বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৪০১৫০০ / ১,৩৫৫

৪০১.
কোনটি প্লাস্টিডের কাজ নয়?
  1. খাদ্য সঞ্চয় করা 
  2. দেহকে বর্ণময় করা
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ করা 
  4. খাদ্য তৈরি করা
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন সংশ্লেষণ করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন সংশ্লেষণ করা 
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিডের কাজ নয়- প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। 
- প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় রাইবোজোম নামক অঙ্গাণুতে। 

প্লাস্টিড: 

- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০২.
জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অঞ্চলকে কী বলে?
  1. Flora
  2. Fauna
  3. Red List
  4. Hotspot
সঠিক উত্তর:
Hotspot
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hotspot
ব্যাখ্যা
হটস্পট:

- পৃথিবীর যে সকল অঞ্চল বা এলাকা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সেইসব অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট বলে।
- ১৯৮৮ সালে ড. সাবিনা ভির্ক সর্বপ্রথম হটস্পট শব্দটি প্রথম প্রচলন করেন।
- মায়ার্সের মতে, বর্তমান পৃথিবীতে সর্বাধিক ৩৪টি হটস্পট রয়েছে।
- ব্রিটানিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৩৬টি জীববৈচিত্র্যের হট স্পট রয়েছে। 
- ব্রাজিলের আটলান্টিক উপকূলবর্তী বনাঞ্চল, মাদাগাস্কার দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপসমূহে উল্লেখযোগ্য হটস্পট রয়েছে।
- এছাড়াও উল্লেখযোগ্য জীববৈচিত্র্যের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ব হিমালয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মাইক্রোনেশিয়া, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, মালয়েশিয়ান উপদ্বীপ, মাদাগাস্কার, ইকুয়েডর, পেরু, কলম্বিয়া, আমাজোনিয়া ইত্যাদি।
- আফ্রিকার কঙ্গো, নাইজার ও জাম্বেসী নদী অববাহিকার গভীর অরণ্যে সর্বাধিক জীববৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- জীবকূলের ভিন্নতা এবং জটিল প্রতিবেশগত পরিবেশ জীবমণ্ডলকে একক (unique), ও উৎপাদনশীল বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। জীববৈচিত্র্যতার ভিন্নতাও (Biodiversity varities) পৃথিবীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য রাখে।


অন্যদিকে, 
- Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
- Fauna বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।

উৎস: বিবিএ প্রোগ্রাম, পরিবেশ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
৪০৩.
জগদীশ চন্দ্র বসু নিম্নের কোন যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন?
  1. ক) কার্ডিওগ্রাফ
  2. খ) ক্রেস্কোগ্রাফ
  3. গ) স্টেথোস্কোপ
  4. ঘ) ক্রোনোমিটার
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রেস্কোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রেস্কোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
ক্রেস্কোগ্রাফ  যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন জগদীশ চন্দ্র বসু। 

- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন।
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন।
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- তিনিই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন। এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে  জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
- জীবপদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তিনি উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ।
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন।
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয়. বৈদ্যুতিক।
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন।

সূত্র: ৩৩৮ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
জটিল টিস্যু কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
- ভাজক টিস্যু ও
- স্থায়ী টিস্যু।

স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার।
যথা:
১. সরল টিস্যু,
২. জটিল টিস্যু ও
৩. ক্ষরণকারী টিস্যু।

সরল টিস্যু আবার তিন প্রকার।
যথা:
- প্যারেনকাইমা,
- কোলেনকাইমা ও
- স্ক্লেরেনকাইমা।

জটিল টিস্যু দুই প্রকার।
যথা:
- জাইলেম ও
- ফ্লোয়েম।

ক্ষরণকারী টিস্যু ২ প্রকার।
যথা:
- তরুক্ষীর টিস্যু ও
- গ্রন্থির টিস্যু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪০৫.
উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির কতটুকু সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. মাত্র ০.১%
  2. মাত্র ০.০১%
  3. মাত্র ০.০০১%
  4. মাত্র ০.০০০১%
সঠিক উত্তর:
মাত্র ০.০১%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্র ০.০১%
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের শোষণকৃত পানির মাত্র ০.০১% সালোকসংশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। 

সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): 
- যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। 
- বার্নেস সর্বপ্রথম ১৮৯৮ সালে ফটোসিনথেসিস শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গ যেমন- পাতা, কচিকান্ড, ফুলের বৃত্যংশ, বৃত্তপ্রভৃতিতে সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাকে উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণ অঙ্গ বলা হয়। 
- ক্লেরোপ্লাস্টকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গাণু। 
- এ প্রক্রিয়াটির প্রধান উপাদান হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি, ক্লোরোফিল ও আলো। 
- উদ্ভিদ প্রধানত পত্ররন্ধ্রের সাহায্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও লেন্টিসেল ও পাতলা কিউটিকল দিয়েও কিছু গ্যাস গ্রহণ করে। 
- শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডও সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- গ্যাসটি ব্যাপনের মাধ্যমে মেসোফিল টিস্যুর কোষে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে তারপর শর্করা তৈরি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৬.
নিচের কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের 'ডাইব্যাক' নামক রোগটি হয়? 
  1. নাইট্রোজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম 
  3. আয়রন
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। - পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪০৭.
টমেটো, সূর্যমুখী জাতীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট প্রয়োজন?
  1. ক) ক্লোরিন
  2. খ) মোলিবডেনাম
  3. গ) ম্যাংগানিজ
  4. ঘ) কপার
সঠিক উত্তর:
ঘ) কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কপার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সুগারবিট এর মূল এবং কাণ্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিনের প্রয়োজন।
- অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক।
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়োজন।
- টমেটো, সূর্যমুখী জাতীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪০৮.
ICBN-এর নিয়মানুযায়ী উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের ভাষা হবে-
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. ইংরেজি
  4. ইটালিক
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
• ICBN-এর নিয়মানুযায়ী উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের উল্লেখযোগ্য নিয়মাবলি নিম্নরূপ:

- উদ্ভিদের নামটি হবে দ্বিপদী।
- নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
- দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে রোমান।
- দ্বিপদী নাম ছাপার অক্ষরে লিখতে হলে ইটালিক হরফে লিখতে হবে।
- গণ নামের প্রথম অক্ষর Capital letter এবং প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর Small letter হবে।
- হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে পৃথক পৃথকভাবে দাগ টানতে হবে।
- যে বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কোন উদ্ভিদের বর্ণনা দিবেন দ্বিপদী নামের শেষে তাঁর নামও সংক্ষিপ্তভাবে সংযোজন করতে হবে।

উল্লেখ্য, Systema Naturae গ্রন্থের দশম সংস্করণে (১৭৫৮) ক্যারোলাস লিনিয়াস জীবের নামকরণের ক্ষেত্রে দ্বিপদ নামকরণ নীতি প্রবর্তন করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪০৯.
উদ্ভিদ নিচের কোন পুষ্টি উপাদানটি বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে? 
  1. সালফার
  2. কার্বন
  3. আয়রন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের উৎস: 
- উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O) বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ করে। 
- হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) পানি থেকে গ্রহণ করে। 
- অন্য সব উপাদান মাটি থেকে মূলের সাহায্যে শোষণ করে। 
- এ উপাদানগুলো মাটিতে বিভিন্ন লবণ হিসেবে থাকে কিন্তু এগুলোকে উদ্ভিদ সরাসরি শোষণ করতে পারে না। 
- এরা বিভিন্ন আয়ন হিসেবে শোষিত হয়। 
যেমন- Ca++, Mg++, NH4+, NO3-, K+ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১০.
পাটের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Corchorus capsularis
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Artocarpus heterophyllus
সঠিক উত্তর:
খ) Corchorus capsularis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Corchorus capsularis
ব্যাখ্যা
Corchorus capsularis - পাট।
Oryza sativa - ধান।
Apis indica - মৌমাছি।
Artocarpus heterophyllus - কাঁঠাল।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১১.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের ডাইব্যাক (dieback) রোগটি দেখা যায়?
  1. ম্যাগনেশিয়াম
  2. নাইট্রোজেন
  3. আয়রন
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

লৌহ বা আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

ম্যাগনেশিয়াম: 
- ম্যাগনেশিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১২.
উদ্ভিদ দেহের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে থাকে -
  1. ভাজক টিস্যু
  2. স্থায়ী টিস্যু
  3. জটিল টিস্যু
  4. ক্ষরণকারী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
ভাজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
• ভাজক টিস্যু: 
- যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে। 
- ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে। 
- সাধারণত উদ্ভিদ দেহের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (যে স্থানে উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায়) অর্থাৎ মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে থাকে। 
- ভাজক টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ এরা লম্বা হয় এবং এদের ব্যাস বৃদ্ধি পায়। 
- ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়। 

• স্থায়ী টিস্যু:
- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন যে টিস্যুগুলো বিভাজনে অক্ষম তাদেরকে বলা হয় স্থায়ী টিস্যু।
- ভাজক টিস্যুগুলো বিভাজন ক্ষমতা লোপ পাওয়ার পর তা বৃদ্ধি পেয়ে একটি নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে এবং স্থায়ী টিস্যুতে পরিণত হয়।
- স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাহীন, পূর্ণভাবে বিকশিত এবং সঠিক আকৃতিপ্রাপ্ত।
- স্থায়ী টিস্যুর কাজ- খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা, দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
- স্থায়ী টিস্যু তিন ধরনের। যথা- সরল টিস্যু, জটিল টিস্যু এবং নিঃস্রাবী (ক্ষরণকারী) টিস্যু৷

উৎস:
১. বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৩.
নিচের কোনটি প্রাণীপরাগী ফুল?
  1. ক) কচু
  2. খ) ধান
  3. গ) পাতাশেওলা
  4. ঘ) সরিষা
সঠিক উত্তর:
ক) কচু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কচু
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়।
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
যেমন- ধান।
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই।
যেমন- পাতাশেওলা।
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪১৪.
কোনটি Multiple fruit?
  1. স্ট্রবেরি
  2. আনারস
  3. সরিষা
  4. গাজর
সঠিক উত্তর:
আনারস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনারস
ব্যাখ্যা
আনারস একটি Multiple fruit.

- যৌগিক ফল (Multiple fruit): সমগ্র পুষ্পমঞ্জরী হতে একটি মাত্র ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন- কাঁঠাল, আনারস।

• ফল (Fruits)
- প্রকৃত ফল (True fruit): গর্ভাশয় থেকে উৎপন্ন হয়।
যেমন- আম, জাম, লিচু।

- অপ্রকৃত ফল (False fruit): গর্ভাশয় ব্যতীত অন্য অংশ থেকে উৎপন্ন হয়।
যেমন- আপেল, কাঁঠাল।

- সরল ফল (Simple fruit): একটি পুষ্প হতে একটি মাত্র ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন আম, ধান।

-গুচ্ছিত ফল (Aggregate fruit): একটি মাত্র পুষ্পের মুক্ত গর্ভাশয়গুলো হতে একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন- আতা, স্ট্রবেরি।

- যৌগিক ফল (Multiple fruit): সমগ্র পুষ্পমঞ্জরী হতে একটি মাত্র ফল উৎপন্ন হয়।
যেমন- কাঁঠাল, আনারস।

- লিগিউম (Legume): ফল উপর থেকে নিচে দুটি কপাটে বিদীর্ণ হয়।
যেমন- শিম, মটর।

- ক্যাপসুল (Capsule): ফল উপর থেকে নিচে বহু কপাটে বিদীর্ণ হয়।
যেমন- ধুতুরা, ঢেঁড়স, পাট।

- ক্যারিঅপসিস (Caryopsis): ফল এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং একটি মাত্র বীজযুক্ত। ফলত্বক ও বীজত্বক পরস্পর সংলগ্ন থাকে।
যেমন-  ধান, গম।

- সিলিকুয়া (Siliqua): শুষ্ক বিদারী ফল যা পরিপক্ব হলে নিচ থেকে উপরের দিকে ক্রমশ ফেটে যায়। এই ফল লম্বা ও নলাকার হয়।
যেমন- সরিষা, মূলা।

- বেরি (Berry): ফল এক বা একাধিক গর্ভপত্রী এবং বহুবীজী। এদের বহিঃত্বক পাতলা। অন্তঃত্বক ও মধ্যত্বক সংযুক্ত থাকে।
যেমন কলা, টমেটো।

- সাইজোকার্প (Schizocarp): শুষ্ক অবিদারী ফল।
যেমন- ধনে, গাজর।

- সরোসিস (Sorosis): এক্ষেত্রে স্পাইক বা স্প্যাডিক্স মঞ্জরীটি একটি একক রসালো যৌগিক ফলে পরিণত হয়।
যেমন- কাঁঠাল, আনারস।

- পেপো (Pepo): বহু বীজযুক্ত সরস ফল যাদের অমরাবিন্যাস বহুপ্রান্তীয় এবং গর্ভাশয় অধোগর্ভ। বহিঃত্বক চামড়ার মতো এবং বীজগুলো অমরার সাথে সংযুক্ত।
যেমন- কুমড়া, শসা।

- ড্রপ (Drupe): এক বা একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট গর্ভাশয়তে একক বীজযুক্ত ফলের সৃষ্টি হয়। এর বহিঃত্বক পাতলা, মধ্যত্বক রসালো ও পুরু এবং অজ্ঞত্বক কাষ্ঠল।
যেমন- আম, কুল ও আমড়া।

-  হেসপেরিডিয়াম (Hesperidium): সরস অবিদারী ফল। ফলের অন্তঃত্বক রসালো ও কোয়া গঠন করে।
যেমন- কমলা, বাতাবীলেবু।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৪১৫.
জিনতত্ত্বের জনক কে?
  1. ক) চার্লস ডারউইন
  2. খ) থিওফ্রাস্টাস
  3. গ) কার্ল করেন্স
  4. ঘ) জোহান মেন্ডেল
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোহান মেন্ডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জোহান মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
মেন্ডেল এর সূত্র অনুযায়ী জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশগতিতে সঞ্চারণের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয় তাকেই মেন্ডেলতত্ত্ব বলে।
মেন্ডেলতত্ত্ব আধুনিক জেনেটিক্স এর প্রধান ভিত্তি। একারণেই মেন্ডেলকে জেনেটিক্স এর জনক বলা হয়ে থাকে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৬.
কোন উদ্ভিদের পুষ্পায়নে আলো কোনো প্রভাব ফেলে না?
  1. তামাক
  2. আফিম
  3. টমেটো
  4. সয়াবিন
সঠিক উত্তর:
টমেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমেটো
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ বিকাশের ক্ষেত্রে আলো ও উষ্ণতার প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। 
- এ সকল উদ্দীপনার ফলে বিভিন্ন সংশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন উপাদান উৎপন্ন হয়ে নতুন অঙ্গের সৃষ্টি করে এবং কোষের উপাদানগুলো নিচের দিকে স্থানান্তরিত হয়। 
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৭.
পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহন করে-
  1. ক) স্ক্লেরাইড
  2. খ) ভেসেল
  3. গ) জাইলেম
  4. ঘ) ফ্লোয়েম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা

- ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহন করে।
- জাইলেম খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে।‌
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৮.
ছোট দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) চন্দ্রমল্লিকা
  2. খ) ঝিঙ্গা
  3. গ) লেটুস
  4. ঘ) সূর্যমূখী
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্রমল্লিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্রমল্লিকা
ব্যাখ্যা
দিনের দৈর্ঘ্য ছোট হলে ছোট দিনের উদ্ভিদে ফুল ফোটে। যেমন: আলু, ইক্ষু, কসমস, শিম, ডালিয়া, তামাক, চন্দ্রমল্লিকা, রোপা আমন, পাট। এদের বড় রাতের উদ্ভিদও বলা হয়।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৪১৯.
মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের বনভূমির প্রধান বৃক্ষ কোনটি?
  1. তেলুসর
  2. গর্জন
  3. সেগুন
  4. গজারি
সঠিক উত্তর:
গজারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গজারি
ব্যাখ্যা
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত বনভূমি ‘শালবন’ নামে পরিচিত।
- শাল বা গজারি এই বনের প্রধান বৃক্ষ।
- এছাড়া অন্যান্য গাছের মধ্যে রয়েছে: পলাশ, সিধা জারুল, বহেড়া, হরীতকী, শীলকরই, শিমুল ইত্যাদি।
- শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
(তথ্যসূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
৪২০.
ফল ও বীজ উৎপাদনের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. অঙ্কুরোদগম
  2. পরাগায়ন 
  3. শ্বাসক্রিয়া
  4. আলোক সংশ্লেষণ 
সঠিক উত্তর:
পরাগায়ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগায়ন 
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন হচ্ছে ফল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই প্রকার। 
যথা-
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়। 
যেমন- ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে। 
 
২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
যেমন- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছে পর-পরাগায়ন ঘটে। 

উল্লেখ্য যে, 
- সরিষা ও কুমড়ায় স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন দুইভাবেই পরাগ সংযোগ ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৪২১.
Fungi-এর কোষ প্রাচীর সাধারণত কী দিয়ে গঠিত? 
  1. পেকটিন
  2. সেলুলোজ
  3. কাইটিন
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা
Fungi: 
- এদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। 
যথা- 
• এরা সাধারণত বহুকোষী এবং দেহ মাইসেলিয়া দ্বারা গঠিত। 
• এদের দেহ সাধারণত শাখান্বিত, ফিলামেন্ট সিনোসাইটিক (ব্যবধায়ক প্রাচীরবিহীন)। 
এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন নির্মিত। 
• সালোকসংশ্লেষণকারী বর্ণ কণিকা অনুপস্থিত তাই এরা নিজেরা নিজেদের খাদ্য তৈরি করতে পারে না বলে এরা মৃতজীবি বা পরজীবি হিসেবে বাস করে। 
• এরা শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে। 
• এদের পরিবহন টিস্যু নেই। 
• হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে এদের বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
• এদের অধিকাংশই স্থলজ, অল্প কিছু সংখ্যক জলজ। 
উদাহরণ- Mucor, Agaricus ও Penicillium ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
কোষের সজীব অংশের রক্ষা করা কোনটির কাজ?
  1. ক) কোষপ্রাচীর
  2. খ) প্রোটোপ্লাজম
  3. গ) কোষগহবর
  4. ঘ) প্লাস্টিড
সঠিক উত্তর:
ক) কোষপ্রাচীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোষপ্রাচীর
ব্যাখ্যা

কোষের সজীব অংশের রক্ষা করা এবং কোষের সীমারেখা নির্দেশ করা কোষপ্রাচীরের প্রধান কাজ।
কোষ প্রাচীর বলতে কোষের সেই অংশকে বুঝানো হয় যা উদ্ভিদকোষের সর্বাপেক্ষা বাইরের দিকে থাকে। কোষের প্রোটোপ্লাজম যে শক্ত, পুরু, সেলুলোজ নির্মিত নির্জীব আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে তাকে কোষ প্রাচীর বলে।

কোষপ্রাচীরের কাজ-
কোষ প্রাচীর কোষকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে। কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে।
পানি ও খনিজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

সূত্র: বিজ্ঞান বই, সপ্তম শ্রেণি। 

৪২৩.
নিচের কোন বীজে মৃৎগত অঙ্কুরোদগম হয়?
  1. ক) রেডি
  2. খ) মিষ্টি কুমড়া
  3. গ) আম
  4. ঘ) সীম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) আম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আম
ব্যাখ্যা

বীজ থেকে শিশু উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরোদগম বলে।
বীজের অঙ্কুরোদগম প্রধানত তিন প্রকার।
যথা-
ক) মৃদগত
খ) মৃদভেদী এবং
গ) জরায়ুজ।
মৃদগত অঙ্কুরোদগম বা হাইপোজিয়াল জারমিনেশনঃ
যে অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়ায় বীজ পত্রাদি কাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে ভ্রূণ মুকুল মাটির ওপরে কিন্তু বীজপত্র মাটির নিচে থেকে যায় তাকে মৃৎগত অঙ্কুরোগম বা হাইপোজিয়াল জারমিনেশন বলে।
যেমন- আম, ছোলা, মটরশুটি, ধান, গম ইত্যাদি।

মৃদভেদী অঙ্কুরোদগম বা এপিজিয়াল জারমিনেশনঃ
যে অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়ায় বীজ পত্রাবকাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে বীজপত্র বীজত্বক ফেটে মাটি ভেদ করে ওপরে উঠে আসে তাকে মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম বা এপিজিয়াল জারমিনেশন বলে।
যেমন- তেঁতুল, লাউ, পিঁয়াজ, কুমড়া, শিম ইত্যাদি।

জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বা ভিভিপেরাস জারমিনেশনঃ
লোনা মাটির অধিকাংশ উদ্ভিদে যে বিশেষ অঙ্কুরোদগম দেখা যায় তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
যেমন- সুন্দরী, গরান, কেওড়া, কাকড়া ইত্যাদি।

উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৪২৪.
এন্টিবায়োটিকের কাজ-
  1. রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. জীবাণু ধ্বংস করা
  3. ভাইরাস ধ্বংস করা
  4. দ্রুত রোগ নিরাময় করা
সঠিক উত্তর:
জীবাণু ধ্বংস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাণু ধ্বংস করা
ব্যাখ্যা
- এন্টিবায়োটিকের কাজ হচ্ছে জীবাণু ধ্বংস করা। 

এন্টিবায়োটিক: 
- এন্টিবায়োটিক হলো এমন একটা উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে সংগ্রহ করে অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস কে ধ্বংস জন্য বা তার বংশবৃদ্ধি রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। 
- এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের ক্ষেত্রে অকার্যকর। 

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক: 
১. এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকি থাকে। 
২. এন্টিবায়োটিক অন্ত্রের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে যাতে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। 

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক রোধে করণীয়: 
১) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারন রোগে ভুগলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা। 
২) ডাক্তারের পরামর্শ মত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক সেবন করা। 
৩) ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে দেয়া ঔষধের ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা, কোন ঔষধ কেন দেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা নেয়া। 
৪) মেয়াদ উত্তীর্ণ এন্টিবায়োটিক সেবন না করা। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪২৫.
পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় - 
  1. অ্যামাইটোসিস
  2. ক্লোরোসিস
  3. ফ্লোরোসিস
  4. মিয়োসিস
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোসিস
ব্যাখ্যা
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস (Chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলো ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৬.
উদ্ভিদের পুষ্টি শোষণের জন্য কোনটির প্রয়োজন?
  1. আলো
  2. পানি
  3. মাটি
  4. বায়ু
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বেচে থাকার জন্য পানি প্রয়ােজন। উদ্ভিদের দেহের প্রায় ৯০ ভাগ পানি।
উদ্ভিদ খাদ্য তৈরিতেও পানি ব্যবহার করে।
মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ ও বিভিন্ন অংশে পরিবহনের জন্য উদ্ভিদের পানি প্রয়ােজন। পানি ছাড়া উদ্ভিদ মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান শােষণ করতে পারে না।
প্রচণ্ড গরমে পানি উদ্ভিদের দেহ শীতল করতে সাহায্য করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৫ম শ্রেণি
৪২৭.
উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী জৈব রাসায়নিক পদার্থ কোনটি?
  1. ফাইটোহরমোন
  2. অক্সিন
  3. জিবেরেলিন
  4. প্রোটোহরমোন
সঠিক উত্তর:
ফাইটোহরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইটোহরমোন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি উদ্ভিদ দেহে উৎপাদিত বিশেষ কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে হয়ে থাকে।
উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী এই জৈব রাসায়নিক পদার্থটিকে ফাইটোহরমোন বা বৃদ্ধিকারক বস্তু বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৪২৮.
ব্যাঙের ছাতার আরেক নাম কি?
  1. ক) মিউকর
  2. খ) এগারিকাস
  3. গ) স্পাইরোগাইরা
  4. ঘ) ক্লোরেলা
সঠিক উত্তর:
খ) এগারিকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এগারিকাস
ব্যাখ্যা
- পঁচা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ভাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতা জন্মাতে দেখা যায়। এই ব্যাঙের ছাতার আরেকটি নাম হলো এগারিকাস। 

- বাসি, পঁচা রুটির উপর তুলার আঁশের মত এক প্রকার বস্তু জন্মাতে দেখা যায়। একে রুটির ছত্রাক বা মিউকর বলে। এসব উদ্ভিদ ক্লোরোফিলবিহীন। এ কারণে এদের রঙ সাদা।

- স্পাইরোগাইরা, ক্লোরেলা সবুজ শৈবালের উদাহারণ। এদের দেহে ক্লোরোফিল থাকে বলে এরা সবুজ হয়।

সূত্র: পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৯.
রুটি তৈরির কারখানায় ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) Pseudomonas
  2. খ) Saccharomyces
  3. গ) Clostridium
  4. ঘ) Nitrosomonas
সঠিক উত্তর:
খ) Saccharomyces
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Saccharomyces
ব্যাখ্যা
রুটি তৈরির কারখানায় Saccharomyces cerevisiae ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়। 

- ব্যাকটেরিয়াকে এককোষী প্রোটিন (single cell protein) হিসেবে পশু ও মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- এ ধরণের জৈব প্রযুক্তিতে একদিকে যেমন বর্জ্য পদার্থের পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা করে, অন্যদিকে মানুষসহ অন্যান্য পশুর প্রোটিনের চাহিদা পুরন হয়।
- কাগজ ও কাগজের মন্ড (pulp এবং paper industry) থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থে বিভিন্ন ইস্ট (যেমন- Torula, Saccharomyces ইত্যাদি) জন্মায়, যেগুলো অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ।
- বাংলাদেশে এ ধরণের জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক নয়, তবে চিনি কল থেকে উৎপন্ন পরিত্যক্ত বর্জ্য ঝোলাগুড় (molasses) কে আমরা মিডিয়াম হিসেবে ব্যবহার করে Saccharomyces cerevisiae কে ব্যাপক ভাবে চাষ করতে পারি।

সূত্র: ৪০১ পৃষ্ঠা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।       
৪৩০.
কার্বোহাইড্রেট C, H এবং O-এর অনুপাত কত? 
  1. ১ : ১ : ২
  2. ১ : ২ : ১
  3. ১ : ৩ : ২
  4. ১ : ৩ : ১
সঠিক উত্তর:
১ : ২ : ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ : ২ : ১
ব্যাখ্যা
কার্বোহাইড্রেট: 
- উদ্ভিদের সবুজ অংশে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানির বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয় কার্বোহাইড্রেট। 
- জীবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ গাঠনিক ও সঞ্চয়ী উপাদান হলো কার্বোহাইড্রেট। 
- আমাদের খাদ্য তালিকার প্রধান উপাদানও কার্বোহাইড্রেট। 
- কার্বোহাইড্রেটকে হাইড্রেট্স অব কার্বন থেকে নামকরণ করা হয়েছে, এর অর্থ হলো কার্বনের জলায়ন। 
- কার্বোহাইড্রেটের প্রতি অণু কার্বনের সাথে দুই অণু হাইড্রোজেন ও এক অণু অক্সিজেন থাকে। 
- কাজেই কার্বোহাইড্রেট হলো কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেনের (O) সমন্বয়ে গঠিত এক প্রকার জৈব রাসায়নিক পদার্থ যেখানে এদের অনুপাত ১ : ২ : ১। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) অবাত শ্বসন
  2. খ) সবাত শ্বসন
  3. গ) ক ও খ উভয়ই
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) অবাত শ্বসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অবাত শ্বসন
ব্যাখ্যা

অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দুভাগে ভাগ করা হয়−
যথাঃ
ক) সবাত শ্বসন বা বায়বীয় শ্বসন (aerobic respiration); অক্সিজেনের উপস্থিতিতে হয়
খ) অবাত শ্বসন, অবায়বীয় শ্বসন (anaerobic respiration); অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয়।

- সবাৎ শ্বসনই উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বভাবিক শ্বশন প্রক্রিয়া। 

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৪৩২.
ভাইরাসের কোন বৈশিষ্ট্যটি জীব বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. ভাইরাস অকোষীয় 
  2. ভাইরাসে কোষঝিল্লী অনুপস্থিত 
  3. ভাইরাসে DNA বা RNA থাকে 
  4. ভাইরাসে রাইবোসোম থাকে না 
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসে DNA বা RNA থাকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসে DNA বা RNA থাকে 
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। 
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৩.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. লাইকেন
  2. বাঁশ
  3. নারকেল
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা: 
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় এখানে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৪.
কোন রঙের আলোতে সালোক সংশ্লেষণ ভালো হয় না?
  1. ক) লাল
  2. খ) নীল
  3. গ) সবুজ
  4. ঘ) বেগুনি
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সবুজ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
আলোক বর্ণালির লাল, নীল, কমলা ও বেগুনি অংশটুকুতে সালোক সংশ্লেষণ ভালো হয়।
আবার, সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোক সংশ্লেষণ ভালো হয় না।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৫.
কোন গাছে ভাইরাস মোজাইক রোগ উৎপন্ন করে?
  1. ধান গাছে
  2. তামাক গাছে
  3. বেগুন গাছে
  4. পাট গাছে
সঠিক উত্তর:
তামাক গাছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামাক গাছে
ব্যাখ্যা
- 'তামাক গাছে' মোজাইক রোগ সৃষ্টি করে TMV নামক ভাইরাস। 

টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV): 
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস। 
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ। 
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm. 
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত। 
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়। 
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে। 
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৬.
উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া কোনটি?
  1. অবাত শ্বসন
  2. সবাত শ্বসন
  3. অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত শ্বসন
  4. আনারোবিক শ্বসন
সঠিক উত্তর:
সবাত শ্বসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবাত শ্বসন
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া হলো সবাত শ্বসন বা অ্যারোবিক রেসপিরেশন। 

• শ্বসন: 

- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলা হয়।
- শ্বসনের ফলে যে শক্তি নির্গত হয় তা জীবের বিভিন্ন শক্তি শোষণকারী কার্যকলাপে ব্যয় হয়।

• শ্বসনের প্রকারভেদ:
অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়; যথা:
- সবাত শ্বসন (Aerobic respiration): যে শ্বসন ক্রিয়ার জন্য মুক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে সবাত শ্বসন বলে। 
- অবাত শ্বসন (Anaerobic respiration): যে শ্বসন ক্রিয়া মুক্ত অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে।

• সবাত শ্বসন:
- যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় মুক্ত আক্সজেনের প্রয়োজন হয় এবং শুসনিক বস্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO2, H2O ও বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলে।
- অক্সিজেনের উপস্থিতি অর্থাৎ বায়ুর উপস্থিতির প্রয়োজন হয় বলে এ শ্বসনকে সবাত শ্বসন বলা হয়। 
- এটি হলো উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক শ্বসন ক্রিয়া। 

• সবাত শ্বসনের প্রধান ধাপগুলো হলো:
- গ্লাইকোলাইসিস,
- পাইরুভেট জারণ,
- ক্রেবস চক্র,
- ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৪৩৭.
আয়রনের অভাবে পাতার ক্লোরোসিস কোথায় শুরু হয়? 
  1. মূল কাণ্ড 
  2. পুরো পাতা 
  3. শিরার মধ্যবর্তী অংশ 
  4. পাতা কিনারা 
সঠিক উত্তর:
শিরার মধ্যবর্তী অংশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরার মধ্যবর্তী অংশ 
ব্যাখ্যা

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। 
- পাতার সরু শিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

সালফার (S): 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- কান্ডের শীর্ষ মরে যায় এবং ডাইব্যাক রোগের সৃষ্টি হয়। 
- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় তাই উদ্ভিদ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন (Fe): 
- আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। 
- কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়। 

বোরন (B): 
- বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৮.
দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক কে?
  1. লুই পাস্তুর
  2. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  3. এরিস্টটল
  4. থিও ফ্রাস্টাস
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
• 1758 সালে ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রাণীর দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন করেন।

• দ্বিপদ নামকরণ:

- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়।
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম।
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে।
- নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।
- 1753 সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species plantarum বইটি রচনা করেন।

• নামকরণের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতিমালা নিম্নরূপ:
১. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
২. প্রতিটি জীব-প্রজাতির নামের দু'টি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হলো গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশ হলো প্রজাতিক পদ।
৩. একই দ্বিপদ নাম কোন দু'টি প্রজাতির জন্য প্রযোজ্য হবে না, একটি দ্বিপদ নাম কেবল মাত্র একটি প্রজাতির জন্যই সুনির্দিষ্ট।
৪. গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদ ছোট অক্ষরে হবে ।
৫. ছাপানো হলে দ্বিপদ নাম ইটালিক বা মোটা অক্ষরে হবে। হাতে লিখলে দ্বিপদ নামের নিচে দু'অংশে দু'টি টানা দাগ দিতে হবে; যেমন- Homo sapiens বা Homo sapiens.
৬. দ্বিপদ নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম উল্লেখ করতে হয়, যেমন- Mangifera indica L., L. হলো লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ। এ নামটি লিনিয়াস দিয়েছিলেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৯.
Cycas উদ্ভিদের পরাগায়ন কিসের মাধ্যমে ঘটে? 
  1. দেহ-অঙ্গের মাধ্যমে
  2. বাতাসের মাধ্যমে
  3. স্পোর সৃষ্টির মাধ্যমে
  4. কীট-পতঙ্গের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বাতাসের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
নগ্নবীজী উদ্ভিদ বা জিমনোস্পার্ম (Gymnosperms): 
- বীজ উৎপাদনকারী ভাস্কুলার উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে বলা হয় সবীজ উদ্ভিদ বা স্পার্মাটোফাইটা (Spermatophyta)। 
- এ গোষ্ঠীটি দুটি উপগোষ্ঠীতে বিভক্ত। যথা-ব্যক্তবীজী বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperms) এবং গুপ্তবীজী বা আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperms)। 
- Gymnosperm উদ্ভিদের বাংলা প্রতিশব্দ করা হয়েছে নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 
- জিমনোস্পার্ম শব্দের অর্থ হলো naked seed বা নগ্নবীজী। 
- উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক থিওফ্রাস্টাস তাঁর Enquiry into Plants নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম Gymnosperm শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- যেসব সবীজী উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় জন্মে তাদেরকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলে। 
- বাংলাদেশে প্রায় ৪০০০ প্রজাতির আবৃতবীজী উদ্ভিদ থাকলেও মাত্র কয়েক প্রজাতির নগ্নবীজী উদ্ভিদ প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। 
যেমন- 
• Cycas pectinata যা চট্টগ্রামের বাড়িয়াডালা পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়; 
• Podocarpus neriifolius, বাংলাদেশে এটি বাঁশপাতা নামে পরিচিত এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট বনাঞ্চলে এখনো পাওয়া যায় এবং 
• Gnetum নামক একটি কাষ্ঠল লতানো উদ্ভিদ যা সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন বনে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে Gnetum (নিটাম) এর ২/৩টি প্রজাতি আছে বলে ধারণা করা হয়। 

Cycas (সাইকাস): 
- Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য- 
১। Cycas উদ্ভিদ স্পোরোফাইট। দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
২। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়। 
৩। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কাণ্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত। 
৪। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুগুলিত)। 
৫। পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান। 
৬। গৌন অস্থানিক কোরালয়েড মূল বিদ্যমান। 
৭। গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল সৃষ্টি হয় না, বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
৮। পুংরেণুপত্রগুলো একত্রিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র সত্যিকার স্ট্রোবিলাস গঠন করে না। 
১। হেটারোস্পোরিক অর্থাৎ যৌন জননে মেগা ও মাইক্রোস্পোর সৃষ্টি হয়। 
১০। Cycas উদ্ভিদে বাতাসের মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে। 
১১। Cycas-এর শুক্রাণু উদ্ভিদকূলে সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, সচল ও বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৪৪০.
নিচের কোন উদ্ভিদ শাখা কলমের মাধ্যমে চাষ করা যায়?
  1. পটল
  2. ডালিয়া
  3. গোলাপ
  4. মিষ্টি আলু
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা
গোলাপ শাখা কলমের মাধ্যমে চাষ করা যায়।

• দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়।

• এটা আবার দু'ভাবে হয়।
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং
(খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন।

(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন:
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি।
- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি।
- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যথা- পাঁথরকুচি।

(খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন: এটি বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে। যথা-
১। শাখা কলম দ্বারা - কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে স্বাভাবিকভাবে নতুন উদ্ভিদ জন্মায় না কিন্তু উদ্ভিদের শাখা কেঁটে ভেজা মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- গোলাপ, চাঁপা, জবা ইত্যাদি।

২। গুটি কলমের মাধ্যমে - অনেক উদ্ভিদের শাখার চারপাশের বাকল ছাড়িয়ে নিয়ে তার চারদিকে সার ও গোবর মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে খড় বা চটের বস্তা বেঁধে রাখলে, উক্ত স্থানে শিকড় গজায় তখন শিকড়সহ শাখাটি মাতৃ উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে অন্যত্র রোপন করা হয়।
যেমন- গোলাপ, আম, লেবু, লিচু ইত্যাদি।

৩। দাবা কলমের দ্বারা - এক্ষেত্রে গাছের একটি শাখাকে মাটির সাথে আবদ্ধ করে প্রত্যেক দিন উক্ত স্থানে পানি দেয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিতে আবদ্ধ শাখার পর্ব থেকে মূল গজায়। পরে মূলসহ শাখাটিকে কেটে অন্যত্র রোপন করা হয়।
যেমন- চন্দ্রমল্লিকা, পুদিনা, লেবু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪১.
জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. পটাশিয়াম
  3. নাইট্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন- 
ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 

পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 
- জীবকোষের DNA, RNA প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪২.
আলোক নিরপেক্ষ দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. তামাক
  2. আফিম
  3. আউশ ধান
  4. সয়াবিন
সঠিক উত্তর:
আউশ ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউশ ধান
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 

১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৪৩.
নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. তামাক
  2. সয়াবিন
  3. আফিম
  4. টমেটো
সঠিক উত্তর:
টমেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমেটো
ব্যাখ্যা
দিবালোকের দীর্ঘতা ভিত্তিক পুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ: 
- সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান থাকে না, কখনও দিন ছোট ও রাত বড় আবার কখনও দিন বড় ও রাত ছোট থাকে। 
- দিবাকালের দীর্ঘতার উপর ভিত্তি করে পুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
যথা- 
ছোট দিনের উদ্ভিদ: 
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ। 
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, তামাক, শিম, রোপা আমন, পাট ইত্যাদি ছোট দিনের উদ্ভিদ।

বড় দিনের উদ্ভিদ: 
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ। 
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে। 
যেমন- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ। 

নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ। 
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে। 
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়। 
যেমন- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৪.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় সালোকসংশ্লেষণের আলোচনা হয়?
  1. ক) হিস্টোলজি
  2. খ) কোষবিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) এন্ডোক্রাইনোলজি
সঠিক উত্তর:
গ) শারীরবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শারীরবিদ্যা
ব্যাখ্যা
শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালােকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলােচিত হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।
হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলােচনা করা হয়।
এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): এ শাখায় জীবদেহের হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৫.
উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে?
  1. ব্যাপন
  2. অভিস্রবণ
  3. প্রস্বেদন
  4. সালোকসংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন
ব্যাখ্যা
ব্যাপন:

• একই তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের অধিক ঘন স্থান থেকে কম ঘন স্থানে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়াকে ব্যাপন বলে।
• মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি হলে ব্যাপনের হার বাড়ে।
• অণুগুলোর ঘনত্ব সমান হলে পদার্থের ব্যাপন বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যাপনের গুরুত্ব:

• উদ্ভিদের জীবনে ব্যাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
• সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান কার্বন ডাইঅক্সাইড উদ্ভিদ ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ু থেকে গ্রহণ করে।
• পাতার স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা স্তরে এ কাজ হয়।
• শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বায়ু থেকে কোষ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
• উদ্ভিদের দেহের অভ্যন্তরে পানি এবং লবণের বিভিন্ন অংশে যাতায়াত ব্যাপন প্রক্রিয়াতে হয়।
• উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ থেকে পানি হারাবার জন্যেও ব্যাপন প্রক্রিয়া দায়ী।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি। 
৪৪৬.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. ফার্ন 
  2. লাইকেন
  3. জিমনোস্পার্ম
  4. অ্যানজিওস্পার্ম
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা: 
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা। 
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে। 
- দীর্ঘ শীতের সময় তুন্দ্রা অঞ্চলে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়। 
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে। 
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন। 
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম। 
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৭.
Lack of what the Leaves are Yellow in color?
  1. ক) Zinc
  2. খ) Sulphur
  3. গ) Phosphorus
  4. ঘ) Nitrogen
সঠিক উত্তর:
ঘ) Nitrogen
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Nitrogen
ব্যাখ্যা
- নাইট্রোজেনের অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এর অভাবে পাতা হলুদ বা পীত বর্ণের হয়। এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে।
- কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন হ্রাস পায়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়।
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৮.
শ্বসন প্রক্রিয়া কখন সক্রিয় থাকে?
  1. সকাল ১০-১১ টায়
  2. গভীর রাতে
  3. বিকালে
  4. দিবা-রাত্রি সবসময়ই
সঠিক উত্তর:
দিবা-রাত্রি সবসময়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবা-রাত্রি সবসময়ই
ব্যাখ্যা
• শ্বসন-
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ জটিল জৈবযৌগ (খাদ্যবস্তু) জারিত হয়, ফলে জৈবযৌগে সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তি বা রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে শ্বসন বলে। 

শ্বসনে যে প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয় তা নিম্নরূপ-
C6H12O6 + 6O2 + 6H2O +36ADP +36Pi   →     6CO2 + 12H2O+ 36ATP
যা বিভিন্ন এনজাইম ও কো-এনজাইম এর উপস্থিতিতে ঘটে থাকে। 

• শ্বসন অঙ্গ: 
- কোষীয় সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়াই শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ। 

সময়:
- যেহেতু শ্বসনের জন্য সূর্যালোকের প্রয়োজন হয় না তাই উদ্ভিদের প্রতিটি জীবন্ত কোষেই দিন-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসনকার্য চলতে থাকে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৪৪৯.
নিচের কোনটি পরিবহন টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) প্যারেনকাইমা
  2. খ) অ্যারেনকাইমা
  3. গ) ফ্লোয়েম
  4. ঘ) স্ক্লেরেনকাইমা
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়।
এ টিস্যু দুই ধরনেরঃ জাইলেম এবং ফ্লোয়েম
জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৪৫০.
নিচের কোনটি বায়ু পরাগী ফুল?
  1. ধান
  2. কদম
  3. কলা
  4. শিমুল
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
• পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে ।
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
- যে পরাগ বহন করে গর্ভমুন্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়।
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
- বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। যেমন- ধান
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। যেমন- পাতা শ্যাওলা।
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
ব্যাকটেরিয়ার কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়? 
  1. এরা অকোষীয় 
  2. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক 
  3. এরা আণুবীক্ষণিক জীব 
  4. এরা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে
সঠিক উত্তর:
এরা অকোষীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরা অকোষীয় 
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য: 
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে- 
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
৫. এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর।
- এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে
৬. এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
৭. ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
৮. এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
৯. এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
১০. এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
১১. কিছুকিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫২.
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হল-
  1. ক) কপার
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কপার
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান ১০টি।
যথা: নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার এবং লৌহ।
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়, তাদেরকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে৷
উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হল ৬ টি।
যথা: দস্তা বা জিংক, ম্যাংগানিজ, মোলিবডেনাম, বোরন, তামা বা কপার এবং ক্লোরিন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৩.
ঈস্টে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. ক) ভিটামিন ‘এ’
  2. খ) ভিটামিন ‘বি’
  3. গ) ভিটামিন ‘সি’
  4. ঘ) ভিটামিন ‘ডি’
সঠিক উত্তর:
খ) ভিটামিন ‘বি’
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভিটামিন ‘বি’
ব্যাখ্যা
ঈস্টে ভিটামিন ‘বি’ পাওয়া যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৪.
ইউরিয়াতে নাইট্রোজেনর শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ক) ২২
  2. খ) ৪৬
  3. গ) ৫৬
  4. ঘ) ৭০
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪৬
ব্যাখ্যা
মাটিতে নাইট্রোজেনর উৎস নাইট্রোজেন লবণ। বায়ুমন্ডলের শতকরা ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
- ইউরিয়াতে শতকরা ৪৬ ভাগ এবং অ্যামোনিয়াম সালফেটে শতকরা ২০.৫ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।

সূত্র: এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৫.
উদ্ভিদের ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট নয় কোনটি? 
  1. জিংক
  2. সালফার
  3. আয়রন
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
জিংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিংক
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন: 
ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৬.
Copsychus saularis কোন প্রাণীর দ্বিপদ নাম?
  1. ধান
  2. কুনোব্যাঙ
  3. দোয়েল পাখি
  4. বট গাছ
সঠিক উত্তর:
দোয়েল পাখি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোয়েল পাখি
ব্যাখ্যা

গ) দোয়েল পাখি

দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature) এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens,
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis,
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris,
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica,
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis,
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus,
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha,
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa এবং
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali, ইত্যাদি।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৪৫৭.
কোন রোগের কারণে ফল গাছে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়?
  1. পাতার দাগ
  2. পাতা পোড়া
  3. মিলডিউ
  4. সুটিমোল্ড
সঠিক উত্তর:
সুটিমোল্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুটিমোল্ড
ব্যাখ্যা

স্যূটিমোল্ড রোগের কারণে ফল গাছে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
- এ রোগের আক্রমনে পাতায়, ফলে ও কান্ডে কাল ময়লা জমে। মিলিবাগ বা সাদা মাছির আক্রমন এ রোগ ডেকে আনে।
- প্রোপিকোনাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন টিল্ট ৫ মিলি/১ মুখ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। ঔষধ স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক কৃষি শিক্ষা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৫৮.
নিষেকের পর রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. গর্ভাশয় - ফল
  2. ডিম্বক - বীজ
  3. এক্সাইন - টেগমেন
  4. ডিম্বাণু - ভ্রূণ
সঠিক উত্তর:
এক্সাইন - টেগমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক্সাইন - টেগমেন
ব্যাখ্যা
নিষেকের পর রূপান্তর:
নিষেকের আগে - নিষেকের পরে:
- গর্ভাশয় - ফল
- গর্ভাশয়ত্বক - ফলত্বক।
- ডিম্বক - বীজ
- এক্সাইন - টেস্টা।
- ইন্টাইন - টেগমেন
- মাইক্রোফাইল - মাইক্রোফাইল।
- ডিম্বাণু - ভ্রূণ
- সাহায্যকারী কোষ - নষ্ট হয়ে যায়।
- প্রতিপাদ কোষ - নষ্ট হয়ে যায়।
- ডিম্বকনাড়ী - বীজবৃন্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৫৯.
সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে ক্রাসুলেসিয়ান এসিড মেটাবলিজম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোনটি?
  1. মিল্ল্যাত
  2. কাউন
  3. বার্লি
  4. পাথরকুচি
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে C3 চক্র অনুসরণ করে ধান, গম, বার্লি, আম, জাম, কাঁঠালসহ ৮৫% উদ্ভিদ।
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে C4 চক্র অনুসরণ করে ভুট্টা, ইক্ষু, সরগাম, ক্র‍্যাব ঘাস, মিল্ল্যাত, কাউন, চিনা, গিনি ঘাস ইত্যাদি।
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ অধ্যায়ে ক্রাসুলেসিয়ান এসিড মেটাবলিজম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে Crassulacae গোত্রের (পাথরকুচি গোত্র) উদ্ভিদ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৬০.
প্রোটোপ্লাজমের প্রধান অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) প্লাজমা মেমব্রেন
  2. খ) সাইটোপ্লাজম
  3. গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা

কোষের ভিতরে পাতলা পর্দাবেষ্টিত জেলীর ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটিকে প্রােটোপ্লাজম বলে একে জীবনের ভিত্তি বলা হয়।

এর তিনটি অংশ, যথা – কোষ ঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।

উৎসঃ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি

৪৬১.
ক্লোরোফিলবিহীন উদ্ভিদ হল-
  1. ব্যাঙের ছাতা
  2. ইউগ্লিনা
  3. ক্রাইসামিবা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙের ছাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙের ছাতা
ব্যাখ্যা
- ব্যাঙের ছাতা একটি সমাঙ্গদেহী অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- এরা স্বভোজী নয়, কেননা এদের ক্লোরোফিল নেই। 
যেমন - ব্যাঙের ছাতা। 
- ছত্রাক জাতের এ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
- এদের কোষে সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬২.
সালোসংশ্লেষণে উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়- 
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ্লুকোজ 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস:
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়াটি সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এই রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে ও উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৩.
নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য কোনটি?
  1. প্রজননের পদ্ধতি
  2. মূলের উপস্থিতি 
  3. বীজের আবরণ
  4. কাণ্ডের দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
বীজের আবরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজের আবরণ
ব্যাখ্যা

- নগ্নবীজী (Gymnosperm) এবং আবৃতবীজী (Angiosperm) উদ্ভিদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো বীজের আবরণের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি। নগ্নবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো নগ্ন বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় (ovary) থাকে না এবং ফল উৎপন্ন হয় না। অন্যদিকে, আবৃতবীজী উদ্ভিদের বীজগুলো ফলের অভ্যন্তরে আবৃত অবস্থায় থাকে, কারণ এদের গর্ভাশয় থাকে যা নিষিক্তকরণের পর ফলে পরিণত হয়। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪৬৪.
সব প্রকৃত এবং অপ্রকৃত ফলকে কতটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ফল:
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে, তাকে ফল বলে। 

• শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন: আম, জাম। 

• গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয়, তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। যেমন: আপেল, চালতা ইত্যাদি। 

• সব প্রকৃত এবং অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: সরল ফল, গুচ্ছ ফল এবং যৌগিক ফল।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪৬৫.
কোন হরমোনের প্রভাবে উদ্ভিদের কোষের সাইটোকাইনেসিস ঘটে?
  1. ক) ইথিলিন
  2. খ) সাইটোকাইনিন
  3. গ) জিবেরেলিন
  4. ঘ) অক্সিন
সঠিক উত্তর:
খ) সাইটোকাইনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাইটোকাইনিন
ব্যাখ্যা
সাইটোকাইনিনঃ
এই ফাইটোহরমােন বা উদ্ভিদ হরমােনটি ফল, শস্য এবং ডাবের পানিতে পাওয়া যায়। কোনাে কোনাে উদ্ভিদের মূলেও এদের পাওয়া যায়। সাধারণভাবে এটি বিভিন্ন ঘনত্বে অক্সিনের সাথে যুক্ত হয়ে কোষ বিভাজনকে উদ্দীপিত করে।
কোষবিভাজনের সময় সাইটোকাইনিন হরমোনের প্রভাবে কোষের সাইটোকাইনেসিস ঘটে।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৪৬৬.
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
গ) চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চারটি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হলোঃ ১) ক্লোরোফিল, ২) আলো, ৩) পানি এবং ৪) কার্বন ডাইঅক্সাইড।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৭.
ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. নিউক্লিয়াসবিহীন
  2. প্রাক-কেন্দ্রিক
  3. সুকেন্দ্রিক
  4. এককোষী
সঠিক উত্তর:
সুকেন্দ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকেন্দ্রিক
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো নিউক্লিয়াসহীন, অসবুজ, এককোষী ও প্রাক-কেন্দ্রিক অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
(১) কক্কাস,
(২) ব্যাসিলাস,
(৩) স্পাইরিলাম এবং
(৪) কমা আকৃতি।

• ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:

- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে।
- দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৪৬৮.
গাছের খাদ্য তালিকায় আছে- 
  1. N, P, K, S ও Zn
  2. Na, P, K, S ও Zn
  3. N, B, K, S ও Al 
  4. N, P, K, S ও Al
সঠিক উত্তর:
N, P, K, S ও Zn
উত্তর
সঠিক উত্তর:
N, P, K, S ও Zn
ব্যাখ্যা
- গাছের খাদ্য তালিকায় আছে- N, P, K, S ও Zn. 

অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

২। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৯.
নিচের কোনটি ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. ইথিলিন
  2. থাইরক্সিন
  3. অক্সিন
  4. অ্যাবসিসিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
ব্যাখ্যা
অক্সিন (Auxins):
- ফল ও বীজ উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা পালন করে অক্সিন।
- সার্থক পলিনেশনের পরপরই গর্ভাশয়ে অক্সিন তৈরি বেড়ে যায়।
- পরাগনালিকা যখন বাড়তে থাকে তখন পরাগনালিকা হতে একপ্রকার এনজাইম নিঃসৃত হয়, যার প্রভাবে ট্রিপটোপাফ্যান অক্সিন এ পরিবর্তিত হয়।

অক্সিনের শারীরবিজ্ঞানিক প্রভাব:
১। অক্সিনের প্রভাবে কোষ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।
২। অক্সিন উদ্ভিদ কর্তৃক অধিক পানি গ্রহণে সহায়তা করে। 
৩। অক্সিন শীর্ষমুকুলের বৃদ্ধিতে প্রাধান্য সৃষ্টি করে। 
৪। অক্সিন মূল সৃষ্টি সূচনা করে। এতে মূলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
৫। পরাগায়ন ও নিষেক ছাড়া ফল সৃষ্টিতে অব্জিন সহায়তা করে।
৬। অক্সিন শ্বসনের হার বৃদ্ধি করে।
৭। অক্সিনের প্রভাবে পাতা ও ফলের বোঁটায় অ্যাবসিশন স্তর সৃষ্টিতে বাধার সৃষ্টি হয়, তাই পাতা ও ফল ঝরে যায় না।

অন্যদিকে,
- থাইরক্সিন: এটি প্রাণীদের থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন, যা বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে।
- অ্যাবসিসিক অ্যাসিড: এটি উদ্ভিদের শীতল অবস্থায় থাকা (dormancy) এবং স্টোমাটা বন্ধ রাখতে সহায়তা করে, যা শুষ্ক অবস্থায় পানির ক্ষতি কমায়।
- ইথিলিন: এটি একটি গ্যাসীয় হরমোন, যা ফল পাকানো এবং পাতার ঝরার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৪৭০.
সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে কী বলে? 
  1. ক্রোমোপ্লাস্ট 
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. লিউকোপ্লাস্ট 
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

• ক্লোরোফিল নামক সবুজ রঞ্জক পদার্থ ধারণকারী প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলা হয়। এটি উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে।

প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
 ১। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 
 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
 
৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭১.
সালোকসংশ্লেষণে শক্তির কোন ধরনের রূপান্তর ঘটে?
  1. ক) আলোক শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
  2. খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  3. গ) আলোক শক্তি বিপাকীয় শক্তিতে
  4. ঘ) আলোক শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
ব্যাখ্যা

সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলাে যে এরা সূর্যালােকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরি হওয়ার এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আলােকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৪৭২.
সূর্য হতে উদ্ভিদের পাতায় পতিত আলোর শতকরা কত ভাগ সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়?
  1. ১ থেকে ২ ভাগ
  2. ৩ থে ৪ ভাগ
  3. ৫ থেকে ১০ ভাগ
  4. ১০ থেকে ১৭ ভাগ
সঠিক উত্তর:
১ থেকে ২ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ থেকে ২ ভাগ
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।

- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই- অক্সাইড।
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে অথবা কিছু অংশ তাপ শক্তি রূপে শোষিত হয়।
- বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এর মতে সূর্যের আলো এ পৃথিবীতে আসে তড়িৎ চুম্বকীয় বিচ্ছুরিত রশ্মি বা তরঙ্গ হিসাবে এবং সৌর শক্তি ফোটন (photon) নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কনিকাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- সূর্যের যে আলো পৃথিবীতে আসে তা বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের হয়।
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্য মিটার, সেন্টিমিটার, ন্যানোমিটার, মিলিমাইক্রন এবং অ্যাংস্ট্রম হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৩.
গুচ্ছ ফল কোনটি? 
  1. জাম
  2. আতা
  3. কাঁঠাল
  4. আনারস
সঠিক উত্তর:
আতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতা
ব্যাখ্যা
ফল: 
- নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে। 
- শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আম, কাঁঠাল। 
- গর্ভাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। 
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি। 
- প্রকৃত ও অপ্রকৃত ফলকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- সরল ফল, গুচ্ছফল ও যৌগিক ফল। 
১) সরল ফল: 
- ফুলের একটি মাত্র গর্ভাশয় থেকে যে ফলের উৎপত্তি তাকে সরল ফল বলে। যেমন- আম। এরা রসাল বা শুষ্ক হতে পারে। 
- আবার সরল ফল দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) রসাল ফল: যে ফলের ফলত্বক পুরু এবং রসাল তাকে রসাল ফল বলে। এ ধরনের ফল পাকলে ফলত্বক ফেটে যায় না। 
যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি। 

খ) নীরস ফল: যে ফলের ফলত্বক পাতলা এবং পরিপক্ক হলে ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায় তাকে নীরস ফল বলে। 
যেমন- শিম, ঢেঁড়স, সরিষা ইত্যাদি। 

২) গুচ্ছ ফল: 
- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। 
যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি। 

৩) যৌগিক ফল: 
- একটি মজুরির সম্পূর্ণ অংশ যখন একটি ফলে পরিণত হয় তখন তাকে যৌগিক ফল বলে। 
যেমন- আনারস, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৪৭৪.
উদ্ভিদের সজীব কোষে শ্বসন কার্য কখন ঘটে?
  1. শুধু রাতে
  2. শুধু দিনে
  3. দিন-রাত্রি সব সময়
  4. সূর্যের আলোতে
সঠিক উত্তর:
দিন-রাত্রি সব সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিন-রাত্রি সব সময়
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষস্থ সঞ্চিত খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যস্থ রাসায়নিক শক্তিকে গতিশক্তি ও তাপশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত করে এবং ফলশ্রুতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে। 
- শ্বসন একটি বিপাকীয় ক্রিয়া, এ প্রক্রিয়া চলাকালে প্রতিটি জীব পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। 
- নিম্নশ্রেণির কিছু উদ্ভিদ ও প্রাণী অক্সিজেন ছাড়া শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন করে, তবে সকল ক্ষেত্রে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। 
- উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রতিটি সজীব কোষে দিন-রাত্রি সব সময় শ্বসন কার্য ঘটে। 
- শ্বসন একটি অন্তঃকোষীয় বিপাক প্রক্রিয়া এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের বিভিন্ন সজীব কোষে শ্বসন প্রক্রিয়াটি মুলত একই। 
- কিন্তু বিভিন্ন জীবের অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন পদ্ধতিটি ভিন্নরুপ। 
- উদ্ভিদ দেহে শ্বসন কালে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় অপেক্ষাকৃত সরল। 
- উদ্ভিদের কোনো নির্দিষ্ট শ্বসন অঙ্গ নাই, পাতার পত্ররন্ধ্র, কান্ডের লেন্টিসেল এবং অন্তঃকোষের মাধ্যমে বায়ু দেহঅভ্যন্তরে প্রবেশ করে। 
- পানিতে নিমজ্জিত উদ্ভিদগুলো সমগ্র দেহতলের সাহায্যে অক্সিজেন শোষণ করে। 

উদ্ভিদের শ্বসন: 
- উদ্ভিদ দেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত শর্করা জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়, এই শক্তি উদ্ভিদ দেহে বিপাকীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- উদ্ভিদ দেহে দুই প্রকার শ্বসন দেখা যায়। 
যথা- 
ক) সবাত শ্বসন: অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যে শ্বসন সম্পন্ন হয় তাকে সবাত শ্বসন বলে। সকল উন্নত উদ্ভিদে সবাত শ্বসন ঘটে। 
খ) অবাত শ্বসন: অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে যে শ্বসন সম্পন্ন হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে। ব্যাকটেরিয়া জাতীয় আদিকোষী জীব দেহে অবাত শ্বসন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৭৫.
ফুলের গর্ভপত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) গর্ভাশয়
  2. খ) গর্ভদণ্ড
  3. গ) গর্ভমুণ্ড
  4. ঘ) গর্ভকেশর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গর্ভকেশর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গর্ভকেশর
ব্যাখ্যা

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশরের অবস্থান ফুলটির কেন্দ্রে। এটি ফুলের আর একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র (Carpel) নিয়ে গঠিত হতে পারে।
একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ
যথা:
গর্ভাশয় (Ovary),
গর্ভদণ্ড (Style) এবং
গর্ভমুণ্ড (Stigma)।

৪৭৬.
Father of Bacteriology বলা হয় কাকে? 
  1. এহরেনবার্গ
  2. লিউয়েন হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. রবার্ট কচ 
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউয়েন হুক
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া: 
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড। 
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব। 
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়। 
- ওলন্দাজ বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক ১৬৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। 
- অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী। 
- তাই লিউয়েন হুককে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়। 
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন। 
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন। 
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব। 
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৭.
উদ্ভিদে কত প্রকার প্রস্বেদন ঘটে? 
  1. তিন প্রকার
  2. দুই প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন ঘটে। 
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৮.
উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. শ্বসন
  3. অভিস্রবণ
  4. প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। 
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- আলো এবং ক্লোরোফিল ছাড়াও সালোকসংশ্লেষণ আরও কতগুলো প্রভাবক দিয়ে প্রভাবিত হয়। 
- প্রভাবকগুলো কিছু বাহ্যিক এবং কিছু অভ্যন্তরীণ। 
- প্রভাবকের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি, পরিমাণের কম-বেশি সালোকসংশ্লেষণের পরিমাণও কম-বেশি করে থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রকিয়ায় তাপমাত্রা বিশেষ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 

- সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রা (০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রয় (45° সেলসিয়াসের উপরে) এ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য পরিমিত (Optimum) তাপমাত্রা হলো ২২° সেলসিয়াস থেকে ৩৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত। 
- তাপমাত্রা ২২° সেলসিয়াসের কম বা ৩৫° সেলসিয়াসের বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যাবে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে। 
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ। 
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাই-অক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়। 
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়। 

উৎস: 
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৯.
DNA নেই কোনটিতে?
  1. ক) E. coli
  2. খ) TMV
  3. গ) T2 ব্যাকটেরিওফায
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
খ) TMV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) TMV
ব্যাখ্যা
• DNA নেই TMV-এ।

টোবাকো মোজাইক ভাইরাস (TMV):
- এটি একটি দন্ডাকৃতির RNA ভাইরাস।
- এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের প্রায় ১৭ গুণ।
- এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮০ nm এবং প্রস্থ ১৫ nm.
- RNA এবং প্রোটিন দিয়ে টোবাকো মোজাইক ভাইরাসটি গঠিত।
- এ ভাইরাস তামাক পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট করে সাদা সবুজ মোজাইকের মত সৃষ্টি করে বলে এদের টোবাকো মোজাইক ভাইরাস বলা হয়।
- এর বাইরে একটি পুরু প্রোটিনের আবরণ থাকে।
- কিছু সংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন- TMV) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮০.
কোন খনিজ লবণের অভাবে গাছের বর্ধনশীল অংশে গজানো কচি পাতাগুলো হলদে রঙের হয়-
  1. ক) লৌহ বা আয়োডিন
  2. খ) ম্যাঙ্গানিজ ও ক্যালসিয়াম
  3. গ) ফসফরাস ও ক্লোরিন
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ও নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম্যাগনেসিয়াম ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ:
- নাইট্রোজেন (N) এর অভাবে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে। তাই পাতা হলুদ হয়। এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস বলে। কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন হ্রাস পায়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে।
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এর অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে। পাতার সরুশিরাসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।
- ফসফরাস (P) এর অভাবে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়।
- ক্যালসিয়াম (Ca) এর অভাবে কচি পাতায় ক্লোরোসিস হয়, উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল মরে যায়। ফুল ফোঁটার সময় উদ্ভিদের কান্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।
- আয়রন (Fe) এর অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়, তবে পাতার সরুশিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথমে হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনও কখনও সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়। কান্ড দুর্বল ও ছোট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮১.
"Necessary Evil বা, প্রয়োজনীয় অমঙ্গল" বলতে কোন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়?
  1. ট্রান্সলোকেশন
  2. প্রস্বেদন
  3. সালোকসংশ্লেষণ
  4. ব্যাপন
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

• “Necessary Evil” বা “প্রয়োজনীয় অমঙ্গল” বলতে উদ্ভিদের প্রস্বেদন (খ) প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়। প্রস্বেদনে উদ্ভিদের পাতার রন্ধ্র দিয়ে অতিরিক্ত পানি বাষ্প আকারে বেরিয়ে যায়, যা প্রথম দৃষ্টিতে ক্ষতিকর মনে হতে পারে, কারণ এতে পানি অপচয় হয়। তবে এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রস্বেদন উদ্ভিদদেহে পানি ও খনিজ লবণের ঊর্ধ্বমুখী পরিবহনে সাহায্য করে, উদ্ভিদকে শীতল রাখে এবং কোষে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। তাই ক্ষতির দিক থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য প্রস্বেদন অপরিহার্য, এজন্য একে “Necessary Evil” বলা হয়।
 
• প্রস্বেদন (Transpiration):
- প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ তার বায়বীয় অঙ্গ (যেমন পাতা, কাণ্ড এবং অল্প পরিমাণে লেন্টিসেল) থেকে অতিরিক্ত জল কে বাষ্প বা জলীয় বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে দেয়।
- বেশিরভাগ প্রস্বেদন ঘটে পাতার পৃষ্ঠে অবস্থিত পত্ররন্ধ্রের (Stomata) মাধ্যমে।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উদ্ভিদ শোষিত মোট জলের প্রায় ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত জলীয় বাষ্প হিসেবে পরিবেশে ত্যাগ করে।
- এই প্রক্রিয়া প্রধানত পত্ররন্ধ্রীয় (Stomatal), কিউটিকুলার (Cuticular) এবং লেন্টিকুলার (Lenticular) পথে ঘটে থাকে।

• প্রস্বেদনকে 'Necessary Evil' বলার কারণ:
 - প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (Necessary Evil) বলা হয় কারণ এর দুটি বিপরীতমুখী ভূমিকা রয়েছে।

১। প্রয়োজনীয়তা (Necessity):
- এটি শিকড় থেকে বহু উপরে অবস্থিত পাতায় জল ও খনিজ লবণ পরিবহনের জন্য একটি টান (Transpiration Pull) সৃষ্টি করে।
- এটি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে উদ্ভিদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে (কুলিং ইফেক্ট)।

২। অমঙ্গল (Evil):
- এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প নির্গত হওয়ার কারণে তীব্র শুষ্ক পরিবেশে বা উচ্চ তাপমাত্রায় উদ্ভিদ পানিশূন্যতায় ভোগে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং প্রয়োজনে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
- এই কারণে, প্রক্রিয়াটি না হলেও নয় (Necessary), আবার অতিরিক্ত হলে তা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকরও (Evil)।
- এই দ্বৈত ভূমিকার (অপরিহার্যতা ও ক্ষতিকরতা) জন্য বিজ্ঞানী ইভান জে. কুর্তিস একে 'Necessary Evil' বলে অভিহিত করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৪৮২.
লাউ ও কুমড়া জাতীয় গাছের কাণ্ডে কি ধরনের ভাস্কুলার বাণ্ডল দেখা যায়?
  1. কেন্দ্রিক
  2. অরীয়
  3. সমপার্শ্বীয়
  4. সমদ্বিপার্শ্বীয়
সঠিক উত্তর:
সমদ্বিপার্শ্বীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমদ্বিপার্শ্বীয়
ব্যাখ্যা
ভাস্কুলার বাণ্ডলের প্রকারভেদ:
- পরিবহন টিস্যু বা ভাস্কুলার বাণ্ডলের মধ্যে জাইলেম ও ফ্লোয়েম বিভিন্নভাবে অবস্থান করে।
- এদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে ভাস্কুলার বাণ্ডলকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- (ক) সংযুক্ত, (খ) অরীয় ও (গ) কেন্দ্রিক।

ক) সংযুক্ত: 
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করলে সে বাণ্ডলকে সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 
- সংযুক্ত বাণ্ডল আবার দুই রকম।
যথা- 
১। সমপার্শ্বীয়:
- যে সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম একই ব্যাসার্ধে অবস্থান করে তাকে সংযুক্ত সমপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 

২। সমদ্বিপার্শ্বীয়:
- যখন কোন সংযুক্ত ভাস্কুলার বাণ্ডলের মাঝখানে জাইলেম থাকে এবং তার উভয় দিকে ফ্লোয়েম অবস্থান করে এবং উভয় পাশে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর মাঝে ক্যাম্বিয়াম থাকে তাকে সমদ্বিপার্শ্বীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে। 

- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ এর মধ্যে লাউ ও কুমড়া জাতীয় গাছের কাণ্ডে এ ধরনের ভাস্কুলার বাণ্ডল দেখা যায়।

(খ) অরীয়:
- যে সকল ক্ষেত্রে জাইলেম এবং ফ্লোয়েম পৃথক পৃথকভাবে ভিন্ন ভিন্ন বান্ডল সৃষ্টি করে এবং পাশাপাশি অবস্থান করে তাকে অরীয় ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে।
- মূলে এ রকম ভাস্কুলার বাণ্ডল থাকে।

(গ) কেন্দ্রিক: 
- যে ভাস্কুলার বান্ডলের জাইলেম ফ্লোয়েমকে কিংবা ফ্লোয়েম জাইলেমকে ঘিরে থাকে তাকে কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বাণ্ডল বলে।
- কেন্দ্রিক ভাস্কুলার বাণ্ডল আবার দুই রকম।
যথা-
A. জাইলেম কেন্দ্রিক:
- এক্ষেত্রে জাইলেম কেন্দ্রে থাকে এবং ফ্লোয়েম তাকে ঘিরে রাখে।
যেমন- Pteris, Lycopodium।
B. ফ্লোয়েম কেন্দ্রিক:
- এক্ষেত্রে ফ্লোয়েম কেন্দ্রে থাকে এবং জাইলেম ফ্লোয়েমকে ঘিরে রাখে।
যেমন- Dracaena।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৩.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মানব সৃষ্ট প্রধান কারণ কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বন্যা
  4. বাসস্থান ধ্বংস
সঠিক উত্তর:
বাসস্থান ধ্বংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাসস্থান ধ্বংস
ব্যাখ্যা
মানব সৃষ্ট কারণ:
• বাসস্থান ধ্বংস:
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সব থেকে বড় কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা।
- বর্তমানে প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ৫০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করা জলজ প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ।

•  এক্সপ্লয়টেশন:
- সম্পদের অতিমাত্রায় আহরণ বহু জীব প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

• অতিমাত্রায় পশু চারণ:
- তৃণভূমিতে অতিমাত্রায় পশুচারণের ফলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

• পলিনেটর ধ্বংস:
- মৌমাছিসহ বহু কীটপতঙ্গ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায়। অতিমাত্রায় কীটনাশক, পতঙ্গনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নের এ বাহকগুলো কমে গিয়েছে। তাই পরাগায়নের অভাবে এ সকল উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

• পরিবেশ দূষণ:
- পরিবেশ দূষণ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

• প্রাকৃতিক কারণ:
- জীববৈচিত্র্য অবনতির প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, দাবানল প্রভৃতি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৪.
নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
  1. গলন
  2. বাষ্পীভবন
  3. প্রস্বেদন
  4. সালোকসংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায়, সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া


- সালোকসংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- আলো, ক্লোরোফিল, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%। 
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক তাপমাত্রা হলো  ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 
- সূর্য থেকে আসা আলোর শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় এবং সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়। 
- উদ্ভিদ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৫.
উদ্ভিদে কয়টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে?
  1. ৬ টি
  2. ১০ টি
  3. ১৬ টি
  4. ৬০ টি
সঠিক উত্তর:
৬০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০ টি
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে, এই উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদন বলে।
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ম্যাক্রো উপাদান
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা- নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

২. মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn). মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৪৮৬.
পাতার মাধ্যমে প্রজনন ঘটে থাকে-
  1. পাথরকুচি
  2. আম
  3. আদা
  4. কাঁকরোল
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের প্রজনন:

• যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে। প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা- অযৌন ও যৌন জনন ।

• যৌন প্রজনন: 
- বীজের মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন হয়।
- সপুষ্পক উদ্ভিদ যৌন প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
- উদাহরণ: ধান, আম, জাম, গম ইত্যাদি।  

• অযৌন জনন: যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের, যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন।

১. স্পোর/ অনুবীজ উৎপাদন: নিম্ন শ্রেণির অপুষ্পক উদ্ভিদ স্পোর বা অনুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করে। উদাহরণ: শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ণ ইত্যাদি।
২. অঙ্গজ প্রজনন: দেহ অঙ্গের মাধ্যমে (মূল, কান্ড, পাতা প্রভৃতি) প্রজনন হয়।
- মূলের মাধ্যমে: মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল প্রভৃতি।
- পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচি (পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে তার থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়)। 
- রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে: আলু, আদা, হলুদ, পিঁয়াজ, রসুন , আনারস, কলা ইত্যাদি।


উৎস: উচ্চ-মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান। 
৪৮৭.
কোনটি মসবর্গীয় উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1. টেরিস
  2. স্পাইরোগাইরা
  3. ব্রায়াম
  4. এগারিকাস
সঠিক উত্তর:
ব্রায়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রায়াম
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪৮৮.
ভাইরাসের দেহে কোষের সংখ্যা কত? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. অসংখ্য 
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস মূলত অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৪৮৯.
জেরোফাইট উদ্ভিদ কোন ইকোসিস্টেমের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট
  2. খ) ট্রপিক্যাল সিজনাল ফরেস্ট
  3. গ) মরুভূমি
  4. ঘ) পত্রঝরা বন
সঠিক উত্তর:
গ) মরুভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মরুভূমি
ব্যাখ্যা
মরুপরিবেশে দিন ও রাত্রির তাপমাত্রার পার্থক্য ৩০° সে. পর্যন্ত হয়। এখানে যে সকল উদ্ভিদ অভিযোজিত অবস্থায় আছে তাদেরকে জেরোফাইট (Xerophyte) বলে।
এখানে বর্ষজীবী ও বহুবর্ষজীবী উভয় প্রকার উদ্ভিদ জন্মায়।
সাধারণত বছরে একবারই বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির সাথে সাথেই আগের বছরের বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং খুব অল্প দিনেই বিকশিত হয়ে ফুল-ফলে ভরে যায়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
'Species Plantarum' বইটির লেখক কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) মেন্ডেল
  3. গ) ডারউইন
  4. ঘ) লিনিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস 'Species Plantarum' বইটি রচনা করেন। এই বইটি উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে, কারণ এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯১.
উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান কয়টি?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ১২
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়।
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন -
১। ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং
২। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান (macro-nutrient বা macro-element): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। ম্যাক্রো উপাদান 9 টি, যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০), সালফার (S)।

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান (micro-nutrient বা micro-element): উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট 7 টি, যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), ক্লোরিন (Cl) এবং লৌহ (Fe)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯২.
T2 ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হয় কিভাবে?
  1. এমাইটোসিস পদ্ধতিতে
  2. লাইটিক চক্রের মাধ্যমে
  3. লিয়োজেনিক চক্রের মাধ্যমে
  4. খ ও গ উভয় প্রক্রিয়ায়
সঠিক উত্তর:
লাইটিক চক্রের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইটিক চক্রের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

ভাইরাস এক প্রকার অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় সংখ্যাবৃদ্ধির ক্ষমতা সম্পন্ন যা উপযুক্ত পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
T2 ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি হয় লাইটিক চক্র বা লাইসোজেনিক চক্রের মাধ্যমে।
এমাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এককোষী জীবসমূহ (ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এমিবা ইত্যাদি) বংশবৃদ্ধি করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৯৩.
অপুষ্পক উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. ধান
  2. নারিকেল
  3. ছত্রাক
  4. সাইকাস
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল হয় না, তাকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন - ছত্রাক (মাশরুম), নস্টক, ক্লোরেলা ইত্যাদি সবই অপুষ্পক উদ্ভিদ। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল হয়, তাকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন - ধান, নারকেল, সাইকাস এদের সবারই ফুল হয়। 
- সাইকাসের ফুলে গর্ভাশয় উপস্থিত থাকে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৯৪.
নিচের কোনটির অভাবে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায়?
  1. ক) হাইড্রোজেন সালফাইড
  2. খ) ম্যাগনেশিয়াম
  3. গ) ক্লোরোফর্ম 
  4. ঘ) অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেশিয়াম
ব্যাখ্যা

ক্লোরোফিলের প্রধান উপাদান হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেশিয়াম।

লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়। কাজেই, মাটিতে এসব খনিজের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায়।
বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সালোকসংশ্লেষনের হার কমে যায় আর অক্সিজেনের ঘনত্ব কমে গেলে সালোকসংশ্লেষনের হার বেড়ে যায়। তবে, অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে সালোকসংশ্লেষন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪৯৫.
সবুজ উদ্ভিদের প্রস্তুতকৃত খাবার কোনটি? 
  1. ক) C6H12O6
  2. খ) Na3AlF6
  3. গ) P2O5
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) C6H12O6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) C6H12O6
ব্যাখ্যা
সবুজ উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।
এই খাবার তৈরিতে কার্বন ডাই অক্সাইড অপরিহার্য। 
সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার বিক্রিয়া নিন্ম্রুপ; 

৪৯৬.
সালোকসংশ্লেষণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে উৎপন্ন করে-
  1. ক) শুধু গ্লুকোজ
  2. খ) কার্বনিক এসিড
  3. গ) প্রচুর শক্তি
  4. ঘ) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলো- ক্লোরোফিল, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, পানি ও আলো।
উৎপাদিত হয়- কার্বোহাইড্রেট বা গ্লুকোজ, পানি এবং অক্সিজেন (উপজাত হিসেবে)। ক্লোরোফিল ও আলো ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন হয় না।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৭.
যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে কী বলে?
  1. মাইক্রোকক্কাস
  2. স্ট্যাফাইলোকক্কাস
  3. স্ট্রেপটোকক্কাস
  4. ডিপ্লোকক্কাস
সঠিক উত্তর:
ডিপ্লোকক্কাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিপ্লোকক্কাস
ব্যাখ্যা
কোষের আকারের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস: 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (ক) কক্কাস, (খ) ব্যাসিলাস, (গ) স্পাইরিলাম এবং (ঘ) কমা আকৃতি। 
(ক) কক্কাস: 
- গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় কক্কাস। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়া আবার পাঁচ রকমের। 
যথা-১। মাইক্রোকক্কাস, ২। ডিপ্লোকক্কাস, ৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ৪। স্ট্রেপটোকক্কাস এবং ৫। সারসিনা। 
১। মাইক্রোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া এককভাবে অবস্থান করে তাকে মাইক্রোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Micrococcus denitrificans. 
২। ডিপ্লোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে ডিপ্লোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Diplococcus pneumoniae. 
৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া অনিয়মিত গুচ্ছাকারে সাজান থাকে তাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Staphylococcus aureus. 
৪। স্ট্রেপটোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া চেইনের মত সাজানো থাকে তাকে স্ট্রেপটোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Streptococcus lactis. 
৫। সারসিনা: 
- যে সকল গোলাকার ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত দলে অবস্থান করে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে তাদেরকে সারসিনা বলে। 
উদাহরণ- Sarcina lutea. 

খ) ব্যাসিলাস: 
- দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। 
উদাহরণ- Bacillus subtilis, B. ulbus, B. anthracis ইত্যাদি। 

(গ) স্পাইরিলাম: 
- কুন্ডলাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়া বলে। 
উদাহরণ- Spirillum volutans, S. minus ইত্যাদি। 

(ঘ) কমা: 
- কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে কমা ব্যাকটেরিয়া বলা হয়। 
উদাহরণ- Vibrio cholerae. 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৮.
কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়? 
  1. লৌহ 
  2. বোরন 
  3. সালফার 
  4. ম্যাগনেসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
বোরন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরন 
ব্যাখ্যা

বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- এই খনিজের অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৯.
উদ্ভিদ কোষের কোন অংশে সালোক সংশ্লেষণ হয়?
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. টোনোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে (১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড। •
- সবুজ উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য যেকোনো তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করতে পারে না, কেবলমাত্র ৩০০nm থেকে ৮১০nm পর্যন্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো উদ্ভিদ ব্যবহার করতে পারে।
- সালোক সংশ্লেষণকারী কেমোসিনথেটিক ব্যাকটেরিয়ার সালোক সংশ্লেষণে পানির প্রয়োজন হয় না।
- ফার্ন, নগ্নবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদসমূহের সালোক সংশ্লেষণের প্রধান স্থান হল পাতার মেসোফিল টিস্যুর কোষে অবস্থিত ক্লোরোপ্লাস্ট।

- লিউকোপ্লাস্ট প্রধানত খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য দায়ী এবং সাধারণত সালোক সংশ্লেষণে অংশগ্রহণ করে না।
- ক্রোমোপ্লাস্ট বিভিন্ন রঙের পিগমেন্ট (যেমন ক্যারোটিনয়েড) উৎপাদন ও সঞ্চয় করে, যা ফল ও ফুলের রঙ তৈরিতে সাহায্য করে। 
- টোনোপ্লাস্ট হলো ভ্যাকুয়োলের ঝিল্লি, যা ভ্যাকুয়োলকে ঘিরে রাখে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০০.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) পরভোজী
  2. খ) স্বভোজী
  3. গ) পরাশ্রয়ী
  4. ঘ) মৃতজীবী
সঠিক উত্তর:
খ) স্বভোজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বভোজী
ব্যাখ্যা
শৈবাল হচ্ছে স্বভোজী  জাতীয় উদ্ভিদ। 

- শৈবাল (Algae)  ক্লোরোফিলবহনকারী সরল প্রকৃতির স্বভোজী (autotrophic) অতি প্রাচীন এক উদ্ভিদ দল।
- এদের উদ্ভব সমুদ্রের পানিতে, আজ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি বছর আগে।
- সেই আদিমকাল থেকেই শৈবাল prokaryotic থেকে eukaryotic আকৃতিতে রূপ ও বৈচিত্র্য লাভ করেছে।
- প্যালিওজোয়িক যুগের শুরু থেকে অর্থাৎ এখন থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর পূর্ব পর্যন্ত এরা সমুদ্রে একক আধিপত্য অটুট রেখেছিল।
- সমুদ্রের প্রধান উদ্ভিদ এই শৈবাল।
- এদের দেহ কাঠামো সরল এবং মূল, কান্ড ও পত্রে পৃথকীভূত নয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।