বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্যের প্রকারভেদ

মোট প্রশ্ন৭৫৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্যের প্রকারভেদ

PrepBank · পাতা / · ৪০১৫০০ / ৭৫৪

৪০১.
কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ?
  1. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
  2. মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
  3. নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
  4. যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
সঠিক উত্তর:
নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

অন্যদিকে,
সরল বাক্য - সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
জটিল বাক্য - মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। যদি তোমার জন্য কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪০২.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ ?
  1. যারা ধার্মিক তারা সুখী।
  2. আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
  3. তোমাকে দেওয়ার মতো আমার কিছুই নেই।
  4. ধনী হলেও তুমি উদার নও।
সঠিক উত্তর:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

উল্লেখ্য,
যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, কিন্তু, ও, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তবে, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে।
যেমন:
আমাদের সমাজ আর তাদের সমাজ এক নয়।
- সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।

অন্যদিকে, 
• জটিল বাক্য- যারা ধার্মিক তারা সুখী।
• সরল বাক্য- তোমাকে দেওয়ার মতো আমার কিছুই নেই।
• সরল বাক্য- ধনী হলেও তুমি উদার নও।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪০৩.
'তুমি চেষ্টা না করে ব্যর্থ হয়েছ।' এটা কোন বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) অধীন বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরল বাক্য
ব্যাখ্যা

• যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমনঃ
- তুমি চেষ্টা না করে ব্যর্থ হয়েছ।
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৪০৪.
কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
  2. কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
  3. তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।
  4. এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।
সঠিক উত্তর:
এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা তার অধিক সরল বা জটিল বাক্য মিলিত হয়ে যদি একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে, তবে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

যেমন:
ছেলেটি গরিব কিন্তু মেধাবী।
দুঃখ এবং বিপদ এক সাথে আসে।
এতক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু গাড়ি পেলাম না।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
কোথাও পথ না পেয়ে তোমার কাছে এসেছি।
তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করে আছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, অষ্টম শ্রেণি।

৪০৫.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য নয়?
  1. উপকার করার অধিকার রেখো।
  2. তবে ওর ভিতর দিয়ে যেয়ো না।
  3. তোমার ভীত হওয়া উচিত নয়।
  4. উপরের কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
তোমার ভীত হওয়া উচিত নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার ভীত হওয়া উচিত নয়।
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্যঃ যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।
যেমনঃ
- তুমি ভীত হয়ো না।
- উপকার করার অধিকার রেখো। 
- তবে ওর ভিতর দিয়ে যেয়ো না।
- আপনি নিবেন।
- সবাই দেশের সেবা করো।

নির্দেশাত্নক বাক্যঃ যে বাক্য কোন বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ননাত্নক বা নির্দেশাত্নক বাক্য বলে।
যেমনঃ
- তোমার ভীত হওয়া উচিৎ নয়।
- উপকার করার অধিকার থাকা চাই। 
- তবে ওর ভিতর দিয়ে নাই গেলে।
- আপনাকে নিতে হবে।
- দেশের সেবা করা সকলের কর্তব্য।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৬.
"যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন আমরা ঘরে ফিরে এলাম।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. আশ্রিত খণ্ড বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন আমরা ঘরে ফিরে এলাম।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
(বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪০৭.
'তার ভাই ঋণ করেছিলো আর সে তা পরিশোধ করেছে।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. সাধিত
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
- তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
- বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
-লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মন করে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৪০৮.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্য?
  1. তোমার মঙ্গল হোক। 
  2. আমি বলতে চাই। 
  3. সে ঢাকা যাবে না। 
  4. অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
সঠিক উত্তর:
তোমার মঙ্গল হোক। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার মঙ্গল হোক। 
ব্যাখ্যা
♣ বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যের প্রকারভেদ: 
♠ অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। 
• আমাকে একটি কলম দাও। 
• তোমার মঙ্গল হোক।  
• পরীক্ষায় সফল হও। 
• দীর্ঘজীবী হও। 
• দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।  

♠ বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে। যেমন - 
• আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। 
• সে ঢাকা যাবে না। 
• আমি বলতে চাই। 
• তারা তোমাদের ভোলেনি।

♠ প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন - 
• তোমার নাম কী?  
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

♠ আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে। যেমন - 
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি। 
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৯.
'যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. হ্যাঁ-বাচক বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
» সরল বাক্য,
» জটিল বাক্য,
» যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য:
এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে। একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

» সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

» সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: আমার দেখাবে আমার সত্য।
জটিল বাক্য: যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

» সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।
• জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪১০.
'ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. বিস্ময়সূচক বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা -
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)

তদ্রুপ - তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১১.
"তুমি পড়াশোনা করো, নাহলে পরীক্ষায় ভালো করবে না।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্য হল এমন একটি বাক্য যেখানে দুটি বা তার অধিক সরল বাক্য অব্যয় (যেমন: এবং, কিন্তু, অথবা, তাই, নাহলে, তবু ইত্যাদি) দিয়ে যুক্ত থাকে
যেমন-
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- তুমি পড়াশোনা করো, নাহলে পরীক্ষায় ভালো করবে না।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১২.
মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ (বলে) + সরল বাক্য = জটিল বাক্য
মা ছিল না। কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। বাক্য দুটিকে বলে ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ দ্বারা যুক্ত হয়ে সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে বলে এটি জটিল বাক্য। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

উৎস: বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৪১৩.
"আমাকে একটি কলম দাও।" — এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. প্রশ্নবাচক
  2. অনুজ্ঞাবাচক
  3. আবেগবাচক
  4. বিস্ময়বাচক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• আমাকে একটু জল দাও।
• বিপদে ধৈর্য ধর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪১৪.
যৌগিক বাক্যের ক্ষেত্রে কোন যোজক ব্যবহৃত হয়?
  1. যে-সে 
  2. যদিও 
  3. যেহেতু 
  4. অথচ
সঠিক উত্তর:
অথচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অথচ
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

অন্যদিকে, 
যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪১৫.
'বাংলাদেশ যেন জয়লাভ করে।' -এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. আবেগসূচক
  2. প্রার্থনাসূচক
  3. বর্ণনাত্মক
  4. অনুজ্ঞাসূচক
সঠিক উত্তর:
প্রার্থনাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রার্থনাসূচক
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ যেন জয়লাভ করে' -এটি প্রার্থনাসূচক বাক্য।

• ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাক্যও বলা হয়।

যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।
৪১৬.
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" এই বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. আমি বহু কষ্ট করেছি, তাই শিক্ষা লাভ করেছি।
  2. আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
  3. শিক্ষালাভ অনেক কষ্টের।
  4. আমি বহু কষ্ট করেছি এবং শিক্ষা লাভ করেছি
সঠিক উত্তর:
আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
ব্যাখ্যা
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" এই বাক্যটির সরল রূপ "আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।"

• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
(১) বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
(২) অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
(৩) অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
(৪) কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
- যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
- সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১৭.
'বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ -
  1. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয় না।
  2. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয়।
  3. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না।
  4. বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন না হয়ে পারে না।
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
- 'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'
- বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি সহজ হয়

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন -
- 'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
- 'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'
- বৃক্ষের দিকে তাকালে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি কঠিন হয় না

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৮.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।' কোন ধরেনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যেমন:
- কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪১৯.
'মা তাঁর সন্তানদের ভালোবাসেন'- এটি কোন্ ধরণের বাক্য?
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. অনুজ্ঞাসূচক
  3. প্রশ্নবোধক
  4. অস্থিবাচক
সঠিক উত্তর:
অস্থিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিবাচক
ব্যাখ্যা

• 'মা তাঁর সন্তানদের ভালোবাসেন' এটি অস্তিবাচক বাক্যের উদাহরণ। 
[মূল প্রশ্নের অপশনে অস্তিবাচক বানানটি 'অস্থিবাচক' লেখা হয়েছে।] 

অর্থানুসারে বাক্যকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. বর্ণনা বা বিবরণমূলক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনামূলক বাক্য।
যেমন-
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। 
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে। 
- সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।

এ বাক্যকে আবার অস্তিবাচক বা হ্যাঁসূচক বাক্য ও নেতিবাচক বা না-সূচক বাক্য- এ দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ক. অস্তিবাচক বাক্য:
যে বাক্য দ্বারা কোনো কিছুর বর্ণনায় ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় অস্তিবাচক বাক্য।
যেমন-
- আমি প্রত্যদিন সকালে হাটি।
- ছাত্ররা নিয়মিত লেখাপড়া করে।
- ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।

এরূপ- মা তাঁর সন্তানদের ভালোবাসেন। 

খ. নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমন-
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি।
- তিনি এবার গ্রামে যাবেন না ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবোধক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবোধক বাক্য।
যেমন:
- তুমি কি লোকটিকে চিন?
- সে কি আজ বাড়ি যাবে?
- তুমি কি প্রতিদিন স্কুলে যাও ইত্যাদি।

৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় অনুজ্ঞাসূচক বাক্য। যেমন-
আদেশ : এখান থেকে বিদায় হও।
অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করো না।
নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করো না।
প্রস্তাব : চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি ।

৪. ইচ্ছাসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যথা-
- তোমার মঙ্গল হোক।
- পরীক্ষায় সফল হও।

৫. বিস্ময়সূচক বাক্য: যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বুঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যথা- হুররে, আমরা জিতেছি!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২০.
‘অন্ধকার হয়ে এসেছে বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।’ এটি কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২১.
'পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
 - তুমি অধম বলে আমি উত্তম হব না কেন?
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪২২.
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় নিচের কোন গুণটি থাকা প্রয়োজন?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা 
  2. খ) আসত্তি
  3. গ) যোগ্যতা  
  4. ঘ) আকাঙ্খা 
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসত্তি
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় আসত্তি গুণটি থাকা প্রয়োজন। 

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন-
- ছেলেরা খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া। 
উপরের দুইটি বাক্যই অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

আসত্তি: 
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি। 
যেমন: 
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই একে আদর্শ বাক্য বলা যায় না।
- পরিপূর্ণ বাক্যে পরিণত করতে হলে বাক্যের পদ্গুলো নিম্নভাবে সাজালে বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। 

যোগ্যতা: 
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
যেমন: 
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’
- এভাবে বললে বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারাবে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
৪২৩.
'যদিও তার বয়স বেড়েছে, তথাপি বুদ্ধি বাড়েনি' বাক্যটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।
৪২৪.
একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া কী দিয়ে যুক্ত হলে যৌগিক বাক্য হয়?
  1. যোজক
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। অর্থ্যাৎ, একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া যোজক দিয়ে যুক্ত হলে যৌগিক বাক্য হয়।
আবার,
- (এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে )ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন( ;), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিকবাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

অন্যদিকে,
সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন,
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।

৪২৫.
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলাে রে’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. আশ্রিত খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরষ্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে পরস্পর সাপেক্ষ যে বাক্যগুলাে থাকে তাদের সাধারণত খণ্ডবাক্য বলে।
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলােরে' বাক্যে ‘তবে একলা চলােরে' প্রধান খণ্ডবাক্য।
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে' আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৪২৬.
যে স্থানে আমার বাড়ি তুমি আমায় সেখানে পৌছে দাও। বাক্যটির ধরণ নির্ণয় করুন।
  1. ক) জটিল
  2. খ) সরল
  3. গ) কঠিন
  4. ঘ) যৌগিক
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । যেমন –

- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যে স্থানে আমার বাড়ি তুমি আমায় সেখানে পৌছে দাও।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২৭.
কোনটি সক্রিয় বাক্য? 
  1. তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। 
  2. মেসি বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার
  3. আমার মা চাকরি করেন।
  4. সে গণিতে দক্ষ।
সঠিক উত্তর:
আমার মা চাকরি করেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার মা চাকরি করেন।
ব্যাখ্যা

• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়:
১. সক্রিয় বাক্য ও
২. অক্রিয় বাক্য।

সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে। 
যেমন – আমার মা চাকরি করেন।

অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে। 
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। মেসি বার্সেলোনার সাবেক ফুটবলার। সে গণিতে দক্ষ।
তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৪২৮.
'সে এখানে এসেই বসে পড়ল।' - বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ-
  1. সে এখানে এসে বসে পড়ল।
  2. সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
  3. সে এখানে এসে বসলো।
  4. সে এখানে এসে বসেছে।
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।
ব্যাখ্যা
• 'সে এখানে এসেই বসে পড়ল।' - বাক্যটির যৌগিক বাক্যরূপ: সে এখানে এল, তারপরে বসে পড়ল।

• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটিমাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন -
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
সরল বাক্য: ভিক্ষুককে টাকা দাও।
যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২৯.
গঠন অনুসারে, বাংলা বাক্য -
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুসারে বাক্যকে — তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

১. সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
 যেমন- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

২. জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
 যেমন- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

৩. যৌগিক বাক্য:
এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
 যেমন- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৩০.
''সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি'' -বাক্যটির যৌগিক রূপান্তর কী হবে?
  1. সমাজে দয়ার জোর বেশি না হলেও দায়ের জোর বেশি।
  2. সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
  3. যেহেতু সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, সেহেতু দায়ের জোর বেশি।
  4. সমাজে দায়ের এবং দয়ার জোর বেশি।
সঠিক উত্তর:
সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
 
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

---------------------- 
• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবল্মবন করতে হবে হবে-
যেমন,
• বাক্যের পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
সরল বাক্য: সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।
যৌগিক বাক্য: সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।

• সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়।
যেমন,
সরল বাক্য: গুহাটা হইতে বাহির হইয়া আসিয়া ধড়ে প্রাণ আসিল।
যৌগিক বাক্য: গুহাটা হইতে বাহির হইলাম, তবেই ধড়ে প্রাণ আসিল। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ -২০১৯)। 
৪৩১.
জটিল বাক্য কোনটি?
  1. এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
  2. লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
  3. মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
  4. তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
সঠিক উত্তর:
লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।

• বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা:
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।

তদ্রুপ-
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- 'যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।'

অন্যদিকে, 
-----------------
- এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
- তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

[উপরে প্রদত্ত বাক্যগুলো যৌগিক বাক্য।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৩২.
‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’ বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
  2. খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  3. গ) ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
আশ্রিত খন্ডবাক্য ৩ প্রকার।
যথা -
১. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
২. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
৩. ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য

‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’ বাক্যটিতে রয়েছে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Adjective clause)। যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
৪৩৩.
’মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে’ বাক্যটির সরল রূপ কী?
  1. যদি মেঘ গর্জন কর, ময়ূর নৃত্য করে
  2. মেঘ গর্জন করে, ময়ূর নৃত্য করে
  3. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে
  4. মেঘ গর্জন করার পর, ময়ূর নৃত্য করে
সঠিক উত্তর:
মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর :
-  বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
- অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়।
-  অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
- কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
- যৌগিক বাক্য: তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- সরল বাক্য: তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।

- যৌগিক বাক্য: মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

- সরল বাক্য: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৪৩৪.
"আমাকে একটি কলম দাও।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. আবেগবাচক বাক্য 
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
  3. অক্রিয় বাক্য 
  4. যৌগিক বাক্য 
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: 
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন,
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৩৫.
‘বল বীর বল উন্নত মম শির।’ - বাক্যটি কী?
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. প্রশ্নসূচক
  3. আদেশসূচক
  4. বিস্ময়সূচক
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশসূচক
ব্যাখ্যা
• ‘বল বীর বল উন্নত মম শির।’ - বাক্যটি আদেশসূচক
এখানে বীরকে উন্নত মম শির বলতে আদেশ করায়, এটি আদেশসূচক বাক্য।

আদেশসূচক বাক্য:
- এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যথা:
• শিক্ষক মহোদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে।
• চুপটি করে বস। 
• দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।
• বল বীর বল উন্নত মম শির।
- স্বরভঙ্গি তথা বাগ্‌ভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
- ছেদ ও বিরতিসূচক চিহ্নগুলো বাগ্ভ‌ঙ্গির লিখিত আকার প্রকাশে সাহায্য করে।
- দাঁড়ি, কমা, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময়সূচক চিহ্ন বাক্যের ভাব ও অর্থবোধের জন্য উপকারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৬.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
  2. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
  3. তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
  4. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

[বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।]

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: 
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- রহিম রাতে ভাত খাই আর রহিমা খায় রুটি।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ  ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৩৭.
‘আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- আমি বহু কষ্টে সাঁতার শিখেছি।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।

অন্যদিকে,
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
- সে যে অপরাধ করেছে,

• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৮.
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্য কয় প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ প্রকার
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্য - ৪ ভাগে বিভক্ত

বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।

যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি ।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।

যেমন:
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক ।

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য।

যেমন:
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড।
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৩৯.
'তাঁর মঙ্গল হোক।’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়সূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তাঁর মঙ্গল হোক।’ - অনুজ্ঞাবাচক বাক্য।

• বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৪৪০.
‘যে সহে, সে রহে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. অমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যদিও তিনি ধনী, তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।
- যে সহে, সে রহে।
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪১.
যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে - কী বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) ব্যাস বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
এখানে,'আমি এসেছি' প্রধান বাক্য আর 'কারণ তোমাকে নিয়ে যাবো' হলো অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য।
অনুরূপভাবে প্রশ্নোক্ত বাক্যটিও জটিল বাক্য।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

৪৪২.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।'- এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. মিশ্র
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. বিভ্রমপূর্ণ
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি হলো 'মিশ্র' বাক্যের অন্তর্গত।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৪৪৩.
'যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে' বাক্যটি গঠন অনুসারে-
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) খণ্ড বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ড বাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। এখানে আশ্রিত বাক্য‌ যে পরিশ্রম করে এবং প্রধান খণ্ডবাক্য সে-ই সুখ লাভ করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৪.
নিচের কোনটি বিস্ময়সূচক বাক্য?
  1. সে ঢাকা যাবে না।
  2. তোমার মঙ্গল হোক।
  3. তুমি কি লােকটিকে চিন? 
  4. কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
সঠিক উত্তর:
কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কী সাংঘাতিক ব্যাপার!
ব্যাখ্যা
কী সাংঘাতিক ব্যাপার!- বিস্ময়সূচক বাক্য।
------------------------ 
• বিবৃতিমূলক বাক্য: 

এ বাক্যে কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে বিবৃত বা বর্ণনা নির্দেশ করা হয়। এই ধরনের বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অস্তিবাচক বাক্য ও নেতিবাচক বাক্য।

বিবৃতিমূলক বাক্যের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে-
- সে ঢাকা যাবে না।
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে। 

• যে বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে।
যেমন- তোমার মঙ্গল হোক।

• যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য।
যেমন:
- তোমার আজ কি পরীক্ষা?
- তুমি কি লােকটিকে চিন? 

• যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন:
- তাজ্জব ব্যাপার!
- কী সাংঘাতিক ব্যাপার!

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৫.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল'- এটি কোন বাক্য?
  1. সরল
  2. মিশ্র
  3. যৌগিক
  4. জটিল
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যেমন:
- কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। 
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।

উৎস: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
৪৪৬.
বিবৃতিমূলক বাক্য কোনটি?
  1. বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।
  2. আমাকে একটি কলম দাও।
  3. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
তারা তোমাদের ভোলেনি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারা তোমাদের ভোলেনি।
ব্যাখ্যা

বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।

যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য। 
যেমন: 
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড। 
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৪৭.
'বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়'- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
  2. তিনি বিদ্বান, তাই সর্বত্র আদরণীয়।
  3. তিনি বিদ্বান, ফলে সর্বত্র আদরণীয়।
  4. বিদ্বান যিনি, সর্বত্র আদরণীয়।
সঠিক উত্তর:
যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

জটিল বাক্য হলো সেই বাক্য, যেখানে একটি প্রধান বাক্য এবং একটি বা একাধিক আশ্রিত বাক্য থাকে এবং আশ্রিত বাক্যটি অব্যয় বা সম্পর্কবাচক সর্বনাম দ্বারা প্রধান বাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

যেমন:
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
- যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
- যদিও তার চুল পেকেছে, তবু তার বুদ্ধি পাকেনি।
- বিকেল যখন পাঁচটা, তখন কুমিল্লা পৌঁছলাম।
- যারা ধার্মিক, তারা সুখী।
- যদি কলম থাকত, তাহলে লেখা যেত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪৮.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য? 
  1. মহারাজের জয় হোক। 
  2. আমি যদি জন্ম নিতাম কালিদাসের কালে। 
  3. চলো, নাটক দেখে আসি।
  4. আমার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। 
সঠিক উত্তর:
চলো, নাটক দেখে আসি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলো, নাটক দেখে আসি।
ব্যাখ্যা

 • অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। 
- একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।

যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে,
- আমার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। ও আমি যদি জন্ম নিতাম কালিদাসের কালে। - ইচ্ছাসূচক বাক্য।
- আমার বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। - নির্দেশাত্মক বাক্য। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা। 

৪৪৯.
"পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. আশ্রিত বাক্য
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য : 
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন :
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫০.
'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যথা -
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।
তদ্রুপ -
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫১.
কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।
  2. যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
  3. এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
  4. আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।
সঠিক উত্তর:
এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
যেমন:
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের ধারস্থ হব না।
- বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
জ্ঞাতব্য : যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, কিন্তু, ও, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে।

- ‘আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।’- এটি একটি জটিল বাক্য।
- যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।- এটি একটি জটিল বাক্য।
- তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।- এটি একটি সরল বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৫২.
'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল 
  2. যৌগিক 
  3. সরল 
  4. অসামাপিকা 
সঠিক উত্তর:
সরল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল 
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

---------------------
সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৫৩.
"বাড়িটা তারা দখল করেছে" বাক্যটি নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. বাড়িটা তারা দখল করছে না।
  2. বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।
  3. বাড়িটা তারা ছাড়েনি।
  4. বাড়িটা তারা দখল না করেছে।
সঠিক উত্তর:
বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।
ব্যাখ্যা
"বাড়িটা তারা দখল করেছে" বাক্যটি নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর -  সঠিক উত্তর: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

• সরল বাক্য:

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

• অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করলেও বাক্যের অর্থ যেনো একই থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখলে বুঝা যায় যে “মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না” বাক্যটি সঠিকভাবে নেতিবাচক রূপ লাভ করেছে।

অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যে না, নয়, নহে, নি, নেই, নাহি, নাই ইত্যাদি নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়া) নেতিবাচক করতে হবে।
২. হ্যাঁ-সূচক বাক্যকে না করতে হলে মুল অর্থ পরিবর্তন না করে বাক্য পরিবর্তন করতে হবে।
৩. বাক্যের বিশেষণ পদটিকে বিপরীত শব্দে রূপান্তর করতে হবে।
৪. প্রয়োজন মত বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক বাক্যের প্রয়োগের আওতাভুক্ত করতে হবে।
৫. 'না' বাচক ক্রিয়া ও 'না' বাচক শব্দ বা 'না' বাচক অব্যয় মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।

যেমন:
অস্তিবাচক: হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।
নেতিবাচক: হৈমন্তী চুপ না থাকিয়া পারিল না।

অস্তিবাচক: এমন দিনে তারে বলা যায়।
নেতিবাচক: এমন দিনে তারে না বলে পারা যায় না।

অস্তিবাচক: বাড়িটা তারা দখল করেছে।
নেতিবাচক: বাড়িটা তারা দখল না করে ছাড়েনি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৪.
'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে? 
  1. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন না 
  2. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন
  3. তিনি জেগে রইলেন কথা না শুনে
  4. তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
সঠিক উত্তর:
তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না” — এটি একটি নেতিবাচক (Negative) বাক্য।
এর অস্তিবাচক (Affirmative) রূপ করতে হলে “না” বাদ দিয়ে অর্থ বজায় রেখে ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করতে হয়।

এখানে,
“ঘুমাতে পারলেন না” = “জেগে রইলেন” (অর্থ একই থাকে)।

অতএব, অস্তিবাচক রূপ হবে — 
“তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।”

অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশনগুলোতে নেতিবাচক 'না' শব্দটি রয়েছে; যা নেতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫৫.
"কী সাংঘাতিক লোক!" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. প্রার্থনাসূচক
  2. কার্যকারণাত্মক
  3. বিস্ময়সূচক
  4. অনুজ্ঞাসূচক
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়সূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়সূচক
ব্যাখ্যা
• বিস্ময়/আবেগসূচক বাক্য: 
যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বুঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন,
- 'হে সিন্ধু! বন্ধু মোর- মজিনু তব রূপে।
- কী সাংঘাতিক লোক!
- বড্ড শুকিয়ে গেছিস রে!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫৬.
নিচের কোনটি যৌগিক কালের উদাহরণ নয়?
  1. ক) করছিলাম
  2. খ) করেছি
  3. গ) করছি
  4. ঘ) করব
সঠিক উত্তর:
ঘ) করব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) করব
ব্যাখ্যা
যৌগিক কাল – ক্রিয়ার যে কালরূপ একাধিক ধাতুর দ্বারা গঠিত, তাকে যৌগিক কাল বলে।
- যৌগিক কালের ক্রিয়া গঠনের জন‍্য মূল ধাতুর সাথে 'ইয়া' বা 'ইতে' প্রত‍্যয় যোগ করার পর '√আছ্', '√থাক্' প্রভৃতি ধাতুকে সহায়ক হিসেবে ব‍্যবহার করতে হয়।
- বাংলায় ঘটমান ও পুরাঘটিত কালগুলো যৌগিক কাল হিসেবে গণ‍্য হয়।
- সুতরাং পুরাঘটিত বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত অতীত, ঘটমান অতীত, পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ কালগুলো যৌগিক কাল।

এখানে অপশনে,
- করছিলামকরছি - ঘটমান কাল নির্দেশ করে।
- করেছি - পুরাঘটিত কাল নির্দেশ করে।
সুতরাং, এগুলো যৌগিক কালের উদাহরণ।

- করব সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ। অর্থ্যাৎ এটি সরল কালের উদাহরণ।
৪৫৭.
'এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. বিস্ময়বোধক বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে।’ - যৌগিক বাক্য

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন -
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- এ গ্রামে একটি দরগাহ আছে, সেটি পাঠানযুগে নির্মিত হয়েছে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫৮.
‘বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে অথচ সে বাড়ি ফিরেনি।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. আশ্রিত বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে অথচ সে বাড়ি ফিরেনি।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসায় ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫৯.
“যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়” কী ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. মৌলিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যথাবাক্য: আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য।
- যে পরিশ্রম করে - সে-ই সুখ লাভ করে।
- যেখানে বাঘের ভয় - সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণে)।
৪৬০.
কোন বাক্যে আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা বোঝায়?
  1. আবেগসূচক
  2. প্রশ্নবোধক
  3. বিবৃতিমূলক
  4. অনুজ্ঞাসূচক
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞাসূচক
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক ।

অন্যদিকে,
বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন –
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি ।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন –
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য।
যেমন:
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড। 
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৬১.
কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ?
  1. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
  2. সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।
  3. যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
  4. যদি তুমি যাও তবে তার দেখা পাবে।
সঠিক উত্তর:
সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন:
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(;), কোলন(:), ড্যাশ(-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- রহিম রাতে ভাত খাই আর রহিমা খায় রুটি।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
- সূর্য উদিত হয়, তবে অন্ধকার দূর হয়।

------------------------
• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তখন তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
(বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৬২.
'সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।'- বাক্যটির অস্তিবাচকরূপ কোনটি?
  1. সেটা কখনোই না সফল হতে পারে।
  2. সেটা সফলহীন হতে পারে।
  3. সেটা সর্বদাই অসফল হয়।
  4. সেটা অসফলই হতে পার।
সঠিক উত্তর:
সেটা সর্বদাই অসফল হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেটা সর্বদাই অসফল হয়।
ব্যাখ্যা
• বাক্য রূপান্তর:
মূলভাব বা অর্থ অপরিবর্তিত রেখে এক শ্রেণির বাক্যকে অন্য শ্রেণির বাক্যে পরিবর্তন কারার নামই হলো বাক্য রূপান্তর।

• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

১. বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
নেতিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

২. 'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলে দিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন:
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না। 
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

৩. প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দ দ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন:
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬৩.
নিচের কোনটি সরল কাব্য?
  1. যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
  2. পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
  3. পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
  4. বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
সঠিক উত্তর:
পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারিদ্র হলেও তিনি সুখী।

 অন্যদিকে,
- পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
- বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।
- যে রক্ষক সেই ভক্ষক।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬৪.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ?
  1. অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারলেন না।
  2. শিশির খেলা দেখছে, আর সীমা রান্না করছে।
  3. যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
  4. পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
সঠিক উত্তর:
শিশির খেলা দেখছে, আর সীমা রান্না করছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশির খেলা দেখছে, আর সীমা রান্না করছে।
ব্যাখ্যা
• শিশির খেলা দেখছে, আর সীমা রান্না করছে। বাক্যটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
- অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারলেন না।- সরল বাক্য।
- যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। - জটিল বাক্য।
- পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন? - জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬৫.
"আকাশে মেঘ জমেছে, তাই বৃষ্টি হতে পারে।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

যৌগিক বাক্য: 
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন-
- আমরা সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম, কারণ আজ ছুটি ছিল।
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
-------------------
• "আকাশে মেঘ জমেছে, তাই বৃষ্টি হতে পারে।" - বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

কারণ:
যৌগিক বাক্য হল এমন বাক্য যেখানে দুটি বা ততোধিক স্বাধীন বাক্যাংশ যুক্ত থাকে সংযোজক (conjunction) দ্বারা।

- "আকাশে মেঘ জমেছে": এটি একটি স্বাধীন বাক্য।
- "বৃষ্টি হতে পারে": এটিও একটি স্বাধীন বাক্য।

এ দুটি বাক্যাংশকে "তাই" (কারণ এবং ফলাফল নির্দেশক সংযোজক) দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬৬.
'মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।' কোন ধরনের বাক্য? 
  1. ইচ্ছাসূচক
  2. কার্যকারণাত্মক
  3. নির্দেশাত্মক  
  4. সন্দেহাত্মক 
সঠিক উত্তর:
কার্যকারণাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্যকারণাত্মক
ব্যাখ্যা

• 'মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।'- এটি কার্যকারণাত্মক বাক্য।

• কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
- এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন -
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না।
- তুমি আসলে আমি যাব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা। 

৪৬৭.
'তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন(:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
- তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
- বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

৪৬৮.
"যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। 
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৯.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য’ বাক্যটিকে জটিল বাককে পরিণত করলে হবে ?
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা

- যে - সে, যিনি - তিনি, যারা - তারা, যা - তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং 
- যদি - তবে, যেহেতু- সেহেতু, যখন - তখন, যত - তত , যেমন তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
- যেমন-
- সরল বাক্য : তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
- জটিল বাক্য:যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

৪৭০.
কোন বাক্যে অবস্থিত পদমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম কী?
  1. ক) পূর্ণতা
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আসত্তি
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
সার্থক বাক্যের গুণ ৩ টি - 
- আকাঙ্ক্ষা
- আসত্তি 
- যোগ্যতা 

• বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যোগ্যতা। 
- যেমন- 'বর্ষাকালে জলপথে নৌকা চলে' এটি একটি যোগ্যতা সম্পন্ন বাক্য। কারন বাক্যটির পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধন আছে। 
- কিন্তু 'বর্ষাকালে আকাশ পথে নৌকা চলে' - বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারাবে। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭১.
'যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
- 'যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।'- এটি জটিল বাক্যের উদাহরণ।
 
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৪৭২.
কোনটি সরল বাক্য? 
  1. যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
  2. লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মান করে। 
  3. যদি পাশ করতে চাও, তাহলে পড়। 
  4. দরিদ্র হলেও সে সত্যবাদী।
সঠিক উত্তর:
দরিদ্র হলেও সে সত্যবাদী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দরিদ্র হলেও সে সত্যবাদী।
ব্যাখ্যা
• 'দরিদ্র হলেও সে সত্যবাদী।' বাক্যটি একটি সরল বাক্য।

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।

অন্যদিকে,
- 'যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।'- জটিল বাক্য। 
- 'লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মান করে।' যৌগিক বাক্য।
- 'যদি পাশ করতে চাও, তাহলে পড়।', - জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৪৭৩.
"যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. আশ্রিত খণ্ডবাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।' একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:

- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৪৭৪.
কোনটি আবেগবাচক বাক্য?
  1. আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
  2. তারা তোমাদের ভোলেনি।
  3. আমাকে একটি কলম দাও।
  4. অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
সঠিক উত্তর:
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
ব্যাখ্যা

আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।

যেমন:
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

অন্যদিকে,
অনুজ্ঞাবাচক বাক্য - আমাকে একটি কলম দাও।
বিবৃতিবাচক বাক্য - আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম। তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৭৫.
‘মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে’- এটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) মিশ্রবাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সরল
ব্যাখ্যা
• মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে - বাক্যটি একটি সরল বাক্য।
- এটির জটিল রূপ হলো মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

• সরল বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী।
৪৭৬.
আসত্তি অর্থ কী?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) মিলন
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
গ) মিলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিলন
ব্যাখ্যা
বাক্যের পদগুলিকে অর্থসঙ্গতিক্রমে পূর্বাপর সন্নিবিষ্ট করার নাম আসত্তি। আসত্তি অর্থ মিলন বা নৈকট্য বা পারস্পরিক সংযোগ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪৭৭.
কোন বাক্যটি সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করেছে?
  1. ক) যা হয় হোক
  2. খ) মন দিয়ে পড়
  3. গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
  4. ঘ) অন্যায় কাজ করো না
সঠিক উত্তর:
গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভালো করে পড়লে সফল হবে
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ ভাব : একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার উপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে। যেমন :
ক. সম্ভাবনায় : তিনি ফিরে এলে সবকিছুর মীমাংশা হবে, যদি সে পড়ত তবে সে পাশ করত।
খ. উদ্দেশ্য বোঝাতে : ভালো করে পড়লে সফল হবে।
গ. ইচ্ছা বা কামনায় : আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৮.
“ভিক্ষুককে দান কর।” – বাক্যটির মিশ্রবাক্য কোনটি?
  1. ভিক্ষুক ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
  2. যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
  3. ভিক্ষা চাওয়া ভিক্ষুক কে দান কর।
  4. ভিক্ষা চায়, ভিক্ষা দাও।
সঠিক উত্তর:
যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
• মিশ্র বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।

• সরল বাক্যকে মিশ্র বাক্যে রূপান্তর:

- প্রথমে সরল বাক্যের একটি অংশ নির্বাচন করতে হবে যেটিকে খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা যায়।
- এরপর খণ্ডবাক্যটির শুরুতে বা মাঝে সম্বন্ধসূচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যকে সঠিকভাবে যুক্ত করে মিশ্র বাক্য তৈরি করতে হবে।
- অর্থ যেন স্পষ্ট থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

• উদাহরণসমূহ:
• সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• মিশ্র বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

• সরল বাক্য: তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
• মিশ্র বাক্য: যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৪৭৯.
'ভিক্ষুককে টাকা দাও'- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. ক) যারা ভিক্ষা করে, তাদের ভিক্ষা দাও।
  2. খ) কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
  3. গ) যে ব্যক্তি ভিক্ষা করে, তাকে টাকা দাও।
  4. ঘ) ভিক্ষা করা, মানুষদের টাকা দাও।
সঠিক উত্তর:
খ) কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
ব্যাখ্যা
⇒ যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

[এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।]

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: ভিক্ষুকে টাকা দাও।
• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৪৮০.
‘সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. সরল
  3. জটিল
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
• ‘সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।’ - এটি মিশ্র বা জটিল বাক্য ধরনের বাক্য। 

মিশ্র বা জটিল বাক্য:

- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮১.
সরল বাক্যে রূপান্তর করঃ ''যদি আমার কথা না শুন, ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।''
  1. ক) আমার কথা না শুনলে অনুতাপ করবে।
  2. খ) ভবিষ্যাতে আমার কথা না শুনলে অনুতাপ করবে।
  3. গ) আমার কথা শুনলে অনুতাপ করবে না।
  4. ঘ) আমার কথা না শুনলে ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার কথা না শুনলে ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার কথা না শুনলে ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
''যদি আমার কথা না শুন, ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।'' এটি একটি জটিল বাক্য।
একে সরল বাক্যে রূপান্তর করলে হবে- আমার কথা না শুনলে ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮২.
‘ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা খণ্ড বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

⇒ যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
• সরল বাক্য: ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
• জটিল বাক্য: ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮৩.
'কাজল নিয়মিত লেখাপড়া'- আদর্শ বাক্যের কোন গুণটি অনুপস্থিত?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা  
  3. গ) আকাঙ্খা 
  4. ঘ) আকাঙ্ক্ষা 
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাঙ্ক্ষা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আকাঙ্ক্ষা 
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
- উল্লেখিত বাক্যে আকাঙ্ক্ষা গুণটি অনুপস্থিত রয়েছে।

• আকাঙ্ক্ষা: 
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন-
- ছেলেরা খেলে
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া
উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে। 
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
১। আকাঙ্ক্ষা,
২। আসত্তি,
৩। যোগ্যতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
৪৮৪.
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
বিশেষভাবে,
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।
-----------------
সে অনুসারে,
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ - এটি জটিল বাক্য।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।
-------------------
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(;), কোলন(:), ড্যাশ(-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: 
- রহিম রাতে ভাত খাই আর রহিমা খায় রুটি।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৫.
‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল’ এটি কোন বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সংযুক্ত
সঠিক উত্তর:
খ) মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি হলো 'মিশ্র' বাক্যের অন্তর্গত।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:

যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।

উৎস
: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
৪৮৬.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
  2. সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
  3. পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
  4. তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।
সঠিক উত্তর:
পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
- সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪৮৭.
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. বিবৃতিমূলক
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য। 

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮৮.
‘সে যে কোথায় তা আমার জানা নেই’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. জটিল
  3. সরল
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ‘সে যে কোথায় তা আমার জানা নেই’ এটি কোন ধরনের বাক্য? 

• জটিল বাক্য:

- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, সে-যে, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
- সে যে কোথায় তা আমার জানা নেই। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।
৪৮৯.
'সুখী মানুষ সূর্যোদয়ে আনন্দিত হয় এবং রাত্রির আগমনে পুলকিত হয়ে থাকে।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) সরল
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যৌগিক
ব্যাখ্যা

- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। যেমন-
- সুখী মানুষ সূর্যোদয়ে আনন্দিত হয় এবং রাত্রির আগমনে পুলকিত হয়ে থাকে।
- তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ।
- সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯০.
‘সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. মিশ্র
  2. সরল
  3. জটিল
  4. যৌগিক
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- গণ্ডির বাইরে গেলেই বিষম বিপদ।
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯১.
‘যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।’- কী ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. মৌলিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যথাবাক্য: আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
- যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৯২.
"লোকটি গরিব তথাপি অত্যন্ত সৎ।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন- 
- সে সৎ, অথচ গরিব।
- রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসলো।
- বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
--------------
• "লোকটি গরিব তথাপি অত্যন্ত সৎ।"- বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

কারণ:
যৌগিক বাক্যে দুটি বা ততোধিক সরল বাক্য সংযোজক অব্যয় (যেমন: এবং, অথচ, কিন্তু, তথাপি, তাই ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত থাকে।

এখানে,
লোকটি গরিব → প্রথম অংশ (সরল বাক্য)
অত্যন্ত সৎ → দ্বিতীয় অংশ (সরল বাক্য)
এই দুইটি বাক্য তথাপি যোজক অব্যয়ের মাধ্যমে যুক্ত হওয়ায় এটি একটি যৌগিক বাক্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪৯৩.
‘যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয়।'— বাক্যটির সরলরূপ হবে—
  1. ক) মাংসাশী পশুরা মাংস খায়, তাই বলবান হয় ।
  2. খ) সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
  3. গ) মাংসাশী পশুমাত্রই কি বলবান হয় না!
  4. ঘ) সকল মাংসাশী পশুই বলবান হয় বৈ কি।
সঠিক উত্তর:
খ) সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।
ব্যাখ্যা
- ‘যে সব পশু মাংশ খায়, তারা খুব বলবান হয় হলো একটি জটিল বাক্য।
- বাক্যটির সরলরূপ হবে: 'সকল মাংসাশী পশুই খুব বলবান হয়।'

• গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার৷
যথা- সরল বাক্য,
মিশ্র/জটিল বাক্য
এবং যৌগিক বাক্য৷

সরল বাক্য: বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
তোমরা বাড়ি যাও।

মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর:
মিশ্র বা জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মিশ্র বাক্যের অপ্রধান খন্ডবাক্যটিকে সংকুচিত করে একটি পদ বা একটি বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়৷
যথা:
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
সরল বাক্য: নির্বোধরা/বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

মিশ্র বাক্য: যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন এ ঋণ স্বীকার করব।
সরল বাক্য:আজীবন এ ঋণ স্বীকার করব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী ২০১৯ সংস্করণ।
৪৯৪.
'যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়'- বাক্যটির সরল বাক্যরূপ কোনটি?
  1. ক) বিদ্বান যিনি সর্বত্র তিনি আদরণীয়
  2. খ) তিনি বিদ্বান তাই সর্বত্র আদরণীয়
  3. গ) বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়
  4. ঘ) বিদ্বান সকলক্ষেত্রে সর্বত্র আদরণীয়
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়
ব্যাখ্যা
- 'যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়'- বাক্যটির সরল বাক্যরূপ হচ্ছে বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়

জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো ।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।

জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৯৫.
'মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।' - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।

​​যেমন:
- সালমা সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

​​​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৯৬.
‘যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে’ কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সংযুক্ত
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
• যেমন -
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
৪৯৭.
'যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।' -এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মৌলিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল/মিশ্র বাক্য তৈরি হয়।

- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । যেমন –
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
- যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ৯২০১৯- সংস্করণ)।
৪৯৮.
গঠন অনুসারে বাক্য কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. চার ভাগে
  4. পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
তিন ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন ভাগে
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুসারে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল. সে আমার ভাই ।

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪-সংস্করণ)।
৪৯৯.
‘সেজন্য’, ‘ফলে’ যোজকদ্বয় কোন ধরনের বাক্যে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে - বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২৩ সংস্করণ।
৫০০.
নিচের কোনটি সরল বাক্য?
  1. ক) যে অন্ধ তাকে আলো দাও
  2. খ) চরিত্রহীন লোক পশুর চেয়েও অধম
  3. গ) যে রক্ষক সেই ভক্ষক
  4. ঘ) পড়াশোনা কর নতুবা ভবিষ্যৎ অন্ধকার
সঠিক উত্তর:
খ) চরিত্রহীন লোক পশুর চেয়েও অধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চরিত্রহীন লোক পশুর চেয়েও অধম
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত বাক্য সমূহের মধ্যে সরল বাক্য হলো চরিত্রহীন লোক পশুর চেয়েও অধম।
অন্যদিকে ‘যে অন্ধ তাকে আলো দাও’ এবং ‘যে রক্ষক সেই ভক্ষক’ হলো মিশ্র বা জটিল বাক্য। ‘পড়াশোনা কর নতুবা ভবিষ্যৎ অন্ধকার’ এটি যৌগিক বাক্য।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ)