বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন১,৩৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উদ্ভিদ বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৩০১৪০০ / ১,৩৫৫

৩০১.
প্লেগরোগের ব্যাকটেরিয়ার নাম কি?
  1. ক) Plagie vincenna
  2. খ) Yarsenia indinna
  3. গ) Yersenia pestis
  4. ঘ) Plagia tropica
সঠিক উত্তর:
গ) Yersenia pestis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Yersenia pestis
ব্যাখ্যা

- প্লেগ একটি জীবনঘাতী রোগ যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট।
- এই ব্যাকটেরিয়াটি ফ্রান্স-সুইস ব্যাকটেরিওলজিস্ট আলেকজেন্ডার ইরসিন কর্তৃক আবিস্কৃত।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

৩০২.
জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণির বেঁচে থাকার জন্য সুবিধাজনক pH এর মান কত?
  1. ক) ৩ - ১০
  2. খ) ৩ - ৭
  3. গ) ৬ - ৮
  4. ঘ) ৮ - ৯
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ - ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ - ৮
ব্যাখ্যা
পানির pH: pH দ্বারা পানির অম্লত্ব বা ক্ষারকত্ব বোঝায়। 
পানি অ্যাসিড ধর্মী বা ক্ষার ধর্মী তা নির্ভর করে পানির pH এর উপর ।
যদি pH এর মান ৭ হয় তবে পানি নিরপেক্ষ হয়।
যদি pH এর মান ৭ অপেক্ষা বেশি হয় তবে পানি ক্ষারধর্মী হয়।
আবার pH এর মান ৭ অপেক্ষা কম হলে পানি অ্যাসিডধর্মী হয়।
প্রাকৃতিক পরিবেশের পানির pH এর মান অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণত খাল-বিল, নদ-নদী, পুকুর ইত্যাদিতে পানি ক্ষার ধর্মী হয়ে থাকে।
যদি pH এর মান ৬-৮ এর মধ্যে হয় তবে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণির জন্য কোনো অসুবিধা হয় না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৩.
নিচের কোনটিকে আত্নঘাতী থলিকা বলা হয়?
  1. ক) রাইবোজোম
  2. খ) লাইসোজোম
  3. গ) কোষগহবর
  4. ঘ) গলজি বস্তু
সঠিক উত্তর:
খ) লাইসোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাইসোজোম
ব্যাখ্যা

লাইসােজোম (Lysosome)
লাইসােজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে বক্ষা করে। এর উতসেচক আগত জীবাণুগুলােকে হজম করে ফেলে। এর পরিপাক করার উৎসেচকগুলাে একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা থাকে তাই অন্যান্য অঙ্গাণু এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না।
দেহে আক্সজেনের অভাব হলে বা বিভিন্ন কারণে লাইসােজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তখন এর আশেপাশের অঙ্গগুলাে নষ্ট হয়ে যায়। কখনাে কোষটিই মারা যায়।

৩০৪.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়?
  1. পটাশিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
• পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত লক্ষণ:
• নাইট্রোজেন (N):
- ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- পাতা হ্লুদ বা পীত বর্ণ হয়ে যায়। পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়।

• ফসফরাস (P): 
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 

• পটাশিয়াম (K):
- পটাশিয়ামের অভাবে পাতার শীর্ষ এবং কিনারা হলুদ হয় এবং মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয়।
- পাতার কিনারায় পুড়ে যাওয়া সদৃশ বাদামি রং দেখা যায় এবং পাতা কুঁকড়ে আসে।
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি কম হয় এবং শীর্ষ ও পার্শ্ব মুকুল মরে যায়।

• ক্যালসিয়াম (Ca): 
- ক্যালসিয়ামের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল শীর্ষ অঞ্চল, বিশেষ করে পাতার কিনারা বরাবর অঞ্চলগুলো মরে যায়। 
- পাতা কুঁকড়ে যায়, ফুল ফোটার সময় উদ্ভিদের কাণ্ড শুকিয়ে যায় এবং উদ্ভিদ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে।

• ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায়।
- সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

• লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

• সালফার (S):
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লালএবং বেগুনি দাগ দেখা যায়।
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়।
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

• বোরন (B):
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায়।
- পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৩০৫.
পাতার সাহায্যে বংশবৃদ্ধি করে নিচে কোন উদ্ভিদ?
  1. ক) ফনিমনসা
  2. খ) গোলাপ
  3. গ) পাথরকুচি
  4. ঘ) গোল আলু
সঠিক উত্তর:
গ) পাথরকুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাথরকুচি
ব্যাখ্যা
কিছু উদ্ভিদের কান্ড রূপান্তরিত হয়ে পাতার কাজ করে। এসব কান্ডের অংশ থেকে নতুন গাছ জন্মে। যেমন- ফনিমনসা।
- পাতার সাহায্যে কিছু কিছু উদ্ভিদের পাতা মাটিতে ফেললে পাতার কিনার থেকে অস্থানিক মুকুল বের হয়ে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। যেমন- পাথর কুচি।
- শাখা কলম প্রক্রিয়ায় গাছের একটি শাখা কেটে নিয়ে রসালো মাটিতে রোপন করা হয়। শাখাটি স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে নতুন গাছে পরিণত হয়। যেমন- গোলাপ, পাতাবাহার, আঁখ ইত্যাদি।
- কন্দের চোখ বা মুকুল থেকে নতুন গাছ জন্মে। যেমন- গোল আলু।

সূত্র: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০৬.
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ধান
  2. খ) গম
  3. গ) তাল
  4. ঘ) আম 
সঠিক উত্তর:
ঘ) আম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আম 
ব্যাখ্যা
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ : যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে । যেমন — আম , জাম, কাঁঠাল, মটর, ছোলা, রেড়ি, পাট, কলা ইত্যাদি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৩০৭.
কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) নারিকেল
  2. খ) আম
  3. গ) গম
  4. ঘ) ভুট্টা
সঠিক উত্তর:
খ) আম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আম
ব্যাখ্যা
যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল।
যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে।
যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, নারিকেল, খেজুর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৩০৮.
ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয় মূলত কোন খনিজের অভাবে?
  1. লৌহ
  2. বোরন
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরন
ব্যাখ্যা

বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- বোরন নামক খনিজের অভাবে ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

সালফার (S): 
- সালফার উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই শুধু নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- কাণ্ডের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg): 
- ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০৯.
ছত্রাক কী উপায়ে বংশবৃদ্ধিসম্পন্ন করে?
  1. অযৌন উপায়
  2. যৌন উপায়ে
  3. ক ও খ দুইটিই সঠিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক ও খ দুইটিই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ দুইটিই সঠিক
ব্যাখ্যা
ছত্রাক:
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত।
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়।
- আর্দ্রতা, উষ্ণতা, খাদ্যসমৃদ্ধ ছাঁয়াযুক্ত বা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশেই ছত্রাকের উপযুক্ত বাসস্থান।
- ছত্রাক সাধারণত অযৌন এবং যৌন উভয় উপায়ে বংশবৃদ্ধিসম্পন্ন করে। 
- কিছু কিছু ছত্রাক প্রজাতির সমস্ত দেহটিই জনন কাজে অংশ নেয়।
- এ ধরনের ছত্রাকের দৈহিক ও জননাঙ্গের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। এরূপ ছত্রাককে হলোকাপিক ছত্রাক বলা হয়।
- অধিকাংশ ছত্রাকের দেহের অংশবিশেষ থেকে জননযন্ত্রের সৃষ্টি হয় কিন্তু অন্য অংশ স্বাভাবিক থাকে। এরূপ ছত্রাককে বলা হয় ইউকারপিক ছত্রাক।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১০.
বায়ুপরাগী ফুলের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) শিমুল
  2. খ) কদম
  3. গ) ধান
  4. ঘ) সরিষা
সঠিক উত্তর:
গ) ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধান
ব্যাখ্যা



সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী।

৩১১.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন করে -
  1. মেসোফিল
  2. সিভ প্লেট
  3. জাইলেম
  4. ফ্লোয়েম
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে খাদ্য তৈরি ও পরিবহন: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে।
- এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। 
- খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের কোষসমূহ বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু।
-  এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১২.
শ্বসনের জন্য উত্তম তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ২০°C -  ৪৫° C
  2. খ) ২৫°C - ৩০° C
  3. গ) ৪০°C -  ৪৫° C
  4. ঘ) ২০°C -  ৩৫° C
সঠিক উত্তর:
ক) ২০°C -  ৪৫° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২০°C -  ৪৫° C
ব্যাখ্যা
শ্বসন 
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তিতে পরিণত হয় তাকে শ্বসন বলে।
• এ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও শক্তি উৎপন্ন হয়।

 তাপমাত্রা-
• শ্বসনের জন্য সাধারণত উত্তম তাপমাত্রা ২০°C -  ৪৫° C সেলসিয়াস।  
• ১০°C  সেলসিয়াসের নিচে এবং ৪৫°C  সেলসিয়াসের উপরের তাপমাত্রায় শ্বসনের হার কমে যায়।

SOURCE: জীব বিজ্ঞান  ,এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৩১৩.
গম, ভূট্টা, ইক্ষু এদের পরাগায়ন ঘটে -
  1. কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  2. বাতাসের সাহায্যে
  3. প্রাণীর সাহায্যে
  4. মৌমাছির সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
বাতাসের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাসের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৪.
নিচের কোনটি একটি ম্যাক্রো উপাদান? 
  1. ক্লোরিন (Cl)
  2. বোরন (B)
  3. দস্তা (Zn)
  4. লৌহ (Fe)
সঠিক উত্তর:
লৌহ (Fe)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ (Fe)
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন- 
১। ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

২। মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৫.
উদ্ভিদকোষের ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. বোরন
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. কপার
  4. মোলিবডেনাম
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য নিচের উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন - 
১। ম্যাঙ্গানিজ: উদ্ভিদকোষের ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। 
২। কপার: টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 
৩। বোরন: উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন, চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 
৪। মোলিবডেনাম: অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম (Mo) আবশ্যক। 
৫। ক্লোরিন: সুপারবিট এর মূল এবং কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩১৬.
কত তরঙ্গবিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভাল হয়? 
  1. ক) 200 nm
  2. খ) 300 nm
  3. গ) 680 nm
  4. ঘ) 500 nm
সঠিক উত্তর:
গ) 680 nm
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 680 nm
ব্যাখ্যা

সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভাল হয়।
সালোকসংশ্লেষণ একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ/গাছপালা সূর্যালোকের উপস্থিততে কার্বনডাইঅক্সাইড ও পানি সহযোগে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে, এই প্রক্রিয়াকেই সালোকসংশ্লেষণ বলে।
গাছপালার বেঁচে থাকার জন্য সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। সালোকসংশ্লেষণ ছাড়া উদ্ভিদের শ্বসনের জন্য কার্বোহাইড্রেট থাকত না। এছাড়াও, সালোকসংশ্লেষে উত্পাদিত কার্বোহাইড্রেটগুলি সেলুলোজ কোষ প্রাচীরের মতো উদ্ভিদ কোষ কাঠামো তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৩১৭.
যে ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই একসাথে উপস্থিত থাকে তাকে কী বলে?
  1. ক) আদর্শ ফুল
  2. খ) ক্লীব ফুল
  3. গ) উভলিঙ্গ ফুল
  4. ঘ) সবৃন্তক ফুল
সঠিক উত্তর:
গ) উভলিঙ্গ ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভলিঙ্গ ফুল
ব্যাখ্যা
ফুলের প্রকারভেদ : যে ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয়। এর যে কোনো একটি অংশ না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলা হয়।
বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলা হয়।
যখন কোন ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে তখন সেটি উভলিঙ্গ ফুল।
আবার পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল এবং দুটিই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল বলা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
সালোকসংশ্লেষণে ATP ও NADPH2 কোন ধাপে উৎপন্ন হয়?
  1. ক) আলোক-নিরপেক্ষ পর্যায়ে
  2. খ) আলোক পর্যায়ে
  3. গ) চক্রীয় ফসফোরাইলেশনে
  4. ঘ) অচক্রীয় ফসফোরাইলেশনে
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক পর্যায়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলোক পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণে ATP ও NADPH2 আলোক পর্যায় ধাপে উৎপন্ন হয়।
- সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে আলো অপরিহার্য । 
- এ পর্যায়ের সমস্ত বিক্রিয়া আলোর উপস্থিতিতে সংঘটিত হয় বলে একে আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়াও বলে। 
- ATP (Adenosine Triphosphate) একটি জৈব যৌগ যা জীবিত কোষকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালিত করার জন্য শক্তি সরবরাহ করে। 
- NADP (Nicotinamide Adenine Dinucletide Phosphate) একটি সহ উৎপাদ হিসেবে ব্যবহৃত এনাবলিক প্রতিক্রিয়া যা লিপিড বা নিউক্লিক অ্যাসিড এবং NADPH সংশ্লেষণে প্রয়োজন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৯.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র কোনটি?
  1. ট্যাকোমিটার
  2. ক্রেসকোগ্রাফ
  3. ক্রনোমিটার
  4. ওডোমিটার
সঠিক উত্তর:
ক্রেসকোগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
ক্রেসকোগ্রাফ: 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম 'ক্রেসকোগ্রাফ'। 
- এটি আবিষ্কারক হলেন জগদীশচন্দ্র বসু। 
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে। 

অন্যদিকে, 
- উড়োজাহাজের গতি নির্নায়ক যন্ত্র - ট্যাকোমিটার।
- মোটর গাড়ির গতি নির্নায়ক যন্ত্র - ওডোমিটার।
- সমুদ্রের দ্রাঘিমা পরিমাপক যন্ত্র - ক্রনোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৩২০.
শাপলা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Mangifera indica
  2. Nymphaea nouchali
  3. Copsychus saularis
  4. Artocarpus heterophyllus
সঠিক উত্তর:
Nymphaea nouchali
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nymphaea nouchali
ব্যাখ্যা
• শাপলা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম  Nymphaea nouchali।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম -
- Oryza sativa - ধান;
- Mangifera indica - আম;
- Artocarpus heterophyllus - কাঁঠাল;
- Apis indica - মৌমাছি;
- Allium cepa - পেঁয়াজ;
- Copsychus saularis - দোয়েল;
- Periplaneta americana আরশোলা;
- Panthera tigris - রয়েল বেঙ্গল টাইগার;
- Hilsa ilisha - ইলিশ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২১.
নিচের কোন উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম‌ ঘটে?
  1. মটরশুটি
  2. সুন্দরী
  3. পেঁয়াজ
  4. তেঁতুল
সঠিক উত্তর:
সুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দরী
ব্যাখ্যা

জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমঃ
সমুদ্রের তীরবর্তী লোনা মাটির অধিকাংশ উদ্ভিদে যে ধরনের অঙ্কুরোদগম দেখা যায় তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
যেমন - সুন্দরী, গরান, কেওড়া, কাকরা, পশুর, গোলপাতা, খলসী, হারগোজা, বোরা ইত্যাদি লোনা পানির উদ্ভিদ।
এইসকল উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়।

জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমের ক্ষেত্রে গাছের সাথে যুক্ত থাকা অবস্থায় ফলের ভেতর অঙ্কুরোদগম শুরু হয়। ভ্রুণমূল ফলত্বক ভেদ করে বের হয়ে ঝুলতে থাকে এবং বীজপত্রাবকান্ড বেড়ে ফুলে উঠে।
এ সময় ভ্রুণমুকুলও বৃদ্ধি পেয়ে ওজন বেড়ে যায়। ওজন বাড়ার কারনে গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খাড়াভাবে নরম মাটিতে প্রবেশ করে আটকে যায়। ফলে চারাগাছটি আর জোয়ার ভাঁটার টানে ভেসে যেতে পারে না।
জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম না থাকলে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বনরাজি জন্মাতে পারতো না।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বই ও teachers.gov.bd

৩২২.
নিচের কোনটি 'কোষের রান্নাঘর' ?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. সেন্ট্রোজোম
  4. কোষ প্রাচীর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- উদ্ভিদের জন্য ক্লোরোপ্লাস্ট অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞানী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষণে সাহায্য করে বলে একে 'কোষের রান্নাঘর' (kitchen of cell) বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' (factory of synthesis of sugar) বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গাণু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৩২৩.
উদ্ভিদের পাতায় উৎপন্ন হরমোন নিচের কোনটি?
  1. সাইটোকাইনিন
  2. অক্সিন
  3. জিব্বেরেলিন
  4. ফ্লোরিজেন
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিজেন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে সমন্বয়: 
- প্রতিটি উদ্ভিদকোষে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম একটি নিয়ম-শৃঙ্খলার মাধ্যমে সংঘটিত হয়, এ কারণে সমন্বয় উদ্ভিদের একটি অপরিহার্য কার্যক্রম। 
- উদ্ভিদের জীবন চক্রের পর্যায়গুলো যেমন- অঙ্কুরোদগম, পুষ্পায়ন, ফল সৃষ্টি, বার্ধক্য প্রাপ্তি, সুপ্তাবস্থা ইত্যাদি একটি সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে চলে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি উদ্ভিদ দেহে উৎপাদিত বিশেষ কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী এই জৈব রাসায়নিক পদার্থটিকে ফাইটোহরমোন বা বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। 
- ফাইটোহরমোন কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- উদ্ভিদে যেসব হরমোন পাওয়া যায় তার মধ্যে অক্সিন, জিব্বেরেলিন ও সাইটোকাইনিন বৃদ্ধি সহায়ক এবং অ্যাবসাইসিক এসিড ও ইথিলিন বৃদ্ধি প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। 
- পাতায় ফ্লোরিজেন নামক হরমোন উৎপন্ন হয়। 
- এই হরমোন পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্র মুকুলকে পুষ্পমুকুলে পরিণত করে তাই দেখা যায় ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান-অষ্টম শ্রেণি।
৩২৪.
নিচের কোন সমীকরণটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে প্রকাশ করে?
  1. C6H12O6 + 6O2 → 6CO2 + 6H2O
  2. C6H12O6 → 6CO2 + 6H2O
  3. 6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2
  4. 6CO2 + 12H2O → C6H12O6
সঠিক উত্তর:
6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2
ব্যাখ্যা

- 6CO2 + 6H2O + আলো → C6H12O6 + 6O2 সমীকরণটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে, যেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড (6CO2) এবং জল (6H2O) সূর্যালোকের (আলো) উপস্থিতিতে গ্লুকোজ (C6H12O6) এবং অক্সিজেন (6O2) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াতে ক্লোরোফিল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। 

সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া: 

- সালোকসংশ্লেষণ হলো একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ সবুজ পাতার ক্লোরোফিল রঞ্জকের সাহায্যে সূর্যালোক ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে খাদ্য তৈরি করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রধান খাদ্য উপাদান হিসেবে শর্করা উৎপন্ন হয়, যা সাধারণত স্টার্চ (মাড়) হিসেবে উদ্ভিদদেহে সঞ্চিত থাকে। 
- প্রাণিদেহে অতিরিক্ত শর্করা গ্লাইকোজেন আকারে যকৃত ও পেশিতে জমা থাকে। 
- সালোকসংশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজাত (by-product) হলো অক্সিজেন, যা পরিবেশে নিঃসরণ হয়ে প্রাণীর জীবনধারণে সহায়ক হয়। 
• 6CO2 ​+ 6H2​O + আলো → C6​H12​O6 ​+ 6O2

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩২৫.
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. মিউটেশন ঘটাতে অক্ষম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে
  3. পুষ্টি প্রক্রিয়া উপস্থিত
  4. ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়
ব্যাখ্যা

- ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে: ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য
:
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। যেমন-

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।
- ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবি।

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৬.
সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালকে বলা হয়-
  1. লিথোফাইটিক শৈবাল
  2. এপিফাইটিক শৈবাল
  3. বেনথিক শৈবাল
  4. ফাইটোপ্লাঙ্কটন
সঠিক উত্তর:
ফাইটোপ্লাঙ্কটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইটোপ্লাঙ্কটন
ব্যাখ্যা
শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। 
- শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। 
অর্থাৎ, আলোকের উপস্থিতিতে এবং পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সহায়তায় এরা নিজেরা নিজেদের দেহকোষে খাদ্য (শর্করা) প্রস্তুত করতে সক্ষম। 
- শৈবালের দেহকোষে প্রধান রঞ্জক পদার্থ সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় নানা রকম ভিন্ন রঞ্জক পদার্থ দিয়ে এরা আবৃত থাকে। 
- শৈবালের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 
- শৈবাল কখনও এককভাবে, কখনও দলবদ্ধভাবে নালা নর্দমা, পুকুর, হ্রদ, নদী, সাগর, এক কথায় পৃথিবীর সমস্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে রয়েছে এদের প্রায় ত্রিশ হাজার প্রজাতি। 

- জলাশয়ে পানির নিচে মাটিতে আবদ্ধ শৈবালকে ‘বেনথিক শৈবাল’ বলা হয়। 
- পাথরের গায়ে জন্মানো শৈবালকে ‘লিথোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- উচ্চশ্রেণির জীবের টিস্যুর অভ্যন্তরে জন্মানো শৈবালকে ‘এন্ডোফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- যে সমস্ত শৈবাল অন্যান্য উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ অথবা অন্য শৈবালের গায়ে জন্মায় তাদের ‘এপিফাইটিক শৈবাল' বলা হয়। 
- সম্পূর্ণ ভাসমান এককোষী শৈবালদেরকে ফাইটোপ্লাঙ্কটন বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৭.
আলোক বর্ণালির কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না? 
  1. লাল 
  2. হলুদ 
  3. কমলা 
  4. বেগুনি 
সঠিক উত্তর:
হলুদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলুদ 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা: 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পানি এবং CO2 থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। 
- সূর্যালোক ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করে। 
- সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO2 পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। 
- কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। 
- আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। 
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। 
- সাধারণত 400 nm থেকে 480 nm এবং 680 nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২৮.
ভাইরাসের গঠনগত প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. সাইটোপ্লাজ্ম
  2. কোষপ্রাচীর
  3. নিউক্লিক অ্যাসিড
  4. এনজাইম
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিক অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস: 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 

• ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।  যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

• ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৯.
সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
গ) চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চারটি
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হলোঃ
১) ক্লোরোফিল,
২) আলো,
৩) পানি এবং
৪) কার্বন ডাইঅক্সাইড।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩০.
ভাইরাসের নিউক্লিক এসিড হিসেবে থাকে-
  1. DNA এবং RNA
  2. শধুমাত্র DNA
  3. শুধুমাত্র RNA
  4. DNA বা RNA
সঠিক উত্তর:
DNA বা RNA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
DNA বা RNA
ব্যাখ্যা
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।-এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতেপারে।
সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৩১.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. গোল আলু - Solanum melongena
  2. পেঁয়াজ - Allium cepa
  3. পাট - Corchorus capsularis
  4. ধান - Oryza sativa
সঠিক উত্তর:
গোল আলু - Solanum melongena
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোল আলু - Solanum melongena
ব্যাখ্যা
কিছু উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম:
গোল আলু - Solanum tuberosum
বেগুন - Solanum melongena
পেঁয়াজ - Allium cepa
পাট - Corchorus capsularis
ধান - Oryza sativa
শাপলা - Nymphaea nouchali
আম - Mangifera indica
কাঁঠাল - Artocarpus Heterophyllus
জবা - Hibiscus rosa-sinensis

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
৩৩২.
জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা করা হয়- 
  1. Embryology
  2. Entomology
  3. Taxonomy
  4. Endocrinology
সঠিক উত্তর:
Endocrinology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Endocrinology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা: 
- ভৌত জীববিজ্ঞান শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। 
- নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): জীবদেহে হরমোনের (hormone) কার্যকারিতাবিষয়ক আলোচনা এ শাখার বিষয়।

২। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy): জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখার আলোচ্য বিষয়। 

৩। শারীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়। 

৪। হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৫। ভ্রুণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়। 

৬। কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৭।  বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স (Genetics): জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 

৮। বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়। 

৯। বাস্তুবিদ্যা (Ecology): এ শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

১০। অঙ্গসংস্থান (Morphology): জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা এ শাখার আলোচ্য বিষয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃ অঙ্গসংস্থান (External Morphology) এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃ অঙ্গসংস্থান (Internal Morphology) বলা হয়। 

১১। কীটতত্ত্ব (Entomology): কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১২। অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

১৩। জিনপ্রযুক্তি (Genetic Engineering): জিনপ্রযুক্তি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত বিজ্ঞান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩৩.
উদ্ভিদের জন্য নিচের কোনটি বেশি পরিমাণে প্রয়োজন? 
  1. দস্তা (Zn)
  2. নাইট্রোজেন (N)
  3. লৌহ (Fe)
  4. বোরন (B)
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন (N)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন (N)
ব্যাখ্যা
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- 
(ক) ম্যাক্রো উপাদান (Macro nutrient): 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রো উপাদান (Micro nutrient): 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ উদ্ভিদের উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৪.
সবুজ দূর্বাঘাস কিছুদিন ইট দিয়ে ঢাকা রাখলে কী রঙ ধারণ করবে?
  1. ক) সাদা
  2. খ) কালো
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনী
সঠিক উত্তর:
ক) সাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাদা
ব্যাখ্যা
সবুজ দূর্বাঘাস কিছুদিন ইট দিয়ে ঢাকা রাখলে ক্লোরোপ্লাস্ট লিকোপ্লাস্টে পরিণত হয়ে যায় বলে ঘাসের রঙও সাদা হয় তখন।
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩৩৫.
কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. সাইকাস
  2. মটরশুটি
  3. মস
  4. ফার্ণ
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- বর্তমান কালের কোনো জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোনো জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- সাইকাস কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ এটি সাইকাডালস বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে সাইকাডালস বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল। 
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
-  এ বর্গের সাইকাস সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে। 
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাস এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির। 
- এজন্যই সাইকাস সহ বর্তমান কালের সকল সাইকাডালস বর্গের উদ্ভিদকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় কোনটিতে পরিবর্তিত হয়?
  1. ফল
  2. বীজ
  3. ভ্রূণ
  4. সস্য
সঠিক উত্তর:
ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফল
ব্যাখ্যা

- নিষেকক্রিয়ার পর ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিবর্তিত হয়।

• নিষেকক্রিয়া:
 
- আকার, আকৃতি ও প্রকৃতিগত পার্থক্যমন্ডিত একটি পুংগ্যামিট ও স্ত্রীগ্যামিট এর মধ্যকার মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেকক্রিয়া বলা হয়।
- একে নিষেক বা গর্ভাধানও বলে।
- সকল আবৃতবীজী উদ্ভিদ, ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ, টেরিডোফাইটস্, ব্রায়োফাইটস্, শৈবাল প্রভৃতি উদ্ভিদে নিষেক ক্রিয়া ঘটে।
- নিষেক ক্রিয়ার ফলে ডিপ্লয়েড জাইগোট উৎপন্ন হয়।

• বীজ সৃষ্টি:
- গুপ্তবীজী উদ্ভিদ ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয়। নিষেকক্রিয়ার পর ডিম্বক বিভিন্ন ধরনের বিভাজন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বীজে পরিণত হয়।
- জাইগোট বিভাজন ও পরিস্ফুটনের মাধ্যমে একটি ভূণ গঠন করে। একটি ভ্রূণে থাকে বীজপত্র, ভূণকান্ড, ভূণমূল ও সস্য বা এন্ডোস্পার্ম।

• নিষেকক্রিয়ার পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের বিভিন্ন পরিবর্তন:



উৎস: জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৭.
উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে -
  1. নাইট্রোজেন
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৮.
এন্টিবায়োটিকের কাজ-
  1. ক) রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  2. খ) জীবাণু ধ্বংস করা
  3. গ) ভাইরাস ধ্বংস করা
  4. ঘ) দ্রুত রোগ নিরাময় করা
সঠিক উত্তর:
খ) জীবাণু ধ্বংস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবাণু ধ্বংস করা
ব্যাখ্যা
- এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস বা তার বৃদ্ধি রহিত করে।
- এক ধরনের পেনিসিলিয়াম নামক ছত্রাক থেকে তৈরি হয় এন্টিবায়োটিক পেনিসিলিন।
- পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৩৯.
নিচের কোনটি উৎপাদক হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) শেওলা
  3. গ) মানুষ
  4. ঘ) ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
খ) শেওলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেওলা
ব্যাখ্যা
উৎপাদক (Producer) :
• সাধারণত উচ্চতর উদ্ভিদ ও শেওলা জাতীয় সবুজ উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
• এ প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে অক্সিজেন তৈরি হয়, যা জীব পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। এক্ষেত্রে আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং শর্করা খাদ্যে আবদ্ধ থাকে ।
• যে সকল উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটনে সক্ষম তাদেরকে প্রাথমিক উৎপাদক (primary producer) বলে।

খাদক (Consumer) : বাস্তুসংস্থানের পরভোজী জীবগুলিকে খাদক বলা হয়। এরা সবুজ উদ্ভিদ কর্তৃক তৈরিকৃত শর্করা জাতীয় খাদ্যকে নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। খাদক হিসেবে প্রধানত প্রাণিদেরকে বুঝানো হয়ে থাকে, কেননা প্রাণিরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে অক্ষম। ফলে খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল । খাদককে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়ে থাকে, যথা-
প্রথম স্তরের খাদক
দ্বিতীয় স্তরের খাদক
তৃতীয় স্তরের খাদক


উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. লিপিড
  4. প্রোটিন
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা

• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।

- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়।
- এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো।
- উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইস্ট এবং অন্যান্য ফাংগাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।

• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
- আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে।
- বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। 
- এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩৪১.
'সালোকসংশ্লেষণ' জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. Morphology
  2. Physiology
  3. Cytology
  4. Ethnobiology
সঠিক উত্তর:
Physiology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Physiology
ব্যাখ্যা
শারীরবিদ্যা (Physiology) : 
জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ - এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৩৪২.
নিম্নলিখিত কোন ফুলে বায়ু দ্বারা পরাগায়ন হয়?
  1. গোলাপ
  2. ভুট্টা
  3. সূর্যমুখী
  4. জুঁই
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
ব্যাখ্যা

◉ ভুট্টা (Maize) একটি বায়ুপরাগী উদ্ভিদ। এর পুরুষ ফুল (Tassel) বাতাসে পরাগ ছড়িয়ে দেয় এবং স্ত্রী ফুল (Silk) সেই পরাগ গ্রহণ করে।

বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন:
- যে ফুলের পরাগায়ন বায়ুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে তাকে বায়ু পরাগী ফুল বলে এবং এ প্রক্রিয়াকে বায়ু পরাগায়ন বলে।
- বায়ু পরাগী ফুল সাধারণত আকর্ষণহীন হয়। এ সমস্ত ফুল আকারে ছোট, ফলে এদের পরাগরেণু ক্ষুদ্র ও হালকা হয়।
- এদের পরাগরেণু হালকা হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে।
- এ জাতীয় উদ্ভিদের ফুলে অসংখ্য পরাগরেণু সৃষ্টি হয়, কেননা বায়ুর মাধ্যমে পরাগরেণু স্থানান্তরের সময় অনেক পরাগরেণু নষ্ট হয়ে যায়।
- বাতাসে ভেসে আসা পরাগরেণু ধরার জন্য এসকল উদ্ভিদের ফুলের গর্ভমুন্ড পাখির পালকের মত রোমশ হয়।
- পাইনাস, ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু, ঘাস জাতীয় উদ্ভিদে এ প্রক্রিয়ায় পরাগায়ন ঘটে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
গোলাপ, সূর্যমুখী ও জুঁই হচ্ছে পতঙ্গ পরাগী ফুল। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৪৩.
একটি আদর্শ পাতায় কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের  কাণ্ড বা তার শাখা-প্রশাখার পর্ব থেকে পাশের দিকে উৎপন্ন চ্যাপ্টা অঙ্গটি হলো পাতা।
- পাতা সাধারণত চ্যাপ্টা ও সবুজ বর্ণের হয়।
- নিম্ন শ্রেণির উদ্ভিদে পাতা থাকে না।
- তবে ফার্ন ও মস জাতীয় উদ্ভিদে পাতার ন্যায় অঙ্গ থাকে। মসের পাতা প্রকৃত পাতা নয়।

একটি পাতার বিভিন্ন অংশ:

- আদর্শ পাতায় তিনটি অংশ থাকে।
১. পত্রমূল,
২. বৃত্ত ও
৩. ফলক।

আদর্শ পাতার উদাহরণ : আম, জবা ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৩৪৪.
কোন সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুটি উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত করবার কাজে নিয়োজিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) গলজি বস্তু
  4. ঘ) কোষগহবর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাস্টিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লাস্টিড
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড নামক সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুটি উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত করবার কাজে নিয়োজিত। 

সজীব উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে বর্ণহীন অথবা বর্ণযুক্ত গোলাকার বা ডিম্বাকার অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড (Plastid) বলে। একে বর্ণাধারও বলে।

প্লাস্টিডের কাজগুলো হল– 
(i) খাদ্য প্রস্তুত করা।  
(ii) খাদ্য সঞ্চয় করা ।  
(iii) উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

সূত্র- ২৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩৪৫.
কোন প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. শ্বসন
  2. ব্যাপন
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিস্রবণ
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়। 
- দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পাশাপাশি পৃথক থাকলে দ্রাবক অণুর কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে পর্দা অতিক্রম করে প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে। 
- এ প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হবে। 
- অভিস্রবণ একটি ভৌত প্রক্রিয়া, কিন্তু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাজমের নিয়ন্ত্রণে ঘটে বলে এটি একটি জৈব প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। 
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের পানি শোষণ বুঝতে হলে, অভিস্রবণ প্রক্রিয়াটি ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিসমিস ফুলে ওঠে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৬.
কোন অর্গানেলটি পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না?
  1. রাইবোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. পারোক্সিসোম
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে 'রাইবোসোম' পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না।

• রাইবোসোম:
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম।
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার।
- রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই।
- সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে।
- আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়।

• ক্লোরোপ্লাস্ট:
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত।
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের।
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে।
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট।

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন):
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে।
- ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড (glycosyl glyceride) থাকে।
- এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন।
- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু।

• মাইটোকন্ড্রিয়া:
- প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
- এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
- দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু।

• পারোক্সিসোম:
- পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে।
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়।
- এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার।
- এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে।
- এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়।
- ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন।
- পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৭.
জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক টিকা নিচের কোনটি থেকে তৈরি করা হয়?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৪৮.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়?
  1. গেওয়া
  2. গরান
  3. গজারি
  4. সুন্দরী
সঠিক উত্তর:
গজারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গজারি
ব্যাখ্যা
- ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
সুন্দরবনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- গজারী বা শাল হলো পত্রপতনশীল বৃক্ষ।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
৩৪৯.
নিচের কোনটি রিট্রোভাইরাস?
  1. হার্পিস ভাইরাস
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  3. করোনা ভাইরাস
  4. হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
পোষক দেহে কীভাবে সংক্রমণ ও বংশবৃদ্ধি হয় তার ওপর ভিত্তি করে ভাইরাসকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যেমন- সাধারণ ভাইরাস ও রিট্রোভাইরাস।

HIV একটি রিট্রোভাইরাস।
এখানে ভাইরাল RNA থেকে DNA তৈরি হয়।


সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

 
৩৫০.
ভিটামিন-বি তৈরি করতে পারে -
  1. Agaricus
  2. E. Coli
  3. Spirogyra
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
E. Coli
উত্তর
সঠিক উত্তর:
E. Coli
ব্যাখ্যা
ভিটামিন তৈরিতে- মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter, Aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন ‘বি’, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫১.
নিম্নের কোনটি ফুলের প্রজনন অঙ্গ হিসেবে সরাসরি কাজ করে? 
  1. দল ও বৃন্ত
  2. পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
  3. দল ও বৃতি
  4. বৃন্ত ও পুষ্পাধার
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক
ব্যাখ্যা

প্রজনন অঙ্গ: ফুল 
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। 
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। 
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। 
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। 
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫২.
Photosynthesis takes place in-
  1. ক) Roots of the plants
  2. খ) Stems of the plants
  3. গ) Green parts of the plants
  4. ঘ) All parts of the plants
সঠিক উত্তর:
গ) Green parts of the plants
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Green parts of the plants
ব্যাখ্যা
Photosynthesis takes place inside plant cells in small things called chloroplasts. Chloroplasts (mostly found in the mesophyll layer) contain a green substance called chlorophyll. Photosynthesis takes place in green parts of the plants.
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩৫৩.
কোনটি স্বাভাবিক অঙ্গজ জননের সাহায্যে বংশবিস্তার করে?
  1. লেবু
  2. জবা
  3. পুদিনা
  4. পটল
সঠিক উত্তর:
পটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটল
ব্যাখ্যা
দেহ অঙ্গের মাধ্যমে জনন:
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমে অযৌন জনন ঘটে। এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও বলা হয়। 
- এটি দুই ভাবে হতে পারে।
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন।

 স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন:
- স্বাভাবিক অঙ্গজ জননে কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি।
 

- কতিপয় উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওল কচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যথা- পাঁথরকুচি।

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন:
- শাখা কলম: কতিপয় উদ্ভিদের শাখা কেটে ভেজা মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
যেমন- গোলাপ, চাঁপা, জবা ইত্যাদি ।

- গুটি কলম: অনেক উদ্ভিদের শাখার চারপাশের বাকল ছাড়িয়ে নিয়ে তার চারদিকে সার ও গোবর মাটির প্রলেপ দিয়ে তার উপরে খড় বা চটের বস্তা বেঁধে রাখলে, উক্ত স্থানে শিকড় গজায়, তখন শিকড়সহ শাখাটি থেকে আলাদা করে অন্যত্র রোপন করা হয়।
যেমন- গোলাপ, আম, লেবু, লিচু ইত্যাদি। 

- দাবা কলম: এক্ষেত্রে গাছের একটি শাখাকে মাটির সাথে আবদ্ধ করে প্রত্যেক দিন উক্ত স্থানে পানি দেয়া হয়। কয়েক দিনের মধ্যে মাটিতে আবদ্ধ শাখার পর্ব থেকে মূল গজায়। পরে মূলসহ শাখাটিকে কেটে অন্যত্র রোপন করা হয়।
যেমন- চন্দ্রমল্লিকা, পুদিনা, লেবু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
নিচের কোন উদ্ভিদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে?
  1. ধান
  2. সরিষা
  3. পাইনাস
  4. ইস্ট
সঠিক উত্তর:
পাইনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাইনাস
ব্যাখ্যা
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে কোনো গর্ভাশয় থাকে না, কিন্তু ডিম্বক থাকে। ফলস্বরূপ নিষেকের পরে ডিম্বক বীজে পরিণত হলেও গর্ভাশয় না থাকায় কোনো ফল তৈরি হয় না। এজন্য এদের বীজ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। সাইকাস, পাইনাস, থুজা হলো এ ধরনের উদ্ভিদ। 
- ধান, সরিষা হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ। এদের বীজ ফলের ভিতরে থাকে। 
- ইস্ট এক ধরনের ছত্রাক। এদের কোনো বীজ তৈরি হয় না। এরা স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৩৫৫.
টিস্যু কালচারের সুবিধা কোনটি?
  1. ক) রোগমুক্ত চারা উৎপাদন
  2. খ) বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির সংরক্ষণ
  3. গ) স্বল্প সময়ে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
টিস্যু কালচার : টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার সুবিধাগুলো হলো-
১। একটি উদ্ভিদ বা উদ্ভিদাংশ হতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়।
২। যে সমস্ত উদ্ভিদ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে না, তাদের চারাপ্রাপ্তি ও অল্প খরচে সতেজ অবস্থায় স্থানান্তর করা যায়।
৩। সহজে রোগমুক্ত, বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব।
৪। ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত থাকা যায়।
৫। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে টিস্যু কালচার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত এবং
৬। সঠিক বীজ সংগ্রহ ও মজুদ করার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
উদ্ভিজ্জ আমিষ কোনটি?
  1. মাছ
  2. মাংস
  3. মটরশুঁটি
  4. ডিম
সঠিক উত্তর:
মটরশুঁটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মটরশুঁটি
ব্যাখ্যা
উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের৷
প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ৷
প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩৫৭.
নিচের কোনটি RNA ভাইরাস?
  1. HIV
  2. TMV
  3. র‍্যাবিস
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩৫৮.
বায়ুমণ্ডলের কোন উপাদান উদ্ভিদ ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. আর্গন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এবং গাছকে সবুজ ও সতেজ করতে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলাদেশের কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হচ্ছে ইউরিয়া। 
- সার ছাড়া বায়ু থেকে নাইট্রোজেন পাওয়া যায়। 
- বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ - ৭৮.০২%। 
- বায়ু থেকে নাইট্রোজেন মাটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে নাইট্রোজেন চক্র বলে। 
- নাইট্রোজেন চক্র এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে নাইট্রোজেন বিভিন্নভাবে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৯.
নিচের কোনটি ভূ-গর্ভস্থ মূল?
  1. শালগম
  2. আলু
  3. পেঁয়াজ
  4. আদা
সঠিক উত্তর:
শালগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শালগম
ব্যাখ্যা
• প্রধান মূলের রূপান্তর:
- মূল কখনো কখনো বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে।
- মুলা, গাজর ও শালগম আমরা সবাই দেখেছি এবং খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছি।
-  শালগম, গাজর, মূলা রূপান্তারিত মূল এর উদাহরণ।

• ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড: 
- প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, খাদ্য সঞ্চয় এবং অঙ্গোজ উপায়ে বংশবিস্তার করার জন্য কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির নিচে বৃদ্ধি পায়।
- এ ধরনের কাণ্ডকে  ভূ-নিম্মস্থ রূপান্তরিত কান্ড বলে।
- আদা, হলুদ, পেঁয়াজ, থানকুনি, দুর্বাঘাস, আমরুল প্রভৃতি উদ্ভিদের রূপান্তরিত  কাণ্ড।

উৎস: সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
৩৬০.
পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহন করে -
  1. স্ক্লেরাইড
  2. ভেসেল
  3. জাইলেম
  4. ফ্লোয়েম
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা
- ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবহন করে।
- জাইলেম খাদ্যের কাঁচামাল পানি সরবরাহ করে উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে।‌ 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬১.
আলু বংশবৃদ্ধি করে -
  1. স্টোলনের মাধ্যমে
  2. বাল্বের মাধ্যমে
  3. টিউবারের মাধ্যমে
  4. রাইজোমের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
টিউবারের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিউবারের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক অঙ্গজ প্রজনন:

• টিউবার - কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে।
যেমন - আলু।


• স্টোলন - কিছু কিছু উদ্ভিদের শাখা কান্ড জননের জন্য পরিবর্তিত হয়। এদের স্টোলন বলে। স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়।
যেমন - কচু, পুদিনা।

• বাল্ব - এরা অতিক্ষুদ্র কান্ড। এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
যেমন - পেঁয়াজ, রসুন।

• রাইজোম - এরা মাটির নিচে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। পর্বসন্ধিতে শল্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। অনুকূল পরিবেশে মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।
যেমন - আদা।

• অফসেট - জলজ উদ্ভিদের শাখাকান্ড বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।
যেমন - কচুরিপানা।

• বুলবিল - কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথ না হয়ে একটি পিন্ডের আকার ধারণ করে। এদের বুলবিল বলে। এসব বুলবিল পরবর্তীতে মাটিতে খসে পড়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
যেমন -  চুপড়ি আলু। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
৩৬২.
পোকা নিধনে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) ইথিলিন
  2. খ) ফেরোমন
  3. গ) অক্সিন
  4. ঘ) ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
খ) ফেরোমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফেরোমন
ব্যাখ্যা
- হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে।
- হরমোন দেহের নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ আবার স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
- সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। যেমন- পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে। একে ফেরোমন  বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে।
- এ কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে দেখা যায়। কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়।
- শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়।
- ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা যায়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব।

সূত্র: ১৩৩ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৩.
হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. মাইক্রোপ্রোপাইগেশন
  2. পার্থেনোকার্পি
  3. গর্ভাধান
  4. সিনগ্যামি
সঠিক উত্তর:
পার্থেনোকার্পি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্থেনোকার্পি
ব্যাখ্যা
পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বা অপুংজনি:
- উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদে সাধারণত ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণুর মিলন তথা নিষেকের ফলে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিম্বাণু নিষিক্ত না হয়ে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টি করে থকে।
- যে প্রজনন প্রক্রিয়ায় ডিম্বাণুটি নিষেক ছাড়াই ভ্রূণ সৃষ্টি করে এবং ডিম্বক স্বাভাবিক বীজে পরিণত হয় তাকে পার্থেনোজেনেসিস বা অপুংজনি বলে।

• পার্থেনোকার্পি: 
হরমোন প্রয়োগে বীজহীন ফল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি (parthenocarny) বলে।
 উদাহরণ- লেবু, কমলালেবু প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• অতি ক্ষুদ্র একটু টিস্যু থেকে অসংখ্য চারা সৃষ্টি করার পদ্ধতি কে বলা হয় মাইক্রোপ্রোপাগেইশন।

• পরাগনালিকা হতে ভ্রূণথলিতে  নিক্ষিপ্ত দুটি পুংগ্যামিটের মধ্যে একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত ও একীভূত হয়ে যায় অর্থাৎ নিষেকক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ প্রকার মিলনকে সিনগ্যামি (syngamy) বলে। 

• অপেক্ষাকৃত বড় ও নিশ্চল স্ত্রীগ্যামিটের (ডিম্বাণুর) সাথে ছোট ও সচল পুংগ্যামিটের শুক্রাণুর) যৌন মিলনকে ফার্টিলাইজেশন (fertilization) তথা নিষেকক্রিয়া, নিষেক বা গর্ভাধান বলে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩৬৪.
ক্যালভিন চক্রে CO2 গ্রহিতা কোনটি?
  1. ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড
  2. ৩-ফসফোগ্লিসার‍্যাল্ডিহাইড
  3. রাইবুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
  4. জাইলুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
সঠিক উত্তর:
রাইবুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবুলোজ ১,৫- বিসফসফেট
ব্যাখ্যা
• ক্যালভিন চক্রে CO2 গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট।

• C3 উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয় এবং প্রথম উৎপন্ন স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাদের C3 উদ্ভিদ বলে।

• C3 প্রক্রিয়ার নামকরণ করা হয়েছে এর আবিষ্কারক বিজ্ঞানী মেলভিন কেলভিনের নামানুসারে।
- C3 উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র-এর প্রথম ধাপে রুবিসকো (RuBisCO) এনজাইম বায়ুমণ্ডলীয় CO2 কে রাইবুলোজ-১, ৫-বিসফসফেট (RuBP)-এর সাথে যুক্ত করে ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড তৈরি করে।
- কাজেই ক্যালভিন চক্রে CO2 এর গ্রহিতা হলো রাইবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট।
- ৬-কার্বন বিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো এসিড এক অণু H2O গ্রহন করে দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড উৎপন্ন করে।
- ২, ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ।
- বেশিরভাগ উদ্ভিদে C3 চক্র ঘটে থাকে, তাই এদের C3 উদ্ভিদ বলা হয়।

• C3 চক্রের কার্যাবলী:

- কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ: C3 উদ্ভিদের পাতার স্টোমাটা (stomata) দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করা হয়।
- কার্বন ফিক্সেশন: RuBisCO এনজাইম কার্বন ডাই অক্সাইডকে RuBP-এর সাথে যুক্ত করে একটি C3 যৌগ (৩-ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড) তৈরি করে।
- শর্করা তৈরি: C3 যৌগটি বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অবশেষে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
৩৬৫.
কোনটি গুচ্ছ ফলের উদাহরণ?
  1. আনারস
  2. কাঁঠাল
  3. কলা
  4. শরীফা
সঠিক উত্তর:
শরীফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীফা
ব্যাখ্যা

- একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে। যেমন- চম্পা, নয়নতারা, আকন্দ, আতা, শরীফা ইত্যাদি।
- আনারস, কাঁঠাল হলো যৌগিক ফলের উদাহরণ।
- আম, জাম, কলা, শিম ইত্যাদি হলো সরল ফল।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

৩৬৬.
নিচের কোনটি অপুষ্পক উদ্ভিদ নয়?
  1. ক) ব্যাঙের ছাতা
  2. খ) নষ্টক
  3. গ) ক্লোরেলা
  4. ঘ) শিমুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিমুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিমুল
ব্যাখ্যা
শিমুল অপুষ্পক উদ্ভিদ নয়।
- শিমুল সপুষ্পক উদ্ভিদ।

• অপুষ্পক উদ্ভিদ: যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল ও ফল হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়।
যেমন- ক্লোরেলা, নস্টক, শৈবাল, ছত্রাক, মস, ফার্ন ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৬৭.
উদ্ভিদের কিসের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রস্বেদন হয়?
  1. ক) পত্ররন্ধ্র
  2. খ) কিউটিকল
  3. গ) লেন্টিসেল
  4. ঘ) মুলো রুম
সঠিক উত্তর:
ক) পত্ররন্ধ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পত্ররন্ধ্র
ব্যাখ্যা
পত্ররন্দ্রীয় প্রস্বেদন (stromatal transpiration): পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে। এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stoma, বহুবচন stomata) বলে। কোনাে উদ্ভিদের মােট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৮.
উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য কোন খনিজ উপাদান অপরিহার্য? 
  1. আয়রন 
  2. পটাশিয়াম 
  3. ফসফরাস
  4. নাইট্রোজেন 
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকার কথা নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাঁধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

২। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৩। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

৫। আয়রন: 
- আয়রন সাইটোক্রোমের সাংগঠনিক উপাদান, কাজেই বায়বীয় শ্বসন এর উপর নির্ভরশীল। 
- ক্লোরোফিল সৃষ্টিতেও আয়রনের ভূমিকা অপরিসীম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৯.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কোন অংশে বেশি ক্লোরোসিস দেখা যায়? 
  1. কাণ্ড 
  2. মূল 
  3. বয়োবৃদ্ধ পাতা
  4. কচি পাতা 
সঠিক উত্তর:
কচি পাতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কচি পাতা 
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭০.
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে
  2. ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে অক্ষম
  3. ভাইরাসে মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে
  4. এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে না 
সঠিক উত্তর:
পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের বেশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭১.
পাটের আঁশ ছাড়াতে কোন ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
  1. Clostridium
  2. Rhizobium
  3. Escherichia coli
  4. Corynebacterium
সঠিক উত্তর:
Clostridium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Clostridium
ব্যাখ্যা
• পাট শিল্পে ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়াজনিত পঁচন ক্রিয়ার ফলেই পাটের কান্ড থেকে আঁশগুলো পৃথক হয়।
- ফলে আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি।
- এক্ষেত্রে Clostridium ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়াও, 
- মানুষের অস্ত্রে বসবাসকারী Escherichia coli, Aerobacter aerogenes এবং অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াগুলো ভিটামিন 'বি', থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিকোটিনিক অ্যাসিড, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, বায়োটিন, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন-কে ইত্যাদি প্রস্তুত ও সরবরাহ করে থাকে।
- Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে নাইট্রোজেন যৌগ পদার্থ হিসেবে স্থাপন করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
- ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রস্তুত করা হয়। ডি.পি.টি. রোগের প্রতিষেধকও ব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত করা হয়। যেমন- Corynebacterium diptheriae (D), Bordetalla pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T) এ তিনটি শব্দের সমন্বয়ে DPT নামকরণ করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭২.
ক্যারিওকাইনেসিস বলতে মূলত কোনটির বিভাজনকে বোঝায়?
  1. ক) নিউক্লিয়াসের
  2. খ) সাইটোপ্লাজমের
  3. গ) রাইবোজোমের
  4. ঘ) মাইটোকন্ড্রিয়ার
সঠিক উত্তর:
ক) নিউক্লিয়াসের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিউক্লিয়াসের
ব্যাখ্যা

ক্যারিওকাইনেসিস বলতে মূলত নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে বলা হয় মাইটোসিসে ক্যারিওকাইনেসিস পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়
ধাপগুলাে-
১. প্রােফেজ,
২. প্রাে-মেটাফেজ,
৩. মেটাফেজ,
৪. অ্যানাফেজ ও
৫. টেলােফেজ।
সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে মূলত সাইটোকাইনেসিস বলে। নিউক্লিয়াসের বিভাজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে টেলােফেজ দশাতেই সাইটোকাইনেসিস শুরু হয়।

৩৭৩.
শৈবাল কোন জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. ক) মৃতজীবী
  2. খ) স্বভোজী
  3. গ) পরভোজী
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) স্বভোজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বভোজী
ব্যাখ্যা
শৈবালের বৈশিষ্ট্য : শৈবালে নিম্ন লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায়
১। এরা সবাই অপুষ্পক।
২। এরা স্বভোজী অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেরা নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে।
৩। এরা প্রকৃতকোষী, এককোষী অথবা বহুকোষী হয়। এরা সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদ অর্থাৎ এদেরকে মূল, কান্ড এবং পাতায় বিভক্ত করা যায় না।
৪। এদের দেহে ভাস্কুলার টিস্যু (পরিবহন টিস্যু) থাকে না।
৫। অধিকাংশ শৈবালের জননাঙ্গ এককোষী।
৬। এদের রেণুথলী (স্পোরাঞ্জিয়া) সব সময় এককোষী।
৭। এদের জাইগোট স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় কখনও বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না।
৮। এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত।
৯। গ্যামিটের মিলনের পরেও এদের বহুকোষী ভ্রূণ গঠিত হয় না।
১০। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এদের সঞ্চিত খাদ্য শর্করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৭৪.
নিচের কোনটি সালোকসংশ্লেষণের বাহ্যিক প্রভাবক নয়?
  1. ক) আলো
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) তাপমাত্রা
  4. ঘ) পাতার সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতার সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতার সংখ্যা
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের অভ্যন্তরীণ প্রভাবকসমূহ-
- ক্লোরোফিল,
- পাতার বয়স এবং সংখ্যা,
- শর্করার পরিমাণ,
- পটাশিয়াম,
- এনজাইম।

সালোকসংশ্লেষণে বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ-
- আলো,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- তাপমাত্রা,
- অক্সিজেন,
- পানি ইত্যাদি।

সালোকসংশ্লেষণ হচ্ছে সবুজ উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া। গ্রিক শব্দ photos (অর্থ: আলোক; এখানে সূর্যালোক) ও synthesis (অর্থ: সংশ্লেষণ, বা তৈরি করা) এর সমন্বয়ে এই শব্দটি গঠিত হয়েছে।
ক্লোরোফিল হচ্ছে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের সবুজ অংশ, বিশেষ করে পাতাতেই ক্লোরোফিল উপস্থিত থাকে। কান্ড বা মূল এসবে ক্লোরোফিল থাকে না। তাই সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদের পাতায় সম্পন্ন হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৩৭৫.
ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Oryza sativa
  2. Nymphaea nouchali
  3. Nipa fruticans
  4. Bufo melanostictus
সঠিক উত্তর:
Oryza sativa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oryza sativa
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণ:
- দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature)- এর নীতিমালা অনুযায়ী।
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens.
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis.
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল)-এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris.
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica.
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis.
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus.
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha.
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa.
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali.

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩৭৬.
ম্যান্ডেলের ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্রানুযায়ী ফিনোটাইপের অনুপাত কত?
  1. ৯:৩:৩:১
  2. ৩:১
  3. ১:২:১
  4. ৭:৫:৩:১
সঠিক উত্তর:
৯:৩:৩:১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯:৩:৩:১
ব্যাখ্যা
জিনোটাইপ (Genotype): 
- জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে। যেমন: লম্বা হওয়ার জিন, খাটো হওয়ার জিন।
- জিনোটাইপ বাহ্যিক ভাবে দেখা যায় না।

ফিনোটাইপ (Phenotype): 
- জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। যেমন: লম্বা, সুন্দর, খাটো, কালো।
- ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ। 

মেন্ডেলের সূত্র: 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩ : ১ এবং জিনোটাইপের অনুপাত ১ : ২ : .১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ফিনোটাইপের অনুপাত ৯:৩:৩:১ ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৭.
কোনটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় ম্যাক্রো খনিজ পুষ্টি উপাদান?
  1. দস্তা
  2. লৌহ
  3. সালফার
  4. কপার
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৮.
রাতের বেলা উদ্ভিদে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় না? 
  1. H
  2. O2
  3. N
  4. CO
সঠিক উত্তর:
O2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
O2
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে গ্যাসীয় বিনিময়: 
- উদ্ভিদের জীবনে সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) এবং শ্বসন (Respiration) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রক্রিয়া। 
- মূলত এই দুটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে থাকে, এই প্রক্রিয়া দুটি ঘটে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। 
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য বায়ু থেকে CO2 গ্রহণ করে এবং O2 ত্যাগ করে, অন্যদিকে শ্বসন প্রক্রিয়ায় জন্য O2 গ্রহণ করে এবং CO2 ত্যাগ করে। 
- উদ্ভিদে প্রাণীর মতো শ্বাস নেওয়ার জন্য কোনো বিশেষ অঙ্গ নেই, তবে পাতার স্টোমাটা ও পরিণত কাণ্ডের বাকলে অবস্থিত লেন্টিসেলের (Lenticel) মাধ্যমে অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় ঘটে। 
- দিনের বেলা বা পর্যাপ্ত আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণের হার অধিক হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত অক্সিজেন গ্যাসের কিছু অংশ শ্বসন প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়। 
- আবার শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহার হয়, তাই আদান-প্রদানকৃত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের পরিমাণ প্রায় সমান।

- রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আলোক পর্যায় বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- অন্যদিকে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়, ফলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উৎপাদন চলতে থাকে। এ জন্য বড় গাছের নিচে রাত্রিবেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। 
- উদ্ভিদ তার পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহ করে। 
- উদ্ভিদের পাতা যেরকম বাতাস থেকে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস সংগ্রহ করে, তেমনি মূল মাটি থেকে পানি শোষণ করে। 
- শোষিত সেই পানির সাথে CO2 এর বিক্রিয়ার ফলে O2 গ্যাস উৎপাদন হয়, যা বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এভাবে উদ্ভিদদেহে গ্যাস বিনিময় চলতে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭৯.
নিচের কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ?
  1. যক্ষ্মা
  2. ডেঙ্গু
  3. কলেরা
  4. প্লেগ
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস ল্যাটিন ভাষা হতে গৃহীত একটি শব্দ।
- এর অর্থ হল বিষ।
- ভাইরাস বলতে এক প্রকার অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক অকোষীয় রোগ সৃষ্টিকারী বস্তুকে বোঝায়।
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: এইডস, জন্ডিস, কোভিড - ১৯, হার্পিস, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু জ্বর, ইবোলা ইত্যাদি।

• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- উপসর্গগুলির মাঝে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি।
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকা(Platelet) এর মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনোবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অপরদিকে,
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং ব্রিটানিকা।
৩৮০.
দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ কোনটি?
  1. ক) ভুট্টা
  2. খ) আলু
  3. গ) তামাক
  4. ঘ) আউশ ধান
সঠিক উত্তর:
ক) ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভুট্টা
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-

১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়।
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮১.
উদ্ভিদের ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. বোরন
  2. ক্লোরিন
  3. ম্যাঙ্গানিজ
  4. মোলিবডেনাম
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
যেমন: 

ম্যাঙ্গানিজ: 
- ক্লোরোপ্লাস্ট গঠন ও সংরক্ষণের জন্য ম্যাংগানিজ প্রয়োজন। 

কপার: 
- টমেটো, সূর্যমুখী উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য কপার বা তামার প্রয়োজন, শ্বসন প্রক্রিয়ার উপরও কপারের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। 

বোরন: 
- উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন, চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। 

মোলিবডেনাম: 
- অণুজীব দিয়ে বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য মোলিবডেনাম আবশ্যক। 

ক্লোরিন: 
- সুপারবিট এর মূল এবং কান্ডের বৃদ্ধির জন্য ক্লোরিন প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮২.
লিউকোপ্লাস্ট কোথায় পাওয়া যায়?
  1. মূলে
  2. ভ্রূণে
  3. জনন কোষে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট, 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং 
৩। লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৩.
বর্ণহীন প্লাস্টিড কোনটি?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. লিউকোপ্লাস্ট
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. ক্রোমাটোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
লিউকোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউকোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- সাইটোপ্লাজমের মধ্যে যে সকল ক্ষুদ্র, দানাদার বিভিন্ন আকারের বস্তু দেখা যায় তাদেরকে বলা হয় প্লাস্টিড। 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য, এর উপস্থিতির কারণে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফলের বর্ণ বৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- প্লাস্টিড খাদ্য প্রস্তুত করে, খাদ্য সঞ্চয় করে, পরাগায়নে সাহায্য করে এবং ক্লোরোপ্লাস্টের প্রয়োজনে প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত তিন প্রকার প্লাস্টিড থাকে। 
যথা- 
১। ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- সবুজ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ যেমন- লাল, হলুদ ইত্যাদি বহনকারী প্লাস্টিডকে ক্রোমোপ্লাস্ট বলা হয়। 
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল বেশি পরিমাণে এবং ক্লোরোফিল অল্প পরিমাণে থাকে। 
- ফুলের পাপড়িতে ও ফলে ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে, এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পতঙ্গ ও পাখি পরাগায়নে এবং বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 

২। ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণ কণিকা থাকে, এজন্য পাতা ও কচি শাখা প্রশাখা সবুজ দেখায়। 
- এতে ক্লোরোফিল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণ কণিকাও অল্প পরিমাণে থাকে। 
যেমন- হলুদ বর্ণ কণিকা জ্যান্থোফিল ও কমলা বর্ণ কণিকা ক্যারোটিন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট বিভিন্ন আকৃতির হয়, তবে বড় বড় উদ্ভিদে সাধারণত লেন্স আকৃতির হয়। 
- এটি প্রধানত সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট: 
- বর্ণহীন প্লাস্টিড হচ্ছে লিউকোপ্লাস্ট। 
- মাটির নিচের অংশ তথা- রাইজোম, ভূ-নিম্নস্থ কান্ড, মূল প্রভৃতিতে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। 
- এটি খাদ্য সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
'রুপান্তরিত' পাতার উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) নারিকেল পাতা
  2. খ) শল্কপত্র
  3. গ) জবা পাতা
  4. ঘ) গোল পাতা
সঠিক উত্তর:
খ) শল্কপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শল্কপত্র
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত পাতাঃ বিশেষ কাজ সমাধা করার জন্য পাতার রূপ পরিবর্তিত হয়।
ক) আকর্ষী: পাতার শীর্ষভাগ অথবা পত্রক অনেক সময় প্যাচানো স্প্রিং এর ন্যায় রূপ ধারন করে। এগুলো আকর্ষি। এর সাহায্যে গাছ কোন কিছু আকড়ে ধরতে পারে। জংলী মটর গাছে এ ধরনের আকর্ষি দেখা যায়।
খ) খাদ্য সঞ্চয়: পেঁয়াজ, রসুন বা ঘৃতকুমারী গাছের পাতা পুরুও রসালো হয়। এসব পাতায় খাদ্য জমা থাকে।
গ) পতঙ্গ ফাঁদ: কলসী উদ্ভিদ এক ধরণের লতানো গাছ ও ঝাঁঝি নামক জলজ উদ্ভিদের পাতা রূপান্তরিত হয়ে কলসি বা থলের ন্যায় রূপ ধারণ করে। এর মধ্যে পোকামাকড় ঢুকলে কলসির ঢাকনাটি বন্ধ হয়ে যায় পরে গাছ তার দেহ থেকে রস শুষে নেয়।
ঘ) প্রজনন: কোন কোন উদ্ভিদে পাতার কিনারা থেকে কুঁড়ি গজায়। ধীরে ধীরে এসব কুঁড়ি থেকে নিচের দিকে গুচ্ছ মূল ও গজায়। কোন এক সময় এরা মুক্ত হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন-পাথরকুঁচি।
ঙ) কণ্টক পত্র: পাতা কখনও কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, যথা- লেবু।
চ) শল্কপত্র: কখনও ভূ-নিম্নস্থ কাণ্ডের পাতা পাতলা আঁশ এর ন্যায় আকার ধারণ করে। যেমন- আলু, আদা, হলুদ ইত্যাদি। এরাই শল্কপত্র। রসালো শল্কপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে এবং কাক্ষিক মুকুলকে রক্ষা করে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩৮৫.
সুন্দরবনে কয় প্রকারের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ পাওয়া যায়?
  1. ক) ২৭ প্রজাতির
  2. খ) ৩০ প্রজাতির
  3. গ) ৩৫ প্রজাতির
  4. ঘ) ৩৭ প্রজাতির
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৫ প্রজাতির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৫ প্রজাতির
ব্যাখ্যা
‘সুন্দরবন’ বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
সুন্দরবনে মোট ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে যার মধ্য ৩৫টি প্রজাতি হলো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের।
সুন্দরবনের প্রধান উদ্ভিদ হলো সুন্দরী ও গেওয়া।
এছাড়া অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে:
- গরান
- কেওড়া
- ধুন্দল
- বাইন
- গোলপাতা
- ওড়া
- পশুর প্রভৃতি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৩৮৬.
জুটন কী?
  1. ক) পাট থেকে তৈরি ঢেউটিন
  2. খ) পাট থেকে তৈরি পলিথিন
  3. গ) পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র
  4. ঘ) পাটের ফাইবার থেকে তৈরি বোতল
সঠিক উত্তর:
গ) পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র
ব্যাখ্যা
জুটন: 
- জুটন হচ্ছে পাট ও তুলার সংমিশ্রণে তৈরি বস্ত্র।
- এর আবিষ্কারক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ।
- এখানে পাট ও সুতার অনুপাত ৭০ : ৩০।
- এ প্রক্রিয়ায় তুলার আঁশের তৈরি বস্ত্রের বিকল্প হিসেবে এক ধরনের নতুন বস্ত্র উদ্ভাবনের জন্য পাট ও তুলার আঁশ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশানো হয়।

জুটিন:

- পাট থেকে ঢেউটিনের আবিষ্কার করেন ড. মোবারক আহমেদ খান।
- পাট (Jute) দিয়ে তৈরী বলে এ টিনের নাম জুটিন (Jutin).
- তাঁর অন্যান্য আবিষ্কারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সোনালি ব্যাগ, হেলমেট ও টাইলস।
- তাঁর তৈরি সোনালি ব্যাগ বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং প্রথম আলো পত্রিকা।
৩৮৭.
কোন ধরনের ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়?
  1. ফায ভাইরাস
  2. রোটা ভাইরাস
  3. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
  4. হেপাটাইটিস ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ফায ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফায ভাইরাস
ব্যাখ্যা

- ফায ভাইরাস, ব্যাকটেরিওফায (bacteriophage) নামে পরিচিত, এটি এক ধরনের ভাইরাস যা বিশেষভাবে ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং মেরে ফেলে। কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যেমন- কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় ইত্যাদির ওষুধ তৈরিতে এই ফায ভাইরাস বা ব্যাকটেরিওফায ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়াটিকে ফায থেরাপি (phage therapy) বলা হয় এবং এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি। 

ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যেমন- 
• বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
• ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশলে বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
• ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
• কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হচ্ছে। 
• জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
• লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৮.
কোনটির কারণে মরিচ ঝাল লাগে?
  1. ক) ভিটামিন কে
  2. খ) ক্যাপসিসিন
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) চিলিক্যাল
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাপসিসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাপসিসিন
ব্যাখ্যা
ক্যাপসিসিনের কারণে মরিচে ঝাল লাগে। ক্যাপসিসিন গন্ধহীন একধরনের অ্যালকালয়েড। যে মরিচে যত বেশি ক্যাপসিসিন থাকে সে মরিচ তত বেশি ঝাল।
৩৮৯.
ফাইটোহরমোনের মধ্যে কোনটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে? 
  1. সালফার
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. অক্সিন
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অপশনের মধ্যে 'অক্সিন' ই একমাত্র ফাইটোহরমোন, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে। 

ফাইটোহরমোন: 

- উদ্ভিদদেহে উৎপাদিত হয় এক বিশেষ ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ। এর প্রভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে এবং বিভিন্ন অঙ্গের সৃষ্টি হয়। 
- জৈব পদার্থটি উদ্ভিদের সকল কাজকেই নিয়ন্ত্রণ করে, এ পদার্থকে হরমোন বা প্রাণরস বলা হয়। 
- এ হরমোনটি উদ্ভিদদেহে তৈরি হয় ও অবস্থান করে বিধায় একে ফাইটোহরমোন বলা হয়। 
- একে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক রাসায়নিক বস্তুও বলা হয়। 
- অধিকাংশ বিজ্ঞানীদের মতে এগুলো উদ্ভিদের কোষে উৎপাদিত হয়ে উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কলাসমূহের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে সক্ষম। 
- এরা কোন পুষ্টি দ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্র মাত্রায় উৎপন্ন হয়ে কোষের ভিন্নতা সৃষ্টি ও দেহের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। 
- উদ্ভিদে যে সব ফাইটোহরমোন পাওয়া যায় সেগুলো হলো- অক্সিন, জিবেরেলিন, সাইটোকাইনিন, অ্যাবসিসিক অ্যাসিড এবং ইথিলিন। 
- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এদেরকে পস্টুলেটেড হরমোন (Postulated hormone) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯০.
নিচের কোনটি ভাইরাসের গঠন উপাদান?
  1. লিপিড
  2. প্রোটিন
  3. ফ্লাজেলা
  4. পলিস্যাকারাইড
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। সাধারণ ভাবে ভাইরাসের গঠন নিম্নরূপ-
প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রোটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড।
ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রোটিন আবরণটি হলো ক্যাপসিড। এ প্রোটিন আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার (capsomere) বলে। এ ক্যাপসোমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের। কোনো কোনো প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপোপ্রোটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলোমার (pelpomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপোভাইরাস (lipovirus) বলে।
নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড। নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা- DNA (ডি অক্সি-রাইবো নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
৩৯১.
ধানের পাতা ধ্বসা রোগের জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) পোকা
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে গাছের কিছু কিছু অংশ খুব দ্রুত বিবর্ণ হয়। ফলে রোগাক্রান্ত গাছগুলো মরে যায়।
অনেক সময় মৃত অংশ পঁচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। একে ব্লাইট বা মড়ক বলা হয়।
যেমন- ধানের পাতা ধ্বসা রোগ। এর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো- Xanthomonas oryzae
৩৯২.
সূর্যের প্রখর উত্তাপে গরম হয় না কোনটি?
  1. ক) গাছের পাতা
  2. খ) বায়ুমন্ডল
  3. গ) ফল
  4. ঘ) মাটি
সঠিক উত্তর:
ক) গাছের পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাছের পাতা
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদকোষ থেকে বাষ্পাকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রণালীকে বলে প্রস্বেদন। 
-প্রস্বেদনের জন্য সূর্যের প্রখর উত্তাপেও গাছের পাতা গরম হয় না।
শীত বা গ্রীষ্মের পূর্বে প্রস্বেদন কমাতে গাছের পাতা ঝরে যায়।
প্রস্বেদন ৩ প্রকার। যথা- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩৯৩.
ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক
  2. গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র
  3. এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে
  4. দের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা:
- কিছু কিছু উদ্ভিদের ফুল হয় না। এদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়।
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ।

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য:
১) এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী।
২) গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র।
৩) এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত।
৪) দেহে মূল সৃষ্টি হয় না। মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়।
৫) এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না ।
৬) জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়।
৭) এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের। অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে।
৮) জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে।
৯) এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল।

তথ্যসূত্র - উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৪.
নিচের কোন উদ্ভিদের পাতার পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়? 
  1. মিষ্টি আলু
  2. ডালিয়া 
  3. পাথরকুচি
  4. কাঁকরোল
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরকুচি
ব্যাখ্যা

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এ ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- 
(ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং 
(খ) কৃত্রিম অঙ্গজ জনন। 

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৫.
'মাশরুম' বিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. Pyrology
  2. Cytology
  3. Mycology
  4. Myology
সঠিক উত্তর:
Mycology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mycology
ব্যাখ্যা
- ফাংগাস বহুবচনে ফানজাই, একটি ল্যাটিন শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ‘মাশরুম' বা ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বস্তু।
- ফানজাই বা ছত্রাক এমন একটি উদ্ভিদ গোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
- এদের সকলেই আমাদের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে না, অনেক ছত্রাক আমাদের প্রভূত উপকার করে থাকে।
- এরা এককোষী সরলতম গঠন থেকে শুরু করে বহু-কোষী জটিল দেহের অধিকারী।
-  উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাক সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে ছত্রাক বিজ্ঞান বা মাইকোলজি (Mycology গ্রীক শব্দ, mykes অর্থ ছত্রাক এবং logos অর্থ mজ্ঞান) বলে।
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৯৬.
একই ফুলে বা একই গাছের অন্য ফুলে পরাগরেণু স্থানান্তর হলে তাকে কী বলে? 
  1. স্ব-পরাগায়ন 
  2. প্রাকৃতিক পরাগায়ন 
  3. কৃত্রিম পরাগায়ন 
  4. পর-পরাগায়ন 
সঠিক উত্তর:
স্ব-পরাগায়ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব-পরাগায়ন 
ব্যাখ্যা

পরাগায়ন (pollination): 
- পরাগায়নকে পরাগ সংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফুল এবং বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণুর একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই ধরনের। 
যথা- 
১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে থাকে। 
- স্ব-পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়। এর ফলে নতুন যে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, তাতে বৈশিষ্ট্যেরও কোনো পরিবর্তন আসে না এবং কোনো একটি প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। 
- তবে এতে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। 
- এই বীজের থেকে জন্ম নেওয়া নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অচিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে, তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 
- পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অংকুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। 
- দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। 
- তবে এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না, এতে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওযার সম্ভাবনা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯৭.
নিচের কোন উদ্ভিদে অগুচ্ছ মূল দেখা যায়?
  1. ক) কেয়া
  2. খ) ধান
  3. গ) নারিকেল
  4. ঘ) সুপারি
সঠিক উত্তর:
ক) কেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কেয়া
ব্যাখ্যা
অস্থানিক মূল হতে পারে দুই ধরনের, যেমন- গুচ্ছ মূল এবং অগুচ্ছ মূল। 
- যেসব মূল একত্রে গাদাগাদি করে গুচ্ছাকারে জন্মায় না বরং পরস্পর থেকে আলাদা থাকে, তাকে অগুচ্ছ মূল বলে। 
কেয়া গছের ঠেশমূল, বটের ঝুরিমূল এ ধরনের অগুচ্ছ মূল। 

- ধান, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি উদ্ভিদের থাকে গুচ্ছ মূল।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, ষষ্ঠ শ্রেণি
৩৯৮.
পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন মূলত কোথা থেকে ঘটে?
  1. পাতার উপরের পৃষ্ঠ
  2. পাতার নিচের পৃষ্ঠ
  3. কাণ্ডের বাইরের আবরণ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পাতার নিচের পৃষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতার নিচের পৃষ্ঠ
ব্যাখ্যা

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায়।

প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার কিছু অংশ বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
- অধিকাংশ পানি বাষ্পাকারে বের হয়।
- তবে কিছু পানি উদ্ভিদদেহ থেকে পানি হিসেবেই বের হয়।
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয় তাকে প্রস্বেদন বলা হয়।
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা।
- এছাড়া কান্ড এবং শাখা-প্রশাখা থেকেও প্রস্বেদন হয়ে থাকে।
- প্রস্বেদনের প্রকারভেদ: প্রস্বেদন তিন প্রকার।
- যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

 • পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায়।
- এছাড়া কচি কান্ডেও অনেক পত্ররন্ধ্র থাকে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়েই বেশির ভাগ প্রস্বেদন ঘটে।
- উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে।
- শিরা ও উপশিরার মধ্য দিয়ে পানি প্যালিসেড প্যারেনকাইমা এবং স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষ সমূহে পৌঁছায়।
- স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো আলগাভাবে সাজান থাকে।
- কোষগুলোর মাঝে অনেক আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা অঞ্চলেই শোষিত হয়।
- উদ্ভিদ বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শোষণ করে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে বায়ু প্রথমে পত্ররন্ধ্রীয় প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে।
- এখান থেকে বায়ু প্যালিসেড প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলোর আন্তঃকোষীয় ফাঁকাস্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
- প্যালিসেড প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলোর বহিঃপৃষ্ঠ সব সময় ভেজা থাকে এবং এজন্য ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সুবিধা হয়।
- এ রকম অবস্থায় উদ্ভিদ যেমন বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে, বায়ুও তেমন উদ্ভিদ কোষের ভেজা পৃষ্ঠদেশ থেকে পানি জলীয় বাষ্পরূপে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কোষ থেকে নেয়া পানি জলীয় বাষ্পরূপে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বাইরের বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে সংঘটিত হয় বলে এ ধরনের প্রস্বেদনকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলা হয়।

কিউটিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের কান্ড এবং পাতার বহিঃত্বকের উপর কিউটিন এর আবরণকে কিউটিকল বলা হয়।
- উদ্ভিদকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করাই এর কাজ।
- কিউটিকল পাতলা হলে কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে। এটাই কিউটিকুলার প্রস্বেদন।

লেন্টিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদদেহে সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে কান্ডের বাইরের আবরণ (বহিঃত্বক অথবা কর্ক) কোন কোন জায়গায় ফেঁটে যায়।
- এতে কান্ডের ভেতরের কোষ বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত হয়।
- এ উন্মুক্ত জায়গাগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়।
- লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে ভেতরের টিস্যু থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে। এটাই লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৯.
কোন উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি?
  1. স্থলজ উদ্ভিদ
  2. জলজ উদ্ভিদ
  3. ফার্ণ জাতীয় উদ্ভিদ
  4. সব ক্ষেত্রে সমান
সঠিক উত্তর:
জলজ উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলজ উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
পাতার মেসােফিল টিস্যু সালােকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। স্থলজ সবুজ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পানি শােষণ করে পাতার মেসােফিল টিস্যুর ক্লোরােপ্লাস্টের পৌছায় এবং স্ট্রোমা বা পত্ররন্ধের মাধ্যমে বায়ু থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা মেসােফিল টিস্যুর ক্লোরােপ্লাস্টে পৌঁছে।
জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
বায়ুমন্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% কার্বন ডাই অক্সাইড আছে, তাই জলজ উদ্ভিদে সালােকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০০.
কোনটির অভাবে উদ্ভিদের পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যায়?
  1. সালফার
  2. আয়রন
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ফসফরাস: 
- ফসফরাসের (P) অভাব হলে পাতা বেগুনি রং ধারণ করে। 
- ফসফরাসের অভাবে পাতায় মৃত অঞ্চল সৃষ্টি হয় এমনকি পাতা, ফুল ও ফল ঝরে যেতে পারে। 
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ভিদ খর্বাকার হয়। 
- বেশিরভাগ সময় খালি চোখে দেখে ফসফরাসের ঘাটতি বুঝা যায় না। যত দিনে লক্ষণ দৃশ্যমান হয়, তত দিনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আর তেমন কিছু করার থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।