বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা / ৭৭ · ৪০১৫০০ / ৭,৬৪৬

৪০১.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতার নাম-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) নজিবর রহমান
  4. ঘ) রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

লেখকের অন্যান্য রচনা: 
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭) 
- পরিণাম (১৯১৮)
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩)
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪০২.
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির কবি কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) দিলওয়ার
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটি লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ।
যেখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে কবিতার সাথে তুলনা করেছেন।
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, চাষাভূষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, ইসক্রা, মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা, শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।
রক্ত আর ফুলগুলি তার অনুবাদ কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪০৩.
মহাকবি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা

• ‘মহাশ্মশান’ কাব্যপরিচয় ও বিষয়বস্তু:
‘মহাশ্মশান’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি ও মহাকবি কায়কোবাদ রচিত জাতীয় আখ্যানধর্মী কাব্যগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সুপরিচিত একটি মহাকাব্য। কাব্যটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩১১ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দ)। যদিও গ্রন্থাকারে প্রকাশ পেতে আরও কয়েক বছর সময় লেগেছিল। এই কাব্য রচনার মাধ্যমেই কবি কায়কোবাদ ‘মহাকবি’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

কাব্যটির বিষয়বস্তু ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠা এবং মুসলিম শক্তি—আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার বাহিনীর মধ্যে এক ভয়াবহ শক্তিপরীক্ষা। যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে এই যুদ্ধ ছিল উভয় পক্ষেরই ভয়াবহ ক্ষয় ও ধ্বংসের প্রতীক। এই সর্বনাশা ধ্বংসযজ্ঞের কারণেই কবি কাব্যের নাম রেখেছেন ‘মহাশ্মশান’।

ছন্দ ও আয়তন:
- ‘মহাশ্মশান’ কাব্যটি সম্পূর্ণভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। কাব্যটির আয়তন অত্যন্ত বৃহৎ—এর পৃষ্ঠাসংখ্যা প্রায় নয়শত, যা একে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দীর্ঘ মহাকাব্যে পরিণত করেছে। যুদ্ধবর্ণনার পাশাপাশি এতে কবির গভীর আবেগ, মানবিক বোধ ও জাতীয় চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। যুদ্ধকাহিনীর মধ্যেই কাব্যটিতে একাধিক প্রণয়বৃত্তান্ত সংযোজিত হয়েছে, যা কাব্যকে বৈচিত্র্যময় করেছে।

‘মহাশ্মশান’ মহাকাব্যটি মোট তিন খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ। অর্থাৎ, সমগ্র কাব্যটি মোট ৬০টি সর্গে বিভক্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; 'মহাশ্মশান’ কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০৪.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) শওকত আলী
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর  ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন ।

তাঁর কয়েকটি গল্পগ্রন্থের নাম:

- অনেক দিনের আশা
- ঢেউ
- পথ জানা নেই 
- শাহের বানু
- পুঁই ডালিমের কাব্য

তাঁর কয়েকটি উপন্যাসের নাম:
- আল্মগড়ের উপকথা
- কাশবনের কন্যা
- কাঞ্চনমালা 
- জায়জঙ্গল
- সমুদ্র বাসর
- কাঞ্চনগ্রাম

- কাশবনের কন্যা উপন্যাসে গ্রামকে এমন ভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ-দারিদ্র্য থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- এই উপন্যাস গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে, এখানে রোম্যান্টিক মনোভঙ্গিতে এমন এক গ্রাম, গ্রামের মানুষ ও পরিবেশ তুলে এনেছেন, যা দুঃখ অতিক্রমকারী, সুখস্বপ্ন আশা সঞ্চারী।
-  ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৪০৫.
‘অবাক পৃথিবী,- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মতী
  3. গ) আবদুল হাই
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুল্লাহ আল মতী
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মতী শরফুদ্দীন (১৯০৩-১৯৯৮) রচিত গ্রন্থ হলো এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, সাগরের রহস্যপুরী, তারার দেশের হাতছানি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪০৬.
ধর্মকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের কাহিনী বর্ণিত আছে কোন নাটকে?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) হাজার বছর ধরে
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) বহিপীর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
নাট্যকার, ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত বহিপীর বহিপীর নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানাের সুযােগ পান।

- তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পীর প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযােগ পান।
- ফলে তিনি লালসালু উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। 
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে। 
চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, আমেনা, হাশেম। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক -
- উজানে মৃত্যু
- সুড়ঙ্গ 
- তরঙ্গভঙ্গ

বিখ্যাত উপন্যাস সমূহ -
- লালসালু (ধর্ম ব্যাবসা কে কেন্দ্র করে রচিত) 
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো 
- দি আগলি এশিয়ান

গল্পগ্রন্থ -
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০৭.
আল মাহমুদ সম্পাদিত আলোচিত পত্রিকা কোনটি?
  1. দৈনিক বাংলা
  2. দৈনিক গণকন্ঠ
  3. দৈনিক মানবজমিন
  4. শিখা
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকন্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকন্ঠ
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০৮.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. গ্রানাডার শেষ বীর
  2. ভবিষ্যতের বাঙালী
  3. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  4. জীবনের শিল্প
সঠিক উত্তর:
গ্রানাডার শেষ বীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রানাডার শেষ বীর
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।

এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

এস ওয়াজেদ আলি উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০৯.
‘সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেনো মরুর মতন,
চারিদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।”
-পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. কামিনী রায়
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলালের উল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮), 
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২) 
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০), 
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০), 
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০), 
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০), 
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯), 
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১), 
- মায়াদেবী (১৮৮২), 
- দেবরাণী (১৮৮২), 
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭), 
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং 
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

বিহারীলালের লেখা কবিতার চারটি চরণ খুবই বিখ্যাতঃ

"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।"

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: 
- পূর্ণিমা, 
- সাহিত্য-সংক্রান্তি,
- অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।

৪১০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ উপন্যাস কোনটি?
  1. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  2. আয়না
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. কল্পতরু
সঠিক উত্তর:
কল্পতরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্পতরু
ব্যাখ্যা
‘কল্পতরু’ উপন্যাস:
• ‘কল্পতরু’ (১৮৭৪) ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ-উপন্যাস।
• বঙ্গদর্শনে সমালোচনা করতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র কল্পতরুকে ‘বঙ্গভাষার একটি উৎকৃষ্ট উপন্যাস' আখ্যা দিয়েছেন।

• এই গ্রন্থে বিষয়ে বঙ্কিমচন্দ্র মতপ্রকাশ করেছেন যে,
“বাবু ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একখানি মাত্র গ্রন্থ প্রচার করিয়া বাঙ্গালায় প্রধান লেখকদিগের মধ্যে স্থান পাইবার যোগ্য বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন।' তবে তিনি যে কল্পতরুকে আলালের ঘরের দুলাল ও হুতোম প্যাঁচার নকশা ওপরে স্থান দিয়েছেন, তার সঙ্গে অনেকেই একমত হবেন না।

অন্যদিকে,
• আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' (১৯৯৪) বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।

• ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ (১৮৬২) কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান, যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন। এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।

• বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গরচনার জগতে আবুল মনসুর আহমদের 'আয়না' (১৯৩৫) একটি কালজয়ী গল্পগ্রন্থ।

--------------------
ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
• ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮৪৯-১৯১১) জন্ম যদিও বর্ধমানের একটি গ্রামে, সাত মাস থেকে ন বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ছিলেন পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায়। ফলে বাংলা ভাষা তাঁর ঠিকমতো রপ্ত হয়নি।
• ইন্দ্রনাথ পরবর্তী উচ্চ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং সাহিত্যিকরূপে প্রতিষ্ঠালাভ করে বাংলা ভাষা ও তার সংস্কার সম্পর্কে প্রবন্ধ ও অভিভাষণ লিখেছিলেন।
• বস্তুত বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের স্রষ্টা হিসেবে একসময়ে তিনি অতি উচ্চ স্থান অধিকার করেছিলেন।
• সাহিত্যক্ষেত্রে ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবির্ভাব অনেকটা আকস্মিক। তিনি যখন কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করেন, তখন কিছুটা খেয়ালের বশেই ক্ষুদ্রকায় ব্যঙ্গকাব্য “উৎকৃষ্ট কাব্যম” (১৮৭০) রচনা করেন।
• পরে তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুরোধে লেখেন “কল্পতরু” (১৮৭৪)।

উৎস: ‘কল্পতরু’ উপন্যাসের (ভূমিকা) ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৪১১.
নিচের কোন উপন্যাসের পটভূমি বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলন?
  1. ক) বরফ গলা নদী
  2. খ) কয়েকটি মৃত
  3. গ) আরেক ফাল্গুন
  4. ঘ) আর কতদিন
সঠিক উত্তর:
গ) আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর আসল নাম ছিল মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

'আরেক ফাল্গুন' তাঁর রচিত ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
• এই উপন্যাসের পটভূমি বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলন।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে (প্রথম উপন্যাস),
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- কয়েকটি মৃত,
- তৃষ্ণা,
- একুশে ফেব্রুয়ারি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১২.
'নবীন তপস্বিনী' নাটকটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. গ) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
ক) দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
- 'নবীন তপস্বিনী' নাটকটি রচনা করেছেন- দীনবন্ধু মিত্র

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৮৩০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক
- নীলদর্পণ
-  নবীন তপস্বিনী
- সধবার একাদশী 
- লীলাবতী 
- কমলে কামিনী। 
প্রহসন:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক। 
কাব্যগ্রন্থ
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪১৩.
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।'' - পঙ্‌ক্তিগুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. কড়ি ও কোমল
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা

‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)।
এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৪১৪.
‘কাঙাল হরিনাথ’ কোন সাহিত্যক্যের সাহিত্যগুরু ছিলেন?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ক) মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪১৫.
ঐতিহাসিক চরিত্র  "বাদশা হারুন অর রশিদ" নিচের কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. ক্রীতদাসের হাসি
  2. জাহান্নম হইতে বিদায় 
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

'ক্রীতদাসের হাসি':
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে ।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

শওকত ওসমান:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান
- জাহান্নম হইতে বিদায় 
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ
- গল্পগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
•  'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি ওরফে রঞ্জু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১৬.
বন্দে আলী মিয়া রচিত 'ময়নামতির চর' কোন ধরনের রচনা?
  1. আঞ্চলিক উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. কবিতা
  4. শিশুতোষ গল্প
সঠিক উত্তর:
কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'ময়নামতির চর'- কবি বন্দে আলী মিয়া রচিত কবিতা।

‘ময়নামতীর চর’ কবিতার মূলভাব:
নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোতে ভাঙা–গড়ার কারণে অনেক চর সৃষ্টি হয়। ‘ময়নামতীর চর’ তেমনি একটি চরের নাম। এই চরে যারা বাস করে তারা অনেক সংগ্রাম করে টিকে থাকে। চরের সেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিদিনকার জীবনচিত্র আর চরের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণ ‘ময়নামতীর চর’ কবিতায় ফুটে উঠেছে।

ময়নামতির চর - কবিতা,
– বন্দে আলী মিয়া।

এ-পারের এই বুনো ঝাউ আর ও পারের বুড়ো বট
মাঝখানে তার আগাছায় ভরা শুকনো গাঙের তট ;
এরি উঁচু পারে নিত্য বিহানে লাঙল দিয়েছে চাষী,
কুমীরেরা সেথা পোহাইছে রোদ শুয়ে শুয়ে পাশাপাশি |

------------------ 
বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর, 
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট, বাংলাপিডিয়া।
৪১৭.
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস?
  1. জায়জঙ্গল
  2. শাহের বানু
  3. অনেক দিনের আশা
  4. ঢেউ
সঠিক উত্তর:
জায়জঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জায়জঙ্গল
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- তাঁর লেখা ‘আলমনগরের উপকথা’ উপন্যাসে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪১৮.
'গঙ্গা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ বসু
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
ক) সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি।
- গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- উত্তরঙ্গ
- জগদ্দল
- বিবর
- অমৃত কুম্ভের সন্ধানে
- প্রজাপতি

উৎস:-  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী।
৪১৯.
বিভূতিভূষণের 'অনুবর্তন' উপন্যাসের শ্রেষ্ঠ চরিত্র-
  1. ভানুমতী
  2. যদু মুখুজ্জে
  3. হাজারি ঠাকুর
  4. দোবরু পান্না
সঠিক উত্তর:
যদু মুখুজ্জে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদু মুখুজ্জে
ব্যাখ্যা
⇒ 'অনুবর্তন' উপন্যাস:
- প্রকৃতি ও মানব জীবন সত্তার ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত 'অনুবর্তন' উপন্যাসে ব্যক্তি অভিজ্ঞতার রূপায়ন ঘটেছে।
- এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হচ্ছে- যদু মুখুজ্জে।
- এখানে গ্রামীণ মানুষের দলাদলি ও স্বার্থপ্রিয়তা উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গুলো হচ্ছে - ক্ষেত্র বাবু, নারান বাবু, ছাত্র চুনি।
- এর মধ্যে যদু মুখুজ্জে নিজে ভালো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি অবিচার করে, ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করে, আবার নিজের পাপের জন্য ভগবানের কাছে ক্ষমাও চান। শেষে তার ট্র্যাজিক মৃত্যু ঘটে। বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ চরিত্র এই যদু মুখুজ্জে।

অন্যদিকে,
- ভানুমতী ও দোবরু পান্না ‘আরণ্যক’ উপন্যাসের চরিত্র।
- হাজারি ঠাকুর ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ উপন্যাসের চরিত্র।

==============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অনুবর্তন' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
৪২০.
"চাঁদের অমাবস্যা" গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. শওকত ওসমান 
  2. আবদুল কাদির
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত “চাঁদের অমাবস্যা” একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

-----------------------

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪২১.
'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ'— কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা

আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) : কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। প্রথম জীবনে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন৷

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৭৫),
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৮২),
- পরাবাস্তব কবিতা (১৯৮২),
- পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি (১৯৮৩),
- মাছ সিরিজ (১৯৮৪),
- নির্বাচিত কবিতা (২০০২)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

 
৪২২.
"লালসালু" উপন্যাসের ধর্মব্যবসায়ী কূট চরিত্র কোনটি?
  1. তাহের
  2. খালেক
  3. মজিদ
  4. আক্কাস
সঠিক উত্তর:
মজিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজিদ
ব্যাখ্যা
• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। প্রথম উপন্যাস হলেও আমরা একজন প্রতিভাবান লেখকের দুঃসাহসী প্রচেষ্টার সার্থক ফসল বলে বিবেচনা করতে পারি।

- লালসালু' একটি সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস। নিরক্ষর দরিদ্র ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর সরলতা ও ধর্ম বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী তার জটিল, কুটিল ছলনাজাল বিস্তার করে কীভাবে নিজের শাসন ও শোষণের ভিত প্রতিষ্ঠিত করেছে, তারই চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে 'লালসালু' উপন্যাসে।

- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।

- ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

- ১৯৬০ সালে পাকিস্তান লেখক সংঘ কর্তৃক করাচি থেকে উপন্যাসটির উর্দু অনুবাদ প্রকাশিত হয়। একই বছর প্যারিস থেকে ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালে লন্ডন থেকে ইংরেজি অনুবাদ (Tree Without Roots) প্রকাশিত হয়। পরে চেক ও জার্মান ভাষাও এর অনুবাদ হয়।

- উপন্যাসটি অবলম্বনে ঢাকায় প্রথম শ্রেণির একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। ১৯৬১ সালে এই উপন্যাসের জন্য লেখক বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৩.
চিলেকোঠার সেপাই কে?
  1. ওসমান
  2. ফরিদ
  3. রায়হান
  4. খিজির
সঠিক উত্তর:
ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান
ব্যাখ্যা
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি।
- একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
- 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি ওরফে রঞ্জু দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
- ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।
অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার
- আলাউদ্দিন
- আলতাফ
- হাড্ডি খিজির
- রানু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাস।
৪২৪.
‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. অজিত
  2. অপু
  3. বিপিন
  4. হেমন্ত
সঠিক উত্তর:
অপু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপু
ব্যাখ্যা
• পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র চরিত্র- অপু, দূর্গা।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২৫.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত ‘নবান্ন’ নাটকটির প্রেক্ষাপট হচ্ছে -
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- নবান্ন হল বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক
- নাটকটির বিষয় পঞ্চাশের মন্বন্তর। 
- বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।

বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- তাঁর জন্ম ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত অপরাপর নাটকগুলো হলো:
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৬.
আইরিশ কবি W. B. Yeats রচিত The Falling of the Leaves কবিতার মিল পাওয়া যায় কোন কবিতায়?
  1. ক) কবিতার কথা
  2. খ) সেইদিন এই মাঠ
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) মৃত্যুর আগে
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৃত্যুর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
• কবি জীবনান্দ দাশ রচিত 'মৃত্যুর আগে' কবিতাটি ধূসর পান্ডুলিপি কাব্যের অন্তর্গত।
- এটির সাথে আইরিশ কবি W. B. Yeats রচিত  The Falling of the Leaves কবিতাটির মিল রয়েছে। 
- জীবনানন্দ দাশের রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬)। 

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক 
- ধূসর পান্ডুলিপি 
- বনলতা সেন 
- সাতটি তারার তিমির
- রূপসী বাংলা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৭.
নেমেসিস নাটক লিখেছেন-
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

‘নেমেসিস’ নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক। ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪২৮.
'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ভ্রমণবৃত্তান্ত
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রমণবৃত্তান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রমণবৃত্তান্ত
ব্যাখ্যা
- 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি স্মৃতিকথা

• শহীদুল্লাহ কায়সার: 
- কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লাহ কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক  জহির রায়হান তাঁর অনুজ।
- ছাত্রজীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। 
-  ১৯৫২-র  ভাষা আন্দোলন-এ তিনি অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন।
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান  উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- রাজবন্দীর রোজনামচা ও
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২৯.
কাজী ইমদাদুল হক কোন প্রতিষ্ঠানের অন্যতম স্থপতি ছিলেন?
  1. মুসলমান সাহিত্য সমাজ
  2. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক:
- তিনি ১৮৮২ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক'।
- তিনি 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র অন্যতম স্থপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯২৬ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আঁখিজল,
- লতিকা।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধমালা।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩০.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। তাঁর রচিত উপন্যাস- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রাত্রির চাঁদ। গল্পগ্রন্থ- কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর। শিশুতোষ গ্রন্থ- ডানপিটে শওকত। 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো/ একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি' তাঁর রচিত কালজয়ী গান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩১.
’মুজিব- লেনিন -ইন্দিরা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) নির্মলেন্দু
  4. ঘ) আসাদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, চাষাভূষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, ইসক্রা, মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা, শিয়রে বাংলাদেশ, ‘দুঃখ করো না, বাঁচো, নিশিকাব্য ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩২.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা -
  1. সানাউল হক
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা — গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
-   তাকে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়। 
- তিনি ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস ১৯১৮ সালে ১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- প্রসুন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম, 
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য), 
- কস্তুরী, 
- চন্দন, 
- ফুলরেণু (সনেট), 
- বৈজয়ন্তী, 
- শোক ও সান্ত্বনা, 
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩৩.
‘অজস্র ধানের শীষে এ পবিত্র বাংলার অঙ্গনে’- চরণটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) পণ্ডশ্রম
  2. খ) নিমন্ত্রণ
  3. গ) বাবুরের মহত্ত্ব
  4. ঘ) ধানের কবিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধানের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধানের কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘অজস্র ধানের শীষে এ পবিত্র বাংলার অঙ্গনে’- চরণটি 'ধানের কবিতা' থেকে নেয়া হয়েছে।

ফররুখ আহমদ:
- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। 
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।-
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।

ধানের কবিতা

- ফররুখ আহমদ
কুমারী, কনকতারা, সূর্যমুখী, হাসি কলমি আর আটলাই, পাশপাই ধান- এ পাক বাংলার মাঠে মাঠে!
আউশ ধানের স্বপ্নে কিষাণের তপ্ত দিন কাটে,
আমনের বন্যা আনে ফসলের সম্পূর্ণ জোয়ার
শোকর-গোজারী করে তারপর দরবারে খোদার
গোলায় তোলে সে ধান-রূপ সাল, তিলক কাচারী,
বালাম, ক্ষীরাইজালি, দুধসর মাঠের ঝিয়ারি
কৃষাণ-পল্লীতে আনে পরিপূর্ণ সুরের সম্ভার।
ধান, ধান, ধান শুধু, এ ধানের স্বপ্নে দিন গোনে
মাঠের মানুষ যত! ফাল্গুনে জমিন ক'রে চাষ,
বৈশাখে ছড়ায়ে বীজ প্রতীক্ষায় থাকে দীর্ঘমাস,
কখনো শংকিত চিত্ত উত্তরের ঝড়ে ও প্লাবনে,
কখনো শিশির-ঝরা ভোরে পেয়ে সুরভি আশ্বাস
অজস্র ধানের শীষে; এই পাক বাংলার অঙ্গনে।।

[কবিতায় উল্লেখিত চরণে পাক শব্দের অর্থ - পবিত্র। প্রশ্নপত্রে পাক শব্দের পরিবর্তে পবিত্র শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে]।

উৎস: ধানের কবিতা, ফররুখ আহমদ ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩৪.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
ক) শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
- শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে 'উত্তরাধিকার'
- বাংলা কবিতা আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত আছে।

• শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার।
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩৫.
১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষের পটভূমি রয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  2. ইছামতী
  3. অশনি সংকেত
  4. দেবযান
সঠিক উত্তর:
অশনি সংকেত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
• 'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর। আর উপন্যাসের চরিত্রগুলো জীবন্ত, বাস্তবঘন ও স্বাভাবিক। 
- 'অনঙ্গবৌ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 

অন্যদিকে, 
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

• 'ইছামতী' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু লেখকের নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা মানুষ। একান্ত অন্তরঙ্গ ভাবমূর্তিতে এদেরকে তিনি গড়ে তুলেছেন। গয়া মেম অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র।

• দেবযান’ উপন্যাস:
- ‘দেবযান’ (১৯৪৪) প্রেততত্ত্ব ও পরলোকতত্ত্ব-ভিত্তিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি রচনার জন্য বিভূতিভূষণ সর্বাধিক কাল ধরে পরিকল্পনা করেছিলেন।
- বাস্তব ও অধিবাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি এর কাহিনি ও চরিত্র বিন্যাসের নিয়ামক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩৬.
'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. আহমদ ছফা
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আনোয়ার পাশা
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন - আনিসুজ্জামান।

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪৩৭.
’মুনতাসির ফ্যান্টাসি’ ও ‘কিত্তনখোলা’ নাটকদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. কবীর চৌধুরী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

• সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন।
- কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘অপরাজিতা’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) প্রবাসী
  2. খ) ভারতী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) সাধনা
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রবাসী
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস ‘অপরাজিতা’ । উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে মাসিক ‘প্রবাসী’তে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটির প্রথমে নামকরণ করা হয়েছিল ‘অলোক সারথী’।
- উপন্যাসটি পুস্তকাকারে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
   
 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল ।

উৎস:- বাংলা সাহিত্য নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৪৩৯.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫৮ সালে 
  2. ১৮৫৯ সালে 
  3. ১৮৭৮ সালে 
  4. ১৮৩৮ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে 
ব্যাখ্যা

আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়?,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪০.
‘রাজা যায় রাজা আসে’ আবুল হাসান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প সংগ্রহ
  3. কাব্যনাট্য
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।

• আবুল হাসান: 

- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। 
- তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান। 
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট  গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন'।

• তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪১.
'নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব'- প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ রচিত 'নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব' একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

• কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত। 
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা।
- নিভৃত-চিন্তা।
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব।
- নিশীথ-চিন্তা। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভ্রান্তিবিনোদ।
- প্রমোদলহরী।
- ভক্তির জয়।
- মা না মহাশক্তি।
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা।
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।
- এছাড়াও 'সঙ্গীতমঞ্জরী' নামে আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং 'কোমল কবিতা' নামে শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪২.
‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ বদরুদ্দীন উমর রচিত রাজনৈতিক গবেষণা ও প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি ১৯৮৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো: 
- সাম্প্রদায়িকতা।
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা।
- পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ।
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ।
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ প্রবন্ধ।
৪৪৩.
'প্রেমের সমাধি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) মশাররফ হোসেন
  2. খ) মোজাম্মেল হক
  3. গ) নজিবর রহমান
  4. ঘ) নবীনচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গ) নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
সাহিত্যরত্ন মোহাম্মদ নজিবর রহমান একজন ঔপন্যাসিক ছিলেন। নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন। প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- প্রেমের সমাধি, চাঁদতারা, পরিণাম, গরীবের মেয়ে, দুনিয়া আর চাইনা ও মেহেরুন্নিসা। তা ছাড়া রয়েছে বিলাতী বর্জন রহস্য ও সাহিত্য প্রসঙ্গ শীর্ষক দুটি আলোচনা গ্রন্থ। নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪৪.
কোনটি নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণ কাহিনি? 
  1. যাত্রী
  2. ইউরোপের চিঠি
  3. ভ্রমি দেশে দেশে
  4. চলে মুসাফির
সঠিক উত্তর:
ভ্রমি দেশে দেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রমি দেশে দেশে
ব্যাখ্যা

‘ভ্রমি দেশে দেশে’ - নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণ কাহিনি।
---------------------------------------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের একজন অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবি,
- চাষাভূষার কাব্য,
- নিশিকাব্য।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প-
- অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।
---------------------------------
অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রমণকাহিনী- 'যাত্রী'।
• ‘ইউরোপের চিঠি’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি ভ্রমণ কাহিনি।
• 'চলে মুসাফির' জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণ কাহিনি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
দৈনিক ইনকিলাব;
বাংলাপিডিয়া। 

৪৪৫.
প্রতীকী চরিত্রের আড়ালে পাকিস্তান স্বৈরশাসনকে ব্যঙ্গ করে শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চৌরসন্ধি
  2. জননী
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. পতঙ্গ পিঞ্জর
সঠিক উত্তর:
চৌরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• "চৌরসন্ধি" উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস "চৌরসন্ধি"। উপন্যাসের মূল চরিত্র কাল্লু।

- 'কাল্লু' পেশায় একজন দিনমজুর ও রিকশাওয়ালা। একবার কারখানার মালিকপক্ষের সাথে শ্রমিকদের ধর্মঘটকে পুঁজি করে সে খুব অল্প সময়ে লাখপতি হয়। আপাতদৃষ্টিতে ভদ্র সমাজে পা দিলেও আড়ালে নিয়ন্ত্রণ করতো চোরদের এক শ্রেণি। তবে মজার বিষয় হলো এখানে সাধারণ কোনো চোরের কথা তিনি লেখেননি; তবে লিখেছেন রাষ্ট্রীয় দুই খলনায়ক আইয়ুব খান এবং মোনায়েম খানের গল্প।

- পাকিস্তান আমলের দেশভাগের সময়কে নিয়েই লেখা হয়েছে 'চৌরসন্ধি'। পুরো উপন্যাসে ভাষার ব্যবহার ছিলো আরবি-ফারসি মিশ্রিত, যার মাধ্যমে শওকত ওসমান পাকিস্তান স্বৈরশাসনকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন আশ্চর্য হলেও সত্য যে, তাঁর এই ভাষার অপরূপ ব্যবহারের কারণে আইয়ুব খান থেকেই পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন শওকত ওসমান।

অন্যদিকে, 
• জননীতে গ্রাম ও নগরজীবনের সংঘাতে একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থার বিবরণ আছে।
• মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত 'নেকড়ে অরণ্য' গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
• 'পতঙ্গ পিঞ্জর' উপন্যাসটি একটি মফস্বল গ্রামে পতঙ্গের আক্রমণের কাহিনি হলেও এর আড়ালে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক বার্তা। 

উৎসঃ "চৌরসন্ধি" উপন্যাস শওকত ওসমান; বাংলাপিডিয়া এবং 'পতঙ্গ পিঞ্জর' উপন্যাস।
৪৪৬.
অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক রচনা কোনটি
  1. বিনুর বই
  2. কঙ্কাবতী
  3. রাখী
  4. দুঃখমোচন
সঠিক উত্তর:
বিনুর বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনুর বই
ব্যাখ্যা

• 'বিনুর বই':
- 'বিনুর বই' অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনমূলক তথা আত্মশিল্পমূলক রচনা, লেখকের কথাসাহিত্যিক তথাজীবনশিল্পী হয়ে ওঠার এক অভ্রান্ত টিপছাপ।
- এ বই কতকগুলি ছোট বড় প্রবন্ধের সংকলন নয়, একটি টানা গোটা রচনা এবং প্রতিটি অংশ প্রতিটির সঙ্গে স্বাশ্রয়ী সম্পর্কের সূত্রে গ্রথিত ও সেই সূত্রের মধ্যে একটি মৌল বিবর্তন বর্তমান। 

----------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৪৪৭.
'পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৪৮.
বিদ্রূপাত্মক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেন-
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮ - ১৯৭৯): বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে: আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।
তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।
আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা (১৯৭৮)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৪৪৯.
'কাব্যকাহিনী' কার লেখা কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) দাউদ হায়দার
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ- রক্তরাগ, খোশরোজ, কাব্যকাহিনী, গীতি সঞ্চয়ন, সাহারা, হাসনাহেনা, বুলবুলিস্তান, বনি আদম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫০.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটির উপজীব্য কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশভাগ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• রাইফেল রোটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি। 
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৫১.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস -
  1. টুনি মেম
  2. শবনম
  3. চাচা-কাহিনী
  4. সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শবনম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শবনম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে,
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫২.
হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ-
  1. ক) অলৌকিক ইস্টিমার
  2. খ) সাবিত্রী উপাখ্যান
  3. গ) পাতালে হাসপাতালে
  4. ঘ) যখন উদ্যত সঙ্গীন
সঠিক উত্তর:
গ) পাতালে হাসপাতালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাতালে হাসপাতালে
ব্যাখ্যা

• হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
• 'যখন উদ্যত সঙ্গীন' হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ।
• 'অলৌকিক ইস্টিমার' হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৫৩.
গিনিপিগ নাটকের নাট্যকার কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা

• 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।
- নাটকটি ১৯৮৫ সালে প্রাকাশিত হয়।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫৪.
শহীদুল্লা কায়সার কোন জেলার সন্তান?
  1. কুমিল্লা
  2. ফেনী
  3. নোয়াখালী
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ফেনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেনী
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪৫৫.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫৬.
'কালের কলস' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) নৃত্যনাট্য
  2. খ) কথাসাহিত্য
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) উপন্যাস
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্য
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ-- সোনালী কাবিন (১৯৭৩), লোক লোকান্তর, কালের কলস, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, দোয়েল ও দোয়িতা, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৭.
বিখ্যাত 'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫৮.
“আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।” পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. আল মাহমুদ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• পঙ্‌ক্তি দুটি বিখ্যাত কবি আল মাহমুদ রচিত 'নোলক' নামক কবিতার অংশ।
- যেখানে কবি তাঁর মায়ের হারিয়ে যাওয়া সোনার নোলক খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

'নোলক' কবিতার অংশবিশেষ-

নোলক
– আল মাহমুদ
আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তুমার কাছে?
-হাত দিও না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছাড়িয়ে থাকে।

---------------------
• আল মাহমুদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৫৯.
কার কাব্য অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন?
  1. সাবিরিদ খান
  2. মালিক মুহম্মদ জায়সি
  3. সাধন
  4. মনঝন
সঠিক উত্তর:
মালিক মুহম্মদ জায়সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালিক মুহম্মদ জায়সি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলমান কবি আলাওল 
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম 'পদ্মাবতী'।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

আলাওল রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা বা তত্ত্বোপদেশ,
- রাগতালনামা এবং
- দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী।



[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর]
 
৪৬০.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতার রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 
- কবিতাটি 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। 
- গ্রন্থটিতে ৩৯ টি কবিতা স্থান পেয়েছে। 

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১)
- কবি, সরকারি কর্মকর্তা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর জন্ম ৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে। 
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর কবিতায় আবহমান বাংলার অকৃত্রিম ছবি পাওয়া যায়। তাঁর কবিতার সূচনা ভাষা আন্দোলনকে (১৯৫২) কেন্দ্র করে এবং বিকাশ ঘটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সামগ্রিক জনজীবনের আশা-নিরাশা এবং স্বপ্ন-বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে।
- পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫) এবং পরবর্তীকালের কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০) ও কমলের চোখ (১৯৭৪) এ ধরনের গীতিমুখ্য সুললিত কবিতার সংকলন।
- আশির দশক থেকে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ মহাকাব্যিক কাব্যরীতিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। এ পর্যায়ে তাঁর কবিতার বিষয় হিসেবে উঠে আসা মা-মাটি ও সংগ্রামী মানুষের চিত্র পরিচিত দেশ-কালের সীমানা অতিক্রম করে স্পর্শ করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল। এ মহাকাব্যিক কাব্যভঙ্গিতেই তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বাধিক জননন্দিত কাব্যগ্রন্থ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১)। এ ছাড়া সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩) কাব্যগ্রন্থ দুটিতেও মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনা লক্ষ্য করা যায়।

তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এবং
- জীবিত অবস্থার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ (২০০২)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬১.
'দুঃসময়ের মুখোমুখি' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

- শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম প্রকাশিত),
- বন্দী শিবির থেকে (স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা)
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- এক ধরনের অহংকার,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড় ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৬২.
‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আব্দুল কাদির
  4. গােবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয়।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৪৬৩.
‘মোকাজান মিঞা’ চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. লালসালু
  4. পদ্মা নদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
♦ আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।  
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।

=============
• প্যারীচাঁদ মিত্র: 
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড,  হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং  বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:  
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়, 
- রামারঞ্জিকা, 
- কৃষিপাঠ,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং 
- বামাতোষিণী।

- প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
-  প্যারীচাঁদ মিত্র ২২শে জুলাই ১৮১৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২৩শে নভেম্বর ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৪.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কোন ধরনের লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না?
  1. কবি
  2. ঔপন্যাসিক
  3. নাট্যকার
  4. গীতিকার
সঠিক উত্তর:
ঔপন্যাসিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঔপন্যাসিক
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। প্রহসন, কাব্যনাট্য, ব্যঙ্গ ও হাস্যরসাত্মক কবিতাও রয়েছে। জীবনের শেষ দশ বছর তিনি প্রধানত নাটক রচনা করেন।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কালিদাস ও ভবভূতি।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
তিনি - ঔপন্যাসিক ছিলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৪৬৫.
‘এক মুঠো’ অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত 
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে। বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাসে মূলত কোন বিষয়কে প্রতিফলিত করা হয়েছে?
  1. রাজনৈতিক বিপ্লব
  2. ধর্মীয় কুসংস্কার
  3. সামাজিক শ্রেণিসংঘাত
  4. মানব জীবনের মানসিক সংকট
সঠিক উত্তর:
মানব জীবনের মানসিক সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব জীবনের মানসিক সংকট
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬৭.
'জলে ডাঙায়' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'জলে ডাঙায়':
- 'জলে ডাঙায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 
-  'জলে ডাঙায়' মোটামুটিভাবে ছোটদের জন্যে লেখা, কিন্তু লেখার প্রসাদগুণে পাঠকও অনায়াসে লেখকের সঙ্গী হয়ে যান সিংহল থেকে মালদ্বীপ, ভূমধ্যসাগর থেকে আফ্রিকা, সুয়েজ খাল থেকে পিরামিডের রহস্যময়তায়। আর এভাবেই উপভোগ্য হয়ে ওঠে 'জলে ডাঙায়'।

------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:

- সৈয়দ মুজতবা আলীশিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শহর-ইয়ার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: 'জলে ডাঙায়' ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৮.
বাংলা গীতিকবিতার জনক কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অমৃতলাল বসু
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৬৯.
'আঠারো বছর বয়স' কবিতার পঙ্‌তি সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৩০টি
  2. খ) ২৮টি
  3. গ) ৩২টি
  4. ঘ) ২০টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৩২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩২টি
ব্যাখ্যা
- 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার পঙ্‌তি সংখ্যা ৩২টি। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতার কালিঘাটিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়। 
- তিনি 'কিশোরকবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। 
- তার কবিতায় শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের হুঙ্কার দিকটি বলিষ্ঠভাবে প্রকাশ পায়। 
- তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে মৃত্যুবরণ করেন। 

'আঠারো বছর বয়স':
- 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় 'আঠারো' শব্দটি নয়বার ব্যবহার করা হয়েছে। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় প্রতি চরণে মাত্রা সংখ্যা ১৪। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই
- পূর্বাভাস
- অভিযান
- হরতাল
- গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭০.
আহমদ শরীফ ছিলেন-
  1. শিক্ষাবিদ
  2. চিন্তাবিদ
  3. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ:
• আহমদ শরীফ ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।

• অধ্যাপক শরীফ ছিলেন একজন যুক্তিনিষ্ঠ, বিজ্ঞানমনস্ক, মানবকল্যাণকামী, শ্রেয়োবাদী ও প্রগতিশীল লেখক। বাংলাদেশের সমাজ, সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সময়ে যে প্রবন্ধগুলি রচনা করেছেন তার সংকলন গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশোর্ধ্ব।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

- বিচিত চিন্তা,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- প্রত্যয় ও প্রত্যাশা,
- যুগ যন্ত্রণা,
- কালের দর্পণে স্বদেশ,
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলার বিপ­বী পটভূমি,
- বাঙলাদেশের সাম্প্রতিক চালচিত্র,
- মানবতা ও গণমুক্তি,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- প্রগতির বাধা ও পন্থা,
- এ শতকে আমাদের জীবনধারার রূপরেখা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা,
- বিশ শতকে বাঙালী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭১.
'শাদা হাওয়া' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আব্দুল কাদির
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
অদ্বৈত মল্লবর্মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
'শাদা হাওয়া' উপন্যাস:
- 'শাদা হাওয়া' অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস। এ উপন্যাস লেখা সম্পন্ন হয় ১৯৪২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, সোনার তরী পত্রিকায়।
- কলকাতায় বিলিতি সেনা, যাদের টমি নামে অভিহিত করা হত, তাদের আগমনকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখিত।
- উপন্যাসের চরিত্র গোয়েন্দা গোবিন্দ শর্মার চিন্তাবাক্যের সূত্রে বহু রাজনৈতিক সন্দর্ভ লিখেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। তাতে পুরনো ভারতচিন্তা যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে যুদ্ধবিরোধী ভাবনাও।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক। ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

উৎস: 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭২.
'সূর্য দীঘল বাড়ি' –বিখ্যাত এ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) জয়গুন
  2. খ) জামিলা
  3. গ) রতন
  4. ঘ) মজিদ
সঠিক উত্তর:
ক) জয়গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জয়গুন
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷

বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' (১৯৫৫)।
উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত।
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি, দুর্ভোগ বেড়েছে।

সূর্য দীঘল বাড়ীর চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৪৭৩.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. কাজেম আল কোরেশী
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯) একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।
তাঁর কাবগ্রন্থগুলির মধ্যে মানচিত্র, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, লেলিহান পান্ডুলিপি, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, সাজঘর ও শ্রেষ্ঠ কবিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, কর্ণফুলী, ক্ষুধা ও আশা, খসড়া কাগজ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৪.
“যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।”- উক্তিটি কার রচনা?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. ফররুখ আহমদ
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

---------------------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ,
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭৫.
'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আহমদ ছফা
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• বাঙালি মুসলমানের মন:
- রচয়িতা: আহমদ ছফা।
- প্রথম প্রকাশ: ১৯৮১ সাল।

আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭৬.
কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. মহাশ্মশান
  2. বিরহ-বিলাপ
  3. কুসুমকানন
  4. অশ্রুমালা
সঠিক উত্তর:
বিরহ-বিলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরহ-বিলাপ
ব্যাখ্যা
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’
- কবি বলেছেন ‘আমি যখন বার বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার বিরহ- বিলাপ  নামক ক্ষুদ্র কাব্য প্রকাশিত হয়।’ 
-কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ  ‘মহাশ্মশান’ 

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর]
৪৭৭.
‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. দলিলপত্র সম্পাদনা
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা
• ‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প।

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৭৮.
‘নেমেসিস’ কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) গীতি কবিতা
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাটক
ব্যাখ্যা
- ‘নেমেসিস’ নাটকের লেখক নুরুল মোমেন। এটি বাংলাদেশের প্রথম নিরীক্ষামূলক নাটক। 
-১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নুন্দী নামের এক-চরিত্র বিশিষ্ট। অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছে নৃপেন বোস, তাঁর কন্যা সুলতা, ম্যানেজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি, ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র অঙ্কিত।

তাঁর রচিত নাটকগুলোর নাম:
 - রুপান্তর,
 - নেমেসিস
 - যদি এমন হতো
 - নয়া খান্দান
 - আলোছায়া
 - শতকরা আশি
 - আইনের অন্তরালে
 - যেমন ইচ্ছা তেমন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭৯.
‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কবিতা
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাওল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮০.
'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শঙ্খ ঘােষ
  2. রফিক আজাদ
  3. আসাদ চৌধুরী
  4. দাউদ হায়দার
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘােষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঙ্খ ঘােষ
ব্যাখ্যা
• 'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের লেখক: 'শঙ্খ ঘােষ'। 

• শঙ্খ ঘোষ: 
- শঙ্খ ঘোষ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক সময়ের একজন প্রতিথযশা কবি।
- শঙ্খ ঘোষের আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তার বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মা অমলা ঘোষ।
- ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল মৃত্যবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই:
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে,
- চুপ করো, শব্দহীন হও,
- সবিনয় নিবেদন,
- বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালে,
- হওয়া।

উৎস: প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক ও বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।
৪৮১.
‘একটি তুলসী গাছের আত্মকাহিনী’ ছোটগল্পটি কোন সময়কার পটভূমি নিয়ে রচিত?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. দেশভাগ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
দেশভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশভাগ
ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
দেশভাগের সময়ে কলকাতা থেকে উদ্বাস্তুর মত একদল চাকরিজীবী পূর্ব বঙ্গে (বর্তমান : বাংলাদেশ) আসে। এসে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করে। তারা ভাগ্যবান বলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করা এবং সেখানকার এক তুলসি গাছের কাহিনী নিয়ে রচিত হয় এই গ্লল্পটি।
- তাঁর লালসালু উপন্যাসে তিনি গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র তুলে ধরেন।

কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে। 
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।
তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

তাঁর ছোটগল্প
- নয়নচারা
 -জাহাজী
- পরাজয়
- মৃত্যু-যাত্রা
- খুনী
 -রক্ত
- খণ্ড চাঁদের বক্রতায়
- সেই পৃথিবী
- দুই তীর
- একটি তুলসী গাছের আত্মকাহিনী
- পাগড়ী
- কেরায়া
 -নিষ্ফল জীবন নিষ্ফল যাত্রা
- গ্রীষ্মের ছুটি
- মালেকা প্রভৃতি

তাঁর নাটক
- বহিপীর (১৯৬০)
- উজানে মৃত্যু (১৯৬৩)
 -সুড়ঙ্গ (১৯৬৪)
- তরঙ্গভঙ্গ (১৯৭১)

উৎস: বাংলাপিডিয়া, সাহিত্যপাঠ একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৮২.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. আবুল হোসেন
  2. আহমদ ছফা
  3. আল মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে’ দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়,রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে,যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্হান,নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান,মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা,কাবিলের চাচী রওনক জাহান,আন্দালিব -মোমেনা,রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- যেভাবে বেড়ে উঠি,
- বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৮৩.
শহীদুল্লা কায়সার তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু করেন কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. সংবাদ
  2. সমকাল
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. ইত্তেফাক
সঠিক উত্তর:
ইত্তেফাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক। ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮৪.
'শেষ রাত্রির তারা' একটি -
  1. ক) ছোটোগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটিকা
  4. ঘ) গীতিকা
সঠিক উত্তর:
ক) ছোটোগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ছোটোগল্প
ব্যাখ্যা
‘শেষ রাত্রির তারা’ আবু জাফর শামসুদ্দিন রচিত ছোটগল্প।
Source: LiveMCQ Lecture
৪৮৫.
ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. গ) শ্রীকর নন্দী
  4. ঘ) মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
ঘ) মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। 
- তাঁর কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয় মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কুলীনগ্রামে এক কায়স্থ বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের মন্ত্রী এবং তাঁরই সহায়তায় রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী উক্ত রাজসভায় নিয়োগ লাভ করেন।
- কবিত্বগুণের সম্মাননাস্বরূপ মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের নিকট থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেন। সুলতান বারবক শাহ (১৪৫৯-৭৪) অথবা সুলতান শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮০) কবিকে এই উপাধি প্রদানের মাধ্যমে কাব্যরচনায় উৎসাহিত করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
'সারাবেলা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ইমদাদুল হক মিলন
সঠিক উত্তর:
ইমদাদুল হক মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
• 'সারাবেলা' উপন্যাসের রচয়িতা - ইমদাদুল হক মিলন

ইমদাদুল হক মিলন:
- জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ বিক্রমপুরে জন্ম।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘বন্ধু’ ১৯৭৩ । প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন' ১৯৭৬। বাংলাদেশে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
- তাঁর রচিত তিন পর্বের দীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান' কালজয়ী সাহিত্য হিসেবে গণ্য।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দুঃখ কষ্ট,
- ও রাধা ও কৃষ্ণ,
- এক দেশ,
- প্রিয় নারী জাতি,
- ভূমিপুত্র,
- পরবাস,
- নায়ক,
- সারাবেলা,
- রূপনগর,
- কালো ঘোড়া,
- নূরজাহান,
- তখন ছিলাম আমি,
- কথা ছিলো,
- আশায় আশায় থাকি,
- কোন কাননের ফুল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪৮৭.
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস-
  1. যাত্রা
  2. মুক্তি
  3. জাল
  4. চৌচির
সঠিক উত্তর:
জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল
ব্যাখ্যা

• আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
• উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
• ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর। সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।
• তাঁর রচিত সামাজিক উপন্যাস- সূর্য দীঘল বাড়ী ও পদ্মার পলিদ্বীপ।
• 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• 'মুক্তি' উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
•'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৮৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার কত সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন?
  1. ক) ১৮০৩ সালে
  2. খ) ১৮০২ সালে
  3. গ) ১৮০১ সালে
  4. ঘ) ১৮০০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।
- ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন।
তার রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলী,
- প্রবোধচন্দ্রিকা এবং
- বেদান্তচন্দ্রিকা। 

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৪৮৯.
কোন ছদ্মনামে আবু জাফর শামসুদ্দীন পত্রিকায় কলম লিখতেন?
  1. ক) দৃষ্টিহীন
  2. খ) বাণভট্ট
  3. গ) জরাসন্ধ
  4. ঘ) অল্পদর্শী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অল্পদর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯০.
কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 
  1. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. ছায়া হরিণ 
  3. রাত্রিশেষে
  4. সারাদুপুর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাত্রিশেষে
ব্যাখ্যা

 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি।

-----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৪৯১.
'দশমী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সোমেন চন্দ
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সত্যেন সেন
সঠিক উত্তর:
ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ- তন্বী, অর্কেষ্ট্রা, ক্রন্দসী, দশমী, সংবর্ত, প্রতিদিন, উত্তর ফাল্গুনী।
এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ। তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯২.
বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ- 
  1. সংস্কৃতির সংকট
  2. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  3. সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই
  4. সংস্কৃতি কথা
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির সংকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃতির সংকট
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা।
• শওকত ওসমান রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসে কোন নদীর উল্লেখ রয়েছে?
  1. পদ্মা
  2. বাঁকাল
  3. করতোয়া
  4. মধুমতী
সঠিক উত্তর:
বাঁকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁকাল
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটিতে বাঁকাল নদীর কথা উল্লেখ আছে। 
---------------------
• ‘কাঁদো নদী কাঁদো’:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হলো মৃতপ্রায় বাঁকাল নদী এবং নদীর তীরবর্তী ছোট শহর কুমুড়ডাঙ্গার জীবন।
- এখানে ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবন ও তার অন্তর্জীবনের জটিলতা চেতনাপ্রবাহ রীতিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসে নদীর পলি জমে নাব্যতা হারানো এবং স্টিমারঘাট সরিয়ে যাওয়ার ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও দুর্ভোগ দেখানো হয়েছে।
- মুস্তফার মনোজগৎ, তার অবচেতন মনের দ্বন্দ্ব ও সংকট তবারক ভুঁইয়া নামক স্টিমারযাত্রীর বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে।
- এতে চরিত্রদের অন্তর্মনের ভাবনা এবং জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নের মাধ্যমে গল্পের প্রবাহ সৃষ্টি করা হয়েছে।
----------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা (মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস);
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু (সামাজিক উপন্যাস)।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৪৯৪.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী।

অমিয় চক্রবর্তী:

- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৯৫.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মুস্তফা মনোয়ার
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত আলী
ব্যাখ্যা
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাস:
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪) শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত।
- অত্যাচারী সামস্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু এবং বৌদ্ধের দল।
- এই উপন্যাসের সময় ধরা হয়েছে রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল।
- সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ করে আর্য ও অনার্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অসাম্য এ উপন্যাসের বিষয়।
- উপন্যাসে কোনো একক ব্যক্তিকে নায়ক করা হয় নি। প্রাকৃতজন অর্থাৎ বাংলার গণমানুষ সমষ্টিগতভাবে এই উপন্যাসে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- সঙ্গতি বিধানের লক্ষ্যে একাদশ শতাব্দীর অন্তিম কালের ভাষারূপ উপন্যাসে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে পাঠক উপন্যাসটি পাঠকালে সত্যি যেন লক্ষ্মণ সেনের ওই সময়ে ফিরে যান।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৬.
বন্দে আলী মিয়া কোন শিশুতোষ গ্রন্থেটি লিখেছিলেন?
  1. ময়নামতির চর
  2. জ্ঞানের আলো
  3. অনুরাগ
  4. কুঁচবরণ কন্যা
সঠিক উত্তর:
কুঁচবরণ কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা
”কুঁচবরণ কন্যা” গ্রন্থেটি লিখেছিলেন - বন্দে আলী মিয়া।

• বন্দে আলী মিয়া :
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-  তিনি একজন শিশুসাহিত্যিক, কবি, ঔপন্যাসিক ছিলেন।
- ১৭ ই জুন ১৯৭৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা :

- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো,

• তাঁর লিখিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর (১৯৩২)
- অনুরাগ (১৯৩২)।

• শিশুতোষ গ্রন্থ :
- চোর জামাই (১৯২৭)
- মেঘকুমারী (১৯৩২)
- মৃগপরী (১৯৩৭)
- বোকা জামাই (১৯৩৭)
- কামাল আতার্তুক (১৯৪০)
- ডাইনী বউ (১৯৫৯)
- রূপকথা (১৯৩০)
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬০)
- ছোটদের নজরুল (১৯৬০)
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৬৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং পাবনা সদর উপজেলা ওয়েব সাইট।
৪৯৭.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাল্মীকির জয়
  2. মেঘদূত
  3. তৈল 
  4. বেদের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
বেদের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উল্লেখ্য,
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৯৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কি চাহু শঙ্খচিল
  2. নূরলদীনের সারা জীবন
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. নরকে লাল গোলাপ
সঠিক উত্তর:
অনিল বাগচীর একদিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা
• অনিল বাগচীর একদিন:
- 'অনিল বাগচীর একদিন' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার। এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
পিতার হত্যার-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।

- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে। এভাবেই গল্পের কাহিনি অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

অন্যদিকে, 
• মমতাজ উদ্দিন আহমেদ 'কি চাহু শঙ্খচিল' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য । রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ 'নরকে লাল গোলাপ' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯৯.
'স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি' নামে প্রবন্ধ রচনা করেছেন?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. সমর সেন
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ - স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৫০০.
দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল-দর্পণ’ নাটক প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. লন্ডন
  4. দিল্লি
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

 • নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- তিনি একজন নাট্যকার।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্ত্ত।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।