বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা ১২ / ১৩ · ১,১০১১,২০০ / ১,৩০২

১,১০১.
নিচের কোনটি বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রকার নয়?
  1. ক) জীবনীকাব্য
  2. খ) বৈষ্ণবশাস্ত্র
  3. গ) প্রণয়োপাখ্যান
  4. ঘ) পদাবলি
সঠিক উত্তর:
গ) প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
- জীবনীকাব্য,
- বৈষ্ণবশাস্ত্র,
- পদাবলি।
অন্যদিকে প্রণয়োপাখ্যান হলো মুসলিম সাহিত্যিকদের দ্বারা অনূদিত রোমান্টিক কাব্য।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,১০২.
কোন রচনাটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের অন্তর্গত?
  1. ক) রাধাকৃষ্ণ লীলা
  2. খ) রামায়ণ
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
- মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্তর্ভক্ত একটি কাব্য।
- তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য তিনি আরাকান অমাত্য সভায়(মন্ত্রিসভা) স্থান পান।
- প্রধান অমাত্য(প্রধানমন্ত্রী)  কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবত অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১০৩.
কোন গ্রন্থটি নাথসাহিত্যের অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. ময়নামতির গান
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. গোরাক্ষবিজয়
  4. মীনচেতন
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাসুন্দর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাসুন্দর
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার ত্রিমুখী কাহিনী।
- গোরাক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনী অবলম্বনে রচিত যেসব কাব্য সম্পাদিত হয় তাঁর মধ্যে নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' অন্যতম। 

- বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনি অবলম্বনে কালিকামঙ্গল কাব্য রচিত। 
- সাবিরিদ খানের বিদ্যাসুন্দর কাব্যের উৎস সংস্কৃত চৌরপঞ্চাশিকা বা বিদ্যাসুন্দরম্ কাব্য; উপরন্তু তাঁর কাব্যের নানা স্থানে সংস্কৃত ভাষায় রচিত পাত্রপাত্রী-স্থান-কাল সূচক নির্দেশনা আছে।
- কাব্যের রচনা-জ্ঞাপক কোনো পদবন্ধ পাওয়া যায়নি; কাব্যের ভাষাভঙ্গি ও শব্দরূপ লক্ষ করে পন্ডিতগণ কবির আবির্ভাবকাল ষোল শতক বলে নির্ধারণ করেছেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১০৪.
‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে,দেখা না হইত পরাণ গেলে।’- উক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস: 
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। 
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। 
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তি জীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন। 
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে,দেখা না হইত পরাণ গেলে।’
- ‘শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’
- ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১০৫.
বাংলার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা হলেন-
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) নাথিলিয়েন ব্রাশি হ্যালহেড
সঠিক উত্তর:
খ) মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মনােএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর পূর্বে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।
গ্রন্থ দুটি হলো :
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ
এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচিয়তা।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১,১০৬.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১১টি
  2. ১০টি
  3. ১৩টি
  4. ১৯টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
যথা: মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১০৭.
বিপ্রদাস পিপিলাই কোন মঙ্গলকাব্যের রচয়িতা?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) কালিকামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ক) মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত মঙ্গলকাব্যের নাম 'মনসা বিজয়'।
- বিজয় গুপ্তের প্রায় সমসাময়িক কবি বিপ্রদাস পিপিলাই। 
- তিনি বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল রচনার এক বছর পর তাঁর মনসাবিজয় কাব্য রচনা করেন।

বিপ্রদাস পিপিলাই (১৫শ শতক)  
- তিনি মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি। ১৪১৭ শতাব্দে (১৪৯৫ খ্রি) তিনি মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- এ কাব্যের প্রাপ্ত পুথিগুলির মধ্যে দুটি এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা), একটি বর্ধমান সাহিত্যসভা এবং আরেকটি বিশ্বভারতীর পুথিশালায় সংরক্ষিত আছে।
- কাব্যমধ্যে কবি যে আত্মপরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় যে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বাদুড়্যা-বটগ্রামে এক সম্ভ্রান্ত  ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম মুকুন্দ পন্ডিত।
- বিপ্রদাসের কাব্যে মনসা দেবীর চরিত্র অপেক্ষাকৃত নমনীয় এবং স্নেহমমতা ও করুণায় সমধিক আর্দ্র।
- তাঁর কাব্যের আখ্যানধারা বেশ সরল ও কাব্যভাষা সাবলীল; চরিত্রচিত্রণেও তিনি সংযম ও পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয় দিয়েছেন।
- এ কাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যযাত্রার বর্ণনা প্রসঙ্গে সপ্তগ্রামের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়।

 উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১০৮.
‘বিদ্যাসুন্দর’ গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন-
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) সাবিরিদ খান
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
খ) সাবিরিদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা
•রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের কবি সাবিরিদ খান এর বিখ্যাত রচনা ‘বিদ্যাসুন্দর’।

- তিনি ‘বিদ্যাসুন্দর’, ‘রসুল বিজয়’ ও ‘হানিফা-কয়রাপরী’ নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন। 
- কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- তিনি আরব-ইরানের কাহিনী আমদানি করে ওই যুগে বাংলাদেশে মুসলিম সংস্কৃতির ভিত্তি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১০৯.
‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে প্রথম পদ রচনা করেন-
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি 
  4. কানাহরি দত্ত 
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• জ্ঞানদাস:
- সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্ম।

- তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেমবেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।

- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। তিনি একজন সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন এবং কীর্তনের নতুন পদ্ধতির স্রষ্টা হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল।

- তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।
- জ্ঞানদাস পদাবলিতে সৌন্দর্যের ব্যঞ্জনা দিয়েছেন, আবেগের সূক্ষ্ম কারুকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন।
- তিনি মানবজীবনের বাতায়নে বসে ভাব বৃন্দাবনের কিশোর কিশোরীর লীলা প্রত্যক্ষ করে শিল্পী হয়ে উঠেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১১০.
নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন- 
  1. চণ্ডীদাস 
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাক
  3. মালাধর বসু 
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাক
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ও প্রথম নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তিনি হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে বাস করতেন। তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) জমিদার ছিলেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।
- তিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- এছাড়াও তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম- সত্যপীরের পাঁচালি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসার।

১,১১১.
বিদ্যাপতি কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. সপ্তদশ শতক
  2. ষোড়শ শতক
  3. পঞ্চদশ শতক
  4. চতুর্দশ শতক
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ শতক
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,১১২.
বাংলা সাহিত্যে 'রোমান্টিক আখ্যান কাব্য'-এর প্রবর্তক কে?
  1. সৈয়দ আলাওল
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. আব্দুল হাকিম
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- মুসলমান কবিরা পনের-ষোল শতকে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে প্রত্যক্ষ অবদান সৃষ্টিতে সক্ষম হন। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মুসলমান কবিগণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান এই রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান বা প্রণয়কাহিনি।
- ফারসি বা হিন্দি সাহিত্যের উৎস থেকে উপকরণ নিয়ে রচিত অনুবাদমূলক প্রণয় কাব্যগুলোতে প্রথমবারের মত মানবীয় বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। - - মধ্যযুগের কাব্যের ইতিহাসে ধর্মীয় বিষয়বস্তুর আধিপত্য ছিল, কোথাও কোথাও লৌকিক ও সামাজিক জীবনের ছায়াপাত ঘটলেও দেবদেবীর কাহিনির প্রাধান্যে তাতে মানবীয় অনুভূতির প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে নি। এই শ্রেণির কাব্যে মানব-মানবীর প্রেমকাহিনি রূপায়িত হয়ে গতানুগতিক সাহিত্যের ধারায় ব্যতিক্রমের সৃষ্টি করেছে।
- রোমান্টিক কবিরা তাঁদের কাব্যে ঐশ্বর্যবান, প্রেমশীল, সৌন্দর্যপূজারী, জীবনপিপাসু মানুষের ছবি এঁকেছেন। 
- বাংলার মুসলমান কবিগণের মধ্যে প্রাচীনতম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর চৌদ্দ শতকের শেষে বা পনের শতকের প্রথমে 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্য রচনা করার মাধ্যমে এই ধারার প্রবর্তন করেন।
- তারপর অসংখ্য কবির হাতে এই কাব্যের বিকাশ ঘটে এবং আঠার শতক পর্যন্ত তা সম্প্রসারিত হয়।

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা। এটি একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান।
- ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,১১৩.
আবদুল হাকিম রচিত 'বঙ্গবানী' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দুররে মজলিশ
  2. নূরনামা
  3. ইউসুফ জোলেখা
  4. হানি-ফার লড়াই
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
ব্যাখ্যা
• যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'
- কবিতাংশটির আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবানী' কবিতার অংশ বিশেষ।

আব্দুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১১৪.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন' উক্তিটি কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মহাকবি আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য। এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১১৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম প্রধান কে ছিলেন?
  1. ক) অক্ষয় কুমার দত্ত
  2. খ) পঞ্চানন কর্মকার
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
ঘ) উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।
উৎসঃউন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যবই - এইচএসসি প্রোগ্রাম

১,১১৬.
'কবীন্দ্র' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. জয়দেব 
  3. ভারতচন্দ্র রায় 
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।

গোবিন্দদাসের উপাধি:
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

গোবিন্দদাস রচিত বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়। ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১১৭.
জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম্‌’ ইংরেজিতে অনুবাদ করেন-
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) উইলিয়াম জোনস
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) উইলিয়াম জোনস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উইলিয়াম জোনস
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম জোনস ১৭৪৬ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত বহু ভাষাবিদ এবং এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ১৭৭০ সালে পারসি ভাষায় নাদির শাহের জীবনী অনুবাদ করেন।
- ১৭৮৪ সালে তিনি কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি কিছু গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন-
- শকুন্তলা
- হিতোপদেশ
- জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’

উল্লেখ্য,
নীলদর্পণ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১১৮.
নিচের কে কবিওয়ালা?
  1. ক) গোঁজলা গুই
  2. খ) ফকির গরীবুল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ হামজা
  4. ঘ) রাধারমণ গোপ
সঠিক উত্তর:
ক) গোঁজলা গুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গোঁজলা গুই
ব্যাখ্যা
আঠার শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কলকাতার হিন্দু সমাজে কবিওয়ালা ও মুসলিম সমাজে শায়েরের উদ্ভব ঘটে।
কবিওয়ালাদের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযােগ্য নাম হলো: গোঁজলা গুই, হরু ঠাকুর, এন্টনি ফিরিঙ্গি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,১১৯.
'হাভাতে যদ্যপি যায় সাগর শুকায়ে যায়' - সুপ্রচলিত প্রবচনটি কোন কবির?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) আবদুল হাকিম
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
এটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত - অন্নদামঙ্গল কাব্যে ব্যবহৃত একটি প্রবচন।

এই কাব্যের আরো কয়েকটি প্রবচন হল -
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী। ইত্যাদি 

এসব গভীরতম ভাবদ্যোতক প্রবচনের মত পদে ভাষার উপর কবির যে অধিকার তা তুলনারহিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,১২০.
কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র নয়?
  1. ক) কৃষ্ণ
  2. খ) রাধা
  3. গ) রাম
  4. ঘ) বড়াই
সঠিক উত্তর:
গ) রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাম
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি
 - কৃষ্ণ ( পরমাত্মা)
- রাধা ( জীবাত্মা)  
- বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)

মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
-  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন। 
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দম-এর প্রভাব রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
১,১২১.
’বাহরাম খান’ এর উপাধি কোনটি?
  1. কবি কঙ্কন
  2. পরশুরাম
  3. দৌলত উজির
  4. নিজামী
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির
ব্যাখ্যা
⇒ দৌলত উজির বাহরাম খান:
- মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি দৌলত উজির বাহরাম খান চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন। 
- তাঁর রাজকীয় উপাধি দৌলত উজির বা অর্থ সচিব।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্য 'জঙ্গনামা' বা 'মক্তুল হোসেন' । 
- ' লাইলী মজনু' তাঁর রচিত ২য় কাব্যগ্রন্থ। 
- পারসি কবি আবদুর রহমান জামির লাইলী মজনু  কাব্যের অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন। 
- লায়লী-মজনু মূলত আধ্যাত্মিক কাব্য, কিন্তু বাংলা অনুবাদে তা পরিণত হয়েছে মানবিক প্রেমকাব্যে। বাহরাম খানই প্রথম লায়লী-মজনুর মতো বিশ্বখ্যাত বিরহমূলক প্রেমকাহিনী নিয়ে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন। এর ভাষা কবিত্বময়। 
- একই কাহিনী অবলম্বনে মুহম্মদ খাতের ১৮৬৪ সালে দোভাষী পুথি এবং শেখ ফজলুল করিম ১৯০৩ সালে আখ্যানকাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১২২.
গোবিন্দদাসের প্রকৃত পদবি কোনটি?
  1. দত্ত
  2. কবিরাজ
  3. কবীন্দ্র
  4. সেন
সঠিক উত্তর:
সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১২৩.
বড়ু চণ্ডীদাসের আবির্ভাব হয় কোন শাসকের আমলে? 
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. সেকান্দার শাহ
  4. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
সেকান্দার শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেকান্দার শাহ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ: 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সময় মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। 
- এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- বাংলাদেশে তুর্কি বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমান শাসনামলের সূত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয়নি অনুমান করে এ রকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলার সেন বংশের শাসক অশীতিপর বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া বিনা বাধায় জয় করে এদেশে মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন। 
- ১৩৪২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ গৌড়ের সিংহাসন দখল করে দিল্লির শাসনমুক্ত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। 
- তাঁর পুত্র সেকান্দর শাহের আমলে বড়ু চণ্ডীদাসের আবির্ভাব হয়। 
- বড়ু চণ্ডীদাসের কাব্য ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১২৪.
‘বত্রিশ সিংহাসন’ এর রচয়িতা -
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
‘বত্রিশ সিংহাসন’ (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন। বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য। [সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১,১২৫.
রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি কে ছিলেন? 
  1. বিজয় পণ্ডিত
  2. হলায়ূদ মিশ্র
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
হলায়ূদ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ূদ মিশ্র
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া: 
- রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া' সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য। 
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারেই গোড়ার দিককার রচনা'। 
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজির অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 
- 'শেখের শুভোদয় অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য'। 
- এতে নানা ঘটনার মাধ্যমে মুসলমান দরবেশের চরিত্র ও অধ্যাত্মশক্তির পরিচয় দেওয়া হয়েছে। 
- এ গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার যে সব নিদর্শন আছে তা হল পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা ছড়া বা আর্যা, খনার বচন ও ভাটিয়ালি রাগের একটি প্রেমসঙ্গীত। 
-আর্যার সংখ্যা তিনটি এবং এগুলো বাংলা ভাষায় প্রাপ্ত পীর মাহাত্ম্য-জ্ঞাপক কাব্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১২৬.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড জাতিতে ছিলেন-
  1. পর্তুগিজ
  2. ব্রিটিশ
  3. গ্রিক
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রিটিশ
ব্যাখ্যা
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।

- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম। তিনি জাতিতে একজন ব্রিটিশ ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

তাঁর সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• ‘A Code of Gento Laws, or Ordinations of the Pundit ‘ গ্রন্থ:
হেস্টিংসের অনুরোধে তিনি এক বিশাল আইনগ্রন্থ রচনা করেন: A Code of Gento Laws, or Ordinations of the Pundits। গ্রন্থটি ১৭৭৬ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত হিন্দু আইনশাস্ত্রের একটি সারসংকলন, যা এগারোজন ব্রাহ্মণ পন্ডিত সংস্কৃত ভাষায় সংকলন করেন। পরে একজন মুন্সি এটি প্রথমে ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং সেখান থেকে হ্যালহেড ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। কাজেই এটি ছিল একটি ত্রি-স্তরীয় কাজ, যদিও প্রথম দুই স্তরের পন্ডিতদের নাম গ্রন্থে উল্লিখিত হয়নি। পরবর্তী দশকে এ গ্রন্থটির কয়েকটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ফরাসি ও জার্মান ভাষায়ও এর অনুবাদ হয়। এর মাধ্যমেই বয়স তিরিশে পৌঁছার আগেই হ্যালহেডের খ্যাতি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

• ‘A Grammar of the Bengal Language’ গ্রন্থ:
ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড তাঁর দ্বিতীয় প্রকল্প বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনায় ব্যাপৃত হন। তাঁর A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
এ গ্রন্থ প্রকাশের পর হ্যালহেড লন্ডনে ফিরে যান এবং ১৭৮৪ সালে আবার কলকাতায় ফিরে আসেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১২৭.
আলাওল রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. তোহ্‌ফা
  2. সিকান্দার নামা
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী 
ব্যাখ্যা

• আলাওল রচিত গ্রন্থ নয়- চন্দ্রাবতী।  
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।

-----------------
• আলাওল:

- আলাওল আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি। আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- 'পদ্মাবতী' তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন। কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্‌ফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১২৮.
'শূণ্যপুরাণ' গ্রন্থে কোন ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে?
  1. খ্রিষ্ট ধর্মের 
  2. জৈন ধর্মের 
  3. বৌদ্ধ ধর্মের
  4. শৈব ধর্ম
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্মের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্মের
ব্যাখ্যা

• 'শূণ্যপুরাণ':
- 'অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপুজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।

- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

- নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। নিরঞ্জনের উম্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন। এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে দেব নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর 'যবন' মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত এয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,১২৯.
'হানিফা কয়রাপরী' রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত কাব্যটি কার রচনা?
  1. সাবিরিদ খান
  2. আবদুল হাকিম 
  3. আলাওল 
  4. নওয়াজিস খান
সঠিক উত্তর:
সাবিরিদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা

• 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্য:
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান।
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত।
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

----------------
• সাবিরিদ খান:
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান 'বিদ্যাসুন্দর', 'রসুল বিজয়' ও 'হানিফা-কয়রাপরী' নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৩০.
'নিরঞ্জনের রুষ্মা' কার রচনা?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. হলায়ূধ মিশ্র
  3. শ্রীহর্ষ
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
• রামাই পণ্ডিত রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- বর্ণ হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।

------------------
• অন্ধকার যুগ:

বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'। 
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
১,১৩১.
‘দৌলত উজির বাহরাম খান’—এর প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. বাহরাম খান
  2. মোবারক খান
  3. হামিদউদ্দীন
  4. আসাউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আসাউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসাউদ্দীন
ব্যাখ্যা

দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী মজনু ও
- ইমাম বিজয়।
[উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৩২.
‘হাতেম তাই’ অনুবাদ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) আলাওল
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ হামজা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
ফার্সি থেকে বাংলায় অনুবাদকৃত ‘হাতেম তাই’ এর রচয়িতা সৈয়দ হামজা।
তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থসমূহ- আমীর হামজা (২য় অংশ), জৈগুনের পুঁথি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,১৩৩.
আলাওল কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. লক্ষণ সেনের
  2. আরাকানের
  3. সম্রাট আকবরের
  4. সম্রাট শাহজাহানের
সঠিক উত্তর:
আরাকানের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরাকানের
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমুহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান,
- রাগতালনামা,
- সতীময়ান-লোর-চন্দ্রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩৪.
ভারতচন্দ্রকে 'গুণাকর' উপাধি দেন কে?
  1. রাজা রঘুনাথ
  2. আল্লাউদ্দিন হোসেন শাহ্‌
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ্‌
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পাণ্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৫.
সাবিরিদ খান রচিত 'হানিফা কয়রাপরী' গ্রন্থটি কোন সাহিত্য ধারার অন্তর্ভুক্ত?
  1. গজল সাহিত্যের 
  2. মর্সিয়া সাহিত্যের 
  3. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যা সাহিত্যের 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যা সাহিত্যের 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যা সাহিত্যের 
ব্যাখ্যা

• 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্য:
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান।
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত।
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

----------------
• সাবিরিদ খান:
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান 'বিদ্যাসুন্দর', 'রসুল বিজয়' ও 'হানিফা-কয়রাপরী' নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৩৬.
গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম কী?
  1. প্রেমসাগর
  2. মৈনাসত
  3. সংগীতমাধব
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
সংগীতমাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংগীতমাধব
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- তাঁর আসল পদবি সেন। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩৭.
‘আমার বধুয়া আন বাড়ি যায় আমারি আঙিনা দিয়া’ - কোন কবির রচনা?
  1. ক) বড়ু চন্ডীদাস
  2. খ) দ্বিজ চন্ডীদাস
  3. গ) দীন চন্ডীদাস
  4. ঘ) চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজ চন্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিজ চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা

"আমার বধুয়া আন বাড়ি যায় আমারি আঙিনা দিয়া" - এটি দ্বিজ চন্ডীদাসের রচনা।

মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চন্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
তারা হলেনঃ
- বড়ু চন্ডীদাস
- দ্বিজ চন্ডীদাস
- দীন চন্ডীদাস
- চন্ডীদাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,১৩৮.
‘আলেফ-লায়লা’ কাহিনি অবলম্বনে দোনাগাজী চৌধুরীর অনুবাদ কাব্য কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. গুলে বকাওলী
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. হানিফা কয়রাপরী
সঠিক উত্তর:
সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
ব্যাখ্যা
⇒ দোনাগাজী চৌধুরী:
-  দোনাগাজী চৌধুরী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। 
- দোনাগাজীর প্রধান পরিচয় রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কবি হিসেবে।
- তাঁর রচিত ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ দীর্ঘ আখ্যানমূলক প্রেমকাব্য।
- এর মূল উৎস আলেফ-লায়লা বা আরব্য উপন্যাস।
- ফারসি ও তুর্কি ভাষায় এ কাহিনি অনুলিখিত হয়েছে।
- ভারতের কবি মহফিল ফারসিতে এবং গাওয়াসি দাকিনি উর্দুতে সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল  রচনা করেন।
- দোনাগাজী ফারসির অনুসরণে বাংলা ভাষায় তাঁর কাব্য রচনা করেন বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৯.
পাঁচালিকার হিসেবে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি অর্জন করেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. চণ্ডীদাস 
  4. রামপ্রসাদ সেন 
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়। 

• দাশরথি  রায়: 
- ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৮৫৭ স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার।
- ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক  ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ১৮৩৬ সালে  আখড়া গঠন করে  ছড়া ও  পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে  টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।
-------------------
• পাঁচালি: 
- পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা। 
- এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।
- পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি।
- আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।
- পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ  দাশরথি রায়।
- ‘দাশু রায়ের পাঁচালি’ সারা বাংলায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
 
১,১৪০.
রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. হানিফা ও কয়রাপরী
  2. কলিমা জালাল
  3. গুলে বকাওলী
  4. প্রাকৃত পৈঙ্গল
সঠিক উত্তর:
কলিমা জালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলিমা জালাল
ব্যাখ্যা
•  অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'। 'নিরঞ্জনের রুম্মা' শূণ্যপূরাণ গ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা। রামাই পণ্ডিত রচিত 'কলিমা জালাল' গ্রন্থ। 
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 'সেক শুভোদয়া' পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য। 

অন্যদিকে, 
• সাবিরিদ খানের অনুবাদকৃত গ্রন্থ- হানিফা ও কয়রাপরী। 
• নওয়াজিশ খান ও মহম্মদ মুকিম এর অনুবাদকৃত গ্রন্থ- গুলে বকাওলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১,১৪১.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির কাব্যের অনুকরণে রচিত বাংলা কাব্য কোনটি?
  1. মধুমালতী 
  2. লায়লী মজনু
  3. গুলে বকাওলী
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'মধুমালতী' কাব্য:
মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।

• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।

• 'গুলে বকাওলী' কাব্য:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৪২.
বাংলা সাহিত্যে কোন ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. শ্রীকৃষ্ণ
  3. চণ্ডীদাস
  4. শ্রী চৈতন্যদেব
সঠিক উত্তর:
শ্রী চৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রী চৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম। তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব। তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৩.
'শেখ ফয়জুল্লাহ' কোন সাহিত্যধারার আদি কবি?
  1. পদাবলি
  2. কবিগান
  3. মনসা মঙ্গলকাব্য
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা
- এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৪.
'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থে কার অলৌকিক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে?
  1. শ্রীকৃষ্ণ ও রাধা
  2. বিক্রমাদিত্য
  3. বাদশাহ হারুনর রশিদ
  4. শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি
সঠিক উত্তর:
শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া' সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারেই গোড়ার দিককার রচনা।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজির অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 'শেখের শুভোদয় অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য। এতে নানা ঘটনার মাধ্যমে মুসলমান দরবেশের চরিত্র ও অধ্যাত্মশক্তির অধ্যাত্মশক্তির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
- এ গ্রন্থে প্রাচীন বাংলার যে সব নিদর্শন আছে তা হল পীর-মাহাত্ম্যজ্ঞাপক বাংলা ছড়া বা আর্যা, খনার বচন ও ভাটিয়ালি রাগের একটি প্রেমসঙ্গীত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৪৫.
'বড়াই' চরিত্রটি পাওয়া যায়-
  1. অন্নদামঙ্গল কাব্যে
  2. সারদামঙ্গল কাব্যে
  3. মনসামঙ্গল কাব্যে
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।
• রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র বড়াই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,১৪৬.
আবদুল হাকিম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. নূরনামা
  2. সিকান্দারনামা
  3. হানিফার লড়াই
  4. দুররে মজলিশ
সঠিক উত্তর:
সিকান্দারনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
• ‘সিকান্দারনামা’ মধ্যযুগের কবি আলাওল রচিত কাব্য।

----------------------
• আবদুল হাকিম:

- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাশ্রীতিকে  আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম 'নূরনামা' কাব্যে তিনি প্রবাদতুল্য পঙ্‌ক্তি দুটো লিখেন।

• মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে রচিত প্রবাদতুল্য তাঁর পঙ্‌ক্তি দুটি হলো-
যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।।

আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো:
• ইউসুফ জোলেখা,
• নূরনামা,
• দুররে মজলিশ,
• লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
• হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৭.
'লায়লী মজনু' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. দৌলত কাজী
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৪৮.
‘নবীবংশ’ কাব্যটি কোন ফারসি গ্রন্থের অনুসরণে রচিত?
  1. ওফাত উল রসুল
  2. কাসাসুল আম্বিয়া
  3. কিসাসুল আম্বিয়া
  4. কিসসায়ে আম্বিয়া
সঠিক উত্তর:
কাসাসুল আম্বিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাসাসুল আম্বিয়া
ব্যাখ্যা

নবীবংশ:
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য। ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে  হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। 
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
-  নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ, 
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই  । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৪৯.
নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. শ্রীচৈতন্যদেব
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। এবং ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান। 
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১,১৫০.
শাহ মুহম্মদ সগীর কত শতকের কবি ছিলেন?
  1. চৌদ্দ শতকের
  2. পনের শতকের
  3. ষোল শতকের
  4. সতেরো শতকের
সঠিক উত্তর:
পনের শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনের শতকের
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।

- শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ-জোলেখা কাব্যে সুপ্রাচীন প্রণয়কাহিনি উপজীব্য করা হয়েছে। বাইবেল ও কুরআন শরীফে নৈতিক-উপাখ্যান হিসেবে সংক্ষেপে এই কাহিনি বর্ণিত রয়েছে।

- ইরানের মহাকবি ফেরদৌসী (মৃত্যু ১০২৫ সাল) এবং সুফিকবি জামী (মৃত্যু ১৪৯২ সাল) মূল কাহিনি পল্লবিত করে ইউসুফ-জোলেখা নামে কাব্য রচনা করেছিলেন। ফেরদৌসীর কাব্য ছিল রোমান্স জাতীয়, আর জামীর কাব্য ছিল রূপক শ্রেণির। অনুবাদগত ও বিষয়বস্তুর পরিবেশনার দিক থেকে শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যের সঙ্গে তাঁদের কাব্যের তেমন কোন মিল নেই।

- উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,১৫১.
’গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. সৈয়দ হামজা
  2. গোঁজলা গুই
  3. আলাওল
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক)  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

• ফয়জুল্লাহর প্রধান তিনটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- সত্যপীরবিজয় ,
- গোরক্ষবিজয় ও
- গাজীবিজয়।

•  এ ছাড়াও তিনি জয়নবের চৌতিশা, সুলতান জমজমা, রাগমালা ও পদাবলী কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
 
১,১৫২.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি মূলত কোন শ্রেণির সাহিত্য ধারার অন্তর্গত?
  1. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. বৈষ্ণব পদাবলি
  3. নাথ সাহিত্য
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতেরো শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন। 

নওয়াজিস খান:
- কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।
- বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান।
- কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৫৩.
মধ্যযুগের কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা চন্দ্রগুপ্ত
  2. রাজা রঘুনাথ রায়
  3. রাজা সুধর্মা
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর(১৭১২-১৭৬০):
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পাণ্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৪.
ইরানি কবি জামির কাব্যানুসারে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. উইসুফ জুলেখা 
  2. গুলে বকাওলী
  3. লায়লী মজনু
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
লায়লী মজনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা

• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান। 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন- আহমদ শরীফের মতে ৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহ্‌র মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী-মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে। এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

অন্যদিকে, 
• ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

• 'মধুমালতী' কাব্যগ্রন্থের কবি হলেন মুহম্মদ কবির। তিনি হিন্দি কবি মনঝনের 'মধুমালতী' কাব্যের অনুকরণে এই বাংলা কাব্যটি রচনা করেন।

• ‘গুলে বকাওলী’ গ্রন্থের রচয়িতা মুহম্মদ মুকীম। অষ্টাদশ শতকে এটি রচয়িত হয়। মূল গ্রন্থের নাম তাজুলমূলক গুল-ই-বকাওলী , যার লেখক ছিলেন ইজ্জতুল্লাহ্‌। এছাড়া কবি নাওয়াজিশ খানও সতের শতকে একই নামে গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৫৫.
সংস্কৃত ভাষায় ‘রামায়ণ’ মহাকাব্যটি কে রচনা করেন?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বাল্মীকি
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাল্মীকি
ব্যাখ্যা

রামায়ণ:
- রামচন্দ্রে কাহিনি এক হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল বলে মনে করা হয়।
- এ কাহিনি অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি অনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে সংস্কৃত ভাষায় ‘রামায়ণ’ মহাকাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটি সপ্তখণ্ড সাত খণ্ডে বিভক্ত।
- কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত। মধুসুদন দত্ত রামায়ণের অংশ-বিশেষ অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। সংস্কৃত রামায়ণকে পৃথিবীর আদি মহাকাব্য বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৫৬.
পুঁথি সাহিত্যের প্রাচীনতম লেখক-
  1. ভরতচন্দ্র রায়
  2. দৌলত কাজী
  3. সৈয়দ হামজা
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।

- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- সপ্তদশ শতাব্দীর কবি সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্যের অন্যতম একজন কবি।

• অপশনে ফকির গরীবুল্লাহ না থাকায় সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে সৈয়দ হামজা উত্তর নেয়া হলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৭.
দৌলত উজির বাহরাম খানের জন্মস্থান কোথায়?
  1. নোয়াখালী
  2. চট্টগ্রাম
  3. আরাকান
  4. ফরিদপুর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যের নাম 'জজ্ঞনামা' বা 'মক্তুল হোসেন'

বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী-মজন ও
- ইমাম-বিজয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৫৮.
'শাহনামা' মৌলিক গ্রন্থটি কার?
  1. মালিক জয়সী
  2. ফেরদৌসী
  3. সৈয়দ হামজা
  4. কাজী দৌলত উজির বাহরাম খাঁ
সঠিক উত্তর:
ফেরদৌসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরদৌসী
ব্যাখ্যা
শাহনামা:
- শাহনামা পারস্যের (বর্তমান ইরান) কবি ফেরদৌসী দ্বারা লিখিত একটি দীর্ঘ মহাকাব্য।
- এটি একই সাথে ইরানের ও সারা বিশ্বের ফার্সি ভাষাভাষী লোকদের জন্য জাতীয় মহাকাব্য।
- ফেরদৌসী ৯৭৭ থেকে ১০১০ সালের মধ্যে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে এই মহাকাব্য রচনা করেন।
- শাহনামায় প্রায় ষাট হাজার শ্লোক রয়েছে।
- ইরানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে আনা হয়েছে এই মহাকাব্যে।
- এটিকে বলা হয় ইরানের জাতীয় মহাকাব্য।
- ভারতীয় উপমহাদেশে এটির একটি সংকলন প্রকাশিত হয় ১৮২৯ সালে।
- প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর এই মহাকাব্য থেকে কিছু পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছিলেন।
- বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁও শাহনামা পড়ে উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন।

উৎস: কালের কন্ঠ, ৩১ জুলাই, ২০১৫, ‘শাহনামা' গ্রন্থ- কবি ফেরদৌসী।
১,১৫৯.
'আমীর হামজা' - কোন দুই কবির যৌথ প্রচেষ্টায় রচিত হয়েছে?
  1. সৈয়দ সুলতান ও আলাওল
  2. ফকির গরিবুল্লাহ ও সৈয়দ হামজা
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর  ও নওয়াজিশ খান
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর ও দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
ফকির গরিবুল্লাহ ও সৈয়দ হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরিবুল্লাহ ও সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

'আমীর হামজা':
- 'আমীর হামজা' মধ্যযুগের দোভাষী পুথি সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাব্য।
- এতে বীর যোদ্ধা আমীর হামজার যুদ্ধজয়ের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। মোট ৭০টি পর্বে এ বিশাল কাব্য সমাপ্ত হয়।
- এর প্রথম অংশ ফকির গরিবুল্লাহ রচনা করেন আঠারো শতকের মধ্যভাগে, বাকি অংশ তাঁর শিষ্য সৈয়দ হামজা ১৭৯৪ সালে সমাপ্ত করেন।
- কাব্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র আমীর হামজা হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর পিতৃব্য ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ইরানের অধিপতি নওশেরোয়ানের বিরোধ ও যুদ্ধ কাব্যের প্রধান বিষয়বস্তু।

পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।

শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ:
- শাহ গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৭০-১৭৭০) দোভাষী পুথি রচয়িতা। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার হাফেজপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামে প্রচলিত এ যাবৎ পাঁচখানি কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায়।
- সেগুলি হলো: ইউসুফ জোলায়খা, জঙ্গনামা, সোনাভান, সত্যপীরের কথা এবং আমীর হামজা (১ম খণ্ড)।
- কিন্তু এ কাব্যগুলি বটতলার পুথি প্রকাশকদের দ্বারা নানা ব্যক্তির নামে প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৬০.
গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু কে ছিলেন?
  1. জ্ঞানদাস
  2. কানাহরি দত্ত
  3. বিদ্যাপতি
  4. কবি কঙ্ক
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন।
- তিনি 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত।
- তাঁর কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি - বিদ্যাপতি।
তিনি বিদ্যাপতির জন্মভূমি বিসফিগ্রাম ভ্রমণ ও তাঁর কবিতা সংগ্রহ করেন এবং তাঁর অনুসরণে ব্রজবুলি ভাষায় উত্তম পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'। তিনি পূর্বরাগ, অভিসার, মান, কলহস্তরিতা, বাকসজ্জা, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা।
- অভিসার পদ পর্যায়ে গোবিন্দদাস শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। সমালোচকের মতে অভিসার পর্যায়ে তিনি রাজাধিরাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৬১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের 'বড়ায়ি' কী ধরণের চরিত্র?
  1. শ্রী রাধার ননদিনী
  2. শ্রী রাধার শ্বাশুড়ি
  3. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
  4. জনৈক গোপবালা
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী
ব্যাখ্যা
 শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি (রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতী)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৬২.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কোন রস প্রধান কাব্য?
  1. করুণরস প্রধান
  2. শৃঙ্গাররস প্রধান
  3. বীররস প্রধান
  4. হাস্যরস প্রধান
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্গাররস প্রধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৃঙ্গাররস প্রধান
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৩.
‘ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি, আবনী বহিয়া যায়।’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।     

গোবিন্দদাস রচিত পদের অংশ বিশেষ:
ঢল ঢল কাঁচা অঙ্গের লাবণি,
আবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ-হিলোলে
মদন মুরছা পায়।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৪.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. রাগবিনোদ
  2. সংগীতসুধা
  3. গীতরত্ন
  4. টপ্পাবাণী
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৬৫.
'মুক্তল হোসেন' কী?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকার পালা
  2. মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কাব্য
  4. মঙ্গলকাব্যের চরিত্র
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৬.
জ্ঞানদাস কোন সময়ের কবি ছিলেন?
  1. প্রাক-চৈতন্য যুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. চৈতন্যোত্তর যুগ
  4. অবক্ষয় যুগ
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যোত্তর যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যোত্তর যুগ
ব্যাখ্যা

• জ্ঞানদাস:
জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর যুগে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম। এজন্য তিনি মঙ্গল ঠাকুর, শ্রীমঙ্গল, মদন-মঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত ছিলেন।

- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৭.
"ব্যাধি এ পীড়িত মোর বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।" পঙ্কতির রচয়িতা-
  1. ভারতচন্দ্র রায়
  2. ফকির গরিবুল্লাহ
  3. দৌলত উজির
  4. শাহ্ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
শাহ্ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ্ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• শাহ্ মুহম্মদ সগীর রচিত রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা'।
• এ কারণে তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি বলা হয়।
• এই কাব্যের কিছু পঙক্তি-
''ব্যাধি এ পীড়িত মোর বিকল শরীর।
ঔষধ দর্শনে প্রাণ শান্ত নহে স্থির।।
এহেন নির্জন পুরী বিরল সম্ভোগ।
পরিহরি লজ্জা ভীতি কর উপভোগ।।
না জানি কেমন আছে নিষেধ কারণ।
বুঝিলু তোমার ইচ্ছা আমার মরণ।।''
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,১৬৮.
‘অভিবন জয়দেব’ হিসাবে খ্যাত কোন বৈষ্ণব পদকর্তা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গোবিন্দাদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলী।
- পদাবলীর আদিকবি বাঙালী কবি - জয়দেব, তিনি পদাবলী রচনা করেছেন সংস্কৃত ভাষায়।
- অবাঙালী কবি বিদ্যাপতিকে বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি বলা হয়। বিদ্যাপতি পদাবলী রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলীর আদিকবি বড়ু চণ্ডীদাস।

উল্লেখ্য,
- বিদ্যাপতিকে ‘মিথিলার কবি’ বা ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহের সভাকবি। তিনি তাঁকে ‘কবি কণ্ঠহার’ উপাধি দেন।

তথ্যসূত্র: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,১৬৯.
"শূন্যপুরাণ" রচনা করেন কে?
  1. হলায়ুধ মিশ্র
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. রামাই পণ্ডিত
  4. কৃত্তিবাস ওঝাঁ
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি। কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।
১,১৭০.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি-
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. মুহাম্মদ কবীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. নওয়াজিশ খান
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর:
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম — ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৭১.
‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’ কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. আবদুল হাকিম
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
‘সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল’ কাব্যের রচয়িতা ছিলেন আলাওল।
- এছাড়াও দোনাগাজী চৌধুরী, ইব্রাহিম ও মালে মুহম্মদ এই প্রেম কাহিনি অবলম্বনে কাব্য রচনা করেছিলেন। তন্মধ্যে আলাওলের কাব্যই সমধিক পরিচিত।

আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৭২.
রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. শূণ্যপুরাণ
  4. জয়নবের চৌতিশা
সঠিক উত্তর:
শূণ্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূণ্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৩.
‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থে অধ্যায়ের সংখ্যা কত?
  1. ২০টি
  2. ২৫টি
  3. ১২টি
  4. ৩০টি
সঠিক উত্তর:
২৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫টি
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ূধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল- সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,১৭৪.
কাশীরাম দাসের অনুবাদকৃত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পরাগলী মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. ভারত পাঁচালী
  4. মেঘদূত
সঠিক উত্তর:
ভারত পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত পাঁচালী
ব্যাখ্যা
কাশীরাম দাস:
- কাশীরাম দাসের অনুবাদকৃত মহাভারতের নাম ‘ভারত পাঁচালী'। এটির রচনাকাল সম্বন্ধে যোগেশচন্দ্র বিদ্যানিধি মনে করেন ১৬০২-০৪ খ্রিষ্টাব্দের।
- তিনি গ্রন্থ রচনা শেষ করে যেতে পারেন নি। মহাভারতের আদি, সভা, বন ও বিরাট পর্ব রচনার পর তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
- কথিত আছে কবির অসমাপ্ত কাব্য সমাপ্ত করেন কবির পুত্র, ভ্রাতুষ্পুত্র ও শিষ্য স্থানীয় অনেকে।

মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৫.
ভারতচন্দ্রকে 'রায় গুণাকর' উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা রঘুনাথ রায়
  2. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. রাজা বিক্রমাধিত্য
  4. রাজা প্রতাপাধিত্য
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তিনি এই কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,১৭৬.
‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে, দেখা না হইত পরাণ গেলে।’- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস।
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি-
- ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে,দেখা না হইত পরাণ গেলে।’
- ‘শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’
- ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৭.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।' উক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৮.
মধ্যযুগের লেখক নয় কে?
  1. মালাধর বসু
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. মানিক দত্ত
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
রামরাম বসু:
- রামরাম বসু আধুনিক যুগের লেখক।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু। ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে
- বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন:
- রামপ্রসাদ সেন,
- মালাধর বসু/গুণরাজ খান,
- মানিক দত্ত,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- কৃত্তিবাস ওঝা,
- গোবিন্দদাস,
- চণ্ডীদাস,
- চন্দ্রাবতী,
- জ্ঞানদাস,
- দৌলত উজির বাহরাম খান,
- দৌলত কাজী,
- বড়ু চণ্ডীদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৭৯.
'এ ভরা বাদর মাহ ভাদর/শূন্য মন্দির মোর।' কে লিখেছেন?
  1. চন্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. বড়ু চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• ‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর।।' - পঙ্‌ক্তিটি মিথিলার কবি বিদ্যাপতি রচিত "বর্ষাবিরহের" একটি পদ।

বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৮০.
'হপ্তপয়কর' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. ফকির গরীবুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা

'হপ্তপয়কর' গ্রন্থ:
- গ্রন্থটির রচয়িতা আলাওল।
- হপ্তপয়কর গ্রন্থটি সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোন এক সময়ে রচিত।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল কাব্যটি রচনা করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর আনুমানিক জন্ম ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১,১৮১.
‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্যটি কে সম্পূর্ণ করেন?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. আলাওল
  3. দৌলত কাজী
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী মধ্যযুগের একজন কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যান কাব্যের প্রবর্তক।
- তাঁর প্রধান কাব্য ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’।
- দেবদেবীর গুণকীর্তন বাদ দিয়ে মানব প্রেমকাহিনিকে কেন্দ্র করে কাব্য রচনা করেন। ধর্ম-সংস্কারমুক্ত ঐহিক কাব্যের সূচনা মুসলমান কবিদের হাত ধরে হয়।
- আরাকান রাজসভা এই কাব্যধারার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। দৌলত কাজী লস্কর উজির আশরাফ খান-এর পৃষ্ঠপোষকতায় লেখালেখি করতেন।
- তিনি ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য অসমাপ্ত রেখে মৃত্যুবরণ করেনপরবর্তীতে আলাওল ১৬৫৯ সালে এই কাব্যের শেষাংশ সম্পূর্ণ করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, দৌলত কাজীর জীবনকাল আনুমানিক ১৬০০–১৬৩৮ খ্রি.।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৮২.
‘লালমোতি সয়ফুলমুলক’ কার রচিত কাব্য?
  1. আলাওল
  2. আব্দুল হাকিম
  3. বাহরাম খান
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা

আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহন করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন ১৬৯০ -এ
তার রচিত কাব্য সংখ্যা ৫টি
- ইউসুফ জোলেখা।
- নুরনামা
- দুররে মজলিশ
- লালমোতি সয়ফুলমুলক
- হানিফার লড়াই

তার বিখ্যাত পঙক্তি-
"যেসব বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গবানী
সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।" 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

১,১৮৩.
ভারত পাচালী’র রচয়িতা -
  1. ক) দস্যু রত্নাকর
  2. খ) কাশীরাম দাস
  3. গ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. ঘ) দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
সঠিক উত্তর:
খ) কাশীরাম দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা

‘মহাভারত’ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
‘মহাভারত’ এর মূল রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
‘মহাভারত’ এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম ‘ভারত পাচালী’
কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

১,১৮৪.
জীবনীকাব্য 'চৈতন্যভাগবত' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. বৃন্দাবন দাস
  2. বিপ্রদাস পিপিলাই
  3. নরহরি চক্রবর্তী
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা
বৃন্দাবন দাস ও জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস।
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৮৫.
কার আদেশে দৌলত কাজী ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন?
  1. আশরফ খান
  2. উজির সোলায়মান
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
সঠিক উত্তর:
আশরফ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশরফ খান
ব্যাখ্যা
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধার্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

⇒ 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর আর রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে  গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৮৬.
শুকুর মাহমুদ রচিত 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' কোন ধরণের সাহিত্যকর্ম?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. নাথ সাহিত্য
  4. কবিগান
সঠিক উত্তর:
নাথ সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মীননাথের প্রতিষ্ঠিত নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনী অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।
নাথ সাহিত্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - শেখ ফয়জুল্লাহ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
১. গোরাক্ষ বিজয় --- শেখ ফয়জুল্লাহ
২. গোপীচন্দ্রের সন্যাস --- শুকুর মাহমুদ
৩. মীনচেতন --- শ্যামাদাস সেন
৪. ময়নামতির গান --- ভবানী দাস
৫. গোর্খবিজয় --- ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৭.
মধ্যযুগের কোন কবি বাঙালি না হয়েও বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয় হয়ে আছেন?
  1. জয়দেব
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও 'বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।

- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত-লেখক ও স্মার্ত নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন।

- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল-নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- বিদ্যাপতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তাঁর কবিতায় কিছু বলেন নি। বিভিন্ন গবেষকের তথ্য থেকে জানা যায় বিদ্যাপতি দ্বারভাঙ্গা জেলার অন্তর্গত বিসফী নামক গ্রামে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। বিদ্যাপতির জীবনকথা মিথিলার রাজবংশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিদ্যাপতি ভারতচন্দ্রের মতই নাগরিক জীবনের কবি। বিদ্যাপতির কবিতা রসজ্ঞ রাজন্যবর্গ ও রাজসেবক কর্মচারিগণের রসতৃষ্ণা মিটানোর জন্য রচিত হয়েছিল। অপরদিকে স্মার্ত পণ্ডিত হিসেবে মিথিলার শিথিলীকৃত ব্রাহ্মণ সমাজকে নতুন করে নিয়মপাশে বদ্ধ করার প্রয়োজনে স্মৃতি সংহিতার বিধিনিষেধকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিলেন।

- কবি, রসিক, পণ্ডিত ও ভাষার যাদুকর বিদ্যাপতি সংস্কৃত অবহটঠ ও মৈথিল বুলিতে তাঁর জ্ঞান, চিন্তা, রসবোধ ও কাব্যকুশলতার সার্থক পরিচয় দান করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১,১৮৮.
মধ্য যুগের কাব্য কোনটি?
  1. খোয়াবনামা
  2. পদ্মাবতী
  3. গৃহদাহ
  4. মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

অন্যদিকে, 
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠি উপন্যাস।
- মহাশশ্মান কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - মহাশশ্মান (মহাকাব্য)। 

আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৯.
ভুরসুট পরগনার পান্ডুয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন-
  1. ক) কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
  3. গ) ময়ূর ভট্ট
  4. ঘ) কানা হরিদত্ত
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার ভুরসুট পরগণার পেড়ো (পান্ডুয়া) গ্রামের জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা নারায়ন চন্দ্র রায় ও মাতা ভবানী দেবী। পরবর্তীতে নদীয়ার কৃষ্ণনগর রাজপরিবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ১৭৬০ সালে মারা যান।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,১৯০.
কীর্তনের নতুন পদ্ধতির স্রষ্টা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন মধ্যযুগের কোন কবি?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. জ্ঞানদাস
  4. মালাধর বসু 
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• জ্ঞানদাস:
- সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্ম।

- তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেমবেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য।
 
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। তিনি একজন সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন এবং কীর্তনের নতুন পদ্ধতির স্রষ্টা হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল।
 
- তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।
- জ্ঞানদাস পদাবলিতে সৌন্দর্যের ব্যঞ্জনা দিয়েছেন, আবেগের সূক্ষ্ম কারুকর্ম ফুটিয়ে তুলেছেন।
- তিনি মানবজীবনের বাতায়নে বসে ভাব বৃন্দাবনের কিশোর কিশোরীর লীলা প্রত্যক্ষ করে শিল্পী হয়ে উঠেছেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৯১.
মালাধর বসু কোন শতকের কবি?
  1. সতের শতকের
  2. পনের শতকের
  3. আঠার শতকের
  4. ষোল শতকের
সঠিক উত্তর:
পনের শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনের শতকের
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে জন্মগ্রহণ করেন।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৯২.
'মুরারি গুপ্তের কড়চা' - এর প্রকৃত নাম কী?
  1. শ্রীচৈতন্যভাগবত
  2. শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম
  3. শ্রীচৈতন্যমঙ্গল
  4. শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত
সঠিক উত্তর:
শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেবের সংস্কৃত জীবনী:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়। নরহরি সরকার, রঘুনাথ দাস প্রমুখেরা চৈতন্যবিষয়ক পদ রচনা করেছিলেন।
- তবে চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম 'শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম'।
- মুরারি গুপ্ত মূলত সিলেটের অধিবাসী ছিলেন এবং পরে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের সহাধ্যায়ী ছিলেন। মুরারি গুপ্তের গৃহে চৈতন্যের প্রথম ভাবাবেশ ঘটেছিল বলে জনশ্রুতি বিদ্যমান।
- তিনি চৈতন্যের সমসাময়িক ছিলেন বলে অধিকাংশ ঘটনা নিজেই প্রত্যক্ষ করেছেন।
- কবি মুরারি গুপ্ত চৈতন্য জীবনের প্রথম দিকের সন্ন্যাস জীবন পর্যন্ত বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর কাব্যের মধ্য ও শেষ লীলা অন্যের রচনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,১৯৩.
নাথ গীতিকা 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতার নাম কি?
  1. ভবানী দাস
  2. শুকুর মহাম্মদ
  3. নারায়ণ দাস
  4. নয়াচাঁদ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ভবানী দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবানী দাস
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য: 
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা। 

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য: 
» গোরাক্ষ বিজয় --- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
» গোপীচন্দ্রের সন্যাস --- শুকুর মুহম্মদ। 
» মীনচেতন --- শ্যামাদাস সেন। 
» ময়নামতির গান --- ভবানী দাস। 
» গোর্খবিজয় --- ভীমসেন রায়। 

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও সুকুর মহম্মদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল। 
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং
সুকুর মহম্মদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া। 
১,১৯৪.
বাংলা ভাষায় প্রথম রামায়ণ লিখেন কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ:
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।
- মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম সূত্রপাত করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় "রামায়ণ" অনুবাদ করেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী।

উল্লেখ্য,
- 'মহাভারত' এর প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- শ্রীকর নন্দী রচিত মহাভারতকে বলা হয় 'ছুটিখানি মহাভারত'।
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৯৫.
শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত গ্রন্থ কাহিনীকাব্য কোনটি?
  1. ইউসুফ জোলেখা
  2. লায়লী মজনু
  3. পদ্মাবতী
  4. নুরনামা
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ জোলেখা
ব্যাখ্যা
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি।
- তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

• শাহ মুহম্মদ সগীর:

- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম - ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
- লায়লী মজনু - দৌলত উজির বাহরাম খান।
- পদ্মাবতী - আলাওল।
- নুরনামা - আবদুল হাকিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৬.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' পুঁথি কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১১ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৭.
নিচের কোনটি আলাওল রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান
  2. হপ্তপয়কর
  3. লালমোতি সয়ফুলমূলক
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
লালমোতি সয়ফুলমূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালমোতি সয়ফুলমূলক
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি ছিলেন আলাওল।
- আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম গুলো হলোঃ
- পদ্মাবতী,
- সপ্ত পয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

- লালমোতি সয়ফুলমূলক- আবদুল হাকিম রচিত কাব্য

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৯৮.
একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে কয়টি অংশ থাকে?
  1. ৭টি 
  2. ৫টি 
  3. ৬টি 
  4. ৪টি 
সঠিক উত্তর:
৫টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি 
ব্যাখ্যা

মঙ্গকাব্য:
মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
•মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি, ঘনরাম চক্রবর্তী।
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখন্ড,
- শ্রুতিফল ।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়৷

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৯৯.
নিচের কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ‘শূন্যপুরাণ’ রচিত হয়?
  1. ক) সংস্কৃতি
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) রাজনীতি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘শূন্যপুরাণ’ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে। 
- শূন্যপুরাণ ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ, রচয়িতা রামাই পন্ডিত।
- রামাই পন্ডিতের কাল মুসলিম বিজয়োত্তর তেরো শতক বলে অনুমান করা হয়।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ অংশটি হিন্দু-মুসলমানের ধর্ম সমন্বয়ের চেতনা থেকে পরে প্রক্ষিপ্ত হয়েছে।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- ‘শূন্যপুরাণ’ গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে রচিত একটি চম্পূকাব্য। এর প্রথম পাঁচটি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধে বর্ণনা আছে।
- গ্রন্থের পরের ৪৬টি অধ্যায়ে ধর্মপূজার রীতি-পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২০০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে 'দুঃখের কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 
  2. চণ্ডীদাসকে
  3. জ্ঞানদাসকে 
  4. কানাহরি দত্তকে
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাসকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাসকে
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস। চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

অন্যদিকে, 
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'দুঃখ বর্ণনার কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।