বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

মোট প্রশ্ন৭,৬৪৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখক

PrepBank · পাতা / ৭৭ · ৫০১৬০০ / ৭,৬৪৬

৫০১.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. ক) পুষ্প বৃক্ষ
  2. খ) গাভী বিত্তান্ত
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) অলাতচক্র
সঠিক উত্তর:
গ) ওঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওঙ্কার
ব্যাখ্যা
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- উনসত্তরের গণ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তাঁর উপন্যাস ওঙ্কার। এই উপন্যাসের নায়ক আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।

- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
• সূর্য তুমি সাথী (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
• একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
• মরণবিলাস,
• গাভী বিত্তান্ত (বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস),
• অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
• পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০২.
নিচের কোন কবিকে 'কবিদের কবি' বলা হয়?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. বিষ্ণু দে
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতোটা প্রভাব বিস্তার করে যে, তরুণরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে থাকে।
- অনেকে তাঁর কবিতা পড়েই কবি হবার আকাঙক্ষা বোধ করে।
- বাংলাদেশের আর কোন কবি অনুজ কবিদের উপর এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- গত শতাব্দীর সত্তর দশকের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি তাঁর প্রভাবেই কবি হয়েছেন।
- তাই নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি বলা হয়।
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল, কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৩.
‘অশোক সৈয়দ’ ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুর মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুর মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবদুর মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
• তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস-
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, (১৯৭৪)
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি, (১৯৯৮)
- অ-তে অজগর, (১৯৮২)
- পোড়ামাটির কাজ,(১৯৮২)
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, (১৯৯৪)
• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৪.
'আবিষ্কারের নেশায়' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন নাট্যকার। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র যিনি ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর প্রকাশিত শিশু ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদনা- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, বিজ্ঞান ও মানুষ, জানা-অজানার দেশে, তারার দেশের হাতছানি, বিচিত্র বিজ্ঞান, কীটপতঙ্গের বিচিত্র জগৎ, পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে, আজকের বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫০৫.
নিচের কোনটি উলিয়াম শেক্সপীয়ারের গ্রন্থের অনুবাদ?
  1. ক) বাঙ্গলার ইতিহাস
  2. খ) শকুন্তলা
  3. গ) সীতার বনবাস
  4. ঘ) ভ্রান্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রান্তিবিলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 


ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থঃ
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে)
- জীবনচরিত (ইংরেজি বই অবলম্বনে)
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দী থেকে)
- বাঙ্গলার ইতিহাস (মার্শম্যানের বই অনুসারে)
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে)

[উৎস: লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ , বাংলাপিডিয়া।]
৫০৬.
'বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মাযহারুল ইসলাম
  2. খ) রফিকুল আজাদ
  3. গ) হুমায়ন কবীর
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
ক) মাযহারুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাযহারুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী, দেশবরেণ্য গবেষক, খ্যাতনামা সাহিত্যিক প্রফেসর মযহারুল ইসলামের জন্ম ১৯২৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহত্তর পাবনা (বর্তমান সিরাজগঞ্জ) জেলার চর নবীপুর গ্রামে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলোঃ
১) মাটির ফসল (১৯৫৫)
২) বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি (১৯৭০)
৩) আর্তনাদে বিবর্ণ (১৯৭০)
৪) দুঃসময়ের ছড়া (১৯৮৮)
৫) উজানে ফেরার প্রতিধ্বনি (১৯৮৮)
৬) সন্তরণে নিরন্তর (২০০৬)
তিনি ১৫ নভেম্বর, ২০০৩ সালে মারা যান।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

৫০৭.
‘ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম‘ ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীন চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

অন্যদিকে,
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৮.
'বনি আদম' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী, -
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫০৯.
'পাখির বাসা' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. শিশুতোষ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কাহিনীকাব্য
সঠিক উত্তর:
শিশুতোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশুতোষ
ব্যাখ্যা

• ফরুক আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলোঃ
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- চাঁদের আসর,
- ছড়ার আসর,
- ফুলের জলসা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৫১০.
ব্যঙ্গরচনা 'আয়না' এর লেখক কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'আয়না' আবুল মনসুর আহমেদ রচিত ব্যঙ্গরচনা।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণীয় ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্প আবুল মনসুর যে আয়না তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে।

• আবুল মনসুর আহমেদ:

- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:

- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
সত্যমিথ্যা,
জীবন ক্ষুধা,
আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫১১.
শওকত আলী ত্রয়ী উপন্যাসের একটি উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. কুলায় কালস্রোত
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. পিঙ্গল আকাশ
সঠিক উত্তর:
পিঙ্গল আকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিঙ্গল আকাশ
ব্যাখ্যা

• শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।

 শওকত আলী:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।

- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মূল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১২.
কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ঘরেবাইরে
  2. খ) সংশপ্তক
  3. গ) সারেং বৌ
  4. ঘ) চৌরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
গ) সারেং বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সারেং বৌ
ব্যাখ্যা

• শহীদুল্লা কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী।
• তিনি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর প্রকৃত নাম ছিল 'আবু নঈম মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ'।
• তাঁর 'সারেং বৌ' উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'সংশপ্তক'।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- রাজবন্দীর রোজনামচা।
• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫১৩.
শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) দৈনিক পাকিস্তান
  2. খ) নতুন কবিতা
  3. গ) সোনার বাংলা
  4. ঘ) মর্নিং নিউজ
সঠিক উত্তর:
গ) সোনার বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোনার বাংলা
ব্যাখ্যা
আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে ১৩জন তরুণ কবির কবিতার সঙ্কলন, নতুন কবিতা-য় তাঁর পাঁচটি কবিতাতাঁর কবি পরিচয়কে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 

মৃত্যুর পূর্বে শামসুর রাহমানের ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- রোদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১৪.
'কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।'- পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শামসুর রাহমান
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'কালো আর ধলো বাহিরে কেবল,
ভিতরে সবারি সমান রাঙা'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

মানুষ জাতি- কবিতা,
– --------------সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথী।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া, মানুষ জাতি- কবিতা।
৫১৫.
‘পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’- পঙক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) আঠারো বছর বয়স
  2. খ) প্রার্থী
  3. গ) রানার
  4. ঘ) হে মহাজীবন
সঠিক উত্তর:
ঘ) হে মহাজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হে মহাজীবন
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ‘ছাড়পত্র’ সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্বাভাস
  2. আকাল
  3. হরতাল
  4. অভিযান
সঠিক উত্তর:
আকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাল
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৫১৭.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বনি আদম
  2. তস্কর নস্কর
  3. পিঁজরাপোল
  4. আমলার মামলা
সঠিক উত্তর:
বনি আদম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনি আদম
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস 'বনি আদম'।

• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫১৮.
'আরো দুটি মৃত্যু' হাসান হাফিজুর রহমানের কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্প
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা

• ‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমান রচিত দাঙ্গাবিরোধী গল্প। গল্পটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো সমানভাবে বিদ্যমান।

------------------------
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৯.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?
  1. গাইবান্ধায়
  2. বগুড়ায়
  3. ঢাকায়
  4. সিরাজগঞ্জে 
সঠিক উত্তর:
গাইবান্ধায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাইবান্ধায়
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। 
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।
• তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। 
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
- অন্যঘরে অন্যস্বর, 
- দোজখের ওম, 
-  খোয়াবনামা,
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২০.
'আয়না' রম্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) আবুল মনসুর আহম্মদ
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল মনসুর আহম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল মনসুর আহম্মদ
ব্যাখ্যা
'আয়না' রম্য গল্পগ্রন্থের রচয়িতা- 'আবুল মনসুর আহমদ'।
- গ্রন্থটির ভূমিকা বা মুখবন্ধ লিখেছিলেন - কাজী নজরুল ইসলাম।

আবুল মনসুর আহমদ
আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
৫২১.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত কবিতাগ্রন্থ?
  1. ক) নির্জন স্বাক্ষর
  2. খ) কঙ্কাবতী
  3. গ) পরিক্রমা
  4. ঘ) সানন্দা
সঠিক উত্তর:
খ) কঙ্কাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কঙ্কাবতী
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কঙ্কাবতী’ কবিতাগ্রন্থ:
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ/কবিতাগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়,
- অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২২.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. জীয়নকন্যা
  2. জনপদ
  3. গোত্রান্তর
  4. কলঙ্ক
সঠিক উত্তর:
জনপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনপদ
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য দুটি গল্প হচ্ছে তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত 'জনপদ' এবং দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত 'রাণী পালঙ্ক'।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো:
• ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো 'মরাচাঁদ' ও 'কলঙ্ক'। 'মরাচাঁদ' চব্বিশ পরগনার এক অন্ধ গায়কের জীবনকাহিনী, আর 'কলঙ্ক' বাঁকুড়ার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবনালেখ্য।

• তাঁর 'গোত্রান্তর' (১৯৬০) নাটকের বিষয়বস্তু ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গবাসীর ভাগ্যবিপর্যয়। পরে তিনি লেখেন মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে অবরোধ (১৯৪৭)। ১৯৬৬-তে লেখেন দেবীগর্জন ও বেদেদের - জীবন নিয়ে গর্ভবতী জননী।

• বিজন ভট্টাচার্যের প্রতিভার সার্থকতম নিদর্শন হলো 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটক। বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
গণনাট্য সংঘের প্রযোজনায় নবান্ন নাটকে তিনি নিজে অভিনয় করেন এবং অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছিলেন তৃপ্তি মিত্র, শম্ভু মিত্র, গঙ্গাপদ বসু, শোভা সেন, গোপাল হালদার প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২৩.
‘ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. রফিক আজাদ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• ‘ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাস:
- ‘ক্ষুধা ও আশা’ আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

- ১৯৪৩ সালে যুদ্ধরত ঔপনিবেশিক শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় স্বার্থান্বেষী দেশীয় হিংস্র শোষক শ্রেণী পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ থাকা সত্ত্বেও যে মহা দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করে, তাতে কিংবদন্তীর উর্বরতার ভাণ্ডার বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ অসহায় শ্রমিক-কৃষক নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত গ্রামে গ্রামে শহরে বন্দরে মহানগরীতে অভিজাত ধনাঢ্যব্যক্তিদের চোখের সামনে মৃত্যুবরণে বাধ্য হয়: এই উপন্যাস তারই এক শাদামাটা কাহিনি।

- কিশোর লেখকের নিজের চোখে দেখা যে বাস্তবতা: তুখোড় সমালোচকগণ এর নান্দনিক মূল্যায়ন যা-ই করুন, ক্ষুধা ও আশা যে বিপন্ন মানব অস্তিত্বের এক প্রামাণ্য দলিল তাতেসবাই নিঃসন্দেহ।

---------------
অন্যদিকে,
• ‘জীবন ক্ষুধা' (১৯৫৫) পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশ বিভাগের পটভূমিতে আবুল মনসুর আহমদ রচিত একটি উপন্যাস। 
• 'ভাত দে হারামজাদা' রফিক আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা।
• ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপন্যাস ‘মৃত্যুক্ষুধা’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাস।
৫২৪.
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো-
  1. ক) নীড় সন্ধানী
  2. খ) নিষুতি রাতের গাথা
  3. গ) রাইফেল রােটি আওরাত
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
গ) রাইফেল রােটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাইফেল রােটি আওরাত
ব্যাখ্যা

আনোয়ার পাশা:
কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালােচক, শিক্ষাবিদ। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।

উপন্যাস :
- নীড় সন্ধানী (১৯৬৮),
- নিষুতি রাতের গাথা (১৯৬৮),
- রাইফেল রােটি আওরাত (১৯৭৩)।
তাঁর রাইফেল-রোটি-আওরাত উপন্যাসটি রচিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
গল্পগ্রন্থ : নিরুপায় হরিণী (১৯৭০)।
কাব্য :
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

৫২৫.
নিচের কোন গ্রন্থটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) চিঠি
  3. গ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  4. ঘ) রাজসিংহ
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্: তিনি ছিলেন ভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ৷

তার সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থগুলাে হলো:
পদ্মাবতী (১৯৫০), প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী (১৯৫২), গল্প সংকলন, দুই খণ্ড প্রকাশিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫২৬.
‘সত্যের মতো বদমাশ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্প
  2. কবিতা
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দের শ্রেষ্ঠ গল্পগ্রন্থ- সত্যের মতো বদমাশ। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
- মানবমনের নিগূঢ় সত্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে এই গ্রন্থের গল্পগুলোতে।

তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো :
- চলো যাই পরোক্ষে
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা
- নেকড়ে হায়না আর তির পরী

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৭.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৮.
''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।''- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• ''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: গোলাম মোস্তফা।

কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
মোস্তফা, গোলাম:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫২৯.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চিন্তাতরঙ্গিণী
  2. বৃত্রসংহার
  3. দশমহাবিদ্যা
  4. বীরবাহু কাব্য
সঠিক উত্তর:
বৃত্রসংহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃত্রসংহার
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য হচ্ছে বৃত্রসংহার। 

বৃত্রসংহার:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো ‘বৃত্রসংহার’, যা ২ খণ্ডে, ১৮৭৫-৭ সালে প্রকাশিত।
- এটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত জনপ্রিয় আখ্যান কাব্য। মহাকাব্য হিসেবে রচিত। 
- এটি মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত, যেখানে সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় প্রতিপাদ্য করা হয়েছে।
- এক সময় বাংলাদেশে এই কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের খ্যাতি মূলত এ কাব্যের জন্য।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন হুগলির গুলিটা গ্রামে, ১৮৩৮ সালে।
- কর্মজীবনে তিনি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হন।
- তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে দেশপ্রেম তাঁর রচনায় ফুটিয়ে তোলেন।

কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (১৮৬৪ সালে প্রকাশিত আখ্যানকাব্য)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৩০.
'মোস্তফা চরিত' রচনা করেন কে?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. ওয়াজেদ আলী
  4. মনিরুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ আকরম খাঁ:
- তিনি মূলত সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন।
- তিনি বাংলাসহ আরবি, উর্দু, পারসি ও সংস্কৃত ভাষায় ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯০৩ সালে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- তাঁর সম্পাদিত দুটি স্বল্পস্থায়ী দৈনিক পত্রিকার নাম: উর্দু দৈনিক 'জামানা' (১৯২০) ও বাংলা দৈনিক 'সেবক' (১৯২১)।
- তাঁর সাংবাদিক জীবনের কীর্তি 'আজাদ' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা (১৯৩৬ সালের ৩১শে অক্টোবর থেকে)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো:
- মোস্তফা চরিত,
- মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৩১.
'মুজিব লেলিন ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) আসাদ চৌধুরী
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
ক) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ।

বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরীর জম্ম ১৯৪৫ সালের ২১ জুন।
- নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে

তাঁর রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো-
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩২.
সুকুমার বড়ুয়া বাংলা সাহিত্যের কোন শাখায় অবদানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. ছোটোগল্প
  2. নাটক
  3. ছড়া
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়া
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: গ) ছড়া।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
সুকুমার বড়ুয়া বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে পরিচিত ছড়াকার হিসেবে। তিনি মূলত শিশুসাহিত্য ও ছড়ার জগতে স্বতন্ত্র স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর ছড়ায়—
- শিশুমনের স্বাভাবিক কৌতুক ও কল্পনা;
- সহজ, সাবলীল ও সুরেলা ভাষা;
- ছন্দের নিপুণ ব্যবহার;
- শিক্ষামূলক অথচ আনন্দমুখর ভাব;
—স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

তিনি ছোটোগল্প বা উপন্যাস রচনায় পরিচিত নন, নাটক রচনাতেও তাঁর প্রধান খ্যাতি নেই। বরং ছড়ার মাধ্যমেই তিনি পাঠকসমাজে সুপরিচিত ও স্বীকৃত।
-----------------
• সুকুমার বড়ুয়া:

- জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানায়।
- ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া 'ছড়ারাজ', 'ছড়াশিল্পী', 'ছড়াসম্রাট' ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
- মৃত্যু: ২ জানুয়ারি ২০২৬ সালে।

উল্লেখ্য,
সুকুমার বড়ুয়ার প্রথম বই - "পাগলা ঘোড়া" প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে।
১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর ছড়ার বই - ভিজে বেড়াল।
আর ওই দুটি বইয়ের জন্যই তিনি ১৯৭৭ সালে অর্জন করেন ‘বাংলা একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’।

তাঁর ১৮টি বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য -
- পাগলা ঘোড়া,
- ভিজে বেড়াল,
- চন্দনা রঞ্জনার ছড়া,
- সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া;
- এলোপাতাড়ি,
- নানা রঙের দিন,
- চিচিং ফাঁক । 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৫৩৩.
নিচের কোনটি সরদার জয়েন উদ্‌দীন এর ছোটগল্প?
  1. ক) রোদের ঢেউ
  2. খ) নয়ন ঢুলি
  3. গ) বেগম শেফালী মীর্জা
  4. ঘ) সূর্যের আশা
সঠিক উত্তর:
খ) নয়ন ঢুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নয়ন ঢুলি
ব্যাখ্যা
নয়ন ঢুলি - সরদার জয়েনউদ্‌দীন এর ছোটগল্প।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক। তিনি ২২শে ডিসেম্বর ১৯৮৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
উপন্যাস:
- আদিগন্ত
- অনেক সূর্যের আশা
- বেগম শেফালী মীর্জা
- রোদের ঢেউ

ছোটগল্প:
- খরস্রোত
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম
- অষ্টপ্রহর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৪.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রচনা কোনটি?
  1. ক) নয়নচারা
  2. খ) স্বজাতি প্রেম 
  3. গ) অনেক আকাশ
  4. ঘ) নির্ভয় করো হে
সঠিক উত্তর:
খ) স্বজাতি প্রেম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বজাতি প্রেম 
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৩৫.
কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত?
  1. ক) ছাড় নেই
  2. খ) পালাবদল
  3. গ) পূর্ব বাংলা
  4. ঘ) পূর্বাভাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) পূর্বাভাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
• মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫৩৬.
কোনটি ঐতিহাসিক নাটক?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. রাজসিংহ
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘পলাশির যুদ্ধ’ এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য।
• ‘শর্মিষ্ঠা’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক।
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।

---------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৭.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' কে লিখেছেন?
  1. ক) রামমোহন রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
গ) রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতিপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১) লিখেছেন রামরাম বসু।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য এই গ্রন্থটি লিখেন৷
তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে আমৃত্যু জড়িত ছিলেন।
তিনি কেরী সাহেবের মুনসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৩৮.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্রের নাম কী?
  1. ক) কিশোরী
  2. খ) মালা
  3. গ) বাসন্তী
  4. ঘ) রাখী
সঠিক উত্তর:
গ) বাসন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাসন্তী
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্রের নাম- 'বাসন্তী'। 

‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত। 
 - ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৯.
‘বাংলাদেশ কথা কয়’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস
  2. দিনলিপি
  3. সম্পাদনা গ্রন্থ
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
সম্পাদনা গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পাদনা গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।

• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।

• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।

-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
৫৪০.
আবদুল কাদিরের উপাধি ছিলো কোনটি?
  1. কলমসৈনিক
  2. ছান্দসিক কবি
  3. শৈল্পিক কবি
  4. কলমগীর
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছান্দসিক কবি
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• 'কলমগীর' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এর উপাধি।

আবদুল কাদির:
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা।
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৫৪১.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'বহিপীর' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৬৫ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা

• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'বহিপীর' ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।
-----------------------

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বহিপীর উজানে মৃত্যু,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৫৪২.
'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস':
• মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত গ্রন্থ 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস'। 

• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' দৈনিক বাংলা কাগজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

• আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৭১ সালের জুন মাস থেকে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি -এই নয় মাস দেশের বাইরে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে অনুপ্রেরণা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছেন। মুজিবনগর সরকারের সাপ্তাহিক মুখপত্র 'জয় বাংলার' নির্বাহী সম্পাদক এবং স্বাধীন বাংলা বেতারে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে তাঁর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা হয়েছে এই বই। এটা শুধু তাঁর দেশ ত্যাগের পরের কাহিনিই নয়। আগের চারমাসের কাহিনিও এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে।

• ১৯৭২ সালে 'দৈনিক বাংলা' প্রত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। মুক্তিযুদ্ধ সফল হওয়ার পর আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী দেশে ফিরে এসে, একদিন দৈনিক বাংলা অফিসে যেতেই তোয়াব খান বললেন, আপনি যে নয়মাসের মতো মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হয়ে দেশের বাইরে কাটিয়ে এলেন সে সম্পর্কে একটা ধারাবাহিক লেখা আমাদের দিন। তাঁর অনুরধেই গ্রন্থটি রচনা করা হয়। 

উৎস: 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
৫৪৩.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. যাত্রা
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
ব্যাখ্যা
• শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় 'যাত্রা'।

• 'যাত্রা' উপন্যাস: 

- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

------------------
• শওকত আলী:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
৫৪৪.
‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজলের কী ধরণের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. দিনলিপি
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনলিপি
ব্যাখ্যা

• ‘রেখাচিত্র’ — আবুল ফজল রচিত একটি — দিনলিপি।  
- ‘রেখাচিত্র’ দিনলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। 

• আবুল ফজল:
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ফজল, আবুল  ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উল্লেখ্য, 
- ‘রেখাচিত্র’ গল্পের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৫.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- তাঁর রচনার বিশেষত্ব ছিল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৬.
'পঞ্চগ্রাম' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- আরোগ্য নিকেতন, চাপাডাঙ্গার বউ, একটি কালো মেয়ের কথা, সপ্তপদী, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, কবি, কালিন্দী, চৈতালি ঘূর্ণি ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৪৭.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস -
  1. উজানে মৃত্যু
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. সুড়ঙ্গ
  4. তরঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
কাঁদো নদী কাঁদো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ হচ্ছে: মুস্তফা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। এইসকল চরিত্রের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন গ্রামীণ ও কুমুরডাঙার শাহরিক পরিবেশ এর বর্ণনা।
- এই উপন্যাসে ধর্মের নামে আচার-সর্বস্বতা, বিজ্ঞানের নামে অদৃষ্টবাদিতা এবং বাস্তবতার নামে স্বপ্ন -কল্পনা ইত্যাদির বিরুদ্ধচারণ দেখা যায়।
- উপন্যাসে ব্যক্তির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুখ দুঃখ নিয়ে সামষ্টিক অভিজ্ঞান রচিত হয়েছে। এবং নদী হয়ে উঠেছে সামূহিক জীবনবাদী চেতনার প্রতীক।

অন্যদিকে,
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ, উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৮.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নয়নচারা
  2. উজানে মৃত্যু
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. সুড়ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
কাঁদো নদী কাঁদো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। - তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়।
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ - নয়নচারা।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - উজানে মৃত্যু এবং সুড়ঙ্গ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৯.
"দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• "দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিটি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের 'সম্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতার অন্তর্গত।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সদ্ভাবশতক' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত। 

কবিতাটি নিম্নরূপ-

দুঃখ বিনা সুখ হয় না
কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনোরথ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫০.
ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” এর সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান 
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান 
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” এর সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান

• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যসমালোচক।
- তিনি ১৪ জুন ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছিল ‘বিমুখ প্রান্তর’।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” (১৯৫৩)–এর সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তিনি “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র” (১৯৮২–৮৩) সম্পাদনার কাজও পরিচালনা করেন।

- তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• আধুনিক কবি ও কবিতা,
• মূল্যবোধের জন্য, 
• সাহিত্য প্রসঙ্গ, এবং 
• আলোকিত গহ্বর। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
• বিমুখ প্রান্তর, 
• প্রতিবিম্ব, 
• অন্তিম শহরের মতো, 
• যখন উদ্যত সঙ্গীন, 
• আর্ত শব্দাবলী, 
• ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী, ও
 • শোকার্ত তরবারি।

- আরো দুটি মৃত্যু তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫৫১.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচনা করেন কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আব্দুল হাকিম
  3. কায়কোবাদ
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫২.
হুমায়ুন কবির রচিত 'নদী ও নারী' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্প
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং
- একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৩.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. পঞ্চপুণ্ডলী
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৪.
‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শাহেদ আলী
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
ব্যাখ্যা


• ‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থ: 

- রচয়িতা: শাহেদ আলী। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।
এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্প: 
- ঐ যে নীল আকাশ,
- ফসল তোলার কাহিনী,
- জিবরাইলের ডানা, 
- এলোমেলো।
-------------------- 
• শাহেদ আলী:

- তিনি ভাষা সৈনিক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও লেখক ।
- শাহেদ আলী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মাহমুদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯২৫ সালের ২৪ মে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শাহেদ আলী পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন।
- ৯৪০ সালে তিনি যখন মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত, তখন তাঁর প্রথম গল্প ‘অশ্রু’ মাসিক সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থের জন্য তাঁর অনেক খ্যাতি রয়েছে।
- তাঁর একমাত্র নাটিকা বিচার (১৯৮৭) নাট্যমহলে সমাদৃত হয়।
- ১৯৪৮ সাল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সৈনিক (ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শাহেদ আলী ঢাকা ও কলকাতার সাময়িকীতে লিখতেন। 

তাঁর রচিত ছয়টি গল্পগ্রন্থ:
- জিবরাইলের ডানা,
- একই সমতলে,
- শা’নযর,
- অতীত রাতের কাহিনী,
- অমর কাহিনী এবং
- নতুন জমিদার।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৫.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ধানকন্যা
  2. খ) কাশবনের কন্যা
  3. গ) কুচবরণ কন্যা
  4. ঘ) কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
ক) ধানকন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধানকন্যা
ব্যাখ্যা
'ধানকন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ।

- আলাউদ্দিন আল আজাদ শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা 
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত আমার স্বপ্ন,
জীবন জমিন প্রভৃতি।

কাবগ্রন্থগুলি:
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 

উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
- কর্ণফুলী
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
- ক্ষুধা ও আশা 
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৬.
অচলা ও সুরেশ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পল্লীসমাজ
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) দত্তা
  4. ঘ) চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
খ) গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

অচলা, সুরেশ ও মহিম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গৃহদাহ উপন্যাসের রচিত্র।
নরেন ও রমা দত্তা উপন্যাস,
সতীশ ও কিরণময়ী চরিত্রহীন উপন্যাস এবং
রমেশ ও রমা পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)

৫৫৭.
'একটি তুলসী গাছের কাহিনি' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
• একটি তুলসী গাছের কাহিনি:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এই গল্পটি ‘দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' (১৯৬৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- দেশভাগের সময় কলকাতা থেকে কিছু সংখ্যালঘু মুসলমান এদেশে এসে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
- কদিনের মধ্যেই তারা জানতে পারে বাড়িটি এদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিত্যক্ত। এ বাড়ির লোকেরাও প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।
- বাড়িতে একটি তুলসী গাছ আবিষ্কার হয়। এরকম কাহিনি নিয়েই গল্পটি সামনের দিকে এগিয়ে গেছে।
- গল্পটির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মানুষের নিজস্ব জীবন যখন বিপন্ন ও অর্থহীন, তখন তার পারিপার্শ্বিক অনুষঙ্গসমূহও হয়ে পড়ে গুরুত্বহীন।
- দেখা যায় দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধও পরিস্থিতির কাছে জিম্মি ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫৮.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত প্রথম সার্থক গীতিকবিতা কোনটি?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত
  3. সারদা মঙ্গল
  4. নিসর্গ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

-  রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৫৯.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ “আকাল” কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ক) ফরাসী বিপ্লব
  2. খ) দেশভাগ
  3. গ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  4. ঘ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা

- সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ হচ্ছে ‘আকাল’ (১৯৪৩)।
- তিনি এটি ফ্যাসীবিরোধী শিল্পী সংঘের পক্ষে রচনা করেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষ করে এটি রচনা করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৬০.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) জনপদ
  2. খ) অবরোধ
  3. গ) নবান্ন
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নবান্ন, জনপদ, মরাচাঁদ, কলঙ্ক, অবরোধ, গোত্রান্তর ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা বিজন ভট্টাচার্য।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫৬১.
'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত কোন দেশের ভ্রমণকাহিনি ভিত্তিক গ্রন্থ?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. প্যারিস 
  3. লন্ডন
  4. আফগানিস্তান 
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা

• 'বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত (১৯৬৪) অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ-কাহিনিটি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

-----------------------
• সানাউল হক:

- সানাউল হক ছিলেন কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ। জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।
- চল্লিশের দশকের একজন খ্যাতিমান কবি হিসেবে সানাউল হক পরিচিতি লাভ করেন। 
- তাঁর মামা মোতাহের হোসেন চৌধুরী ছিলেন কবি ও লেখক। তাঁর সান্নিধ্য ও উৎসাহে সানাউল হক সাহিত্যচর্চায় অনুপ্রাণিত হন।

সানাউল হকের সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নদী ও মানুষের কবিতা (১৯৫৬), সম্ভবা অনন্য (১৯৬২), সূর্য অন্যতর (১৯৬৩), বিচূর্ণ আর্শিতে (১৯৬৮), একটি ইচ্ছা সহস্র পালে (১৯৭৩), কাল সমকাল (১৯৭৫) প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে সানাউল হক মানবজীবন ও জগতের ছবি আঁকার চেষ্টা করেছেন। 

• তাঁর কবিতায় তাঁর ব্যক্তিত্বকে প্রত্যক্ষ করা যায়, যেখানে তিনি সমস্যা ও সম্ভাবনায় কখনও আশাহত, কখনও আনন্দিত। এরূপ কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো- মধ্যে পদ্মিনী শঙ্খিনী (১৯৭৬), প্রবাসে যখন (১৯৮১), বিরাশির কবিতা (১৯৮২), উত্তীর্ণ পঞ্চাশ (১৯৮৪ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৫৬২.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কী?
  1. কৃষ্ণপক্ষ
  2. চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান
  3. ডানপিটে শওকত
  4. সম্রাটের ছবি
সঠিক উত্তর:
ডানপিটে শওকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডানপিটে শওকত
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৩.
'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবুল ফজল
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. মাহমুদুল হক
  4. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• 'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' গ্রন্থটির রচয়িতা - আনিসুজ্জামান

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৪.
আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  2. অরণ্য নীলিমা
  3. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  4. ছায়াহরিণ
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য নীলিমা
ব্যাখ্যা

‘অরণ্য নীলিমা' :   
- 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটির রচয়িতা আহসান হাবীব ।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। 
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়। 

আহসান হাবীব,
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। 
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি পিরোজপুর থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৫) পাস করে কিছুদিন বিএম কলেজে আইএ ক্লাসে অধ্যয়ন করেন, 
- আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে  কলকাতা গিয়ে সাংবাদিকতার পেশা গ্রহণ করেন
- কলকাতায় তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও  সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন।
- কয়েক বছর (১৯৪৩-৪৮) তিনি আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন। 
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি বিভিন্ন সময়ে  আজাদ,  মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৫৭-৬৪ পর্যন্ত তিনি ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনস-এর প্রডাকশন অ্যাডভাইজার ছিলেন।
- তিনি কিছুদিন দৈনিক পাকিস্তানে কাজ করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:

- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ, ইতাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট  উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৫.
'গ্রানাডার শেষ বীর' কী ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. ঐতিহাসিক কাব্যগ্রন্থ 
  3. কাহিনিকাব্য 
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৬৬.
বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন কে?
  1. হাবিবুর রহমান
  2. জামিল চৌধুরী
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. মাযহারুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৬৭.
"যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. হেলাল হাফিজ
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা

• "যে জলে আগুন জ্বলে" কাব্যগ্রন্থের লেখক - হেলাল হাফিজ।

• 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।

হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।
তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- যে জলে আগুন জ্বলে,
- কবিতা ৭১,
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৮.
'নদী ও নারী' উপন্যাসের লেখক -
  1. বন্দে আলী মিয়া 
  2. হুমায়ুন কবির
  3. কাজী আবদুল ওদুদ
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

• 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা - হুমায়ুন কবির।

-----------------
• হুমায়ুন কবির:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়।

• নদী ও নারী:
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের পটভূমিতে রয়েছে চরের মানুষের জীবনালেখ্য।
- নজু মিয়া আর আসগর মিয়া দুই বন্ধু। তাদের জীবনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে 'নদী ও নারী উপন্যাসের কাহিনি।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নদী ও নারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫৬৯.
একুশের প্রথম গানের রচয়িতা কে?
  1. আ ন ম গাজীউল হক
  2. আবদুল লতিফ
  3. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. আলতাফ মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আ ন ম গাজীউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ ন ম গাজীউল হক
ব্যাখ্যা

একুশের প্রথম গানের রচনা করেন আ ন ম গাজীউল হক
- গানটির প্রথম চরন- 'ভুলবো না ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না'
- এক জনপ্রিয় হিন্দী গান থেকে নেয়া হয়েছে এর সুর।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।
- এটি ছিল তখনকার দিনের রাজপথের গান।

একুশের প্রথম
- নাটক: কবর
- উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন
- কবিতা:কাঁদতে আসিনি ফাসির দাবি নিয়ে এসেছি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর

৫৭০.
'ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
গ) মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা
'ওরা কদম আলী' নাটকটির রচয়িতা- 'মামুনুর রশীদ'

'ওরা কদম আলী' নাটক
- ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- শোষিত- নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের রূপকার হিসেবে রচিত 'ওরা কদম আলী' নাটক। 
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী
নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

• মামুনুর রশীদ:
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭১.
'নদী উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে? 
  1. রমেশচন্দ্র দত্ত 
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 
  3. ইমদাদুল হক মিলন 
  4. মাহমুদুল হক 
সঠিক উত্তর:
ইমদাদুল হক মিলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমদাদুল হক মিলন 
ব্যাখ্যা
• 'নদী উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা ইমদাদুল হক মিলন ।

• ইমদাদুল হক মিলন:

- ১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জন্ম।
- তবে পাঠকের নজরে পড়েছিলেন 'সজনী' নামের ছোট গল্প লিখে।
- খুব অল্প বয়সে তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
 - দুই বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী তার বহুল পঠিত উপন্যাস হলো 'নূরজাহান'।
- এছাড়াও ইমদাদুল হক মিলন এর উপন্যাস সমগ্র বিভিন্ন পাঠকপ্রিয় উপন্যাসে ঠাসা।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- নূরজাহান,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা,
- কে,
- তাহারা,
- ভূতের নাম রমাকান্ত কামার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭২.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ কী ধরনের গ্রন্থ? 
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

একটি কালো মেয়ের কথা:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলোর মধ্যে প্রকাশকালের বিচারে প্রথম দিককার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা’
- প্রকাশকাল: ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, নবকল্লোল পত্রিকার উল্টোরথ পূজাসংখ্যা।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর বর্ণনায়, যেখানে তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতার কথা বলেছেন।
- জীবনের শেষ পর্যায়ে অসুস্থ অবস্থায় দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারাশঙ্কর নাজমা নামের এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংসতা বাস্তব চিত্রের মতো ফুটে উঠেছে।
- প্রধান চরিত্র/নাম চরিত্র: নাজমা।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক।
- জন্ম: পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের এক জমিদার পরিবারে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- একটি কালো মেয়ের কথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৭৩.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মোহনলাল, লাবণ্য - শেষের কবিতা
  2. খ) জয়গুন , হাসু - সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. গ) হেমঙ্গিনী, কাদম্বিনী - মেজদিদি
  4. ঘ) রাইচরণ - খোকা বাবুর প্রত্যাবর্তন
সঠিক উত্তর:
ক) মোহনলাল, লাবণ্য - শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মোহনলাল, লাবণ্য - শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। এ উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো- অমিত, লাবণ্য, কেতকী রায় এবং শোভনলাল ইত্যাদি। মোহনলাল নামে কোন চরিত্র নেই। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫৭৪.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. মানবজমিন
  2. গো-জীবন
  3. মানবজীবন
  4. আমলার মামলা
সঠিক উত্তর:
মানবজমিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানবজমিন
ব্যাখ্যা
• ‘মানবজমিন’ উপন্যাস:
- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এ-যাবৎকাল প্রকাশিত যাবতীয় প্রধান রচনার প্রবল এক প্রতিস্পর্ধী মহান উপন্যাস ‘মানবজমিন’।
- আকারেই শুধু বড়-মাপের উপন্যাস নয় ‘মানবজমিন’ প্রকারেও ব্যাপ্ত, বিশাল বৈচিত্র্যময়। এ-যুগের অন্যতম শক্তিমান কথাকার
- ঐতিহ্যের সঙ্গে শিকড়ের যোগ এই দুর্লভ সৃষ্টির, সাম্প্রতিকের সঙ্গে আত্মার, আগামীর দিকে বাড়ানো এর কুঁড়ি-ধরানো ডালপালা।
- অসংখ্য ঘটনা, অজস্র চরিত্র, অফুরান সমস্যা এই উপন্যাসে। তবু কোথাও জট পাকায়নি।
- পরিণত লেখকের দক্ষ হাতের সুঠাম নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি চরিত্র ও কাহিনী সুস্থির, স্বতন্ত্র, লক্ষ্যাভিমুখী।
- লোভ, ঘৃণা, প্রেম, রিপুর তাড়না, বাঁচার ইচ্ছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা-এমন যে-সব কিছুর দ্বারা কুম্ভীপাকে নিয়ত সিদ্ধ হচ্ছে মানুষ, তারই উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- 'গো-জীবন' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধ। 
- 'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
- ‘মানবজীবন’ মোহাম্মদ লুৎফর রহমান রচিত প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘মানবজমিন’ উপন্যাস।
৫৭৫.
নিম্নলিখিত কোনটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা নয়?
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ
  2. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
  3. নদীর গান
  4. চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয় 
সঠিক উত্তর:
নদীর গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর গান
ব্যাখ্যা

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কবিতা নয়- “নদীর গান”।
- “নদীর গান” কবিতার রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
----------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি গ্রহণ করেন।

- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ তাঁর ছাত্রজীবনেই দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন—
- ‘উপদ্রুত উপকূল’ এবং ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’। 
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ অর্জন করেন। 
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
বাতাসে লাশের গন্ধ, 
চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়, 
আমি সেই অভিমান, 
অভিমানের খেয়া, 
খুব কাছে এসো না, 
কথা ছিলো সুবিনয়, 
হে আমার বিষণ্ণ সুন্দর, 
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে (গীতি কবিতা), 
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প,
পরাজিত নই, পলাতক নই। 

- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জীবদ্দশায় প্রকাশিত প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো:
- উপদ্রুত উপকূল,
- ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম,
- মানুষের মানচিত্র,
- ছোবল,
- গল্প, দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ।

- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে:
- এক গ্লাস অন্ধকার (কাব্যগ্রন্থ),
- বিষ বিরিক্ষের বীজ (কাব্যনাট্য),
- সোনালী শিশির (গল্পগ্রন্থ)।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো' গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- এবং এই গানটিসহ তিনি অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।

উৎস:
বাংলা কবিতা [ লিঙ্ক]; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫৭৬.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্প কোনটি
  1. চাচা-কাহিনী
  2. শবনম
  3. টুনি মেম
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্প - চাচা-কাহিনীটুনি মেম

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৭৭.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যে ব্যবহৃত ‘শঙ্খমালা’ হলো
  1. কবির জীবনদেবতা
  2. পূর্বপরিচিতা নারী
  3. রোমান্টিক কবিকল্পনা
  4. রুপকথার চরিত্র
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক কবিকল্পনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক কবিকল্পনা
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'শঙ্খমালা’। 
- এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙখমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

শঙ্খমালা- কবিতার কিছু অংশ-

কড়ির মতন শাদা মুখ তার,
দুইখানা হাত তার হিম;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
সে-আগুনে হায়।

চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার;
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

===========
• জীবনানন্দ দাশ: 
- ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৮.
আবদুল কাদির রচিত কবিতাগ্রন্থ কোনটি?
  1. উত্তম পুরুষ
  2. উত্তর বসন্ত
  3. উত্তর ফাল্গুনী
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর বসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর বসন্ত
ব্যাখ্যা
• আবদুল কাদির রচিত কবিতাগ্রন্থ - উত্তর বসন্ত
- এটি ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: বসন্ত-উৎসব, রাত্রির রহস্য, পৃথিবীর প্রেম, চতুর্দশপদী, প্রেমের আরতি, সনেট, উত্তর বসন্ত ইত্যাদি।

আবদুল কাদির: 
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।
- তাঁর 'ছন্দ-সমীক্ষণ' গ্রন্থে বাংলাছন্দের সামগ্রিক রূপটি বিশ্লেষণ করার প্রয়াস আছে।
- তিনি ১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত

অন্যদিকে,
• রশীদ করীম রচিত উপন্যাস - উত্তম পুরুষ।
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তর ফাল্গুনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৯.
'হ-য-ব-র-ল' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
'হ-য-ব-র-ল' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন। তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক- নেমেসিস, রূপান্তর, যদি এমন হতো, নয়া খান্দান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যেমন ইচ্ছা তেমন, ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৮০.
'পঞ্চতন্ত্র' গ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
সৈয়দ মুজতবা আলী, (১৯০৪-১৯৭৪) শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম ,

ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫৮১.
"বন্ধু বিয়োগ" কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শামসুর রহমান
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৮২.
'লালসালু' উপন্যাসে কোন চরিত্রটি নারী প্রতিবাদের প্রতীক?
  1. আমেনা 
  2. জমিলা
  3. ফাতেমা 
  4. রহিমা
সঠিক উত্তর:
জমিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিলা
ব্যাখ্যা

• লালসালু:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনি রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- উপন্যাসের মূলবিষয় ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা।
- এদেশে মজিদের মতো চরিত্র আজো গ্রামে ও শহরে প্রচুর।
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক সে লাঞ্ছিত হয়, মাজারের গায়ে পা লেগে থাকে জমিলার।
- উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- বহুমাত্রিক ও উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ্য করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে অনূদিত হয়ে খ্যাতি অর্জন করে।
- উপন্যাসটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম - ল্য অরবরে সামস মায়েমেঁ (১৯৬১)।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র পত্নী 'অ্যান মেরি' উপন্যাসটির ফরাসি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লালসালু উপন্যাস। 

৫৮৩.
‘‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি।’’- এটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুদার
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  5. ঙ) সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুদার
ব্যাখ্যা
‘‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি।’’- এটির রচয়িতা কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। তার অপব্যয়ের ফল নামক কবিতার অংশ এটি।(সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
৫৮৪.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি নামে পরিচিত কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৮৫.
হুমায়ুন আজাদ রচিত বই নয় কোনটি?
  1. ক) লাল নীল দীপাবলি
  2. খ) পাক সার জমিন সাদ বাদ
  3. গ) কতো নদী সরোবরে
  4. ঘ) ইস্টিশন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইস্টিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইস্টিশন
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল,পাক সার জমিন সাদ বাদ, যাদুকরের মৃত্যু। তার লেখা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক বই হলো লাল নীল দীপাবলি বা বাংলা সাহিত্যের জীবনী,কতো নদী সরোবরে বা বাংলা ভাষার জীবনী, বাক্যতত্ত্ব। ইস্টিশন লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
৫৮৬.
‘অলাতচক্র’ উপস্যার কার লেখা?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) মাহমুদুল হাসান
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
আহমদ ছফা রচিত অলাতচক্র (১৯৯৩) সালে গ্রন্থকারে প্রকাশ পায়।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৫৮৭.
'আনোয়ারা' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী এমদাদুল হক
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আনোয়ারা,
- নুরুল এসলাম,
- খাদেম,
- আজিমুল্লাহ,
- গোলাপজান ইত্যাদি। 

----------------------------
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮৮.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যনাট্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য গুলো হলো- গণনায়ক, নুরুলদীনের সারাজীবন, এখানে এখন, বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫৮৯.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি কোন শহর নিয়ে লেখা?
  1. রোম
  2. কাবুল
  3. মস্কো
  4. তাসখন্দ
সঠিক উত্তর:
কাবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুল
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি:
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা- সৈয়দ মুজতবা আলী। এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- চাকরিসূত্রে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর মুজতবা আলী শেষপর্যন্ত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর অধ্যয়ন করে ১৯২৬ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯০.
‘নত হও, কুর্নিশ করো’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. রফিক আজাদ
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
• ‘নত হও, কুর্নিশ করো’ রফিক আজাদ রচিত কবিতা।

নত হও, কুর্নিশ করো
রফিক আজাদ -সংকলিত (রফিক আজাদ)   

হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,
তোমার উদ্ধত আচরনে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খ
পেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ,

অতএব, নত হও, বিনীত ভঙিতে করজোড়ে
ক্ষমা চাও, পায়ে পড়ো, বলো: কদ্যপি এমনটি হবে না, স্যার,
বলো: মধ্যবিত্ত হে বাঙালী ভদ্রমহোদয়গণ,
এবারকার মতো ক্ষমা করে দিন…

========
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে
- সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯১.
বরিশাল অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, লোকজীবন চিত্রিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) কর্ণফুলি
  2. খ) আলমগড়ের উপকথা
  3. গ) কাশবনের কন্যা
  4. ঘ) হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
সঠিক উত্তর:
গ) কাশবনের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪) শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি উপন্যাস। 
- এ উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দু;খ-দারিদ্র থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র - সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯২.
পদ্মার তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসীদের নিয়ে আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস-
  1. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. পদ্মার চর
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।
- অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- 'ফজল' এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- এরফান মাতব্বর,
- আরশেদ মোল্লা,
- জঙ্গুরুল্লা,
- জরিনা,
- রূপজান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৩.
রামনারায়ণ তর্করত্ন ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেন কোন নাটকটি রচনার মাধ্যমে?
  1. ক) মালতীমাধব
  2. খ) রত্নাবলী
  3. গ) শকুন্তলা
  4. ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
কুলীনকুলসর্বস্ব নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা
- মালতীমাধব
- রত্নাবলী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৯৪.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'চাচা কাহিনী' কী ধরণের সাহিত্যকর্ম?
  1. রম্যরচনা
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. ভ্রমণ কাহিনী
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- অবিশ্বাস্য 
- শবনম 

ভ্রমণ কাহিনী: 
- দেশে বিদেশে

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী

ছোটগল্প:
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৫৯৫.
’কর্ণফুলী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান  
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবু ইসহাক
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলী:
- সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস ’কর্ণফুলী’।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

 • আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক।
- ৬ মে ১৯৩২ সালে তিনি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯৬.
‘কোকিলারা’ নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  2. আবদুল্লাহ আল মুতী
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

আবদুল্লাহ আল মামুন:

- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৭.
‘রাজা যায় রাজা আসে’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - 
  1. শামসুর রাহমান
  2. আবুল হাসান
  3. রফিক আজাদ
  4. আবুল হুসেন
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• ‘রাজা যায় রাজা আসে’ আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

আবুল হাসান:
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান
  2. সরল বাঙ্গালা সাহিত্য
  3. বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় 
  4. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য:
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

------------------------
 দীনেশচন্দ্র সেন রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থ।

৫৯৯.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য কোনটি?
  1. হ-য-ব-র-ল
  2. ছড়ার আসর
  3. পাখির বাসা
  4. বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
সঠিক উত্তর:
হ-য-ব-র-ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ-য-ব-র-ল
ব্যাখ্যা

• সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য-  হ-য-ব-র-ল।

অন্যদিকে,
'ছড়ার আসর'  ও 'পাখির বাসা'  শিশুতোষ গ্রন্থটির রচয়িতা - ফররুখ আহমদ।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর শিশুতোষ গ্রন্থটির রচয়িতা - আহসান হাবীব।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬০০.
'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি'-উক্তিটি কে করেছিলেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. বদরুদ্দীন ওমর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ।
- অমিয় শতক।
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মবতী।
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।
- গল্প সংকলন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- ইকবাল
- আমাদের সমস্যা।
- বাংলা আদব কি তারিখ।
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- আঙুর।
- দি পীস।
- বঙ্গভূমিক।
- তকবীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।