বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬২ / ১২৪ · ৬,১০১৬,২০০ / ১২,৪২১

৬,১০১.
হলওয়েল মনুমেন্ট কোন ঘটনার সাথে জড়িত?
  1. ক) চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন
  2. খ) অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড
  3. গ) কলকাতা রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ
  4. ঘ) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যকাণ্ড
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা
- হলওয়েল মনুমেন্ট হলো ইংরেজদের কথিত অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড স্মরণে নির্মিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ।
- ১৭৫৬ সালের জুন মাসে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ আক্রমণ সময় নবাবের বাহিনীর হাতে আটক ইংরেজদের ১২৩ জনকে অন্ধকার বন্দিশালায় রেখে হত্যার বানোয়াট কাহিনী অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত। বন্দিশালা থেকে বেঁচে যাওয়া জন জেফেনিয়াহ হলওয়েল এই কাহিনী করেন।
- ইংরেজরা পরবর্তীতে অন্ধকূপ হত্যাকাণ্ড স্মরণে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং এর পাশে হলওয়েল মনুমেন্ট নির্মাণ করে।
- প্রথমবার এটি নির্মাণের পর ভেঙে ফেলা হলেও ১৯০২ সালে লর্ড কার্জন পুনরায় এটি নির্মাণ করেন। ১৯৪০ সালে শেরে বাংলা সরকার পুনরায় এটি অপসারণ করে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক সংগ্রাম)
৬,১০২.
গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমতট
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. তাম্রলিপ্ত
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা

সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।

৬,১০৩.
প্রাচীন বাংলার যে জনপদ পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত ছিল তার নাম -
  1. বঙ্গ
  2. চন্দ্রদ্বীপ
  3. সমতট
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

অন্যদিকে -
⇒ চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’।

⇒ বঙ্গ জনপদ:
- বৃহত্তম ঢাকা ও ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর আগে বঙ্গ জনপদের অধীনে ছিল।

⇒ বরেন্দ্র জনপদ:
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।
পুণ্ড্র জনপদ: এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১০৪.
মহামুনি বিহার অবস্থিত-
  1. দিনাজপুরে
  2. কুমিল্লায়
  3. চট্টগ্রামে
  4. রাঙ্গামাটিতে
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রামে
ব্যাখ্যা
• বিহার:
- মহামুনি বিহার ও পণ্ডিত বিহার চট্টগ্রামে (রাউজান) অবস্থিত।
- সীতাকোট বিহার দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শতকে এটি নির্মাণ করা হয়।
- রাজবন বিহার রাঙ্গামাটিতে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের বৌদ্ধদের বৃহত্তম তীর্থস্থান।
- ভাসু বিহার দিনাজপুর জেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত।
- আনন্দ বিহার ময়নামতি, কুমিল্লায় অবস্থিত। 

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া। 
৬,১০৫.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে -
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ২৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২৪ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 

- মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলের - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১০৬.
তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ছিলেন কে?
  1. শাহেদ আলী
  2. আবুল কালাম
  3. কামরুদ্দীন আহমদ
  4. আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহেদ আলী
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

উল্লেখ্য: 
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
৬,১০৭.
কোন পরিব্রাজক সপ্তম শতকে প্রাচীন জনপদ সমতটে এসেছিলেন?
  1. ইবনে বতুতা
  2. মারকো পোলো
  3. হিউয়েন সাঙ
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
হিউয়েন সাঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিউয়েন সাঙ
ব্যাখ্যা
• সমতট:
- সপ্তম শতকে প্রাচীন জনপদ সমতট ভ্রমণ করেছিলেন চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ।
- তিনি ভারতসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করে বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।
- তাঁর ভ্রমণ বিবরণ থেকে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল এবং এর কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার লালমাই অঞ্চল। তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যা থেকে বোঝা যায় যে সমতট ছিল একটি বৌদ্ধ সংস্কৃতির কেন্দ্র।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট নামে পরিচিত ছিল এবং এটি ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল।

অন্যদিকে: 
- ইবনে বতুতা চতুর্দশ শতকে বাংলাদেশে আসেন। 
- ‘মেগাস্থিনিস’ ছিলেন সেলুকাসের প্রেরিত দূত। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১০৮.
বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা সর্বপ্রথম শুরু হয় -
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস:
- BCS-এর পূর্ণরূপ: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (Bangladesh Civil Service)।
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে কর্মকর্তা বা ক্যাডার নিয়োগের পরীক্ষাকে বলা হয় বিসিএস পরীক্ষা (BCS Examination)।
 বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (Bangladesh Public Service Commission – BPSC) দ্বারা এই পরীক্ষা গৃহীত হয়ে থাকে।

⇒ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস যা ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন আমলের ইম্পেরিয়াল সিভিল সার্ভিস থেকে উদ্ভুত হয়েছে।
- জনগণের ভোটে নির্বাচিত নীতিনির্ধারকদের প্রণীত নীতি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ কর্ম কমিশন বা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) কতৃক নিয়োগকৃত যে বেসামরিক কর্মকর্তা বা কর্মচারিরা কাজ করেন, তাদেরকেই বিসিএস ক্যাডার (BCS Cadre) বলা হয়।
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রণীত বিসিএস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪ অনুযায়ী বিসিএস-এর নিম্নোক্ত ২৬টি ক্যাডারে উপযুক্ত প্রার্থী নিয়োগের উদ্দেশ্যে কমিশন কর্তৃক ৩ স্তরবিশিষ্ট পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। বাছাই পরীক্ষা হয় তিন ধাপে। ধাপগুলো হলো- প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা।

⇒ বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৭৩ সালে। স্বাধীনতার পর সেই বছর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) প্রথমবারের মতো বিসিএস-এর মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে তখনকার পরীক্ষা ছিল শুধুমাত্র মৌখিক (viva-voce) ভিত্তিক। এরপর পর্যায়ক্রমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ বিসিএস পরীক্ষা চালু হয়। 
- বাংলাদেশের প্রথম বিসিএস ক্যাডার মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আবুল কালাম।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশকে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়। তার ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চাকরির প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়। সংবিধানে সিভিল সার্ভিস শব্দটা ব্যবহার করা হয় নি, তবে সকল শ্রেণীর সিভিল সার্ভেন্টকে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরি সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক অধ্যায় (১৩৬ নং অনুচ্ছেদে) অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। প্রথম, এই অনুচ্ছেদে সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের চাকরির শর্তাবলি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদকে দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়, এতে সরকারকে সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠন করার এবং সিভিল সার্ভিস সদস্যদের অসুবিধা ঘটতে পারে চাকরির এমন শর্তাবলি পরিবর্তন করারও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

⇒ পাকিস্তান আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এই সিভিল সার্ভিসকে পুনর্গঠিত করার কাজেও সরকার হাত দেয়। এই লক্ষ্যে সরকার প্রশাসনিক ও চাকরি পুনর্গঠন কমিটি (এএসআরসি, ১৯৭৩) নামে একটি কমিটি গঠন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম.এ চৌধুরী ছিলেন এই কমিটির প্রধান। চাকরি পুনর্গঠনে সরকারের ক্ষমতাকে কার্যকারিতা দেয়ার জন্য ১৯৭৫ সালে চাকরি (পুনর্গঠন ও শর্তাবলী) অধ্যাদেশ এবং এতদসংক্রান্ত একটা আইন জারি করা হয়। এই ক্যাডারের রিক্রুটমেন্ট করা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে, তবে বিধিবিধান প্রণীত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে।

উৎস: i) বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন।
ii) বাংলাপিডিয়া।
iii) প্রথম আলো।

৬,১০৯.
"এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি" এর রচয়িতা-
  1. জহির রায়হান
  2. গাফ্ফার চৌধুরী
  3. শামসুর রাহমান
  4. মাহবুব আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মাহবুব আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ - এই কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট 'ভাষা আন্দোলন'।
------------------ 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের। সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
মাহবুব উল আলম চৌধুরী তখন অসুস্থ; তাঁর শরীরে জলবসন্তের চিহ্ন। রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
--------------- 
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী  ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের আসাদ চৌধুরীর বাড়িতে। 

---------------
কবিতার কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না
----------------  
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,১১০.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬,১১১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. আবদুল মতিন
  2. শামসুল আলম
  3. নূরুল হক ভূঁইয়া
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূঁইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরুল হক ভূঁইয়া
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

⇒ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে।
- এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।

⇒ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

⇒ ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৬,১১২.
'কণিষ্ক' কোন বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন?
  1. পাল
  2. কুষাণ
  3. মৌর্য
  4. গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
কুষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষাণ
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১১৩.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করে শহীদ হন?
  1. ক) ৫নম্বর
  2. খ) ৬ নম্বর
  3. গ) ৭ নম্বর
  4. ঘ) ৪ নম্বর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ নম্বর
ব্যাখ্যা

তিনি ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে হামিদুর রহমান ১ম ইস্টবেঙ্গলের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন।

-তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তার বয়স ছিল ১৮ বছর।

-১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ধলইয়ে অসম সাহসীকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি

৬,১১৪.
প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন 'উয়ারী বটেশ্বর' কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. করতোয়া
  3. মহানন্দা
  4. চিত্রা
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,১১৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয় কোন ব্রিগেড ফোর্স?
  1. জেড ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. এস ফোর্স
  4. এল ফোর্স
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা

ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১১৬.
স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসন:
- ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেন।
- প্রায় তিন মাসের মতো ক্ষমতায় ছিলেন মোশতাক।
- মোশতাকের স্বল্পকালীন শাসনকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে।
- ক্ষমতা দখল করে পাঁচ দিনের মাথায় মোশতাক স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৬,১১৭.
বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. শাহ আবদুল হামিদ
  2. মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
  3. আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  4. মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ২২শে মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরী সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন। ৭ এপ্রিল এটির সংশোধনী আদেশ জারি করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ৪১৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ।
- ১০ ও ১১ই এপ্রিল এই অধিবেশনের মোট দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে গণপরিষদের কার্যপ্রণালি বিধি প্রণীত হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৬,১১৮.
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) কোথায় অবস্থিত?
  1. আগারগাঁও, ঢাকা
  2. মতিঝিল, ঢাকা
  3. খিলগাঁও, ঢাকা
  4. মিরপুর, ঢাকা
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁও, ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁও, ঢাকা
ব্যাখ্যা
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট (ইটিআই):
- নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট।
- এর যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালে।
- এ প্রতিষ্ঠানটি নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নির্বাচনি কর্মকান্ডের সাথে সংশিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোটার রেজিস্ট্রেশন কাজে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে আসছে।
- নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইটিআই শুরু থেকে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
- নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ঢাকার আগারগাঁও-এ অবস্থিত।

উৎস: নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৬,১১৯.
'শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয়' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) অতুল প্রসাদ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয়' গানটির রচয়িতা হলেন কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
গানটির অংশবিশেষ নিম্নরূপ:
 
শূন্য এ-বুকে পাখি মোর আয়
ফিরে আয় ফিরে আয়!
তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল
অকালে ঝরিয়া যায়॥
 
তুই নাই বলে ওরে উন্মাদ
পান্ডুর হলো আকাশের চাঁদ
কেঁদে নদী হলো করুণ বিষাদ
ডাকে আয় তীরে আয়।।

আকাশে মেলিয়া শত শতকর
খোঁজে তোরে তবু ওরে সুন্দর
তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড়
লুটায় লতা ধূলায়।।

তুই ফিরে এলে ওরে চঞ্চল
আবার ফুটিবে বন ফুল দল
ধূসর আকাশ হইবে সুনীল
তোর চোখের চাওয়ায়।।
৬,১২০.
ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কে?
  1. রফিক উদ্দিন আহমদ
  2. আবুল বোরহান
  3. আব্দুস সালাম
  4. আবুল বরকত
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকত
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন: 
- ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন করাচি থেকে ঢাকায় আসেন।
- তিনি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন যে, প্রদেশের সরকারি কাজকর্মে কোন ভাষা ব্যবহূত হবে তা প্রদেশের জনগণই ঠিক করবে।
- কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে কেবল উর্দু।
- ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের (১৯০৫-৭৪) সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাংশে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রদের সভা হয়।
- ছাত্ররা পাঁচ-সাতজন করে ছোট ছোট দলে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
- পুলেশের গুলিতে  রফিক উদ্দিন আহমদ,  আবদুল জববার,  আবুল বরকত নিহত হয়।
- আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।


উল্লেখ্য, 
- ভাষা আন্দোলন-এ আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রফিক উদ্দিন আহমদকে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
- আবদুস সালাম তৎকালীন ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের 'পিয়ন' হিসেবেকর্মরত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,১২১.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে কোন জেলায় সমাহিত করা হয়?
  1. রাজশাহী
  2. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. মৌলভীবাজার
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৬,১২২.
মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বপূর্ণ খেতাব কোনটি?
  1. বীর প্রতীক
  2. বীর বিক্রম
  3. বীর উত্তম
  4. বীরশ্রেষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- যথা:
১. বীরশ্রেষ্ঠ,
২. বীর উত্তম,
৩. বীর বিক্রম,
৪. বীর প্রতীক।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৬,১২৩.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি প্রদান করেন -
  1. ক) শামসুল হক
  2. খ) আ স ম আব্দুর রব
  3. গ) তোফায়েল আহমেদ
  4. ঘ) শাহজাহান সিরাজ
সঠিক উত্তর:
গ) তোফায়েল আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
• ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
• বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
• মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য”। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
• মোট ১০০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। সরকার পক্ষে মামলায় ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়। 
• এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।
• ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন।
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা (১৮ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯) নিহত হলে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,১২৪.
'৩৬ ডেইজ অব জুলাই: স্যালুটিং দ্য ব্রেভহার্টস' হচ্ছে -
  1. জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রদর্শনী
  2. জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে চলচ্চিত্র
  3. জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বই
  4. জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গান
সঠিক উত্তর:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রদর্শনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রদর্শনী
ব্যাখ্যা
৩৬ ডেইজ অব জুলাই: স্যালুটিং দ্য ব্রেভহার্টস:
- দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার সাহস, দৃঢ়তা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাজধানী ফার্মগেটে প্রদর্শনী আয়োজন করেছে।

উল্লেখ্য, 
- প্রদর্শনীতে ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত আলোকচিত্র, স্লোগান, গ্রাফিতি ও সংবাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
- "৩৬ ডেইজ অব জুলাই: স্যালুটিং দ্য ব্রেভহার্টস" প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১-৭ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত, ডেইলি স্টার সেন্টারে।
- এটি ছাত্র-জনতার সাহসিকতা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত।
- আলোচনায় মিলান কুন্ডেরার "বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির লড়াই" উদ্ধৃত করা হয়।

উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা নিউজ ও প্রথম আলো নিউজ।
৬,১২৫.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে কোন দিবস পালিত হয়?
  1. শিশু দিবস
  2. নারী দিবস
  3. শিক্ষা দিবস
  4. স্বাস্থ্য দিবস
সঠিক উত্তর:
শিশু দিবস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশু দিবস
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিশু দিবস:
- ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস।
- ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মদিনকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করে।
- সেই থেকে ১৭ই মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬,১২৬.
কোন মুঘল সুবেদার লালবাগ কেল্লা তৈরি করেন?
  1. ক) ইসমাইল খাঁ
  2. খ) শায়েস্তা খাঁ
  3. গ) আলীবর্দী খান
  4. ঘ) মীর মানস
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খাঁ
ব্যাখ্যা

- মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। তাঁর সুবাদারী শাসনকাল দুপর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম দফায় ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ খ্রি: পর্যন্ত এবং শেষে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৮ খ্রি: পর্যন্ত তিনি বাংলার সুবাদার ছিলেন।
শায়েস্তা খানের কীর্তি-
- চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ।
- সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন।
- তিনি বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছােট কাটারা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধিসৌধ, হােসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

৬,১২৭.
Who introduced Bengali New Year (Beginning from 1st Baishakh)?
  1. ক) Akbar
  2. খ) Sultan Mahmod
  3. গ) Lakhan Sen
  4. ঘ) Sher Shah
সঠিক উত্তর:
ক) Akbar
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Akbar
ব্যাখ্যা
বাংলা নববর্ষ:

- বাংলা নববর্ষের প্রচলন করেন আকবর।
- মুগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- কার্যকর হয় তাঁর সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। 
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা  বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকে।
- বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা।
- বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) উপজাতীয়দের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’ আনন্দমুখর পরিবেশে পালিত হয়।
- বৈসাবি হলো পাহাড়ীদের সবচেয়ে বড় উৎসব।
- এ উৎসবকে চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরারা বৈসুক বলে আখ্যা দিলেও গোটা পার্বত্য এলাকায় তা বৈসাবি নামেই পরিচিত। বৈসুক, সাংগ্রাই ও বিজু এই নামগুলির আদ্যক্ষর নিয়ে বৈসাবি শব্দের উৎপত্তি। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,১২৮.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ) কত তারিখে শহীদ হন?
  1. ১৩ জুলাই ২০২৪
  2. ১ আগস্ট ২০২৪
  3. ১৮ জুলাই ২০২৪
  4. ২৬ জুলাই ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই ২০২৪
ব্যাখ্যা

• মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ):
- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)।
- ২০২৩ সালের মার্চে স্নাতক শেষ করে তিনি খুলনা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান।
- ১৮ জুলাই ২০২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
- মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আন্দোলনরত ক্লান্ত-শ্রান্ত শিক্ষার্থী-জনতাকে ‘ভাই, পানি লাগবে? পানি?’ বলছিলেন। 

উৎস: প্রথম আলো।

৬,১২৯.
বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কী নামকরণ করেছিলেন?
  1. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
  2. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  3. রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র মামলা
  4. পশ্চিম পাকিস্তান ষড়যন্ত্র মামলা
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। 
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,১৩০.
বাংলাদেশে প্রথম অস্থায়ী সরকার কখন গঠিত হয়?
  1. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ২৭ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩১.
নানকার বিদ্রোহ কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
নানকার বিদ্রোহ:
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটে সংঘটিত হয়েছিল।

⇒ 'নানকার বিদ্রোহ' সিলেট অঞ্চলের একটি কৃষক-আন্দোলন, যা ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ সালে সংঘটিত হয়।
- জমিদারের ভূমিদাসদের একটি প্রথাকে 'নানকার প্রথা' বলা হতো।
- বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫০ সালে জমিদারপ্রথা বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

⇒ বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাসে বিশেষ করে অধিকারহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব গৌরবমণ্ডিত আন্দোলন-বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো 'নানকার বিদ্রোহ'। 
- ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আমলে সামন্তবাদী ব্যবস্থার সবচেয়ে নিকৃষ্টতম শোষণ পদ্ধতি ছিল নানকার প্রথা।
- নানকার প্রজারা জমিদারের দেওয়া বাড়ি ও সামান্য কৃষি জমি ভোগ করত; কিন্তু ওই জমি ও বাড়ির ওপর তাদের কোনো মালিকানা ছিল না।
- নানকার প্রজারা বিনা মজুরিতে জমিদারের বাড়িতে কাজ করত।
- চুন থেকে পান খসলেই তাদের ওপর চলত অকথ্য নির্যাতন।
- মূলত সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার রেঙ্গা পরগনাসমেত এই অঞ্চলে এই সামন্তপ্রথাটি প্রচলিত ছিল। সামন্ত ভূমালিকদের সিলেট অঞ্চলে মিরাশদার এবং বড় মিরাশদারকে জমিদার বলা হতো। 
- ১৯২২ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় দানা বাঁধতে থাকল নানকার আন্দোলন।
- কমরেড অজয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চলতে থাকে নানকার কৃষকসহ সব নির্যাতিত জনগণকে সংগঠিত করার কাজ। 
- সে সময় অজয় ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে কাজ করেছেন শিশির ভট্টাচার্য্য, ললিত পাল, জোয়াদ উল্ল্যা, আব্দুস সোবহান ও শৈলেন্দ্র ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েক জন। তাদের নেতৃত্বে নানকার কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে জমিদারের বিরুদ্ধে। বন্ধ হয়ে যায় খাজনা দেওয়া, এমনকি জমিদারদের হাট-বাজারের কেনাকাটা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় জমিদার ও তার লোকজনকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

উৎস: i) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩২.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতবার সামরিক আইন জারি করা হয়?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৪ বার
  4. ঘ) ৫ বার
সঠিক উত্তর:
ক) ২ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ বার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ২ বার সামরিক আইন জারি করা হয়।
-১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতাসীন হয়ে দেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করে।
- ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন।
- দ্বিতীয়বার ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ কর্তৃক সামরিক আইন জারি করা হয়।
- যা ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর প্রত্যাহার করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
৬,১৩৩.
দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. জওহরলাল নেহরু
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের চল্লিশের দশকে ‍মুহম্মদ আলী জিন্নাহ হিন্দু-মুসলিম পৃথক জাতিসত্ত্বা সম্পর্কিত দ্বি-জাতি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
এই দ্বি-জাতি তত্ত্বের আলোকেই লাহোর প্রস্তাব ও দিল্লি প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
জিন্নাহ’র পূর্বে স্যার সৈয়দ আহমদ খান এবং আল্লামা ইকবাল মুসলিম জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,১৩৪.
তমদ্দুন মজলিশ নামক সংগঠন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. আবুল কাশেম
  2. গোলাম মাহবুব
  3. আব্দুর রহমান
  4. আব্দুল হামিদ খান
সঠিক উত্তর:
আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- 'তমদ্দুন মজলিশ' নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাষার প্রশ্নে সোচ্চার হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তারিখে উক্ত সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
- তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬,১৩৫.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কত সালে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৭৯১ সালে
  2. ১৭৯০ সালে
  3. ১৭৯৫ সালে
  4. ১৭৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

 চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত  ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি। 

- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬,১৩৬.
আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
  1. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ৭ মার্চ, ১৯৭১
  4. ২৫ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বলতে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে বোঝানো হয়।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলায় (পরবর্তী নাম মুজিবনগর) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপরিষদ সদস্য অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- ঘোষণার মাধ্যমে নবগঠিত আইন পরিষদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে।
- ঘোষণায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়।
- ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়।
- এ ঘোষণাবলে প্রবাসী মুজিবনগর সরকার বৈধ বলে বিবেচিত হয়।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য,
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনা সংযুক্ত করা হয়।
- ৭ম তফসিলে ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,১৩৭.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে নিচের কোন দাবিটি ছিল না?
  1. মার্শাল ল জারি করা
  2. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
  3. রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত
  4. জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
সঠিক উত্তর:
মার্শাল ল জারি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্শাল ল জারি করা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে মার্শাল ল জারি করার দাবিটি ছিল না।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ১৯৭১-এ প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি তাঁর স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক বক্তব্য ছিল, পূর্বে তৈরি করা বক্তৃতা নয়।
- এটিকে অনেকেই রাজনীতির কবিতা বলে থাকেন।
- তাঁর এই ভাষণকে তুলনা করা হয় আব্রাহাম লিংকন, উইনস্টন চার্চিল, মার্টিন লুথার কিং ও পেরিক্লিসের মহতী যুগান্তকারী ভাষণগুলোর সাথে।
- এর মহত্ত্ব ও বিরাটত্বের কারণে ২০১৭ সনের অক্টোবরে জাতিসংঘের এডুকেশন, কালচার ও সাইন্টিফিক অর্গানাইজেশন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অসাধারণ ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
- ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তোলা হয়।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,১৩৮.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্য, শিল্প ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এম. মনসুর আলী
  4. ঘ) এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
গ) এম. মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার

১০ এপ্রিল, ১৯৭১ ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশের সরকার গঠন করা হয়। এই সরকার ছিল ৬ সদস্যবিশিষ্ট রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির। সরকার গঠনের পর শিলিগুড়ির একটি জঙ্গল থেকে তাজউদ্দিন আহমেদ একটি বেতারের মাধ্যমে সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।



তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,১৩৯.
'India Wins Freedom' কার আত্মজীবনীমূলক বই?
  1. ক) পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু
  2. খ) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  3. গ) সুভাষচন্দ্র বসু
  4. ঘ) এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
ব্যাখ্যা
India Wins Freedom বইটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়। আবুল কালাম আজাদ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি এবং ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৬,১৪০.
শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি স্থাপিত হবে -
  1. ক) গোপালগঞ্জ
  2. খ) রংপুর
  3. গ) জামালপুর
  4. ঘ) যশোর
সঠিক উত্তর:
খ) রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রংপুর
ব্যাখ্যা
- শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি স্থাপিত হবে - রংপুরে।
- বাংলাদেশে আরও দুটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হচ্ছে।
- এর মধ্যে একটি হবে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায়, আরেকটি রংপুর জেলায়।
- জামালপুরের পল্লী উন্নয়ন একাডেমির নাম হবে শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর।
- আর রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির নাম হবে শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর।
- মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই দুটি একাডেমি করার জন্য আইনের খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

উৎস:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, এপ্রিল ২০২২।
৬,১৪১.
অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় জেনারেল রাও ফরমান আলী কোন শহরের নেতৃত্ব দেন?
  1. ঢাকা
  2. যশোর
  3. কুমিল্লা
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে, সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা।
- অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। এতে হাজার হাজার নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং অন্যান্য স্থানগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪২.
হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
  1. কৃষ্ণাবতার
  2. জগৎভূষণ
  3. নৃপতি তিলক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৪৩.
কোনটি ভারতের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে?
  1. পলাশীর যুদ্ধ
  2. পানিপথের যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ
  4. ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
পলাশীর যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশীর যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ:
- পলাশীর যুদ্ধ ভারতের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানের যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়।
- ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।
- প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটতি হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরচিতি।
- ক্লাইভ ১৭৫৭ সালে সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাজিত করেন এবং কলকাতা দখল করেন।
- এই যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজতি হন এবং ভারতবর্ষে ইংরজে শাসন প্রতষ্ঠিার পথ সূচিত হয়।
- নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে জগৎশেঠ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ ও উমিচাদ।
- নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করেন মীরমদন, মোহন লাল ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,১৪৪.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. আলীবর্দী খান
  3. মুর্শিদকুলি খান
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
মুর্শিদ কুলি খান:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবি আমলের সূচনা হয়।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
 - তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- তাঁর কন্যা জিনাত-উন-নেসা।

⇒ অপরদিকে,
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন হোসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- বাংলায় বর্গীদের দমনে সবচেয়ে অবদান আলীবর্দী খান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৪৫.
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডারের সংখ্যা -
  1. ২৫টি
  2. ২৬টি
  3. ২৭টি
  4. ২৮টি
সঠিক উত্তর:
২৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশে তার প্রতিরূপ সংস্থাসমূহের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত মানব সম্পদ পরিকল্পনায় উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভূমিকা পালন করছে।
- কর্ম কমিশন দেশব্যাপি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে।
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ক্যাডার ২৬টি।

বিসিএস-এর ২৬টি ক্যাডারের নাম:
১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন),
২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কৃষি),
৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (আনসার),
8. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (নিরীক্ষা ও হিসাব),
৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সমবায়),
৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শুল্ক ও আবগারি),
৭. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিবার পরিকল্পনা),
৮. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (মৎস্য),
৯. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (খাদ্য),
১০. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র),
১১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বন),
১২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সাধারণ শিক্ষা),
১৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য),
১৪. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (তথ্য),
১৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পশু সম্পদ),
১৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পুলিশ),
১৭. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ডাক),
১৮. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল),
১৯. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (গণপূর্ত),
২০. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে প্রকৌশল),
২১. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক),
২২. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সড়ক ও জনপথ),
২৩. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পরিসংখ্যান),
২৪. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কর),
২৫. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (কারিগরি শিক্ষা),
২৬. বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বাণিজ্য)।

উৎস: বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন।
৬,১৪৬.
মহান মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনী কখন গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৭১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ১৯৭১ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৭১ সালে ২৮ অক্টোবর
  4. ঘ) ১৯৭১ সালে ২৯ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর এ কে খন্দকারের নেতৃত্বে বিমান বাহিনী গঠিত হয়।
- ভারতীয় বিমান বাহিনীর সহায়তায় ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে ‘কিলো ফ্লাইট’ নামে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
- ২০২১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী  বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৪৭.
'মাৎস্যন্যায়' সম্পর্কে জানা যায় কোন গ্রন্থে?
  1. রামচরিতম কাব্য
  2. আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্প
  3. হর্ষচরিত কাব্য
  4. মেঘদূতম
সঠিক উত্তর:
রামচরিতম কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামচরিতম কাব্য
ব্যাখ্যা

• মাৎস্যন্যায়:
- মাৎস্যন্যায়  রাজা শশাঙ্ক এর মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের অব্যবহিত পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।

⇒ ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে। রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়। সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে। মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০-৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।
- বাংলা অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা যখন চরমে, তখন সিংহাসনে বসেন রাজা গোপাল। রাজা গোপালের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাল বংশ। রাজা গোপাল সিংহাসনে বসার মাধ্যমে অবসান ঘটে মাৎস্যন্যায়ের। 

উল্লেখ্য,
- সংস্কৃত শব্দ মাৎস্যন্যায়ের আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের ন্যায়’।
- মাছেদের জগতে যেমন বড় মাছ ছোট ছোট মাছ খেয়ে ফেলে; তেমনি মানবসমাজে দুর্বলরা সবলদের হাতে, ক্ষমতাহীনরা শোষিত হয় ক্ষমতাবানদের হাতে।
- এভাবে অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলা গ্রাস করে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬,১৪৮.
শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্যটির নাম কী?
  1. সংশপ্তক
  2. সাবাস বাংলাদেশ
  3. স্ফুলিঙ্গ
  4. তর্জনী
সঠিক উত্তর:
স্ফুলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ফুলিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:
- ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ শামসুজ্জোহা দিবস।
- ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্রনায়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন ড. শামসুজ্জোহা।
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল পাক-হানাদার বাহিনী হটাও আন্দোলন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিসহ আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনে ফুঁসে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- তিনিই পাক-হানাদারদের হাতে নিহত প্রথম বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের সামনে নির্মিত হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য ‘স্ফুলিঙ্গ’।

উৎস: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।
৬,১৪৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা" এর উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ (৪)
  2. অনুচ্ছেদ (৪.২)
  3. অনুচ্ছেদ (৪.১)
  4. অনুচ্ছেদ (৪.৩)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ (৪.১)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ (৪.১)
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত:

- জাতীয় সঙ্গীত  ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ আয়োজিত  এক জনসভায় গানটি গীত হয়।
- ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের প্রাক্কালে গানটি গাওয়া হয়েছিল।
- ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রিয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা প্যারেডেও গানটি গীত হয়।

- মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি  স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত পরিবেশিত হতো।
- স্বাধীনতার পর সাংবিধানিকভাবে অনুচ্ছেদ (৪.১) ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়।
- গানের প্রথম ১০ ছত্র কণ্ঠসঙ্গীত এবং প্রথম ৪ ছত্র যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, 

৬,১৫০.
'জুলাই অভ্যুত্থান' - এ গেজেটভুক্ত শহীদ কত জন?
  1. ৮২৪ জন
  2. ৮৩৪ জন
  3. ৮৬৪ জন
  4. ৮৫৬ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৪ জন
ব্যাখ্যা
• জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সেখানে গেজেট প্রকাশের তারিখ লেখা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪।
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, গণ–অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,১৫১.
প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদ কোন কোন অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল?
  1. রাজশাহী ও দিনাজপুর
  2. বরিশাল ও খুলনা
  3. সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
  4. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।  

হরিকেল:

- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৫২.
ইবনে বতুতা কোন খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন?
  1. ১৩৪৪ খ্র্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৪৫ খ্র্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৪৭ খ্র্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও: 

- ১৩৩৫ থেকে ১৫৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সোনারগাঁও কখনো বাংলার রাজধানী আবার কখনো পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ছিল।
- মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্র্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও ভ্রমণ করেন।
- পানামের জমিদারেরা ব্রিটিশ বিরোধী স্বদেশী-আন্দোলন ও মহাত্মা গান্ধীর অহিংস-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক মোহাজের সমস্যা সোনারগাঁওয়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,১৫৩.
১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে 'উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা' সম্পর্কে ভাষণ দেন কে?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ:
- ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে 'উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা' সম্পর্কে ভাষণ দেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 

• ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ১০ দিনের সফরে পূর্ব পাকিস্তানে আসেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনি বেশ কয়েকটি জনসমাবেশে ভাষণ রাখেন। 
- ২১ মার্চ ১৯৪৮ রেসকোর্স ময়দানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর পূর্ব পাকিস্তান সফর উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশাল সমাবেশে জিন্নাহ বলেন, ‘উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হইবে, অন্য কোনো ভাষা নহে। যে কেহ অন্য পথে চালিত হইবে সেই পাকিস্তানের শত্রু’।
- ২৪ মার্চ তারিখে কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ঢাবি’র সমাবর্তনে তিনি পুনরায় ঘোষণা করেন ‘Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan’. জিন্নাহ যখন বলেন, উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা, তখন হলের মধ্যে বহু ছাত্র ‘না,না’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। জিন্নাহ কঠোর ভাষায় তাদেরকে শাসিয়ে দেন, ‘যে কোন অসাংবিধানিক আন্দোলন কঠোর হস্তে দাবিয়ে রাখা হবে’। ২৮শে মার্চ জিন্নাহ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় রেডিওতে তার দেয়া বক্তব্যে তার অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। 

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) মুক্তিযুদ্ধ-ই-আর্কাইভ। 

৬,১৫৪.
আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা কর্মসূচি অনুমোদন করা হয় কবে? 
  1. ৬ মার্চ, ১৯৬৬
  2. ১৩ মার্চ, ১৯৬৬
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
১৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
ছয়দফা কর্মসূচি অনুমোদন:

• ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন।
• ১৩ মার্চ, ১৯৬৬ আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়। 
• ১৮-১৯ মার্চ ১৯৬৬ কাউন্সিল অধিবেশনেও তা অনুমোদিত হয়। 
• কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কমিটি গঠিত হয়। 
• শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি এবং তাজউদ্দিন আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
• ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
• ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা উত্থাপন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৫৫.
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কত তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে?
  1. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৭ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৮ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৯ আগস্ট, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।

উৎস: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ওয়েবসাইট।

৬,১৫৬.
কোন মুঘল সুবাদার বারোভূঁইয়াদের দমন করেন?
  1. ক) কাসিম খান
  2. খ) ইসলাম খান
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) ইব্রাহীম খান
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
- মুঘল সুবাদার ইসলাম খান চিশতি বারোভূঁইয়াদের দমন করে। 
- তিনি ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। 
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে তিনি ঢাকার নাম রাখেন 'জাহাঙ্গীরনগর'। 
- ইসলাম খান চিশতি ১৬১১ সালে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। 
- ধোলাই খাল পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক এলাকা।
- ঢাকার প্রথম মুগল সুবাদার ইসলাম খান এই খাল খনন করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১৫৭.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য 'ইউ কে চিং মারমা'কে কোন বীরত্বসূচক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. বীরশ্রেষ্ঠ
  2. বীর উত্তম
  3. বীর বিক্রম
  4. বীর প্রতীক
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
ইউ কে চিং মারমা:
- ইউ কে চিং মারমা ১৯৩৭ সালে বান্দরবানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ সাল থেকে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন।
- আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একমাত্র তিনি খেতাব লাভ করেন।
- সম্মুখ যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে মুক্তিযুদ্ধের তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ ইপিআরের নায়েক হিসেবে রংপুর জেলার হাতিবান্ধা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন ইউ কে চিং।
- সেখান থেকে মেজর বাশারের নেতৃত্বে ৯ বাঙালি ইপিআর সৈনিক নিয়ে পাটগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেন।
- তিনি কর্মরত বিহারি ও দুই পাঞ্জাবিকে হত্যা করেন। 
- অপারেশন চালান রংপুর, লালমনিরহাট, পাখিউড়া, কাউয়াহাট, বাগভাণ্ডার, হাতিবান্দা, চৌধুরীহাট, ভূরুঙ্গামারী, জয়মনিরহাট, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, তিস্তা নদী, কুলাঘাট প্রভৃতি স্থানে।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘দি বাংলাদেশ গেজেট-এক্সট্রা অর্ডিনারি পাবলিশড বাই অথরিটি’ বইয়ের ক্রমিক নম্বর ১০০-তে তার ‘বীর বিক্রম’ প্রাপ্তির উল্লেখ আছে। 

উল্লেখ্য,
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: ২৬ জুলাই,২০১৪, bdnews24.com
৬,১৫৮.
কার কাছে পরাজিত হয়ে লক্ষণ সেন বাংলার সিংহাসন হারায়?
  1. ক) বখতিয়ার খলজি
  2. খ) আলীবর্দী খা
  3. গ) বল্লাল সেন
  4. ঘ) আলি মর্দান খলজি
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ার খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা

- বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।
- তিনি অশ্ব বিক্রেতার বেশে ১৭/১৮ জন অশ্বারোহীসহ লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে লক্ষণ সেন পালিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।
লক্ষণ সেন পলায়ন করলে বখতিয়ার খলজি বিনা বাধায় নদীয়া দখল করেন এবং গৌড়ের নাম পরিবর্তন করে লক্ষণাবতী রাখেন।
- তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় অবস্থান করে লক্ষণ সেন আরও ২/৩ বৎসর রাজত্ব করেন। খুব সম্ভব ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১২০৫ খ্রি:) তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
- লক্ষণ সেনের মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র বিশ্বরূপ সেন ও কেশব সেন কিছুকাল (১২০৩ খ্রি: পর্যন্ত) পূর্ব বাংলা শাসন করেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৬,১৫৯.
বৈরাগীর ভিটা কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) নাটোর
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর: কোনটি নয়। 

• বৈরাগী ভিটা বগুড়া মহাস্থানগড়ে অবস্থিত।
- এটি আনুমানিক ২৫০০ বছর পুরনো।
- সম্প্রতি এই ভিটায় ১৪০০ বছর আগের একটি স্থাপনার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- এর পূর্বেও এখানে তিনটি বৌদ্ধমন্দিরের সন্ধান পাওয়া যায়।

সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত
৬,১৬০.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৮১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালে সরকার প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করে।

⇒ ১ জানুয়ারী, ১৯৯৩ থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কার্যকর হয়।
- ১৯৭৪ সালে কুদরাত-এ-খুদা প্রণীত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন' ১৯৮৩ সালের মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার সুপারিশ করে।
- ১৯৮১ সালে পৃথক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয়।
- অন্যদিকে এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২১ আগস্ট, ১৯৯০ ইং ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কোস/সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তীতে ৩১ নভেম্বর, ১৯৯২ ইং তারিখে এর নামকরণ করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিট'।
- তার পূর্বে ১ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে প্রাথমিকভাবে ৬৮ টি উপজেলায় এই আইন চালু হয়।

উৎস: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৬,১৬১.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অপারেশন গুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম কী?
  1. অপারেশন বিগ বার্ড
  2. অপারেশন জ্যাকপট
  3. অপারেশন কিলো ফ্লাইট
  4. অপারেশন বিগ উইং
সঠিক উত্তর:
অপারেশন কিলো ফ্লাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন কিলো ফ্লাইট
ব্যাখ্যা
অপারেশন কিলো ফ্লাইট:
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস।
- ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
- অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অপারেশন গুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম।
- এই কিলো ফ্লাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন দুঃসাহসিক বিমান যোদ্ধারা।
- ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সম্ভাবনাটিও চিরতরে হারিয়ে ফেলেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও ডেইলি স্টার, ৯ ডিসেম্বর ২০২২।
৬,১৬২.
বাংলাদেশের ২১ তম রাষ্ট্রপতির নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) ৫ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৯ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ২৮ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ২১ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ হিসেবে কোথাও কোথাও ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং কোথাও কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ আছে। অপশনে ১৯ ফেব্রুয়ারি থাকায় এটাকেই উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
৬,১৬৩.
দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুত কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ফেনী
  2. কক্সবাজার
  3. চাঁদপুর
  4. পটুয়াখালী
সঠিক উত্তর:
ফেনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেনী
ব্যাখ্যা

বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুত কেন্দ্র ফেনী জেলায় অবস্থিত। 
- ২০০৪ সালে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নে মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকায় দেশের প্রথম বায়ুশক্তি চালিত বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মিত হয়।
- সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দিনে ৯০০ কিলোওয়াট (০.৯ মেগাওয়াট)।
- প্রকল্পটি নির্মাণ করে ভারতের নেবুলা টেকনো সল্যুশন কোম্পানি লিমিটেড।

অন্যদিকে,
- দেশের সবচেয়ে বড় বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র কক্সবাজারের খুরুশকুল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- চীনের অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০০ কোটি টাকা।
- কক্সবাজারের ৬০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

সূত্র -কালের কন্ঠ ও যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।

৬,১৬৪.
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. খাজা নাজিমুদ্দিন
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা। 
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। 
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৬৫.
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় কীভাবে?
  1. ৬ দফা দাবির মাধ্যমে
  2. ৮ দফা দাবির মাধ্যমে
  3. ১১ দফা দাবির মাধ্যমে
  4. ২১ দফা দাবির মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
১১ দফা দাবির মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ দফা দাবির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগ্রাম পরিষদ।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মেনন], পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন [মতিয়া], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
- ৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা। 
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই উনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,১৬৬.
তমুদ্দীন মজলিশ ছিল একটি-
  1. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান 
  2. সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 
  3. সামাজিক প্রতিষ্ঠান 
  4. অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান 
সঠিক উত্তর:
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান 
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি। এটি ছিলো ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো সাপ্তাহিক 'সৈনিক পত্রিকা'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।
- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণী।
৬,১৬৭.
তিতাস উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) রংপুর
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) যশোর
সঠিক উত্তর:
ক) কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
তিতাস উপজেলা কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গোমতী নদীর উত্তরাংশের ৯টি ইউনিয়নকে কর্তন করে ২০০৪ সালে এ উপজেলা গঠন করা হয়েছে।

সুত্রঃ titas.comilla.gov.bd
৬,১৬৮.
মুজিবনগর সরকারের উপ রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। খন্দকার মুশতাক আহমেদ ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৬,১৬৯.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২নং সেক্টর
  2. খ) ৪নং সেক্টর
  3. গ) ৭নং সেক্টর
  4. ঘ) ৮নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৬,১৭০.
মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চে কার অবস্থান রয়েছে?
  1. জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি
  2. শিক্ষা মন্ত্রণালয়
  3. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
  4. মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

- মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান। 

মাধ্যমিক শিক্ষা: 
- মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার শীর্ষে রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে একাধিক সংস্থা।
- কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা সম্বন্ধীয় যাবতীয় কর্মকা- পরিচালিত হয়ে থাকে।
- এসব বিভিন্নমুখী দায়িত্ব পালন করে থাকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চার ধরনের বিশেষীকৃত সংস্থা।

সূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,১৭১.
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট কোন আইন পাস হয়?
  1. ভারত ভাগ আইন
  2. ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট
  3. ভারত শাসন আইন
  4. রেগুলেটরি অ্যাক্ট
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত শাসন আইন
ব্যাখ্যা

ভারত শাসন আইন:
- সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হওয়ার পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট ভারত শাসন আইন নামক একটি আইন পাস করা হয়।
- এটি ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।
- ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট পার্লামেন্ট ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজ্যের উপর ন্যস্ত করা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 

৬,১৭২.
বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর কোনটি?
  1. বুড়িমারী
  2. জাফলং
  3. সোনা মসজিদ
  4. বেনাপোল
সঠিক উত্তর:
বেনাপোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেনাপোল
ব্যাখ্যা
বেনাপোল স্থলবন্দর:

- বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল।
- বেনাপোল স্থলবন্দর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তে অবস্থিত।
- মোট ৮৬.৬৮ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- স্থলবন্দরটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি/রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে কাজ করে।।
- বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ তল্লাশী ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত।
- স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজতর করার লক্ষ্যে ১২-০১-২০০২ খ্রিঃ তারিখে বেনাপোল স্থলবন্দর ঘোষণা।
- ০১-০২-২০০২ খ্রিঃ তারিখে স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করা হয়।
- দেশের স্থল বাণিজ্যের প্রায় ৯০% এ বন্দরের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
- বেনাপোল সীমান্ত হতে রাজধানীর দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিঃমিঃ এবং কোলকাতার দূরত্ব প্রায় ৮৪ কিঃমিঃ।
- স্থলবন্দরটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি/রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে কাজ করে।

তথ্যসূত্র - বেনাপোল স্থলবন্দর ওয়েবসাইট।
৬,১৭৩.
মহাস্থানগড় কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) গড়াই
  3. গ) মহানন্দা
  4. ঘ) করতোয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) করতোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) করতোয়া
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থান গড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,১৭৪.
‘পাকিস্তান’ নামের উদ্ভাবন করেন কে?
  1. ক) আল্লামা ইকবাল
  2. খ) লিয়াকত আলী খান
  3. গ) খাজা নাজিমউদ্দিন
  4. ঘ) চৌধুরী রহমত আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) চৌধুরী রহমত আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চৌধুরী রহমত আলী
ব্যাখ্যা
চৈৗধুরী রহমত আলী ১৯৩৩ সালে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৫টি ‍মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার জন্যে পাকিস্তান নামটি উদ্ভাবন করেন।
পরবর্তীতে ভারতের মুসলমানদের জন্যে পৃথক রাষ্ট্রের নাম হিসেবে পাকিস্তান গৃহিত হয়। মুহম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬,১৭৫.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে?
  1. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা

মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- উপ-সেনাপতি ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৭৬.
যে কোন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল উপাদান কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

শিক্ষাব্যবস্থা:
- যে কোন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল উপাদান চারটি। যথা-
১. শিক্ষার্থী;
২. শিক্ষক;
৩. শিক্ষাক্রম; এবং
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

১. শিক্ষার্থী:
- শিক্ষার্থী হচ্ছে যিনি শিক্ষাগ্রহণ করবেন বা যাকে শেখানো হবে। শিক্ষার্থী হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি কারণ তাকে ঘিরেই সমগ্র শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীর শিক্ষাগ্রহণের প্রয়োজনেই শিক্ষাব্যবস্থার অন্যান্য উপাদানগুলোর আবশ্যকতা রয়েছে। শিক্ষার্থী ব্যতিত শিক্ষা ব্যবস্থার ধারণাটিই অচল। শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি আর যে সকল উপাদান রয়েছে তার সবকিছুই শিক্ষার্থীর চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। সুতরাং বলা যায় যে, শিক্ষার্থীই হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উপাদান। শিক্ষাবিদগণও যৌক্তিক কারণে এই উপাদানটিকে শিক্ষা প্রক্রিয়ার শ্রেষ্ঠ উপাদান হিসেবে মূল্যায়ন করেন। কেননা শিক্ষা প্রক্রিয়ার মাঝে শিক্ষার্থীর থাকা অপরিহার্য। শিক্ষার্থী ব্যতিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কোন সুযোগ নেই।

২. শিক্ষক:
- শিক্ষক শিক্ষা প্রক্রিয়ার আবশ্যকীয় উপাদান। শিক্ষক হচ্ছেন তিনি যিনি শিক্ষার্থীদের শেখাবেন অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা যার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষা প্রক্রিয়ার মূখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি এতটা ক্রিয়াশীল হয়ে উঠতে এবং শিক্ষার্থীদের উপর এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন যে, অসংখ্য শিক্ষার্থী তাঁর সংস্পর্শে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে তিনি যদি যথাযথ যোগ্য না হন তাহলে তা শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে একজন শিক্ষক জীবনব্যপীই একজন শিক্ষার্থী। নিজের উন্নয়নের প্রয়োজনে এবং নতুন নতুন বিষয়ের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য তাঁকে সর্বদা জ্ঞানার্জনে সচেষ্ট হতে হয়।

৩. শিক্ষাক্রম:
- শিক্ষাক্রম বা কারিকুলাম হচ্ছে যে কোন দেশের শিক্ষা কর্যক্রমের মেরুদন্ড। কারণ শিক্ষাক্রমের উপর ভিত্তি করেই মূলত সকল দেশের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এবং শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সকল কিছুর সমন্বিত রূপই হচ্ছে শিক্ষাক্রম। শিক্ষাক্রমে শিক্ষা প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত সকল কিছুই অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কোন প্রক্রিয়ায় শিখবে, কী কী শিক্ষা উপকরণ ব্যবহৃত হবে ইত্যাদি যেমন শিক্ষাক্রমে উল্লেখ থাকে তেমনিভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কী হবে সেটাও শিক্ষাক্রমে সুনির্দিষ্ট থাকে। কোন দেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং জাতীয় আশা আকাঙ্খার উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় শিক্ষাক্রমে তার প্রতিফলন ঘটে।

৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
- শিক্ষা প্রক্রিয়ার জন্য আবশ্যকীয় হিসেবে বিবেচিত একটি উপাদান হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতিত কোনভাবেই আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
 
উৎস: স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,১৭৭.
জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. মোহাম্মদউল্লাহ
  3. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  4. জিয়াউর রহমান
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।
- তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এমএজি ওসমানী। 
- তিনি ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট।
৬,১৭৮.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  2. খ) ৩১ মার্চ, ১৯৫১ সালে
  3. গ) ২৭ জানুয়ারি, ১৯৪৯ সালে
  4. ঘ) ২১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 
– কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
– রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়– ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
– দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়-  ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামছুল আলম।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস প্রথম পত্র, HSC Programme, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৭৯.
অস্থায়ী প্রবাসী সরকার কলকাতা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে কবে?
  1. ক) ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. খ) ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১
  3. গ) ২৫ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ঘ) ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের অস্থায়ী সদরদপ্তর স্থাপন করা হয় ৮, থিয়েটার রোড, কলকাতায়।

দীর্ঘ নয় মাসের সশ্বস্ত্র সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে যৌথবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। এতে করে ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১ অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের সদস্যরা কলকাতা থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করে দেশের শাসনভার গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র ও ডেইলি স্টার)
৬,১৮০.
বাংলাদেশের ইউনেঙ্কো ঘোষিত বিশ্ব-ঐতিহ্যবাহী স্থান নয় কোনটি?
  1. ঢাকাই জামদানী
  2. সুন্দরবন
  3. সোমপুর বিহার
  4. ষাট গম্বুজ মসজিদ
সঠিক উত্তর:
ঢাকাই জামদানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকাই জামদানী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ইউনেঙ্কো ঘোষিত বিশ্ব-ঐতিহ্যবাহী স্থান নয়- ঢাকাই জামদানী।

• সোমপুর মহাবিহার:
- এটি বাংলার প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অভিজাত নিদর্শন।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় অষ্টম শতাব্দীতে পাল সাম্রাজ্যের শাসনামলে রাজা ধর্মপাল কর্তৃক।
-  ১৯৮৫ সাল থেকে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- নওগাঁর পাহাড়পুরের এই বৌদ্ধ বিহারটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।

• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
- বনটি ১৯৮৭ সাল থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
- প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের এই বনটি এর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত।
- সুন্দরবন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল এবং নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল। 

• ষাট গম্বুজ মসজিদ
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই।
- তাই এটি কে নির্মাণ করেছিলেন বা কোন সময়ে নির্মাণ করা হয়েছিলো সে সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
- মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখে ধারণা করা হয় খান-ই-জাহান ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন।
- এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো।
- পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে।
- ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,১৮১.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব অবদানে কতজন নারীকে বীর প্রতীক উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ২ জন
  2. ৫ জন
  3. ১ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান:
- ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অংশ নিয়েছেন
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃত অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ।
- নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বাত্মক এই যুদ্ধে শামিল হয়েছিল সমানভাবে।
- মোট গেজেটভুক্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২০৩ জন।
- বর্তমানে মোট বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৪৮ জন।
- এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ২ জন।
- ২ জন নারী বীর প্রতীক: ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস: বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ওয়েবসাইট।
৬,১৮২.
স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান রচনার জন্য 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. আতাউর রহমান খান
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ:
- স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল।
- গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ এবং ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ।
- গণপরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে ৩৪ জন নিয়ে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটি গঠিত হয়।
- কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবস) থেকে কার্যকর হয়।
- ৪ নভেম্বরকে বাংলাদেশের সংবিধান দিবস বলা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৮৩.
জেনারেল আইয়ুব খান কত সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৭ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন:
- ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রভাব: ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
- এর পূর্বে তিনি 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' তুলে নেন।
- জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে।
- গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ববাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনার বিকাশ ঘটে।

⇒ ১৯৫৮ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন ও পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- ইস্কান্দার মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপাকি করার জন্য ১৩ জন জেনারেলকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেকে ভূষিত করেন ফিল্ড মার্শাল উপাধিতে।
- তা ছাড়া রাজধানী করাচি থেকে প্রথমে স্থানাস্তর করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে ইসলামাবাদে।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,১৮৪.
Who is the youngest among the martyred freedom fighters with the title of 'Bir Sreshtho'?
  1. Muhammad Mustafa Kamal
  2. Mohiuddin Jahangir
  3. Hamidur Rahman
  4. Mohammad Ruhul Amin
  5. Matiur Rahman
সঠিক উত্তর:
Hamidur Rahman
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hamidur Rahman
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান:
- তিনি সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ।
- তিনি ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ৪নং সেক্টরের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের পদবী ছিল- সিপাহী।

উল্লেখ্য,
- ২৮শে অক্টোবর ১৯৭১, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ধলই আক্রমণে সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার্থে শত্রুর বাঙ্কার ধ্বংস করতে গিয়ে শত্রুর মেশিনগান বাস্টের আঘাতে শাহাদত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর জেলাধীন আমবাসা গ্রামে দাফন করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।
- শাহাদাতের ৩৬ বছর পর ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তার দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকাস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় সম্মানে পুনঃ সমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,১৮৫.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষাগুরু কে ছিলেন?
  1. বাণভট্ট
  2. কালিদাস
  3. কৌটিল্য
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
কৌটিল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌটিল্য
ব্যাখ্যা

কৌটিল্য: 
- ভারতে মৌর্য শাসনের শুরু করেছিলেন রাজা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- সেই রাজার প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষাগুরু ছিলেন কৌটিল্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রচিত খ্রিস্টপূর্ব তিন শতকের এ গ্রন্থটির রচয়িতা ছিলেন সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কৌটিল্য যিনি অতীব বুদ্ধিমান ‘চাণক্য’ বা সম্রাটের প্রাথমিক জীবনের শিক্ষক বিষ্ণুগুপ্ত বলেও পরিচিত।

⇒ বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, সেই সময় কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে যা লিখে গেছেন, তা আজকের রাজনীতি, কূটনীতি, প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, সমাজনীতি ও অর্থনীতিতে সমানভাবে প্রযোজ্য।
- কৌটিল্য তাঁর শাস্ত্রে লিখেছেন, ‘সকল উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করে অর্থের ওপর। সে জন্য সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে খাজাঞ্চিখানার দিকে। জিহ্বার ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর স্বাদ আস্বাদন সম্ভব নয়, তেমনি একজন লোক রাজকর্মচারী হয়ে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে বসে থাকবেন, এটা অবিশ্বাস্য। জলের নিচের মাছের গতিবিধি যেমন লক্ষ করা সম্ভব নয়, তেমনি রাজকর্মচারীর তহবিল আত্মসাৎ করাও পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব। আকাশের অতি উঁচুতে পাখির ওড়াউড়ি দেখা সম্ভব, কিন্তু রাজকর্মচারীর সকল কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অসম্ভব।’

 অন্যদিকে,
- বানভট্ট ছিলেন সপ্তম শতাব্দীর একজন বিখ্যাত সংস্কৃত কবি ও গদ্যকার, যিনি উত্তর ভারতের রাজা হর্ষবর্ধনের (৬০৬-৬৪৭ খ্রিস্টাব্দ) সভাকবি ছিলেন। 
- কালিদাস ছিলেন প্রাচীন ভারতের, বিশেষ করে গুপ্ত যুগের (সম্ভবত ৪র্থ-৫ম শতাব্দী) সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কৃত কবি ও নাট্যকার, যাঁকে প্রায়শই ভারতের শেক্সপিয়র বলে গণ্য করা হয়।
- মেগাস্থিনিস ছিলেন একজন প্রাচীন গ্রিক কূটনীতিক, পর্যটক এবং ইতিহাসবিদ, যিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্বকালে (খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী) পাটলিপুত্রে গ্রিক শাসক সেলুকাস আই নিকেটর-এর দূত হিসেবে এসেছিলেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

৬,১৮৬.
বাংলা ভাষা প্রথম সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পায় কত সালে?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার স্বীকৃতি:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন হয়। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা জারি অমান্য করে রাস্তায় নামলে শহীদ হন সালাম, রফিক, সফিক, বরকতসহ জাতির আরও অনেক সূর্য-সন্তানেরা। 
- ৯ মে মতান্তরে ৭ মে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়।
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া হয় তারও দু’বছর পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গৃহিত হয়। এই সংবিধানের বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- বাংলা ভাষাকে জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য আইন পাস করা হয় ১৯৮৭ সালে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। 

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬,১৮৭.
বাংলাদেশ কত তারিখ হতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোভিড–১৯ এর টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়?
  1. ক) ২৭ জানুয়ারী ২০২১
  2. খ) ২৮ জানুয়ারী ২০২১
  3. গ) ২৫ জানুয়ারী ২০২১
  4. ঘ) ২৮ মার্চ ২০২১
সঠিক উত্তর:
ক) ২৭ জানুয়ারী ২০২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৭ জানুয়ারী ২০২১
ব্যাখ্যা
কোভিড–১৯ এর টিকাদান:

- ২৭ জানুয়ারি ২০২১ সালে দেশে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়।
- ওই দিন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন নার্সকে টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
- ২৮ জানুয়ারি ঢাকার পাঁচটি  হাসপাতালে প্রায় ৫০০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
- যাঁদের টিকা দেওয়া হয়, তাঁদের এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
- ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে সারা দেশে টিকাদান শুরু হবে।
- ভারত থেকে উপহার হিসেবে আসা সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ টিকা দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
৬,১৮৮.
২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. বাঁশতলা
  2. বুড়ি মাড়ি
  3. মেলাঘর
  4. হরিণা
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
ব্যাখ্যা
• ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

অন্যদিকে,
• ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

• ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,১৮৯.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় কয়টি রং আছে?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় দুটি রং রয়েছে। আয়তাকার গাঢ় সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের সমন্বয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এটি পৃথিবীর যে কোন দেশের জাতীয় পতাকার তুলনায় অনন্য।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৬,১৯০.
মুজিব চিরন্তন-২০২১ অনুষ্ঠানে কয়জন বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান বাংলাদেশে এসেছে?
  1. ৬ জন
  2. ৫ জন
  3. ৪ জন
  4. ৩ জন
সঠিক উত্তর:
৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ জন
ব্যাখ্যা

- মুজিব চিরন্তন-২০২১ অনুষ্ঠান উদযাপিত হয় ১৭ থেকে ২৬ মার্চ ২০২১ তারিখ।
- অনুষ্ঠানে ৫ জন বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান বাংলাদেশে এসেছে।
- মালদ্বীপ ও নেপালের রাষ্ট্রপতি এবং শ্রীলংকা, ভুটান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।

৬,১৯১.
জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় কোথায়?
  1. শহীদ মিনার
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. রমনা পার্ক
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন:
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ, ছাত্র সংগঠনগুলো 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় একটি ছাত্রসভায় ডাকসু ভিপি আ.স.ম আবদুর রব প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন
- এই ঘটনাটি স্মরণীয় হয়ে থাকে, তাই ২ মার্চ 'জাতীয় পতাকা দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

• জাতীয় পতাকা:
- জাতীয় পতাকা অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় পতাকার আকৃতি, গড়ন, রং ও পতাকা উত্তোলনের ধরনের কিছু অনুমোদিত নিয়মকানুন অনুসরণ করে।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার।
- তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুর অবস্থান হবে পতাকার দৈর্ঘের ৯/২০ অংশ থেকে টানা লম্বের এবং প্রস্থের মাঝখান দিয়ে টানা আনুভূমিক রেখার ছেদবিন্দুতে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,১৯২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ফাঁস করেন কে?
  1. ক) আমির আবদুল্লাহ খান
  2. খ) আমির হোসেন
  3. গ) মোহাম্মদ আমির আহমেদ
  4. ঘ) শাহাবুদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
খ) আমির হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আমির হোসেন
ব্যাখ্যা
• আগরতলা মামলা:
- আওয়ামী লীগ এবং সামরিক বাহিনীর প্রায় ২৫০ জন সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করে।
- পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য। সেই যুদ্ধে ভারতের সামরিক সহায়তা প্রয়োজন।
- ১২-১৫ জুলাই, ১৯৬৭ আগরতলায় আওয়ামী লীগ নেতা আলী রেজা এবং মুজিবুর রহমান বৈঠক করেন ভারতের ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে।
- ভারতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পূর্বেই অক্টোবর, ১৯৬৭ পরিকল্পনাকারীদের একজন আমির হোসেন ৬৮ পৃষ্ঠায় গোপন তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করে গোয়েন্দা   বিভাগে ফাঁস করে দেয়।
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দানে বাধ্য হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক ও বাংলাপিডিয়া।
৬,১৯৩.
ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনকে ঢাকা সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৭
  2. ১৯৮৭
  3. ১৯৯০
  4. ১৯৯৪
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
ব্যাখ্যা
ঢাকা সিটি করপোরেশনের ইতিহাস:
- ১৮৬৪ সালের ১ আগষ্ট ঢাকা পৌরসভা স্থাপিত হয়।
- ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা নগরীকে ৫০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ঢাকা পৌরসভা গঠন করা হয়।
- ১৯৭৭ সালের ৩১ অক্টোবর কমিশনারদের মাধ্যমে ঢাকা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত।
- ১৯৭৮ সালে ঢাকা পৌরসভাকে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয় পৌরসভার চেয়ারম্যান ঢাকা মিউিনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র নামে অবিহিত হয়।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নাম পরিবর্তন করে ঢাকা সিটি করপোরেশন নামকরণ করা হয়।
-  প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে এবং ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হানিফ। 
- নগরবাসীর সেবা সহজলভ্য করার বৃহত্তর স্বার্থে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর স্থানীয় সরকার সংশোধনী বিল ২০১১ অনুসারে সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
- এ আইন অনুযায়ী ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
- এর ফলে ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নামে পৃথক দুইটি সিটি কর্পোরেশন যাত্রা শুরু করে।

উৎস: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৬,১৯৪.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ পাঠ করতেন কে?
  1. ক) আবদুল মান্নান
  2. খ) কামাল লোহানী
  3. গ) এম আর আখতার মুকুল
  4. ঘ) বেলাল আহমেদ
সঠিক উত্তর:
গ) এম আর আখতার মুকুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
- চরমপত্র হলো একটি কথিকা যা ১৯৭১ সালের ২৫ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হতো।
- এটির পরিচালক, লেখক ও কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
- ঢাকাইয়া ভাষায় তার এ অনুষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক ভোরের কাগজ)
৬,১৯৫.
নিচের ভাষা শহীদের মধ্যে সবার শেষে শহীদ হন কে?
  1. ক) আবুল বরকত
  2. খ) রফিকউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) আব্দুস সালাম
  4. ঘ) আব্দুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আব্দুস সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করলে এতে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং আব্দুল জব্বার সহ আরো অনেকে শহিদ হন। আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ই এপ্রিল মারা যান। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,১৯৬.
বাংলার প্রথম মুসলিম বিজেতা -
  1. ক) বখতিয়ার খলজী
  2. খ) ইলিয়াস শাহ
  3. গ) হুসেন শাহ
  4. ঘ) শিরান খলজী
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ার খলজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা
- বখতিয়ার খলজি নদীয়া আক্রমণ করেন ১২০৪ সালে। 
- তিনি বাংলার প্রথম মুসলিম বিজেতা।
- বখতিয়ার খলজি একজন তুর্কি বীর। তিনি আফগানিস্থানের অধিবাসী।
- ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আবির্ভাব হয় ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মোহম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মধ্য দিয়ে।
- সুলতান মাহমুদ ১০০০-১০২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ১৭ বার ভারতবর্ষ আক্রমণ করেন।

উৎস : ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
৬,১৯৭.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. বাংলাদেশ
  2. মুজিব বার্তা
  3. মুক্তির ডাক
  4. জয়বাংলা
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
  • জয়বাংলা 
- মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র ছিলো- জয় বাংলা। 
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রকাশিত হতো- মুজিবনগর থেকে। 
- জয় বাংলা পত্রিকার প্রকাশক - আবদুল মান্নান । 
- জয় বাংলা পত্রিকার সম্পাদক – মতিন আহমদ চৌধুরী (ভারপ্রাপ্ত)। 
- জয় বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকাল - ১১ মে ১৯৭১ (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া। 
৬,১৯৮.
'ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. গাজীপুর
  3. জামালপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর:
- 'ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর' ময়মনসিংহে অবস্থিত।

⇒ ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য তিনি স্ত্রী সহ ঢাকায় আসেন।
- ২০ ফেরুয়ারী শাশুড়ীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে আবদুল জব্বার মেডিকেলের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্রব্যারাক-এ উঠেন।
- ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে ব্যাপক জনসমাবে ঘটে।
- আবদুল জব্বারও সমাবেশে যোগদেন।
- সেসময় ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০০০সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
- বর্তমানে তার নামে একটি জাদুঘর ও শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়।
- ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলাধীন ০৬ নং রাওনা ইউনিয়নের “জব্বার নগর” (পাচুয়া) গ্রামে ভাষা শহীদ আঃ জব্বারের নিজ বাড়ীর নিকটে শহীদ জব্বার বেসরকারী রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শহীদ মিনারের পার্শ্বের জমিতে ২০০৭ সালে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মান করা হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,১৯৯.
প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় -
  1. গ্যাবন
  2. গাম্বিয়া
  3. সেনেগাল
  4. সিয়েরা লিওন
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি)।
- মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
৬,২০০.
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ১৬ জুলাই
  2. ১৯ জুলাই
  3. ৫ আগস্ট
  4. ১০ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস:
- ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালিত হয়।
- বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ও ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- গণ-আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' ঘোষণা করা হয়েছে।
- ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য:
- ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস 'ক' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
- ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' 'খ' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।