বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১৩ / ১২৪ · ১,২০১১,৩০০ / ১২,৪২১

১,২০১.
বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ কোনটি
  1. ভারত
  2. ভুটান
  3. শ্রীলংকা
  4. রাশিয়া
সঠিক উত্তর:
ভুটান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুটান
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দেশ:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। 
- একইদিন অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- ভুটান ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে একই দিনে স্বীকৃতি দিয়েছিল। 
- অপরদিকে সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি প্রদান করে। 
 
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ ভারত।

এছাড়াও,
- তৃতীয় দেশ ও প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে পূর্ব জার্মানি ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেনেগাল ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- নানা বাধা-বিপত্তির পরও দেখা যায় স্বাধীন হবার মাত্র চার বছরেরও কম সময়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হয়েছিল আর শতাধিক দেশের স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যসহ সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া নেদাল্যান্ডস এবং জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- বিজয়ের পর পরই ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১,২০২.
‘লোকটি এবং তার দল পাকিস্তানের শত্রু, এবার তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না’- এ দম্ভোক্তিকারী ব্যক্তিটি কে?
  1. জেনারেল হামিদ খান
  2. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  3. জেনারেল নিয়াজী
  4. জেনারেল টিক্কা খান
সঠিক উত্তর:
জেনারেল ইয়াহিয়া খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১১ টার দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেলুচিস্তানের কসাই হিসেবে কুখ্যাত লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের নির্দেশ ছিল- 'আজ রাতেই সামরিক অভিযান'।
- কুখ্যাত অপারেশন সার্চলাইট বাস্তবায়নের এটা ছিল সবুজ সংকেত।
- ঢাকায় মোতায়েন পাকিস্তানি আর্মির এক পদস্থ অফিসার দম্ভভরে বলেছিলেন- পাকিস্তানি আর্মির সক্ষমতা ও শৃঙ্খলা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করা অনুচিত, তারা বিশ্ব সেরা। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সেই অমর উক্তি- 'সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না... যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা কর।'
- পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের জনসংযোগ অফিসার সিদ্দিক সালেক তার উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থে লিখেছেন, '২৩ মার্চ মার্শাল ল' সদর দফতর ও গভর্নর হাউস ছাড়া আর কোথাও পাকিস্তানের পতাকা দেখা যায়নি। বেতার-টেলিভিশনে গাওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি...' গান [উইটনেস টু সারেন্ডার, পৃষ্ঠা ৬৭।
- ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট বাস্তবায়ন শুরুর পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষায় বলেছিলেন, 'ওই লোক এবং তার দল আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের শত্রু। এই অপরাধের বিচার হবেই। দিস টাইম হি উইল নট গো আনপানিশন্ড। আওয়ামী লীগ ইজ ব্যান্ড।

উৎস: তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) ওয়েবসাইট।
১,২০৩.
নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত “সোমপুর বিহার” এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. মহীপাল
  4. বিগ্রহপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা — শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে। 
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,২০৪.
বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখা প্রস্তাবের প্রতিবাদ করেন কে?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. শামসুল আলম
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. আবদুল মতিন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর প্রতিবাদ করেন।
- আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণপরিষদ কর্তৃক পঠিত মূলনীতি কমিটির সুপারিশে বলা হয়, উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।
- দেশজুড়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ চলতে থাকে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,২০৫.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের কয় দফা দাবি ছিল?
  1. ১৪ দফা
  2. ১৮ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ২২ দফা
সঠিক উত্তর:
২২ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ দফা
ব্যাখ্যা
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ২২টি দফা ছিল।

৬২-র শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরীফ কমিশন শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটি বৈষম্যমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই কমিশন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণ বাড়িয়ে দেয়।
- ১৯৬১ সালের শেষ দিকে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।
- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমাতে আইয়ুব সরকার দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তার শুরু করে।
- এর ফলে ছাত্র আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ছাত্ররা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেয়।
- ১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল চলাকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন ছাত্র নিহত এবং শতাধিক আহত হয়।
- এই ঘটনার স্মরণে ১৭ সেপ্টেম্বর 'শিক্ষা দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০৬.
ঐতিহাসিক ছয় দফার ষষ্ঠ দফা কী ছিল?
  1. ক) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  2. খ) মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  3. গ) রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  4. ঘ) আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।Y
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০৭.
বাংলাদেশের কোথায় আড়াই হাজার বছর পূর্বের নগর সভ্যতার নির্দশন পাওয়া গেছে?
  1. ক) সীতাকুণ্ড
  2. খ) উয়ারি বটেশ্বর
  3. গ) বিক্রমপুর
  4. ঘ) সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
খ) উয়ারি বটেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উয়ারি বটেশ্বর
ব্যাখ্যা
নরসিংদী জেলার উয়ারি বটেশ্বর গ্রামে আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বের নগর সভ্যতার নির্দশন পাওয়া গেছে। স্থানটিতে এখনো খনন কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে আবিষ্কৃত সভ্যতা সমূহের মধ্যে উয়ারি বটেশ্বরই সবচেয়ে প্রাচীন বলে ধারণা করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী)
১,২০৮.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. কন্যাকুমারী
  2. পাটালিপুত্র 
  3. কোটিবর্ষ 
  4. কনৌজ
সঠিক উত্তর:
পাটালিপুত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাটালিপুত্র 
ব্যাখ্যা

• চন্দ্ৰগুপ্ত মৌর্য :
- ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্য।
- মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
- তার রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রাচীন ভারতে অখন্ড ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় ধরনের সফল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর সময় থেকেই সর্বভারতীয় চিন্তা-চেতনার প্রসার ঘটে।
- মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা হয়।
- বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার বাড়তে থাকে।
- সামাজিক ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের পার্থক্য ক্রমেই ঘুঁচে যেতে শুরু করে।
- শিল্প- সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সূচনা হয়।
- তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন চাণক্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
       ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২০৯.
আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা কোনটি?
  1. বান্দরবান
  2. চট্টগ্রাম
  3. ময়মনসিংহ
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা

• রাঙামাটি জেলা:
- আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙামাটি।
- বিস্তৃত পাহাড়, ঝর্ণা, নদী, হ্রদ, বনানীর অপরূপ সমাহারে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের একটি জেলা হচ্ছে জেলা রাঙ্গামাটি।
- এটি চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা।
- রাঙ্গামাটির উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, দক্ষিণে বান্দরবান, পূর্বে মিজোরাম ও পশ্চিমে চট্রগ্রাম ও খাগড়াছড়ি।
- দেশের এক মাত্র রিক্সা বিহীন শহর, হ্রদ পরিবেষ্টিত পর্যটন শহর এলাকা।
- এ জেলায় চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, চাক্, পাংখোয়া, লুসাই, সুজেসাওতাল, রাখাইন সর্বোপরি বাঙ্গালীসহ ১৪টি জনগোষ্ঠি বসবাস করে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,২১০.
কাদের উদ্যোগে মূলত শহিদ দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. কানাডা প্রবাসী বাঙালিদের
  2. ফ্রান্সে অবস্থানরত বাঙালিদের
  3. আমেরিকার প্রবাসী বাঙালিদের
  4. ব্রিটেনের বাঙালি প্রতিনিধিদের
সঠিক উত্তর:
কানাডা প্রবাসী বাঙালিদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাডা প্রবাসী বাঙালিদের
ব্যাখ্যা
‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি:
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়।

⇒ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন কানাডাপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এবং কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক সংগঠন ‘মাতৃভাষা প্রেমিক গোষ্ঠী’।
- তৎকালীন সরকার ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় ঘোষণা করেন যে, পৃথিবীর বিকাশমান ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলির মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের (ইউনেসকো) ১৬০তম অধিবেশনে বাংলাদেশসহ ২৭টি দেশের সমর্থন নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি এই বিশেষ দিবসটিকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশ প্রথম বারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
- ইউনেসকোর পর জাতিসংঘও ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,২১১.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অস্থায়ী সরকারের কে পাঠ করেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
১,২১২.
‘ভারতের নেপোলিয়ন’ হিসেবে পরিচিত কোন শাসক?
  1. ক) অশোক
  2. খ) সমুদ্রগুপ্ত
  3. গ) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  4. ঘ) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
সঠিক উত্তর:
খ) সমুদ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা
সমুদ্রগুপ্ত
• গুপ্ত রাজবংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন সমুদ্রগুপ্ত। 
• তিনি আনুমানিক ৩৩৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৩৮০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বপর্যন্ত রাজত্ব করেন। 
• সমুদ্রগুপ্তকে প্রচণ্ড সাম্রাজ্যবাদী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার প্রধান নীতিই ছিলো রাজ্য অধিগ্রহণ। এজন্যে অনেক ঐতিহাসিক সমুদ্রগুপ্তকে ‘ভারতের নেপোলিয়ন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৩.
দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজ হাসপাতাল কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) শাহবাগ, ঢাকা
  2. খ) সদরঘাট, ঢাকা
  3. গ) মিরপুর, ঢাকা
  4. ঘ) আগারগাঁও, ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ক) শাহবাগ, ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শাহবাগ, ঢাকা
ব্যাখ্যা
⇨ দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজ হাসপাতাল 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল'।
⇨ যার অবস্থান ঢাকার শাহবাগে
⇨ এই হাসপাতালে রয়েছে ১০০টি আইসিইউ বেড। 
⇨ এখানে এক ছাদের নিচে সর্বাধুনিক বহুমুখী বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে।
⇨ ১৩ তলাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে রয়েছে দ্বিতল বেজমেন্ট। ৭৫০ শয্যার হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগে রয়েছে ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার।
⇨ এখানে রয়েছে সর্বাধুনিক রোবোটিক সার্জারি।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইনকিলাব। 
১,২১৪.
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চাঁদপুর
  2. ঢাকা
  3. ফরিদপুর
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট:

- অসংখ্য বিনুনি শাখা প্রশাখা সহ গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা এ ৩টি অন্যতম প্রধান ও সুবৃহৎ আন্তর্জাতিক নদীমালা কর্তৃক বাহিত পলিতে গঠিত এ বাংলাদেশ।
- এই বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী” নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং “হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী” প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে।
- ১৯৮৯ সালে ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে পানি সম্পদ সেক্টরে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কেএকটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ফরিদপুর জেলা ওয়েবসাইট।
১,২১৫.
শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
  1. জ্ঞান আহরণ
  2. ডিগ্রী অর্জন
  3. দক্ষতা অর্জন
  4. পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে সমাজ ও নিজের উপকারে তার পুনর্গঠন করার দক্ষতা আয়ত্ত করা
সঠিক উত্তর:
দক্ষতা অর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষতা অর্জন
ব্যাখ্যা
শিক্ষা:

- সাধারণ অর্থে বলতে গেলে শিক্ষা বলতে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনকে বোঝায়।
- ব্যাপক অর্থে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞানলাভের প্রক্রিয়াকে শিক্ষা বলে।
- শিক্ষা লাভের ফলে মানুষের আচরণের কাঙ্ক্ষিত, বাঞ্চিত এবং ইতিবাচক পরির্বতনই হয়।
- যুগে যুগে নানা মনীষী গণ নানাভাবে শিক্ষাকে সজ্ঞায়িত করেছেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,২১৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্থানীয় বাহিনী কোনটি?
  1. ক) বেঙ্গল লিবারেশন ফোর্স
  2. খ) আফসার বাহিনী
  3. গ) কাদেরিয়া বাহিনী
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন স্থানীয় বাহিনী: 
- এইসব বাহিনীর মধ্যে বেঙ্গল লিবারেশন ফোর্স (বি.এল.এফ), টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনী' এবং ভালুকার ‘আফসার বাহিনী' উল্লেখযোগ্য।
- বি.এল.এফ ছিল একটি রাজনৈতিক সশস্ত্র বাহিনী। এই বাহিনী মুজিব বাহিনী নামেও পরিচিত।
- ছাত্র নেতা শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান প্রমুখের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা, কর্মী ও শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে এ বাহিনী গড়ে উঠেছিল।
- কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান ছিলেন কাদের সিদ্দিকী।

• এই সব বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে গেরিলা কায়দায় হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করে। উল্লেখ্য যে, বিএলএফ ও কাদেরিয়া বাহিনী কোনো সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল না ।
- এরা অস্থায়ী সরকারের আওতার বাইরে নিজস্ব পদ্ধতিতে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

সূত্র: ইতিহাস, ওপেন স্কুল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৭.
মুজিনগর সরকার শপথগ্রহণ করে কবে?
  1. ক) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  2. খ) ১১ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৮ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,২১৮.
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল 'উয়ারী বটেশ্বর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বাগেরহাট
  2. নরসিংদী
  3. নওগাঁ
  4. বগুড়া
সঠিক উত্তর:
নরসিংদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরসিংদী
ব্যাখ্যা
উয়ারী বটেশ্বর:
- উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল।
- নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত উয়ারী এবং বটেশ্বর গ্রাম দু’টি ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত।
- প্লাইসটোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ গ্রাম দু’টিতেই নিবিড় অনুসন্ধান ও সীমিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আবিষ্কৃত হয়েছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারী প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি. x ৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর।
- দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে।
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারী নগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত আবিষ্কৃত হয়েছে।
- উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র।
- আবিষ্কৃত প্রত্নবস্তু বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায় যে, উয়ারী-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,২১৯.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান -এর পদবি কি ছিল?
  1. ক) সিপাহী
  2. খ) ল্যান্স নায়েক
  3. গ) ক্যাপ্টেন
  4. ঘ) মেজর
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহী
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের জন্ম ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩, ঝিনাইদহ জেলা শহরের অদুরে কালিগঞ্জের খদ্দখালিশপুর গ্রামে।
- ১৯৭০ সালে মুজাহিদ বাহিনীতে যোগদান করেন তিনি।
- ১৯৭১ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি যোগদান করেন পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে।
- প্রশিক্ষণের জন্য গমন করেন চট্টগ্রাম ইবিআরসিতে।
- ২৫শে মার্চ বর্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ২০ বেলুচ রেজিমেন্টের সেনারা হামলা চালায় সেখানে।
- বীরত্ব প্রদর্শন করেন কোদালকাঠি পাকিস্তানী অবস্থান আক্রমণে।
- ২৮শে অক্টোবর ১৯৭১, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ধলই আক্রমণে সহযোদ্ধাদের জীবন রক্ষার্থে শত্রুর বাঙ্কার ধ্বংস করতে গিয়ে শত্রুর মেশিনগান বাস্টের আঘাতে শাহাদত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে আম্বাসার হাতিমারাছড়া গ্রামে দাফন করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।
- শাহাদাতের ৩৬ বছর পর ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তার দেহাবশেষ স্থানান্তর করে রাষ্ট্রীয় সম্মানে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে পুনঃ সমাহিত করা হয়।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,২২০.
আগুন লেগে সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশের কোন গ্যাসক্ষেত্রটি?
  1. টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র
  2. বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্র
  3. তিতাস গ্যাসক্ষেত্র
  4. হরিপুর গ্যাসক্ষেত্র
সঠিক উত্তর:
টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
টেংরাটিলা:

- বাংলাদেশের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি আগুন লেগে সর্বাপেক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- ২০০৫ সালের কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস পরিচালিত এই গ্যাসক্ষেত্রের একটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের সময় জানুয়ারি ও জুন মাসে পর পর দু'দফা রিগে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটে।
- বিস্ফোরণের কারণে ঐ গ্যাসক্ষেত্র এবং আশেপাশের পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে সরকারের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ, ১৭ অক্টোবর ২০১৫।
১,২২১.
ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন কে?
  1. ইব্রাহিম লোদী
  2. বাবর
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবর
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ:
- বাবর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল দিল্লির নিকটবর্তী পানিপথ প্রান্তরে দিল্লির লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন। 
- বাবরের আত্মজীবনী তুযুক-ই-বাবরী থেকে জানা যায়, এ সময়ে তাঁর সাথে বার হাজার সৈন্য ছিল।
- তাছাড়া পাঞ্জাব জয়ের পর কিছু সংখ্যক অতিরিক্ত সৈন্যও তাঁর সাথে যোগদান করে।
- তাঁর জ্যৈষ্ঠপুত্র হুমায়ুনও তাঁর সাথে যোগ দিয়েছিলেন।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ।
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। 
- তিনি ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন।
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২২.
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন কে?   
  1. সম্রাট আকবর
  2. ইলিয়াস শাহ
  3. সম্রাট বাবর
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট আকবর পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।

⇒ কৃষিকাজের সুবিধার্থে ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য সম্রাট আকবর-এর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

এছাড়া,
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। 
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২২৩.
বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৪ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন:
- এটি বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন।
- এটি ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবন (বর্তমান রাজউক ভবন) থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে।
- রঙিন সম্প্রচার শুরু হয়: ১৯৮০ সালে।
- চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হয়: ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ সালে।
- বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয়: ১১ই এপ্রিল, ২০০৪ সালের।
- ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয়: ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সালে।

⇒ বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রের সংখ্যা: ২টি। যথা:
• ঢাকা।
• চট্টগ্রাম।

⇒ উপকেন্দ্র বা রিলে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি। এগুলো হলো:
• নাটোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, উখিয়া এবং রাঙ্গামাটি।

তথ্যসূত্র - বিটিভি ওয়েবসাইট।
১,২২৪.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ দলিলে যৌথবাহিনীর পক্ষে কে স্বাক্ষর করেন?
  1. জগজিৎ সিং অরোরা
  2. স্যাম মানেকশ
  3. আবদুল্লাহ নিয়াজী
  4. জে এফ আর জেকব
সঠিক উত্তর:
জগজিৎ সিং অরোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার জেনারেল এ কে নিয়াজিকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
- ১৫ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সংবরণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। 
- ১৬ ডিসেম্বর সকাল সোয়া নয়টার সময় মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান।
- অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের জয়ী ও পরাজিত দুই পক্ষের মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিল স্বাক্ষরিত হয়। 
- শেষপর্যন্ত জেনারেল আবদুল্লাহ নিয়াজী ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের যে স্থানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা, জিওসি এবং পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় বাহিনী ও বাংলাদেশ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। 

উৎস:
- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী।
- ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, প্রথম আলো।

১,২২৫.
বাংলাদেশের বর্তমানে রক্তদান কার্যক্রমে কোন প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষে আছে?
  1. ক) কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন
  2. খ) রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
  3. গ) সন্ধানী
  4. ঘ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ
সঠিক উত্তর:
গ) সন্ধানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সন্ধানী
ব্যাখ্যা
কোনো ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,২২৬.
কত সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র: 
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন।
- তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
- তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'।
- মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র, যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
- ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।
- প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,২২৭.
১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ ও শহীদ হন-
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) মুনির চৌধুরী
  3. গ) আব্দুল হাই
  4. ঘ) মাহবুবুল আলম
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক জহির রায়হান নিখোঁজ হয়েছিলেন ঢাকার মিরপুরে। পরবর্তীতে উদ্‌ঘাটিত হয়েছে জহির রায়হান অন্তর্ধান রহস্যের। [সূত্র: প্রথম আলো]
১,২২৮.
কৈবর্ত বিদ্রোহ কোন পাল রাজার শাসনামলে হয়েছিল?
  1. প্রথম মহীপাল
  2. দ্বিতীয় মহীপাল
  3. রামপাল
  4. ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় মহীপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় মহীপাল
ব্যাখ্যা

কৈবর্ত বিদ্রোহ:
- কৈবর্ত বিদ্রোহকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ এমনকি ভারতবর্ষের প্রথম সফল জনবিদ্রোহ।
- বরেন্দ্র বিদ্রোহ নামেও অভিহিত করা হয় একে।
- এ সময় পাল বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় মহীপাল, যাঁর রাজত্বকাল ধারণা করা হয় ১০৭৫ সাল থেকে ১০৮০ সালের মধ্যে।
- এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন দিব্যক বা দিব্য। তিনি খুব সম্ভব প্রথম দিকে পালদের একজন রাজকর্মচারী কিংবা সামন্ত ছিলেন। কৈবর্তদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করেন তিনি।
- কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় ধর্মীয় কারণকে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২২৯.
প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত বন্দর-
  1. ক) সমতট
  2. খ) তাম্রলিপ্ত
  3. গ) গৌড়
  4. ঘ) পুন্ড
সঠিক উত্তর:
খ) তাম্রলিপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা
• জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে তাম্রলিপ্ত অন্যতম।
- এই জনপদের অবস্থান ছিলো হরিকেল ও রাঢ়ের দক্ষিণে।
- বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুক এলাকা ছিলো তাম্রলিপ্ত জনপদের কেন্দ্রস্থল।
- তাম্রলিপ্ত প্রাচীন বাংলার একটি বিখ্যাত বন্দর। 
- সপ্তম শতক হতে তাম্রলিপ্ত জনপদ ‘দণ্ডভুক্তি’ নামে পরিচিত হতে থাকে।
- দণ্ড মানে হলো পথ আর ভুক্তি অর্থ প্রদেশ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং আনন্দবাজার পত্রিকা।
১,২৩০.
মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর ছিল-
  1. ক) ডালহৌসি স্ট্রিট, কলকাতা
  2. খ) কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা
  3. গ) থিয়েটার রোড, কলকাতা
  4. ঘ) পার্ক স্ট্রিট, কলকাতা
সঠিক উত্তর:
গ) থিয়েটার রোড, কলকাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) থিয়েটার রোড, কলকাতা
ব্যাখ্যা

- প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক দিক নির্দেশনা দিত।
- অন্যদিকে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বর্তমান মুজিবনগরে প্রবাসী সরকারের গঠন ও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়েছিল।

১,২৩১.
বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন -
  1. তুঘান খান
  2. আলাউদ্দিন আলি
  3. মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি
  4. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩২.
হরিকেল জনপদের অবস্থান বাংলার কোন প্রান্তে ছিল?
  1. পূর্ব
  2. পশ্চিম
  3. উত্তর
  4. দক্ষিণ
সঠিক উত্তর:
পূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব
ব্যাখ্যা
হরিকেল জনপদের অবস্থান বাংলার পূর্ব প্রান্তে ছিল।

হরিকেল জনপদ:

- চট্টগ্রাম ও সিলেট প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদের অংশ ছিল।
- চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ অঞ্চলের একটি পুরানো মন্দিরে আবিষ্কৃত কান্তিদেবের (খ্রিস্টীয় নয় শতক) অসম্পূর্ণ তাম্রলিপিটি হরিকেল সম্পর্কিত সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য দলিল।
- খ্রিস্টীয় সাত শতকের প্রাচীন ভারতীয় লেখকগণ পূর্বভারতীয় একটি অঞ্চলকে হরিকেল বলে উল্লেখ করেন।
- এটি পূর্ববঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য।
- মহারাজাধিরাজ কান্তিদেব হরিকেলের শাসক ছিলেন।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৩.
সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন কে?
  1. মুসা খাঁ
  2. আওরঙ্গজেব
  3. শেরশাহ
  4. ঈশা খাঁ
সঠিক উত্তর:
ঈশা খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশা খাঁ
ব্যাখ্যা

সোনারগাঁও:
-সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
-বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
-প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
-বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ'র স্ত্রী সোনাবিবি'র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈশা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
-১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,২৩৪.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কখন বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে?
  1. ১৬৯০ সালে
  2. ১৭৬৫ সালে
  3. ১৭৯৩ সালে
  4. ১৮২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
• ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি — ১৭৬৫ সালে — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে
-------------------- 
• কোম্পানির দেওয়ানি লাভ: 
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে দেওয়ানি লাভের পর প্রকৃতপক্ষে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব লাভে সক্ষম হয়।
- বক্সারের যুদ্ধে বাংলার নবাব, অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লীর সম্রাটের পরাজয় ইংরেজ শক্তিকে এই ক্ষমতা লাভের সুযোগ করে দেয়।
- বক্সারের যুদ্ধের পর — ক্লাইভ দ্বিতীয়বার (১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ) ভারতবর্ষে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
- ক্লাইভ দেশ থেকে ফিরে অযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। 
- তার বিনিময়ে আদায় করে নেন — কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুটি।
- যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।

- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে — কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- মোগল সম্রাট — দ্বিতীয় শাহ্ আলম একটি ফরমানের মাধ্যমে — বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি ইংরেজ কোম্পানির হাতে তুলে দেন।
- ইংরেজরা এর বিনিময়ে শাহ্ আলমকে বছরে ২৬ লক্ষ টাকা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠাবার জামিনদার হবে কোম্পানি।
- ইতিহাসে এটি — এলাহাবাদ চুক্তি নামে পরিচিত। 
- ১৭৬৫ সালের ১২ই অগাস্ট এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে জয়ী হয়ে 'ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা তথা ভারতবর্ষে তাদের কর্তৃত্বের ভিত্তি রচনা করেন।
- ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে বাংলা, বিহার, অযোধ্যা ও দিল্লির সম্রাটের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করলে, ইংরেজদের সেই ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১,২৩৫.
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র কোনটি?
  1. শ্রাবণ বিদ্রোহ
  2. ছত্রিশ জুলাই
  3. দ্য হিরোস আউটসাইড
  4. আমাদ’স ড্রিম
সঠিক উত্তর:
আমাদ’স ড্রিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমাদ’স ড্রিম
ব্যাখ্যা

'আমাদ'স ড্রিম' (Amad's Dream):
- ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র আমাদ’স ড্রিম।
- নির্মাতা: আশিষ কিফায়েত।

⇒ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- দেশজুড়ে যখন লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, সেই ঢেউ শুধু সীমান্তের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।
- কেউ সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিতে দেশে ফিরে আসেন, আবার কেউ বিদেশে থেকেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহায়তার মাধ্যমে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন।
- প্রবাসীদের এই সক্রিয় ভূমিকা বিশেষ করে প্রবাসী নারীদের অবদান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার আশিষ কিফায়েত নির্মাণ করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘আমাদ’স ড্রিম’।
- এটি কেবল প্রবাসী জীবনের গল্প নয়, বরং প্রতিফলিত করে ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকা।
- কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন, কেউ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, আবার কেউ নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ব্যবহার করেছেন আন্দোলনের পক্ষে।

উৎস: i) The Daily Star.
ii) যুগান্তর।

১,২৩৬.
আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষের আইনজীবী কবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন?
  1. ১৯ জুন, ১৯৬৮ 
  2. ৫ জুলাই, ১৯৬৯
  3. ১৮ জুলাই, ১৯৬৮
  4. ৫ আগস্ট, ১৯৬৮
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ১৯৬৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ১৯৬৮
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলায় হাইকোর্টে রিট আবেদন: 

• কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়। 
• ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় মামলার শুনানি শুরু হয়। 
• মামলাটি পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে ছিল । 
• মামলায় সরকার পক্ষে সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন।
• রাজসাক্ষীসহ মোট ছিল ২২৭ জন। 
• যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী প্রেরণ করেন।
• প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রিট করেন। 
• তিনি ৫ আগস্ট, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন।
• তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ। 
• প্রথম শুনানি শুরু হয় ১৯ জুন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের পর ২৯ জুলাই পুনরায় শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩৭.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল?
  1. চলন বিল
  2. আড়ায়াল বিল
  3. চাতলার বিল
  4. হালতির বিল
সঠিক উত্তর:
চলন বিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলন বিল
ব্যাখ্যা
চলন বিল:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলের নাম চলনবিল।
- এটি রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, এবং পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত।
- নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিস্তৃত অংশ জুড়ে যে জলভূমি, বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে দেখা যায় সেটাই বিখ্যাত চলনবিল।
- শুকনা মৌসুমে এসব বিলে জল থাকে না।
- জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলনবিল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।
- ব্রহ্মপুত্র নদ যখন তার প্রবাহপথ পরিবর্তন করে বর্তমান যমুনায় রূপ নেয়, সে সময়েই চলনবিলের সৃষ্টি।
- বর্তমানে চলনবিল অনেকখানি হ্রাস পেয়ে আয়তন দাঁড়িয়েছে ১১৫০ বর্গকিলেমিটারে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,২৩৮.
বাংলায় ইংরেজরা সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে কত সালে?
  1. ১৭৫২ 
  2. ১৭৬৩ 
  3. ১৭৫৫ 
  4. ১৭৬৫ 
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ 
ব্যাখ্যা

কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ সালে মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে শর্তসাপেক্ষে বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়।
- শর্ত থাকে যে, তিনি তার পিতার মতো ইংরেজদের নিজস্ব পুরাতন দস্তক অনুযায়ী বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে দেবেন এবং দেশীয় বণিকদের অবাধ বাণিজ্যের সুবিধা বাতিল করবেন।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব বা খাজনা ও কর আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,২৩৯.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ কে?
  1. নাইমা সুলতানা
  2. রিয়া গোপ
  3. আব্দুল আহাদ
  4. রিমন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল আহাদ
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ :
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ ।
- শহীদ আব্দুল আহাদ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আবুল হাসান ও মা সুমি আক্তারের পুত্র।
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় ৮ তলার উপর তার বাবা-মায়ের মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আব্দুল আহাদ ৷
- এ সময় বাসার নিচে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিহত হয় আহাদ ৷
- সে ‘জুলাই সর্বকনিষ্ঠ যোদ্ধা' হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - জুলাই আর্কাইভ ও যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট।

১,২৪০.
কুসুম্বা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. নওগাঁ
  3. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওগাঁ
ব্যাখ্যা
কুসুম্বা মসজিদ:
- নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের অবস্থান।
- মসজিদটি ধরে রেখেছে সুলতানি আমলের অনন্য নিদর্শন।
- এর মিহরাবের ওপর সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহর নাম লিপিবদ্ধ করা।
- ধারণা করা হয়, তাঁর শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত।
- এটি চারকোনাবিশিষ্ট। কালো ও ধূসর রঙের পাথর আর পোড়ামাটির ইটে গড়া এই মসজিদ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ৫ টাকার নোটে কুসুম্বা মসজিদের ছবি ছাপানো আছে।

উৎস: ২৩ মার্চ ২০২৪, প্রথম আলো।
১,২৪১.
বর্তমানে কততম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চলমান?
  1. ক) ষষ্ঠ
  2. খ) সপ্তম
  3. গ) অষ্টম
  4. ঘ) নবম
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টম
ব্যাখ্যা
পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা:

- বর্তমানে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চলমান।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ ছিল ১৯৭৩-১৯৭৮।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।
- অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ জুলাই, ২০২০- জুন, ২০২৫।
- বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে- পরিকল্পনা কমিশন।
- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা কমিশন।
১,২৪২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'যশোর' জেলা কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) পাঁচ
  2. খ) ছয়
  3. গ) সাত
  4. ঘ) আট
সঠিক উত্তর:
ঘ) আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আট
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর :
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব- সেক্টরে বিভক্ত ছিল।
- সেক্টরগুলোর পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো-
• এক নম্বর সেক্টর: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনী নদী পর্যন্ত এলাকা।
• দুই নম্বর সেক্টর: নোয়াখালী, আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত, কুমিল্লা জেলা, সিলেট জেলার হবিগঞ্জ (বর্তমানে জেলা), ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ।
• তিন নম্বর সেক্টর: আখাউড়া, ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলা, সিলেট, ঢাকা জেলার অংশবিশেষ ও কিশোরগঞ্জ।
• চার নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন ছাড়াও পূর্ব ও উত্তর দিকে ডাউকি সড়ক পর্যন্ত অঞ্চল।
• পাঁচ নম্বর সেক্টর: সিলেট জেলার পশ্চিমাঞ্চল, সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ ময়মনসিংহ সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
• ছয় নম্বর সেক্টর: রংপুর জেলা, দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহকুমা (বর্তমানে জেলা)।
• সাত নম্বর সেক্টর: দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলা।
আট নম্বর সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের অধিকাংশ এবং খুলনা জেলার দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত এলাকা।
• নয় নম্বর সেক্টর: দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চল, ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ এবং বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা।
• দশ নম্বর সেক্টর: দশ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো, সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ।
• এগার নম্বর সেক্টর: কিশোরগঞ্জ ছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
১,২৪৩.
ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' বা বিধর্মীর দেশ বলে ঘোষণা করেন?
  1. শাহ ওলিউল্লাহ
  2. মীর নিসার আলী
  3. দুদু মিয়া
  4. হাজী শরীয়তউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
•ফরায়েজি মতবাদ:
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব’ অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি। 
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয়(ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি বিধর্মী বিজাতীয় শাসিত দেশে জুমা এবং দুই ঈদের নামাজ বর্জনের জন্য মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।নুন-ভাতের দাবিও উত্থাপন করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
-  ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪৪.
৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কয় দফা দাবি পেশ করেন?
  1. ক) ৪ দফা
  2. খ) ৬ দফা
  3. গ) ৮ দফা
  4. ঘ) ১১ দফা
সঠিক উত্তর:
ক) ৪ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৪ দফা
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের
ভাষণ’ নামে অভিহিত হয়েছে। 

• ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয় -
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৫.
কোন ঘটনায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর সূচনা হয়?
  1. বিচারাধীন অবস্থায় সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা করা
  2. পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান এর মৃত্যু
  3. নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এর উপর পুলিশের গুলি
  4. রাবির ড. শামসুজ্জোহা এর উপর হামলা
সঠিক উত্তর:
পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান এর মৃত্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান এর মৃত্যু
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি,  এই মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান শহিদ হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।

- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস।
- ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে।
- সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম শহিদ হন।

- এছাড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামি মুক্তি বাধ্য হয়।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৬.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাংস্কৃতিক সংগঠন 'তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
  2. খ) ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
  3. গ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
  4. ঘ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

তমদ্দুন মজলিশের গঠনতন্ত্রে বিধৃত এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিম্নরূপ:
১. কুসংস্কার, গতানুগতিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা দূর করে ‘সুস্থ ও সুন্দর’ তমদ্দুন গড়ে তোলা;
২. যুক্তিবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত সর্বাঙ্গ সুন্দর ধর্মভিত্তিক সাম্যবাদের দিকে মানবসমাজকে এগিয়ে নেওয়া;
৩. মানবীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক সাহিত্য ও শিল্পের মাধ্যমে নতুন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা;
৪. নিখুঁত চরিত্র গঠন করে গণজীবনের উন্নয়নে সহায়তা করা।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
উক্ত পুস্তিকায় নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো প্রস্তাব করা হয় -

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?
- তমদুন মজলিশ

১. বাংলা ভাষাই হবে:
(ক) পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন।
(খ) পূর্ব পাকিস্তানের আদালতের ভাষা।
(গ) পূর্ব পাকিস্তানের অফিসাদির ভাষা।
২. পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষা হবে দুটি - উর্দু ও বাংলা।
৩. বাংলাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের প্রথম ভাষা। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা একশতজনই শিক্ষা করবেন।
(খ) উর্দু হবে দ্বিতীয় ভাষা। যারা পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে চাকরী ইত্যাদি কাজে লিপ্ত হবেন, তারাই শুধু এ-ভাষা শিক্ষা করবেন। ইহা পূর্ব পাকিস্তানের শতকরা ৫ হইতে ১০ জন শিক্ষা করলেও চলবে। মাধ্যমিক স্কুলের উচ্চতর শ্রেণীতে এই ভাষা দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে শিক্ষা দেওয়া যাবে।
(গ) ইংরেজী হবে পূর্ব পাকিস্তানের তৃতীয় ভাষা বা আন্তর্জাতিক ভাষা। পাকিস্তানের কর্মচারী হিসাবে যাঁরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে চাকরী করবেন বা যারা উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষায় নিয়ােজিত হবেন তাঁরাই শুধু ইংরেজী শিক্ষা করবেন। তাদের সংখ্যা পূর্ব পাকিস্তানের হাজারকরা ১ জনের চেয়ে কখনাে বেশী হবে না। ঠিক একই নীতি হিসাবে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদাশেগুলিতে ওখানের স্থানীয় ভাষা বা উর্দু ১ম ভাষা, বাংলা ২য় ভাষা, আর ইংরেজী ৩য় ভাষার স্থান অধিকার করবে।
৪. শাসনকার্য ও বিজ্ঞান-শিক্ষার সুবিধার জন্য আপাততঃ কয়েক বৎসরের জন্য ইংরেজী ও বাংলার উভয় ভাষাতেই পূর্ব পাকিস্তানের শাসনকার্য চলবে। ইতিমধ্যে প্রয়ােজন অনুযায়ী বাংলা ভাষার সংস্কার সাধন করতে হবে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ার সূত্র অনুসারে, তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
তবে, এই ক্ষেত্রে স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া অনেকগুলো বোর্ড বইগুলোতেও তারিখটি ২ সেপ্টেম্বর দেওয়া।
তাই সঠিক উত্তর হিসাবে ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ অধিকগ্রহণযোগ্য।
তবে অপশনে ২ সেপ্টেম্বর, না থাকলে ১ সেপ্টেম্বর উত্তর হবে।
১,২৪৭.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র নিচের কোনটি?
  1. জয়যাত্রা
  2. শ্রাবণ মেঘের দিন
  3. দীপু নাম্বার টু
  4. নন্দিত নরকে
সঠিক উত্তর:
শ্রাবণ মেঘের দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রাবণ মেঘের দিন
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৮.
ছয় দফা কর্মসূচির '৬ষ্ঠ দফা' কোন বিষয় সংক্রান্ত ছিল?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
  3. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  4. মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২৪৯.
‘শিক্ষার জন্য অর্থ’ কর্মসূচির আওতায় একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাসে কত টাকা পান?
  1. ১০০ টাকা
  2. ১২৫ টাকা
  3. ১৫০ টাকা
  4. ২০০ টাকা
সঠিক উত্তর:
১০০ টাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০ টাকা
ব্যাখ্যা
শিক্ষার জন্য অর্থ কর্মসূচি:
- প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ ও তাদের উপস্থিতি বাড়াতে উপবৃত্তি কার্যক্রম ভালো ভূমিকা রাখায় উপবৃত্তির টাকা বাড়াতে যাচ্ছে সরকার।
- ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে প্রথমবারের মত রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইলে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
- এর পর জুলাই ২০১৭ সাল থেকে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপবৃত্তি চালু করা হয়।
- ‘শিক্ষার জন্য অর্থ’ কর্মসূচির আওতায় একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাসে ১০০ টাকা পান।
- উপবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি থাকার আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি অনেক অভিভাবক বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারে সচেতন হয়েছেন।
- একজন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিমাসে ন্যূনতম গড়ে ৮৫ শতাংশ পাঠ দিবসে উপস্থিত থাকতে হবে।
- উপবৃত্তির ১০০ টাকা দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর খাতা-কলমের খরচ মেটানো সম্ভব।
- প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর এই উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হয়।

উৎস: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, দৈনিক পূর্বকোণ। [link]
১,২৫০.
ডঃ শামসুজ্জোহা ছিলেন -
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র
  2. খ) ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবী
  3. গ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
  4. ঘ) রাজশাহী সরকারি কলেজের শিক্ষক
সঠিক উত্তর:
গ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ -এর আন্দোলন বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেজন্য এ আন্দোলন গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান নামে অভিহিত হয়েছে।
- ১৯৪৭ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পূর্ব বাংলা/পূর্বপাকিস্তানের প্রতি পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে তার বহি:প্রকাশ ঘটে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে।
- এসময় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের ঘোষিত ১১ দফা দাবির মধ্যে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হল।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫১.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে দেশের বাইরে বিশ্বের প্রথম স্মৃতিসৌধটি নির্মিত হয় অস্ট্রেলিয়ার কোন নগরীতে?
  1. ক) মেলবোর্ন
  2. খ) পার্থ
  3. গ) সিডনি
  4. ঘ) ব্রিজবেন
সঠিক উত্তর:
গ) সিডনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিডনি
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে দেশের বাইরে বিশ্বের প্রথম স্মৃতিসৌধটি নির্মিত হয়  -সিডনি, অস্ট্রেলিয়া (১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬)।

SOURCE:  দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা 
১,২৫২.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র কবে জারি করা হয়?
  1. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  2. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  3. ৭ মার্চ ১৯৭১
  4. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে একই দিনে আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ আদেশ নামে একটি আদেশ জারি করেন। স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা রক্ষার্থে এটা করা হয়।
অর্থাৎ ২৬ মার্চ থেকে এটি বলবৎ হয়।

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।

- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।

১,২৫৩.
বর্তমানে দেশে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীরাঙ্গনার সংখ্যা কত জন?
  1. ৪৩৭
  2. ৪৩৮
  3. ৪৩৬
  4. ৪৩২
সঠিক উত্তর:
৪৩৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৩৮
ব্যাখ্যা
- জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭৫তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বীরাঙ্গনার সংখ্যা - ৪৩৮ জন।
- গত ২৪ আগস্ট, ২০২১ তারিখে এ বীরাঙ্গনাদের বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট জারি করেছে সরকার।
- তারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নির্যাতিত হন।
উৎস: দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট।
১,২৫৪.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল
  2. ১৯৭১ সালের ৭ই এপ্রিল
  3. ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল
  4. ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম: 
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এ সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, নির্দেশনা সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়।
- এটি ছিল প্রথম বাংলাদেশ সরকার।
- ঐ দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ'।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল।
- শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,২৫৫.
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য-
  1. দু'দেশের নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি
  2. দু'দেশের নদীগুলোর পলিমাটি অপসারণ
  3. বন্যা নিয়ন্ত্রণে দু দেশের মধ্যে সহযোগিতা
  4. দু'দেশের নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
দু'দেশের নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দু'দেশের নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য- দু'দেশের নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধি।

• যৌথ নদী কমিশন:

- ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও প্রজাতন্ত্রী ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের মধ্যে যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে দু’দেশের বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে অভিন্ন নদীর ব্যাপক জরিপ কার্যক্রম পরিচালন এবং নাব্যতা ঠিক রেখে,
- বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণের বিস্তারিত প্রকল্প প্রণয়ন,
ও প্রধান প্রধান নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের উপর সমীক্ষা পরিচালন,
- উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে এতদাঞ্চলের পানি সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার,
- এবং বাংলাদেশের সাথে ভারত সংলগ্ন এলাকায় পাওয়ার গ্রীড সংযোজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থায়ী ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়।

• দীর্ঘ মেয়াদে গঙ্গার পানি প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনে এবং দুদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে একমত হয়। 

উৎস: যৌথ নদী কমিশন ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৬.
নিম্নোক্ত কোন সাংবাদিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সত্য খবর প্রচার করেছেন?
  1. সাইমন ড্রিং
  2. মার্ক টালি
  3. এস্থনি ম্যাসকারেনহাস
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিক:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু হওয়ার সময় থেকে বিদেশি সাংবাদিকরা পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে।
- তারাই প্রথম বহির্বিশ্বে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও বর্বরতার খবর ছড়িয়ে দেয়।

⇒ সাইমন ড্রিং এরকমই একজন সাংবাদিক। ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তান সরকার কিছু বিদেশি সাংবাদিককে নিয়ন্ত্রিতভাবে বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকা সফর করিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন লেখানোর ফব্দি আঁটে। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। নিজ চোখে সব দেখে তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা সম্পর্কে অবহিত হয় এবং সত্য কথা লিখে পত্রিকা ও বেতারের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে তা অবহিত করে।
- এভাবে এস্থনি ম্যাসকারেনহাস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য সারা বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে গেছেন।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।

⇒ আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকণ্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ' বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

১,২৫৭.
যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক দল নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা ছিলেন কে?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  3. মওলানা আতাহার আলী
  4. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
মওলানা আতাহার আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মওলানা আতাহার আলী
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি: শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি: মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল: হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

→ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হয়।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,২৫৮.
Which type of organization is Tamaddun Majlish?
  1. ক) Literary
  2. খ) Cultural
  3. গ) Political
  4. ঘ) Both a+b
সঠিক উত্তর:
ঘ) Both a+b
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Both a+b
ব্যাখ্যা
• তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। 
- প্রতিষ্ঠা ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
- উদ্যোক্তা: অধ্যাপক আবুল কাশেম, পদার্থবিজ্ঞান , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
- অন্য সদস্যরা ছিলেন: কাজী মোতাহার হোসেন,আবুল মনসুর আহমদ
- ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে পুস্তিকা প্রকাশ- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর।
- প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক: অধ্যাপক আবুল কাশেম।
- প্রথম সভাপতি: দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ।

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৯.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. ১২ জানুয়ারি ১৯৭২
  4. ৭ মার্চ ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ জানুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদারী থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি কারাগার হতে মুক্তি দেওয়া হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি লন্ডন হয়ে বিজয়ীর বেশে স্বদেশ প্রর্ত্যাবর্তন করেন। সারা দেশে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের বন্যা বয়ে যায়।
- সমাজের সর্বস্তরের লাখো জনতা তেজগাঁ পুরাতন বিমানবন্দরে তাঁকে বীরোচিত অভ্যর্থনা জানায়।
- লন্ডন থেকে প্রকাশিত দৈনিক গার্ডিয়ান পত্রিকার ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল : ‘শেখ মুজিব ঢাকা বিমানবন্দরে পর্দাপণ করা মাত্র নতুন প্রজাতন্ত্র এক সুদৃঢ় বাস্তবতা লাভ করে।’

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,২৬০.
বক্সারের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৭৫৪ সালে
  2. ১৭৫৬ সালে
  3. ১৭৬৪ সালে
  4. ১৭৬৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ। 
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
 
⇒ ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬১.
রাজারবাগ পুলিশ লাইনে দুর্জয় ভাস্কর্যটির শিল্পী কে?
  1. ক) নভেরা আহমেদ
  2. খ) শামীম শিকদার
  3. গ) মৃণাল হক
  4. ঘ) হামিদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
গ) মৃণাল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৃণাল হক
ব্যাখ্যা

- রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত 'দুর্জয়' ভাস্কর্যটির শিল্পী মৃণাল হক।
তার আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য:
- মতিঝিলের - ‘বলাকা’
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে - ‘রত্নদ্বীপ’,
- হোটেল শেরাটনের সামনে - ‘রাজসিক’,
- পরীবাগ মোড়ে - ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা’,
- ইস্কাটনে - ‘কোতোয়াল’,
- সাতরাস্তায় - ‘ময়ূর’,
- এয়ারপোর্ট গোল চত্বরের - ভাস্কর্য,
- নৌ সদর দপ্তরের সামনে - ‘অতলান্তিকে বসতি’ ইত্যাদি।

সূত্র: প্রথম আলো রিপোর্ট

১,২৬২.
মুক্তিযুদ্ধে মোট সাব-সেক্টর কয়টি ছিল?
  1. ক) ১১টি
  2. খ) ৫৪টি
  3. গ) ৬৪টি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়। ৬৪টি সাব-সেক্টর পরবর্তীতে ৬৪টি জেলা হয়। উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
১,২৬৩.
ল্যান্স নায়েক নূর মােহাম্মদ শেখ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ৬ নম্বর
  2. ৭ নম্বর
  3. ৮ নম্বর
  4. ৯ নম্বর
সঠিক উত্তর:
৮ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ নম্বর
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ ও দায়িত্বরত সেক্টর:
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১,২৬৪.
ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান কবে শহীদ হন?
  1. ১৯৬৮ সালের ২০ জানুয়ারি
  2. ১৯৬৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি
  4. ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
আসাদুজ্জামান আসাদ: 
- ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে উত্তাল দেশ।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি এ দেশের ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দিলেন ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান।
- আসাদের মৃত্যু যেন গণ-আন্দোলনের আগল খুলে দিলো; স্ফুলিঙ্গ হয়ে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল সারা দেশে।
- গণজাগরণ রূপ নিলো গণ-অভ্যুত্থানে। শহীদ আসাদের শার্ট হয়ে উঠল বাঙালির প্রাণের পতাকা।
- বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে ঊনসত্তরকে ধরা হয় অন্যতম মাইলফলক হিসেবে।
- কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এই মহাবিদ্রোহের ভিত্তি রচিত হয়েছিল বাংলার ছাত্রসমাজের হাতে যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে নিয়ে যায় চূড়ান্ত স্বাধীনতার পথে।

উৎস: The Daily Star বাংলা (২০ জানুয়ারি, ২০২৪)
১,২৬৫.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠিত হয় কখন?
  1. ২৩ নভেম্বর
  2. ২৭ নভেম্বর
  3. ২১ নভেম্বর
  4. ২৪ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী:
- ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করেছিল।
- পাকিস্তান ৩রা ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করে।
- ৬-১৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যােগ দেয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

সূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬৬.
“স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় কখন?
  1. ক) ১ মার্চ , ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ , ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল , ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল , ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ক) ১ মার্চ , ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ মার্চ , ১৯৭১
ব্যাখ্যা

- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় ।
“স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন -

১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)

- এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬৭.
সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কত সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. ক) 1975
  2. খ) 1973
  3. গ) 1971
  4. ঘ) 1972
সঠিক উত্তর:
খ) 1973
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 1973
ব্যাখ্যা
সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ১৯৭৩ সালের ১৪ই মে বীমা কর্পোরেশন এক্ট-১৯৭৩ (এক্ট নং-৬) অনুযায়ী বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান হিসাবে সকল ধরণের সাধারণ বীমা ও পুনঃবীমা ব্যবসা করার নিমিত্তে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
Source:sbc.gov.bd
১,২৬৮.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মোট কতটি আসন লাভ করে?
  1. ২১৭টি
  2. ২৩৭টি
  3. ২২৮টি
  4. ২২৩টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা
-  ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম আসনে ২১৫টি ও স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে যোগদান করে ফলে যুক্তফ্রন্ট সর্বমোট ২২৩টি আসন লাভ করে। 

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ফলাফল: 

- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রভৃতি কারণে ভোটদানের হার কম ছিল।
- নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হয় ২ এপ্রিল।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলমান আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২১৫টি, মুসলিম লীগ ৯টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১২টি আসন।
- মুসলমান আসনে স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে ও ১ জন মুসলিম লীগে যোগদান করেন
- যুক্তফ্রন্টের শরিকদলগুলোর মধ্যে আসনসংখ্যা নিম্নরূপ হয়: আওয়ামী লীগ ১৪২, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ৪৮, নেজামে ইসলামী ১৯, গণতন্ত্রী দল ১৩ (১টি আসনে দলীয় পরিচয় অস্পষ্ট)।
- ৭২টি অমুসলমান আসনের ২৪টিতে জাতীয় কংগ্রেস, ২৭টিতে তফশিলি ফেডারেশন (রসরাজ মন্ডল গ্রুপ), সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট ১৩টি (এর মধ্যে গণতন্ত্রী দল ৩টি), কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, বৌদ্ধ ২টি, খ্রিস্টান ১টি এবং স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৯.
ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৬১০ সালে
  2. খ) ১৮৬৪ সালে
  3. গ) ১৯৬০ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৩ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৬৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
১৮৬৪ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। 
- ১৯৬০ সালে এটিকে টাউন কমিটিতে রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। 
- ১৯৮৩ সালে একে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নীত করা হয়।
- ১৯৯০ সালে ঢাকা শহরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয় 

• ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে ঢাকার নাম করেন জাহাঙ্গীরনগর।

সূত্র: ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৭০.
১৯৭১ সালের কত তারিখ মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার গঠন অনুমোদন দেয়া হয়?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১২ এপ্রিল
  3. ১৩ এপ্রিল
  4. ১৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
১৩ এপ্রিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার:
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশি দেশ ভারতে আশ্রয় নেন। 
- তারা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। 
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়। 
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের সদস্যদের শপথ পাঠ করান । 
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন। 
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেট্রিক পাশ করেন কত সালে?
  1. ক) ১৯৪০ সালে
  2. খ) ১৯৪১ সালে
  3. গ) ১৯৪২ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪২ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান। 
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,২৭২.
বাংলার সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ 
  2. শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ 
  3. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ 
সঠিক উত্তর:
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি: 
- তেরো শতকের শুরুতে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাংশে সেন শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।
- উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দাসত-ই মার্গ) এর বাসিন্দা মুহাম্মদ বখতিয়ার ছিলেন জাতিতে তুর্কি, বংশে খলজি এবং বৃত্তিতে ভাগ্যান্বেষী সৈনিক।
- বখতিয়ার খলজির নদীয়া জয়ের সঠিক তারিখ সম্বন্ধে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে।
- তবে বর্তমানে ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দই নদীয়া জয়ের সময় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- এরপর বখতিয়ার নদীয়া ত্যাগ করে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসর হন।
- তিনি লক্ষণাবতী জয় করে সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন।
- লক্ষণাবতীই মুসলমান আমলে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
- গৌড়ের পর বখতিয়ার আরও পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায় নিজ অধিকার বিস্তার করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,২৭৩.
তমদ্দুন মজলিশ কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?
  1. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  2. আব্দুস সালাম
  3. আবদুল মতিন
  4. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

- অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের পটভূমি:

- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
- সে সময় মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মতামত দেন।
- তখনই আবদুল হক ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ বাংলার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থী ও লেখকগণ এর প্রতিবাদ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
- যেখানে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১,২৭৪.
কোন এলাকাকে 'Marine Protected Area (MPA)' ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. সেন্টমার্টিন
  2. সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
  3. পটুয়াখালী ও বরগুনা
  4. হিরন পয়েন্ট
সঠিক উত্তর:
সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
ব্যাখ্যা
'Marine Protected Area (MPA):
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও এর আশেপাশের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে।
- এর আগে ১৯৯৯ সালে ৫৯০ হেক্টর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ‘সেন্টমার্টিন মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
- নতুন ঘোষণায় সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও এর আশেপাশের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের ৭০ মিটার গভীর সমুদ্র যোগ হয়েছে।
- অনিয়ন্ত্রিত জাহাজ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচল, মাত্রাতিরিক্ত মৎস্য সম্পদ আহরণ, সমুদ্রে বর্জ্য ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ নিক্ষেপ, প্রবাল উপনিবেশ ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এই উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (১২ জানুয়ারি, ২০২২)।
১,২৭৫.
অপারেশন সার্চ লাইট বাস্তবায়নে ঢাকার বাহিরের দায়িত্বে ছিলো -
  1. ক) রাও ফরমান আলী
  2. খ) জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  3. গ) জেনারেল টিক্কা খান
  4. ঘ) জেনারেল আবদুল হামিদ খান
সঠিক উত্তর:
খ) জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।এবং
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৭৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত-
  1. অপারেশন সার্চ ফ্রিডম
  2. অপারেশন অ্যানাকোন্ডা
  3. অপারেশন সার্চ লাইট
  4. অপারেশন ব্ল‍্যাক থান্ডার স্টর্ম
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চ লাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সার্চ লাইট
ব্যাখ্যা
• অপারেশন সার্চ লাইট:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে ভয়াবহ গণহত্যা অভিযান চালায়, তার নাম ছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'। যদিও হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ এ অভিযান শুরু করেছিল, তবে মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল মার্চ মাসের শুরু থেকেই।
- ১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য বৈঠক শুরু হয়, কিন্তু অন্যদিকে পাকিস্তানি সরকার গোপনে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও গোলাবারুদ এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক প্রস্তুতি নেয়।
- ১৮ মার্চ টিক্কা খান এবং রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চ লাইট' এর নীলনকশা তৈরি করেন।
- ২৫ মার্চ রাতেই গণহত্যা শুরু করা হয়। এই পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন পাকিস্তানের গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,২৭৭.
বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫২ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৫৭ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
- কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়।
- এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে।
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি।
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

♦ প্রথম শহীদ মিনার
- প্রথম শহীদ মিনার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রথম শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে ফেলে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
১,২৭৮.
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের নির্মাতা কে?
  1. ক) গোপাল
  2. খ) ধর্মপাল
  3. গ) দেবপাল
  4. ঘ) রামপাল
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ধর্মপাল (৭৮১-৮২১) বৌদ্ধধর্মের প্রসারের লক্ষ্যে নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
এখনো পর্যন্ত সোমপুর বিহার ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ বিহার হিসেবে স্বীকৃত। এটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐহিত্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এছাড়া ভাগলপুরের বিক্রমশীল বিহারের নির্মাতাও ধর্মপাল।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,২৭৯.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় লোগোটি ডিজাইন করেন -
  1. ক) শিবনারায়ণ রায়
  2. খ) কামরুল হাসান
  3. গ) জয়নাল আবেদীন
  4. ঘ) এ এন সাহা
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ এন সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ এন সাহা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মনোগ্রামের ডিজাইনার  এ.এন. সাহা।

• বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি:

- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার কামরুল হাসান।
- কামরুল হাসান বাংলাদেশের স্বাধীকার ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (১৯৬৯-৭০) এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 
- এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে,দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে’ - তিন কন্যা ,কামরুল হাসানের এসব চিত্রকর্মের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতা, অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে নির্ভীক প্রতিবাদী মানসিকতা, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সমাজসচেতনতাই প্রকাশিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের আন্তজার্তিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী হলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
- বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কার্টুনিস্ট হলেন রফিকুন্নবী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৮০.
'কুতুব মিনার' কোথায় অবস্থিত?
  1. চীন
  2. ভারত
  3. বার্মা
  4. বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত
ব্যাখ্যা
• কুতুব মিনার
- দিল্লির কুতুব মিনার ইট দিয়ে তৈরি বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার।
- লাল বেলেপাথরের এই মিনার সৌন্দর্য আর ইতিহাসকে ধারণ করে আজো সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের মাটিতে।

- ১১৯৩ সালে দিল্লি জয় করেন কুতুবুদ্দিন আইবক; ভারতের প্রথম মুসলিম শাসক ছিলেন তিনি।
- কুতুবুদ্দিনের আদেশে ১১৯৩ সালে কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
- তবে ১৩৮৬ সালে মিনারের উপরের তলাগুলোর কাজ সম্পূর্ণ করেন ফিরোজ শাহ তুঘলক।
- ভূমিকম্প ও বজ্রপাতে একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুতুব মিনার, যা পরবর্তী শাসকরা সংস্কার করেন।
- মিনারের আশেপাশে বেশকিছু প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় স্থাপনা ও ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা কুতুব মিনার কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত।
-দূর্গের কিল্লা রাই পিথোরার ধ্বংসাবশেষের উপর নির্মিত হয়েছিল কুতুব মিনার।
- কুতুব মিনারের পাঁচটি তল রয়েছে, প্রতিটি তলে রয়েছে একটি ঝুলন্ত বারান্দা।  
- মিনারের পাদদেশের ব্যাস ১৪ দশমিক ৩ মিটার, যা ধীরে ধীরে সংকীর্ণ হয়ে ৭২ দশমিক ৫ মিটার উচ্চতায় শীর্ষে ২ দশমিক ৭ মিটার সরু হয়েছে।
- লাল বেলেপাথরে তৈরি মিনারে খোদাই করা আছে পবিত্র কোরআনের আয়াত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
১,২৮১.
বাংলাদেশের কোন ঋতুকে স্বতন্ত্র ঋতু বলা হয়?
  1. ক) শরৎ
  2. খ) বর্ষা
  3. গ) হেমন্ত
  4. ঘ) বসন্ত
সঠিক উত্তর:
খ) বর্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বর্ষা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বর্ষা ঋতুকে 'স্বতন্ত্র ঋতু' বলা হয়।
উৎসঃদৈনিক যুগান্তর
১,২৮২.
নিম্নের কোন ব্যক্তি ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেন?
  1. সিরাজুল আলম খান
  2. কাজী আরেফ আহমেদ
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. বর্ণিত সবাই
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:
- পাকিস্তানের কাঠামোয় বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ ঘটা অসম্ভব বিবেচনা করে তৎকালীন ছাত্র সমাজের নেতৃস্থানীয় কয়েকজন ১৯৬২ সালে গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ এই ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দেন জনাব সিরাজুল আলম খান, জনাব আবদুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদ।
এই সংগঠন 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে পরিচিত ছিল।

উল্লেখ্য,
- পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে সুস্পষ্ট দু’টি ধারা বিদ্যমান ছিল।
- একটি ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজস্ব রাজনীতির ধারা এবং অপর অংশের ঝোঁক ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতি।
- সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নিজস্ব রাজনীতির ধারার তিনজন ছাত্রনেতা ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গোপন সংগঠন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেন।
- তিন সদস্যের এই ক্ষুদ্র সত্তা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
১,২৮৩.
উপমহাদেশে সর্ব প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড মেয়ো
  3. লর্ড ক্লাইভ
  4. লর্ড রিপন
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং। 

• লর্ড ক্যানিং:

- প্রথম ভাইসরয় লর্ড জন ক্যানিং ১৮৬১ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
- এর আগে মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহৃত হতো।
- উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন- লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন লর্ড ক্যানিং (১৮৬১ সালে)।
- ১৮৬১ সালে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন।
- লর্ড রিপনকে ভারতীয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের জনক বলা হয়।
- বঙ্গবঙ্গ (১৯০৫) কার্যকর হয় লর্ড কার্জনের সময়ে।
- লর্ড মেয়োর শাসনামলেই ভারতবর্ষের প্রথম আদমশুমারি চালু হয় ১৮৭২ সালে।
 
সূত্র- ইতিহাস ১ম পত্র এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৪.
যুক্তফ্রন্ট কয় দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে?
  1. ১৮ দফা
  2. ২১ দফা
  3. ২৪ দফা
  4. ১৫ দফা
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি এবং ২১ দফা কর্মসূচি: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল।
- এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ।
- ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক- শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসুচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,২৮৫.
ভারতবর্ষের প্রথম কামানের ব্যবহার হয় কোন যুদ্ধে?
  1. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ
  2. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

পানি পথের যুদ্ধ:
- পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

• পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- ফলাফল: ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন।
- পানি পথের প্রথম যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।

• পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল: হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

• পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল: মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৮৬.
বাংলা প্রদেশকে দ্বিখন্ডিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন -
  1. লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  4. পঞ্চম জর্জ
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ
- ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
-  পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
- এই সিদ্ধান্তের ফলে  ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু – মুসলমানদের সম্প্রতি নষ্ট হয়। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বাতন্ত্র্যবোধ প্রসার লাভ করে এবং ধর্মকেন্দ্রিক জাতীয়তার বীজ অঙ্কুরিত হয়।

- ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
- প্রচণ্ড গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে  ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল পুনরায় দুই বাংলা একত্রিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৭.
দেশের ১৬তম GI পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশের-
  1. ফজলী আম
  2. জামদানী শাড়ি
  3. শীতল পাটি
  4. রসগোল্লা
সঠিক উত্তর:
শীতল পাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতল পাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমানে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে - ১৭ টি পণ্য।
- সর্বশেষ ২০ জুলাই, ২০২৩ বাংলাদেশেরশীতলপাটি দেশের ১৬তম GI পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

• জিআই (GI):
- জিআই (GI) এর পূর্ণরূপ হলো (Geographical indication) ভৌগলিক নির্দেশক।
- ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical indication) হচ্ছে একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ এবং প্রচার করে।
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি।

• বাংলাদেশের GI পণ্য সমূহ:
১. জামদানি,
২. ইলিশ,
৩. চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাতি আম।
৪. বিজয়পুরের সাদা মাটি,
৫. দিনাজপুরের কাটারীভোগ,
৬. কালিজিরা,
৭. রংপুরের শতরঞ্জি,
৮. রাজশাহী সিল্ক,
৯. ঢাকাই মসলিন,
১০. বাগদা চিংড়ি,
১১. ফজলি আম,
১২. তুলসীমালা ধান,
১৩. বগুড়ার বিখ্যাত সরার দই,
১৪. ল্যাংড়া আম,
১৫. আশ্বিনা আম,
১৬. শীতলপাটি।
১৭. নাটোরের কাঁচাগোল্লা।

তথ্যসূত্র: পত্রিকার রিপোর্ট।
১,২৮৮.
কোন শতকে জৈন ধর্মের উদ্ভব হয়?
  1. ক) ৫ম শতক
  2. খ) ৬ ষ্ঠ শতক
  3. গ) ৭ম শতক
  4. ঘ) ৮ম শতক
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ষ্ঠ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৬ ষ্ঠ শতক
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন ভারতে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে জৈন ধর্মের উদ্ভব ঘটে।
- মহাবীর প্রবর্তিত ধর্ম হলো জৈন ধর্ম।
- মহাবীরের আসল নাম বর্ধমান। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৫৪০ অব্দে জন্মগ্রহণ এবং খ্রিস্টপূর্ব ৪৬৮ অব্দে মারা যান বলে অনুমান করা হয়।
- তবে কিছু ঐতিহাসিকের মতে জৈন ধর্মের প্রবর্তক খষভদেব বা আদিনাথ। তাদের মতে জৈন ধর্মের প্রচারক সংখ্যা ২৩ জন এবং এদের মধ্যে মহাবীর হলেন সর্বশেষ প্রচারক।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।

১,২৮৯.
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে নিচের কোন দাবিটি ছিল না?
  1. মার্শাল ল প্রত্যাহার
  2. জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
  3. পুনরায় নির্বাচন করা
  4. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
সঠিক উত্তর:
পুনরায় নির্বাচন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরায় নির্বাচন করা
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেয়।
- উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়।
- এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।
- ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয়:
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং,
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা 'We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History' শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে 'World's Documentary Heritage' এর মর্যাদা দিয়ে 'International Memory of the World Register'- এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বঙ্গবন্ধুর সেই অমর ভাষণকে  ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯০.
’জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ প্রথম নারী শহীদ কে?
  1. নাহিদা সুলতানা
  2. নাঈমা সুলতানা 
  3. সাবিনা আক্তার 
  4. আফিয়া খাতুন 
সঠিক উত্তর:
নাঈমা সুলতানা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাঈমা সুলতানা 
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান:
- ৮৪৪ জন জুলাই শহীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছিল।
​- তবে আটজন শহীদের নাম বাতিল করেছে।
​- বর্তমানে গেজেটেড শহীদ ৮৩৬ জন।
- এর মধ্যে ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জন নারীর নাম রয়েছে।
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
- প্রথম নারী শহীদ নাঈমা সুলতানা।
- সময়: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরার বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

১,২৯১.
এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাঙালি কে?
  1. ক) নিশাত মজুমদার
  2. খ) সত্যব্রত দাস
  3. গ) মুসা ইব্রাহিম
  4. ঘ) ওয়াসফিয়া নাজরিন
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যব্রত দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সত্যব্রত দাস
ব্যাখ্যা

প্রথম বাঙালি এভারেস্ট বিজয়ী : সত্যব্রত দাস, ভারত।
প্রথম বাঙালি নারী এভারেস্ট বিজয়ী : শিপ্রা মজুমদার।
প্রথম বাংলাদেশি এভারেস্ট বিজয়ী : মুসা ইব্রাহীম।
এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী : নিশাত মজুমদার।

সূত্রঃ সমকাল।

১,২৯২.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মূলমন্ত্র কী ছিল?
  1. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
  2. পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন
  3. অর্থনৈতিক উন্নতি
  4. স্বাধীন রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মূলমন্ত্র প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯৩.
বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখা প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন কে?
  1. আবুল হোসেন
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. আবদুল মতিন
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট (১৯৪৮–১৯৫০)
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষাকে আরবি হরফে লেখার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সেই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
- বাংলা ভাষাকে বিকৃত করার এই চেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়, যা তথাকথিত ভাষা সংস্কারের নামে বাংলা ভাষার অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিরোধিতা করে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
- ভাষার অধিকার রক্ষায় নতুন করে আন্দোলনের সংগঠিত প্রয়াস শুরু হয়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- এই কমিটির নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় এবং জনগণের সচেতনতা ও প্রতিবাদের মাধ্যমে তা আরও বেগবান হয়ে ওঠে।
- এই ধারাবাহিকতা ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের দিকে ধাবিত করে, যার ভিত্তিতে পরবর্তীতে বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,২৯৪.
পরিবার কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. সাংস্কৃতিক
  4. ব্যক্তিগত
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক
ব্যাখ্যা
পরিবার:
- সমাজের মৌলিক ও ক্ষুদ্রতম মৌলিক প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার।
- পরিবার সমাজ কাঠামোর মৌল অঙ্গ সংগঠন।
- এই পরিবার মানব সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই সমাজে বিদ্যমান।
- তাই এর সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে।
- পরিবারের সাথেই মানুষের আন্তরিক এবং অনেকটা অকৃত্রিম সামাজিক মিথস্ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।
- তাই পরিবার একটি সার্বজনীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

⇒ সাধারণত পরিবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে বিশ্বজনীনতা আবেগপূর্ণতা সদস্যদের দায়িত্বশীলতা, স্থায়ীত্ব।
- পরিবারের কর্তৃত্বানুযায়ী পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ও মাতৃতান্ত্রিক পরিবার, বংশানুক্রমিক অনুযায়ী : মাতৃবংশানুক্রমিক পরিবার ও পিতৃবংশানুক্রমিক পরিবার এবং পরিবারের আকার অনুযায়ী ও আধুনিককালে অনুপরিবার, যৌথ পরিবার ও বর্ধিত পরিবার শ্রেণী ভাগ করা হয়ে থাকে।
- মূলতঃ পরিবার যে সব কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে তা হচ্ছে জৈবিক কার্যাবলী, সন্তান জন্মদান ও লালন পালন, অর্থনৈতিক, দৈহিক ও মানসিক পরিতৃপ্তি, নিরাপত্তামূলক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কার্যাবলী।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব নগর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ১০
  2. খ) ৮
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৮
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,২৯৬.
বাংলায় দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন কে?
  1. লর্ড কর্ণওয়ালিশ
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. লর্ড কার্জন 
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন:
- রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করেন।
- রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে।
- দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- অর্থাৎ যাতে করে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।

উল্লেখ্য, 
- এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ক্ষতিকর ছিল (দুর্নীতি, শোষণ, ১৭৭০-এর মন্বন্তর ইত্যাদি)।
- তাই ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings) এই দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চিরতরে বিলুপ্ত করেন।
- কোম্পানি সরাসরি বাংলার প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করে, নবাবকে কেবল একজন ভাতাভোগীতে পরিণত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯৭.
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্তর নয় কোনটি?
  1. প্রাথমিক শিক্ষা
  2. উচ্চশিক্ষা
  3. মাধ্যমিক শিক্ষা
  4. নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা

- 'নিম্ন-মাধ্যমিক শিক্ষা' শিক্ষা ব্যবস্থার স্তর নয়।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা:

- বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট।

• স্তরসমূহ:
- প্রাথমিক স্তর
- মাধ্যমিক স্তর
- উচ্চশিক্ষা/বিশ্ববিদ্যালয় স্তর

উল্লেখ্য,
- প্রাথমিক শিক্ষা: ৫ বছর মেয়াদি।
- মাধ্যমিক শিক্ষা: ৭ বছর মেয়াদি (এর মধ্যে ২ বছর উচ্চমাধ্যমিক)।
- বিশ্ববিদ্যালয়/উচ্চশিক্ষা: সাধারণত ৩–৫ বছর মেয়াদি।
- শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দফতর: শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উৎস: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, bangladesh.gov.bd.

১,২৯৮.
ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় -
  1. ক) ১৯৪১
  2. খ) ১৯৪২ 
  3. গ) ১৯৩৯
  4. ঘ) ১৯৪৪
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪২ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৪২ 
ব্যাখ্যা
ভারত ছাড় আন্দোলন, ১৯৪২ 
• ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাপক আন্দোলন ভারত ছাড় আন্দোলন।
• গান্ধী হরিজন পত্রিকায় ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারত ছাড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
• গান্ধীর মনোভাব লক্ষ্য করে কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি ১৯৪২ সালের ১৪ জুলাই গান্ধীর ভারত ছাড়  নীতি অনুমোদন করে। • কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি সিদ্ধন্ত গ্রহন করে যে অবিলম্বে ব্রিটিশ সরকারকে ভারত ছাড়তে হবে নতুবা দেশব্যাপী তারা আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করবে।
• ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (বোম্বাইর) অধিবেশনে বিখ্যাত ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয় এবং পরপরই যতদূর সম্ভব ব্যাপকভাবে অহিংস পথে গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৯.
তেভাগা আন্দোলন কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. দিনাজপুর
  2. চট্টগ্রাম
  3. নাটোর
  4. নওগাঁ
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। 
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩০০.
প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. সৌদি আরব
  2. ইরান
  3. ইরাক
  4. ফিলস্তিন
সঠিক উত্তর:
ইরাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরাক
ব্যাখ্যা

• মধ্যপ্রাচ্যের দেশের বাংলাদেশকে স্বীকৃতি:
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালের ৮ জুলাই ইরাক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। 
- এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ।

অন্যদিকে -
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২৮ মার্চ, ১৯৭৩।
- মিশর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩।
- জর্ডান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ অক্টোবর ১৯৭৩। 
- কুয়েত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৪ নভেম্বর ১৯৭৩।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪।
- সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৬ আগস্ট, ১৯৭৫।

উৎস: বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান)।