বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্যের প্রকারভেদ

মোট প্রশ্ন৭৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্যের প্রকারভেদ

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৭৫৪

৫০১.
নিচের কোন যোজকটি সাধারণত জটিল বাক্যে ব্যবহৃত হয়?
  1. অথবা
  2. কিন্তু
  3. যেহেতু
  4. সেজন্য
সঠিক উত্তর:
যেহেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেহেতু
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:

যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৫০২.
'যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. সরল
  3. জটিল
  4. অধীন খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে।

যেমন:
যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫০৩.
নিচের কোন বাক্যটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য?
  1. তুমি কী পড়ছো?
  2. সে ফুটবল খেলছে।
  3. আমাকে একটু জল দাও।
  4. আকাশ মেঘলা।
সঠিক উত্তর:
আমাকে একটু জল দাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে একটু জল দাও।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• আমাকে একটু জল দাও।
• বিপদে ধৈর্য ধর।

অন্যদিকে,
• তুমি কী পড়ছো?; সে ফুটবল খেলছে; আকাশ মেঘলা। -  বিবৃতিবাচক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫০৪.
'উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।' - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. খণ্ড
  4. যৌগিক
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫০৫.
কোন যৌগিক বাক্য নয়?
  1. এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
  2. যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
  3. অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
  4. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
সঠিক উত্তর:
যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। - জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫০৬.
কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক বা বিস্মিত হলে কোন ধরনের বাক্য তৈরি হয়?
  1. ক) আবেগবাচক বাক্য
  2. খ) নেতিবাচক বাক্য
  3. গ) প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. ঘ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) আবেগবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
আবেগবাচক বাক্য: কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।

যেমন- 
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)
৫০৭.
'কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. কার্যকারণাত্মক বাক্য
  2. সন্দেহদ্যোতক বাক্য
  3. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
কার্যকারণাত্মক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকারণাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা
• কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন:
- কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না (শর্ত)।
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। (নিয়ম)।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০৮.
'লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়'- বাক্যটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

যৌগিক বাক্য: 
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন –
'লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়'। 
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল ।
তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৫০৯.
'যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে৷' - সরল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. যাদের বুদ্ধি নেই কিন্তু তারাই বিশ্বাস করবে এ কথা।
  2. বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  3. যেহেতু তাদের বুদ্ধি নেই, তাই তারা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  4. তারা এ কথা বিশ্বাস করবে কারণ তাদের বুদ্ধি নেই।
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
ব্যাখ্যা
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে৷
সরল বাক্য: বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- আঁখি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার জন্য কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫১০.
গফুর কত কী চিন্তা করিয়া হঠাৎ সেই সমস্যার সমাধান করিয়া ফেলিল। বাক্যটি-
  1. ক) মিশ্র
  2. খ) সরল
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) যৌগিক
সঠিক উত্তর:
খ) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরল
ব্যাখ্যা
সরলঃ গফুর কত কী চিন্তা করিয়া হঠাৎ সেই সমস্যার সমাধান করিয়া ফেলিল।
যৌগিকঃ গফুর কত কী চিন্তা করিল এবং হঠাৎ সেই সমস্যার সমাধান করিয়া ফেলিল।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫১১.
"ভাল ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।" -এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।
- ভাল ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫১২.
বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে কী বলে?
  1. বর্ণ
  2. শব্দ
  3. যোজক
  4. পদ
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবােধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন - “সজল ও লতা বই পড়ে।” – এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরােপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলাে বাক্যের একক।
- রূপতত্ত্ব অংশে শব্দশ্রেণি নামে বাক্যের এই পদ বিভাজনকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- 'সজল ও লতা বই পড়ে'- বাক্যের 'সজল', 'লতা' ও 'বই' হলাে বিশেষ্য, ‘ও' হলাে যােজক এবং ‘পড়ে' হলাে ক্রিয়া।
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছ অনেক সময়ে পদের মতাে কাজ করে। তখন সেই একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বর্গ বলা হয়।
- উপরের বাক্যে 'সজল ও লতা' একটি বর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫১৩.
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়ার অবস্থানের ভিত্তিতে বাক্যকে কয় ভাগে বিভক্ত করা যায়?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

- সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - আমার মা চাকরি করেন।

- অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন।'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫১৪.
অনুজ্ঞাবাচক বাক্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !
  2. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
সঠিক উত্তর:
আমাকে একটি কলম দাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাকে একটি কলম দাও।
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
- যেমন: আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
- যেমন: তোমার নাম কী? সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
- যেমন: দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫১৫.
একটি আদর্শ বাক্যের কয়টি গুণ থাকা আবশ্যক?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে একটি আদর্শ সার্থক বাক্যে ৩টি গুণ থাকি আবশ্যক। যথা- ১. আকাঙ্ক্ষা, ২. আসত্তি এবং ৩. যোগ্যতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৬.
‘তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।’ কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. প্রধান খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৭.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত' বাক্যটিতে কোন গুণটি নেই?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আসক্তি
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।

যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

অন্যদিকে:
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৮.
'সত্য কথা না বলে বিপদে পড়লাম' - বাক্যের যৌগিক বাক্যতে রূপান্তর কী হবে?
  1. ক) সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়লাম।
  2. খ) যেহেতু সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়লাম।
  3. গ) সত্য কথা না বললে বিপদে পড়তে হয়।
  4. ঘ) সত্য কথা বলেছি এবং বিপদে পড়লাম।
সঠিক উত্তর:
ক) সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়লাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়লাম।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। 
- এবং যথাসম্ভব সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হয়।
- বাক্যটির যৌগিক রূপ হবে - সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়লাম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ -২০১৯)।
৫১৯.
যৌগিক বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
  2. দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
  3. আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি
  4. তুমি যদি ভালো হও, তবে সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
সঠিক উত্তর:
দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- তুমি যদি ভালো হও, তবে সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
- বাক্যগুলো জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২০.
'এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ -
  1. এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে না।
  2. এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না।
  3. এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলার উপায় থাকে না।
  4. এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলতে হয়।
সঠিক উত্তর:
এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না।
ব্যাখ্যা
• 'এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ - এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না

• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'
- এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা বলে

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'
- এই জন্যই তোমাকে সকলে প্রিয়ংবদা না বলে পারে না

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২১.
"তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।" - বাক্যে কোন প্রকার আশ্রিত খণ্ডবাক্য ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  2. ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
  3. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  4. অব্যয় স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা:
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।

বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা-
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।
তদ্রুপ -
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫২২.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞামূলক বাক্য নয়?
  1. ক) ঐ দিকে যেয়ো না
  2. খ) কাল একবার এসো
  3. গ) কাজটি করো
  4. ঘ) সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, উপদেশ, ইত্যাদি বোঝায় তাকে অনুজ্ঞা বলে। এ বাক্যে সাধারণভাবে কর্তাটি উহ্য থাকে।
যেমন-
কাজটি করো (আদেশ)
ঐ দিকে যেয়ো না (নিষেধ)
কাল একবার এসো (অনুরোধ)
সদা সত্যকথা বলবে ( উপদেশ)।
‘অন্যদিকে সূর্য পূর্বদিকে উদিত হয়’- এটি বিবৃতিমূলক বাক্য।
উৎস : শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫২৩.
নিচের কোনটি সরল বাক্য?
  1. তপুর বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
  2. পিতা তো আছেন তাই পুত্রকে খোঁজ কেন?
  3. লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
  4. দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
সঠিক উত্তর:
লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- পরিশ্রমীরা জীবনে সাফল্য লাভ করে।

এরূপ- 
- লোকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
[ এটিও একটি সরল বাক্য। বাক্যে (একটি কর্তা + একটি বিধেয়) রয়েছে।] 

অন্যদিকে,
• তপুর বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 
• পিতা তো আছেন তাই পুত্রকে খোঁজ কেন?- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 
• দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।- একটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫২৪.
'হজরত মুহম্মদ (স) ছিলেন একজন আদর্শ মানব' বাক্যটি নিম্নোক্ত একটি শ্রেণির-
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক
  4. পরোক্ষ
সঠিক উত্তর:
সরল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল 
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
- বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

তেমনিভাবে,
- হজরত মুহম্মদ (স) ছিলেন একজন আদর্শ মানব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫২৫.
"কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না" - বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করা উচিত নয়।
  2. যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
  3. কর্মরত ব্যক্তি বিরক্ত হয় না।
  4. সে কর্মরত ব্যক্তি এবং তাকে বিরক্ত করো না।
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে ।
- জটিল বাক্য হলো সেই বাক্য, যেখানে একটি প্রধান বাক্য এবং একটি বা একাধিক আশ্রিত বাক্য থাকে এবং আশ্রিত বাক্যটি অব্যয় বা সম্পর্কবাচক সর্বনাম দ্বারা প্রধান বাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

বাক্য বিশ্লেষণ:
কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না → এটি সরল বাক্য।

এর জটিল বাক্য রূপ হবে:
"যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫২৬.
'যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক 
  2. সরল 
  3. খণ্ডবাক্য 
  4. জটিল 
সঠিক উত্তর:
জটিল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল 
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি।
নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন তখন, যেমন- তেমন, বরং তবু, যেইনা- অমনি, যেহেতু সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।
যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫২৭.
“মা গভীর রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে জেগে উঠে পায়চারি করতে করতে ছেলেকে ফোনকল করলেন।” - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন -
পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন -
আমরা তিন ভাইবােন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন -
তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৫২৮.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. ক) সে বই পড়ছে
  2. খ) সে গভীর চিন্তায় মগ্ন
  3. গ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
  4. ঘ) সে ঘুমিয়ে আছে
সঠিক উত্তর:
গ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম একই ধাতু থেকে গঠিত হলে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে। এখানে ‘চাল' কর্ম এবং চেলেছে ক্রিয়াপদ একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫২৯.
"সে সৎ, অথচ গরিব।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য: 
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন- 
- সে সৎ, অথচ গরিব।
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
--------------
• "সে সৎ, অথচ গরিব।" - বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

কারণ:
যৌগিক বাক্যে দুটি বা ততোধিক সরল বাক্য সংযোজক অব্যয় (যেমন: এবং, অথচ, কিন্তু, তাই ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত থাকে।

এখানে,
দুটি অংশ: (সে সৎ; গরিব) - "অথচ" - সংযোজক অব্যয় ব্যবহার করে যুক্ত হয়েছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫৩০.
বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নাম কী?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. পূর্ণতা
  4. যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলো অর্থগত ও ভাবগত দিক থেকে মিলে গেলে সে বাক্য যোগ্যতা সম্পন্ন হবে।
যেমন- বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি হয়। পাখিরা আকাশে উড়ে। এ বাক্য দুটি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে অর্থ প্রকাশে কোনো সমস্যা হয়নি।
- কারণ বাক্য দুটিতে ভাবগত ও অর্থগত সমন্বয় রয়েছে। কিন্তু যদি বলা হয়, বর্ষার রোদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। মাছেরা আকাশে উড়ে।
- তাহলে বাক্য দুটি যোগ্যতা হারাবে। কারণ বাস্তবতার সঙ্গে বাক্য দুটির কোনো মিল নেই।
- বাক্যের অর্থ ও বাস্তবতার সাথে মিল থাকতে হবে। অর্থাৎ বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলন বন্ধন থাকতে হবে।

অন্যদিকে,
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩১.
'যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে।'- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. নিরপরাধ বলেই, সে মুক্তি পাবে। 
  2. সে নিরপরাধ এবং তাই মুক্তি পাবে। 
  3. সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
  4. সে নিরপরাধ সেহেতু সে মুক্তি পাবে।
সঠিক উত্তর:
সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। 
• যৌগিক বাক্য: সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে। 

• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল: যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৩২.
নিচের কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  2. যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
  3. সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
  4. পড়াশোনা কর, নচেৎ ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
সঠিক উত্তর:
যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।

অন্যদিকে, 
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
• যৌগিক বাক্য: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
• যৌগিক বাক্য: পড়াশোনা কর, নচেৎ ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

৫৩৩.
কোনটি অস্তিবাচক বাক্য?
  1. এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
  2. এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  3. কিন্তু বরফ গলিল না।
  4. তোমার এরূপ ব্যবহার উচিত হয়নি।
সঠিক উত্তর:
এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
ব্যাখ্যা
অস্তিবাচক বাক্য/ হাঁ বাচক বাক্য:
যে বাক্যে সমর্থনের মাধ্যমে কোন কিছু বর্ণনা করা হয়, তাকে অস্তিবাচক বাক্য বা হাঁ বাচক বলে।
অন্যভাবে, যে বাক্যে হাঁ বাচক শব্দ থাকে, তাকে হাঁ বাচক বা অস্তিবাচক বাক্য বলে।

যেমন:
- তুমি কালকে আসবে।
- এ কথা আমরা অবিশ্বাস করি।
- আপনি আমায় অবিশ্বাস করেছেন।

অন্যদিকে,
--------------
• নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন:
- এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
- কিন্তু বরফ গলিল না।
- তোমার এরূপ ব্যবহার উচিত হয়নি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৪.
‘সজল স্কুলে যায়।’ — এখানে “স্কুলে যায়” কী?
  1. বিধেয়
  2. কর্তা
  3. উদ্দেশ্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয়
ব্যাখ্যা
উদ্দেশ্য ও বিধেয়:
- বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।

যেমন:
- সজল স্কুলে যায়।
এখানে, উদ্দেশ্য হচ্ছে 'সজল' এবং বিধেয় হচ্ছে 'স্কুলে যায়'।

- বিশেষ্য বা বিশেষ্যস্থানীয় অন্যান্য পদ বা পদসমষ্টিযোগে গঠিত বাক্যাংশও বাক্যের উদ্দেশ্য হতে পারে।
যেমন:
- সৎ লোকেরাই প্রকৃত সুখী। (বিশেষ্যরূপে ব্যবহৃত বিশেষণ)।
- মিথ্যা কথা বলা খুবই অন্যায়। (ক্রিয়াজাত বাক্যাংশ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৫.
'জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি কর্তা বা উদ্দেশ্য ও একটিই সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন:
খোকন বই পড়ছে।
আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।
জগতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৩৬.
'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Adjective clause):
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যথা -
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।
তদ্রুপ -
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৭.
এখন আর ভাত খাব না, এক কাপ চা দাও। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক
ব্যাখ্যা
দুটি সরল বাক্যের মাঝে কমা হলেও যৌগিক বাক্য হতে পারে, এক্ষেত্রে কমাই যোজকের কাজ করে, অর্থাৎ যোজক উহ্য থাকে। যেমন : 
শাপলা পড়ছে, শালুক ঘুমিয়ে পড়েছে। (‘আর’ লোপ)
তুমি যাবে, বেশিক্ষণ বসবে না। (‘তবে’ লোপ)
এখন আর ভাত খাব না, এক কাপ চা দাও। (‘বরং’ লোপ)

উৎস: বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৫৩৮.
‘আমার মা চাকরি করেন।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সক্রিয় বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অক্রিয় বাক্য
সঠিক উত্তর:
সক্রিয় বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সক্রিয় বাক্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় :
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন: 
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫৩৯.
‘যে রক্ষক সেই ভক্ষক।’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যিনি রক্ষক, সেই ভক্ষক।
  2. রক্ষকই, এখন ভক্ষক।
  3. যিনি রক্ষক, তিনিই ভক্ষক।
  4. সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
সঠিক উত্তর:
সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সূত্র ক : আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।

যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে ।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৪০.
যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে'— এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সংযুক্ত বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
একটি পূর্ণ বাক্যে যদি একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত থাকে, তবে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। যেমন- যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে।
৫৪১.
"যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. মৌলিক বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

• "যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।" এটি একটি জটিল বাক্য। 

বাক্য বিশ্লেষণ -
উপবাক্য (অধীন-বিশেষণ উপবাক্য): “যে সকল পশু মাংস ভোজন করে”- এখানে যে দ্বারা উপবাক্য শুরু হয়েছে। এটি মূল বাক্যের কর্তা “পশু”-কে বিশেষণ করছে।
মূল বাক্য: “তারা অত্যন্ত বলবান।”

---------------------
• জটিল বাক্য:

একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। 
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪২.
“তুমি আসবে বলে, আমি অপেক্ষা করছি” বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. ক) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  2. খ) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য বলে। “তুমি আসবে বলে, আমি অপেক্ষা করছি” বাক্যটিতে ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য রয়েছে। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৫৪৩.
"খাবারটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু স্বাদ তেমন ভালো নয়।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অনুজ্ঞা বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• "খাবারটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু স্বাদ তেমন ভালো নয়।" - এটি যৌগিক বাক্য। 

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
খাবারটা দেখতে সুন্দর, কিন্তু স্বাদ তেমন ভালো নয়।
সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪৪.
'যদি সত্য বলো, তাহলে মুক্তি পাবে'- এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'যদি সত্য বলো, তাহলে মুক্তি পাবে'- এটি 'মিশ্র বা জটিল বাক্য' এর উদাহরণ। 

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
সে যে অপরাধ করেছে, তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৫৪৫.
“তার উন্নতি হয়েছে, কিন্তু মানসিকতা পরিবর্তন হয়নি।” এটি একটি:
  1. ক) মিশ্র বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

নিচের উদাহরণগুলো খেয়াল করুন: 
- তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ।
- সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি।
- তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নিত্য করে।

সুতরাং, প্রদত্ত বাক্যটিও একটি যৌগিক বাক্য। 

তথ্যসূত্র: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
৫৪৬.
'যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল/মিশ্র বাক্য তৈরি হয়।
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । 

যেমন:
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
- যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ৯২০১৯- সংস্করণ)।
৫৪৭.
'তাহার হাসিতে গান, তাহার কান্নায় গান'। কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
সরল, জটিল ও যৌগিক।
(১) সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
(২) জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়। যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।
(৩) যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে। যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

প্রদত্ত বাক্য 'তাহার হাসিতে গান, তাহার কান্নায় গান' একটি সরল বাক্য। 
কেননা- 
- এতে একটি সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা আলাদা আলাদা ভাবে দুটি স্বাধীন বাক্য গঠিত হয়েছে। 
- এতে কোনো আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ না থাকায় এটি জটিল বাক্য নয়। 
- বাক্যটি কোন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত না হওয়ায় এটি যৌগিক বাক্য নয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৪৮.
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" - এটি কোন প্রকার বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৪৯.
'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।' - বাক্যে কোন ধরনের অধীন খণ্ডবাক্য ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্যস্থানীয়
  2. ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
  3. বিশেষণস্থানীয়
  4. সর্বনামস্থানীয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।

যেমন:
- 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৫০.
'সে এখানে এসে সব কথা খুলে বললো' কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য: সরল বাক্য যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। 
যেমন- পাখিগুল নীল আকাশে উড়ছে। 
           সে এখানে এসে সব কথা খুলে বললো।

• জটিল বাক্য: যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা, প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকো-সেটুকো, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে তাকে জটিল বাক্য বলে। 
যেমন - যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। 

• যৌগিক বাক্য: যৌগিক বাক্য দুই বা ততোধীক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে, ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ডেশ (-) প্রভৃতিও যোজকের কাজ করে।
যেমন - হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫১.
’সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি’- বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মৌলিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
-  সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।

উল্লেখ্য,
- সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন
- আমরা তিন ভাইবোন।
- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
৫৫২.
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে মিলে যে বাক্য হয় তাকে কী বাক্য বলে?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) অক্রিয় বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হচ্ছে যৌগিক বাক্য

• যৌগিক বাক্য:
- এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
  যেমন- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৫৩.
"মিথ্যাবাদীকে কেউ ভালবাসে না” কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) সরল
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
খ) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।

উল্লেখিত বাক্য- "মিথ্যাবাদীকে কেউ ভালবাসে না” তাই একটিঁ সরল বাক্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৪.
'আমি এসেছি, কারণ তোমাকে নিয়ে যাবো' - এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) মিশ্র বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) উপরের ক ও গ
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা তথোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- নিরপেক্ষ বাক্যগুলো 'এবং', 'ও', 'কিন্তু', 'অথবা', 'অথচ', 'কিংবা', 'কারণ' প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে।
যেমন -
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু কোন পথ দেখালেন না।

তেমনিভাবে প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।
"আমি এসেছি" ও "তোমাকে নিয়ে যাবো" - দুইটি স্বাধীন বাক্য। "কারণ" অব্যয় দিয়ে এই দুটি বাক্যকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

৫৫৫.
'তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিস্ময়সূচক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা -
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)
- তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)

তদ্রুপ - ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৬.
জটিল বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যোজক নয় কোনটি?
  1. বরং - তবু
  2. যেমন - তেমন
  3. যেইনা - অমনি
  4. এবং - কিন্তু
সঠিক উত্তর:
এবং - কিন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এবং - কিন্তু
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যোজক নয় 'এবং - কিন্তু'। 
'এবং ও  কিন্তু' যোজক যৌগিক বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় । 

-----------------
• জটিল বাক্য:

যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

• উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় যোগে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করা হয়।

সাপেক্ষ সর্বনামগুলো হলো:
যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি। নত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন-তখন; যেমন-তেমন, বরং- তবু, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- তার কাছে যে যা চাইত, সে তাই পেত।
- তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র পূজিত হন।
- যে সত্য কথা বলে তাকে সকলেই ভালোবাসে।
- যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে।
- যদি দোষ স্বীকার কর, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
- যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫৭.
‘দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।’- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. দোষ করেছ, তাই শাস্তি পাবে।
  2. যেহেতু দোষ করেছ শাস্তি পাবে।
  3. দোষ করাই, তুমি শাস্তি পাবে।
  4. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
সঠিক উত্তর:
যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
• বাক্যের জটিলরূপ: যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।

----------------------
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৫৫৮.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
  2. ধনের ধর্ম আছে কিন্তু তা অসাম্য।
  3. সে এখানে এলো এবং বসে পড়ল।
  4. তুমি যদি ভালো হও তবে সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
সঠিক উত্তর:
তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তাহাকে আমি সব দিতে পারলেও মুক্তি দিতে পারি না।
- পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারিদ্র হলেও তিনি সুখী।

অন্যদিকে,
- ধনের ধর্ম আছে কিন্তু তা অসাম্য।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
- সে এখানে এলো এবং বসে পড়ল।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
- তুমি যদি ভালো হও তবে সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৯.
'নিজের ভাগ্য নিজেই বদলাও' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) প্রশ্নবোধক
  2. খ) অনুজ্ঞাবাচক
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) নির্দেশাত্মক
সঠিক উত্তর:
খ) অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
'নিজের ভাগ্য নিজেই বদলাও' এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে আদেশ, উপদেশ, নিষেধ, অনুরোধ ইত্যাদি প্রকাশ পায়।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৫৬০.
'যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।'- বাক্যটি সরল বাক্যের রূপান্তর কী হবে?
  1. ছেলেটির বয়স অল্প; এবং বেশ বুদ্ধিমান। 
  2. ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান
  3. ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
  4. ছেলেটির বয়স অল্প, তথাপি বেশ বুদ্ধিমান। 
সঠিক উত্তর:
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
ব্যাখ্যা
⇒ 'যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।'
⇒ সরলরূপ: ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।

⇒ যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।

যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
৫৬১.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ বিন্যাসকে কী বলে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. যোগ্যতা
  4. অর্থবাচকতা
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসত্তি
ব্যাখ্যা
বাক্য: 
- যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে। 
- কতগুলো পদের সমষ্টিতে বাক্য গঠিত হলেও যে কোনো পদসমষ্টিই বাক্য নয়। 
- বাক্যের বিভিন্ন পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা অন্বয় থাকা আবশ্যক। 
- এ ছাড়াও বাক্যের অন্তর্গত বিভিন্ন পদ ধারা মিলিতভাবে একটি অখন্ড ভাব পূর্ণ রূপে প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন, তবেই তা বাক্য হবে। 
- ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই। 
যেমন - 
- আকাঙ্ক্ষা, 
- আসত্তি এবং 
- যোগ্যতা। 

আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 
যেমন ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে। বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে। এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য। 

আসত্তি: 
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি। 
যেমন – কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি। তাই এটি একটি বাক্য হয়নি। 
- মনোভাব পূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে। 
যেমন - কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলনের নাম যোগ্যতা। 
যেমন- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। 
- এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৫৬২.
'সে এখানে এসেই বসে পড়ল।' - বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ কোনটি?
  1. সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
  2. সে এখানে এসে বসে পড়ল।
  3. সে এখানে এসে বসেছে।
  4. সে এখানে এসে বসলো।
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটিমাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন -
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: ভিক্ষুককে টাকা দাও।
যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।

সরল বাক্য: সে এখানে এসেই বসে পড়ল।
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬৩.
'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।'- বাক্যের সরল রূপ কোনটি?
  1. ক) সত্য কথা বলে বিপদে পরলাম।
  2. খ) সত্য কথা বললাম এবং বিপদে পড়লাম।
  3. গ) যেহেতু আমি সত্য কথা বলিনি তাই আমাকে বিপদে পরতে হলো।
  4. ঘ) সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
ব্যাখ্যা
'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।' বাক্যের সরল রূপ- 
'সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।'

যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সূত্র :
১. বাক্য পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
২. বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
৩. প্রধান খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
৪. আশ্রিত খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
৫. সংযােজক, বিয়ােজক ও ব্যতিরোত্মক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাবাে।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।
যৌগিক: ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
সরল: ছেলেটি গরিব হলেও মেধাবী।
যৌগিক: আকাশে মেঘ ছিল না, কিন্তু বজ্রপাত হলাে।
সরল: আকাশে মেঘ না থাকা সত্ত্বেও বজ্রপাত হলাে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৪.
'তার মঙ্গল হোক'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. নেতিবাচক
  2. অনুজ্ঞাবাচক
  3. বিবৃতিবাচক
  4. প্রশ্নবাচক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: 
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 

যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

অন্যদিকে,
বিবৃতিবাচক বাক্য: 
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য: 
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগবাচক বাক্য: 
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৫৬৫.
'সদা সত্য কথা বলবে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিমূলক
  2. প্রশ্নবোধক
  3. অনুজ্ঞাসূচক
  4. প্রার্থনাসূচক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাসূচক
ব্যাখ্যা
• 'সদা সত্য কথা বলবে।'-  এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য। 

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

অন্যদিকে, 
বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন,
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫৬৬.
অঞ্চল শব্দটি শাড়ির পাড় না বুঝিয়ে এলাকা বোঝালে অর্থের কী ধরনের পরিবর্তন হয়?
  1. ক) অর্থপ্রসার
  2. খ) অর্থসংকোচ
  3. গ) অর্থের উন্নতি
  4. ঘ) অর্থের অবনতি
সঠিক উত্তর:
ক) অর্থপ্রসার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অর্থপ্রসার
ব্যাখ্যা
শব্দের অর্থ পরিবর্তন: 
ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন প্রক্রিয়ায় শব্দের অর্থ কখনো প্রসারিত হয়, কখনো সংকুচিত হয়; কখনো অর্থের উন্নতি ঘটে, কখনো অবনতি ঘটে; আবার শব্দ কখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করে।

• অর্থপ্রসার: 
- একটি শব্দ পূর্বে যে অর্থ প্রকাশ করতো, তার থেকে আরো ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করলে বুঝতে হয় অর্থপ্রসার ঘটেছে।
- যেমন – ‘অঞ্চল' শব্দের মূল অর্থ শাড়ির পাড়। অঞ্চল থেকে উদ্ভূত আঁচল শব্দটি এখনও তা নির্দেশ করে। 
- তবে অঞ্চল শব্দটি এখন শাড়ির পাড় নির্দেশের পাশাপাশি এলাকা অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- একইভাবে, 'বর্ষ' শব্দের পূর্ববর্তী অর্থ বর্ষাকাল, প্রসারিত অর্থ 'বছর' (ছয় ঋতু সংবলিত)।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নমম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬৭.
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে বলে -
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. অনুজ্ঞা বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
-  সে যে অপরাধ করেছে,
• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

অন্যদিকে, 
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।

যৌগিক বাক্য:

- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৬৮.
"পরিশ্রমী ছাত্ররাই সাফল্য লাভ করে।" এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন:
- ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলে।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী ছাত্ররাই সাফল্য লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৬৯.
’আমাকে একটি কলম দাও’ কী ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. বিবৃতিবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. প্রশ্নবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ বা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে যে বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- আমাকে একটি কলম দাও। (আদেশ/অনুরোধ)।
- তার মঙ্গল হোক। (প্রার্থনা)।

• বাক্যের অন্য প্রকারগুলো হলো:

বিবৃতিবাচক বাক্য :
যেসব বাক্যে কোনো তথ্য বা ঘটনা সাধারণভাবে বলা হয়, সেগুলো বিবৃতিবাচক বাক্য।
এগুলো দুই রকমের হতে পারে:

• ইতিবাচক: যেমন —
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
নেতিবাচক: যেমন —
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা যখন কারও কাছ থেকে কোনো তথ্য জানতে চায়, তখন প্রশ্নবাচক বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনো আবেগ (আনন্দ, বিস্ময়, দুঃখ, ভয় ইত্যাদি) প্রকাশ করতে যে বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৫৭০.
‘পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. খণ্ড
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. সরল
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুযায়ী বাক্যের প্রকারভেদ,
বাক্য তিন প্রকার:
-  সরল বাক্য,
-  মিশ্র বা জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে। 

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
-  সে যে অপরাধ করেছে,
• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭১.
"আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হইল।" - বাক্যটিতে কোন দোষ আছে?
  1. বাহুল্য দোষ
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. বাগ্‌ধারার দোষ
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ
সঠিক উত্তর:
উপমার ভুল প্রয়োগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমার ভুল প্রয়োগ
ব্যাখ্যা
উপমার ভুল প্রয়ােগ:
- উপমা ভাষাবিশেষের সম্পদ। বিশেষ অর্থে প্রসঙ্গ অনুযায়ী এসব উপমা প্রয়ােগ করা হয়ে থাকে।
- সঠিকভাবে এসব উপমা ব্যবহার না করলে বাক্য তার যােগ্যতা হারায়।

যেমন:
- আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল।
- এখানে উপমার ভুল প্রয়ােগ ঘটেছে, কারণ বীজ মন্দিরে বপন করা হয় না, বপন করা হয় ক্ষেতে। 
- বাক্যটি হবে 'আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হল।'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭২.
'পরিস্থিতি স্বাভাবিক' - এই বাক্যের নেতিবাচক রূপ কোনটি?
  1. পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলা চলে না।
  2. পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক তা নয়।
  3. পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়।
  4. পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়।
সঠিক উত্তর:
পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে,
ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।

- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

• অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- পরিস্থিতি স্বাভাবিক। 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'

• নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। 
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭৩.
‘আমি যাব তবে কাল যাব।’ - কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. জটিল
  3. সরল
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
যেমন:
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
- আমি যাব তবে কাল যাব।

অন্যদিকে:
সরল বাক্য:
- বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন-
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।

জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৪.
'দীর্ঘজীবী হও'– এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) আদেশসূচক
  2. খ) ইচ্ছাসূচক
  3. গ) বিবৃতিমূলক
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
খ) ইচ্ছাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইচ্ছাসূচক
ব্যাখ্যা
ইচ্ছাসূচক বাক্য - এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়৷
যেমন-
দীর্ঘজীবী হও৷
তোমার মঙ্গল হোক।
পরীক্ষায় সফল হও৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭৫.
'রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. অনুজ্ঞামূলক
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি।
নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন তখন, যেমন- তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৭৬.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য' বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) তারা দুর্জন বলেই পরিত্যাজ্য।
  2. খ) তারা দুর্জন এবং তারা পরিত্যাজ্য।
  3. গ) যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭৭.
কোনটি সরল বাক্য?
  1. গঙ্গা হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে তারপর সাগরে পড়েছে।
  2. গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
  3. সত্য কথা স্বীকার কর নতুবা শাস্তি পাবে।
  4. যে ছেলেরা ভালো তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
সঠিক উত্তর:
গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

অন্যদিকে,
- গঙ্গা হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে তারপর সাগরে পড়েছে।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- সত্য কথা স্বীকার কর নতুবা শাস্তি পাবে।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- যে ছেলেরা ভালো তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৮.
'আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. খ) প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. ঘ) আবেগবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
- 'আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম' বিবৃতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলোকে প্রশ্নবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
তোমার নাম কী?
সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
আমাকে একটি কলম দাও ।
তার মঙ্গল হোক ।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫৭৯.
নির্দেশাত্মক বাক্যের অপর নাম কী?
  1. কার্যকারণাত্মক বাক্য
  2. অনুজ্ঞা বাক্য
  3. প্রার্থনাসূচক বাক্য
  4. বর্ণনাত্মক বাক্য
সঠিক উত্তর:
বর্ণনাত্মক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণনাত্মক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য:
- যে বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয় তাকে বর্ণনাত্মক বাক্য বলে।
- একে নির্দেশমূলক, নির্দেশসূচক, নির্দেশাত্মক, বিবৃতিমূলক বাক্যও বলা হয়।
- যেমন:
- সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।
- সে রোজ এখানে আসে।
- সে এখন আর আবৃত্তি করে না। 
- নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক-এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়;
- সে দুটি হলো -অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য।
- কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮০.
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে কী বলে?
  1. প্রশ্নবাচক বাক্য
  2. বিবৃতিবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
আবেগবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বাক্য প্রকরণ:
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• বিপদে ধৈর্য ধর।

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮১.
“সাবধান না হলে বিপদে পড়বে” - বাক্যটি একটি -
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্রিত বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
“সাবধান না হলে বিপদে পড়বে” - বাক্যটি একটি  সরল বাক্য ।

সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি কর্তা এবন একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে ।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-
সরল বাক্য: সাবধান না হলে বিপদে পড়বে
জটিল বাক্য: যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে ।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ
৫৮২.
‘আমার ভাই গান গায়।’ — এই বাক্যে ‘গান গায়’ অংশটি কী?
  1. উদ্দেশ্য
  2. কর্তা
  3. কর্ম
  4. বিধেয়
সঠিক উত্তর:
বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় - এই দুই অংশে ভাগ করা যায়।

উদ্দেশ্য:
বাক্যে যাকে উদ্দেশ্য কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।
যেমন- 'মামুন বল খেলে।'
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়:
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে।
বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
যেমন - 'মামুন বল খেলে।'
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

বাক্যটি-
"আমার ভাই গান গায়।"
এখানে, 
- 'আমার ভাই' উদ্দেশ্য এবং 'গান গায়' বিধেয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৮৩.
“যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।” – বাক্যটির সরল বাক্য কী?
  1. তার দর্শন পেলাম, আমরা প্রস্থান করলাম
  2. তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করি
  3. তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম
  4. তার দর্শন পাওয়ার পর আমরা প্রস্থান করলাম
সঠিক উত্তর:
তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে মিশ্র বাক্যে রূপান্তর:

- প্রথমে সরল বাক্যের একটি অংশ নির্বাচন করতে হবে যেটিকে খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা যায়।
- এরপর খণ্ডবাক্যটির শুরুতে বা মাঝে সম্বন্ধসূচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যকে সঠিকভাবে যুক্ত করে মিশ্র বাক্য তৈরি করতে হবে।
- অর্থ যেন স্পষ্ট থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

 উদাহরণসমূহ:
• সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• মিশ্র বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

• সরল বাক্য: তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
• মিশ্র বাক্য: যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।

• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
• মিশ্র বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
৫৮৪.
বাবা-মা’র সেবা কর । এটি কি ধরনের বাক্য?
  1. ক) নির্দেশক
  2. খ) অনুজ্ঞাসূচক
  3. গ) ইচ্ছাসূচক
  4. ঘ) অস্তিবাচক
সঠিক উত্তর:
খ) অনুজ্ঞাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুজ্ঞাসূচক
ব্যাখ্যা
- 'বাবা-মা’র সেবা কর ' এটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের অন্তর্গত।

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য 

• যে বাক্য দ্বারা আদেশ, নির্দেশ, উপদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, আমন্ত্রণ, নিষেধ, প্রস্তাব, প্রভৃতি প্রকাশ পা তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে।

যেমন—
• আদেশ- ভাত খেতে যাও।
• অনুরোধ— দয়া করে আমার কাজটা করে দিন।
• উপদেশ- সদা সত্য কথা বলো।
• নিষেধ- হরতালের দিন বাইরে যাবে না।
• প্রস্তাব- চল আমরা সবাই মিলে নৌকা ভ্রমণে যাই ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮৫.
‘আমি জানি যে সে চলে যাবে’ কোন ধরনের বাক্যে?
  1. খণ্ড
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. সরল
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- আমি জানি যে, সে চলে যাবে।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৮৬.
'যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম'- এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন- যেই তার দর্শন পেলাম (আশ্রিত বাক্য), সেই আমরা প্রস্থান করলাম (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮৭.
ভাষার বিচারে বাক্যের কোন ৩টি গুণ থাকা চাই?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা, অর্থবাচকতা, যোগ্যতা
  2. খ) আকাঙ্ক্ষা, আসক্তি, যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি, রীতিসিদ্ধতা, আকাঙ্ক্ষা
  4. ঘ) আসত্তি, আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আসত্তি, আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আসত্তি, আকাঙ্ক্ষা, যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
ভাষার বিচারে বাক্যের আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা এই তিনটি গুন থাকা চাই।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮৮.
‘এখন পরকালের কর্ম করিব নাতো কবে করিব?’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. অক্রিয় বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরিত করার নিয়ম:

- বাক্য পরিবর্তন হলেও অর্থের পরিবর্তন হয় না। 
- বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
- সংযোজক, বিয়োজক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
যেমন:
• যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব। 
• সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।

• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব নাতো কবে করিব?
• সরল বাক্য: এখন পরকালের কর্ম না করিলে কবে করিব?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৯.
‘যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সংযুক্ত বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে’ - এটি জটিল বা মিশ্র বাক্যে দৃষ্টান্ত।

⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যথাবাক্য: আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য।
- যে পরিশ্রম করে - সে-ই সুখ লাভ করে।
- যেখানে বাঘের ভয় - সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণে)।
৫৯০.
"কোথাও শান্তি ছিল না" বাক্যটি অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর -
  1. কোথাও শান্তি ছিল।
  2. সর্বত্র শান্তি ছিল।
  3. সর্বত্র অশান্তি ছিলো।
  4. কোথাও অশান্তি ছিল না।
সঠিক উত্তর:
সর্বত্র অশান্তি ছিলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বত্র অশান্তি ছিলো।
ব্যাখ্যা
• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২ 
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯১.
"উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।" বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. সরল 
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৯২.
'তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. যৌগিক
  3. সরল
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন:
- আমরা তিন ভাইবোন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন:
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫৯৩.
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্য কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্য - ৪ ভাগে বিভক্ত।

বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন –
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি ।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন –
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক ।

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য।
যেমন:
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৯৪.
"আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।" — এই বাক্যে কোন ধরনের অধীন খণ্ডবাক্য রয়েছে?
  1. কার্যবাচক
  2. বিশেষ্যস্থানীয়
  3. ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয়
  4. বিশেষণস্থানীয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যস্থানীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যস্থানীয়
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের যেকোনো পদের অধীন থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।

যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে দেখলাম, সবার খাওয়া হয়ে গেছে।

অন্যদিকে,
বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
- যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন: যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। (অধীন খণ্ডবাক্যটি 'সে-ই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)

ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য:
যে অধীন খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন: 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৯৫.
জটিল বাক্যের দৃষ্টান্ত- 
  1. যখন বৃষ্টি নামল, তখন ঈশানরা ছাতা খুঁজতে শুরু করল।
  2. ললিতা রান্না করল, ঘর মুছল, তারপর খেতে বসল। 
  3. তুমি ঘুমোবে, না পড়বে?
  4. তারা দুইজন আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন ঈশানরা ছাতা খুঁজতে শুরু করল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন ঈশানরা ছাতা খুঁজতে শুরু করল।
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীনে এক বা একাধিক অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলা হয়।
- এসব খণ্ডবাক্য সাধারণত সাপেক্ষ সর্বনাম বা সাপেক্ষ যোজকের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে।
- যেমন— যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক ব্যবহার করে প্রধান ও আশ্রিত খণ্ডবাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

- “যখন বৃষ্টি নামল, তখন ঈশানরা ছাতা খুঁজতে শুরু করল।” — এটি একটি জটিল বাক্য।

- কারণ:
- এই বাক্যে দুটি খণ্ডবাক্য আছে—একটি আশ্রিত খণ্ডবাক্য এবং একটি প্রধান খণ্ডবাক্য।
• আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যখন বৃষ্টি নামল — এটি সময় নির্দেশ করে এবং প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই এটি ক্রিয়াবিশেষণীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
• প্রধান খণ্ডবাক্য: তখন ঈশানরা ছাতা খুঁজতে শুরু করল — এটি মূল বক্তব্য প্রকাশ করে।
- সংযোজক: যখন... তখন — এই সংযোজক দুটি খণ্ডবাক্যের মধ্যে সময়গত সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
-----------------
অন্যদিকে,
- ললিতা রান্না করল, ঘর মুছল, তারপর খেতে বসল; 
- তুমি ঘুমোবে, না পড়বে?
- তারা দুইজন আড়ি পেতে ছিল, নইলে চোর ধরা পড়ত না- এই বাক্যগুলো যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

• যৌগিক বাক্য:
- যখন দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলা হয়।
- এই ধরনের বাক্যে প্রতিটি খণ্ডবাক্য নিজে নিজেই স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
- যৌগিক বাক্যে সাধারণত এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক ব্যবহৃত হয়।
- কখনো কখনো কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) প্রভৃতি যতিচিহ্নও যোজকের মতো কাজ করে খণ্ডবাক্যগুলোকে সংযুক্ত করে।
- যেমন— সামিনা গল্পের বই পড়ছে, আর আমিনা খেলা করছে। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৯৬.
কোনটি বাক্যের প্রধান অংশ নয়?
  1. কর্তা
  2. কর্ম
  3. ক্রিয়া
  4. অলংকার
সঠিক উত্তর:
অলংকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলংকার
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ।
যথা-
- কর্তা,
- কর্ম ও
- ক্রিয়া।

অর্থ্যাৎ,
• অলংকার - বাক্যের প্রধান অংশ নয়।

- বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলাে কর্তা।
- যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম।
- আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনাে কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বােঝায় তাকে বলে ক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৯৭.
যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত যোজক কোনটি?
  1. যত-তত
  2. তখন
  3. কিংবা
  4. যেহেতু
সঠিক উত্তর:
কিংবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিংবা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

অন্যদিকে, 
যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৫৯৮.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা
  2. খ) যতই করিবে দান ততই বেড়ে যাবে
  3. গ) যে ভিক্ষা চায় তাকে দান কর
  4. ঘ) স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য : যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন: - পুকুরে পদ্মফুল ফুটে,
- খোকা আজ স্কুলে গিয়েছে,
- স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালোবাসেন,
- বিশ্ববিখ্যাত মহাকবিরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনীর দ্বারা অমরতার সঙ্গীত রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯৯.
উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না। - এটি কোন প্রকার বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. সরল
  3. জটিল
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন
নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০০.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যদি মন দিয়ে পড়, তবে পাশ করতে পাড়বে।
  2. পিতা তো আছেন, তাই পুত্রকে খোঁজ কেন?
  3. যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
  4. যে রক্ষক সে ভক্ষক।
সঠিক উত্তর:
পিতা তো আছেন, তাই পুত্রকে খোঁজ কেন?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা তো আছেন, তাই পুত্রকে খোঁজ কেন?
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- পিতা তো আছেন, তাই পুত্রকে খোঁজ কেন?
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- যদি মন দিয়ে পড়, তবে পাশ করতে পাড়বে।
- যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
- যে রক্ষক সে ভক্ষক। 
[উপরে প্রদত্ত বাক্যগুলো জটিল বাক্যের উদাহরণ।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।