বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন৬৬০এই পাতা৬০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

টেকনিক্যাল বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / · ৬০১৬৬০ / ৬৬০

৬০১.
শুভ্রা কোন ফসলের জাত?
  1. ভুট্টা
  2. গম
  3. আলু
  4. ধান
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুট্টা
ব্যাখ্যা
জাত:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ভুট্টার অনেকগুলো উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন করেছে।
- তার মধ্যে বর্ণালি, শুভ্রা, মোহর, বারি ভুট্টা-৫, বারি ভুট্টা-৬, বারি ভুট্টা-৭, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-২, বারি হাইব্রিড ভুট্টা-৩ অন্যতম।
- এছাড়া খই (পপ কর্ণ) এর জন্য বের করেছে খই ভুট্টা এবং কচি অবস্থায় খাওয়ার জন্য বের করেছে বারি মিষ্টি ভুট্টা-১।
- এর বাইরে বিভিন্ন বীজ কোম্পানি বিদেশ থেকে হাইব্রিড জাতের ভুট্টা বীজ আমদানি করে থাকে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬০২.
প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ আমরা কী থেকে পাই?
  1. মাছ
  2. ডিম
  3. মাংস
  4. সবজি
সঠিক উত্তর:
মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ
ব্যাখ্যা
মৎস্য:
- মাছ আমাদের রূপালি সম্পদ এবং আমিষের প্রধান উৎস।
- প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ (৬০%) আমরা মাছ থেকে পাই।
- মাছ আমাদের প্রিয় খাদ্য। তাই আমাদের বলা হয় মাছে-ভাতে বাঙালি।
- বাংলাদেশের মাটি ও পানি মাছ চাষের জন্য উপযোগী।
- এ দেশে চাষযোগ্য মাছের মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল, চিংড়ি, থাইপাঙ্গাস, সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- বাংলাদেশ থেকে চিংড়িসহ অনেক প্রজাতির মাছ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
- বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাছ চাষের অনেক প্রযুক্তি বের করেছে।
- এসব প্রযুক্তির বিস্তার ঘটায় দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬০৩.
বাংলাদেশের সেচ প্রকল্পগুলো কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত?
  1. পানি উন্নয়ন বোর্ড
  2. সেচ প্রকল্প উন্নয়ন বোর্ড
  3. বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ
  4. নদী রক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
পানি উন্নয়ন বোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি উন্নয়ন বোর্ড
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রধান সেচ প্রকল্প:
- কৃষকের কৃষিকাজের সুবিধার জন্য বাংলাদেশের সরকার অনেকগুলো সেচ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
- এই প্রকল্পগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত
- যেসব এলাকায় সেচ প্রকল্প আছে সেসব এলাকার কৃষকেরা সারা বছর আউশ, আমন, বোরো, পাট, গম, আলু, শাক-সবজি ও ফলমূল উৎপাদন করছেন।
- আবার শস্য বহুমুখীকরণ কৃষি পদ্ধতিও চালু করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর নাম নিচে উল্লেখ করা হলো-
১। গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি.কে.প্রজেক্ট)
২। বরিশাল সেচ প্রকল্প (বি.আই.পি)
৩। ভোলা সেচ প্রকল্প
৪। ঠাকুরগাঁও গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প
৫। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সি.আই.পি)
৬। মুহুরী সেচ প্রকল্প (এম.আই.পি)
৭। পাবনা সেচ এবং পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (পি.আই.আর.ডি.পি)
৮। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প
৯। কর্ণফুলী সেচ প্রকল্প (কে.আই.পি)

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬০৪.
দুধ জ্বর গবাদিপশুর কোন ধরনের রোগ?
  1. সংক্রামক রোগ
  2. পরজীবীজনিত রোগ
  3. অপুষ্টিজনিত রোগ
  4. সাধারণ রোগ
সঠিক উত্তর:
অপুষ্টিজনিত রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপুষ্টিজনিত রোগ
ব্যাখ্যা
অপুষ্টিজনিত রোগ: 
- আমিষ, শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, পানি ইত্যাদি যে কোনো একটি পুষ্টি উপাদানের অভাবে গবাদিপশুর রোগ হলে তাকে অপুষ্টিজনিত রোগ বলা হয়।
- মানুষ ও গবাদিপশুর শরীরে খাদ্যের অন্যান্য উপাদানের তুলনায় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ খুবই কম পরিমাণে দরকার হয়।
- প্রধানত এ দুটি পুষ্টি উপাদানের অভাবে পশু অপুষ্টিজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।
- যেমন- দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, দৈহিক বৃদ্ধি না হওয়া, ত্বক অমসৃণ হওয়া, দেরিতে দাঁত উঠা, হাড় বেঁকে যাওয়া, দুধ জ্বর (milk fever) ইত্যাদি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬০৫.
ডালজাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার কয় ভাগে জমিতে প্রয়োগ করা হয়?
  1. ১ ভাগে
  2. ২ ভাগে
  3. ৩ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
• ডালজাতীয় ফসল:
- যে সমস্ত মাঠ ফসল খেলে আমিষজাতীয় খাবারের অভাব দূর হয়, তাদেরকে ডালজাতীয় ফসল বলা হয়।
- যেমন-মসুর, মুগ, মাষকালাই, খেসারী, ছোলা, মটর ইত্যাদি।
- এরা লিগুমিনোসী পরিবারের ফসল বিধায় এদেরকে লিগিউমজাতীয় ফসল বলা হয়।
- রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করে এজাতীয় ফসলের মুলে নডিউল সৃষ্টি করে।
- এতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

• সার প্রয়োগ:
- মসুর চাষে হেক্টর প্রতি ৪৫ কেজি ইউরিয়া, ৮৫ কেজি টিএসপি বা ডিএপি এবং ৩৫ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়।
- জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ইউরিয়া ছাড়া সব সার ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।
- ইউরিয়া সার তিনভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ১৫-২০ দিন পর, দ্বিতীয় ভাগ ৩০-৪০ দিন পর এবং ৩য় ভাগ ৫০-৬০ দিন পর ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হয়।
- তবে পচা গোবর, কম্পোস্ট, খামারজাত সার ও জীবাণু সার এদের যে কোন একটি প্রয়োগ করলে ইউরিয়া সার লাগবে না।
- জীবানু সার প্রয়োগের পূর্বে এক কেজি মসুর বীজের সাথে ৫০ গ্রাম জীবাণু সার ও ৫০ গ্রাম চিটাগুড় মিশাতে হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৬.
বীজতলায় চারা হলদে দেখালে কোন সার ছিটাতে হবে?
  1. ইউরিয়া
  2. টিএসপি
  3. এমওপি
  4. এসএসপি
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
বীজতলা রক্ষণাবেক্ষণ: 
- বীজতলায় বীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা উৎপন্ন হয়।
- কাজেই বীজতলা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার।
- নিম্নে সংক্ষেপে বীজতলার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো-
• বীজতলার মাটি সমান রাখতে হবে:
• বীজতলার আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে;
• বীজতলার পোকা ও রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দমনের ব্যবস্থা করতে হবে;
• দুইটি বেডের মাঝে নালায় সবসময় পানি রাখার জন্য সেচের ব্যবস্থা করতে হবে;
• চারা হলদে দেখালে প্রতি শতক বীজতলার জন্য ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া বীজতলায় ছিটাতে হবে;
• বীজতলায় কখনো কাঁচা গোবর প্রয়োগ করা যাবে না;
• ছাগল, ভেড়া ও গরু-বাছুরের আক্রমন থেকে রক্ষার জন্য চারদিকে বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে;
• বীজতলা যাতে বেশি শুকিয়ে না যায় সেদিক লক্ষ্য রেখে ছায়া প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে;

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬০৭.
সকল পাহাড়ি অঞ্চল কোন কৃষি পরিবেশ অঞ্চল এর অন্তর্গত?
  1. পরিবেশ অঞ্চল ২৫
  2. পরিবেশ অঞ্চল ২৬
  3. পরিবেশ অঞ্চল ২৭
  4. পরিবেশ অঞ্চল ২৯
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ অঞ্চল ২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ অঞ্চল ২৯
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কৃষি পরিবেশ অঞ্চল: 
- পরিবেশ অঞ্চল ২৫, ২৬, ও ২৭ এলাকাজুড়ে রয়েছে যথাক্রমে রাজশাহী, বগুড়া ও দিনাজপুরের বরেন্দ্র অঞ্চল।
- এখানে উঁচু এলাকায় প্রায় সকল ফসলই ফলে।
- পরিবেশ অঞ্চল ২৮ মধুপুর থেকে ঢাকার তেজগাঁও পর্যন্ত বিস্তৃত লালমাটি অঞ্চল।
- এখানকার বিশেষ বৃক্ষ হচ্ছে শাল। এখানকার ফসল হচ্ছে কাঁঠাল ও আনারস।
- সকল পাহাড়ি অঞ্চল পরিবেশ অঞ্চল ২৯-এর অন্তর্গত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজার ছাড়াও অন্যান্য জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার বিশেষ ফসল চা।
- পরিবেশ অঞ্চল ৩০-এ রয়েছে আখাউড়ার লালমাটি অঞ্চল। এখানকার প্রধান ফসল কাকরোল এবং মুকুন্দপুরী পেয়ারা।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬০৮.
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া বিশ্ব বাজারে কী নামে পরিচিত?
  1. ঝিনাইদহ গ্রেড
  2. কুষ্টিয়া গ্রেড
  3. ব্ল্যাক গ্রেড
  4. বাংলা গ্রেড
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া গ্রেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষ্টিয়া গ্রেড
ব্যাখ্যা
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া 'কুষ্টিয়া গ্রেড' নামে পরিচিত বিশ্ব বাজারে।
- পৃথিবীতে এই মূহুর্তে প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে মডিফায়েড মিলে প্রায় ৩০০'র মত জাতের ছাগল আছে।
- এর মধ্যে বাংলাদেশের স্থানীয় জাতের কালো ছাগল বা ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটকে অন্যতম সেরা জাতের ছাগল বলা হয়।
- ২০০৭ সালে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও বিশ্বের ১০০টি জাতের ছাগলের ওপরে গবেষণা চালিয়ে 'ব্ল্যাক বেঙ্গল'কে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ২০১৮ সালে ব্ল্যাক বেঙ্গল গোটের জেনোম সিকোয়েন্সিং বা পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের একটি দল।
- সেই দলের সদস্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক এমএএম ইয়াহিয়া খন্দকার। 
- এটি আকারে বেঁটে, কিন্তু শরীরের কাঠামো শক্তপোক্ত ও পেশীবহুল।
- এর গায়ের লোম খাটো এবং শিং ছোট হয়।
- একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ছাগল বা পাঠার ওজন হয় ২২ থেকে ৩০ কেজি, ছাগীর ওজন ২০ থেকে ২৫ কেজি হয়।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল ১৪ মাসে দুইবার বাচ্চা দেয়, প্রতি বারে অন্তত দুইটি, সর্বোচ্চ ৫টি পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে একবারে। এই ছাগল দুধ কম দেয়।
- বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, আসাম, এবং উত্তর উড়িষ্যায় পাওয়া যায়। এছাড়া মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকাতেও পাওয়া যায় এই জাতের ছাগল।
- বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়।

উৎস: বিবিসি বাংলা (১৮ নভেম্বর ২০২০)
৬০৯.
পাটের দেশী জাত নয় কোনটি?
  1. ডি-১৫৪-২
  2. সিভিএল-১
  3. সিসি-৪৫
  4. ও-৪
সঠিক উত্তর:
ও-৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও-৪
ব্যাখ্যা
পাটের দেশী জাত: 
জাত: ডি-১৫৪-২
চলতি নাম: সাদা পাট
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: এ জাতের গাছের কান্ডের গোড়া অপেক্ষাকৃত মোটা হলেও সহজে ঢলে পরে না এবং পাট কাটার পর রোপা আমন লাগানো সম্ভব।

জাত: সিভিএল-১
চলতি নাম: সবুজ পাট
উচ্চ ফলনশীল, সর্বাধিক জনপ্রিয় সাদা পাটের জাত।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: ক্লোরোসিস রোগ তুলনামূলক ভাবে এ জাতে কম হয়, কাটিংস অন্য জাতের তুলনায় কম এবং আর্শের মান ভাল।

জাত: সিসি-৪৫
চলতি নাম: জো পাট 
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: দেশী জাত সমূহের মধ্যে এই জাতের ফসল সবচেয়ে আগে বপন করা যায়। অকাল ফুলমুক্ত ও দীর্ঘ বপনকালীন সিসি-৪৫ জাতটি ফাল্গুনের ১ম সপ্তাহ থেকে বপন করা যায়।

তোষা জাত: 
জাত: ও-৪
চলতি নাম: বৈশাখী তোষা 
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: উচ্চ ফলনশীল জাত।

উৎস: বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৬১০.
প্যাডেল থ্রেসার একটি উন্নত _______ চালিত ধান বা গম মাড়াই যন্ত্র।
  1. হস্ত
  2. যন্ত্র
  3. বিদ্যুৎ
  4. কয়লা
সঠিক উত্তর:
হস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হস্ত
ব্যাখ্যা
প্যাডেল থ্রেসার: 
- প্যাডেল থ্রেসার একটি উন্নত হস্তচালিত ধান বা গম মাড়াই যন্ত্র
- এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে: টাইনযুক্ত একটি ড্রাম, ড্রামের সাথে যুক্ত একটি প্যাডেল।
- প্যাডেলের সাহায্যে ড্রামটিতে ঘূর্ণন সৃষ্টি করা হয় এবং যাতে ফসলের শীষ রাখলে টাইনের আঘাতে শস্য মাড়াই হয়।
- এটি ধান বা গম মাড়াইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬১১.
জৈবসার ব্যবহার করলে কোনটি ঘটে না?
  1. মাটির গঠন উন্নত হয়
  2. মাটি ঝুরঝুরে হয়
  3. মাটির পানিধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়
  4. মাটির গঠন অনুন্নত হয়
সঠিক উত্তর:
মাটির গঠন অনুন্নত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির গঠন অনুন্নত হয়
ব্যাখ্যা
জৈব সার:
- যেসব সার জীবের দেহ থেকে প্রাপ্ত অর্থাৎ উদ্ভিদ বা প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রস্তুত করা যায়, তাদেরকে জৈব সার বলে।
- যেমন- গোবর সার, কম্পোস্ট সার, সবুজ সার, খৈল ইত্যাদি।
- গাছের প্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্য উপাদানই জৈব সারে থাকে।

জৈবসার ব্যবহার: 

- জমিতে বেশি করে জৈবসার ব্যবহার করলে মাটির গঠন উন্নত হয়, মাটি ঝুরঝুরে হয়
- ফলে মাটির পানিধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬১২.
নিষিক্ত ও পরিপক্ব ডিম্বককে কী বলে?
  1. বীজ
  2. পরাগরেণু
  3. গর্ভাশয়
  4. পরাগধানী
সঠিক উত্তর:
বীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজ
ব্যাখ্যা
- নিষিক্ত ও পরিপক্ব ডিম্বককে বীজ বলে। 

উদ্ভিদতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যাবলী এবং কৃষি কাজের বৈচিত্র্যময় ব্যবহার অনুসারে বীজের সংজ্ঞা দু'রকম হতে পারে।
- প্রথমত, উদ্ভিদতত্ত্বানুসারে ফুলের পরাগরেণু দ্বারা ডিম্বক নিষিক্ত হবার পর পরিপক্ক ডিম্বককে বীজ বলে। যেমন: ধান, গম, পেঁপে বীজ।
- দ্বিতীয়ত, কৃষিতত্ত্বানুসারে গাছের যে অংশ (শারীরিক বা জাননিক) বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহৃত হয় তাকেই বীজ বলে। যেমন: আলুর টিউবার, মিষ্টি আলুর লতা, কলার সাকার, কুলের কুঁড়ি, পাথরকুচির পাতা, বিভিন্ন ফুল গাছের শাখা-প্রশাখা, ধান, গম ইত্যাদি।
- প্রকৃত বীজ বা যৌন বীজ হচ্ছে বীজত্বকদ্বারা আবৃত এক সুপ্ত ভ্রাণধারী পরিণত ও নিষিক্ত ডিম্বক।
- আর গাছের যে কোন অংশ বিশেষ, যা উপযুক্ত পরিবেশে একই রকম গাছের বংশ বিস্তারের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে, তাকে কৃষি বীজ বলে।

উৎস: SEED AND SEED TECHNOLOGY, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৩.
খৈল সারে কোন পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
খৈল তৈরি:
- তেল বীজ হতে তেল বের করে নেওয়ার পর যে অংশ অবশিষ্ট থাকে তাকে খৈল বলে।
- সার ও গোখাদ্য হিসেবে খৈল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- বিভিন্ন রকম তেলবীজ থেকে বিভিন্ন রকমের খৈল পাওয়া যায়।
- যেমন- তুলা বীজের খৈল, সরিষার খৈল, বাদামের খৈল, তিলের খৈল, নিমের খৈল, তিসির খৈল ইত্যাদি।
- এ ধরনের সারে নাইট্রোজেন বেশি থাকে।
- এ সার ভালোভাবে গুঁড়া করে জমিতে ব্যবহার করতে হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬১৪.
একটি শস্যে ফুল আসার পর কিন্তু শস্য কর্তনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে অন্য ফসলের বীজ বপন করাকে কী বলা হয়?
  1. মিশ্র ও সাথি ফসলের চাষ
  2. রিলে চাষ
  3. শূন্য চাষ পদ্ধতি
  4. অ্যালি ক্রপিং
সঠিক উত্তর:
রিলে চাষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিলে চাষ
ব্যাখ্যা
রিলে চাষ:
- কৃষকেরা একটি শস্যে ফুল আসার পর কিন্তু শস্য কর্তনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে কতিপয় সুবিধা পাওয়ার জন্য শিম জাতীয় বীজ বপন করেন। একেই রিলে চাষ বলা হয়।
- রিলে চাষের উদ্দেশ্য হলো সেচের সীমাবদ্ধতা, শ্রমঘাটতি এবং সময়ের অভাব দূর করা।
- আমাদের কৃষকেরা সাধারণত ধানের ক্ষেতে রিলে চাষ করে থাকেন।
- রিলে চাষ দ্বারা মাটির গঠন উন্নত হয় এবং উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬১৫.
একজন মানুষের দৈনিক কত গ্রাম মাংসের প্রয়োজন হয়?
  1. ৮০ গ্রাম
  2. ১০০ গ্রাম
  3. ১২০ গ্রাম
  4. ১৫০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
১২০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
গরু মোটাতাজাকরণ: 
- আমাদের দেশে ধান ও শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও পশুসম্পদের উন্নতি তেমন হয়নি।
- প্রানিসম্পদের উন্নতি না হলে জনগণকে প্রয়োজনীয় আমিষ সরবরাহ করা যাবে না।
- একজন মানুষের দৈনিক ১২০ গ্রাম মাংসের প্রয়োজন হয়
- আমাদের দেশে প্রাণিজ আমিষ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে।
- এ কারণে গো-মাংসের সরবরাহ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
- এ সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যেই গরু-বাছুর মোটাতাজাকরণের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
- এর মাধ্যমে অল্প সময়ে গরুকে মোটাতাজা করে অধিক মূল্যে বাজারজাত করা হয় এবং অধিক লাভ পাওয়া যায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬১৬.
প্যাডেল থ্রেসার কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. ঔষধ ছিটানো
  2. আগাছা দমন করা
  3. বীজ বপন করা
  4. মাড়াইয়ের কাজে
সঠিক উত্তর:
মাড়াইয়ের কাজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাড়াইয়ের কাজে
ব্যাখ্যা
প্যাডেল থ্রেসার: 
- এটি একটি উন্নত হস্তচালিত ধান বা গম মাড়াই যন্ত্র।
- এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে: টাইনযুক্ত একটি ড্রাম, ড্রামের সাথে যুক্ত একটি প্যাডেল।
- প্যাডেলের সাহায্যে ড্রামটিতে ঘূর্ণন সৃষ্টি করা হয় এবং যাতে ফসলের শীষ রাখলে টাইনের আঘাতে শস্য মাড়াই হয়।
- এটি ধান বা গম মাড়াইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়।
- সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬১৭.
সাধারণত কোন ধরনের মাটিতে আলুর চাষ করা হয়?
  1. দোআঁশ মাটিতে
  2. বেলে দোআঁশ মাটিতে
  3. পলি মাটিতে
  4. দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে
ব্যাখ্যা
আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুতি: 
- নিচু এলাকায় বর্ষার পানি নেমে গেলে বা উঁচু এলাকায় আশ্বিন মাস হতে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুতির কাজ শুরু করা হয়।
- সাধারণত দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে আলুর চাষ করা হয়।
- এই মাটি চাষ করা মোটামুটি সহজ।
- আলুর জমি ৫-৬ বার চাষ ও বার কয়েক মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে জমি প্রস্তুত করা হয়।
- পাওয়ার টিলার দ্বারা চাষ করা হলে ৩-৪ বার আড়াআড়ি চাষ দিলেই ঝুরঝুরা হয় এবং সমান করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬১৮.
বিজয়, প্রদীপ ও সুফী কোন ফসলের জাত?
  1. গম
  2. কুল
  3. সরিষা
  4. ধান
সঠিক উত্তর:
গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গম
ব্যাখ্যা
খরা সহনশীল উপযুক্ত ফসল বা ফসলের জাত: 
- খরা শুরু হওয়ার আগেই ফসল তোলা যাবে এমন স্বল্পায়ু জাতের অথবা খরা সহ্য করতে পারে এমন জাতের চাষ করতে হবে। 
- বিজয়, প্রদীপ ও সুফী হলো গমের তিনটি খরা সহনশীল জাত।
- খরাপ্রবণ এলাকায় আগাম জাতের আমন চাষ করে ফসল কাটার পর জমিতে রস থাকতেই ছোলা, মসুর, খেসারি, সরিষা, তিল ইত্যাদি খরা সহনশীল ফসল চাষ করে একটি অতিরিক্ত ফসল তোলা যাবে।
- কুল গাছ খরা সহনশীল বলে এসব অঞ্চলে কুল বাগানও করা যেতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৬১৯.
নিচের কোনগুলো বারোমাসী ফুল?
  1. ডালিয়া, গাঁদা, কসমস
  2. সূর্যমুখী, জিনিয়া, কলাবতী
  3. দোপাটি, বোতাম ফুল, মোরগফুল
  4. বেলী, মল্লিকা, যুই
সঠিক উত্তর:
বেলী, মল্লিকা, যুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেলী, মল্লিকা, যুই
ব্যাখ্যা
ফুলের পরিচিতি ও শ্রেণীবিন্যাস: 
- উদ্যানতত্ত্ব ফসলের মধ্যে যে সব ফসল শুধু ফুলের জন্য চাষ করা হয় তাকে ফুলজাতীয় ফসল বলে।
- ফুল ও সুদৃশ্য গাছপালা উৎপাদনের কলাকৌশল পুষ্পোদ্যান বিদ্যা বা Floriculture নামে অভিহিত।

১. শীতকালীন ফুল: বাংলাদেশে মধ্য-অক্টোবর থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত ফুল ফুটে যেমন ডালিয়া, গাঁদা, কসমস, পপি পিটুনিয়া, লুপিন, ডায়ান্থাস।
২. গ্রীস্মকালীন ফুল: এসব ফুল মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত ফুল ফুটে যেমন: দোপাটি, বোতাম ফুল, মোরগফুল, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
৩. বারোমাসী ফুল: যেসব ফুল শীত অথবা গ্রীষ্ম যে কোন সময়ে জন্মে তাকে উভয় মৌসুমের ফুল বলে। যেমন: বেলী, মল্লিকা, যুই ইত্যাদি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২০.
সেচের পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রযুক্তি কোনটি?
  1. পরিমাণমতো পানি সেচ
  2. সময়মতো পানি সেচ
  3. মাটির বুনট বিবেচনা করে সেচ প্রদান
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সেচের কার্যকারিতা বৃদ্ধি: 
- ফসলের প্রয়োজনের সময় সেচ দিলে সেচের পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
- সেচের পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রযুক্তিসমূহ উল্লেখ করা হলো-
১। পরিমাণমতো পানি সেচ দিতে হবে।
২। সময়মতো পানি সেচ দিতে হবে।
৩। জমির চারদিকে ভালোভাবে আইল বেঁধে সেচ দিতে হবে।
৪। বিকেলে বা সন্ধ্যাবেলা পানি সেচ দিতে হবে।
৫। সারিবদ্ধ ফসলের ক্ষেতে দুই সারির মধ্যবর্তী স্থানে পানি সেচ দিতে হবে।
৬। মাটির বুনট বিবেচনা করে সেচ প্রদান করতে হবে।
৭। সেচ নালা ভালোভাবে মেরামত করে সেচ দিতে হবে অথবা পাকা সেচ নালা তৈরি করতে হবে।
৮। উপযুক্ত পদ্ধতিতে সেচ দিতে হবে।
৯। সেচ নালা ফসলের দিকে ঢালু করে তৈরি করতে হবে।
১০। ইঁদুরের উৎপাত বন্ধ করতে হবে।
১১। মাটিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬২১.
কোন মাছে ভিটামিন এ পাওয়া যায়?
  1. মলা
  2. ঢেলা
  3. কাচকি
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
- মাছের তেল দেহের জন্য উপকারী।
- বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে প্রচুর ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়।
- ভিটামিন 'এ' রাতকানা রোগ দূর করে।
- মাছের কাঁটায় প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায় বা দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬২২.
বাংলাদেশের কৃষি পরিবেশ অঞ্চল কয়টি?
  1. ২৩টি
  2. ১২টি
  3. ৩৩টি
  4. ৩০টি
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা
মাটির বৈশিষ্ট্য:
- মাটির বৈশিষ্ট্য বলতে মাটির শ্রেণি, জৈব পদার্থের মাত্রা, পটাশজনিত খনিজের মাত্রা ও অম্লমানমাত্রা এবং মাটির বন্ধুরতাকে বোঝায়।
- মাটির প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলাদেশকে ত্রিশটি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।
- কোনো একটি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল প্রকৃতপক্ষে সে অঞ্চলের মাটির প্রতিনিধিত্ব করে।
- কৃষি কর্মকান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় কাজ হলো মাটির বৈশিষ্ট্য ও বন্ধুরতা অনুযায়ী ফসল নির্বাচন করা।
- মাটির বৈশিষ্ট্যভিত্তিক ফসল কৃষি কাজের একটি অত্যাবশ্যক প্রযুক্তি।
- এই প্রযুক্তি যত নিখুঁতভাবে ব্যবহার করা যাবে কৃষি কাজের ফলাফলও তত বেশি লাভজনক হবে।

⇒ মাটির গঠন ও প্রকৃতি অনুযায়ী ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলকে নিম্নোক্ত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়।
১। দোআঁশ ও পলি দোআঁশ মাটি অঞ্চল,
২। কাদা মাটি অঞ্চল,
৩। বরেন্দ্র অঞ্চল ও মধুপুর অঞ্চল,
৪। পাহাড়ি ও পাদভূমি অঞ্চল,
৫। উপকূলীয় অঞ্চল।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৩.
নিচের কোনটি ঔষধি উদ্ভিদ?
  1. ধান
  2. পাট
  3. অ্যালোভেরা
  4. ফুলকপি
সঠিক উত্তর:
অ্যালোভেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালোভেরা
ব্যাখ্যা
ঔষধি উদ্ভিদ:
- হরেক রকমের ঔষধি উদ্ভিদ সমৃদ্ধ আমাদের দেশ।
- নিম, তুলসী, অ্যালোভেরা, শতমূলী হলো ঔষধি উদ্ভিদ।
- এছাড়া রসুন, হলুদ, কালোজিরা, লবঙ্গ ঔষধ ও প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬২৪.
সরিষা কোন মৌসুমের ফসল?
  1. রবি
  2. খরিপ-১
  3. খরিপ-২
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
রবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবি
ব্যাখ্যা
রবি মৌসুম:
- যেসব ফসল চাষাবাদের জন্য কম তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেসব ফসল রবি মৌসুমে চাষাবাদ করা হয়।
- রবি মৌসুমে আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, ওলকপি, ব্রোকলি, শালগম, পালংশাক, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি উদ্যান ফসল চাষ করা হয়।
- মাঠ ফসলের মধ্যে রয়েছে বোরো ধান, গম, সরিষা, তিসি, মসুর, ছোলা, খেসারি ইত্যাদি।
- এ মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬২৫.
কৈ মাছের শরীরে উঁকুন হলে কী প্রয়োগ করতে হবে?
  1. কপার সালফেট
  2. অক্সিটেট্রাসাইক্লিন
  3. খাবার লবণ
  4. ডিপটারেক্স
সঠিক উত্তর:
ডিপটারেক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিপটারেক্স
ব্যাখ্যা
পুকুরে কৈ মাছের রোগ দেখা দিলে নিম্নবর্ণিত চিকিৎসা বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়-
১। মাছে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ বা লেজ ও পাখনা পচা রোগ দেখা দিলে পুকুরে প্রতি শতকে ৬-৮ গ্রাম হারে কপার সালফেট প্রয়োগ করতে হবে।
২। মাছের শরীরে উঁকুন হলে পুকুরে ৩০ সেমি গভীরতার জন্য প্রতি শতকে ৩-৬ গ্রাম ডিপটারেক্স সপ্তাহে ১ বার হিসাবে পরপর ৩ বার প্রয়োগ করতে হবে।
৩। মাছের ক্ষতরোগ হলে পুকুরে কপার সালফেট ট্রিটমেন্টের পাশাপাশি প্রতি কেজি খাবারের সাথে ৩-৫ গ্রাম অক্সিটেট্রাসাইক্লিন সাত দিন ব্যবহার করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়াও পুকুরে ৩০ সেমি পানির গভীরতার জন্য প্রতি শতকে ০.৫-১.০ কেজি খাবার লবণ ব্যবহার করা যায়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬২৬.
ভালো বীজের অঙ্কুরোদ্গমের শতকরা হার কত?
  1. কমপক্ষে ৯৫ ভাগ
  2. কমপক্ষে ৯০ ভাগ
  3. কমপক্ষে ৮০ ভাগ
  4. কমপক্ষে ৮৫ ভাগ
সঠিক উত্তর:
কমপক্ষে ৮০ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমপক্ষে ৮০ ভাগ
ব্যাখ্যা
ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য:
১। অন্য জাতের মিশ্রণমুক্ত থাকতে হবে।
২। বীজ পরিষ্কার ও পুষ্ট হবে।
৩। বীজের রং স্বাভাবিক হবে।
৪। বীজ দাগযুক্ত বা পোকা খাওয়া বা ভাঙা হবে না।
৫। ইট, পাথরের কণা ও আগাছা থেকে বীজ মুক্ত হবে।
৬। বীজ অঙ্কুরোদ্গমের শতকরা হার কমপক্ষে ৮০ ভাগ হবে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬২৭.
মৃত্তিকা বা মাটি কয়টি উপাদানে গঠিত?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মৃত্তিকা: 
- মৃত্তিকা বা মাটি চারটি উপাদানে গঠিত।
- এ চারটি উপাদান হলো খনিজ দ্রব্য, পানি, বায়ু ও জৈব পদার্থ।
- খনিজ দ্রব্য মৃত্তিকা সৃষ্টিকারী কঠিন শিলা থেকে, জৈব পদার্থ জীবের মৃতদেহের মিশ্রণ থেকে আর পানি বারিপাত (Precipitation) থেকে এবং বায়ু প্রাকৃতিক বায়ুমন্ডল থেকে এসেছে।
- মৃত্তিকা একটি প্রকৃতিজাত বস্তু (Natural body)। 
- লক্ষ লক্ষ বৎসরের আবর্তে পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন শিলা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে বিভিন্ন জীবজন্তু ও উদ্ভিদের দেহাবশেষের সাথে মিশে মৃত্তিকার সৃষ্টি হয়েছে।
- মৃত্তিকা একটি মিশ্র পদার্থ। ইহা মৌলিক বা যৌগিক পদার্থ নয় কারণ এর কোন সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন নেই। 

উৎস: SOIL SCEINCE, BAgEd, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
রগিং বলতে নিচের কোনটিকে বোঝায়?
  1. আগাছানাশক ব্যবহার করা
  2. অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ জমি থেকে শিকড়সহ তুলে ফেলা
  3. ব্যারিয়ার ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধ
  4. আগাছা দমনে প্লাবন সেচ দেওয়া
সঠিক উত্তর:
অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ জমি থেকে শিকড়সহ তুলে ফেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ জমি থেকে শিকড়সহ তুলে ফেলা
ব্যাখ্যা
রগিং:
- বীজের জাতের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য রগিং একটি জরুরি কাজ।
- রগিং অর্থ হচ্ছে আকাঙ্ক্ষিত বীজের গাছ ছাড়া আগাছাসহ অন্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ জমি থেকে শিকড়সহ তুলে ফেলা।
- ফুল আসার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিত গাছ রগিং করা ভালো।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬২৯.
নিচের কোনটি গমের জাত?
  1. অঘ্রাণী
  2. প্রতিভা
  3. গৌরব
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
গমের জাত: 
- কাঞ্চন
- আকবর
- অঘ্রাণী
- প্রতিভা
- সৌরভ (বারি গম-১৯)
- গৌরব (বারি গম-২০)

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
৬৩০.
কোনটি ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি?
  1. ক্যানিং
  2. জেলী তৈরি
  3. জৈব অম্ল ব্যবহার
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল সংরক্ষণ:
- বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফল দিয়ে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে ১-৩ বছর পর্যন্ত ফল সংরক্ষণ করা যায়।
- প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে কখনও কখনও ফলের স্বাদ ও গন্ধের তেমন পরিবর্তন হয় না আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের খাদ্য তৈরি করা হয়।

• ফল প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি:
ক) ক্যানিং বা টিনজাত করে সংরক্ষণ (Canning):
- আম, আনারস, লিচু, কমলা ইত্যাদি ফলকে টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়।

খ) তাপ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সাহায্যে সংরক্ষণ:
- উচ্চতাপমাত্রায় (১২০-১৫০° সে.) ফলের ভেতরের রোগ জীবাণু মারা যায় ও ফলের আভ্যন্তরীণ বিপাক ক্রিয়া বন্ধ হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় খাদ্য মানের তেমন পরিবর্তন হয় না, তবে ভিটামিন বি ও সি নষ্ট হয়ে যায়।
- এভাবে উচ্চতাপ প্রয়োগ করে ফলকে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।

গ) চিনির দ্রবণে ফল সংরক্ষণ:
- চিনির ঘন রসে বিভিন্ন ফল যেমন আনারস, লিচু, পীচ, আম, আঙ্গুর, মাল্টা, কমলা, চেরি, পেঁপে, নাসপাতি ইত্যাদি ফল সংরক্ষণ করা যায়।
- ফল সংরক্ষণের জন্য চিনির দ্রবণের ঘনত্ব কমপক্ষে ৬০% হতে হবে।
- ছোট ছোট ফল যেমন, লিচু, চেরী, কমলার কোয়া ইত্যাদি আস্ত সংরক্ষণ করা হয়।
- অন্যান্য ফল সংরক্ষণের আগে সুবিধামত ছোট টুকরা করে পাতলা রসের সাথে জ্বাল দিয়ে সিরাপের ঘনত্ব ৬০-৭০ করা হয়।

ঘ) লবণের দ্রবণে সংরক্ষণ:
- টকস্বাদ যুক্ত ফলকে সাধারণত এই পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।
- জলপাই, আমলকী, লেবু, কাঁচা আম ইত্যাদি ফল আস্ত অথবা ছোট টুকরা করে লবণ পানিতে সেদ্ধ করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত লবণ দ্রবণের ঘনত্ব ২০-২৫% না হয়।
- পরে ফলগুলো লবণ পানি থেকে উঠিয়ে বায়ুরোধী টিনে বা কাঁচের পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।

ঙ) জৈব অম্ল ব্যবহার করে:
- সিরকায় ৪-৬% এসিটিক এসিড থাকে যাতে জীবাণু বাঁচতে পারে না তাই ফল সংরক্ষনের জন্য সিরকা বা এসিটিক এসিড ব্যবহার করা যায়।

 চ) রস হিসেবে ফল সংরক্ষণ:
- যে কোন রসালো ফল থেকে রস বের করে তা সংরক্ষণ করা যায়।
- ফলে রস দ্রুত স্টেরিলাইজেশন করে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়।
- এর সাথে প্রিজারভেটিভ যোগ করলে অনেকদিন ভাল থাকবে।
- আম, আনারস, লিচু, কমলা, আপেল ইত্যাদি ফল রস করে সংরক্ষণ করা যায়।

 ছ) জেলী তৈরি করে সংরক্ষণ:
- ফলের রস থেকে জেলী তৈরি করা হয়।
- চিনি ও পেকটিন ব্যবহার করা হয়।
- পেকটিন পালপ জমাট বাধতে সাহায্য করে।
- পেয়ারাতে পেকটিনের পরিমাণ বেশি বলে এতে বাড়তি পেকটিন যোগ করতে হয় না।
- পেয়ারা, কমলা, আনারস, আম, পেঁপে, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফল দিয়ে জেলি তৈরি করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩১.
মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে-
  1. মাটিতে খনিজ দ্রব্যের আকার বড় হলে
  2. মাটিতে খনিজ দ্রব্যের আকার ছোট হলে
  3. নুড়ি বা স্থুল বালিকণার পরিমাণ কমলে
  4. খ + গ
সঠিক উত্তর:
খ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ + গ
ব্যাখ্যা
• খনিজ দ্রব্য (Mineral matter):
- আয়তন ও ওজন ভিত্তিতে মৃত্তিকায় খনিজ দ্রব্যের শতকরা গড় পরিমাণ যথাক্রমে ৪৫ ও ৭৩ ভাগ।
- মাটিতে খনিজ দ্রব্যের আকার বড় হলে এবং নুড়ি বা স্কুল বালিকণার পরিমাণ বাড়লে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।
- খনিজ দ্রব্য মৃত্তিকায় উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের ভাণ্ডার।
- খনিজ দ্রব্যের বৈশিষ্ট্যের ওপর তা নির্ভরশীল।
- পাথর খন্ড, বালি কণা, পলি কণা ও কর্দম কণা সমন্বয়ে মৃত্তিকা খনিজ দ্রব্য গঠিত।

উৎস: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৩২.
রবি মৌসুমে সূর্যমুখী বীজ বপনের সময় কোনটি?
  1. মধ্য সেপ্টেম্বর-মধ্য অক্টোবর
  2. মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
  3. মধ্য জুলাই-মধ্য আগস্ট
  4. মধ্য মে-মধ্য জুন
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
সূর্যমুখী চাষ:
- যে সমস্ত মাঠ ফসলের বীজ থেকে ভোজ্য তেল পাওয়া যায় তাদেরকে তেলজাতীয় ফসল (Oil seed crops) বলা হয়।
- সূর্যমুখীর ইংরেজি নাম Sunflower এবং Helianthus annus হলো এর বৈজ্ঞানিক নাম। 

⇒ জলবায়ু:
- সূর্যমুখী আলো নিরপেক্ষ ফসল হওয়ায় সারা বছর এর চাষ করা যায়।
- এ ফসলে তাপমাত্রার প্রভাব অনেকটা কম।

⇒ মাটি বা জমি নির্বাচন:
- সূর্যমুখী সাধারণত সব ধরনের মাটিতেই জন্মানো যায়।
- তবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি উত্তম।
- বৃষ্টি বা সেচের পানি জমে থাকে না এমন জমি সূর্যমুখী চাষের জন্য ভালো।

⇒ বপন সময়:
- সব মৌসুমেই সূর্যমুখী চাষ করা যায়।
- রবি মৌসুমে অগ্রহায়ন মাসে (মধ্য নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর), খরিফ ১ মৌসুমে বৈশাখ মাসে (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে) এবং খরিফ ২ মৌসুমে ভাদ্র মাসে (মধ্য আগস্ট- মধ্য সেপ্টেম্বর) বীজ বপন করা হয়। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৩.
দুরন্ত (Duranta) নার্সারিতে কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. হেজ হিসেবে
  2. উইন্ডব্রেক হিসেবে
  3. শেল্টারবেল্ট হিসেবে
  4. অ্যালি ক্রপিং
সঠিক উত্তর:
হেজ হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেজ হিসেবে
ব্যাখ্যা
উঁচু হেজ তৈরির উপযোগী গাছ:
১। দুরন্ত (Duranta):
- এটি কষ্টসহিষ্ণু ও সচরাচর কাঁটাযুক্ত এবং রোদযুক্ত অথবা ছায়াময় উভয় পরিবেশে জন্মানোর উপযোগী।
- এটি কাটিং কিংবা বীজ দিয়ে বংশ বৃদ্ধিকারী গাছ।

২। কাঁটা মেহেদী (Thorn Mehedi):
- এটি মেহেদীরই কাঁটাযুক্ত প্রজাতি।
- এর কাটিং ও বীজ দিয়ে বংশ বিস্তার হয়।

৩। শ্যাওড়া (Sheora):
- এই সর্বাধিক ঝোপালো বৃক্ষকে ছাটাই দ্বারা বহু বছর ধরে হেজ এর উচ্চতায় সীমাবদ্ধ রাখা যায়।
- এর বীজ দিয়ে বংশ বিস্তার ঘটে।

8। করঞ্জা, করমচা (Caranda):
- এই কাঁটাময় ও দুগ্ধবৎ রসযুক্ত কান্ডবিশিষ্ট ফলের গাছটিকে ছাটাই দ্বারা ঝোপালো ও নির্দিষ্ট উচ্চতায় সীমাবদ্ধ করা যায়।
- এর কাটিং ও বীজ দ্বারা বংশ বৃদ্ধি ঘটে।

৫। কামিনী (China Box):
- ছোট, চকচকে পাতাযুক্ত এই গাছটিকে হেজ হিসেবে ছেটে রাখা যায়।
- প্রধানত বীজ হতে এর চারা জন্মে।
- তবে কাটিং থেকেও চারা জন্মানো যায়।

উৎস: CULTIVATION OF ORNAMENTAL PLANTS, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৪.
SRI পদ্ধতিতে ধান চাষ করার কৌশল সর্বপ্রথম কোথায় উদ্ভাবিত হয়?
  1. চীন
  2. বাংলাদেশ
  3. মাদাগাস্কার
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
মাদাগাস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাদাগাস্কার
ব্যাখ্যা
SRI:
- SRI (System of Rice Intensification) হলো পানি সেচের মাধ্যমে ধান চাষের এমন একটি কৃষি পরিবেশিক পদ্ধতি যেখানে ফসল, মাটি, পানি এবং উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের ভিন্নতর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধানের ফসল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
- SRI পদ্ধতিতে চাষ করার কৌশল সর্বপ্রথম ১৯৮০ সালের দিকে মাদাগাস্কারে উদ্ভাবিত হয়
- এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন, রোপন, সেচ, সার, কীটনাশক কম লাগে।
- কিন্তু নিবিড় পরিচর্যা করতে হয় এবং ফলন বেশি হয়।

SRI পদ্ধতিতে ধান চাষের মূলনীতি/বৈশিষ্ট্য:
১. এ পদ্ধতিতে ধান চাষের ক্ষেত্রে ৮-১২ দিন বয়সের চারা একটি করে রোপন করতে হয়।
২. বীজতলা থেকে চারা তোলার সময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে চারা ভেঙ্গে না যায়; চারা তোলার পর পরই রোপন করতে হবে।
৩. চারা বর্গাকারে ২৫-৪০ সে.মি দূরত্বে লাগাতে হবে; অর্থাৎ সারি থেকে সারি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব সমান। বর্গাকারে লাগানো গাছ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাবে এবং আগাছা দমন সহজ হবে।
৪. জমিতে পর্যাপ্ত পরিমানে জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে এবং যদি প্রয়োজন হয় তবে রাসায়নিক সারও প্রয়োগ করতে হবে।
৫. মাটি পর্যায়ক্রমে ভিজানো ও শুকানো (AWD) পদ্ধতিতে সেচ দিতে হবে। এতে মূলের বৃদ্ধি ভালো হবে ও মাটির অনুজীবের কার্যাবলী বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও মিথেন গ্যাস উৎপাদন কম হবে।
৬. ধানের থোড় অবস্থা থেকে ফসল পাকার ১৫ দিন আগ পর্যন্ত ধানের জমিতে ১-২ সে.মি. এর একটি পানির স্তর রাখতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৫.
ভূট্টার বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Zea maize
  2. Zea maiz
  3. Zea mays
  4. Zea May
সঠিক উত্তর:
Zea mays
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Zea mays
ব্যাখ্যা
ভূট্টা: 
- ভূট্টার বৈজ্ঞানিক নাম Zea mays.
- ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশী।
- এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে।
- আমিষে প্রয়োজনীয় এ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমানে আছে।
- এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন "এ" থাকে।

ব্যবহার:  
- ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরূত্ব রয়েছ।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৬৩৬.
নিচের কোনটি মুখ্য পুষ্টি উপাদান নয়?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. সালফার
  4. দস্তা
সঠিক উত্তর:
দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা
ব্যাখ্যা
মুখ্য পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য এ পুষ্টি উপাদানগুলো অধিক পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
- মুখ্য পুষ্টি উপাদান ৯টি।  যথা- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার।

- দস্তা গৌণ পুষ্টি উপাদান। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৩৭.
আমাদের জাতীয় ফলের নাম কী?
  1. আম
  2. কলা
  3. কাঁঠাল
  4. আনারস
সঠিক উত্তর:
কাঁঠাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁঠাল
ব্যাখ্যা
ফল:
- কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল।
- এ দেশে বন্যার পানি জমে না এমন উঁচু এলাকায় কত বিচিত্র ধরনের কাঁঠাল জন্মায় তার হিসাব এখনো করা হয়নি।
- কাঁঠালের পরই জনপ্রিয় ফল হচ্ছে আম, আনারস।
- এ সকল ফলও আমাদের দেশে প্রচুর উৎপাদিত হয়।
- কমলা, কলা, কুল ও কদবেলের বৈচিত্র্যও চোখে পড়ার মতো।
- কলা ও পেঁপে সারা বছর পাওয়া যায়।
- বেশিরভাগ ফল মৌসুমি।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৩৮.
মুরগির ভাইরাসজনিত রোগ কোনটি?
  1. রাণীক্ষেত
  2. যক্ষ্মা
  3. বটুলিজম
  4. ফাউয়েল কলেরা
সঠিক উত্তর:
রাণীক্ষেত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাণীক্ষেত
ব্যাখ্যা
নিচে মুরগির কতগুলো রোগের নাম দেওয়া হলো-
১। ভাইরাসজনিত রোগ: রাণীক্ষেত, গামবোরো, বার্ড ফ্লু ইত্যাদি
২। ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: ফাউয়েল কলেরা, ফাউয়েল টাইফয়েড, পুলোরাম, যক্ষ্মা, বটুলিজম ইত্যাদি
৩ । পরজীবীজনিত রোগ:
- মুরগির দেহের ভিতরে ও বাইরে দুই ধরনের পরজীবী দেখা যায়।
- দেহের বাইরে পালকের নিচে উঁকুন, আটালি ও মাইট হয়ে থাকে।
- দেহের ভিতরে গোল কৃমি ও ফিতা কৃমি দ্বারা মুরগি বেশি আক্রান্ত হয়।
- এরা মুরগির গৃহীত পুষ্টিকর খাদ্যে ভাগ বসায়।
- অনেক কৃমি মুরগির শরীর থেকে রক্ত চুষে নেয়। তাছাড়া প্রায়ই মুরগির রক্ত আমাশয় হতে দেখা যায়।
- এ রোগটি প্রোটোজোয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬৩৯.
টঙ্গিয়া পদ্ধতি প্রথম কোথায় শুরু হয়?
  1. বাংলাদেশ
  2. নেপাল
  3. ভারত
  4. মায়ানমার
সঠিক উত্তর:
মায়ানমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়ানমার
ব্যাখ্যা
টঙ্গিয়া পদ্ধতি:
- এ পদ্ধতি ১৮৫৬ সালে সর্বপ্রথম বার্মায় (মায়ানমার) শুরু হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হয়।
- এ পদ্ধতিতে কৃষিজ ফসল ও বনজ প্রজাতি একই জমিতে এক সময়ে শুরু হয়। 
- কয়েক বৎসর পর যখন বনজ প্রজাতির শাখাপ্রশাখা এমনভাবে বিস্তার লাভ করে যে, নিচে রোদ পড়ে না এবং আর কৃষি ফসল চাষ করা সম্ভব না, তখন শুধু বন প্রজাতিই থাকে।
- অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে রোপিত বন প্রজাতি বড় হয়ে উপরের দিকে ঘন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত কৃষি ফসল চাষ করা যায়।
- বন প্রজাতি পূর্ণ বিকশিত হওয়ার পর কেটে একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করা হয়।
- পাহাড়ি বনাঞ্চলে এ পদ্ধতির বেশি প্রচলন দেখা যায়।

উৎস: AFORESTRATION, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪০.
নিচের কোনটি আলুর একটি জাতের নাম?
  1. কুফরী
  2. অনুপম
  3. প্রতিভা
  4. বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
কুফরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুফরী
ব্যাখ্যা
কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, অগ্নিশ্বর, কবরী।

আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৬৪১.
ফসল উৎপাদনে নিচের কোনটি অবস্তুগত উপকরণ ব্যয়ের অন্তর্গত?
  1. সেচ এর জন্য খরচ
  2. চারা রোপণের জন্য শ্রমিক খরচ
  3. জমির মূল্যের উপর সুদ
  4. বীজের খরচ
সঠিক উত্তর:
চারা রোপণের জন্য শ্রমিক খরচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারা রোপণের জন্য শ্রমিক খরচ
ব্যাখ্যা
ফসল উৎপাদনে  তিন ধরনের ব্যয় দেখা যায়; যথা-ক) উপকরণ ব্যয়, খ) উপরি ব্যয় এবং গ) মোট উৎপাদন ব্যয়।
ক) উপকরণ ব্যয়: উপকরণ ব্যয়কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়; যথা-
১. বস্তুগত উপকরণ ব্যয় ফসল উৎপাদনে বীজ, সার, সেচ ইত্যাদির জন্য যে ব্যয় হয় তাকে বস্তুগত উপকরণ ব্যয় বলে। 
২. অবস্তুগত উপকরণ ব্যয়: ফসল উৎপাদন কাজে প্রয়োজনীয় শ্রমিক ও পশু বা যান্ত্রিক শক্তির জন্য যে
ব্যয় প্রয়োজন হয় তাকে অবস্তুগত ব্যয় বলে। যেমন- চারা রোপণের জন্য শ্রমিক, জমি চাষের জন্য খরচ ইত্যাদি। 
খ) উপরি ব্যয়: ফসল উৎপাদন কালে মোট উপকরণ ব্যয়ের উপর সুদ ও জমির মূল্যের উপর সুদ
গ) মোট উৎপাদন ব্যয়: মোট উপকরণ ব্যয় ও মোট উপরি ব্যয়ের যোগফলকে মোট উৎপাদন ব্যয় বলে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬৪২.
ধান বীজের সর্বোচ্চ আর্দ্রতা কী পরিমাণ থাকতে হবে?
  1. ১৪%
  2. ১২%
  3. ১৩%
  4. ১১%
সঠিক উত্তর:
১২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২%
ব্যাখ্যা
ভালো বীজের ক্ষেত্রে স্মরণীয়:
- বীজ হতে হবে উচ্চ ফলনশীল/উন্নত/আধুনিক অথবা কৃষকের পছন্দ সই।
- বীজ হতে হবে বিশুদ্ধ অর্থাৎ যে জাত চাওয়া হচ্ছে সে জাতের পরিমাণ শতকরা ৯৪ ভাগের বেশি।
- বীজ পোকা কিংবা রোগাক্রান্ত হবে না।
- বীজ এক আকারের ও পুষ্ট হতে হবে এবং দানা বড় হতে হবে।
- বীজের রং উজ্জ্বল হতে হবে অর্থাৎ বীজে স্বাভাবিক রং বজায় থাকতে হবে।
- ধান ও গমের বেলায় বীজের আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১২% এবং অন্যান্য ফসলের বেলায় সর্বোচ্চ ১০% থাকতে হবে।
- সর্বোপরি বীজ বিশেষে গজানোর ক্ষমতা ৭৫% এর বেশি হতে হবে।

উৎস: Seed and Seed Technology, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৩.
'তারাপুরি' কোন ফসলের জাত?
  1. মরিচ
  2. বেগুন
  3. তরমুজ
  4. তামাক
সঠিক উত্তর:
বেগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুন
ব্যাখ্যা
বেগুনের জাত:
- বারি বেগুন-১(উত্তরা)
- বারি বেগুন-২(তারাপুরি)
- বারি বেগুন-৪(কাজল)
- বারি বেগুন-৫(নয়নতারা)

তরমুজ এর জাত:
- পদ্ম
- বারি তরমুজ-১
- বারি তরমুজ-২

মরিচের জাত:
- ঝাল ও মিষ্টি এ ধরনের মরিচ দেখা যায়।
- ঝাল মরিচের মধ্যে বগুড়া, চাঁদপুরী, ফরিদপুরী উল্লেখযোগ্য।
- এছাড়া কামরাংগা, আকালী ও কালো মরিচ খুব ঝাল।

তামাক:
- সুগন্ধী (BAT-2)

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৬৪৪.
কীসের মাধ্যমে সাধারণত গোলাপের বংশবিস্তার করা হয়ে থাকে?
  1. মূল
  2. কান্ড
  3. পাতা
  4. কলম
সঠিক উত্তর:
কলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলম
ব্যাখ্যা
গোলাপ:
- গোলাপ ফুলকে ফুলের রাণী বলা হয়ে থাকে।
- এর কোমলতা, বর্ণ, সুগন্ধ এমন কেউ নেই যাকে আকৃষ্ট করে না।
- সাজ সজ্জায় কাটা ফুল হিসেবে কদর রয়েছে।
- এছাড়া সুগন্ধি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।
- পৃথিবী জুড়ে গোলাপের অসংখ্য জাত রয়েছে।
- জাতগুলোর কোনোটির গাছ বড়, কোনোটি ঝোপালো, কোনোটি লতানো।
- শাখা কলম, দাবা কলম এবং চোখ কলম এর মাধ্যমে গোলাপের বংশ বিস্তার করা হয়।

⇒ মাটি, জলবায়ু ও জমি নির্বাচন:
- গোলাপের জন্য রৌদ্যজ্জল, সুনিষ্কশিত ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি গোলাপ চাষের জন্য উত্তম।
- মাটির পিএইচ ৬.০-৭.৫ এর মধ্যে হওয়া উচিত।
- পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে এ ধরনের স্থান পরিত্যাগ করা উচিত।

⇒ গোলাপের বংশ বিস্তার:
- বীজ, শাখা কলম, দাবা কলম এবং চোখ কলম-এর মাধ্যমে গোলাপের বংশ বিস্তার করা হয়।
- তবে সংকর জাত উদ্ভাবনের জন্য বীজ মাধ্যমে বেছে নেয়া হয়।
- সাধারণত: উন্নত জাতের গোলাপ এর মাধ্যমে চোখ কলম বংশ বিস্তার করানো হয়।
- বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময় এ চোখ কলম করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধানের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ধান গাছ খাটো ও শক্ত হয়
  2. সহজে হেলে পড়ে
  3. ধান গাছের পাতা ঘন সবুজ ও পুরু থাকে
  4. মাটি থেকে বেশি পরিমাণ পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে
সঠিক উত্তর:
সহজে হেলে পড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহজে হেলে পড়ে
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধানের বৈশিষ্ট্য:
১। ধান গাছ খাটো ও শক্ত হয় এবং সহজে হেলে পড়ে না।
২। ধান গাছের পাতা ঘন সবুজ ও পুরু থাকে।
৩। পাতাগুলো এমনভাবে সাজানো থাকে যে একটি অন্যটিকে ঢেকে রাখে না। এতে আলো-বাতাস প্রতিটি পাতা সমানভাবে পায় এবং শর্করা জাতীয় খাদ্য বেশি তৈরি হয়।
৪। গাছ মাটি থেকে বেশি পরিমাণ পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে।
৫। জমি থেকে উৎপাদিত ধানের ওজন ও খড়ের ওজন প্রায় সমান হয় অর্থাৎ ১৪১।
৬। পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ কম হয়।
৭। পাকার সময়ও কিছু কিছু ধান সবুজ থাকে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৬.
ধানের ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট রোগের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. Xanthomonas oryzae pv. oryzae
  2. Xanthomonas oryzae pv. oryzicola
  3. Rhizoctonia Solani
  4. Pyricularia oryzae
সঠিক উত্তর:
Xanthomonas oryzae pv. oryzae
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Xanthomonas oryzae pv. oryzae
ব্যাখ্যা
ধানের ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট:
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে গাছের কিছু কিছু অংশ খুব দ্রুত বিবর্ণ হয়।
- ফলে রোগাক্রান্ত গাছগুলো মরে যায়। অনেক সময় মৃত অংশ পঁচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
- এটি ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ বা ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত।
- ধানের যতগুলো মারাত্মক রোগ রয়েছে তার মধ্যে ব্যাকটেরিয়াল ব্লাইট অন্যতম।
- এটির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া হলো- Xanthomonas oryzae pv. oryzae |
- জাপানের কৃষকরা সর্বপ্রথম ধানের ব্লাইট রোগের সন্ধান পান।
- বাংলাদেশে এ রোগের অস্তিত্ব প্রথম পাওয়া যায় ১৯৬৬ সালে রোপা আমন ধানে।
- এ রোগের প্রকোপের মাত্রা অনুযায়ী ধানের ফলন ৬- ৬০% কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কৃষি বাতায়ন।
৬৪৭.
আধুনিক মতবাদ অনুসারে, পত্ররন্ধ্র বন্ধ এবং খোলা রাখার জন্য কোন আয়ন দায়ী?
  1. ক্যালসিয়াম আয়ন
  2. সোডিয়াম আয়ন
  3. পটাসিয়াম আয়ন
  4. ম্যাগনেসিয়াম আয়ন
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম আয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম আয়ন
ব্যাখ্যা
• পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক মতবাদ:
- পত্ররন্ধ্র উদ্ভিদের প্রধান গ্যাসীয় বিনিময় অঙ্গ যার মাধ্যমে উদ্ভিদ O2, CO₂, জলীয় বাষ্প ইত্যাদি গ্যাসীয় উপাদান বিনিময় করে থাকে।
- উদ্ভিদের বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কার্যাবলী (যেমন- শ্বসন, সালোকসংশ্লেষণ, প্রস্বেদন ইত্যাদি) সম্পাদনের জন্য গ্যাস বিনিময় আবশ্যক।
- এ বিনিময় কার্যক্রম পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
- এ মতবাদ অনুসারে পত্ররন্ধ্র বন্ধ এবং খোলা রাখার বিষয়ে পটাসিয়াম আয়ন (K+) কে দায়ী করা হয়।
- দিনের বেলায় রক্ষীকোষ প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম আয়ন (K+) ও ক্লোরাইড আয়ন (CI-) শোষণ করে।
- ফলে রক্ষীকোষে অভিস্রবণিক চাপ বাড়ে এবং তখন পার্শ্ববর্তী মেসোফিল টিস্যু থেকে রক্ষীকোষে পানির ব্যাপন ঘটে।
- এ সময় রক্ষীকোষে টারগার প্রেসার (TP) বেড়ে যাবার ফলে তা স্ফীত হয়ে ধনুকের ন্যায় বেঁকে যায় ও পত্ররন্ধ্র খুলে যায়।
- রাতের বেলায় পটাসিয়াম আয়ন (K+) ও ক্লোরাইড আয়ন (CI-) রক্ষীকোষ হতে বের হয়ে আসে।
- ফলে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ কমে।
- এর ফলে পানি রক্ষী কোষ থেকে বের হয়ে আসে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৮.
কোনটি নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণের মতবাদ নয়?
  1. ব্যাপন মতবাদ
  2. ডোন্যান ইকুইলিব্রিয়াম
  3. অভিস্রবণ মতবাদ
  4. মাস ফ্লো মতবাদ
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবণ মতবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবণ মতবাদ
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণ:
- এ শোষণ প্রক্রিয়ায় কোন বিপাকীয় শক্তি বা ATP এর প্রয়োজন হয় না বলে একে নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ বলা হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের খনিজ লবণ শোষণ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ঘটে।
- এক্ষেত্রে মাটির দ্রবণে আয়নের ঘনত্ব মূলরোমের কোষের দ্রবণে আয়নের ঘনত্ব অপেক্ষা বেশি থাকে।
- মাটির দ্রবণ এবং মূলরোমের কোষের দ্রবণের ঘনত্বের এ অসমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ উদ্ভিদ কোষে প্রবেশ করে।
- দ্রবণ দুটির ঘনত্ব যতক্ষণ পর্যন্ত সমান না হয় ততক্ষণ এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- এতে শ্বসনের হার স্বাভাবিক থাকে।

- নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণের মতবাদগুলো হলো-
(ক) ব্যাপন মতবাদ,
(খ) আয়ন বিনিময় মতবাদ,
(গ) মাস ফ্লো মতবাদ এবং
(ঘ) ডোন্যান ইকুইলিব্রিয়াম মতবাদ।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৯.
উত্তম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল কোনটি?
  1. লেবু
  2. শিম
  3. গোলআলু
  4. সুপারি
সঠিক উত্তর:
সুপারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপারি
ব্যাখ্যা
উত্তম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল:
নারিকেল, সুপারি, তাল, বার্লি, খেজুর, সুগারবিট, শালগম, তুলা, ধৈঞ্চা, পালংশাক।

• মধ্যম লবণাক্ততা সহিষ্ণু:
মিষ্টিআলু, গোলআলু, মরিচ, বরবটি, মুগ, খেসারি, মটর, যব, ভুট্টা, টমেটো, আমড়া, পেয়ারা।

• লবণাক্ততা সংবেদনশীল:
শিম, লেবু, কমলা, গাজর, পিঁয়াজ, স্ট্রবেরি, মসুর, আম, ডালিম

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
৬৫০.
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক ব্যবহৃত সম্প্রসারণ পদ্ধতি কোনটি?
  1. ব্যক্তিগত সম্প্রসারণ পদ্ধতি
  2. কৃষক গ্রুপ/সংগঠন ভিত্তিক সম্প্রসারণ পদ্ধতি
  3. গণমাধ্যম ও শ্রবণ-দর্শন সহায়ক সামগ্রী
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারণ পদ্ধতি: 
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের 'সংশোধিত সম্প্রসারণ কর্মধারা'র একটি নীতি হলো বিভিন্ন প্রকার সম্প্রসারণ পদ্ধতির ব্যবহার।
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক ব্যবহৃত অধিকাংশ সম্প্রসারণ পদ্ধতিতে কৃষক গ্রুপ/সংগঠনকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং মুদ্রিত মাধ্যম ও শ্রবণ-দর্শন সহায়তার মাধ্যমে গ্রুপ/সংগঠনভিত্তিক সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে সমৃদ্ধশালী করা হয়।
- বর্তমানে অধিদপ্তর ব্যক্তিগত সম্প্রসারণ পদ্ধতির ওপর কম গুরুত্ব আরোপ করলেও কোন কোন ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
- বিভিন্ন সম্প্রসারণ পদ্ধতি হল:
• ব্যক্তিগত সম্প্রসারণ পদ্ধতি
• কৃষক গ্রুপ/সংগঠন ভিত্তিক সম্প্রসারণ পদ্ধতি
• গণমাধ্যম ও শ্রবণ-দর্শন সহায়ক সামগ্রী

উৎস: কৃষি সম্প্রসারণ ম্যানুয়াল ২০১৬। 
৬৫১.
ধানের ক্ষেতে হপার বার্ন দেখা যায় কোন পোকার আক্রমণে?
  1. বাদামি গাছ ফড়িং
  2. লেডি বার্ড বিটল
  3. সবুজ গাছ ফড়িং
  4. চুঙ্গি পোকা
সঠিক উত্তর:
বাদামি গাছ ফড়িং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদামি গাছ ফড়িং
ব্যাখ্যা
বাদামি গাছ ফড়িং (Brown plant hopper): 
ক্ষতির লক্ষণ: 
১) বাদামি গাছ ফড়িং ধান গাছের গোড়ায় বসে রস শুষে খায়।
২) আক্রান্ত গাছ প্রথমে হলদে এবং পরে পুড়ে যাওয়ার মত রং ধারন করে মারা যায়। একে হপার বার্ন বলে।

দমন ব্যবস্থা: 
১) আলোক ফাঁদের সাহায্যে পূর্ণবয়স্ক পোকা দমন করা।
২) অধিক দূরত্বে চারা রোপন করা (২৫০২৫ সে.মি)।
৩) আগাম পাকে এমন জাতের ধান চাষ করা।
৪) অধিক আক্রমন হলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫২.
ঢল বন্যায় হাওর অঞ্চলে কোন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. আমন ধান
  2. আউশ ধান
  3. বোরো ধান
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বোরো ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোরো ধান
ব্যাখ্যা
বন্যা:
- বন্যার পানির উচ্চতা, পানির গতি ও বন্যার স্থায়িত্বের উপর ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি নির্ভর করে।
- নিচু ও মাঝারি নিচু এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়।
- ফলে ফসল বিশেষ করে ধানক্ষেত ডুবে যায়।
- সাধারণত আমন ধান রোপণের সময় বা রোপণের পর বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- তবে ঢল বন্যায় হাওর অঞ্চলে বোরো ধান পাকার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬৫৩.
আঁতুড় বা নার্সারি পুকুরে কোন পোনা ছাড়া হয়?
  1. ডিম পোনা
  2. রেণু পোনা
  3. ধানী পোনা
  4. চারা পোনা
সঠিক উত্তর:
রেণু পোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেণু পোনা
ব্যাখ্যা
মাছের পোনার প্রকারভেদ: 
- মাছের পোনাকে বয়স ও দৈর্ঘ্য অনুপাতে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
- যথা- ডিম পোনা, রেণু পোনা, ধানী পোনা ও আঙুলে বা চারা পোনা।
- ডিম ফোটার পরের অবস্থাকে ডিম পোনা বলে। এদের পেটের নিচে একটি থলি থাকে। থলি থাকা অবস্থায় (২-৩দিন) এরা বাইরে থেকে কোনো খাদ্য গ্রহণ করে না।
- কুসুম থলি শেষ হয়ে যাওয়ার পরবর্তী অবস্থাকে রেণু পোনা বলে।
- রেণু পোনা আরও বড় হয়ে ধানের মতো আকার (যেমন ২ বা ২ সেমি এর উপর) হলে একে ধানী পোনা এবং আঙুলের মতো লম্বা (৭ সেমি এর উপর) হলে একে আঙুলে বা চারা পোনা বলে।

বিভিন্ন আকারের পোনার প্রতিপালনের জন্য বিভিন্ন পরিবেশের পুকুর প্রয়োজন। নিম্নে এদের বর্ণনা দেওয়া হলো-
ক) আঁতুড় বা নার্সারি পুকুর:
- যে পুকুরে রেণু পোনা ছেড়ে ধানী পোনা পর্যন্ত বড় করা হয় তাকে আঁতুড় বা নার্সারি পুকুর বলে।
- এখানে শতক প্রতি ৫০-১০০ গ্রাম রেণু পোনা ছেড়ে ১৫-৩০ দিন চাষ করা হয়।

খ) লালন পুকুর:
- যে পুকুরে ধানী পোনা ছেড়ে চারা বা আঙুলে পোনা পর্যন্ত বড় করা হয় তাকে লালন পুকুর বলে।
- লালন পুকুরের আয়তন ২০ থেকে ১০০ শতক ও গভীরতা ১.৫-২ মিটার হতে পারে।
- এ পুকুরে শতক প্রতি ২৫০০-৪০০০টি ধানী পোনা ছেড়ে ২-৩ মাস চাষ করা হয়।

গ) মজুদ পুকুর:
- এটিই মাছ চাষের প্রধান পুকুর।
- যে পুকুরে ধানী বা আঙুলে পোনা ছেড়ে বড় মাছে পরিণত করা হয় তাকে মজুদ পুকুর বলে।
- এর আয়তন ৩০ শতকের উপরে এবং গভীরতা ২-৩ মিটার হয়। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৫৪.
জিপসাম হতে কোন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়?
  1. নাইট্রোজেন
  2. ফসফরাস
  3. সালফার
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সার:
- কলকারখানায় যে সকল সার তৈরি করা হয় তাদেরকে রাসায়নিক সার বলে।
- যেমন: ইউরিয়া, ডিএপি, জিপসাম, দস্তাসার।

কয়েকটি সারের নাম ও এদের সরবরাহকৃত পুষ্টি উপাদানের নাম:
ইউরিয়া - নাইট্রোজেন
টিএসপি - ফসফরাস, ক্যালসিয়াম
এমওপি - পটাশিয়াম
ডিএপি - নাইট্রোজেন, ফসফরাস
জিপসাম - সালফার, ক্যালসিয়াম
দস্তাসার - জিংক, সালফার

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬৫৫.
আদর্শ মাটিতে পানির পরিমাণ কত?
  1. প্রায় ৫ ভাগ
  2. প্রায় ১০ ভাগ
  3. প্রায় ২০ ভাগ
  4. প্রায় ২৫ ভাগ
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৫ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
পানি:
- মাটির একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পানি।
- মাটির বিভিন্ন কণার মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে পানি অবস্থান করে।
- মাটির পানি উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানগুলোকে তরল রাখে এবং মাটিকে রসাল রাখে।
- বৃষ্টিপাত, বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প, ভূ-গর্ভস্থ পানি ও সেচব্যবস্থা থেকে প্রাপ্ত পানিই মাটির পানির প্রধান উৎস।
- আদর্শ মাটিতে পানির পরিমাণ হলো শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৬৫৬.
ভিটামিন 'এ' কোন রোগ দূর করে?
  1. ল্যাথারিজম
  2. রিকেট
  3. অস্টিওম্যালাসিয়া
  4. রাতকানা
সঠিক উত্তর:
রাতকানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতকানা
ব্যাখ্যা
পুষ্টির চাহিদা পূরণ:
- আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় আমিষের প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ।
- এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার।
- আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য আমিষ দরকার।
- মাছের তেল দেহের জন্য উপকারী।
- বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে প্রচুর ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়।
- ভিটামিন 'এ' রাতকানা রোগ দূর করে।
- মাছের কাঁটায় প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায়, যা দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬৫৭.
কোন এসিড দ্রবণ দ্বারা বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গা যায়?
  1. হাইড্রোক্লোরিড এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. বেনজোয়িক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সালফিউরিক এসিড দ্রবণ দ্বারা বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গা যায়

অম্লদ্রব্য সহযোগে বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙ্গানো:

- এ পদ্ধতিতে বীজকে ঘন সালফিউরিক এসিডে ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে হয়।
- ঘন সালফিউরিক এসিডের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.৮৪ হওয়া দরকার।
- সাধারণত বীজের দ্বিগুণ পরিমাণ এসিড (নিদিষ্ট ঘনমাত্রার) একটি কাঁচ বা মাটির পাত্রে নিতে হয়।
- তারপর বীজকে উক্ত পাত্রে ঢেলে মুখ আটকাতে হবে এবং মাঝে মাঝে কোন কাঠির সাহায্যে বীজকে নাড়াচাড়া করতে হবে।
- উপযুক্ত তাপমাত্রা হলো ৬০-৮০ ফাঃ। 
- সময়ের পরিমাণ ১০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ৬ ঘন্টা পর্যন্ত হতে পারে।
- বীজাবরণ যখন পাতলা হয়ে আসে তখন সাবধানে এসিড ঢেলে নিতে হয় এবং তৎক্ষনাৎ বীজগুলোকে প্রবাহমান পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হয়।
- উক্ত ধোয়া বীজ ভিজা অবস্থায় সরাসরি জমিতে বপন করা চলে।
- অথবা ভালোভাবে শুকিয়ে গুদামেও রাখা চলে।

উৎস: Seed and Seed Technology, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৮.
টঙ্গিয়া পদ্ধতি প্রথম কোথায় শুরু হয়?
  1. নেপাল
  2. ভারত
  3. ভূটান
  4. মায়ানমার
সঠিক উত্তর:
মায়ানমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়ানমার
ব্যাখ্যা
টঙ্গিয়া পদ্ধতি:
- এ পদ্ধতি ১৮৫৬ সালে সর্বপ্রথম বার্মায় (মায়ানমার) শুরু হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হয়।
- এ পদ্ধতিতে কৃষিজ ফসল ও বনজ প্রজাতি একই জমিতে এক সময়ে শুরু হয়।
- কয়েক বৎসর পর যখন বনজ প্রজাতির শাখাপ্রশাখা এমনভাবে বিস্তার লাভ করে যে, নিচে রোদ পড়ে না এবং আর কৃষি ফসল চাষ করা সম্ভব না, তখন শুধু বন প্রজাতিই থাকে।
- অর্থাৎ এ পদ্ধতিতে রোপিত বন প্রজাতি বড় হয়ে উপরের দিকে ঘন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত কৃষি ফসল চাষ করা যায়।
- বন প্রজাতি পূর্ণ বিকশিত হওয়ার পর কেটে একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করা হয়।
- পাহাড়ি বনাঞ্চলে এ পদ্ধতির বেশি প্রচলন দেখা যায়।


উৎস: বনায়ন, Bachelor of Agriculture Education (B.Ag.Ed), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৯.
বীজের জীবনীশক্তি (Seed Vigor) কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড টেস্ট
  2. টেট্রাজোলিয়াম টেস্ট
  3. প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি
  4. সিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষা
সঠিক উত্তর:
প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি:
- প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে বীজের জীবনীশক্তি (Seed Vigor) পরীক্ষা করা হয়।

টেট্রাজোলিয়াম টেস্ট:
- Seed Viability পরীক্ষা করা হয়।

সিরিষ কাগজ দিয়ে ঘষা:
- শক্ত সীডকোট বিশিষ্ট বীজের সুপ্তাবস্থা ভাঙতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: i) কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি, NCTB বোর্ড বই।
ii) AgEtal: Agricultural Testing Lab
৬৬০.
হলুদ ট্যাগ দিয়ে কোন বীজকে নির্দেশ করা হয়?
  1. প্রজনন বীজ
  2. ভিত্তি বীজ
  3. মানঘোষিত বীজ
  4. প্রত্যায়িত বীজ
সঠিক উত্তর:
মানঘোষিত বীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানঘোষিত বীজ
ব্যাখ্যা
মৌল বা প্রজনন বীজ (Breeder Seed):
- উদ্ভিদ প্রজনন প্রতিষ্ঠান বা কোন প্রজনন বিদের ঘনিষ্ট ও সরাসরি তত্ত্ববাবধানে উৎপন্ন এবং যা থেকে ভিত্তি শ্রেণীর বীজ উৎপাদন করা হয় তাকে প্রজনন বীজ বলে।
- এই বীজের সর্বাধিক কৌলিক বিশুদ্ধতা থাকে। 
- এ বীজের ট্যাগের কালার সবুজ হয়।

ভিত্তি বীজ (Foundation seed):
- বীজের পরবর্তী বিস্তার ঘটানোর জন্য মৌলিকভাবে শনাক্ত করণযোগ্য জাতের প্রাথমিক উৎসকে ভিত্তি বীজ বলে।
- ভিত্তি বীজে কৌলিক স্বাতন্ত্র্য ও জাতের বিশুদ্ধতা বিদ্যমান থাকে।
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত যে বীজ উৎপাদন করা হয়।
- এ বীজের ট্যাগের কালার সাদা হয়।

প্রত্যায়িত বীজ (Certified Seed):
- ভিত্তি বীজ থেকে প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদন করা হয়।
- যাতে বংশগত ও বাহ্যিক বিশুদ্ধতা নির্ধারিত মানে থাকে।
- বীজের গুণাবলী সংরক্ষণের জন্য প্রত্যয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা।
- বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী এই অনুমোদনের কাজটি করে থাকে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার নীল হয়।

মানঘোষিত বীজ (Truthfully labeled seed: TLS):
- উপরে তিনটি শ্রেণীর বীজ ছাড়া অন্য যে বীজ উৎপাদনকারী নিজেই উৎপাদন করে এবং নিজেই বীজের মাননিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজেই ঘোষনা দেয় তাহাই মানঘোষিত বীজ।
- তিনি নিজস্বভাবে যাচাইপূর্বক ব্যাগ বা বস্তার গায়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করবে।
- এ বীজের ট্যাগের কালার হলুদ হয়।

উৎস: বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী (SCA) ।