বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১০১ / ১২৪ · ১০,০০১১০,১০০ / ১২,৪২১

১০,০০১.
ইংরেজ কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি প্রদান করেন-
  1. ক) নাজিম-উদ-দ্দৌলা
  2. খ) দ্বিতীয় শাহ আলম
  3. গ) মীর জাফর
  4. ঘ) ফররুখ শিয়ার
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় শাহ আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধে অযোদ্ধার নবাব সুজাউদ্দৌলা, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সহায়তায় গড়ে তোলা মীর কাশিমের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজ বাহিনীর যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাই বক্সারের যুদ্ধ নামে খ্যাত। এ যুদ্ধে মীর কাশিম শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। ফলে ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দেওয়ানি প্রদান করেন।
[সূত্রঃ ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম(উন্মুক্ত) এবং বাংলাপিডিয়া]
১০,০০২.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলার নাম দেন 'জান্নাতাবাদ'?
  1. বাবর
  2. হুমায়ুন
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
• সম্রাট হুমায়ুন — বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

• সম্রাট হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬):

- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন।
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।

উল্লেখ্য,
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আকবর এর প্রথম পুত্র জাহাঙ্গীর তাঁর পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নূরুদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর উপাধি গ্রহণ করে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর সময়ে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
১০,০০৩.
সম্প্রতি এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী “মুসা ইব্রাহিম” কোন জেলার অধিবাসী?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) নীলফামারী
  3. গ) কুড়িগ্রাম
  4. ঘ) লালমনিরহাট
সঠিক উত্তর:
ঘ) লালমনিরহাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা
মুসা ইব্রাহিম
-
মুসা ইব্রাহীম একজন বাংলাদেশী পর্বতারোহী।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন।
- তিনি ২৩ মে ২০১০ তারিখে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিটে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন।
- এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহিমের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের দুর্গাপুর উপজেলা।
- মুসা ইব্রাহীম চায়না-তিব্বতের দিক দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন।
- ২০১০ সালের ২৩ মে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশকে ৬৭তম এভারেস্টজয়ী দেশ হিসেবে পরিণত করে মুসা ইব্রাহীম।

উল্লেখ্য,
- তেনজিং নোরগে একজন নেপালী শেরপা পর্বতারোহী ছিলেন।
- তিনি এবং এডমন্ড হিলারি ১৯৫৩ সালের ২৯ শে মে যৌথভাবে বিশ্বে সর্বপ্রথম পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট পর্বত জয় করেন।

উৎস: i) প্রথম আলো, ১০ মার্চ, ২০১৮।
        ii) thedailystar.net, May 26, 2010.
১০,০০৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কতজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ’বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ৪২৬ জন
  2. ৩২৫ জন
  3. ১২৫ জন
  4. ৬৮ জন
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪২৬ জন
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৪২৬ জন কে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ’বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

• বীরত্বসূচক খেতাব:

- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।

- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।


• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সভায় বীরত্বসূচক খেতাবের নতুন নামকরণ হয়:
- সর্বোচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীরশ্রেষ্ঠ।
- উচ্চ পদমর্যাদার খেতাব →  বীর উত্তম।
- প্রশংসনীয় পদমর্যাদার খেতাব →  বীর বিক্রম।
- বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্রের খেতাব →  বীর প্রতীক।

• ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়

• বীরশ্রেষ্ঠ- ৭ জন;
• বীর উত্তম- ৬৮ জন;
• বীর বিক্রম- ১৭৫ জন;
• বীর প্রতীক- ৪২৬ জন;

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
- বীর উত্তম ৬৭ জন,
- বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
- বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,০০৫.
কোন শাসকের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে?
  1. শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  2. সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহ
  3. গিয়াসুদ্দিন বারবক শাহ
  4. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
ব্যাখ্যা

⇒ শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ এর পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

বাংলায় হাবশি শাসন:
- বাংলার ছয় বছরের হাবশি শাসনামলে চারজন সুলতান বাংলা শাসন করেছেন।
- তাদের প্রত্যেকেই পূর্বসুরীকে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছেন এবং ষড়যন্ত্রকারী উত্তরসূরীর হাতেই নিহত হয়েছেন।
- মূলত হাবশি আমল বলতে মাহমুদ শাহী সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহের পরে বাংলা শাসনকৃত গিয়াসুদ্দিন বারবক শাহ বা সুলতান শাহজাদা, ফিরোজ শাহ, মাহমুদ শাহ এবং মুজাফ্ফর শাহের শাসনকালকে বোঝানো হয়।
- হাবশি নেতা সুলতান শাহজাদা (১৪৮৭ খ্রি.) প্রথম ক্ষমতায় বসে কয়েক মাসের মধ্যে হাবশি সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে তিনবছর (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রি.) শাসন করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ।
- কিন্তু তাঁকে হত্যা করে ক্ষতায় বসেন 'শামসুদ্দীন আবু নছর মুজাফফর শাহ' (১৪৯০-১৪৯৩ খ্রি.) নামে এক হাবশি সর্দার।
- তিনি ছিলেন অত্যাচারী শাসক।
- তাই গৌড়ের সম্ভ্রান্ত লোকেরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং এই বিদ্রোহে যোগ দেন তাঁর উজির সৈয়দ হোসেন।
- অবশেষে শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ নিহত হন এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলায় হাবশি শাসনের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০০৬.
সাত গম্বুজ মসজিদ কোন স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন?
  1. মুঘল
  2. সুলতানি
  3. নবাবী
  4. ইউরোপীয়
সঠিক উত্তর:
মুঘল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল
ব্যাখ্যা

সাত গম্বুজ মসজিদ:
- সাত গম্বুজ মসজিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত মুঘল আমলে নির্মিত একটি মসজিদ।
- এই মসজিদটি চারটি মিনারসহ সাতটি গম্বুজের কারনে মসজিদের নাম হয়েছে 'সাতগম্বুজ মসজিদ'।
- এটি মুঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন।
- ১৬৮০ সালে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর আমলে তার পুত্র উমিদ খাঁ মসজিদটি নির্মান করান।
- মসজিদটি লালবাগ দূর্গ মসজিদ এবং খাজা আম্বর মসজিদ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

⇒ এর ছাদে রয়েছে তিনটি বড় গম্বুজ এবং চার কোণের প্রতি কোনায় একটি করে অনু গম্বুজ থাকায় একে সাত গম্বুজ মসজিদ বলা হয়।
- মসজিদের পূর্বপাশে এরই অবিচ্ছেদ্য অংশে হয়ে রয়েছে একটি সমাধি।
- কথিত আছে, এটি শায়েস্তা খাঁর মেয়ের সমাধি। সমাধিটি ‘বিবির মাজার’ বলেও খ্যাত। 

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।

১০,০০৭.
শরীফ কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে কোথায়? 
  1. ঢাকা কলেজে
  2. জগন্নাথ কলেজে
  3. ঢাকা মেডিকেলে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কলেজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা কলেজে
ব্যাখ্যা

• শিক্ষা আন্দোলন:
• শরীফ কমিশনের সুপারিশ ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার ছাত্ররা তৃতীয়বারের মত আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।

- ঢাকা কলেজ থেকে প্রথমে আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
- এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের মেডিকেল, স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা আন্দোলনের ডাক দেয়।
- ১০ আগস্ট ঢাকা কলেজের ক্যান্টিনে স্নাতক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্ররা এক সমাবেশে মিলিত হয়ে ১৫ আগস্ট দেশব্যাপী ধর্মঘট এবং ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়।
- ১৫ আগস্ট দেশব্যাপী ধর্মঘট পালিত হয় এবং এদিন থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- ১০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করলে ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেওয়া হয়।
- এদিকে ১০ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে মুক্তি প্রদান করে সরকার তাঁর মুক্তিপ্রদান সম্পর্কে কটাক্ষ করলে ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্ররা রাস্তায় রাস্তায় পিকেটিং শুরু করে। ঐদিন ছাত্রদের সঙ্গে পূর্ববাংলার ব্যবসায়ী সমিতি, কর্মচারী সমিতি, রিকশা ইউনিয়ন, শ্রমিক ইউনিয়ন প্রভৃতি সংগঠন যোগ দেয়।
- সরকার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করার লক্ষে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে।
- ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশী নির্যাতনে কয়েকজন ছাত্র নিহত ও আহত হয়।
- এদিন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে যশোর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের নির্যাতনে বহু ছাত্র আহত ও গ্রেফতার হয়।
- তিনদিন পূর্ববাংলায় ব্যাপক ছাত্র অভ্যুত্থান ঘটে। ঘটনার ক্রম অবনতি লক্ষ করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর গোলাম ফারুকের সাথে কয়েক দফা বৈঠকে মিলিত হন।
- তাঁরই পরামর্শে ছাত্র অভ্যুত্থানের তৃতীয় দিনের মধ্যে সরকার শরীফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০০৮.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের ফলে কী ঘটে?
  1. নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়
  2. শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়
  3. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়
  4. আইয়ুব খানের শাসন শক্তিশালী হয়
সঠিক উত্তর:
শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়
ব্যাখ্যা

১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরিফ কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
- এ প্রতিবেদনের সুপারিশে ছাত্রদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
- ফলে কঠোর আন্দোলন শুরু হয়।
- এ আন্দোলন 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' নামে পরিচিত।
- ১৫ই আগস্ট থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ই সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং কয়েক'শ আহত হয়।
- এ আন্দোলনের ফলে শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

১০,০০৯.
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুপাত কত?
  1. ১ : ৩০
  2. ১ : ৪০
  3. ১ : ৫০
  4. ১ : ৬০
সঠিক উত্তর:
১ : ৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ : ৩০
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী,
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত:
- প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১ : ৩০। এ লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের মধ্যে অর্জন করা হবে।
এছাড়াও,
- মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের মধ্যে ১ : ৩০ এ উন্নীত করা হবে।

• জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০:
- স্বাধীনতার পরপরই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত এ খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। 
- উক্ত কমিশন ব্যাপক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ১৯৭৪ সালে গণমুখী আধুনিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে।
- আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সময়ের প্রয়োজনে এটি সংশোধন ও পরিমার্জন করা হয়েছে।
- সর্বশেষ ২০১০ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এই শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিশীল নেতৃত্বদানে উপযোগী মানবতাবাদী, মননশীল, যুক্তিবাদী, কুসংস্কারমুক্ত, অসম্প্রদায়িক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা।

উৎস: জাতীয় শিক্ষা নীতি- ২০১০।

১০,০১০.
'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রথম সংকলনের সম্পাদক-
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম সংকলন:

• ৫২ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৫৩ সালে 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সাহিত্য সংকলনটি প্রকাশিত হয়। 
'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রথম সংকলনের সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান।
• তার সম্পাদনায় ১৬ খণ্ডে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র ' (১৯৮২ - ৮৩) প্রকাশিত হয়।
• হাসান হাফিজুর রহমানের জন্ম: ১৯৩২ সালে এবং
• মৃত্য:   ১৯৮৩ সালে। 
•  তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন। 
• তার পূর্বপুরুষ জামালপুর জেলার অন্তর্গত কুলকান্দি গ্রামে বাস করতেন। 
• তিনি মুক্তিযুদ্ধের দলিল সম্পাদনার জন্য বিখ্যাত।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অবদান রাখেন। 
• একুশের চেতনার উপর ভিত্তি করে তার কবিতা অমর একুশে প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালেই। 
• এটি সহ আরও কিছু লেখা একত্রিত করে ১৯৫৩ সালে তিনি তাঁর প্রথম বই একুশে ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করেন।
• তিমি ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক  বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
১০,০১১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনী কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ১০
  2. ১১
সঠিক উত্তর:
১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল: ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- চট্টগ্রাম: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা: ২ নং সেক্টর,
- রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী: ৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর: ৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন: ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,০১২.
মুহাম্মদ ঘুরী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের মধ্যে দ্বিতীয় তারাইনের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
  1. ক) ১১৯০ সালে
  2. খ) ১১৯২ সালে
  3. গ) ১২০৬ সালে
  4. ঘ) ১২১২ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১১৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১১৯২ সালে
ব্যাখ্যা
The Battle of Terain took place on 9 and 12 near the present town of Thanesvara in present-day Haryana , near the city of Tarain. This place is located 3 km north of Delhi. These wars took place between the Ghuri forces led by Muhammad Ghuri and the Chauhan Rajput forces led by Prithviraj Chauhan . [source: to A Chronology of Global Collect who in Conflict: in From the World-Ancient to Modern in Middle in East to the (English)]
১০,০১৩.
মুক্তিযুদ্ধে ‘ক্র্যাক প্লাটুন’ কোন শহরে সক্রিয় ছিল?
  1. খুলনা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
ক্র্যাক প্লাটুন:
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২ নং সেক্টর ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর, যার অধীনে ছিল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলো।
- এই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং তার অধীনেই ক্র্যাক প্লাটুন গঠিত হয়।
- এই দলের সদস্যরা ছিলেন অত্যন্ত সাহসী এবং সুসংগঠিত।
- তারা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে অপারেশন পরিচালনা করত এবং বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনীর উপর অতর্কিত আক্রমণ চালাত।
- ক্র্যাক প্লাটুন ঢাকা শহরে ছোটো বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করে।

ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন:
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০১৪.
'আসাদগেট' কীসের প্রতীক?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• শহীদ আসাদ:
- শহীদ আসাদ (১৯৪২-১৯৬৯) উনিশশত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদ ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক।
- আসাদের মৃত্যুতে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে 'আইয়ুব গেট' হয়ে যায় 'আসাদ গেট', 'আইয়ুব এভিনিউ' নামান্তরিত হয়ে হয় 'আসাদ এভিনিউ'।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,০১৫.
'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' এর নাম পরিবর্তন করা হয় কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
  2. ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  4. ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র 
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- বস্ত্তত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল।
- ১৯৭১-এর ৩০ মার্চ পাকিস্তান বিমান বাহিনী কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। ফলে এটি অচল হয়ে যায়।
- কেন্দ্রটি ৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বাগাফায় একটি শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটারের সাহায্যে এর দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু করে। 
- মে মাসের ২৫ তারিখ কেন্দ্রটি কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং একই দিনে সেখানে এটি তার কার্যক্রম শুরু করে। 
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র‘ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ।
- চরমপত্র সিরিজটি পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান এবং স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন এম.আর আখতার মুকুল, যিনি নিজেই এর উপস্থাপক ছিলেন। 
- ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্থায়ী সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর
- স্বাধীন দেশের বেতার কেন্দ্র হিসেবে এর নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ বেতার’।
- বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে এবং সেদিন থেকেই স্বাধীন দেশের রেডিও হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কাজ শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
১০,০১৬.
কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গড়ে ওঠে?
  1. আবদুল হক
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রভাষা ও তমদ্দুন মজলিস: 
- ১৯৪৭ সালের ১৭ই মে চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।
- তাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আবদুল হক, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আবুল মনসুর আহমদ এবং ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কজন বুদ্ধিজীবী প্রবন্ধ লিখে প্রতিবাদ জানান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
- ৬-৭ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উক্ত সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে 'বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন' করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,০১৭.
ঢাকায় কোন আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব 'মসলিন কাপড়' তৈরি হতো?
  1. ক) পাল আমলে
  2. খ) মুঘল আমলে
  3. গ) সেন আমলে
  4. ঘ) ইংরেজ আমলে
সঠিক উত্তর:
খ) মুঘল আমলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা

- মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি বেড়ে যায় এবং তা দূর-দূরান্তের বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে।
- মুগল সম্রাট ও অভিজাতগণ ঢাকার মসলিন শিল্পের প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১০,০১৮.
হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
  1. আমেনা খাতুন
  2. রাবেয়া বেগম
  3. হাসিনা বেগম
  4. মরিয়ম বানু
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসিনা বেগম
ব্যাখ্যা
প্রথম শহীদ মিনার:

- ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের উদ্যোগে বর্তমান শহিদ মিনারের দক্ষিণ- পূর্ব পাশে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।
- ঐ দিন বিকেলবেলা পুলিশ এটি ভেঙে ফেলে।
- এরপর ১৯৬৩ সালে হামিদুর রহমানের নকশায় নির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০,০১৯.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল কেন?
  1. জনগণকে আশ্বাস দেয়ার জন্য
  2. সরকার বিরোধী প্রচারনায় ২১ সহায়ক ছিল বলে
  3. একুশে ফেব্রুয়ারিকে চির অম্লান রাখার জন্য
  4. একুশ সংখ্যাটি মঙ্গলজনক ছিল বলে
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারিকে চির অম্লান রাখার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একুশে ফেব্রুয়ারিকে চির অম্লান রাখার জন্য
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন। ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০২০.
আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন কোন শাসক?
  1. ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. ঘ) নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
• আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
• তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন
• আলাউদ্দিন হোসেন শাহের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধরবসু ‘ভগবদ গীতা’, কৃত্তিবাস ‘রামায়ন’ সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
• রামায়ন অনুবাদের জন্য হোসেন শাহ তাঁকে ‘গুনরাজ খাঁ’ উপাধি দেন।
• তাছাড়া কবি মালাধর বসু, মনসা মঙ্গল এর রচিয়তা বিজয় গুপ্ত, মনসা বিজয়ের লেখক বিপ্রদাস অনেকেই তাঁর সহযোগিতা পেয়েছিলেন।
• তাঁর অধীনস্থ চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর নামক জনৈক পন্ডিত বাংলা ভাষায় ‘মহাভারত’ অনুবাদ করেন।
• গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, মানিকগঞ্জ জেলার নাচাইল মসজিদ, গোমতি ফটক ছাড়া অগণিত মসজিদ, মাদ্রসা, সমাধি ও দূর্গ নির্মাণ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
• তিনি ‘বাদশাহী সড়ক’ সহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০২১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন নিচের কোনটি?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা পরিষদ
  2. খ) তমদ্দুন মজলিশ
  3. গ) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  4. ঘ) সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
খ) তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- পরবর্তীতে ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ'।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০২২.
পাকিস্তানের শাসকেরা আরবি হরফে বাংলা লেখার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে কত সালে?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০২৩.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য কয়টি?
  1. ক) ১২ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ৪ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ১২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১২ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধানত ১২ টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
যথা-
১. প্রজাতন্ত্র
২. রাষ্ট্র পরিচালনার মুলনীতি
৩. মৌলিক অধিকার
৪. সংসদীয় সরকার পদ্ধতি
৫. লিখিত সংবিধান
৬. জনগণের সার্বভৌমত্ব
৭. সংবিধানের সার্বভৌমত্ব
৮. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
৯. দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান
১০. এককেন্দ্রিক রাষ্ট
১১. এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা
১২. আইনের শাসন

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১০,০২৪.
মোগল সম্রাট আকবরের যুগে বাংলার নামের উৎস ব্যাখ্যা কোন ইতিহাস লেখকের গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. আল বেরুনি
  2. ইবনে বতুতা
  3. আবুল ফজল
  4. মিনহাজ-ই-সিরাজ
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

বাংলা নামকরণ: 
- মোগল সম্রাট আকবরের ইতিহাস লেখক আবুল ফজল বাংলা নামের উৎপত্তির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
- তার মতে এদেশের প্রাচীন নাম ছিল 'বঙ্গ'।
- এর আগে আমরা অবশ্য একটি ছোট জনপদ হিসেবে বঙ্গ নামক অঞ্চলের সাথে পরিচিত হয়েছি।
- আবুল ফজলের মতে প্রাচীনকালে এই বঙ্গ অঞ্চলের রাজারা ১০ গজ উঁচু ও ২০ গজ চওড়া প্রকাণ্ড 'আল বা বাঁধ' নির্মাণ করতেন।
- এ থেকে বঙ্গ+আল=বঙ্গাল, বাঙ্গাল বা 'বাঙ্গালা' নাম হয়েছে।
- তবে একথা ঠিক মুসলিম আমলের পূর্বে 'বঙ্গ' ও বাঙ্গালা বাংলার অংশ বিশেষের নাম ছিল।
- আবুল ফজল সে সময়ের বাংলার একটি সীমা এঁকেছেন।
- তার মতে বাংলা চট্টগ্রাম থেকে রাজমহলের নিকট তেলিয়াগর্হি পর্যন্ত চারশত ক্রোশ লম্বা ছিল।
- পূর্ব ও উত্তর দিক ছিল পাহাড়ে ঘেরা। বাংলার দক্ষিণে ছিল সাগর আর পশ্চিমে বিহার প্রদেশ।
- তখন প্রদেশগুলোর নাম হয় 'সুবা'। সুবা বাংলা তখনও চট্টগ্রাম থেকে তেলিয়াগর্হি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- তখন চট্টগ্রাম থেকে রাজমহল এবং হিমালয় পর্বত থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বাংলার বিস্তার ছিল।

উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০২৫.
কোন আমলে বাংলা বাউল গান, কবি গান এবং মর্সিয়া গানের সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ইলিয়াস শাহী
  2. খ) হোসেন শাহী
  3. গ) মোগল
  4. ঘ) সুলতানি
সঠিক উত্তর:
গ) মোগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মোগল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ মোগল আমলে/যুগে।

ব্যাখ্যাঃ মোগল যুগে শাসকবর্গের ভাষা ছিল ফারসি। তাছাড়া সরকারি কাজে ফারসি ভাষা চালু করার ফলে বাংলায় ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়। সরকারি চাকরি লাভের আশায় হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরা ফারসি ভাষা শিখতেন। এসব ফারসি ভাষা জানা কর্মচারীদের 'মুন্সী' বলা হতো। নবাব সুবাহদার ও মুসলিম অভিজাত শ্রেণী ফারসি ভাষা উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। ফারসি একটি সমৃদ্ধ ভাষা। বাংলা সাহিত্যে এ ভাষার প্রভাব বেশ করা যায়। ফারসির প্রভাবে বাংলা ভাষার ঐশ্বর্য বৃদ্ধি পায়। ফারসি সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও লেখার অনুকরণে বাংলা সাহিত্য উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ক্রমে বাংলা কবিতায় ফারসি শব্দের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফারসির অনুকরণে বাংলায় গজল ও সূফী সাহিত্যের সৃষ্টি হয়।

হিন্দু কবিদের রচনায় সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব সুস্পষ্ট হলেও তারাও ফারসি সাহিত্যের প্রভাব এড়াতে পারতেন না। বৈষ্ণব পদাবলীতে ফারসি সাহিত্যের প্রভাব লক্ষণীয়। মোগল যুগে বাংলায় বাউল গানের সৃষ্টি হয়। এসময় কবিগান, মর্সিয়া গানও রচিত হয়।

উৎসঃ এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [Click here to get pdf file]

১০,০২৬.
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ কত সালে দেশে সামরিক আইন জারি করে?
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে সামরিক আইন জারি:
- ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উপ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
- বিচারপতি সাত্তার নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে ১৯৮২ সালে ২৪ মার্চ সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে।
- রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তার অপসারিত হন।
- এরশাদ নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা করেন।
- একই সঙ্গে সংবিধান স্থগিত, জাতীয় সংসদ বাতিল এবং মন্ত্রিপরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকার দেশে সামরিক আইন জারি করেন।
- সামরিক সরকার দেশে সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

⇒ টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বিবিসি বাংলা।

১০,০২৭.
বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. পোল্যান্ড
  3. কানাডা
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০,০২৮.
উপমহাদেশে বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন -
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  3. লর্ড কার্জন
  4. লর্ড বেন্টিক
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ডালহৌসি
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি
- সাম্রাজ্যবাদী লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রবর্তন করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ও সহযোগীতায় তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করেন।
- তার শাসনামলেই (১৮৫৩ সালে) উপমহাদেশে রেলের যাত্রা শুরু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন।
- উপমহাদেশে টেলিগ্রাফ সিস্টেমও তার অবদান।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০২৯.
গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ২১ জানুয়ারি
  2. ২০ জানুয়ারি
  3. ২৪ জানুয়ারি
  4. ২৩ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
♦ গণ-অভ্যুত্থান দিবসঃ
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান দিবস।

- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন- পীড়ন ও সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন নবকুমার ইনস্টিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান।
- জনতার রুদ্ররোষ এবং গণ-অভ্যুত্থানের জোয়ারে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সবাইকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
- পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের। অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।
১০,০৩০.
কোনটির ফলে ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে?
  1. ক) সিপাহী বিদ্রোহ
  2. খ) আলীগড় আন্দোলন
  3. গ) নীল বিদ্রোহ
  4. ঘ) স্বদেশী আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
সিপাহি বিদ্রোহ ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়। এর ফলে সর্বশেষ গর্ভনর জেনারেল লর্ড ক্যানিং প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,০৩১.
'মাৎস্যন্যায়' কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. মৌর্য পূর্ববর্তী যুগ
  2. শশাঙ্কের পূর্ববর্তী যুগ
  3. পালদের পূর্ববর্তী যুগ
  4. গুপ্ত পূর্ববর্তী যুগ
সঠিক উত্তর:
পালদের পূর্ববর্তী যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালদের পূর্ববর্তী যুগ
ব্যাখ্যা

◉ ‘মাৎস্যন্যায়’ নির্দেশ করে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সময়কে, এটা পাল বংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।

মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০-৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।
- বাংলা অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা যখন চরমে, তখন সিংহাসনে বসেন রাজা গোপাল।
- রাজা গোপালের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাল বংশ।
- রাজা গোপাল সিংহাসনে বসার মাধ্যমে অবসান ঘটে মাৎস্যন্যায়ের।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০৩২.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের ছবি সম্বলিত ডাকটিকেট বিশ্বের কোন দেশ প্রকাশ করেছে ?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ভারত
  4. কানাডা
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
- ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা দেয়।
- পরবর্তীতে ২০০০ সালে ১৮৮ টি দেশে সম্মিলিতভাবে এ দিবসটি পালিত হয়।
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মতাে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের ছবি সম্বলিত ডাক টিকেট প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।
১০,০৩৩.
আইন অমান্য আন্দোলনের পটভূমি কোনটি?
  1. ক) ক্রিপস কমিশন
  2. খ) সাইমন কমিশন
  3. গ) নাথান কমিশন
  4. ঘ) ফ্লাউড কমিশন
সঠিক উত্তর:
খ) সাইমন কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাইমন কমিশন
ব্যাখ্যা
- আইন অমান্য আন্দোলন  ১৯৩০ সালে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হয়।
- এ আন্দোলনের পটভূমি হলো সাইমন কমিশন।
- ভারতের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন এবং তা চূড়ান্তকরণের জন্য ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক সাইমন কমিশন গঠিত হয়।
- কেবল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যদের নিয়ে এ কমিশন গঠিত হওয়ার কারণে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের সব ধরনের নেতা ও কর্মীরা এটিকে পুরোপুরি একটি শ্বেতাঙ্গ কমিশন বলে বর্জন করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৪.
কররানী রাজবংশের রাজধানী ছিল -
  1. কর্ণসুবর্ণ
  2. পাটলিপুত্র
  3. তাণ্ডায়
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
তাণ্ডায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাণ্ডায়
ব্যাখ্যা
- কররানী রাজবংশের রাজধানী ছিল তাণ্ডায়।
- সর্দার তাজ খান কররানী বাংলায় কররানী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন (১৫৬৪ খ্রি.)।
- তাজ খান কররাণী ও সুলায়মান খান কররাণী শের শাহের সেনাপতি ছিলেন।
- দাউদ কররাণী ছিলেন বাংলায় শেষ আফগান শাসক।
- কর্ণসুবর্ণ বাংলার গৌড় রাজ্যের প্রথম স্বাধীন শাসক শশাঙ্ক-এর রাজধানী।
- সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
- পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো। এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিলো কর্ণসুবর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৫.
'গ্রন্থাগার অধিদপ্তর' কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?
  1. ক) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়
  2. খ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  3. গ) তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
  4. ঘ) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
- জাতীয় গ্রন্থাগার  একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আইনানুমোদিত তত্ত্বাবধানকারী ও সংরক্ষণকারী এবং জাতির সৃষ্টিশীল কাজের প্রহরী প্রতিষ্ঠান।
- স্বাধীনতা লাভের পরপরই সরকারি এক বিশেষ অধ্যাদেশের অধীনে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয় গ্রন্থাগার ভবন, ঢাকার আগারগাঁও অবস্থিত।
- স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের একটি শাখা চালু হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় ‘বুকস্ অ্যান্ড নিউজপেপারস্ কালেকশন ব্রাঞ্চ’।
- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশিত গ্রন্থ ও সংবাদপত্র সংগ্রহ করাই ছিল এর কাজ।
- এটিই বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধাপ।
- ১৯৭৩ সাল থেকেই বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগার চালু হয়।
- বিশেষ করে দেশ ও বিদেশ থেকে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষ সম্পর্কিত যে কোনো ধরনের দলিলপত্র ও প্রকাশনা সংগ্রহের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- এর ফলে এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কাগুজে দলিলপত্রের সবচেয়ে বড় সংগ্রহশালায় পরিণত হয়।
- ১৯৭৩ সালে কিছু প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন এনে সরকার বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থাগারকে বাংলাদেশ জাতীয় মহাফেজখানা ও গ্রন্থাগার (ডাইরেক্টরেট অব আর্কাইভস অ্যান্ড লাইব্রেরিস) অধিদপ্তরের অধীনে নিয়ে আসে।
- বর্তমানে ২০০২ এ অধিদপ্তর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান।
- প্রথমদিকে ঢাকায় ১০৩ নং এলিফেন্ট রোড এবং পরে ১০৬ নং সেন্ট্রাল রোডের ভাড়া বাড়িতে জাতীয় গ্রন্থাগারের কর্মকান্ড চলে।
- ১৯৮৫ সালে ঢাকার শেরে বাংলা নগরস্থ আগারগাঁও-এ সরকার কর্তৃক নির্মিত নিজস্ব ভবনে গ্রন্থাগার স্থানান্তরিত হয়।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৬.
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত 'এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম জোন' টি কোন সমুদ্র বন্দরে অবস্থিত?
  1. ক) ইনানি
  2. খ) সাবরং
  3. গ) লাবনি
  4. ঘ) কুয়াকাটা
সঠিক উত্তর:
খ) সাবরং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাবরং
ব্যাখ্যা
• এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন:
- কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাংয়ে একটি পর্যটন অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে।
- কক্সবাজারের সাবরাং ট্যুরিজমের ১ হাজার ১৬৫ একর জমি রয়েছে। এতে চাষযোগ্য ৯১.৬৮ একর, খাস ৯৩৭.৪৬ একর ও বিচ ১৩৫.৭১ একর।

- এছাড়া অপর অর্থনৈতিক অঞ্চল নাফনদীর বুকে জেগে ওঠা জালিয়ার দ্বীপে ২৭১.৯৩ একর জমি রয়েছে। এতে অত্যাধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।

- দেশের পর্যটন শিল্পের প্রতি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- এ সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে একাধিক আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, কটেজ, বিচ ভিলা, ওয়াটার ভিলা, নাইট ক্লাব, কার পার্কিং, সুইমিংপুল, কনভেনশন হল, বার, অডিটোরিয়াম, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ক্রাফট মার্কেট, ল্যান্ডস্কেপিংসহ বিভিন্ন পর্যটন সুবিধা থাকবে বলে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।
১০,০৩৭.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কোন নামে দায়ের করা হয়?
  1. পাকিস্তান বনাম শেখ মুজিবুর রহমান
  2. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান
  3. রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  4. পাকিস্তান বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য (আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা)
- সামরিক বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সদস্য মিলে ২৫০ জন বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের ১২-১৫ জুলাই ভারতের সহযোগিতা লাভে বঙ্গবন্ধু এবং আলী রেজা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা জেলায় ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার মেনন এবং মেজর মিশ্রের সাথে বৈঠক করেন।
- পরিকল্পনাকারীদের একজন, আমির হোসেন ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে এই পরিকল্পনা ফাঁস করেন।
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি এই কারণে আইয়ূব খান সরকার "রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য" নামে একটি মামলা দায়ের করে।
- বহুল আলোচিত এই মামলা 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- প্রধান আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ মোট আসামি ছিলেন ৩৫জন।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১০,০৩৮.
১১ দফার সাথে সংশ্লিষ্ট-
  1. ক) আওয়ামী লীগ
  2. খ) ছাত্রলীগ
  3. গ) ছাত্র ইউনিয়ন
  4. ঘ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দু কারারুদ্ধ হলে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে তখন ছাত্ররা এ আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ডাকসু কার্যালয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। 
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬ সালে ঘোষিত ছয় দফা দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল
- তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি ছিল-
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স বাতিলসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি,
বাক-স্বাধীনতা,
ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১০,০৩৯.
উপমহাদেশে প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. মজনু শাহ
  2. ভবানী পাঠক
  3. উভয়েই
  4. কেউই নন
সঠিক উত্তর:
উভয়েই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়েই
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০)

• বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল প্রথম ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ চলে।
• আন্দোলনকারী ফকির-সন্ন্যাসীগণ ছিলেন মাদারিয়া সুফি তরিকার অনুসারী।
• নবাব মীর কাশিম ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসীদের সাহায্য চান।
• বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ।
• সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
• তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি।
• ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
• ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। -১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
• তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে ফকির।
• মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া।
• মজনু শাহর মত্যুর পর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ।ণ
• ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চুড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৪০.
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অর্ন্তগত ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড
  3. গৌড়
  4. হরিকেল
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা

- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর প্রভূতি অঞ্চল নিয়ে গৌড় জনপদ গড়ে উঠেছিলো।
অন্যদিকে,
- বঙ্গ - ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল।
- পুন্ড্র - বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর।
- হরিকেল - সিলেট, চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম।

তথ্যসূত্র- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ. এস. সি,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৪১.
'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক আদেশ জারি করেন কে?
  1. আইয়ুব খান
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. জুলফিকার আলই ভুট্টো
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান জনগণের কিছু আস্থা অর্জনের পর রাজনৈতিক সাফল্য অর্জনের পথে ধীর পদক্ষেপে অগ্রসর হন।
- তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি হাতে নেন।
- ১৯৫৯ সালের ৭ আগস্ট 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।

⇒ মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন:
- ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান তাঁর বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে গণতন্ত্র সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব চিন্তাধারা ও পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
- তাঁর উদ্ভাবিত পরিকল্পনা মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত।
- আইয়ুব খান প্রচার করেন যে, আধুনিক পাশ্চাত্য সংসদীয় গণতন্ত্র পাকিস্তানের স্বল্প শিক্ষিত মানুষের জন্য অনুপযোগী।
- তাঁর প্রবর্তিত 'মৌলিক গণতন্ত্র' সর্বসাধারণের উপযোগী।
- এতে জনগণ সহজে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
- মৌলিক গণতন্ত্র কার্যকর করার জন্য তিনি পাকিস্তানের দুই অংশ থেকে ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন।
- এরা ছিলেন ৫ স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনের সর্ব নিম্নস্তর ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য।
- এ ৮০ হাজার ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য মৌলিক গণতন্ত্রীরাই প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদসহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একমাত্র ভোট প্রদান ক্ষমতার অধিকারী ছিল।
- ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থাসূচক ভোটে আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৪২.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
  1. ক) নিতুন কুন্ডু
  2. খ) হামিদ্দুজ্জামান
  3. গ) জাহানারা পারভীন
  4. ঘ) তানভির কবির
সঠিক উত্তর:
ঘ) তানভির কবির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তানভির কবির
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আত্মত্যাগের প্রতীক। ২০.১০ একর জমির উপর স্মৃতিসৌধটি স্থাপিত। ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণাকার স্তম্ভ সমন্বয়ে এ স্মৃতিসৌধ নির্মিত। স্থপতি তানভীর কবিরের নকশায় এ সৌধটিকে উদীয়মান সূর্যের প্রতীক বলে মনে হয়। ২৩টি স্তম্ভ পাকিস্তানের ২৩ বছর শাসনের প্রতীক। এই ২৩ বছরে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে যে সংগ্রাম গড়ে তোলে, তার প্রতীকও ২৩টি স্তম্ভ। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১০,০৪৩.
হিজরী সাল গণনা শুরু হয় কোন সালে?
  1. ৬০২ সালে
  2. ৬১২ সালে
  3. ৬২২ সালে
  4. ৬২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
৬২২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬২২ সালে
ব্যাখ্যা
হিজরি সন:

- হিজরি সন গণনা শুরু হয় ৬২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে।
- মহানবী (সা.) আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা পাওয়ার পর ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর মোতাবেক ২৭ সফর মক্কা মুকাররামা থেকে মদিনার উদ্দেশে হিজরত করেন।
- ২৩ সেপ্টেম্বর, ৬২২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৮ রবিউল আওয়াল কোথায় পৌঁছেন।
- ২৭ সেপ্টেম্বর, ৬২২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১২ রবিউল আওয়াল মদিনা মুনাওয়ারায় পৌঁছেন মহানবী
(সা.)।
- এ হিজরতেরই স্মৃতিবহন করে আসছে আমাদের হিজরি সন।

তথ্যসূত্র - Jagonews24, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭।
১০,০৪৪.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক জোট বিপুলভাবে জয়লাভ করে?
  1. যুক্তফ্রন্ট
  2. কংগ্রেস
  3. মুসলিম লীগ
  4. নেজামে ইসলাম
সঠিক উত্তর:
যুক্তফ্রন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।

'যুক্তফ্রন্ট' সম্পর্কিত তথ্য:
- যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মূলমন্ত্র ছিলো - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব বাংলার গভর্নর সরকার গঠনের জন্য যুক্তফ্রন্ট নেতা একে ফজলুল হককে আমন্ত্রণ জানান।

সূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০৪৫.
আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন কোনটি?
  1. রিপন কমিশন
  2. নাথান কমিশন
  3. হান্টার কমিশন
  4. উড কমিশন
সঠিক উত্তর:
হান্টার কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হান্টার কমিশন
ব্যাখ্যা
• হান্টার কমিশন: 
- হান্টার কমিশন সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন (১৮৮২) নামে পরিচিত।
- এটি ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- এটি ১৮৮২ সালে স্যার উইলিয়াম হান্টার কে প্রধান করে গঠিত হয়।
- কমিশনটি ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড রিপনের আমলে গঠিত হয়েছিলো।
- ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত এ কমিশনের কাজ ছিল ১৮৫৪ সালের  উড-এর শিক্ষা প্রস্তাবের সময় থেকে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা এবং পরবর্তী অগ্রগতি সাধনের জন্য করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করা।
- সরকার আরেকটি উদ্দেশ্যে এ তদন্ত শুরু করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল এবং
- তা ছিল ১৮৫৪ সালের ডেসপ্যাচের সুপারিশমালা বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে ইংল্যান্ডে মিশনারিদের বিক্ষোভ পর্যালোচনা করা।
- সরকার কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষার উপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করার কারণে কমিশনের মূল অংশ থেকে উচ্চ শিক্ষাকে বাদ দেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে প্রাথমিক শিক্ষার উপরই প্রধানত দৃষ্টি নিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০,০৪৬.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  2. খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
  3. গ) লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব
  4. ঘ) কর্নেল (অব.) এম. এ. জি ওসমানী
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে।
- ঐদিন হানাদার বাহিনী তাদের শোচনীয় পরাজয় মেনে নিয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী নিয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- আমরা লাভ করি প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন যৌথবাহিনীর কমান্ডার লে.জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার। 
- রেসকোর্স ময়দানের খোলা আকাশের নিচে একটি টেবিলে বসে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল অরোরা এবং পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল এ.এ.কে নিয়াজি আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- বন্দী করা হয় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৯৩ হাজার সদস্যকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১০,০৪৭.
৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়-
  1. ক) চট্টগ্রামকে
  2. খ) সিলেটকে
  3. গ) বাগেরহাটকে
  4. ঘ) রাজশাহীকে
সঠিক উত্তর:
খ) সিলেটকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিলেটকে
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসউদ্দিন ফিরোজশাহের শাসনামলে হযরত শাহ জালাল (র.) ৩৬০ জন আউলিয়া (শিষ্য) সহ বাংলাদেশে আসেন।
এজন্য সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
রাজা গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে হযরত শাহজালাল সিলেটে ইসলাম প্রচার করেন। তার সাথে ছিল তার ভাগ্নে বিখ্যাত সুফী শাহ পরান র.।
আবার চট্টগ্রামকে ১২ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৪৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের কোন দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. চীন
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান:
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১০,০৪৯.
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে প্রথম এসেছিল -
  1. পর্তুগিজরা
  2. ওলন্দাজরা
  3. ইংরেজরা
  4. ফরাসিরা
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজরা
ব্যাখ্যা
• বাংলায় বণিকেরা:
- ইউরোপীয়দের মধ্যে পর্তুগিজরাই প্রথম বাংলায় আগমন করে।
- পনেরো শতকের শুরু থেকেই তারা বাণিজ্যের জন্য দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা শুরু করে।
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে ভাস্কো ডা গামার কালিকটে পৌঁছার কয়েক দশক পরে বাংলায় পর্তুগিজদের আগমন ঘটে।
- পনেরো শতকের শেষ দিক হতেই এশিয়া থেকে মসলা আহরণের উদ্দেশ্যে ভেনিস ও আরব বণিকদের এড়িয়ে বিকল্প পথ অনুসরণের ফলেই এদেশে পর্তুগিজদের অনুপ্রবেশ ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫০.
দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন কে?
  1. কর্নওয়ালিস
  2. কার্জন
  3. হেস্টিংস
  4. কার্টিয়ার
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নওয়ালিস
ব্যাখ্যা
পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৫১.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ড গঠিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ২৫ নভেম্বর
  2. খ) ৫ ডিসেম্বর
  3. গ) ২১ নভেম্বর
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২১ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর ভারতীয় সশ্বস্ত্রবাহিনী এবং বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ কমান্ড গঠিত হয়।
৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে বিমান হামলা চালালে ভারতীয় বাহিনী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১০,০৫২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ দাবি পেশ করেন?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯
  2. ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৭
  4. ১৫ জানুয়ারি, ১৯৬৯
সঠিক উত্তর:
৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:

- ৭ জুন ছয় দফা দিবস। 
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত। 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫৩.
সোনা ও রুপার পরিবর্তে তামার মুদ্রা প্রচলন করেন কে?
  1. সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন তুঘলক: 
- গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- তাঁর রাজত্বকালের প্রথম তেরো বছর দেশে শান্তি বিরাজমান ছিল। 
- এ সময়ের মধ্যে মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। 
-এছাড়াও খোরাসান অভিযান, কারাচিল অভিযান, প্রতীক মুদ্রার প্রচলন, দোয়াবে কর বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। 
- সিন্ধুর বিদ্রোহ দমনকে ক্লান্ত সুলতান মৃত্যু বরণ করেন। 
- তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ পণ্ডিত ছিলেন। 
- মুহম্মদ বিন তুঘলক ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রা প্রবর্তন করেন। 
- তিনি সোনা ও রুপার পরিবর্তে প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করেন। 

অন্যদিকে,
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান। তিনি রাজধানী সোনার গায়ে প্রতিষ্ঠা করেন। 
- শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, সাতগম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন। 
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৫৪.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে কতজন নারীকে বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করা হয়েছে?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৫৫.
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে কোথায় নির্বাসনে দেওয়া হয়?
  1. কোলকাতায়
  2. রেঙ্গুন
  3. উত্তমাশা অন্তরীপ
  4. দিল্লীত
সঠিক উত্তর:
রেঙ্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেঙ্গুন
ব্যাখ্যা
বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৫৬.
বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রথম আন্দোলন কোনটি?
  1. ক) বারাসাত বিদ্রোহ
  2. খ) ফরায়েজী আন্দোলন
  3. গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
  4. ঘ) তেভাগা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম সংঘটিত আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
এই আন্দোলনের ব্যাপ্তি ছিলো আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত। এই আন্দোলনে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ। অন্যদিকে সন্ন্যাসীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,০৫৭.
বাংলাদেশ সরকার বীরশ্রেষ্ঠদের নাম কবে ঘোষণা করে?
  1. ক) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  3. গ) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩
  4. ঘ) ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠদের নাম ঘোষণা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরই এই পদকগুলো দেয়া হয়।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদক প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,০৫৮.
১৯৭১ সালের কত তারিখে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল
  2. খ) ১৮ এপ্রিল
  3. গ) ১১ জুলাই
  4. ঘ) ২১ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ জুলাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ জুলাই
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সহায়তায় সামরিক ও বেসামরিক জনগণের সমন্বয়ে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল কর্নেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকারকে মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ও উপপ্রধান সেনাপতি ঘোষণা করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এই ১১ টি সেক্টরের সশস্ত্রবাহিনীকে সংগঠিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই।
- মুক্তিবাহিনীকে তিনটি বিগ্রেড ফোর্সে ভাগ করা হয় যা জেড ফোর্স, কে ফোর্স এবং এস ফোর্স নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি, প্রথম আলো পত্রিকা, বিবিসি নিউজ বাংলা, ও যুগান্তর পত্রিকা।
১০,০৫৯.
বাঙালির মুক্তির সনদ 'ছয় দফা' কোন তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল?
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪
  2. খ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  3. গ) ২৬ মার্চ ১৯৬৬
  4. ঘ) ২০ এপ্রিল, ১৯৬২
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত। ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফাঃ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফাঃ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফাঃ মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফাঃ রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফাঃ বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফাঃ আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,০৬০.
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?
  1. ৩০৯টি
  2. ২২৩টি
  3. ২২৫টি
  4. ২৪০টি
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২৩টি
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের ৮ই মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।

• যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- অন্যান্য সদস্যের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার;
- সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লি উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০৬১.
বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোন যুদ্ধে পরাজিত হন?
  1. পলাশী যুদ্ধে
  2. কর্ণাটকের যুদ্ধে
  3. বক্সারের যুদ্ধে
  4. কলিঙ্গ যুদ্ধে
সঠিক উত্তর:
পলাশী যুদ্ধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলাশী যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:
- বাংলার শেষ নবাব নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সব ধরণের সুযোগ সুবিধার পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১০,০৬২.
মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ হন কে?
  1. ক) শম্ভু সরকার
  2. খ) সন্তু নাথ
  3. গ) নূর হোসেন
  4. ঘ) শঙ্কু সমজদার
সঠিক উত্তর:
ঘ) শঙ্কু সমজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শঙ্কু সমজদার
ব্যাখ্যা
•  ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শঙ্কু সমজদার।
• তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১০,০৬৩.
মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এম এ জি ওসমানী
  4. ঘ) আব্দুর রব
সঠিক উত্তর:
গ) এম এ জি ওসমানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এম এ জি ওসমানী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ছিলেন লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,০৬৪.
Which Arab country first recognized Bangladesh?
  1. Iraq
  2. Iran
  3. Lebanon
  4. Saudi-Arab
  5. Syria
সঠিক উত্তর:
Iraq
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Iraq
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

উৎস: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১০,০৬৫.
মুক্তিযুদ্ধে রাঙামাটি কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ১ নং
  2. খ) ২ নং
  3. গ) ৩ নং
  4. ঘ) ৪ নং
সঠিক উত্তর:
ক) ১ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: 
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- সেক্টর নং ১
ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন মেজর রফিকুল ইসলাম। আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।
- সেক্টর নং ২
ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’। এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এটিএম হায়দার। এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।
- সেক্টর নং ৩
হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর কেএম শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন মেজর এএনএম নুরুজ্জামান। আর এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৪
সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর। মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত (পরে মেজর জেনারেলা) এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
- সেক্টর নং ৫
বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় । মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
- সেক্টর নং ৬
দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৭
রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন -মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান। এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৮
কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর (পরে লে.কর্নেল) আবু ওসমান চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর (পরে মেজর জেনারেল) এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ৯
পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং তারপর মেজর জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
- সেক্টর নং ১০
সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধীনে। এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন। এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
- সেক্টর নং ১১
কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান । নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু তাহের ও তারপর ফ্লাইট লেফট্যান্যান্ট (পরে উইং কমান্ডার) এম হামিদুল্লাহ খান। এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, BBC
১০,০৬৬.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানীর নাম কী?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) কুষ্টিয়া
  3. গ) মেহেরপুর
  4. ঘ) মুজিবনগর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুজিবনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুজিবনগর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর:

- মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার।
- এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর ছিল বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।
- এই সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে। এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- পরে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৬৭.
Which is the second highest title for outstanding contribution in liberation war?
  1. Bir Sreshtho
  2. Bir Bikrom
  3. Bir Protik
  4. Bir Uttom
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Bir Uttom
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bir Uttom
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব ন উপাধি প্রদান করে।
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ: ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম ৬৮ জন ।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম ১৭৫ জন ।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক ৪২৬ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১০,০৬৮.
মহাস্থানগড়ের পূর্বের নাম কী ছিল?
  1. সোমপুর
  2. ভাসু বিহার
  3. গৌড়
  4. পুণ্ড্রবর্ধন
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রবর্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রবর্ধন
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী ।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দুর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উঁচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১০,০৬৯.
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়-
  1. জেনারেল টিক্কা খান
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  4. জেনারেল পিরজাদা
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

'অপারেশন সার্চলাইট':

- ১৮ই মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন।
- ১৯শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয়।
- ২০শে মার্চ সরকার অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ জারি করে। ঐ দিন জেনারেল ইয়াহিয়া খান তার সামরিক উপদেষ্টা হামিদ খান, জেনারেল টিক্কা খান, জেনারেল পিরজাদা, জেনারেল ওমর প্রমুখকে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সামরিক প্রস্তুতিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন।
- ২৪শে মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে এম ভি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র ও রসদ খালাস শুরু হয়।
- সব প্রস্তুতি শেষে ২৫শে মার্চ গণহত্যার জন্য বেছে নেওয়া হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইটের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০,০৭০.
বাংলাদেশে প্রথম অস্থায়ী সরকার কখন শপথ গ্রহণ করে?
  1. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ২৭ এপ্রিল, ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭১.
ঢাকা জেলা মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নং সেক্টরে অধিভুক্ত ছিল? 
  1. ৩নং
  2. ২নং
  3. ৬নং
  4. ১নং
সঠিক উত্তর:
২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২নং
ব্যাখ্যা

• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। 
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।

অন্যদিকে,
• ১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে।
- সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

• ৩ নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।

• ৬ নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,০৭২.
১৯৫২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায় কোন পত্রিকাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়?
  1. পাকিস্তান অবজারভার
  2. দৈনিক ইনকিলাব
  3. দ্য ডন
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান অবজারভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান অবজারভার
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয় তমাদ্দুন মজলিশ, ইসলামী ছাত্রসংঘ, যুবসংঘ এবং পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের মতো সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে।
- এই পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে সমর্থন করে এবং ২১ ফেব্রুয়ারিতে সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল, বিক্ষোভ এবং সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- ২১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণের কারণ ছিল সেদিন পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছিল, যেখানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়।
- ১৯৫২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায় ‘দৈনিক পাকিস্তান অবজারভার’ নিষিদ্ধ করা হয় এবং ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, যার অধীনে চার বা ততোধিক ব্যক্তির সমাগম নিষিদ্ধ ছিল। 

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৭৩.
বাংলাদেশ মোট কতবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে?
  1. ক) ১ বার
  2. খ) ২ বার
  3. গ) ৩ বার
  4. ঘ) ৫ বার
সঠিক উত্তর:
খ) ২ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ বার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ১৯৭৯-১৯৮০ এবং ২০০০-২০০১ সময়ে মোট দুইবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশের আনোয়ারুল করিম চৌধুরী জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ছিলেন।
(সূত্র: জাতিসংঘ ওযেবসাইট)
১০,০৭৪.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী কে?
  1. ক) এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন।
তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন।
তাজউদ্দীন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট দিয়েছিলেন; সেই বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা।
[উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক]
১০,০৭৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর জিয়াউর রহমান কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ২ নং সেক্টর
  2. ৫ নং সেক্টর
  3. ৩ নং সেক্টর
  4. ১ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

সেক্টর কমান্ডার:

• ১নং সেক্টর: সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• ২ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
• ৩ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
• ৪নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব।
• ৫ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
• ৬ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
• ৭ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
• ৮ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
• ৯ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরের নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
• ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের।
- মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।
- মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,০৭৬.
কত সালে পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল?
  1. ১৯৬৬ সাল
  2. ১৯৬৮ সাল
  3. ১৯৬৯ সাল
  4. ১৯৭০ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সাল
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচন কমিশন
- ১৯৬৯ সালের ২ জুলাই পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বাঙালি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

সত্তরের নির্বাচন 
- এই কমিশনের অধীনে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম এবং শেষ সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচনে মোট ২৪ টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- সমগ্র পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিল ৩১৩ টি, যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিল ১৬৯ টি ( ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ )।
- এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ময়মনসিংহ ও রাঙ্গামাটিতে দুটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়।
- এছাড়া , এই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ ৩০০ টি আসনের মধ্যে ২৮৮ টিতে জয়লাভ করে।
- " ভোটের আগে ভাত চাই " স্লোগানে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল ন্যাপ ( ভাসানী ) এই নির্বাচন বর্জন করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। বাংলাপিডিয়া।
১০,০৭৭.
আগরতলা মামলার ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি কে ছিলেন?
  1. এস.এ.রহমান
  2. আতাউর রহমান খান
  3. আবদুস সালাম খান
  4. মকসুমুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
এস.এ.রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এস.এ.রহমান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য:

- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন বেলা এগারটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- মামলাটি ছিল পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২ ক এবং ১৩১ ধারা অনুসারে।
- মামলায় সাক্ষীর সংখ্যা ছিল ১১ জন, রাজসাক্ষীসহ মোট ২২৭ জন।
- প্রখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের আইনজীবীদের নিয়ে একটি আত্মপক্ষ সমর্থকদল গঠন করা হয়।
- যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা ব্রিটেনের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়াম এমপিকে বিশেষ ট্রাইবুনালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী হিসেবে প্রেরণ করেন।
- তাঁকে সহযোগিতা করেন আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- পাকিস্তান সরকারের পক্ষে প্রধান কৌসুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের ও অ্যাডভোকেট জেনারেল টি.এইচ.খান।
- ট্রাইবুনালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন এস.এ.রহমান।
- অপর দুই বিচারপতি ছিলেন এম.আর.খান ও মকসুমুল হাকিম।
- ২৯ জুলাই ১৯৬৮ মামলার শুনানি শুরু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৭৮.
পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল কে?
  1. আহমদ শাহ আবদালি
  2. বৈরাম খাঁ
  3. ইব্রাহিম লোদী
  4. হিমু
সঠিক উত্তর:
হিমু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমু
ব্যাখ্যা
• পানি পথের যুদ্ধ:
-
পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

• পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:

- সময়কাল: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল: হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

↔ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল: মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

↔পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- ফলাফল: ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্।
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৭৯.
কত খ্রিস্টাব্দে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু হয়?
  1. ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈত শাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।

- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে। অবাধ লুন্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৮০.
লালবাগ কেল্লা কোন শতকে নির্মিত হয়?
  1. ক) ষোড়শ শতক
  2. খ) সতের শতক
  3. গ) আঠারো শতক
  4. ঘ) উনিশ শতক
সঠিক উত্তর:
খ) সতের শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সতের শতক
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত যা সতের শতকে নির্মিত হয়।
১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে বিরতির পর ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এটি নির্মাণ করেন।
এর অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা ‘পরীবিবি’র মাজার অবস্থিত।
১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা কে প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।
(সূত্রঃ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
১০,০৮১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মধ্যযুগীয় মসজিদ কোনটি?
  1. ক) বাঘা মসজিদ
  2. খ) বড় সােনা মসজিদ
  3. গ) ষাট গম্বুজ মসজিদ
  4. ঘ) সাত গম্বুজ মসজিদ
সঠিক উত্তর:
গ) ষাট গম্বুজ মসজিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষাট গম্বুজ মসজিদ
ব্যাখ্যা
• ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাটগম্বুজ মসজিদ  বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলির মধ্যে বৃহত্তম এবং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম চিত্তাকর্ষক নিদর্শন।
- খান জাহান আলী ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মপ্রচারক এবং বাংলাদেশের বাগেরহাটের একজন স্থানীয় শাসক।
- তিনি রাজা গণেশকে পরাজিত করে বাংলার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন।
- পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাগেরহাট জেলায় তিনি বাংলাদেশের মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নির্মাণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০,০৮২.
ইউনেস্কো সুন্দরবনকে কততম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ৭৫৫তম
  2. ৭৭৮তম
  3. ৭৮০তম
  4. ৭৯৮তম
সঠিক উত্তর:
৭৯৮তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৯৮তম
ব্যাখ্যা
₻ সুন্দরবন
- সুন্দরবনের মোট আয়তন ৩৮৬০ বর্গমাইল বা ১০০০০ বর্গকি.মি প্রায়।
- এর মধ্যে ৩/৫ অংশ বা ২৩১৮ বর্গমাইল বা ৬০০০ বর্গকি.মি বাংলাদেশ অংশে পড়েছে।
উল্লেখ্য,
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ৭৯৮ তম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং বাংলাদেশের জাতীয় বন।

উৎস: প্রথম আলো। 
১০,০৮৩.
৩ মার্চ ১৯৭১ সালে পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন-
  1. ক) আসম আব্দুর রব
  2. খ) তোফায়েল আহমেদ
  3. গ) শাহজাহান সিরাজ
  4. ঘ) নূরে আলম সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
গ) শাহজাহান সিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাহজাহান সিরাজ
ব্যাখ্যা

- ৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ।
- ঐদিনই বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির জনক' উপাধি দেন ডাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।

১০,০৮৪.
১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন -
  1. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  2. মাওলানা মোহাম্মদ আলী
  3. মাওলানা শওকত আলী
  4. উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রভাবে উদ্ভূত একটি প্যান-ইসলামি আন্দোলন।
- কারণ ভারতের মুসলমানেরা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা বলে শ্রদ্ধা করতেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের সুলতান ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করলে ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় বিব্রত হন। কারণ ধর্মীয় কারণে তাঁরা খলিফার অনুগত, আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারের অনুগত থাকতে বাধ্য।
- কিন্তু এই যুদ্ধে জার্মানি হেরে গেলে জার্মানির পক্ষে যোগদানের কারণে শাস্তি স্বরূপ তুরস্ককে খণ্ড-বিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,০৮৫.
পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু প্রথম কোন দেশে যান?
  1. ভারত
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. ইরান
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি প্রদানে বাধ্য হয়।
- ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু লন্ডন গমন করেন।
- সেখান থেকে ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে করে তিনি দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১০ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারি দিনটিকে বাংলাদেশে ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,০৮৬.
মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চল কোন নামে পরিচিত ছিল?
  1. গঙ্গারিডি
  2. রাঢ়
  3. হরিকেল
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
⇒ মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।

সমতট:

- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৮৭.
চাঁদ রায় ও কেদার রায় কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) ভাওয়াল
  3. গ) বিক্রমপুর
  4. ঘ) ভুলুয়া
সঠিক উত্তর:
গ) বিক্রমপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিক্রমপুর
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগে ষোল শতকের মাঝামাঝি থেকে সতের শতকের মধ্য সময় পর্যন্ত পূর্ব বাংলার যেসব জমিদার মুঘলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সচেষ্ট ছিলেন তারা ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।
বারোভূঁইয়া ও তাদের জমিদারি এলাকা:
- ঈসা খান ও মুসা খান : সোনারগাঁও
- চাঁদ রায় ও কেদার রায় : বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ)
- বাহাদুর গাজি : ভাওয়াল
- সোনাগাজি : সরাইল (উত্তর ত্রিপুরা)
- ওসমান খান : বোকাইনগর (সিলেট)
- বীর হামির বিষ্ণুপুর (বাকুড়া)
- লক্ষণ মানিক্য : ভুলুয়া (নোয়াখালী)
- পরমানন্দ রায় : চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল)
- বিনোদ রায়/মধু রায় : চান্দপ্রতাপ (মানিকগঞ্জ)
- মুকুন্দরা/সত্রজিৎ : ভূষণা (ফরিদপুর)
- রাজা কন্দর্পনারায়ণ/রামচন্দ্র : বরিশাল জেলার অংশবিশেষ।
- ১৬১১ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান বারোভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলা মুঘল অধিকারে আনেন।


(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

১০,০৮৮.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ১ জন
  2. খ) ২ জন
  3. গ) ৩ জন
  4. ঘ) ৪ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলা, ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবিকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
১০,০৮৯.
মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন কে?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
মনসবদারি প্রথা: 
- মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন সম্রাট আকবর। 

- মনসবদারি ‘মনসব’ থেকে ‘মনসবদারি’ শব্দের উৎপত্তি।
- এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল পদবি।
- মুঘল সম্রাট আকবর সমগ্র সামরিক বিভাগকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন এবং তা মনসবদারি প্রথা নামে পরিচিত।
- প্রতিটি মনসবের অধিকারী ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং আদেশ মতো কর্মসম্পাদনে বাধ্য থাকতেন।
- রাষ্ট্রের সকল সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এই প্রথা মতে পদমর্যাদা পেতেন।
- এই প্রথায় ১০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত বাহিনীর পরিচালকগণ ৩৩টি পদমর্যাদায় বিন্যস্ত ছিলেন।
- আকবরের রাজত্বের মধ্যভাগ পর্যন্ত সাধারণ কর্মকর্তাগণ বড়জোর ৫০০০ সৈন্য পরিচালনার পদ পেতে পারতেন।
- ৭০০০ এবং ১০,০০০ সৈন্য পরিচালনার পদমর্যাদা শুধু শাহজাদাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল।
- আকবরের পরবর্তী সম্রাটদের আমলে এই পদমর্যাদা বেড়ে ২০,০০০ বা তারও বেশিতে পৌঁছায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১০,০৯০.
গৌড়ের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. কর্ণাটক
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. বিক্রমপুর
  4. কর্ণসুবর্ণ
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা

গৌড়:
- ধারণা করা হয় যে, গুড় উৎপাদনের কেন্দ্র বলে গৌড় নগর ও দেশের নামের উদ্ভব হয়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে 'গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কর্ণসুবর্ণ দেশ ও গৌড়দেশ অভিন্ন।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ
- মধ্যযুগের খ্যাতিমান মুসলিম পণ্ডিত আল বেরুনির বিবরণ অনুযায়ী পূর্বভারতের বিভিন্ন দেশের অর্থাৎ বর্তমান বাংলা, উড়িষ্যা, আসামের আদি মধ্যযুগীয় লিপির প্রকৃত রূপ হলো এই “গৌড়ীয় লিপি”।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,০৯১.
বাংলাদেশে 'গণঅভ্যুত্থান দিবস' পালিত হয় -
  1. ২৪ জানুয়ারি
  2. ১৫ ফেব্রুয়ারি
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি
  4. ২৩ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থান দিবস:
- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
- ছয় দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয় ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান।
- ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ছাত্রনেতারা দেশব্যাপী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনেম খান ছাত্র আন্দোলন দমাতে ১৪৪ ধারা জারি করে।
- সরকারি নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) নিহত হলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়।
- শহীদ আসাদের আত্মদানের পর ২১, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি শোক পালনের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়।
- পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে ঢাকায় সচিবালয়ের সামনের রাজপথে নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর রহমান ও রুস্তম শহীদ হন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
- সেই থেকে ২৪ জানুয়ারি 'গণঅভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

উৎস: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৪, The Daily Star Bangla.
১০,০৯২.
আওয়ামীলীগের ঐতিহাসিক ছয় দফার দ্বিতীয় দফা-
  1. স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা চালু
  2. ফেডারেল সরকার
  3. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
সঠিক উত্তর:
ফেডারেল সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেডারেল সরকার
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,০৯৩.
ভাষা আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন-
  1. আবদুল জব্বার
  2. রফিক উদ্দিন
  3. আবুল বরকত
  4. শফিউর রহমান
সঠিক উত্তর:
শফিউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শফিউর রহমান
ব্যাখ্যা

১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার। আবদুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহীদ হন।
২২ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্ণে ঢাকার নওয়াবপুর রোডে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আবারও বিক্ষোভ মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে।
এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন এবং অনেকে গ্রেফতার হন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া]

১০,০৯৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার 'প্যারামিলিটারি বাহিনী' গঠনের কথা উল্লেখ আছে-
  1. ৩নং
  2. ৪নং
  3. ৫নং
  4. ৬নং
সঠিক উত্তর:
৬নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬নং
ব্যাখ্যা
ছয় দফার ৬নং দাবি ছিলো প্যারামিলিটারি বাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

ছয়দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- দফা গুলো হলো:
প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
ষষ্ঠ দফা: প্যারামিলিটারি বাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।


উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,০৯৫.
স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর কোনটি?
  1. ক) সিটি কর্পোরেশন
  2. খ) জেলা পরিষদ
  3. গ) বিভাগীয় প্রশাসন
  4. ঘ) পৌরসভা
সঠিক উত্তর:
খ) জেলা পরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার হলো এমন সরকার ব্যবস্থা যা ছোট ছোট এলাকার স্থানীয় প্রয়োজন মেটাবার জন্যে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।
স্থানীয় সরকারের স্তরসমূহ:
- ইউনিয়ন পরিষদ
- উপজেলা প্রশাসন
- জেলা পরিষদ।
এছাড়া, শহরাঞ্চলে পৌরসভা ও ১২টি শহরে সিটি কর্পোরেশন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি স্থানীয় পার্বত্য জেলা পরিষদ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তর হলো জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ ১জন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন মহিলা সদস্যসহ মোট ২১জন সদস্য নিয়ে গঠিত।

স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বনিম্ন ও সবচেয়ে কার্যকরি ইউনিট হলো ইউনিয়ন পরিষদ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,০৯৬.
চাকমা সম্প্রদায়ের কোন জুমিয়া নেতা ব্রিটিশ বণিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন?
  1. রাজা ত্রিদিব রায়
  2. রাজা ত্রিভুবন চাকমা
  3. উলাপ্রো চাকমা
  4. জোয়ান বখশ খাঁ
সঠিক উত্তর:
জোয়ান বখশ খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোয়ান বখশ খাঁ
ব্যাখ্যা

• ব্রিটিশ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চাকমাদের স্বাধীনতা রক্ষার এই প্রতিরোধ সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছিল ১৭৭২ থেকে।

⇒ ১৭৭২-১৭৭৩ সালে ইংরেজরা চাকমাদের কে মুদ্রার মাধ্যমে রাজস্ব প্রদান করতে বাধ্য করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতি প্রচলনের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে চাকমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনে নানারকম সমস্যা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

• ক্রমে ইংরেজ শাসনের প্রতি চাকমারা বীতশুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।  ১৭৮২ খ্রিষ্টাব্দে জান বক্স খা ব্রিটিশের দাবী অগ্রাহ্য করার জন্যে মহাপ্রুমে একটা শক্তিশালী দুর্গ বানায়।

⇒ ফলে কোম্পানির সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত চলেছিল। - চাকমা রাজের পক্ষে রাজা জান বখশ খান, শের দৌলত খানের পুত্র অংশ নেন। কোম্পানী চাকমা রাজের বিরুদ্ধে চারটি যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল। সেগুলো হল - ১৭৭০, ১৭৮০, ১৭৮২ এবং ১৭৮৫ সালের যুদ্ধ।
- যুদ্ধে কোম্পানী বিশেষ সুবিধে করতে না পারায় এবং চাকমা রাজ্যে বাণিজ্য অবরোধের ফলে সৃষ্ট সমস্যায় - দুই পক্ষই ১৭৮৫ সালে একটি শান্তি আলোচনা চালায়।

⇒ চুক্তি অনুযায়ী চাকমা রাজা কোম্পানীর আধিপত্য মেনে নেওয়ার পাশাপাশি বছরে ৫০০ মণ তুলা দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন, বিনিময়ে কোম্পানী চাকমা রাজার আঞ্চলিক আধিপত্য মেনে নিয়ে বাণিজ্য অবরোধ তুলে নেয়।

সুতরাং, তখন চাকমাদের নেতা ছিলেন জান বকস খাঁর বা জুয়ান বক্স খাঁ বা জোয়ান বখশ খাঁ।

উৎস: চাকমা - বাংলাপিডিয়া, কালের কন্ঠ কলাম, জুমজার্নাল Government of Bangladesh - District Gazetteer of Chittagong Hill Tracts, James Minahan এর Encyclopedia of the Stateless Nations: Ethnic and National Groups Around the World ইত্যাদি।

১০,০৯৭.
নিম্নোক্ত কোন সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. ১৯৫৩ সালের ৪ নভেম্বর
  2. ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর
  3. ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
  4. ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইসতেহার ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়।

- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি।
- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।

- পার্লামেন্টারি বাের্ডের সদস্য:-
১। এ.কে. ফজলুল হক
২। হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও
৩। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।


তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
১০,০৯৮.
‘বল নৃত্য’ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের ঐতিহ্য?
  1. ময়মনসিংহ
  2. সিলেট
  3. যশোর
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোর
ব্যাখ্যা
যশোর অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ বল নৃত্য এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যান নাচ হলো জারি।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি - বাংলা একাডেমি)
১০,০৯৯.
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কয়জন?
  1. ক) ৪২৬ জন
  2. খ) ৪২৪ জন
  3. গ) ৪২২ জন
  4. ঘ) ৪২৮ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ৪২৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪২৪ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন
- বীর উত্তম - ৬৮ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১০,১০০.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোন সালে গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৯৮ সালে
  2. খ) ২০০০ সালে
  3. গ) ২০০১ সালে
  4. ঘ) ২০০২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়:

- ২০০১ সনের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়।
- সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।
- মন্ত্রণালয়ের কাজের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত ও মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের সুবিধার্থে ২০০২ সালে বিআরটিবি ভবন,এলেনবাড়ী, তেজগাঁও-এ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থানান্তরিত হয়।
- পরবর্তীতে কাজের কলেবর ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান ঠিকানা সচিবালয় লিংক রোড, ঢাকার সরকারি পরিবহন পুলভবনের ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় গত ১০/১০/২০০৬ তারিখ হতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।