বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১২ / ১২৪ · ১,১০১১,২০০ / ১২,৪২১

১,১০১.
১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির সময় ব্রিটিশ ভারতের সীমানা নির্ধারণী কমিশনের প্রধান কে ছিলেন?
  1. স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
  2. ক্লিমেন্ট এটলি
  3. স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
  4. লর্ড ওয়েভেল
সঠিক উত্তর:
স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির সময় ব্রিটিশ ভারতের সীমানা নির্ধারণী কমিশনের প্রধান ছিলেন স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ।
- স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ নেতৃত্বেই ভারত ও পাকিস্তানের বর্তমান সীমানা রেখা (Radcliffe Line) টানা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
• ১৯৪৭ সালের ৩০ জুন পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের সীমানা নির্ধারণের জন্যে বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের সদস্য ছিলো পাঁচজন। এরা হলেন-
- সিরিল রেডক্লিফ (চেয়ারম্যান)
- বিচারপতি বিজন কুমার মুখার্জী
- বিচারপতি সি.সি. বিশ্বাস
- বিচারপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
- বিচারপতি এস.এ. রহমান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড।

১,১০২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কতজন রাজসাক্ষী ছিল?
  1. ১১ জন
  2. ১৩ জন
  3. ১৭ জন
  4. ১৯ জন
সঠিক উত্তর:
১১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জন
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৩.
'অজন্তার গুহাচিত্র' কোন যুগের সময়কার নিদর্শন? 
  1. গুপ্ত 
  2. মৌর্য 
  3. কুষাণ 
  4. সেন 
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

অজন্তার গুহাচিত্র:
- ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র আওরঙ্গাবাদ শহর থেকে অজন্তার দূরত্ব প্রায় ১০১ কিলোমিটার। খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ সাল থেকে সপ্তম খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত এসব গুহা। মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুরা উপাসনার জন্য নির্জন এ পাহাড়ে খোদাই করে গুহাগুলো তৈরি করেছেন। কেবল গুহা নয়, এসব গুহার ভেতর বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিপুণ হাতে পাথরের পাহাড় কেটে কেটে তৈরি করেছেন বুদ্ধের মূর্তিসহ নানা শিল্পকর্ম; শিল্পের ভাষায় যাকে ‘রিলিফ ওয়ার্ক’ বলে। এ ছাড়া গুহার ছাদ বা সিলিংয়েও অনেক শিল্পকর্ম আছে; যাকে শিল্পের ভাষায় ফ্রেসকো বলে। 
- ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, বৌদ্ধ ভিক্ষু বা সন্ন্যাসীরা উপাসনা বা ধর্মচর্চা ও সংস্কৃতিচর্চার জন্যই অরণ্যঘেরা নির্জন এ অজন্তার পাহাড় খোদাই করে গড়েছেন গুহাগুলো। ছোট-বড় মিলিয়ে গুহা আছে ২৯টি। 

⇒ ভারতীয় শিল্পকলার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে গুপ্ত সম্রাট (খ্রি. ৩২০-৬৭৫) এবং তাঁদের নিকটবর্তী সময়ে। 
- এ সময়কার সৃষ্টিই অজন্তার গুহা। 
-  বিরল গুহা চিত্রের জন্য  অজন্তা ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।

১,১০৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্রিগেড আকারে কয়টি ফোর্স গঠিত হয়?
  1. ক) ১২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ১১টি
  4. ঘ) ৪টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী (সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে) ব্রিগেড আকারে তিনটি ফোর্স গঠন করেছিলেন।
• ফোর্স ৩টি হলোঃ
- জেড ফোর্স (জিয়াউর রহমান),
- কে ফোর্স (খালেদ মোশারফ) এবং
- এস ফোর্স (কে এম শফিউল্লাহ)।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১০৫.
নিম্নের কোন সংস্থাটি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে?
  1. ক) UNDP
  2. খ) WHO
  3. গ) UNICEF
  4. ঘ) UNESCO
সঠিক উত্তর:
ঘ) UNESCO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) UNESCO
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

উৎস: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,১০৬.
মুক্তিযুদ্ধ শেষে ভারতীয় মিত্রবাহিনী কবে বাংলাদেশ ত্যাগ করে?
  1. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
  2. ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ
  3. ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ
  4. ১৯৭২ সালের ৩০ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১২ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১২ মার্চ
ব্যাখ্যা
ভারতীয় মিত্রবাহিনী:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকায় গণহত্যা চালানোর পর পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।
- কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক কোটি শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান নেয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার ভারতের মাটিতে বসেই পরিচালিত হতো।
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ভারতের মাটিতেই প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং ভারত তাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তির পর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন।
- বাংলাদেশে আসার পূর্বে বাংলাদেশ থেকে মিত্রবাহিনী সদস্যদের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্ত করতে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে যাত্রবিরতি করে।
- দিল্লির বিমানবন্দরে অর্ভ্যথনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
- সেদিন ভারতীয় সেনাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ইন্দিরা গান্ধী।
- ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কলকাতায় ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বঙ্গবন্ধুকে জানান- ইয়োর এক্সেলেন্সি, ১৭ মার্চের আগেই সর্বশেষ ভারতীয় সেনাটিও বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসবে।
- এরপর, ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ, ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশ থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে ওয়েবসাইট।
১,১০৭.
ইউনেস্কোর কততম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়?
  1. ২৯তম
  2. ৩০তম
  3. ৩১তম
  4. ৩২তম
সঠিক উত্তর:
৩০তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০তম
ব্যাখ্যা

২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয় প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি।
- প্যারিসে ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর।
- বিশ্বের ১৮৮টি দেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু হয় ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয়।
- একই প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয় ২০০৮ সালকে।
- পরবর্তীতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয় ২০১০ সালে।

উৎস: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১,১০৮.
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট কতটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে?
  1. ক) ৬ টি
  2. খ) ৭ টি
  3. গ) ৮ টি
  4. ঘ) ৯ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭ টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে- পরিকল্পনা কমিশন।
- স্বাধীন বাংলাদেশের এ পর্যন্ত মোট ৮ টি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
- যার মধ্যে এ পর্যন্ত ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।
- অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ জুলাই, ২০২০ - জুন, ২০২৫।
- প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ ছিল ১৯৭৩-১৯৭৮।
- পাকিস্তান থাকাকালীন সর্বপ্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ - ১৯৫৫ - ৬০ সাল।

তথ্যসূত্র- পরিকল্পনা কমিশন।

১,১০৯.
ইবনে বতুতা কত সালে বাংলাদেশে আসেন?
  1. ক) ১৩৪৪
  2. খ) ১৩৪৫
  3. গ) ১৩৪৬
  4. ঘ) ১৩৪৭
সঠিক উত্তর:
গ) ১৩৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৩৪৬
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা ১৩০৪ খ্রি. মরক্কোয় জন্মগ্রহন করেন। ১৩৩৩ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে সিন্ধুর পাঞ্জাবে (ভারতবর্ষে) পৌঁছান।
১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জুলাই ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ইবনে বতুতা বাংলায় আসেন।
তার বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - ‘কিতাবুল রেহালা (সফরনামা)। তিনি বাংলার নামকরণ করেন ‘দোযখ-ই-পুর নিয়ামত’ বা প্রাচুর্যপূর্ণ নরক।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১১০.
'জুলাই ৩৬ গেট' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

জুলাই ৩৬ গেট:
- 'জুলাই ৩৬ গেইট' বাংলাদেশের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)- এর প্রধান ফটক।
- উদ্বোধনের তারিখ: ৪ জুলাই ২০২৫। 
- উদ্বোধন করেন: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম। 
- উদ্দেশ্য: জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিকে সংরক্ষণ এবং স্বাধীনতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের চেতনা প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। 
- নির্মাণ ব্যয়: প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। 
- প্রতীকী অর্থ: জাতীয় সংহতি, সাহস ও শহীদদের আত্মত্যাগের চিহ্ন। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার অনলাইন পোর্টাল।

১,১১১.
সর্বপ্রথম ভারতীয়দের জন্য প্রশাসনিক কার্যে নিয়োগের উদ্দেশ্যে সিভিল সার্ভিস নামক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চালু করেন কে?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
প্রশাসনিক সংস্কার:
- লর্ড বেন্টিঙ্ক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রশাসন ও বিচার বিভাগের আমূল পরিবর্তন আনেন।
- তিনি বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ১০টি বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগে একজন কমিশনার নিযুক্ত করেন।
- পরবর্তিকালে লর্ড ডালহৌসি ব্রিটিশ শাসনকে সুদৃঢ় করার জন্য বাংলায় একজন ছোট লাট নিয়োগের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- কেন্দ্রীয় শাসন পরিষদ স্থাপন, শাসন ব্যবস্থার সুবিন্যাসের জন্য জেলার সৃষ্টি এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন।
- তাছাড়া সে সময়ে বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য বিভাগীয় পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- লর্ড ডালহৌসি সময়ই সর্বপ্রথম ভারতীয়দের জন্য প্রশাসনিক কার্যে নিয়োগের উদ্দেশ্যে সিভিল সার্ভিস নামক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা চালু করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১২.
'বড় কামতা' কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. রাঢ়
  2. মৌর্য
  3. গৌড়
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
⇒ প্রাচীন সমতট রাজ্যের রাজধানী ছিলো- 'বড় কামতা'।

সমতট:
- সমতট ছিল পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি অঞ্চল, যা বঙ্গের পাশেই অবস্থিত।
- সমতটের রাজধানী ছিল বড় কামতা ও দেবপর্বত।
- দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- এই অঞ্চল গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের ত্রিপুরার একটি অংশও সমতটের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে প্রাচীন কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে শালবন বিহার অন্যতম।

অন্যদিকে, 
- গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- রাঢ় অঞ্চলের রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
১,১১৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সাব -সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ৬০ টি
  2. খ) ১১ টি
  3. গ) ৬৪ টি
  4. ঘ) ৫৫ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। মোট সাব সেক্টরের সংখ্যা ছিল ৬৪ টি। এছাড়া ৩ টি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
উৎসঃবাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতাঃনবম-দশম শ্রেণী
১,১১৪.
মুঘল শাসনামলে সুবা শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. হুমায়ূন 
  2. ইসলাম খান
  3. আকবর
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- যুদ্ধক্ষেত্র, সমরনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসন সকল ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মুঘলদের মধ্যে সর্বশেষ্ঠ শাসক। ইতিহাসে তাই তিনি 'Akbar the Great' নামে পরিচিত।

⇒ ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- উত্তরে কাশ্মীর হতে দক্ষিণে আহমেদনগর ও মধ্য এশিয়ার কাবুল কান্দাহার হতে পূর্ব বাংলা পর্যন্ত একচ্ছত্র মুঘল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

⇒ সুবিশাল ভারতকে শাসন করার জন্য আকবর তার সাম্রাজ্যকে ১৫৮২ খ্রি. ১৫টি সুবা বা প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং সুবার শাসক হিসেবে ১ (এক) জন সুবাদার নিয়োগ করেন। 
- সুবাহ্ মুঘল সাম্রাজ্যের প্রদেশ।
- সুবাদার ছাড়াও প্রদেশের এ শাসনকার্যে একজন দিওয়ান, আমিল, ফৌজদার, কাজি ইত্যাদি পদের রাজকর্মচারি ছিলেন।
- শাসনকার্যের সুবিধার জন্য প্রত্যেক সুবাকে কতগুলো সরকার ও প্রত্যেক সরকারকে কতগুলো পরগনায় বিভক্ত করেছিলেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,১১৫.
'The Prince of Builder' বলা হয় কাকে?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট হুমায়ূন
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে শাহজাহান আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। 
- মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।
- তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা।
- তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত।
- সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল।
- সম্রাট শাহজাহানের সময়ে ইংরেজরা বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন ওড়িষার পিপলিতে।
- পুত্র আওরঙ্গজেব কর্তৃক দীর্ঘ আট বছর আগ্রা দুর্গে অন্তরীণ থেকে ১৬৬৬ খ্রি. ২২ জানুয়ারি ৭৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর নির্মাণাধীন বিখ্যাত স্থাপত্য-
• তাজমহল,
• ময়ূর সিংহাসন,
• দিল্লি জামে মসজিদ,
• লাল কেল্লা,
• খাশমহল,
• শীষমহল,
• সালিমার উদ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১১৬.
বাংলার কোন সুবেদার চট্টগ্রাম থেকে মগদের বিতাড়ন ও চট্টগ্রাম জয়ের কৃতিত্ব লাভ করেন?
  1. ইসলাম খান
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. মুর্শীদকুলী খান
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
সুবেদার শায়েস্তা খান: 
- শায়েস্তা খান ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- তার সময়ে আরাকানের মগ ও পর্তুগীজ (ফিরিঙ্গি) জলদস্যুরা মিলিত হয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এলাকায় লুটতরাজ করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।
- তারা মানুষকে ধরে নিয়ে ইউরোপীয় বণিকদের নিকট বিক্রি করত।
- মগরা আবার অনেককে আরাকানে নিয়ে যেত এবং পুরুষদেরকে মজুরের কাজে লাগাত ও মেয়েদেরকে দাসী করে রাখত।
- তিনি মগ জলদস্যুদের বিতাড়িত করার জন্য বহু রণতরী নির্মাণ করেন এবং বিভিন্ন স্থান থেকে রণতরী সংগ্রহ করেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগদের বিতাড়ন ও চট্টগ্রাম জয় শায়েস্তা খানের সুবাদারির কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৭.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. ক) হামিদুর রহমান
  2. খ) শামীম শিকদার
  3. গ) আমিনুল ইসলাম
  4. ঘ) নিতুন কুণ্ডু
সঠিক উত্তর:
ক) হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ। 
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
-  ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। 
- তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। 
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, dhaka.gov.bd.
১,১১৮.
শেখ মুজিবুর রহমানকে কবে জেল হতে মুক্তি দেয়া হয়?
  1. ক) ১০ই জানুয়ারী ১৯৭২
  2. খ) ৮ই জানুয়ারী ১৯৭২
  3. গ) ১১ই জানুয়ারী ১৯৭২
  4. ঘ) ৯ই জানুয়ারী ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ই জানুয়ারী ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮ই জানুয়ারী ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। 

- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারিকে বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১,১১৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মায়ের নাম কী?
  1. ক) মালতী দেবী
  2. খ) ভাগ্যতী দেবী
  3. গ) আরতি দেবী
  4. ঘ) ভগবতী দেবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভগবতী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভগবতী দেবী
ব্যাখ্যা
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মায়ের নাম ভগবতী দেবী।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্ম হয়েছিল ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে মেদেনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে
- তিনি তাঁর তেজস্বিতা, সত্যনিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন তাঁর দরিদ্র ব্রাহ্মণ পিতা ঠাকুরদাস বন্দোপাধ্যায়ের কাছ থেকে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যসাহিত্যের জনক বলা হয়।
- অসাধারণ মেধা আর অধ্যাবসায়ের গুণে তিনি মাত্র একুশ বছর বয়েসে সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, বেদান্ত, স্মৃতি, অলঙ্কার শাস্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন', এখন এটি বিদ্যাসাগর কলেজ নামে খ্যাত।
- তিনি একজন সফল সমাজ সংস্কারকও ছিলেন।
-  তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য ‘সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট' প্রণয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
- মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর কাছে যাওয়ার জন্য তিনি একবার ভরা বর্ষায় গভীর রাতে ‘দামোদর নদ' সাঁতরিয়ে পার হয়ে বাড়ি যান।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে ৭১ বছর বয়েসে মৃত্যু বরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২০.
কোন প্রতিষ্ঠান ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দান করে?
  1. ক) UN
  2. খ) UNDP
  3. গ) UNICEF
  4. ঘ) UNESCO
সঠিক উত্তর:
ঘ) UNESCO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) UNESCO
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,১২১.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম শাসক ছিলেন-
  1. সমুদ্রগুপ্ত
  2. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
সঠিক উত্তর:
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

 • গুপ্ত সম্রাজ্য:
- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে। 
- এই সাম্রাজ্যের প্রথম শাসক ছিলেন প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ।
- তার পুত্র, বিখ্যাত সমুদ্র গুপ্ত , বিজয়ের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের প্রসার ঘটান।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
-  সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি 'প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো। 
- মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুঞ্জনগর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,১২২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন-
  1. ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
  2. ২২ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে
  3. ৯ জানুয়ারি, ১৯৭১ সালে
  4. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা

• ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেয়।
• সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠানো হয়।
• লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন।
• বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।
• পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
• সেই দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১২৩.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোন সালে গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৯৯ সালে
  2. খ) ২০০০ সালে
  3. গ) ২০০১ সালে
  4. ঘ) ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
 • মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:
- ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
- এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন রেদোয়ান আহমেদ।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।

- ২০০২ সালে বিআরটিবি ভবন, এলেনবাড়ী, তেজগাঁও-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হয়।
- পরবর্তীতে কাজের কলেবর ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান ঠিকানা সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকার সরকারি পরিবহন পুলভবনের ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায়  ১০-১০- ২০০৬ তারিখ হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এই মন্ত্রণালয়ের অধীন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,১২৪.
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য কোনটি?
  1. ক) সংশপ্তক
  2. খ) অপরাজেয় বাংলা
  3. গ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
  4. ঘ) সাবাস বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
গ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাগ্রত চৌরঙ্গী
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় নির্মিত প্রথম ভাস্কর্য 'জাগ্রত চৌরঙ্গী'।
- এই ভাস্কর্যের স্থপতি আব্দুর রাজ্জাক।
- এটি গাজীপুরের জয়দেবপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত।

উৎস: গাজীপুর জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
১,১২৫.
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে প্রথম শহীদ কে ছিলেন?
  1. রফিক
  2. সালাম
  3. বরকত
  4. জব্বার
সঠিক উত্তর:
রফিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর।
- ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে প্রথম শহীদ ছিলেন রফিক।

⇒ রফিকউদ্দিন আহমদ:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর সোয়া তিনটা। বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ। ঐদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের মিছিলে পুলিশের গুলিতে রফিক ঘটনাস্থলে শহিদ হন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
১,১২৬.
কোন চুক্তি বলে ইংরেজরা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল?
  1. নদীয়া চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. দিল্লি চুক্তি
  4. বর্ধমান চুক্তি
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাহাবাদ চুক্তি
ব্যাখ্যা
এলাহাবাদ চুক্তি ও বাংলার ক্ষমতা দখল:
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানির বাংলার দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল তাকে ঐতিহাসিকেরা দ্বৈত শাসনব্যবস্থা (Dual system of administration) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ১৭৬৫ সালে এলাহাবাদ চুক্তি বলে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল ইংরেজরা
- দিউয়ানি এবং নিয়ামত-এই দুটি শাসন কাজের ভাগাভাগিকে এক অর্থে দ্বৈত শাসন বলা যায়।
- রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর।
- অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
⇒ বক্সার যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা চরমে উঠলে এবং বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ খারাপ হলে, ইংরেজ সরকার ভীত হয়ে পড়লেন।
- ফলে ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দুর্নীতি দমন ও স্বার্থ বৃদ্ধির জন্য পুনরায় ক্লাইভকে লর্ড উপাধি দান করে বাংলায় দ্বিতীয়বার প্রেরণ করেন (১৭৬৫-১৭৬৭ খ্রি.)।
- এদেশে এসেই তিনি মীর কাশিমের মিত্রশক্তি অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের প্রতি নজর দেন।
- বক্সার যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি পেয়ে অযোধ্যার নবাবের সাথে মিত্রতা স্থাপন করেন।
- তারপর তিনি দিল্লির দুর্বল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ক্লাইভ কারা ও এলাহাবাদ জেলা দু'টি ও বাৎসরিক ২৬ লক্ষ টাকা কর প্রদানের বিনিময়ে সম্রাটের নিকট হতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করলেন (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ১২ আগস্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দিউয়ানি সনদ লাভ করে)।
- এর ফলে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইংরেজ উপনিবেশের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৭.
প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রার প্রচলন হয় কবে?
  1. ১ মার্চ, ১৯৭২
  2. ৪ মার্চ, ১৯৭২
  3. ৭ মার্চ, ১৯৭২
  4. ২৬ মার্চ, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
৪ মার্চ, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ মার্চ, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা:
- ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব ১ ও ১০০ টাকার ব্যাংক নোটের প্রচলন হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশের মুদ্রার নাম রাখা হয় টাকা।
- বাংলাদেশের মুদ্রা হিসেবে টাকা নামটি স্বতন্ত্র।
- ৪ মার্চ ১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত দুটি ব্যাংক নোট ভারতের সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো হয়।
- ১ টাকার নকশায় বাংলাদেশের মানচিত্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কথাটি স্থান পায়।
- ১ টাকার নোটে স্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন অর্থসচিব কে এ জামান।
- ১০০ টাকার নকশায় দেখা যায় বাংলাদেশের মানচিত্র।
- ১০০ টাকার ব্যাংক নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্ল্যাহ্ স্বাক্ষরিত।
- ৪ মার্চ ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে 'টাকা দিবস'।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৪ মার্চ, ২০২১।
১,১২৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রথম শক্রমুক্ত জেলার নাম কি?
  1. রাজশাহী
  2. জয়পুরহাট
  3. যশোর
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর যশোর জেলা পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়েছিল।
- এদিন দুপুরের পরপরই যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী।
- প্রথম শত্রুমুক্ত হয় যশোর জেলা।
- যশোর মুক্তিযুদ্ধের ৮নং সেক্টরে ছিলো।
- কমান্ডার ছিলেন মেজর মঞ্জুর।
- অন্যদিকে, পাকবাহিনীর মোতায়েন ছিল ১০৭নং ব্রিগেড। এর কমান্ডার ছিলেন বিগ্রেডিয়ার হায়াত খান।
- যশোর সেনানিবাস থেকে শত্রু বাহিনী ৬টি জেলা নিয়ন্ত্রণ করত।
- ২০ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলে অভিযান শুরু করে।
-  একপর্যায়ে পাকবাহিনী ৫ ডিসেম্বর থেকে পলায়ন শুরু করে।
- যশোর সেনানিবাস ছেড়ে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে খুলনার গিলাতলা সেনানিবাসের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে।
- পলায়নকালে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর শহরতলীর রাজারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রচণ্ড লড়াই হয়।
- ৬ ডিসেম্বর বিকালের আগে যশোর সেনানিবাস খালি করে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা।
- বিকালে মিত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে মিত্র ও মুক্তিবাহিনী সেনানিবাসে প্রবেশ করে দখল নেয়।

উৎস: দৈনিক যুগান্তর। [লিঙ্ক]
১,১২৯.
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের অপারেশনটির নাম ছিল -
  1. অপারেশন ব্লুবার্ড
  2. অপারেশন ব্ল্যাকবার্ড
  3. অপারেশন বিগবার্ড
  4. অপারেশন ক্যাচবার্ড
সঠিক উত্তর:
অপারেশন বিগবার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন বিগবার্ড
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় (বাইগার নদীর তীরে)।
- বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।
- ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে ১৩ দিন অনশন করেছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ ছয়দফা ঘোষণা করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।
- 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয় রেসকোর্স ময়দানে ।
- বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে 'বাংলাদেশ' নামকরণ করেন ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেওয়া হয় ৩ মার্চ ১৯৭১ (উপাধি দেন আ স ম আবদুর রব)।
- ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দেন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত।
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ব্যাপ্তি ছিল ১৮ মিনিট ।
- বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে প্রথম ২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

অপারেশন বিগবার্ড:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।
- বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় অপারেশন বিগবার্ড এর মাধ্যমে।
- পাক-ব্রিগ্রেডিয়ার জহির আলম খান ও মেজর বেলাল বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেয়।
- বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের রেডিও বার্তা ছিল: The Big Bird in Cage।

উৎস: শতবর্ষে শত তথ্যে 'বঙ্গবন্ধু'।
১,১৩০.
পুণ্ড্রনগরের পত্তন ঘটেছিলো কত খ্রিস্টপূর্বাব্দে?
  1. দ্বাদশ খিস্টপূর্বাব্দে
  2. নবম খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  3. সপ্তম খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  4. চতুর্থ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
ব্যাখ্যা
- পুণ্ড্রনগর প্রাচীন বাংলার প্রাচীনতম ও সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ অব্দে বর্তমান বগুড়া জেলার মহাস্থানগড় নামক স্থানে পুণ্ড্রনগরের পত্তন ঘটে।
- গুপ্ত, মৌর্য ও পাল আমলে নগরটি পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তির (বিভাগ/প্রদেশ) রাজধানী ছিলো।
- পুণ্ড্র্নগর করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
- এখানে প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে পুরনো শিলালিপি পাওয়া গেছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,১৩১.
বাংলাদেশ কোন সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে?
  1. ২০২৪
  2. ২০২৮
  3. ২০২৬
  4. ২০৩০
সঠিক উত্তর:
২০২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০২৬
ব্যাখ্যা
- স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শুক্রবার রাতে পাঁচ দিনের বৈঠক শেষে এ সুপারিশ করেছে।
- সিডিপির এলডিসি সংক্রান্ত উপ-গ্রুপের প্রধান টেফেরি টেসফাসো এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
- তবে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে বের হতে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
- সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশ তুলনামূলক দুর্বল, সেসব দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৯৭১ সালে প্রথম স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা করা হয়।
- বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
- সবকিছু ঠিক থাকলে পাঁচ বছর পর এলডিসি থেকে বের হয়ে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে যাবে বাংলাদেশ।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো। [লিঙ্ক]
১,১৩২.
কত খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম বাংলার সিংহাসনে বসেন?
  1. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
মীর কাশিম:
- পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের সাহায্য করার পুরস্কার স্বরূপ বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর বাংলার মসনদ লাভ করেন।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা মীর জাফরের জামাতা মীর কাশিমকে বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত করেন।
- অবশ্য তিনিও কোম্পানিকে অনেক সুবিধাদানের শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমতা লাভ করেন। 
- স্বাধীনচেতা মীর কাশিম ইংরেজদের বাংলার স্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ইংরেজরা তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে এবং ভেতরে ভেতরে নিজেরাও প্রস্তুত হতে থাকে।
- এ সময় গভর্নর এলিস হঠাৎ করে পাটনা দখল করলে মীর কাশিম তা পুনরুদ্ধার করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৩.
ছয় দফা দাবি প্রথম উত্থাপন করা হয় কোন সম্মেলনে?
  1. ঢাকা
  2. লাহোর
  3. আগরতলা
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
লাহোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাহোর
ব্যাখ্যা
পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তির সনদ ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহ্বান করেন।
- আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোরে পৌঁছান।
- লাহোরে বিরোধী দলের সম্মেলন চলাকালে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখান করেন।
- বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ছয়দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকায় চলে আসেন।
- ২১ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে 'আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা-কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।
- ছয় দফাতে ছিল পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবী। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।
১,১৩৪.
'বুলন্দ দরওয়াজা' কোন মুঘল সম্রাটের সময়ের স্থাপনা?
  1. হুমায়ুন
  2. শাহজাহান
  3. আকবর
  4. বাবর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৫.
‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. মান্নান হীরা
  3. ফজলুর রহমান বাবু
  4. ড. ইনামুল হক
  5. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
মান্নান হীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মান্নান হীরা
ব্যাখ্যা

একাত্তরের ক্ষুদিরাম:
- ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মান্নান হীরা। 

⇒ মান্নান হীরা রচিত ও পরিচালিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’। 
- মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত এই পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র।
- এতে অভিনয় করবেন মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, ড. ইনামুল হক, মোমেনা চৌধুরী, ছবি, ফিরোজ আল মামুন, সাজু প্রমুখ। শিশু শিল্পী চরিত্রে অভিনয় করবেন স্বচ্ছ, রুদ্র, শাকিল, অন্তরা, মধুমনি প্রমুখ।
- ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হয়। 

উৎস: প্রথম আলো।

১,১৩৬.
বাংলাদেশের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি কে ছিলেন?
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. শাহ আব্দুল হামিদ
  3. মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
  4. মোহাম্মদউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ:
- সংবিধান রচনার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ 'বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন।
- এ আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ধরে নেয়া হয়।
- এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়।
- আইনের দৃষ্টিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত এমন ব্যক্তিকে গণপরিষদের সদস্য হতে পারতেন না। 
- গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৪০৩ জন।
- বহিস্কৃত ও পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য পোষণকারী সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য পদ লাভে অযোগ্য ছিলেন।
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়।
- আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টি বঙ্গবন্ধুকে গণপরিষদের দলীয় নেতা নির্বাচন করে।

⇒ ৪০৩ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- গণপরিষদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাব অনুযায়ী গণপরিষদের প্রবীনতম সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর সভাপতিত্বে গণপরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়। 

⇒ ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ গণপরিষদের অধিবেশনে মনসুর আলী বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে একটি প্রস্তাব করেন।
- সেই প্রস্তাবে ছিল, 'গণপরিষদের ৩৪ জন সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত খসড়া প্রণয়ন কমিটি- যার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. কামাল হোসেন'।
- ১৯৭২ সালের ১০ জুনের মধ্যে কমিটি বিল আকারে একটি খসড়া শাসনতন্ত্রসহ রিপোর্ট পেশ করার কথা থাকলেও কমিটির পক্ষে সভাপতি কামাল হোসেন ১২ অক্টোবর ১৯৭২ 'সংবিধান বিল' গণপরিষদে উত্থাপন করেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩৭.
ইউনেস্কোর কততম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়?
  1. ৩০ তম
  2. ৩১ তম
  3. ৩২ তম
  4. ৩৩ তম
সঠিক উত্তর:
৩০ তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ তম
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০ তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,১৩৮.
কাগমারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল কোন জেলায়?
  1. সিরাজগঞ্জ
  2. টাঙ্গাইল
  3. সুনামগঞ্জ
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা

কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি কাগমারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনের সভাপতি: মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- মাওলানা ভাসানী পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের প্রতি 'আসসালামুআলাইকুম' বলে সর্বপ্রথম পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘন্টা বাজিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,১৩৯.
কণিষ্কের রাজধানী ছিল কোনটি?
  1. সারনাথ
  2. তক্ষশীলা
  3. পেশোয়ার
  4. কণিষ্কপুর
সঠিক উত্তর:
পেশোয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশোয়ার
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার কণিষ্কের রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪০.
১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর গণহত্যা শুরু করে -
  1. ক) ২ মার্চ
  2. খ) ২৫ মার্চ
  3. গ) ২৭ মার্চ
  4. ঘ) ২৬ মার্চ
সঠিক উত্তর:
খ) ২৫ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৫ মার্চ
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- এ শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)।

- পরবর্তীকালে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রধানত নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের সুবিধার্থে এ সরকারের প্রধান কার্যালয় কলকাতায় স্থানান্তর হয়।
- এ সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাই তাঁরই নামানুসারে বৈদ্যনাথতলার নতুন নামকরণ হয় মুজিবনগর এবং অস্থায়ী সরকারও পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর গণহত্যা শুরু করে - ২৫ মার্চ।

তথ্যসূত্র: - ইতিহাস তৃতীয় পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪১.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আলী
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. নুরুল আমিন
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
নুরুল আমিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল আমিন
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়:
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী: নূরুল আমিনকে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। 
- তিনি ১৯৫৪ সালের ২ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তাঁর শাসনামলে পূর্ববাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়। 

উল্লেখ্য,
- ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দিন।
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল: গোলাম মুহাম্মদ।
- পূর্ব বাংলার গভর্নর: ফিরোজ খান নুন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,১৪২.
টঙ্ক আন্দোলন প্রধানত কোন গোষ্ঠীর কৃষকরা পরিচালনা করেছিল?
  1. ত্রিপুরা ও মারমা
  2. চাকমা ও মারমা
  3. গারো ও হাজং
  4. মণিপুরী ও সাঁওতাল
সঠিক উত্তর:
গারো ও হাজং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো ও হাজং
ব্যাখ্যা
টঙ্ক (Tonk) আন্দোলন:
- ১৯৪৬-৫০ সালে উত্তর ময়মনসিংহে কৃষকদের দ্বারা পরিচালিত আন্দোলন টঙ্ক আন্দোলন নামে পরিচিত।
- টঙ্ক মানে ধান ফলনের প্রতিশ্রুত খাজনা। স্থানীয় ভাষায় টংক শব্দটি 'জমিতে উৎপাদিত ফলনের প্রদেয় খাজনাকে' বুঝায়।
- টঙ্ক মূলত মুদ্রা-পূর্বকালের প্রথা। কৃষকরা ধানে তাদের খাজনা পরিশোধ করত। জমিতে ফসল হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান খাজনা দিতেই হবে।
- প্রথাগতভাবে টংক প্রজারা প্রতি ১.২৫ একর জমির জন্য ১০ থেকে ১৫ মণ ধান খাজনা দিত। ধানের দর ছিল প্রতি মণ সোয়া দুই টাকা। ফলে প্রতি সোয়া একরে খাজনা পড়ত ১৭ টাকা। অথচ একই সময় জোতজমির খাজনা ছিল প্রতি সোয়া একরে ৫ থেকে ৭ টাকা। সুতরাং ধানে খাজনা দিলে টাকার হিসাবে এটি দ্বিগুণেরও বেশি ছিল।
- ময়মনসিংহের কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, হালুয়াঘাট, শ্রীবর্দি ইত্যাদি থানায় বিশেষ করে সুসং এলাকায় ভয়ংকর টংক ব্যবস্থা ছিল। এসব স্থানে প্রধানত গারো ও হাজং গোষ্ঠীর লোকেরা চাষাবাদ করত।
- এই প্রথা কৃষকদের উপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করত এবং তাদের শোষণ করত।

⇒ তৎকালীন উত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং ১৯৫০ সালে টঙ্ক প্রথা ও জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সমাপ্তি হয়। তেভাগা, নানকার, নাচোল আন্দোলনের মতো এটিও ছিলো কৃষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

উল্লেখ্য,
- টঙ্ক আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন সুসং-দুর্গাপুরের জমিদার সন্তান কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মণি সিংহ। টঙ্ক আন্দোলনে যে সকল লড়াকু বীর শহীদ হন, তাদের মধ্যে রাসমণি অন্যতম। তিনিই টঙ্ক আন্দোলনের প্রথম শহিদ। তিনি টঙ্ক ও কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রীও ছিলেন।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,১৪৩.
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেন কে?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট বাবর
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

•বাংলা নববর্ষ
- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। 
- এ দিনটি বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।
- এটি বাঙালি জাতির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব।
- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে।
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতু নির্ভর। 
- এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সন প্রবর্তন করেন। 
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। 
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল যা পরে 'বঙ্গাব্দ' নামে পরিচিত হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,১৪৪.
বাংলায় বারো ভূঁইয়ার অভ্যুত্থান ঘটেছিল কার শাসনামলে?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট আরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৫.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. ক) ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ
  2. খ) ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ
  3. গ) মির্জাপুর গার্লস ক্যাডেট কলেজ
  4. ঘ) জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ
সঠিক উত্তর:
গ) মির্জাপুর গার্লস ক্যাডেট কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মির্জাপুর গার্লস ক্যাডেট কলেজ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১২টি ক্যাডেট কলেজ রয়েছে।
এগুলো হলোঃ
- ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ,
- ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ,
- মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ,
- রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ,
- বরিশাল ক্যাডেট কলেজ,
- পাবনা ক্যাডেট কলেজ,
- সিলেট ক্যাডেট কলেজ,
- রংপুর ক্যাডেট কলেজ,
- কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ,
- ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ,
- ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ,
- জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
এগুলোর মধ্যে প্রথম নয়টি ছেলেদের, পরের তিনটি মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো

১,১৪৬.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথমবারের মতো উত্তোলন করেন কে? 
  1. কামরুল হাসান
  2. সিরাজ চৌধুরী
  3. আ স ম আব্দুর রব
  4. মাওলানা ভাসানী 
সঠিক উত্তর:
আ স ম আব্দুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ স ম আব্দুর রব
ব্যাখ্যা

জাতীয় পতাকা: 
- জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন হয় ২রা মার্চ, ১৯৭১ সালে।
- স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের পশ্চিম দিকের গেটে।
- উত্তোলন করেন: ছাত্রনেতা আ. স. ম. আবদুর রব।
- বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পূর্বেই পাকিস্তান রাষ্ট্রকে প্রত্যাখ্যানের শামিল।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে পটুয়া কামরুল হাসানকে দায়িত্ব দেন জাতীয় পতাকার নকশা চূড়ান্ত করার।
- পটুয়া কামরুল হাসানের হাতেই আমাদের জাতীয় পতাকা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

​উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

১,১৪৭.
নিচের কোন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতা অস্কার পুরস্কার লাভ করেছেন?
  1. ক) তারেক মাসুদ
  2. খ) মোস্তফা সালােয়ার ফারুকী
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) মাের্শেদুল ইসলাম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সত্যজিৎ রায় অস্কার লাভ করেছেন তবে উনার জাতীয়তা বাংলাদেশী না হওয়ায় প্রশ্নের উত্তর হবে কেউই না।
১,১৪৮.
মেজর আবু ওসমান চৌধুরী কত নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন-
  1. ক) ৪ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ৮ নং
  4. ঘ) ৯ নং
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ৮ নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন।
সমগ্র কুষ্টিয়া জেলা, ফরিদপুরের অংশবিশেষ এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলার এলাকা ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।
সম্প্রতি এই সেক্টর কমান্ডার মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
১,১৪৯.
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থাপিত প্রথম ইউনিটের ক্ষমতা কত মেগা ওয়াট?
  1. ১০০০
  2. ১২০০
  3. ১৩৫০
  4. ১৫০০
  5. ১৫৫০
সঠিক উত্তর:
১২০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০০
ব্যাখ্যা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

- পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।
- এটি নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করছে রাশিয়া।
- রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম এতে কারিগরি সহায়তা করছে। অপর রাশিয়ান কোম্পানি টিভিএল জয়েন্ট স্টক এতে জ্বালানি সরবরাহ করবে।
- তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পে অর্থ সহায়তা করছে ভারত সরকার।
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে স্থাপিত প্রথম ইউনিটের ক্ষমতা ১২০০ মেগা ওয়াট।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট।  
- মোট ব্যয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- রাশিয়া সরকার ঋণ দিচ্ছে ১১.৪ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২৩ সালে কেন্দ্রটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মূল জ্বালানি হলো ইউরেনিয়াম-২৩৫।

তথ্যসূত্র - রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
১,১৫০.
কোন পত্রিকাটি তমুদ্দিন মজলিশের ‍মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. ক) সংবাদ
  2. খ) মিল্লাত
  3. গ) সৈনিক
  4. ঘ) ইত্তেফাক
সঠিক উত্তর:
গ) সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সৈনিক
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর তমুদ্দিন মজলিসের মুখপাত্র হিসেবে সাপ্তাহিক ‘সৈনিক’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর। ঢাকার আজিমপুর রোডের ১৯ নং বাড়ি থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো।
- ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি চালু ছিল।
- তমুদ্দিন মজলিশ ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,১৫১.
গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ক) ৩২৭ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ৩২৬ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ৩১২ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে। তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
• গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই উত্তর বঙ্গের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে আসে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৫২.
২০১৩ সালে UNESCO'র ঐতিহ্যের তালিকায় বাংলাদেশের কোন শিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) মসলিন
  2. খ) জামদানি
  3. গ) নকশী কাঁথা
  4. ঘ) রিকশা নকশা
সঠিক উত্তর:
খ) জামদানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জামদানি
ব্যাখ্যা
বংলাদেশের সাংস্কৃতিতে জামদানির অপরিসীম ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কো ২০১৩ সালে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র অষ্টম অধিবেশনে ঐতিহ্যবাহী জামদানি বুনন্ শিল্পকে Intangible Cultural Heritage of Humanity হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
------
সর্বশেষ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি পায় -  শীতল পাটি তৈরি শিল্প।
===============
- বাংলাদেশে ইউনেস্কো ঘোষিত অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলো হলো:
- বাউল গান (২০০৮)
- জামদানি বুনন শিল্প (২০১৩)
- পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬)
- শীতল পাটি তৈরি শিল্প (২০১৭)।

(তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ওয়েবসাইট)
১,১৫৩.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কোন আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. তেভাগা আন্দোলনে
  2. ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে
  3. ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে
  4. সত্যাগ্রহ আন্দোলনে
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন:
- বাংলায় সশস্ত্র আন্দোলনের সময়কাল: ১৯১১-১৯৩০ সাল।
- এই আন্দোলনের চট্রগ্রামের নেতা ছিলেন- মাস্টারদা সুর্য সেন।
- মাস্টারদা সুর্য সেন ১৯৩০ সালে চট্রগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন ।
- ইংরেজ মেজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যা করে ক্ষুদিরাম।
- কিংসফোর্ডকে বোমা মেরে হত্যার অভিযোগে ফাঁসি দেয়া হয় ক্ষুদিরামকে।
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেন শিষ্য এবং নারী বিপ্লবী।
- বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে সাথে জড়িত ছিলেন।
- তিনি পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্লাব আক্রমণ করেন- ১৯৩২সালে।
- প্রীতিলতা আত্মহত্যা করেন - পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে।
- অস্ত্র লুণ্ঠন অভিযোগে মাস্টারদা সূর্যসেনকে  ফাঁসি দেওয়া হয় - জানুয়ারি, ১৯৩৪ সালে।

⇒ এছাড়াও,
- সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল - ঢাকার অনুশীলন সমিতির।
- সশস্ত্র বিপ্লবী সংগঠক সাধনা প্রতিষ্ঠিত হয় - ময়মনসিংহে।
- ঢাকার অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক - পুলিন বিহারী দাস।
- কয়েকজন বিপ্লবী নেতা ছিলেন- বিনয়বসু, দীনেশগুপ্ত ও সূর্যসেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৪.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কত খ্রিষ্টাব্দে উঠিয়ে দেয়া হয়?
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৫০ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার মুসলমানগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।
- উইলিয়াম হান্টারের মতে, “গত পঁচাত্তর বছরের মধ্যে বাংলার মুসলমান পরিবারগুলোর অস্তিত্ব হয় পৃথিবীর বুক থেকে মুছে গেছে, না হয় ইংরেজদের সৃষ্ট নতুন ধনী সমাজের নীচে এ সময় ঢাকা পড়েছে।”
- এ সময় নায়েব গোমস্তাদের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যায়।
- ফলে লর্ড ক্যানিং ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে রাজস্ব আইন দ্বারা খাজনা বৃদ্ধি বন্ধ করেন এবং ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রজাস্বত্ব আইন দ্বারা জমি থেকে উচ্ছেদ নিষিদ্ধ করে দেন।
- পাকিস্তান অর্জনের পর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত উঠিয়ে দিয়ে প্রজাদের সঙ্গে সরাসরি জমির বন্দোবস্ত দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়
- জমিদার পুত্র লর্ড কর্ণওয়ালিস যে আশায় এ প্রথা চালু করেছিলেন তাঁর সে আশা সম্পূর্ণ বিফল হয়েছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৫.
কোন সময় কালকে মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়?
  1. ক) ১৭০৭ থেকে ১৭৫৫ সময় কালকে
  2. খ) ১৭০৭ থেকে ১৭৫৭ সময় কালকে
  3. গ) ১৭০৭ থেকে ১৮৫৪ সময় কালকে
  4. ঘ) ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে
ব্যাখ্যা
• মোগল শাসন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যকে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চ‚ড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মোগল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৬.
গুপ্ত সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিল?
  1. শ্রী গুপ্ত
  2. সমুদ্রগুপ্ত
  3. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  4. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
গুপ্তযুগ:
- বাংলায় গুপ্তরা শাসন করে ৩২০ থেকে ৪১৫ সাল পর্যন্ত।
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গুপ্ত।
- গুপ্ত যুগ প্রাচীন ভারতের স্বর্ণ যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
- এর শ্রেষ্ঠ রাজা ছিল সমুদ্রগুপ্ত।
- তাকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ন বলা হয়।
- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের উপাধি ছিল বিক্রমাদিত্য।
- চীনা পরিব্রাজক ফাহিয়েন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় ভারতবর্ষে আসেন।
- গুপ্ত বংশ ধ্বংস হয় হুন শক্তির হাতে।
- এই সময় পণ্ডিত ছিলেন আর্যভট্ট, কালিদাস, বিষ্ণুশর্মা, বরাহমিহির।

উল্লেখ্য,
- পাল আমল ছিল বংশানুক্রমিক রাজবংশ।
- এই বংশ সবচেয়ে বেশি শাসন করেছিল।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৭.
বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ডা. সেতারা বেগম কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন?
  1. ৪ নম্বর
  2. ২ নম্বর
  3. ১১ নম্বর
  4. ৫ নম্বর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ নম্বর
ব্যাখ্যা
• বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ডা. সেতারা বেগম ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন।
------------------------------------ 
নারী মুক্তিযোদ্ধা সেতারা বেগম: 

সেতারা বেগম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক বিশিষ্ট নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে হাসপাতাল বা চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা:
• ২ নম্বর সেক্টরে 'বাংলাদেশ হাসপাতাল' নামক একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছিল, যা প্রথমে ভারতের সোনামুড়ায় স্থাপিত হয়।
• নিরাপত্তার কারণে এটি পরবর্তীতে আগরতলার কাছে বিশ্রামগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসক হিসেবে কার্যক্রম:
• ডা. সিতারা বেগম জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশ হাসপাতালে যোগ দেন এবং হাসপাতালের সিও (কমান্ডিং অফিসার) হিসেবে কাজ করেন।
• তিনি হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় অসাধ্য সাধন করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সহানুভূতি:
• পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিদিনই এ হাসপাতালে পাঠানো হতো।
• আহত মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙা রাখতে ডা. সিতারা বেগম ও তাঁর সহযোগীদের অবদান সত্যিই স্মরণীয়।

সেতারা বেগমের এই অসাধারণ অবদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা এবং ত্যাগের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

উৎস: ১৬ জুন ২০২১, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১,১৫৮.
কততম জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না?
  1. দ্বিতীয় সংসদ
  2. চতুর্থ সংসদ
  3. পঞ্চম সংসদ
  4. ষষ্ঠ সংসদ
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ সংসদ
ব্যাখ্যা
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- জাতীয় সংসদের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান (দ্বিতীয় সংসদ)।
- সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ ষষ্ঠ সংসদ (১২ দিন)।
- প্রথম পূর্ণমেয়াদকালীন সংসদ সপ্তম সংসদ।
(সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয়)
১,১৫৯.
ঢাকার লালবাগের দুর্গ নির্মাণ করেন-
  1. শাহ সুজা
  2. শায়েস্তা খান
  3. মীর জুমলা
  4. ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা

• ঢাকার লালবাগের দুর্গ নির্মাণ করেন: 'শায়েস্তা খান'। 

• লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
- এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম।
- মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।
- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।
- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে।
- এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়।
-  এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন। 

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৬০.
বাংলাদেশে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে-
  1. রানীগঞ্জে
  2. বিজয়পুরে
  3. টেকের হাটে
  4. বিয়ানী বাজারে
সঠিক উত্তর:
বিজয়পুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়পুরে
ব্যাখ্যা
চীনামাটি(White Clay or China Clay): 

- কেওলিন কর্দম মণিক দ্বারা গঠিত উন্নতমানের কর্দম প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে গৃহস্থালি সামগ্রী হিসেবে চীনামাটির তৈরী তৈজসপত্রের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভূ-পৃষ্ঠে অথবা অন্তর্ভূ-পৃষ্ঠে (subsurface) চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রাম জেলার হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুত রয়েছে।
- এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলাতে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
- ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগে প্রাপ্ত চীনামাটির গুণগত মান উন্নত নয়।
- এ চীনামাটির সঙ্গে আমদানিকৃত উচ্চ মানসম্পন্ন কর্দম মিশিয়ে তা দেশের  সিরামিক শিল্প কারখানাগুলিতে ব্যবহূত হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৬১.
১৯৪৭ সালের ৩ জুন পরিকল্পনা পেশ করেন কে?
  1. ক) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খ) এ কে ফজলুল হক
  3. গ) বলদেব সিং
  4. ঘ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩ জুন পরিকল্পনা বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা
• মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার পর ভারতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা নিয়ে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
• মুসলিম লীগ ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস এবং ২ সেপ্টেম্বর ‘কালাে দিবস' ঘােষণা করলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলি ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘােষণা প্রদান করেন।
• ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ঘােষণাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার জন্য লর্ড ওয়াভেলের স্থলে লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে ভারতের নতুন ভাইসরয় নিয়ােগ করেন।
• লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের ২২ মার্চ দিল্লিতে আগমন করেন এবং ২৪ মার্চ শপথ গ্রহণ করেন।
• কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতাদের সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৃষ্টির জন্য তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালান।
• ১৯৪৭ সালের ২ জুন নেহেরু, জিন্নাহ ও শিখ নেতা বলদেব সিং-এর সাথে ঘরােয়া বৈঠকে মিলিত হয়ে মাউন্টব্যাটেন যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তা তিনি ১৯৪৭ সালের ৩ জুন জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
• এটিই ৩ জুন পরিকল্পনা বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৬২.
ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ’ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ কবে দেখা দেয়?
  1. ১২৭৬ বঙ্গাব্দ
  2. ১১৭৬ বঙ্গাব্দ
  3. ১১৭০ বঙ্গাব্দ
  4. ১১৫০ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১৭৬ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
• ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- দিউয়ানী ও দ্বৈত শাসনের পরিণাম ছিল বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ধ্বংসলীলা।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দ (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় 'দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতিসত্য।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- ইংরেজ সরকার বাংলার জনগণকে এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
- বরং ১৭৬৫-৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল।
- ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- দুর্ভিক্ষের কারণে জনগণকে খাজনার দায় থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়নি।
- তদুপরি পরের বছর শতকরা ১০ টাকা খাজনা বৃদ্ধি করা হয়। ফলে

উৎস: - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৩.
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ০১ ডিসেম্বর
  2. খ) ১০ ডিসেম্বর
  3. গ) ১৪ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ১৫ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বাঙালি সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ডাক্তার, শিক্ষক প্রমুখ পেশার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা ও গুম করে।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা। তাই এ দিনটিকে স্বাধীন বাংলাদেশে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৬৪.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোন গভর্নর জেনারেল অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সর্বাধিক প্রয়োগ করেন?
  1. ক) লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলি
  3. গ) লর্ড ডালহৌসি
  4. ঘ) ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড ওয়েলেসলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড ওয়েলেসলি
ব্যাখ্যা
অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সর্বাধিক প্রয়োগ করেন। এই নীতির মাধ্যমে হায়দ্রাবাদ ও মারাঠারাজ্য কোম্পানির অধীনে আসে।
টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,১৬৫.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা কত সদস্য ছিল?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ১৪
  3. গ) ১৫
  4. ঘ) ১৬
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৪
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা: 
১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র---এ কে ফজলুল হক
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার--আবু হোসেন সরকার
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী---আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরি
৪. সৈয়দ আজিজুল হক--শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প
• পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে  ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। 

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন। ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
১,১৬৬.
তরাইনের প্রথম যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. ক) পৃথ্বীরাজ চৌহান
  2. খ) মুহম্মদ ঘোরি
  3. গ) মুহাম্মদ বিন কাসিম
  4. ঘ) বখতিয়ার খলজী
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ ঘোরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ ঘোরি
ব্যাখ্যা
তরাইনের প্রথম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.)
- মুহম্মদ ঘোরি ছিলেন ঘোরি রাজবংশের শাসক।
- তিনি ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে কৃতিত্ব লাভ করেছিলেন কারণ তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের বেশিরভাগ অংশ আক্রমণ করেছিলেন। 
- ১১৮৯ খ্রি. ভাতিন্দা দখল করে মুহম্মদ ঘোরি চৌহান রাজের বিরুদ্ধে অগ্রসর হলে দিল্লি ও আজমীরের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান একটি শক্তি সংঘ গঠন করেন।
- পৃথ্বীরাজের আহ্বানে অনেক রাজা সাড়া দেন।
- মুহম্মদ ঘোরী পৃথ্বীরাজের রাজ্য আক্রমণ করেন।
- ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইন প্রান্তরে মিলিত পৃথ্বীরাজের বাহিনীর সাথে মুহম্মদ ঘোরির প্রচন্ড যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধে মুহম্মদ ঘোরির বাহিনী পরাজিত হলে তিনি নিজে আহত হন ও পলায়ন করেন।
- এটি তরাইনের প্রথম যুদ্ধ নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৭.
অপারেশন সার্চলাইট এর বর্বরতা বিশ্ববাসীর নিকট তুলে ধরেন কে?
  1. সাইমন ড্রিং
  2. ডাব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. লিওন রাসেল
সঠিক উত্তর:
সাইমন ড্রিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইমন ড্রিং
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট ও সাইমন ড্রিং
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালায়।
- ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ গোপনে অবস্থান করে এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- পরে ৩০ মার্চ, ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'ট্যাংকস ক্রাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাকবাহিনীর এর বর্বরতা বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

অন্যদিকে,
অপারেশন জ্যাকপট
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট ১০ নং সেক্টরে নৌবাহিনী পরিচালিত প্রথম অভিযান 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- এই রাতে নৌ-কমান্ডোরা পাকবাহিনীর ২৬ টি জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র- দৈনিক প্রথম আলো। বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৮.
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয় কবে?
  1. ৩০শে ডিসেম্বর ১৯৫১
  2. ১৯শে জানুয়ারি ১৯৫২
  3. ৩০শে জানুয়ারি ১৯৫২
  4. ১১ই ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
৩০শে জানুয়ারি ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০শে জানুয়ারি ১৯৫২
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩০শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৬৯.
Where is the country's largest wind power plant located?
  1. Cox's Bazar
  2. Dinajpur
  3. Pabna
  4. Khulna
সঠিক উত্তর:
Cox's Bazar
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cox's Bazar
ব্যাখ্যা
কক্সবাজারের খুরুশকুল বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- দেশের সবচেয়ে বড় বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র কক্সবাজারের খুরুশকুল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- কক্সবাজারের ৬০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।
- ১২ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে  দেশের সবচেয়ে বড় এই বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
- ডিসেম্বর, ২০২৩-এ কেন্দ্রটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা হবে।
- দেশের সবচেয়ে বড় এই বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ৩১ মার্চ।
- বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত হওয়া এই প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে চীন।
- বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মুকিত আলম।
- বায়ুবিদ্যুতে দেশের প্রথম কোনো বড় প্রকল্প কক্সবাজারের খুরুশকুলে ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্র।
- চীনের অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০০ কোটি টাকা।

উৎস: ১৩ অক্টোবর,, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
১,১৭০.
একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে কবে? 
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. ২৩ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ 
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩
  4. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা
শহিদ মিনার:

• একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। 
• ড. সাঈদ হায়দার নকশার পরিকল্পনা করেন। 
• শহিদ শফিউরের পিতা ২৪ তারিখে শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন। 
• ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সেই মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে।
• ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ স্বরূপ ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হরতাল পালিত হয়। 
• একুশের ঘটনার প্রতিবাদে দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন।
• বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতি দেওয়ার পর, ১৯৫৭ সালে পুনরায় শহিদ মিনারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। 
• ১৯৬৩ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। 
• স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শহিদ মিনারটি ভেঙে ফেলে। 
• ১৯৭৩ সালে শহিদ মিনারটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। 
• কেন্দ্রীয়  শহিদ মিনারের স্থপতি হামিদুর রহমান।
• যুক্তরাজ্যে কেন্দ্রীয়  শহিদ মিনারের দুইটি প্রতিকৃতি স্থাপিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭১.
ডা. সেতারা বেগম কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ১১
  2. খ) ৮
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২
ব্যাখ্যা
▪ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলা, ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবিকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
▪ তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।  

তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১,১৭২.
পাকিস্তান সৃষ্টির কত বছর পরে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১১ বছর
সঠিক উত্তর:
৯ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ বছর
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- এ শাসনতন্ত্রের অধীনে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- কিন্তু এ শাসনতন্ত্র যথার্থভাবে কাজ করতে পারেনি।
- এ শাসনতন্ত্র দিনে দিনে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- শাসনতন্ত্রের এ ব্যর্থতার জন্যে (পশ্চিম পাকিস্তানের) শাসকবর্গই দায়ী ছিলেন।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে শাসনতন্ত্র রচনার আড়াই বছরের মধ্যেই এটি বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসন জারী করা হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৩.
প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অফিস কোথায় ছিল?
  1. শিমলাতে
  2. আগরতলায়
  3. কলকাতায়
  4. দিল্লিতে
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার:
- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ সরকার 'মুজিবনগর সরকার' নামেই বেশি পরিচিত। 
- অনেকে একে প্রবাসী সরকার বলেন। 
- তবে এ সরকারকে বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকার বলাই শ্রেয়। 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- ১৭ এপ্রিল (১৯৭১) নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করে কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায়। 
- নতুন সরকার বৈদ্যনাথতলার নাম পাল্টে রাখেন মুজিবনগর।
-  বাংলাদেশ সরকার কখনই মুজিবনগরে অবস্থান করেননি। 
- কিন্তু 'মুজিবনগর' নামটি প্রতিকী তাৎপর্য বহন করতে থাকে। 
- সরকারের প্রকৃত কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় কোলকাতায়।
মুজিবনগর সরকারের বড় কৃতিত্ব 'স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র' দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। বিশ্বে যে ক'টি
- এ সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং 
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'কে ফোর্স' নিম্নের কোন যুদ্ধটি পরিচালনা করেছে?
  1. বিলোনিয়ার যুদ্ধ
  2. চিলমারীর যুদ্ধ
  3. হরশপুর যু্দ্ধ
  4. কিশোরগঞ্জ যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিলোনিয়ার যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলোনিয়ার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড সংগঠন ও অপারেশন:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকটা ছিল গেরিলাভিত্তিক কিন্তু এভাবে গেরিলা যুদ্ধ পাকিস্তানি বাহিনীর সুশিক্ষিত সৈন্যদের পদানত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছিল না।
- ফলে যুদ্ধ ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনয়ন ও মুক্তাঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর গঠন বিন্যাসের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- এপ্রিল মাসে মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- সম্মুখ সমরের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংগে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য তিনটি নিয়মিত ব্রিগেড গঠন করা হয়।
- এরা হচ্ছে: জেড ফোর্স, কে ফোর্স, এস ফোর্স।

⇒ কে ফোর্স:
- লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফের নামানুসারে সেপ্টেম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় কে ফোর্স।
- এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১০ ইস্ট বেঙ্গলরেজিমেন্ট, ১ ফিল্ড ব্যাটারি (মুজিব ব্যাটারী) আর্টিলারি ও একটি সিগন্যাল কোম্পানী।
- কে ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল দেউশ মন্দভাগ অভিযান, শালদা নদী অভিযান, পরশুরাম, চিতলিয়া, ফুলগাজী, নিলক্ষ্মীর যুদ্ধ, বিলোনিয়ার যুদ্ধ, চাপিলতার যুদ্ধ, কুমিল্লা শহরের যুদ্ধ, নোয়াখালীর যুদ্ধ, কশবার যুদ্ধ, বারচরগ্রাম যুদ্ধ, মিয়াবাজার যুদ্ধ, গাজীপুর যুদ্ধ, সলিয়াদীঘি যুদ্ধ, ফেনী যুদ্ধ, চট্টগ্রাম বিজয় ও ময়নামতি বিজয়।

অন্যদিকে,
- চিলমারীর যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন জেড ফোর্স।
- কিশোরগঞ্জ যুদ্ধ, হরশপুর যু্দ্ধ পরিচালনা করেছেন এস ফোর্স।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৭৫.
মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য নিচের কোনটি অপরিহার্য?
  1. শিক্ষা
  2. প্রশিক্ষণ
  3. আধুনিক প্রযুক্তি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মানব সম্পদ উন্নয়ন:
- মানব সম্পদ উন্নয়ন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য উপাদান।
- মানব সম্পদ ছাড়া উন্নয়নের অন্যান্য উপাদান অর্থহীন হয়ে পড়ে।
- শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে মানব সম্পদকে অধিকতর দক্ষ ও উৎপাদনশীল করা যায়।
- কাজেই কর্মক্ষম জনশক্তিকে উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি জ্ঞানে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়াকে 'মানব সম্পদ উন্নয়ন' বলা যায়। 
- সুতরাং উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের কর্মদক্ষতা সুষ্ঠুভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মানুষের অন্তর্নিহিত কর্মগুণ, সুপ্ত প্রতিভা, উন্নত ও বিকশিত করে তোলাই হল 'মানব সম্পদ উন্নয়ন'।

উৎস: i) শিক্ষা এবং উন্নয়ন, স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭৬.
ইপিআর এর কতজন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পেয়েছেন?
  1. ৩ জন
  2. ১ জন
  3. ২ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
- ইপিআর এর ২ জন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি পেয়েছেন ।
- তারা হলেন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ এবং ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সবথেকে বেশি বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হয়েছে সেনাবাহিনীর ৩ জন সদস্য।
- তারা হলেন সিপাহী মোস্তফা কামাল, সিপাহী হামিদুর রহমান এবং ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বিমান বাহিনীর একমাত্র বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
- ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন নৌবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত বীরশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১,১৭৭.
ঢাকা গেইট এর নির্মাতা কে?
  1. ক) মীর জুমলা
  2. খ) শায়েস্তা খাঁ
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
ক) মীর জুমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মীর জুমলা
ব্যাখ্যা
• মীর জুমলা:
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে বাংলার সুবাদার ছিলেন মীর জুমলা
- এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত ঢাকা কোষ-এ বলা হয়েছে, মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকার সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ঢাকা গেইট-টি নির্মাণ করেছিলেন।
- ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে ৩৫০ বছরের প্রাচীন এই তোরণ ‘ঢাকা গেট’।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
১,১৭৮.
৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয় -
  1. জেড ফোর্স
  2. কে ফোর্স
  3. এস ফোর্স
  4. এল ফোর্স
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেড ফোর্স
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
• জেড ফোর্স,
• কে ফোর্স,
• এস ফোর্স।

⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৯.
রাজা বল্লাল সেন রচিত বিখ্যাত দুটি গ্রন্থের নাম কী? 
  1.  রামচরিত ও চর্যাপদ
  2. দানসাগর ও অদ্ভুত সাগর
  3. পবনদূত ও গীতগোবিন্দ
  4. রাজতরঙ্গিণী ও অর্থশাস্ত্র
সঠিক উত্তর:
দানসাগর ও অদ্ভুত সাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দানসাগর ও অদ্ভুত সাগর
ব্যাখ্যা

রাজা বল্লাল সেন: 
- রাজা বল্লাল সেন বিদ্বান ও পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন।
- তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুত সাগর' নামে দু'খানি পুস্তক রচনা করেছিলেন।
- তিনি এদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন।
- তিনি শৈবধর্ম প্রচারের বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
- তিনি 'অরিরাজ নিশঙ্ক শঙ্কর' উপাধিও গ্রহণ করেন।
- শৈবধর্ম প্রচারের জন্য তিনি আরাকান, কামরূপ, নেপাল, উড়িষ্যা ও মগধে দূত পাঠান।
- তাঁর রাজত্বকালে সূফী বাবা আদম শহীদ ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য এসেছিলেন।
- বল্লাল সেনের সাথে রাজধানী বিক্রমপুরে সূফীর যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধে সূফী শহীদ হয়েছিলেন। শেষ বয়সে তিনি পুত্র লক্ষ্মণ সেনের হাতে রাজত্বের ভার ছেড়ে দিয়ে ধর্ম সাধনায় দিন কাটান।
-  তিনি ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১৮ বছর কাল রাজত্ব করেছিলেন।

উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৮০.
কোন গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, বঙ্গের উত্তরকালীন নাম 'বঙ্গাল'?
  1. রাজতরঙ্গিণী
  2. ইন্ডিকা
  3. আইন-ই-আকবরী
  4. ঐতরেয় আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
আইন-ই-আকবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন-ই-আকবরী
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- মহাভারত, রামায়ণ ও হরিবংশেও রয়েছে বঙ্গ প্রসঙ্গ।
- অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল।
- কারণ এ দেশের প্রাচীন রাজাগণ সারাদেশে চওড়া 'আল' নির্মাণ করতেন।
- সেজন্যে 'বঙ্গ' ও 'আল' শব্দ দুটির যোগে 'বঙ্গাল' নামের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ থেকে ধারণা করা হয় যে পানি থেকে শস্যক্ষেত রক্ষার জন্য বড় বড় 'আল' বাঁধা হতো এবং তার ফলে এ অঞ্চলটি 'বঙ্গাল' নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৮১.
'সোমপুর বিহার' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নাটোর
  2. রাজশাহী
  3. নওগাঁ
  4. দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
ব্যাখ্যা

সোমপুর বৌদ্ধ বিহার:
- নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বিহার।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সোমপুর বিহার ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
- ইংরেজ প্রত্নতাত্ত্বিক বুকানন হামিলটন যখন পূর্ব ভারতে জরিপ কাজ পরিচালনা করেন (১৮০৭-১৮১২) তখন তিনি পাহাড়পুরের এই সূতপকে বৌদ্ধ বিহার বলে অনুমান করেন।
- ১৯২৩ সাল থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যমত্ম এর খনন কাজ চলে।
- খনন কালে মাটির একটি সিল থেকে জানা যায় যে, এটি সোমপুর বিহার।
- পাল রাজবংশের রাজা ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) অষ্টম শতকের শেষ দিকে এ বিহার নির্মাণ করেন।
- সোমপুর বিহার এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম বিহার।
- এর দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট।
- মূল ভবনে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। ৮০০ জন ভিক্ষুর বাসপোযোগী ছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৮২.
মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কোন সেক্টরের অধীনে নিয়োজিত ছিলেন?
  1. ৮নং সেক্টর
  2. ৯নং সেক্টর
  3. ১০নং সেক্টর
  4. ১১নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১০নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৩.
'সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. মৌলভীবাজার
  4. সুনামগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান:
- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ে অবস্থিত।
- উদ্যানের কাছাকাছি ৯টি চা বাগান আছে।
- উদ্যানের পশ্চিম দিকে সাতছড়ি চা বাগান এবং পূর্ব দিকে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান অবস্থিত।
- এই ক্রান্তীয় ও মিশ্র চিরহরিৎ পাহাড়ী বনভূমি ভারতীয় উপমহাদেশ এবং উন্দো-চীন অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থিত।সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রয়েছে প্রায় ২০০’রও বেশি গাছপালা।
- এর মধ্যে শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, ডুমুর, জাম, জামরুল, সিধাজারুল, আওয়াল, মালেকাস, ইউক্যালিপটাস,আকাশমনি, বাঁশ, বেত-গাছ ইত্যাদির বিশেষ নাম করা যায়।
- সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভিতর সাতটি ছড়া বা ঝর্না আছে যেখান থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি।

জীববৈচিত্র্য:
- এ উদ্যানে ১৯৭ প্রজাতির জীব-জন্তু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরিসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর। আরো আছে প্রায় ১৫০-২০০প্রজাতির পাখি। এটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পাখিদের একটি অভয়াশ্রম। বনে লজ্জাবতী বানর, উল্লুক (Gibbon), চশমা পরা হনুমান (Langur), কুলু বানর (Macaque), মেছো বাঘ, মায়া হরিণ (Barking Deer) ইত্যাদি; সরিসৃপের মধ্যে সাপ; পাখির মধ্যে কাও ধনেশ, বনমোরগ, লালমাথা ট্রগন, কাঠঠোকরার, ময়না, ভিমরাজ, শ্যামা, ঝুটিপাঙ্গা, শালিক, হলুদ পাখি, টিয়া প্রভৃতির আবাস রয়েছে। এছাড়া গাছে গাছে আশ্রয় নিয়েছে অগণিত পোকামাকড়, ঝিঁঝিঁ পোকা তাদের অন্যতম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১৮৪.
পাল রাজারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. হিন্দু
  2. বৌদ্ধ
  3. খ্রিস্টান
  4. জৈন
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

⇒ পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৫.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে এক ব্যক্তি দম্ভোক্তি করে, যা বলেছিল নিম্নরূপঃ 'লোকটি এবং তার দল পাকিস্তানের শক্র, এবার তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না।' এ দম্ভোক্তিকারী ব্যাক্তি কে ছিল?
  1. ক) জেনারেল নিয়াজী
  2. খ) জেনারেল টিক্কা খান
  3. গ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  4. ঘ) জেনারেল হামিদ খান
সঠিক উত্তর:
গ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত উক্তিটি করেছিলেন - পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও সেনা প্রশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান।
১,১৮৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর ছিল -
  1. ৭নং সেক্টরের অধীনে
  2. ৬নং সেক্টরের অধীনে
  3. ৪নং সেক্টরের অধীনে
  4. ৮নং সেক্টরের অধীনে
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টরের অধীনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮নং সেক্টরের অধীনে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর ছিল - ৮নং সেক্টরের অধীনে। 

• মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- তার মধ্যে মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
- ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
- সিলেট- ৪ নং সেক্টর,
- রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ১১টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৮.
'বায়ান্নর দিনগুলো' কার লেখা স্মৃতি সংকলন?
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা

'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটি শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারে অতিবাহিত দিনগুলোর স্মৃতিবিজড়িত সংকলন। 
‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনাটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। 

- ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এই আত্মজীবনী লেখা শুরু করেন এবং ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকার সময় তা লেখা বন্ধ হয়ে যায়।
- বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনের নানা বিষয় এবং বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এ রচনায় ফুটে উঠেছে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ।

১,১৮৯.
দেশে প্রথমবারের মতো পরিবেশবান্ধব ই-সিম চালু করে কোন মোবাইল অপারেটর কোম্পানি?
  1. বাংলালিংক
  2. গ্রামীণফোন
  3. রবি
  4. টেলিটক
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণফোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রামীণফোন
ব্যাখ্যা
- দেশে প্রথমবারের মতো প্লাস্টিক সিম কার্ড ছাড়াই সংযোগের সুবিধা সম্পন্ন পরিবেশবান্ধব ই-সিম চালু করে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন
-ই-সিম মানে এম্বেডেড সিম, অর্থাৎ একধরণের সিম, যেটা ব্যবহার করতে ফোনে কোনও রকম সিম কার্ড ঢুকাতে হয় না।
- এতে প্লাস্টিকের ব্যবহারও কম হয়। 
- এজন্য ইসিম সাপোর্ট করে এমন একটি মোবাইল ডিভাইস থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র:- গ্রামীণফোন ওয়েবসাইট।
১,১৯০.
বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় কোন সালে?
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৯১
  3. ১৯৯২
  4. ১৯৯৩
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯০
ব্যাখ্যা

প্রাথমিক শিক্ষা আইন:
- বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাস হয় ১৯৯০ সালে।
- ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি প্রতি জেলার একটি করে থানায় পরীক্ষামূলকভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রথমে চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১৯১.
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৪নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১,১৯২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'আফসার বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. টাঙ্গাইল
  2. জামালপুর
  3. ফরিদপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন আঞ্চলিক বাহিনীঃ
- কাদেরিয়া বাহিনী ছিল টাঙ্গাইলে,
- আফসার বাহিনী ছিল ভালুকা, ময়মনসিংহে;
- বাতেন বাহিনী ছিল টাঙ্গাইলে,
- হেমায়েত বাহিনী ছিল ফরিদপুরে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,১৯৩.
মুক্তিযুদ্ধের ছয় নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. ক) উইং কমান্ডার এম কে বাশার
  2. খ) মেজর কাজী নুরুজ্জামান
  3. গ) মেজর এম আবদুল জলিল
  4. ঘ) মেজর কে এম শফিউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) উইং কমান্ডার এম কে বাশার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উইং কমান্ডার এম কে বাশার
ব্যাখ্যা
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
৬নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১,১৯৪.
ঢাকার সর্বশেষ নবাব কে ছিলেন?
  1. খাজা হাবিবুল্লাহ
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. খাজা আব্দুল গণি
  4. খাজা আতিকুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খাজা হাবিবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা হাবিবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:

- তিনি (২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতাছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।
১,১৯৫.
ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় কখন?
  1. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন
  2. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে
  3. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন
  4. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড় আন্দোলন, ১৯৪২: 
- ভারত ছাড় আন্দোলন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন (Quit India Movement, 1942)।
- ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রধান তিনটি পর্ব দেখা যায়।
- তিনটি পর্বের আন্দোলনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে দমন করা হয়।
- আন্দোলন দমন করতে সরকার আকাশ থেকে মেশিনগানও ব্যবহার করেছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
- ভারত ছাড় আন্দোলন চলাকালীন এবং পরে ব্রিটিশরা টোটেনহ্যামের প্রতিবেদনের মতো দলিল পত্রে সমগ্র বিস্ফোরণকে অক্ষ শক্তিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘পঞ্চম বাহিনী’র সুচিন্তিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে। 
- গুরুত্ব ও বিস্তৃতির দিক থেকে ভারত ছাড় আন্দোলনকে লর্ড লিনলিথগোর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১৮৫৭ সালের ভারতীয় মহাবিদ্রোহের সাথে তুলনা করা যায়।
- এ আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, কারণ নিরস্ত্র ও নেতৃত্ববিহীন জনগণ শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না।
- এ মহান আন্দোলনের গুরুত্ব এখানে যে, এটা জাতীয় আন্দোলনে স্বাধীনতার দাবিকে মৌলিক দাবিতে পরিণত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৬.
ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের একজনের নাম উল্লেখ করুন।
  1. ক) ইকবাল
  2. খ) আসাদ
  3. গ) সালাম
  4. ঘ) নুর হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সালাম
ব্যাখ্যা
ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম এর জন্ম ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে। তাঁর জন্ম ১৯২৫ সালে এবং মৃত্যু ৭ এপ্রিল ১৯৫২।
১,১৯৭.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) ভারত ছাড় আন্দোলন
  2. খ) আইন অমান্য আন্দোলন
  3. গ) ৩রা জুন পরিকল্পনা
  4. ঘ) ক্রিপস মিশন
সঠিক উত্তর:
খ) আইন অমান্য আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আইন অমান্য আন্দোলন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ঘটনাসমূহের মধ্যে সবার আগে সংঘটিত হয় আইন অমান্য আন্দোলন।
মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালে ভারতবর্ষ জুড়ে আইন অমান্য আন্দোলন সংঘটিত হয় যা ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো।
অন্যদিকে,
ক্রিপস মিশন ভারতে আসে ১৯৪২ সালের মার্চে।
ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হলে ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারত ছাড় আন্দোলন সংঘটিত হয়।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ১৯৪৭ সালের জুন মাসে ‘৩রা জুন পরিকল্পনা’ পেশ করেন যা ‘ভারত ভাগ পরিকল্পনা’ নামেও পরিচিত।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,১৯৮.
গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত বাংলার কোন জনপদ ব্যতীত সমগ্র বাংলা জয় করেন?
  1. বরেন্দ্র
  2. সমতট
  3. গৌড়
  4. পুণ্ড্র
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা

সমুদ্রগুপ্ত:
- সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
- চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর সমুদ্রগুপ্ত পাটালিপুত্রের সিংহাসনে বসেন।
- তাঁকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ান বলা হয়।
- তার রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা জয় করা হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ প্রশস্তিলিপি সূত্রে জানা যায় যে, তিনি সমতট ব্যতীত বাংলার অন্য সব জনপদ তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন।
- সমুদ্রগুপ্তের বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্যের পূর্বতন প্রত্যন্ত রাজ্য ছিল নেপাল, কর্তৃপুর (শনাক্তকরণ বিতর্কিত), কামরূপ, ডবাক (আসাম অথবা ঢাকা), এবং সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা)। সমতট সম্ভবত গুপ্তদের করদ রাজ্য ছিল। তবে কালক্রমে এ অঞ্চলও গুপ্ত সাম্রাজ্যভুক্ত হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে বাংলা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ।ভারতের ইতিহাসে গুপ্ত যুগ সামগ্রিকভাবে ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে খ্যাত।
- গুপ্ত যুগে বাংলায় স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার সর্বব্যাপী প্রচলন হয়। স্বর্ণ মুদ্রার বহুল প্রচলন বাংলার আর্থিক সমৃদ্ধির পরিচায়ক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]

১,১৯৯.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর র‍উফ মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন?
  1. সেনাবাহিনী
  2. বিমানবাহিনী
  3. নৌবাহিনী
  4. ইপিআর
সঠিক উত্তর:
ইপিআর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইপিআর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর র‍উফ:
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা ও অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়, মুন্সী আবদুর রউফ তাঁদের অন্যতম।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তিনি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আবদুর রউফ ইপিআরের ১১ নম্বর উইং চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাঙামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি লড়াই হয়।
- কৌশলগত কারণে সহযোদ্ধাদের পিছু হটতে বলে তিনি নিজেই শত্রুসেনাদের মোকাবেলা করেন, একপর্যায়ে শহীদ হন।
- সহযোদ্ধারা পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নানিয়ারচরের চিংড়ি খালসংলগ্ন একটি টিলার ওপর সমাহিত করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্ব ও আত্মদানের জন্য বাংলাদেশ রাইফেলস ১৯৭৩ সালে সিপাহি মুন্সী আবদুর রউফকে অনারারি ল্যান্স নায়েক পদে মরণোত্তর পদোন্নতি দান করে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,২০০.
বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনের নাম কী?
  1. মজিদ শিক্ষা কমিশন
  2. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন
  3. কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন
  4. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
সঠিক উত্তর:
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশন:
- জাতীয় শিক্ষা কমিশন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদাকে চেয়ারম্যান করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’।
- ১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- চেয়ারম্যানের নামানুসারে এই কমিশন কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামেও পরিচিতি পায়।
- কমিশন প্রশ্নমালার আকারে শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর লোকদের নিকট থেকে মতামত গ্রহণ করে,
-  কমিশন ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করে।

অপরদিকে,
- মজিদ খান শিক্ষা কমিশন:
- ১৯৮৩ সালে গঠিত হয় মজিদ খান শিক্ষা কমিশন।
- এই কমিশন  রিপোর্ট ব্যাপক প্রচারলাভ করে নি এবং এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগও নেয়া হয় নি।
• শামসুল হক শিক্ষা কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ সালের ১৪ জানুয়ারি জারীকৃত এক আদেশবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এম শামসুল হককে চেয়ারম্যান করে ৫৬ সদস্যের একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করে।

• কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন:
- ২০০০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিকে সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।