বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১ / ১২৪ · ১,০০১১,১০০ / ১২,৪২১

১,০০১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘ওরা ১১ জন’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. আমজাদ হোসেন
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. খান আতাউর রহমান
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

ওরা ১১ জন:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা ১১ জন'।
- পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, সৈয়দ হাসান ইমাম, এটিএম শামসুজ্জামান, খলিলউল্লাহ খান প্রমুখ।
- এ সিনেমায় ১১ জনের ১০ জন ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।
- তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খসরু, মুরাদ, হেলাল ও নান্টু।

উৎস: ইত্তেফাক পত্রিকা।

১,০০২.
ভাষা আন্দোলন বাংলা কোন সনে হয়েছিল?
  1. ১৩৬০ সনে
  2. ১৩৫৮ সনে
  3. ১৩৫৭ সনে
  4. ১৩৫৫ সনে
সঠিক উত্তর:
১৩৫৮ সনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৫৮ সনে
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারি:
- ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় দিনটি ছিল বাংলা ১৩৫৮ সনের ৮ ফাল্গুন।
- দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০০৩.
"অবিভক্ত স্বাধীন বঙ্গই আমাদের দাবি করা উচিত।" - উক্তিটি কার?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. গ) এ. কে. ফজলুল হক
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলা

১৯৪৭ সালের ৩ জুন পরিকল্পনায় ব্রিটিশ-ভারতের সর্বশেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের স্বাধীনতা এবং 'পাকিস্তান' দাবি মেনে নেওয়ার পাশাপাশি 'বাংলা' এবং 'পাঞ্জাব প্রদেশকে বিভক্ত করার প্রস্তাব করেন। মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের অনেক নেতা এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। হিন্দু মহাসভার নেতাগণ হর্ষোৎফুল হয়ে বঙ্গ বিভাগকে স্বাগত জানান। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গ বিভাগের পরিণামের কথা চিন্তা করে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, 'বঙ্গ বিভাগ করা হলে ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশেই বাঙালিরা দুর্বল হয়ে পড়বে। যুক্ত বাংলার অবিভাজ্য সত্তাকে দুভাগে ভাগ করার অর্থ উভয় বাংলার শক্তিকে পঙ্গু করার ব্যবস্থা।

দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন যে, “বৃহত্তর বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমানদের এক স্বাধীন সম্মিলিত রাষ্ট্র গঠন করে আমরা বাংলাকে সর্বতোভাবে উন্নত করে তুলতে চাই। বঙ্গভঙ্গের পরিবর্তে হিন্দু-মুসলমানদের 'অবিভক্ত স্বাধীন বঙ্গই' আমাদের দাবি করা উচিত।"

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর 'অবিভক্ত বাংলা রাষ্ট্র' দাবির সমর্থনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগ সম্পাদক জনাব আবুল হাশিম, বাংলা কংগ্রেস দলের নেতা শরৎ বসু, কিরণ শংকর রায় প্রমুখ আন্দোলন শুরু করেন।

- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং মহাত্মা গান্ধীও 'অবিভক্ত বাংলার' জন্য সোহরাওয়ার্দীর প্রচেষ্টাকে সমর্থন প্রদান করেন।
- কিন্তু মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ও খাজা নাজিমুদ্দিনের সমর্থক মুসলিম লীগ নেতা এবং পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু ও সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের সমর্থক কংগ্রেস নেতাদের অদূরদর্শিতা এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দু মহাসভা নেতাদের একগুঁয়েমির জন্য ‘অবিভক্ত বাংলা' গঠনের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,০০৪.
‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় কত তারিখ?
  1. ২৯ জুলাই ২০২৪
  2. ৩০ জুলাই ২০২৪
  3. ৩১ জুলাই ২০২৪
  4. ১ আগস্ট ২০২৪
সঠিক উত্তর:
৩০ জুলাই ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ জুলাই ২০২৪
ব্যাখ্যা

'মার্চ ফর জাস্টিস' কর্মসূচি:

→ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা ও গুমের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই বুধবার সারাদেশে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

→ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের রাত সোয়া ১১টার দিকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

→ কর্মসূচির ঘোষণায় বলা হয়, ‘সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা, গুম-খুনের প্রতিবাদে ও জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্তপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং ছাত্রসমাজের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশের সব আদালত, ক্যাম্পাস ও রাজপথে আগামীকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করা হবে।’ 


⇒ ৩০ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করার ঘোষণা দিয়েছে।
- ৩১ জুলাই, ২০২৪ তারিখে তারা মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচী পালন করেছে।
- ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

উৎস: প্রথম আলো।

১,০০৫.
বারোভূঁইয়াদের মধ্যে অন্যতম লক্ষণ মাণিক্য বাংলার কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. ভাওয়াল
  2. বিক্রমপুর
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. ভুলুয়া
সঠিক উত্তর:
ভুলুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুলুয়া
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগে ষোল শতকের মাঝামাঝি থেকে সতের শতকের মধ্য সময় পর্যন্ত পূর্ব বাংলার যেসব জমিদার মুঘলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সচেষ্ট ছিলেন তারা ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।
- বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনারগাঁও এর জমিদার ঈসা খান এবং তার পুত্র মুসা খান।
বারোভূঁইয়াদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন:
- লক্ষণ মাণিক্য : ভুলুয়া (নোয়াখালী)
- চাঁদ রায় ও কেদার রায় : বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ)
- বাহাদুর গাজি : ভাওয়াল
- সোনাগাজি : সরাইল (উত্তর ত্রিপুরা)
- ওসমান খান : বোকাইনগর (সিলেট)
- বীর হামির বিষ্ণুপুর (বাকুড়া)
- পরমানন্দ রায় : চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল)
- বিনোদ রায়/মধু রায় : চান্দপ্রতাপ (মানিকগঞ্জ)
- মুকুন্দরা/সত্রজিৎ : ভূষণা (ফরিদপুর)
- রাজা কন্দর্পনারায়ণ/রামচন্দ্র : বরিশাল জেলার অংশবিশেষ।
- ১৬১১ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান বারোভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলা মুঘল অধিকারে আনেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০০৬.
মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) আগারগাঁও
  2. খ) বেতবুনিয়া
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) মিরপুর
সঠিক উত্তর:
ক) আগারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আগারগাঁও
ব্যাখ্যা
স্পারসো ঢাকার আগারগাঁও এ অবস্থিত।

• স্পারসো:

- বাংলাদেশ  মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৮০ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা স্পারসোকে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।

সূত্র: বাংলাদেশ  মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)।
১,০০৭.
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) জামালপুর
  4. ঘ) গাজীপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাজীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়:
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- ঢাকা শহর থেকে উত্তরে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস অবস্থিত।
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ১৭০০ অধিভুক্ত কলেজের মাধ্যমে এর শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করে।
- ১৯৯২ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইনের মাধ্যমে কৃষি, প্রকৌশল ও চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানকারী কলেজ ছাড়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার জন্য সক্ষম কলেজগুলি অধিভূক্ত করার ক্ষমতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর অর্পণ করা হয়েছে।
- ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট ৩৭ নং আইন পাশ করে। এই আইনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের কলেজ অধিভুক্তকরণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, জ্ঞান উন্নয়ন ও বিতরণের কাজে বিশেষ দৃষ্টি প্রদান, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, পরীক্ষার আয়োজন ও ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর।
- তাঁর পরেই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হলেন ভাইস-চ্যান্সেলর।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
১,০০৮.
মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ (Concert for Bangladesh) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ক) নিউইয়র্ক
  2. খ) বােস্টন
  3. গ) লন্ডন
  4. ঘ) ক্যানবেরা
সঠিক উত্তর:
ক) নিউইয়র্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিউইয়র্ক
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
- এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর।
- তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ এই কনসার্টে অংশগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট।
১,০০৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান জাতিসংঘের কততম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন?
  1. ক) ২৮তম
  2. খ) ২৯তম
  3. গ) ৩২তম
  4. ঘ) ৩০তম
সঠিক উত্তর:
খ) ২৯তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৯তম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করেন।
- একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ২৯তম অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন।
- বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের কেবল ২৯তম অধিবেশনেই অংশগ্রহণ করেন।


(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,০১০.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
  2. ড. মোশাররফ হোসেন
  3. ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
  4. ড. আনিসুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
 
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১১.
সেনাবাহিনীর কতজন সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদক প্রাপ্ত হয়েছেন?
  1. ৬৮ জন
  2. ৫০ জন
  3. ৪৮ জন
  4. ৫১ জন
সঠিক উত্তর:
৪৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৮ জন
ব্যাখ্যা

১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

এবার আমাদের প্রশ্নে আসা যাক,
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদক প্রাপ্ত -
সেনাবাহিনী - ৪৮ [লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিমকে বাদ দিয়ে]
নৌ বাহিনী - ৮
বিমান বাহিনী - ৬
গণবাহিনী - ৫

এছাড়া, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন কর্ণেল জামিল। তিনি ২০০৯ সালে বীর উত্তম উপাধি পান।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৮ জন
এবং কর্ণেল জামিলসহ ‘বীর উত্তম’ পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী থেকে - ৪৯ জন।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।

১,০১২.
দেশের সর্বশেষ শিক্ষা বোর্ড কোনটি?
  1. দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড
  2. ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
  3. বরিশাল শিক্ষা বোর্ড
  4. সিলেট শিক্ষা বোর্ড
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে।
এগুলো হলো:
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা (৭ মে ১৯২১)
- বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (১৯৫৪)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী (১৯৬১)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা (১৯৬২)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, যশোর (১৯৬৫)
- বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (১৯৭৮)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম (১৯৯৫)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল (১৯৯৯)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, সিলেট (১৯৯৯)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর (স্থাপিত : ২০০৬ সালে; কার্যক্রম শুরু ২০০৯ সালে)
- মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ (২৮ আগস্ট ২০১৭)
(তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়)
১,০১৩.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন -
  1. ক) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) ইউসুফ আলী
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
১,০১৪.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর চিত্তরঞ্জন দাশ
  2. মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
  3. মেজর আবু হায়দার চৌধুরী
  4. মেজর জিয়াউর রহমান 
সঠিক উত্তর:
মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নং সেক্টর
- এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ  নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর। 
- এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে। 
- সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য। 
 
• এই সেক্টরের সাতটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে: 
- বয়রা (ক্যাপ্টেন খোন্দকার নজমুল হুদা); 
- হাকিমপুর (ক্যাপ্টেন শফিক উল্লাহ); 
- ভোমরা (ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এবং পরে ক্যাপ্টেন শাহাবুদ্দীন); 
- লালবাজার (ক্যাপ্টেন এ.আর আযম চৌধুরী); 
- বানপুর (ক্যাপ্টেন মুস্তাফিজুর রহমান); 
- বেনাপোল (ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম এবং পরে ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী);
- শিকারপুর (ক্যাপ্টেন তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং পরে লেফটেন্যান্ট জাহাঙ্গীর)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,০১৫.
বাংলাদেশের তৈরি প্রথম ল্যাপটপ এর নাম কি?
  1. ক) শাপলা
  2. খ) বিজয়
  3. গ) দোয়েল
  4. ঘ) অ্যাপল
সঠিক উত্তর:
গ) দোয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দোয়েল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তৈরি সর্ব প্রথম ল্যাপটপ ‘দোয়েল'। সূত্রঃ dw.com
১,০১৬.
’সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের’ আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. আবুল কাসেম
  2. আব্দুল মতিন 
  3. কাজী গোলাম মাহবুব
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

 ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন।
- এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে।
- আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে নতুনভাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়।
- ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ হরতাল পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
 -  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম উদ্যেগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০১৭.
ছয় দফার প্রথম দফা কোনটি? 
  1. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি
  2. মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক
  3. রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক
  4. বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য
সঠিক উত্তর:
শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি
ব্যাখ্যা

- পাক-ভারত যুদ্ধ সমাপ্ত হলে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমান সম্মেলনে যোগদানের জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি লাহোর পৌঁছেন।
- এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মোট ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ
প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০১৮.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণের দলিল কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  2. খ) শিশুপার্ক
  3. গ) লালদিঘী ময়দান
  4. ঘ) রমনা পার্ক
সঠিক উত্তর:
ক) সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
ব্যাখ্যা

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চীফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জ্যাকব পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খসড়া দলিল নিয়ে অপরাহ্ণ এক ঘটিকায় ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরা এক হেলিকপ্টার বহরে তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে বিকাল চারটায় ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেন।
পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি চীফ অব স্টাফ গ্রুপ-ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,০১৯.
’স্বত্ববিলোপ নীতি‘ আরোপ করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যে-সব নীতি অবলম্বন করে সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হল স্বত্ববিলোপ নীতি।, কোনো ব্রিটিশ আশ্রিত দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে এই নীতি স্বত্ববিলোপ নীতি নামে পরিচিত।
- স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তক- লর্ড ডালহৌসি।
- ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করা হয়।
- স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ডালহৌসি সর্বপ্রথম সাঁতারা রাজ্য দখল করেন
- স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করেন-মহারানি ভিক্টোরিয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

১,০২০.
ঐতিহাসিক ছয় দফার দ্বিতীয় দফা কোনটি?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  3. মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  4. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০২১.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী?
  1. ইউজিসি
  2. সিপিডি
  3. দুদক
  4. এনবিআর
সঠিক উত্তর:
সিপিডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপিডি
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি। এটি একটি নির্দলীয় বা অরাজনৈতিক সামাজিক গোষ্ঠী যাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে।

তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকার কাঠামোর অংশ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
১,০২২.
উয়ারি-বটেশ্বর কোন সাম্রাজ্যের আমলে বিকশিত হয়?
  1. ক) মৌর্য
  2. খ) পাল
  3. গ) সেন
  4. ঘ) মোগল
সঠিক উত্তর:
ক) মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৌর্য
ব্যাখ্যা
উয়ারি-বটেশ্বর
অবস্থান: 
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অদূরে নরসিংদী জেলার বেলাব ও শিবচর উপজেলার ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে উয়ারি এবং বটেশ্বর গ্রামের অবস্থান। উয়ারি ও বটেশ্বর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ভিন্ন গ্রাম হলেও প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দেশন হিসেবে একসাথে উচ্চারণ করা হয় । গ্রাম দু'টি আশে-পশের সমতল ভূমি থেকে একটু উঁচু। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র এবং আড়িয়াল খাঁ নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে কয়রা নদীর দক্ষিণ তীরে উয়ারি এবং বটেশ্বর গ্রামের অবস্থান। সম্প্রতি আবিষ্কৃত হলেও এটি ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

উৎপত্তিঃ 
নব্যপ্রস্তর যুগের পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নগর সভ্যতার গোড়াপত্তন হতে থাকে। মিশর, মেসোপটেমিয়া, সিন্ধু সভ্যতা অনুরূপ নগর সভ্যতা হিসেবে স্বীকৃত। মহাস্থানগড় এবং উয়ারি-বটেশ্বর হচ্ছে এর পরবর্তী প্রজন্মের নগর সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ অব্দে একটি দুর্গ নগর হিসেবে উয়ারি-বটেশ্বরের আত্মপ্রকাশ ঘটে বলে ধারণা করা হয়। গ্রিকো- রোমান গণিতবিদ টলেমি (Claudius Ptolemy, ১০০-১৭০খ্রি.) তাঁর Geographia গ্রন্থে উয়ারি-বটেশ্বরকে ‘সোনাগড়া’ বলে উল্লেখ করেছেন । তিনি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডেও অনুরূপ কিছু প্রাচীন বাণিজ্যিক নগরীর উল্লেখ করেছেন। 
 
মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্গত এই জনপদে ২৫০০ বছর পূর্বে সমৃদ্ধ সংস্কৃতির স্ফূরণ ঘটেছিল। কিন্তু এ সভ্যতা আধুনিক গ্রামীণ সভ্যতার নিচে চাপা পড়েছিল দীর্ঘকাল ।
 
উৎস : সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০২৩.
পাল রাজারা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. হিন্দুধর্ম
  2. জৈনধর্ম
  3. শাক্তধর্ম
  4. বৌদ্ধধর্ম
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধধর্ম
ব্যাখ্যা

পাল রাজারা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাদের আমলে অনেক বৌদ্ধবিহার নির্মিত হয়।  

পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২৪.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. ক) খাজা সলিমুল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ আহমদ খান
  3. গ) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. ঘ) আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
ক) খাজা সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাজা সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
• নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না।
• মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম ‍লীগে যোগ দেন। তবে ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে জিন্নাহর নেতৃত্বেই ‍মুসলিম লীগ ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,০২৫.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দেশ তার সপ্তম নৌবহরের যুদ্ধজাহাজ বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়েছিল?
  1. চীন
  2. যুক্তরাজ্য
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
শত্রু এবং মিত্র দেশ:
- পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার কথা পৃথিবীতে প্রচার হওয়ার পর পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেরই সমবেদনা বাংলাদেশের পক্ষে ছিল, তবে দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন পাকিস্তানের পক্ষে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।
- স্বাধীনতা সংগ্রামের একেবারে শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার সপ্তম নৌবহরের যুদ্ধজাহাজ বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়ে দিয়েছিল।
- স্বাধীনতা যুদ্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে যখন বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথবাহিনীর জয় একেবারে সুনিশ্চিত তখন সেই বিজয়ের মুহূর্তটিকে থামিয়ে দেবার জন্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলে যু্‌দ্ধ বিরতির প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দিয়ে এ প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়ে আমাদের বিজয়ের পথ সুনিশ্চিত করেছিল।
- তবে, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে দেশটির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি, সেই দেশ হচ্ছে ভারত।
- এই দেশটি প্রায় এক কোটি শরণার্থীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়েছিল, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ আর আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেছিল।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার পর ভারত মুক্তিবাহিনীর সাথে মিত্রবাহিনী হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেয়।
- এই যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় দেড় হাজার সৈনিক প্রাণ দিয়েছিল।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০২৬.
পঞ্চাশের মন্বন্তর কত খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৭০ সালে
  2. ১৮৫০ সালে
  3. ১৯৪৩ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় একে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।
এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
এই দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,০২৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতাকারী দেশ নয় কোনটি?
  1. ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ইরান
  3. গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
  4. ঘ) সৌদি আরব
সঠিক উত্তর:
গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইরান, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
- এদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে টাস্কফোর্স-৭৪ নামে নৌবহর প্রেরণ করে।
- তবে মার্কিন জনগণ, গণমাধ্যম ও কিছু কংগ্রেসম্যান পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানায় এবং বাঙালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়।
- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালিসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাধারণ জনগণ ও প্রচারমাধ্যমসমূহে পাকিস্তানী বর্বরতার নিন্দা জানানো হয়।
- লন্ডন ছিলো বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রধান প্রচারকেন্দ্র।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

১,০২৮.
”আলীনগর সন্ধি”’ স্বাক্ষর করেন কে?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. জন কার্টিয়ার
  4. লর্ড কর্নওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

আলীনগর চুক্তি ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও রবার্ট ক্লাইভ এর মধ্যে মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- নওয়াব কলকাতার ইংরেজ বসতি অধিকার করেন (১৮-২০ জুন ১৭৫৬) এবং ইংরেজরা তাঁর প্রকৃত ক্ষতিসমূহের প্রতিবিধান করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের কলকাতা শহর থেকে বিতাড়িত করেন।
- তিনি এ শহরের নতুন নামকরণ করেন আলীনগর।
- এ চুক্তি বেশি দিন স্থায়িত্বলাভ করে নি, এর প্রধান কারণ, ইংরেজরা এর শর্তাবলি মেনে চলে নি। ফলে চুক্তিটি ভেঙ্গে যায় এবং ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

১,০২৯.
কোন মুঘল সম্রাটের আমলে শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম বিজয় করেন?
  1. আকবর 
  2. জাহাঙ্গীর 
  3. শাহজাহান 
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

শায়েস্তা খান:
- ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তা খান মোগল আমলে বাংলার একজন বিখ্যাত সুবাদার ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব।
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন।
- শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন।
- ১৬৬৩ সালে বাংলার সুবাদার মীর জুমলার মৃত্যু হলে ১৬৬৪ সালে আওরঙ্গজেব তাঁকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।
- শায়েস্তা খান ৬৩ বছর বয়সে প্রথম বাংলায় আসেন।
- শায়েস্তা খান দুই দফায় সর্বমোট ২২ বছর বাংলা শাসন করেন।

⇒ শায়েস্তা খানের বিজয়াভিযানের মধ্যে চট্টগ্রাম বিজয় উল্লেখযোগ্য।
- ১৪৫৯ সালে আরকান রাজ চট্টগ্রামকে বাংলার সুলতানদের নিকট থেকে দখল করে নিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম পুনর্দখলের উদ্দেশ্য শায়েস্তা খান সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর সেনাবাহিনী সন্দ্বীপ দখল করে চট্টগ্রামের দিকে মনোনিবেশ করেন। এ সময় চট্টগ্রামের মগ-রাজা ও স্থানীয় পর্তুগিজদের মধ্যে বিবাদ বাঁধে। চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গীরা তখন নোয়াখালিতে এসে আশ্রয় নেয়। শায়েস্তা খান ফিরিঙ্গী নেতাকে নিজ দলভুক্ত করেন। 
- ১৬৬৬ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খানকে চট্টগ্রাম দখলের নির্দেশ দেন। সুবেদারের পুত্র উমেদ খাঁর নেতৃত্বে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আরাকানীদের পরাজিত করে এবং আরাকানী দূর্গ দখল করে। যথারীতি পর্তুগিজরা আরাকানীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে মোঘলদের পক্ষ নেয়। মোগল সেনাপতি উমেদ খাঁ চট্টগ্রামের প্রথম ফৌজদারের দায়িত্ব পান। শুরু হয় চট্টগ্রামে মোঘল শাসন। 
- তাঁর শাসনামলে তিনি কুচবিহার বিদ্রোহ দমন করেন, চট্টগ্রাম জয় ও মগ দস্যুদের বিতাড়িত করেন (১৬৬৬ সালে)।
- তাঁর শাসনামলে টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
- তিনি লালবাগ কেল্লা, শায়েস্তা খান মসজিদ, ছোট কাটরা, সাত গম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।
- ১৬৯৪ সালে তিনি ৯৪ বছর বয়সে মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৩০.
আইয়ুব খানের শাসনব্যবস্থার নাম কী ছিল?
  1. সামরিক সমাজতন্ত্র
  2. প্রজা সরকার
  3. ইসলামিক গণতন্ত্র
  4. মৌলিক গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
মৌলিক গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র:
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন।
- তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
- তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'।
- মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র,
- যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
- ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।
- প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।

• নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত স্তরগুলো ছিল:
(১) ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে),
(২) থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে),
(৩) জেলা পরিষদ,
(৪) বিভাগীয় পরিষদ। 

[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুকে মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি ।]

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৩১.
কোন দেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. চীন
  3. যুক্তরাজ্য
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানপন্থী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মোট তিনবার উত্থাপিত হয়।
- বিশেষ করে ৪ ও ৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব তোলে।
- এসব প্রস্তাব গৃহীত হলে যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যেত;
- এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশে থেকেই যেত, ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতো।
- এই বাস্তবতা বিবেচনায় সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধে ভেটো প্রয়োগ করে।

- সোভিয়েত ইউনিয়নের এই ভেটোর ফলে:
• যুদ্ধ চালু থাকে,
• মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে এবং
• শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১,০৩২.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী ছিলেন -
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  3. এ এইচ এম কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

সুত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৩৩.
ঐতিহাসিক ৬ দফাকে তুলনা করা হয় কিসের সাথে?
  1. ক) ম্যাগনাকার্টা
  2. খ) বিল অব রাইটস
  3. গ) পিটিশন অব রাইটস
  4. ঘ) মুখ্য আইন
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাগনাকার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাগনাকার্টা
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
• ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

• সুতরাং, ৬ দফার মধ্যে ৩টি দফা অর্থনীতি ও মুদ্রা বিষয়ক এবং বাকি ৩টি শাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক ছিলো। 
- বঙ্গবন্ধু ৬ দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যা দেন। 
- ঐতিহাসিক ৬ দফাকে 'ম্যাগনাকার্টা'র সাথে তুলনা করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,০৩৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভুখা মিছিল বের করেন কত সালে?
  1. ১৯৪৮
  2. ১৯৪৯
  3. ১৯৫০
  4. ১৯৫১
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় (বাইগার নদীর তীরে)।
- বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।
- ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ১৪ অক্টোবর খাদ্যসংকটের প্রতিবাদে ভুখা মিছিল বের করা হয়।
- বন্দী থাকা অবস্থায় ১৬ ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন। ভাষার দাবিতে বঙ্গবন্ধু ১৩ দিন অনশন করেছিলেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ ছয়দফা ঘোষণা করেন।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিল ৩৫ জন। বঙ্গবন্ধু ১ নং আসামী ছিলেন।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
- শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।
- 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয় রেসকোর্স ময়দানে ।
- বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে 'বাংলাদেশ' নামকরণ করেন ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেওয়া হয় ৩ মার্চ ১৯৭১ (উপাধি দেন আ স ম আবদুর রব)।
- ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ দেন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"।
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ব্যাপ্তি ছিল ১৮ মিনিট ।
- বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে প্রথম ২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।
- বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় অপারেশন বিগবার্ড এর মাধ্যমে।

উৎস: শতবর্ষে শত তথ্যে 'বঙ্গবন্ধু'।
১,০৩৫.
এ.কে. ফজলুল হক পূর্ব বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন-
  1. ক) ১৯৫৪ সালে
  2. খ) ১৯৫৫ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৮ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

হক, এ.কে ফজলুল (১৮৭৩-১৯৬২) রাজনীতিবিদ ও জননেতা। তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পূর্বপুরুষদের বাড়ি ছিল বরিশাল শহর থেকে চৌদ্দ মাইল দূরে চাখার গ্রামে। তিনি ছিলেন মুহম্মদ ওয়াজিদ ও সায়িদুন্নিসা খাতুনের একমাত্র পুত্র। হকের পিতা বরিশাল আদালতের দীউয়ানি ও ফৌজদারি উকিল ছিলেন এবং তাঁর পিতামহ কাজী আকরাম আলী ছিলেন আরবি ও ফারসিতে দক্ষ পন্ডিত ও বরিশালের একজন বিশিষ্ট মোক্তার।

সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৬.
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি হয়- ১৯৯২ সালে।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
-  ১৯৭৮ সালে মৌলিক শিক্ষা একাডেমি নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নাম করণ করা হয় জাতীয়  প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি।
- এখানে  প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট  শিক্ষক  ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

- এছাড়াও,
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) প্রতিষ্ঠিত হয় : ১ মার্চ ১৯৮১ সালে।
- প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠন হয়: ২ জানুয়ারি ২০০৩ সালে।
- বেনবেইস তৈরী হয়: ১৯৭৭ সালে।

উৎস: জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১,০৩৭.
কে বাংলায় নবাবী শাসনের সূচনা করেন?
  1. আলীবর্দি খান
  2. সরফরাজ খান
  3. মুর্শিদকুলি খান
  4. সিরাজউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
নবাবী শাসনামল (১৭০৭ - ১৭৫৭):

- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ - ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৩৮.
তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২ নং
  2. ৯ নং
  3. ১১ নং
  4. ১২ নং
সঠিক উত্তর:
১১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ নং
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মহিলা ২ জন‌।
- একজন ডা. সেতারা বেগম এবং অপরজন তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন।
- তিনি ১ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর নিজ জেলা ছিল কুড়িগ্রাম।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
১,০৩৯.
বঙ্গবন্ধু জুলিও কুরি শান্তি পদক গ্রহণ করেন কবে?
  1. ১০ অক্টোবর ১৯৭২
  2. ১৭ জানুয়ারি ১৯৭৩
  3. ২৩ মে ১৯৭৩
  4. ২৩ অক্টোবর ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
২৩ মে ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মে ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।
- জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রবর্তিত হয় ১৯৫০ সালে।
(তথ্যসূত্রঃ কারাগারের রোজনামচা ও একুশে টেলিভিশন)
১,০৪০.
কোন প্রেক্ষাপটে একুশ দফা প্রণীত হয়েছিলো?
  1. বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. চুয়ান্নর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
  3. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  4. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
চুয়ান্নর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুয়ান্নর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে একুশ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- এর প্রথম দফা বা দাবী ছিলো বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
এছাড়া অন্যান্য দাবীর মধ্যে ছিলো:
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত করা
- অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৪১.
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তানের নাম কি?
  1. ক) শেখ কামাল
  2. খ) শেখ রাসেল
  3. গ) শেখ হাসিনা
  4. ঘ) শেখ রেহানা
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ রাসেল
ব্যাখ্যা
শেখ রাসেল (অক্টোবর ১৮, ১৯৬৪ – আগস্ট ১৫, ১৯৭৫) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র।
১,০৪২.
দেব রাজবংশের রাজাদের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. পুন্ড্রনগর
  2. কর্মান্ত-বাসক
  3. কোটিবর্ষ
  4. ময়নামতি
সঠিক উত্তর:
ময়নামতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়নামতি
ব্যাখ্যা
দেব রাজবংশ:
- খড়গ রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় দেব রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- দেব রাজবংশ সমতট অঞ্চলে শাসনকারী রাজবংশ।
- দেব রাজবংশের চারজন বিখ্যাত রাজার নাম শ্রী শান্তিদেব, শ্রী বীরদেব, শ্রী আনন্দদেব ও শ্রী ভবদেব।
- সাত শতকের শেষ ভাগ থেকে আট শতকের প্রথমার্ধে (৭৫০-৮০০খ্রি.) দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ দেব রাজবংশের অধীনে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাদের রাজধানী ছিল বর্তমান লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের দেবপর্বত।
- ময়নামতির শালবন বিহার খনন করে এই রাজবংশের চারটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।

⇒ দেববংশের রাজারা প্রাথমিক যুগের পাল রাজাদের সমসাময়িক ছিলেন। পাল রাজারা ময়নামতি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধধর্মের বিকাশ ঘটিয়েছিলেন। এর নিদর্শন শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার প্রভৃতির কথা বলা যায়। দেবরাজাদের মুদ্রা ও নামের সঙ্গে পরমসৌগত, পরমভট্টারক, পরমেশ্বর, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি প্রত্যয় সংযুক্তি থেকে তাদের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে ধারণা করা যায়।

⇒ আনন্দদেব ছিলেন দেব রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। তিনি প্রায় ৩৯ বছর দেবপর্বতের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি পরমসৌগত, পরমেশ্বর, পরমভট্টারক ও মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- রাজা আনন্দদেবের আনন্দবিহার ও ভবদেবের সময় নির্মিত শালবন বিহার তথা ভবদেব মহাবিহার ঐ সময়ে বিকশিত বৌদ্ধ সংস্কৃতির কথা জানান দেয়।
- দেবদের শাসনকালটি ছিল প্রকৃত অর্থেই শান্তি, সমৃদ্ধি ও মননশীলতার এবং তাদের কালকে বঙ্গ-সমতটের (দক্ষিণপূর্ব বাংলা) ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে,
- খড়গ বংশের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত-বাসক।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৩.
উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে ছিলেন?
  1. ভাস্করবর্মা
  2. হর্ষবর্ধন
  3. রাজ্যবর্ধন
  4. বাণভট্ট
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা

শশাঙ্কের সাথে দ্বন্দ্ব:
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন।
- তাঁর লক্ষ্য ছিল কনৌজের মৌখরীরাজাদের আক্রমণ থেকে নিজ রাজ্যকে রক্ষা করা।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন।
- তাই হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্টের রচিত হর্ষচরিত ও তার সমসাময়িক হিউয়েন সাঙের বর্ণনায় শশাঙ্কের উত্তর ভারতের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বিবরণ রয়েছে।
- শশাঙ্কের সাথে রাজ্যবর্ধনের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে রাজ্যবর্ধন নিহত হন ।
- এরপর রাজ্যবর্ধনের ভাই হর্ষবর্ধন রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর
সংবাদ পেয়ে শশাঙ্কের উপর ভীষণ ক্রুদ্ধ হন এবং এক বিশাল বাহিনীসহ শশাঙ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন।
- তবে শশাঙ্কের বিরুদ্ধে হর্ষবর্ধন যে বিশেষ সাফল্য লাভ করতে পারেননি তা শশাঙ্কের গঞ্জাম তাম্রশাসন থেকেই প্রমাণিত হয়।
- শশাঙ্ক হর্ষবর্ধন ও ভাস্করবর্মার হাত থেকে নিজ রাজ্য রক্ষা করতে পেরেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,০৪৪.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৮৭২ সালে
  2. খ) ১৮৯৩ সালে
  3. গ) ১৯০২ সালে
  4. ঘ) ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৯৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ১৮৯৩ সালের ২৩শে জুলাই ‘বেঙ্গল একাডেমী অব লিটারেচার’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯৪ সালের ২৯ এপ্রিল এটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ নামধারণ করে।

এল লিওটার্ড ও ক্ষেত্রপাল চক্রবর্তীর উদ্যোগে কলকাতার শোভাবাজারের বিনয়কৃষ্ণ দেব এর বাসভবন থেকে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ যাত্রা শুরু করে।

এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলো বাংলা সাহিত্যের উন্নতি সাধন। পরিষদের মুখপত্র ‘সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা’ নামে ত্রৈমাসিক পত্রিকা হিসেবে বাংলায় প্রকাশিত হতো।

১৮৯৪ সালে পরিষদের সভাপতি ছিলেন রমেশচন্দ্র দত্ত, সহ-সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নবীনচন্দ্র সেন এবং সম্পাদক ছিলেন এল লিওটার্ড, দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ও রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,০৪৫.
নিচের কোনটি ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ নামে পরিচিত?
  1. ক) একুশ দফা
  2. খ) ছয়দফা
  3. গ) এগারো দফা
  4. ঘ) উনিশ দফা
সঠিক উত্তর:
খ) ছয়দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছয়দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।
একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ পালিত হয়।
(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,০৪৬.
শেরে বাংলা ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপন করেন কবে?
  1. ক) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০
  2. খ) ২৩ মার্চ ১৯৪০
  3. গ) ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০
  4. ঘ) ২১ মার্চ ১৯৪০
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩ মার্চ ১৯৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩ মার্চ ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ উত্থাপন করেন।
এ প্রস্তাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৪৭.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা কী ছিল?
  1. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  3. মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  4. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন,
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৮.
কিসের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন হয়েছিল?
  1. ক) দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  2. খ) সামাজিক চেতনা
  3. গ) অসাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১,০৪৯.
The Cruel Birth of Bangladesh বইটির লেখক কে?
  1. রিচার্ড নিক্সন 
  2. আর্চার কেন্ট ব্লাড
  3. জেনারেল মানকেশ 
  4. অ্যান্থনি মাসকারেনহাস 
সঠিক উত্তর:
আর্চার কেন্ট ব্লাড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্চার কেন্ট ব্লাড
ব্যাখ্যা

• The Cruel Birth of Bangladesh: 
- "The Cruel Birth of Bangladesh" বইটির লেখক হলেন আর্চার কেন্ট ব্লাড (Archer Kent Blood)
- আর্চার কে. ব্লাড ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত যিনি ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) কর্মরত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ঢাকায় মার্কিন কনস্যুল জেনারেল ছিলেন। 
- তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দ্বারা বাঙালিদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার নিবিড় বর্ণনা প্রেরণ করেছিলেন। 
- এই বইটি ২০০২ সালে প্রকাশিত হয় যেখানে তিনি যুদ্ধ ও পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচারের বিবরণ দিয়েছেন। 
- "নিষ্ঠুর জন্ম" শিরোনামটি বাংলাদেশের অত্যন্ত সংঘর্ষপূর্ণ জন্ম প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।[

১,০৫০.
সিপাহী বিদ্রোহ সমর্থন করায় কোন মুঘল সম্রাট ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. আকবর
  4. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ সমর্থন করার কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ব্রিটিশরা ক্ষমতাচ্যুত করে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর:
- আওরঙ্গজেবে পর মুঘল সাম্রাজ্য তথা ভারতের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। তিনি দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহর দ্বিতীয় পুত্র।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- বাহাদুর শাহ সিংহাসনে আরোহণের ২০ বছর পর সূত্রপাত হয় ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহের। 
- দেশপ্রেমিক সিপাহিরা মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতবর্ষের স্বাধীন বাদশাহ বলে ঘোষণা দেন।
- ওই মুহুর্ত থেকে বাহাদুর শাহ জাফর হলেন বিদ্রোহের প্রধান পরিচালক ও কেন্দ্রস্বরূপ।
- বাহাদুর শাহ জাফর সিপাহিদের বিপ্লব তথা ভারতবর্ষের প্রথম সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- এই সংবাদে কানপুর, লক্ষৌ বিহার, ঝাঁশি, বেরিলি থেকে শুরু করে পশ্চিম ও পূর্ব বাংলার সর্বত্র সিপাহিরা গর্জে ওঠেন।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ব্রিটিশ শাসকেরা তাঁকে মিয়ানমারে নির্বাসনে পাঠান।
- ১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর সেখানেই তিনি মারা যান।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।


⇒ সিপাহী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- ফলাফল: ব্রিটিশরা কঠোর হাতে এই বিদ্রোহ দমন করে। এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ সরকারের সরাসরি শাসন প্রতিষ্ঠা হয়।
 
উৎস: i) The Business Standard.
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৫১.
ভাষা আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. বাংলা একাডেমি
  2. বাংলা সাহিত্য সমাজ
  3. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. ভাষা আন্দোলন মঞ্চ
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা:
- ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৫-তে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত (বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে) হয়।
- বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫ সালে ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- মুহম্মদ এনামুল হক (১৯০২-১৯৮২) একাডেমির প্রথম পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া।
১,০৫২.
বাংলাদেশের কোন জেলার সাথে ভারতের তিনটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. সিলেট
  3. কুড়িগ্রাম
  4. রাঙামটি
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত:
- বাংলাদেশ ও ভারত ১৯৪৭ সালের র‍্যাডক্লিফ লাইন দ্বারা বিভক্ত।
- বাংলাদেশের প্রায় তিনদিকেই ভারতের অবস্থান।
- মোট ৩২ টি সীমান্তবর্তী জেলার মধ্যে ৩০ টি জেলার সাথে ভারতের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের ৫ টি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। যথা- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
- তন্মধ্যে একমাত্র কুড়িগ্রাম জেলার সাথে তিনটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে।
- কুড়িগ্রাম জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের কুচবিহার জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম প্রদেশের ধুবড়ী ও মেঘালয় রাজ্যের তুরা পার্বত্য জেলা।
- আন্তর্জাতিক সীমারেখা রয়েছে ২৭৮.২৮ কিলোমিটার। 
 

উৎস: কুড়িগ্রাম জেলার সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১,০৫৩.
বর্তমানে বীরপ্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৪২৩ জন
  2. ৪২৪ জন
  3. ৪২৫ জন
  4. ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
৪২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৪ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৪.
আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ভিক্টোরিয়া পার্ক
  2. আহসান মঞ্জিল
  3. উত্তরা গণভবন
  4. মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া পার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিক্টোরিয়া পার্ক
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ পার্ক:
- বাহাদুর শাহ পার্ক বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।
- ১৮৫৮ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হয় ‘ভিক্টোরিয়া পার্ক’।
- পার্কটি আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত ছিল।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে।
- তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।
- ১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য।
- তাই তাঁর নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’।

 উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৫৫.
১৯৪৭ সালে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন -
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
  2. খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
  3. গ) আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
  4. ঘ) করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
সঠিক উত্তর:
গ) আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৭ সালে হিন্দীকে ভারতের রাষ্ট্র ভাষা করার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
-  এর প্রতিবাদে ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা' শীর্ষক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু ভাষা গ্রহণ করা হইলে উহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে'। 
 
উৎস: এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৫৬.
মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার জন্য গঠিত মালিক মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ১৩
  2. খ) ১২
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ১০
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১০
ব্যাখ্যা
- মালিক মন্ত্রীসভার সদস্য সংখ্যা - ১০ জন ছিল।

- তা নিম্নে দেওয়া হল:
- ড. আব্দুল মোতালেব মালিক (পূর্ব পাকিস্তান) - "স্বাস্থ্য, শ্রম, পরিবার পরিকল্পনা, যোগাযোগ"।
- সর্দার আব্দুর রশীদ - স্বরাষ্ট্র এবং কাশ্মীর বিষয়ক, রাজ্য এবং সীমান্ত অঞ্চল"।
-. জনাব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুদ্দিন (পূর্ব পাকিস্তান)" - "শিল্প এবং প্রাকৃতিক সম্পদ"।
- নওয়াব মুজাফফ্ফর আলী কিষবিলাস -অর্থ।
 - জনাব মোহাম্মদ সামসুল হক - শিক্ষা এবং বিজ্ঞান গবেষক।
- নওয়াবজাদা মোহাম্মদ শের আলী খান - তথ্য এবং জাতীয় বিষয়ক।
- জনাব ইহসানুল হক - বাণিজ্য।
- জনাব মাহমুদ আব্দুল্লাহ হারূন - কৃষি এবং করবিষয়ক।
- জনাব এলভিন রবার্ট কর্ণেলিয়াস - আইন।
- ড: গোলাম ওয়াহিদ চৌধুরী - যোগাযোগ।

উৎস:songramernotebook.com
১,০৫৭.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কখন ঘোষিত হয়?
  1. ক) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বলতে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বোঝানো হয়।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষনা সংযুক্ত করা হয়।
- ৭ম  তফসিলে ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৮.
বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান কোন অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল?
  1. ক) কুমিল্লা অঞ্চল
  2. খ) রাজশাহী অঞ্চল
  3. গ) ঢাকা অঞ্চল
  4. ঘ) সিলেট অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
খ) রাজশাহী অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজশাহী অঞ্চল
ব্যাখ্যা

- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
- এদের মধ্যে ‘বঙ্গ’ জনপদ ছিলো অন্যতম। বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- সমতট জনপদ বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৫৯.
সুবাদার ইসলাম খান বাংলার রাজধানী কোথায় স্থানান্তর করেন?
  1. ঢাকা থেকে রাজমহল
  2. রাজমহল থেকে ঢাকা
  3. রাজমহল থেকে সোনারগাঁও
  4. মুর্শিদাবাদ থেকে ঢাকা
সঠিক উত্তর:
রাজমহল থেকে ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজমহল থেকে ঢাকা
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- সুবাদার ইসলাম খান চিশতিকে বাংলা প্রদেশের শ্রেষ্ঠ সুবাহদার হিসেবে গণ্য করা হয়।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।

উল্লেখ্য,
- ১৬০৮ সালে সুবাদার জাহাঙ্গীর কুলি খানের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীর বিখ্যাত সুফি সেলিম চিশতীর দৌহিত্র ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিয়োগ দেন।
- নিয়োগ লাভ করে তিনি অনতিবিলম্বে বাংলার তদানীন্তন রাজধানী বিহারের রাজমহল-এ চলে আসেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তিনি সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
- ইসলাম খান ঢাকাকে সুরক্ষিত করে তিনি ভূঁইয়াদের সব অবস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন এবং ১৬১১ খ্রিস্টাব্দেই মুসা খানসহ বারো ভূঁইয়াদের সবাই ইসলাম খানের নিকট বশ্যতা স্বীকার করেন। 

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি লোহার পুল নির্মান করেন এবং ঢাকার ধোলাই খাল খনন করেন।
- বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত করেন শাহ সুজা।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১,০৬০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস -
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. হাঙর নদী গ্রেনেড
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. জোছনা ও জননীর গল্প
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
রাইফেল রোটি আওরাত:
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস।
- এ উপন্যাসকে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের একটি প্রামাণ্য দলিলও বলে থাকেন।
- উপন্যাসের রচয়িতা শহীদ আনোয়ার পাশা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক, সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি লিখছিলেন এ উপন্যাসটি, যা আসলে তার নিজের বয়ানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে পরবর্তী কিছুদিনের প্রতিটি মুহূর্তের বর্ণনা।
- উপন্যাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সুদীপ্ত শাহীন চরিত্রের আড়ালে আনোয়ার পাশা নিজেকেই এঁকেছেন।
- আনোয়ার পাশার বন্ধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক ড. কাজী আব্দুল মান্নান তার ডায়েরি লেখার অভ্যাসটি জানতেন।
- তিনিই পরবর্তীকালে তার সব লেখা খুঁজে বের করেন, ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করেন।
- ‘গণমিছিল’ প্রকাশনা থেকে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- নেকড়ে অরণ্য: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শওকত ওসমান একাধিক উপন্যাস লিখেছেন। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ৬৪ পৃষ্ঠার ছোট্ট একটি উপন্যাস 'নেকড়ে অরণ্য' ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'জাহান্নাম হইতে বিদায়', 'দুই সৈনিক' এবং 'জলাংগী'।
- হাঙর নদী গ্রেনেড: মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন। 
- জোছনা ও জননীর গল্প: মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর আগে কথার জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ লেখেন 'জোছনা ও জননীর গল্প' উপন্যাসটি। 

উৎস: প্রথম আলো।
১,০৬১.
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
  1. ক) ৬ নম্বর
  2. খ) ৭ নম্বর
  3. গ) ৮ নম্বর
  4. ঘ) ৯ নম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮ নম্বর
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের জন্ম ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, যশোর জেলার অর্ন্তঃগত নড়াইল মহকুমার মহিষখোলা গ্রামে।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯, তদানিন্তন ইপিআর-এ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
-  মার্চ ১৯৭১এ তিনি ছুটি ভোগরত ছিলেন গ্রামের বাড়িতে।
- পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে অসুস্থ অবস্থায় চুয়াডাঙ্গায় ইপিআর-এর ৪নং উইং এ নিজ কোম্পানির সাথে যোগ দিয়ে বিদ্রোহ করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।
- সেক্টর গঠন হলে তাদের উপর ন্যস্ত হয় ৮নং সেক্টরের দায়িত্ব।
- ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১, সুতিপুর প্রতিরক্ষা অবস্থানের সামনে ষ্ট্যান্ডিং পেট্রোলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ নস্যাৎ করে দেন প্রায় একাই।
- আহত অবস্থায় অধীনস্থ সৈনিকদের নিরাপদে পিছনে পাঠিয়ে দেন এবং শত্রুর মোকাবেলা অব্যাহত রাখার সময় শাহাদাত বরণ করেন।
- পরবর্তীতে সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্র কাশীপুরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষ য়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট। 
১,০৬২.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ১১টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা:
- ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- তখন সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়াও  তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৬৩.
কাকে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী মনোনীত করা হয়?
  1. এ.কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. ফাতিমা জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
ফাতিমা জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাতিমা জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালের সংবিধান অনুযায়ী আইয়ুব খানের প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার ছিলেন সমগ্র পাকিস্তানে ৮০,০০০ (আশি হাজার) মৌলিক গণতন্ত্রী।
- ১৯৬৪ সালের নভেম্বর মাসে মৌলিক গণতন্ত্রীদের নির্বাচন আয়োজন করা হয়।
- এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত হয় 'সম্মিলিত বিরোধী দল' (COP)।
- আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী মনোনীত করা হয় মিস ফাতিমা জিন্নাহকে।
- তিনি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভগ্নি।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) ৯ দফা নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করে,
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন এবং পাকিস্তান ছাত্রশক্তি নামক তিনটি ছাত্রসংগঠন মিলে 'পূর্ব পাকিস্তান সংগ্রামী ছাত্র সমাজ' নামক একটি ছাত্র ঐক্য গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৪.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে কত তারিখ?
  1. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. ১২ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী - এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী - এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী - খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড।
১,০৬৫.
অবিভক্ত প্রাচীন বাংলার সর্বপ্রথম রাজা কে ছিলেন?
  1. লক্ষণ সেন
  2. শশাঙ্ক
  3. ধর্মপাল
  4. অশোক
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক: 
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্কই প্রথম সার্বভৌম (স্বাধীন) শাসক।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক "স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।"
- শশাঙ্ক প্রথম জীবনে স্বাধীন রাজা ছিলেন না, গুপ্ত বংশীয় মহাসেন নামক এক রাজার সামন্ত ছিলেন।
- ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গৌড়ের পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন।
- এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক ৬৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য শাসকের অভাবে গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- গোটা বাংলায় নেমে আসে অন্ধকারের যুগ।
- প্রায় একশ বছর বাংলার ইতিহাসে যে অরাজকতা, নেতৃত্বের শূন্যতার সৃষ্টি হয় তাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৬৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন -
  1. ক) এম এ জি ওসমানী
  2. খ) কে এম শফিউল্লাহ
  3. গ) আবদুর রব
  4. ঘ) এ কে খন্দকার
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুর রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুর রব
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

(উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

১,০৬৭.
Who is the designer of the logo of Mujib Borsho?
  1. ক) Sabyasachi De
  2. খ) Sabyasachi Roy
  3. গ) Sabyasachi Hazra
  4. ঘ) Sabyasachi Chowdhury
সঠিক উত্তর:
গ) Sabyasachi Hazra
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Sabyasachi Hazra
ব্যাখ্যা
মুজিব বর্ষ:

- মুজিব বর্ষের লোগোর ডিজাইনার সব্যসাচী হাজরা।
- মুজিব বর্ষ-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০)।
- মুজিব বর্ষের সময়কাল ১৭ মার্চ ২০২০ - ৩১ মার্চ ২০২২ সাল।
- ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ২০২০ থেকে।
- মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর, ঢাকা।
- তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১০ জানুয়ারি ২০২০ সালে মুজিব বর্ষের লোগো উন্মোচন করেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০২০।
১,০৬৮.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে যৌথকমান্ড গঠন করে-
  1. ১৫ নভেম্বর ১৯৭১
  2. ২১ নভেম্বর ১৯৭১
  3. ২৮ নভেম্বর ১৯৭১
  4. ০৩ ডিসেম্বর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ নভেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান:
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশকে সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়।
- যুদ্ধকালীন সরকারকে আশ্রয়দান, প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও ভরণ-পোষণ, বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও সহানুভূতি, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা সহ শেষ দিকে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
১,০৬৯.
ক্রিস্টোফার কলম্বাস কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. ক) পর্তুগাল
  2. খ) স্পেন
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) ইংল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
গ) ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইতালি
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস ইতালির অধিবাসী ছিলেন। তিনি স্পেনের রাজা ফার্ডিনান্ড এবং রাণী ইসাবেলার আর্থিক সহায়তায় ১৪৯২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এবং একই বছরের ১২ অক্টোবর বাহামা দ্বীপে পা রাখেন।
তার এই পদার্পণের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কৃত হয়। তবে ইউরোপীয়দের মধ্যে সবার আগে ভাইকিংরা আমেরিকা মহাদেশে পা রাখে।
(সূত্রঃ আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,০৭০.
শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয় কত তারিখে?
  1. ১০ জানুয়ারি
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি
  3. ২০ ফেব্রুয়ারি
  4. ২৩ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
২৩ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির পর ঊনসত্তরের গণআন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
- ২৩শে ফেব্রুয়ারির সংবর্ধনা সভায় বঙ্গবন্ধু ১১ দফা দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং
- ৬ দফা ও ১১ দফা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দেন।
- এই সময় তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ২৬শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খানের সাথে বঙ্গবন্ধু গোলটেবিল বৈঠকে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রশ্নে অটল থাকেন।
- এদিকে পশ্চিম পাকিস্তানেও আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭১.
নিচের কোন ব্যাক্তি মুজিবনগর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না?
  1. ক) এম মনসুর আলী
  2. খ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
  3. গ) এএইচএম কামরুজ্জামান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না - অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী।

• মুজিবনগর সরকার:
 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে প্রথম সরকার গঠিত হয়।
- এটি ‘অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- রাষ্ট্রপতি শাসিত মুজিবনগর সরকারের সদস্য সংখ্যা ছিলো ছয়জন।
 -এরা হলেন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, 
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ, 
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী,  
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৭২.
বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটির সুরকার কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) সমর দাস
  4. ঘ) শেখ লুৎফুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- মূল কবিতার ২১ চরণ রণসঙ্গীত হিসেবে গৃহীত।
-  রণসঙ্গীতটি 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
- 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। 
- পরে এর নাম হয় "চল্‌ চল্‌ চল্‌'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৩.
কোন যুদ্ধের পর বাংলার আফগান শাসনের সমাপ্তি ঘটে?
  1. চৌসার যুদ্ধ
  2. রাজমহলের যুদ্ধ
  3. বক্সারের যুদ্ধ
  4. পানিপথের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• রাজমহলের যুদ্ধ:
- বাংলার আফগান শাসনের সমাপ্তি  হয় - রাজমহলের যুদ্ধের পর।
- ১৫৭৬ এ রাজমহলের যুদ্ধের পর বাংলার আফগান শাসনের সমাপ্তি হলেও ঈসাখান ছিলেন সম্পূর্ণ স্বাধীন।
- তিনি বুঝতে পেরেছিলেন একা সাম্রাজ্যবাদী মোগলদের বিরুদ্ধে জয় লাভ করতে পারবেন না।
- তাই তিনি পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জমিদার ও আফগান দলপতিদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক মৈত্রী তৈরি করেন।

- ঈসাখানের নেতৃত্বে এই সামরিক শক্তির প্রধান অবলম্বন ছিল তাদের যুদ্ধ রণতরী।
- ১৫৭৮ সালে বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার কাস্তলে ঈসাখানের সাথে মোগলদের যুদ্ধ হয়।
- প্রাথমিক পর্যায়ে ঈসাখান হেরে গেলেও পরবর্তীতে সম্মিলিত শক্তির কাছে মোগলরা পরাজিত হয়।
- ১৫৮৩ ও ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দেও ঈসাখান আগ্রাসী সৈন্যবাহিনীকে যথাক্রমে বাজিতপুরে ও কাত্রাবোতে পরাস্ত করেন।

- ১৫৮৬ সালেও মোগলরা ঈসাখানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন।
- ঈসাখানের সাথে মোঘল বাহিনীর শেষ যুদ্ধ হয় রাজা মানসিংহের নেতৃত্বে।
- এই যুদ্ধেও মোগলরা তাঁর কাছে পরাজিত হন এবং অনেক মোগল সৈন্য বন্দি হন।
- ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে ঈসাখান মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মু্ক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৪.
বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) তিতুমীর
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
খ) তিতুমীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিতুমীর
ব্যাখ্যা
- তিতুমীর ওরফে মীর নিসার আলী প্রথমে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে তার এই আন্দোলন জমিদার ও ব্রিটিশবিরোধী রূপ লাভ করে।
- তিনি বারাসাতের নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,০৭৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1. ১১টি
  2. ২৫টি
  3. ৬৪টি
  4. ৬০টি
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর এবং সাব সেক্টর:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল এবং সুবিধার জন্য হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- এই বিভাজনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যক্রম ও সামরিক অপারেশন সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সহজ হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৬.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' হয়েছিল ইংরেজি -
  1. ক) ১১৭৬ সালে
  2. খ) ১৬৭৬ সালে
  3. গ) ১৭৬০ সালে
  4. ঘ) ১৭৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৭০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭৭০ সালে
ব্যাখ্যা
দ্বৈত শাসন ও দুর্ভিক্ষ
- রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে।
- দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবিত ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
- যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠিকে।
- ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ যা 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত।
- এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মৃত্যু বরণ করে।
- দুর্ভিক্ষের বছরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় তার কাছাকাছি ছিল।
- ফলে চরম শোষণ নির্যাতনে বাংলার মানুষ হত দরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে।
- দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় সীমাহীন বিশৃঙ্খলা ।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৭.
পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন কে?
  1. রাও ফরমান আলী
  2. টিক্কা খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. জেনারেল নিয়াজী
সঠিক উত্তর:
জেনারেল নিয়াজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল নিয়াজী
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডার প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৭৮.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে উপমহাদেশে প্রথম বাণিজ্যিক কুঠি স্থাপন করেন?
  1. ক) ১৬০০ সালে
  2. খ) ১৬০৮ সালে
  3. গ) ১৬১৫ সালে
  4. ঘ) ১৬১২ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৬১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৬১২ সালে
ব্যাখ্যা
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে। এই সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় আকবরের দরবারে হাজির হন।
- ক্যাপ্টেন হাকিন্স ১৬০৮ সালে রাজা প্রথম জেমসের সুপারিশপত্র নিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁর  অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন হয়।
- পরবর্তীকালে ১৬১৫ সালে প্রথম জেমসের দূত হয়ে জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন স্যার টমাস রো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৭৯.
বাংলায় হিন্দু মুসলিম ঐক্যের প্রচেষ্টা হিসেবে স্বীকৃত ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’ কার প্রচেষ্টায় স্বাক্ষরিত হয়েছিলো?
  1. সুভাষচন্দ্র বোস
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. মহাত্মা গান্ধী
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্ট:
- বেঙ্গল প্যাক্ট একটি চুক্তি যা ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যজনিত সমস্যা সমাধানকল্পে সম্পাদিত হয়েছিল। 
- চুক্তির উদ্যোক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলিমদের সাথে হিন্দুদের রাজনৈতিক অংশীদারত্বের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এই চুক্তিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী‌র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- চুক্তিটি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির ১৯২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখের সভায়ও অনুমোদন লাভ করে।

• চুক্তিটির বিভিন্ন শর্ত ছিল নিম্নরূপ:
- বঙ্গীয়-আইন সভায় প্রতিনিধিত্ব পৃথক নির্বাচক মন্ডলীর মাধ্যমে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
- স্থানীয় পরিষদসমূহে প্রতিনিধিত্বের অনুপাত হবে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের শতকরা ৬০ ভাগ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শতকরা  ৪০ ভাগ।
- কোন সম্প্রদায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ৭৫ শতাংশের সম্মতি ব্যতিরেকে এমন কোন আইন বা সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা যাবে না, যা ঐ সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বার্থের পরিপন্থী।
- মসজিদের সামনে বাদ্য সহকারে শোভাযাত্রা করা যাবে না।
- আইন সভায় খাদ্যের প্রয়োজনে গো-জবাই সংক্রান্ত কোন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে না এবং আইন সভার বাইরে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সমঝোতা আনার প্রচেষ্টা চালানো অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় প্রয়োজনে গরু জবাইয়ের ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৮০.
মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কত মেগাওয়াটের?
  1. ৯০০
  2. ১১৫০
  3. ১২০০
  4. ১৩২০
সঠিক উত্তর:
১২০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০০
ব্যাখ্যা
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

- মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলো বাংলাদেশের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের ১,৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
- ৬০০ মেগাওয়াট এর মোট দুটি ইউনিট তৈরি হবে।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট।
- জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।
- বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনায় মাতারবাড়িকে 'বিদ্যুৎ হাব' হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে।
- ২৯ জুলাই, ২০২৩ তারিখে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।

তথ্যসূত্র - কালের কণ্ঠ, ২৯ জুলাই, ২০২৩।
১,০৮১.
কোনটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয় -
  1. ক) ময়নামতি
  2. খ) পাহাড়পুর
  3. গ) মহাস্থানগড়
  4. ঘ) সুন্দরবন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দরবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুন্দরবন
ব্যাখ্যা
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয় - সুন্দরবন।
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি। 
- বাংলাদেশে অবস্থিত সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।

অপরদিকে - 
- ময়নামতি, পাহাড়পুর ও মহাস্থানগড় এই তিনটি হচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৮২.
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের 'অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২' জারি করেন কবে?
  1. ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
  2. ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
  3. ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের কয়েকদিনের মধ্যেই মুজিবনগর প্রশাসনের সিনিয়র আমলাবৃন্দ সচিব রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে ঢাকায় এসে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেন।
- ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের সদস্যবৃন্দ ঢাকায় আসেন। 
- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর লন্ডন-দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তারিখে বঙ্গবন্ধু ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল তাজউদ্দিন আহমদ কর্তৃক প্রবাসী সরকার গঠনের সময়েই বঙ্গবন্ধু ঐ সরকারের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তাঁর অনুপস্থিতিতেও বঙ্গবন্ধু সেই পদে বহাল ছিলেন।
- ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের 'অন্তবর্তীকালীন শাসনতন্ত্র আদেশ, ১৯৭২' জারি করেন।
- এই আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতির কাছে প্রথমে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং পরে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তখন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।
- প্রধান বিচারপতি মনোনীত হন বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েম।
- ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ১২ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৮৩.
'আগুনের পরশমণি' চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন - 
  1. মফিজুল হক
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. সত্য সাহা
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

আগুনের পরশমণি:
- মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আগুনের পরশমণি’।
- চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: হুমায়ূন আহমেদ।
- নির্মিত হয়: ১৯৯৪ সালে।
- মুক্তি পায়: ১৯৯৫ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় অবরুদ্ধ ঢাকায় মুক্তিবাহিনীর অভিযান আর মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের সংকট ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, ডলি জহুর ও আরো অনেকে।
- আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রটি ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
- শাখাগুলো হচ্ছে-
• শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা (হুমায়ূন আহমেদ),
• শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (বিপাশা হায়াত),
• শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (সত্য সাহা),
• শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক (মফিজুল হক),
• শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী (শিলা আহমেদ),
• শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার (হোসনে আরা পুতুল)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,০৮৪.
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক সরকারি হটলাইন কোনটি?
  1. ১০৯
  2. ৩৩৩
  3. ৯৯৯
  4. ১০৬
সঠিক উত্তর:
১০৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০৯
ব্যাখ্যা
সরকারি হটলাইন
• নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে - ১০৯ 
• দুদক - ১০৬
• সরকারি তথ্য ও সেবা - ৩৩৩
• জরুরি সেবা ৯৯৯

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
১,০৮৫.
‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা সেনানিবাসে
  2. সাভারে
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাসে
ব্যাখ্যা
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য:

- সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’।
- এর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
- ভাস্কর্যটি ঢাকা সেনানিবাসের মাটিকাটা মিলিটারি পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থিত।
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ সালে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়।
- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটিতে ‘অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরে’ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাস্কর্যের সামনে ‘ফোয়ারা’ নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
- ফোয়ারা থেকে প্রাচীর পর্যন্ত সংযুক্ত রেখাগুলো ‘সূর্যরশ্মির প্রতীক’, যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে বীরশ্রেষ্ঠরা জাতির সূর্যসন্তান এবং তাঁরা সূর্যরশ্মির মতো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর দিশারি ও অনবদ্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।
১,০৮৬.
বঙ্গবঙ্গের ফলে গঠিত নতুন প্রদেশ দুটির নাম কী?
  1. পূর্ব বাংলা ও আসাম, পশ্চিম বাংলা
  2. পূর্ববাংলা, আসাম
  3. বিহার, পশ্চিম বাংলা
  4. বিহার, উড়িষ্যা
সঠিক উত্তর:
পূর্ব বাংলা ও আসাম, পশ্চিম বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ব বাংলা ও আসাম, পশ্চিম বাংলা
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবঙ্গের ফলে গঠিত নতুন প্রদেশ দুটির নাম- পূর্ব বাংলা ও আসাম, পশ্চিম বাংলা।

• বঙ্গভঙ্গ:
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন।
- এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
-ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
- বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়।
- প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়।
- ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন।
- এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়।
-  এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ যার রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।
- হিন্দুদের তীব্র আন্দোলনের মুখে, রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১,০৮৭.
The first Museum in Bangladesh is-
  1. Sonargaon Museum
  2. Barendra Museum
  3. Osmani Museum
  4. National Museum
সঠিক উত্তর:
Barendra Museum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Barendra Museum
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর:
- বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর।
- দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর রাজশাহী শহরের কেন্দ্রস্থল হাতেম খাঁন মহল্লায় অবস্থিত।
- এই জাদুঘর প্রত্ন সংগ্রহে সমৃদ্ধ।
- এটি বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটির একটি বড় অর্জন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজন্যবর্গ, সমসাময়িক জ্ঞানী, গুণী ও পন্ডিতজন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর।
- ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর বাংলার তৎকালীন গভর্নর কারমাইকেল জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন।
- বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে প্রদর্শিত সুষমামন্ডিত শত শত মূর্তি, রাজ্যপালের ভাতুরিয়া লিপি, প্রথম মহিপালের রাজভিটালিপি, দেওপাড়া প্রশস্তি এবং লক্ষণ সেনের বাগবাড়ী প্রশস্তিতে বরেন্দ্রের নিজস্ব শিল্প ঘরানার যথার্থতা উন্মোচিত হয়েছে।
- বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে রয়েছে সমৃদ্ধশালী একটি পুঁথি সংগ্রহশালা।
- এছাড়াও রয়েছে প্রায় পনেরো হাজার দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ ও পত্রিকা সমৃদ্ধ একটি গ্রন্থাগার।
- বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এটি পরিচালনা করে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৮৮.
ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন-
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. ফয়েজ আহমেদ
  3. মোয়াজ্জেম হোসেন
  4. মাহমুদ হাসান
সঠিক উত্তর:
মোয়াজ্জেম হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোয়াজ্জেম হোসেন
ব্যাখ্যা

- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন।
- তাঁর মেয়াদকাল ছিল ২২ অক্টোবর, ১৯৪৮ থেকে ০৮ নভেম্বর, ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

উৎসঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।

১,০৮৯.
১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত ভাষা দিবস হিসেবে কোন দিনটি পালন করা হতো?
  1. ১১ ফেব্রুয়ারি
  2. ১১ মার্চ
  3. ১৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৩ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ
ব্যাখ্যা
১১ মার্চ: প্রথম রাষ্ট্রভাষা দিবস
- ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় দখল করে আছে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ।
- ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে পালিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ হিসেবে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলায় বক্তব্য প্রদান ও সরকারি কাজে বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য একটি সংশোধনী প্রস্তাব দাখিল করেন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি গণপরিষদে আলোচিত হয়।
- এদিন তমিজুদ্দিন খানের নেতৃত্বে গণপরিষদের মুসলিম লীগের সব মুসলিম সদস্য একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্র ধর্মঘট ও হরতাল পালিত হয় পূর্ব বাংলার প্রায় সবগুলো জেলা শহরেই। 
- ১১ মার্চের বিক্ষোভ কর্মসূচি, ছাত্র ধর্মঘটের মধ্য দিয়েই পাকিস্তানের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গিয়েছিল।
- তীব্র আন্দোলনের মুখে খাজা নাজিমুদ্দীন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আসন্ন ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ৮টি বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি সই করতে বাধ্য হন।
- পরে ১৯৪৯, ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় প্রতিটি শহরেই ১১ মার্চ 'রাষ্ট্রভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

উৎস: মার্চ ১৩, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 
১,০৯০.
কে অপারেশন সার্চলাইট এর নীল নকশা তৈরি করেন?
  1. মো. আলী জিন্নাহ
  2. টিক্কা খান
  3. ভুট্টো
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে।
- এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ, ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
১,০৯১.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এম মনসুর আলী
  4. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার: 
 - মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। 
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:  
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)।
- তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
- এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,০৯২.
“মাৎস্যন্যায়” বাংলার কোন সময়কাল নির্দেশ করে?
  1. ৬ষ্ঠ-৭ম শতক
  2. ৫ম-৬ষ্ঠ শতক
  3. ৮ম-১০ম শতক
  4. ৭ম-৮ম শতক
সঠিক উত্তর:
৭ম-৮ম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ম-৮ম শতক
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
যখন দণ্ডদানের আইন স্থগিত বা অকার্যকর থাকে তখন এমন অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয় যা মাছের রাজ্য সম্পর্কে প্রচলিত প্রবচনের মধ্যে পরিস্ফুট। অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত বড় মাছ ছোটটিকে গ্রাস করে, কারণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবর্তমানে সবল দুর্বলকে গ্রাস করবেই।

সময়কাল:
বাংলার ৭ম-৮ম শতকের নৈরাজ্যপূর্ণ সময়কে 'মাৎস্যন্যায়' নামে অভিহিত করা হয়।

মাৎস্যন্যায় এবং অরাজকতা:
শশাঙ্কের পর বাংলায় অরাজকতা ও হানাহানির যুগ (৭ম-৮ম শতক) শুরু হয়, যা ইতিহাসে ‘মাৎস্যন্যায়’ নামে পরিচিত।

গোপালের রাজত্ব:
বাংলার দীর্ঘ সময়ের অরাজকতা ও হানাহানির অবসান ঘটে গোপালের রাজত্বের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, যার ফলে পাল বংশের শাসন শুরু হয় এবং বাংলায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

পাল রাজবংশের শাসন:
প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে, যা অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর ধরে বাংলা ও বিহার অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করে।

গোপালের উত্থান:
বাংলায় চরম অরাজকতা ও নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়ে গোপাল নামে এক উচ্চবর্ণের ব্যক্তি পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রখ্যাত পাল রাজারা:
ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপালসহ আরও অনেক পাল রাজা বাংলার শাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৩.
আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা দাবি পেশ করা হয় -
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  3. ২৩ জুন, ১৯৬৬
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন। এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়। 
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।

দফাগুলো হলো:
• প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌,
• দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
• তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
• চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
• পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
• ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ও মূলধারা ’৭১'।
১,০৯৪.
‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ক) বাংলা ১২৫০ বঙ্গাব্দে
  2. খ) বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে
  3. গ) ইংরেজি ১৮৫০ সালে
  4. ঘ) ইংরেজি ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
ইংরেজি ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় এটিকে "পঞ্চাশের মন্বন্তর" বলা হয়।
এ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। এ দুর্ভিক্ষের জন্যে কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করা হয়। এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস – উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়]
১,০৯৫.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?
  1. ৪নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৬নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১,০৯৬.
‘সাগরকন্যা’ কোন এলাকার ভৌগােলিক নাম?
  1. ক) টেকনাফ
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) পটুয়াখালী
  4. ঘ) খুলনা
সঠিক উত্তর:
গ) পটুয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
সাগরকন্যা:
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,০৯৭.
'ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ' মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২ নং
  2. ৭ নং
  3. ৮ নং
  4. ১ নং
সঠিক উত্তর:
১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ নং
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীর শ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার। 
- যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।

২। সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।

৩। সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ১৮, ১৯৭১।

৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১।

৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: আগস্ট ২০, ১৯৭১।

৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: এপ্রিল ৮,১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।

৭। নূর মোহাম্মদ শেখ,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,০৯৮.
গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বকালে গ্রিক সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. সেলুকাস
  2. টলেমি
  3. মেগাস্থিনিস
  4. আলেকজান্ডার
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার
ব্যাখ্যা

গঙ্গারিডাই:
- গঙ্গারিডাই প্রথম খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখায় একটি জনগোষ্ঠী ও একটি দেশের নাম হিসেবে উল্লিখিত।
- গঙ্গারিডাই রাজ্যের অস্তিত্বকালে প্রধান গ্রিক সেনাপতি ছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট। আলেকজান্ডার ও তাঁর সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডিওডোরাস (৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দ-১৬ খ্রিস্টাব্দ) সিন্ধু পরবর্তী দেশ সম্বন্ধে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, গঙ্গা পেরিয়ে যে অঞ্চল সেখানে ‘প্রাসিয়ই’(Prasioi) ও গঙ্গারিডাই-দের আধিপত্য।
- টলেমি (দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দ) গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন যে, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন প্রায় সমস্ত এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল, ‘গাঙ্গে’ (Gange) নগর ছিল এর রাজধানী। 
- প্রাচীন বাংলার বঙ্গ জনপদকে গ্রিক ও ল্যাটিন লেখকদের ‘গঙ্গারিডাই’-এর সমতুল্য গণ্য করা যেতে পারে।
- প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে 'ঐতিহ্য অন্বেষণ' নামক সংস্থাটি দাবি করেছে যে, উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলেই হয়তো ইতিহাস বিখ্যাত গঙ্গারিডি বা গঙ্গারিডাই রাজ্য গড়ে উঠেছিল।

অন্যদিকে,
- সেলুকাস: আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর (৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) তাঁর সেনাপতি, যিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সাথে যুদ্ধ করেন।
- টলেমি: আলেকজান্ডারের আরেক সেনাপতি, যিনি মিশরে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- মেগাস্থিনিস: গ্রিক রাষ্ট্রদূত ও ঐতিহাসিক (চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সময়ে পাটলীপুত্রে আসেন), সেনাপতি নন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৯.
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কোন শতকে নদীয়া জয় করেন?
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। 
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১,১০০.
কে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) ইউসুফ আলী
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) আমিরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমিরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
-  স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।