বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৫৭ / ১২৪ · ৫,৬০১৫,৭০০ / ১২,৪২১

৫,৬০১.
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীকে ‘নবাব’ উপাধি কে প্রদান করেন?
  1. লর্ড কার্জন
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. মহারানী ভিক্টোরিয়া
  4. লর্ড ডালহৌসি
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা

- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন — ভারতবর্ষের প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী:

- নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন বাংলার নারীশিক্ষার প্রবর্তক, জনহিতৈষী জমিদার, সমাজসেবক, লেখিকা এবং ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি ‘নবাব’ উপাধি লাভ করেন।
জন্ম ও শিক্ষা:
• জমিদারি ও প্রশাসন:
- পিতার মৃত্যুর পর পশ্চিমগাঁও-এর জমিদারি এবং মাতুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে বিশাল জমিদারির মালিক হন।
- প্রজাবৎসল ও কর্মদক্ষ জমিদার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 

•নারীশিক্ষা ও সমাজসেবা:
- ১৮৭৩ সালে কুমিল্লায় একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন — ভারত উপমহাদেশে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম।
- পরবর্তীকালে এটি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং নামকরণ করা হয় নবাব ফয়জুন্নেছা কলেজ।
- দরিদ্র নারীদের চিকিৎসার জন্য ফয়জুন্নেছা জেনানা হাসপাতাল ও দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন।
- জমিদারি এলাকায় বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ করেন।

• সাহিত্যকর্ম:
- আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রূপজালাল।
- তত্ত্ব ও জাতীয় সংগীত, সংগীত সার ও সংগীত লহরী নামক গ্রন্থ রচনা করেন।
সমকালীন সংবাদপত্র ও সাময়িকী (বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতি) আর্থিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।

সম্মান ও স্বীকৃতি:
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন — ভারতবর্ষের প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৬০২.
ঐতিহাসিক ছয় দফার 'ষষ্ঠ দফা' কী বিষয়ক ছিল?
  1. রাজস্ব
  2. বাণিজ্য
  3. বৈদেশিক মুদ্রা
  4. প্রতিরক্ষা
সঠিক উত্তর:
প্রতিরক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরক্ষা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৬০৩.
বাংলাদেশের সংবিধান দিবস কোনটি?
  1. ক) ২৩ মার্চ
  2. খ) ১২ অক্টোবর
  3. গ) ৪ নভেম্বর
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ নভেম্বর
ব্যাখ্যা

৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের খসড়া গণপরিষদে গৃহিত হয়। এজন্য ৪ নভেম্বরকে ‘সংবিধান দিবস’ বলা হয়।
- সংবিধান কার্যকর বা প্রবর্তিত হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
- হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক - আব্দুর রউফ।
- হস্তলিখিত সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৫,৬০৪.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৯৬
  2. খ) ১৯৯৮
  3. গ) ২০০০
  4. ঘ) ২০০৮
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৯৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৯৬
ব্যাখ্যা

- ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ সেগুনবাগিচায় বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শেরে বাংলা নগর আগারগাঁওয়ে সরকার প্রদত্ত জমিতে নির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়।
- বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)

৫,৬০৫.
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়, সশস্ত্র বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাদে মোট কয়টি মন্ত্রণালয় আছে?
  1. ক) ৩৬
  2. খ) ৩৮
  3. গ) ৩৯
  4. ঘ) ৪৩
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩৯
ব্যাখ্যা

বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা – ৪৩টি (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়, সশস্ত্র বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাদে ৩৯টি।)।
৪৩টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের নামের শেষে ‘মন্ত্রণালয়’ শব্দটি রয়েছে।

সুত্রঃ Live MCQ স্পেশাল PDF (সিভিল সার্ভিস এবং মুজিব বর্ষ)।
৫,৬০৬.
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কোন শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন?
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বাদশ
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে আসেন।
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
-  বাংলা জয় করেন ১৩ শতকে।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলার ইতিহাস; সুলতানি আমল: আব্দুল করিম।
৫,৬০৭.
Who was the last Chief Minister of undivided Bengal?
  1. A.K. Fazlul Haque
  2. Husen Shahid Suhrawardy
  3. Abul Hashem
  4. Khaja Nazim Uddin
সঠিক উত্তর:
Husen Shahid Suhrawardy
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Husen Shahid Suhrawardy
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬০৮.
মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. বাঁশতলা
  2. তরঙ্গপুর
  3. মেলাঘর
  4. হরিণা
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬০৯.
"আমি কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে।" - কার রচিত গান?
  1. লালন সাঁই
  2. সিরাজ সাঁই
  3. গগন হরকরা
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
গগন হরকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গগন হরকরা
ব্যাখ্যা
"আমি কোথায় পাব তারে,
আমার মনের মানুষ যে রে।
হারায়ে সেই মানুষে, তার উদ্দেশে দেশ-বিদেশে-
আমি দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে;
কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে।।"

- কালজয়ী বাউল গানটির রচয়িতা ও সুর করেছন - গগন হরকরা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি" এর সুর করেছিলেন এই গানটির থেকে প্রভাবিত হয়ে।
--------------
গগন হরকরা- পরিবারের দেওয়া নাম গগণচন্দ্র দাস হলেও ইতিহাসে যিনি গগন হরকরা নামেই প্রসিদ্ধ।
- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে আনুমানিক ১৮৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন গগন।
- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে কাজ করতেন ডাকহরকরা বা ডাকপিয়ন হিসেবে। তবে এই পরিচয় ছাপিয়ে গগন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন তার রচিত ও সুরারোপিত কালজয়ী গানের জন্য।

তাঁর রচিত ও সুর করা আরো একটি গান: ও মন অসাড় মায়ায় ভুলে রবে। (এই গানের সুর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর "যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক" - এই গানটির সুর করেন।

---------------
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের গগন হরকরার প্রভাব পড়ে যেভাবে:
- তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের নদীয়ার (বর্তমান কুষ্টিয়া) একটি ছোট গ্রামে গগনের বাস।
- ভূ-খন্ডের এই অংশে তখন প্রতিনিধিত্ব লালন সাঁই, গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের মতো কালজয়ী প্রতিভাদের। শিলাহদহ এস্টেটে ঠাকুরবাড়ির জমিদারি দেখাশোনার জন্য আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে ডাকহরকরার কাজের ফাঁকে গান রচনা ও গাইতেন গগন। তিনি বাউল সম্রাট ফকির লালনের অনুসারী ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এলে চিঠিপত্রাদি দিতে জমিদার কাচারিতে যাওয়া হতো গগনের।
- তার রচিত ও সুরারোপিত ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ গগণের নাম ও তার গানের বিষয়ে তার প্রবন্ধ “An Indian Folk Religion” এ উল্লেখ করেন।
- সেখানে ‘আমি কোথায় পাবো তারে’—গানটির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “The first Baul song, which I chanced to hear with any attention, profoundly stirred my mind.”

এই গান রবীন্দ্রনাথকে এতোটাই প্রভাবিত করে যে, তিনি এর সুরে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’
---------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডাকঘর নাটকটি গগন হরকরার জীবন থেকে প্রভাবিত হয়ে লিখেছিলেন।
- নাটকের গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রটি তা প্রমাণ করে।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট ও বিডি নিউজ২৪.কম আর্কাইভ।
৫,৬১০.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. আবদুল লতিফ
  4. আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি:
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। সেটি এখন বলবৎ আছে। 
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

৫,৬১১.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের চূড়ায় পাট গাছের কয়টি পরস্পর যুক্ত পাতা রয়েছে?  
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি  শাপলা ফুল।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পর যুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৬১২.
বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ কোনটি?
  1. কাঁঠাল গাছ
  2. তাল গাছ
  3. বট গাছ
  4. আম গাছ
সঠিক উত্তর:
আম গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম গাছ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়বলি:
- বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ: আম গাছ।
- জাতীয় পাখি: দোয়েল,
- জাতীয় ফল: কাঁঠাল,
- জাতীয় ফুল: শাপলা,
- জাতীয় মাছ: ইলিশ,
- জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার,
- জাতীয় খেলা: কাবাডি,
- জাতীয় সঙ্গীত: আমার সোনার বাংলা,
- জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান: মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান,
- জাতীয় উদ্যান: ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান,
- জাতীয় জাদুঘর: ঢাকা জাদুঘর,
- জাতীয় শিশুপার্ক: ঢাকা শিশু পার্ক,
- জাতীয় মসজিদ: বায়তুল মোকাররম মসজিদ,
- জাতীয় প্রতীক: উভয় পাশে ধানের শীষ বেষ্টিত পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল,
- জাতীয় মনোগ্রাম: লাল বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র, বৃত্তের উপরে লেখা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ এবং নিচে লেখা ‘সরকার’। বৃত্তের দু’পাশে দুটি করে চারটি তারকা।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৬১৩.
"কোন ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাকেই নাগরিক বলে" - উক্তিটি কার?
  1. হ্যারল্ড জে লাস্কি
  2. হ্যান্স কেলসন
  3. লিলি উইলিয়াম
  4. ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
হ্যারল্ড জে লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যারল্ড জে লাস্কি
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক হ্যারল্ড জে লাস্কি'র মতে "কোন ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে তাকেই নাগরিক বলে।"
- তিনি আরও বলেন "সর্বজনীন কল্যাণের জন্য ব্যক্তির লব্ধ বিচারবুদ্ধির প্রয়োগই নাগরিকতা"।

- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যান্স কেলসন বলেন "নাগরিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে কোন ব্যক্তির স্ট্যাটাস বা মর্যাদা।" 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬১৪.
পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ বা বাঙালি মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) ৬ দফাকে
  2. খ) ২১ দফাকে
  3. গ) ১১ দফাকে
  4. ঘ) ৩৫ দফাকে
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ দফাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ দফাকে
ব্যাখ্যা
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা এবং এর পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। ১৯৬৬ সালে ঘোষণা করেন পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা। তিনি ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে ছয় দফার পক্ষে দ্রুত জনমত গড়ে উঠে। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬১৫.
ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলার সুলতান ছিলেন—
  1. ১৩২৮–১৩৩৮ সাল
  2. ১৩৩৮–১৩৪৯ সাল
  3. ১৩৪০–১৩৫০ সাল
  4. ১৩৫৫–১৩৬৫ সাল
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮–১৩৪৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮–১৩৪৯ সাল
ব্যাখ্যা

• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ :
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯) বাংলার সুলতান।
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে। 
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি এবং খুব সম্ভবত তুর্কিদের কারাউনা গোত্রীয়।
- তিনি ছিলেন দিল্লির তুগলক সুলতানের অধীনে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা (ওয়ালি) বাহরাম খানের সিলাহদার (অস্ত্রাগারের তত্ত্বাবধায়ক)।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- স্বীয় মুদ্রায় ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৬১৬.
'জাগ্রত চৌরঙ্গীর' স্থপতি কে?
  1. নিতুন কুন্ডু
  2. শামীম শিকদার
  3. মইনুল হোসেন
  4. আবদুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
আবদুর রাজ্জাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
জাগ্রত চৌরঙ্গী:

- মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য জাগ্রত চৌরঙ্গী।
- জাগ্রত চৌরঙ্গী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার অবস্থিত।
- জাগ্রত চৌরঙ্গীর স্থপতি খ্যাতিমান ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ১৯ মার্চের সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধে নিহত ও আহত বীরদের অসামান্য আত্মত্যাগের স্মরণে ১৯৭৩ সালে নির্মিত হয়েছিল জাগ্রত চৌরঙ্গী।
- তৎকালীন গাজীপুরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল আমীন আহম্মেদ চৌধুরী বীরবিক্রম ভাস্কর্যটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
- ২৪ ফুট ৫ ইঞ্চি বেদিসহ জাগ্রত চৌরঙ্গীর উচ্চতা ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি। কংক্রিট, গ্রে ও হোয়াইট সিমেন্টের ঢালাইয়ে নির্মিত ভাস্কর্যটিতে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩ নম্বর সেক্টরের ১০০ জন এবং ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৭ জন শহীদ সেনা ও মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে।
- ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক সহযোগী হামিদুজ্জামান খানকে নিয়ে ১৯৭২ সালে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। কাজ শেষ হয় ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ২ ডিসেম্বর ২০২০।
৫,৬১৭.
প্রথম তৈরী শহীদ মিনার প্রথম কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
  4. ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:

- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- এরপর ঢাকা কলেজেও একটি শহীদ মিনার তৈরি করা হয়, এটিও একসময় সরকারের নির্দেশে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।
৫,৬১৮.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালে মোট কতজন নারীকে খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ২ জন
  2. ৪ জন
  3. ৬ জন
  4. ৮ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৬১৯.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে কতজন সৈন্য উপস্থিত ছিল?
  1. ক) ৯১,৫০০
  2. খ) ৯৩,০০০
  3. গ) ৯২,২০০
  4. ঘ) ৯১,০০০
সঠিক উত্তর:
খ) ৯৩,০০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৯৩,০০০
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ এর ৬ ডিসেম্বর ভূটান ও ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও
বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন। 
- ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে ঢাকায় আগত কাদের সিদ্দিকীও ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬২০.
দেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থার নাম?
  1. ক) PGCB
  2. খ) PCGB
  3. গ) BGCP
  4. ঘ) TBCP
সঠিক উত্তর:
ক) PGCB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) PGCB
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ সঞ্চলন কোম্পানি হচ্ছে - পিজিসিবি (PGCB) বা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ।

পিজিসিবি সারাদেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে নিয়োজিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবার নিকট মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্ভরযোগ্য সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তোলার রূপকল্প নিয়ে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন সিস্টেমের পরিবর্ধন করে যাচ্ছে। কোম্পানির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- ন্যাশনাল গ্রিডকে ক্রমোন্নয়নের মাধ্যমে আরও দক্ষ ও কার্যকর করে গড়ে তোলা।

অন্যদিকে,
দেশে বিদ্যুৎ বিতরণের কাজটি করে চারটি কোম্পানি ও দুটি সংস্থা।
১. বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি),
২. ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো),
৩. নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো),
৪. পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি),
৫. ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও
৬. ঢাকা ইলেকট্রিসিটি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। 

২০০৮ সালের ১ জুলাই ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই অথরিটি (ডেসা) এর স্থলাবিষিক্ত হয় - ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)।

সূত্র: পিজিসিবি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
৫,৬২১.
In 1947, which two languages were designated as official languages of the Pakistan Constituent Assembly?
  1. Bengali and Urdu
  2. English and Bengali
  3. English and Urdu
  4. Arabic and Urdu
সঠিক উত্তর:
English and Urdu
উত্তর
সঠিক উত্তর:
English and Urdu
ব্যাখ্যা

 • গণপরিষদের সরকারি ভাষা: 

-  ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
-  কিন্তু পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বাঙালিদের দাবি উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়।
-  যদিও পাকিস্তানের শতকরা মাত্র ৩.২৭ ভাগ লোকের মাতৃভাষা ছিল উর্দু তথাপি পাকিস্তানের মুদ্রা, ডাকটিকেট, মানি অর্ডার ফরম, রেলের টিকেট প্রভৃতিতে কেবল ইংরেজি ও উর্দুভাষা ব্যবহার করা হয়।
-  পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
-  এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়
-  ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬২২.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে সেক্টরের সংখ্যা ছিল-
  1. ক) ৯টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১২ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৬২৩.
রাজা মানসিংহ কোন মুঘল সম্রাটের শেষ সুবাদার ছিলেন?
  1. হুমায়ুন
  2. আওরঙ্গজেব
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা

রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬২৪.
পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে কত সালে?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬২৫.
মুজিবনগর সরকারকে শপথ বাক্য কে পাঠ করান?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এম হোসেন আলী
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।
-পরবর্তীকালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।

উৎস: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬২৬.
কোনটি ''Wildlife sanctuary''?
  1. চর কুকরি মুকরি
  2. চর ফ্যাশন
  3. চর জব্বার
  4. চর মুহুরি
সঠিক উত্তর:
চর কুকরি মুকরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর কুকরি মুকরি
ব্যাখ্যা
''Wildlife sanctuary'' হচ্ছে - চর কুকরি মুকরি।

• চর কুকরি মুকরি:
- ভোলা জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অনেকটা সাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় গড়ে উঠেছে  এক অবারিত সৌন্দর্যের দ্বীপ চর কুকরি-মুকরি।
- এটি একটি ''Wildlife sanctuary'' বা বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য।
- নদীর ঢেউ, নির্মল বাতাস, বাহারি ম্যানগ্রোভ বন, নদীপাড়ের সারি সারি গাছ- যেন দৃষ্টি সীমানার পুরোটা জুড়ে শুধু সবুজ আর সবুজ।
- অপরূপ প্রকৃতির মাঝে সাজানো সে বনভূমি দেখে মনে হয় যেন বাংলাদেশের বুকে আরেক সুন্দরবন।

• কিছু বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য বা ''Wildlife sanctuary'' হচ্ছে - 
- রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য, হবিগঞ্জ।
- চর কুকরি মুকরি বন্যপ্রানী  অভয়ারণ্য, ভোলা।
- সুন্দরবন ইষ্ট বন্যপ্রানী  অভয়ারণ্য, বাগেরহাট।
- সুন্দরবন ওয়েস্ট বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য, সাতক্ষীরা।
- সুন্দরবন সাউথ বন্যপ্রানী  অভয়ারণ্য, খুলনা।

তথ্যসূত্র: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৫,৬২৭.
১৯৭১ সালে কোন রাজনৈতিক দলটি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো?
  1. ক) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)
  2. খ) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি
  3. গ) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর)
  4. ঘ) জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (তোয়াহা)
- পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (মতিন)
- জামায়াতে ইসলামী
- মুসলিম লীগ প্রভৃতি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৬২৮.
In which sector did Sepoy Muhammad Mustafa Kamal fought in?
  1. sector 11
  2. sector 7
  3. sector 5
  4. sector 2
  5. None of these
সঠিক উত্তর:
sector 2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
sector 2
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- ভোলা জেলায় দৌলতখান উপজেলার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালে তাঁর জন্ম।
- সেক্টর: ২ নং।
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।
- সমাধি স্থল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬২৯.
নিচের ভাষা শহীদদের মধ্যে সবার শেষে শহীদ হন কে ?
  1. আবুল বরকত
  2. আবদুস সালাম
  3. রফিকউদ্দিন আহমেদ
  4. আবদুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
আবদুস সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুস সালাম
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করলে্ পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং আবদুল জব্বারসহ আরো অনেকে শহিদ হন। আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ এপ্রিল মারা যান।
সূত্র : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৩০.
বাংলাদেশ প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম চালু করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. খ) বাংলা একাডেমি
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) শিল্পকলা একামেডি
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলা একাডেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে এবং সব প্রতিষ্ঠানকে এই নিয়ম অনুসরণের আহ্বান জানায়। তখন থেকে বাংলা বানানে আরো শৃঙ্খলা আনার প্রচেষ্টা শুরু হয়।
Source:kalerkantho.com
৫,৬৩১.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে পালন করা হয়?
  1. ক) ১৪ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৩ ডিসেম্বর
  3. গ) ১২ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১১ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালিত হয়।
- ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানের এদেশীয় দোসররা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।
- সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রকৃত সংখ্যা অদ্যাবধি নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। প্রাপ্ত তথ্যসূত্র থেকে শহীদদের মোটামুটি একটা সংখ্যা দাঁড় করানো যায়। এঁদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী,এবং অন্যান্য ২ জন।
- শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি অমর করে রাখতে ১৯৭২ সালে ঢাকার মিরপুরে মোস্তফা আলী কুদ্দুসের নকশায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৩২.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ কোনটি?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. নির্বাচন কমিশন
  3. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
  4. রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশন:

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত। 
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৫,৬৩৩.
মুজিব নগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. কুষ্টিয়া
  3. মেহেরপুর
  4. চুয়াডাঙ্গা
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
• মুজিব নগর বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত।

• ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রসিদ্ধ বৈদ্যনাথতলা আম্র কাননে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের হেডকোয়াটার্স স্থাপিত হয়।
- ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলা আম্র কাননে অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে  অস্থায়ী সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নামের  সাথে মিল রেখে এ স্থানের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।  
 
সূত্র: মেহেরপুর জেলার ওয়েবসাইট।
৫,৬৩৪.
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট–১এর গ্রাউন্ড স্টেশন সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ২টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট–১–এর গ্রাউন্ড স্টেশন সংখ্যা ২টি। 
গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকায় পাঁচ একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট–১–এর গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশের গাজীপুর থেকে। এ জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরে তৈরি করা হয়েছে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন। বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে রাঙামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। স্যাটেলাইটভিত্তিক টেলিভিশন সেবা ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও এ স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো যাবে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এই কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমিনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ এই স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে।
 
উৎস: gazipur.gov.bd
৫,৬৩৫.
শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য মূল দাবি ছিল না-
  1. ক) সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া
  2. খ) গণহত্যার তদন্ত করা
  3. গ) চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার করা
  4. ঘ) পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান এবং দেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণে জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য মূল দাবি ছিল- ৪টি। যথা:
১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার,
২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া,
৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
[সূত্রঃ বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
৫,৬৩৬.
কোন মুসলিম দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে?
  1. সৌদি আরব
  2. ইরাক
  3. মালদ্বীপ
  4. নাইজেরিয়া
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সেনেগাল। 

মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক:
- পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসার পর থেকে জাতির জনকের নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক স্থাপন এবং ক্রমান্বয়ে তা দৃঢ়তর হয়।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশ আমাদের সমর্থন জানালেও আরব দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব, জর্দান, মরক্কো, লিবিয়া পাকিস্তানকে সমর্থন করে গ- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার সেনেগা
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেবাংলাদেশকে স্বীকৃতি:
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
উৎস: i) বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন)।
ii) বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)।

৫,৬৩৭.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দেশ পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল?
  1. সোভিয়েত ইউনিয়ন
  2. পোল্যান্ড
  3. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র 
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়।
- এই প্রস্তাব তিনবার উত্থাপিত হয়।
- কিন্তু প্রতিবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে।
- ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি।

৫,৬৩৮.
পলাশীর যুদ্ধে কে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেনি?
  1. ক) মীরজাফর
  2. খ) মীরমদন
  3. গ) রায় দুর্লভ
  4. ঘ) ইয়ার লতিফ
সঠিক উত্তর:
খ) মীরমদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মীরমদন
ব্যাখ্যা
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয় । যুদ্ধক্ষেত্রে নবাবের সেনাপতি মীরজাফর, জগৎশেঠ, রায় দুর্লভ, ইয়ারলতিফ, উমিচাঁদ প্রমূখ তাদের সৈন্যবাহিনীসহ নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে ইংরেজদের জয়ের সুযোগ করে দেয়।
তবে মীরমদন, মোহনলাল প্রমুখ দেশপ্রেমিক সৈনিকগণ ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রাণপণে যুদ্ধ করেন এবং ইংরেজদের গোলার আঘাতে মীরমদনের মৃত্যু হয়।
নবাব পরাজিত ও নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাদের একটি দল 'সিনফ্রে'র সেনাপতিত্বে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী।
৫,৬৩৯.
নাথান কমিশন গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১০ সালে
  2. ১৯১২ সালে
  3. ১৯১৩ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১২ সালে
ব্যাখ্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯১২ সালের ২৭ মে তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাথান কমিশন গঠন করে।
নাথান কমিশনের সদস্যরা হলেন:
- আর. নাথানিয়েল (প্রধান)
- ডব্লিউ কুচলু
- অ্যাডভোকেট রাসবিহারী ঘোষ
- নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী
- নওয়াব সিরাজুল ইসলাম
- উকিল আনন্দচন্দ্র রায়
- মুহম্মদ আলী
- এইচ.আর জেমস
- ডব্লিউ.এ.টি আর্চবোল্ড
- সতীশচন্দ্র আচার্য
- ললিত মোহন চ্যাটার্জী
- সি.ডব্লিউ পীক ও
- শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওহীদ।
- কমিশনের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন ডি.এস ফ্রেজার।
- এই কমিশন একই বছরের হেমন্তে তার রিপোর্ট সরকারের নিকট পেশ করে। কমিশন ঢাকায় একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করে।
- ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৫,৬৪০.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সংখ্যা ছিলো কতজন?
  1. ক) ৪ জন
  2. খ) ৫ জন
  3. গ) ৬ জন
  4. ঘ) ৭ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫ জন
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
অন্য  সদস্যরা হলেন -
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
(২) ড. মোশাররফ হোসেন
(৩) ড. এস. আর. বোস এবং 
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৪১.
প্রয়াত চিত্রপরিচালক তারেক মাসুদের 'জঙ্গীবাদ ও তার প্রভাব' সম্পর্কিত চলচ্চিত্রের নাম -
  1. ক) মাটির ময়না
  2. খ) অন্তর্যাত্রা
  3. গ) মুক্তির গান 
  4. ঘ) রানওয়ে
সঠিক উত্তর:
ঘ) রানওয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রানওয়ে
ব্যাখ্যা

- প্রয়াত চিত্রপরিচালক তারেক মাসুদের 'জঙ্গীবাদ ও তার প্রভাব' সম্পর্কিত চলচ্চিত্রের নাম - রানওয়ে।

• চলচ্চিত্র:
- বাংলাদেশে স্বাধীন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক এবং গীতিকার হিসেবে সমাদৃত তারেক মাসুদ।
- শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর ছেলে আশফাক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিবিসির ভিডিও গ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।
- সবার কাছে মিশুক মুনীর নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি।
- তিনি তার প্রতিটি কাজের মাধ্যমে একটি করে নতুন ধারার সূচনা করতে চেয়েছিলেন।
- তিনি চেয়েছিলেন তার ‘রানওয়ে’ চলচ্চিত্রটিকে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তের দর্শকদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে।
- জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ বিরোধী একটি রাজনৈতিক ছবি ‘রানওয়ে’ নিয়ে ভেবেছিলেন অন্য ভাবনা।
- ঢাকা কেন্দ্রীক চিন্তাচেতনাকে অগ্রাহ্য করে আর্থিক ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকা পরও অবলীলায় নিজের তৈরি ছবি ‘রানওয়ে’কে বন্দরনগরীতে ২০১০ সালের ৪ অক্টোবরে মুক্তি দিয়েছিলেন।
- ২০০২ সালে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ মুক্তি পায়।
- ২০১১ সালের ১৩ অগস্ট মাসে কাগজের ফুল লোকেশন দেখতে গিয়ে ফিরে আসার সময় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান। 

তথ্যসূত্র: বাংলা নিউজ ডট কম এবং ইত্তেফাক পত্রিকা রিপোর্ট। 

৫,৬৪২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কয়টি সেক্টরে পরিচালিত হয়?
  1. ক) ৭টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ১১টি
  4. ঘ) ১৩টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১টি
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সামরিক ও বেসামরিক জনগণের সমন্বয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল কর্নেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকারকে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ও উপপ্রধান সেনাপতি ঘোষণা করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এই ১১ টি সেক্টরের সশস্ত্রবাহিনীকে সংগঠিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই।
- মুক্তিবাহিনীকে তিনটি বিগ্রেড ফোর্সে ভাগ করা হয় যা জেড ফোর্স, কে ফোর্স এবং এস ফোর্স নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি, প্রথম আলো পত্রিকা, বিবিসি নিউজ বাংলা, ও যুগান্তর পত্রিকা।
৫,৬৪৩.
আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র জারি করা হয়?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ২৫ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ৭ মার্চ ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৪৪.
Who was the Prime Minister of Pakistan during the Liberation war in 1971?
  1. Maulana Akram Khan
  2. Feroze Khan Noon
  3. Nurul Amin
  4. Khwaja Nazimuddin
  5. Liaquat Ali Khan
সঠিক উত্তর:
Nurul Amin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nurul Amin
ব্যাখ্যা
নূরুল আমিন:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নূরুল আমিন।
- ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৩ বছর সামরিক আইন জারির পর স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খানের প্রশাসনের অধীনে নূরুল আমিনকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজয়ের পর ২০ ডিসেম্বর আমিনকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন।
- নূরুল আমিন ১৯৪৮ সালে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন এবং পাঁচ বছর এ পদে বহাল ছিলেন।
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি যুক্তফ্রন্ট প্রার্থীর নিকট পরাজিত হন।
- ১৯৬৯ সালে তিনি পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং এ দলের সভাপতি হন।
- ১৯৭০ সালে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের প্রাক্কালে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন এবং স্বাধীনতার পরপরই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
        ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৬৪৫.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু হয় কোন শাসকের মাধ্যমে?
  1. রাজা গণেশ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4.  ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
 ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- এরপর থেকে রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসন ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনের অধীনে থাকে।
- ১২০৪–১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খলজি, তুর্কি ও বলবনী শাসকগণ প্রধানত দিল্লির সুলতানদের নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।
- অনেক শাসক দূরবর্তী বাংলায় স্বাধীনতার সুযোগ পেয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেন।
- বাংলাকে তখন “বুলঘাকপুর” বা “বিদ্রোহের নগরী” বলা হতো।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু করেন।
- ১৩৩৮–১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা প্রায় দুই শতাব্দী স্বাধীন থাকে।
- এই স্বাধীন যুগে শাসক ছিলেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান ও হোসেন শাহী বংশ।
শাসকগণ ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ নৃপতিদের পাশে স্থান করে নেন।
- তারা বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাসংস্কৃতি উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- এই দুই শতাব্দীর স্বাধীন সুলতানি যুগকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৪৬.
ইস্কান্দার মির্জা সামরিক আইন জারি করে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন?
  1. ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল
  2. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙ্গে দেওয়া
  3. রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন: 
- ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি দায়িত্ব নিয়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল,
২. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙ্গে দেওয়া,
. রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা,
৪. বেশ কজন রাজনৈতিক নেতাকে জেলে প্রেরণ,
৫. সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৪৭.
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করার পর পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. আইয়ুব খান
  2. রাও ফরমান আলি
  3. খাদিম রাজা
  4. ওমরাও খান
সঠিক উত্তর:
ওমরাও খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওমরাও খান
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্থানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৪৮.
মুক্তিযুদ্ধে "ক্র্যাক প্লাটুন” কোন শহরে সক্রিয় ছিলো?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. চট্টগ্রাম
  4. যশোর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

- মুক্তিযুদ্ধে "ক্র্যাক প্লাটুন” ঢাকা শহরে সক্রিয় ছিলো।

• 'ক্র্যাক প্লাটুন':

- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস: বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৫,৬৪৯.
ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচির' প্রথম দফা-
  1. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  2. বাণিজ্য বিষয়ক সরকারের ক্ষমতা
  3. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  4. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
ব্যাখ্যা
ছয়দফা কর্মসূচি:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচি' পেশ করেন।
- এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন।
- বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়দফা দাবি সংক্রান্ত পুস্তিকাটির নাম 'ছয়দফা: আমাদের বাঁচার দাবি।'

• বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৬৬ সালের ছয় দফার দফা গুলো হলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৫,৬৫০.
পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলন পরিচালিত হয় কোন দলের নেতৃত্বে?
  1. ক) আওয়ামী লীগ
  2. খ) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
  3. গ) নেজামে ইসলাম
  4. ঘ) কাউন্সিল মুসলিম লীগ
সঠিক উত্তর:
ক) আওয়ামী লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবন:
- পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত হামিদুর রহমান কমিশনের রিপোর্ট পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
- কমিশন রিপোর্ট বাতিল এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে ১৯৬২ সালে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ শুরু হয়।
- এ অবস্থায় আইয়ুব খান 'রাজনৈতিক দলবিধি' প্রবর্তন করে পাকিস্তানে রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবন ঘটান।
- আইয়ুব খান নিজে 'কনভেনশন মুসলিম লীগ' নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- পশ্চিম পাকিস্তানে কাউন্সিল মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামী দল সক্রিয় হয়।
- এসময়ে সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আওয়ামী লীগ, নেজামে ইসলাম, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কাউন্সিল মুসলিম লীগ ও নূরুল আমিনের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ মিলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এন. ডি. এফ গঠিত হয়।
- এই ফ্রন্টের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সালের সংবিধানে ফিরে যাওয়া।
- ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবন ও পুনর্গঠন করেন।
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলন পরিচালিত হয়।

উৎস:
ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৫১.
মুজিবনগর সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমদ
  3. গ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় : তাজউদ্দীন আহমদ।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী : এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৫২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে গঠিত সেক্টর কোনটি?
  1. ৯ নং
  2. ৬ নং
  3. ২ নং
  4. ১০ নং
সঠিক উত্তর:
১০ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নং
ব্যাখ্যা
• ১১টি সেক্টর এবং সেক্টর কমান্ডার

• সেক্টর নং ১: 
ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’।
১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম।
আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।

• সেক্টর নং ২:
ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’।
এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এটিএম হায়দার।
এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।

• সেক্টর নং ৩:
হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়।
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কেএম শফিউল্লাহ।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর এএনএম নুরুজ্জামান।
আর এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

• সেক্টর নং ৪:
সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’।
এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।
মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত (পরে মেজর জেনারেলা) এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।

•সেক্টর নং ৫:
বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় ।
মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার।
এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।

• সেক্টর নং ৬:
দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’।
সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার।
এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।

• সেক্টর নং ৭:
রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত।
সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন -মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান।
এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।

• সেক্টর নং ৮:
কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর (পরে লে.কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর (পরে মেজর জেনারেল) এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

• সেক্টর নং ৯:
পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’।
ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং তারপর মেজর জয়নাল আবেদীন।
এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর।
এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।

• সেক্টর নং ১০:
সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধিনে।
এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন।
এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার।
প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।

• সেক্টর নং ১১:
কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’।
১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান ।
নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট (পরে উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান।
এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৫৩.
নীল বিদ্রোহের প্রধান নেতা কারা ছিলেন?
  1. বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস
  2. হাজী শরিয়তুল্লাহ এবং মজনু শাহ
  3. ভবানী পাঠক এবং গোলাম মাসুম
  4. উপরের কেউই না
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- বাংলার কৃষকেরা ১৮৫৯-৬২ খ্রি. ইউরোপীয় নীলকরদের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক বিদ্রোহ সংঘটন করে।
- তারা সকলে একতাবদ্ধ হয়ে নীল চাষ বর্জন করার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষকেরা সাফল্যের সাথে ইংরেজদের নীলভিত্তিক অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছিল।
- এই বিদ্রোহের ফলে নীল শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় এবং বাংলার নীলকরেরা তাদের কুঠি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

⇒ ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে কাঁচামাল সংগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয় ব্রিটেনের বাংলা উপনিবেশ। বস্ত্র শিল্পের রঞ্জক হিসেবে নীলের চাষ ও তা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফার সম্ভাবনা সূত্র খুঁজে পায় নীলকরেরা। রায়তদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করে তারা। কিন্তু অলাভজনক হওয়ায় রায়তেরা নীলচাষে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।

⇒ চরম অত্যাচার আর শোষণে বিপর্যস্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নীল চাষিরা ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রচণ্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। গ্রামে গ্রামে কৃষকরা সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এই সব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় নীল চাষিরাই।
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেনী মাধব নামে দুই ভাই।
- হুগলীতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।

⇒ ১৮৬০ সালে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।
- দীনবন্ধু মিত্রের লেখা 'নীলদর্পণ' নাটকের কাহিনী চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) Britannica.
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।

৫,৬৫৪.
নিচের কোনটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি?
  1. ক) নিপোর্ট (NIPORT)
  2. খ) ব্যানবেইস (BANBEIS)
  3. গ) নিকার (NICAR)
  4. ঘ) ন্যাপ (NAPE)
সঠিক উত্তর:
গ) নিকার (NICAR)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিকার (NICAR)
ব্যাখ্যা
- প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি হলো- নিকার (NICAR)।
- NICAR এর পূর্ণরূপ National Implementation Committee for Administrative Reorganization-Reform.
- NIPORT (নিপোর্ট) বা National Institute of Population Research and Training হলো বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ব্যানবেইস(BANBEIS) বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ও বিভিন্ন গবেষণা করে থাকে।
- BANBEIS এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics.
- NAPE (ন্যাপ) এর পূর্ণরূপ হলো National Academy for Primary Education .এটি বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান। ।

উৎসঃ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৫,৬৫৫.
সম্রাট ফারুকশিয়ার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন স্থানে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার প্রদান করেন?
  1. দিল্লী
  2. সুরাট
  3. বোম্বাই
  4. রাজস্থান
সঠিক উত্তর:
বোম্বাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোম্বাই
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ইংরেজ কোম্পানির ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পায় যখন দিল্লীর সম্রাট ফারুকশিয়ার তাদের বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার প্রদান করেন।
- এই সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রা প্রচলনের অধিকারও তারা লাভ করে।
- সম্রাটের এই ফরমানকে ইংরেজ ঐতিহাসিক ওরমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মহাসনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলে উল্লেখ করেন।
- এই অধিকার লাভ করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপ্রতিরুধ্য গতিতে অগ্রসর হতে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৫৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে গান পরিবেশন করে কে?
  1. জর্জ হ্যারিসন
  2. বব ডিলান
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী গান পরিবেশন করে রবি শঙ্কর, বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:

- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উল্লেখ্য,
- জন লেনন, রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন এবং বিখ্যাত সব পপ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
- তবে জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) BBC।
৫,৬৫৭.
‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ হিসেবে ধর্মঘট পালিত হয় কবে?
  1. ১১ মার্চ, ১৯৪৮
  2. ১৮ মার্চ, ১৯৪৮
  3. ২১ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ২৩ মার্চ, ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ, ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে পরিষদ সদস্যদের ইংরেজি অথবা উর্দুতে বক্তৃতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।
- এ অবস্থায় পূর্ব-পাকিস্তান কংগ্রেস দলের সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন এবং পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষারূপে স্বীকৃতি দানের দাবি জানান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পূর্ব বাংলার ছাত্র-শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীমহল প্রতিবাদ মুখর হয়ে পড়ে।
- মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২ মার্চ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও যুব সংগঠন মিলিতভাবে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করে।
- ১১ মার্চ, ১৯৪৮ ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ হিসেবে ধর্মঘট পালিত হয়। ভাষার দাবিতে এটাই ছিল প্রথম ধর্মঘট। সেদিন পিকেটিং ও বিক্ষোভে শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার হন। 'রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকার রাজপথ। এসময় পুলিশী আক্রমণে বহু ছাত্র আহত হয় এবং বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১২-১৫ মার্চ ঢাকাসহ সকল জেলায় ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়। পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন সংগ্রাম পরিষদের সাথে একটি ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে তিনি সংগ্রাম পরিষদের অনেকগুলো শর্ত মেনে নিলেও বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্র ভাষার দাবি মানেন নি।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 

৫,৬৫৮.
বর্তমান কোন জেলা প্রাচীন 'বরেন্দ্র' অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
গ) রাজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক বা অখণ্ড রাষ্ট্র ছিলো না।
- সমগ্র বাংলা তখন কতগুলো ছোট ছোট অংশে বিভক্ত ছিলো।
- এসব ছোট ছোট অংশ জনপদ নামে পরিচিত। প্রাচীন শিলালিপি ও সাহিত্যগ্রন্থে প্রাচীন বাংলায় প্রায় ষোলটি জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- বরেন্দ্র ছিল উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ। অনুমান করা হয় পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্র এর অবস্থান। 
- বগুড়া, রাজশাহী ও দিনাজপুর জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলা জুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫,৬৫৯.
কণিষ্ক শকাব্দ প্রবর্তন করেন কবে?
  1. ৬৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ৭৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ৮৪ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১০১ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
৭৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

⇒ কণিষ্ক শকাব্দ প্রবর্তন করেন ৭৮ খ্রিস্টাব্দে।

কুষাণ যুগ:

- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন ৭৮ খ্রিস্টাব্দে। 
- কণিষ্ক একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন।
- যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।
- এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কণিষ্কের রাজধানী ছিল - পুরুষপুর (বর্তমান পেশোয়ার)।
- এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যথা-
• 'মহাযান' ও
• 'হীনযান'।
- কণিষ্ক ২৩ বছর রাজত্ব করেন।
- তিনি ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৬০.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার কোন তারিখে গঠিত হয়?
  1. ২৫শে মার্চ
  2. ২৬শে মার্চ
  3. ১৭ই এপ্রিল
  4. ১৬ই ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৭ই এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ই এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী। - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

অপশনে ১০ই এপ্রিল না থাকায়, অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে ১৭ই এপ্রিল উত্তর নেয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৬১.
দেশ ভাগের পূর্বে বাংলাদেশে কয়টি বিভাগ ছিল?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভাগসমূহ:
- বাংলাদেশ আটটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত যাদের বাংলায় বিভাগ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- বাংলাদেশের ৮টি বিভাগগুলো হলো:
• ঢাকা বিভাগ,
• চট্টগ্রাম বিভাগ,
• রাজশাহী বিভাগ,
• খুলনা বিভাগ,
• সিলেট বিভাগ,
• বরিশাল বিভাগ,
• রংপুর বিভাগ,
• ময়মনসিংহ বিভাগ।

উল্লেখ্য,
- দেশ ভাগের পূর্বে বাংলাদেশে বিভাগ ছিল ৩টি: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী।
- ১৮২৯ সালে ঢাকা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৮২৯ সালে সালে চট্টগ্রাম বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৮২৯ সালে রাজশাহী বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে -
- সিলেট বিভাগ: ১৯৫৪ সাল,  
- খুলনা বিভাগ: ১৯৬০ সাল,
- বরিশাল বিভাগ: ১৯৯৩ সাল,
- রংপুর বিভাগ: ২০১০ সাল,
- সর্বশেষ ময়মনসিংহ বিভাগ: ২০১৫ সাল।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৬৬২.
মুঘল শাসন ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্তাকে কী বলা হত?
  1. ফৌজদার
  2. শিকদার
  3. সুবাহদার
  4. সম্রাট
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
ব্যাখ্যা
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৬৩.
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচী কোন ঘটনার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন
  2. ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন
  3. ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন
  4. ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান :
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন দানা বাঁধে, তা একসময় ছড়িয়ে পড়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক দুর্বার আন্দোলন, যা উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
- ৮ই ডিসেম্বর প্রধান বিরোধী দলগুলোর ডাকে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আওয়ামী লীগের ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- উনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এই ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী।
- ফলে দ্রুত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এরপর থেকে 'ডাকসু' ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫,৬৬৪.
১৯৭১ সালে ঢাকা কত নং সেক্টরের অধীন ছিল?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা ২ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এছাড়া নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ ২ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।
Source: dhakadiv.gov.bd
৫,৬৬৫.
'ইমেরিটাস অধ্যাপক' এর মেয়াদ কত বছর?
  1. পাঁচ বছর
  2. চার বছর
  3. আট বছর
  4. আজীবন
সঠিক উত্তর:
আজীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজীবন
ব্যাখ্যা
ইমেরিটাস অধ্যাপক (Professor Emeritus):
- একজন পূর্ণ অধ্যাপক যখন তার গবেষণার দ্বারা অনেক খ্যাতি লাভ করেন তখন তাকে এ ধরনের উপাধি প্রদান করা হয়ে থাকে।
- এই উপাধি প্রদান করা হয় মূলত অবসরে পাওয়ার পর।
- অবসরে যাওয়ার পূর্বে অর্থাৎ চাকরিকালীন অবস্থায় এ ধরনের উপাধি প্রদান করা হয় না।
- এই ধরনের উপাধির মর্যাদাগত অবস্থান (Status) অধ্যাপকের চেয়ে উপরে হয়।
- কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এই ধরনের পদবি প্রদান করে থাকে।
- অধ্যাপক এক্ষেত্রে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিত্যাগ করে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করতেও পারেন।
- তবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা তিনি এই উপাধি লাভ করেছেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নাম আমৃত্যু লেখা থাকবে Emeritus Faculty দের স্থলে।
- উল্লেখ্য এই পদকটিও আমৃত্যু ব্যবহার করা হয়।
- এরা নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সারা জীবন আর্থিক সুবিধা পাবেন। 
- ড. আনিসুজ্জামান স্যার একই সাথে জাতীয় অধ্যাপক এবং ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। 

উৎস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। 
৫,৬৬৬.
মেজর জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন- 
  1. বিচারপতি সাহাবুদ্দিন
  2. আবদুস সাত্তার 
  3. খন্দকার মুশতাক
  4. জেনারেল এরশাদ
সঠিক উত্তর:
আবদুস সাত্তার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুস সাত্তার 
ব্যাখ্যা

মেজর জিয়াউর রহমান শাসানামাল:
- সাত্তার সরকার (১৯৮১-১৯৮২)  জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- তিনি পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- সামরিক বাহিনীর চাপে সাত্তারের সরকার প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানকে সদস্য করে একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল’ গঠন করে।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ সামরিক আইন জারি, সংবিধান স্থগিত, সাত্তার সরকারকে বরখাস্ত, সংসদ বাতিল এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে আবির্ভূত হন।
-নৌ এবং বিমান বাহিনী প্রধানদ্বয় এরশাদের ডেপুটি নিযুক্ত হন।
- এরশাদ সামরিক আইনে পরবর্তী ৪ বছর দেশ শাসন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৬৬৭.
নিচের কোনটি দুর্নীতি দমন কমিশনের হটলাইন নাম্বার?
  1. ১০২
  2. ১০৬
  3. ১০৯
  4. ৩৩৩
সঠিক উত্তর:
১০৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০৬
ব্যাখ্যা
জরুরী সেবার হটলাইন নাম্বার সমূহ:
• জরুরী সেবা - ৯৯৯।
• শিশু সহায়তা - ১০৯৮।
• নারী ও শিশু নির্যাতন - ১০৯/১০৯২১।
• জাতীয় পরিচয়পত্র - ১০৫।
• সরকারী আইন সেবা - ১৬৪৩০।
• দুর্যোগের আগাম বার্তা - ১০৯৪১।
• দুদক হটলাইন - ১০৬।
• তথ্য সেবা - ৩৩৩।
• কৃষি কল সেন্টার - ১৬১২৩।
• সরকারি আইনগত সহায়তায় জাতীয় হেল্প লাইন - ১৬৪৩০।
• দুর্যোগ প্রারম্ভিক সতর্কতা (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়) - ১০৯০।

তথ্যসূত্র - জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি) ও বাংলাদেশ পুলিশ ওয়েবসাইট।
৫,৬৬৮.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটে-
  1. ক) ১২০০ সালে
  2. খ) ১২০৪ সালে
  3. গ) ১২০২ সালে
  4. ঘ) ১২১২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০৪ সালে
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ শতকে ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। ১২০৪ সালে বখতিয়ার খলজি বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন। লক্ষ্মণ সেন পেছনের দরজা দিয়ে নৌকাযোগে বিক্রমপুরে পলায়ন করেন। তবে পূর্ব বাংলায় ত্রয়োদশ শতক জুড়ে সেন শাসন অব্যাহত ছিলো।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
৫,৬৬৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে কোন অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হতো?
  1. ক) রেখাপাত
  2. খ) চরমপত্র
  3. গ) হুঙ্কার
  4. ঘ) পরিক্রমা
সঠিক উত্তর:
খ) চরমপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চরমপত্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ প্রথমে চট্টগ্রাম, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩রা এপ্রিল ত্রিপুরা এবং ২৬মে কলকাতা থেকে সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে ছিলো:
- চরমপত্র
- জল্লাদের দরবার
- অগ্নিশিখা
- জাগরণী
- বজ্রকণ্ঠ
- বিশেষ কথিকা প্রভৃতি।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলো ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি। এটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং এটির উপস্থাপক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং দৈনিক যুগান্তর)
৫,৬৭০.
নিচের কোন প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ ছিলেন শীলভদ্র?
  1. ক) বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) তক্ষশিলা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) সোমপুর বিহার
  4. ঘ) নালন্দা মহাবিহার
সঠিক উত্তর:
ঘ) নালন্দা মহাবিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নালন্দা মহাবিহার
ব্যাখ্যা
নালন্দা মহাবিহার 
- ভারতের বিহারে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহার প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। এটিকে পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় বিবেচনা করা হয়।
- বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত শীলভদ্র ৬৩৫ সালে নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
- হিউয়েন-সাং-এর ভ্রমণের ৩০ বছরের মধ্যে ই-ৎসিঙ (৬৭৫ থেকে ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এখানে শিক্ষাগ্রহণ করেন) সহ কমপক্ষে ১১ জন কোরীয় ও চৈনিক তীর্থযাত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা নালন্দা ভ্রমণ করেন বলে জানা যায়।
- বারো শতকের দিকে নালন্দা তার গুরুত্ব হারায়। 

অন্যদিকে, 
- বিক্রমশিলা মহাবিহার বা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রাচীন ভারতের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি ম্লান হয়ে আসার সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভব ঘটে।  বর্তমান বিহারের ভাগলপুর জেলার কাছে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- তক্ষশিলা ছিল প্রাচীন ভারতের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বৈদিক যুগে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা হলেও এটি বৌদ্ধযুগ পর্যন্ত স্থায়িত্ব লাভ করেছিল। এই  বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের রাওয়ালপিণ্ডির নিকটবর্তী অঞ্চলে। 

রেফারেন্স:  বাংলাপিডিয়া
৫,৬৭১.
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা কত সাল ছিল?
  1. ১৩৫৯, ৯ ফাল্গুন
  2. ১৩৫৮, ৮ ফাল্গুন
  3. ১৩৭২,৭ ফাল্গুন
  4. ১৩৫৫, ৮ ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
১৩৫৮, ৮ ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৫৮, ৮ ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

• একুশে ফেব্রুয়ারি:
- একুশে ফেব্রুয়ারি  শহীদ দিবস ও  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের একাধারে মর্মান্তিক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন।
- ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন।
- তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউর, সালাম, বরকত সহ অনেকেই।
- তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৭২.
বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন কেন?
  1. আইয়ুব খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে
  2. বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে
  3. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন:

• ৩ মার্চ (১৯৭১) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ ঢাকায় এবং পরদিন সারাদেশে হরতাল ডাকেন। 
• ২ মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
• ২ এবং ৩ মার্চ হরতালের ফলে সকল সরকারি কর্মকাণ্ড অচল হয়ে পড়ে। 
• পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করে। 
• সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে 'স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি' শীর্ষক একটি ইশতেহার প্রচার করা হয়। ইশতেহারে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের তিনটি লক্ষ্য চিহ্নিত করা হয়।
• ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৭৩.
মাস্টারদা সূর্যসেনের সহযোগী কে ছিলেন?
  1. ক) ইলা মিত্র
  2. খ) তিতুমীর
  3. গ) প্রীতিলতা
  4. ঘ) ক্ষুদিরাম
সঠিক উত্তর:
গ) প্রীতিলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রীতিলতা
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্যসেন:
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও  সুষ্ঠ পরিকল্পনার ফসল। 
- প্রাথমিক পর্যায়ে অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক পথ ধরে বিপ্লবের সূচনা হলেও সময়ের ব্যবধানে সংগ্রামের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে হিংসাত্মক কর্মনীতি বা বিপ্লববাদ দেখা দেয়। 
- ১৮ তারিখে গুড ফ্রাইডে থাকায় সেদিন ইউরোপীয়ান ক্লাবে ইংরেজ পদস্থ কর্মকর্তারা কেউ উপস্থিত ছিল না এবং অক্সিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগারে ভারী অস্ত্র মিললেও কোন গুলি পাওয়া যায়নি বলে এই দুটি ক্ষেত্রে আশানুরূপ সফলতা আসেনি।
- তবে সূর্যসেনের নেতৃত্বে পুলিশের অস্ত্রাগার দখলের পর অস্ত্র ও গুলি সংগৃহীত হয়।
- অস্ত্রাগারে আগুন লাগানোর সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বিপ্লবী হিমাংশু বিমল সেন। 
- সূর্যসেন পাহাড়ে আত্মগোপন করেন।

- তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, বিপ্লবী দল চট্টগ্রামে গিয়ে ইংরেজদের আক্রমণ করবে। 
- ১৯৩০ সালের ২২ এপ্রিল এ সংঘটিত যুদ্ধে ১৪ জন বিপ্লবী শহীদ হন।
- সূর্যসেন এর নেতৃত্বে দলটি পাহাড়ে আত্মগোপন করেন। 
- মাস্টারদা সূর্যসেনের সহযোগী ছিলেন প্রীতিলতা ওয়াদেদ্দার।
- ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন। 
- কিন্তু সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এই ঘটনায় ১১ জন বিপ্লবী গ্রেফতার হন। 
- ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবে সফল আক্রমণ চালান, তবে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৭৪.
পলাশীর যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
  1. ২৩ জুন ১৭৫৬
  2. ২৩ জুন ১৭৫৭
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি ১৭৫৭
  4. ১৭ জুলাই ১৭৫৭
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন ১৭৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ জুন ১৭৫৭
ব্যাখ্যা

পলাশীর যুদ্ধ: 
- পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ২৩ জুন ১৭৫৭।
- যুদ্ধের একপক্ষ ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা।
- অপরপক্ষ ছিল রবার্ট ক্লাইভ নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- যুদ্ধের ফলাফল: সিরাজুদ্দৌলা পরাজিত হন।
- এই যুদ্ধের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
- এর পর বাংলায় প্রায় দুইশ বছরের ইংরেজ শাসন শুরু হয়।
- যুদ্ধের মাধ্যমে মীর জাফরকে নবাব বানানো হয়, যিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুতুলশাসক হিসেবে কাজ করেন।
- পলাশীর যুদ্ধ ইতিহাসে ভূমিকম্প-সদৃশ পরিবর্তন সূচিত করে- রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে বাংলার শাসন ব্যর্থ হয়।
-এটি মুঘল শাসন অবসানের প্রাক্কালে বাংলার প্রধান ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি)।

৫,৬৭৫.
সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় কোন জেলায়?
  1. ব্যারাকপুর
  2. কানপুর
  3. মিরাট
  4. সুরাট
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যারাকপুর
ব্যাখ্যা

→ সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় ব্যারাকপুরে।

সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৬৭৬.
কত সালে বাংলা ভাষাকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য:
- ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। 
- ভাষা আন্দোলনের ফলে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিকাশ ঘটে। এই আন্দোলন দ্বিজাতি তত্ত্বের ধর্মীয় চেতনার মূলে আঘাত হানে। পাকিস্তান সৃষ্টির সাম্প্রদায়িক ভিত্তি ভেঙ্গে বাঙালিরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার আন্দোলন শুরু করে। এর ফলে ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে ওঠে।
- এর ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে দলটির শোচনীয়ভাবে পরাজয় ঘটে। এর পর আর কোন নির্বাচনে মুসলিম লীগ জয়ী হয়নি।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি শোক দিবস হিসেবে ছুটি ও শহিদ দিবস ঘোষনা করে।
- ১৯৫৩ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি 'শহিদ দিবস' হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি খালি পায়ে হেঁটে শহিদ মিনারে ফুল অর্পণ করে আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলা ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। 
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস' এর স্বীকৃতি দান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৬৭৭.
মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন -
  1. ইউসুফ আলী
  2. আবদুল মান্নান
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল মান্নান
ব্যাখ্যা
→ মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান।

মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ২৬ মার্চ ১৯৭১ স্বাধীনতা ঘোষণার পর, ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১, মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বৈদ্যনাথতলা গ্রামটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মুজিবনগর নামে পরিচিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল, মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান (এম.এন.এ)।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী (এম.এন.এ)।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে যৌথ বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করে।
- এই যৌথ বাহিনী গঠিত হয় পুলিশ, আনসার এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৭৮.
মুজিবনগর কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সাতক্ষীরায়
  2. খ) মেহেরপুরে
  3. গ) চুয়াডাঙ্গায়
  4. ঘ) নবাবগঞ্জে
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুরে
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার বা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদরদপ্তর বা প্রশাসনিক কেন্দ্র।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং ১৪ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার মুক্তাঞ্চলে সরকারের শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় হওয়া সত্ত্বেও আকাশবাণীসহ আরও দু’একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।
- পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণের স্থান নির্ধারিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৭৯.
অপরাজেয় বাংলা কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
  2. খ) ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
  3. গ) ১ জানুয়ারি ১৯৮০
  4. ঘ) ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮০
সঠিক উত্তর:
ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
ব্যাখ্যা
- 'অপরাজেয় বাংলা' ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নিবেদিত একটি ভাস্কর্য; যা তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে চিত্রায়িত করেছে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত ভাস্কর্যটি ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে উদ্বোধন করা হয়
- এর ভাস্কর ছিলেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ।

উৎসঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।
৫,৬৮০.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরউত্তম
  2. খ) বীরবিক্রম
  3. গ) বীরশ্রেষ্ঠ
  4. ঘ) বীরপ্রতীক
সঠিক উত্তর:
গ) বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ।
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন, দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন, তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫,৬৮১.
’শহিদ নূর হোসেন’ কোন আন্দোলনে শহিদ হন?
  1. ভাষা আন্দোলনে
  2. নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে
  4. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনে
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে
ব্যাখ্যা

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন:
- জেনারেল এরশাদের ৯ বছরের শাসনামাল ছিল।
- ১৯৯০ সালে উত্তাল এবং রক্তাক্ত সপ্তাহে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হাতে ৭০ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছিলেন।
- শহিদ নূর হোসেন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদ হন।
- কিন্তু তারও তিন বছর আগে আরেকটি গণআন্দোলন তিনি নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছিলেন।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নূর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহীদ হন।
- নূর হোসেনের লেখা শ্লোগান বুকে 'স্বৈরাচার নীপাত যাক' এবং পিঠে 'গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর এক তীব্র গণআন্দোলনের মুখে বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের নয় বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য,
- শহিদ আবুসাঈদ ২৪ গণঅভূত্থানে শহিদ হন।
- '১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ দেয়।

উৎস: বিসিসি বাংলা নিউজ।

৫,৬৮২.
ভাষা আন্দোলনের সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) খাজা নাজিমুদ্দীন
  2. খ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. গ) লিয়াকত আলী খান
  4. ঘ) নূরুল আমীন
সঠিক উত্তর:
ক) খাজা নাজিমুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাজা নাজিমুদ্দীন
ব্যাখ্যা
খাজা নাজিমুদ্দীন পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৮৩.
মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার কে?
  1. সিতারা বেগম
  2. তারামন বিবি
  3. আশালতা বৈদ্য
  4. নারী কমান্ডার ছিল না
সঠিক উত্তর:
আশালতা বৈদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশালতা বৈদ্য
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার:
- মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার আশালতা বৈদ্য।

⇒ আশালতা বৈদ্যের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।
- মুক্তিযুদ্ধের বছর তার বয়স ছিল মাত্র পনের বছর।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধের ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরে কোটালীপাড়া সীমানা সাব-সেক্টরের কমান্ডার হেমায়েত উদ্দিনের বাহিনীতে যোগ দেন
- তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী/৭১ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বরিশাল অঞ্চলে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

উৎস: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৫,৬৮৪.
কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে ঢাকা গেইট নির্মিত হয়েছে?
  1. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ঢাকা গেইট নির্মিত হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
- সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।
- সম্প্রতি ঢাকা গেট সংস্কার শেষে নতুন করে উদ্বোধন হয় ঐতিহাসিক ঢাকা গেইট।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বিবিসি বাংলা।

৫,৬৮৫.
পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন-
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. আ.স.ম. আব্দুর রব
  3. শাহজাহান সিরাজ
  4. নূরে আলম সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা

- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

৫,৬৮৬.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কতজন রাজসাক্ষী ছিলেন?
  1. ৭ জন
  2. ৯ জন
  3. ১১ জন
  4. ১৩ জন
সঠিক উত্তর:
১১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৬৮৭.
শাপলা চত্বরের স্থপতি কে?
  1. ক) মৃণাল হক
  2. খ) মাসুদ আহমেদ
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) আজিজুল জলিল পাশা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আজিজুল জলিল পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আজিজুল জলিল পাশা
ব্যাখ্যা

ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থিত 'শাপলা চত্ত্বর'- এর স্থপতি আজিজুল জলিল পাশা। বাংলাদেশের জাতীয় ফুল এই শাপলা (জলপদ্ম প্রজাতির শালুক)। ভাস্কর্যটি একটি ঝরনা দ্বারা বেষ্টিত।
আজিজুল জলিল পাশার আরেকটি বিখ্যাত কীর্তি হচ্ছে - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে অবস্থিত - 'দোয়েল চত্বর'। এটি ১৯৭৪ সালে নির্মিত হয়েছিল।

৫,৬৮৮.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র কোনটি?
  1. ক) পুন্ড্রনগর
  2. খ) ময়নামতি
  3. গ) পাহাড়পুর
  4. ঘ) সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
ক) পুন্ড্রনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পুন্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
• পুন্ড্রনগর: 
- পুন্ড্রনগর  বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র, এর প্রাচীনত্ব খ্রিস্টপূর্ব চার শতকের বলে ধরে নেওয়া হয়।
- এ নগরের সর্বপ্রথম উল্লেখ পাওয়া গেছে মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে এবং প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনের ফলে এ স্থানের প্রাচীনত্বের নিঃসন্দেহ প্রমাণ পাওয়া যায়।
- পুন্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে বগুড়া জেলার মহাস্থান-এ আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে।
- সেন আমল পর্যন্ত না হলেও মৌর্য যুগ হতে পাল আমলের শেষ অবধি পুন্ড্রবর্ধন বিভাগের প্রশাসনিক সদর দফতর হিসেবে পুন্ড্রবর্ধনের অবস্থান অব্যাহত ছিল।

- গুপ্তযুগে বাংলায় এটি ছিল তাদের শাসনের কেন্দ্র এবং  পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তির রাজধানী।
- করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুন্ড্রনগরের সঙ্গে জল ও স্থল পথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সংযোগ ছিল এবং সমগ্র প্রাচীন যুগে এটি ব্যবসায়-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে সমৃদ্ধ ছিল।
- মুসলিম যুগের প্রথম দিকেও বিখ্যাত দরবেশ শাহ সুলতান বলখী অথবা মাহীসওয়ার-এর বাসস্থান হিসেবে এ নগরের গুরুত্ব অব্যাহত ছিল।
- শাহ সুলতান বলখী প্রাচীন নগরের দক্ষিণ-পূর্বাংশে তাঁর খানকাহ নির্মাণ করেছিলেন।
- নগরটি তখন সম্ভবত প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় ছিল। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৮৯.
বাংলাদেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল কে?
  1. ফরাসউদ্দিন আহমেদ
  2. আবদুল বাসেত মজুমদার
  3. খন্দকার মাহবুব আলম
  4. আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বর্তমান ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন। তিনি ৮ অক্টোবর ২০২০ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা। তিনি পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি।
(তথ্যসূত্র: অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইট)
৫,৬৯০.
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি' চরণটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) মধুসূদন দত্ত
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা

ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
ও সে সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি
সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি।
-দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বা ডি. এল. রায়

৫,৬৯১.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন? 
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. নুরুল আমিন
  4. ইসমাইল ইব্রাহিম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ খান নুন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্ররা মিছিল করে।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

৫,৬৯২.
মুক্তিযুদ্ধের এয়ার উইং প্রতিষ্ঠা লাভ করে ভারতের কোন রাজ্যে?
  1. মেঘালয়
  2. মিজোরাম
  3. নাগাল্যান্ড
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে বিমানবাহিনী:
- ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে মুক্তিযুদ্ধের এয়ার উইং প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 
- এয়ার উইংয়ের কাছে একটি ডিসি-৩ বিমান, একটি অটার বিমান এবং একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টারের খুব কম মজুদ ছিল।
- তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদের দক্ষ নির্দেশনায় 'কিলো ফ্লাইট' নামে একটি উড়ন্ত ইউনিট গঠন করেছিলেন।
- ৯ জন বৈমানিক এবং ৫৭ জন বিমান ক্রূর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কিলো ফ্লাইট।
- বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে একটি হেলিকপ্টার, একটি যুদ্ধবিমান ও একটি পরিবহন বিমান ছিল।
- মুক্তিযুদ্ধে তারা প্রায় ৩৬টি অভিযান পরিচালনা করেন।
- বিমানবাহিনীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অভিযান হলো চট্টগ্রাম তেল শোধনাগার ও নারায়ণগঞ্জ তৈলাধার ধ্বংস ও কুশিয়ারা নদীতে শত্রু নৌযান ধ্বংস।

উৎস: বিমানবাহিনীর ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া। 

৫,৬৯৩.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গানটির প্রথম চরণ কী?
  1. আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
  2. এ জ্বলন্ত হিমায়িত হৃদয়
  3. চল চল চল, মুক্তির পথে
  4. ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না
সঠিক উত্তর:
ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গানটির প্রথম চরণ- ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না।
---------------------------------------- 
•  ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম গান:
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত প্রথম গান হিসেবে পরিচিত “ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না”।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিবর্ষণ ও প্রথম শহীদ মিনার ধ্বংসের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ভাষাসৈনিক আ ন ম গাজীউল হক এই গানটি রচনা করেন।
- পরের বছর, ১৯৫৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আরমানিটোলা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় গানটি সর্বপ্রথম পরিবেশিত হয়।

- এই গানের রচয়িতা গাজীউল হক নিজেই।
- গানটির প্রথম পংক্তি ছিল “ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলব না”।
- গানের সুরারোপ করেন তাঁর অনুজ নিজাম উল হক।
- ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত প্রেক্ষাপট ও জাতীয় শোক-প্রতিবাদের আবেগ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে জন্ম নেওয়া এই গানটি পরবর্তীকালে আন্দোলনের এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে ওঠে।
--------------------
অন্যদিকে,
- “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক গান।
- এটি ১৯৫২ সালে সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন।
- পরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের সুরে গানটি শহীদদের স্মরণে প্রভাতফেরিতে পরিবেশিত হয়। 
- গানটি এখন ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরির অপরিহার্য গানে পরিণত হয়েছে। 
- এটি বিবিসি বাংলার জরিপে অন্যতম সেরা গান হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫,৬৯৪.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
• চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
• ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
• রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
• মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
• সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।
• নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৯৫.
৭ই মার্চ ভবন কোথায় অবস্থিত?
  1. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
  4. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চ ভবন:
- ৭ই মার্চ ভবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- এই ভবন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে নির্মিত।
- এক হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনে সক্ষম এই ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮৮ কোটি টাকা।
- ভবনের রয়েছে পাঁচতলা প্রশাসনিক ব্লক, সার্ভিস ব্লক ও জাদুঘর।
- জাদুঘরে ৭ মার্চের ভাষণ, বাঙালিদের সশস্ত্র সংগ্রামের বিরল ছবি এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদানসংক্রান্ত তথ্য রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘৭ মার্চ ভবন’ উদ্বোধন করেছেন।

উৎস: ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, প্রথম আলো।
৫,৬৯৬.
শহীদ আসাদ কে ছিলেন?
  1. ভাষা আন্দোলন এর শহীদ
  2. শাসনতন্ত্র আন্দোলন এর শহীদ
  3. গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ
  4. মুক্তিযুদ্ধের এর শহীদ
সঠিক উত্তর:
গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ
ব্যাখ্যা
শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ (১৯৪২-১৯৬৯) উনিশশত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।

- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদ ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক।
- আসাদের মৃত্যুতে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৬৯৭.
বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম কোন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন
  2. খ) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশন
  3. গ) ওআইসি সম্মেলন
  4. ঘ) কমনওয়েলথ সম্মেলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কমনওয়েলথ সম্মেলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কমনওয়েলথ সম্মেলন
ব্যাখ্যা
প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ২-১০ আগস্ট কানাডার অটোয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯তম কমনওয়েলথ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলন হিসেবে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ৬ মে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকার কিংস্টনে ২০তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধান সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু এই সম্মেলনে যোগ দিতে ২৬ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত জ্যামাইকা সফর করেন যা ছিলো বঙ্গবন্ধুর সর্বশেষ কোন সম্মেলনে যোগদান ও বিদেশ সফর

এছাড়াও বঙ্গবন্ধু আরো তিনটি সম্মেলনে যোগ দেন।
এগুলো হলো:
- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, আলজিয়ার্স : ৫-৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩
- লাহোর ওআইসি সম্মেলন : ২৩-২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশন, নিউইয়র্ক : ২৩ সেপ্টম্বর-৭ অক্টোবর ১৯৭৪।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় দৈনিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট)
৫,৬৯৮.
বঙ্গবন্ধু রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ কারাগারের রোজনামচা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২০১৯ সালে
  2. খ) ২০১২ সালে
  3. গ) ২০১৭ সালে
  4. ঘ) ২০১৫ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা। প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৫,৬৯৯.
কয়টি জেলায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের কার্যক্রম রয়েছে?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জি-কে প্রজেক্ট) :
গঙ্গা নদীর দক্ষিণ তীরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে (বাংলাদেশের ভূখন্ডে) সেচের জন্য  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত একটি প্রকল্প। 
কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং মাগুরা জেলার ১,৯৭,৫০০ হেক্টর জমি এ  সেচ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত। 
এর মধ্যে ১,৪২,০০০ হেক্টর জমি সেচযোগ্য। 
উল্লিখিত চারটি জেলার সর্বমোট ১৩টি উপজেলায় এ কার্যক্রম বিস্তৃত।
 উপজেলাগুলি হলো - কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুন্ড, শৈলকূপা, মাগুরা সদর, শ্রীপুর এবং দৌলতপুর। 
 
প্রকল্পের ভৌগোলিক সীমারেখা উত্তরে গঙ্গা ও  গড়াই নদী, পূর্বে গড়াই-মধুমতি, দক্ষিণে  নবগঙ্গা এবং পশ্চিমে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
 
 এ প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, গঙ্গা নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে সংযোগ  খাল ও নালার মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ করা। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নকে এ প্রকল্পে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় নি। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে শস্যের অধিক ফলন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ছিল অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৫,৭০০.
মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কত সালে গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৯২ সালে
  2. খ) ২০০০ সালে
  3. গ) ২০০১ সালে
  4. ঘ) ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি
• ২০০১ সনের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়;
• সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়;
• মন্ত্রণালয়ের কাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের সুবিধার্থে ২০০২ সালে বিআরটিবি ভবন,এলেনবাড়ী, তেজগাঁও-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হয়;
• পরবর্তীতে কাজের কলেবর ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান ঠিকানা সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকার সরকারি পরিবহন পুলভবনের ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় গত ১০/১০/২০০৬ তারিখ হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।