বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

মোট প্রশ্ন৭৬৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৭৬৮

২০১.
দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে কোন এককে প্রকাশ করা হয়?
  1. গ্রাম
  2. মোল
  3. গ্রাম-তুল্যভর
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন পদার্থগুলিকে কী বলা হয়?
  1. উৎপাদ
  2. প্রতিক্রিয়া
  3. সমীকরণ
  4. বিক্রিয়ক
সঠিক উত্তর:
উৎপাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদ
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বিক্রিয়া: 
- যদি কোনো পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার নিজের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে নতুন ধর্ম লাভ করে সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
- যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য যে সমীকরণ ব্যবহার করা হয় সেই সমীকরণকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়। 
- রাসায়নিক সমীকরণকে প্রকাশ করার জন্য প্রতীক, সংকেত এবং নানা রকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। 
- যে সকল পদার্থ নিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় সেই সকল পদার্থকে বলা হয় বিক্রিয়ক। 
- বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট যে সকল পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সকল পদার্থকে উৎপাদ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৩.
সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ১১
  2. ১৩
  3. ১৭
  4. ২০
সঠিক উত্তর:
১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম ( Na) এর পারমানবিক সংখ্যা ১১ ও পারমানবিক ভর ২৩। 
এর তিনটি প্রধান শক্তিস্তর আছে। K শক্তিস্তরে ২ টি, L শক্তিস্তরে ৮ টি ও M শক্তিস্তরে ১ টি ইলেকট্রন আছে। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
২০৪.
ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান কত?
  1. 0
  2. − 1
  3. − 2
  4. 1
সঠিক উত্তর:
− 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
− 1
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন (Electron):
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন।
- এর ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা ।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের সংকেত e - .
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 ও -1.60×10-19 Coulomb ।
- আপেক্ষিক আধান -1 .

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৫.
পর্যায় সারণির গ্রুপ-2'তে অবস্থিত মৌলগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. ক্ষার ধাতু 
  2. স্বাভাবিক ধাতু 
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. মৃৎক্ষার ধাতু 
সঠিক উত্তর:
মৃৎক্ষার ধাতু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃৎক্ষার ধাতু 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৬.
মাটির পাত্রে পানি ঠাণ্ডা থাকে কেন?
  1. মাটির পাত্র পানি থেকে তাপ শোষণ করে
  2. মাটির পাত্র ভালো তাপ পরিবাহী
  3. মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
  4. মাটির পাত্র তাপ কুপরিবাহী
সঠিক উত্তর:
মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির পাত্র পানির বাষ্পীভবনে সাহায্য করে
ব্যাখ্যা
- বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে মাটির কলসিতে পানি ঠান্ডা থাকে। 
- গরমের দিনে মাটির কলসীতে পানি রেখে পানি ঠান্ডা করা হয়। 
- মাটির কলসীর গায়ে অসংখ্য সূক্ষ্ম ছিদ্র পথে সর্বদা পানি চুঁইয়ে বাইরে আসে। 
- ফলে কলসীর বাইরের গাটি সবসময়ই ভেজা থাকে। 
- এই পানির কণা কলসীর গা এবং সংলগ্ন বাতাস থেকে প্রয়োজনীয় সুপ্ত তাপ সংগ্ৰহ করে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। 
- কলসীর গা ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে, ফলে কলসীর ভেতরের পানিও ঠান্ডা হয়। 
- এছাড়া বাষ্পায়ন থেকে শীতলীকরণের নীতিকে কাজে লাগিয়ে রিফ্রিজারেটর তৈরি করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৭.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. হিমায়িত অক্সিজেন
  2. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইড
  3. হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ বা 'ড্রাই আইস' হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড-78.5°C উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসীয় বা বাষ্পে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৮.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা অভিন্ন কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন তাদেরকে কী বলে?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার
  4. আইসোটোন
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
ব্যাখ্যা
আইসোবার : প্রকৃতিতে এমন কিছু পরমাণু রয়েছে যাদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু ভর সংখ্যা অভিন্ন। এ ধরনের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোবার বলে।
যেমন- 146C ও 147N পরস্পর আইসোবার। কারণ কার্বন ও নাইট্রোজেন প্রত্যেকেরই ভর সংখ্যা ১৪ করে কিন্তু কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬ ও নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৯.
কোনটি একমুখী বিক্রিয়া?
  1. অ্যামোনিয়া উৎপাদন 
  2. CO2 উৎপন্ন
  3. এস্টার সংশ্লেষণ
  4. CaCO3 তাপীয় বিয়োজন
সঠিক উত্তর:
CO2 উৎপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO2 উৎপন্ন
ব্যাখ্যা

CO2 উৎপন্ন এটি একমুখী বিক্রিয়া। 

রাসায়নিক বিক্রিয়ার দিক (Direction of Reaction)
রাসায়নিক বিক্রিয়ার দিকের উপর ভিত্তি করে বিক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

ক) একমুখী বিক্রিয়া (Irreversible Reaction)
- এই ধরনের বিক্রিয়ায় শুধুমাত্র বিক্রিয়ক পদার্থ বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হয়।
- উৎপাদসমূহ পুনরায় বিক্রিয়ক পদার্থে পরিবর্তিত হয় না।
- সম্মুখ বিক্রিয়ার গতিবেগই বর্তমান থাকে, পশ্চাৎমুখী বিক্রিয়ার কোনো গতিবেগ নেই।

উদাহরণসমূহ:
1. গাছে পাতা, ফুল, ফল ঝরে পড়া; খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক; জীবদেহের বার্ধক্য ও মৃত্যু।
2. কার্বনকে আগুনে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) উৎপন্ন হয়: C(s) + O₂(g) → CO₂(g)
3. পটাশিয়াম ক্লোরেট (KClO₃) উত্তাপে KCl ও O₂ উৎপন্ন করে:
2KClO₃(s) → 2KCl(s) + 3O₂(g)
4. আয়নিক বিক্রিয়া: NaCl(aq) + AgNO₃(aq) → AgCl↓ + NaNO₃(aq)

খ) উভমুখী বিক্রিয়া (Reversible Reaction)
- উভমুখী বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক পদার্থ উৎপাদে পরিণত হয় এবং উৎপাদ পদার্থও পুনরায় বিক্রিয়ক পদার্থে ফিরে যায়।
- সম্মুখ ও পশ্চাৎমুখী বিক্রিয়া একসাথে চলতে থাকে।
- উভমুখী বিক্রিয়ার সমীকরণে ⇌ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

উদাহরণসমূহ:
1. নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের বিক্রিয়া অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে:
N₂(g) + 3H₂(g) ⇌ 2NH₃(g)
- উৎপন্ন NH₃ তাপ শোষণ করে পুনরায় N₂ ও H₂ তে পরিণত হয়।

2. আবদ্ধ পাত্রে কঠিন চুনাপাথরের (CaCO₃) তাপীয় বিয়োজন:
CaCO₃(s) ⇌ CaO(s) + CO₂(g)
- উৎপন্ন CaO ও CO₂ পুনরায় CaCO₃ এ ফিরে আসে।

3. এস্টার সংশ্লেষণ (ইথানল + ইথানোয়িক এসিড):
CH₃-CH₂OH + CH₃-COOH ⇌ CH₃-CO-O-CH₂-CH₃ + H₂O

4. হাইড্রোজেন ও আয়োডিনের বিক্রিয়া:
H₂ + I₂ ⇌ 2HI
- দীর্ঘ সময় পরেও বিক্রিয়া সম্পূর্ণ হয় না। কারণ HI গ্যাসও পুনরায় H₂ ও I₂ তে বিয়োজিত হয়।
- উভমুখী বিক্রিয়ায় বদ্ধ পাত্রে H₂, I₂ ও HI তিনটি উপাদানই উপস্থিত থাকে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১০.
বাতাসে শব্দের বেগ কত?
  1. 330 m/s
  2. 1284 m/s
  3. 1493 m/s
  4. 1450 m/s
সঠিক উত্তর:
330 m/s
উত্তর
সঠিক উত্তর:
330 m/s
ব্যাখ্যা
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে,
- পানিতে শব্দের বেগ ১৪৯৩ মি/সে এবং
- লোহাতে শব্দের বেগ ৫১৩০ মি/সে।
- হাইড্রোজেনে  শব্দের বেগ ১২৮৪ মি/সে,
- পারদে শব্দের বেগ  ১৪৫০ মি/সে,

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২১১.
কক্ষতাপমাত্রায় গ্যাসের ঘনত্ব -
  1. অনেক বেশি
  2. তরলের তুলনায় বেশি
  3. খুবই কম
  4. তরল অবস্থার সমান
সঠিক উত্তর:
খুবই কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুবই কম
ব্যাখ্যা

গ্যাসের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Gas):
- কক্ষ তাপমাত্রায় যে সব উপাদান বায়বীয় অবস্থায় থাকে তাকে গ্যাস বলা হয়।
- যেমন- O2, N2, H2, CO2, He এ সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ।

গ্যাসীয় পদার্থগুলো বেশিকিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। যেমন-
১। আকার ও আয়তন: গ্যাসীয় পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। সাধারণত যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন বলে ধরা হয়।
২। সম্প্রসারণশীলতা: গ্যাসের সম্প্রসারণ ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় খুব দ্রুত ঐ পাত্রের সমস্ত জায়গায় গ্যাস বিস্তৃত হয়ে পড়ে।
৩। ব্যাপন: গ্যাসের ব্যাপনের ক্ষমতা খুব বেশি। দুই বা ততোধিক গ্যাস পরস্পরের মধ্যে দ্রুত গতিতে পরিব্যাপ্ত হয়ে সমসত্ত্ব মিশ্রণ তৈরি করে থাকে। গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক শূন্য স্থান থাকে বলে এটি সম্ভব হয়।
৪। আন্তঃকণা আকর্ষণ বল: গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য। এ বলের মান ততই কম যে সাধারণভাবে একে শূন্য বলে ধরে নেয়া হয়।
৫। ঘনত্ব: কক্ষতাপমাত্রায় গ্যাসের ঘনত্ব খুবই কম। উপাদানের একক আয়তনের ভরকে উপাদানের ঘনত্ব বলা হয়। গ্যাসীয় অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক দূরত্ব অধিক হওয়ায় একক আয়তনে গ্যাস অণুর সংখ্যা কম হয়। এ কারণে একক আয়তনের ভর তথা ঘনত্ব কম হয়।
৬। গ্যাসের চাপ: যে পাত্রে গ্যাস রাখা থাকে ঐ গাত্রের দেয়ালের উপর গ্যাস চাপ প্রয়োগ করে। গ্যাস অণুগুলো গতিশীল থাকায় পাত্রের দেয়ালে চাপ বা বল প্রয়োগ করে। গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক আরোপিত এ চাপ পাত্রের উপরে, নিচে, পার্শ্বে সব জায়গায় সমান থাকে। প্রকৃত পক্ষে স্থির তাপমাত্রায় একক ক্ষেত্রফলের উপর পাত্রের দেয়ালে গ্যাস যে বল প্রয়োগ করে তাকে গ্যাসের চাপ বলা হয়।
৭। অণুর গতি: গ্যাস অণুগুলোর গতিশক্তি যথেষ্টভাবে অধিক এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি জনিত কারণে অণুগুলোর গতিশক্তির বৃদ্ধি ঘটে। গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম হওয়ায় অণুগুলো স্বাধীন এবং বিক্ষিপ্তভাবে গতিশীল থাকে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২১২.
যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়-
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোমার
  4. আইসোটোন
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
ব্যাখ্যা

যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা (Mass number) সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়, তাদেরকে আইসোবার (Isobar) বলা হয়।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

অন্যদিকে,
• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

• আইসোমার (Isomer): 
- যাদের আণবিক সংকেত একই কিন্তু গাঠনিক সংকেত বা পরমাণুর বিন্যাস ভিন্ন। এটি মূলত জৈব যৌগের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৩.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে কী বলা হয়?
  1. পরমাণু
  2. অণু
  3. ইলেকট্রন
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
ব্যাখ্যা
• পরমাণু:
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।

• পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক।
২. সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি।
৩. পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে।
৪. একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না।

• অণু:

- মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে।

• ইলেকট্রন:
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।

• নিউট্রন:
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৪.
ক্ষার ধাতু পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে অবস্থিত? 
  1. গ্রুপ-1
  2. গ্রুপ-2
  3. গ্রুপ-11
  4. গ্রুপ-17
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ-1
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
২য় শেল (L-শেল) সর্বাধিক কতটি ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে? 
  1. 18
  2. 2
  3. 8
  4. 32
সঠিক উত্তর:
8
উত্তর
সঠিক উত্তর:
8
ব্যাখ্যা

বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাস: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। 
n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন ( যেখানে, n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
যেমন- 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (2)2 = 8 টি
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (3)2 = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (4)2 = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৬.
পদার্থের চতুর্থ অবস্থাটির নাম কী?
  1. গ্যাস
  2. প্লাজমা
  3. তরল স্ফটিক
  4. বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা
ব্যাখ্যা

• পদার্থের চতুর্থ অবস্থার নাম প্লাজমা।
- এই প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস। প্লাজমার বড় উৎস হচ্ছে সূর্য। তাছাড়াও অন্যান্য নক্ষত্রগুলোও প্লাজমার উৎস। প্রায় কয়েক হাজার ডিগ্রী সেলসিয়অস তাপমাত্রায় প্লাজমা অবস্থার উৎপত্তি হয়। 

• বৈশিষ্ট্যসমূহ-
- অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থের এই অবস্থাটি আয়নিত রূপে থাকে।
- প্লাজমা অবস্থার মূল উৎস হচ্ছে সূর্য। 
- সূর্য ব্যতীত মহাবিশ্বের তারা বা নক্ষত্র পদার্থের এই চতুর্থ অবস্থার উৎস হিসেবে কাজ করে।
- অত্যাধিক তাপমাত্রায় (প্রায় ১-২ হাজার ডিগ্রী ) প্লাজমা অবস্থার উদ্ভব ঘটে।
- গবেষণাগারে নিম্নচাপে গ্যাসীয় পদার্থকে উত্তপ্ত করে প্লাজমা তৈরি করা যায়। 
- গ্যাসীয় পদার্থের মতো প্লাজমার নির্দিষ্ট কোন আকার বা আয়তন নেই। 
- অতি উচ্চ তাপমাত্রায়ও প্লাজমা সহজেই বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে। 

অন্যান্য অপশন:
- গ্যাস (Gas): এটি পদার্থের তৃতীয় অবস্থা।
- তরল স্ফটিক (Liquid Crystal): এটি পদার্থের একটি মধ্যবর্তী বিশেষ অবস্থা, যা সাধারণত বৈদ্যুতিক ডিসপ্লেতে ব্যবহৃত হয়। এটি পদার্থের মূল অবস্থাগুলোর মধ্যে গণ্য হয় না।
- বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট (BEC): এটি হলো পদার্থের পঞ্চম অবস্থা, যা অতি নিম্ন তাপমাত্রায় তৈরি হয়।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

২১৭.
সর্বোচ্চ গলনাংক বিশিষ্ট ধাতু কোনটি?
  1. টাইটেনিয়াম
  2. প্লাটিনাম
  3. টাংস্টেন
  4. জারকানিয়াম
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
- একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট টাংস্টেন দিয়ে তৈরি কারণ টাংস্টেন সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক (৩৪২২ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বিশিষ্ট, সর্বনিম্ন বাষ্পীয় চাপ বিশিষ্ট এবং ইহা ধাতুগুলোর মাঝে সর্বাধিক প্রসারণযোগ্য। 
- এটি গলে যাওয়ার আগে উচ্চ তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু টাংস্টেন। 
- টাংস্টেনের (Wolfram) এর সংকেত W. 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৮.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই?
  1. তরল
  2. গ্যাসীয়
  3. কঠিন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ্যাসীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যাসীয়
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৯.
ক্ষার ধাতু সমূহের জারণ সংখ্যা সাধারণত কত?
  1. 0
  2. +1
  3. -1
  4. +2
সঠিক উত্তর:
+1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+1
ব্যাখ্যা

- ক্ষার ধাতুগুলো (যেমন- লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম) পর্যায় সারণির গ্রুপ-১ এর অন্তর্ভুক্ত। এদের ইলেকট্রন বিন্যাসের শেষ কক্ষপথে মাত্র একটি ইলেকট্রন থাকে, যা ত্যাগ করে এরা সহজেই স্থিতিশীলতা অর্জন করে এবং +1 আধানযুক্ত আয়নে পরিণত হয়। 

জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +1. 
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্য সব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা +1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা -1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা +2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২০.
দ্রবণে সাধারণত দ্রাবকের পরিমাণ দ্রবের তুলনায় কেমন হয়?
  1. বেশি
  2. কম
  3. সমান
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি
ব্যাখ্যা
• দ্রবণ (Solution) হলো দুই বা ততোধিক পদার্থের মিশ্রণ, যেখানে একটি পদার্থ প্রধানত দ্রাবক (Solvent) এবং অন্যগুলো দ্রব (Solute)। 

দ্রাবক হলো সেই পদার্থ যার পরিমাণ দ্রবণে তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে এবং যেটিতে অন্য পদার্থ (দ্রব) দ্রবীভূত হয়।

• দ্রব হলো সেই পদার্থ যার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং যা দ্রাবকে মিশে যায়।

উদাহারণ:-
- সাধারণ লবণ পানি: এখানে পানির পরিমাণ বেশি থাকে (দ্রাবক >> দ্রাব)। 
- চিনির সিরাপ: এখানেও পানি প্রধান উপাদান।   

ব্যতিক্রম:-
- অ্যালকোহল-পানি মিশ্রণ: কখনো কখনো সমান অনুপাতে থাকতে পারে। 
- অম্ল: H₂SO₄ এর ক্ষেত্রে দ্রাব বেশি হতে পারে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী।
২২১.
পদার্থের অবিভাজ্য একক সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারনা দেন কে?
  1. ক) জন ডাল্টন
  2. খ) জন ডাল্টন
  3. গ) পিথাগোরাস
  4. ঘ) ডেমোক্রিটাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডেমোক্রিটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডেমোক্রিটাস
ব্যাখ্যা
• পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ নানারকম মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।
- গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা হিসাবে মতবাদ পোষণ করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা দেন যে, পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে, যার নাম এটম।

- তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক শব্দ এটোমোস থেকে যার অর্থ হলো অবিভাজ্য। 


সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান; বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি। 
২২২.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলসমূহ কোন ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে? 
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. যোজন ইলেকট্রন
  4. আয়নীকরণ শক্তি
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা

◉ আধুনিক পর্যায় সারণি (Modern Periodic Table) মূলত মোজলি (Henry Moseley, 1913)-এর প্রস্তাবিত নীতি অনুসারে সাজানো। তিনি প্রমাণ করেন যে, মৌলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে পারমাণবিক সংখ্যা (proton সংখ্যা) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পর্যায় সারণিতে মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।

আধুনিক পর্যায় সারণি: 
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে।
- আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার ক্রম অনুসারে সাজানো হয়েছে।
- ১৯১৩ সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।
- এর পূর্বে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো তাদের পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজানো ছিলো। 

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
- পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) অনুসারে সাজানো হয়।
- পর্যায় সারণিতে 18টি গ্রুপ এবং 7টি পর্যায় রয়েছে।
- একটি গ্রুপ হল পর্যায় সারণীর উল্লম্ব কলাম, যা মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
- একটি পর্যায় হল পর্যায় সারণীর অনুভূমিক সারি।
- প্রতিটি পর্যায় বামদিকের গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মূল পর্যায় সারণির নিচে ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির মৌল হিসেবেও দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে ৬ এবং ৭ পর্যায়ের অংশ।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

২২৩.
কোনো মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান-
  1. বাড়ে
  2. কমে
  3. একই থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 

- গ্যাসীয় অবস্থায় কোন মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 

- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপের মৌল। 
- এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। 
আবার, Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 
২২৪.
নিচের কোনটির ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন?
  1. আইসোবার
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোটোন
  4. আইসোমার
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
ব্যাখ্যা
• আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।

• আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

• আইসোমার:
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৫.
কিসমিস পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফুলে ওঠার কারণ কী? 
  1. গলন
  2. বাষ্পীভবন
  3. বহিঃঅভিস্রবণ
  4. অন্তঃঅভিস্রবণ
সঠিক উত্তর:
অন্তঃঅভিস্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃঅভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দু'ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ - কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৬.
ডিউটেরিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 0
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ডিউটেরিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে এক (১)। 

আইসোেটাপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৭.
মোম বাতি জ্বালালে কোন ধরণের বিক্রিয়া সংগঠিত হয়?
  1. ক) ভৌত
  2. খ) রাসায়নিক
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনোটিই না
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়
ব্যাখ্যা
মোম বাতি জ্বালালে ভৌত ও রাসায়ানিক উভয় ধরণের বিক্রিয়া সংগঠিত হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২২৮.
'পরমাণু অবিভাজ্য, তাদের সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই' কথাটি কে বলেছেন? 
  1. নিলস বোর
  2. রাদারফোর্ড
  3. জন ডাল্টন
  4. ডেমোক্রিটাস
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। 
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। 
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। 
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। 
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৯.
ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে কী বলা হয়? 
  1. একক বন্ধন
  2. ক্যাটায়ন
  3. অ্যানায়ন
  4. সমযোজী বন্ধন
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
ব্যাখ্যা
আয়নিক বন্ধন:  
- নিকটতম নিস্ক্রিয় গ্যাসের ইলেকট্রন বিন্যাস লাভের উদ্দেশ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী পরমাণুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণের ফলে উৎপন্ন বিপরীতধর্মী আয়নের মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যে বন্ধন গঠিত হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অন্যদিকে তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 
- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও Cl- অ্যানায়ন। 
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩০.
কোন পদার্থের কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ দ্বারা যুক্ত থাকে? 
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. বায়বীয় 
  4. আর্দ্র পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ (Solids): 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল থাকে। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে, ফলে কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার হয়। 
- কঠিন পদার্থের উপর চাপ প্রয়োগ করলে এরা সংকুচিত হয় না। আবার, তাপমাত্রা বাড়ালে কঠিন পদার্থের আয়তন খুবই কম পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলো চলাচল বা স্থান ত্যাগ করতে পারেনা, তবে নিজস্ব স্থানে কম্পন সৃষ্টি করতে পারে। 

তরল পদার্থ (Liquids): 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের কণাগুলো কঠিন পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিন পদার্থের চেয়ে কম হয়। 
- তরল পদার্থে চাপ প্রয়োগ করলে আয়তন হ্রাস পায় না, তবে তাপ প্রয়োগ করলে তরল পদার্থের আয়তন বৃদ্ধি পায়। এই আয়তন বৃদ্ধির পরিমাণ কঠিন পদার্থের চেয়ে বেশি। 

গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থ (Gases): 
- গ্যাসীয় পদার্থের নিদিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন আয়তনের পাত্রে রাখলে পদার্থটি ধারক পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরল পদার্থের চেয়ে অনেক বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে, তাই এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 
- চাপ প্রয়োগ করলে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন অনেক কমে যায়। আবার, তাপ প্রয়োগ করলে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন অনেক বেড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩১.
The water reaches its maximum density at which temperature?
  1. 50°C
  2. 25°C
  3. 10°C
  4. 4°C
  5. 0°C
সঠিক উত্তর:
4°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
4°C
ব্যাখ্যা
• পানির ঘনত্ব:
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।  
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
- অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩২.
গ্যাসীয় পদার্থে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কেমন থাকে? 
  1. সর্বনিম্ন 
  2. অপরিবর্তনীয়
  3. মধ্যম 
  4. সবচেয়ে বেশি
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে বেশি
ব্যাখ্যা

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক আকর্ষণ খুবই কম থাকে এবং আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- তাই গ্যাসীয় পদার্থকে নিম্ন তাপমাত্রায় শীতল করলে তাদের আন্তঃআণবিক দূরত্ব হ্রাস পেয়ে খুব নিকটে আসে ও তরলে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, গ্যাসের স্ফুটনাঙ্ক কক্ষতাপমাত্রা থেকে অনেক কম হয়। 
যেমন- নাইট্রোজেন (N2) গ্যাসের স্ফুটনাঙ্ক হল –196°C । 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।

২৩৩.
Na এর যোজনী কত?
  1. ক) ০
  2. খ) ১
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ২৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম বা Na এর যোজনী ১৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২৩৪.
নিচের কোন পদার্থটির স্থিতিস্থাপকতা সর্বাপেক্ষা বেশি? 
  1. তামা 
  2. রাবার 
  3. সোনা
  4. ইস্পাত
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা

স্থিতিস্থাপকতা: 
- বল প্রয়োগ যদি কোনো বস্তুর আকার বা আয়তন বা উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে অর্থাৎ বস্তু বিকৃত হয় তাহলে প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে যে ধর্মের ফলে বিকৃত বস্তু আগের আকার ও আয়তন ফিরে পায় তাকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। 
- যে বস্তুর বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বেশি তার স্থিতিস্থাপকতাও বেশি হবে। 
- লোহা ও রাবারের মধ্যে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা লোহার বেশি তাই লোহা রাবারের চেয়ে বেশি স্থিতিস্থাপক। 

স্থিতিস্থাপক সীমা: 
- বাহ্যিক বলের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যেক বস্তুই পূর্ণ স্থিতিস্থাপক। 
- এই সীমাকে বস্তুটির উপাদানের স্থিতিস্থাপক সীমা বলা হয়। 
- বিভিন্ন পদার্থের স্থিতিস্থাপক সীমা বিভিন্ন। 
যেমন- ইস্পাতের স্থিতিস্থাপক সীমা খুব বেশি আবার রাবারের খুব কম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)। 

২৩৫.
কোন গ্যাসটি নোবেল গ্যাস নয়?
  1. আর্গন
  2. জেনন
  3. রেডন
  4. ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

ক্লোরিন (Cl) হলো হ্যালোজেন গ্যাস, নোবেল গ্যাস নয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এ গ্রুপের মৌল গুলো হলো—
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

২৩৬.
ডেসি মোল দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ কত? 
  1. ১.০ মোল 
  2. ০.০০১ মোল
  3. ০.০১ মোল
  4. ০.১ মোল 
সঠিক উত্তর:
০.১ মোল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ মোল 
ব্যাখ্যা

মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি।


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৭.
কে আধুনিক পর্যায় সারণির তত্ত্ব দেন? 
  1. জন ডাল্টন
  2. দিমিত্রি মেন্ডেলিভ
  3. হেনরি মোসলে
  4. নীলস বোর
সঠিক উত্তর:
হেনরি মোসলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি মোসলে
ব্যাখ্যা

• আধুনিক পর্যায় সারণি পারমাণবিক সংখ্যা ভিত্তিক, যার তত্ত্ব প্রমাণ করেন হেনরি মোসলে (Henry Moseley)।
- তিনি দেখান, মৌলের রাসায়নিক ধর্মের প্রকৃত কারণ ইলেকট্রন বিন্যাস, যা নির্ধারিত হয় পারমাণবিক সংখ্যা দ্বারা।
- তার তত্ত্ব ছাড়া আধুনিক পর্যায় সারণিতে ৭ম পর্যায় সম্পূর্ণ করা বা নতুন মৌলের স্থান নির্ধারণ অসম্ভব হতো।

• পর্যায় সারণির বিবর্তন:
- প্রথমদিককার রসায়নবিদেরা মৌলগুলোর বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে তাদের শ্রেণিবিন্যাসের ধারণা দেন, তবে এই শ্রেণিবিন্যাস ছিল অসম্পূর্ণ ও সীমাবদ্ধ।
- মেন্ডেলিভ মৌলগুলোকে পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজিয়ে প্রথম কার্যকর পর্যায় সারণি তৈরি করেন।
- কিন্তু কিছু মৌলের অবস্থান ও ধর্ম তার সূত্রে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।

• আধুনিক পর্যায় সারণির ভিত্তি:
- আধুনিক পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number), যা কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসে বিদ্যমান প্রোটন সংখ্যা নির্দেশ করে।
- পারমাণবিক সংখ্যার এই ধারণা বিশ্বের রসায়নচর্চাকে পরিবর্তন করে দেয়, কারণ মৌলের ধর্ম ও অবস্থান নির্ধারণে এটিই একমাত্র সঠিক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড।

• হেনরি মোসলে অবদান:
- ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হেনরি মোসলে (Henry Moseley) এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে প্রমাণ করেন যে প্রতিটি মৌলের একটি স্বতন্ত্র পারমাণবিক সংখ্যা আছে, এবং মৌলের ধর্ম এই সংখ্যার ওপর নির্ভরশীল।
- তার গবেষণায় দেখা যায় যে পর্যায় সারণিতে যেসব মৌল ভুল স্থানে ছিল, তাদের সঠিকভাবে সাজালে সব অসঙ্গতি দূর হয়ে যায়।
- এর ফলে মেন্ডেলিভের ভর-ভিত্তিক সারণি আধুনিক রূপ পায় এবং বর্তমানের ইলেকট্রন বিন্যাস ও গ্রুপ-পর্যায়ভিত্তিক বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৩৮.
নিচের কোন ঘটনাটি পৃষ্ঠটানের উদাহরণ?
  1. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
  2. সুঁচ পানিতে ভাসা।
  3. বৃষ্টির পানি গোলাকার আকার ধারন করা।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• তলটান বা পৃষ্ঠটান:
- তরলের একক দৈর্ঘ্যের উপর যে পরিমাণ আকর্ষণ থাকে তাকে এ তরলের পৃষ্ঠটান বলে।
- পৃষ্ঠটান এর কারণে যেসব ঘর্টনা ঘটে তা হলো:
১. নদীর তীরে ভেজা বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যাবার সাথে সাথে বালু নিজ স্থানে চলে আসা।
২. বৃষ্টির পানি গোলাকার বা কাঁচের উপর ছড়ানো একটু পারদ গোলাকার আকার ধারন করা। 
৩. সুঁচ পানিতে ভাসা।
৪. পানির উপর তেল ছড়িয়ে পড়া।

• পানির ছোট ফোটা পানির যে গুণের জন্য গোলাকৃতির হয় পৃষ্ঠটানের কারনে। 
- পানির ফোঁটাগুলি পৃষ্ঠ স্তরের সমন্বিত শক্তি দ্বারা একটি গোলাকার আকৃতি হয়। 
- মাধ্যাকর্ষণ সহ অন্যান্য শক্তির অনুপস্থিতিতে, কার্যত সমস্ত তরলের ফোঁটাগুলি প্রায় গোলাকার হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৯.
গ্লুকোজের আণবিক সংকেত কী?
  1. C6H12O5
  2. CH2O
  3. C6H12O6
  4. C6H10O6
সঠিক উত্তর:
C6H12O6
উত্তর
সঠিক উত্তর:
C6H12O6
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
(i) রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

(ii) আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

(iii) স্কুল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O. 

(iv) গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪০.
পাতন বলতে কী বুঝায়?
  1. বাষ্পীভবন
  2. ঘনীভবন
  3. বাষ্পীভবন + ঘনীভবন
  4. কোনোটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবন + ঘনীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাষ্পীভবন + ঘনীভবন
ব্যাখ্যা
• পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন।

- পাতন (Distillation) হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে তরল পদার্থকে প্রথমে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বাষ্পে রূপান্তর করা হয় এবং পরে সেই বাষ্পকে ঘনীভবনের মাধ্যমে তরলে রূপান্তর করে আলাদা করা হয়।
- এটি মূলত ভিন্ন ভিন্ন গলনাঙ্ক বা স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট পদার্থগুলোকে পৃথক করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৪১.
Which particle lacks neutrons?
  1. Oxygen (O)
  2. Carbon (C)
  3. Chlorine (Cl)
  4. Hydrogen (H)
  5. Helium (He)
সঠিক উত্তর:
Hydrogen (H)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hydrogen (H)
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোন নিউট্রন থাকে না। 

• নিউট্রন:
- বৈদ্যুতিক আধানবিহীন যে মৌলিক কণা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে তাকে নিউট্রন বলা হয়। 

• নিউট্রনের বৈশিষ্ট্য:
- এর কোনো বৈদ্যুতিক আধান নেই, অর্থাৎ এটি চার্জ নিরপেক্ষ।
- এর ভর প্রোটনের ভরের প্রায় সমান। 

• হাইড্রোজেন পরমাণুর আইসোটোপ প্রোটিয়ামে কোন নিউট্রন থাকে না।
- প্রোটিয়াম (1H) হলো সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণু। 
- এর ভরসংখ্যা ১ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১ হওয়ার কারণে এর নিউট্রন সংখ্যা হয় (১ - ১) বা ০।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৪২.
H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর হচ্ছে:
  1. 32
  2. 16
  3. 2
  4. 18
সঠিক উত্তর:
18
উত্তর
সঠিক উত্তর:
18
ব্যাখ্যা

H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর: 
- পানির অণুতে ২ পরমাণু হাইড্রোজেন ও ১ পরমাণু অক্সিজেন রয়েছে। 
- হাইড্রোজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 1 এবং অক্সিজেনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর 16. 
সুতরাং, H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = {(1 × 2) + (16 x 1)}
∴ H2O এর আপেক্ষিক আনবিক ভর = 18

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৩.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 19
  2. 39
  3. 58
  4. 20
সঠিক উত্তর:
20
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

পটাশিয়াম (K) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়:

- পটাশিয়ামের প্রোটন সংখ্যা 19 এবং 
- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর 39 
অতএব, পটাশিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা হবে = 39 - 19 = 20 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৪.
Na - e → Na+ এই বিক্রিয়ায় কি ঘটেছে?
  1. ক) জারণ
  2. খ) বিজারণ
  3. গ) সংযোজন
  4. ঘ) বিয়োজন
সঠিক উত্তর:
ক) জারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জারণ
ব্যাখ্যা
জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 = 2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
এটি বিজারণ বিক্রিয়ার সাথে একইসাথে সংঘটিত হয়।
যেমন উপরের উদাহরণে একইসাথে ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
২৪৫.
নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় কী ঘটে?
  1. পদার্থ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিব্যাপ্তি ঘটে
  2. গ্যাস পাত্রের ভেতরে এবং বাইরে সমান চাপ থাকে
  3. বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে গ্যাস সজোরে বের হয়ে আসে
  4. গ্যাসের কণা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মন্থরভাবে চলাচল করে
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে গ্যাস সজোরে বের হয়ে আসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে গ্যাস সজোরে বের হয়ে আসে
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- বাহ্যিক উচ্চ চাপের প্রভাবে পাত্রের সরু ছিদ্রপথে কোন গ্যাসের সজোরে একমুখী বের হওয়াকে নিঃসরণ বলে। 
- একটি উদাহরণ হলো গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র দিয়ে বাতাস বের হয়ে যাওয়া। 
- নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে, যেখানে পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ বা ভ্যাকুয়াম অবস্থায় থাকে। 
- নিঃসরণ হলো গ্যাসের দ্রুত প্রক্রিয়া যা অধিক চাপের প্রভাবে ঘটে। 

ব্যাপন: 
- উচ্চ ঘনত্বের স্থান থেকে নিম্ন ঘনত্বের স্থানে কোন কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে পরিব্যপ্তি ঘটানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- উদাহরণস্বরূপ, ফুলের সুগন্ধ বা H2S গ্যাসের দুর্গন্ধ বাতাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। 
- এই প্রক্রিয়া ঘটে পদার্থের কণা বা অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে। 
- ব্যাপন হলো সাধারণ সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত, মন্থর প্রক্রিয়া, যেখানে গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একে অপরের সাথে সমান বায়ু চাপ থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২৪৬.
ধনচার্জ যুক্ত ইলেকট্রন কে কী বলা হয়?
  1. ক) নিউট্রিনো
  2. খ) পজিট্রিনো
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) পজিট্রন
সঠিক উত্তর:
ঘ) পজিট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পজিট্রন
ব্যাখ্যা

- পজিট্রন পরমাণুর একটি অস্থায়ী মূল কণিকা। ১৯৩২ সালে অ্যান্ডারসন পজিট্রন আবিষ্কার করেন।
- এটি আসলে ধনচার্জ যুক্ত ইলেকট্রন। একে অ্যান্টি ইলেকট্রনও বলা হয়।
- নিউট্রন একটি স্থায়ী মূল কণিকা এবং নিউট্রিনো ও পজিট্রিনো পরমাণুর দুইটি অস্থায়ী মূল কণিকা।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৪৭.
গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে আয়তন কিভাবে পরিবর্তিত হয়?
  1. আয়তন একই থাকে
  2. গ্যাসের চাপ বাড়ালে আয়তন বাড়ে
  3. গ্যাসের তাপমাত্রা বাড়লে আয়তন কমে
  4. পাত্রের আকারের সাথে আয়তন পরিবর্তিত হয়
সঠিক উত্তর:
পাত্রের আকারের সাথে আয়তন পরিবর্তিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাত্রের আকারের সাথে আয়তন পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা
গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থ যেমন- বাতাসের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। 
- একই পরিমাণ গ্যাস ছোট পাত্রে রাখলে এর আয়তন কম হয় আবার বড় পাত্রে রাখলে এর আয়তন বেশি হয়। 
যেমন- যদি সমপরিমাণ গ্যাস দুইটি সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে তা ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ গ্যাস বড় সিলিন্ডরে রাখলেও তা সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে। অর্থ্যাৎ, গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন। 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই, দৃঢ়তা তো একবারেই নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২৪৮.
কোনো কঠিন পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তা সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. বাষ্পীভবন
  2. গলন
  3. ঊর্ধ্বপাতন
  4. ব্যাপন
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্বপাতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ঊর্ধ্বপাতন। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- তাই এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থও বলা হয়। 
- কঠিন অবস্থায় ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থে তাপ প্রয়োগ করতে থাকলে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ সহজেই বাষ্পীভূত হয়। 
- আয়োডিন মিশ্রিত খাদ্য লবণের মধ্যে আয়োডিন একটি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৯.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই?
  1. স্ফটিক
  2. কঠিন 
  3. তরল 
  4. বায়বীয়
সঠিক উত্তর:
বায়বীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়বীয়
ব্যাখ্যা

পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫০.
প্রতিটি শেলে সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা নির্ণয় করতে কোন সূত্র ব্যবহার করা হয়? 
  1. 2n2
  2. n3
  3. 2n
  4. n2
সঠিক উত্তর:
2n2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2n2
ব্যাখ্যা

বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (যেখানে n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (1)2 টি = 2 টি, 
• ২য় শেলে (L- শেল) অর্থাৎ n = 2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (2)2 টি = 8 টি, 
• ৩য় শেলে (M- শেল) অর্থাৎ n = 3 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (3)2 টি = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে (N- শেল) অর্থাৎ n = 4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 টি = 2 × (4)2 টি = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫১.
গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশে STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0° C
  2. 25° C
  3. - 298° C
  4. 298 K
সঠিক উত্তর:
0° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0° C
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে গ্যাসের মোলার আয়তন প্রকাশের দুটি পদ্ধতি আছে। 
যেমন- 
(১) STP পদ্ধতি: 
- STP এর পুরো নাম Standard Temperature and Pressure. 
- STP পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 0°C বা 273 K ও চাপ 1 atm বা 101.325 kPa ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন হয়, Vm = 22.414 Lmol-1

(২) SATP পদ্ধতি: 
- SATP এর পুরো নাম Standard Ambient Temperature and Pressure. 
- এ পদ্ধতিতে তাপমাত্রা 25°C বা 298K ও চাপ 100 kPa (কিলো প্যাসকেল) ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন, Vmθ = 24.789 Lmol-1

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।
২৫২.
CO2 কী ধরনের অণু?
  1. যৌগের অণু
  2. মৌলের অণু
  3. একক পরমাণুর অণু
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
যৌগের অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগের অণু
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। 
যেমন- O2 । 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। 
যেমন- CO2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৩.
লা-শাতেলিয়ার নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয় কোনটি?
  1. তাপ
  2. চাপ
  3. ঘনমাত্রা
  4. ভর
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা

লা-শাতেলিয়ার নীতি:
কোনো রসায়নিক সমীকরণ সমান্তরাল অবস্থায় থাকলে, যদি বাহ্যিক প্রভাব (যেমন তাপ, চাপ, বা ঘনত্ব) প্রয়োগ করা হয়, প্রতিক্রিয়া সেই প্রভাবকে কমাতে সচেষ্ট হবে।

সম্পৃক্ত বাহ্যিক প্রভাব:
তাপ: তাপ বৃদ্ধি বা হ্রাস প্রতিক্রিয়ার সমীকরণকে সামঞ্জস্য করে।
চাপ: গ্যাসীয় প্রতিক্রিয়ায় চাপ পরিবর্তন সমীকরণের দিকে প্রভাব ফেলে।
ঘনমাত্রা : পদার্থের ঘনত্ব পরিবর্তন প্রতিক্রিয়ার দিক পরিবর্তন করে।

অসম্পৃক্ত:
ভর (Mass): রসায়নে স্থির থাকে, লা-শাতেলিয়ার প্রভাবের অংশ নয়।


তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

২৫৪.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি গ্রুপ আছে? 
  1. ১৭ 
  2. ১৬ 
  3. ১৯ 
  4. ১৮
সঠিক উত্তর:
১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮
ব্যাখ্যা

আধুনিক পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- আধুনিক পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র আধুনিক পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৫.
কোন রংয়ের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়?
  1. ক) সাদা
  2. খ) কাল
  3. গ) লাল
  4. ঘ) ধূসর
সঠিক উত্তর:
খ) কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাল
ব্যাখ্যা
কালো রঙ্গের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি চায়ের কাপ কালো রঙের হলে তা থেকে অধিক পরিমান তাপ শোষণ করবে এবং এতে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে।
২৫৬.
কোনটি জারক পদার্থ নয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরিন
  4. ব্রোমিন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা।
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়।
- যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 প্রভৃতি জারক পদার্থ। 
- ফ্লোরিন, ক্লোরিন, অক্সিজেন, ওজোন ইত্যাদি হলো গ্যাসীয় জারক পদার্থ।
- তরল ব্রোমিন, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড ইত্যাদি হলো তরল জারক পদার্থ।
- আয়োডিন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, ফেরিক ক্লোরাইড ইত্যাদি হলো কঠিন জারক পদার্থ।

• বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা।
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- হাইড্রোজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, সালফিউরাস এসিড ইত্যাদি হলো বিজারক পদার্থের উদাহরণ।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির, (হাজারী-নাগ)।

২৫৭.
বিপরীত আধানযুক্ত আয়নের মধ্যে যে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. সমযোজী বন্ধন
  2. ধাতব বন্ধন
  3. আয়নিক বন্ধন
  4. হাইড্রোজেন বন্ধন
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
ব্যাখ্যা
আয়নিক বন্ধন: 
- দুটি বিপরীতধর্মী আধানের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 

সমযোজী বন্ধন: 
- দুটি অধাতব মৌলের পরমাণুর যোজ্যতা স্তরের বিজোড় ইলেকট্রনকে উভয় পরমাণুই শেয়ার করে যে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করে তাকে সমযোজী বন্ধন বলে। 

বন্ধন গঠন: 
- পরমাণুর যোজ্যতাস্তরের বিজোড় ইলেকট্রন বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণ করে। 

একক বন্ধন: 
- দুটি পরমাণুর প্রত্যেকের ১টি করে ইলেকট্রনের শেয়ারের মাধ্যমে একক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 

ক্যাটায়ন: 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন বলে। 

অ্যানায়ন: 
- ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৮.
কোনটির তারতম্যের কারণে আইসোটোপ তৈরি হয়?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) অনাবিষ্কৃত
সঠিক উত্তর:
গ) নিউট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিউট্রন
ব্যাখ্যা

- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৯.
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের সান্দ্রতার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. হ্রাস পায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• সান্দ্রতা: 
- সান্দ্রতা (Viscosity) হলো প্রবাহীর (তরল/বায়বীয় পদার্থের) বিভিন্ন স্তরে আপেক্ষিক গতির ক্ষেত্রে বাধা। একে প্রবাহীর ঘর্ষণ বলা যায়। 
- তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের সান্দ্রতা বাড়ে এবং তরলের সান্দ্রতা কমে। 

অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের সান্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। 
- গ্যাসের সান্দ্রতা সহগ তার কেলভিন তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
- সান্দ্রতা সহগ/গুনাংকের এস.আই একক হচ্ছে নিউটন-সেকেন্ড/মিটার (Nsm-2 বা Pas), CGS একক হচ্ছে Poise [10 Poise = 1 Nsm-2]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
২৬০.
জারক পদার্থ -
  1. ইলেকট্রন ত্যাগ করে
  2. ইলেকট্রন গ্রহণ করে
  3. অন্যকে বিজারিত করে
  4. নিজে জারিত হয়
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রন গ্রহণ করে
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২৬১.
কোনটি পরম শূন্য তাপমাত্রা? 
  1. 0°C
  2. 273°C
  3. - 273°C
  4. 373°K
সঠিক উত্তর:
- 273°C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
- 273°C
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
২৬২.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার থাকে
  2. কঠিন পদার্থের অণুগুলো এদের গড় অবস্থানকে ঘিরে স্পন্দিত হয়
  3. কঠিন পদার্থের অণুগুলো খুব কাছাকাছি থাকে
  4. কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়
সঠিক উত্তর:
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়
ব্যাখ্যা

• কঠিন পদার্থের জন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- এদের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে, অণুগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থান করে এবং অণুগুলো প্রায় স্থির থাকে, তবে সামান্য স্পন্দন করে। কঠিনের অণুগুলোর মধ্যে শক্ত আকর্ষণশক্তি কাজ করে, যার ফলে তারা সহজে স্থানান্তরিত হয় না। তাই “ঘ) কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়” এই বর্ণনা কঠিন পদার্থের জন্য প্রযোজ্য নয়, কারণ বাস্তবে কঠিনে অণুগুলোর মধ্যে বল খুবই প্রবল। অন্য তিনটি বৈশিষ্ট্য কঠিনের প্রকৃতির সঙ্গে পুরোপুরি মিলিত। সুতরাং, কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অসঙ্গত বৈশিষ্ট্য হলো (ঘ)।

• পদার্থ:
- যার ভর ও আয়তন আছে, একটি নির্দিষ্ট স্থান দখল করে এবং চাপ প্রয়োগে বাধাদান করে তাকে পদার্থ বলা হয়।

• অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা:
- কঠিন পদার্থ, তরল পদার্থ ও বায়বীয় পদার্থ। 
এই ৩ টি অবস্থা ছাড়াও পদার্থের আরো ২ টি অবস্থা দেখা যায়।
যথা 
- তরল স্ফটিক অবস্থা ও প্লাজমা অবস্থা। 

• কঠিন অবস্থা (Solid state):
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে।
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য।
- গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়।
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে।

• কঠিন অবস্থার ধর্ম:
- সুনির্দিষ্ট বিন্যাস,
- দৃঢ়তা ও আলোক ধর্ম ,
- নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তন থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৩.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো কী অনুসারে সাজানো?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ঘনত্ব
  4. গলনাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণি:
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেওয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে। 

আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলো পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number) অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার (Number of Protons) ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।
• 1913 সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
-  পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় (Period) বা অনুভূমিক সারি এবং 1৪টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বামদিকে গ্রুপ 1 থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ 18 পর্যন্ত বিস্তৃত।
-  মূল পর্যায় সারণির নিচে আলাদাভাবে ল্যান্থানাইড ও অ্যাকটিনাইড সারির মৌল হিসেবে দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে 6 এবং 7 পর্যায়ের অংশ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৬৪.
দুটি পরমাণু একে অপরের আইসোটোপ হলে, তাদের কোনটি সমান থাকে? 
  1. ভর সংখ্যা 
  2. ইলেকট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা 
  4. প্রোটন সংখ্যা 
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

আইসোেটাপ (Isotopes): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। এদের মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬৫.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বজায় থাকে তাকে কী বলে?
  1. অণু
  2. পরমাণু
  3. প্রোটন
  4. ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণু
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে।
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়।
- আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়।

- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। যেমন- O2
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। যেমন-CO2

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৬.
নিচের কোনটি একটি মিশ্র পদার্থ?
  1. বায়ু
  2. তাপ
  3. বিদ্যুৎ
  4. আলো
সঠিক উত্তর:
বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু
ব্যাখ্যা
• বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ এটি বিভিন্ন গ্যাস যেমন নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, এবং অন্যান্য গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত। এই গ্যাসগুলো একসঙ্গে মিশে একটি একক পদার্থ তৈরি করে, যা সহজেই আলাদা করা যায় না, কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন উপাদান সমন্বিত। অন্যদিকে, তাপ, বিদ্যুৎ এবং আলো পদার্থ নয়; এগুলো শক্তির রূপ। তাই বায়ু মিশ্র পদার্থ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ, কারণ এটি বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ যা একত্রে থাকলেও প্রত্যেকটি উপাদানের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। বায়ু ছাড়া অন্য কোনো অপশন মিশ্র পদার্থ নয়।

• বায়ুকে মিশ্র পদার্থ বলার কারণ:
- এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একটি ভাগে আছে পদার্থ যাদের ওজন বা ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয়।
- দুই বা ততোধিক পদার্থকে যে কোনো অনুপাতে একত্রে মিশ্রিত করলে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলা হয়।
- বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ বায়ুতে এর উপাদানসমূহ যেমন- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে।

অন্যদিকে,
- তাপ, বিদ্যুৎ এবং আলো হলো শক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৬৭.
একই আণবিক সংকেত থাকলেও গাঠনিক সংকেত ভিন্ন এমন যৌগগুলি একে অপরের —
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
সঠিক উত্তর:
আইসোমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোমার
ব্যাখ্যা
• আইসোমার:
- আণবিক সংকেত এক কিন্তু গাঠনিক সংকেত ভিন্ন এমন যৌগদ্বয়কে পরস্পরের আইসোমার বলা হয়।
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই, কিন্তু শক্তি অবস্থা ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।
- প্রোটন + নিউট্রন =  ভরসংখ্যা, তাই , 'পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই' এই ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যাও সমান হবে। 

অপশন আলোচনা:
• আইসোবার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।
-  প্রোটন + নিউট্রন =  ভরসংখ্যা, তাই 'ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ' এই ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যাও ভিন্ন হবে। 

• আইসোটোন:
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোটোপ:
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- এইসব ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৮.
কোনো মৌলের ধর্ম মৌলের কোনটির উপর নির্ভর করে? 
  1. ভর সংখ্যা
  2. প্রকৃত ভর সংখ্যা
  3. প্রকৃত আধান সংখ্যা
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি পরমাণুর স্থায়ী কণিকা। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, আর প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম (Fundamental property)। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 1 টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা 1 । আবার, কার্বনের পরমাণুতে 6টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 6 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা 6 টি। 

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 11 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা হল 12 টি। তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৯.
কোনটি জারক পদার্থ নয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) ফ্লোরিন
  4. ঘ) আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
• জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
- জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
- যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।

• জারক মনে রাখার উপায়:-
সকল পারঅক্সাইড,অক্সি এসিড,ক্যাটায়ন,ইক্ লবণ,আক্সিজেন, ওযোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল জারক। FeSO4 বাদে অক্সিজেনেরর প্রাচুর্য আছে এমন সকল যৌগ জারক।

• বিজারক মনে রাখার উপায় :-
সকল আস্ লবণ,ধাতু,C ও CO ও হাইড্রোজেন বিজারক।

তাছাড়া H2O2, SO2, O3 তিনটি পদার্থে জারক, বিজারক দুইটা ধর্মই আছে।
২৭০.
কোনটি ক্ষার ধাতু?
  1. লিথিয়াম 
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. বেরিলিয়াম 
  4. ক্যালসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিথিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭১.
অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  2. সিলভার কার্বনেট
  3. সোডিয়াম নাইট্রেট
  4. ক্যালসিয়াম সালফেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম নাইট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭২.
নিচের কোনটি ইলেকট্রনের সঠিক শক্তির ক্রম? 
  1. 3s < 2p < 4s
  2. 2p < 1s < 3s
  3. 1s < 2s < 2p
  4. 4s < 2p < 3d
সঠিক উত্তর:
1s < 2s < 2p
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1s < 2s < 2p
ব্যাখ্যা
পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের নীতি: 
- পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের তিনটি নীতি আছে। 
যেমন- ১) পাওলির বর্জন নীতি, ২) আউফ-বাউ নীতি এবং ৩) হুন্ডস এর সূত্র। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রন প্রথমে সর্বনিম্ন শক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে এবং পরে ক্রমান্বয়ে উচ্চশক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে। 
অর্থাৎ, যে অরবিটালের শক্তি কম সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে এবং যে অরবিটালের শক্তি বেশি সেই অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
- অরবিটালের মধ্যে কোনোটির শক্তি কম আর কোনোটির শক্তি বেশি তা অরবিটাল দুটির প্রধান শক্তিস্তরের মান (n) এবং উপশক্তিস্তরের মান (l) এর যোগফলের উপর নির্ভর করে। 
- যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
- অপরদিকে (n + l) এর মান যে অরবিটালের বেশি তার শক্তিও বেশি এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
যেমন- 3d অরবিটালের জন্য n = 3 এবং l = 2, অতএব n + l এর মান 3 + 2 = 5; আবার 4s অরবিটালের জন্য n = 4 এবং l = 0, অতএব n + l এর মান 4 + 0 = 4. কাজেই 3d অরবিটালের চেয়ে 4s অরবিটাল কম শক্তিসম্পন্ন। তাই ইলেকট্রন প্রথমে 4s অরবিটালে এবং পরে 3d অরবিটালে প্রবেশ করবে। 

- আবার, দুটি অরবিটালের (n + l) এর মান যদি সমান হয় তাহলে যে অরবিটালটিতে n এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম হবে এবং সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
যেমন- 3d ও 4p এর n + l এর মান যথাক্রমে 3 + 2 = 5 এবং 4 + 1 = 5 কিন্তু যেহেতু 3d অরবিটালে n এর মান কম, তাই এ অরবিটালের শক্তি কম এবং এ অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
- অপরদিকে 4p অরবিটালে n এর মান বেশি হওয়ায় এর শক্তি 3d এর চেয়ে বেশি। তাই এ অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
- এ হিসাব অনুযায়ী পরমাণুর অরবিটালের ক্রমবর্ধমান শক্তি হবে: 1s < 2s < 2p < 3s < 3p < 4s < 3d < 4p < 5s < 4d < 5p < 6s < 4f < 5d < 6p < 7s < 5f < 6d < 7p < 8s. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৩.
কেলাসিত পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. তামা
  2. মাইকা
  3. কোয়ার্টজ
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে।
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে।
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন।
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত।
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়।

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাচ, রাবার, সালফার ইত্যাদি।  

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৪.
উদ্বায়ী পদার্থ নয় নিম্নের কোনটি?
  1. নিশাদল
  2. অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
  3. আয়োডিন
  4. গ্লিসারিন
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

- গ্লিসারিন একটি অ-উদ্বায়ী (non-volatile) পদার্থ। এর স্ফুটনাঙ্ক বেশি এবং বাষ্পের চাপ কম, তাই এটি সহজেই গ্যাসের আকারে বাষ্পীভূত হয় না। গ্লিসারিন হচ্ছে সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। 

উদ্বায়ী পদার্থ: 

- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে এগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই উল্লিখিত পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৫.
ইলেকট্রনের ভর কত?
  1. 9.11 × 10-28
  2. 1.67 × 10-24 g
  3. -1.6 × 10-19 C
  4. -9.11 × 10-28
সঠিক উত্তর:
9.11 × 10-28
উত্তর
সঠিক উত্তর:
9.11 × 10-28
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) 9.11 × 10⁻²⁸ g 

ইলেকট্রন

- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা।
- এটি সব মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান।
- ইলেকট্রনের ভর অত্যন্ত সামান্য।
- ইলেকট্রনের সংকেত হলো e।
- ইলেকট্রনের প্রকৃত ভর ৯.১১০×১০-২৮ গ্রাম এবং প্রকৃত আধান - ১.৬০×১০-১৯ কুলম্ব।
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান হলো - ১।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন হলো একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৬.
নিউট্রনের অবস্থান -
  1. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
  2. পরমাণুর বাইরে
  3. পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে
  4. পরমাণুর ২য় প্রধান শক্তিস্তরে
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
ব্যাখ্যা
পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণাসমূহ দ্বারা গঠিত, এই কণাগুলোর নাম পরমাণু।
একই পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য একই রকম হয়,
ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ভিন্নরকমের হয়।
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং
পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেক্ট্রন থাকে।

[সূত্র -  রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। ]
২৭৭.
হ্যালোজেনের হাইড্রো-এসিডগুলোর শক্তি ক্রম হল -
  1. HI > HBr > HCl > HF
  2. HCl > HF > HBr > HI
  3. HF > HCl > HBr > HI
  4. HBr > HF > HCl > HI
সঠিক উত্তর:
HI > HBr > HCl > HF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HI > HBr > HCl > HF
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে। 
যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 

- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 
- হ্যালোজেনের হাইড্রো-এসিডগুলোর শক্তি ক্রম হল - HI > HBr > HCl > HF.

Figure: ptable.com [লিংক]

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭৮.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. হীরা
  2. শ্বেত ফসফরাস
  3. রম্বিক সালফার
  4. সিলিকা
সঠিক উত্তর:
সিলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকা
ব্যাখ্যা

- হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিনস ইত্যাদি হলো কার্বনের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- শ্বেত ফসফরাস, লোহিত ফসফরাস ইত্যাদি হলো ফসফরাসের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- রম্বিক বা আলফা সালফার, মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার, প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার, দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার, ল্যামডা সালফার, মিউ সালফার ইত্যাদি হলো গন্ধকের বিভিন্ন রূপভেদ। এরাও সবাই মৌলিক পদার্থ।
- সিলিকা হলো সিলিকন ডাই-অক্সাইড যা বালি গঠনের প্রধান উপাদান। সিলিকন ও অক্সিজেন নামক মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে সিলিকা নামক যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৭৯.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• এই বিক্রিয়ায় একটি অ্যাসিড (HCl) এবং একটি ক্ষার (NaOH) পরস্পর বিক্রিয়া করে লবণ (NaCl) ও পানি (H2O) উৎপন্ন করেছে। অ্যাসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলা হয়।

• প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) 

• পানি যোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

• বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

• সংযোজন বিক্রিয়া: 
- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক মৌল বা যৌগ পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি মাত্র নতুন যৌগ উৎপন্ন করে, তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- উদাহরণ: Fe + S → FeS.
- এখানে আয়রন (Fe) এবং সালফার (S) দুটি ভিন্ন মৌল যুক্ত হয়ে একটি মাত্র উৎপাদ ফেরাস সালফাইড (FeS) তৈরি করেছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮০.
কোন পরমাণু মডেলটি সৌর মডেল নামে পরিচিত?
  1. ডাল্টনের পরমাণু মডেল
  2. বোর পরমাণু মডেল
  3. অ্যাভোগেড্রোর পরমাণু মডেল
  4. রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 

- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮১.
নিচের কোন মৌলকে Noble গ্যাস বলা হয়?
  1. ক্রোমিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. হিলিয়াম
  4. লিথিয়াম
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) ও ওগানেসন (Og) নামক মৌলগুলো অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাস বলে।
- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে।
- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

নিস্ক্রিয় গ্যাসের ধর্মসমূহ:
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস।
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই।
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম।
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম।
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

২৮২.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল? 
  1. রেডন
  2. সোডিয়াম
  3. আয়োডিন
  4. ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

হ্যালোজেন মৌল: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৩.
একটি পরমাণুর মৌলিক কণিকা নয় নিচের কোনটি?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. পজিট্রন
সঠিক উত্তর:
পজিট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পজিট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৪.
পর্যায় সারণির বাম থেকে ডানে গেলে মৌলের ধাতব ধর্মের কী পরিবর্তন হয়?
  1. হ্রাস পায়
  2. অল্প বৃদ্ধি পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. অনেক বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metallic Properties): যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহি তাদেরকে বলা হয় ধাতু। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে।
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে।
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি।
- পর্যায় সারণির (Periodic Table) বাম দিক থেকে ডান দিকে অগ্রসর হলে মৌলগুলির ধাতব ধর্ম (metallic character) ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।


পর্যায় সারণিতে ধাতব ও অধাতব ধর্মের প্রবণতা:- 

পর্যায় (Row) বাম থেকে ডানে:
-  ধাতব ধর্ম হ্রাস পায় । (যেমন: Na → Mg → Al → Si → P → S → Cl)।
-  অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়।

গ্রুপ (Column) উপর থেকে নিচে:
- ধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায় (যেমন: Li → Na → K → Rb → Cs)।
- অধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

এর কারণ:
ইলেকট্রন বিন্যাস: বাম থেকে ডান দিকে গেলে যোজ্য ইলেকট্রনের সংখ্যা বাড়ে কিন্তু শক্তিস্তরের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় না।
 - ফলে, পরমাণুর আকার কমে এবং ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা (ধাতব ধর্ম) কমে।
আয়নীকরণ শক্তি: বাম থেকে ডান দিকে বাড়ে যার ফলে ইলেকট্রন ত্যাগ করা কঠিন হয়।

তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
২৮৫.
গোল্ড এর রাসায়নিক প্রতীক কোনটি? 
  1. Au
  2. Ag
  3. Hg
  4. Fe
সঠিক উত্তর:
Au
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Au
ব্যাখ্যা
- গোল্ড এর রাসায়নিক প্রতীক Au
- গোল্ড এর পারমাণবিক সংখ্যা 79. 
- অণু গঠনের সময় কোন মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের কোন পরমাণু যুক্ত হওয়ার সামর্থ্যকেই যোজনী বা যোজ্যতা বলে। 

অন্যদিকে, 
- Hg হচ্ছে পারদের রাসায়নিক প্রতীক। 
- Fe হচ্ছে আয়রনের রাসায়নিক প্রতীক। 
- Ag হচ্ছে সিলভারের রাসায়নিক সংকেত। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৬.
তরল পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কেমন?
  1. কঠিনের চেয়ে কম
  2. কঠিনের চেয়ে বেশি
  3. গ্যাসের চেয়ে কম
  4. গ্যাস ও কঠিনের সমান
সঠিক উত্তর:
কঠিনের চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিনের চেয়ে কম
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে যারে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। 
- এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
- যেকোন পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৭.
কোন মৌলের নিউক্লিয়াসে নিউট্রন নেই?
  1. লিথিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. কার্বন
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেনের তিনটি প্রধান আইসোটোপের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো প্রোটিয়াম (Protium)। এই প্রোটিয়ামের নিউক্লিয়াসে শুধুমাত্র একটি প্রোটন থাকে, কিন্তু কোনো নিউট্রন নেই। এটিই একমাত্র স্থিতিশীল পরমাণু যার নিউক্লিয়াসে নিউট্রন অনুপস্থিত। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৮.
বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের মূল জ্বালানি কোনটি?
  1. CNG ও LPG
  2. প্রোপেন ও বিউটেন
  3. হাইড্রোজেন ও বিউটেন
  4. মিথেন ও হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
প্রোপেন ও বিউটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোপেন ও বিউটেন
ব্যাখ্যা

বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারের মূল জ্বালানি হচ্ছে প্রোপেন ও বিউটেন।   

জ্বালানি হিসেবে CNG ও সিলিন্ডার গ্যাস
- আমরা যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে CNG (Compressed Natural Gas) ব্যবহার করি। এটি মূলত উচ্চচাপে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস।
- যানবাহন চালানোর সময় এটি সিলিন্ডার থেকে উচ্চ গতিতে বেরিয়ে এসে ইঞ্জিনে প্রবেশ করে। অর্থাৎ, এখানেও নিঃসরণ ঘটে।
- বাসাবাড়িতে জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে মূলত প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসকে উচ্চচাপে সংকুচিত করে তরল অবস্থায় সিলিন্ডারে ভরে রাখা হয়।
- চুলা জ্বালানোর সময় যখন সিলিন্ডারের মুখ খুলে দেওয়া হয়, তখন এটি গ্যাসে পরিণত হয়ে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রেও নিঃসরণ ঘটে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২৮৯.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি পর্যায় (Period) আছে?
  1. ৭ 
  2. ৮ 
  3. ১৭ 
  4. ১৮ 
সঠিক উত্তর:
৭ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ 
ব্যাখ্যা

পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত। 
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭ টি পর্যায় ও ১৮ টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯০.
নিচের কোনটি উদ্বায়ী পদার্থ? 
  1. গ্লিসারিন 
  2. নিকোটিন 
  3. আয়রন 
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা

পদার্থের অবস্থা: 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে পদার্থের সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে উহার বিভিন্ন অবস্থার প্রকাশ।  
- পদার্থের ভৌত অবস্থার মধ্যে পড়ে পদার্থের ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম ও আলোর সাথে প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা সবই কিন্তু পদার্থের ভৌত অবস্থা। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
- কঠিন বরফকে তাপ দিলে তরল পানি, পানিকে তাপ দিলে গ্যাসীয় অবস্থা বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে তরল পানি, তরল পানিকে ঠাণ্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। 
- আবার কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল এসব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শীতল করলে তরল অবস্থায় পরিণত হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি হলো উদ্বায়ী পদার্থ। 

অন্যদিকে, 
- আয়রন → ধাতু, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- নিকোটিন → জৈব যৌগ, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- গ্লিসারিন → তরল পদার্থ, উদ্বায়ী নয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯১.
প্লাজমা অবস্থার জন্য প্রয়োজন -
  1. প্রায় শূন্য তাপমাত্রা 
  2. অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
  3. খুব নিম্ন তাপমাত্রা 
  4. সাধারণ তাপমাত্রা 
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি উচ্চ তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়, তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯২.
যেসব ইলেকট্রন রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে, তাদের কী বলা হয়? 
  1. ফ্রি ইলেকট্রন
  2. মূল ইলেকট্রন
  3. ইনার ইলেকট্রন
  4. যোজ্যতা ইলেকট্রন
সঠিক উত্তর:
যোজ্যতা ইলেকট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজ্যতা ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বন্ধন ও রাসায়নিক বন্ধন গঠনের কারণ: 
- কোনো একটি পরমাণুর বন্ধন গঠনের ক্ষমতাকে তার যোজ্যতা বলে। 
- নিষ্ক্রিয় মৌল হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar) এসব মৌলের বন্ধন গঠনের ক্ষমতা নেই, ফলে এদের যোজ্যতা শূন্য। 
- আবার H এর যোজ্যতা এক, O এর যোজ্যতা দুই, N এর যোজ্যতা তিন ও C এর যোজ্যতা সাধারণত চার হয়। 
- কোনো পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে বর্তমান ইলেকট্রনগুলোকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে। 
- এ ইলেকট্রনগুলোই বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। 
- পরমাণুর সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরকে যোজ্যতাস্তর বলে। 
- রাসায়নিক বন্ধনের আধুনিক মতবাদ অনুসারে রাসায়নিক বন্ধন গঠনকালে পরমাণুগুলো সর্বাধিক স্থায়ী ইলেকট্রন গঠন কাঠামো অর্জনের চেষ্টা করে। 
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ইলেকট্রন গঠনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় He ভিন্ন প্রত্যেকেরই যোজ্যতা স্তরে আটটি করে ইলেকট্রন বর্তমান। 
- He পরমাণুর যোজ্যতা স্তর প্রথম শক্তি স্তর, এখানে মাত্র দুটি ইলেকট্রন বর্তমান থেকেই যোজ্যতাস্তরকে ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৩.
1 amu এর মান কত গ্রাম?
  1. 0.167×10-23 গ্রাম
  2. 1.992×10-23 গ্রাম
  3. 1.66×10-23 গ্রাম
  4. 1.66×10-24 গ্রাম
সঠিক উত্তর:
1.66×10-24 গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1.66×10-24 গ্রাম
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর: 
- পরমাণু ও অণু এত ক্ষুদ্র যে বিজ্ঞানীগণের পক্ষে এদের প্রকৃত ভর সরাসরি পরিমাপ করা প্রায় অসম্ভব। 
- তাই বিজ্ঞানীরা পরোক্ষভাবে ভর বর্ণালী বিক্ষণ পদ্ধতিতে পরমাণুর ভর পরিমাপ করে দেখেছেন, হাইড্রোজেনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 0.167×10-23 গ্রাম এবং কার্বনের একটি পরমাণুর প্রকৃত ভর = 1.992×10-23 গ্রাম। 
- তাই কোন একটি পরমাণুর প্রকৃত ভরকে প্রমাণ (Standard) ধরে তার সাপেক্ষে অন্যান্য মৌলের পরমাণু কতগুণ ভারী তা নির্ণয় করা হয় যারে ঐ সংশ্লিষ্ট মৌলের পরমাণুর আপেক্ষিক ভর বলা হয়। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরকে প্রমাণ হিসাবে ধরে আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর গণনা করা হতো। 
- বর্তমানে একটি কার্বন-12 পরমাণুর ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে প্রমাণ ধরে বিভিন্ন পরমাণুর আপেক্ষিক ভর গণনা করা হয়। 
অর্থাৎ, কোন মৌলের (আপেক্ষিক) পারমাণবিক ভর = {মৌলটির একটি পরমাণুর ভর/একটি কার্বন-১২ পরমাণু ভরের (১/১২) অংশ}। 
- কার্বন-12' আইসোটোপের ভরের 12 ভাগের 1 ভাগকে অ্যাটমিক মাস ইউনিট (atomic mass unit সংক্ষেপে amu) বলা হয়। 
1 amu = 1.66×10-24 গ্রাম। 
- আপেক্ষিক পারমাণবিক ভরকে পারমাণবিক ভরও বলা হয়। 
- পর্যায় সারণিতে পরমাণুসমূহের যে পারমাণবিক ভর দেয়া হয়েছে তা সকলই আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর। 
- কোনো পরমাণুর আইসোটোপ না থাকলে সেগুলোর আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ও ভর সংখ্যা সমান হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৪.
সোডিয়াম (Na) পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা 11 এবং নিউট্রন সংখ্যা 12 হলে ভর সংখ্যা কত?
  1. 11
  2. 12
  3. 23
  4. 24
সঠিক উত্তর:
23
উত্তর
সঠিক উত্তর:
23
ব্যাখ্যা

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 11 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা হল 12 টি। তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 । 

পারমাণবিক সংখ্যা: 

- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- কোনো একটি মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 1 টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা 1 । আবার, কার্বনের পরমাণুতে 6টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 6 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা 6 টি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৫.
প্লাজমা অবস্থা কোথায় সাধারণত দেখা যায়?
  1. সূর্যে
  2. মঙ্গল গ্রহে 
  3. পৃথিবীর ভূত্বকে
  4. পৃথিবীর মহাসাগরে
সঠিক উত্তর:
সূর্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্যে
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৬.
একই গ্রুপের মৌলগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
  1. সমান শক্তি
  2. সমান রাসায়নিক ধর্ম
  3. সমান ইলেক্ট্রন সংখ্যা
  4. সমান আয়নিক ব্যাসার্ধ
সঠিক উত্তর:
সমান রাসায়নিক ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমান রাসায়নিক ধর্ম
ব্যাখ্যা

• একই গ্রুপের মৌলগুলোর রাসায়নিক ধর্ম একই রকম কারণ তাদের বহিঃস্থ শক্তিস্তরে সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে, যা তাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা ও যৌগগঠন প্রক্রিয়াকে অভিন্ন করে।

• পর্যায় সারণির গ্রুপ:
- পর্যায় সারণিতে উল্লম্বভাবে সাজানো প্রতিটি কলামকে গ্রুপ বলা হয়।
- একই গ্রুপে থাকা মৌলগুলোর বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের সংখ্যা একই থাকে।
- এই ইলেকট্রন বিন্যাসের মিলই তাদের রাসায়নিক ধর্মকে প্রায় অভিন্ন করে তোলে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে বহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রন। 
- গ্রুপের মৌলগুলোর ভ্যালেন্স ইলেকট্রন সংখ্যা একই হওয়ায় তারা একই ধরনের আয়ন তৈরি করে এবং একই ধরনের যোজ্যতা প্রদর্শন করে।

উদাহরণ:
- গ্রুপ-১ (ক্ষার ধাতু): Li, Na, K → সবার বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন = 1 → সবার যৌবসায়নিক ধর্ম প্রায় এক।
- গ্রুপ-১৭ (হ্যালোজেন): F, Cl, Br → সবার বহিঃস্থ শক্তিস্তরে ইলেকট্রন = 7 → সহজেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে লবণ তৈরি করে।

অপশন আলোচনা: 
- সমান শক্তি: শক্তিস্তরের সংখ্যা গ্রুপে নেমে আসার সাথে সাথে বৃদ্ধি পায়। তাই এটি সঠিক নয়।
- সমান ইলেক্ট্রন সংখ্যা: মোট ইলেকট্রন সংখ্যা মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার ওপর নির্ভর করে; গ্রুপে ভিন্ন হয়।
- সমান আয়নিক ব্যাসার্ধ: গ্রুপে নিচের দিকে গেলে আয়নিক ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পায়; একই নয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৯৭.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি?
  1. বাতাস
  2. তরল
  3. প্লাজমা
  4. কঠিন
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
বাতাসের চেয়ে তরল পদার্থে শব্দের বেগ বেশি।
কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ বাতাসের চেয়ে বেশি।

হাইড্রোজেনে  শব্দের বেগ ১২৮৪ মি/সে,
পারদে শব্দের বেগ  ১৪৫০ মি/সে,
বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে,
পানিতে ১৪৯৩ মি/সে,
লোহাতে ৫১৩০ মি/সে এবং
হীরায় শব্দের বেগ ১২,০০০ মি/সে।

[উৎস: নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান বই,]
২৯৮.
নিউক্লিয়াস থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী শেলটির নাম কী?
  1. N-শেল
  2. L-শেল
  3. M-শেল
  4. K-শেল
সঠিক উত্তর:
K-শেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
K-শেল
ব্যাখ্যা
বোর তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ইলেকট্রন বিন্যাসের নিয়ম: 
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রনসমূহ তাদের নিজ নিজ শক্তি অনুযায়ী নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে, এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে। 
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান। 
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n = ১ হলে ১ম শক্তিস্তর বা K- শেল যা নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে। পরবর্তী উচ্চতর শক্তিস্তরগুলো যথাক্রমে ২য় শক্তিস্তর বা L- শেল, ৩য় শক্তিস্তর বা M- শেল, ৪র্থ শক্তিস্তর বা N- শেল ইত্যাদি। 
- নিউক্লিয়াস থেকে পরবর্তী শেলগুলোর দুরত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে নিকটতম শেলটি সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন। 
- দুরত্ব যত বাড়ে, শেল তত শক্তি সম্পন্ন হয়। 
- ইলেকট্রন সর্বদা কম শক্তিসম্পন্ন স্তরে অবস্থান করে। তবে, শক্তি শোষণের মাধ্যমে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন স্তরে যেতে পারে। 
- প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3......) থাকতে পারে। 
যেমন- 
• ১ম শেলে (K- শেল) অর্থাৎ n = 1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা = 2n2 = 2 × (1)2 = 2 টি, 
একইভাবে, 
• ২য় শেলে = 8 টি, 
• ৩য় শেলে = 18 টি এবং 
• ৪র্থ শেলে = 32 টি । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৯.
‘Plum Pudding Model’ কার সাথে সম্পর্কিত?
  1. জন ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. নিলস বোর
  4. জে. জে. থমসন
সঠিক উত্তর:
জে. জে. থমসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জে. জে. থমসন
ব্যাখ্যা

- 'প্লাম পুডিং মডেল' (Plum Pudding Model) হলো পরমাণুর গঠনের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক মডেল, যা ১৯০৪ সালে ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী জে. জে. থমসন প্রস্তাব করেন। 

পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। তিনি স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০০.
মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত- এটি কে প্রস্তাব করেন?
  1. জন ডাল্টন
  2. নিলস বোর
  3. ডেমোক্রিটাস
  4. রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন।
- তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত।
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন।
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না।
- ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত।
- ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান।
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত।
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়।
- বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন।
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।