বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৯৭ / ১২৪ · ৯,৬০১৯,৭০০ / ১২,৪২১

৯,৬০১.
পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালের -
  1. ক) ফেব্রুয়ারি মাসে
  2. খ) মার্চ মাসে
  3. গ) জুন মাসে
  4. ঘ) এপ্রিল মাসে
সঠিক উত্তর:
খ) মার্চ মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মার্চ মাসে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রণ্ট  ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
• ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
• এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি। 
• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
• শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯,৬০২.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯২ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২২শে মার্চ সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শেরে বাংলা নগর আগারগাঁওয়ে সরকার প্রদত্ত জমিতে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
৯,৬০৩.
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ কোন শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন?
  1. গুপ্ত
  2. হাবশি
  3. সেন
  4. পাল
সঠিক উত্তর:
হাবশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাবশি
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬০৪.
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন উপভাষায় চরমপত্র পাঠ করা হতো?
  1. ঢাকার উপভাষা
  2. চট্টগ্রামের উপভাষা
  3. সিলেটের উপভাষা
  4. নোয়াখালীর উপভাষা
সঠিক উত্তর:
ঢাকার উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকার উপভাষা
ব্যাখ্যা
চরমপত্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’।
- বিদ্রুপ ও শ্লেষধর্মী অনুষ্ঠানটি রচনা ও উপস্থাপনা করেছিলেন সাংবাদিক ও লেখক এম আর আখতার মুকুল।
- অনুষ্ঠানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শুরু হয় ২৫ মে, ১৯৭১।
- এর পর থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দিন পর্যন্ত নিয়মিত প্রচারিত হয়েছে।
- চরমপত্র অনুষ্ঠানটির নাম দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কর্মী আশফাকুর রহমান খান।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান।
- এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিদিন গল্পের ছলে দুরূহ রাজনীতি ও রণনীতি ব্যাখ্যা করা ছাড়াও রণাঙ্গনের সর্বশেষ খবরাখবর সহজ, সাবলীল ভাষায় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও মুনশিয়ানায় উপস্থাপন করতেন এম আর আখতার মুকুল।
- শহুরে প্রমিত ভাষা ত্যাগ করে ঢাকাইয়া উপভাষায় চরমপত্র পাঠ করা হতো।
- একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঐক্য আনতে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারও শুরু করেন তিনি। 

উৎস: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০, কালের কন্ঠ।
৯,৬০৫.
মুক্তিযুদ্ধে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন -
  1. জগজিত সিং অরোরা ও এ টি এম হায়দার
  2. জগজিত সিং অরোরা ও এ কে খন্দকার
  3. জগজিত সিং অরোরা ও এ কে নিয়াজী
  4. জগজিত সিং অরোরা ও কে এম সফিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
জগজিত সিং অরোরা ও এ কে নিয়াজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগজিত সিং অরোরা ও এ কে নিয়াজী
ব্যাখ্যা
সম্মিলিত বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

উল্লেখ্য এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন -
- এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ,
- ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং,
- টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী। 

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯,৬০৬.
ঐতিহাসিক 'ছয় দফায়' যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না-
  1. কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতা
  2. বিচার ব্যবস্থা
  3. স্বতন্ত্র মুদা ব্যবস্থা
  4. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
সঠিক উত্তর:
বিচার ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।
 
দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উল্লেখ্য,
- ঐতিহাসিক 'ছয় দফায়' বিচার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
 
 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৯,৬০৭.
একুশ দফা কোন প্রেক্ষাপটে প্রণীত হয়?
  1. ক) ৫২'র ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ৫৪'র প্রাদেশিক নির্বাচন
  3. গ) ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) ৫৪'র প্রাদেশিক নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫৪'র প্রাদেশিক নির্বাচন
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে একুশ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
এর প্রথম দফা ছিলো বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা। এটি প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
উক্ত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,৬০৮.
বাংলার প্রাচীনতম জনগোষ্ঠী কোনটি?
  1. অস্ট্রিক
  2. নেগ্রিটো
  3. দ্রাবিড়
  4. বং
সঠিক উত্তর:
বং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বং
ব্যাখ্যা
- বাংলায় বসবাসকারী প্রাচীনতম জনগোষ্ঠী হলো বং জনগোষ্ঠী
- বং জনগোষ্ঠীর পরে নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী বাংলায় বসতি স্থাপন করেছিলো।

- নেগ্রিটোদের পর ইন্দোচীন থেকে অস্ট্রিক বা নিষাদ বা আদি-অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠী বাংলায় বসতি স্থাপন করে এবং অপরাপর জনগোষ্ঠীসমূহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
- পরবর্তীতে দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয়রা বাংলায় আগমন করে।

- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ৫০০ অব্দ সময়ে বাংলায় আর্যদের আগমন ঘটে। আর্যদের পূর্বে বাংলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী অনার্য নামে পরিচিত।
- আর্য পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উপনিবেশিক নৃগোষ্ঠী বাংলায় বসতি স্থাপন করে
- বাঙালির নৃতাত্ত্বিক গঠনে অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীর প্রভাব সর্বাধিক।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৯,৬০৯.
'বর্গী' বলা হতো কাদেরকে?
  1. নেপালি উপজাতি
  2. আরাকানী জলদস্যু
  3. মারাঠা
  4. আবিসিনীয় দাস সৈন্য
সঠিক উত্তর:
মারাঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারাঠা
ব্যাখ্যা
- দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় ‘বর্গী’ নামে পরিচিত ছিলো।
- মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা ‘বরগি’ নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গী নামের উদ্ভব।
- আঠারো শতকে বাংলায় বর্গীরা ব্যাপক লুটতরাজ চালাতো।
- আলীবর্দি খান বাংলায় বর্গীদের দমন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৯,৬১০.
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্নসমর্পণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পক্ষে কে উপস্থিত ছিলেন?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  3. টিক্কা খান
  4. রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের আত্নসমর্পণ:
- ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ এ ঢাকায় রেসকোর্সে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন জেনারেল নিয়াজী  ও  জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- ১৯৭১ সালের ৬ - ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬১১.
কত খ্রিস্টাব্দে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন?
  1. ১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
- পলাশী যুদ্ধের কারণ ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন।
- এসময় তাকে নানামুখি ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। এর মধ্যে একটি পরিবারিক ষড়যন্ত্র।
- যা নবাব কৌশলে দমন করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরিবারের বাইরেও ষড়যন্ত্রের আরেক জাল বিস্তৃত হতে থাকে।
- এর সঙ্গে জড়িত হয় দেশি-বিদেশি বণিক শ্রেণি, নবাবের দরবারের প্রভাবশালী রাজন্যবর্গ ও অভিজাত শ্রেণি, নবাবের সেনাপতি মীর জাফরসহ আরো অনেকে। এই ষড়যন্ত্রকারীরা পলাশী যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করতে থাকে।
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাবের সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- এ যুদ্ধ পলাশীর যুদ্ধ নামে খ্যাত।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬১২.
কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু হয়-
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
• কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি:
- ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দিলে বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুর জেলার মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হলে সরকার ফুড ফর ওয়ার্ক বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু হয়।
- এ কর্মসূচির তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ছিল পল্লী অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি।
- এবং একইসাথে অভাবগ্রস্ত এলাকাগুলিতে খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ।
৯,৬১৩.
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -০১ এর উৎক্ষেপণকারী রকেটটি কোন দেশে তৈরী হয়েছে?
  1. ক) ফ্রান্স
  2. খ) চীন
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
উৎক্ষেপণ করা হয় SpaceX এর Falcon 9 রকেটটির মাধ্যমে। SpaceX যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি। CEO - Elon Musk

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ ও সম্প্রচার উপগ্রহ।
উৎক্ষেপণ সময়ঃ
১১ মে ২০১৮ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৪:১৪ মিনিট
অর্থাৎ ১২ মে ২০১৮ বাংলাদেশ সময় ভোররাত ২:১৪ মিনিট
স্থানঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল-এ অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড LC-39A থেকে Falcon 9 (Block 5) লঞ্চ ভেহিকেল এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট - ১ মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম।
মন্ত্রণালয়/বিভাগঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ)
বাস্তবায়নকারী সংস্থাঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন
বাস্তবায়নকালঃ ১ জুলাই, ২০১৪ হতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ পর্যন্ত
প্রাক্কলিত প্রকল্প ব্যয়ঃ ২৯৬৭.৯৫ কোটি টাকা
সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়ঃ ২৭৬৫.৬৬ কোটি টাকা
নির্মাণ সংস্থাঃ বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান Thales Alenia Space France বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। উৎক্ষেপণ করা হয় SpaceX এর Falcon 9 উৎক্ষেপণযানের মাধ্যমে।
Thales এর চুক্তিমূল্যঃ ১৯০৮.৭৫ কোটি টাকা

সুত্রঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন

৯,৬১৪.
বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কোন স্থানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন?
  1. টিএসসি
  2. ঈদ্গাহ
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. রেসকোর্স ময়দান
সঠিক উত্তর:
রেসকোর্স ময়দান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেসকোর্স ময়দান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:

- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ' নামে অভিহিত হয়েছে।
- ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তোলা হয়।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬১৫.
বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারত কয়টি ছিটমহল লাভ করে?
  1. ৪৯টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. ৫২টি
সঠিক উত্তর:
৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১টি
ব্যাখ্যা
স্থল সীমান্ত চুক্তি:
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিটমহলগুলো বিশ্বের দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা বিরোধগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- ২০১৫ এর ৬ জুন ঢাকায় এই সমস্যার একটি ঐতিহাসিক সমাধান হয়।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করলেন।
- এর মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে ১১১টি ছিটমহল বুঝে নেয় বাংলাদেশ, যার আয়তন ১৭,১৬০.৬৩ একর।
- বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারত পেয়েছে ৫১টি ছিটমহল, যার আয়তন ৭,১১০.০২ একর।
- এই স্থল চুক্তি ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিলো, কিন্তু বাস্তবায়িত হয় ২০১৫ সালের ৬ ও ৭ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের মাধ্যমে।
- সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে ভারতের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের ১১১টি ছিটমহল ও বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ৫১টি ছিটমহলের বাসিন্দারা নাগরিকত্বের অধিকার পায়।
- ৬৮ বছর দেশহীন থাকার পর ছিটমহলের ৫১,০০০ বাসিন্দার কাছে ২০১৫ সালের ১ আগস্ট ছিলো আনন্দ অশ্রু মিশ্রিত একটি দিন।

তথ্যসূত্র - আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ২০০৯-২০১৮।
৯,৬১৬.
ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ কাকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি প্রদান করেছিলেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ:
- ইলিয়াস শাহ 'সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।
- ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- তাঁর পূর্বে আর কোনো সুলতান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
- তাই ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' ও 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভকরেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ” এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬১৭.
কখন থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়?
  1. ক) ১৯৫৪ সাল থেকে
  2. খ) ১৯৫৩ সাল থেকে
  3. গ) ১৯৫২ সাল থেকে
  4. ঘ) ১৯৫১ সাল থেকে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সাল থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩ সাল থেকে
ব্যাখ্যা
• শহীদ দিবস:
- ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে বাঙালির শহীদ দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন ঘোষিত হয়
- ১৯৯৯ সালে ১৭ নভেম্বর প্যারিসে  ইউনেস্কোর অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। 
- ১৯৬২ সালে সংবিধানে তা বহাল থাকে। 
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই দিনটি সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

উৎস: - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বপরিচয়- নবম-দশন শ্রেণি।
৯,৬১৮.
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো নকশা করেন -
  1. ক) রামেন্দু মজুমদার
  2. খ) ভুবন হাজরা
  3. গ) শেখ আব্দুল হান্নান
  4. ঘ) নাজনীন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ক) রামেন্দু মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামেন্দু মজুমদার
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো উন্মোচন করা হয় - ২৬ মার্চ, ২০২১। লোগোর নকশা করেন - রামেন্দু মজুমদার ও প্রদীপ চক্রবর্তী।
- স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী জাতীয় পর্যায়ে সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে নির্বাচিত লোগোটি ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।
৯,৬১৯.
‘রেনেসাঁস’ যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন-
  1. ক) রামতনু লাহিড়ী
  2. খ) প্যারিচাঁদ মিত্র
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) হেনরী লুই ডিরোজিও
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেনরী লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হেনরী লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে। ‘রেনেসাঁস’ যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
৯,৬২০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কোথায় গঠিত হয় ?
  1. ক) অরুণাচল
  2. খ) মিজোরাম
  3. গ) আসাম
  4. ঘ) নাগাল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাগাল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা

নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠিত হয়। এর সংগঠক ছিলেন এয়ার কমোডর এ.কে খন্দকার। 

-স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম, ক্যাপ্টেন খালেক, সাত্তার, শাহাবুদ্দিন, মুকিত, আকরাম, শরফুদ্দিন এবং ৬৭ জন বিমান সেনা নিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়।

- তাদের সম্বল ছিল মাত্র কয়েকটি ডাকোটা, অটার টাইপ বিমান এবং অ্যালুভেট হেলিকপ্টার। অনুরূপভাবে, পাকিস্তান নৌবাহিনী থেকে বেরিয়ে আসা নৌসেনাদের নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠিত হয়।

- ১৯৭১ সালের ৯ নভেম্বর প্রথম নৌবহর ‘বঙ্গবন্ধু নৌবহর’ উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৯,৬২১.
বাংলাদেশের কোন প্রকল্পটি 'এক নগরী দুই শহর' (one city two town) ধারণার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) পদ্মা সেতু
  2. খ) মেট্রো রেল
  3. গ) কর্ণফুলী টানেল
  4. ঘ) এক্সপ্রেস হাইওয়ে
সঠিক উত্তর:
গ) কর্ণফুলী টানেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্ণফুলী টানেল
ব্যাখ্যা
- চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম সুরঙ্গপথ বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মিত হচ্ছে।
- এটির দৈর্ঘ্য ৩.৪ কিলোমিটার।
- চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করে এটি নির্মিত হচ্ছে।
- এর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাই নগরীর আদলে ''এক নগরী দুই শহর'' (one city two town) রূপে গড়ে তোলা হচ্ছে।
- দীর্ঘ টানেলটি নির্মাণে মোট ব্যয় প্রায় দশ হাজার চারশ কোটি টাকা।
- এটি নির্মাণে চীনা সরকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করছে। চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এটি নির্মাণ করছে।
- ২০২২ সালে ডিসেম্বরে এটি যান চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: সেতু কর্তৃপক্ষ, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো)
৯,৬২২.
পাট্টা ও কবুলিয়াত প্রথা চালু করেন কে?
  1. হুমায়ুন 
  2. বাবর 
  3. শেরশাহ 
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ 
ব্যাখ্যা

শেরশাহের রাজস্ব সংস্কার:
- রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের অন্যতম সফলতা।
- তার আগে রাজস্ব নির্ধারণের জন্য কোনো ভূমি জরিপের ব্যবস্থা ছিল না।
- প্রথমবারের মতো শেরশাহই ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
- তিনি জমির উর্বরা শক্তির তারতম্য অনুসারে রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
- এক্ষেত্রে শস্য কিংবা নগদ অর্থে রাজস্ব আদায় করা যেত।
- শেরশাহ প্রথম ‘পাট্টা’ ও ‘কবুলিয়ত’ প্রথা চালু করেন।
- সরকারের পক্ষ থেকে জমির উপর কৃষকের সত্ত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হতো।
- কৃষকরা তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও দাবি বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত।
- শেরশাহের রাজস্বনীতি শুধু পরবর্তীকালে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬২৩.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমন
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. মাহবুব আলম
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের গান:

- আবদুল গাফফার চৌধুরীর অমর-কর্ম হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে রচিত গান: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি।
- হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারী' (১৯৫৩) সংকলন গ্রন্থে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে।
- “রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে- যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬২৪.
বাংলাদেশ কোন সালে জাতীয় পরিবেশ নীতি ঘোষণা করে?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
'জাতীয় পরিবেশ নীতি':
- বাংলাদেশে পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকির জন্য ১৯৮৯ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯২ সালে 'জাতীয় পরিবেশ নীতি' ঘোষণা করে।
- পরিবেশ এর সকল উপাদান একে অপরের সম্পূরক ও সহযোগী হিসেবে বিদ্যমান থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য বিরাজ করে।
- বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ বিধিবদ্ধ করার মাধ্যমে পুরনো আইন সংশোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় পরিবেশ নীতির উদ্দেশ্য হল পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং দেশের সুরক্ষা ও উন্নতির মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়ন এবং এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশকে রক্ষা করা। নথিতে পরিবেশ দূষিত এবং অবনতিকারী কার্যকলাপগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৬২৫.
কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা কে ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  3. মওলানা আতাহার আলী
  4. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি: শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি: মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল: হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৯,৬২৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ১২টি
  4. ঘ) ১৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয় এবং ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,৬২৭.
সতীদাহ প্রথা কত সালে বিলুপ্ত হয় ?
  1. ক) ১৭২৯ সালে
  2. খ) ১৮২৯ সালে
  3. গ) ১৬২৯ সালে
  4. ঘ) ১৮২৮ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় (১৭৭৪- ১৮৩৩ খ্রি.)
- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী রামমোহন রায় উনিশ শতকের একজন ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- রামমোহন রায় সংবাদ কৌমুদী নামে একটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- ১৮২১ সালে
- পরের বছর ফারসি ভাষায় আরেকটি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন- এর নাম ছিল মিরাত উল আখবার।
- তিনি ১৮২৮ সালে ‘ব্রাহ্মসমাজ’  প্রতিষ্ঠা করেন।‘
- তিনি সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কোম্পানির শাসকদের প্রাভাবিত করতে থাকেন।
- তার প্রচেষ্টায়  ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ করে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ শ্রেণি ( উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৯,৬২৮.
হাতির ঝিলের নক্‌শা পরিকল্পনাকারী
  1. ক) মৃণাল হক
  2. খ) এহসান খান
  3. গ) মইনুল হক
  4. ঘ) ভাস্কর রাশা
সঠিক উত্তর:
খ) এহসান খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এহসান খান
ব্যাখ্যা
- হাতিরঝিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি এলাকা যা জনসাধারণের চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ প্রকল্প এলাকাটি উদ্বোধন ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি।
- হাতির ঝিলের নক্‌শা পরিকল্পনাকারী-এহসান খান।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
৯,৬২৯.
সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন উপাধি লাভ করেছেন? [মে, ২০২৫]
  1. ডক্টর অব সায়েন্স (D.Sc)
  2. ডক্টর অব ল (LL.D)
  3. ডক্টর অব ফিলোসফি (Ph.D)
  4. ডক্টর অব লিটারেচার (D.Litt)
সঠিক উত্তর:
ডক্টর অব লিটারেচার (D.Litt)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডক্টর অব লিটারেচার (D.Litt)
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি মে, ২০২৫-এ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ (ডি-লিট) ডিগ্রি প্রদান করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।
- ১৪ মে, ২০২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাকে এ ডিগ্রি প্রদান করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার।
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ১৯৭২ সালে শিক্ষকতা শুরু করে প্রায় এক দশক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: i) The Daily Star বাংলা.
ii) প্রথম আলো।
৯,৬৩০.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর সংঘটিত হয় -
  1. ১৭৭০ সালে
  2. ১৭৭৬ সালে
  3. ১৮৭০ সালে
  4. ১৮৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৭০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭০ সালে
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় ‘দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৩১.
কাকে 'প্রাচ্যের হোমার' বলা হয়?
  1. ক) মহাকবি ফেরদৌসীকে
  2. খ) কবি কালিদাসকে
  3. গ) আর্যভট্টকে
  4. ঘ) অমরসিংহকে
সঠিক উত্তর:
ক) মহাকবি ফেরদৌসীকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহাকবি ফেরদৌসীকে
ব্যাখ্যা
মহাকবি ফেরদৌসী
- ফেরদৌসী ছিলেন একজন পারস্যের কবি।
- তিনি লিখেছেন 'শাহনামা'।
- তাকে 'প্রাচ্যের হোমার' হিসাবে গণ্য করা হয়।
- ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান ও বিজেতা হিসেবে সুলতান মাহমুদ ছিলেন প্রতিভাবান শাসক ও সুনিপুন সৈনিক।
- ঈশ্বরী প্রসাদ সুলতান মাহমুদের যুগকে 'কবিতার যুগ' বলে অভিহিত করেছেন।
- ঐ যুগের প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন আবুল কাশেম ফেরদৌসী।
- প্রাচ্যের হোমার নামে খ্যাত এ কবি সুলতান মাহমুদের অনুরোধে জগদ্বিখ্যাত ‘শাহনামা' মহাকাব্য রচনা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৩২.
গৌড়রাজ শশাঙ্ক কোন শতকে শাসন করেন?
  1. ষষ্ঠ শতক
  2. সপ্তম শতক
  3. অষ্টম শতক
  4. নবম শতক
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতক
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি সপ্তম শতকে শাসন করেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

⇒ স্বাধীন গৌড়রাজ্য:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটলে পরবর্তী গুপ্তবংশ নামে পরিচিত গুপ্ত উপাধি নেয়া রাজাগণ বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন। বিভিন্ন কারণে গুপ্ত বংশের রাজারা দুর্বল হয়ে পড়লে এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে মগধে শশাঙ্ক নামক এক খ্যাতিমান শাসক গৌড় রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেন। প্রাথমিক যুগে শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত রাজ মহাসেন গুপ্তের একজন মহাসামন্ত। ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের আগে কোন এক সময় তিনি গৌড়ের স্বাধীন নরপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি কর্ণসুবর্ণে রাজধানী স্থাপন করেন। প্রাথমিক সময়ে স্বাধীন গৌড় রাষ্ট্রের রাজা শশাঙ্ক দণ্ডভুক্তি রাজ্য, উড়িষ্যার উৎকল ও কঙ্গোগ রাজ্য এবং বিহারের মগধ রাজ্য জয় করে তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন। পশ্চিমে তার রাজ্য বারানসী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কামরূপ রাজারাও শশাঙ্কের হাতে পরাজিত হন।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) মুর্শিদাবাদ জেলা ওয়েবসাইট।
৯,৬৩৩.
বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কতটি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড একটি রয়েছে। 

- তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তানে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা পরিচালনা ও সনদপত্র প্রদানের জন্য ১৯৫৪ সালে তদানিন্তন বাণিজ্য ও শিল্প বিভাগ-এর Vide Resolution No. 188-Ind. Dated 27-01-54 মোতাবেক “ইস্ট পাকিস্তান বোর্ড অব এক্সামিনেশন ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন” নামে একটি বোর্ড স্থাপিত হয়।
- উদ্দেশ্য ছিল দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সংগঠন পরিচালন, তদারিক, নিয়ন্ত্রন এবং উন্নয়নের দায়িত্ব পালন, পরীক্ষা পরিচালনা, নিয়ন্ত্রন ও বোর্ড কর্তৃক গৃহীত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিবর্গকে ডিপ্লোমা/সাটির্ফিকেট প্রদান।
- অতঃপর ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ট্রেড পর্যায়ের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ, সনদপত্র প্রদান, পরিদর্শন ও মূল্যায়নের জন্য একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।
- ফলে ১৯৬৭ সালের ৭ মার্চ গেজেট নং -১৭৫ এল.এ. প্রকাশিত এবং ১ নং সংসদীয় আইনের বলে “ইস্ট পাকিস্তান টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড“ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়, যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

উৎস: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর ওয়েবসাইট।  
৯,৬৩৪.
দেশের বাণিজ্যিক জ্বালানির সিংহ ভাগ পূরণ হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. কয়লা
  2. আমদানিকৃত তেল
  3. প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. সৌর বিদ্যুৎ
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক গ্যাস
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক জ্বালানি। এটি দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানির প্রায় ৬৩ ভাগ পূরণ করে থাকে।
খাত অনুযায়ী প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার:
- বিদ্যুৎ উৎপাদন : ৪৫.৯ শতাংশ
- শিল্পখাত : ১৫.৭ শতাংশ
- ক্যাপটিভ : ১৫.৩ শতাংশ
- গৃহস্থালি : ১৩.৩ শতাংশ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১)
৯,৬৩৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'মুজিবনগর' কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ১১ নং
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।মুজিব নগর ছিলো ৮ নং সেক্টরের অন্তর্গত। Source: dhakadiv.gov.bd
৯,৬৩৬.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কয়টি তারকা আছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- জাতীয় প্রতীক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতীক।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে — ৪টি তারকা আছে।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি।
- এ তিনটি উপাদানের উপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩৭.
'পাঁচবিবি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ফেনী
  2. খাগড়াছড়ি
  3. নওগাঁ
  4. জয়পুরহাট
সঠিক উত্তর:
জয়পুরহাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়পুরহাট
ব্যাখ্যা

পাঁচবিবি:
- পাঁচবিবি জয়পুরহাট জেলায় অবস্থিত একটি উপজেলা। 

• ১৭৯৩ সালে সমগ্র পাঁচবিবি অঞ্চল সহ বর্তমান জয়পুরহাট এলাকা নিয়ে লালবাজার (বর্তমান পাঁচবিবি) থানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৮২১ সালে দিনাজপুর জেলার লালবাজার (বর্তমান পাঁচবিবি), ক্ষেতলাল ও বদলগাছী থানা সহ মোট ৯টি থানা নিয়ে বগুড়া জেলা গঠিত হলে লালবাজার (বর্তমান পাঁচবিবি) থানা বগুড়া জেলার অধীনে চলে যায়।
- খরস্রোতা নদী ভাঙ্গনে লালবাজার থানা ভেংগে যেতে থাকলে ১৮৬৮ সালের ১৬ই মার্চ  থানা সদর লালবাজার হতে খাসবাগুড়ী নিকটবর্তী যমুনা তীরবর্তী পাঁচবিবি দরগা সংলগ্ন স্থানে স্থাপিত হয়।  তখন থেকে লালবাজার থানা পাঁচবিবি নামে পরিচিত হতে থাকে।
- ১৯৭১ সালের ১লা জানুয়ারী  জয়পুরহাট মহকুমা ঘোষিত হলে পাঁচবিবি থানা জয়পুরহাট মহকুমার অন্তর্ভূক্ত হয়।
- ১৯৮২ সালের ১৫ই ডিসেম্বর পাঁচবিবি থানাকে পাঁচবিবি উপজেলা হিসেবে ঘোষনা করা হয়।
- ১৯৮৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী  জয়পুরহাট জেলা ঘোষিত হলে পাঁচবিবি উপজেলা জয়পুরহাট জেলার অন্তর্ভূক্ত হয়।

উৎস: পাঁচবিবি উপজেলা ওয়েবসাইট। 

৯,৬৩৮.
'ঢাকা প্রকাশ' সাপ্তাহিক পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক কে?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. সিকান্দর আবু জাফর
  3. শামসুর রাহমান
  4. রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

⇒ 'ঢাকা প্রকাশ' সাপ্তাহিক পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।

♦ 'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা:
→ ঢাকা প্রকাশ ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
→ এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের 'বাঙ্গালা যন্ত্র' থেকে।
→ পত্রিকার শিরোনামের নিচে একটি সংস্কৃত শ্লোকাংশ 'সিদ্ধিঃ সাধ্যে সমামন্ত্র' (সাধ্য অনুযায়ী সিদ্ধিলাভ হোক) মুদ্রিত হতো।
→ ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
→ পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ।
→ কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের পর দীননাথ সেনের পরিচালনায় পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৩৯.
রেগুলেটিং অ্যাক্ট কত সালে পাস হয়?
  1. ১৭৭০ সালে
  2. ১৭৬৫ সালে
  3. ১৭৫৬ সালে
  4. ১৭৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭৩ সালে
ব্যাখ্যা
রেগুলেটিং এ্যাক্ট:
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
- তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।

⇒ রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৪০.
নিচের কোন এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. কুমিল্লা
  2. ফরিদপুর
  3. সিলেট
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬৪১.
কোন ব্রিগেড ফোর্স ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়?
  1. কে ফোর্স
  2. জেড ফোর্স
  3. আর ফোর্স
  4. এস ফোর্স
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬৪২.
'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন কে?
  1. শেরশাহ
  2. বাবর
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ
ব্যাখ্যা

শেরশাহ:
- শেরশাহর রাজত্বকাল: ১৫৪০-১৫৪৫ খ্রি.।
- তিনি মাত্র পাঁচ বছর বাজত্ব করেন।
- তিনি সামান্য একজন জায়গীদার থেকে নিজ প্রতিভা বলে দিল্লির সম্রাট হয়েছিলেন।
- মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ বীরত্ব ও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
- বাংলা, মালব, রাজপুতনা বিজয় তাঁর সামরিক সাফল্যের পরিচয় বহন করে।
- তিনি সম্রাট হুমায়ুনকে রণকৌশলে পরাস্ত করেছিলেন।
- শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা স্বেচ্ছাচারী ছিল না।
- তিনি জনগণের সাহায্য ও সমর্থনের ভিত্তিতে ভারতীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নিয়েছিলেন।
- শাসনকাজের সুবিধার্থে তিনি পুরো সাম্রাজ্যকে ৪৭টি সরকারে বিভক্ত করেন।
- রাজস্ব সংস্কার শেরশাহের অন্যতম সফলতা।
- প্রথমবারের মতো শেরশাহই ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
- তিনি জমির উর্বরা শক্তির তারতম্য অনুসারে রাজস্ব নির্ধারণ করেছিলেন।
- এক্ষেত্রে শস্য কিংবা নগদ অর্থে রাজস্ব আদায় করা যেত।
- শেরশাহ প্রথম 'পাট্টা' ও 'কবুলিয়ত' প্রথা চালু করেন।
- সরকারের পক্ষ থেকে জমির উপর কৃষকের সত্ত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হতো।
- কৃষকরা তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও দাবি বর্ণনা করে কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬৪৩.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর ভিত্তিতে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ২য় সংশোধনী
  2. ৩য় সংশোধনী
  3. ৪র্থ সংশোধনী
  4. ৫ম সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
৪র্থ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪র্থ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল):
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৪৪.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নে কোন বাঙালির ভূমিকা ছিল?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. একে ফজলুল হক
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের ১ম সংবিধান
- পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষে প্রথমে একটি গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- এ পরিষদের সভাপতি ছিলেন পর্যায়ক্রমে শ্রী যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল, জিন্নাহ ও লিয়াকত আলী খান।
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।
- এ সংবিধানের মাধ্যমে পাকিস্তান 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র' নাম ধারণ করে।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রচেষ্টায় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়।
- পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোকে একত্রিত করে পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তান নাম দেয়া হয়।
- সংবিধানে দুই প্রদেশের পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং সকল বিষয়ে সংখ্যাসাম্য নীতি স্বীকৃত হয়।
- বাংলা এবং উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ।
- পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের জন্য দীর্ঘ নয় বছর সময় নেয়া হয়।
- সংবিধান মাত্র আট মাস স্থায়ী হয়।
- ১৯৫৮ সালে অক্টোবর মাসে ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং সংবিধান বাতিল করেন।
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, The Daily Star বাংলা, ডিসেম্বর ৫, ২০২২।
৯,৬৪৫.
১৯৫৬ সালের পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রটি ছিল- 
  1. চতুর্থ শাসনতন্ত্র
  2. তৃতীয় শাসনতন্ত্র
  3. প্রথম শাসনতন্ত্র
  4. দ্বিতীয় শাসনতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
প্রথম শাসনতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম শাসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• শাসনতন্ত্র ১৯৫৬:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে। 

• ১৯৫৬ সালের শাসন ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য:
- যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে।
- এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়।
- এ ক্ষেত্রে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনসরণ করা হয়।

• প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়।
- রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।


উৎস: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬৪৬.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন?
  1. ৬নং সেক্টর
  2. ৭নং সেক্টর
  3. ৮নং সেক্টর
  4. ৯নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৯,৬৪৭.
'ফতেহপুর সিক্রি' কোন মুঘল সম্রাটের সময় কালের স্থাপত্য?
  1. বাবর
  2. আকবর
  3. হুমায়ুন
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৪৮.
'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে -
  1. বিমান বাহিনী
  2. মিত্র বাহিনী
  3. নৌবাহিনী
  4. গেরিলা
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌবাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে  সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
৯,৬৪৯.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন কে?
  1. ক) টি. এইচ. খান
  2. খ) এস এ রহমান
  3. গ) মুকসুমুল হাকিম
  4. ঘ) এম আর খান
সঠিক উত্তর:
খ) এস এ রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এস এ রহমান
ব্যাখ্যা

১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলায় আসামী করা হয়।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
এই মামলার বিচারের জন্যে গঠিত ট্রাইব্যুনালের,
- প্রধান বিচারপতি: এস এ রহমান
- সদস্য: এম আর খান ও মুকসুমুল হাকিম।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি:
- মনজুর কাদের
- অ্যাডভোকেট জেনারেল টি. এইচ. খান।

বাদী পক্ষের আইনজীবী:
- আবদুস সালাম খান
- স্যার টমাস উইলিয়াম।

এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ গুলি করে হত্যা করা হয়।
এতে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে যার ফলশ্রুতিতে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

৯,৬৫০.
নিচের ভাষা শহীদদের মধ্যে সবার শেষে শহীদ হন কে?
  1. আবুল বরকত
  2. রফিকউদ্দিন আহমেদ
  3. আব্দুস সালাম
  4. শফিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
আব্দুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুস সালাম
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং আব্দুল জব্বার সহ আরো অনেকে শহিদ হন।
- আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ই এপ্রিল মারা যান।
- শফিউর রহমান ২২শে ফেব্রুয়ারি শহিদ হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,৬৫১.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ কে?
  1. আব্দুল আহাদ 
  2. রিয়া গোপ
  3. রাকিব হাসান
  4. সামিরুর রহমান
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ 
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। 
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র। 

উল্লেখ্য,
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ।
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ।
- সে ‘জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) যুগান্তর।

৯,৬৫২.
পাক-বাহিনী আত্মসমর্পণের সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কে উপস্থিত ছিলেন?
  1. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

​পাক-বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- সময়: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- স্থান: ঢাকার রেসকোর্স (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে।
- পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্য ও অস্ত্র-শস্ত্রসহ ভারতীয় ইস্টার্ন কামান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- নিয়াজী পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬৫৩.
‘দীন-ই-ইলাহি’ নামে একেশ্বরবাদমূলক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন কে? 
  1. বখতিয়ার খলজি
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
দীন-ই-ইলাহি:

• সম্রাট আকবর ১৫৮২ সালে 'দীন-ই-ইলাহি' নামে একেশ্বরবাদমূলক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। 
• সকল ধর্মের সারবস্তু নিয়ে এই ধর্মমত গঠিত হয়। 
• এই ধর্মমতের কালেমা ছিল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবর খলিফাতুল্লাহ'। 

• দীন-ই-ইলাহি রীতিনীতি, বিধানগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. এই ধর্মের অনুসারীগণ পরস্পর দেখা হলে, 'আসসালামু আলাইকুম' এর পরিবর্তে 'আল্লাহু আকবার' এবং প্রত্যুত্তরে 'ওয়া আলাইকুম আস্সালাম' না বলে 'জাল্লাজালালুহু' বলা।
২. এই ধর্মীয় বিধান অনুসারে মৃত্যুর পরে নয়, মৃত্যুর পূর্বেই দাওয়াত বা আমন্ত্রণের ব্যবস্থা করা।
৩. সভ্যগণ নিজ নিজ জন্মদিন পালন এবং ভোজের আয়োজন করবেন।
৪. সভ্যগণ ভিক্ষা প্রদান করবেন কিন্তু ভিক্ষা গ্রহণ করবেন না।
৫. এই ধর্মমত গ্রহণে কাউকে বাধ্য করা হবে না।

• ড. ভি. স্মিথের মতে, সংকীর্ণ অর্থে আকবরের দীন-ই-ইলাহি কোনো ধর্ম নয়। 
• এটি ছিল একটি জীবন দর্শন মাত্র। 
• দীন-ই-ইলাহির দীক্ষা গ্রহণকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল মাত্র বিশজন। এদের একমাত্র হিন্দু ছিলেন রাজা বীরবল এবং বাকী সকলেই মুসলমান। 
• দীন-ই-ইলাহির মাধ্যমে সকল ধর্মের সারাংশের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ সাধন করা ছিল আকবরের উদ্দেশ্য। এর পিছনে তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদেরকে একসঙ্গে নিয়ে আসা। 
• দীন-ই-ইলাহি সম্রাট আকবরের মৃত্যুর (১৬০৫ খ্রি.) সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯,৬৫৪.
নিচের কোন এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. ফরিদপুর
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৫৫.
উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেছিলেন কে?
  1. নূরুল আলম
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. কামাল ফারুক
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
– ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
– আওয়ামী লিগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করেন। 
– ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংরাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
– ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
– সরকারী কাগজে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান – ধীরেনদ্রনাথ দত্ত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র (এস এস সি) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৫৬.
বাংলাদেশে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ১টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমানে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ৪ টি। যথা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
- রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
- সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
৯,৬৫৭.
কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়?
  1. অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  2. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  4. কবি গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- এই সংগঠনের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকাটিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।
- ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিল বাঙালির সংস্কৃতি, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্ন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়। 
৯,৬৫৮.
“পোড়ামাটির নীতি” কোন বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য ছিল?
  1. ক) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
  2. খ) পাকিস্তান বিমান বাহিনী
  3. গ) পাকিস্তান নৌ বাহিনী
  4. ঘ) পাক-ভারত বাহিনী
সঠিক উত্তর:
ক) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পাকিস্তান সেনাবাহিনী
ব্যাখ্যা

“পোড়ামাটির নীতি” পাকিস্তান বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য ছিল।

- স্কর্চড আর্থ বা পোড়ামাটি নীতি এমন একটি সামরিক কৌশল যা দ্বারা সেনারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের সামরিক বেসামরিক নির্বিশেষে সবাইকে হত্যার পাশাপাশি সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। শত্রুর পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব—এমন স্থাপনা ও অবকাঠামো পুড়িয়ে দেয়। 

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীও পোড়া মাটি নীতি গ্রহণ করেছিল । -পাকিস্তানের তৎকালীন জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন '' পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ চাই না, মাটি চাই।''

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণি।

৯,৬৫৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন 'অপারেশন জ্যাকপট' কীসের সাংকেতিক নাম?
  1. নৌ কমান্ডোদের অভিযান
  2. বিমান বাহিনীর অভিযান
  3. গেরিলা বাহিনীর অভিযান
  4. সীমান্ত যুদ্ধ অভিযান
সঠিক উত্তর:
নৌ কমান্ডোদের অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌ কমান্ডোদের অভিযান
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন 'অপারেশন জ্যাকপট' হলো নৌ কমান্ডোদের অভিযানের সাংকেতিক নাম।

• অপারেশন জ্যাকপট:
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।
- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৬০.
সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কে? (নভেম্বর, ২০২৪)
  1. তামান্না ই লুৎফি
  2. তাসমিন দোজা
  3. কাজী ইসরাত জাহান
  4. ইয়াসমিন সুলতানা
সঠিক উত্তর:
তাসমিন দোজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাসমিন দোজা
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বাংলাদেশ বিমানের প্রথম নারী পরিচালক:

- বাংলাদেশ বিমানের প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ক্যাপ্টেন তাসমিন দোজা।
- এর আগে ক্যাপ্টেন দোজা বিমানের ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের ট্রেনিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তাসমিন দোজা ফকার এফ-২৮ উড়োজাহাজের বেইজ ট্রেনিং এবং লাইন চেক ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বিমানের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেক পাইলট হিসেবে কাজ করেন।
- সর্বশেষ বিমানের ফ্লাইট পরিচালন বিভাগের চিফ অব ট্রেইনিং বা প্রধান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন তাসমিন দোজা।
- তিনি ফকার-২৮ এ প্রশিক্ষক পাইলট, বোয়িং-৭৩৭ এর ফ্লিট প্রধান ও প্রশিক্ষক এবং বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনারের প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক পাস করে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি থেকে ফ্লাইং লাইসেন্স লাভ করেন তিনি।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ১৪ অক্টোবর ২০২৪।
৯,৬৬১.
ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল কোনটি?
  1. পর্তুগীজ
  2. ফরাসি
  3. ড্যানিশ
  4. ডাচ
সঠিক উত্তর:
পর্তুগীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬৬২.
সুন্দরবন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায় -
  1. ক) ১৯৯৭ সালে
  2. খ) ১৯৯৮ সালে
  3. গ) ১৯৯৯ সালে
  4. ঘ) ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- বঙ্গোপসাগরে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা নদীর ব-দ্বীপে অবস্থিত সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বন (১৪০,০০০ হেক্টর)।
- বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পূর্বে বলেশ্বর নদী এবং পশ্চিমে হরিণবঙ্গ নদীর মাঝখানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্ট (SRF), বিশ্বের বৃহত্তম সংলগ্ন ম্যানগ্রোভ বন।
- এটি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত । 
- ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে। 
- সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
- এটি প্যান্থেরা টাইগ্রিস টাইগ্রিস প্রজাতির জন্য বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ আবাসস্থল।
- সুন্দরবনে প্রায় ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী বাস করে। 
- এছাড়া আছে প্রায় ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী।
- সর্বশেষ জরিপ মোতাবেক সুন্দরবনে ১১৪ টি বাঘ, ১,০০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ চিত্রা হরিণ, ২০,০০০ বানর এবং ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ বন্য শুকর রয়েছে।

উৎস: সুন্দরবন, bagerhat.gov.bd.
৯,৬৬৩.
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম জাদুঘর কোনটি?
  1. ঢাকা জাদুঘর
  2. মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর
  3. বরেন্দ্র জাদুঘর
  4. জাতীয় জাদুঘর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্র জাদুঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্র জাদুঘর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর যা ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত ঢাকা জাদুঘর তথা জাতীয় জাদুঘর ১৯১৩ সালে স্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের একমাত্র নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট
৯,৬৬৪.
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থল 'শালবন বিহার' কোন জনপদে অবস্থিত?
  1. পুন্ড্র
  2. সমতট
  3. হরিকেল
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থল 'শালবন বিহার' সমতট জনপদে অবস্থিত।

শালবন বিহার:
- কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম প্রধান।
- লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান।
- বিহারটির আশপাশে এক সময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলে এ বিহারটির নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার।
- ধারণা করা হয় যে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
- বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে।
- এই কক্ষগুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিদ্যাশিক্ষা ও ধর্মচর্চা করতেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রৌঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য,
⇒ সমতট:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- মেঘনা পূর্ববর্তী এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালীর সমতল অঞ্চলে ছিল সমতটের অবস্থান।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- লালমাই-ময়নামতীকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- চন্দ্রবংশীয় রাজা ভবদেবের আমলে (সপ্তম শতাব্দী) ময়নামতীতে শালবন বিহার তৈরি হয়।
- বিভিন্ন সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন লিপিতে ‘দেবপর্বত’কে সমতটের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- সাত শতকে সমতটের রাজধানী ছিল বড়কামতা।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৬৬৫.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের পদবী কী ছিল?
  1. সুবেদার
  2. সিপাহী
  3. ক্যাপ্টেন
  4. ল্যান্স নায়েক
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যান্স নায়েক
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ ও তাদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৯,৬৬৬.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ’রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটি গঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ
  2. ১৯৪৭ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর
  3. ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ
  4. ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর প্রতিবাদ করেন।
- আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণপরিষদ কর্তৃক পঠিত মূলনীতি কমিটির সুপারিশে বলা হয়, উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।
- দেশজুড়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ চলতে থাকে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৯,৬৬৭.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) এম. মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দিন আহমেদ।
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন - এএইচএম কামরুজ্জামান।
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন - ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন - খন্দকার মোশতাক আহমদ।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৯,৬৬৮.
নিচের কোনটি শশাঙ্কের রাজত্বকাল?
  1. ৫৮৪ খ্রি. – ৬১৪ খ্রি.
  2. ৫৯৪ খ্রি. – ৬৩৭ খ্রি.
  3. ৫৯৯ খ্রি. – ৬৩০ খ্রি.
  4. ৬০২ খ্রি. – ৬৪৩ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
৫৯৪ খ্রি. – ৬৩৭ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৯৪ খ্রি. – ৬৩৭ খ্রি.
ব্যাখ্যা
- সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত। এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪ খ্রি. থেকে ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,৬৬৯.
৬ দফার দ্বিতীয় দফা কোনটি?
  1. ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. খ) মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  3. গ) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  4. ঘ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত। 
- দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৭০.
প্রথম শহীদ মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে কে উদ্বোধন করেন?
  1. গাজীউল হক
  2. জিএস শরফুদ্দিন
  3. বদরুল আলম
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার। ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ২ টাকার নোটে শহীদ মিনারের ছবি রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৬৭১.
মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ১৯৭১ সালে কোন প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়?
  1. স্টপ জেনোসাইড
  2. ইনোসেন্ট মিলিয়নস
  3. আ স্টেট ইজ বর্ন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রামাণ্যচিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ১৯৭১ সালে চারটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়।
- এসব প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি মিলিটারির গণহত্যা ও নৃশংসতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে জানানো।
- এ ছাড়া শরণার্থীদের দেশত্যাগ ও আশ্রয়শিবিরের দুঃখ-যন্ত্রণার কথা উঠে এসেছে এসব প্রামাণ্যচিত্রে।
- এগুলো হলো জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’, ‘আ স্টেট ইজ বর্ন’; আলমগীর কবিরের ‘লিবারেশন ফাইটার্স’ ও বাবুল চৌধুরীর ‘ইনোসেন্ট মিলিয়নস’।
- জহির রায়হান চারটি প্রামাণ্যচিত্রের নাম দেন ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র’।

উৎস: প্রথম আলো।
৯,৬৭২.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না-
  1. ৬ দফা
  2. ৬২-র শিক্ষা নীতি
  3. আগরতলা মামলা
  4. ১১ দফা
সঠিক উত্তর:
৬২-র শিক্ষা নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬২-র শিক্ষা নীতি
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান :
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন দানা বাঁধে, তা একসময় ছড়িয়ে পড়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক দুর্বার আন্দোলন, যা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
-  ৮ই ডিসেম্বর প্রধান বিরোধী দলগুলোর ডাকে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- এরপর থেকে 'ডাকসু' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- ডাকসুর আহ্বানে ১৪ই জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৮ই জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট পালন করে।
- ধর্মঘট চলাকালীন পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
- ২০শে জানুয়ারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন। হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।   
 - আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষিত হয়।
- ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- জহুরুল হকের হত্যার প্রতিবাদে ১৬ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে আন্দোলন আরও বেগবান হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।
- পশ্চিম পাকিস্তানেও আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে।
- ২২শে মার্চ আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে অপসারণ করেন।
- তাতেও গণআন্দোলন থামানো যায়নি।
- ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৯,৬৭৩.
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে নারী-পুরুষের অনুপাত -
  1. ক) ১০০ : ১০০.২
  2. খ) ১০০ : ১০০.৩
  3. গ) ১০০ : ১০০.৪
  4. ঘ) ১০০ : ১০০.৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০ : ১০০.৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০ : ১০০.৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্বশেষ (পঞ্চম) আদমশুমারি ২০১১ অনুযায়ী,
- নারীর সংখ্যা ৭,৪৭,৯১,৯৭৮ জন এবং পুরুষের সংখ্যা ৭,৪৯,৮০,৩৮৬ জন।
- নারী ও পুরুষের অনুপাত ১০০ : ১০০.৩।
- অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুযায়ী পুরুষ-মহিলা অনুপাত = ১০০.২ : ১০০।
উৎস; জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট, অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১
৯,৬৭৪.
মুক্তিবাহিনীর 'এস' ফোর্স-এর দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
  2. কর্নেল খালেদ মোশাররফ
  3. কর্নেল জিয়াউর রহমান
  4. আবু ওসমান চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল কে. এম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী:
- যে জনযুদ্ধ এনেছে বাংলাদেশের পতাকা, সেই জনযুদ্ধের দাবিদার এদেশের সাত কোটি বাঙালি।
- এই সশস্ত্র যুদ্ধ একটি নির্বাচিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
- পরিকল্পিত এই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন।
- এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম: অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে রাজশাহী অঞ্চলে মেজর নাজমুল হক,
- দিনাজপুর অঞ্চলে মেজর নওয়াজেস উদ্দিন এবং,
- খুলনা অঞ্চলে মেজর জলিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়।
- কে ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯,৬৭৫.
বাংলা সাল গণনা শুরু হয় -
  1. ক) ১৫৮৪
  2. খ) ১৫৭২
  3. গ) ১৫৬৫
  4. ঘ) ১৫৫৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৫৬
ব্যাখ্যা
▪ কৃষি কাজের সুবিধার্থে মোগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ সালের ১০/১১ মার্চ বাংলা সনের প্রবর্তন করেন এবং তা ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর তার সিংহাসনে আরোহনের সময় হতে কার্যকর হয়।
▪ হিজরি চান্দ্র সন ও বাংলা সৌর সনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
▪ এটি প্রথমে ফসলি সন নামে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে এটি বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৯,৬৭৬.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা কতজন?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
৯,৬৭৭.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক 'আগুনের পরশমণি' চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য তৈরী করেছেন কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. তানভীর মোকাম্মেল
  3. মোরশেদুল ইসলাম
  4. চাষী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

আগুনের পরশমণি:
- মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আগুনের পরশমণি’।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: হুমায়ূন আহমেদ।
- নির্মিত হয়: ১৯৯৪ সালে।
- মুক্তি পায়: ১৯৯৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর অভিযান আর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সংকট ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুর ও আরো অনেকে।
- আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রটি ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
- শাখাগুলো হচ্ছে-
• শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত),
• শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা),
• শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক),
• শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ),
• শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯,৬৭৮.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে কতটি দফা ছিল?
  1. ৬ টি
  2. ২১ টি 
  3. ২২ টি
  4. ১১ টি 
সঠিক উত্তর:
২২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ টি
ব্যাখ্যা
৬২-র শিক্ষা আন্দোলন:

• ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২ টি দফা ছিল।
• ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
• ৬২-র শিক্ষা কমিশন পশ্চিম পাকিস্তানিদের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বৃদ্ধি করে।
• ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
• গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে পরিচালিত আন্দোলন দমনে আইয়ুব সরকার গ্রেপ্তার নির্যাতন চালালে ছাত্র গণআন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
• ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়। 
• ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং কয়েক শত আহত হয়।
• শিক্ষা দিবস: ১৭ সেপ্টেম্বর।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বি শ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৭৯.
কোন নাবিক সর্বপ্রথম সমুদ্রপথে ইউরোপ থেকে ভারতে আসেন?
  1. ক্রিস্টোফার কলম্বাস
  2. ক্যাপ্টেন হকিন্স
  3. ভাস্কো দা গামা
  4. আল বুকার্ক
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো দা গামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাস্কো দা গামা
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ১৪৯৮ সালে সমুদ্রপথে সর্বপ্রথম ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে পদার্পণ করেন। তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
তার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে অন্যান্য ইউরোপীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য তথা সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে পাড়ি জমাতে শুরু করে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯,৬৮০.
‘মাৎস্যন্যায়' বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে কোন সময়কে?
  1. ক) ৫ম শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত।
  2. খ) ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
  3. গ) ৯ম শতক থেকে ১২ শতক পর্যন্ত ।
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয় ।
সঠিক উত্তর:
খ) ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত।
ব্যাখ্যা
‘মাৎস্যন্যায়’
- ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।  ঐতিহাসিকরা এ অবস্থাকে  হিসেবে অভিহিত করেন ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়ম্’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- ৭ম শতকের মাঝামাঝি থেকে ৮ম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর এ অবস্থা বিরাজমান ছিলো। ৭৫০ সালে গোপাল কর্তৃক পাল শাসনের সূত্রপাতের মাধ্যমে মাৎস্যন্যায় অবস্থার অবসান হয়।

[রেফারেন্স: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৯,৬৮১.
কে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহিদ নন?
  1. সালাম
  2. জব্বার
  3. বরকত
  4. আসাদ
সঠিক উত্তর:
আসাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেনসঃ
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর।

উল্লেখ্য,
- শহিদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহিদ ছাত্রনেতা।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৬৮২.
”শহীদ আসাদ দিবস” পালিত হয় কবে?
  1. ২০ জানুয়ারি
  2. ২৫ জানুয়ারি
  3. ৩০ জানুয়ারি
  4. ১৫ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
২০ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

”শহীদ আসাদ দিবস”:
-
১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাস্যের বিরুদ্ধে ছাত্রদের অসন্তোষ থেকে আন্দোলন শুরু হয়, যা পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আসাদ।
- ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন।
- এরপর থেকে ২০ জানুয়ারি "শহীদ আসাদ দিবস” হিসেবে পালিত হয়।
- আসাদের স্মরণে ঢাকার মোহাম্মদপুরে 'আইয়ুব গেট' এর পরিবর্তে 'আসাদ গেট' নামকরণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৮ সালে শ্রমিক, কৃষক ও নিম্ন-মধ্য আয়ের পেশাজীবীরা এতে যোগ দিয়ে স্বায়ত্তশাসন, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শুরু করে। 
- ১৯৬৯ সালে এই আন্দোলন ধীরে ধীরে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। 
- মওলানা ভাসানী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা ঘেরাও, হরতাল ও গণসভা আয়োজনের মাধ্যমে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- ২০ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হন, যা থেকে আসাদ দিবস পালিত হয়।
- টানা আন্দোলনের ফলে ২৪ জানুয়ারি আইয়ুব খানের সামরিক শাসন পতিত হয়।
- গণঅভ্যুত্থান পূর্ববাংলায় রাজনৈতিক সচেতনতা, শ্রেণি চেতনা এবং আলাদা রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে।
- যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস: প্রথম আলো।

৯,৬৮৩.
 ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ৭ নং
  2. ১০ নং
  3. ৬ নং
  4. ৪ নং
সঠিক উত্তর:
৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ নং
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীর শ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার। যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

• ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
- সমাধিস্থল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ।

​• সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।

​• মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।

​• ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।
- সমাধিস্থল: রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের পাশে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৯,৬৮৪.
দেবপাল কোন খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন?
  1. ৮২০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ৮২১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ৮২২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ৮২৩ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
৮২১ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮২১ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
দেবপাল:
- দেবপাল পালবংশের অন্যতম রাজা ছিলেন।
- তিনি আনুমানিক ৮২১ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি শুধু পিতা ধর্মপালের সাম্রাজ্য রক্ষাই করেননি, বরং সীমানা বৃদ্ধিও করেন।
- দেবপাল গুর্জের রাজাকে পরাজিত করেন, উড়িষ্যাও জয় করেন।
- দেবপাল সুমাত্রা, জাভা ও বোর্ণিও রাজ্যের রাজাদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- দেবপাল বৌদ্ধ ধর্মের একজন প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- তিনি মগধের বৌদ্ধ মঠগুলোর সংস্কার সাধন করেন।
- তিনি নালন্দায়ও কয়েকটি মঠ এবং বুদ্ধগয়ায় একটি বড় মন্দির নির্মাণ করেন।
- দেবপালের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্ররূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তাঁর শাসনামলে উত্তর ভারতে লুপ্তপ্রায় বৌদ্ধ ধর্ম পুনরায় সঞ্জীবিত হয়ে উঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৮৫.
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. আবদুল মতিন
  2. নুরুল হক ভূঞা
  3. রুহুল আমিন
  4. শামসুল আলম
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুল আলম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:

- উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হয়।
- বাংলা ভাষার সংগ্রামকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকার ফজলুল হক হলে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- পরিষদে নিম্নলিখিত সংগঠনের প্রত্যেকটি থেকে দুইজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যথা:
- তমাদ্দুন মজলিশ, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক যুবলীগ, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ফজলুল হক মুসলিম হল সহ অন্যান্য ছাত্রাবাস, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ফেডারেশন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৮৬.
কোন জনপদটি বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. রাঢ়
  3. বরেন্দ্র
  4. চন্দ্রদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
ব্যাখ্যা
রাঢ় বাংলার বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।

রাঢ় জনপদ:

- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৮৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয় -
  1. ২৩জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  2. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  4. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সামরিক সরকার পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং আরও ৩৪ জনকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করে একটি ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- এ মামলার শিরোনাম ছিল ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’।
- পাকিস্তান সরকার দাবি করে, শেখ মুজিবুর রহমানসহ অভিযুক্তরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরে বসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জনের পরিকল্পনা করেছেন।
- মামলাটি পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষোভ এবং উত্তেজনার জন্ম দেয়।
- জনগণের ব্যাপক আন্দোলনের ফলে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৯,৬৮৮.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এ কোন সঙ্গীতজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন নি?
  1. জন লেনন
  2. বব ডিলান
  3. পণ্ডিত রবিশঙ্কর
  4. ওস্তাদ আল্লা রাখা খান
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন লেনন
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
- মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট, নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজন করা হয় বিশ্বের প্রথম সেবামূলক কনসার্ট ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। 
- মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার অবস্থান বাংলাদেশের পক্ষে ছিলো না। কিন্তু এই কনসার্ট আয়োজন আমেরিকান নাগরিকদের ভেতর বাংলাদেশ সম্পর্কে সহানুভূতি সৃষ্টি করে। 
- “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” এর মহানায়ক হলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর। তিনিই ভেবেছেন, তিনিই সমস্ত চিন্তা করেছেন এবং তিনি তাঁর বন্ধু জর্জ হ্যারিসনকে উদ্বুদ্ধ করে আয়োজন করেছেন। 
-  রবিশঙ্কর, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, লিওন রাসেল, রিঙ্গো স্টার, আলী আকবর খাঁ, আল্লাহ রাখা-র মতো সঙ্গীতজ্ঞরা ছিলেন। 
- সেতারবাদক রবিশঙ্কর ও বিখ্যাত সরোদবাদক ওস্তাদ আলি আকবর খান যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। তাদের সাথে তবলায় ছিলেন ওস্তাদ আল্লা রাখা খান। 
- জর্জ হ্যারিসনের সেই অবিস্মরণীয় বাংলাদেশ গান দিয়েই সমাপ্তি টানা হয়েছিলো এই কনসার্টের।
- কনসার্টের টিকেট বিক্রি থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার উঠে এসেছিলো। এই টাকার পুরোটাই শরণার্থী শিশুদের জন্য ইউনিসেফের মাধ্যমে তুলে দেন মুজিবনগর সরকারের হাতে। 

তথ্য - দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
৯,৬৮৯.
কাপ্তাই হ্রদ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার
  2. রাঙামাটি
  3. বান্দরবান
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

কাপ্তাই হ্রদ:
- বাংলাদেশের একমাত্র কৃত্রিম হৃদ কাপ্তাই হ্রদ।
- কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাঙামাটি জেলার একটি কৃত্রিম হ্রদ।
- কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ১৯৫৬ সালে এ বাধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- ১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাধের নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
- প্রধানত  জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এর সৃষ্টি হলেও, এ জলাধারে প্রচুর পরিমাণে মিঠাপানির  মাছ চাষ হয়। 
- মূল লেকের আয়তন প্রায় ১,৭২২ বর্গ কিমি, তবে আশপাশের আরও প্রায় ৭৭৭ বর্গ কিমি এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
- মূলত রাঙ্গামাটি জেলাতেই জলাধারটি সীমিত যার অন্তর্ভুক্ত উপজেলাসমূহ হচ্ছে রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৯,৬৯০.
বীর বিক্রম খেতাব ধারী কতজন?
  1. ১৭৯
  2. ৪২৪
  3. ২৭৪
  4. ১৭৪
সঠিক উত্তর:
১৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নামকরণ হয়:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব - বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব - বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব - বীর বিক্রম
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব - বীর প্রতীক।
- ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বীরত্বসূচক খেতাবের জন্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ পূর্বের ৪৩ জনসহ মোট ৫৪৬ জন মুক্তিযোদ্ধা খেতাবের জন্য নির্বাচিত হন।
- স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইউনিট, সেক্টর, ব্রিগেড থেকে পাওয়া খেতাবের জন্য সুপারিশসমূহ এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে্ একটি কমিটি দ্বারা নিরীক্ষা করা হয়।
- এরপর ১৯৭৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেতাব তালিকায় স্বাক্ষর করেন।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:

বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন।
বীর উত্তম - ৬৮ জন।
বীর বিক্রম - ১৭৫ জন।
বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।
- ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে বীরত্বসূচক খেতাব প্রাপ্তদের পদক ও রিবন প্রদান করা হয়।
- ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর ৪ খুনির খেতাব বাতিল করা হয়।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হয়েছে তাঁরা হলেন লেফট্যানেন্ট কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লেফট্যানেন্ট কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লেফট্যানেন্ট এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
ফলে, বর্তমানে বীর বিক্রম ১৭৪ জন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। প্রথম আলো। [লিঙ্ক]
৯,৬৯১.
বাংলায় সেন বংশের (১০৭০-১২৩০ খ্রিষ্টাব্দ) শেষ শাসনকর্তা কে ছিলেন?
  1. ক) হেমন্ত সেন
  2. খ) বল্লাল সেন
  3. গ) লক্ষণ সেন
  4. ঘ) কেশব সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেশব সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেশব সেন
ব্যাখ্যা

বাংলায় সেন বংশের শাসনঃ
- পাল বংশের পতনের বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলায় সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন রাজবংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন - হেমন্ত সেন (সামন্ত সেনের পুত্র)।
- শ্রেষ্ঠ রাজা - বিজয় সেন। তার শাসনামলে সেন বংশ শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই বংশের শেষ উল্লেখযোগ্য রাজা ছিলেন - লক্ষ্মণ সেন। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন। এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

- ১২০৫/০৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপসেন ও কেশব সেন যথাক্রমে সিংহাসনে বসেন। তাঁদের শাসনামলের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না।
- তবে বাংলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাঁদের শাসন যে আরও প্রায় ২৫ বছর স্থায়ী ছিল, লিপি প্রমাণে তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
- তাঁদের পিতার মৃত্যুর পর বিশ্বরূপসেন ও কেশবসেন কর্তৃক বিক্রমপুর ও বঙ্গে ভূমিদান করা থেকে প্রমাণিত হয় যে, এতদঞ্চলে তাঁদের আধিপত্য বজায় ছিল। তবকাত-ই-নাসিরী সাক্ষ্য দেয় যে লক্ষ্মণসেনের বংশধরগণ অন্তত ১২৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- কিন্তু কেশব সেনের (রাজত্বকালঃ ১২২৫ - ১২৩০ সাল)পর সেনগণ বাংলায় রাজত্ব করেছিলেন এমন কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায় নি।
- পঞ্চরক্ষা নামক একটি বৌদ্ধ গ্রন্থের পান্ডুলিপি থেকে মধুসেন নামক এক গৌড়েশ্বরের নাম পাওয়া যায়। সেন উপাধিধারী তিনিই ছিলেন বাংলার শেষ রাজা।
- তেরো শতকের শেষভাগে সেনদের নিকট থেকে দেব রাজবংশ বিক্রমপুরের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তেরো শতকের শেষে এবং চৌদ্দ শতকের শুরুতে সমগ্র বাংলার ওপর মুসলমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্নে সরাসরি সাল উল্লেখ করা আছে। আগের কিছু চাকরির পরীক্ষায় লক্ষণ সেন ছাড়া অন্যরা অপশনেই ছিলেন না। তবে, প্রশ্নের ধরন বুঝে উত্তর করতে হবে।

উপর্যুক্ত আলোচনা, প্রশ্নের ধরণ ও অপশন বিবেচনা করে বলা যায়,
- সাধারণত বাংলার সর্বশেষ রাজা হিসাবে লক্ষ্মণ সেনের নাম পাওয়া গেলেও সেন বংশের শাসন লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যুর পরও কয়েক বছর টিকে ছিল।
- এই বংশের শেষ শাসনকর্তা হিসাবে কেশব সেনের (রাজত্বকালঃ ১২২৫ - ১২৩০ সাল) নাম পাওয়া যায়। প্রশ্নকর্তাও সাল উল্লেখ করেই প্রশ্নটি ক্লিয়ার করেছেন।
তাই সঠিক উত্তর হিসাবে কেশব সেন ধরা হয়েছে।

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা বই ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৯২.
কোন মোঘল সম্রাট বাংলার নাম রাখেন জান্নাতাবাদ?
  1. শাহজান
  2. হুমায়ুন
  3. আকরব
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

সম্রাট হুমায়ুন:
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৯৩.
গৌড়ের নাম ‘জান্নাতাবাদ’ রাখেন কে?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন:

- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুগল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানী গৌড়ের নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৯৪.
কে সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন?
  1. হেস্টিংক
  2. কর্নওয়ালিস
  3. ওয়েলেসলি
  4. ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
- কর্নওয়ালিস সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন।

ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা:

- লর্ড কর্নওয়ালিসের শাসনামলের ভূমি রাজস্ব সংস্কার একটি গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- ওয়ারেন হেস্টিংসের প্রবর্তিত জমির পাঁচসালা ও একসালা বন্দোবস্তের ভুলত্রুটি নিরসনের জন্য লর্ড কর্ণওয়ালিস জমির দশসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- এই সংস্কার ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত হয়।
- এ ব্যবস্থার ফলে জমিদাররা জমির স্থায়ী মালিক হন এবং তাঁদের দেয় করের পরিমাণ নির্দিষ্ট হয়ে যায়।
- তাঁরা নিয়মিত কর প্রদান সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে জমির মালিক হয়ে যান।
- তবে এ ব্যবস্থার ফলে কৃষকদের দুর্দশা বেড়ে যায় ও জমির উন্নয়ন ব্যাহত হয়।
- কর্নওয়ালিস সূর্যাস্ত আইন প্রবর্তন করেন।
- এ ব্যবস্থায় সূর্যাস্ত আইনের বলে বহু জমিদারী নিলামে উঠে এবং বহু নতুন জমিদার শ্রেণির সৃষ্টি হয় যা এদেশে বিদেশি শাসকদের হাতকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৯,৬৯৫.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি করেন কে?
  1. জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা
  2. জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার অবসান: 
- ১৯৫৪ সালের ৩০ এপ্রিল ফজলুল হক আমন্ত্রিত হয়ে কলকাতায় বক্তৃতা দেয়ার সময় শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে দুই বাংলা যে অভিন্ন তা বর্ণনা করেন।
- তাঁর এই বক্তৃতার সূত্র ধরে মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সুযোগ পেয়ে যান। 
- মে মাসে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং আদমজী জুট মিলে বাঙালি ও বিহারী শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক গোলযোগ হয়।
- ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের করাচি থেকে ঢাকা ফেরার পর বিমানবন্দরেই গ্রেফতার করা হয়।
- ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন। পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে। 
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯,৬৯৬.
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস -
  1. ১৮ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৫ ফেব্রুয়ারি
  3. ২৪ জানুয়ারি
  4. ২০ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- এছাড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামি মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।


সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৯৭.
রংপুর বিভাগে কতটি জেলা রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
রংপুর বিভাগ:

- আয়তন: ১৬১৮৫.০১ বর্গ কিমি।
- অবস্থান: ২৫°২০´ থেকে ২৬°৩৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫০´ থেকে ৮৯°৫৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
- সীমানা: উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য, দক্ষিণে জয়পুরহাট, বগুড়া ও জামালপুর জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম রাজ্য, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
- রংপুর বিভাগ গঠিত হয় ২৫ জানুয়ারী ২০১০ সালে।
- জেলা: ৮টি।
- উপজেলা: ৫৮টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও রংপুর বিভাগ ওয়েবসাইট।
৯,৬৯৮.
কোন ঐতিহাসিক ইলিয়াস শাহকে "সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ” উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. মিনহাজ উস সিরাজ
  2. আলী মুবারক
  3. শামস-ই-সিরাজ আফীফ
  4. জিয়াউদ্দিন বারানি
সঠিক উত্তর:
শামস-ই-সিরাজ আফীফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামস-ই-সিরাজ আফীফ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ:
- ইলিয়াস শাহ 'সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।
- ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- তাঁর পূর্বে আর কোনো সুলতান এ গৌরব অর্জন করতে পারেননি।
- তাই ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' ও 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভকরেন।
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ” এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৯৯.
'আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস।'- এখানে 'ওর' বলতে শেখ মুজিবুর রহমান কাকে বুঝিয়েছেন?  
  1. ক) শেখ নাসেরকে
  2. খ) শেখ কামালকে
  3. গ) শেখ হাসিনাকে
  4. ঘ) শেখ রেহেনাকে
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ কামালকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ কামালকে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলার গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব।
- বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে।
- খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।

তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী,
- কারাগারের রোচনামচা,
- আমার দেখা নয়াচীন।
---------------
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী (২০১২) গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী ও সহধর্মিণীর অনুরোধে তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায় এই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন।
- এখানে জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, গভীর উপলব্ধি ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তিনি সহজ সরল ভাষায় প্রকাশ করেছেন।
- তাঁর এই রচনায় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অপশাসন, বিনাবিচারে বছরের পর বছর রাজবন্দিদের কারাগারে আটক রাখা, ১৯৫২ সালের জেলজীবন ও জেল থেকে মুক্তি লাভের স্মৃতি বিবৃত হয়েছে।
------------
- 'আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস।'- এখানে 'ওর' বলতে শেখ মুজিবুর রহমান ‘শেখ কামালকে’ বুঝিয়েছেন।
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফরিদপুরের জেলখানায় অনশনরত অবস্থায় আটক ছিলেন। 
- ২৭ তারিখে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির আদেশ জেলখানায় পৌঁছালো। 
- প্রায় ২৭/২৮ মাস পর তিনি ফিরে এলেন তাঁর পরিবারের কাছে। 
- পরিবার বলতে এখানে তাঁর বাবা-মা ছাড়াও ছিল তাঁর স্ত্রী রেণু ও দুই সন্তান— হাসিনা ও কামাল। 
- শেখ কামালের সাথে অনেক দিন পর দেখা হওয়ার পর তাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাটি ঘটেছিল তাঁর উল্লেখ করতেই শেখ মুজিবুর রহমান উক্ত উক্তিটি লিখেছেন। 

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অংশবিশেষ: 
একদিন সকালে আমি ও রেণু বিছানায় বসে গল্প করছিলাম। হাচু ও কামাল নিচে খেলছিল। হাচু মাঝে মাঝে খেলা ফেলে আমার কাছে আসে আর ‘আব্বা’ ‘আব্বা' বলে ডাকে। কামাল চেয়ে থাকে। একসময় কামাল হাচিনাকে বলছে, “হাচু আপা, হাচু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।” আমি আর রেণু দুজনেই শুনলাম। আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে যেয়ে ওকে কোলে নিয়ে বললাম, “আমি তো তোমারও আব্বা।” কামাল আমার কাছে আসতে চাইত না। আজ গলা ধরে পড়ে রইল। বুঝতে পারলাম, এখন আর ও সহ্য করতে পারছে না। নিজের ছেলেও অনেক দিন না দেখলে ভুলে যায়!

আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস। রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখা আর তার আত্মীয়স্বজন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে? মানুষ স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে যায়। আজ দুইশত বৎসর পরে আমরা স্বাধীন হয়েছি। সামান্য হলেও কিছু আন্দোলনও করেছি স্বাধীনতার জন্য। ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, আজ আমাকে ও আমার সহকর্মীদের বছরের পর বছর জেল খাটতে হচ্ছে। আরও কতকাল খাটতে হয়, কেইবা জানে? একেই কি বলে স্বাধীনতা? ভয় আমি পাই না, আর মনও শক্ত হয়েছে।

উৎস: ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ - শেখ মুজিবুর রহমান।
৯,৭০০.
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর নিম্নোক্ত কোন দাবিটি ছিল না?
  1. ক) সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে
  2. খ) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে
  3. গ) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে
  4. ঘ) জেনারেল ইয়াহিয়াকে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে হবে
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনারেল ইয়াহিয়াকে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনারেল ইয়াহিয়াকে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে হবে
ব্যাখ্যা
৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ
- ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙ্গালির ইতিহাসের এক মহেন্দ্রক্ষণ।
- এদিন বঙ্গবন্ধু তাঁর ১৮ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন। যথা-
(১) সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে,
(২) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে,
(৩) গণহত্যার তদন্ত ও বিচার করতে হবে এবং
(৪) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।