বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৫৫ / ৭২ · ৫,৪০১৫,৫০০ / ৭,১৯১

৫,৪০১.
উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর ভৌগোলিক সীমারেখার বৈশিষ্ট্য কি?
  1. ক) জ্যামিতিক সীমারেখা
  2. খ) ঔপনিবেশিক সীমারেখা
  3. গ) উপজাতিভিত্তিক সীমারেখা
  4. ঘ) অচিহ্নিত সীমারেখা
সঠিক উত্তর:
ক) জ্যামিতিক সীমারেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্যামিতিক সীমারেখা
ব্যাখ্যা
North Africa refers to a group of countries and territories occupying the northerly region of the African continent.
There is no clear definition of the extent and boundaries of North Africa. It is often defined as the part of Africa stretching from the Atlantic shores in the west to the Red Sea coast and Suez Canal in the east, and including the 6 countries of Morocco, Algeria, Tunisia, Libya, Egypt, and Sudan.
Some sources, however, equate North Africa to the Maghreb region which includes Algeria, Libya, Tunisia, and Morocco. The Arabs considered it the western part of the Arab world. Hence, when referred to in the context of Middle East and North Africa (MENA), it includes only the Maghreb countries.
৫,৪০২.
কোন বায়ু সারাবছর একই দিকে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) নিয়ত বায়ু
  2. খ) সাময়িক বায়ু
  3. গ) স্থানীয় বায়ু
  4. ঘ) অনিয়মিত বায়ু
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
১. নিয়ত বায়ু (Planatary Winds) :
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয় । এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -অয়ন বায়ু,পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু 

২. সাময়িক বায়ু :
কোনো নিদিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নিদিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু।
সাময়িক বায়ু দুই ধরনের যথা মৌসুমি বায়ু এবং স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।

৩. স্থানীয় বায়ু : স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ। রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু,  আরব মালভূমির সাইমন মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের  কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।

৪. অনিয়মিত বায়ু : কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।
এই অনিয়মিত বায়ু মূলত দুই প্রকার যথা ঘূর্ণিবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪০৩.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. ক) বজ্রপাত
  2. খ) পামাণবিক বিস্ফোরণ
  3. গ) ঘূর্ণিঝড়
  4. ঘ) তুষারপাত
সঠিক উত্তর:
খ) পামাণবিক বিস্ফোরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পামাণবিক বিস্ফোরণ
ব্যাখ্যা
মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- মরুকরণ
- রাসায়নিক দূষণ
- যুদ্ধ
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ
- অগ্নিকান্ড
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
- বনউজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অগ্ন্যুৎপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, নদীভাঙন, তুষারপাত, খরা, বন্যা, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি হলো প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৫,৪০৪.
 'ডাউকি ফল্ট' বরাবর কোন ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে? 
  1. বন্যা
  2. খরা
  3. নদীভাঙন 
  4. ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

ডাউকি ফল্ট বরাবর প্রধান দুর্যোগের ঝুঁকি হলো প্রবল ভূমিকম্প। এই ফল্টটি সিলেট এবং ভারতের মেঘালয়ের মধ্যে অবস্থিত, এবং এখানে একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে তা বাংলাদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে। 

ডাউকি ফল্ট:

- বাংলাদেশের মাটির নিচে ভূমিকম্পের দুটি বড় উৎস আছে।
- একটি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ডাউকি চ্যুতি বা ফাটল (ফল্ট)।
- ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

⇒ আরেকটি হচ্ছে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ভূ-অভ্যন্তরে বিস্তৃত একটি সাবডাকশন অঞ্চল।
- এই অঞ্চলজুড়ে সক্রিয় আছে অসংখ্য চ্যুতির শাখা (স্প্লে ফল্ট)।
- সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাটি ইন্দো-বার্মা পর্বতমালার অংশ।
- আজ থেকে প্রায় ৮০০ বছর আগে এই সাবডাকশন অঞ্চলে একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিল।
- তাতে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে প্রবাহিত নদীটি গতিপথ পাল্টে এখনকার মেঘনা নদীতে সরে এসেছে।

এছাড়াও,
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ছিল একটি ডুবো দ্বীপ।
- ১৭৬২ সালে এক বড় ভূমিকম্পে দ্বীপটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন মিটার ওপরে উঠে আসে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৫,৪০৫.
গঙ্গা নদীর উৎপত্তি ভারতের কোন রাজ্যে?
  1. হিমাচল
  2. উত্তরপ্রদেশ
  3. সিকিম
  4. উত্তরাখণ্ড
সঠিক উত্তর:
উত্তরাখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তরাখণ্ড
ব্যাখ্যা
- ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেবপ্রয়োগ নামক স্থানে ভাগীরথী ও অলকানন্দা নদী মিলিত হয়ে গঙ্গা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
- হিন্দু ধর্মমতে ভাগীরথী নদীকে গঙ্গার মূলধারা বিবেচনা করা হয়। ভাগীরথী নদী ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অলকানদীর উৎপত্তিও উত্তরাখণ্ড রাজ্যে।
- গঙ্গা নদী উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে উৎপত্তি হয়ে ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- পরবর্তীতে গোয়ালন্দের নিকট যমুনা এবং চাঁদপুরের নিকট মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- গোয়ালন্দ থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত প্রবাহ পদ্মা নামে অভিহিত।
- গঙ্গা নদীর মোট দৈর্ঘ্য ২,৬০০ কিলোমিটার।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫,৪০৬.
কাকে আধুনিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. আরিস্টটল
  4. জেমস গ্রেগরি
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট
ব্যাখ্যা
হুমবোল্ট ও রিটারের ধারণা: 
- আধুনিক ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আলেকজান্ডার ভন হামবোল্ট এবং কার্ল রিটার—এই দুইজনকে বিবেচনা করা হয়।
- হুমবোল্ট তাঁর গ্রন্থ The Cosmos-এ প্রাকৃতিক বিশ্বের একত্ব ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ব্যাখ্যা করেছেন, যা ভূগোলকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দিয়েছে।
- রিটার ভূগোলের মানবিক দিক বিশ্লেষণ করে আঞ্চলিক ভূগোলের ভিত্তি স্থাপন করেন।
- এ কারণে এই দুই জার্মান মনীষীকে আধুনিক ভূগোলের পথপ্রদর্শক বলা হয়।
 
সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪০৭.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বাগেরহাট
  2. সুনামগঞ্জ
  3. সিলেট
  4. কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা

রামসার সাইট:
- রামসার কনভেনশন রামসার চুক্তি হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট  হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।
- বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট সুন্দরবন।
- ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবনকে রামসার সাইট (রামসার কনভেনশন কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

• বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর।
- এটি সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরকে সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।

৫,৪০৮.
সমুদ্রতীরে বা বিশাল মাঠে দাঁড়ালে আকাশ ও ভূমি যে বৃত্তাকার রেখায় মিলিত হয় বলে মনে হয়, তার নাম কী?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. দ্রাঘিমারেখা
  3. সমোচ্চ রেখা
  4. দিগন্তরেখা
সঠিক উত্তর:
দিগন্তরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগন্তরেখা
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আকৃতি:
- দিগন্ত রেখার সাহায্যে বিশাল খোলা মাঠে বা সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে মনে হয় আকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠ একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশে গেছে।
- এ বৃত্ত রেখার নাম দিগন্তরেখা। পর্বতের উপরে বা প্লেনে যত উপরে উঠা যায়, ততই দিগন্ত রেখার পরিধি বৃদ্ধি পেলেও এর আকার বৃত্তাকার থাকে।
- পৃথিবী গোলাকৃতির না হলে এরূপ হতো না।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪০৯.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ের কার্যক্রম কোনটি?
  1. প্রশমন
  2. প্রতিরোধ
  3. পূর্ব প্রস্তুতি
  4. সাড়া প্রদান
সঠিক উত্তর:
সাড়া প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়া প্রদান
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:
দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪১০.
কোরিওলিস প্রভাবের ফলে বায়ুপ্রবাহ বেঁকে যায়-
  1. উত্তর গোলার্ধে বাম ও দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে
  2. উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমান্তরাল দিকে
  3. উত্তর গোলার্ধে ডান ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিন দিকে
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধে ডান ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর গোলার্ধে ডান ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে
ব্যাখ্যা
কোরিওলিস প্রভাব (Coriolis Effect):

-বায়ু প্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়, প্রবাহের এ ধরন পরিবর্তনকে কোরিওলিস শক্তি (Coriolis force) বলে।
- গোলার্ধ ভিত্তিক এ পরিবর্তন কোন প্রবাহিত চলমান (moving) বস্তুর উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাব বলে অনুমান করা যায়।
- এ বাঁকিয়ে দেওয়া বা দিক পরিবর্তনকারী শক্তি-
১. বায়ু প্রবাহের দিকের সাথে সর্বদা লম্বভাবে (৯০০) ক্রিয়া করে;
২. বায়ু প্রবাহে কেবল মাত্র দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে, গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না;
৩. বায়ুর গতির সাথে সম্পর্ক যুক্ত, বেশি গতি হলে প্রভাব বেশি ও কম হলে প্রভাব কম হয় অর্থাৎ বিচ্যুতি মাত্রা নির্ভর করে;
৪. কোরিওলিস বা গোলার্ধ প্রভাব মেরুতে সর্বাধিক, নিরক্ষীয় অঞ্চলে কমতে থাকে, বিষুব রেখায় এর অস্তিত্ত্ব লোপ পায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪১১.
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প 'তিস্তা সেচ প্রকল্পের' নির্মাণ কাজ শুরু হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৭৯ সালে
  3. গ) ১৯৮৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প হলো তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প।
- ১৯৭৯ সালে নীলফামারি-লালমনিরহাট সীমান্তে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৯০ সালে বাঁধ নির্মাণসহ এর প্রথম পর্যায়ের কাজ সমাপ্ত হয়।
- এই প্রকল্পের আওতায় উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় সাড়ে সাত লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ভারত কর্তৃক ভারতীয় অংশে গজলডোবা বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির অভাবে তিস্তা প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না।
- সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার তিস্তায় স্থায়ী জলাধার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

সূত্র:- রংপুর বিভাগীয় ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো।
৫,৪১২.
নিম্নের কোন উপজেলাটি সবচেয়ে নদীভাঙ্গন-প্রবণ?
  1. বােয়ালমারী
  2. নড়িয়া
  3. আলমডাঙ্গা
  4. নিকলি
সঠিক উত্তর:
নড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নড়িয়া
ব্যাখ্যা
নদীভাঙ্গন:
- যখন নদীর প্রবল স্রোতের আঘাতে তীরবর্তী অঞ্চলের জমি ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তখন তাকে নদীভাঙ্গন বলে।
- বাংলাদেশে নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নদ-নদীগুলো সর্বত্র জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে।
- নদীমাতৃক দেশ হওয়াতে এসব নদীতে ভাঙ্গন সমস্যা বহুদিনের।
- নদীভাঙ্গনের কারণে নদী তীরবর্তী পাকা ঘরবাড়ি, স্কুল- কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
⇒ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলাটি বর্তমানে সবচেয়ে ভাঙ্গন প্রবণ উপজেলা।
- পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় পদ্মাতীরবর্তী উপজেলাটি বসতবাড়ি, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) হিসাবে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার প্রায় সোয়া ১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীতে তলিয়ে গেছে।
- এর মধ্যে ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ সময়কাল পর্যন্ত নড়িয়াতে প্রতিবছর গড়ে আধা বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ভাঙনের শিকার হয়।
- এরপর থেকে ভাঙন বাড়তে থাকে।
- ২০১৫-১৬ সময়কালে বিলীন হয়েছে ১ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
- ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ভেঙেছে প্রায় ২ বর্গকিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- বোয়ালমারি ফরিদপুর জেলার একটি উপজেলা।
- আলমডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গার একটি উপজেলা।
- নিকলি কিশোরগঞ্জের একটি উপজেলা।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৫,৪১৩.
জলবায়ুর নিয়ামক কোনটি?
  1. জনসংখ্যা
  2.  মাটি
  3. ভূমিক্ষয় 
  4. অক্ষাংশ 
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ 
ব্যাখ্যা

জলবায়ুর নিয়ামক :
- জলবায়ুর নিয়ামক হলো সেই উপাদানগুলো যা কোনো এলাকার জলবায়ুর বৈচিত্র্যের জন্য দায়ী।
- এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো :
- অক্ষাংশ : অক্ষাংশের কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলের তুলনায় মেরু অঞ্চল বেশি শীতল থাকে, কারণ সেখানে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে। 
-উচ্চতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা কমে যায়। 
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব: উপকূলের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ এবং সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত অঞ্চলের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়।
- বনভূমি : বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুতে জলীয় বাষ্প যোগ করে, বৃষ্টিপাত বাড়ায়, ঝড়-ঝাপটা কমায় এবং স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার মাত্রা এবং উষ্ণ বা শীতল সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এছাড়া, পাহাড় ও পর্বতের অবস্থান বায়ুপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণে পার্থক্য আনে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪১৪.
অক্ষাংশ হিসেবে গর্জনশীল চল্লিশার অবস্থান কোনটি?
  1. ক) ৪০ ডিগ্রী দক্ষিণ থেকে ৪৭ ডিগ্রী দক্ষিণ অক্ষাংশ
  2. খ) ৩০ দক্ষিণ থেকে ৩৫ ডিগ্রী দক্ষিণ অক্ষাংশ
  3. গ) ৪০ ডিগ্রী উত্তর থেকে ৪৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ
  4. ঘ) ৩০ ডিগ্রী উত্তর থেকে ৩৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
ক) ৪০ ডিগ্রী দক্ষিণ থেকে ৪৭ ডিগ্রী দক্ষিণ অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৪০ ডিগ্রী দক্ষিণ থেকে ৪৭ ডিগ্রী দক্ষিণ অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
৪০ ডিগ্রী থেকে ৪৭ ডিগ্রী দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)।

পশ্চিমা বায়ু:
উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। ৩০ ডিগ্রী অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেষে মেরুর দিকে ৬০ ডিগ্রী অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়।
উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল।
আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু।


উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বই (উন্মুক্ত)
৫,৪১৫.
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২৫) অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পর্যায় কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (২০২১-২৫):
- 'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (এনপিডিএম) ২০২১-২০২৫° হচ্ছে ২০১৬-২০২০ এর ধারাবাহিক ও পরিমার্জিত সংস্করণ যেটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে।
- সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, এনজিও, দাতাসংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত/সেক্টর ও উন্নয়ন সহযাগীদের সাথে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে এনপিডিএম ২০২১-২০২৫ প্রস্তুত করা হয়েছে।

⇒ এনপিডিএম ২০২১-২০২৫ দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক সেন্দাই কর্মকাঠামো (এসএফডিআরআর) ও বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি (এসওডি)-এর মৌলিক নীতিমালার আলোকে দুর্যোগঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পরস্পরযুক্ত নিম্নলিখিত পাঁচটি পর্যায়ে উন্নতি বিধানের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
১) দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রম, অর্থাৎ, পদ্ধতিগত উপায়ে দুর্যোগঝুঁকি নিরূপণ, বিশ্লেষণ এবং পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক বিপদাপন্নতা ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস নিশ্চিত করা;
২) দুর্যোগ প্রস্তুতি অর্থাৎ, যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় বা যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা:
৩) আগাম সতর্কতা ও হুঁশিয়ারি অর্থাৎ, কোন আসন্ন আপদ থেকে জীবন, সম্পদ ও মূল্যবান দ্রব্যাদি রক্ষার জন্য কার্যকর সতর্কীকরণ নিশ্চিত করা:
৪) জরুরি সাড়াদান অর্থাৎ, প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট আপদে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি মানবিক সেবা সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ নিশ্চিত করা;
৫) পুনর্বাসন, পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার অর্থাৎ, দুর্যোগ পরবর্তী প্রতিকুল পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

৫,৪১৬.
কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের আবহাওয়ার সামগ্রিক গড় অবস্থা -
  1. ক) বারিপাত
  2. খ) বায়ুর আর্দ্রতা
  3. গ) বারিপাত
  4. ঘ) জলবায়ু
সঠিক উত্তর:
ঘ) জলবায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জলবায়ু
ব্যাখ্যা
• আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি উপাদানের গড় অবস্থা অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমন্ডলের উপাদানসমূহের গড় অবস্থাকে বলা হয় আবহাওয়া।

জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক বছরের আবহাওয়ার সামগ্রিক গড় অবস্থা।
- সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪১৭.
কার্চ প্রণালী কোন দুইটি সাগরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. বাল্টিক সাগর ও অ্যাজভ সাগর
  2. কাস্পিয়ান সাগর ও কৃষ্ণ সাগর
  3. কৃষ্ণ সাগর ও ভূমধ্যসাগর
  4. অ্যাজভ সাগর ও কৃষ্ণ সাগর
সঠিক উত্তর:
অ্যাজভ সাগর ও কৃষ্ণ সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাজভ সাগর ও কৃষ্ণ সাগর
ব্যাখ্যা

কার্চ প্রণালী:
- কার্চ প্রণালী হলো একটি সরু জলপ্রবাহ যা অ্যাজভ সাগরকে কৃষ্ণ সাগরের সাথে সংযুক্ত করে। 
- এটি পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত।
- প্রণালীটি পশ্চিমে ক্রিমিয়ার কার্চ উপদ্বীপ আর পূর্বে রাশিয়ার তামান উপদ্বীপ-এর মধ্যে বয়ে যায়।
- প্রস্থ প্রায় ৩-৫ কিমি থেকে ১৫ কিমি পর্যন্ত এবং গভীরতা প্রায় ১৮ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- এই প্রণালী শিপিং ও নৌপরিবহন জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, বিশেষ করে আজভ সাগরের পরশ্চিমাঞ্চলের বন্দরগুলোর জন্য।

উল্লেখ্য,
- ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে এই প্রণালী ও তার ব্যবস্থাপনা রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৫,৪১৮.
কালবৈশাখী ঝড়ের বৈশিষ্ঠ্য নিচের কোনটি?
  1. ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাত
  2. গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও বজ্রপাত
  3. বজ্রপাত ও হালকা বৃষ্টিপাত
  4. সমুদ্র উপকূলে ঝড়ের আঘাত
সঠিক উত্তর:
ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কালবৈশাখী।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড়ো বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় নামেও আখ্যায়িত করা যায়।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা ঊর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত আরোহন করে থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ছোটনাগপুর মালভূমিতে সৃষ্টির পর পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে বাংলাদেশের সীমায় উপস্থিত হয়। বিপরীতধর্মী ও অসম এ দু বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার ফলে প্রাক-কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় সৃষ্টি হয়।
- এই ঝড় বৈশাখ মাসে কখনও চৈত্র মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বা গ্রীষ্মকালীন উত্তর পশ্চিম ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪১৯.
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ কী?
  1. ক) জনসংখ্যার ঘনত্ব
  2. খ) নগরায়ন
  3. গ) অনুন্নত অবকাঠামো
  4. ঘ) ভূমির গঠন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমির গঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভূমির গঠন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ - ভূমির গঠন।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগ:

- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ দেশ।
- বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:-
১। ভৌগোলিক অব স্থান,
২। জলবায়ু,
৩। ভূমির গঠন,
৪। নদী-নালার আধিক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি , অষ্টম শ্রেণি।
৫,৪২০.
কোন উপসাগর 'চোল হ্রদ' নামে পরিচিত ছিল?
  1. মেক্সিকো উপসাগর
  2. বঙ্গোপসাগর
  3. পারস্য উপসাগর
  4. গিনি উপসাগর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগরের নাম চোল সাম্রাজ্যের সময় চোল হ্রদ নামে পরিচিত ছিলো।

বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের অংশ।
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ উপসাগরটি পশ্চিমে ভারত ও শ্রীলংকার পূর্ব উপকূল, উত্তরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীপ্রণালী সৃষ্ট বদ্বীপ এবং পূর্বে মায়ানমার উপদ্বীপ থেকে আন্দামান-নিকোবর শৈলশিরা পর্যন্ত বিস্তৃত ভূভাগ দ্বারা বঙ্গোপসাগর তিনদিকে আবদ্ধ।
- বঙ্গোপসাগরের সর্বউত্তর প্রান্তে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।

চোল রাজবংশ: 
- চোলরা ছিল দক্ষিণ ভারতের এক অতি প্রাচীন জাতি।
- মহাভারত, অশোকের শিলালিপি, গ্রিক ঐতিহাসিকদের বিবরণে চোলদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে চোল রাজা কারিকল বর্তমান কালের পেনার ও ভেলার নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে (তাঞ্জোর, ত্রিচিনোপল্লী, পদুকোটাই প্রভৃতি অঞ্চলে) চোল শাসন শুরু করেন।
- কিন্তু চের, পল্লব, পাণ্ড্যদের ক্রমাগত আক্রমণের জন্য এক শতকের মধ্যেই চোল রাজ্যের পতন ঘটে।
- খ্রীষ্টীয় নবম শতক থেকে চোল শক্তির পুনরুত্থান ঘটে। প্রায় তিনশো বছর ধরে চোলরা দক্ষিণ ভারতে আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
- চোল রাজা রাজেন্দ্র চোলের জলপথের আধিপত্যের কারনে বঙ্গোপসাগর চোল হ্রদে পরিনত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা, বাংলাপিডিয়া।
৫,৪২১.
স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ কোনটি?
  1. চীনের বৃষ্টিপাত ও ঝড়
  2. বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ু
  3. ভিয়েতনামের ঘূর্ণিবাত বায়ু
  4. আরব মালভূমির সাইমুম
সঠিক উত্তর:
আরব মালভূমির সাইমুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরব মালভূমির সাইমুম
ব্যাখ্যা
• স্থানীয় বায়ু:
- স্থানীয় বায়ু: স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।

• স্থানীয় বায়ুর ‍উদাহরণ:
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪২২.
বাংলাদেশর দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের উপকূল বা তটরেখার রেখার দৈর্ঘ্য?
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ৭১৬ কিলোমিটার
  3. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫৪ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৭১৬ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭১৬ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- এদেশ প্রায় ২০°৩৪′ উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশের স্থলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।
- এ দেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- বাংলাদেশর দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের উপকূল বা তটরেখার রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪২৩.
প্রশান্ত মহাসাগরের আকৃতি কি রূপ?
  1. পরাবৃত্তের মতো
  2. আয়তক্ষেত্রের মতো
  3. রম্বসের মতো
  4. ত্রিভুজের মতো
সঠিক উত্তর:
ত্রিভুজের মতো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিভুজের মতো
ব্যাখ্যা
• প্রশান্ত মহাসাগর:
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আকৃতি - ত্রিভুজের মতো।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন - ১৬ কোটি ৮৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
- গড় গভীরতা - গড় - ৪,১৮৮ মি.; সর্বোচ্চ গভীরতা - ১০,৯২০ মি.
- এই মহাসাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ অবস্থিত।
- ২৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত‌।
- আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগর। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫,৪২৪.
পুবর্ভবা নিম্নের কোন নদীর উপনদী?
  1. মাতামুহুরী
  2. যমুনা
  3. তিস্তা
  4. মহানন্দা
সঠিক উত্তর:
মহানন্দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহানন্দা
ব্যাখ্যা
মহানন্দা (Mahananda):
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দার্জিলিং জেলার নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বতে।
- এরপর জলপাইগুড়ি জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এরপর বাংলাবান্ধা থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করেছে।
- অত:পর ভারতের পূর্ণিয়া ও মালদহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাপাইনবাবগঞ্জের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোদাগাড়ির কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।
- মহানন্দার উপনদী পুবর্ভবা, নাগর, কুলিক, ট্যাংগন, পাগলা প্রভৃতি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
৫,৪২৫.
সুরমা ও কুশিয়ারা নদী মেঘনা নাম ধারণ করার পূর্বে কোন জেলায় পরষ্পরের সাথে মিলিত হয়েছে?
  1. ক) কিশোরগঞ্জ
  2. খ) সিলেট
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) সুনামগঞ্জ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার মারকুলী নামক স্থানে কুশিয়ারা পুনরায় সুরমার সঙ্গে মিলিত হয়ে কালনী নাম ধারণ করে দক্ষিণ দিকে ভৈরব(কিশোরগঞ্জ) উপজেলার ভৈরববাজার পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ার পর সুরমার অপর শাখা ধনুর সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে প্রবাহিত হয়েছে। মারকুলীর উজানে কুশিয়ারা কিছুটা জায়গা জুড়ে বিবিয়ানা নদী নামেও পরিচিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫,৪২৬.
কোনটি "Biological Disaster" এর উদাহরণ?
  1. ভূমিকম্প
  2. বন্যা
  3. সুনামি
  4. ডেঙ্গু
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ: 
- প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে দুর্যোগঝুঁকির পরিবেশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ, মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ এবং জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির (Biological Disaster) পরিবেশ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ হলো- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত ।
- এছাড়াও বাংলাদেশে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশের মধ্যে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে প্রায় চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পের দুঘর্টনা উল্লেখযোগ্য।
- "Biological Disaster" এর উদাহরণ হলো ডেঙ্গু।
- এর মধ্যে অন্যান্য উদাহরণ হিসেবে ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাস, ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু, জিকা ভাইরাস প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত।
- এই ধরনের দুর্যোগে সাধারণত জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের মাধ্যমে পরিবেশে ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
 
সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪২৭.
বাংলাদেশে কত ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়?
  1. ক) দুই ধরনের
  2. খ) তিন ধরনের
  3. গ) চার ধরনের
  4. ঘ) পাঁচ ধরনের
সঠিক উত্তর:
খ) তিন ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন ধরনের
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।
এগুলো হলোঃ
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
- প্লাবন সমভূমি।

এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী। আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়।
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী অবস্থিত।
দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল টারশিয়ারি যুগে গঠিত।

উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি, টাঙ্গাইল-গাজীপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধুপুর ও ভাওয়াল গড় এবং কুমিল্লার লালমাই পাহাড় হলো প্লাইস্টোসিনকালের ভূমিরূপ।

এ ব্যতীত দেশে সমগ্র অঞ্চল সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি। দেশের মোট ভূমির প্রায় ৮০ শতাংশই সাম্প্রতিককালের প্লাবন ভূমিরূপ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৪২৮.
করতোয়া নদী কোন জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. দিনাজপুর
  2. পঞ্চগড়
  3. ঠাকুরগাঁও 
  4. নীলফামারী
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রধান নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদী- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও রাজশাহী–চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- ব্রহ্মপুত্র নদী- তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- মেঘনা নদী - ভারতের বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পরে মেঘনা নামে পরিচিত হয়।
- যমুনা নদী- বাংলাদেশে প্রবেশের পর ব্রহ্মপুত্র নদী যমুনা নামে পরিচিত হয় এবং কুড়িগ্রাম–লালমনিরহাট অঞ্চল দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
- করতোয়া নদী- পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মহানন্দা নদী- ভারতের মালদহ জেলা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী- রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সাঙ্গু নদী- বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী- বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪২৯.
ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ-
  1. ২০.৭ শতাংশ
  2. ৪২.৭ শতাংশ
  3. ৭৮.১ শতাংশ
  4. ২৩.৬ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
৪২.৭ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২.৭ শতাংশ
ব্যাখ্যা

- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ- ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ- ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ- ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ- ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ- ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ- ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ- ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ- ২.১%।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৪৩০.
জোয়ার অত্যন্ত প্রবাল হয় কখন?
  1. ক) চন্দ্র ও সূর্য একই সরল রেখায় থাকলে
  2. খ) চন্দ্র ও সূর্য কৌণিকভাবে অবস্থান করলে
  3. গ) পৃথিবী ও চন্দ্র একই সরলরেখায় অবস্থান করলে
  4. ঘ) সূর্য ও পৃথিবী এক সমকোণে অবস্থান করলে
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্র ও সূর্য একই সরল রেখায় থাকলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্র ও সূর্য একই সরল রেখায় থাকলে
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়৷ এগুলো হলো-
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং ২. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি৷
সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না।
তবে চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকলে উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।
অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে অধিকমাত্রায় জোয়ারের ফলে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যায় এবং জানমালের ক্ষতি হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল বোর্ড বই
৫,৪৩১.
ফসল উৎপাদনের জন্য কোন ধরনের মাটি উত্তম?
  1. ক) এঁটেল মাটি
  2. খ) বেলে মাটি
  3. গ) দো-আঁশ মাটি
  4. ঘ) পলি মাটি
সঠিক উত্তর:
গ) দো-আঁশ মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দো-আঁশ মাটি
ব্যাখ্যা

- ফসল উৎপাদনের জন্য দো-আঁশ মাটি উত্তম। কারণ এই মাটিতে বালি, পলি, কর্দমকণা প্রায় সমান অনুপাতে বিদ্যমান থাকে।
- এ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে তাই চাষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী।
- এ মাটির পানি ধারণ ও শোষণ ক্ষমতা উভয় বেশি।
- বাংলাদেশের অধিকাংশ মাটি দো-আঁশ মাটি।
- কৃষিক্ষেত্রে দো-আঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।

৫,৪৩২.
পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই গোলার্ধে বিভক্তকারী রেখাটির নাম কী?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. মেরু
  3. কেন্দ্র
  4. দ্রাঘিমারেখা
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা:

- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই গোলার্ধে বিভক্তকারী রেখাটির নাম নিরক্ষরেখা।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।
- নিরক্ষরেখার (০) উত্তর ও দক্ষিণে এই অক্ষরেখা সমূহের আকার ক্রমশ ছোট হতে হতে দুই মেরুতে একেবারে বিন্দুতে পরিণত হয়।
- অর্থাৎ অক্ষরেখাগুলো নিরক্ষরেখার সাথে কৌণিক দুরত্বে কল্পিত কতিপয় সমাক্ষরেখা।
- ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকর ক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত ও কুমেরু বৃত্ত নামে অভিহিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৩৩.
ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বোঝাতে কোন সংকেত ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১২ নং
  2. খ) ১১নং
  3. গ) ১০নং
  4. ঘ) ৯নং
সঠিক উত্তর:
খ) ১১নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১নং
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রবন্দরের জন্য বিভিন্ন সংকেত:
- ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত: জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার, যা সামুদ্রিক ঝড়ে পরিণত হতে পারে।

- ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত: দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

- ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত: বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।

- ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। ঘণ্টায় বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার, তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

- ৫ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ছাবহুল এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

 - ৬ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর ঝঞ্ছাবহুল সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

- ৭ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার ঝঞ্ছাবহুল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

- ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

- ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

- ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার ঊর্ধ্বে হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরের ওপর বা নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করবে।

- ১১ নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত: আবহাওয়া বিপদ সংকেত প্রদানকারী কেন্দ্রের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় কর্মকর্তা আবহাওয়াকে অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করছেন।

উৎস: নিউজ বাংলা 24 এবং বাংলা ট্রিবিউন।
৫,৪৩৪.
‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার কোন সময়কে নির্দেশ করে?
  1. ক) ৫ম - ৬ষ্ঠ শতক
  2. খ) ৬ষ্ঠ - ৭ম শতক
  3. গ) ৭ম - ৮ম শতক
  4. ঘ) ৮ম - ৯ম শতক
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ম - ৮ম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ম - ৮ম শতক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্কের পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোন যোগ্য শাসক ছিল না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়।
সামন্ত রাজারা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকেন। অরাজকতাপূর্ণ সময় (৭ম - ৮ম) কে পাল তাম্র শাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে। পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা 'গোপাল' এর শাসনামলে এই মাৎস্যন্যায় এর অবসান ঘটে ও শৃঙ্খলা ফিরে আসে।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৪৩৫.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. সৌদি আরব
  3. ব্রুনাই
  4. ফিলিপাইন
সঠিক উত্তর:
সৌদি আরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌদি আরব
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- পৃথিবীর জলবায়ুর পাথর্য্যের জন্য সূর্যের অবস্থান একটি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
- কারণ তাপমাত্রা প্রাপ্তির ধরনের উপর আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রকৃতির পার্থক্য তৈরি হয়।
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫০ অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০০ অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৩৬.
নীলনদ কতটি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৫টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নীল নদ:

পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীল নদ।
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- নীল নামটি গ্রীক নিলোস থেকে এসেছে, যার অর্থ একটি উপত্যকা বা নদী উপত্যকা।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- নীল নদ ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৮০০ কি.মি (৪,১৩৫ মাইল)।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
এর সবচেয়ে দূরবর্তী উৎস বুরুন্ডির কাগেরা নদী।
- নীল নদ তিনটি প্রধান স্রোত দ্বারা গঠিত।
- নীল নীল এবং আতবারা যা ইথিওপিয়ার উচ্চভূমি থেকে প্রবাহিত হয় এবং সাদা নীল যার প্রধান স্রোত ভিক্টোরিয়া এবং আলবার্ট হ্রদে প্রবাহিত হয়।

উৎস: World atlas.

৫,৪৩৭.
বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা অবস্থিত?
  1. ক) হিমছড়ি পাহাড়ে
  2. খ) মাধবকুন্ড পাহাড়ে
  3. গ) শুভলং ঝর্ণায়
  4. ঘ) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চন্দ্রনাথ পাহাড়ে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের একমাত্র গরম পানির ঝর্ণা অবস্থিত চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে। আর বাংলাদেশের শীতল পানির ঝর্ণা অবস্থিত কক্সবাজারের হিমছড়ি পাহাড়ে।
সূত্র : মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৪৩৮.
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য -
  1. ২১ কিলোমিটার
  2. ২০ কিলোমিটার
  3. ১৯ কিলোমিটার
  4. ১৮ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
১৮ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত:
• অবস্থান: কুয়াকাটা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নে অবস্থিত।
• কুয়াকাটা "সাগর কন্যা" হিসেবে পরিচিত, এই সমুদ্র সৈকতটি পর্যটকদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এটি ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সৈকত যা বাংলাদেশের অন্যতম নৈসর্গিক সমুদ্র সৈকতের হিসেবে পরিচিত।

•বাংলাদেশের একমাত্র সৈকত হিসেবে এটি অনুভব করতে দেয় যেখান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উভয়ই অবস্থান দেখা যায়।
• সৈকতের গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় এবং পশ্চিম সৈকত থেকে সূর্যাস্ত দেখা যায় একবিশেষ ভাবে।
• কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিকট একটি তীর্থ স্থান।
• তারা রাস পূর্ণিমা ও মাঘী পূর্ণিমাতে কুয়াকাটার পবিত্র সৈকতে স্নানসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করে।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৩৯.
ইংলিশ চ্যানেল উত্তর সাগর এবং কোন মহাসাগরকে সংযুক্ত করে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. দক্ষিণ মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
ইংলিশ চ্যানেল:
- ইংলিশ চ্যানেল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশ।
- এই চ্যানেল উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি উত্তর ফ্রান্স থেকে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বীপকে পৃথক করে।
- এটি প্রায় ৫৬৩ কিমি (৩৫০ মাইল) দীর্ঘ এবং এর প্রস্থে ২৪০ কিমি (১৫০ মাইল)।

উল্লেখ্য,
- ডোভার প্রণালী হলো এই চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ।
- পূর্বদিকে এর বিস্তার কমে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার হয়ে যায় এবং সেখানে এটি ডোভার প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ইংলিশ চ্যানেলের প্রধান দ্বীপগুলির মধ্যে আছে আইল অভ ওয়াইট এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ।

তথ্যসূত্র: Britannica.
৫,৪৪০.
নিচের কোন দেশটি হর্ন অব আফ্রিকার দেশ নয়?
  1. ইরিত্রিয়া
  2. জিবুতি
  3. জাম্বিয়া
  4. সোমালিয়া
সঠিক উত্তর:
জাম্বিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাম্বিয়া
ব্যাখ্যা
Horn of Africa: 
- পূর্ব আফ্রিকা  অঞ্চলের অংশ।
- অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহ: 
- ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া, জিবুতি।
- এই দেশগুলোর সংস্কৃতি ও ইতিহাস বহু বছর ধরে একে অপরের সাথে জড়িত।
- খরা প্রবণ, আধা-আবহাওয়াগত মরুভূমি, পাহাড় ও উপত্যকাসমৃদ্ধ অঞ্চল।
- জাম্বিয়া হর্ণ অব আফ্রিকার দেশ নয়।


উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৫,৪৪১.
পৃথিবীর নিজ অক্ষে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে-
  1. ক) ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
  2. খ) ২৩ ঘন্টা ৫৪ মিনিট ৬ সেকেন্ড
  3. গ) ২৩ ঘন্টা ৫৭ মিনিট ৪ সেকেন্ড
  4. ঘ) ২৩ ঘন্টা ৫৯ মিনিট ৪ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
ক) ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• পৃথিবী (Earth):
- আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হলো - আমাদের বাসস্থান ‘পৃথিবী’।
- এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)।
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে।
পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আবর্তন করে।
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র।
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্ৰহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৪২.
হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় সৃষ্টি হয়েছে নিচের কোনটি?
  1. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  2. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- এগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে খ্যাত।
- পাহাড়গুলো আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- (ক) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ ও (খ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৪৪৩.
নিচের কোনটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি?
  1. কালাহারি
  2. সাহারা
  3. পাটাগোনিয়ান
  4. এন্টার্কটিকা
সঠিক উত্তর:
সাহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহারা
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উষ্ণ মরুভূমি সাহারা মরুভূমি। তবে ইরানের লুত হচ্ছে উষ্ণতম মরুভূমি।
পাটাগোনিয়ান মরুভূমি অবস্থিত আর্জেন্টিনা ও চিলিতে।
কালাহারি মরুভূমিও আফ্রিকায় অবস্থিত।
এন্টার্কটিকা মরুভূমি হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি, যা একটি শীতল মরুভূমি।
উৎসঃ নাসা এবং ওয়ার্ল্ড এটলাস
৫,৪৪৪.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত
  2. মাটির রং লাল ও ধূসর
  3. দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত
  4. কুমিল্লার লালমাই পাহাড় এর উদাহরণ
সঠিক উত্তর:
পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:

- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।  

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৪৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কতটি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি:
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌঁছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৪৪৬.
নিচের কোনটি বার্ষিক গতির ফলাফল?
  1. সমুদ্রের পানিতে গতি সঞ্চার হয়
  2. ঋতু পরিবর্তন
  3. তারিখ পরিবর্তন হয়
  4. তাপমাত্রার তারতম্য হয়
সঠিক উত্তর:
ঋতু পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋতু পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গতি:
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। পৃথিবীর এই গতিকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে।
- একবার সূর্যকে পূর্ণ পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। একে সৌরবছর বলে।
- কিন্তু আমরা ৩৬৫ দিনকে এক বছর ধরি। এতে প্রতি বছর প্রায় ৬ ঘণ্টা অতিরিক্ত থেকে যায়। এ অতিরিক্ত সময়ের সামঞ্জস্য আনার জন্য প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিন বাড়িয়ে সময়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়।
- এভাবে যে বছর ফেব্রুয়ারি মাসকে ১ দিন বাড়িয়ে ২৯ দিন করা হয় এবং ঐ বছরটিকে ৩৬৬ দিন ধরা হয়। সেই বছরকে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ বলে।
- সাধারণত কোনো বছরকে ৪ দিয়ে ভাগ করলে যদি ভাগশেষ না থাকে, তবে ঐসব বছরকে অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার (Leap Year) ধরা হয়।

বার্ষিক গতির ফল হলো-
(১) দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
(২) ঋতু পরিবর্তন

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৪৭.
”মধুপুর ভাওয়ালের গড়” কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. স্রোতজ সমভূমি
  2. প্লাবন সমভূমি
  3. টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল
  4. প্লাইস্টোসিন উচ্চভূমি
সঠিক উত্তর:
প্লাইস্টোসিন উচ্চভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাইস্টোসিন উচ্চভূমি
ব্যাখ্যা

• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
- এবং প্লাবন সমভূমি 

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি:
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল
- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল,
- বরেন্দ্রভূমি,
- মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল:
-  উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল,
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।

• প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল- 
১. রংপুর দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি ।
২. ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
৩. ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে ব-দ্বিপ সমভূমি।
৪. নোয়খালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি।
৫. খুলনা, পটুয়াখালী অঞ্চল ও বরগুনা জেলার অংশবিশেষ স্রোতজ সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৫,৪৪৮.
কুষ্টিয়া কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) গড়াই
  2. খ) যমুনা
  3. গ) আড়িয়াল খাঁ
  4. ঘ) তিস্তা
সঠিক উত্তর:
ক) গড়াই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গড়াই
ব্যাখ্যা
- কুষ্টিয়া  গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নারায়নগঞ্জ এবং নরসিংদী জেলা অবস্থিত।
- আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে মাদারীপুর শহর অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৪৯.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ প্রধানত কোন জলবায়ুর অন্তর্গত?
  1. নিরক্ষীয়
  2. ভূমধ্যসাগরীয়
  3. মহাদেশীয়
  4. মৌসুমি
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌসুমি
ব্যাখ্যা
মৌসুমি জলবায়ু:
- ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হয় বলে একে মৌসুমি জলবায়ু বলা হয়।
- কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চল জুড়ে যে জলবায়ু বিস্তৃত তা মৌসুমি জলবায়ু।
- ক্যারিবিয়ান সাগর, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপসমূহের দেশগুলো, পূর্ব আফ্রিকা, পূর্ব ব্রাজিল, উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ চীন ও জাপান, থাইল্যান্ড, কম্পুচিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার অর্থাৎ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।
- এছাড়াও মেক্সিকো উপসাগরের উপকূলবর্তী দেশসমূহ, লাওস, মালাগাছি দ্বীপও এই জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য:
- মৌসুমি জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে অধিক গরম ও শীতকালে শীত পড়ে। জুলাই মাস সবচেয়ে বেশি গরম ও জানুয়ারি মাসে বেশি শীত পড়ে। 
- গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং এই সময় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত প্রভৃতি স্থানে বায়ুর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত বেশি হয় কিন্তু শীতকাল শুষ্ক থাকে। তবে অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরাও এই জলবায়ু অঞ্চলে দেখা যায়। ক
- এই জলবায়ু অঞ্চলে উর্বর ভূমি ও পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য উপকারী।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৫০.
কাস্পিয়ান হলো একটি -
  1. সাগর
  2. মহাসাগর
  3. হ্রদ
  4. নদী
সঠিক উত্তর:
হ্রদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্রদ
ব্যাখ্যা

কাস্পিয়ান সাগর:
- কাস্পিয়ান সাগর (Caspian Sea) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আন্তঃমহাদেশীয় হ্রদ।
- এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সীমানা হিসেবে কাজ করছে। 
- এটি সাগরের মতো দেখতে হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি হ্রদ।
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন ৩,৮৬,৪০০ বর্গ কিলোমিটার।

⇒ এটি পাঁচটি দেশের সীমান্তে অবস্থিত: রাশিয়া, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তান।
- এটি এশিয়া-ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত।
- এর উত্তরে কাজাখস্তান, পশ্চিমে আজারবাইজান, দক্ষিণে ইরান এবং দক্ষিণ-পূর্বে তুর্কমেনিস্তান ঘিরে আছে।

উৎস: Britannica.

৫,৪৫১.
বাংলাদেশের কোন সংস্থা ভৌগােলিক নির্দেশক পণ্যের নিবন্ধন করে থাকে?
  1. ক) DPE
  2. খ) DPDT
  3. গ) DAE
  4. ঘ) DGDA
সঠিক উত্তর:
খ) DPDT
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) DPDT
ব্যাখ্যা
মেধাস্বত্ব-বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা World Intellectual Property Organization (WIPO) সাধারণত ভৌগােলিক নির্দেশক পণ্যের নিবন্ধন দেয়। তবে বাংলাদেশে WIPO’র হয়ে স্থানীয়ভাবে কাজটি করে থাকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT)।
- DPDT এ পর্যন্ত ৯টি বাংলাদেশি পণ্যের GI নিবন্ধন করেছে।
- GI নিবন্ধন প্রাপ্ত পণ্যগুলো হলঃ জামদানি শাড়ি, ইলিশ, খিরসাপাত আম, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, বিজয়পুরের সাদা মাটি, কাটারীভোগ ধান, কালিজিরা ধান এবং রংপুরের শতরঞ্জি।
- ১৭ নভেম্বর ২০১৬ বাংলাদেশের প্রথম GI পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় জামদানি শাড়ী।
- আরও ২৬ টি পণ্য GI নিবন্ধনের জন্য প্রক্রিয়াধীন।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার মে-জুন, ২০২১ এবং দৈনিক পত্রিকা।
৫,৪৫২.
'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী?
  1. একটি সামুদ্রিক গিরিখাত
  2. একটি দ্বীপ
  3. একটি চর
  4. একটি পর্বতশৃঙ্গ
সঠিক উত্তর:
একটি সামুদ্রিক গিরিখাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি সামুদ্রিক গিরিখাত
ব্যাখ্যা

→ 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' হলো বঙ্গোপসাগরের-একটি গিরিখাত।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত।
- এটি বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- গিরিখাতটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে "গঙ্গা খাদ" নামেও ডাকা হয়।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে এটি প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৫৩.
বাব এল মান্দেব প্রণালী কোন দুটি জলভাগকে সংযুক্ত করেছে?
  1. লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর
  2. লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর
  3. এডেন উপসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
  4. লোহিত সাগর ও কৃষ্ণসাগর
সঠিক উত্তর:
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর
ব্যাখ্যা

বাব এল-মান্দেব প্রণালী:
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী, আরবি বাব আল-মান্দব, আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী।
- প্রণালীটির মোট দৈর্ঘ্য, পূর্ব-উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ১৪৮০ কিমি, এবং এর গড় প্রস্থ, উত্তর-উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ৪৮০ কিমি।
- এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।
- প্রণালীটি এডেন উপসাগর, গভীর জলের অববাহিকা যা লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সংযোগ তৈরি করে।
- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত।পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের সাথে, প্রণালীটি ভূমধ্যসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগের একটি অংশ গঠন করে।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ ‘কান্নার দ্বার’।
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী 'Gate of Tears' নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৫,৪৫৪.
বিশ্বের দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. ক) আমাজন
  2. খ) নীলনদ
  3. গ) হোয়াংহো
  4. ঘ) ইয়াংসিকিয়াং
সঠিক উত্তর:
খ) নীলনদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীলনদ
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের দীর্ঘতম নদী নীলনদ
• এর দৈর্ঘ্য ৪১৩২ মেইল বা ৬৬৫০ কিমি। 
• এর অবস্থান পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায়।
• বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রশস্ততম নদী আমাজন।
• এশিয়ার দীর্ঘতম এবং পৃথিবীর ৩য় দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং। 
• হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি কুয়েনলুন পর্বত থেকে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫,৪৫৫.
সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে কি পরিমাপ করা হয়?
  1. অক্ষাংশ
  2. দ্রাঘিমাংশ
  3. উষ্ণতা
  4. সময়
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ:
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে।
- প্রধানত দুইটি পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
- যথা:
১। ধ্রুবতারার অবস্থান:
- উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানে ধ্রুবতারা যত ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে সেই মানই উক্ত স্থানের অক্ষাংশ।

২। সূর্যের অবস্থান:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪৫৬.
পৃথিবীর পরিধি কত?
  1. ১৫,০০০ কি.মি.
  2. ২৫,০০০ কি.মি.
  3. ৪০,০০০ কি.মি.
  4. ৬০,০০০ কি.মি.
সঠিক উত্তর:
৪০,০০০ কি.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪০,০০০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকৃতি:
- পৃথিবী একটি অভিগত গোলক।
- অর্থাৎ এর উত্তর ও দক্ষিণ অংশ কিছুটা চাপা ও মধ্যভাগ, অর্থাৎ নিরক্ষরেখা বরাবর অঞ্চলটি কিঞ্চিত স্ফীত।
- সৌরজগত পরিবারের মাঝারি আকারের গ্রহ পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কি.মি.।
- পৃথিবীর গড় ব্যাস ১২,৭৩৪.৫ কি.মি. (প্রায়)।
- পৃথিবীর গোলাকৃতি আকার সম্পর্কে নানা প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়।
- আধুনিক মহাকাশ চিত্রসমূহ থেকে পৃথিবীর আকার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৫৭.
মূল দ্রাঘিমা রেখা যে স্থানের উপর দিয়ে গিয়েছে -
  1. ইস্তাম্বুল
  2. ঢাকা
  3. টোকিও
  4. লন্ডন
সঠিক উত্তর:
লন্ডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লন্ডন
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমা রেখা:
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের নিকটবর্তী গ্রীনিচ নামক স্থানে একটি মান মন্দির বরাবর যে দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল দ্রাঘিমা রেখা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- এই মূল মধ্যরেখাটির মান ০° ধরে নেয়া হয়।
- প্রতি ১° অন্তর অন্তর একটি করে দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা বরাবর সমস্ত পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে দুইভাগে বিভক্ত করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০টি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- অপরদিকে মূল মধ্য রেখা থেকে পশ্চিমে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ার ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই মধ্যরেখার পড়ে।
- এই ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসাবে চিহ্নিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৪৫৮.
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সরকার কতটি এলাকাকে 'পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ECA) হিসেবে ঘোষণা করেছে?
  1. ১২টি 
  2. ১০টি
  3. ১৫টি
  4. ১৩টি
সঠিক উত্তর:
১৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩টি
ব্যাখ্যা

- পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন
এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

• বাংলাদেশের ঘোষিত প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা:
- অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।
- এর ফলে দেশের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিবেশের উৎপাদনশীলতাও কমে গিয়েছে।
- দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক - বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০১০) অনুসারে বিভিন্ন সময়ে কিছু এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (Ecologically Critical Area-ECA/ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। 
- এ পর্যন্ত দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

• এলাকাগুলো:
- সুন্দরবন, কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্র সৈকত, সেন্টমাটিন দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর, মারজাত বাওড়, গুলশান-বারিধারা লেক, বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী, শীতলক্ষ্যা নদী, জাফলং-ডাউকি নদী।

উৎস: পরিবেশ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৫,৪৫৯.
নিম্নের কোনটি দুর্যোগ প্রশমন (Mitigation) কার্যক্রমের উদাহরণ?
  1. ত্রাণ বিতরণ
  2. আগাম সতর্কবার্তা প্রদান
  3. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  4. উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
সঠিক উত্তর:
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
ব্যাখ্যা
প্রশমন (Mitigation):
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন কাজগুলো:
- বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪৬০.
গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের মোট সূত্র কয়টি?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা

- গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র মোট তিনটি। 

• গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র: 
- ১৭শ শতাব্দীর শুরুতে ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার (Johann Kepler) সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্ৰ করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে নামকরণ করা হয়েছে কেপলার এর গ্রহ সম্পৰ্কীয় গতিসূত্র।
- তিনি টাইকো ব্রাহের (Tycho Brahe) সংগ্রহ করা অত্যন্ত নির্ভুল পর্যবেক্ষণ ডেটা ব্যবহার করে এগুলো আবিষ্কার করেন।
- প্রথম দুটি সূত্র ১৬০৯ সালে তার বই Astronomia Nova-তে প্রকাশিত হয়, এবং তৃতীয় সূত্র ১৬১৯ সালে Harmonices Mundi-তে।

• গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের তিনটি সূত্র: 
১। প্রথম সূত্র (Law of Ellipses / কক্ষপথের সূত্র): প্রতিটি গ্রহ সূর্যকে ফোকাসে রেখে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে । যাকে উপবৃত্তের সূত্র বলা হয় ।
২। দ্বিতীয় সূত্র (Law of Equal Areas / সমক্ষেত্রফলের সূত্র): সূর্য এবং গ্রহের সংযোগকারী রেখা গ্রহের আবর্তনের সাথে সাথে সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে। যাকে ক্ষেত্রফলের সূত্র বলা হয় ।
৩। তৃতীয় সূত্র (Law of Harmonies / সময়-দূরত্বের সূত্র): একটি গ্রহের কক্ষীয় পর্যায়কালের বর্গ তার কক্ষপথের পরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক। যাকে পর্যায়কালের সূত্র বলা হয় ।

তথ্যসূত্র: 
i) NASA Science. (Link) (Link)
ii) Britannica. 
iii) Kepler's Laws of Planetary Motion.

৫,৪৬১.
'সেন্তোসা দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কিউবা
  2. সিঙ্গাপুর
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. জাপান
সঠিক উত্তর:
সিঙ্গাপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিঙ্গাপুর
ব্যাখ্যা
সেন্তোসা দ্বীপ:
- সেন্তোসা দ্বীপ সিঙ্গাপুরে অবস্থিত।
- এটি সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ উপকূলের কাছে অবস্থিত।
- এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান। 
- সেন্তোসা দ্বীপে বিভিন্ন বিনোদন পার্ক, সমুদ্র সৈকত, জাদুঘর এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়।

উৎস: National Geographic.
৫,৪৬২.
পদ্মা নদীর শাখা নদী কোনটি?
  1. করতোয়া 
  2. তিস্তা 
  3. ধরলা 
  4. মধুমতী
সঠিক উত্তর:
মধুমতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুমতী
ব্যাখ্যা

পদ্মা:
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা।
- ভারতে এই নদীর নাম গঙ্গা।
- গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণপশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী
(হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। 

 - কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখানদী। 

অন্যদিকে,
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী ।
- করতোয়া ও আত্রাই যমুনার প্রধান উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫,৪৬৩.
ঢাকা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত একটি স্থানের সাথে দ্রাঘিমার পার্থক্য ৬০°। ঢাকার সময় সকাল ১০:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে-
  1. সকাল ৬:০০ টা
  2. মধ্যাহ্ন ১২:০০ টা
  3. বিকাল ০৪:০০ টা
  4. বিকাল ০২:০০ টা
সঠিক উত্তর:
বিকাল ০২:০০ টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকাল ০২:০০ টা
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
→ ৬০° দ্রাঘিমার জন্য সময়ের প্রার্থক্য হবে, ৬০×৪ = ২৪০ মিনিট বা ৪ ঘণ্টা।
→ যেহেতু পূর্বে গেলে সময় বাড়ে সেহেতু ঢাকার সময় সকাল ১০:০০ টা হলে ঐ স্থানটির স্থানীয় সময় হবে বিকেল ২টা।
 
আন্তর্জাতিক টাইম জোন:
- গ্রিনিচ মানমন্দির যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে অবস্থিত।
- এর উপর দিয়ে মূল মধ্যরেখা বা শূন্য ডিগ্রী দ্রাঘিমারেখা গিয়েছে।
- ১৮৮৪ সালের ১ নভেম্বর জিএমটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণ সময় হিসেবে গৃহিত হয় ৷
- গ্রিনিচ মানমন্দির অফিসিয়াল টাইম জোন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রিনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- কোন স্থান থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমবে আর পূর্বে গেলে সময় বাড়বে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৪৬৪.
'ট্রপিক অব ক্যানসার' নামে পরিচিত কোনটি?
  1. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা
  2. মূল মধ্যরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি রেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৬৫.
নাসার বিঞ্জানীরা সৌরজগতে সূর্যের চারপাশে ঘুরে চলেছে আরও এক চাঁদ সদৃশ বস্তু আবিষ্কার করেছেন যার নাম-
  1. ২০২৫ পিএন৮
  2. ২০২৪ পিএন৭
  3. ২০২৩ পিএন৭
  4. ২০২৫ পিএন৭
সঠিক উত্তর:
২০২৫ পিএন৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২৫ পিএন৭
ব্যাখ্যা

- নাসার বিজ্ঞানীরা যে নতুন চাঁদ-সদৃশ বস্তুটি আবিষ্কার করেছেন তার নাম ২০২৫ পিএন৭।
- এটি পৃথিবীর উপগ্রহ নয়, বরং সূর্যের চারপাশে এমন একটি কক্ষপথে ঘুরছে যা দেখে মনে হয় এটি পৃথিবীর সঙ্গেই চলেছে।
- এই মহাজাগতিক শিলাটিকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘কোয়াসি-মুন’ বা আধা-চাঁদও বলা হয়। 
- ‘২০২৫ পিএন৭’ নামের নতুন চাঁদটি মূলত ১৯ মিটার ব্যাসের একটি ছোট গ্রহাণু।
- আকারে ছোট হলেও গ্রহাণুটি ২০৮৩ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি অবস্থান করবে।
- আর তাই বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুটিকে কোয়াসি-মুন বা আংশিক চাঁদ বলছেন।

উৎস: বিবিসি নিউজ।[লিঙ্ক]

৫,৪৬৬.
ভৈরব কোন নদীর শাখা নদী?
  1. পদ্মা নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. মেঘনা নদী
  4. যমুনা নদী
সঠিক উত্তর:
পদ্মা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা নদী
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- কুমার, মাথাভাঙা, ভৈরব, গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ইত্যাদি পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদী। 
- পুনর্ভবা, নাগর, পাগলা, কুলিক ও ট্যাংগন মহানন্দার উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দৌলতদিয়ার নিকট যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- গঙ্গার মূল ধারা হওয়াতে দৌলতদিয়া পর্যন্ত এই নদীটি গঙ্গা নদী নামেই পরিচিত।
- তবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর থেকেই স্থানীয়ভাবে অনেকে একে পদ্মা নামে চেনে।
- গঙ্গা ও যমুনার মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই তিন নদীর মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন হচ্ছে ৩৪,১৮৮ বর্গকিলোমিটার।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি
৫,৪৬৭.
'প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার' কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. তেলের খনি
  2. গ্যাসের খনি
  3. আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প
  4. প্রবাল প্রাচীর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

•'প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার' আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পের সাথে সম্পর্কিত।

প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার:

- রিং অব ফায়ার হলো প্রশান্ত মহাসাগরের ধারে ‘ঘোড়ার নালের’ মতো দেখতে একটি টেকটনিক ফাটল রেখা।
- এই রেখায় প্রশান্ত মহাসাগীয়র প্লেটের সঙ্গে ইউরেশীয়, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান, উত্তর আমেরিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটগুলো স্পর্শ করে আছে।
- প্লেটগুলোর যেকোনো একটি নড়ে উঠলেই এই রেখার ভূমিকম্প হতে পারে।
- এছাড়া এই রেখা বরাবর প্রচুর সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
 - প্লেটগুলোর নড়াচড়ার ফলে এসব আগ্নোগিরি লাভা উদগীরণ করতে শুরু করে, ফলে ভূমিকমম্পের মাত্রা ও স্থায়ীত্ব ততো বাড়ে।
- জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, চিলি, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল (ক্যালিফোর্নিয়া) ইত্যাদি এই রেখায় অবস্থিত বলে এখানে ভূমিকম্পের প্রবণতা এত বেশি। 

উৎস: লাইভসায়েন্স ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

৫,৪৬৮.
শাত-ইল-আরব হলো-
  1. ইরাবতি ও সালুইন নদীর মিলিত প্রবাহ
  2. টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ
  3. আমুদরিয়া ও শীরদরিয়া নদীর মিলিত প্রবাহ
  4. তারিম নদী ও হেলমন্দ নদীর মিলিত প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ
ব্যাখ্যা
শাত-ইল-আরব:

- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ।
- এই জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- শাত-ইল-আরব জলপথের অধিকারকে কেন্দ্র করেই মূলত ইরাক-ইরান বিরোধ শুরু হয়।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে।
- ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ হয়েছিল।
- তার আগে, শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এতে ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।

উৎস: Britannica.
৫,৪৬৯.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়?
  1. দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. পূর্ব- দক্ষিণাঞ্চলে
  4. পশ্চিম- পূর্বাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

খরা (Drought): 
- ফসল জন্মানোর স্বাভাবিক সময়ে শস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার চাইতে জমিতে কম আর্দ্রতা থাকলে সে সময়কে বাংলাদেশে ক্ষরা অবস্থা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়।
- ১৯৫১, ১৯৫৭, ১৯৫৮,১৯৬১, ১৯৬৬, ১৯৭২ এবং ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে যথাক্রমে ৩১.৬৩, ৪৬.৫৪, ৩৭.৪৭, ২২.৩৯, ১৮.৪২, ৪২,৪৮, ৪২.০৪ শতাংশ অঞ্চল খরা আক্রান্ত ছিল।
- ১৯৯৪-৯৫ খ্রিষ্টাব্দের খরা এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫-৯৬ খ্রিষ্টাব্দের খরা খাদ্যশস্যের বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান কৃষিফসল ধান ও পাট মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- খরার প্রকোপে শাকসবজি, তামাক, কলা, অন্যান্য শস্যের ফলন দারুণভাবে ব্যাহত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪৭০.
বজ্রপাত প্রধানত বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ঘটে?
  1. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
  2. ট্রপোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. এক্সোমণ্ডল
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা

• ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন হওয়ায় এ স্তর জীবজগতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং এই স্তরেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর সব রকমের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪৭১.
কোন কারণে বায়ু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) স্বল্প আর্দ্রতার কারণে
  2. খ) বায়ুর গতিপথে পর্বতের অবস্থান
  3. গ) বায়ু তাপ ও চাপের পার্থক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ু তাপ ও চাপের পার্থক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ু তাপ ও চাপের পার্থক্য
ব্যাখ্যা
বায়ু তাপ ও চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৫,৪৭২.
কত সালে যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়?
  1. ১৭৬২ সালে
  2. ১৭৬৭ সালে
  3. ১৭৮২ সালে
  4. ১৭৮৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
যমুনা-ব্রহ্মপুত্র ধারা 
- ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বাংলাদেশের তথা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ জলধারা।
- ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্নধারা যমুনা নামে পরিচিত।
- ১৭৬২ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র থেকে একটি শীর্ণকায় শাখা প্রবাহ সৃষ্টি হয়।
- ব্রহ্মপুত্র নদের এই শাখাই ১২ জুন, ১৭৮৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও বন্যার ফলে স্ফীত হয়ে আজকের যমুনা নদীতে পরিণত হয়েছিল।
- ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ এর তলদেশ‌ উত্থিত হ‌ওয়ার কারণে ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এই নদের প্রধান প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়ে যমুনার দিকে সরে যায়। 
- যমুনা নদী রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের কাছে পদ্মায় মিশেছে।
- ধলেশ্বরী যমুনার শাখানদী, আর ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- আত্রাই, করতোয়া, তিস্তা, ধরলা ইত্যাদি যমুনার উপনদী।

অপরদিকে,
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ধারা ক্ষীণ হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - তথ্যসূত্র – ভূগোল ও পরিবেশ (বাউবি ) , বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ( নবম দশম শ্রেণি)।
৫,৪৭৩.
কোনটি পদ্মার উপনদী?
  1. করতোয়া
  2. মহানন্দা
  3. আত্রাই
  4. ধরলা
সঠিক উত্তর:
মহানন্দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহানন্দা
ব্যাখ্যা
♦পদ্মা নদী:
- পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান ও বৃহত্তম নদী। ভারতে এই নদী গঙ্গা নামে পরিচিত, যার উৎপত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে।
- গঙ্গা দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের ধুলিয়ান এলাকায় ভাগীরথী (হুগলি) নামে একটি শাখা নদী তৈরি করে।
- মূল গঙ্গা নদী কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং দৌলতদিয়ার কাছে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়।

- বাংলাদেশে এই গঙ্গা নদী পদ্মা নামে পরিচিত।
- পদ্মা এরপর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।
- তিনটি নদীর সম্মিলিত ধারা মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
- পদ্মা নদীর প্রধান শাখা নদীগুলো হচ্ছে কুমার, গড়াই, মধুমতী, ভৈরব ইত্যাদি এবং উপনদীগুলোর মধ্যে পুনর্ভবা, মহানন্দা, নাগর, কুলিক প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

♦ অন্যদিকে,
- ’করতোয়া’ ও ’আত্রাই’ যমুনার প্রধান উপনদী। 
- ’ধরলা’ ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫,৪৭৪.
নিচের কোন দেশটি মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
  2. সলোমান দ্বীপপুঞ্জ
  3. ফিজি
  4. পাপুয়া নিউগিনি
সঠিক উত্তর:
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
মাইক্রোনেশিয়া হলো ওশেনিয়া মহাদেশের একটি অঞ্চল যা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপসমূহ নিয়ে গঠিত।
এই অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রের সংখ্যা পাঁচটি। এগুলো হলো:
- নাউরু
- পালাউ
- কিরিবাতি
- মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং
- মাইক্রোনেশিয়া।

মেলানেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- সলোমান দ্বীপপুঞ্জ
- ফিজি
- ভানুয়াতু ও
- পাপুয়া নিউগিনি।

পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা
- টুভ্যালু ও
- সামোয়া।
(সূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৫,৪৭৫.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের মানুষ জলবায়ু শরণার্থী হিসেবে প্রথম আক্রান্ত হবে?
  1. খরাপ্রবণ অঞ্চলের
  2. উপকূলীয় অঞ্চলের
  3. পাহাড়ি অঞ্চলের
  4. সোপান অঞ্চলের
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় অঞ্চলের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকূলীয় অঞ্চলের
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী উষ্ণায়নের ফলে একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের মোট জনসমষ্টির প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসীর সরাসরি ভাগ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
- এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠলে আবহাওয়ার প্রকৃতিই বদলে যাবে।
- সময়ে অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের শিকার হয়ে ফসল ডুবে যাবে, দুষিত হবে সুপেয় পানি ও লোনা পানি প্রবেশের ঝুঁকি বাড়বে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা হ্রাস পাবে। 
- একই দেশের মানুষ অন্য অঞ্চলে হবে জলবায়ু শরণার্থী (Climate refugee)। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের মানুষ হবে প্রথম শিকার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৪৭৬.
‘আম্পান’ কোন দেশের দেওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম?
  1. ক) মালদ্বীপ
  2. খ) মিয়ানমার
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) থাইল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) থাইল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের ১৬৯টি নামের তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা(ডব্লিউএমও)। এই অঞ্চলে বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া সংস্থার (আরএসএমসি) ১৩টি দেশ নামগুলো দিয়েছে। আরএসএমসির সদস্য রয়েছে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ। বাকি ১২টি দেশ হলো ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। আরব ও বঙ্গোপসাগরে এখন যে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবে অর্থাৎ, ৬৪ নম্বর ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে ‘আমপান’। এটি থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম। ১৬৯টি নতুন ঘূর্ণিঝড়ের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নামগুলো হলো: নিসর্গ, বিপর্যয়, অর্ণব, উপকূল, বর্ষণ, রজনী, নিশীথ, ঊর্মি, মেঘলা, সমীরণ, প্রতিকূল, সরবর, মহানিশা। সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা।
৫,৪৭৭.
নিচের কোনটি চিরহরিৎ বনভূমি?
  1. সুন্দরবন
  2. লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
  3. শালবন
  4. গরান বনভূমি 
সঠিক উত্তর:
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
ব্যাখ্যা

• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ১২৫০ হেক্টর আয়তনের বন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- উল্লুক ছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ এবং উদ্ভিদ।

অন্যদিকে,
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- শালবন হলো ক্রান্তীয় আর্দ্র পাতাঝরা বনভূমি,
- বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাংশে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার–ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিদ জন্মায়, তাদের স্রোতজ বা গরান বনভূমি বলা হয়। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৪৭৮.
কোন মহাসাগরে গভীর সমুদ্র খাতের সংখ্যা সর্বাধিক?
  1. ক) প্রশান্ত মহাসাগর
  2. খ) আটলান্টিক মহাসাগর
  3. গ) বঙ্গোপসাগর
  4. ঘ) ভারত মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

- প্রশান্ত মহাসাগরে গভীর সমুদ্র খাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- সর্বাপেক্ষা গভীরতম সমুদ্র খাত মারিয়ানা খাত। এটি গুয়াম দ্বীপের ৩২২ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
- ভারত মহাসাগরের গভীরতম খাত 'সুন্দা খাত'।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম খাত পোর্টেরিকো খাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৪৭৯.
জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির উদাহারণ কোনটি?
  1. ক) বায়ু দূষণ
  2. খ) রাসায়নিক বিস্ফোরণ
  3. গ) জিকা ভাইরাস
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
গ) জিকা ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিকা ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের দুর্যোগ ও দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা হয়েছে। যথা- 

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির পরিবেশ: বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিধস, ভূমিকম্প ও বজ্রপাত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

২. মানব সৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি: বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পে প্রায় দুর্ঘটনা হয়। ২০১৯ সালে ঢাকায় চকবাজার এলাকায় রাসায়নিক বিস্ফোরণে ৭০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে সারাদেশে ভবনধ্বসে ২৬ জন মানুষ মারা যায়।

৩. জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকি: সম্প্রতির কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভূক্ত। এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্লু নিপাহ, জিকা ভাইরাসের আক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্গত।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৮০.
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কোন জেলায় নিচু ভূমির (low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) হবিগঞ্জ
  2. খ) গোপালগঞ্জ
  3. গ) কিশোরগঞ্জ
  4. ঘ) মুন্সীগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
Very Low Land: The land consists of haors, bills, canals and other low lying areas which looks like large lakes during rainy season. Depth of water may rise as high as 30 feet. In winter, waters dry up except in the centre. Most of the haors and bills lie in Sylhet division and in Kisoreganj and Netrokona district.
Source: bbs.gov.bd
৫,৪৮১.
পানির হ্রাস-বৃদ্ধির গতি দ্রুত কোন ধরনের বন্যার?
  1. ক) মৌসুমি বন্যা
  2. খ) জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা
  3. গ) আকস্মিক বন্যা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
পানির হ্রাস-বৃদ্ধির গতি দ্রুত আকস্মিক বন্যার। পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৫,৪৮২.
বাংলাদেশের নবীনতম নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. যমুনা
  3. জিঞ্জিরাম
  4. মেঘনা
সঠিক উত্তর:
যমুনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যমুনা
ব্যাখ্যা
নবীনতম নদী:
- নিকতম অতীতে বাংলাদেশে নতুন নদী তৈরি হওয়ার ইতিহাস নেই, বরং ভরাট হয়; সংস্কারের অভাবে নদী মরে যায়।
- এখানে নবীনতম নদী বলতে সর্বশেষ যে নদীর ধারা সৃষ্টি হয়েছে সেটাই বুঝানো হয়েছে।
- বাংলাদেশে নতুন নদী তৈরি হওয়ার ঘটনাটি বেশ পুরনো।
- প্রায় ২৪০ বছর পূর্বে ১৭৮৭ সালে এই ভূখণ্ডে তীব্র ভূমিকম্প ও বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়েছিলো।
- এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ভূখণ্ডে আর নতুন নদী তৈরি হওয়ার ইতিহাস নেই।
- তাই যমুনা নদীকেই বাংলাদেশের নবীনতম নদী বলা যায়।

⇒ যমুনা নদী:
- ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বাংলাদেশের দ্বিতীয় এবং বিশ্বের দীর্ঘতম নদীসমূহের মধ্যে অন্যতম।
- প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্ন প্রবাহ যমুনা নামে অভিহিত।
- ১৭৮৭ সালে সংঘটিত প্রচণ্ড ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- তারপর তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রাম জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়।
- একটি শাখা যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- অপর শাখা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী: ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।

অন্যদিকে,
• পদ্মা নদী:
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- পদ্মা নদী রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে। এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- পদ্মার শাখা নদীগুলো হলো ⎯ মধুমতি, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙ্গা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসাত, পশুর, বড়াল, গড়াই, ইছামতি ইত্যাদি এবং উপনদী ⎯ মহানন্দা, টাঙ্গন, নাগর, পুনর্ভবা, কুলিক।

• জিঞ্জিরাম নদী:
- জিঞ্জিরাম নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী।
- নদীটি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও জামালপুর জেলায় প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৫ কিলোমিটার।

• মেঘনা নদী:
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের প্রশস্ত ও গভীরতম নদী।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী। ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
- এর মধ্যে একটি সুরমা নামে এবং অন্যটি কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে ⎯ মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম এবং জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৪৮৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল কোনটি?
  1. ক) অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. খ) আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
  3. গ) প্রশিক্ষণ
  4. ঘ) গণসচেতনতা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
খ) আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পুর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
কাঠামোগত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যেমন: বেরিবাঁধ নির্মাণ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষন, পূর্বপ্রস্তুতি প্রদান প্রভৃতি অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ ইত্যাদি অল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৫,৪৮৪.
IPCC এর তথ্য অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত বাড়বে?
  1. ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস
  2. ২.১ -৭.৪° সেলসিয়াস
  3. ১.৫-৬.৯° সেলসিয়াস
  4. ১.৮-৬.৮° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
১.১-৬.৪° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.১-৬.৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
- জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য ১৯৮৮ সালে গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
- বিগত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭৪° সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ধারণা করা হচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- অন্যদিকে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিকূল বিলুপ্ত হবে। যা উদ্ভিদ ও প্রাণির বসবাসের অনুকূল পরিবেশে সরাসরি আঘাত হানার মধ্য দিয়ে ধ্বংস সাধন করবে।   

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৮৫.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয় কোনটি?
  1. বায়ুর তাপ
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ুপ্রবাহ
  4. সবগুলোই উপাদান
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই উপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই উপাদান
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু: 
- কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
- কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- কাজেই জলবায়ু হলো কোনো একটি অঞ্চলের অনেক দিনের বায়ুমন্ডলের নিম্নস্তরের সামগ্রিক অবস্থা।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো হলো বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা ও বারিপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৪৮৬.
পানামা খাল খনন সম্পন্ন হয় কত সালে?
  1. ১৯০১ সালে
  2. ১৯১০ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর সংযোগকারী কৌশলগত জলপথ। 
- পানামা খাল একটি লক-টাইপ খাল।
- খালটি পানামার সরু ভূমি দিয়ে আটলান্টিক (বিশেষত ক্যারিবিয়ান সাগর) এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে।
- খালটি ১৯১৪ সালের আগস্টে খনন সম্পন্ন হয়।
- এটি বিশ্বের দুটি সবচেয়ে কৌশলগত কৃত্রিম জলপথের একটি (অন্যটি সুয়েজ খাল)।
- যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলের মধ্যে ভ্রমণকারী জাহাজগুলো কেপ হর্ন ঘুরে আসার পরিবর্তে প্রায় ৮,০০০ নটিক্যাল মাইল (১৫,০০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- উত্তর আমেরিকার একটি উপকূল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার বিপরীত পাশে বন্দরগুলোর যাত্রাপথে প্রায় ৩,৫০০ নটিক্যাল মাইল (৬,৫০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- ইউরোপ থেকে পূর্ব এশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার যাত্রাপথে প্রায় ২,০০০ নটিক্যাল মাইল (৩,৭০০ কিমি) দূরত্ব কমে।
- পানামা খাল বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য এবং নৌচলাচলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু।

উৎস: Britannica.
৫,৪৮৭.
বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘ গণনায় ব্যবহৃত পদ্ধতির নাম -
  1. ফুটমার্ক
  2. ক্যামেরা ট্র্যাপিং
  3. জিআইএস
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক্যামেরা ট্র্যাপিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যামেরা ট্র্যাপিং
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য,
- সুন্দরবনের বাঘ গণনায় ব্যবহৃত পদ্ধতির নাম ক্যামেরা ট্র্যাপিং।

উৎস: i) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
         ii) ৩১ মার্চ ২০২২, প্রথম আলো।
৫,৪৮৮.
'সাগরকন্যা' নামে পরিচিত সমুদ্র সৈকত কোনটি?
  1. ক) পারকি
  2. খ) টেকনাফ
  3. গ) সেন্ট মার্টিন
  4. ঘ) কুয়াকাটা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুয়াকাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
• 'সাগরকন্যা' নামে পরিচিত 'কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত'।
- 'কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত' এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার।
- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সূর্যোদয় ও সূর্য়াস্তের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করা যায়।
- পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে কুয়াকাটার দুরত্ব ৭০ কিলোমিটার 
- সমুদ্র সৈকতের পাশেই দেড় শতাধিক একর জমিতে অবস্থিত নারিকেল বাগান যা "নারিকেল কুঞ্জ" নামে পরিচিত।

• পতেঙ্গা ও পারকি সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামে অবস্থিত।
•  ইনানী, লাবনী, হিমছড়ি, টেকনাফ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
• সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি নারকেল জিঞ্জিরা হিসেবে পরিচিত।
- প্রচুর নারকেল পাওয়া যায় বলে এ নামটি অনেক আগে থেকেই পরিচিত হয়েছে।

সূত্র: পটুয়াখালী জেলার ওয়েবসাইট
 
৫,৪৮৯.
জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে কোনটির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি?
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. কয়লা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কয়লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়লা
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি:
- জীবাশ্ম জ্বালানি এমন এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর লাগে, সাধারণত ৬৫০ মিলিয়ন বছর বা ৬৫০০০০০০০ বছর সময় লাগে। জীবাশ্ম জ্বালানিতে উচ্চ পরিমাণে কার্বন থাকে। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানি পৃথিবীর সকল জায়গায় পাওয়া যায় না। যে দেশে পাওয়া যায় তার উপর অন্যান্য দেশ নির্ভর করে।

কয়লা:
- জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে কয়লার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। কয়লা একটি জৈব পদার্থ। পৃথিবীতে একসময় অনেক গাছপালা ছিল। বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনে সেই সব গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় এবং জমতে থাকে। গাছের পাতা ও কাণ্ড রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কয়লায় পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি)। [link]
৫,৪৯০.
নিচের কোনটি অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব?
  1. কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়
  2. অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়
  3. উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
খরা (Drought): 
- দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে।
- অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়।
- সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব (Rainless or Impact of Drought): 
• আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়, 
• খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, 
• উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়, 
• প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে, 
• পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে, 
• অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৪৯১.
নিচের কোনটি যমুনা নদীর উপনদী? 
  1. তিস্তা
  2. ধলেশ্বরী
  3. বুড়িগঙ্গা
  4. শীতলক্ষ্যা
সঠিক উত্তর:
তিস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিস্তা
ব্যাখ্যা

• যমুনা :
- প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্ন প্রবাহ যমুনা নামে অভিহিত।
- ১৭৮২ থেকে ১৭৮৭ সালের মধ্যে সংঘটিত ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ নামক স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদ তার পুরানো গতিপথ পরিবর্তন করে দক্ষিণাভিমুখী যমুনা নদী নামে প্রবাহিত হয়ে আরিচায় গঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- তিববতের মানস সরোবর এবং কৈলাস পর্বতের মধ্যবর্তী পার্খা নামক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে ১৪৫ কিমি অদূরে অবস্থিত চেমায়ুং-দুং নামক হিমবাহ (৩১°৩০´ উত্তর এবং ৮০°২০´ পূ) থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি।
- যমুনা দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

•যমুনার উপনদীগুলো হলো:
- ধরলা,
- তিস্তা,
- করতোয়া,
- আত্রাই।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়- নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৯২.
বায়ুর গতিবেগ ঘণ্টায় কত কিলোমিটারের অধিক হলে তা ঘূর্ণিঝড় হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. ৫৫ কিলোমিটার
  2. ৬৩ কিলোমিটার
  3. ৮৭ কিলোমিটার
  4. ১০০ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৬৩ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৩ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
- বায়ুর গতিবেগ ৬৩ কিলোমিটারের অধিক হলে তা সাধারণত ঘূর্নিঝড় হিসেবে অভিহিত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। সাধারণত সমুদ্রের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রির অধিক হলে সমুদ্রের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে ভারীবায়ু দ্রুত বেগে সৃষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে এবং ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করে।
(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৪৯৩.
বিচূর্ণীভবনের প্রভাবক কোনটি?
  1. ক) তাপ ও তাপমাত্রা
  2. খ) মাধ্যাকর্ষণ শক্তি
  3. গ) বৃষ্টিপাত
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বিচূর্ণীভবনের প্রভাবকসমূহ হলো:
- তাপ ও তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গ, নদীর প্রভাব, বায়ু, হিমবাহ ও তুষারের কার্য ইত্যাদি।
- বিচূর্ণীভবন সংঘটিত হওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে বিচূর্ণীভবন বা আবহবিকারকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা- রাসায়নিক, যান্ত্রিক ও জৈবিক বিচূর্ণীভবন। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৯৪.
গ্রেট বেরিয়ার রীফ কোথায় অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভূমধ্যসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

গ্রেট বেরিয়ার রিফ:
- গ্রেট বেরিয়ার রিফ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও দীর্ঘতম প্রবাল প্রাচীর।
- রিফটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের উপকূল ঘেঁষা প্রশান্ত মহাসাগরের কোরাল সাগরে অবস্থিত।
- এটি ২৯০০ এর বেশি একক রিফের সমন্বয়ে গঠিত।
- UNESCO এটিকে ১৯৮১ সালে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটেও অন্তর্ভুক্ত করে।

⇒ প্রশান্ত মহাসাগর:
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়।
- এর আয়তন ১৬,৮৭,২৩,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যবর্তী।
- প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল থেকে উত্তরে আর্কটিক বৃত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- পশ্চিমে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।

উৎস: World Atlas.

৫,৪৯৫.
বন্যা পূর্ব ব্যবস্থাপনা নিচের কোনটি?
  1. বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংরক্ষণ
  2. স্বল্প সময়ে উৎপাদন যোগ্য ফসল চাষ
  3. পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা ফিটকিরি ব্যবহার করা
  4. বাসযোগ্য বসতবাটি পুনঃনির্মাণ করা
সঠিক উত্তর:
বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংরক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
⇒ বন্যা পূর্ব ব্যবস্থাপনা (Pre- Flood Management): 
ক. বনায়ন (Forestation): বিশেষ করে বন্যা প্রবণ এলাকায় বাড়ির চারপাশে কড়ই গাছসহ অন্যান্য গাছ লাগানো যেতে পারে।
খ. বসত বাটি (Settlement): বন্যা প্রবণ এলাকায় ঘরের মেঝে উঁচু করা, সম্ভব হলে ইট সিমেন্ট এর পাকা ঘর নির্মাণ করা যেতে পারে। 
গ. বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য (Pure Water and Food): বন্যার পানিতে টিউবওয়েল যাতে না ডুবে এমন স্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করা উচিত। বন্যার সময় বাড়িতে মুড়ি, চিড়া, গুড় প্রভৃতি শুকনো খাবার মজুদ রাখতে হবে। নিরাপদ স্থানে ফসলের বীজ সংরক্ষণ করতে হবে।
ঘ. সম্পদ (Property): গবাদি পশু, মূল্যবান সম্পদ বন্যার পূর্বে মূল্যবান স্থানে সরিয়ে রাখতে হবে।
ঙ. আশ্রয়কেন্দ্র (Shelter): বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবর্তী মহিলা এবং মেয়েদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

অন্যদিকে,
⇒ বন্যাকালীন ব্যবস্থাপনা (During Flood Management): 
ক. আশ্রয় (Shelter): বন্যার সময় নিকটস্থ উঁচু স্থান, বাঁধে অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হবে। 
খ. বিশুদ্ধ পানি (Pure Water): পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা ফিটকিরি বা ফুটিয়ে অথবা টিউবওয়েলের পানি পান করতে হবে।
গ. সুরক্ষা (Safety): কার্বলিক এসিড মিশ্রিত সাবান টুকরা ঘরের চারকোণে রাখলে সাপ ঢুকবে না।
ঘ. ত্রাণ (Relief): সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণসামগ্রী যা পাওয়া যায় তা দিয়ে অভাব মিটাতে হবে এবং ত্রাণ প্রদানকারীদের সহায়তা প্রদান করতে হবে।

⇒ বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা (Post Flood Management): বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থাপনাসমূহ নিম্নরূপ:
ক. বন্যার পরপরই পানি বাহিত বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন টাইফয়েড, ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে তাই প্রতিষেধক হিসেবে টিকা দেওয়া যেতে পারে।
খ. বন্যার পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে নিজের বসতবাটিতে ফিরে যেতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য করতে হবে বা পূনঃনির্মাণ করা যাবে।
গ. স্বল্প সময়ে উৎপাদন যোগ্য ফসল চাষ, বাড়িতে শাক সবজি ফলানো, পুকুর ডোবায় মাছ সংগ্রহ অর্থাৎ জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে।
 
সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৯৬.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত?
  1. মেঘালয়
  2. ত্রিপুরা
  3. বঙ্গোপসাগর
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
মেঘালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘালয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান
• বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাংলাদেশ অবস্থিত।
• এদেশ প্রায় ২০°৩৪' উত্তর থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' পূর্ব থেকে ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
• বাংলাদেশের মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। ফলে এদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
• ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের স্থলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয়, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত। আর দক্ষিণে রয়েছে বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৯৭.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় নয় কোনটি?
  1. ক) সাড়া প্রদান
  2. খ) পুনরুদ্ধার
  3. গ) উন্নয়ন
  4. ঘ) প্রশমন
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রশমন
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র: 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৯৮.
পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন -
  1. সুন্দরবন
  2. গ্রেটার অ্যান্টিলিস
  3. গোদাবরী-কৃষ্ণ
  4. পিচাভারম
সঠিক উত্তর:
সুন্দরবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ (Mangrove) বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- এ বনের অধিকাংশ এলাকা জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দু'বার লোনা পানি দ্বারা বিধৌত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
- ম্যানগ্রোভ বন হলো উপকূলীয় বন।

⇒ সুন্দরবন পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবনের ৬২ শতাংশ খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় এবং বাকী অংশ পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- এ বনাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৬১১৭ বর্গমাইল যা বাংলাদেশের মোট আয়তনের শতকরা ৪.০৭ ভাগ।
- এ বনের গাছপালা লোনা পানি সহনশীল এবং বৃক্ষসমূহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম।
- সুন্দরবনের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৬৫১ থেকে ১৭৭৮ মি.মি.।
- এ বনের মাটিতে অতিরিক্ত লবণ ও পচা জৈব পদার্থ থাকায় অক্সিজেনের অভাব ঘটে বলে গাছপালা শ্বাসমূল তৈরী করে।
- বৃক্ষসমূহ চিরহরিৎ।
- ম্যানগ্রোভ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ হলো: সুন্দরী, ধুন্দুল, গরান, বাইন, কেওড়া, পশুর, গোলপাতা, হেন্তাল ইত্যাদি।
- বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

⇒ বিশ্বের শীর্ষ বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন:
১. সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ: বাংলাদেশে অবস্থিত।
২. পিচাভারম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট: ভারতের তামিলনাড়ুতে অবস্থিত।
৩. ফ্লোরিডা ম্যানগ্রোভ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
৪. বাহিয়া ম্যানগ্রোভ: উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলে অবস্থিত।
৫. গোদাবরী-কৃষ্ণ ম্যানগ্রোভ: অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণ-গুন্দুর জেলায় অবস্থিত।

উৎস: i) UNESCO ওয়েবসাইট।
ii) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
৫,৪৯৯.
বাংলাদেশের আশপাশে অবস্থিত প্রধান টেকটোনিক প্লেটগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ইউরেশীয় প্লেট
  2. বার্মা প্লেট
  3. ভারতীয় প্লেট
  4. প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের আশপাশে অবস্থিত প্রধান টেকটোনিক প্লেটগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট।
- বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটে।
- এই প্লেটের দুপাশে রয়েছে ইউরেশীয় প্লেট ও বার্মিজ সাব-প্লেট।

• টেকটোনিক প্লেট:

- ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। 
- প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। 
- দেশের ভেতরে ও সীমানা ঘিরে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ার মতো একাধিক ফাটলরেখা (টেকটোনিক প্লেট বাউন্ডারি চ্যুতি বা পিবিএফ) রয়েছে। 
- বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটে।
- এই প্লেটের দুপাশে রয়েছে ইউরেশীয় প্লেট ও বার্মিজ সাব-প্লেট।
- বাংলাদেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও পূর্বে ওই দুটি প্লেটের প্রান্তসীমা।
-এই প্লেটগুলোর প্রান্তবর্তী অধিকাংশ ফাটলরেখাই বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে কিংবা সংলগ্ন এলাকায়।
- ফলে এসব ফাটলরেখায় বড় কোনো ভূমিকম্পের সৃষ্টি হলে দেশের মধ্যে তার প্রভাব বিধ্বংসী হবে। 

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) প্রথম আলো।

৫,৫০০.
নদীশাসনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কামরাঙ্গীর চর
  2. তিস্তা ব্যারেজ
  3. সেচ প্রকল্প
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তিস্তা ব্যারেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিস্তা ব্যারেজ
ব্যাখ্যা
নদীশাসন:
- প্রতিবছর নানাবিধ কারণে নদীভাঙ্গন দেখা যায় যা অতি পরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- নদীর এ ভাঙ্গন প্রক্রিয়া প্রতিরোধ ও নদীর পানি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার জন্য বাঁধ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাই হলো নদীশাসন। যেমন:- তিস্তা ব্যারেজ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে কমবেশি নদীভাঙ্গন দেখা যায়।
- তবে নদীভাঙ্গনের ফলে সর্বোচ্চ ভূমিক্ষয় ঘটে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায়।
- নদীভাঙ্গনের ফলে নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষের পালিত পশুসম্পদ, ফসলি জমি, জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- তাই নদীশাসনের জন ইতোমধ্যে সরকার অনেক নদীর তীরে বাঁধ দিয়ে নদীভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করছে।

⇒ নদীশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
• উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদী খনন করে নদীশাসন করা।
• নদীশাসনের জন্য নদীর পাড় থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা ও পাথর তোলা বন্ধ করে নদীভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব।
• সমভূমি থেকে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি একই পথে নদীতে পতিত হওয়া রোধ করে পরিকল্পিতভাবে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে নদীভাঙ্গন রোধ করে নদীশাসন করা যায়।
• প্রতিবছর নদীর পাড় ও বাঁধ সংস্করণ, নদী খনন, নদীর নাব্যতা ধরে রাখা ইত্যাদির মাধ্যমে নদীভাঙ্গন রোধ করা যায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।