বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / ১২ · ১০১২০০ / ১,১৮৫

১০১.
'সিনাগগ' কোন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ের নাম?
  1. ক) ইহুদী
  2. খ) শিখ
  3. গ) জৈন
  4. ঘ) বৌদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) ইহুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইহুদী
ব্যাখ্যা
• ইহুদীদের উপাসনালয়ের নাম সিনাগগ
• যা কেবল ধর্মীয় প্রার্থনার জন্য নয়, এটি ধর্ম সম্পর্কিত সমাবেশ ও অধ্যয়নের জায়গা হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
• এর প্রচলিত ক্রিয়াকলাপগুলি তিনটি ভাগে বিভক্ত: bet ha-tefilla (“house of prayer”) বা (''প্রার্থনার ঘর''), bet ha-kneset (“house of assembly”) বা (''সমাবেশের ঘর''), এবং bet ha-midrash (“house of study”) বা (''অধ্যয়নের ঘর'')।

অন্যদিকে, 
• শিখদের উপাসনালয় - গুরু দুয়ারা। 
• জৈনদের ধর্মীয় পবিত্রস্থান - ভারতের রাজস্থানে অবস্থিত - দিলওয়ারা মন্দির।
• বৌদ্ধ ধর্মের উপাসনালয় মঠ নামে পরিচিত।  

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
১০২.
রোমানদের আকাশ দেবতার নাম কী ছিল?
  1. মিনার্ভা
  2. ভেনাস
  3. নেপচুন
  4. জুপিটার
সঠিক উত্তর:
জুপিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুপিটার
ব্যাখ্যা
রোমান ধর্ম: 
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন।
- ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- তাদের দেবদেবীর মধ্যে গ্রিকদের মতো মানবিক গুণাবলী আরোপিত হয়।
- বিখ্যাত গ্রিক দেবতা জিউস,
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- রোমীয় ধর্মচর্চা ছিল রাজনৈতিক ও ইহজাগতিক।

উৎস: ইসলামর ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৩.
প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু হয় কোন সভ্যতায়?
  1. মিশরীয় সভ্যতায়
  2. ক্যালডীয়রা সভ্যতায়
  3. সুমেরীয়রা সভ্যতায়
  4. ব্যবিলনীয়রা সভ্যতায়
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়রা সভ্যতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়রা সভ্যতায়
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা ( Sumerian Civilization):
- সুমের ছিল মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ অংশে, বর্তমান ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) মধ্যবর্তী উর্বর অঞ্চল।
- এটি ছিল মেসোপটেমিয়ার প্রাচীনতম সভ্যতা।
- ৪৫০০-৪০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, উবাইদীয় (Ubaidians) জাতির মানুষ এখানে প্রথম বসতি স্থাপন করে।
- ৩৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সুমেরীয়রা এ অঞ্চলে আসে এবং তাদের ভাষা প্রধান ভাষা হয়ে ওঠে।
- তৃতীয় সহস্রাব্দে, এখানে অন্তত ১২টি শহর-রাষ্ট্র গড়ে ওঠে, যেমন:কিশ, উরুক, উর, সিপ্পার, লাগাশ, লারসা ইত্যাদি।
- প্রতিটি শহর-রাষ্ট্রে ছিল একটি প্রধান দেবতার মন্দির এবং আশেপাশে গ্রাম ও চাষের জমি।

সুমেরীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান:
- প্রযুক্তি ও যানবাহন: প্রথমবারের মতো দুই চাকার রথ (Chariot) ব্যবহারের প্রচলন ঘটে।
- সেচ ব্যবস্থা: টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পানি ব্যবহার করে উন্নত সেচ ব্যবস্থা তৈরি করে কৃষির উন্নতি সাধন করা হয়।
- লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার: সুমেরীয়রা “কিউনিফর্ম” (Cuneiform) নামক লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন করে।
- এই লিপি বাম থেকে ডান দিকে লেখা হত এবং এর বর্ণ সংখ্যা ছিল ৩২টি।
- সাহিত্য ও ধর্ম: বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেন।
- বহু ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল, তাদের প্রধান দেবতা ছিল 'নাগাল'।
- গণিত ও সময় গণনা: জলঘড়ি ও চন্দ্র পঞ্জিকা আবিষ্কারেও সুমেরীয়রা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
- রাজা উর-নাম্মু (Ur-Nammu) প্রথম লিখিত আইন সংকলন তৈরি করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১০৪.
‘গ্লাসনস্ত' ও ‘পেরেস্ত্রোইকা’ কোন দেশে চালু হয়েছিল?
  1. ক) অষ্ট্রিয়া
  2. খ) বেলারুশ
  3. গ) সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. ঘ) পোল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
গ) সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
• ‘গ্লাসনস্ত' ও ‘পেরেস্ত্রোইকা’ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে চালু হয়েছিল। 

• ১৯৮৫ সালে গরবাচেভ ক্ষমতায় এসেছিলেন ।
- ১৯৮৭ সালে তিনি সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেন।
- গরবাচেভ তার সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেছেন দুভাবে
১. ‘গ্লাসনস্ত' যার আভিধানিক অর্থ দুয়ার খোলা নীতি।
২. ‘পেরেস্ত্রোইকা’ যার অর্থ দাঁড়ায় পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন।

• গরবাচেভ তার সংস্কার কর্মসূচি বাস্ত বায়ন করতে গিয়ে সবকিছু ‘ওপেন' করে দিয়েছিলেন।
-গরবাচেভ বলেছিলেন ব্যুরোক্রেসিমুক্ত একটি সমাজ ব্যবস্থার কথা।
- বলেছিলেন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পার্টির কর্মকর্তা নির্বাচন করার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা।
- বলেছিলেন, সরকার ফ্যাক্টরি প্রশাসক নির্ধারণ করবে না।
- এরা নিযুক্ত হবেন কর্মচারীদের ভোটে। বলেছিলেন, ফ্যাক্টরিগুলোর প্রশাসন তাদের নিজস্ব উৎপাদিত দ্রব্যের ব্যাপারে ও বাজারজাতের ব্যাপারে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে-এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকবে না ।
- তিনি বলেছিলেন, যেসব শিল্প-কারখানা, তাদের উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতায় দাঁড়াতে পারছে না, তা বন্ধ করে দেয়া হবে।
- সাংবাদপত্রকে তিনি যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।
- প্রশাসনের প্রভাব থেকে নিরপেক্ষভাবে অনেক সংবাদপত্র তখন প্রকাশিত হয়েছিল।
- তিনি বাজার অর্থনীতি চালু করার কথাও বলেছিলেন। ব্যক্তিগত খাত সৃষ্টি করা হয়েছিল।

সূত্র: আন্তর্জাতিক রাজনীতিকোষ, তারেক শামসুর রেহমান।
১০৫.
মঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. হাম্বুরাবি
  2. নেবুচাদনেজার
  3. হিরোডোটাস
  4. তেমুজিন
সঠিক উত্তর:
তেমুজিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেমুজিন
ব্যাখ্যা
মঙ্গোল সাম্রাজ্য:
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত।
- চেঙ্গিস খান (তেমুজিন্য) মঙ্গোল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- তিনি ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন
- তার আসল নাম ছিল তেমুজিন।
- ১২০৬ সালে মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতিগুলোকে সংগঠিত করার মাধ্যমে বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এই সাম্রাজ্যের পত্তন করেন।
- ১২২৭ সালে চেঙ্গিস খান মৃত্যুবরণ করেন।
- চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পর তার বংশধরগণ এই সাম্রাজ্যের আরো বিস্তৃতি ঘটান।
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরের সময় পূর্ব ইউরোপ থেকে ইন্দোচীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো যার আয়তন ছিলো এক কোটি বর্গমাইলেরও অধিক।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১০৬.
ইনকা সভ্যতার স্থপতি কে ছিলেন?
  1. মানকো কাপেন
  2. সিনচি রোকা
  3. হুয়ায়না ক্যাপ্যাক
  4. তুতানখামেন
সঠিক উত্তর:
মানকো কাপেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানকো কাপেন
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
১০৭.
হোমারের মহাকাব্যের নাম কী?
  1. ইডিপাস
  2. ইনিট
  3. ইলিয়াড
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
হোমারের মহাকাব্য:
- গ্রিক সভ্যতার ক্রমবিকাশে আদিকালকে 'হোমারিক যুগ' বলা হয়। গ্রিক কবি হোমারের নাম থেকে এ যুগের নামকরণ করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৮০০ অব্দ পর্যন্ত এই যুগের বিস্তৃতি।
- বিখ্যাত কবি হোমার 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' নামে দুটি মহাকাব্য রচনা করেন।
- তার রচনাবলী থেকে গ্রিক ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য, লোক ঐতিহ্যের সন্ধান পাওয়া যায়।

⇒ ঐতিহাসিকদের মতে হোমার ছিলেন একজন অন্ধ কবি।
- হোমারের মহাকাব্যের নাম ইলিয়াড (Iliad) এবং ওডিসি (Odyssey)।

• ইলিয়াড: এটি ট্রয়ের যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি মহাকাব্য, যেখানে হেলেনের অপহরণ এবং ট্রয় শহরের বিরুদ্ধে গ্রিসের যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।

• ওডিসি: এটি ট্রয়ের যুদ্ধের পর, গ্রিক নায়ক উলিসিসের বাড়ি ফেরার কাহিনী নিয়ে রচিত। এটি এক সাহসী অভিযানের গল্প, যেখানে উলিসিস বিভিন্ন বিপদ ও ভয়ংকর সত্ত্বার মুখোমুখি হয়।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১০৮.
ডেনমার্কের মালিকানায় থাকা গ্রিনল্যান্ড কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ক) এশিয়া
  2. খ) ইউরোপ
  3. গ) উত্তর আমেরিকা
  4. ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তর আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত। 

গ্রিনল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত একটি সুবৃহৎ দ্বীপ যা ডেনমার্কের একটি স্ব-নিয়ন্ত্রিত অংশ হিসেবে স্বীকৃত।

 এটি পশ্চিম দিকে ডেভিস প্রণালী ও ব্যাফিন উপসাগর দ্বারা প্রাথমিকভাবে কানাডীয় আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পূর্ব দিকে ডেনমার্ক প্রণালী দ্বারা আইসল্যান্ড থেকে পৃথক হয়েছে।

 Source: britannica.com
১০৯.
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা নির্মিত হয়েছিল কোথায়?
  1. মিশরীয় সভ্যতায়
  2. সিন্ধু সভ্যতায়
  3. গ্রিক সভ্যতায়
  4. রোমান সভ্যতায়
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতায়
ব্যাখ্যা

কলোসিয়াম:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা কলোসিয়াম প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গড়ে ওঠে। 

⇒ কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন। পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- কলোসিয়ামটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই এবং অন্যান্য জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোর জন্য ব্যবহৃত হতো। 
- এর প্রাথমিক নাম ছিল ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফিথিয়েটার। 
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

⇒ রোমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল। 
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।
- রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১০.
'পিস পার্ক' কোথায় অবস্থিত?
  1. নাগাসাকি
  2. হিরোশিমা
  3. হো চি মিন সিটি
  4. টোকিও
সঠিক উত্তর:
নাগাসাকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগাসাকি
ব্যাখ্যা
পিস পার্ক:
- জাপানের নাগাসাকিতে 'পিস পার্ক' স্থাপিত হয়।
- ১৯৪০ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- জাপান কর্তৃক পার্ল হারবর আক্রমণের প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে সরাসরি ২য় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহন করে।
- যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র জাপানে ২টি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
- হিরোশিমায় লিটল বয় ৬ আগস্ট, ১৯৪৫।
- নাগাসাকিতে ফ্যাট ম্যান ৯ আগস্ট ১৯৪৫।
- নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরনে নিহতদের স্মরণে 'শান্তি পার্ক' স্থাপন করা হয়।
- এই পার্কে স্থাপিত হয়েছে 'পিস স্ট্যাচু (Peace Statue)'।

উৎস: Britannica.
১১১.
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কোন শহর ছিল?
  1. এথেন্স
  2. আলেকজান্দ্রিয়া
  3. কনস্টান্টিনোপল
  4. এন্টিওক
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র -  Britannica.com

১১২.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলা করা হয়েছিল?
  1. জিমি কার্টার
  2. হ্যারি এস ট্রুম্যান
  3. ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার
  4. রিচার্ড নিক্সন
সঠিক উত্তর:
হ্যারি এস ট্রুম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যারি এস ট্রুম্যান
ব্যাখ্যা
জাপানের পারমাণবিক বোমা হামলা:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম যুদ্ধ যেখানে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র।
- মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে।
- নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে।
- নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

উৎস: History.com.
১১৩.
'হায়া সোফিয়া গির্জা' কোন সাম্রাজ্যের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. বাইজেন্টাইন
  2. অটোমান
  3. পারস্য
  4. মিশরীয়
সঠিক উত্তর:
বাইজেন্টাইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইজেন্টাইন
ব্যাখ্যা

→ 'হায়া সোফিয়া গির্জা' বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন।

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র -  Britannica.com

১১৪.
রােমান সভ্যতা কত বছর স্থায়ী হয়েছিল?
  1. প্রায় পাঁচশ বছর
  2. প্রায় ছয়শ বছর
  3. প্রায় সাতশ বছর
  4. প্রায় আটশ বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ছয়শ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ছয়শ বছর
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল। 
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।
- রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 
 
সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল। 
 
উৎস: i) Britannica.
         ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৫.
সর্বপ্রথম 'সৌর পঞ্জিকা' আবিষ্কার হয় কোন সভ্যতায়? 
  1. গ্রিক সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

• মিশরীয় সভ্যতার অবদান: 
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর।
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ।
- ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।

এছাড়াও,
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৬.
প্রাচীন প্রস্তর যুগের সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক সাফল্য কী? 
  1. মৃৎশিল্প
  2. চাকার আবিষ্কার
  3. আগুনের ব্যবহার 
  4. নগরায়ন
সঠিক উত্তর:
আগুনের ব্যবহার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনের ব্যবহার 
ব্যাখ্যা

প্রাচীন প্রস্তর যুগ (Paleolithic Age):
- মানব সভ্যতার আদিমতম পর্যায়কে প্রাচীন প্রস্তর যুগ বলা হয়।
- এই যুগের মানুষ ছিল মূলত যাযাবর এবং খাদ্য সংগ্রাহক।
- হাতিয়ার: তারা পাথর ভেঙে ভোঁতা ও অমসৃণ হাতিয়ার তৈরি করত। এই যুগের শেষ দিকে হাড় ও দাঁতের তৈরি সূক্ষ্ম হাতিয়ারের ব্যবহারও দেখা যায়।

• আগুনের আবিষ্কার:
- এই যুগের সবচেয়ে বৈপ্লবিক সাফল্য ছিল আগুনের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার শেখা।
- এটি মানুষকে শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবার রান্না করতে সাহায্য করে।

• আবাসন ও শিল্প:
- মানুষ প্রধানত গুহায় বসবাস করত। তারা গুহার দেওয়ালে শিকার ও পশুর ছবি আঁকত, যা 'গুহাচিত্র' (Cave Paintings) নামে পরিচিত। - ফ্রান্সের লাস্কো এবং স্পেনের আলতামিরা গুহায় এর চমৎকার নিদর্শন পাওয়া যায়।

• সামাজিক গঠন:
- মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বাস করত এবং মূলত শিকার ও ফলমূল সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবনযাত্রা চলত।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

১১৭.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি কে ছিল?
  1. ফ্রান্স
  2. অস্ট্রিয়া
  3. হাঙ্গেরী
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:

- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল ১৯১৪-১৯১৮ সাল।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি জোট ছিল: ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন, রাশিয়া, ইতালি, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
১১৮.
কোনটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র?
  1. ক) MAD
  2. খ) WMD
  3. গ) INF
  4. ঘ) ABM
সঠিক উত্তর:
গ) INF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) INF
ব্যাখ্যা

- Intermediate-Range Nuclear Force (INF) হচ্ছে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।
- WMD (Weapons of Mass Destruction) হচ্ছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র।
- ২০০৩ সালে WMD আছে এমন আশঙ্কায় ইঙ্গ-মার্কিন জোট ইরাকে আক্রমণ করেছিল।
- Anti-Ballistic Missile (ABM) হচ্ছে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
- MAD (Mutually Assured Destruction) হচ্ছে পারস্পরিক ধ্বংস নিশ্চিতকরণ ক্ষেপণাস্ত্র।

১১৯.
নিচের কোনটি মায়া সভ্যতার লিখন পদ্ধতি ছিলো?
  1. মায়া ক্যালিওগ্রাফি
  2. মায়া মিয়ামোগ্রাফি
  3. মায়া হায়ারোগ্লিফিক
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
মায়া হায়ারোগ্লিফিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়া হায়ারোগ্লিফিক
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতা মধ্য আমেরিকার গুয়েতেমালা, বেলিজ, ও মেক্সিকোর কিছু অংশে খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে গড়ে উঠেছিলো।
- ২৫০ অবদি থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মায়ার সভ্যতার ক্লাসিক যুগ ছিল।
- ৯০০ খ্রিস্টাব্দে মায়া সভ্যতার পতন ঘটে।
- মায়া সভ্যতা পাথুরে স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত ছিল।
- মায়া সভ্যতার লিখন পদ্ধতি - মায়া হায়ারোগ্লিফিক।

এছাড়াও,
- মিশরীয়রা একটি লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে।
- এই লিখন পদ্ধতিকে হায়ারোগ্লিফিক বলে যার অর্থ পবিত্র লিপি।

সূত্র: ব্রিটানিকা (লিঙ্ক) হিস্টোরি ডট কম (লিঙ্ক)। 
১২০.
কোন সভ্যতায় কিউনিফর্ম নামক বর্ণলিপি আবিষ্কৃত হয়েছে?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

• সুমেরীয় সভ্যতা:
-
এই সভ্যতা মানব ইতিহাসের প্রথম সংগঠিত সভ্যতা।
- সুমেরীয় সভ্যতা মেসোপটেমিয়ার সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা।
- সুমেরীয় সভ্যতা মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। ।
- এটি প্রায় ৪৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
- এই সভ্যতায় আবিষ্কৃত হয়েছিল:
• কিউনিফর্ম লিপি,
• চাকা,
• পাটিগণিত,
• চন্দ্রপঞ্জিকা।
- পরবর্তীতে, ব্যাবিলনীয় সভ্যতার উত্থানের সঙ্গে সুমেরীয় সভ্যতা বিলীন হয়ে যায়।

উৎস: Britannica.

১২১.
‘কুতুব মিনার‘ কোথায় অবস্থিত?
  1. পুনে
  2. কলকাতা
  3. আগ্রা
  4. দিল্লি
সঠিক উত্তর:
দিল্লি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিল্লি
ব্যাখ্যা
- কুতুব মিনার ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত।
- শাহী দিল্লির আইকনিক স্থাপত্য কুতুব মিনারের নির্মাণ শুরু করেছিলেন কুতুবউদ্দিন আইবক, যিনি ছিলেন মুহম্মদ ঘোরীর একজন সেনাপতি।
১১৯২ সালে মুহম্মদ ঘোরীর কাছে পৃথ্বীরাজ চৌহানের পরাজয়ের পরই দিল্লিতে হিন্দু শাসনের অবসান হয়, আর তার কয়েক বছর পরেই শুরু হয় এই মিনারের নির্মাণকাজ।

উৎসঃ বিবিসি
১২২.
নিচের কোনটি মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অংশ ছিলো না?
  1. ক্যালডীয়
  2. অ্যাজটেক
  3. ব্যাবিলনীয়
  4. সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
অ্যাজটেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাজটেক
ব্যাখ্যা
- অ্যাজটেক সভ্যতা মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অংশ ছিলো না। 

অ্যাজটেক সভ্যতা: 
- অ্যাজটেক সভ্যতা চতুর্দশ শতক থেকে ষোড়শ শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মেক্সিকোর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে বিরাজমান ছিলো।
- কৃষি ও বাণিজ্যে অ্যাজটেক সভ্যতা অনেক সমৃদ্ধ ছিলো।
- তাদের প্রধান শহর ছিলো তেহুচিটলান।
- ১৫২১ সালে স্পেনিশদের দ্বারা অ্যাজটেক সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
--------------------------
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:

- আধুনিক ইরাক রাষ্ট্রের সীমারেখার মধ্যেই প্রাচীনকালে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। 
- গ্রিক শব্দ মেসোপটেমিয়ার অর্থ হচ্ছে দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ।
- খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ অব্দে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে মিশরীয় সভ্যতার সমকালীন একটি সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই সভ্যতাটি ইতিহাসে মেসোপটেমীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সভ্যতার বিকাশ ঘটে।

যেমন: 
→ সুমেরীয়,
→ ব্যাবিলনীয়,
→ এ্যাসিরীয়,
→ ক্যালডীয়। 

- সভ্যতাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকলেও একই ভূখণ্ডে গড়ে উঠার কারণে এগুলোকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
১২৩.
বিখ্যাত 'ফারাও খুফুর পিরামিড' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) গ্রিসে
  2. খ) তুরস্কে
  3. গ) মিশরে
  4. ঘ) ফ্রান্সে
সঠিক উত্তর:
গ) মিশরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিশরে
ব্যাখ্যা
পিরামিড:
- মিসরীয়দের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা হয়। 
- প্রাচীন মিসরীয় শিল্পকলা ও স্থাপত্যের আশ্চর্য নিদর্শন 'পিরামিড। 
- পাথর দিয়ে নিখুঁতভাবে তৈরী ত্রিকোনাকার পিরামিড আজও মিসরের কায়রো শহরের অদূরে সভ্যতার ইতিহাস বহন করছে। 
- এ সকল পিরামিডের অভ্যন্তরে মিসরের রাজা এবং সম্ভ্রান্ত লোকদের মৃতদেহ (মমি) করে রাখা হয়েছে। 
- লক্ষাধিক পাথর টুকরো করে নিখুঁতভাবে জোড়া দিয়ে এই পিরামিড তৈরী করা হতো এবং এক একটা পিরামিড চার থেকে পাঁচশ ফুট উচু ছিল। 
- এ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় মিসরীয়দের বিজ্ঞান ও কারিগরি কৌশল কি পরিমান উন্নত ছিল। 
- মিসরে অনেক পিরামিড আছে যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো 'ফারাও খুফুর পিরামিড'। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
ইজিয়ান সভ্যতার তথ্য পাওয়া যায় -
  1. হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে
  2. এরিস্টটলের রচনা দ্বারা
  3. হেরোডোটাসের বর্ণনার মাধ্যমে
  4. প্রত্নতাত্বিক আবিষ্কারের ফলে
সঠিক উত্তর:
হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে
ব্যাখ্যা
ইজিয়ান সভ্যতা:
- ইজিয়ান সভ্যতা প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা।
- ইজিয়ান সাগরের অঞ্চলে যথাক্রমে প্রায় ৭০০০-৩০০০ খ্রিস্টপূর্বে এবং প্রায় ৩০০০-১০০০  খ্রিস্টপূর্বে গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার অপর নাম মিনীয় (Minoan) সভ্যতা।
- মিনীয় সভ্যতা অঞ্চলটি ক্রিট, সাইক্লেডস এবং অন্যান্য কিছু দ্বীপ এবং গ্রীক মূল ভূখন্ড, পেলোপোনিজ, মধ্য গ্রীস এবং থেসালি নিয়ে গঠিত।
- ইজিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল গ্রিস।
- ইজিয়ান সাগরের তীরবর্তী পূর্ব বলকান অঞ্চল নিয়ে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার তথ্য পাওয়া যায় গ্রিক কবি হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে
- ইজিয়ান সভ্যতার পতন ঘটে ১১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। 
 
উৎস: Britannica.
১২৫.
পটুয়াখালীর জলবায়ুকে কেমন জলবায়ু বলা হয়?
  1. ক) চরমভাবাপন্ন
  2. খ) মৃদুভাবাপন্ন
  3. গ) নিয়তভাবাপন্ন
  4. ঘ) অনিয়তভাবাপন্ন
সঠিক উত্তর:
খ) মৃদুভাবাপন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৃদুভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
• মৃদুভাবাপন্ন:
- পটুয়াখালীর জলবায়ুকে বলা হয় মৃদুভাবাপন্ন
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
-  সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়। এ কারণে সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন ও দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়। কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সমুদ্রের পানি উত্তপ্ত হতে যে পরিমাণ তাপের দরকার হয় তার সমপরিমাণ মাটি উত্তপ্ত হতে তার থেকে কম তাপ দরকার হয়।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে। এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়। ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে। মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৬.
কানাডার ফরাসি ভাষী জনগোষ্ঠী কোন অঙ্গরাজ্যে সর্বাধিক বসবাস করে?
  1. ক) মেনিটোবা
  2. খ) কুইবেক
  3. গ) আলবার্টা
  4. ঘ) নোভাস্কশিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) কুইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুইবেক
ব্যাখ্যা
- কানাডার কুইবেক অঙ্গরাজ্যে সর্বাধিক ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠী বাস করে।
- কুইবেকে প্রায় ৮০% লোক ফরাসি ভাষা ব্যবহার করে।
- কানাডার অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা ইংরেজি।

উৎস:- worldatlas.com
১২৭.
মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা কোন সভ্যতার অন্তর্গত?
  1. গ্রীক
  2. রোমান
  3. সিন্ধু
  4. চৈনিক
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল সিন্ধু সভ্যতার অন্তর্গত। 
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২৮.
'একাডেমি অব সায়েন্স' কোথায় অবস্থিত?
  1. রাশিয়া
  2. আমেরিকা
  3. ফ্রান্স
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা
• একাডেমি অব সায়েন্স:
- অবস্থান: রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গে ।
- এটি একটি রাষ্ট্র মালিকানাধীন গ্রন্থাগার।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৭২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

উৎস: ব্রিটিনিকা।
১২৯.
'হরপ্পা সভ্যতা' বলা হয়ে থাকে কোনটিকে?
  1. চৈনিক সভ্যতা
  2. হিব্রু সভ্যতা
  3. পারস্য সভ্যতা
  4. সিন্ধু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারোতে এবং পাঞ্জাবের হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

উল্লেখ্য,
⇒ পরিমাপ পদ্ধতি:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
- তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত।
- তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত।
- দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
গ্রীক সভ্যতার দুই প্রধান নগর-রাষ্ট্র কোনগুলো ছিল?
  1. মেমফিস ও থিবস
  2. বাবিলন ও নিনেভে
  3. রোম ও কার্থেজ
  4. এথেন্স ও স্পার্টা
সঠিক উত্তর:
এথেন্স ও স্পার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এথেন্স ও স্পার্টা
ব্যাখ্যা
গ্রীক সভ্যতা:
⇒ ইউরোপ মহাদেশের আধুনিক গ্রীক রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রাচীন কয়েকটি শহরকে কেন্দ্র করে গ্রীক সভ্যতার উদ্ভব ঘটে। বলকান উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত গ্রীস প্রায় পাঁচ হাজার বর্গমাইল ব্যাপী বিস্তৃত। অড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, এজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রীক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়। 

⇒ গ্রীক সভ্যতার দুটি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তর হেলেনিক সভ্যতা এবং দ্বিতায় স্তরে হেলেনিস্টিক সভ্যতা। তাই গ্রীক সভ্যতার উন্মেষ বা আদিপর্ব হেলেনিক যুগ। কেবল গ্রীক উপদ্বীপ কেন্দ্রীক এই সভ্যতার প্রধান কেন্দ্র বিন্দু ছিল এথেন্স। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ থেকে ৩৩৭ অব্দ পর্যন্ত হেলেনিক যুগ বিদ্যমান ছিল। অতঃপর রাজা ফিলিপ কর্তৃক মেসিডোনিয়া কেন্দ্রীক নতুন সভ্যতা গড়ে ওঠে। রাজা ফিলিপের পুত্র আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে গ্রীকরা ইউরোপ আফ্রিকা ও এশিয়া ব্যাপী বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। ফলে গ্রীক শিক্ষা-সংস্কৃতির সঙ্গে বাইরের সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটিয়ে যে সভ্যতার সৃষ্টি হয় তাই হেলেনিস্টিক যুগের সভ্যতা।

⇒ গ্রীক সভ্যতার ক্রমবিকাশে আদিকালকে হোমারিক যুগ বলা হয়। গ্রীক কবি হোমারের নাম থেকে এ যুগের নামকরণ করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৮০০ অব্দ পর্যন্ত এই যুগের বিস্তৃতি। বিখ্যাত কবি হোমার 'ইলিয়ড' এবং 'ওডিসি' নামে দুটি মহাকাব্য রচনা করেন। তার রচনাবলী থেকে গ্রীক ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য, লোক ঐতিহ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। হোমারিক যুগে সমগ্র গ্রীক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রামীণ সংস্থায় (Village Community) বিভক্ত ছিল এবং স্বাধীন ভাবে পরিচালিত হতো। 

⇒ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে হোমারিক যুগের অবসান ঘটে। হোমারিক যুগের গ্রাম সম্প্রদায়গুলি ভেঙ্গে কালক্রমে নগর রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এথেন্স, থিক্স, মেগারা, স্পার্টা এবং করিন্থ প্রভৃতি নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এসব ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। 
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার দুটি প্রধান নগর-রাষ্ট্র ছিল এথেন্স ও স্পার্টা।
এথেন্স ছিল গণতন্ত্র ও সংস্কৃতির কেন্দ্র, যেখানে দর্শন, শিল্পকলা এবং স্থাপত্যের বিকাশ ঘটেছিল। অন্যদিকে, স্পার্টা ছিল সামরিক শক্তিতে পারদর্শী একটি নগর-রাষ্ট্র, যেখানে কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা ছিল প্রধান। 

⇒ খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীসের দুটি শক্তিশালী নগর রাষ্ট্র এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যে বিরোধ বাধে। স্পার্টা নগর রাষ্ট্রটি বরাবরই সামরিক তন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় তা ইতিহাসে পেলোপনেসীয় যুদ্ধ (খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১-৪০৪ অব্দ) বলে খ্যাত। এই যুদ্ধে এথেন্সের পতন ঘটে এবং স্পার্টা এথেন্স দখল করে নেয়। ফলে হেলেনিক সভ্যতারও পতন ঘটে।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১৩১.
আসিরিয়া কোন সভ্যতার অংশ?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. মায়া সভ্যতা
  3. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  4. ফিনিশীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
আসিরিয়া সভ্যতা: 
- আসিরিয়া ছিল প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার একটি রাজ্য।
- এটি বর্তমানে উত্তর ইরাক ও দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে অবস্থিত।
- প্রথমদিকে এটি ব্যাবিলন ও মিতান্নি সাম্রাজ্যের অধীন ছিল (দ্বিতীয় সহস্রাব্দ খ্রিস্টপূর্ব)।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৪শ শতকে আসিরিয়া একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- এরপর এটি মেসোপটেমিয়া, আর্মেনিয়া এবং উত্তর সিরিয়ার কিছু অংশে শক্তিশালী এক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়।
- রাজা তুকুলতি-নিনুর্তা প্রথমের মৃত্যুর (প্রায় ১২০৮ খ্রিস্টপূর্ব) পর আসিরিয়ার শক্তি হ্রাস পায়।
- খ্রিস্টপূর্ব ১১শ শতকে তিগলাথ-পিলেসার প্রথম সাময়িকভাবে শক্তি পুনরুদ্ধার করেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ৯শ শতকে আসিরিয়া আবারও সম্প্রসারণ শুরু করে।
- তিগলাথ-পিলেসার তৃতীয়, সারগন দ্বিতীয়, সেন্নাখেরিব ও এসারহাদ্দনের মতো শক্তিশালী রাজাদের শাসনে খ্রিস্টপূর্ব ৮ম থেকে ৭ম শতক পর্যন্ত আসিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল এলাকা (মিশর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত) নিয়ন্ত্রণ করে।
- আশুরবানিপাল ছিলেন শেষ মহাশক্তিশালী রাজা। তাঁর মৃত্যুর (৬২৭ খ্রিস্টপূর্ব) পর সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- শেষমেশ খ্রিস্টপূর্ব ৬১২–৬০৯ সালে চালদীয় ও মিদীয়দের একত্রিত আক্রমণে আসিরিয়া ধ্বংস হয়।
- আসিরিয়ানরা যুদ্ধকুশল ও নিষ্ঠুরতার জন্য খ্যাত ছিল।
- তারা বিশাল স্থাপত্য নির্মাণেও পারদর্শী ছিল।
- নিনেভে, আশুর ও নিমরুদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন তাদের কীর্তির সাক্ষ্য বহন করে।

উৎস: Britannica.
১৩২.
আজটেকদের শক্তিশালী সাম্রাজ্য বর্তমান কোথায় ছিল?
  1. মধ্য মেক্সিকো
  2. গুয়েতেমালা
  3. পেরু
  4. বলিভিয়া
সঠিক উত্তর:
মধ্য মেক্সিকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য মেক্সিকো
ব্যাখ্যা

•  আজটেক সভ্যতা: 
- আজটেকদের শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল বর্তমান মেক্সিকো অঞ্চলে।
- স্প্যানিশ আক্রমণকারীরা ১৫১৯ সালের দিকে মধ্য মেক্সিকোতে আজটেক সভ্যতার এক সমৃদ্ধ নগরের সন্ধান পায়।
- তারা সমৃদ্ধ এই নগর থেকে বিভিন্ন সম্পদ লুটপাট করে।
- তাদের আক্রমণের অনেক আগে মেক্সিকো অঞ্চলের জনশ্রুতি ও কিংবদন্তি থেকে আজটেক জাতির নাম শোনা যায়।
- তারা প্রথম বসতি গড়েছিল আজলটান অঞ্চলে। জায়গাটি ছিল মেক্সিকোর উত্তরে কিংবা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও।
- সভ্যতা বিকাশের গোড়ার দিকে আজটেকরা ছিল যাযাবর।
- তাদের জনসংখ্যা তেমন একটা বেশি ছিল না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

১৩৩.
সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী কী ছিল?
  1. পাতেজী
  2. জিগগুরাট
  3. ডুঙি
  4. ভেনাস
সঠিক উত্তর:
পাতেজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতেজী
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয়।
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বে সুমেরীয় জাতি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এরা অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠি এবং মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, আইন কানুন প্রণয়ন, ধর্মীয় অনুশাসন ইত্যাদি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল 'পাতেজী'।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
সম্প্রতি কোন দেশ 'সারমত ক্ষেপণাস্ত্র' তৈরি করেছে?
  1. রাশিয়া
  2. ইউক্রেন
  3. জার্মানি
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাশিয়া
ব্যাখ্যা
'সারমত ক্ষেপণাস্ত্র' তৈরি করেছে - রাশিয়া।

• সারমত ক্ষেপণাস্ত্র:

- সম্প্রতি সারমত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে যুদ্ধকালীন সময়ে মোতায়েন করেছে রাশিয়া।
- ১৯৮০ এর দশকের আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিডএমবি) ব্যবস্থার বদলে এই সারমত ক্ষেপণাস্ত্র বানানো হয়।
- সারমতের ওজন ২০০ টনের বেশি। এই ক্ষেপণাস্ত্র ১৮ হাজার কিলোমিটার (১১ হাজার মাইল) পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম। 
- আরএস-২৮ সারমত ক্ষেপণাস্ত্র ১০ টন ওজনের এমআইআরভি ওয়ারহেড দিয়ে বিশ্বের উত্তর বা দক্ষিণ মেরু যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।[লিঙ্ক]
১৩৫.
মিশরীয় সভ্যতায় "মেটেরিয়া মেডিকা" কী?
  1. মিশরের একটি সামরিক দল
  2. নীলনদের একটি অংশ
  3. ঔষধের তালিকা
  4. মিশরের একটি ধর্মীয় বই
সঠিক উত্তর:
ঔষধের তালিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঔষধের তালিকা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৫২৫ অব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এটি নীলনদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে নারমার বা মেনেস উচ্চ ও নিম্ন মিশরকে একত্রিত করে প্রথম ফারাও হন এবং ঐক্যবদ্ধ মিশরের সূচনা করেন।  

উল্লেখ্য, 
- লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার ছিল মিশরীয় সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- তারা প্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা তৈরি করে।
- মিশরীয়রা শুরুতে চিত্রের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করত, যা ‘হায়ারোগ্লিফিক’ নামে পরিচিত।
- তারা ‘প্যাপিরাস’ নামে এক ধরনের কাগজ তৈরি করে তার উপর লেখা শুরু করে। 

মেটেরিয়া মেডিকা: 
- মিশরীয় সভ্যতায় ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ হলো ঔষধের একটি তালিকা।
- এটি ছিল চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ ও তাদের গুণাগুণের বর্ণনা সম্বলিত একটি গ্রন্থ।
- মিশরীয়রা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও রোগ সারাতো এবং হাড় জোড়া লাগানো, হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণয় করত।
- ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ তাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির প্রমাণ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
Who was the president of Russia during World War II?
  1. ক) Winston Churchill
  2. খ) Joseph Stalin
  3. গ) Harry S. Truman
  4. ঘ) Edward Heath
সঠিক উত্তর:
খ) Joseph Stalin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Joseph Stalin
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিলো জার্মানি, জাপান ও ইতালি।
- মিত্রশক্তিতে ছিলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা.কম।
১৩৭.
অ্যাসিরীয়রা বিশেষভাবে কোন ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিল? 
  1. নৌযুদ্ধ
  2. কৃষি
  3. বাণিজ্য
  4. সামরিক কৌশল
সঠিক উত্তর:
সামরিক কৌশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামরিক কৌশল
ব্যাখ্যা

- অ্যাসিরীয়রা বিশেষভাবে সামরিক কৌশল ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিল।

 অ্যাসিরীয় সভ্যতা (Assyrian Civilization):

- অ্যাসিরীয় ছিল মেসোপটেমিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি যোদ্ধা জাতি।
- তারা তাদের নিষ্ঠুর যুদ্ধকৌশল এবং বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য পরিচিত।
- মেসোপটেমিয়ার উত্তরাঞ্চল (বর্তমান উত্তর ইরাক) ছিল আসিরীয়দের মূল কেন্দ্র।
- খ্রিস্টপূর্ব ৯০০ থেকে ৬১২ অব্দ পর্যন্ত তারা সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল।
- প্রধান শহর: আশুর (Assur) এবং নিনভেশ (Nineveh)। নিনভেশ ছিল তাদের সাম্রাজ্যের জাঁকজমকপূর্ণ রাজধানী।
- প্রধান সম্রাট: সম্রাট আশুরবানিপাল (Ashurbanipal) এবং দ্বিতীয় সারগন।
- সামরিক কৌশল:  অ্যাসিরীয়রা প্রথম লোহার তৈরি অস্ত্র ও রথ ব্যবহারের মাধ্যমে এক অপরাজেয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলে।
- তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত সামরিক শাসন প্রবর্তন করে।
- অসুরবানিপালের লাইব্রেরি: সম্রাট আশুরবানিপাল নিনভেশ শহরে বিশ্বের প্রথম সুশৃঙ্খল গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে হাজার হাজার কিউনিফর্ম মাটির ফলক সংরক্ষিত ছিল।

• স্থাপত্য: তারা বিশাল প্রাসাদ ও পাথরের খোদাই করা চিত্রকলার (Relief Sculpture) জন্য বিখ্যাত ছিল। ডানাযুক্ত ষাঁড় বা 'লামাসু' (Lamassu) ছিল তাদের স্থাপত্যের অন্যতম প্রতীক।

• প্রশাসনিক ব্যবস্থা:  অ্যাসিরীয় তাদের বিশাল সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করে দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৮.
জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকা আবিষ্কার করে-
  1. ব্যাবিলনীয়রা
  2. অ্যাশেরীয়রা
  3. সুমেরীয়রা
  4. ক্যালেডীয়রা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়রা
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর্যায় ছিল ৪টি। যথা:
১. সুমেরীয় সভ্যতা,
২. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা,
৩. অ্যাশেরীয় সভ্যতা ও
৪. ক্যালেডীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমিয়ায় গড়ে ওঠা সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয় সভ্যতা।
- জলঘড়ি ও চন্দ্র পঞ্জিকা আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে সুমেরীয়রা।
- তবে সুমেরীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান চাকা আবিষ্কার।
- বৃত্তকে ৩৬০° কোণে ভাগ করে অ্যাশেরীয়রা।
- সভ্যতায় অ্যাশেরীয়দের অবদান সমরবাদী, যুদ্ধবিদ্যা, অস্ত্র ও হাতিয়ার তৈরি।
- পৃথিবীর প্রথম লিখিত আইনের প্রচলন হয় ব্যাবিলনে।
- সর্বপ্রথম পঞ্জিকার প্রচলন করে ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়।
- সভ্যতায় ব্যাবিলনিয়দের অবদান ছিল আইন প্রণয়নে।
- ব্যাবিলনীয়দের আইন হাম্মুরাবির আইন নামে পরিচিত ছিল।
- ৭ দিনে সপ্তাহ গণনা শুরু করে ক্যালেডীয়রা।
- প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘন্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে ক্যালেডীয়রা।
- ক্যালেডীয় সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন রাজা নেবুচাঁদনেজার।

১৩৯.
গ্রিকদের প্রধান দেবতার নাম কি ছিলো?
  1. ক) অ্যাপোলো
  2. খ) পোসিডন
  3. গ) এথেনা
  4. ঘ) জিউস
সঠিক উত্তর:
ঘ) জিউস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জিউস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিসের অধিবাসীরা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করতো। তাদের দেবদেবীর সংখ্যা ছিল বারোজন। এদের মধ্যে প্রধান দেবতা ছিলো জিউস। অ্যাপোলো ছিলো সূর্য দেবতা। পোসিডন সাগরের দেবতা এবং এথেনা জ্ঞানের দেবী।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৪০.
হিব্রু সভ্যতার প্রধান ধর্মগ্রন্থ কোনটি?
  1. মার্কণ্ডেয়
  2. ওল্ড টেস্টামেন্ট
  3. গীজা বারা
  4. ডাসাম
সঠিক উত্তর:
ওল্ড টেস্টামেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওল্ড টেস্টামেন্ট
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুদের মূল ধর্ম ইহুদী।
- ইসরাইলি জাতি হিসেবে অধিক পরিচিত।
- প্রাচীন ইউফ্রেটিস নদীর পাড় থেকে বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী'।
- নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- হিব্রু জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের (আঃ) (আব্রাহাম) নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় একত্রে বসবাস শুরু করে।
- হিব্রু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ: তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট।
- তাদের প্রধান দেবতা: জেহোভা।
- জেহোভাকে একেশ্বর বলে মনে করা হয়।
- এ যুগে ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং আবার একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
ইজিয়ান সভ্যতা কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. গ্রিস 
  2. তুরস্ক
  3. ইতালি
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
গ্রিস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিস 
ব্যাখ্যা

ইজিয়ান সভ্যতা (Aegean Civilization):
- গ্রিসের মূল ভূখণ্ড, ক্রিট দ্বীপ এবং ইজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এটি মূলত দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত ছিল: মিনোয়ান সভ্যতা (ক্রিট দ্বীপ) এবং মাইসিনীয় সভ্যতা (গ্রিসের মূল ভূখণ্ড)।

• মিনোয়ান সভ্যতা (Minoan Civilization):
- এটি ইজিয়ান অঞ্চলের প্রাচীনতম উন্নত সভ্যতা, যা ক্রিট দ্বীপে বিকশিত হয়েছিল।
- রাজা মিনোসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়।
- তাদের প্রধান কেন্দ্র ছিল 'নোসোস' (Knossos) প্রাসাদ। 

• মাইসিনীয় সভ্যতা (Mycenaean Civilization):
- গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে মাইসিনাই নামক শহরকে কেন্দ্র করে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এটি ছিল মূলত একটি সামরিক বা বীর যোদ্ধাদের সভ্যতা।

• বিখ্যাত কবি হোমারের 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্যে এই মাইসিনীয় যুগের বীরত্ব এবং ট্রোজান যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- তাদের স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিশাল পাথরের তৈরি 'লায়ন গেট' (Lion Gate)।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

১৪২.
History of the Peloponnesian War - বইটি কে লিখেছেন?
  1. হেরোডোটাস
  2. থুসিডাইডিস
  3. অ্যারিস্টটল
  4. এসকাইলাস
সঠিক উত্তর:
থুসিডাইডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থুসিডাইডিস
ব্যাখ্যা
- থুসিডাইডিস বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস রচনার জনক হিসেবে পরিচিত। তার রচিত বিখ্যাত বইটি History of the Peloponnesian War. 

প্রাচীন গ্রিসের সাহিত্য:

- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের অবদান আজও মানব সভ্যতার মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
- হোমারের মহাকাব্য ইলিয়ড এবং ওডিসি প্রাচীন গ্রিসের মহাকাব্যের অসাধারণ নিদর্শন।
- বিয়োগান্তক নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষভাবে পারদর্শী ছিল।
- এসকাইলাসকে এই ধরনের নাটকের জনক বলা হয়।
- তার রচিত বিখ্যাত দুটি নাটক হলো প্রমিথিউস বাউন্ড এবং আগামেমন।
- গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সোফোক্লিস। তিনি একশটিরও বেশি নাটক রচনা করেন।
- তার বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রাজা অয়দিপাউস, আন্তিগোনে এবং ইলেকট্রা উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য: 
- আরেক বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন ইউরিপিদিস, তিনি বিয়োগান্তক নাটকের জন্য খ্যাত। এরিস্টোফেনেস তার মিলনান্তক ও ব্যঙ্গ রচনায় বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
- গ্রিকরাই ইতিহাস রচনার প্রবর্তক। হেরোডোটাস প্রথম ইতিহাস রচনা শুরু করেন বলে তাকে "ইতিহাসের জনক" বলা হয়। তার রচিত প্রথম বইটি গ্রিস ও পারস্যের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে লেখা।
- থুসিডাইডিস বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস রচনার জনক হিসেবে পরিচিত।
- তার রচিত বিখ্যাত বইটি History of the Peloponnesian War. 


উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. স্পেন
  2. ইতালি
  3. গ্রিস
  4. তুরস্ক
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুরস্ক
ব্যাখ্যা
ট্রয় নগরী:
- ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের হেসারলিক বা আনাতোলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
- ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর অস্তিত্ব এবং এর ধ্বংসের ইতিহাস প্রাচীন গ্রীক হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড-এ পাওয়া যায়।
- ট্রয় নগরী ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয়।

⇒ ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে।
- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- যুদ্ধের কারণ ছিল হেলেন নামের এক সুন্দরী মহিলাকে কেন্দ্র করে, যিনি ট্রয়ের রাজা প্রিয়াম এর পুত্র পারিস দ্বারা অপহৃত হন।
- গ্রীক রাজা মেনেলাউস তার স্ত্রীর ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য,
- প্যারিস যখন স্পার্টা থেকে রাতের অন্ধকারে হেলেনকে নিয়ে পালিয়ে এলেন, হেলেনের স্বামী স্পার্টার রাজা মেনেলাউস এবং তার ভাই আগামেমনন ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে নৌবহর নিয়ে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে এই নগরের পাশে স্কামান্দার নদীর মুখে এসে তাঁবু গেড়েছিলেন।
- তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন গ্রিস বা আচিয়ানদের বন্ধুপ্রতিম সব রাজ্যের রাজা।
- পরবর্তীতে গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.
১৪৪.
প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল - এগুলোকে কী বলা হত?
  1. নারমার
  2. পের-ও
  3. নোম
  4. মেম্ফিস
সঠিক উত্তর:
নোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোম
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিশর: 
- প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল।
- এগুলোকে 'নোম' বলা হতো।
- মিশরের প্রথম রাজা বা ফারাও-এর (মেনেস বা নারমার) অধিনে ঐক্যবদ্ধ মিশরের রাজধানী ছিল দক্ষিণ মিশরের মেম্ফিস।
- মিশরীয় 'পের-ও' শব্দ থেকে ফারাও শব্দের জন্ম।
- ফারাওরা ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাশালী।
- তারা নিজেদেরকে সূর্য দেবতার বংশধর মনে করতেন।
- ফারাও পদটি ছিল বংশানুক্রমিক।
- অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে হতো উত্তরাধিকার সূত্রে ফারাও।
- পেশার উপর ভিত্তি করে মিশরের সমাজের মানুষকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যেমন: রাজপরিবার, পুরোহিত, অভিজাত, লিপিকার, ব্যবসায়ী, শিল্পী, কৃষক ও ভূমিদাস।
- মিশরের অর্থনীতি মূলত ছিল কৃষি নির্ভর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেন -
  1. শুরিয়াস মেলাম
  2. অ্যানাক্সিম্যান্ডার
  3. পিথাগোরাস
  4. হিপোক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
অ্যানাক্সিম্যান্ডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানাক্সিম্যান্ডার
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর মানচিত্র:
- গ্রিক দার্শনিক অ্যানাক্সিম্যান্ডার সর্বপ্রথম পৃথিবীর মানচিত্র আঁকেন।
- তার এ মানচিত্রটিকে আরেকটু উন্নত করেন হেক্টিয়াস অফ মিলেটাস।
- তিনি এশিয়ার শেষ প্রান্ত ভারতের অবস্থানও দেখিয়েছিলেন। 
- গ্রিক দার্শনিকরাই প্রথম প্রমাণ করেছিলেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ যা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস গ্রিক নাগরিক।
- মানচিত্র অঙ্কন ইতিহাসের আদিযুগে সবশেষ মানচিত্র আঁকিয়ে ছিলেন টলেমি।
- বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস গ্রিক নাগরিক।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
১৪৬.
কোন দেশটি বলকান অঞ্চলে অবস্থিত নয়?
  1. ক) কসোভো
  2. খ) সার্বিয়া
  3. গ) এস্তোনিয়া
  4. ঘ) বুলগেরিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) এস্তোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এস্তোনিয়া
ব্যাখ্যা
• বলকান দেশ:
- বলকান পর্বতমালার পাদদেশ বা বলকান পেনিনসুলায় অবস্থিত দেশসমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত।
-মূলত ১০টি দেশকে বলকান দেশ বলে।

যথা -
- আলবেনিয়া,
- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা,
- বুলগেরিয়া,
- ক্রোয়েশিয়া,
- কসোভো,
- মন্টিনিগ্রো,
- মেসিডোনিয়া,
- রোমানিয়া,
- সার্বিয়া ও
- স্লোভেনিয়া

এছাড়া,
- তুরস্কের ইউরোপিয়ান অংশ ও গ্রীসকেও এই অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে থাকে।
- এস্তোনিয়া বাল্টিক দেশ।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা.কম।
১৪৭.
রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট কে ছিলেন?
  1. জুলিয়াস সিজার
  2. রমিউলাস সিজার
  3. অনরিয়াস সিজার
  4. অগাস্টাস সিজার
সঠিক উত্তর:
অগাস্টাস সিজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগাস্টাস সিজার
ব্যাখ্যা
অগাস্টাস সিজার:
- রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট ছিলেন অগাস্টাস সিজার।
- তিনি মহাবীর জুলিয়াস সিজারের ভাগ্নে।
- অগাস্টাস সিজারের আসল নাম ছিল গাইয়াস অক্টাভিয়াস। 
- জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে অগাস্টাস সিজার রাখেন।
- ৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমের সমরনায়ক ও সিনেট সদস্যরা যখন দুই ভাগে বিভক্ত, এমনই এক সময় জন্মলাভ করেন অগাস্টাস সিজার।

⇒ সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩১-১৪ খ্রিস্টাব্দ) রোমের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত শাসক ছিলেন।
- তাঁর শাসনামলে রোমীয় সভ্যতায় স্বর্ণযুগের সূচনা হয়।
- তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসক ছিলেন।
- তাঁর সময়ে রোমীয় ইতিহাস, সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞানচর্চা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।
- এই জন্য ইতিহাসে তাঁর সময়কালকে 'অগাস্টান যুগ' (Augustan Age) বলা হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
চাকার আবিষ্কার কোন যুগে হয়েছিল?
  1. তাম্র যুগ
  2. মধ্য প্রস্তর যুগ
  3. নব্য প্রস্তর যুগ
  4. প্রাচীন প্রস্তর যুগ
সঠিক উত্তর:
নব্য প্রস্তর যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্য প্রস্তর যুগ
ব্যাখ্যা

নব্য প্রস্তর যুগ:
- 'নব্যপ্রস্তর' শব্দটি এসেছে ইংরেজি Neolithic প্রতিশব্দ থেকে।
- আনুমানিক ৮০০০-৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব অব্দের মধ্যে ও নিকট প্রাচ্যে নব্য প্রস্তরযুগের প্রথম বিকাশ ঘটে।
- অতঃপর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে ইংল্যান্ডে এ যুগের সূচনা হয়।
- এ যুগে তাঁত বা বয়ন শিল্পের বিকাশ ঘটে।
- নব্য প্রস্তরযুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কীর্তি হল চাকার আবিষ্কার।
- চাকার আবিষ্কার, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, পরিবহন এবং যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন ঘটায়।
- কৃত্রিম পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত্ব এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নব্য প্রস্তর যুগের অর্জন।
- নব্য প্রস্তরযুগে বিবাহ ও পরিবার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

⇒ নব্য প্রস্তরযুগের শেষপর্যায়ে এসে সীমিত আকারে তামার ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৯.
মিশরীয় সভ্যতার শেয়াল দেবতা কোনটি?
  1. হোরাস
  2. শেঠ
  3. আনুবিস
  4. থোথ
সঠিক উত্তর:
আনুবিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনুবিস
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরে প্রথম এই সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
- একটি ছিল উত্তর মিশর অপরটি দক্ষিণ মিশর।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- পিরামিড: মিশরীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- স্ফিংস: এটি ফারাও খাফরের শাসনকালে নির্মিত বিশাল মূর্তি।
- মিশরীয় সভ্যতায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করা হত। যেমন:
• পাতালের দেবতা - ওসিরিস,
• যুদ্ধ এবং শিকারের সাথে যুক্ত আকাশের দেবতা - হোরাস,
• সহিংসতা, মরুভূমি এবং ঝড়ের দেবতা - শেঠ,
• শেয়াল দেবতা - আনুবিস,
• জ্ঞানের দেবতা - থোথ।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ছিলেন একজন -
  1. ম্যাসিডোনিয়ান শাসক
  2. রোমান শাসক
  3. মিশরীয় শাসক
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ম্যাসিডোনিয়ান শাসক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাসিডোনিয়ান শাসক
ব্যাখ্যা
আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট:
- আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ছিলেন একজন প্রাচীন ম্যাসিডোনিয়ান শাসক।
- তিনি ম্যাসিডোনিয়া এবং পারস্যের রাজা হিসেবে প্রাচীন বিশ্বের দেখা সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- মাত্র ২০ বছর বয়সে পিতা দ্বিতীয় ফিলিপের স্থলাভিষিক্ত হন তৃতীয় আলেকজান্ডার।

- গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের ছাত্র আলেকজান্ডারকে বলা হতো ‘অর্ধেক পৃথিবীর রাজা’।
- কারণ গ্রিসের ছোট্ট রাজ্য ম্যাসিডন ছাপিয়ে প্রায় অর্ধেক পৃথিবী জয় করেছিলেন তিনি।
- মাত্র ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি মিসর থেকে শুরু করে উত্তর-পশ্চিম ভারত পর্যন্ত ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: History.com.
১৫১.
প্রাচীন মহাকাব্যের নাম কী?
  1. মহাভারত
  2. ঋগ্বেদ
  3. গিলগামেশ
  4. ওডেসি
সঠিক উত্তর:
গিলগামেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিলগামেশ
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা:
-মেসোপটমীয়  সভ্যতার সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা সুমেরীয় সভ্যতা ।
-সুমেরীয় সভ্যতার অবস্থান - ইরাক।
-খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দে  এ সভ্যতা গড়ে উঠে।
-সুমেরীয়দের বড় অবদান - চাকা আবিষ্কার।
-তারা প্রথম লিখন পদ্ধতি কিউনিফর্ম উদ্ভাবন করেন।
-কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা সবচেয়ে প্রাচীন মহাকাব্য গিলগামেশ।

উৎস
: britannica
১৫২.
কোন সভ্যতায় কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়-
  1. ক) ইনকা
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) রোমান
  4. ঘ) একমেলিড
সঠিক উত্তর:
গ) রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রোমান
ব্যাখ্যা
সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নির্দশন। ৮০ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
সূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৫৩.
অগাস্টান যুগ বলা হয় -
  1. অক্টাভিয়ানের শাসনামলকে
  2. পম্পির রাজত্বকালকে
  3. ব্রুটাসের শাসন কালকে
  4. জুলিয়াস সিজারের শাসনকালকে
সঠিক উত্তর:
অক্টাভিয়ানের শাসনামলকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টাভিয়ানের শাসনামলকে
ব্যাখ্যা
অগাস্টান যুগ:
- জুলিয়াস সিজারসহ (সিজার রোমান সম্রাটদের উপাধি) অনেক বিখ্যাত শাসক রোমীয় সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন।
- কিন্তু সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩১-১৪ খ্রিস্টাব্দ) রোমের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত শাসক ছিলেন।
- সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস-এর শাসনামলে রোমীয় সভ্যতায় স্বর্ণযুগের সূচনা হয়।
- তিনি একজন বিচক্ষণ রাজনীতিক ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন শাসক ছিলেন।
- তাঁর সময়ে রোমীয় ইতিহাস, সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞানচর্চা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।

⇒ এই জন্য ইতিহাসে সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস-এর সময়কালকে 'অগাস্টান যুগ' (Augustan Age) বলা হয়।


উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৪.
নিচের কোন সভ্যতাটি নদী কেন্দ্রিক সভ্যতা ছিল না?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. চৈনিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ্রিক সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা: 
- ইউরোপ মহাদেশের গ্রিক রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রাচীন কয়েকটি শহরকে কেন্দ্র করে গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ঘটে। 
- বলকান উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত গ্রিক প্রায় পাঁচ হাজার বর্গমাইল ব্যাপী বিস্তৃত। 
- ভূ-প্রকৃতি দেশটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে।
- যথা: দক্ষিণ গ্রিস, মধ্য গ্রিস ও উত্তর গ্রিস। 
- মেসিডোনিয়ান অধিপতি আলেকজাণ্ডারের শাসনামলে এ সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে আধুনিক মিসর, ইসরাইল, প্যালেষ্টাইন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরান হয়ে ভারতবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। 
- উল্লেখ্য, এটি নদী কেন্দ্রিক সভ্যতা ছিল না। 
- আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, ইজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রিক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়। 

অন্যদিকে,
- চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল হোয়াংহোও ইয়াংসিকিয়াং নদীর অববাহিকায়। 
- মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদীর তীরে। 
- সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদীর তীরে।

উৎস: i) Britannica.
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৫.
প্রাচীন গ্রিসে সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা এবং গণতন্ত্র চর্চার মূল কেন্দ্র ছিল-
  1. ক) এথেন্স
  2. খ) স্পার্টা
  3. গ) আলেকজান্দ্রিয়া
  4. ঘ) কোরিন্থ
সঠিক উত্তর:
ক) এথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এথেন্স
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের শেষে ইজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জে এবং এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলে আবিষ্কৃত হয় এক উন্নততর প্রাচীন নগর সভ্যতা। সন্ধান মেলে মহাকাব্যের ট্রয় নগরীসহ একশত নগরীর ধ্বংস স্তুপের। ইউরোপ মহাদেশের এই অঞ্চলেই প্রথম সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল। যাকে বলা হয় ইজিয়ান সভ্যতা বা প্রাক ক্ল্যাসিক্যাল গ্রিক সভ্যতা। গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস। রোমানরা পরবর্তিকালে এর নামকরণ করে গ্রিস। গ্রিক সভ্যতার সঙ্গে ‘হেলেনিক’ ও ‘হেলেনিস্টিক’ এই দুটি সংস্কৃতির নাম জড়িত। অসংখ্য নগররাষ্ট্র নিয়ে গড়ে উঠা প্রাচীন গ্রিসে সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা এবং গণতন্ত্র চর্চার মূল কেন্দ্র ছিল এথেন্স।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
১৫৬.
চেঙ্গিস খান কোন জাতিগোষ্ঠীকে একত্রিত করে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
  1. রোমানিয়ার যাযাবর উপজাতি
  2. মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতি
  3. পারস্যের যাযাবর উপজাতি
  4. তুরস্কের যাযাবর উপজাতি
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতি
ব্যাখ্যা

মঙ্গোল সাম্রাজ্য:
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত।
- চেঙ্গিস খান মঙ্গোল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- তিনি ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন
- তার আসল নাম ছিল তেমুজিন।
- ১২০৬ সালে মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতিগুলোকে সংগঠিত করার মাধ্যমে বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এই সাম্রাজ্যের পত্তন করেন।
- ১২২৭ সালে চেঙ্গিস খান মৃত্যুবরণ করেন।
- চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পর তার বংশধরগণ এই সাম্রাজ্যের আরো বিস্তৃতি ঘটান।
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরের সময় পূর্ব ইউরোপ থেকে ইন্দোচীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো যার আয়তন ছিলো এক কোটি বর্গমাইলেরও অধিক।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১৫৭.
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা কীসের জন্য বিখ্যাত ছিল?
  1. ধর্মীয় সংস্কার
  2. জাহাজ নির্মাণ
  3. লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন
  4. আইন প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা: 
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা হলো মেসোপটেমিয়ায় গড়ে উঠা দ্বিতীয় সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ অব্দে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- অ্যামেরাইট জাতি এই সভ্যতা গড়ে তোলে।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা আইন প্রণয়নের জন্যে বিখ্যাত।
- ব্যাবিলনীয় রাজা হাম্বুরাবি পৃথিবীর প্রথম আইনপ্রণেতা হিসেবে বিবেচিত। ফ্রান্সের লুভ্যর মিউজিয়ামে সংরক্ষিত একটি স্তম্ভে ২৮২টি আইনের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বিজ্ঞান, জ্যোতিষশাস্ত্র, গণিত ও শিল্পকলায়ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতার অবদান রয়েছে।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় মাসকে ৩০দিনে, সপ্তাহকে ৭দিনে এবং দিনকে ২৪ ঘন্টায় বিভক্ত করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণী।

১৫৮.
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন কারা?
  1. মিশরীয়রা
  2. গ্রিকরা
  3. সুমেরীয়রা 
  4. ক্যালডিয়রা 
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা:
- আনুমাণিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয়
- পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রীক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়।
- হেলেনিক সভ্যতা এবং হেলেনিস্টিক সভ্যতা এই দুটি স্তর রয়েছে গ্রীক সভ্যতার। 
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৯.
পৃথিবীর কোথায় প্রথম লিখিত আইনের প্রচলন হয়?
  1. পারস্য
  2. ব্যাবিলনে
  3. পাঞ্জাবে
  4. বেতেলহামে
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাবিলনে
ব্যাখ্যা
• ব্যাবিলনীয় সভ্যতার:
- সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে আমোরাইট নামক এক জাতি বসবাস করত।
- এরা এক সময় মেসোপটেমিয়ায় এসে নগর সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এদের এই সভ্যতাকে বলে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা।
- এ সভ্যতার পত্তন হয় খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে।
- আমোরাইট নেতা হাম্মুরাবী ছিলেন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- পৃথিবীর প্রথম লিখিত আইনের প্রচলন হয় ব্যাবিলনে।

→ শিল্পকর্ম:
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় তৈলচিত্রের সন্ধান পাওয়া যায়।
- তাদের আঁকা বিভিন্ন ছবি পাওয়া গেছে।
- জিগুরাট মন্দির পক্তে শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য কীর্তি।
- একটি মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছে যা ৭ তলা বিশিষ্ট।

এছাড়াও,
- সুমেরীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান চাকা আবিষ্কার।
- সর্বপ্রথম পঞ্জিকার প্রচলন করে ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়।
- ৭ দিনে সপ্তাহ গণনা শুরু করে ক্যালেডীয়রা।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬০.
কোন শতকে মোঙ্গল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হয়?
  1. ক) দ্বাদশ
  2. খ) ত্রয়োদশ
  3. গ) চতুর্দশ
  4. ঘ) পঞ্চদশ
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রয়োদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা
মোঙ্গল সাম্রাজ্য:
- মোঙ্গল সাম্রাজ্য পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত।
- ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে (১২০৬ সালে) মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতিগুলোকে সংগঠিত করার মাধ্যমে বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান এই সাম্রাজ্যের পত্তন করেন।
- চেঙ্গিস খান ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২২৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার আসল নাম ছিলো তেমুজিন।
- চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর পর তার বংশধরগণ এই সাম্রাজ্যের আরো বিস্তৃতি ঘটান। মোঙ্গল সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরের সময় পূর্ব ইউরোপ থেকে ইন্দোচীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো যার আয়তন ছিলো এক কোটি বর্গমাইলেরও অধিক।
- ১২৫৯ সালে মেংগু খানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বে মোঙ্গল সাম্রাজ্য বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে চতুর্দশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মোঙ্গল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি কেবল মঙ্গোলিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট
১৬১.
কোন নদীর তীরে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো?
  1. হোয়াংহো
  2. ইয়াংসিকিং
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
চৈনিক সভ্যতা (Chinese Civilization):
- চৈনিক সভ্যতা পৃথিবীতে বিরাজমান সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে আজ পর্যন্ত চীন তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এটিই একমাত্র সভ্যতা যা কোনো সময় পুরোপুরি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়নি।
- চীন পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। খ্রিস্টপূর্ব ১,৫০০ অব্দে চৈনিক সভ্যতা তার চরম শিখরে অবস্থান করেছিল।
- প্রায় ৪০০০ বছর পূর্বে অর্থ্যাৎ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে চীনের হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিং নদীর তীরে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বলে ধারনা করা হয়।
- দেশটির তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে একটি হোয়াংহো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াংসিকিয়াং নদীর তীরে, তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে।
- নদীগুলোর প্রভাবে প্রাচীন চীনে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- চৈনিক সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল- শাং রাজবংশ (Shang Dynasty), জোও রাজবংশ (Zhou Dynasty) আমলে।
- এছাড়াও চৈনিক সভ্যতার উত্তরাধিকারী হিসাবে আরো বেশ কয়েকটি রাজবংশ যেমন - জিয়া রাজবংশ (Xia Dynasty), কিন রাজবংশ (Qin Dynasty), মিং রাজবংশ (Ming Dynasty) ইত্যাদি চীন শাসন করে।

উৎস: হিস্টরি.কম
১৬২.
চীন থেকে ভারতবর্ষে আসা প্রথম পর্যটকের নাম কী?
  1. ফা-হিয়েন
  2. হিউয়েন সাং
  3. মা হুয়ান
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
ফা-হিয়েন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফা-হিয়েন
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন:
- চীন থেকে ভারতবর্ষে আসা প্রথম পর্যটকের নাম ফা-হিয়েন।
- পাঁচ শতকের সূচনায় তিনি ভারত ভ্রমণ করেন।
- এ সময় গুপ্ত বংশীয়রা বাংলার অংশবিশেষসহ ভারত শাসন করছিলেন।
- ফা-হিয়েন ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন।
- ভারত ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে তিনি সীমান্ত রাজ্য চম্পার মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রবেশ করেন।
- সেখান থেকেই সমুদ্রপথে তিনি অপর বৌদ্ধপ্রধান অঞ্চল শ্রীলঙ্কায় যেতে চেয়েছিলেন।
- শ্রীলঙ্কা যাওয়ার পূর্বে ফা-হিয়েন দীর্ঘ দুবছর তাম্রলিপ্তিতে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের অনুলিপি তৈরি ও বৌদ্ধ মূর্তির ছবি আঁকেন।
- তাঁর বিবরণী থেকে জানা যায়, এ সময় তাম্রলিপ্তিতে চবিবশটি বৌদ্ধ মঠ ও অনেক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৬৩.
নব্যপ্রস্তর যুগের কীর্তি -
  1. আগুন জ্বালানোর কৌশল আবিষ্কার
  2. কাপড় বুনন
  3. চাকার আবিষ্কার
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নব্যপ্রস্তর যুগ:
- আদি মানব এক সময় নতুন পাথরের যুগে প্রবেশ করে।
- এ সময় তৈরি পাথরের অস্ত্র অনেক বেশি উন্নত ছিল।
- এ যুগে মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল।
- কৃষি আর পশু পালন ছিল মানুষের প্রধান পেশা।
- এরই পাশাপাশি মাটির রকমারি বাসন-কোসন তৈরি করতে শিখল।
- নব্য প্রস্তরযুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কীর্তি হল চাকার আবিষ্কার।
- কৃত্রিম পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত্ব এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নব্য প্রস্তর যুগের অর্জন।
- নব্য প্রস্তরযুগের শেষপর্যায়ে এসে সীমিত আকারে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- নতুন পাথরের যুগের মানুষ কাপড় বুনতে পারতো
- শিকারি জীবনের অবসান হওয়ায় এ যুগের মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করে।
- মানুষ স্থায়ী বসবাস গড়ার কারণেই ধীরে ধীরে গ্রামের বিকাশ ঘটলো।
- নতুন পাথরের যুগের সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল সিন্ধু নদীর উপত্যকা এবং বেলুচিস্তান।
- দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায় উন্নত ধরনের পাথরের কুঠার।
- এ যুগে মৃতদেহকে কবর দেয়া হতো।
- কবরের উপরে তৈরি করা হতো সমাধি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
'জিগুরাত' কাদের ধর্ম মন্দির?
  1. অ্যাশেরীয়
  2. সুমেরীয়
  3. ব্যাবিলনীয়
  4. মিশরীয়
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয়
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতার অবস্থান ও সময়কাল
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলায় প্রথম নেতৃত্ব দেয় সুমেরীয়রা।
- সুমেরী একটি জাতির নাম। তাদের আদি বাসস্থান ছিল মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তোলে।
- তাদের নামানুসারে এ অঞ্চলটির নাম সুমেরীয় অঞ্চল। আর তাদের সভ্যতাকে বলা হয় সুমেরীয় সভ্যতা।
- সুমেরীয়রা খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের পূর্বেই সুমেরু নগর গড়ে তোলে।

সুমেরীয়দের সামাজিক অবস্থা
- সুমেরীয় সমাজের মানুষ বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল।
যেমন- অভিজাত সম্প্রদায়: উচ্চ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল শাসক, পুরোহিত, অভিজাত, সামন্ত প্রভু, বণিক, শিল্পমালিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা।
মধ্য শ্রেণী: মধ্য শ্রেণীতে অবস্থান ছিল চিকিৎসক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বাধীন ভূমিমালিক (কৃষক) শ্রমিক।
নিম্ন শ্রেণী: নিম্ন শ্রেণীর অধিবাসী ছিল দাস, ভূমিদাস ও সাধারণ শ্রমিক তথা সর্বসাধারণ।

ধর্ম:
- সুমেরীয় ধর্মের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ছিল।
• প্রথমত, সুমেরীয়রা বহু দেবতায় বিশ্বাসী ছিল।
• দ্বিতীয়ত, সুমেরীয় ধর্ম ছিল ইহজাগতিক ধর্ম।
• তৃতীয়ত, সুমেরীয় ধর্মে নৈতিকতা অনুপস্থিত ছিল।
- তারা বৃষ্টি, বাতাস, পানি, উর্বরতা, প্লেগ রোগ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা মনে করত।
- তাদের কেন্দ্রীয় ধর্মমন্দিরকে বলত 'জিগুরাত' আর ধর্মগুরুকে বলত 'পাতেজি'।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের ইতিহাস প্রথম পত্র।
১৬৫.
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতনের পিছনে কে রয়েছেন?
  1. আর্তুগুল গাজি
  2. উসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মুরাদ
  3. প্রথম সুলাইমান
  4. উসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদ
সঠিক উত্তর:
উসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা
বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৩৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বিতীয় রাজধানীর নামকরণ করা হয় কনস্টান্টিনোপল।
- পূর্ব রাজধানীকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া মাইনরসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল শাসিত হতো।

⇒ বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন:
- পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইসলামী সভ্যতার উত্থান ও বিকাশের পটভূমিতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমা ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে পড়তে থাকে।
- আব্বাসীয় শাসনামল পর্যন্ত ইসলামী সাম্রাজ্য পশ্চিম ইউরোপের স্পেন, সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- ১২৫৮ সালে মোঙ্গল নেতা হালাকু খানের হাতে বাগদাদের পতন ঘটার পর ইসলামী সভ্যতার নেতৃত্ব গ্রহণ করে ওসমানীয় তুর্কিরা।
- চতুর্দশ শতাব্দী থেকে ওসমানীয় তুর্কিদের শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ১৪৫৩ সালে উসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে।
- পরবর্তী পর্যায়ে তুর্কি শক্তি সমগ্র গ্রিস অঞ্চলসহ পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- ১৪৫৩ সাল ইউরোপ তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
নিচের কোন যুদ্ধটি "The Great War” নামে পরিচিত?
  1. ক) আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
  2. খ) উপসাগরীয় যুদ্ধ
  3. গ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঘ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
⇨ গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো প্রধানত ইউরোপে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯১৪ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত এই যুদ্ধটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নামে পরিচিত।
⇨ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ “মহাযুদ্ধ ” বা "The Great War” নামে ইতিহাসে বিখ্যাত। এই যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব প্রথম সামরিক শক্তির সর্বগ্রাসী চেহারা প্রত্যক্ষ করে। এর আগে কোন যুদ্ধে এতো প্রাণহানি ঘটে নি।
⇨ চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে বেশি প্রায় ৩৭ লাখ প্রাণহানি ঘটে রাশিয়ার। 

একনজরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
▪ যুদ্ধ সংঘটনকাল:- ২৮ জুলাই, ১৯১৪ — ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ।
▪ অক্ষশক্তি:- জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, গ্রীস ও তুরস্ক।
▪ মিত্রশক্তি:- রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান, চীন, সার্বিয়া, রোমানিয়া ও বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশ।  
▪ ফলাফল:- মিত্রশক্তি বিজয়ী।    

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
১৬৭.
বাইজেনটাইন (Byzantine) সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কোন নগরী?
  1. লিসবন
  2. কনস্টান্টিনোপল
  3. প্যারিস
  4. ভিয়েনা
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনস্টান্টিনোপল
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত। 

⇒ কনস্টান্টিনোপল আধুনিক তুরস্কের একটি প্রাচীন শহর যা এখন ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- প্রথম দিকে ছিল এটা একটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- ক্রমে গ্রিক সভ্যতার পতন ৪৭৬ (খ্রি.) ঘটলে এই রোম সমগ্র ইতালি ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে এক বিশাল রোমান সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী কনস্টান্টিনোপল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই নামকরণ করা হয়েছিল সম্রাট কনস্টানটাইনের নামানুসারে।

উৎস: i) History.com
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
মুসলমানরা স্পেনকে কী নামে অভিহিত করত?
  1. আইবেরীয় উপদ্বীপ
  2. গ্যালিসিয়া
  3. আন্দালুসিয়া
  4. মুরসিয়া
সঠিক উত্তর:
আন্দালুসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আন্দালুসিয়া
ব্যাখ্যা
স্পেনে মুসলিম শাসন: 
- মধ্যযুগে স্পেনে আরব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- ৭১১ সালে এ অঞ্চলটি মুসলিম শাসনাধীনে আসে।
- মুসলিমরা তৎকালীন স্পেনকে আল-আন্দালুস বা আন্দালুসিয়া নামে অভিহিত করত।
- এর রাজধানী ছিল কর্ডোভা।
- শুরুতে স্পেন উমাইয়া খিলাফতের অধীনে ছিল।
- ৭৫৬ সালে এখানে স্বাধীন উমাইয়া আমীরাত প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- রোমান শাসনামলে স্পেনকে বলা হত আইবেরীয় উপদ্বীপ।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৯.
ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরীর সাথে কোন যুদ্ধ জড়িত?
  1. ধর্মযুদ্ধ
  2. পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ
  3. ট্রোজান যুদ্ধ
  4. ত্রাজিমিন যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ট্রোজান যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রোজান যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ট্রয় নগরী:
- মহাকবি হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড এবং ওডিসির কারনে এই রোমান্টিক ট্রয়ের ট্র্যাজেডি অমর হয়ে আছে।
- এই ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর রাজা ছিলেন প্রিয়াম এবং রাণীর নাম ছিলেন হেকবা।
- তাদের আদরের পুত্রের নাম ছিল প্যারিস।
- এই প্যারিসই ছিল মুলত ট্রয় যুদ্ধের পেছনে মুল হোতা। 
- সেই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী রমণী ছিল হেলেন।
- প্রায় সোয়া তিন হাজার বছর আগে যে জনপদ ধ্বংস হয়েছিল, সেই সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী স্পার্টার রানি ও ট্রয় রাজপুত্র প্যারিসের প্রেমিকা হেলেনের জন্য।
- ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে।
- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ। 
- এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- তুরস্কের চানাক্কেল প্রদেশের হিসারলিক এলাকায় ট্রয় নগরের  অবস্থান।
- ১৯৯৮ সালে ইউনেসকোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয় ট্রয়। 

উৎস: ৮ অক্টোবর, ২০১৬, প্রথম আলো।
১৭০.
মায়া সভ্যতা কোন অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল?
  1. দক্ষিণ আমেরিকা
  2. উত্তর আফ্রিকা
  3. মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা
  4. পূর্ব এশিয়া
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com

১৭১.
ফ্রান্সের মহান সম্রাট নেপোলিয়ানকে কোন যুদ্ধে পরাজয়ের পর সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়?
  1. ক) লিগনির যুদ্ধ
  2. খ) লিপজিগের যুদ্ধ
  3. গ) ট্রাফালগার যুদ্ধ
  4. ঘ) ওয়াটার লু যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওয়াটার লু যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওয়াটার লু যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
১৮১৩ সালে লিপজিগের যুদ্ধে ইউরোপের ষষ্ঠ কোয়ালিশিনের কাছে পরাজিত হন নেপোলিয়ান। একই বছর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ফ্রান্স দখল করে নেয় কোয়ালিশন। ১৮১৪ সালে নেপোলিয়ানকে এলবা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়। কিছুদিন পরই নেপোলিয়ান সেখান থেকে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেফতার করতে অষ্টদশ লুইয়ের নেতৃত্বে একদল সেনাবাহিনী পাঠানো হয়। কিন্তু নাটকীয়ভাবে সৈন্যদলটি নেপোলিয়ানের সঙ্গে হাত মিলায়। তারা ফিরে এসে ফ্রান্স দখল করেন এবং নেপোলিয়ান আবার ফ্রান্সের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৮১৫ সালে ব্রিটিশ সেনাপতি ডিউক অব ওয়েলিংটন (আর্থার জেমস) এর সাথে ওয়াটার লু যুদ্ধে পরাজিত হলে ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
[সূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম এবং worldatlas ওয়েবসাইট]
১৭২.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয় - 
  1. আক্কাদীয়
  2. ব্যবিলনীয়
  3. এ্যাসিরীয়
  4. মিশরীয়
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়
ব্যাখ্যা

মেসোপটেমীয় সভ্যতা: 
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভুমি। 
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা-ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চল আরো পাঁচটি সভ্যতার জন্মস্থান। যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমীয়া মিশরের মতো কোনো একজন রাজার শাসনাধীনে ছিল না। 
- তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ধর্মীয় জীবন পরিচালিত হতো মন্দিরের নির্দেশ মতো।
- মানুষের সার্বিক জীবন পরিচালনায় পুরোহিতদের ভুমিকা ছিল প্রধান। 
- মিশরীয় সভ্যতা মেসোপটেমীয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৩.
রেনেসাঁ কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল?
  1. ইতালিতে
  2. ফ্রান্সে
  3. গ্রিসে
  4. জার্মানিতে
সঠিক উত্তর:
ইতালিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালিতে
ব্যাখ্যা
রেনেসাঁস:
- ইংরেজি 'রেনেসাঁ' Renaissance) শব্দের অর্থ নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম।
- ধর্মভাবনা নিয়ন্ত্রিত ও সামন্ততান্ত্রিক মধ্যযুগীয় দীর্ঘ বদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে নতুনভাবে জীবনের সবকিছুকে জানার জন্য মানব মনের যে আগ্রহ তারই পরিণতি স্বরূপ যে নবজীবনবাদের সূচনা, তাকেই সাধারণভাবে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ নামে আখ্যায়িত করা হয়। 

⇒ মধ্যযুগের জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিশ্বাস সব কিছুই আবর্তিত হতো প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে।
- ইউরোপে চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতক থেকে ক্রমেই এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
- সাধারণ মানুষ যুক্তিতর্ক দ্বারা সবকিছুকে গ্রহণ বা বর্জন করতে উৎসাহী হয়ে ওঠে।
- রেনেসাঁস মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাজ পরিবর্তন প্রক্রিয়া।
- এই রেনেসাঁসের ভেতর দিয়ে আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার উত্থান ঘটেছে।

⇒ মূলত ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষাংশে ইতালিতে রেনেসাঁস এর গোড়াপত্তন ঘটে।
- পরবর্তী সময়ে জার্মানিতে রিফরমেশন, ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব, ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নে রুশ বিপ্লব ও চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঘটে।
- তবে ইতালিতেকেই রেনেসাঁসের প্রথম পর্ব হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

উৎস: i) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) World History Encyclopedia.
১৭৪.
মায়া সভ্যতার ধর্মীয় ক্যালেন্ডার টজলকিন কতদিনে বিভক্ত ছিল?
  1. ১৮০ দিন
  2. ২৬০ দিন
  3. ২৯০ দিন
  4. ৩৬৫ দিন
সঠিক উত্তর:
২৬০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬০ দিন
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com

১৭৫.
'অজন্তা' ও 'ইলোরা' গুহা কোন দেশে পাওয়া গিয়েছে?
  1. বাংলাদেশ
  2. পাকিস্তান
  3. ভারত
  4. নেপাল
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা
• 'অজন্তা' ও 'ইলোরা' গুহা:
- প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে নির্মিত অজন্তা ও ইলোরা গুহাসমূহ কেবল অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, এগুলি ভারতের প্রাচীন সমৃদ্ধির একমাত্র সংরক্ষিত নিদর্শন।
- অজন্তা ও ইলোরা গুহায় আঁকা ছবিগুলো এখনো পর্যন্ত টিকে থাকা প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলার সবচেয়ে শৈল্পিক নমুনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- অজন্তা এবং ইলোরা মূলত দুটি আলাদা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।
- এরমধ্যে অজন্তা গুহাসমূহ ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গবাদ জেলার অজন্তা গ্রামের পাশেই পাহাড়ের গায়ে অবস্থিত।
- ভারতের মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদ শহর থেকে ৩০ কিমি উত্তরে অবস্থিত ইলোরা গুহাসমূহ ভক্তক, ত্রৈকুটক, কালাচুরি, চালুক্য, রাষ্ট্রকূট ও যাদব রাজবংশের সময়ে তৈরি করা হয়।
- চরনন্দ্রী পাহাড় কেটে ইলোরা গুহা মন্দিরগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৭৬.
আইজটেক সভ্যতার ভাষা ছিল-
  1. গ্রিক
  2. আরবি
  3. হিব্রু
  4. নাহুয়াতল
সঠিক উত্তর:
নাহুয়াতল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাহুয়াতল
ব্যাখ্যা
আইজটেক সভ্যতা:
-মেক্সিকো অঞ্চলে আজটেক জাতি দ্বারা ১৩ শতকে গড়ে উঠা একটি সভ্যতা।আজটেক জাতি মধ্য আমেরিকার স্থানীয় বাসিন্দা ছিল না। এরা উত্তর থেকে আসা শিকারি জনগোষ্ঠী ছিল। খ্রিষ্ট্রীয় ১৩ শতকে তারা মেক্সিকোর জলাশয় অঞ্চলের একটি দ্বীপে আধিপত্য বিস্তার করে। তারপর ধারাবাহিকভাবে তারা এ অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।

এছাড়াও:
- এটি  আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পশ্চিমে মেক্সিকো উপত্যকা থেকে পূর্বে মেক্সিকো উপসাগর এবং দক্ষিণে বর্তমান গুয়াতেমালা পর্যন্ত  আইজটেক সভ্যতা প্রসারিত ছিল।
- এ সভ্যতা গড়ে উঠে ১৩ শতকে।
- আইজটেক আজটলান থেকে এসেছে ,যার অর্থ "সাদা ভূমি"।
- আইজটেক সভ্যতা ছিল, কৃষি প্রাধান ও ধর্ম নিরপেক্ষ।
- আইজটেক সভ্যতার ভাষা ছিল- নাহুয়াতল ।
 রাজধানী ছিল- টেনোচটিটলান ।

উৎস:
britannica. ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।[লিংক] 
১৭৭.
ইনকা সভ্যতার ভাষা ছিল কোনটি?
  1. কুইপু
  2. কেচুয়া
  3. ইন্তি
  4. সাপা
সঠিক উত্তর:
কেচুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেচুয়া
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
১৭৮.
মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার
  2. যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কার
  3. চাকা আবিষ্কার
  4. বারুদ আবিষ্কার
সঠিক উত্তর:
লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরে প্রথম এই সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
- একটি ছিল উত্তর মিশর অপরটি দক্ষিণ মিশর।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- পিরামিড: মিশরীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- স্ফিংস: এটি ফারাও খাফরের শাসনকালে নির্মিত বিশাল মূর্তি।
- মিশরীয় সভ্যতায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করা হত। যেমন -
• পাতালের দেবতা - ওসিরিস,
• যুদ্ধ এবং শিকারের সাথে যুক্ত আকাশের দেবতা - হোরাস,
• সহিংসতা, মরুভূমি এবং ঝড়ের দেবতা - শেঠ,
• শেয়াল দেবতা - আনুবিস,
• জ্ঞানের দেবতা - থোথ।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৯.
বিশ্বের সর্ববৃহৎ মরূভূমির নাম:
  1. ক) The Antarctic desert
  2. খ) The Arctic desert
  3. গ) The Gobi desert
  4. ঘ) The Sahara desert
সঠিক উত্তর:
ক) The Antarctic desert
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) The Antarctic desert
ব্যাখ্যা

- বিশ্বের সর্ববৃহৎ মরূভূমির নাম The Antarctic desert.
- এর আয়তন প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন বর্গ কিমি।
- আর সাবট্রপিকাল বা উপক্রান্তিয় অঞ্চলের সর্ববৃহৎ মরুভূমির নাম , সাহারা মরূভূমি, যার আয়তন প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন বর্গ কিমি।

সূত্র: https://www.statista.com/

১৮০.
গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল কী ছিল?
  1. ঈজিয়ান
  2. হেলাস
  3. বলকান
  4. এথেন্স
সঠিক উত্তর:
হেলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাস
ব্যাখ্যা
গ্রীক সভ্যতা: 
- গ্রিসের মহাকবি হোমারের 'ইলিয়ড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্য দুটিতে বর্ণিত চমকপ্রদ কাহিনীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সত্যকে খুঁজে বের করার অদম্য ইচ্ছা উৎসাহিত করে তোলে প্রত্নতত্ত্ববিদদের।
- উনিশ শতকের শেষে হোমারের কাহিনী আর কবিতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বেরিয়ে আসে এর ভিতরের সত্য ইতিহাস।
- ঈজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জে এবং এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলে আবিষ্কৃত হয় এক উন্নততর প্রাচীন নগর সভ্যতা।
- সন্ধান মেলে মহাকাব্যের ট্রয় নগরীসহ একশত নগরীর ধ্বংস স্তুপের।
- ইউরোপ মহাদেশের এই অঞ্চলেই প্রথম সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।

ভৌগোলিক অবস্থা ও সময়কাল: 
- গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূ-মধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- ইউরোপের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বলকান উপদ্বীপ।
- এর দক্ষিণাংশে একটি ছোট পাহাড়ি দেশ গ্রিস।
- গ্রিস মূলত একটি পর্বতময় দ্বীপ রাষ্ট্র।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

সভ্যতায় গ্রিসের অবদান:
- গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস।
- রোমানরা পরবর্তিকালে এর নামকরণ করে গ্রিস।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- অসংখ্য নগররাষ্ট্র নিয়ে গড়ে উঠা প্রাচীন গ্রিসে সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা এবং গণতন্ত্র চর্চার মূল কেন্দ্র ছিল এথেন্স।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
মায়া সভ্যতার ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের নাম কী?
  1. হাব
  2. মেবিস
  3. রিকাল
  4. টজলকিন
সঠিক উত্তর:
টজলকিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টজলকিন
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com
১৮২.
নিচের কোন সভ্যতাটি দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. ইজিয়ান সভ্যতা
  2. হিব্রু সভ্যতা
  3. ইনকা সভ্যতা
  4. মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ইনকা সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনকা সভ্যতা
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা (Inca Civilization): 

- দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের একমাত্র বিখ্যাত সভ্যতা হচ্ছে ‘ইনকা সভ্যতা’।
- এটি অন্যান্য সভ্যতার তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ের সভ্যতা।
- সভ্যতাটির উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলে এই সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে।
- পরবর্তীতে তা উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- ইনকা সভ্যতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন মাচুপিচু (Machu Picchu) যা সম্ভবত ১৪৫০ সালের দিকে নির্মিত হয়েছিল।  
 
সূত্র:- ব্রিটানিকা।
১৮৩.
প্রথম দেশ হিসেবে কোন মুসলিম দেশ ইসরাইল কে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ক) তুরস্ক
  2. খ) তিউনিসিয়া
  3. গ) সৌদি আরব
  4. ঘ) মিশর
সঠিক উত্তর:
ক) তুরস্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তুরস্ক
ব্যাখ্যা
প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে  ইসরাইল কে স্বীকৃতি দেয় তুরস্ক। 

ইসরাইলকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ তুরস্ক ১৯৪৯ সালে। 
আর প্রথম আরব দেশ হিসেবে মিশর স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৯ সালে । 
মিশর ২৬ মার্চ ১৯৭৯ এবং জর্দান ২৬ অক্টোবর ১৯৯৪ তারিখে ইসরাইলকে স্বীকৃতি প্রদান করে। 

সূত্র: জুয়িশ ভার্চুয়াল লাইব্রেরি
১৮৪.
নিচের কোনটি ইউরোপীয় রেনেসাঁসের ফলাফল নয়?
  1. চার্চের ক্ষমতা বৃদ্ধি
  2. ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের জন্ম
  3. শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি
  4. মানবতাবোধের প্রসার
সঠিক উত্তর:
চার্চের ক্ষমতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্চের ক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
- রেনেসাঁস মানে হলো নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান জ্ঞানবিজ্ঞান কে জানার গভীর আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টিই ‘রেনেসাঁস’ নামে পরিচিত।
- পঞ্চদশ শতকে অটোমানদের নিকট বাইজান্টিয়াম সাম্রাজ্যের পতন রেনেসাঁসকে তরান্বিত করে।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহর থেকে রেনেসাঁসের প্রথম সূত্রপাত ঘটে এবং পরবর্তীতে তা ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িযে পড়ে।
- রেনেসাঁসের ফলে ইউরোপের ধর্মকেন্দ্রিক যাজকতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে এবং মানবতাবাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, শিক্ষা প্রভৃতি গুরুত্ব লাভ করে।
- রেনেসাঁসকে ইউরোপের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মধ্যে সীমারেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৮৫.
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা উদ্ভবের সময়কাল কোনটি?
  1. প্রাচীন গ্রীস সময়কাল
  2. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকাল
  3. ১৬০০-১৮০০ সাল
  4. প্রাচীন রোম সময়কাল
সঠিক উত্তর:
১৬০০-১৮০০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০০-১৮০০ সাল
ব্যাখ্যা
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা:
- আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার পুরোধা নিকোলো ম্যাকিয়াভেলী (১৪৬৯-১৫২৭) ইতালীর ফ্লোরেন্স নগরীর সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনের বিভিন্নঘাত প্রতিঘাতের এক পর্যায়ে তিনি তাঁর যুগান্তকারী পুস্তক ‘দি প্রিন্স’ (১৫৩২) রচনা করেন।
- ‘দি প্রিন্স’ পুস্তকে ম্যাকিয়াভেলীর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বিষয়গুলো বিবৃত হয়েছে।
- রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর আরও পুস্তক রয়েছে, এর মধ্যে ‘ডিসকোর্স’, ‘দি আর্টঅব ওয়ার' অন্যতম।

⇒ ম্যাকিয়াভেলীর রাজনৈতিক চিন্তাধারা তৎকালীন ইতালীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রেনেসাঁ বা নবজাগরণের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।
- প্রথমত: তৎকালীন অন্তর্দ্বন্দে লিপ্ত দুর্বল এবং খন্ডবিখন্ড ইতালীকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করে ম্যাকিয়াভেলী একত্রিত করার ব্রত নিয়ে একটি শক্তিশালী শাসন ব্যবস্থার অধীনে আনতে চেয়েছিলেন।
- দ্বিতীয়ত: রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সন্তান হিসাবে খ্যাত ম্যাকিয়াভেলী রাজনৈতিক বিষয়াদিকে ইহজাগতিক চেতনার দ্বারা পরিচালিত করার মানসে তাকে মধ্যযুগীয় তথা ধর্মীয় ও নৈতিকতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।
- ম্যাকিয়াভেলী ছাড়াও আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামোর চিন্তার ত্বাত্ত্বিক উন্নয়ন ঘটান - থমাস হব্স, জন লক, জেন বেডিন প্রমুখ।

⇒ পরবর্তীতে ইউরোপে সামন্তবাদীদের সাথে সংঘাতের মধ্যে দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার উন্মেষ ঘটে।
- পৃথিবীর ইতিহাসে ১৬০০ - ১৮০০ সাল সময়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
- এই সময়ে ইউরোপ জুড়ে রেনেসাঁর মাধ্যমে সর্বক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। সাহিত্য, শিল্প, বিজ্ঞান, রাষ্ট্রচিন্তা - সর্বক্ষেত্রে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে শুরু করে।
- এই সময়েই মূলত আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদ্ভভ ঘটে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, SSHL, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো কোন সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. মায়া
  2. চৈনিক
  3. সিন্ধু
  4. গ্রীক
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা: 
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে,
- এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল সিন্ধু সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৭.
সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান কী?
  1. চিত্রলেখা
  2. বর্ণমালার উদ্ভাবন
  3. মুদ্রার প্রচলন
  4. আইন প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
বর্ণমালার উদ্ভাবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণমালার উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা:
▪ ফিনিশীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান বর্ণমালার উদ্ভাবন ও লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার। তারা মিশর ও ব্যাবিলনের বর্ণমালা থেকে ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে সহজ লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
▪ আধুনিক বর্ণমালার সূচনা এখান থেকে। গ্রীক ইতিহাসবিদ হেরেডোটাস ফিনিশীয়াকে বর্ণমালার জন্মস্থান ((birthplace of the alphabet)) বলে অভিহিত করেছেন।
▪ নৌচালনায় ও তৎকালীন সময়ে বড় জাহাজ নির্মানে ফিনিশীয়রা অত্যন্ত দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। তারা আকাশের তারা দেখে সমুদ্রে দিক নির্ণয়ের কৌশল রপ্ত করেছিল।
▪ ভূমধ্যসাগরের তীরে প্রাচীন লেবানন এবং সিরিয়া ও ফিলিস্তিন-ইসরাইলের কিছু অংশ জুড়ে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৮৮.
নলখাগড়া জাতীয় গাছের কান্ড থেকে তৈরি কাগজের নাম ‘প্যাপিরাস’ রাখে-
  1. ক) রোমানরা
  2. খ) ফিনিশীয়রা
  3. গ) গ্রিকরা
  4. ঘ) ইংরেজরা
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিকরা
ব্যাখ্যা
মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের কান্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে। পরে এই কাগজের উপর তারা লিখতে শুরু করে। গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস’। যে শব্দ থেকে ইংরেজি ‘পেপার’ শব্দের উৎপত্তি। সূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১৮৯.
প্রাচীন রোমান সভ্যতা কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. ৫শ বছর
  2. ৪শ বছর
  3. ৩শ বছর
  4. ৬শ বছর
সঠিক উত্তর:
৬শ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬শ বছর
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা: 
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সাম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রোমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রোমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রোম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রোমান সভ্যতা প্রায় ছয়'শ বছর স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি।
১৯০.
”হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো” ইতিহাসে কোন সভ্যতার বড় শহর হিসেবে পরিচিত?
  1. গ্রীক সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. ক্যালডীয় সভ্যতা
  4. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা

• সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতার এলাকায় যেসব শহর আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সবচেয়ে বড় শহর।
- ঘরবাড়ি সবই পোড়ামাটি বা রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি।
- শহরগুলোর বাড়ি-ঘরের নকশা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, সিন্ধু সভ্যতা যুগের অধিবাসীরা উন্নত নগরকেন্দ্রিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিল।
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নগর পরিকল্পনা একই রকম ছিল।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাবে আবিষ্কৃত হয়েছে।
- নগরীর ভেতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা।
- প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, কূপ ও স্নানাগার ছিল।
- জল নিষ্কাশনের জন্যে ছোট নর্দমাগুলোকে মূল নর্দমার সাথে সংযুক্ত করা হতো।
- পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১৯১.
কত বছর ব্যাপী ট্রোজান যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ৮ বছর
  2. ১০ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৪ বছর
সঠিক উত্তর:
১০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ বছর
ব্যাখ্যা
ট্রোজান যুদ্ধ:
- ট্রোজান যুদ্ধ একটি প্রাচীন গ্রীক পুরাণভিত্তিক যুদ্ধ।
- এটি প্রায় ১০ বছর স্থায়ী ছিল।
- এটি মূলত গ্রীক এবং ট্রোজানদের মধ্যে একটি দীর্ঘ যুদ্ধ।
- যুদ্ধ শুরু হয় যখন ট্রোজান রাজপুত্র পারিস, স্পার্টার রানী হেলেনকে অপহরণ করেন।
- গ্রীক বাহিনী, নেতৃত্বে মেনেলাউস, ট্রোজ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধের মধ্যে গ্রীক নায়ক অ্যাকিলিস ট্রোজান হেক্টরকে হত্যা করেন, কিন্তু পরে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যুদ্ধ থেকে সরে যান।
- শেষে, গ্রীকরা একটি বিশাল কাঠের ষাঁড় ব্যবহার করে ট্রোজ শহরে প্রবেশ করে এবং তা ধ্বংস করে দেয়।
-  যুদ্ধের পর, ট্রোজ শহর ধ্বংস হয় এবং গ্রীকরা বিজয়ী হয়।
- এই যুদ্ধের কাহিনী গ্রীক মহাকাব্য ইলিয়াড এবং এনিয়াড-এ বর্ণিত।
- পরবর্তীতে গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.
১৯২.
মহেঞ্জোদারো আবিষ্কারের সাথে কোন বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ যুক্ত ছিলেন?
  1. হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রমেশচন্দ্র দত্ত
সঠিক উত্তর:
রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- মহেঞ্জোদারো আবিষ্কারের সঙ্গে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ছিলেন ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগের একজন কর্মকর্তা এবং বিশ শতকের গোড়ার দিকে সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম প্রথম সন্ধানদাতা।

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতা সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল, এবং এ কারণেই এই সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতা বলা হয়।
- এটি অনেক সময় হরপ্পা সভ্যতা বা হরপ্পা সংস্কৃতির নামে পরিচিত।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কার করেন।
- সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় পাঞ্জাবে।
- ১৯২১ সালে পাঞ্জাবের হরপ্পা ও ১৯২২ সালে সিন্ধুর মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।
- বিশেষত মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পাতে এই সভ্যতার সবচেয়ে বেশি নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ এবং ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৩.
যুক্তরাজ্যের প্রথম সাংবিধানিক দলিল কোনটি?
  1. বিল অফ রাইটস
  2. এ্যাক্ট অফ সেটেলমেন্ট
  3. ম্যাগনাকার্টা
  4. জুডিকেচার এ্যাক্ট
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনাকার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনাকার্টা
ব্যাখ্যা
ম্যাগনাকার্টা:
যুক্তরাজ্যের প্রথম সাংবিধানিক দলিল ম্যাগনাকার্টা।
- ম্যাগনা কার্টা হলো রাজার ক্ষমতা খর্ব করার একটি ঐতিহাসিক দলিল।
- ম্যাগনাকার্টাকে ব্রিটেনের শাসনতন্ত্রের বাইবেল বলা হয়।
- ১২১৫ সালের ১৫ই জুন টেমস নদীর তীরে রানিমেড নামক স্থানে তৎকালীন ইংল্যান্ডের রাজা জন ম্যাগনাকার্টায় স্বাক্ষর করেন।
- এতে ঘোষণা করা হয় কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।
- এর মাধ্যমে আইনের শাসনের ধারণার যাত্রা শুরু হয়।
- এটিকে ব্রিটেনের প্রথম শাসনতন্ত্রও বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- এটি প্রাথমিকভাবে সফল হয়নি।
- নথিটি ১২১৬, ১২১৭ এবং ১২২৫ সালে পুনরায় পরিবর্তন সহ জারি করা হয়েছিল।
- অবশেষে এটি আইন ব্যবস্থার ভিত্তি হিসাবে কাজ করে।
- পরবর্তী প্রজন্ম ম্যাগনা কার্টাকে নিপীড়ন থেকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে উদযাপন করে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা।
১৯৪.
'কনস্টান্টিনোপল' নিচের কোন সাম্রাজ্যের রাজধানী শহর ছিল?
  1. বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
  2. মায়া সাম্রাজ্য
  3. গ্রিক সাম্রাজ্য
  4. অ্যাসেরীয় সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য বিদ্যমান ছিল: আনুমানিক ৩৯৫ - ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ।
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী: কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট: জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১৯৫.
মহেঞ্জোদারো পাকিস্তানের কোন জেলায় অবস্থিত ছিল?
  1. পাঞ্জাব
  2. হরপ্পা
  3. লারকানা
  4. মন্টোগোমারি
সঠিক উত্তর:
লারকানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লারকানা
ব্যাখ্যা
• সিন্ধু সভ্যতা: 
-  সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম রাখা হয় সিন্ধুসভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো শহরে উঁচু উঁচু মাটির ঢিবি ছিল।
- স্থানীয় লোকেরা বলত মরা মানুষের ঢিবি (মহেঞ্জোদারো কথাটির মানেও তাই)।
- বাঙালি পুরাতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপধ্যায়ের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগের লোকেরা ঐ স্থানে বৌদ্ধস্তূপের ধ্বংসাবশেষ আছে ভেবে মাটি খুঁড়তে থাকেন।
- অপ্রত্যাশিতভাবে বেরিয়ে আসে তাম্রযুগের নিদর্শন।
- একই সময়ে ১৯২২-২৩ খ্রিষ্টাব্দে দয়ারাম সাহানীর প্রচেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারি জেলার হরপ্পা নামক স্থানেও প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়।
- জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরও বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৬.
মায়া সভ্যতা কোন অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল?
  1. পশ্চিম ইউরোপ
  2. পূর্ব আফ্রিকা
  3. মধ্য আমেরিকা
  4. পূর্ব ইউরোপ
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
ব্যাখ্যা

• মায়া সভ্যতা মধ্য আমেরিকা অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল।

♦ মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা শহর।

♦ মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
• প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
• ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

♦ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব: ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন: ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com

১৯৭.
'বুক অফ দ্য ডেড' কোন সাহিত্যের আদিতম নিদর্শন ?
  1. ভারতীয়
  2. মেসোপটেমীয়
  3. চীন
  4. মিশরীয়
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশরীয়
ব্যাখ্যা
বুক অফ দ্য ডেড:
- প্রাচীন মিশরীয় পাঠ্য নিদর্শন
- বুক অফ দ্য ডেড সমাধিতে স্থাপন করা হয়।
- বিশ্বাস করা হয় যে পরকালে মৃত ব্যক্তিকে রক্ষা এবং সহায়তা করবে।
- সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব 16 শতকের সময় সংকলিত এবং পুনঃসম্পাদিত।

উৎস: Britannica.
১৯৮.
পারস্য সভ্যতার ধর্ম কোনটি?
  1. মান্দাই
  2. রাস্তাফারি
  3. কনফুসীয়
  4. জরথুস্ত্র
সঠিক উত্তর:
জরথুস্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরথুস্ত্র
ব্যাখ্যা
পারস্য:
- পারস্য বর্তমান নাম: ইরান।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয়: ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম: জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী।
- বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম: আছর মাজদা।
- ধর্মগ্রন্থ: জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস, প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯.
কোথায় প্রথম সিন্ধু সভ্যতা শনাক্ত করা হয়?
  1. আগ্রা
  2. বিহার
  3. হরিয়ানা
  4. পাঞ্জাব
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতা সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল, এবং এ কারণেই এই সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতা বলা হয়।
- এটি অনেক সময় হরপ্পা সভ্যতা বা হরপ্পা সংস্কৃতির নামে পরিচিত।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কার করেন।
- সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় পাঞ্জাবে।
- ১৯২১ সালে পাঞ্জাবের হরপ্পা ও ১৯২২ সালে সিন্ধুর মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।
- বিশেষত মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পাতে এই সভ্যতার সবচেয়ে বেশি নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ এবং ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০.
সভ্যতায় রোমানদের শ্রেষ্ঠতম অবদান হলো-
  1. ক) রোমান আইন
  2. খ) বর্ণমালা উদ্ভাবন
  3. গ) স্থাপত্য নির্মাণ
  4. ঘ) ধর্ম সংস্কার
সঠিক উত্তর:
ক) রোমান আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রোমান আইন
ব্যাখ্যা
বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হলো আইন প্রণয়ন।
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথম সমস্ত রোমান আইনসমূহ সংগ্রহ ও সংকলিত করেন।
পরবর্তীতে আইনসমমূহ ১২টি তামার পাতে খোদাই করে জনগণকে দেখানোর জন্যে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
রোমান আইনসমূহ বেসামরিক আইন, জনগণের আইন ও প্রাকৃতিক আইন নামে তিনভাগে বিভক্ত। আধুনিক বিশ্ব সম্পূর্নভাবে রোমান আইনের উপর নির্ভরশীল।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)