উত্তর
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [পুনর্ + নির্মাণ],
অর্থ: পুনরায় নতুন করে নির্মাণ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৭ / ৬৯ · ১,৬০১–১,৭০০ / ৬,৯৫৩
• শুদ্ধ বানান - অশরীরী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- প্রেতাত্মা,
- দেহহীন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ন্যূনাধিক বানানটি সঠিক।
ন্যূনাধিক (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- কমবেশি; বেশিকম।
অন্যদিকে,
যশোঃধন এর শুদ্ধ বানান- যশোধন।
জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান।
শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান- শাশ্বত।
উৎস: বাংলা একাডেমি বাংলা বানান- অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - ঊর্ধ্ব।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
অন্যদিকে,
- কোষ্ঠকাটিন্য - কোষ্ঠকাঠিন্য।
- আমাবশ্যা - অমাবস্যা।
- অত্যাধিক - অত্যধিক।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, “আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
• পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
• প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, “আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।”
• পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ শব্দগুচ্ছ - সমীচীন, বাল্মীকি।
- শুদ্ধ বানান হলো - সমীচীন।
সমীচীন (বিশেষণ পদ)
-এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।
- শুদ্ধ বানান হলো - বাল্মীকি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
-এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে: রামায়ণের প্রণেতা কবি ও মুনি, আদিকবি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
মূল বাক্য: তিনি কথা বললেন না।
- এটি একটি নেতিবাচক বাক্য, যা কথা বলার অস্তিত্ব অস্বীকার করে।
অস্তিবাচক রূপে রূপান্তর করতে হলে:
- নেতিবাচক অর্থকে ইতিবাচক আকারে প্রকাশ করতে হয়।
- কিন্তু মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
- "তিনি কথা বললেন না।" - এর অস্তিবাচক রূপ হবে: ঘ) তিনি চুপ করে থাকলেন।
অন্য অপশনগুলো:
ক) "তিনি কথা বলতে চাইলেন না":
এখানে "চাইলেন না" নঞর্থক পদ রয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ অস্তিবাচক হয়নি।
খ) "তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না":
"পারলেন না" নঞর্থক পদটি অপরিবর্তিত আছে।
গ) "তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন":
এটি মূল অর্থ ("কথা না বলা")-কে প্রচেষ্টা-তে পরিবর্তন করে, যা মূল বাক্যের সরল অর্থ নয়।
সিদ্ধান্ত:
ব্যাকরণের সূত্রানুসারে, "তিনি চুপ করে থাকলেন।" হলো সঠিক ও অর্থসংগত অস্তিবাচক রূপান্তর।
উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাক্যে 'সেমিকোলন' এর ক্ষেত্রে - এক বলার দ্বিগুন সময় থামতে হয়।
• বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরামচিহ্নকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।
• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।
• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- বাক্যে যতিচিহ্ন দাঁড়ি (।) থাকলে ১ সেকেন্ড থামতে হয়।
- বাক্যে যতিচিহ্ন জিজ্ঞাসাচিহ্নপ্রশ্নচিহ্ন থাকলে ১ সেকেন্ড থামতে হয়।
- বাক্যে যতিচিহ্ন কমা থাকলে ১ বলতে যে সময় লাগে সে সময় থামতে হয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
- অপশন গুলোতে 'স্বাতন্ত্র' বানানটি ভুল।
- এর সঠিক বানান হচ্ছে স্বাতন্ত্র্য।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।
উত্তর: ঘ) সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল।
--------------------
• সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল বা অশুদ্ধি:
একই বাক্যে একসাথে সাধু ও চলিত রীতির শব্দ ব্যবহার করলে বাক্য অশুদ্ধ হয়ে থাকে।
যেমন,
অশুদ্ধ বাক্য: তাহারা এইখানে এসেছিল।
শুদ্ধ বাক্য: তারা এখানে এসেছিল।
অশুদ্ধ বাক্য: অতঃপর তাহারা চলে গেল।
শুদ্ধ বাক্য: তারপর তারা চলে গেল।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কর্তাবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন:
- তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
- প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
- আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।
- একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
অজীব বিশেষ্যও অনেক সময়ে কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।
যেমন:
- ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।
- শরতে শিউলি ফোটে।
• কর্মবাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।
- চিঠিটা পড়া হয়েছে।
- আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।
- আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
• ভাববাচ্য: যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন:
- আমার যাওয়া হল না।
- কোথা থেকে আসা হলো।
- এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
ঐক্যমত শব্দটিতে অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি রয়েছে।
এর শুদ্ধরূপ - ঐকমত্য।
অন্যদিকে,
- বৈশিষ্ট্য বা বিশিষ্টতা - দুটি শব্দই শুদ্ধ। তবে, বৈশিষ্ট্যতা অশুদ্ধ।
- বাহুল্য বা বহুলতা -দুটি শব্দই শুদ্ধ। তবে, বাহুল্যতা শব্দটি অশুদ্ধ।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ভুল প্রয়োগ: "সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে"
- শুদ্ধ বাক্য: সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।
- এখানে 'সমুদয়' শব্দটির অর্থই হলো সব বা পুরো।
- তাই এটি স্বয়ং বহুবচন নির্দেশ করে।
- অতএব, 'পক্ষী' শব্দের পরে অতিরিক্ত বহুবচনসূচক 'রা' ব্যবহার করলে তা বাহুল্যদোষে দুষ্ট।
-----------------------
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বাক্য:
অশুদ্ধ: সব আলেমগণ এখানে এসেছেন।
শুদ্ধ: আলেমগণ এখানে এসেছেন।
অশুদ্ধ: ফলজ বৃক্ষ বেশি লাগাতে হবে।
শুদ্ধ: ফলদ বৃক্ষ বেশি লাগাতে হবে।
অশুদ্ধ: তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হলাম।
শুদ্ধ: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হলাম।
অশুদ্ধ: বাংলা বানান আয়ত্ব করা বেশ কঠিন।
শুদ্ধ: বাংলা বানান আয়ত্ত করা বেশ কঠিন।
অশুদ্ধ: পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে।
শুদ্ধ: পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।
অশুদ্ধ: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ: আমি সাক্ষ্য দেব না।
অশুদ্ধ: আমি গীতাঞ্জলী পড়েছি।
শুদ্ধ: আমি গীতাঞ্জলি পড়েছি।
অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সরল বাক্য:
কে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা-
- অনেকের নিবাস থাকলেও আমার নিবাস নাই।
- ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
- অনেকেরই জীবনে দুঃখের পর সুখ আসে।
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাক্যে যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।
ক্রিয়াকে 'কী' বা 'কাকে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই কর্মকারক।
কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তির উদাহরণঃ
- চোর ধরা হয়েছে। ঘোড়া গাড়ি টানে। রতনে রতন চেনে। কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
• শুদ্ধ বানান 'কৃচ্ছ্রসাধন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কৃচ্ছ্র + √ সাধ্ + অন।
অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অপাদান কারক :
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক বলে।
• অপাদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
- গাছ থেকে পাতা পড়ে । (কোথা থেকে পড়ে? গাছ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- নদী থেকে জল পাই। (কোথা থেকে পাই? নদী থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- বিপদ থেকে বাঁচাও। (কী থেকে বাঁচাও? বিপদ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- বাঘকে ভয় পায় না কে? (কী হতে ভয় বের হলো? বাঘ হতে) : অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- মনে পড়ে সেই ছোটোবেলায় স্কুল পলায়ন। (কোথা থেকে পলায়ন? স্কুল থেকে) : অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
- তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। (কোথা থেকে এসেছেন? চট্টগ্রাম থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
- বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছিল। (কীসে থেকে ফেলা হয়েছিল? বিমান থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
• "কোথা থেকে এসেছ?" - এ বাক্যে "কোথা থেকে" অপাদানে (কারণ, এখানে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করছে) কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• 'গাঙ' বানানটি অশুদ্ধ।
শুদ্ধ বানান: গাং।
• শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।
- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন:
- বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।
- বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এদোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ। কিন্তু যদি বলা হয় গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বনানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভুল লেখে।
শুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লেখে।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।
শুদ্ধ বাক্য: দরিদ্রকে দয়া কর।
শুদ্ধ বাক্য: শশিভূষণ কি আসে নাই?
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- তোমা' (তোমাকে) পদটি এখানে যাকে কিছু দান করা হচ্ছে তাকে বোঝাচ্ছে।
- বাক্যে যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দান, অর্চনা, বা সাহায্য করা হয়, সেই পদটি সম্প্রদান কারক হয়।
- এখানে 'শ্রদ্ধাভক্তি' স্বত্ব ত্যাগ করে দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি সম্প্রদান কারক।
সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলা হয়।
- লক্ষ্যণীয়: বস্তু নয়—ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
- (অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদানকারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)
সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) চতুর্থী বা "কে" বিভক্তি:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে দিলে সম্প্রদান কারক।)
(খ) সপ্তমী বা "এ" বিভক্তি:
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- "অন্ধজনে দেহ আলো।"
জ্ঞাতব্য:
- নিমিত্তার্থে "কে" বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী (কে) বিভক্তি ধরা হয়।
- উদাহরণ: "বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।"
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- কর্তব্য নিরূপণে অক্ষম।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
• সঠিক উত্তর - সবগুলোই।
• অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতরপ্রাণিবাচক অতৎসম শব্দের শেষে ই/ঈ-কারের মধ্যে ই-কার হবে।
যেমন:
অপ্রাণিবাচক শব্দ:
- বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি ।
ইতরপ্রাণিবাচক শব্দ:
- পাখি, হাতি, চড়ুই, মুরগি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - যথাচিত।
- শুদ্ধ বানান - যথোচিত।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- যেমন হওয়া উচিত তেমন, যথাযোগ্য (যথোচিত শাস্তি)।
অন্যদিকে,
- শাশুড়ি, নিমীলিত, বিশ্রুতি - বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- চিরন্তন সত্য বা সাধারণ সত্যের ক্ষেত্রে উক্তি পরিবর্তন করলে ক্রিয়ার কাল অপরিবর্তিত থাকে।
---------------------------
• উক্তি:
- উক্তি বলতে বক্তার বক্তব্যকে বোঝায়।
- উক্তি মূলত দুই ধরনের হয়—
- প্রত্যক্ষ উক্তি এবং
- পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা ঠিক যেমনটা বলা হয়েছে, তেমনই উদ্ধৃত করা হয়।
- আর পরোক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা নিজের ভাষায় বা কাঠামো পরিবর্তন করে বলা হয়।
- উদাহরণ:
- তিনি বললেন, “আমি বই পড়ছি।” → উক্তি পরিবর্তন: তিনি বললেন যে তিনি বই পড়ছিলেন।
------------------------
• চিরন্তন সত্য বা সাধারণ সত্যের ক্ষেত্রে উক্তি পরিবর্তন এবং ক্রিয়ার কাল:
- বাংলা ব্যাকরণে যখন আমরা অন্য কারো বক্তব্য পুনঃউক্তি করি, তখন সাধারণত ক্রিয়ার কালকে পূর্ববর্তী ক্রিয়ার সময় অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হয়।
- কিন্তু চিরন্তন সত্য বা সাধারণ সত্যের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার কাল এর পরিবর্তন হয়না।
- চিরন্তন সত্য বা সাধারণ সত্য হলো এমন জ্ঞান বা তথ্য যা সময়ের উপর নির্ভরশীল নয়।
- এটি সব সময় সত্য থাকে।
- কারণ, চিরন্তন সত্য সময়-সংবেদনশীল নয়; অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যত—সব সময় এটি সত্য।
- ক্রিয়ার কালের পরিবর্তন করলে সত্যের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে।
- উদাহরণ:
- সরাসরি উক্তি: “সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হয়।।”
- উক্তি পরিবর্তন: তিনি বললেন যে সূর্য পূর্ব দিকে উদিত হয়।
→ এখানে ‘উদিত হয়’ ক্রিয়ার কাল অপরিবর্তিত থাকে।
- আরও কিছু উদাহরণ:
• “পৃথিবী গোল।” → তিনি বললেন পৃথিবী গোল।
• “পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফুটে।” → তিনি বললেন পানি ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফুটে।
• “মানবদেহে দুই কান থাকে।” → ডাক্তার বললেন মানবদেহে দুই কান থাকে।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ;
বাংলা ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• শুদ্ধ বানান - 'স্বায়ত্তশাসন'
- এটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: স্বায়ত্ত + শাসন।
এর অর্থ:
- স্বশাসিত রাষ্ট্র।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - অধঃগতি।
- এর শুদ্ধ বানান - অধোগতি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- নিম্নগতি, অধঃপতন।
অন্যদিকে,
- উদ্গিরণ,
- বিশ্রুতি,
- তিরস্কার।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'অপহ্নুতি' অলঙ্কার:
প্রকৃতকে অর্থাৎ উপমেয়কে নিষেধ করে করে বা গোপন করে অপ্রকৃতকে অর্থাৎ উপমানকে প্রতিষ্ঠা করলে, সেখানে ‘অপহ্নুতি’ অলঙ্কার হয়।
এখানে সাধারণতঃ দু’ভাবে এ নিষেধ হয়ে থাকে-
- প্রথমত: না, নহে, নয় প্রভৃতি না সূচক অব্যয় ব্যবহার করে;
- দ্বিতীয়ত: ব্যাজ, ছল, ছলনা, ছদ্ম প্রভৃতি সত্য গোপনকারী শব্দ প্রয়োগ করে।
প্রথম ক্ষেত্রে উপমান ও উপমেয় পৃথক বাক্যে আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে উপমানও উপমেয় একই বাক্যে অবস্থান করে থাকে।
কয়েকটি উদাহরণ দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট করা যাচ্ছে। যেমন-
(ক) “মেয়ে ত নয়, হলদে পাখির ছা,” - জসীম উদ্দীন
এখানে উপমেয়- ‘মেয়ে’; উপমান- ‘ছা’; না সূচক অব্যয়- ‘নয়'; ‘নয়’ অব্যয় ব্যবহার করে উপমেয়কে নিষেধ করা হয়েছে এবং উপমানকেই এখানে প্রতিষ্ঠিত করা। হয়েছে।
সুতরাং এটি ‘অপহূতি’ অলঙ্কার হয়েছে।
(খ) “তারাই আজি নিঃস্ব দেশে, কাঁদছে হয়ে অন্ন হারা;
দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রু ধারা।”
- নজরুল ইসলাম
উদাহরণে উপমেয়- ‘জল’; উপমান- ‘অশ্রু’ । কবি এখানে ‘না’ সূচক অব্যয় ‘না’ ব্যবহার করে উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমানকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সুতরাং এখানে ‘অপহূতি’ অলঙ্কার সৃষ্টি করা হয়েছে।
(গ) “নীর বিন্দু যত
দেখিতে কুসুম-দলে, হে সুধাংশু নিধি,
অভাগীর অশ্রু বিন্দু কহিনু তােমারে।”
- মধুসূদন দত্ত।
এখানে উপমেয়- ‘নীর বিন্দু'; উপমান- ‘অশ্রু বিন্দু’; ‘না’ সূচক অব্যয় সরাসরি ব্যবহার করা না হলেও ব্যঞ্জনায় তা বােধগম্য হচ্ছে।
তাই এখানে ‘অপহূতি’ অলঙ্কার হয়েছে।
(ঘ) “নারী নহ, কাব্য তুমি, তােমা 'পরে কবির প্রসাদ",
- বুদ্ধদেব বসু
এখানে উপমেয়- 'নারী'; উপমান- ‘কাব্য'; ‘না’ সূচক অব্যয়-’নহ’ দ্বারা উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমান- ‘কাব্য’কে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সুতরাং ‘অপহ্নুতি’ অলঙ্কার হয়েছে। সুতরাং এখানে ‘অপহূতি’ অলঙ্কার হয়েছে।
উৎস: প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলঙ্কার শাস্ত্র [রূপত্তত্ব, রসতত্ত্ব, অলঙ্কার ও ছন্দ] : প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
• শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: কীর্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।
শুদ্ধ বাক্য: কৃত্তিবাস বাংলা রামায়াণ লিখেছেন।
অশুদ্ধ বাক্য: শিমু বুদ্ধিমান মেয়ে।
শুদ্ধ বাক্য: শিমু বুদ্ধিমতী মেয়ে।
অশুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষি দিয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে এ মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল:
অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নাই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নাই।
অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।
অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ত্রিভুজ[ ত্রি+ভুজ] শব্দটির বানান শুদ্ধ।
অর্থ: তিনটি সরলরেখা-পরিবেষ্টিত ক্ষেত্র।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: ভূবন।
- শুদ্ধ: ভুবন।
- অশুদ্ধ:শূণ্য।
- শুদ্ধ: শূন্য।
- অশুদ্ধ:পূন্য।
- শুদ্ধ: পুণ্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• উপদেশ অর্থে অনুজ্ঞার উদাহরণ - মানুষ হও।
----------
• অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুমতি, অনুরােধ, উপদেশ, প্রার্থনা ইত্যাদির ভাব বােঝাতে ক্রিয়াপদের যে রূপ ব্যবহৃত হয় তাকে বলে অনুজ্ঞা।
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।
যেমন:
- সম্ভাবনায় - ভাল করে পড়লে পাস করবে।
- উপদেশ - মানুষ হও।
- প্রার্থনায় - সুখী হও।
- অনুরোধে - কাল দেখা করো।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বৃক্ষটি সমূলে উৎপাটিত হয়েছে। বাক্যটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: তোমার সাথে গোপন পরামর্শ আছে।
শুদ্ধ: তোমার সাথে গোপনীয় পরামর্শ আছে।
অশুদ্ধ:মেয়েটি দারুণ সুবুদ্ধিমতী।
শুদ্ধ: মেয়েটি দারুণ বুদ্ধিমতী।
অশুদ্ধ: আজকাল বিদ্বান মহিলার অভাব নেই।
শুদ্ধ:আজকাল বিদুষী মহিলার অভাব নেই।
উৎস: ভাষা শিক্ষা হায়াৎ মামুদ।
অপশন খ) তে পুনরুক্তি বা বাহুল্যজনিত ভুল বিদ্যমান।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে - শুধু এই কটা টাকা দিলে?
এরকম আরো উদাহরণ -
অশুদ্ধ -----------------------------------শুদ্ধ
- সমূলসহ বৃক্ষটি উৎপাটিত হয়েছে --- বৃক্ষটি সমূল উৎপাটিত হয়েছে।
- ব্যাপারটা আমার আয়ত্তাধীন নয় --- ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়।
- তৎকালীন সময়ের রাজা নসিবুল্লা অদ্যাপি নিরুদ্দেশ --- তৎকালীন রাজা নসিবুল্লাহ অদ্যাপি নিরুদ্দেশ।
ক ও গ - তে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করার ভুল হয়েছে।
ঘ) অপশনে লিঙ্গ-সঙ্গতি জনিত ভুল রয়েছে।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা বই, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে ভারসাম্যতা শব্দে।
- ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে- পুরুষত্ব , মধুরতা, মিত্রতা শব্দগুলোতে।
---------------------------
• নিয়ম:
- ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে ভারসাম্যতা শব্দে, কারণ-
- ‘ভারসাম্য’ নিজেই একটি বিশেষ্য পদ, যা সমাবস্থা বা ভারসাম্য নির্দেশ করে।
- অতএব, এর সঙ্গে অতিরিক্ত ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় যোগ করা অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘ভারসাম্যতা’ বা ‘ভারসাম্যত্ব’ লেখা দ্বিত্ব দোষ সৃষ্টি করে, কারণ মূল শব্দের অর্থের মধ্যে ইতিমধ্যেই সমাবস্থা নিহিত।
- তাই ‘ভারসাম্য’-এর সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত প্রত্যয় ব্যবহার করা উচিত নয়।
অন্যদিকে,
- 'পুরুষত্ব' (পুরুষ + ত্ব) শব্দে 'ত্ব' প্রত্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কারণ এটি একটি নাম বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয়ে গুণবাচক বিশেষ্য তৈরি করেছে।
- ‘মধুর’ একটি বিশেষণ, যা কোনো কিছুকে মিষ্টি বা সুমধুর বোঝায়। এর সঙ্গে ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত করে ‘মধুরতা’ (বিশেষ্য) তৈরি করা হয়েছে, যা মূল শব্দের অর্থ বজায় রেখে মধুর হওয়ার গুণ বা অবস্থাকে প্রকাশ করে।
- ‘মিত্রতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের ব্যবহার সঠিক। মূল শব্দ ‘মিত্র’ থেকে এই প্রত্যয় যুক্ত করে বন্ধুত্বের ভাব বা অবস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় বিশেষ্য বা বিশেষণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন ভাববাচক শব্দ তৈরি করে, যা ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ। তাই ‘মিত্রতা’ বা ‘মিত্রত্ব’ শব্দে বন্ধুত্বের অর্থ প্রকাশের জন্য তদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবহার সঠিকভাবে হয়েছে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাক্যের সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশের জন্যে বাক্যস্থিত পদগুলোকে সঠিকভাবে সাজিয়ে লেখা বা বলার নামই আসত্তি।
বাক্যকে সম্পূর্ণ করার জন্য প্রয়োজন আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি।
আর সুসংহত করার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা ও আসত্তি৷ সুতরাং একটি সার্থক বাক্যের ভিত্তি আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা ও আসত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত৷
এই তিনটি বিষয়ের কোন একটির অভাব ঘটলে বাক্য নিরর্থক হয়ে পড়ে৷
যেমন-‘মোনেম মুন্না ছিলেন জনপ্রিয় খেলোয়ার ফুটবল।’——এতে একটি সম্পূর্ণ বাক্যের সবগুলো পদই আছে, কিন্তু আসত্তির অভাবে বাক্য হয়নি৷
পদগুলোর অর্থসংগতি রক্ষা করে ঠিকমত সাজালেই বাক্য হবে৷
অর্থাৎ সঠিক বাক্য- ‘মোনেম মুন্না জনপ্রিয় ফুটবল খেলোয়ার ছিলেন।'
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
ভাবাধিকরণ:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।
যেমন-
- সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
- কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।