বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন৬৬০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / · ৫০১৬০০ / ৬৬০

৫০১.
তেলাপিয়া মাছ কোন দেশ থেকে আনা হয়েছে?
  1. মালয়েশিয়া
  2. থাইল্যান্ড
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. শ্রীলংকা
সঠিক উত্তর:
থাইল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
তেলাপিয়া:
- থাইল্যান্ড থেকে তেলাপিয়া মাছ বাংলাদেশে আনা হয়েছে।
- তেলাপিয়া বেশ খাটো এবং তুলনামূলকভাবে চওড়া আকৃতির।
- দেহ চ্যাপটা এবং রং ধূসর-নীলাভ।
- এরা দ্রুত বর্ধনশীল ও খেতে সুস্বাদু।
- এদের সাধারণত পুকুরে এককভাবে চাষ করা হয়।
- এরা ৩৪ মাসেই খাবার উপযোগী হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০২.
বাংলাদেশের সরকারি বীজ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. লাল তীর সীড
  2. বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
  3. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
  4. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
BADC (Bangladesh Agricultural Development Corporation):
- বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (BADC) কৃষি খাতে উন্নয়ন ও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বীজ, সার এবং অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের জন্য কাজ করে।
- এটি বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি সংস্থা।
- BADC প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন নামে।
- স্বাধীনতার পর এটি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন নামে আত্মপ্রকাশ করে।
- এর সদর দপ্তর ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

প্রধান কার্যাবলী:
- সেচ সুবিধা প্রদান: সেচ কাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ।
- বীজ উৎপাদন ও বিতরণ: উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন ও কৃষকদের মাঝে বিতরণ।
- সার সরবরাহ: কৃষি জমিতে প্রয়োজনীয় সার বিতরণ।
- কৃষি প্রযুক্তি প্রসার: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রচার ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
৫০৩.
ধান চাষে ব্যবহৃত পর্যায়ক্রমিক ভেজানো ও শুকানো (AWD) কীসের পদ্ধতি?
  1. সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি
  2. ফসল শুকানোর পদ্ধতি
  3. প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি
  4. প্রচলিত সেচ পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাশ্রয়ী সেচ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
প্রচলিত ও আধুনিক সেচ পদ্ধতি: 
- ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য।
- দেশের মোট জমির প্রায় ৭৫ শতাংশ জমিতে ধান চাষ হয়।
- বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- আর এ মৌসুম বৃষ্টিহীন থাকায় সবচেয়ে বেশি পানি সেচের প্রয়োজন হয়।
- প্রচলিত সেচ পদ্ধতিতে ধানের জমিতে ১০-১৫ সে.মি. দাঁড়ানো পানি রাখা হয়।
- এ ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে ৩০০০-৫০০০ লিটার পানির প্রয়োজন হয় যা প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।
- বর্তমানে ধান চাষে পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হিসেবে পর্যায়ক্রমিক ভেজানো ও শুকানো (Alternate Wetting and Drying) সেচ পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে।
- এ পদ্ধতিতে সব সময় জমিতে দাঁড়ানো পানির প্রয়োজন নেই।
- জমিতে একটি পর্যবেক্ষণ নল স্থাপন করে সেচের সময় নির্ধারণ করা হয়।
- এ পদ্ধতিতে পানি, জ্বালানি, ও শ্রমিক খরচ সাশ্রয় হয়।
- ৩০-৩৭ ভাগ সেচের পানি কম লাগে, ২৯ ভাগ ডিজেল কম লাগে এবং ধানের ফলন ১২ ভাগ বেশি হয়।
- সর্বোপরি এটি একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০৪.
মাঠ ফসলের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. দানা জাতীয় ফসল
  2. তেল জাতীয় ফসল
  3. শাকসবজি জাতীয় ফসল
  4. পানীয় জাতীয় ফসল
সঠিক উত্তর:
শাকসবজি জাতীয় ফসল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাকসবজি জাতীয় ফসল
ব্যাখ্যা
চাষের উপর ভিত্তি করে ফসলকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয় যথা: মাঠ ফসল ও উদ্যান ফসল।
(i) মাঠ ফসল:
- মাঠ ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, গম, ভুট্টা, পাট, তুলা ইত্যাদি।
- ধান, গম, ভুট্টা হলো দানা জাতীয় ফসল। 
- মসুর, মাষকলাই, মুগ ইত্যাদি ডাল জাতীয় ফসল আমিষ সরবরাহ করে।
- তেল জাতীয় ফসলের মধ্যে রয়েছে তিল, সরিষা, তিষি, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 
- পাট হচ্ছে আঁশ জাতীয় ফসল। 
- পানীয় জাতীয় ফসল হচ্ছে চা, কফি।

(ii) উদ্যান ফসল:
- সারা বছরই কৃষকেরা উদ্যান ফসল উৎপাদন করেন।
- উদ্যান ফসলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, ফুল, মসলা ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০৫.
রাফেজ জাতীয় খাদ্যে কোনটি প্রচুর পরিমাণে থাকে?
  1. দানাশস্য
  2. তৈল
  3. খনিজ লবণ
  4. আঁশ
সঠিক উত্তর:
আঁশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁশ
ব্যাখ্যা
গবাদিপশুর খাদ্যদ্রব্যের প্রকারভেদ:
গবাদিপশু, বিশেষ করে গাভীর খাদ্যদ্রব্যগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:-
১. আঁশজাতীয় খাদ্য (Roughage)
২. দানাদার খাদ্য (Concentrates)
৩. ফিড অ্যাডিটিভস (Feed Additives)

আঁশজাতীয় খাদ্য বা রাফেজ:
- আঁশজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে আঁশ (Fiber) ও কম পরিমাণে শক্তি (Energy) থাকে।
- যেমন- বিভিন্ন ধরনের খড়, সবুজ ঘাস, শুকনো ঘাস বা হে, সাইলেজ ইত্যাদি।
- আঁশসমৃদ্ধ ঘাস গবাদিপশু চারণভূমি থেকে খেতে পারে অথবা খামারি/কৃষক মাঠ বা চাষকৃত জমি থেকে ঘাস কেটে গবাদিপশুকে সরবরাহ করতে পারে।
- লিগিউম বা ডালজাতীয় উদ্ভিদে যেমন:- কলাই, খেসারি, কাউপি, ইপিল-ইপিল, আলফা-আলফা ইত্যাদিতে সাধারণ ঘাসের তুলনায় অধিক পরিমাণে, আমিষ (Protein), শক্তি, খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন (Vitamin) ও খণিজপদার্থ (Minerals) থাকে।
- সাধারণ ঘাসের মধ্যে ভুট্টা, নেপিয়ার, জার্মান, প্যারা প্রভৃতি ঘাস উল্লেখযোগ্য।
- অন্যান্য ঘাসের তুলানায় এসব ঘাসের ফলন প্রতি উৎপাদন অনেক বেশি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৬.
মাটির অজৈব বা খনিজ পদার্থ সৃষ্টি হয়েছে কী থেকে?
  1. ম্যাগমা
  2. আদি শিলা
  3. পানি
  4. হিউমাস
সঠিক উত্তর:
আদি শিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি শিলা
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্ঠ প্রকৃতপক্ষে শিলা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- প্রাকৃতিক শক্তি তথা তাপ, চাপ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, পানিপ্রবাহ ইত্যাদির প্রভাবে সময়ের ব্যবধানে আদি শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটির অজৈব বা খনিজ পদার্থ সৃষ্টি করেছে।
- নুড়িপাথর, বালিকণা, পলিকণা ও কর্দমকণা হচ্ছে মাটির খনিজ পদার্থ।
- এসব খনিজ পদার্থ নানাভাবে মিশে মাটির বুনট সৃষ্টি হয়েছে।
- মাটিতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ আয়তন ভিত্তিতে শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ অর্থাৎ মাটির সর্ববৃহৎ অংশ জুড়ে আছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০৭.
বাংলাদেশে কৃষি ঋতু কতটি?
  1. ৬টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
কৃষি মৌসুম:
- বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ হলেও কৃষি ঋতু তিনটি।
- যথা: রবি (শীতকাল), খরিপ-১ (গ্রীষ্মকাল) ও খরিপ-২ (বর্ষাকাল)।
- ঋতু ভেদে ফসল উৎপাদনে ভিন্নতা দেখা যায়।
- যেমন- শীতকালে শাক সবজি ও গ্রীষ্মকালে ফলমূলের উৎপাদন বেশি হয়।
- বিশেষ করে জৈষ্ঠ্য মাসে দেশীয় নানা সুমিষ্ট ফলমূলের সমাহার বেশি থাকে বলে একে মধু মাসও বলা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০৮.
নিচের কোন উদ্ভিদ ছায়া পছন্দ করে?
  1. কফি
  2. ভুট্টা
  3. চা
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
- এ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন।
- সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সমন্বয়ে পাতায় খাদ্য তৈরি হয়।
- সূর্যালোকের প্রয়োজন অনুসারে উদ্ভিদকে প্রধানত দুই ভাগ করা হয়; যথা-
ক) আলো পছন্দকারী উদ্ভিদ ও
খ) ছায়া পছন্দকারী উদ্ভিদ।
- ভুট্টা, আখ পূর্ণ সূর্যালোকে ভালো জন্মে আবার চা, কফি ছায়া পছন্দ করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫০৯.
পাস্তুরাইজেশন বলতে নিচের কোনটিকে বুঝানো হয়?
  1. কম নির্দিষ্ট তাপে কয়েক মিনিট খাদ্য উত্তপ্ত করে দ্রুত ঠান্ডা করা
  2. ১০০° সে. তাপে খাবার সিদ্ধ করে জীবাণুমুক্ত করা
  3. ১৩৫°C-এর উপরে কয়েক সেকেন্ড গরম করা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কম নির্দিষ্ট তাপে কয়েক মিনিট খাদ্য উত্তপ্ত করে দ্রুত ঠান্ডা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম নির্দিষ্ট তাপে কয়েক মিনিট খাদ্য উত্তপ্ত করে দ্রুত ঠান্ডা করা
ব্যাখ্যা
পাস্তুরাইজেশন:
- খাদ্যকে ১০০° সে. থেকে অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় ১০০° সে. অথবা অপেক্ষাকৃত কম নির্দিষ্ট তাপে নির্দিষ্ট সময়ে (কয়েক মিনিট) খাদ্য উত্তপ্ত করার পর দ্রুত তাপ নামিয়ে আনা এবং ঠান্ডা তাপে সংরক্ষণ করা হয়।
- ফলজাত দ্রব্য, দুধ ইত্যাদি পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।
- পাস্তুরিকৃত দুধ ঠন্ডায় রাখলে অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
- পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতিতে খাদ্যবস্তুকে একটি নির্দিষ্ট উষ্ণতায় (১০০° সে. তাপে সিদ্ধ) কিছুক্ষণের জন্য রেখে জীবাণু ধ্বংস করা হয়।

পাস্তুরাইজেশনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো:
ক. খাদ্যের মধ্যে অবস্থিত রোগজীবাণু ধ্বংস করা ও
খ. দুধের অধিকাংশ ল্যাকটিক এসিড উৎপাদনকারী জীবাণু ধ্বংস করা।

স্ফুটন:
- এতে ভাত, ডাল, দুধ, মাছ, মাংস ১০০° সে. তাপে সিদ্ধ করার ফলে খাবার জীবাণুমুক্ত হয়।
- পচনশীল খাদ্য ফুটিয়ে ১২-২০ ঘণ্টা পর্যন্ত রাখা যায়, যদি ফুটড় খাবার পরিষ্কার পাত্রে ঢেকে ঠান্ডা স্থানে রাখা যায়।
- শীতপ্রধান দেশে খাদ্য ফুটিয়ে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় রাখা যায়। 
- গরম অঞ্চলে একই তাপমাত্রায় ফুটিয়ে ২৪ ঘণ্টা রাখা সম্ভব হয় না।

UHT: আল্ট্রা হাই টেম্পারেচার প্রসেসিং বা আল্ট্রা-হিট ট্রিটমেন্ট বা আল্ট্রা-পাস্তুরাইজেশন
- একটি তরলকে জীবাণুমুক্ত করার জন্য ১৩৫°C (২৭৫°F) এর উপরে তাপমাত্রায় অল্প কয়েক সেকেন্ড গরম করে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
Science Direct
৫১০.
নিচের কোনটি বৃষ্টিপাতজনিত ভূমিক্ষয়?
  1. আস্তরণ ভূমিক্ষয়
  2. রিল ভূমিক্ষয়
  3. নালা বা গালি ভূমিক্ষয়
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়ের শ্রেণিবিভাগ:
- ভূমিক্ষয়কে প্রধানত দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
ক. বৃষ্টিপাতজনিত ভূমিক্ষয় এবং
খ. বায়ুপ্রবাহজনিত ভূমিক্ষয়।

ক. বৃষ্টিপাতজনিত ভূমিক্ষয়: বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশে ব্যাপক ভূমিক্ষয় হয়। এই ভূমিক্ষয়কে নিচের চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়;
i) আস্তরণ ভূমিক্ষয়
ii) রিল ভূমিক্ষয়
iii) নালা বা গালি ভূমিক্ষয়
iv) নদী ভাঙন।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১১.
আদর্শ মাটিতে বায়ুর পরিমাণ কত?
  1. শতকরা প্রায় ৫ ভাগ
  2. শতকরা প্রায় ১৫ ভাগ
  3. শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ
  4. শতকরা প্রায় ৪৫ ভাগ
সঠিক উত্তর:
শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
বায়ু:
- বায়ু মাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে বায়ু থাকে।
- উদ্ভিদের শিকড় ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীবের কর্মতৎপরতার জন্য যে অক্সিজেনের প্রয়োজন, তা মাটিতে অবস্থানরত বায়ু সরবরাহ করে।
- আদর্শ মাটিতে বায়ুর পরিমাণ হলো শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১২.
পুকুরের পানি বেশি সবুজ হলে কি দেওয়া বন্ধ করতে হবে?
  1. সার
  2. চুন
  3. ফিস মিল
  4. গমের ভুষি
সঠিক উত্তর:
সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার
ব্যাখ্যা
মাছ চাষের ব্যবস্থাপনা: 
- পুকুরের তলদেশে কাদা থাকলে ক্ষতিকর গ্যাস জমে থাকতে পারে।
- দড়ির সাথে লোহা বা মাটির কাঠি কিংবা ইট বেঁধে হররা তৈরি করে পুকুরের তল ঘেষে আস্তে আস্তে টেনে তলার গ্যাস বের করে দিতে হবে।
- প্রতি মাসে একবার কিছু মাছ ধরে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
- নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
- পুকুরের পানি কমে গেলে পানি সরবরাহ করতে হবে।
- পানি বেশি সবুজ হয়ে গেলে সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৩.
'এগ্রোসান' কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. পুষ্টি সরবরাহ
  2. বীজ শোধন
  3. পোকা দমন
  4. হরমোন হিসেবে
সঠিক উত্তর:
বীজ শোধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজ শোধন
ব্যাখ্যা
বীজ শোধন: 
- ধানের বীজে যাতে রোগজীবাণু না থাকে সেজন্য ওষুধ দ্বারা শোধন করে নিতে হয়।
- প্রতি কেজি ধান বীজ ৩০ গ্রাম এগ্রোসান জি এন বা ২০ গ্রাম এগ্রোসান এম ৪ বা অন্য কোন অনুমোদিত মাত্রার ওষুধ দ্বারা বীজ শোধন করতে হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৪.
ভ্রূণমূল (radicle) থেকে কী উৎপন্ন হয়?
  1. শিকড়
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. বিটপ
সঠিক উত্তর:
শিকড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিকড়
ব্যাখ্যা
ভ্রূণ (Embryo):
- বীজত্বক দ্বারা আবৃত সুপ্ত উদ্ভিদকে ভ্রূণ বলে। 
- ভ্রূণের দুইটি অংশ যথাঃ ভ্রূণাক্ষ বা টাইজেলাম (Tigellum) ও বীজপত্র (Cotyledon)।
- ভ্রূণাক্ষের দুইটি অংশ যেমন: ভ্রূণমূল (Radicle) যা থেকে বীজ গজানোর পর শিকড় হয় এবং ভ্রূণকান্ড/ভ্রূণমুকুল (Plumule) যা থেকে কান্ড উৎপন্ন হয়।

উৎস: Seed and Seed Technology, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৫.
টমেটোর অনুমোদিত জাত কোনটি?
  1. রতন
  2. সুন্দরী
  3. প্রতিভা
  4. বাংলামতি
সঠিক উত্তর:
রতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রতন
ব্যাখ্যা
টমেটোর জাত:
- বাংলাদেশে টমেটোর অনেক অনুমোদিত জাত রয়েছে।
- শীতকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে বারি টমেটো-২ (রতন), বারি টমেটো-৯ (লালিমা), বারি টমেটো-১০ (অনুপমা), বিনা টমেটো-৩ ।
- বিদেশ থেকে আমদানি করা জাত মারগ্লোব, রুমা ভিএফ, অক্সহার্ট ইত্যাদি।
- গ্রীষ্মকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে-বারি টমেটো-৪, বারি টমেটো-৫, বারি টমেটো-৯ (লালিমা), বারি টমেটো-১০ (অনুপমা), বারি টমেটো-১১ (ঝুমকা), বারি হাইব্রিড টমেটো-৩, বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১৬.
ইনকিউবেটরে নিচের কোনটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
  1. আর্দ্রতা
  2. বায়ু প্রবাহ
  3. তাপমাত্রা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
ইনকিউবেটর যন্ত্র দ্বারা ডিম ফোটানো পদ্ধতি:
- প্রাকৃতিক ও ইনকিউবেটর যন্ত্র দ্বারা ডিম ফোটাতে একই সময়ের প্রয়োজন হয়।
- এই পদ্ধতির সুবিধা হলো একসাথে অনেক সংখ্যক ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করা যায়।
- এই পদ্ধতিতে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর সময় রোগ নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ বাচ্চা উৎপাদন করা যায়।
- এই পদ্ধতিতে মুরগিগুলো ডিমে তা না দেওয়ার কারণে ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
- তাই বাণিজ্যিকভাবে এই পদ্ধতি খামারিদের নিকট খুব জনপ্রিয়।
- ইনকিউবেটর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র।
- এতে শত থেকে লক্ষাধিক ডিম ফোটানো যায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫১৭.
কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে কোন বীজ উৎপন্ন হয়?
  1. প্রজনন বীজ
  2. ভিত্তি বীজ
  3. প্রত্যায়িত বীজ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রজনন বীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজনন বীজ
ব্যাখ্যা
প্রজনন বীজ (Breeder seed):
- উদ্ভিদ প্রজনন প্রতিষ্ঠান বা কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা কোন প্রজননবিদের ঘনিষ্ঠ ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে উৎপন্ন বীজ, যা থেকে ভিত্তি বীজ (Foundation seed) উৎপন্ন করা হয় তাকে প্রজনন বীজ বলে।
- এ বীজের মধ্যে সর্বাধিক কৌলিক বিশুদ্ধতা (Genetic purity) থাকে।
- অনুমোদিত বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো প্রজনন বীজ।
- প্রজনন বীজ থেকে ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: SEED AND SEED TECHNOLOGY, BAgEd, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৮.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কোন মাশরুম চাষ করা হয়?
  1. বাটন মাশরুম
  2. ওয়েস্টার মাশরুম
  3. ইনোকি মাশরুম
  4. শিমাজি মাশরুম
সঠিক উত্তর:
ওয়েস্টার মাশরুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়েস্টার মাশরুম
ব্যাখ্যা
মাশরুম চাষ: 
- মাশরুম এমন এক ধরনের ছত্রাক যা সম্পূর্ণ খাওয়ার উপযোগী, পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন।
- আসলে মাশরুম এক ধরনের মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ যা ভক্ষণযোগ্য।
- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে চাষ করা যায় মিল্কি, ঋষি ও স্ট্র মাশরুম এবং শীতকালে শীতাকে, বাটন, শিমাজি ও ইনোকি মাশরুম।
- বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয় বারোমাসি ওয়েস্টার মাশরুম।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫১৯.
প্রধানত কোন তেলে ইরোসিক (Erucic) এসিড থাকে?
  1. সরিষা
  2. সয়াবিন
  3. সূর্যমুখী
  4. চিনাবাদাম
সঠিক উত্তর:
সরিষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরিষা
ব্যাখ্যা
সরিষা: 
- বাংলাদেশে তৈল ফসল হিসেবে সরিষা, সয়াবিন, তিল, তিসি, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী প্রভৃতির চাষ হয়ে থাকে।
- তবে এদেশের মানুষ সরিষাকেই তৈল ফসল হিসেবে বেশি চাষ করে থাকে।
- সরিষার তেলে ৪০ ৪৫% ক্ষতিকর ইরোসিক এসিড থাকে যা হৃদপিন্ডে রোগ সৃষ্টি করে থাকে।
- তবে আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ সরিষার তৈল খেয়ে থাকি তাতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
- সরিষার বীজ থেকে তৈল নিষ্কাশনের পর যে খৈল থাকে তাতে প্রায় ৩৫% প্রোটিন এবং ৬.৪% নাইট্রোজেন থাকে।
- এ জন্য সরিষার খৈল গৃহপালিত পশুর ভালো খাবারও বটে।
- খৈলে নাইট্রোজেন থাকায় ভালো জৈব সার হিসেবে জমিতে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
- এছাড়া সরিষার জমিতে কৃত্রিম উপায়ে অত্যন্ত অল্প খরচে মৌমাছি পালন করে বেশ মধু সংগ্রহ করা যায়।
- এ জন্য সরিষাকে মধু উদ্ভিদ বলা হয়।
- উপরন্তু মৌমাছি থাকাতে সরিষার পরাগায়ন ভালোভাবে হয় বিধায় সরিষার ফলনও বেশি হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২০.
গমের ব্লাস্ট রোগের জন্য দায়ী হলো –
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. নেমাটোড
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
গমের ব্লাস্ট রোগ (Wheat Blast):
- Magnaporthe oryzae Triticum (MoT) নামক এক  ধরনের ছত্রাক এর আক্রমণে গমের ব্লাস্ট রোগ হয়ে থাকে।
– বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, গম চাষের ব্লাস্ট-সংবেদনশীল এলাকা প্রায় ৬৫%।
– ২০১৬ সালে, বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, ভোলা এবং দক্ষিণের অন্যান্য জেলায় হঠাৎ করে গমের ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়।
– ব্রাজিল থেকে এ রোগ বাংলাদেশে আসে। 

ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ:
ক) ব্লিচড স্পাইকস এবং স্পাইকের গোড়ায় কালচে ধূসর বর্ণের দাগ (গমের ব্লাস্টের সাধারণ লক্ষণ)
খ) গমের ব্লাস্টের প্যাচ
গ) পাতায় চোখের আকৃতির গাঢ় ধূসর দাগ
ঘ) গাঢ় ধূসর চোখের আকৃতির ক্ষত
ঙ) ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত গমের বীজ
চ) জীবাণু

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)
৫২১.
ফুলকপির ক্লাবরুট রোগের কারণ কোনটি?
  1. Plasmodiophora brassicae
  2. Alternaria Solani
  3. Phytophthora infestans
  4. Xanthomonas oryzae
সঠিক উত্তর:
Plasmodiophora brassicae
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Plasmodiophora brassicae
ব্যাখ্যা
ক্লাবরুট:
- ক্লাবরুট (Clubroot) ব্রাসিকাসি (Brassicaceae) পরিবারের সব উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর।
- এতে ক্যাবেজ, ফুলকপি, ব্রোকোলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, রেডিশ, শালগম, সরিষা, ও কানোলা আক্রান্ত হতে পারে।
- রোগটির কারণ Plasmodiophora brassicae নামক এককোষী পরজীবী প্রোটিস্টা।
- এটি গাছের শিকড় বিকৃত ও ফোলা আকৃতির করে তোলে এবং ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত করে।

উৎস: UNIVERSITY OF MINNESOTA EXTENSION.
৫২২.
একই ধরনের ফসল একই জমিতে বার বার উৎপাদন না করে অন্য জাতের ফসল উৎপাদন করাকে কী বলে?
  1. শস্যপর্যায়
  2. শস্য বিন্যাস
  3. শস্য বহুমুখীকরণ
  4. মৌসুমী চাষ
সঠিক উত্তর:
শস্যপর্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শস্যপর্যায়
ব্যাখ্যা
শস্যপর্যায়: 
- মাটির উর্বরতা বজায় রেখে এক খণ্ড জমিতে শস্য ঋতুর বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ফসল উৎপাদন করার নাম শস্যপর্যায়।
- অর্থাৎ একই ধরনের ফসল একই জমিতে বার বার উৎপাদন না করে অন্য জাতের ফসল উৎপাদন করাই হচ্ছে শস্যপর্যায়।
- যেমন- গভীরমূলী ফসল উৎপাদনের পর অগভীরমূলী জাতীয় ফসলের আবাদ করা উচিত।
- ফলে পোকা-মাকড় ও রোগ-পোকার উপদ্রব কম হয় এবং মাটির বিভিন্ন গভীরতা থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ সম্ভব হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫২৩.
নিম্নের কোন "Term" টি দ্বারা শুধুমাত্র ফল বিজ্ঞান বুঝায়?
  1. Olericulture
  2. Pomology
  3. Horticulture
  4. Silviculture
সঠিক উত্তর:
Pomology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pomology
ব্যাখ্যা
Pomology দ্বারা শুধুমাত্র ফল বিজ্ঞান বুঝায়।

Pomology:
- ফল বিজ্ঞানকে ইংরেজিতে Pomology বলা হয়।
- উদ্যানতত্ত্বের যে শাখা ফল নিয়ে আলোচনা করে তাকে ফল বিজ্ঞান বা পোমোলজি (Pomology) বলে।

অন্যদিকে,
- Olericulture হচ্ছে শাক-সবজি চাষ করার এক বিজ্ঞান। যে উদ্যান কৃষিতে সারা বছর ধরে ফলনশীল ও ঋতুভিত্তিক শাক সবজি চাষ করা হয় তাকে ওলেরিকালচার বলে।
- উদ্যানতত্ত্ব (Horticulture) হল কৃষিবিদ্যার একটি বিশেষ শাখা যেখানে উদ্যান অর্থাৎ বাগানের চাষ,পরিচর্যাসহ বাজারজাত ও পরবর্তী বিষয় সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- Silviculture হলো বনজসম্পদের উৎপাদন, পরিচালনা এবং সংরক্ষণের বিজ্ঞান এবং কৌশল। এটি বনজসম্পদের স্থায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য বনজসম্পদগুলির চাষ, রোপণ, ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণের সাথে সম্পর্কিত।

উৎস: i) ফলের পরিচিতি ও গুরুত্ব, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৫২৪.
মাছ পানির উপর ভেসে খাবি খাওয়া ও ক্লান্ত হয়ে পানির উপরিভাগে ঘোরাফেরা করা কীসের লক্ষণ?
  1. পুকুরের পানি ঘোলা হওয়া
  2. পুকুরের পানির অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব বৃদ্ধি
  3. দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব
  4. রোগাক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
সঠিক উত্তর:
দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব
ব্যাখ্যা
দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব:
- দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব পুকুরের একটি সাধারণ সমস্যা।
- সকালে বা বিকালে অথবা দিনের যেকোনো সময়ে, মেঘলা দিনে এবং কোনো কোনো সময় বৃষ্টির পর পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের অভাব ঘটে।
- এর সুস্পষ্ট লক্ষণ হলো অক্সিজেনের অভাবে মাছ পানির উপর ভেসে খাবি খায় ও ক্লান্ত হয়ে পানির উপরিভাগে ঘোরাফেরা করে।
- অক্সিজেনের বেশি অভাব হলে মাছ মরতে শুরু করে।
- এসময় কৃষকের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দেয়। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫২৫.
নিচের কোনটি বেশি থাকলে সেসব ঘাস সাইলেজের জন্য ভালো?
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. স্নেহ
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা
সাইলেজ:
- যেসব ঘাসে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে, সেসব ঘাস সাইলেজের জন্য ভালো।
- কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ বা সাইলেজের জন্য উন্নত জাতের কাঁচা ঘাস যেমন: প্যারা, নেপিয়ার, জার্মান, গিনি, ভুট্টা ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
- তবে ভুট্টার সাইলেজ অনেক ভালো।
- কাঁচা ধানের খড় ও কাঁচা ঘাস ১:৫ অনুপাতে মিশিরে সাইলেজ তৈরি করা যেতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫২৬.
পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার দ্বারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. বিনা
  2. বারি
  3. ব্রি
  4. বিএডিসি
সঠিক উত্তর:
বিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা): 
- বিনা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আধা-সরকারি স্বায়ত্তশাসিত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এটি মূলত পরমাণু ও উন্নত প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার দ্বারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সহ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।
- ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর প্রধান কার্যালয়ের অবস্থান।
- পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে বিনা এ যাবৎ ধান, পাট, গম, ডাল, তেলবীজ, সব্জি ও মসলা জাতীয় শস্যের ২১টি ফসলের উচ্চ ফলনশীল এবং উন্নত গুনাবলী সম্পন্ন ১৩৪টি জাত উদ্ভাবন করেছে। [সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৫ নভেম্বর ২০২৪]
- যা দেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা ও শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলছে।
- পারমাণবিক কলাকৌশল ব্যবহার করে ফসলের জাত উদ্ভাবনে সারা বিশ্বে বিনা অর্থাৎ বাংলাদেশ অষ্টম স্থানে রয়েছে।
- সম্প্রতি বিনা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা লবণসহিষ্ণু ধানের জিনোম সিকোয়েন্সিং উন্মোচন করেছে, যা বাংলাদেশে প্রথম।

উৎস: কৃষি মন্ত্রণালয়।
বিনা ওয়েবসাইট।
৫২৭.
বারি বীজ বপন যন্ত্রের সুবিধা কোনটি?
  1. বীজ ঠিক দূরত্বে ও গভীরতায় বপন করা যায়
  2. বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়
  3. বীজের পরিমাণ কম লাগে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
বারি বীজ বপন যন্ত্র: 
- এটি একটি হাতে চালিত বীজ বপন যন্ত্র।
- এর সুবিধা:
১। বীজ ঠিক দূরত্বে ও গভীরতায় বপন করা যায়;
২। এর দ্বারা বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়; এবং
৩। বীজের পরিমাণ কম লাগে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫২৮.
ঢল বন্যা বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে দেখা যায়?
  1. দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে
  2. দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে
  3. পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায়
  4. উপকূলীয় এলাকায়
সঠিক উত্তর:
দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
ঢল বন্যা:
- বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশ অঞ্চলে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।
- হঠাৎ করে এপ্রিল ও মে মাসে সীমান্তে পাহাড়ি ঢলের কারণে এ বন্যা সৃষ্টি হয়।
- এ বন্যার পানি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- হাওর এলাকার বোরো ধান পাকার সময় প্রায়ই ঢল বন্যায় ফসলহানি হয়ে থাকে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫২৯.
ধান গাছের পাতার অগ্রভাগের ৩- ৪ সে.মি. কেটে ফেলে দমন করা যায় কোন পোকা?
  1. পামরী পোকা
  2. এফিড
  3. পাতা মোড়ানো পোকা
  4. মাজরা পোকা
সঠিক উত্তর:
পামরী পোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পামরী পোকা
ব্যাখ্যা
পামরী পোকা:
লক্ষণ:
- ক্ষতিগ্রস্থ পাতায় শিরার সমান্তরালে লম্বালম্বি দাগ পড়ে।
- পূর্ণ বয়স্ক ও গ্রাব দুই অবস্থায় ধানের ক্ষতি করে।
- কীড়াগুলি পাতার দুই পর্দার মাঝে সুড়ঙ্গ করে সবুজ অংশ খাওয়ার ফলে পাতা শুকিয়ে যায়।
- বাড়ন্ত ধানের জমিতে আক্রমন বেশি হয়।

ব্যবস্থাপনা:
১। আইল বা পার্শ্ববর্তী জায়গায় আগাছা পরিস্কার করা।
২। হাত জালের সাহায্যে বয়স্ক পোকা ধরে মাটিতে পুঁতে ফেলা।
৩। আক্রান্ত ক্ষেতের ধান গাছের পাতার অগ্রভাগের ৩- ৪ সে.মি. কেটে ধ্বংস করা।
৪। শতকরা ৩৫ ভাগ পাতার ক্ষতি হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা। যেমন: ক্লোরপাইরিফস গ্রুপের পাইরিফস ২ মিলি/ লি. হারে অথবা কারটাপ গ্রুপের কাটাপ বা কারটাপ বা ফরওয়াটাপ কীটনাশক ১.৬ গ্রাম/ লি হারে পানিতে মিশিয়ে বিকালে স্প্রে করা।

উৎস: কৃষি বাতায়ন।
৫৩০.
বন্যার পানি নেমে গেলে মাটিতে রস থাকা অবস্থায় মসুর, ভুট্টা, রসুন ইত্যাদি রোপণ বা লাগানো কীসের উদাহরণ?
  1. মিশ্র ও সাথি ফসলের চাষ
  2. রিলে চাষ
  3. শূন্য চাষ পদ্ধতি
  4. ফসলবিন্যাস
সঠিক উত্তর:
শূন্য চাষ পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য চাষ পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
শূন্য চাষ পদ্ধতি:
- শূন্য চাষ অর্থ হচ্ছে বিনা চাষে ফসল ফলানো।
- বন্যাকবলিত এলাকায় ধানভিত্তিক ফসল বিন্যাসে শূন্য চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন বন্যার পানি নেমে গেলে মাটিতে রস থাকা অবস্থায় মসুর, ভুট্টা, রসুন ইত্যাদি রোপণ বা লাগানো যায় এবং ভালো ফলনও পাওয়া যায়।
- এতে কৃষকের ৩-৪ সপ্তাহ সময় বাঁচে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৩১.
সূর্যালোকের শক্তি ব্যবহার করে ADP এর সাথে অজৈব ফসফেট যুক্ত হয়ে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. ফসফোরাইলেশন
  3. শ্বসন
  4. ফটোফসফোরাইলেশন
সঠিক উত্তর:
ফটোফসফোরাইলেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোফসফোরাইলেশন
ব্যাখ্যা
ফটোফসফোরাইলেশন:
- সালোকসংশ্লেষণের সময় সূর্যালোকের শক্তি ব্যবহার করে ADP এর সাথে অজৈব ফসফেট (Pi) যুক্ত হয়ে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে।
- সালোকসংশ্লেষণের সময় যে ফটোফসফোরাইলেশন হয় তা দু'প্রকারের। যথা-
- চক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন এবং অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশন।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩২.
একজন ব্যক্তির দৈনিক কত গ্রাম শাকসবজি ও ফল খাওয়া উচিত?
  1. ১৫০ গ্রাম
  2. ২৫০ গ্রাম
  3. ৩৫০ গ্রাম
  4. ৪৫০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
৪৫০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
পুষ্টি ও পারিবারিক গুরুত্ব:
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন ব্যক্তিকে দৈনিক ৪৫০ গ্রাম শাকসবজি ও ফল খাওয়া উচিত
- বসতবাড়ির চারপাশে উদ্যান ফসল চাষ করে পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটানো যায়।
- বাড়তি ফসল বিক্রি করে পরিবারের আয়ও বাড়ানো যায়।
- অপরদিকে আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি ফলের গাছ থেকে দামি কাঠ পাওয়া যায়।
- এসব কাঠ ঘর-বাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। কাঠ বিক্রি করে অনেক অর্থ পাওয়া যায়।
- তাছাড়া বিভিন্ন ফলদ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বৃক্ষের ডালপালা ছাঁটাই করে প্রচুর জ্বালানি পাওয়া যায়।
- পরিবারের রান্নাবান্নার কাজে এসব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে জ্বালানি খাতে অর্থ সাশ্রয় হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫৩৩.
ফসল উৎপাদন মৌসুমের উপর ভিত্তি করে খরাকে কত ভাগে ভাগ করা যায়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ফসল উৎপাদনে খরার প্রভাব:
- বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনে খরা অন্যতম একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
- ফসলের বৃদ্ধি পর্যায়ে গড় বৃষ্টিপাতের অভাবে মাটিতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
- কম বৃষ্টিপাত ও অধিক হারে মাটি থেকে পানি বাষ্পীভূত হওয়ার ফলে কৃষিক্ষেত্রে খরার প্রভাব দেখা দেয়।

ফসল উৎপাদন মৌসুমের উপর ভিত্তি করে খরাকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন-
- রবি খরা,
- খরিপ-১ খরা ও
- খরিপ-২ খরা।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৫৩৪.
কোন ফসল দ্বারা সবুজ সার তৈরি করা যায়?
  1. ধইঞ্চা
  2. গোমটর
  3. শন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সবুজ সার তৈরি:
- জমিতে যেকোনো সবুজ উদ্ভিদ জন্মিয়ে কচি অবস্থায় চাষ করে মাটিতে মিশিয়ে যে সার প্রস্তুত করা হয় তাকে সবুজ সার বলে।
- ধইঞ্চা, গোমটর, বরবটি, শন, কলাই এসব ফসল দ্বারা এ সার তৈরি করা যায়।

১. প্রথমে এসব ফসলের যেকোনো একটি জমিতে চাষ করতে হবে। ফুল আসার আগে তা মই দিয়ে মাটির সাথে মেশাতে হবে।
২. তারপর আরও ৩-৪ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ওলটপালট করে মাটির সাথে ভালোভাবে মেশালে ২ সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ পচে যায়।
৩. সবুজ সার যেখানে তৈরি হয় সেখানেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৩৫.
ফসলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান নয় কোনটি?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. সোডিয়াম
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
• সোডিয়াম ফসলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান নয়। 

• অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements):

- উদ্ভিদে প্রায় 60টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এই 60টি উপাদানের মধ্যে মাত্র 16টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।
- এ 16টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (essential elements) বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি এবং মাইক্রো উপাদান ৬ টি।

• ম্যাক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- এরূপ উপাদানের সংখ্যা ১০টি।
যথা- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (০), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

• মাইক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়।
- এদের সংখ্যা ৬টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৬.
নিচের কোনটি অসস্যল বীজের উদাহরণ?
  1. ধান
  2. কুমড়া
  3. গম
  4. ভুট্টা
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমড়া
ব্যাখ্যা
সস্য (Endosperm) এর উপর ভিত্তি করে বীজের প্রকারভেদ: 
১। সস্যল বীজ (Endospermic seed):
যে সকল বীজের বীজপত্রের বাইরে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খাদ্য হিসেবে সস্য বা এন্ডোস্পার্ম সঞ্চিত থাকে তাদেরকে সস্যল বীজ বলে।
যেমন: ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।

২। অসস্যল বীজ (Non endospermic seed):
যে সকল বীজে ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সস্য হিসেবে জমা না থেকে বীজ পত্রের মধ্যে সঞ্চিত থাকে সে সকল বীজকে অসস্যল বীজ বলে।
যেমন: কুমড়া, ছোলা ইত্যাদি।

উৎস: SEED AND SEED TECHNOLOGY, BAgEd, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. BWMRI
  2. BARI
  3. BSRI
  4. BJRI
সঠিক উত্তর:
BWMRI
উত্তর
সঠিক উত্তর:
BWMRI
ব্যাখ্যা
BWMRI:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Wheat and Maize Research Institute বা বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট।
- ২০১৭ সালে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (BWMRI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বাংলাদেশে গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ।
- এর প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত।

- উল্লেখ্য, এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) থেকে আলাদা হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর পূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) গম ও ভুট্টা নিয়ে গবেষণা করত।

উৎস: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৫৩৮.
গোলআলু কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির জন্য স্পর্শকাতর?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. বোরন
  4. দস্তা
সঠিক উত্তর:
বোরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরন
ব্যাখ্যা

আলু বোরন নামের পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির জন্য সংবেদনশীল।
বোরনের ঘাটতি আলুর কন্দের বৃদ্ধি ও গুণগত মানের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বোরনের অভাবে আলুর কন্দে ফাটল দেখা দিতে পারে, কন্দের আকৃতি অস্বাভাবিক হতে পারে এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাদামী দাগ (brown heart) সৃষ্টি হতে পারে। বাকী অপশনগুলো (নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, দস্তা) ঘাটতি হলে আলুতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়—যেমন নাইট্রোজেনে পাতার হলদে হওয়া, পটাশিয়ামে প্রান্তিক ক্লোরোসিস কিন্তু আলুর মধ্যে বিশেষভাবে ক্ষতিকর ও স্পর্শকাতর প্রভাব তৈরি করে বোরনের ঘাটতি।


গোলআলু:
- গোলআলু যা সাধারণত আলু নামেই পরিচিত।
- আলু'র বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum।
- গোলআলু বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি এবং অর্থকরী ফসল।
- এটি একটি কন্দ (tuber) যা গাছের রূপান্তরিত কান্ড থেকে উৎপন্ন হয়।
- বাংলাদেশের সর্বত্রই কম বেশি আলুর চাষ হয়।
- আলু একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার।
- আলুতে কার্বোহাইড্রেট (স্টার্চ), প্রোটিন, ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, এবং কিছু মাত্রায় ফাইবার, ভিটামিন বি৬ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে।
- আলু একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। আলু'র বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum। এতে একদিকে যেমনি ভাতের মতো শর্করা আছে তেমনি সবজির মতো খাবার আঁশ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে শর্করা আছে ১৯ গ্রাম, খাবার আঁশ ২.২ গ্রাম, উদ্ভিদ প্রোটিন ২ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫২ গ্রাম যার মধ্যে পটাশিয়াম লবণই ০.৪২ গ্রাম, এবং ভিটামিন ০.০২ গ্রাম।
- বেলে দোআঁশ থেকে দোআঁশ মাটি আলু চাষের জন্য উত্তম।

⇒ সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
- গোবর, অর্ধেক ইউরিয়া, টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও জিঙ্ক সালফেট (প্রয়োজন বোধে) রোপণের সময় জমিতে মিশিয়ে দিতে হবে৷ বাকি ইউরিয়া রোপণের ৩০-৩৫ দিন পর অর্থাৎ দ্বিতীয় বার মাটি তোলার সময় প্রয়োগ করতে হবে৷ অম্লীয় বেলে মাটির জন্য ৮০-১০০ কেজি/হেক্টর ম্যাগনেসিয়াম সালফেট এবং বেলে মাটির জন্য বোরন ৮-১০ কেজি/হেক্টর প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়৷

আলুর নাইট্রোজেন সারের ঘাটতি

লক্ষণঃ
নাইট্রোজেন ঘাটতি হলে আলুর পুরাতন পাতার শিরার মধ্যবর্তী অংশ হলুদ হয়ে যায়। পাতা কিনারা থেকে শুকাতে শুরু করে আস্তে আস্তে কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয় ।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) ওয়েবসাইট।

৫৩৯.
জৈব পদার্থ নিচের কোন কাজটি করে?
  1. মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ধর্মাবলি উন্নত করে
  2. ভূমিক্ষয় রোধ করে
  3. মাটির রস ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
জৈব পদার্থ:
- জৈব পদার্থ মাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- জীবজন্তুর মৃতদেহ, গাছপালা, লতাপাতা, খড়কুটা, প্রাণীর মলমূত্র, প্রভৃতি মাটিতে পচে জৈব পদার্থের সৃষ্টি হয়।
- - মাটিতে আয়তনের ভিত্তিতে শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকে।
- জৈব পদার্থকে মাটির প্রাণ বলা হয়।
- কেননা জৈব পদার্থের উপস্থিতিতে মাটির অণুজীবগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়াও জৈব পদার্থ- (১) মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ধর্মাবলি উন্নত করে; (২) ভূমিক্ষয় রোধ করে (৩) মাটিতে পানি ও বায়ু চলাচল সহজতর করে (৪) মাটিস্থ কেঁচোর সংখ্যা ও এর কার্যাবলি বাড়ায়; (৫) মাটির রস ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫৪০.
উদ্ভিদ জীবনের বিশেষ প্রক্রিয়া, যৌন-বংশ বৃদ্ধির উপর আলোর এরূপ প্রভাব বিস্তারকে কী বলে?
  1. ফটোসিন্থেসিস
  2. ফটোলাইসিস
  3. ফটো পিরিয়ডিজম
  4. ফটো ফসফোরাইলেশন
সঠিক উত্তর:
ফটো পিরিয়ডিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটো পিরিয়ডিজম
ব্যাখ্যা
ফসলের উপর আলোর প্রভাব:
- সূর্যের আলো আবহাওয়া ও জলবায়ুর অন্যতম প্রধান উপাদান।
- শস্যের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য আলোর প্রভাব অনস্বীকার্য।
- পর্যাপ্ত সূর্যের আলো উদ্ভিদের সালোক-সংশ্লেষনের জন্য অপরিহার্য।
- অধিকাংশ ঘাস জতীয় শস্যের বীজের অংকুরোদগমের জন্য আলোর বিশেষ প্রয়োজন।
- আলো অনেক উদ্ভিদের ফুল ও বীজ উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে।
- উদ্ভিদ জীবনের বিশেষ প্রক্রিয়া, যৌন-বংশ বৃদ্ধির উপর আলোর এরূপ প্রভাব বিস্তারকে ফটো পিরিয়ডিজম বলে।
- কিছু উদ্ভিদের শীষ, ফুল ও বীজ উৎপাদনের জন্য ১২ ঘন্টার বেশী আলোর প্রয়োজন।
- আবার কিছু উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য ১২ ঘন্টার কম আলো প্রয়োজন যেমন: পাট।
- কিছু উদ্ভিদের পুষ্পায়ণে আলোর প্রভাব পড়ে না যেমন: তুলা, ভুট্টা, তিল, চিনাবাদাম ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪১.
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে কৃষি বনায়ন কেন প্রয়োজনীয়?
  1. বর্ধিত জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা পূরণে
  2. বনজ সম্পদের চাহিদা পূরণে
  3. মাটির গুণাগুন ও পরিবেশ রক্ষায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য কৃষিজ জমির উপর চাপ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- কৃষি বনায়ন এর মাধ্যমে একই সাথে কৃষিজ পণ্য, বনজ দ্রব্য ও পশুপালন সম্ভব অর্থাৎ বর্ধিত জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
- ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণার্থে দেশের বনসম্পদ দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।
- ফলে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যেমন: জ্বালানি সংকট, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস, উষ্ণতা বৃদ্ধি, মরুকরণ প্রক্রিয়া, ভূমিধ্বংস, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, মাটির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস, বন্যপ্রাণীর সংখ্যা হ্রাস, নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি।
- কৃষি বনায়ন মাটির গুণাগুন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- উপরোক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা সমূহ মোকাবেলার জন্য কৃষি বনায়ন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

উৎস: AFORESTRATION, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪২.
কত সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়?
  1. ১৯৫১ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৭১ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা
- আসাম ও বাংলার জন্য ঢাকার শেরে বাংলা নগরে একটি কৃষি ইন্সটিটিউট, কুমিল্লায় একটি ভেটেরিনারি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ খুলে ডিগ্রি পর্যায়ে কৃষিশিক্ষা চালুর ব্যবস্থা করা হয়।
- পাশাপাশি কৃষিবিভাগ নামে একটি বিশেষায়িত দপ্তর চালু করা হয়।
- এতে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ভিক্ষাবস্থার উন্নতি না হলেও বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়নের যাত্রা শুরু হয়।
- স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিতি লাভ করে।
- এদের নির্দেশনায় তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার জন্য দক্ষ মাঠকর্মী তৈরি করতে কিছু কৃষি সম্প্রসারণ ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (Agricultural Extention Training Institute) ও পশু চিকিৎসা ট্রেনিং ইন্সটিটিউট (Veterinary Training Institute) স্থাপন করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৪৩.
কোন গাছের অঙ্গজ প্রজনন করা সম্ভব হয় না?
  1. নারিকেল
  2. গোলাপ
  3. আম
  4. কদবেল
সঠিক উত্তর:
নারিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারিকেল
ব্যাখ্যা
- একবীজপত্রী উদ্ভিদে অঙ্গজ প্রজনন করা সম্ভব হয় না। কেননা, এতে ক্যাম্বিয়াম লেয়ার অনুপস্থিত থাকে। ফলে সেকেন্ডারি বৃদ্ধি হয় না। আর সেকেন্ডারি বৃদ্ধি ছাড়া অঙ্গজ প্রজনন সম্ভব নয়।

নারিকেল:

- নারিকেল একবীজপত্রী উদ্ভিদ।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদে ক্যাম্বিয়াম থাকে না। 
- ক্যাম্বিয়াম না থাকায় মেরিস্টেমেটিক টিস্যু তৈরি হয় না ফলে অঙ্গজ প্রজনন সম্ভব হয় না।
- তাই একবীজপত্রী উদ্ভিদ তথা নারিকেলে অঙ্গজ প্রজনন করা সম্ভব হয় না।
৫৪৪.
হাঁস-মুরগির ঘর কোনমুখী হতে হবে?
  1. উত্তরমুখী
  2. পূর্বমুখী
  3. দক্ষিণমুখী
  4. পশ্চিমমুখী
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণমুখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণমুখী
ব্যাখ্যা
হাঁস-মুরগির ঘর:
- হাঁস-মুরগি পালনের জন্য আয়তাকার ঘর সবচেয়ে ভালো।
- হাঁস-মুরগির সংখ্যার উপর ঘরের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে।
- তবে ঘরের দৈর্ঘ্য যাই হোক না কেন প্রস্থ ৪.৫-৯.০ মিটারের মধ্যে হতে হবে।
- হাঁস-মুরগির ঘর পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বি এবং দক্ষিণমুখী হতে হবে।
- ছাদের ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে দু'ধরনের মুরগির ঘর বেশি দেখা যায়। যেমন-
১। গ্যাবল টাইপ
২। শেড টাইপ

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৪৫.
'সেক্স ফেরোমন' ফাঁদ হচ্ছে এক ধরনের -
  1. রোগ দমন পদ্ধতি
  2. কীটপতঙ্গের দমন পদ্ধতি
  3. পোকার বংশবিস্তার বৃদ্ধির পদ্ধতি
  4. মাশরুম চাষের পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
কীটপতঙ্গের দমন পদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কীটপতঙ্গের দমন পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
'সেক্স ফেরোমন' ফাঁদ: 
- 'সেক্স ফেরোমন' ফাঁদ হচ্ছে এক ধরনের কীটপতঙ্গের দমন পদ্ধতি।
- কুমড়াজাতীয় ফসল, সবজিসহ নানা চাষাবাদে এ পদ্ধতিতে পোকা দমনের কার্যকারিতা অনেক বেশি।
- এই ফাঁদ তৈরি করতে 'লিউর' ব্যবহার হয়ে থাকে, যা পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে স্ত্রী পোকা কর্তৃক নিঃসৃত এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ (স্ত্রী পোকার গন্ধ)।
- 'সেক্স ফেরোমন' ফাঁদে ব্যবহৃত লিউরটিতে স্ত্রী পোকার নিঃসৃত গন্ধকে কৃত্রিমভাবে ১০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
- যাতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পোকা বক্সের ভেতরে স্ত্রী পোকা আছে ভেবে খুঁজতে থাকে।
- খোঁজার এক পর্যায়ে পুরুষ পোকা লিউরের কাছে আসলে মাতাল হয়ে পাত্রের সাবান মিশ্রিত পানিতে পড়ে যায়।
- পানি আঠালো হওয়ায় আর উঠতে পারে না।
- এভাবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ পোকা মারার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে পোকা দমন করা হয়।

উৎস: সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন (১ম সংশোধিত), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। 
৫৪৬.
হাইব্রিড ধানের জনক কে?
  1. নরম্যান বোরলগ
  2. গ্রেগর মেন্ডেল
  3. ইউয়ান লংপিং
  4. সকলেই
সঠিক উত্তর:
ইউয়ান লংপিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউয়ান লংপিং
ব্যাখ্যা
- চীনের হাইব্রিড ধানের জনক হিসেবে পরিচিত খ্যাতনামা কৃষিবিদ ইউয়ান লংপিং।
- ইউয়ান লংপিংকে বলা হয় হাইব্রিড ধানের জনক। 
- হাইব্রিড ধান বিকাশে সহযোগিতা ও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের অনাহার দূর করায় অবদান রাখা লংপিংকে জাতীয় বীর হিসেবে দেখে চীন।
- শুধু চীন নয়, সমগ্র বিশ্বের কৃষি খাতে রীতিমতো বিপ্লবের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।
- ১৯৭৩ সালে বিশ্বের প্রথম উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের চাষ শুরু করেন লংপিং।
- ইউয়ান লংপিংয়ের আবিষ্কার Nan-you No. 2 চীনের ধান উৎপাদনের হারে ব্যাপক বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
- প্রচলিত জাতের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ধান উৎপাদন হয় হাইব্রিড বীজে।
- ১৯৫০ সালে চীনে ধানের উৎপাদন হতো ৫.৬৯ বিলিয়ন টন।
- ২০০০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯.৪৭ বিলিয়ন টনে এবং এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ইউয়ান লংপিং।
- ২০০৪ সালে ইউয়ান লংপিং বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার পেয়েছিলেন। ধান উৎপাদন বৃদ্ধিতে অসাধারণ অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
- ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ইউয়ান লংপিংয়ের উদ্ভাবনে শুধু চীনই যে উপকৃত হয়েছে তা নয়।
- বিশ্বের অন্য দেশগুলোও তার উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হয়েছে।
- ইউয়ান লংপিং ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সফর করে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরামর্শ দিয়েছেন।
- ৫০টির বেশি দেশের বিজ্ঞানীদের তারা প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, নরম্যান বোরলগ সবুজ বিপ্লবের জনক। 

উৎস: RMP ওয়েবসাইট। 
৫৪৭.
মাটির গঠন উপাদান কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মাটি হলো:
(১) প্রাকৃতিক বস্তু, যা খনিজ ও জৈব পদার্থের সমন্বয়ে ঘটিত;
(২) ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে উপরের স্তর, যা উদ্ভিদকে অবলম্বন দেয়;
(৩) বিভিন্ন পুরুত্ববিশিষ্ট নানা স্তর দ্বারা গঠিত যার প্রতিটি স্তরের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ধর্ম বিভিন্ন।

মাটির গঠন উপাদান: 
- মাটি প্রধানত ৪টি উপাদান দ্বারা গঠিত। উপাদানগুলো হলো-
(১) অজৈব পদার্থ বা খনিজ পদার্থ
(২) জৈব পদার্থ
(৩) পানি ও
(৪) বায়ু।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৪৮.
প্রত্যায়িত বীজের ট্যাগের রং কী?
  1. নীল
  2. সাদা
  3. হলুদ
  4. সবুজ
সঠিক উত্তর:
নীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল
ব্যাখ্যা
মৌল বা প্রজনন বীজ (Breeder Seed):
- উদ্ভিদ প্রজনন প্রতিষ্ঠান বা কোন প্রজনন বিদের ঘনিষ্ট ও সরাসরি তত্ত্ববাবধানে উৎপন্ন এবং যা থেকে ভিত্তি শ্রেণীর বীজ উৎপাদন করা হয় তাকে প্রজনন বীজ বলে।
- এই বীজের সর্বাধিক কৌলিক বিশুদ্ধতা থাকে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার সবুজ হয়।

ভিত্তি বীজ (Foundation seed):
- বীজের পরবর্তী বিস্তার ঘটানোর জন্য মৌলিকভাবে শনাক্ত করণযোগ্য জাতের প্রাথমিক উৎসকে ভিত্তি বীজ বলে।
- ভিত্তি বীজে কৌলিক স্বাতন্ত্র্য ও জাতের বিশুদ্ধতা বিদ্যমান থাকে।
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত যে বীজ উৎপাদন করা হয়।
- এ বীজের ট্যাগের কালার সাদা হয়।

প্রত্যায়িত বীজ (Certified Seed):
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদন করা হয়।
- যাতে বংশগত ও বাহ্যিক বিশুদ্ধতা নির্ধারিত মানে থাকে।
- বীজের গুণাবলী সংরক্ষণের জন্য প্রত্যয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।
- বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী এই অনুমোদনের কাজটি করে থাকে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার নীল হয়।

মানঘোষিত বীজ (Truthfully labeled seed: TLS):
- উপরে তিনটি শ্রেণীর বীজ ছাড়া অন্য যে বীজ উৎপাদনকারী নিজেই উৎপাদন করে এবং নিজেই বীজের মাননিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজেই ঘোষনা দেয় তাহাই মানঘোষিত বীজ।
- তিনি নিজস্বভাবে যাচাইপূর্বক ব্যাগ বা বস্তার গায়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করবে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার হলুদ হয়।

উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী (SCA) ।
৫৪৯.
নিচের কোন উদ্ভিদ ছায়া পছন্দ করে?
  1. ভুট্টা
  2. কফি
  3. গম
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
কফি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কফি
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
- এ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন।
- সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের সমন্বয়ে পাতায় খাদ্য তৈরি হয়।
- সূর্যালোকের প্রয়োজন অনুসারে উদ্ভিদকে প্রধানত দুই ভাগ করা হয়; যথা-
ক) আলো পছন্দকারী উদ্ভিদ ও
খ) ছায়া পছন্দকারী উদ্ভিদ।
- ভুট্টা, আখ পূর্ণ সূর্যালোকে ভালো জন্মে আবার চা, কফি ছায়া পছন্দ করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৫০.
উন্নতজাতের বীজের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কে?
  1. কৃষি গবেষণা সংস্থা
  2. বীজ প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ
  3. বিএডিসি
  4. বীজ কোম্পানী
সঠিক উত্তর:
বীজ প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজ প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ
ব্যাখ্যা
- কৃষক চাষাবাদের জন্য উন্নত গুণাগুণসম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের উন্নত বীজ ব্যবহার করে লাভবান হতে চায়।
- কৃষি গবেষণা সংস্থাগুলো বীজ উন্নয়নের কাজ করে, বীজ প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ উন্নতজাতের বীজের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। 
- Bangladesh Agricultural Development Corporation (BADC) এর মতো রাষ্ট্রীয় কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বিভিন্ন স্বীকৃত প্রতিনিধির মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত বীজ সরবরাহ করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৫১.
পুকুরের পানিতে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের গ্রহণযোগ্য মাত্রা কত?
  1. pH ৫.৫-৯.৫
  2. pH ৭.৫-৯.৫
  3. pH ৬.৫-৮.৫
  4. pH ৪.৫-৭.৫
সঠিক উত্তর:
pH ৬.৫-৮.৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
pH ৬.৫-৮.৫
ব্যাখ্যা
পুকুরের পানির অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব: 
- পুকুরের পানির পি এইচ মান নির্ণয় করে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা বোঝা যায়।
- পি এইচ মিটারের সাহায্যে এটি নির্ণয় করা হয়।
- পি এইচ মান ৭ এর কম হলে পানি অম্লীয় হয় এবং এর বেশি হলে ক্ষারীয় হয়।
- পুকুরের পানিতে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের গ্রহণযোগ্য মাত্রা হলো ৬.৫ থেকে ৮.৫।
- অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব গ্রহণযোগ্য মাত্রার কম-বেশি হলে মাছ চাষে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- যেমন কম হলে মাছের ফুলকায় পচন ধরে আর বেশি হলে মাছের খাদ্য চাহিদা কমে যায় এবং মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
- ফলে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হয়। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৫২.
টাইম আইসোলেশন কমপক্ষে কতদিনের হওয়া প্রয়োজন?
  1. ১০ দিন
  2. ২০ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৪০ দিন
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ দিন
ব্যাখ্যা
আইসোলেশন:
পোলেন দানা উচ্চ বাতাসের বেগে দূরে ভ্রমণ করতে পারে। সেজন্য অপ্রত্যাশিত ক্রসের সম্ভাবনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আইসোলেশন রক্ষা করতে অবহেলা করলে হাইব্রিড বীজের অশুদ্ধতা দেখা দেয়। আইসোলেশন বিভিন্নভাবে প্রদান করা যেতে পারে, যা সংক্ষেপে নিচে আলোচনা করা হলো।

ক) স্পেস আইসোলেশন
হাইব্রিড বীজ উৎপাদন প্লটটি অন্যান্য ধানের ফসল থেকে অন্তত ১০০ মিটার দূরে থাকতে হবে। A-line-এর বীজ উৎপাদনের জন্য ২০০-৫০০ মিটার আইসোলেশন দূরত্ব যথেষ্ট, কারণ এই লাইনটি মূলত হাইব্রিড বীজের গুণমান নির্ধারণ করে। কিন্তু B- এবং R-line-এর জন্য ৩-৫ মিটার আইসোলেশন দূরত্ব যথেষ্ট। স্পেস আইসোলেশন হাইব্রিড বীজের শুদ্ধতা রক্ষার জন্য উপলব্ধ অপশনের মধ্যে সেরা।

খ) টাইম আইসোলেশন
যখন স্পেস আইসোলেশন সম্ভব নয়, তখন টাইম আইসোলেশন প্রয়োজন। অর্থাৎ, হাইব্রিড বীজ উৎপাদন প্লটের প্যারেন্টাল লাইনগুলোর ফুল আসা উচিত অন্তত ৩০ দিন আগে বা ৩০ দিন পরে, যাতে অন্য প্রজাতির পোলেনের কারণে ক্রস হওয়া এড়ানো যায়।

গ) ব্যারিয়ার আইসোলেশন
প্রাকৃতিক ভূগোলগত বৈশিষ্ট্য যেমন নদী, খাল, পর্বত, বন ইত্যাদি এবং অন্যান্য মানুষের তৈরি বৈশিষ্ট্য যেমন বিল্ডিং, রাস্তা, দেয়ালও ব্যারিয়ার আইসোলেশন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এছাড়া, ৩০-৪০ মিটার প্রশস্ত লম্বা এবং ঘন গাছ বা ঝোপ বা কিছু ফসল (যেমন, সরগম, আখ, ধইঞ্চা, ভূট্টা বা অন্যান্য প্রজাতি) ব্যারিয়ার আইসোলেশন হিসেবে কাজ করতে পারে।

উৎস: Breeding, Biotechnology and Seed Production of Field Crops. New India Publishing Agency.
৫৫৩.
নিচের কোনটিতে রেড পামকিন বিটল পোকার আক্রমণ হতে পারে?
  1. আলু
  2. লাউ
  3. পেঁয়াজ
  4. মরিচ
সঠিক উত্তর:
লাউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাউ
ব্যাখ্যা
লাউ চাষ:
- বাংলাদেশে লাউ একটি জনপ্রিয় সবজি।
- লাউয়ের চেয়ে এর শাক বেশি পুষ্টিকর।

বালাই ব্যবস্থাপনা:
- এ সবজিতে রেড পামকিন বিটল পোকার আক্রমণ হতে পারে।
- এ পোকা দেখা দেওয়ার সাথে সাথে ধরে মেরে ফেলতে হবে।
- এছাড়া কিছু প্রজাতির ঘাসের মাধ্যমে লাউয়ের 'মোজাইক ভাইরাস' রোগ হতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৫৪.
শাকসবজি ও ফল সংরক্ষণের সময় বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে কীসের ভারসাম্য নষ্ট হয়?
  1. অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
  3. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
  4. সালফার ও অ্যামোনিয়া
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সংরক্ষণের সময় প্রতিকূল পরিবেশ:
(ক) তাপমাত্রা:
- উচ্চতাপমাত্রা শাক সবজি ও ফল পচনের জন্য দায়ী।
- ফল ও শাকসবজির কোষ স্বাভাবিক থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- প্রতি ১০০ সে. তাপমাত্রা বেড়ে গেলে শ্বসনের মাত্রা প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়।
- ফলে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত ইথিলিনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যা শাকসবজি ও ফলে দ্রুত পচন ঘটায়।
- এমতাবস্থায় রোগজীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও সংক্রমণ বেড়ে যায় যা ফল ও শাকসবজিতে পচন ঘটায়।

(খ) আর্দ্রতা:
- আর্দ্রতা কমে গেলে (৮৩-৮৫% এর কম) ফল ও শাক সবজি অল্প সময়ে নষ্ট হয়ে খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

(গ) বায়ুচলাচল:
- শাকসবজি ও ফল যেখানে সংরক্ষণ করা হয় সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
- এতে ফল ও শাকসবজি দ্রুত পচে যায়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৫.
মাটির উপরে আলু গাছের সম্পূর্ণ অংশ উপড়ে ফেলাকে কী বলে?
  1. টিউবারাইজেশন
  2. হাম পুলিং
  3. সোলারাইজেশন
  4. উইদারিং
সঠিক উত্তর:
হাম পুলিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাম পুলিং
ব্যাখ্যা
হাম পুলিং:
- মাটির উপরে আলু গাছের সম্পূর্ণ অংশ উপড়ে ফেলাকে হাম পুলিং বলে।
- এ কাজ আলু সংগ্রহের ৭-১০ দিন আগে করতে হয়।
- এতে পুরো শিকড়সহ গাছ উপরে আসবে কিন্তু আলু মাটির নিচে থেকে যাবে।
- এর ফলে আলুর ত্বক শক্ত হয়, রোগাক্রান্ত গাছ থেকে রোগের বিস্তার কম হয় ও আলুর সংরক্ষণগুণ বৃদ্ধি পায়।
- উল্লেখ্য বীজ আলুতে হাম পুলিং অবশ্যই করতে হবে, কিন্তু খাবার আলুর বেলায় এটা জরুরী নয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৬.
ধান গাছের বাদামি দাগ কোন ধরনের রোগের লক্ষণ?
  1. ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ
  2. ছত্রাক জনিত রোগ
  3. ভাইরাস জনিত রোগ
  4. পরিবেশজনিত সমস্যা
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক জনিত রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক জনিত রোগ
ব্যাখ্যা
দাগ:
- ফসলের পাতায়, কাণ্ডে বা ফলের গায়ে নানা ধরনের দাগ বা স্পট দেখা দেয়।
- দাগের রং কালো, হালকা বাদামি, গাঢ় বাদামি কিংবা দেখতে পানিতে ভেজার মতো হয়।
- ফসলের এসব দাগ বিভিন্ন রোগের কারণে হয়।
- যেমন: ধান গাছের বাদামি দাগ একটি ছত্রাকজনিত রোগের লক্ষণ।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৫৫৭.
নিচের কোনটি কৃষিতাত্ত্বিক বীজের উদাহরণ?
  1. মিষ্টি আলুর লতা
  2. কাঁকরোলের মূল
  3. আখের কাণ্ড
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
কৃষিতাত্ত্বিক বীজ:
- কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, উদ্ভিদের যেকোনো অংশ যা উপযুক্ত পরিবেশে আপন জাতের নতুন উদ্ভিদের জন্ম দিতে পারে, তাকে কৃষিতাত্ত্বিক বীজ বলে।
- যেমন: আদা ও হলুদের কন্দ, মিষ্টি আলুর লতা, কাঁকরোলের মূল, আখের কাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৫৮.
মাছের খাদ্যের আর্দ্রতা শতকরা কতভাগ বেশি হলে ছত্রাক জন্মাতে পারে?
  1. ৭%
  2. ২%
  3. ৫%
  4. ১০%
সঠিক উত্তর:
১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০%
ব্যাখ্যা
নিম্নলিখিত নিয়ামকসমূহ গুদামজাতকরণের সময় মাছের খাদ্যের গুণগত মান এবং ওজন ক্ষতিগ্রস্থ করে-
- মানুষ কর্তৃক চুরি হওয়া, অগ্নিদগ্ধ হওয়া কিংবা ইঁদুর ও পোকামাকড় দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া •
- বৃষ্টি, আর্দ্রতা ক্ষতিগস্থ হওয়া।
- ছত্রাক কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া।
-  মাছের খাদ্যের আর্দ্রতার পরিমাণ ১০% এর বেশি হলে খাদ্যে ছত্রাক জন্মাতে পারে।
- এনজাইমের বিক্রিয়া এবং জারণের ফলে পঁচন।
- বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫% এর বেশি থাকলে খাদ্যে ছত্রাক বা পোকামাকড় জন্মাতে পারে।
- সূর্যালোকে খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখা হলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কিছু কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়।
- খোলা অবস্থায় রাখা হলে বাতাসের অক্সিজেন খাদ্যের রেনসিডিটি (চর্বির জারণ ক্রিয়া) ঘটাতে পারে যাতে খাদ্যের গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
- উচ্চ তাপমাত্রা খাদ্যের অপচয় এবং খাদ্য নষ্ট হওয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করে।
- উচ্চ তাপমাত্রা খাদ্যে ছত্রাক এবং পোকা মাকড়ের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৯.
সেচের পানির সাথে রাসায়নিক সার মিশিয়ে ফসলে প্রয়োগ করার পদ্ধতিকে কী বলা হয়?
  1. ইরিগেশন
  2. ফিউমিগেশন
  3. ফার্টিগেশন
  4. হাইব্রিডাইজেশন
সঠিক উত্তর:
ফার্টিগেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফার্টিগেশন
ব্যাখ্যা
ফার্টিগেশন:
- ফার্টিগেশন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সেচ প্রযুক্তি।
- এতে সেচের পানির সাথে রাসায়নিক সার মিশিয়ে ফসলে প্রয়োগ করা হয়।
- কেবলমাত্র পানিতে দ্রবণীয় সার যেমন- ইউরিয়া, পটাশ ইত্যাদি ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়।
- ফলে ফসলের জমিতে সেচ এবং সার একই সঙ্গে প্রয়োগ করা যায়।
- প্রতি ১৪০ লিটার পানিতে ১ কেজি সার মিশাতে হয়।
- সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিজ্ঞানীগণ উদ্যানতত্ত্ব ফসলের উপর এ পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভাল ফল পেয়েছেন।

উৎস: কৃষি প্রযুক্তি হাতবই। 
৫৬০.
পেঁপের রিং স্পট রোগ একটি-
  1. ভাইরাসজনিত রোগ
  2. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  3. ছত্রাকজনিত রোগ
  4. নেমাটোডজনিত রোগ
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসজনিত রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসজনিত রোগ
ব্যাখ্যা
• পেপের রিং স্পট:
- ভাইরাসের আক্রমণে পাতার উপর কিছুটা অঞ্চল ঘিরে গোলাকার  দাগ সৃষ্টি হয়।
- এ রকম লক্ষণকে রিং স্পট বলা হয়।
- এটি ভাইরাসজনিত একটি মারাত্মক রোগ।
- এ রোগের ফলে আমাদের মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন হয়।
- ভারতে ১৯৪৮ সালে প্রথম এ রোগটি লক্ষ করা যায়।
- অন্যান্য ফসলের ন্যায় পেঁপেরও নানা রকমের রোগ বালাই হয়।
- পেঁপের সবচেয়ে ক্ষতিকারক রোগ হলো রিং স্পট।
- এটি একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ।
- এটি এতই মারাত্মক যে এর ফলে ক্ষেতের পুরো ফসলই নষ্ট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬১.
নিচের কোনটি নোটিফায়েড ফসল নয়?
  1. ধান
  2. গম
  3. ভুট্টা
  4. আলু
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
ব্যাখ্যা
- ভুট্টা নোটিফায়েড ফসল নয়

নোটিফায়েড ফসল:

- বাংলাদেশে নোটিফায়েড ফসল ৭টি।
- ধান, গম, পাট, আলু, আখ, মেস্তা ও কেনাফ হচ্ছে নোটিফায়েড ফসল।
- শুধুমাত্র পাব্লিক ম্যান্ডেটেড গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় নোটিফায়েড ফসলের জাত উদ্ভাবন করতে পারে। 
- নোটিফায়েড ফসলের জাত অবমুক্তকরণের পূর্বে অবশ্যই জাতীয় বীজ বোর্ড এর টেকনিক্যাল কমিটি পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ করবে।

নন-নোটিফায়েড ফসল:
- অন্যান্য নন-নোটিফায়েড ফসলের ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যথাযথ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাত অবমুক্ত করতে পারে।
- এক্ষেত্রে পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ করবে আবশ্যক নয়। 

উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী (SCA)
৫৬২.
বাংলাদেশে ফসলের নিবিড়তা কত শতাংশ?
  1. ১৫০
  2. ১৭০
  3. ১৯০
  4. ২২০
সঠিক উত্তর:
২২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২০
ব্যাখ্যা
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, বর্তমানে বাংলাদেশে ফসলের নিবিড়তা ২১৪%। এখানে অপশনে কাছাকাছি তথ্য হিসেবে ঘ অপশন অর্থাৎ ২২০% কে সঠিক উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা:
- ফসলের নিবিড়তা বলতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) একটি কৃষি জমিতে যতবার ফসল ফলানো হয়, তার গড় সংখ্যাকে বোঝায়।
- কৃষি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, বর্তমানে বাংলাদেশে ফসলের নিবিড়তা ২১৪%।

উল্লেখ্য,
- কৃষির নিরন্তর সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ।
- ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা এবং নতুন নতুন এলাকা চাষের আওতায় আনা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান দুই শর্ত।
- নতুন নতুন স্বল্পমেয়াদি জাত চাষের মাধ্যমে এক ও দুই ফসলি জমি অঞ্চল বিশেষে প্রায় চার ফসলি জমিতে পরিণত করা হয়েছে ফলে দেশে বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ২১৪%।
- সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশে কৃষি খাতের সম্ভাবনাকে ফলপ্রসূ করা যাবে।

উৎস: কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৫৬৩.
মরিচে চারা অবস্থায় ড্যাম্পিং অফ রোগ দমনের জন্য নিচের কোনটি দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে?
  1. প্রোভেক্স
  2. ম্যালাথিয়ন
  3. সুমিথিয়ন
  4. সাইপারমেথ্রিন
সঠিক উত্তর:
প্রোভেক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোভেক্স
ব্যাখ্যা
মরিচের রোগ দমন:
- মরিচে চারা অবস্থায় ড্যাম্পিং অফ রোগ হতে পারে।
- এ রোগ দমনের জন্য এক কেজি বীজ ৩ গ্রাম প্রোভেক্সের সাথে মিশিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে।
- বীজতলা শুকনা রাখতে হবে।
- মরিচ গাছ অনেক সময় আগা থেকে গোড়ার দিকে ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে মারা যায়। একে ডাইব্যাক রোগ বলে।
- এ রোগ দমনের জন্য ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হয়।
- হলুদ মোজাইক ভাইরাস রোগ দমনের জন্য আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
- রোগ প্রতিরোধী জাতের মরিচ চাষ করতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৬৪.
নিচের কোনটি সীডড্রিলের সাথে সম্পর্কিত নয়?
  1. এটি সারিতে বীজ বপন করার যন্ত্র
  2. বীজ সঠিক গভীরতায় বপন করা যায়
  3. মাটির ঢেলা ভেঙ্গে চূর্ণ করে
  4. বীজ বপণের পর মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়
সঠিক উত্তর:
মাটির ঢেলা ভেঙ্গে চূর্ণ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির ঢেলা ভেঙ্গে চূর্ণ করে
ব্যাখ্যা
সীডড্রিল:
এটি একটি বীজ বপন করার যন্ত্র।
এর মাধ্যমে ধান, পাট, গম, সরিষা, বার্লি, ভুট্টা ইত্যাদি বীজ সারিবদ্ধ ভাবে জমিতে বপন করা যায়।
বীজের প্রকার ভেদে বিভিন্ন ধরনের সীডড্রিল বা বীজ বপন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এ যন্ত্রের সাহায্যে সঠিক পরিমাণ বীজ সঠিক গভীরতায় বপন করা যায়
এটি বীজ বপন ছাড়াও মাটিকে আলোড়িত ও দৃঢ় করে।
এটি বপনকৃত বীজকে ঢেকে দেয় এবং মাটিকে একটু উঁচু করে রাখে।
অনেক সময় বীজ বপনের সাথে সাথে প্রয়োজনীয় সারও প্রয়োগ করা হয়।
এরূপ যন্ত্রকে সার-বীজ বপন যন্ত্র বলে।

উৎস: ফার্ম মেশিনারিজ, কৃষি শিক্ষা ব্যাচেলর (B.Ag.Ed) প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৫.
বস্ত্র উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল কোনটি?
  1. বেভারেজ ফসল
  2. নারকোটিক ফসল
  3. দানা ফসল
  4. আঁশ ফসল
সঠিক উত্তর:
আঁশ ফসল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁশ ফসল
ব্যাখ্যা
বস্ত্র:
- বস্ত্র উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল আঁশ ফসল।
- তুলা ও পাট আমাদের প্রধান আঁশ ফসল।
- পশুর চামড়া ও পশম দিয়েও বস্ত্র তৈরি হয়।
- আঁশ ফসল উৎপাদনে কৃষি ও কৃষকের বড় ভূমিকা রয়েছে।
- পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্য রক্ষায় উপযোগী বলে বিশ্বব্যাপী আঁশ ফসলের উপর মানুষ নির্ভরশীল হচ্ছে।
- আমাদের দেশে তুলা উৎপাদন এলাকা প্রতিবছর বেড়ে চলেছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৬৬.
ধান গাছের বাদামি দাগ একটি ___________ জনিত রোগের লক্ষণ
  1. ভাইরাস
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
দাগ:
- ফসলের পাতায়, কাণ্ডে বা ফলের গায়ে নানা ধরনের দাগ বা স্পট দেখা দেয়।
- দাগের রং কালো, হালকা বাদামি, গাঢ় বাদামি কিংবা দেখতে পানিতে ভেজার মতো হয়।
- ফসলের এসব দাগ বিভিন্ন রোগের কারণে হয়।
- যেমন- ধান গাছের বাদামি দাগ একটি ছত্রাকজনিত রোগের লক্ষণ

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৬৭.
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এর প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. রাজশাহী
  3. ময়মনসিংহ
  4. গাজীপুর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট:
- মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (SRDI) হচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ১৯৮৩ সালে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট নামে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে।
- এর প্রধান কার্যালয়: মৃত্তিকা ভবন, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকা।
- প্রতিষ্ঠান-এর প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন মহাপরিচালক।
- এ প্রতিষ্ঠানে ২টি উইং, ২টি বিভাগ, প্রশাসন, কার্টোগ্রাফী, ডাটা প্রসেসিং অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকেল এন্ড আইসিটি এবং পাবলিকেশন অ্যান্ড রেকর্ড শাখাসহ ৯টি শাখা, ৭টি বিভাগীয় কার্যালয়, ৩৩টি আঞ্চলিক  কার্যালয়, ৭টি ভিাগীয় গবেষণাগার, ১৬টি আঞ্চলিক গবেষণাগার এবং ২টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। 

⇒ এর উদ্দেশ্য যথাযথ এবং টেকসই ভূমি ও মৃত্তিকা (বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ) ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং সকলের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

উৎস: মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৫৬৮.
রবি মৌসুম এর সময়কাল কত?
  1. ভাদ্র থেকে বৈশাখ মাস
  2. আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস
  3. চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস
  4. আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস
সঠিক উত্তর:
আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস
ব্যাখ্যা
ফসলের মৌসুম:
- একটি ফসল বীজ বপন থেকে শুরু করে তার শারীরিক বৃদ্ধি ও ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য যে সময় নেয় তাকে ঐ ফসলের মৌসুম বলে।
- অর্থাৎ কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে সে ফসলের মৌসুম বলে।
- বাংলাদেশের জলবায়ুর উপর নির্ভর করে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল জন্মে।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারা বছরকে প্রধানত দুটি মৌসুমে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
ক. রবি মৌসুম
খ. খরিপ মৌসুম

ক. রবি মৌসুম:
- আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কে রবি মৌসুম বলে।
- রবি মৌসুমের প্রথম দিকে কিছু বৃষ্টিপাত হয়, তবে তা খুবই কম হয়ে থাকে।
- এ মৌসুমে তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত সবই কম হয়ে থাকে।

খ. খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে।
- খরিপ মৌসুমকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়; যথা- খরিপ-১ বা গ্রীষ্মকাল এবং খরিপ-২ বা বর্ষাকাল।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৬৯.
একটি আদর্শ বীজতলার মাপ কত?
  1. ১০ মিটার x ২ মিটার
  2. ৫ মিটার x ১ মিটার
  3. ৩ মিটার x ১ মিটার
  4. ৩ মিটার x ১.৫ মিটার
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার x ১ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ মিটার x ১ মিটার
ব্যাখ্যা
আদর্শ বীজতলা:
- একটি আদর্শ বীজতলার পরিমান ৩ মি. দৈর্ঘ্য এবং ১ মি. প্রস্থ ।
- চারাগাছের পরিচর্যার সুবিধার জন্য বীজতলা প্রস্থে ১ মিটার রাখা হয়।

উৎস: কৃষি প্রযুক্তি হাতবই, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
৫৭০.
মাশরুম আসলে কী?
  1. এক ধরনের শৈবাল
  2. এক ধরনের ছত্রাক
  3. এক ধরনের ফার্ণ
  4. এক ধরনের মস
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের ছত্রাক
ব্যাখ্যা
মাশরুম: 
- ছত্রাক ফসলের অনেক রোগের জন্য দায়ী।
- কিন্তু সব ছত্রাক রোগ সৃষ্টি করে না।
- অনেক ছত্রাক রয়েছে যারা আমাদের জন্য উপকারী।
- মাশরুম এমন এক ধরনের ছত্রাক যা সম্পূর্ণ খাওয়ার উপযোগী, পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন।
- আসলে মাশরুম এক ধরনের মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ যা ভক্ষণযোগ্য।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৭১.
মাটিতে প্রধানত কত ধরনের মৃত্তিকা কণা দেখা যায়?
  1. ১ ধরনের
  2. ২ ধরনের
  3. ৩ ধরনের
  4. ৪ ধরনের
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকা কণা (Soil particles or Soil seperates): 
- ২ মিলিমিটারের কম ব্যাস বিশিষ্ট খনিজ কণাকে মৃত্তিকা কণা বলে।
- মাটিতে প্রধানত তিন ধরনের মৃত্তিকা কণা দেখা যায়
- এগুলো হলো বালি, পলি ও কর্দম কণা।
- মৃত্তিকা খনিজ (অজৈব) অংশ থেকে মৃত্তিকা কণার সৃষ্টি।
- যেমন: কোয়ার্টজ (SiO₂) থেকে বালি কণা, ফেল্ডস্পার থেকে পলিকণার সৃষ্টি ইত্যাদি।

উৎস: SOIL SCEINCE, BAgEd, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭২.
নিচের কোনটি স্বাধীন নাইট্রোজেন-ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ?
  1. Azotobacter
  2. Rhizobium
  3. Frankia
  4. Azospirillum
সঠিক উত্তর:
Azotobacter
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Azotobacter
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন-ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়া:
- নাইট্রোজেন-ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়া হলো এমন ক্ষুদ্রজীব, যেগুলো বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেনকে গাছের জন্য ব্যবহারযোগ্য নাইট্রোজেন যৌগে রূপান্তর করতে সক্ষম।
- নাইট্রোজেন চক্রে এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- নাইট্রোজেন ফিক্স করার প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ এরা সম্পন্ন করে।

নাইট্রোজেন-ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়ার প্রকারভেদ:
১. স্বাধীন ব্যাকটেরিয়া (নন-সিম্বায়োটিক):
উদাহরণ: Azotobacter, Beijerinckia, Clostridium।

২. মিথোজীবী ব্যাকটেরিয়া (সিম্বায়োটিক):
উদাহরণ:
Rhizobium: লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদের সঙ্গে (যেমন, মটর, শিম)।
Frankia: নির্দিষ্ট ডাইকোট উদ্ভিদের সঙ্গে।
Azospirillum: সিরিয়াল জাতীয় ঘাসের সঙ্গে।

উৎস: Britannica.
৫৭৩.
Magnaporthe oryzae Triticum (MoT) নামক ছত্রাকের আক্রমণে কোন রোগ হয়ে থাকে?
  1. ধানের খোল পচা রোগ
  2. পাটের ব্ল্যাক ব্যান্ড রোগ
  3. গমের ব্লাস্ট রোগ
  4. ধানের কান্ড পচা রোগ
সঠিক উত্তর:
গমের ব্লাস্ট রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গমের ব্লাস্ট রোগ
ব্যাখ্যা
গমের ব্লাস্ট রোগ (Wheat Blast):
- Magnaporthe oryzae Triticum (MoT) নামক এক ধরনের ছত্রাক এর আক্রমণে গমের ব্লাস্ট রোগ হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, গম চাষের ব্লাস্ট-সংবেদনশীল এলাকা প্রায় ৬৫%।
- ২০১৬ সালে, বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, ভোলা এবং দক্ষিণের অন্যান্য জেলায় হঠাৎ করে গমের ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়।
- ব্রাজিল থেকে এ রোগ বাংলাদেশে আসে।

ব্লাস্ট রোগের লক্ষণ:
ক) ব্লিচড স্পাইকস এবং স্পাইকের গোড়ায় কালচে ধূসর বর্ণের দাগ (গমের ব্লাস্টের সাধারণ লক্ষণ)
খ) গমের ব্লাস্টের প্যাচ
গ) পাতায় চোখের আকৃতির গাঢ় ধূসর দাগ
ঘ) গাঢ় ধূসর চোখের আকৃতির ক্ষত
ঙ) ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত গমের বীজ
চ) জীবাণু

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS)
৫৭৪.
সয়াবিন ফসলে কোন পোকার আক্রমন বেশি দেখা যায়?
  1. বিছাপোকা
  2. কাটালে পোকা
  3. লেদা পোকা
  4. গান্ধী পোকা
সঠিক উত্তর:
বিছাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিছাপোকা
ব্যাখ্যা
• সয়াবিন ফসল:
 সয়াবিনের ইংরেজি নাম হলো Soybean এবং বৈজ্ঞানিক নাম হলো Glycine max.
- এ ফসল খুব বেশি বা খুব কম তাপমাত্রা কোনটিই সহ্য করতে পারে না।
- দোআঁশ, বেলে দোআঁশ ও এটেল দোআঁশ মাটি সয়াবিন চাষের জন্য উত্তম।
- ব্রাগ, ডেভিস, সোহাগ ইত্যাদি এর অনুমোদিত জাত।
- সয়াবিন ফসলে বিছাপোকা ও কান্ডের মাছি পোকার আক্রমণ দেখা যায়।
- বিছাপোকার মথের ডিম ফোটার পর প্রথম অবস্থায় শুককীটগুলো দলবদ্ধভাবে পাতার নিচের দিকে অবস্থান করে এবং পাতা খেয়ে ঝাঁঝড়া করে ফেলে।
- এ অবস্থায় আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে বিছাপোকা মেরে ফেলতে হয়।
- কান্ডের মাছি পোকা কান্ড ছিদ্র করে ভিতরের নরম অংশ খায়।
- সেজন্য আক্রান্ত অংশ বা সম্পূর্ণ গাছ মরে যায়।
- অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করে উভয় পোকাই দমন করা সম্ভব।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৫.
কোন পুকুরে রেণু পোনা ছাড়া হয়?
  1. আঁতুড় পুকুর
  2. লালন পুকুর
  3. মজুদ পুকুর
  4. মৌসুমী পুকুর
সঠিক উত্তর:
আঁতুড় পুকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঁতুড় পুকুর
ব্যাখ্যা
পুকুরের প্রকারভেদ:
মাছ চাষের পুকুরকে পুকুরের আয়তন, পানি ধারণ ক্ষমতা পানির স্থায়িত্ব এবং বিভিন্ন আকারের মাছ প্রতিপালনের উপর ভিত্তি করে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়।

১। পানির স্থায়িত্বের উপর ভিত্তি করে পুকুরের শ্রেণি বিন্যাস:
ক. স্থায়ী পুকুর এবং
খ. অস্থায়ী পুকুর

ক. স্থায়ী পুকুর:
- এ ধরনের পুকুর অধিকতর গভীর হয় এবং এতে সারা বছর পানি থাকে।
- এদের মাটি সবসময় পানি ধরে রাখতে পারে। 

খ. অস্থায়ী বা মৌসুমী পুকুর
- এ ধরনের পুকুর অগভীর এবং বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় (৩-৮ মাস) পানি থাকে।
- বেলে মাটির পুকুর সাধারণত অস্থায়ী হয় ফলে পানি বেশি দিন ধরে রাখতে পারে না।

২। আকারের উপর ভিত্তি করে শ্রেণি বিন্যাস:
বিভিন্ন আকারের মাছ প্রতি পালনের জন্য ৩ ধরনের পুকুরের প্রয়োজন হয়।

ক. আঁতুড় পুকুর:
- যে পুকুরে রেণু পোনা ছেড়ে ধানী পোনা পর্যন্ত বড় করা হয় তাদেরকে আঁতুড় পুকুর বলে।
- সাধারণভাবে এ ধরনের পুকুরের আয়তন ১০-১৭ শতাংশ পর্যন্ত হয়।

খ. লালন পুকুর:
- যে পুকুরে ধানী পোনা ছেড়ে চারা পোনা বা আঙ্গুলে পোনা তৈরি করা হয় তাকে লালন পুকুর বলে।
- লালন পুকুরের আয়তন ২০-১০০ শতাংশ এবং গভীরতা ১.৫-২.০ মিটার হয়ে থাকে।

গ. মজুদ পুকুর:
- যে পুকুরে ধানী বা আঙ্গুলে পোনা ছেড়ে বড় মাছে পরিণত করা হয় তাকে মজুদ পুকুর বলে।
- এ ধরনের পুকুরের আয়তন ৩০ শতাংশের উপরে এবং গভীরতা ২-৩ মিটার হয়।
- মাছ চাষের জন্য এ ধরনের পুকুরই প্রধান পুকুর হিসেবে পরিচিত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৬.
কৃষি সম্প্রসারণ কোন ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করে?
  1. আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারণ শিক্ষাদান পদ্ধতি: 
- মানুষ সাধারনত ৩টি মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করে। যথা-
i) অনানুষ্ঠানিক (Informal Education),
ii) আনুষ্ঠানিক (Formal Education) এবং
iii) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা (Non-formal Education)।

- পরিবারের লোকজন, পাড়াপ্রতিবেশী এবং পরিবেশ থেকে জেনে বা মনের অজান্তে যে শিক্ষা গ্রহন করা হয় তাকে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা বলে।
- স্কুল, মাদ্রাসা এবং কলেজের মাধ্যমে যে শিক্ষা দেয়া হয় সেটাকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বলে।
- এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী এবং অন্যান্য সরকারী ও বেসরকারী মাধ্যম যথা রেডিও, টেলিভিশন, প্রদর্শনী, পোষ্ঠার, বুলেটিন, সংবাদপত্র ইত্যাদির মাধ্যমে যে শিক্ষা দেয়া হয় তাকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বলে।
- এই উপানুষ্ঠানিক বা Non-formal Education কেই সাধারনত সম্প্রসারণ শিক্ষা বলা হয়।
- সম্প্রসারণ শিক্ষা বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা মূলত: কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীর মাধ্যমে দেয়া হয়ে থাকে।
- একজন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী সর্বদাই কৃষক সমাজে নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং ধ্যান ধারনা বিস্তার ঘটানোর জন্য সচেষ্ট থাকে।
- কিন্তু তবুও কৃষক সবসময় একইভাবে বা একই মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহন করে না।
- যে মাধ্যমগুলো কৃষকরা বেশি বিশ্বাস করে এবং ব্যবহার করে সে মাধ্যমগুলোর মাধ্যমেই কৃষকদেরকে শিক্ষা দেওয়া উচিত।
- সম্প্রসারণ কর্মী একজন প্রশিক্ষক।
- সম্প্রসারণ কাজের প্রধান প্রধান দর্শনগুলো মনে রেখে তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা উচিত।
- যেমন- সম্প্রসারণ কর্মীর মনে রাখতে হবে যে খুব বেশি বিষয় অল্প সময়ে কৃষকদের শিখানো বা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি তাদের মাঝে বিস্তার ঘটানো সম্ভব নয়।

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ, BAged প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৭.
শস্যজাত ফসলের বীজ সংরক্ষণের জন্য বীজের আর্দ্রতা কত ভাগ প্রয়োজন হয়?
  1. ১০%
  2. ১৩%
  3. ১৭%
  4. ২৫%
সঠিক উত্তর:
১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০%
ব্যাখ্যা
বীজ সংরক্ষণ:
- বীজ যদি অধিক আর্দ্রতায় রাখা হয় তাহলে বীজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কারণ এর ফলে বীজের শ্বসন বৃদ্ধি পায়, রোগ বালাই ও পোকামাকড় এর আক্রমণ বাড়ে। - অনেক সময় মোল্ড দেখা দেয়।
- যেহেতু বীজের জীবনকাল আর্দ্রতার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, তাই বীজ সংরক্ষণের জন্য বীজ শুকানো প্রয়োজন।
- শস্যজাত ফসলের বীজ সংরক্ষণের জন্য ১০% আর্দ্রতা খুবই উপকারী।
- তবে ৪% বা এর নিচের আর্দ্রতা বীজের অঙ্কুরোদ্গমের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অন্যদিকে,
- বীজের আর্দ্রতা প্রতি ১% কমাতে বীজের জীবনকাল দ্বিগুণ হয়।

উৎস - Seed Science and Technology, TNAU AGRITECH website।
৫৭৮.
দেশের মোট ব্যবহৃত ধান বীজের অন্তত কত শতাংশ চাষিরা নিজেরাই সংরক্ষণ ও ব্যবহার করে?
  1. ৯৫%
  2. ৮৫%
  3. ৭৫%
  4. ৬৫%
সঠিক উত্তর:
৮৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৫%
ব্যাখ্যা
- ঐতিহ্যগতভাবে ধান বীজের জন্য বাংলাদেশের চাষিদের বীজ ব্যবসায়ীদের মুখাপেক্ষী না হলেও চলে
- কেননা দেশের মোট ব্যবহৃত ধান বীজের অন্তত ৮৫% চাষিরা নিজেরাই সংরক্ষণ ও ব্যবহার করে
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট Bangladesh Rice Research Institute (BRRI) এ পর্যন্ত যতগুলো উচ্চ ফলনশীল ধান জাত High Yielding Variety (HYV) উদ্ভাবন করেছে সেগুলোর বীজ সঠিক মাঠ ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব ধানক্ষেতেই উৎপাদন করা যায়। 
- চাষিরা পরবর্তী ফসলের জন্য বীজ সেখান থেকে সংরক্ষণ করতে পারেন। অর্থাৎ ধান বীজের জন্য বাংলাদেশের চাষিদের এক ধরনের সার্বভৌমত্ব রয়েছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৭৯.
কোন জাতকে ব্রি ধান২৯ এর একটি পরিপূরক জাত হিসাবে নির্বাচন করা হয়?
  1. ব্রি ধান৮৬
  2. ব্রি ধান৮৮
  3. ব্রি ধান৮৯
  4. ব্রি ধান৮১
সঠিক উত্তর:
ব্রি ধান৮৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রি ধান৮৯
ব্যাখ্যা
জাত পরিচিতি - ব্রি ধান৮৯: 
- ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জীবপ্রযুক্তি বিভাগে ব্রি ধান২৯ এর সাথে বন্য ধান Oryza rufipogon (IRGC103404) এর সংকরায়ণ করা হয়।
- পরবর্তীতে দুই বার ব্যাকক্রসিং করার পর পেডিগ্রি পদ্ধতিতে হোমোজাইগাস কৌলিক সারি নির্বাচন করে এই সারিটি উদ্ভাবন করা হয়। 
- কৃষকের মাঠে ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান২৯ এর একটি পরিপূরক জাত হিসাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।
- সারিটি বোরো মৌসুমে কৃষকের মাঠে চাষাবাদের জন্য জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০১৮ সালে ব্রি ধান৮৯ জাত হিসাবে ছাড় করন করা হয়।

ব্রি ধান৮৯ বৈশিষ্ট্য:
- বোরো ধানের জাত 
- পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৬ সেঃ মিঃ।
- এ জাতের কান্ড শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগ পাতা চওড়া।
- ধানের ছড়া লম্বা এবং পাকার সময় কান্ড ও পাতা সবুজ থাকে।
- এর জীবনকাল ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে ৩-৫ দিন আগাম।
- ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪.৪ গ্রাম।
- এ ধানের অ্যামাইলোজ ২৮.৫%।

এ জাতের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা: 
- ব্রি ধান৮৯ এর জীবনকাল ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে ৩-৫ দিন কম এবং ফলন বেশী।
- ফলন বেশী ও জীবনকাল কম হওয়ায় যেসব এলাকায় ব্রি ধান ২৯ চাষাবাদ হয় সেখানে সহজেই ব্রি ধান ৮৯ চাষ করা যাবে।
- জীবনকাল: এ জাতের জীবন কাল ১৫৪-১৫৮ দিন।
- ফলন: প্রতি হেক্টরে গড়ে ৮.০ টন উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে প্রতি ৯.৭ টন/হেক্টর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

উৎস: Bangladesh Rice Knowledge Bank.
৫৮০.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য?
  1. অ্যাসিটিক এসিড
  2. সরবেট
  3. সরিষার তেল
  4. বেনজোয়েট
সঠিক উত্তর:
সরিষার তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরিষার তেল
ব্যাখ্যা
সংরক্ষকদ্রব্য (Preservatives বা প্রিজারভেটিভস):
- খাদ্য পচে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বহুদিন যাবৎ অবিকৃত রাখার জন্য যেসব দ্রব্য ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে খাদ্য সংরক্ষক (Food Preservatives) দ্রব্য বলে।
খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য (Food Preservatives) দু প্রকার। যথা-
i) প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য (Natural Food Preservatives)
ii) কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য (Artificial Food Preservatives)।

i) প্রাকৃতিক সংরক্ষক দ্রব্য (Natural Food Preservatives):
- প্রকৃতি থেকে সরাসরি প্রাপ্ত কিছু কিছু রাসায়নিক দ্রব্য রয়েছে সেগুলো খাদ্য সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এগুলোকে প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক (Natural Food Preservatives) দ্রব্য বলে।
- যেমন- সরিষার তেল, চিনির দ্রবণ, খাদ্য লবণের দ্রবণ প্রভৃতি।

ii) কৃত্রিম সংরক্ষক দ্রব্য (Artificial Food Preservatives):
- যেসব কৃত্রিম রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্য সংরক্ষণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেগুলোকে কৃত্রিম খাদ্য সংরক্ষকদ্রব্য (Artificial Food Preservatives) বলে।
- যেমন- জৈব এসিড ও এর লবণ, প্রোপায়োনেট, বেনজোয়েট, সরবেট, অ্যাসিটিক এসিড প্রভৃতি।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮১.
কোনটি উদ্ভিদের হাইপার প্লাষ্টিক লক্ষণ?
  1. ক্যাংকার (Canker)
  2. ব্লচিং (Blotching)
  3. রোজেটিং (Rosetting)
  4. স্ক্যাব (Scab)
সঠিক উত্তর:
স্ক্যাব (Scab)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ক্যাব (Scab)
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের হাইপারপ্লাস্টিক (Hyperplastic) লক্ষণ হলো স্ক্যাব (Scab)।

হাইপারপ্লাস্টিক লক্ষণ (Hyperplastic symptom):
- অস্বাভাবিক কোষ বিভক্তির ফলে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অথবা কোষের আকার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে গাছের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠাকে হাইপারপ্লাস্টিক লক্ষণ বলে।
- এখানে কয়েকটি হাইপারপ্লাস্টিক লক্ষণের বর্ণনা দেয়া হয়েছে।

• স্ক্যাব (Scab): এ রোগে গাছের ত্বক ফেটে মামড়ি পড়ার মতো হয়ে খসখসে হয়। যথা-Streptomyces জনিত আলুর পাউডারী স্ক্যাব রোগ।

• শিকড় গিঁট (Witches broom): আক্রান্ত অংশ গলের ন্যায় ফুলে ওঠে বা স্ফীত হয়। তবে এখানে কোষের দ্রুত বিভক্তির ফলে ফুলে ওঠে না, আক্রান্ত কোষটিই অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে স্ফীত হয়ে গল সৃষ্টি করে। যথা- Meloidogyne নামক কৃমির আক্রমণে অনেক গাছের শিকড়ে এ ধরনের লক্ষণ সৃষ্টি হয়। 

• উইচেস ব্রম বা ডাইনির ঝাঁটা: এ রোগে কান্ডের আগায় ঘন ঘন উর্দ্ধমুখী শাখা উৎপন্ন হয়ে ঝাঁটার আকার ধারণ করে। এসব শাখার গায়ে ছোট ছোট স্ফীত ধরনের পাতাও থাকতে পারে। আম গাছে এ ধরনের লক্ষণ হতে দেখা যায়।

• ফ্যাসিয়েশন: পাশাপাশি অঙ্গসমূহ একত্রে বৃদ্ধি পেয়ে চ্যাপটা আকার ধারণ করাকে ফ্যাসিয়েশন বলে। যথা- মাইকোপ্লাজমাজনিত কলাগাছের গুচ্ছ মাথা রোগ।

• পাতা গুটানো: অনেক সময় পাতার উপর তলের তুলনায় নিচের তলের বৃদ্ধি বেশি হওয়ায় পাতা কিনারা বরাবর উপরের দিকে গুটিয়ে যায়। পাতার এ ধরনের গুটিয়ে যাওয়া লক্ষণকে লিফরোল বলে। যথা- টমেটো গাছের লিফরোল রোগ। 

উৎস: ফসলের পোকামাকড় ও ইদুর দমন, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮২.
দানা শস্যের বীজের আর্দ্রতা কত রাখা উত্তম?
  1. ১-৪%
  2. ৮-১০%
  3. ১২-১৫%
  4. ১২-২০%
সঠিক উত্তর:
৮-১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮-১০%
ব্যাখ্যা
বীজের আর্দ্রতা:
- নমুনা বীজের মধ্যে শতকরা কতো ভাগ পানি আছে, তাই বীজের আর্দ্রতা।
- বীজের আর্দ্রতা বীজকে বাঁচিয়ে রাখে।
- দানা শস্যের বীজের আর্দ্রতা ৮-১০% রাখা উত্তম।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫৮৩.
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫১ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৭১ সালে
  4. ১৯৬৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (BJRI):
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) দেশের অন্যতম প্রাচীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- পাটের উন্নয়ন সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১৯৫১ সালে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে এ্যাক্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)।
- বর্তমানে বিজেআরআই পাট ও পাট জাতীয় আঁশ ফসলের কৃষি গবেষণা, কারিগরী গবেষণা এবং পাট হতে টেক্সটাইল পণ্য উদ্ভাবন সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালনা করে থাকে।
- রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র, শেরে বাংলা নগরের মানিক মিয়া এভিনিউতে বিজেআরআই এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
- বিজেআরআইতে একটি জিন ব্যাংকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহিত পাট ও সমগোত্রীয় আঁশ ফসলের প্রায় ৬০০০ জার্মপ্লাজম সংরক্ষিত আছে।

উৎস: কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট। 
৫৮৪.
ফিউমিগেশন কীভাবে রোগজীবাণু ধ্বংস করে?
  1. পাকস্থলীর বিষক্রিয়ার মাধ্যমে
  2. স্পর্শ বিষক্রিয়ার মাধ্যমে
  3. সিস্টেমিক বিষক্রিয়ার মাধ্যমে
  4. বিষাক্ত ধোঁয়া উৎপাদনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বিষাক্ত ধোঁয়া উৎপাদনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাক্ত ধোঁয়া উৎপাদনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
ফিউমিগেশন:
- এটি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংস করার একটি পদ্ধতি।
- এই ক্ষেত্রে ১০০ ঘনফুট জায়গার জন্য ৭০ সিসি ফরমালিন ও ৩৫ গ্রাম পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট ব্যবহার করা হয়।
- এই মিশ্রণটি মাটির পাত্রে রেখে ব্যবহার করা হয়।
- রাসায়নিক মিশ্রণটি অত্যন্ত বিষাক্ত ধোঁয়া উৎপাদনের মাধ্যমে রোগজীবাণু ধ্বংস করে।
- তাই ব্যবহারের সময় দরজা জানালা বন্ধ করে দ্রুত কক্ষ ত্যাগ করা উচিত।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫৮৫.
পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাবে -
  1. সূর্যালোকের অভাব হয়
  2. মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে
  3. মাছ খাবি খায়
  4. সবগুলোই ঘটে
সঠিক উত্তর:
মাছ খাবি খায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ খাবি খায়
ব্যাখ্যা
পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন:
- জলজ উদ্ভিদ যে অক্সিজেন ছাড়ে তা পানিতে দ্রবীভূত হয়।
- বাতাস থেকেও কিছু অক্সিজেন সরাসরি পানিতে মিশে।
- পুকুরে অবস্থিত মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়।
- অক্সিজেনের অভাবে মাছ দলবদ্ধভাবে পানির উপর ভেসে বেড়ায়। একে মাছের খাবি খাওয়া বলে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫৮৬.
ধানের টুংরো রোগ ছড়ায় কোন পোকা?
  1. সবুজ পাতা ফড়িং
  2. বাদামী গাছ ফড়িং
  3. অ্যাফিড পোকা
  4. পামরি পোকা
সঠিক উত্তর:
সবুজ পাতা ফড়িং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ পাতা ফড়িং
ব্যাখ্যা
ধানের টুংরো রোগ:
- এটি ভাইরাস জনিত রোগ।
- চারা রোপণের এক মাসের মধ্যে টুংরো রোগ দেখা দিতে পারে।
- আক্রমণের প্রথমে পাতার রং হালকা সবুজ, পরে আস্তে আস্তে হলদে হয়ে যায়।
- গাছ টান দিলে সহজেই উঠে আসে।
- কুশি হয় না।
- প্রথমে দুই-একটি গোছায় এ রোগটি দেখা যায়, পরে ধীরে ধীরে আশেপাশের গোছায় ছড়িয়ে পড়ে।
- সবুজ পাতা ফড়িং এ রোগ ছাড়ায়, তাই পাতা ফড়িং দমন করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৮৭.
নিচের কোনটি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি?
  1. জেলী তৈরি
  2. লবণের দ্রবণে সংরক্ষণ
  3. ক্যানিং
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ:
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল দিয়ে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে ১-৩ বছর পর্যন্ত ফল সংরক্ষণ করা যায়।
- প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে কখনও কখনও ফলের স্বাদ ও গন্ধের তেমন পরিবর্তন হয় না আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের খাদ্য তৈরি করা হয়।

ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি:
ক) ক্যানিং বা টিনজাত করে সংরক্ষণ (Canning):
- আম, আনারস, লিচু, কমলা ইত্যাদি ফলকে টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়।

খ) তাপ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সাহায্যে সংরক্ষণ:
- উচ্চতাপমাত্রায় (১২০-১৫০° সে.) ফলের ভেতরের রোগ জীবাণু মারা যায় ও ফলের আভ্যন্তরীণ বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় খাদ্য মানের তেমন পরিবর্তন হয় না, তবে ভিটামিন বি ও সি নষ্ট হয়ে যায়।
- এভাবে উচ্চতাপ প্রয়োগ করে ফলকে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।

গ) চিনির দ্রবণে ফল সংরক্ষণ:
- চিনির ঘন রসে বিভিন্ন ফল যেমন আনারস, লিচু, পীচ, আম, আঙ্গুর, মাল্টা, কমলা, চেরি, পেঁপে, নাসপাতি ইত্যাদি ফল সংরক্ষণ করা যায়।
- ফল সংরক্ষণের জন্য চিনির দ্রবণের ঘনত্ব কমপক্ষে ৬০% হতে হবে।
- ছোট ছোট ফল যেমন, লিচু, চেরী, কমলার কোয়া ইত্যাদি আস্ত সংরক্ষণ করা হয়।
- অন্যান্য ফল সংরক্ষণের আগে সুবিধামত ছোট টুকরা করে পাতলা রসের সাথে জ্বাল দিয়ে সিরাপের ঘনত্ব ৬০-৭০ করা হয়।

ঘ) লবণের দ্রবণে সংরক্ষণ:
- টকস্বাদ যুক্ত ফলকে সাধারণত এই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।
- জলপাই, আমলকী, লেবু, কাঁচা আম ইত্যাদি ফল আস্ত অথবা ছোট টুকরা করে লবণ পানিতে সেদ্ধ করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত লবণ দ্রবণের ঘনত্ব ২০-২৫% না হয়।
- পরে ফলগুলো লবণ পানি থেকে উঠিয়ে বায়ুরোধী টিনে বা কাঁচের পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।

ঙ) জৈব অম্ল ব্যবহার করে:
- সিরকায় ৪-৬% এসিটিক এসিড থাকে যাতে জীবাণু বাঁচতে পারে না তাই ফল সংরক্ষনের জন্য সিরকা বা এসিটিক এসিড ব্যবহার করা যায়।

চ) রস হিসেবে ফল সংরক্ষণ:
- যে কোন রসালো ফল থেকে রস বের করে তা সংরক্ষণ করা যায়।
- ফলে রস দ্রুত স্টেরিলাইজেশন করে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।
- এর সাথে প্রিজারভেটিভ যোগ করলে অনেকদিন ভাল থাকবে।
- আম, আনারস, লিচু, কমলা, আপেল ইত্যাদি ফল রস করে সংরক্ষণ করা যায়।

ছ) জেলী তৈরি করে সংরক্ষণ:
- ফলের রস থেকে জেলী তৈরি করা হয়।
- চিনি ও পেকটিন ব্যবহার করা হয়।
- পেকটিন পালপ জমাট বাধতে সাহায্য করে।
- পেয়ারাতে পেকটিনের পরিমাণ বেশি বলে এতে বাড়তি পেকটিন যোগ করতে হয় না।
- পেয়ারা, কমলা, আনারস, আম, পেঁপে, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফল দিয়ে জেলি তৈরি করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৮.
বন্যাকবলিত এলাকার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কোন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে?
  1. ব্রি ধান৫৬
  2. ব্রি ধান৭৯
  3. ব্রি ধান৫৭
  4. ব্রি ধান৫৪
সঠিক উত্তর:
ব্রি ধান৭৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রি ধান৭৯
ব্যাখ্যা
- বন্যা, খরা, লবণাক্ততা বাংলাদেশের প্রধান কৃষি সমস্যা। 
- বন্যার শেষে ধান চাষের জন্য বিলম্ব জাত হিসেবে ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট ব্রিধান ২২ ব্রি ধান২৩ ব্রি ধান-৩৭ এবং ব্রি ধান-৩৮ নামে চারটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।
- এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ব্রি ধান-১১, ব্রি ধান-১২, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২ ও ব্রি ধান-৭৯ নামের আরও পাঁচটি জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে।
- এই পাঁচ জাতের ধান পানির নিচে ১০-১৫ দিন টিকে থাকতে পারে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৮৯.
রতন, লালিমা, ঝুমকা কোন ফসলের জাত?
  1. আম
  2. কলা
  3. আনারস
  4. টমেটো
সঠিক উত্তর:
টমেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমেটো
ব্যাখ্যা
টমেটোর জাত:
- টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি। তবে বর্তমানে গ্রীষ্মেও চাষ করা যায়।
- বাংলাদেশে টমেটোর অনেক অনুমোদিত জাত রয়েছে।
- শীতকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে বারি টমেটো-২ (রতন), বারি টমেটো-৯ (লালিমা), বারি টমেটো-১০ (অনুপমা), বিনা টমেটো-৩ এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা জাত মারগ্লোব, রুমা ভিএফ, অক্সহার্ট ইত্যাদি।
- গ্রীষ্মকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে-বারি টমেটো-৪, বারি টমেটো-৫, বারি টমেটো-৯ (লালিমা), বারি টমেটো-১০ (অনুপমা), বারি টমেটো-১১ (ঝুমকা), বারি হাইব্রিড টমেটো-৩, বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৯০.
কৃষি বনায়নে গাছের সাথে চারণভূমির সমন্বিত পদ্ধতিকে কী বলা হয়?
  1. সিলভিপ্যাসচার
  2. সিলভিএগ্রোপ্যাসচারাল
  3. এগ্রিসিলভিকালচারাল
  4. এগ্রিসিলভিপ্যাসচারাল
সঠিক উত্তর:
সিলভিপ্যাসচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভিপ্যাসচার
ব্যাখ্যা
সিলভিপ্যাসচার:
- একই জমিতে গবাদি পশু এবং চারণভূমির সাথে গাছকে একত্রিত করে।
- গাছগুলি কাঠ, ফল, পশুখাদ্য এবং সেইসাথে গবাদি পশুর জন্য ছায়া এবং আশ্রয় দিতে পারে।
- গ্রীষ্মের গরম রোদ, শীতের ঠান্ডা বাতাস বা বৃষ্টিপাত থেকে প্রাণীদের কিছুটা রক্ষা করতে পারে।

উৎস: USDA Website
৫৯১.
উদ্ভিদ মাটি থেকে কোন পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে না?
  1. নাইট্রোজেন
  2. সালফার
  3. কার্বন
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের উৎস:
- মাটি: কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন ব্যতীত বাকি ১৪টি পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ মাটি থেকে পেয়ে থাকে।
- বায়ু: উদ্ভিদ কার্বন ও অক্সিজেন বায়ু থেকে গ্রহণ করে।
- পানি: উদ্ভিদ হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পানি থেকে পায়। এছাড়াও উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত খনিজ পদার্থও গ্রহণ করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫৯২.
মাটির উর্বরতা বজায় রেখে এক খণ্ড জমিতে শস্য ঋতুর বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ফসল উৎপাদন করার নাম কী?
  1. শস্য বিন্যাস
  2. সমন্বিত চাষ
  3. শস্যপর্যায়
  4. শস্যের একমুখীকরণ
সঠিক উত্তর:
শস্যপর্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শস্যপর্যায়
ব্যাখ্যা
শস্যপর্যায়ের ধারণা:
- শস্যপর্যায় একটি উন্নত কৃষিপ্রযুক্তি।
- এর দ্বারা মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে, ফসল ভালো হয়, অধিক ফলন হয়। রোগ-পোকা কম হয় এবং সারের কার্যকারিতা ভালো হয়।
- প্রযুক্তি হিসেবে শস্যপর্যায়ের ব্যবহার সব দেশেই প্রচলিত।
- মাটির উর্বরতা বজায় রেখে এক খণ্ড জমিতে শস্য ঋতুর বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ফসল উৎপাদন করার নাম শস্যপর্যায়।
- অর্থাৎ একই ধরনের ফসল একই জমিতে বার বার উৎপাদন না করে অন্য জাতের ফসল উৎপাদন করাই হচ্ছে শস্যপর্যায়।
- যেমন- গভীরমূলী ফসল উৎপাদনের পর অগভীরমূলী জাতীয় ফসলের আবাদ করা উচিত।
- ফলে পোকা-মাকড় ও রোগ-পোকার উপদ্রব কম হয় এবং মাটির বিভিন্ন গভীরতা থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ সম্ভব হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৯৩.
বিন্দু, চল্লিশা, ধানী, বাংলা লঙ্কা কীসের জাত?
  1. পেঁয়াজ
  2. মরিচ
  3. লবঙ্গ
  4. ধান
সঠিক উত্তর:
মরিচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরিচ
ব্যাখ্যা
মরিচের জাত:
- বাংলাদেশে মরিচ একটি মসলা ফসল।
- ঝালের জন্য কাঁচা ও পাকা মরিচ ব্যবহার করা হয়।
- কাঁচা মরিচে ভিটামিন 'সি' বেশি থাকে।
- বর্তমানে ঝালহীন এক ধরনের মরিচও পাওয়া যায়। একে কেপসিকাম মরিচ বলে। এই মরিচ সালাদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় মরিচের অনেক জাত ছড়িয়ে রয়েছে।
- যেমন: বিন্দু, চল্লিশা, ধানী, উবদা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া ইত্যাদি।
- এ ছাড়া বাংলা লঙ্কা (বারি মরিচ-১) নামের অনুমোদিত জাতটি সারা বছর চাষের উপযোগী। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৯৪.
মাটি প্রধানত কয়টি উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মাটির গঠন:
- মাটি একটি প্রাকৃতিক বস্তু এবং মিশ্র পদার্থ।
- মাটি হলো:
(১) প্রাকৃতিক বস্তু, যা খনিজ ও জৈব পদার্থের সমন্বয়ে ঘটিত;
(২) ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে উপরের স্তর, যা উদ্ভিদকে অবলম্বন দেয়;
(৩) বিভিন্ন পুরুত্ববিশিষ্ট নানা স্তর দ্বারা গঠিত যার প্রতিটি স্তরের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক ধর্ম বিভিন্ন।

মাটির গঠন উপাদান:
- মাটি প্রধানত ৪টি উপাদান দ্বারা গঠিত। উপাদানগুলো হলো-
(১) অজৈব পদার্থ বা খনিজ পদার্থ,
(২) জৈব পদার্থ,
(৩) পানি ও
(৪) বায়ু।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৯৫.
স্টেম কাটিং এ শিকড় গজানোর জন্য কোন হরমোন ব্যবহার করা হয়?
  1. জিবেরেলিন
  2. অক্সিন
  3. এবসিসিক এসিড
  4. ইথানল
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিন
ব্যাখ্যা
অক্সিন:
- এপিক্যাল ডমিনেন্স
- রুটের বৃদ্ধি ও ডেভেলপমেন্ট ঘটায়
- স্টেম কাটিং এ শিকড় গজানোর জন্য অক্সিন হরমোন ব্যবহার করা হয়।

উৎস: i) Plant Cell Technology
ii) The effects of exogenous hormones on rooting process and the activities of key enzymes of Malus hupehensis stem cuttings, Journal Plos One.
৫৯৬.
সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ৩০টি
  2. ২৯টি
  3. ২৮টি
  4. ২০টি
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা
মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে কৃষি পরিবেশ অঞ্চল: 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিন্নতা রয়েছে।
- এ ভিন্নতার কারণেই এক এক অঞ্চলে এক এক রকম ফসল ভালো জন্মে।
- মাটি, পানি ও জলবায়ুর ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।
- এ শ্রেণিভাগ মাটির ধরন, উর্বরতা, ফসল জন্মানোর প্রকৃতি, জমিতে বন্যার সময় পানির উচ্চতা, এলাকাভেদে ফসল জন্মানোর সময়সীমা, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রাকে বিবেচনা করে করা হয়েছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫৯৭.
রেড লেডি কোন ফসলের জাত?
  1. পেয়ারা
  2. পেঁপে
  3. তরমুজ
  4. আনারস
সঠিক উত্তর:
পেঁপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেঁপে
ব্যাখ্যা
রেড লেডি হাইব্রিড পেঁপে:
- রেড লেডি জাতটি তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির পেঁপের জাত যা বাংলাদেশের আবহাওয়াতে চাষ উপযোগী।
- বাংলাদেশের অনেক স্থানে এর চাষ হচ্ছে।
- বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে ফলন খুবই ভালো হচ্ছে।
- বান্দরবানের মাটি ও আবহাওয়া রেডলেডি পেঁপে চাষের জন্য উপযোগী।
- আশ্বিন (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) এবং পৌষ (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) মাস পেঁপের বীজ বপনের উত্তম সময়।
- বপনের ৪০-৫০ দিন পর চারা রোপণের উপযোগী।

রেড লেডি হাইব্রিড পেঁপে জাতের বৈশিষ্ট্য: 
- এটি তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির পেঁপে।
- রেড লেডি জাতের প্রত্যেক টি গাছে পেঁপে ধরে ।
- রেড লেডি জাতের পেঁপে গাছ সর্বচ্চো ১০ ফিট হয়।
- গাছের উচ্চতা ৬০-৮০ সেমি হলে ফল ধরা শুরু হয়।
- প্রতিটি গাছে ৫০-১২০ পর্যন্ত ফল ধরে।
- ৫-৬ মাসের মধ্য ফুল আসে এবং প্রথম ফল পাওয়া যায় ৭-৯ মাসের মধ্য।
- এই জাতের পেঁপে গুলি বেশ বড়।
- ফলের রং লাল-সবুজ।
- এক একটি ফলের ওজন ১.৫ থেকে ২ কেজি।
- ফলের মাংস বেশ পুরু, গাঢ় লাল রঙের, স্বাদেও বেশ মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত।
- কাঁচা ও পাকা উভয়ভাবে বাজারজাত করা যায়।
- এই জাতের পেঁপে পাকা অবস্থায় সহজে নষ্ট হয় না। ফলে দূর দুরান্তে সহজেই বাজারজাত করা যায়।
- এই জাতের পেঁপে রিং স্পট ভাইরাস রোগ সহনশীল।
- এই জাতের পেঁপের জীবনকাল ২ বছরের অধিক।

উৎস: কৃষি বাতায়ন।
৫৯৮.
রগিং করা কেন জরুরি?
  1. বীজের জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষায়
  2. পোকা দমনে
  3. পরিবেশ রক্ষা
  4. শ্রম বাঁচাতে
সঠিক উত্তর:
বীজের জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজের জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষায়
ব্যাখ্যা
রগিং:
- বীজের জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য রগিং একটি জরুরি কাজ।
- রগিং অর্থ হচ্ছে আকাঙ্ক্ষিত বীজের গাছ ছাড়া আগাছাসহ অন্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ জমি থেকে শিকড়সহ তুলে ফেলা।
- ফুল আসার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ রগিং করা ভালো।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৫৯৯.
সবরি ও কবরী কোন ফসলের জাতের নাম?
  1. কলা
  2. টমেটো
  3. আলু
  4. আম
সঠিক উত্তর:
কলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলা
ব্যাখ্যা
কলার জাত: 
- বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশে যেসব কলার জাত চাষ করা হয়, সেগুলো হচ্ছে অমৃতসাগর, সবরি, চাপা, মেহেরসাগর, কবরী ইত্যাদি।
- এ ছাড়াও কলার আরও অনেক জাত আছে যেমন: এঁটে কলা, বাঙলা কলা, জাহাজি কলা, কাঁচকলা বা আনাজি কলা ইত্যাদি।
- তবে বারি কলা-১, বারিকলা-২ ও বারিকলা-৩ নামে তিনটি উন্নত জাত চাষের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।
- এর মধ্যে বারিকলা-২ জাতটি কাঁচকলার।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬০০.
বীজের জাত বিশুদ্ধতা নষ্ট হয় কীভাবে?
  1. নমুনা বীজের চারা যদি সতেজ, সজীব ও স্বাস্থ্যবান না হয়
  2. কাঙ্ক্ষিত ফসলের বীজের সাথে যেন অন্য ফসলের বীজ থাকলে
  3. বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কম থাকলে
  4. বীজের নমুনায় একই ফসলের অন্য জাতের বীজ থাকলে
সঠিক উত্তর:
বীজের নমুনায় একই ফসলের অন্য জাতের বীজ থাকলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজের নমুনায় একই ফসলের অন্য জাতের বীজ থাকলে
ব্যাখ্যা
জাত বিশুদ্ধতা:
- কোনো বীজের নমুনায় একই ফসলের অন্য জাতের বীজ থাকলে বীজের জাত বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়।
- যেমন: নাইজারশাইল ধানের বীজের সাথে বিনাশাইল ধানের মিশ্রণ থাকলে জাত বিশুদ্ধতা থাকে না।
- নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করলে জাত বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।