারক সম্পর্ক বোঝাতে কোন পদের সঙ্গে বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে?
  1. বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. বিশেষণ ও সর্বনাম
  3. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  4. বিশেষ্য ও আবেগ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• কারক:
মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,২৪৫.
‘যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।' বাক্যটির সরলরূপ হবে -
  1. সকল মাংসাশী পশুই বলবান হয় বৈ কি।
  2. মাংসাশী পশুমাত্রই কি বলবান হয় না!
  3. মাংসাশী পশুরা মাংস খায়, তাই বলবান হয়।
  4. সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
সঠিক উত্তর:
সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
- মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
যথা:
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
সরল বাক্য: নির্বোধরা/বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য:আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

মিশ্র বাক্য: যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।
সরল বাক্য: সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৪৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) সে এমন রূপসী যেন অপ্সরী
  2. খ) সে এমন রূপবতী যেন অপ্সরা
  3. গ) সে এমন রূপবতী যেন অপ্সরী
  4. ঘ) সে এমন রূপসী যেন অপ্সরা
সঠিক উত্তর:
খ) সে এমন রূপবতী যেন অপ্সরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সে এমন রূপবতী যেন অপ্সরা
ব্যাখ্যা
- ক অপশনে, রূপসী বানান ভুল। - এর সঠিক বানান: রূপসি। এর অর্থ: রূপবতী।
- গ অপশনে, রূপবতী যে অর্থে ব্যবহৃত হয়, অপ্সরী অর্থ ও সুন্দরী নারী বুঝায়।
- ঘ অপশনেও একই সমার্থক অর্থ প্রকাশ করে। যা বাক্যের সৌন্দর্য হারায়।

খ অপশনের অর্থ এমন দাঁড়ায় - সে এমন রূপবতী যেন, স্বর্গের নর্তকী। অপ্সরা অর্থ: সুরসুন্দরী; স্বর্গের নর্তকী।

তাই খ শুদ্ধ বাক্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৪৭.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ বিন্যাসকে কী বলে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. অর্থবাচকতা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
বাক্য: 
- যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে। 
- কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়। 
- বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক। 
- এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ ধারা মিলিতভাবে একটি অখন্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে। 
- ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই। 
যেমন - 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- আসত্তি এবং 
- যোগ্যতা। 

আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 
যেমন ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য। 

আসত্তি: 
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। 
যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। 
- মনোভাব পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে। 
যেমন - কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলনের নাম যোগ্যতা। 
যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। 
- এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫,২৪৮.
সঠিক বানানযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. ক) স্বাক্ষরতা
  2. খ) সূচিপত্র
  3. গ) মনপূত
  4. ঘ) সান্তনা
সঠিক উত্তর:
খ) সূচিপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সূচিপত্র
ব্যাখ্যা
• সঠিক বানানযুক্ত শব্দ = সূচিপত্র 

অন্যান্য শব্দের শুদ্ধ বানান- 

• সান্ত্বনা (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সান্ত্বন+আ
অর্থ: আশ্বাস বা আশা দিয়ে শান্তকরণ, প্রবোধদান। 

• সাক্ষরতা (বিশেষ্য) 
অর্থ - অক্ষর পরিচয়, অক্ষরজ্ঞান। 

• মনঃপূত (বিশেষণ) 
অর্থ - মনের মতো, পছন্দসই

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,২৪৯.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অধ্যাবসায়
  2. অধ্যাবশায়
  3. অধ্যবসায়
  4. অধ্যাবষায়
সঠিক উত্তর:
অধ্যবসায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যবসায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'অধ্যবসায়' (বিশেষ্য) বানানটি সঠিক।
- শব্দটির উচ্চারণ- ওদ্‌ধোবশায়্‌।

• 'অধ্যবসায়' শব্দটির অর্থ: 
- অবিরাম সাধন; ক্রমাগত চেষ্টা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,২৫০.
তাকে খেতে বলেছি। কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্ম-কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্যে অবশ্যই কর্তা থাকবে, তবে কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকতে পারে এবং কর্তৃবাচ্যের কর্মে দ্বিতীয়, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
তাকে খেতে বলেছি। (কর্তা ‘আমি’ উহ্য আছে)
শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৫,২৫১.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. গণ্ডমূর্খ
  2. গন্ডি
  3. ন্যূনাধিক
  4. পুনঃপুন
সঠিক উত্তর:
গন্ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গন্ডি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
গন্ডি এর শুদ্ধ বানান হবে 'গণ্ডি'। 

• 'গণ্ডি' শব্দের অর্থ- পরিধি, চৌহদ্দি। 

• 'গণ্ডমূর্খ' শব্দের অর্থ- 'আকাট মূর্খ'।  
• ন্যূনাধিক (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- কমবেশি; বেশিকম। 
• পুনঃপুন শব্দের অর্থ- বারবার। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৫২.
উপস্থাপক অংশের পরে প্রত্যক্ষ উক্তিতে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. উদ্ধার চিহ্ন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. কলন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• উক্তি-পরিবর্তনের নিয়ম:
১. প্রত্যক্ষ উক্তির উপস্থাপিত অংশ উদ্ধার চিহ্নের (" ") মধ্যে রাখা হয়।
২. পরোক্ষ উক্তিতে উপস্থাপিত অংশের পরিবর্তিত অংশটা উদ্ধার চিহ্নের ("" ) মধ্যে রাখা হয় না।
৩. প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় কেবল উপস্থাপিত বাক্যের- সর্বনামের রূপ, ক্রিয়ার রূপ, ক্রিয়া-বিশেষণ এবং কদাচিৎ ক্রিয়ার কাল পরিবর্তন করতে হয়।
উপস্থাপক অংশের কোনো পরিবর্তন হয় না।
৪. উপস্থাপক অংশের পরে প্রত্যক্ষ উক্তিতে একটা কমা চিহ্ন (,) বসে।

যেমন:
- "রহিম বলল, "আমি তোমাকে চিনি।”

[এই বাক্যে 'রহিম'-কে উপস্থাপক-কর্তা এবং 'আমি'-কে উপস্থাপিত কর্তা বা উপস্থাপিত বাক্যের কর্তা বলে চিহ্নিত করা যায়। তাহলে আমরা পাচ্ছি- 'রহিম বলল' উপস্থাপক অংশ; "আমি তোমাকে চিনি"- উপস্থাপিত অংশ; 'বলল'- উপস্থাপক অংশের ক্রিয়া: 'চিনি'- উপস্থাপিত অংশের ক্রিয়া।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৫৩.
শুদ্ধ বানান -
  1. ভবিষ্যদ্‌বাণী
  2. ভবিষ্যদ্বানী
  3. ভবিষ্যৎবাণী
  4. ভবিষ্যতদ্বানী
  5. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যদ্‌বাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যদ্‌বাণী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• শুদ্ধ বানান - ভবিষ্যদ্‌বাণী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে বিষয় উক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২৫৪.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. কালীদাস বিখ্যাত কবি।
  2. মেয়েটি স্বয়ম্বর।
  3. শশীভূষণ কাল বাসায় এসেছিল।
  4. বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করো।
সঠিক উত্তর:
বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করো।
ব্যাখ্যা
• বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করো। বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধবাক্য: কালীদাস বিখ্যাত কবি। 
- শুদ্ধবাক্য: কালিদাস বিখ্যাত কবি। 

- অশুদ্ধবাক্য: মেয়েটি স্বয়ম্বর।  
- শুদ্ধবাক্য: মেয়েটি স্বয়ম্বরা।  

- অশুদ্ধবাক্য: শশীভূষণ কাল বাসায় এসেছিল। 
- শুদ্ধবাক্য: শশিভূষণ কাল বাসায় এসেছিল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৫৫.
কোনটি কর্ম সম্বন্ধের উদাহরণ?
  1. রাজার হুকুম
  2. চোখের দেখা
  3. প্রভুর সেবা
  4. হাতের লাঠি
সঠিক উত্তর:
প্রভুর সেবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভুর সেবা
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ:
- ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে।
যেমন-
- মতিনের ভাই বাড়ি যাবে।
- এখানে 'মতিনের' সঙ্গে 'ভাই'-এর সম্পর্ক আছে, কিন্তু 'যাবে' ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই।
- জ্ঞাতব্য: ক্রিয়ার সঙ্গে সম্বন্ধ পদের সম্বন্ধ নেই বলে সম্বন্ধ পদকে কারক বলা হয় না।

কারক সম্বন্ধ:
(১) কর্তৃ সম্বন্ধ: রাজার হুকুম।
(২) কর্ম সম্বন্ধ: প্রভুর সেবা, সাধুর দর্শন।
(৩) করণ সম্বন্ধ: চোখের দেখা, হাতের লাঠি।
(৪) অপাদান সম্বন্ধ: বাঘের ভয়, বৃষ্টির পানি।
(৫) অধিকরণ সম্বন্ধ: ক্ষেতের ধান, দেশের লোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২৫৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) মেধাবিনী
  2. খ) মেধাবীনী
  3. গ) মেধাবিণি
  4. ঘ) মেধাবীনী
সঠিক উত্তর:
ক) মেধাবিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মেধাবিনী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে “মেধাবিনী” শব্দটি সঠিক।
৫,২৫৭.
শুদ্ধ বানান -
  1. বিভূতিভূষণ
  2. বিভূতিভূষন
  3. বিভুতিভূষণ
  4. বিভূতিভুষণ
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভূতিভূষণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'বিভূতিভূষণ'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ
এর অর্থ:
- ভস্ম যার অঙ্গের ভূষণ; শিব।
- ভস্মরূপ অলংকার

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৫৮.
কোন্ বানানটি শুদ্ধ?
  1. নীরিক্ষণ
  2. নিরীক্ষণ
  3. নীরিক্ষন
  4. নিরীক্ষন
সঠিক উত্তর:
নিরীক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরীক্ষণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - নিরীক্ষণ
- ‘নিরীক্ষণ’ শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ‘নিরীক্ষণ’ অর্থ: যত্ন সহকারে অবলোকন, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৫৯.
শুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করুন?
  1. ক) চাকরি
  2. খ) চাকরী
  3. গ) চাকুরী
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) চাকরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চাকরি
ব্যাখ্যা
কর্ম ও পেশাবাচক শব্দে ই-কার হবে। 
শুদ্ধ বানান = চাকরি/চাকুরি 

চাকরি (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ 
অর্থ:
- নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়মিত কর্মসম্পাদন
- অন্যের পরিচর্যা

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,২৬০.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মূর্চ্ছা
  2. অর্জ্জন
  3. ঊর্ধ্ব
  4. কর্ম্ম
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- ঊর্ধ্ব। 
----------------- 
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 

- রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। 
যেমন,
অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কর্ম্ম, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, মূর্ছা ইত্যাদি। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৬১.
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।” নিম্নরেখ শব্দ কোন কারক? 
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। 
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।

• বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন-
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ-কলম)
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় সাধনা)

• করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা অ বিভক্তি :
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া) ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

(খ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়। :
- দিয়া বিভক্তি : মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২৬২.
“আমার খাওয়া হলো না” - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন -
- ''কোথায় থাকা হয়'',
- “আমার খাওয়া হলো না”,
- “কোথা থেকে আসা হচ্ছে”,
- ''আমাকে এখন যেতে হবে''।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫,২৬৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. চক্ষূরূন্মিলন
  2. চক্ষুরূন্মীলন
  3. চক্ষুর‍ুন্মীলন
  4. চক্ষুরুন্মিলন
সঠিক উত্তর:
চক্ষুর‍ুন্মীলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চক্ষুর‍ুন্মীলন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'চক্ষুর‍ুন্মীলন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- সন্ধি বিচ্ছেদ: চক্ষুঃ + উন্মীলন।
অর্থ:
- জাগরণ,
- অন্তর্দৃষ্টির উন্মেষ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৬৪.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. বিদ্যান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
  2. বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
  3. বিদ্বান মুর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
  4. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ
- অন্যান্য বাক্যগুলোতে বিদ্বান বা মূর্খ বা উভয়ই ভুল আছে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ বাক্য: বমালশুদ্ধ চোর ধরা পড়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বমাল বা মালশুদ্ধ চোর ধরা পড়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
শুদ্ধ বাক্য: দৈন্য / দীনতা প্রশংসনীয় নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৬৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. উদরিণি
  2. উদরিনি
  3. উদরিণী
  4. উদরিনী
সঠিক উত্তর:
উদরিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদরিণী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - উদরিণী
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: গর্ভবতী, গর্ভিণী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৬৬.
'সে এখানে এসেই বসে পড়ল।' - বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ কোনটি?
  1. সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
  2. সে এখানে এসে বসে পড়ল।
  3. সে এখানে এসে বসেছে।
  4. সে এখানে এসে বসলো।
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটিমাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন -
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: ভিক্ষুককে টাকা দাও।
যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।

সরল বাক্য: সে এখানে এসেই বসে পড়ল।
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,২৬৭.
শিক্ষক বললেন, "তােমরা কি ছুটি চাও?" - বাক্যের পরোক্ষ উক্তি কোনটি?
  1. আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।
  2. শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন তােমরা ছুটি চাও?
  3. তােমরা ছুটি চাও কি না শিক্ষক তা জিজ্ঞেস করলেন।
  4. শিক্ষক জানতে চেয়েছেন আমরা কি ছুটি চাই?
সঠিক উত্তর:
আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবােধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তি পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।

যেমন:
প্রশ্নবােধক বাক্য:

প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "তােমরা কি ছুটি চাও?"
পরােক্ষ উক্তি: আমরা ছুটি চাই কি না, শিক্ষক তা জিজ্ঞাসা করলেন।
 
প্রত্যক্ষ উক্তি : বাবা বললেন, "কবে নাগাদ তােমাদের ফল বের হবে?”
পরােক্ষ উক্তি : আমাদের ফল কবে নাগাদ বের হবে, বাবা তা জানতে চাইলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,২৬৮.
‘জলে বাষ্প ওঠে।’- বাক্যে ‘জলে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অপাদান কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক: 
- যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। 

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক। 
যেমন:
- জলে বাষ্প ওঠে।

[প্রদত্ত বাক্যকে কি হতে বাষ্প ওঠে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় জল হতে। সুতরাং ‘জলে’ অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ: 
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি। 
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি। 
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৫,২৬৯.
'শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।'- এখানে 'পাঠে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন:
- তিলে তৈল আছে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন। (অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি)
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি)

এরূপ-
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে। (অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।)
[বাক্যেকে কোনো বিষয় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পওয়া যায় 'পাঠে'। সুতরাং 'পাঠে' অধীকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৭০.
'আমাকে এখন যেতে হবে।'- বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- এ পথে চলা যায় না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,২৭১.
'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।'- বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. ক) সত্য কথা বলে বিপদে পরলাম।
  2. খ) সত্য কথা বললাম এবং বিপদে পড়লাম।
  3. গ) যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি তাই আমাকে বিপদে পরতে হলো।
  4. ঘ) সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।' বাক্যের সরল রূপ- 
'সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।'

যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সূত্র :
১. বাক্য পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
২. বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
৩. প্রধান খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
৪. আশ্রিত খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
৫. সংযােজক, বিয়ােজক ও ব্যতিরোত্মক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাবাে।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।
যৌগিক: ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
সরল: ছেলেটি গরিব হলেও মেধাবী।
যৌগিক: আকাশে মেঘ ছিল না, কিন্তু বজ্রপাত হলাে।
সরল: আকাশে মেঘ না থাকা সত্ত্বেও বজ্রপাত হলাে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,২৭২.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন কোনটি?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. বিস্ময়বোধক চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়বোধক চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়বোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরামচিহ্নকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- 
-  প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
- দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক চিহ্ন প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়। 
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৫,২৭৩.
নিচের কোন বানানগুচ্ছের সবগুলো বানানই শুদ্ধ?
  1. নিক্কণ, সূচ্যগ্র, অনুর্ধব
  2. সুচগ্র, ভূঁড়িওয়ালা, মাতৃশ্বসা
  3. অনূর্বর, ঊর্ধবগামী, শুদ্ধ্যশুদ্ধি
  4. ভগ্নস্তূপ, ভৌগোলিক, ভস্মীভূত
সঠিক উত্তর:
ভগ্নস্তূপ, ভৌগোলিক, ভস্মীভূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগ্নস্তূপ, ভৌগোলিক, ভস্মীভূত
ব্যাখ্যা
অপশন ‘ক’ এর সূচ্যগ্র বানানটি শুদ্ধ। অন্যান্যগুলোর শুদ্ধ বানান হলঃ নিক্বণ, অনূর্ধ্ব।
অপশন ‘খ’ এর সবগুলো বানানই অশুদ্ধ। এদের শুদ্ধ বানান হলঃ সূচ্যগ্র, ভুঁড়িওয়ালা, মাতৃষ্বসা (খালা)।
অপশন ‘গ’ এর অনূর্বর এবং ঊর্ধবগামী বানান অশুদ্ধ। এদের শুদ্ধ বানান হলঃ অনুর্বর, ঊর্ধ্বগামী।
অপশন ‘ঘ’ এর সবগুলো বানানই শুদ্ধ।
উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫,২৭৪.
’পাতায় পাতায় পড়ে বৃষ্টির পানি।’- বাক্যে ‘পাতায় পাতায়’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।

অর্থাৎ, ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- আধার (স্থান) : আমরা প্রতিদিন কলেজে যাই।
- কাল (সময়) সকালে সূর্য উঠবে।
 
• ’পাতায় পাতায় পড়ে বৃষ্টির পানি।’ - বাক্যেটিকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় পাতায়। অতএব ‘পাতায়’ অধিকরণ কারক এবং এতে য় বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। তাই ‘পাতায়’ শব্দে অধিকরণে ৭মী বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৫,২৭৫.
‘ঘোড়াকে চবুক মার’- বাক্যে ‘চাবুক’ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
• চেষ্টায় সব হয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• ঘোড়াকে চবুক মার।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা /কী উপায়ে মার? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘চাবুক’। সুতরাং ‘চাবুক’ করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৭৬.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. যোগিনী 
  2. মালীনী 
  3. একাকিনী
  4. মায়াবিনী
সঠিক উত্তর:
মালীনী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালীনী 
ব্যাখ্যা

• বানানের নিয়ম অনুসারে 'মালীনী' শব্দটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান: মালিনী।

-----------------
• নিয়ম:
তৎসম শব্দে ইন্-প্রত্যয়ান্ত শব্দের সঙ্গে ত, ‘ত্ব’, নী ও ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে ই-কার হবে।
যেমন:
কৃতী - কৃতিত্ব,
যোগী - যোগিনী,
মালী - মালিনী,
একাকী- একাকিনী,
দায়ী - দায়িত্ব,
প্রতিযোগী - প্রতিযোগিতা,
মন্ত্রী - মন্ত্রিত্ব,
সহযোগী - সহযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,২৭৭.
তালিকা বা সমতুল্য পদ আলাদা করতে কোন চিহ্নটি ব্যবহার করা হয়?
  1. কোলন (:)
  2. কমা (,)
  3. সেমিকোলন (;) 
  4. ড্যাশ (—) 
সঠিক উত্তর:
কমা (,)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা (,)
ব্যাখ্যা

কমা বা পাদচ্ছেদ ( , )  ব্যবহার করা হয়: তালিকা বা সমতুল্য পদ আলাদা করতে।
----------------------
কমা (পাদচ্ছেদ):
-  কমা হলো বাক্যে স্বল্প বিরতি বা বিচ্ছেদ দেখানোর চিহ্ন। 
- কমা বাক্যের বিভিন্ন অংশকে আলাদা করে অর্থ স্পষ্ট রাখতে সাহায্য করে।
- এটিকে অর্ধচ্ছেদও বলা হয়।

- কমার বিরতি হলো ছোট—দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদের চেয়ে অনেক কম—যা কথার স্বাভাবিক গতির উপর নির্ভর করে এবং পাঠককে সামান্য থামার সুযোগ দেয়।
- ১ বলতে যে সময় লাগে তাই কমা'র বিরতিকাল।
- উদাহরণ: “আমি বাজারে গেলাম, কিন্তু কিছু কিনতে পারিনি।” এখানে ‘গেলাম’-এর পরে ছোট বিরতি বোঝানো হয়েছে।

- কমার প্রধান ব্যবহার:
তালিকা বা সিরিজ:
- একাধিক পদ বা শব্দের মধ্যে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: আমি বই, খাতা, কলম নিয়ে স্কুলে গেলাম।

• প্রধান ও অপ্রধান বাক্যাংশ আলাদা করা:
- মূল বাক্য থেকে অতিরিক্ত বা অপ্রাসঙ্গিক অংশ আলাদা করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: সে, যে গতকাল এসেছিল, আজ আবার গেল।

• সম্বোধন:
- কাউকে সম্বোধনের পর কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: রহিম, এদিকে এসো।

• সংযোজক অব্যয় (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা):
- দুটি স্বাধীন বাক্য সংযুক্ত করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: সে পড়ছিল, কিন্তু আমি খেলছিলাম।

• বাক্যের সুস্পষ্টতা:
- অর্থ বিভ্রান্তি এড়াতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: “খাও, মা” বনাম “খাওমা”—দুটি ভিন্ন অর্থ।

• তারিখ ও ঠিকানা:
- উদাহরণ: ৫, মে, ২০১৯; কলকাতা, ভারত।

• বড় সংখ্যা:
- হাজার, লক্ষ, কোটির স্থান নির্দেশ করতে কমা ব্যবহার করা হয়।
- উদাহরণ: ১৫,৩২,২১,৬৩৮

- নিয়ম: কমার আগে স্পেস থাকে না, কিন্তু পরে একটি স্পেস দিতে হয়।
---------------------------- 
অন্যদিকে,
• কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ (:) - দৃষ্টান্ত বা ব্যাখ্যা শুরুতে ব্যবহৃত হয়।

• সেমিকোলন (;) মূলত দুটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত স্বতন্ত্র বাক্যকে যুক্ত করতে বা কমা যুক্ত জটিল তালিকা পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি কমার চেয়ে দীর্ঘ কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে সংক্ষিপ্ত বিরতি নির্দেশ করে।
- উদাহরণ: “তিনি অনেক চেষ্টা করলেন; কিন্তু কাজটি শেষ করতে পারলেন না।”

• ড্যাশ (—) বাক্যে দীর্ঘ বিরতি, জোর দেওয়া, ব্যাখ্যা বা পরিসর দেখাতে ব্যবহার হয়। 
- এটি হাইফেন (-) থেকে দীর্ঘ।
- উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক।
- এটি তালিকা, ডায়ালগ বা বাক্যের অংশ আলাদা করতে সাহায্য করে।
- হাইফেন মূলত দুটি শব্দকে যুক্ত করে, ড্যাশ বাক্যের অংশ আলাদা করে।

৫,২৭৮.
নিচের কোন বানানটি ভুল নয়?
  1. ক) বানিজ্য
  2. খ) পীপিলিকা
  3. গ) অভিজাত্য
  4. ঘ) ভুজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুজ
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে ভুজ।
-পীপিলীকা শব্দের শুদ্ধ বানান পিপীলিকা।
- অভিজাত্য শব্দের শুদ্ধ বানান আভিজাত্য।
- বানিজ্য শব্দের শুদ্ধ বানান বাণিজ্য।
উৎসঃ;ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৫,২৭৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. তষ্কর
  2. উত্থান
  3. চাতুর্যতা
  4. আত্বস্থ
সঠিক উত্তর:
উত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্থান
ব্যাখ্যা
• বানান শুদ্ধ - উত্থান
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- উদয়,
- উন্নতি।

অন্যদিকে,
- আত্বস্থ – আত্মস্থ,
- চাতুর্যতা – চাতুর্য,
- তষ্কর – তস্কর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৮০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
  2. একটা গোপনীয় কথা বলি।
  3. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  4. সূর্য উদয় হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
একটা গোপনীয় কথা বলি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা গোপনীয় কথা বলি।
ব্যাখ্যা

 • শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি। 

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

অশুদ্ধ বাক্য: সূর্য উদয় হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সূর্য উদিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ।
শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল / উন্নয়নশীল দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২৮১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. প্রোজ্বলিত
  2. বিভিষীকা
  3. অন্তঃসত্ত্বা
  4. অন্যপুর্বা
সঠিক উত্তর:
অন্তঃসত্ত্বা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃসত্ত্বা
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অন্তঃসত্ত্বা' — শুদ্ধ বানান।



অন্যদিকে, 
• 'বিভিষীকা' এর সঠিক বানান - 'বিভীষিকা'। 
• 'প্রোজ্বলিত' এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
• 'অন্যপুর্বা' এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।

উৎস: বাংলা বানান অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৫,২৮২.
'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. কর্তায় ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• 'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - নিম্নরেখ শব্দটি করণে ৭মী বিভক্তি।

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা-ই করণ কারক।
যেমন -
→ নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ - কলম)
→ 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় - সাধনা)

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ছাত্ররা বল খেলে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে। (সকর্মক ক্রিয়া)

• তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
- দিয়া বিভক্তি: মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।

সপ্তমী বিভক্তি:
• 'এ' বিভক্তি:
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি
ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
→ শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।

• 'তে' বিভক্তি:
→ 'এত শঠতা, এত যে ব্যথা, তবু যেন তা মধুতে মাখা।' - নজরুল।
→ লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।

• 'য়' বিভক্তি:
চেষ্টায় সব হয়।
→ এ সুতায় কাপড় হয় না।

• 'আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'কীসে গিয়েছে ভরি?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ধানে'। তাই, 'ধানে' করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৮৩.
'তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার।' এটিকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করুন-
  1. তাঁর সম্মন্ধে জানার কি দরকার?
  2. তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার কি?
  3. তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার নয় কি?
  4. তাঁর সম্মন্ধে জানা অদরকার নয় কি?
সঠিক উত্তর:
তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার নয় কি?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার নয় কি?
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
- অস্তিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
- অস্তিবাচকবাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে:

- সূত্র: ক। কর্তার পর সাধারণত প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হবে।
- সূত্র: খ। ক্রিয়াপদের পর 'না' অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হবে।
- সূত্র: গ। বাক্য শেষে প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসা-চিহ্ন থাকবে।
যেমন:
- অস্তিবাচক: তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার।
- প্রশ্নাত্মক: তাঁর সম্মন্ধে জানা দরকার নয় কি?

- অস্তিবাচক: বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কি তা জানতে চাই।
- প্রশ্নাত্মক: বাংলাদেশের রাজধানীর নাম জানতে পারি কি?

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৮৪.
'কোথায় থাকা হয়?' কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- কোথায় থাকা হয়?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,২৮৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. বুভুক্ষ
  2. ন্যয্য
  3. আটপৌড়ে
  4. দিগ্‌ভ্রম
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌ভ্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌ভ্রম
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'দিগ্‌ভ্রম'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- দিক নিরূপণের ভ্রান্তি।

অন্যদিকে,
• আটপৌড়ে – আটপৌরে, 
• ন্যয্য – ন্যায্য, 
• বুভুক্ষ – বুভুক্ষু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৮৬.
শুদ্ধ বানান -
  1. মুমূর্ষ
  2. কৃষিজীবি
  3. সমীচিন
  4. সাক্ষী
সঠিক উত্তর:
সাক্ষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাক্ষী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সাক্ষী
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- কোনো ঘটনা বা বিষয় প্রত্যক্ষকারী, প্রত্যক্ষদর্শী।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ,
- সমীচীন, 
- মুমূর্ষু, 
- কৃষিজীবী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৮৭.
‘সে বসিয়ে দিলো একাশি সিক্কা এজনের এক চর’ বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বাগধারা জনিত
  2. খ) কারক জনিত
  3. গ) বচন জনিত
  4. ঘ) সমাস জনিত
সঠিক উত্তর:
ক) বাগধারা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাগধারা জনিত
ব্যাখ্যা
বিরাশি সিক্কা ওজন বাগধারাটির অর্থ হচ্ছে বিপুল ওজন।
সঠিক বাক্যটি হবে- সে বসিয়ে দিলো বিরাশি সিক্কা এজনের এক চর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,২৮৮.
প্রবাদ-প্রবচনজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. জাতে মাতাল তালে ঠিক।
  2. চোরে চোরে পিসতুতো ভাই।
  3. দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষা। 
  4. ধারেও কাটে ভারেও কাটে। 
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে পিসতুতো ভাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোরে চোরে পিসতুতো ভাই।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: চোরে চোরে পিসতুতো ভাই।
• শুদ্ধ: চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।

• 'চোরে চোরে মাসতুত ভাই' প্রবাদের অর্থ - খারাপ লোকের সঙ্গে খারাপ লোকের সম্পর্ক। 

অন্যদিকে,
• 'জাতে মাতাল তালে ঠিক' অর্থ - স্বার্থসচেতন। 
• 'দুধ-কলা দিয়ে কালসাপ পোষা' অর্থ - না জেনে মারাত্মক শত্রুকে লালন। 
• ধারেও কাটে ভারেও কাটে' অর্থ - স্বাভাবিক ক্ষমতা ও প্রভাবপ্রতিপত্তি- দুইয়ের যে-কোনোটির সাহায্যে কাজ উদ্ধার। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২৮৯.
'জল পড়ে, পাতা নড়ে।' বাক্যটি প্রকাশভক্তি অনুসারে - 
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্মবাচ্য
  4. কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।

অনুরূপ, জল পড়ে পাতা নড়ে। বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করেছে।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৫,২৯০.
'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।' - বাক্যে 'চিহ্ন' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. কর্তায় শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।' - বাক্যে 'চিহ্ন' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তির ব্যবহার:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)
- যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে

• 'যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।' - বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদকে 'পায়ের কী এই বাটে?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'চিহ্ন'। তাই, 'চিহ্ন' কর্মে শূন্য বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৯১.
‘মূর্ছিত হইয়া বীর রথেতে পড়িল।’- বাক্যে ‘রথেতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।
যেমন:
- তিলে তৈল হয়।- বাক্যকে কি থেকে তেল হয়? দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘তিলে’। সুতরাং এ বিভক্তি যোগে ‘তিলে’ অপাদান কারকে সপ্তমী।

• অপাদান কারকের এরূপ কিছু উদাহরণ হলো:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

• ‘মূর্ছিত হইয়া বীর রথেতে পড়িল।’- প্রদত্ত বাক্যকে কি থেকে পড়িল প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘রথেতে’। সুতরাং 'রথেতে' অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ। বাক্যের মধ্যে ‘রথেতে পড়িল’ শব্দে বিচ্যুত ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৫,২৯২.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?   
  1. বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে। 
  2. রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
  3. সৌজন্যবোধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
  4. দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।
সঠিক উত্তর:
বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে। 
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে- 'বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে।'- এই বাক্যে। 
- শুদ্ধ রূপ- 'বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।'
-----------------------------
• প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগজনিত- শুদ্ধ–অশুদ্ধ রূপ:

অশুদ্ধ: রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
শুদ্ধ: রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।

অশুদ্ধ: সৌজন্যতার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
শুদ্ধ: সৌজন্যের / সৌজন্যবোধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।

অশুদ্ধ: দুর্বলতবশত সে আসতে পারেনি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ: তাহার সৌন্দর্যতাবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
শুদ্ধ: তার সৌন্দর্যবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।

অশুদ্ধ: ছেলেটি অহর্নিশি তার মাকে জ্বালাতন করে।
শুদ্ধ: ছেলেটি অহর্নিশ তার মাকে জ্বালাতন করে।

অশুদ্ধ: তার সাংঘাতিক আনন্দ হলো।
শুদ্ধ: তার অপরিসীম আনন্দ হলো।

অশুদ্ধ: মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে সুস্বাগত জানানো হল।
শুদ্ধ: মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানানো হল।

অশুদ্ধ: মিছিল করার জন্য সবাই একত্রিত হলো।
শুদ্ধ: মিছিল করার জন্য সবাই একত্র হলো।

অশুদ্ধ: সৌজন্যতা বজায় রাখা উচিত।
শুদ্ধ: সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।

অশুদ্ধ: ঘটনাটি প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: বাহুল্যতা পরিহার করা উচিত।
শুদ্ধ: বাহুল্য পরিহার করা উচিত।

অশুদ্ধ: মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠতর সন্তান।
শুদ্ধ: মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

অশুদ্ধ: ঐক্যতার ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
শুদ্ধ: ঐক্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: সে সমৃদ্ধশালী পরিবারের সন্তান।
শুদ্ধ: সে সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তান।

অশুদ্ধ: লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যতার ছাপ স্পষ্ট।
শুদ্ধ: লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২৯৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) কার্য্যালয়
  2. খ) ক্ষতিগ্রস্থ
  3. গ) খন্ডনীয়
  4. ঘ) গঞ্জনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গঞ্জনা
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - গঞ্জনা

বানানগুলোর শুদ্ধরূপ-
শুদ্ধ - কার্যালয়
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- কার্য+আলয়
অর্থ: কর্মস্থল, কর্মক্ষেত্র।

শুদ্ধ - ক্ষতিগ্রস্ত
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- ক্ষতি+√গ্রস্+ত
অর্থ: ক্ষতি হয়েছে এমন, অপকৃত।

শুদ্ধ - খণ্ডনীয়
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- √খণ্ড্+অনীয়
অর্থ: খণ্ডনযোগ্য, খণ্ডন করা উচিত এমন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,২৯৪.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কৃপণ
  2. বিশেষণ
  3. ভ্রাতাষ্পুত্র
  4. দুর্নীতি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতাষ্পুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতাষ্পুত্র
ব্যাখ্যা
• ’ভ্রাতাষ্পুত্র’ বানানটি অশুদ্ধ।

- বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধবানান: ’ভ্রাতুষ্পুত্র’।
অর্থ:
- ভাইয়ের ছেলে।

অন্যদিকে, 
- কৃপণ, বিশেষণ,দুর্নীতি, শুদ্ধ বানান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,২৯৫.
শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে _____ব্যবহৃত হবে।
  1. (ং)
  2. ও-কার
  3. ঈ-কার
  4. (ঃ)
সঠিক উত্তর:
(ং)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(ং)
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।

• তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন:
- বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।
- বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
৫,২৯৬.
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  2. সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
  3. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
  4. অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২৯৭.
'তার মঙ্গল হোক'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. নেতিবাচক
  2. অনুজ্ঞাবাচক
  3. বিবৃতিবাচক
  4. প্রশ্নবাচক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: 
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 

যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

অন্যদিকে,
বিবৃতিবাচক বাক্য: 
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য: 
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগবাচক বাক্য: 
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৫,২৯৮.
কোন শব্দটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল?
  1. পিতৃহারা
  2. নির্দোষ
  3. অহর্নিশি
  4. নীরোগ
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহর্নিশি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অপপ্রয়োগজনিত শব্দের শুদ্ধরূপ হলো-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
নির্দোষী ----- নির্দোষ
পিতাহারা ------ পিতৃহারা
অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
নিরভিমানী ---- নিরভিমান
দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,২৯৯.
দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি। - নিম্নরেখ শব্দ কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অপাদান
  3. সম্প্রদান
  4. কর্তা
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রদান
ব্যাখ্যা
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কে কোনো কিছু দান বা সাহায্য করা হয়, তাকে বলা হয় সম্প্রদান কারক। দানের সঙ্গে সম্প্রদানের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তবে কোনাে কিছু দিয়ে যদি আবার ফেরত নেয়া হয় তবে তা সম্প্রদান কারক হয় না।

যেমন:
- দিব তোমা শ্রদ্ধা ভক্তি।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- অন্ধজনে দেহ আলাে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৩০০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. কার্পণ্যতা কখনো প্রশংসনীয় নয়। 
  2. দারিদ্র‌্যতা মানবজাতির বড় সমস্যা। 
  3. ধীরতা একটি ভালো গুণ। 
  4. মেয়েটির সারল্যতা সবাইকে মুগ্ধ করত।
সঠিক উত্তর:
ধীরতা একটি ভালো গুণ। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরতা একটি ভালো গুণ। 
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য- ধীরতা একটি ভালো গুণ। 

অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য বাক্যে- কার্পণ্যতা, দারিদ্র‌্যতা ও সারল্যতা শব্দের ব্যবহার অশুদ্ধ। 

---------------------
• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয় প্রয়োগের নিয়ম:

- ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ বা ‘ত্ব’ যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
- এখানে দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

কয়েকটি অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
ধৈর্যতা - ধীরতা।
চাপল্যতা - চপলতা।
দারিদ্র‌্যতা - দরিদ্রতা।
কার্পণ্যতা - কৃপণতা।
সারল্যতা - সরলতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।