বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / ১২ · ৪০১৫০০ / ১,১৮৫

৪০১.
ইনকা সভ্যতার রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. কুজকো
  2. লিমা
  3. ভিলকাবাম্বা
  4. মাচু পিচু
সঠিক উত্তর:
কুজকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুজকো
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার রাজধানী ছিল কুজকো।
- এই সভ্যতার স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- তাদের স্থাপত্য, সেচ ব্যবস্থা, প্রাসাদ, মন্দির ও দুর্গের অবশেষ আজও আন্দিজে দেখা যায়।
- ১৫৩২ সালে স্প্যানিশ বিজয়ীদের দ্বারা ইনকা সাম্রাজ্যের পতন ঘটে

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

৪০২.
ঐতিহাসিক ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ১৬৪৮ সালে
  2. ১৬৫০ সালে
  3. ১৬১৮ সালে
  4. ১৬৩০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬৪৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ঐতিহাসিক ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি ১৬৪৮ সালের ২৪ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- এটি ত্রিশ বছরব্যাপী ধর্মীয় ও রাজনৈতিক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটায়।
- প্রোটেস্টান্ট ও ক্যাথলিকদের মধ্যকার সংঘাত এবং ইউরোপের শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- চুক্তিটি দুইটি পৃথক শান্তি চুক্তি নিয়ে গঠিত: মুন্সটার ও অস্‌নাব্রুক চুক্তি।
- এর ফলে ইউরোপে আধুনিক জাতিরাষ্ট্র ব্যবস্থার সূচনা হয় এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি ইউরোপের শান্তির স্বপক্ষে প্রথম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- এটি ইউরোপকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
- এই সন্ধির ভূ-খন্ডগত সীমানা নেপোলিয়নের যুগ পর্যন্ত বহাল থাকে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৪০৩.
পাথরের বদলে তামার ব্যবহার প্রথম শুরু হয় কোথায়?
  1. পশ্চিম ভারতে
  2. উত্তর ভারতে
  3. দক্ষিণ ভারতে
  4. পূর্ব ভারতে
সঠিক উত্তর:
উত্তর ভারতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর ভারতে
ব্যাখ্যা
তাম্রযুগ:
- নতুন প্রস্তর যুগের শেষদিকে ভারতের আদি মানবেরা ধাতুর ব্যবহার শিখে।
- নতুন পাথরের যুগে উন্নত ধরনের হাতিয়ার তৈরি হত। এইজন্য প্রয়োজন ছিল শক্ত পাথরের।
- প্রাগৈতিহাসিক যুগের শেষদিকে ভারতে ব্যাপকভাবে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- উত্তর ভারতে প্রথম পাথরের বদলে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- এ সময় তামা দিয়ে মূলত: অস্ত্র এবং সাধারণ পাত্র তৈরি করা হতো।
- উত্তর ভারতের প্রায় সর্বত্রই তামার তৈরি দ্রব্য-সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে।
- সবচেয়ে বেশি এ অঞ্চলে পাওয়া দ্রব্য সামগ্রীর মধ্যে কুঠার, তলোয়ার, হারপুণ, তীরের ফলা, বাটালি ইত্যাদির নাম করা যেতে পারে।
- তামা আবিষ্কারের বহুকাল পর মানুষ লোহার সন্ধান পায়।
- তামা ব্যবহারের যুগটিকে ইতিহাসে তাম্রযুগ বলা হয়। আর, লোহা ব্যবহারের যুগটি পরিচিত ছিল লৌহ যুগ নামে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
দক্ষিণ আমেরিকার পেরুকে কেন্দ্র করে কোন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
  1. ইনকা সভ্যতা
  2. ফিনিশীয় সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ইনকা সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনকা সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ইনকা সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

উৎস: Britannica.
৪০৫.
কোন জাতি ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে?
  1. ককেশীয় জাতি
  2. আমোরাইট জাতি
  3. অস্ট্রিলীয় জাতি
  4. মঙ্গোলীয়ান জাতি
সঠিক উত্তর:
আমোরাইট জাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমোরাইট জাতি
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন ব্যাবিলন নগরকে কেন্দ্র করে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে আমোরাইট নামক এক জাতি বসবাস করত।
-  অ্যামেরাইট জাতি এই সভ্যতা গড়ে তোলে।

- এরা এক সময় মেসোপটেমিয়ায় এসে নগর সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এ সভ্যতার পত্তন হয় খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে।
- আমোরাইট নেতা হাম্মুরাবী ছিলেন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- তাদের বড় অবদান হলো পৃথিবীতে তারাই প্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করে।
- শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে তারা অনেক উন্নতি করতে পেরেছিল।
- তারাই প্রথম পঞ্জিকা প্রচলন করেন।
- বিশেষ করে আইনের ক্ষেত্রে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা চরম উৎকর্ষতা লাভ করেছিল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৬.
'নেবুচাদনেজার' কোন সভ্যতার সম্রাট ছিলেন?
  1. পারস্য সাম্রাজ্য
  2. সুমেরীয় সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- ব্যাবিলন প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের শহর।
- এই শহরের ধ্বংসাবশেষ বাগদাদ থেকে প্রায় ৫৫ মাইল (৮৯ কিমি) দক্ষিণে, ইরাকের আধুনিক শহর আল-হিল্লার কাছে অবস্থিত।
- এটি ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে আমোরীয় রাজাদের শাসনের অধীনে আসে।
- শহরটি ব্যাবিলোনিয়ার রাজধানী হয়ে ওঠে এবং টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী ব্যবস্থার প্রধান বাণিজ্যিক শহর ছিল।
- এটি নেবুচাদনেজার দ্বিতীয় এর অধীনে নিও-ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসাবে তার সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব অর্জন করেছিল।
- নেবুচাঁদনেজার পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪০৭.
ব্রোঞ্জ যুগে বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ-  
  1. লোহার ব্যবহার
  2. চাকার ব্যবহার
  3. তামা ও টিন সংগ্রহ
  4. মুদ্রার ব্যবহার
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিন সংগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিন সংগ্রহ
ব্যাখ্যা

- ব্রোঞ্জ তৈরির জন্য তামা ও টিন দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হতো, যার ফলে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

ব্রোঞ্জ যুগ (Bronze Age):
- তাম্র-প্রস্তর যুগের পর মানুষ যখন তামা ও টিনের মিশ্রণে শক্তিশালী সংকর ধাতু 'ব্রোঞ্জ' তৈরি করতে শিখল, তখন থেকেই ব্রোঞ্জ যুগের সূচনা হয়।
- আনুমানিক ৩,৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১,২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এই যুগ স্থায়ী ছিল।

• সভ্যতার উত্থান:
- ব্রোঞ্জ যুগেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাচীন সভ্যতাগুলো (যেমন: মেসোপটেমীয়, মিশরীয়, সিন্ধু এবং ইজিয়ান সভ্যতা) বিকশিত হয়।
- মানুষ বিশাল পিরামিড, জিকুরাত এবং সুপরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলে।

• প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন:
- ব্রোঞ্জের হাতিয়ার পাথরের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই ও তীক্ষ্ণ ছিল।
- এই যুগে মানুষ চাকা, পাল তোলা নৌকা এবং লাঙলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু করে।

• লিখন পদ্ধতির উদ্ভব:
- বাণিজ্যের হিসাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে এই যুগেই প্রথম লিখন পদ্ধতি বা লিপির (যেমন: কিউনিফর্ম ও হায়ারোগ্লিফিক্স) উদ্ভব ঘটে।

বাণিজ্যিক প্রসার:
- ব্রোঞ্জ তৈরির জন্য তামা ও টিন দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হতো, যার ফলে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি .কম।

৪০৮.
কোন সভ্যতায় সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়?
  1. সুমেরীয় সভ্যতা
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- কৃষিনির্ভর ছিল মিশরীয় সভ্যতা।
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ।
- ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।

মিশরীয় সভ্যতার অবদান: 
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।

- মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল ।
- চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল।
- মিশরীয়রা দর্শন, সাহিত্য চর্চাও করত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৯.
'টজলকিন' কোন সভ্যতার ধর্মীয় ক্যালেন্ডার?
  1. পারস্য
  2. গ্রিক
  3. রোমান
  4. মায়া
সঠিক উত্তর:
মায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়া
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com
৪১০.
ইরানে ইসলামের আগমনের পূর্বে কোন সাম্রাজ্য বিদ্যমান ছিলো?
  1. কুইং সাম্রাজ্য
  2. সসনিয়ন সাম্রাজ্য
  3. হ্যান সাম্রাজ্য
  4. ইউয়ান সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
সসনিয়ন সাম্রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সসনিয়ন সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
সসনিয়ন সাম্রাজ্য: 
- ইরানে ইসলামের আগমনের পূর্বে সেখানকার সর্বশেষ সাম্রাজ্য এটি।
- প্রায় ৪০০ বছর ধরে এটি পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের দুইটি প্রধান শক্তির একটি ছিল।
- প্রথম আর্দাশির পার্থীয় রাজা আর্দাভনকে পরাজিত করে সসনিয়ন রাজবংশের পত্তন করেন।
- ইসলামের আরব খলিফাদের কাছে শেষ সসনিয়ান রাজা শাহানশাহ ৩য় ইয়াজদেগের্দের পরাজয়ের মাধ্যমে সসনিয়ন সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে।
- সসনিয়ন সাম্রাজ্যের অধীনস্থ এলাকার মধ্যে ছিল বর্তমান ইরান, ইরাক, আর্মেনিয়া, দক্ষিণ ককেসাস, দক্ষিণ-পশ্চিম মধ্য এশিয়া, পশ্চিম আফগানিস্তান, তুরস্কের ও সিরিয়ার অংশবিশেষ, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ এবং আরব উপদ্বীপের কিছু উপকূলীয় এলাকা।
- এক পর্যায়ে প্রায় ২.৫৫ মিলিয়ন বর্গমাইল এলাকা এ সাম্রাজ্যের আওতায় ছিল।

সূত্র: কালের কণ্ঠ ও ব্রিটানিকা।
৪১১.
গ্রীকদের কৃষি বিষয়ক দেবীর নাম কি?
  1. এরিস
  2. ডিমিটার
  3. জিউস
  4. হারমেস
সঠিক উত্তর:
ডিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিমিটার
ব্যাখ্যা

• গ্রীকদের 'ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের দেবতা' আফ্রোডাইট।
• গ্রীকদের কৃষি বিষয়ক দেবী ডিমিটার,
• ব্যবসা বিষয়ক দেবতা- হারমেস,
• দেবতাদের রাজা- জিউস,
• যুদ্ধ দেবতা- এরিস।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

৪১২.
নাবিক হিসেবে কাদের খ্যাতি ছিল?
  1. সুমেরীয়দের
  2. ক্যালডীয়দের
  3. মিশরীয়দের
  4. ফিনিশীয়দের
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়দের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়দের
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব 3000 অব্দে উত্থান । 
- ভূমধ্যসাগর ও লেবানন পর্বতের মাঝে অবস্থিত । 
- আয়ের একমাত্র উপায় ছিল বাণিজ্য।
- নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে খ্যাতি ছিল। 

অবদান: 
নৌ-বাণিজ্য।
ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয়।
বর্ণমালা উদ্ভাবন (২২ টি বর্ণ)।

পতন: 
খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২ অব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার টায়ার নগরী দখল করলে এ সভ্যতার পতন হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪১৩.
‘মাওরি‘ উপজাতি কোথায় বসবাস করে?
  1. দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. আমেরিকা
  3. নিউজিল্যান্ড
  4. সাইবেরিয়া
সঠিক উত্তর:
নিউজিল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা
উপজাতি:
→ উইঘুর—চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে বসবাসকারী তুর্কি বংশোদ্ভুত মুসলিম সম্প্রদায়।
→ কারেন – স্বাধীনতাকামী মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী উপজাতি।
→ গুর্খা – নেপালের যোদ্ধা জাতি।

→ টোডা - বহুস্বামী বিবাহ ভিত্তিক পরিবার দক্ষিণ ভারতীয় এই উপজাতিদের।
→ পশতুন – আফগানিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী।
→ এক্সিমো – সাইবেরিয়া রাশিয়া অঞ্চলে বসবাস। কুকুর চালিত স্লেজ গাড়ি - ব্যবহার করে।
→ পিগমি – পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বকার উপজাতি।
→ জুলু – দক্ষিণ আফ্রিকার নিগ্রো জাতি।
→ রেড ইন্ডিয়ান - আমেরিকার আদিবাসী।
→ মাওরি– নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি.কম। [Link]
৪১৪.
মায়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. মেক্সিকো
  2. গুয়াতেমালা
  3. পেরু
  4.  বেলিজ
সঠিক উত্তর:
পেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরু
ব্যাখ্যা

- মায়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়-পেরু।
- পেরু: ইনকা সভ্যতার কেন্দ্র।

মায়া সভ্যতা (Maya Civilization):
- মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল, গুয়াতেমালা, বেলিজ এবং হন্ডুরাসের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল।
- এটি মূলত ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট বা ঘন জঙ্গল ঘেরা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- মায়াদের কোনো একক কেন্দ্রীয় রাজধানী ছিল না;
- বরং তারা তিকাল (Tikal), কোপান (Copán) এবং চিচেন ইৎজার (Chichen Itza) মতো অসংখ্য শক্তিশালী ও স্বাধীন নগর রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল।

• জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ক্যালেন্ডার: 
- মায়ারা জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত উন্নত ছিল। তারা গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অত্যন্ত নির্ভুল 'মায়া ক্যালেন্ডার' তৈরি করেছিল।
- তাদের সৌর ক্যালেন্ডার (Haab) ৩৬৫ দিনের ছিল।

• লিখন পদ্ধতি (Hieroglyphs): মায়ারা পাথরের স্তম্ভ (Stelae), মৃৎপাত্র এবং গাছের ছাল দিয়ে তৈরি কাগজে (Codex) তাদের ইতিহাস লিখে রাখত।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৫.
'ওয়াটার লু' যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়ন কোথায় নির্বাসিত হয়?
  1. ক) রোবেন দ্বীপে
  2. খ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
  3. গ) গ্যালাপোগাস দ্বীপে
  4. ঘ) সেন্ট এলবা দ্বীপে
সঠিক উত্তর:
খ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
ব্যাখ্যা
ওয়াটার লু যুদ্ধ:

- 'ওয়াটার লু' যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়ন সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত হয়।
- ১৮১৫ সালের ১৫ জুন বিখ্যাত ওয়াটার লু যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
- ওয়াটার লু যুদ্ধের যুদ্ধক্ষেত্র ছিল বেলজিয়াম
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
- এই যুদ্ধে বিজয়ী সেনাপতি হলেন আর্থার ওয়েলেসলি

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪১৬.
সিন্ধু সভ্যতা কী নামে পরিচিত?
  1. বৌদ্ধ সভ্যতা
  2. বৈদিক সভ্যতা
  3. মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
  4. হরপ্পা সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্পা সভ্যতা
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা হলেও এর বিস্তৃতি ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৭.
‘কলোসিয়াম' নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা তৈরি হয়েছিল প্রাচীন -
  1. ক) গ্রিসে
  2. খ) রোমে
  3. গ) এথেন্সে
  4. ঘ) পারস্যে
সঠিক উত্তর:
খ) রোমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রোমে
ব্যাখ্যা
• স্থাপত্যের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল রোমের।
- এখানে ইট আর কংক্রিট দিয়ে দালানকোঠা তৈরি করা হতো।
- দালানের চার কোণায় ব্যবহার করা হতো পাথর।
- সম্রাট হাড্রিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যনথিয়ন রোমের একটি বড় স্থাপত্য নিদর্শন।
- রোমে ‘কলোসিয়াম' নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা তৈরি হয়েছিল।
- এখানে একসাথে ৫,৬০০ জন দর্শক বসতে পারত।
- ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসেবে রোমে পাওয়া গেছে অনেক মূর্তি।
- এগুলো ছিল সম্রাট, কর্মকর্তা ও দেবতাদের মূর্তি।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৮.
'ফারাও' কাদের বলা হতো?
  1. প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের
  2. প্রাচীন গ্রিকের সম্রাটদের
  3. প্রাচীন রোমান সম্রাটদের
  4. প্রাচীন চৈনিক সম্রাটদের
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের
ব্যাখ্যা
ফারাও
- প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের 'ফারাও' বলা হতো।
- বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী ফারাওদের মনে করা হতো ঈশ্বরের সন্তান।
- তাঁরা একই সঙ্গে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- মিশরের 'ফারাও' বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথমত আহমোজ, রাজা তুথমোস, সম্রাট ইখনাটন এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস।
- পরাক্রমশালী তৃতীয় র‍্যামেসিসের মৃত্যুর পর ফারাওদের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।

উৎস: i) Britannica.
ii) ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৯.
মায়া সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. মেক্সিকো
  2. বেলিজ
  3. গুয়েতেমালা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতা মধ্য আমেরিকার গুয়েতেমালা, বেলিজ, ও মেক্সিকোর কিছু অংশে খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে গড়ে উঠেছিলো।
- ২৫০ অবদি থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মায়ার সভ্যতার ক্লাসিক যুগ ছিল।
- ৯০০ খ্রিস্টাব্দে মায়া সভ্যতার পতন ঘটে।
- মায়া সভ্যতা পাথুরে স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত ছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪২০.
মিশরীয় সভ্যতায় 'মেটেরিয়া মেডিকা’ কী?
  1. একটি চিকিৎসক সম্প্রদায়
  2. ওষুধের তালিকা
  3. একটি হাসপাতাল
  4. রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
ওষুধের তালিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষুধের তালিকা
ব্যাখ্যা

মেটেরিয়া মেডিকা: 
- মিশরীয় সভ্যতায় ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ হলো ঔষধের একটি তালিকা।
- এটি ছিল চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ ও তাদের গুণাগুণের বর্ণনা সম্বলিত একটি গ্রন্থ।
- মিশরীয়রা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও রোগ সারাতো এবং হাড় জোড়া লাগানো, হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণয় করত।
- ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ তাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির প্রমাণ।  

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৫২৫ অব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এটি নীলনদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে নারমার বা মেনেস উচ্চ ও নিম্ন মিশরকে একত্রিত করে প্রথম ফারাও হন এবং ঐক্যবদ্ধ মিশরের সূচনা করেন।  

উল্লেখ্য, 
- লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার ছিল মিশরীয় সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- তারা প্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা তৈরি করে।
- মিশরীয়রা শুরুতে চিত্রের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করত, যা ‘হায়ারোগ্লিফিক’ নামে পরিচিত।
- তারা ‘প্যাপিরাস’ নামে এক ধরনের কাগজ তৈরি করে তার উপর লেখা শুরু করে। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২১.
এশিয়া মাইনরে কারা প্রথম লৌহের ব্যবহার শুরু করে?
  1. আরবীয়রা
  2. নিয়ানডারথালরা
  3. আসরীয়রা
  4. হিট্টাইটরা
সঠিক উত্তর:
হিট্টাইটরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিট্টাইটরা
ব্যাখ্যা
লৌহযুগ:
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ব্রোঞ্জযুগের একচেটিয়া অধিকার ও কর্তৃত্ব হ্রাস পেয়েছিল।
- ব্রোঞ্জ ছিল দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান ধাতু।
- এর ব্যবহার মূলত অভিজাত শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
- সহজলভ্য ও দামে সস্তা হওয়ায় লোহার ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে লৌহ নির্মিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শুরু করে।
- এভাবেই লৌহযুগ নামে নতুন এক সভ্যতার বিকাশ লাভ ঘটে।

⇒ এশিয়া মাইনরে হিট্টাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়।
- এর ফলে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আর্থ- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক লেনদেন ও ভাবের আদান-প্রদান বৃদ্ধি পায়।
- গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রশক্তির প্রয়োগ আরও সহজ হয়।
- ফলে শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।
- লৌহযুগে গ্রিসে এক উন্নত গণতান্ত্রিক নগরসভ্যতার বিকাশ ঘটে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
মিশরীয়রা ব্যঞ্জনবর্ণের কয়টি বর্ণ আবিষ্কার করে?
  1. ১১ টি
  2. ২৩ টি
  3. ২৪ টি
  4. ৩৯ টি
সঠিক উত্তর:
২৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ টি
ব্যাখ্যা
• মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।

- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক ’ বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে।
- সেই কাগজের ওপর তারা লিখত। গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস’।
- এই শব্দ থেকে ইংরেজি পেপার শব্দের উৎপত্তি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৩.
‘বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে’-এই সত্য প্রথম আবিষ্কার করেন কারা?
  1. ক) রোমানরা
  2. খ) গ্রিকরা
  3. গ) ফিনিশীয়রা
  4. ঘ) হিব্রুরা
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিকরা
ব্যাখ্যা
খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে গ্রিকরা। পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানীরা। তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়। গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন। চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।
[সূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪২৪.
সুমেরীয় ধর্ম মন্দিরকে কী বলা হত?
  1. মেহেরাব
  2. ইশতান
  3. জিগুরাত
  4. মেনেস
সঠিক উত্তর:
জিগুরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিগুরাত
ব্যাখ্যা
- সুমেরীয় ধর্ম মন্দিরকে জিগুরাত বলা হত। 

সুমেরীয় সভ্যতা: 

- সুমেরীয় সভ্যতা মেসোপটেমিয়ায় গড়ে উঠেছিল।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগুরাত' নামক ধর্মমন্দির।

সূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৫.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  2. খ) তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) গান্ধারের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- ১৫২৬ সালের এপ্রিল মাসে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পানিপথ ভারতের বর্তমান হরিয়ানা রাজ্যে অবস্থিত।
- ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য স্থিতিশীলতা লাভ করে সম্রাট আকবরের শাসনামলে।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : দ্বিতীয়পত্র)
৪২৬.
জরথুস্ত্র ধর্মের আবির্ভাব ঘটে কবে?
  1. ক) খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে
  2. খ) খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে
  3. গ) খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে
  4. ঘ) খ্রিস্টপূর্ব নবম শতকে
সঠিক উত্তর:
খ) খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে
ব্যাখ্যা
• পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিলো জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৭.
জরথুস্ত্র ধর্মগ্রন্থের নাম কী ছিল?
  1. ক) আহরিমান
  2. খ) বেদ
  3. গ) যেন্দাবেস্তা
  4. ঘ) মারডক
সঠিক উত্তর:
গ) যেন্দাবেস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যেন্দাবেস্তা
ব্যাখ্যা
পারসিক ধর্ম:
- জরথুস্ত্র ধর্মের আবির্ভাব খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে। 
- সম্রাট আর্দাশিরের আমলে এই ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে। 
- জরথুস্ত্র ধর্মের উপাস্য দেবতার নাম ছিল 'আহুরামাযদা'। 
- তিনি মঙ্গলের দেবতা এবং তার প্রতীক অগ্নি। 
- এই কারণে পারসিকদের অগ্নি উপাসক বলা হয়। 
- তাদের ধর্মমতে, ‘আহরিমান' হলেন অমঙ্গলের দেবতা। 
- অগ্নি উপাসক পারসিকরা পরকালে বিশ্বাসী ছিলেন। 
- জরথুস্ত্রের মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা ধর্মগুরুর বাণী লিপিবদ্ধ করে রাখে। 
- জরথুস্ত্র ধর্মগ্রন্থের নাম ‘যেন্দাবেস্তা'। 
- যেন্দাবেস্তার মূল বিষয় ইহকাল, পরকাল, স্বর্গ-নরক, ভাল মন্দ। 
- ভারতবর্ষসহ পৃথিবীর অল্প কিছু দেশের খুব কম সংখ্যক লোক এখন এ ধর্মের অনুসারী। 
- সমকালীন বিশ্বের ধর্মাচারণে জরথুস্ত্রবাদ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রক্ষা করেছিল। 
- এই ধর্মের বৈশিষ্ট্য ছিল চারটি- 
ক. দ্বৈতবাদ, 
খ. চূড়ান্ত বিষয়ের উপর বিশ্বাস, 
গ. একটি নৈতিক ধর্ম এবং 
ঘ. একটি ঐশী ধর্ম।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন কারা?
  1. গ্রিক বিজ্ঞানীরা
  2. মিশরীয় বিজ্ঞানীরা
  3. সিন্ধুসভ্যতার ব্যবসায়ীরা
  4. রোমান ভূগোলবিদরা
সঠিক উত্তর:
গ্রিক বিজ্ঞানীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক বিজ্ঞানীরা
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:

- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস। রোমানরা পরবর্তিকালে এর নামকরণ করে গ্রিস।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত। 
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৯.
“ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান” - কোন সভ্যতার কীর্তি?
  1. ক) ব্যাবিলনীয়
  2. খ) অ্যাসেরীয়
  3. গ) ক্যালেডীয়
  4. ঘ) সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালেডীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালেডীয়
ব্যাখ্যা
ক্যালেডীয়রা ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি হাম্বুরাবির সংস্কৃতি অনেকটাই গ্রহন করেছিলেন। ক্যালেডীয় সম্রাট নেবুচাঁদ নেজারের সময় ব্যাবিলন শহর অনেক জাকজমক পূর্ণ হয়। তিনিই গড়ে তুলেছিলেন ব্যাবিলনের এই শূন্য উদ্যান। এটি প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
নবম - দশম শ্রেণীর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)।
৪৩০.
'জরথুস্ত্র' কোন সভ্যতার ধর্ম ছিল?
  1. চীন
  2. পারস্য
  3. ইনকা
  4. মায়া
সঠিক উত্তর:
পারস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারস্য
ব্যাখ্যা

পারস্য:
- পারস্য বর্তমানে ইরান নামে পরিচিত।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয় ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিল জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস: প্রথমপত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩১.
পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর কোনটি?
  1. জেরুজালেম
  2. দামেস্ক
  3. জেরিকো
  4. এথেন্স
সঠিক উত্তর:
জেরিকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরিকো
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর:
- পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর জেরিকো।

⇒ জেরিকো বর্তমান ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবস্থিত যা পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর হিসেবে বিবেচিত।
- প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী, এর উৎপত্তি প্রায় ৯০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- দামেস্ক এবং আলেপ্পোর মতো শহরগুলোও প্রাচীন, তবে জেরিকোর ইতিহাস তাদের তুলনায় পুরোনো।

উৎস: i) Britannica.
ii) Times of India.

৪৩২.
মঙ্গোল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. হিরোডোটাস
  2. নেবুচাদনেজার
  3. হাম্বুরাবি
  4. তেমুজিন
সঠিক উত্তর:
তেমুজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেমুজিন
ব্যাখ্যা
মঙ্গোল সাম্রাজ্য:
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত।
- চেঙ্গিস খান মঙ্গোল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- তিনি ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন
- তার আসল নাম ছিল তেমুজিন।
- ১২০৬ সালে মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতিগুলোকে সংগঠিত করার মাধ্যমে বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এই সাম্রাজ্যের পত্তন করেন।
- ১২২৭ সালে চেঙ্গিস খান মৃত্যুবরণ করেন।
- চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পর তার বংশধরগণ এই সাম্রাজ্যের আরো বিস্তৃতি ঘটান।
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরের সময় পূর্ব ইউরোপ থেকে ইন্দোচীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো যার আয়তন ছিলো এক কোটি বর্গমাইলেরও অধিক।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪৩৩.
প্রাচীন চীনে রাজার আদেশ ও পুরোহিতের বাণী প্রচারের জন্য কোন ধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটেছিল?
  1. ক) হায়ারোগ্লিফিক
  2. খ) ক্যালিগ্রাফ
  3. গ) আইডিওগ্রাফ
  4. ঘ) পিক্টোগ্রাফ
সঠিক উত্তর:
গ) আইডিওগ্রাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইডিওগ্রাফ
ব্যাখ্যা
শাং এবং চৌ-দের আমলে চীনের সমাজ-অর্থনীতি-সভ্যতা ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করতে থাকে। শাং শাসনামলে রাজার আদেশ ও পুরোহিতের বাণী প্রচারের জন্য আইডিওগ্রাফ নামে ভিন্ন ধরনের একটি লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। এ লেখা গুলো দেখতে অনেকটা চিত্রলিপির মতো ছিল।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি(উন্মুক্ত)]
৪৩৪.
কিউনিফর্ম বা ‘কীলকাকার লিখন পদ্ধতি' কোন সভ্যতার আবিষ্কার?
  1. ক) মিশরীয় সভ্যতা
  2. খ) চৈনিক সভ্যতা
  3. গ) সুমেরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) ক্যালেডীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• সুমেরীয় সভ্যতা (Sumerian Civilization):
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন যে সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল, তার নাম সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমানে ইরাকের টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর স্থানে সুমেরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে।
- ‘চাকা’ আবিষ্কার – সুমেরীয়রা প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু করে।

- তাদের কৃষকরা প্রথম দুই চাকা বিশিষ্ট 'রথ' (Chariot) ব্যবহার শুরু করেছিল।
- উন্নত সেচ ব্যবস্থা – টাইগ্রিস ও ইউফ্রিটিস নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষির উন্নতির জন্য তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছিলো ।
- লিখন-পদ্ধতির আবিষ্কার - সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির নাম “কিউনিফর্ম” (Cuneiform)।
- কিউনিফর্ম লিপি বাম থেকে ডানদিকে লেখাঁ হত এবং এর বর্ণের সংখ্যা ছিলো ৩২টি।

- তারা বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য হিসাবে বিবেচিত “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেছিলেন।
- জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সুমেরীয়রা।
- সুমেরীয়রা বহু ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল। তাদের অনেক দেবতা ছিল। প্রধান দবতা ‘নাগাল’।
- ২২৩৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে লুগালজাগেসি (King Lugalzagesi) আক্কাডীয়ান রাজা ‘সারগন’ এর নিকট পরাজিত হলে সুমেরীয় সাম্রাজ্যের অবসান হয়। 
সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com
৪৩৫.
রোমান সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শন ‘কলোসিয়াম’ হলো -
  1. উপসনালয়
  2. বিশ্ববিদ্যালয়
  3. খেলার মাঠ
  4. নাট্যশালা
সঠিক উত্তর:
নাট্যশালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাট্যশালা
ব্যাখ্যা
কলোসিয়াম:
- রোমান সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শন ‘কলোসিয়াম’।
- কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন।
- পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৬.
বৌদ্ধ ধর্ম মতানুসারে সাধনার চরম পরিণতিকে কী বলে?
  1. ক) নির্বাণ
  2. খ) অনির্বাণ
  3. গ) নির্বাপণ
  4. ঘ) সিদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ক) নির্বাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নির্বাণ
ব্যাখ্যা
 • নির্বাণ হলো বৌদ্ধ ধর্ম মতানুসারে সাধনার চরম পরিণতি বা পরম প্রাপ্তি।
• দীর্ঘ সময় সাধনার পরেই কেবল এমন স্তরে পৌঁছানো যায়।
• বৌদ্ধমতানুসারে নির্বাণ হলো মোক্ষলাভের শর্ত।

উৎস: ত্রিপিটক - মূল গ্রন্থের অনুবাদ থেকে গৃহীত, অনুবাদক: সুদর্শন বড়ুয়া। 
৪৩৭.
অঙ্কশাস্ত্রের দুইটি শাখা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের প্রচলন করে কোন সভ্যতা?
  1. ক) গ্রিক সভ্যতা
  2. খ) রোমান সভ্যতা
  3. গ) মিশরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) সুমেরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। 
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্য, পানি প্রবাহের মাপ, জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। 
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অঙ্কশাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। 

- মিশরীয়রা অঙ্কশাস্ত্রের দুইটি শাখা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের প্রচলন করেন। 
- তারা যোগ, বিয়োগ ও ভাগেরও ব্যবহার করতে পারত। 
- মিশরীয়রা ৪২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করেন এবং ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসেবও তাদের আবিষ্কার। 
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্যঘড়ি, ছায়াঘড়ি ও জলঘড়ি আবিষ্কার করে। 

- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল। 
- তাই তারা ফারাওদের দেহ তাজা রাখার পদ্ধতি আবিষ্কার করে  ও মমি তৈরি শুরু করে। 
- মিশরীয় বিজ্ঞানীরা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মৃতদেহ পচন থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। 
- তারা চোখ, দাঁত ও পেটের রোগ নির্ণয় করতে জানত এবং হাড় জোড়া লাগানো, হৃৎপিণ্ডের গতি এবং নাডির স্পন্দন নির্ণয় করতে পারত। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৮.
নিচের কোন সভ্যতাটি মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বিকশিত হয়নি?
  1. ক) অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  2. খ) সুমেরীয় সভ্যতা
  3. গ) ক্যালডীয় সভ্যতা
  4. ঘ) অ্যাজটেক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যাজটেক সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অ্যাজটেক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হলো মেসোপটেমীয় সভ্যতা। বর্তমান ইরাকের ইউফ্রেতিস ও টাইগ্রিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো।

মেসোপটেমীয়ায় চারটি সভ্যতা বিকশিত হয়েছিলো।
এগুলো হলো:
- সুমেরীয় সভ্যতা
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
- অ্যাসেরীয় সভ্যতা এবং
- ক্যালডীয় সভ্যতা।
এদের মধ্যে সবার আগে গড়ে উঠেছিল সুমেরীয় সভ্যতা এবং সবার শেষে গড়ে উঠে ক্যালডীয় সভ্যতা।

অন্যদিকে,
অ্যাজটেক সভ্যতা হলো একটি মেসোআমেরিকান সভ্যতা যা বর্তমান মেক্সিকোতে বিকাশ লাভ করেছিলো।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৪৩৯.
'মহেঞ্জোদারো' শব্দটির অর্থ কি?
  1. মানুষের ঢিবি
  2. মরা মানুষের ঢিবি
  3. সিন্ধু মানুষের ঢিবি
  4. পশুর ঢিবি
সঠিক উত্তর:
মরা মানুষের ঢিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরা মানুষের ঢিবি
ব্যাখ্যা
মহেঞ্জোদারো একটি সিন্ধি শব্দ, যার অর্থ মৃতের পাহাড়; মৃতের ঢিবি বা স্তুপ।

• মহেঞ্জোদারো সভ্যতা:
- ভারতের প্রাচীনতম নগর সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতার একটি অংশ।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে সিন্ধু নদীর তীরে সিন্ধু সভ্যতার সূচনা হয়।
- মহেঞ্জোদারোর অবস্থান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলা
- ১৯২২ সালে মহেঞ্জোদারো সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- এটি আবিষ্কাররে প্রধান কৃতিত্ব বাঙালি ঐতিহাসিক রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়ের।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪০.
'এলাম, দেখলাম, জয় করলাম' এই বিখ্যাত কথাটি কে বলেছেন?
  1. আলেকজান্ডার
  2. হিটলার
  3. জুলিয়াস সিজার
  4. নেপোলিয়ন
সঠিক উত্তর:
জুলিয়াস সিজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলিয়াস সিজার
ব্যাখ্যা

এলাম, দেখলাম, জয় করলাম:
- ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’ এই বিখ্যাত উক্তিটি বলেছেন রোমান সেনাপতি ও রাষ্ট্রনায়ক জুলিয়াস সিজার।
- তিনি ৪৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পন্টাস রাজ্যের বিরুদ্ধে এক দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয়ের পর রোমান সিনেটকে লেখা একটি চিঠিতে ব্যবহার করেছিলেন।
- এটি তার বিজয়ের দ্রুততা ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য,
- জুলিয়াস সিজার একজন রোমান সম্রাট।
- তিনি একজন বিখ্যাত রোমান রাজনীতিবিদ, সেনাপতি ও জনপ্রিয় রোমান সম্রাট।
- তিনি ১০০ খ্রিস্টপূর্বে ইতালির রোমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। 
- তিনি নিজেকে রোমান সাম্রাজ্যের স্বৈরশাসক নামে অভিহিত করেছিলেন। 
- রোমের নাগরিকরা গল, ব্রিটেন, মিশর এবং আফ্রিকায় সিজারের অভিযানগুলোর জন্য তাকে পছন্দ করেছিল।
- ৪৪ খ্রিস্টপূর্বে রোমীয় সিনেটে জুলিয়াস সিজারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছিল। 
- এর ফলে রোমীয় প্রজাতন্ত্রের পতনের সূত্রপাত হয়।

উৎস: Britannica.

৪৪১.
বাঘরাম বিমান ঘাটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ক) সিরিয়া
  2. খ) আফগানিস্তান
  3. গ) ইরান
  4. ঘ) ইরাক
সঠিক উত্তর:
খ) আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
বাঘরাম বিমান ঘাটি আফগানিস্তানে অবস্থিত। 

- বাঘরাম হলো আফগানিস্তানের বৃহত্তম সামরিক ঘাটি। এটি কাবুলের পঁচিশ মাইল উত্তরে অবস্থিত।

- স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৯৫০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন এটি তৈরি করে। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের সময়ে এটি সোভিয়েত বাহিনীর প্রধান ঘাটি হিসেবে ব্যবহৃত হয় ৷ - ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর আফগানিস্তান আক্রমণের সময় থেকে এটি ন্যাটো বাহিনীর প্রধান ঘাটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বাঘরাম ঘাটিতে দশ হাজারের অধিক ন্যাটো সেনা অবস্থান করতো।
- সম্প্রতি ন্যাটো বাহিনীর বাঘরাম বিমান ঘাটিটি আফগান সশ্বস্ত্র বাহিনীর হাতে ছেড়ে দিয়ে আফগানিস্তান ত্যাগ করে। 

সূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড
৪৪২.
প্রাচীন তাম্রলিপ্ত জনপদের বর্তমান অবস্থান কোন অঞ্চলে?
  1. ক) বর্ধমান জেলা
  2. খ) মেদিনীপুর জেলা
  3. গ) মুর্শিদাবাদ জেলা
  4. ঘ) রাজশাহী ও দিনাজপুর
  5. ঙ) দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
খ) মেদিনীপুর জেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেদিনীপুর জেলা
ব্যাখ্যা
হরিকেল জনপদের দক্ষিণে অবস্থিত ছিলো তাম্রলিপ্ত জনপদ। বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্ত -জনপদের প্রাণকেন্দ্র। উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়।
৪৪৩.
'হায়ারোগ্লিফিক' লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে কোন সভ্যতা?
  1. রোমানীয় সভ্যতা
  2. সুমেরীয় সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

মিসরীয় সভ্যতা:
- সভ্যতার ইতিহাসে মিসরীয়দের অন্যতম প্রধান অবদান লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার। 
- নগরসভ্যতা গড়ে তোলার সাথে মিসরীয়রা প্রথম লিখন ও লিপি পদ্ধতি আবিষ্কার করে। 
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল হায়ারোগ্লিফিক (Hieroglyphic) বা চিত্র লিখন পদ্ধতি।
- এটি গ্রীকদের দেয়া নাম। যার অর্থ দাঁড়ায় ‘পবিত্র লিপি'। 
- এ লিখন পদ্ধতি তার চারিত্রিক বিন্যাসের দিক থেকে তিনটি রূপ পায়। যেমন- চিত্রভিত্তিক, অক্ষরভিত্তিক ও বর্ণভিত্তিক। 
- খোদাই কাজ করা বা চিত্রে প্রদর্শন করা এই পদ্ধতির ২৫টি বর্ণ ছিল এবং প্রতিটি বর্ণ একটি বিশেষ চিহ্ন বা অর্থ প্রকাশ করতো। 
- মিসরেই প্রথম মানব জাতি ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবনে সক্ষম হয়। 
- প্যাপিরাস নামক নলখাগড়া দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে উন্নতমানের কাগজের আবিষ্কার মিসরীয়দেরই অবদান। 
 
উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৪.
নিচের কোন সভ্যতা পতনের পর প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার সূচনা হয়?
  1. মিনোয়ান সভ্যতা
  2. মাইসেনিয়ান সভ্যতা
  3. সামারিয়ান সভ্যতা
  4. নিওলিথিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মাইসেনিয়ান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইসেনিয়ান সভ্যতা
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৫.
খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়-
  1. ক) দ্বিতীয় হিজরীতে
  2. খ) পঞ্চম হিজরীতে
  3. গ) তৃতীয় হিজরীতে
  4. ঘ) চতুর্থ হিজরীতে
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চম হিজরীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পঞ্চম হিজরীতে
ব্যাখ্যা

খন্দকের যুদ্ধ:
সংঘটন কাল - ৬২৭ খিস্টাব্দ (৫ম হিজরী)
প্রতিপক্ষ - মুসলমান এবং কুরাইশদের নেতৃত্বে বেদুঈন-ইহুদীদের সম্মিলিত বাহিনী।
ফলাফল - মুসলমানদের বিজয়। মদিনার চারদিকে পরিখা খনন করে প্রায় ১০ হাজার সৈন্যের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয় মুসলিমরা।
উৎস: ইসলামের ইতিহাস বোর্ড বই ও Live MCQ content (Upcoming)

৪৪৬.
ইসরাইল কবে গোলান মালভূমি দখল করে নেয়?
  1. ক) ১৯৪৯ সালে
  2. খ) ১৯৫৬ সালে
  3. গ) ১৯৬৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৭ সালে
ব্যাখ্যা
গোলান মালভূমি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ইসরাইল অধিকৃত সিরিয়ার একটি মালভূমি। এটি ১৯৬৭ সালে তৃতীয় আরব ইসরাইল যুদ্ধে ইসরাইল দখল করে নেয়।
এর আয়তন প্রায় ১২০০ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৮১ সালে ইসরাইল এটিকে নিজেদের ভূখন্ড হিসেবে একীভূত করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে তা স্বীকৃতি পায়নি।
(সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৪৪৭.
মায়া সভ্যতার সাথে সম্পর্কিত স্থান কোনটি?
  1. গুয়েতমালা
  2. এল সালভাদের
  3. বেলিজ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com
৪৪৮.
ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৫৮৩
  2. খ) ১৬৮৯
  3. গ) ১৭৬০
  4. ঘ) ১৮০২
  5. ঙ) ১৯১১
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭৬০
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক নেফ মেন করেন, ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের সূচনাকাল ১৫৪০ থেকে ১৬৪০ সাল পর্যন্ত। ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবির মতে, ১৭৪০-১৭৮০ সাল পর্যন্ত এবং বেশিরভাগ ঐতিহাসিক ১৭৬০-১৭৮০ সাল পর্যন্ত শিল্প বিপ্লবের সূচনাকাল মনে করেন।সূত্রঃ অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা আধুনিক বিশ্বের ইতিহাস।
৪৪৯.
নিম্নের কে ইনকা সম্রাট হিসেবে বিবেচিত?
  1. মানকো কাপেন
  2. দারিয়ুস
  3. রোমিউলাস
  4. থুকিডাইডিস
সঠিক উত্তর:
মানকো কাপেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানকো কাপেন
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ইনকা সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

উল্লেখ্য,
- মানকো কাপাক ছিলেন ইনকা সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সম্রাট। 

উৎস: Britannica.
৪৫০.
'Liberty, Equality and Fraternity' কোন বিপ্লবের স্লোগান ছিল?
  1. ক) ফরাসি বিপ্লব
  2. খ) রুশ বিপ্লব
  3. গ) ভেলভেট বিপ্লব
  4. ঘ) চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
ক) ফরাসি বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফরাসি বিপ্লব
ব্যাখ্যা
⇨ ১৭৮৯ সালে পৃথিবী কাঁপানো ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
⇨ এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের শত বছরের পুরনো রাজতন্ত্র ও সামন্তব্যবস্থা ভেঙে জনগণের অধিকার স্বীকৃত হয়।
⇨ ১৪ জুলাই ১৭৮৯ সালে বাস্তিল দূর্গে আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা ঘটে। বাস্তিল দূর্গ ছিলো একটি রাজকীয় কারাগার।
⇨ ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সের তৎকালীন রাজা ষোড়শ লুইস - এর পতন ঘটে।
⇨ ফরাসি বিপ্লবের শ্লোগান ছিলো স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব (Liberty, Equality, Fraternity)।
⇨ নেপোলিয়ান বোনাপার্টকে ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয়।

তথ্যসূত্র:- হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা।
৪৫১.
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান বর্তমান কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইরান
  2. সিরিয়া
  3. লেবানন
  4. ইরাক
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা
• ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- পৃথিবীতে প্রথম লিখিত আইনের উদ্ভব হয় এই সভ্যতার সময়ে।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান হল - আইন প্রণয়ন ও সংকলন।
- পৃথিবীর প্রাচীনতম মানচিত্র পাওয়া গিয়েছে ব্যাবিলনের উত্তরে গাথুর শহরে।
- এটি ছিল ভ্রমণকারীদের পথনির্দেশক মানচিত্র।
- পৃথিবীর প্রথম লিখিত আইন প্রণেতা যা - "Code of Hammurabi' নামে পরিচিত।
- এটি থেকে ধারনা করা হয় পৃথিবীর আদি মানচিত্রব্যাবিলনীয়রা অঙ্কন করেছিলো।
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান বর্তমান ইরাকে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর অন্যতম সপ্তম আশ্চর্যের একটি।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭ম শতকে নব্য ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সময় রাজা নেবুচাদনেজার তার রাণীর সন্তুষ্টির জন্যে এটি নির্মাণ করেন।
- ব্যাবিলন নগরের দেয়ালের উপর মনোরম এই বাগানটি তৈরি করা হয়।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়ন ঘটিয়ে চাঁদ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাবিলনীয়রা চন্দ্রপঞ্জিকা তৈরি করেছিল।
- যদিও আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র গ্রীকরা প্রথম অঙ্কন করে।
- হাম্বুরাবির মৃত্যুর পর ব্যবলনীয় সভ্যতা তার প্রভাবের সাথে খুব বেশী দিন টিকতে পারে নি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৪৫২.
গ্রীক সভ্যতার দুটি প্রধান ধারা কোনটি?
  1. মিনোয়ান ও মাইসিনীয়
  2. রোমান ও ইজিয়ান
  3. এথেন্স ও স্পার্টা
  4. ট্রয় ও থিবস
সঠিক উত্তর:
মিনোয়ান ও মাইসিনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিনোয়ান ও মাইসিনীয়
ব্যাখ্যা

গ্রীক সভ্যতা (Greek Civilization):
- গ্রিসের প্রধান সভ্যতাটি মূলত এজিয়ান সাগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বলে একে 'এজিয়ান সভ্যতা'ও বলা হয়।
- এর দুটি প্রধান ধারা ছিল মিনোয়ান (ক্রিট দ্বীপ) এবং মাইসিনীয় (মূল ভূখণ্ড)।
• হোমারের মহাকাব্য: বিখ্যাত  কবি হোমারের 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্য দুটিতে এই প্রাচীন গ্রীক বীরত্ব, ট্রোজান যুদ্ধ এবং সভ্যতার কাহিনী বর্ণিত আছে।
• নগর রাষ্ট্র (City States): গ্রিস অসংখ্য পাহাড় ও উপত্যকায় বিভক্ত থাকায় সেখানে কোনো একক সাম্রাজ্যের পরিবর্তে ছোট ছোট 'নগর রাষ্ট্র' বা 'পলিস' গড়ে উঠেছিল। এথেন্স ও স্পার্টা ছিল এদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বী।

• এথেন্সকে বিশ্বের 'গণতন্ত্রের সূতিকাগার' বলা হয়।
- এথেন্সের বিপরীতে স্পার্টা ছিল একটি কঠোর সামরিক রাষ্ট্র। তাদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মূল লক্ষ্যই ছিল দক্ষ সৈনিক তৈরি করা।
- গ্রীকরা স্থাপত্যে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছিল। এথেন্সের অ্যাক্রোপলিসে অবস্থিত 'পার্থেনন' মন্দিরটি তাদের স্থাপত্যকলার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

এছাড়াও,
• গ্রীকরা আধুনিক দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করে। সক্রেটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটলের দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে পঠিত। এছাড়া পীথাগোরাস (গণিত) এবং হিপোক্রেটিসকে (চিকিৎসা বিজ্ঞান) তাদের শ্রেষ্ঠ অবদানের জন্য স্মরণ করা হয়।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে অলিম্পিয়া নামক স্থানে দেবতাদের রাজা 'জিউস'-এর সম্মানে প্রথম অলিম্পিক গেমস শুরু হয়।
- গ্রীকরা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিল। প্রধান দেবতাদের মধ্যে ছিলেন জিউস (আকাশ ও বিদ্যুৎ), অ্যাপোলো (সূর্য), অ্যাথেনা (প্রজ্ঞা) এবং পসাইডন (সমুদ্র)।

• পেরিক্লিসের স্বর্ণযুগ: পেরিক্লিসের শাসনকালকে গ্রীক ইতিহাসের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়। এই সময়েই সাহিত্য, শিল্পকলা এবং বিজ্ঞানের চরম বিকাশ ঘটে।
- মহাবীর আলেকজান্ডারের দিগ্বিজয়ের ফলে গ্রীক সংস্কৃতি প্রাচ্যের (মিশর ও পারস্য) সংস্কৃতির সাথে মিশে যায়, যা 'হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি' নামে পরিচিত।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫৩.
প্রাচীন গ্রিসে সফিস্ট কাদের বলা হত?
  1. যুক্তিহীন দার্শনিক
  2. নাট্যকার
  3. ইতিহাসবিদ
  4. যুক্তিবাদী দার্শনিক
সঠিক উত্তর:
যুক্তিবাদী দার্শনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তিবাদী দার্শনিক
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিসের দর্শন: 
- দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে গ্রিসের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছিল।
- পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, প্রতিদিন কীভাবে এর পরিবর্তন ঘটছে এসব ভাবতে গিয়ে গ্রিসে দর্শন চর্চার সূত্রপাত।
- থালেস ছিলেন প্রথম দিককার দার্শনিক।
- তিনিই প্রথম সূর্য গ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন।
- গ্রিসে যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে যাদের বলা হতো সফিস্ট। 
- এরা বিশ্বাস করতেন যে চূড়ান্ত সত্য বলে কিছু নেই।
- গণতান্ত্রিক নগর রাষ্ট্র এথেন্সের রাজা পেরিক্লিস এদের অনুসারী ছিলেন।
- সক্রেটিস ছিলেন এ চিন্তার দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান।
- তার শিক্ষার মূল দিক ছিল- আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলা।
- সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটো গ্রিক দর্শনকে চরম উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- প্লেটোর শিষ্য এরিস্টটলও একজন বড় দার্শনিক ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৪.
রোমের প্রেমের দেবতা কে ছিলেন?
  1. জিউস
  2. ভেনাস
  3. জুপিটার
  4. নেপচুন
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৫.
নিচের কোন নদীর তীরে ব্যাবিলন অবস্থিত?
  1. ক) ইউফ্রেটিস
  2. খ) নীল নদ
  3. গ) আমাজন
  4. ঘ) সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
ক) ইউফ্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইউফ্রেটিস
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:

- ব্যাবিলন ছিল একটি প্রাচীন শহর যা বর্তমানে ইরাকের ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর তীরে অবস্থিত।
- ব্যাবিলন প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম সেরা শহর, মহান স্থাপত্যের শহর এবং শিক্ষার কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।
- ব্যাবিলন ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ছিল।
- ব্যাবিলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৪০০০ বছরেরও বেশি আগে।
- এটি মূলত একটি ছোট বন্দর শহর ছিল।
- এর আদি বাসিন্দারা ছিল দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন আক্কাদিয়ান- ভাষী মানুষ ৷
- ব্যাবিলনের প্রাচীনতম উল্লেখগুলির মধ্যে একটি 'বুক অফ জেনেসিস'-এ শহর যেটিতে বাবেলের টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছিল।
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান এই শহরে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র - worldatlas.com
৪৫৬.
সাম্প্রতিক আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করে কোন দেশ?
  1. ক) ইরান
  2. খ) তুরস্ক
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া মধ্যস্থতা করে।
রাশিয়ার মধ্যস্থতায় দেশ দুটি গত ৯ নভেম্বর ২০২০ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
চুক্তি অনুযায়ী উভয়পক্ষ বিদ্যমান অবস্থায় থাকবে এবং আর্মেনিয়া আজারবাইজানের নিকট অতিরিক্ত তিনটি জেলা হস্তান্তর করে।
এছাড়া নাগার্নো কারাবাখ এলাকায় রাশিয়ার ১,৯৬০ জন শান্তিরক্ষী আগামী পাঁচ বছর মোতায়েন থাকবে।
(সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি)
৪৫৭.
'কনস্টান্টিনোপল' কোন সভ্যতার রাজধানী ছিল?
  1. রোমান
  2. ইনকা
  3. মায়া
  4. বাইজেন্টাইন
সঠিক উত্তর:
বাইজেন্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইজেন্টাইন
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪৫৮.
মধ্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্য -
  1. ক্ষুদ্র পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করে
  2. গৃহ নির্মাণ করে
  3. বসতি গড়ে তুলেছিল নদী ও হ্রদের তীরে
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
ক+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ
ব্যাখ্যা
মধ্যপ্রস্তর যুগ:
- প্রাচীন প্রস্তর যুগ থেকে নতুন পাথরের যুগে প্রবেশের মাঝখানে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে।
- ইতিহাসে এই সময়টি মধ্য প্রস্তর যুগ নামে পরিচিত।
- এ যুগে শিকার করা, মাছ ধরা, খাদ্য সংগ্রহ প্রভৃতিতে একটি বিশেষ ধারা ছিল।
- এ যুগের বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষ এ সময় বসতি গড়ে তুলেছিল নদী ও হ্রদের তীরে।
- কারণ, শিকার ও মাছ ধরা ছিল এ সময়ের প্রধান পেশা।
- মধ্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ারগুলো ছিল আকারে ছোট ও সূক্ষ্ম
- মধ্য প্রস্তর যুগে হাতে বানানো মৃৎপাত্র ব্যবহার করা হতো।

উল্লেখ্য,
- এ যুগের মানুষ প্রথম দিকে পশু ও মৎস শিকার করলেও শেষ দিকে তারা কৃষিকাজ শুরু করে।
- ক্ষুদ্র পাথরের হাতিয়ারগুলোর সাথে কাঠের বাট লাগিয়ে তাকে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করেছে এযুগের মানুষ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৯.
প্রাচীন মিসরের ফারাও রাজা তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কৃত হয় কোন সালে?
  1. ১৮১২ সালে
  2. ১৮২২ সালে
  3. ১৯১২ সালে
  4. ১৯২২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিসরের বিখ্যাত রাজা তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার:
- প্রাচীন মিসরের সবচেয়ে বিখ্যাত রাজা তুতেনখামেন।
- মিসরের হাজার বছরের মমি, পিরামিড ও রাজাদের বিচিত্র ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তিনি।
- এই তরুণ রাজা মাত্র ৯ বছর বয়সে ‘ফারাও’ হন এবং ১০ বছর রাজত্ব করার পর মাত্র ১৯ বছর বয়সে মারা যান।
- ইতিহাসবেত্তাদের মতে, তুতেনখামেনের জন্ম ১৩৪১ খ্রিষ্টপূর্ব।
- রাজা তুতেনখামেন ছিলেন প্রভাবশালী ফারাও তৃতীয় আমেনহোটেপের নাতি এবং আখেনাতেনের পুত্র।
- তুতেনখামেন মারা যাওয়ার পর মিসরের ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে তাঁকে মমি করা হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কার্টার তুতেনখামেনের সমাধির খোঁজে পুনরায় নিবিড় অনুসন্ধান শুরু করেন।
- এই খননকার্যের অর্থায়ন করেন ব্রিটিশ ধনকুবের লর্ড কার্নারভন।
- দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ১৯২২ সালের ৪ নভেম্বর তিনি ‘ভ্যালি অব কিংস’ নামক স্থানে রাজা ষষ্ঠ রামসেসের সমাধির প্রবেশদ্বারের কাছে পাথরের টুকরার তলায় চাপা পড়ে থাকা ফারাও রাজা তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কৃত হয়।

উৎস: i) Britannica.
         ii) ৪ নভেম্বর ২০২২, প্রথম আলো।
৪৬০.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল-
  1. ক) ২ সেপ্টেম্বর ১৯১৪ সালে
  2. খ) ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে
  3. গ) ১১ নভেম্বর ১৯১৪ সালে
  4. ঘ) ২৮ জুন ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা

• ২৮ জুলাই ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
• ১১ নভেম্বর ১৯১৮ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।
• ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
• ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

৪৬১.
বর্ণমালা প্রথম উদ্ভাবন কারা করেছিলেন?
  1. মেসোপটেমীয়
  2. ফিনিশীয়
  3. মিশরীয়
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়
ব্যাখ্যা

• ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয়দের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।
 - ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত। 
- এ কারণে ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে। 
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬২.
অজন্তার গুহাচিত্র কোন যুগে আঁকা হয়েছিল?  
  1. সেন যুগ
  2. গুপ্ত যুগ
  3. পাল যুগ
  4. মৌর্য যুগ 
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত যুগ
ব্যাখ্যা

• অজন্তা গুহা:
- অজন্তা গুহা পশ্চিম ভারতের উত্তর-মধ্য মহারাষ্ট্র রাজ্যের অজন্তা গ্রামে অবস্থিত।
- এটি  বৌদ্ধ পাথরে খোদাই করা গুহা মন্দির ও মঠের জন্য বিখ্যাত;
- যেখানে গ্রানাইটের খাড়া পাথরের ব্যবহার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
- অজন্তার গুহাচিত্র প্রায় খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক থেকে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতক পর্যন্ত সময়ে সৃষ্ট।
- এর বৃহত্তর অংশ তৈরি হয়েছে গুপ্ত যুগে (৫ম–৬ষ্ঠ শতাব্দী)।
- প্রায় ৩০টি গুহা খনন করা হয়েছে, যা প্রধানত চৈত্য (“অভয়ারণ্য”) এবং বিহার (“মঠ”)—এর সমন্বয়ে গঠিত।
- যেখানে ভাস্কর্য, বিশেষত চৈত্য স্তম্ভ সমৃদ্ধ অলঙ্করণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ;
- সেখানে গুহার প্রধান আকর্ষণ হলো ফ্রেস্কো-ধরনের চিত্রকর্ম।

উৎস: Britannica.

৪৬৩.
হেলেনিক সভ্যতা কোথায় বিকশিত হয়েছিলো?
  1. ক) আলেকজান্দ্রিয়া
  2. খ) গ্রিক উপদ্বীপ
  3. গ) ব্যাবিলন
  4. ঘ) আনাতোলিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিক উপদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিক উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা হেলেনিক ও হেলেনিস্টিক নামে দুটো স্তরে বিভক্ত। এর মধ্যে প্রথম স্তরটি হলো হেলেনিক সভ্যতা।

- গ্রিকরা তাদের দেশকে হেলাস বলতো। হেলাস থেকে হেলেনিক শব্দের উৎপত্তি। হেলেনিক সভ্যতা কেবল গ্রিক উপদ্বীপে বিকশিত হয়। এই সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো এথেন্স। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে ৩৩৭ অব্দ পর্যন্ত হেলেনিক যুগ বিদ্যমান ছিলো।

- পরবর্তীতে আলেকজান্ডারের সময়ে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে গ্রিক সাম্রাজ্য বিস্তৃত লাভ করার ফলে গ্রিক সংস্কৃতির বিস্তৃতি ঘটে। এতে করে গ্রিক সংস্কৃতির সাথে বাহিরের সংস্কৃতির সংমিশ্রণে নতুন আরেকটি সভ্যতার উন্মেষ ঘটে যা হেলেনিস্টিক সভ্যতা নামে পরিচিত।
- হেলেনিস্টিক সভ্যতার কেন্দ্রভূমি ছিলো মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট)
৪৬৪.
নীল নদের অববাহিকায় কোন সমৃদ্ধ সভ্যতার উদ্ভব হয়?
  1. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  2. ফিনিশীয় সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা
  4. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা: 
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত দেশটির নাম ইজিপ্ট বা মিশর।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ অব্দ পর্যন্ত নীল নদের অববাহিকায় একটি সমৃদ্ধ সভ্যতার উদ্ভব হয়, যা মিশরীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে।
- মিশরীয় সভ্যতা ২৫০০ বছরেরও বেশি সময়ব্যাপী স্থায়ী হয়েছিল।
- প্রাচীন মিশরের নিরবচ্ছিন্ন ও দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনা হয় ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। বিশেষ করে নবোপলীয় যুগে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৬৫.
কোন সভ্যতায় বিশ্বখ্যাত শূন্য উদ্যান নির্মাণ করা হয়েছিল?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. চৈনিক সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে সুমেরীয় অঞ্চলে উত্থান ঘটে অ্যাসিরিয়ানদের। 
- খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে অ্যাসিরিয়ানদের পরাজিত করে সামন্তরাজা নেবুচাঁদনেজার ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে নতুন একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সাম্রাজ্য ‘নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য নামে পরিচিত।
- এই সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ নৃপতি ছিলেন নেবুচাঁদনেজার। 
- জেরুজালেম বিজয়ী এ রাজা রাণীর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য নগর দেয়ালের উপরে এক মনোরম উদ্যান নির্মাণ করেন।
- এ উদ্যানই বিশ্বখ্যাত ‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান’ বা ‘ঝুলন্ত উদ্যান' নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- ‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান'। 

উল্লেখ্য,
- অ্যামোরাইট নামের এক জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮৯৪ অব্দে মেসোপটেমিয়ার সুমের ও আক্কাদ নগরীর মাঝামাঝি অবস্থিত ব্যাবিলন নামক স্থানে একটি সভ্যতা গড়ে তোলে। এটিই ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- ব্যাবিলন ছিল দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার একটি রাজ্য, যা আধুনিক ইরাকের অন্তর্গত।
- প্রাচীনকালে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে যেসব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সেগুলোর অন্যতম হলো ব্যাবিলনীয় সভ্যতা।
- ব্যাবিলন শব্দটির অর্থ দেবতার নগরী।
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর দুটি যেখানে সবচেয়ে কাছাকাছি এসেছে, সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এই নগরী।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণি ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৬.
সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী কী ছিল?
  1. ফারাও
  2. পাতেজী
  3. শেঠ
  4. লুগাল
সঠিক উত্তর:
পাতেজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতেজী
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয়।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন। 
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৭.
ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে ওঠে-
  1. ক) এশিয়াতে
  2. খ) অস্ট্রেলিয়ায়
  3. গ) আফ্রিকায়
  4. ঘ) মেক্সিকোতে
সঠিক উত্তর:
ক) এশিয়াতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এশিয়াতে
ব্যাখ্যা
গ্রিস ও এশিয়া মাইনরকে পৃথক করেছে ইজিয়ান সাগর। এই ইজিয়িন সাগর জুড়ে ছিল ছোট বড় অনেক দ্বীপ। ইজিয়ান সাগরের দ্বীপমালা ও এশিয়া মাইনরের উপকূলে একটি উন্নত সভ্যতা গড়ে ওঠে। ইতিহাসে এ সভ্যতা ইজিয়ান সভ্যতা নামে পরিচিত।
৪৬৮.
সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে -
  1. ক) এ্যাসিরীয়রা
  2. খ) ব্যাবিলনীয়রা
  3. গ) ক্যালডীয়রা
  4. ঘ) মিশরীয়রা
সঠিক উত্তর:
ক) এ্যাসিরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এ্যাসিরীয়রা
ব্যাখ্যা
• সামরিক ক্ষেত্রে এ্যাসিরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভূমিকা ছিল।
- তারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে।
- সে যুগের বিচারে তাদের সৈন্যবাহিনী ছিল বেশ আধুনিক।
- বহু নতুন নতুন অস্ত্র, যুদ্ধ কৌশল আবিষ্কারের কারণে প্রতিবেশীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে।
- সামরিক প্রয়োজনে শক্তিশালি গুপ্তচর ও যাতায়াত ব্যবস্থা।
- তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০° তে ভাগ করে। পৃথিবীকে
- সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিল।
- তারা পাঁচশ'রও বেশি উদ্ভিদ ও খনিজ ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করে সেগুলোর গুণাগুণ ও ব্যবহার পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৯.
চীনের আদি মানুষকে বলা হতো -
  1. চৌ মানব
  2. জেকিয়াং মানব
  3. পিকিং মানুষ
  4. জাভা মানব
সঠিক উত্তর:
পিকিং মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিকিং মানুষ
ব্যাখ্যা
চৈনিক সভ্যতা:
- ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে চিনের প্রাচীন সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল।
- চীন পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। দেশটির তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
→ একটি - হোয়াং হো নদীর তীরে,
→ দ্বিতীয়টি-  ইয়াং জেকিয়াং নদীর তীরে,
→ তৃতীয়টি - দক্ষিণ চিনের ভূখন্ডে।
- এই সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল- শাং ও চৌ রাজাদের আমলে।
- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে চিনে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে।
- চিনের রাজধানী পিকিং-এর (বর্তমান বেইজিং) কাছে এই খুলি পাওয়া যায়।
- চিনের আদিম মানুষ যাদেরকে- ‘পিকিং মানুষ’ বলা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭০.
‘দি রিপাবলিক' বিখ্যাত গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সক্রেটিস
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) আলেকজান্ডার
  4. ঘ) অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
খ) প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
- ‘দি রিপাবলিক' বিখ্যাত গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন- প্লেটো

গ্রিক দর্শন ও সংস্কৃতি
:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। 
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস। 
- সক্রেটিস এর ছাত্র প্লেটো ও প্লেটো এর ছাত্র অ্যারিস্টটল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে। 
- এই সকল যুক্তিবাদী দার্শনিককে সফিস্ট বলা হয়। 
- প্লেটোর বিখ্যাত গ্রন্থ সিম্পোজিয়াম, রিপাবলিক এবং লজ প্রভৃতি। 
- অ্যারিস্টটলের বিখ্যাত গ্রন্থ লজিক, ফিজিক্স এবং পলিটিক্স প্রভৃতি। 
- অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স' (Politics) গ্রন্থে রাজনীতি, গণতন্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হয়েছে।
- আর বিশ্ববিজেতা আলেকজান্ডার নিজেও একজন দার্শনিক ও জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। 
- তাঁর শিক্ষক ছিলেন দার্শনিক প্লেটো। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭১.
অলিম্পিক খেলার উৎপত্তি কোন সভ্যতায়?
  1. রোমান সভ্যতায়
  2. গ্রিক সভ্যতায়
  3. মিশরীয় সভ্যতায়
  4. পার্সিয়ান সভ্যতায়
সঠিক উত্তর:
গ্রিক সভ্যতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক সভ্যতায়
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন গ্রিসের অলিম্পিয়া নামক স্থানে দেবতা জিউসের সম্মানে অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। আধুনিক অলিম্পিক গেমস এরই অনুপ্রেরণায় গঠিত।  

​অলিম্পিক খেলা
- বড় কোন প্রয়োজনে বিচ্ছিন্ন নগর রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
- এই চিন্তা হতে প্রাচীন গ্রীকরা একটা উৎসব অনুষ্ঠানের চিন্তা করলেন।
- যার ফসল হিসেবে শুরু হলো অলিম্পিক খেলা ৭৭৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এ খেলায় বিভিন্ন নগর রাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা অংশ নিত।
- এ খেলার সূত্র ধরে পারস্পরিক শত্রুতার বদলে গ্রিকদের মাঝে একটি সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে ওঠে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭২.
কারা সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অংকন করেন?
  1. রোমানরা
  2. গ্রিকরা
  3. মিশরীয়রা
  4. ক্যালডিয়রা
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- আনুমাণিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- অড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, এজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রীক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়।
- গ্রীক সভ্যতার দুটি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তর হেলেনিক সভ্যতা এবং দ্বিতায় স্তরে হেলেনিস্টিক সভ্যতা।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।
- জ্যামিতি বিষয়ে পন্ডিত ইউক্লিড পদার্থবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৩.
'দারিয়ুস দ্য গ্রেট' কোন সভ্যতার সম্রাট ছিলেন?
  1. পারস্য 
  2. রোমান 
  3. মিশরীয়
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
পারস্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারস্য 
ব্যাখ্যা

দারিয়ুস দ্য গ্রেট:
- 'দারিয়ুস দ্য গ্রেট' পারস্য সভ্যতার সম্রাট ছিলেন।

⇒ বর্তমান ‘ইরান’ নামে পরিচিত অঞ্চলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্য।
- পারস্য অঞ্চলে ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬৫১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে উৎপত্তি লাভ করা একাধিক সাম্রাজ্যের সমষ্টি।
- ঐতিহাসিকরা এই সময়কালকে মোট চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- আকামেনিদ সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০-খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০), সেলুসিড সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩১২-খ্রিস্টপূর্ব ৬৩), পার্থিয়ান সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ২৪৭-২২৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং সর্বশেষ সাসানীয় সাম্রাজ্য (২২৬-৬৫১ খ্রিস্টাব্দ)।

⇒ আকামেনিদ সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট দারিয়ুস দ্য গ্রেট।
- তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটে।
-  দারিয়ুস পার্সেপোলিস নগরীর গোড়াপত্তন করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস বিভিন্ন পরিমাপের একক নির্ধারণের পাশাপাশি অভিন্ন মুদ্রাও চালু করেন। 
- পৃথিবীর ইতিহাসে পারসিকরাই সর্বপ্রথম, যারা এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মাঝে সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- পৃথিবীর প্রথম ডাকসেবা এই সম্রাটের হাত ধরেই চালু হয়।
- এসব কারণে দারিয়ুসকে পারস্য সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়।
- ৪৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট দারিয়ুস মারা যান। নিজের তৈরি করা সমাধিক্ষেত্র ‘নাকশে রুস্তম’-এ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। 

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪৭৪.
পিকিং মানব কোন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. হোমো স্যাপিয়েন্স
  2. হোমো হ্যাবিলিস
  3. হোমো ইরেক্টাস
  4. অস্ট্রালোপিথেকাস
সঠিক উত্তর:
হোমো ইরেক্টাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোমো ইরেক্টাস
ব্যাখ্যা

পিকিং মানব (Peking Man):
- পিকিং মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির একটি আদিম মানুষের গোষ্ঠী।
- ১৯২০-এর দশকে চীনের বেইজিংয়ের (তৎকালীন পিকিং) নিকটবর্তী ঝৌকৌদিয়ান (Zhoukoudian) গুহায় এদের জীবাশ্ম বা কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,৫০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯২১ সালে সুইডিশ ভূতাত্ত্বিক জোহান গুনার অ্যান্ডারসন প্রথম এই স্থানটি শনাক্ত করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে কানাডীয় নৃতাত্ত্বিক ডেভিডসন ব্ল্যাক একটি দাঁত খুঁজে পান এবং একে একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯২৯ সালে চীনা প্রত্নতাত্ত্বিক পেই ওয়েনঝং (Pei Wenzhong) প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ খুলি (Skullcap) আবিষ্কার করেন।

• আগুনের ব্যবহার: পিকিং মানবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আগুনের ব্যবহার।
- গুহায় পোড়া হাড় এবং ছাইয়ের স্তর দেখে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তা ব্যবহার করে খাবার রান্না করতে শিখিয়েছিল। এটি মানব বিবর্তনের ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক।

• হাতিয়ার তৈরি:
- মূলত শিকার করা এবং পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য তারা কুঠার ও চাঁছনি ব্যবহার করত।

• রহস্যময় অন্তর্ধান (Missing Fossils):
- ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জাপান চীন আক্রমণ করে, তখন নিরাপত্তার খাতিরে পিকিং মানবের আদি কঙ্কালগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- কিন্তু যাত্রাপথে সেগুলো রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায় এবং আজ অবধি সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
- বর্তমানে কেবল কঙ্কালগুলোর ছাঁচ (Casts) টিকে আছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

৪৭৫.
গ্রিকদের মতে যুদ্ধদেবতা কে ছিলেন?
  1. ক) জিউস
  2. খ) হেরা
  3. গ) এরিস
  4. ঘ) এথেনা
সঠিক উত্তর:
গ) এরিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এরিস
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা: 

- গ্রিকদের ১২ টি দেবদেবী ছিলো।
- জিউস ছিলো দেবতাদের রাজা।
- গ্রিকদের বিশ্বাস ছিলো দেবদেবীরা বাস করতেন অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায়।
- হেরা - বিবাহ বন্ধনে অটুট রাখার দেবী। জিউসের স্ত্রী।
- এরিস - যুদ্ধদেবতা।
- এথেনা - প্রজ্ঞার দেবী। জিউসের কন্যা।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৪৭৬.
ছায়াঘড়ি ও জলঘড়ি আবিষ্কার করে কারা?
  1. সুমেরীয়রা 
  2. মিশরীয়রা 
  3. ক্যালডীয়রা 
  4. গ্রিকরা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা 
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- রাজা মেনেস নামে এক শক্তিশালী সামন্ত রাজা খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে উত্তর ও দক্ষিণ মিসরকে একত্রিত করে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন।
- বিখ্যাত গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডটাস মিসরের উৎকর্ষতা দেখে বিস্মিত হয়ে তিনি মিসরকে "নীলনদের দান" বা "The gift of the Nile" বলে উল্লেখ করেছেন।

⇒ মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে। মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৭.
গ্রিসের কোন নগররাষ্ট্রকে গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. মেসিডোনিয়া
  2. থেসালোনিকি
  3. অলিম্পিয়া
  4. এথেন্স
সঠিক উত্তর:
এথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এথেন্স
ব্যাখ্যা

⇒ প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।

গণতন্ত্রের সূচনা:
- 'গণতন্ত্র' পরিভাষাটি ইংরেজি 'Democracy' থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে সলোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও কালের কণ্ঠ, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮।

৪৭৮.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পক্ষ অবলম্বন করেনি কোন দেশ?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) জাপান
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
▪ ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
▪ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
▪ মিত্রশক্তিতে ছিলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
▪ ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
▪ ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
▪ ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
▪ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
▪ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত; এর ফলে ৭০ থেকে ৮৫ মিলিয়ন প্রাণহানি ঘটে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা।
৪৭৯.
পোপের দেহরক্ষী বাহিনীকে কী বলা হয়?
  1. রেভ্যুলেশনারি গার্ড
  2. পোপ গার্ড
  3. সুইস গার্ড
  4. ভ্যাটিকান গার্ড
সঠিক উত্তর:
সুইস গার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুইস গার্ড
ব্যাখ্যা
• পোপ:
- পোপ হলেন রোমান ক্যাথলিক গির্জার সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান।
- তাকে খ্রিস্টান ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- পোপের আসন ভ্যাটিকান সিটিতে অবস্থিত এবং তিনি সাধারণত বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিকদের ধর্মীয় ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রদান করেন।
- পোপের দেহরক্ষী বাহিনীকে বলা হয় - সুইস গার্ড।
- বর্তমানে (২০২৫ সাল পর্যন্ত), পোপ হলেন পোপ ফ্রান্সিস।

উৎস: ব্রিটানিকা
৪৮০.
ব্যাবিলনের কিংবদন্তি শূন্য উদ্যানের অবস্থান কোথায় ছিল?
  1. লেবানন
  2. ইরান
  3. ইরাক
  4. জর্ডান
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা

- ব্যাবিলনের কিংবদন্তি শূন্য উদ্যানের অবস্থান বর্তমান ইরাকে

• ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান:
- ‘ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান' নির্মাণ করেন রাজা নেবুচাঁদনেজার।
- প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার একটি শহর ব্যাবিলন।
- এই ব্যাবিলন শহরের (বর্তমান ইরাক) ইউফ্রেটিস নদীর তীরে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ সালে রাজা দ্বিতীয় নেবুচাঁদনেজার তাঁর রানি আমিতিসের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে একটি ছাদবাগান নির্মাণ করেন।
- একেই ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান বা ঝুলন্ত বাগান বলে।

উল্লেখ্য,
- একে ঝুলন্ত উদ্যান বলার কারণ হচ্ছে, এর ভিত্তিস্থাপন করার পর মাটি থেকে এর উচ্চতা ছিল ৮০ ফুট।
- জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করেছিল এই উদ্যান।
- ৫১৪ খ্রিস্টাব্দে পার্শ্ববর্তী পারস্য রাজ্যের সাথে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই সুন্দর উদ্যানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
- এই সময় ব্যাবিলনের রাজপ্রাসাদ-সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৪৮১.
মেসোপটেমীয় সভ্যতাকে কয়টি পর্যায়ে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
• সুমেরীয়।
• ব্যাবিলনীয়।
• অ্যাসেরীয়।
• ক্যালেডীয়।
- Mesopotamia মানে হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'।
- ফোরাত ও দজলা নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার নামকরণ হয়েছে গ্রিক শব্দে।
- ওই সময় উরুক নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর ছিল। এ শব্দ থেকেই ইরাকের নাম রাখা হয়।
- বর্তমান ইরাকের বেশির ভাগ অংশ এবং সিরিয়ার কিছু অংশ একসময় মেসোপটেমীয় সভ্যতারই
অংশ ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ সালের দিকে এ অঞ্চল পার্সিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে রোমানদের দখলে যায়। মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চল ইরাক নামে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৪৮২.
হিব্রুরা মূলত কোন ধর্মের অনুসারী?
  1. হিন্দুধর্ম
  2. খ্রিস্টধর্ম
  3. ইহুদী ধর্ম
  4. ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ইহুদী ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহুদী ধর্ম
ব্যাখ্যা

হিব্রু: 
- মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল হিব্রুরা।
- হিব্রুরা ইহুদী ধর্মের অনুসারী।
- ইসরাইলী জাতি হিসেবে অধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীন ফোরাত (ইউফ্রেটিস) নদীর অপর পাড় থেকে প্যালেস্টাইনে আসা মানবগোষ্ঠী হিব্রুরা।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien)।
- তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদান।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৩.
আনন্দ বিহার কোন বংশের রাজত্বকালে নির্মিত হয়?
  1. দেববংশ
  2. খড়গবংশ
  3. বর্মবংশ
  4. চন্দ্রবংশ
সঠিক উত্তর:
দেববংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেববংশ
ব্যাখ্যা
দেব বংশ:
- অষ্টম শতকের মাঝামাঝি একই অঞ্চলে দেব বংশের উদ্ভব হয়।
- দেববংশের চারজন রাজার নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন-
• শ্রী শান্তিদেব,
• শ্রী বীরদেব,
• শ্রী আনন্দদেব,
• শ্রী ভবদেব।
- শক্তিশালী দেব রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ।
- তাঁদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে।
- কুমিল্লার নিকট ময়নামতির দক্ষিণে ছিল এই দেবপর্বত।
- সমগ্র সমতট অঞ্চল জুড়ে দেবরাজাদের রাজত্ব ছিল।
- দেবরাজা আনন্দের রাজধানীতে 'আনন্দ বিহার' বলে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হয়।
- আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দেবরাজাদের শাসন চালু থাকে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৪.
রোমান সভ্যতার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল -
  1. স্থাপত্যের ক্ষেত্রে
  2. ধর্মের ক্ষেত্রে
  3. আইনের ক্ষেত্রে
  4. রণকৌশলের ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
আইনের ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল - আইনের ক্ষেত্রে।

রোমান সভ্যতা:

- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।

⇒ সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৫.
আণবিক শীত বলতে বুঝায় -
  1. ক) আণবিক নিরস্ত্রীকরণ
  2. খ) বোমা নিরস্ত্রীকরণ
  3. গ) আণবিক যুদ্ধপূর্ব শীত হাওয়া
  4. ঘ) যুদ্ধ পরবর্তী সর্বাত্মক অন্ধকার
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুদ্ধ পরবর্তী সর্বাত্মক অন্ধকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুদ্ধ পরবর্তী সর্বাত্মক অন্ধকার
ব্যাখ্যা

- আণবিক শীত বা পারমাণবিক শীত বলতে যুদ্ধ পরবর্তী সর্বাত্মক অন্ধকারকে বুঝানো হয়েছে।

• নিউক্লিয়ার উইন্টার বা পারমাণবিক শীত ভলকানিক উইন্টারের মতোই। খুব শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছাই ও বস্তুকণা তৈরি হয় যা বায়ুমণ্ডলে ভাসতে থাকে ও সূর্যালোক প্রতিফলিত করে বাইরের দিকে পাঠিয়ে দেয়। ফলে পৃথিবী ঠাণ্ডা হয়ে আসে। ইতিহাস থেকে দেখা যায় এসব ভলকানিক উইন্টার কয়েক বছর অব্যহত ছিল। এমনকি পৃথিবীতে মানুষের আগমনের আগে প্রাণীজগতের বিলুপ্তির পেছনে কিছুটা হলেও এসব ভলকানিক উইন্টারের হাত ছিলো। এটি পৃথিবীকে সম্ভবত কয়েকশ বছর পর্যন্ত ঠাণ্ডা করে রাখতো।

অনেকটা এই ধরনেরই হবে নিউক্লিয়ার উইন্টার। তবে এখানে বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ছাইগুলো হবে রেডিওঅ্যাকটিভ।

• পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের ফলে কয়েক বছরের জন্য সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হবে পৃথিবী। ফলে অন্ধকারে ঢেকে যাবে পৃথিবী। এতে বন্ধ হয়ে যাবে জীবন ধারণের অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়া, সালোকসংশ্লেষণ। বেশিরভাগ উদ্ভিদ মারা যাবে নিউক্লিয়ার উইন্টারে। আমাদের মানব প্রজাতিটিও বিলুপ্ত হয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা আছে।

সূত্র: ফক্সনিউজ

৪৮৬.
‘গিলগামেশ’ মহাকাব্যের রচনা হয় কোন সভ্যতায়?
  1. সুমেরীয়
  2. ব্যাবিলনীয়
  3. অ্যাসিরীয়
  4. ক্যালডীয়
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
ব্যাখ্যা

• সুমেরীয় সাহিত্য:
- সুমেরীয়রা বিদ্যাশিক্ষায় উৎকর্ষ সাধন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- এমনকি তারা কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিবেশী মিসরীয়দেরকেও অতিক্রম করেছিল।
- যেমন, সুমেরীয়রা 'গিলগামেশ' নামক মহাকাব্য রচনা করেছিল।
- ইউরুকের কিংবদন্তী রাজা গিলগামেশকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই বিখ্যাত 'গলগামেশ' নামক মহাকাব্য।
- ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই মহাকাব্য রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

এছাড়াও,
- সুমেরীয় সভ্যতার অন্যতম কীর্তি ছিল একধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন।
- এই পদ্ধতি ছিল প্রথমতঃ চিত্রলিপি এবং পরবর্তীতে তা শব্দলিপিতে রূপান্তরিত হয়।
- এই লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' নামে পরিচিত। 
- এ সুমেরের বিখ্যাত শহর নিপ্পুরে এ কিউনিফর্ম (Cuneiform) চিত্রলিপির প্রায় চার হাজার মাটির চাকতি পাওয়া গেছে।
- এসকল কিউনিফর্ম বর্ণভিত্তিক নয়, বরং একে বলা যেতে পারে অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি।

তথ্যসূত্র: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৭.
কার সময়কে গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগ বলা হয়?
  1. পেরিক্লিসের
  2. রোমারের
  3. সোলনের
  4. সক্রেটিসের
সঠিক উত্তর:
পেরিক্লিসের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিক্লিসের
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- ইউরোপ মহাদেশের গ্রিক রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রাচীন কয়েকটি শহরকে কেন্দ্র করে গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ঘটে।
- বলকান উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত গ্রিক প্রায় পাঁচ হাজার বর্গমাইল ব্যাপী বিস্তৃত।
- ভূ-প্রকৃতিই দেশটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে; দক্ষিণ গ্রিস, মধ্য গ্রিস ও উত্তর গ্রিস।
- মেসিডোনিয়ান অধিপতি আলেকজান্ডারের শাসনামলে এ সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে আধুনিক মিসর, ইসরাইল, প্যালেষ্টাইন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরান হয়ে ভারতবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।
- আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, ইজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রিক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়।

⇒ পেরিক্লিসের যুগ:
- দেশাত্মবোধে উজ্জিবিত গ্রিকরা এথেন্সের নেতৃত্বে এক সমৃদ্ধিশালী গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
- এই বিকশিত গণতন্ত্র ও সমাজকে আরো চূড়ান্ত শিখরে তোলেন বিখ্যাত পেরিক্লিস।
- তাঁর সময়ে (খ্রি: পূর্ব ৪৬১-৪২৯) সমগ্র গ্রিসের গণতন্ত্র, স্থাপত্যকলা ও জ্ঞান বিজ্ঞানের চরম বিকাশ লাভ করে।
- এই কারণে তাঁর সময়কালে পেরিক্লিসের যুগ বলা হয়।
- পেরিক্লিসের সময়ে নাট্যকার সোফোক্লিস, দার্শনিক এনাক্সগোরাস, নাট্যকার ইউরিপিডিস রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৮.
রাজা হাম্মুরাবী কোন সভ্যতার বিখ্যাত নেতা ছিলেন?
  1. মিসরীয়
  2. রোমান
  3. ব্যবিলনীয়
  4. ক্যালডীয়
সঠিক উত্তর:
ব্যবিলনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যবিলনীয়
ব্যাখ্যা

রাজা হাম্মুরাবী:
- রাজা হাম্মুরাবী (১৭৯২-১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ছিলেন এ্যামোরাইট জাতি তথা ব্যবিলনীয় সভ্যতার বিখ্যাত নেতা।
- তাঁর আমলে ব্যবিলন নতুন সভ্যতায় উদ্ভাসিত হয়।
- ইউফ্রেটিস উপত্যকায় ব্যবিলনে তিনি কেন্দ্রীয় রাজ্য স্থাপন করেন এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে এক বিশাল শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।
- ব্যবিলনীয় সভ্যতা চরম খ্যাতি অর্জন করে বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবীর শাসনামলে।
- হাম্মুরারীর আইন জগত বিখ্যাত।
- পরবর্তীতে ব্যবিলনীয় সভ্যতা জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ব্যবসা বাণিজ্যে প্রভূত উন্নতি সাধন করে।

• ব্যবিলনীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা অপর সভ্যতা (ব্যাবিলনীয়) সভ্যতার জনক ছিলো-সেমিটিক জাতি।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে এ্যামোরাইট নামক সেমিটিক জাতি।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে সেমিটিক জাতির অবদান সর্বাধিক।
- প্রকৃত পক্ষে সুমেরীয় রাজা ডুঙির মৃত্যুর পর পরই সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটে।
- সুমেরীয় সভ্যতার ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে ওঠে ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য বা সভ্যতা।
- অ্যামোরাইটরা আরব মরুভূমির উত্তরাঞ্চল থেকে মেসোপটেমিয়ায় এসে ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যবিলনে সভ্যতা গড়ে তোলে। এই সভ্যতাকে প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতা বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৯.
কোন সভ্যতাটি বর্তমান ইরাক অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. মায়া সভ্যতা
  3. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  4. চীনা সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ।
- যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- এই উর্বর ভূখণ্ডের উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি; দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর, পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫,৫০০ অব্দে দক্ষিণ মেসোপটেমীয়ার অধিবাসীরা ইউফ্রেতিস নদীর পানির প্রবাহ পরিবর্তন করে এবং পানি সেচের ব্যবস্থা করতে শেখে। - মেসোপটেমীয়ায় কৃষি কাজের জন্য এ ধরনের সেচ ব্যবস্থার খুবই দরকার ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯০.
রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করে কত তারিখ?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে
  4. ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ:

- ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রম করে।
- এসইউ-৩৪ বোমারু বিমানের মাধ্যমে পরিচালিত একটি বিশেষ সামরিক অভিযানে কিনঝাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল ব্যবহার হয়েছে।
- কিনঝাল হচ্ছে আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিসটিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যেখানে অত্যাধুনিক রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। - শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে চলতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত মিগ-৩১ কে যুদ্ধবিমানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়।
- কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত রাডার ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং এটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পথে একাধিকবার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
- এটি মূলত স্থল ও নৌ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি উদ্যোগ সাফল্যের সঙ্গে শেষ করায় ক্রুদের রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করা হবে।
- অভিযানে রাশিয়া ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা শুরু করেছে।

তথ্যসুত্র - ডেইলী স্টার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩।
৪৯১.
অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. দামেস্ক
  2. বাগদাদ
  3. কায়রো
  4. কনস্টান্টিনোপল
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
ব্যাখ্যা

- ১৪৫৩ সালে সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ কনস্টান্টিনোপল জয় করার পর, এটি অটোমান সাম্রাজ্যের নতুন রাজধানীতে পরিণত হয় এবং পরে ইস্তাম্বুল নামে পরিচিতি লাভ করে।

অটোমান সাম্রাজ্য:
- তুরস্কের নেতৃত্বে ১২৯৯ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের জন্ম হয়েছিল।
- এই সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল ১২৯৯ সাল থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত।
- তুরস্কে কামাল আতাতুর্কের আত্মপ্রকাশের মধ্যে দিয়ে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- প্রাচীন তুরস্কের কনসটানটিনপল (বর্তমানে ইস্তাম্বুল) এই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
- অটোমান শাসকরা সুলতান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- এই সাম্রাজ্যের বিলুপ্ত ঘোষিত হয়েছিল ১৯২২ সালের ১ নভেম্বর।
- এরপর ২৯ অক্টোবর, ১৯২৩ এ তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের জন্ম হয়। 

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতি কোষ - তারেক শামসুর রেহমান।

৪৯২.
পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র অঙ্কন করেন কারা?
  1. মিশরীয়রা
  2. সিন্ধুরা
  3. গ্রিকরা
  4. চীনরা
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
ব্যাখ্যা
• গ্রিক বিজ্ঞান:
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন গ্রিক বিজ্ঞানীরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে।
- এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।

এছাড়াও,
- গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূ-মধ্যসাগর ও ইজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- ইউরোপের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বলকান উপদ্বীপ।
- এর দক্ষিণাংশে একটি ছোট পাহাড়ি দেশ গ্রিস।
- গ্রিস মূলত একটি পর্বতময় দ্বীপ রাষ্ট্র।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৩.
রোম নগরী বর্তমান কোন দেশে অবস্থিত ছিল?
  1. গ্রিস
  2. ফ্রান্স
  3. ইতালি
  4. স্পেন
সঠিক উত্তর:
ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালি
ব্যাখ্যা

রোমান সভ্যতা:
- প্রাচীন রোমান সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল প্রাচীন রোম নগরীকে কেন্দ্র করে।
- রোম নগরী অবস্থিত ছিল বর্তমান ইতালির মধ্যভাগে, পশ্চিম দিকে টাইবার (Tiber) নদীর তীরে, ভূমধ্যসাগরের নিকটবর্তী অঞ্চলে।
- রোম নগরী গড়ে উঠেছিল সাতটি পাহাড় বা টিলা এর উপর।
- নগরীর চারপাশে ছিল উর্বর সমতল ভূমি, যা কৃষিকাজের জন্য উপযোগী ছিল।
- এই সমতল ভূমি লাতিয়াম নামে পরিচিত ছিল এবং এখানে বসবাস করত ল্যাটিন উপজাতি।
- কিংবদন্তি অনুযায়ী ল্যাটিন বংশোদ্ভূত রাজা রোমুলাস খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁর নাম অনুসারেই নগরীর নামকরণ করা হয় রোম।
- রোমবাসীদের ভাষা ছিল ল্যাটিন (Latin), যা পরবর্তীতে ইউরোপের বহু ভাষার ভিত্তি রচনা করে।

উৎস: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৯৪.
মিশরীয় সভ্যতার শেয়াল দেবতা -
  1. হোরাস
  2. শেঠ
  3. থোথ
  4. আনুবিস
সঠিক উত্তর:
আনুবিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুবিস
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরে প্রথম এই সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
- একটি ছিল উত্তর মিশর অপরটি দক্ষিণ মিশর।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- পিরামিড: মিশরীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- স্ফিংস: এটি ফারাও খাফরের শাসনকালে নির্মিত বিশাল মূর্তি।
- মিশরীয় সভ্যতায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করা হত। যেমন -
• পাতালের দেবতা - ওসিরিস,
• যুদ্ধ এবং শিকারের সাথে যুক্ত আকাশের দেবতা - হোরাস,
• সহিংসতা, মরুভূমি এবং ঝড়ের দেবতা - শেঠ,
• শেয়াল দেবতা - আনুবিস,
• জ্ঞানের দেবতা - থোথ।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৫.
সুমেরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম কী ছিল?
  1. হায়ারোগ্লিফিক
  2. কিউনিফর্ম
  3. হিব্রু
  4. কার্টোগ্রাফিক
সঠিক উত্তর:
কিউনিফর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউনিফর্ম
ব্যাখ্যা
• সুমেরীয়দের লিখন পদ্ধতি: 
- সুমেরীয় সভ্যতার অন্যতম কীর্তি ছিল একধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন।
- এই পদ্ধতি ছিল প্রথমতঃ চিত্রলিপি এবং পরবর্তীতে তা শব্দলিপিতে রূপান্তরিত হয়।
- এই লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' নামে পরিচিত।
- কাঁদা মাটিতে চাপ দিয়ে চিত্রাংকন দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করতো।
- যা মেসোপটেমীয় লিপি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
- এ সুমেরের বিখ্যাত শহর নিন্ধুরে এ কিউনিফর্ম (Cuneiform) চিত্রলিপির প্রায় চার হাজার মাটির চাকতি পাওয়া গেছে।
- এসকল কিউনিফর্ম বর্ণভিত্তিক নয়। 
- বরং একে বলা যেতে পারে অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিখন।

এছাড়াও, 
- 'চাকা' আবিষ্কার- সুমেরীয়রা প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু করে।
- উন্নত সেচ ব্যবস্থা – টাইগ্রিস ও ইউফ্রিটিস নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষির উন্নতির জন্য তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছিলো।

উৎস:  ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র,  এইচ এস এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৬.
'ইসলামি বিপ্লব' কত সালে সংঘটিত হয়েছিল? 
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা

• ইরানে ইসলামি বিপ্লব:
- ১৯৭৯ সালে ইরানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনীর নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে ইরানের তদানীন্তন সরকারের পতনের মাধ্যমে এই বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করে।
- এই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভীর পতন ঘটে।
- ১ এপ্রিল ১৯৭৯ খোমেনী ইরানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- শেষ ইরানি রাজবংশ ছিল পাহলভী রাজবংশ ছিল।
- ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে দীর্ঘ আটাশ বছর এই রাজবংশ শাসন পরিচালনা করে।
- আর ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব পর্যন্ত স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র হিসেবে ইরান শাসন করে।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে ইরানের ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয় ও রেজা শাহ পাহলভী ইরান ছেড়ে পালিয়ে যান।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৪৯৭.
মহেঞ্জোদারো কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. ক) ইনকা সভ্যতা
  2. খ) আর্য সভ্যতা
  3. গ) সিন্ধু সভ্যতা
  4. ঘ) ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- মহেঞ্জোদারো হলো ভারতর্ষের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন। মহেঞ্জোদারো পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় অবস্থিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে সিন্ধু নদীর তীরে সিন্ধু সভ্যতার সূচনা হয়।
- ১৯২১ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সাহিওয়াল জেলার হরপ্পায় প্রথম সিন্ধু সভ্যতার সন্ধান মেলে। হরপ্পার নির্দশন আবিষ্কারে দয়ারাম সাহনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ১৯২২ সালে বাঙালি প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারে স্যার মার্টিন হুইলার, কাশীনাথ দীক্ষিত এবং ননী গোপাল মজুমদারের ভূমিকাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- সিন্ধু সভ্যতা ছিলো একটি উন্নত নগর সভ্যতা।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৪৯৮.
বস্তুগত সংস্কৃতি নয় কোনটি?
  1. আইন
  2. মাটির হাঁড়ি
  3. ভাষা
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
ক+গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ
ব্যাখ্যা
বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।
- সামাজিক পরিবর্তনের রেশ ধরে সভ্যতার উন্নয়নের ফলে সংস্কৃতির এসব উপাদানের মধ্যেও এসেছে পরিবর্তন।
- যেমন আগে মানুষ লাঙল, কাস্তে, মাটির হাঁড়ি, ঘরবাড়ি, লুঙ্গি, শাড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করতো কিন্তু বর্তমানে কলের লাঙল, ধানকাটার মেশিন, স্টিলের হাড়ি পাতিল ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে।

অন্যদিকে -
অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৯.
’সভ্যতার সূতিকাগার’ বলা হয় -
  1. মিসরীয় সভ্যতা
  2. মেসোপটেমিয় সভ্যতা
  3. রোমান সভ্যতা
  4. ফিনিশীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমিয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমিয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
’সভ্যতার সূতিকাগার’ বলা হয় মেসোপটেমিয় সভ্যতাকে।

মেসোপটেমিয় সভ্যতা
:
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা ‘মেসোপটেমীয় সভ্যতা’।
- আধুনিক ইরাক রাষ্ট্রের সীমারেখার মধ্যেই প্রাচীনকালে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- ফোরাত (ইউফ্রেটিস) ও দজলা (টাইগ্রিস) নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ হতে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের মধ্যে মেসোপটেমিয়ায় অতি উন্নত এক সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- মেসোপটেমিয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে।
- মেসোপটেমিয় সভ্যতারই চারটি পর্ব ছিল।
- সেগুলো হলো: সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা।

অন্যদিকে -
- প্রাচীন ভারতে সিন্ধু নদের তীরে গড়ে উঠেছিল সিন্ধু সভ্যতা।
- প্রাচীন রোমের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল রোমান সভ্যতা।
- ইউরােপের বলকান উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ভূমধ্য সাগরের তীরে ক্ষুদ্র পার্বত্য অঞ্চলে খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০ নাগাদ যে সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসে তাই গ্রিক সভ্যতা নামে পরিচিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে প্রাচীন মিশরে মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠে।

উৎস: Britannica.
৫০০.
কোন সভ্যতায় সফিস্টদের আবির্ভাব ঘটে?
  1. প্রাচীন মিশরীয়
  2. প্রাচীন গ্রিস
  3. প্রাচীন চৈনিক
  4. সিন্ধু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন গ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন গ্রিস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিসের দর্শন:
- দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে গ্রিসের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছিল।
- পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, প্রতিদিন কীভাবে এর পরিবর্তন ঘটছে এসব ভাবতে গিয়ে গ্রিসে দর্শন চর্চার সূত্রপাত।
- থালেস ছিলেন প্রথম দিককার দার্শনিক।
- তিনিই প্রথম সূর্য গ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন।
- গ্রিসে যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে যাদের বলা হতো সফিস্ট।
- এরা বিশ্বাস করতেন যে চূড়ান্ত সত্য বলে কিছু নেই।
- গণতান্ত্রিক নগর রাষ্ট্র এথেন্সের রাজা পেরিক্লিস এদের অনুসারী ছিলেন।
- সক্রেটিস ছিলেন এ চিন্তার দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান।
- তার শিক্ষার মূল দিক ছিল- আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলা।
- সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটো গ্রিক দর্শনকে চরম উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- প্লেটোর শিষ্য এরিস্টটলও একজন বড় দার্শনিক ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।