বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / ১২ · ৩০১৪০০ / ১,১৮৫

৩০১.
কোন চুক্তির মধ্য দিয়ে অটোমান সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়?
  1. লুজান চুক্তি
  2. ভার্সাই চুক্তি
  3. ইস্তাম্বুল চুক্তি
  4. ত্রিয়ানন চুক্তি
সঠিক উত্তর:
লুজান চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুজান চুক্তি
ব্যাখ্যা
লুজান চুক্তি (Treaty of Lausanne):
- ১৯২৩ সালে ঐতিহাসিক লুজান চুক্তির মধ্য দিয়ে তুরস্কে অটোমান সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়।

⇒ লুজান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে।
- লুজান চুক্তি স্বাক্ষরকারী: এক পক্ষে তুরস্ক এবং অন্য পক্ষে ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রীস ও তাদের মিত্ররা।
- এই চুক্তির মাধ্যমে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটে এবং আধুনিক তুরস্ক রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- মূলত, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালে তুরস্কের উপর অন্যায্যভাবে আরোপিত সেভ্রেস চুক্তির পরিবর্তেই লুজান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, জাপান, রোমানিয়া, যুগোস্লাভিয়া) ১৯২০ সালে সেভ্রেস চুক্তির মাধ্যমে অটোমান ভূখণ্ডের ব্যাপক বিভাজনের পরিকল্পনা করে।
- এই চুক্তি অটোমান সাম্রাজ্যকে সঙ্কুচিত করে এবং কুর্দিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, আর্মেনিয়ার জন্য ভূখণ্ড এবং গ্রিস, ফ্রান্স, ব্রিটেনের দখলে বিভিন্ন অঞ্চল হস্তান্তরের শর্ত আরোপ করে।
- তবে, মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুর্কি জাতীয় আন্দোলন এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এবং ১৯১৯-১৯২২ সালে তুর্কি স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে।
- এর ফলে সেভ্রেস চুক্তি বাতিল হয় এবং লুজানে নতুন আলোচনার পথ তৈরি হয়।
- ১৯২২ সালের ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া লুজান সম্মেলনে সাত মাস ধরে আলোচনার পর ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

উৎস: Britannica.
৩০২.
রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত কারা?
  1. গ্রিকরা
  2. রোমানরা
  3. হিব্রুরা
  4. ফিনিশীয়রা
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়রা
ব্যাখ্যা
♦ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয়দের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে তাদের উত্থান হয়েছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।
- ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত।
- এ কারণে ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে।
উল্লেখ্য,
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে।
- আধুনিক বর্ণমালার সূচনা এখান থেকে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩০৩.
আমেরিকা কত তারিখে জাপানের হিরোশিমায় পারমানবিক বোমা নিক্ষেপ করে?
  1. ক) ১৯৩৯ সালের ৬ আগস্ট
  2. খ) ১৯৪৩ সালের ৯ আগস্ট
  3. গ) ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে "লিটলবয়" ও 
৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে "ফ্যাটম্যান" নামের দুটো পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এতে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়।

- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান ১৯৪৫ সালের আগস্টে জাপানে পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম)
৩০৪.
মেসোপটেমীয়া বলতে কোন অঞ্চলকে বুঝানো হয়?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. সিরিয়া
  4. মিশর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতার অবস্থান:
- খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও।
- একই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ।
- যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা-ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।

উল্লেখ্য,
- মেসোপটেমীয়া  উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল।
- পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি।
- দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর।
- পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৫.
আরব দেশসমূহ পাশ্চাত্যের উপর তেল অবরোধ করে কোন যুদ্ধে?
  1. ক) ইয়োম কিপুর যুদ্ধে
  2. খ) ছয় দিনের যুদ্ধে
  3. গ) জুনের যুদ্ধে
  4. ঘ) তৃতীয় আরব - ইসরাইল যুদ্ধে
সঠিক উত্তর:
ক) ইয়োম কিপুর যুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইয়োম কিপুর যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
ইয়োম কিপুর যুদ্ধ:

- আরব দেশসমূহ পাশ্চাত্যের উপর তেল অবরোধ করে ইয়োম কিপুর যুদ্ধে
- ১৯৭৩ সালে সংঘটিত চতুর্থ আরব - ইসরাইল যুদ্ধ 'অক্টোবর যুদ্ধ', 'রমজান যুদ্ধ' ও 'ইয়োম কিপুর যুদ্ধ'
- মিসর ও সিরিয়া নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইসরাইলের মধ্যে ১৯৭৩ সালের ৬ থেকে ২৫ অক্টোবর এ লড়াই সংঘটিত হয়।
- তৃতীয় আরব - ইসরাইল যুদ্ধ যা 'ছয় দিনের যুদ্ধ' ও 'জুনের যুদ্ধ' নামে পরিচিত।
- ১৯৬৭ সালের ৫ থেকে ১০ জুনের মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ইসরাইল এই যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে সিনাই উপদ্বীপ,গাজা উপত্যকা,পশ্চিম তীর,জেরুজালেম দখল করে নিয়েছিল।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
৩০৬.
ইতিহাসের প্রথম লিখিত আইন প্রণেতা কে?
  1. হাম্মুরাবি
  2. উর-নাম্মু
  3. সার্গন দ্য গ্রেট
  4. জুলিয়াস সিজার
সঠিক উত্তর:
হাম্মুরাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাম্মুরাবি
ব্যাখ্যা
হাম্মুরাবি আইন:
- প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় (বর্তমান ইরাক) পৃথিবীর প্রথম সত্যিকারের সভ্য নগররাষ্ট্রগুলো গড়ে উঠেছিল।
- ফলে এলাকাটি সভ্যতার সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত।
- নগররাষ্ট্র ব্যাবিলন ছিল মেসোপটেমিয়ার কেন্দ্রবিন্দু।
- ১৭৬০ খ্রিষ্টপূর্ব বেশ কয়টি ধারাবাহিক যুদ্ধের পর ব্যাবিলনের শক্তিমান রাজা হাম্মুরাবি অন্য সব বিপক্ষ নগররাষ্ট্রগুলো গুঁড়িয়ে দেন।
- ইতিহাসের প্রথম লিখিত আইন প্রণেতা হাম্মুরাবি।

⇒ রাজা হাম্মুরাবি কঠোর হাতে মেসোপটেমিয়া শাসন করেছেন।
- তিনি আইন প্রণয়ন ও অপরাধের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করেছিলেন। তাঁর আইনগুলো ‘কোড অব হাম্মুরাবি’ নামে পরিচিত। এটি সবচেয়ে পুরোনো লিখিত আইন।
- ব্যাবিলনের সূর্য দেবতা শামাশের নামে হাম্মুরাবি প্রণীত আইনগুলো পাথরে খোদাই করা ছিল।
- আইনগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী কাদামাটিতে লিখে আগুনে পুড়িয়ে সংরক্ষণ করা হতো।

এছাড়াও,
- ৪০০০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে সুমেরিয়ানরা মেসোপটেমিয়ার নদীবর্তী স্থানগুলোকে সমৃদ্ধ করে তুলেছিল। রাজা উর-নাম্মু ছিলেন একজন কুশলী রাজ্যনির্মাতা।
- ২৩০০ খ্রিষ্টপূর্বে সার্গন দ্য গ্রেটের অধীন আকাডিয়ানরা ব্যাপক ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যে তারা এক সম্রাটের অধীন বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

উৎস: i) History.com
ii) প্রথম আলো।
৩০৭.
‘দ্য গ্রেট গেম’ (The Great Game) প্রধানত কোন দুটি সাম্রাজ্যের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও ফরাসি সাম্রাজ্য
  2. ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও জার্মান সাম্রাজ্য
  3. ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও রুশ সাম্রাজ্য
  4. ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও চীন সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও রুশ সাম্রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও রুশ সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা

মধ্য এশিয়ার গ্রেট গেম (Great Game):
- মধ্য এশিয়ার 'গ্রেট গেম' হলো ১৯শ শতাব্দীর একটি বিখ্যাত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।
- এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যে মধ্য এশিয়ায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। 
- রাশিয়া যখন এশিয়ার দিকে প্রসারিত হচ্ছিল, তখন ব্রিটিশরা ভারত রক্ষায় আফগানিস্তান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। রাশিয়া চেয়েছিল মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে, আর ব্রিটেন চেয়েছিল রাশিয়াকে ভারতের সীমান্ত থেকে দূরে রাখতে।  
- এর মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আফগানিস্তান, পারস্য (ইরান), তিব্বত এবং মধ্য এশিয়ার বুখারা ও খিভা অঞ্চল।
- ১৯০৭ সালের অ্যাংলো-রাশিয়ান কনভেনশন এর মাধ্যমে ইরান ও আফগানিস্তানে প্রভাবের ক্ষেত্র নির্ধারণের মাধ্যমে এই গেমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। 

উল্লেখ্য,
- লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর উপন্যাস 'কিম' (Kim)-এর মাধ্যমে গ্রেট গেম শব্দটি জনপ্রিয় হয়।

এছাড়াও,
- বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের মতো শক্তিগুলোর মধ্যে মধ্য এশিয়ায় নতুন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকে "নিউ গ্রেট গেম" বা নতুন গ্রেট গেম বলে অভিহিত করা হয়।

উৎস: Britannica.

৩০৮.
বৃত্তকে প্রথম ৩৬০ ডিগ্রীতে ভাগ করেন কারা?
  1. গ্রীকরা
  2. অ্যাসেরীয়রা
  3. ফিনিশীয়রা
  4. ক্যালডীয়রা
সঠিক উত্তর:
অ্যাসেরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসেরীয়রা
ব্যাখ্যা
অ্যাসিরীয় সভ্যতা:
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-৯০০ অব্দের মধ্যে অ্যাসিরীয় সভ্যতার পত্তন ঘটে।
- ব্যাবিলন থেকে প্রায় দু'শ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে এই শহর গড়ে ওঠে।
- এ শহরের অধিবাসীরা অ্যাসিরীয় নামে পরিচিত ছিল।
- সামরিক ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- অ্যাসিরীয় সম্রাট বিশ্বাস করতেন তিনি দেবতা অসুরের প্রতিনিধি।
- অ্যাসিরীয়দের অর্থনীতির মূল উৎস ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে লুণ্ঠন করে আনা ধনসম্পদ।
- তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০° তে ভাগ করে।
- পৃথিবীকে সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিল।
- তিন'শ বছরের এই প্রাচীন সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৬১২ অব্দে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
মিশরীয়রা লেখার জন্যে কী ব্যবহার করতো?
  1. ক) কাপড়
  2. খ) প্যাপিরাস
  3. গ) তালপাতা
  4. ঘ) ভূঞ্জপাতা
সঠিক উত্তর:
খ) প্যাপিরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্যাপিরাস
ব্যাখ্যা
- মিশরীয়রা লেখার জন্যে প্যাপিরাস ব্যবহার করতো।

• মিশরীয়দের লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারােগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে। সেই কাগজের ওপর তারা লিখত।
- গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস'। এই শব্দ থেকে ইংরেজি পেপার শব্দের উৎপত্তি।
- এখানে উল্লেখ্য, নেপােলিয়ান বােনাপার্টের মিশর জয়ের সময় একটি পাথর আবিস্কৃত হয় যা রসেটা স্টোন নামে পরিচিত।
- যাতে গ্রিক এবং ‘হায়ারােগ্লিফিক' ভাষায় অনেক লেখা ছিল, যা থেকে প্রাচীন মিশরের অনেক তথ্য জানা যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১০.
মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে-
  1. রেড পিরামিড
  2. ফারাও খুফুর পিরামিড
  3. পিরামিড অব স্নোফ্
  4. পিরামিড অব জোসার
সঠিক উত্তর:
ফারাও খুফুর পিরামিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারাও খুফুর পিরামিড
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা: 
- ভাস্কর্য শিল্পে মিশরীয়দের মতো প্রতিভার ছাপ আর কেউ রাখতে সক্ষম হয়নি।
- প্রতিটি শিল্পই ছিল আসলে ধর্মীয় শিল্পকলা।
- সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গিজার অতুলনীয় স্ফিংক্স।
- স্ফিংক্স হচ্ছে এমন একটি মূর্তি, যার দেহ সিংহের মতো, কিন্তু মুখ মানুষের মতো।
- মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড।
- মন্দিরগুলোতে মিশরীয় ভাস্কর্য স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা,  নবম দশম শ্রেণি। 
৩১১.
ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণ যুক্ত করে-
  1. গ্রীকরা
  2. ফিনিশীয়রা
  3. চীনারা
  4. মিশরীয়রা
সঠিক উত্তর:
গ্রীকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীকরা
ব্যাখ্যা

• ফিনিশীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান বর্ণমালা উদ্ভাবন বা লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার।
• ফিনিশীয়রা ব্যঞ্জনবর্ণ উদ্ভাবন করেন ২২ টি।
• আর এই ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণ যুক্ত করে গ্রিকরা।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

৩১২.
মেক্সিকান বনে লুকিয়ে থাকা হারিয়ে যাওয়া মায়ান শহর সনাক্ত করতে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল?
  1. GPS
  2. LiDAR
  3. Sonar
  4. MRI
সঠিক উত্তর:
LiDAR
উত্তর
সঠিক উত্তর:
LiDAR
ব্যাখ্যা
মেক্সিকোর গভীর জঙ্গলে লিডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে হারানো মায়া নগরীর সন্ধান: 
- বিজ্ঞানীরা LiDAR (Light Detection and Ranging) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেক্সিকোর ঘন জঙ্গলে একটি হারানো মায়া নগরী আবিষ্কার করেছেন।
- এটি ক্যালাকমুল নগরীর পরে ঘনবসতিপূর্ণ মায়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় হিসেবে চিহ্নিত।
- গবেষক দলটি স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের সমান আয়তনের একটি অঞ্চলে তিনটি সাইট আবিষ্কার করেছে।
- ঘটনাক্রমে এক প্রত্নতাত্ত্বিক অনলাইনে ডেটা পর্যবেক্ষণ করার সময় এই সাইটটি শনাক্ত করেন।
- এই আবিষ্কার প্রাচীন মায়া সভ্যতার বিস্তৃতি এবং স্থাপত্য কৌশলের উপর নতুন আলো ফেলেছে।

LiDAR প্রযুক্তি:
- LiDAR হলো একটি দূরবর্তী সেন্সিং পদ্ধতি, যা পালস লেজার ব্যবহার করে পৃথিবীর পৃষ্ঠের দূরত্ব মাপে।
- এটি উচ্চ রেজোলিউশনের ৩ডি মডেল তৈরি করতে পারে।
- সিস্টেমে একটি লেজার, স্ক্যানার, এবং GPS রিসিভার অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- লেজার দ্রুতগতিতে গাছপালা বা ভবনের মতো পৃষ্ঠে আঘাত করে এবং প্রতিফলিত আলো সেন্সর দ্বারা রেকর্ড হয়।

আবিষ্কৃত মায়া নগরী:
- নতুনভাবে আবিষ্কৃত নগরীর নাম ভ্যালেরিয়ানা রাখা হয়েছে।
- ক্যাম্পেচে রাজ্যে এই লুকানো জটিল স্থাপনা খুঁজে পাওয়া যায়।
- এটি বহু শতাব্দী ধরে জঙ্গলের ঘন গাছপালার নিচে ঢাকা ছিল।

স্থাপনার বৈশিষ্ট্য:
- পিরামিড
- খেলার মাঠ
- বিভিন্ন অঞ্চল সংযোগকারী রাস্তা
- অ্যাম্ফিথিয়েটার

উৎস: বিবিসি (২৯ অক্টোবর, ২০২৪)
৩১৩.
গণতন্ত্রের ধারণা প্রথম সূচনা হয় কোন দেশে?
  1. ইতালিতে
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. যুক্তরাজ্যে
  4. গ্রীসে
সঠিক উত্তর:
গ্রীসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীসে
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের সূচনা:

- 'গণতন্ত্র' পরিভাষাটি ইংরেজি 'Democracy' থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে সলোন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও কালের কণ্ঠ, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮।
৩১৪.
কোথায় মহেঞ্জোদারো সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে?
  1. ইরাক
  2. পাকিস্তান
  3. ইরান
  4. আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতার উত্থান-পতনের কাল।
- আর্য জাতির আক্রমণের ফলে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অথবা ১৪০০ অব্দে সিন্ধু সভ্যতার অবসান ঘটে।
- সিন্ধু সভ্যতার সমাজব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক।
- সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি নির্ভর। 
- সিন্ধুবাসীদের মধ্যে মাতৃপূজা খুব জনপ্রিয় ছিল। 
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
- তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত। 
- মহেঞ্জোদারোর স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো 'বৃহৎ মিলনায়তন'।
- হরপ্পাতে বিরাট আকারের শস্যাগারও পাওয়া গেছে।
- মহেঞ্জোদারোতে একটি 'বৃহৎ স্নানাগার'-এর নিদর্শন পাওয়া গেছে, যার মাঝখানে বিশাল চৌবাচ্চাটি ছিল সাঁতার কাটার উপযোগী।

উল্লেখ্য,
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৫.
'জলঘড়ি, চন্দ্র পঞ্জিকা আবিষ্কার' কোন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান?
  1. সুমেরীয় সভ্যতা
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. ক্যালেডীয় সভ্যতা
  4. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• সুমেরীয় সভ্যতা ( Sumerian Civilization):
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন যে সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল, তার নাম সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমানে ইরাকের টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর স্থানে সুমেরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে।
- তাদের কৃষকরা প্রথম দুই চাকা বিশিষ্ট 'রথ' (Chariot) ব্যবহার শুরু করেছিল।
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রিটিস নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষির উন্নতির জন্য তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছিলো।
- সুমেরীয়রা প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু করে।
- সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির নাম “কিউনিফর্ম” (Cuneiform)।
- তারা বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য হিসাবে বিবেচিত “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেছিলেন।
- জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সুমেরীয়রা।

সূত্র: Britannica & History.com ও কালের কণ্ঠ।
৩১৬.
দিল্লী সালতানাতের পতন হয় কাদের হাতে?
  1. ক) আফগানদের হাতে
  2. খ) তৈমুর লঙের হাতে
  3. গ) পারস্যের শাহ্‌ এর বাহিনীর হাতে
  4. ঘ) মোঙ্গলদের হাতে
  5. ঙ) মোগলদের হাতে
সঠিক উত্তর:
ঙ) মোগলদের হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) মোগলদের হাতে
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম লোদীর উদ্ব্যত আচরণ ও কঠোর দমন নীতির ফলে অসন্তুষ্ট আফগান অভিজাত শ্রেণি, পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদী এবং ইব্রাহীম লোদীর পিতৃব্য আলম খান এবং রাজপুতনার মেবারের রানা সংগ্রাম সিংহ কাবুলের অধিপতি জহিরুদ্দীন মুহম্মদ বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান। উচ্চাভিলাষী এবং সাম্রাজ্যবাদী বাবর এই আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আক্রমণ করেন। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘোষণা করেন এবং ভারতর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩১৭.
মায়া সভ্যতার ধর্মীয় ক্যালেন্ডার কোনটি?
  1. টজলকিন
  2. হাব
  3. টিকাল
  4. পালেঙ্কে
সঠিক উত্তর:
টজলকিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টজলকিন
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল: চেচেন ইৎজা, মেক্সিকো।
⇒ মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
• প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
• ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com
৩১৮.
বৃত্তকে প্রথম ৩৬০ ডিগ্রিতে ভাগ করেন কারা?
  1. ব্যাবিলনীয়রা
  2. গ্রিকরা
  3. মিশরীয়রা
  4. এ্যাসিরীয়রা
সঠিক উত্তর:
এ্যাসিরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ্যাসিরীয়রা
ব্যাখ্যা
• এ্যাসিরীয় সভ্যতা: 
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-৯০০ অব্দের মধ্যে এ্যাসিরীয় সভ্যতার পত্তন ঘটে।
- ব্যাবিলন থেকে প্রায় দু'শ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে একটি শহর গড়ে ওঠে।
- সমৃদ্ধ এ শহরের নাম এ্যাসুর।
- এ শহরের অধিবাসীরা এ্যাসিরীয় নামে পরিচিত ছিল।
- তারা গোলন্দাজ বাহিনী গঠন করে এবং যুদ্ধরথের ব্যবহার করে।
- এ্যাসিরীয় সম্রাট বিশ্বাস করতেন তিনি দেবতা অসুরের প্রতিনিধি। 
- তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০° তে ভাগ করে।
- পৃথিবীকে সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিল। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩১৯.
'ক্রুসেড' নিচের কোনটির জন্য পরিচালিত হয়েছিল?
  1. বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণের জন্য
  2. জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য
  3. বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য
  4. মঙ্গোল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য
সঠিক উত্তর:
জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য
ব্যাখ্যা
- ১১শ শতাব্দীর শেষের দিকে, ক্যাথলিক চার্চ জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করার জন্য জন্য সামরিক অভিযান বা ক্রুসেডের অনুমোদন দিতে শুরু করে। ক্রুসেডাররা বিশ্বাস করত যে তাদের এই সেবা তাদের পাপমোচন করবে এবং স্বর্গে স্থান নিশ্চিত করবে।

ক্রুসেড (Crusade):
- বাংলায় ধর্মযুদ্ধ।
- প্রথম ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ শুরু হয় ১০৯৬ সালে।
- মুসলমানদের হাত থেকে জেরুজালেম মুক্ত করার জন্য খ্রিস্টানরা ১০৯৬ সাল থেকে ১২৭১ সাল পর্যন্ত সময়ে বারংবার যে-অভিযান চালায়, তা-ই ইতিহাসে ক্রুসেড নামে খ্যাত।
- মোট আটবার পরিচালিত, প্রথম ক্রুসেড অভিযান পরিচালনা করেন গডফ্রে।
- প্রধানত, ইউরোপ থেকেই ক্রুসেড অভিযানসমূহ প্রেরণ করা হয়।

সূত্র: রাজনীতিকোষ - হারুনুর রশীদ।
৩২০.
মার্টিন লুথার মূলত পরিচিত -
  1. ক) রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনের জন্য
  2. খ) প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলনের জন্য
  3. গ) বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের জন্য
  4. ঘ) দাসপ্রথা বিরোধী আন্দোলনের জন্য
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলনের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলনের জন্য
ব্যাখ্যা
মার্টিন লুথার 
• মার্টিন লুথার হলেন জার্মানির একজন বিখ্যাত ধর্মযাজক।
• ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে মার্টিন লুথার জার্মানিতে প্রচলিত পোপ নিয়ন্ত্রিত চার্চতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠে প্রতিবাদী খ্রিস্টধর্ম বা প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলনের সূচনা করেন।
• এই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে খ্রিস্টান প্রোটেস্টেন্ট সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।
• এর অংশ হিসেবে ১৫৪৩-১৫৫৫ সময়ে জার্মানিতে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টান্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
• পরবর্তীতে অগসবার্গ সন্ধির মাধ্যমে এই সংঘাতের অবসান হয় এবং খ্রিস্টান প্রোটেস্টেন্ট সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৩২১.
কারা সর্বপ্রথম মানচিত্র আঁকেন?
  1. ক) ব্যবিলনীয়রা
  2. খ) সুমেরীয়রা
  3. গ) এ্যাসিরীয়রা
  4. ঘ) ক্যালডীয়রা
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যবিলনীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যবিলনীয়রা
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয়রা সর্বপ্রথম মাটির ফলকে মানচিত্র আঁকেন
- যার মধ্যে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাচীনতম নমুনাগুলি প্রায় খ্রীষ্টপূর্বের ২৩০০।
- এটি পৃথিবীর কিছু অংশের চিত্র উপস্থাপনের প্রথম দিকের ইতিবাচক প্রমাণ। 

উৎস: Britannica.
৩২২.
Which ancient civilization is known for creating the first code of laws, known as the Code of Hammurabi?
  1. Greek Civilization
  2. Mesopotamian Civilization
  3. Egyptian Civilization
  4. Roman Civilization
  5. Chines Civilization
সঠিক উত্তর:
Mesopotamian Civilization
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mesopotamian Civilization
ব্যাখ্যা
• মেসোপটেমিয়ার সভ্যতা:
- গ্রিক শব্দ মেসোপটেমিয়ার অর্থ হচ্ছে দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ।
- খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ অব্দে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- এই সভ্যতাটি ইতিহাসে মেসোপটেমীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- যেমন- সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।
- সভ্যতাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও এগুলোকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।

• হাম্মুরাবী আইন:
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা চরম খ্যাতি অর্জন করে বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবীর শাসনামলে।
- হাম্বুরাবী শাসনামালে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার উদ্ভাসিত হয়।
- তার আইন ফসলের এক তৃতীয়াংশ;
- ফলের বাগান হলে দিতে হতো দুই-তৃতীয়াংশ।
- খাজনা দিতে দেরী হলে এবং সুদ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে ব্যর্থ হলে তাকে দাস বানানো হতো।
- ইতিহাসে তা হাম্মুরাবীর 'আইন সংহিতা' (Code of Hammurabi) বলে খ্যাত।
- তবে হাম্মুরাবীর প্রণীত আইন সুমেরীয় রাজা ডুঙির আইন দ্বারা অনেকাংশে প্রভাবান্বিত। 

উল্লেখ্য,
 - হাম্মুরাবীর প্রণীত আইন পরবর্তীকালে রোমান আইন (Roman Law) এবং পাশ্চাতের আইন-কানুনকে প্রভাবান্বিত করে।

NB: অপশনে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থাকলে মেসোপটেমিয়ার সভ্যতা উত্তর হবে না।

উৎস: ইসলামিক সংস্কৃতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৩.
নগরভিত্তিক সভ্যতা 'মহেঞ্জোদারো' কোন নদীর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে?
  1. ক) গঙ্গা নদী
  2. খ) সিন্ধু নদী
  3. গ) কৃষ্ণ নদী
  4. ঘ) কাবেরি নদী
সঠিক উত্তর:
খ) সিন্ধু নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিন্ধু নদী
ব্যাখ্যা
তাম্রযুগে ভারতীয় উপমহাদেশে দুটি পৃথক নগরভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠে। এই দুটি নগরভিত্তিক সভ্যতার নাম হচ্ছে - হরপ্পা (Harappa) ও মহেঞ্জোদারো (Mohenjo-Daro) সভ্যতা। সিন্ধু নদকে (Indus River) কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো এই দুটি সভ্যতাকে একত্রে “সিন্ধু সভ্যতা” (Indus civilization) বা “Indus Valley Civilization” বলা হয়। এই সভ্যতাটি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া ও মিশরীয় সভ্যতার প্রায় সমসাময়িক। সিন্ধু সভ্যতা গড়ে তুলে - “দ্রাবিড় জাতি” এবং তারা এই অঞ্চলটিতে ‘পরিকল্পিত নগরী’ গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রথম নগরভিত্তিক সভ্যতা নির্মান করে।
➣ সিন্ধু সভ্যতার পতন - আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ বা ১৪০০ অব্দে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের পূর্বাঞ্চল থেকে আগত ‘আর্য জাতি’র আক্রমণে সিন্ধু সভ্যতার পতন হয়। অনেক গবেষকের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েও সিন্ধু সভ্যতার অনেক নগরী ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।
উৎসঃ ব্রিটানিকা।
৩২৪.
সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি কোন সভ্যতার আবিষ্কার?
  1. ক্যালেডীয় সভ্যতা
  2. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদের তীরে।
- এই সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর।
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি আবিষ্কার করে।

এছাড়াও, 
- তাদের চিত্রলিপিকে বলা হয় হায়ারোগ্লিফিক।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।
- প্যাপিরাস হলো পুরু কাগজের অনুরূপ একটি উপাদান যা প্রাচীন কালে লেখার পৃষ্ঠ হিসাবে ব্যবহৃত হত।
- প্রাচীন মিশরীয়রা প্যাপাইরাস গাছ থেকে প্যাপিরাস কাগজ তৈরি করেছিলেন।

উৎস: Britannica ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৫.
হায়া সোফিয়া গির্জা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের কোন সম্রাটের সময়ে নির্মিত হয়েছিল?
  1. কনস্টানটাইন দ্য গ্রেট
  2. লিও দ্য ইসরিয়ান
  3. থিওডোসিয়াস
  4. জাস্টিনিয়ান
সঠিক উত্তর:
জাস্টিনিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাস্টিনিয়ান
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- এই অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- জাস্টিনিয়ানের সময়ে নির্মিত 'হায়া সোফিয়া গির্জা' বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন।
- ৫৩২ থেকে ৫৩৭ সালের মধ্যে বাইজেন্টাইন সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের নির্দেশে এটি একটি পূর্ব অর্থোডক্স গির্জা হিসেবে নির্মিত হয়েছিল ।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

উল্লেখ্য:
⇒ বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী নারীদের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম শাসকদের একজন ছিলেন থিওডোরা।

তথ্যসূত্র -  Britannica.com

৩২৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন কে?
  1. জোসেফ স্ট্যালিন
  2. উড্রো উইলসন
  3. ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
  4. উইনস্টন চার্চিল
সঠিক উত্তর:
জোসেফ স্ট্যালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোসেফ স্ট্যালিন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:

- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তিতে ছিলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট।

তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।
৩২৭.
চীন-ভারত যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১৯৫৯
  2. খ) ১৯৬০
  3. গ) ১৯৬২
  4. ঘ) ১৯৬৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬২
ব্যাখ্যা
চীন–ভারত যুদ্ধ (Sino-Indian War):
যুদ্ধের স্থায়িত্ব: ২০ অক্টোবর, ১৯৬২ - ২০ নভেম্বর, ১৯৬২)
যুদ্ধের স্থান: Aksai Chin যা চীন ও ভারতের সীমান্তে অবস্থিত।

- ১৯৬২ সালে এই যুদ্ধ সমাপ্ত হলেও Aksai Chin নিয়ে এখনো দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা শুরু হয়।
- গত ১৫ জুন ২০২০ ভারতের লাদাখ অঞ্চলের দুর্গম পাবর্ত্য গালওয়ান ভ্যালীতে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়।
- ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম ভারত-চীন সীমান্তে নিহতের ঘটনা ঘটে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও প্রথম আলো প্রতিবেদন।
৩২৮.
প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে কারা?
  1. ক্যালডীয়রা
  2. অ্যাশেরীয়রা
  3. ব্যাবিলনীয়রা
  4. সুমেরীয়রা
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়রা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার নাম মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।

⇒ মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি। যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাশেরীয় সভ্যতা, 
৪. ক্যালডীয় সভ্যতা।

⇒ মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অবদান:
- জলঘড়ি ও চন্দ্র পঞ্জিকা আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে সুমেরীয়রা। তবে সুমেরীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান চাকা আবিষ্কার।
- বৃত্তকে ৩৬০° কোণে ভাগ করে অ্যাশেরীয়রা। সভ্যতায় অ্যাশেরীয়দের অবদান সমরবাদী, যুদ্ধবিদ্যা, অস্ত্র ও হাতিয়ার তৈরি।
- পৃথিবীর প্রথম লিখিত আইনের প্রচলন হয় ব্যাবিলনে। সর্বপ্রথম পঞ্জিকার প্রচলন করে ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। সভ্যতায় ব্যাবিলনিয়দের অবদান ছিল আইন প্রণয়নে। ব্যাবিলনীয়দের আইন হাম্মুরাবির আইন নামে পরিচিত ছিল।
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে। প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘন্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে ক্যালেডীয়রা। ক্যালেডীয় সভ্যতার উল্লেখযোগ্য রাজা ছিলেন নেবুচাঁদনেজার। বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে। এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

উৎস: i) History.com
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২৯.
গ্রীক সভ্যতার সূচনা ঘটেছিলো কোন সময়কালে?
  1. ক) ২৫০০ - ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  2. খ) ১৮০০ - ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  3. গ) ১৩০০ - ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  4. ঘ) ৬০০ - ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৩০০ - ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৩০০ - ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
ব্যাখ্যা
গ্রীক সভ্যতার সূচনা হয়েছিলো - ১৩০০ - ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। ষষ্ঠ ও পঞ্চম খ্রিস্টপূর্ব শতকে এর পূর্ণ বিকাশ ঘটে। গ্রীক উপদ্বীপে এই সভ্যতার সূচনা হয়েছিলো এবং এর কেন্দ্রবিন্দু ছিলো - এথেন্স।
নবম - দশম শ্রেণীর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)।
৩৩০.
বাইজানটাইন সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল-
  1. সিরিয়া
  2. জর্ডান
  3. ফিলিস্তিন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাইজানটাইন সাম্রাজ্য: 
- সিরিয়া, জর্ডান, ফিলিস্তিন ও মিশরের বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্য বাইজানটাইন সাম্রাজ্য নামে পরিচিত ছিল।
- রোমানরা এ সাম্রাজ্যের শাসক ছিল।
- প্রথমদিকে বাইজান্টাইন সম্রাট হিরাক্লিয়াসের সাথে মহানবী (স)-এর সম্পর্ক ভাল ছিল,
- কিন্তু পরবর্তীকালে নানা কারণে রোমান সাম্রাজ্যে অভিযান মুসলমানদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৩১.
বৌদ্ধ ধর্মের উপাসনালয় কী নামে পরিচিত?
  1. ক) মঠ
  2. খ) গুরু দুয়ারা
  3. গ) সিনাগগ
  4. ঘ) মন্দির
সঠিক উত্তর:
ক) মঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মঠ
ব্যাখ্যা
বৌদ্ধধর্ম
• বৌদ্ধধর্ম বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মসমূহের অন্যতম। সিদ্ধার্থ গৌতম এর প্রবর্তক।
• উপাসনালয় - বৌদ্ধ ধর্মের উপাসনালয় মঠ নামে পরিচিত।  
• পবিত্র স্থান - বুদ্ধ গয়া।
• বৌদ্ধধর্মের ধর্মগ্রন্থ - ত্রিপিটক।

অন্যদিকে,  
• শিখদের উপাসনালয় - গুরু দুয়ারা।
• ইহুদীদের উপাসনালয় - সিনাগগ।
• হিন্দুদের উপাসনালয় - মন্দির।

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র, বিএ, বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩২.
পারস্য স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন কোনটি?
  1. দারিয়ুসের সমাধি
  2. কলােসিয়াম
  3. আলহামরা প্রাসাদ
  4. কাইরাসের সমাধি
সঠিক উত্তর:
কাইরাসের সমাধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইরাসের সমাধি
ব্যাখ্যা
পারস্য সভ্যতা:
- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- ৩৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার পারস্য আক্রমণ করে দখল করে নেন।
- ৩৩০ থেকে ২৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত পারস্য যা বর্তমানে ইরান; গ্রিক শাসনাধীনেই ছিল।
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।
- পারসীয়গণ লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত।
- পারস্য সাম্রাজ্যের অন্য নামটি একমেনিড সাম্রাজ্য
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উল্লেখ্য,
- জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন।
- তার প্রচারিত এ ধর্মকে বলা হয় জরথুষ্ট্রবাদ।
- জরথুষ্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে 'জেন্দআবেস্তা'।
- জরথুষ্ট্রবাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে প্রচলিত বহু দেবতা ও যাদুবিদ্যার অবসান এবং ধর্মে নৈতিকতা ও দার্শনিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৩.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পার্ল হারবার আক্রমণ করেছিল কোন দেশ?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. জাপান
  3. জার্মানি
  4. ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
পার্ল হারবার আক্রমণ:

- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পার্ল হারবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি।
- ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে।
- এরপর ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়।
- কৌশলগত দিক দিয়ে এই ঘাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা।
- যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল এবং জাপান থেকে প্রায় চার হাজার মাইলে দূরে অবস্থিত ছিল এই নৌঘাঁটি।
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে আক্রমণ করে বসে জাপানের সামরিক বাহিনী।
- জাপানের এই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়।
- জাপানের এই অতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বযুদ্ধে উদাসীন থাকা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অংশ নেয় সক্রিয়ভাবে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপান ছিল আগ্রাসি একটা দেশ। চীনের সঙ্গে পরপর দুটি যুদ্ধজয়ের পর রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধজয়ে জাপান আরও বেশি আগ্রাসি হয়ে ওঠে।
- এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করায় জাপান আরও সাম্রাজ্যবাদী হয়ে ওঠে।
- ১৯৩১ সালে চীনের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে জাপান তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২।
৩৩৪.
নিচের কোন দেশটিতে ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়?
  1. ব্রাজিল
  2. ইথিওপিয়া
  3. কেনিয়া
  4. পেরু
সঠিক উত্তর:
পেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরু
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৩৩৫.
সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯১৭ সালে
  2. খ) ১৯১৮ সালে
  3. গ) ১৯২২ সালে
  4. ঘ) ১৯২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯১৭ সালে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় ‘বলশেভিক/অক্টোবর বিপ্লব’ সংঘটিত হয়। এর ফলে রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর চারটি সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রিপাবলিক (রাশিয়া, ট্রান্স ককেশাসিয়ান ফেডারেশন, ইউক্রেন ও বেলারুশ) একত্রিত হয়ে ইউনিয়ন অব সোভিয়েত স্যোশালিস্ট রিপাবলিক (ইউএসএসআর) বা সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন করে।
- পরবর্তীতে আরো বেশ কিছু দেশ ও অঞ্চল সোভিয়েত ইউনিয়নে যোগ দেয়।
- ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট)
৩৩৬.
গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ কে?
  1. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  4. শ্রীগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
শ্রীগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীগুপ্ত
ব্যাখ্যা

গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৭.
সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) ১৯১৮ সালে
  2. খ) ১৯৪১ সালে
  3. গ) ১৯৩০ সালে
  4. ঘ) ১৯২২ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন।
- আনুমানিক ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বে সিন্ধু নদীর তীরে এই সভ্যতার সূচনা হয়।
- ১৯২১ সালে পাঞ্জাবের হরপ্পা ও ১৯২২ সালে সিন্ধুর মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা ছিলো একটি উন্নত নগর সভ্যতা।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৩৮.
হাইডেলবার্গ মানবের কোন অঙ্গটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়? 
  1. খুলি
  2. চোয়ালের হাড়
  3. দাঁত
  4. পায়ের হাড়
সঠিক উত্তর:
চোয়ালের হাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোয়ালের হাড়
ব্যাখ্যা

হাইডেলবার্গ মানব (Heidelberg Man):
- হাইডেলবার্গ মানব বা 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস' (Homo heidelbergensis) হলো আধুনিক মানুষ (Homo sapiens) এবং নিয়ানডারথাল (Neanderthals) মানুষের সাধারণ পূর্বপুরুষ বলে ধারণা করা হয়।
- এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরের কাছে মাউয়ার (Mauer) নামক স্থানে একটি বালুর খনিতে প্রথম এই প্রজাতির চোয়ালের হাড় (Mauer mandible) আবিষ্কৃত হয়।
- শ্রমিক ড্যানিয়েল হার্টম্যান এটি খুঁজে পান এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক অটো শয়টেনস্যাক (Otto Schoetensack) এটি শনাক্ত করে এর নাম দেন 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১৪০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের আকারের কাছাকাছি।
- এরা ছিল প্রথম দিকের এমন এক প্রজাতি যারা শীত প্রধান জলবায়ু বা ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসের জন্য অভিযোজিত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন।

৩৩৯.
সামন্তবাদ কোন ইউরোপীয় দেশে প্রথম সূত্রপাত হয়?
  1. ইতালি
  2. ইংল্যান্ড
  3. ফ্রান্স
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালি
ব্যাখ্যা
সামন্তবাদ ইউরোপীয় দেশ ইতালিতে প্রথম সূত্রপাত হয়।

সামন্তবাদ:
- মধ্যযুগে ইউরোপে জমি যার শাসন তার প্রথার সৃষ্টি হয়েছিলো।
- অর্থাৎ ভূমিভিত্তিক শাসনব্যবস্থা।
- একে সামন্তবাদ বলা হয়।
- ইউরোপীয় দেশ ইতালিতে সামন্তবাদের প্রথম সূত্রপাত হয়।
- মধ্যযুগে ইউরোপে রাষ্ট্র বলতে ছিল পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য।
- রাজতন্ত্র এবং পোপতন্ত্র- এই দুই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতো পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য।
- পঞ্চদশ শতকে ইউরোপীয় রেনেসাঁসের পটভূমিতে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে।
- ইউরোপের পণ্য বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতো দক্ষিণ ইউরোপের তথা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ফ্লোরেন্স, ভেনিস, জেনোয়া প্রভৃতি অঞ্চলের বণিকেরা।
- চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপে সামন্তবাদ দুর্বল হয়ে পড়তে শুরু করলে এই সকল বণিকা অনেকটা স্বাধীনভাবে বাণিজ্য পরিচালনা করতে থাকে।
- এর মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ ইতালিকে কেন্দ্র করে একটি স্বাধীন বাণিজ্যিক অর্থনীতির জন্ম নিতে।
- এইভাবে রেনেসাঁসের প্রভাবে ইউরোপে সামন্তবাদের স্থলে বাণিজ্যবাদে উদ্ভব ঘটে।

উল্লেখ্য,
- পঞ্চদশ শতকের ইউরোপের সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন জিজ্ঞাসায় যে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা ঘটে, এটাকে সাধারণভাবে ইউরোপের রেনেসাঁস বা নবজাগরণ বলা হয়ে থাকে।
- নবজাগরণ ইতালিতে শুরু হয়েছিল বলে ইউরোপের অনেক ঐতিহাসিক এটিকে ইতালির রেনেসাঁস হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন।

[সামন্তবাদের সূত্রপাত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। রোমানদের পেট্রোসিয়াম এবং জার্মানদের কমিটেটাসের সমন্বয়ে সামন্তবাদ গড়ে উঠে। আবার অন্যদিকে ফ্রান্সেও ভূস্বামী এবং প্রজার মধ্যে এরকমই এক প্রথা ছিল। তবে, শুরুর দিকে দেখলে মূলত রোমান সাম্রাজ্যের পতনের থেকেই সামন্তবাদের সূত্রপাত। এক্ষেত্রে তাই ইতালি উত্তর নেওয়া হয়েছে।] 

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) World History Encyclopedia.
৩৪০.
সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯১৯ সালে
  2. খ) ১৯২১ সালে
  3. গ) ১৯২৫ সালে
  4. ঘ) ১৯২৭ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় ১৯২১ সালে
- সিন্ধু সভ্যতা গড়ে তুলেছিলো দ্রাবিড় জাতি।
- পাঞ্জাব অঞ্চলের হরপ্পাতে প্রথম ১৯২১ সালে এবং তারপর ১৯২২ সালে সিন্ধু অঞ্চলের সিন্ধু নদীর কাছে মহেঞ্জোদারোতে সনাক্ত করা হয়েছিল।উভয় অংশই বর্তমান পাকিস্তানে, যথাক্রমে পাঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশে। 
- সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় পাঞ্জাবে।
- মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসাবশেষ ১৯৮০ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে মনোনীত হয়েছিল।
- বিশ্বের তিনটি প্রাচীনতম সভ্যতার মধ্যে-অন্য দুটি হল মেসোপটেমিয়া এবং মিশর।সিন্ধু সভ্যতা ছিল সবচেয়ে বিস্তৃত।
- সিন্ধু সভ্যতা দুটি বড় শহর হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো এবং ১০০টিরও বেশি শহর ও গ্রাম নিয়ে গঠিত বলে জানা যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com 
৩৪১.
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার শাসকদের কী বলা হতো?
  1. সম্রাট
  2. ফারাও
  3. জার
  4. কাইজার
সঠিক উত্তর:
ফারাও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারাও
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন মিশরের শাসকদের সাধারণত ফারাও বলা হতো।  

মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশ যা আমাদের কাছে পরিচিত ইজিপ্ট বা মিশর নামে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- চিত্রকলায় আছে বিশেষ বৈচিত্রপূর্ণ অবদান।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- প্রাচীন মিশরের রাজাদের সাধারণত ফারাও বলা হতো।  

অন্যদিকে: 
- জার (Tsar): "জার" ছিল রাশিয়ার রাজাদের উপাধি। 
- কাইজার (Kaiser): "কাইজার" ছিল জার্মানির সম্রাটদের উপাধি। 

সূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪২.
আহমদ সুকর্ণের নাম জড়িত কোন দেশের সাথে?
  1. ক) সিঙ্গাপুর
  2. খ) বাহরাইন
  3. গ) মালয়েশিয়া
  4. ঘ) ইন্দোনেশিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইন্দোনেশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
আহমদ সুকর্ণ (১৯০১ - ১৯৭০)
• ১৯০১ সালের ৬ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যৌবনে হল্যান্ডের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছেন। এ জন্যে সুকর্ণকে কারাগারে ও নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। ১৯৭০ সালের ২১ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⤇ সুকর্ণ, ইন্দোনেশিয়ার জাতির পিতা। ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার স্থপতি। তিনি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের উত্থানকালের প্রধান সারির নেতা।
⤇ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান ইন্দোনেশিয়া দখল করে। কিন্তু ১৯৪৫ সালে জাপান পরাজিত হবার পর ইন্দোনেশিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। এ সময় স্বাধীনতাকামীরা জাপানীদের রেখে যাওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে এবং সুকর্ণর নেতৃত্বে তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করে। স্বাধীনতাকামীরা চার বছর লড়াই করে হল্যান্ডের সেনাদের ইন্দোনেশিয়া থেকে বিতাড়িত করে।
⤇ সুকর্ণ ১৯৪৯ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক সংস্কার সাধন করেন। সুকর্ণ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। 

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৩৪৩.
'হায়ারোগ্লিফিক' কোন সভ্যতার প্রাচীনতম লিখন পদ্ধতি?
  1. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  2. পারস্য সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষি নির্ভর। সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতেরও প্রচলন করে।
- মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।
- মিশরীয় সভ্যতার চিত্রলিপির নাম - হায়ারোগ্লিফিক।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারক মিশরীয়রা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৪.
কারা যুদ্ধে সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে?
  1. মিশরীয়
  2. সুমেরীয়
  3. অ্যাসিরীয়
  4. পারস্যিক
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসিরীয়
ব্যাখ্যা

এ্যাসিরীয় সভ্যতা:
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-৯০০ অব্দের মধ্যে এ্যাসিরীয় সভ্যতার পত্তন ঘটে।
- ব্যাবিলন থেকে প্রায় দু'শ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে একটি শহর গড়ে ওঠে। সমৃদ্ধ এ শহরের নাম এ্যাসুর। এ শহরের অধিবাসীরা এ্যাসিরীয় নামে পরিচিত ছিল।
- প্রথমদিকে কৃষিকাজ আর পশুপালন করে এরা জীবন চালাত। 

⇒ সামরিক ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- তারা গোলন্দাজ বাহিনী গঠন করে এবং যুদ্ধরথের ব্যবহার করে। তারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে।
- ক্রমে এ্যাসিরীয় রাষ্ট্র একটি সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- এ্যাসিরীয় সম্রাট বিশ্বাস করতেন তিনি দেবতা অসুরের প্রতিনিধি।
- এ্যাসিরীয়দের অর্থনীতির মূল উৎস ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে লুণ্ঠন করে আনা ধনসম্পদ। অল্প বিস্তর বাণিজ্যও তারা করত।

⇒ ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ্যাসিরীয়রা ব্যাবিলনীয়দের অনুসরণ করে।
- তাদের প্রধান দেবতা ছিল আসুর। এরপর ছিল ইশতারের স্থান।

⇒ এ্যাসিরীয়রা পাথর দিয়ে ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও তৈজসপত্র তৈরিতে দক্ষ ছিল।
- জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। সম্রাট আশুরবনিপালের গড়া একটি বৃহৎ গ্রন্থাগার পাওয়া গেছে রাজধানী নিম্পরে।
- তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০° তে ভাগ করে।
- পৃথিবীকে সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিল।
- চিকিৎসাবিদ্যায় এ্যাসিরীয়দের ভূমিকা ছিল অসামান্য। তারা পাঁচশ'রও বেশি উদ্ভিদ ও খনিজ ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করে সেগুলোর গুণাগুণ ও ব্যবহার পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করে।
- উত্তরসূরি শাসকদের বিভিন্ন দুর্বলতা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর আক্রমণের মুখে তিন'শ বছরের এই প্রাচীন সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৬১২ অব্দে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৫.
'ডিউটোরোনোমিক কোড' কোন সভ্যতার পরিচায়ক?
  1. ক) রোমান সভ্যতা
  2. খ) গ্রীক সভ্যতা
  3. গ) মিসরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) হিব্রু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিব্রু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিব্রু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল। 
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত। 
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে-তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ ‘বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়। 
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই 
- হিব্রুদেরও আইন তৈরীতে এ্যামোরাইটদের ন্যায় যথেষ্ট অবদান আছে। 
- তবে তাদের আইন অনেকটা হাম্মুরাবীর আইনের দ্বারা প্রভাবিত। 
- ব্যাবিলনীয় আইনের অনুকরণে তারা যে আইন তৈরী করে তা ‘ডিউটোরোনোমিক কোড' নামে পরিচিত ছিল। 
- এই কোড হাম্মুরাবীর আইনের চেয়ে অনেকটা পরিশুদ্ধ বলে মনে করা হয়। 
- তাদের প্রণীত অনুশাসনে গরীব দুঃখীদের স্বার্থরক্ষা, মানবতা, সুক্ষ্ম বিচার, সুদ গ্রহণে শাস্তির ব্যবস্থা এবং দাসদের মুক্তির যথাযথ ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। 
- ঐতিহাসিকদের মতে এই আইনের প্রয়োগের ফলে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা মজবুত হয়।
 
 উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৪৬.
মিশরীয় সভ্যতার শেয়াল দেবতা কী নামে পরিচিত?
  1. ওসিরিস
  2. আনুবিস
  3. শেঠ
  4. থোথ
সঠিক উত্তর:
আনুবিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুবিস
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরে প্রথম এই সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
- একটি ছিল উত্তর মিশর অপরটি দক্ষিণ মিশর।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- পিরামিড: মিশরীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- স্ফিংস: এটি ফারাও খাফরের শাসনকালে নির্মিত বিশাল মূর্তি।
- মিশরীয় সভ্যতায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করা হত। যেমন -
• পাতালের দেবতা - ওসিরিস,
• যুদ্ধ এবং শিকারের সাথে যুক্ত আকাশের দেবতা - হোরাস,
• সহিংসতা, মরুভূমি এবং ঝড়ের দেবতা - শেঠ,
• শেয়াল দেবতা - আনুবিস,
• জ্ঞানের দেবতা - থোথ।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৭.
অ্যাজটেক সভ্যতার মূল কেন্দ্র কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. পেরুর উপকূলে
  2. মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে
  3.  চিলির উপকূলীয় অঞ্চল
  4. বলিবিয়ায় 
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

অ্যাজটেক সভ্যতা (Aztec Civilization):
- বর্তমান মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই সভ্যতাটি ছিল প্রাচীন আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী সভ্যতা।
- আনুমানিক ১৩০০ থেকে ১৫২১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই সভ্যতা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়।
- তাদের প্রধান শহর বা রাজধানীর নাম ছিল 'টেনোচটিটলান' (Tenochtitlan),
- যা একটি হ্রদের মাঝখানে কৃত্রিম দ্বীপে গড়ে উঠেছিল (বর্তমান মেক্সিকো সিটি)।

• অর্থনীতি ও বাণিজ্য:
- অ্যাজটেকরা বাণিজ্যে অত্যন্ত উন্নত ছিল। 
- তারা মুদ্রার বদলে অনেক সময় কোকো বিন (Cacao beans) ব্যবহার করত।

• স্থাপত্য ও প্রকৌশল (Engineering Marvels):
- অ্যাজটেকরা জলাভূমির ওপর বড় বড় পিরামিড, মন্দির এবং প্রাসাদ তৈরি করেছিল।
- 'চিনাম্পা' (Chinampa) বা ভাসমান বাগান ছিল তাদের এক অসামান্য উদ্ভাবন।
- হ্রদের ওপর কৃত্রিম জমি তৈরি করে তারা সারা বছর কৃষিকাজ করত।

• ধর্ম ও বলিদান প্রথা:
- অ্যাজটেকরা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিল। তাদের প্রধান দেবতাদের মধ্যে ছিলেন 'হুইজিলোপোচটলি' (সূর্য ও যুদ্ধের দেবতা) এবং 'কুয়েটজালকোটল' (জ্ঞানের দেবতা)।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

৩৪৮.
পাকিস্তানের শাসকেরা আরবি হরফে বাংলা লেখার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৭
  2. খ) ১৯৪৮
  3. গ) ১৯৪৯
  4. ঘ) ১৯৫০
  5. ঙ) ১৯৫১
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্মের পর মুসলিম লীগের রক্ষণশীল অংশ পূর্ববাংলার ক্ষমতায় বসে ‘রেনেসাঁ সোসাইটি’ ও ‘সাহিত্য সংসদ’ গঠন করে সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক বিশেষ ধরনের নীতি গ্রহণ করে। প্রথমেই তারা বাংলা ভাষার মধ্যে একটি ইসলামী রূপ ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রচুর আরবি-ফার্সি শব্দ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে থাকেন। আরবি হরফে বাংলা লেখার ইচ্ছাও তখন ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩৪৯.
জুলু উপজাতি বাস করে-
  1. ক) দক্ষিণ আমেরিকায়
  2. খ) কানাডায়
  3. গ) দক্ষিণ আফ্রিকায়
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্রে
সঠিক উত্তর:
গ) দক্ষিণ আফ্রিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দক্ষিণ আফ্রিকায়
ব্যাখ্যা

- জুলু উপজাতি প্রধানত বাস করে দক্ষিণ আফ্রিকায়।
- এঁরা প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ লোকের একটি জনগোষ্ঠী।
- তাদের মূল বসতি হল দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়া-জুলু নাটাল প্রদেশে।
- তারা জুলু ভাষায় কথা বলে যা বান্টু ভাষা পরিবার থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে জুলুদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- এই জাতির ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ।
- অনেক চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে বর্তমান এই গোষ্ঠী গঠিত হয়েছে।
- জুলু কান্টোমভেলা প্রথম এই জাতির পত্তন করেন।
- জুলু জাতির জনক হিসেবে অভিহিত করা হয় জুলু কান্টোমভেলাকে যিনি ১৭০৯ সালে জুলু জাতির গোড়াপত্তন করেন।
- তখন এই প্রদেশটিতে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উনগুনি জ্ঞাতিগোষ্ঠীর বসতি ছিল যাদের অপর নাম হল ইমজি।

৩৫০.
প্রাচীন গ্রিসের গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল-
  1. স্পার্টা
  2. এথেন্স
  3. লিবাদিয়া
  4. ইরেট্রিয়া
সঠিক উত্তর:
এথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এথেন্স
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্স: 
- প্রাচীন গ্রিসে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় এথেন্সে। তবে প্রথম দিকে এথেন্সে ছিল রাজতন্ত্র।
- খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে এক ধরনের অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
-  ক্ষমতা চলে আসে অভিজাতদের হাতে। দেশ শাসনের নামে তারা শুধু নিজের স্বার্থই দেখত।
- ফলে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যদিও তাদের পক্ষে ক্ষমতা দখল করা সম্ভব হয়নি। 
- কিন্তু তাদের নামেকিছু লোক ক্ষমতা হাতেনিয়ে নেয়। তাদের বলা হতো 'টাইরান্ট'। 
- জনগণের মধ্যে অসন্তোষ এবং বঞ্চিত কৃষকদের মধ্যে বিদ্রোহের আশঙ্কা দেখা দেয়।
- ফলে সপ্তম খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মাঝামাঝি সময়ে রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক পরিবর্তন আসে।
- আগে অভিজাত পরিবারের সন্তান অভিজাত বলে গণ্য হতো।
- এখন অর্থের মানদণ্ডে অভিজাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৫১.
নিম্নের কোন নিদর্শনটি সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া গেছে?
  1. বৃহৎ স্নানাগার
  2. বিরাট শস্যাগার
  3. বৃহৎ হল
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারোতে এবং পাঞ্জাবের হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতার সিল ও মাটির পাত্রের সাথে মেসোপটেমীয় দ্রব্যের মিল দেখে এ সভ্যতার আনুমানিক সময়কাল নির্ণয় করা হয়েছে।
- ধারণা করা হয় যে, দ্রাবিড় জাতি-এ সভ্যতা গড়ে তুলেছিল।

⇒ স্থাপত্য ও ভাস্কর্য:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন রেখে গেছে।
- সেখানে দুই কক্ষ থেকে পঁচিশ কক্ষের বাড়ির সন্ধানও পাওয়া গেছে। আবার কোথাও দুই তিন তলার ঘরের অস্তিত্ব আবিস্কৃত হয়েছে।
- তাদের ঘরবাড়িগুলো দেখলে সহজে বুঝা যায়- নগরবাসীরা বিলাসী ছিল। মহেঞ্জোদারোর স্থাপত্যের চমৎকার উদাহরণ হলো 'বৃহৎ হল।' ৮০ ফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছিল এ ঘরটি। ঘরে ছিল সারি বাঁধা বেঞ্চ আর সামনে মঞ্চ। এটি একটি সভাগৃহ ছিল বলে ধারণা করা হয়। হরপ্পাতে ১৬৯×১৩৫ ফুটের একটা প্রকাণ্ড গুদামঘর পাওয়া গেছে।
- তাছাড়া বিরাট এক প্রাসাদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- হরপ্পাতে বিরাট আকারের শস্যাগারও পাওয়া গেছে।
- মহেঞ্জোদারোতে একটি 'বৃহৎ স্নানাগার'-এর নিদর্শন পাওয়া গেছে, যার মাঝখানে বিশাল চৌবাচ্চাটি ছিল সাঁতার কাটার উপযোগী।
- হরপ্পা মহেঞ্জোদারোতে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম হলো বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫০০ সিল। ধর্মীয় ও ব্যবসায় বাণিজ্যের প্রয়োজনে এগুলো ব্যবহৃত হতো। তবে সিলগুলোর লেখা এখনও পড়ে তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। এ থেকে ধারণা করা যায় যে, সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা লেখা পড়া জানতো।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫২.
প্রথম কারা বর্ণমালা উদ্ভাবন করে?
  1. ক) ফিনিশীয়রা
  2. খ) রোমানরা
  3. গ) মিশরীয়রা
  4. ঘ) গ্রীকরা
সঠিক উত্তর:
গ) মিশরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশরীয়রা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার। নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
এই চিত্রলিপিকে বা হয় ‘হায়ারােগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।

আবার,
ফিনিশীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান - বর্ণমালার উদ্ভাবন ও লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার। তারা মিশর ও ব্যাবিলনের বর্ণমালা থেকে ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে সহজ লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
গ্রীক ইতিহাসবিদ হেরেডোটাস ফিনিশীয়াকে বর্ণমালার জন্মস্থান (birthplace of the alphabet) বলে অভিহিত করেছেন।

পরবর্তীতে, গ্রীকরা ফিনিশীয়দের ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরবর্ণ যুক্ত করে বর্ণমালাকে পূর্ণতা প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা ও হিস্টরি ডট কম।
৩৫৩.
ইনকা সভ্যতা কোন দেশকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল?
  1. পেরু
  2. চিলি
  3. ব্রাজিল
  4. আর্জেন্টিনা
সঠিক উত্তর:
পেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরু
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

৩৫৪.
"বৃহৎ মিলনায়তন" - কোন সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. ক) রোমান সভ্যতা
  2. খ) সিন্ধু সভ্যতা
  3. গ) গ্রীক সভ্যতা
  4. ঘ) মায়া সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
ভাস্কর্য শিল্পে সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের দক্ষতা ছিল।
- পাথরে খােদিত ভাস্কর্যের সংখ্যা কম হলেও সেগুলাের শৈল্পিক কারিগরি দক্ষতা ছিল উল্লেখ করার মতাে।
- এ যুগে মােট ১৩টি ভাস্কর্য মূর্তি পাওয়া গেছে।
- চুনাপাথরের তৈরি একটি মূর্তির মাথা পাওয়া গেছে। মহেঞ্জোদারােতে পাওয়া গেছে নৃত্যরত একটি নারী মূর্তি।
- এছাড়া মাটির তৈরি ছােট ছােট মানুষ আর পশু মূর্তিও পাওয়া গেছে।
- হরপ্পা মহেঞ্জোদারােতে প্রাপ্ত উল্লেখযােগ্য শিল্পকর্ম হলাে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫০০ সিল। ধর্মীয় ও ব্যবসায় বাণিজ্যের প্রয়ােজনে এগুলাে ব্যবহৃত হতাে। তবে সিলগুলাের লেখা এখনও পড়ে তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি।
- এ থেকে ধারণা করা যায় যে, সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা লেখা পড়া জানতাে।

এছাড়াও,
- সিন্ধুসভ্যতা যুগের অধিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন রেখে গেছে।
- সেখানে দুই কক্ষ থেকে পঁচিশ কক্ষের বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। আবার কোথাও দুই-তিন তলা ঘরের অস্তিত্ব আবিষ্কার হয়েছে।
- বৃহৎ মিলনায়তন, বৃহৎ শস্যাগার, বৃহৎ স্নানাগার - ইত্যাদি সিন্ধু সভ্যতার স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৫.
লিখিত আইন 'হেবিয়াস কোর্পাস' কোন সভ্যতার পরিচয় বহন করে?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. মিসরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
রোমানদের শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব প্রকাশ পায় তাদের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে।
রোমান আইন লিখিত এবং অলিখিত দু‘ই ছিল।
অভিজাতদের (প্যাট্রেশিয়ান) সাথে সাধারণ নাগরিকের (প্লেবিয়ান) সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের কল্যাণে আইন প্রণীত হতে থাকে।
১২টি ব্রোঞ্জ পাতে এ আইন লিখিত হয়। হেবিয়াস কোর্পাস নামে এ আইন পরিচিত ছিল।
বেসামরিক আইন, জনগণের আইন এবং আইনের নতুন বিন্যাস-এ তিনটি শাখায় রোমান আইন বিকাশ লাভ করে।
বেসামরিক আইন পালনে নাগরিকেরা বাধ্য ছিল। রোমান আ্ইনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হত।
এ আইন ছিল উদার ও মানবিক। এ আইনে বিধবা ও এতিমদের অধিকার সংরক্ষিত ছিল। 

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
মায়া সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায় কোথায়?
  1. ক) মেক্সিকোতে
  2. খ) হন্ডুরাসে
  3. গ) বেলিজে
  4. ঘ) গুয়েতেমালাতে
সঠিক উত্তর:
গ) বেলিজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বেলিজে
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:

- মায়া সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায় মধ্য আমেরিকার বর্তমান বেলিজে।

- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা। মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- ২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মায়া সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া যায়। 
- বর্তমান মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো, গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, এল সালভেদরের ১০০০ কিলোমিটার জুড়ে ছিল মায়া সভ্যতা।
- প্রি - ক্লাসিক্যাল পিরিয়ডে, যা ২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, মায়া সভ্যতার ধীরে ধীরে প্রসারণ ঘটতে থাকে।
- ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তারা কৃষি কাজ এবং বসতি স্থাপন শুরু করে।
-  ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে সেকোনুস্ক অঞ্চলে তারা বসতি স্থাপন করে।
- ২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ ছিল মায়া সভ্যতার স্বর্ণযুগ।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ,৯ মে ২০২১।
৩৫৭.
ইনকা সভ্যতার স্থপতি কে?
  1. তিসি ভিরাকাসো
  2. মামা রুয়া
  3. হেদেই আন্তো
  4. মানকো কাপেন
সঠিক উত্তর:
মানকো কাপেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানকো কাপেন
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৩৫৮.
'দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়ার' - বইটি কে লিখেছেন?
  1. হেরোডোটাস
  2. ইউরিপিদিস
  3. এসকাইলাস
  4. থুকিডাইডিস
সঠিক উত্তর:
থুকিডাইডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থুকিডাইডিস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিসের সাহিত্য:
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- বিয়োগান্তক নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিল।
- 'এসকাইলাস'কে এই ধরনের নাটকের জনক বলা হয়।
- তার রচিত বিখ্যাত দুটি নাটকের নাম 'প্রমিথিউস বাউন্ড' ও 'আগামেমন'।
- গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সোফোক্লিস। তিনি একশটিরও বেশি নাটক রচনা করেন।
- তার বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রাজা 'অয়দিপাউস', 'আন্তিগোনে' ও 'ইলেকট্রা' অন্যতম।
- আর এক বিখ্যাত নাট্যকারের নাম ইউরিপিদিস।
- এরিস্টোফেনেসের মিলনান্তক ও ব্যঙ্গ রচনায় বিশেষ খ্যাতি ছিল।
- ইতিহাস রচনা শুরু করে গ্রিকরা।
- হেরোডোটাস প্রথম ইতিহাস রচনা শুরু করেন বলে তাঁকে ইতিহাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত ইতিহাস সংক্রান্ত প্রথম বইটি ছিল গ্রিস ও পারস্যের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে।
- থুকিডাইডিস ছিলেন বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক।
- তাঁর বইটির শিরোনাম ছিল 'দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়ার'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৯.
ভাস্কো দা গামা কত সালে ইউরোপ থেকে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ১৪৯২ সালে
  2. খ) ১৪৯৬ সালে
  3. গ) ১৪৯৮ সালে
  4. ঘ) ১৪৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪৯৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
পর্তুগালের রাজা প্রথম ম্যানুয়েলের পৃষ্ঠপোষকতায় পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ১৪৯৭ সালে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। ১৪৯৮ সালের মে মাসে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে তিনি ভারতের কালিকট বন্দরে পৌছান। এরপর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের আগমন শুরু হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৬০.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হাওয়াই দ্বীপের মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবার আক্রমণ করে-
  1. ক) ইতালি
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) জার্মানি
সঠিক উত্তর:
গ) জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাপান
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী জাপান, জার্মানি ও ইতালিকে একত্রে অক্ষশক্তি বলা হয়।
জাপান ৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি আক্রমণ করে।
এজন্য ১৯৪১ সালের ৮ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৩৬১.
‘কলোসিয়াম’ কোন সভ্যতায় গড়ে ওঠে?
  1. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল। 
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।
রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 
 
সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল। 
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬২.
রাশিয়ার কোন জার পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে রাশিয়াকে আধুনিক করার চেষ্টা করেছিলেন?
  1. ইভান দ্য টেরিবল
  2. পিটার দ্য গ্রেট
  3. ক্যাথরিন দ্য গ্রেট
  4. জার নিকোলাস দ্বিতীয়
সঠিক উত্তর:
পিটার দ্য গ্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটার দ্য গ্রেট
ব্যাখ্যা

- পিটার দ্য গ্রেট ছিলেন রাশিয়ার একজন প্রভাবশালী জার যিনি রাশিয়াকে আধুনিকীকরণ এবং পশ্চিমা ধাঁচে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাশিয়ার সামরিক ও নৌ শক্তি বৃদ্ধি করেন।

উল্লেখ্য, 
- রাশিয়ার যে জার পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুকরণে রাশিয়াকে আধুনিক করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি ছিলেন পিটার দ্য গ্রেট (১৬৮২–১৭২৫)। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে রাশিয়া ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি ও প্রশাসনে অনেক পিছিয়ে আছে। তাই তিনি ইউরোপ ভ্রমণ করে সেখানকার উন্নত জ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি রাশিয়ায় প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন।

- তিনি সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে ইউরোপীয় ধাঁচে গড়ে তোলেন, নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেন এবং শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিকাশে পদক্ষেপ নেন। অভিজাতদের পশ্চিমা পোশাক পরা ও দাড়ি কাটা বাধ্যতামূলক করে সমাজে পরিবর্তন আনেন। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল নতুন রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গ গঠন, যা "ইউরোপের জানালা" নামে পরিচিত হয়।  

সূত্র: Students of History ওয়েবসাইট। 

৩৬৩.
কারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে?
  1. পারস্যিকরা
  2. গ্রিকরা
  3. মিশরীয়রা
  4. এ্যাসেরীয়রা
সঠিক উত্তর:
এ্যাসেরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ্যাসেরীয়রা
ব্যাখ্যা

এ্যাসিরীয় সভ্যতা:
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১০০০-৯০০ অব্দের মধ্যে এ্যাসিরীয় সভ্যতার পত্তন ঘটে।
- ব্যাবিলন থেকে প্রায় দু'শ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে একটি শহর গড়ে ওঠে। সমৃদ্ধ এ শহরের নাম এ্যাসুর। এ শহরের অধিবাসীরা এ্যাসিরীয় নামে পরিচিত ছিল।
- প্রথমদিকে কৃষিকাজ আর পশুপালন করে এরা জীবন চালাত। 

⇒ সামরিক ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- তারা গোলন্দাজ বাহিনী গঠন করে এবং যুদ্ধরথের ব্যবহার করে। তারা সর্বপ্রথম লোহার অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গঠন করে ও যুদ্ধ রথের ব্যবহার করে।
- ক্রমে এ্যাসিরীয় রাষ্ট্র একটি সামরিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- এ্যাসিরীয় সম্রাট বিশ্বাস করতেন তিনি দেবতা অসুরের প্রতিনিধি।
- এ্যাসিরীয়দের অর্থনীতির মূল উৎস ছিল বিভিন্ন দেশ থেকে লুণ্ঠন করে আনা ধনসম্পদ। অল্প বিস্তর বাণিজ্যও তারা করত।

⇒ ধর্মীয় ক্ষেত্রে এ্যাসিরীয়রা ব্যাবিলনীয়দের অনুসরণ করে।
- তাদের প্রধান দেবতা ছিল আসুর। এরপর ছিল ইশতারের স্থান।

⇒ এ্যাসিরীয়রা পাথর দিয়ে ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও তৈজসপত্র তৈরিতে দক্ষ ছিল।
- জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। সম্রাট আশুরবনিপালের গড়া একটি বৃহৎ গ্রন্থাগার পাওয়া গেছে রাজধানী নিম্পরে।
- তারাই প্রথম বৃত্তকে ৩৬০° তে ভাগ করে।
- পৃথিবীকে সর্বপ্রথম তারা অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেছিল।
- চিকিৎসাবিদ্যায় এ্যাসিরীয়দের ভূমিকা ছিল অসামান্য। তারা পাঁচশ'রও বেশি উদ্ভিদ ও খনিজ ওষুধের তালিকা প্রণয়ন করে সেগুলোর গুণাগুণ ও ব্যবহার পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করে।
- উত্তরসূরি শাসকদের বিভিন্ন দুর্বলতা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর আক্রমণের মুখে তিন'শ বছরের এই প্রাচীন সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৬১২ অব্দে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৪.
'জেহোভা' কোন সভ্যতার প্রধান দেবতা ছিলেন?
  1. হিব্রু সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. রোমান সভ্যতা
  4. চীন সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
হিব্রু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিব্রু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই।
- হিব্রু জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের (আঃ) (আব্রাহাম) নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় একত্রে বসবাস শুরু করে।
- তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament) হিব্রু ধর্মের (ইহুদী জাতির) প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
- হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন জেহোভা।
- জেহোভাকে তারা আকার-বিশিষ্ট একেশ্বর বলে মনে করত।
- এ যুগে ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং আবার একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৫.
কোন সভ্যতায় প্রথম নগর রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে?
  1. মিশরীয় সভ্যতায়
  2. গ্রিক সভ্যতায়
  3. হিব্রু সভ্যতায়
  4. রোমান সভ্যতায়
সঠিক উত্তর:
গ্রিক সভ্যতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক সভ্যতায়
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতায় প্রথম নগর রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে।

গ্রিক সভ্যতা:

- ইউরোপ মহাদেশের গ্রিক রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রাচীন কয়েকটি শহরকে কেন্দ্র করে গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ঘটে।
- গ্রিক সভ্যতার ক্রমবিকাশে আদিকালকে 'হোমারিক যুগ' বলা হয়।
- গ্রিক কবি হোমারের নাম থেকে এ যুগের নামকরণ করা হয়।
- খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৮০০ অব্দ পর্যন্ত এই যুগের বিস্তৃতি।
- বিখ্যাত কবি হোমার 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' নামে দুটি মহাকাব্য রচনা করেন।
- তার রচনাবলী থেকে গ্রিক ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য, লোক ঐতিহ্যের সন্ধান পাওয়া যায়।

⇒ গ্রিক সভ্যতায় দুটি স্তর লক্ষ্য করা যায়।
- প্রথম স্তর হেলেনিক সভ্যতা এবং দ্বিতীয় স্তরে হেলেনিস্টিক সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে হোমারিক যুগের অবসান ঘটে।
- হোমারিক যুগের গ্রাম সম্প্রদায়গুলি ভেঙ্গে কালক্রমে নগর রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৬.
লাইবেরিয়া কোন দেশের নিকট থেকে স্বাধীনতা লাভ করে?
  1. ক) স্পেন
  2. খ) পর্তুগাল
  3. গ) বেলজিয়াম
  4. ঘ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
লাইবেরিয়া আফ্রিকার একটি প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র। ১৮৪৭ সালের ২৬ জুলাই লাইবেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ব্রিটেন প্রথম লাইবেরিয়াকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৮৬২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন লাইবেরিয়া কে স্বীকৃতি প্রদান করেন। এর আগে ১৮২০ সালে আমেরিকান কলোনাইজেশন সোসাইটি গঠিত হয় যার মাধ্যমে আমেরিকা থেকে কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের লাইবেরিয়ায় স্থানান্তরিত করা হয়। (সূত্রঃ লাইবেরিয়া কংগ্রেস লাইব্রেরি ওয়েবসাইট)
৩৬৭.
মিশরের বিখ্যাত ফারাও তুতেনখামেনের সমাধি কে আবিষ্কার করেছিলেন?
  1. হাম্মুরাবি
  2. মেনেস
  3. হাওয়ার্ড কার্টার
  4. রিচার্ড লেভার
সঠিক উত্তর:
হাওয়ার্ড কার্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাওয়ার্ড কার্টার
ব্যাখ্যা

• ১৯২২ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করেন।
-----------
• মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতা, যা মূলত নীল নদ (Nile River) তীরে গড়ে উঠেছিল।
- এই সভ্যতার সূচনা প্রাক-রাজবংশীয় যুগ এ, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০–৩২০০ অব্দ (circa 5000–3200 BCE) সময়কাল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ সালে রাজা মেনেস (Menes) সমগ্র মিশরকে একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর ফলে সংগঠিত রাজনৈতিক শাসনের সূচনা ঘটে।
- তখন মিশরের রাজধানী ছিল মেমফিস (Memphis)।
- মিশরের রাজাদের বলা হতো ফারাও। 
- তারা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- মিশরের অন্যতম বিখ্যাত ফারাও ছিলেন তুতেনখামেন (Tutankhamun) (খ্রি.পূ. ১৩৩৩–১৩২৪)।
- তাঁর সমাধি ১৯২২ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার (Howard Carter) আবিষ্কার করেন। 
- এটি প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
---------------
উল্লেখ্য,

- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে মিশরীয়রা অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছিল। 
- ফারাওদের মৃতদেহ সংরক্ষণ ও সমাধিস্থ করার জন্য তারা বিশাল পিরামিড (Pyramid) নির্মাণ করে। 
- এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো গিজার গ্রেট পিরামিড (Great Pyramid of Giza), যা ফারাও খুফু (Khufu) এর সমাধি হিসেবে নির্মিত। 
- এছাড়া বিখ্যাত ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে স্ফিংস (Great Sphinx of Giza), যার দেহ সিংহের এবং মাথা ফারাওয়ের আকৃতির।

 - লিখনপদ্ধতির ক্ষেত্রে মিশরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল হায়ারোগ্লিফিক লিপি।
- এটি ছিল চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি। 
- ‘হায়ারোগ্লিফিক’ শব্দের অর্থ হলো “পবিত্র লিপি”।
- তারা প্যাপিরাস গাছের বাকল দিয়ে কাগজ তৈরি করত, যা প্রাচীন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ লেখার উপকরণ ছিল।

- ধর্ম ও সমাজব্যবস্থায় মিশরীয়রা মূলত বহুদেবতাবাদী ছিল।
- তারা সূর্য, নীল নদ, আকাশ, মাটি ইত্যাদি শক্তিকে দেবতা হিসেবে পূজা করত।
- তবে একসময় ফারাও আমেনহোটেপ চতুর্থ সূর্যদেবতা এটন এর একক উপাসনা প্রচলন করেন;
- এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে ইখনাটন রাখেন।
- তাঁর স্ত্রী নেফারতিতি সৌন্দর্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে বিখ্যাত।

- তাছাড়া বিজ্ঞান ও জ্ঞানচর্চায়ও মিশরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
- তারা প্রথম বছরে ১২ মাস এবং প্রতি মাসে ৩০ দিন ধরে সময় গণনার পদ্ধতি চালু করে।
- এছাড়া মৃতদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য তারা মমি তৈরির কৌশল উদ্ভাবন করে।
- এসব কারণে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা মানবসভ্যতার বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৬৮.
মায়া ক্যালেন্ডারে কত দিনে মাস ধরা হত?
  1. ২০ দিন
  2. ২৪ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৩৬ দিন
সঠিক উত্তর:
২০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ দিন
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতা মধ্য আমেরিকায় গড়ে ওঠে।
- মেক্সিকো, গুয়েতেমালা, বেলিজ, হন্ডুরাস ও এল সাল্ভেদর এর পশ্চিমাংশ নিয়ে গঠিত।
- মায়া সভ্যতার ক্যালেন্ডারে হিসাব নিকাশ করা হতো আলাদা ৩টি অংশের সাহায্যে। যার ভেতর ছিল লং কাউন্ট, যোলকিন ও হাব।

হাব:
-এই ক্যালেন্ডারের দিন গণণাকারী দুটি অংশের একটি হলো হাব।
- ২০ দিন করে ১৮টি মাস এখানে গণনা করা হয়। এখানে হয় (২০×১৮) অর্থাৎ, ৩৬০ দিন।
- আর ৫ দিন মিলে হয় একটি মাস, যাকে বলা 'উয়ায়েব'।
- এভাবে মোট ৩৬৫ দিনে এক বছর গণনা করা হয় একটি হাবে।

উৎস: Britannica.
৩৬৯.
ইনকা সভ্যতা কাদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়?
  1. ক) ভাইকিং
  2. খ) স্পেনীয়
  3. গ) ব্রিটিশ
  4. ঘ) রেড ইন্ডিয়ান
সঠিক উত্তর:
খ) স্পেনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্পেনীয়
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা দ্বাদশ শতকে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর আন্দিজ পার্বত্য অঞ্চলে রেড ইন্ডিয়ানদের দ্বারা গড়ে উঠে ছিলো।
ষোড়শ শতকে স্পেনিশদের দ্বারা ইনকা সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
পেরুতে অবস্থিত মাচুপিচু ইনকা সভ্যতার একটি নিদর্শন যা পৃথিবীর একটি সপ্তাশ্চর্য এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।
(সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩৭০.
হাম্মুরাবির আইনসংহিতা কোন সভ্যতার অন্তর্গত?
  1. সুমেরীয়
  2. অ্যাসিরীয়
  3. ব্যাবিলনীয়
  4. ক্যালডীয়
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয়
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি তার বিখ্যাত লিখিত আইনসংহিতা প্রণয়ন করেন।
------------
• মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয় সভ্যতা মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা।
- এটি টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- গ্রিক শব্দ Mesopotamia-র অর্থই হলো “দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি”।
- বর্তমান সময়ে এই অঞ্চল প্রধানত ইরাকের মধ্যে পড়েছে, তবে তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও কুয়েতের কিছু অংশও এর অন্তর্ভুক্ত।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দ থেকে এখানে নগরসভ্যতার বিকাশ শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্রের মাধ্যমে এই সভ্যতা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

- মেসোপটেমীয় সভ্যতা একক কোনো জাতির সৃষ্টি নয়; বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতার ধারাবাহিক বিকাশের ফল।
- প্রথমে সুমেরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- সুমেরীয়রা কিউনিফর্ম নামের বিশ্বের প্রাচীনতম লিপিগুলোর একটি সৃষ্টি করে।
- তারা চাকা আবিষ্কার, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, চন্দ্রপঞ্জিকা প্রণয়ন এবং বিখ্যাত মহাকাব্য ‘গিলগামেশ’ রচনার জন্য পরিচিত।

- এরপর ব্যাবিলনীয় সভ্যতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
- এই সভ্যতার অন্যতম বড় অবদান হলো লিখিত আইনব্যবস্থার বিকাশ।
- রাজা হাম্মুরাবি তার বিখ্যাত হাম্মুরাবির আইনসংহিতা (Code of Hammurabi) প্রণয়ন করেন, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন লিখিত আইন।

- পরবর্তীতে অ্যাসিরীয় সভ্যতা টাইগ্রিস নদীর তীরে আশুর নগরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
- অ্যাসিরীয়রা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক জাতি।
- তারা লোহার অস্ত্র ব্যবহার করে শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে এবং প্রশাসন ও যুদ্ধকৌশলে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করে।

- সবশেষে ক্যালডীয় বা নব্য ব্যাবিলনীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- এই সময়ের বিখ্যাত শাসক ছিলেন রাজা নেবুচাদনেজার।
- তাঁর আমলেই বিখ্যাত ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নির্মিত হয়, যা প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে ধরা হয়।
- এছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সময় গণনায় উন্নতি করে তারা সপ্তাহকে ৭ দিনে ভাগ করার ধারণাও প্রচলিত করে।

উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৭১.
উপমহাদেশে কোন সভ্যতা বিসতৃত ছিল?
  1. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা
  4. চৌ সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
ভৌগোলিক অবস্থান:
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সিন্ধুসভ্যতার বিস্তৃতি বিশাল এলাকাজুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- তা সত্ত্বেও ঐ সভ্যতা শুধু সিন্ধু অববাহিকা বা ঐ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন, পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে সিন্ধুসভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭২.
মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল--
  1. ক) মেক্সিকো
  2. খ) রোম
  3. গ) জেরুজালেম
  4. ঘ) পেরু
সঠিক উত্তর:
ক) মেক্সিকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা (Maya Civilization)
• মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন - গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডুরাস প্রভৃতি দেশে মায়া লোকজনের বসবাস ছিল।
• তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
• মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।

• মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়।
যথা -
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ - ২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০ - ৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৭৩.
কোন বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী নারীদের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম শাসকদের একজন ছিলেন?
  1. জো
  2. ইউডোক্সিয়া
  3. আইরিন
  4. থিওডোরা
সঠিক উত্তর:
থিওডোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থিওডোরা
ব্যাখ্যা
⇒ বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী নারীদের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম শাসকদের একজন ছিলেন থিওডোরা।

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র -  Britannica.com
৩৭৪.
প্রথম শিল্প বিপ্লব (Industrial Revolution) কোন দেশে শুরু হয়েছিল?
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. ইংল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা

- অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে প্রথম শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়। কয়লা ও লোহার প্রাচুর্য, উপনিবেশ থেকে প্রাপ্ত কাঁচামাল, উন্নত ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এর প্রধান কারণ ছিল।

প্রথম শিল্প বিপ্লব:
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০-১৮৪০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়।
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।
- ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি (Arnold Toynbee) ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানোর জন্য ‘শিল্প বিপ্লব' (Industrial Revolution) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে।
- ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
- শিল্প বিপ্লবের ফলে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে।
- এই সময় বিভিন্ন ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব আবিষ্কার হতে থাকে।
- ফলে বিশ্বের ইতিহাসও খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।

সূত্র: Britannica.

৩৭৫.
লীগ অব নেশনস (League of Nations) কত সালে বিলুপ্ত হয়?
  1. ক) ১৯৩৯
  2. খ) ১৯৪১
  3. গ) ১৯৪৫
  4. ঘ) ১৯৪৬
  5. ঙ) ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৬
ব্যাখ্যা
লীগ অব নেশন্স ১০ জানুয়ারি, ১৯২০ সালে ৪২ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে এবং ২০ এপ্রিল, ১৯৪৬ সালে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। (Source: www.unog.com--Historical_overview_of_the_League_of_Nations)
৩৭৬.
সর্ব প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করেন কারা?
  1. সুমেরীয়রা
  2. আসেরীয়রা
  3. হিব্রুরা
  4. ক্যালডীয়রা
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়রা
ব্যাখ্যা
ক্যালডীয় সভ্যতা: 
- ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার। 
- এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার।
- তাঁর রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০৪ থেকে ৫৬১ অব্দ পর্যন্ত।

• জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের অবদান: 
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- আবার প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে।
- বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান।
- তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৭.
জাভা মানবের জীবাশ্ম কে আবিষ্কার করেন? 
  1. লুই লিকি
  2. ইউজিন ডুবোইস 
  3. ডেভিডসন ব্ল্যাক
  4. পেই ওয়েনঝং
সঠিক উত্তর:
ইউজিন ডুবোইস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউজিন ডুবোইস 
ব্যাখ্যা

জাভা মানব (Java Man):
- জাভা মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির প্রথম আবিষ্কৃত জীবাশ্ম।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৮৯১ সালে ওলন্দাজ (ডাচ) অ্যানাটমিস্ট এবং ভূতাত্ত্বিক ইউজিন ডুবোইস  (Eugene Dubois) ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের সোলো নদীর তীরে এই জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন।
- এটি ছিল ইউরোপের বাইরে আবিষ্কৃত প্রথম আদিম মানুষের জীবাশ্ম। ডুবোয়া এর নাম দিয়েছিলেন 'পিথেকানথ্রোপাস ইরেক্টাস' (Pithecanthropus erectus), যার অর্থ 'সোজা হয়ে দাঁড়ানো বানর-মানুষ'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- জাভা মানবের মাথার খুলি ছিল পুরু, কপাল ছিল নিচু এবং চোখের ওপরের হাড় (Brow ridge) ছিল বেশ চওড়া।
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ৯০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের চেয়ে ছোট কিন্তু ওরাংওটাং-এর চেয়ে বড়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

৩৭৮.
ইসরায়েলি জাতি হিসেবে পরিচিত - 
  1. পারসিক সভ্যতা
  2. হিব্রু সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
হিব্রু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিব্রু সভ্যতা
ব্যাখ্যা

হিব্রু সভ্যতা:
- প্রাচীন মিসরীয় ও মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর হিব্রু সভ্যতা মানব সভ্যতায় অবদান রাখে।
- হিব্রু জাতি ইহুদী ধর্মের অনুসারী ও ইসরায়েলি জাতি হিসেবে পরিচিত।
- ইউফ্রেটিস নদীর অপর পাড় থেকে বিতাড়িত মানুষদের মধ্য থেকে হিব্রু জনগোষ্ঠী গঠিত হয়।
- হিব্রু শব্দের অর্থ “বিদেশী”(Alien) নৃতাত্ত্বিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতার উপাদানগুলো হিব্রু সভ্যতায় অন্তর্ভুক্ত।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে আদি পুরুষ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় বসতি স্থাপন।
- ধর্মগ্রন্থ: তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট।
- প্রধান দেবতা: জেহোভা, আকারবিহীন একেশ্বর।
- ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৯.
কোন জাতি 'ব্যাবিলনীয় সভ্যতা' গড়ে তোলে?
  1. ক) সুমেরীয়
  2. খ) সেমিটিক
  3. গ) অ্যাসিরীয়
  4. ঘ) ক্যালডীয়
সঠিক উত্তর:
খ) সেমিটিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেমিটিক
ব্যাখ্যা
- মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে গড়ে ওঠা সভ্যতা- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার জনক ছিলো সেমিটিক জাতি
- এ ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে এ্যামোরাইট নামক সেমিটিক জাতি।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে সেমিটিক জাতির অবদান সর্বাধিক। প্রকৃত পক্ষে সুমেরীয় রাজা ডুঙির মৃত্যুর পর পরই সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটে।
- সুমেরীয় সভ্যতার ধ্বংসস্তুপের ওপর গড়ে ওঠে ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য বা সভ্যতা।
- অ্যামোরাইটরা আরব মরুভূমির উত্তরাঞ্চল থেকে মেসোপটেমিয়ায় এসে ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলনে সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এই সভ্যতাকে প্রাচীন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা বলা হয়। 
 
 উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮০.
মায়া সভ্যতা কোন অঞ্চলে বিকাশ লাভ করেছিল?
  1. দক্ষিণ এশিয়া
  2. পূর্ব ইউরোপ
  3. মধ্য আমেরিকা
  4. আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
ব্যাখ্যা

- মায়া সভ্যতা আধুনিক মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন অংশে গড়ে উঠেছিল। তারা জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত এবং পিরামিড নির্মাণের জন্য বিখ্যাত ছিল ।

​মায়া সভ্যতা (Maya Civilization):
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন - গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডুরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।

সূত্র: ব্রিটানিকা, হিস্টোরি.কম।

৩৮১.
পিকিং মানবের জীবাশ্ম কোথায় আবিষ্কৃত হয়? 
  1. বেইজিং 
  2. বার্লিন
  3. বালি দ্বীপ
  4. এথেন্স
সঠিক উত্তর:
বেইজিং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেইজিং 
ব্যাখ্যা

পিকিং মানব (Peking Man):
- পিকিং মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির একটি আদিম মানুষের গোষ্ঠী।
- ১৯২০-এর দশকে চীনের বেইজিংয়ের (তৎকালীন পিকিং) নিকটবর্তী ঝৌকৌদিয়ান (Zhoukoudian) গুহায় এদের জীবাশ্ম বা কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,৫০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯২১ সালে সুইডিশ ভূতাত্ত্বিক জোহান গুনার অ্যান্ডারসন প্রথম এই স্থানটি শনাক্ত করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে কানাডীয় নৃতাত্ত্বিক ডেভিডসন ব্ল্যাক একটি দাঁত খুঁজে পান এবং একে একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯২৯ সালে চীনা প্রত্নতাত্ত্বিক পেই ওয়েনঝং (Pei Wenzhong) প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ খুলি (Skullcap) আবিষ্কার করেন।

• আগুনের ব্যবহার: পিকিং মানবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আগুনের ব্যবহার।
- গুহায় পোড়া হাড় এবং ছাইয়ের স্তর দেখে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তা ব্যবহার করে খাবার রান্না করতে শিখিয়েছিল। এটি মানব বিবর্তনের ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক।

• হাতিয়ার তৈরি:
- মূলত শিকার করা এবং পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য তারা কুঠার ও চাঁছনি ব্যবহার করত।

• রহস্যময় অন্তর্ধান (Missing Fossils):
- ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জাপান চীন আক্রমণ করে, তখন নিরাপত্তার খাতিরে পিকিং মানবের আদি কঙ্কালগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- কিন্তু যাত্রাপথে সেগুলো রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায় এবং আজ অবধি সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
- বর্তমানে কেবল কঙ্কালগুলোর ছাঁচ (Casts) টিকে আছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

৩৮২.
নিচের কোনটি বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল?
  1. মহেঞ্জোদারো
  2. কনস্টান্টিনোপল
  3. কোস্কো
  4. ব্যাবিলন
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য সময়কাল: ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- রাজধানী: কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট: জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৩৮৩.
চেঙ্গিস খান কোন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন?
  1. অটোমান সাম্রাজ্য
  2. পারস্য সাম্রাজ্য
  3. রুশ সাম্রাজ্য
  4. মঙ্গোল সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোল সাম্রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোল সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
মঙ্গোল সাম্রাজ্য:
- এটি ইতিহাসের বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন স্থল সাম্রাজ্য ছিল। 
- ১৩শ ও ১৪শ শতকে মঙ্গোল সাম্রাজ্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থলভাগীয় সাম্রাজ্যে পরিণত হয়।
- এটি মধ্য এশিয়ার যাযাবর গোত্রগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল।
- সাম্রাজ্যটি মধ্য এশিয়া থেকে মধ্য ইউরোপ এবং জাপান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- চেঙ্গিস খান (১২০৬ খ্রিস্টাব্দ) মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নেতা ছিলেন।
- তার নেতৃত্বে সামরিক কৌশল ও সংগঠনের মাধ্যমে মঙ্গোলরা দ্রুত নতুন ভূখণ্ড জয় করতে সক্ষম হয়।
- তার উত্তরসূরিরা সাম্রাজ্যকে চারটি খানে বিভক্ত করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:চগাতাই খানাত, গোল্ডেন হোর্ড, ইলখানাত ও ইউয়ান রাজবংশ (চীন ও মঙ্গোলিয়া অঞ্চল)। 
- ‘পাক্স মঙ্গোলিকা’ (Mongol Peace) নামে পরিচিত একটি শান্তিপূর্ণ সময়কাল তৈরি হয়েছিল, যা ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বানিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছিল।
- ১৪শ শতকের শেষের দিকে মঙ্গোল সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে।
- অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, মহামারী এবং স্থানীয় বিদ্রোহের ফলে মঙ্গোল সাম্রাজ্য বিভক্ত হয়ে যায়।
- চীনে মিং রাজবংশ (১৩৬৮) মঙ্গোলদের উৎখাত করে, এবং অন্যান্য অঞ্চলে স্থানীয় শাসকরা ক্ষমতা গ্রহণ করে।
- মঙ্গোল সাম্রাজ্য ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাম্রাজ্য, যা সামরিক কৌশল, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক সংযোগের মাধ্যমে বিশ্ব ইতিহাসে গভীর প্রভাব রেখেছে।

উৎস: Britannica.
৩৮৪.
পারস্য সাম্রাজ্যের প্রধান দেবতা -
  1. জেন্দাবেস্তা
  2. এরেবাস
  3. আছর মাজদা
  4. ইরোস
সঠিক উত্তর:
আছর মাজদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আছর মাজদা
ব্যাখ্যা
পারস্য:
- পারস্য বর্তমানে ইরান নামে পরিচিত।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয় ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিল জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তাদের প্রধান দেবতা: আছর মাজদা।
- ধর্মগ্রন্থের নাম: জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস: প্রথমপত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৫.
মায়াদের ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের নাম কী?
  1. হাব
  2. টজলকিন
  3. সানস্টোন
  4. সোলারিস
সঠিক উত্তর:
টজলকিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টজলকিন
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com

৩৮৬.
মধ্যপ্রাচ্যে অধিকাংশ অধিবাসী কোন নৃগোষ্ঠীর?
  1. অস্ট্রেলীয়
  2. মঙ্গোলীয়
  3. নিগ্রীয়
  4. ককেশীয়
সঠিক উত্তর:
ককেশীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ককেশীয়
ব্যাখ্যা
ককেশীয়:
- ককেশীয় বা শ্বেতকায় ককেশীয়দের মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির হয়।
- এদের মুখ সরু বা লম্বাকৃতির, নাক প্রধানত খাড়া, চিকন, লম্বা ও সরু, চোখের রং হালকা থেকে কালো বাদামি, ঠোঁট পাতলা ধরনের এবং কান মাঝারি গোছের।
- এদের গায়ের রং প্রধানত সাদা বা লালচে সাদা।
- ককেশীয়দের চুলের রং বাদামি বা সোনালি।
- এরা দীর্ঘ দেহের অধিকারী।

উল্লেখ্য,
- মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ অধিবাসী ককেশীয় নৃগোষ্ঠীর।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) The New York Times.
৩৮৭.
নতুন সপ্তাশ্চর্য ‘মাচুপিচু’ (Machu Picchu) কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. মায়া সভ্যতা
  2. ইনকা সভ্যতা
  3. অ্যাজটেক সভ্যতা
  4. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ইনকা সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনকা সভ্যতা
ব্যাখ্যা

- নতুন সপ্তাশ্চর্য ‘মাচুপিচু’ (Machu Picchu) ইনকা সভ্যতার নিদর্শন।
-
তারা বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে কোনো সিমেন্ট বা চুন ছাড়াই সুনিপুণভাবে দেয়াল তৈরি করত, যা আজও বিশ্বের বিস্ময়।

ইনকা সভ্যতা:

- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ইনকাদের কোনো লিখিত লিপি ছিল না। এর বদলে তারা রঙিন সুতার গিঁট দিয়ে হিসাব রাখা ও তথ্য আদান-প্রদান করত, যাকে 'কুইপু' বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি .কম।

৩৮৮.
প্রথমে সপ্তাহে সাত দিনের ধারণা দিয়েছিল কারা?
  1. গ্রিক
  2. রোমান
  3. ক্যালডীয়
  4. সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়
ব্যাখ্যা

- প্রথমে সপ্তাহে সাত দিনের ধারণা দিয়েছিল ক্যালডীয় সভ্যতা।

ক্যালডীয় সভ্যতা (Chaldean Civilization):
- ক্যালডীয়রা ছিল একটি সেমিটিক জাতি যারা আসিরীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্যাবিলনে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
- একে 'নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য'ও বলা হয়।
- কালক্রম: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ থেকে ৫৩৯ অব্দ পর্যন্ত এই সভ্যতার স্থায়ীত্ব ছিল।
- প্রধান সম্রাট: নবোপোলাসার (প্রতিষ্ঠাতা) এবং তাঁর পুত্র সম্রাট নেবুচাদনেজার (শ্রেষ্ঠ শাসক)।
- কেন্দ্রবিন্দু: এই সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল পুনরায় সংস্কার করা জাঁকজমকপূর্ণ 'ব্যবিলন' শহর।

• স্থাপত্যে: নেবুচাদনেজারের আমলে ব্যাবিলন শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও সুন্দর শহরে পরিণত হয়। তিনি শহরের চারদিকে বিশাল প্রাচীর এবং নীল রঙের চকচকে ইটের তৈরি 'ইশতার গেট' নির্মাণ করেন।

• জ্যোতির্বিদ্যার উন্নতি: ক্যালডীয়রা আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত উন্নত ছিল।
- তারা সাত দিনে এক সপ্তাহ এবং ১২ মাসে এক বছরের হিসাব নিখুঁতভাবে করতে পারত।
- তারাই প্রথম সপ্তাহের সাত দিনের নামকরণ গ্রহ-নক্ষত্রের নামে করেছিল।

- ধর্ম: তারা বহু ঈশ্বরবাদী ছিল। তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন 'মারদুক' (Marduk)। প্রতিটি বড় স্থাপত্য বা মন্দির তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হতো।

• পতন: খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যাবিলন দখল করেন।
- এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যাবিলনীয় ও ক্যালডীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৯.
অ্যাজটেকরা মুদ্রার পরিবর্তে কী ব্যবহার করত?
  1. রৌপ্য 
  2. কোকো বিন
  3. স্বর্ণমুদ্রা
  4. শস্য
সঠিক উত্তর:
কোকো বিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোকো বিন
ব্যাখ্যা

অ্যাজটেক সভ্যতা (Aztec Civilization):
- বর্তমান মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই সভ্যতাটি ছিল প্রাচীন আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী সভ্যতা।
- আনুমানিক ১৩০০ থেকে ১৫২১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই সভ্যতা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়।
- তাদের প্রধান শহর বা রাজধানীর নাম ছিল 'টেনোচটিটলান' (Tenochtitlan),
- যা একটি হ্রদের মাঝখানে কৃত্রিম দ্বীপে গড়ে উঠেছিল (বর্তমান মেক্সিকো সিটি)।

• অর্থনীতি ও বাণিজ্য:
- অ্যাজটেকরা বাণিজ্যে অত্যন্ত উন্নত ছিল। 
- তারা মুদ্রার পরিবর্তে অনেক সময় কোকো বিন ব্যবহার করত।

• স্থাপত্য ও প্রকৌশল (Engineering Marvels):
- অ্যাজটেকরা জলাভূমির ওপর বড় বড় পিরামিড, মন্দির এবং প্রাসাদ তৈরি করেছিল।
- 'চিনাম্পা' (Chinampa) বা ভাসমান বাগান ছিল তাদের এক অসামান্য উদ্ভাবন।
- হ্রদের ওপর কৃত্রিম জমি তৈরি করে তারা সারা বছর কৃষিকাজ করত।

• শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থা:
- তাদের নিজস্ব লিখন পদ্ধতি (পিক্টোগ্রাফ) এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম সৌর ক্যালেন্ডার ছিল,
- যা কৃষিকাজ ও ধর্মীয় উৎসবের সময় নির্ধারণে ব্যবহৃত হতো।

• ধর্ম ও বলিদান প্রথা:
- অ্যাজটেকরা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিল। তাদের প্রধান দেবতাদের মধ্যে ছিলেন 'হুইজিলোপোচটলি' (সূর্য ও যুদ্ধের দেবতা) এবং 'কুয়েটজালকোটল' (জ্ঞানের দেবতা)।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

৩৯০.
কোন সভ্যতার অধিবাসীগণ বাটখারা ব্যবহার করতেন?
  1. চীনা সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4.  সিন্ধু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
 সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা

• সিন্ধু সভ্যতা:
-সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে উঠা সভ্যতার ইতিহাসে প্রথম পরিকল্পিত নগর সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতা বলে।
- সিন্ধু সভ্যতা গড়ে তুলেছিল- দ্রাবিড় জাতি।
- সিন্ধু সভ্যতার দুটি  শহর ছিল- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো।
- হরপ্পা অঞ্চল আবিষ্কৃত হয় -  ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে।
- মহেঞ্জোদারো অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয় -  ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে।
- সিন্ধুর উপনদী রাভীর তীরে গড়ে উঠেছিল হরপ্পা নগরী। 
- সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কার করেন- স্যার জন মার্শাল, রাখালদাশ বন্দ্যোপাধ্যায়।

- এ সভ্যতাকে তাম্র যুগের সভ্যতা বলা হয়।
- এ সভ্যতা ছিল কৃষি নির্ভর।
- হরপ্পা নগরী গড়ে উঠে সিন্ধুর উপনদী- ইরাবতির তীরে।
- সিন্ধু সভ্যতার হাড় ও পাথরের তৈরি সিলমোহর পাওয়া যায়।
- এ সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল- পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীগণ পরিমাপের জন্য বাটখারা ব্যবহার করতেন।

উৎস:  ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩৯১.
সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়রা কীসের জন্যে বিখ্যাত?
  1. ক) আইন প্রণয়ন
  2. খ) নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা
  3. গ) নগর স্থাপত্য
  4. ঘ) ধর্মে অবদান
সঠিক উত্তর:
খ) নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়রা নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে প্রসিদ্ধ।
সাগর তীরবর্তী হওয়ায় ফিনিশীয়দের প্রধান পেশাও ছিলো নৌবাণিজ্য। টায়ার ও সিডন ফিনিশিয়ার দুটো বিখ্যাত বন্দর।
এছাড়া বর্ণমালা উদ্ভাবনের জন্যেও এরা বিখ্যাত। ফিনিশীয়রা ২২টি ব্যাঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালা উদ্ভাবন করে যা থেকে আধুনিক বর্ণমালার উদ্ভব হয়।
খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩ হাজার বছর পূর্বে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী বর্তমান লেবাননে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো।
(সূত্র: ব্রিটানিকা)
৩৯২.
মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল -
  1. প্রাচীন প্রস্তর যুগে
  2. মধ্য প্রস্তর যুগে
  3. নতুন প্রস্তর যুগে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নতুন প্রস্তর যুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুন প্রস্তর যুগে
ব্যাখ্যা
নতুন প্রস্তর যুগ:
- নতুন প্রস্তর যুগের সময় তৈরি পাথরের অস্ত্র অনেক বেশি উন্নত ছিল।
- এ যুগে মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল।
- কৃষি আর পশু পালন ছিল মানুষের প্রধান পেশা।
- এরই পাশাপাশি মাটির রকমারি বাসন-কোসন তৈরি করতে শিখে।
- নতুন পাথরের যুগের মানুষ কাপড় বুনতে পারতো।
- শিকারি জীবনের অবসান হওয়ায় এ যুগের মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করে।
- মানুষ স্থায়ী বসবাস গড়ার কারণেই ধীরে ধীরে গ্রামের বিকাশ ঘটলো।
- সিন্ধু নদীর উপত্যকা এবং বেলুচিস্তানে এই সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল।
- দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায় উন্নত ধরনের পাথরের কুঠার।
- এ যুগে মৃতদেহকে কবর দেয়া হতো। কবরের উপরে তৈরি করা হতো সমাধি।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৩.
অ্যাজটেক সভ্যতা প্রধানত কোথায় অবস্থিত ছিল?
  1. আন্দিস পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা
  2. মিসিসিপি উপত্যকা, যুক্তরাষ্ট্র
  3. মধ্য মেক্সিকো, মেক্সিকো উপত্যকা
  4. আন্ধ্র প্রদেশ, ভারত
সঠিক উত্তর:
মধ্য মেক্সিকো, মেক্সিকো উপত্যকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য মেক্সিকো, মেক্সিকো উপত্যকা
ব্যাখ্যা

অ্যাজটেক সভ্যতা (Aztec Civilization): 
- অবস্থান: মধ্য মেক্সিকো, মূলত মেক্সিকো উপত্যকা।
- সাম্রাজ্যের কেন্দ্র: টেনোচটিটলান শহর।
- অবস্থান: টেক্সকোকো হ্রদের একটি দ্বীপে।
- বর্তমান শহর: মেক্সিকো সিটি।
- কৌশলগত সুবিধা: পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রাস্তা সংযোগ।
- অ্যাজটেকরা জোট এবং বিজয়ের মাধ্যমে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল।
- ফলস্বরূপ, তারা আধুনিক মেক্সিকোর বেশিরভাগ অঞ্চল শাসন করেছিল।
- তারা চিনাম্পা বা ভাসমান বাগানের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করত, যা তাদের অর্থনীতি এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
- অ্যাজটেকরা ছিল নাহুয়াটল ভাষাভাষী এক জাতি, যারা ১৫শ ও ১৬শ শতকের শুরুর দিকে বর্তমান মধ্য ও দক্ষিণ মেক্সিকোর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করত।
- অ্যাজটেক নামটি এসেছে অ্যাজটলান থেকে, যার অর্থ হতে পারে "সাদা ভূমি," "সাদা বকেদের ভূমি," বা "বকদের স্থান"। 

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৯৪.
'গিলগামেশ' মহাকাব্য কোন সভ্যতার সৃষ্টি?
  1. সুমেরীয়
  2. ব্যাবিলনীয়
  3. অ্যাসিরীয়
  4. ক্যালডীয়
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সাহিত্য:
- সুমেরীয়রা বিদ্যাশিক্ষায় উৎকর্ষ সাধন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- এমনকি তারা কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিবেশী মিসরীয়দেরকেও অতিক্রম করেছিল।
- যেমন, সুমেরীয়রা 'গিলগামেশ' নামক মহাকাব্য রচনা করেছিল।
- ইউরুকের কিংবদন্তী রাজা গিলগামেশকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই বিখ্যাত 'গলগামেশ' নামক মহাকাব্য।
- ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই মহাকাব্য রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

এছাড়াও,
- সুমেরীয় সভ্যতার অন্যতম কীর্তি ছিল একধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন। এই পদ্ধতি ছিল প্রথমতঃ চিত্রলিপি এবং পরবর্তীতে তা শব্দলিপিতে রূপান্তরিত হয়। এই লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' নামে পরিচিত। কাঁদা মাটিতে চাপ দিয়ে চিত্রাংকন দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করতো। যা মেসোপটেমীয় লিপি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এ সুমেরের বিখ্যাত শহর নিপ্পুরে এ কিউনিফর্ম (Cuneiform) চিত্রলিপির প্রায় চার হাজার মাটির চাকতি পাওয়া গেছে। এসকল কিউনিফর্ম বর্ণভিত্তিক নয়, বরং একে বলা যেতে পারে অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৫.
ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় -
  1. ব্রাজিলে
  2. ভেনেজুয়েলায়
  3. বলিভিয়ায়
  4. পেরুতে
সঠিক উত্তর:
পেরুতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরুতে
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ইনকা সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে যা পেরুতে অবস্থিত।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

উৎস: Britannica.
৩৯৬.
হেলসিকিং কোন দেশের রাজধানী?
  1. ক) সুইডেন
  2. খ) ফিনল্যান্ড
  3. গ) নরওয়ে
  4. ঘ) ডেনমার্ক
সঠিক উত্তর:
খ) ফিনল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ফিনল্যান্ডের রাজধানী - হেলসিংকি
ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম
নরওয়ের রাজধানী – অসলো

উৎস: ব্রিটানিকা
৩৯৭.
খলীফা হারুন কোন মাযহাবের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন?
  1. শইফয়ী
  2. মালিকী
  3. হানাফী
  4. হাম্বলী
সঠিক উত্তর:
হানাফী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হানাফী
ব্যাখ্যা
খলীফা হারুন:

- মূলত হারুন-অর-রশীদ ছিলেন আরব্য রজনীর ইতিহাসের নায়ক।
- খলীফা হারুন হানাফী মাযহাবের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- তাঁর ঐশ্বর্যশালী বাগদাদ নগরী বিশ্বের কাছে বিস্ময়ের উদ্রেক করে।
- শিক্ষা, চিকিৎসা, সংগীত, নাট্যকলা, জ্যোতির্বিদ্যা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য হারুন-অর-রশীদের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
- তিনি ছিলেন ধর্মভীরু, প্রজারঞ্জক ও ন্যায়বিচারক নৃপতি।
- তাঁর সকল সমালোচনার উর্ধ্বে তাঁর কৃতিত্ব ছাপিয়ে যায়।
- তিনি ছিলেন আব্বাসীয়দের স্বর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৮.
রাশিদুন খিলাফতের চার খলীফার শাসনকাল ছিল -
  1. ৩০ বছর
  2. ৪০ বছর
  3. ৫০ বছর
  4. ৬০ বছর
সঠিক উত্তর:
৩০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ বছর
ব্যাখ্যা
রাশিদুন খিলাফত:

- মহানবী (সা.) এর ইন্তেকালের পর পর চারজন খলীফা তাঁর প্রতিনিধি হয়ে মুসলিম সাম্রাজ্যকে শাসন করেছেন।
- এই চার খলীফার শাসন ছিল মহানবী (সা.) আদর্শ নীতির প্রতিকৃতি।
- মহানবী (সা.) আল্লাহর বাণীকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
- তিনি মদীনা রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।
- মদীনা রাষ্ট্রকে একটি শাসনকাঠামো দিয়েছিলেন খুলাফায়ে রাশিদীনের চার খলীফা তাদের ৩০ বছরের (৬৩২-৬৬১) শাসনে মুসলিম সাম্রাজ্য কেবল প্রসারিত হয়নি বরং একটি উৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছিল।
- মূলত ২য় খলীফা হযরত উমর (রা.) ছিলেন এই ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রকৃত সংগঠক।
- তাঁর শাসনকাঠামোই পরবর্তী খলিফাগণ অনুসরণ করে গেছেন।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক জনগণের ইচ্ছা ও মতামত এই শাসন ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হতো।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৯.
কোন শতাব্দীতে মধ্য এশিয়ায় মঙ্গোল সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে?
  1. একাদশ শতাব্দী
  2. দ্বাদশ শতাব্দী
  3. ত্রয়োদশ শতাব্দী
  4. চতুর্দশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মধ্য এশিয়ায় দুর্ধর্ষ মঙ্গোল জাতির উত্থান ঘটে।

মঙ্গোল সাম্রাজ্য
:
- মঙ্গোল সাম্রাজ্য ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মধ্য এশিয়ায় দুর্ধর্ষ মঙ্গল মঙ্গোল জাতির উত্থান ঘটে।
- চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে মঙ্গোলদের এই বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয়।
- মঙ্গোলরা চীন থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া, পারস্য ও রাশিয়াতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে এবং মিশর, ভারত, জাপান, কোরিয়া, বার্মা ও ইন্দোনেশিয়াতেও তাদের অভিযানের তরঙ্গ প্রবলভাবে আঘাত হানে।
- মঙ্গোলদের অভিযানগুলো নিষ্ঠুরতা লুণ্ঠন ও হত্যাকাণ্ডের কাহিনীতে ভরপুর।
- এ কারণে অনেক ঐতিহাসিক মঙ্গলদিগকে "বিধাতার অভিশাপ" ও "বিশ্বের ত্রাস" বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- চেঙ্গিস খান ছিলেন বিশাল এ সাম্রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা।
- ধারণা করা হয়, ১১৬২ সালে বা ১১৫৫ সালে মঙ্গোলিয়ার খেনতি পর্বতমালায় চেঙ্গিস খানের জন্ম।
- মঙ্গোল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর চেঙ্গিস খান ইউরেশিয়া দখলে পা বাড়ান।
- চেঙ্গিস খান ১২২৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- মূলত এ সময় থেকেই মঙ্গোল সাম্রাজ্য দুর্বল হতে শুরু করে।

উৎস: i) Britannica.
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০০.
প্রাচীন সুমেরীয় সভ্যতায় কোন লিপির উদ্ভব ঘটে?
  1. হায়ারোগ্লিফিক
  2. ইউনিফর্ম
  3. কিউনিফর্ম
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কিউনিফর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউনিফর্ম
ব্যাখ্যা

কিউনিফর্ম:
- কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের তৈরি প্রাচীন লিপি।
- কিউনিফর্ম বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ও চিত্রের সমন্বয়ে লেখার পদ্ধতি।
- এই লিপির আকৃতি কীলক বা ছোট্ট তীরের মতো হওয়ার কারণে এদের কিউনিফর্ম বা কীলক লিপি বলা হয়।
- এটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত কোনো বর্ণমালা নয় এবং এতে নির্দিষ্ট বা ধরাবাঁধা কোনো অক্ষরও নেই।
- কাদামাটির চার কোনা পাতে লেখার পর আগুনে পুড়িয়ে একে স্থায়ী করা হতো।
- এটি প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় ব্যবহার করা হতো।
- হামুরাবীর আইনবিধি এই লিখন পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হয়।

⇒ সুমেরীয়দের পর আক্কাদিয়ানরাও তাদের ভাষা লেখার জন্য এই লিখন পদ্ধতি গ্রহণ করে।
- সুমেরীয় ও আক্কাদিয়ান বাদে অ্যাসিরিয়ান, ব্যাবিলনিয়ান, এব্লেইট, আমোরাইট, অ্যালামাইট, হাত্তিক, হুররিয়ান, উরার্তিয়ান, হিট্টাইট, লুউইয়ান ভাষা এই লিখন পদ্ধতিতে লেখা হতো।
- কিউনিফর্ম লিপিকে প্রথম সংস্কার করেন পারস্য সম্রাট দারিয়ুস।

⇒ সুমেরীয়দের লিখন পদ্ধতি:
- সুমেরীয় সভ্যতার অন্যতম কীর্তি ছিল একধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন।
- এই পদ্ধতি ছিল প্রথমতঃ চিত্রলিপি এবং পরবর্তীতে তা শব্দলিপিতে রূপান্তরিত হয়।
- এই লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' নামে পরিচিত।
- কাঁদা মাটিতে চাপ দিয়ে চিত্রাংকন দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করতো।
- যা মেসোপটেমীয় লিপি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
- এ সুমেরের বিখ্যাত শহর নিপ্পুরে এ কিউনিফর্ম (Cuneiform) চিত্রলিপির প্রায় চার হাজার মাটির চাকতি পাওয়া গেছে।
- এসকল কিউনিফর্ম বর্ণভিত্তিক নয়, বরং একে বলা যেতে পারে অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) World History Encyclopedia.