বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা / ৭৭ · ৩০১৪০০ / ৭,৬৪৬

৩০১.
'মাল্য ও নির্মাল্য' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. কামিনী রায়
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• 'মাল্য ও নির্মাল্য' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - কামিনী রায়।
- এটি ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- মাল্য ও নির্মাল্য, 
- অশোক সঙ্গীত (সনেট সংগ্রহ),
- অম্বা (নাট্যকাব্য)
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবন পথে, 
- একলব্য,
- দ্রোণ-ধৃষ্টদ্যুম্ন,
- শ্রাদ্ধিকী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০২.
বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকালের সময়কাল কোনটি?
  1. ১৩৫১ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৭৬০ থেকে ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৮৬১ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ
  5. ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
যুগসন্ধিকাল:
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়। উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত।
- এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্য ও আধুনিক যুগের সন্ধিস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি সব্যসাচীর মত দু হাতে দু দিকের নির্দেশ দিয়েছেন।
- মধ্যযুগের অবসানের পর এবং আধুনিক যুগের যথার্থ সূত্রপাতের পূর্বে কবি ঈশ্বর গুপ্ত কাব্য সাধনায় খ্যাতিলাভ করেন।
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে।
- এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয় না।
- তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৩.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প কোনটি?
  1. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. রেইনকোট
  3. দুধেভাতে উৎপাত
  4. খোঁয়ারি
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
ব্যাখ্যা
• ‘রেইনকোট’ ছোটগল্প:
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ গুলো হলো:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধেভাতে উৎপাত।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৪.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত ছিলেন-
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আনোয়ার পাশা
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যেথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

• তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩০৫.
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সারে পুরো নাম কী ছিলো?
  1. ক) আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার তৎকালীন রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 
- ১৯৫২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৬.
'নিহত নক্ষত্র' আহমদ ছফা রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'নিহত নক্ষত্র' আহমদ ছফা রচিত - গল্পগ্রন্থ
- গ্রন্থটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থভুক্ত গল্পসমূহ: নিহত নক্ষত্র, গন্তব্য,পদাঘাতের পটভূমি, আস্বাদ, প্রতিপক্ষ, কবি, হাত, পাগলা ঘণ্টা, কাজলী।

আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ,
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস,
- যদ্যপি আমার গুরু।

তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গো হাকিম,
- দোলো আমার কনকচাঁপা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিহত নক্ষত্র

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; নিহত নক্ষত্র, আহমদ ছফা।
৩০৭.
"তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত করেন কে?
  1. ঋত্বিক ঘটক
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. অমর মল্লিক
  4. শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঋত্বিক ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋত্বিক ঘটক
ব্যাখ্যা
- "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত করেন- ঋত্বিক ঘটক।

"তিতাস একটি নদীর নাম"
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত  একমাত্র উপন্যাস "তিতাস একটি নদীর নাম"
- উপন্যাসটি মাসিক মোহাম্মদীতে প্রথম ধারাবাহিকভাবে (১৯৪৫-৪৭) প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটিতে লেখক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিতাস নদীর তীরবর্তী জেলেদের সংগ্রামী জীবনের কথা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরেন।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:

 - তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক।
- ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে তাঁর জন্ম।
- জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯৩৪ সালে কলকাতা যান, সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩০৮.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. পূর্বাশা 
  2. বিচিত্রা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
বিচিত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচিত্রা
ব্যাখ্যা

 পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া।

 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৯.
‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- এটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়গত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধরার চেষ্টা করেছেন।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১০.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসটি রচনা করেন আবু জাফর শামসুদ্দীন।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩১১.
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক) কারা রচনা করেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও সৈয়দ আলী আহসান
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই, আনিসুজ্জামান ও আনোয়ার পাশা
  4. মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

গ্রন্থের সংক্ষেপ:
কয়েক বছর আগে কেন্দ্রীয় পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলা সাহিত্যের একটি ধারাবাহিক ইতিহাস রচনার ভার পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উপর। ইতিহাসটির দ্বিতীয় খণ্ড সদ্য প্রকাশিত হয়েছে। এটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আবদুল হাই এবং করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ সৈয়দ আলী আহসান। আধুনিক যুগ অর্থাৎ বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তানোত্তর যুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এঁরা আলোচনা করেছেন।




উৎস: 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ)।
৩১২.
’প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য’-পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

- ’প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য’-পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- পঙ্‌ক্তিটি  ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটির অন্তর্গত।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি তাঁর “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট। এবং কবিতাটি ৬ মাত্রায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য- যৌবনের উদ্দীপনা, সাসিকতা এবং দুর্বার গতি।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার শেষ পঙক্তি- ‘এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৩.
'পঞ্চতন্ত্র' রম্যরচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) ইসমাইল হোসেন
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল এগুলো সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত রম্যরচনা। চাচা কাহিনী ও টুনি মেম তাঁর রচিত ছোটগল্প। অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার, তুলনাহীন তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩১৪.
'কেরামতমঙ্গল' - নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. সেলিম আল দীন
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন: 
-  তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন।
- কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়। 
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়। 
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান। 

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ: 
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য, 
- বাসন, 
- কেরামতমঙ্গল
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- শকুন্তলা, 
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, 
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- চাকা, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- হরগজ, 
- নিমজ্জন ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩১৫.
শওকত ওসমানের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম পুস্তক কোনটি?
  1. জলাংগী
  2. শ্রেষ্ঠ গল্প
  3. সমাগম
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা
• গ্রন্থাকারে প্রকাশিত শওকত ওসমানের প্রথম পুস্তক 'জননী'।

• জননী:
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের 'জননী' (১৯৬১) উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।
- পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মহেশডাঙ্গা।
- দরিয়া-বিবি সেই পল্লি-জননী যে সন্তান মোনাদিকে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়।
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলে ওই গৰ্ভস্থ সন্তানকেও দরিয়া অসীম মমতায় সকল ভ্রূকুটি সহ্য করে নিরাপদে জন্মদানের মাধ্যমে আদর্শ জননীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
- এই মূলকাহিনির পাশাপাশি উপন্যাসে এসেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষের পারস্পরিক ঝগড়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্রকোটাল প্রমুখ।

• শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী

• তাঁর রচিত গল্প:
- পিঁজরাপোল,
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক,
- উভশৃঙ্গ,
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩১৬.
‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাস কার সময়ের পটভূমিতে লেখা?
  1. ক) বখতিয়ার খলজি
  2. খ) কুতুব উদ্দিন আইবেক
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
শওকত আলী রচিত ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসে রাজা লক্ষণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩১৭.
"গাভী বিত্তান্ত" আহমদ ছফা রচিত একটি -
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রহসন
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'গাভী বিত্তান্ত':
- আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’ (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩১৮.
‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. স্মৃতিকথা
  3. জবানবন্দী
  4. উপ-সম্পাদকীয়
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারে আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই । এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

---------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

বি.দ্র. 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ রয়েছে।

উৎস: ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩১৯.
বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' এর রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে: ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।
--------------- 
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ছিলেন একজন কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো : 
- সাত নরীর হার,  
- কখনো রং কখনো সুর,  
- কমলের চোখ,  
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,  
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,  
- প্রেমের কবিতা, 
- নির্বাচিত কবিতা,  
- আমার সকল কথা, 
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২০.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. ক) ঠকচাচা
  2. খ) পরেশবাবু
  3. গ) রমেশ
  4. ঘ) হাজারি ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাজারি ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাজারি ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- আর এর উপর ভিত্তি করে রচিত এই উপন্যাস। 
- উপন্যাস টি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। 

অন্যদিকে, 
'ঠকচাচা' চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল।
রবী ঠাকুরের ‘গােরা' উপন্যাসের উল্লেখযােগ্য চরিত্রঃ গােরা, পরেশবাবু, সুচুরি, পানবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদা সুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী প্রমুখ।
'রমেশ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২১.
'আলবেরুনী' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন সেন
  3. সানাউল হক
  4. সরদার জয়েন উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন:
- তিনি সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৪ সালে দৈনিক সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। এ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সত্যেন সেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

সত্যেন সেন রচিত উপন্যাস:
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২২.
আল মাহমুদের কবিতায় প্রধানত কোন জীবনচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. নগরজীবন
  2. চরাঞ্চলের নদীনির্ভর গ্রামীণ জীবন
  3. আধুনিক নাগরিক জীবন
  4. শিল্প-সাহিত্যজীবন
সঠিক উত্তর:
চরাঞ্চলের নদীনির্ভর গ্রামীণ জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরাঞ্চলের নদীনির্ভর গ্রামীণ জীবন
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান। তাঁর কবিভাষা লোকজ জীবনকেন্দ্রিক।
----------------

• আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯):
- তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা কবি এবং বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। 
- তাঁর প্রকৃত নাম: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ দৈনিক ”গণকণ্ঠ” এর সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২৩.
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।” - কে লিখেছেন?
  1. দাউদ হায়দার 
  2. হেলাল হাফিজ 
  3. শহীদ কাদরী 
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• “যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।” - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর "আমি কিংবদন্তির কথা বলছি" কবিতার চরণ। 

• 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা: 
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন। (সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা।

৩২৪.
'বঙ্গভূমি' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন -
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন - মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পিতা মফিজউদ্দীন আহমদ ছিলেন পীর গোরাচাঁদের দরগাহর খাদেম।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক (১৯১১) ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি।
- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

• তাঁর রচিত গবেষণা:
- সিদ্ধা কাহ্নপার গীত ও দোহা,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বৌদ্ধ মর্মবাদী গান,
- বাংলা ব্যাকরণ,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের সমস্যা,
- বাংলা আদব কি তারিখ,
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ,
- অমিয় শ্তক,
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা 'দি পীস'।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি'
- পাক্ষিক 'তকবীর'।
- মাসিক শিশু পত্রিকা ‘আঙুর'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩২৫.
আবু ইসহাক রচিত 'জাল' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস
  2. জেলে জীবন ভিত্তিক উপন্যাস
  3. সমাজ সমস্যামূলক উপন্যাস
  4. পদ্মার তীরবর্তী ধীবর জীবন ভিত্তিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর। সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।

--------------
•  আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'জাল' উপন্যাস।
৩২৬.
'ছত্রপতি শিবাজী' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) জসীম উদদীন
সঠিক উত্তর:
খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্ত নাটক প্রফুল্ল। তাঁর রচিত পৌরাণিক নাটক রাবণবধ, সীতার বনবাস, সীতাহরণ, জনা ইত্যাদি এবং ঐতিহাসিক নাটক- সিরাজউদ্দৌলা, মীর কাসিম, ছত্রপতি শিবাজী ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩২৭.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া।

বন্দে আলী মিয়া:

- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৮.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) ইমদাদুল হক মিলন
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।  

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' - গানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাত আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• শওকত ওসমানের শিশুতোষ গ্রন্থ - ওটেন সাহেবের বাংলো, তারা দুইজন, ক্ষুদে সোশালিস্ট ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৯.
'তৃণাঙ্কুর' কী জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা

১৯৪৩ সালে প্রকাশিত, তৃণাঙ্কুর বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

১৮৯৪ সালে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় চব্বিশ পরগনার মুরারিপুরে জনগ্রহণ করেন।
- ইছামতী, উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯৫০ সালে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৩০.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) লীলাবতী
  2. খ) নবীন তপস্বিনী
  3. গ) জামাই বারিক
  4. ঘ) পরপারে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরপারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরপারে
ব্যাখ্যা

'পরপারে' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক । নাটকটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।

লীলাবতী, নবীন তপস্বিনী, জামাই বারিক দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক।
এছাড়া তিনি নীলকরদের বীভৎস অত্যাচারে লাঞ্ছিত নীল চাষিদের দুরবস্থা অবলম্বনে রচিত 'নীল দর্পণ' নাটক রচনা করেন।
নাটকটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজি অনুবাদ করেন, 'Nil Darpon or The indigo Planting Mirror' নামে ১৮৬১ সালে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৩১.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লার কোন রচনায় চেতনাপ্রবাহ রীতি লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) চাঁদের অমাবস্যা
  3. গ) কাঁদো নদী কাঁদো
  4. ঘ) দি আগলি এশিয়ান
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁদো নদী কাঁদো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ (১৯৬৮) সালে প্রকাশিত হয়।
মুস্তফা, তবারক, খোদেজা ইত্যাদি চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শাহরিক পরিবেশ বর্ণনা করা হয়েছে। এই উপন্যাসে নদী হয়ে উঠেছে প্রবহমান জীবনের প্রতীক।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালে  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়। একদিকে নিয়তিতাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩৩২.
'তাজকেরাতুল আওলিয়া' অবলম্বনে 'তাপসমালা' কে রচনা করেন?
  1. মুন্সী আব্দুল লতিফ
  2. কাজী আকরাম হোসেন
  3. গিরিশচন্দ্র সেন
  4. শেখ আব্দুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
 • গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:

• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তাজকেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

• তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
'আর্ত শব্দাবলী' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'আর্ত শব্দাবলী' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

---------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমালোচক। তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
-সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩৪.
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক কোনটি?
  1. জনপদ
  2. নবান্ন
  3. মানুষ
  4. চাকা 
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

• 'মানুষ' নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রগুলো: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

অন্যদিকে, 
• 'নবনাট্য' আন্দোলন'র প্রবক্তা বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক- জনপদ, নবান্ন। 
• সেলিম আল দিন রচিত নাটক- চাকা। 

-------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী। ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- 'মুনীর অপটিমা' তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৩৫.
শেখ আজিজুর রহমান কোন লেখকের আসল নাম?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. শামসুর রাহমান
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৬.
'ওরা কদম আলী' মামুনুর রশীদ রচিত-
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• ওরা কদম কদম আলী:
- ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটক প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- শোষিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নাটকে নিয়ে এসেছেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা।
- আর বঞ্চিত, শোষিত মানুষের শ্রেণিসংগ্রামের রূপকার হিসেবে মামুনুর রশীদের 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছেন বিশিষ্ট মাত্রা।
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কীভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৭.
কোন ঔপন্যাসিকের চারটি উপন্যাস একত্রে 'শতবর্ষ' নামে সংকলিত হয়েছে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রমেশচন্দ্র দত্ত
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
রমেশচন্দ্র দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রমেশচন্দ্র দত্ত
ব্যাখ্যা

 শতবর্ষ:
• রমেশচন্দ্র দত্ত চারটি ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা করেন: বঙ্গ বিজেতা, মাধবী কঙ্কণ, রাজপুত জীবন সন্ধ্যা ও মহারাষ্ট্র জীবন প্রভাত।
• প্রথম দুটি উপন্যাসে তিনি সম্রাট আকবর কর্তৃক বাংলা বিজয়, তৃতীয়টিতে আকবরের বিরুদ্ধে রানা প্রতাপ সিংহের সংগ্রাম এবং চতুর্থটিতে শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির অভ্যুদয়ের কাহিনি বর্ণনা করেন। 
• সব কটি উপন্যাসই ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুঘল সাম্রাজ্যের শতবর্ষের ইতিহাসের ঘটনা নিয়ে এই উপন্যাসগুলি রচিত হয়েছিল বলে এগুলি একসাথে “শতবর্ষ” (১৮৭৯) নামে সঙ্কলিত হয়েছিল।

• কবির অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাস :
- রাজপুত জীবন-সন্ধ্যা।
- মহারাষ্ট্র জীবন-প্রভাত। 
- বঙ্গবিজেতা।
- মাধবীকঙ্কণ।
- সংসার। 
- সমাজ। 

উৎস: বাংলাপিডিয় এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৩৮.
'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' - বিখ্যাত এই গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. গ) সাঈদ আহমদ
  4. ঘ) সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' - বিখ্যাত এই গানটির রচয়িতা - সিকান্‌দার আবু জাফর।

• তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।

তাঁর রচিত  গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক
- কবিতা
- বৃশ্চিকলগ্ন

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে
- পূরবী
- নবী কাহিনী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩৩৯.
মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন-
  1. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  2. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  3. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  4. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই  সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)। 
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত'।
-ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬):

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪০.
নিচের কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পদুমাবৎ
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) মনসামঙ্গল কাব্য
  4. ঘ) লাইলি মজনু
সঠিক উত্তর:
ক) পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- সংস্কৃত ভাষাসহ অন্যান্য প্রাচ্যভাষা ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর আগ্রহ ছিল।

• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন সম্পাদিত গ্রন্থ: 
- The Kashmiri Ramayana 
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta. (1930)

• মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ।
- হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪১.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অপরাজিত
  2. অশনি সংকেত
  3. আরণ্যক
  4. ইছামতী
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
ব্যাখ্যা

⇒ 'ইছামতী' উপন্যাস:
- ‘ইছামতী’ ১৯৫০ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখকের শেষ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
- ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪২.
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন”- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• “সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন”- পঙ্‌ক্তিদ্বয় বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:

- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। 
- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত। প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

• এ কাব্যে কবি বলেছেন-

''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

---------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪৩.
'হুইটম্যানের কবিতা' কার অনুবাদগ্রন্থ?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহাসান
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহাসান
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

অনুবাদগ্রন্থঃ
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৪৪.
'নিরুপায় হরিণী' আনোয়ার পাশা রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থ:
আনোয়ার পাশা গল্প বলতে ভালোবাসেন; এবং তিনি গল্প বলতে জানেন 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থে সেই কথাই বলছে। এ বইতে তাঁর ভাষা স্বচ্ছন্দ, তাঁর লেখার রীতির মধ্যে দেখা যায় একটা বুর্জোয়া পরিছন্নতা। পরিহার করে চলেছেন অলঙ্কার প্রিয়তা ও অতিরিক্ত ভাবাবেগ। প্রতীক আছে কিন্তু তার ব্যবহারে অতিশয়োক্তির আড়ম্ব নেই।

এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো:
- নিরুপায় হরিণী, 
- বেনো দিঘির উপকথা,
- বাঘে-ছারপোকায়,
- প্রতিনায়িকা,
- নিমসিতানের পথে,
- দুটি মেয়ে একটি ছেলে,
- শিকার,
- মর্কটবৃত্ত,
- ঝরিয়া যায়,
- বাঘা ভূতের পাঁচালি। 

উৎস: 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থ আনোয়ার পাশা।
৩৪৫.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" কাব্যনাট্যের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকল ওসমান
  3. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" কাব্যনাট্য:
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
•  নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
 
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৬.
'কচিপাতা' সাহিত্যকর্মের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম- কচিপাতা, অনাবাদি জমি, দৃষ্টিকোণ, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৪৭.
’সৈয়দ মুজতবা আলী’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি-
  1. পথে প্রবাসে
  2. কাবুলের শেষ প্রহরে
  3. চলে মুসাফির
  4. তুরস্ক ভ্রমণ
সঠিক উত্তর:
কাবুলের শেষ প্রহরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুলের শেষ প্রহরে
ব্যাখ্যা
’সৈয়দ মুজতবা আলী’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি- কাবুলের শেষ প্রহরে।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন,
- তাঁর  উল্লেখ্যযোগ্য ভ্রমন কাহিনী : দেশে বিদেশে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শত্রু-ইয়ার।
- ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।
- রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে,
- ’অন্নদাশঙ্কর রায়’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি- পথে প্রবাসে।
- ’জসীমউদ্দীন’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি-  চলে মুসাফির ।
- ’সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি-  তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং আনন্দপাঠ, অষ্টম শ্রেণি।
৩৪৮.
বাংলা শিশুসাহিত্যের বিখ্যাত 'মশা' গল্পটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'মশা' গল্প ও 'ঘনাদা' চরিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের "মশা" একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিমূলক ছোটগল্প যা তাঁর জনপ্রিয় চরিত্র ঘনাদার সঙ্গে জড়িত। 
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি 'ঘনাদা' চরিত্রটি।প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত 'মশা' (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে। কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর; 'মশা' গল্প।
৩৪৯.
'ঠাকুরমার ঝুলি' -গ্রন্থটির সংকলক কে?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
- ঠাকুরমার ঝুলি' দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংকলিত রূপকথা আশ্রিত শিশুসাহিত্য। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে।
- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্য ও আছে। কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এই গল্পগুলি বলার গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ন রেখে দক্ষিণারঞ্জন সম্পাদনা ও প্রকাশ করে চিরস্মরণীয় হয়েছেন।

- ১৮৭৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- ১৯০৯ সালে 'ঠাকুরদাদার ঝুলি' প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫০.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) অনন্দাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
নিশুতি রাতের গাথা, নীড় সন্ধানী ও রাইফেল রোটি আওরাত উপন্যাসের রচয়িতা আনোয়ার পাশা। 'নদী নিঃশেষিত হলে' ও 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' তাঁর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩৫১.
ড. সুনীতিকুমারের মতে বাংলা ভাষায় তুর্কি শব্দের সংখ্যা সর্বোচ্চ কতটি?
  1. ক) ৩৫
  2. খ) ৪০
  3. গ) ৪৫
  4. ঘ) ৫০
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার বলেছেন বাঙালায় তুর্কি শব্দ ৪০ টির বেশি হবে না।
- 'আলখাল্লা', 'কুলী', 'কোর্মা', 'খাতুন', 'বেগম', 'লাশ' ইত্যাদি তুর্কি শব্দ। 
- 'আলখাল্লা' তুর্কিতে ছিলো 'আল খালিক'। 
- 'কুলী' ছিলো 'কুলি' তখন তার অর্থ ছিলো ক্রীতদাস।
-  'কোর্মা' তুর্কিতে ছিলো 'কওউর্মা'। 
- 'খাতুন' ছিলো 'খতুন'।
- 'বেগম' ছিলো 'বেগুম'।
- 'লাশ' ছিলো 'লাস'

উৎস: কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী, হুমায়ুন আজাদ।
৩৫২.
‘অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থঃ
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯২৬),
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৩.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) লীলাবতী
  2. খ) দ্বাদশ কবিতা
  3. গ) সুরধুনী কাব্য
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
লীলাবতী দীনবন্ধু মিত্রের সামাজিক নাটক। তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৫৪.
'যদ্যপি আমার গুরু' কার রচনা?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আব্দুশ শাকুর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

• 'যদ্যপি আমার গুরু' গ্রন্থ:
'যদ্যপি আমার গুরু' বাংলাদেশের অগ্রণী চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মূলক রচনাটি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশের আগে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রায় চার মাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। 
- লেখক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।গুরু হিসেবে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৫.
‘পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. রফিক আজাদ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

কবিতাটি সংক্ষেপে নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

----------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৫৬.
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক) কারা রচনা করেন?
  1. ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. গ) মুহম্মদ আব্দুল হাই, আনিসুজ্জামান ও আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ আলী হাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।
- অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৫৭.
আনোয়ার পাশা কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা (এপ্রিল ১৫, ১৯২৮ - ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১) বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭২ সালে (মরণোত্তর)।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রচিত ও তার অব্যবহিত পরেই প্রকাশিত অন্যতম উপন্যাস - 'রাইফেল রোটি আওরাত'। উপন্যাসটি ১৯৭১ সালে এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে রচিত এবং এটিই মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম রচিত উপন্যাস। কিন্তু এটি প্রকাশিত হয় - ১৯৭৩ সালে।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৮.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মমতাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়(১৯৭৬)'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৯.
লালন ও হাসনের গানে প্রাধান্য পায়----
  1. ক) নারী প্রেম
  2. খ) স্বদেশ প্রেম
  3. গ) ইহজাগতিকতা
  4. ঘ) আধ্যাত্মিকতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আধ্যাত্মিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আধ্যাত্মিকতা
ব্যাখ্যা
লালন ও হাসনের গানে প্রাধান্য পায় আধ্যাত্মিকতা। 
আবদুল করিমের গানে প্রাধান্য ইহজাগতিকতা। 

• লালন শাহ বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

• হাসন রাজা মরমি কবি ও সাধক হিসেবে পরিচিত। তার প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- তিনি ১৮৫৪ সালের ২৪ জনিুয়ারি সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
- হাসন রাজা আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার গান রচনা করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রযেছে:
- ‘লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার’
- ‘সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল’ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬০.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কবিতাবলী
  2. খ) পৃথক পালঙ্ক
  3. গ) প্রেমের কবিতা
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
ক) কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী, (১৯০১-১৯৮৬)  কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা,
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক।

• তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে। কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
• উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬১.
বাপুরাম সাপুড়ে,
কোথা যাস্ বাপুরে?
আয় বাবা দেখে যা!
দুটোসাপ রেখে যা!- কবিতার পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
বাবুরাম সাপুড়ে
সুকুমার রায়

বাপুরাম সাপুড়ে,
            কোথা যাস্ বাপুরে?
আয় বাবা দেখে যা!
            দুটো সাপ রেখে যা!
যে সাপের চোখ্ নেই,
           শিং নেই নোখ্ নেই!
ছোট না কি হাঁটে না,
           কাউকে যে কাটে না,
করে নাকো ফোঁস্ ফাঁস,
          মারে নাকো ঢুঁশ্ঢাঁশ,
নেই কোন উৎপাত,
          খায় শুধু দুধ ভাত-
সেই সাপ জ্যান্ত
          গোটা দুই আনত?
তেড়ে মেরে ডাণ্ডা
           ক‘রে দিই ঠাণ্ডা।

সুকুমার রায়:

- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- সুকুমার রায় সিটি স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে অনার্সসহ বিএসসি (১৯১১) পাস করেন।

• সুকুমার রায় প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র থাকাকালে ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার মুখপত্র ছিল সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা।
- বিলেত থেকে ফিরে তিনি গঠন করেন ‘মানডে ক্লাব’।
- এখানে আলোচনা ও পাঠের সঙ্গে থাকত ভূরিভোজের ব্যবস্থা।
- তাই ব্যঙ্গ করে কেউ কেউ একে বলত ‘মন্ডা ক্লাব’

উৎস: আবল তাবল ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬২.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' কে রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।
--------------------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক।
- তিনি প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার (সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৩.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বহুদর্শী 
  2. দৃষ্টিহীন 
  3. হাবু শর্মা
  4. অল্পদর্শী
সঠিক উত্তর:
অল্পদর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ছিলেন। ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দৈনিক সোলতান পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়।

- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

​- এর আগে তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
 উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

​অন্যদিকে, 
• ​তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো 'হাবু শর্মা'।  
• মধুসূধন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
আবার,
• দৃষ্টিহীন' - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৬৪.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. জসীম উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী।

অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)। তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬৫.
'আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি, আমি বাংলার আলপথ দিয়ে _______ বছর চলি'-চরণের শূন্যস্থান কোন শব্দ দিয়ে পূরণ হবে?
  1. সহস্র
  2. হাজার
  3. শত
  4. অযুত
সঠিক উত্তর:
হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজার
ব্যাখ্যা
• আমি জন্মেছি বাংলায়,
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।

- আলোচ্য পঙ্‌ক্তিদ্বয় সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'আমার পরিচয়' কবিতার অংশ। 
- ‘আমার পরিচয়’ কবিতাটি  সৈদয় শামসুল হকের ‘কিশোর কবিতা সমগ্র; থেকে সম্পাদিত আকারে চয়ন করা হয়েছে।
- কবিতাটির মাধ্যমে লেখক বাঙালি জাতির বর্তমান অবস্থার পেছনের বর্ণিল ইতিহাসের কথা তুলে ধরেছেন।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুর পর তাঁর স্মরণে 'সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

----------------------
সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ 
- কাজী নজরুল ইসলাম

আজ আষাঢ়-মেঘের কালো কাফনের আড়ালে মু-খানি ঢাকি
আহা কে তুমি জননি কার নাম ধরে বারে বারে যাও ডাকি?
মাগো কর হানি দ্বারে দ্বারে
তুমি কোন হারামণি খুঁজিতে আসিলে ঘুম-সাগরের পারে?
‘কই রে সত্য, সত্যেন কই’ কাতর কান্না শুধু
গগন-মরুর প্রাঙ্গণে হানে সাহারার হাহা ধুধু!
সত্য অমর, কেঁদো না জননি, আসিবে আবার রবি,
গিয়াছে বাণীর কমল-বনে মা, কমল তুলিতে কবি!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৬৭.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. পরিত্যক্ত স্বামী
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. আমি অনাহারী
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ পূর্বতন ঢাকা জেলা, বর্তমান গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থও।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী
- নির্বাচিত গল্প।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬৮.
‘এই গৃহ এই সন্ন্যাস’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
এই গৃহ এই সন্ন্যাস মহাদেব সাহা'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে মোট ৪২ টি কবিতা রয়েছে। এসব কবিতায় সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ট্র্যাজেডি, শৈশব স্মৃতি ইত্যাদি ফুটে উঠেছে। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৩৬৯.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আনিসুজ্জামান
  2. আব্দুল কাদির
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন। 
-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
৩৭০.
আহমদ ছফা কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
  1. উত্তরণ
  2. সম্ভাবনা
  3. উত্থানপর্ব
  4. স্বাক্ষর
সঠিক উত্তর:
স্বাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা নয়- স্বাক্ষর।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। 
- স্বদেশ, প্রতিরোধ, সম্ভাবনা, উত্তরণ এবং উত্থানপর্বের তিনি ছিলেন সম্পাদক। 
 
 • তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থসমূহ হচ্ছে:
- সূর্য তুমি সাথী, 
- ওঙ্কর, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- গাভি বিত্তান্ত, 
- অর্ধেক নারী অর্ধেক উশ্বরী, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

অন্যদিকে,
• 'স্বাক্ষর’ পত্রিকা:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে উত্তাল ঘাটের দশকে যে-কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল, 'স্বাক্ষর' এগুলোর একটি।
- ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে 'স্বাক্ষর’ এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন দুই কবি; রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক।
- পরে বিভিন্নজন এর সম্পাদকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইমরুল চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল, আসাদ চৌধুরী, রণজিৎ পালচৌধুরী।
- সাহিত্যে প্রথাবদ্ধতার বিরুদ্ধে ছিল এঁদের সংগ্রাম। রবীন্দ্র-রোম্যান্টিকতা, জীবনানন্দীয় প্রণয়- আকুলতা, সমাজবাদী মতবাদনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য দর্শন প্রভাবিত হয়ে 'স্বাক্ষরে'র লেখকগণ লেখনীধারণ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭১.
“আনন্দের মৃত্যু” গল্পের রচয়িতা হচ্ছেন-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ মঞ্জুরুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হকঃ বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
তার রচিত গল্পঃ
- আনন্দের মৃত্যু,
- তাস,
- শীত বিকেল,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তার উপন্যাসঃ
- খেলারাম খেলে যা,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- অনুপম দিন,
- এক মহিলার ছবি,
- নীল দংশন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৭২.
স্বাধীনতা উত্তরকালে কবি আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিল?
  1. দৈনিক মানবজমিন
  2. দৈনিক সমকাল 
  3. দৈনিক আজাদী
  4. দৈনিক গণকন্ঠ
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকন্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকন্ঠ
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
 - আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯) একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান। 

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

কবি আল মামুদ যেসব পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন-
১৯৫৪ সালে কবি আল মাহমুদ দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে সাপ্তাহিক কাফেলা পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৭-৬২ সালে তিনি ড্রেজার ডিভিশনে গেজ রিডার পদে এবং লাইফবয় সাবানের সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করেন।

১৯৬৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাক-এ প্রুফ রিডার পদে যোগ দেন। পরে তাঁকে জুনিয়র সাব এডিটর এবং মফস্বল সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৬৮ সালে ইত্তেফাক প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসানের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়ে আর্ট প্রেসে প্রকাশনা তদারকির কাজ করেন এবং চট্টগ্রামের প্রখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা 'বইঘর'-এর প্রকাশনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে পুনরায় ইত্তেফাক চালু হলে তিনি সহ-সম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইত্তেফাক কার্যালয় গুড়িয়ে দিলে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

 মুক্তিযুদ্ধকালে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগের জুনিয়র স্টাফ অফিসার পদে যোগ দেন। ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতা উত্তরকালে ১৯৭২ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাসদ-এর মুখপত্র এবং সরকারবিরোধী একমাত্র পত্রিকা দৈনিক গণকণ্ঠ-এর সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন। ১৯৭৪ সালের মার্চে কারাবরণ করেন। প্রায় ১ বছর কারাভোগের পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালে মুক্তি পান।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭৩.
‘মোদের গরব মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা’ রচয়িতা-
  1. ক) রাধানিধি গুপ্ত
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) অতুল প্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুল প্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• 'মোদের গরব মোদের আশা / আ-মরি বাঙলা ভাষা' - গানটির রচয়িতা: 'অতুলপ্রসাদ সেন'। 
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়বাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

অতুলপ্রসাদ সেন
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৪.
কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. সংশপ্তক
  2. নিয়ত মন্তাজ
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. সারেং বৌ
সঠিক উত্তর:
সারেং বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারেং বৌ
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- 'সারেং বৌ' (১৯৬২) তাঁর রচিত আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।
- 'সংশপ্তক' (১৯৬৫) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- 'রাজবন্দীর রোজনামচা' তাঁর রচিত স্মৃতিকথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৭৫.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী। তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
তার রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশশ্মান (মহাকাব্য), কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৬.
‘উজানে মৃত্যু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'উজানে মৃত্যু' নাটক:
- 'উজানে মৃত্যু' (১৯৬৬) একটি এবসার্ড নাটক।
- নাটকের মুখ্য বিষয় আধুনিক সভ্যতার অন্তঃশূন্যতা, এর ক্লান্তিকর পথপরিক্রমা, নিরাশাবাদী ভাব কিন্তু সুখের জন্য অসীম প্রতীক্ষা, যা শেষ হবার নয়।
- এবসার্ড শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, জীবনের এলোমেলো ভাব প্রকাশিত হবে শিল্পের শরীরে। তাই এবসার্ড নাটকে থাকবে সংলাপ ও পাত্রপাত্রীর আপাত সমন্বয়হীনতা। কিন্তু এর গভীরে প্রবাহিত থাকবে পরিত্রাণের অন্তঃশীলা।

-----------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭৭.
'ছায়া হরিণ' কার গ্রন্থ?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) অক্ষয় কুমার বড়াল
  5. ঙ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
ঙ) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত রচিত উপন্যাসঃ
- অরণ্য নীলিমা ও
- রানী খালের সাঁকো।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৭৮.
‘ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- তাঁর রচিত গ্রন্থঃ অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ, ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ, পশ্চিমের যাত্রী, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭৯.
আবুল ফজল রচিত দিনলিপি কোনটি?
  1. চৌচির
  2. রেখাচিত্র
  3. প্রদীপ ও পতঙ্গ
  4. মাটির পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা

• 'রেখাচিত্র':
'রেখাচিত্র' আবুল ফজল রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক দিনলিপি বা স্মৃতিগ্রন্থ, যা ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই বইটিতে লেখক তাঁর জীবন ও তৎকালীন সমাজ সম্পর্কে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। 

-----------------------
আবুল ফজল কবি পরিচিতি:
আবুল ফজল ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৩০ সালে এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮০.
কার হাত ধরে বাংলা অভিধানের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল?
  1. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
  2. রাজা রাম মোহন রায়
  3. অশোক মুখোপাধ্যায়
  4. হরিচরণ দে
সঠিক উত্তর:
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
ব্যাখ্যা

​• রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ:
-প্রথম বাংলা অভিধানকার রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ খ্যাতনামা স্মার্ত্ত ও ব্রাহ্মসমাজের প্রথম আচার্য হিসেবে সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। -
১৭৮৬ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ও ১৮৪৫ সালের ২ মার্চ তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

- বাংলা অভিধানের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮১৭ সালে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের হাত ধরে। তিনি 'বঙ্গভাষাভিধান' নামে বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলন করেন।

- 'বঙ্গভাষাভিধান' বাঙালি রচিত বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান।

- প্রায় দুশো বছর আগে প্রকাশিত রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের সেই অভিধানকে ঘিরে বাঙালির গর্বের শেষ নেই। সেই সময়কার দাপুটে প্রকাশক স্কুল বুক সোসাইটি এই বইয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনার যাবতীয় দায়ভার গ্রহণ করে একটি ঐতিহাসিক কর্তব্য সম্পন্ন করেছিল।

উৎস: সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড এবং 'বঙ্গভাষাভিধান' রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।

৩৮১.
'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকটির রচয়িতা?  
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী'- নাটকটির রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
-  রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস: 
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী, 
- বন্দীর বন্দনা, 
- কঙ্কাবতী, 
- যে আধাঁর আলোর অধিক, 
- মরচেপড়া পেরেকের গান, 
- একদিন চিরদিন, 
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ, 
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী,  
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮২.
'কারাগারে রোজনামচা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শেখ হাসিনা
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা। প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৩৮৩.
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব —গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মুতী
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯-১৯৬৯): শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০),
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি।

বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮৪.
বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি নামে পরিচিত-
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবতী
  4. মুকুন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন- গােবিন্দচন্দ্র দাস। 

• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।
 
 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।


- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ তাকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। 
- চারণকবি ছিলেন - মুকুন্দ দাশ।
উল্লেখ্য, 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৫.
মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন কে রচনা করেন?
  1. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. রামাই পণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

- মধ্যযুগের শুরুতেই রচিত হয় একটি সুদীর্ঘ অসাধারণ কাব্য যার নাম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। এ কাব্যটি রচনা করেন বড়ু চণ্ডীদাস
- গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর কবি বড়ু চণ্ডীদাস বাংলা ভাষার প্রথম মহাকবি।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৩৮৬.
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক-
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. লাশ
  3. মানুষ
  4. নেমেসিস
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
"মানুষ" নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

• নাটকের চরিত্রগুলো হলো:
- ফরিদ,
- জুলেখা,
- বাবা,
- মা,
- ডাক্তার।

অন্যদিকে, 
- 'লাশ' ফররুখ আহমদ রচিত 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকটি মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্কে বিশিষ্ট এই নাটকটি রচিত।
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক। ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৭.
'আত্মঘাতী বাঙালি' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. অশোক মিত্র
  2. দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
  3. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. অতুল সুর
সঠিক উত্তর:
নীরদচন্দ্র চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরদচন্দ্র চৌধুরী
ব্যাখ্যা
‘আত্মঘাতী বাঙালী’:
• নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 

• শ্রীনীরদচন্দ্র চৌধুরী, যিনি ৯১ বছর বয়সে কলম ধরেছিলেন বই লেখার জন্য। নিজের সারা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোগুলো বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন ‘আত্মঘাতী বাঙালী’ বইটিতে।

• বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনের অনেক বিষয় নিয়ে বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচিত হয়েছে প্রেমের বিয়ে ও সম্বন্ধ করা বিয়ের পার্থক্য নিয়ে, যা কালে কালে পরিবর্তীত হয়েছে। এ ছাড়াও লেখকের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সমাজে নারীর সতীত্ব নিয়ে যে বিশ্বাস ছিল-আছে-থাকবে, শরৎচন্দ্র নারীদের যেসব চরিত্রের মধ্য দিয়ে সমাজে চিত্রায়িত করেছেন, তার বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণও জায়গা পেয়েছে। 




অন্যদিকে,
- আহমদ শরীফ রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ - বিচিত চিন্তা (১৯৮৬), স্বদেশ অন্বেষা (১৯৭০), বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, স্বদেশ চিন্তা ইত্যাদি।
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ- 'বাঙালির বাংলা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘আত্মঘাতী বাঙালী’ নীরদচন্দ্র চৌধুরী এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৮.
‘নদী ও নারী’ হুমায়ুন কবির রচিত -
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস - নদী ও নারী

হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব, 
- বাংলার কাব্য, 
- মার্কসবাদ, 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৯.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আল মাহমুদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। 
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। 
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। এটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৯০.
বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. ক) বৃত্রসংহার
  2. খ) অনলপ্রবাহ
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) রৈবতক
সঠিক উত্তর:
গ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদকে প্রথম বাঙালি মুসলমান মহাকাব্য রচয়িতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে।
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৯১.
‘ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ’ গ্রন্থটি কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. রোম
  3. হুগলি
  4. লিসবন
সঠিক উত্তর:
লিসবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিসবন
ব্যাখ্যা
• ‘Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez’ গ্রন্থ:
ভোকাবুলারিও (Vocabulario) প্রথম মুদ্রিত বাংলা ব্যাকরণ। পুরো নাম Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez, সংক্ষেপে Vocabulario। এটি সংকলন করেছিলেন বেশ কয়েকজন পর্তুগিজ ধর্মযাজক এবং সম্পাদনা করেছিলেন Manoel da Assumpcam। ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল। পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলায় আসেন এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত তাঁরা এখানে ধর্ম প্রচারের কাজ চালিয়ে যান। এ কাজের জন্য তাঁদের প্রয়োজন ছিল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। কিন্তু যেহেতু তারা গ্রামে বাস করত এবং অভিধানটি ধর্মযাজকদের নিজেদের ব্যবহারের জন্যই প্রয়োজনীয় ছিল, সেহেতু মুদ্রিত ৪০ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটি স্থানীয় ভাষার আদলে রচনা করা হয়। এতে সংস্কৃত ভাষার কোনো প্রভাব ছিল না। পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার লোকদের কথোপকথনের ভিত্তিতে ব্যাকরণটি রচিত হয়। এখানেই এর বিশেষত্ব।

-----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ ছিলেন একজন পর্তুগিজ।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯২.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. মানুষ শাবকের কথা
  2. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  3. পথের পাঁচালী 
  4. পুতুলনাচের ইতিকথা
সঠিক উত্তর:
হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা:
- ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ হল তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি বাশবাদি গ্রামে কাহার জাতির মানুষের জীবন, তাদের পুরনো বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়।
- প্রথম গল্প: ‘রসকলি’, এটি প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- ত্রয়ী উপন্যাস: ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

উপন্যাসসমূহ:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি। 

ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা। 

অন্যদিকে, 
- "মানুষ শাবকের কথা" হলো ভারতীয় লেখিকা তিলোত্তমা মজুমদার-এর প্রথম উপন্যাস। 
- "পথের পাঁচালী" হল প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- "পুতুলনাচের ইতিকথা" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় উপন্যাস

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩৯৩.
“মধ্যাহ্ন” - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ ও দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপটে লেখা হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস “মধ্যাহ্ন”। হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - অনিল বাগচীর একদিন, আগুনের পরশমণি, জোছনা ও জননীর গল্প ইত্যাদি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড নিয়ে তার ইতিহাস মিশ্রিত লেখা - দেয়াল আর ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লেখা উপন্যাস - মাতাল হাওয়া। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৯৪.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের সর্গ সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৩০টি
  2. খ) ৪০টি
  3. গ) ৫০টি
  4. ঘ) ৬০টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬০টি
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৯৫.
'বৃত্রসংহার' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বৃত্রসংহার' প্রবন্ধের রচয়িতা- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যাত্রা, বৈজিকতত্ত্ব, বাল্যবিবাহ, সৎকার ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধ। কণ্ঠমালা, মাধবীলতা, জালপ্রতাপ চাঁদক্ষ তাঁর রচিত উপন্যাস। পালামৌ তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩৯৬.
'প্রভাত-চিন্তা'- প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা হলেন- কালীপ্রসন্ন ঘোষ।

• কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত। 
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা।
- নিভৃত-চিন্তা।
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব।
- নিশীথ-চিন্তা। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভ্রান্তিবিনোদ।
- প্রমোদলহরী।
- ভক্তির জয়।
- মা না মহাশক্তি।
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা।
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।
- এছাড়াও 'সঙ্গীতমঞ্জরী' নামে আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং 'কোমল কবিতা' নামে শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯৭.
মুনীর চৌধুরী অনূদিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) চিঠি
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত অনুবাদ নাটক হলো রূপার কৌটা (মূল: জর্জ গলজওয়ার্দি রচিত The Silver Box), কেউ কিছু বলতে পারে না (মূল: জর্জ বার্নার্ড শ রচিত You Never Can Tell) এবং মুখরা রমণী বশীকরণ (মূল: উইলিয়াম শেকসপিয়ার রচিত Taming of the Shrew)। অন্যদিকে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের হ্যামলেট নাটক বাংলা অনুবাদ করেন কবি শামসুর রহমান।
Source: LiveMCQ Lecture
৩৯৮.
কিরণময়ী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) দত্তা
  2. খ) অরক্ষণীয়া
  3. গ) চরিত্রহীন
  4. ঘ) শ্রীকান্ত
সঠিক উত্তর:
গ) চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
চরিত্রহীন (১৯১৭) উপন্যাস প্রথমে ‘যমুনা’ পত্রিকায় কিছুটা প্রকাশিত হয়। উপন্যাস্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর ও কিরণময়ী। শ্রীকান্ত উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর চারটি খন্ড। উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, রোহিণী, কমললতা প্রমুখ। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৯.
‘উত্তরাধিকার’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শহীদ কাদরী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• উত্তরাধিকার: 
- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'- এ (১৯৬৭)।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, 
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, 
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০০.
নিচের কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. পদুমাবৎ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মনসামঙ্গল কাব্য
  4. লাইলি মজনু
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।