বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

মোট প্রশ্ন৭৬৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৭৬৮

৪০১.
পর্যায় সারণিতে ধাতব মৌলের ক্ষেত্রে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গলনাঙ্কের মানের কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে?
  1. হ্রাস পায়
  2. অল্প বৃদ্ধি পায়
  3. একই থাকে
  4. অনেক বেশী বৃদ্ধি পায়
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণির সাধারণ পর্যায়ভিত্তিক ধর্ম থেকে দেখা যায় যে একই গ্রুপে যত উপর থেকে যত নিচের দিকে যাওয়া যায় মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ততই বৃদ্ধি পায়।
- এর কারণ হলো একই গ্রুপে যত উপর থেকে নিচে যাওয়া যায় মৌলের একটি করে স্তর বৃদ্ধি পায় কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা একই থাকে।
- ফলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় বহিঃস্থ স্তরের সাথে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায়। 

• ক্ষার ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের মানের হ্রাসের কারণ হলো ধাতুগুলোর কেলাস ল্যাটিসের বন্ধন দুর্বল হওয়ায় এরা নরম প্রকৃতির হয়।
- এ ধাতুগুলোর প্রতিটি পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষে একটি মাত্র ইলেকট্রন থাকে। 
- এর ফলে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে গ্রুপের উপরের ক্ষার ধাতুর থেকে নিচের ক্ষার ধাতুর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ যথেষ্ট বড় হয় এবং পরমাণুর আকারও বড় হয়। এর ফলে পরমাণুর মধ্যে বন্ধন শক্তি দুর্বল প্রকৃতির হয়। 
- বন্ধন শক্তি দুর্বল হওয়ার কারণে গলনাংকের মানও কম হয়। অর্থাৎ ক্ষার ধাতুর ক্ষেত্রে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে গলনাংকের মান হ্রাস পায়। 


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০২.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপ মৌল?
  1. গোল্ড
  2. রেডন
  3. ক্রিপ্টন
  4. ফ্লোরিন
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিন
ব্যাখ্যা

• হ্যালোজেন গ্রুপ: 
- গ্রুপ-17 এর 6টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলা হয়। এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- হ্যালোজেন মৌলকে 'X' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন, F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) বা খাদ্যলবণ গঠিত হয়।
- এরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু তৈরি করে, যেমন- Cl2, I2 ইত্যাদি।

• মুদ্রা ধাতু: 
- গোল্ড হচ্ছে গ্রুপ-11 মৌল। গ্রুপ-11 এর 4টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম ছাড়া অন্য যে তিনটি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। মৌলগুলো হলো: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

উৎস: রসায়ন- নবম ও দশম শ্রেণি।

৪০৩.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও নির্দিষ্ট আয়তন দুটোই থাকে? 
  1. পানি
  2. কাঠ
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
কাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঠ
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
কোনো মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা কোন নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয়?
  1. পরমাণুর আকার
  2. পরমাণুর উপস্তর
  3. পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ঋণাত্মকতার উপর বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাব: 
- সমযোজী বন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরমাণুদ্বয়ের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন একটি পরমাণু কর্তৃক নিজের দিকে টেনে নেওয়ার তুলনামূলক ক্ষমতাকে ঐ পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে। 
- মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা যেসব নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয় তা হলো - 
পরমাণুর আকার
উপস্তর এবং 
ইলেকট্রন বিন্যাস। 

- পরমাণুর আকার বৃদ্ধিতে পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে সর্বশেষ শক্তিস্তর দূরে সরে যায় তাই বন্ধনে অংশগ্রহণকারী শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড়ের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায় এবং পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়। 
- গ্রুপ-17 এর মৌলসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান নিম্নে দেওয়া হলো: F = 4.0, Cl = 3.0, Br = 2.8, I = 2.5, At = 2.2  । 
- পরমাণুর নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধির সাথে মৌলের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি সম্পর্কিত। 
- নিউক্লিয়ার চার্জ যত বেশি হবে ঐ নিউক্লিয়ার কর্তৃক সর্বশেষ স্তরের ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ তত বেশি প্রবল হয়। 
- দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলসমূহের Li(3) হতে F(7) পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নিউক্লিয়াসে একটি করে প্রোটন যুক্ত হয় এবং শেষ শক্তিস্তরে একটি করে ইলেকট্রন যুক্ত হয়। 
অর্থাৎ, ক্রমান্বয়ে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধিতে নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধি পায় এবং মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মানও বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৫.
নিচের কোনটি পদার্থ? 
  1. আলো
  2. বাতাস
  3. বিদ্যুৎ
  4. তাপ
সঠিক উত্তর:
বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাস
ব্যাখ্যা

পদার্থ: 
- দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন বস্তু যেমন: বই, খাতা, কলম, চেয়ার টেবিল, বাতাস, পানি, বরফ, জলীয় বাষ্প, তেল, দুধ, কেরোসিন, তরল পানীয়, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি সবই পদার্থ। 
- পদার্থের ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং জড়তা আছে। 
- পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন: কঠিন, তরল ও বায়বীয়। 
- বাতাস হচ্ছে একটি মিশ্র পদার্থ যা পদার্থের তিন অবস্থায় রূপান্তর ঘটে। 

১। কঠিন পদার্থ: 
- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 

২। তরল পদার্থ: 
- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 

৩। বায়বীয় বা গ্যাসীয় পদার্থ: 
- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- তাপ, বিদ্যুৎ ও আলো হচ্ছে এক ধরনের শক্তি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৬.
জাইলিন কোন ধরনের পদার্থ? 
  1. স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ 
  2. তেজস্ক্রিয় 
  3. বিস্ফোরক 
  4. উত্তেজক 
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ 
ব্যাখ্যা
বিস্ফোরক পদার্থ: 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ: 
- বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি এ ধরনের পদার্থ। এ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে তা শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। 

দাহ্য পদার্থ: 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এসব পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ: 
- লেড, মার্কারি ইত্যাদি পদার্থগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এগুলোকে ব্যবহার করার সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ব্যবহারের পরে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। 

বিষাক্ত পদার্থ: 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। তাই শরীরে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা ক্ষতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ: 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৭.
পানির অণুর মধ্যবর্তী বন্ধনকে কি বলে?
  1. আয়নিক বন্ধন
  2. দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন
  3. ধাতব বন্ধন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন
ব্যাখ্যা

দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন: পানির এক অণুর হাইড্রোজেন ও অন্য অণুর অক্সিজেন এর মধ্যে আকর্ষণ কাজ করে। এই মধ্যবর্তী বন্ধনকে দ্বিপোল-দ্বিপোল বন্ধন বলা হয়।

সমযোজী বন্ধন: এটি একই অণুর ভেতরে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগির মাধ্যমে গঠিত। এই বন্ধন পানির অণুর ভেতরের বন্ধন, কিন্তু প্রশ্নে বলা হয়েছে মধ্যবর্তী (intermolecular) বন্ধন।

আয়নিক বন্ধন: এটি ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের মাধ্যমে হয়।

ধাতব বন্ধন: এটি ধাতুগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনের সমবন্টনের মাধ্যমে গঠিত।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা [লিংক ]

৪০৮.
পরমাণুকে ভাঙলে কী ঘটে?
  1. নতুন যৌগ তৈরি হয়
  2. নতুন মৌল তৈরি হয়
  3. মৌলের অস্তিত্ব নষ্ট হয়
  4. কোনো পরিবর্তন ঘটে না
সঠিক উত্তর:
মৌলের অস্তিত্ব নষ্ট হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলের অস্তিত্ব নষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
- পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
- সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
- পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৯.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে - 
  1. ভেসে থাকবে
  2. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  3. ডুবে যাবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেসে থাকবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। এক্ষেত্রে- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১০.
বোর মডেল অনুসারে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি- 
  1. বিকিরণ করে
  2. শোষণ করে
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকিরণ করে
ব্যাখ্যা
- বোর মডেল অনুসারে ইলেকট্রন উচ্চ শক্তিস্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করলে শক্তি- বিকিরণ করে। 

বোর মডেলের স্বীকার্যসমূহ: 
(১) নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রন আবর্তন করে। 
(২) নিউক্লিয়াসের চারিদিকে বৃত্তাকার এসব কক্ষপথে আবর্তনকালে ইলেকট্রনসমূহ কোন শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে না। এসব কক্ষপথকে শক্তিস্তর (energy level) বা অরবিট বলা হয়। 
(৩) ইলেকট্রন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে লাফ দিয়ে নিম্নতর শক্তিস্তর যেমন n = ১ থেকে উচ্চ শক্তিস্তর যেমন n = ২ তে গমন করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে উচ্চতর শক্তিস্তর যেমন n = ২ থেকে নিম্ন শক্তিস্তর যেমন n = ১ এ গমন করতে পারে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১১.
শুষ্ক বরফ বলা হয়-
  1. হিমায়িত অক্সিজেনকে
  2. হিমায়িত কার্বন মনোক্সাইডকে
  3. হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইডকে
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বরফ: 
- শুষ্ক বরফ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইডের কঠিন রূপের সাধারণ নাম। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১২.
জারণ বিক্রিয়ায় কী ঘটে? 
  1. ইলেকট্রনের দান
  2. ইলেকট্রনের গ্রহণ 
  3. প্রোটন গ্রহণ 
  4. নিউট্রন দান
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রনের দান
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তর: 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলোকে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তর এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া, এটি মূলত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া এমন একটি শ্রেণি যেখানে জারণ (Oxidation) ও বিজারণ (Reduction) একই সাথে সংঘটিত হয়। 
- প্রচুর সংখ্যক রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জৈবিক বিক্রিয়া এ শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত। 
- জ্বালানিকে দহন করে শক্তি উৎপাদন, তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে কস্টিক সোডা ও ক্লোরিন উৎপাদন, ব্যাটারীতে তড়িৎ উৎপাদন, লোহায় মরিচা পড়া, ধাতুর ক্ষয়, তড়িৎ প্রলেপন-এ সবই জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার উদাহরণ। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে, এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৩.
পানির গলনাংক কত সেলসিয়াসে হয়?
  1. - ৫° সেলসিয়াস
  2. ০° সেলসিয়াস
  3. ১০° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
গলনাংক: 
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
পানির গলনাংক কত সেলসিয়াসে হয়? 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৪.
H2 দ্বারা বুঝায়-
  1. ক) হাইড্রোজেনের অণু
  2. খ) হাইড্রোজেনের পরমাণু
  3. গ) হাইড্রোজেন এর যৌগ
  4. ঘ) হাইড্রোজেনের প্রতীক
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোজেনের অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোজেনের অণু
ব্যাখ্যা
হাইড্রোজেনের একটি অণুকে প্রকাশ করতে H2 ব্যবহার করা হয়। যার অর্থ হলাে একটি হাইড্রোজেনের অণুতে দুটি হাইড্রোজেনের পরমাণু (H) আছে।
৪১৫.
গলনাঙ্কের মাধ্যমে কোনটি নির্ণয় করা যায়?
  1. পদার্থের চাপ
  2. পদার্থের ঘনত্ব
  3. পদার্থের বিশুদ্ধতা
  4. পদার্থের আয়তন
সঠিক উত্তর:
পদার্থের বিশুদ্ধতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থের বিশুদ্ধতা
ব্যাখ্যা

- গলনাঙ্ক হলো যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে। একটি পদার্থ বিশুদ্ধ কিনা তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। বিশুদ্ধ পদার্থ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলে, কিন্তু অবিশুদ্ধ পদার্থের গলনাঙ্ক কমে যায় বা বিস্তৃত হয়

গলনাঙ্ক: 
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাঙ্কের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অপরদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪১৬.
ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা-  
  1. 0
  2. + 2
  3. - 1
  4. + 1
সঠিক উত্তর:
+ 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
+ 1
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা নির্ণয়: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
- ক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 1
- ধাতব হাইড্রাইড ব্যতিত অন্যসব মৌলের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা + 1. 
- ধাতব হাইড্রাইডের মধ্যে হাইড্রোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- অক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 2. 
- পারঅক্সাইড যৌগে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- ধাতব হ্যালাইডে হ্যালোজেনের জারণ সংখ্যা - 1. 
- মৃৎক্ষার ধাতুর জারণ সংখ্যা + 2. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৭.
কোন বিক্রিয়াটি ইলেকট্রন স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সকল জারন বিজারন বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে-
১। সংযোজন বিক্রিয়া 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
৪। দহন বিক্রিয়া 

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৮.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতীকি প্রকাশকে কী বলা হয়?
  1. ক) আণবিক সংকেত
  2. খ) প্রতীক
  3. গ) রাসায়নিক সমীকরণ
  4. ঘ) এখানে সঠিক উত্তর দেয়া নেই
সঠিক উত্তর:
গ) রাসায়নিক সমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাসায়নিক সমীকরণ
ব্যাখ্যা
- প্রতীক, সংকেত বা চিহ্নের সাহায্যে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে প্রকাশ করার পদ্ধতিকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়।
- অন্যভাবে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতীকি প্রকাশকে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। 
- অর্থাৎ একটি বিক্রিয়ার বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মধ্যে সম্পর্ক প্রকাশের সহজতম উপায় হলো রাসায়নিক সমীকরণ।
- সঠিক রাসায়নিক সমীকরণ লিখে বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থের সাথে বিক্রিয়ক পদার্থের মাত্রিক সম্পর্ক বের করা যায়।
 
উৎস: রসায়ন , এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪১৯.
কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 20
  4. 22
সঠিক উত্তর:
20
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20
ব্যাখ্যা

• মৌলিক পদার্থ (Elements):
- মৌলিক পদার্থ হলো সেই পদার্থ যা একধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত, এবং সাধারণ রাসায়নিকভাবে ভাঙা যায় না।
- যেমন: হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), কার্বন (C) ইত্যাদি।

• প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম মৌলিক পদার্থ:
- পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মৌলিক পদার্থের সংখ্যা প্রায় ৯৮টি।
- যেসব মৌলিক পদার্থ প্রাকৃতিকভাবে নেই, সেগুলো বিজ্ঞানীরা ল্যাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি করেছেন।
- উদাহরণ: টেকনেশিয়াম (Tc), প্লুটোনিয়াম (Pu), অস্টেটিন (At) ইত্যাদি।

• কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থের সংখ্যা:
- বর্তমান পর্যন্ত ২০টি মৌলিক পদার্থ কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে।
- এই মৌলিক পদার্থগুলো সাধারণত পরমাণু সংখ্যার দিক থেকে 93 বা তার বেশি (যেমন: Neptunium, Californium, Fermium, Oganesson)।
- এদের অধিকাংশ সংক্ষিপ্ত জীবনকালযুক্ত এবং দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

উৎস: NCTB, সাধারণ বিজ্ঞান।

৪২০.
পর্যায় সারণির কোন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে? 
  1. ক্ষারধাতু
  2. মৃৎক্ষার
  3. হ্যালোজেন
  4. নিষ্ক্রিয় ধাতু
সঠিক উত্তর:
হ্যালোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে- 
• ফ্লোরিন (F), 
• ক্লোরিন (Cl), 
• ব্রোমিন (Br), 
• আয়োডিন (I), 
• অ্যাস্টাটিন (At) এবং 
• টেনেসিন (Ts)। 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২১.
পর্যায় সারণির কত নম্বর গ্রুপে নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোর অবস্থান?
  1. ক) ১৮
  2. খ) ১৬
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৪
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৮
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
মৌলগুলাে হলাে:
হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)এবং ওগানেসন (og)।
এই মৌলগুলাের সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়ােজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনাে যৌগ গঠন করতে চায় না।
রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।

৪২২.
কোন পদার্থটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অন্য পদার্থকে জারিত করে?
  1. সোডিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. সালফার ডাই অক্সাইড
  4. ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ (Oxidizing Agent) হলো এমন একটি রাসায়নিক সত্তা যা কোনো জারণ-বিজারণ (Redox) বিক্রিয়ায় অন্য পদার্থ থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে। ক্লোরিন একটি শক্তিশালী জারক পদার্থ কারণ এর ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি।

জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়।
- যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 প্রভৃতি জারক পদার্থ।

বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়।
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- পর্যায় তালিকার গ্রুপ এ অবস্থিত মৌলসমূহ যেমন: H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। এছাড়াও Mg, Ca, SO2, H2S প্রভৃতি বিজারক পদার্থ।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

 

৪২৩.
নিউক্লিয়াসে নিউট্রনবিহীন একমাত্র মৌল কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ফ্লোরিন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 

নিউট্রন (Neutron): 
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n । 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g । 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান ০(শূন্য)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৪.
নিচের কোন মৌলটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ?
  1. লোহা
  2. হিলিয়াম
  3. অক্সিজেন
  4. রেডিয়াম
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম
ব্যাখ্যা

রেডিয়াম একটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় মৌল, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত করে।

তেজস্ক্রিয়তা:
- তেজস্ক্রিয় মৌল (Radioactive element) হলো সেইসব মৌল, যাদের নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় রশ্মি (যেমন: আলফা, বিটা, গামা) নির্গত করে। 
- এই প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) বলা হয়।
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে।
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th),
ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়।
- এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য,
- লোহা: একটি স্থিতিশীল এবং অ-তেজস্ক্রিয় ধাতু।
- হিলিয়াম: একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস এবং স্থায়ী মৌল।
- অক্সিজেন: একটি স্থায়ী মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৪২৫.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. বিয়োজন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৬.
কিসের সংস্পর্শে এলে লোহায় মরিচা ধরে?
  1. ক) বাতাস
  2. খ) পানি
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) আয়রন
সঠিক উত্তর:
ক) বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাতাস
ব্যাখ্যা
লোহার পৃষ্ঠ বায়ুর সংস্পর্শে এলে বিক্রিয়ায় আয়রন অক্সাইড বা মরিচা উৎপন্ন হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪২৭.
নিচের কোন পদার্থের ব্যাপন হার বেশি?
  1. CO2
  2. NH3
  3. H2SO4
  4. HCl
সঠিক উত্তর:
NH3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NH3
ব্যাখ্যা
• CO2 এর আনবিক ভর = 44
• NH3 এর আনবিক ভর = 17 
• H2SO4 এর আনবিক ভর = 98
• HCl এর আনবিক ভর = 36.5
• NH3 এর আনবিক ভর সবচেয়ে কম। তাই এর  ব্যাপন হার বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
৪২৮.
নিচের কোনটি পানির ঘনত্ব? 
  1. 1000 gm-3
  2. 1000 kgm-3
  3. 1280 kgm-3
  4. 10000 kgm-3
সঠিক উত্তর:
1000 kgm-3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1000 kgm-3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, p = m/V. 

ঘনত্বের একক: 
- কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kgm)। 
4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1g/cc

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৯.
আর্কিমিডিসের সূত্র কোন অবস্থায় প্রযোজ্য? 
  1. কেবল বায়ুর জন্য
  2. কেবল কঠিন বস্তুর জন্য
  3. কেবল সম্পূর্ণ নিমজ্জিত বস্তুর জন্য
  4. তরল বা বায়ুতে নিমজ্জিত বস্তুর জন্য
সঠিক উত্তর:
তরল বা বায়ুতে নিমজ্জিত বস্তুর জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল বা বায়ুতে নিমজ্জিত বস্তুর জন্য
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন। 
এক্ষেত্রে- 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩০.
সেন্টিমোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতিলিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ কত?
  1. ১ মোল
  2. ০.১ মোল
  3. ০.০১ মোল
  4. ০.০০১ মোল
সঠিক উত্তর:
০.০১ মোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.০১ মোল
ব্যাখ্যা
- সেন্টিমোলার দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রতিলিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণ হচ্ছে- ০.০১ মোল । 

মোলার দ্রবণ: 

দুই বা ততোধিক কঠিন তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের সমস্বত্ত্ব মিশ্রনকে দ্রবণ বলে। 
- দ্রবণের দুটি অংশ-একটি দ্রাবক ও অপরটি দ্রব, অর্থাৎ দ্রবণ = (দ্রাবক + দ্রব)। 
- দ্রবণে যে উপাদান অপর উপাদানকে দ্রবীভূত করে তাকে দ্রাবক বলে। যেমন- পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, এসিড প্রভৃতি দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- পানিকে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত দ্রবণকে জলীয় দ্রবণ বলে। 
- সাধারণত দ্রবণের ভৌত অবস্থা নির্ধারিত হয় দ্রাবকের ভৌত অবস্থার উপর। 
- দ্রবণে যে উপাদানাটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে তাকে দ্রব বলে। 
- দ্রব, দ্রাবকের মধ্যে দ্রবীভূত হয়। 
- সাধারণভাবে দ্রবণের ঘনমাত্রা বলতে দ্রবণের একটি নির্দিষ্ট আয়তনে কী পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত আছে তা বোঝা যায়। 
- প্রতি একক আয়তন দ্রবণে একই দ্রবের বিভিন্ন পরিমাণ দ্রবীভূত থাকলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বিভিন্ন হয়। 
- দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার, মোলার দ্রবণকে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসর মধ্যে নিউট্রন কণিকাটি অনুপস্থিত?
  1. হাইড্রোজেন
  2. লিথিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- ডালটনের পরমাণুবাদে পরমাণুকে অবিভাজ্য বলা হয়েছে কিন্তু  উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে প্রমাণিত হয়, পরমাণু অনেকগুলো সূক্ষ কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- এ সব অতি সূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না, এদেরকে পরমাণুর মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
অর্থাৎ, যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

ইলেকট্রন (Electron): 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন। 
- পরমাণুর ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e- । 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 Coulomb । 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 । 

প্রোটন (Proton): 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- ইহার সংকেত H+। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আসল ভর ও আধান যথাক্রমে 1.67×10-24 g ও 1.60× 10-19 Coulomb । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P । 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 । 

নিউট্রন (Neutron): 
- নিউট্রন আধানহীন (Neutral) বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n । 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675× 10-24 g । 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান শূন্য (০)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩২.
যদি Al এর প্রোটন সংখ্যা ১৩ এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা ২৭ হয় তাহলে নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ২৭
  3. গ) ৪০
  4. ঘ) ১৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা
যদি Al প্রোটন সংখ্যা ১৩ এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা ২৭ হয় তাহলে নিউট্রন সংখ্যা (২৭-১৩) = ১৪৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৪৩৩.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোবার
ব্যাখ্যা

যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় আইসোবার। 

• আইসোবার:
- 'Iso' অর্থ সমান এবং 'bar' শব্দটি ওজন বা ভরকে বোঝায়। তাই আইসোবার হলো সেইসব পরমাণু, যারা ভিন্ন মৌলের হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভর সংখ্যা A, অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান।
- কার্বন-14 এবং নাইট্রোজেন-14 হলো আইসোবার। উভয়ের ভর সংখ্যা 14 হলেও তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (6 এবং 7) ভিন্ন।
- যেহেতু এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন:
- এদের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ও ভর সংখ্যা (A) উভয়ই ভিন্ন হয়।

• আইসোটোপ:
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন হয়।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা, গঠন, ও ধর্ম ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৪.
নিউক্লিয়াসে কোন কণিকাগুলো অবস্থান করে? 
  1. নিউট্রন এবং পজিট্রন 
  2. প্রোটন এবং নিউট্রন 
  3. প্রোটন এবং ইলেকট্রন 
  4. নিউট্রন এবং ইলেকট্রন 
সঠিক উত্তর:
প্রোটন এবং নিউট্রন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন এবং নিউট্রন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকা তিনটি। 
যথা- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটিকে পরমাণুর স্থায়ী কণিকাও বলা হয়। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য হয়। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৫.
নিচের কোনটি নোবেল গ্যাস?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
গ) নিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিয়ন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।

- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৬.
পদার্থ সাধারণত কয়টি অবস্থায় থাকে?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
গ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩
ব্যাখ্যা
পদার্থ সাধারণত তিন অবস্থায় থাকে।কঠিন, তরল এবং বায়বীয়। এর চতুর্থ অবস্থার নাম প্লাজমা।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন এবং পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪৩৭.
পরমাণুর তৃতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. ১৮
  2. ৩২
সঠিক উত্তর:
১৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮
ব্যাখ্যা

প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তর বা শেলে সর্বাধিক ২n2
সংখ্যক ইলেকট্রন (n = ১, ২, ৩ ..............) থাকতে পারে।
এই সূত্রানুসারে,
১ম শেলে অর্থাৎ n = ১ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ১
= ২ টি
২য় শেলে অর্থাৎ n = ২ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ২
= ৮ টি
৩য় শেলে অর্থাৎ n = ৩ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ৩
= ১৮ টি
৪র্থ শেলে অর্থাৎ n = ৪ শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা ২n
= ২ × ৪
= ৩২ টি

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৩৮.
ক্রোমিয়াম এর ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের থেকে ভিন্ন কেন?
  1. s উপ-স্তর অর্ধপূর্ণ থাকা সুবিধাজনক
  2. অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল
  3. সব ইলেকট্রন সমানভাবে স্থিতিশীল হয়
  4. p উপ-স্তর পূর্ণ হওয়া সহজ
সঠিক উত্তর:
অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল
ব্যাখ্যা

• ক্রোমিয়াম ইলেকট্রন বিন্যাস সাধারণ নিয়মের থেকে ভিন্ন, কারণ অর্ধপূর্ণ বা পূর্ণ d উপ-স্তর বেশি স্থিতিশীল, যা তাদের স্থিতিশীলতা বাড়ায়।

- সাধারণ ইলেকট্রন বিন্যাস নিয়ম অনুসারে: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d4 4s2.
- Cr এর ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d5 4s1.
- সাধারণভাবে, কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে প্রথমে s উপ-স্তর পূর্ণ হয় তারপর d উপ-স্তর পূর্ণ হয়।
- নিয়ম অনুযায়ী হবে 3d4 4s2। 
- তবে 3d উপ-স্তর অর্ধপূর্ণ (5 ইলেকট্রন) হলে এটি অধিক স্থিতিশীল হয়। 
- তাই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে গিয়ে 3d5 4s1 ভাবে অনস্থান করে। 

একইভাবে Cu এর জন্যও, 
- নিয়ম অনুযায়ী হবে 3d9 4s2
- Cu এর ব্যতিক্রম ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2 2s2 2p6 3s2 3p6 3d10 4s1.
- সাধারণভাবে, কোনো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে প্রথমে s উপ-স্তর পূর্ণ হয় তারপর d উপ-স্তর পূর্ণ হয়।
- 3d উপ-স্তর পূর্ণ (10 ইলেকট্রন) হলে এটি সবচেয়ে স্থিতিশীল।
- তাই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে গিয়ে 3d10 4s1 ভাবে অনস্থান করে। 

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৯.
তরল-গ্যাস দ্রবণ বলতে কী বোঝায়? 
  1. যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
  2. যে সমস্ত দ্রবণে গ্যাস দ্রাবকে তরল পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে
  3. যে সমস্ত দ্রবণে কঠিন দ্রাবকে তরল দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
  4. যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে তরল পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
সঠিক উত্তর:
যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে 
ব্যাখ্যা

তরল-গ্যাস দ্রবণ: 
- যে সমস্ত দ্রবণে তরল দ্রাবকে গ্যাসীয় পদার্থ দ্রব হিসেবে দ্রবীভূত থাকে তাকে তরল-গ্যাস দ্রবণ বলে
- দ্রবণে দ্রাবক হলো তরল পদার্থ আর দ্রব হলো গ্যাসীয় পদার্থ। 
যেমন: (কোমল পানীয়- কোকা কোলা, সেভেন আপ)। 
- এ সমস্ত কোমল পানীয়ের বোতল খোলার সাথে সাথে হিস্ শব্দ করে বুদবুদ আকারে যে গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় তা হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড যা পানীয়ের মধ্যে দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল। 
অর্থাৎ, কোমল পানীয়গুলো হলো তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ (যেমন: মাছ) তাদের নিঃশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরাসরি বাতাস থেকে নিতে পারে না। 
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীসমূহ অক্সিজেন নেয় পানিতে থাকা দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকে। তাই নদ-নদী, খাল বিল বা প্রাকৃতিক জলাশয়ের পানি কিন্তু এক ধরনের তরল-গ্যাস দ্রবণ। 
- আবার বহুল সমালোচিত ফরমালিনও (যা আইনবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ফল ও মাছের সংরক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে) পানিতে ফরমালডিহাইড নামক গ্যাসের দ্রবণ। 
- অপরদিকে লেবুর শরবত, ভিনেগার, স্যালাইন হলো তরল-তরল দ্রবণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪৪০.
স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে। সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. ক) ভূতুরে কণা
  2. খ) কম্পজিট কণা
  3. গ) ঈশ্বর কণা
  4. ঘ) দ্বৈত কণা
সঠিক উত্তর:
খ) কম্পজিট কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কম্পজিট কণা
ব্যাখ্যা
পরমাণূর মূল কণিকা তিন ধরনের, যথা স্থায়ী মূল কণিকা, অস্থায়ী মূল কণিকা এবং কম্পোজিট কণিকা

১.স্থায়ী মূল কণিকাঃ
ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়। (হাইড্রোজেন-১ পরমাণুতে শুধু ১.০টি ইলেকট্রন ও ১.০টি প্রোটন আছে) এতে কোন নিউট্রন নেই।

২.অস্থায়ী মূল কণিকা:
কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।।

৩.কম্পোজিট কণিকা (Composite Particles):
স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর রসায়ন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৪৪১.
চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার সময় শুয়ে পড়লে চাপ কম হয়, কারণ- 
  1. ওজন কমে যায়
  2. ঘর্ষণ বেড়ে যায়
  3. বালির ঘনত্ব বেড়ে যায়
  4. ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়
সঠিক উত্তর:
ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়
ব্যাখ্যা
চাপ (Pressure): 
- যখন একটা পাথরকে এক হাতে দিয়ে বা দুই হাতে দিয়ে অথবা সারা শরীর দিয়ে ঠেলা হয়, তখন প্রত্যেকবার সমান পরিমাণ বল প্রয়োগ করলেও চাপ কিন্তু ভিন্ন হয়। 
- প্রথম ক্ষেত্রে যদি প্রয়োগকৃত বল F এবং হাতের তালুর ক্ষেত্রফল A হয়, তাহলে চাপ P হচ্ছে, 
• P = F/A 
- কাজেই দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দুই হাত ব্যবহার করায় বল প্রয়োগকারী ক্ষেত্রফল দ্বিগুণ বেড়ে যাবে বলে চাপ অর্ধেক হয়ে যাবে, তৃতীয় ক্ষেত্রে সারা শরীর ব্যবহার করে বল প্রয়োগ করায় বল প্রয়োগকারী ক্ষেত্রফল আরো বেড়ে যাবে; তাই চাপ আরো কমে যাবে। 
- চাপের একক হচ্ছে N/m2 । 
- চাপের এককের আরেক নাম প্যাসকেল (Pa), 1 N বল 1 m2 ক্ষেত্রফলের উপর প্রয়োগ করলে 1 Pa (1 প্যাসকেল) চাপ প্রয়োগ করা হয়। 
- চাপের মাত্রা হচ্ছে [P] = ML-1T-2  । 
- বল একটি ভেক্টর কিন্তু চাপ একটি স্কেলার রাশি। 
- চাপ স্কেলার হওয়ার কারণে এর কোনো দিক নেই। এটি খুবই প্রয়োজনীয়; কারণ চাপ ধারণাটি কঠিন পদার্থ থেকে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে। তরল বা বায়বীয় পদার্থ যখন চাপ প্রয়োগ করে তখন আসলে সেটি দিকের উপর নির্ভর করে না। 
- একজন ব্যক্তি শুয়ে থাকা অবস্থায় চাপ অনেক কম দেয়। এজন্য মানুষ যখন চোরাবালিতে পড়ে, তখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য সবসময় শুয়ে পড়তে হয় যেন সে অনেক কম চাপ দেয় এবং চোরাবালিতে সহজে ডুবে না যায়। 
- আবার, বল প্রয়োগ করার অংশটুকুর ক্ষেত্রফল যদি কম হয়, তাহলে চাপ বেড়ে যায়। 
যেমন- একটি পেরেকের সুচালো মুখের ক্ষেত্রফল খুবই কম, তাই এটি যখন কাঠ বা দেয়ালে স্পর্শ করে পেছনের চওড়া মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়, তখন বলটি সুচালো মাথা দিয়ে কাঠ বা দেয়ালে চাপ দেয়। সুচালো মাথার ক্ষেত্রফল যেহেতু খুবই কম তাই চাপটি খুবই বেশি এবং অনায়াসে পেরেক কাঠ বা দেয়ালে ঢুকে যেতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪২.
নিচের কোনটি ধনাত্মক যৌগমূলক?
  1. কার্বনেট
  2. ফসফেট
  3. ডাইক্রোমেট
  4. অ্যামোনিয়াম
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়াম
ব্যাখ্যা
• অ্যামোনিয়াম (NH₄⁺) হল একটি ধনাত্মক আয়ন যা অ্যামোনিয়া (NH₃) এর সঙ্গে একটি প্রোটন (H⁺) যুক্ত হয়ে তৈরি হয়।

- ধনাত্মক যৌগমূলক (positive radical বা cationic radical) বলতে এমন আয়ন বা মৌলিক গোষ্ঠীকে বোঝায় যার উপর ধনাত্মক চার্জ থাকে।

অন্যদিকে,
• কার্বনেট (CO₃²⁻):
- এটি একটি ঋণাত্মক যৌগমূলক (anion)।
- চার্জ: -2

• ফসফেট (PO₄³⁻):
- এটিও একটি ঋণাত্মক যৌগমূলক।
- চার্জ: -3

• ডাইক্রোমেট (Cr₂O₇²⁻):
- এটিও ঋণাত্মক যৌগমূলক।
- চার্জ: -2

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৪৩.
রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে শক্তির রূপান্তর নিচের কোন সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়?
  1. ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র
  2. তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র
  3. তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র
  4. তাপগতিবিদ্যার তৃতীয় সূত্র
সঠিক উত্তর:
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্র
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তর: 
- কোনো পদার্থের অণু বা আয়নসমূহ পরস্পর পরস্পরের সাথে বিভিন্ন ধরনের শক্তির প্রভাবে যুক্ত থাকে, এ শক্তি আন্তঃআণবিক শক্তি নামে পরিচিত।
- এ শক্তির প্রভাবেই পদার্থের উপাদানসমূহ পরস্পর পরস্পরের কাছাকাছি থেকে পদার্থের একটি সুনির্দিষ্ট (যেমন-কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) অবস্থার সৃষ্টি করে।
- পদার্থের মধ্যে আন্তঃআণবিক শক্তির পরিমাণ বেশি হলে কঠিন অবস্থা, কম হলে তরল অবস্থা এবং একেবারে কম হলে গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থ অবস্থান করে।
- একই পদার্থের অবস্থা ভেদে আন্তঃআণবিক শক্তি ভিন্ন হয়।
যেমন- কঠিন বরফকে তাপদিলে শক্তি শোষণ করে তরল পানিতে পরিণত হয়। আরো তাপ দিলে তরল পানি শক্তি শোষণ করে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠান্ডা করলে শক্তি হারিয়ে তরল পানি এবং তরল পানিকে আরো ঠান্ডা করলে শক্তি হারিয়ে কঠিন বরফে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে পদার্থের অবস্থা পরিবর্তনের সাথে শক্তি জাড়িত।
- আবার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও শক্তির পরিবর্তন ঘটে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে শক্তির যে পরিবর্তন ঘটে তা তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়
- সূত্রটি হচ্ছে 'শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু একে কোনো অবস্থাতেই সৃষ্টি বা ধ্বংস করা সম্ভব নয়' যা শক্তির নিত্যতা সূত্র নামে পরিচিত।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৪.
হাইড্রোজেনের কোন আইসোটোপে নিউট্রন সংখ্যা শূন্য?
  1. ট্রিটিয়াম
  2. হিলিয়াম 
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. প্রোটিয়াম
সঠিক উত্তর:
প্রোটিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিয়াম
ব্যাখ্যা

আইসোটোপ (Isotope): 
- ডালটনের পারমাণবিক মতবাদ অনুযায়ী একটি মৌলের সব পরমাণু সমান ভর বিশিষ্ট। 
- কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় যে, একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর ভিন্ন ভিন্ন ভর হতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। 
- যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- আইসোটোপসমূহের মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের কোন পার্থক্য দেখা যায় না। 
যেমন- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ আছে যাদের ভর যথাক্রমে 1, 2, 3, 4, 5, 6 ও 7 । 
- এই সাতটি আইসোটোপের মধ্যে হাইড্রোজেন/প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এই স্থায়ী আইসোটোপ তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। - হাইড্রোজেনের আইসোটোপ তিনটিতেই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1, কিন্তু প্রথমটির ভর সংখ্যা 1, দ্বিতীয়টির ভর সংখ্যা 2 এবং তৃতীয়টির ভর সংখ্যা 3। 
- প্রথম আইসোটোপে কোন নিউট্রন নেই, দ্বিতীয়টিতে 1 টি নিউট্রন এবং তৃতীয়টিতে ২ টি নিউট্রন আছে। 
- প্রকৃতিতে সকল আইসোটোপের পরিমাণ সমান থাকে না। 
যেমন- এক লক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ 99985 টি, ডিউটেরিয়াম পরমাণুর সংখ্যা 15টি এবং ট্রিটিয়ামের সংখ্যা অতি নগণ্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৫.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই? 
  1. ইট
  2. কেরোসিন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. অ্যালকোহল
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যথা- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৬.
প্লাজমা তৈরি করার জন্য সাধারণত কী প্রয়োগ করতে হয়?
  1. নিম্ন তাপমাত্রা
  2. প্রচণ্ড তাপ
  3. উচ্চ শব্দ তরঙ্গ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
প্রচণ্ড তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রচণ্ড তাপ
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা (প্লাজমা): 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হতে পারে, এর নাম প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে। সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। 
- ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়। 
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, আবার নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে। 
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে। 
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৭.
বয়েলের সূত্রে কোনটি অপরিবর্তিত থাকে? 
  1. চাপ
  2. তাপমাত্রা
  3. আয়তন
  4. এনট্রপি
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
বয়েলের সূত্র: 
- ১৬৬২ সালে রবার্ট বয়েল এই সূত্রটি উপস্থাপন করেন। তাই এটি বয়েলের সূত্র বলে পরিচিত। 
- সূত্রটি হলো- "তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার চাপের ব্যস্তানুপাতিক"। 

ব্যাখ্যা: 
- এই সূত্রানুসারে, তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের তার আয়তন চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে তাপমাত্রা T, আয়তন V এবং চাপ p হলে; 
V ∞ 1/p [যখন T স্থির থাকে] 
বা, pV = K [এখানে K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক] 
- K এর মান গ্যাসের ভর এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
সুতরাং, যদি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন যথাক্রমে V1, V2, V3, V4......... Vn ইত্যাদি এবং চাপ যথাক্রমে P1, P2, P3, P4........ Pn ইত্যাদি হয় তাহলে, 
P1V1 = P2V2 = P3V3 = P4V4 .......= PnVn = ধ্রুবক (K) । 
- অতএব, চাপ দ্বিগুণ হলে আয়তন অর্ধেক হবে, চাপ তিনগুণ হলে আয়তন এক তৃতীয়াংশ হবে, বা চাপ অর্ধেক হলে আয়তন দ্বিগুণ হবে এভাবে একটি বাড়লে অন্যটি কমবে। 

এনট্রপি: 
- তাপগতিবিদ্যায় এনট্রপির গুরুত্ব অপরিসীম। 
- এনট্রপি একটি প্রাকৃতিক রাশি যার মান তাপ ও পরম তাপমাত্রার অনুপাতের সমান। 
- এটি বস্তুর একটি তাপীয় ধর্ম যা তাপ সঞ্চালনের দিক নির্দেশ করে। 
- এটি বস্তুর তাপগতীয় অবস্থা নির্ধারণে সহায়তা করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৪৮.
অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর কত?
  1. ক) ৩২
  2. খ) ১৬
  3. গ) ১৮
  4. ঘ) ২৪
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬
ব্যাখ্যা

কোন মৌলের একটি পরমাণুর ভর কার্বন 12 আইসোটোপের 1/12 অংশের তুলনায় যত গুণ ভারী,সেই সংখ্যাকে ওই মৌলের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর (বা সংক্ষেপে পারমাণবিক ভর) বলা হয়।

আণবিক ভর (ইংরেজি: Molecular mass, সংক্ষেপে m) হল সংশ্লিষ্ট কোন পদার্থের একটি অণুর ভর: এটিকে ডাল্টন এককে (Da বা u) পরিমাপ করা হয়। একই যৌগের বিভিন্ন অণুর বিভিন্ন আণবিক ভর থাকতে পারে, কারণ তারা একটি পদার্থের ভিন্ন ভিন্ন আইসোটোপ দ্বারা গঠিত হয়ে থাকতে পারে।

বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের আণবিক ভর হল 32 একক। অক্সিজেনের রাসায়নিক সংকেত O2 এতে ২টি পরমাণু উপস্থিত রয়েছে। সুতরাং, অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর ১৬।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন

৪৪৯.
'স্থির আয়তনে কোনো গ্যাসের চাপ তার তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক' -এটি দ্বারা নিচের কোন সূত্রটিকে বুঝায়? 
  1. বয়েলের সূত্র
  2. চার্লসের সূত্র
  3. গে-লুস্যাকের সূত্র
  4. আর্গনের সূত্র
সঠিক উত্তর:
গে-লুস্যাকের সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গে-লুস্যাকের সূত্র
ব্যাখ্যা

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোনো নির্দিষ্ট ভরের যেকোনো গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0(273 + t)/273; 
- এই সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোনো গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোনো গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

৪৫০.
নিচের ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হচ্ছে
  2. ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে
  3. কিসমিস পানি শোষণ করে ফুলে উঠেছে
  4. গাছ মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ করছে
সঠিক উত্তর:
ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুলের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে
ব্যাখ্যা
• ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
- ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

অন্যদিকে,
- গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হচ্ছে নিঃসরণের উদাহরণ।
- কিসমিস পানি শোষণ করে ফুলে উঠেছে  অভিস্রবণের উদাহরণ।
- গাছ মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ অভিস্রবণের উদাহরণ।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
বরফ পানিতে ভাসে কেন?
  1. বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম
  2. বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে বেশি
  3. বরফের দ্রবণীয়তা পানির চেয়ে কম
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম
ব্যাখ্যা

◉ বরফ হলো পানির কঠিন রূপ। পানি বরফে পরিণত হলে তার অণুগুলো স্ফটিক আকারে সাজানো হয়, ফলে ফাঁকা জায়গা (empty spaces) তৈরি হয়। এই কারণে বরফের ঘনত্ব (Density ≈ 0.917 g/cm3) পানির ঘনত্বের (Density ≈ 1 g/cm3) চেয়ে কম হয়। কম ঘনত্বের কারণে বরফ পানির উপরে ভেসে থাকে।

ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

৪৫২.
কোনো মৌলের পারমাণবিক সংখ্যাকে বলা হয় - 
  1. ইলেকট্রন সংখ্যা
  2. পজিট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা
  4. প্রোটন সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা: 

- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11.
- তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৫৩.
তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যদি কোনো আয়নের ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. অণু
  2. নিউক্লিয়াস
  3. ক্যাটায়ন
  4. অ্যানায়ন
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানায়ন
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বিশ্লেষণ:
- কোনো দ্রবণের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে এর অণুগুলোকে ধনাত্নক ও ঋণাত্নক অংশে বিভক্ত করার পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।
- তড়িৎ প্রবাহের দ্বারা দ্রবনের যে দ্রবটিকে দুইভাগে বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা হয় তাকে তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে।
- সকল অ্যাসিড, ক্ষার, কয়েকটি নিরপেক্ষ লবণ, অ্যাসিড মেশানো পানি ইত্যাদি তড়িৎ দ্রব বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ।
যেমন- H2SO4, NaOH, NaCl ইত্যাদি।

- তড়িৎ বিশ্লেষণে পদার্থের মূলকগুলো আয়নিক হয়।
- কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকে যদি স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে কম বা বেশি ইলেকট্রন থাকে তবে তাকে আয়ন বলে।
- যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তাকে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়ন বলে
- আর যদি ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে তাকে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়ন বলে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো অণু, পরমাণু বা মূলকের মোট ইলেকট্রনের সংখ্যা নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটনের সংখ্যার সমান হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৪.
নিউট্রনের চার্জ কেমন? 
  1. ধনাত্মক 
  2. ঋণাত্মক 
  3. শূন্য 
  4. পরিবর্তনশীল 
সঠিক উত্তর:
শূন্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য 
ব্যাখ্যা

পরমাণুর সাংগঠনিক কণা: 
- একমাত্র হাইড্রোজেন ছাড়া সকল পদার্থের পরমাণু তিনটি কণা দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। 
- এই কণাগুলোকে পরমাণুর সাংগঠনিক (fundmental) বা মৌলিক কণা বলে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরতে থাকে। 

ইলেকট্রন: 
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর একটি মৌলিক কণিকা যার আধান বা চার্জ ঋণাত্মক (নেগেটিভ)। 
- এ আধানের পরিমাণ -1.60×10-19 কুলম্ব। 
- একে e প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একটি ইলেকট্রনের ভর 9.11×10-28 g। 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 ধরা হয় এবং এর ভর প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের তুলনায় 1840 গুণ কম। তাই এর আপেক্ষিক ভরকে শূন্য ধরা হয়। 

প্রোটন: 
- প্রোটন হলো পরমাণুর অপর একটি মৌলিক কণিকা যার চার্জ বা আধান ধনাত্মক (পজেটিভ)। 
- এ আধানের পরিমাণ +1.60×10-19 কুলম্ব। 
- একে p প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- একটি প্রোটনের ভর 1.67×10-24 g। 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1 এবং আপেক্ষিক ভর 1 ধরা হয়। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন হলো পরমাণুর আরেকটি মৌলিক কণিকা যার কোনো আধান বা চার্জ নেই। 
- হাইড্রোজেন ছাড়া সকল মৌলের পরমাণুতেই নিউট্রন রয়েছে। 
- একে n প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- এর ভর প্রোটনের ভরের চেয়ে সামান্য বেশি। 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান 0 আর আপেক্ষিক ভর 1 ধরা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৫৫.
কোন প্রকার বন্ধনের ক্ষেত্রে পোলারায়ন ঘটে? 
  1. ধাতব বন্ধন
  2. আয়নিক বন্ধন
  3. কোভালেন্ট বন্ধন
  4. ভ্যানডার-ওয়ালস বন্ধন
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়নিক বন্ধন
ব্যাখ্যা
পোলারায়ন বা আয়নের বিকৃতি (Polarization): 
- যখন কোনো ধাতব পরমাণু এবং অধাতব পরমাণুর মধ্যে বন্ধন গঠিত হয় তখন ধাতব পরমাণু ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং অধাতব পরমাণু সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের কাঠামো অর্জন করে। 
- ইলেকট্রন ত্যাগ করার ফলে ধাতব পরমাণু ধনাত্মক চার্জযুক্ত ক্যাটায়নে পরিণত হয় এবং অধাতব পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়নে পরিণত হয়। 
- পরবর্তীতে ক্যাটায়ন এবং অ্যানায়ন ইলেকট্রোস্ট্যাটিক আকর্ষণ বলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আয়নিক বন্ধন গঠন করে। 

- আয়নিক বন্ধন গঠনের সময় কোনো ক্যাটায়ন যখন কোনো অ্যানায়নের খুব নিকটে আসে তখন ক্যাটায়নের নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক চার্জ দ্বারা অ্যানায়নের ইলেকট্রন মেঘকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে, একই সাথে ক্যাটায়নের নিউক্লিয়াস কর্তৃক অ্যানায়নের নিউক্লিয়াসকে বিকর্ষণ করে। 
- এ আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ বলের সম্মিলিত প্রভাবে উভয় পরমাণু নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে কিন্তু অ্যানায়নের ইলেকট্রন মেঘ ক্যাটায়নের দিকে সরে আসে, একে ক্যাটায়ন দ্বারা অ্যানায়নের বিকৃতি বা পোলারায়ন বলে।
- এক্ষেত্রে অ্যানায়নটি পোলারায়িত হয়েছে বলা হয়। 
- ক্যাটায়ন দ্বারা এভাবে অ্যানায়নের পোলারায়িত হওয়ার ক্ষমতাকে ক্যাটায়নের পোলারায়ন ক্ষমতা বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৬.
পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ক) স্ফুটন
  2. খ) পাতন
  3. গ) পরিস্রাবণ
  4. ঘ) ক্লোরিনেশন
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্রাবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্রাবণ
ব্যাখ্যা
সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলাে হলাে পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলাে বর্ণনা করা হলােঃ

পরিস্রাবণঃ পরিস্রাবণ হলাে তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলাে বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরাে উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশনঃ যদি পানিতে রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার এবং আরও কিছু পদার্থ যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলাে ব্যবহার করা হয়।

স্ফুটনঃ পানিকে খুব ভালােভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।

পাতনঃ যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৭.
এক ঘনমিটার গ্যাসের আয়তন = কত? 
  1. 103 cm3
  2. 108 cm3
  3. 106 cm3
  4. 109 cm3
সঠিক উত্তর:
106 cm3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
106 cm3
ব্যাখ্যা
গ্যাসের আয়তন (Volume of Gas): 
- গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য হওয়ায় যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রকে গ্যাস পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক দখলকৃত আয়তনকে ঐ গ্যাসের আয়তন বলা হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে গ্যাস রক্ষিত পাত্রের আয়তনকে গ্যাসের আয়তন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- গ্যাসের আয়তনকে SI এককে ঘনমিটার (Cubic metre) বা m3 এ প্রকাশ করা হয়। 
- এছাড়া ঘন ডেসিমিটার (Cubic decimetre) বা dm3 এবং ঘন সেন্টিমিটার (Cubic Centimetre) বা cm3 এ প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 1 m3 = 1000 L = 103 dm3 = 106 cm3

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৮.
কোন গ্যাসের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের -
  1. ক) সমান
  2. খ) অর্ধেক
  3. গ) দ্বিগুণ
  4. ঘ) চারগুণ
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা

যে কোন গ্যাসের আণবিক ভর তার বাষ্প ঘনত্বের দ্বিগুন।
সূত্র: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণী।

৪৫৯.
কোন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ সংঘটিত হয় না?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ সংঘটিত হয় না। 

• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- রেডক্স অর্থ জারণ-বিজারণ। যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তাকে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।   

- Reduction (বিজারণ) শব্দের প্রথমাংশ Red এবং Oxidation (জারণ) শব্দের প্রথমাংশ Ox এর সমন্বয়ে গঠিত শব্দ হলো Redox. 

• রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া:  
- জারণ এবং বিজারণ উভয় প্রক্রিয়া একই সাথে ঘটে।
- একটি পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করার সাথে সাথেই অন্য একটি পদার্থ সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এই কারণে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াগুলিকে একত্রে রেডক্স বিক্রিয়া বলা হয়।
- জারণ-বিজারণ একটি যুগপৎ বিক্রিয়া। 

• কিছু বিক্রিয়াতে জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে থাকে।
→ উদাহরণ-
- সংযোজন বিক্রিয়া, 
- বিয়োজন বিক্রিয়া, 
- প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া,
- দহন বিক্রিয়া। 

• নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- এ ধরণের বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ তথা ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।

→ উদাহরণ-
- প্রশমন বিক্রিয়া,
- অধ:ক্ষেপণ বিক্রিয়া ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৪৬০.
১ কিউবিক মিটার পানির ভর কত?
  1. ১০ কেজি
  2. ১০০ কেজি
  3. ১০০০ কেজি
  4. ১০০০০ কেজি
সঠিক উত্তর:
১০০০ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০০ কেজি
ব্যাখ্যা
গলনাঙ্ক: 
- পানি যখন কঠিন অবস্থায় থাকে তখন তা বরফ। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক। 
- বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফুটনাঙ্ক: 
- য়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে বলে স্ফুটনাঙ্ক। 
- পানির স্ফুটনাঙ্ক ৯৯.৯৮০ সেলসিয়াস যা ১০০° সেলসিয়াসের খুবই কাছাকাছি, তাই সাধারণভাবে পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সেলসিয়াস। 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীন আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি আর তা হচ্ছে ১ গ্রাম/সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব।
অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬১.
দ্রবণের মধ্যে যা কম পরিমাণে থাকে এবং দ্রবীভূত হয় তাকে কী বলা হয়? 
  1. দ্রব 
  2. যৌগ 
  3. অণু 
  4. দ্রাবক 
সঠিক উত্তর:
দ্রব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রব 
ব্যাখ্যা

দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়।

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন-
ক) সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

খ) অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

গ) অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬২.
প্রস্বেদন বলতে বোঝায়- 
  1. পানি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া 
  2. উদ্ভিদের শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া 
  3. উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
  4. উদ্ভিদদেহে পানি শোষণ প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন: 
- উদ্ভিদদেহ থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলা হয়। 
- প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদদেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়, এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। 
- তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। 
- এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি 'Necessary evil'. 
- উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। 
- কারণ প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। 
- প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। 
- কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে তার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: ১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, ২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং ৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৩.
অ্যালকোহল কী ধরনের পদার্থ? 
  1. দাহ্য
  2. বিস্ফোরক
  3. বিষাক্ত 
  4. উত্তেজক 
সঠিক উত্তর:
দাহ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাহ্য
ব্যাখ্যা

বিষাক্ত পদার্থ: 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। 
- এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

বিস্ফোরক পদার্থ: 
- এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। 
- তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এ ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ। 

দাহ্য পদার্থ: 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। 
- এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে, তাই এদের আগুন বা তাপ থেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ: 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। 
- এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ব্যবহার করতে হবে। 

উল্লেখ্য,
- কিছু অ্যালকোহল (যেমন- মিথানল) বিষাক্ত হলেও, "অ্যালকোহল" শব্দটি সাধারণভাবে সবসময় বিষাক্ত বোঝায় না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৪.
নিচের কোন পদার্থটির নির্দিষ্ট আকার ও নির্দিষ্ট আয়তন উভয়ই থাকে? 
  1. অ্যামোনিয়া 
  2. পানি 
  3. কয়লা 
  4. অ্যালকোহল 
সঠিক উত্তর:
কয়লা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৫.
হিলিয়াম ভর্তি বেলুন বাতাসে উপরে উঠে যায়, কারণ- 
  1. হিলিয়াম বিস্ফোরণযোগ্য গ্যাস
  2. হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
  3. হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে বেশি
  4. হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্বের সমান
সঠিক উত্তর:
হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিলিয়ামের ঘনত্ব বাতাসের চেয়ে কম
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V.
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক হচ্ছে কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার বা কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kgm-3)। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা [ρ] = ML-3 পাওয়া যায় । 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
-  পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 

দৈনন্দিন জীবনে ঘনত্বের ব্যবহার: 
- দেহের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে বেশি বলে মাটিতে হাটতে, বসতে বা চলাফেরা করা যায়। পানিতে ভাসার ক্ষেত্রে দেহের অভ্যন্তরের বাতাস সহায়তা করে। বাতাসের ঘনত্ব পানির ঘনত্ব থেকে কম। নৌকা, ভেলা, পানিতে ভাসমান দ্রব্য নির্মাণে পানি থেকে কম ঘনত্ব সম্পন্ন বস্তু ব্যবহৃত হয় বা এমন কৌশল ব্যবহৃত হয় যাতে ভাসমান বস্তুকে পানি থেকে হালকা করে দেয়। 
- বেলুন ওড়ানোর জন্য এর মধ্যে হিলিয়াম গ্যাস পূর্ণ করা হয়। হিলিয়াম গ্যাসের ঘনত্ব বাতাসের ঘনত্ব থেকে কম তাই বেলুন বাতাসের মধ্যে উপরে উঠে যায়। 
- কার্বন মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস, এর মধ্যে শ্বাস নেয়া যায় না। কিন্তু এরা অক্সিজেন, নাইট্রোজেন থেকে ভারি বলে বায়ুমণ্ডলের একেবারে নিচে অবস্থান করে, ফলে বায়ুতে স্বচ্ছন্দে শ্বাস নেওয়া যায়। 
- পানি থেকে পানির বাষ্প বা গরম বাতাসের ঘনত্ব কম বলে খাবার রান্না করার সময় বা তপ্ত খাবার ঠান্ডা করার জন্য পাত্রের মুখ খোলা রাখা হয়। 
- জলীয় বাষ্প কম ঘনত্বের কারণে আকাশে উঠে, যা মেঘের সৃষ্টি করে। আবার, বায়ুমণ্ডলের বাতাস থেকে পানির ঘনত্ব বেশি বলে বৃষ্টির পানি পৃথিবী পৃষ্ঠে নেমে আসে। তাপের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের বাতাসের ঘনত্বের তারতম্য হয় বলেই পৃথিবীতে বায়ু প্রবাহ হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৬.
In a neutralization reaction, what substance is typically generated?
  1. Water
  2. Sodium hydroxide
  3. Hydrochloric acid
  4. Carbon dioxide
  5. Methane
সঠিক উত্তর:
Water
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Water
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralization Reaction):
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়।

- যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়।
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৭.
নিচের কোনটি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. সিলভার ক্লোরাইড
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব, আবার চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

২। অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৮.
যে পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে কী বলা হয়?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোমার
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়

আইসোমার:
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৯.
অভিস্রবনে কোনটির স্থানান্তর ঘটে?
  1. দ্রবণ
  2. দ্রাবক
  3. দ্রব
  4. প্রথমে দ্রব ও এরপর দ্রাবক
সঠিক উত্তর:
দ্রাবক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাবক
ব্যাখ্যা
• অভিস্রবনে দ্রবণের দ্রাবক অণুর স্থানান্তর ঘটে। 

• অভিস্রবণ:

- অভিস্রবণ (Osmosis) হল একটি ভৌত প্রক্রিয়া, যেখানে একটি অর্ধভেদ্য পর্দা (semi-permeable membrane) দিয়ে ঘেরা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ এর মধ্যে দ্রাবক (যেমন: পানি) কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে (spontaneously) চলাচল করে। 

• অভিস্রবণের বৈশিষ্ট্য:
→ অর্ধভেদ্য পর্দা:
- অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি অর্ধভেদ্য পর্দা অপরিহার্য। এই পর্দা শুধুমাত্র দ্রাবক অণুগুলোকে (যেমন: পানি) চলাচল করতে দেয়, কিন্তু দ্রবীভূত পদার্থ (যেমন: লবণ) চলাচল করতে দেয় না।
→ ঘনত্বের পার্থক্য:
- দ্রবণ দুটির মধ্যে দ্রাবকের ঘনত্বের পার্থক্য থাকতে হবে। অভিস্রবণ প্রক্রিয়া এই পার্থক্যের কারণে ঘটে।
- যতক্ষণ পর্যন্ত উভয় দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই চলাচল  চলতে থাকে।
→ স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া:
- অভিস্রবণ একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া, অর্থাৎ এখানে কোনো বাহ্যিক শক্তির প্রয়োজন হয় না।
→ ব্যাপনের একটি প্রকার:
- অভিস্রবণ মূলত ব্যাপন প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ রূপ, যেখানে দ্রাবক অণুগুলি চলাচল করে।  
→ অভিস্রবণের গুরুত্ব:  
- উদ্ভিদের শিকড় দিয়ে পানি শোষণ, কোষের অভ্যন্তরে পানি চলাচল, এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় অভিস্রবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

তথ্যসূত্র:
- বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, NCTB।
৪৭০.
সোডিয়ামের ভর সংখ্যা কত?
  1. ২৩ 
  2. ১২ 
  3. ২২ 
  4. ১১ 
সঠিক উত্তর:
২৩ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ 
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম (Fundamental property)। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে ১ টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা ১ । আবার, কার্বনের পরমাণুতে ৬ টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬ । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ৬ টি এবং নিউট্রন সংখ্যা ৬ টি। 

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা ১১ টি এবং নিউট্রন সংখ্যা ১২ টি, তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা ২৩ । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭১.
মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণির ভিত্তি কী ছিল?
  1. পারমাণবিক ব্যাসার্ধ
  2. ইলেকট্রন বিন্যাস
  3. নিউট্রনের সংখ্যা
  4. পারমাণবিক ভর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভর
ব্যাখ্যা

• মেন্ডেলিফ তাঁর পর্যায় সারণি পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজিয়েছিলেন।
- 1869 সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানী মেন্ডেলিফ সকল মৌলের ধর্ম পর্যালোচনা করে একটি পর্যায় সূত্র প্রদান করেন।

• সূত্রটি হলো: "মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলি তাদের পারমাণবিক ভর বৃদ্ধির সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।"

• এ সূত্র অনুসারে তিনি তখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত 63টি মৌলকে তার তৈরি পর্যায় সারণিতে 12টি আনুভূমিক সারি আর ৪টি খাড়া কলামের একটি ছকে পারমাণবিক ভর বৃদ্ধি অনুসারে সাজান। 
- এই পর্যায় সারণির ভিত্তি ছিলো মৌলের পারমাণবিক ভর। 
- তার পর্যায় সারণি অনুসারে "একই কলাম বরাবর সকল মৌলের ধর্ম একই রকমের এবং একটি সারির প্রথম মৌল থেকে শেষ মৌল পর্যন্ত মৌলগুলোর ধর্মের ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন ঘটে।" 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৪৭২.
পরমাণুতে শক্তিস্তর সম্পর্কে ধারণা দেন নীচের কোন বিজ্ঞানী?
  1. চ্যাডউইক
  2. নীলস বোর
  3. ম্যাক্সওয়েল
  4. রাদারফোর্ড
সঠিক উত্তর:
নীলস বোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলস বোর
ব্যাখ্যা

বোর পরমাণু মডেল (Bohr Atom model):
- পরমাণুর গঠন সম্পর্কে ১৯১৩ সালে ডেনমার্কের পদার্থবিজ্ঞানী নীলস বোর রাদার ফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণসহ ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব যুক্ত করে একটি মডেল প্রদান করেন।
- এটি বোর পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।

বোর মডেলের প্রস্তাবনা সমূহ হলো- 
• শক্তিস্তর সম্পর্কিত প্রস্তাব: নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ইলেকট্রন আবর্তন করে। এসব কক্ষপথে আবর্তনকালে ইলেকট্রন কোন শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে না। এসব কক্ষপথকে শক্তিস্তর (energy level) বলা হয়।

• কৌনিক ভরবেগ সম্পর্কিত প্রস্তাব: অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিক্রমণরত ইলেকট্রনের কৌনিক ভরবেগ নির্দিষ্ট এবং তা h/2π এর গুণিতক। এখানে h হল প্লাঙ্কের ধ্রুবক। 

• শক্তির বিকিরণ সম্পর্কিত প্রস্তাব: ইলেকট্রন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে লাফ দিয়ে উচ্চ শক্তিস্তরে অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে নিম্ন শক্তি স্তরে গমন করতে পারে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৭৩.
গ্যাসীয় পদার্থে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ কেমন থাকে? 
  1. সবচেয়ে বেশি 
  2. বেশি 
  3. সবচেয়ে কম 
  4. মধ্যম 
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে কম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবচেয়ে কম 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের বেলায় আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে কম এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সর্বাধিক থাকে। ফলে অণুসমূহ স্থির অবস্থানে এবং পরস্পরের যথাসম্ভব নিকটে থাকে। 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন অবস্থায় অণুর স্থানান্তর ও আবর্তন গতি প্রায় থাকে না; তবে অণুসমূহের কম্পন গতি থাকে। যেহেতু তাপমাত্রা বাড়লে আন্তঃআণবিক দূরত্ব কিছুটা বাড়ে ও অণুর কম্পন বাড়ে; সেহেতু তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কঠিন পদার্থের আয়তন কিছুটা বাড়ে, তবে এ বৃদ্ধি খুবই কম। 

 তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ ও অণুর স্থানান্তর গতি প্রায় সমান থাকে, তাই অণু বা কণাসমূহ স্থির অবস্থানে থাকে না। 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। কিন্তু যেহেতু তরল অবস্থাতেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে থাকে; সেহেতু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- যেহেতু তাপমাত্রা বাড়ালে অণুসমূহের স্থানান্তর, আবর্তন ও কম্পন গতি বৃদ্ধি পায়, তাই তরল পদার্থের আয়তনও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ে। কিন্তু এক্ষেত্রেও আয়তন বৃদ্ধি খুব বেশি নয়; কেননা, তিন প্রকার গতি বৃদ্ধি পেলেও কণাসমূহ পরস্পরের যথাসম্ভব সন্নিকটে অবস্থান করে। তবে তরল পদার্থের অণুসমূহ কঠিন পদার্থের তুলনায় কম সুশৃঙ্খল থাকে। 

 গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের বেলায় আস্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি ও আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে, তাই গ্যাসীয় অবস্থায় অণুসমূহ সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে। 
- তখন অণুসমূহ অধিকতর কম্পন, আবর্তন ও স্থানাস্তর গতি সহকারে আন্তঃআণবিক আকর্ষণকে উপেক্ষা করে মুক্তভাবে চলাচল করে। 
- তখন অণুসমূহ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাই গ্যাসের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই। 
- যেহেতু অণুসমূহ আর পরস্পরের নিকটে থাকে না, সেহেতু গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের আয়তন কঠিন বা তরল অবস্থা থেকে অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

৪৭৪.
প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণু কোনটিতে রূপান্তরিত হয়? 
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন
  3. নিউট্রন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। 
- তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৫.
নিচের কোন মিশ্রণে ঊর্ধ্বপাতন ব্যবহার করে পদার্থ আলাদা করা যায় না? 
  1. কর্পূর + বালি 
  2. বালি + গ্লুকোজ 
  3. নিশাদল + লবণ 
  4. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড + লবণ 
সঠিক উত্তর:
বালি + গ্লুকোজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বালি + গ্লুকোজ 
ব্যাখ্যা

ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়। 

ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ার প্রয়োগ: 
- কোনো কঠিন পদার্থের মিশ্রণের মধ্যে একটি উদ্বায়ী পদার্থ মিশ্রিত থাকলে ঐ উদ্বায়ী পদার্থকে মিশ্রণ থেকে সহজে পৃথক করা যায়।
যেমন- নিশাদল বা অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) এর সাথে খাদ্য লবণ (NaCl) মিশ্রিত থাকলে ঊর্ধ্বপাতন পদ্ধতির মাধ্যমে নিশাদলকে পৃথক করা যাবে। 
- বালি এবং গ্লুকোজের মিশ্রণের মধ্যে কোনো উদ্বায়ী পদার্থ নেই, কাজেই তাপ প্রয়োগ করে বালি এবং গ্লুকোজের মিশ্রণ থেকে বালি বা গ্লুকোজকে আলাদা করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৬.
কোনো গ্যাসের আণবিক ভর বেশি হলে তার ব্যাপনের হার কী হবে? 
  1.  শূন্য হবে 
  2.  কম হবে 
  3.  বেশি হবে 
  4. অপরিবর্তিত থাকবে 
সঠিক উত্তর:
 কম হবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 কম হবে 
ব্যাখ্যা

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাস বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অণু প্রবেশকে ব্যাপন বলে। 
- ঘরের মশা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে আমরা যে অ্যারোসল ব্যবহার করি তা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 
- রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনাহেনা ফুল ফুটলে তার সুবাসও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আণবিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম, আবার যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত অধিক। 

নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্ন চাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন: রিক্সার চাকা থেকে বাতাস বের হয়ে যাওয়া, গ্যাসের পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হলো নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৭.
তরল থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হলে কোনটির আয়তন কমে যায়?
  1. ক) পিতল
  2. খ) বরফ
  3. গ) ঢালাই লোহা
  4. ঘ) প্যারাফিন মোম
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্যারাফিন মোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্যারাফিন মোম
ব্যাখ্যা
তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরকে কঠিনীভবন (Solidification) বলে।
১. সাধারণত তরল থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হলে আয়তন কমে যায়। তামা, প্যারাফিন মোম।
২. তরল থেকে কঠিন অবস্থায় রূপান্তরিত হলে আয়তন বেড়ে যায় - বরফ, ঢালাই লোহা, পিতল, বিসমাথ, অ্যান্টিমনি, ছাপার হরফ।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৮.
ইলেকট্রনের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. চার্জহীন
  2. ভরহীন 
  3. ধনাত্মক চার্জধারী
  4. ঋণাত্মক চার্জধারী 
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক চার্জধারী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণাত্মক চার্জধারী 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- 
১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৯.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন মৌল?
  1. রেডন
  2. টেনেসিন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ট্যান্টালাম
সঠিক উত্তর:
টেনেসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেনেসিন
ব্যাখ্যা
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
- যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

হ্যালোজেন মৌল: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।

- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
- যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
- যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮০.
নিচের কোন ধাতুটি অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে সবচেয়ে সহজে জারিত হয়?
  1. সোনা
  2. রূপা
  3. পটাসিয়াম
  4. তামা
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
পটাসিয়াম (K) হলো একটি খুবই সক্রিয়  ধাতু, যা অক্সিজেনের সাথে খুব সহজেই জারণ বিক্রিয়া করে। এটি একটি ক্ষার ধাতু (alkali metal)। 
- ক্ষার ধাতুগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত সহজে অক্সিজেন এবং পানি সহ অন্যান্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে।
- পটাসিয়াম অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে জারিত হয়ে পটাসিয়াম অক্সাইড (K₂O) বা পটাসিয়াম পারঅক্সাইড (K₂O₂) তৈরি করে।
- এটিকে কেরোসিন তেলে ডুবিয়ে রাখা হয় কেননা বাতাস / পানির সংস্পর্শে এটির বিস্ফোরণ ঘটে।  

ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজ (Reactivity Series):
পটাসিয়াম (K) > সোডিয়াম (Na) > ক্যালসিয়াম (Ca) > ম্যাগনেসিয়াম (Mg) > অ্যালুমিনিয়াম (Al) > জিংক (Zn) > আয়রন (Fe) > টিন (Sn) > লেড (Pb) > কপার (Cu) > মার্কারি (Hg) > সিলভার (Ag) > গোল্ড (Au)
অর্থাৎ সক্রিয়তা সিরিজে পটাশিয়াম উপরে অবস্থান করায় এটি বেশ সক্রিয়। 

অন্যদিকে, 
সোনা (Gold): সোনা অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং সহজে অক্সিজেনের সাথে প্রতিক্রিয়া করে না।

রূপা (Silver): রূপা অক্সিজেনের সাথে কিছুটা প্রতিক্রিয়া করতে পারে, কিন্তু পটাসিয়ামের মতো দ্রুত নয়।

তামা (Copper): তামা কিছুটা প্রতিক্রিয়া করতে পারে, তবে এটি পটাসিয়ামের তুলনায় অনেক কম প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা প্রদর্শন করে।


তথ্যসূত্র:

- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
- "Chemistry: The Central Science" by Brown, LeMay, Bursten — Reactivity of Alkali Metals chapter.
৪৮১.
নিচের কোন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়?
  1. ন্যাপথলিন 
  2. আয়োডিন
  3. নিশাদল 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- 
নিশাদল (NH4Cl)
• কর্পূর (C10H16O), 
ন্যাপথলিন (C10H8)
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), 
আয়োডিন (I2)
• অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3)। 
- এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮২.
অণুসমূহ পরস্পরকে যে শক্তিতে আকর্ষণ করে তাকে কি বলে?
  1. ক) রাসায়নিক বন্ধন
  2. খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি
  3. গ) রাসায়নিক শক্তি
  4. ঘ) নিউক্লিয় বল
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা
আন্তঃআণবিক শক্তির কারণে অণুসমূহ পরস্পরের সন্নিকটে থাকতে চায় কিন্তু অণুসমূহ সর্বদা কম্পমান। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে কম্পন বৃদ্ধি পায় এবং অণুসমূহ পরস্পর হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। আন্তঃআণবিক শক্তি নির্ভর করে পদার্থের প্রকৃতির উপর।
৪৮৩.
পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ কোন তাপমাত্রায় হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ২৫° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৪.
হাইড্রোজেন পরমাণুর বর্ণালীর ধারণা কোন পরমাণু তত্ত্ব থেকে পাওয়া যায়?
  1. ক) রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল
  2. খ) বোর পরমাণু মডেল
  3. গ) হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তা সূত্র
  4. ঘ) প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তথ্য
সঠিক উত্তর:
খ) বোর পরমাণু মডেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বোর পরমাণু মডেল
ব্যাখ্যা
পরমাণুর ইলেক্ট্রন যখন নিম্ন শক্তি স্তর থেকে উচ্চ শক্তিস্তরে বা উচ্চ শক্তি স্তর থেকে নিম্ন শক্তিস্তরে গমন করে তখন শক্তির শোষণ বা বিকিরণ ঘটে যার কারণে বর্ণালীর উৎপন্ন হয়। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল অনুসারে কোনাে মৌলের পারমাণবিক বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায় না।
কিন্তু বােরের পরমাণু মডেল অনুসারে এক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণু হাইড্রোজেন (H) এর বর্ণালি ব্যাখ্যা করা যায়।
৪৮৫.
নিচের কোনটি যৌগিক পদার্থ?
  1. লোহা
  2. পানি
  3. সোনা 
  4. রূপা 
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে ভাঙলে সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা বা লোহা ইত্যাদি বিশুদ্ধ পদার্থকে যতই ভাঙ হউক না কেন সেখানে তাদের ক্ষুদ্রতর কণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না। 
- এরকম আরও কিছু মৌলের উদাহরণ হলো- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, কার্বন, অক্সিজেন, হিলিয়াম, ক্যালসিয়াম, আর্গন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার ইত্যাদি। 
- এ পর্যন্ত 118 টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে যার মধ্যে 98টি মৌল প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলে। 
- মানব শরীরে মোট 26 ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে। 

যৌগিক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগ বা যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানিকে যদি ভাঙা হয় (অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়) তবে কিন্তু দুটি ভিন্ন মৌল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যাবে। আবার, লেখার চককে যদি ভাঙা যায় তাহলে সেখানে ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেন এ তিনটি মৌল পাওয়া যাবে। 
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে। 
যেমন- যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হউক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে অর্থাৎ পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 2 : 1 । 
- যৌগের ধর্ম কিন্তু মৌলসমূহের ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। 
যেমন- সাধারণ তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসীয় কিন্তু এদের থেকে উৎপন্ন যৌগ পানি সাধারণ তাপমাত্রায় তরল। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৬.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই?
  1. ইট
  2. অ্যামোনিয়া
  3. পারদ
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
পারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৭.
কোন পদার্থটি বোতলে রেখে দিলে সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে?
  1. পানি
  2. বাতাস
  3. দুধ
  4. পাউডার
সঠিক উত্তর:
বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাস
ব্যাখ্যা
- যদি সমপরিমাণ বাতাস দুইটি বোতলে রাখা হয় তাহলে তা ছোট বোতলের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ বাতাস বড় বোতলে রাখলেও তা সম্পূর্ণ বোতল জুড়ে থাকবে। 

কঠিন পদার্থ: 

- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি আছে, কোনো বস্তু যতটুকু জায়গা দখল করে সেটিই ঐ বস্তুর আয়তন। 
- সকল কঠিন বস্তুই জায়গা দখল করে, তাই সকল কঠিন বস্তুরই আয়তন আছে। 
- কঠিন পদার্থের আয়তন ও আকার সহজে পরিবর্তন করা যায় না। 
- এরা যথেষ্ট দৃঢ় অর্থাৎ এদের দৃঢ়তা আছে। তবে কিছু কিছু কঠিন পদার্থের দৃঢ়তা কম। 
যেমন: সরিষার দানা, ভাত, কলা ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই, এটি যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আকৃতি ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে, কারণ কঠিন পদার্থের মতো এরাও জায়গা দখল করে। 
- এদের আয়তন পরিমাপ করা যায়। পাত্রভেদে আকৃতি পরিবর্তন হলেও আয়তন কিন্তু একই থাকে। 
- যেহেতু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই, আকৃতি পরিবর্তনশীল, সেহেতু বলা যায় যে এরা কঠিন পদার্থের মতো দৃঢ় নয়, অর্থাৎ তরল পদার্থের দৃঢ়তা নেই। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থ যেমন- বাতাসের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নেই। 
- একই পরিমাণ গ্যাস ছোট পাত্রে রাখলে এর আয়তন কম হয় আবার বড় পাত্রে রাখলে এর আয়তন বেশি হয়। 
যেমন- যদি সমপরিমাণ গ্যাস দুইটি সিলিন্ডারে রাখা হয় তাহলে তা ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে, তেমনি একই পরিমাণ গ্যাস বড় সিলিন্ডরে রাখলেও তা সম্পূর্ণ সিলিন্ডার জুড়ে থাকবে। অর্থ্যাৎ, গ্যাসীয় পদার্থ যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আয়তনই গ্যাসের আয়তন। 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই, দৃঢ়তা তো একবারেই নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৮৮.
হাইড্রোজেনের মোট আইসোটোপ সংখ্যা কতটি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৯.
কোনটি থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার?
  1. পলিথিন
  2. ব্যাকেলাইট
  3. ফাইবার গ্লাস
  4. মেলামাইন
সঠিক উত্তর:
পলিথিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলিথিন
ব্যাখ্যা
• কৃত্রিম পলিমার:
• পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার।
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি।
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
যেমন-
• থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার:
- এটি সহজেই গলানো ও পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
- সাধারণত প্লাস্টিক ব্যাগ, বোতল, পাইপ, তারের আবরণে ব্যবহৃত হয়।
- এটি নরম ও নমনীয় (flexible) হওয়ায় সহজে আকৃতি পরিবর্তন করা যায়।
- উদাহরণ: পলিপ্রোপিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড, পলিস্টাইরিন, পলিথিন

• থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক:

- থার্মোসেটিং প্লাষ্টিকের ক্ষেত্রে এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়।
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়।
যেমন- ব্যাকেলাইট,মেলামাইন, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
মেন্ডেলিফ ও লোথার মেয়ারের পর্যায় সূত্র অনুযায়ী- মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী উহাদের ____________সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
  1. পারমাণবিক সংখ্যার
  2. ইলেক্ট্রন সংখ্যার
  3. পারমাণবিক ভরের
  4. আণবিক ভরের
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভরের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক ভরের
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণি সম্পর্কিত সূত্রসমূহ:
- আধুনিক পর্যায় সারণি: বিজ্ঞানী বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলে। এ পর্যায় সারণিতে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ বর্তমান।
- ত্রয়ী সূত্র: ত্রয়ী সূত্রগুলোর মাধ্যমে মৌলের পারমাণবিক ভর দলের অপর দুটি মৌলের গড় পারমাণবিক ভরের সমান এবং ত্রয়ী মৌল তিনটির পারমাণবিক ভরের পার্থক্য একটি ধ্রুবক।

- মেন্ডেলিফ ও লোথার মেয়ারের পর্যায় সূত্র: মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী উহাদের পারমাণবিক ভরের সাথে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
- আধুনিক পর্যায় সূত্র: মৌল সমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলী তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯১.
কোনটি জারক হিসেবে কাজ করে? 
  1. Cl2
  2. H2
  3. Na
  4. H2S
সঠিক উত্তর:
Cl2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cl2
ব্যাখ্যা

জারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা। 
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়। 
যেমন- O2, Cl2, F2, H2SO4, HNO3, H2O2, SO2 ইত্যাদি জারক পদার্থ। 

বিজারক পদার্থ: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা। 
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়। 
যেমন- H, Li, Na, K, Rb প্রত্যেকেই তীব্র বিজারক। 
- এছাড়াও Mg, Ca, H2S, H2O2, SO2 প্রভৃতি বিজারক পদার্থ। 

উল্লেখ্য, 
- H2O2 সচরাচর জারকের মত ব্যবহার করলেও অম্লীয় বা ক্ষারীয় দ্রবণে বিজারক হিসেবে কাজ করে। 
- SO2 একই সাথে জারক এবং বিজারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ইন্ডিয়া।

৪৯২.
কোন ধরনের পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে? 
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. বায়বীয়
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৩.
NaCl যৌগে নিচের বিক্রিয়াটি - 
  1. জারণ অর্ধ বিক্রিয়া
  2. বিজারণ অর্ধ বিক্রিয়া
  3. জারণ বিজারন বিক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জারণ অর্ধ বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারণ অর্ধ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও
যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।

NaCl যৌগেঃ


উৎস - নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৪৯৪.
আইসোবারের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
  2. প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন
  3. নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
  4. ইলেকট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন
সঠিক উত্তর:
ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন
ব্যাখ্যা

• যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা (প্রোটন + নিউট্রন) সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন, তাদের একে অপরের আইসোবার বলা হয়।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে।
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৫.
কোনটি উভধর্মী অক্সাইড? 
  1. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. জিংক অক্সাইড
  3. কার্বন মনো-অক্সাইড
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
জিংক অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিংক অক্সাইড
ব্যাখ্যা
অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3)। 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন- অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৬.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত? 
  1. 11
  2. 23
  3. 34
  4. 12
সঠিক উত্তর:
12
উত্তর
সঠিক উত্তর:
12
ব্যাখ্যা

ভরসংখ্যা (Mass Number): 
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফলকে ঐ পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে। 
- ভরসংখ্যাকে A দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরসংখ্যা হলো প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বিয়োগ করলে নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যায়।  যেমন- সোডিয়ামের (Na) ভরসংখ্যা হলো 23, এর প্রোটন সংখ্যা 11, ফলে এর নিউট্রন সংখ্যা হচ্ছে 23 - 11 = 12 । 
- কোনো পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা পরমাণুর প্রতীকের নিচে বাম পাশে লেখা হয়, পরমাণুর ভরসংখ্যা প্রতীকের বাম পাশে উপরের দিকে লেখা হয়।  যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর প্রতীক Na, এর পারমাণবিক সংখ্যা 11 এবং ভরসংখ্যা 23 । 
- এটাকে নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করা যায়- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৭.
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের আইসোটোপ কয়টি?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
আইসোেটাপ (Isotopes): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৮.
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে? 
  1. ইলেকট্রনের অস্তিত্ব
  2. প্রোটনের উপস্থিতি
  3. নিউক্লিয়াসের অস্তিত্ব প্রমাণ
  4. পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর বর্ণালী ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- প্রস্তাবগুলো হলো- 
১। পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র থাকে এবং এটি পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর বহন করে যার নাম নিউক্লিয়াস কিন্তু আয়তন খুবই নগণ্য। 
২। নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে। পরমাণু মোট আধান নিরপেক্ষ, অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ইলেকট্রন থাকে। 
৩। ইলেকট্রনের ঘূর্ণনকে সূর্যের চারপাশে গ্রহের ঘূর্ণনের সাথে তুলনা করা হয়। ইলেকট্রন ও নিউক্লিয়াসের মধ্যে কেন্দ্রমুখী ও কেন্দ্রবিমুখী বল সমান ও বিপরীতমুখী, যা ইলেকট্রনকে স্থিতিশীলভাবে আবর্তন করতে সাহায্য করে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২। তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান চার্জযুক্ত ইলেকট্রন অবিচ্ছিন্ন শক্তি বিকিরণ করবে। এভাবে শক্তি হারালে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না। 
৩। ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে কোনো ধারণা মডেলে নেই। 
৪। একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুর ক্ষেত্রে ইলেকট্রন কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ নেই। 
৫। পরমাণুর বর্ণালী সম্পর্কেও কোনো সঠিক ব্যাখ্যা এই মডেলটি দিতে পারেনি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৯.
প্রাকৃতিকভাবে গঠিত কার্বনের তিনটি আইসোটোপের ভর সংখ্যা-
  1. ১০, ১১, ১২
  2. ১১, ১২, ১৩
  3. ১২, ১৩, ১৪
  4. ১১, ১২, ১৪
সঠিক উত্তর:
১২, ১৩, ১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২, ১৩, ১৪
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:

- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ, কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়।
- কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটনের সংখ্যা মৌলটিকে অনন্য রূপে শনাক্ত করে।
- কিন্তু নীতিগতভাবে একটি মৌলের যে কোনো সংখ্যক নিউট্রন থাকতে পারে।
- মৌলের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের সংখ্যার সমষ্টি হলো এর ভরসংখ্যা।
- এ কারণেই কোনো মৌলের প্রত্যেকটি আইসোটোপের ভরসংখ্যা বিভিন্ন হয়।

• কার্বনের আইসোটোপ:

- কার্বনের তিনটি আইসোটোপ রয়েছে। 
- যাদের ভরসংখ্যা যথাক্রমে 12,13,14.
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6, অর্থাৎ প্রত্যেকটি কার্বন পরমাণুতে ছয়টি প্রোটন আছে, যার ফলে কার্বনের আইসোটোপগুলোতে যথাক্রমে 6, 7 এবং ৪ টি নিউট্রন রয়েছে।
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে 'পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্রধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০০.
কয়টি মৌলক উপাদান নিয়ে পরমাণু গঠিত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা

পরমাণু তিনটি মৌলিক উপাদান নিয়ে গঠিত।
যথা: ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন।

- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর একটি মূল কণিকা যার আধান ঋণাত্মক। ইলেক্ট্রনকে সর্ব প্রথম নাম করণ করেন স্টোনি। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে স্যার জে. জে. থমসন সর্বপ্রথম ইলেকট্রনের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।

- প্রোটন ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট কণিকা যা নিউক্লিয়াসের মধ্যে থাকে। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রোটনের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন।

- ইলেকট্রন ও প্রোটনের ন্যায় নিউট্রনও একটি মৌলিক কণিকা তবে এটি আধানবিহীন। আধানবিহীন (neutral) হওয়ায় এর এই নাম দেয়া হয়েছে।


উৎস: নবম দশম শ্রেণির রসায়ন পাঠ্যবই।