বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / ১২ · ২০১৩০০ / ১,১৮৫

২০১.
ফিনিশীয় সভ্যতা কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. মেসোপটেমিয়ায়
  2. নীল নদের অববাহিকায়
  3. ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল
  4. মধ্য আমেরিকায়
সঠিক উত্তর:
ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল
ব্যাখ্যা

• ফিনিশীয় সভ্যতা (Phoenician Civilization):
- বর্তমান লেবানন এবং সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে এই প্রাচীন সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।

- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা স্থলপথের চেয়ে জলপথে বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী ছিল।
- গ্রীকরা এদের নাম দিয়েছিল 'ফিনিশীয়' বা 'পার্পল পিপল' (Purple People), কারণ তারা এক ধরণের বিশেষ সামুদ্রিক শামুক থেকে রাজকীয় বেগুনি রং তৈরি করত এবং এর ব্যবসা করত।

• বর্ণমালা আবিষ্কার (Invention of Alphabet):
- ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের একটি সেট তৈরি করে, যা ছিল আধুনিক বর্ণমালার পূর্বপুরুষ।
- পরবর্তীতে গ্রীকরা এই বর্ণমালার সাথে স্বরবর্ণ (Vowels) যুক্ত করে এবং রোমানদের হাত ধরে তা বর্তমান ইংরেজি বর্ণমালায় রূপ নেয়।

• প্রধান নগর রাষ্ট্রসমূহ:
- ফিনিশীয়রা কোনো একক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেনি, বরং তারা ছোট ছোট স্বাধীন 'নগর রাষ্ট্র' বা 'সিটি স্টেটস'-এ বিভক্ত ছিল।
- তারা ছিল প্রাচীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা।
- তারা ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয় করতে জানত, যাকে গ্রীকরা 'ফিনিশীয় তারা' বলত।

• কার্থেজ (Carthage):
- ফিনিশীয়রা ভূমধ্যসাগরের নানা স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এর মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় (বর্তমান তিউনিসিয়া) অবস্থিত 'কার্থেজ' ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত, যা পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- আলেকজান্ডার ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাদের প্রধান শহর টায়ার দখল করে নিলে ফিনিশীয়দের রাজনৈতিক স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং তারা হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট  এবং বিশ্ব ইতিহাস এনসাইক্লোপিডিয়া।

২০২.
নিচের কোন সভ্যতার সময়কালে ওজন পরিমাপ ও দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছিল?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা

◉ সিন্ধু সভ্যতার সময়কালে ওজন পরিমাপ ও দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছিল।

সিন্ধু সভ্যতার পরিমাপ পদ্ধতি:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল। তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত। তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত। দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।
- মহেঞ্জোদারো নগরের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং বাণিজ্যের অবস্থা যে ভাল ছিল তা এই সভ্যতায় পাওয়া নিদর্শন থেকে জানা যায়। ওজনের জন্য নগরবাসীরা বিভিন্ন পরিমাপের বাটখারা ব্যবহার করতো। ছোট বাটখারাগুলোর আকৃতি ছিল চারকোণা। আর বড়গুলো ছিল গোলাকার। কোন কোনটি ছিল কিছুটা কৌণিক। সাধারণত পাথর দিয়ে বাটখারা তৈরি করা হতো। বাটখারাগুলোর ওজন সমান থাকায় ধারণা করা হয় ওজনের ব্যাপারে সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা সতর্ক ছিল। বড় বড় এবং ভারি জিনিস ওজন করার জন্য মহেঞ্জোদারোর নগরবাসীরা ব্রোঞ্জের স্কেল ব্যবহার করতো। ভারি বস্তু ওজন করার জন্য কাঠখণ্ড ব্যবহার করা হতো। কাঠখন্ডের এক প্রান্তে দ্রব্য বেঁধে ওজন করা হতো। কোন জিনিসের দৈর্ঘ্য মাপার জন্য মহেঞ্জোদারোর মানুষেরা স্কেল ব্যবহার করত। তাদের স্কেলের দৈর্ঘ্য ছিল ২০.৬২ ইঞ্চির সমান। পরিমাপদন্ডে নির্দিষ্ট ঘর কাটা হতো।

⇒ সিন্ধু সভ্যতা:
- পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারোতে এবং পাঞ্জাবের হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা হচ্ছে দ্রাবিড়রা। এই সভ্যতার অধিবাসীরা ছিল দ্রাবিড়, অস্ট্রোলয়েড, ভূ-মধ্যসাগরীয় মঙ্গোলীয় এবং আলপানীয় গোত্রভুক্ত। এ কারণেই সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতি দ্রাবিড়ীয় সংস্কৃতি নামে পরিচিত।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন ২৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রলয়ঙ্করী বন্যা হয়েছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো প্লাবিত হয় এই বন্যায়। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো শহর এভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে, ক্রমাগত বন্যায় শহর দু'টি ধীরে ধীরে মাটির নীচে চাপা পড়েছে।


উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৩.
কোন যুদ্ধের ফলে ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়?
  1. ক) ত্রাজিমিন যুদ্ধ
  2. খ) ট্রাফালগার যুদ্ধ
  3. গ) ট্রোজান যুদ্ধ
  4. ঘ) ওয়াটারলু যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রোজান যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ট্রোজান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ট্রয় নগরী: 
- হোমারের মহাকাব্যে বর্ণিত ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হেসারলিক নামক স্থানে অবস্থিত।
- প্রায় সোয়া তিন হাজার বছর আগে যে জনপদ ধ্বংস হয়েছিল, সেই সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী স্পার্টার রানি ও ট্রয় রাজপুত্র প্যারিসের প্রেমিকা হেলেনের জন্য।
- ট্রয় এর ধ্বংসের কারণ হেলেনকেন্দ্রিক ঐতিহাসিক ট্রোজান যুদ্ধ
- উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক ফ্র্যাঙ্ক কালভার্ট এবং জার্মান প্রত্নতাত্ত্বিক হেনরিক শ্লিম্যানের প্রচেষ্টায় ট্রয় নগরীর সন্ধান লাভ করা সম্ভব হয়।
- গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: প্রথম আলো(প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০১৬)।
২০৪.
হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান কে ছিলেন?
  1. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  2. শায়েস্তা খাঁ
  3. ঈশা খাঁ
  4. হোসেন শাহ্‌
সঠিক উত্তর:
হোসেন শাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শাহ্‌
ব্যাখ্যা
হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) বাংলার হোসেনশাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি হাবশী সুলতান শামসুদ্দীন মুজাফফর শাহের উজির ছিলেন। তিনি সুলতানকে হত্যা করে সিংহাসন অধিকার করেন।
- ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃস্থানীয় আমীরদের দ্বারা সুলতান নির্বাচিত হন এবং আলাউদ্দিন হুসেন শাহ নাম ধারন করেন।
- তিনিই হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন।
- গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ তার আমলে নির্মিত হয়।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই ও বাংলাপিডিয়া।
২০৫.
কোন সভ্যতায় ‘কলোসিয়াম’ গড়ে ওঠে?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা 
  4. পারস্য সভ্যতা 
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা

কলোসিয়াম:
- কলোসিয়াম প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গড়ে ওঠে। 

⇒ কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন। পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- কলোসিয়ামটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই এবং অন্যান্য জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোর জন্য ব্যবহৃত হতো। 
- এর প্রাথমিক নাম ছিল ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফিথিয়েটার। 
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

• রোমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল। 
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।

⇒ সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৬.
রোমান সভ্যতার প্রেমের দেবতা ছিলেন কে?
  1. ভেনাস
  2. কনকর্ডিয়া
  3. ফিদেস
  4. জুপিটার
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৭.
ইন্দোনেশিয়ার জাতির পিতা বলা হয় কাকে?
  1. ক) মাহাতির মোহাম্মদ
  2. খ) আহমদ সুকর্ণ
  3. গ) আবদুর রহমান ওয়াহিদ
  4. ঘ) সুহার্তো
সঠিক উত্তর:
খ) আহমদ সুকর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আহমদ সুকর্ণ
ব্যাখ্যা
আহমদ সুকর্ণ (১৯০১ - ১৯৭০)
• ১৯০১ সালের ৬ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যৌবনে হল্যান্ডের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছেন। এ জন্যে সুকর্ণকে কারাগারে ও নির্বাসনে থাকতে হয়েছে। ১৯৭০ সালের ২১ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⤇ সুকর্ণ, ইন্দোনেশিয়ার জাতির পিতা। ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার স্থপতি। তিনি ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের উত্থানকালের প্রধান সারির নেতা।
⤇ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান ইন্দোনেশিয়া দখল করে। কিন্তু ১৯৪৫ সালে জাপান পরাজিত হবার পর ইন্দোনেশিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। এ সময় স্বাধীনতাকামীরা জাপানীদের রেখে যাওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে এবং সুকর্ণর নেতৃত্বে তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করে। স্বাধীনতাকামীরা চার বছর লড়াই করে হল্যান্ডের সেনাদের ইন্দোনেশিয়া থেকে বিতাড়িত করে।
⤇ সুকর্ণ ১৯৪৯ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক সংস্কার সাধন করেন। সুকর্ণ জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। 

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
২০৮.
দাস প্রথার অবসানে কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন?
  1. ক) আব্রাহাম লিংকন
  2. খ) উড্রো উইলসন
  3. গ) জর্জ ওয়াশিংটন
  4. ঘ) ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
সঠিক উত্তর:
ক) আব্রাহাম লিংকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা
• গেটিসবার্গের ভাষণ (Gettysburg Address) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের একটি বিখ্যাত ভাষণ।
• আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গে এই ভাষণ দেন।
• ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর ভাষণটি দিতে তাঁর লেগেছিল তিন মিনিটেরও কম সময়। শব্দ ছিল মাত্র ২৭২টি। অথচ তার শিহরণ লেগেছিল গোটা বিশ্বে। 
• আব্রাহাম লিংকন ছিলেন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট। ১৮৬১ সালের ৪ মার্চ থেকে ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
• ১৮৬৩ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাস প্রথার অবসান ঘটান এবং দাসত্ব মোচন ঘোষণার মাধ্যমে দাসদের মুক্ত করে দেন দাসপ্রথাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ সময় গৃহযুদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র: কার্নেল ইউনিভার্সিটি ওয়েবসাইট ও কালেরকণ্ঠ রিপোর্ট।
২০৯.
সম্রাট অশোক কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন?
  1. মৌর্য
  2. গুপ্ত
  3. পাল
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌর্য
ব্যাখ্যা

⇒ সম্রাট অশোক মৌর্য রাজবংশের শাসক ছিলেন।

অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন। 
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১০.
Where was the Inca civilization built?
  1. Chile
  2. Mexico
  3. Peru
  4. China
  5. Columbia
সঠিক উত্তর:
Peru
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Peru
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ইনকা সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

উৎস: Britannica.
২১১.
রোম সভ্যতার প্রেমের দেবতা ছিলেন -
  1. জুপিটার
  2. মিনার্ভা
  3. নেপচুন
  4. ভেনাস
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১২.
ব্যাবিলন কোন সভ্যতার অংশ ছিল?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. মেসোপটেমিয়ান সভ্যতা
  3. গ্রীক সভ্যতা
  4. সিন্ধু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমিয়ান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমিয়ান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
- সুমেরীয় সভ্যতা,
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
- অ্যাসেরীয় সভ্যতা,
- ক্যালেডীয় সভ্যতা।
- এই সভ্যতা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থান।
- এই সভ্যতার দেশ সমূহ- ইরাক, কুয়েত, তুরস্ক, ও সিরিয়ার অংশবিশেষ।

উল্লেখ্য,
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর তীরে মেসোপটেমীয় সভ্যতা সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- Mesopatamia শব্দের মানে দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৩.
জেনেভা কনভেনশন-১৯৪৯ কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) মানব পাচার রোধ
  2. খ) রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ
  3. গ) যুদ্ধকালীন আচরণ বিধি
  4. ঘ) শিশু অধিকার
সঠিক উত্তর:
গ) যুদ্ধকালীন আচরণ বিধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যুদ্ধকালীন আচরণ বিধি
ব্যাখ্যা
জেনেভা কনভেনশন:
- জেনেভা কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক আইন যা যুদ্ধকালীন মানবাধিকার এবং মানবিক আচরণ সংক্রান্ত কিছু মৌলিক নীতি নির্ধারণ করে।
- এই কনভেনশনগুলি মূলত যুদ্ধবন্দী, আহত বা অসুস্থ সেনা সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘জেনেভা কনভেনশন’ স্বাক্ষরিত হয়।
- এর আওতায় ৪টি চুক্তি ও ৩টি প্রটোকল রয়েছে।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১২ আগস্ট, ১৯৪৯ সালে।
- এই চুক্তিকে ‘চারটি রেডক্রস কনভেনশন’ বলা হয়।

⇒ মূল জেনেভা কনভেনশনগুলো:
১. প্রথম কনভেনশন (১৮৬৪): আহত ও অসুস্থ সেনা সদস্যদের সুরক্ষা এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে।
২. দ্বিতীয় কনভেনশন (১৯০৬): সমুদ্রে যুদ্ধরত সেনাদের সুরক্ষা ও তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত। ১৯০৭ সালে ‘হেগ চুক্তি’ সংশোধন করে এটি স্বাক্ষরিত হয়।
৩. তৃতীয় কনভেনশন (১৯২৯): যুদ্ধবন্দীদের সুরক্ষা এবং তাদের প্রতি মানবিক আচরণ।
৪. চতুর্থ কনভেনশন (১৯৪৯): সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা, বিশেষত যুদ্ধক্ষেত্র বা দখলদারিত্বের সময়।

উল্লেখ্য,
• কনভেনশনের সংশোধন ও আধুনিকায়ন:
- ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কনভেনশনগুলোর সংস্করণ আরো উন্নত ও আধুনিক করা হয় এবং ১৯৭৭ ও ২০০৫ সালে আরও প্রোটোকল যুক্ত করা হয়।
- এর মাধ্যমে যুদ্ধের সময় মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।

⇒ প্রটোকলসমূহ:
• প্রটোকল:
- ১৯৭৭ সালে; ১; আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি রক্ষার্থে গৃহীত হয়।
• প্রটোকল: ২;
- ১৯৭৭ সালে; অ-আন্তর্জাতিক সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিবর্গকে রক্ষার সাথে সম্পর্ক।
• প্রটোকল: ৩;
- ২০০৫ সালে; অতিরিক্ত স্বাতন্ত্র্যসূচক প্রতীক পরিগ্রহ করা সংক্রান্ত বিষয়ে গৃহীত হয়।

উৎস: INTERNATIONAL COMMITTEE OF THE RED CROSS.
২১৪.
পেলোপনেসীয় যুদ্ধ কোন দুটি নগর রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. এথেন্স ও থিবস
  2. স্পার্টা ও করিন্থ
  3. এথেন্স ও স্পার্টা
  4. থিবস ও করিন্থ
সঠিক উত্তর:
এথেন্স ও স্পার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এথেন্স ও স্পার্টা
ব্যাখ্যা

পেলোপনেসীয় যুদ্ধ প্রধানত দুটি গ্রিক নগর-রাষ্ট্র এথেন্স এবং স্পার্টা-এর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল।

পেলোপনেসিয়ার যুদ্ধ:

- এথেন্স ও স্পার্টা উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা ইতিহাসে পেলোপনেসিয়ার যুদ্ধ নামে পরিচিত।

⇒ জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য ও রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে বিশ্বসভ্যতায় অবিস্মরণীয় অবদান রাখা নগররাষ্ট্র এথেন্সের পতন হয় সামরিক নগররাষ্ট্র স্পার্টার কাছে।
- ৪৬০ থেকে ৪০৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত মোট তিনবার এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে দুই রাষ্ট্র পরস্পরের মিত্রদের নিয়ে জোট গঠন করে।
- এথেন্সের মিত্র রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জোটের নাম ছিল 'ডেলিয়ান লীগ'।
- অপরদিকে স্পার্টা তার মিত্রদের নিয়ে যে জোট গঠন করে, তার নাম ছিল 'পেলোপনেসীয় লীগ'।
- এই মরণপণ যুদ্ধে এথেন্সের মান-মর্যাদা ও স্বাধীনতা বিলীন হয়ে যায়।
- ৩৬৯ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এথেন্স চলে যায় স্পার্টার অধীনে।
- ৩৩৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মেসিডোনের (গ্রিস) রাজা ফিলিপ থিরাস দখল করে নিলে এথেন্স মেসিডোনের অধীনে চলে যায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৫.
‘কিউনিফর্ম’ মূলত কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. মিশরীয়
  2. সুমেরীয়
  3. অ্যাসেরীয়
  4. ব্যাবিলনীয়
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
ব্যাখ্যা

• সুমেরীয় সভ্যতা:
- সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির নাম “কিউনিফর্ম” (Cuneiform)।
- কিউনিফর্ম লিপি বাম থেকে ডানদিকে লেখাঁ হত এবং এর বর্ণের সংখ্যা ছিলো — ৩২টি।
- তারা বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য হিসাবে বিবেচিত — “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেছিলেন।   

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

২১৬.
লিপজিগের যুদ্ধে ইউরোপের ষষ্ঠ কোয়ালিশিন নেপোলিয়ানকে পরাজিত করে নির্বাসনে পাঠায়-
  1. ক) হনশু দ্বীপে
  2. খ) এলবা দ্বীপে
  3. গ) সেন্ট হেলেনা দ্বীপে
  4. ঘ) সেনকাকু দ্বীপে
সঠিক উত্তর:
খ) এলবা দ্বীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এলবা দ্বীপে
ব্যাখ্যা
১৮১৩ সালে লিপজিগের যুদ্ধে ইউরোপের ষষ্ঠ কোয়ালিশিনের কাছে পরাজিত হন নেপোলিয়ান। একই বছর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফ্রান্স দখল করে নেয় কোয়ালিশন। ১৮১৪ সালে নেপোলিয়ানকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়। কিছুদিন পরই নেপোলিয়ান সেখান থেকে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতার করতে অষ্টদশ লুইয়ের নেতৃত্বে একদল সেনাবাহিনী পাঠানো হয়। কিন্তু নাটকীয়ভাবে সৈন্যদলটি নেপোলিয়ানের সঙ্গে হাত মিলায়। তারা ফিরে এসে ফ্রান্স দখল করেন এবং নেপোলিয়ান আবার ফ্রান্সের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৮১৫ সালের ওয়াটার লু যুদ্ধে নেপোলিয়নের পরাজয় হয় ও তাকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
সূত্র- বাংলাদেশ টাইমস পত্রিকা এবং worldatlas ওয়েবসাইট।
২১৭.
পিকিং মানবের জীবাশ্ম কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. লাস্কো গুহা, ফ্রান্স
  2. নিয়ান্ডার ভ্যালি, জার্মানি
  3. অল্ডুভাই গর্জ, তানজানিয়া
  4. ঝৌকৌদিয়ান গুহা, বেইজিং
সঠিক উত্তর:
ঝৌকৌদিয়ান গুহা, বেইজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝৌকৌদিয়ান গুহা, বেইজিং
ব্যাখ্যা

পিকিং মানব (Peking Man):
- পিকিং মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির একটি আদিম মানুষের গোষ্ঠী।
- ১৯২০-এর দশকে চীনের বেইজিংয়ের (তৎকালীন পিকিং) নিকটবর্তী ঝৌকৌদিয়ান (Zhoukoudian) গুহায় এদের জীবাশ্ম বা কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,৫০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯২১ সালে সুইডিশ ভূতাত্ত্বিক জোহান গুনার অ্যান্ডারসন প্রথম এই স্থানটি শনাক্ত করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে কানাডীয় নৃতাত্ত্বিক ডেভিডসন ব্ল্যাক একটি দাঁত খুঁজে পান এবং একে একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯২৯ সালে চীনা প্রত্নতাত্ত্বিক পেই ওয়েনঝং (Pei Wenzhong) প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ খুলি (Skullcap) আবিষ্কার করেন।

• আগুনের ব্যবহার: পিকিং মানবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আগুনের ব্যবহার।
- গুহায় পোড়া হাড় এবং ছাইয়ের স্তর দেখে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তা ব্যবহার করে খাবার রান্না করতে শিখিয়েছিল। এটি মানব বিবর্তনের ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক।

• হাতিয়ার তৈরি:
- মূলত শিকার করা এবং পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য তারা কুঠার ও চাঁছনি ব্যবহার করত।

• রহস্যময় অন্তর্ধান (Missing Fossils):
- ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জাপান চীন আক্রমণ করে, তখন নিরাপত্তার খাতিরে পিকিং মানবের আদি কঙ্কালগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- কিন্তু যাত্রাপথে সেগুলো রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায় এবং আজ অবধি সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
- বর্তমানে কেবল কঙ্কালগুলোর ছাঁচ (Casts) টিকে আছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

২১৮.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) এটলি
  2. খ) চার্চিল
  3. গ) গ্লাডস্টন
  4. ঘ) চেম্বারলেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) চেম্বারলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চেম্বারলেন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৪০ সালের মে পর্যন্ত চেম্বারলেন, মাঝের চার্চিল এবং যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত এটলি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিয়া।
২১৯.
'ইনিড' মহাকাব্যটি কার লেখা?
  1. ভার্জিল
  2. হোরাস
  3. ওভিদ
  4. হোমার
সঠিক উত্তর:
ভার্জিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভার্জিল
ব্যাখ্যা
সাহিত্যে রোমানদের অবদান:  
- সম্রাট অগাসটাস সীজারের যুগে রোমান সাহিত্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উন্নতি হয়।
- এ যুগের কবি হোরাস, ভার্জিল যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- ভার্জিলের মহাকাব্য 'ইনিড' বহু ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।
- ওভিদ ও লিভি ছিলেন এ যুগের দুইজন খ্যাতিমান কবি।

প্রাচীন গ্রিসের সাহিত্য:
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২০.
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারের প্রাচীন অধিবাসীরা কোন গোত্রের?
  1. দ্রাবিড় গোত্র
  2. আর্য গোত্র
  3. আদিম উপজাতি
  4. মঙ্গোলীয় গোত্র
সঠিক উত্তর:
দ্রাবিড় গোত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাবিড় গোত্র
ব্যাখ্যা
দ্রাবিড়:
- ভারতে আর্যদের আগমনের পূর্বে দ্রাবিড় জাতির বসবাস ছিল।
- এই জাতিগোষ্ঠী দক্ষিণে ইন্দো-আফ্রিকার নিগ্রোদের গোত্রভুক্ত।
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে যে আদিবাসীদের অস্তিত্বের কথা সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের ফলে জানা যায় এরাই দ্রাবিড় জাতি।
- প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেই ভারতে দ্রাবিড়দের অবস্থান ছিল বলে অনুমান করা হয়।
- দ্রাবিড়দের মূল পেশা ছিল কৃষিকাজ।
- এরা আদিম অবস্থা অতিক্রম করে ভারতে নগর গড়ে তোলে এবং প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র।
- তারা মিশর, প্যালেস্টাইন, পারস্য, মেসোপটেমিয়া, ব্যবিলনিয়া ও এশিয়া মাইনর প্রভৃতি দেশে বাণিজ্য করত।
- তাদের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল হাতির দাঁত, স্বর্ণ, মূল্যবান পাথর, ধান, কাঠ, বানর ও ময়ূর।
- দ্রাবিড় ভাষার সাথে এখনও তামিল, তেলেগু, কানাড়ীয়, মালিয়াম প্রভৃতি অঞ্চলের ভাষার মিল রয়েছে।
- দ্রাবিড়দের সমাজ কাঠামো ছিল মাতৃতান্ত্রিক।
- দ্রাবিড় সমাজে কোন বর্ণভেদ ছিল না।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
নিচের কোন সভ্যতা মেসোপটেমিয়ার অংশ নয়?
  1. সুমেরীয়
  2. মিসরীয়
  3. অ্যাসেরীয়
  4. ব্যাবিলনীয়
সঠিক উত্তর:
মিসরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিসরীয়
ব্যাখ্যা

মেসোপটেমীয়:
- মিসরীয় সভ্যতা মেসোপটেমিয়ার অংশ নয়।
- আধুনিক ইরাক রাষ্ট্রের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (যথাক্রমে দজলা ও ফোরাত) নদীর অববাহিকায় কয়েকটি সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।
-  এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা সভ্যতাগুলো একত্রিতভাবে ‘মেসোপটেমীয় সভ্যতা' নামে পরিচিত। 
- একে অনেকে ‘Fertile Crescent' বা 'অর্ধচন্দ্রাকৃতি উর্বর ভূমি'ও বলে থাকে। 
- ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মিসরীয় সভ্যতার সমসাময়িক মেসোপটেমীয় সভ্যতা অনেকগুলো জাতির অবদানে গড়ে ওঠে। 
- এ সকল জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, কাসাইট, অ্যাসিরীয় এবং ক্যালডীয়রা অন্যতম।
- ‘মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ-যার অর্থই হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ। আর দুই নদী বলতে ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিসকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। 
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অগ্রদূত ছিলো সুমেরীয় জাতি।
- মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অন্তগর্ত- সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাসেরীয় সভ্যতা, ক্যালডীয় সভ্যতা।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। 
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। 
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
 
 উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২২২.
রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন কে?
  1. জিউস
  2. ভেনাস
  3. জুপিটার
  4. নেপচুন
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৩.
প্রাচীন রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা কে ছিলেন?
  1. মিনার্ভা
  2. জিউস
  3. এথেনা
  4. জুপিটার
সঠিক উত্তর:
জুপিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুপিটার
ব্যাখ্যা

রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি। 
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল। 
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৪.
শিখদের ধর্মগ্রন্থের নাম---
  1. ক) ত্রিপিটক
  2. খ) নানক সাহেব
  3. গ) গ্রন্থ সাহেব
  4. ঘ) গুরু গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রন্থ সাহেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রন্থ সাহেব
ব্যাখ্যা
শিখ (Sikhism) 
• উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - ১৫ শতকের শেষের দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের পাঞ্জাব অঞ্চলে শিখ ধর্ম, ধর্ম এবং দর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়। • এর সদস্যরা শিখ নামে পরিচিত। 
• প্রবর্তক - গুরু নানক।
• ধর্মগ্রন্থ - গ্রন্থ সাহেব (আদি গ্রন্থ)।
• উপাসনালয় - গুরু দুয়ারা।
• পবিত্র স্থান - শিখদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান - পাঞ্জাবের অমৃতসরে অবস্থিত ‘স্বর্ণমন্দির’। 

অন্যদিকে,
• ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ - হিব্রু বাইবেল (তাওরাত)।
• বৌদ্ধধর্মের ধর্মগ্রন্থ - ত্রিপিটক।
• হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ - বেদ।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বিএ, বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৫.
নিচের কোন দেশসমূহের মাঝে ইয়োপ কিপুর যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. যুক্তরাজ্য-সোভিয়েত ইউনিয়ন
  2. ফ্রান্স-ইংল্যান্ড
  3. চীন-জাপান
  4. আরব-ইসরাইল
সঠিক উত্তর:
আরব-ইসরাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরব-ইসরাইল
ব্যাখ্যা
ইয়োম কিপুর যুদ্ধ:
- মোট ৪টি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- Yom Kippur War নামে পরিচিত ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- আরব দেশসমূহ পাশ্চাত্যের উপর তেল অবরোধ করে ইয়োম কিপুর যুদ্ধে।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়োম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।
- এসময় মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস ছিল।
- এই যুদ্ধ অক্টোবর যুদ্ধ ও রমজান যুদ্ধ নামেও পরিচিত।

উৎস: World Atlas.
২২৬.
কোন সভ্যতায় প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় বিভক্ত করা হয়?
  1. সুমেরীয়
  2. মিশরীয়
  3. ক্যালডীয়
  4. ফিনিশীয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়
ব্যাখ্যা
ক্যালডীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাদ নেজার।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি হাম্মুরাবির সংস্কৃতি অনেকটাই গ্রহণ করেছিল ক্যালডীয়রা।
- সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার তৈরি করেছিলেন আশ্চার্য সুন্দর এক বাগান, ইতিহাসে যা 'শূন্য উদ্যান' নামে পরিচিত।
- ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- ক্যালডীয়দের প্রধান দেবতা ছিল বৃহস্পতি বা জুপিটার গ্রহ। 
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- তারাই প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় বিভক্ত করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দে ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে পারস্য সম্রাট কাইরাস ক্যালডীয়দের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৭.
রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সিজার
  2. অক্টাভিয়ান
  3. রোমিউলাস
  4. নিরো
সঠিক উত্তর:
রোমিউলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমিউলাস
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা: 
-  টাইবার নদীর উৎসমুখ থেকে প্রায় বারো-তেরো মাইল
- দূরে সাতটি পর্বতশ্রেণির ওপর রোম অবস্থিত।
- এজন্য একে সাতটি পর্বতের নগরীও বলা হয়।
- ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর একদল মানুষ ইতালিতে বসবাস শুরু করে।
- তাদেরকেই লাতিন বলা হতো।
- তাঁদের নাম অনুসারে ভাষার নামও হয় লাতিন ভাষা।
- লাতিন রাজা রোমিউলাস রোম নগরীর প্রতিষ্ঠা করেন।
- তাঁর নাম অনুযায়ী নগরের নাম হয় রোম।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা। 

২২৮.
প্রাচীন চীনারা কোন ধরনের লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করত?
  1. বর্ণভিত্তিক
  2. চিত্রভিত্তিক
  3. ধ্বনিভিত্তিক
  4. সাংকেতিক সংখ্যা
সঠিক উত্তর:
চিত্রভিত্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রভিত্তিক
ব্যাখ্যা

চৈনিক সভ্যতা (Chinese Civilization):
- চীনের হোয়াংহো (Yellow River) ও ইয়াংসিকিয়াং (Yangtze River) নদীর অববাহিকায় এই সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- হোয়াংহো নদীতে প্রায়ই ভয়াবহ বন্যা হতো, যা জনপদ ধ্বংস করত। এ কারণে নদীটিকে ‘চীনের দুঃখ’ বলা হয়। তবে এই বন্যার পলিমাটিই জমিকে উর্বর করে সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখে।

• সাং রাজবংশের সময় থেকেই চীনে লিখন পদ্ধতির বিকাশ ঘটে।
- উত্তর দিক থেকে আগত যাযাবর জাতিগোষ্ঠীর (যেমন—জিয়ংনু) আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সম্রাট কিন শি হুয়াং চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
- এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থাপত্য নিদর্শন।

• চীনারা চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করত।
- পরবর্তীকালে তারা গাছের ছাল, পুরনো কাপড় ও শণজাত আঁশ থেকে বিশ্বের প্রথম কাগজ আবিষ্কার করে।

• কনফুসিয়াস ও লাও-ৎসে-র দর্শন চীনা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে।
- কনফুসিয়াসের নৈতিকতা ও কর্তব্যভিত্তিক দর্শন রাষ্ট্রশাসন ও সমাজব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে।

- চীনের রেশম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ছিল। এই রেশম পরিবহনের দীর্ঘ বাণিজ্যপথকে ‘সিল্ক রোড’ বলা হয়,
- যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ স্থাপন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৯.
'বার বিধি' (The Twelve Tables) সম্পর্কিত কোন সভ্যতার সাথে?
  1. গ্রীক সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা
  4. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
রােমান সভ্যতা:
- রোমান সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান ছিলো আইন প্রণয়নে।
- আধুনিক বিশ্বে রোমান আইন থেকে অনেক কিছু ধার করা হয়েছে।
- রোমান আইনের মূল ভিত্তি ছিলো 'বার বিধি' (The Twelve Tables), যা খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ সালে প্রচলিত হয়।
- গ্রিক সভ্যতা পতনের আগে ইতালির টাইবার নদীর তীরে একটি শক্তিশালী সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রোমে গড়ে ওঠা এই সভ্যতাটি রোমান সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।
- প্রাথমিক সময়ে রোম ছিলো একটি রাজত্ব, যেখানে রাজা শাসন করতেন।
- রোমে একটি সভা এবং সিনেট ছিলো, যা রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতো।
- রাজার স্বৈরাচারী শাসনের কারণে, ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বে রোমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রোমান সভ্যতা প্রায় ৬০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- রোমের অর্থনীতি ছিলো মূলত দাসদের উপর নির্ভরশীল।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩০.
কোন শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়?
  1. ত্রয়োদশ
  2. চতুর্দশ
  3. পঞ্চদশ
  4. ষোড়শ
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় রেনেসাঁ:
- ইংরেজি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

⇒ চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁ শুরু হয়।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে রেনেসাঁস এর গোড়াপত্তন ঘটে।
- ফ্লোরেন্স ছিল ইতালির একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং ১৪শ ও ১৫শ শতাব্দীতে এটি শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এটি ছিল রেনেসাঁ আন্দোলনের সূচনা এবং বিকাশের জন্য একটি প্রধান স্থান।
- পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে রিফরমেশন, ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে রুশ বিপ্লব ও চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে।
- তবে ইতালিতেকেই রেনেসাঁসের প্রথম পর্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২৩১.
‘Know Thyself' বিখ্যাত উক্তিটির জনক কে?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) আলেকজান্ডার
  3. গ) সক্রেটিস
  4. ঘ) অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
গ) সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
গ্রিক দর্শন ও সংস্কৃতি:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে। 
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস। 
- সক্রেটিস এর ছাত্র প্লেটো ও প্লেটো এর ছাত্র এ্যারিস্টটল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে। 
- এই সকল যুক্তিবাদী দার্শনিককে সফিস্ট বলা হয়। 

- গ্রিক দর্শনে অন্যতম দার্শনিক সক্রেটিস নিজের সত্য প্রকাশে অনড় থেকে শাসকের নির্দেশে বিষপান করে মৃত্যুবরণ করেন। 
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি ‘নিজেকে জানো' (Know Thyself)। 
- তাঁর শিষ্য প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য অ্যারিস্টটলের সর্বকালের বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন। 
- প্লোটো বারো বছর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে ‘একাডেমি' নামে একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। 
- শিক্ষাগুরু প্লেটোর সাথে জ্ঞানের ক্ষেত্রে মতের কিছুটা অমিল ঘটলে এ্যারিস্টটল নিজেই 'লাইসিয়াম' নামক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। 

- প্লেটোর বিখ্যাত গ্রন্থ সিম্পোজিয়াম, রিপাবলিক এবং লজ প্রভৃতি। 
- অ্যারিস্টটলের বিখ্যাত গ্রন্থ লজিক, ফিজিক্স এবং পলিটিক্স প্রভৃতি। 
- অ্যারিস্টটলের পলিটিক্স' (Politics) গ্রন্থে রাজনীতি, গণতন্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে মতামত তুলে ধরা হয়েছে।
- প্লেটোর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দি রিপাবলিক'। 
- আর বিশ্ববিজেতা আলেকজান্ডার নিজেও একজন দার্শনিক ও জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। 
- তাঁর শিক্ষক ছিলেন দার্শনিক প্লেটো। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩২.
কত সালে চীনে ‘শতফুল ফুটতে দাও’ নীতি গৃহীত হয়?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
মাও সেতুং:
- চীনা কমিউনিষ্ট আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাও সেতুং।
- তিনি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রধান স্থপতি। 
- ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর, এক বিপ্লবের মাধ্যমে কমিউনিস্ট বিপ্লবী মাও-সেতুং এর নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তাই মাও-সেতুং কে গণচীনের জনক বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা স্ট্যালিনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের নীতি অনুসৃত হলে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে মাও-সেতুং চীনে ‘শত ফুল ফুটতে দাও’ নীতির আওতায় বুদ্ধিজীবীদের কাছ থেকে আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনের সমালোচনা আহবান করেন। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘বৃহৎ উল্লম্ফন কর্মসূচী’ নীতিমালার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত কমিউনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

উৎস: i) Britannica.
         ii) History.com
২৩৩.
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে কোন চৈনিক পর্যটক ভারত সফর করেন?
  1. হিউয়েন সাং
  2. ফা-হিয়েন
  3. ইতসিং
  4. মার্কো পোলো
সঠিক উত্তর:
ফা-হিয়েন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফা-হিয়েন
ব্যাখ্যা

⇒ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে চৈনিক পর্যটক ফা-হিয়েন ভারত সফর করেন।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত:

- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ছিলেন সমুদ্রগুপ্তের উত্তরাধিকারী।
- সেই হিসাবে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করেন।
- পশ্চিম ভারত থেকে শকদের বিতাড়ন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের মুখ্য সামরিক কৃতিত্ব।
- এ কারণে তিনি 'শকারি' উপাধি গ্রহণ করেন।
- বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তিনি নাগ ও বাকাটক বংশীয় রাজাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন।
- তাঁর সভা অলঙ্কৃত করেছিলেন মহাকবি কালিদাসসহ অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি।
- শৌর্য-বীর্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক উন্নতির পরিচয় বহন করে তাঁর রাজত্বকাল।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৪.
মেসোপটেমিয়ারা কিসে বিশ্বাসী ছিলেন?
  1. একঈশ্বরবাদে
  2. বহুঈশ্বরবাদে
  3. গনতান্ত্রিক ঈশ্বরবাদে
  4. নাস্তিকবাদে
সঠিক উত্তর:
বহুঈশ্বরবাদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুঈশ্বরবাদে
ব্যাখ্যা
♦ মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার নাম মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- 'মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি ।
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম মেসোপটেমিয়া।
- গ্রীক লেখকগণ মূলত এই নামকরণটি করে ছিলেন।
- মেসোপটেমিয়া দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো: উত্তর ও দক্ষিণ।
- উত্তর অংশের বর্তমান নাম অ্যাসেরীয়।
- দক্ষিণ অংশের নাম মেসোপটেমিয়া।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল অবস্থিত।
- এছাড়াও সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কুয়েতে এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে।
- মেসোপটেমিয়ার লোকজন বহুঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলো।

উৎস: Britannica.
২৩৫.
মেক্সিকো অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রাচীন সভ্যতার নাম -
  1. ক) মেসোপটেমীয় ও সিন্ধু
  2. খ) ভাইকিং ও ক্যালডী
  3. গ) আজটেক ও মায়া
  4. ঘ) আকসুম ও ইনকা 
সঠিক উত্তর:
গ) আজটেক ও মায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আজটেক ও মায়া
ব্যাখ্যা
মেক্সিকো অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রাচীন সভ্যতার নাম - আজটেক ও মায়া।

• আজটেক সভ্যতা ও মায়া সভ্যতা :
- অবস্থান - মধ্য ও দক্ষিণ মেক্সিকো।
- সময়কাল -১৩৪৫-১৫২১ খ্রিষ্টাব্দ।
- আজটেক যোদ্ধারা তাদের প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল এবং মন্টেজুমার মতো শাসকদেরকে মেক্সিকো জুড়ে অ্যাজটেক আদর্শ এবং ধর্ম আরোপ করার অনুমতি দিয়েছিলো।
- তারা কৃষি ও বাণিজ্যে অত্যন্ত দক্ষ ছিল।

এছাড়াও,
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন - গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং ২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

উৎস: হিস্টোরি ডট কম ও ব্রিটানিকা।
২৩৬.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা খর্বাকার জাতি হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. মাউরি
  2. জুলু
  3. পিগমি
  4. রেড ইন্ডিয়ান
সঠিক উত্তর:
পিগমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিগমি
ব্যাখ্যা
পিগমি জাতি (Pygmy):
- পিগমি জাতি পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা খর্বাকৃতি জাতি হিসেবে পরিচিত।
- এদের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের গড় উচ্চতা ১৫০ সেন্টিমিটারের (৫৯ ইঞ্চি) কম হয়ে থাকে।
- যাদের উচ্চতা কিছুটা বেশি, তাদের বলা হয় পিগময়েড (Pygmoid)।
- সবচেয়ে পরিচিত পিগমি গোষ্ঠী পাওয়া যায় মধ্য আফ্রিকার ইটুরি বনাঞ্চলে (বর্তমান কঙ্গো)।
- কঙ্গো নদীর দক্ষিণের জলাভূমিতে এদের বসবাস।
- অধিকাংশ পিগমি জনগোষ্ঠী শিকার ও সংগ্রহকৃত খাদ্য-নির্ভর জীবন যাপন করে।

এছাড়া,
- দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান অধিবাসীদের বলা হয় - জুলু।
- নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের বলা হয় - মাউরি।
- যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসীদের বলা হয় - রেড ইন্ডিয়ান।

তথ্যসূত: ব্রিটানিকা।
২৩৭.
মহেঞ্জোদারো কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. পাঞ্জাব প্রদেশ
  2. বেলুচিস্তান
  3. গুজরাট
  4. সিন্ধু প্রদেশ
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু প্রদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু প্রদেশ
ব্যাখ্যা

- মহেঞ্জোদারো পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় অবস্থিত।

সিন্ধু সভ্যতা: 

- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- এই সভ্যতা শুধু সিন্ধু নদীর অববাহিকা বা ঐ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৮.
ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা হয় কাদের?
  1. মিশরীয়দের
  2. ইংরেজদের
  3. চৈনিকদের
  4. ব্য়াবিলনীয়দের
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়দের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়দের
ব্যাখ্যা

মিশরীয়দের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য:
- মিশরীয়দের বলা হয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা।
- পাথর কেটে কেটে তারা প্রকাণ্ড সব সৌধ বানাতে ছিল খুব দক্ষ। 
- তাদের এসব সৌধ হচ্ছে মিশরের বিখ্যাত পিরামিড। 
- সবচেয়ে বড় পিরামিড ফারাও খুফুর পিরামিড যার উচ্চতা ৪৮১ ফুট। 
- তাদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্যে তৈরি করা হয়েছিল পিরামিড। 
- মধ্যরাজ বংশের আমলে পিরামিডের বদলে ফারাওরা তৈরি করেন ধর্ম মন্দির। 
- সবচেয়ে বড় মন্দির কারনাক মন্দির। ভাস্কর্যের অধিকাংশ নিদর্শন দেখা যায় সমাধি, সৌধ ও মন্দিরের প্রবেশ পথে। 
মন্দিরের ভেতরের দেয়াল সাজানো হতো মূর্তি খোদাই করে।
- মিশরীয় ভাস্কর্যের সবচেয়ে গৌরব 'স্ফীংস' তৈরিতে।  বহুখণ্ড পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হতো এ ভাস্কর্য। এর দেহ ছিল সিংহের আর মাথা ছিল ফারাওয়ের।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৯.
মায়া সভ্যতায় কত দিন বিশিষ্ট ধর্মীয় ক্যালেন্ডার তৈরী করা হয়েছিল?
  1. ১৮০ দিন
  2. ২১৩ দিন
  3. ২৬০ দিন
  4. ৩৬৫ দিনে
সঠিক উত্তর:
২৬০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬০ দিন
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
⇒ প্রাচীন মায়া সভ্যতা।
- সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

⇒ ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা।
- সময়কাল:(২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

♦ মায়া সভ্যতার ক্যালেন্ডার:
- মায়ারা ২টি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল। যথা -
• হাব: ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন: ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com

২৪০.
বৌদ্ধ সভ্যতার তীর্থস্থান 'তক্ষশীলা' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) পাকিস্তান
  2. খ) নেপাল
  3. গ) শ্রীলংকা
  4. ঘ) ভারত
সঠিক উত্তর:
ক) পাকিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
তক্ষশীলা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। 
- প্রাচীন তক্ষশীলা নগরী ছিল হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং বর্তমান সময়েও উক্ত ধর্মদুটির ঐতিহ্যে এ স্থানটির একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৮০ সালে বেশকিছু এলাকাসহ তক্ষশীলাকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- গার্ডিয়ান পত্রিকা ২০০৬ সালে এটিকে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যটন স্থান হিসেবে নির্বাচিত করে।
- কথিত আছে, কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্র এই নগরেই রচনা করেছিলেন ।

উৎস: ব্রিটানিকা
২৪১.
ট্রাফালগার স্কয়ার কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) প্যারিস
  2. খ) মাদ্রিদ
  3. গ) লন্ডন
  4. ঘ) লিসবন
সঠিক উত্তর:
গ) লন্ডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লন্ডন
ব্যাখ্যা
- ট্রাফালগার স্কয়ার যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- ১৮০৫ সালের ২১ অক্টোবর আটলান্টিক মহাসাগরে স্পেনের ট্রাফালগার উপকূলে ফ্রান্স ও স্পেনের সাথে ব্রিটেনের ট্রাফালগার নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে অ্যাডমিরাল নেলসনের কৃতিত্বে ব্রিটেন জয় লাভ করে।
- ট্রাফাগাল যুদ্ধ জয় ও যুদ্ধের সেনাপতি অ্যাডমিরাল নেলসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ট্রাফালগার স্কয়ার নির্মাণ করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
২৪২.
ইনকা সভ্যতার নিদর্শন হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. মাচু পিচু
  2. পার্থেনন
  3. পিসাক
  4. পিকু মিক্কু
সঠিক উত্তর:
মাচু পিচু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাচু পিচু
ব্যাখ্যা
- মাচু পিচুর ইনকা সভ্যতার নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা,
- এটি পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- ইনকা সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মানকো কাপেক।
- এই সভ্যতার সময়কাল ১৪০০ থেকে ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকাদের স্থাপত্য ও সংস্কৃতি অত্যন্ত উন্নত ছিল, এর অন্যতম নিদর্শন মাচু পিচুর ধ্বংসাবশেষ।

সূত্র: Britannica.
২৪৩.
কোন সম্রাট বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সূচনা করেন এবং রাজধানী কনস্টান্টিনোপল স্থাপন করেন?
  1. জুলিয়াস সিজার
  2. কনস্টানটাইন 
  3. থিওডোসিয়াস
  4. জাস্টিনিয়ান
সঠিক উত্তর:
কনস্টানটাইন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনস্টানটাইন 
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ছিল মূলত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য ৩৩০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর নামকরণ করেন কনস্টান্টিনোপল।
- পূর্ব রাজধানীকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া মাইনরসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল শাসিত হতো।

উল্লেখ্য,
- ১৪৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল জয় করেন। আর এর মাধ্যমে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন বা সমাপ্তি সম্পন্ন হয়। 

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৪.
‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যটি কোন যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত?
  1. ট্রয় যুদ্ধ
  2. মেসোপটেমিয়ার যুদ্ধ
  3. গ্রিক-পার্সিয় যুদ্ধ
  4. পোলোপনেশীয় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ট্রয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

হোমারের মহাকাব্য:
- গ্রিক সভ্যতার ক্রমবিকাশে আদিকালকে 'হোমারিক যুগ' বলা হয়। গ্রিক কবি হোমারের নাম থেকে এ যুগের নামকরণ করা হয়। 
- ঐতিহাসিকদের মতে হোমার ছিলেন একজন অন্ধ কবি।
- বিখ্যাত কবি হোমার 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' নামে দুটি মহাকাব্য রচনা করেন।

• ইলিয়াড:
- ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যটি মূলত ট্রয় যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত।

- এখানে হেলেনের অপহরণ এবং ট্রয় শহরের বিরুদ্ধে গ্রিসের যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- বিশেষ করে গ্রিক বীর অ্যাকিলিস ও ট্রয়ের রাজপুত্র হেক্টরের দ্বন্দ্ব ও পরিণতি এই মহাকাব্যের মূল বিষয়বস্তু। 
- যুদ্ধের শেষ কয়েক সপ্তাহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মহাকাব্য রচিত।

• ওডিসি: এটি ট্রয়ের যুদ্ধের পর, গ্রিক নায়ক উলিসিসের বাড়ি ফেরার কাহিনী নিয়ে রচিত। এটি এক সাহসী অভিযানের গল্প, যেখানে উলিসিস বিভিন্ন বিপদ ও ভয়ংকর সত্ত্বার মুখোমুখি হয়।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৪৫.
প্রাচীন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য বর্তমান কোন দেশে অবস্থিত?
  1. তুরস্ক 
  2. মেক্সিকো
  3. মিশর
  4. পেরু
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক 
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত। 

⇒ প্রাচীন বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য বর্তমান তুরস্কে অবস্থিত।
- কনস্টান্টিনোপল আধুনিক তুরস্কের একটি প্রাচীন শহর যা এখন ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- প্রথম দিকে ছিল এটা একটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- ক্রমে গ্রিক সভ্যতার পতন ৪৭৬ (খ্রি.) ঘটলে এই রোম সমগ্র ইতালি ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে এক বিশাল রোমান সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী কনস্টান্টিনোপল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই নামকরণ করা হয়েছিল সম্রাট কনস্টানটাইনের নামানুসারে।

উৎস: i) History.com
         ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৬.
বিখ্যাত ওয়াটারলু যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?
  1. ১৮২১ সালে
  2. ১৮১৫ সালে
  3. ১৮১১ সালে
  4. ১৮১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮১৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮১৫ সালে
ব্যাখ্যা
• ওয়াটারলু যুদ্ধ:
- বিখ্যাত ওয়াটারলু যুদ্ধক্ষেত্র বেলজিয়াম অবস্থিত।
-  বিখ্যাত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮১৫ সালে।
- এই যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
- পরাজয়ের ফলে তাঁকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে দেওয়া হয়েছিল।
- তিনি ১৮২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ওয়াটার লুর যুদ্ধে বিজয়ী সেনাপতির নাম - আর্থার ওয়েলেসলি (ডিউক অব ওয়েলিংটন)

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
২৪৭.
হেইডেলবার্গ মানব এর নিদর্শন কোথায় পাওয়া যায়?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. বেইজিং
  3. জার্মানি
  4. ইতালি
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা
হেইডেলবার্গ মানব:
- হোমো হাইডেলবার্গেনসিস , প্রাচীন মানুষের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। 
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গের দক্ষিণ-পূর্বে মাউয়ার শহরের কাছে পাওয়া যায়।
- জার্মানির হেইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উদ্ধার করেন।

জাভা মানব:
- ১৮৯১ সালে জাভার (ইন্দোনেশিয়া) সোলো নদীর তীরে প্রাপ্ত।

পিকিং মানব:
- ১৯২৯ সালে পিকিং (বেইজিং) এ প্রাপ্ত প্রাগৈতিহাসিক মানুষ।

উৎস: Britannica.
২৪৮.
কিউবা বিপ্লবের ফলে বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটে কবে? 
  1. ১৯৫৮ সালে 
  2. ১৯৫৯ সালে 
  3. ১৯৬০ সালে 
  4. ১৯৬২ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে 
ব্যাখ্যা

• কিউবা বিপ্লব:
- কিউবার বিপ্লবী মহানায়ক ফিদেল কাস্ত্রো।
- কিউবার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাতিস্তা ও কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিপ্লবের ময়দানে সক্রিয় হন কাস্ত্রো।
- তার প্রথম পদক্ষেপ ছিল মেক্সিকো থেকে কিউবায় আক্রমণ চালানো।
- ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি ও তার বিপ্লবী সহযোগীরা কিউবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
- পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাতিস্তার সেনাবাহিনীর আক্রমণে নাস্তানাবুদ হন।
- শুরুর দিকেই তাকে কারাবন্দী করে বাতিস্তা সরকার। কিউবার মানুষের মুক্তির জন্য গেরিলা যুদ্ধে নামেন কাস্ত্রো।
- এরই মধ্যে চে গুয়েভারার সঙ্গে ফিদেল কাস্ত্রোর গেরিলা যুদ্ধে পরিকল্পনা আরও বিস্তৃতি পায়।
- ফিদেল কাস্ত্রো তাকে গ্রেনেড তৈরির কারখানা, রুটি বানানোর জন্য চুল্লি প্রস্তুত এবং নিরক্ষর সঙ্গীদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল তৈরির দায়িত্ব দেন। আচমকা হামলায় বাতিস্তা সরকার পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে।
- সিয়েরা পর্বতমালা, শহর পেরিয়ে তারা হাভানায় ঢুকে পড়লে বাতিস্তা সরকার পালিয়ে যায়।
- বিপ্লবের ধাক্কায় ১৯৫৯ সালে পতন ঘটে কিউবার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একনায়ক ফ্লুজেনসিও বাতিস্তার, ১ জানুয়ারি বাতিস্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

- জয়ী হন কাস্ত্রো, জয় হয় বিপ্লবের।
- বিপ্লবের নেতা, ফিদেল কাস্ত্রো, ১৯৫৯ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কিউবা শাসন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কিউবা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যস্থলে অবস্থিত। কিউবা ৪০০ বছর ধরে স্পেনের একটি উপনিবেশ ছিল।
- কিউবা আশপাশের অনেকগুলো ছোট দ্বীপের সঙ্গে মিলে কিউবা প্রজাতন্ত্র গঠন করেছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২৪৯.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চৌদ্দদফা প্রস্তাবনা (Fourteen Points) পেশ করেন-
  1. ক) উড্রো উইলসন
  2. খ) হ্যারি এস ট্রুম্যান
  3. গ) ফ্রান্সিকো ফ্রাঙ্কো
  4. ঘ) উইনস্টন চার্চিল
সঠিক উত্তর:
ক) উড্রো উইলসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উড্রো উইলসন
ব্যাখ্যা
২৮তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৮ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় চৌদ্দদফা প্রস্তাবনা (Fourteen Points) পেশ করেন।
এই প্রস্তাবনার ১৪ নং পয়েন্টে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়।
উৎসঃ history.com।
২৫০.
আরব বসন্ত আন্দোলনের অংশ হিসেবে কত সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
আরব বসন্ত:
- আরব বসন্ত বলতে আরবের বিভিন্ন দেশের গণজাগরণকে বুঝায়।
- ২০১০ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া আরব রাষ্ট্রগুলোর জনগণের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংগঠিত হয় বলে এটি আরব বসন্ত বা আর রবিউল আরাবি নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওটে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু দেশেই দীর্ঘকাল ধরে শাসনকারী স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত হন।
- এতে মূলত সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনগুলোর প্রসার এবং আঞ্চলিক মিডিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ:
- ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
- এটি আরব বসন্ত (Arab Spring) আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুরু হয়, যা ২০১১ সালের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ আনে।

উল্লেখ্য,
- ২০১১ সালে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়।
- এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল, সিরিয়ার নাগরিকরা সরকারের স্বৈরাচারী শাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।
- বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় দক্ষিণ সিরিয়ার ডারা শহরে, যখন কয়েকজন ছাত্র সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান লিখে দেয়।
- এরপর পুলিশ তাদের আটক করে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালায়, যা ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি করে।
- আন্দোলনটি দ্রুত সিরিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি এক পর্যায়ে সরকার বিরোধী সহিংস গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়।

- টানা গৃহযুদ্ধের কারণে কার্যত ধসে গেছে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা।
- এইচটিএস বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিই প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ও প্রাণঘাতী ছিলো।
- বিদ্রোহীদের ১২ দিনের পতন হয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের।
- বাশার আল–আসাদের পতনের আগে থেকেই ইদলিব বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল–শামসের (এইচটিএস) নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্ট তাদেরই সরকার, বাশারকে ক্ষমতাচ্যুত করা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বে ছিল এই এইচটিএস।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
২৫১.
অ্যাজটেক সভ্যতায় বৃষ্টির দেবতা দেবতা কে ছিলেন?
  1. টোনাটিউহ
  2. চালচিউহটলিকুয়ে
  3. তালোক
  4. সেন্তেওতল
সঠিক উত্তর:
তালোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালোক
ব্যাখ্যা

অ্যাজটেক সভ্যতা:
- অ্যাজটেক সভ্যতা ছিল মেসোআমেরিকার শেষ বড় সভ্যতাগুলোর একটি।
- উত্তর মেসোআমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা ৷
- বর্তমান মেক্সিকো অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- যার বিস্তৃতি ছিল উত্তর আমেরিকার বেশির ভাগ অংশজুড়ে।
- খ্রিস্টীয় ১২ শতকে এ সভ্যতার উৎপত্তি হয়েছিল।
- অ্যাজটেকের রাজধানী ছিল টেনোচিটিলান ।
- আকামাপিচটলি ছিলেন অ্যাজটেকদের প্রথম রাজা ।
- কৃষিকাজের মাধ্যমে অ্যাজটেক সভ্যতার প্রসার ঘটে।
- চিনাম্পা নামক ভাসমান বাগানের মাধ্যমে তারা অত্যন্ত উন্নত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
- অ্যাজটেকদের কাছে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- তারা প্রকৃতির শক্তির প্রতিনিধিত্বকারী বেশ কয়েকটি দেবতার পূজা করত।
- অ্যাজটেক ধর্মের দেবতা:
• যুদ্ধের দেবতা হুইটজিলোপোচটলি,
• সূর্যের দেবতা টোনাটিউহ,
• বৃষ্টির দেবতা তালোক।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২৫২.
৩৬৫ দিনে বছর গণনার পদ্ধতি প্রথম উদ্ভাবিত হয় কোন সভ্যতায়? 
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

• মিশরীয় সভ্যতার অবদান: 
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। 
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। 
- ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।

এছাড়াও,
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে। 
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে, 
- গ্রিকরা প্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করে।
- সপ্তাহকে সাতদিনে বিভক্ত করে ক্যালডীয়রা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৫৩.
ট্রয় নগরীর ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে কোন দেশে অবস্থিত?
  1. তুরস্ক
  2. গ্রীস
  3. ইতালি
  4. মিশর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক
ব্যাখ্যা

ট্রয় নগরী:
- ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের হেসারলিক বা আনাতোলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
- ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর অস্তিত্ব এবং এর ধ্বংসের ইতিহাস প্রাচীন গ্রীক হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড-এ পাওয়া যায়।
- ট্রয় নগরী ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয়।

⇒ ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ। এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- যুদ্ধের কারণ ছিল হেলেন নামের এক সুন্দরী মহিলাকে কেন্দ্র করে, যিনি ট্রয়ের রাজা প্রিয়াম এর পুত্র পারিস দ্বারা অপহৃত হন। গ্রীক রাজা মেনেলাউস তার স্ত্রীর ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- প্যারিস যখন স্পার্টা থেকে রাতের অন্ধকারে হেলেনকে নিয়ে পালিয়ে এলেন, হেলেনের স্বামী স্পার্টার রাজা মেনেলাউস এবং তার ভাই আগামেমনন ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে নৌবহর নিয়ে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে এই নগরের পাশে স্কামান্দার নদীর মুখে এসে তাঁবু গেড়েছিলেন।
- তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন গ্রিস বা আচিয়ানদের বন্ধুপ্রতিম সব রাজ্যের রাজা।
- পরবর্তীতে গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

⇒ ট্রয়ের ঘোড়া (Trojan Horse):
- ট্রয়ের ঘোড়া ছিল গ্রীক বাহিনীর একটি কৌশল। তারা একটি বিশাল কাঠামো, যা একটি ঘোড়ার মতো দেখতে, ট্রয়ের শহরে রেখে যায়। এতে গ্রীক সৈন্যরা লুকিয়ে ছিল। ট্রয়ের বাসিন্দারা এটি উপহার মনে করে শহরে নিয়ে আসে। রাতের বেলায় সৈন্যরা বের হয়ে শহরের দরজা খুলে দেয়, এবং গ্রীক বাহিনী ট্রয় ধ্বংস করে। এটি প্রতারণা ও কৌশলের প্রতীক হয়ে আছে।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.

২৫৪.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার সবার শেষে গড়ে উঠেছিল কোনটি?
  1. ব্যাবিলনীয়
  2. অ্যাসেরীয়
  3. ক্যালেডীয়
  4. সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালেডীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালেডীয়
ব্যাখ্যা
ক্যালডীয় সভ্যতা:
- ক্যালডীয় সভ্যতাটি মেসোপটেমীয় সভ্যতার সবার শেষে গড়ে উঠেছিল।
- ৬১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ্যাসিরীয়দের পতন এবং ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে।
- বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৫.
’ইউরোপের রুটির ঝুড়ি’ বলা হয় কোন দেশকে?
  1. ক) রাশিয়া
  2. খ) নরওয়ে
  3. গ) ইংল্যান্ড
  4. ঘ) ইউক্রেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউক্রেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউক্রেন
ব্যাখ্যা
ইউরোপের শস্য ভাণ্ডার খ্যাত ইউক্রেনের উর্বর ভূমিতে গম, সানফ্লাওয়ার এবং অন্যান্য দানাদার জাতীয় শস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়।
- ইউক্রেন বিশ্ববাজারে প্রতিবছর ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন খাদ্যশস্য রপ্তানি কর থাকে।
- এজন্য ইউক্রেনকে ইউরােপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়। 
 
সান জোয়াকিন ভ্যালি (San Joaquin Valley)কে বিশ্বের রুটির ঝুড়ি (ব্রেডবাস্কেট) বলা হয়ে থাকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগানদাতা।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
২৫৬.
চীনের বর্তমান মহাপ্রাচীরটি কোন রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়?
  1. কিন শাসনামল
  2. শাং শাসনামল
  3. তাং শাসনামল
  4. মিং শাসনামল
সঠিক উত্তর:
মিং শাসনামল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিং শাসনামল
ব্যাখ্যা
চীনের মহাপ্রাচীর:
- চীনের মহাপ্রাচীর (The Great Wall of China) হচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যগুলোর মধ্যে একটি।
- এটি পাথর ও ইট দিয়ে তৈরি দীর্ঘ নিরাপত্তাবেষ্টনী।
- চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতক থেকে খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতক পর্যন্ত সময়ে চীনের উত্তর সীমান্ত রক্ষা করার জন্য এই প্রাচীর তৈরি করা হয়।
- এই প্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৮৫০ কিলোমিটার।
- উচ্চতা ৫ - ৮ মিটার।
- প্রাচীরটি চওড়ায় প্রায় ৯.৭৫ মিটার।
- প্রশস্ত প্রাচীরের ওপর চলাচলের জন্য রাস্তা করা আছে।
- বর্তমান প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়।
- চীনের মহাপ্রাচীর মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য। 

উল্লেখ্য,
- এটি ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল।

উৎস: Britannica.
২৫৭.
ইনকা সভ্যতা নির্দিষ্ট কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. গ্রেট প্লেইনস
  2. অ্যামাজন বনাঞ্চলে
  3. প্যাম্পাস মেঘালয়
  4. আন্দিজ পর্বতমালা 
সঠিক উত্তর:
আন্দিজ পর্বতমালা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্দিজ পর্বতমালা 
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৫৮.
সিন্ধু সভ্যতার প্রথম আবিষ্কৃত স্থান কোনটি? 
  1. মহেঞ্জোদারো
  2. হরপ্পা
  3. লোথাল
  4. কালিবঙ্গন
সঠিক উত্তর:
হরপ্পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্পা
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম নগর সংস্কৃতি। 
- বিশ্বের তিনটি প্রাচীনতম সভ্যতার মধ্যে সিন্ধু সভ্যতা একটি। অন্য দুটি হলো মেসোপটেমিয়া এবং মিশরীয়। এর মধ্যে সিন্ধু সভ্যতা ছিল সবচেয়ে বিস্তৃত।

- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সভ্যতাটি প্রথম চিহ্নিত করা হয়েছিল ১৯২১ সালে পাঞ্জাব অঞ্চলের হরপ্পাতে এবং তারপর ১৯২২ সালে মহেঞ্জোদারোতে।
- ধারণা করা হয় যে, দ্রাবিড় জাতি-এ সভ্যতা গড়ে তুলেছিল।
- উভয় স্থানই বর্তমান পাকিস্তানে যথাক্রমে পাঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশে অবস্থিত।
- মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসাবশেষকে ইউনেস্কো কর্তৃক ১৯৮০ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।

• হরপ্পা নগরীর পরিচয়:
- হরপ্পা সভ্যতার মানুষেরা প্রথম গ্রামীণ জীবন পরিত্যাগ করে চমৎকার নগর গড়ে তুলেছিল।
- সিন্ধুর উপনদী রাভীর তীরে গড়ে উঠেছিল হরপ্পা নগরী।
- নগরের দু'টো প্রধান অংশ ছিল। একটি অংশ সংরক্ষিত এলাকা বা দুর্গ। ধনী ও অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা দুর্গ এলাকায় বসবাস করতো। আর দরিদ্র মানুষদের বাস ছিল শহরের অন্য অংশে।
- দুর্গের বাইরে গড়ে উঠেছিল প্রকৃত শহর।
- হরপ্পা নগরের রাস্তাগুলো ছিল সোজা। কোথাও কোন বাঁক ছিল না। রাস্তাগুলো বেশ প্রশস্ত ছিল। প্রধান সড়কের প্রশস্ততা ছিল ৩৫ ফুট। সবচেয়ে কম প্রশস্ত রাস্তাটি ছিল ১০ ফুটের।
- সড়কের প্রান্তসীমার বাড়ীগুলো বৃত্তাকারে তৈরি করা হতো।
- নগরবাসীদের পানি সরবরাহের চমৎকার ব্যবস্থা ছিল। পথের ধারে কূপ খনন করা হতো। অনেক বাড়ির উঠোনেও কূপ ছিল। নগর জীবন পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য মাটির নীচে ড্রেন বানানো হতো। পৃথিবীর সকল প্রাচীন সভ্যতার মধ্যে সিন্ধু সভ্যতার এই ব্যবস্থাই ছিল সবচেয়ে আধুনিক। এছাড়াও বাড়িগুলোতে ছিল স্নানাগার ও ময়লা পানি বের হওয়ার উপযোগী ড্রেন। নগর কর্তৃপক্ষ রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে পথের পাশে ডাষ্টবিন রাখার ব্যবস্থা ছিল। বাইরের শত্রু যাতে আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা ছিল। শহরের পশ্চিম প্রান্তে তৈরি করা হয়েছিল সুরক্ষিত দুর্গ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৯.
মিশরীয় সভ্যতায় জ্ঞানের দেবতা ছিলেন -
  1. থোথ
  2. ওসিরিস
  3. শেঠ
  4. হোরাস
সঠিক উত্তর:
থোথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থোথ
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরে প্রথম এই সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
- একটি ছিল উত্তর মিশর অপরটি দক্ষিণ মিশর।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- পিরামিড: মিশরীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- স্ফিংস: এটি ফারাও খাফরের শাসনকালে নির্মিত বিশাল মূর্তি।
- মিশরীয় সভ্যতায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করা হত। যেমন -
• পাতালের দেবতা - ওসিরিস,
• যুদ্ধ এবং শিকারের সাথে যুক্ত আকাশের দেবতা - হোরাস,
• সহিংসতা, মরুভূমি এবং ঝড়ের দেবতা - শেঠ,
• শেয়াল দেবতা - আনুবিস,
• জ্ঞানের দেবতা - থোথ।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬০.
গ্রিক সভ্যতার মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন -
  1. এনুমা এলিশ
  2. ইলিয়ড
  3. ইনেইড
  4. গিলগামেশ
সঠিক উত্তর:
ইলিয়ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলিয়ড
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- এই সভ্যতা এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- গ্রিক সভ্যতার মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন: 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি'।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬১.
বাইজেনটাইন (Byzantine) সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কোন নগরী?
  1. লিসবন
  2. কনস্টান্টিনোপল
  3. প্যারিস
  4. ভিয়েনা
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত। 

⇒ কনস্টান্টিনোপল আধুনিক তুরস্কের একটি প্রাচীন শহর যা এখন ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- প্রথম দিকে ছিল এটা একটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- ক্রমে গ্রিক সভ্যতার পতন ৪৭৬ (খ্রি.) ঘটলে এই রোম সমগ্র ইতালি ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে এক বিশাল রোমান সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী কনস্টান্টিনোপল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই নামকরণ করা হয়েছিল সম্রাট কনস্টানটাইনের নামানুসারে।

উৎস: i) History.com
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬২.
চীনে আদি মানুষের সন্ধান পাওয়া গেছে কত সালে?
  1. ১৯২৯ সালে
  2. ১৯৩০ সালে
  3. ১৯৩৫ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
♣ চীনের আদি মানুষ:
- চীনা উপকথা অনুযায়ী প্রথম মানুষ হলো পাকু। 
- চীনে আদি মানুষের সন্ধান পাওয়া গেছে ১৯২৯ সালে।
- চীনের রাজধানী পিকিং এর নিকট (আধুনিক বেইজিং) আদিম মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে; যারা 'পিকিং মানুষ' নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, চীনবাসীরা হোয়াংহো ও ইয়াংসি নদীর দুটি পাড়েই বসবাস করত।
- তারাই নদীর ধারে ঘরবাড়ি তৈরি করে সভ্য মানুষে পরিণত হয়।
- চীনের আদি মানুষ নগর নির্মাণ করেছিল এবং নগরকে যাযাবরদের আক্রমণ হতে বাঁচানোর জন্য উঁচু দেয়াল তৈরি করেছিল।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
মঙ্গোল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. চেঙ্গিস খান
  2. হিরোডোটাস
  3. নেবুচাদনেজার
  4. হাম্বুরাবি
সঠিক উত্তর:
চেঙ্গিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চেঙ্গিস খান
ব্যাখ্যা

মঙ্গোল সাম্রাজ্য:
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত।
- চেঙ্গিস খান মঙ্গোল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- তিনি ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন
- তার আসল নাম ছিল তেমুজিন।
- ১২০৬ সালে মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতিগুলোকে সংগঠিত করার মাধ্যমে বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এই সাম্রাজ্যের পত্তন করেন।
- ১২২৭ সালে চেঙ্গিস খান মৃত্যুবরণ করেন।
- চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পর তার বংশধরগণ এই সাম্রাজ্যের আরো বিস্তৃতি ঘটান।
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরের সময় পূর্ব ইউরোপ থেকে ইন্দোচীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো যার আয়তন ছিলো এক কোটি বর্গমাইলেরও অধিক।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২৬৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি প্রথম কোন দেশ আক্রমন করে?
  1. ক) ফ্রান্স
  2. খ) নেদারল্যান্ডস
  3. গ) ব্রিটেন
  4. ঘ) পোল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) পোল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:

- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পক্ষ অবলম্বন করেনি সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ : ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধ ঘোষণা।
- ১৯১৮ সালের ভার্সাই চুক্তি অনুসারে পোল্যান্ডকে রক্ষার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করে।
- জার্মানির মিত্র জাপান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে বোমা নিক্ষেপ করে। এর প্রতিশোধে বিশ্বযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
- ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
- মিত্রশক্তিতে ছিল ব্রিটেন,ফ্রান্স,যুক্তরাষ্ট্র,সোভিয়েত ইউনিয়ন,চীন,পোল্যান্ড,নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

তথ্যসূত্র - Britannica & History.com
২৬৫.
সভ্যতার ইতিহাসে একটি পরিকল্পিত নগরীর ধারণা পাওয়া যায় -
  1. ক) হিব্রু সভ্যতায়
  2. খ) ফিনিশিয় সভ্যতায়
  3. গ) সিন্ধু সভ্যতায়
  4. ঘ) রোমান সভ্যতায়
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু সভ্যতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু সভ্যতায়
ব্যাখ্যা
• সভ্যতার ইতিহাসে সিন্ধু সভ্যতা একটি পরিকল্পিত নগরীর ধারণা দিয়েছে।
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নগরী দুটো প্রায় একই পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে উঠেছিল।
- এখানে নগরবাসীদের সকল সুবিধা দেয়া হয়েছিল।
- যেমন: রাস্তাঘাট, সরবরাহকৃত পানি, ময়লা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, স্নানাগারের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন, শহরে বাতি দ্বারা আলোকিত করা প্রভৃতি। নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সৈন্য মোতায়েন করা প্রভৃতি।
- সিন্ধু সভ্যতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সিন্ধু সভ্যতা আধুনিক সভ্যতার মতো উন্নত ছিল।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৬.
ইনকা সভ্যতা কারা গড়ে তুলেছিলো?
  1. ভাইকিংরা
  2. রেড ইন্ডিয়ানরা
  3. অ্যাসেরীয়রা
  4. স্পেনিশরা
সঠিক উত্তর:
রেড ইন্ডিয়ানরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেড ইন্ডিয়ানরা
ব্যাখ্যা
- ইনকা সভ্যতা হলো দক্ষিণ আমেরিকায় বিকশিত একটি সভ্যতা। দ্বাদশ শতকে রেড ইন্ডিয়ানরা এই সভ্যতার সূচনা করে।
- উত্তরদিকে ইকুয়েডর থেকে শুরু করে দক্ষিণ দিকে মধ্য চিলি পর্যন্ত ইনকা সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিলো। ষোড়শ শতকে স্পেনিশ উপনিবেশিকদের দ্বারা ইনকা সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- পেরুতে অবস্থিত মাচুপিচু ইনকা সভ্যতার একটি নিদর্শন যা পৃথিবীর একটি সপ্তাশ্চর্য এবং ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য নিদর্শন।
(তথ্যসূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা)
২৬৭.
সিন্ধু নদের তীরে কোন নগরী গড়ে উঠেছিলো?
  1. ক) সিন্ধু নগরী
  2. খ) হরপ্পা নগরী
  3. গ) মহেঞ্জোদারো নগরী
  4. ঘ) মম্ফেস নগরী
সঠিক উত্তর:
গ) মহেঞ্জোদারো নগরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহেঞ্জোদারো নগরী
ব্যাখ্যা
মহেঞ্জোদারো নগরী: 

- সিন্ধু সভ্যতা ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় সভ্যতা।
- সিন্দু নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিলো এই সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার শ্রেষ্ঠ দুটি শহর ছিলো - হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো।
- হরপ্পা নগরীটি গড়ে উঠেছিলো সিন্ধুর উপনদী রাভী’র তীরে।
- মহেঞ্জোদারো নগরী গড়ে উঠেছিলো সিন্ধু নদের তীরে।

তথ্যসূত্র: নবম ও দশম শ্রেনীর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
২৬৮.
'ফার্টাইল ক্রিসেন্ট' নামটি কোন সভ্যতাকে নির্দেশ করে?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  3. প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা
  4. ইনকা সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা: 
- 'ফার্টাইল ক্রিসেন্ট' নামটি মেসোপটেমীয় সভ্যতাকে নির্দেশ করে। 
- 'মেসোপটেমিয়া' এসেছে গ্রিক শব্দ মেসোস (Mesos) তথা 'মধ্যবর্তী' এবং পটামোস (Potamos) অর্থাৎ 'নদী' থেকে।
- 'মেসোপটেমিয়া' অর্থ 'দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি'। 
- দজলা ফোরাত কিংবা টাইগ্রিস-ইউফ্রেতিস যাই বলা হোক, মেসোপটেমিয়া সভ্যতার বিস্তার দুটি নদীর মাঝখানে অবস্থিত পলল বিধৌত উর্বর ভূমিতে।
- মানচিত্রের মাঝে এই উর্বর ভূমিরূপকে দেখাতো অনেকটাই অর্ধচন্দ্র তথা বাঁকানো চাঁদের মতো।
- তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে 'ফার্টাইল ক্রিসেন্ট'।
- মূলত ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন আর জর্দান মিলেই এই ফার্টাইল ক্রিসেন্টের বিস্তার।
- অনেকে কুয়েতের উত্তরাংশ এবং তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাশাপাশি ইরানের পশ্চিম দিকের একাংশকে এই উর্বর অর্ধচন্দ্রাকৃতির ভূমিরূপ তথা ফার্টাইল ক্রিসেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৬৯.
প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে কাদের পরিচিতি ছিল?
  1. রোমানদের
  2. সুমেরীয়দের
  3. মিশরীয়দের
  4. ফিনিশীয়দের
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়দের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়দের
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ফিনিশীয় সভ্যতা ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে এক সরু উপকূল অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- তাদের পেছনে পাহাড় আর সামনে সাগর ছিল, যা তাদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- অর্থাৎ ফিনিশীয়দের পরিচিতি ছিল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- তারা পৃথিবীর প্রথম সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করে, যার মাধ্যমে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজ হয়।
- ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে জাহাজ চালানোর জন্য ধ্রুবতারা ব্যবহার করতেন, তাই এটি অনেক সময় ফিনিশীয় তারা হিসেবে পরিচিত।
- তাদের সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল বর্ণমালার উদ্ভাবন, যেখানে তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণ উদ্ভাবন করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭০.
আকসুম সভ্যতা কোন অঞ্চলে বিরাজমান ছিল?
  1. ক) দক্ষিণ আফ্রিকা
  2. খ) পশ্চিম আফ্রিকা
  3. গ) পূর্ব আফ্রিকা
  4. ঘ) উত্তর আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ব আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ব আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
• আকসুম সভ্যতা:
- পূর্ব আফ্রিকার দেশ  ইথিওপিয়াতে আবিষ্কৃত হয় আকসুম সভ্যতা।
- যে শহর টিকে ছিল প্রায় ১৪০০ বছর।
- খ্রিস্টপূর্ব ৮০ থেকে ৮২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পূর্ব আফ্রিকাতে ছিল আকসুম সভ্যতা।
- আকসুম সভ্যতার প্রধান শহরের নাম ছিল আকসুম।
- গবেষকরা এই প্রাচীন সভ্যতাকে বিটা সেমাতি বলে ডাকেন।
- স্থানীয় টিগরিনিয়া ভাষায় যার অর্থ ‘দর্শকদের বাড়ি’।
- রেডিওকার্বন ডেটের মাধ্যমে জানা যায়, এই বিটা সেমাতির সময়কাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৭৭১ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দ।
- অর্থাৎ আকসুম সভ্যতা গড়ে ওঠার পরও বিটা সেমাতি ছিল।
-  বর্তমান ইয়েমেনে, আগে ছিল সাবা সাম্রাজ্য।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং সময়ের আলো পত্রিকা।
২৭১.
সামরিক ভাষায় 'WMD' অর্থ কী?
  1. ক) Worldwide More Destruction
  2. খ) Weapons Much Destruction
  3. গ) Weapons of Mass Destruction
  4. ঘ) Weapons of Missile Defence
সঠিক উত্তর:
গ) Weapons of Mass Destruction
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Weapons of Mass Destruction
ব্যাখ্যা
• WMD:
- WMD - এর পূর্ণরূপ - Weapons of Mass Destruction.
- বাংলা অর্থ হচ্ছে - গণবিধ্বংসী অস্ত্র।
- ২০০৩ সালে WMD আছে এমন আশঙ্কায় মার্কিন জোট ইরাকে আক্রমণ করেছিল।
- Weapons of mass destruction অন্তর্ভুক্ত অস্ত্রগুলো হলো:
- Nuclear Weapon, Chemical Weapon, Biological weapon.
 
উৎস: বিভিন্ন পত্রিকা রিপোর্ট।
২৭২.
মায়া সভ্যতার বর্তমানে অবস্থান কোনটি?
  1. এশিয়া
  2. আফ্রিকা
  3. ইউরোপ
  4. মধ্য আমেরিকা
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা আবিষ্কৃত হয় মধ্য আমেরিকায়।

মায়া সভ্যতা:

- মায়া সভ্যতা মধ্য আমেরিকার গুয়েতেমালা, বেলিজ, ও মেক্সিকোর কিছু অংশে খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে গড়ে উঠেছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে ২৫০ অব্দ পর্যন্ত সময় প্রারম্ভিক মায়া সভ্যতা যুগ।
- ২৫০ অব্দ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মায়ার সভ্যতার ক্লাসিক যুগ ছিল।
- ৯০০ খ্রিস্টাব্দে মায়া সভ্যতার পতন ঘটে।
- মায়া সভ্যতা পাথুরে স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত ছিল।

এছাড়াও,
 - আমেরিকায় গড়ে উঠা অপর দুটি সভ্যতা হলো ইনকা সভ্যতা (পেরু) ও অ্যাজটেক সভ্যতা (মেক্সিকো)।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৭৩.
Which period in European history is known as the 'Rebirth of art, culture and intellect' after the Middle Ages?
  1. The Enlightenment
  2. The Renaissance
  3. The Reformation
  4. The Baroque Era
সঠিক উত্তর:
The Renaissance
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Renaissance
ব্যাখ্যা
রেনেসাঁ:

- রেনেসাঁ মানে হলো পুনর্জন্ম বা পুনর্জাগরণ।
- মধ্যযুগে ইউরোপের সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির পুনর্জাগরণকে রেনেসাঁ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে প্রথম রেনেসাঁর সূত্রপাত ঘটে।
- পরবর্তীতে তা ইতালির অন্যান্য শহর এবং ইউরোপের অপরাপর দেশে বিস্তার লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- ইউরোপে রেনেসাঁ শুরু হয় চতুর্দশ শতাব্দীতে।
- ১৪শ থেকে ১৬শ শতককে রেনেসাঁর সময়কাল বিবেচনা করা হয়।
- তৎকালীন সময়ে ইউরোপীয় বিত্তবান ও ধনিক শ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতার ফলে রেনেসাঁ সংঘটিত হয়।
- এই যুগে মানবতাবাদ, বিজ্ঞান, সাহিত্য এবং কল্পনাশক্তির বিকাশ হয়েছিল, যা আধুনিক ইউরোপের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

তথ্যসূত্র: Britannica.com
২৭৪.
ফিনিশীয় সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিলো?
  1. ইতালিতে
  2. লেবাননে
  3. মিশরে
  4. ফিনল্যান্ডে
সঠিক উত্তর:
লেবাননে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেবাননে
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন ফিনিশীয় সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর পূর্বে ভূমধ্যসাগরের তীরে গড়ে উঠেছিলো।
- ভূমধ্যসাগর ও লেবানন পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে বর্তমান লেবাননে ফিনিশীয় সভ্যতা বিকাশ লাভ করেছিলো।

- টায়ার ও সিডন ফিনিশিয়ার দুটো বিখ্যাত বন্দর। গ্রিকদের দ্বারা ফিনিশীয় সভ্যতার পতন ঘটেছিলো।
- ফিনিশীয়রা সভ্যতার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।
- এছাড়া বর্ণমালা আবিষ্কারের জন্যেও ফিনিশীয়রা বিখ্যাত। তারা ২২টি ব্যাঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালার উদ্ভাবন করেছিল।

(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি এবং মাধ্যমিক ইতিহাস : ওপেন ইউনিভার্সিটি)
২৭৫.
নিচের কোনটি নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা নয়?
  1. ক) সিন্ধু সভ্যতা
  2. খ) মিশরীয় সভ্যতা
  3. গ) ফিনিশীয় সভ্যতা
  4. ঘ) অ্যাসেরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) ফিনিশীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফিনিশীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- ফিনিশীয় সভ্যতা নদীর তীরে গড়ে উঠেনি। ভূমধ্যসাগর ও লেবানন পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে বর্তমান লেবাননে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ অব্দে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো।
- ফিনিশীয়দের আদি নিবাস পারস্য উপসাগরীয় তীরবর্তী অঞ্চলে বলে ধারণা করা হয়।
- উর্বর কৃষিজমির স্বল্পতার কারণে ফিনিশীয়দের জীবিকার প্রধান উৎস ছিলো বাণিজ্য।
- ফিনিশীয়রা সভ্যতার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। তারাই ইতিহাসে প্রথম সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তুলেছিলো।
- ফিনিশীয় সভ্যতাকে প্রথম উপনিবেশিক সভ্যতা হিসেবে অভিহিত করা হয়। ফিনিশীয়রা উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম ভূমধ্যসাগর, ইতালি, গ্রিস প্রভৃতি অঞ্চলে বাণিজ্যিক উপনিবেশ গড়ে তুলেছিলো।
- বর্তমান লেবাননে অবস্থিত টায়ার ও সিডন ফিনিশিয়ার দুটো বিখ্যাত বন্দর।
- ফিনিশীয়রা বর্ণমালা আবিষ্কারের জন্যেও বিখ্যাত। তারা ২২টি ব্যাঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালার উদ্ভাবন করেছিল। পরবর্তীতে গ্রিকরা এই বর্ণমালার সাথে স্বরবর্ণ যোগ করে একে পূর্ণতা দান করে।
- ফিনিশীয়রা ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয় করে জাহাজ চালাতো বিধায় ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২ অব্দে গ্রিকবীর আলেকজান্ডার কর্তৃক ফিনিশিয়ার টায়ার নগরী ধ্বংসের মাধ্যমে ফিনিশীয় সভ্যতার পতন ঘটে।
অন্যদিকে,
- সিন্ধু সভ্যতা সিন্ধু নদের তীরে, মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে এবং অ্যাসেরীয় সভ্যতা ইউফ্রেতিস-টাইগ্রিস নদীর অববাহিকায় বিকশিত হয়।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং ইতিহাস : এসএসসি প্রোগ্রাম : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২৭৬.
’গ্লাসনস্ত’নীতি দ্বারা মূলত: নীচের কোনটি বোঝানো হয়ে থাকে?
  1. ক) অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি
  2. খ) খোলামেলা আলোচনা
  3. গ) সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে সামাঞ্জস্য বিধান
  4. ঘ) ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে উন্মুক্ত বানিজ্য
সঠিক উত্তর:
খ) খোলামেলা আলোচনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খোলামেলা আলোচনা
ব্যাখ্যা
- সেভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৮৫ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর গ্লাস্তনস্ত এবং পেরেস্ত্রইকা নামে দুটির সংস্কারমূলক নীতি গ্রহণ করেন।
- এর মধ্যে গ্লাস্তনস্ত ছিলো রাজনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং পেরেস্ত্রইকা ছিলো অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বিষয়ক নীতি।
- সোভিয়েত নাগরিকদের ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনি খোলামেলা আলোচনার যে মুক্ত ব্যবস্থা চালু করেছিলেন তাই গ্লাসনস্ত নীতি হিসেবে অভিহিত।
- মিখাইল গর্বাচেভ ১৯৯০ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

 গ্লাসনস্ত:
- গ্লাসনস্ত অর্থ 'খোলা দুয়ার'।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তার জন্য রাজনৈতিক সংস্কার ও গণসমর্থন প্রয়োজন ছিল। আর এজন্য গ্লাসনস্ত নীতি গ্রহণ করা হয়।
- গ্লাসনস্তের আওতায় রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল তা হলো-
১. সকল পর্যায়ে নির্বাচিত পদে পর পর দুবারের বেশি কেউ নির্বাচিত হতে পারবে না;
২. কংগ্রেস অব পিপলস ডেপুটি হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব এবং এর সদস্য সংখ্যা হবে ২২৫০;
৩. ডেপুটিদের মধ্য থেকে একটি স্থায়ী কার্যনির্বাহী সুপ্রিম সোভিয়েত নির্বাচিত হবে;
৪. কংগ্রেস অব পিপলস ডেপুটি গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
২৭৭.
প্রাচীন ভারতে সাম্রাজ্যবাদের বিকাশ হয় যে রাজ্যকে কেন্দ্র করে তার নাম −
  1. ক) অবন্তী
  2. খ) গান্ধার
  3. গ) কাম্বোজ
  4. ঘ) মগধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মগধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মগধ
ব্যাখ্যা
- খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী হতে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
- এ সময়ই প্রথমবারের মতো ভারতে বড় বড় রাজ্য গঠনের আভাস পাওয়া যায় এবং একই সাথে তাদের মধ্যে
চলে শক্তি সংগ্রহ ও প্রাধান্য বিস্তারের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
- মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে মগধকেন্দ্রিক সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক তৎপরতার ইতিহাস অনুধাবন করতে হবে। 

- উত্তরে কাবুল থেকে দাক্ষিণাত্রে গোদাবরী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে যে রাজ্যগুলির কথা জানা যায় সেগুলি হচ্ছে কাম্বোজ, গান্ধার, কুরু, কোশল, শূরসেন, পাঞ্চাল, মল্ল, বৃজি বা বজ্জি, মৎস্য, চেদী, বৎস, কাশী, অঙ্গ, অবন্তী, অশ্বক ও মগধ। 
- এই ষোলটি রাজ্য প্রায়ই প্রাধান্য বিস্তারের জন্য নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত থাকতো।
-  ক্রমেই অপেক্ষাকৃত দুর্বল জনপদগুলির স্বাতন্ত্র্য বিনষ্ট করে ভারতের রাজনীতির ক্ষেত্রে চারটি রাজ্য প্রধান হয়ে ওঠে। 
- এই রাজ্যগুলি হচ্ছে কোশল, অবন্তী, বৎস ও মগধ। 

- ভারতের খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর ইতিহাস হচ্ছে এই বৃহৎ শক্তিবর্গের অন্তর্দ্বন্দ্বের ইতিহাস এবং মগধের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। 
- বর্তমান বিহারের দক্ষিণাংশ, মুখ্যত পাটনা ও গয়া জেলা, প্রাচীনকালে মগধ নামে পরিচিত ছিল। 
- এখানে ছিল নানা জাতির মিশ্রিত জনবসতি। বিভিন্ন কারণে ভারতের ইতিহাসে এই মগধের গুরুত্ব যথেষ্ট।
-  মগধের ভৌগোলিক অবস্থান এর শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছিল। 

- মগধের মাঝখান দিয়ে ছিল পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে যাতায়াতের রাস্তা। মগধ রাজ্যও ছিল বেশ সুরক্ষিত ।
-  গঙ্গা, শোন ও গন্ডক নদী এর রাজ্যকে তিনদিক থেকে গিরে রেখেছিল। এর ফলে কোন শত্রুদেশের পক্ষে সহসা মগধ আক্রমণ করা সম্ভব ছিল না।
- এ রাজ্যের আদি রাজধানী ছিল খুবই সুরক্ষিত স্থান। এর চারদিকে ছিল পাহাড় এবং পাথরের উঁচু প্রাচীর। মগধের পরবর্তী রাজধানী পাটলীপুত্রও ছিল সুরক্ষিত। 
- এমনি ধরনের অবস্থানগত ভৌগোলিক সুবিধার জন্য মগধ সহজে প্রতিবেশীদের আক্রমণ করতো; কিন্তু মগধকে প্রতিবেশী রাজ্য আক্রমণ করতে পারেনি। ঐতিহাসিক ব্যাশাম, রোমিলা থাপার প্রমুখ গঙ্গা নদীর উপর মগধের নিয়ন্ত্রণ এবং মগধের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির উল্লেখ করে বলেন, মগধ রাজ্যের রাজবংশগুলির নেতৃবৃন্দ খুব সহজেই সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতায় জড়িত এবং সফল হতে পেরেছিলেন।
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৭৮.
'পিরামিড অব দ্য সান' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. মিশর
  2. সিরিয়া
  3. মেক্সিকো
  4. ব্রাজিল
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
• পিরামিড অব দ্য সান:
• মেক্সিকো সিটির প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘পিরামিড অব দ্য সান’
• এটি মহাশক্তিশালী অ্যাজটেক সম্প্রদায়ের বৃহত্তম পিরামিড।
• ধারণা করা হয়, এটি নির্মাণ কাজ খ্রিস্ট জন্মের প্রায় ১০০ বছর পরে সম্পন্ন হয়

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৭৯.
‘পিকিং মানুষ’ কাদের বলা হয়?
  1. জাপানের আদিম মানুষকে
  2. চীনের আদিম মানুষকে  
  3. গ্রিকের আদি মানুষকে  
  4. রোমের আদি মানুষকে  
সঠিক উত্তর:
চীনের আদিম মানুষকে  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীনের আদিম মানুষকে  
ব্যাখ্যা

• চীন সভ্যতা: 
- চীনা সভ্যতা পৃথিবীতে বিরাজমান সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে চিনের প্রাচীন সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল।
- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে চিনে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে। 
- চীনের রাজধানী পিকিং-এর (বর্তমান বেইজিং) কাছে এই খুলি পাওয়া যায়। 
- এরাই চিনের আদিম মানুষ; যাদেরকে ‘পিকিং মানুষ’ বলা হয়।
- চীনের মহা প্রাচীর নির্মিত হয় চৌ-রাজ বংশের আমলে। 
- রাজা শি-হুয়াং তি এই প্রাচীর তৈরি করেন।
- কনফুসিয়াসের দর্শন খ্রিস্টপূর্ব ২০৬ অব্দে চিনে ধর্মে পরিণত হয়।
- অন্যান্য খ্যতনামা দার্শনিকদের মধ্যে ছিলেন জেনসিয়াস ও মোতি।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

২৮০.
কোন সভ্যতায় প্রথম নৌপথকে বাণিজ্য রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল?
  1. ক) সিন্ধু সভ্যতা
  2. খ) ক্যালেডীয়
  3. গ) সুমেরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:

- মিশরীয় সভ্যতায় প্রথম নৌপথকে বাণিজ্য রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল
- প্রাচীন মিশর, উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার সভ্যতা যা খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ সহস্রাব্দ থেকে শুরু হয়েছে।
- তারা গণিতে বিশাল অগ্রগতি করেছিল এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগামী ছিল।
- তাদের প্রথম ধ্বনিগত বর্ণমালার বিকাশের জন্যও কৃতিত্ব দেওয়া হয় যা প্যাপিরাস কাগজের উদ্ভাবনের কারণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল
- বাইবেলের ব্যবহার অনুসরণ করে মিশরীয় রাজাদের সাধারণত ফারাও বলা হয়।
- প্রাচীন মিশরে লেখার দুটি মৌলিক ধরন ছিল হায়ারোগ্লিফ, যা স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হত, এবং অভিশাপ ফর্ম যা হায়ারেটিক নামে পরিচিত, প্রায় একই সময়ে আবিষ্কৃত হয়েছিল পূর্ব-বংশীয় মিশরে।
- মেনেস ছিলেন একীভূত মিশরের কিংবদন্তি প্রথম রাজা। ঐতিহ্য অনুসারে, তিনি উচ্চ ও নিম্ন মিশরে একক কেন্দ্রীভূত রাজতন্ত্রে যোগ দেন এবং প্রাচীন মিশরের প্রথম রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
২৮১.
'জুলিয়াস সীজার' কেন বিখ্যাত?
  1. রোমান সম্রাট হিসেবে
  2. বর্ণবাদ বিরোধী হিসেবে
  3. ব্রিটেনের রাজা হিসেবে
  4. আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে
সঠিক উত্তর:
রোমান সম্রাট হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সম্রাট হিসেবে
ব্যাখ্যা
জুলিয়াস সিজার:
- জুলিয়াস সিজার একজন রোমান সম্রাট।
- তিনি একজন বিখ্যাত রোমান রাজনীতিবিদ, সেনাপতি ও জনপ্রিয় রোমান সম্রাট।
- তিনি ১০০ খ্রিস্টপূর্বে ইতালির রোমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন রোমান জেনারেল এবং রাজনীতিবিদ।
- তিনি নিজেকে রোমান সাম্রাজ্যের স্বৈরশাসক নামে অভিহিত করেছিলেন।
- রোমের নাগরিকরা গল, ব্রিটেন, মিশর এবং আফ্রিকায় সিজারের অভিযানগুলোর জন্য তাকে পছন্দ করেছিল।
- ৪৪ খ্রিস্টপূর্বে রোমীয় সিনেটে জুলিয়াস সিজারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছিল।
- এর ফলে রোমীয় প্রজাতন্ত্রের পতনের সূত্রপাত হয়।

উল্লেখ্য,
- জুলিয়াসের বিখ্যাত বানী: 'এলাম, দেখলাম, জয় করলাম'।

উৎস: Britannica.
২৮২.
রোমান স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন-
  1. প্যানথিয়ন ধর্মমন্দির
  2. সূর্যদেবের মন্দির
  3. পার্থেনন মন্দির
  4. দেবী এথেনার মন্দির
সঠিক উত্তর:
প্যানথিয়ন ধর্মমন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যানথিয়ন ধর্মমন্দির
ব্যাখ্যা
• রোম সভ্যতা : 
- ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোমকে কেন্দ্র করে গড়ে সভ্যতা রোমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ইতালির মাঝামাঝি পশ্চিমাংশে রোম নগর অবস্থিত।
- রোম সভ্যতা  ইতালির দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর থেকে উত্তর দিকে আল্পস্ পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বিশাল রোম সাম্রাজ্যকে তিন ভাগ করে শাসনের দায়িত্ব নেন অক্টোভিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনি ও লেপিডাস।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল। 
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
-  ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, 
 - বিজ্ঞানীদের মধ্যে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন।
- তাদের মধ্যে প্লিনি বিজ্ঞান সম্পর্কে বিশ্বকোষ প্রণয়ন করেন। 

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
২৮৩.
ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকে মেসোপটেমিয়ানদের ধারণা কেমন ছিল?
  1. একেশ্বরবাদ
  2. দ্বৈত অস্তিত্ববাদ
  3. বহুঈশ্বরবাদ
  4. ধর্মবিশ্বাস ছিল না
সঠিক উত্তর:
বহুঈশ্বরবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুঈশ্বরবাদ
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতার নাম মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

⇒ মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি। যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাশেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।

উল্লেখ্য,
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল অবস্থিত।
- এছাড়াও সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কুয়েতে এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে।
- মেসোপটেমিয়ার লোকজন বহুঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলো।

⇒ ‘মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি ৷
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম মেসোপটেমিয়া।
- গ্রীক লেখকগণ মূলত এই নামকরণটি করে ছিলেন।
- মেসোপটেমিয়া দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো: উত্তর ও দক্ষিণ।

উৎস: i) History.com
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮৪.
দালাইলামা হলো -
  1. ক) ভারতের আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব প্রধান
  2. খ) ভুটানের আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব প্রধান
  3. গ) তিব্বতের আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব প্রধান
  4. ঘ) নেপালের আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব প্রধান
সঠিক উত্তর:
গ) তিব্বতের আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব প্রধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিব্বতের আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব প্রধান
ব্যাখ্যা
দালাইলামা  
• তিব্বতের আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব প্রধানকে দালাইলামা বলা হয়।
• মোঙ্গলিয় ভাষায় দালাই শব্দের অর্থ সমুদ্র, আর লামা শব্দের অর্থ জ্ঞানী। অর্থাৎ, দালাই লামা শব্দের অর্থ দাঁড়ায়, যে ব্যক্তির জ্ঞান সমুদ্রের মতোই গভীর।
• এই পর্যন্ত চৌদ্দজন দালাই লামা নির্বাচিত হয়েছেন।
• বর্তমানে যিনি আছেন তানজিন গিয়েৎসো, তিনি চতুর্দশ দালাইলামা।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
২৮৫.
পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিল কোনটি?
  1. ক্ল্যান
  2. ইহুদি
  3. জরথুস্ত্র
  4. সাংসারেক
সঠিক উত্তর:
জরথুস্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরথুস্ত্র
ব্যাখ্যা
পারস্য:
- পারস্য বর্তমানে ইরান নামে পরিচিত।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয় ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিল জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস: প্রথমপত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৬.
প্রাচীন গ্রিসের প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয়-
  1. আঙ্কারা
  2. এথেন্স
  3. স্পার্টা
  4. থিবস
সঠিক উত্তর:
এথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এথেন্স
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা: 
- প্রাচীন গ্রিসে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় এথেন্সে।
- তবে প্রথম দিকে এথেন্সে ছিল রাজতন্ত্র।
- খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে এক ধরনের অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ক্ষমতা চলে আসে অভিজাতদের হাতে।
- দেশ শাসনের নামে তারা শুধু নিজের স্বার্থই দেখত।
- তাদের বলা হতো 'টাইরান্ট'।
- ফলে সপ্তম খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মাঝামাঝি সময়ে রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক পরিবর্তন আসে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৮৭.
হাম্মুরাবির আইন (Code of Hammurabi) কোন সভ্যতার সাথে সম্পর্কিত?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  4. পারস্য সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা: 
- হাম্মুরাবির কোড (Code of Hammurabi) ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সাথে জড়িত। 
- এটি ব্যাবিলনের ১ম রাজবংশের অংশ হিসাবে ১৭৯২ থেকে ১৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত শাসনকারী হামুরাবির শাসনামলে বিকশিত হয়েছিল।
- হাম্বুরাবির ২৮২টি আইন প্রতিশোধমূলক নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল, যেখানে “চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত” নীতি অনুসরণ করা হতো।
- এসব আইন ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্পত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করত এবং রোমান ও হিব্রু আইনে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

উল্লেখ্য, 
- বিজ্ঞান ও গণিতের ক্ষেত্রেও ব্যাবিলনীয়দের অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।
- তারা চাঁদের পর্যবেক্ষণ করে একটি পঞ্জিকা তৈরি করেছিল এবং জ্যোতির্বিদ্যায় উন্নতি সাধন করেছিল।
- স্থাপত্যে পাথরের অভাবে ইট দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করত। ঝুড়ি, মাটির পাত্র এবং ধাতব দ্রব্য তৈরি করত তারা।
- ধর্মীয় দিক থেকে, ব্যাবিলনীয়রা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক ছিল।
- তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন 'মারদুক' এবং দেবী 'ইশতার'।  

সূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৮.
চিকিৎসা শাস্ত্রে কারা সর্বপ্রথম ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়?
  1. মিশরীয়রা
  2. গ্রীকরা
  3. রোমানরা
  4. ক্যালেডীয়রা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে যার একটি ছিল উত্তর মিশর (নিম্ন মিশর) অপরটি ছিল দক্ষিণ মিশর (উচ্চ মিশর)।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত সময়ে নীলনদের অববাহিকায় একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে।
- প্রথম রাজবংশের শাসন আমল শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ থেকে।
- একই সময়ে নিম্ন ও উচ্চ মিশরকে একত্রিত করে 'নারমার' বা 'মেনেস' একাধারে মিশরের প্রথম নরপতি এবং পুরোহিত হন।
- তিনি প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন।
- এরপর থেকে ফারওদের অধীনে মিশর প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতিতে একের পর এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে শুরু করে।

⇒ মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।
- মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল । চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৯.
হৃৎপিন্ডের গতি এবং নাড়ির স্পন্দন নির্ণয় করতে পারত-
  1. মিশরীয়রা
  2. ফিনিশীয়রা
  3. গ্রিকরা
  4. রোমানরা
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়রা
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল। তারা চোখ, দাঁত, পেটের রোগ নির্ণয় করতে জানত। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করার বিদ্যাও তাদের জানা ছিল। তারা হাড় জোড়া লাগানো, হৃৎপিন্ডের গতি এবং নাড়ির স্পন্দন নির্ণয় করতে পারত।
সূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৯০.
প্রাচীন মিশরে নিম্ন ও উচ্চ মিশরকে একত্রিত করেন কে?
  1. মেনেস
  2. নারমার
  3. তুতেনখামেন
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশ যা আমাদের কাছে পরিচিত ইজিপ্ট বা মিশর নামে।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
- যার একটি ছিল উত্তর মিশর (নিম্ন মিশর) অপরটি ছিল দক্ষিণ মিশর (উচ্চ মিশর)।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত সময়ে নীলনদের অববাহিকায় একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- সে সময়টা প্রাচীন মিশরের ইতিহাসে প্রাক-রাজবংশীয় যুগ বলে পরিচিত।
- এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে।
- প্রথম রাজবংশের শাসন আমল শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ থেকে।
- তখন থেকে মিশরের ঐতিহাসিক যুগের শুরু।
- একই সময়ে নিম্ন ও উচ্চ মিশরকে একত্রিত করে 'নারমার' বা 'মেনেস' একাধারে মিশরের প্রথম নরপতি এবং পুরোহিত হন।
- তিনি প্রথম ফারাও- এর মর্যাদা লাভ করেন।
- এরপর থেকে ফারাওদের অধীনে মিশর প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতিতে একের পর এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে শুরু করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯১.
আগুনের আবিষ্কার হয় কোন যুগে?
  1. ক) প্রাচীন প্রস্তর যুগ
  2. খ) মধ্য প্রস্তর যুগ
  3. গ) নব্য প্রস্তর যুগ
  4. ঘ) ব্রোঞ্জ যুগ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাচীন প্রস্তর যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাচীন প্রস্তর যুগ
ব্যাখ্যা
- আগুনের আবিষ্কার হয় প্রাচীন প্রস্তর যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১ লক্ষ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার অব্দ পর্যন্ত সময়কে প্রাচীন প্রস্তর যুগ ধরা হয়।
- নব্য প্রস্তর যুগের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো চাকা এবং কৃষিকাজ।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান : দ্বিতীয়পত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২৯২.
সম্রাট দারিয়ুস কোন সভ্যতার শাসক ছিলেন?
  1. হিব্রু
  2. সিন্ধু
  3. পারস্য
  4. ফিনিশীয়
সঠিক উত্তর:
পারস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারস্য
ব্যাখ্যা
পারস্য প্রশাসন
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- শক্তভাবে সাম্রাজ্য শাসনের জন্য সম্রাটের হাতে রাখা হয় অনেক ক্ষমতা।
- তিনি একাধারে সামরিক, বেসামরিক ও বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য পুরো সাম্রাজ্যকে চার ভাগে বিভক্ত করে চারটা রাজধানী গড়ে তোলেন।
- এগুলো হলো- সুসা, একবাটানা, ব্যাবিলন ও পার্সেপলিস।
- এছাড়া পারস্য সাম্রাজ্যকে ২১টি প্রদেশে ভাগ করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হয় রাস্তাঘাট।
- দারিয়ুসের সময় একটি শক্তিশালী নৌবাহিনীও গঠিত হয়। 

বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান
- বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারসীয়দের বিরাট অবদান রয়েছে।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- মিশরীয় চিকিৎসা বিদ্যালয়কে তিনি সংস্কার করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- বিখ্যাত ক্যালডীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'নেবুরিমানু'কে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা দেন।
- এছাড়া ক্যালডীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'কিদিন'ও পারস্য সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।

লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার
- পারসীয়গণ দুটি ভাষায় লিখতে জানত।
- একটি হলো এ্যাসিরীয় আর অন্যটি প্রাচীন পারসীয়।
- প্রথম দিকে পারসীয়রা এ্যাসিরীয় কিউনিফর্ম লিপিতেই লিখত।
- এরা ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত। ধীরে ধীরে পারসীয়দের একটি নিজস্ব লিখন রীতি তৈরি হয়।

শিল্পকলা
- পারসীয়রা শিল্পকলার ক্ষেত্রে খুব বেশি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয় নি। তবে 'পাসারগাদিয়া' ও 'পার্সেপালিসে' সম্রাট কাইরাস ও দারিয়ুস এর প্রাসাদ স্থাপত্যের ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার প্রমাণ বহন করছে।
- প্রাসাদের ছাদ ছিল কাঠের তৈরি। উজ্জ্বল রঙের ইট দিয়ে দেয়াল সাজানো হয়েছিল। রাজা ও ভৃত্যের ছবি আঁকা হতো দেয়ালে।
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের ইতিহাস প্রথম পত্র। 
২৯৩.
'বাসেল কনভেনশন'-এর বর্তমান সদস্য দেশ -
  1. ১৮৯টি
  2. ১৯১টি
  3. ১৯৩টি
  4. ১৯৫টি
সঠিক উত্তর:
১৯১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১টি
ব্যাখ্যা
 বাসেল কনভেনশন:
- জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) বিপজ্জনক বা বিষাক্ত বর্জ্য এবং এটির আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বাসেল কনভেনশন নামে একটি কনভেনশন গ্রহণ করে।
- এটি গৃহীত হয়: ২২শে মার্চ, ১৯৮৯, বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
- কার্যকরী হয়: ৫ মে, ১৯৯২।
- সদস্য: ১৯১টি।
- স্বাক্ষরকারী: ৫৩টি।
- বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বাসেল কনভেনশন বলে।
- বাসেল কনভেনশন এর উদ্দেশ্য: উন্নত দেশ থেকে অনুন্নত দেশে বিপজ্জনক বর্জ্য স্থানান্তর রোধ করা।

উল্লেখ্য,
-  বাংলাদেশ বাসেল কনভেনশন কার্যকর করে ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন।

উৎস: UN Basel Convention  ওয়েবসাইট।
২৯৪.
মোট কতটি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- মোট ৪টি আরব-ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রসমূহ ও ফিলিস্তিনি আরব বাহিনীর গুলোর সম্মিলিত সামরিক বাহিনী মধ্যে সংঘটিত হয়।
- এটি আরবিতে নাকবা (বিপর্যয়) ও হিব্রুতে মিলখেমেত হাতজমাউত (স্বাধীনতা যুদ্ধ) বলে পরিচিত।

২য় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ:
- এই যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৫৬ সালে।

৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
- ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল।
- এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।

৪র্থ আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
- সংঘটিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- Yom Kippur War নামে পরিচিত ৪র্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ।
- ইহুদিদের পবিত্র দিন ইয়ম কিপুরের সময় ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চলে আরব জোটের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হয়।
- মিশরীয় ও সিরিয়ান সেনারা যুদ্ধবিরতি রেখা ভেদ করে যথাক্রমে সিনাই উপদ্বীপ ও গোলান মালভূমিতে ঢুকে পড়ে।
- যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন উভয়ে তাদের নিজ নিজ মিত্রদের এসময়ে সহায়তা করে।
- ফলে দুইটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com

২৯৫.
হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের স্মৃতিবিজড়িত প্রত্নতাত্তিক স্থান তক্ষশীলা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ভারত
  2. খ) নেপাল
  3. গ) চীন
  4. ঘ) পাকিস্থান
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাকিস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাকিস্থান
ব্যাখ্যা
তক্ষশীলা পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় অবস্থিত শহর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। 
- প্রাচীন তক্ষশীলা নগরী ছিল হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং বর্তমান সময়েও উক্ত ধর্মদুটির ঐতিহ্যে এ স্থানটির একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৮০ সালে বেশকিছু এলাকাসহ তক্ষশীলাকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- গার্ডিয়ান পত্রিকা ২০০৬ সালে এটিকে পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যটন স্থান হিসেবে নির্বাচিত করে।
- কথিত আছে, কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্র এই নগরেই রচনা করেছিলেন ।

উৎস: Britannica.
২৯৬.
‘ইন্ডিকা’ নামক গ্রন্থে কোন সাম্রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা পাওয়া যায়?
  1. ক) গুপ্ত সাম্রাজ্য
  2. খ) মৌর্য সাম্রাজ্যে
  3. গ) পাল সাম্রাজ্য
  4. ঘ) সাতবাহন সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
খ) মৌর্য সাম্রাজ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৌর্য সাম্রাজ্যে
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। চন্দ্রগুপ্ত গ্রিকদের আক্রমণ শুধু প্রতিহত নয়, তাদেরকে ভারত থেকে বিতাড়িত করে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামানুসারে ভারতবর্ষে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় তা মৌর্য সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। চাণক্য ছিলেন তাঁর প্রধানমন্ত্রী। চাণক্য কৌটিল্য ছদ্মনামে ‘অর্থশাস্ত্র’ নামে এক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের সারসংক্ষেপ হচ্ছে এই গ্রন্থ। চন্দ্রগুপ্তের সময়ে গ্রিক পরিব্রাজক মেগাস্থিনিস ভারতবর্ষে আগমন করে ভারতের শাসন প্রকৃতি, ভৌগোলিক বিবরণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইন্ডিকা’তে লিপিবদ্ধ করেন।
[সূত্রঃ ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি(উন্মুক্ত)]
২৯৭.
ঐতিহাসিক স্থাপনা 'কলোসিয়াম' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. গ্রিস
  2. ইতালি 
  3. মিশর 
  4. মরক্কো
সঠিক উত্তর:
ইতালি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালি 
ব্যাখ্যা

কলোসিয়াম:
- ঐতিহাসিক স্থাপনা 'কলোসিয়াম' ইতালিতে অবস্থিত। 
- কলোসিয়াম প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গড়ে ওঠে। 

⇒ কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন। পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- কলোসিয়ামটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই এবং অন্যান্য জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোর জন্য ব্যবহৃত হতো। 
- এর প্রাথমিক নাম ছিল ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফিথিয়েটার। 
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: Britannica.

২৯৮.
চীনের কোন রাজবংশের আমলে সিল্ক রোড গড়ে উঠেছিল?
  1. সং
  2. মিং
  3. চৌ
  4. হান
সঠিক উত্তর:
হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হান
ব্যাখ্যা
সিল্ক রোড:
- ‘সিল্ক রোড’ হলো চীনের চালু করা বাণিজ্য পথ।
- প্রাচীনকালে সিল্ক রোড বলতে চীনের সাথে পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ বোঝাতো। 
- চীন থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া তথা ইউরোপে আর উত্তর আফ্রিকায় চীনের রেশম আর রেশমী কাপড় পাঠানো হয়েছিল বলে এ পথ ‘সিল্ক রোড (Silk Road)’ বা ‘সিল্ক রুট (Silk Rute)’ নামে সুপরিচিত ।
- সিল্ক রোড গড়ে উঠেছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে চীনের হান রাজবংশের আমলে।

⇒ সিল্ক রোড চীনের সিল্ক, মশলা, মূল্যবান রত্ন এবং অন্যান্য পণ্য পশ্চিমে পৌঁছানোর প্রধান পথ ছিল।
- এটি দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, এবং ইউরোপের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল।

উল্লেখ্য,
- দশম শতাব্দীতে চীনের সং রাজবংশের আমলে 'সিল্ক রোড' বাণিজ্যের মাল পরিবহনের পথ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ হয়।

উৎস: Britannica.
২৯৯.
ইজিয়ান সভ্যতা কোন অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠে?
  1. মেক্সিকোতে
  2. বলকান অঞ্চলে
  3. টাইগ্রিস নদীর তীরাঞ্চলে
  4. সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
বলকান অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলকান অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
ইজিয়ান সভ্যতা:
- ইজিয়ান সভ্যতা প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা।
- ইজিয়ান সাগরের তীরবর্তী পূর্ব বলকান অঞ্চলে যথাক্রমে প্রায় ৭০০০-৩০০০ খ্রিস্টপূর্বে এবং প্রায় ৩০০০-১০০০ খ্রিস্টপূর্বে গড়ে ওঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার অপর নাম মিনীয় (Minoan) সভ্যতা।
- মিনীয় সভ্যতা অঞ্চলটি ক্রিট, সাইক্লেডস এবং অন্যান্য কিছু দ্বীপ এবং গ্রীক মূল ভূখন্ড, পেলোপোনিজ, মধ্য গ্রীস এবং থেসালি নিয়ে গঠিত।
- ইজিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল গ্রিস।
- ইজিয়ান সাগরের তীরবর্তী পূর্ব বলকান অঞ্চল নিয়ে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার তথ্য পাওয়া যায় গ্রিক কবি হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে।
- ইজিয়ান সভ্যতার পতন ঘটে ১১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

উৎস: Britannica.
৩০০.
ইনকা সভ্যতার স্থপতি কে ছিলেন?
  1. ইলিয়াড আন্তো
  2. মানকো ভিরাকোসা
  3. তুতানখামেন
  4. মানকো কাপেন
সঠিক উত্তর:
মানকো কাপেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানকো কাপেন
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল ইনকা সভ্যতা।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।