বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৫০১৬০০ / ১,৩৫৫

৫০১.
পাতা শ্যাওলা পরাগায়নের জন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করে?
  1. পানি
  2. পতঙ্গ
  3. বায়ু
  4. প্রাণী
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 

পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 

প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০২.
উদ্ভিদের কোন অংশে ক্লোরোপ্লাস্ট এর সংখ্যা বেশি হয়ে থাকে?
  1. ক) কাণ্ড
  2. খ) পাতা
  3. গ) মূল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাতা
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্ট এর সংখ্যা অনেক বেশি।

পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি ও অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়।
পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজেই ঘটে।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 

৫০৩.
ভাইরাসের দেহে অনুপস্থিত অঙ্গাণু নিচের কোনটি?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. রাইবােসােম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। অর্থাৎ, একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। 
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৪.
নিম্নের কোন অঙ্গজ জননের মাধ্যমে  মিষ্টি আলু তাদের বংশবৃদ্ধি করে?
  1. ক) দেহের খন্ডায়নের মাধ্যমে
  2. খ) মূলের মাধ্যমে
  3. গ) রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে
  4. ঘ) পাতার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
খ) মূলের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মূলের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
- কোন ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খন্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে তাকে অঙ্গজ জনন বলে।

- অঙ্গজ জনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলা হয়।

- যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ জনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে।


- প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন:


দেহের খন্ডায়ন: সাধারণত নিম্ন শ্রেণীর উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খন্ডিত হলে প্রতিটি খন্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে।

মূলের মাধ্যমে: কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়, যেমন: পটল, সেগুন ইত্যাদি। কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসালো হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়, যেমন: মিষ্টি আলু

রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে: উদ্ভিদের খাদ্য সঞ্চয় অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। যেমন: টিউবার, রাইজোম, কন্দ (বাল্ব), স্টোলন, অফসেট, বুলবিল ইত্যাদি রূপান্তরিত কান্ডের মাধ্যমে এরা নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে। যেমন: আলু, আদা, পিঁইয়াজ, রসুন ইত্যাদি।

পাতার মাধ্যমে: কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যেমন: পাথরকুচি

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
৫০৫.
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রস্বেদন-
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. বন্ধ হয়ে যায়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• প্রস্বেদনের বাহ্যিক প্রভাবক:
• তাপমাত্রা (Temperature):
- তাপমাত্রার তারতম্যের সঙ্গে প্রস্বেদনের হারও ওঠা-নামা করে।
- অধিক তাপে পানি সহজেই বাষ্পে পরিণত হতে পারে বলে প্রস্বেদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- ফলে প্রস্বেদনের হারও দ্রুততর হয়।
- তাপমাত্রা কমে গেলে তাই স্বাভাবিক নিয়মেই প্রস্বেদনের হারও কমে যায়।

উল্লেখ্য,
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকলে প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায় এবং বেশি থাকলে হার কমে যায়।
- আলোর উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়, ফলে প্রস্বেদনের হার বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অন্ধকারে পত্ররন্ধ্র বন্ধ থাকায় এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
- বায়ুচাপ বৃদ্ধিতে বাষ্পীয়ভবন ক্রিয়া হ্রাস পায়, ফলে প্রস্বেদন কমে যায়। আবার বায়ুচাপ কমে গেলে বাষ্পীয়ভবন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায় এবং প্রস্বেদনের হারও বেড়ে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৬.
গুটি কলমের মাধ্যমে জন্মানো উদ্ভিদ কোনটি? 
  1. জবা 
  2. পুদিনা 
  3. চন্দ্রমল্লিকা 
  4. আম 
সঠিক উত্তর:
আম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম 
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন: 
- কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে। 
যথা- 
১। শাখা কলম দ্বারা: 
- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে স্বাভাবিকভাবে নতুন উদ্ভিদ জন্মায় না কিন্তু উদ্ভিদের শাখা কেঁটে ভেজা মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- গোলাপ, চাঁপা, জবা ইত্যাদি। 

২। গুটি কলমের মাধ্যমে: 
- অনেক উদ্ভিদের শাখার চারপাশের বাকল ছাড়িয়ে নিয়ে তার চারদিকে সার ও গোবর মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে খড় বা চটের বস্তা বেঁধে রাখলে, উক্ত স্থানে শিকড় গজায় তখন শিকড়সহ শাখাটি মাতৃ উদ্ভিদ থেকে আলাদা করে অন্যত্র রোপন করা হয়। 
যেমন- গোলাপ, আম, লেবু, লিচু ইত্যাদি। 

৩। দাবা কলমের মাধ্যমে: 
- এক্ষেত্রে গাছের একটি শাখাকে মাটির সাথে আবদ্ধ করে প্রত্যেক দিন উক্ত স্থানে পানি দেয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিতে আবদ্ধ শাখার পর্ব থেকে মূল গজায়। পরে মূলসহ শাখাটিকে কেটে অন্যত্র রোপন করা হয়। 
যেমন- চন্দ্রমল্লিকা, পুদিনা, লেবু ইত্যাদি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৭.
আদিকোষী বা প্রোক্যারিওটা অণুজীবের উদাহরণ হল-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
এক্যারিওটা বা অকোষীয়ঃ এসব অণুজীব এতই ছোট যে তা সাধারণ আলোক অনুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচেও দেখা যায় না। এদের দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। যেমন- ভাইরাস।
প্রোক্যারিওটা বা আদিকোষীঃ যেসব অণুজীবের কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত নয় তারাই এ রাজ্যের সদস্য। সুগঠিত কেন্দ্রিকা না থাকায় এদের কোষকে আদিকোষ বলা হয়। যেমন- ব্যাকটেরিয়া।
ইউক্যারিওটা বা প্রকৃতকোষীঃ যেসব অনুজীব কোষের কেন্দ্রিকা সুগঠিত তাদেরই প্রকৃত কোষ বলে। শৈবাল, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এ ধরনের অণুজীব।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
৫০৮.
C3 উদ্ভিদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ কোনটি?
  1. অক্সালো অ্যাসেটিক অ্যাসিড (OAA)
  2. ৩ -ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)
  3. ম্যালিক অ্যাসিড
  4. ৩- ফসফোগ্লিসার‍্যাল্ডিহাইড
সঠিক উত্তর:
৩ -ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ -ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA)
ব্যাখ্যা
C3 উদ্ভিদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড। 

• C3 উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র প্রক্রিয়ার মাধ্য শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম উৎপন্ন স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাদের C3 উদ্ভিদ বলে।

•  C3 প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর আবিষ্কারক বিজ্ঞানী মেলভিন কেলভিনের নামানুসারে। 
- C3 উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র-এর প্রথম ধাপে রুবিসকো (RuBisCO) এনজাইম বায়ুমণ্ডলীয় CO2 কে রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP)-এর সাথে যুক্ত করে ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড তৈরি করে।। 
- কাজেই ক্যালভিন চক্রে CO2 এর গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট। 
- ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড এক অণু H2O গ্রহন করে দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড উৎপন্ন করে।
- ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ। 
- বেশিরভাগ উদ্ভিদে C3 চক্র ঘটে থাকে, তাই এদের C3 উদ্ভিদ বলা হয়। 

• C3 চক্রের কার্যাবলী:  
- কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ: C3 উদ্ভিদের পাতার স্টোমাটা (stomata) দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করা হয়।
- কার্বন ফিক্সেশন: RuBisCO এনজাইম কার্বন ডাই অক্সাইডকে RuBP-এর সাথে যুক্ত করে একটি C3 যৌগ (৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড) তৈরি করে।
- শর্করা তৈরি: C3 যৌগটি বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অবশেষে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।
- RuBP পুনরুদ্ধার: গ্লুকোজ তৈরির পর RuBP অণু পুনরায় C3 চক্রে প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৫০৯.
খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে - 
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. জলীয় বাষ্প
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরির এ প্রক্তিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) বলা হয়। 
- খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ বায়ু থেকে গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালোকসংগ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল। 
- তার মধ্যে পানি ও ক্লোরোফিল আসে উদ্ভিদের কোষ থেকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল থেকে এবং সূর্যালোক গ্রহণ করে সূর্য থেকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১০.
কোন রাসায়নিকের প্রভাবে ফলের রং হলুদ হয়? 
  1. লাইকোপেন
  2. ক্যারোটিন
  3. জ্যান্থোফিল
  4. ক্লোরোফিল 
সঠিক উত্তর:
জ্যান্থোফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যান্থোফিল
ব্যাখ্যা
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন (কমলা বর্ণ কণিকা) ও জ্যান্থোফিল (হলুদ বর্ণ কণিকা) বেশি পরিমাণে থাকে এবং ক্লোরোফিল (সবুজ বর্ণ কণিক) অল্প পরিমাণে থাকে। 
- ফুলের পাপড়িতেও ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে, এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রজাপতি ও পাখি পরাগায়নে ও বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 
- টমেটোর পাকলে যে লাল টকটকে রং হয় তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫১১.
সন্ধামালতি কোন ধরনের রুপান্তরিত মূল?
  1. ক) কন্দাকৃতি
  2. খ) রূপান্তরিত প্রধান মূল
  3. গ) অস্থানিক মুল
  4. ঘ) শাখা মূল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) কন্দাকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কন্দাকৃতি
ব্যাখ্যা

মূল কখনও বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে। আকৃতিগত দিক থেকে এরা চার প্রকার যথা- ১। মূলাকৃতিমূল, ২। গাজরাকৃতিমূল ৩। শালগমাকৃতিমূল এবং ৪। কন্দাকৃতিমূল।
মূলাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই প্রধান মূল মোটা ও রসাল হয়। এই মূলের মধ্যভাগ মোটা কিন্তুদুই প্রান্ত ক্রমশ: সরু। যেমন - মূলা।
গাজরাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই, প্রধান মূলটি মোটা ও রসাল হয়। এই মূলের উপরের দিক মোটা এবং নিচের দিকে ক্রমশ: সরু হয়ে যায়। যেমন - গাজর।
শালগমাকৃতি মূল: এই ক্ষেত্রে প্রধান মূলটির উপরের অংশ খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে গোলাকার এবং নিচের অংশ হঠাৎ করে সরু হয়ে যায়। যেমন - শালগম।
কন্দাকৃতি মূল: খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে কখনও কখনও প্রধান মূলটি অনিয়মিত ভাবে মোটা হয়। এদের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই। যথা- সন্ধামালতি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৫১২.
কোনটি শৈবালের চলনে সহায়তা করে?
  1. অ্যান্টেনা
  2. ফ্লাজেলা
  3.  সিলিয়া
  4. ছদ্মপদ
সঠিক উত্তর:
ফ্লাজেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লাজেলা
ব্যাখ্যা

*** শৈবালের চলনে সহায়তা করে ফ্লাজেলা

• শৈবাল:
- শৈবাল হলো ক্লোরোফিলযুক্ত সরল, স্বভোজী জলজ উদ্ভিদ যাদের মূল, কাণ্ড ও পাতা নেই।
- এরা সালোকসংশ্লেষণ করে এবং এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে, যেমন: শেওলা।
- এদের দেহ মূলত সেলুলোজ নির্মিত এবং এরা পরিবেশের আর্দ্র স্থানে জন্মে।

• শৈবালের গঠন:
- শৈবালের গঠনকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: বাহ্যিক গঠন এবং কোষীয় গঠন।
- এরা আণুবীক্ষণিক থেকে অনেক দীর্ঘাকার হয়। বাদামি শৈবাল ৬০ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ বা লম্বা হয়।
- এককোষী শৈবাল যাদের ফ্ল্যাজেলা থাকে তারা সচল, যেমন- Chlamydomonas এবং যাদের ফ্ল্যাজেলা থাকে না তারা নিশ্চল হয়, যেমন- Chlorella।
- অনেক প্রজাতি রয়েছে যারা কলোনি করে থাকে। প্রত্যেক কলোনিতে অনেকগুলো কোষ থাকে, যেমন- Volvox।
- বহু প্রজাতি রয়েছে যাদের দেহ ফিলামেন্টাস। 
- শৈবালের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠনে প্রচুর পার্থক্য বিদ্যমান।

- প্রোটোজোয়া-প্যারামিসিয়ামের চলন অঙ্গ হচ্ছে সিলিয়া।
- অ্যামিবার চলন অঙ্গ হচ্ছে ছদ্মপদ।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৩.
ফানজাইদের কোষপ্রাচীর কোন পদার্থ দ্বারা গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. পেকটিন
  3. প্রোটিন
  4. কাইটিন 
সঠিক উত্তর:
কাইটিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন 
ব্যাখ্যা

ফানজাই (Fungi): 
- ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
• এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। 
• এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত। 
• এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। 
এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। 
• এদের খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। 
• এদের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। 
• এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
উদাহরণ: ইস্ট, Penicillium, মাশরুম ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৪.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ।
- বায়ুমন্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
 
• বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট। প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে, বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে।  নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।
 
Lightening is a potent fertilizing agent. Every time it strikes, nitrogen in the atmosphere is combined with hydrogen or oxygen to form ammonium and nitrate, two forms of nitrogen. The nitrogen then goes into solution in atmospheric moisture and is washed to the ground in rainfall. Plants then absorb nitrogen from the ground and utilize it for growth. Since it is a key constituent in chlorophyll, the green pigment of plants, nitrogen causes a greening of the plant.
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; cals.arizona.edu.
৫১৫.
কোনটি সালোকসংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক নয়?
  1. ক) আলো
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) তাপমাত্রা
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের প্রভাবকসমূহ : সালোকসংশ্লেষণ কতগুলো প্রভাবক দ্বারা প্রভাবিত হয়। এগুলো বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ এ দু’ধরনের হয়।
বাহ্যিক প্রভাবকগুলোর মধ্যে রয়েছে- আলো, কার্বন ডাই অক্সাইড, পানি, তাপমাত্রা, অক্সিজেন, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি।
অভ্যন্তরীণ প্রভাবকের মধ্যে রয়েছে- পাতার বয়স, পাতার অন্তর্গঠন, ক্লোরোফিল, শর্করার পরিমাণ, প্রোটোপ্লাজম, পটাসিয়াম, এনজাইম ইত্যাদি। 

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৬.
একটি আদর্শ ফুলের কয়টি স্তবক থাকে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ টি
ব্যাখ্যা

• ফুল:
- প্রজননের রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ হলো ফুল।
- ফুল উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ।
- একটি আদর্শ ফুলের ৫ টি স্তবক থাকে। যথা:

১। পুষ্পাক্ষ:

- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।
- সাধারণত গোলাকার এবং ফুলের বৃন্তশীর্ষে অবস্থান করে।
- পুষ্পাক্ষের উপর বাকি চারটি স্তবক পরপর সাজানো থাকে।

২। বৃতি:

-  ফুলের বাইরের স্তবককে বৃতি বলে।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যাংশ বলে।
- প্রধান কাজ ফুলের ভেতরের অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, এবং পোকার আক্রমন থেকে রক্ষা করা।
- সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুত কাজে অংশ নেয়।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে।

৩। দলমন্ডল:

- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল।
- এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।
- সাধারণত রঙ্গিন হয়।
- উজ্জ্বল ঝলমলে রঙের দলমন্ডল পোকামাকড় ও পশু-পাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।
- অনেক সময় ফুলের পাপড়ি কোন কোন পোকামাকড়কে বসে মধু খেতে সাহায্য করে।

৪। পুংস্তবক:

- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়।
- স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলা হয়।
- একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে।

৫। স্ত্রীস্তবক:

- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়।
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়।
- একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা: গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।
২) জীব বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৭.
একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের কোথায় খাদ্য তৈরি হয়?
  1. মূলে
  2. ফুলে
  3. পাতায়
  4. কাণ্ডে
সঠিক উত্তর:
পাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতায়
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ: 
- একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদকে মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল প্রভৃতি অংশে বিভক্ত করা যায়। 
১। মূল: 
- উদ্ভিদের পর্ব, পর্বমধ্য ও অগ্রমুকুলবিহীন অংশই মূল। 
- সাধারণত মনে করা হয় উদ্ভিদের মাটির নিচের অংশই মূল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ বক্তব্যটি সত্য তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কাণ্ড, পত্র, ফুল, ফল মাটির নিচের জন্যে, যেমন-আদা, হলুদ, পিয়াজ ইত্যাদি। 
বিটপ: 
- উদ্ভিদের যে অংশগুলো মাটির উপরে থাকে তাদের একত্রে বিটপ বলে। 
- বিটপে কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল থাকে। 
- কাণ্ডে পর্ব, পর্বমধ্য ও শীর্ষ মুকুল থাকে। 
- ফুলগুলো পাতার কক্ষে উৎপন্ন হয়। 
- ফুলে বৃতি, দল, পুংকেশর ও গর্ভাশয় থাকে। 

২। কাণ্ড: 
- প্রধান মূলের সাথে লাগানো মাটির উপরে উদ্ভিদের অংশটি কাণ্ড। কাণ্ডের গায়ে পর্ব ও পর্ব মধ্য থাকে। পর্ব থেকে পাতা উৎপন্ন হয়। কাণ্ড পাতা ও শাখা প্রশাখার ভার বহন করে। 

৩। পাতা:
- শাখা প্রশাখার গায়ে সৃষ্ট চ্যাপ্টা সবুজ অঙ্গটিই পাতা বা পত্র। পাতায় খাদ্য তৈরি হয়। 

৪। ফুল: 
- পত্র কক্ষে সাদা রঙের ছোট ছোট ফুল হয়। এই ফুল থেকে ফল হয়। 

৫। ফল: 
- ফুল বুড়ো হয়ে ঝরে যায়। ঝরা ফুলের গোড়ায় ফুলের যে অংশটি থেকে যায় তা বড় হয়ে ফল সৃষ্টি করে। গর্ভাশয়ই বড় হয়ে ফলে পরিণত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫১৮.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কোন উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়? 
  1. দস্তা 
  2. ফসফরাস 
  3. বোরন 
  4. কপার 
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস 
ব্যাখ্যা

অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬ টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যেমন: 
ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu), লৌহ বা আয়রন (Fe) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৯.
শ্বসন প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে নির্গত হয় -
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  3. ATP
  4. শর্করা
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাইঅক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
শ্বসন:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যদ্রব্য (শর্করা, প্রোটিন, লিপিড ইত্যাদি) এনজাইমের উপস্থিতিতে অক্সিজেনের সাহায্যে জারণের মাধ্যমে ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিণত হয়; 
- এবং উপজাত হিসেবে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি নির্গত হয় তাকে শ্বসন বলা হয়
- শ্বসন প্রক্রিয়ায় যে শক্তি উৎপন্ন হয় তা জীবের শক্তি ব্যয়কারী জৈবনিক কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া ও সাইটোপ্লাজমে শ্বসন ক্রিয়া সংঘটিত হয়।
- তবে কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াই শ্বসন ক্রিয়ার প্রধান অঙ্গ।
- শ্বসন প্রক্রিয়ার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়;
- যথা: সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসন। 

সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়াটি সজীব উদ্ভিদ কোষস্থ ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকশক্তিকে ATP এবং NADPH+H' নামক রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এবং ঐ রাসায়নিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে CO2 বিজারণের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে
- ও উপজাত হিসেবে O2 নির্গত করে।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২০.
নিচের কোন উদ্ভিদের বীজে এরিল নামক স্তর পাওয়া যায় না? 
  1. লিচু
  2. শাপলা
  3. সফেদা
  4. জায়ফল
সঠিক উত্তর:
সফেদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সফেদা
ব্যাখ্যা
বীজ সৃষ্টি: 
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উভয় প্রকার উদ্ভিদে ডিম্বক থেকে বীজ সৃষ্টি হয়। 
- নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়। 
- ডিম্বকের ভেতরে এ ধরনের পরিবর্তনের সাথে সাথে ডিম্বকের ত্বকের পরিবর্তন দেখা দেয় এবং অপেক্ষাকৃত কঠিন ও শুষ্ক হয়ে বীজত্বকে পরিণত হয়। 
- রসালো ডিম্বকটি পর্যায়ক্রমে পানি হারিয়ে শুষ্ক ও কঠিন বীজে পরিণত হয়। 
- এ ধরনের পরিবর্তনকালে অনেক ক্ষেত্রে বীজের একটি তৃতীয় স্তর সৃষ্টি হয়, একে এরিল বলে। 
- লিচু ও জায়ফলে এরিল পাওয়া যায়। 
- শাপলা বীজেও এরিল থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২১.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Agaricus
  2. Chara
  3. Psilotum
  4. Spirogyra
সঠিক উত্তর:
Psilotum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Psilotum
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
• Pteris, 
Psilotum
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২২.
নিচের কোনটি C4 উদ্ভিদ?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) ইক্ষু
  3. গ) ডাটাশাক
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দু’জন অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M. D. Hatch এবং C. R. Slack (১৯৬৬) ইক্ষু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণার সময় দেখান যে, সালোকসংশ্লেষণের সময় এদের প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার-কার্বনবিশিষ্ট।
এ চারকার্বনবিশিষ্ট পদার্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অক্সালো অ্যাসিটিক অ্যাসিড। তাদের নাম অনুযায়ী সালোকসংশ্লেষণের এ চক্রকে হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্র বলা হয়।

যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৩.
ব্যাকটেরিয়া কোন কিংডমের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মনেরা
  2. খ) ইউক্যারিওটা
  3. গ) প্রোটিস্টা
  4. ঘ) ফানজাই
সঠিক উত্তর:
ক) মনেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনেরা
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া মনেরা কিংডমের অন্তর্ভুক্ত৷ এরা এক কোষী জীব৷ এদের কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
৫২৪.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদানের মধ্যে পড়ে?
  1. আয়রন
  2. নাইট্রোজেন
  3. দস্তা
  4. বোরন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে যেগুলো উদ্ভিদের প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজন হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলে। যেমন- নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), এবং পটাশিয়াম (K) ইত্যাদি। 

উদ্ভিদের খনিজ ও পুষ্টি উপাদান: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫২৫.
পাথরকুচি কিসের মাধ্যমে জনন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে?
  1. ক) যৌন জনন
  2. খ) কলম
  3. গ) পাতা
  4. ঘ) রাইজোম
সঠিক উত্তর:
গ) পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাতা
ব্যাখ্যা
পাতার মাধ্যমে অঙ্গজ জননঃ
কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়৷
যেমন- পাথরকুচি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৫২৬.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ক) ক্যালোরিমিটার
  2. খ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
  3. গ) অক্সানোমিটার
  4. ঘ) পোটোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সানোমিটার
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রেস্কোগ্রাফ
- এটির আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসু।
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।

অপশনগুলোর মধ্যে অক্সানোমিটার (auxanometer) দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
Auxanometer (Noun):
Meaning: an instrument for determining and measuring the rate of growth in plants consisting essentially of a lever with a long and a short arm which is attached to the plant.
 
অপরদিকে, 
- রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো স্ফিগমোম্যানোমিটার,
- তাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো  ক্যালরিমিটার,
- পোটোমিটার হলো উদ্ভিদের প্রস্বেদন বা উদ্ভিদের পাতার পানি নিঃস্বরণের হার নির্ণায়ক যন্ত্র।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫২৭.
নিচের কোনটি ছত্রাক নয়?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) পেনিসিলিয়াম
  3. গ) ইউগ্লেনা
  4. ঘ) মাশরুম
সঠিক উত্তর:
গ) ইউগ্লেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউগ্লেনা
ব্যাখ্যা
ইউগ্লেনা প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব। এদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াস যুক্ত। এরা এককোষী, একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। ইস্ট, পেনিসিলিয়াম ও মাশরুম এইগুলো ছত্রাক বা ফানজাই রাজ্যের জীব। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
৫২৮.
বায়ুমণ্ডলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে গেলে উদ্ভিদে প্রস্বেদনের হার-
  1. অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে
  2. অপরিবর্তিত থাকে
  3. কমে যায়
  4. বেড়ে যায়
সঠিক উত্তর:
বেড়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা

• বায়ুমণ্ডলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে গেলে উদ্ভিদের প্রস্বেদনের হার বৃদ্ধি পায়। কারণ, প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের পাতার ছিদ্র (স্টোমাটা) দিয়ে জলীয় বাষ্পের ক্ষরণ। যদি বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা কম থাকে, অর্থাৎ বায়ু শুকনো থাকে, তাহলে পাতার ভিতরের জলীয় বাষ্প এবং বাইরের বায়ুর মধ্যে আর্দ্রতার পার্থক্য বেড়ে যায়। এই পার্থক্য যত বেশি, জলীয় বাষ্পের প্রবাহ তত তীব্র হয়। ফলে উদ্ভিদ বেশি জল হারায় এবং প্রস্বেদন বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, বায়ুর আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রস্বেদন কমে যায়। তাই আর্দ্রতা কমলে উদ্ভিদে প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায়। সঠিক উত্তর হলো ঘ) বেড়ে যায়।
 
প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ অব্যাহতভাবে তার মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ করে এবং সেই পানি পাতা পর্যন্ত পৌছায়। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক শোষিত পানির সামান্য অংশই তার বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় খরচ হয় এবং বেশির ভাগই (শতকরা ৯৯ ভাগ পর্যন্ত) বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়।
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ (সাধারণত পাতা) হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত উদ্ভিদের যে কোনো অংশে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়। 
- তবে পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ। 
- গড় হিসেবে শোষিত পানির মাত্র ১% দেহে অবস্থান করে ও কাজে লাগে, বাকি ৯৯% পানি দেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- এটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া, তবে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকরও হতে পারে। 
- বিজ্ঞানী কার্টিস (Curtis) প্রস্বেদনকে 'প্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (necessary evil) বলেছেন। 
- গ্যানং পটোমিটার এর সাহায্যে প্রস্বেদন হার নির্ণয় করা যায়। 

প্রস্বেদনের প্রকারভেদ: 
- যে পথে পানি বাষ্পাকারে উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর হতে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে সে পথের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে প্রস্বেদনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা- 
(১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(২) ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): পত্রত্বকের কিউটিকলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন; 
(৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): কাণ্ডের লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৫২৯.
উদ্ভিদের পুরুষ জনন অঙ্গ কোনটি?
  1. গর্ভদণ্ড
  2. পুংকেশর
  3. গর্ভাশয়
  4. পাপড়ি
সঠিক উত্তর:
পুংকেশর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংকেশর
ব্যাখ্যা

পুংকেশর (Stamen) উদ্ভিদের পুরুষ জনন অঙ্গ। এটি অন্তরা (Anther) ও পুংদণ্ড (Filament) দ্বারা গঠিত। অন্তরায় পরাগধানু (Pollen grain) থাকে, যা পুরুষ গ্যামেট বহন করে।

​ফুল হলো উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপ (shoot)। অর্থাৎ উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল।
ফুল প্রধানত পাঁচটি মূল অংশে বিভক্ত, যথা: 
​- পুষ্পাক্ষ (Receptacle) - এটি ফুলের দণ্ড বা বোঁটার উপর অবস্থিত একটি অংশ। 
- বৃতি (Calyx) – ফুলকে রক্ষা করে।
- পত্রমন্ডল (Corolla) – পোকামাকড় আকৃষ্ট করে।
- পুংকেশর (Androecium) – পুরুষ প্রজনন অঙ্গ (পরাগ উৎপন্ন করে)।
- স্ত্রীকেশর (Gynoecium) – স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ (ডিম্বাণু বহন করে)।

উৎস:
১।  জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
​২। জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৫৩০.
পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. মিয়োসিস 
  2. ফ্লোরোসিস 
  3. অ্যামাইটোসিস 
  4. ক্লোরোসিস 
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোসিস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোসিস 
ব্যাখ্যা
• ক্লোরোসিস:
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরোসিস (Chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলো ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩১.
একটি আদর্শ ফুলের অংশ কোনটি?
  1. বৃতি
  2. পুংস্তবক
  3. পুষ্পাক্ষ
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের ফুল: 

• একটি সম্পূর্ণ ফুলের ৫ টি অংশ থাকে। যথা: 
- পুষ্পাক্ষ,
- বৃতি,
- দল,
- পুংস্তবক এবং 
- স্ত্রীস্তবক।



উৎস:  উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৩২.
ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. ক) সুন্দরী
  2. খ) গেওয়া
  3. গ) বাইন
  4. ঘ) বাঁশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঁশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঁশ
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল : নদীপাড়ের কম লবণাক্ত পানিতে গোলপাতা, হিতাল, সুন্দরী, গেওয়া, গরান ইত্যাদি জন্মে।
অধিক লবণাক্ত পরিবেশে কাঁকড়া, বাইন, পশুর, ধুন্দুল ইত্যাদি জন্মে। প্রধান লতা সুন্দরীলতা এবং গুল্ম জাতীয় বোহাল ও হাড়গোজা প্রধান।
সুন্দরবনে টাইগার ফার্ণের ঝোপ রয়েছে। এখানে কোন বাঁশ জন্মে না। তবে নানা রকমের অর্কিড জন্মে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৩.
মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে কী থাকে?
  1. রাইজয়েড 
  2. কাণ্ড 
  3. ক্লোরোফিল 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
রাইজয়েড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইজয়েড 
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: মস, ফার্ন ইত্যাদি। 
- এরা স্পোর বা রেনুর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। 
- অপুষ্পক উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। মসবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এদের দেহ কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- কিন্তু মসবর্গীয় উদ্ভিদের মূল নেই, মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড নামক সূত্রাকার অঙ্গ থাকে। 
- সাধারণত এরা পুরানো ভেজা দেয়ালে কার্পেটের মতো নরম আস্তরণ করে জন্মায়। 
যেমন: ব্রায়াম। 

২। সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- এসব উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
- এদের মধ্যে যাদের ক্লোরোফিল আছে, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে, তারা শৈবাল। 
যেমন: স্পাইরোগাইরা। 
- আর যাদের দেহে ক্লোরোফিল নেই, ফলে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, তারা ছত্রাক। 
যেমন: এগারিকাস। 

৩। ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ: 
- ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- এদের দেহে পরিবহণ টিস্যু রয়েছে ও কচি পাতাগুলো কুণ্ডলীত থাকে। 
- বাড়ির পাশে স্যাতস্যাতে ছায়াযুক্ত স্থানে এবং পুরানো দালানের প্রাচীরে এদের জন্মাতে দেখা যায়। 
যেমন: টেরিস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৫৩৪.
উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে পানি নির্গমন প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. ইমবাইবিশন
  2. অভিস্রবণ
  3. প্রস্বেদন
  4. ব্যাপন
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন:
- প্রস্বেদন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য।
- উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে। শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পরিত্যাগ করে।
- উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
- প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে হয়।
- এছাড়া কান্ড ও পাতার কিউটিক্স এবং কান্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামক এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়।
- প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা-
১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২. ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন,
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণী, বোর্ড বই।
৫৩৫.
কাঁঠাল কোন জাতীয় ফল?
  1. ক) রসালো ফল
  2. খ) সরল ফল
  3. গ) যৌগিক ফল
  4. ঘ) গুচ্ছ ফল
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক ফল
ব্যাখ্যা

• ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথাঃ
- সরস ফল,
- গুচ্ছ ফল ও
- যৌগিক ফল।

• যৌগিক ফলঃ
- আনারস,
- কাঁঠাল,
- ডুমুর ইত্যাদি।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৩৬.
কোন খনিজের অভাবে উদ্ভিদের কান্ড দুর্বল হয়?
  1. আয়রন
  2. সালফার
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন
ব্যাখ্যা
• আয়রনের অভাবে উদ্ভিদের কান্ড দুর্বল হয়।

• আয়রন:
- লৌহ বা আয়রনের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়।
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়।

• সালফার:
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক বলে।

• ম্যাগনেসিয়াম:
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়।

• নাইট্রোজেন:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৭.
উদ্ভিদে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোন গ্যাস গ্রহণ এবং কোন গ্যাস ত্যাগ করা হয়?
  1. CO2 গ্রহণ, N2 ত্যাগ
  2. N2 গ্রহণ, O2 ত্যাগ
  3. O2 গ্রহণ, CO2 ত্যাগ
  4. CO2 গ্রহণ, O2 ত্যাগ
সঠিক উত্তর:
O2 গ্রহণ, CO2 ত্যাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
O2 গ্রহণ, CO2 ত্যাগ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে গ্যাসীয় বিনিময়: 
- উদ্ভিদের জীবনে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) এবং শ্বসন (Respiration) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রক্রিয়া। 
- মূলত এই দুটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে থাকে, এই প্রক্রিয়া দুটি ঘটে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে এবং O2 ত্যাগ করে, অন্যদিকে শ্বসন প্রক্রিয়ায় জন্য O2 গ্রহণ করে এবং CO2 ত্যাগ করে
- উদ্ভিদে প্রাণীর মতো শ্বাস নেওয়ার জন্য কোনো বিশেষ অঙ্গ নেই, তবে পাতার স্টোমাটা ও পরিণত কাণ্ডের বাকলে অবস্থিত লেন্টিসেলের (Lenticel) মাধ্যমে অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় ঘটে। 
- দিনের বেলা বা পর্যাপ্ত আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণের হার অধিক হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত অক্সিজেন গ্যাসের কিছু অংশ শ্বসন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়। 
- আবার শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়, তাই আদান-প্রদানকৃত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ প্রায় সমান। 

- রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক পর্যায় বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- অন্যদিকে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, ফলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উৎপাদন চলতে থাকে। এ জন্য বড় গাছের নিচে রাত্রিবেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। 
- উদ্ভিদ তার পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করে। 
- উদ্ভিদের পাতা যেরকম বাতাস থেকে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস সংগ্রহ করে, তেমনি মূল মাটি থেকে পানি শোষণ করে। 
- শোষিত সেই পানির সাথে CO2 এর বিক্রিয়ার ফলে O2 গ্যাস উৎপাদন হয়, যা বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এভাবে উদ্ভিদদেহে গ্যাস বিনিময় চলতে থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৮.
কোন প্লাস্টিড সূর্যের আলো ব্যবহার করে সরল শর্করা উৎপন্ন হয়?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৯.
কৃষি জমিতে কিসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) মাটির ক্ষয় রোধ করার জন্য
  2. খ) মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  3. গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. ঘ) জৈব পদার্থের বৃদ্ধির জন্য
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
ব্যাখ্যা

- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য সারের চুন ব্যবহার করা হয়।

৫৪০.
নিচের কোনটি সালফারের অভাবজনিত লক্ষণ নয়? 
  1. কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 
  2. পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া। 
  3. মূল, কান্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়া। 
  4. কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি। 
সঠিক উত্তর:
পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া। 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া। 

কারণ, 
পাতা বেগুনি হয়ে যাওয়া সালফারের অভাবের লক্ষণ নয়, বরং এটি ফসফরাসের (P) অভাবের একটি প্রধান লক্ষণ। ফসফরাসের অভাবে পাতায় অ্যান্থোসায়ানিন নামক বেগুনি রঞ্জক তৈরি হয়। 

অন্যদিকে,
সালফারের অভাবে: 

- কান্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয়ে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 
- মূল, কান্ড ও পাতার শীর্ষ থেকে টিস্যু মারা যাওয়া। 
- কচি পাতায় ক্লোরোসিস বেশি। 

পটাশিয়ামের অভাবে:
পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।

নাইট্রোজেনের অভাব:
ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য,
- বয়োবৃদ্ধ পাতা বেশি হলুদ হলে তা নাইট্রোজেনের অভাব।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫৪১.
পরাগায়নের সময় পুরুষ গ্যামেট কোথায় যায়? 
  1. ফল
  2. বীজ
  3. ডিম্বক
  4. ফুলের বৃন্ত
সঠিক উত্তর:
ডিম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিম্বক
ব্যাখ্যা

• পরাগায়ন হলো ফুলের পুরুষ অংশের পরাগকণিকা কে স্ত্রী অংশের ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া।

- পরাগায়নের সময় পুরুষ গ্যামেট ডিম্বক এ পৌঁছে যায়, যেখানে এটি ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়।

পুরুষ গ্যামেট:
- এটি পরাগকণিকা আকারে থাকে।
- প্রতিটি পরাগকণিকা দুটি পুরুষ গ্যামেট বহন করে।

স্ত্রী গ্যামেট:
- এটি হলো ডিম্বক এর মধ্যে অবস্থিত ডিম্বাণু।
- ডিম্বাণু এবং পুরুষ গ্যামেট মিলিত হলে ফলন বা বীজ গঠিত হয়।

পরাগায়নের প্রক্রিয়া:
- পরাগকণিকা ফুলের স্ত্রী গ্রীব আসে।
- এরপর এটি পলিন টিউব গঠন করে ডিম্বক পর্যন্ত পৌঁছে।
- পলিন টিউবের মাধ্যমে পুরুষ গ্যামেট ডিম্বক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়।
- এই মিলনের ফলেই বীজ ও ফলের বিকাশ হয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৫৪২.
উদ্ভিদে ফ্লোরিজেন কোন অঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়?
  1. ফুল 
  2. মূল 
  3. কাণ্ড 
  4. পাতা 
সঠিক উত্তর:
পাতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা 
ব্যাখ্যা

ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪৩.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো উপাদান নয় কোনটি?   
  1. দস্তা
  2. লৌহ
  3. ক্লোরিন
  4. বোরন
সঠিক উত্তর:
লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: 
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
• ফসফরাস (P), 
• ক্যালসিয়াম (Ca),  
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• কার্বন (C), 
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O), 
• সালফার (S) এবং 
লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: 
দস্তা বা জিংক (Zn)
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
বোরন (B)
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৪.
ভাইরাস জনিত রোগ কোনটি?
  1. ক) কলেরা
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) জন্ডিস
  4. ঘ) কুষ্ঠব্যাধি
সঠিক উত্তর:
গ) জন্ডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জন্ডিস
ব্যাখ্যা
• জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে।
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 
- ভাইরাসের কারণে আরও যে সকল রোগ হয় তা হচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিও, হাম, বসন্ত, ডেঙ্গু, হেপাটাইটিস, জলাতঙ্ক, হারপিস, এইডস প্রভৃতি।
- কলেরা, নিউমোনিয়া, কুষ্ঠব্যাধি হলো ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৫.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া প্রধানত কয়টি পর্যায়ে বিভক্ত?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
ক) দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুইটি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পর্যায় : এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ ব্ল্যাকম্যান (১৯০৫) একে দুটি পর্যায়ে ভাগ করেন। যথা-
(ক) আলোক নির্ভর পর্যায় এবং
(খ) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৬.
মিউকরে মূলের পরিবর্তে কোন অংশ থাকে?
  1. কাণ্ড
  2. রাইজয়েড
  3. কণা
  4. পাতা
সঠিক উত্তর:
রাইজয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইজয়েড
ব্যাখ্যা

মিউকর মূলহীন, তাই মূলের কাজ রাইজয়েড দ্বারা সম্পন্ন হয়।
- এটি মাটি বা পৃষ্ঠে স্থায়িত্ব এবং খাদ্য শোষণে সহায়ক।

• মিউকর:
- মিউকর একটি ছত্রাক।
- মিউকর মূলহীন (rootless) ছত্রাক।
- এটি মাটিতে আটকে থাকার জন্য বিশেষভাবে গঠিত অংশ ব্যবহার করে।

• রাইজয়েডের ভূমিকা:
- মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড (Rhizoids) থাকে।
- এটি মাটি বা অন্য পৃষ্ঠে আটকানোর জন্য কাজ করে।
- এটি জল শোষণ এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৫৪৭.
মানুষের হাম রোগের জন্য দায়ী কোন ভাইরাস?
  1. ক) ফ্ল্যাভি ভাইরাস
  2. খ) রুবিওলা ভাইরাস
  3. গ) ভেরিওলা ভাইরাস
  4. ঘ) অ্যাডিনো ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
খ) রুবিওলা ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রুবিওলা ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাসঘটিত মানুষের কিছু রোগ:


সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৪৮.
অপুষ্পক উদ্ভিদ মূলত কোন উপায়ে প্রজনন সম্পন্ন করে? 
  1. দ্বিভাজন প্রক্রিয়া দ্বারা
  2. ফল দ্বারা
  3. খণ্ডায়ন দ্বারা 
  4. স্পোর বা রেণু দ্বারা
সঠিক উত্তর:
স্পোর বা রেণু দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পোর বা রেণু দ্বারা
ব্যাখ্যা

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না।
- এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে, এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৫৪৯.
লেবুগাছ কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. বৃক্ষ
  2. গুল্ম
  3. বীরুৎ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুল্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুল্ম
ব্যাখ্যা
• গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদ কাষ্ঠল, সাধারণত কান্ডহীন এবং গোড়া হতে অধিক শাখা-প্রশাখা বের হয়ে ঝোপে পরিণত হয় তাদেরকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে।
- এই জাতীয় উদ্ভিদের শেকড় মাটির গভীরে যায় না।
- যেমন- লেবু, জবা, রঙ্গন, গন্ধরাজ, গোলাপ ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৫০.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট কতটি? 
  1. ১৬ টি
  2. ১২ টি
  3. ১০ টি
  4. ৬ টি
সঠিক উত্তর:
১০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ টি
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 

যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)। 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 

যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫১.
আমের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. ক) Copsychus saularis
  2. খ) Mangifera indica
  3. গ) Solanum tuberosum
  4. ঘ) Panthera tigris
সঠিক উত্তর:
খ) Mangifera indica
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Mangifera indica
ব্যাখ্যা
Mangifera indica L. (আম),
Persicaria eciliata Hassan (বিষ কাটালী),
Copsychus saularis L. (দোয়েল),
Tenualosa ilisha Hamilton (ইলিশ),
Panthera tigris L. (বাঘ),
Solanum tuberosum L. (আলু)।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫২.
উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে অবদান সবচেয়ে বেশি রাখে-
  1. ক) পটাশিয়াম
  2. খ) সালফার
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) ফসফেট
সঠিক উত্তর:
গ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বিতর্ক হতে পারে। তবে, সাধারণ বৃদ্ধির জন্য বেস্ট এন্সার হিসেবে নাইট্রজেন নেয়া হল।
নিউক্লিক এসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো নাইট্রোজেন। উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্যপ্রস্তুত ব্যাহত হয়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
অন্যদিকে, পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৫৫৩.
নিচের কোন উদ্ভিদ সুন্দরবনে জন্মায় না? 
  1. সুন্দরী
  2. গরান
  3. চাপালিশ
  4. গেওয়া
সঠিক উত্তর:
চাপালিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপালিশ
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন: 
- ‘সুন্দরবন’ বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। 
- সুন্দরবনে মোট ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্য ৩৫টি প্রজাতি হলো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের। 
- সুন্দরবনের প্রধান উদ্ভিদ হলো সুন্দরী ও গেওয়া। 
- এছাড়া অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে- গরান, কেওড়া, ধুন্দল, বাইন, গোলপাতা, কেওড়া, পশুর প্রভৃতি। 

অন্যদিকে, 
- চাপালিশ উদ্ভিদ পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৫৪.
আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ কোনটি?
  1. আলু
  2. ভুট্টা
  3. আফিম
  4. কার্পাস
সঠিক উত্তর:
কার্পাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্পাস
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৫.
আয়োডিন পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) মিউকরে
  2. খ) ছত্রাকে
  3. গ) লাইকেনে
  4. ঘ) শৈবালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) শৈবালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা

- সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
- হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
- তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।

৫৫৬.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. বোরন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেনের অভাবে উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 

• উদ্ভিদের পুষ্টি:
- উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু এবং পানি থেকে কতগুলো উপাদান গ্রহণ করে। এ উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না। এ উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলা হয়।

• এ সকল পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশই উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টি বলা হয়।
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন।
- এদের যেকোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদে তার অভাবজনিত লক্ষণ (deficiency symptoms) দেখা দেয় এবং পুষ্টির অভাবজনিত রোগের সৃষ্টি হয়।
- একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের কাজ অপরটি দিয়ে সম্পন্ন হয় না।

• নাইট্রোজেন (N):
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়।
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়।
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে।
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে কেননা এগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

অন্যদিকে,
• ফসফরাসের অভাবে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
• ক্যালসিয়ামের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঞ্চল গুলো শুকিয়ে মরে যায়।
• বোরনের অভাবে পাতার বৃদ্ধি কমে যায়। পাতা বিকৃত হয় ও ফলের কুঁড়ি সৃষ্টি ব্যাহত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
৫৫৭.
তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ কোনটি?
  1. লাইকেন
  2. ফার্ন
  3. জিমনোস্পার্ম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
ব্যাখ্যা
তুন্দ্রা:
- সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা।
- বাৎসরিক বৃষ্টিপাত কখনও ১৫ সে.মি. বা তারও কম, যা তুষার হিসেবে পড়ে।
- দীর্ঘ শীতের সময় তুন্দ্রা অঞ্চলে বরফ জমা থাকে। 
- ছয় থেকে আট সপ্তাহের গ্রীষ্মকাল দেখা যায় যখন উপরের কিছু বরফ গলে যায় এবং ছোট ছোট জলাভূমির সৃষ্টি হয়।
- এখানে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে।
- তুন্দ্রা অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ মস ও লাইকেন।
- এখানে বৃক্ষ প্রজাতি কম।
- উঁচু পর্বতশৃঙ্গে এরূপ অঞ্চল আছে, যাকে আলপাইন তুন্দ্ৰা বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৮.
এ্যাজোলা ব্যবহার করলে মাটিতে কোন খনিজের ঘাটতি দূর হয়?
  1. সালফার ও জিংক
  2. ম্যাগনেসিয়াম ও ক্লোরিন
  3. নাইট্রোজেন ও ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
সালফার ও জিংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার ও জিংক
ব্যাখ্যা

এ্যাজোলা: 
- এ্যাজোলা হচ্ছে ভাসমান জলজ পানা, যা পুকুর, ডোবা, নালা, ধানের জমিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- এ্যাজোলার দৈহিক ওজন প্রতি ৫ দিনে দ্বিগুন হতে পারে। 
- এ্যাজেলা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতি হেক্টর জমিতে ২০০-৫০০ কেজি নাইট্রোজেন যোগ করা যেতে পারে। 
- বোরো ধানের জমিতে অতি সহজ ও সফলভাবে এ্যাজোলা চাষ করা যায়। 
- এ্যাজোলা মাটির উর্বরতা ও গুনাগুনের উন্নয়ন ঘটায়। 
- এ্যাজোলা ব্যবহার করলে সালফার ও জিংকের ঘাটতিও দূর হয়। 
- এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে অ্যানাবিনা এ্যাজোলি (Anabaena asollae) নামক নীলাভ সবুজ শেওলার একটি প্রজাতি মিথোজীবীরূপে বাস করে যা বায়ুমণ্ডল থেকে মুক্ত নাইট্রোজেন সংযোজন করে এ্যাজোলার পাতার গহ্বরে জমা করে। 
- এ এ্যাজোলা মাটিতে চাষ দিয়ে মেশালে মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৯.
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক মতবাদ কোনটি?
  1. বিজ্ঞানী H. Von Mohl এর মতবাদ
  2. স্টর্চ-শ্যুগার মতবাদ
  3. বিজ্ঞানী স্যায়েরি এর মতবাদ
  4. প্রোটন প্রবাহ মতবাদ
সঠিক উত্তর:
প্রোটন প্রবাহ মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন প্রবাহ মতবাদ
ব্যাখ্যা
• আধুনিক মতবাদ বা প্রোটন প্রবাহ মতবাদ (Proton transport theory):
- S. Imamura ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে রক্ষীকোষে পটাসিয়াম আয়ন প্রবেশ প্রমাণ করেন।
- পরবর্তী বহু গবেষণায় রক্ষীকোষে পটাসিয়াম আয়নের প্রবেশকে রক্ষীকোষের স্ফীতির মূল কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়।

• প্রোটন প্রবাহ মতবাদ তথা আধুনিক মতবাদ প্রবর্তনের পূর্বে স্টর্চ-শ্যুগার মতবাদ প্রতিষ্ঠিত ছিলো। 

বিজ্ঞানী H. Von Mohl এর মতবাদ:
- ১৮৫৬ সালে মোট প্রকাশ করেন যে রক্ষীকোষের স্ফীতির পরিবর্তনই পত্ররন্ধ্র খোলা অবন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ। 

• স্টর্চ-শ্যুগার মতবাদ: 
- বিজ্ঞানী F. E. Loyd ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে প্রস্তাব করেন যে রক্ষীকোষের স্ফীতির পরিবর্তন স্টার্চ-শ্যুগারের পারস্পরিক পরিবর্তনের উপর নির্ভরশীল।
-  এই ধারণা পরবর্তীতে স্টর্চ-শ্যুগার মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

• বিজ্ঞানী স্যায়েরি এর মতবাদ: 
, শ্বেতসার ও চিনির আন্তঃপরিবর্তনের কারনেই পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৫৬০.
পিঁয়াজের বৈজ্ঞানিক নাম-
  1. ক) Oryza sativa
  2. খ) Corchorus capsularis
  3. গ) Allium cepa
  4. ঘ) Apis indica
সঠিক উত্তর:
গ) Allium cepa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Allium cepa
ব্যাখ্যা

Oryza sativa- ধান
Apis indica-মৌমাছি
Corchorus capsularis- পাট।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬১.
আদিকোষে কোনটি উপস্থিত?
  1. ক) রাইবোসোম
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
সঠিক উত্তর:
ক) রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
আদিকোষ:
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না তাই নিউক্লিও বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোসোম থাকে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এধরনের কোষ পাওয়া যায়।

সূত্র: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৫৬২.
ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মিউচুয়ালিজম
  2. খ) কমেনসেলিজম
  3. গ) শোষণ
  4. ঘ) মিউচুয়ালিজম ও কমেনসেলিজম
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিউচুয়ালিজম ও কমেনসেলিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিউচুয়ালিজম ও কমেনসেলিজম
ব্যাখ্যা

ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া : যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অন্যটিকে সহায়তা করে তাকে ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়ায় সহযোগীদ্বয়ের যে কোনো একটি বা উভয়েই উপকৃত হতে পারে। ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়াকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়।
যেমন-

মিউচুয়ালিজম- যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি সহযোগীর উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় তাকে মিউচুয়ালিজম বলে।
উদাহরণ স্বরূপ মৌমাছি, প্রজাপতি ফুলের মধু আহরণের জন্য ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ায় এবং বিনিময়ে ফুলের পরাগায়ন ঘটে। বাঁদুড় ফল খেয়ে বাঁচে এবং মল ত্যাগের সাথে ফলের বীজও ত্যাগ করে। এভাবে বীজের স্থানান্তর হয় এবং উদ্ভিদের বিস্তার ঘটে।

কমেনসেলিজম- যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি সহযোগীর একজন উপকৃত হয় কিন্তু আরেক জন উপকৃত না হলেও অপকৃত হয় না তাকে কমেনসেলিজম বলা হয়। যেমন- কাষ্ঠল লতা খাদ্যের জন্য আশ্রয় দানকারী উদ্ভিদের উপর নির্ভর করে না এবং এরা আশ্রয়দাতার কোনো ক্ষতিসাধনও করে না। কিছু শৈবাল অন্য উদ্ভিদের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করে কিন্তু আশ্রয়দাতার কোন ক্ষতি করে না। কাঠ বিড়ালী গাছের ডালে ডালে থাকে কিন্তু গাছের কোন ক্ষতি করে না।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৩.
জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) প্রোটোজোয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ফানজাই
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 

ক) কক্কাস: কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে। যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
খ) ব্যাসিলাস: এরা দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায় । ধনুষ্টংকার, রক্তামাশ ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
গ) কমা: এরা বাঁকা দণ্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের।
ঘ) স্পাইরিলাম: এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে। 
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংরক্ষণ করে।
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে ৷
- দই তৈরি করতে ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
৫৬৪.
চা-পাতার 'রেড রাস্ট' রোগের সৃষ্টি করে-
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. শৈবাল
  4. ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
শৈবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈবাল
ব্যাখ্যা
সমাঙ্গবর্গের ক্লোরোফিলযুক্ত ও স্বভোজী উদ্ভিদই শৈবাল।
এরা মাটি, পানি ও অন্য গাছের উপর জন্মায়।
সবুজ ছাড়াও লাল, বাদামি ইত্যাদি রঙের শৈবাল দেখা যায়।
সামুদ্রিক শৈবাল থেকে এ্যালজিন প্রস্তুত করা হয় যা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
আয়োডিন ও পটাশিয়ামের একটি ভাল উৎস সা্মুদ্রিক শৈবাল।
শৈবাল মানুষ ও উদ্ভিদের নানা রোগের জন্য দায়ী।
এটি চা-পাতায় ‘রেড রাস্ট’ রোগের সৃষ্টি করে।
জলাশয়ে এর আধিক্যে জলজ প্রাণি ও মাছ অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
৫৬৫.
বায়ু পরাগী ফুল কোনটি? 
  1. ধান 
  2. কদম 
  3. জবা 
  4. পাতা শ্যাওলা 
সঠিক উত্তর:
ধান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান 
ব্যাখ্যা

পরাগায়নের মাধ্যম: 
- যার মাধ্যমে পুং রেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়ে পরাগায়ন সম্পন্ন করে তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলা হয়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
পতঙ্গ পরাগী ফুল: 
- পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। 
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 
বায়ু পরাগী ফুল: 
- অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা রঙের ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। 
- এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমণ্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে। 
যেমন- ধান। 
পানি পরাগী ফুল: 
- পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা। 
যেমন- পাতা শ্যাওলা। 
প্রাণী পরাগী ফুল: 
- প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। 
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৬.
সীভনল ও সঙ্গীকোষের সমন্বয়ে কোন টিস্যু গঠিত?
  1. ক) জাইলেম টিস্যু
  2. খ) ফ্লোয়েম টিস্যু
  3. গ) তরুক্ষীর টিস্যু
  4. ঘ) গ্রন্থি টিস্যু
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্লোয়েম টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্লোয়েম টিস্যু
ব্যাখ্যা
• সীভনল ও সঙ্গীকোষের সমন্বয়ে ফ্লোয়েম টিস্যু গঠিত।
- ফ্লোয়েম টিস্যু মেটাজাইলেম টিস্যুর দুটি বাহুর মাঝখানে অবস্থিত। 
- এতে কোন ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা থাকে না।
- ফ্লোয়েমের কাজ পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৬৭.
বিষাক্ত ছত্রাকে কোন পদার্থটি পাওয়া যায়?
  1. হায়ালুরোনিক এসিড
  2. হিপনোটক্সিন
  3. অ্যামাটক্সিন
  4. অ্যামোক্সিসিলিন
সঠিক উত্তর:
অ্যামাটক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাটক্সিন
ব্যাখ্যা
• বিষাক্ত ছত্রাকে অ্যামাটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া যায়। 

• ছত্রাক:
- ছত্রাক হল এককোষী বা বহুকোষী সুকেন্দ্রিক জীব, যারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শর্করা তৈরি করতে পারে না এবং যাদের দৃঢ় কোষ প্রাচীর আছে।

• কিছু ছত্রাক বিষাক্ত এবং কিছু ছত্রাক এত বিষাক্ত যে এরা মানুষ কিংবা প্রাণীর তাৎক্ষণিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- এসব বিষাক্ত ছত্রাকে অ্যামাটক্সিন (amatoxins) নামক পদার্থ থাকে।

• অ্যামাটক্সিন:
- অ্যামাটক্সিন হলো একটি মারাত্মক বিষাক্ত যৌগ যা Amanita phalloides (ডেথ ক্যাপ মাশরুম) এবং কিছু অন্যান্য বিষাক্ত ছত্রাকে পাওয়া যায়।
- এটি RNA পলিমারেজ এনজাইমকে বাধা দিয়ে কোষের প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে যকৃত ও কিডনি বিকল হতে পারে।

• ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য:
- ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ, সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম, অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- এরা মৃতজীবী (saprophytic), পরজীবী (parasitic) বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে।
- এরা সুকেন্দ্রিক অর্থাৎ এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু বিদ্যমান।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন (এক প্রকার জটিল পলিস্যাকারাইড) নির্মিত।
- ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য প্রধানত গ্লাইকোজেন (glycogen), তৈলবিন্দু, কখনো কখনো কিছু পরিমাণ ভলিউটিন ও চবি থাকতে পারে।
- ছত্রাকদেহে ভাস্কুলার টিস্যু নেই।
- এদের জননাঙ্গ এককোষী (unicellular). 
- স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না।
- হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৫৬৮.
সবাত শ্বসনে এক অনু গ্লুকোজ থেকে কত অনু  ATP পাওয়া যায়?
  1. ১২ অনু
  2. ২৪ অনু
  3. ৩৬ অনু
  4. ৩৮ অনু
সঠিক উত্তর:
৩৮ অনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৮ অনু
ব্যাখ্যা
• সবাত শ্বসন:
- যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় এবং শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO₂, H₂O এবং জৈবনিক শক্তি ও তাপশক্তি উৎপন্ন করে তাকে সবাত শ্বসন বলে।
যদি গ্লুকোজ শ্বসনিক বস্তু হয় তাহলে সবাত শ্বসনের রাসায়নিক সংকেত নিম্নরুপ-
C6H12O6+6O2+6H₂O → 6CO₂+12H2O+38ATP+তাপ শক্তি

(C6H12O6+6O2+6H2O+38ADP+38iP → 6CO2+12H2O+38ATP+ তাপশক্তি)

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৯.
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস করে -
  1. ইনসুলিন
  2. গ্লুকাগন
  3. সোমাটোট্যাস্টিন
  4. গ্যাস্ট্রিন
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়।
- ইহা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উল্লেখ্য,
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- বাংলাদেশে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা লক্ষ লক্ষ।
- তাই ইনসুলিনের চাহিদাও ব্যাপক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭০.
নিচের কোন ভাইরাসটি উদ্ভিদদেহে রােগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) রুবিওলা ভাইরাস
  2. খ) অ্যাডেনাে ভাইরাস
  3. গ) ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস
  4. ঘ) টিএমভি ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) টিএমভি ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টিএমভি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- রুবিওলা ভাইরাস মানবদেহে রুবেলা বা জার্মান হাম রােগের জন্য দায়ী।
- অ্যাডেনাে ভাইরাস মানবদেহে ভাইরাল নিউমােনিয়ার জন্য দায়ী।
- ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস গবাদি পশুর ক্ষেত্রে গাে- বসন্ত রােগের জন্য দায়ী। 
- টিএমভি ভাইরাস তামাকের 'মোজাইক' রােগের জন্য দায়ী। অ্যাডল্ফ মেয়ার (Adlof  Mayer) ১৮৮৬ সালে সর্বপ্রথম তামাক গাছের মোজাইক রোগের কারণ বর্ণনা করেন।

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান- ১ম পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৫৭১.
প্রাণী কোন প্রক্রিয়ায় CO2 তৈরি করে?
  1. ক) শ্বসন
  2. খ) রেচন
  3. গ) ব্যাপন
  4. ঘ) অভিস্রবন
সঠিক উত্তর:
ক) শ্বসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্বসন
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ জৈবনিক প্রক্রিয়ায় জারণের ফলে সজীব কোষস্থ খাদ্য স্থিতিশক্তি তাপ ও গতিশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয় তাকে শ্বসন বলে। তাই মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস হলো শ্বসন।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭২.
উদ্ভিদের প্রজননের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে ______ বলে।
  1. ক) বীজ
  2. খ) ফুল
  3. গ) পরাগায়ন
  4. ঘ) ফল
সঠিক উত্তর:
খ) ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফুল
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে ফুল বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৫৭৩.
সমগ্র সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পর্যায় : এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।
ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ ব্ল্যাকম্যান (১৯০৫) একে দুটি পর্যায়ে ভাগ করেন।
যথা- (ক) আলোক নির্ভর পর্যায় এবং (খ) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৪.
উদ্ভিদ কোন মৌলিক উপাদান মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে নাইট্রোজেন। বাতাসের নাইট্রোজেন পানিতে মিশিয়ে মাটিতে শোষিত হওয়ার পরে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। নাইট্রেট হিসাবে উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে। তাই উদ্ভিদ নাইট্রোজেনকে মাটি থেকে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে।
৫৭৫.
মেসোফিল টিস্যু কোথায় থাকে?
  1. ক) মূলে
  2. খ) মজ্জায়
  3. গ) বীজে
  4. ঘ) পাতায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতায়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।
কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়।
পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৬.
ভুট্টায় কোন ধরনের পরাগায়ন ঘটে?
  1. ক) বায়ু পরাগায়ন
  2. খ) পতঙ্গ পরাগায়ন
  3. গ) প্রাণী পরাগায়ন
  4. ঘ) পানি পরাগায়ন
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ু পরাগায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ু পরাগায়ন
ব্যাখ্যা
ধান, ভুট্টা, গম, ইক্ষু ইত্যাদিতে বায়ু পরাগায়ন ঘটে।
সূত্রঃ ১১তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৫৭৭.
উৎস অনুযায়ী আমিষ কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
আমিষের উৎস: আমরা আগেই জেনেছি মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বীচি, শুঁটকি মাছ, চিনাবাদাম ইত্যাদি থেকে আমরা আমিষ পাই।

উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের:
১. প্রাণিজ আমিষ;
২. উদ্ভিজ্জ আমিষ।

• প্রাণিজ আমিষ:
মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় ।

• উদ্ভিজ্জ আমিষ:
ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫৭৮.
পাখির দ্বারা পুষ্পরেণু বহন করাকে কী বলে? 
  1. Ornithophily
  2. Anemophily
  3. Entomophily
  4. Hydrophily
সঠিক উত্তর:
Ornithophily
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ornithophily
ব্যাখ্যা
• অর্নিথোফিলি (Ornithophily):
- যখন কোনো উদ্ভিদের পরাগ (pollen) পাখির মাধ্যমে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে স্থানান্তরিত হয়, তখন সেই পরাগসংস্থান প্রক্রিয়াকে অর্নিথোফিলি বলে।
- এই ধরনের ফুলগুলো সাধারণত উজ্জ্বল রঙের ও মিষ্টি ঘ্রাণযুক্ত হয়, যাতে পাখিরা আকৃষ্ট হয়। যেমন: হিবিসকাস, বাবলা, কৃষ্ণচূড়া প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
- এনেমোফিলি (Anemophily): বাতাসের মাধ্যমে পরাগ স্থানান্তর। যেমন: ধান, গম।
- এন্টোমোফিলি (Entomophily): কীটপতঙ্গের মাধ্যমে পরাগসংস্থান। যেমন: মৌমাছি, প্রজাপতি, পিপঁড়ে।
- হাইড্রোফিলি (Hydrophily):  পানির মাধ্যমে পরাগ স্থানান্তর। যেমন: জলজ উদ্ভিদ যেমন ভালিসনেড়িয়া।

উৎস: Collins Dictionary ও ব্রিটানিকা।
৫৭৯.
In absorption of insolation, the most significant part is played by
  1. ক) Ozone
  2. খ) Carbon dioxide
  3. গ) Haze
  4. ঘ) Oxygen
সঠিক উত্তর:
ক) Ozone
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Ozone
ব্যাখ্যা
ওজোন এর ভূমিকা: 
- সূর্যের আলোর একটি বৃহৎ অংশ হলো UV রশ্মি যা মানবদেহে ক্যান্সার এর জন্য দায়ী।
- স্ট্রেটোস্ফিয়ার অঞ্চলে অবস্থিত ওজোন সূর্যের এই UV রশ্মির প্রায় ৯৯% শোষণ করে ফেলে।
- ফলে ভূপৃষ্ঠে UV রশ্মি কম আসে। জীবকূল রক্ষিত হয়।
- এভাবেই ওজোন স্তর UV রশ্মিকে শোষণ করে ভূপৃষ্ঠে আসতে বাধা দেয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৮০.
উদ্ভিদের কোন উপাদানগুলোকে প্রাথমিক পুষ্টি উপাদান বলে?
  1. ক) N, P, K
  2. খ) C, H, O
  3. গ) Ca, Mo, S
  4. ঘ) As, Hg, Si
সঠিক উত্তর:
ক) N, P, K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) N, P, K
ব্যাখ্যা
(ক) মুখ্য পুষ্টি উপাদান (Macro or Major Nutrient Element)
যে সমস্ত মৌল উপাদান (খনিজ) উদ্ভিদের পুষ্টির জন্য অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাকে মুখ্য পুষ্টি উপাদান বলে। মুখ্য পুষ্টি উপাদান নয়টি। যথা : C, H, O, N, P, K, Ca, Mg, S। 
মুখ্য পুষ্টি উপাদান আবার দুই প্রকার। 
যথা— (১) অ-খনিজ উপাদান যেমন: C, H, O এবং (২) খনিজ উপাদান যেমন: N, P, K, Ca, Mg, S। 
 
মুখ্য পুষ্টি উপাদানকে নিম্নোক্ত দুভাগেও ভাগ করা হয় :
(i) প্রাথমিক উপাদান (Primary Element) : মুখ্য পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে যে উপাদানগুলো বেশি পরিমাণে উদ্ভিদ দ্বারা গৃহিত হয় তাদেরকে প্রাথমিক উপাদান বলা হয়। যেমন: N, P এবং K এ তিনটিকে প্রাথমিক খনিজ পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। আবার যেহেতু এদেরকে সচরাচর সারের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, তাই এদেরকে সার উপাদানও বলা হয়।
(ii) মাধ্যমিক উপাদান (Secondary element) : মুখ্য পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে যে উপাদানগুলো উদ্ভিদ দ্বারা কম পরিমাণে গৃহিত হয় তাদেরকে মাধ্যমিক উপাদান বলা হয়। এইগুলো হলো Ca, Mg
পুষ্টিতত্ত্বের বিচারে এ শ্রেণিকরণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ফসল উৎপাদনের জন্য যেখানে প্রতি হেক্টর জমি হতে প্রতিটি মুখ্য উপাদান কয়েক কেজি হতে কয়েকশত কেজি পরিমাণ পরিশোষিত হয়, সেখানে প্রতিটি গৌন উপাদান মাত্র কয়েক গ্রাম হতে কয়েকশত গ্রাম পরিশোষিত হয়। সুতরাং সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উপাদান সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ।
 
উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৮১.
সবাত শ্বসনে ATP তৈরি হয় -
  1. ক) ২৮ অণু
  2. খ) ৩৮ অণু
  3. গ) ৪৮ অণু
  4. ঘ) ৫৮ অণু
সঠিক উত্তর:
খ) ৩৮ অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩৮ অণু
ব্যাখ্যা
অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দুভাগে ভাগ করা হয়−
যথাঃ
ক) সবাত শ্বসন বা বায়বীয় শ্বসন (aerobic respiration); অক্সিজেনের উপস্থিতিতে হয়
খ) অবাত শ্বসন, অবায়বীয় শ্বসন (anaerobic respiration); অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয়।

* সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হয়ে সর্বমোট ছয় অণু কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ছয় অণু পানিএবং ৩৮ অনু ATP উৎপন্ন করে।

উৎস: নবম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
৫৮২.
নিচের কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Spirogyra
  2. Pteris
  3. Chara
  4. Agaricus
সঠিক উত্তর:
Pteris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pteris
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
Pteris
• Psilotum, 
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৩.
পাতায় ক্লোরোফিলের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত পদার্থ হল-
  1. বেনেডিক্ট দ্রবণ
  2. ম্যাগনেসিয়াম দ্রবণ
  3. অ্যালকোহল
  4. ফেহলিং দ্রবণ
সঠিক উত্তর:
অ্যালকোহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা

◉ পাতায় ক্লোরোফিলের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য পাতার সবুজ রঙ (ক্লোরোফিল) অপসারণ করতে অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ: একদিন অন্ধকারে রাখা টবে লাগানো সবুজ পাতাবিশিষ্ট একটি গাছ, কালো কাগজ, ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহল, ১% আয়োডিন দ্রবণ, ক্লিপ প্রভৃতি।
আলো

কাজের ধারা: অন্ধকারে রাখা সবুজ পাতাবিশিষ্ট গাছটির একটি পাতার উভয় পাশের মাঝামাঝি অংশে কালো কাগজ দ্বারা আবৃত করুন। একটি ক্লিপ দ্বারা এমনভাবে আটকে দিন যাতে ঐ অংশে সূর্যালোক প্রবেশ করতে না পারে। এরপর গাছসহ টবটিকে সূর্যালোকে রেখে দিন। একঘণ্টা পর পাতাটিকে গাছ থেকে ছিড়ে ফেলুন। একে ক্লোরোফিল মুক্ত করার জন্য ৯৫% ইথাইল অ্যালকোহলে সিদ্ধ করুন। এবার সিদ্ধ করা বর্ণহীন পাতাটিকে আয়োডিন দ্রবণে ডুবিয়ে রাখুন।

পর্যবেক্ষণ: আয়োডিন দ্রবণ থেকে পাতাটিকে তুলে ফেললে দেখা যাবে যে, কালো কাগজ দিয়ে আবৃত অংশ ছাড়া পাতার বাকি সবটুকু অংশই নীল (গাঢ় বেগুনি বা কালো) বর্ণ ধারণ করেছে। ক্লোরোফিল অপসারণের পর আয়োডিন দ্রবণ ব্যবহার করা হয় → যাতে শ্বেতসার (Starch) আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।

• অ্যালকোহল মূলত ক্লোরোফিল অপসারণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যাতে অন্যান্য পরীক্ষাগুলো সহজে করা যায়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) বেনেডিক্ট দ্রবণ - এটি গ্লুকোজ পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। 
ঘ) ফেহলিং দ্রবণ - এটি শর্করা (Reducing Sugar) শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫৮৪.
পর-পরাগায়নের সুবিধা কোনটি?
  1. প্রজাতির বিশুদ্ধতা রক্ষিত হয়
  2. পরাগরেণুর অপচয় কম হয়
  3. বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।
পর-পরাগায়নের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়,
বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়,
বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।

দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ কারণে এ সব গাছের নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়।
তবে এটি বাহক নির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৫.
কোন উদ্ভিদের ফুলের পরাগায়ন বায়ু দ্বারা হয়? 
  1. শিমুল
  2. কুমড়া
  3. ধান
  4. কদম
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
পরাগায়নের মাধ্যম: 
- পরাগরেণু স্থানান্তরের কাজটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো মাধ্যমের দ্বারা হয়ে থাকে, যে বাহক পরাগরেণু বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায় তাকে পরাগায়নের মাধ্যম বলে। 
- বায়ু, পানি, কীট-পতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক, এমনকি মানুষ এ ধরনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে। 
- মধু খেতে অথবা সুন্দর রঙের আকর্ষণে পতঙ্গ বা পাখি ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়, এ সময়ে পরাগরেণু বাহকের গায়ে লেগে যায়। 
- এই বাহকটি যখন একই প্রজাতির অন্য ফুলে গিয়ে বসে তখন পরাগরেণু ঐ ফুলের গর্ভমুণ্ডে লেগে যায়, এভাবে তাদের অজান্তে পরাগায়নের কাজটি হয়ে যায়। 
- পরাগায়নের মাধ্যমগুলোর সাহায্য পেতে ফুলের গঠনে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়, একে অভিযোজন বলা হয়।
- বিভিন্ন মাধ্যমের জন্য অভিযোজনগুলোও আলাদা যা নিম্নরূপ: 
১। পতঙ্গপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থিযুক্ত। 
- পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং সুগন্ধযুক্ত, যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি। 

২। বায়ুপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- ফুল বর্ণ, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন। 
- পরাগরেণু হালকা, অসংখ্য ও আকারে ক্ষুদ্র। 
- এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখান্বিত, কখনো পালকের ন্যায়, যেমন- ধান। 

৩। পানিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এরা আকারে ক্ষুদ্র, হালকা এবং অসংখ্য। 
- এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। 
- এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। 
-  স্ত্রীফুলের বৃত্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃত্ত ছোট। 
- পরিণত পুং ফুল বৃত্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে, যেমন- পাতাশ্যাওলা। 

৪। প্রাণিপরাগী ফুলের অভিযোজন: 
- এসব ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। 
- এদের রং আকর্ষণীয় হয়। 
- এসব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৮৬.
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে কোনটি?
  1. ক) লিফ রোল
  2. খ) লিফ ব্লাইট
  3. গ) লিফ কার্ল
  4. ঘ) লিফ বেইন
সঠিক উত্তর:
খ) লিফ ব্লাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিফ ব্লাইট
ব্যাখ্যা
ধানের পাতা ধ্বসা (leaf blight) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে। এছাড়া আলুর লিফরোল (পাতা কুঁচকাইয়া যাওয়া), পেঁপের লিফকার্ল, ক্লোরোসিস (পাতায় হলুদাভ দাগ) ইত্যাদি রোগ ভাইরাস দ্বারা ঘটে থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৫৮৭.
কোন উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌ ঘটে?
  1. ক) পেঁয়াজ
  2. খ) তেঁতুল
  3. গ) কেওড়া
  4. ঘ) গর্জন
সঠিক উত্তর:
গ) কেওড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কেওড়া
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে বলা হয় জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
- উদাহরণ: সুন্দরী, পশুর, গোলপাতা, কেওড়া, হারগোজা ইত্যাদি উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৮৮.
ফলের রং হলুদ হওয়ার জন্য দায়ী -
  1. ক) জ্যান্থোফিল
  2. খ) ক্যারোটিন
  3. গ) লাইকোপেন
  4. ঘ) ক্লোরোফিল
সঠিক উত্তর:
ক) জ্যান্থোফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্যান্থোফিল
ব্যাখ্যা
জ্যান্থোফিল - হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী।
ক্যারোটিন - কমলা বর্ণের জন্য দায়ী।
লাইকোপেন - লাল বর্ণের জন্য দায়ী।
ক্লোরোফিল - সবুজ বর্ণের জন্য দায়ী।
৫৮৯.
নিচের কোন রোগটির জন্য ব্যাকটেরিয়া দায়ী?
  1. ক) আনডিউলেটেড ফিভার
  2. খ) জলাতঙ্ক
  3. গ) পীত জ্বর
  4. ঘ) টুংরো রোগ
সঠিক উত্তর:
ক) আনডিউলেটেড ফিভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আনডিউলেটেড ফিভার
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগগুলিই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে। মানুষের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। এ ছাড়াও এনথ্রাক্স, মেনিনিজাইটিস, কুষ্ঠ, আনডিউলেটেড ফিভার ইত্যাদি রোগও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে।
- AIDS, ডেঙ্গু, বার্ড ফ্লু, চিকুনগুনিয়া, সোয়াইন ফ্লু, SARS, জলাতঙ্ক, গুটি বসন্ত, জলবসন্ত, ভাইরাল নিউমোনিয়া, সাধারণ সর্দি, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস, পীত জ্বর, গো- বসন্ত, এনোজেনিটাল ক্যান্সার, তামাক, সিম, গোল আলু ইত্যাদির মোজাইক রোগ, কলার বানচি টপ রোগ, ধানের টুংরো রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫৯০.
ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে কোনটি?
  1. ক) ক্যাপসিউল
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) কোষ প্রাচীর
  4. ঘ) প্লাজমিড
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যাপসিউল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যাপসিউল
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো-
 
- ফ্ল্যাজেলা
- ক্যাপসিউল
- কোষ প্রাচীর
- প্লাজমামেমব্রেন
- মেসোসোম
- সাইটোপ্লাজম
- ক্রোমোসোম
- প্লাজমিড

ফ্ল্যাজেলা - ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে। ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে। পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত। ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে।

ক্যাপসিউল - ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে । এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয় । এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে। 

• কোষ প্রাচীর - ক্যাপসিউলের নিচেই জড় কোষ প্রাচীর অবস্থিত। কোষ প্রাচীর পেপটিডোগ্লাইকান দিয়ে গঠিত। কোষ প্রাচীর সাধারণত ১০-২৫um (মাইক্রোমিটার) পুরু হয়। এটি ব্যাকটেরিয়া কোষের নির্দিষ্ট আকার ও দৃঢ়তা দান করে। কোষ প্রাচীরে প্রায় ১um ব্যাসের অনেকগুলো ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এ সমস্ত ছিদ্রের মধ্য দিয়ে রাসায়নিক পদার্থসমূহ চলাচল করে।

• সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন - কোষ প্রাচীরের ঠিক নিচে সাইটোপ্লাজমকে ঘিরে সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অবস্থান করে। এটি একটি সজীব ঝিল্লী। সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে গঠিত। এর সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক মেটাবোলিক কাজ করে।

• মেসোসোম - ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন অনেক সময় ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়। একে মেসোসোম বলা হয়। এটি কোষ বিভাজনে সহায়তা করে।

• সাইটোপ্লাজম - সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় সাইটোপ্লাজম থাকে। এটি সাধারণত বর্ণহীন। এতে কোষ গহবর, চর্বি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন যার অধিকাংশই এনজাইম, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ যেমন- ফসফরাস, লৌহ ও সালফার ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে। ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে কিছু পদার্থ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখা যায়। যেমন- ১। রাইবোসোম (70S), ২। ক্রোম্যাটোফোর, ৩। কোষ গহ্বর এবং ৪ । ভলিউটিন।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫৯১.
নিচের কোনটি রঞ্জক পদার্থহীন?
  1. লিউকোপ্লাস্ট
  2. ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
লিউকোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের প্লাস্টিড ৩ ধরনেরঃ
- ক্লোরোপ্লাস্ট- সবুজ রঙের;
- ক্রোমোপ্লাস্ট- সবুজ ব্যতীত অন্যান্য রঙের  এবং ক্রোমোপ্লাস্টের উপস্থির জন্য পুষ্প, পাতা, ফল ও বীজ সুন্দর হয়।এবং
 -লিউকোপ্লাস্ট- রঞ্জক পদার্থহীন।

সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
৫৯২.
‘জার্মপ্লাজম মতবাদ’ এর প্রবক্তা হলেন-
  1. ক) অগাস্ট ভাইসম্যান
  2. খ) আর্নেস্ট হেকেল
  3. গ) লুই পাস্তুর
  4. ঘ) ল্যাভয়সিয়ে
সঠিক উত্তর:
ক) অগাস্ট ভাইসম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগাস্ট ভাইসম্যান
ব্যাখ্যা
Germ-plasm theory, concept of the physical basis of heredity expressed by the 19th-century biologist August Weismann. According to his theory, germ plasm, which is independent from all other cells of the body (somatoplasm), is the essential element of germ cells (eggs and sperm) and is the hereditary material that is passed from generation to generation. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৫৯৩.
ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় কি উৎপন্ন হয়?
  1. ক) ATP
  2. খ) ADP
  3. গ) NADP
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ATP
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণের সময় ADP সৌর শক্তি গ্রহণ করে ATP এ পরিণত হয়। আলোর উপস্থিতিতে ATP তৈরির এ প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলা হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৪.
পাকা টমেটোর রং লাল হওয়ার জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ক্লোরোফিল
  2. খ) লাইকোপিন
  3. গ) জ্যানথোফিল
  4. ঘ) ক্যারোটিন
সঠিক উত্তর:
খ) লাইকোপিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাইকোপিন
ব্যাখ্যা
ক্যারোটিন -  কমলা বর্ণের জন্য দায়ী।
জ্যান্থোফিল - হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী।
লাইকোপিন - লাল বর্ণের জন্য দায়ী।
ক্লোরোফিল - সবুজ বর্ণের জন্য দায়ী।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৯৫.
যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ বা শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদেরকে বলা হয়- 
  1. এপিফাইটিক শৈবাল 
  2. ফাইটোপ্লাঙ্কটন 
  3. বেনথিক শৈবাল 
  4. লিথোফাইটিক শৈবাল 
সঠিক উত্তর:
এপিফাইটিক শৈবাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিফাইটিক শৈবাল 
ব্যাখ্যা

শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৬.
কোনটিকে কোষের প্রাণশক্তি বলা হয়?
  1. ক) প্লোটোপ্লাজম
  2. খ) ক্রোমোজোম
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক, প্রাণকেন্দ্র বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
যদিও, মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়।
এটি কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে।
কিন্তু, কোষে সংগঠিত সকল ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় নিউক্লিয়াস দ্বারা।
তাই, নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণশক্তি বলা যায়।

এছাড়াও,
রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
বংশগতির প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
৫৯৭.
ICBN এর পূর্ণরূপ হলো-
  1. International Code of Botanical Nomenclature
  2. International Code of Bioligical Nomenclature
  3. International Code of Botanical Nomenculture
  4. International Code of Biological Nomenclature
সঠিক উত্তর:
International Code of Botanical Nomenclature
উত্তর
সঠিক উত্তর:
International Code of Botanical Nomenclature
ব্যাখ্যা
ICBN এর পূর্ণরূপ হলো International Code of Botanical Nomenclature।
- এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত নিয়মবিধি যা উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ICBN অনুযায়ী নামকরণের কয়েকটি নীতিমালা দেয়া হল :
- প্রজাতির উপরের ছয়টি স্তরের নাম হবে একপদী (uninomial).
- প্রজাতির নাম হবে দ্বিপদী (binomial)। প্রথম পদ হল গণ নাম এবং দ্বিতীয় পদ হল প্রজাতিক পদ।
- নামকে বৈধভাবে প্রকাশিত (validly published) হতে হবে।
- গোত্র বা গোত্রের নিচে যে কোনো ট্যাক্সনের জন্য একটি মাত্র শুদ্ধ নাম থাকবে।
-  উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামের ভাষা হবে ল্যাটিন।
- গণ নামের প্রথম অক্ষর বড় হাতের হবে, প্রজাতিক পদের সব অক্ষরই ছোট হাতের হবে।
- বৈজ্ঞানিক নাম ছাপার অক্ষরে ইটালিক (ডান দিকে একটু বাঁকা) বা মোটা অক্ষরের হবে। হাতে লিখলে সাধারণত নামের নিচে একটি বা পৃথকভাবে দুটি দাগ টেনে দিতে হবে।
- বৈজ্ঞানিক নামের শেষে নাম প্রদানকারীর নাম (সাধারণত সংক্ষিপ্ত) লিখতে হয়। যেমন- Mangifera infica খ. এখানে খ হচ্ছে লিনিয়াস-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- যদি একাধিক বিজ্ঞানী একই উদ্ভিদকে বিভিন্ন বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করেন তবে অগ্রাধিকার আইন (Law of Priority) অনুসারে বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও IAPT Website.
৫৯৮.
সবুজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় জারক পদার্থ কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন-ডাইঅক্সাইড
  3. গ্লুকোজ
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাইঅক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় দরকার হয় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি, সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিল। 
- উৎপন্ন হয় শর্করা এবং অক্সিজেন। কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয় শর্করা তৈরির জন্য। 
- এ বিক্রিয়ায় উপজাত দ্রব্য হিসেবে অক্সিজেন ও পানি উৎপন্ন হয়। এটি একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কার্বন-ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়।
 
6CO2 + 12H2O —→ C6H12O6 + 6O2 + 6H2O
 
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
 
 [সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৫৯৯.
নিচের কোনটিকে জীব ও জড়ের সেতুর সেতুবন্ধন বলে?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) সকল অনুজীব
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
প্রাণ-রসায়নবিদগণ ভাইরাসের জড়-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন, আর অনুজীব বিজ্ঞানিগণ ভাইরাসের জীব-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন। এজন্য ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৬০০.
নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া লম্বা দন্ডের ন্যায়?
  1. ক) কক্কাস
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) স্পাইরিলাম
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাসিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাসিলাস
ব্যাখ্যা

- ব্যাসিলাস দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায়। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি গোলাকার। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া। 
- কমা ব্যাকটেরিয়া বাঁকা দণ্ডের ন্যায়। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের। 
- স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি