বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্য প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৬,৯৫৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্য প্রকরণ

PrepBank · পাতা ১৬ / ৬৯ · ১,৫০১১,৬০০ / ৬,৯৫৩

১,৫০১.
কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. সে আরোগ্য লাভ করেছে।
  2. তার এখন সঙ্কটাপন্ন অবস্থা।
  3. ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।
  4. আপনি সপরিবারে আমন্ত্রিত।
সঠিক উত্তর:
ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।' বাক্যটি ভুল।
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- 'ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫০২.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. কৃষক
  2. কষাই 
  3. বর্ষণ
  4. সুষমা 
সঠিক উত্তর:
কষাই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কষাই 
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- কষাই।  
• শুদ্ধরূপ: 'কসাই' আরবি ভাষার শব্দ। সেকারণে 'কসাই' শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ। 

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে, ষ্টেশন, স্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫০৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) আদার ব্যাপারীর স্টিমারের খবর।
  2. খ) পানিতে কুমির ডাঙায় বাঘ।
  3. গ) রাঙামাটি পার্বতীয় এলাকা।
  4. ঘ) কলার পাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।
সঠিক উত্তর:
ঘ) কলার পাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কলার পাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।
ব্যাখ্যা
- 'কলার পাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই' বাক্যটি সঠিক।

অন্য অপশনগুলোর সঠিক বাক্য:
• প্রবাদ প্রবচনের বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তনকে অশুদ্ধ বলে গণ্য করা হয়। 
- আদার ব্যাপারীর স্টিমারের খবর বাক্যটির সঠিক হচ্ছে আদার ব্যাপারীর জাহাজের খবর।
- পানিতে কুমির ডাঙায় বাঘ বাক্যটির সঠিক হচ্ছে জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

• বিশেষণের অপপ্রয়োগজনিত বাক্য অশুদ্ধ হয়।
- রাঙামাটি পার্বতীয় এলাকা বাক্যটির সঠিক হচ্ছে রাঙামাটি পার্বত্য এলাকা।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৫০৪.
'শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করি শির; লিখে রেখ, একবিন্দু দিলেম শিশির।' এ অংশটুকুর মূল প্রতিপাদ্য-
  1. প্রতিদান
  2. প্রত্যুপকার
  3. অকৃতজ্ঞতা
  4. অসহিষ্ণুতা
সঠিক উত্তর:
অকৃতজ্ঞতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকৃতজ্ঞতা
ব্যাখ্যা
"শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির লিখে রেখ এক ফোঁটা দিলেম শিশির।”

- এ বাক্যের মূলভাব হলো এ জগতে এমন কিছু লোক আছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না। বরং তারা সমান্য উপকার করতে পারলেই উপকৃত ব্যক্তির কাছে তার উপকারের কথাটি প্রচার করে বেড়ায়।
- যা তাদের অকৃতজ্ঞতাকে প্রকাশ করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ (পৃষ্ঠা-৯১৫)।
১,৫০৫.
কোন শব্দে ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ? 
  1. ত্রিণয়ন
  2. অগ্রহায়ণ
  3. ভীষণ
  4. কারণ 
সঠিক উত্তর:
ত্রিণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিণয়ন
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ শব্দ:
- 'ত্রিণয়ন' শব্দে ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
- কারণ ‘ণ-ত্ব’ বিধান খাটেনা- সমাসবদ্ধ পদে।
- সমাসবদ্ধ শব্দে দুইপদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকলে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
- সমাসবদ্ধ পদে 'ন' হয়। 
- যেমন-
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
-------------------------
অন্যদিকে,
• ণত্ব বিধানের প্রধান নিয়ম হলো—

- ঋ, র, রেফ (র্), র-ফলা ও ষ-এর পরে যদি দন্ত্য-ন থাকে, তবে তা মূর্ধন্য-ণ হয়।
- উদাহরণ—
- ঋ-এর পরে: ঋণ, ঘৃণা, মৃণাল।
- র-এর পরে: কারণ, বরণ, মরণ।
- রেফ (র্)-এর পরে: বর্ণ, চূর্ণ, শীর্ণ।
- র-ফলা-এর পরে: ত্রাণ, দ্রোণ, অগ্রহায়ণ
- ষ-এর পরে: ভীষণ, বিশেষণ, পাষাণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,৫০৬.
'পাপী পশুর অধম।'- বাক্যে 'পশুর' কোন কারক? 
  1. কর্ম কারকে ৬ষ্ঠী
  2. অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী
  3. করণ কারকে ৪র্থী 
  4. কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক।

- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- পাপী পশুর অধম। 
[ বাক্যকে কি হতে বা কিসের থেকে অধম? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পশুর'। সুতরাং 'পশুর' অপাদান কারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তির উদাহরণ।]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- ছাদ থেকে পানি পড়ে।- অপাদান কারকে৫মী বিভক্তি।
- মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়।- অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।
- তিথির চেয়ে বিথী বড়।- অপাদান কারকে ষষ্ঠী বিভক্তি।
- পরাজয়ে ডরে না বীর।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
-বিপদে মোর রক্ষা কর।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।
- লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।- অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫০৭.
'যে নির্বোধ, সে একাজ করে।'- কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
• যেমন :
- যে নির্বোধ, সে একাজ করে।
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫০৮.
জিজ্ঞাসা চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার হয়নি কোন বাক্যে?
  1. ঢাকা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  2. তাদেরকে তিনি ভদ্র (?) বলেছেন।
  3. রেজাউল (৪২?) নামের একজন আহত হয়েছেন।
  4. তোমার নাম বলো?
সঠিক উত্তর:
তোমার নাম বলো?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার নাম বলো?
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) তোমার নাম বলো?

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে জিজ্ঞাসা চিহ্ন (?) সাধারণত প্রশ্নবোধক বাক্যে বা কোনো কিছু সম্পর্কে সন্দেহ, অনিশ্চয়তা বা প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বাক্যের শেষে বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাক্যের মাঝে (বিশেষত সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা প্রকাশের জন্য) ব্যবহৃত হতে পারে। তবে, জিজ্ঞাসা চিহ্নের ব্যবহার অবশ্যই বাক্যের প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

এখানে প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ করা হলো:

ক) ঢাকা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?: এটি একটি প্রশ্নবোধক বাক্য, যেখানে জিজ্ঞাসা চিহ্ন বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি শুদ্ধ এবং যথাযথ, কারণ বাক্যটি সরাসরি একটি প্রশ্ন।

খ) তাদেরকে তিনি ভদ্র (?) বলেছেন।: এই বাক্যে জিজ্ঞাসা চিহ্নের ব্যবহার যথাযথ। কারণ বয়সের বিষয়ে সন্দেহ বোঝাচ্ছে।

গ) রেজাউল (৪২?) নামের একজন আহত হয়েছেন।: এই বাক্যে জিজ্ঞাসা চিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে ‘৪২’-এর পর, যা রেজাউলের বয়স সম্পর্কে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করছে। এটি বাংলায় গ্রহণযোগ্য, কারণ বাক্যের মাঝে জিজ্ঞাসা চিহ্ন ব্যবহার করে কোনো তথ্যের অনিশ্চয়তা বোঝানো যায়। উদাহরণ: “সে ২০২৩ (?) সালে এসেছিল।” তাই এটি যথাযথ।

ঘ) তোমার নাম বলো? → ভুল, কারণ এটি আসলে আদেশমূলক বাক্য, প্রশ্নবোধক নয়। সঠিক রূপ হবে – "তোমার নাম বলো।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫০৯.
‘ব্য’ এর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) ব্যপন
  2. খ) ব্যরাম
  3. গ) ব্যমো
  4. ঘ) ব্যভিচার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যভিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যভিচার
ব্যাখ্যা
কোনো শব্দের শুরুতে ‘ব্য’ থাকলে তাকে ভাঙতে হয় ‘বি+অ’ দিয়ে এবং শব্দের শুরুতে ‘ব্যা’ থাকলে একে ভাঙতে হবে ‘বি+আ’ দিয়ে।
সঠিক বানান গুলো হচ্ছে -ব্যভিচার, ব্যাপন, ব্যারাম, ব্যামো।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
১,৫১০.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. যেহেতু নির্বাচন হয়েছে, সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।
  2. পানিতে নাম তবে, সাঁতার শিখতে পারবে।
  3. আর লাভের আশা নেই বলে বাড়ি ফিরতে হলো।
  4. লোকটির সবই আছে, কিন্তু সুখী নয়।
সঠিক উত্তর:
আর লাভের আশা নেই বলে বাড়ি ফিরতে হলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর লাভের আশা নেই বলে বাড়ি ফিরতে হলো।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- আর লাভের আশা নেই বলে বাড়ি ফিরতে হলো।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

অন্যদিকে,
- পানিতে নাম তবে, সাঁতার শিখতে পারবে।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- লোকটির সবই আছে, কিন্তু সুখী নয়।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- যেহেতু নির্বাচন হয়েছে, সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫১১.
'তুমি আসলে আমি যাব।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. কার্যকারণবাচক
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. পারস্পরিকবাচক
সঠিক উত্তর:
কার্যকারণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকারণবাচক
ব্যাখ্যা
• 'তুমি আসলে আমি যাব।'- এটি কার্যকারণাত্মক বা কার্যকারণবাচক বাক্য।

কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
- এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন -
→ মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। 
তুমি আসলে আমি যাব

অন্যদিকে,
ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে।
- একে আজ্ঞাসুচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন -
→ সদা সত্য কথা বলবে।
→ কাছে এসো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫১২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. স্বৈরাচারি
  2. স্বৈরাতন্ত্র
  3. স্বৈরাশাসক
  4. স্বৈরাচার
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: স্বৈরাচার।
অর্থ: 
- নিজ ইচ্ছানুযায়ী আচরণ।
- উচ্ছৃঙ্খলতা।

অশুদ্ধ বানান গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: স্বৈরাচারী।
অর্থ: 
- নিজ ইচ্ছানুযায়ী আচরণ কারী।
- উচ্ছৃঙ্খল।

• শুদ্ধ বানান: স্বৈরতন্ত্র।
অর্থ:
- একনায়কের ইচ্ছা অনুযায়ী শাসিত রাষ্ট্রব্যবস্থা।
- একনায়কতন্ত্র।

• শুদ্ধ বানান: স্বৈরশাসক।
অর্থ:
- একনায়কত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫১৩.
নিচের কোন বাক্যটির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
  2. বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।
  3. বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!
  4. সে আজ যাবে!
সঠিক উত্তর:
বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!
ব্যাখ্যা
• 'বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!' বাক্যটির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।

• স্বরভঙ্গি তথা বাগ্‌ভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। যথা:
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশ: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তোমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বোঝাতে: বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালো হয়েছে!
৭. দুঃখ প্রকাশে: আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
৮. বিরক্তি প্রকাশে: আঃ, ভালো লাগছে না, এখন এখান থেকে যাও তো।
৯. ভীতি প্রদর্শনে: যাবি কি না বল?
১০. লজ্জা প্রকাশে: ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে পারলে না।
১১. ধিক্কার দিতে: ছিঃ, তোমার এই কাজ।
১২. ঘৃণা প্রকাশে: তুমি এত নীচ!
১৩. অনুরোধ প্রকাশে: কাজটি করে দাও না ভাই।
১৪. প্রার্থনা: ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।

- ছেদ ও বিরতিসূচক চিহ্নগুলো বাগ্‌ভঙ্গির লিখিত আকার প্রকাশে সাহায্য করে।
- দাঁড়ি, কমা, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময়সূচক চিহ্ন বাক্যের ভাব ও অর্থবোধের জন্য উপকারক।
১,৫১৪.
'বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়' বাক্যটিতে কোন গুন টি অনুপস্থিত?
  1. ক) আকাঙক্ষা
  2. খ) আগ্রহ
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) আসত্তি
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
'বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়' বাক্যটিতে ভাবগত মেলবন্ধন না থাকায় বাক্যটি 'যোগ্যতা' হারিয়েছে।
সঠিক বাক্যটি হবে 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়' 

ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের তিনটি গুন থাকা আবশ্যক।

⇒ আকাঙক্ষা:- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙক্ষা বলে।
যেমন- চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে। এ বাক্যে শ্রোতার আকাঙ্ক্ষা নিবৃত হয়েছে বলে এটি বাক্য হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।  

⇒ আসত্তি:- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ বিন্যাসই হলো আসত্তি। 
যেমন- কাল বিতরণী হবে স্কুলে পুরষ্কার আমাদের অনুষ্ঠিত- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ সঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্হিত ভাব যথাযথভাবে প্রকাশ পায় নি। তাই এটি বাক্য হয় নি। মনোভাব প্রকাশের জন্য পদগুলোকে এভাবে সাজাতে হবে- কাল আমাদের স্কুলে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে।   

⇒ যোগ্যতা:- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। অর্থাৎ বাক্যের পদগুলোর শব্দগত এবং অর্থগত মিল থাকার নামই হচ্ছে যোগ্যতা।
যেমন- যদি বলা হয়- মাছেরা আকাশে উড়ে তাহলে বাক্য তার যোগ্যতা হারাবে কারন বাস্তবতার সাথে বাক্যের মিল নেই। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৫.
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলো হলো -
  1. যতিচিহ্ন
  2. বিরামচিহ্ন
  3. বিরতিচিহ্ন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
-------------------- 
• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
- দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়। 
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি। 

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো:
দাঁড়ি (।), কমা (,), সেমিকোলন (i), প্রশ্নচিহ্ন (?), বিস্ময়চিহ্ন (!), হাইফেন (-), ড্যাশ (−), কোলন (:), বিন্দু (.), ত্রিবিন্দু (...), উদ্ধারচিহ্ন (' - ', ""), বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]), বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৫১৬.
অশুদ্ধ বানান -
  1. পরিষেবা
  2. কনকাঞ্জলী
  3. উচ্ছ্বাস
  4. ওষুধ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কনকাঞ্জলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনকাঞ্জলী
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - কনকাঞ্জলী
- এর শুদ্ধ বানান - কনকাঞ্জলি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মাঙ্গলিক ক্রিয়াকর্মে অঞ্জলিপূর্ণ স্বর্ণ প্রদানের সংস্কার।

অন্যদিকে,
- ওষুধ, উচ্ছ্বাস এবং পরিষেবা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫১৭.
বলকযুক্ত শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. আকাশে
  2. যদিও
  3. চলন্ত
  4. বাতাস
সঠিক উত্তর:
যদিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদিও
ব্যাখ্যা
• বলক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
- তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।
- অনুরূপভাবে 'যদিও' শব্দে ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৫১৮.
নিচের কোন বানাটি সঠিক? 
  1. উচ্ছ্বাসিত
  2. পরিসেবা
  3. দূষণীয়
  4. ভদ্রছিত
সঠিক উত্তর:
দূষণীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূষণীয়
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'দূষণীয়' শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: উচ্ছ্বাসিত
শুদ্ধ: উচ্ছ্বসিত

অশুদ্ধ: পরিসেবা
শুদ্ধ: পরিষেবা

অশুদ্ধ: ভদ্রছিত
শুদ্ধ: ভদ্রোচিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৫১৯.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ত্রিণয়ন
  2. আকাঙ্খা
  3. দুর্নিবার
  4. শিহরণ
সঠিক উত্তর:
দুর্নিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নিবার
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'দুর্নিবার'
- বিশেষণ পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নিবারণ করা কষ্টসাধ্য এমন।
- দুর্বার।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ:
• 'শিহরন'
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- রোমাঞ্চ।

• 'ত্রিনয়ন'
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- যার তিনটি চোখ আছে।

• 'আকাঙ্ক্ষা'
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- ইচ্ছা, বাসনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫২০.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. দুর্বলবশত অনাথিনী বসে পড়ল।
  2. দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল।
  3. দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
  4. দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল।
সঠিক উত্তর:
দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: দুর্বলতাবশত অনাথা বসে পড়ল।
- অনাথা: ‘অনাথ’ শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ।
- যেহেতু বাক্যে একজন নারীকে নির্দেশ করা হয়েছে, তাই স্ত্রীবাচক শব্দ ‘অনাথা’ ব্যবহার করা হলো।
- ‘অনাথিনী’ ব্যাকরণগতভাবে ভুল বা অপ্রচলিত।

অন্যদিকে, 
• দুর্বলবশত অনাথিনী বসে পড়ল: এখানে ‘দুর্বলবশত’ এবং ‘অনাথিনী’ উভয়ই ভুল।
• দুর্বলতাবশতঃ অনাথিনী বসে পড়ল: এখানে ‘অনাথিনী’ ভুল।
- এবং বাংলা ভাষার বর্তমান রীতি অনুযায়ী শব্দের শেষে ‘ঃ’ ব্যবহার হয় না, তাই ‘দুর্বলতাবশতঃ’ অশুদ্ধ।
• দুর্বলবশত অনাথা বসে পড়ল: এখানে ‘দুর্বলবশত’ ভুল।

- কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
• অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
 শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নেই।
• অশুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
 শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
• অশুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
 শুদ্ধ: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: 
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৫২১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছ।
  2. শহীদ মিনারে শ্রন্ধাঞ্জলী অপর্ণ করব।
  3. অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
  4. দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছ।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।

অশুদ্ধ বাক্য: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ বাক্য: দশচক্রে ভগবান ভূত। 

অশুদ্ধ বাক্য: শহীদ মিনারে শ্রন্ধাঞ্জলী অপর্ণ করব।
শুদ্ধ বাক্য: শহিদ মিনারে শ্রন্ধাঞ্জলি অপর্ণ করব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫২২.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ভাত ছড়ালে শালিখের অভাব হয় না।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত?
  3. আমি বড় অপমানিত হইয়াছি।
  4. বুনো কচু, বাঘা তেঁতুল।
সঠিক উত্তর:
আমি বড় অপমানিত হইয়াছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বড় অপমানিত হইয়াছি।
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে সঠিক বাক্যটি হলোঃ আমি বড় অপমানিত হইয়াছি।
- 'বুনো কচু, বাঘা তেঁতুল।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ 'বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল।
- 'ভাত ছড়ালে শালিখের অভাব হয় না।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না।
- 'সব মাছগুলোর দাম কত?' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবেঃ
মাছগুলোর দাম কত? অথবা সব মাছের দাম কত?
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৫২৩.
ভাববাচ্যের উদাহরণ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. একদিন তো মরবই।
  2. তবে যাওয়া হোক।
  3. চোরটা ধরা পড়েছে।
  4. তা বিশেষ ক্ষতি করে না।
সঠিক উত্তর:
তবে যাওয়া হোক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তবে যাওয়া হোক।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- তবে যাওয়া হোক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

---------------------
অন্যদিকে,
• কর্মবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

------------------
• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

• কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।
- একদিন তো মরবই।
- তা বিশেষ ক্ষতি করে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫২৪.
'কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি'- বাক্যটি কোন প্রকারের?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি।

• জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই:
জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো।

অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই।

[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]

• কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
- ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

সূত্র: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
১,৫২৫.
‘পতাকাটি উড়ছে।’ - বাক্যটিতে কোন ধরনের বাচ্য বিদ্যমান?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• কর্মকর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- জল পড়ে পাতা নড়ে।

অনুরূপ,
- পতাকাটি উড়ছে। - বাক্যে উড়ার কাজ পতাকা নিজেই করছে। সুতরাং কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
১,৫২৬.
অশুদ্ধ বানান -
  1. সুধী
  2. প্রতিদ্বন্দ্বীতা
  3. ঊর্মি
  4. ঝঞ্ঝাট
সঠিক উত্তর:
প্রতিদ্বন্দ্বীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিদ্বন্দ্বীতা
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বীতা
- শুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ।
- প্রতিযোগিতা।

অন্যদিকে,
- ঝঞ্ঝাট, ঊর্মি এবং সুধী - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৫২৭.
সারাংশ লিখনে একাধিক অনুচ্ছেদ থাকা____
  1. ক) অপরিহার্য
  2. খ) বাঞ্চনীয়
  3. গ) অসম্ভব
  4. ঘ) অপ্রয়োজনীয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপ্রয়োজনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপ্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
• সারাংশ: 
- গদ্যরচনার অন্তর্নিহিত বক্তব্যকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারাংশ, আর কাব্যভাষায় লেখা কোনো রচনার মূলভাবকে সংক্ষেপে লেখার নাম সারমর্ম।

• সারাংশ ও সারমর্ম লেখার কিছু নিয়ম হলো:
ক. প্রদত্ত রচনার বিবরণ ও ভাবকে অনুসরণ করে সারাংশ ও সারমর্ম লিখতে হয়।
খ. অনধিক চার বাক্য বা চল্লিশ শব্দের মধ্যে সারাংশ ও সারমর্ম সীমিত রাখা দরকার।
গ. প্রদত্ত রচনার মূল কথা যাতে সারাংশ ও সারমর্মে বাদ না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।
ঘ. সারমর্ম বা সারাংশ লেখার সময়ে উদাহরণ, উদ্ধৃতি, পরিসংখ্যান, তথ্য-উপাত্ত ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয়।
ত. সারাংশ ও সারমর্মের ভাষায় কোনো ধরনের কাব্যধর্মিতা রাখা যায় না। ভাষা হতে হয় দ্ব্যর্থহীন ও আবেগবর্জিত।
চ. সারাংশ ও সারমর্মে পুনরাবৃত্তি পুরোপুরি বর্জনীয়।
ছ. সারাংশ বা সারমর্ম লেখার সময়ে নিজস্ব বক্তব্য, মন্তব্য বা মত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।
জ. সারাংশ লিখনে একাধিক অনুচ্ছেদ থাকা অপ্রয়োজনীয়. 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১,৫২৮.
কোনটি অনুজ্ঞা?
  1. ক) তুমি যাও
  2. খ) তুমি গিয়েছিলে
  3. গ) তুমি যাচ্ছিলে
  4. ঘ) তুমি যাচ্ছ
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি যাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুমি যাও
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর: তুমি যাও

অনুজ্ঞা: আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাঁকে অনুজ্ঞা বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১,৫২৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. কিংকর্তব্যবিমূড়
  2. কিংকর্তব্যবিমূঢ়
  3. কিংকর্তব্যবিমুঢ়
  4. কিংকর্তব্যবীমূঢ়
সঠিক উত্তর:
কিংকর্তব্যবিমূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিংকর্তব্যবিমূঢ়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'কিংকর্তব্যবিমূঢ়'
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষণ পদ।
- এর প্রকৃতি প্রত্যয়: কিম্‌ + কর্তব্য + বিমূঢ়।
এর অর্থ:
- কর্তব্য নিরূপণে অক্ষম।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৫৩০.
প্রমিত বানানের নিয়ম অনুসারে, কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।
  2. রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
  3. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
  4. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।" - বাক্যটি ভুল।

কারণ, 
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

• বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৩১.
'আমাকে এখন যেতে হবে।' - কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্তৃবাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার দ্বারা এই কাজ হবে না।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৩২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. কায়ামনবাক্যে
  2. কায়ামনোবাক্যে
  3. কায়মনবাক্যে
  4. কায়মনোবাক্যে
সঠিক উত্তর:
কায়মনোবাক্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়মনোবাক্যে
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - কায়মনোবাক্যে
- এটি একটি ক্রিয়া বিশেষণ পদ।
- এটি বাংলা ভাষার শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- দেহ মন ও কথায়,
- সম্পূর্ণরূপে,
- সর্বতোভাবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৫৩৩.
বাক্যে সম্বোধনের পর কোন চিহ্ন বসে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. কোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
কমা (,)
- বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে। নানা প্রয়োজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে।
যেমন:
তুমি যাবে, না যাবে না?
সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২. বাক্যে সম্বোধনের পর কমা বসে।
যেমন:
সেতু, পড়তে বসো।
বিথু, খাবে এসো।

৩. একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা বসে।
যেমন:
বিশেষ্য: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী।
বিশেষণ: সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা একই মালার ফুল।
সর্বনাম: তুমি, আমি ও রবিন বাজারে যাব।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৩৪.
কোনটি অক্রিয় বাক্য?
  1. তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
  2. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  3. আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।
  4. আমার বাবা চাকরি করেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
ব্যাখ্যা
• অক্রিয় বাক্য - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- আমার বাবা চাকরি করেন।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।
- আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।

অক্রিয় বাক্য:
- যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন:
- তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৩৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. পাণীনি
  2. উপরিঅন্ত
  3. মধুনিশী
  4. উল্লিখিত
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: উল্লিখিত,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্ + √লিখ্ +ত,
যার অর্থ:
- ওপরে বা পূর্বে লিখিত।
- পূর্বোক্ত।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান: পাণিনি (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [পাণিন্ + অ],
অর্থ: খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের সংস্কৃত ব্যাকরণ প্রণেতা।

• শুদ্ধ বানান: উপরন্তু (অব্যয় পদ),
- এটি বাংলা শব্দ।
যার অর্থ:
- এছাড়াও।
- অধিকন্তু।

• শুদ্ধ বানান: মধুনিশি (বিশেষ্য),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [মধু + বা. নিশি],
অর্থ: বসন্ত-রজনি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৩৬.
"আনন্দময়ী পুস্তুক পাঠ করেছে।" এটি কোন বাচ্য?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্মকর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।
যেমন -
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- আনন্দময়ী পুস্তুক পাঠ করেছে।

১. কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়।
২. কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৩৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. সোনালী ব্যাংক
  2. অপদস্ত
  3. অনভ্যস্ত
  4. অপরাহ্ণ
সঠিক উত্তর:
অপদস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপদস্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

অপদস্ত বানানটি অশুদ্ধ।

- সঠিক বানান হবে - অপদস্থ
- অর্থ - লাঞ্ছিত, অসম্মানিত।

অন্যদিকে,
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সোনালী ব্যাংক শুদ্ধ শব্দ। সোনালী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক ব্যতিত সকল আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে 'ই' কার বসবে।
- অনভ্যস্ত বানানটি শুদ্ধ।যার অর্থ - আনাড়ি, অপটু।
- অপরাহ্ণ বানানটি শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৩৮.
লিঙ্গজনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. ক) অনাথা
  2. খ) বিদ্বানী
  3. গ) অর্ধাঙ্গিনী
  4. ঘ) সিংহী
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্বানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদ্বানী
ব্যাখ্যা

বিদুষী - বিদ্যাবতী রমণী; উচ্চশিক্ষিতা; পণ্ডিত মহিলা।
বিদ্বান - জ্ঞানী; বিদ্যাবান; পণ্ডিত; শিক্ষিত; সুশিক্ষিত।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

১,৫৩৯.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য'- বাক্যটির জটিলরূপ -
  1. ক) যে লোক দুর্জন কেবল পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  3. গ) যারা দুর্জন তাদেরকে সবাই পরিত্যাগ করে।
  4. ঘ) লোকগুলো দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সঠিক উত্তর:
খ) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
- বাক্যটির জটিল রূপ হচ্ছে যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,৫৪০.
‘অর্ধচ্ছেদ’ অর্থে কোন বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. হাইফেন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

কিছু বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ ও যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে--
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে --
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• কোলন বা দৃষ্টান্ত থাকলে--
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে --
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে-- 
- থামার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৪১.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) শ্বসণ
  2. খ) শিরশ্ছেদ
  3. গ) স্টেশন
  4. ঘ) শূন্য
সঠিক উত্তর:
ক) শ্বসণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্বসণ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে অশুদ্ধ বানান হচ্ছে শ্বসণ। এর শুদ্ধ বানান- শ্বসন
- অপশনের বাকি বানানগুলো শুদ্ধ।

• শ্বসন:
- এর সঠিক উচ্চারণ শশোন্‌।
- এর অর্থ হচ্ছে শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগ, নিশ্বাস-প্রশ্বাস।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৫৪২.
একটি শব্দ শোনার সাথে সাথে আমাদের মনে যে ছবি বা বোধ জেগে ওঠে তাকে কী বলে?
  1. বাগর্থ
  2. বাচ্যার্থ
  3. লক্ষ্যার্থ
  4. শব্দার্থ
সঠিক উত্তর:
বাচ্যার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্যার্থ
ব্যাখ্যা
বাচ্যার্থ:
- একটি শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বোধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ।
- অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- 'মাথা' শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই 'মাথা' শব্দের বাচ্যার্থ।
- বাচ্যার্থ হলো শব্দের মুখ্য অর্থ। এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৪৩.
'পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়াল পাখি।' - বাক্যে 'পাখি' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃকারক
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি:
- হামিদ বই পড়ে।
- পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়াল পাখি

দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।

তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৪৪.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) নীতিবাক্য
  2. খ) নীষ্ফলা
  3. গ) নিষ্পাপ
  4. ঘ) নিষ্কর্ষণ
সঠিক উত্তর:
খ) নীষ্ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীষ্ফলা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - নীষ্ফলা।
• শুদ্ধ বানান - নিষ্ফলা।
- বাংলা শব্দ।

• অর্থ:
- ফলহীনা, 
- সন্তান ধারণে অক্ষম,
- বন্ধ্যা,
- ফলপ্রসূ নয় এমন।

অন্যদিকে,
নীতিবাক্য, নিষ্পাপ ও নিষ্কর্ষণ শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৪৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) মধূসূদন দত্ত
  2. খ) মধূসুদন দত্ত
  3. গ) মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) মধুসুদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = মধুসূদন দত্ত। 

আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে, 
মধুসূদন = মধু নামক অসুরকে বধকারী বিষ্ণু। 
দত্ত = দেয়া হয়েছে এমন; পদবিশেষ।
১,৫৪৬.
“যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো”- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) নির্দেশাত্মক বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বা মিশ্র বাক্য : যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও তাকে আশ্রয় বা অবলম্বন করে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে। এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে।
যেমনঃ যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে; যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো; যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী
১,৫৪৭.
আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে কোন কারবর্ণটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উ-কার
  2. খ) ঈ-কার
  3. গ) এ-কার
  4. ঘ) ই-কার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ই-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ই-কার
ব্যাখ্যা
• আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে সোনালী ব্যাংক নামটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধন করা হয়েছে। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৪৮.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. পূণ্য
  2. ভুবন
  3. শূন্য
  4. ত্রিভুজ
সঠিক উত্তর:
পূণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূণ্য
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - পূণ্য
- এর শুদ্ধ বানান - পুণ্য।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- সৎকর্মের ফল,
- সওয়াব।

অন্যদিকে,
ভুবন, শূন্য, ত্রিভুজ - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৪৯.
নিচের কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অহোরাত্র
  2. সুকেশা
  3. সখ্য
  4. মৌনতা
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌনতা
ব্যাখ্যা
মৌনতা শব্দের শুদ্ধরূপ হবে ‘মৌন’

মৌন (বিশেষ্য): নীরবতা
শব্দটির সাথে আলাদাভাবে 'তা' যুক্ত করলে ভুল প্রয়োগ হবে।

- অহোরাত্র, সুকেশা ও সখ্য - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,৫৫০.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. একের লাঠি দশের বোঝা।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত?
  3. বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
  4. কালীদাস খ্যাতমান কবি।
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ: একের লাঠি দশের বোঝা।
• শুদ্ধ: দশের লাঠি একের বোঝা।

• অশুদ্ধ: সব মাছগুলোর দাম কত?
• শুদ্ধ: সব মাছের দাম কত?

• অশুদ্ধ: কালীদাস খ্যাতমান কবি।
• শুদ্ধ: কালিদাস খ্যাতিমান কবি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৫১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. আমন্ত্রন
  2. আবিস্কার
  3. আধ্যাত্মিক
  4. আহোরন
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধ্যাত্মিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ: আধ্যাত্মিক,
- বিশেষণ পদ। 
- এটি একটি সংস্কৃত। 
অর্থ:
- পারমার্থিক;
-  আত্মা থেকে জাত বা আত্মা সম্বন্ধীয়;
-  মানসিক।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধরূপ - শুদ্ধরূপ
• আহোরন - আহরণ। 
• আমন্ত্রন - আমন্ত্রণ। 
• আবিস্কার - আবিষ্কার। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৫২.
বাংলায় কোন চিহ্নকে 'পাদচ্ছেদ' বলা হয়?
  1. ক) দাঁড়ি
  2. খ) ড্যাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কমা
ব্যাখ্যা
• ব্যবহৃত বিরাম-চিহ্ন কমা (,) -এর বাংলা অর্থ - পাদচ্ছেদ।

কিছু বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ:
• দাড়ি - পূর্ণচ্ছেদ।
• সেমিকোলন - অর্ধচ্ছেদ।
• কোলন - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।
• কোলন ড্যাস - ছেদ বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৫৩.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  4. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
সঠিক উত্তর:
অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

অশুদ্ধ: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৫৪.
অতৎসম ও বিদেশি শব্দে কোনটি সর্বদা বর্জিত হবে?
  1. ই-কার এবং ঊ-কার
  2. ই-কার এবং উ-কার
  3. ঈ-কার এবং উ-কার
  4. ঈ-কার এবং ঊ-কার
সঠিক উত্তর:
ঈ-কার এবং ঊ-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈ-কার এবং ঊ-কার
ব্যাখ্যা
• অতৎসম ও বিদেশি শব্দে সর্বদা বর্জিত হবে - ঈ-কার এবং ঊ-কার

বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে। তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

- ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্‌ স্থানে অনুস্বার (ং) লেখা যাবে।
যেমন: অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।
• বিকল্পে ঙ্‌ লেখা যাবে।
• ক্ষ-এর পূর্বে সর্বত্র ঙ্‌ হবে।
যেমন: আকাঙ্ক্ষা।

- অতৎসম অর্থাৎ নিজস্ব (অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ইত্যাদি) ও বিদেশি শব্দে সর্বদা ঈ-কার এবং ঊ-কার বর্জিত হবে
যেমন: তরকারি, মুলা, দিঘি, সরকারি, শাড়ি, পশমি, ইমান, কুরান, নিচু, ভুখা ইত্যাদি।

- 'আলি' প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে।
যেমন: সোনালী হবে না, হবে সোনালি; মিতালী হবে না, হবে মিতালি।
অনুরূপভাবে, বর্ণালি, খেয়ালি, রূপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

- তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। অতৎসম শব্দে 'ণ' হবে না, তার বদলে হবে 'ন'।
যেমন: অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান, ধরন, সোনা ইত্যাদি। 

- তৎসম শব্দের বানানে ষ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। এ-ছাড়া অন্য কোনো শব্দের ক্ষেত্রে সংস্কৃত ষ-ত্ব বিধি প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু সে-সব ক্ষেত্রে ষ-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ তা নয়।
যেমন: সাল, শহর, হিসাব, শখ, শৌখিন, পোশাক।
কিন্তু বোষ্টমী, খ্রিষ্টান ইত্যাদি।

- ইংরেজি শব্দের প্রতিবর্ণীকরণে S- এর জন্য 'স' এবং Sh, -sion, - ssion, -tion ইত্যাদির জন্য সাধারণত 'শ' ব্যবহার হবে।
যেমন: স্টেশন, কমিশন, শার্ট, ফটোস্ট্যাট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৫৫.
কোন বাক্যে শব্দের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) কোকিল নীর বানাতে পারেনা।
  2. খ) বসন্তে পরভৃৎ ডাকে।
  3. গ) মড়াকে তাড়াতাড়ি সৎকার করাই ভালো।
  4. ঘ) বাণবাসী মানুষের পাশে দাঁড়াও। 
সঠিক উত্তর:
গ) মড়াকে তাড়াতাড়ি সৎকার করাই ভালো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মড়াকে তাড়াতাড়ি সৎকার করাই ভালো।
ব্যাখ্যা
নীর (পানি) 
নীড় (বাসা) 
সঠিক বাক্যটি হবে = কোকিল নীড় বানাতে পারেনা 

পরভৃৎ (কাক) 
পরভৃত (কোকিল) 
সঠিক বাক্যটি হবে = বসন্তে পরভৃত ডাকে  

বান(বন্যা) 
বাণ (শর) 
সঠিক বাক্যটি হবে = বানবাসী মানুষের পাশে দাঁড়াও।  

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?   
  1. ইতঃপূর্বে
  2. ঈদৃশ
  3. ইতিমধ্যে
  4. আত্মস্থ
সঠিক উত্তর:
ইতিমধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিমধ্যে
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান- ইতিমধ্যে।
- শুদ্ধ বানান- ইতোমধ্যে।
- ইতোমধ্যে- শব্দটি হলো একটি ক্রিয়া বিশেষণ।
- এর অর্থ এই সময়ের মধ্যে, এই অবসরে।
- ইতোমধ্যে- মূলত সময় বা কাল নির্দেশক অব্যয় হিসেবে কাজ করে এবং বাক্যের ক্রিয়ার সময় বা অবস্থার ব্যাখ্যা দেয়।
- সন্ধি বিচ্ছেদ-  ইতঃ+মধ্যে। 
----------
অন্যদিকে,
- ইতঃপূর্বে, ঈদৃশ, আত্মস্থ- বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫৫৭.
‘এরা অন্য জাতের মানুষ ‘ - এর প্রশ্নাত্মক রূপ কোনটি?
  1. ক) এরা কোন জাতের মানুষ?
  2. খ) এরা অন্য জাতের মানুষ না?
  3. গ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ?
  4. ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?
ব্যাখ্যা
‘এরা অন্য জাতের মানুষ‘ - এর প্রশ্নাত্মক রূপ - এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?

অস্তিবাচক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মুলর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সুত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে : 

• সূত্র -১ : কর্তার পর সাধারণত প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হবে।
• সূত্র - ২ : ক্রিয়াপদের পর ‘না’ অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হবে।
• সূত্র - ৩ : বাক্য শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন থাকবে।

যেমন -
অস্তিবাচক -  তার সম্বন্ধে জানা দরকার।
প্রশ্নবাচক - তার সম্বন্ধে জানা দরকার নয় কি? 

অস্তিবাচক - এরা অন্য জাতের মানুষ।
প্রশ্নবাচক - এরা কি অন্য জাতের মানুষ নয়?

উৎস: উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৫৮.
কোন বানানটি সঠিক?
  1. ত্রিনয়ণ
  2. কৃপন
  3. দুর্ণাম 
  4. ক্রন্দন
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দন
ব্যাখ্যা

• ক্রন্দন - বানানটি সঠিক।
-------------------
• ণ-ত্ব বিধান
:
- সমাসসাধিত শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এক্ষেত্রে ন হয়। 
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, অগ্রনায়ক, পরনিন্দা ইত্যাদি।

- ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি। 

ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৫৫৯.
অশুদ্ধ বাক্য -
  1. পাহাড়ের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের মুগ্ধ করে।
  2. দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য কৃচ্ছ্রসাধন দরকার।
  3. এ বিষয়ে অজ্ঞতাই তার পতনের কারণ।
  4. আমরা তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।
সঠিক উত্তর:
আমরা তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমরা তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: আমরা তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।
শুদ্ধ: আমরা তার বিদেহ আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

অন্যদিকে,
- এ বিষয়ে অজ্ঞতাই তার পতনের কারণ।
- দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য কৃচ্ছ্রসাধন দরকার।
- পাহাড়ের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের মুগ্ধ করে।
উপরের বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৬০.
বিরাম চিহ্নের অপর নাম কী?
  1. ক) ছেদ চিহ্ন
  2. খ) স্থির চিহ্ন
  3. গ) বিশ্রাম চিহ্ন
  4. ঘ) বিভাজন চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ক) ছেদ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ছেদ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য বাক্যের মধ্যে, সমাপ্তিতে কিংবা আবেগ, জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বাক্য-গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তা-ই যতি বা ছেদচিহ্ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১,৫৬১.
“আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি।”- এ বাক্যে ‘ধানে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণ কারক
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত দ্বারা’, “দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
অন্যভাবে বলা যায়, ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

প্রদত্ত বাক্যটি-
“আমারি সোনার ধানে গিয়াছে ভরি।”
- বাক্যকে কীসের দ্বারা ভরেছে? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ধানে’। সুতরাং ‘ধানে’ করণ কারকের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৬২.
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে কোন পদকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়?
  1. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তাবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে রূপান্তরিত করতে হলে একটি ক্রিয়া-বিশেষ্যকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নিয়ে আসতে হয়।
যেমন:
• কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না।
• ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না।

• কর্তৃবাচ্য: তুমিই ঢাকা যাবে।
• ভাববাচ্য: তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।

• কর্তৃবাচ্য: তোমরা কখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমাদের এখন আসা হলো?

• কর্তৃবাচ্য: তুমি এখন এলে?
• ভাববাচ্য: তোমার এখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৬৩.
কোন যতিচিহ্ন ব্যবহারে বিরতির প্রয়োজন হয় না?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. ড্যাস
  3. হাইফেন
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে - এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৬৪.
'আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।'- এখানে 'যুদ্ধে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা:
- আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
- কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

অধিকরণ কারক তিন প্রকার। যথা:
১. আধারাধিকরণ,
২. কালাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

বৈষয়িক:
বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন:
- মনি ইংরেজিতে কাঁচা, কিন্তু অঙ্কে ভালো।
- আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৫৬৫.
নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. ক) সুকেশী
  2. খ) সুকেশা
  3. গ) সুকেশীনী
  4. ঘ) সুকেশিনী
সঠিক উত্তর:
গ) সুকেশীনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকেশীনী
ব্যাখ্যা

সুকেশী, সুকেশা, সুকেশিনী- তিনটিই শুদ্ধ। সুকেশীনী- অশুদ্ধ।
সূত্র: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।

১,৫৬৬.
কোন শব্দে বানানজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. আশিষ
  2. বিবদমান
  3. অশরীরী
  4. মনঃকষ্ট
সঠিক উত্তর:
আশিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশিষ
ব্যাখ্যা
আশিষ - শব্দে বানানজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
- এর শুধ বানান - আশিস
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- আশীর্বাদ, দোয়া;
- শুভেচ্ছা।

অন্যদিকে,
মনঃকষ্ট, 
অশরীরী, 
বিবদমান।
উপরিউক্ত বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৬৭.
“হয় রওনা হও, নয়ত গাড়িতে ওঠ”- এটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
“হয় রওনা হও, নয়ত গাড়িতে ওঠ”- এটি যৌগিক বাক্য

পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
হয় রওনা হও, নতুবা গাড়িতে ওঠো - যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।

আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা: 
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

জটিল বাক্য
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-- - তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন –
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল. সে আমার ভাই ।

সরল বাক্য
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন – তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
১,৫৬৮.
র, এর - কোন প্রকারের বিভক্তি?
  1. ক) ৬ষ্ঠী
  2. খ) ২য়া
  3. গ) ৫মী
  4. ঘ) ৭মী
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
প্রথমা বিভক্তি : ০, অ, এ, (য়), তে, এতে।
দ্বিতীয়া বিভক্তি : ০, অ, কে, রে, এ, য়, তে।
তৃতীয়া বিভক্তি : ০, অ, এ, তে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক।
চতুর্থী বিবক্তি : দ্বিতীয়ার মতো।
পঞ্চমী বিভক্তি : এ, হইতে, থেকে, চেয়ে, হতে।
ষষ্ঠী বিভক্তি : র, এর।
সপ্তমী বিভক্তি : এ, য়, তে, এতে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
১,৫৬৯.
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা'- এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকের উদাহরণ?
  1. করণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা'- এখানে নিম্নরেখ শব্দটি 'সম্বন্ধ কারক' এর উদাহরণ। 

• 'সম্বন্ধ কারক':
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের', ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসেনা।
আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৭০.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত-
  1. ক) সারল্য
  2. খ) সখ্যতা
  3. গ) সদৃশতা
  4. ঘ) সুজনতা
সঠিক উত্তর:
খ) সখ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সখ্যতা
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হবে 'সখ্যতা'।
- 'সখ্যতা' শব্দের শুদ্ধপ্রয়োগ হবে 'সখ্য'।
অপশনে থাকা বাকি শব্দগুলোর প্রতিটিই শুদ্ধপ্রয়োগে রয়েছে।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৭১.
বাহুল্য দোষজনিত বাক্যের অপপ্রয়োগ পাওয়া যায় কোনটিতে?
  1. ক) সব পাখি উড়ে গেলো
  2. খ) সকল ছাত্র ক্লাসে মনযোগী নয়
  3. গ) সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত
  4. ঘ) মাছগুলোর দাম কত?
সঠিক উত্তর:
গ) সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত
ব্যাখ্যা
"সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত" অথবা "শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭২.
লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
ব্যাখ্যা
কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
প্রশ্নে আলোচিত বাক্যটি একটি জটিল বাক্য।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
১,৫৭৩.
’এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মৌলিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
- ’এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে’ এটি একটি জটিল বাক্য।
-------------------------------------------------
• জটিল বাক্য:

যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়।
তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

• জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:  যে - সে, যা - তা, যিনি তিনি, যাঁরা তাঁরা ইত্যাদি।
• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন তখন, যেমন তেমন, বরং তবু, যেইনা অমনি, যেহেতু সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।
যেমন:
- এ গ্রামে যে দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে।
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-২০১৮ সালের সংস্করণ।
১,৫৭৪.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. মন্ত্রিপরিশদ
  2. মন্ত্রিপরিষদ
  3. মন্ত্রীপরিষদ
  4. মন্ত্রিপরিসদ
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রিপরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ত্রিপরিষদ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'মন্ত্রিপরিষদ'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- উচ্চারণ: মোন্‌ত্রিপোরিশদ্‌।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: মন্ত্রি + পরিষদ।
 অর্থ:
- মন্ত্রিসভা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৭৫.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. নিরপরাধী
  2. আষাঢ়ন্ত
  3. সৌন্দর্যতা
  4. বিবদমান
সঠিক উত্তর:
বিবদমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবদমান
ব্যাখ্যা
• 'বিবদমান' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'বিবদমান' শব্দের অর্থ - কলহরত, বিরুদ্ধমত পোষণকারী।

অন্যদিকে,
• 'আষাঢ়ন্ত' সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আষাঢ়ান্ত।

• 'নিরপরাধী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ।

• 'সৌন্দর্যতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: সৌন্দর্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৭৬.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. কিংকর্তব্যবীমূঢ়
  2. কল্যাণবরেষু
  3. কষ্টর্জিত
  4. কক্ষাচ্যুত
সঠিক উত্তর:
কল্যাণবরেষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণবরেষু
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: কল্যাণবরেষু (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পত্রে স্নেহভাজন পাত্রকে সম্বোধনসূচক পাঠ।

অন্যান্য অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: কিংকর্তব্যবিমূঢ় (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: কর্তব্য নিরূপণে অক্ষম।

• শুদ্ধ বানান: কষ্টার্জিত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: বহু কষ্টে অর্জন করা হয়েছে এমন।

• শুদ্ধ বানান: কক্ষচ্যুত (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: নির্দিষ্ট পরিক্রমণপথ থেকে বিচ্যুত, কক্ষভ্রষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৭৭.
শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে-এ বিভক্তির রূপভেদ হয়?
  1. __তে
  2. __য়ে
  3. __এ
  4. __কে
সঠিক উত্তর:
__তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
__তে
ব্যাখ্যা

বিভক্তি: 
• বাক্যের মধ্যে অন্য শব্দের সাথে সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে অর্থহীন কিছু লগ্নক যুক্ত হয়, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
 • যেমন: এ, -তে, য়, য়ে, কে, রে, -র, এর, -য়ের ইত্যাদি।  

বিভক্তিগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দেখানো যায়। 
১. -এ, -তে, য়, -য়ে বিভক্তি; 
• সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল, ভাব বোঝাতে এ, -তে, য়, -য়ে ইত্যাদি বিভক্তির ব্যবহার হয়। কখনো কখনো বাক্যের কর্তার সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে। 
• যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -এ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: সকালে, দিনাজপুরে, ইমেইলে, কম্পিউটারে, ছাগলে, তিলে ইত্যাদি। 

• শব্দের শেষে ই-কার ও উ-কার থাকলে -তে বিভক্তি হয়। 
- যেমন: হাতিতে, রাত্রিতে, মধুতে,রামুতে ইত্যাদি। 

• আ-কারান্ত শব্দের শেষে -য় বিভক্তি হয়। যেমন – ঘোড়ায়, সন্ধ্যায়, ঢাকায় ইত্যাদি। 
• শব্দের শেষে দ্বিস্বর থাকলে -য়ে বিভক্তি হয়। যেমন – ছইয়ে, ভাইয়ে, বউয়ে।
•  ই-কারাপ্ত শব্দের শেষেও -য়ে বিভক্তি দেখা যায়। যেমন – ঝিয়ে, ঘিয়ে।  

২. -কে, -রে বিভক্তি। 
৩. -র, -এর, -য়ের বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

১,৫৭৮.
'মূর্খ লোক অবজ্ঞার পাত্র।' - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. মূর্খ লোককে সবাই অবজ্ঞা করে।
  2. মূর্খ লোক যেহেতু অবজ্ঞার পাত্র।
  3. মূর্খ লোক হওয়ায় তারা অবজ্ঞার পাত্র।
  4. যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।
সঠিক উত্তর:
যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: মূর্খ লোক অবজ্ঞার পাত্র।
জটিল বাক্য: যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৭৯.
'তার চোখ দিয়ে জল পড়ে।'-এখানে ‘চোখ দিয়ে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে ৩য়া
  2. করণে ৩য়া
  3. অধিকরণে ৩য়া
  4. কর্তায় ৩য়া
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৩য়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদানে ৩য়া
ব্যাখ্যা
• 'তার চোখ দিয়ে জল পড়ে।'-এখানে ‘চোখ দিয়ে‘ অপাদান কারকে তৃতীয়া বিভক্তি। 

-------------------
• অপাদান কারক:

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- বিরত: কুকর্মে বিরত হও। [কুকর্মে শব্দে অপাদান কারকে সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• তৃতীয়া বা 'দ্বারা / দিয়ে / কতৃক' বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে জল পড়ে।- বাক্যে জল পড়া বিচ্যুত অর্থ প্রকাশ করে। 

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- জলে বাষ্প হয়।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৮০.
'উঁচু ভূমির ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যটিতে 'জল' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্প্রদান কারকে শূন্য
  2. কর্তা কারকে শূন্য
  3. কর্ম কারকে শূন্য
  4. করণ কারকে শূন্য
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারকে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

'উঁচু ভূমির ঢাল বেয়ে জল নামছে' বাক্যে 'জল' শব্দটি কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি (০ বিভক্তি);
- কারণ জল নিজেই ক্রিয়াটি (নামা) সম্পন্ন করছে এবং এর সাথে কোনো বিভক্তি চিহ্ন বা প্রত্যয় যুক্ত নেই।
-----------------------------------------------
কর্তৃকারক:
- বাক্যে যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্তৃকারক বলে। 
- যিনি কাজটি করেন তিনি হলেন কর্তা বা কর্তৃকারক।
- উদাহরণ:
• "মুক্তা রান্না করছে" - এখানে 'মুক্তা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
• "ছাত্রীরা মাঠে দৌড়াচ্ছে" - এখানে 'ছাত্রীরা' কাজটি করছে, তাই এটি কর্তৃকারক।
- ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- উদাহরণ: 
• "কে রান্না করছে?" → উত্তর: "মুক্তা"।
• "কারা মাঠে দৌড়াচ্ছে?" → উত্তর: "ছাত্রীরা"।

শূন্য বিভক্তি:
- যে বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হলেও কোনো চিহ্ন বা প্রত্যয় (যেমন -কে, -র, -এ) যোগ হয় না, কিন্তু বাক্যে স্পষ্ট ভূমিকা পালন করে তাকে শূন্য বিভক্তি বলা হয়।
- সহজ কথায়, শব্দটি নিজেই কারক হিসেবে কাজ করছে, কিন্তু কোনো চিহ্ন নেই।
- উদাহরণ:
• "আমি খেলছি" - 'আমি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি , কারণ কোনো চিহ্ন নেই, কিন্তু এটি কর্তার কাজ করছে।
• "পাখি আকাশে উড়ছে" - 'পাখি' কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি, কারণ এটি কর্তার কাজ করছে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১,৫৮১.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ?
  1. যদিও তাঁর টাকা আছে, তবু তিনি দান করেন না।
  2. দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
  3. কোথাও না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
  4. যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
সঠিক উত্তর:
দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা তার অধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যদি একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
- ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
- দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
- এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।
যদিও তাঁর টাকা আছে, তবু তিনি দান করেন না

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫৮২.
কোনটি সরল বাক্য?
  1. যা করবার তা করেছি
  2. তুমি যা বলবে তাই ঠিক
  3. সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ
  4. তুমি অধম বলে আমি উত্তম হবো না কেন?
সঠিক উত্তর:
তুমি অধম বলে আমি উত্তম হবো না কেন?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি অধম বলে আমি উত্তম হবো না কেন?
ব্যাখ্যা
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার।যথা-
১) সরল বাক্য,
২) মিশ্র বা জটিল বাক্য এবং
৩) যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- তুমি অধম বলে আমি উত্তম হবো না কেন?

তুমি অধম বলে আমি উত্তম হবো না কেন? - এটি সরল বাক্য।

ব্যাখ্যা:
সরল বাক্যের বৈশিষ্ট্য:
- একটি মাত্র উদ্দেশ্য ও বিধেয় থাকে।
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
- এটি একটি একক ক্রিয়াপদের উপর নির্ভর করে।
- কোনো খণ্ড বা যৌগিক বাক্য নেই।

"তুমি অধম বলে আমি উত্তম হবো না কেন?"
- এখানে মূল উদ্দেশ্য: আমি
- মূল বিধেয়: উত্তম হবো না
- "তুমি অধম বলে" - এটি কারণ বাচক/হেতুবাচক অব্যয় পদ দিয়ে বিশেষণ বর্গ 'তুমি অধম' যুক্ত হয়েছে।
---------------------
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
• ‘যা করবার তা করেছি।’ এটি একটি জটিল বাক্য। 
[বাক্যে একটি প্রধান এবং একটি অপ্রধান বাক্য বিদ্যমান, যা জটিল বাক্যের উদাহরণ।]

• ‘তুমি যা বলবে তাই ঠিক।’ এটি একটি জটিল বাক্য। 
[বাক্যে "তুমি যা বলবে" একটি অপ্রধান খণ্ডবাক্য এবং "তাই ঠিক" প্রধান উপবাক্য। "তুমি যা বলবে" খণ্ডবাক্যটি প্রধান বাক্য ছাড়া সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।]
--------------------
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
• ‘সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।’ যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
[বাক্যে ‘সে পরিশ্রমী বটে’ এটি একটি সম্পূর্ণ বা স্বাধীন উপবাক্য এবং ‘কিন্তু নির্বোধ’ এটিও একটি স্বাধীন উপবাক্য। "কিন্তু" এখানে একটি যোজক হিসেবে দুটি বাক্যকে যুক্ত করেছে।]

এরূপ-
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল৷

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৫৮৩.
'ছানা থেকে মিষ্টি হয়।' এখানে 'ছানা' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. কর্তা কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।

যেমন:
- ছানা থেকে মিষ্টি হয়।

[বাক্যেটিকে 'কি থেকে মিষ্টি হয়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছানা'। সুতরাং 'ছানা' অপাদান কারক।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
১,৫৮৪.
নিচের কোনটি শব্দ গঠনের পদ্ধতি নয়?
  1. সন্ধির মাধ্যমে
  2. কারকের মাধ্যমে
  3. শব্দের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে
  4. উপসর্গযোগে
সঠিক উত্তর:
কারকের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারকের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

শব্দ গঠন পদ্ধতি:
- সন্ধির মাধ্যমে
- সমাসের সাহায্যে
- উপসর্গযোগে
- প্রত্যয়যোগে
- অনুসর্গযোগে
- বিভক্তিযোগে
- পদ পরিবর্তন দ্বারা
- শব্দের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে
- পদাশ্রিত নির্দেশক যোগ করে।

- উপর্যুক্ত প্রক্রিয়ায় শব্দ গঠিত হলেও মূলত সমাস, প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে প্রধানত শব্দ গঠিত হয়।
অন্যদিকে,
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। এটি শব্দ গঠনের পদ্ধতি নয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫৮৫.
কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করুন : 'সারারাত বৃষ্টি হয়েছে'
  1. ক) করণে ৩য়া
  2. খ) কর্তৃকারকে ৩য়া
  3. গ) অধিকরণে শূন্য
  4. ঘ) কর্মে শূন্য
সঠিক উত্তর:
গ) অধিকরণে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অধিকরণে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'সারারাত বৃষ্টি হয়েছে' - বাক্যে 'সারারাত' বাক্যটি ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার কালকে বোঝাচ্ছে। 
- কিন্তু এতে কোন বিভক্তি যুক্ত হয় নি। তাই বাক্যটি অধিকরণে শূন্য প্রকাশ করে। 

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বােঝায়।
- অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনাে বিষয় বােঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি অর্থাৎ এ, য়, তে ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৬.
বাঘকে ভয় পায় না কে? এ বাক্যে “বাঘকে” কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃ কারক
  3. করণ কারক
  4. অপাদান কারক
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপাদান কারক
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
ভীত - বাঘকে ভয় পায় না কে?
বিচ্যুত - গাছ থেকে পাতা পড়ে।
গৃহীত - সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
জাতঃ জমি থেকে ফসল পাই।
বিরতঃ পাপে বিরত হও।
দুরীভূতঃ দেশ থেকে পংগপাল চলে গেছে।
রক্ষিত - বিপদ থেকে বাঁচাও।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।

১,৫৮৭.
ভুল বানান কোনটি?
  1. অত্যাধিক
  2. অনসূয়
  3. শব্দবেধী
  4. শুশ্রূষা
সঠিক উত্তর:
অত্যাধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যাধিক
ব্যাখ্যা
• ভুল বানান - অত্যাধিক
- শুদ্ধ বানান - অত্যধিক।
- শব্দটি বিশেষণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: অত্যন্ত বেশি; প্রয়োজনের অতিরিক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৫৮৮.
নিম্নের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. ক) তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
  2. খ) সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
  3. গ) যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।
  4. ঘ) আমার দেখাবে আমার সত্য।
সঠিক উত্তর:
গ) যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।
ব্যাখ্যা
এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে। 
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে
খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য - আমার দেখাবে আমার সত্য। 
জটিল বাক্য - যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

সরল বাক্য - সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।  
জটিল বাক্য - যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে। 

সরল বাক্য - দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য - যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৫৮৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিজন্ত
  2. আহ্ণিক
  3. শিরপীড়া
  4. চতুষ্কোণ
সঠিক উত্তর:
চতুষ্কোণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুষ্কোণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
চতুষ্কোণ - শুদ্ধ বানান।

• 'চতুষ্কোণ' শব্দের অর্থ:
- চারটি কোণযুক্ত,
- চৈকো।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
• নিজন্ত - ণিজন্ত,
• আহ্ণিক - আহ্নিক,
• শিরপীড়া - শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
১,৫৯০.
'To get rid of one who has served the purpose.' এর বাংলা অনুবাদ কী হবে?
  1. কারণ বিনা কার্য হয় না।
  2. পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
  3. গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
  4. কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
সঠিক উত্তর:
কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি।
ব্যাখ্যা

• 'To get rid of one who has served the purpose.' এর বাংলা অনুবাদ - কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি

অন্যদিকে,
Practice makes a man perfect - গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন।
Diligence is the mother of good luck - পরিশ্রমই সৌভাগ্যের মূল বা প্রসূতি।
No smoke without fire - কারণ বিনা কার্য হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৫৯১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) সৌন্দর্য
  2. খ) ঐক্যমত
  3. গ) স্বাতন্ত্র
  4. ঘ) প্রাতঃরাশ
সঠিক উত্তর:
ক) সৌন্দর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা
ঐকমত্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
প্রকৃতি প্রত্যয় = একমত+য
অর্থ: একমত, মতের অভিন্নতা, মতের মিল বা ঐক্য। 

স্বাতন্ত্র্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
প্রকৃতি প্রত্যয় = স্বাতন্ত্র + য
অর্থ: 
- অন্যের সঙ্গে প্রভেদ
- স্বাধীনতা 

প্রাতরাশ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাতঃ+অশ্‌+অ 
অর্থ: সকালবেলার প্রথম আহার। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৫৯২.
'মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল।' - বাক্যে ‘মাঝরাত্রে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে সপ্তমী
  2. করণে সপ্তমী
  3. কর্মে সপ্তমী
  4. অধিকরণে সপ্তমী
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- ত্যাগে তিনি নিহঙ্কার। 
- মাঝরাত্রে শংকরের ঘুম ভেঙ্গে গেল। (অধিকরণে সপ্তমী)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৫৯৩.
'সে যে উপস্থিত তা সবাই দেখেছে' কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি।
নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন তখন, যেমন- তেমন, বরং তবু, যেইনা, অমনি, যেহেতু সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।
- সে যে উপস্থিত, তা সবাই দেখেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৫৯৪.
যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে কোন বিরামচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন 
  3. কোলন
  4. ড্যাশ 
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• বিরাম চিহ্ন:
লেখার সময়ও বাক্যের মধ্যে বিরতি বুঝিয়ে তা দেখানোর জন্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকেই বিরতি চিহ্ন, যতি চিহ্ন, ছেদ চিহ্ন, বিরাম চিহ্ন বা ভাষা চিহ্ন বলে।

সেমিকোলন ব্যবহৃত হয় যেসব ক্ষেত্রে-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-সস্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিতেচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন : আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

​উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৫৯৫.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্য কয় প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় : 

- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন -
আমার মা চাকরি করেন ।

অক্রিয় বাক্য :
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে ।
যেমন -
তিনি বাংলাদশের নাগরিক

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায় ।
যেমন -
‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি (নবম - দশম শ্রেণি)
১,৫৯৬.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য' – বাক্যটিকে জটিল বাক্যে পরিণত করলে হবে -
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য।
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের জটিল রূপ হচ্ছে যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১,৫৯৭.
‘সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এ দেশ!' - কোন বাক্য?
  1. ক) নির্দেশাত্মক বাক
  2. খ) বিস্ময়বোধক বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্ময়বোধক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিস্ময়বোধক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তাজ্জব ব্যাপার!
- কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
- সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এ দেশ!

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৮.
করণ কারকে সপ্তমা বিভক্তির প্রয়োগ হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. ক) ছাত্ররা বল খেলে।
  2. খ) মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।
  3. গ) চেষ্টায় সব হয়।
  4. ঘ) লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
সঠিক উত্তর:
গ) চেষ্টায় সব হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চেষ্টায় সব হয়।
ব্যাখ্যা

বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক৷

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:

ক. প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি : ছাত্ররা বল খেলে।

খ. তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি : লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
দিয়া বিভক্তি : মন দিয়া কর সবে বিদ্যা অর্জন।

গ. সপ্তমী বা এ বিভক্তি : ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
তে বিভক্তি : লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
য় বিভক্তি : চেষ্টায় সব হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১,৫৯৯.
'তোমার দেখা পেলাম না।' - কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক
  3. করণ কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• 'তোমার দেখা পেলাম না।' - কর্মকারক

কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন -
→ বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্মকারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- ডাক্তার ডাক।
- আমাকে একখানা বই দাও। (দ্বিকর্মক ক্রিয়ার মুখ্য কর্ম)
- রবীন্দ্রনাথ পড়লাম, নজরুল পড়লাম, এর সুরাহা খুঁজে পেলাম না। (গ্রন্থ অর্থে বিশিষ্ট গ্রন্থকার প্রয়োগে)

(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: তাকে বল।
- 'রে' বিভক্তি: 'আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা'।

(গ) ষষ্ঠী বা 'র' বিভক্তি: তোমার দেখা পেলাম না

(ঘ) সপ্তমীর 'এ' বিভক্তি: 'জিজ্ঞাসিবে জনে জনে।' (বীপ্সায়)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৬০০.
'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।' - বাক্যটির নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল না।
  2. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া উঠিল।
  3. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া ছাড়িল না।
  4. আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।
সঠিক উত্তর:
আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।