বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ৫১ / ৬৯ · ৫,০০১৫,১০০ / ৬,৯৫৩

৫,০০১.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ভুলণ্ঠিত
  2. ভূলুণ্ঠিথ
  3. ভূলুণ্ঠিত
  4. ভূলুন্ঠিত
সঠিক উত্তর:
ভূলুণ্ঠিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূলুণ্ঠিত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- ভূলুণ্ঠিত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- মাটি বা ধুলায় পড়ে গড়াগড়ি করছে এমন।

উল্লেখ্য,
- ট- বর্গের ট, ঠ, ড, ঢ- এই চারটি বর্ণের পর যুক্তবর্ণ তৈরিতে সর্বদা মূর্ধন্য ণ হবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা,  ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০০২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
  2. মানুষ মরণশীল।
  3. অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. সব ছাত্ররা আজ উপস্থিত।
সঠিক উত্তর:
মানুষ মরণশীল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ মরণশীল।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য = মানুষ মরণশীল।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ বাক্য= অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
• শুদ্ধ বাক্য = অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

• অশুদ্ধ বাক্য = ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
• শুদ্ধ বাক্য = ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

• অশুদ্ধ বাক্য =সব ছাত্ররা আজ উপস্থিত।
• শুদ্ধ বাক্য = সব ছাত্র আজ উপস্থিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০০৩.
শুদ্ধরূপে লেখা বানান কোনটি? 
  1. ক) বিদুষি
  2. খ) বিদুষী
  3. গ) বিদূষী
  4. ঘ) বিদূষি
সঠিক উত্তর:
খ) বিদুষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদুষী
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ রূপে লেখা বানান : বিদুষী 
এর অর্থ উচ্চশিক্ষিত 
এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 

[উৎস: ;বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]
৫,০০৪.
'বিপদে ধৈর্য ধর।'- এই বাক্যের নির্দেশাত্মক রূপ কোনটি?
  1. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত নয় কী?
  2. বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।
  3. বিপদে ধৈর্য ধারণ করো।
  4. বিপদ আসলে ধৈর্য ধারণ করো।
সঠিক উত্তর:
বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।
ব্যাখ্যা
'বিপদে ধৈর্য ধর।'- এই বাক্যের নির্দেশাত্মক রূপ- বিপদে ধৈর্য ধরা উচিত।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য থেকে নির্দেশাত্মক বাক্যে রূপান্তর:

⇒ সূত্র: অনুজ্ঞাবাচক বাক্য থেকে নির্দেশাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদের অন্তর্গত মূল ধাতুর সঙ্গে অসমাপিকা ক্রিয়াবিভক্তি (-ইয়া। -এ, ইতে। -তে, ইলে। লে) বা কৃৎ-প্রত্যয় যোগ করে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ গঠন করতে হয় এবং অনুজ্ঞার ভাবকে দিতে হয়  নির্দেশাত্মক ভাবের পরিণতি। যেমন:
- অনুজ্ঞাবাচক: দরজা খোল।
- নির্দেশাত্মক তোমায় দরজা খুলতে বলছি।
- অনুজ্ঞাবাচক: খবরদার, আর এক পাও এগিয়ো না।
- নির্দেশাত্মক আর এক পাও অগ্রসর না হতে সাবধান করে দিচ্ছি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০০৫.
শুদ্ধ বাক্যটি চিহ্নিত করুন-
  1. ক) ছোটো নাটিকাটি সবাইকে মুগ্ধ করল
  2. খ) প্রাতকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে
  3. গ) উহার আবশ্যক নাই
  4. ঘ) হস্তীটি অত্যন্ত স্থুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) হস্তীটি অত্যন্ত স্থুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হস্তীটি অত্যন্ত স্থুল
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য -
নাটিকাটি সবাইকে মুগ্ধ করল।
প্রাতঃকালে লোকটি গাত্রোত্থান করে।
ইহার আবশ্যকতা নাই।
হস্তীটি অত্যন্ত স্থুল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,০০৬.
নিচের কোন বাক্যে বাচ্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আমি অপমানিত হয়েছি।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 
  3. ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
  4. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
ব্যাখ্যা
বাচ্যজনিত ভুল:
- কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে।
 যেমন:

অশুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে। 
শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 

অশুদ্ধ: আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ: আমি অপমানিত হয়েছি।

অশুদ্ধ: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০০৭.
'ফুলে ফুলে শহীদ মিনার ভরে গেছে।' - বাক্যে 'ফুলে ফুলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. করণে ৭মী
  3. অধিকরণে ৭মী
  4. কর্মে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে
- ফুলে ফুলে শহীদ মিনার ভরে গেছে। করণে ৭মী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০০৮.
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে ৭মী
  2. খ) কর্মে ৭মী
  3. গ) করণে ৭মী
  4. ঘ) কর্তায় ৭মী
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মে ৭মী
ব্যাখ্যা
‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে' প্রশ্নে 'জনে জনে' কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি।কর্মকারক:
যাকে আশ্রয় করে বা অবলম্বন করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।কর্ম কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- ১মা বা শূন্য বিভক্তি: ডাক্তার ডাক, বই এনো, বাঘে মানুষ খায়।
- ২য়া বিভক্তি: ডাক্তারকে ডাক, তাকে বল ।
- ৬ষ্ঠী বিভক্তি: তার দেখা পাইনি।
- ৭মী বিভক্তি: ‘জিজ্ঞাসিব জনে জনে'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - সৌমিত্র শেখর।
৫,০০৯.
'ইটের বাড়ি সহজে ভাঙে না।' - বাক্যে 'ইটের' কোন কারক?
  1. কর্ম
  2. অধিকরণ
  3. করণ
  4. অপাদান
সঠিক উত্তর:
করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায় বা উপায়। অর্থাৎ ক্রিয়া নিষ্পত্তির ব্যাপারে যা প্রধান সহায়, তা-ই করণ। কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।

যেমন:
করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ছেলেরা বল খেলে।
তৃতীয়া বিভক্তি: আমরা কান দ্বারা শুনি।
পঞ্চমী বিভক্তি: এ সন্তান হতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ইটের বাড়ি সহজে ভাঙে না।
সপ্তমী বিভক্তি: আকাশ মেঘে ঢাকা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫,০১০.
কোন বানানগুলো শুদ্ধ?
  1. ক) উচ্ছৃঙ্খল, চলচ্ছক্তি
  2. খ) চলৎশক্তি, দুরুহ
  3. গ) উৎশৃঙ্খল, পুরাণ
  4. ঘ) গরিব, নমস্কার
সঠিক উত্তর:
ঘ) গরিব, নমস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গরিব, নমস্কার
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

শুদ্ধ বানান:
গরিব (বিশেষণ)
আরবি শব্দ,
অর্থ:
- দরিদ্র,
- ধনহীন,
- দীন,
- কাঙাল,
- বিনীত।

নমস্কার (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত
- প্রকৃতি - প্রত্যয়: নমস্‌+√কৃ+অ(ঘঞ্‌)
অর্থ:
- (হিন্দুসমাজে প্রচলিত) প্রণাম;
- হাত জোড় করে কপালে স্পর্শ;
- অভিবাদন; সালাম;
- গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০১১.
‘ধর্মের ফল বাতাসে নড়ে’ বাক্যটিতে কী ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বচন জনিত
  2. খ) বাগধারা জনিত
  3. গ) সন্ধি জনিত
  4. ঘ) সমাস জনিত
সঠিক উত্তর:
খ) বাগধারা জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাগধারা জনিত
ব্যাখ্যা
ধর্মের ফল একটি বাগধারা। যার অর্থ সত্য।
সুতরাং সঠিক বাক্য হবে- ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,০১২.
নিম্নের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মনঃক্ষুন্ন
  2. যশাকাঙ্ক্ষা
  3. প্রতিদ্বন্দ্বিতা
  4. হীনম্মন্যতা
সঠিক উত্তর:
মনঃক্ষুন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃক্ষুন্ন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: মনঃক্ষুন্ন।

• শুদ্ধ বানান: মনঃক্ষুণ্ণ (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মানসিকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এমন, বিষণ্ণ, হতাশ।

অন্যদিকে,
• যশাকাঙ্ক্ষা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: যশ বা খ্যাতির প্রত্যাশা।

• হীনম্মন্যতা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।

শুদ্ধ বানান: প্রতিদ্বন্দ্বিতা (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ, প্রতিযোগিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০১৩.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ইহার আবশ্যক নাই।
  2. মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  3. সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
  4. তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ 
সঠিক উত্তর:
তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য: তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।

অশুদ্ধ বাক্য: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ বাক্য: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

অশুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্তশালী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০১৪.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. কর্ণেল
  2. স্বয়ম্বর
  3. একান্নবর্তী
  4. সুচিষ্মিতা
সঠিক উত্তর:
একান্নবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একান্নবর্তী
ব্যাখ্যা

•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = একান্নবর্তী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
-একসঙ্গে আহার ও বসবাস করে এমন পরিবার, যৌথ পরিবার,  joint family।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = কর্ণেল;
• শুদ্ধ = কর্নেল;

• অশুদ্ধ = স্বয়ম্বর;
• শুদ্ধ = স্বয়ংবর;

• অশুদ্ধ = সুচিষ্মিতা;
• শুদ্ধ = শুচিস্মিতা;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০১৫.
'সর্বাঙ্গে ব্যাথা, ঔষধ দিব কোথা।'- এখানে 'সর্বাঙ্গে' কোন কারকে কোন বিভক্ত? 
  1. কর্তায় ৭মী বিভক্তি 
  2. কর্মে ৭মী বিভক্তি 
  3. করণে ৭মী বিভক্তি 
  4. অধিকরণে ৭মী বিভক্তি 
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী বিভক্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৭মী বিভক্তি 
ব্যাখ্যা
• 'সর্বাঙ্গে ব্যাথা, ঔষধ দিব কোথা।'- এখানে 'সর্বাঙ্গে' অধিকরণে ৭মী বিভক্তি।

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা-
- আধার (স্থান) : আমরা রোজ স্কুলে যাই। এ বাড়িতে কেউ নেই।
- কাল (সময়) প্রভাতে সূর্য ওঠে।
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়। যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়। কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,০১৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি নয়?
  1.  কদাপিও
  2. অহর্নিশি
  3. অহোরাত্রি
  4. সুবুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধি
ব্যাখ্যা

• 'সুবুদ্ধি' সঠিক শব্দ।

• শুদ্ধ - অশুদ্ধ
- অর্ধরাত্র - অর্ধরাত্রি।
- অহর্নিশ - অহর্নিশি।
- অহোরাত্র - অহোরাত্রি।
- দিবারাত্র - দিবারাত্রি।
- কদাপি - কদাপিও।
- বিবিধ - বিবিধপ্রকার।
- যদ্যপি - যদিও/যদ্যপিও।
- শুধু/মাত্র - শুধুমাত্র।
- সমূল/মূলসহ - সমূলসহ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫,০১৭.
সম্বন্ধ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. আমার খাওয়া হলো না।
  2. ডাক্তার ডাক।
  3. নিজের চেষ্টায় বড় হও।
  4. রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
সঠিক উত্তর:
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।
ব্যাখ্যা
কারক:
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার। যথা:
- কর্তা কারক,
- কর্ম কারক,
- করণ কারক,
- অপাদান কারক,
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

অন্যদিকে,
আমার খাওয়া হলো না। - কর্তায় ৬ষ্ঠী।
ডাক্তার ডাক। - কর্মে শূন্য।
নিজের চেষ্টায় বড় হও। - করণে ৭মী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১৮.
'আকাশে তো আমি রাখিনাই মোর উড়িবার ইতিহাস।'
-এই বাক্যে 'আকাশে' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তির উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  2. কর্মকারকে সপ্তমী
  3. অপাদান কারকে তৃতীয়া
  4. অধিকরণ কারকে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

• ''আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস'' এই বাক্যে ''আকাশে'' শব্দ দ্বারা স্থানকে বুঝায় এবং এতে সপ্তমী বিভক্তি (এ) আছে।
তাই ‘আকাশে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

অধিকরণ কারকের কয়েকটি উদাহরণ-
-  তৈল আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
- কাননে কুসুম কলি সকলি ফুটিল - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
- শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
- পাতায় পাতায় পড়ে শিশির নিশির - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
- বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি - অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি
- বন্যেরা বনে সুন্দর - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
- ছাদে পানি আছে - অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি
- কপালের লিখন যায় না খণ্ডন - অধিকরণ কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০১৯.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় নিচের কোন গুণটি থাকা প্রয়োজন?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা 
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা  
  4. ঘ) আকাঙ্খা 
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় আসত্তি গুণটি থাকা প্রয়োজন। 

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন-
- ছেলেরা খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া। 
উপরের দুইটি বাক্যই অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
যেমন: 
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই একে আদর্শ বাক্য বলা যায় না।
- পরিপূর্ণ বাক্যে পরিণত করতে হলে বাক্যের পদ্গুলো নিম্নভাবে সাজালে বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
যেমন: 
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’
- এভাবে বললে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
৫,০২০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ত্র্যহস্পর্শ
  2. গড্ডালিকা
  3. মুমুর্ষু
  4. চক্ষুস্মান
সঠিক উত্তর:
ত্র্যহস্পর্শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্র্যহস্পর্শ
ব্যাখ্যা

ভুল বানানগুলোর সঠিক রূপঃ
গড্ডালিকা = গড্ডলিকা
মুমুর্ষু = মুমূর্ষু
চক্ষুস্মান = চক্ষুষ্মান
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৫,০২১.
প্রয়োগের অর্থ বিবেচনায় কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) সচিত্রিত
  2. খ) স্বাগত
  3. গ) শ্রেষ্ঠতম
  4. ঘ) সুস্বাস্থ্য
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাগত
ব্যাখ্যা
প্রয়োগের অর্থ বিবেচনায় শুদ্ধ হলো স্বাগত। অপশনে প্রদত্ত বাকি শব্দগুলোর প্রায়োগিক শুদ্ধরূপ যথাক্রমে স্বাস্থ্য, সচিত্র/চিত্রিত ও শ্রেষ্ঠ।
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা এবং বাংলা একাডেমির ডিকশনারি।
৫,০২২.
"ইট দিয়ে ইমারত হয়।" - বাক্যে 'ইট' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

• বাক্যটি : "ইট দিয়ে ইমারত হয়।"
এখানে "ইমারত হয়" → এটি একটি ক্রিয়া।
"কী দিয়ে ইমারত হয়?" → উত্তর: ইট দিয়ে।
অর্থাৎ, ইট হলো সেই উপকরণ/যন্ত্র যার সাহায্যে ইমারত নির্মাণ হয়।
তাই 'ইট' শব্দটি করণ কারকের উদাহরণ।

তেমনিভাবে:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ = কলম)।
- 'জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়।' (উপায় = সাধনা)।
- 'এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না'। (উপকরণ = সাবান)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,০২৩.
বিভক্তিযুক্ত শব্দকে কী বলে?
  1. পদ
  2. প্রাতিপাদিক
  3. অক্ষর
  4. বাক্য
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
বিভক্তিযুক্ত শব্দকে- পদ বলে। 

পদ: 
- শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে পদ বলা হয়। অর্থাৎ, বিভক্তি যুক্ত শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দ বিভক্তিযুক্ত।
- যেসব শব্দে বিভক্তি দেখা যায় না সেসব শব্দে শূন্য বিভক্তি থাকে। তাই বাক্যের প্রতিটি শব্দই পদ।

পদগুলো প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা - সব্যয় পদ ও অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫,০২৪.
ভুল বানান কোনটি?
  1. প্রকৃতি
  2. প্রতীতি
  3. সমিতি
  4. জ্যমিতি
সঠিক উত্তর:
জ্যমিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যমিতি
ব্যাখ্যা
• ভুল বানান - জ্যমিতি
- শুদ্ধ বানান - জ্যামিতি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- শাস্ত্রের যে শাখায় রেখা ক্ষেত্র আকার পরিমাপ প্রভৃতি বিষয় চর্চা করা হয়।

অন্যদিকে,
- প্রকৃতি, প্রতীতি, সমিতি - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০২৫.
'তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।' এখানে 'হাটের' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক 
  2. অধিকরণ কারক 
  3. করণ কারক 
  4. কর্ম কারক 
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক 
ব্যাখ্যা

• 'তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে।' 
[বাক্যে কোথায় প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'হাটের মাঝে'। সুতরাং হাটের অধিকরণ কারক।]

--------------------
• অধিকরণ কারক:

ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা:
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
-  কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।
• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।
• অধিকরণে অনুসর্গের ব্যবহার: ঘরের মধ্যে কে রে? তোমার আসন পাতিব হাটের মাঝে

৫,০২৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. চাঞ্চল্যতা
  2. প্রসার
  3. সারল্য
  4. সখ্য
সঠিক উত্তর:
চাঞ্চল্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঞ্চল্যতা
ব্যাখ্যা
• 'চাঞ্চল্যতা' - শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: চাঞ্চল্য / চঞ্চলতা। এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- সখ্য, সারল্য এবং প্রসার - শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০২৭.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়? 
  1. ক) ঈপ্সা
  2. খ) ইস্ক্রুপ
  3. গ) দুর্ণাম
  4. ঘ) উক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্ণাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্ণাম
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি বানানের নিয়ম অনুসারে,
তৎসম সয়ামসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। 
তাই দুর্ণাম শব্দটির শুদ্ধরূপ হবে- দুর্নাম।

তাছাড়া, বাকি বানানগুলো শুদ্ধ- 
ঈপ্সা- পাওয়ার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, বাঞ্ছা। 
ইস্ক্রুপ- দৃঢ়; মজবুত; শক্ত ধাতুর তৈরি প্যাঁচকাটা সুচালো কীলকবিশেষ যার সাহায্যে কাঠ প্লাস্টিক বা অন্য কোন পদার্থ শক্ত করে পরস্পর সংযুক্ত করা হয়। 
উক্তি- কথা, বচন, কথন, বাক্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম। 
৫,০২৮.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. তিরস্কার
  2. বাচস্পতি
  3. ক এবং খ উভয়ই 
  4. নিষ্পন্দ
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

নিষ্পন্দ- অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান: নিস্পন্দ। 
অর্থ: স্থির, অসাড়।

-------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে,
ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি।
(স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০২৯.
“তুমি আসবে বলে, আমি অপেক্ষা করছি” বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. ক) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  2. খ) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য বলে। “তুমি আসবে বলে, আমি অপেক্ষা করছি” বাক্যটিতে ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য রয়েছে। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,০৩০.
প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমতা বজায় রাখতে হবে-
  1. ক) বাক্যের দৈর্ঘ্যের
  2. খ) ভাষারীতির
  3. গ) শব্দসীমার
  4. ঘ) ভাবের
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাবের
ব্যাখ্যা

- কল্পনা ও বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে লেখক কোনাে বিষয় সম্বন্ধে সচেতনভাবে যে নাতিদীর্ঘ সাহিত্য সৃষ্টি করেন তাকেই প্রবন্ধ বলে।
- ‘প্রবন্ধ’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। এর উৎপত্তিগত অর্থ প্রকৃষ্ট বন্ধন।
- প্রবন্ধ রচনার মধ্যে লেখকের ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাস আর লাগামহীন চিন্তার কোনাে সুযােগ নেই।

- উচ্চারণ, ভাব ও ভাষা- এই তিনটিই প্রবন্ধের প্রাণ। প্রত্যেক প্রবন্ধে কিছু প্রতিপাদ্য বিষয় থাকে। যথার্থ তথ্য প্রমাণ, যুক্তি, নিরাবেগ ভাষা আর সংযত চিন্তার প্রয়ােগে সেই প্রতিপাদ্য বিষয়কে রূপায়ণ করাই প্রবন্ধের লক্ষ্য।

তাই প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভাবের সমতা বজায় রাখতে হবে

উৎসঃ বাংলা দ্বিতীয়পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,০৩১.
"খাবারটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু স্বাদ তেমন ভালো নয়।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অনুজ্ঞা বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• "খাবারটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু স্বাদ তেমন ভালো নয়।" - এটি যৌগিক বাক্য। 

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
খাবারটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু স্বাদ তেমন ভালো নয়।
সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০৩২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. শূণ্য
  2. পূর্ণ
  3. ভূবন
  4. ত্রিভূজ
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান = পূর্ণ।
--------------------------------------------------
’পূর্ণ’ অর্থ-
- পরিপূর্ণ (পূর্ণ-কুম্ভ)।
- অভাবহীন।
- অখণ্ড, সমগ্র (পূর্ণচন্দ্র)।
- সফল (বাসনা পূর্ণ হওয়া)।
- সমাপ্ত (কাল পূর্ণ হওয়া)।
- সমস্ত, সকল (পূর্ণদৈর্ঘ্য)।

অন্যদিকে,
’শূণ্য’ শুদ্ধ বানান = ‘শূন্য’।
’ভূবন’ বানান = ভুবন।
’ত্রিভূজ’ শুদ্ধ বানান =ত্রিভুজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৩৩.
'To get rid of one who has served the purpose' এর সঠিক বঙ্গানুবাদ -
  1. পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।
  2. গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
  3. কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
  4. কারণ বিনা কার্য হয় না।
সঠিক উত্তর:
কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
ব্যাখ্যা
• 'To get rid of one who has served the purpose' এর সঠিক বঙ্গানুবাদ - কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি

অন্যদিকে,
- 'Practice makes a man perfect' এর সঠিক বঙ্গানুবাদ = গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
- Diligence is the mother of good luck. - পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
- No smoke without fire - কারণ বিনা কার্য হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৩৪.
'অভিপ্রেত' এর শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) ওভিপেত্‌
  2. খ) ওভিপ্রতো
  3. গ) ওভিপ্‌প্রেতো
  4. ঘ) অভিপ্রেত্‌
সঠিক উত্তর:
গ) ওভিপ্‌প্রেতো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওভিপ্‌প্রেতো
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'অভিপ্রেত' এর শুদ্ধ উচ্চারণ- 'ওভিপ্‌প্রেতো'। 

• 'অভিপ্রেত' [ অভি+প্র+√ই+ত] শব্দের অর্থ: 
- অভিলষিত,
- বাঞ্ছিত,
- উদ্দিষ্ট। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,০৩৫.
'এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি।' - বাক্যে ‘গানে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. কর্তায় ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে।
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- মহাতেজে পৃথিবী কম্পিত হইতেছে।
- এখনো তোমার গানে সহসা উদ্বেল হয়ে উঠি। (করণে ৭মী)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৩৬.
কোন বিরামচিহ্নের ক্ষেত্রে থামার প্রয়োজন নেই?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. ড্যাস
  3. ইলেক চিহ্ন
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ইলেক চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৩৭.
'যদি সত্য বলো, তাহলে মুক্তি পাবে'- এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'যদি সত্য বলো, তাহলে মুক্তি পাবে'- এটি 'মিশ্র বা জটিল বাক্য' এর উদাহরণ। 

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
সে যে অপরাধ করেছে, তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৫,০৩৮.
সন্ধি জনিত শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক) কটুক্তি
  2. খ) লঘুর্মি
  3. গ) অত্যুক্তি
  4. ঘ) বধুৎসব
সঠিক উত্তর:
গ) অত্যুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অত্যুক্তি
ব্যাখ্যা
ই + উ = য্‌ + উঃ অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
উ+উ = ঊঃ কটু+উক্তি = কটূক্তি।
উ + ঊ = ঊঃ লঘু + ঊর্মি = লঘূর্মি।
ঊ + উ = ঊঃ বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৫,০৩৯.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরন
  3. ব্যকরণ
  4. ব্যকরন
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান, 'ব্যাকরণ'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়:  বি+আ+√কৃ+অন।
 অর্থ:
- কোনো ভাষার শব্দ ও পদবিন্যাসের স্বরূপ, কাঠামো, রীতি ও বিশ্লেষণ সম্পর্কিত বিদ্যা বা গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা আভিধান।
৫,০৪০.
নিম্নের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) জিগীষা
  2. খ) জবরদস্তি
  3. গ) অনুসঙ্গ
  4. ঘ) নিশ্ছিদ্র
সঠিক উত্তর:
গ) অনুসঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুসঙ্গ
ব্যাখ্যা

ই-কারান্ত, উ কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। যেমন- সঙ্গ>অনুষঙ্গ, সেক>অভিষেক, সুপ্ত>সুষুপ্ত ইত্যাদি।

অনুষঙ্গ [ওনুশঙ্‌গো] (বিশেষ্য) {(তৎসম বা সংস্কৃত)অনু+√সন্‌জ্+অ(ঘঞ্)+ইন্} 
- প্রসঙ্গ; সম্বন্ধ।
- আসক্তি; টান;স্নেহ (আত্মীয়তার যে অনুষঙ্গে হেমলতার স্নেহ মমতাগুলি ডালপালা মেলে – বুদ্ধদেব বসু) 
-অনুগ্রহ; অনুকম্পা; দয়া (তুঁহু যদি কহসি করিঞা অনুষঙ্গ-বিদ্যাপতি )।
অনূষঙ্গী (বিশেষণ) অনুষঙ্গবিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি, বাংলা একাডেমি অভিধান। 

৫,০৪১.
নিচের কোনটি অক্রিয় বাক্য?
  1. আমার মা চাকরি করেন।
  2. তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
  3. পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
  4. তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
ব্যাখ্যা
• অক্রিয় বাক্য- তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

• ভবাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. সক্রিয় বাক্য।,
২. অক্রিয় বাক্য।

• সক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন- 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০৪২.
“তার উন্নতি হয়েছে, কিন্তু মানসিকতা পরিবর্তন হয়নি।” এটি একটি:
  1. ক) মিশ্র বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

নিচের উদাহরণগুলো খেয়াল করুন: 
- তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ।
- সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি।
- তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নিত্য করে।

সুতরাং, প্রদত্ত বাক্যটিও একটি যৌগিক বাক্য। 

তথ্যসূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
৫,০৪৩.
অমিত্রাক্ষর ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো-
  1. চরণের প্রথমে মিল
  2. বিশ মাত্রার পর্ব থাকে
  3. অন্ত্যমিল আছে
  4. অন্ত্যমিল নেই
সঠিক উত্তর:
অন্ত্যমিল নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ত্যমিল নেই
ব্যাখ্যা
⇒ 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।

• কবিতার পঙ্ক্তির শেষে মিলহীন ছন্দকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ বলা হয়। - অর্থাৎ কবিতার দুটি পঙ্ক্তির শেষ অক্ষরের ধ্বনির সাম্য না থাকলে তাকে অমিত্রাক্ষর বলা চলে।
-  অমিত্রাক্ষর ছন্দভিত্তিক, কিন্তু এতে পঙ্ক্তির শেষে মিল নেই। এই ছন্দে এক পঙ্ক্তি বক্তব্য শেষ না হয়ে অন্য পঙ্ক্তিতে গড়িয়ে যায়। 
- এই বৈশিষ্ট্যকে প্রবহমানতা বলে। প্রতি পঙ্ক্তিতে চৌদ্দ অক্ষর থাকে। প্রতি পঙ্ক্তি ৮ + ৬ পর্বে বিভক্তি। 
- বড়ো ধরনের ভাব প্রকাশে অমিত্রাক্ষর বিশেষ সহায়ক। মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই ছন্দ প্রবর্তন করেন। 

উৎস : প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৫,০৪৪.
'Brevity is the soul of wit' পদবন্ধটির যথাযথ বঙ্গানুবাদ-
  1. জ্ঞানী হতে সাহস লাগে না
  2. মানিকের খানিক ভালো
  3. প্রাণের কথা বুকে বাজে
  4. কথা কম কাজ বেশি
সঠিক উত্তর:
মানিকের খানিক ভালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিকের খানিক ভালো
ব্যাখ্যা

 'Brevity is the soul of wit' এর বঙ্গানুবাদ - মানিকের খানিক ভালো।

অর্থাৎ,
সংক্ষিপ্ততা হচ্ছে বুদ্ধিমত্তার আত্মা।
এর দ্বারা বুঝায়, বুদ্ধিমান লোকজন খুব অল্প কথায় অনেক বুদ্ধিদীপ্ত কথা প্রকাশ করতে পারে।

কিছু গুরুতপূর্ণ বঙ্গানুবাদ:
•'Fingers were made before forks' এর বঙ্গানুবাদ - ঠ্যাং থাকতে ক্যান্ নিবি লাঠি?
• 'Do or die' এর বঙ্গানুবাদ - মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
• Fair words butter no parsnips এর বঙ্গানুবাদ - মিষ্টি কথায় চিড়ে ভেজে না।
•Where there is life, there is hope - জীবন থাকলেই আশা থাকবে।
• Diligence is the mother of good luck. - পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
• No smoke without fire - কারণ বিনা কার্য হয় না। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৪৫.
'মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে'- বাক্যে বৃষ্টি কোন কারক?
  1. কর্তা কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- কারক শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘যে ক্রিয়া সম্পন্ন করে’। 
- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ, √কৃ + অক(ণক)।
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে। 

♠ কারক ছয় প্রকার: 
১. কর্তা কারক, 
২. কর্ম কারক, 
৩. করণ কারক, 
৪. অপাদান কারক, 
৫. অধিকরণ কারক ও  
৬. সম্বন্ধ কারক। 

♣ কর্তা কারক: 
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। 
- বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক।
- কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।
- যেমন:
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল। 

- কর্তা কারকে কখনো কখনো এ বিভক্তি যুক্ত হয়। 
• যেমন: পাগলে কিনা বলে, ছাগলে কিনা খায়।  
♠♠
আমার যাওয়া হবে না। 
বাঁশি বাজে।
শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। 
বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।  
• মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।   

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,০৪৬.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) লক্ষ্ণীপূর্ণিমা
  2. খ) লক্ষ্মীপূর্ণিমা
  3. গ) লক্ষ্ণীপুর্ণিমা
  4. ঘ) লক্ষ্মীপুর্ণিমা
সঠিক উত্তর:
খ) লক্ষ্মীপূর্ণিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লক্ষ্মীপূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
- শুদ্ধ বানান হচ্ছে লক্ষ্মীপূর্ণিমা।

• লক্ষ্মীপূর্ণিমা (লক্ষ্মী + পূর্ণিমা):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে লোক্‌খিঁপুর্‌নিমা।
- এর অর্থ হচ্ছে দুর্গাপূজার অব্যবহিত পরের পূর্ণিমাতিথি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,০৪৭.
'আবশ্যকীয়' শব্দে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সমাসজনিত
  4. উপসর্গজনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা
• 'আবশ্যকীয়' শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধরূপ - আবশ্যক

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ
• একত্রিত - একত্র,
• পুজ্য - পূজ্য,
• বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৪৮.
ভাববাচ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
  2. আমার যাওয়া হল না।
  3. তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
  4. এবার বাঁশিটি বাজাও।
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হল না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যাওয়া হল না।
ব্যাখ্যা
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
- যেমন:
• আমার যাওয়া হল না।
• কোথা থেকে আসা হলো।
• এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
-----------
কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
- যেমন:
• পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
• তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
• আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
• আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
- যেমন:
• তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- এবার বাঁশিটি বাজাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,০৪৯.
'যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল/মিশ্র বাক্য তৈরি হয়।
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । 

যেমন:
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
- যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ৯২০১৯- সংস্করণ)।
৫,০৫০.
'সত্য' শব্দটির শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) সোত্য্ত
  2. খ) শোত্যত
  3. গ) সোত্যত
  4. ঘ) শোত্‌তো
সঠিক উত্তর:
ঘ) শোত্‌তো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শোত্‌তো
ব্যাখ্যা
• ‘সত্য’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চরণ (শোত্‌তো)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [সৎ+য]
অর্থ: মিথ্যা নয়, প্রকৃত, বাস্তব, চির-কালীন, নিত্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৫১.
‘বিরত সতত পাপে দেবকুল।’- বাক্যে ‘সতত পাপে’ কোন করক?
  1. কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনাে কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলাে অপাদান কারক।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়ােগ:
- এ বনে বাঘের ভয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় = অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিলে তৈল হয় = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড় = অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- বিপদে মাের রক্ষা কর = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লােভে পাপ পাপে মৃত্যু = অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- ছাদ থেকে পানি পড়ে = অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘বিরত সতত পাপে দেবকুল।’- বাক্যকে কি হতে কা কোথা হতে বিরত দেবকুল? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘সতত পাপে’। সুতরাং ‘সতত পাপে’ অপাদান কারকে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৫২.
কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. মুহুর্ত
  2. মূহূর্ত
  3. মূহুর্ত
  4. মুহূর্ত
সঠিক উত্তর:
মুহূর্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহূর্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান -  মুহূর্ত
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষা হতে আগত শব্দ এটি।

শব্দের অর্থ:
- দিবানিশির ৩০ ভাগের এক ভাগ, আটচল্লিশ মিনিট।
- অতি অল্প সময়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৫৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. উজ্জল
  2. অনুপ্রেরনা
  3. জাজল্যমান
  4. প্রাতরাশ
সঠিক উত্তর:
প্রাতরাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতরাশ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বংলা অভিধান অনুসারে,
'প্রাতরাশ'- বানানটি শুদ্ধ।

• 'প্রাতরাশ' অর্থ:
- সকালবেলার প্রথম আহার।

অন্যদিকে,
• (ক) - উজ্জল এর সঠিক বানান উজ্জ্বল।
• (খ) - অনুপ্রেরনা এর সঠিক বানান অনুপ্রেরণা।
• (গ) - 'জাজল্য' এর সঠিক বানান - জাজ্বল্যমান।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বংলা অভিধান।
৫,০৫৪.
'দাঁড়ি' চিহ্নের বিরতিকাল কতটুকু?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. এক সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে। বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়। এর বিরতিকাল এক সেকেন্ড।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 

যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০৫৫.
'আমার মহেশ মরে যাবে।' - বাক্যে 'মহেশ' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে শূন্য
  2. কর্তায় তৃতীয়া
  3. কর্মে শূন্য
  4. কর্তায় শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তায় শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
ক) প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি :
- হামিদ বই পড়ে।
- আমার মহেশ মরে যাবে।

খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

গ) তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ঘ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

অন্যদিকে,
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে ‘কে’ বিভক্তি হয়।
যেমন:
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করাে।

করণ কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে ।
- এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ,’দিয়া’ , ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনসুর্গ যুক্ত হয় ।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৫,০৫৬.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. বর্তমানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।
  2. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. আমি সন্তোষ হলাম।
সঠিক উত্তর:
বর্তমানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্তমানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: বর্তমানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া মুশকিল।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৫৭.
কোন বিরামের থামার সময়ের অনুপাত 'কমা'র দ্বিগুণ?
  1. ক) দড়ি
  2. খ) কোলন
  3. গ) সেমিকোলন
  4. ঘ) ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
গ) সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন:
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। 
- মনের ভাব প্রকাশের সময় একটি বাক্য শেষ করে সন্নিহিত নতুন বাক্যটি শুরু করতে চাইলে একটু বেশি থামতে হয়।
- সেমিকোলন বিরামের থামার সময়ের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৫৮.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পিতৃহারা
  2. নির্দোষ
  3. অহর্নিশ
  4. দিবারাত্রি
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘দিবারাত্রি’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: দিবারাত্র।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৫৯.
'তাহার হাসিতে গান, তাহার কান্নায় গান'। কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
সরল, জটিল ও যৌগিক।
(১) সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
(২) জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়। যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।
(৩) যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে। যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

প্রদত্ত বাক্য 'তাহার হাসিতে গান, তাহার কান্নায় গান' একটি সরল বাক্য। 
কেননা- 
- এতে একটি সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা আলাদা আলাদা ভাবে দুটি স্বাধীন বাক্য গঠিত হয়েছে। 
- এতে কোনো আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ না থাকায় এটি জটিল বাক্য নয়। 
- বাক্যটি কোন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত না হওয়ায় এটি যৌগিক বাক্য নয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০৬০.
শুদ্ধ বানান -
  1. বুদ্ধিজীবি
  2. প্রোজ্জল
  3. অন্তর্জগৎ
  4. গোধুলি
সঠিক উত্তর:
অন্তর্জগৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্জগৎ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অন্তর্জগৎ'
শব্দের অর্থ:
-  মনোজগৎ, ভাবলোক, চিন্তারাজ্য।

অন্যদিকে,
- গোধুলি - গোধূলি,
- প্রোজ্জল - প্রোজ্জ্বল,
- বুদ্ধিজীবি - বুদ্ধিজীবী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৬১.
‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ - এই বাক্যের নেতিবাচক রূপ হবে -
  1. এমন দিনে তারে বলা যায় না
  2. এমন দিনে তারে যায় না বলা
  3. এমন দিনে তারে বলা যায় কি?
  4. এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না
সঠিক উত্তর:
এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না
ব্যাখ্যা
অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র :
১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক : হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক : হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

একইভাবে -
অস্তিবাচক : এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক : এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

আরো কিছু উদাহরণ:

অস্তিবাচক : পাখিটা মরল।
নেতিবাচক : পাখিটা বাঁচল না।

অস্তিবাচক : এভাবে সমাজ অচল হয়ে পড়ে।
নেতিবাচক : এভাবে সমাজ চলে না।

অস্তিবাচক : অনুপমার উচিত কাজ হয়েছে।
নেতিবাচক : অনুপমার অনুচিত কাজ হয়নি।

অস্তিবাচক : বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক : বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৬২.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. নদীর জলে অস্তমান সূর্যের ছায়া পড়েছে।
  2. আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে।
  3. মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে।
  4. সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম।
সঠিক উত্তর:
নদীর জলে অস্তমান সূর্যের ছায়া পড়েছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর জলে অস্তমান সূর্যের ছায়া পড়েছে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: নদীর জলে অস্তমান সূর্যের ছায়া পড়েছে।
শুদ্ধ: নদীর জলে অস্তায়মান সূর্যের ছায়া পড়েছে।

অন্যদিকে,
- সারা জীবন ভূতের বেগার খেটে মরলাম।
- মেয়েটি বিদুষী কিন্তু ঝগড়াটে।
- আগামীকাল কলেজ বন্ধ থাকবে।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫,০৬৩.
'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে' বাক্যে জনে জনে শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) অপাদানে সপ্তমী
  2. খ) কর্মে সপ্তমী
  3. গ) করণে পঞ্চমী
  4. ঘ) কর্তায় সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্মে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
জিজ্ঞাসিবে জনে জনে; এখানে 'জনে জনে' কর্মকারকে ৭মী । 

কর্ম কারক
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে ।
বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম – উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন-
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায় ।
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো ।

কর্মকারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার।
ক) প্রথমা বা শূন্য অ বিভক্তি : ডাক্তার ডাক।
- আমাকে এক খানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মূখ্য কর্ম)। 
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না।(গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট প্রয়ােগ)।
খ) দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি : তাকে বল।
রে বিভক্তি : ‘আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মাের প্রার্থনা।
গ) ষষ্ঠী বা র বিভক্তি : তােমার দেখা পেলাম না।
ঘ) সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে। (বীপ্সায়)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫,০৬৪.
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" - এটি কোন প্রকার বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,০৬৫.
‘অর্ধরাত্রি’ শব্দে কোন ধরনের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. প্রত্যয় সাধিত
  2. সন্ধি জনিত
  3. সমাস সাধিত
  4. বহুবচন জনিত
সঠিক উত্তর:
সমাস সাধিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস সাধিত
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘অর্ধরাত্রি’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: অর্ধরাত্র।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৬৬.
শুদ্ধ বানান -
  1. জাত্যাভিমান
  2. জাত্যাভিমাণ
  3. জাত্যভিমান
  4. জাত্যভীমান
সঠিক উত্তর:
জাত্যভিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাত্যভিমান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'জাত্যভিমান'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত

শব্দের অর্থ:
- উচ্চবংশে জন্মের অহংকার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৬৭.
যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন - "সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।"
  1. সত্যের পূজারি বলেই তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
  2. তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
  3. সত্যের পূজারি হওয়ায় তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
  4. তিনি সত্যের পূজারি এবং জগতের সবার কাছে সম্মানিত।
সঠিক উত্তর:
তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
সরল বাক্য: সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
যৌগিক বাক্য: তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৬৮.
একটি স্বার্থক বাক্যের গুণ নয় কোনটি?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) যৌক্তিকতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌক্তিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌক্তিকতা
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা:
১. আকাঙ্খা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙ্খা বলে।
২. আসত্তি: বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ  বিন্যাসই আসত্তি।
৩. যোগ্যতা: বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
৫,০৬৯.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্বায়ত্তশাসন
  2. অশরীরী
  3. যথোচিত
  4. টানাপোড়ন
সঠিক উত্তর:
টানাপোড়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টানাপোড়ন
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - টানাপোড়ন
- এর শুদ্ধ বানান - টানাপোড়েন।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- কাপড়ের লম্বালম্বি ও আড়াআড়িভাবে বোনা সুতা।
- উভয়সংকট, দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থা।

অন্যদিকে,
স্বায়ত্তশাসন, অশরীরী এবং যথোচিত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৭০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
  2. খ) অশ্রুজলে বুক ভেসে গেল।
  3. গ) কারো দৈন্য নিয়ে উপহাস কোরো না।
  4. ঘ) কথাটি সঠিক নয়।
সঠিক উত্তর:
গ) কারো দৈন্য নিয়ে উপহাস কোরো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কারো দৈন্য নিয়ে উপহাস কোরো না।
ব্যাখ্যা

কারো দৈন্য/দীনতা নিয়ে উপহাস কোরো না। বাক্যটি সম্পূর্ণ সঠিক।

প্রশ্নের অন্যান্য বাক্যের সঠিক রূপ-
দশচক্রে ভগবান ভূত।
অশ্রুতে বুক ভেসে গেল।
কথাটি ঠিক নয়।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০৭১.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) সৌজন্ন
  2. খ) সৌজন্নতা
  3. গ) সৌযন্য
  4. ঘ) সৌজন্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৌজন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৌজন্য
ব্যাখ্যা
বানান: 
- সৌজন্যতা শব্দটি ব্যাকরণগত ভাবে ভুল বানান। 
- এর সঠিক বানান হচ্ছে- সৌজন্য। 
- সৌজন্য শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ। 
- সৌজন্য শব্দটির অর্থ হলো ভদ্রতা, অমায়িকতা, শিষ্ট-ব্যবহার। 

উৎস: বাংলা একাডেমী- আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,০৭২.
অশুদ্ধ বানান -
  1. নথিপত্র
  2. মনোযোগ
  3. বীণাপানি
  4. যথোচিত
সঠিক উত্তর:
বীণাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীণাপানি
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - বীণাপানি।
- শুদ্ধ বানান - বীণাপাণি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- বীণা যার পাণিতে, সরস্বতীদেবী, বাগদেবী।

অন্যদিকে,
- নথিপত্র, আভ্যন্তর এবং যথোচিত - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৭৩.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  4. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
সঠিক উত্তর:
অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

অশুদ্ধ: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০৭৪.
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছকে কি বলে?
  1. ক) বর্গ
  2. খ) বাক্যাংশ
  3. গ) অক্ষর
  4. ঘ) বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বর্গ
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রতিটি শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছ অনেক সময় পদের মত কাজ করে।
- তখন সেই একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বর্গ বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০৭৫.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কী বলে?
  1. নাম-প্রকৃতি
  2. ক্রিয়া-প্রকৃতি
  3. প্রকৃতি
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
নাম-প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম-প্রকৃতি
ব্যাখ্যা

বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
অন্যদিকে ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলা হয়৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৫,০৭৬.
কোন শব্দগুচ্ছ এর বানান শুদ্ধ?
  1. ক) রুগ্ণ, শিহরন, বাল্মীকি
  2. খ) অদ্যবধি, তিরষ্কার, ধরণ
  3. গ) দারুন, দৈন্যতা, বৈচিত্র
  4. ঘ) জাত্যাভিমান, ব্রহ্মপুত্র, প্রবেশক
সঠিক উত্তর:
ক) রুগ্ণ, শিহরন, বাল্মীকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রুগ্ণ, শিহরন, বাল্মীকি
ব্যাখ্যা
অপশন ক এর সব গুলো বানান শুদ্ধ।
অন্যান্য অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপঃ
অদ্যাবধি, তিরস্কার, দারুণ, দৈন্য, দীনতা, জাত্যভিমান
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৫,০৭৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দুষ্কৃতিকারী
  2. দুষ্কৃতকারি
  3. দুষ্কৃতকারী
  4. দুষ্কৃতিকারি
সঠিক উত্তর:
দুষ্কৃতকারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুষ্কৃতকারী
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- শুদ্ধ বানান- দুষ্কৃতকারী।



• দুষ্কৃতকারী (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: দুষ্কর্মকারী, অন্যায়কারী, অপরাধী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৭৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. হীনোম্নন্যতা
  2. হীনম্মন্যতা
  3. হীনমন্যতা
  4. হীনমন্ন্যতা
সঠিক উত্তর:
হীনম্মন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীনম্মন্যতা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - 'হীনম্মন্যতা'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: হীনম্মন্য + তা।
অর্থ:
- নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৭৯.
নিচের কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিরভিমানী
  2. অদ্যবধি
  3. সুবুদ্ধিমান
  4. পৌরুষত্ব
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবুদ্ধিমান
ব্যাখ্যা

সুবুদ্ধিমান - শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- 'সুবুদ্ধিমান' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।

অন্যদিকে,
• 'নিরভিমানী' - শব্দে সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- 'নিরভিমানী' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।

• 'অদ্যবধি' -  শব্দে সন্ধিঘটিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- 'অদ্যবধি' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি।

• 'পৌরুষত্ব' -  শব্দে '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- 'পৌরুষত্ব' - শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - পুরুষত্ব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৮০.
'সরিষা হইতে তৈল হয়।' এখানে 'সরিষা' কোন কারক?
  1. কর্তৃ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমন-
- বিচ্যুত : গাছ থেকে পাতা পড়ে। 
- গৃহীত : সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। 
- জাত:  জমি থেকে ফসল পাই
- বিরত : পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত : দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত : বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ : সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত : বাঘকে ভয় পায় না কে?
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- সরিষা হইতে তৈল হয়।
[বাক্যেকে 'কি হতে/থেকে তৈল হয়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সরিষা হইতে'। সুতরাং 'সরিষা হইতে' শব্দটি অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,০৮১.
একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে বলে-
  1. ক) অধীন বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন,
- পাপড়ি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

• সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন,
- আমরা তিন ভাইবোন।

• বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন,
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে বাজারের দিকে গেলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০৮২.
লেখার সময়ে কোনো কথা অব্যক্ত রাখতে চাইলে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. বিন্দু
  3. কোলন
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
ত্রিবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• ত্রিবিন্দু (...):
লেখার সময়ে কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে বা অব্যক্ত রাখতে চাইলে - ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন -
তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।” 
আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

অন্যদিকে,
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,০৮৩.
মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন। - এখানে ‘মন দিয়া’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৩য়া
  2. করণে ৩য়া
  3. কর্মে ৩য়া
  4. কর্তায় ৩য়া
সঠিক উত্তর:
করণে ৩য়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে ৩য়া
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত দ্বারা’, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
- কলমের খোঁচা দিও না। (করণ কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি)।
- মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন। (করণ কারকে ৩য়া বিভক্তি)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৮৪.
শুদ্ধ বানানে লিখিত শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. হরিতকি, সায়ত্তশাসন
  2. হরীতকী, স্বায়ত্তশাসন
  3. হরিতকী, স্বায়ত্ত্বশাসন
  4. হরীতকি, স্বায়ত্তশাসন
সঠিক উত্তর:
হরীতকী, স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরীতকী, স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- হরীতকী, স্বায়ত্তশাসন বানানদ্বয় সঠিক।

- 'হরীতকী' এক ধরণের ভেষজগুণ সম্পন্ন ফল।
- স্বায়ত্তশাসন = স্বায়ত্ত + শাসন । অর্থ: একনায়ক শাসিত নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৮৫.
সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অদ্যবধি
  2. পৃথগন্ন
  3. অনটন
  4. বিপদুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্যবধি
ব্যাখ্যা

সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধিগুলো হলো-
শুদ্ধ - অশুদ্ধ:
• অনটন - অনাটন।
• অদ্যাবধি - অদ্যবধি। 
• পৃথগন্ন - পৃথকন্ন। 
• বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী।
• বিপদুদ্ধার - বিপদোদ্ধার।  
• বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০৮৬.
'Give a dog a bad name and hang him' এর বঙ্গানুবাদ -
  1. কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি।
  2. কারণ বিনা কার্য হয় না।
  3. গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
  4. পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি।
সঠিক উত্তর:
কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি।
ব্যাখ্যা
• 'Give a dog a bad name and hang him' এর বঙ্গানুবাদ - কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি

অন্যদিকে,
• 'No smoke without fire' এর বঙ্গানুবাদ - কারণ বিনা কার্য হয় না।
• 'Practice makes a man perfect' এর বঙ্গানুবাদ - গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
• 'Diligence is the mother of good luck' এর বঙ্গানুবাদ - পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি (মূল)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৮৭.
"নদীর তিরে বসে ছেলেটি বাঁশির সুরে মন মুগ্ধ করে দিলো।" - বাক্যটিতে কয়টি বানান ভুল আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা
• "নদীর তিরে বসে ছেলেটি বাঁশির সুরে মন মুগ্ধ করে দিলো।" - বাক্যটিত ১টি বানান ভুল আছে।
এখানে,
'তিরে' এর শুদ্ধ বানান হবে- তীরে।

আরও কিছু শুদ্ধ বানান হলো-
- দধীচি, 
- জীবিকা, 
- প্রতীতি, 
- বীচি, 
- বীথি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৮৮.
আমার যাওয়া হয়নি।” নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্মকারক
  2. করনকারক
  3. কর্তৃকর্মকারক
  4. কর্তৃকারক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা

• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

- কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
- প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: হামিদ বই পড়ে।
- দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
- তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
- ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
- সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ] ।

৫,০৮৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ শব্দ?
  1. বেঠিক
  2. বেজোট
  3. বেদল
  4. ক + খ
  5. ক+ খ+ গ
সঠিক উত্তর:
ক+ খ+ গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+ খ+ গ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• বেঠিক, বেজোট ও বেদল শব্দগুলো শুদ্ধ।

- বেদল অর্থ: ১ ভিন্ন দল বা পক্ষ। ২ প্রতিপক্ষ।
- বেজোট অর্থ: কোনো জোট বা দলের প্রভাবমুক্ত; জোটবহির্ভূত।
- বেঠিক অর্থ: ১ ঠিক নয় এমন, ভুল (বেঠিক সিদ্ধান্ত)। ২ নির্ভরযোগ্য নয় এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৯০.
'কার্পণ্যতা' শব্দটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. বিভক্তিজনিত
  2. বাহুল্যজনিত
  3. সন্ধিজনিত
  4. প্রত্যয়জনিত
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়জনিত
ব্যাখ্যা

• 'কার্পণ্যতা' শব্দটি-  'অপপ্রয়োগ'। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'কার্পণ্য'। 
এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।
 
• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৫,০৯১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. খ্রিস্টাব্দ
  2. পরিপন্থি
  3. চত্ত্বর
  4. প্রণামী
সঠিক উত্তর:
পরিপন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপন্থি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'পরিপন্থি' — শুদ্ধ বানান। 

• 'পরিপন্থি' শব্দের অর্থ:
- প্রতিকূল, বিরোধী। 

অন্য অপশন,

অশুদ্ধ বানান — শুদ্ধ বানান: 
খ্রিস্টাব্দ — খ্রিষ্টাব্দ, 
চত্ত্বর — চত্বর, 
প্রণামী — প্রণামি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৯২.
ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) পূর্বাহ্ণ
  2. খ) মধ্যাহ্ণ
  3. গ) অপরাহ্ন
  4. ঘ) সায়াহ্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) পূর্বাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পূর্বাহ্ণ
ব্যাখ্যা
- কারণ, অপর, পরা, পূর্ব, প্র- এই কয়টি পূর্ব পদের পর অহ্ন শব্দ বসলে ণত্ব বিধি অনুসারে দন্ত্য ন- এর জায়গায় মূর্ধন্য ণ হয়।  যেমন- অপরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 
- ণ-ত্ব বিধান : তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।
 
- ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 

অন্যান্য বানানের সঠিক রূপ। 
- অপরাহ্ণ
- মধ্যাহ্ন
- সায়াহ্ন

 
সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৫,০৯৩.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আকষ্ঠ পর্যন্ত ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে
  2. বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে
  3. সূর্য পূর্বদিকে উদয় হয়
  4. সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
সঠিক উত্তর:
সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: আকষ্ঠ পর্যন্ত ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ ভোজনে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

অশুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে
শুদ্ধ বাক্য: বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছেে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৯৪.
উক্তি পরিবর্তনঃ মা রেগে আমাকে বললেন, ''তোমার গিয়ে কাজ নেই।''
  1. ক) রাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন।
  2. খ) মা রেগে আমাকে বললেন যে, আমার যেয়ে কী হবে?
  3. গ) মা রাগ করে বললেন যে, যেও না।
  4. ঘ) রাগ করে মা আমাকে বললেন যে, আমার যাওয়া অকার্যকর হবে।
সঠিক উত্তর:
ক) রাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন।
ব্যাখ্যা

প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময় কালবাচক এবং স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

যেমনঃ
প্রত্যক্ষ উক্তিঃ লোকটি বললেন, 'আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।'
পরোক্ষ উক্তিঃ লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
প্রত্যক্ষ উক্তিঃ মা রেগে আমাকে বললেন, ''তোমার গিয়ে কাজ নেই।''
পরোক্ষ উক্তিঃ রাগান্বিতভাবে মা আমাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন।

৫,০৯৫.
বাক্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন থাকলে বিরতির সময় কত?
  1. এক বলতে যে সময় লাগে
  2. থামার প্রয়োজন হয় না
  3. এক সেকেন্ড
  4. এক বলার দ্বিগুণ
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে-
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে-
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে-
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে-
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,০৯৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ধূলিধুসর
  2. ধূলিধূশর
  3. ধুলিধূষর
  4. ধূলিধূসর
সঠিক উত্তর:
ধূলিধূসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূলিধূসর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'ধূলিধূসর'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- ধুলোমাখা, ঈষৎ পাণ্ডুবর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৯৭.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. গ্রন্থ সমূহ যত্নে রাখো।
  2. আমায় একা রেখে যেওনা।
  3. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থ সমূহ সরিয়ে রাখো।
  4. তার কপালে ভাত নাই।
সঠিক উত্তর:
তার কপালে ভাত নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার কপালে ভাত নাই।
ব্যাখ্যা
⇒ টি, টা, খানা, খানি, গুলি, গুলো, রা, এরা, গণ, বৃন্দ, সমূহ:
• টি, -টা, -খানা, -খানি, -গুলি, -গুলো, -রা, - এরা, গণ, -বৃন্দ, -সমূহ এইগুলো কখনোই আলাদা বসবে না।
আবার একবচন শব্দের সঙ্গে -টি, টা, খানা, খানি, -কিংবা, -গুলি, -গুলো, -রা, -এরা, -গণ, সমূহ যোগ করে যখন বহুবচন করা হবে তখনও শব্দগুলো আলাদা বসবে না।
• আমরা ভুল করে লিখি- বই গুলো, চিঠি গুলো, গ্রন্থ সমূহ ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সবই জোড়া লাগবে; তাই লিখতে হবে বইগুলো, চিঠিগুলো, গ্রন্থসমূহ। কিন্তু সমূহ আনন্দ, সমূহ বিপদ, সমূহ ক্ষতি, সমূহ সর্বনাশ এসব ক্ষেত্রে আলাদা হবে।

⇒ না, নেই, নয়:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• শুদ্ধ বাক্য: তার কপালে ভাত নাই।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
- গ্রন্থসমূহ যত্নে রাখো।
- আমায় একা রেখে যেও না।
- অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৯৮.
'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।' - বাক্যে কোন ধরনের অধীন খণ্ডবাক্য ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্যস্থানীয়
  2. ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
  3. বিশেষণস্থানীয়
  4. সর্বনামস্থানীয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।

যেমন:
- 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫,০৯৯.
সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. বিন্দু
  3. হাইফেন
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বিন্দু (.):
- শব্দসংক্ষেপ ও ক্রম নির্দেশ করতে এই বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বিন্দু চিহ্নটি ইংরেজি ফুলস্টপ বা পিরিয়ড (.) চিহ্নের সমান।
- সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর বিন্দু বসে।
যেমন:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।
- ভাষার প্রধান উপাদান চারটি: ১. ধ্বনি, ২. শব্দ, ৩. বাক্য ও ৪. অর্থ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,১০০.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন -
  1. আষ্টেপৃষ্টে
  2. আষ্টেপৃষ্ঠ
  3. আষ্ঠেপৃষ্ঠে
  4. আষ্টপৃষ্ঠ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'আষ্টেপৃষ্ঠে'
- এটি ক্রিয়া বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
এর অর্থ:
- সারাদেহ জুড়ে, সর্বাঙ্গে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।