বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / ১২ · ১০০ / ১,১৮৫

.
বর্তমান ইসরায়েলের অধিবাসীরা কোন সভ্যতার বংশধর?
  1. হিব্রু সভ্যতা
  2. চৈনিক সভ্যতা
  3. ফিনিশীয় সভ্যতা
  4. পারস্য সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
হিব্রু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিব্রু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু সভ্যতা হলো বর্তমানের ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- হিব্রু সভ্যতা জেরুজালেম নগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।
- হিব্রু মূলত ভাষার নাম, অর্থ যাযাবর বা নিম্ন শ্রেণি।
- জাতিগতভাবে হিব্রু সভ্যতার লোকজন একটি মিশ্র জাতি।
- প্রধান ধর্মীয় নেতা: হযরত মূসা (আ)।
- বাইবেলের ভাষা হিব্রু।
- পৃথিবীর প্রাচীন ভাষা হিব্রু ভাষা। 
- হিব্রু জাতি বর্তমানে ইজরাইলে বসবাস করে।
- হিব্রু সভ্যতার অবদান ধর্ম প্রচার।
 
অন্যদিকে -
- চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল হোয়াংহোও ইয়াংসিকিয়াং নদীর অববাহিকায় দক্ষিন চীনে। 
- ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল দক্ষিণ সিরিয়া, উত্তর ইসরায়েল ও লেবাননে।
- পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল পারস্যে। 
 
উৎস: Britannica.
.
আকসুম সভ্যতা আবিষ্কৃত হয় কোথায়?
  1. ক) কিউবা
  2. খ) জিবুতি
  3. গ) ইথিওপিয়া
  4. ঘ) মেক্সিকো
সঠিক উত্তর:
গ) ইথিওপিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইথিওপিয়া
ব্যাখ্যা
৮২৫ থেকে ৮০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত পূর্ব আফ্রিকায় ছিল আকসুম সভ্যতা।
- পূর্ব আফ্রিকার ইথিওপিয়ায় ২০১৯ সালে আবিষ্কৃত হয় আকসুম সভ্যতার সমসাময়িক একটি শহর।
- আকসুম সভ্যতার প্রধান শহরের নাম ছিল আকসুম। শহরটি টিকেছিল প্রায় ১৪০০ বছর।
- গবেষকরা এই প্রাচীন সভ্যতাকে বেটা সামাতি নামে ডাকেন।
- স্থানীয় ভাষায় এর অর্থ ‘দর্শকদের বাড়ি’।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং লাইভএমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
.
আলেপ্পো শহরটি কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইরাক
  2. ইরান
  3. সিরিয়া
  4. তুরস্ক
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরিয়া
ব্যাখ্যা
আলেপ্পো শহর:
- ভূমধ্যসাগর এবং মেসোপটেমিয়ার মাঝে অবস্থিত আলেপ্পো।
- বর্তমানে এটি সিরিয়ার বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল শহর।
- আলেপ্পোর প্রাচীন নাম হালাব।
- পলিও-ব্যাবিলনিয় সময়ের শহর এটি।
- আলেপ্পো বা হালাবে শাসন করত ইন্দো-ইউরোপিয়ান গোষ্ঠী হিটাইটরা।
- এরপর এখানে রাজত্ব চালায় আসেরিয়ান, গ্রিক এবং পারসিকরা।
- আরও পরে এখানে শাসন করেছে রোমান, বাইজানটাইন, আরবরা।
- ক্রুসেডের পর এই জায়গা চলে যায় মঙ্গল এবং ওত্তোমানদের দখলে।

⇒ সিরিয়া:
- ভূমধ্যসাগরের আরব উপদ্বীপের উত্তরে পশ্চিম এশিয়ায় সিরিয়া অবস্থিত।
- ১৯৪৬ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
- এর রাজধানী: দামেস্ক।
- বিখ্যাত শহর: আলেপ্পো, ইদলিব ও পালমিরা।
- মুদ্রা: পাউন্ড।

উৎস: i) Britannica.
ii) WorldAtlas.
.
অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হয় কত সালে?
  1. ক) ১৩৪৩ সালে
  2. খ) ১২৯৯ সালে
  3. গ) ১১৯৭ সালে
  4. ঘ) ১৩৮২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১২৯৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
- ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দের দিকে আনাতোলিয়ায় (বর্তমান তুরস্ক) ওসমান গাজী বা প্রথম ওসমান অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের গোড়া পত্তন করেন।
- ওসমান গাজীর নাম থেকেই উসমানীয় বা অটোমান নামে উদ্ভব ঘটেছে। তিনি ছিলেন দিরিলিস আর্তুগ্রুল এর ছেলে।
- ১৪৫৩ সালে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মেহমুদ বাইজানটাইনদের পরাজিত করে কনস্টান্টিনোপল বা ইস্তানবুল অধিকার করেন এবং একে অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী করেন।
- সুলতান প্রথম সুলেমানের শাসনামলে (১৫২০-১৫৬৬ খ্রি.) অটোমান সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে। সে সময় বর্তমান গ্রিস, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, মিশর, জর্ডান ও আরবের অংশবিশেষ অটৈামান সাম্রাজ্যভুক্ত ছিলো।
- সতের শতক থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের সূত্রপাত ঘটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানরা কেন্দ্রীয় শক্তির পক্ষ অবলম্বন করে। ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- শেষ অটোমান সুলতান ছিলেন ষষ্ঠ মুহাম্মদ ওয়াহিদউদ্দিন।
- আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক অটোমান খেলাফত বিলুপ্ত করে ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট)
.
Formosa Strait - চীন ও তাইওয়ানকে পৃথক করেছে। “ফরমোজা” - শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) Twisted
  2. খ) Beautiful
  3. গ) Deep
  4. ঘ) Flower
  5. ঙ) Blue
সঠিক উত্তর:
খ) Beautiful
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Beautiful
ব্যাখ্যা
Taiwan Strait, also called Formosa Strait, Chinese (Wade-Giles romanization) T’ai-wan Hai-hsia or (Pinyin) Taiwan Haixia, arm of the Pacific Ocean, 100 miles (160 km) wide at its narrowest point, lying between the coast of China’s Fukien province and the island of Taiwan (Formosa).
The strait was named Formosa (“Beautiful”) by Portuguese navigators in the late 16th century; although it is still known in the West by its European name, the Chinese and now most Westerners use the name Taiwan Strait.
Source: britannica.com
.
'অজন্তা' ও 'ইলোরা গুহা' কোথায় অবস্থিত?
  1. দিল্লি, ভারত
  2. রাজস্থান, ভারত
  3. অযোধ্যা, ভারত
  4. মহারাষ্ট্র, ভারত
সঠিক উত্তর:
মহারাষ্ট্র, ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারাষ্ট্র, ভারত
ব্যাখ্যা
'অজন্তা' ও 'ইলোরা' গুহা:
- প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে নির্মিত অজন্তা ও ইলোরা গুহাসমূহ কেবল অনন্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, এগুলি ভারতের প্রাচীন সমৃদ্ধির একমাত্র সংরক্ষিত নিদর্শন।
- অজন্তা ও ইলোরা গুহায় আঁকা ছবিগুলো এখনো পর্যন্ত টিকে থাকা প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলার সবচেয়ে শৈল্পিক নমুনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- অজন্তা এবং ইলোরা মূলত দুটি আলাদা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।
- এরমধ্যে অজন্তা গুহাসমূহ ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গবাদ জেলার অজন্তা গ্রামের পাশেই পাহাড়ের গায়ে অবস্থিত। 
- মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদ শহর থেকে ৩০ কিমি উত্তরে অবস্থিত ইলোরা গুহাসমূহ ভক্তক, ত্রৈকুটক, কালাচুরি, চালুক্য, রাষ্ট্রকূট ও যাদব রাজবংশের সময়ে তৈরি করা হয়।
- চরনন্দ্রী পাহাড় কেটে ইলোরা গুহা মন্দিরগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা।
.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ক) ক্যালেডীয়
  2. খ) কুমেরীয়
  3. গ) ব্যাবিলনীয়
  4. ঘ) সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
খ) কুমেরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুমেরীয়
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:

- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভূক্ত নয় কুমেরীয়।

- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায় - সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাশেরীয় ও ক্যালেডীয়
-Mesopotamia মানে হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা ‘মেসোপটেমীয় সভ্যতা’।
- ফোরাত ও দজলা নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার নামকরণ হয়েছে গ্রিক শব্দে।
- ওই সময় উরুক নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর ছিল। এ শব্দ থেকেই ইরাকের নাম রাখা হয়।
- বর্তমান ইরাকের বেশির ভাগ অংশ এবং সিরিয়ার কিছু অংশ একসময় মেসোপটেমীয় সভ্যতারই অংশ ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ সালের দিকে এ অঞ্চল পার্সিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।পরে রোমানদের দখলে যায়।মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চল ইরাক নামে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ,৯ জুন ২০১৮।
.
ইনকা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল কোন অঞ্চলে?
  1. পশ্চিম ইউরোপ
  2. উত্তর আমেরিকা
  3. দক্ষিণ আমেরিকা
  4. পশ্চিম আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

.
সুমেরীয়রা বিশ্বের প্রথম কোন লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল?
  1. হায়ারোগ্লিফ
  2. ল্যাটিন
  3. কিউনিফর্ম 
  4. সেরিফিক
সঠিক উত্তর:
কিউনিফর্ম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিউনিফর্ম 
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা (Sumerian Civilization): 
- সুমেরীয় সভ্যতা ছিল মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রথম পর্যায়।
- এবং মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রথম সংগঠিত সভ্যতা।
- এটি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ অংশে আনুমানিক  (বর্তমান দক্ষিণ ইরাক) খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ৩০০০ অব্দের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল।
-  প্রাচীন সুমের (Sumer) ছিল টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর মোহনার নিকটবর্তী নিম্নভূমি।
- কালক্রম: এর বিকাশ আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে শুরু হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ পর্যন্ত এর প্রভাব টিকে ছিল। [ব্রিটানিকা]
-  উরুক ছিল বিশ্বের প্রথম বড় শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম।

• ঐতিহাসিক অর্জন ও অবদান
- লিখন পদ্ধতি (Cuneiform): সুমেরীয়রা বিশ্বের প্রথম লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' উদ্ভাবন করে।
- এটি নল খাগড়া দিয়ে ভেজা মাটির ফলকে খোদাই করে লেখা হতো।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে তারা প্রথম চাকা (পটার’স হুইল বা কুমোরের চাকা) ব্যবহার শুরু করে, পরবর্তীতে এই ধারণা যানবাহনের চাকার বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- আইন ও শাসন: তারা লিখিত আইনের প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে।
- কৃষি প্রযুক্তি: সুমেরীয়রা অত্যন্ত উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং লাঙলের ব্যবহার শুরু করেছিল, যা মরুপ্রায় ভূমিকে শস্যভাণ্ডারে পরিণত করে।

• সাহিত্য: বিশ্বের প্রাচীনতম মহাকাব্য 'গিলগামেশ' (Epic of Gilgamesh) সুমেরীয় সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত।
- জিগুরাত: তারা তাদের প্রধান দেবতাদের সম্মানে বিশাল উঁচু মন্দির বা 'জিগুরাত' নির্মাণ করত।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
আব্বাসী বংশ প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ৭৫০ খ্রিঃ
  2. ৭৫৫ খ্রিঃ
  3. ৭৬০ খ্রিঃ
  4. ৭৬৫ খ্রিঃ
সঠিক উত্তর:
৭৫০ খ্রিঃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৫০ খ্রিঃ
ব্যাখ্যা
আব্বাসী বংশ:

- আব্বাসীয় খিলাফতের নামকরণ হয়েছে মহানবী (সাঃ) এর চাচা আল-আব্বাসের নাম হতে।
- তাঁর নামানুসারে এই বংশের নামকরণ হয়েছে আব্বাসীয় বংশ।
- ৭৫০ খ্রিঃ ২য় জাবের যুদ্ধের মাধ্যমে দামেস্ক কেন্দ্রিক উমাইয়া বংশের পতন ঘটে এবং তদস্থলে প্রতিষ্ঠিত হয় আব্বাসীয় বংশ।
- শেষ যুগের খলিফাদের অযোগ্যতা, সুষ্ঠু উত্তরাধিকার নীতির অভাব, তুর্কী সেনাবাহিনীর উত্থান, স্বাধীন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আঞ্চলিক রাজবংশের উদ্ভব, বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদি নানা কারণে এই বংশের অধ:পতন নেমে আসে।
- অবশেষে মোঙ্গল সেনাপতি হালাগু খান ১২৫৮ সালে বাগদাদ নগরী ধ্বংস সাধন করেন এবং এর ফলে আব্বাসীয় বংশের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কিত হয় কোন সভ্যতায়? 
  1. গ্রিক
  2. ফিনিশীয়
  3. হিব্রু
  4. রোমান
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা

• গ্রিক সভ্যতা: 
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস। রোমানরা পরবর্তিকালে এর নামকরণ করে গ্রিস।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত। 
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রথম পর্যায় ছিল কোনটি? 
  1. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  2. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. ক্যালডীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা (Sumerian Civilization): 
- সুমেরীয় সভ্যতা ছিল মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রথম পর্যায়।

- এবং মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রথম সংগঠিত সভ্যতা।
- এটি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ অংশে আনুমানিক  (বর্তমান দক্ষিণ ইরাক) খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ৩০০০ অব্দের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল।

• ভৌগোলিক অবস্থান: প্রাচীন সুমের (Sumer) ছিল টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর মোহনার নিকটবর্তী নিম্নভূমি।
- কালক্রম: এর বিকাশ আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে শুরু হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ পর্যন্ত এর প্রভাব টিকে ছিল। [ব্রিটানিকা]

• প্রধান শহরসমূহ: উরুক ছিল বিশ্বের প্রথম বড় শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম।

• ঐতিহাসিক অর্জন ও অবদান
- লিখন পদ্ধতি (Cuneiform): সুমেরীয়রা বিশ্বের প্রথম লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' উদ্ভাবন করে।
- এটি নল খাগড়া দিয়ে ভেজা মাটির ফলকে খোদাই করে লেখা হতো।

• চাকার উদ্ভাবন: খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে তারা প্রথম চাকা (পটার’স হুইল বা কুমোরের চাকা) ব্যবহার শুরু করে, পরবর্তীতে এই ধারণা যানবাহনের চাকার বিকাশে ভূমিকা রাখে।

• আইন ও শাসন: তারা লিখিত আইনের প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে।

• কৃষি প্রযুক্তি: সুমেরীয়রা অত্যন্ত উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং লাঙলের ব্যবহার শুরু করেছিল, যা মরুপ্রায় ভূমিকে শস্যভাণ্ডারে পরিণত করে।

• সাহিত্য: বিশ্বের প্রাচীনতম মহাকাব্য 'গিলগামেশ' (Epic of Gilgamesh) সুমেরীয় সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত।

• গণিত: তারা ৬০-ভিত্তিক গণনা পদ্ধতি (Sexagesimal system) প্রবর্তন করে, যেখান থেকে আজকের ৬০ সেকেন্ডে এক মিনিট ও ৬০ মিনিটে এক ঘণ্টার ধারণা এসেছে।

• ধর্ম ও সংস্কৃতি :
- জিগুরাত: তারা তাদের প্রধান দেবতাদের সম্মানে বিশাল উঁচু মন্দির বা 'জিগুরাত' নির্মাণ করত।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৩.
কোন সভ্যতা কোনো সময় পুরোপুরি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়নি?
  1. চীনা সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. ব্যবিলনীয় সভ্যতা
  4. সিন্ধু সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
চীনা সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীনা সভ্যতা
ব্যাখ্যা
চীনা সভ্যতার পরিচয় ও অবস্থান:
- চীনের প্রাচীন সভ্যতা একমাত্র সভ্যতা যা কোনো সময় পুরোপুরি ধ্বংস প্রাপ্ত হয়নি। 
- খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ থেকে আজ পর্যন্ত চিন তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। 
- এককথায় চীনা সভ্যতা পৃথিবীতে বিরাজমান সবচেয়ে পুরাতন সভ্যতা।
- ভৌগোলিক কারণে বৃহত্তর পৃথিবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকায় এ অঞ্চলের সভ্যতা- সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে নিজস্ব নিয়মে, ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে।
- চীন পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র।
- দেশটির তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- একটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জেকিয়াং নদীর তীরে, তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে। 
- এই সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছিল- শাং ও চৌ রাজাদের আমলে।
- দেশটির সীমান্ত জুড়ে বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ থাকার কারণে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ ছিল না।
- চীনের উত্তর দিকে গোবি মরুভূমি, পূর্ব ও দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগর এবং পশ্চিমে রয়েছে তিব্বতের পার্বত্য অঞ্চল।
- নদীগুলোর প্রভাবে প্রাচীন চীনে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। 
- যে কারণে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সহজ ছিল।
- ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে চীনের প্রাচীন সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল। 

চীনের আদি মানুষ:  
- ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে চিনে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের মাথার খুলি পাওয়া গেছে।
- চীনের রাজধানী পিকিং-এর (বর্তমান বেইজিং) কাছে এই খুলি পাওয়া যায়।
- এরাই চীনের আদিম মানুষ; যাদেরকে 'পিকিং মানুষ' বলা হয়। 
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে নবোপলীয় যুগ বা নতুন পাথরের যুগে চীনে মানুষের বসবাস ছিল।

অন্যদিকে, 
মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।

সিন্ধু সভ্যতার সময়কাল:
- পণ্ডিতদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতার উত্থান-পতনের কাল।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন, আর্য জাতির আক্রমণের ফলে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অথবা ১৪০০ অব্দে সিন্ধু সভ্যতার অবসান ঘটে। 
- এই সভ্যতার সময়কাল মর্টিমার হুইলারের মতে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ থেকে খ্রিস্টপর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত।

ব্যবিলনীয় সভ্যতা:
- হাম্মুরাবি ১৭৯২-১৭৫০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত শাসন করেন। তারপর পরই ব্যবিলনীয় সভ্যতার পতন ঘটে।
- নয়া-ব্যবিলনীয় সভ্যতার পতন ঘটে ৫৩৯ খ্রিস্টপূর্বে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
History.com
১৪.
রোমান সভ্যতার আইনের ভিত্তি কোনটি?
  1. বার বিধি
  2. প্যাপিরাস
  3. ট্রাইব্যুনাল
  4. ল্যাটিন কোড
সঠিক উত্তর:
বার বিধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার বিধি
ব্যাখ্যা
- ‘বার বিধি’ ছিল রোমানদের প্রথম লিখিত আইন, এটা রোমান আইনের ভিত্তি হিসেবে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে প্রচলিত হয়।

রোমান সভ্যতা:
- রোমান সভ্যতা প্রথমে রোম রাজাদের শাসনাধীন ছিল, কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব ৫১০ সালে রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে রোমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। রোমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ীত্ব লাভ করে। তাদের অর্থনীতি মূলত দাসদের উপর নির্ভরশীল ছিল।

- রোমান সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল 'বার বিধি' (The Twelve Tables), এটা রোমান আইনের ভিত্তি হিসেবে খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে প্রচলিত হয়। এটি রোমান নাগরিকদের জন্য আইনের ভিত্তি স্থাপন করে এবং তাঁদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

- রোমের শিল্প, সাহিত্য, দর্শন ও স্থাপত্য গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত হলেও, সামরিক সংগঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং প্রকৌশলবিদ্যায় রোমানরা গ্রিক ও অন্যান্য জাতির চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। তাদের আইন প্রণয়ন, বিশেষ করে 'বার বিধি', ছিল রোমান সভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান।

সূত্র: Britannica ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন -
  1. আশেরা
  2. মোলক
  3. জেহোভা
  4. হোরাস
সঠিক উত্তর:
জেহোভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেহোভা
ব্যাখ্যা

হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই।
- হিব্রু জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের (আঃ) (আব্রাহাম) নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় একত্রে বসবাস শুরু করে। 
- তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament) হিব্রু ধর্মের (ইহুদী জাতির) প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
- হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন জেহোভা।
- জেহোভাকে তারা আকার-বিশিষ্ট একেশ্বর বলে মনে করত।
- এ যুগে ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং আবার একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
ল্যাটিন উপজাতি কোন সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা

রোমান সভ্যতা:
- প্রাচীন রোমান সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল প্রাচীন রোম নগরীকে কেন্দ্র করে। 
- বর্তমান ইতালির পশ্চিমে দক্ষিণ ভূমধ্যাসাগরের উপকুলে রোম নগরী অবস্থিত। 
- রোম নগরী সাতটি পার্বত্য টিলার উপর ছিল। 
- নগরের চারিদিকে ছিল উর্বর সমতল ভূমি। 
- এ সমতল ভূমিতে বাস করত ল্যাটিন উপজাতি। 
- ল্যাটিন রাজা রোমিট্রলাস পত্তন করেন এক নগরী।
- তাঁর নামেই নগরীর নামকরণ করা হয় রোম। 
- রোমবাসীরা কথা বলত ল্যাটিন ভাষায়।

উৎস: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭.
ম্যারাথনের যুদ্ধ কোন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. স্পার্টা ও এথেন্স
  2. রোম ও পারস্য
  3. এথেন্স ও পারস্য
  4. স্পার্টা ও মিশর
সঠিক উত্তর:
এথেন্স ও পারস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এথেন্স ও পারস্য
ব্যাখ্যা

ম্যারাথনের যুদ্ধ (Battle of Marathon):
- ম্যারাথনের যুদ্ধ প্রাচীন গ্রীক ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ ৪৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিসের ম্যারাথন নামক স্থানে গ্রিসের এথেন্স এবং পারস্য সাম্রাজ্যের মধ্যে সংঘটিত হয়।
- পক্ষ: একদিকে ছিল এথেন্স (মিত্র প্লেটিয়াসহ) এবং অন্যদিকে ছিল পারস্যের বিশাল বাহিনী।
- যুদ্ধে গ্রিকরা জয়লাভ করে।
- এখানে অ্যাথেনীয়রা রাজা প্রথম দারিয়ুসের বিশাল পারস্য বাহিনীকে পরাজিত করে গ্রিসের স্বাধীনতা রক্ষা করেছিল। 

⇒ যুদ্ধের কারণ: পারস্য রাজা প্রথম দারিয়ুস গ্রিক নগর-রাষ্ট্রগুলোর উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।
- এই যুদ্ধে এথেন্সের ছোট একটি বাহিনী বিশাল পারস্য বাহিনীকে পরাজিত করে, যা গ্রিকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় ছিল 

উল্লেখ্য,
- পারস্যের সেনারা যখন এথেন্সের দিকে এগিয়ে আসছিল তখন গ্রিসের আরেক রাজ্য স্পার্টার কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। আর এই কাজের দায়িত্ব এসে পড়লো ফিডিপাইডিসের কাঁধে। ফিডিপাইডিস ছিলেন পেশায় একজন হেরাল্ড বা হেমেরোড্রোম।
- যখন পারস্যের সেনারা এথেন্সের দিকে এগিয়ে আসছিল তখন ফিডিপাইডিস সাহায্যের বার্তা নিয়ে স্পার্টার উদ্দেশ্যে দৌড়াতে শুরু করলেন। দুই দিনে সে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে স্পার্টায় এই বার্তা পৌঁছে দিয়ে আবার সে একই সমান দূরত্ব পাড়ি দিয়ে দৌড়ে এথেন্সে ফিরে আসেন।
- এসেই আবার ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ম্যারাথন নামের জায়গার উদ্দেশ্যে দৌড়ানো শুরু করেন। সেখানে পৌঁছে আবার তিনি এথেন্সের দিকে দৌড়াতে থাকেন। 
- এথেন্সে ফিরেই তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে একটা কথাই উচ্চারণ করে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। তাঁর শেষ উচ্চারিত শব্দটি ছিল ‘নিকোমেন’। যার মানে ‘আমরা জিতেছি’।
- এখান থেকেই ম্যারাথন দৌড়ের উৎপত্তি।

উল্লেখ্য,
- এবং পারস্যের প্রথম আক্রমণ প্রতিহত করতে সাহায্য করেছিল।

উৎস: Britannica.

১৮.
‘চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই’-এর আবিষ্কারক কারা?
  1. মিসরীয়রা
  2. গ্রিকরা
  3. রোমানরা
  4. চৈনিকরা
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিকরা
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- আনুমাণিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- অড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, এজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রীক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়।
- গ্রীক সভ্যতার দুটি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তর হেলেনিক সভ্যতা এবং দ্বিতায় স্তরে হেলেনিস্টিক সভ্যতা।

⇒ গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।
- জ্যামিতি বিষয়ে পন্ডিত ইউক্লিড পদার্থবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
গ্রিস প্রাচীনকালে কী নামে পরিচিত ছিলো?
  1. রোমা
  2. হেলাস
  3. স্পার্টা
  4. আথিন
সঠিক উত্তর:
হেলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাস
ব্যাখ্যা
গ্রিসের প্রাচীন নাম: 
- গ্রিসের প্রাচীন নাম "হেলাস" এবং এর লোকেরা "হেলেনিস" নামে পরিচিত ছিল।

- এই নামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে কারণ এটি গ্রীক জনগণের পরিচয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।

গুরুত্বপূর্ণ দেশের পূর্ব নাম:
- জাপানের পূর্ব নাম নিপ্পন।
- চীনের পূর্ব নাম ক্যাথে।
- জিবুতির পূর্ব নাম ফ্রেঞ্চ সোমালিল্যান্ড।
- ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নাম ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া।
- ইথিওপিয়ার পূর্ব নাম আবিসিনিয়া।

সূত্র: Britannica
২০.
জাভা মানব এর সন্ধান মিলে কোথায়?
  1. ক) বেইজিং
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) জার্মানি
  4. ঘ) চীন
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দোনেশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
প্রাগৈতিহাসিক মানবের ৩ ধরনের জীবাশ্ম পাওয়া যায়:

পিকিং মানব - ১৯২৯ সালে পিকিংইয়ের( আধুনিক বেইজিং) নিকট পাওয়া যায়।
জাভা মানব - ১৮৯১ সালে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্গত পূর্ব জাভার সোলো নদীর তীরে পাওয়া যায়।
হেইডেলবার্গ  মানব - ১৯০৭ সালে জার্মানির হেইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক অধ্যাপক আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র:  নবম ও দশম শ্রেনীর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
২১.
প্রথম ফারাও হিসেবে কাকে গণ্য করা হয়?
  1. রামেসেস
  2. খুফু
  3. মেনেস
  4. তুতেনখাতেন
সঠিক উত্তর:
মেনেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেনেস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিশর:
- প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশর কতগুলো ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল।
- এগুলোকে 'নোম' বলা হতো।
- মিশরের প্রথম রাজা বা ফারাও মেনেস বা নারমার এর অধীনে ঐক্যবদ্ধ মিশরের রাজধানী ছিল দক্ষিণ মিশরের মেম্ফিস।
- মিশরীয় 'পের-ও' শব্দ থেকে ফারাও শব্দের জন্ম।
- ফারাওরা ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমতাশালী।
- তারা নিজেদেরকে সূর্য দেবতার বংশধর মনে করতেন।
- ফারাও পদটি ছিল বংশানুক্রমিক।
- অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে হতো উত্তরাধিকার সূত্রে ফারাও।
- পেশার উপর ভিত্তি করে মিশরের সমাজের মানুষকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যেমন: রাজপরিবার, পুরোহিত, অভিজাত, লিপিকার, ব্যবসায়ী, শিল্পী, কৃষক ও ভূমিদাস।
- মিশরের অর্থনীতি মূলত ছিল কৃষি নির্ভর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় কোথায়?
  1. আগ্রাতে
  2. বিহারে
  3. পাঞ্জাবে
  4. হরিয়ানাতে
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাবে
ব্যাখ্যা
⇒ সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় পাঞ্জাবে।

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা হলেও এর বিস্তৃতি ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
মায়া সভ্যতা প্রধানত কোথায় বিস্তৃত ছিল?
  1. মেসোপটেমিয়া অঞ্চল
  2. উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল
  3. গুয়েতেমালা ও মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে
  4. সিন্ধু ও হরপ্পা অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
গুয়েতেমালা ও মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুয়েতেমালা ও মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা: 
- আমেরিকার তিনটি সভ্যতা হচ্ছে যথাক্রমে মায়া, আজটেক ও ইনকা।
- গুয়েতেমালা ও মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সমৃদ্ধ জনপদ ছিল মায়া সভ্যতা।
- তাদের ভাষার লিখিত রূপটি ছবি বা চিহ্ন ব্যবহার করায় অনেকটা হায়ারোগ্লিফিক ধাঁচের ছিল।
- প্রায় ৮০০টির বেশি ছবি ব্যবহার করে তারা এই লিপির প্রচলন ঘটিয়েছিল।
- তারা গাছের বাকল দিয়ে তৈরি করা কাগজ থেকে বানাতো কোডেক্স নামের বই।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে মানব সভ্যতায় ফিনিশীয়দের অবদান কী?
  1. মানচিত্র
  2. চন্দ্র পঞ্জিকা
  3. স্থাপত্য
  4. বর্ণমালা
সঠিক উত্তর:
বর্ণমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণমালা
ব্যাখ্যা
→ ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল বর্ণমালার উদ্ভাবন।

ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ফিনিশীয় সভ্যতা ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে, বর্তমান লেবানন, সিরিয়া ও ইসরায়েলের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত।
- ফিনিশীয়দের সামনে ছিল সাগর এবং পেছনে ছিল পাহাড়, যা তাদের বাণিজ্যিক জীবনে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
বিশ্বব্যাপী পরিচিতি:
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বিশেষ পরিচয় ছিল শ্রেষ্ঠ নাবিক এবং জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
বাণিজ্যিক সভ্যতার বিকাশ:
- ফিনিশীয়রা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে, যা তাদেরকে ঐতিহাসিক গুরুত্ব দেয়।
রাতের জাহাজ চালনা:
- ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত, যার ফলে ধ্রুবতারাকে অনেকেই ফিনিশীয় তারা হিসেবে চিহ্নিত করে।
বর্ণমালার উদ্ভাবন:
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের অন্যতম বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন, যেখানে তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণ তৈরি করেছিল।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২৫.
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে কয়টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল?
  1. ক) ১৭টি
  2. খ) ১৫টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ১৪টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৫টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৯১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক ফেডারেশন-রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে এবং বৃহৎ রাষ্ট্রটির ভূমি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
• ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে ১৫টি নতুন প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়। এগুলো হলো: রাশিয়া, জর্জিয়া, ইউক্রেন, মলদোভা, বেলারুশ,আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজিস্তান, তাজিকিস্তান, ইস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া। 

তথ্যসূত্র: History.com.
২৬.
বর্তমান সিলেট অঞ্চলে প্রাচীন বাংলার কোন জনপদ গড়ে উঠেছিল?
  1. ক) হরিকেল
  2. খ) বরেন্দ্র
  3. গ) সমতট
  4. ঘ) চন্দ্রদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
ক) হরিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হরিকেল
ব্যাখ্যা
হরিকেল জনপদ
• বর্তমান সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে হরিকেল নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।
• সমস্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ধরে নেয়া যায় যে, পূর্বে শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রামের অংশ বিশেষ পর্যন্ত হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল।

অন্যদিকে, 
• বগুড়া,দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।
• সমতট (কুমিল্লা, নোয়াখালী, ত্রিপুরা)।
• বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
পৃথিবীর আনুমানিক বয়স -
  1. ৩৫০ কোটি বছর
  2. ৪৫০ কোটি বছর
  3. ৫৫০ কোটি বছর
  4. ৬৫০ কোটি বছর
সঠিক উত্তর:
৪৫০ কোটি বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫০ কোটি বছর
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর বয়স:
- পৃথিবীর আনুমানিক বয়স ৪৫০ কোটি বছর বা ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর, প্লাস বা মাইনাস প্রায় ৫০ মিলিয়ন বছর।
- বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবী সৃষ্টির শুরুর ৫০ কোটি বছর পৃথিবীপৃষ্ঠ ছিল উত্তপ্ত।
- সে সময় প্রায়ই গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ত।
- মেক্সিকান চিক্সালাব খাঁদটিও সেই সময় সৃষ্টি হয়েছে।
- এই খাঁদে ইরিডিয়াম পাওয়া তারই প্রমাণ।

উল্লেখ্য,
- তেজস্ক্রিয় পদার্থের সাহায্যে পৃথিবীর বয়স গণনা করা হয়।

উৎস: National Geographic Society.
২৮.
প্রথম শিল্প বিপ্লব কোন দেশে শুরু হয়েছিল?
  1. ইতালি 
  2. ফ্রান্স
  3. ইংল্যান্ড
  4. যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা

- অষ্টাদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে প্রথম শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়। কয়লা ও লোহার প্রাচুর্য, উপনিবেশ থেকে প্রাপ্ত কাঁচামাল, উন্নত ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এর প্রধান কারণ ছিল।

প্রথম শিল্প বিপ্লব:
- প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটন কাল: ১৭৬০-১৮৪০ সাল।
- ১৭৬০ সাল থেকে ইউরোপের দেশ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়।
- তাই ইংল্যান্ডকে শিল্প বিপ্লবের জন্মস্থান বলা হয়।
- ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝানোর জন্য ‘শিল্প বিপ্লব' শব্দটি ব্যবহার করেন।
- ইংল্যান্ডে শুরু হলেও খুব দ্রুতই ইউরোপের অন্যান্য দেশ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে।
- ইউরোপের পাশাপাশি ১৭৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়া লাগে।
- শিল্প বিপ্লবের ফলে পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা খুব দ্রুত পরিবর্তত হতে থাকে।
- এই সময় বিভিন্ন ইঞ্জিন, যন্ত্রপাতি ও তত্ত্ব আবিষ্কার হতে থাকে।
- ফলে বিশ্বের ইতিহাসও খুব দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।

সূত্র: Britannica.

২৯.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর কোন সাম্রাজ্যের পতন ঘটে?
  1. ব্রিটিশ সাম্রাজ্য 
  2. অটোমান সাম্রাজ্য 
  3. রোমান সাম্রাজ্য
  4. বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
সঠিক উত্তর:
অটোমান সাম্রাজ্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অটোমান সাম্রাজ্য 
ব্যাখ্যা

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের একটি।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮।
- কেন্দ্রীয়শক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল: কেন্দ্রীয় শক্তির পতন ও মিত্র শক্তির বিজয়। 

উল্লেখ্য,
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে ৪টি সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল। এগুলো হলো: রুশ, জার্মান, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় ও অটোমান।
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের ফলে জারতন্ত্রের পতন ঘটে।
- যুদ্ধের শেষে জার্মানি পরাজিত হলে এই সাম্রাজ্যেরও অবসান ঘটে।
- অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য ভেঙে একাধিক ছোট ছোট রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- ১৯২২ সাল নাগাদ অটোমান সাম্রাজ্য সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায় যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসের জন্ম দেয়। 

তথ্যসূত্র: i) History.com
ii) Britannica.

৩০.
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা কোনটি?
  1. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  2. গ্রীক সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. নারা সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হচ্ছে মেসোপটেমীয় সভ্যতা।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ।
- যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- এই উর্বর ভূখণ্ডের উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি; দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর, পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫,৫০০ অব্দে দক্ষিণ মেসোপটেমীয়ার অধিবাসীরা ইউফ্রেতিস নদীর পানির প্রবাহ পরিবর্তন করে এবং পানি সেচের ব্যবস্থা করতে শেখে। মেসোপটেমীয়ায় কৃষি কাজের জন্য এ ধরনের সেচ ব্যবস্থার খুবই দরকার ছিল।

• মেসোপটেমীয়ার অর্ন্তভুক্ত সভ্যতাসমূহ:
- সুমেরীয়,
- ব্যবিলনীয়,
- এ্যাসিরীয়,
- ক্যালডীয় সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
নারা সভ্যতা কোথায় উদ্ভব ঘটেছিল?
  1. জাপান
  2. মঙ্গোলীয়া
  3. ভিয়েতনাম
  4. কাজাকাস্তান
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
নারা সভ্যতা:
- নারা সভ্যতা গড়ে উঠে জাপানে। 
-সময়কাল: ৭১০–৭৮৪ খ্রিস্টাব্দ।
- রাজধানী স্থানান্তর: ৭১০ খ্রিস্টাব্দে আসুকা থেকে নারা শহরে রাজধানী স্থানান্তর করা হয়।
- এটি ছিল প্রথম স্থায়ী রাজকীয় রাজধানী।
- পূর্বের রীতি অনুযায়ী, প্রত্যেক নতুন সম্রাটের সময় রাজধানী বদলানোর প্রথা এখানে বাতিল হয়।
- প্রধান ধর্ম: বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক প্রসার।
- অগ্রগামী নেতা: সম্রাট শোমু।
- নারা যুগ: জাপানে বৌদ্ধ ধর্ম, চীনা সংস্কৃতি ও আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মিলনের যুগ।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩২.
জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭৪
  3. গ) ১৯৭৩
  4. ঘ) ১৯৬৮
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্বের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন সুইডেনের স্টকহোম শহরে।
• এর নাম ছিলো United Nations Conference on the Environment.
• এই সম্মেলনের মাধ্যমেই প্রথম পরিবেশ ইস্যুটি বৈশ্বিক গুরুত্ব লাভ করে।
• স্টকহোম সম্মেলনের সূত্র ধরেই United Nations Environment Programme (UNEP) প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র:- জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৩.
পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয় এটি প্রথম কারা প্রমান করে?
  1. ক) চীনের জ্যোতির্বিদরা
  2. খ) মিশরীয় জ্যোতির্বিদরা
  3. গ) গ্রিক জ্যোতির্বিদরা
  4. ঘ) সিন্ধু জ্যোতির্বিদরা
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিক জ্যোতির্বিদরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিক জ্যোতির্বিদরা
ব্যাখ্যা
গ্রিক বিজ্ঞানীদের অবদান:

- গ্রিক বিজ্ঞানীরা প্রথম প্রমান করেন পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহনের কারন নির্ণয় করতে সক্ষম হয়।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করে গ্রিক বিজ্ঞানীরা।
- চাদের নিজের কোন আলো নেই,বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারনে নয় প্রাকৃতিক কারনে ঘটে।এই সত্য তারাই আবিষ্কার করে।
- বিখ্যাত গনিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের গ্রিক সভ্যতায় যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
গ্রিক সভ্যতার অন্তর্গত ছিল-
  1. মিনিয়ন ও ইজিয়ান সভ্যতা
  2. সিন্ধু ও হরপ্পা সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় ও হরপ্পা সভ্যতা
  4. মহেঞ্জাদারো ও ইজিয়ান সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
মিনিয়ন ও ইজিয়ান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিনিয়ন ও ইজিয়ান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
গ্রিকসভ্যতা: 
- ইজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জে এবং এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলে আবিষ্কৃত এ সভ্যতা।
- সন্ধান মেলে মহাকাব্যের ট্রয় নগরীসহ একশ নগরীর ধ্বংসস্তূপের।
- যাকে বলা হয় ইজিয়ান সভ্যতা বা প্রাক-ক্লাসিক্যাল গ্রিকসভ্যতা।
- ক্রিট দ্বীপ, গ্রিস উপদ্বীপের মূল ভূখণ্ড, এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলে এবং ইজিয়ান সাগরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠে এই সভ্যতা।
- এই সভ্যতার অধিবাসীরা ছিল সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের অধিকারী।
- এই সভ্যতাকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
• ১. মিনিয়ন সভ্যতা:
- ক্রিট দ্বীপে যে সভ্যতার উদ্ভব এর স্থায়িত্ব ধরা হয়েছে ৩০০০ থেকে ১৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত।
• ২. মাইসিনীয় বা ইজিয়ান সভ্যতা:
- গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত মাইসিনি নগরের নাম অনুসারে এর নামকরণ হয়।
- এই সভ্যতার স্থায়িত্ব ছিল ১৬০০ থেকে ১১০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত।
- ধারণা করা হয় বন্যা অথবা বিদেশি আক্রমণের ফলে এই সভ্যতার অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫.
আধুনিক আইনের ভিত্তি তৈরি করে কোন সভ্যতা?
  1. ক) গ্রীক
  2. খ) রোমান
  3. গ) ব্যাবিলনীয়
  4. ঘ) ক্যালিডীয়
সঠিক উত্তর:
খ) রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রোমান
ব্যাখ্যা
গ্রীক সভ্যতার একটি বর্ধিত অংশ রোমান সভ্যতা। এটি প্রাচীন রোম নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- অষ্টম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রোমান সভ্যতা সগৌরবে টিকে ছিলো।
- দর্শন, সাহিত্য ও আইন রচনার ক্ষেত্রে রোমানরা অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন।
- আধুনিক আইনের ভিত্তি হলো - রোমান আইন। আবার রোমান আইনের ভিত্তি ছিলো - The Twelve Tables যা খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে প্রচলিত হয়।
- এছাড়া একেশ্বরবাদী খ্রিস্টান ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটায় রোমানরা।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নবম - দশম শ্রেণীর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)।
৩৬.
কোন পাল রাজার আমলে কৈবর্ত্য বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. ক) রামপাল
  2. খ) দ্বিতীয় শূরপাল
  3. গ) দ্বিতীয় মহীপাল
  4. ঘ) কুমারপাল
  5. ঙ) তৃতীয় বিগ্রহপাল
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিতীয় মহীপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্বিতীয় মহীপাল
ব্যাখ্যা
তৃতীয় বিগ্রহপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দ্বিতীয় মহীপাল সিংহাসনে বসেন। তার সময় বরেন্দ্র অঞ্চলে বিদ্রোহ শুরু হয় যা ‘কৈবর্ত্য বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। এর নেতা ছিলেন দিব্য। তিনি দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করেন এবং বরেন্দ্র দখল করেন। উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়।
৩৭.
মায়াদের ‘হাব (Haab)’ ক্যালেন্ডার কিসের উপর ভিত্তি করে তৈরি?
  1. ধর্মীয় রীতি
  2. সৌর বছর
  3. চন্দ্র বছর
  4. কৃষি মৌসুম
সঠিক উত্তর:
সৌর বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌর বছর
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com

৩৮.
কোন সভ্যতায় প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু হয়?
  1. ক) মিশরীয়
  2. খ) সুমেরীয়
  3. গ) ব্যাবিলনীয়
  4. ঘ) ক্যালেডীয়
সঠিক উত্তর:
খ) সুমেরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুমেরীয়
ব্যাখ্যা
• সুমেরীয় সভ্যতা (Sumerian Civilization):

- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন যে সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল, তার নাম সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমানে ইরাকের টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর স্থানে সুমেরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে।
- ‘চাকা’ আবিষ্কার – সুমেরীয়রা প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু করে।

- তাদের কৃষকরা প্রথম দুই চাকা বিশিষ্ট 'রথ' (Chariot) ব্যবহার শুরু করেছিল।
- উন্নত সেচ ব্যবস্থা – টাইগ্রিস ও ইউফ্রিটিস নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষির উন্নতির জন্য তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছিলো ।
- লিখন-পদ্ধতির আবিষ্কার - সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির নাম “কিউনিফর্ম” (Cuneiform)।
- কিউনিফর্ম লিপি বাম থেকে ডানদিকে লেখাঁ হত এবং এর বর্ণের সংখ্যা ছিলো ৩২টি।

- তারা বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য হিসাবে বিবেচিত “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেছিলেন।
- জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সুমেরীয়রা।
- সুমেরীয়রা বহু ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল। তাদের অনেক দেবতা ছিল। প্রধান দবতা ‘নাগাল’।
- ২২৩৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে লুগালজাগেসি (King Lugalzagesi) আক্কাডীয়ান রাজা ‘সারগন’ এর নিকট পরাজিত হলে সুমেরীয় সাম্রাজ্যের অবসান হয়। 
সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com
৩৯.
সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী কী ছিল?
  1. ফারাও
  2. পাতেজী
  3. লুগাল
  4. খালিফা
সঠিক উত্তর:
পাতেজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতেজী
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হলো সুমেরীয় সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ অব্দে সুমেরীয়রা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশ ও পারস্য উপকূলে বসতি স্থাপন করে।
- সুমেরীয়রা ছিল অ-সেমিটিক জাতিগোষ্ঠী এবং ধারণা করা হয় তারা মধ্য এশিয়া থেকে আগত।
- লিখন পদ্ধতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন-কানুন ও ধর্মীয় অনুশাসনের সূচনা সুমেরীয়দের হাতেই।
- সুমেরীয় সভ্যতায় ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী ছিল ‘পাতেজী’।
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট ডুঙি।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে সুমেরীয়রা একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রবর্তন করেন।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার ছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশে সুমেরীয়দের অবদান ছিল সর্বাধিক।
- সুমেরীয়দের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি হলো ‘জিগগুরাট’ নামক ধর্মমন্দির।
 
উৎস: ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
চৈনিক সভ্যতার বিখ্যাত দার্শনিক কে?
  1. কনফুসিয়াস
  2. সক্রেটিস
  3. অ্যারিস্টটল
  4. প্লেটো
সঠিক উত্তর:
কনফুসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনফুসিয়াস
ব্যাখ্যা

চীন সভ্যতা:
- চীনের তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে ওঠে। প্রথমটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জে কিয়াং নদীর তীরে আর তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে। চীনের এই প্রাচীন সভ্যতা সৃষ্টি হয় শাং রাজাদের ও চৌ রাজাদের যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে এখানে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- চীনবাসীরা হোয়াং-হো ও ইয়াংসি নদীর দুটি পাড়েই বসবাস করত। 

⇒ চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী দার্শনিক ছিলেন কনফুসিয়াস।
- তিনি চীনাদের মধ্যে আদর্শ জীবনের বাণী প্রচার করেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ২০৬ অব্দে তাঁর নৈতিক দর্শন ধর্মে রূপান্তরিত হয়।
- এছাড়া চীনের উল্লেখযোগ্য দার্শনিক লাওৎসে, জেনসিয়াস, মোতি।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) EBSCO.
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
“An eye for an eye” কোন আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. রোমান আইন
  2. হাম্মুরাবি আইন
  3. ম্যাগনা কার্টা
  4. ট্রিটি অফ ওয়েস্টফেলিয়া
সঠিক উত্তর:
হাম্মুরাবি আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাম্মুরাবি আইন
ব্যাখ্যা

• কোড অব হাম্মুরাবি:
- নগররাষ্ট্র ব্যাবিলন ছিল মেসোপটেমিয়ার কেন্দ্রবিন্দু।
- ১৭৬০ খ্রিষ্টপূর্ব বেশ কয়টি ধারাবাহিক যুদ্ধের পর ব্যাবিলনের শক্তিমান রাজা হাম্মুরাবি অন্য সব বিপক্ষ নগররাষ্ট্রগুলো গুঁড়িয়ে দেন।

⇒ ২৮২টি আইনের সমন্বয়ে তৈরি, পাথরে খোদাই করা এই কোডটি ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া শাসনের জন্য তৈরি করেছিলেন।
- তাঁর আইনগুলো ‘কোড অব হাম্মুরাবি’ নামে পরিচিত।
- এটি সবচেয়ে পুরোনো লিখিত আইন।
- আইনগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী কাদামাটিতে লিখে আগুনে পুড়িয়ে সংরক্ষণ করা হতো।
- বিষয় অনুসারে আইনগুলো নানা শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যেমন পারিবারিক বিষয়, বাণিজ্য, ধর্ম ও দাসপ্রথা।
- জনসাধারণ যদিও পড়তে জানত না, তবু আইনভঙ্গকারীদের দাঁত উপড়ে নেওয়া বা শূলে চড়ানোর মতো শাস্তি ভোগ করতে হতো।
- এই আইনের মুলকথা ছিল - “An eye for an eye”।

উৎস: i) History.com
ii) প্রথম আলো।

৪২.
রিদ্দা কীসের নাম?
  1. এক ধরনের ক্রীড়া
  2. প্রাচীন সভ্যতা
  3. ধর্মযুদ্ধ
  4. রোবটের নাম
সঠিক উত্তর:
ধর্মযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
রিদ্দা যুদ্ধ: 
- আবু বকরের (রা) স্বল্পকালীন খিলাফতের বেশীর ভাগ সময় রিদ্দার (স্বধর্ম ত্যাগের) যুদ্ধে ব্যাপৃত ছিল।
- বস্তুত মহানবী (স) এর মৃত্যুর পর হেজাজ প্রদেশ ছাড়া প্রায় সমগ্র আরব দেশ নব প্রতিষ্ঠিত মুসলিম রাষ্ট্র ও ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
- এসময় কতিপয় ভণ্ড নবীর উদ্ভব ঘটে।
- মুসলমানদের একদল যাকাত দানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে।
- সমগ্র আরবে অন্তর্বিপ্লব দেখা দেয়।
- ইসলামের বিরুদ্ধে আরব গোত্রগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠে।
- ইহুদি-খ্রিস্টানগণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠে।
- মূলত মহানবীর (স) মৃত্যুর পর ইসলাম বিরোধী শক্তিসমূহ এবং ভণ্ড নবীদের পরিচালিত আন্দোলন ইসলামের ইতিহাসে 'রিদ্দা বা স্বধর্মত্যাগী আন্দোলন'
- এবং এ আন্দোলন দমনে হযরত আবু বকর (রা) ঘোষিত যুদ্ধ 'রিদ্দা যুদ্ধ' নামে পরিচিত।
- এটি একটি ধর্মযুদ্ধ। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩.
ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ কোথায় পাওয়া যায়? 
  1. চিচেন ইৎজা
  2. কলোসিয়াম
  3. মাচু পিচু
  4. কুসকো
সঠিক উত্তর:
মাচু পিচু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাচু পিচু
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
-
নতুন সপ্তাশ্চর্য ‘মাচুপিচু’ (Machu Picchu) ইনকা সভ্যতার নিদর্শন।
- তারা বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে কোনো সিমেন্ট বা চুন ছাড়াই সুনিপুণভাবে দেয়াল তৈরি করত, যা আজও বিশ্বের বিস্ময়।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ইনকাদের কোনো লিখিত লিপি ছিল না। এর বদলে তারা রঙিন সুতার গিঁট দিয়ে হিসাব রাখা ও তথ্য আদান-প্রদান করত, যাকে 'কুইপু' বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি .কম।

৪৪.
বিশ্ব ঐতিহ্য মাচুপিচু কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কলম্বিয়া
  2. পেরু
  3. মেক্সিকো
  4. চিলি
সঠিক উত্তর:
পেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরু
ব্যাখ্যা
• মাচুপিচু:
মাচুপিচু হলো পেরুতে অবস্থিত ইনকা সভ্যতার একটি পার্বত্য পাথুরে শহর যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।
- এই শহরটি ইনকাদের দ্বারা নির্মিত। ষোড়শ শতকে স্পেনিশদের দ্বারা ইনকা সাম্রাজ্য ধ্বংস হলেও মাচুপিচু অজানার মধ্যে থেকে যায়।
- ১৯১১ সালে মার্কিন প্রত্নতাত্ত্বিক হিরাম বিঙহাম মাচুপিচু আবিষ্কার করেন।
- এটি পৃথিবীর একটি সপ্তাশ্চর্য এবং ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্য নিদর্শন।
- ইনকা সভ্যতা দ্বাদশ শতকে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর আন্দিজ পার্বত্য অঞ্চলে রেড ইন্ডিয়ানদের দ্বারা গড়ে উঠে ছিলো যা ষোড়শ শতকে স্পেনিশদের দ্বারা ধ্বংস হয়।

উৎস: হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা। 
৪৫.
রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট কে?
  1. অগাস্টাস সিজার
  2. রাজা রোমিউলাস
  3. অগাস্টাস জুপিটার
  4. রমিউলাস অগাস্টাস
সঠিক উত্তর:
অগাস্টাস সিজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগাস্টাস সিজার
ব্যাখ্যা
রোমান সাম্রাজ্য:
- রোমান সাম্রাজ্য এর সময়কাল: ২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দ
- প্রাচীন রোম নগরকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম রোমান সম্রাট ছিলেন - অগাস্টাস সিজার।
- অগাস্টাস সিজারের রাজত্বকালের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যীশুখ্রিস্টের জন্ম।

উৎস: ব্রিটানিকা & বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
মায়া সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল কোথায়?
  1. দক্ষিণ আমেরিকা
  2. মধ্য আমেরিকা
  3. ক্যারিবীয় অঞ্চল
  4. পূর্ব ইউরোপ
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য আমেরিকা
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতা ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও রহস্যময় সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতার সূচনা অনেক আগে মেসোআমেরিকা নামক এক স্থানে হয়েছিল।
- এই বিশাল অঞ্চলটি মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত।
- মধ্য আমেরিকায় দুই সহস্রাধিক বছর ধরে বিকশিত এই সভ্যতা শিল্প, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতের ক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতি সাধন করেছিল। 
- মেক্সিকো, বেলিজ, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের রেইনফরেস্টের মধ্যে এটি অবস্থিত।
- মায়ারা প্রথম তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে (প্রাক-ধ্রুপদী যুগ)।

⇒ প্রাথমিক পর্যায়ে মায়ারা কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং প্রধানত ভুট্টা, শিম, কুমড়া ও মরিচ চাষ করত।
- সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা শক্তিশালী নগর-রাষ্ট্র গড়ে তোলে, যেখানে প্রতিটি রাজ্য ছিল স্বাধীন এবং রাজা ও অভিজাত শ্রেণি দ্বারা শাসিত।
- টিকাল, পালেনকে, কোপান ও চিচেন ইৎজা ছিল এই শহরগুলোর মধ্যে বিখ্যাত, যেগুলো বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।

⇒ মায়া সভ্যতার অন্যতম বিস্ময়কর দিক ছিল তাদের জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতের জ্ঞান।
- তারা অত্যন্ত উন্নত ক্যালেন্ডার ব্যবস্থা তৈরি করেছিল।
- তারা কৃষিকাজের জন্য এই ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

৪৭.
রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন কোন শতাব্দীতে সংকলিত হয়?
  1. খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দী
  2. খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী
  3. খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী
  4. খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী
ব্যাখ্যা

⇒ রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

 রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক।
- মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।

⇒ রোমানদের উপাস্য দেবতা:
- আকাশের দেবতা: জুপিটার।
- প্রেমের দেবতা: ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা: নেপচুন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
কাদের নিকট ফিনিশীয় সভ্যতার পতন ঘটেছিলো?
  1. পারসিক
  2. রোমান
  3. সেলজুক তুর্কি
  4. গ্রিক
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা
ভূমধ্যসাগর ও লেবানন পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে বর্তমান লেবাননে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ অব্দে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। ফিনিশীয়দের আদিনিবাস ছিলো পারস্য উপসাগরীয় তীরবর্তী অঞ্চলে।

উর্বর কৃষিজমির স্বল্পতার কারণে ফিনিশীয়দের জীবিকার প্রধান উৎস ছিলো বাণিজ্য। ফিনিশীয়রা সভ্যতার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। তারাই ইতিহাসে প্রথম সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তুলেছিলো।

ফিনিশীয় সভ্যতাকে প্রথম উপনিবেশিক সভ্যতা হিসেবে অভিহিত করা হয়। ফিনিশীয়রা উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম ভূমধ্যসাগর, ইতালি, গ্রিস প্রভৃতি অঞ্চলে বাণিজ্যিক উপনিবেশ গড়ে তুলেছিলো।

বর্তমান লেবাননে অবস্থিত টায়ার ও সিডন ফিনিশিয়ার দুটো বিখ্যাত বন্দর। ফিনিশীয়রা বর্ণমালা আবিষ্কারের জন্যেও বিখ্যাত। তারা ২২টি ব্যাঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালার উদ্ভাবন করেছিল। পরবর্তীতে গ্রিকরা এই বর্ণমালার সাথে স্বরবর্ণ যোগ করে একে পূর্ণতা দান করে।

ফিনিশীয়রা ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয় করে জাহাজ চালাতো বিধায় ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে।

খ্রিস্টপূর্ব ৩৩২ অব্দে গ্রিকবীর আলেকজান্ডার কর্তৃক ফিনিশিয়ার টায়ার নগরী ধ্বংসের মাধ্যমে ফিনিশীয় সভ্যতার পতন ঘটে।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং ইতিহাস : এসএসসি প্রোগ্রাম : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪৯.
কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘সৎ প্রতিবেশি নীতি’র প্রবক্তা বলা হয়?
  1. ক) ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
  2. খ) জন এফ কেনেডি
  3. গ) আব্রাহাম লিংকন
  4. ঘ) হ্যারি এস ট্রুম্যান
সঠিক উত্তর:
ক) ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
ব্যাখ্যা
▪ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ‘সৎ প্রতিবেশি নীতি’র প্রবক্তা
▪ ১৯৩০-৪০ এর সময়ে লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণে রুজভেল্ট পূর্বেকার হস্তক্ষেপ নীতির পরিবর্তে সদ্ভাবমূলক নীতি প্রবর্তন করেন।
▪ ১৯৩৩ সালে প্রথম এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।
▪ কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের এন্টি-কমিউনিজম নীতির ফলে ‘সৎ প্রতিবেশি নীতি’ গুরুত্ব হারায়।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৫০.
হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন -
  1. জেহোভা
  2. আফ্রোদিতি
  3. আথেনা
  4. হার্মিস
সঠিক উত্তর:
জেহোভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেহোভা
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই।
- হিব্রু জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের (আঃ) (আব্রাহাম) নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় একত্রে বসবাস শুরু করে।
- তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament) হিব্রু ধর্মের (ইহুদী জাতির) প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
- হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন জেহোভা।
- জেহোভাকে তারা আকার-বিশিষ্ট একেশ্বর বলে মনে করত।
- এ যুগে ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং আবার একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
ইরাক কুয়েত দখল করে নেয় কোন সালে?
  1. ক) ১৯৮৯
  2. খ) ১৯৯০
  3. গ) ১৯৯১
  4. ঘ) ১৯৯২
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৯০
ব্যাখ্যা
- ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট ইরাক তার প্রতিবেশী দেশ কুয়েতের ওপর দুই দিনব্যাপী "কুয়েত আক্রমণ" অপারেশন পরিচালনা করে।
- এর ফলে দীর্ঘ সাত মাসব্যাপী দেশটি ইরাকের অধীনে ছিল।
- ইরাক কর্তৃক কুয়েত আক্রান্ত হলে ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী ইরাকের উপর বিমান হামলা শুরু করে যা ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে পরিচিত।
- ৫ মার্চ ১৯৯১ সালে জাতিসংঘের শর্ত মেনে ইরাক কুয়েত থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।

উৎস:- History.com
৫২.
'কলোসিয়াম' নাট্যশালা কোন সভ্যতায় তৈরী হয়?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. ইনকা সভ্যতা
  4. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা: 
- স্থাপত্যের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল রোমের।
- এখানে ইট আর কংক্রিট দিয়ে দালানকোঠা তৈরি করা হতো।
- দালানের চার কোণায় ব্যবহার করা হতো পাথর।
- সম্রাট হাড্রিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যনথিয়ন রোমের একটি বড় স্থাপত্য নিদর্শন।
- রোমে 'কলোসিয়াম' নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নাট্যশালা তৈরি হয়েছিল।
- এখানে একসাথে ৫,৬০০ জন দর্শক বসতে পারত।
- ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসেবে রোমে পাওয়া গেছে অনেক মূর্তি।
-এগুলো ছিল সম্রাট, কর্মকর্তা ও দেবতাদের মূর্তি।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি, প্রোগ্রাম , ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
ভারতে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে কোন অঞ্চলে?
  1. পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু
  2. বিহার, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু
  3. মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক
  4. পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট
ব্যাখ্যা

- ভারতে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট।

সিন্ধু সভ্যতা: 

- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- এই সভ্যতা শুধু সিন্ধু নদীর অববাহিকা বা ঐ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
কুখ্যাত বাস্তিল কারাদুর্গের পতন ঘটেছিল?
  1. ক) ৫ অক্টোবর, ১৭৮৮ সাল
  2. খ) ১৪ জুলাই, ১৭৮৯ সাল
  3. গ) ২৫আগস্ট, ১৭৮৮ সাল
  4. ঘ) ১০ জুন, ১৭৮৯ সাল
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪ জুলাই, ১৭৮৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪ জুলাই, ১৭৮৯ সাল
ব্যাখ্যা
ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
বাস্তিল কারাদুর্গ আক্রমণ ও এর পতনঃ ১৪ জুলাই, ১৭৮৯ সাল।
বাস্তিল কারাদুর্গ আক্রমণ ও এর পতনের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় বিশ্ব ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় যা বিখ্যাত হয়েছে ফরাসি বিপ্লব নামে। দুর্গটি ছিল স্বেচ্ছাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক।
উৎসঃ ইতিহাস ২য় পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি(উন্মুক্ত)।
৫৫.
পরিমাপ পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়-
  1. ফিনিশীয় সভ্যতায়
  2. সিন্ধু সভ্যতায়
  3. মিশরীয় সভ্যতায়
  4. সুমেরীয় সভ্যতায়
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতায়
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
 - সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর একটি। ব্রোঞ্জযুগীয় সভ্যতার নিদর্শনটি আনুমানিক ৩৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে আনুমানিক ১৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সিন্ধু নদ অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এর নাম রাখা হয় সিন্ধু সভ্যতা।
 - সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কার করেন- স্যার জন মার্শাল, রাখালদাশ বন্দ্যোপাধ্যায়।
 - সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়-১৯২২।
- এ সভ্যতাকে তাম্র যুগের সভ্যতা বলা হয়।
 -এ সভ্যতা ছিল কৃষি নির্ভর।
- সিন্ধু সভ্যতার শ্রেষ্ঠ শহর ছিল- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো।
-হরপ্পা নগরী গড়ে উঠে সিন্ধুর উপনদী- ইরাবতির তীরে।
- সিন্ধু সভ্যতার হাড় ও পাথরের তৈরি সিলমোহর পাওয়া যায়।
 -এ সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল- পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
 -সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীগণ পরিমাপের জন্য বাটখারা ব্যবহার করতেন।

উৎস: ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।
৫৬.
ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নাবিক ছিলেন-
  1. ফিনিশীয়রা
  2. মিশরীয়রা
  3. ব্যবিলনীয়রা
  4. গ্রিকরা
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিনিশীয়রা
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা: 
- ভূমধ্যসাগর ও লেবানন পর্বতের মাঝামাঝি ভূমিতে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠে।
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়রা পরিচিত- শ্রেষ্ঠ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- তারা সর্বপ্রথম বর্ণমালা  উদ্ভাবন করেন।
- ফিনিশীয়দের আয়ের উৎস ছিলো- বাণিজ্য।

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- খ্রিষ্টপূর্ব  ২০৫০ অব্দে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে উঠে।
- ব্যাবিলনীয়দের বড় অবদান আইন প্রণয়নে।
- এ সভ্যতার স্থপতি বলা হয়- হাম্বরাবি।
- ব্যাবলিয়নের ঝুলন্ত উদ্যানের নির্মাতা - রাজা নেবুচাদ নেজার।
পৃথিবীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইন- হাম্বুরারির লিখিত আইন।

  মিশরীয় সভ্যতা:
-  নীল নদের অববাহিকায় গড়ে উঠে।
-  মিশরীয়দের লিখন পদ্ধতির নাম -হায়ারোগ্লিফিক।
-  পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য- মিশরের পিরামিড।
-  ৩৬৫ দিনে বছর গণনা শুরু করেছিলো মিশরীয়রা।
-  মিশরের রাজাদের বলা হতো- ফারাও।

উৎস:ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
হাইডেলবার্গ মানবের প্রথম জীবাশ্ম কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. চীন
  3. জার্মানি
  4. নরওয়ে
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জার্মানি
ব্যাখ্যা

- হাইডেলবার্গ মানবের প্রথম জীবাশ্ম জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয়।

হাইডেলবার্গ মানব (Heidelberg Man):

- হাইডেলবার্গ মানব বা 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস' (Homo heidelbergensis) হলো আধুনিক মানুষ (Homo sapiens) এবং নিয়ানডারথাল (Neanderthals) মানুষের সাধারণ পূর্বপুরুষ বলে ধারণা করা হয়।
- এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরের কাছে মাউয়ার (Mauer) নামক স্থানে একটি বালুর খনিতে প্রথম এই প্রজাতির চোয়ালের হাড় (Mauer mandible) আবিষ্কৃত হয়।
- শ্রমিক ড্যানিয়েল হার্টম্যান এটি খুঁজে পান এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক অটো শয়টেনস্যাক (Otto Schoetensack) এটি শনাক্ত করে এর নাম দেন 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১৪০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের আকারের কাছাকাছি।
- এরা ছিল প্রথম দিকের এমন এক প্রজাতি যারা শীত প্রধান জলবায়ু বা ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসের জন্য অভিযোজিত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন।

৫৮.
ন্যায়পরায়ণতার জন্য কাকে “ওমর দ্য গ্রেট” বলা হয়?
  1. ক) হযরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.)
  2. খ) হযরত ওমর ইবনে আল খাত্তাব(রা.
  3. গ) হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)
  4. ঘ) হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)
সঠিক উত্তর:
খ) হযরত ওমর ইবনে আল খাত্তাব(রা.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হযরত ওমর ইবনে আল খাত্তাব(রা.
ব্যাখ্যা
হযরত ওমর ইবনে আল খাত্তাব(রা.):

- শাসন কাল (৬৩৪ খ্রি. - ৬৪৪ খ্রি.)।
- ৬৩৪ খ্রি. খলিফা নির্বাচিত হন।
- “ওমর দ্য গ্রেট” বলা হয় (ন্যায়পরায়ণতার জন্য )।
- ইসলামী সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্মৃতি লাভ ।
- ৬৪৪ খ্রি. আততায়ীর হাতে নিহত।
৫৯.
'করনার স্টোন অব পিস' - এই স্মৃতিসৌধটি সম্প্রতি স্থাপিত হয়েছে-
  1. ক) মাকাও
  2. খ) হাইতি
  3. গ) ওকিনাওয়া
  4. ঘ) ভিয়েতনাম
সঠিক উত্তর:
গ) ওকিনাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওকিনাওয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তিতে ১৯৯৫ সালে জাপানের ওকিনাওয়ায় 'কর্নার স্টোন অব পিস' স্মৃতিসৌধটি স্থাপিত হয়।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৬০.
ক্লিওপেট্রা সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. জুলিয়াস সিজারের প্রেমিকা
  2. মার্ক অ্যান্টনির স্ত্রী
  3. রোমান রানী
  4. বর্ণিত সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
রোমান রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান রানী
ব্যাখ্যা
ক্লিওপেট্রা:
- ক্লিওপেট্রা ছিলেন ইতিহাসের বিখ্যাত মিশরীয় রানী।
- খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন জুলিয়াস সিজারের প্রেমিকা এবং পরে মার্ক অ্যান্টনির স্ত্রী।
- ৫১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তার পিতা টলেমি XII এর মৃত্যুতে রানী হয়েছিলেন।
- ক্লিওপেট্রা সক্রিয়ভাবে রোমান রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছিলেন।
- অক্টাভিয়ানের রোমান বাহিনী তাদের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করার পর, অ্যান্টনি এবং ক্লিওপেট্রা আত্মহত্যা করেন।
- মিশর তখন রোমান আধিপত্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

উৎস: Britannica.
৬১.
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নগরায়ন-
  1. ক) কাবেরী নদীর তীরে
  2. খ) গঙ্গা নদীর তীরে
  3. গ) সিন্ধু নদীর তীরে
  4. ঘ) মেঘনা নদীর তীরে
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু নদীর তীরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিন্ধু নদীর তীরে
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নগরায়ন সিন্ধু নদীর তীরে হয়েছিলো। 

সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর একটি। ব্রোঞ্জযুগীয় সভ্যতার নিদর্শনটি আনুমানিক ৩৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে আনুমানিক ১৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সিন্ধু নদ অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এর নাম রাখা হয় সিন্ধু সভ্যতা। প্রাচীন ভারতে সর্বপ্রথম হরপ্পায় খননকাজ হয় বিধায় অনেকে একে হরপ্পা সভ্যতা হিসেবেও অভিহিত করে থাকে।

সিন্ধু সভ্যতা মূলত ছিল নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। ভৌগোলিক প্রসারতা, উন্নত নগর পরিকল্পনা, আধুনিক পৌর জীবন, সমসাময়িক উন্নত সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগ, উন্নত শিল্পকলা ও আবিষ্কৃত বিভিন্ন নগরের অবস্থান দেখে বোঝা যায় যে নাগরিক জীবনের নানা বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি এই সভ্যতায় ছিল।

উৎস: দৈনিক কালেরকণ্ঠ।
৬২.
শিল্প বিপ্লব সর্বপ্রথম কোন দেশে সংঘটিত হয়?
  1. ইংল্যান্ডে
  2. পোল্যান্ডে
  3. জার্মানিতে
  4. যুক্তরাষ্ট্রে
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংল্যান্ডে
ব্যাখ্যা
শিল্প বিপ্লব:

- শিল্প বিপ্লব সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে সংঘটিত হয়।
- ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার নানা রকম কারণের মধ্যে একটি বড় কারণ ছিল পুঁজির জোগান।
- অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রথমে ইংল্যান্ডে এবং পরে ইউরোপের অন্যান্য দেশে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে উৎপাদনব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়, তা-ই শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত।
- ফরাসি দার্শনিক লুই অগাস্তে রাংকি 'শিল্প বিপ্লব' কথাটি ১৮৩৭ সালে প্রথম ব্যবহার করেন।
- ১৭৬০ সালে শুরু হওয়া শিল্প বিপ্লবের মাধ্যমে শিল্পায়নের সূত্রপাত।
- ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন তৈরির মাধ্যমে যা ব্যাপক কলেবরে বৃদ্ধি পায়।
- ১৮৭০ সালে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে মানুষ পেয়েছে আলোকিত বিশ্ব।
- ১৮৪৫ সালে আবার শিল্প বিপ্লব কথাটি ব্যবহার করেন জার্মান সমাজতন্ত্রী দার্শনিক ফ্রেডরিখ অ্যাঙ্গেলস।
- ১৮৮০ থেকে ৮১ সালে শিল্প বিপ্লব কথাটিকে জনপ্রিয় করেছিলেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি তাঁর লেখা 'Lectures on the Industrial Revolution in England' গ্রন্থে ব্যবহারের মাধ্যমে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৩ জুন ২০২৯।
৬৩.
ইজিয়ান সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. গ্রিসে
  2. জেরুজালেমে
  3. ইরাকে
  4. মিশরে
সঠিক উত্তর:
গ্রিসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিসে
ব্যাখ্যা

ইজিয়ান সভ্যতা:
- ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে উঠেছিল গ্রিসে।

⇒ ইজিয়ান সভ্যতা প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা।
- ইজিয়ান সাগরের অঞ্চলে যথাক্রমে প্রায় ৭০০০-৩০০০ খ্রিস্টপূর্বে এবং প্রায় ৩০০০-১০০০  খ্রিস্টপূর্বে গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার অপর নাম মিনীয় (Minoan) সভ্যতা।
- মিনীয় সভ্যতা অঞ্চলটি ক্রিট, সাইক্লেডস এবং অন্যান্য কিছু দ্বীপ এবং গ্রীক মূল ভূখন্ড, পেলোপোনিজ, মধ্য গ্রীস এবং থেসালি নিয়ে গঠিত।
- ইজিয়ান সভ্যতার কেন্দ্র ছিল গ্রিস।
- ইজিয়ান সাগরের তীরবর্তী পূর্ব বলকান অঞ্চল নিয়ে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে উঠে।
- ইজিয়ান সভ্যতার তথ্য পাওয়া যায় গ্রিক কবি হোমারের ইলিয়ড ও ওডেসি মহাকাব্যে।
- ইজিয়ান সভ্যতার পতন ঘটে ১১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

উৎস: Britannica.

৬৪.
রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট কে ছিলেন?
  1. জুলিয়াস সিজার
  2. কনস্টানটাইন সিজার
  3. রমিউলাস সিজার
  4. অগাস্টাস সিজার
সঠিক উত্তর:
অগাস্টাস সিজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগাস্টাস সিজার
ব্যাখ্যা

- জুলিয়াস সিজারের পালকপুত্র অক্টাভিয়ান ২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে 'অগাস্টাস' উপাধি গ্রহণ করে রোমের প্রথম সম্রাট হন। তার শাসনকাল থেকে রোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ শুরু হয়। 

​অগাস্টাস সিজার:
- রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট ছিলেন অগাস্টাস সিজার।
- অগাস্টাস সিজারের আসল নাম ছিল গাইয়াস অক্টাভিয়াস।
- জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে অগাস্টাস সিজার রাখেন।
- সম্রাট অক্টাভিয়ান অগাস্টাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩১-১৪ খ্রিস্টাব্দ) রোমের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত শাসক ছিলেন।
- তাঁর শাসনামলে রোমীয় সভ্যতায় স্বর্ণযুগের সূচনা হয়।
- তাঁর সময়ে রোমীয় ইতিহাস, সাহিত্য-সংস্কৃতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞানচর্চা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে।
- এই জন্য ইতিহাসে তাঁর সময়কালকে 'অগাস্টান যুগ' (Augustan Age) বলা হয়।

সূত্র: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫.
খ্রিস্টধর্মের উপাসনালয়ের নাম কী?
  1. ক) সিনাগগ
  2. খ) গুরু দুয়ারা
  3. গ) মঠ
  4. ঘ) গির্জা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গির্জা
ব্যাখ্যা
খ্রিস্টধর্ম (Christanism)
• উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - খ্রিস্টধর্ম দুই হাজার বছর আগে শুরু হয়েছিল এবং এটি যীশু খ্রিস্টের জীবন ও শিক্ষার উপর ভিত্তি করে একটি বিশ্বাস। যীশুর জীবন ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে এই ধর্ম বিকশিত হয়েছে। 
• প্রচারক - যিশু খ্রিস্ট । জেরুজালেমের বেথেলহামে যীশু জন্মগ্রহণ করেন। 
• ধর্মগ্রন্থ - খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরা একটি ধর্মীয় পুস্তকসমগ্র অনুসরণ করে, যার সামগ্রিক নাম বাইবেল বাইবেল দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: ওল্ড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্ট। 
• উপাসনালয় - গির্জা
• পবিত্র স্থান - জেরুজালেম।

অন্যদিকে, 
• শিখদের উপাসনালয় - গুরু দুয়ারা।
• ইহুদীদের উপাসনালয়ের নাম সিনাগগ।
• বৌদ্ধ ধর্মের উপাসনালয় মঠ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।  
৬৬.
পৃথিবীকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেন কোন সভ্যতা?
  1. রোম সভ্যতা
  2. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. ক্যালডীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
অ্যাসেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

অ্যাসেরীয় সভ্যতা:
- বিজ্ঞান ও জ্যোতিশাস্ত্রে অ্যাশেরীয়রা অতুলনীয় অবদান রাখেন যা বর্তমান সময়েও কাজে লাগে।
- তারা সর্বপ্রথম পৃথিবীকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেন।
- জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য তারা মেসোপটেমিয়ায় সর্বপ্রথম লাইব্রেরি স্থাপন করেন যা বর্তমানে ইরাকের 'নিনেভাহ' তে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম লাইব্রেরী হিসাবে পরিচিত যা মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরী থেকেও কয়েকশ বছরের পুরনো।
- অ্যাসেরীয়রা প্রথম লোহার তৈরি তলোয়ার, বর্শা, ধনুক ইত্যাদি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতো।

উৎস: ব্রিটানিকা ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭.
'মিশরকে নীল নদের দান' বলে অভিহিত করেছেন কে?
  1. এরিস্টটল
  2. হেরোডোটাস
  3. ফারাও খুফু
  4. রাজা নেবুচাঁদনেজার
সঠিক উত্তর:
হেরোডোটাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেরোডোটাস
ব্যাখ্যা
নীল নদ
- নীল নদের উৎপত্তিস্থল  নীলনদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের তীরে গড়ে উঠেছিল।
- নীলনদের পলির কারনে কৃষকদের ফসল চাষ, জেলেদের মাছ ধরা এবং জীবিকা নির্ভর করত নীলনদের উপর।
- আফ্রিকা এবং মিশরের কয়েক কোটি মানুষ নীলনদ কে কেন্দ্র করে তাদের জীবন পরিচালিত করত৷ নীলনদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারনে এটি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য একটি নদী৷
- হাজার বছরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইতিহাসের স্বাক্ষি এই নীলনদ। 
- পৃথিবীতে মোট সাতটি মহাদেশ আছে যার মধ্যে আফ্রিকা একটি।
- আফ্রিকা মহাদেশ পৃথিবীর দীর্ঘতম নদ নীলনদ অবস্থিত। নীল নদের উৎপত্তিস্থল হলো – ভিক্টোরিয়া হ্রদ।

 নীলনদের দান মিশর 
- হেরোডোটাস মিসরকে নীলনদের দান বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- নীলনদের একটি অংশ পুরোটাই মিশরের মরুভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তাই মিশরের সবাই নীলনদের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল।
- এমনকি নীলনদের যত গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্য বা সাংস্কৃতিক ঐতিহাসিক যত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে তার সবকিছুই নীলনদের মাধ্যমে তৈরী হয়েছে।
- মিশরের অর্থনীতিতেও নীলনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই নীলনদ কে মিশরের দান বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
৬৮.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার সবার শেষে গড়ে উঠেছিল -
  1. ক্যালেডীয়
  2. অ্যাসেরীয়
  3. ব্যাবিলনীয়
  4. সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালেডীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালেডীয়
ব্যাখ্যা

♦ মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
• সুমেরীয়।
• ব্যাবিলনীয়।
• অ্যাসেরীয়।
• ক্যালেডীয়।
- Mesopotamia মানে হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'।
- ফোরাত ও দজলা নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার নামকরণ হয়েছে গ্রিক শব্দে। 

♦ ক্যালডীয় সভ্যতা:
- ক্যালডীয় সভ্যতাটি মেসোপটেমীয় সভ্যতার সবার শেষে গড়ে উঠেছিল।
- ৬১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ্যাসিরীয়দের পতন এবং ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসোপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয়।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে।
- বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯.
সর্বপ্রথম লোহা আবিষ্কৃত হয় কোথায়?
  1. মিশরে
  2. ইতালিতে
  3. গ্রিসে
  4. এশিয়া মাইনরে
সঠিক উত্তর:
এশিয়া মাইনরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এশিয়া মাইনরে
ব্যাখ্যা
⇒ এশিয়া মাইনরে হিট্রাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।

লোহা:
- আধুনিক সভ্যতা মূলত লৌহের ওপর নির্ভরশীল।
- আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি লোহা।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়। এ গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রশক্তির প্রয়োগ আরও সহজ হয়। ফলে শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।

তথ্যসূত্র - সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
মায়া সভ্যতায় বছর হিসাব করা হতো -
  1. ক) ৮ মাসে
  2. খ) ১২ মাসে
  3. গ) ১৮ মাসে
  4. ঘ) ২৪ মাসে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮ মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮ মাসে
ব্যাখ্যা
মায়া সভ্যতা:
- হাজার হাজার বছর পুরনো এ সভ্যতাকে আমেরিকাতে স্প্যানিশদের আসার আগে সবচেয়ে আধুনিক সভ্যতা হিসেবে ধরা হয়।
- মেক্সিকো,গুয়েতেমালা,বেলিজ, হন্ডুরাস ও এলসালভেদর এর পশ্চিমাংশ।
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মায়া সভ্যতার ক্যালেন্ডার হলো হাব ।
- হাব অনুযায়ী – ২০ দিনে ১ মাস এবং ১৮ মাসে ১ বছর

উৎস: Live MCQ লেকচার ও সময় নিউজ(রিপোর্ট -  ৯ মে ২০২১)।
৭১.
চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন কে? 
  1. হান সম্রাট
  2. লাও-ৎসে
  3. কনফুসিয়াস
  4. কিন শি হুয়াং
সঠিক উত্তর:
কিন শি হুয়াং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিন শি হুয়াং
ব্যাখ্যা

চৈনিক সভ্যতা (Chinese Civilization):
- চীনের হোয়াংহো (Yellow River) ও ইয়াংৎসে নদী (Yangtze River) নদীর অববাহিকায় এই সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- হোয়াংহো নদীতে প্রায়ই ভয়াবহ বন্যা হতো, যা জনপদ ধ্বংস করত। এ কারণে নদীটিকে ‘চীনের দুঃখ’ বলা হয়। তবে এই বন্যার পলিমাটিই জমিকে উর্বর করে সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখে।

• সাং রাজবংশের সময় থেকেই চীনে লিখন পদ্ধতির বিকাশ ঘটে।
- উত্তর দিক থেকে আগত যাযাবর জাতিগোষ্ঠীর (যেমন—জিয়ংনু) আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সম্রাট কিন শি হুয়াং চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
- এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থাপত্য নিদর্শন।

• চীনারা চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করত।
- পরবর্তীকালে তারা গাছের ছাল, পুরনো কাপড় ও শণজাত আঁশ থেকে বিশ্বের প্রথম কাগজ আবিষ্কার করে।

• কনফুসিয়াস ও লাও-ৎসে-র দর্শন চীনা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে।
- কনফুসিয়াসের নৈতিকতা ও কর্তব্যভিত্তিক দর্শন রাষ্ট্রশাসন ও সমাজব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে।

- চীনের রেশম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ছিল। এই রেশম পরিবহনের দীর্ঘ বাণিজ্যপথকে ‘সিল্ক রোড’ বলা হয়,
- যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ স্থাপন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২.
রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন -
  1. জুপিটার
  2. নেপচুন
  3. মিনার্ভা
  4. ভেনাস
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেনাস
ব্যাখ্যা

রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি। 
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল। 
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ক) ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  2. খ) ২৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  3. গ) ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  4. ঘ) ৪৮০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা। ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর এক গোত্রের লোকেরা মধ্য ইতালির টাইবার নদীর তীরবর্তী পাহাড়ে বসতি গড়ে তুলেছিল। এদেরকে ‘ল্যাটিন’ বলা হত। ল্যাটিনদের এসব বসতি একত্র হয়ে একটি রাজ্য স্থাপিত হয়। তখন ঐ রাজ্যের রাজা ছিলেন রোমিউলাস। তার নামানুসারে রাজ্যের মূল নগরীর নামকরণ করা হয় ‘রোম’। গ্রিক সভ্যতার সমসাময়িক রোমান সভ্যতা হেলেনিক ও হেলেনিস্টিক সভ্যতার অনেক সংস্কৃতি গ্রহণ করেছিল। ঐতিহাসিকদের ধারণা, ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়। সূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭৪.
আর্য জাতিগোষ্ঠী খ্রিস্টপূর্ব কত অব্দে ভারতে আসে?
  1. ক) খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দ
  2. খ) খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দ
  3. গ) খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ
  4. ঘ) খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ
ব্যাখ্যা
- সিন্ধু সভ্যতার পতনের পর ভারতে আর্য বা বৈদিক সভ্যতা গড়ে উঠে। আর্যদের আদি নিবাস ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে কিরগিজস্তানে ছিলো বলে ধারনা করা হয়।
- এরা খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। তবে অনেকের মতে আর্যরা খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে ভারতে প্রবেশ করে।
- আর্যরা প্রথমে সিন্ধু তীরে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তীতে উত্তর ও পূর্ব ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলায় আর্যদের আগমন শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার অব্দ থেকে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭৫.
বিখ্যাত 'Social Contract' গ্রন্থটির লেখক কে ছিলেন?
  1. ক) কার্ল মার্কস
  2. খ) লেনিন
  3. গ) রুশো
  4. ঘ) মন্টেস্কু
সঠিক উত্তর:
গ) রুশো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রুশো
ব্যাখ্যা
রুশোর দৃষ্টিতে প্রতিবাদই ছিলো প্রথম প্রতিরোধ যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে যুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে।
- রুশোর লেখালেখি ফরাসি বিপ্লব-পূর্ব সময়ে মানুষকে প্রতিবাদের চেতনায় উদ্দীপ্ত করে। এ
- রুশো মনে করতেন মানুষ স্বাধীন সত্তা নিয়ে জন্ম গ্রহণ করেও চারপাশের নানা দায়িত্বও নিয়মের মধ্যে পড়ে পরাধীন হয়ে পড়ে। 
- তিনি সব জনগণের একনিষ্ঠ সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনিই প্রথম মতামত প্রদান করেন রাষ্ট্র যদি জনগণের কথা মতো পরিচালিত না হয় তবে সেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জনগণের অধিকার এমনকি নৈতিক দায়িত্বও বটে। 
- তিনি বিখ্যাত সোসিয়েল কন্টাক্ট (Social Contract) গ্রন্থে এই কথাই স্পষ্ট করে বলেছেন।

• বিশেষ করে ধর্মের নামে মঠ কেন্দ্রিক ব্যবসার পাশাপাশি শাসনতান্ত্রিক নানা অনিয়ম ও লাগামহীন স্বৈরতন্ত্রের ঘোর বিরোধী ছিলেন মন্টেস্কু।
- ‘দি পার্সিয়ান লেটার্স (The Persian Leters)' গ্রন্থে তিনি ঐ সময়ের সামাজিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে জ্ঞানগর্ভ সমালোচনা করে গেছেন।
- ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের দাবি নিয়ে তিনি রচনা করেন দি স্পিরিট অব ল'জ (The Sprit of Laws) আরেকটি বিখ্যাত বই। 

সূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ নামটি জড়িয়ে আছে। 'খন্দক' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) পরিখা
  2. খ) ধনুক
  3. গ) তলোয়ার
  4. ঘ) উট
সঠিক উত্তর:
ক) পরিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিখা
ব্যাখ্যা
খন্দকের যুদ্ধ:
- খন্দকের যুদ্ধ শাওয়াল মাসে সংঘটিত হয়।
- এ যুদ্ধ আহজাব নামেও পরিচিত। আহজাব অর্থ সম্মিলিত বাহিনী।
- ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম।
- ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। 
- এই যুদ্ধে মক্কার কুরাইশ, মদিনার ইহুদি, বেদুইন, পৌত্তলিকেরা সম্মিলিতভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছিল।

- খন্দক শব্দের অর্থ পরিখা বা গর্ত। যেহেতু এ যুদ্ধে অনেক পরিখা খনন করা হয়, তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে খন্দকের যুদ্ধ।
- ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
- আহজাব যুদ্ধে ৮ জন মুসলিম শহীদ হন। অন্যদিকে, শত্রুপক্ষে ৪ জন মারা যায়। অবরোধের সময় কেউ বলেছেন ২৪ দিন, অন্য বর্ণনায় ১৫ দিন পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো আর্কাইভ, ২৮ জুন ২০১৯।
৭৭.
হিব্রু সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে
  2. ইয়াংসিকিয়াং নদীর অববাহিকায়
  3. উত্তর ইসরায়েল ও লেবাননে
  4. মিসিসিপি নদী তীরে
সঠিক উত্তর:
ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে
ব্যাখ্যা
⇒ হিব্রু সভ্যতা হল বর্তমানের ফিলিস্তিন ও ইসরাইল অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা একটি প্রাচীন সভ্যতা।

হিব্রু সভ্যতা:
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien) থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদানই।
- হিব্রু জাতি খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দে তাদের আদি পুরুষ ইব্রাহিমের (আঃ) (আব্রাহাম) নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম মেসোপটেমিয়ায় একত্রে বসবাস শুরু করে।
- তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament) হিব্রু ধর্মের (ইহুদী জাতির) প্রধান ধর্মগ্রন্থ।
- হিব্রুদের প্রধান দেবতা ছিলেন জেহোভা।
- জেহোভাকে তারা আকার-বিশিষ্ট একেশ্বর বলে মনে করত।
- এ যুগে ইহুদীরা জরথুস্ত্র ধর্মের প্রভাবে আসে এবং আবার একেশ্বরবাদে আকৃষ্ট হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ক) অগাস্টাস সিজার
  2. খ) মার্ক এন্টনি
  3. গ) লেপিডাস
  4. ঘ) রোমিউলাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) রোমিউলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রোমিউলাস
ব্যাখ্যা
- রোমান সম্রাট রোমিউলাস রোম নগরীর পত্তন করেন। তার নাম অনুসারেই এই নগরীর নামকরণ করা হয় রোম।
- ৭৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয়।
- টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী সাতটি পর্বতের উপর অবস্থিত হওয়ায় একে সাত পাহাড়ের শহরও বলা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৯.
কোন শহরকে কেন্দ্র করে ‘হেলেনিক সংস্কৃতি' গড়ে উঠেছিল?
  1. ক) স্পার্টা
  2. খ) এথেন্স
  3. গ) রোম
  4. ঘ) আলেজান্দ্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) এথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এথেন্স
ব্যাখ্যা
গ্রিকসভ্যতার সঙ্গে দুইটি সংস্কৃতির নাম জড়িত। একটি ‘হেলেনিক’ অপরটি ‘হেলেনিস্টিক’।
- গ্রিক উপদ্বীপের প্রধান শহর এথেন্সকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘হেলেনিক সংস্কৃতি'।
- গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে মিশরের আলেজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক ও অ-গ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে জন্ম হয় নতুন এক সংস্কৃতির। ইতিহাসে এ সংস্কৃতি ‘হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি' নামে পরিচিত।
উৎসঃ ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮০.
আব্বাসীয় বংশের পতন ঘটে কখন?
  1. ১২৫৮খ্রি.
  2. ১২০০খ্রি.
  3. ১৫৩০খ্রি.
  4. ১৪২৬খ্রি.
সঠিক উত্তর:
১২৫৮খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২৫৮খ্রি.
ব্যাখ্যা
আব্বাসীয় শাসনামাল: 
- ইসলামের ইতিহাসের গৌরবদীপ্ত অধ্যায়ের সূচনা অংশ হচ্ছে আব্বাসীয় বংশের শাসন।
- উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর ৭৫০ খ্রি. আব্বাসীয় রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আব্বাসীয়দের সুদীর্ঘ পাঁচশ বছরের রাজত্বকাল ।
- উমাইয়া যুগ ছিল আরবদের একক আধিপত্যের যুগ।
- আব্বাসীয়রা আরব-অনারব সকল শ্রেণীর মুসলমানদের সমান অধিকার দান করেন।
- তাই আব্বাসীয় খিলাফত ছিল সর্বজনীন।
- আব্বাসীয় রাজবংশে মোট ৩৭ জন খলিফা শাসন পরিচালনা করেছেন।
- তাঁরা ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১.
নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. অ্যালপাইন
  2. অস্ট্রিক
  3. সেমাটিক
  4. মঙ্গোলীয়
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা
বাঙালি জাতির নরগোষ্ঠীগত পরিচয়:
- বাঙালির ইতিহাস (আদিপর্ব) গ্রন্থে নীহাররঞ্জন রায় উল্লেখ করেছেন, বাঙালির নৃগোষ্ঠী গঠনে আদি অস্ট্রেলীয় ও দ্রাবিড় প্রভাবের পাশাপাশি আর্যপ্রভাবও রয়েছে।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর আগমন ঘটে যারা রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় অনেক বহিরাগত রাজবংশ যেমন- সেন, বর্মণ, খড়গ ও চন্দ্র বাঙালির দৈহিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলেছে।
- এছাড়া তুর্কি, পাঠান, মোঘল, ইরানি, আবিসিনীয় ও আরবীয় রক্তের ধারাও বাঙালির ধমনিতে প্রবহমান।
- ষোড়শ শতাব্দীতে বহিরাগত ইংরেজ, পর্তুগীজ, ডাচ, ফরাসি, দিনেমার এবং আরাকানের মগ জলদস্যুদের প্রভাবও বাঙালির রক্তে বিদ্যমান।
- এসবের দীর্ঘ ও পর্যায়ক্রমিক সংমিশ্রনে বাংলাদেশে সংকর বা মিশ্র জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। 
- সংকর জাতি হওয়া সত্ত্বেও বাঙালির স্বকীয় দৈহিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
- বাঙালির লম্বা প্রকৃতির মাথা, কালো চুল, চোখের মণি বাদামি বা কালো, গায়ের রং কালো-বাদামি, মাঝারি দৈহিক উচ্চতা, মুখাকৃতি লম্বা, মধ্যমাকৃতির নাসিকা এবং মুখে দাড়ি-গোঁফের প্রাচুর্য স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের পরিচয় বহন করে।
- নৃতাত্ত্বিকদের মতে, এ বৈশিষ্ট্য অনেকটাই অস্ট্রিক প্রভাবিত।
- বাঙালির সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও অস্ট্রিক ভাষার প্রকট প্রভাব রয়েছে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
প্রাচীন রোমান সভ্যতার বিখ্যাত নাট্যশালার নাম কী ছিল? 
  1. প্যান্থিয়ন
  2. কলোসিয়াম
  3. সার্কাস ম্যাক্সিমাস
  4. অ্যাক্রোপলিস
সঠিক উত্তর:
কলোসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলোসিয়াম
ব্যাখ্যা

- রোমানদের বিখ্যাত নাট্যশালা ‘কলোসিয়াম’।

• রোমান সভ্যতা (Roman Civilization): 
- ইতালির টাইবার নদীর তীরে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- রোমানদের মতে, রোমিউলাস ও রেমাস নামে দুই ভাই এই রোম নগরীর পত্তন করেছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০৯ অব্দে রোমে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এখানে 'সিনেট' নামক শক্তিশালী পরিষদ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত।

• আইন ও শাসনব্যবস্থা:
- রোমানদের শ্রেষ্ঠ অবদান ছিল তাদের আইনব্যবস্থা।
- 'বারোটি ব্রোঞ্জ পাতের আইন' (Twelve Tables) ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিশ্বের প্রথম লিখিত আইনের অন্যতম।

• রোমানরা সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। উত্তর আফ্রিকার কার্থেজের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ 'পিউনিক যুদ্ধ' নামে পরিচিত, যার ফলে রোম সমগ্র ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে।
- জুলিয়াস সিজার রোমের একচ্ছত্র অধিপতি হয়েছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর অগাস্টাস সিজার রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং রোমে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি (Pax Romana) প্রতিষ্ঠা করেন।

- রোমানদের বিখ্যাত নাট্যশালা ‘কলোসিয়াম’ (Colosseum).

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন কোন সভ্যতার বিজ্ঞানীরা?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. চীন সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ্রিক সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
 
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস। রোমানরা পরবর্তিকালে এর নামকরণ করে গ্রিস।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত। 
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন। 
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪.
কোন যুগে গ্রীসে উন্নত গণতান্ত্রিক নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে?
  1. তাম্র যুগ
  2. ব্রোঞ্জ যুগ
  3. লৌহযুগ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
লৌহযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহযুগ
ব্যাখ্যা
লৌহযুগ:
- আধুনিক সভ্যতা মূলত লৌহের ওপর নির্ভরশীল।
- আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি লোহা।
- এশিয়া মাইনরে হিট্রাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়। এ
- গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রশক্তির প্রয়োগ আরও সহজ হয়।
- ফলে শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।
- লৌহযুগে গ্রীসে এক উন্নত গণতান্ত্রিক নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।

উল্লেখ্য,
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ব্রোঞ্জযুগের একচেটিয়া অধিকার ও কর্তৃত্ব হ্রাস পেয়েছিল।
- ব্রোঞ্জ ছিল দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান ধাতু, ব্রোঞ্জের তুলনায় লোহা মজবুত ও দামে সস্তা।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
মায়া সভ্যতায় মায়ানরা মোট কয়টি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতাকে বলা হয় রহস্যময় সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতার অবস্থান ছিল মধ্য আমেরিকায়।
- মেক্সিকো, বেলিজ, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের রেইনফরেস্টের মধ্যে এটি অবস্থিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের প্রথম দিকে মায়ারা গ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল।
- প্রধান শহরগুলির মধ্যে ছিল টিকাল , উয়াক্সাক্টুন , কোপান , বোনাম্পাক , ডস পিলাস , ক্যালাকমুল , প্যালেনকে , এবং রিও বেক। 
- শহরগুলোর ধ্বংসাবশেষ, জটিল হায়ারোগ্লিফিক লিপি আর চিরায়ত রহস্যের মধ্যে আটকা পড়েছে এ সভ্যতার গল্প। 
- প্রায় ৬০০ বছর ধরে মায়ার লোকেরা ঐশ্বর্যময় সভ্যতা নিয়ে টিকে ছিল।

উল্লেখ্য,
- মায়া সভ্যতা তিনটি প্রধান ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• যোলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার, ২০টি নামযুক্ত দিন এবং ১৩টি সংখ্যার সমন্বয়ে গঠিত।
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার, ১৮টি ২০ দিনের মাস এবং ৫ দিনের একটি অতিরিক্ত মাস (ওয়ায়েব) নিয়ে গঠিত।
• লং কাউন্ট (Long Count): দীর্ঘ সময়ের হিসাবের জন্য ব্যবহৃত, যা ৩১১৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে দিন গণনা করে।

⇒ এছাড়া, এই ক্যালেন্ডারগুলো একত্রে ক্যালেন্ডার রাউন্ড নামে ৫২ বছরের একটি চক্র তৈরি করে। সুতরাং, মায়ারা মোট তিনটি প্রধান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত।

উৎস: i) Britannica.
ii) The Daily Star Bangla.

৮৬.
দ্যা পলিটিক্স গ্রন্থের লেখক কে?
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. অশোক
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
এরিস্টটল:
-  তিনি ছিলেন একজন প্রচীন গ্রিক দার্শনিক ।
- এরিস্টটলের মতে আভিজ্ঞতাই জ্ঞানের উৎস।
-অ্যারিস্টটলের জন্ম উত্তর মেসিডোনিয়ার ক্যালসিডিক উপদ্বীপে।
- তাকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
 - এরিস্টটলের শিক্ষক ছিলেন- প্লটো।
- তার বিখ্যাত গ্রন্থ - দ্যা পলিটিক্স।
- লাইসিয়াম তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম।

উৎস
: britannica. ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭.
হাম্মুরাবী কে ছিলেন?
  1. চিকিৎসক
  2. ধর্ম প্রচারক
  3. আইন প্রণেতা
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণেতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন প্রণেতা
ব্যাখ্যা
রাজা হাম্মুরাবী ও ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য:
- রাজা হাম্মুরাবী ছিলেন এ্যামোরাইট জাতির বিখ্যাত নেতা।
- তাঁর আমলে ব্যবিলন নতুন সভ্যতায় উদ্ভাসিত হয়।
- ইউফ্রেটিস উপত্যকায় ব্যবিলনে তিনি কেন্দ্রীয় রাজ্য স্থাপন করেন এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে এক বিশাল শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তোলেন।
- তিনি ছিলেন আইন প্রণেতা।

⇒ হাম্মুরাবী আইন (Code of Hammurabi):
- রাজা হাম্মুরাবী স্বীয় সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষার্থে প্রচলিত স্থানীয় নীতি ও আইন কানুন সংস্কার করে একটি সর্বজনস্বীকৃত বিধিবদ্ধ আইন তৈরী করেন।
- ইতিহাসে তা হাম্মুরাবীর আইন (Code of Hammurabi) বলে খ্যাত।
- তবে হাম্মুরাবীর প্রণীত আইন সুমেরীয় রাজা ডুঙির আইন দ্বারা অনেকাংশে প্রভাবান্বিত।
- প্রস্তুর স্তম্ভে বিধান মালা খোদিত করে রাজা বিভিন্ন মন্দিরে স্থাপন করে রাখেন।
- বর্তমানে ফ্রান্সের প্যারিস যাদুঘরে (ল্যুভ জাদুঘর) সংরক্ষিত এই স্তম্ভে সর্বমোট ২৮২টি বিধি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- রাজনৈতিক অপরাধ, পারিবারিক, বিবাহ, ক্রয় বিক্রয়ের নিয়মাবলী, ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদি- এই আইনের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- সর্বজন স্বীকৃত বিস্তারিত আইন কানুন হাম্মুরাবীর পূর্বে কোন রাজা প্রণয়ন করেননি।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮.
কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিল?
  1. ক) চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব
  2. খ) ভারতের স্বাধীনতা
  3. গ) রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব
  4. ঘ) ফরাসি বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসি বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফরাসি বিপ্লব
ব্যাখ্যা

- ১৫ জুলাই ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯১৭ সালে।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয় ১৯৬৬ সালে।
- ভারত স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৭ সালে।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪৫ সালে।

৮৯.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) এস্টার ম্যাকভে
  2. খ) ররি স্টুওয়ার্ট
  3. গ) নেভিলি চেম্বারলেইন
  4. ঘ) ম্যাট হ্যানকক
সঠিক উত্তর:
গ) নেভিলি চেম্বারলেইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নেভিলি চেম্বারলেইন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় যুদ্ধকালীন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান:
▪ যুক্তরাষ্ট্র - ফ্রাঙ্কলিন ডি.রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান (প্রেসিডেন্ট)
▪ সোভিয়েত ইউনিয়ন - জোসেফ স্ট্যালিন (প্রেসিডেন্ট/নেতা)
▪ যুক্তরাজ্য - উইনস্টন চার্চিল ও নেভিলি চেম্বারলেইন (প্রধানমন্ত্রী)
▪ ফ্রান্স - চার্লস ডি গল (প্রবাসী সরকারের প্রধান)
▪ জার্মানি - এডলফ হিটলার (চ্যান্সেলর/ফুয়েরার)
▪ জাপান - হিরোহিতো (সম্রাট)
▪ ইতালি - বেনিতো মুসোলিনী ও পিয়েত্রো বাডুগোল্লি (প্রধানমন্ত্রী)।

তথ্যসূত্র:- হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা। 
৯০.
মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড -
  1. ক) জোসারের পিরামিড
  2. খ) মেনকাউড়ের পিরামিড
  3. গ) ফারাও খুফুর পিরামিড
  4. ঘ) খাফ্রের পিরামিড
সঠিক উত্তর:
গ) ফারাও খুফুর পিরামিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারাও খুফুর পিরামিড
ব্যাখ্যা
মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিডটি হচ্ছে - ফারাও খুফুর পিরামিড।

• মিশরীয় সভ্যতা:

সভ্যতায় মিশরীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
যেমন: 
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।

- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখ- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতেরও প্রচলন করে।
- মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারক মিশরীয়রা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।

- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল।
- চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল। তারা চোখ, দাঁত, পেটের রোগ নির্ণয় করতে জানত।
- অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করার বিদ্যাও তাদের জানা ছিল।
- তারা হাড় জোড়া লাগানো, হৃৎপিন্ডের গতি এবং নাড়ির স্পন্দন নির্ণয় করতে পারত।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।

- মিশরীয়দের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গির্জার - অতুলনীয় স্ফিংকস। স্ফিংকস হচ্ছে এমন একটি মূর্তি, যার দেহটা সিংহের মতো, কিন্তু মুখ মানুষের।
- মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিডটি হচ্ছে - ফারাও খুফুর পিরামিড।
- তাদের প্রিয় রং ছিল - সাদাকালো। 

- মিশরের নীল নদের উৎপত্তি-  আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে।
- ‘মিশর নীল নদের দান’ বলেছেন - ইতিহাসের জনক ‘হেরোডোটাস’।
-  নিজেদেরকে সূর্য দেবতার বংশধর মনে করতেন - মিশরীয়রা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১.
‘কলোসিয়াম’ কোন সভ্যতায় গড়ে ওঠে?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা

কলোসিয়াম:
- কলোসিয়াম প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গড়ে ওঠে। 

⇒ কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন। পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- কলোসিয়ামটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই এবং অন্যান্য জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোর জন্য ব্যবহৃত হতো। 
- এর প্রাথমিক নাম ছিল ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফিথিয়েটার। 
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২.
মিশরীয় সভ্যতার চিত্রলিপিকে কী বলা হয়?
  1. ক্যালিওগ্লিফিক্স
  2. হায়ারোগ্লিফিক
  3. প্যাপিরাস
  4. ওডিসি
সঠিক উত্তর:
হায়ারোগ্লিফিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হায়ারোগ্লিফিক
ব্যাখ্যা
হায়ারোগ্লিফিক লিপি:
- নগরসভ্যতা গড়ে তোলার সাথে মিশরীয়রা প্রথম লিখন ও লিপি পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল হায়ারোগ্লিফিক (Hieroglyphic) বা চিত্র লিখন পদ্ধতি।
- এটি গ্রীকদের দেয়া নাম যার অর্থ দাঁড়ায় 'পবিত্র লিপি'।
- তারা এমনি ২৪টি ব্যঞ্জনধ্বনি বা চিহ্ন আবিষ্কার করে।
- তারা প্যাপিরাসের পাতায় লিখত, ক্রীট, ফিনিশিয়া, লিভিয়া সভ্যতা এ লিপির ব্যবহার করে।
- অনেক ভাষাবিদের মতে, ফারাও রাজা মেনেসের রাজত্বকালে এই লিপির সূচনা হয়।

উৎস: i)  Britannica.
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
'বারো বিধি' কোন সভ্যতার আইনের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত?
  1. রােমান সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
রােমান সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রােমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
বারো বিধি:
- খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে সর্বপ্রথম লিখিত রোমান আইন প্রচলিত হয়।
- ইতিহাসের পাতায় 'Twelve Tables বা বারো বিধি' নামে পরিচিত সেই আইনের মাধ্যমে রোমে এক নতুন যুগের সূচনা হয়।
- প্রায় বারটি ধাপে রোমের সকল নাগরিকের অধিকারের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রণীত সেই বারো টেবিল আইনটি আজও ইতিহাসবিদগণের নিকট এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।

⇒ গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- এ সময় একটি সভা ও সিনেট ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।
- রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪.
'চাকা' আবিষ্কারের সাথে কোন সভ্যতার নাম জড়িত? 
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- চাকা আবিষ্কারের সঙ্গে সুমেরীয় সভ্যতা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

সুমেরীয় সভ্যতা: 
- চাকা আবিষ্কার প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলের সুমেরীয় সভ্যতার নিদর্শন।
- এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে, বর্তমানে এটি ইরাকের অংশ।
- প্রায় ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সুমেরীয়দের হাতে চাকার প্রাথমিক ব্যবহার দেখা যায়।
- তারা প্রথমে পাথরের চাকা তৈরি করলেও পরে তা কাঠ ও ধাতুর মাধ্যমে উন্নত করে।
- এই আবিষ্কারের ফলে পরিবহন ও চাষাবাদ অনেক বেশি কার্যকর হয়।

এছাড়াও, 
- সুমেরীয়দের পরবর্তী বিখ্যাত শাসক ছিলেন সম্রাট 'ডুঙি'।
- সম্রাট ডুঙির নেতৃত্বে সুমেরীয়গণ খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ অব্দে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
- ডুঙি সুমের জাতির জন্য সর্বপ্রথম একটি বিধিবদ্ধ আইন (Code) প্রচলন করেন। 
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাত' নামক ধর্মমন্দির।

সূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫.
কোন দেশকে কেন্দ্র করে ইনকা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
  1. চিলি
  2. বলিভিয়া
  3. পেরু
  4. ব্রাজিল
সঠিক উত্তর:
পেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরু
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল ইনকা সভ্যতা।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৯৬.
উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা কোনটি?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. বৈদিক সভ্যতা
  3. বিষ্ণু সভ্যতা
  4. গাঙ্গেয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা হলেও এর বিস্তৃতি ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭.
সভ্যতার ইতিহাসে কারা শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) ক্যালডীয়রা
  2. খ) গ্রিকরা
  3. গ) ফিনিশিয়রা
  4. ঘ) ব্যাবিলনীয়রা
সঠিক উত্তর:
গ) ফিনিশিয়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফিনিশিয়রা
ব্যাখ্যা
খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩ হাজার বছর পূর্বে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী লেবানন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠে।
সাগর তীরবর্তী হওয়ায় ফিনিশীয়রা নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে খুবই প্রসিদ্ধ ছিলো।
তাদের মূল পেশাও ছিলো নৌবাণিজ্য। টায়ার ও সিডন ফিনিশিয়ার দুটো বিখ্যাত বন্দর।
ফিনিশীয়রা ২২টি ব্যাঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালা উদ্ভাবন করে যা থেকে আধুনিক বর্ণমালার উদ্ভব হয়।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৯৮.
নব্যপ্রস্তর যুগ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. চাকার আবিষ্কৃত হয়
  2. মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করে
  3. মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নব্যপ্রস্তর যুগ:
- আদি মানব এক সময় নতুন পাথরের যুগে প্রবেশ করে।
- এ সময় তৈরি পাথরের অস্ত্র অনেক বেশি উন্নত ছিল।
- এ যুগে মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল।
- কৃষি আর পশু পালন ছিল মানুষের প্রধান পেশা।
- এরই পাশাপাশি মাটির রকমারি বাসন-কোসন তৈরি করতে শিখল।
- নব্য প্রস্তরযুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কীর্তি হল চাকার আবিষ্কার।
- কৃত্রিম পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত্ব এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নব্য প্রস্তর যুগের অর্জন।
- নব্য প্রস্তরযুগের শেষপর্যায়ে এসে সীমিত আকারে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- নতুন পাথরের যুগের মানুষ কাপড় বুনতে পারতো।
- শিকারি জীবনের অবসান হওয়ায় এ যুগের মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করে।
- মানুষ স্থায়ী বসবাস গড়ার কারণেই ধীরে ধীরে গ্রামের বিকাশ ঘটলো।
- নতুন পাথরের যুগের সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল সিন্ধু নদীর উপত্যকা এবং বেলুচিস্তান।
- দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায় উন্নত ধরনের পাথরের কুঠার।
- এ যুগে মৃতদেহকে কবর দেয়া হতো।
- কবরের উপরে তৈরি করা হতো সমাধি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
মিশরীয়দের নিকট নীলনদের দেবতা কী নামে পরিচিত ছিলো?
  1. ক) অ্যাপোলো
  2. খ) শামাশ
  3. গ) ওসিরিস
  4. ঘ) আমন রে
সঠিক উত্তর:
গ) ওসিরিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওসিরিস
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতায় ধর্মের ব্যাপক প্রভাব বিদ্যমান ছিলো। তবে বিভিন্ন সময়ে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিবর্তন ও সংস্কার সাধিত হয়েছে। শুরুতে তারা বহু দেবদেবীতে বিশ্বাসী ছিলো। তাদের ‍সূর্য দেবতার নাম ছিলো রে বা আমন রে এবং নীলনদ ও শস্য দেবতার নাম ছিলো ওসিরিস। অন্যদিকে অ্যাপোলো ও শামাশ ছিলো যথাক্রমে গ্রিক ও সুমেরীয়দের সূর্য দেবতা।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং মাধ্যমিক ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১০০.
সাংবিধানিকভাবে কত সালে যুক্তরাষ্ট্রে দাস প্রথা বিলুপ্ত হয়?
  1. ক) ১৮৬২
  2. খ) ১৮৬৩
  3. গ) ১৮৬৫
  4. ঘ) ১৮৬৬
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮৬৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮৬৫
ব্যাখ্যা
- ১৮৬২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ১৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দাসপ্রথা বিলুপ্তির ঘোষণা দেন।
- এ লক্ষে ১ জানুয়ারি ১৮৬৩ তিনি Emancipation Proclamation এ স্বাক্ষর করেন।
- পরবর্তীতে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী কার্যকরের মাধ্যমে ১৮৬৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সাংবিধানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাস প্রথা নিষিদ্ধ হয়।
(তথ্যসূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)