বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

মোট প্রশ্ন৭৬৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৭৬৮

৩০১.
অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়? 
  1. মিথেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের উপাদান হচ্ছে তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- যখন নির্বাপক যন্ত্রের ভাল্ব খোলা হয় তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। 
- যেহেতু কার্বন ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়। 
- অক্সিজেনের অভাবে আগুন আর জ্বলতে পারে না। 

উৎস: National Emergency Service, 999.gov.bd
৩০২.
সমগ্র পর্যায় সারণিকে কতটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে? 
  1. ৭ টি
  2. ৬ টি
  3. ৮ টি
  4. ১৮ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে।
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৩.
সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা কোনটি?
  1. ক) পজিট্রন
  2. খ) বোসন কণা
  3. গ) ղ-মেসন
  4. ঘ) মিওন
সঠিক উত্তর:
খ) বোসন কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোসন কণা
ব্যাখ্যা

১৯২৪ সালে বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও আলবার্ট আইনস্টাইন বোসন জাতের কণার ব্যাখ্যা দেন।

পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে তাত্ত্বিকভাবে এমন একটি কণার ধারণা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে। তাঁর মতে, এর ফলেই এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এ কণাটিই গড পার্টিকেল বা ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিতি পায়। হিগসের এই কণার বৈশিষ্ট্য ও স্বরূপ জানিয়েছিলেন বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু।

দুই বিজ্ঞানীর নামে কণাটির নাম দেওয়া হয় হিগস বোসন। ২০০১ সালে এসে গবেষকেরা ওই কণার খোঁজ করতে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মিল্যাবের টেভাট্রন যন্ত্রে। ২০০৮ সালে প্রতিযোগিতায় নামে সার্ন গবেষণাগারের লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার। ২০১১ সালে সার্নের বিজ্ঞানীরা এ কণার প্রাথমিক অস্তিত্ব টের পান। একই সময়ে ফার্মিল্যাবও তাদের গবেষণায় ইতিবাচক ফল পায়।
শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালের ৪ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে সার্নের গবেষকেরাই ঘোষণা দিলেন হিগস বোসনের অনুরূপ একটি কণা আবিষ্কারের।

সূত্রঃ প্রথম আলো আর্কাইভ।

৩০৪.
প্রমাণ অবস্থায় এক মোল গ্যাসের আয়তন কত?
  1. 0.224 লিটার
  2. 2.24 লিটার
  3. 22.4 লিটার
  4. 0.0224 লিটার
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
ব্যাখ্যা
মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 
অর্থাৎ, 
• এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৫.
What is the maximum number of electrons that can occupy the first energy level of an atom?
  1. 2
  2. 4
  3. 6
  4. 8
  5. 10
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা
• শক্তিস্তরে ইলেক্ট্রন সংখ্যা:
- বোর মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 

এ সূত্রানুসারে, 
- প্রথম বা K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 হলে, 
∴ K শেল অর্থাৎ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে 2n2.
= ( 2 x 12) টি 
= 2 টি। 

∴ প্রথম শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = ২টি। 
- এভাবে প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৬.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপনহার সর্বোচ্চ?
  1. নাইটোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেনের(H2) ব্যাপনহার সর্বোচ্চ।

• ব্যাপন:
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
- যেমন: ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ।
- কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং কোনো পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগলে ঐ পদার্থের ব্যাপন হার কম।
- H2. He, N2, O2 এবং CO2 গ্যাসগুলোর আণবিক ভর যথাক্রমে 2, 4, 28, 32 এবং 44।
- এই গ্যাসগুলোর মধ্যে H2 এর আণবিক ভর কম, তাই H2 এর ব্যাপন হার বেশি হবে।
এবং CO2 এর আণবিক ভর বেশি, কাজেই CO2 এর ব্যাপন হার কম হবে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০৭.
এক ফ্যারাডে সমান কত তড়িৎ চার্জ? 
  1. 89500 C
  2. 69500 C
  3. 96500 C
  4. 98500 C
সঠিক উত্তর:
96500 C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
96500 C
ব্যাখ্যা
ফ্যারাডে (Faraday): 
- এক মোল পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জকে 96500 কুলম্ব ধরা হয়। 
- মোল পরিমাণ তড়িৎ চার্জকে এক ফ্যারাডে বলা হয়। 
- ফ্যারাডের প্রতীক হলো F. 
- এক ফ্যারাডে = 96500 C তড়িৎ চার্জ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৩০৮.
মোলার দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের আদর্শ পদ্ধতি কী? 
  1. গ্রাম
  2. মোলারিটি
  3. গ্রাম-অণু
  4. গ্রাম-তুল্যভর
সঠিক উত্তর:
মোলারিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোলারিটি
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে মোলার দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার হবে। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- মোলার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) কেলাসের গঠন কীরূপ?
  1. পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
  2. দেহ-কেন্দ্রিক ঘনকাকার
  3. সংঘবদ্ধ-ঘনকাকার
  4. সংঘবদ্ধ ষড়কৌণিক আকার
সঠিক উত্তর:
পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকাকৃতির
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ক্লোরাইড গঠন (Sodium Chloride Structure): 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড কেলাসে Na+ আয়ন ও CI- আয়নসমূহ স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ দ্বারা সুবিন্যস্থ থাকে। 
- গোলক আকারের এসব আয়নের ব্যাসার্ধ যথাক্রমে 95 ও 181 pm (পিকোমিটার, 1 x 10-12 m)। 
- এক্ষেত্রে ক্যাটায়ন (Na+) ও অ্যানায়ন (Cl-) এর ব্যাসার্ধ অনুপাত হল (95 ÷ 181) = 0.525, যা ব্যাসার্ধ-অনুপাত নিয়মে 0.4140.72 এর মধ্যে অবস্থিত। 
- সুতরাং ব্যাসার্ধ অনুপাত ও ক্যাটায়নের সন্নিবেশ সংখ্যার সম্পর্ক মতে, Na+ আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা হল 6 ও NaCl এর কেলাস গঠন হবে অষ্টতলকীয়। 
- বাস্তবে দেখা যায় যে, উভয় আয়নের গোলকের ব্যাসার্ধ অনুসারে একই তলে Naআয়নের চারদিকে চারটি CI- আয়ন স্পর্শ করে থাকে, কিন্তু নিজেরা বিকর্ষণের কারণে স্পর্শ করে না। 
- একই তলে এ পাঁচটি আয়ন থাকে এবং ঠিক উপরে ও নিচে আরো দুটি Cl- আয়ন অবস্থান নিতে পারে। 
- এ ছয়টি CI- আয়ন ও একটি Na+ আয়নের কেন্দ্রের অবস্থানকে দেখানো হয়েছে; এতে Na+ আয়নটি একটি অষ্টতলকের কেন্দ্রে এবং ছয়টি CI- আয়ন ঐ অষ্টতলকের ছয়টি শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত। 
- সুতরাং এ গঠনে Naআয়নের সন্নিবেশ সংখ্যা 6 হয়েছে। 
- স্থূল সংকেত NaCl অনুসারে প্রতিটি CI- আয়নের চারদিকে ছয়টি Na+ আয়ন থাকতে হবে, তাই CI- আয়নের সন্নিবেশ সংখ্যাও 6 হবে। 
- এ ছয়টি Na+ আয়ন ও একটি সুষম অষ্টতলক সৃষ্টি করে, যার কেন্দ্রে CI- আয়নটি অবস্থিত। 
- এ প্রকার Na+ আয়ন কেন্দ্রিক ও Clআয়ন কেন্দ্রিক অসংখ্য অষ্টতলক কেলাস জালিতে বিন্যস্ত হয়ে পৃষ্ঠতল কেন্দ্রিক ঘনকীয় NaCl এর কেলাস গঠন করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৩১০.
চার্লসের সূত্রটি কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
  2. স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার পরিপন্থী থাকে।
  3. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ তার আয়তনের সাথে সমানুপাতিক থাকে।
  4. স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
সঠিক উত্তর:
স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থির চাপের মধ্যে, গ্যাসের আয়তন তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক থাকে।
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/273 ; 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৩১১.
কর্পূর কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. অদাহ্য পদার্থ
  2. উদ্বায়ী পদার্থ
  3. অদ্রব্য পদার্থ
  4. তড়িৎ পরিবাহী পদার্থ
সঠিক উত্তর:
উদ্বায়ী পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্বায়ী পদার্থ
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা: 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে পদার্থের সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে উহার বিভিন্ন অবস্থার প্রকাশ।  
- পদার্থের ভৌত অবস্থার মধ্যে পড়ে পদার্থের ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম, আলোর সাথে প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। 
- আবার কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা এ সবই কিন্তু পদার্থের ভৌত অবস্থা। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
- কঠিন বরফকে তাপ দিলে তরল পানি, পানিকে তাপ দিলে গ্যাসীয় অবস্থা বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে তরল পানি, তরল পানিকে ঠাণ্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। 
- আবার কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল এ সব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শীতল করলে তরল অবস্থায় পরিণত হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি হলো উদ্বায়ী পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১২.
কোন পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয়? 
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন 
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন উভয়ই
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- ভৌত পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না।
অর্থাৎ, এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন- ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে। যেমন- চুম্বকের ঘর্ষণে ইস্পাতের সাময়িক চুম্বকত্ব লাভ, লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া এবং উত্তপ্ত করলে পুনরায় লবণ পাওয়া, কিংবা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের উত্তাপে বাষ্পীভূত হয়ে পুনরায় কঠিন হয়ে জমাট বাঁধা—এসবই ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণুসমূহের মধ্যবর্তী বন্ধন ভেঙ্গে নতুন বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- অণুস্থিত পরমাণুসূহের বন্ধন ভাঙ্গা ও নতুন বন্ধন সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে, এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন। 
- কোনো একটি মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হওয়ার কারণে মূল পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক উভয় প্রকার ধর্মই পরিবর্তিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন ও উপাদানের পরিবর্তন ঘটে এক বা একাধিক নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থের উৎপত্তি ঘটে। 
উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি দহন, খাবারের পরিপাক প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ, এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন গ্যাস বা কঠিন পদার্থের উৎপত্তি সবই রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এ পরিবর্তনে পদার্থের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম উভয়ই পরিবর্তিত হয় এবং শক্তির রূপান্তর ঘটে। 
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৩.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. ফুলারিন
  2. হীরা
  3. রম্বিক সালফার
  4. ফসফিন
সঠিক উত্তর:
ফসফিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফিন
ব্যাখ্যা
• ফসফিন (PH₃) একটি যৌগিক পদার্থ, কারণ এটি ফসফরাস ও হাইড্রোজেন  দুটি ভিন্ন মৌল দিয়ে গঠিত।
- তাই ফসফিন মৌলিক পদার্থ নয়, এটি একটি যৌগ। 

• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
- উদাহরণ:হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

- হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিনস ইত্যাদি হলো কার্বনের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- শ্বেত ফসফরাস, লোহিত ফসফরাস ইত্যাদি হলো ফসফরাসের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- রম্বিক বা আলফা সালফার, মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার, প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার, দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার, ল্যামডা সালফার, মিউ সালফার ইত্যাদি হলো গন্ধকের বিভিন্ন রূপভেদ। এরাও সবাই মৌলিক পদার্থ।
- সিলিকা হলো সিলিকন ডাই-অক্সাইড যা বালি গঠনের প্রধান উপাদান। সিলিকন ও অক্সিজেন নামক মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে সিলিকা নামক যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন হয়।

উৎস:  রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি  ও ব্রিটানিকা।
৩১৪.
ক্ষার ধাতু নয় কোনটি?
  1. Na
  2. K
  3. Li
  4. Ca
সঠিক উত্তর:
Ca
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ca
ব্যাখ্যা

• গ্রুপ ১ এর ধাতুগুলোকে (Li, Na, K) ক্ষার ধাতু বলা হয়, কিন্তু Ca গ্রুপ ২ এর ধাতু হওয়ায় এটি ক্ষার ধাতু নয়।
- Ca কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। 


• ক্ষার ধাতু:
- ক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ১ এর ধাতব মৌল, যেমন লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম।
- খুব প্রতিক্রিয়াশীল, বিশেষত পানি ও বাতাসের সঙ্গে।
- একমাত্র ভ্যালেন্স ইলেকট্রন থাকে, যা সহজেই হারায়।
- হালকা, নরম এবং কম ঘনত্বযুক্ত।
- সাধারণত ধাতব চকচকে এবং সাদা-হলকা রঙের।

• মৃৎক্ষার ধাতু:
- মৃৎক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ২ এর সেই ধাতু যা মূল্যবান, কম প্রতিক্রিয়াশীল এবং রসায়নে স্থিতিশীল।
- অক্সিজেন বা জল দ্বারা সহজে প্রতিক্রিয়াশীল নয়।
- সাধারণ পরিবেশে দাগ বা জং ধরে না।
- ধাতু হিসেবে চিরস্থায়ী চকচকে রূপ বজায় রাখে।
- শিল্প, গহনা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১৫.
একই মৌলের আইসোটোপগুলোর মধ্যে কোনটি ভিন্ন হয়? 
  1. প্রোটন সংখ্যা 
  2. পারমাণবিক সংখ্যা 
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. নিউট্রন সংখ্যা 
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন সংখ্যা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউট্রন সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

- আইসোটোপ হল একই মৌলের পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা একই, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন। নিউট্রন সংখ্যার এই ভিন্নতার কারণেই আইসোটোপগুলোর ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

আইসোটোপ (Isotope): 

- ডালটনের পারমাণবিক মতবাদ অনুযায়ী একটি মৌলের সব পরমাণু সমান ভর বিশিষ্ট।
- কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় যে, একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর ভিন্ন ভিন্ন ভর হতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ আছে যাদের ভর যথাক্রমে 1, 2, 3, 4, 5, 6 ও 7 । 
- এই সাতটি আইসোটোপের মধ্যে হাইড্রোজেন/প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এই স্থায়ী তিনটি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন সেসব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- আইসোটোপসমূহের মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের কোন পার্থক্য দেখা যায় না।
- হাইড্রোজেনের স্থায়ী আইসোটোপ তিনটিতেই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1, কিন্তু প্রথমটির ভর সংখ্যা 1, দ্বিতীয়টির ভর সংখ্যা 2 এবং তৃতীয়টির ভর সংখ্যা 3 । 
- প্রথম আইসোটোপে কোন নিউট্রন নেই, দ্বিতীয়টিতে 1 টি নিউট্রন এবং তৃতীয়টিতে ২ টি নিউট্রন আছে। 
- প্রকৃতিতে সকল আইসোটোপের পরিমাণ সমান থাকে না। 
যেমন- এক লক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ 99985 টি, ডিউটেরিয়াম পরমাণুর সংখ্যা 15 টি এবং ট্রিটিয়ামের সংখ্যা অতি নগণ্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৬.
রাদারফোর্ডের মডেলে পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে কোনটি থাকে? 
  1. ইলেকট্রন ক্লাউড
  2. নিরপেক্ষ কণা
  3. নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র
  4. ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট কণা
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৭.
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে কোনটি ঘটে?
  1. দ্রবণের ঘনমাত্রা কমে
  2. দ্রবণের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. দ্রাবকের শতকরা পরিমাণ শূন্য হয়
  4. দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
সঠিক উত্তর:
দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

• দ্রবণ:
- দ্রবণ হলো একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যেখানে দুটি বা ততোধিক পদার্থ সমানভাবে একে অপরের সাথে মিশ্রিত থাকে।

• দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Solution):
ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন-
i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution)।
ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution)। 
iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution)। 

• সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়।

• সম্পৃক্ত দ্রবণের বৈশিষ্ট্য:  
- একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে, দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যমান থাকে।
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে তা অদ্রবীভূত অবস্থায় থেকে যায় । 
- যদি তাপমাত্রা পরিবর্তন করা হয়, তবে দ্রাবকের দ্রবণ ক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে এবং দ্রবণটি সম্পৃক্ত নাও থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৮.
কোন পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়?
  1. কর্পূর
  2. নিশাদল
  3. মোম
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
মোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোম
ব্যাখ্যা
- মোম পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়। 

গলন: 
- কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়। 
যেমন- কঠিন মোমকে তাপ দেয়ার ফলে তা গলে তরল মোমে পরিণত হয়। 
- কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ হলে এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলতে আরম্ভ করে এবং গলন যতক্ষণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে। 
- এরূপ যে স্থির তাপমাত্রায় কোনো বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে তাকে ঐ কঠিন পদার্থের গলনাংক বলে। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে অপদ্রব্য বা ভেজাল মিশ্রিত থাকলে উহা অপেক্ষাকৃত নিম্ন তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে। 

উর্ধ্বপাতন: 
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর। 
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না, যাদের উদ্বায়ী পদার্থ বলে। 
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। 
যেমন- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৯.
বিক্রিয়াগুলোর মধ্যে কোনটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া?
  1. C(s) + O2(g) → CO2(g)
  2. H2(g) + I2(g) → 2HI(g)
  3. C(s) + 2S(s) → CS2(l)
  4. N2(g) + O2(g) → 2NO(g)
সঠিক উত্তর:
C(s) + O2(g) → CO2(g)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C(s) + O2(g) → CO2(g)
ব্যাখ্যা

C(s) + O2(g) → CO2 (g) বিক্রিয়াটি একটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া। 

তাপোৎপাদী ও তাপহারী বিক্রিয়া
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ΔH এর মান ঋণাত্মক এবং তাপহারী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ΔH এর মান ধনাত্মক চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ক) তাপোৎপাদী বিক্রিয়া (Exothermic Reaction)
- এ জাতীয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপের উদ্ভব ঘটে।
- বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি তাপ উৎপন্ন হয়।
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় বিধায় বিক্রিয়ার মিশ্রণের তাপমাত্রা ও বিক্রিয়ার পাত্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- এক্ষেত্রে উৎপাদের মোট এনথালপি বিক্রিয়কের মোট এনথালপি অপেক্ষা কম হয়। এ কারণে তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔΗ ঋণাত্মক (negative) হয়।
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান অপেক্ষা উৎপাদের অভ্যন্তরীন শক্তির মান কম হয়।
- অর্থাৎ, বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি > উৎপাদের অভ্যন্তরীন শক্তি।
- উদাহরণ: C(s) + O₂(g) → CO₂(g); ΔH = - 393.50 kJ

খ) তাপহারী বিক্রিয়া (Endothermic Reaction)
- যেসব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের শোষণ ঘটে, সেগুলোকে তাপহারী বিক্রিয়া বলে।
- পানিতে কঠিন পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO₃) যোগ করলে দ্রবণ ঠান্ডা হয়ে যায়। এ সকল ক্ষেত্রে তাপ শোষণ ঘটে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়াতে শোষিত তাপের পরিমাণ যদি q হয়, তবে সমীকরণের ডানদিকে ধনাত্মক চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়।
- উদাহরণসমূহ:
1. H₂(g) + I₂(g) → 2HI(g); ΔH = +53 kJ
2. C(s) + 2S(s) → CS₂(l); ΔH = +89.70 kJ
3. N₂(g) + O₂(g) → 2NO(g); ΔH = +180.50 kJ
- তাপহারী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান অপেক্ষা উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান উচ্চ হয়। অর্থাৎ, উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি > বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২০.
HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)
কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. দহন বিক্রিয়া
  3. বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. পানিযোজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়া:
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের  হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে।
- উদাহরণ: HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)

• পানিযোজন বিক্রিয়া:
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে।
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে।

• বিয়োজন বিক্রিয়া:
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
- উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়।

• দহন বিক্রিয়া:
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়।
- উদাহরণ: কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২১.
এটম শব্দের প্রবক্তা কে?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) ডালটন
  3. গ) অ্যারিস্টোটল
  4. ঘ) প্লেটো
সঠিক উত্তর:
ক) ডেমোক্রিটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
গ্রীক দার্শনিক ডেমােক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা নিয়ে মতবাদ পােষণ করেন। তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য (যা আর ভাঙ্গা যায় না) কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রীক শব্দ এটোমােস (AtomoS) থেকে যার অর্থ হলাে অবিভাজ্য। তার সমসাময়িক সময়ের আরও দুজন দার্শনিক প্লেটো (Plato) এবং অ্যারিস্টটল (Aristotle) তার মতবাদের সাথে দ্বিমত পােষণ করেন। অ্যারিস্টটলের মতে পদার্থসমূহনিরবচ্ছিন্ন (Continuous), একে যতই ভাঙ্গা হােক না কেন, পদার্থের কণাগুলাে ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে।
উৎস: অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
৩২২.
পর্যায় সারণির কোন গ্রুপের মৌলগুলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে পরিচিত?
  1. গ্রুপ 2
  2. গ্রুপ 16
  3. গ্রুপ 17
  4. গ্রুপ 18
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ 18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ 18
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহ নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে পরিচিত।

• পর্যায় সারণি:

- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে।
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে।
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
যথা: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোন যৌগ গঠন করতে চায় না।
- নিষ্ক্রিয় অন্য মৌলগুলো থেকে হিলিয়াম (He) মৌলটি ব্যতিক্রম। কারণ হিলিয়াম (He) এর বাইরের শক্তিস্তর ২টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অন্য মৌলগুলোর ক্ষেত্রে ৮টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

• মৃৎক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-২ এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়।
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে।
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। যথা: বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra)।
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে।
- এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

• হ্যালোজেন:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে।
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• চ্যালকোজেনস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৩.
কাজের মাত্রা ML2T-2 এ - 'M' দ্বারা কী বুঝায়?
  1. ওজন
  2. সময়
  3. সরণ
  4. ভর
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা
• কাজের মাত্রা ML2T-2 এ - 'M' দ্বারা "ভর' বুঝায়।

• কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে আমাদের দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। 
- একটি হচ্ছে বল এবং অপরটি হচ্ছে সরণ। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই। 
- কাজের মাত্রা, [W] = [ML2T -2]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৪.
অভিস্রবণ কোনটি?
  1. তরল পদার্থের বাষ্প শোষণ
  2. বায়বীয় পদার্থের তরলে রূপান্তর
  3. কঠিন পদার্থ গলানো
  4. দ্রাব্যতা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
তরল পদার্থের বাষ্প শোষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল পদার্থের বাষ্প শোষণ
ব্যাখ্যা

• অভিস্রবণ (Absorption) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি পদার্থ (সাধারণত গ্যাস বা বাষ্প) অন্য একটি পদার্থের (সাধারণত তরল বা কঠিন) অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং তার মধ্যে মিশে যায়।

- উদাহরণ: অ্যামোনিয়া গ্যাসের পানি দ্বারা শোষণ।

অভিস্রবণ:
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে।
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে।
- অভিস্রবণ দু'ধরনের।
যথা-

(১) অন্তঃঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে।
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
উদাহরণ - কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে।

(২) বহিঃঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে।
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে।

উৎস:
- বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান।
- এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৫.
নিউট্রনের চার্জ কত?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. নির্দিষ্ট নয়
সঠিক উত্তর:
নিরপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা ৩ টি। যথা: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

• ইলেকট্রন:
- পরমাণুর ঋণাত্মক চার্জধারী অতিপারমাণবিক কণা।
- এদের e− প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়,
- প্রকৃত ভর: 9.11×10⁻28 g বা 9.109×10⁻31 kg,
- চার্জ: −1.602×10−19 কুলম্ব, 
-  আবিষ্কারক: জে জে থমসন (১৮৯৭)। 

• প্রোটন: 
- পরমাণুর ধনাত্মক চার্জধারী কণা।
- প্রতীক: p বা H+,
- প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের প্রায় ১৮৩৬ গুণ,
- চার্জ: +1.602×10−19 কুলম্ব,
- আবিষ্কারক: রাদারফোর্ড,
- ভর: 1.672×10-24 g,

•  নিউট্রন:
- ‘নিউট্রাল’ বা ‘চার্জ নিরপেক্ষ’ শব্দ থেকে নিউট্রন শব্দের উৎপত্তি,
- আবিস্কারক: চ্যাডউইক (1932),
- এরা চার্জ নিরপেক্ষ (0),
- প্রতীক: n,
- নিউট্রনের ভর প্রোটনের চেয়ে সামান্য বেশি,
- ভর: 1.675×10⁻24 g,

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
৩২৬.
2Na + Cl2 =NaCl , এই বিক্রিয়ায় জারক কোনটি?
  1. Na
  2. Cl
  3. Cl-
  4. Na+
সঠিক উত্তর:
Cl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cl
ব্যাখ্যা
• জারণ-বিজারণ:
- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইলেক্ট্রনের বর্জন ঘটে তাকে জারণ বিক্রিয়া এবং যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ ঘটে তাকে বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়। 
- আবার, যে পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করে তাদেরকে বিজারক এবং যে পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাদেরকে জারক পদার্থ বলে। 
- অতএব কোন পরমাণু, আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ ধনাত্নক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ- ঋনাত্নক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া একই সাথে সংঘটিত হয়। 

- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে ইলেকট্রন গৃহীত হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
- বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়। 

- সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 =2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
-  উপরের উদাহরণে একইসাথে সোডিয়ামের জারন ও ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
- উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
- ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক।

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৭.
পানির রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. CO₂
  2. H₂O
  3. NaCl
  4. O₂
সঠিক উত্তর:
H₂O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
H₂O
ব্যাখ্যা
• পানির রাসায়নিক গঠন:
- পানি দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত।
- এর আনবিক সংকেত H₂O.
- এবং আণবিক ভর ১৮।

• পানির ধর্ম:
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- গলনাংক: আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে।
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়।
- অর্থাৎ পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
- স্ফুটনাংক: প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়।
- তড়িৎ পরিবাহিতা: বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
- তবে পানিতে আয়নিক লবণ দ্রবীভূত থাকলে তা তড়িৎ পরিবহন করে।
- তাই নদী পুকুর, ডোবা ইত্যাদির পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।

এছাড়াও,
- দ্রবক: পানি একটি ভাল দ্রাবক।
- এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে।
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
- ঘনত্ব: ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়।
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে।
- অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ।
- বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না।
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে।
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭,
- তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
'আধুনিক পারমাণবিক মতবাদ' র প্রবর্তক কে?
  1. জন ডাল্টন
  2. ডেমোক্রিটাস
  3. অ্যাভোগাড্রো
  4. হেনরি মোসলে
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
• পারমানবিক মতবাদ:
- প্রাচীন গ্রিসে আজ থেকে ২৫০০ বছর পূর্বে লুসিপাস (Leucippus) ও তাঁর ছাত্র ডেমোক্রিটাস (Democritus) এ অভিমত প্রকাশ করেন যে, সব পদার্থ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য অংশ দ্বারা গঠিত।
- ডেমোক্রিটাস এ অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশের নাম দেন atoma।
- এ শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ যেমন a (not) এবং temnein (to cut) হতে উদ্ভূত।
- অর্থাৎ atoma বলতে বোঝায় যা আর ভাগ করা যায় না।
- কিন্তু বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (Aristotle) এর বিরোধিতার প্রভাবে এ মতবাদ চাপা পড়ে যায়।
- অ্যারিস্টটলের মতে পদার্থ নিরবচ্ছিন্ন, তাকে যত ইচ্ছা ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায়। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে atom মতবাদ আবার বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিকগণের সমর্থন লাভ করে।
- অবশেষে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন (John Dalton) এ মতবাদকে বৈজ্ঞানিক মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৩২৯.
হ্যালোজেন মৌলগুলো পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে অবস্থান করে? 
  1. গ্রুপ-1
  2. গ্রুপ-2
  3. গ্রুপ-17
  4. গ্রুপ-18
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ-17
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ-17
ব্যাখ্যা

হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে- 
• ফ্লোরিন (F), 
• ক্লোরিন (Cl), 
• ব্রোমিন (Br), 
• আয়োডিন (I), 
• অ্যাস্টাটিন (At) এবং 
• টেনেসিন (Ts) । 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩০.
তৃতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কতটি ইলেকট্রন থাকতে পারে? 
  1. 18
  2. 8
  3. 2
  4. 32
সঠিক উত্তর:
18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
18
ব্যাখ্যা

পরমাণুর শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস: 
- বোরের মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
অতএব এই সূত্রানুসারে- 
• K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 অতএব, K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 12) টি = 2 টি। 
• L শক্তিস্তরের জন্য n = 2 অতএব, L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 22) টি = 8 টি। 
M শক্তিস্তরের জন্য n = 3 অতএব, M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 32) টি = 18 টি। 
• N শক্তিস্তরের জন্য n = 4 অতএব, N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 42) টি = 32 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৩১.
Cl2O5 যৌগে Cl এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. −6
  2. +5
  3. −2
  4. +2
সঠিক উত্তর:
+5
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+5
ব্যাখ্যা
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।

- মনে করি, Cl2O5 যৌগে Cl এর জারণ সংখ্যা = x
আমরা জানি, O এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা −2,
যেহেতু, Cl2O5 অণুটি আধান নিরপেক্ষ অণু।
সুতরাং Cl2O5 অণুতে পরমাণুসমূহের মোট জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 
তাহলে, 2x + (−2) × 5 = 0
বা, 2x − 10 = 0
বা, 2x = 10
∴ x = +5
অতএব, Cl2O5 যৌগে Cl এর জারণ সংখ্যা = +5

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩২.
1 মোল অণু হাইড্রোজেন গ্যাসের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় কত লিটার? 
  1. 11.2 লিটার 
  2. 2.24 লিটার
  3. 22.4 লিটার
  4. 44.8 লিটার
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
22.4 লিটার
ব্যাখ্যা

মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 
অর্থাৎ, 
এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৩.
প্লাজমা অবস্থায় পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. মুক্ত ইলেকট্রন ও আয়ন থাকে
  2. শুধু কঠিন পদার্থে পাওয়া যায়
  3. অণুগুলো স্থির থাকে
  4. তাপ পরিবাহিতা নেই
সঠিক উত্তর:
মুক্ত ইলেকট্রন ও আয়ন থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্ত ইলেকট্রন ও আয়ন থাকে
ব্যাখ্যা
• প্লাজমা:
-  প্লাজমা হলো পদার্থের একটি অবস্থা যা গ্যাসের মতো কিন্তু এর মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রন ও ধনাত্মক আয়ন থাকে।
-  এটি সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা বা শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি হয়।

• প্লাজমার বৈশিষ্ট্য-
 - এটি পদার্থের চতুর্থ অবস্থা নামে পরিচিত।
 - এটি তড়িৎ পরিবাহী এবং চৌম্বক ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া করে।
 - সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র, বজ্রপাত ইত্যাদিতে প্লাজমা দেখা যায়।
-  পারমানবিক চুল্লীর মধ্যে যখন নিউক্লিয়ার ফিউশান ঘটানো হয় তখন পদার্থকে প্লাজমা অবস্থায় পরিবর্তন করে নেয়া হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৪.
দস্তার ইলেক্ট্রন সংখ্যা কত?
  1. ২৮
  2. ২৯
  3. ৩০
  4. ৩১
সঠিক উত্তর:
৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০
ব্যাখ্যা
• Zn (দস্তা):
- দস্তার এর রাসায়নিক প্রতীক  Zn.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৩০।
- এর ইলেক্ট্রন সংখ্যা ৩০।
- এটি ৪র্থ পর্যায়ের গ্রুপ ১৪ তে অবস্থিত। 


figure: periodic table. (image source:ptable.com)

অপশন আলোচনা:
- নিকেলের (Ni) ইলেক্ট্রন সংখ্যা ২৮।
- নিকেলের (Ni) ইলেক্ট্রন সংখ্যা ২৮।
- কপারের (Cu) ইলেক্ট্রন সংখ্যা ২৯।
- গ্যালিয়ামের (Ga) ইলেক্ট্রন সংখ্যা ৩১।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৩৩৫.
নিম্নলিখিত কোন মৌলের যোজ্যতা শূন্য? 
  1. হিলিয়াম 
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম 
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন ও রাসায়নিক বন্ধন গঠনের কারণ: 
- কোনো একটি পরমাণুর বন্ধন গঠনের ক্ষমতাকে তার যোজ্যতা বলে। 
- নিষ্ক্রিয় মৌল হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar) এসব মৌলের বন্ধন গঠনের ক্ষমতা নেই, ফলে এদের যোজ্যতা শূন্য। 
- আবার H এর যোজ্যতা এক, O এর যোজ্যতা দুই, N এর যোজ্যতা তিন ও C এর যোজ্যতা সাধারণত চার হয়। 
- কোনো পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে বর্তমান ইলেকট্রনগুলোকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে, এই ইলেকট্রনগুলোই বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। 
- পরমাণুর সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরকে যোজ্যতাস্তর বলে। 
- রাসায়নিক বন্ধনের আধুনিক মতবাদ অনুসারে রাসায়নিক বন্ধন গঠনকালে পরমাণুগুলো সর্বাধিক স্থায়ী ইলেকট্রন গঠন কাঠামো অর্জনের চেষ্টা করে। - নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ইলেকট্রন গঠনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় He ভিন্ন প্রত্যেকেরই যোজ্যতা স্তরে আটটি করে ইলেকট্রন বর্তমান। 
- He পরমাণুর যোজ্যতা স্তর প্রথম শক্তি স্তর, এখানে মাত্র দুটি ইলেকট্রন বর্তমান থেকেই যোজ্যতাস্তরকে ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৬.
একই গ্রুপের মৌলগুলোর কোনগুলো প্রায় একই রকম হয়?
  1. পরমাণু ভর ও অণুর ভর
  2. আকার ও ঘনত্ব
  3. পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা
  4. ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম
সঠিক উত্তর:
ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য: 
- পর্যায় সারণি মৌল গুলোকে সাজানোর এমন একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা। 
- পর্যায় সারণির মাধ্যমে আবিষ্কৃত মৌলগুলোকে এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে একজন নবীন বিজ্ঞানী বা শিক্ষানবিশ রসায়নবিদ আবিষ্কৃত মৌল সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারেন। 
- IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry) কর্তৃক স্বীকৃত আধুনিক পর্যায় সারণির কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- 
১. মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূলভিত্তি। 
২. সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। 
৩. প্রতিটি পর্যায়ের বামদিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 
৪. পর্যায় সারণি প্রথম পর্যায়ে মাত্র দুটি মৌল থাকে। যেমন- একটি H অপরটি He । H-এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ এবং He এর অবস্থান গ্রুপ-১৮ এ। 
৫. দ্বিতীয় পর্যায় ও তৃতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে আটটি করে মৌল বর্তমান। এ আটটি মৌল গ্রুপ-১ থেকে গ্রুপ-২ এবং গ্রুপ-১৩ থেকে গ্রুপ-১৮ এর মধ্যে অবস্থিত। 
৬. ৪র্থ পর্যায় ও ৫ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপের প্রত্যেকটিতে একটি করে ১৮টি মৌল অবস্থান করে থাকে। 
৭. ৬ষ্ঠ পর্যায়ে ও ৭ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপে মৌলের সংখ্যা ৩২টি। ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ের প্রতিটি পর্যায়ে গ্রুপ-৩ এ ১৫টি করে মৌল অবস্থান করে। বাকী ১৭টি গ্রুপে ১৭টি মৌল অবস্থান করে পর্যায়ে মোট মৌলের সংখ্যা (১৫ + ১৭) = ৩২টি হয়। 
৮. মূল পর্যায় সারণির নিচে ২টি অনুভূমিক সারি এবং ১৪টি খাড়া স্তম্ভ বিশিষ্ট আরো একটি ছক উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির ৬ষ্ঠ পর্যায় ও ৭ম পর্যায়ের অংশবিশেষ মাত্র। 
৯. সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম হয়। 
১০. পর্যায় তালিকায় কোনো মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার ওপর। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
তরল পদার্থের ক্ষেত্রে সঠিক বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. পারস্পরিক আকর্ষণ বল নেই 
  2. নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন আছে 
  3. নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
  4. নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন কিছুই নেই 
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৮.
পদার্থের চতুর্থ অবস্থার নাম কী?
  1. গ্যাস
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. প্লাজমা
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হচ্ছে প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে, সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র! 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩৯.
Na মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 10
  2. 11
  3. 12
  4. 23
সঠিক উত্তর:
12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
12
ব্যাখ্যা
23
    Na মৌলের নিউট্রন সংখ্যা = 23 - 11 = 12
11
৩৪০.
যে পদার্থগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়া শেষে তৈরি হয়, সেগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. বিক্রিয়ক
  2. উৎপাদ
  3. প্রতিক্রিয়া
  4. সমীকরণ
সঠিক উত্তর:
উৎপাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদ
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বিক্রিয়া: 
- যদি কোনো পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার নিজের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে নতুন ধর্ম লাভ করে সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
- যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য যে সমীকরণ ব্যবহার করা হয় সেই সমীকরণকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়। 
- রাসায়নিক সমীকরণকে প্রকাশ করার জন্য প্রতীক, সংকেত এবং নানা রকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। 
- যে সকল পদার্থ নিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় সেই সকল পদার্থকে বলা হয় বিক্রিয়ক। 
- বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট যে সকল পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সকল পদার্থকে উৎপাদ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪১.
কোন গ্যাসের অণুতে দুটি পরমাণু বিদ্যমান নেই?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) ক্রিপ্টন
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিপ্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিপ্টন
ব্যাখ্যা

পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা।
আমাদের চারপাশের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু।
যেমনঃ N2 , O2 , H2 , F2 , Clইত্যাদি।
তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে।
নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলি হচ্ছে হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন(Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)
সূত্র: রসায়ন ১ম পত্র, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩৪২.
নিচের কোনটি উদ্বায়ী পদার্থ?
  1. ক) মোম
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) বরফ
  4. ঘ) মার্কারি
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

উর্ধ্বপাতন (Sublimation):
কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন, কার্বন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩৪৩.
পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
গ) রাদারফোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৪.
একটি মৌল যত বেশি ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তার জারণ সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. শূন্য
  2. ঋণাত্মক
  3. ধনাত্মক
  4. অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা (Oxidation Number): 
- মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা দানের মাধ্যমে আয়নে পরিণত হয়। 
- পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- কোনো পরমাণু যত সংখ্যক ইলেকট্রন দান করে তত ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহন করে তত ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয়। 
- যৌগের মধ্যে কোন মৌলের জারণ সংখ্যা মৌলটির পরমাণুকে মুক্ত অবস্থা থেকে যৌগের অণুর মধ্যে যে অবস্থায় বর্তমান সে অবস্থায় পরিণত করতে কী পরিমাণ জারণ বা বিজারণ প্রয়োজন তা নির্দেশ করে। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যদি জারণের প্রয়োজন হয় তবে জারণ সংখ্যা হবে ধনাত্মক। 
- বিজারণের প্রয়োজন হলে জারণ সংখ্যা হবে ঋণাত্মক। 
- মুক্ত অবস্থায় থাকা মৌলের অণু বা পরমাণুর জারণ সংখ্যাকে শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- Na, K, Fe, O2, H2, N2, P4, S8, ইত্যাদি অণুতে স্ব স্ব পরমাণুর জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৫.
কোনটি মৌলের স্থায়ী কণিকা নয়?
  1. ক) নিউট্রিনো
  2. খ) অ্যান্টিনিউট্রিনাে
  3. গ) পজিট্রন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্থায়ী মূল কণিকা:
কত গুলাে মূল কণিকা আছে যা সব মৌলের পরমাণুতেই থাকে, তাদের কে স্থায়ী মূল কণিকা বলে।
স্থায়ী মূল কণিকা ৩ টি যথা- ১) প্রােটন, ২) নিউট্রন ৩) ইলেকট্রন।

• অস্থায়ী মূল কণিকা:
কত গুলাে মূল কনিকা আছে যা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে। এদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। এ ধরনের কণিকার সংখ্যা প্রায় একশ, এদের মধ্যে কিছু হলাে-
১) নিউট্রিনাে, ২) অ্যান্টিনিউট্রিনাে, ৩) পজিট্রন, ৪) মেসন ইত্যাদি।
৩৪৬.
পরমাণুর আধান -
  1. ক) ধনাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) নিরপেক্ষ
  4. ঘ) ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক
সঠিক উত্তর:
গ) নিরপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিরপেক্ষ
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে যার নাম নিউক্লিয়াস।
- এই নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
- সুতরাং পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ভ্রমণ করে।‌
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট প্রোটন আছে ততটি ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনও আছে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৭.
পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত -
  1. ক) ২ঃ১
  2. খ) ১ঃ২
  3. গ) ১ঃ১৬
  4. ঘ) ১ঃ৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১ঃ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১ঃ৮
ব্যাখ্যা

পানির আনবিক সংকেত H2O.
পানির একটি অণুতে রয়েছে ২টি হাইড্রোজেন ও ১টি অক্সিজেন পরমানু।
সুতরাং পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত
= (হাইড্রোজেনের পারমাণবিক ভর × 2) : (অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর × 1)
= (1 × 2) : (16 × 1)
= 2 : 16
= 1 : 8

৩৪৮.
যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলে পরস্পরের-
  1. আইসোটোন
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোমার
  4. আইসোবার
সঠিক উত্তর:
আইসোটোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোন
ব্যাখ্যা

আইসোবার: 
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়। 

আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 

আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 

আইসোমার: 
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪৯.
রাদারফোর্ড আলফা কণার পরীক্ষা দ্বারা কোনটির অস্তিত্ব পেয়েছিল?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
• রাদারফোর্ড কর্তৃক আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা ও নিউক্লিয়াস আবিষ্কার:
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে রাদারফোর্ড আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষাটি করেন।
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন' আলফা কণাসমূহকে একটি পাতলা সোনার পাতের (0.0004 cm) উপর নিক্ষেপ করেন।
- সোনার পাতের পেছনে জিংক সালফাইড (ZnS) আবরণযুক্ত একটি গোলাকার পর্দা রাখেন।
- ZnS আবরণীর উপর পতিত ∝-কণা আলোকচ্ছটা সৃষ্টি করে।

• পরীক্ষালব্ধ সিদ্ধান্ত:
- পরমাণুর কেন্দ্রে পরমাণুর সমগ্র ভর অতি ক্ষুদ্র স্থান দখল করে আছে।
- যেহেতু আলফা কণাসমূহ ধনাত্মক চার্জযুক্ত এবং এক্ষেত্রে বিকর্ষিত হয়, সেহেতু পরমাণুর কেন্দ্রও ধনাত্মক চার্জযুক্ত হবে।
- তিনি ভারী ও ধনাত্মক চার্জযুক্ত পরমাণুর এ কেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস (nucleus) নামকরণ করেন।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৫০.
ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয় - 
  1. ইথানল 
  2. আয়োডিন
  3. ন্যাপথলিন
  4. নিশাদল
সঠিক উত্তর:
ইথানল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইথানল 
ব্যাখ্যা

• ইথানল ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয়। 

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।

অন্যদিকে, ইথানল তরল পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৩৫১.
পর্যায় সারণীর কোন মৌলসমূহ রঙিন যৌগ গঠন করে?
  1. চ্যালকোজেনস
  2. হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল
  3. অবস্থান্তর মৌল
  4. নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ
সঠিক উত্তর:
অবস্থান্তর মৌল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবস্থান্তর মৌল
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণীর অবস্থান্তর মৌলসমূহ (গ্রুপ ৩ থেকে ১২) রঙিন যৌগ গঠন করে।

• অবস্থান্তর মৌল:

- পর্যায় সারণির ৩নং গ্রুপ থেকে ১২নং গ্রুপের মৌলসমূহকে অবস্থান্তর মৌল বলে।

• অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য :
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে।
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।

• হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে।
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
- যথা: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)।।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

• চ্যালকোজেনস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়।

উৎস:
১. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫২.
সোডিয়ামের প্রোটন সংখ্যা কত?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ২৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১
ব্যাখ্যা
কোনো মৌলের একটি পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়।

- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬
- সোডিয়ামের প্রোটন সংখ্যা ১১

সূত্র- ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৩৫৩.
কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়? 
  1. শ্বসন
  2. অভিস্রবণ 
  3. নিঃসরণ
  4. প্রস্বেদন
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৪.
কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে প্রধানত কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?
  1. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

-  কার্বনকে বাতাসের অক্সিজেনে পোড়ালে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস উৎপন্ন হয়। এটি একটি দহন বিক্রিয়া যেখানে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O2) মিলে একটি নতুন যৌগ তৈরি করে। অন্যদিকে, বাতাসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়; তবে অক্সিজেনের সরবরাহ সীমিত বা অপর্যাপ্ত হলে তখন কার্বন মনোক্সাইড (CO) উৎপন্ন হতে পারে। সাধারণ দহনে প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইডই উৎপন্ন হয়।

প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)

দহন বিক্রিয়া: 
- এই প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। 
যেমন- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

পানিযোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যক পানির অণু সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়। 
যেমন- মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৫.
H-O-H কোন ধরনের সংকেতকে নির্দেশ করে? 
  1. স্থূল সংকেত
  2. গাঠনিক সংকেত
  3. আণবিক সংকেত
  4. রাসায়নিক সংকেত
সঠিক উত্তর:
গাঠনিক সংকেত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাঠনিক সংকেত
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
(১) রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2 টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

(২) আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

(৩) স্থূল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O. 

(৪) গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৭ 
  2. ১০ 
  3. ১৫ 
  4. ১৮ 
সঠিক উত্তর:
৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ 
ব্যাখ্যা

- আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট ৭টি পর্যায় (অনুভূমিক সারি) এবং ১৮টি গ্রুপ (উল্লম্ব কলাম) রয়েছে। 

পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত। 
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- এই পর্যায় সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৭.
কোনটি ধনাত্মক আধানযুক্ত?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) কোনটিই না
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোটন
ব্যাখ্যা

প্রোটন একটি মৌলিক কণিকা। এটি স্থিতিশীল। প্রোটনের আধান ধনাত্মক।
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।
নিউট্রন হল একটি অতিপারমাণবিক কণা, এর কোনও বৈদ্যুতিক আধান নেই এবং এর ভর প্রোটন কণার ভরের চেয়ে সামান্য বেশি।
প্রোটন এবং নিউট্রন মিলে পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

৩৫৮.
মোম গলানো কি ধরনের পরিবর্তন?
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন
  2. ভৌত পরিবর্তন
  3. পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন
  4. কোন পরিবর্তন ঘটে না
সঠিক উত্তর:
ভৌত পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌত পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
ভৌত পরিবর্তন: যে পরিবর্তনে পদার্থের আণবিক গঠন অপরিবর্তিত থাকে, শুধু ভৌত অবস্থা (যেমন: কঠিন → তরল), আকার বা আয়তন পরিবর্তন হয় তাকে পদার্থের ভৌত পরিবর্তন বলা হয়। ।
উদাহরণ: বরফ গলানো, মোম গলানো, কাগজ কাটা।

মোম গলানো একটি ভৌত পরিবর্তন। 
- এখানে মোমের গলন প্রক্রিয়ায় কেবল তাপের প্রভাবে তার ভৌত অবস্থা (solid → liquid) পরিবর্তিত হচ্ছে।  
- তবে মোমের রাসায়নিক গঠন বা তার মৌলিক উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটছে না।
- তাপ প্রয়োগ করলে মোম গলে আবার তাপ প্রয়োগ বন্ধ করলে মোম পুনরায় কঠিন হয়।  এটি একটি ভৌত পরিবর্তন। 

তথ্যসূত্র: 
- রসায়ন , নবম-দশম শ্রেণী।
৩৫৯.
পারমাণবিক সংখ্যা সমান অথচ ভর সংখ্যা ভিন্ন হলে সেই পরমাণুগুলোর নাম কী?
  1. আইসোটোন
  2. আইসোমার
  3. আইসোবার
  4. আইসোটোপ
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

• যে পরমাণুগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ বলা হয়। পারমাণবিক সংখ্যা বলতে বোঝায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটনের সংখ্যা, যা পরমাণুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। অন্যদিকে ভর সংখ্যা হলো প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা। তাই একই পারমাণবিক সংখ্যার পরমাণুতে নিউট্রনের সংখ্যা আলাদা হলে তাদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কার্বনের দুটি আইসোটোপ—কার্বন-১২ এবং কার্বন-১৪-উভয়েরই প্রোটনের সংখ্যা ৬, কিন্তু কার্বন-১২-এ নিউট্রন সংখ্যা ৬ এবং কার্বন-১৪-এ ৮। ফলে পারমাণবিক বৈশিষ্ট্য একই থাকলেও ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। এই বৈশিষ্ট্য আইসোটোপের মাধ্যমে বোঝা যায়।
 
আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।

আইসোমার:
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬০.
বাতাসের চাপ বাড়লে টরিসেলির ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা- 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অর্ধেক হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়ে
ব্যাখ্যা
টরিসেলির পরীক্ষা: 
- বিজ্ঞানী টরিসেলি 1643 সালে পারদ ব্যবহার করে বাতাসের চাপের পরীক্ষাটি করেছিলেন। 
- তিনি অবশ্য মুখ দিয়ে পারদকে একটি নল বেয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেননি, তিনি এক মুখ বন্ধ একটা নলের ভেতর পারদ ভরে, নলটি পারদ ভরা একটা পাত্রে উল্টো করে রেখেছিলেন। 

- পারদের উচ্চতা নামতে নামতে ঠিক 76 cm এসে থেমে গেল। 
- চুমুক দিয়ে খাওয়ার সময় মুখের ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, কাচের নলের উপরে ঠিক সেই শূন্যতা তৈরি হয়। 
- বাতাস পারদের উপরে চাপ দেয় এবং সেই চাপ তরলের সব জায়গায় সঞ্চালিত হয়ে নলের নিচেও আসে। 
- নলের উপরে কোনো ফুটো নেই, তাই সেদিক দিয়ে বাতাস চাপ দিতে পারছে না। কাজেই সমতা আনার জন্য নলের নিচে এক মাত্র চাপ হচ্ছে 76 cm উচু পারদ স্তম্ভের ওজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ। 
- বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার এবং টরিসেলির এই পদ্ধতি দিয়ে তৈরি ব্যারোমিটারে এখনো বাতাসের চাপ মাপা হয়। বাতাসের চাপ বাড়লে পারদের উচ্চতা 76 cm থেকে বেশি হয়, চাপ কমলে উচ্চতা 76 cm থেকে কমে যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬১.
একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে কী বলা হয়? 
  1. মৌলের অণু 
  2. মৌলিক কণিকা 
  3. আয়ন 
  4. যৌগের অণু 
সঠিক উত্তর:
মৌলের অণু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলের অণু 
ব্যাখ্যা

পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। 
যেমন- O2 । 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। 
যেমন- CO2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬২.
নিচের কোন তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করে? 
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ৩৯° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৩.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জৈব পরিবর্তন 
  2. কেবল অবস্থার পরিবর্তন 
  3. ভৌত পরিবর্তন 
  4. রাসায়নিক পরিবর্তন 
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

- পরিবেশে সবসময় নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।  
- একটুকরা লোহাকে খোলা অবস্থায় বাতাসে কিছুদিন রেখে দিলে তার উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে, এটিকে মরিচা বলে। আবার তাপদিলে বরফ গলে পানি হয় ও পানি এক সময়ে আরো তাপে বাষ্পে পরিণত হয়। 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- একটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন ও অপরটি হলো ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change): 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণু বা আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- 
জ্বালানি পুড়ানোর মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি পুড়িয়ে তাপ, আলো এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই পরিবর্তনে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O2) একত্রিত হয়ে নতুন পদার্থ CO2 সৃষ্টি করে, এবং এতে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে। 

মিথেনের দহন: 
- মিথেন (CH4) ও অক্সিজেন (O2) জ্বালালে CO2 ও পানি (H2O) সৃষ্টি হয়। এতে মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়, যা রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। 

শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়া: 
- দেহে খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শক্তি ও পুষ্টি প্রদান করে। 

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ: 
- উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি গ্রহণ করে, এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্টার্চ বা সেলুলোজ উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change): 
- ভৌত পরিবর্তনে কোনো নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না, বরং পদার্থের অবস্থা (যেমন, ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা বা চৌম্বক অবস্থা) পরিবর্তিত হয়। 
যেমন-
ইস্পাতের চুম্বকত্ব: 
- ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করলে এটি একসময় লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা পায়, তবে এতে ইস্পাতের গঠন বা উপাদানে কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধুমাত্র তার চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 

লবণ দ্রবণ: 
- খাবার লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ তৈরি হলে এবং পরে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং শুধু লবণই অবশিষ্ট থাকে। এতে লবণের গঠন বা সংযোগে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না, কেবল অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তন: 
- তাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হয়ে শীতল স্থানে জমা হয়, তবে এতে কোনো নতুন উপাদান তৈরি হচ্ছে না, শুধুমাত্র অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৪.
হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে কণা পাওয়া যায় তাকে কী বলে?
  1. নিউট্রন
  2. ইলেকট্রন
  3. প্রোটন
  4. পজিট্রন 
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা পাওয়া যায়, সেটিই প্রোটন।

• মৌলিক কণিকা (Fundamental Particles):
- যে সকল অতিক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে পরমাণু গঠিত হয়, তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- একটি পরমাণুর মধ্যে মোট তিনটি মৌলিক কণিকা বিদ্যমান। যথা—
- ইলেকট্রন,
- প্রোটন,
- নিউট্রন।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস অবস্থিত।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
 
• ইলেকট্রন (Electron):
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর ক্ষুদ্রতম মৌলিক কণিকা।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একটি একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
 
• প্রোটন (Proton):
- ইলেকট্রনের মতো প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মৌলিক কণিকা।
- প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা পাওয়া যায়, তাকে প্রোটন বলা হয়।
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরের সমান।
 
• নিউট্রন (Neutron):
- নিউট্রন একটি আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
 
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৫.
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কি বলা হয়?
  1. ফিশন
  2. মেসন
  3. ফিউশন
  4. ফিউশন ও মেসন
সঠিক উত্তর:
ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিশন
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলা হয়। 

পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে শক্তি উৎপন্নের প্রক্রিয়া: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। 
যথা: 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৬.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে কী বোঝায়?
  1. তরল পদার্থের তাপমাত্রার বৃদ্ধি
  2.  তরল পদার্থের দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি
  3. তরল পদার্থের ক্ষেত্রফলের বৃদ্ধি
  4. তরল পদার্থের আয়তনের বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
তরল পদার্থের আয়তনের বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল পদার্থের আয়তনের বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে বোঝায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তরল পদার্থের আয়তনের বৃদ্ধি; কারণ উত্তপ্ত করলে তরল পদার্থের অণুগুলো দ্রুত চলে এবং একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়ে বেশি জায়গা দখল করে, ফলে আয়তন বাড়ে। 

তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তরল পদার্থের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল কিছুই নেই, শুধু তরল পদার্থের আয়তন আছে। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে তার আয়তন প্রসারণকেই বোঝায়। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ মাপার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয় কারণ তরল পদার্থকে সব সময়ই কোনো পাত্রে রাখতে হয়। কাজেই প্রসারণ সহগ মাপতে চাইলে যখন তরলটিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পাত্রটিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাত্রটিরও একটি প্রসারণ হয়। কাজেই পাত্রে তরল যে প্রসারণ দেখা যায় সেটা সত্যিকারের প্রসারণ না, সেটা হচ্ছে আপাত প্রসারণ। 
- কাজেই প্রকৃত প্রসারণ বের করতে হলে পাত্রের প্রসারণের ব্যাপারটা সব সময়ই মনে রাখতে হবে। 
- সাধারণত তরলের প্রসারণ কঠিন পদার্থের প্রসারণ থেকে বেশি হয়। যদি তা না হতো তাহলে আপাত প্রসারণটি হয়তো দেখা যেত না, মনে হতো আপাত সংকোচন। 
- তরল পদার্থের প্রসারণের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে থার্মোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৭.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে-
  1. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৮.
নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. জারকের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া ঘটে।
  2. বিজারকের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া ঘটে।
  3. ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না।
  4. জারণ মানের পরিবর্তন ঘটে।
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না।
ব্যাখ্যা
রেডক্স বিক্রিয়া:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। 
- সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ ঘটে এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে।
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া
২। বিয়োজন বিক্রিয়া
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
৪। দহন বিক্রিয়া। 

নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারনে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- 
১। প্রশমন বিক্রিয়া
২। অধ:ক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৬৯.
নিঃসরণে কোন উপাদানের প্রভাব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ? 
  1. চাপ 
  2. আর্দ্রতা 
  3. আণবিক ভর 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
চাপ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপ 
ব্যাখ্যা

ব্যাপন (Diffusion): 
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 
যেমন- 
• ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়া ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ। 
- যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় বেশি লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার কম। 
- যে পদার্থের আণবিক ভর বেশি সে পদার্থের ব্যাপন হার কম। 

নিঃসরণ (Effusion): 
- সরু ছিদ্রপথে উচ্চচাপ থেকে কোনো গ্যাসের নিম্নচাপের দিকে সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। 
যেমন- 
• বেলুনের ভেতরের বাতাস উচ্চচাপে থাকে; ছিদ্রপথ দিয়ে বেলুনের বাইরে নিম্নচাপে প্রবাহিত হওয়া এক ধরনের নিঃসরণ। 
• যানবাহনের CNG সিলিন্ডার থেকে উচ্চ গতিতে গ্যাস ইঞ্জিনে প্রবেশ করানোও এক ধরনের নিঃসরণ। 
• বাসাবাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের প্রোপেন ও বিউটেন উচ্চচাপে তরল অবস্থায় থাকে; চুলা চালানোর সময় গ্যাসে পরিণত হয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াও এক ধরনের নিঃসরণ। 
- তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের কণার গতিবেগ বৃদ্ধি পায়, ফলে নিঃসরণের হারও বৃদ্ধি পায়। 

- ব্যাপন ও নিঃসরণ মূলত একই প্রকৃতির ঘটনা। 
- এদের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো- ব্যাপনের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব নেই কিন্তু নিঃসরণের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব আছে। 
- ব্যাপনের ক্ষেত্রে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ উপযুক্ত মাধ্যমে সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু নিঃসরণের ক্ষেত্রে কেবল গ্যাসীয় পদার্থ গ্যাসীয় মাধ্যমে ধারক পাত্রের সরু ছিদ্রপথ দিয়ে দ্রুত গতিতে উচ্চ চাপ থেকে নিম্ন চাপের দিকে বের হয়ে আসে। 
যেমন- 
• রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার খুললে প্রথমে গ্যাস ছিদ্রপথ দিয়ে বের হয় (নিঃসরণ), তারপর ঘরে ছড়িয়ে যায় (ব্যাপন)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭০.
নিচের কোনটি সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে অবস্থান করলে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম?
  1. সিলভার (Ag)
  2. তামা (Cu)
  3. সোনা (Au)
  4. জিংক (Zn)
সঠিক উত্তর:
জিংক (Zn)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিংক (Zn)
ব্যাখ্যা

- জিংক (Zn) সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে অবস্থান করলে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকা অনুসারে, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু + লঘু এসিড → লবণ + হাইড্রোজেন। 
যেমন- অধিক সক্রিয় জিংক ধাতু ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা লঘু সালফিউরিক এসিড বা লঘু নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
• Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl2(aq) + H2(g) 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭১.
নন-রেডক্স বিক্রিয়া কোনটি?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া, 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং 
৪। দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি। 

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রশমন বিক্রিয়া, 
২। অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭২.
গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেনের সাথে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করে? 
  1. হিলিয়াম
  2. নিয়ন
  3. ক্রিপটন
  4. আর্গন
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ব্যবহার: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায় সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গনের ব্যবহার: 
১। বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
২। রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস ক্রিপটনের ব্যবহার: 
১। বৈদ্যুতিক আলোর টিউবে নিয়নের সাথে ক্রিপটন গ্যাস মিশ্রিত করে নীল আলো সৃষ্টি করা হয়। 
২। সিনেমাটোগ্রাফীতে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য ক্রিপটন ফ্লাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। মহাজাগতিক রশ্মি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত আয়নীকরণ চেম্বার যন্ত্রে ক্রিপটন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৩.
উদ্বায়ী পদার্থ কোনটি? 
  1. আয়রন 
  2. নিকোটিন 
  3. আয়োডিন
  4. গ্লিসারিন 
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা

পদার্থের অবস্থা: 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে পদার্থের সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে উহার বিভিন্ন অবস্থার প্রকাশ।  
- পদার্থের ভৌত অবস্থার মধ্যে পড়ে পদার্থের ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম ও আলোর সাথে প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা সবই কিন্তু পদার্থের ভৌত অবস্থা। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
- কঠিন বরফকে তাপ দিলে তরল পানি, পানিকে তাপ দিলে গ্যাসীয় অবস্থা বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে তরল পানি, তরল পানিকে ঠাণ্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। 
- আবার কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল এসব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শীতল করলে তরল অবস্থায় পরিণত হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি হলো উদ্বায়ী পদার্থ। 

অন্যদিকে, 
- আয়রন → ধাতু, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- নিকোটিন → জৈব যৌগ, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- গ্লিসারিন → তরল পদার্থ, উদ্বায়ী নয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৪.
নিচের কোনটি অন্তরক পদার্থ?
  1. ক্যাডমিয়াম সালফাইড
  2. কাঁচ
  3. পানি
  4. লোহা
সঠিক উত্তর:
কাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁচ
ব্যাখ্যা

- যে সব বস্তুর মধ্য দিয়ে তড়িৎ আধান চলাচল করতে বা পরিবাহিত হতে পারে না, তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহক বলা হয়।
কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতু, প্লাস্টিক, কাঠ, কাঁচ, রাবার, চীনামাটি, রেশম ইত্যাদি হলো অন্তরক পদার্থ।
- সকল ধাতু, মাটি, পানি প্রভৃতি হলো তড়িৎ পরিবাহক।
- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড, ক্যাডমিয়াম সালফাইড প্রভৃতি হলো অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
সূত্র: মাধমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৩৭৫.
ইলেকট্রন বিন্যাস অনুসারে পর্যায় সারণিতে ব্যতিক্রম অবস্থান কোন মৌলের?
  1. Ca
  2. Na
  3. He
  4. Ar
সঠিক উত্তর:
He
উত্তর
সঠিক উত্তর:
He
ব্যাখ্যা

• হিলিয়ামের 1s2 ইলেকট্রন বিন্যাস থাকায় এটি গ্রুপ-২ এ থাকতে পারতো, কিন্তু রাসায়নিক স্থিতিশীলতা ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি গ্রুপ-১৮ তে স্থান পায়।
- হিলিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2.
- এটি শুধুমাত্র একটি কক্ষপথ পূর্ণ (K-শেল)।

• গ্রুপ অনুযায়ী যুক্তি:
- গ্রুপ ২: এখানে সাধারণত অ্যালকালিন আর্থ ধাতু থাকে, যাদের শেষ কক্ষপথে 1s2 থাকে।
- ইলেকট্রন বিন্যাস অনুযায়ী হিলিয়ামও 1s2 শেল আছে, তাই এটি গ্রুপ-২ তে থাকতে পারতো।
- হিলিয়াম অত্যন্ত অ-প্রতিক্রিয়াশীল।
- রাসায়নিকভাবে হিলিয়াম অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস/নোবেল গ্যাসের মতো আচরণ করে।
- কোনও যৌগ সহজে গঠন করে না, তাই এটিকে গ্রুপ-১৮ (নিষ্ক্রিয় গ্যাস) এ রাখা হয়।
- রাসায়নিক ধর্ম অনুযায়ী: গ্রুপ-১৮ এ রাখা হয়।
- আধুনিক পর্যায় সারণিতে রাসায়নিক ধর্মই প্রাধান্য পায়, তাই হিলিয়াম গ্রুপ-১৮ এ।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

৩৭৬.
কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
  1. বরফ গলানো 
  2. লোহা মরিচা ধরা
  3. পানি বাষ্পীভবন
  4. কাগজ ছিঁড়া
সঠিক উত্তর:
লোহা মরিচা ধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা মরিচা ধরা
ব্যাখ্যা

- লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সাথে বিক্রিয়া করে Iron Oxide (Fe2O3) তৈরি করে। যা মরিচা হিসেবে পরিচিত। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াটি: 4Fe + 3O2 ​→ 2Fe2​O3
- এই প্রক্রিয়ায় লোহা (Fe) থেকে লোহা অক্সাইড (Fe2O3) তৈরি হয়।
- লোহা এর অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।​

পরিবর্তন দুই প্রকার:
- ভৌত পরিবর্তন (Physical Change), 
- রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change)। 

• ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনে পদার্থের কেবল আকার, অবস্থা বা রূপ পরিবর্তিত হয়।
- অণুর গঠন বা রাসায়নিক ধর্ম অপরিবর্তিত থাকে। 

• রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনে পদার্থের অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হয়।
- নতুন পদার্থ তৈরি হয়, যা নতুন ধর্ম প্রদর্শণ করে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন

৩৭৭.
গ্যাসের ঘনত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. অণুগুলোর ভর অত্যন্ত বেশি
  2. অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি
  3. অণুগুলো স্থির অবস্থায় থাকে
  4. অণুগুলো ঘনভাবে সজ্জিত থাকে
সঠিক উত্তর:
অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি
ব্যাখ্যা

• গ্যাসের ঘনত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি থাকা।

• পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম:
- গ্যাসের অণুগুলো খুব দ্রুত ও স্বাধীনভাবে গতিশীল।
- অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুব দুর্বল।
- অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকে।
- ফলে গ্যাসের ঘনত্ব কঠিন ও তরল অবস্থার তুলনায় অনেক কম।
- গ্যাস নির্দিষ্ট আকৃতি বা আয়তন রাখে না।
- পাত্রে রাখলে গ্যাস পাত্রের সম্পূর্ণ আয়তন দখল করে।
- গ্যাস সহজে সংকুচিত করা যায়।
- গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রা ও চাপের উপর নির্ভরশীল।

• গ্যাসের সংকোচনীয়তা:
- অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকায় চাপ প্রয়োগ করলে আয়তন কমে যায়।
- এই বৈশিষ্ট্যকে সংকোচনীয়তা বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- অণুগুলোর ভর অত্যন্ত বেশি → গ্যাসের ঘনত্ব ভরের জন্য নয়, দূরত্বের কারণে কম।
- অণুগুলো স্থির অবস্থায় থাকে → গ্যাসে অণুগুলো সদা গতিশীল।
- অণুগুলো ঘনভাবে সজ্জিত থাকে → এটি কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৭৮.
পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয় কোন তাপমাত্রায়?
  1. 0° C
  2. 0° K
  3. 4° C
  4. 100° C
সঠিক উত্তর:
4° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4° C
ব্যাখ্যা

- সাধারণত তাপমাত্রা কমলে যেকোনো তরলের ঘনত্ব বাড়ে, কিন্তু পানির ক্ষেত্রে 4° C (সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়। এই তাপমাত্রায় পানির অণুগুলো সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকে, যে কারণে আয়তন সর্বনিম্ন হয় এবং ঘনত্ব সর্বাধিক হয় 

ঘনত্ব: 

- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3 .
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1 gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৯.
কোন মৌলিক (noble) গ্যাসটির পারমাণবিক ভর সবচেয়ে বড়? 
  1. জেনন
  2. র‍্যাডন
  3. নিয়ন
  4. আর্গন
সঠিক উত্তর:
র‍্যাডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
র‍্যাডন
ব্যাখ্যা

- আর্গনের পারমাণবিক ভর - ৩৯.৯৫। 
- র‍্যাডনের পারমাণবিক ভর - ২২২। 
- জেননের পারমাণবিক ভর - ১৩১.২৯। 
- নিয়নের পারমাণবিক ভর - ২০.১৮। 

উপরোক্ত মৌলিক গ্যাসসমূহের মধ্যে র‍্যাডনের পারমাণবিক ভর সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৮০.
নিম্নের কোন মৌলটি অপধাতু?
  1. Si
  2. Na
  3. Ag
  4. Kr
সঠিক উত্তর:
Si
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Si
ব্যাখ্যা

সিলিকন (Si) মৌলটি একটি অর্ধধাতু। 

অর্ধধাতু বা অপধাতু (Metalloids / Semi-metals)
- যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ধাতুর মতো আচরণ করে এবং কোনো কোনো সময় অধাতুর মতো আচরণ করে, তাদেরকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলা হয়।
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাদেরকে অপধাতু বলা হয়।
- উদাহরণ: সিলিকন (Si) একটি অপধাতু।

অন্যদিকে,
খ) Na (সোডিয়াম) - এটি ধাতু (Alkali Metal)। এটি পর্যায় সারণির ১ম গ্রুপে অবস্থিত একটি ক্ষার ধাতু। ইলেকট্রন দানে সক্ষম এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সক্রিয় থাকে।
গ) Ag (রুপা) - এটি ধাতু এবং গ্রুপ-১১ এর একটি ধাতব মৌল, যা উত্তম তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহক।
ঘ) Kr (ক্রিপ্টন) - এটি একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এটি পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌল। 

উৎস: রসায়ন - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৩৮১.
গ্যালভানাইজিং করতে কোনো ধাতুর উপর কিসের প্রলেপ দেয়া হয়? 
  1. কপার
  2. নিকেল
  3. জিংক
  4. সিলভার
সঠিক উত্তর:
জিংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিংক
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮২.
কার্বনের আইসোটোপ কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা

কার্বনের আইসোটোপ তিনটি হল C12 (6টি প্রোটন এবং 6টি নিউট্রন), C13 (6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন), C14 (6টি প্রোটন এবং 8টি নিউট্রন)।
আইসোটোপ হলো একই মৌলিক পদার্থের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু যাদের পারমাণবিক সংখ্যা একই তবে নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন। আইসোটোপগুলো পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন।
সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

৩৮৩.
নিচের কোনটি অভিজাত গ্যাস নয়?  
  1. রেডন
  2. ক্রিপ্টন
  3. জেনন
  4. ইউরেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ইউরেনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:

• যে সকল অন্য কোনো গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে না তাদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসকে অভিজাত গ্যাস ও বলা হয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস সাধারণত ৬টি, যথা: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন ও রেডন।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসমূহের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকে। ব্যতিক্রম হিলিয়াম। হিলিয়ামের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকে।
• সূর্যে মৌলিক পদার্থের মধ্যে হিলিয়াম (He) এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• রেডন তেজষ্ক্রিয় মৌল। বিজ্ঞানী ডর্ন ১৯০০ সালে রেডিয়ামের তেজষ্ক্রিয় বিভাজন হতে রেডন আবিষ্কার করেন।
• ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস নয়। 
 
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
৩৮৪.
কম্পোজিট কণিকা হলো -
  1. আলফা কণিকা
  2. নিউট্রিনো
  3. পজিট্রন
  4. অ্যান্টি নিউট্রিনো
সঠিক উত্তর:
আলফা কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলফা কণিকা
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকাসমূহ: 
পরমাণুর মূল কণিকা তিন ধরনের, যথা স্থায়ী মূল কণিকা, অস্থায়ী মূল কণিকা এবং কম্পোজিট কণিকা।

(১) স্থায়ী মূল কণিকা:
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়।
- হাইড্রোজেন-। পরমাণুতে শুধু ১টি ইলেকট্রন ও ১টি প্রোটন আছে। এতে কোন নিউট্রন নেই। 

(২) অস্থায়ী মূল কণিকা:
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে।
- এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়।
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০।
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।

(৩) কম্পোজিট কণিকা (Composite particles):
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়।
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৮৫.
কোনটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম নয়?
  1. পরমাণুর ব্যাসার্ধ
  2. প্রথম আয়নিকরণ শক্তি
  3. রাসায়নিক বন্ধন 
  4. ইলেকট্রন আসক্তি
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক বন্ধন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাসায়নিক বন্ধন 
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন পর্যায়বৃত্ত ধর্ম নয়। 

মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- যে কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম ও অনেক ভৌত ধর্ম নির্ভর করে ঐ মৌলের সর্ববহিঃস্থ ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর।
- মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস পারমাণবিক সংখ্যার বৃদ্ধির সাথে পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
- তাই পর্যায় সারণিতে মৌলে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্দিষ্ট ব্যবধানে মৌলের ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
- মৌলের ধর্মের এ জাতীয় পুনরাবৃত্তিকে মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।
- পর্যায় সারণির কোনো একটি পর্যায়ের ক্ষেত্রে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসে ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে। এ কারণে মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে।
- প্রকৃতপক্ষে মৌলমূহের ধর্মাবলি ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয় এবং ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
- পর্যায় সারণির কোনো পর্যায়ের বাম দিক হতে ডান দিকে এবং কোনো গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে অগ্রসর হলে এ সব ধর্মাবলি একটি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। 

পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে,
যেমন-
- ধাতব ধর্ম,
- অধাতব ধর্ম,
- পরমাণুর আকার,
- আয়নিকরণ শক্তি,
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা,
- ইলেকট্রন আসক্তি, ইত্যাদি। এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৬.
কোনটি পরমাণুর গঠনের মৌলিক কণার অংশ নয়?
  1. ইলেকট্রন
  2. নিউট্রন
  3. ফোটন
  4. প্রোটন
সঠিক উত্তর:
ফোটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোটন
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর মৌলিক কণা: পরমাণু মূলত তিনটি মৌলিক কণার সমন্বয়ে গঠিত: প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন।

- প্রোটন (Proton): ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে।
- নিউট্রন (Neutron): নিরপেক্ষ চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসে থাকে এবং পরমাণুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
- ইলেকট্রন (Electron): ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসের চারপাশে কক্ষপথে ঘোরে।

• ফোটন (Photon):
- এটি আলোর কণা বা কণা-প্রকৃতির তরঙ্গ যা শক্তি বহন করে, কিন্তু পরমাণুর কাঠামোর অংশ নয়। 
- ফোটন কোনো ভর রাখে না।
- এটি নিউক্লিয়াস বা ইলেকট্রনের অংশ নয়।

সুতরাং, পরমাণুর মৌলিক কণার মধ্যে নেই ফোটন।

তথ্যসূত্র: NCTB মাধ্যমিক রসায়ন। 

৩৮৭.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 16
  4. 31
সঠিক উত্তর:
16
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

ফসফরাস (P) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 
এখানে, 

- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর = 31 এবং
- ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা = 15 
অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে = (31 - 15) = 16 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৮.
নিচের কোনটি একই ভর সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন প্রোটন সংখ্যার পরমাণুর জন্য ব্যবহৃত হয়? 
  1. আইসোমার 
  2. আইসোটোপ 
  3. আইসোবার 
  4. আইসোটোন 
সঠিক উত্তর:
আইসোবার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবার 
ব্যাখ্যা

আইসোবার: 
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়। 

আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 

আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 

আইসোমার: 
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৯.
'পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি' এই কথাটি প্রথম কে প্রমাণ করেন?
  1. থেলিস
  2. গ্যালিলিও
  3. আর্কিমিডিস
  4. টলেমি
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও গ্যালিলি: 
-গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে 'পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি'। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- টলেমি ছিলেন প্রাচীন গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, ভূগোল-বিশারদ। তাঁর মডেল অনুসারে পুরোহিতরা মনে করেছিলেন যে, স্বর্গ নরক রয়েছে বাইরের গোলকের ঊর্ধ্বে। 
- আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। 
- থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯০.
নিচের কোনটি আইসোটোপ নয়? 
  1. হিলিয়াম
  2. ট্রিটিয়াম
  3. প্রোটিয়াম
  4. ডিউটেরিয়াম
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯১.
প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত? 
  1. শূন্য
  2. এক
  3. দুই
  4. তিন
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা শূন্য। 

আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯২.
তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় (Exothermic Reaction) কোনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষণ ঘটে
  2. তাপের নির্গমন ঘটে
  3. তাপমাত্রা স্থির থাকে
  4. বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপ হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
তাপের নির্গমন ঘটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপের নির্গমন ঘটে
ব্যাখ্যা
• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় তাপ‌ উৎপন্ন হয়,তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলে।

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার উদাহরণ:
N2 (g)  + 3H2 (g) ⇔ 2NH3 (g) + 92 kJ

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- তাপের নির্গমন: বিক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়।
- তাপমাত্রার প্রভাব:  বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে)।
- এনথালপি পরিবর্তন (ΔH):  তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔH ঋণাত্মক (ΔH < 0), কারণ বিক্রিয়া থেকে শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩৯৩.
গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র নিচের কোনটি? 
  1. V ∝ n
  2. P ∝ T
  3. PV = K
  4. V ∝ T
সঠিক উত্তর:
P ∝ T
উত্তর
সঠিক উত্তর:
P ∝ T
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273; 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
৩৯৪.
একটি দ্রবণের সাধারণত কয়টি অংশ থাকে? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
দ্রবণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় দুই বা ততোধিক কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যার প্রতিটি উপাদানের আপেক্ষিক পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পরিবর্তিত করা যায়, তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের সাধারণত দুইটি অংশ থাকে। একটি হলো দ্রাবক আর অপরটি হলো দ্রব। 
অর্থাৎ, দ্রবণ= দ্রাবক + দ্রব। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয়, তাকে দ্রাবক বলা হয়। 
- দ্রব ও দ্রাবকের ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকারের দ্রবণ হয়। 
যথা: 
দ্রাবক ⇒ দ্রব ⇒ উদাহরণ  
• গ্যাস ⇒ গ্যাস ⇒ বায়ু: সাধারণভাবে 78% N2 ও 21% O2। অধিক পরিমাণে N2 এর মধ্যে কম পরিমাণে O2 এর মিশ্রণ। 
• তরল ⇒ গ্যাস ⇒ সোডা ওয়াটার: পানিতে উচ্চ চাপে CO2 কেন্দ্রীভূত করা হয়। 
• তরল ⇒ তরল ⇒ পানি-অ্যালকোহলের দ্রবণ: পানিতে কিছু পরিমাণ অ্যালকোহল দ্রবীভূত করা হয়। 
• কঠিন ⇒ কঠিন ⇒ ধাতু সংকর: কপার ও জিংকের সমসত্ত্ব মিশ্রণ। 
• কঠিন ⇒ তরল ⇒ পারদ সংকর বা জিংক অ্যামালগাম। 
• কঠিন ⇒ গ্যাস ⇒ কঠিন প্যালাডিয়াম ধাতু দ্বারা H2 গ্যাস শোষিত হয়। 
• গ্যাস ⇒ তরল ⇒ মেঘ: বায়ুতে জলীয় বাষ্প। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৫.
নিচের কোনটি রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা?
  1. ইলেকট্রনের চার্জের প্রকৃতি নির্ধারণ করতে ব্যর্থ
  2. নিউট্রনের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ
  3. পরমানুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ
  4. প্রোটনের চার্জ নির্ণয় করতে ব্যর্থ
সঠিক উত্তর:
পরমানুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমানুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ
ব্যাখ্যা
• রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু মডেল দেন।

• যেখানে তিনি দেখান যে:-
-  প্রত্যেকটি পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে। এই কেন্দ্রের নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রন এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন অবস্থান করে।
যেহেতু আপেক্ষিকভাবে ইলেকট্রনের ভর শূন্য ধরা হয় কাজেই নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের ভরই পরমাণুর ভর। 

- নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ও পরমাণুর ভেতরে বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা।

- ধনাত্মক চার্জবাহী নিউক্লিয়াসের প্রতি ঋণাত্মক চার্জবাহী ইলেকট্রন এক ধরনের আকর্ষণ বল অনুভব করে।
এই আকর্ষণ বল কেন্দ্রমুখী এবং এই কেন্দ্রমুখী বলের কারণে পৃথিবী যেরকম সূর্যের চারদিকে ঘুরে ইলেকট্রন সেরকম নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরে।

• তবে তাঁর মডেলের প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল:
 - ইলেকট্রন কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে শক্তি হারায় (তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের কারণে) ফলে তা অবশেষে নিউক্লিয়াসে পতিত হতো এবং পরমাণু স্থিতিশীল থাকে না।
 কিন্তু প্রকৃতিতে পরমাণু স্থিতিশীল, তাই এই মডেল পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৩৯৬.
কোথায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় আছে?
  1. চন্দ্র পৃষ্ঠের পাহাড়ে
  2. সূর্যের অভ্যন্তরে
  3. পৃথিবীর পানিতে
  4. উত্তর মেরুর বরফে
সঠিক উত্তর:
সূর্যের অভ্যন্তরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যের অভ্যন্তরে
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা (Plasma State): 
- প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস। 
- এ অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা  হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। আবার, তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
অন্যভাবে বলা যায়, গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরূজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 
- শিল্প কারখানায় প্লাজমা টর্চ ব্যবহৃত হয়। 
- সূর্যসহ মহাবিশ্বের নক্ষত্রসমূহের অভ্যন্তরভাগ প্লাজমা অবস্থার উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৭.
আর্গনের (Ar) জারণ সংখ্যা-
  1. শূন্য
  2. এক
  3. চার
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা
• জারণ সংখ্যা:

• যৌগ গঠনের সময় একটি মৌল অপর মৌলের সাথে যুক্ত হতে যে কয়টি ইলেকট্রন আদান প্রদান করে সেই আদান প্রদানকৃত ইলেকট্রনের সংখ্যাকে জারণ সংখ্যা বলে।
• জারণ সংখ্যা ধনাত্মক, ঋণাত্মক, ভগ্নাংশ এবং শূন্য হতে পারে। একটি মৌলের একাধিক জারণ সংখ্যা হতে পারে। একে পরিবর্তনশীল জারণ সংখ্যা বলে। 
• জানা মৌলের জারণ সংখ্যার সাহায্যে কোন মৌলের অজানা জারণ সংখ্যা সহজেই নির্ণয় করা যায়।
• যেসব মৌলের জারণ সংখ্যা মনে রাখা প্রয়োজন তা নিম্নরূপ- 
১. চার্জ নিরপেক্ষ পরমাণুর জারণ সংখ্যা শূন্য হয়।
- যেমন: Na ; K ; Mg ; Ca ; Fe ইত্যাদি।

২. দ্বি-মৌলিক গ্যাসের জারণ সংখ্যা শূন্য।
- যেমন: Cl₂ ; Br₂ ; I₂ ; N₂ ; O₂ ; F₂ ; H₂ ইত্যাদি।

৩. নিষ্ক্রিয় গ্যাসের জারণ সংখ্যা শূন্য।
- যেমন: He ; Ne ; Ar ; Kr ; Xe ; Rn.

৪. গ্রুপ- 1 এর মৌল সমূহের জারণ সংখ্যা +1.
- যেমন: H ; Li ; Na ; K ; ইত্যাদি।

৫. গ্রুপ -2 এর মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা +2.
- যেমন: Be ; Mg ; Ca ইত্যাদি।

৬. গ্রুপ -17 মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা -1.
- যেমন: Cl₂ ; Br₂ ; I₂ ; F₂.

৭. গ্রুপ -16 মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা -2.
- যেমন: O₂ ; S ইত্যাদি।

৮. সাধারণ অক্সাইডের ক্ষেত্রে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- যেমন: Na₂O, MgO ; CaO ; ইত্যাদি।
- পার অক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- যেমন: H₂O₂ ; Na₂O₂ ইত্যাদি। আবার সুপার অক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1/2. যেমনঃ NaO₂ ; KO₂ ইত্যাদি।

৯. হাইড্রোজেন যদি অধাতুর সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে জারণ সংখ্যা +1 হয়।
- যেমন: HCl ; HBr ; HI ; H₂O ইত্যাদি। আবার হাইড্রোজেন ধাতুর সঙ্গে যুক্ত থাকলে জারণ সংখ্যা -1 হয়। যেমন: NaH ; CaH₂ ; LiH ইত্যাদি।
- একটি যৌগের মোট জারণ সংখ্যার পরিবর্তন শূন্য হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ। 
৩৯৮.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. সংযোজন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৯.
ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা -
  1. ৮২
  2. ৮৮
  3. ৯১
  4. ৯২
সঠিক উত্তর:
৯২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯২
ব্যাখ্যা
• ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা - ৯২।
- সংকেত- U
- পারমানবিক ভর -২৩৮।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলের পারমানবিক সংখ্যা:
- সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪,
- সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১,
- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২,
- ক্যালসিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ২০,
- জিংকের পারমানবিক সংখ্যা ৩০,
- অ্যালুমিনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ১৩, 
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬,
- আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩,
- নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০০.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে শক্তি রূপান্তরের মূল কারণ কোনটি?
  1. তাপীয় বিক্রিয়া
  2. আলোক বিক্রিয়া
  3. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
  4. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বা রেডক্স (Redox) বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের স্থানান্তর ঘটে, যা বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করে। 

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।