বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৫৬ / ১২৪ · ৫,৫০১৫,৬০০ / ১২,৪২১

৫,৫০১.
জুলাই সনদ ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করা হয় কবে?[ আগস্ট, ২০২৫]
  1. ৪ ই আগস্ট, ২০২৫
  2. ৫ ই আগস্ট, ২০২৫
  3. ৬ ই আগস্ট,২০২৫
  4. ৭ ই আগস্ট, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
৫ ই আগস্ট, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ই আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই সনদ ঘোষণাপত্র:
- তারিখ : ৫ ই আগস্ট ২০২৫ সাল।
- স্থান: রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ।
- প্রধান ব্যক্তিত্ব: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- অনুষ্ঠানের নাম:‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’।
- উদ্দেশ্য: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া।
- আয়োজক: সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- মূল কার্যক্রম: অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
- জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল।

​উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।[ লিঙ্ক]

৫,৫০২.
জাহাঙ্গীর 'দস্তর-উল-আমল' নামে কয়টি আইন প্রণয়ন করেন?
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ১৩টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
সম্রাট জাহাঙ্গীর:

- আকবরের মৃত্যুর পর যুবরাজ সেলিম 'নুরউদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি ১৬০৫- ১৬২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- তিনি মোগল সাম্রাজ্যের সংহতি বাংলার বার ভূঁইয়াদের দমন এবং মেবার বিজয় করেন।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একাধারে আকর্ষণীয়, প্রজ্ঞাবান, দয়ালু ও বুদ্ধিমান শাসক।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার সময়ের বেশকিছু নির্যাতনমূলক আইন বাতিল করেন।
- তিনি 'দস্তুর-উল-আমল' নামে ১২টি আইন প্রণয়ন করে দয়া ও উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
- একজন সাধারণ প্রজাও সরাসরি সম্রাটের বিচারপ্রার্থী হতে পারতেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫০৩.
পাকবাহিনীর গণহত্যার খবর বহির্বিশ্বে প্রথম কে তুলে ধরেন?
  1. ক) সাইমন ড্রিং
  2. খ) অ্যান্থনি মাসকারেনহাস
  3. গ) ডেভিট ফ্রস্ট
  4. ঘ) অ্যালেন গিন্সবার্গ
সঠিক উত্তর:
ক) সাইমন ড্রিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাইমন ড্রিং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের সময় ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোপনে অবস্থান করে পাকবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তীতে ৩০শে মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর ট্যাংকে চড়ে তিনি ঢাকায় প্রবেশ করেন।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)
৫,৫০৪.
দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রামে
  2. পঞ্চগড়ে
  3. হবিগঞ্জে
  4. মৌলভীবাজারে
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চগড়ে
ব্যাখ্যা
দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র:
- দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র পঞ্চগড়ে অবস্থিত।
- চা-চাষিদের কাঁচা চা-পাতার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পঞ্চগড়ে দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালু করা হয়।
- এতে চা উৎপাদনকারীদের ব্যয় কমবে।
- চা-চাষিরা পাতার মূল্য না পেলে এই নিলামকেন্দ্র চালু করা মূল্যহীন হবে।
- ‘সমতলে চায়ের ভূবন, পঞ্চগড়ে স্বাগতম’ স্লোগানে স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যান্ড টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এই নিলাম কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

উৎস: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৫,৫০৫.
ভাষা শহিদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন কে?
  1. ক) রফিকউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) আবদুস সালাম
  3. গ) আবদুল জব্বার
  4. ঘ) আবুল বরকত
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল বরকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল বরকত
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন আবুল বরকত। যার ডাক নাম ছিল আবাই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন।
২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
অন্য ভাষা শহিদদের মধ্যে রফিকউদ্দিন আহমেদ ছিলেন মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্রপুর কলেজের ছাত্র।
আব্দুস সালাম ছিলেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি।
সূত্র- বাংলাপিডিয়া এবং একুশ থেকে একাত্তর-আহমেদ রফিক।
৫,৫০৬.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মোঃ আব্দুল হান্নান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৮ সালে ‘জাতীয় সঙ্গীত বিধিমালা’ অনুসারে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের একটি ইংরেজী অনুবাদ প্রণয়ন করা হয়।  
- ইংরেজি অনুবাদটি করেছিলেন সৈয়দ আলী আহসান।
- জাতীয় সঙ্গীতের মোট চরণ সংখ্যা পঁচিশটি (২৫)।
- এর মধ্যে গানের প্রথম ১০ ছত্র কণ্ঠসঙ্গীত এবং
- প্রথম ৪ ছত্র যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৭.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নয় কে?
  1. খান সরওয়ার মুর্শেদ
  2. মোশাররফ হোসেন
  3. আতাউর রহমান
  4. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
আতাউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

অন্যদিকে,
- আতাউর রহমান মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫০৮.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলায় ভোটারদের ভোটদানের হার ছিল—
  1. ৩৬.১৯ ভাগ
  2. ৩৭.৩৯ ভাগ
  3. ৩৮.১৯ ভাগ
  4. ৩৭.১৯ ভাগ
সঠিক উত্তর:
৩৭.১৯ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭.১৯ ভাগ
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফল :
- ১৯৫৪ সালের ৮ই মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথমবারের মতো অবাধ ও সর্বজনীন নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট প্রদান করে।
- ২রা এপ্রিল ঘোষিত ফলাফলে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে, আর শাসক দল মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন পায়।
- এ ফলাফল বাঙালির মধ্যে মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি গভীর অনাস্থা প্রকাশ করে এবং স্বায়ত্তশাসনের প্রতি বাঙালি জাতির সমর্থনকে দৃঢ় করে তোলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৫,৫০৯.
প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজি
  2. মুহম্মদ ঘুরী
  3. সুলতান মাহমুদ
  4. মুহাম্মদ বিন কাসিম
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন কাসিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহাম্মদ বিন কাসিম
ব্যাখ্যা
সিন্ধু বিজয়:
- আরবদের সিন্ধু বিজয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মুসলমানদের আগমনের সূচনালগ্ন ধরা হয়।
- এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রধান কুশীলব ছিলেন আরব সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ও সিন্ধুর তৎকালীন রাজা দাহির।
- প্রথম সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতি ছিলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম।

উল্লেখ্য,
- খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সময় মুসলমানগণ সিন্ধু অভিযান করে।
- খলিফার অনুমতি নিয়ে ইরাকের গভর্ণর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এই অভিযান পাঠান।
- সিন্ধু বিজয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্রাজ্যের বিস্তার সাধন এবং অর্থ সম্পদ লাভ।
- মুহম্মদ বিন কাসিম এক শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে সিন্ধুদেশ আক্রমণ করেন।
- তিনি দাইবুল, নীরুন, সিওয়ান ও সিসাম দখল করে আরও উত্তরে অগ্রসর হন।
- সিন্ধুরাজ দাহির রাওয়ার দুর্গ রক্ষার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু তিনি যুদ্ধে নিহত হন।
- রাওয়ার দখলের পর মুহম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজধানী আলোর জয় করেন।
- এরপর মুলতানও মুসলমানদের দখলে আসে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫১০.
১৯৭১ সালে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে প্রেরিত মার্কিন নৌবহর-
  1. টাস্কফোর্স - ৭১
  2. টাস্কফোর্স - ১৭
  3. টাস্কফোর্স - ৭৪
  4. টাস্কফোর্স - ৭৮
সঠিক উত্তর:
টাস্কফোর্স - ৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাস্কফোর্স - ৭৪
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানকে রক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স-৭৪ প্রেরণ করে।
মার্কিন সপ্তম নৌবহরের কয়েকটি জাহাজের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স-৭৪ গঠন করা হয়। এতে ছিলো তৎকালীন সময়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ।
কিন্তু ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের কঠিন অবস্থানের কারণে তা শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে পারেনি।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার)
৫,৫১১.
'কবর' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জহির রায়হান
  3. আনিস চৌধুরী
  4. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক - কবর।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
- এটি এক অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
- কবর নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫১২.
ঘুমধুম সীমান্ত কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সিলেট
  2. কুমিল্লা
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা
ঘুমধুম সীমান্ত:
- ঘুমধুম সীমান্ত বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্তর্গত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন।
- এর উত্তরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন; পশ্চিমে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়ন, উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন, রত্নাপালং ইউনিয়ন, রাজাপালং ইউনিয়ন ও পালংখালী ইউনিয়ন এবং দক্ষিণে ও পূর্বে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ অবস্থিত।
- মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮৩ কিলোমিটার।
- এর বড় অংশ পড়েছে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায়।
- সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত–সংলগ্ন এলাকায় যুদ্ধ জোরালো করেছে আরাকান আর্মিসহ কয়েকটি গোষ্ঠী। 
- তুমব্রু ও ঘুমধুমের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছেন।  

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো।
৫,৫১৩.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কোনটি অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ তালপট্টি
  2. সেন্টমার্টিন
  3. নিঝুম দ্বীপ
  4. ভোলা
সঠিক উত্তর:
সেন্টমার্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা
• সেন্টমার্টিন দ্বীপ: 
- সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ।
- এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং 
- মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। 
- প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে। 
- ৯২°১৮´ ও ৯২°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২০°৩৪´ ও ২০°৩৯´ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অঞ্চল:
→ বাংলাদেশের সর্বপূর্বের স্থান - আখাইনঠং।
→ বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান - বাংলাবান্ধা।
→ সর্ব দক্ষিণের স্থান - ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্টমার্টিন।
→ সর্ব পশ্চিমের স্থান - মনাকষা।

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৪.
কোনটি লর্ড কার্জন করেছিলেন?
  1. ক) সীমান্ত নীতি চালু করেন
  2. খ) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নির্মাণ
  3. গ) ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লর্ড কার্জন
- কার্জন, লর্ড (১৮৫৯-১৯২৫) ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয়।
- তাঁর পুরো নাম জর্জ নাথানিয়েল কার্জন।
- লর্ড কার্জন পর পর দু'বার ভারত সাম্রাজ্যের অধিকর্তা ছিলেন। 

সীমান্ত নীতি  
- কার্জনের গৃহীত প্রথম পদক্ষেপ ছিল চিত্রল, খাইবার ও খুর্রম উপত্যকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার।
- কারণ, এগুলি সরাসরি ব্রিটিশ শাসিত ছিল না।
- প্রয়োজনে ব্রিটিশ সাহায্য নিয়ে উক্ত অঞ্চলের উপজাতীয়রা নিজেদেরকে রক্ষা করবে- এটিই ছিল লর্ড কার্জনের নীতি।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত এ নীতির গুণেই সীমান্ত অঞ্চল শান্ত ছিল।
- এ নীতির সম্পূরক হিসেবেই উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল  
- কলকাতার বিখ্যাত গড়ের মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত স্মৃতিভবন।
- ১৯০১ সালে ৯৪ বছর বয়সে মহারানী ভিক্টোরিয়া মারা যাওয়ার পর তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে সাদা মার্বেল পাথরের এই ভবনটি নির্মিত হয়।
- লর্ড কার্জন এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি
- ব্রিটিশ মিউজিয়াম আর অক্সফোর্ডের বোদলেইয়ান লাইব্রেরির আদলে স্থাপন করেন ‘ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৫.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ১২ মার্চ ১৯৪৮
  2. ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫০
  3. ১ জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ৩০ জানুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
৩০ জানুয়ারি ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৫১৬.
বঙ্গবন্ধু কবে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন?
  1. ১৯৫৬ সালের ৩১ আগস্ট
  2. ১৯৫৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর
  3. ১৯৫৭ সালের ৩০ মে
  4. ১৯৫৭ সালে ১১ জুলাই
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালের ৩০ মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালের ৩০ মে
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৫,৫১৭.
অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব কবে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়?
  1. ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট
  2. ১৯৪৫ সালের ২৬ জানুয়ারি
  3. ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট
  4. ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় পরিণত হয়।
- এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
- এমন এক সংকটময় সময়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী "যুক্ত বাংলা" গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এই প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন দেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভাই শরৎচন্দ্র বসু।
- এই প্রস্তাবটি ইতিহাসে "বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব" নামে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সোহরাওয়ার্দী স্বাধীন ও সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলার একটি রাজনৈতিক রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- পরে শরৎচন্দ্র বসু একটি ‘সোস্যালিস্ট রিপাবলিক’ হিসেবে অখণ্ড বাংলাকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৫,৫১৮.
কোন চাকমা নেতা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন?
  1. জুয়ান বক্স খান
  2. আজিয়ান বক্স খান
  3. জিয়ান বক্স খান
  4. জুম্মন বক্স খান
সঠিক উত্তর:
জুয়ান বক্স খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুয়ান বক্স খান
ব্যাখ্যা
• চাকমা বিদ্রোহ (১৭৭৬-১৭৮৯):
- চাকমা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় চাকমা রাজা জুয়ান বক্স খান ।
- কারণ চাকমা রাজা জুয়ান বক্স মুদ্রার রাজস্ব দিতে বাধ্য করা হয় ।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মুদ্রা অর্থনীতি প্রচলনের ব্যবস্থা করায় চাকমা বিদ্রোহ সংঘঠিত হয়।
- সরকারি নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, জুয়ান বক্স ও রানু খান সম্পূর্ণ পাহাড়ি এলাকা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন করেছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৯.
সর্বপ্রথম কে সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে একক শাসনাধীনে নিয়ে আসেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহের রাজত্বকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
- ১৩৫২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলা একত্রিত করে এক রাজ্যে পরিনত করেন।
- তাই তাকে বাংলায় সুলতানি শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
- একজন সামান্য শাসক থেকে একত্রিত বৃহৎ বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে এখানে সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জনকল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত করায় ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে উচ্চ স্থান অধিকার করে আছেন।
- দুই বাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫২০.
স্বাধীন বাংলাদেশকে কখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দান করে?
  1. ক) ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  2. খ) ৪ মার্চ, ১৯৭২ সালে
  3. গ) ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে
  4. ঘ) ৪ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
৫,৫২১.
সর্বপ্রথম কোন গ্রন্থে ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠীর উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. ক) বাঙালির ইতিহাস
  2. খ) ঐতরেয় আরণ্যক
  3. গ) আইন-ই-আকবরী
  4. ঘ) রঘুবংশ
সঠিক উত্তর:
খ) ঐতরেয় আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঐতরেয় আরণ্যক
ব্যাখ্যা
- ‘বঙ্গ’ হলো প্রাচীন বাংলায় বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী ও জনপদের নাম।
- ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বেদের শাখা হিসেবে রচিত ‘ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে।
- তবে বঙ্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায় কালিদাস রচিত ‘রঘুবংশ’ গ্রন্থে।
- ‘বঙ্গ’ শব্দ থেকেই বর্তমান ‘বাংলাদেশ’ নামের উদ্ভব হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫,৫২২.
বাংলাদেশকে 'বুলগাকপুর' নামে অভিহিত করেন কে?
  1. আবুল ফজল
  2. ইবনে বতুতা
  3. জিয়াউদ্দিন বারানী
  4. তানসেন
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা

বাংলায় তুর্কি শাসন: 
- বাংলায় মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করেন বখতিয়ার খলজি।
- এ পর্বের প্রথম পর্যায় ছিল ১২০৪ থেকে ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- এ যুগের শাসনকর্তাদের পুরোপুরি স্বাধীন বলা যাবে না।
- তাঁদের কেউ ছিলেন বখতিয়ারের সহযোদ্ধা খলজি মালিক,
- আবার কেউ কেউ তুর্কি বংশের শাসক।
- শাসকদের সকলেই দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলার শাসনকর্তা হয়ে এসেছিলেন।
- পরবর্তীকালে অনেক শাসনকর্তাই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন।
- মুসলিম শাসনের এ যুগ ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ।
- তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাদেশের নাম দিয়েছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- এর অর্থ 'বিদ্রোহের নগরী'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫২৩.
সাত গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. শায়েস্তা খাঁ
  3. উমিদ খাঁ
  4. মীর জুমলা
সঠিক উত্তর:
উমিদ খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উমিদ খাঁ
ব্যাখ্যা

সাত গম্বুজ মসজিদ: 
- অবস্থান: ঢাকা, মোহাম্মদপুর (কাটাসুর-বাঁশবাড়ী সড়কের পাশে)।
- নির্মাণকাল: ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ।
- নির্মাতা: উমিদ খাঁ (মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র)।
- গম্বুজ সংখ্যা: ৭টি (৩টি বড় গম্বুজ ও ৪টি অনু গম্বুজ)।
- মিনার সংখ্যা: ৪টি (চার কোণায়)।
- মসজিদটি লালবাগ কেল্লার মসজিদ ও খাজা আম্বর মসজিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

৫,৫২৪.
দূষণ ও দখলের হাত থেকে রক্ষা করতে আদালত সম্প্রতি কোন নদীটিকে জীবন্ত সত্তা’ ঘােষণা করে রায় দিয়েছে?
  1. ক) বুড়িগঙ্গা
  2. খ) তুরাগ
  3. গ) পদ্মা
  4. ঘ) মেঘনা
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) তুরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তুরাগ
ব্যাখ্যা
সম্প্রতি বাংলাদেশের তুরাগ নদীকে আদালত কর্তৃক জীবন্ত-সত্তা (Legal Person) ঘোষণা করা হয়েছে। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
৫,৫২৫.
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল।
- সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন।
- তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
- জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

৫,৫২৬.
পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি গঠিত হয় কবে?
  1. ১৯২৭ সালে
  2. ১৯৪২ সালে
  3. ১৯৪৭ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৪২ সালের ৩০ আগস্ট কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি গঠিত হয়।
- এটির সভাপতি ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন এবং আহবায়ক ছিলেন মুজিবুর রহমান খাঁ।
- সোসাইটির অন্যতম মূলনীতি ছিল পাকিস্তানি চেতনার সাহিত্যিক রূপায়ণ। এ উদ্দেশ্যে বৈঠক, বক্তৃতা, বিতর্ক, রচনাপাঠ, আলোচনা, গবেষণা, পুস্তকাদি প্রচার প্রভৃতির আয়োজন করা হতো। মুসলমানদের ধর্ম, সমাজ, ঐতিহ্য ও জীবনকে উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে এবং আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দ মিশ্রিত বাংলা ভাষাকে মাধ্যম করে সাহিত্য রচনা করা হতো।
- রেনেসাঁ সোসাইটির প্রবক্তারা পূর্ব পাকিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান জন্মের মাধ্যমে বাংলা ভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটির অস্তিত্বও ফুরিয়ে যায়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫,৫২৭.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. খ) ১১ মার্চ, ১৯৫০
  3. গ) ২ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ঘ) ১ অক্টোবর, ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

• ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
• কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ১ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন নুরুল হক ভূঁইয়া।
• দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ২ মার্চ, ১৯৪৮ সালে যার আহ্বায়ক ছিলেন শামসুল আলম।
• ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহবায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি , বাংলাপিডিয়া। 

৫,৫২৮.
শীতকালে কোন বনভূমির পাতা ঝড়ে যায়?
  1. চকোরিয়া বনাঞ্চল
  2. সুন্দরবন
  3. শালবন
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বনভূমি
সঠিক উত্তর:
শালবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শালবন
ব্যাখ্যা
- টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
- শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।
- এই বনের প্রধান বৃক্ষ হলো শাল বা গজারী।
(তথ্যসূত্রঃ বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
৫,৫২৯.
ভারত স্বাধীনতা আইন পাস হয়—
  1. ১৮ জুলাই ১৯৪৭
  2. ১৪ আগস্ট ১৯৪৭
  3. ১৫ আগস্ট ১৯৪৭
  4. ৩ জুন ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ জুলাই ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
• ভারত বিভাগের পটভূমি ও স্বাধীনতা (১৯৪৭):
- ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের শেষ ভাইসরয় করে পাঠানো হয়।

- তিনি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সঙ্গে আলোচনা করে ভারত বিভাজনের সিদ্ধান্ত নেন। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে নেতারা দেশ বিভাগের পক্ষে সম্মত হন। ৩ জুন ১৯৪৭ মাউন্টব্যাটেন বিভাজন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পাকিস্তান গঠনের সিদ্ধান্তে মুসলিম লীগ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।

- ১৫ জুলাই লন্ডনের কমন্স সভায় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সীমানা নির্ধারণের জন্য র‍্যাডক্লিফের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠিত হয়। তিনি ৯ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেন, তবে তা তখনই প্রকাশ করা হয়নি।

- ১৮ জুলাই ১৯৪৭ "ভারত স্বাধীনতা আইন" পাস হয়, যার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।
- এরপর ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৫,৫৩০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী কী নামে যুদ্ধ শুরু করে?
  1. মুক্তিফৌজ
  2. মুক্তিকামী
  3. মুক্তফৌজ
  4. স্বাধীন ফৌজ
সঠিক উত্তর:
মুক্তিফৌজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিফৌজ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিবাহিনী:
- মুক্তিবাহিনী  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত সশস্ত্রবাহিনী।
- শুরুতে এর নাম ছিল মুক্তিফৌজ।
১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে দেশের শহর ও গ্রাম এলাকায় ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে গঠিত সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরাই পরবর্তী সময়ে সংগঠিত হয়ে মুক্তিফৌজ ও মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
তবে কখন কিভাবে এর সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠে এবং কিভাবে এর নাম মুক্তিবাহিনী হয়, সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট দালিলিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের মূলত দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:
প্রথম শ্রেণীর সদস্যরা ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয়তাবাদী সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, অন্যভাগ আসে ইতিপূর্বে শহর ও গ্রামে সংগঠিত সংগ্রাম পরিষদের বিভিন্ন শাখার সদস্য ও তাদের অনুসারী বেসামরিক জনগণ থেকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩১.
জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
  1. আগ্রাবাদ
  2. পাহাড়পুর
  3. সোনারগাঁও
  4. ময়নামতি
সঠিক উত্তর:
আগ্রাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্রাবাদ
ব্যাখ্যা
• জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর:
- বাংলাদেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক বা নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত।
- এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৬৫ সালে।
- জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ১৯৭৪ সালের ৯ জানুয়ারি। 
- এই জাদুঘরে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জাতি তাত্ত্বিক সামগ্রী প্রদর্শিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর (১৯১০)।

তথ্যসূত্র: জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩২.
ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট এর প্রবক্তা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ক্ষুদিরাম বসু
  3. হেনরি লুইস ডিরোজিও
  4. প্যারিচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুইস ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুইস ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৩৩.
বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. বঙ্গ
  4. গৌড় 
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন জনপদ: 
- প্রাচীন বাংলায় কোন কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিলো না। বাংলা তখন ছোট ছোট কতগুলো অঞ্চলে বিভক্ত ছিলো। এসব অঞ্চল জনপদ নামে পরিচিত। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাচীন বাংলায় মোট ১৬টি জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- এদের মধ্যে বর্তমান বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল প্রাচীন সমতট জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
- সমতটের রাজধানী ছিলো বড়কামতা।

অপরদিকে,
- বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চল।
- হরিকেল জনপদের অন্তর্গত ছিলো বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল
- বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহীর অংশবিশেষ নিয়ে প্রাচীন গৌড় জনপদ গঠিত ছিলো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৩৪.
মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় কবে থেকে?
  1. ক) ১৭ মার্চ ২০১৯
  2. খ) ১ জানুয়ারি ২০২০
  3. গ) ১০ জানুয়ারি ২০২০
  4. ঘ) ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ জানুয়ারি ২০২০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ জানুয়ারি ২০২০
ব্যাখ্যা
মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
সরকার বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২১ সময়কে ‍মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৫,৫৩৫.
Which is the highest state award of Bangladesh?
  1. ক) Ekushey Padak
  2. খ) Independence Day Award
  3. গ) Bangla Academy Literary Award
  4. ঘ) Nazrul Award
সঠিক উত্তর:
খ) Independence Day Award
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Independence Day Award
ব্যাখ্যা
পুরষ্কারসমূহ:

- স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।

  স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারঃ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এ পুরস্কার প্রবর্তন করে। জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশের নাগরিককে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রগুলি হলো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে স্মরণীয় অবদান, ভাষা আন্দোলনে অবদান এবং শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা বিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, জনসেবা, সামাজিক বিজ্ঞান, সঙ্গীত, ক্রীড়া, চারুকলা ও পল্লী উন্নয়নে অবদান। এ ছাড়া জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেও এ পুরস্কারে ভূষিত করার বিধান রয়েছে। প্রতিটি পুরস্কারের মান একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র এবং নগদ অর্থ। পুরস্কারের নগদ অর্থের পরিমান সূচনালগ্নে ছিল বিশ হাজার টাকা। ২০০৪ সালে তা এক লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• একুশে পদকঃ ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। ১৯৭৬ সালে প্রথম এ পুরস্কার চালু করা হয়। জাতীয় জীবনে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার একুশে পদক প্রদান করে থাকে। এ পুরস্কারের জন্য বিবেচ্য ক্ষেত্রগুলি হলো সাহিত্য, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, অর্থনীতি ও দারিদ্য বিমোচন, শিল্প-সংস্কৃতি, সঙ্গীত, নৃত্য, চারুকলা, নাট্যাভিনয়, ভাস্কর্য, এবং ভাষা আন্দোলনে অবদান। প্রতিটি পুরস্কারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নগদ ১৮ ক্যারেট মানের তিন ভরি ওজনের স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থ। শুরুতে পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ ছিল পঁচিশ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে এ অর্থের পরিমাণ চল্লিশ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। সরকার ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী  আবুল বরকত  রফিক উদ্দিন আহমদ,  আবদুস সালাম ও  আবদুল জববার এ চারজন শহীদকে ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।

নজরুল পুরস্কারঃ নজরুল ইনস্টিটিউট সম্প্রতি নজরুল পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। কবি নজরুল ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা এবং নজরুলগীতির বিকাশে অবদানের জন্য প্রতিবছর ব্যক্তিবিশেষকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারের মান নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা। নগদ পুরস্কারের সঙ্গে একটি সম্মাননা প্রতীক ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৩৬.
ধান চাষের জন্যে কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপযোগী?
  1. ক) ১৪°-২৬° সেলসিয়াস
  2. খ) ২২°-৩৬° সেলসিয়াস
  3. গ) ১৬°-৩০° সেলসিয়াস
  4. ঘ) ২০°-৩৫° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬°-৩০° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬°-৩০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। ধান চাষের জন্যে ১৬°-৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত সবচেয়ে উপযোগী।
নদী অববাহিকার পলিমাটিতে ধানের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৫৩৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কত নম্বর সেক্টরের অধীন ছিল?
  1. ক) ১ নং
  2. খ) ৩ নং
  3. গ) ২ নং
  4. ঘ) ১০ নং
সঠিক উত্তর:
গ) ২ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
-১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর
- ঢাকা-২ নং সেক্টর
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট
৫,৫৩৮.
ভারত শাসন আইন -১৯৩৫ এর বৈশিষ্ট নয় কোনটি?
  1. ভারতীয় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান
  2. ভারতে প্রথম বারের জন্য সরাসরি নির্বাচন উপস্থাপন
  3. ভারত থেকে মায়ানমার এর পৃথকীকরণ
  4. এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
সঠিক উত্তর:
এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই আইনের আলোকে সাইমন কমিশন গঠন করা হয়
ব্যাখ্যা
ভারত শাসন আইন:
- সাইমন কমিশনের রিপোর্ট এবং উক্ত শ্বেতপত্রের আলোকে পরের বছর ভারতের জন্য একটা নতুন সংবিধানের খসড়া প্রকাশিত হয়।
- এ খসড়ার ভিত্তিতেই ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ পার্লামেন্টের উভয় হাউসে ভারতের শাসনকার্যের জন্য একটা নতুন শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়।
- এটাই ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের বিখ্যাত ভারত শাসন আইন।

- ভারত শাসন আইন ১৯৩৫ ছিল ব্রিটিশ সরকার রাজের পরাধীন ভারতের শেষ সংবিধান। 
- এই আইনটি ছিল একটি সুবৃহৎ দলিল।
- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত বিভক্তির সময়ও এ আইন কার্যকরী ছিল।

এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক :
- এইটি ভারতীয় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করল এবং ভারত শাসন আইন ১৯৪৭ শেষ হল।
- এইটি ফলে সমস্ত ভারতীয় প্রাদেশিক রাজ্য গুলি ভারত ফেডারেশনের জন্য যোগ দিল।
- প্রথম বারের জন্য সরাসরি নির্বাচন উপস্থাপন করা হল। ভোট দেবার অধিকার বৃদ্ধি কর হল।
- সিন্ধু বোম্বে থেকে পৃথকী করণ হল। উড়িষ্যা বিহার থেকে আলাদা করা হল।
- বর্মা বা মায়ানমার ভারত থেকে আলাদা করা হল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৫৩৯.
'Amar bhaiyer rakte rabgano ekushey february ami ki bhulite pari' who is the first composer of the song?
  1. ক) Abdul Ghaffar Chowdhury
  2. খ) Abdul Jabbar
  3. গ) Abdul Latif
  4. ঘ) Altaf Mahmud
সঠিক উত্তর:
গ) Abdul Latif
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Abdul Latif
ব্যাখ্যা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি 
– গানটির রচয়িতা লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী।
– গানটির ১ম সুরকার–আবদুল লতিফ।
– বর্তমান সুরকার– আলতাফ মাহমুদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৪০.
বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন কে?
  1. ইন্দিরা গান্ধী
  2. জন এলেন
  3. লুইসি ফ্রেশেট
  4. রমেশ চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রমেশ চন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রমেশ চন্দ্র
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি পদক:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ২৩ মে, ১৯৭৩ সালে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উল্লেখ্য,
- তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়েছিলেন, সেই ১৯৬৯ সালে।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে করেছে বাঙালির ‘অবিসংবাদিত নেতা’।
-  বিশ্বশান্তি পরিষদের প্রেসিডেনশিয়াল কমিটির সভায় ১৪০টি দেশের প্রায় ২০০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। 

উৎস: i) কারাগারের রোজনামচা।
         ii) আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
৫,৫৪১.
ছয় দফা আন্দোলনের তৃতীয় দফা কোন বিষয় সংক্রান্ত ছিল?
  1. প্রতিরক্ষা বিষয়ক
  2. মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
  3. রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক
  4. বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য বিষয়ক
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
ব্যাখ্যা

ছয় দফা:
⇒ প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি):
→ পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তন করে একটি ফেডারেল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার দাবি। পূর্ব পাকিস্তানকে সমানভাবে ক্ষমতা দেওয়া হবে।
⇒ দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা):
→ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত করার এবং প্রাদেশিক সরকারের হাতে অধিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব।
⇒ তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক):
→ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নিজস্ব মুদ্রা, অর্থনৈতিক নীতি ও বাজেট ব্যবস্থা গঠনের দাবি।
⇒ চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক):
→ পূর্ব পাকিস্তানে রাজস্ব ও শুল্ক নীতি নির্ধারণের অধিকার প্রদান, যাতে স্থানীয় অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হতে পারে।
⇒ পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য):
→ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য নীতি স্বাধীনভাবে পরিচালনা করার দাবি।
⇒ ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক):
→ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন ও দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে সমান অংশগ্রহণের দাবি।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৪২.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৩
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এর সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সংলনটির প্রথম প্রকাশ মার্চ ১৯৫৩।
- বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক 'ভাষা আন্দোলন' পরবর্তী সময়ে ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামের এই ঐতিহাসিক সংকলনটি; যা বাংলাদেশ তথা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অসামান্য দলিল।
- এতে ৬টি বিভাগে ২২ জন লেখকের লেখা আছে। বিভাগগুলো হলো - কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিলো পুথিপত্র প্রকাশনী থেকে।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৫,৫৪৩.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর সংগীত শিল্পীর নাম?
  1. ক) জর্জ রবার্ট
  2. খ) জর্জ ওয়াকার
  3. গ) জর্জ হারছুন
  4. ঘ) জর্জ হ্যারিসন
সঠিক উত্তর:
ঘ) জর্জ হ্যারিসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর সংগীত শিল্পীর নাম - জর্জ হ্যারিসন।

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:

- একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- পণ্ডিত রবিশংকর মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্বজনমত গড়ে তোলা এবং শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাঁর শিষ্য-বন্ধু বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটল্সের শিল্পী জর্জ হ্যারিসনকে নিয়ে এই অবিস্মরণীয় কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন।
- তাতে মোট ৪০,০০০ দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন। কনসার্টটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।

- কনসার্ট ফর বাংলাদেশে আয়োজক দুই তারকা ছাড়াও অংশ নেন বিটলসের রিংগো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেসটন, লিয়ন রাসেল। রবি শঙ্কর ছাড়াও সরোদ শিল্পী আলী আকবর খান অংশ নিয়েছিলেন এই কনসার্টে।
- এই কনসার্টটি পরিচালনা করেন পল সুইমার। 

- রবি শঙ্কর শুরুতে উদ্যোগটি থেকে বাংলাদেশের জন্য মাত্র ২৫,০০০ ডলার সংগ্রহের আশা করেছিলেন। তবে কনসার্টের টিকিট বিক্রি থেকেই সে সময়ে প্রায় আড়াই লক্ষ ডলারের কাছাকাছি আয় হয়েছিল।
- পরবর্তীতে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ লাইভ' নামে একটি অ্যালবামও প্রকাশ করা হয়।
- সংগৃহীত অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে শরণার্থীদের প্রদান করা হয়। 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং বিবিসি।
৫,৫৪৪.
'দশসালা বন্দোবস্ত' চালু করেন কে? 
  1. লর্ড কার্জন 
  2. লর্ড কর্নওয়ালিস
  3. লর্ড মেয়ো
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা

দশসালা বন্দোবস্তো:
- ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
- এমতাবস্থায় লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসকে কোম্পানির গভর্নর জেনারেল করে পাঠানো হয়।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান।
- অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত করেন।
- তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশকে গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয়।
- 'দশসালা বন্দোবস্ত' করেন লর্ড কর্নওয়ালিশ।১৭৯০ সালে তিনি 'দশসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।

- কর্নওয়াশি ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ 'দশসালা বন্দোবস্ত'কে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলে ঘোষণা করেন।

অপরদিকে,
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৪৫.
বাংলাদেশ টেলিভিশন কত সালে রামপুরায় স্থানান্তর করা হয়?
  1. ক) ১৯৬৪ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৭৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবন (বর্তমান রাজউক ভবন) থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিটিভি সম্প্রচার শুরু করে।

১৯৭৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এটিকে রামপুরায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয় এবং ৬ মার্চ থেকে পুনরায় সম্প্রচার শুরু করে।

১৯৮০ সাল থেকে বিটিভি রঙিন সম্প্রচার শুরু করে। ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রামকেন্দ্র চালু হয়। ২০০৪ সালের ১১ই এপ্রিল বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয়।

২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সমগ্র ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বিটিভি সম্প্রচার শুরু করে।

বিটিভি তার ১৪টি উপ/রিলে কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৯৫ ভাগ এলাকায় টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার বজায় রেখেছে।

(তথ্যসূত্র: বিটিভি ওয়েবসাইট)
৫,৫৪৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সত্য মামলা আগরতলা
  2. খ) অবরুদ্ধ নয় মাস
  3. গ) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
  4. ঘ) বাংলাদেশ কথা কয়
সঠিক উত্তর:
গ) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
- 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' হলো শেখ মুজিবুর রহমানে রচিত একটি আত্মজীবনী সংকলন।
- ২০১২ সালের জুনে এ বইটি প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তগত হয়।
- খাতাগুলি অতি পুরানো, পাতাগুলি জীর্ণ এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট।
- মূল্যবান সেই বাতাগুলি পাঠ করে জানা গেল এটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। 
- এই লেখাগুলোকে বঙ্গবন্ধু হারিয়ে যাওয়া পূর্বোক্ত আত্মজীবনী হিসেবে সুনিশ্চিত করা হয়।
- পরে এগুলো বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সম্পাদনায় গ্রন্থাকারে অসমাপ্ত আত্মজীবনী নামে ২০১২ সালের জুনে প্রকাশ করা হয়।
- 'দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড'-এর পক্ষে এ গ্রন্থটি প্রকাশ করেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।
৫,৫৪৭.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. এম. এ. জি. ওসমানী
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
- অর্থ মন্ত্রণালয়: এম. মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
- প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
- চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব,
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৪৮.
নিচের কোন শিক্ষা কমিশন 'অবৈতনিক শিক্ষার ধারণা বস্তুত অবাস্তব কল্পনা মাত্র' রিপোর্ট পেশ করে?
  1. এস. এম. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  2. নজরুল শিক্ষা কমিশন
  3. এস. এম. হামিদুর শিক্ষা কমিশন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
এস. এম. শরীফ শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস. এম. শরীফ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬২:
- ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ আইয়ুব খান পাকিস্তানের শিক্ষা সচিব এস. এম. শরীফকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট দেয় যে "অবৈতনিক শিক্ষার ধারণা বস্তুত অবাস্তব কল্পনা মাত্র"।
- এর ফলে ছাত্ররা গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবিতে শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় যা শিক্ষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ছাত্রসমাজের দেশব্যাপী দুর্বার আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে সরকার হামিদুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৬২ সালে নতুন শিক্ষা কমিশন গঠন করে।

উল্লেখ্য যে,
- ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলনকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করে আলোচনা করা যায় - 
১ম পর্ব: সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন।
২য় পর্ব: সংবিধান বিরোধী আন্দোলন।
৩য় পৰ্ব: আইয়ুব প্রবর্তিত শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৪৯.
সম্রাট অশোক কোন যুদ্ধের পর যুদ্ধবিজয় নীতি পরিত্যাগ করেন?
  1. কলিঙ্গ যুদ্ধ
  2. তক্ষশীলা যুদ্ধ
  3. মগধ যুদ্ধ 
  4. উজ্জয়িনী যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
কলিঙ্গ যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলিঙ্গ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন।
- তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।

উল্লেখ্য,
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর দেবনামপিয় পিয়দসি (পিয়দসি, অর্থাৎ দেবতাদের প্রিয়জন) শীর্ষক ধর্ম- রাজকীয় উপাধি গ্রহণ করেন এবং নিজেকে শান্তি ও মানবজাতির কল্যাণের কাজে নিবেদিত করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৫০.
'উয়ারী বটেশ্বর' কী?
  1.  প্রাচীন বৃক্ষ
  2. প্রাচীন গ্রন্থ
  3. প্রাচীন মন্দির
  4. প্রাচীন জনপদ
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন জনপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন জনপদ
ব্যাখ্যা

→ 'উয়ারী বটেশ্বর' প্রাচীন জনপদ।

উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
-প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৫৫১.
’মেঘের অনেক রং’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে? 
  1. শেখ নিয়ামত আলী
  2. হারুনর রশীদ
  3. জহির রায়হান
  4. তানভীর মোকাম্মেল
সঠিক উত্তর:
হারুনর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হারুনর রশীদ
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের কাহিনিনির্ভর অন্যতম সিনেমা ‘মেঘের অনেক রং’–এর পরিচালক হারুনর রশীদ।
​- তার কয়েকটি চলচ্চিত্র: 
​- “মেঘের অনেক রং”, “আমরা তোমাদের ভুলব না”, “গৌরব”, “রঙিন গুনাই বিবি”, “ধনবান”, “অসতী”।
​-’ সহকারী পরিচালক হিসেবে হারুনর রশীদ কাজ করেছেন ‘সুয়োরানী দুয়োরানী’, ‘কাঞ্চনমালা’ ও ‘রূপবান’ ছবিতে।

কয়েকটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র: 
​- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী: পরিচালক সুভাষ দত্ত।
​​- ধীরে বহে মেঘনা: আলমগীর কবির।
​- ওরা এগারো জন: চাষী নজরুল ইসলাম।
​- সূর্য-দীঘল বাড়ী: শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকের।
​- চিত্রা নদীর পাড়ে: তানভীর মোকাম্মেল।
​- জীবন থেকে নেয়া: জহির রায়হান।

​উৎস:  বাংলাপিডিয়া। 

৫,৫৫২.
পালপূর্ব যুগে বাংলায় অরাজক পরিস্থিতি কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. কৈবর্ত বিদ্রোহ
  2. মাৎস্যন্যায়
  3. বর্গী হানা
  4. শতবর্ষের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
মাৎস্যন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাৎস্যন্যায়
ব্যাখ্যা

- পালপূর্ব যুগে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় এক অরাজক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, তেমনি শক্তিশালীরা দুর্বলদের উপর অত্যাচার করত। এই অবস্থাকে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়। 

পাল বংশ:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ ছিলেন- গোপাল।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ।
- বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে খ্যাত।
- মাত্ন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি। অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পাল বংশের শাসন।
- শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৫৩.
জুলাই জাতীয় সনদে কতটি সংস্কার প্রস্তাব উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২৮টি
  2. ৩০টি
  3. ৮৪টি 
  4. ৯০টি 
সঠিক উত্তর:
৮৪টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৪টি 
ব্যাখ্যা

• জুলাই জাতীয় সনদ:
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- জুলাই জাতীয় সনদকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
- এই সনদ বাস্তবায়নে মোট সাত দফা অঙ্গীকার করা হয়েছে।

- জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ২৪টি রাজনৈতিক দলের ৪৮ জন প্রতিনিধি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সনদে সই করেন।
- এরপর সই করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ কমিশনের সদস্যরা। 
- সাত দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে প্রণীত ৪০ পৃষ্ঠার এই সনদের তিনটি ভাগের মধ্যে প্রথম ভাগে পটভূমি, দ্বিতীয় ভাগে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও তৃতীয় ভাগে সনদ বাস্তবায়নের সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে।

 এই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি বিষয়কে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’ এবং বাকি ৩৭টি বিষয়কে ‘আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঐকমত্য কমিশন। জুলাই সনদের পটভূমি ব্যাখ্যা করে সংস্কারযজ্ঞ নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমসহ সংস্কারের ৮৪ দফা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো কী অঙ্গীকার করছে, তা উল্লেখ করার পর স্বাক্ষরের জায়গা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) কালের কন্ঠ।

৫,৫৫৪.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে কে কাকে পরাজিত করেন?
  1. ক) আকবর হিমুকে
  2. খ) বাবর ইব্রাহিম লোদীকে
  3. গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
  4. ঘ) আকবর রানা প্রতাপকে
সঠিক উত্তর:
গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
ব্যাখ্যা

- পানিপথের (বর্তমানে হরিয়ানা, ভারত) তৃতীয় যুদ্ধ ১৪ই জানুয়ারি ১৭৬১ সালে দিল্লির ৯৭ কিলোমিটার উত্তরে পানিপথ নামক স্থানে মারাঠাদের সাথে দোয়াবের আফগান রোহিলা ও আয়ুব এর সম্রাট সুজা-উদ-দৌল্লার যৌথ সমর্থনে আফগানিস্থানের সম্রাট আহমেদ শাহ আবদালির মধ্যে সংঘটিত হয়।

- এছাড়া ১৫২৬ সালে বাবুর ও ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ । এবং
- ১৫৫৬ সালে আকবরের সেনাপতি বৈরাম খান ও আফগান নেতা হিমুর মধ্যে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৫,৫৫৫.
সম্প্রতি কোন শহরে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়?
  1. বেলগ্রেড
  2. আঙ্কারা
  3. ইস্তান্বুল
  4. আলজিয়ার্স
সঠিক উত্তর:
আঙ্কারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঙ্কারা
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিক উদযাপনের অংশ হিসেবে গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২১ তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য এবং বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পার্কের নামকরণ করা হয়।
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
৫,৫৫৬.
When was the first constitution of Pakistan announced?
  1. 1948
  2. 1950
  3. 1953
  4. 1956
  5. 1959
সঠিক উত্তর:
1956
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1956
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা নতুন রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকে।
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে পাকিস্তান গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এই গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে সংবিধান রচনার জন্য একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করা হয়।
- পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয় ১৯৫৬ সালে।
- এটি ছিল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সংবিধান।
- এই সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সংবিধান চালু ছিল মাত্র দু বছর।
- এই সংবিধানের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র' করা হয় ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়।
- সংবিধান স্থগিত করার সাথে সাথে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৫৭.
মুক্তিযুদ্ধে ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন কে?
  1. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. সিপাহি হামিদুর রহমান
  3. সিপাহি মোস্তফা কামাল
  4. ল্যান্স নায়েক নুর মুহাম্মদ শেখ
সঠিক উত্তর:
সিপাহি হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহি হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান:
- জন্মস্থান বর্তমান ঝিনাইদহ জেলা মহেশপুর উপজেলার খোরদা খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- অংশরত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: ৪নং সেক্টর।
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর ১৯৭১ সাল।
- সমাধি স্থান: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।

অপরদিকে,
বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে তিনি দেশত্যাগ করে ভারতে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
- ৭ নম্বর সেক্টরের, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামাল:
- জন্মস্থান ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজিপুর গ্রামে।
- অংশরত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: ২ নং সেক্টর।
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ সাল।
- সমাধি স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

• বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নুর মুহাম্মদ শেখ:
- জন্মস্থান নড়াইল জেলার মহেষ খোলা গ্রামে।
- অংশরত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:৮ নং সেক্টর।
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সাল।
- সমাধি স্থান: যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ওয়েবসাইট।
৫,৫৫৮.
কার নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিস' গঠিত হয়?
  1. ক) আবদুস সালাম
  2. খ) আবুল কাশেম
  3. গ) হামিদুর রহমান
  4. ঘ) গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৫৫৯.
‘বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম’ কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  2. খ) কাউনিয়া, রংপুর
  3. গ) গোদাগাড়ি, রাজশাহী
  4. ঘ) বদলগাছি, নওগাঁ
সঠিক উত্তর:
ক) শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম

আমের জাত সংরক্ষণ ও আমকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে (শিবগঞ্জ) গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের প্রথম “বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম”। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটে রাজার বাগান নামে পরিচিত আম বাগানটিকে “বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম” হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

আমের জাত সংরক্ষণ ও আমকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় কানসাটে প্রায় ১০০ বিঘা জমির উপর থাকা ‘কুজ্জা রাজার বাগান’ নামে পরিচিত সরকারি আম বাগানটিকে ‘বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। 
২০টি জোনে ভাগ করে ৩০০ জাতের আমগাছ এ বাগানে সংরক্ষণ করা হবে। ২০২২ সালেই এর নির্মাণকাজ শেষ হবে। 

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ম্যাংগোপিডিয়া নামে ১০০টি প্রচলিত ও জনপ্রিয় আমের একটি প্রকাশনা অ্যালবামও প্রকাশ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রায় ৮০০ জাতের আম। এর মধ্যে আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জেই রয়েছে ৩৫০ জাতের আম।

তথ্যসূত্র:- Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার, মে ও জুন ২০২২।
৫,৫৬০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) জনাব এ এইচ কামরুজ্জামান
  2. খ) ক্যাপ্টন (অব.) এম মুনসুর আলী
  3. গ) জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
গ) জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৫৬১.
ভ্রমণ সংক্রান্ত বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাবুল রেহালা'র রচয়িতা -
  1. ক) মা হুয়ান
  2. খ) মেগাস্থিনিস
  3. গ) ইবনে বতুতা
  4. ঘ) হিউয়েন-সাং
সঠিক উত্তর:
গ) ইবনে বতুতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইবনে বতুতা
ব্যাখ্যা
ইবনে বতুতা (মরক্কো)
• ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ২১ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
• তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
• ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।
• ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের আমলে।
• বাংলার যে শহরে ইবনে বতুতা প্রথম পৌঁছেন (৯ জুলাই ১৩৪৬) তার নাম তিনি উল্লেখ করেছেন সাদকাঁও (চাটগাঁও)।
• গ্রন্থ- ইবনে জুযাই, কিতাবুল রেহালা

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬২.
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ এ ঢাকার রেসকোর্সে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন-
  1. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী
  2. জেনারেল জেকব সিং ও জেনারেল নিয়াজী
  3. জেনারেল বলবীর সিং অরোরা ও জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী
  4. জেনারেল মানেকশ ও জেনারেল নিয়াজী
সঠিক উত্তর:
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে।
- তাদের এ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষ পর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি এবং  প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৫,৫৬৩.
মুক্তিযুদ্ধে ক্র্যাক প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন- 
  1. শহীদ রুমি ইমাম
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. পপ সম্রাট আজম খান
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

'ক্র্যাক প্লাটুন':
- মুক্তিযুদ্ধে স্বতন্ত্র গেরিলা দল যারা মূলত গণবাহিনীর অংশ।
- এই বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নং সেক্টরের অধীন অংশ নেয়।
- ক্র্যাক প্লাটুন গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন খালেদ মোশাররফ এবং এটিএম হায়দার।
- ঢাকা শহরে এটি ৮২ টি অপারেশন পরিচালনা করে।
- এরা "হিট এন্ড রান" পদ্ধতিতে তাঁদের অপারেশন পরিচালনা করতো।
- এই প্লাটুনের অন্যতম সদস্য ছিলেন:
- শহীদ জননী জাহানার ইমাম, শহীদ রুমি ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, পপ সম্রাট আজম খান প্রমুখ।
 
 উৎস:  বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভস, দ্যা দেইলি স্টার বাংলা।

৫,৫৬৪.
কাকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়?
  1. ক) অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  2. খ) আবদুল মতিন
  3. গ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ঘ) কাজী গোলাম মাহবুব
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী গোলাম মাহবুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা (দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’) হলে এর আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা : আহমদ রফিক)
৫,৫৬৫.
পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ সংঘটিত হয় কবে?
  1. ক) ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯
  2. খ) ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
  3. গ) ২১ আগস্ট, ২০০৯
  4. ঘ) ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১০
সঠিক উত্তর:
ক) ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯
ব্যাখ্যা
• বিডিআর বিদ্রোহ:
- বিডিআর বিদ্রোহ হলো ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালিন বিডিআরদের একটি গ্রুপ দ্বারা সংগঠিত বিদ্রোহ।
- বিদ্রোহের পর সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা সংক্ষেপে বিজিবি করা হয়।
- বর্তমানে বিজিবি নামে সংস্থাটি পরিচিত।
- এটি একটি আধা-সামরিক বাহিনী যার প্রধান কাজ বাংলাদেশের সীমানা পাহারা দেয়া।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা।
৫,৫৬৬.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে কোনটি প্রণীত হয়?
  1. এক দফা
  2. ছয় দফা
  3. এগারো দফা
  4. একুশ দফা
সঠিক উত্তর:
এগারো দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগারো দফা
ব্যাখ্যা

→ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১১ দফা প্রণীত হয়।

১১ দফা কর্মসূচি:
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৬৭.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ৬১টি
  2. ৬২টি
  3. ৬৩টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৬৮.
ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা কে?
  1. রুহুল কুদ্দুস
  2. আবুল মনসুর আহম্মেদ
  3. আবদুল কুদ্দুস
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
• ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস। তিনি একজন পাকিস্তান সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। 

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।
SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
৫,৫৬৯.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন -
  1. তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এএইচএম কামরুজ্জামান
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ।
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
৫,৫৭০.
বাংলাদেশে কর নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. ক) একনেক
  2. খ) এনইসি
  3. গ) এনবিআর
  4. ঘ) অর্থ মন্ত্রনালয়
সঠিক উত্তর:
গ) এনবিআর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এনবিআর
ব্যাখ্যা
- সরকারের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) বাংলাদেশের কর নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত অর্থ মন্ত্রণালয়াধীন একটি সংস্থা।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অর্জিত রাজস্ব দেশের বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদের অন্যতম উৎস এবং দেশ ও অর্থনীতির স্বয়ম্ভরতা অর্জনের অন্যতম নিয়ামক।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৭৬ (The National Board of Revenue Order, 1972) এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

তথ্যসূত্র:- nbr.gov.bd
৫,৫৭১.
যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বাতিল করেন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. ইস্কান্দার মির্জা 
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ
সঠিক উত্তর:
জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন: 
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ।
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে। 
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৭২.
”শশাঙ্ক” প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের রাজা ছিলেন?
  1. গৌড়
  2. বঙ্গ
  3. সমতট
  4. পুণ্ড্র
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা

• গৌড়: 
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়। 
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান। 
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫,৫৭৩.
The Emancipation Charter of the Bengali Nation is -
  1. ক) March seven
  2. খ) eleven points
  3. গ) election of seventy
  4. ঘ) Six points
সঠিক উত্তর:
ঘ) Six points
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Six points
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধিদলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে, যা আইয়ুব খান কর্তৃক তাসখন্ড চুক্তি স্বাক্ষরের বিরোধিতা করার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে (৬.৬.১৯৬৬ তারিখে) শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। 
- ছয়দফার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছয়দফা দাবিকে বাঙালির ‘মুক্তির সনদ’ বলা হয়।
- কিন্তু ছয়দফার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেন বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সংগঠন আওয়ামী লীগ।
- বঙ্গবন্ধু এ আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে দেন।
- এ আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতীয় নেতায় পরিণত হন। 
-  ফলে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত হয়।
- তাই বলা যায় যে, ছয় দফা আন্দোলনে স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয়দফা দাবিকে ‘বাঙালির বাচাঁর দাবি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
- ছয়দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের নিজস্ব অর্থনৈতিক সম্পদ, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক আয়ের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করা হয়।
- সর্বোপরি পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষমতাও দাবি করা হয়।
- ছয়দফা দাবিকে বাঙালির ‘মুক্তিসনদ’ বলা হয়।
- ছয়দফা আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শাসক গোষ্ঠীর শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৭৪.
আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রিট করেন? 
  1. আব্দুস সাত্তার
  2. এস.এ. রহমান
  3. ডব্লিউ এস ওডারল্যান্ড 
  4. টমাস উইলিয়াম
সঠিক উত্তর:
টমাস উইলিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমাস উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী:

• যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী প্রেরণ করেন।
• প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রিট করেন। 
• তিনি ৫ আগস্ট, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।
• তিনি ব্রিটেনের বাসিন্দা ছিলেন। 
• তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। 
• পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান আইনজীবী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান। 
• ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ. রহমান। অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম। 
• প্রথম শুনানি শুরু হয় ১৯ জুন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের পর ২৯ জুলাই পুনরায় শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৭৫.
'হান্টার কমিশন' কার শাসনামলে গঠিত হয়?
  1. লর্ড মেয়ো
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড রিপন
ব্যাখ্যা
• 'হান্টার কমিশন' লর্ড রিপনের শাসনামলে গঠিত হয়।

• হান্টার কমিশন গঠন:

- তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৬.
বর্তমানে বাংলাদেশের চালু সমুদ্র বন্দর কয়টি?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
খ) তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিনটি
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশের চালু সমুদ্র বন্দর ৩টি। এগুলো হলোঃ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, মোংলা সমুদ্রবন্দর, পায়রা সমুদ্রবন্দর।
অপরদিকে মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর নির্মানাধীন রয়েছে।

- বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর।
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

- বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর - মোংলা সমুদ্রবন্দর।
- এটি ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর - পায়রা সমুদ্রবন্দর। 
- এটি ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে।

- স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর - মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর।
- এটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ২০২৫ সালে।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট বন্দর ওয়েবসাইট।
৫,৫৭৭.
Which is the only exceptional sector in the liberation war of Bangladesh?
  1. ক) 2
  2. খ) 8
  3. গ) 11
  4. ঘ) 10
সঠিক উত্তর:
ঘ) 10
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 10
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় একমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী সেক্টর হল ১০নং সেক্টর।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- মুজিব নগর কত ৮নং সেক্টরের অধিনে ছিল।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৮.
ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় কত তারিখে?
  1. ১ ডিসেম্বর
  2. ৩ ডিসেম্বর
  3. ৬ ডিসেম্বর
  4. ১৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠন:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশ হিসেবে ভারতের ভূমিকা অপরিসীম এবং অনস্বীকার্য ছিল।
- ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হলে যুদ্ধের মোড় দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।
- পাকিস্তানি বাহিনী ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কাড়ার অপচেষ্টা চালায়।
- এদেশীয় মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীকে যৌথ কমান্ডের অধীনে আনা হয়।
- ৬ ডিসেম্বর তারিখে ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
- যৌথ বাহিনীর সরাসরি আক্রমণে বাংলাদেশের প্রথম জেলা হিসেবে যশোর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিকট থেকে মুক্ত করা হয়।
- এরপর একে একে সাতক্ষীরা, টঙ্গী, জামালপুর, সিলেট জেলা মুক্ত হতে থাকে।
- ময়নামতি সেনানিবাস অধিকারে এনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী শহর ঢাকা অবরোধের চেষ্টা চালানো হয়।
- ভারতের স্বীকৃতির পরই অস্থায়ী সরকারের উপ- রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বেতার কেন্দ্র থেকে দেশের অভ্যন্তরে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন।
- ৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই মাগুরা, ঝিনাইদাহ এবং নড়াইল যৌথ বাহিনীর অধিকারে আসে।
- ঢাকা আক্রমণের পূর্ব প্রস্তুতি স্বরূপ ১০ ডিসেম্বর সকল প্রকার বিমান হামলা বন্ধ রেখে বিদেশি নাগরিকদেরকে ঢাকা ত্যাগ করার নির্দেশনা জারি করা হয়।
- ঢাকায় আক্রমণ চালানোর মুল পরিকল্পনা করা হয় ভৈরব দখল করার পর এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, এখান থেকেই ঢাকায় আক্রমণ চালানো হবে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৫৭৯.
মুজিব নগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) চুয়াডাঙ্গা
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) ঝিনাইদহ
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৮০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে স্টেশন কোনটি?
  1. ক) ঈশ্বরদী রেল স্টেশন
  2. খ) কমলাপুর রেল স্টেশন
  3. গ) চট্রগ্রাম রেল স্টেশন
  4. ঘ) পার্বতী রেল স্টেশন
সঠিক উত্তর:
খ) কমলাপুর রেল স্টেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কমলাপুর রেল স্টেশন
ব্যাখ্যা
• রেলওয়ে স্টেশন:
- কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল স্টেশনও। 
- এর অবস্থান ঢাকার মতিঝিল। এটি ঢাকার সঙ্গে দেশের অন্য জায়গার মধ্যে যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল।
- এ স্টেশনের স্থাপত্য শৈলী অনন্য।
- এর নকশা করেছেন - মার্কিন স্থপতি রবার্ট বাউগি। 
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬০ সালে।
- চালু হয় ১৯৬৯ সালে।

উৎস: প্রথম আলো
৫,৫৮১.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সংবিধানে কী নামে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. ক) স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধ
  2. খ) জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ
  3. গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
  4. ঘ) মুক্তিসংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতেই বলা হয়েছে: 'আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;'।
- উল্লেখ্য, সামরিক শাসনকালে (১৯৭৫ - ১৯৯১) সংবিধানের এই অংশটুকু পরিবর্তন করা হয়েছিলো।
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে 'জাতীয় স্বাধীনতার ঐতিহাসিক যুদ্ধ' এর পরিবর্তে বাহাত্তরের সংবিধানের সাথে মিল রেখে 'জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রাম' প্রতিস্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫,৫৮২.
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে কত সালে মর্যাদা দেওয়া হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি: 
- ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।

এছাড়াও,
- বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৫৬ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এই দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮৩.
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) জেনারেল আইয়ুব খানের পতন
  2. খ) বাংলার স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) ভারতের সহযোগিতায় পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ভারতের সহযোগিতায় পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভারতের সহযোগিতায় পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা

- ১৯৬৬ সালে ছয় দফা উত্থাপিত হওয়ার পর দ্রুত তা বাংলার গ্রামগঞ্জে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি ছয়দফা আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়।
- এরই প্রেক্ষাপটে দায়ের করা হয় ষড়যন্ত্রমূলক আগরতলা মামলা।
- আগরতলা মামলা ছিল সামরিক একনায়ক আইয়ুব খানের শাসনামলের এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।
- বাঙ্গালির অধিকার আদায়ের লড়াই নস্যাৎ করতে এবং আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির ময়দান হতে নির্মূল করতে পাকিস্তানী শাসক চক্র এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে।

- আগরতলা মামলার প্রথমদিকে শেখ মুজিবুর রহমানকে যুক্ত করা হয়নি।
- কিন্তু ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে প্রধান আসামী করে পূর্বের ২৮ জনসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে 'ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা ও পরিচালনা'র অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়।
- এক্ষেত্রে অভিযোগনামায় বলা হয়, শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ও ভারতের সহযোগিতায় অভিযুক্ত সামরিক সদস্যরা পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৮৪.
কোন ঘটনাটি সবার শেষে ঘটেছিলো?
  1. ক) সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ
  2. খ) লাহোর প্রস্তাব পেশ
  3. গ) জালিয়ানওযালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  4. ঘ) ক্রিপস মিশন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিপস মিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিপস মিশন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে সবার শেষের ঘটনা হলো ক্রিপস মিশন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয়দের সহায়তা লাভে উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্ট্যাফোর্ট ক্রিপসের নেতৃত্বে ১৯৪২ সালের ২৩শে মার্চ ভারতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠায়। এই প্রতিনিধি দলটিই ‘ক্রিপস মিশন’ নামে পরিচিত।
এতে ভারতীয়দের জন্যে নতুন কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই মিশন ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে,
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড : ১৯১৯ সালে
- সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষিত হয় : ১৯৩২ সালে
- লাহোর প্রস্তাব পেশ করা হয় : ১৯৪০ সালে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৫,৫৮৫.
সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা আইন:
- বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয় ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি প্রতি জেলার একটি করে থানায় পরীক্ষামূলকভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রথমে চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৫৮৬.
'আহসান মঞ্জিল' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. নবাব আব্দুল লতিফ
  2. নওয়াব সলিমুল্লাহ
  3. নওয়াব আবদুল গনি
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল গনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল গনি
ব্যাখ্যা

• আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ঢাকার নবাব নওয়াব আব্দুল গনি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ’র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৫,৫৮৭.
বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আলাউদ্দিন খাঁ কোন জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন?
  1. ময়মনসিংহ
  2. ঢাকা
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ:

- তিনি বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ।
- ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক সঙ্গীতপরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁও ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ।
- মাতার নাম সুন্দরী বেগম।
- তাঁর সঙ্গীতগুরু ছিলেন আগরতলা রাজদরবারের সভাসঙ্গীতজ্ঞ তানসেনের কন্যাবংশীয় রবাবী ওস্তাদ কাশিম আলী খাঁ।
- তিনি দেশিয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে অর্কেস্ট্রার স্টাইলে একটি যন্ত্রীদল গঠন করে নাম দেন ‘রামপুর স্ট্রিং ব্যান্ড’।
- ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- অতঃপর ভারত সরকার তাঁকে একে একে ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমী সম্মান’ (১৯৫২), ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৫৮) ও ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৭১), বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬১) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি ১৯৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮৮.
'The Spirit of Islam' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আহমদ খান
  2. সৈয়দ আমির আলি
  3. আল্লামা ইকবাল
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমির আলি
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আমির আলি:
- সৈয়দ আমির আলি উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণ, ইসলামের আধুনিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ও বি.এল. ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।

•রাজনৈতিক অবদান:
- ভারতের প্রথম মুসলিম নেতা যিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
- ১৮৭৭ সালে কলকাতায় সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।
- মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা ও দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছানোর জন্য সংগঠিত প্রচেষ্টা শুরু করেন।
- ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সাহিত্যিক অবদান:
- The Spirit of Islam — ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক ব্যাখ্যা।
- A Short History of the Saracens — ইসলামের অতীত গৌরব তুলে ধরা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫৮৯.
রাঙামাটির ছাদ বলা হয় -
  1. ক) সাজেক
  2. খ) বিলাইছড়ি
  3. গ) বাঘাইছড়ি
  4. ঘ) লংগদু
সঠিক উত্তর:
ক) সাজেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাজেক
ব্যাখ্যা
সাজেক
- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন।
- এর আয়তন ৭০২ বর্গমাইল।
- সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প।
- সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত।
- সাজেকে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে।
- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙামাটির ছাদ।

উৎস: রাঙ্গামাটি জেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫,৫৯০.
সেনেগাল কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
  1. ক) ১১ জানুয়ারি ১৯৭২
  2. খ) ৩১ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. গ) ০১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  4. ঘ) ০১ জুলাই ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
গ) ০১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ০১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি:

- প্রথম দেশ : ভুটান (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)
- দ্বিতীয় দেশ : ভারত (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)
- প্রথম ইউরোপীয় দেশ : পূর্ব জার্মানি (১১ জানু ১৯৭২)
- প্রথম মুসলিম দেশ : মালয়েশিয়া (৩১ জানুয়ারি ১৯৭২)
- প্রথম আফ্রিকান দেশ : সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২)
- প্রথম আরব মুসলিম দেশ : ইরাক (৮ জুলাই ১৯৭২)
- ইরান : ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪
- ইন্দোনেশিয়া : ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।

(তথ্যসূত্র: ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন)
৫,৫৯১.
বর্তমান আওয়ামী লীগের সর্বপ্রথম নাম ছিলো -
  1. ক) আওয়ামী জাতীয় লীগ
  2. খ) আওয়ামী মুসলিম লীগ
  3. গ) পূর্ব পাকিস্তান সতন্ত্র জোট
  4. ঘ) আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি
সঠিক উত্তর:
খ) আওয়ামী মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আওয়ামী মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা
আওয়ামী মুসলিম লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয় ১৯৫৫ সালে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ:
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন- সামসুল হক ।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শেখ মুজিবুর - রহমান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি- আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৯২.
ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয় -
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালে আবুল কাসেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের, (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান)  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তুলে তমদ্দুন মজলিস বাংলা ভাষা আন্দোলন শুরু করে।
 - যদিও এই সংগঠনের প্রতিবাদ লেখালেখির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ভারত এবং পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের মাত্র ৭ মাস পরে, ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল্যের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা।
- এই ঘোষণা করলে সদ্য জাত রাষ্ট্রে ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে।

[শুধুমাত্র ইতিহাস,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বইতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত  ১৯৪৮ দেওয়া হয়েছে। অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে ১৯৪৭ সালকে সঠিক উত্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যদি অপশনে ১৯৪৭ না থাকে তাহলে ১৯৪৮ উত্তর হবে।]

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেনি এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেনি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৩.
নাকুগাঁও স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. লালমনিরহাট
  2. শেরপুর
  3. মেহেরপুর
  4. কুড়িগ্রাম
সঠিক উত্তর:
শেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেরপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমানে ঘোষিত স্থলবন্দরের সংখ্যা ২৪টি। এর মধ্যে চালু বন্দরের সংখ্যা ১২টি।

- নাকুগাঁও স্থলবন্দর : নলিতাবাড়ী (শেরপুর)
- সোনাহাট স্থলবন্দর : ভুরুঙ্গমারী (কুড়িগ্রাম)
- বুড়িমারী স্থলবন্দর : পাটগ্রাম (লালমনিরহাট)
- ‍মুজিবনগর স্থলবন্দর : মুজিবনগর (মেহেরপুর) প্রক্রিয়াধীন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেম স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট)
৫,৫৯৪.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) চুয়াডাঙ্গা
  4. ঘ) রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর বর্তমান মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত। এখানে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। তখন এটি ‍বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার অধীন ছিলো। মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো। এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
৫,৫৯৫.
ফজলে কবীর বাংলাদেশ ব্যাংকের কততম গর্ভনর?
  1. ক) দশম
  2. খ) একাদশ
  3. গ) দ্বাদশ
  4. ঘ) ত্রয়োদশ
সঠিক উত্তর:
খ) একাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একাদশ
ব্যাখ্যা

- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর ফজলে কবীর। তিনি ১১তম গভর্নর।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের মেয়াদকাল ৪ বছর।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর ছিলেন এ এন এম হামিদুল্লাহ।

উৎসঃ বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।

৫,৫৯৬.
কোন শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয়?
  1. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
  2. নুরুল আমিন শিক্ষা কমিশন
  3. হান্টার কমিশন
  4. শরীফ শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
শরীফ শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরীফ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২-এর সেপ্টেম্বরে আরেকটি আন্দোলন হয়, যা বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' নামে অভিহিত।
- শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
- 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয় শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে।
- ১৫ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে বাবুল, গোলাম মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ প্রমুখ নিহত হন এবং আহত হয় প্রায় আড়াইশ জন।
- এ আন্দোলনের ফলে সরকার শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত রাখে।
- এ আন্দোলনের গুরুত্ব এ যে, এ সময় থেকে ছাত্ররাই আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
- তখন থেকে আজ পর্যন্ত ছাত্র সম্প্রদায় প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস রূপে পালন করে আসছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৭.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসনের কয়টি আসন যুক্তফ্রন্ট লাভ করে?
  1. ২৪৩টি
  2. ২৩৭টি
  3. ২২৩টি
  4. ২৩২টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ২৩৭টি এবং অমুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ৭২টি। এই দুইয়ের যোগফলে পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের মোট আসন সংখ্যা হয় ৩০৯টি।
যুক্তফ্রন্ট মোট ২৩৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল। মুসলিম ২২৩টি এবং অমুসলিম ১৩টি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫,৫৯৮.
সরকারী ভাষা হিসেবে এ দেশে ইংরেজির ব্যবহার শুরু হয় কোন সাল থেকে?
  1. ১৮২৪
  2. ১৮৫৭
  3. ১৮৩৫
  4. ১৭৬৫
সঠিক উত্তর:
১৮৩৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৫
ব্যাখ্যা

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৭৭৪–১৮৩৯)
- ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল (১৮২৮–১৮৩৫)। 
- তিনি শিক্ষা এবং সামাজিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- ১৮৩৫ সালে ইংরেজি মাধ্যমিক শিক্ষা চালু করার নীতি ঘোষণা করেন।
- বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
- কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সাহায্য করেন।
- তাঁর পদক্ষেপ আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করে, তাই তাঁকে “Father of Indian Education” বলা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ)

৫,৫৯৯.
মওলানা আতাহার আলী যুক্তফ্রন্টের কোন দলের নেতা ছিলেন?
  1. আওয়ামী মুসলিম লীগ
  2. কৃষক শ্রমিক পার্টি
  3. নেজামে ইসলাম পার্টি
  4. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল
সঠিক উত্তর:
নেজামে ইসলাম পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেজামে ইসলাম পার্টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
⇒ আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
⇒ কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা ছিলেন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
⇒ নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা ছিলেন মওলানা আতাহার আলী।
⇒ বামপন্থী গনতন্ত্রী দলের নেতা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ৩ এপ্রিল ১৯৫৪ সালে। 
- মন্ত্রিসভার সদস্য: ৪ জন।
⇒ মুখ্যমন্ত্রী: হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
• অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র: এ কে ফজলুল হক।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী: আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
• শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প: সৈয়দ আজিজুল হক।

- পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠন করা হয় ১৫ মে,১৯৫৪ সালে।
- পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভার সদস্য ১৪ জন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৫,৬০০.
Which emperor of Delhi granted duty-free trade rights to the British in Madras, Bengal, Bombay?
  1. Emperor Farukhshia
  2. Emperor Humayun
  3. Emperor Akbor
  4. Emperor Bahadur Shah Jafar
সঠিক উত্তর:
Emperor Farukhshia
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Emperor Farukhshia
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ইংরেজ কোম্পানির ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পায় যখন দিল্লীর সম্রাট ফারুখশিয়ার তাদের বাংলা, বোম্বাই, মাদ্রাজে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার প্রদান করেন।
- এই সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রা প্রচলনের অধিকারও তারা লাভ করে।
- সম্রাটের এই ফরমানকে ইংরেজ ঐতিহাসিক ওরমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মহাসনদ বা ম্যাগনাকার্টা বলে উল্লেখ করেন।
- এই অধিকার লাভ করে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অপ্রতিরুধ্য গতিতে অগ্রসর হতে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।