বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬০ / ১২৪ · ৫,৯০১৬,০০০ / ১২,৪২১

৫,৯০১.
ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন-
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।
⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।
অন্যদিকে,
- ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল, প্রথমে ফোর্ট উইলিয়মএর গভর্নর এবং পরে গভর্নর জেনারেল।
- ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০২.
কোন পর্যটক বাংলাকে 'প্রাচুর্যপূর্ণ নরক' বলে অভিহিত করেন?
  1. ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ার
  2. ইবনে বতুতা
  3. ফা হিয়েন
  4. হিউয়েন সাং
সঠিক উত্তর:
ইবনে বতুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলাকে 'প্রাচুর্যপূর্ণ নরক' বলে অভিহিত করেন।

ইবনে বতুতা:
- মরক্কোর বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- এরপর তিনি ভারতে আসেন।
- তিনি ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে আসেন এবং সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের অধীনে দীর্ঘ প্রায় আট বছর কাজীর পদে নিয়োজিত ছিলেন।

⇒ ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের শাসনকালে বাংলায় সফর করেন।
- বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
- সেখান থেকে সরাসরি তিনি কামারু (কামরূপ) পার্বত্য অঞ্চল অভিমুখে রওনা হন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান। এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে বতুতা তার 'আর রিহলা' গ্রন্থে বাংলাকে ‘দোজখ-ই-পুর নিয়ামত (A Hell Full Of Good Things) ’ অর্থাৎ প্রাচুর্যপূর্ণ নরক বলে অভিহিত করেন।
- ইবনে বতুতা সিলেটের প্রখ্যাত সাধক হযরত শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীকালে তিনি চীনের রাজদরবার গমনের উদ্দেশ্যে বাংলা ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯০৩.
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সেগুনবাগিচা
  2. খ) মাহবাগ
  3. গ) মতিঝিল
  4. ঘ) আগারগাঁও
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আগারগাঁও
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগরে সরকার প্রদত্ত জমিতে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত। সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট।
৫,৯০৪.
What was the name of the military campaign undertaken by Pakistan in 1971, which resulted in widespread atrocities and ultimately led to the Bangladesh Liberation War?
  1. Operation Trident
  2. Operation Jackpot
  3. Operation Searchlight
  4. Operation Vijay
সঠিক উত্তর:
Operation Searchlight
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Operation Searchlight
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:

- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- এ অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকাসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলিতে বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনে হত্যা, সামরিক আধা সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্রাগার, রেডিও ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ দখলসহ প্রদেশের সামগ্রিক কর্তৃত্ব গ্রহণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করে প্রদেশে পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৯০৫.
নিম্নের কোন জেলায় বরেন্দ্র ভূমি অবস্থিত নয়?
  1. রংপুর
  2. বগুড়া
  3. ময়মনসিংহ
  4. পাবনা
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
- বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, পাবনা ও রাজশাহী এই পাঁচটি জেলা নিয়ে গঠিত বরেন্দ্রভুমি। 
- বরেন্দ্র অঞ্চল বা বর্তমান রাজশাহী বিভাগ ২৩-৪৮’-৩০” উত্তর অক্ষাংশ ও  ২৬-৩৮’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮-০২” পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ‍ও ৮৯-৫৭’  পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- বরেন্দ্রভূমি (Barind Tract) বঙ্গ অববাহিকার বৃহত্তম প্লাইসটোসিন ভূ-প্রাকৃতিক একক।
- প্রায় ৭,৭৭০ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাপিডিয়া।
৫,৯০৬.
ভারত বিভাগের পটভূমিতে সীমানা নির্ধারণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন—
  1. লর্ড কার্জন
  2. উইনস্টন চার্চিল
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
সঠিক উত্তর:
স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
ব্যাখ্যা
• ভারত বিভাগের পটভূমি ও স্বাধীনতা (১৯৪৭)
- ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের শেষ ভাইসরয় করে পাঠানো হয়।

- তিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সঙ্গে আলোচনা করে ভারত বিভাজনের সিদ্ধান্ত নেন। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে নেতারা দেশ বিভাগের পক্ষে সম্মত হন। ৩ জুন ১৯৪৭ মাউন্টব্যাটেন বিভাজন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পাকিস্তান গঠনের সিদ্ধান্তে মুসলিম লীগ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।

- ১৫ জুলাই লন্ডনের কমন্স সভায় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সীমানা নির্ধারণের জন্য র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠিত হয়। তিনি ৯ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেন, তবে তা তখনই প্রকাশ করা হয়নি।

- ১৮ জুলাই ১৯৪৭ "ভারত স্বাধীনতা আইন" পাস হয়, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৫,৯০৭.
নূর হোসেন কোন আন্দোলনে শহিদ হন?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
  4. ৭১ এর অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• শহীদ নূর হোসেন:
- নূর হোসেন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হন।
 
- ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর এক তীব্র গণআন্দোলনের মুখে বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে। 
- কিন্তু তারও তিন বছর আগে আরেকটি গণআন্দোলন তিনি নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিলেন।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। 
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহীদ হন।
- নূর হোসেনের লেখা শ্লোগান বুকে 'স্বৈরাচার নীপাত যাক' এবং পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।

উৎস: ৬ ডিসেম্বর ২০২০, বিবিসি বাংলা।
৫,৯০৮.
দেশের প্রথম বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এর দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ২০ কিলোমিটার
  2. খ) ২৫ কিলোমিটার
  3. গ) ১৮ কিলোমিটার
  4. ঘ) ৩০ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
ক) ২০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
• দেশের প্রথম বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের চুক্তি সই করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও চীনা গেজৌবা গ্রুপ (China gezhouba group)।
• প্রকল্পটিতে প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি ব্যয় হবে। প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি।
• গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটিএর মূল করিডরের দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ২০ কিলোমিটার। যার মধ্যে ১৬ কিলোমিটার হবে সমতলে এবং সাড়ে চার কিলোমিটার হবে উড়ালসড়ক।
• এই করিডরে থাকবে ২৫টি স্টেশন, দুটি টার্মিনাল, ছয়টি ফ্লাইওভার, আট লেনবিশিষ্ট টঙ্গী সেতু, আটটি কাঁচাবাজার, ৩২ কিলোমিটার ফুটপাত এবং গাজীপুরে একটি বাস ডিপো।

তথ্যসূত্র: লাইভ এম সি কিউ সাম্প্রতিক সমাচার নভেম্বর, ২০২২ এবং প্রথম আলো।
৫,৯০৯.
ঐতিহাসিক ছয় দফা পালিত হয় -
  1. ৫ ফেব্রুয়ারি
  2. ৬ ফেব্রুয়ারি
  3. ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ৭ জুন
সঠিক উত্তর:
৭ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জুন
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা: 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনাকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা রুহুল কুদ্দুস।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা পালিত হয়।
- ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের ডাকে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় হরতাল চলাকালে পুলিশ ও ইপিআর নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালায়।
- এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, মুজিবুল হকসহ অনেকে শহীদ হন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii)  ৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো।
৫,৯১০.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) খাজা নাজিম উদ্দিন
  3. গ) মওলানা আবুল কালাম আজাদ
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
- শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিম উদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯১১.
শাহ সুজার নিযুক্তির সময় সুবাহ-বাংলার রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. ক) রাজমহল
  2. খ) ঊড়িষ্যা
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) কুচবিহার
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
শাহ সুজা:

- শাহ সুজার নিযুক্তির সময় ঢাকা সুবাহ-বাংলার রাজধানী ছিল।
- শাহ সুজা (১৬৩৯-১৬৬০) সুবাহ-বাংলার মুগল ভাইসরয়।
- তিনি ছিলেন সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের দ্বিতীয় পুত্র। ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন তাঁর জন্ম হয়।
- ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ঊড়িষ্যা প্রদেশের দায়িত্বও অর্পণ করা হয়।
- ঢাকার প্রাচীন মুগল দালানগুলি তাঁর সময়েই নির্মিত হয়। দালানগুলি হলো বড় কাটরা, ঈদগাহ, হোসেনী দালান এবং চুড়িহাট্টা মসজিদ,বুড়িগঙ্গার তীরে বড় কাটরা

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া। 
৫,৯১২.
আনন্দ বিহার কোথায়?
  1. ক) রাজশাহীতে
  2. খ) মহাস্থানগড়
  3. গ) ময়নামতি
  4. ঘ) পাহাড়পুর
সঠিক উত্তর:
গ) ময়নামতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ময়নামতি
ব্যাখ্যা
♦উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো - ময়নামতি।

• আনন্দ বিহার:

- আনন্দ বিহার কুমিল্লার ময়নামতির লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত ভাসু বিহার ও গােকুল মেধ।
- আর নওগাঁর পাহাড়পুরে অবস্থিত সােমপুর বৌদ্ধ বিহার।

সূত্র: বাংলা পিডিয়া।
৫,৯১৩.
মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
রাষ্ট্রপতি- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উপ-রাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)
প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দীন আহমদ
অর্থমন্ত্রী- ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, কৃষি মন্ত্রী- এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী- খন্দকার মোশতাক আহমদ
প্রধান সেনাপতি- কর্নেল (অব.) এম.এ.জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ- লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ- গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯১৪.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কতজনকে বীরউত্তম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৬ জন
  2. ৬৭ জন
  3. ৬৮ জন
  4. ৬৯ জন
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৯১৫.
বাঙালির জাতীয় ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা কোনটি?
  1. ক) শিক্ষা আন্দোলন
  2. খ) ছয়দফা আন্দোলন
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯১৬.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা কত সালে উচ্ছেদ করা হয়?
  1. ১৮৫৭ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯৩৫ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ১৭৯৩ সালে কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি।
- এ চুক্তির আওতায় জমিদার উপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভূ-সম্পত্তির নিরঙ্কুশ স্বত্বাধিকারী হন।
- জমির স্বত্বাধিকারী হওয়া ছাড়াও জমিদারগণ স্বত্বাধিকারের সুবিধার সাথে চিরস্থায়ীভাবে অপরিবর্তনীয় এক নির্ধারিত হারের রাজস্বে জমিদারিস্বত্ব লাভ করেন। 

⇒ “একশালা” ও “পাঁচশালা”  বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে লর্ড কর্নওয়ালিসের (১৭৩৮-১৮০৫) প্রস্তাবনা মেনে নিয়ে ১৭৯৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটিশ ভারতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন।
- এটি মূলত ভূমি রাজস্ব আদায়ের একটি মাধ্যম।
- এর মাধ্যমে জমিদারদেরকে জমির মালিক এবং কৃষকদেরকে তাদের প্রজা রূপে রূপায়িত করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ‘পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং ‘একসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কিন্তু এ দুটি বন্দোবস্ত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হয়নি।
- এমতাবস্থায় গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ নানা বিচার-বিশ্লেষণ করে ১৭৯৩ সালে ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রথার প্রবর্তন করেন। ইতিহাসে এটি ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' নামে পরিচিত।
- এর মাধ্যমে ইংরেজরা এদেশে তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
- এক্ষেত্রে তারা অনেক সফলতা লাভ করলেও এ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ কৃষক এমনকি অনেক সম্ভ্রান্ত বনেদি জমিদার সর্বশান্ত হয়ে পড়ে।
- অন্যদিকে নগদ টাকার মালিক ও পুঁজিপতি মহাজনরা রাতারাতি জমিদারে পরিণত হয়।
- নব সৃষ্ট এ জমিদার শ্রেণী ইংরেজ শাসনের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক শক্তির ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৫০ সালে এ ব্যবস্থা উচ্ছেদ করা হয় ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯১৭.
‘ম্যাডোনা-৪৩’ কী?
  1. ক) একটি চলচিত্র
  2. খ) উন্নত গমের জাত
  3. গ) চিত্রকর্ম
  4. ঘ) উন্নত ভুট্টার জাত
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্রকর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চিত্রকর্ম
ব্যাখ্যা
পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত - ১৯৪৩ সালের দুর্র্ভিক্ষ।
পঞ্চাশের মন্বন্তর সংঘঠিত হয় বাংলা - ১৩৫০ সালে।
পঞ্চাশের মন্বন্তরের অন্যতম কারণ ছিল - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং তার ফলশ্রুতিতে চাল আমদানি বন্ধ।
পঞ্চাশের মন্বন্তর নিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম - ম্যাডোনা-৪৩।
উৎস : বাংলাপিডিয়া
৫,৯১৮.
ভারতের প্রথম মুদ্রা প্রবর্তন করেন -
  1. ক) শের শাহ
  2. খ) মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  3. গ) ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
ক) শের শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শের শাহ
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ এশিয়াতে বিনিময়ের মাধ্যমরূপে মুদ্রার চাক্ষুষ প্রমাণ খ্রিস্টপূর্ব ছয়-পাঁচ শতকের পূর্বে পাওয়া দুরূহ। তক্ষশিলার ভির ঢিবি অঞ্চল ও কাবুলের নিকটবর্তী চমান-ই-হুজুরীর মুদ্রাভান্ডার আবিষ্কৃত হওয়ায় তর্কাতীত প্রমাণ পাওয়া যায় যে, খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতকে উত্তর ভারতে ধাতব মুদ্রার প্রচলন হয়েছিল।
সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
পরবর্তীতে, বিভিন্ন যুগের শাসকগণ মুদ্রার ধরণ এবং মুদ্রা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও সংস্কার করেছেন। কোন শাসক "ভারতের প্রথম মুদ্রা প্রবর্তন" করেন এটা বলা সম্ভব নয়।

প্রশ্নটা যেভাবে করা হয়ে সে অনুযায়ী উত্তর ক) শের শাহ ধরা যায়।

তাঁর মুদ্রা পদ্ধতি মুঘল ও কোম্পানি আমলেও বজায় ছিল। প্রকৃতপক্ষে এটাই ব্রিটিশ মুদ্রার এবং বর্তমান রুপির ভিত্তি।
Reference: The Reserve Bank of India

অপশনগুলোর শাসকদের মুদ্রা এবং মুদ্রাব্যবস্থা সম্পর্কিত কিছু তথ্য দেয়া হল -

ক) শের শাহ
শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন। তিনি তাঁর মুদ্রার উপাদানে নির্ভেজাল, ওজনে সঠিক ও গঠনরীতিতে মনোরম ইত্যাদি বিষয়ের ওপর প্রভুত গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি চতুষ্কোণ ও গোলাকার দু'ধরনের মুদ্রা চালু করেন। তিনি সোনা, রূপা ও তামার পৃথক মুদ্রা চালু করেন। তামার মুদ্রাকে বলা হতো দাম। এছাড়া আনি, দু'আনি, সিকি, আধুলি স্তরের মুদ্রাও প্রচলন করেছিলেন। এসঙ্গে মুদ্রার নকসার উন্নতি সাধন করেন। তাঁর এই মুদ্রানীতির সংস্কারের ফলে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে লেনদেনের অসুবিধা দূর হয়।
তাঁর মুদ্রা পদ্ধতি মুঘল ও কোম্পানি আমলেও বজায় ছিল। প্রকৃতপক্ষে এটাই ছিল ব্রিটিশ মুদ্রার ভিত্তি।

Sher Shah Suri (1540 to 1545 AD), an Afghan, who ruled for a brief time in Delhi. Sher Shah issued a coin of silver which was termed the Rupiya. This weighed 178 grains and was the precursor of the modern rupee. It remained largely unchanged till the early 20th Century. Together with the silver Rupiya were issued gold coins called the Mohur weighing 169 grains and copper coins called Dam.

Reference: The Reserve Bank of India

খ) মুহাম্মদ বিন তুঘলক

সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সময় দেশে সোনার অনুপাতে রূপার অভাব দেখা দিয়েছিল। তদুপরি দেশ থেকে প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছিল।
দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে সুলতান বাজারে তামার নোট ছাড়েন। এ মুদ্রা ছিল স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার প্রতীক স্বরূপ। অনেকটা আধুনিক কালের কাগজের টাকার মতো। তামার পাতে টাকার যে অংক বা পরিমাণ লেখা থাকতো তামার ধাতব মূল্য ছিল তার ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মাত্র। ব্যাপারটি ছিল অভিনব। অবশ্যই এটি সুলতানের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে। কিন্তু, অসাবধানতাবশত: মুদ্রা যাতে জাল না হয় সে ব্যাপারে টাকশালের কর্মকর্তারা কোন সতর্কতা অবলম্বন করেন নি। ফলে নকল প্রতীক মুদ্রায় বাজার ছেয়ে যায় এবং দেশে চরম মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়। প্রতীক মুদ্রার কোনটা আসল, কোনটা নকল তা চেনা কষ্টকর হয়ে পড়ে। পরিকল্পনাটি ছিল যুগের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রসর। সমসাময়িক জনগণ এটি বুঝতে পারেনি। কিন্ত তাঁর প্রবর্তিত প্রতীক মুদ্রা ব্যবস্থা ছিল নিঃসন্দেহে একটি মৌলিক ও সাহসী পদক্ষেপ।

গ) ইলতুৎমিশ

সুলতান ইলতুৎমিশ এক ধরনের রৌপ্য মুদ্রা প্রবর্তন করেন যা ‘তংকা’ নামে পরিচিত।
সুলতান ইলতুৎমিশ নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন করেন। তিনিই প্রথম ভারতে খাঁটি আরবি মুদ্রা অর্থাৎ আরবি ভাষা খোদিত মুদ্রার প্রচলন ঘটান। মুদ্রায় তিনি বাগদাদের খলিফার নাম অঙ্কন করেন এবং নিজেকে ‘বিশ্বাসীদের নেতার সাহায্যকারী' হিসেবে দাবি করেন।

সুত্রঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ইতিহাস বই।

৫,৯১৯.
বিখ্যাত সাধক শাহ সুলতান বলখির মাজার অবস্থিত-
  1. ক) মহাস্থানে
  2. খ) শাহজাদপুরে
  3. গ) নেত্রকোণায়
  4. ঘ) রামপালে
সঠিক উত্তর:
ক) মহাস্থানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহাস্থানে
ব্যাখ্যা
শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ।
তিনি বগুড়া জেলার মহাস্থানে সমাহিত।
শাহ সুলতান মাহিসওয়ারের ইতিহাস অস্পষ্ট।
কথিত আছে যে, তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন এবং এজন্য তিনি বলখী নামেও পরিচিত।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫,৯২০.
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী দেশের কততম বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন?
  1. ক) ২১ তম
  2. খ) ২২ তম
  3. গ) ২৩ তম
  4. ঘ) ২৪ তম
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ তম
ব্যাখ্যা
-দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

-সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ নিয়োগ দেন।
-বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের স্থলাভিষিক্ত।

-বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৫৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার রমানাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
-বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সোর্স:- দৈনিক প্রথম আলো ও বিচার বিভাগীয় বাতায়ন।
৫,৯২১.
‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যের স্থপতি কে?
  1. নিতুন কুণ্ড
  2. শামীম শিকদার
  3. হামিদুজ্জামান খান
  4. আব্দুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
শামীম শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামীম শিকদার
ব্যাখ্যা
- ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্যের স্থপতি বা শিল্পী হলেন শামীম শিকদার।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে অবস্থিত।
- ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করেন।
- এতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালি জাতির বীরত্ব গাঁথা তুলে ধরা হয়েছে।
- বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদ হওয়া ১৮ জনের প্রতিকৃতি রয়েছে এটিতে। এছাড়া দেশের শতাধিক স্মরণীয় ব্যক্তির ভাস্কর্য।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ও প্রথম আলো আর্কাইভ)
৫,৯২২.
কোন শাসককে পরাজিত করে শের খান ‘শের শাহ’ উপাধি লাভ করেন?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) আদিল শাহ শূর
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহ
  4. ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
- ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে শের খান অপ্রস্তুত মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ‘শের শাহ’ উপাধি নেন এবং নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলিকে পরাজিত করে তিনি বাংলা দখল করেন এবং এ বছরই তিনি হুমায়ুনকে কনৌজের নিকট বিলগ্রামের যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।                                                                                                                                                   
- চট্টগ্রাম ও সিলেট পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশ শের শাহের সম্রাজ্যভুক্ত ছিল। শের শাহ শূর বংশের বলে এ সময়ের বাংলার শাসন ছিল শূর আফগান বংশের শাসন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯২৩.
’’আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’’ গানটির প্রথম সুরকার কে?
  1. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আব্দুর জব্বার
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারি গান:
- ’’আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি”
- গানটির বর্তমান সুরকার- আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- এই গানটি প্রথম হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' (১৯৫৩) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
- ঢাকা কলেজের নতুন নতুন ছাত্র ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম গাওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার,।
৫,৯২৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন মুক্তিযােদ্ধাকে 'বীর বিক্রম' খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা- 
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৫,৯২৫.
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব দেন কে?
  1.  লিয়াকত আলী খান
  2. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আবুল কাসেম
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন: 
- পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি (১৯৪৮)।
- অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও গণপরিষদের সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব দেন।
- গণপরিষদের অধিবেশনে লিয়াকত আলী খান মন্তব্য করেন যে, যেহেতু পাকিস্তান একটি মুসলিম রাষ্ট্র তাই পাকিস্তানের সরকারি ভাষা মুসলমানের ভাষা হওয়া উচিত।
- লিয়াকত আলী খান আরও যুক্তি দেন যে, যেহেতু পাকিস্তানের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা উর্দু, অতএব উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র সরকারি ভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়।
- গণপরিষদ অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আনীত প্রস্তাব ভোটে দেয়া হলে অগ্রাহ্য হয়।
- সে সময় পূর্ববাংলার মুসলিম লীগ দলীয় বাঙালি মুসলমান সদস্যগণ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন।
- বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি গণপরিষদে অগ্রাহ্য হওয়ায় পূর্ববাংলায় ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,৯২৬.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের ছিটমহল?
  1. ক) দহগ্রাম
  2. খ) জাফলং
  3. গ) তিন বিঘা করিডোর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ –ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি কার্যকর হয় ৬ জুন , ২০১৫ সালে এবং এ চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দুদেশের মধ্যে ছিটমহলের কোনো অস্তিত্ব নেই । ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতিবছর এই দিনটিকে মহা আনন্দ ও ধুমধাম আয়োজনের মাধ্যমে পালন করে ছিটমহলবাসী।
উৎসঃbd-pratidin.com
৫,৯২৭.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘জল্লাদের দরবার’ নাটিকাটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. এম আর আখতার মুকুল
  2. বেলাল মোহাম্মদ
  3. সিরাজুল ইসলাম
  4. কল্যাণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটি অস্থায়ী বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবার পর এর নাম বদলে বাংলাদেশ বেতার করা হয়।

⇒ ১৯৭১ সালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
- প্রবাসী সরকার এই বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা প্রচারের জন্য পাঠাত। এগুলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হলে মুক্তিযোদ্ধারা সহজেই দিকনির্দেশনা পেতেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী প্রমুখের ভাষণ প্রচারিত হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত গান মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশন সংকেত হিসেবে কাজ করত। নির্দিষ্ট গান সম্প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে শত্রুঘাঁটিতে মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালাতেন।

⇒ বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে বজ্রকণ্ঠ, চরমপত্র, জল্লাদের দরবার, কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী গান, দেশাত্মবোধক গান ইত্যাদি ছিল খুবই আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয়।
- এম আর আখতার মুকুল ছিলেন চরমপত্রের রচয়িতা ও পরিবেশক। ঢাকাইয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় অদ্ভুত কণ্ঠস্বর ও বাচন-ভঙ্গিতে তাঁর রণাঙ্গনের খবর পরিবেশন ছিল খুবই জনপ্রিয় ও উপভোগ্য। ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন ছিল এ অনুষ্ঠানের সর্বশেষ পরিবেশনা।
- কল্যাণ মিত্র রচিত ইয়াহিয়া সামরিক জান্তার চরিত্র উন্মোচন করে 'জল্লাদের দরবার' নামে ব্যঙ্গাত্মক নাটিকা ছিল বেতারের আর একটি আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।

৫,৯২৮.
১৯৪৭ সালের সীমানা কমিশন পরিচিত -
  1. ক) ফ্লাউড কমিশন
  2. খ) মাউন্টব্যাটেন কমিশন
  3. গ) রেডক্লিফ কমিশন
  4. ঘ) হান্টার কমিশন
সঠিক উত্তর:
গ) রেডক্লিফ কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেডক্লিফ কমিশন
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণের জন্যে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। এরা হলেন-
- সিরিল রেডক্লিফ (চেয়ারম্যান)
- বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জী
- বিচারপতি সি.সি. বিশ্বাস
- বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
- বিচারপতি এস.এ. রহমান।

• কমিশনের চেয়ারম্যান সিরিল র‌্যাডক্লিফের নামানুসারে এই কমিশন রেডক্লিফ কমিশন নামে অধিক পরিচিত।
১২ আগস্ট ১৯৪৭ রেডক্লিফ কমিশন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর গুরুত্ব প্রদান করে তাদের প্রস্তুতকৃত রিপোর্ট প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড। 
৫,৯২৯.
উপমহাদেশে লর্ড ডালহৌসি এর অবদান নয় কোনটি?
  1. বিধবা বিবাহ আইন পাশ
  2. স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন
  3. পরিসংখ্যান জরিপ চালুকরণ
  4. রেলওয়ের প্রথম যাত্রা
সঠিক উত্তর:
পরিসংখ্যান জরিপ চালুকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিসংখ্যান জরিপ চালুকরণ
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি
- সাম্রাজ্যবাদী লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই ( ১৮৫৩ সালে ) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

অন্যদিকে,
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন।
- তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৩০.
পাকিস্তানের কোন গভর্নর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. চৌধুরী খালিকুজ্জমান
  3. জুলফিকার আলী ভূট্টো
  4. জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ
সঠিক উত্তর:
জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা

- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ। 

• মন্ত্রিসভা গঠন:  
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ।
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে। 
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,৯৩১.
কার্জন হল কোন সালে নির্মিত হয়?
  1. ক) ১৯০১
  2. খ) ১৯০৫
  3. গ) ১৯০৮
  4. ঘ) ১৯৫৭
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯০৮
ব্যাখ্যা

কার্জন হল তৎকালীন ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জনের নামানুসারে এ ভবনটি টাউন হল হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। 
১৯০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি ভাইসরয় লর্ড কার্জন ঢাকায় এসে কার্জন হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ১৯০৮ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট।

৫,৯৩২.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কবে প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৮১ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শেরে বাংলা নগরে সরকার প্রদত্ত জমিতে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত। (সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
৫,৯৩৩.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম কী?
  1. অপারেশন বিগ উইং
  2. অপারেশন বিগ বার্ড
  3. অপারেশন কিলো ফ্লাইট
  4. অপারেশন জ্যাকপট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন কিলো ফ্লাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন কিলো ফ্লাইট
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:

- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসুত্র - ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।
৫,৯৩৪.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোহর
  2. খ) চুয়াডাঙ্গা
  3. গ) মেহেরপুর
  4. ঘ) দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
গ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর বর্তমান মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত। এখানে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। তখন এটি ‍বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অধীন ছিলো। মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো। এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
৫,৯৩৫.
মেজর খালেদ মোশারফ কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৩ নং সেক্টর
  4. ৪ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এর মধ্যে ফেনী নদী থেকে উত্তর দিকে আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত বৃহত্তর নোয়াখালী, ‍বৃহত্তর কুমিল্লা, ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ এবং ঢাকা শহর নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়।
২ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন:
- মেজর খালেদ মোশারফ এবং
- মেজর এটিএম হায়দার।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)

৫,৯৩৬.
রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান কিসে?
  1. ক) দর্শন শাস্ত্রে
  2. খ) চিকিৎসা বিজ্ঞান
  3. গ) আইন প্রনয়নে
  4. ঘ) ধর্ম শাস্ত্রে
সঠিক উত্তর:
গ) আইন প্রনয়নে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আইন প্রনয়নে
ব্যাখ্যা
বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রােমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে আইন প্রণয়ন।
- খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রােমানরা ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনগুলাে সুষ্ঠুভাবে একসঙ্গে সাজাতে সক্ষম হন।
- ৫৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে সর্বপ্রথম আইনগুলাে খােদাই করে লিখিত হয় এবং জনগণকে দেখাবার জন্য প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
- রােমান আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান ।
- রােমান আইনকে তিনটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। যেমন—

১. বেসামরিক আইন : এই আইন পালন করা রােমান নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এই আইন লিখিত অলিখিত দুই রকম ছিল।

২. জনগণের আইন : এ আইন সকল নাগরিকের জন্য প্রযােজ্য ছিল। তাছাড়া ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার বিষয়টি এই আইনে ছিল। তবে এর মাধ্যমে দাসপ্রথাও স্বীকৃতি লাভ করে । সিসেরাে এ আইনের প্রণেতা।

৩. প্রাকৃতিক আইন : এ আইনে মূলত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। আধুনিক বিশ্ব সম্পূর্ণভাবে রােমান আইনের ওপর নির্ভরশীল। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথম সমস্ত রােমান আইনের সংগ্রহ ও সংকলন প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,৯৩৭.
পাকিস্তান স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় কত তারিখ?
  1. ক) ২১ জানুয়ারি, ১৯৭৪
  2. খ) ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  3. গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
  4. ঘ) ২৪ জুলাই, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
খ) ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তান ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ঐ অনুষ্ঠানের শর্ত হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের নিকট থেকে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নেন।
- ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত OIC এর দ্বিতীয় সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৩৮.
কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে 'বাংলাপিডিয়া' প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলা একাডেমি
  3. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. প্রগতি প্রকাশনী
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি:
- বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ১৮৬০ সালের সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত একটি অরাজনৈতিক, বেসরকারি ও অলাভজনক সংস্থা।
- ১৯৫২ সালে এশিয়ার মানুষ ও প্রকৃতি বিষয়ে গবেষণার লক্ষ্যে বাংলাদেশে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই সংস্থাটির প্রেরণা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উভয়ই কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটির (স্থাপিত ১৭৮৪) উত্তরসূরী।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
- ঢাকা মহানগরে ৫ পুরাতন সচিবালয় রোডে (নিমতলী) সোসাইটির কার্যালয় স্থাপিত।
- বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রতিমাসে একটি মাসিক সাধারণ সভার আয়োজন করা এবং ওই সভায় গবেষণামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা।
- প্রতিবছর ৩ জানুয়ারি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় জ্ঞানকোষ।
- বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বাংলাদেশের ইতিহাস (১৭০৪-১৯৭১) ৩ খণ্ড, বাংলাপিডিয়া-বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ (২০০৩) ১৪ খণ্ড, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা (২০০৮) ১২ খণ্ড, বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (২০১০) ২৮ খণ্ড, Celebration of 400 Years of Capital Dhaka, ১৮ খণ্ড, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ (২০২০) ১০ খণ্ড, A Survey of Historical Monuments and Sites in Bangladesh: Mainamati-Devaparvata, Gawr-Lakhnawti, Sonargaon-Panam (১৯৯৭) ৩ খণ্ড, বাংলাদেশের ইতিহাস: আঞ্চলিক পরিপ্রেক্ষিতে আদি বাংলা (অনু. ১২০০ সা. অব্দ পর্যন্ত), ২ খণ্ড, বাংলাদেশের ইতিহাস: সুলতানি ও মোগল যুগ (আনু. ১২০০-১৮০০ সা. অব্দ ), ২ খণ্ড। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৩৯.
ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির উদ্দেশ্য ছিল-
  1. ক) মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা
  2. খ) ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা
  3. গ) হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা
ব্যাখ্যা

- ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য প্রথম থেকেই ভাগ কর শাসন কর নীতি কার্যকর করার চেষ্টা চালায়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫,৯৪০.
বঙ্গভঙ্গ রদের পর, যখন বাংলা গভর্নর শাসিত প্রদেশে রূপান্তরিত হয়, তখন বাংলার প্রথম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কে?
  1. লর্ড কারমাইকেল
  2. এন্ড্রু ফ্রেজার
  3. ফ্রেডারিক জেমস হ্যালিডে
  4. এডওয়ার্ড বেকার
সঠিক উত্তর:
লর্ড কারমাইকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কারমাইকেল
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ রদের পর গভর্নর শাসিত প্রদেশ রূপান্তরিত হওয়ার পর বাংলার প্রথম গভর্নর হয়েছিলেন লর্ড কারমাইকেল।

লর্ড কারমাইকেল:

- লর্ড কারমাইকেল বঙ্গভঙ্গ রদের পর এবং গভর্নর শাসিত প্রদেশ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়ার পর বাংলার প্রথম গভর্নর।
- তিনি জর্জ ট্রেভেলিয়ান ও লর্ড ডালহৌসীর একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেন।
- ১৮৯৫ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মিডলটনের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- বাংলার গভর্নর হওয়ার আগে তিনি ভিক্টোরিয়া ও মাদ্রাজের গভর্নর ছিলেন।

⇒ গভর্নর শাসিত প্রদেশ হওয়ার সুবাদে বাংলার গভর্নর স্বশাসনের অধিকার নিয়ে সরাসরি ইন্ডিয়া কাউন্সিল দ্বারা নিযুক্ত হতেন।
- গভর্নরকে পরামর্শ দান ও নির্বাহি দায়িত্ব পালনের জন্য একটি নির্বাহি সভা (executive council) ছিল।

উল্লেখ্য,
⇒ লেফটেন্যান্ট গভর্নর:
- লেফটেন্যান্ট গভর্নর শাসনতান্ত্রিকভাবে সপরিষদ গভর্নর জেনারেলের প্রতিনিধি।
- বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির গভর্নর ছিলেন একই সঙ্গে ভারতের গভর্নর জেনারেল।
- তাঁর পক্ষে প্রদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করতেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
- ১৮৩৫ সালে একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হয়। 
- ১৮৫৩ সালের সনদ আইনের আওতায় গভর্নর জেনারেলকে বাংলার গভর্নরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ঐ আইন অনুযায়ী তাঁকে বঙ্গ প্রদেশের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় ও বিধান পরিষদসহ একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
- এভাবে ভারতের গভর্নর জেনারেল ১৮৫৪ সালের ১মে স্যার ফ্রেডারিক জেমস হ্যালিডেকে বাংলার প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করেন।
- বঙ্গভঙ্গ সাধিত হওয়ার পর (১৯০৫) সৃষ্ট দুটি নতুন প্রদেশ, যথা বেঙ্গল (এর মধ্যে বিহার ও উড়িষ্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল) এবং পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের জন্য দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হয়।
- ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হলে বাংলা পুনরায় একত্রে সংযুক্ত হয়।
- তাতে যে শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন ঘটে তা হলো সপরিষদ একজন গভর্নর মাদ্রাজ ও বোম্বে প্রেসিডেন্সিদ্বয়ের গভর্নরদের মতো একই ক্ষমতা ও কার্যকলাপ সহকারে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি প্রদেশটির শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।
- লর্ড কারমাইকেল হলেন বাংলার প্রথম গভর্নর।
- তিনি ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৪১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ সংবলিত বই কোনটি?
  1. ভাইয়েরা আমার
  2. ভাষণ
  3. মুক্তির পথ
  4. কল-রেডি
সঠিক উত্তর:
ভাইয়েরা আমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইয়েরা আমার
ব্যাখ্যা
ভাইয়েরা আমার:

- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২০০টি ভাষণ সংবলিত বই 'ভাইয়েরা আমার'।
- ১২ জুন, ২০২৩ সালে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- বইটির ভূমিকা ও নামকরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- ভাষণসমগ্রটির সংগ্রহ, সংকলন ও সম্পাদনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার নজরুল ইসলাম।
- বইটি প্রকাশ করে জিনিয়াস পাবলিকেশন।
- বইটিতে প্রতিটি ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
- এ ছাড়া সূচিতে ভাষণের বিষয়বস্তু, সাল ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১২ জুন, ২০২৩।
৫,৯৪২.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন- 
  1. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. মওলানা আতাহার আলী
  4. হাজী দানেশ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল সবচেয়ে পুরাতন ও বড় রাজনৈতিক দল।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- দলগুলো ছিল-মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে। 

উল্লেখ্য,
[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৪৩.
Stop Genocide প্রমাণ্য চলচ্চিত্রটির নির্মাতা কে?
  1. খান আতাউর রহমান
  2. জহির রায়হান
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. সত্যজিৎ রায়
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide.
- নির্মাতা জহির রায়হান।
-মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড।
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন।
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র-
- Stop Genocide: জহির রায়হান,
- ওরা ১১ জন : চাষী নজরুল ইসলাম,
- আবার তোরা মানুষ হ : খান আতাউর রহমান,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড : চাষী নজরুল ইসলাম,
- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী : সুভাষ দত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৪৪.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ছিলেন?
  1. শিকদার
  2. ফৌজদার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. ওয়াজির
  5. সুবাহদার
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৪৫.
মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কে?
  1. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
  2. আবদুল মান্নান এম.এন.এ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান এম.এন.এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান এম.এন.এ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন- তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
৫,৯৪৬.
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
  1. হাসিনা বেগম
  2. হাসিনা খাতুন
  3. হাসিনা আক্তার
  4. হাসিনা আলী
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:
- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৪৭.
সেন বংশ কত বছর বাংলা শাসন করে?
  1. প্রায় ৪০০ বছর
  2. প্রায় ১২৮ বছর
  3. প্রায় ৯৫ বছর
  4. প্রায় ৪৮ বছর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১২৮ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১২৮ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলায় সেন বংশের শাসন:
- বাংলার ইতিহাসে সেন রাজাদের উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি অধ্যায়।
- ১০৯৭-১২২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১২৮ বছর সেনরা বাংলায় রাজত্ব করে। 
- পালদের পতনের পর বাংলায় সেন রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- সেন রাজবংশ তাদের শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা নিজেদের দখলে আনে।
- ১০৭০ থেকে ১২৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হেমন্ত সেন, বিজয় সেন, বল্লাল সেন, লক্ষ্মণ সেন, বিশ্বরূপ সেন, কেশব সেন রাজ্য পরিচালনা করেন।

⇒ বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন।
- সামন্ত সেন কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে।
- এই বংশের শেষ রাজা ছিলেন লক্ষ্মণ সেন।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী নদীয়া আক্রমণ করলে তিনি প্রতিরোধ না করে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর পালিয়ে আসেন।
- এই অঞ্চলে তিনি আরো ২/৩ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ ১২০২ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। সে সময় সেনদের অস্থায়ী রাজধানী ছিল নদীয়ায়। নদীয়ায় আক্রমণ করা হলে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান। এরপর লক্ষ্মণ সেনের মৃত্যু হলে সেনরা দুর্বল হতে শুরু করে। সামন্ত বিদ্রোহের ফলে বাংলায় সেনদের পতন ঘটে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৪৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ১৬ টি
  2. ৬৪ টি
  3. ৪ টি
  4. ১১ টি
সঠিক উত্তর:
১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ টি
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- ১১ টি।

• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট — ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

- সেক্টর নং ১ -  ৫টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- সেক্টর নং ২ -  এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৩ - এই সেক্টরে ছিল ১০টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৪ - এই সেক্টরে ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৫ - ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
- সেক্টর নং ৬ - এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৭ -  এই সেক্টরে ছিল ৮টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৮ -  এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৯ - এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ১০ - এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
- সেক্টর নং ১১ -  এই সেক্টরকে ৮টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৯৪৯.
বাংলাদেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক ইপিজেড কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নাটোর
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. নীলফামারি
  4. পঞ্চগড়
সঠিক উত্তর:
নীলফামারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলফামারি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মোট সরকারি ইপিজেড ৮টি।
- বাংলাদেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক ইপিজেড উত্তরা ইপিজেড।
- এটি নীলফামারী জেলায় অবস্থিত।
- ২০০১ সালে ২১৩.৬৬ একর জমিতে যাত্রা শুরু করে।

- বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড- চট্টগ্রাম ইপিজেড।
- ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে।
- মংলা ইপিজেড বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- আদমজী ইপিজেড নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
- কর্ণফুলী ইপিজেডের অবস্থান পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইপিজেড ঢাকা ইপিজেড, ঢাকার সাভারে এর অবস্থান।

উৎস: বেজা ওয়েবসাইট।

৫,৯৫০.
কত সালে শেরে বাংলা লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১৯৩০ সালে
  2. খ) ১৯৩৭ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৬ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪০ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিমলীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৯৫১.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৩ নং
  3. গ) ১১ নং
  4. ঘ) ৭ নং
সঠিক উত্তর:
ক) ২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ নং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করে। ফেনী নদী থেকে আখাউড়া-ভৈরব রেললাইনের পশ্চিমপ্রান্ত এবং ঢাকা শহর ও ফরিদপুরের অংশবিশেষ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত হয়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২নং সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন মেজর খালেদ মোশারফ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এ টি এম হায়দার ২নং সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৫,৯৫২.
সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক কোন উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. রাজাধিরাজ
  2. মহামতি
  3. দেবনম পিয়
  4. ধর্মচক্রবতী
সঠিক উত্তর:
দেবনম পিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেবনম পিয়
ব্যাখ্যা

অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- পিতার রাজত্বকালে অশোক প্রথম জীবনে উজ্জয়িনীর শাসনকর্তার দায়িত্ব পালন করেন।
- পরে তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে বিন্দুসার তাঁকে সেখানে পাঠান। বিদ্রোহ দমনের পর তিনি তক্ষশীলার শাসনভার গ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- সিংহাসনে আরোহণ করে অশোক তাঁর পূর্বসুরীদের মতই 'দেবনম পিয়' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি নিজেকে 'দেবনম পিয় পিয় দসী' রূপে পরিচয় দিতেন। 
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা অশোকের মন ও শাসননীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি ঘোষণা করেন সব মানুষই তাঁর সন্তান। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক সুখ নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৯৫৩.
বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ কোনটি?
  1. বট গাছ
  2. আম গাছ
  3. কাঁঠাল গাছ
  4. শাল গাছ
সঠিক উত্তর:
আম গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম গাছ
ব্যাখ্যা
জাতীয় বৃক্ষ:

- আম গাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ।
- এ ঘোষণা দেয়া হয় ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর।
- আম গাছ সাধারণত ১১৫-১৩০ ফুট লম্বা এবং সর্বোচ্চ ৩৩ ফুট চওড়া হয়ে থাকে।
- আম গাছ বহু বছর বাঁচে, এর কিছু প্রজাতিকে ৩০০ বছর বয়সেও ফলবতী হতে দেখা যায়।
- এর প্রধান শিকড় মাটির নিচে প্রায় ২০ ফুট গভীর পর্যন্ত যায়।
- আম গাছের পাতা চিরসবুজ, সরল, পর্যায়ক্রমিক; কচি পাতা দেখতে লালচে-গোলাপি রঙের হয়।
- আমের মুকুল বের হয় ডালের ডগা থেকে, মুকুল থেকে শুরু করে আম পাকা পর্যন্ত প্রায় ৩-৬ মাস সময় লাগে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ০৫ জুন ২০১৮।
৫,৯৫৪.
ভারত ভাগ পরিকল্পনা পেশ করেন কে?
  1. ক) লর্ড আরউইন
  2. খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. গ) ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. ঘ) লর্ড ডাফরিন
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩রা জুন ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত ভাগ পরিকল্পনা পেশ করেন। এ্র ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৯৫৫.
অপারেশন সার্চলাইটের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন কে?
  1. ক) জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. খ) জেনারেল আবদুল হামিদ খান
  3. গ) জেনারেল টিক্কা খান
  4. ঘ) জেনারেল রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
গ) জেনারেল টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।এবং
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন জেনারেল টিক্কা খান

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
৫,৯৫৬.
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল লতিফ
  2. খ) আলতাফ মাহমুদ
  3. গ) আবদুল গাফফার
  4. ঘ) আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল গাফফার
ব্যাখ্যা
''আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি......''
• গানটির রচয়িতা সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী।
• গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
• বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।
• ঢাকা কলেজের নতুন নতুন ছাত্র ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম গাওয়া হয়। 

তথ্যসূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৫৭.
মুর্শিদকুলী খানের আমলে রাজস্ব বন্দোবস্ত কোন নামে পরিচিত ছিল?
  1. টোডরমল বন্দোবস্ত
  2. শাহ সুজা বন্দোবস্ত
  3. মাল জমিনী
  4. জাফরী বন্দোবস্ত
সঠিক উত্তর:
মাল জমিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল জমিনী
ব্যাখ্যা

• মুর্শিদকুলী খান (১৭০০–১৭২৭):

- মুর্শিদকুলী খান বাংলায় নওয়াবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি প্রাদেশিক দীউয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে একে একে উড়িষ্যা ও বাংলার নাজিম, বিহারের দীউয়ান এবং বিভিন্ন জেলার ফৌজদার পদে অধিষ্ঠিত হন। 

- ১৭০০ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে বাংলার দীউয়ান হিসেবে নিয়োগ দেন। 
- তিনি রাজস্ব ও প্রশাসনে দক্ষতা প্রদর্শন করেন এবং সৎ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাত হন। 
- রাজকীয় স্বার্থ ও নাজিমের সঙ্গে বিবাদ সত্ত্বেও সম্রাটের হস্তক্ষেপে তিনি সুরক্ষিত থাকেন। 
- ১৭০৩ সালে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ খেতাব লাভ করেন এবং মকসুদাবাদকে মুর্শিদাবাদ নামে পরিচিত করেন।

- ১৭১৬ সালে তিনি বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন। 
- তার আমলে বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারিত হয়, যা “মাল জমিনী” নামে পরিচিত।
- হিন্দু জমিদারদের অগ্রাধিকার দিয়ে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়। 
- তিনি অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেন এবং অসৎ ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি দিতেন। 
- ইউরোপীয় কোম্পানি এবং আরব, পারস্য ও আর্মেনীয় ব্যবসায়ীরা তার আমলে সক্রিয়ভাবে বাণিজ্যে যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৯৫৮.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কত তারিখে গৃহীত হয়?
  1. ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ২১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. ২ মার্চ, ১৯৭২
  4. ৭ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- সংবিধানের ৪নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।

⇒ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii) ২ মার্চ, ২০২২, প্রথম আলো।
৫,৯৫৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য কে? (ডিসেম্বর, ২০২৫)
  1. ড. এ এস এম মকসুদ কামাল
  2. ড. মো. আখতারুজ্জামান
  3. ড. নিয়াজ আহমদ খান
  4. ড. এমাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
ড. নিয়াজ আহমদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. নিয়াজ আহমদ খান
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর প্রাথমিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ গড়ে উঠে ঢাকা কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী এবং কলেজ ভবনের (বর্তমান কার্জন হল) উপর ভিত্তি করে।
- ৩টি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ খান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙ্গালী উপাচার্য ছিলেন স্যার এ.এফ রহমান।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূরণ করেছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৯৬০.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'মুক্তিবেটি' নামে পরিচিত কে?
  1. তারামন বিবি
  2. সেতারা বেগম
  3. কাঁকন বিবি
  4. আশালতা বৈদ্য
সঠিক উত্তর:
কাঁকন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁকন বিবি
ব্যাখ্যা
মুক্তিবেটি নামে পরিচিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা হলেন কাঁকন বিবি।

কাঁকন বিবি:
- কাঁকন বিবি ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের এক বীরযোদ্ধা।
- তার জন্ম ১৯৪৮ সালে সুনামগঞ্জ জেলার এক খাসিয়া পরিবারে।
- কাঁকন বিবির আসল নাম কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি মুক্তিবেটি নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৫নং সেক্টরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিপক্ষে মুক্তিবাহিনীর হয়ে গুপ্তচরের কাজ করেন।
- তারপর কাঁকন বিবি অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর কাছে। প্রায় ২০টি যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি।
- ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে টেংরাটিলায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিলে গুলিবিদ্ধ হন।

উল্লেখ্য,
- কাঁকন বিবি কে ১৯৯৭ সালে মৌখিক ভাবে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হলেও তার গেজেট প্রকাশিত হয়নি।
- ২০১৮ সালের ২১শে মার্চ তিনি মারা যান।

উৎস: i) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী।
ii) প্রথম আলো।
৫,৯৬১.
২০২৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতি কততম বিজয় দিবস পালন করে?
  1. ৫১তম
  2. ৫২তম
  3. ৫৩তম
  4. ৫৪তম
সঠিক উত্তর:
৫৩তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৩তম
ব্যাখ্যা
বিজয় দিবস:
- ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস।
- ১৯৭১ সালের এই দিনে পৃথিবীর মানচিত্রে জাতি নিজেদের জন্য বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাম সংযোজিত করেছিল এক বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে। 
- ৩০ লাখ মানুষের প্রাণ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর বিপুল সম্পদহানির ভেতর দিয়ে মুক্তির সংগ্রামে সফল হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা।
- ছিনিয়ে এনেছিলেন চূড়ান্ত বিজয়।
- ২০২৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতি বিজয়ের ৫২ বছর পূর্ণ করছে ও  ৫৩তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
         ii) ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো।
৫,৯৬২.
মুক্তিযুদ্ধে কোন দুজন নারী মুক্তিযোদ্ধা ’বীর প্রতীক’ খেতাব পান?
  1. তারামন বিবি ও লায়লা নাজনীন
  2. ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
  3. শিরিন বেগম ও তারামন বিবি
  4. ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও ফাতেমা বেগম
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম ও তারামন বিবি
ব্যাখ্যা

​মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।

৫,৯৬৩.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
গ) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। খন্দকার মুশতাক আহমেদ ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৫,৯৬৪.
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোভিয়েত ইউনিয়ন পাঠিয়েছিল-
  1. সপ্তম নৌবহর
  2. অষ্টম নৌবহর
  3. নবম নৌবহর
  4. ষষ্ঠ নৌবহর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম নৌবহর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অষ্টম নৌবহর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তির ভূমিকা:
- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল- ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন, কিউবা, যুগোশ্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাজেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো।
- পাকিস্তানের পক্ষে ছিল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন।
- জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ৩ বার ভেটো প্রদান করে।
- যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সমর্থনে ভারত মহাসাগরে মূল ভূখণ্ডের বাইরে সবচেয়ে বড় নেভাল ফোর্স সপ্তম নৌক পাঠায়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন পাঠিয়েছিল- অষ্টম নৌবহর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫,৯৬৫.
১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ কত দিন অব্যাহত ছিল?
  1. ক) ১৯ দিন
  2. খ) ১৭ দিন
  3. গ) ১৪ দিন
  4. ঘ) ১১ দিন
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ দিন
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ:
- ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
- ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করত।
- কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ আগস্ট পাকিস্তান বাহিনী ভারত আক্রমণ করলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ সেপ্টেম্বর ভারত লাহোর আক্রমণে অগ্রসর হয়।
- ১৭ দিন যুদ্ধের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২৩ সেপ্টেম্বর যুদ্ধ বিরতি ঘোষিত হয়।
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত ‘তাসখন্দ চুক্তি'র মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৬৬.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ কত সালে গঠন করা হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৫২ সালে
  3. গ) ১৯৬৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দু কারারুদ্ধ হলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে তখন ছাত্ররা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ডাকসু কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। 
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি ছিল-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স বাতিলসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি,
বাক-স্বাধীনতা,
ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ,
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান,
ট্রেড ইউনিয়ন গঠন,
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদের সঠিক ব্যবহার,
জরুরি আইন,
নিরাপত্তা আইন ও
অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,৯৬৭.
লালন শাহ সেতু কোন নদীর উপর?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. আড়িয়াল খাঁ
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
ব্যাখ্যা
লালন শাহ সেতু:

- লালন শাহ সেতু ঈশ্বরদী হার্ডিঞ্জ ব্রীজের অদূরে পদ্মা নদীর উপর নির্মাণ করা হয়।
- সেতুটি ২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
- সেতুটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৩ সালে।
- সেতুটির দৈর্ঘ্য ১.৮ কিমি এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

তথ্যসূত্র - পাবনা জেলা ওয়েবসাইট।
৫,৯৬৮.
রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন-
  1. ক) লর্ড ক্যানিং
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই "চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত" বলা হয়।
ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং একসালা বন্দোবস্ত করে ভূমিব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। তবে এই ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়।
এই পরিস্থিতিতে কর্নওয়ালিস প্রথমে দশসালা পরে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে একে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে ঘোষণা করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
৫,৯৬৯.
ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন কে?
  1. লর্ড মেয়ো
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড বেন্টিং
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
লর্ড মেয়ো ও ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন।
- তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে, 
-.১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।
- ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় লর্ড বেন্টিং এই উপমহাদেশে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় লর্ড ডালহৌসি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।

উৎস : ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৭০.
তুমি কি দেখেছো কভু গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) আব্দুল জব্বার
  2. খ) গাজী মাযহারুল আনোয়ার
  3. গ) সত্য সাহা
  4. ঘ) মো. মনিরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মো. মনিরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মো. মনিরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
২০০৬ সালে বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ গানের তালিকায় ২০তম ছিলো ''তুমি কি দেখেছো কভু, জীবনের পরাজয়'' গানটি। এটির শিল্পী আব্দুল জব্বার, সুরকার সত্য সাহা এবং রচয়িতা ডক্টর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। এটি ১৯৬৮ সালে প্রথম গাওয়া হয়। (সূত্রঃ বিবিসি বাংলা)
৫,৯৭১.
চন্দ্রবংশীয় লিপিতে নিচের কোন জনপদের উল্লেখ রয়েছে?
  1. মৌর্য
  2. হরিকেল
  3. গুপ্ত
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
হরিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিকেল
ব্যাখ্যা
হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৭২.
ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়-
  1. ক) ১৯৫১
  2. খ) ১৯৫২
  3. গ) ১৯৪৭
  4. ঘ) ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৭
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালে আবুল কাসেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের, (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তুলে তমদ্দুন মজলিস বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু করে। যদিও এই সংগঠনের প্রতিবাদ লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৭ মাস পরে, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্যের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা।
- এই ঘোষণা করলে সদ্য জাত রাষ্ট্রে ভাষা আন্দোলন প্রকাশ্যরূপ ধারণ করে। 


উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণী

৫,৯৭৩.
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান কে ছিলেন।
  1. এম. মনসুর আলী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
মাওলানা ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ 
• একাত্তরের ৯ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান করার জন্য আওয়ামী লীগসহ পাঁচটি দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় ৮ সদস্যের 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ'।
• এই পরিষদের নেতৃবৃন্দ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একাত্তরের ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে গঠিত মুজিবনগর সরকারকেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছিল।
• আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করায় বিশ্বব্যাপী মুজিবনগর সরকার একটিই বার্তা দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি বাঙালির সর্বজনীন; কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক কোনো বিষয় নয়।
• ভারতের কলকাতায় গঠন করা হয় 'জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি', যা 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

৮ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে ছিলেন -
• আহবায়ক ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমেদ।
• মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির চেয়ারম্যান।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন-
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং নবম - দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৭৪.
ড. শামসুজ্জোহা কে ছিলেন?
  1. সার্জেন্ট
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
  4. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থান এর ঘটনাবলি: 
- ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- জহুরুল হকের হত্যার প্রতিবাদে ১৬ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করে।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারির পর থেকে আন্দোলন আরও বেগবান হলে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।
- আইয়ুব খান বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক আহ্বান করলে নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
- আইয়ুব খান বুঝতে পারেন, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও অভিযুক্তদের মুক্তি না দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
- অবশেষে গণঅভ্যুত্থানের চাপে ২১শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান ঘোষণা দেন, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি আর প্রার্থী হবেন না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৯৭৫.
'উয়ারি বটেশ্বর' কী?
  1. ক) প্রাচীন বৃক্ষ
  2. খ) প্রত্নস্থান
  3. গ) প্রাচীন দেয়াল
  4. ঘ) বিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্নস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রত্নস্থান
ব্যাখ্যা
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান।

• উয়ারী-বটেশ্বর:

- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবিস্থত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত
- ধারণা করা হয় এটি মাটির নিচে অবস্থিত একটি দুর্গ-নগরী। 
- বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী এটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো।
- ১৯৩০-এর দশকে মুহম্মদ হানিফ পাঠান নামের স্কুল শিক্ষক প্রথম উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরেন।
- ১৯৯৬ সাল থেকে উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের কাজ সম্পন্ন করা হয় এবং ২০০০ সাল থেকে উয়ারী-বটেশ্বরে নিয়মিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননের কাজ শুরু হয়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্মস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী দুর্গ নগরের বাইরে আরো ৫০ টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৭৬.
কোন দুই রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি প্রথম স্বাক্ষর করে?
  1. ক) মনমোহন সিং ও শেখ হাসিনা
  2. খ) শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী
  4. ঘ) লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি (ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি) প্রথম স্বাক্ষরিত হয় ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে।
- বাংলাদেশ অনুমোদন করে ১৯৭৪ সালে কিন্তু ভারত তখন অনুমোদন করেনি‌।
- ৬ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হয় এবং ৭ মে ২০১৫ সালে ভারতীয় সংসদের লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
- চুক্তিটি কার্যকর হয় ১ আগস্ট ২০১৫ সালে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিট মহল বিনিময় হয়।

উৎসঃ দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট ।
৫,৯৭৭.
পাকিস্তানের শতকরা কত জনের মাতৃভাষা বাংলা ছিল?
  1. শতকরা ৪৮ ভাগ
  2. শতকরা ৪৬ ভাগ
  3. শতকরা ৫২ ভাগ
  4. শতকরা ৫৬ ভাগ
সঠিক উত্তর:
শতকরা ৫৬ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতকরা ৫৬ ভাগ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র ভাষা বিতর্ক:
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই এর রাষ্ট্র ভাষা কি হবে এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
- পাকিস্তান ছিল একটি বহুভাষী রাষ্ট্র।
- এর মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ ভাগের মাতৃভাষা ছিল বাংলা।
- পক্ষান্তরে মোট জনসংখ্যার শতকরা মাত্র ৬ ভাগ ছিল উর্দুভাষী।
- এ হিসেবে বাংলা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা।
- আর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা হিসেবে 'বাংলার' রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ ছিল স্বাভাবিক।
- কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং উর্দুভাষী বুদ্ধিজীবীগণ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
- এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণার দাবি উপেক্ষা করা হয়।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৭৮.
হুমায়ূন আহমেদের পরিচালিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. ঘেটুপুত্র কমলা
  3. শ্রাবণ মেঘের দিন
  4. মুক্তির গান
সঠিক উত্তর:
মুক্তির গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তির গান
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:

- 'মুক্তির গান' হুমায়ূন আহমেদের পরিচালিত চলচ্চিত্র নয়।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৭৯.
সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত ঘটে -
  1. ক) বিহারে
  2. খ) বাংলায়
  3. গ) মহারাষ্ট্রে
  4. ঘ) উত্তর ভারতে
সঠিক উত্তর:
গ) মহারাষ্ট্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহারাষ্ট্রে
ব্যাখ্যা
- সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত ঘটে মহারাষ্ট্রে। 
- কিন্তু পরে এ আন্দোলন অধিক জোরদার হয়ে উঠে বাংলায়। 
- বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশী আন্দোলনে সরকারী দমন নীতির মোকাবেলায় বাংলার এক শ্রেণির যুবক বিপ্লব ও সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নেয়। 
- বিভিন্ন গুপ্ত সমিতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা বৈপ্লবিক ক্রিয়াকর্ম পরিচালনা করে এবং সশস্ত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৃটিশ সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করে। 
- গুপ্ত সমিতিগুলোর মধ্যে ‘ঢাকার অনুশীলন সমিতি' ও কলকাতার ‘যুগান্তর সমিতি' ছিল প্রধান। 
- সারাদেশে এসব সংগঠনের অনেক শাখা প্রশাখা ছিল। 
- ‘যুগান্তর’ নামে যুগান্তর সমিতির একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও বের হতো।
-  এ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ, ভূপেন্দ্ৰ নাথ দত্ত প্রমুখ বিপ্লবীগণ। ঢাকার অনুশীলন সমিতির প্রধান সংগঠক ছিলেন পুলিন বিহারী দাস। 
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, ইতিহাস ১ম পত্র; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫,৯৮০.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পূনর্বাসণ মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

⇒ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব:
- মুজিবনগর সরকার শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গঠন করে।
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে।
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
- এই সরকার গঠনের পর থেকে অগণিত মানুষ দেশকে মুক্ত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং দেশে ও বিদেশে এই যুদ্ধের জনমত গড়ে তোলা ও সমর্থন আদায় করার ক্ষেত্রে এই সরকার বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।

৫,৯৮১.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. আমিরুল ইসলাম
  3. ইউসুফ আলী
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বলতে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বোঝানো হয়।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনা সংযুক্ত করা হয়।
- ৭ম  তফসিলে ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৮২.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের ৩য় যুদ্ধ:
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে।

উল্লেখ্য, 
- ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মারাঠাশক্তি।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মারাঠাশক্তি।
- অষ্টাদশ শতকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর মধ্যে ভয়াবহতম ছিল এই যুদ্ধ। দু’পক্ষের প্রায় সত্তর হাজার সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলন।
- বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেও আফগান বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়েছিল পেশওয়া শক্তি।
- পরে মারাঠাদের ওপর বীভৎস হত্যালীলা চালিয়েছিল আফগান সৈন্যরা। 
- এই যুদ্ধে পরাজিত হলে মারাঠা সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৫,৯৮৩.
কে বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটান?
  1. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  2. সুলতান মাহমুদ
  3. বখতিয়ার খিলজি
  4. শেরশাহ 
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরশাহ 
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন সুলতানি যুগের পতন:
- নুসরত শাহের সময়কাল থেকেই শুরু হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের পতন পর্ব।
- নুসরত শাহের উত্তরাধিকারীগণ ছিলেন দুর্বল।
- তাঁর ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজ শাহকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন।
- কিন্তু তাতে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
- বরং নুসরত শাহের শাসনকালে রাজ্যে যে ভাঙনের সূচনা হয়েছিল, মাহমুদ শাহের শাসনকালে তা সম্পূর্ণ হয়।
- তাঁর পাঁচ বছরের রাজত্বকালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা আফগান যোদ্ধা শেরশাহ শূরের সাথে সংঘর্ষ।
- অবশেষে ১৫৩৮ সালে শেরশাহ গৌড় দখল করলে কেবল হুসেন শাহী বংশের নয়, বরং বাংলার দুই'শ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে।


 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৫,৯৮৪.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' গ্রন্থের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক:
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একুশের প্রথম সংকলন গ্রন্থের নাম: একুশে ফেব্রুয়ারি।

- গ্রন্থটির সম্পাদক: হাসান হাফিজুর রহমান।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সাহিত্যচর্চার সূচনা: ছাত্রজীবন থেকেই।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- একই বছরে (১৯৫২) তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়।
- ১৯৫৩ সালে, তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' কবিতাটি লেখেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রথম উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন' এর রচয়িতা জহির রায়হান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৯৮৫.
গনভোটের বিধান বাতিল করা হয় কবে?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০১১ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১১ সালে
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপুর্ন কোন বিষয়ে জনমত যাচাই করার জন্য যে প্রত্যক্ষ ভোট গ্রহন করা হয় তাকে গণভোট বা Referendum বলা হয়।
- যখনই কোন ক্রান্তিকাল উপস্থিত হয়, তখন সেই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য জনমত যাচাই করা হয় গনভোটের মাধ্যমে।
- সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে গনভোটের বিধান আওতাভুক্ত করা হয়েছিল।
- কিন্তু ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে গনভোটের বিধান বাতিল করা হয়।
- গণভোট সংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদ : ৪৮ এবং ৫৬. তবে বর্তমানে এই অনুচ্ছেদ দুটিতে গনভোটের বিধান আর নেই।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত গণভোট হয়েছে ৩ বার –
- বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের নিজ শাসনকে বৈধকরণ। (প্রশাসনিক )
- দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ এরশাদের সমর্থন যাচাই। (প্রশাসনিক)
- তৃতীয় গণভোট - ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ , সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব (একমাত্র সাংবিধানিক )।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

৫,৯৮৬.
মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ১১ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১৬ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার:
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
• এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
• এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামারুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড
৫,৯৮৭.
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' গানটির রচয়িতা -
  1. ক) আলতাফ মাহমুদ
  2. খ) আব্দুল লতিফ
  3. গ) গোবিন্দ হালদার
  4. ঘ) নজরুল ইসলাম বাবু
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য

- সঙ্গীত শিল্পী আব্দুল লতিফ রচনা করেন এবং নিজেই সুর করেন বিখ্যাত সঙ্গীত 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং 'তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'।
- চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী লেখেন তাঁর বিখ্যাত 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'।
- ঢাকায় কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ লেখেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতির মিনার'।
- আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি পারি'।


ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায়,
শিকল পরায় আমাদেরই হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায় ।।......

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৫,৯৮৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় তেলিয়াপাড়া রণকৌশল অনুসারে কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. মেজর খালেদ মোশাররফ
  2. মেজর কে এম সফিউল্লাহ
  3. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
মেজর খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যে বাহিনীটা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সেটাকেই মুক্তিবাহিনী বলে।
- এটার কয়েকটা ভাগ ছিল।
- যেমন: একটা ভাগে ছিল সেনাবাহিনী, ইপিআর, পুলিশ, আনসার আর আরেকটা অংশে ছিল ছাত্র-জনতা।
- সবাইকে মিলিয়ে বলা হতো মুক্তিবাহিনী।
- মুক্তি বাহিনীর কয়েকটি অংশের একটি ছিল ‘মুজিব বাহিনী’।

⇒ তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি:
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।

⇒ এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন:
ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল: মেজর জিয়াউর রহমান,
খ) কুমিল্লা অঞ্চল: মেজর খালেদ মোশাররফ,
গ) সিলেট অঞ্চল: মেজর কে এম সফিউল্লাহ,
ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বিভক্ত করে রাজশাহী অঞ্চলে মেজর নাজমুল হক,
- দিনাজপুর অঞ্চলে মেজর নওয়াজেস উদ্দিন এবং খুলনা অঞ্চলে মেজর জলিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
- ৭ই জুলাই ১৯৭১ যুদ্ধের কৌশলগত কারণে সরকার নিয়মিত পদাতিক ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনায় 'জেড ফোর্স' ব্রিগেড গঠন করেন।
- এই জেড ফোর্সের অধিনায়ক হলেন লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমান।
- একই ভাবে সেপ্টেম্বর মাসে 'এস ফোর্স' এবং ১৪ই অক্টোবর 'কে ফোর্স' গঠন করা হয়।
- কে ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফ।
- এস ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন লেঃ কর্নেল কে. এম. সফিউল্লাহ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
৫,৯৮৯.
'ইউনেস্কো' কত তারিখে ৭ই মার্চের ভাষণকে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে?
  1. ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর
  2. ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবর
  3. ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর
  4. ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ।
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৯০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে রচিত উপন্যাস?
  1. মায়ের কাছে যাচ্ছি
  2. আমার যত গ্লানি
  3. খোয়াবনামা
  4. প্রসন্ন পাষাণ
সঠিক উত্তর:
আমার যত গ্লানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার যত গ্লানি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস:

• রশীদ করীম রচিত 'আমার যত গ্লানি' উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক। 
• এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
• এটি উত্তম পুরুষে রচিত। 
• এই উপন্যাসের এরফান চৌধুরী নামের এক মধ্যবিত্তের আত্মগ্লানি দেখানো হয়েছে।
• স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিক অস্থিরতাকে আশ্রয় করে তিনি এটি রচনা করেন। 
• এতে ১৯৪৭ সাল থেকে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালের মধ্যকার কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে।
• উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ঢাকার একটি বহুজাতিক ফার্মের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির এরফান চৌধুরী।
• উল্লেখ্য, 'মায়ের কাছে যাচ্ছি' ও ‘প্রসন্ন পাষান’ উপন্যাসের লেখক- রশীদ করীম।
• রশীদ করীমের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘উত্তম পুরুষ’ (১৯৬১)।
• 'খোয়াবনামা' আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫,৯৯১.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কতজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়?
  1. ২৯ জন
  2. ৩৪ জন
  3. ৩৫ জন
  4. ৪৪ জন
সঠিক উত্তর:
৩৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র' মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,৯৯২.
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ অনুসারে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব?
  1. ক) ১১২৫ জন
  2. খ) ১১৩৫ জন
  3. গ) ১১৪০ জন
  4. ঘ) ১১৪৫ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ১১৪০ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১৪০ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ অনুসারে,
- মোট জনসংখ্যা ১৭.০৮ কোটি।
- প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১,১৪০ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.৩৭%।
- পুরুষ-মহিলা অনুপাত: ১০০.২ : ১০০।
- প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৭২.৮ বছর।
- স্বাক্ষরতার হার (৭ বছরের অধিক) ৭৫.২%।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
৫,৯৯৩.
বাংলার ওয়াহাবিরা কার নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল?
  1. এ.কে ফজলুল হক
  2. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  3. মওলানা ভাসানী
  4. তিতুমীর
সঠিক উত্তর:
তিতুমীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতুমীর
ব্যাখ্যা
ওয়াহাবি আন্দোলন:
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়।
- পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
- আর পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।
- ওয়াহাবি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিতুমীর।
- ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে এ আন্দোলন শুরু এবং শেষ হয় ১৮৩১ ক্রিস্টাব্দে তিতুমীরের শাহাদাৎ বরণের মধ্য দিয়ে।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

⇒ ওয়াহাবি আন্দোলনের উদ্দেশ্য -
- তিতুমীরের পরিচালিত তাহরিক-ই-মুহাম্মদীয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার।
- পরবর্তিতে এটি একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। যা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন।
- নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ইংরেজ সরকার, জমিদার নীলকরদের ঐক্যবদ্ধ আক্রমণের মুখে তিতুমীর ও তার বাহিনী পরাজিত হয়।
- এ আন্দোলন ব্যর্থ হলেও পরবর্তিকালে স্বাধীনতা আন্দোলনে এই সংগ্রাম প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৯৪.
লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ক) ৭ জানুয়ারি ১৯১৪
  2. খ) ১৭ মার্চ ১৯১৫
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯১৬
  4. ঘ) ১৯ ডিসেম্বর ১৯১৬
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯১৬
ব্যাখ্যা
১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ভারতের শাসনতান্ত্রিক সরকারের নীতির প্রশ্নে লক্ষ্মৌ শহরে যে চুক্তি সম্পাদন করেন তা-ই ইতিহাসে লক্ষ্মৌ চুক্তি নামে খ্যাত। এ চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে - জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগীতা বৃদ্ধি, স্বরাজ অর্জন ইত্যাদি। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
৫,৯৯৫.
স্বাধীনতার পর প্রথম ডাকটিকিটে কোন ছবি ছিল?
  1. সোনা মসজিদ
  2. জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  3. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
  4. লালবাগ কেল্লা
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার পর প্রথম ডাকটিকিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ছিল।

বাংলাদেশের ডাকটিকিট:
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই।
- ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ নামে প্রথম ৮টি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়।
- এই ৮টি ডাকটিকিট স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 
- ডাকটিকিটগুলোর নকশা করেছিলেন প্রবাসী বাঙালি বিমান মল্লিক।

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রকাশিত প্রথম ডাকটিকিটে ছিল ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি।
- মুক্তিযুদ্ধ শেষে প্রথম স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে।
- প্রথম ডাকটিকিটটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত গাঢ় লাল, নীল ও বেগুনী রঙের।
- ১০ পয়সা মূল্যের এই ডাকটিকিটের বার্তা হলো আমাদের ভূখণ্ড এবং দেশের পরিচয় বিশ্বকে জানানো।
- আর ডাকটিকিটে বাংলাদেশের মাঝ বরারর যাওয়া কর্কটক্রান্তি রেখা দেয়া হয়েছে।
- তারপর বাংলাদেশ ডাকবিভাগ অবিরাম নির্দিষ্ট স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে চলছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, উত্তরাধিকার ও সংস্কৃতির উপর।

উল্লেখ্য,
- ২৯ জুলাই জাতীয় ডাকটিকিট দিবস। ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই থেকে বাংলাদেশে 'জাতীয় ডাকটিকিট দিবস' পালিত হয়ে আসছে।

উৎস: i) ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৫,৯৯৬.
আওরঙ্গজেব কত বছর দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেন?
  1. ১৫ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ৩০ বছর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ বছর
ব্যাখ্যা
আওরঙ্গজেব:

- ১৬৫৮ খিষ্টাব্দে আওরঙ্গজেব বাদশাহ আলমগীর উপাধি নিয়ে মোগল সিংহাসনে বসেন।
- ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব।
- ঐতিহাসিক স্টেন্সি লেনপুল আওরঙ্গজেবকে মোগল বংশের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী শাসক বলেছেন।
- তিনি আকবর অপেক্ষা বৃহত্তর সাম্রাজ্য শাসন ও বিশালতর সৈন্যবাহিনীর অধিনায়কত্ব করেছিলেন। সম্রাট হয়েও তিনি সরল ও পবিত্র জীবনযাপন করতেন।
- আওরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য বিজয়কে তিন পর্যায়ে ভাগ করা যায়।
- আওরঙ্গজেব দীর্ঘ ২৫ বছর (১৬৮২- ১৭০৭ খ্রি.) দাক্ষিণাত্যে অবস্থান করেছিলেন।
- এ সময়ে শম্ভুজী পরাজিত ও নিহত হন এবং তাঁর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত মোগল- মারাঠা সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৯৭.
কোন তারিখে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাস হয়?
  1. ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট
  2. ১৮৫৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর
  3. ১৮৫৮ সালের ২ অক্টোবর
  4. ১৮৫৮ সালের ২ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় আইন সভা:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এই আইনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয়।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

⇒ ভারতবর্ষে ১৭৭২ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর আওতায় চার সদস্য বিশিষ্ট গভর্নর জেনারেল অ্যান্ড কাউন্সিলকে ক্ষুদ্র পরিসরের আইনসভা বলা যেতে পারে।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৬১ সালে ভারত সরকারকে বাংলায় প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভা স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- এর ফলে ১৮৬১ সালের ১আগস্ট ভারতীয় কাউন্সিল আইন ঘোষিত হয়।
- বঙ্গীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

⇒ ১৮৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গীয় আইনসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
- এই আইনসভায় লেফটেনেন্ট গভর্নর পদাধিকার বলে সভাপতি, ১২ জন মনোনীত সদস্য, যার মধ্যে চারজন মাত্র বাঙালি ছিলেন, বাকি ৮ জনের ৪ জন সরকারি সদস্য, ৪ জন বেসরকারি সদস্য ছিলেন।
- ১৮৯২ সালে ১৩ জনের স্থলে এই সভার সদস্য ২১ জন করা হলো।
- তবে এই প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার বিধান ছিল না।
- কিন্তু তারপরও বাংলার প্রতিনিধিত্বমূলক আইনসভাই বাংলাকে গণতান্ত্রিক আইনসভার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৯৯৮.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হয় কখন?
  1. ক) ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
  2. খ) ২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
  3. গ) ২৪ নভেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৫ নভেম্বর, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২১ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২১ শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করেছিল।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যােগ দেয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৯৯৯.
সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানীর নাম কী?
  1. ঢাকা
  2. জাহাঙ্গীরনগর
  3. গৌড়
  4. ইসলামপুর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা

• সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী ছিল — গৌড়।

• বাংলার প্রাচীন রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁও ও গৌড়:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোগড়াপাড়া ক্রসিং থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে সোনারগাঁও অবস্থিত।
- সবুজ বন-বনানী আর অনুপম স্থাপত্যশৈলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য়ের নান্দনিক ও নৈসর্গিক পরিবেশে ঘেরা বাংলার প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁও।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- অন্য ধারণামতে বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ’র স্ত্রী সোনাবিবি’র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদের মধ্যে শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সোনারগাঁও একটি গৌরবময় জনপদ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সুলতানি আমলে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং সর্বশেষ  রাজধানী গৌড় ছিল। সে আলোকে গৌড়  উত্তর নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও,
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্য়ন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও-এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।
- পানাম নগরের নির্মিত ভবনগুলো ছোট লাল ইট দ্বারা তৈরী।
- ইমারতগুলো কোথাও একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও সন্নিহিত।
- অধিকাংশ ভবনই আয়তাকার এবং উত্তর দক্ষিণে বিস্তৃত।দীর্ঘ একটি সড়কের উভয় পাশে দৃষ্টিনন্দন ভবন স্থাপত্যের মাধ্যমে পানামনগর গড়ে উঠেছিল।
- উভয় পাশে মোট ৫২টি পুরোনো বাড়ী এই ক্ষুদ্র নগরীর মূল আকর্ষণ।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওকে স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী করেন।
- জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ তার রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন। 
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করে রাজধানী গৌড় থেকে একডালাতে স্থানান্তরিত করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৬,০০০.
'এনফিল্ড' কীসের নাম?
  1. ক) নির্বতনমূলক আইন
  2. খ) রাইফেলের নাম
  3. গ) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বন্দিশালা
  4. ঘ) ব্রিটিশ সরকার প্রদত্ত সম্মাননা
সঠিক উত্তর:
খ) রাইফেলের নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইফেলের নাম
ব্যাখ্যা
- এনফিল্ড হলো একটি রাইফেলের নাম। এটি ১৮৫৬ সালে ভারতীয় বাহিনীতে প্রবর্তন করা হয়।
- এই রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। কিন্তু গুজব রটে যে এর গুলির কার্তুজ গরু ও শূকরের চর্বি দিয়ে তৈরি। ফলে ভারতীয় মুসলিম ও হিন্দু সৈনিকরা এ রাইফেলের প্রবর্তনকে তাদের ধর্মনাশের অংশ হিসেবে দেখে।
- এই ঘটনাকে সিপাহী বিদ্রোহের আশু কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)