PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
বাক্যের প্রকারভেদ
বাক্যের প্রকারভেদ
PrepBank · পাতা ৭ / ৮ · ৬০১–৭০০ / ৭৫৪
উত্তর
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে নির্বোধ, সে একাজ করে।
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন-
- স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন।
প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি একটি সরল বাক্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী ।
উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আদেশ বাচক বাক্য (Imperative sentence):
এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যথা : শিক্ষক মহােদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে। চুপটি করে বস। উঠে দাঁড়াও। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।
- স্বরভঙ্গি তথা বাগৃভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
যথা :
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশে: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তােমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বােঝাতে: বড় শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালাে হয়েছে।
৭. দুঃখ প্রকাশে: আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
৮. বিরক্তি প্রকাশে: আঃ, ভালাে লাগছে না, এখন এখান থেকে যাও তাে।
৯. ভীতি প্রদর্শনে: যাবি কি না বল?
১০. লজ্জা প্রকাশে: ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে পারলে না।
১১. ধিক্কার দিতে: ছিঃ, তােমার এই কাজ।
১২. ঘৃণা প্রকাশে: তুমি এত নীচ।
১৩. অনুরােধ প্রকাশে: কাজটি করে দাও না ভাই।
১৪. প্রার্থনা: ঈশ্বর তােমার মঙ্গল করুন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
জটিল ও যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য রূপান্তর করার সময় অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যটি সরল বাক্য।
এর জটিল রূপ: পয়লা পয়লা/প্রথম প্রথম যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিরমি খায়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থসংগতি রক্ষা করে পদগুলোকে যথাযথভাবে সাজিয়ে রাখার নাম আসত্তি।
যেমন :
- বাবা বাজার ইলিশ থেকে এনেছেন।
এখানে বক্তা যা বলতে চেয়েছেন তার সব উপকরণ আছে। কিন্তু পদগুলো যথাযথভাবে সাজানো হয় নি। ফলে সুস্পষ্ট কোনো অর্থও প্রকাশ পায়নি।
কিন্তু
- বাবা বাজার থেকে ইলিশ এনেছেন।
এভাবে লেখা হলে বক্তব্যটির অর্থ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে একটি সুগঠিত বাক্য হতো। তাই সার্থক বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর যথাযথ অবস্থানে থাকা আবশ্যক।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
----------------
• সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম-
সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-
• সূত্র: বাক্যের পরিবর্তন হলেও বাক্যের মূল অর্থের পরিবর্তন হয় না।
যেমন-
সরল: সমাজে দয়ার চেয়ে দায়ের জোর বেশি।
যৌগিক: সমাজে দয়ার জোর বেশি নয়, বরং দায়ের জোর বেশি।
• সূত্র: সরল বাক্যের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) যারা স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়।
যেমন-
সরল: 'গুহাটা হইতে বাহির হইয়া আসিয়া ধড়ে প্রাণ আসিল।'
যৌগিক: 'গুহাটা হইতে বাহির হইলাম, তবেই ধড়ে প্রাণ আসিল।'
• সূত্র: সরল বাক্যের সমাপিকা ক্রিয়া দ্বারা অন্য একটি স্বনির্ভর খণ্ডবাক্যও গঠিত হয়।
যেমন-
সরল ঝুরি নেমে গড়ে ওঠা গড়িই এখন রয়েছে।
যৌগিক: ঝুরি নেমে গুঁড়ি গড়ে উঠেছে, আর তা-ই এখন রয়েছে।
• সূত্র: প্রয়োজনে সরল বাক্যের অন্য শব্দসমষ্টির দ্বারা কিংবা বাক্যাংশকে প্রসারিত করে এক বা একাধিক স্বনির্ভর খণ্ডবাক্য গঠিত হতে পারে।
যেমন-
সরল: আমি বর ছিলাম বলে বিবাহ সম্বন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
যৌগিক: আমি ছিলাম বর, সুতরাং বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
• সূত্র: খণ্ডবাক্যগুলো ব্যতিরেকাত্মক, প্রাতিপাক্ষিক, সংযোজক, বিয়োজক প্রভৃতি যে কোনো অব্যয় দ্বারা যুক্ত করে যৌগিক বাক্য গঠন করা।
যেমন-
সরল: তুমি চলে গেলে তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?
যৌগিক: তুমি চলে যাবে, কিন্তু তোমার জিনিসপত্তর দেখবে কে?
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
(১) সরল বাক্যঃ একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
(২) জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল।
বাক্য তৈরি হয়।
যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।
(৩) যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন।
করে।
যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।
[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
⇒ "রক্ষকই ভক্ষক" বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় বাক্যটি একটি সরল বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- পড়াশোনা করলে জীবনে উন্নতি করতে পারবে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারিদ্র হলেও তিনি সুখী।
অন্যদিকে,
- সূর্য উদিত হয় তবে অন্ধকার দূর হয়।- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।
- বাঙালির যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।
- যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।- জটিল বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
অন্যদিকে,
বিবৃতিমূলক বাক্য - তারা তোমাদের ভোলেনি।
প্রশ্নবোধক বাক্য - সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগসূচক বাক্য - কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- আমি যেহেতু বর ছিলাম, তাই বিবাহ সম্মন্ধে আমার মত যাচাই করা অনাবশ্যক ছিল।
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
অন্যদিকে,
- পিতা তো আছেন, তাই পুত্রকে খোঁজ কেন?
- শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, কিন্তু সেটা স্বভাবের ষোল।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
[উপড়ে প্রদত্ত বাক্যগুলো যৌগিক বাক্যের উদাহরণ।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্যঃ যদি চোখ বেঁধে দাও তবু ঠিক বের করতে পারবো কোথায় জলের কল, কোথায় চা খিলির দোকান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
উত্তর
ব্যাখ্যা
‘অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।’ বাক্যটি গঠনের দিক থেকে একটি যৌগিক বাক্য। এতে দুটি স্বাধীন খণ্ডবাক্য ‘অন্ধকার হয়ে এসেছে’ এবং ‘বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল’ ‘ও’ সমন্বয়কারী সংযোজক দ্বারা সংযুক্ত। প্রতিটি খণ্ড স্বতন্ত্রভাবে অর্থ প্রকাশ করে এবং সমান গুরুত্ব বহন করে, যা যৌগিক বাক্যের লক্ষণ।
----------------
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- বাক্যসমূহের একটি সমাপিকা ক্রিয়াকে অপরিবর্তিত রাখতে হয়।
- অন্যান্য সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয় ।
- অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
- কোনো কোনো স্থলে একটি বাক্যকে হেতুবোধক বাক্যাংশে পরিণত করতে হয়।
যথা:
১. যৌগিক বাক্য: সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
সরল বাক্য: সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
২. যৌগিক বাক্য: তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
সরল বাক্য: তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি।
৩. যৌগিক বাক্য: মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
সরল বাক্য: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
বাক্যটিকে সরল বাক্যে রূপান্তর করলে হবে - দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অস্তিবাচক বাক্য থেকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
• সূত্র: অস্তিবাচক বাক্যকে নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে-'হ্যাঁ' সূচক বাক্যকে 'না' করতে হলে মূল অর্থ পরিবর্তন না করে বাকা পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক : 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার অযোগ্য।'
- নেতিবাচক : 'আপনকার বাণ অল্পপ্রাণ মৃগশাবকের উপর নিক্ষিপ্ত হইবার যোগ্য নহে।'
• সূত্র: নঞর্থক অব্যয়যোগে অস্তিবাচক বাক্যের বিধেয় ক্রিয়াকে (সমাপিকা ক্রিয়াকে) নেতিবাচক বাক্যে রূপান্তর করা হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক: মন নিচুতে নামতে অনিচ্ছুক।
- নেতিবাচক: মন নিচুতে নামতে চায় না।
• সূত্র: প্রয়োজন মতো বাক্যের অন্য শব্দকে 'না' সূচক প্রয়োগ করতে হয়।
যেমন:
- অস্তিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের কি?
- নেতিবাচক: 'তিনি স্বেচ্ছায় যখন সহমরণে যাইতে চাহিতেছেন, তখন সরকারের আপত্তি থাকিতে পারে না।'
• সূত্র: না'-বাচক ক্রিয়া ও 'না'-বাচক শব্দ মিলে বাক্যের অস্তিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক ভাবটি বজায় রাখতে হয়।
- অস্তিবাচক: ভায়ের উচিত কাজ হয়েছে।
- নেতিবাচক ভায়ের অনুচিত কাজ হয়নি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- জটিল/মিশ্র বাক্য: যিনি গুণবান ব্যক্তি তিনি বিনয়ী হন।
• জটিল বা মিশ্রবাক্য:
- যে বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্যর সমন্বয়ে বা দুটো খণ্ডবাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় বা যে বাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে তাকে জটিল বাক্য বলে।
- এখানে প্রধান খণ্ডবাক্যটি স্বাধীন এবং অপ্রধান খণ্ডবাক্যটি তার অধীন বা আশ্রিত।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়। সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন:
সরল বাক্য: দশ মিনিট পর ট্রেন এলো।
যৌগিক বাক্য: দশ মিনিট অতিক্রান্ত হলো, তারপর বাস এলো।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় :
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য
• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।
• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।
- তিনি জাতিতে বাঙ্গালি।
[এই বাক্যে কোনো কাজ বা ক্রিয়া কার্যকারিতা প্রকাশ পাচ্ছে না। এটি কেবল একটি বর্ণনা বা পরিচয় প্রকাশ করছে, যেখানে কোনো কর্ম বা কাজের সম্পাদন নেই।]
• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন:
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
মিশ্র বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিবর্তন করতে হলে খণ্ডবাক্যগুলোকে এক একটি স্বাধীন বাক্যে পরিবর্তন করে তাদের মধ্যে সংযোজক অব্যয়ের ব্যবহার করতে হয়। যেমন –
• মিশ্র বাক্য: যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
• যৌগিক বাক্য: সে কাল আসবে এবং আমি যাব।
• মিশ্র বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।
• মিশ্র বাক্য: যদিও তাঁর টাকা আছে, তথাপি তিনি দান করেন না।
• যৌগিক বাক্য: তাঁর টাকা আছে, কিন্তু তিনি দান করেন না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।
অন্যদিকে,
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য।
যেমন:
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।
আবেগ প্রকাশে: বাহ্ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।
• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• তার মঙ্গল হােক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।
• আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
• যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
- তারা দুজনে ওত পেতে ছিল নইলে চোর ধরা সম্ভব ছিল না।
- তুমি অন্যায় করেছ সুতরাং তোমাকে শাস্তি পেতেই হবে।
- বেশ রাত হলো এবং আমরা বাড়ি ফিরলাম।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি।
• আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
ছেলেরা খেলে
কাজল নিয়মিত লেখাপড়া
উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।
• আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
‘নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া’।
উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।
• যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।
উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি-
‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।
যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রুপান্তর:
- জটিল বাক্যের সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক বাদ দিয়ে যৌগিক বাক্য তৈরি করতে হয়। যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
যেমন
- জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
- যৌগিক বাক্য:বিপদ আসে এবং সঙ্গে দুঃখও আসে।
- জটিল বাক্য: যদি নিয়মিত সাঁতার কাটো, তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
- যৌগিক বাক্য: নিয়মিত সাঁতার কাটো, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
-----------------------------
• জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময় সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যে অন্ধ তাকে আলো দাও।
সরল বাক্য: অন্ধকে আলো দাও।
জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
=============
⇒ সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন ৷
➤ সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে ৷
যেমন:
- আমরা তিন ভাইবোন।
➤ বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন:
- তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।
⇒ যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- পিতা যখন আছে তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনা বা বিবরণমূলক বা বিবৃতিমূলক বা নির্দেশাত্মক বাক্য।
- আবার এভাবেও বলা যায়, যে বাক্যে কোনো ঘটনার ভাব বা তথ্য থাকে এবং সেই বক্তব্যকে সাধারণভাবে বিবৃত বা নির্দেশ করা হয় তাকে বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য বলে।
যেমন:
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
- সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।
প্রদত্ত বাক্য "এবার আমার একটি বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলাে" যেকোনো একটি ঘটনার বর্ণনা সাধারণভাবে দেয়া হচ্ছে। সুতরাং, এটি একটি বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য।
• বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্যকে আবার অস্তিবাচক বা হ্যাঁসূচক বাক্য ও নেতিবাচক বা না-সূচক বাক্য এ দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. অস্তিবাচক বাক্য:
যে বাক্য দ্বারা কোনো কিছুর বর্ণনায় ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় অস্তিবাচক বাক্য।
যেমন:
- আমি প্রত্যদিন সকালে হাটি।
- ছাত্ররা নিয়মিত লেখাপড়া করে।
- ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।
২. নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমন:
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি।
- তিনি এবার গ্রামে যাবেন না ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে'- এটি জটিল বাক্য।
----------------------------------------
• জটিল বাক্য:
- একটি প্রধান বাক্যের সঙ্গে অধীনস্থ এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোনো অনুসর্গী সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
- জটিল বাক্য গঠনের নিয়ম:
• জটিল বাক্য গঠিত হয় প্রধান বা স্বাধীন বাক্য এবং এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য এর সংযোগে।
• আশ্রিত বাক্য সাধারণত ‘যে’, ‘যিনি’, ‘যা’, ‘যখন’, ‘যেখানে’, ‘যদি’, ‘কারণ’ ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় বা আপেক্ষিক সর্বনাম দ্বারা যুক্ত থাকে।
• আশ্রিত বাক্য প্রধান বাক্যের সাহায্য ছাড়া পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
• জটিল বাক্যে প্রধান বাক্য ও আশ্রিত বাক্য পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলভাবে ব্যবহার হয়।
- যেমন- “যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে।”
• এখানে একটি স্বাধীন বাক্য এবং একটি নির্ভরশীল বাক্য আছে।
- প্রধান (Independent) বাক্য: “সে কি আমায় নেবে চিনে।”
- এটি স্বাধীনভাবে পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করছে।
• আশ্রিত/নির্ভরশীল (Dependent) বাক্য: “যদি তারে নাই চিনি গো”।
- এটি একাই পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, তাই প্রধান বাক্যের সাহায্য প্রয়োজন।
• সংযোগকারী: “যদি” → এটি আপেক্ষিক অব্যয়, যা প্রধান বাক্যের সঙ্গে আশ্রিত বাক্যকে যুক্ত করেছে।
----------------------------------
- মিশ্র বা জটিল বাক্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ তুলে ধরা হলো :
• যে পরিশ্রম করে, সেই সফলতা লাভ করে।
• যে ব্যক্তির মাথায় বুদ্ধি নেই, সে পরের সমালোচনায় উদ্ধত হয়।
• সবাই জানেন যে, কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।
• লেখাপড়া বিষয়ে তার যে গভীর অনুরাগ ছিল, একথা বলা যায় না।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
অন্যদিকে,
প্রশ্নবোধক বাক্য - সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য - আমাকে একটি কলম দাও।
আবেগসূচক বাক্য - বাহ্! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যারা মাতৃভাষার মূল্য দেয় না, তারা মায়ের মূল্য দিতে জানে না।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
অন্যান্য অপশন:
'তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।'- সরল বাক্য।
'তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।'- সরল বাক্য।
'আমরা তিন ভাইবোন ঘুরতে বের হলাম।'- সরল বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যতই পরিশ্রম করবে, ততই ফল পাবে।
অন্যদিকে:
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন-
- সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।
- তার বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়েনি।
- আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে,
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে,
- ভিক্ষুককে দান করো,
- মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যথা,
- সরল বাক্য,
- মিশ্র/জটিল বাক্য,
এবং যৌগিক বাক্য৷
সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
একইভাবে, 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে' বাক্যটিতে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকায় বাক্যটি সরল বাক্য হবে।
==================
জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা (, ), সেমিকোলন (ঃ), কোলন ( ; ), ড্যাশ ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
অন্যদিকে,
"দ্বিরুক্ত" বাক্যের কোন ধরন/প্রকারভেদ নয়। দ্বিরুক্ত বলতে বুঝায় দুই বার উচ্চারিত হয়েছে এমন শব্দ।
আমার জ্বর জ্বর লাগছে- বাক্যটিতে ‘জ্বর জ্বর’ হলো দ্বিরুক্ত শব্দ। যা সামান্যতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
• বাক্যের মাধ্যমে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়। যেমন - সজল ও লতা বই পড়ে।
⇒ সাধারণ বাক্যের প্রধান তিনটি অংশ:
• কর্তা: বাক্যের ক্রিয়াকে চালায়;
• কর্ম: যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয়;
• ক্রিয়া: যে অংশ দিয়ে কোন কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়।
⇒ প্রতিটি বাক্যকে দুই অংশে ভাগ করা যায়:
• উদ্দেশ্য: যে অংশে করো সম্পর্কে বলা হয়;
• বিধেয়: যে অংশে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলা হয়।
⇒ গঠনগত দিক দিয়ে বাক্য তিন প্রকার:
১. সরল,
২. জটিল,
৩. যৌগিক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
এগুলো হলো- রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা, দুর্বোধ্যতা, উপমার ভুল প্রয়োগ, বাহুল্য দোষ, বাগধারার শব্দ পরিবর্তন এবং গুরুচণ্ডালী দোষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরিত করার নিয়ম:
- বাক্য পরিবর্তন হলেও অর্থের পরিবর্তন হয় না।
- বাক্যটিকে একটি অংশে পরিণত করতে হয়।
- সংযোজক, বিয়োজক ইত্যাদি অব্যয় পদ থাকলে তা বর্জন করতে হয়।
উদাহরণ:
যৌগিক বাক্য: তুমি আসবে এবং আমি যাব।
সরল বাক্য: তুমি এলে আমি যাব।
উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক, বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- আমার হারানো কলমটি ফিরে পেয়েছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন –
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো ।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।
অন্যদিকে,
- যারা ধার্মিক তারা সুখী।- এটি একটি সরল বাক্য।
- সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।- এটি একটি সরল বাক্য।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।- এটি একটি জটিল বাক্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
নেতিবাচক বাক্য : যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমনঃ
- হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না।
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি।
সোর্সঃ বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ: কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
- উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি।
- বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।
আসত্তি:
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
- বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়।
- পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদ্গুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।
যোগ্যতা:
- বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না।
- তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- ‘বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে’।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। যেমন:
- দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- তিনি আমকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
অন্যদিকে,
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
- তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে যেতে বললেন।
- পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যথা:
- যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
- যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালোবাসে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
[এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।]
যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
• সরল বাক্য: ভিক্ষুকে টাকা দাও।
• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
• যেমন:
- তার বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়েনি।
- সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।
- আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে,
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে,
- ভিক্ষুককে দান করো,
- মাংসভোজী পশু অত্যন্ত বলবান ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন:
- সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার জন্য কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- বিদ্বান হলেও তাঁর বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।
--------------
• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
-জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, কিন্তু, ও, তাই, কারণ, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে।
যেমন:
- তিনি দরিদ্র, কিন্তু ভদ্র।
- তুমি অধম, তাই বলে আমি উত্তম হব না কেন?
- আমি এসেছি, কারণ তোমাকে নিয়ে যাব।
- কোথাও ধার পাইনি, তাই তোমার কাছে এসেছি।
- সে দরিদ্র, কিন্তু তার মন ছোটো নয়।
- তার ভাই ঋণ করেছিল, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
- অনেকেরই জীবনে দুঃখ আসে, তারপর সুখ আসে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়ৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
যে - সে, যা - তা, যিনি তিনি, যাঁরা তাঁরা ইত্যাদি।
নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন তখন, যেমন- তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।
যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
- যদিও লোকটির সবই আছে, তথাপি সে সুখী নয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- টিটু সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
যৌগিক বাক্য:
- এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন:
- সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যেমন:
- তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
(উক্ত বাক্যে একটি কর্তা এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়া আছে তাই এটি একটি সরল বাক্য।)
উক্ত বাক্যটির জটিল ও যৌগিকরূপ:
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন, এবং বাড়ি যেতে বললেন।
- তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন: যিনি পরের উপকার করেন (আশ্রিত বাক্য), তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে (খণ্ডবাক্য)।
• জটিল বাক্যে- ক. বিশেষ্য স্থানীয়, খ. বিশেষণ স্থানীয়, গ. ক্রিয়াবিশেষণ ও বিশেষণীয় বিশেষণস্থানীয় আশ্রিত বাক্য বসে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যথা -
- সক্রিয় বাক্য।
- অক্রিয় বাক্য।
• সক্রিয় বাক্য:
- যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - আমার মা চাকরি করেন।
• অক্রিয় বাক্য:
- যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
- যেমন - তিনি বাংলাদশের নাগরিক।
• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন -
'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
• "জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" একটি সরল বাক্য।
- এখানে একটি কর্তা(জ্ঞানী লোক) ও একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (শ্রদ্ধা) আছে তাই এটি একটি সরল বাক্য।
- এই বাক্যের জটিল রূপ: 'যিনি জ্ঞানী লোক তিনি সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।'
- এই বাক্যের যৌগিক রূপ: 'তিনি জ্ঞানী লোক,তাই সবার শ্রদ্ধার পাত্র।'
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- তিনি দরিদ্র হলেও অসাধু নন। [বাক্যে একটি মাত্র কর্তা ও একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে।]
- যিনি জ্ঞানী তিনিই সত্যিকার ধনী।- এটি একটি জটিল বাক্য।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন:
• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
• সরল বাক্য: এখন পরবালের কর্ম না করিলে কবে করিব?
• যৌগিক বাক্য: এখন পরকালের কর্ম করিব, নাতো কবে করিব?
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- আঁখি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
যৌগিক বাক্য:
- এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন:
- সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- আঁখি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
• জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- মা ছিলনা বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
• যৌগিক বাক্য:
- এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন:
- সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উত্তর
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: ঘ) অপরিবর্তনযোগ্য পদক্রম।
ব্যাখ্যা: বাংলা বাক্যের আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য হলো:
অর্থসংগতি (ক): বাক্যের অর্থ স্পষ্ট এবং বোধগম্য হতে হবে।
অন্য পদের আকাঙ্ক্ষা না থাকা (খ): বাক্য সম্পূর্ণ হতে হবে, অর্থাৎ কোনো পদের অপেক্ষায় থাকা যাবে না।
পদগত অম্বয় (গ): বাক্যের পদগুলোর মধ্যে সঠিক সংযোগ ও সম্পর্ক থাকতে হবে।
কিন্তু অপরিবর্তনযোগ্য পদক্রম (ঘ) বাংলা বাক্যের আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য নয়। বাংলা ভাষায় পদক্রম তুলনামূলকভাবে নমনীয়। যেমন, "আমি ভাত খাই" এবং "ভাত খাই আমি" উভয়ই বৈধ বাক্য, যদিও অর্থের ওপর ভিত্তি করে পদক্রমের প্রভাব পড়তে পারে। তাই পদক্রম অপরিবর্তনযোগ্য নয়।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য থেকে জটিল বাক্য
⇒ যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করার সময়ে যৌগিক বাক্যের যোজক বাদ দিতে হয়। এর বদলে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজক যুক্ত হয়।
যেমন
- যৌগিক বাক্য: ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
- জটিল বাক্য: যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।
- যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ; অতএব শাস্তি পাবে।
- জটিল বাক্য: যেহেতু দোষ করেছ, সেহেতু শাস্তিন্ত পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালে সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এখানে ‘সবাই জানেন যে’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য আর ‘কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না’ অংশটি প্রধান খণ্ডবাক্য।
--------------------
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- সে আসতে চায়, তথাপি আসে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- পাখিরা আকাশে ওড়ে।
- নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়।
• লক্ষ কর: সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে বাক্যে এক বা একাধিক কর্মপদ (বিশেষ্য) থাকতে পারে। সমাপিকা ক্রিয়াটা অকর্মক ক্রিয়া হলে কোনো কর্মপদ থাকে না, ক্রিয়া-বিশেষণ থাকতে পারে।
যেমন:
- শিশুটা হাসছে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- শিশুটা ধীরে ধীরে হাঁটছে। (ক্রিয়াবিশেষণ + অকর্মক ক্রিয়া)
- সে ভাত খাচ্ছে। (কর্মপদ + সমাপিকা ক্রিয়া)
- সে আমাকে একটা ছবি দেখাবে। (কর্মপদ + কর্মপদ + দ্বিকর্মক ক্রিয়া)
একটা সরল বাক্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে।
যেমন:
- আমি তাকে দেখতে চাই।
[এখানে 'দেখতে' হলো অসমাপিকা ক্রিয়া। 'চাই' হলো সমাপিকা ক্রিয়া। যেহেতু সমাপিকা ক্রিয়া মাত্র একটা, সেহেতু বাক্যটা সরল।]
-------------
অন্যদিকে,
- ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।
- যারা ছাত্র তাদের অধ্যয়নই তপস্যা।
- যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
[অপশনে প্রদত্ত অন্য বাক্যগুলো জটিল বাক্য।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- গৃহস্বামী তার কাছে গিয়ে নিজের দুরবস্থা জানাল।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দরিদ্র হলেও তিনি সুখী।
অন্যদিকে,
- বৈশাখ শেষ হইয়া আসে কিন্তু মেঘের ছায়াটুকু কোথাও নাই।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- বাইরে এস দেখলাম যে প্রায় প্রভাত হয়েছে।- এটি একটি জটিল বাক্য।
- যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমারে নেবে চিনে।- এটি একটি জটিল বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারনভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
এখানে, 'বের হবোনা' প্রধান বাক্য আর 'যদি বৃষ্টি হয়' হলো- অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্য আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে।
• কিছু অনুজ্ঞার উদাহরণ:
'আদেশ' অর্থে - তোমরা এখন যাও, হাতমুখ ধুয়ে পড়তে বসো।
'অনুরােধ' অর্থে - অঙ্কটা বুজিয়ে দাও না।
'উপদেশ' অর্থে - পাতিস নে শিলাতলে পদ্মপাতা।
'প্রার্থনা' অর্থে- আমার দরখাস্তটা পড়ুন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।
অন্যদিকে,
- আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি। এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'আমি যে গান গাই, তা যৌবনের গান।'- বাক্যটি একটি জটিল বাক্য।
• জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• বর্ণনা বা বিবরণমূলক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনামূলক বাক্য।
যেমন-
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘােরে।
লােকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে।
সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।
• প্রশ্নবােধক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে কোনাে কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবােধক বাক্য।
যেমন:
তুমি কি লােকটিকে চিন? সে কি আজ বাড়ি যাবে?
তুমি কি প্রতিদিন স্কুলে যাও ইত্যাদি।
• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যের সাহায্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরােধ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।
যেমন-
আদেশ: এখান থেকে বিদায় হও।
অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করাে না।
নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করাে না।
প্রস্তাব : চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি।
• ইচ্ছাসূচক বাক্য:
এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস্, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যেমন-
তােমার মঙ্গল হােক।
পরীক্ষায় সফল হও।
• বিস্ময়সূচক বাক্য:
- যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বুঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যেমন - 'হে সিন্ধু! বন্ধু মোর- মজিনু তব রূপে।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যথা- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। এখানে আশ্রিত বাক্য 'যে পরিশ্রম করে' এবং প্রধান খণ্ডবাক্য 'সে-ই সুখ লাভ করে।'
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• আবেগসূচক বাক্য: কী সাংঘাতিক লোক!
• বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্যে বিস্ময়, হর্ষ, শোক, ঘৃণা, ক্রোধ, ভয় ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।
যথা:
• বিস্ময়: কী সাংঘাতিক লোক!
• হর্ষ: ছন্দে ছন্দে দুলি আনন্দে, আমি বনফুল গো!
• ঘৃণা: ছিঃ ছিঃ! অমন কথা মুখে আনলে কী করে?
• শোক: হায় হায়! কী যন্ত্রণায় যে পড়েছি।
• ক্রোধ: এত বড় স্পর্ধা! মুখের ওপর কথা বলে।
• ভয়: ওরে বাবা রে, খেয়ে ফেলল রে!
• আবেগ: বাহ! সুন্দর লিখেছ তো।
অন্যদিকে,
নির্দেশাত্মক বাক্য:
• সেই বাঁশির সুর ভারি মিষ্টি।
• এ গানটি অত্যন্ত করুণ।
• যা দেখলাম, ভারি সুন্দর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
উত্তর
ব্যাখ্যা
- 'যদিও তুমি ধনী তবুও উদার নও।'
যৌগিক বাক্যকে জটিল বাক্যে পরিবর্তনের সূত্র:
১. বাক্যটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করতে হবে।
২. সংযােজক, বিয়ােজক ও ব্যতিরেকাত্মক অব্যয় পদের বিলুপ্তি ঘটাতে হবে।
৩. নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যগুলাের মধ্যে একটিকে প্রধান রেখে অন্যান্য খণ্ডবাক্যগুলােকে অপ্রধান বা আশ্রিত বাক্যে পরিণত করতে হবে।
৪. নিরপেক্ষ বাক্য দুটির পূর্বে সম্বন্ধসূচক অব্যয় পদ ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
যৌগিক : মনােযােগ দিয়ে পড়াশােনা কর, তবে পাস করতে পারবে।
জটিল : যদি মনােযােগ দিয়ে পড়াশােনা কর, তবে পাস করতে পারবে।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উত্তর
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য: বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- আঁখি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার জন্য কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- 'তার মঙ্গল হোক'- এটি অনুজ্ঞাবাচক বাক্যের উদাহরণ।
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
অন্যদিকে,
বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন -
- আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তােমাদের ভােলেনি।
প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা কারো কাছে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন,
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
আবেগবাচক বাক্য:
কোনো কিছু দেখে বা শুনে আবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন,
- দারুণ ! আমরা জিতে গেছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে। যেমন-
- তার বয়স বেড়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ।
- সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি।
- তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নিত্য করে।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য (simple sentence):
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- পাখিরা আকাশে ওড়ে।
- নিয়মমতো পড়লে পরীক্ষায় পাশ করা যায়।
• লক্ষ কর: সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে বাক্যে এক বা একাধিক কর্মপদ (বিশেষ্য) থাকতে পারে। সমাপিকা ক্রিয়াটা অকর্মক ক্রিয়া হলে কোনো কর্মপদ থাকে না, ক্রিয়া-বিশেষণ থাকতে পারে।
যেমন:
- শিশুটা হাসছে। (অকর্মক ক্রিয়া)
- শিশুটা ধীরে ধীরে হাঁটছে। (ক্রিয়াবিশেষণ + অকর্মক ক্রিয়া)
- সে ভাত খাচ্ছে। (কর্মপদ + সমাপিকা ক্রিয়া)
- সে আমাকে একটা ছবি দেখাবে। (কর্মপদ + কর্মপদ + দ্বিকর্মক ক্রিয়া)
একটা সরল বাক্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে।
যেমন:
- আমি তাকে দেখতে চাই।
[এখানে 'দেখতে' হলো অসমাপিকা ক্রিয়া। 'চাই' হলো সমাপিকা ক্রিয়া। যেহেতু সমাপিকা ক্রিয়া মাত্র একটা, সেহেতু বাক্যটা সরল।]
অন্যদিকে,
- ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।
- যারা ছাত্র তাদের অধ্যয়নই তপস্যা।
- যে সৎ লোক সে কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
[অপশনে প্রদত্ত অন্য বাক্যগুলো জটিল বাক্য।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- সালমা সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।
উত্তর
ব্যাখ্যা
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন,
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে - বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।