বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ২৩ / ১২৪ · ২,২০১২,৩০০ / ১২,৪২১

২,২০১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গৃহহীন অসহায় মানুষের জন্য পুনর্বাসন কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করেন -
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
আশ্রয়ণ প্রকল্প:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী বর্তমান লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গ্রামে ভূমিহীন-গৃহহীন, অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করেন।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা সারাদেশের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন 'আশ্রয়ণ প্রকল্প'।
- ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র দেশে শুরু করেন আশ্রয়ণ প্রকল্প।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
 ১। ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন।
২। প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা।
৩। আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২০২.
'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. খান আতাউর রহমান
  4. সুভাষ দত্ত
সঠিক উত্তর:
আলমগীর কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলমগীর কবির
ব্যাখ্যা

ধীরে বহে মেঘনা:
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- এর নির্মাতা আলমগীর কবির।
- ধীরে বহে মেঘনা ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত।
- এটি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- এতে অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ। 
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

উৎস: প্রথম আলো। 

২,২০৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সারা বিশ্ব ও পরাশক্তিসমূহ কত ভাগে বিভক্ত হয়েছিল?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ভাগে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সারা বিশ্ব ও পরাশক্তিসমূহ দুভাগে ভাগ হয়েছিল। 
- ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে 
- এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- পরাশক্তিসমূহের বিভাজনের কারণে জাতিসংঘ কোন ভালো ভূমিকা রাখতে পারেনি। 
- সে সময় যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৪.
তৎকালীন পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন কে?
  1. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. ইস্কান্দার মির্জা
  3. আইয়ুব খান
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।
- আইয়ুব খান ২৫ মার্চ সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে দ্বিতীয়বারের মত সামরিক শাসন জারি করেন।

সূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৫.
নিচের কোন জেলায় যমুনা ও পদ্মা নদী মিলিত হয়েছে?
  1. চাঁদপুর
  2. রাজবাড়ি
  3. কুড়িগ্রাম
  4. ফরিদপুর
সঠিক উত্তর:
রাজবাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবাড়ি
ব্যাখ্যা

• যমুনা :
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী। 
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়। 
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,২০৬.
মৌর্য ও গুপ্ত বংশের রাজধানী ছিল-
  1. বরেন্দ্র
  2. মহাস্থানগড়
  3. সোনারগাঁও
  4. গৌড়
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
জনপদ:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোর মধ্যে পুন্ড্রবর্ধন অন্যতম।
- এ জনপদের রাজধানী ছিলো বর্তমান বগুড়া জেলায় অবস্থিত পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়
- পরবর্তীতে মৌর্য এবং গুপ্ত শাসনামলেও বাংলার রাজধানী ছিলো পুন্ড্রনগর।
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোর মধ্যে পুন্ড্রনগর ছিলো সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং এখানে প্রাপ্ত শিলালিপি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো বলে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২০৭.
নিচের কোন অঞ্চলটি নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. দিনাজপুর
  2. সিলেট
  3. কুমিল্লা
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৮.
বাংলাদেশের প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রোরেল চলাচলের উদ্বোধন করা হয় কখন?
  1. ক) ১৫ আগস্ট ২০২১
  2. খ) ৩১ আগস্ট ২০২১
  3. গ) ২৯ আগস্ট ২০২১
  4. ঘ) ৩১ জানুয়ারি ২০২১ 
সঠিক উত্তর:
গ) ২৯ আগস্ট ২০২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৯ আগস্ট ২০২১
ব্যাখ্যা
- দেশের ইতিহাসে প্রথম মেট্রোরেল পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয় গত ২৯ আগস্ট ২০২১
- রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL) মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
- জাপানের কাওয়াসাকি – মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম মেট্রোরেলের ২৪ সেট ট্রেনের নকশা প্রণয়ন ও তৈরির দায়িত্বে রয়েছে।
- নকশা অনুযায়ী মেট্রোরেল ঘন্টায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে।
- ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলটি উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ‘এমআরটি লাইন-৬’ নামে পরিচিত।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট
২,২০৯.
তৌকির আহমেদ পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. জয়যাত্রা
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. পতাকা
  4. প্রত্যাবর্তন
সঠিক উত্তর:
জয়যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়যাত্রা
ব্যাখ্যা
‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত চলচ্চিত্র জয়যাত্রা।
- ২০০৪ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। 

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের বিখ্যাত সম্পাদক, কাহিনীকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন এর কাহিনী নিয়ে সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন তৌকির আহমেদ।
- এটি তৌকির আহমেদ পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ভিত্তিক এই ছবিটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিঃ।
- চলচ্চিত্রটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিপাশা হায়াত, আজিজুল হাকিম, মাহফুজ আহমেদ, হুমায়ুন ফরীদি, তারিক আনাম খান, আবুল হায়াত, চাঁদনী।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ পরিচালক তৌকির আহমেদ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও শ্রেষ্ঠ পরিচালক ২০০৪ পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: প্রথম আলো।
২,২১০.
বাংলাদেশ টেলিভিশন কোন সালে কার্যক্রম শুরু করে?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৪ সালে
  4. ১৯৬৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন:
- বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কার্যক্রম শুরু করে ১৯৬৪ সালে।
- শিক্ষা এবং বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশ ও জনগণের প্রতি  দায়বদ্ধ থেকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা এ জাতীয় গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
- প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৯ টি সংবাদ বুলেটিনসহ বিটিভি সম্প্রচার করছে নাটক, প্রামাণ্যচিত্র, সংগীত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্য বিষয়ক নানা অনুষ্ঠান।

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
২,২১১.
বাংলাদেশে ’শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি চালু হয় কবে?
  1. ১৯৯১ সাল
  2. ১৯৯৩ সাল
  3. ১৯৯২ সাল
  4. ১৯৯৫ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৩ সাল
ব্যাখ্যা

শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি:
- দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত পরিবারের শিশুদেরকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছর থেকে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে 'শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি চালু হয়।

অন্যদিকে -
- ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দিলে বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলার মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হলে সরকার ‘ফুড ফর ওয়ার্ক’ বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,২১২.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙ্গালী উপাচার্য ছিলেন -
  1. এ এফ রহমান
  2. মুহমতাজউদ্দীন আহমদ
  3. মাহমুদ হোসেন
  4. আব্দুল মতিন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
এ এফ রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এফ রহমান
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর প্রাথমিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ গড়ে উঠে ঢাকা কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী এবং কলেজ ভবনের (বর্তমান কার্জন হল) উপর ভিত্তি করে।
- ৩টি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান। (ডিসেম্বর, ২০২৫)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙ্গালী উপাচার্য ছিলেন স্যার এ.এফ রহমান।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূরণ করেছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

২,২১৩.
ইউনেস্কোর কততম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়?
  1. ২৮ তম
  2. ২৯ তম
  3. ৩০ তম
  4. ৩১ তম
সঠিক উত্তর:
৩০ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ তম
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২,২১৪.
ঐতিহাসিক 'ছয় দফায়' কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিলো না? 
  1. ক) শাসনতান্ত্রিক কাঠামো 
  2. খ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. গ) স্বতন্ত্র মুদ্রাব্যবস্থা
  4. ঘ) বিচার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিচার ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফার স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ ছিল না।

১৯৬৬ সালে উত্থাপিত ছয় দফায় উল্লেখিত বিষয়গুলো হলো:
- শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
- মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
- কর সংক্রান্ত ক্ষমতা
- বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত ক্ষমতা
- আঞ্চলিক বাহিনী গঠন সংক্রান্ত ক্ষমতা

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২১৫.
‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে, লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি, আকাশে বাতাসে উঠে রণি’—এই গানটির গীতিকার কে?
  1. আপেল মাহমুদ
  2. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
  4. গোবিন্দ হালদার
সঠিক উত্তর:
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'শোনো একটি মুজিবুরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি' গানটির রচয়িতা গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। 
- ১৯৭১ সালের এপ্রিলে শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটির প্রেক্ষিতে  আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্র থেকে বাজানো হয়েছিল একটি গান।
- গানটা ছিল ''শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি... বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ।''
- গীতিকার: গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, 
- সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী: অংশুমান রায়, 
 - এর একটা ইংরেজি অনুবাদও হয়েছিল: A Milliion Mujiburs Singing নামে। 

• কিছু জনপ্রিয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান: 
→ তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে/­ আমরা কজন নবীন মাঝি হাল ধরেছি শক্ত করে।
→ গীতিকার ও সুরকার: আপেল মাহমুদ। 

→ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি/মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি।
→ গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, 
→ সুরকার ও শিল্পী: আপেল মাহমুদ। 

→ জয় বাংলা বাংলার জয়/ জয় বাংলা বাংলার জয়।। হবে হবে হবে, হবে নিশ্চয়/ কোটি প্রাণ এক সাথে জেগেছে অন্ধরাতে
নতুন সূর্য ওঠার এই তো সময়।।
→ গীতিকার: গাজী মাজহারুল আনোয়ার, 
→ সুরকার: আনোয়ার পারভেজ। 

উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট, বঙ্গবন্ধু আর্কাইভ ও দৈনিক প্রথম আলো। 
২,২১৬.
১৯৫৯ সালের অক্টোবরের ঘোষণা অনুসারে পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্রের স্তর কয়টি ছিল?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
• মৌলিক গণতন্ত্র:
১৯৫৯ সালের অক্টোবরের ঘোষণা অনুসারে পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এর মাধ্যমে দেশে একটি চার স্তর বিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির কাঠামো সৃষ্টি করা হয়।
স্তরগুলো হচ্ছে
১. ইউনিয়ন কাউন্সিল,
২. থানা কাউন্সিল,
৩. জেলা কাউন্সিল
৪. বিভাগীয় কাউন্সিল।

» ছোট ছোট শহরে টাউন কমিটি এবং বড় বড় শহরে পৌরসভা গঠনের বিধান করা হয়।
»  এই কাঠামোর সর্ব নিম্নস্তর  ইউনিয়ন কাউন্সিল এবং পৌরসভা বা টাউন কমিটি জনগণের প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। এর ওপরের স্তরগুলো পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে গঠিত ছিল।
» মৌলিক গণতন্ত্রের সর্ব নিম্নস্তর যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান মিলে।
»  এদের সংখ্যা ছিল পূর্ব পাকিস্তানে ৪০ হাজার এবং পশ্চিম  পাকিস্তানে ৪০,০০০ করে মোট ৮০ হাজার। এদেরকে বেসিক ডেমোক্রাট বা সংক্ষেপে বি.ডি. মেম্বার বলা হতো।
»  এই ৮০ হাজার বি.ডি. মেম্বার দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচিত করতেন। ফলাফলকে বানচাল করা যায়। 

SOURCE: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় , সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,২১৭.
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদবী –
  1. ক) মন্ত্রিপরিষদ সচিব
  2. খ) মন্ত্রী
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) জ্যেষ্ঠ সচিব
সঠিক উত্তর:
ক) মন্ত্রিপরিষদ সচিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মন্ত্রিপরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা

- সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদবী – ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
- যেকোন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান হলেন – মন্ত্রী।

সুত্রঃ Live MCQ স্পেশাল PDF (সিভিল সার্ভিস এবং মুজিব বর্ষ)।
২,২১৮.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয় কবে?
  1. ১৭ জানুয়ারি, ১৯৬৮
  2. ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮
  3. ১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৮
  4. ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৮
সঠিক উত্তর:
১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলা:
- ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামি করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি এস.এ. রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন, মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,২১৯.
‘সাগরকন্যা’ কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম?
  1. টেকনাফ
  2. কক্সবাজার
  3. খুলনা
  4. কুয়াকাটা
সঠিক উত্তর:
কুয়াকাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুয়াকাটা
ব্যাখ্যা
কুয়াকাটা:

- কুয়াকাটা নৈসর্গিক শোভামন্ডিত পর্যটন কেন্দ্র।
- বঙ্গোপসাগরের তটে অবস্থিত কুয়াকাটা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যান্ত অবলোকন করা যায়।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার লতাচাপলি ইউনিয়নে কুয়াকাটার অবস্থান।
- পূর্বে গজমতির সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পশ্চিমে কুয়াকাটার বনভূমি, উত্তরে কলাপাড়া জনপদ ও দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগর।
- কুয়াকাটার স্থানীয় নাম সাগর কন্যা।
- কুয়াকাটা সাগর-সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার আর প্রস্থে প্রায় ৩ কিলোমিটার।
- কুয়াকাটা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের নিকট একটি তীর্থ স্থান।
- তারা রাস পূর্ণিমা ও মাঘী পূর্ণিমাতে কুয়াকাটার পবিত্র সৈকতে স্নানসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,২২০.
ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবিতে যে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না?
  1. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো
  2. আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
  3. আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা
  4. মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
- ‘ছয় দফায়’ আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা' বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

৬ দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলের নেতারা একটি সম্মেলনের আহবান করেন যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ৬ দফা দাবিগুলো হলো যথাক্রমে-
১। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা,
২। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
৩। মুদ্রা ও অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা,
৪। রাজস্ব, কর বা শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা,
৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা,
৬। আঞ্চলিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা,

- এই ৬ দফার মধ্যে ৩ টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩ টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক দাবি ছিল।
- বঙ্গবন্ধু এই ৬ দফা কে “আমাদের বাঁচার দাবি” হিসেবে আখ্যা দেন।
- ঐতিহাসিক এই ৬ দফাকে ‘ম্যাগনাকার্টা’র সাথে তুলনা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২২১.
১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কে ছিলেন?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী
  3. আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
  4. ড. শামসুজ্জোহা
সঠিক উত্তর:
ড. শামসুজ্জোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. শামসুজ্জোহা
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ গণ অভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার,
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও আয়ুবখানের পদত্যাগ কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতা ও সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয় যা ১৯৬৯ গণ অভ্যুত্থান নামে পরিচিত।
- ১৯৬৯ সালের ৪ ঠা জানুয়ারি সর্বদলীয় রাষ্ঠভাষা গঠন করা হয়।
- ঐ সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি ঘোষণা করে।
- ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা ও ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ শহিদ হন।
- ফলাফল - আয়ুব সরকার পদত্যাগ করেন ও ৭০ এর নির্বাচন দিতে সরকার বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
২,২২২.
বাংলায় কররানি (আফগান) শাসনের অবসান এবং মুঘল শাসনের সূচনা হয় কোন যুদ্ধের মাধ্যমে?
  1. চৌসার যুদ্ধ
  2. কণৌজের যুদ্ধ
  3. রাজমহলের যুদ্ধ
  4. বিলগ্রামের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে মুঘল শাসনের সূচনা করেন। কিন্তু বাংলায় তাঁর অধিকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে পরাজয়ের পর বিজয়ী আফগান নেতা শের খান গৌড় দখল করেন এবং বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলার প্রবেশ পথ রাজমহলের নিকটে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। যা রাজমহলের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে দাউদ খান পরাজিত ও বন্দি হলে বাংলায় মুঘল শাসনের সূত্রপাত হয়।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র (উন্মুক্ত)]
২,২২৩.
'স্টপ জেনোসাইড' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ______________।
  1. শিশুতোষ চলচ্চিত্র
  2. উপন্যাস
  3. প্রামাণ্যচিত্র
  4. এনিমেশন চলচ্চিত্র
সঠিক উত্তর:
প্রামাণ্যচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রামাণ্যচিত্র
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide.
- Stop Genocide নির্মাণ করেন জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড। 
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন। 
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য। 

উল্লেখ্য,
- জহির রায়হান চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ছাত্রজীবনেই তিনি লেখালেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
- তাঁর লিখিত অন্যান্য বইগুলি হচ্ছে শেষ বিকেলের মেয়ে, হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন, বরফ গলা নদী এবং আর কত দিন।
- তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ৮ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
২,২২৪.
মুজিব নগর সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য কত সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়?
  1. ৭ জন
  2. ৮ জন
  3. ৯ জন
  4. ১০ জন
সঠিক উত্তর:
৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ জন
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২২৫.
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কে স্বাক্ষর করেন?
  1. ক) আব্দুল জলিল
  2. খ) আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ
  3. গ) ফয়সল বিন জামান
  4. ঘ) আহমেদ বিন জায়েদ
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি:
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চটগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
- চুক্তিতে বালাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে পার্বত্য শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।
- ২ ডিসেম্বর, ২০২২ সালে পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,২২৬.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য কে ছিলেন?
  1. স্যার এ. এফ. রহমান
  2. স্যার রবার্ট নাথানিয়েল বার-অ্যাট-ল
  3. স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ
  4. স্যার ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন
সঠিক উত্তর:
স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম, সর্ববৃহৎ এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৯২০ সালে ভারতীয় বিধানসভায় গৃহীত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনবলে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকার রমনা এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- এর প্রাথমিক অবকাঠামোর বড় একটি অংশ গড়ে উঠে ঢাকা কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী এবং কলেজ ভবনের (বর্তমান কার্জন হল) উপর ভিত্তি করে।
- ৩টি অনুষদ (কলা, বিজ্ঞান ও আইন), ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

⇒ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গঠিত কমিশনের নাম ছিলো নাথান কমিশন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টজ।

অন্যদিকে,
- উপ-মহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান উপাচার্য ছিলেন স্যার এ. এফ. রহমান।
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২২৭.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে?
  1. ক) রফিক উদ্দিন
  2. খ) আবদুস সালাম
  3. গ) আবুল বরকত
  4. ঘ) অহিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) রফিক উদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রফিক উদ্দিন
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ  রফিক উদ্দিন 
• পরিচয়: জগন্নাত কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র 
• জন্মস্থান : পারিল , সিঙ্গািইর ,মানিকগঞ্জ।  

আবুল বরকত 

পরিচয়: তার ডাক নাম আবাই এবং  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এর ছাত্র ।
 • জন্মস্থান : তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর অঞ্চলের বাবলা গ্রামে । 

আবদুস সালাম 
জন্মস্থান : ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে 
• পরিচয়: তিনি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের 'পিয়ন'  ছিলেন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া 
২,২২৮.
সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেন কে?
  1. ক) ঈশান কিষাণ
  2. খ) কেন উইলিয়ামসন
  3. গ) ঋষব পন্ত
  4. ঘ) শুবমান গিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) শুবমান গিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শুবমান গিল
ব্যাখ্যা
- সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেন শুবমান গিল
- তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হায়দরাবাদে এই কীর্তি গড়েন। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ফেব্রুয়ারি ২০২৩। 
২,২২৯.
আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রের অধ্যাদেশ জারি করেন কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

• মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ' ব্যবস্থাটি জারি করেন আইয়ুব খান।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য,
- উচ্চ বিলাসী আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।
- অতঃপর তিনি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
- ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেন।
- এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ - হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

[উল্লেখ্য যে, [শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে।]

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৩০.
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন -
  1. ক) আতাউল গণি ওসমানী
  2. খ) এ কে খোন্দকার
  3. গ) আব্দুল জলিল
  4. ঘ) কেউই নন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেউই নন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কেউই নন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তিনি সাক্ষর করেননি। ১৯৭১ সালের ৬-১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৩১.
ব্রোঞ্জ নির্মিত স্তূপ পাওয়া গেছে কুমিল্লা জেলার কোথায়?
  1. মুরাদনগরে
  2. রামচন্দ্রপুরে
  3. মোহনপুরে
  4. ময়নামতিতে
সঠিক উত্তর:
ময়নামতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়নামতিতে
ব্যাখ্যা
• ব্রোঞ্জ-নির্মিত স্তূপ:
- বাংলাদেশের শিল্পকলার ঐতিহ্য প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। স্থাপত্য বা স্তূপ হলো বৌদ্ধ স্থাপত্যের একটি নিদর্শন।
- বৌদ্ধগণই স্তূপ-নির্মাণের রীতিকে গ্রহণ করে পূজা-অর্চনায় এবং ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের ক্ষেত্রে এ রীতিকে বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন।
- বৌদ্ধ-প্রধান অঞ্চল ময়নামতিতে দশ ইঞ্চি দীর্ঘ একটি ব্রোঞ্জ-নির্মিত স্তূপ পাওয়া গেছে।
- বাংলার অন্যতম বিশিষ্ট রীতির স্থাপত্য-নিদর্শন হল মন্দির। ময়নামতিতে মন্দিরের জনপ্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে।
- শালবন বিহারের কেন্দ্রিয় মন্দিরটির প্রত্যেক বাহু ১৭০ ফুট দীর্ঘ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩২.
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন কে?
  1. আমিনুল ইসলাম বুলবুল
  2. নাইমুর রহমান
  3. হাবিবুল বাশার
  4. গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
সঠিক উত্তর:
আমিনুল ইসলাম বুলবুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিনুল ইসলাম বুলবুল
ব্যাখ্যা
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ:

- বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচে প্রথম জয় পায় ২০০৫ সালে।
- প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান।
- টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
- বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে ১০ নভেম্বর ২০০০ সালে।
- প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করে বাংলাদেশ।
- টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবাল।
- বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয় পায় কোন দলের বিপক্ষে  জিম্বাবুয়ে।
- টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ব্যক্তিগত হাজার রান সংগ্রাহক হাবিবুল বাশার।
- ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

তথ্যসূত্র - bangladesh.gov.bd
                দৈনিক প্রথম আলো,০৬ জানুয়ারি ২০১৭।
                দৈনিক প্রথম আলো,১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
                সময় নিউজ, ১৪ জুন ২০২৩।
২,২৩৩.
মৌলিক অধিকার লংঘনের প্রতিকারে কোন আদালতে যেতে হয়?
  1. ক) জেলা জজ আদালতে
  2. খ) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. গ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. ঘ) হাইকোর্ট বিভাগে
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাইকোর্ট বিভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারবে। সূত্রঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
২,২৩৪.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ‘মুজিবনগর’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) সাতক্ষীরা
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) ঝিনাইদহ
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

২,২৩৫.
প্রাচীন বাংলার সমতট জনপথের বর্তমান অবস্থান কোনটি?
  1. ক) রবিশাল অঞ্চল
  2. খ) খুলনা অঞ্চল
  3. গ) কুমিল্লা অঞ্চল
  4. ঘ) রংপুর অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
গ) কুমিল্লা অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুমিল্লা অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল। রাজ্য রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার ময়নামতির অদূরে বড়কামতা। সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
২,২৩৬.
সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় কবে?
  1. ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  3. ৩০ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ১ অক্টোবর ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
→ ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন:
 
- সময়: ২৭ জানুয়ারি, ১৯৫২
- পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঢাকায় এক জনসভায় ঘোষণা করেন:
- "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।"
- এই ঘোষণায় ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী সমাজে চরম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
- ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ছাত্র ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
- ঐ সভায় ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল ও সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

• ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২: 
- স্থান: বার লাইব্রেরি, ঢাকা
- সভাপতি: মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী উদ্দেশ্যঅ
• উপস্থিত সংগঠনসমূহ:
- পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ
- তমাদ্দুন মজলিশ
- ইসলামী ছাত্রসংঘ
- যুবসংঘ
- পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ
- সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- সদস্য সংখ্যা: ২৮ জন (মতান্তরে ৪০ জন)
-  উদ্দেশ্য: রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা।

উৎস: বিশ্বসভ্যতা ও ইতিহাস, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩৭.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. নজিবউদ্দৌলা
  2. সিরাজউদ্দৌলা
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. মীর কাসিম
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা

নবাব মুর্শিদকুলি খান: 
- ১৭০০ সালে বাংলায় আসেন মুর্শিদ কুলি খান।
- তিনি ১৭২৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
- প্রথমে তাঁকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- দেওয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুর্বল মুঘল সম্রাটগণ দূরবর্তী সুবাগুলোর দিকে তেমন দৃষ্টি দিতে পারেননি।
- আঠারো শতকের বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস নিজামত বা নবাবি আমলরূপে পরিচিত।
- আর প্রায় স্বাধীন শাসকগণ পরিচিত হন 'নবাব' হিসেবে।
- মুর্শিদ কুলি খান বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব। 
- তিনি ঢাকা থেকে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
-  বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৩৮.
Among the European traders who came first to Bengal were-
  1. The Portuguese
  2. the English
  3. The Dutch
  4. The French
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
The Portuguese
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Portuguese
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা প্রথম বাংলায় আসেন।

অপরদিকে,
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- উপমহাদেশে সর্বশেষে আগত ইউরোপীয় বণিক কোম্পানি হচ্ছে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- ১৬৬৪ সালে এই বাণিজ্যিক কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬৬৮ সালে কোম্পানি সর্বপ্রথম সুরাট এবং পরের বছর মুসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬৭৩ সালে পন্ডিচেরিতে ফরাসি উপনিবেশ গড়ে ওঠে।

ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসী ওলন্দাজ বা ডাচ।
- 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যিক উদ্দেশে ১৬০২ সালে এই উপমহাদেশে আসে।
- ওলন্দাজ ও অপর ইউরোপীয় শক্তি ইংরেজদের মধ্যে ব্যবসায়-বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।
- ১৭৫৯ সালে সংঘটিত বিদারার যুদ্ধে তারা ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- ফলে ১৮০৫ সালে তারা সকল বাণিজ্য কেন্দ্র গুটিয়ে ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
- প্রথমে পর্তুগিজ পরে ওলন্দাজ শক্তির পতন।
- ভারতে ইংরেজ শক্তির উত্থানের পথ সুগম করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৩৯.
'মাৎস্যন্যায়' কোন সময়কে নির্দেশ করে?
  1. ৬ষ্ঠ-৭ম শতককে
  2. ৭ম-৮ম শতককে
  3. ৮ম-৯ম শতককে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৭ম-৮ম শতককে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম-৮ম শতককে
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪০.
১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বড়লাট ছিলেন -
  1. ক) লর্ড কার্জন
  2. খ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. গ) লর্ড মিন্টো
  4. ঘ) লর্ড চেমসফোর্ড
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড মিন্টো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড মিন্টো
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জনের পদত্যাগের পর লর্ড মিন্টো তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। 
- তাঁর ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বৃটেনে একটি উদারনৈতিক সরকারের আবির্ভাব ঘটে এবং জন মর্লি ভারত সচিব নিযুক্ত হন।
-  জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারতে তখন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন চলছিল। 
- বঙ্গভঙ্গ বাতিলের কংগ্রেসী দাবি সরাসরি মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না বিধায় বৃটিশ সরকার কিছুটা সমঝোতামূলক মনোভাব নিয়ে কংগ্রেসকে অন্যভাবে খুশী করার চেষ্টা করে এবং আইন পরিষদের গঠনকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক করার কথা বিবেচনা করে। 
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪১.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ চট্টগ্রামে পাকবাহিনীর অভিযান
  2. বঙ্গোপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযান
  3. মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
  4. মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
সঠিক উত্তর:
মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এইদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,২৪২.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার তথ্য প্রকাশ করা বিখ্যাত প্রতিবেদন ‘জেনোসাইড’ কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. সানডে টাইমস
  2. ডেইলি টেলিগ্রাম
  3. দ্য মর্নিং নিউজে
  4. নিউ ইয়র্ক টাইমস
সঠিক উত্তর:
সানডে টাইমস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানডে টাইমস
ব্যাখ্যা

• অ্যান্থনি মাসকারেনহাস:
-  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে সর্বপ্রথম উন্মোচিত করেন।
- মার্চের শেষ থেকে পাকাসেনারা পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে চলেছে।
- সানডে টাইমসের পাকিস্তান-প্রতিনিধি অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস এই প্রথামবারের মতো নিরবতার পর্দা উন্মোচন করলেন।
- তিনি সেখানে পাকসেনাদের কীর্তিকলাপ দেখেছেন।  
- তিনি পাকিস্তান ছেড়ে এসেছেন বিশ্ববাসীকে সেসব জানানোর জন্য। 
- সেনাবাহিনী শুধু স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলা বা বাংলাদেশ ধারণার সমর্থকদেরই হত্যা করছে না। স্বেচ্ছাকৃতভাবে খুন করা হচ্ছে হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান সবাইকে। 
- এরপর তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
- পরিবারসহ লন্ডনে চলে যাওয়ার পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতা ফাঁস করে দেন। 

- ১৩ জুন, ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যের সানডে টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ম্যাসকারেনহাসের সেই প্রতিবেদন।
- সম্পাদকীয় পাতার দুই পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হয় সেই প্রতিবেদন, সঙ্গে ছিল বিশাল হরফের শিরোনাম- জেনোসাইড
- এক শব্দের সেই শিরোনামেই প্রথমবারের মতো ফাঁস হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার ব্যাপকতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ, বাংলা ট্রিবিউন।

২,২৪৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিচালিত অপারেশন 'কিলো ফ্লাইট' কার নামানুসারে গঠিত হয়? 
  1. এম এ জি ওসমানী
  2. এম এ রব
  3. এ কে খন্দকার
  4. জিয়াউর রহমান 
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

• এ কে খন্দকার: 
- এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে। 
- তাঁর আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। 
- ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। 
- ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। 
- গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

- মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত আগে এ কে খন্দকার ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধান।
 - সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
 - তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ বৈমানিক। তাঁরা মুক্তিবাহিনীর বিমান শাখা গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। 

- নাগাল্যান্ডের ডিমারপুরে একটি বিমানঘাঁটি করা হয় এবং ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
 - এই বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল তিনটি বিমান নিয়ে।
 - এ কে খন্দকারের নাম অনুসারে গঠন করা ‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল মুক্তিবাহিনীর বিমান উইংয়ের প্রথম ইউনিট। 
- ‘কে’ দিয়ে যেহেতু খন্দকার হয়, তাই এর নাম দেওয়া হলো ‘কিলো ফ্লাইট’। ‘কে’ ফর কিলো। আর ‘ফ্লাইট’ হচ্ছে বিমানের ভাষায় স্কোয়াড্রন থেকে ছোট একটা ইউনিট। 

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
 - স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমানবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।
- তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানবাহিনী পুনর্গঠিত হয়। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন তিনি।

- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখার জন্য এ কে খন্দকার ১৯৭৩ সালে ‘বীর উত্তম’ খেতাব এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে এ কে খন্দকারের লেখা ১৯৭১: ভেতরে বাইরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ। 

- ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ (শনিবার) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। 
- তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।


তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link) (Link2)

২,২৪৪.
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন নরপতির নাম কী?
  1. হর্ষবর্ধন
  2. শশাঙ্ক
  3. অশোক
  4. ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪-৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।
সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৪৫.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ১২ এপ্রিল মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন;
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - প্রেসিডেন্ট
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম - ভাইস-প্রেসিডেন্ট
- তাজউদ্দীন আহমেদ - প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
- খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ
 - এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান - অভ্যন্তরীণ সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন
 - ক্যাপ্টেন মনসুর আলী - অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪৬.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ ভাষা আন্দোলনের সময়ে রচিত জনপ্রিয় গানটির রচয়িতা-
  1. আবদুল লতিফ
  2. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. গোবিন্দ হালদার
সঠিক উত্তর:
আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময়ে লেখা আবদুল লতিফের সবেচেয়ে জনপ্রিয় ও বিখ্যাত গান - ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’। এ গানটিতে তিনি বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের আবহ ও সুরকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গানটি পূর্ব বাংলার ঐতিহ্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী গানের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তার আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এর প্রথম সুরকার তিনি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]

২,২৪৭.
ছয় দফা অনুযায়ী কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা ছিল কার হাতে?
  1. ক) আঞ্চলিক সরকারের হাতে
  2. খ) উভয় সরকারের হাতে
  3. গ) বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে
  4. ঘ) কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে
সঠিক উত্তর:
ক) আঞ্চলিক সরকারের হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আঞ্চলিক সরকারের হাতে
ব্যাখ্যা
• ছয় দফার চতুর্থ দফা ছিল - আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা।
• আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৪৮.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সুর রচনায় কার প্রভাব রয়েছে?
  1. ক) লালন সাঁই
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) গগণ হরকরা
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
গ) গগণ হরকরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গগণ হরকরা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনার ইতিহাস:
- ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এ গান প্রচার করেন।
- গানটি সুর করার ক্ষেত্রে গগন হরকরা রচিত কালজয়ী বাউল গান ‘আমি কোথায় পাবো তারে’ এর প্রভাব রয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে গগন হরকরার প্রভাব পড়ে যেভাবে:
- তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের নদীয়ার (বর্তমান কুষ্টিয়া) একটি ছোট গ্রামে গগনের বাস।
- ভূ-খন্ডের এই অংশে তখন প্রতিনিধিত্ব লালন সাঁই, গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের মতো কালজয়ী প্রতিভাদের। শিলাহদহ এস্টেটে ঠাকুরবাড়ির জমিদারি দেখাশোনার জন্য আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে ডাকহরকরার কাজের ফাঁকে গান রচনা ও গাইতেন গগন। তিনি বাউল সম্রাট ফকির লালনের অনুসারী ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এলে চিঠিপত্রাদি দিতে জমিদার কাচারিতে যাওয়া হতো গগনের।
- তার রচিত ও সুরারোপিত ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ গগণের নাম ও তার গানের বিষয়ে তার প্রবন্ধ “An Indian Folk Religion” এ উল্লেখ করেন।
- সেখানে ‘আমি কোথায় পাবো তারে’-গানটির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “The first Baul song, which I chanced to hear with any attention, profoundly stirred my mind.”

এই গান রবীন্দ্রনাথকে এতোটাই প্রভাবিত করে যে, তিনি এর সুরে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’।
---------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডাকঘর নাটকটি গগন হরকরার জীবন থেকে প্রভাবিত হয়ে লিখেছিলেন।
- নাটকের গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রটি তা প্রমাণ করে।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট ও বিডি নিউজ২৪.কম আর্কাইভ।
২,২৪৯.
দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. ঢাকা
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. খুলনা
  4. রংপুর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
- নারায়ণগঞ্জে ২১ জন শহীদের নামে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’।
- ১৪ জুলাই, ২০২৫ তারিখে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৫ উপদেষ্টা। তারা হলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
- বৈষম্যের বিরুদ্ধে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে, অর্থাৎ ৩৬ জুলাই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন ৫৬ জন, আহত হন ৩৭০ জন ।
- নিহতদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা।
- শহীদদের স্মরণে সরকারি উদ্যোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

২,২৫০.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবী কী ছিলো?
  1. ক) সিপাহি
  2. খ) ক্যাপ্টেন
  3. গ) ল্যান্স নায়েক
  4. ঘ) ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহি
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান(১৯৪৫-১৯৭১)  ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে ১৯৪৫ সালে তাঁর জন্ম। 
-  ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন এবং রেজিমেন্টের চট্টগ্রাম সেনানিবাস কেন্দ্রে তাঁকে নিয়োগদান করা হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে তিনি সেনানিবাস ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে তিনি বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ধলই নামক স্থানে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন।
- ২৮ অক্টোবর ১৯৭১ তিনি শহীদ হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৫১.
নিচের কোন জেলা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ফরিদপুর
  2. ঢাকা
  3. ক ও খ 
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক ও খ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ 
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৫২.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী'- উক্তিটি কার?
  1. দুদু মিয়া
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. তিতুমীর
  4. হাজী শরীয়তউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
• দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

অপরদিকে,
- হাজী শরীয়তুল্লাহ একটি ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন।
- আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে ফরজ বলা হয়।
- শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের স্থানীয় লোকাচার পালনের বিরোধী ছিলেন।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে।
- অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে কার্যকর করতে হাজী শরিয়তউল্লাহ ফরায়েজি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
২,২৫৩.
বাংলায় তুর্কি শাসন প্রতিষ্ঠা পায় কত সালে?
  1. ১২২৫ সালে
  2. ১২২৬ সালে
  3. ১২২৭ সালে
  4. ১২২৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১২২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২২৭ সালে
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ সালে বাংলায় তুর্কি শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫৪.
'একুশে পদক-২০২৩' পুরস্কার প্রদান করা হয় কত জন ব্যক্তিকে?
  1. ক) ২০ জন
  2. খ) ২১ জন
  3. গ) ১৯ জন
  4. ঘ) ২৪ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯ জন
ব্যাখ্যা
একুশে পদক-২০২৩
- 'একুশে পদক' বাংলাদেশের দ্বিতীয় সম্মানজনক বেসামরিক পুরস্কার।
- ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সালে এই পদকের প্রচলন করা হয়।
- বাংলাদেশ সরকারের ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়' এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
- ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় 'একুশে পদক-২০২৩' এর জন্য ১৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
২,২৫৫.
রানী চাঁদ সুলতানা কোন মুসলিম রাজ্যের রানী ছিলেন?
  1. ক) আহমদ নগর
  2. খ) বিজাপুর
  3. গ) গোলকুন্ডা
  4. ঘ) খান্দেশ 
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ নগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহমদ নগর
ব্যাখ্যা
রানী চাঁদ সুলতানা আহমদ নগর মুসলিম রাজ্যের রানী ছিলেন।

• আহমদ নগর:

- সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে দাক্ষিণাত্যে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুন্ডা, বিদর এবং খান্দেশ এই পাঁচটি স্বাধীন মুসলিম রাজ্য ছিল। এদের মধ্যে আহমদনগর ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
- আকবর প্রথমে দূত পাঠিয়ে এসব রাজ্যের সুলতানদের মোগল আধিপত্য মেনে নেয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু একমাত্র খান্দেশের সুলতান সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকার করে। ফলে আকবর সমরাভিযানের প্রস্তুতি মনোনিবেশ নেন।
- ১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দে মোগল বাহিনী আহমদনগর অভিযানে বের হয়।
- আহমদনগরের রাণী চাঁদ সুলতানা আকবরকে বেরার প্রদেশ দান করে তাঁর সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে চাঁদ সুলতানার মৃত্যুর পর আহমদনগর আকবরের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৫৬.
ভাষা আন্দোলনের কোন শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. আবদুল জব্বার
  2. আবদুস সালাম
  3. আবুল বরকত
  4. রফিক উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল বরকত
ব্যাখ্যা
আবুল বরকত:
- ভাষা আন্দোলনের আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

⇒ ভাষা শহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৩ জুন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবার ঢাকায় চলে আসেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চতুর্থ হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।
- রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৭.
শরীফ কমিশন বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে কোন হরফ প্রবর্তনের সুপারিশ করেছিল?
  1. আরবি হরফ
  2. রোমান হরফ
  3. উর্দু হরফ
  4. ইংরেজি হরফ
সঠিক উত্তর:
রোমান হরফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান হরফ
ব্যাখ্যা

• শিক্ষা আন্দোলন: 
- ১৯৫৯ সালের ৫ জানুয়ারি গঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের সচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বাধীন শিক্ষা কমিশন।
- পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাবাদর্শে শিক্ষাকে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষায় শরীফ শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন জমা দেয়।
- মাত্র আট মাসে প্রস্তুত সেই প্রতিবেদন প্রত্যাঘাতের ভয়ে প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- প্রকাশিত হওয়ার পরপরই পূর্ববঙ্গ আবার ফুঁসে ওঠে। ভেঙে ফেলে আইয়ুব শাহির রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সময়ের কঠিন-কঠোর মার্শাল ল।
- প্রতিবেদনের সুপারিশে শরীফ কমিশন প্রথমত বলেছিল, উর্দু হবে পাকিস্তানের শিক্ষার ভাষা, ইংরেজি হবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক।
- আর বাংলা বর্ণমালার বদলে চালু হবে রোমান হরফ।
- দ্বিতীয়ত, শিক্ষাকে পণ্য ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্র শিক্ষার দায়িত্ব নেবে না বলে কমিশন সুপারিশ করে। অর্থাৎ যাঁর টাকা আছে, শিক্ষার অধিকার তাঁরই, এটাই ছিল এই সুপারিশের মূলকথা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। 

২,২৫৮.
কৌলীন্য প্রথা বাংলার সেন বংশের কোন রাজা প্রবর্তন করেন?
  1. বিজয় সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

বল্লাল সেন:
- সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা বল্লাল সেন।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন। কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৫৯.
বাংলাদেশের জরুরি সেবার হেল্পলাইন নাম্বার কোনটি?
  1. ৯৯৯
  2. ১০৬
  3. ১০৯
  4. ৩৩৩
সঠিক উত্তর:
৯৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৯৯
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সেবায় হেল্পলাইন:
- ৯৯৯: বাংলাদেশের জরুরি সেবার কল সেন্টার। এখানে বিনামূল্যে ফোন করে আপনি জরুরী মুহুর্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স এর সাহায্য নিতে পারবেন। এছাড়া যে কোন অপরাধের তথ্যও পুলিশকে জানাতে পারবেন। 

এছাড়াও,
- ১০৬: দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার। যে কোন দুর্নীতি চোখে পড়লে বিনামূল্যে কল করে জানিয়ে দিন।
- ১৬১২৩: কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন। কৃষি, মৎস, প্রানীসম্পদ বিষয়ক যে কোন পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানতে পারবেন।
- ১০৯: নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে।
- ১০৯৮: শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার। চারপাশে শিশুদের যে কোন সমস্যা হলে বিনামূল্যে কল করে সেবা নিতে পারেন এই নাম্বার থেকে।
- ৩৩৩: জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার। বাংলাদেশের যে কোন তথ্য জানতে ও সরকারি কর্মকর্তাদেরর সাথে কথা বলতে কল করুন এই নাম্বারে।
- ১৬২৬৩: বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য কল সেন্টার। যে কোন সমস্যায় ২৪ ঘন্টায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- ১৬১০৮: মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার। মানবাধিকার বিঘ্নিত হলে কল করুন এই নাম্বারে।
- ১৩১: বাংলাদেশ রেলওয়ে কল সেন্টার। ট্রেন ও এর টিকিট সম্পর্কে জানতে কল করুন।
- ১০৫: জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার।
- ১০০: বিটিআরসি কল সেন্টার।
- ১৬৪২০: বিটিসিএল কল সেন্টার।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২৬০.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস এর রচয়িতা-
  1. ক) ড. মুনীর চৌধুরী
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ঘ) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিত রচিত সাহিত্যকর্ম:
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত।
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬১.
বাংলাদেশে বর্তমানে বিভাগের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ বর্তমানে আটটি 'বিভাগ' রয়েছে।
• বাংলাদেশের ৮টি বিভাগগুলো হলো:
- ঢাকা বিভাগ,
- চট্টগ্রাম বিভাগ,
- রাজশাহী বিভাগ,
- খুলনা বিভাগ,
- সিলেট বিভাগ,
- বরিশাল বিভাগ,
- রংপুর বিভাগ,
- ময়মনসিংহ বিভাগ।

উল্লেখ্য,
- ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলার নামেই নতুন দুটি প্রশাসনিক বিভাগ প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে সরকার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,২৬২.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২ নং সেক্টরে
  2. খ) ৭ নং সেক্টরে
  3. গ) ৯ নং সেক্টরে
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টরে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ নং সেক্টরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১১ নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)। 

তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের দুইজন 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করে। 
- তিনি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অন্য আরেকজন মহিলা মুক্তিযুদ্ধাকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তিনি হলেন- ডা. সেতারা বেগম।
- ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা।
২,২৬৩.
মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হরিণা
  2. হেজামারা
  3. বাঁশতলা
  4. মেলাঘর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৪.
কত তারিখে শহীদ শফিউরের পিতা প্রথম শহীদ মিনারের অনানুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,২৬৫.
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে কোন চেতনার উন্মেষ ঘটেছিলো?
  1. ক) সাম্প্রদায়িক চেতনা
  2. খ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  3. গ) মুসলিম জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
সঠিক উত্তর:
খ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা

- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)

২,২৬৬.
যুক্তফ্রন্টের শরীক 'বামপন্থী গণতন্ত্রী দল' কার নেতৃত্বে গড়ে উঠে?
  1. ক) হাজী দানেশ
  2. খ) মওলানা ভাসানী
  3. গ) ফজলুল হক
  4. ঘ) আতাহার আলী
সঠিক উত্তর:
ক) হাজী দানেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাজী দানেশ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্বান্ত হয়। 
- যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। 
যথা- 
১। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, 
২। এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি, 
৩। মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং 
৪। হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘নৌকা’। 
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে যুক্তফ্রন্ট প্রণীত একুশ দফা কর্মসূচির মূখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 
- আওয়ামী মুসলিম লীগের নির্বাচনী কর্মসূচির ৪২ দফা থেকে প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে যুক্তফ্রন্টের 'একুশ দফা' নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬৭.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬২টি আসনের মধ্যে কয়টি আসন লাভ করে?
  1. ১৬২টি
  2. ১৬১টি
  3. ১৬০টি
  4. ১৫৯টি
সঠিক উত্তর:
১৬০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- ফলে সেদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়।
- ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
- কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা হয়।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭০ এর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
- আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান 'নৌকা' প্রতীক নিয়ে ঐতিহাসিক ছয় দফার পক্ষে প্রচারাভিযানে নামেন।

⇒ নির্বাচনের ফলাফল:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসন লাভ করে।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ আওয়ামী লীগ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- আবার পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- সে সময় জাতীয় পরিষদের সদস্যদের এমএনএ এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এমপিএ বলা হতো।
- ভোটের ফলাফল মূল্যায়নে দেখা যায়, মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পায়।
- নির্বাচনের এমন ফলাফল পূর্ব পাকিস্তানকে একটি পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬৮.
ছয় দফার মধ্যে কোন দফাটি বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত?
  1. তৃতীয় দফা
  2. চতুর্থ দফা
  3. পঞ্চম দফা
  4. ষষ্ঠ দফা
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চম দফা
ব্যাখ্যা
৬ দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন।

• দফাগুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ষষ্ঠ দফা: প্রতিরক্ষা বিষয়ক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৯.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) আবু হোসেন সরকার
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৪১)
২,২৭০.
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন কে?
  1. গোলাম মাহবুব
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. হোসেন শহীদ সোরওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন 

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৮-১৯৫২):
- মাতৃভাষার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার।
- পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জনের মাতৃভাষা ছিল বাংলা।
- উর্দু কোনো অঞ্চলেরই মাতৃভাষা ছিল না।
- অথচ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
- অগণতান্ত্রিকভাবে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বাঙালিদের যে আন্দোলন শুরু হয়, তা-ই ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
- পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র নেতৃত্বের সমন্বয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- তাদের দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে পরিষদের ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিতা, নবম দশম শ্রেণি।
২,২৭১.
Who was appointed as the lawyer for Sheikh Mujib in the Agartala conspiracy case?
  1. William Carey
  2. William Jersey
  3. Thomas Awdry
  4. Thomas William
  5. None of them
সঠিক উত্তর:
Thomas William
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Thomas William
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবেই বেশি পরিচিত।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন টমাস উইলিয়ামস।
- ১৯৬৮ সালের ৫ আগস্ট ব্রিটিশ আইনজীবী ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টমাস উইলিয়ামস শেখ মুজিবের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন পেশ করেন। 
- গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। 
 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
২,২৭২.
দিনেমাররা ভারতবর্ষে ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে কত সালে?
  1. ক) ১৫৯০ সালে
  2. খ) ১৬১০ সালে
  3. গ) ১৬২০ সালে
  4. ঘ) ১৬৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬২০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬২০ সালে
ব্যাখ্যা
ডেনমার্কের অধিবাসীদের বলা হয় দিনেমার। ১৬২০ সালে দিনেমাররা ভারতবর্ষে বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে এবং দক্ষিণ ভারতের তাঞ্জোর জেলার দিবাঙ্কুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে.১৬৭৬ সালে তারা তারা বাংলার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। ১৮৪৫ সালে ইংরেজদের কাছে তাদের বাণিজ্যকুঠি বিক্রি করে তারা ভারতবর্ষ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
২,২৭৩.
বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল কোনটি?
  1. ক) লন্ডন
  2. খ) ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতা
  3. গ) নয়া দিল্লি
  4. ঘ) স্টকহোম
সঠিক উত্তর:
ক) লন্ডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লন্ডন
ব্যাখ্যা
গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন এবং বাঙালিদের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ব জনমতকে জাগ্রত করে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকারও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে খুবই সহানুভূতিশীল ছিল।
- লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭৪.
'অপারেশন বিগ বার্ড' কী?
  1. ১৯৭১ সালে গনহত্যার অভিযান
  2. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র জমা দান
  3. ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবকে হত্যার অভিযান
  4. ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের অভিযান
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের অভিযান
ব্যাখ্যা
অপারেশন বিগ বার্ড:
- ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের জন্য পরিচালিত অপারেশনটির নাম অপারেশন 'বিগ বার্ড'।
- ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাতের অন্ধকারে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- সেই কালরাত্রিতেই জেনারেল রাও ফরমান আলী খানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সামরিক অভিযানের কোড 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ঢাকায় ও দেশের অন্যান্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক তাণ্ডব ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো করা হয়।
- ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- রাত ১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়।
- এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়্যারলেসে ৫৭ ব্রিগেডের মেজর জাফর জানায়-'বিগ বার্ড ইন দ্য কেজ, অন্যান্য পাখিরা নীড়ে নেই, ওভার' 
- অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঢাকা থেকে রাওয়ালপিন্ডির লয়ালপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।
- ০৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সূত্র: উইটনেস টু স্যারেন্ডার; লেখক: সালিক সিদ্দিক। 
২,২৭৫.
কণিষ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. মথুরা
  2. পাটলিপুত্র
  3. পুরুষপুর
  4. তক্ষশীলা
সঠিক উত্তর:
পুরুষপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরুষপুর
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৭৬.
৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্যের নকশা প্রণয়ন করেন কে?
  1. ক) মৃণাল হক
  2. খ) নিতুন কুণ্ডু
  3. গ) আজিজুল জলিল পাশা
  4. ঘ) আব্দুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুর রাজ্জাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আব্দুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরনায় নির্মিত সর্বপ্রথম ভাস্কর্য জাগ্রত চৌরঙ্গী, যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর, চান্দনা, চৌরাস্তায় অবস্থিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্নে গাজীপুরে সংগঠিত প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামের চেতনার আলোকে ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদের স্মরণে নির্মিত হয় এটি।
- এর উচ্চতা মাটি থেকে একশত ফুট।
- দু’পাশে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১১নং সেক্টরের ১০৭ জন এবং ৩নং সেক্টরের ১০০ জন শহীদ সৈনিকের নাম খোদাই করা হয়েছে। - জাগ্রত চৌরঙ্গীর নকশা প্রণয়ন করেন বরেণ্য শিল্পী আঃ রাজ্জাক।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২৭৭.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কী?
  1. ময়নামতি
  2. সুবর্ণগ্রাম
  3. পুণ্ড্রনগর
  4. সোমপুর বিহার
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা

• মহাস্থানগড়:
- বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- পাহাড়পুরের মত এখানেও বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন।
- অবস্থান: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ নগরী পুন্ড্রনগরের অবস্থান।
- ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুন্ড্রনগরই হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- এর পূর্বদিকে করতোয়া নদী প্রবাহিত।
- প্রাচীন এ সভ্যতাটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।
- উৎপত্তি: খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে মহাস্থান ব্রাহ্মলিপিতে 'পুন্দনগল' এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এ পুন্দনগলই হচ্ছে প্রাচীন পুঞ্জের রাজধানী পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি ও চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং- এর বর্ণনায় পুণ্ড্রনগরের উল্লেখ আছে।
- হিউয়েন সাং- এর বর্ণনা থেকেই আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে মহাস্থানকে পুণ্ড্রনগর বলে চিহ্নিত করেন।
- মহাস্থানগড়ের প্রাচীনতম নাম 'পুণ্ড্রনগর'।

অন্যদিকে,
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বৌদ্ধ বিহার পাল আমলের স্থাপত্য।
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সোনারগাঁও-এর প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, ‍উন্মু্ক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২,২৭৮.
সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) দুধু মিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- বহুকাল আগে থেকেই হিন্দু সমাজে অনেক কুপ্রথা প্রচলিত হয়েছিল। এর অন্যতম হচ্ছে সতী।
- সতীদাহ প্রথা অনুসারে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত পেড়ানো হতো।
- গোঁড়া হিন্দুদের প্রবল প্রতিরোধের মধ্যেও রামমোহন রায় সতীদাহের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে থাকেন
- তিনি প্রভাবিত করতে থাকেন কোম্পানির শাসকদের।
- এই সূত্রে ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের অনুমোদনে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ হয়।
- রামমোহন রায়কে সাধারণভাবে রাজা রামমোহন রায় বলা হয়।
- তিনি রাজা উপধিটি পেয়েছিলেন সেসময়ের নামেমাত্র মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবরের (১৮০৬-১৮৩৭) কাছ থেকে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,২৭৯.
ব্রিটিশ শাসনামলে কোন সালে ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯৩২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৫ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালে ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়।

রাজধানী ঢাকা:

- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা বাংলার রাজধানী ছিল চারবার।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- জনপদ হিসেবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে।
- শহর হিসেবে এর গোড়াপত্তন হয় ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করা হয়। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Business Standard.
২,২৮০.
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে সর্বনিম্ন চাঁদার পরিমাণ কত?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৭০০ টাকা
  3. ৮০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১০০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি:
- ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো নাগরিক ৬০ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করে অবসর জীবনের সময় পেনশন সুবিধা পেতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
- ১৭ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- পেনশন কর্মসূচি চালুর আগে পাঁচটি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) হয় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের।
- এগুলো হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, সোনালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড।
- চার শ্রেণির ব্যক্তিদের নিয়ে চারটি পেনশন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

স্কিমগুলো হলো -
১. প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাস স্কিম,
২. বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রগতি স্কিম,
৩. অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য সুরক্ষা স্কিম, এবং
৪. অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য সমতা স্কিম।

- স্কিম ভেদে সর্বনিম্ন মাসিক চাঁদা ১ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ চাঁদা ১০ হাজার টাকা।
- সমতা স্কিমে ১ হাজার টাকার মধ্যে চাঁদাদাতা ৫০০ টাকা প্রদান করবেন এবং সরকার থেকে ৫০০ টাকা ভর্তুকি দেয়া হবে। 

উৎস: সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ।
২,২৮১.
কার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু হয়?
  1. ঈসা খাঁ
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. মুর্শিদ কুলী খান
সঠিক উত্তর:
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর পতনের মাধ্যমে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু হয়েছিল।

ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক। এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৮২.
মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কোন দেশ সহায়তা করছে?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. রাশিয়া
  4. নেদারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
জাপান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপান
ব্যাখ্যা
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হল বাংলাদেশের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের ১,৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
- ৬০০ মেগাওয়াট এর মোট দুটি ইউনিট তৈরি হবে।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২০০ ইউনিট।
- জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।
- বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনায় মাতারবাড়িকে ‘বিদ্যুৎ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে।
- ২৯ জুলাই, ২০২৩ তারিখে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।
- পরীক্ষামূলক উৎপাদনের শুরুতে ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। 

উৎস: ২৯ জুলাই, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
২,২৮৩.
কত সালে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাকশাল:
- বাকশাল ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা।
- ১৯৭৪ সালের জুন মাসে জাসদ 'বিপ্লবী গণবাহিনী' নামে একটি সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে 'বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা' নামে একটি সেল গঠন করে।
- এসকল কারণে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদল সমূহের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান বিঘ্নিত হয়।
- ১৯৭৪ সালে সরকার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
- ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়।
- বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৪.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম শহিদ মিনার:
- ঢাকায় প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের সামনে।
- নির্মিত হয়: ২৩ ফ্রেবুয়ারি, ১৯৫২ সালে।
- এর ডিজাইনার ছিলেন- ডা. বদরুল আলম।
- ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভি মাহবুবুর রহমান এ শহিদ মিনার টি উদ্ধোধন করেন।


কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গ কারীদের স্মরণে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
- নির্মিত হয়: ১৯৬৩ সালে।
- স্থপতি: হামিদুর রহমান ও সহকর্মী ছিলেন- নভেরা আহমেদ।
- স্তম্ভ রয়েছে- ৫ টি।
- ভাষা শহিদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন (১৯৬৩ সালে)

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা অফিস, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

২,২৮৫.
বর্তমানে সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে-
  1. ক) ১৩,৮৪১ টি
  2. খ) ১৩,৯৯১ টি
  3. গ) ১৪,১৪১ টি
  4. ঘ) ১৪,৯৪১ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪,১৪১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪,১৪১ টি
ব্যাখ্যা
- গ্রামীণ জনগণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য প্রথম সেবা কেন্দ্র হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক।
- বর্তমানে সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে ১৪,১৪১ টি।
- প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন সেবা প্রার্থী একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকেন এবং এদের ৯৫ শতাংশই নারী ও শিশু।
- ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ পর্যন্ত এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মানুষ সেবা নিয়েছে ১১১.১৭ কোটিরও বেশি বার।  

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
২,২৮৬.
শান্তিতে অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু কোন পদকে ভূষিত হন?
  1. ক) ম্যাগসেসে পদক
  2. খ) জুলিও কুরি শান্তি পদক
  3. গ) আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার
  4. ঘ) জওহরলাল নেহেরু পদক
সঠিক উত্তর:
খ) জুলিও কুরি শান্তি পদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জুলিও কুরি শান্তি পদক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়। 
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট। 
২,২৮৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কে-ফোর্স এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. কে এম শফিউল্লাহ
  4. খাইরুল বাসার
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ব্রিগেড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী বিগ্রেড আকারে তিনটি ফোর্স গঠন করেছিলেন।
ফোর্স ৩টি হলো:
- জেড ফোর্স (জিয়াউর রহমান),
- কে ফোর্স (খালেদ মোশাররফ) এবং
- এস ফোর্স (কে এম শফিউল্লাহ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৮৮.
'ঐতরেয় আরণ্যক' গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে কোন জনপদের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. গৌড়
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৯.
‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ কত সালে গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৬৯
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৫২
ব্যাখ্যা
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
⇨ কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
⇨ এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অন্যদিকে, 
⇨ ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
⇨ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
⇨ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৯০.
বঙ্গবন্ধু জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কোন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) লাহোর সম্মেলন
  2. খ) হাভানা সম্মেলন
  3. গ) বেলগ্রেড সম্মেলন
  4. ঘ) আলজিয়ার্স সম্মেলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলজিয়ার্স সম্মেলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলজিয়ার্স সম্মেলন
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের চতুর্থ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ ন্যামের সদস্য হয়।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাম ওয়েবসাইট)
২,২৯১.
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস কবে পালিত হয়?
  1. ২০ জানুয়ারি
  2. ২৪ জানুয়ারি
  3. ১৫ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৮ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- এছাড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামি মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
২,২৯২.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়-
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
• ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
• যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
• মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৩.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. খ) কামরুজ্জামান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

২,২৯৪.
’রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. গোলাম কিবরিয়া 
  2. আব্দুল মতিন চৌধুরি
  3. অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া
  4. সজিব রেজা চৌধুরি
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া
ব্যাখ্যা

'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

 - ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ'
- ৩১শে জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ' গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

২,২৯৫.
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করেন কে?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. উইলিয়াম বেন্টিংক
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উল্লেখ্য,
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে। অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৯৬.
কর্ণফুলি টানেল কোন বিভাগে অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্প: 
- চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং বৃহত্তম বাণিজ্যিক নগরী।
- কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম শহরকে দুইভাগে বিভক্ত করেছে।
- এক ভাগে রয়েছে নগর ও বন্দর এবং অপর ভাগে রয়েছে ভারী শিল্প এলাকা।
- কর্ণফুলী নদীর উপর ইতোমধ্যে ৩ টি সেতু নির্মিত হয়েছে, যা বিরাজমান প্রচুর পরিমাণ যানবাহনের জন্য যথেষ্ট নয়।
- নদীর মরফলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পলি জমা একটি বড় সমস্যা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারীতার জন্য বড় হুমকি।
- এই পলি জমা সমস্যার মোকাবেলা করার জন্য কর্ণফুলী নদীর উপর আর কোনো সেতু নির্মাণ না করে এর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা প্রয়োজন।
- এ জন্য সরকার চট্টগ্রাম জেলার দুই অংশকে সংযুক্ত করার জন্য কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

- কর্ণফুলী নদীর মুখে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেই অধিকাংশ দেশের আমদানি এবং রপ্তানি কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। প্রস্তাবিত টানেল চট্টগ্রাম বন্দর নগরকে কর্ণফুলী নদীর অপর অংশের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করবে এবং পরোক্ষভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাধ্যমে সারা দেশের সাথে সংযুক্ত করবে।
- প্রস্তাবিত টানেল সাইটে নদীর প্রস্থ ৭০০ মিটার এবং পানির গভীরতা ৯ থেকে ১১ মিটার।
- প্রস্তাবিত টানেলের দৈর্ঘ্য ৩৪০০ মিটার। 

উৎস: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ [লিঙ্ক]
২,২৯৭.
'জন্ম আমার ধন্য হলো' গানটির সুরকার -
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল লতিফ
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. আজাদ রহমান
সঠিক উত্তর:
আজাদ রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজাদ রহমান
ব্যাখ্যা
জন্ম আমার ধন্য হলো:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা দেওয়া গান ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’।
- গানটির গীতিকবি নয়ীম গহর।
- গানটির সুরকার আজাদ রহমান

উল্লেখ্য,
- আজাদ রহমান ১৯৬৪ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে (খেয়াল) প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।
- বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র সূচনা সঙ্গীত ‘আমরা নতুন আমরা কুঁড়ি’ গানটির সুরকার আজাদ রহমান।
- আজাদ রহমান শ্রেষ্ঠকণ্ঠশিল্পী, শ্রেষ্ঠসুরকার, শ্রেষ্ঠসঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছেন।
- ১৬ মে ২০২০ এ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৮.
জাপান কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  4. ১৫ আগস্ট ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা

→ জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়: ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, সংগ্রামের নোটবুক ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

২,২৯৯.
শ্রীচৈতন্যেদেবের আবির্ভাবের সময় বাংলার সুলতান কে ছিলেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
• সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন হোসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব "বৈষ্ণব ধর্ম" প্রচার করেন।
- তাঁর সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩০০.
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ কে খন্দকার
  4. কর্নেল এম এ রব
সঠিক উত্তর:
কর্নেল এম এ জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নেল এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন ও পরিচালনা: 
- মুজিবনগর সরকার আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করে।
- তিনি মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত করেন।
- তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস এর বাঙালি সদস্য সমন্বয়ে গঠিত;
- সৈন্য, ব্যাটেলিয়ান ই পি আর, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মুক্তি বাহিনীর নিয়মিত বাহিনী গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা।
- প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করার  মোট ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল।
-  মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- ১০ এপ্রিল, ৪টি এবং পরবর্তীকালে ১১ এপ্রিল ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল যারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, কৃষক, নারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।


 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।