বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬১ / ১২৪ · ৬,০০১৬,১০০ / ১২,৪২১

৬,০০১.
’রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. নূরুল হক ভূইয়া
  2. আব্দুল মতিন চৌধুরি
  3. গোলাম মাহবুব
  4. আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূইয়া
ব্যাখ্যা

'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ':
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

 - ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ'
- ৩১শে জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ' গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৬,০০২.
'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানের গীতিকার কে?
  1. আব্দুল জব্বার
  2. ফজলে খোদা
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ফজলে খোদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফজলে খোদা
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।

⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর:
- কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: রথীন্দ্রনাথ রায়।

⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: সমর দাস।
- গানটি কয়েকজন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে প্রচার করা হয়।

⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: আপেল মাহমুদ।

⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে:
- গীতিকার: গোবিন্দ হালদার।
- সুরকার: আপেল মাহমুদ।
- শিল্পী: স্বপ্না রায়।

⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম:
- গীতিকার: ফজলে খোদা।
- সুরকার: আব্দুল জব্বার।
- শিল্পী: আব্দুল জব্বার।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৬,০০৩.
ডা. সেতারা বেগম কত নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন?? 
  1. ১ নং
  2. ২ নং
  3. ৩ নং
  4. ১১ নং
সঠিক উত্তর:
২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়।
- তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)।
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬,০০৪.
জাতীয় পতাকার লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ কত?
  1. মোট দৈর্ঘ্যের এক-চতুর্থাংশ
  2. মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ 
  3. মোট দৈর্ঘ্যের এক-অষ্টমাংশ
  4. মোট দৈর্ঘ্যের এক-দশমাংশ
সঠিক উত্তর:
মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ 
ব্যাখ্যা

• জাতীয় পতাকা:
- জাতীয় পতাকা অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় পতাকার আকৃতি, গড়ন, রং ও পতাকা উত্তোলনের ধরনের কিছু অনুমোদিত নিয়মকানুন অনুসরণ করে।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার।
- তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান হবে পতাকার দৈর্ঘের ৯/২০ অংশ থেকে টানা লম্বের এবং প্রস্থের মাঝখান দিয়ে টানা আনুভূমিক রেখার ছেদবিন্দুতে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,০০৫.
বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কী নামকরণ করেছিলেন?
  1. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  2. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  3. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
  4. পশ্চিম পাকিস্তান ষড়যন্ত্র মামলা
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। 
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,০০৬.
মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করে কত তারিখ?
  1. ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
  3. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
  4. ২১ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০০৭.
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. কার্জন শিক্ষা কমিশন
  2. মেকলে শিক্ষা কমিশন
  3. হান্টার শিক্ষা কমিশন
  4. স্যাডলার শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
হান্টার শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হান্টার শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা

হান্টার কমিশন:
- ১৮৫৪ সালে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না।
- তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

• হান্টার কমিশন গঠন:
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এর অফিশিয়াল সরকারিভাবে নামকরণ করা হয়েছিলো ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন, ১৮৮২।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,০০৮.
কে ৬৯-গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ হন?
  1. আবুল হাসনাত
  2. মোহাম্মদ রফিক
  3. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. রাফাতুল রাহাত
সঠিক উত্তর:
সার্জেন্ট জহুরুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান :
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন দানা বাঁধে, তা একসময় ছড়িয়ে পড়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক দুর্বার আন্দোলন, যা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
-  ৮ই ডিসেম্বর প্রধান বিরোধী দলগুলোর ডাকে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আওয়ামী লীগের ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- উনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এই ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী।
- ফলে দ্রুত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এরপর থেকে 'ডাকসু' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।
- ডাকসুর আহ্বানে ১৪ই জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৮ই জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট পালন করে।
- ধর্মঘট চলাকালীন পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
- ২০শে জানুয়ারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন। হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।   
 - আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষিত হয়।
- ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- জহুরুল হকের হত্যার প্রতিবাদে ১৬ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে আন্দোলন আরও বেগবান হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।
- পশ্চিম পাকিস্তানেও আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে।
- ২২শে মার্চ আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে অপসারণ করেন।
- তাতেও গণআন্দোলন থামানো যায়নি।
- ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬,০০৯.
বাংলাদেশে শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণ উন্নয়ন ও পরিমার্জন করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. NAEM
  2. NCTB
  3. NAPE
  4. DPE
সঠিক উত্তর:
NCTB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NCTB
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB): 
- জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড NCTB নামে পরিচিত
- এর পূর্ণরূপ National Curriculum & Textbook Board.
- বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য, 
- এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জনের জন্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। এটি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য শিখন উপকরণ উন্নয়ন ও পরিমার্জন করে, এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: NCTB ওয়েবসাইট। 

৬,০১০.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময়কাল ছিল -
  1. ১৭০০-১৭৫০ খ্রিস্টাব্দ 
  2. ১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৮১০-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৮৫০-১৯০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
- তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে।
- ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
- আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

অপরদিকে -
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন। 
- তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,০১১.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন-  
  1. মেজর জিয়াউর রহমান 
  2. জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
  3. এ.কে. খন্দকার
  4. মেজর খালেদ মোশাররফ
সঠিক উত্তর:
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ: 
- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন,
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়, এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,০১২.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব অবদানে কতজন নারীকে বীর প্রতীক উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ৫ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ১ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।

৬,০১৩.
কে বাংলার সাল গণনা শুরু করেন?
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. ইলিয়াস শাহ্‌
  3. বিজয় সেন
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

⇒ সম্রাট আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০১৪.
স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহন করেন?
  1. ক) ১০ জানুয়ারী, ১৯৭২
  2. খ) ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. গ) ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ঘ) ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকদিনের মধ্যেই মুজিবনগর প্রশাসনের সিনিয়র
আমলাবৃন্দ ঢাকায় এসে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
- ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ ঢাকায় আসেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১০-০১-৭২ তারিখে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন।
- ঢাকায় ফেরার পরদিন (১১.১.৭২ তারিখ রাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ‘অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২’ জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এভাবেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব লাভ করেন।
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০১৫.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. জিমি কার্টার
  2. রিচার্ড নিক্সন
  3. জন এফ কেনেডি
  4. বিল ক্লিনটন
সঠিক উত্তর:
রিচার্ড নিক্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিচার্ড নিক্সন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব:
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- রিচার্ড নিক্সন।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- ইন্দিরা গান্ধী।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ছিলেন- নিকোলাই পদগর্নি।
- এই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- আলেক্সেই কোসিগিন।
- জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন- উ থান্ট।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণি।
৬,০১৬.
উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কার রাজত্বকালে?
  1. প্রথম চন্দ্রগুপ্তের
  2. সম্রাট অশোকের
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের
  4. বিন্দুসারের
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোকের
ব্যাখ্যা
- উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে।
- মৌর্য রাজবংশ চন্দ্রগুপ্তের হাত দিয়ে শুরু হলেও তার পুত্র বিন্দুসার এবং
- বিন্দুসারের পুত্র অশোকের শাসনামলে সাম্রাজ্য চূড়ান্তভাবে বিকশিত হয়।
- খ্রিস্টপূর্ব ২৩২ অব্দে অশোকের মৃত্যু পর্যন্ত ৪০ বছর তিনি ভারতবর্ষে রাজত্ব করেন।
- সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম-দশম শ্রেণি ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০১৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী কে ছিলেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
  3. গ) তোফায়েল আহমেদ
  4. ঘ) আ. স. ম. আবদুর রব
সঠিক উত্তর:
খ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে। ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬,০১৮.
কততম সংসদে নারীদের জন্যে সংরক্ষিত আসন ছিলো না?
  1. প্রথম সংসদ
  2. তৃতীয় সংসদ
  3. চতুর্থ সংসদ
  4. ষষ্ঠ সংসদ
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ সংসদ
ব্যাখ্যা
- চতুর্থ সংসদে নারীদের জন্যে কোন আসন ছিলো না।
- বর্তমান জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্যে সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০টি। ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদের আসন সংখ্যা ৪৫টি থেকে ৫০টিতে উন্নীত করা হয়।
- প্রথম সংসদে নারীদের জন্যে সংরক্ষিত আসন ছিলো ১৫টি।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংসদে ৩০টি।
- পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম সংসদে ৩০টি করে।
- অষ্টম সংসদে ৪৫টি।
(তথ্যসূত্র: সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
৬,০১৯.
Which organizaion publishes Banglapedia?
  1. Bangla Academy
  2. Asiatic Society of Bangladesh
  3. University of Dhaka
  4. BG Press
  5. None
সঠিক উত্তর:
Asiatic Society of Bangladesh
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Asiatic Society of Bangladesh
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাপিডিয়া প্রকাশ করে।

বাংলাপিডিয়া:
- বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ।
- এটি এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত।
- এ জ্ঞানকোষে প্রায় ১৪৫০ জন পণ্ডিতের সৃজনশীল কাজের সমন্বয় ঘটেছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীনতমকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনা বাংলাপিডিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- ফলে এটি অধ্যয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা সম্ভব।
- প্রথম প্রকাশের পর বাংলাপিডিয়া ব্যাপক উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। 
- বাংলাপিডিয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, পেশাজীবী এবং সাধারণ পাঠকদের অপরিহার্য সহচরে পরিণত হয়েছে।
- বর্তমান দ্বিতীয় সংস্করণটি (২০১২) ইতিপূর্বে প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের (২০০৩) একটি পরিবর্ধিত ও হালনাগাদ রূপ।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,০২০.
ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ কোনটি?
  1. ভারত শাসন আইন-১৯৩৫
  2. রেগুলেটিং অ্যাক্ট-১৭৭৩
  3. মর্লি-মিন্টু সংস্কার আইন-১৯০৯
  4. ভারতীয় কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৮৬১
সঠিক উত্তর:
রেগুলেটিং অ্যাক্ট-১৭৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেগুলেটিং অ্যাক্ট-১৭৭৩
ব্যাখ্যা
- ১৭৭৩ সালে প্রণীত রেগুলেটিং অ্যাক্ট ভারতীয় উপমহাদেশের সাংবিধানিক বিকাশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
- এই অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলা এবং অন্যান্য প্রেসিডেন্সির শাসনভার ও নিয়ন্ত্রণ একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত হয়, যা ‘বাংলার গভর্নর জেনারেল ও ফোর্ট উইলিয়ম কাউন্সিল’ নামে পরিচিত ছিল।
- ভারতীয় উপমহাদেশে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,০২১.
'বয়কট' আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কোনটি?
  1. বিলেতি শিক্ষা বর্জন
  2. বিলেতি পণ্য বর্জন
  3. দেশী খাদ্য বর্জন
  4. দেশী বস্ত্র বর্জন
সঠিক উত্তর:
বিলেতি পণ্য বর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলেতি পণ্য বর্জন
ব্যাখ্যা
• স্বদেশী আন্দোলন:
- ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থী অংশের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই স্বদেশী আন্দোলন বলা হয়।
- আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ছিল দুইটি- বয়কট ও স্বদেশী।
- 'বয়কট' আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
- ক্রমে ক্রমে 'বয়কট' শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হতে থাকে।
- বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
- বিলেতি শিক্ষা বর্জনও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়।
- ফলে স্বদেশী আন্দোলন শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনে রূপ নেয়।

এছাড়াও,
- বিলেতি শিক্ষা বর্জনের মতো পণ্য বর্জনের জন্যও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- স্থানে স্থানে সমিতির মাধ্যমে বিলেতি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারে শপথ নেওয়া হয়।
- কংগ্রেস নেতারা গ্রামে-গঞ্জে-শহরে প্রকাশ্য সভায় বিলেতি পণ্য পুড়িয়ে ফেলা।
- এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের জন্য জনগণকে উৎসাহিত করতে থাকেন।
- একই সঙ্গে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এ সময় দেশি তাঁতবস্ত্র, সাবান, লবণ, চিনি ও চামড়ার দ্রব্য তৈরির কারখানা গড়ে ওঠে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি।
৬,০২২.
বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) চাঁদপুর
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) সিরাজগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গ) ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর জেলায় অবস্থিত।
- শুরুতে এটির কার্যক্রম ঢাকাস্থ গ্রীনরোড থেকে পরিচালিত হতো।
- ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হাইড্রোলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরিকে একীভূত করে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট যারা শুরু করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট)
৬,০২৩.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ক) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  2. খ) জে. আতাউল গণি ওসমানি
  3. গ) লে. জে. এইচ. এম. এরশাদ
  4. ঘ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
খ) জে. আতাউল গণি ওসমানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জে. আতাউল গণি ওসমানি
ব্যাখ্যা
- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
 
আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। 
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন এবং তাঁর এ পদোন্নতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। 


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৬,০২৪.
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের প্রধান সংগঠক কে ছিলেন?
  1. মাস্টারদা সূর্য সেন
  2. মঙ্গলপাণ্ডে
  3. মীর কাশিম
  4. ক্ষুদিরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাস্টারদা সূর্য সেন
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন। ডাক নাম কালু।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,০২৫.
৬ দফা ঘোষিত হয় ১৯৬৬ সালের-
  1. জানুয়ারি মাসে
  2. জুন মাসে
  3. এপ্রিল মাসে
  4. ফেব্রুয়ারি মাসে
সঠিক উত্তর:
ফেব্রুয়ারি মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেব্রুয়ারি মাসে
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্বলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- এটিই ইতিহাসে ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০২৬.
১৯৬৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি কে ছিলেন? 
  1. ক) আব্দুর রউফ
  2. খ) তোফায়েল আহমেদ
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মাওলানা ভাসানী
সঠিক উত্তর:
খ) তোফায়েল আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ

- ১৯৬৬ সালের ছয় দফার জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- এ মামলার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র সমাজ আইয়ুব খান বিরোধী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।

- এরই প্রেক্ষিতে ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), জাতীয় ছাত্র ফেডারেশনের একাংশ (দোলন গ্রুপ) ও ডাকসুর উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয় এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে 'এগার দফা কর্মসূচি' বা দাবি ঘোষণা করে।
- ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
-  ১১ দফা আন্দোলন পরিণত হয় গণঅভ্যুত্থানে।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৬,০২৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
লর্ড ওয়েলেসলি:
- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- তিনি রাজ্য শাসনের পরিবর্তে রাজ্য বিস্তারের দিকেই বেশি আগ্রহী ছিলেন।
- রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় তাঁর অবদান নিতান্তই সামান্য। সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি বেশকিছু সংস্কার করে গেছেন।
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- ওয়েলেসলি বিচার ব্যবস্থার বেশকিছু সংস্কার করেন।
- লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,০২৮.
আল আকসা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মক্কা
  2. খ) মদিনা
  3. গ) জেরুজালেম
  4. ঘ) দামেস্ক
সঠিক উত্তর:
গ) জেরুজালেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেরুজালেম
ব্যাখ্যা
আল আকসা মসজিদ ইসরাইল অধিকৃত জেরুজালেম শহরে অবস্থিত। এটি মুসলমানদের দ্বিতীয় কিবলা নামে পরিচিত। ১৯৬৯ সালে ইহুদীরা এই মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়।
(সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৬,০২৯.
বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. বিজয়পুর
  2. বিক্রমপুর
  3. কর্ণসুবর্ণ
  4. কোটিবর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিজয়পুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়পুর
ব্যাখ্যা
বিজয় সেন: 
- হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তার এই সুদীর্ঘ রাজত্বকালেই সেন বংশের শাসন স্বাধীন ও শক্তিশালী ভিত্তির উপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় তিনি রামপালকে সাহায্য করেন।
- বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান।
- আবার দক্ষিণ রাঢ়ের শুর বংশের সঙ্গে বৈবাহিক আত্মীয়তার সুত্র ধরে রাঢ় বিজয় সেনের অধিকারে আসে।
- এরপর বিজয় সেন বর্ম রাজাকে পরাজিত করে পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলা সেন অধিকারে নিয়ে আসেন।
- শেষ পাল রাজাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিজয় সেন মদনপালকে পরাজিত করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম বাংলা থেকে পালদের বিতাড়িত করে নিজ কর্তৃত্ব স্থাপন করেন।
- এরপর তিনি কামরূপ, কলিঙ্গ ও মিথিলা আক্রমণ করেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুর ছিল বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী।
- দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে।
- শিব অনুরাগী বিজয় সেন পরম মহেশ্বর, পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ অরিরাজ-বৃষভ-শঙ্কর প্রভৃতি উপাধি গ্রহণ করেন।
- সেন বংশের অধীনেই সর্বপ্রথম সমগ্র বাংলা দীর্ঘকালব্যাপী একক রাজার অধীনে ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,০৩০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়-
  1. ক) ঢাকা থেকে
  2. খ) কলকাতা থেকে
  3. গ) মুজিবনগর থেকে
  4. ঘ) কালুরঘাট থেকে
সঠিক উত্তর:
গ) মুজিবনগর থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুজিবনগর থেকে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়- মুজিবনগর থেকে। 

•মুজিবনগর সরকার:  
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
- সরকার গঠন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তথা প্রধান নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন  ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সরকার গঠন এবং ১৭ এপ্রিল সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,০৩১.
‘একুশ দফা’ কোন প্রেক্ষাপটে প্রণীত হয়?
  1. ৫২'র ভাষা আন্দোলন
  2. ৫৪'র প্রাদেশিক নির্বাচন
  3. ৬৯'র গণঅভ্যুত্থান
  4. ৯০'র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
৫৪'র প্রাদেশিক নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৪'র প্রাদেশিক নির্বাচন
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘একুশ দফা’ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
এর প্রথম দফা ছিলো বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
উক্ত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,০৩২.
কোন সময়কালকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ?
  1. ২০১৯ - ২০ সালকে
  2. ২০২০ - ২১ সালকে
  3. ২০২১ - ২২ সালকে
  4. ২০২২ - ২৩ সালকে
সঠিক উত্তর:
২০২০ - ২১ সালকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২০ - ২১ সালকে
ব্যাখ্যা
- ‘মুজিব বর্ষ’ হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (জন্ম ১৭ মার্চ, ১৯২০)।
- মুজিব বর্ষের সময়কাল ১৭ মার্চ ২০২০—১৭ মার্চ ২০২১
- ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- এর ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
- ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ।
- সরকারিভাবে বছরটি মুজিব বর্ষ হিসেবে উদ্‌যাপিত হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দের কথা যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ শুধু বাংলাদেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে না, জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থাও (ইউনেসকো) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
এর ফলে বাংলাদেশ ইউনেসকোর সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কিংবা ইউনেসকো সদস্যভুক্ত যেকোনো দেশ আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন করতে পারবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো।
৬,০৩৩.
কোন অঞ্চলটি প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্গত ছিলো না?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. বরিশাল
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বগুড়া
ব্যাখ্যা
জনপদ:
 - প্রাচীন কাল থেকে আরম্ভ করে আনুমানিক ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে প্রাচীন বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিলো: -
- যথা: পুণ্ড্র, গৌড়, রাঢ়, সূহ্ম, তাম্রলিপি, সমতট, বঙ্গ ইত্যাদি জনপদে বিভক্ত।

• পুণ্ড্র:- প্রাচীনকালে পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত পুদনগল (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়।

• রাঢ়:- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল। জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। একটি ছিল দক্ষিণ রাঢ় এবং অন্যটি ছিল উত্তর রাঢ়।

বঙ্গ:- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ। অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

• সমতট:- কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট। মূলত মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল এবং এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই’এলাকা। একেবারে সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ না করা গেলেও ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

• হরিকেল:- এই জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে। চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল কথা আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পান্ডু লিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উল্লেখিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৩৪.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা কত?
  1. ২২০.২২ কিলোমিটার
  2. ৩৭০.৪০ কিলোমিটার
  3. ৪৫২.৩১ কিলোমিটার
  4. ৭১৬ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
৩৭০.৪০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭০.৪০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা:

- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার। 
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৩৫.
বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় কতটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি রয়েছে?
  1. ৫১১টি
  2. ৫১৭টি
  3. ৫২৭টি
  4. ৫৪০টি
সঠিক উত্তর:
৫১৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১৭টি
ব্যাখ্যা
সংরক্ষিত পুরাকীর্তি:
→ বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় ৫১৭টি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি রয়েছে। তন্মধ্যে মহাস্থানগড়, ময়নামতি, শালবন বিহার, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, সীতাকোট বিহার, কান্তজীর মন্দির, ছোট সোনা মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ, ভাসুবিহার, বারোবাজার, লালবাগ দুর্গ প্রভৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি ও প্রত্নস্থল। 
→ এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ২৮টি জাদুঘর ও প্রত্নস্থল প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে পরিদর্শনের জন্য চালু রয়েছে।
→  এসব জাদুঘর ও প্রত্নস্থলে প্রদর্শিত নিদর্শনসমূহ পরিদর্শন করে দেশী ও বিদেশী দর্শনার্থী, ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকগণ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করে থাকেন।

তথ্যসূত্র: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
৬,০৩৬.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে কতজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিহত হোন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন 
  3. ৩ জন 
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জন
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ:

• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন।
• এর মধ্যে শিল্প-কারখানার শ্রমিক ৩৪ জন, ছাত্র ২০ জন, সরকারি কর্মচারী ৭ জন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫ জন, স্কুল শিক্ষক ১ জন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের  ১ শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন।   
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলিতে ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
• তিনি ছিলেন দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। 
• তাঁর স্মরনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে “স্ফুলিঙ্গ” নামে একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হয়।  

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,০৩৭.
পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দানের বিল উত্থাপন করেন কে?
  1. ক) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আদেলউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য আদেল উদ্দিন আহমেদ জাতীয় পরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিল উত্থাপন করলে ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৫৬ তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। 
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
---------
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
- গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন। কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করে।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

৬,০৩৮.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধাগন কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. মুক্তিবাহিনী
  2. নিয়মিত বাহিনী
  3. যৌথ বাহিনী
  4. অনিয়মিত বাহিনী
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিয়মিত বাহিনী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও বাহিনীসমূহ -
- মুজিবনগর সরকার পরিকল্পিত উপায়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য সামরিক ও বেসামরিক সকল জনগণকে নিয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনী।
- অনিয়মিত বাহিনী গণবাহিনী বা গেরিলাবাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
- ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরে গণবাহিনীতে নিয়োগ করা হতো।
- গণবাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য পাঠানো হয়।
- অনিয়মিত বাহিনীকে সরকারিভাবে বলা হত মুক্তিযোদ্ধা।
- নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের সৈন্যরা।
- এই বাহিনীর সদস্যরা সশস্ত্রবাহিনীর প্রথাগত যুদ্ধে নিয়োজিত ছিলেন।
- নিয়মিত বাহিনীর সংগঠনিক নাম ছিল মুক্তিফৌজ।

অন্যদিকে,
- মুজিবনগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে প্রথমে ৪ টি যুদ্ধাঞ্চলে ভাগ করে। পরে আরো ৩টি ভাগ করা হয়। ফলে মোট যুদ্ধাঞ্চল ছিল ৭টি।
- S ফোর্স, K ফোর্স ও Z ফোর্স নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
-মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সমগ্র বাংলাদেশ ১১ টি সেক্টর ছিল , যেখানে মোট ১৬ জন সেক্টর-কমান্ডার ছিলেন।

উৎস- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র, দশম খন্ড।
৬,০৩৯.
Who was the 1st Budget Proposer of Bangladesh?
  1. Abu Hena Mohammad Mujtafa Kamal
  2. Tajuddin Ahmad.
  3. Abul Maal A. Muhit
  4. Abu Sayeed Chowdhury
সঠিক উত্তর:
Tajuddin Ahmad.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tajuddin Ahmad.
ব্যাখ্যা
প্রথম জাতীয় বাজেট:

- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৩০ জুন তাজউদ্দিন আহমদ পেশকৃত দেশের প্রথম বাজেট পাশ হয়।
- এই বাজেটের আকার ছিলো ৭৮৬ কোটি টাকা।
- প্রথম বাজেটে একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ এবং ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হয়।

তথ্যসূত্র - অর্থ বিভাগ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬,০৪০.
বখতিয়ার খিলজি জাতিতে কোন বংশের ছিলেন?
  1. আফগানি
  2. পারসিয়ান
  3. মঙ্গোলীয়
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুর্কি
ব্যাখ্যা

 বখতিয়ার খিলজি:
- ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ -বিন- বখতিয়ার খিলজি নদীয়া জয় করে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি সমগ্র নদীয়া জয় করেন।
- তিনি জাতিতে তুর্কিদের খিলজি সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তবে তিনি আফগানিস্তানের গরমিশ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- ভারতবর্ষে ভাগ্যের অন্বেষণে এসে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার শাসক মালিক হুশাম উদ্দিনের রাজ্যের পূর্ব সীমান্তে সীমান্তরক্ষীর কাজ পান।
- তিনি গৌড় বা লক্ষণাবতী (লখনৌতি) জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- তার শাসন কেন্দ্র ছিল লক্ষণা বতীতে।
- বখতিয়ার খলজির শাসনামলে বাংলায় যথেষ্ট সংখ্যক মসজিদ, মাদ্রাসা এবং খানকাহ (অতিথিশালা) তৈরি করা হয়।
- ১২০৬ সালে তিনি তিব্বত অভিযানে বের হয়ে ব্যর্থ হন, দিনাজপুরের দেবকোটে ফিরে আসার পর এখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০৪১.
আবুল ফজল রচিত 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম কী ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. গঙ্গরিডাই
  3. বঙ্গাল
  4. বিক্রমপুর বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গাল
ব্যাখ্যা

বঙ্গ: 
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশেও রয়েছে বঙ্গ প্রসঙ্গ।
- মহাভারতের আদি অন্যান্য জনপদের সাথে উচ্চারিত হয়েছে বঙ্গের নাম।
- মহাকবি কালীদাসের রঘুবংশ কাব্যে আছে বঙ্গের অবস্থান ও সীমানা সম্পর্কিত কিছু তথ্য।
- তিনি ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলেছেন। আর এ অঞ্চলই সম্ভবত টলেমির ‘গঙ্গরিডাই’।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- বর্তমানে নাব্য বলে কোনো জায়গা নেই।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘বঙ্গ’ বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- সুতরাং বঙ্গের এই ভৌগোলিক পরিচিতি হিন্দু ও বৌদ্ধ যুগ পেরিয়ে মুসলিম যুগের প্রাথমিক পর্যায়েতো বটেই, সম্ভবত ‘বাঙ্গালাহ’ নামের বিকাশ পর্যন্তই ছিল। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া ‘আল’ নির্মাণ করতেন। সেজন্যে ‘বঙ্গ’ ও ‘আল’ শব্দ দুটির যোগে ‘বঙ্গাল’ নামের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে পানি থেকে শস্যক্ষেত রক্ষার জন্য বড় বড় ‘আল' বাঁধা হতো এবং তার ফলে এ অঞ্চলটি ‘বঙ্গাল’ নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,০৪২.
আইয়ুব খান কত সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ জারি করেন?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১:
- আইয়ুব খান ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ জারি করেন।
- এই আইনে উত্তরাধিকার, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, বহুবিবাহ, তালাক, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রভৃতি বিষয়ে বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- উত্তরাধিকার আইনে কারো দাদার পূর্বে পিতা মৃত্যু বরণ করলেও সে তার দাদার সম্পত্তির অংশ পাবে মর্মে বিধান করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৪৩.
কত সালে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়?
  1. ১৯৫২ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত:
- তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালে আবুল কাসেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের, (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তুলে তমদ্দুন মজলিস বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু করে।
 - যদিও এই সংগঠনের প্রতিবাদ লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে

- ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৭ মাস পরে, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্যের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা।
- এই ঘোষণা করলে সদ্য জাত রাষ্ট্রে ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে।

[শুধুমাত্র ইতিহাস,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বইতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত  ১৯৪৮ দেওয়া হয়েছে। অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে ১৯৪৭ সালকে সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যদি অপশনে ১৯৪৭ না থাকে তাহলে ১৯৪৮ উত্তর হবে।]

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেনি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেনি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০৪৪.
মুক্তিযুদ্ধকালে বঙ্গোপসাগর কোন সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ১০ নং সেক্টর
  2. খ) ১১ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না,
- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর,
- ঢাকা-২ নং সেক্টর,
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর-৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন- ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৬,০৪৫.
সংসদ সদস্যরা কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর প্রশ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয় তাকে কী বলা হয়?
  1. ক) সম্পূরক প্রশ্ন
  2. খ) Point of Order
  3. গ) স্পিকারের প্রশ্ন
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সম্পূরক প্রশ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্পূরক প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
- সংসদ সদস্যরা কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর প্রশ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে পুনরায় যে প্রশ্ন উত্থাপন করে তাকে সম্পূরক প্রশ্ন (Supplementary Question)।
- Point of Order এক প্রকার আপত্তি । নিয়ম বহির্ভূত কোনো কিছু হলে এর জন্য অনির্ধারিত আলোচনার দাবি জানানোকে Point of Order বলে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
৬,০৪৬.
বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিল কবে পাস হয়?
  1. ক) ১৯৯০
  2. খ) ১৯৯১
  3. গ) ১৯৯২
  4. ঘ) ১৯৯৪
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯২
ব্যাখ্যা

যে সব কারণে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকাশ ঘটেছিল সেগুলির মধ্যে দুটি কারণ প্রণিধানযোগ্য: (১) উচ্চশিক্ষার বর্ধিত চাহিদা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পক্ষে মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না, এবং (২) সরকারি তহবিলের অভাব অর্থাৎ দ্রুত বর্ধনশীল চাহিদা পূরণে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, সরকারের পক্ষে বাজেটে তা বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না হওয়া।
এসব কারণ বিবেচনায় উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণে সরকারের প্রচেষ্টার পরিপূরক ভূমিকা পালন করতে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ আইনত উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২ (১৯৯৮-এ সংশোধিত) পাস করে।
১৯৯২ ও ১৯৯৮-এর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে মানের নিশ্চয়তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সমাজসেবা ও সুশাসন-এর মতো বিষয়গুলির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। ফলশ্রুতিতে জাতীয় সংসদ ১৯৯২ সালের আইনটি বাতিল করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ পাস করে
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৬,০৪৭.
মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার জন্য গঠিত মালিক মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ১৫
  2. খ) ১২
  3. গ) ১০
  4. ঘ) ১৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০
ব্যাখ্যা
মালিক মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা - ১০ জন ছিল।

- তা নিম্নে দেওয়া হল:
- ড. আব্দুল মোতালেব মালিক (পূর্ব পাকিস্তান) - "স্বাস্থ্য, শ্রম, পরিবার পরিকল্পনা, যোগাযোগ"
- সর্দার আব্দুর রশীদ - স্বরাষ্ট্র এবং কাশ্মীর বিষয়ক, রাজ্য এবং সীমান্ত অঞ্চল" 
-. জনাব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুদ্দিন (পূর্ব পাকিস্তান)" - "শিল্প এবং প্রাকৃতিক সম্পদ"।
- নওয়াব মুজাফফ্ফর আলী কিষবিলাস -অর্থ।
 - জনাব মোহাম্মদ সামসুল হক - শিক্ষা এবং বিজ্ঞান গবেষ…
- নওয়াবজাদা মোহাম্মদ শের আলী খান - তথ্য এবং জাতীয় বিষয়ক।
- জনাব ইহসানুল হক - বাণিজ্য।
- জনাব মাহমুদ আব্দুল্লাহ হারূন - কৃষি এবং কর…
- জনাব এলভিন রবার্ট কর্ণেলিয়াস - আইন।
- ড: গোলাম ওয়াহিদ চৌধুরী - যোগাযোগ।

উৎস:songramernotebook.com
৬,০৪৮.
জাতীয় চারনেতাকে কোথায় হত্যা করা হয়?
  1. ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
  2. বঙ্গভবনে
  3. ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে
  4. ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর রাতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা হলেন:
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- তাজউদ্দীন আহমদ
- এম মনসুর আলী এবং
- এএইচএম কামারুজ্জামান।
- এই হত্যাকাণ্ড ইতিাহসে জেলহত্যা নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা)
৬,০৪৯.
সত্তরের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য মোট নির্ধারিত আসন ছিল কতটি? 
  1. ১৬৫টি
  2. ১৬৬টি
  3. ১৬৯টি
  4. ১৬৭টি
সঠিক উত্তর:
১৬৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৯টি
ব্যাখ্যা

নির্বাচনের ফলাফল: 
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল প্রধান হয়ে দেখা দেয়।
- নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- পূর্ব পাকিস্তানের জন্য মোট নির্ধারিত আসন ছিল ১৬৯ টি।
- ১৬২ টি আসন নির্বাচিত এবং ৭টি আসন সংরক্ষিত মহিলা আসন। [১৬২+৭]= ১৬৯  টি।
- পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন আওয়ামী লীগ লাভকরে।
- বাকি ২টি আসনের ১টি পায় পিডিপি (পাকিস্তান ডেমোক্রাটিক পার্টির নূরুল আমিন। 
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
- অপরটি পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় (স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে)।
- ১০ দিন পর অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে।

অপরপক্ষে
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পশ্চিম পাকিস্তানে ১৪৪টি আসনের মধ্যে ৮৮টি আসন লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম, শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,০৫০.
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা দায়ের করেন কে?
  1. ক) শেখ হাসিনা
  2. খ) আবদুল কাহার আকন্দ
  3. গ) আ ফ ম মহিতুল ইসলাম
  4. ঘ) শেখ রেহানা
সঠিক উত্তর:
গ) আ ফ ম মহিতুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আ ফ ম মহিতুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
- ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ৷
- ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ১২ আসামিকে মৃত্যদন্ড প্রদান করে আদালত রায় প্রদান করে।
- অবশেষে হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে ৷
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে৷

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো।

৬,০৫১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৩ নম্বর সেক্টর
  2. ২ নম্বর সেক্টর
  3. ৫ নম্বর সেক্টর
  4. ৮ নম্বর সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।

• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।

• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।

• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।

• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।

• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।

• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা।

• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,০৫২.
সিপাহী বিদ্রোহের ব্যর্থতার প্রধান কারণ কী ছিল?
  1. অস্ত্রের সহজলভ্যতা 
  2. জনসমর্থন না থাকা
  3. নেতৃত্বের অভাব
  4. পরিকল্পনার অভাব ও বিচ্ছিন্নতা
সঠিক উত্তর:
পরিকল্পনার অভাব ও বিচ্ছিন্নতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিকল্পনার অভাব ও বিচ্ছিন্নতা
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

• এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
- পরোক্ষ কারণ: রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।
- প্রত্যক্ষ কারণ: ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়। এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো। গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে। এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

• ফলাফল: ব্রিটিশরা কঠোর হাতে বিদ্রোহ দমন করে, কিন্তু এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং সরাসরি ব্রিটিশ Crown-এর শাসন (British Raj) প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সিপাহী বিদ্রোহের ব্যর্থতার প্রধান কারণ ছিল সুনির্দিষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ পরিকল্পনার অভাব, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাব। সমগ্র ভারতজুড়ে এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে না পড়া, অনেক দেশীয় রাজা ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ব্রিটিশদের সমর্থন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকা এই ব্যর্থতাকে নিশ্চিত করেছিল। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,০৫৩.
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নকশাকার -
  1. মেরিনা তাবাসসুম
  2. রোহানি বাহারিন
  3. জেহা হাদিদ
  4. তাসলিহা মওলান
সঠিক উত্তর:
রোহানি বাহারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোহানি বাহারিন
ব্যাখ্যা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল:
- ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী এই টার্মিনালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছিলেন।
- ০৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন করেন।
- টার্মিনালটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।
- টার্মিনালটির নকশা করেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ও ব্যস্ততম হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের নকশাকার রোহানি বাহারিন।
- বিশ্বমানের এই টার্মিনালে ১ হাজার ৪৪টি গাড়ি রাখার সক্ষমতাসহ বহুতল গাড়ি পার্কিং তৈরি করা হচ্ছে।
- এই টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্ক করে রাখা যাবে।

উৎস: ৭ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো।
৬,০৫৪.
কোন শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধু 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত হন?
  1. ক) কিংস্টন
  2. খ) কেপটাউন
  3. গ) সান্টিয়াগো
  4. ঘ) জেনেভা
সঠিক উত্তর:
গ) সান্টিয়াগো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সান্টিয়াগো
ব্যাখ্যা
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

সূত্রঃ কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামী-লীগ ওয়েবসাইট।
৬,০৫৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার আন্তর্জাতিক প্রচারণায় কোন শিল্পী বিশেষ ভূমিকা রাখেন?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. জন লেনন
  3. বব মার্লে
  4. এলভিস প্রিসলি
সঠিক উত্তর:
জর্জ হ্যারিসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা

◉ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাদের গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলতে সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসন (দ্য বিটলস ব্যান্ডের সদস্য) বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন 'বাংলাদেশ কনসার্ট' আয়োজন করে তা থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম"।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উৎস:
i) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, অষ্টম শ্রেণী।
ii) BBC.

৬,০৫৬.
'অপারেশন সার্চ লাইট' এর নীল নকশা প্রস্তুত করেন -
  1. ক) পিরজাদা খাদেম ও এ কে নিয়াজী
  2. খ) জুলফিকার ভুট্টো ও পিরজাদা খাদেম
  3. গ) টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী
  4. ঘ) এ কে নিয়াজী ও টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
গ) টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,০৫৭.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ কোনটি?
  1. সেনেগাল
  2. ইরান
  3. জর্ডান
  4. লিবিয়া
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
৬,০৫৮.
সতীদাহ প্রথা রহিত করেন কে? 
  1. লর্ড লিনলিথগো
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

সতীদাহ প্রথা:
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো।
- ভারতীয় হিন্দু সমাজে যুগ যুগ ধরে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- তবে এ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে।
- রাজা রামমোহন রায়সহ আরো কিছু ভারতীয় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,০৫৯.
‘সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ কে গঠন করেন?
  1. ক) সৈয়দ আমির আলি
  2. খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. গ) হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা
•  সৈয়দ আমির আলিই বাংলার তথা ভারতের প্রথম মুসলমান নেতা, যিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং দাবি-দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। এ উদ্দেশে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় ‘সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।

• তিনি বিশ্বাস করতেন, আধুনিক ভারতের উন্নতির জন্য হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০৬০.
কার প্ররোচনায় ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চের জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত করেন?
  1. টিক্কা খান
  2. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  3. রাও ফরমান আলী
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
জুলফিকার আলী ভুট্টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলফিকার আলী ভুট্টো
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি আরম্ভ করেন।
- তিনি জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্ররোচনায় ৩রা মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ১লা মার্চ স্থগিত ঘোষণা করেন।
- এ ঘোষণার প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র, শ্রমিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- বিভিন্ন স্থানে জনতা পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ করে।
- সারাদেশে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে বহু লোক নিহত ও আহত হয়।
- ঐদিন 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- এ সংগঠনের উদ্যোগে ২রা মার্চ দেশব্যাপী ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,০৬১.
'অপারেশন জ্যাকপট' কবে পরিচালিত হয়? 
  1. ১৮ অক্টোবর, ১৯৭১ 
  2. ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১
  3. ১৫ আগস্ট, ১৯৭১
  4. ১৬ জুলাই, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৫ আগস্ট, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ আগস্ট, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
'অপারেশন জ্যাকপট':

• ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত। 
• এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে।
• পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয় নৌ-কমান্ডো বাহিনী।
• ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোকে চারটি দলে ভাগ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়। 
• চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য ৬০ জন কমান্ডো গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন সাবমেরিনার আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (বীরউত্তম)।
• চট্টগ্রামে নৌ-কমান্ডো অপারেশন পরিচালিত হয় সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে। 
• মংলা বন্দরে অভিযান করেন সাবমেরিনার আহসানউল্লাহর (বীরপ্রতীক) নেতৃত্বে ৪৮ জন নৌ-কমান্ডো।
• চাঁদপুর নদীবন্দর অভিযান পরিচালনা করেন সাবমেরিনার বদিউল আলমের (বীরউত্তম) নেতৃত্বে ২০ জন নৌ-কমান্ডো ।
• সাবমেরিনার আবদুর রহমান (বীরবিক্রম) ও শাহজাহান সিদ্দিকের (বীরবিক্রম) নেতৃত্বে ২০ জনের কমান্ডো দল নারায়ণগঞ্জ ও দাউদকান্দি নদীবন্দরে সফল অভিযান পরিচালনা করে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৬২.
ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত হলেন -
  1. ক) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. খ) সম্রাট শাহজাহান
  3. গ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. ঘ) সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা

- মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।
- তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত ।
- সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,০৬৩.
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন কোন জেলায়?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
গ) বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি। এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।
- জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।

উৎস: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
৬,০৬৪.
ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থের নাম কী?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. একুশে ফেব্রুয়ারী
  3. বায়ান্নের ভাষা
  4. একুশের গল্প
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারী
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সম্পাদনা - “একুশে ফেব্রুয়ারি”।
- এটি ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।
- এ বছর তিনি ‘ঢাকা প্রগতি লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,০৬৫.
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিভাগ কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট:
- "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকিবে এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হইবে ।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট) ও অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ) এ দুই শ্রেণিতে বিভক্ত। 
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং এটি দুটি

১. সুপ্রিম কোর্ট:
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- দুটি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত।
যথা- হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ ।

২. অধস্তন দেওয়ানি বিচার বিভাগ:
- অধস্তন দেওয়ানি আদালত চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত।
যথা- সহকারি জজের আদালত, সাবজজ আদালত, অতিরিক্ত জজের আদালত এবং জেলা জজের আদালত ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬,০৬৬.
ছয়-দফা দাবি প্রথম কোথায় উত্থাপন করা হয়?
  1. ঢাকায়
  2. লাহোরে
  3. করাচিতে
  4. নারায়ণগঞ্জে
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোরে
ব্যাখ্যা
ছয়-দফা দাবি:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচীর মূল বক্তব্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।

⇒ ছয়দফা কর্মসূচির দাবিসমূহ:
• প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
• দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
• তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
• চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
• পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
• ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০৬৭.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  3. গ) ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র:-  বাংলাপিডিয়া।
৬,০৬৮.
প্রথম তৈরি শহিদ মিনার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কে?
  1. ক) গাজীউল হক
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  3. গ) আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
  4. ঘ) আবুল হাশিম
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ড. বদরুল আলমের ডিজাইনে কলেজের ছাত্ররা বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে প্রথম শহিদ মিনার নির্মান করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি শফিউর রহমানের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে এটির উদ্বোধন করেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক ‘আবুল কালাম শামসুদ্দিন’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন। ঐ দিন বিকালবেলা পুলিশ সে শহিদ মিনার ভেঙ্গে দেয়।
এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া।
৬,০৬৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ১ নম্বর
  2. খ) ২ নম্বর
  3. গ) ৩ নম্বর
  4. ঘ) ১১ নম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ নম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
-১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর
- ঢাকা-২ নং সেক্টর
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট
৬,০৭০.
ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগীজরা প্রথম কোন বন্দরে পৌঁছেছিল?
  1. গোয়া
  2. কর্ণাটক
  3. মান্দাভি
  4. কালিকট
সঠিক উত্তর:
কালিকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকট
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগীজরা প্রথম "কালিকট" বন্দরে পৌঁছেছিল।

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগীজরা প্রথম ইউরোপীয় বাণিজ্যিক দল হিসেবে উপমহাদেশে আসে।
- তারা ভারতের কালিকট বন্দরে প্রথম পোঁছায়।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম উপকূলে কালিকট বন্দরে পৌঁছান।
- ১৫০৯ সালে আলবুকার্ক গোয়াতে আসেন।
- আলবুকার্ক ছিলেন উপমহাদেশে পর্তুগিজ শক্তির প্রতিষ্ঠাতা।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগীজ নাবিক ছিলেন।
- পর্তুগীজরা দ্রুত কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে কুঠি স্থাপন করে এবং ১৫৩৮ সালে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি স্থাপনের অনুমতি পায়।
- তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি জমিদার ও বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে কাজ করত।
- পর্তুগীজরা অনেক সময় অত্যাচার ও লুণ্ঠন করত।
- সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে ব্যবসা চালাত, যা মোগল সম্রাটদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- তাদের অপরাধের কারণে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগীজদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- শাহজাহানের নির্দেশে কাসিম খান হুগলী কুঠি থেকে পর্তুগীজদের বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ, বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপে পর্তুগীজদের ঘাঁটি দখল করে তাদের চিরতরে দেশ থেকে বের করে দেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,০৭১.
চন্দ্র বংশ বাংলার কোন অংশের স্বাধীন রাজবংশ ছিল?
  1. উত্তর-পশ্চিম বাংলা 
  2. দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
  3. উত্তর-পূর্ব বাংলা
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা
ব্যাখ্যা
চন্দ্র বংশ:
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি স্বাধীন রাজবংশ ছিল চন্দ্র বংশ। 
- দশম শতকের শুরু থেকে এগারো শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেড়শ' বছর এ বংশের রাজারা শাসন করেন।
- চন্দ্রবংশের প্রথম নৃপতি পূর্ণচন্দ্র ও তার পুত্র সুবর্ণচন্দ্র রোহিতগিরির ভূস্বামী ছিলেন।
- সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্রই এ বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার উপাধি ছিল 'মহারাজাধিরাজ'।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা), বঙ্গ ও সমতট অর্থাৎ সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- লালমাইয়ের পাহাড়ি এলাকা ছিল চন্দ্র রাজাদের শাসন কেন্দ্র।
- এ পাহাড় প্রাচীনকালে রোহিতগিরি নামে পরিচিত ছিল।
- আনুমানিক ত্রিশ বছরকাল (৯০০-৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ) ত্রৈলোক্যচন্দ্র রাজত্ব করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,০৭২.
কোন মুঘল সুবাদার বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন?
  1. মুর্শিদ কুলি খান
  2. ইসলাম খান
  3. রাজা মানসিংহ
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৭৩.
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন জোট গঠিত হয়?
  1. ক) ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট
  2. খ) কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি
  3. গ) ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি
  4. ঘ) ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স
সঠিক উত্তর:
খ) কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের ২রা জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইয়ুব খানের বিপক্ষে একক প্রার্থী দাড় করানোর উদ্দেশ্যে তৎকালীন বিরোধীদলগুলো কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি (কপ) গঠন করে।
কপে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- আওয়ামী লীগ
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)
- কাউন্সিল মুসলিম লীগ
- নেজামে ইসলাম প্রভৃতি।
এই জোট থেকে প্রেসিডেন্ট পদে ‘কপ’ এর প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহ কে আইয়ুব খানের বিপরীতে প্রার্থী করা হয়।
কিন্তু মৌলিক গণতন্ত্রীদের সমর্থন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের কারসাজিতে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সহজেই জয় লাভ করেন।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,০৭৪.
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী কার নিকট প্রেরণ করা হয়?
  1. ক) এম. এ রব
  2. খ) এম.এ জি ওসমানী
  3. গ) এম. এ হান্নান
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
গ) এম. এ হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এম. এ হান্নান
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ২৫ মার্চ (১৯৭১) পাকিস্তান বাহিনী ঢাকার গণহত্যা শুরু করলে তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১০ এপ্রিল সারাদেশকে ৮টি রণাঙ্গনে বিভক্ত করেন।
- ১১ থেকে ১৭ জুলাই উক্ত ৮টি রণাঙ্গনের কমান্ডারদের এক সভা কোলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়।
- সেই সভায় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। সেক্টরগুলোকে সাবসেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় কাদেরিয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, আকবর বাহিনী, কুদ্দুস বাহিনী, আফসার বাহিনী প্রভৃতি।
- ভারতে আলাদাভাবে গঠিত হয় মুজিব বাহিনী। ভারত সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে।
- ২৬ মার্চ (১৯৭১) প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  জনাব এম.এ. হান্নানের নিকট বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন। গোটা বাঙালি জাতির হৃদয়ে তখন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষণা: ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৭৫.
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট কতটি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে?  [ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ড:
- বাংলাদেশে বর্তমানে শিক্ষাবোর্ডের সংখ্যা ১১টি যথাঃ

১. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : দেশের প্রথম শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯২১। 
২. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, রাজশাহী : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২
৩. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৪. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, যশোর : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৬২। 
৫. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রাম : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৫। 
৬. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৭. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেট : প্রতিষ্ঠাকাল- ১৯৯৯। 
৮. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, দিনাজপুর : প্রতিষ্ঠাকাল- ২০০৬। 
৯. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ময়মনসিংহ : দেশের সর্বশেষ শিক্ষাবোর্ড; প্রতিষ্ঠাকাল- ২০১৬। 
১০. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৭৯। 
১১. বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা : প্রতিষ্ঠাকাল - ১৯৬৭।  [ব্যাখ্যা আপডেট - ফেব্রুয়ারি, ২০২৬]

উৎস: শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

৬,০৭৬.
কত তারিখে ঐতিহাসিক ছয় দফা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. খ) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. গ) ১৮ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফা
- ৬ দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ৬ দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধীদলীয় সম্মেলনে ৬ দফা পেশ করেন।
- এরপর ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সংগে মিল রেখে।
- ৬ দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য-পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র।
- ৬ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ফেডারেল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন দিতে হবে।
- ৬ দফাকে ‘ম্যাগনা কার্টা’ বা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদও বলা হয়।

উৎস: যুগান্তর, ০৭ জুন, ২০২১।
৬,০৭৭.
বক্সারের যুদ্ধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. ঝাড়খন্ডে
  2. রাজস্থানে
  3. উড়িষ্যায়
  4. বিহারে
সঠিক উত্তর:
বিহারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারে
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,০৭৮.
বাংলাদেশ সরকার 'প্রাথমিক শিক্ষা' সবার জন্য নিশ্চিত করা জন্য কোন সালকে নির্ধারিত করেছিলো?
  1. ক) ২০১০
  2. খ) ২০১২
  3. গ) ২০১৫
  4. ঘ) ২০১৮
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১৫
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সরকার বিশ্ব শিক্ষা ফোরামে সবার জন্য শিক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২০১৫ সনের মধ্যে অর্জনের অঙ্গীকার করেছিলো।
এর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২০০৫ সনের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা, এবং ২০১৫ সনের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা অর্জন করা, মেয়েদের গুরুত্ব দিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে মানসম্মত মৌলিক শিক্ষা অর্জন।

উৎসঃ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর 

৬,০৭৯.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার কোথায় আত্মসমর্পণ করে?
  1. ক) রমনা পার্কে
  2. খ) পল্টন ময়দানে
  3. গ) তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
  4. ঘ) ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে
সঠিক উত্তর:
গ) তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৬-১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র - বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০৮০.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। 
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। 
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 
- এম মনসুর আলী - মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,০৮১.
১৯৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লব এর সঙ্গে সম্পৃক্ত পার্ক কোনটি?
  1. ক) পার্ক অফ প্রিন্সেস
  2. খ) গ্রিন ভ্যালি
  3. গ) বাহাদুরশাহ পার্ক
  4. ঘ) ন্যাশনাল পার্ক
সঠিক উত্তর:
গ) বাহাদুরশাহ পার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাহাদুরশাহ পার্ক
ব্যাখ্যা
• বাহাদুর শাহ পার্ক:
- 'বাহাদুর শাহ পার্ক' এর পূর্বনাম ভিক্টোরিয়া পার্ক। 
-  'বাহাদুর শাহ পার্ক' সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। 
- পুরানো ঢাকা এলাকার সদরঘাটের সন্নিকটে লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত। 
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে। 
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে। 
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে ভিক্টোরিয়া পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক। 
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য। তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।
 
উৎস : ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৬,০৮২.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধি লাভ করে কত জন?
  1. ৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন
==================
উল্লেখ্য,
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)।
৬,০৮৩.
প্রজনন মৌসুমে কত দিন পর্যন্ত ইলিশ শিকার বন্ধ থাকে?
  1. ২০ দিন
  2. ২২ দিন
  3. ২৫ দিন
  4. ৩০ দিন
সঠিক উত্তর:
২২ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ দিন
ব্যাখ্যা
• মা ইলিশ রক্ষায় ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত — ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

• ইলিশ:
- প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে ২২দিন।
- সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে ভোলা জেলায়।
- দেশে ইলিশ অধ্যুষিত জেলা ৩৮টি।
- ইলিশের অভয়াশ্রম ৬টি।

সূত্র: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, ঢাকা পোস্ট।
৬,০৮৪.
'Prince of Builders' নামে খ্যাত কে?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. শাহজাহান
  3. আওরঙ্গজেব
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:

- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- 'The Prince of Builder' নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৮৫.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্যের অনুপাত কত?
  1. ২:১
  2. ৩:৫
  3. ৪:৩
  4. ৬:৩
সঠিক উত্তর:
৩:৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩:৫
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্যের অনুপাত= ৬ : ১০ =৩:৫

• জাতীয় পতাকা:
- জাতীয় পতাকা  অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় পতাকার আকৃতি, গড়ন, রং ও পতাকা উত্তোলনের ধরনের কিছু অনুমোদিত নিয়মকানুন অনুসরণ করে।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং  দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১০:৬ বা ৫:৩ অনুপাতে আয়তাকার,
- তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান হবে পতাকার দৈর্ঘের ৯/২০ অংশ থেকে টানা লম্বের এবং প্রস্থের মাঝখান দিয়ে টানা আনুভূমিক রেখার ছেদবিন্দুতে।
- পতাকার সবুজ অংশ হবে প্রসিয়ন গাঢ় সবুজ এইচ-২ আর.এস, হাজারে ৫০ ভাগ হিসেবে, লাল বৃত্তের অংশ হবে প্রসিয়ন উজ্জ্বল কমলা রং এইচ-২ আর.এস, হাজারে ৬০ ভাগ হিসেবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং PEOPLE’S REPUBLIC OF BANGLADESH FLAG RULES, 1972 ।

৬,০৮৬.
মহান মুক্তিযুদ্ধে ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড কোন সামরিক খেতাব অর্জন করেন?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীর বিক্রম
  3. বীর উত্তম
  4. বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড।
- তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে। তবে তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, তাঁর পিতৃভূমি ছিল সেখানে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব বীর প্রতীক প্রদান করে।
- পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পার্থের এক হাসপাতালে ২০০১ সালের ১৮ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র- বিবিসি।  
৬,০৮৭.
কত সালে বাংলা ভাষাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ক) ১৯৫৮
  2. খ) ১৯৫৬
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালে সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়।
- গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাস করে। 
- পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অনুমোদনের মাধ্যমে এই আন্দোলন তার লক্ষ্য অর্জন করে। 
- জাতীয় পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) এক পর্যায়ে এর সদস্য ফরিদপুরের আদেলউদ্দিন আহমদের (১৯১৩-১৯৮১) দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,০৮৮.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান থেকে মুক্তিলাভ করেন-
  1. ক) ২৮ ডিসেম্বর
  2. খ) ৪ জানুয়ারি
  3. গ) ৮ জানুয়ারি
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে বিশ্বসম্প্রদায়ের চাপে পাকিস্তান সরকার ৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি মুক্তিপেয়ে লন্ডন যান। সেখান থেকে ৯ জানুয়ারি হওয়ানা হয়ে ১০ জানুয়ারি তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের বিমানে করে দিল্লি হয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে ঢাকায় আসেন। (সূত্রঃ বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট)
৬,০৮৯.
'বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. মোনায়েম সরকার
  3. শওকত ওসমান
  4. মুকুল আখতার
সঠিক উত্তর:
মোনায়েম সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোনায়েম সরকার
ব্যাখ্যা
মোনায়েম সরকার:
- মোনায়েম সরকার একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, কলাম লেখক ও গবেষক।
- মোনায়েম সরকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চের (বিএফডিআর) মহাপরিচালক।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (১৯৬৭) ডিগ্রি লাভ করেন।
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি উদীচীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- বঙ্গবন্ধুর উপর গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা এবং সংস্কৃতি আন্দোলনে তার অবদানের জন্য ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করেছে।

মোনায়েম সরকার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ:
- বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র বিকাশে ঐক্য অপরিহার্য, বাঙালি বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ও শেখ হাসিনা ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,০৯০.
কোন সুলতানের শাসনামলে ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মিত হয়?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহ
  4. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করা হয়। 
- সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। 
- খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। 
- তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।

• মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। 
- মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। 
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৬,০৯১.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন না -
  1. ড. মোশাররফ হোসেন
  2. এস. আর. বোস
  3. রুহুল কুদ্দুস
  4. ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
• পরিকল্পনা কমিশন গঠন:
→ দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না, তাই স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
 → কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী এবং
সদস্য ছিলেন - 
→ (১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ,
→ (২) ড. মোশাররফ হোসেন,
 → (৩) ড. এস. আর. বোস এবং
 → (৪) ড. আনিসুজ্জামান।
=================================
উল্লেখ্য, রুহুল কুদ্দুস ছিলেন মুজিবনগর সরকারের মূখ্য সচিব।
৬,০৯২.
নিম্নোক্তগণের মধ্যে কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?
  1. ক) মুন্সী আব্দুর রহিম
  2. খ) নূর মোহাম্মদ শেখ
  3. গ) হামিদুর রহমান
  4. ঘ) মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
ক) মুন্সী আব্দুর রহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুন্সী আব্দুর রহিম
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠগণ:
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৬,০৯৩.
শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহের কবর কোথায়?
  1. ক) দিল্লি
  2. খ) আগ্রা
  3. গ) ইয়াঙ্গুন
  4. ঘ) লাহোর
সঠিক উত্তর:
গ) ইয়াঙ্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইয়াঙ্গুন
ব্যাখ্যা
• দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।

- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 

- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে/ইয়াঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৯৪.
বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’-২০২৩ কে পেয়েছেন?
  1. সেলিনা হায়াৎ
  2. মমিনুল হক
  3. মুনিম শাহরিয়ার
  4. শীলা মোমেন
সঠিক উত্তর:
শীলা মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীলা মোমেন
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্র পুরস্কার: 

- রবীন্দ্র গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর বাংলা একাডেমির ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ পেয়েছেন শিল্পী শীলা মোমেন।
- শীলা মোমেনের হাতে পুরস্কারের সনদ, সম্মাননা স্মারক ও অর্থমূল্যের চেক তুলে দেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
- বাংলা একাডেমী ২০১০ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রবর্তন করেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীতের চর্চা এবং রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তিবিশেষকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- এই পুরস্কারের মান নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা।
- নগদ পুরস্কারের সঙ্গে একটি সম্মাননা প্রতীক ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৮ মে, ২০২৩।
৬,০৯৫.
’ময়নামতি’ প্রাচীন কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. বরেন্দ্র
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
সমতট জনপদ:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ সমতটের অবস্থান।
- চীন দেশের পর্যটক হিউয়েন সাং সপ্তম শতকের মাঝামাঝিতে সমতট ভ্রমণ করে একটি বিবরণী লেখেন।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্বতীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত প্রসারিত ভূ-ভাগ সমতটের অন্তর্গত ছিল বর্তমান কুমিল্লা ও নোয়াখালি অঞ্চল।
- বর্তমান কুমিল্লা জেলার লালমাই এলাকা ছিল এ অঞ্চলের মূল কেন্দ্র।
- ’ময়নামতি সমতট জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- অনেকে মনে করেন, কুমিল্লা জেলার বড় কামতা ছিল এ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।

বঙ্গ:
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করত।
- তাই জনপদটি পরিচিত হয় বঙ্গ নামে।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গে দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর আর অন্যটি নাব্য। 
- ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি এ নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- প্রাচীন বঙ্গ জনপদ ছিল খুব শক্তিশালী অঞ্চল।
- বাংলায় মুসলিম শাসন বিস্তারের প্রাথমিক পর্যায়েও 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলকে বোঝানো হতো।

বরেন্দ্র:
- বরেন্দ্রী, বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়।
- এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ।
- অনুমান করা হয়, পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল।
- বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইহিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০৯৬.
'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশের রূপকার ছিলেন -
  1. ক) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. খ) লর্ড কার্জন
  3. গ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. ঘ) লর্ড ওয়েলেসলি
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এ বিভক্তির মাধ্যমে সমগ্র বাংলাকে 'পূর্ববাংলা ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি প্রদেশে পরিণত করা হয়।
- ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ছিলেন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রূপকার। 
- তাঁর সম্মানে তখনকার আইন সভা ভবনের নাম দেয়া হয় কার্জন হল। 
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রথম ল্যাফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার জোসেফ  ব্যামফিল্ড ফুলার। 
- ১৯০৫-১৯১১ সময়কালে ঢাকা ছিল পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের রাজধানী।  
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের সময় ভাইসরয় ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০৯৭.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত?
  1. সাপ্তাহিক ইত্তেফাক
  2. সাপ্তাহিক বাংলা
  3. সাপ্তাহিক ধূমকেতু
  4. সাপ্তাহিক সৈনিক
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল- 'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকা। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমুদ্দিন মজলিশ' -এর উদ্যোক্তা গণ এই পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- সেই অর্থে এটি তমুদ্দিন মজলিসেরও মুখপত্র।
- সাপ্তাহিক সৈনিক -এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। 
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন - শাহেদ আলী। 
- পরে এর সম্পাদক ছিলেন - আবদুল গফুর ও সানাউল্লাহ নুরী।

অন্যদিকে,
- তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে আরো একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো যার নাম - 'মাসিক দ্যুতি'।
- মাসিক দ্যুতি - ভাষা আন্দোলনের স্বপক্ষে কাজ করলেও সে অর্থে এটিকে ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র বলা যায় না।
- এছাড়াও, 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকাও ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার পক্ষে বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশ করতো।
- বাংলা ভাষার পক্ষের আরো কয়েকটি পত্রিকা হচ্ছে - ইনসাফ, মিল্লাত, ইত্তেহাদ, ইত্তেফাক, ঢাকা প্রকাশ, সীমান্ত ইত্যাদি।
- 'মর্নিং নিউজ' উর্দুর পক্ষে নিউজ প্রকাশ করে বাংলা ভাষার তীব্র বিরোধিতা করতো। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ ও প্রথম আলো ও কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,০৯৮.
বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা Bangladesh Public Administration Training Centre (BPATC) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সাভার
  2. খ) শাহবাগ
  3. গ) সেগুনবাগিচা
  4. ঘ) কোটবাড়ি
সঠিক উত্তর:
ক) সাভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাভার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা Bangladesh Public Administration Training Centre (BPATC) – ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত।
এটি বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিসের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এটি চারটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে –
• Bangladesh Administrative Staff College (BASC)
• National Institute of Public Administration (NIPA)
• Civil Officer’s Training Academy (COTA)
• Staff Training Institute (STI)
BPATC – এর অবস্থান – ঢাকার সাভারে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদবী – রেক্টর।
বর্তমান রেক্টর – মোঃ রাকিব হসাইন (এনডিসি)।

সুত্রঃ Live MCQ স্পেশাল PDF (সিভিল সার্ভিস এবং মুজিব বর্ষ)।
৬,০৯৯.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কতজন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ২ জন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন।

খেতাবপ্রাপ্ত বিজিবি:

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত প্রান্তরে এক অসামান্য অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে বিজিবি (তৎকালীন ইপিআর)।
- একটি আধা সামরিক বাহিনী হয়েও সামান্য সংখ্যক সনাতন অস্ত্রকে সম্বল করে এই বাহিনীর বীর সৈনিকবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ২ জন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন।
- তারা হলেন: শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ।

⇒ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী ঢাকার পিলখানাস্থ তৎকালীন ইপিআর সদর আক্রমন করে।
- এ বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা ওয়ারলেস যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়।
- ফলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের সৈনিক ও জনতা।
- প্রথম দিকে ইপিআরের বাঙালি সদস্যগণ রণকৌশলগত কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে জিঞ্জিরায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- পরবর্তীতে এ বাহিনীর ১২ হাজার বাঙালি সৈনিক, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী ও মুক্তিকামী মানুষের সাথে সংগঠিত হয়ে বাংলাদেশের ১১টি সেক্টরে ৯ মাস ব্যাপী সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থাকে।
- এ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ, গেরিলা যুদ্ধ ও শত্রুঘাটি নিশ্চিহ্ন করতে আত্মঘাতি আক্রমণসহ অসংখ দুর্ধর্ষ অপারেশন পরিচালনা করে।

⇒ মুক্তিযুদ্ধে ইপিআর বাহিনীর সর্বমোট ৮১৭ জন সৈনিক শহীদ হন।
- এর মধ্যে ২ জন বীরশ্রেষ্ঠ, ৮ জন ‘বীর উত্তম’, ৩২ জন ‘বীর বিক্রম’ ও ৭৮ জন ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৬,১০০.
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন একটি ______ সংস্থা।
  1. সরকারি
  2. সাংবিধানিক
  3. আধাস্বায়ত্তশাসিত
  4. বেসরকারি
সঠিক উত্তর:
সাংবিধানিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংবিধানিক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন প্রধানত বিভিন্ন সরকারি চাকুরি ও পদে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত ও সাংবিধানিক সংস্থা।
- সংস্থাটি সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও আপিলের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত।
- বাংলাদেশে এই সংস্থা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন নামে অভিহিত।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর রাষ্ট্রপতির আদেশবলে ১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধানের পাঁচটি অনুচ্ছেদ সংবলিত একটি অধ্যায়ে (৯ম ভাগের ২য়) কমিশনের গঠনপ্রণালী ও কার্যাবলি নির্দেশিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন।
- বর্তমানে মো. সোহরাব হোসাইন এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত আছেন।

উৎস: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।